কিশোরগঞ্জের আলোচিত পাগলা মসজিদের দানবাক্স খুলে এবার ২৭ বস্তা টাকা পাওয়া গেছে, যেগুলোর গণনা চলছে এ মুহূর্তে। জেলা শহরের ঐতিহাসিক মসজিদটিতে ৯টি দানবাক্স আছে, যেগুলো প্রতি তিন মাস পরপর খোলা হয়। রমজানের কারণে এবার এবার খোলা হয়েছে চার মাস ১০ দিন পর।
অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও দানবাক্স খোলা কমিটির আহ্বায়ক কাজী মহুয়া মমতাজের তত্ত্বাবধানে জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ ও পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ রাসেল শেখের উপস্থিতিতে সকাল সাড়ে ৭টার দিকে দানবাক্সগুলো খোলা হয়। এবার ৯টি দানবাক্স খুলে ২৭ বস্তা টাকা পাওয়া গেছে।
ডিসি মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, সকাল সাড়ে ৭টার দিকে মসজিদ পরিচালনা কমিটির সদস্যদের উপস্থিতিতে ৯টি দানবাক্স খোলা হয়েছে। এসব দানবাক্সে ২৭ বস্তা টাকা পাওয়া গেছে।
এসপি মোহাম্মদ রাসেল শেখ জানান, কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে পাগলা মসজিদের দানবাক্সগুলো খোলা হয়েছে। টাকা গণনা শেষে ব্যাংকে পৌঁছে দেয়া পর্যন্ত পুলিশ সদস্যরা নিরাপত্তায় নিয়োজিত থাকবেন।
টাকা গণনার কাজে জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা, কর্মচারীরা ছাড়াও মাদ্রাসার ১১২ ছাত্র, ব্যাংকের ৫০ কর্মী, মসজিদ কমিটির ৩৪ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ১০ জন সদস্য অংশ নিয়েছেন।
দানবাক্সগুলো খোলার পর গণনা দেখতে মসজিদের আশপাশে ভিড় করছেন উৎসুক মানুষ। তাদের মধ্যে অনেকে এসেছেন দূরদুরান্ত থেকে।
এর আগে ২০২৩ সালের ৯ ডিসেম্বর তিন মাস ২০ দিন পর দানবাক্সগুলো খোলা হয়েছিল। তখন ২৩টি বস্তায় ছয় কোটি ৩২ লাখ ৫১ হাজার ৪২৩ টাকা পাওয়া গিয়েছিল।
ঐতিহাসিক এ মসজিদের দানবাক্সে একসঙ্গে এত টাকা পাওয়াটা তখন ছিল নতুন রেকর্ড। এবার সে রেকর্ড ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
জেলা শহরের হারুয়া এলাকায় নরসুন্দা নদীর তীরে প্রায় ১০ শতাংশ জমিতে পাগলা মসজিদ গড়ে ওঠে। সম্প্রসারণের পর মসজিদের আওতাভুক্ত জমির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে তিন একর ৮৮ শতাংশে।
পার্বত্য বান্দরবান জেলার সবচেয়ে জনগুরুত্বপূর্ণ লামা উপজেলা। এ উপজেলার শহর থেকে গ্রামে সরকারের নানা উন্নয়ন ও নাগরিক সেবা সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে কাজ করে যাচ্ছেন বিভিন্ন দপ্তরের শতশত কর্মকর্তা-কর্মচারী। কিন্তু এসব কর্মকর্তা কর্মচারীদের জন্য সরকারিভাবে আবাসিকের ব্যবস্থা না থাকার কারণে একদিকে যেমন কর্মকর্তা কর্মচারীরা চরম ভোগান্তি পোহাচ্ছেন, তেমনি ব্যাহত হচ্ছে উপজেলার জরুরি নাগরিক সেবাও।
একটি পৌরসভা, সাতটি ইউনিয়ন ও একটি থানা নিয়ে গঠিত এ উপজেলার উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা পরিষদসহ বিভিন্ন দপ্তরে ১ হাজার ৩২৫ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী কর্মরত আছেন। চরম আবাসন সংকট নিরসনে দ্রুত আবাসিক গেজেটেড কোয়ার্টার ও ডরমিটরি নির্মাণের দাবি তুলেছেন ভুক্তভোগী কর্মকর্তা কর্মচারীরা।
উপজেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, ১৯২০ সালের ৭ সেপ্টেম্বর লামা থানা গঠিত হয়। ১৯৭০ সালের ৯ অক্টোবর আলীকদম, নাইক্ষ্যংছড়ি, বাইশারী ও গজালিয়া থানাকে নিয়ে এটি ‘লামা মহকুমা’য় উন্নীত হয়। ১৯৮৩ সালে দেশের সব মহকুমা বিলুপ্ত করে জেলা ঘোষণার সময় তৎকালীন সরকারি প্রজ্ঞাপনে লামাকে জেলা ঘোষণা করা হলেও তা মাত্র ৩ দিন স্থায়ী হয়েছিল। তবে মহকুমা ও জেলা ঘোষণার ইতিহাসের কারণে একটি জেলা শহরে সরকারের প্রশাসনিক কাজের যতগুলো দপ্তর থাকে, তার প্রায় সবই রয়ে গেছে এই উপজেলায়। বন বিভাগ ও পোস্ট অফিস বাদে বর্তমানে উপজেলায় সরকারের ৩৩টি দপ্তর রয়েছে। এসব দপ্তরে বর্তমানে ১৪২ জন কর্মকর্তা এবং ১ হাজার ১৮৩ জন কর্মচারীসহ সর্বমোট ১ হাজার ৩২৫ জন কর্মী কর্মরত রয়েছে।
অপর একটি সূত্র জানায়, আবাসন সংকটের নেতিবাচক প্রভাব সরাসরি পড়ছে দাপ্তরিক কাজে। দূরবর্তী স্থান থেকে যাতায়াত করতে গিয়ে যেমন সময় অপচয় হচ্ছে, তেমনি অতিরিক্ত মানসিক ও শারীরিক ক্লান্তির কারণে ব্যাহত হচ্ছে নাগরিক সেবা। বিশেষ করে জরুরী সেবার সঙ্গে জড়িত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কর্মস্থলে সার্বক্ষণিক অবস্থান করতে হিমশিম খাচ্ছেন।
সরেজমিন দেখা যায়, উপজেলা শহরের বিভিন্ন এলাকার সাধারণ মেসে বা জরাজীর্ণ বাসা-বাড়িতে কয়েকজন কর্মচারী একসঙ্গে গাদাগাদি করে বসবাস করছেন। আবার কেউ কেউ বাধ্য হয়ে থাকছেন অতি সাধারণ পাহাড়ি ঘরবাড়িতে, যেখানে ন্যূনতম নাগরিক সুযোগ-সুবিধাও নেই। দূর-দূরান্ত থেকে বদলি হয়ে আসা চাকরিজীবীদের কর্মস্থলে যোগ দিয়েই পড়তে হচ্ছে চরম আবাসন সংকটে। সুনির্দিষ্ট আবাসন ব্যবস্থা না থাকায় স্থানীয় এলাকায় চড়া মূল্যে বাসা ভাড়া নিতে বাধ্য হচ্ছেন সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা কর্মচারীরা। অনেকেই বাধ্য হয়ে পরিবার-পরিজন দূরে রেখে একাকী মেস জীবন কাটাচ্ছেন।
লামা উপজেলা প্রশাসনের উপপ্রশাসনিক কর্মকর্তা উচিংমে চাক বলেন, নারী হিসেবে দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় আবাসন সুবিধা না থাকাটা সবচেয়ে বড় নিরাপত্তা সংকট। পরিবার নিয়ে থাকার মতো ভালো বাসা এখানে পাওয়াই যায় না, আর পেলেও ভাড়া আকাশচুম্বী। এদিকে সহকারী প্রশাসনিক কর্মকর্তা বামং সিং মার্মা জানায়, অফিস শেষ করে একটু শান্তিতে যে বিশ্রাম নেব, সেই পরিবেশটুকুও নেই। ভাঙাচোরা মেসবাড়িতে থাকতে হয়। ডরমিটরি থাকলে উপজেলাবাসী আরও বেশি সেবা পেত।
উপজেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা কাঞ্চন দে বলেন, পাহাড়ি অঞ্চলের মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে যারা নিজেদের শ্রম ও মেধা উৎসর্গ করছেন, তাদের ন্যূনতম মৌলিক চাহিদা পূরণ করা সময়ের দাবি। সরকারি কর্মচারীদের জন্য একটি আধুনিক ডরমিটরি বা কোয়ার্টার নির্মাণ এখন আর কেবল বিলাসিতা নয়, বরং সেবার মান বজায় রাখার জন্য অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে।
সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারীদের আবাসন সংকটের সত্যতা স্বীকার করে লামা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মঈন উদ্দিন জানান, বান্দরবানের ৭টি উপজেলার মধ্যে ৬টিতেই অফিসার্স কোয়ার্টার ও ডরমিটরি থাকলেও, কেবলমাত্র লামা উপজেলাতেই কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কোনো আবাসন ব্যবস্থা নেই।
ইউএনও আরও জানায়, উপজেলায় সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জন্য আবাসিক গেজেটেড কোয়ার্টার ও ডরমিটরি নির্মাণের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য স্থানীয় সরকার বিভাগের নিকট ইতোমধ্যে অনুরোধ জানিয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। চিঠিতে প্রস্তাব আকারে সম্ভাব্য স্থানগুলোর নকশা তৈরি ও পরিচিহ্নিত করে দেওয়া হয়েছে। আশা করি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দ্রুত অনুমোদন পাওয়া গেলে উপজেলায় আবাসিক গেজেটেড কোয়ার্টার ও ডরমিটরি নির্মাণের মাধ্যমে বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা কর্মচারীদের আবাসন সংকট নিরসন সম্ভব হবে।
নওগাঁয় পুরাতন মোবাইল ও ইলেকট্রনিক্স পণ্য ব্যবসায়ী শফিকুল ইসলাম হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এসম নিহত শফিকুলের ব্যবহৃত দুটি মোবাইল, একটি মটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার করা হয় দেশীয় অস্ত্র।
শনিবার (১৩ জুন) দুপুরে সদর মডেল থানায় সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানান পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম। নিহত শফিকুল ইসলাম জয়পুরহাট জেলার আক্কেলপুর উপজেলার তিলেকপুর গ্রামের আজিজার রহমানের ছেলে।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, নওগাঁ সদর উপজেলার ভিমপুর পাঠাকাটা এলাকার সিদ্দিকুর রহমানের ছেলে জয়নুল (৩৫) ও মান্দা উপজেলার সতীহাট শ্রীরামপুর এলাকার এরশাদ আলীর ছেলে আশরাফুল (২৬)।
সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার জানান, গত বৃহষ্পতিবার সদর উপজেলার বারমাসি বিলে কচুরিপানা নিচ থেকে শফিকুল ইসলাম নামে এক ব্যাক্তির লাশ উদ্ধার করা হয়।
নিহত শফিকুল পুরাতন মোবাইল ও ইলেকট্রনিক্স পণ্য ব্যাবসা করতেন। লোভ এবং ব্যবসায় কিছুটা লাভবান হওয়ায় ঈর্ষান্বিত হয়ে তার পূর্বপরিচিত জয়নুল, আশরাফুলসহ তিনজন গত ৭ জুন মান্দার সুতিহাটে শফিকুলকে হত্যার পরিকল্পনা করেন তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী ৮ জুন শফিকুলকে ভীমপুর কলেজ মোড়ে আসতে বললে সেখান থেকে দুইটি মোটরসাইকেলে করে বারোমাসি বিলে পার ঘাটি ব্রিজে চলে যায় তারা। সেখানে হঠাৎ করে পিছন থেকে একজন পলাতক আসামি রশি দিয়ে শফিকুলের গলায় টান দেয়। টান দেওয়ার সাথে সাথে গ্রেপ্তারকৃত আসামি জয়নুল হাত ও আশরাফুল পা চেপে ধরে। তারপর সে নিস্তেজ হয়ে গেলে তার মৃত্যু নিশ্চিত করতে তারা তিনজনে পানিতে ডুবিয়ে কচুরিপানা দিয়ে ঢেকে রেখে মোটরসাইকেল নিয়ে পালিয়ে যায়।
পুলিশ সুপার তারিকুল ইসলাম বলেন, লাশ উদ্ধারের পর হত্যাকান্ডের রহস্য উদঘাটনে তদন্তে নামে পুলিশের একটি টিম। তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত থাকা জয়নুলকে প্রথমে শহরের একটি এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়।
পরবর্তীতে মান্দা উপজেলা থেকে আশরাফুলকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারের পর জয়নুল এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা স্বীকার করে।
সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম, জয়ব্রত পাল ও সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আসাদুজ্জামানসহ পুলিশ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
দক্ষিণবাংলার অতীত ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও প্রত্নতত্ত্বের সংরক্ষণ ও উপস্থাপনায় এক অনন্য ভূমিকা রেখেছে খুলনা বিভাগীয় জাদুঘর। খুলনা শহরের প্রাণকেন্দ্র শিববাড়ী মোড়ে অবস্থিত এই জাদুঘরটি প্রতিদিনই নানা বয়সি দর্শনার্থীদের পদচারণায় মুখরিত থাকে।
আঞ্চলিক পরিচালক মো. মহিদুল ইসলাম জানান, খুলনা বিভাগীয় জাদুঘরটি এক একর জমির উপর অবস্থিত। এখানে প্রতিনিয়ত দেশি-বিদেশি দর্শনার্থীদের আগমন ঘটে থাকে। খুলনা বিভাগীয় জাদুঘরে রয়েছে গুপ্ত, পাল, সেন, মোঘল ও ব্রিটিশ আমলের নানা ধরনের পুরাকীর্তির নিদর্শণ, পোড়ামাটি, পাথরের মূর্তি, বিভিন্ন আমলের মুদ্রার রেপ্লিকা ও বিভিন্ন ধরনের তৈজসপত্রসহ সুন্দরবন গ্যালারি সংযোজন রয়েছে।
দর্শনার্থী নর্দান ইউনিভার্সিটি অব বিজনেজ অ্যান্ড টেকনোলজি, খুলনার গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী ফাতেমা-তুজ-জোহরা বলেন, ‘প্রতিটি প্রদর্শনীর পেছনে একটা গল্প রয়েছে। আমরা শুধু বই পড়ে ইতিহাস শিখছি না, বরং ইতিহাস ছুঁয়ে দেখছি।’ জাদুঘরের একজন কিউরেটর বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য শুধু নিদর্শন সংরক্ষণ নয়; বরং নতুন প্রজন্মকে তাদের শিকড় সম্পর্কে সচেতন করে তোলা।’
জাদুঘরের প্রদর্শনীর সূচনা হয়েছে ১নং গ্যালারি থেকে। এই গ্যালারিতে স্থান পেয়েছে খুলনার বিভিন্ন অঞ্চল থেকে সংগৃহীত বিভিন্ন প্রত্নসম্পদ। এর মধ্যে যশোরের ভরত ভায়না বৌদ্ধ মন্দির, পীরপুকুর মসজিদ, গলাকাটা মসজিদ, জোড়বাংলা মসজিদ, সাতগাছিয়া মসজিদ, জাহাজঘাটা, দমদম পীরস্থান ঢিবি, বাগেরহাটের খানজাহান আলী (র.)-এর বসতভিটায় প্রত্নতাত্ত্বিক খননে প্রাপ্ত নিদর্শন। এ ছাড়া রয়েছে খুলনা আর্ট কলেজ থেকে প্রাপ্ত ১২-১৩ শতকের মূর্তি, বাগেরহাটের কচুয়া থেকে প্রাপ্ত মারিচী মূর্তি, খুলনার কপিলমুনি ঢিবি গুচ্ছ থেকে সংগৃহীত পোড়ামাটির সামগ্রী, গুপ্ত যুগের মুদ্রা, খুলনা বিভাগের প্রশাসনিক মানচিত্র ইত্যাদি।
২নং গ্যালারিতে প্রদর্শিত হচ্ছে পোড়ামাটি ও শামুকের তৈরি চুড়ি, লোহার শাবল, পেরেক ও কব্জা, পশুর হাড় ও দাঁত। আদি মধ্যযুগীয় প্রত্নস্থান যশোরের ভরত ভায়না থেকে প্রাপ্ত পোড়ামাটির অলংকৃত ইট, পোড়ামাটির খেলনা, ওজন, পিরিচ ও থালা ইত্যাদি। এ ছাড়া রয়েছে খ্রিষ্টীয় ১০ম-১১শ শতকের গণেশ, বিষ্ণু, গরুড়, নন্দীসহ বিভিন্ন ধরনের প্রস্তর নির্মিত মূর্তি।
৩নং গ্যালারিতে দেখানো হচ্ছে উত্তরবঙ্গের প্রত্নস্থান মহাস্থানগড় ও মঙ্গলকাটি থেকে সংগৃহীত বিভিন্ন প্রত্ননিদর্শন। এর মধ্যে রয়েছে পোড়ামাটির ফলকচিত্র, তামার তৈরি মৃৎপাত্র, স্বল্প মূল্যবান পাথরের পুতি, বিভিন্ন ধরনের মৃৎপাত্র, ছাপাংকিত রৌপ্যমুদ্রা ও ছাঁচে ঢালা মুদ্রা, মসৃণ কালো মৃৎপাত্র এবং পোড়ামাটির ফলকে চিত্রিত মানুষের মাথা প্রভৃতি। আরও রয়েছে আনুমানিক খ্রিষ্টীয় ১১শ-১২শ শতকের মহিষমর্দিনী দূর্গা, নন্দী ও ১০ম শতকের নকশাসহ প্যানেলের অংশ বিশেষ ইত্যাদি।
৪নং গ্যালারিতে প্রদর্শিত হয়েছে লালমাই ময়নামতি অঞ্চলে অবস্থিত শালবন বিহার, আনন্দ বিহার, ভোজ বিহার, রাণীরবাংলো, ইটাখোলা মুড়া, রূপবান মুড়া, কুটিলা মুড়া ও চারপত্র মুড়া প্রত্নস্থান থেকে সংগৃহীত প্রত্নসম্পদ। এর মধ্যে রয়েছে পোড়ামাটির ফলকচিত্র, বিভিন্ন ধরনের মৃৎপাত্র, ছাপাংকৃত মুদ্রা ও ছাঁচে ঢালা মুদ্রা, নব্য পাথর যুগের জীবাশ্ম কাঠের দ্বারা নির্মিত অস্ত্র প্রভৃতি। ৯ম-১০ম শতকের শাক্যমণি, কালো পাথরের শিল ও নোড়া যা ১০ম শতকের বলে অনুমান। রয়েছে মৌর্য, গুপ্ত, সুলতানি ও মোঘল যুগের বিভিন্ন ধরনের মুদ্রা এবং ১২শ-১৫শ শতকের কালো পাথরের উপর খোদিত আররি ও ফারসি উৎকীর্ণ লিপি।
৫নং গ্যালারিতে শোভা পাচ্ছে পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহারের প্রত্ননিদর্শন। পাহাড়পুর বৌদ্ধমন্দির থেকে সংগৃহীত জীবজন্তু, গাছপালার ছবি অংকিত বিভিন্ন ধরনের মানব প্রতিকৃতি পোড়ামাটির ফলক।
আর ৬ নং গ্যালারিতে প্রদর্শিত হচ্ছে গৌড়, লালবাগ কেল্লা, সাভার ও রোয়াইলবাড়ী থেকে সংগৃহীত প্রত্নবস্তু। যার মধ্যে রয়েছে পোড়ামাটির নকশাকৃত ইট, শিলালিপি, বিভিন্ন ধরনের মৃৎপাত্র, ছাপাংকৃত মুদ্রা ও ছাঁচে ঢালা মুদ্রা, চকচকে রঙিন প্রলেপযুক্ত টাইল্স প্রভৃতি। খ্রিষ্টীয় ১৭শ-১৯শ শতকের আরবি ও ফারসি হস্তাক্ষর লিপি, একশত বছরের পুরোনো কাঠের খাট। ১৮শ-১৯শ শতকের বিভিন্ন ধাতব ধরন ও পাথরের তৈরি তৈজসপত্র প্রভৃতি।
জাদুঘরটি সাপ্তাহিক রোববার পূর্ণ দিবস ও সোমবার অর্ধ দিবস বন্ধ থাকে। এ ছাড়া সকল সরকারি ছুটির দিন বন্ধ থাকে। তা ছাড়া অন্যান্য দিবসে খোলা থাকে।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন (ডিএসসিসি) এলাকায় জাতীয় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি ২০২৬ এর উদ্বোধন করেছেন ডিএসসিসি প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ আবদুস সালাম। শনিবার (১৩ জুন) গুলিস্তানের শহীদ মতিউর রহমান পার্কে বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে তিনি ডিএসসিসির ১০টি অঞ্চলে একযোগে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন।
জাতীয় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে ডিএসসিসি এলাকায় ২০২৬ থেকে ২০৩০ পর্যন্ত ৫ বছরে মোট তিন (৩) লক্ষ বৃক্ষরোপণের পরিকল্পনা করা হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে আজ উদ্বোধনী দিনে ডিএসসিসির ১০টি এলাকায় পাঁচশত (৫০০) বৃক্ষরোপণ করা হয়েছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডিএসসিসি প্রশাসক মোঃ আবদুস সালাম বলেন, "১৯৭১ সালে আমরা যেভাবে অস্ত্র হাতে শোষণের বিরুদ্ধে লড়াই করে দেশ স্বাধীন করেছিলাম, দেশ গড়ার এই দ্বিতীয় পর্যায়ে আমাদের লড়াই জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে এবং ঢাকাকে বাঁচানোর লড়াই। ঢাকাকে বাঁচাতে হলে আমাদের অধিক হারে বৃক্ষরোপণ করতে হবে এবং রোপণকৃত গাছের সঠিক পরিচর্যা নিশ্চিত করতে হবে।"
৫ বছরে ২৫ কোটি জাতীয় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি ঘোষণা করায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে প্রশাসক বলেন, "একজন দূরদর্শী রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে তিনি বৃক্ষরোপণকে অগ্রাধিকার দেওয়ায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। কারণ, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় এর বিকল্প কিছুই নেই।"
ঢাকা শহরের ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়া এবং মাত্রাতিরিক্ত তাপমাত্রার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে প্রশাসক বলেন, "কংক্রিটের আধিক্যের কারণে বৃষ্টির পানি মাটির নিচে যেতে পারছে না। তাই নতুন ভবন নির্মাণের সময় কিছু অংশ কংক্রিটমুক্ত রেখে ঘাস বা দুর্বা রাখার জন্য আমি নগরবাসীকে আহ্বান জানাচ্ছি।"
শহরের সবুজায়ন নিশ্চিত করতে ছাদ কৃষকদের জন্য বিশেষ পুরস্কারের ঘোষণা দিয়ে প্রশাসক জানান, "ঢাকায় যারা ছাদ কৃষি করছেন, তাদের উৎসাহিত করতে প্রতি বছর ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে প্রথম ১০ জনকে পুরস্কৃত করা হবে। পরবর্তীতে ছাদ কৃষকদের হোল্ডিং ট্যাক্স রিবেট (ট্যাক্স ছাড়) দেওয়ার বিষয়েও মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সাথে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।"
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, ডিএসসিসির জিরো ওয়েস্ট কার্যক্রমের আওতায় ইতিমধ্যে রোড মিডিয়ান ও ট্রাফিক আইল্যান্ডে ১৮ হাজার গাছ লাগানো হয়েছে। এছাড়া ওসমানী উদ্যানে একটি কেন্দ্রীয় নার্সারি গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যেখান থেকে নাগরিকদের গাছ উপহার দেওয়া হবে।
প্রশাসক নগরীর পরিবেশ রক্ষায় কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, "যাদের পার্ক বা উন্মুক্ত স্থান ইজারা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কোনো বাণিজ্যিক বা অস্থায়ী স্থাপনা রাখা যাবে না। শর্ত ভঙ্গ করলে লিজ বাতিল করা হবে। এছাড়া অবৈধ দখল, লাইসেন্সবিহীন ব্যবসা এবং হকার নিয়ন্ত্রণে প্রতি শনিবার ১০টি অঞ্চলেই মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হবে।"
সবশেষে তিনি ঢাকাকে একটি সুন্দর, 'গ্রীন অ্যান্ড ক্লিন' মেগাসিটিতে রূপান্তর করতে সর্বস্তরের জনগণ ও গণমাধ্যমকর্মীদের সহযোগিতা কামনা করেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ডিএসসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ জহিরুল ইসলামসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।
নারীর ক্ষমতায়ন, দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণের লক্ষ্যে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী নতুন এক উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এরই অংশ হিসেবে ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরে বাহিনীর নারী সদস্যদের জন্য জাপানিজ ভাষা শিক্ষা প্রশিক্ষণ (N-5) কার্যক্রম শুরু হতে যাচ্ছে। এই প্রশিক্ষণের মাধ্যমে নারী সদস্যদের ভাষাগত দক্ষতা বৃদ্ধি, বিদেশে কর্মসংস্থানের উপযোগিতা অর্জন এবং আত্মনির্ভরশীলতা নিশ্চিত করার একটি কার্যকর প্ল্যাটফর্ম তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর উদ্যোগে আগামী ৫ জুলাই ২০২৬ হতে ২ অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত মোট ৯০ (নব্বই) দিনব্যাপী জাপানিজ ভাষা শিক্ষা প্রশিক্ষণ (N-5) পরিচালিত হবে। দেশের মোট ১৩টি কেন্দ্রে এ প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হবে। প্রশিক্ষণ কেন্দ্রসমূহ হলো—আনসার-ভিডিপি একাডেমি, গাজীপুর; ভিটিসি, নবাবগঞ্জ, ঢাকা; এবং ১১ টি জেলা কমান্ড্যান্ট কার্যালয়: ফরিদপুর, ময়মনসিংহ, রংপুর, ঠাকুরগাঁও, কুষ্টিয়া, চট্টগ্রাম, ফেনী, নওগাঁ, হবিগঞ্জ, চাঁদপুর ও কক্সবাজার।
প্রতিটি কেন্দ্রে ৪০ জন করে মোট ৫২০ জন প্রশিক্ষণার্থী এ প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণের সুযোগ পাবেন। আগ্রহী প্রার্থীদের নির্ধারিত যোগ্যতা পূরণ সাপেক্ষে AVMIS অ্যাপের মাধ্যমে নিবন্ধনপূর্বক আবেদন করতে হবে। আবেদনকারীদের বয়স ১৮ থেকে ২৭ বছরের মধ্যে হতে হবে এবং ন্যূনতম এসএসসি বা সমমান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে।
এ উদ্যোগ দেশের নারী সদস্যদের দক্ষতা উন্নয়ন ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানের নতুন দ্বার উন্মোচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। একই সঙ্গে এটি নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন, বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর অগ্রণী ভূমিকার একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হবে।
ফরিদপুরে জেলা পরিষদের উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি উদ্বোধন করা হয়েছে। শনিবার (১৩ জুন) বিকেলে ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলার কামারখালি ইউনিয়নের সালামতপুর গ্রামে বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আব্দুর রউফ এর স্মৃতি জাদুঘর চত্বরে এ কর্মসূচি উদ্বোধন করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।
এর আগে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধনী এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। জেলা পরিষদের প্রশাসক আফজাল হোসেন খান পলাশ এর সভাপতিতে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, ফরিদপুর ১ আসনে সংসদ সদস্য ডঃ ইলিয়াস হুসাইন মোল্লা, সাবেক সংসদ সদস্য খন্দকার নাসিরুল ইসলাম, পুলিশ সুপার মোঃ নজরুল ইসলাম সহ সরকারি কর্মকর্তা ছাড়াও স্থানীয় বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।
পরে প্রধান অতিথি লাঞ্চ নায়েক বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আব্দুর রউফ জাদুঘর চত্বরে গাছের চারা রোপণ করে এ জেলায় বৃক্ষ রোপনের কর্মসূচির উদ্বোধন করেন।
নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে ডিএনডি লেকে গোসল করতে নেমে একই পরিবারের তিন সদস্যের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (১৩ জুন) দুপুরের পর বার্মা স্ট্যান্ড সংলগ্ন নাভানা সিটির সামনে দক্ষিণ কদমতলী কাশেমপাড়া এলাকায় এই হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটে।
মৃত ব্যক্তিরা হলেন গোপালগঞ্জ জেলার দেলোয়ার হোসেনের ছেলে রাশেদুজ্জামান এবং তাঁর শ্যালক গালিব ও শ্যালিকা সুরাইয়া।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ এমদাদুল হক।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দুপুরে ডিএনডি লেকে একই পরিবারের চার সদস্য একসাথে গোসল করতে নামেন। পানিতে নামার অল্প কিছুক্ষণের মধ্যেই একজন কোনোমতে তীরে উঠে আসতে পারলেও বাকি তিনজন চোখের পলকে পানির নিচে নিখোঁজ হয়ে যান। দীর্ঘক্ষণ খোঁজাখুঁজি করেও তাঁদের কোনো সন্ধান না পেয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা তাৎক্ষণিকভাবে আদমজী ফায়ার সার্ভিসকে বিষয়টি অবহিত করেন।
খবর পাওয়ার পরপরই ফায়ার সার্ভিসের একটি চৌকস ডুবুরি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। প্রায় এক ঘণ্টার অক্লান্ত চেষ্টায় ডুবুরিরা প্রথমে রাশেদুজ্জামান ও গালিবকে মৃত অবস্থায় পানি থেকে উদ্ধার করেন। এর ঠিক ৪০ মিনিট পর নিখোঁজ থাকা কিশোরী সুরাইয়াকেও মৃত অবস্থায় উদ্ধার করতে সক্ষম হন তাঁরা।
আদমজী ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার মিরন মিয়া জানান, খবর পেয়ে তাঁদের দল দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার কাজ শুরু করে এবং পর্যায়ক্রমে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করে।
অন্যদিকে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ওসি মোহাম্মদ এমদাদুল হক বলেন, মৃতরা সবাই একই পরিবারের সদস্য। চারজন মিলে লেকে গোসল করতে নামলেও একজন বেঁচে ফেরেন এবং বাকি তিনজন পানিতে ডুবে প্রাণ হারান। বর্তমানে তাঁদের প্রত্যেকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
যশোরের মণিরামপুর উপজেলায় মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় মাহিম (১৫) নামের এক স্কুলশিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (১৩ জুন) সকাল সকাল সাড়ে ৯টার দিকে রাজারহাট-চুকনগর মহাসড়কের আটমাইল নামক স্থানে এ দূর্ঘটনা ঘটে।
মাহিম মণিরামপুর উপজেলার ভোজগাতী গ্রামের সিরাজুল ইসলামের ছেলে এবং কুয়াদা স্কুল অ্যান্ড কলেজের দশম শ্রেনীর শিক্ষার্থী।
জানা যায়, শনিবার (১৩ জুন) সকালে মাহিম তার মামার মোটরসাইকেল নিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে দেখা করতে বেগারীতলা বাজারে যায়। সেখানে কিছু সময় অবস্থান শেষে বাড়ি ফেরার পথে আটমাইল এলাকায় পৌঁছালে মোটরসাইকেলটির নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে সে।
এ সময় মোটরসাইকেলটি রাস্তার পাশে থাকা একটি পিলার ও গাছের সঙ্গে সজোরে ধাক্কা খায়। সংঘর্ষে মোটরসাইকেলটি দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং মাহিম ঘটনাস্থলেই নিহত হয়।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে মণিরামপুর থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবু সাঈদ বলেন, এ ঘটনায় হাইওয়ে পুলিশ প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করছে। চুকনগর হাইওয়ে পুলিশের সাব-ইন্সপেক্টর রেহানা আক্তার বলেন, পরিবারের আবেদনের প্রেক্ষিতে লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
জয়পুরহাটে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ও আহত ২১টি পরিবারের মাঝে ট্রাস্ট ফান্ডের মোট ৭৭ লাখ টাকার আর্থিক সহায়তার চেক বিতরণ করেছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)।
শনিবার (১৩ জুন) দুপুরে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে এই অর্থ হস্তান্তর করা হয়। সরকারি এই মানবিক সহায়তা পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন স্বজন হারানো পরিবারের সদস্যরা।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে হতাহতদের পরিবারের হাতে চেক তুলে দেন জনপ্রশাসন ও খাদ্য প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন, জয়পুরহাট জেলা প্রশাসক আল মামুন মিয়া, জেলা পরিষদ প্রশাসক মাসুদ রানা প্রধান,বিআরটিএ পরিদর্শক রাম কৃষ্ণ পোদ্দার সহ সরকারি - বেসরকারি ও রাজনৈতিক ব্যাক্তিবর্গ,সুধীজন ও আর্থিক সহয়তা প্রাপ্তরা।
সড়ক পরিবহন আইনের ট্রাস্ট ফান্ড থেকে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিবার ৫ লাখ, গুরুতর আহতরা ৩ লাখ ও আহতরা ১ লাখ টাকার চেক দেওয়া হয়েছে।
অনুষ্ঠানে অতিথিরা বলেন, সড়ক দুর্ঘটনার ক্ষতি টাকা দিয়ে পূরণ করা সম্ভব নয়, তবে সরকারের এই উদ্যোগ বিপদে পড়া পরিবারগুলোর পুনর্বাসনে কিছুটা হলেও সহায়ক হবে। এ সময় ভবিষ্যতে দুর্ঘটনা রোধে চালক ও পথচারীসহ সবাইকে আরও সচেতন হতে হবে।
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে এসডিকে প্রিন্টিং এন্ড প্যাকেজিং নামে একটি কারখানায় দূধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। এসময় ডাকাতরা কারখানার শ্রমিকদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে নগদ টাকাসহ বিপুল পরিমান মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। শুক্রবার (১২ জুন) দিবাগত রাতে উপজেলার তারাবো পৌরসভার বরাবো এলাকায় এই ডাকাতির ঘটনা ঘটে।
কারখানার একাউন্ট ম্যানেজার নাঈমুর রহমান হৃদয় জানান, গতকাল সন্ধ্যা ৭ টার দিকে ২০/২৫ জনের একটি সংঘবদ্ধ ডাকাতদল একটি ট্রাক যোগে রূপগঞ্জের বরাবো এলাকা অবস্থিত এসডিকে প্রিন্টিং এন্ড প্যাকেজিং কারখানা ইউনিট-২ এর গেইটে এসে সিকিউরিটি গার্ডকে নিজেদের আইনশৃংখলা বাহিনীর সদস্য পরিচয়ে কারখানার ভিতরের প্রবেশ করে।
পরে তারা কারখানার ভিতরে কর্মরত বেশ কয়েকজন শ্রমিককে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে একটি কক্ষে আটকে রাখে। এসময় কারখানার অফিস কক্ষের আলমারী ভেঙ্গে শ্রমিকদের বেতনের জন্য রাখা নগদ ২২ লাখ টাকা, বিভিন্ন মালামালসহ কমপক্ষে ১ কোটি টাকার বিভিন্ন মালামাল লুট করে রাত ১২ টার দিকে কারখানা থেকে বের হয়ে যায়।
এ ব্যাপারে রূপগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ ওসি এএইচএম সালাউদ্দিন আহমেদ বলেন, বিষয়টি আমার জানা নাই। তাছাড়া এব্যাপারে কেউ কোন অভিযোগ করেনি। থানায় রিখিত অভিযোগ করলে তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনা হবে।
চট্টগ্রামে জুলাই আন্দোলনের প্রথম শহীদ ওয়াসিম আকরামের কবর জিয়ারত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শনিবার (১৩ জুন) দিনব্যাপী কক্সবাজার সফরের অংশ হিসেবে তিনি শহীদ ওয়াসিমের কবর জিয়ারত করেন এবং তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে গভীর সমবেদনা জানান। এসময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদসহ বিভিন্ন আসনের সংসদ সদস্যবৃন্দ, স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা এবং শহীদ ওয়াসিম আকরামের পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
কবর জিয়ারত শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তাঁর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান শহীদ ওয়াসিম আকরামের মা জোসনা বেগমের হাতে ২০ লাখ টাকার পরিবার সঞ্চয়পত্র তুলে দেন। এ সময় শহীদ ওয়াসিমের পিতা শফিউল আলমসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যরাও সেখানে উপস্থিত ছিলেন।
সাক্ষাৎকালে প্রধানমন্ত্রী পরিবারের সদস্যদের সার্বিক খোঁজখবর নেন এবং দেশের জন্য শহীদ ওয়াসিম আকরামের আত্মত্যাগের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এসময় তিনি বলেন, দেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনে শহীদদের এই অনন্য অবদান জাতি চিরকাল শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ রাখবে।
প্রধানমন্ত্রীর এই আন্তরিকতায় পরিবারের সদস্যরা তাঁর প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং শহীদ ওয়াসিম আকরামের স্মৃতি সংরক্ষণে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন সময়োপযোগী উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করেন।
উল্লেখ্য, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শনিবার দিনব্যাপী কক্সবাজার সফরে এসে নানামুখী জনকল্যাণমূলক কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন। তাঁর এই সফরের অংশ হিসেবে ঐতিহাসিক পাতলী খালের পুনঃখনন কাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন, স্থানীয় পথসভায় অংশগ্রহণ, সাফারি পার্ক পরিদর্শন, দেশব্যাপী ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির শুভ উদ্বোধন এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা পরিদর্শনের পাশাপাশি শহীদ ওয়াসিম আকরামের কবর জিয়ারতের এই বিশেষ কর্মসূচিটি অন্তর্ভুক্ত ছিল।
চট্টগ্রামের রাউজানে প্রকাশ্য দিবালোকে মাসুদ চৌধুরী (৪৫) নামের এক যুবদল নেতাকে মাথায় অস্ত্র ঠেকিয়ে গুলি চালিয়ে হত্যা করেছে একদল দুর্বৃত্ত। শনিবার (১৩ জুন) দুপুর আনুমানিক দেড়টার দিকে উপজেলার পাহাড়তলী বাজার এলাকায় এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি ঘটে।
নিহত মাসুদ চৌধুরী রাউজান উপজেলার বেতাগী ইউনিয়নের বাসিন্দা এবং তিনি রাঙ্গুনিয়া উপজেলা যুবদলের সহ-সভাপতি পদে দায়িত্বরত ছিলেন।
পুলিশ ও স্থানীয়দের সূত্রে জানা যায়, শনিবার দুপুরে চুয়েট সংলগ্ন পাহাড়তলী বাজারে অবস্থান করছিলেন ওই নেতা। ওই সময় অতর্কিতভাবে একদল সন্ত্রাসী তার ওপর আক্রমণ চালায় এবং অত্যন্ত কাছ থেকে তার মাথায় আগ্নেয়াস্ত্র ঠেকিয়ে গুলি করে দ্রুত পালিয়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
এই মর্মান্তিক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে রাঙ্গুনিয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেন বলেন, ‘দুপুর দেড়টার দিকে মাসুদ চৌধুরীকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে।’
জনাকীর্ণ বাজারে এমন হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। পুলিশ ঘাতকদের ধরতে ইতোমধ্যে তৎপরতা শুরু করেছে।
খুলনা ও বরিশাল বিভাগের ৫ জেলায় পরিবহন ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে বাস মালিক সমিতি ও শ্রমিক ইউনিয়ন।
শুক্রবার (১২ জুন) রাতে বাগেরহাট আন্তঃজেলা বাস, মিনিবাস, কোচ ও মাইক্রোবাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ফকির শহীদুল ইসলাম এই তথ্য জানিয়েছেন।
মহাসড়কে অবৈধ থ্রি-হুইলার চলাচল বন্ধসহ তিন দফা দাবিতে বাগেরহাট, খুলনা, পিরোজপুর, ঝালকাঠি ও বরিশাল জেলায় এই ধর্মঘট ডাকা হয়েছে।
নেতারা বলেছেন, স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠকের পরও তাঁদের এই দাবি পূরণ না হওয়ায় আগামী রোববার (১৪ জুন) থেকে তাঁরা ধর্মঘট শুরু করবেন। ধর্মঘট শুরু হলে খুলনা ও বরিশাল বিভাগের পাঁচ জেলার সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ থাকবে।
বাগেরহাট আন্তঃজেলা বাস, মিনিবাস, কোচ ও মাইক্রোবাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ফকির শহীদুল ইসলাম বলেন, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের ওপর দিয়ে সরকারি ১৮টি বিআরটিসি বাস চলাচলের কথা থাকলেও বাস্তবে এর থেকে অনেক বেশি চলছে। মহাসড়কগুলোতে অবৈধ থ্রি-হুইলার অবাধে চলাচল করছে। এসব সমস্যা সমাধানের জন্য বিভিন্ন সময় স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সাতটি বাস মালিক সমিতি ও সাতটি শ্রমিক ইউনিয়নের দফায় দফায় সভা হয়েছে। কিন্তু প্রশাসন বারবার আশ্বাস দিলেও কোনো সমাধান করেনি। তাই বাধ্য হয়ে খুলনা ও বরিশাল বিভাগের পাঁচ জেলার মালিক সমিতি ও শ্রমিক ইউনিয়ন যৌথভাবে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক গোলাম মোহাম্মদ বাতেন বলেন, বাস মালিক সমিতির তিন দফা দাবির বিষয়ে আমরা অবগত আছি। মহাসড়কে যেন অনির্দিষ্টকালের পরিবহন ধর্মঘট না হয়, সে বিষয়ে আলোচনা চলছে।
পরিবহন মালিক ও শ্রমিকদের ৩ দফা দাবিগুলো হলো
১. সরকারি নীতিমালা লঙ্ঘন করে অনুমোদনের বাইরে অতিরিক্ত বিআরটিসি ও লিজকৃত গাড়ি চলাচল বন্ধ করা এবং নীতিমালা অনুযায়ী জেলা টার্মিনালে একটি মাত্র কাউন্টার চালু রেখে পথে পথে থাকা সব অবৈধ কাউন্টার অপসারণ করা।
২. দূরপাল্লার পরিবহনে নীতিমালা বহির্ভূতভাবে লোকাল বা মাঝপথের যাত্রী পরিবহন বন্ধ করা।
৩. আঞ্চলিক মহাসড়কগুলোতে অবৈধ থ্রি-হুইলার (মাহেন্দ্র, নছিমন, করিমন, অটোরিকশা) চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ করা।