বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারি ২০২৬
২ মাঘ ১৪৩২

কমলগঞ্জে কালবৈশাখীতে বিধ্বস্ত বাড়িঘর

ছবি: দৈনিক বাংলা
সালাহউদ্দিন শুভ, মৌলভীবাজার
প্রকাশিত
সালাহউদ্দিন শুভ, মৌলভীবাজার
প্রকাশিত : ২০ এপ্রিল, ২০২৪ ১৩:১২

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার ওপর বয়ে যাওয়া কালবৈশাখীতে উপজেলার আদমপুর, কমলগঞ্জ সদর, পতনউষার ও মাধবপুর ইউনিয়নের কয়েকশ ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। উপড়ে পড়েছে হাজারো গাছপালা। ১১ কেভির প্রায় ৪টি খুঁটি ভেঙে ১০০ স্থানে বিদ্যুৎ ব্যবস্থা লণ্ডভণ্ড হয়ে পড়েছে। গত বৃহস্পতিবার রাত ১২টায় প্রচণ্ড কালবৈশাখীর সঙ্গে বজ্রপাতের শব্দে এলাকাবাসী আতংকিত হয়ে পড়ে।

রাতে ১২টা দিকে ঝড়ে কমলগঞ্জ-আদমপুর সড়কে গাছ পড়ে সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। ভোর সাড়ে ৫টার দিকে যোগাযোগ চালু হয়। বিদ্যুৎ লাইন লণ্ডভণ্ড হয়ে যাওয়ার কারণে রাত থেকে এখনো পর্যন্ত ৪টি ইউনিয়নের কয়েকে হাজার মানুষ, এখনো অন্ধকারে নিমজ্জিতে আছে। কালবৈশাখী, ভারী বর্ষণ ও শিলাবৃষ্টিতে সম্পূর্ণ ও আংশিক শতাধিক বাড়িঘর বিধ্বস্ত, বিদ্যুৎ ব্যবস্থা লণ্ডভণ্ড, চা বাগানে কারখানায় উৎপাদন ব্যাহত, ১০-১২ হেক্টর জমির বোরো ফসল ও সবজি খেত বিনষ্ট হয়েছে।

বৃহস্পতিবার রাত ১২টা থেকে শুক্রবার বিকাল পর্যন্ত এ উপজেলার আদমপুর, কমলগঞ্জ সদর, পতনঊষার ও মাধবপুর ইউনিয়নের তিলকপুর, জামিরকোনা, রানীবাজার ও ভাসানিগাঁও সহ ৪টা গ্রামের বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে এ চিত্র পাওয়া যায়।

জানা যায়, বৃহস্পতিবার রাত ১২টা থেকে কমলগঞ্জ উপজেলার আদমপুর, কমলগঞ্জ সদর, পতনঊষার ও মাধবপুর ইউনিয়নের তিলকপুর, জামিরকোনা, রানীবাজার ও ভাসানিগাঁওসহ ৪টি গ্রামে ব্যাপক বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়। রাস্তার পাশে থাকা গাছপালা উপড়ে পড়ে। বিভিন্ন এলাকায় পল্লী বিদ্যুতের খুঁটি ভেঙে পড়েছে।

এ ছাড়া জামিরকোনা গ্রামের জমির মিয়া, শাহজাহান, মাহমুদ আলী, হবিব, ময়না বেগম, খলিল মিয়া, বশির মিয়া, আয়ুব, আলফা, শফিক, জলিল, করিম, মিলাদ, সিরাজুল ইসলামের ঘর সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হয়।

কমলগঞ্জ সদর ইউনিয়নের জামিরকোনা গ্রামের কৃষক কাশেম মিয়া জানান, ‘আমার ৪ কিয়ার (১২০শতক) জায়গায় টমেটো, লাউ, সিম, রামাই, জিঙ্গা ও করলা চাষ করেছিলাম। কিন্তু রাতে ঝড় ও ভারী বর্ষণে কারনে আমার সব শেষ হয়ে গেছে। প্রায় আড়াই লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।’

ঘর ভেঙে যাওয়া জমির মিয়া জানান, ‘রাতে বৌ বাচ্চা নিয়ে ঘুমিয়ে ছিলাম। হঠাৎ ১২টার দিকে ঝড় তুফান আসে। মুহূর্তে আমার ঘরটি মুরচা মেরে ভেঙে উপড়ে পড়ে যায়। আমি পরিবারের সবাইকে নিয়ে বাহিরে চলে আসি। তাদের কারো ক্ষতি হয়নি; কিন্তু এখন থাকব কোথায়। আমি প্রসাশনের কাছে সহযোগিতা চাইছি’

কমলগঞ্জ সদর ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল হান্নান জানান, ‘কালবৈশাখী ঝড় ও ভারী বর্ষণে কারনে আমার ইউনিয়নের ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাটসহ ফসলেরও ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। আমি এসব বিষয় স্থানীয় প্রশাসনকে অবগত করেছি।’

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জয়ন্ত কুমার রায় বলেন, ‘আমরা সকাল থেকে অফিসের সব কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা সরেজমিনে ক্ষয়ক্ষতির পরিমান দেখার জন্য বের হয়। কৃষকদের প্রায় ১০-১২ হেক্টর কৃষি জমির ফসলের ক্ষতি হয়েছে। সেসব কৃষকদের নামগুলো তালিকা করছি। তাদের সহযোগিতা করা হবে।’

মৌলভীবাজার পল্লি বিদ্যুৎ সমিতির কমলগঞ্জ জোনাল অফিসের ডিজিএম গোলাম ফারুক মীর জানান, ‘ঝড়ে ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হয়েছে। প্রায় ৪টি খুঁটি ও ১ শতাধিক স্থানে তার ছিঁড়ে গেছে। এসব জায়গায় বিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্বাভাবিক করতে সময় লাগবে।’

কমলগঞ্জ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোহাম্মদ আছাদুজ্জামান বলেন, ‘ক্ষতিগ্রস্ত ঘরবাড়ির তালিকা দেওয়ার জন্য ইউপি চেয়ারম্যানদের বলা হয়েছে।’

কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জয়নাল আবেদীন বলেন, ‘ঘটনাস্থলে গিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারদের খুঁজ খবর নিয়েছি। স্থানীয় চেয়ারম্যানদের সঙ্গে কথা হয়েছে। তাদের বলেছি তালিকা করে দিতে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারদের সহযোগিতা করা হবে।’

বিষয়:

সেতু না থাকায় নদী পারাপারে চরম দুর্ভোগে টুমচরবাসী

রহমতখালী নদীতে ব্রিজ নির্মাণের দাবি দীর্ঘদিনের
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি

লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার ২১ নম্বর টুমচর ইউনিয়নের রহমতখালী নদী। নাম শুনলে শান্ত জলধারার ছবি ভেসে ওঠে। কিন্তু এই নদী এখন এখানকার হাজারো মানুষের কাছে আতঙ্কের আরেক নাম। একটি সেতুর অভাবে নদীটি যেন প্রতিদিন গিলে খাচ্ছে মানুষের নিরাপত্তা, স্বপ্ন আর স্বাভাবিক জীবনযাত্রা।

ঘরবাড়ি, স্কুল, বাজার, কৃষিজমি কিংবা হাসপাতাল। সবকিছুর সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে প্রতিদিন স্থানীয় বাসিন্দাদের পার হতে হয় এই নদী। কিন্তু সে পারাপার কোনো স্বাভাবিক নৌযাত্রা নয়। জীবন হাতে নিয়ে মোটা রশি ধরে টানা নৌকায় নদী পাড়ি দেওয়া এখানে নিত্যদিনের বাস্তবতা।

টুমচর ইউনিয়নের ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের মানুষের জন্য এই খেয়াই একমাত্র চলাচলের পথ। নদীর দুই পাড়ে শক্ত করে বাঁধা মোটা রশি ধরে মাঝি নৌকাটি টেনে নিয়ে যান। মাঝি একা নন, যাত্রীদেরও রশি ধরে টানতে হয়। নারী, শিশু, বৃদ্ধ- সবার হাতেই একই রশি। সামান্য ভারসাম্যহীনতায় উল্টে যেতে পারে নৌকা, আর সেই সঙ্গে তলিয়ে যেতে পারে একটি বা একাধিক জীবন।

স্থানীয়রা জানান, এই নৌকায় ওঠার সময় বুকের ভেতর কেমন যেন ধকধক করে। কেউ মুখে কিছু না বললেও চোখে মুখে আতঙ্ক স্পষ্ট।

বর্ষা মৌসুম এলেই রহমতখালী নদী আরও ভয়ংকর রূপ নেয়। পানির উচ্চতা বাড়ে, স্রোত হয় প্রবল। রশি ভিজে পিচ্ছিল হয়ে যায়, অনেক সময় হাত পিছলে কেটে যায় চামড়া। স্থানীয়দের হাতের তালুতে জমে ওঠা কড়া আর ক্ষত যেন বছরের পর বছর ধরে সহ্য করা কষ্টের নীরব সাক্ষ্য বহন করে।

নদী পার হতে গিয়ে অনেকেই পড়ে যান পানিতে। কেউ কোনোমতে বেঁচে ফিরলেও, কেউ হারান বই-খাতা, বাজারের মাল কিংবা কৃষি উপকরণ।

এই ঝুঁকিপূর্ণ পারাপার সবচেয়ে বেশি ভোগাচ্ছে শিশু ও বয়স্কদের। দক্ষিণ কালীরচর তালপট্টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী মারিয়া আক্তার বলে, ‘নৌকায় উঠলেই খুব ভয় লাগে। মনে হয় এই বুঝি নৌকা উল্টে যাবে।’

নৌকায় বসে সে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে বইখাতা। যেন ওগুলোই তার সাহস। পড়াশোনার পথে প্রতিদিন এমন আতঙ্ক নিয়ে নদী পার হওয়াটাই এখানে শিশুদের স্বাভাবিক বাস্তবতা।

স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, গত ছয় মাসেই রশি টানা নৌকা উল্টে অন্তত পাঁচটি বড় দুর্ঘটনা ঘটেছে। এতে আহত হয়েছেন অন্তত ১০ জন। কোনো ঘটনায় শিক্ষার্থীদের বইখাতা নদীতে ভেসে গেছে, কোনো ঘটনায় কৃষকের সার ও বীজ তলিয়ে গেছে পানির নিচে। ক্ষতির হিসাব কেবল টাকায় নয়। ক্ষতি হচ্ছে মানুষের মনোবলে, ভবিষ্যতের সম্ভাবনায়।

সেতু না থাকায় সবচেয়ে বড় বিপদে পড়ছেন রোগীরা। রাতের বেলায় কেউ হঠাৎ অসুস্থ হলে হাসপাতালে নেওয়াই হয়ে ওঠে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। অন্ধকার, স্রোত আর ঝুঁকিপূর্ণ নৌকা- সব মিলিয়ে প্রতিটি মুহূর্ত তখন মৃত্যুভয়ের সঙ্গে লড়াই।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, বছরের পর বছর ধরে সেতু নির্মাণের আশ্বাস মিললেও বাস্তবে কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই। জনপ্রতিনিধিরা প্রতিশ্রুতি দিলেও কাজ শুরু না হওয়ায় হতাশা বাড়ছে মানুষের মধ্যে। এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) উপসহকারী প্রকৌশলী বেল্লাল হোসেন জানান, এলাকাটি ইতোমধ্যে জরিপ করা হয়েছে। আবাসন সেন্টার, তালপট্টি ও জলাইজ্জার খেয়া এলাকায় সেতু নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রকল্প অনুমোদন পেলে কাজ শুরু করা হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

এলাকাবাসীরা আরো বলেন, বর্ষা মৌসুমে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। নদীর পানি বাড়লে রশি পিচ্ছিল হয়ে যায়। হাত পিছলে কেটে যাওয়ার ঘটনা এখানে নিয়মিত। অনেকের হাতের তালুতে রশির ঘর্ষণে কড়া পড়ে গেছে।

তবে সেই অনুমোদনের অপেক্ষায় থেমে নেই টুমচরের মানুষের জীবন। প্রতিদিনই তারা রশি ধরে নদী পার হন, ভরসা বলতে কেবল দীর্ঘদিনের অভ্যাস আর ভাগ্যের ওপর নির্ভরতা। এক নদী, দুই পাড়, আর মাঝখানে অনিশ্চয়তায় ঝুলে থাকা মানুষের জীবন।


দ্রুত সিদ্ধান্ত ও মানবিক ভূমিকায় শিশুর প্রাণ বাঁচাল পত্নীতলা থানা পুলিশ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নওগাঁ প্রতিনিধি

নওগাঁর পত্নীতলায় এক হৃদয়বিদারক ঘটনার মধ্যেও মানবিকতা ও দ্রুত পুলিশি তৎপরতায় প্রাণে বেঁচে গেছে ১৬ মাস বয়সী এক শিশু।

বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) দুপুর ১টার দিকে এক নারী পত্নীতলা থানায় এসে জানান, তিনি তার ১৬ মাস বয়সী কন্যা শিশু আঞ্জুমান আয়াতকে মাহমুদপুর ব্রিজ থেকে আত্রাই নদীতে নিক্ষেপ করেছেন। এ সময় তিনি নিজেকে গ্রেফতারের আবেদন জানান।

বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে অবগত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (পত্নীতলা সার্কেল) ও পত্নীতলা থানার অফিসার ইনচার্জ দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান। স্থানীয় জনগণের সহযোগিতায় আত্রাই নদীতে নিখোঁজ শিশুটির সন্ধানে অভিযান শুরু করা হয়।

এ সময় নদীর পাড়ে অবস্থানরত মাহমুদপুর গ্রামের মোঃ খমির শেখ (৬৫) নদীতে ডুবন্ত অবস্থায় শিশুটিকে উদ্ধার করে তীরে এনে প্রাথমিক শুশ্রূষা প্রদান করেন। পরবর্তীতে পুলিশ শিশুটিকে তার হেফাজত থেকে নিয়ে দ্রুত পত্নীতলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। বর্তমানে শিশুটি শঙ্কামুক্ত রয়েছে বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন।

ঘটনার সময় নওগাঁ জেলার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম পেশাগত কাজে পত্নীতলা থানার এলাকায় অবস্থান করছিলেন। ঘটনা জানার পর তিনি নিজেই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে শিশুটির চিকিৎসার খোঁজখবর নেন। এ সময় তিনি উদ্ধারকারী মোঃ খমির শেখকে ধন্যবাদ জানান এবং তার মানবিক উদ্যোগের জন্য আর্থিক পুরস্কার প্রদান করেন।

শিশুটির বাবা মেহেদী হাসান জানান, তার স্ত্রী দীর্ঘদিন ধরে মানসিক সমস্যায় ভুগছেন। এ কারণেই এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে বলে তিনি মনে করেন। তিনি তার স্ত্রীর যথাযথ মানসিক চিকিৎসা এবং সন্তানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আশ্বাস দেন। পাশাপাশি তিনি উদ্ধারকারী মোঃ খমির শেখ ও দ্রুত চিকিৎসা সেবায় সম্পৃক্ত সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

এদিকে৷ ঘটনাটি এলাকাজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে এবং একই সঙ্গে মানবিকতা ও দ্রুত প্রশাসনিক তৎপরতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।


সোনারগাঁয়ে মহাসড়কে সিএনজিতে আগুন, দুই ডাকাত গ্রেপ্তার

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
সোনারগাঁ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে ডাকাতদের ব্যবহৃত একটি সিএনজি চালিত বেবিট্যাক্সিতে আগুন দিয়ে দুই ডাকাত সদস্যকে আটক করে গণধোলাইয়ের পর পুলিশে দিয়েছে স্থানীয় জনতা।

গত বুধবার (১৪ জানুয়ারি) রাত সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার পিরোজপুর ইউনিয়নের মৃধাকান্দী এলাকায় মহাসড়কে এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ গণধোলাইয়ের শিকার দুই ডাকাতকে সোনারগাঁ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়েছেন। গ্রেফতারকৃতরা হলেন রবিন মিয়া ও ওমর ফারুক ওরফে চাপাতি ফারুক। রবিন মিয়া উপজেলার কাজিরগাঁও গ্রামের জাকির হোসেনের ছেলে এবং ফারুক চেঙ্গাকান্দি এলাকার হেলাল মিয়ার ছেলে।

বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) দুপুরে তাদের বিরুদ্ধে ভুক্তভোগী মো. সারোয়ার হোসেন বাদি হয়ে থানায় ডাকাতির মামলা দায়েরের পর নারায়ণগঞ্জ আদালতে পাঠিয়েছে পুলিশ।

স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের বিভিন্ন যানবাহনে ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেই চলছে। গাড়ির দরজা ও জানালার কাচ ভেঙে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে সর্বস্ব লুট করে নিয়ে যায়। ডাকাতরা বিদেশ ফেরত প্রবাসীদের গাড়ি টার্গেট করে ডাকাতি ছিনতাই করে যাচ্ছে। এসব ঘটনায় পুলিশ নির্বিকার হয়ে পড়ে। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় গত এক সপ্তাহ ধরে মহাসড়কের ডাকাতি ও ছিনতাই প্রবণ এলাকায় সন্ধ্যার পর থেকে পাহাড়ার ব্যবস্থা করে পুলিশ।

গত বুধবার (১৪ জানুয়ারি) রাতে ডাকাতদলের তিন সদস্য (নারায়ণগঞ্জ-থ ১১-৫২২৩) নাম্বারের একটি সিএনজি বেবিট্যাক্সি দিয়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মৃধাকান্দী এলাকায় বিভিন্ন পথচারীদের কাছ থেকে টাকা-পয়সাসহ বিভিন্ন মালামাল লুট করে নিয়ে যাচ্ছিল। বিষয়টি টের পেয়ে তাদের ধাওয়া দিয়ে আটক করা হয়। পরে ডাকাতদের ব্যবহৃত সিএনজি চালিত সিএনজি বেবিট্যাক্সিতে আগুন ধরিয়ে দেয় বিক্ষুদ্ধ জনতা। খবর পেয়ে সোনারগাঁ ফায়ার সার্ভিসের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নেভায়।

পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে দুই ডাকাতকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। ডাকাতদের বিরুদ্ধে ভূক্তভোগী মো. সারোয়ার হোসেন বাদি হয়ে মামলা দায়ের করেন।

সোনারগাঁ থানার ওসি মুহিবুল্লাহ জানান, পুলিশ অভিযান চালিয়ে দুই ডাকাতকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। অন্যদের ধরতে অভিযান চলমান রয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের পর আদালতে পাঠানো হয়েছে।


নির্বাচন ঘিরে সীমান্ত সুরক্ষা ও অবৈধ অস্ত্র অনুপ্রবেশ ঠেকাতে বিজিবির সাংবাদ সম্মেলন 

আপডেটেড ১৫ জানুয়ারি, ২০২৬ ১৯:০১
বেনাপোল প্রতিনিধি

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সীমান্ত সুরক্ষা, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার এবং অভ্যন্তরীন আইন শৃংখলা রক্ষায় বিজিবি গৃহীত বিভিন্ন কার্যক্রম নিয়ে যশোর ৪৯ বিজিবি বেনাপোল সদর দপ্তরে সাংবাদিক সম্মেলনের আয়োজন করেন।

বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে যশোর বিজিবির কমান্ডিং অফিসার লেঃ কর্ণেল সাইফুল্লাহ সিদ্দিকী বলেন, সীমান্ত সুরক্ষা আইনের কারনে যশোরের শার্শা এবং চৌগাছা থানা এলাকায় নির্বাচনী কার্যক্রম তদারকি আইন শৃংখলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করে যাচ্ছে বিজিবি। ইতিমধ্যে এই দুটি উপজেলার সবক'টি ভোট কেন্দ্র রেকি করা হয়েছে। নির্বাচনী এলাকার যশোর গোপালগঞ্জ এবং নড়াইল জেলার ১৬টি থানায় ১১টি অস্থায়ী বেজ ক্যাম্প স্থাপন করা হবে। বিজিবি মোবাইল এবং স্টাইকিং ফোর্স হিসাবে দায়িত্ব পালন করবে।

সীমান্তবর্তী শার্শা এবং চৌগাছা উপজেলায় বিজিবি এককভাবে দায়িত্ব পালন করবে। আগামী ২৯ জানুয়ারি থেকে ১লা ফেব্রুয়ারীর মধ্যে নির্বাচনী দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় ফোর্স মোতায়েন করা হবে। বর্তমানে বিজিবি সদস্যরা অপারেশন ডেভিল হান্ট-২ কার্যক্রমে সক্রিয়ভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

পাশাপাশি সীমান্তে টহল জোরদার করা হয়েছে যাতে অবৈধ অস্ত্র দেশে প্রবেশ করতে না পারে। এবং অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার কার্ক্রম জোরদার এবং জনসচেতনতামুলক সভার মাধ্যমে স্থানীয় জনসাধারণ কে সচেতন করার জন্য ইউনিয়ন পর্যায়ে সুশীল সমাজের সাথে মত বিনিময় করা হচ্ছে।


ফেনী নদীর তীব্র ভাঙন রোধে জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে মানববন্ধন

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ফেনী প্রতিনিধি

ফেনীতে ২০২৪ সালের ভয়াবহ বন্যায় মুছাপুর রেগুলেটর ধ্বসে পড়ার পর জোয়ার-ভাটার তীব্র প্রভাবে ছোট ফেনী নদীতে ব্যাপক ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। এতে শত শত বসতঘর ও ফসলি জমি হুমকির মুখে পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে নদীভাঙ্গন রোধ ও বসতঘর রক্ষায় জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণের দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) দুপুরে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে এই মানববন্ধনের আয়োজন করেন ভাঙ্গন কবলিত এলাকার বাসিন্দারা।

মানববন্ধনে সোনাগাজী উপজেলার চর মজলিশপুর ইউনিয়নের চর গোপালগাঁও, চান্দলা, কুঠিরহাট, জলদাপাড়া, মিয়াজী ঘাট, পুরাতন কাজিরহাট জামে মসজিদ সংলগ্ন এলাকাবাসি ও দাগনভূঞা উপজেলার জগতপুর গ্রামের নদীভাঙন কবলিত মানুষ এই কর্মসূচিতে অংশ নেন। পরে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে ভূমি মন্ত্রণালয়ে স্মারকলিপি প্রদান করেন।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, মুছাপুর রেগুলেটর ধ্বসে পড়ার পর থেকে ছোট ফেনী নদীতে জোয়ার–ভাটার চাপ বেড়ে গিয়ে নদীর তীর দ্রুত ভেঙে পড়ছে। ইতোমধ্যে বহু পরিবার তাদের ঘরবাড়ি হারিয়েছে, অনেকে আবার ভিটেমাটি হারানোর আশঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন। দ্রুত কার্যকর প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে সামনে আরও বড় মানবিক বিপর্যয় দেখা দেবে।

অবিলম্বে নদীভাঙ্গন রোধে টেকসই বাঁধ নির্মাণ, মুছাপুর রেগুলেটর সংস্কার এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসনের জন্য জেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেন স্থানীয়রা।


লোহাগাড়ায় অস্ত্রসহ কুখ্যাত সন্ত্রাসী রিফাত আটক

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
লোহাগাড়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি

চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলায় গোপন তথ্যের ভিত্তিতে কুখ্যাত সন্ত্রাসী রিফাত (৩৫) নামে একজনকে আটক করেছে সেনাবাহিনী।

আজ বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) আনুমানিক ৫ টার সময় উপজেলার চরম্বা ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডস্থ তেলিবিলায় লোহাগাড়া আর্মি ক্যাম্প কমান্ডার ক্যাপ্টেন ওলিদ বিন মৌদের (২৬ ইবি) নেতৃত্বে সেনাবাহিনী ও লোহাগাড়া থানা পুলিশ কর্তৃক অবৈধ অস্ত্রধারী রিফাতকে তার নিজ বাড়ি থেকে যৌথ অভিযান পরিচালনা করে তাকে অস্ত্রসহ আটক করা হয়।

আরো জব্দ করা হয়, ২টি এলজি, ৭ টি কার্তুজ, ২ লিটার মদ, ৪টি রাম দা, ৬ টি চাকু, ১টি ড্রোন, ৮টি মোবাইল,৩ টি মেমরি কার্ড, ১টি রকেট প্যারাসুট,ফ্ লেয়ার সিগন্যাল গান, ১টি পেনড্রাইভ, ১টি মোটরসাইকে।

জানা গেছে, সেনাবাহিনীর দীর্ঘদিনের গোয়েন্দা নজরদারির পর গোপন তথ্যের ভিত্তিতে তাকে আটক করা হয়। সে চরম্বা সহ লোহাগাড়ার বিভিন্ন জায়গায় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের মূল হোতা ছিল বলেও জানা গেছে।

ক্যাম্প কমান্ডার ক্যাপ্টেন ওলিদ বিন মৌদের বলেন, উদ্ধারকৃত অস্ত্রসহ আসামিকে লোহাগাড়া থানায় হস্তান্তর করা হয়। উক্ত বিষয়ে আইনী ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

লোহাগাড়া থানার কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবদুল জলিল বলেন, তার বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মামলা হয়েছে। কালকে আদালতে পাঠানো হবে।


কিশোরগঞ্জে বৃদ্ধাকে গলাকেটে হত্যার ঘটনায় দুজন গ্রেপ্তার

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নীলফামারী প্রতিনিধি

নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলায় এক বৃদ্ধাকে গলাকেটে হত্যার ঘটনায় দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব। বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) বিকেলে র‌্যাবের সিনিয়র সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বিপ্লব কুমার গোস্বামী স্বাক্ষরিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- উপজেলার গাড়াগ্রাম ইউনিয়নের জুম্মারপাড় এলাকার ইসমাইল হোসেনের ছেলে মো. এরশাদ আলী (৪৫) ও তার ছেলে মো. সজিব (২২)।

জানা যায়,গাড়াগ্রাম ইউনিয়নের কালিরধান এলাকার প্রয়াত জমসের আলীর স্ত্রী দেলোয়ারা বেগম ওরফে দুলালীর দুই ছেলে-মেয়ে কেউ বাড়িতে থাকেন না। স্বামী মারা যাওয়ার পর থেকে তিনি বাড়িতে একাই থাকতেন। গত ৯ জানুয়ারী দুপুরে তাকে বাড়ির উঠানে গলা কেটে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা।

র‌্যাবের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, এ ঘটনায় ভিকটিমের ভাই হাফিজুল ইসলাম বাদী হয়ে কিশোরগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা দায়ের করে। এরই ধারাবাহিকতায় গতকাল বুধবার (১৪ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় নীলফামারী র‌্যাব-১৩, সিপিসি-২ ও র‌্যাব-৪ এর যৌথ অভিযানে ঢাকা জেলার সাভারের জয়নাবাড়ী এলাকা মামলার তদন্তে প্রাপ্ত পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর তাদের কিশোরগঞ্জ থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।


ইরানে নিহত আড়াই হাজার ছাড়াল, গ্রেপ্তার ১৮ হাজার

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

জীবনযাত্রার ব্যয়বৃদ্ধি ঘিরে দেশ জুড়ে শুরু বিক্ষোভ-প্রতিবাদে উত্তাল ইরান। দমন-প্রতিরোধ এবং সংঘর্ষে এ পর্যন্ত মৃত্যু আড়াই হাজার ছাড়িয়েছে। এছাড়া ১৮ হাজারের বেশি বিক্ষোভকারী গ্রেপ্তার হয়েছেন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মানবাধিকার সংস্থা এইচআরএএনএর বরাতে বুধবার (১৪ জানুয়ারি) এ খবর ছেপেছে দুবাই ভিত্তিক সংবাদমাধ্যম খালিজ টাইমস।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অর্থনৈতিক সংকটের জেরে শুরু হওয়া এই বিক্ষোভ এখন বর্তমান শাসনব্যবস্থা উৎখাতের আন্দোলনে রূপ নিয়েছে। তেহরান থেকে শুরু হওয়া এই অস্থিরতা এখন ইসফাহান ও শিরাজসহ দেশটির প্রধান শহরগুলোতে ছড়িয়ে পড়েছে। তবে ইরান সরকার এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিহতের কোনো সঠিক সংখ্যা প্রকাশ করেনি।

ইরানের সামরিক কমান্ডার আবদুল রহিম মুসাভি অভিযোগ করেছেন যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল দেশটিতে আইএসের সদস্য মোতায়েন করে সন্ত্রাসী হামলা চালাচ্ছে। তেহরানের দাবি, বহিরাগত এই গোষ্ঠীগুলো সাধারণ মানুষের বিক্ষোভকে ছিনতাই করে সহিংসতা উসকে দিচ্ছে। এরই মধ্যে সাড়ে তিনশ মসজিদ এবং দুইশ এম্বুলেন্সসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা আন্দোলনকারীদের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তবে নিরাপত্তা বাহিনী এই বিশৃঙ্খলা দমনে কঠোর অবস্থান নিয়েছে।

এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানি বিক্ষোভকারীদের প্রতি আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন তাদের জন্য শিগগিরই সহায়তা আসছে। ট্রাম্প তেহরানের সঙ্গে পূর্বনির্ধারিত সব বৈঠক বাতিল করে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, বিক্ষোভকারীদের ওপর হামলাকারীদের কঠোর মূল্য দিতে হবে। তিনি এই হত্যাকাণ্ডের জন্য দায়ীদের তালিকা মনে রাখার জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানান।

উল্লেখ্য, ইরানের রিয়ালের রেকর্ড দরপতন এবং ক্রমবর্ধমান জীবনযাত্রার ব্যয়ের প্রতিবাদে শুরু হওয়া এই আন্দোলন গত কয়েক দশকের মধ্যে দেশটির জন্য সবচেয়ে বড় অভ্যন্তরীণ চ্যালেঞ্জ।

একদিকে ট্রাম্পের অব্যাহত হুমকি, অন্যদিকে ইরানের পাল্টা পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি। যতই সময় গড়াচ্ছে ততই যেন বাড়ছে ইরানি মার্কিন হামলার আশঙ্কা। এতে, সংকট আরও ঘনীভূত হওয়ার পাশাপাশি ক্রমশ জটিল হচ্ছে পরিস্থিতি।

গত মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ডে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন ট্রাম্প। এসময় তিনি জানান, ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভে প্রাণহানির প্রকৃত সংখ্যা জেনে দেশটির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে যুক্তরাষ্ট্র। এছাড়া, বিক্ষোভকারীদের কাউকে মৃত্যুদণ্ড দিলে ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেয়ার হুঁশিয়ারি দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ‘ইরান ইস্যুটি আলোচনার টেবিলে। আমরা নিহতদের প্রকৃত সংখ্যা অনুসন্ধানে কাজ করছি। সেই অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা।’

শিগগিরই এক বিক্ষোভকারীকে ইরান মৃত্যুদণ্ড দেবে বলে শঙ্কা জানিয়েছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর। এর আগে, গ্রেপ্তার হওয়া হাজারো বিক্ষোভকারীদের মৃত্যুদণ্ডের বিষয়ে শঙ্কা জানায় জাতিসংঘ।

তেহরানের বিক্ষোভকারীদের দেশপ্রেমিক অভিহিত করে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান ট্রাম্প। যুক্তরাষ্ট্র থেকে সহায়তার আশ্বাসও দেন তিনি। ইরানে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা ও সহিংসতা উস্কে দেয়ার জন্য ট্রাম্পকে দোষারোপ করে জাতিসংঘে চিঠি দিয়েছেন ইরানের প্রতিনিধি।

চলমান উত্তেজনার মাঝেই যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী ইরানের নির্বাসিত যুবরাজের সঙ্গে সাক্ষাত করেন ট্রাম্পের দূত স্টিভ উইটকভ। ফক্স নিউজের এক সাক্ষাৎকারে রেজা পাহলভি, ইরান সরকারের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান জানান।

এদিকে, ধোঁয়াশা কাটছে না সরকারবিরোধী আন্দোলনের মৃতের সংখ্যা নিয়ে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা এইচআরএএন—এর দাবি, ইরানের চলমান আন্দোলনে প্রাণহানির সংখ্যা আড়াই হাজার ছাড়িয়েছে। তবে কানাডাভিত্তিক গণমাধ্যম সিবিসি জানায়, সহিংসতায় প্রাণহানির সংখ্যা ১২ থেকে ২০ হাজার পর্যন্ত হতে পারে।

অন্যদিকে, কয়েকদিন বন্ধ থাকার পর সীমিত পরিসরে স্বাভাবিক হচ্ছে ইরানের ল্যান্ডলাইন ও মোবাইল পরিষেবা। এতে করে বহির্বিশ্বের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছেন তেহরানবাসী। তবে বিচ্ছিন্ন ইন্টারনেট পরিষেবা। এমন অবস্থায় বিনামূল্যে ইন্টারনেট সেবা দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে ইলন মাস্কের স্টারলিংক। স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগ না হওয়ায় উদ্বিগ্ন ইরানের প্রবাসীরা।

যুক্তরাষ্ট্রের পর কানাডার নাগরিকদের ইরান ছাড়ার পরামর্শ দিয়েছে অটোয়া। এছাড়া, ভ্রমণ সতর্কতা জারি করেছে ফ্রান্সও। পাশাপাশি ইউরোপের বেশ কয়েকটি দেশ তেহরানের আন্দোলনে ব্যাপক প্রাণহানির জন্য দেশটির রাষ্ট্রদূতকে তলব করে নিন্দা জানিয়েছে।


বান্দরবানে ইট পোড়াতে উজাড় হচ্ছে বন, সাবাড় হচ্ছে পাহাড়

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বান্দরবান প্রতিনিধি

বান্দরবানের লামা আজিজনগর গজালিয়া এলাকায় সন্ত্রাসীদের পাহারায় চলছে অবৈধ ইটভাটা । এই ইটভাটা টিতে পাহাড় কেটে মাটি ও অবাদে পোড়ানো হচ্ছে বনাঞ্চলের কাঠ। অভিযোগ উঠেছে এসব অবৈধ কর্মকাণ্ডের নেতৃত্ব দিচ্ছেন মোহাম্মদ উল্ল্যাহ আজম খান ও তার দুই পুত্র ফরহাদ ও আলভি।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০০১ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত মোহাম্মদ উল্ল্যাহ আজম খান আজিজ নগর ইউপি চেয়ারম্যান ছিলেন। সেসময় আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় এলাকায় আধিপাত্যের বলয় সৃষ্টি করে নানা অনিয়মের মধ্যে গজালিয়া এলাকায় এসবিএম নামে অবৈধ ইটভাটা পরিচালনা করে আসছেন তিনি। যেখানে বিভিন্ন সশস্ত্র সন্ত্রাসী মজুদ রেখেছেন ইটভাটাটি পাহাড়া দিতে। ফলে এলাকাবাসীরা এদের ভয়ে মুখ খুলতেও সাহস পাচ্ছেন না। আর এসব অবৈধ অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে নতুন করে যুক্ত হয়েছেন তারই পুত্র ফরহাদ হোসেন ও আলভি।

স্থানীয়রা আরও বলেন ৩ পার্বত্য জেলায় অবৈধ সকল ইটভাটা গুড়িয়ে দেওয়ার নির্দেশ ছিল হাইকোর্টের।

অন্যান্য ইটভাটায় অভিযান পরিচালনা করলেও এই ভাটা মালিকের প্রভাব ও টাকা বিনিময়ের কারণে এখনো পর্যন্ত কোন প্রকার অভিযান পরিচালনা করেনি প্রশাসন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একধীক সংবাদকর্মী বলেন, সম্প্রতি অবৈধ ইটভাটার তথ্য সংগ্রহ করতে গজালিয়া এলাকায় আজম খানের এসবিএম ব্রিক ফিল্ডে গেলে, তথ্য সংগ্রহকালে ভাটা মালিক মোহাম্মদ উল্ল্যাহ আজম খানের নির্দেশে তারই ছেলে ফরহাদ ও ম্যানেজার কবিরসহ ভাটা শ্রমীকরা মোবাইল কেড়ে নেয় এবং অধৌত আচরণ করেন। তারা চট্টগ্রামের সাবেক আওয়ামী নেতার ক্যাডার নীতিতে জড়িত থেকে বেশ কয়েকটি হত্যাও করেছিলেন তারা। এখনও কয়েকটি লোক ইটভাটার চুল্লিতে পুড়িয়ে ফেললে কিছু যায় আসে না বলে দাম্ভিকতা প্রকাশ করেন।

এ বিষয়ে ইটভাটা মালিক মোহাম্মদ উল্ল্যাহ আজম খান, ইটভাটাটির অনুমোদন নেই বলে স্বীকার করলেও সাংবাদিকদের সাথে ঘটে যাওয়া লাঞ্চনার ঘটনায় শ্রমীকদের দায়ী করছেন তিনি।

লামা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মঈন উদ্দীন বলেন, তিনি সদ্য যোগদান করেছেন ফলে ক্রমান্বয়ে উপজেলার সবকটি ইটভাটায় অভিযান পরিচালনা করছেন। তবে গজালিয়ার এই এইসবিএম ভাটাটিতে এখনো পর্যন্ত অভিযান পরিচালনা করা হয়নি। এ নিয়ে বান্দরবান পরিবেশ অধিদপ্তরকে একাধিক বার অভিযান পরিচালনা করতে আহ্বান জানানো হলেও তারা আসেননি। তবে অতিশিগ্রই অভিযান পরিচালনা করা হবে বলে জানান তিনি।

বান্দরবান পরিবেশ অধিদপ্তরের সহারী পরিচালক মো. রেজাউল করিম বলেন, জেলায় এই মুহূর্তে কয়টি ইটভাটা চালু আছে তার সঠিক তথ্য তার কাছে নেই। তবে লামা উপজেলার আজিজ নগর, ফাইতং ইউনিয়নসহ ৩১টি ইটভাটা চালু রয়েছে। গজালিয়া ইউনিয়নের আজম উল্লাহ খানের এসবিএম ইটভাটার বিরুদ্ধে মামলা প্রক্রিয়াধীন আছে। জনবল ও লজিস্টিক সংকটের কারণে নিয়মিত অভিযান চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে বলে জানান তিনি।


মাগুরায় ২ কেজি চাল দিয়ে শুরু হয় ভাবির হোটেল 

‘অভাবে দিন যাচ্ছে লজ্জায় কারো কাছে কিছু চাইনে’
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মাগুরা প্রতিনিধি

এটি কোনো ফাইভ স্টার হোটেলের গল্প নয়, এখানে নেই কোনো আলো ঝলমলে ঝাড়বাতি বা রঙিন লাইট। নেই কোনো দামি চেয়ার টেবিল। আছে শুধু অপলকহীন পথের দিকে তাকিয়ে থাকা। কখন একজন কাস্টমার আসবে ভাবির হোটেলে সেই অপেক্ষায়!

প্রায় ১০ বছর আগে মাগুরা সদরের পারনান্দুয়ালী বাস টার্মিনাল এলাকায় বিশ্বরোডসংলগ্ন গড়ে উঠেছে সম্পূর্ণ ঘরোয়া পরিবেশে ফরিদা বেগমের ‘ভাবির হোটেল’ নামে খ্যাত এই হোটেলটি।

টিনের ভাঙাচোরা একটি এক কক্ষবিশিষ্ট মাটির ছাপরা ঘর। চারিপাশে বাঁশের বেড়া। কোনো কোনো পাশের বেড়া আবার ভেঙে পড়ে গেছে। বসার ব্যবস্থা হিসেবে হোটেলে আছে ২/৩টা বেঞ্চ এবং নড়বড়ে টেবিল। সেখানেই পরম মমতায় আপ্যায়ন করা হয় নিজের হাতের রান্না করা দেশিয় চালের ভাত, ডাল, মুরগির গোশ, ভর্তা, ভাজি, মুড়িঘণ্ট ইত্যাদি। প্রতিদিন মাত্র ২ কেজি চাল রান্না করা হয়। কাস্টমারদের কাছে বিক্রি করার পর যে খাবার বেঁচে যায়, তাই খেয়ে বেঁচে থাকেন ফরিদা বেগমের পরিবার।

২১ বছর আগে জীবিকার তাগিদে সাতক্ষীরা থেকে স্বামী আবদুল জলিলের (৫৫) হাত ধরে মাগুরায় এসেছিলেন ফরিদা বেগম (৪৭)। কাজ করতে করতে মাগুরার মায়ায় পড়ে যান তারা আর ফিরে যান নি দেশে। তাদের গ্রামের বাড়িতেও নিজস্ব জমি বলতে তেমন কিছু নেই।

আব্দুল জলিল কারেন্ট মিস্ত্রির কাজ করতেন, আর ফরিদা বেগম বাসা বাড়িতে কাজ শুরু করেন। পারনান্দুয়ালী এলাকায় ২ হাজার টাকায় ভাড়া বাসায় থাকেন তারা। একমাত্র ছেলে সন্তানকে নিয়ে মোটামুটি ভালোই চলছিল সংসার। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাসের কাছে একদিন হার মানতে হয় তাদের। ২০০৭ সালে বিদ্যুতের কাজ করতে গিয়ে ফরিদার স্বামী মারাত্মকভাবে অগ্নি দগ্ধ হয়। তারপর থেকে সে আর কোন কাজ করতে পারে না। তার চিকিৎসার পেছনে প্রচুর টাকা নেমে যায়। এখনো প্রতিদিন ৩০০ টাকার ওষুধ লাগে। অভাবের তাড়নায় ছেলেকেও লেখাপড়া শেখাতে পারেননি। বাসার কাছেই গাড়ি সাড়ার একটি লেদে ছেলেকে কাজে লাগিয়ে দেন।কিন্তু তাতেই বা আর কয় টাকা আসে। সংসার চালাতে আর স্বামীর চিকিৎসার খরচ চালাতে হিমশিম খেয়ে যান ফরিদা বেগম। নানা কষ্ট আর চিন্তাই ফরিদা নিজেই অসুস্থ হয়ে পড়েন। ধরা পড়ে ডায়াবেটিক এবং হাই প্রেসার। এছাড়া হাতে পায়ে ব্যথা অনুভব করেন সব সময়। আগের মতো শরীরে বল পাননা তিনি, তাই বাধ্য হয়ে বাসা বাড়ির কাজ ছেড়ে দিতে হয় তাকে। কিন্তু সংসার তো চালাতে হবে, সেই চিন্তা করে রাস্তার পাশেই পারনান্দুয়ালী এলাকার বাসিন্দা ইকবালের কাছ থেকে ২৫০০ টাকায় ছাপরা ঘর ভাড়া নিয়ে শুরু করেন এই ‘ভাবির হোটেল’। বাস টার্মিনালের পাশে হওয়ায় গাড়ির ড্রাইভার এবং শ্রমিক লেভেলের লোকজন বেশি আসে এখানে। ভাঙ্গা হোটেল দেখে ভদ্র ও শিক্ষিত সমাজের লোকজন এখানে আসেন না বললেই চলে। প্রতিদিন ২ কেজি চাল রান্না করা হয়, বিক্রি করার পর যে খাবার বেঁচে যায়, তাই খেয়ে জীবন বাঁচান ফরিদার পরিবার। দিনে মাত্র পাঁচ ছয় জন কাস্টমার আসে এই হোটেলে।

এই সামান্য টাকায় সংসার কিভাবে চলে তা জানতে চাইলে ফরিদা বেগম দৈনিক বাংলাকে জানান, কি করব, খাবার বিক্রি করে যে টাকা পায় কোনরকমে কষ্টে চলে সংসার। এছাড়া তো আর কিছু করারও নেই। ভিক্ষা করতে তো আর পারি না। লজ্জায় কারো কাছে কিছু চাইনে। বাসা বাড়িতে কাজ করার সময় আগে মানুষ একটু গোশ দিত, কাপড় চোপর দিত, বাসার কাজ ছেড়ে দেয়ার পর এখন আর কেউ কিছু দেয় না। আমার শীতের কোনো কাপড় নেই শাড়ি ছিরে চাদর বানিয়ে তাই গায়ে দিই। কেউ এসে একটা শীতের কাপড় বা কম্বলও দেয়নি।

ফরিদার স্বামী আব্দুল জলিল বলেন, আগুনে পুড়ে যাওয়ার পর পায়ে খুব বেশি জোর দিতে পারি না তাই ভারি কোনো কাজ করতে পারি না। ওষুধ খরচ আর সংসার চালানোর জন্যি নিজেদের খাবারের চাল দিয়েই এই হোটেল চালায়। কিন্তু ২৫ কেজির চাল ১৫-২০ দিনের মধ্যে শেষ হয়ে যায়। এখন চালের দোকানে অনেক দেনা। কাঠের খড়ি কিনে রান্না করতে হয়, সেখানেও অনেক দেনা হয়ে গিছি। দুই মাসের ঘর ভাড়া বাকি, কবে এই টাকা শোধ দিতে পারব জানিনে। দেনার দায়ে হোটেলটাই শেষ পর্যন্ত বন্ধ করে দিতে হবে মনে হয়।

হোটেলের পাশে লেদ মিস্ত্রি রিপন বলেন, অনেকদিন ধরেই ফরিদা বেগম কষ্ট করে এই হোটেল চালান। তারা খুব ভালো মানুষ। প্রশাসন যদি ওনাদের একটু সাহায্য করত তাহলে একটি পরিবার বেঁচে যেত।


রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে নিরাপদ কর্মস্থলের দাবিতে মানববন্ধন

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
রাজশাহী প্রতিনিধি

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) নিরাপদ কর্মপরিবেশের দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় অফিসার সমিতি। বুধবার (১৪ জানুয়ারি) সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত রাবির সিনেট ভবনের সামনে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, একটি মহল পরিকল্পিতভাবে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শান্তিপূর্ণ শিক্ষা ও প্রশাসনিক পরিবেশ অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্র চালিয়ে যাচ্ছে। তারা অভিযোগ করেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ও একাডেমিক কার্যক্রমে বিঘ্ন সৃষ্টির পাশাপাশি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ওপর ন্যাক্কারজনক হামলার ঘটনা ঘটছে। অফিস চলাকালীন সময় ও অফিস শেষে বাড়ি ফেরার পথে কর্মকর্তাদের ওপর হামলা, হয়রানি ও মানসিক নির্যাতনের ঘটনা দিন দিন বেড়েই চলেছে।

বক্তারা আরও বলেন, মব সৃষ্টি করে কর্মকর্তাদের শারীরিকভাবে আঘাত করা ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে কর্মস্থলকে অনিরাপদ করে তোলা হচ্ছে। এর ফলে শুধু কর্মকর্তা-কর্মচারীরাই নয়, পুরো বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বার্থ ও ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

তারা অভিযোগ করে বলেন, শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় দোষীদের বিরুদ্ধে সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হলেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। প্রশাসনের এই নীরবতাকে অফিসার সমিতি তীব্রভাবে নিন্দা ও প্রতিবাদ জানায়।

গত মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) তারিখে অনুষ্ঠিত জরুরি সভায় এ পরিস্থিতির প্রতিবাদে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়, যার অংশ হিসেবেই এই মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়।

মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় অফিসার সমিতির সভাপতি মো. আনোয়ারুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক রিয়াজ উদ্দিন, কোষাধ্যক্ষ আল-আমিন বিদ্যুৎ, প্রচার সম্পাদক আব্দুল মানিক এবং সদস্য রোকসানা বেগম টুকটুকি প্রমুখ।


সুনামগঞ্জে নিন্মতম মজুরি ও শ্রম আইন বাস্তবায়নসহ বিভিন্ন দাবিতে জেলা প্রশাসককে স্মারক লিপি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি

হোটেল ও রেস্তোরাঁ সেক্টরে সরকার ঘোষিত নিম্নতম মজুরির গেজেট অবিলম্বে বাস্তবায়ন, নিয়োগপত্র-পরিচয়পত্র প্রদানসহ ৮ ঘণ্টা শ্রমদিবস কার্যকরের দাবিতে বুধবার (১৪ জানুয়ারি) সকালে জেলা প্রশাসকের নিকট স্মারকলিপি প্রদান করেছে সুনামগঞ্জ জেলা হোটেল রেস্তোরাঁ সেক্টরে সরকার ঘোষিত নিন্মতম মজুরি ও শ্রম আইন বাস্তবায়ন সংগ্রাম পরিষদ সুনামগঞ্জ জেলা কমিটি। স্মারকলিপি গ্রহণ করেন সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক ড. মো. ইলিয়াস মিয়া।

স্মারক লিপি প্রদান কালে উপস্থিত ছিলেন সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক ফবলু মিয়া, যুগ্ম আহ্বায়ক সুরঞ্জিত দাস, টিটু দাস, সদস্য মতিউর রহমান, হুমায়ুন কবির প্রমুখ।

স্মারক লিপিতে উল্লেখ করা হয়, গত ৫ মে ২০২৫ খ্রি. হোটেল ও রেস্তোরাঁ সেক্টরে সরকার ঘোষিত নিন্মতম মজুরির চূড়ান্ত গেজেট ঘোষণা করা হয়। নিয়ম অনুযায়ী যে মাসে গেজেট ঘোষণা হয়, সেই মাস থেকেই ঘোষিত মজুরি কার্যকর করার কথা। অথচ ৯ মাস অতিবাহিত হলেও এখনও পর্যন্ত অধিকাংশ হোটেল ও রেস্তোরাঁ প্রতিষ্ঠানসমূহে ঘোষিত গেজেট বাস্তবায়ন করা হচ্ছে না। সরকার ঘোষিত গেজেট অনুযায়ী মজুরি পরিশোধ করা না হলে শ্রম অধ্যাদেশ-২০২৫ এর ২৮৯-ধারা অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট মালিককে ১ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড এবং ২০ হাজার হতে ৫০ হাজার টাকা জরিমানাসহ গেজেট অনুযায়ী শ্রমিকের সকল বকেয়া পাওনা পরিশোধ করার কথা বলা হয়েছে। সে মোতাবেক সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তর কার্যকর কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করছে না। যে কারণে শ্রমিদের মধ্যে চরম অসন্তোষ ও ক্ষোভ বিরাজমান।

উদ্ভুত পরিস্থিতিতে সরকারে সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জাননো হয়।


ফেনীতে মহাসড়কের পাশে ময়লার ভাগাড়, চলাচলে বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ফেনী প্রতিনিধি

ফেনী-নোয়াখালী জাতীয় মহাসড়কের পাশে দাগনভূঞা পৌরসভার ময়লার ভাগাড়। বর্জ্য নিষ্কাশন ব্যবস্থাপনা না থাকায় পৌর এলাকার সব ময়লা-আবর্জনা ফেলা হয় সেখানে। বিভিন্ন ধরনের পশুপাখি ময়লার স্তূপে বিচরণ ও ঘাটাঘাটি করতে দেখা যায়। পঁচা ময়লা-আবর্জনার তীব্র দুর্গন্ধ ও সেগুলো পোড়ানোর ধোঁয়ায় স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রয়েছেন জনসাধারণ।

স্থানটি পার হওয়ার সময় ভোগান্তি পোহাতে হয় পথচারী ও যানবাহন যাত্রীদের। এ সময় হাত দিয়ে নাক-মুখ বন্ধ করে রাখেন তারা। স্থানটি অতিক্রম করার সময় গাড়ির গতি বাড়িয়ে দেন চালকরা। এতে দুর্ঘটনা ঘটেছে কয়েকবার। বিষয়টি নিয়ে এলাকাবাসী ক্ষুব্ধ হলেও এখন পর্যন্ত কোনো প্রতিকার পাননি।

জানা যায়, গত তিন বছর ধরে দাগনভূঞা পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ড কৃষ্ণরামপুরের এই জায়গাটিতে প্রতিনিয়ত ময়লা-আবর্জনা ফেলা হচ্ছে। এতে স্থানটি এখন ময়লার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। ছড়িয়ে পড়া জীবাণুর কারণে স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেকে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। শ্বাসকষ্ট, অ্যাজমা, এলার্জিসহ বিভিন্ন রোগের ঝুঁকিতে রয়েছে জনসাধারণ। অবস্থা এতটাই বেগতিক যে, অনেকেই এলাকা ছাড়ার পরিকল্পনা করছেন। ময়লার দুর্গন্ধে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, যানবাহনের যাত্রী, অফিসগামী কর্মকর্তা-কর্মচারী ও স্থানীয় এলাকাবাসী মারাত্মক দুর্ভোগের সম্মুখীন হচ্ছেন। এ বিষয়ে প্রতিবাদ করতে গিয়ে একাধিকবার অপ্রীতিকর ঘটনাও ঘটেছে।

আবর্জনার কারণে স্বাস্থ্যঝুঁকিতে থাকা লোকজন বিভিন্ন সময়ে ততকালীন পৌর মেয়রের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েও কোনো ফল পাননি। যদিও পৌর কর্তৃপক্ষ দাবি করেছিলেন শিগগিরই এ সংকট কেটে যাবে।

পথচারী ও স্থানীয় এলাকাবাসী জানান, ময়লার স্তূপে সারাদিন মশা-মাছি ভনভন করে। পঁচা-আবর্জনা আর সেগুলো পোড়ানোর ধোঁয়ার তীব্র গন্ধে চলাচল করতে কষ্ট হয়। গাড়ি চালকরা স্তূপের পাশ দিয়ে দুর্গন্ধের কারণে দ্রুত গাড়ি চালিয়ে চলে যেতে হয়। এতে অনেক সময় দুর্ঘটনা ঘটে। ময়লা-আবর্জনা উন্মুক্ত স্থানে ফেলায় বাতাসের মাধ্যমে বিভিন্ন রোগ জীবাণু ছড়াচ্ছে। নাকে হাত দিয়ে চলতে হচ্ছে। এছাড়া ময়লার ভাগাড়ের কারণে নষ্ট হচ্ছে পরিবেশ।

দাগনভূঞা উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও পৌর প্রশাসক মো. শাহীদুল ইসলাম বলেন, রাস্তার পাশে যে ময়লাটা ফেলা হয় এটা আমরা অনেকটা বাধ্য হয়ে ফেলতে হয়। আমাদের এখানে একটি ডাম্পিং স্টেশন করার পরিকল্পনা আছে। সেটা নিয়ে আমরা কাজ করছি। আমরা কিছু জায়গা পেয়েছি। সেটা আমরা পরিদর্শন করেছি। অল্প সময়ে যদি আমরা ডাম্পিং স্টেশনের কাজ শুরু করতে পারি। তাহলে ময়লাগুলো সেখানে ফেলবো।

সড়কের পাশে বর্জ্য নিষ্কাশন বন্ধ করে জনসাধারণকে স্বাস্থ্যঝুঁকি থেকে রক্ষা ও সমস্যা সমাধানে সরকার দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন এমনটি প্রত্যাশা স্থানীয়দের।


banner close