বান্দরবানের রুমা ও থানচিতে ব্যাংকে সন্ত্রাসী হামলা, ব্যাংক ম্যানেজারকে অপহরণ এবং অস্ত্র ও টাকা লুটের দুটি মামলায় ‘কুকি-চিন ন্যাশনাল ফ্রন্ট (কেএনএফ)’ সংশ্লিষ্টতায় জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা ৫৭ জনকে আজ বৃহস্পতিবার আদালতে তোলা হয়। এর মধ্যে ১৭ জন নারীসহ ৫২ জনের চারদিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। এছাড়া চারজনকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুর সোয়া ১২টায় আসামিদের বান্দরবান চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ নাজমুল হোসাইনের এজলাসে হাজির করা হয়।
এসময় কোর্ট ইন্সপেক্টর বিশ্বজিৎ সিংহ রিমান্ডের আবেদন এবং আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট কাজী মহতুল হোসেন যত্ন জামিন আবেদন করেন। আদালত জামিন আবেদন নামমঞ্জুর করে রিমান্ডের আবেদনের ওপর শুনানি শেষে তাদের চারদিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
আদালত সূত্র জানায়, রিমান্ডে পাঠানো হয়েছে ৫২ জনকে। এছাড়া এক নারী আসামিকে জেল গেটে জিজ্ঞাসাবাদের শর্ত আরোপ করা হয়েছে।
গত ৮ এপ্রিল যৌথবাহিনী বিশেষ অভিযান চালিয়ে রুমা উপজেলার বেথেলপাড়া থেকে ১৮ নারীসহ ৪৯ জনকে গ্রেপ্তার করে।
বাকিদের বিভিন্ন সময়ে গ্রেপ্তার করা হয়।
গত ২ এপ্রিল রাতে রুমা উপজেলা সদরের সোনালী ব্যাংকে ডাকাতি করে কেএনএফ। ওই সময় তারা পুলিশের ১০টি অস্ত্র এবং আনসারের চারটি অস্ত্র লুট করে নেয়। যাওয়ার সময় তারা ব্যাংক ম্যানেজার নিজাম উদ্দিনকে অপহরণ করে নিয়ে যায়। এর পরদিন ৩ এপ্রিল দুপুরে পার্শ্ববর্তী উপজেলা থানচির সোনালী ব্যাংক ও কৃষি ব্যাংকে ডাকাতি করে তারা। ওই সময় সন্ত্রাসীরা দুটি ব্যাংকের ক্যাশ কাউন্টার থেকে নগদ টাকা লুট করে। এ ঘটনার পর বান্দরবান জেলার রুমা, রোয়াংছড়ি ও থানচি উপজেলায় সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে যৌথবাহিনীর বিশেষ চিরুনি অভিযান চলছে। এসব অভিযানে এ পর্যন্ত ৬৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
বিএনপির সাবেক চেয়ারপারসন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও আপসহীন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় কেশবপুর উপজেলার ৫নং মঙ্গলকোট ইউনিয়নে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত বুধবার (১৪ জানুয়ারি) বিকেলে মঙ্গলকোট মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে ইউনিয়ন বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত এ দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, বিএনপি মনোনীত কেশবপুর আসনের ধানের শীষের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী আবুল হোসেন আজাদ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে আবুল হোসেন আজাদ বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন দেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আপসহীন সংগ্রামী নেত্রী। তার ত্যাগ ও অবদান জাতি কোনো দিন ভুলবে না। আজ ফ্যাসিবাদী শাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলনে আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে রাজপথে নামতে হবে। জনগণের অধিকার ফিরিয়ে আনতে বিএনপির প্রতিটি নেতা-কর্মীকে সততা, নিষ্ঠা ও সাহসিকতার সঙ্গে কাজ করতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘কেশবপুরের মানুষ গণতন্ত্র ও ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে সব সময় অগ্রণী ভূমিকা রেখেছে। আগামী দিনে আন্দোলন সংগ্রামে কেশবপুরই হবে যশোর জেলার মডেল উপজেলা।’ বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- কেশবপুর পৌর বিএনপির সভাপতি ও সাবেক পৌর মেয়র আব্দুস ছামাদ বিশ্বাস, ৫নং মঙ্গলকোট ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি মাস্টার আব্দুল লতিফ, উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি ও সাবেক কাউন্সিলর মো. মশিউর রহমান, কেশবপুর সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. আলাউদ্দিন আলা। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ৫নং মঙ্গলকোট ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. মোস্তাক আহমেদ।
দোয়া মাহফিলে কেশবপুর উপজেলা ও পৌর বিএনপি, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। শেষে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত ও দেশবাসীর শান্তি কামনায় বিশেষ মোনাজাত করা হয়।
আপনারা যদি মনে করেন এখন তো প্রশাসন দুর্বল হয়েছে, আমরা যা ইচ্ছে তাই করব তাহলে আপনাদের ভুল হবে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে প্রশাসন অন্যান্যবারের তুলনায় এবার কঠোর অবস্থানে রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে আমরা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের দিকনির্দেশনা সম্পূর্ণভাবে প্রস্তুতি রয়েছি। বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) দুপুরে বেলকুচি উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে সরকারি কর্মকর্তা ও স্থানীয় গন্যমান্য বক্তিদের সাথে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য প্রদানকালে জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম এসব কথা বলেন।
তিনি আরও বলেন, ‘জনগনের সহযোগিতা ছাড়া কোনো কিছুই সফলভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব নয়। আপনারা আমাদের নির্বাচনের আগে যেভাবে সহযোগিতা করে আসছেন, এভাবেই সামনে দিনগুলোতে সহযোগিতা করবেন।’ আমিনুল ইসলাম আরও বলেন, ‘আপনারা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে নির্বাচনী আচরণ বিধি মেনে চললে আপনাদের জন্য ভালো। সেই সাথে আমরা যারা নির্বাচন বাস্তবায়নের জন্য কাজ করছি তাদের কাজেও সহজ হবে।’
এ সময় তিনি সিরাজগঞ্জ-৫ আসনসহ সকল আসনের অবাধ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত করতে সকলের সহযোগিতাও কামনা করেন।
সভায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট আফরিন জাহান, সহকারী কমিশনার (ভূমি) ইসরাত জাহান, থানা অফিসার ইনচার্জ শেখ ফরিদ, কৃষি কর্মকর্তা সুকান্তধর সামাজিক, রাজনৈতিক, মুক্তিযোদ্ধাসহ স্থানীয় প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক্স মিডিয়ায় কর্মরত সাংবাদিকরা বক্তব্য রাখেন।
পরিবারের উদাসীনতা ও দারিদ্র্যতা শারীরিক প্রতিবন্ধী করেছে সেলিম মিয়াকে, জন্মের পরেই অকেজো হয়ে পড়ে দুই পা, শারীরিক প্রতিবন্ধকতার কাছে হার মানেননি তিনি। মানুষের কাছে হাত না পেতে গড়ে তুলেছেন বাড়ির পাশে মুদি দোকান এই দোকানে বসে বিভিন্ন ধরনের পণ্য বিক্রি করে চলছে তার সংসার।
সেলিম মিয়া (২৮) তাহিরপুর উপজেলা সদর ইউনিয়ন পরিষদের রতনশ্রী গ্রামের মৃত আব্দুল মান্নানের ছেলে, মা-ভাইকে নিয়ে তার সংসার, প্রতিবন্ধকতার কারণে পড়াশোনা করতে পারেনি। তার মুদি দোকানের উপার্জনের চলছে মা ও ভাইকে নিয়ে ৩ জনের সংসার।
শারীরিক প্রতিবন্ধী সেলিম মিয়া বলেন, ‘প্রতিবন্ধী দেখে কারও কাছে হাত পেতে সহযোগিতা চাইতে আমার লজ্জা লাগে। তাই যতটুকু ছিল সবটুকু সামর্থ্য কাজে লাগিয়ে কিছু করার আগ্রহ থেকে এই ব্যবসায় নেমেছি প্রথমে অল্পটাকা দিয়ে শুরু করলেও আস্তে আস্তে আমার মুদি মালের দোকান বড় হচ্ছে এখন মোটামুটি দিনে ৫০০ টাকার মতো আমি আয় করতে পারি, আলহামদুলিল্লাহ বর্তমানে আয় কিছুটা কম হলেও ভালোই যাচ্ছে।’
তাহিরপুর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক তৌফিক শরীফ বলেন, ‘সেলিম সমাজের অন্য অক্ষম-প্রতিবন্ধীদের জন্য উদাহরণ। নিজেই উদ্যোক্তা হয়েছেন। বাড়ির পাশেই নিজে একটি মুদি দোকান পরিচালনা করছেন, তার এই বিষয়টি আমাদের ভালো লেগেছে, ৫-৬ বছর ধরে দেখছি সে মুদি দোকান দিয়েছে বিষয়টি আমাদের খুব ভালো লাগে। ৩ জনের সংসারের দায়িত্ব এখন তার কাঁধে। আল্লাহর রহমতে ও সকলের সহযোগিতায় এভাবেই তার জীবন চলে যাচ্ছে।’
সেলিমের প্রতিবেশী আহাদুল বলেন, ‘সেলিমের মুখটা মায়ায় ভরা। খুব ভালো ছেলে। মা-ভাইকে নিয়ে তার সংসার, এই মুদি দোকান দিয়ে তার সংসার চলে, সততার মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসা করে যাচ্ছে, আমাদের কোনো কিছু প্রয়োজন হলে বাজারে না গিয়ে তার দোকান থেকে কিনে আনি, এতে আমাদের সময় বাঁচে অনেক, তার দোকানে সব সময় ভালো জিনিস পাওয়া যায়। সেলিম একদিন অনেক বড় ব্যবসায়ী হবে এটা আমাদের প্রত্যাশা।’
তাহিরপুর সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জুনাব আলী বলেন, ‘প্রতিবন্ধীরা আমাদের সমাজের বোঝা নয়, তারাও আমাদের সম্পদ। মেধা, সামর্থ্য কাজে লাগিয়ে তারাও সাফল হতে পারে। সেটার উৎকৃষ্ট উদাহরণ সেলিম মিয়া। সে বর্তমানে প্রতিবন্ধী ভাতার সুবিধা পায়। তবে এতে যেহেতু সংসার পরিচালনা করা সম্ভব নয়, তাই সে বাড়ির পাশেই মুদি দোকান চালায়। সরকারি বিভিন্ন সহযোগিতা প্রদানে সেলিম মিয়ার মতো মানুষদের অগ্রাধিকার সবচেয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়ে থাকে।’
তাহিরপুর সমাজসেবা অফিসার মো. সাব্বির সারোয়ার বলেন, ‘ইসলামে ভিক্ষাবৃত্তিকে সবসময়ই নিরুৎসাহিত করে। এমনকি সরকারও ভিক্ষুকদের পুনর্বাসনে ব্যাপক কার্যক্রম পরিচালনা করছে। বর্তমানে আমরা দেখি কারও শারীরিক অক্ষমতা থাকলেই সেটাকে পুঁজি করে ভিক্ষাবৃত্তিতে নেমে যায়। কিন্তু এ ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম উদাহরণ সৃষ্টি করেছেন সেলিম মিয়া। সমাজসেবা অধিদপ্তর প্রতিবন্ধীদের ভাতা দেওয়ার পাশাপাশি তাদের আরও অনেক ক্ষেত্রে সহয়তা করে থাকে। দগ্ধ ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের পুনর্বাসন কার্যক্রমে আমরা তাদের ৫% সার্ভিস চার্জে ঋণ দিয়ে থাকি, ঋণ নিয়ে তারা যেকোনো আয়ের কাজে লাগাতে পারেন। সেলিম মিয়ার ব্যবসায়িক কার্যক্রমের আরও বড় করতে চাইলে আমাদের কাছে ঋণের আবেদন করতে পারেন। এ ছাড়া আমরা তার সঙ্গে এ বিষয়ে যোগাযোগ করব।’
লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার ২১ নম্বর টুমচর ইউনিয়নের রহমতখালী নদী। নাম শুনলে শান্ত জলধারার ছবি ভেসে ওঠে। কিন্তু এই নদী এখন এখানকার হাজারো মানুষের কাছে আতঙ্কের আরেক নাম। একটি সেতুর অভাবে নদীটি যেন প্রতিদিন গিলে খাচ্ছে মানুষের নিরাপত্তা, স্বপ্ন আর স্বাভাবিক জীবনযাত্রা।
ঘরবাড়ি, স্কুল, বাজার, কৃষিজমি কিংবা হাসপাতাল। সবকিছুর সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে প্রতিদিন স্থানীয় বাসিন্দাদের পার হতে হয় এই নদী। কিন্তু সে পারাপার কোনো স্বাভাবিক নৌযাত্রা নয়। জীবন হাতে নিয়ে মোটা রশি ধরে টানা নৌকায় নদী পাড়ি দেওয়া এখানে নিত্যদিনের বাস্তবতা।
টুমচর ইউনিয়নের ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের মানুষের জন্য এই খেয়াই একমাত্র চলাচলের পথ। নদীর দুই পাড়ে শক্ত করে বাঁধা মোটা রশি ধরে মাঝি নৌকাটি টেনে নিয়ে যান। মাঝি একা নন, যাত্রীদেরও রশি ধরে টানতে হয়। নারী, শিশু, বৃদ্ধ- সবার হাতেই একই রশি। সামান্য ভারসাম্যহীনতায় উল্টে যেতে পারে নৌকা, আর সেই সঙ্গে তলিয়ে যেতে পারে একটি বা একাধিক জীবন।
স্থানীয়রা জানান, এই নৌকায় ওঠার সময় বুকের ভেতর কেমন যেন ধকধক করে। কেউ মুখে কিছু না বললেও চোখে মুখে আতঙ্ক স্পষ্ট।
বর্ষা মৌসুম এলেই রহমতখালী নদী আরও ভয়ংকর রূপ নেয়। পানির উচ্চতা বাড়ে, স্রোত হয় প্রবল। রশি ভিজে পিচ্ছিল হয়ে যায়, অনেক সময় হাত পিছলে কেটে যায় চামড়া। স্থানীয়দের হাতের তালুতে জমে ওঠা কড়া আর ক্ষত যেন বছরের পর বছর ধরে সহ্য করা কষ্টের নীরব সাক্ষ্য বহন করে।
নদী পার হতে গিয়ে অনেকেই পড়ে যান পানিতে। কেউ কোনোমতে বেঁচে ফিরলেও, কেউ হারান বই-খাতা, বাজারের মাল কিংবা কৃষি উপকরণ।
এই ঝুঁকিপূর্ণ পারাপার সবচেয়ে বেশি ভোগাচ্ছে শিশু ও বয়স্কদের। দক্ষিণ কালীরচর তালপট্টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী মারিয়া আক্তার বলে, ‘নৌকায় উঠলেই খুব ভয় লাগে। মনে হয় এই বুঝি নৌকা উল্টে যাবে।’
নৌকায় বসে সে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে বইখাতা। যেন ওগুলোই তার সাহস। পড়াশোনার পথে প্রতিদিন এমন আতঙ্ক নিয়ে নদী পার হওয়াটাই এখানে শিশুদের স্বাভাবিক বাস্তবতা।
স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, গত ছয় মাসেই রশি টানা নৌকা উল্টে অন্তত পাঁচটি বড় দুর্ঘটনা ঘটেছে। এতে আহত হয়েছেন অন্তত ১০ জন। কোনো ঘটনায় শিক্ষার্থীদের বইখাতা নদীতে ভেসে গেছে, কোনো ঘটনায় কৃষকের সার ও বীজ তলিয়ে গেছে পানির নিচে। ক্ষতির হিসাব কেবল টাকায় নয়। ক্ষতি হচ্ছে মানুষের মনোবলে, ভবিষ্যতের সম্ভাবনায়।
সেতু না থাকায় সবচেয়ে বড় বিপদে পড়ছেন রোগীরা। রাতের বেলায় কেউ হঠাৎ অসুস্থ হলে হাসপাতালে নেওয়াই হয়ে ওঠে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। অন্ধকার, স্রোত আর ঝুঁকিপূর্ণ নৌকা- সব মিলিয়ে প্রতিটি মুহূর্ত তখন মৃত্যুভয়ের সঙ্গে লড়াই।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, বছরের পর বছর ধরে সেতু নির্মাণের আশ্বাস মিললেও বাস্তবে কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই। জনপ্রতিনিধিরা প্রতিশ্রুতি দিলেও কাজ শুরু না হওয়ায় হতাশা বাড়ছে মানুষের মধ্যে। এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) উপসহকারী প্রকৌশলী বেল্লাল হোসেন জানান, এলাকাটি ইতোমধ্যে জরিপ করা হয়েছে। আবাসন সেন্টার, তালপট্টি ও জলাইজ্জার খেয়া এলাকায় সেতু নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রকল্প অনুমোদন পেলে কাজ শুরু করা হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
এলাকাবাসীরা আরো বলেন, বর্ষা মৌসুমে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। নদীর পানি বাড়লে রশি পিচ্ছিল হয়ে যায়। হাত পিছলে কেটে যাওয়ার ঘটনা এখানে নিয়মিত। অনেকের হাতের তালুতে রশির ঘর্ষণে কড়া পড়ে গেছে।
তবে সেই অনুমোদনের অপেক্ষায় থেমে নেই টুমচরের মানুষের জীবন। প্রতিদিনই তারা রশি ধরে নদী পার হন, ভরসা বলতে কেবল দীর্ঘদিনের অভ্যাস আর ভাগ্যের ওপর নির্ভরতা। এক নদী, দুই পাড়, আর মাঝখানে অনিশ্চয়তায় ঝুলে থাকা মানুষের জীবন।
নওগাঁর পত্নীতলায় এক হৃদয়বিদারক ঘটনার মধ্যেও মানবিকতা ও দ্রুত পুলিশি তৎপরতায় প্রাণে বেঁচে গেছে ১৬ মাস বয়সী এক শিশু।
বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) দুপুর ১টার দিকে এক নারী পত্নীতলা থানায় এসে জানান, তিনি তার ১৬ মাস বয়সী কন্যা শিশু আঞ্জুমান আয়াতকে মাহমুদপুর ব্রিজ থেকে আত্রাই নদীতে নিক্ষেপ করেছেন। এ সময় তিনি নিজেকে গ্রেফতারের আবেদন জানান।
বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে অবগত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (পত্নীতলা সার্কেল) ও পত্নীতলা থানার অফিসার ইনচার্জ দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান। স্থানীয় জনগণের সহযোগিতায় আত্রাই নদীতে নিখোঁজ শিশুটির সন্ধানে অভিযান শুরু করা হয়।
এ সময় নদীর পাড়ে অবস্থানরত মাহমুদপুর গ্রামের মোঃ খমির শেখ (৬৫) নদীতে ডুবন্ত অবস্থায় শিশুটিকে উদ্ধার করে তীরে এনে প্রাথমিক শুশ্রূষা প্রদান করেন। পরবর্তীতে পুলিশ শিশুটিকে তার হেফাজত থেকে নিয়ে দ্রুত পত্নীতলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। বর্তমানে শিশুটি শঙ্কামুক্ত রয়েছে বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন।
ঘটনার সময় নওগাঁ জেলার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম পেশাগত কাজে পত্নীতলা থানার এলাকায় অবস্থান করছিলেন। ঘটনা জানার পর তিনি নিজেই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে শিশুটির চিকিৎসার খোঁজখবর নেন। এ সময় তিনি উদ্ধারকারী মোঃ খমির শেখকে ধন্যবাদ জানান এবং তার মানবিক উদ্যোগের জন্য আর্থিক পুরস্কার প্রদান করেন।
শিশুটির বাবা মেহেদী হাসান জানান, তার স্ত্রী দীর্ঘদিন ধরে মানসিক সমস্যায় ভুগছেন। এ কারণেই এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে বলে তিনি মনে করেন। তিনি তার স্ত্রীর যথাযথ মানসিক চিকিৎসা এবং সন্তানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আশ্বাস দেন। পাশাপাশি তিনি উদ্ধারকারী মোঃ খমির শেখ ও দ্রুত চিকিৎসা সেবায় সম্পৃক্ত সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
এদিকে৷ ঘটনাটি এলাকাজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে এবং একই সঙ্গে মানবিকতা ও দ্রুত প্রশাসনিক তৎপরতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে ডাকাতদের ব্যবহৃত একটি সিএনজি চালিত বেবিট্যাক্সিতে আগুন দিয়ে দুই ডাকাত সদস্যকে আটক করে গণধোলাইয়ের পর পুলিশে দিয়েছে স্থানীয় জনতা।
গত বুধবার (১৪ জানুয়ারি) রাত সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার পিরোজপুর ইউনিয়নের মৃধাকান্দী এলাকায় মহাসড়কে এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ গণধোলাইয়ের শিকার দুই ডাকাতকে সোনারগাঁ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়েছেন। গ্রেফতারকৃতরা হলেন রবিন মিয়া ও ওমর ফারুক ওরফে চাপাতি ফারুক। রবিন মিয়া উপজেলার কাজিরগাঁও গ্রামের জাকির হোসেনের ছেলে এবং ফারুক চেঙ্গাকান্দি এলাকার হেলাল মিয়ার ছেলে।
বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) দুপুরে তাদের বিরুদ্ধে ভুক্তভোগী মো. সারোয়ার হোসেন বাদি হয়ে থানায় ডাকাতির মামলা দায়েরের পর নারায়ণগঞ্জ আদালতে পাঠিয়েছে পুলিশ।
স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের বিভিন্ন যানবাহনে ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেই চলছে। গাড়ির দরজা ও জানালার কাচ ভেঙে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে সর্বস্ব লুট করে নিয়ে যায়। ডাকাতরা বিদেশ ফেরত প্রবাসীদের গাড়ি টার্গেট করে ডাকাতি ছিনতাই করে যাচ্ছে। এসব ঘটনায় পুলিশ নির্বিকার হয়ে পড়ে। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় গত এক সপ্তাহ ধরে মহাসড়কের ডাকাতি ও ছিনতাই প্রবণ এলাকায় সন্ধ্যার পর থেকে পাহাড়ার ব্যবস্থা করে পুলিশ।
গত বুধবার (১৪ জানুয়ারি) রাতে ডাকাতদলের তিন সদস্য (নারায়ণগঞ্জ-থ ১১-৫২২৩) নাম্বারের একটি সিএনজি বেবিট্যাক্সি দিয়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মৃধাকান্দী এলাকায় বিভিন্ন পথচারীদের কাছ থেকে টাকা-পয়সাসহ বিভিন্ন মালামাল লুট করে নিয়ে যাচ্ছিল। বিষয়টি টের পেয়ে তাদের ধাওয়া দিয়ে আটক করা হয়। পরে ডাকাতদের ব্যবহৃত সিএনজি চালিত সিএনজি বেবিট্যাক্সিতে আগুন ধরিয়ে দেয় বিক্ষুদ্ধ জনতা। খবর পেয়ে সোনারগাঁ ফায়ার সার্ভিসের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নেভায়।
পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে দুই ডাকাতকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। ডাকাতদের বিরুদ্ধে ভূক্তভোগী মো. সারোয়ার হোসেন বাদি হয়ে মামলা দায়ের করেন।
সোনারগাঁ থানার ওসি মুহিবুল্লাহ জানান, পুলিশ অভিযান চালিয়ে দুই ডাকাতকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। অন্যদের ধরতে অভিযান চলমান রয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের পর আদালতে পাঠানো হয়েছে।
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সীমান্ত সুরক্ষা, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার এবং অভ্যন্তরীন আইন শৃংখলা রক্ষায় বিজিবি গৃহীত বিভিন্ন কার্যক্রম নিয়ে যশোর ৪৯ বিজিবি বেনাপোল সদর দপ্তরে সাংবাদিক সম্মেলনের আয়োজন করেন।
বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে যশোর বিজিবির কমান্ডিং অফিসার লেঃ কর্ণেল সাইফুল্লাহ সিদ্দিকী বলেন, সীমান্ত সুরক্ষা আইনের কারনে যশোরের শার্শা এবং চৌগাছা থানা এলাকায় নির্বাচনী কার্যক্রম তদারকি আইন শৃংখলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করে যাচ্ছে বিজিবি। ইতিমধ্যে এই দুটি উপজেলার সবক'টি ভোট কেন্দ্র রেকি করা হয়েছে। নির্বাচনী এলাকার যশোর গোপালগঞ্জ এবং নড়াইল জেলার ১৬টি থানায় ১১টি অস্থায়ী বেজ ক্যাম্প স্থাপন করা হবে। বিজিবি মোবাইল এবং স্টাইকিং ফোর্স হিসাবে দায়িত্ব পালন করবে।
সীমান্তবর্তী শার্শা এবং চৌগাছা উপজেলায় বিজিবি এককভাবে দায়িত্ব পালন করবে। আগামী ২৯ জানুয়ারি থেকে ১লা ফেব্রুয়ারীর মধ্যে নির্বাচনী দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় ফোর্স মোতায়েন করা হবে। বর্তমানে বিজিবি সদস্যরা অপারেশন ডেভিল হান্ট-২ কার্যক্রমে সক্রিয়ভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
পাশাপাশি সীমান্তে টহল জোরদার করা হয়েছে যাতে অবৈধ অস্ত্র দেশে প্রবেশ করতে না পারে। এবং অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার কার্ক্রম জোরদার এবং জনসচেতনতামুলক সভার মাধ্যমে স্থানীয় জনসাধারণ কে সচেতন করার জন্য ইউনিয়ন পর্যায়ে সুশীল সমাজের সাথে মত বিনিময় করা হচ্ছে।
ফেনীতে ২০২৪ সালের ভয়াবহ বন্যায় মুছাপুর রেগুলেটর ধ্বসে পড়ার পর জোয়ার-ভাটার তীব্র প্রভাবে ছোট ফেনী নদীতে ব্যাপক ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। এতে শত শত বসতঘর ও ফসলি জমি হুমকির মুখে পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে নদীভাঙ্গন রোধ ও বসতঘর রক্ষায় জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণের দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) দুপুরে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে এই মানববন্ধনের আয়োজন করেন ভাঙ্গন কবলিত এলাকার বাসিন্দারা।
মানববন্ধনে সোনাগাজী উপজেলার চর মজলিশপুর ইউনিয়নের চর গোপালগাঁও, চান্দলা, কুঠিরহাট, জলদাপাড়া, মিয়াজী ঘাট, পুরাতন কাজিরহাট জামে মসজিদ সংলগ্ন এলাকাবাসি ও দাগনভূঞা উপজেলার জগতপুর গ্রামের নদীভাঙন কবলিত মানুষ এই কর্মসূচিতে অংশ নেন। পরে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে ভূমি মন্ত্রণালয়ে স্মারকলিপি প্রদান করেন।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, মুছাপুর রেগুলেটর ধ্বসে পড়ার পর থেকে ছোট ফেনী নদীতে জোয়ার–ভাটার চাপ বেড়ে গিয়ে নদীর তীর দ্রুত ভেঙে পড়ছে। ইতোমধ্যে বহু পরিবার তাদের ঘরবাড়ি হারিয়েছে, অনেকে আবার ভিটেমাটি হারানোর আশঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন। দ্রুত কার্যকর প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে সামনে আরও বড় মানবিক বিপর্যয় দেখা দেবে।
অবিলম্বে নদীভাঙ্গন রোধে টেকসই বাঁধ নির্মাণ, মুছাপুর রেগুলেটর সংস্কার এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসনের জন্য জেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেন স্থানীয়রা।
চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলায় গোপন তথ্যের ভিত্তিতে কুখ্যাত সন্ত্রাসী রিফাত (৩৫) নামে একজনকে আটক করেছে সেনাবাহিনী।
আজ বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) আনুমানিক ৫ টার সময় উপজেলার চরম্বা ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডস্থ তেলিবিলায় লোহাগাড়া আর্মি ক্যাম্প কমান্ডার ক্যাপ্টেন ওলিদ বিন মৌদের (২৬ ইবি) নেতৃত্বে সেনাবাহিনী ও লোহাগাড়া থানা পুলিশ কর্তৃক অবৈধ অস্ত্রধারী রিফাতকে তার নিজ বাড়ি থেকে যৌথ অভিযান পরিচালনা করে তাকে অস্ত্রসহ আটক করা হয়।
আরো জব্দ করা হয়, ২টি এলজি, ৭ টি কার্তুজ, ২ লিটার মদ, ৪টি রাম দা, ৬ টি চাকু, ১টি ড্রোন, ৮টি মোবাইল,৩ টি মেমরি কার্ড, ১টি রকেট প্যারাসুট,ফ্ লেয়ার সিগন্যাল গান, ১টি পেনড্রাইভ, ১টি মোটরসাইকে।
জানা গেছে, সেনাবাহিনীর দীর্ঘদিনের গোয়েন্দা নজরদারির পর গোপন তথ্যের ভিত্তিতে তাকে আটক করা হয়। সে চরম্বা সহ লোহাগাড়ার বিভিন্ন জায়গায় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের মূল হোতা ছিল বলেও জানা গেছে।
ক্যাম্প কমান্ডার ক্যাপ্টেন ওলিদ বিন মৌদের বলেন, উদ্ধারকৃত অস্ত্রসহ আসামিকে লোহাগাড়া থানায় হস্তান্তর করা হয়। উক্ত বিষয়ে আইনী ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
লোহাগাড়া থানার কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবদুল জলিল বলেন, তার বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মামলা হয়েছে। কালকে আদালতে পাঠানো হবে।
নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলায় এক বৃদ্ধাকে গলাকেটে হত্যার ঘটনায় দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব। বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) বিকেলে র্যাবের সিনিয়র সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বিপ্লব কুমার গোস্বামী স্বাক্ষরিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- উপজেলার গাড়াগ্রাম ইউনিয়নের জুম্মারপাড় এলাকার ইসমাইল হোসেনের ছেলে মো. এরশাদ আলী (৪৫) ও তার ছেলে মো. সজিব (২২)।
জানা যায়,গাড়াগ্রাম ইউনিয়নের কালিরধান এলাকার প্রয়াত জমসের আলীর স্ত্রী দেলোয়ারা বেগম ওরফে দুলালীর দুই ছেলে-মেয়ে কেউ বাড়িতে থাকেন না। স্বামী মারা যাওয়ার পর থেকে তিনি বাড়িতে একাই থাকতেন। গত ৯ জানুয়ারী দুপুরে তাকে বাড়ির উঠানে গলা কেটে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা।
র্যাবের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, এ ঘটনায় ভিকটিমের ভাই হাফিজুল ইসলাম বাদী হয়ে কিশোরগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা দায়ের করে। এরই ধারাবাহিকতায় গতকাল বুধবার (১৪ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় নীলফামারী র্যাব-১৩, সিপিসি-২ ও র্যাব-৪ এর যৌথ অভিযানে ঢাকা জেলার সাভারের জয়নাবাড়ী এলাকা মামলার তদন্তে প্রাপ্ত পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর তাদের কিশোরগঞ্জ থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
জীবনযাত্রার ব্যয়বৃদ্ধি ঘিরে দেশ জুড়ে শুরু বিক্ষোভ-প্রতিবাদে উত্তাল ইরান। দমন-প্রতিরোধ এবং সংঘর্ষে এ পর্যন্ত মৃত্যু আড়াই হাজার ছাড়িয়েছে। এছাড়া ১৮ হাজারের বেশি বিক্ষোভকারী গ্রেপ্তার হয়েছেন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মানবাধিকার সংস্থা এইচআরএএনএর বরাতে বুধবার (১৪ জানুয়ারি) এ খবর ছেপেছে দুবাই ভিত্তিক সংবাদমাধ্যম খালিজ টাইমস।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অর্থনৈতিক সংকটের জেরে শুরু হওয়া এই বিক্ষোভ এখন বর্তমান শাসনব্যবস্থা উৎখাতের আন্দোলনে রূপ নিয়েছে। তেহরান থেকে শুরু হওয়া এই অস্থিরতা এখন ইসফাহান ও শিরাজসহ দেশটির প্রধান শহরগুলোতে ছড়িয়ে পড়েছে। তবে ইরান সরকার এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিহতের কোনো সঠিক সংখ্যা প্রকাশ করেনি।
ইরানের সামরিক কমান্ডার আবদুল রহিম মুসাভি অভিযোগ করেছেন যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল দেশটিতে আইএসের সদস্য মোতায়েন করে সন্ত্রাসী হামলা চালাচ্ছে। তেহরানের দাবি, বহিরাগত এই গোষ্ঠীগুলো সাধারণ মানুষের বিক্ষোভকে ছিনতাই করে সহিংসতা উসকে দিচ্ছে। এরই মধ্যে সাড়ে তিনশ মসজিদ এবং দুইশ এম্বুলেন্সসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা আন্দোলনকারীদের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তবে নিরাপত্তা বাহিনী এই বিশৃঙ্খলা দমনে কঠোর অবস্থান নিয়েছে।
এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানি বিক্ষোভকারীদের প্রতি আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন তাদের জন্য শিগগিরই সহায়তা আসছে। ট্রাম্প তেহরানের সঙ্গে পূর্বনির্ধারিত সব বৈঠক বাতিল করে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, বিক্ষোভকারীদের ওপর হামলাকারীদের কঠোর মূল্য দিতে হবে। তিনি এই হত্যাকাণ্ডের জন্য দায়ীদের তালিকা মনে রাখার জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানান।
উল্লেখ্য, ইরানের রিয়ালের রেকর্ড দরপতন এবং ক্রমবর্ধমান জীবনযাত্রার ব্যয়ের প্রতিবাদে শুরু হওয়া এই আন্দোলন গত কয়েক দশকের মধ্যে দেশটির জন্য সবচেয়ে বড় অভ্যন্তরীণ চ্যালেঞ্জ।
একদিকে ট্রাম্পের অব্যাহত হুমকি, অন্যদিকে ইরানের পাল্টা পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি। যতই সময় গড়াচ্ছে ততই যেন বাড়ছে ইরানি মার্কিন হামলার আশঙ্কা। এতে, সংকট আরও ঘনীভূত হওয়ার পাশাপাশি ক্রমশ জটিল হচ্ছে পরিস্থিতি।
গত মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ডে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন ট্রাম্প। এসময় তিনি জানান, ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভে প্রাণহানির প্রকৃত সংখ্যা জেনে দেশটির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে যুক্তরাষ্ট্র। এছাড়া, বিক্ষোভকারীদের কাউকে মৃত্যুদণ্ড দিলে ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেয়ার হুঁশিয়ারি দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ‘ইরান ইস্যুটি আলোচনার টেবিলে। আমরা নিহতদের প্রকৃত সংখ্যা অনুসন্ধানে কাজ করছি। সেই অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা।’
শিগগিরই এক বিক্ষোভকারীকে ইরান মৃত্যুদণ্ড দেবে বলে শঙ্কা জানিয়েছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর। এর আগে, গ্রেপ্তার হওয়া হাজারো বিক্ষোভকারীদের মৃত্যুদণ্ডের বিষয়ে শঙ্কা জানায় জাতিসংঘ।
তেহরানের বিক্ষোভকারীদের দেশপ্রেমিক অভিহিত করে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান ট্রাম্প। যুক্তরাষ্ট্র থেকে সহায়তার আশ্বাসও দেন তিনি। ইরানে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা ও সহিংসতা উস্কে দেয়ার জন্য ট্রাম্পকে দোষারোপ করে জাতিসংঘে চিঠি দিয়েছেন ইরানের প্রতিনিধি।
চলমান উত্তেজনার মাঝেই যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী ইরানের নির্বাসিত যুবরাজের সঙ্গে সাক্ষাত করেন ট্রাম্পের দূত স্টিভ উইটকভ। ফক্স নিউজের এক সাক্ষাৎকারে রেজা পাহলভি, ইরান সরকারের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান জানান।
এদিকে, ধোঁয়াশা কাটছে না সরকারবিরোধী আন্দোলনের মৃতের সংখ্যা নিয়ে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা এইচআরএএন—এর দাবি, ইরানের চলমান আন্দোলনে প্রাণহানির সংখ্যা আড়াই হাজার ছাড়িয়েছে। তবে কানাডাভিত্তিক গণমাধ্যম সিবিসি জানায়, সহিংসতায় প্রাণহানির সংখ্যা ১২ থেকে ২০ হাজার পর্যন্ত হতে পারে।
অন্যদিকে, কয়েকদিন বন্ধ থাকার পর সীমিত পরিসরে স্বাভাবিক হচ্ছে ইরানের ল্যান্ডলাইন ও মোবাইল পরিষেবা। এতে করে বহির্বিশ্বের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছেন তেহরানবাসী। তবে বিচ্ছিন্ন ইন্টারনেট পরিষেবা। এমন অবস্থায় বিনামূল্যে ইন্টারনেট সেবা দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে ইলন মাস্কের স্টারলিংক। স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগ না হওয়ায় উদ্বিগ্ন ইরানের প্রবাসীরা।
যুক্তরাষ্ট্রের পর কানাডার নাগরিকদের ইরান ছাড়ার পরামর্শ দিয়েছে অটোয়া। এছাড়া, ভ্রমণ সতর্কতা জারি করেছে ফ্রান্সও। পাশাপাশি ইউরোপের বেশ কয়েকটি দেশ তেহরানের আন্দোলনে ব্যাপক প্রাণহানির জন্য দেশটির রাষ্ট্রদূতকে তলব করে নিন্দা জানিয়েছে।
বান্দরবানের লামা আজিজনগর গজালিয়া এলাকায় সন্ত্রাসীদের পাহারায় চলছে অবৈধ ইটভাটা । এই ইটভাটা টিতে পাহাড় কেটে মাটি ও অবাদে পোড়ানো হচ্ছে বনাঞ্চলের কাঠ। অভিযোগ উঠেছে এসব অবৈধ কর্মকাণ্ডের নেতৃত্ব দিচ্ছেন মোহাম্মদ উল্ল্যাহ আজম খান ও তার দুই পুত্র ফরহাদ ও আলভি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০০১ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত মোহাম্মদ উল্ল্যাহ আজম খান আজিজ নগর ইউপি চেয়ারম্যান ছিলেন। সেসময় আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় এলাকায় আধিপাত্যের বলয় সৃষ্টি করে নানা অনিয়মের মধ্যে গজালিয়া এলাকায় এসবিএম নামে অবৈধ ইটভাটা পরিচালনা করে আসছেন তিনি। যেখানে বিভিন্ন সশস্ত্র সন্ত্রাসী মজুদ রেখেছেন ইটভাটাটি পাহাড়া দিতে। ফলে এলাকাবাসীরা এদের ভয়ে মুখ খুলতেও সাহস পাচ্ছেন না। আর এসব অবৈধ অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে নতুন করে যুক্ত হয়েছেন তারই পুত্র ফরহাদ হোসেন ও আলভি।
স্থানীয়রা আরও বলেন ৩ পার্বত্য জেলায় অবৈধ সকল ইটভাটা গুড়িয়ে দেওয়ার নির্দেশ ছিল হাইকোর্টের।
অন্যান্য ইটভাটায় অভিযান পরিচালনা করলেও এই ভাটা মালিকের প্রভাব ও টাকা বিনিময়ের কারণে এখনো পর্যন্ত কোন প্রকার অভিযান পরিচালনা করেনি প্রশাসন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একধীক সংবাদকর্মী বলেন, সম্প্রতি অবৈধ ইটভাটার তথ্য সংগ্রহ করতে গজালিয়া এলাকায় আজম খানের এসবিএম ব্রিক ফিল্ডে গেলে, তথ্য সংগ্রহকালে ভাটা মালিক মোহাম্মদ উল্ল্যাহ আজম খানের নির্দেশে তারই ছেলে ফরহাদ ও ম্যানেজার কবিরসহ ভাটা শ্রমীকরা মোবাইল কেড়ে নেয় এবং অধৌত আচরণ করেন। তারা চট্টগ্রামের সাবেক আওয়ামী নেতার ক্যাডার নীতিতে জড়িত থেকে বেশ কয়েকটি হত্যাও করেছিলেন তারা। এখনও কয়েকটি লোক ইটভাটার চুল্লিতে পুড়িয়ে ফেললে কিছু যায় আসে না বলে দাম্ভিকতা প্রকাশ করেন।
এ বিষয়ে ইটভাটা মালিক মোহাম্মদ উল্ল্যাহ আজম খান, ইটভাটাটির অনুমোদন নেই বলে স্বীকার করলেও সাংবাদিকদের সাথে ঘটে যাওয়া লাঞ্চনার ঘটনায় শ্রমীকদের দায়ী করছেন তিনি।
লামা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মঈন উদ্দীন বলেন, তিনি সদ্য যোগদান করেছেন ফলে ক্রমান্বয়ে উপজেলার সবকটি ইটভাটায় অভিযান পরিচালনা করছেন। তবে গজালিয়ার এই এইসবিএম ভাটাটিতে এখনো পর্যন্ত অভিযান পরিচালনা করা হয়নি। এ নিয়ে বান্দরবান পরিবেশ অধিদপ্তরকে একাধিক বার অভিযান পরিচালনা করতে আহ্বান জানানো হলেও তারা আসেননি। তবে অতিশিগ্রই অভিযান পরিচালনা করা হবে বলে জানান তিনি।
বান্দরবান পরিবেশ অধিদপ্তরের সহারী পরিচালক মো. রেজাউল করিম বলেন, জেলায় এই মুহূর্তে কয়টি ইটভাটা চালু আছে তার সঠিক তথ্য তার কাছে নেই। তবে লামা উপজেলার আজিজ নগর, ফাইতং ইউনিয়নসহ ৩১টি ইটভাটা চালু রয়েছে। গজালিয়া ইউনিয়নের আজম উল্লাহ খানের এসবিএম ইটভাটার বিরুদ্ধে মামলা প্রক্রিয়াধীন আছে। জনবল ও লজিস্টিক সংকটের কারণে নিয়মিত অভিযান চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে বলে জানান তিনি।
এটি কোনো ফাইভ স্টার হোটেলের গল্প নয়, এখানে নেই কোনো আলো ঝলমলে ঝাড়বাতি বা রঙিন লাইট। নেই কোনো দামি চেয়ার টেবিল। আছে শুধু অপলকহীন পথের দিকে তাকিয়ে থাকা। কখন একজন কাস্টমার আসবে ভাবির হোটেলে সেই অপেক্ষায়!
প্রায় ১০ বছর আগে মাগুরা সদরের পারনান্দুয়ালী বাস টার্মিনাল এলাকায় বিশ্বরোডসংলগ্ন গড়ে উঠেছে সম্পূর্ণ ঘরোয়া পরিবেশে ফরিদা বেগমের ‘ভাবির হোটেল’ নামে খ্যাত এই হোটেলটি।
টিনের ভাঙাচোরা একটি এক কক্ষবিশিষ্ট মাটির ছাপরা ঘর। চারিপাশে বাঁশের বেড়া। কোনো কোনো পাশের বেড়া আবার ভেঙে পড়ে গেছে। বসার ব্যবস্থা হিসেবে হোটেলে আছে ২/৩টা বেঞ্চ এবং নড়বড়ে টেবিল। সেখানেই পরম মমতায় আপ্যায়ন করা হয় নিজের হাতের রান্না করা দেশিয় চালের ভাত, ডাল, মুরগির গোশ, ভর্তা, ভাজি, মুড়িঘণ্ট ইত্যাদি। প্রতিদিন মাত্র ২ কেজি চাল রান্না করা হয়। কাস্টমারদের কাছে বিক্রি করার পর যে খাবার বেঁচে যায়, তাই খেয়ে বেঁচে থাকেন ফরিদা বেগমের পরিবার।
২১ বছর আগে জীবিকার তাগিদে সাতক্ষীরা থেকে স্বামী আবদুল জলিলের (৫৫) হাত ধরে মাগুরায় এসেছিলেন ফরিদা বেগম (৪৭)। কাজ করতে করতে মাগুরার মায়ায় পড়ে যান তারা আর ফিরে যান নি দেশে। তাদের গ্রামের বাড়িতেও নিজস্ব জমি বলতে তেমন কিছু নেই।
আব্দুল জলিল কারেন্ট মিস্ত্রির কাজ করতেন, আর ফরিদা বেগম বাসা বাড়িতে কাজ শুরু করেন। পারনান্দুয়ালী এলাকায় ২ হাজার টাকায় ভাড়া বাসায় থাকেন তারা। একমাত্র ছেলে সন্তানকে নিয়ে মোটামুটি ভালোই চলছিল সংসার। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাসের কাছে একদিন হার মানতে হয় তাদের। ২০০৭ সালে বিদ্যুতের কাজ করতে গিয়ে ফরিদার স্বামী মারাত্মকভাবে অগ্নি দগ্ধ হয়। তারপর থেকে সে আর কোন কাজ করতে পারে না। তার চিকিৎসার পেছনে প্রচুর টাকা নেমে যায়। এখনো প্রতিদিন ৩০০ টাকার ওষুধ লাগে। অভাবের তাড়নায় ছেলেকেও লেখাপড়া শেখাতে পারেননি। বাসার কাছেই গাড়ি সাড়ার একটি লেদে ছেলেকে কাজে লাগিয়ে দেন।কিন্তু তাতেই বা আর কয় টাকা আসে। সংসার চালাতে আর স্বামীর চিকিৎসার খরচ চালাতে হিমশিম খেয়ে যান ফরিদা বেগম। নানা কষ্ট আর চিন্তাই ফরিদা নিজেই অসুস্থ হয়ে পড়েন। ধরা পড়ে ডায়াবেটিক এবং হাই প্রেসার। এছাড়া হাতে পায়ে ব্যথা অনুভব করেন সব সময়। আগের মতো শরীরে বল পাননা তিনি, তাই বাধ্য হয়ে বাসা বাড়ির কাজ ছেড়ে দিতে হয় তাকে। কিন্তু সংসার তো চালাতে হবে, সেই চিন্তা করে রাস্তার পাশেই পারনান্দুয়ালী এলাকার বাসিন্দা ইকবালের কাছ থেকে ২৫০০ টাকায় ছাপরা ঘর ভাড়া নিয়ে শুরু করেন এই ‘ভাবির হোটেল’। বাস টার্মিনালের পাশে হওয়ায় গাড়ির ড্রাইভার এবং শ্রমিক লেভেলের লোকজন বেশি আসে এখানে। ভাঙ্গা হোটেল দেখে ভদ্র ও শিক্ষিত সমাজের লোকজন এখানে আসেন না বললেই চলে। প্রতিদিন ২ কেজি চাল রান্না করা হয়, বিক্রি করার পর যে খাবার বেঁচে যায়, তাই খেয়ে জীবন বাঁচান ফরিদার পরিবার। দিনে মাত্র পাঁচ ছয় জন কাস্টমার আসে এই হোটেলে।
এই সামান্য টাকায় সংসার কিভাবে চলে তা জানতে চাইলে ফরিদা বেগম দৈনিক বাংলাকে জানান, কি করব, খাবার বিক্রি করে যে টাকা পায় কোনরকমে কষ্টে চলে সংসার। এছাড়া তো আর কিছু করারও নেই। ভিক্ষা করতে তো আর পারি না। লজ্জায় কারো কাছে কিছু চাইনে। বাসা বাড়িতে কাজ করার সময় আগে মানুষ একটু গোশ দিত, কাপড় চোপর দিত, বাসার কাজ ছেড়ে দেয়ার পর এখন আর কেউ কিছু দেয় না। আমার শীতের কোনো কাপড় নেই শাড়ি ছিরে চাদর বানিয়ে তাই গায়ে দিই। কেউ এসে একটা শীতের কাপড় বা কম্বলও দেয়নি।
ফরিদার স্বামী আব্দুল জলিল বলেন, আগুনে পুড়ে যাওয়ার পর পায়ে খুব বেশি জোর দিতে পারি না তাই ভারি কোনো কাজ করতে পারি না। ওষুধ খরচ আর সংসার চালানোর জন্যি নিজেদের খাবারের চাল দিয়েই এই হোটেল চালায়। কিন্তু ২৫ কেজির চাল ১৫-২০ দিনের মধ্যে শেষ হয়ে যায়। এখন চালের দোকানে অনেক দেনা। কাঠের খড়ি কিনে রান্না করতে হয়, সেখানেও অনেক দেনা হয়ে গিছি। দুই মাসের ঘর ভাড়া বাকি, কবে এই টাকা শোধ দিতে পারব জানিনে। দেনার দায়ে হোটেলটাই শেষ পর্যন্ত বন্ধ করে দিতে হবে মনে হয়।
হোটেলের পাশে লেদ মিস্ত্রি রিপন বলেন, অনেকদিন ধরেই ফরিদা বেগম কষ্ট করে এই হোটেল চালান। তারা খুব ভালো মানুষ। প্রশাসন যদি ওনাদের একটু সাহায্য করত তাহলে একটি পরিবার বেঁচে যেত।