নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে গাড়ির চাপায় দুইজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন একজন। শনিবার সকালে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কেওডালা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত দুজন হলেন ঝালকাঠি সদর উপজেলার খেজুরা এলাকার সুরেশ ডাকুয়া (৩৫) ও তার ছেলে লোকেশ ডাকুয়া (৯)। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন নিহত লোকেশ ডাকুয়ার মা নিপু রায় (৩০) বলে জানিয়েছেন কাঁচপুর হাইওয়ে পুলিশের পরিদর্শক রেজাউল হক।
তিনি জানান, শুক্রবার রাতে স্বামী-সন্তানসহ নারায়ণগঞ্জে ‘বাবা লোকনাথ ব্রহ্মচারী মন্দিরে পূজা করতে যান তারা। সেখান থেকে সকাল সাড়ে ৭টার দিকে স্বামী স্ত্রী ও সন্তান ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কেওঢালা এলাকা পার হচ্ছিলেন। এ সময় একটি গাড়ি তাদের চাপা দিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়।
তিনি আরও জানান, আহত অবস্থায় তিনজনকে স্থানীয়রা একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে লোকেশকে চিকিৎসক মৃত বলে জানান। সুরেশ ও নিপু রায়কে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে পাঠানো হলে সেখানে সুরেশ ডাকুয়ার মৃত্যু হয়।
কাঁচপুর হাইওয়ে পুলিশের পরিদর্শক রেজাউল হক বলেন, ‘নিপু রায় ঢামেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তিনি শঙ্কামুক্ত বলে জানা গেছে। নিহত দুইজনের মরদেহ মর্গে পাঠানো হয়েছে।’
এ ঘটনায় মামলাসহ গাড়ি ও চালককে শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে বলে জানান পুলিশের এ কর্মকর্তা।
আসন্ন ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে কোরবানির পশুবাহী যানবাহনে যেকোনো ধরনের ছিনতাই বা চাঁদাবাজির অভিযোগ পাওয়ামাত্রই কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের ঘোষণা দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
মঙ্গলবার (১২ মে) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি জানান, সড়কে পশুবাহী ট্রাকের নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করতে এবং ব্যবসায়ীদের হয়রানি মুক্ত রাখতে পুলিশের পক্ষ থেকে একটি বিশেষ হটলাইন সেবা চালু করা হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার লক্ষ্যে ঈদের আগে ও পরে মোট ১৪ দিন পুলিশ সদর দপ্তরে সার্বক্ষণিক মনিটরিং সেল কার্যকর থাকবে।
তিনি আরও জানান, নিরাপত্তা ব্যবস্থার পাশাপাশি পশুর চামড়া সংরক্ষণের বিষয়েও সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে এবং এ উদ্দেশ্যে লবণ বিতরণের জন্য ২০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
কোরবানির ঈদে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দায়িত্বরত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, এছাড়া সামাজিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ-এর সাথে আলোচনার মাধ্যমে ঈদের আগেই দেশের সকল গার্মেন্টস শ্রমিকের বেতন ও উৎসব ভাতা পরিশোধের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।
ফেনীতে সড়ক দুর্ঘটনায় মোটরসাইকেল আরোহী বাবা ও ছেলে নিহত হয়েছেন। নিহতরা হলেন নুর আলম ও তার ছেলে নিরব। হৃদয়বিদারক এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
মঙ্গলবার (১২ মে) সকালে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের হাফেজিয়া নামক স্থানে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন, সোনাগাজী উপজেলার মঙ্গলকান্দি ইউনিয়নের রাজাপুর গ্রামের সী-ম্যান সফিউল উল্যাহর বাড়ির নুরুল হুদার ছেলে নুর আলম ও তার ছেলে নিরব।
নুর আলম পেশায় ফেনী ডায়াবেটিক হাসপাতালের অ্যাম্বুলেন্স চালক ছিলেন।
আহত ভাগিনা আফজাল মিঠুকে মুমূর্ষ অবস্থায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ ও নিহতের স্বজনরা জানান, ছেলে ও ভাগিনাকে সঙ্গে নিয়ে বোনের বাড়ি ভাঙার তাকিয়া থেকে মোটরসাইকেল চালিয়ে ফেনীতে ফিরছিলেন নুর আলম। পথে একটি দ্রুতগতির বাস তাদের মোটরসাইকেলকে ধাক্কা দিলে মোটরসাইকেল সড়কের ছিটকে পড়ে। ঘটনাস্থলেই নুর আলম মারা যান। স্থানীয়রা গুরুতর আহত ছেলে ও ভাগিনাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার পথে ছেলের মৃত্যু হয়। উন্নত চিকিৎসার জন্য আহত আফজাল মিঠুকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুর্ঘটনার পর বাসটি থামিয়ে পালিয়ে সটকে পড়ে চালক। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে ফেনী সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। জব্দ করে বাস ও মোটরসাইকেল।
মহিপাল হাইওয়ে থানার ওসি মো: আসাদুল ইসলাম জানান, দুর্ঘটনাকবলিত বাস ও মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়েছে। পলাতক রয়েছেন বাস চালক। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে ডিএনডি লেকে গোসল করতে নেমে পানিতে ডুবে মনিরুল (১৫) ও শুভ (১৫) নামে দুই কিশোরের মৃত্যু হয়েছে।
মঙ্গলবার (১২ মে) ভোরে লেকের পানি থেকে ভাসমান অবস্থায় তাদের মরদহ উদ্ধার করে পুলিশ।
নিহত মনিরুল মাগুরার মোহাম্মদপুর উপজেলার পাল্লা গ্রামের মোহাম্মদ জাকিরের ছেলে। বর্তমানে পরিবারসহ তারা সিদ্ধিরগঞ্জের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের চৌধুরী বাড়ি ভূঁইয়াপাড়া এলাকায় বসবাস করতেন। অন্যদিকে শুভ পটুয়াখালীর মরিচবুনিয়া এলাকার মিজান শিকদারের ছেলে। পরিবার নিয়ে তিনি সিদ্ধিরগঞ্জের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের মুনলাইট এলাকায় থাকতেন। তারা দুজনে গুদনাইল বাগপাড়া আলিম মাদরাসার সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গতকাল সোমবার দুপুরে মাদরাসার পরীক্ষা শেষে কয়েকজন বন্ধু নাভানা মাঠে ফুটবল খেলতে যায়। খেলা শেষে পাঁচ বন্ধু মিলে বার্মাস্ট্যান্ড নয়াপাড়া এলাকার ১ নম্বর সেতুর পাশে ডিএনডি লেকে গোসল করতে নামে। কিছুক্ষণ পর তিনজন বাড়ি ফিরে গেলেও মনিরুল ও শুভ আর ফিরে আসেনি।
বিষয়টি নিশ্চিত করে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার উপ পরিদর্শক (এসআই) মো. মাসুম বিল্লাহ বলেন, রাতে পরিবারের সদস্যরা সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেন। পরে মঙ্গলবার ভোর ৬টার দিকে স্থানীয়রা লেকে দুই কিশোরের মরদেহ দেখতে পেয়ে পুলিশকে অবহিত করে। ঘটনাস্থলে গিয়ে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করা হয়।
তিনি আরও বলেন, পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকায় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
সাতক্ষীরার তালা উপজেলায় বাংলাদেশ ফার্মাসিটিক্যালস রিপ্রেজেন্টেটিভস অ্যাসোসিয়েশন (ফারিয়া) তালা উপজেলা শাখার উদ্যোগে “অধিকার আদায়ে আমরা সবাই একসাথে” এই স্লোগানকে সামনে রেখে প্রতিবাদী মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (১২মে) তালা প্রেসক্লাবের সামনে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ঔষধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের ‘দালাল’ সম্বোধন করে গ্রেপ্তার ও লাঞ্ছনার প্রতিবাদে এবং সুনির্দিষ্ট নীতিমালাসহ ৬ দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে এ মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
তালা উপজেলা ফারিয়ার সভাপতি মো: ফারুক হোসেনের সভাপতিত্বে এবং জামিরুল ইসলামের সঞ্চালনায় সমাবেশে বক্তব্য রাখেন,সংগঠনের উপদেষ্টা মো: তৈইবুর রহমান,জাহিদুল ইসলাম,বিল্লাল হোসেন,আবির হোসেন ও কামাল হোসেন,কপিলমুনি শাখার সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক প্রমুখ।
বক্তারা বলেন,ঔষধ কোম্পানির প্রতিনিধিরা দেশের স্বাস্থ্যসেবার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে কাজ করছেন। অথচ তাদের প্রতি অবমাননাকর আচরণ,গ্রেপ্তার ও হয়রানির ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক। তারা দ্রুত হয়রানিমূলক আচরণ বন্ধ এবং পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।
সমাবেশে বক্তারা আরও বলেন,মেডিকেল রিপ্রেজেন্টেটিভদের জন্য সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন, কর্মঘণ্টা নির্ধারণ, চাকরির নিরাপত্তা ও পেশাগত মর্যাদা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবী জানান। দাবি আদায় না হলে ভবিষ্যতে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়ার হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়।
আসন্ন ঈদুল আজহা-কে সামনে রেখে ভোলা সদর উপজেলা-র কুরবানির হাটে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে বিশাল আকৃতির দুটি বলদ—কালাচান ও সাদাচান। ২২ মণ ও ১৮ মণ ওজনের এই দুই গরু দেখতে প্রতিদিন ভিড় করছেন স্থানীয়সহ দূর-দূরান্তের মানুষ।
জানা গেছে, রাজাপুর ইউনিয়ন-এর চরমনোষা গ্রামের খামারি দুলাল বেপারি গত তিন বছর ধরে দেশীয় পদ্ধতিতে গরু দুটি লালন-পালন করেছেন। তার খামারে বর্তমানে ১০টি গরু থাকলেও সবচেয়ে বেশি আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে হলিস্টিন ফ্রিজিয়ান জাতের এই দুটি বলদ।
খামারি জানান, ‘কালাচান’-এর ওজন প্রায় ২২ মণ, যার দাম চাওয়া হচ্ছে ৮ লাখ টাকা। অন্যদিকে ‘সাদাচান’-এর ওজন প্রায় ১৮ মণ এবং এর দাম ধরা হয়েছে ৭ লাখ টাকা। তার দাবি, ১৫ লাখ টাকার কমে গরু দুটি বিক্রি করলে লোকসান হবে।
সরেজমিনে দেখা যায়, কুরবানির হাটকে সামনে রেখে শেষ মুহূর্তের পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন দুলাল বেপারি ও তার পরিবারের সদস্যরা। পরিবারের সদস্যের মতোই আদর-যত্নে বড় করা হয়েছে গরু দুটিকে।
দুলাল বেপারি বলেন, “সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উপায়ে গরু দুটি পালন করেছি। কোনো ধরনের ক্ষতিকর মোটাতাজাকরণ পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়নি। প্রতিদিন নিয়মিত দানাদার খাবার, জার্মান ঘাস ও ফল খাওয়ানো হয়।”
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এত বড় গরু এলাকায় আগে খুব একটা দেখা যায়নি। প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ শুধু গরু দুটি একনজর দেখতে খামারে আসছেন।
এ বিষয়ে ভোলা জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগ-এর কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম খাঁন বলেন, খামারি প্রাণিসম্পদ বিভাগের পরামর্শ অনুযায়ী প্রাকৃতিক উপায়ে গরু দুটি লালন-পালন করেছেন। আশা করা হচ্ছে, তিনি কাঙ্ক্ষিত মূল্য পাবেন।
সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলায় দুই বছরের প্রেমের সম্পর্কের জেরে বিয়ের দাবিতে প্রেমিক আরাফাত হোসেনের বাড়িতে অনশন শুরু করেছেন দুই সন্তানের এক জননী। উপজেলার বারুহাস ইউনিয়নের কুসুম্বি গ্রামে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটছে।
ঘটনা সূত্রে জানা যায়, কুসুম্বি গ্রামের রেজাউল করিমের ছেলের সাথে ওই নারীর দীর্ঘ দুই বছর ধরে প্রেমের সম্পর্ক চলে আসছিল। সম্প্রতি ওই নারী বিয়ের জন্য চাপ দিলে প্রেমিক ও তার পরিবার তাকে মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানায়। উপায়ান্তর না দেখে গত (১১ মে ) বিকাল থেকে ভুক্তভোগী নারী আরাফাত হোসেনের বাড়িতে অবস্থান নিয়ে অনশন শুরু করেন।
বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর স্থানীয়দের মাঝে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। ছেলের পরিবার মেয়েটিকে মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানালে এবং উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনকে জানানো হয়।
পরবর্তীতে উপজেলা প্রশাসনের নির্দেশে ঘটনাস্থলে গ্রাম পুলিশ পাঠানো হয়। বর্তমানে অনশনরত ওই নারীর নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে তাকে গ্রাম পুলিশের পাহাড়ায় রাখা হয়েছে।
এলাকাবাসী জানান, দুই সন্তানের জননী হওয়া সত্ত্বেও প্রেমের টানে ওই নারী এখানে এসেছেন। তবে ছেলের পরিবার বিষয়টি কোনোভাবেই মেনে নিতে চাইছে না। বর্তমানে ওই বাড়িতে এক ধরনের অচলাবস্থা বিরাজ করছে।
স্থানীয় ইউপি সদস্য মো রাজিব সরকার রাজু বলেন, উপজেলা প্রশাসনের নির্দেশনায় গ্রাম পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে যাতে কোনো ধরণের অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে। আইনি প্রক্রিয়া বা সামাজিক মীমাংসার মাধ্যমে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা চলছে।
শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত, বিয়ের দাবিতে ওই নারী এখনো তার অনশন চালিয়ে যাচ্ছেন।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ( ইউএনও) নুসরাত জাহান বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে অবগত হওয়া মাত্রই ঘটনাস্থলে গ্রাম পুলিশ পাঠিয়েছি। ওই নারী বর্তমানে গ্রাম পুলিশের পাহারায় নিরাপদে আছেন। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের বিষয়টি খতিয়ে দেখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, আইনি প্রক্রিয়ায় যদি ভুক্তভোগী নারী কোনো অভিযোগ করেন, তবে তদন্ত সাপেক্ষ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। কোনোভাবেই যেন আইনশৃঙ্খলার অবনতি না ঘটে সেদিকে আমাদের কড়া নজরদারি রয়েছে।"
খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলা-য় চলতি মৌসুমে পোল্লা বা চিচিঙ্গা চাষে অভাবনীয় সাফল্য পেয়েছেন কৃষকরা। অনুকূল আবহাওয়া এবং কৃষি বিভাগের পরামর্শে এবার লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি ফলন হওয়ায় কৃষকদের মুখে ফুটেছে স্বস্তির হাসি।
উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, অনেক কৃষক এখন সনাতন পদ্ধতির পরিবর্তে মালচিং ও সেক্স ফেরোমন ফাঁদ ব্যবহার করে বিষমুক্ত সবজি চাষ করছেন। বিশেষ করে উন্নত হাইব্রিড ‘রোহিণী’ জাতের পোল্লা চাষে খরচ কম হলেও ফলন মিলছে বেশি।
খর্নিয়া ইউনিয়ন-র গোনালী গ্রামের কৃষক ইউসুফ আলী ৫০ শতক জমিতে পোল্লা চাষ করে এলাকায় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। কৃষকদের ভাষ্য, অন্যান্য ফসলের তুলনায় পোল্লা চাষে দ্বিগুণ লাভ হচ্ছে।
বর্তমানে স্থানীয় পাইকারি বাজারে প্রতি মণ চিচিঙ্গা ১ হাজার ৩০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। খুচরা বাজারে প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ টাকা দরে। আধুনিক বিপণন ব্যবস্থার কারণে কৃষকরা এখন মাঠ থেকেই সরাসরি পাইকারদের কাছে পণ্য বিক্রি করতে পারছেন, এতে পরিবহন ব্যয়ও কমছে।
ডুমুরিয়া উপজেলা কৃষি অফিস-এর কৃষি কর্মকর্তা মো. নাজমুল হুদা জানান, পোল্লা চাষে সফল হতে হলে সঠিক সময়ে বীজ বপন, সুষম সার প্রয়োগ এবং মাচা বা জাংলা মজবুত রাখা অত্যন্ত জরুরি।
এদিকে ডুমুরিয়া উপজেলা প্রশাসন-এর নির্বাহী কর্মকর্তা মিজ সবিতা সরকার বলেন, ডুমুরিয়ার মাটি ও আবহাওয়া বিভিন্ন ধরনের সবজি চাষের জন্য উপযোগী। পোল্লার বাম্পার ফলন প্রান্তিক কৃষকদের অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতার নতুন পথ দেখাচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, বিষমুক্ত ও নিরাপদ সবজি উৎপাদনে কৃষকদের জৈব সার ও সেক্স ফেরোমন ফাঁদ ব্যবহারের প্রবণতা বাড়ছে, যা ইতিবাচক। পোল্লা চাষে অল্প খরচে বেশি লাভ হওয়ায় অনেক শিক্ষিত যুবকও কৃষির প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠছেন।
অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড; সুন্দরবনের কুখ্যাত ডাকাত বাহিনী প্রধান মেজ জাহাঙ্গীরকে অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ আটক করেছে কোস্ট গার্ড।
আজ মঙ্গলবার সকালে কোস্ট গার্ড মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এ তথ্য জানান।
তিনি আরো জানান, সুন্দরবন অঞ্চলে সক্রিয় সকল বনদস্যুর বিরুদ্ধে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড কঠোর অবস্থানে রয়েছে। এর অংশ হিসেবে কোস্ট গার্ডের নেতৃত্বে “অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন” এবং “অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড” নামে দুটি বিশেষ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে।
এই অভিযানের ধারাবাহিক সফলতা হিসেবে চতুর্থ বারের মতো “অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড” -এর আওতায় অভিযান পরিচালনা করে কুখ্যাত ডাকাত মেজ জাহাঙ্গীর বাহিনীর প্রধান মোঃ জাহিদুল ইসলাম ওরফে মেজ জাহাঙ্গীরকে আটক করা হয়।
সুন্দরবনের কুখ্যাত ডাকাত মেজ জাহাঙ্গীর দাকোপ থানাধীন সুন্দরবনের শিবসা নদীর আদাচাই ফরেস্ট অফিস সংলগ্ন কালীর খাল এলাকায় অবস্থান করছে বলে জানা যায়।
প্রাপ্ত গোপন তথ্যের ভিত্তিতে, আজ মঙ্গলবার মধ্যরাত ১ টায় কোস্ট গার্ড বেইস মোংলা কর্তৃক উক্ত এলাকায় একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে তাকে ২ টি একনলা বন্দুক ও ৫ রাউন্ড তাজা কার্তুজসহ আটক করা হয়।
আটককৃত ডাকাত মোঃ জাহিদুল ইসলাম ওরফে মেজ জাহাঙ্গীর (৫৬) নড়াইল জেলার নড়াগাতী থানার বাসিন্দা। সে দীর্ঘদিন যাবৎ এ বাহিনীর প্রধান হিসেবে সুন্দরবনে ডাকাতি এবং সাধারণ জেলেদের জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায় করে আসছিল।
জব্দকৃত অস্ত্র, গোলাবারুদ ও আটককৃত ডাকাতের পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
সুন্দরবনকে সম্পূর্ণরূপে দস্যুমুক্ত করতে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত রাখবে।
ভোলার চরফ্যাশনে এক মাদ্রাসাশিক্ষককে ‘বলাৎকারের’ অপবাদ দিয়ে গলায় জুতার মালা পরিয়ে লাঞ্ছিত করার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে। আজ মঙ্গলবার সকালে এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার প্রতিবাদে এবং জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বিশাল মানববন্ধন করেছেন স্থানীয় ওলামায়ে কেরাম ও সর্বস্তরের তাওহীদি জনতা। বক্তারা এই ঘটনাকে আলেম সমাজের বিরুদ্ধে এক গভীর ষড়যন্ত্র হিসেবে অভিহিত করে অতি দ্রুত অপরাধীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত শনিবার (৯ মে) দিবাগত রাতে মাওলানা আব্দুল্লাহ আল নোমান নামের এক মাদ্রাসাশিক্ষকের বিরুদ্ধে ছাত্র নিগ্রহের অভিযোগ তোলে একটি স্বার্থান্বেষী মহল।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, গভীর রাতে পরিকল্পিতভাবে গুজব ছড়িয়ে এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি করা হয় এবং একটি ‘মব’ বা গণ-উন্মাদনা তৈরি করা হয়। একপর্যায়ে ওই শিক্ষককে অবরুদ্ধ করে তাঁর গলায় জুতার মালা পরিয়ে চরমভাবে মানসিক ও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়।
এই ঘটনার প্রতিবাদে মঙ্গলবার সকালে চরফ্যাশন সদর এলাকায় সর্বস্তরের জনতার ব্যানারে এক সমাবেশ ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়। এতে বিভিন্ন মাদ্রাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থী, মসজিদের ইমাম এবং সাধারণ মানুষ অংশ নিয়ে সংহতি প্রকাশ করেন।
মানববন্ধনে ওলামায়ে কেরাম বলেন, কোনো প্রকার তথ্য-প্রমাণ বা আইনি প্রক্রিয়া ছাড়াই একজন ধর্মীয় শিক্ষককে জনসম্মুখে এভাবে অপদস্ত করা মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন এবং মধ্যযুগীয় বর্বরতাকেও হার মানিয়েছে।
তাঁদের অভিযোগ, একটি বিশেষ কুচক্রী মহল আলেম-ওলামাদের সামাজিকভাবে হেয় করতে এবং শান্ত এলাকাকে অশান্ত করার হীন উদ্দেশ্যে এই নাটক সাজিয়েছে।
বক্তারা আরও উল্লেখ করেন, যদি কেউ অপরাধ করে থাকে তবে দেশে প্রচলিত আইন ও বিচার ব্যবস্থা আছে; কিন্তু আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে মব জাস্টিসের নামে সম্মানহানি করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। সমাবেশ থেকে মুসলিম উম্মাহর ঐক্য এবং ধর্মীয় মূল্যবোধ রক্ষার তাগিদ দেওয়ার পাশাপাশি স্পর্শকাতর ইস্যুতে সাধারণ মানুষকে গুজব থেকে সজাগ থাকার আহ্বান জানানো হয়। একইসঙ্গে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এই ঘটনার মূল হোতাদের গ্রেফতার করা না হলে আরও কঠোর ও ধারাবাহিক আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।
মধুমাস জ্যৈষ্ঠের এখনো বেশ কয়েকদিন বাকি। তবে এর আগেই পাবনার বিভিন্ন হাট-বাজারে উঠতে শুরু করেছে রসালো ফল লিচু। কিন্তু এসব লিচু আসলে কতোটা রসালো—তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। বেশি লাভের আশায় এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী ও বাগান মালিক অপরিপক্ব বা কাঁচা লিচু পেড়ে বাজারজাত করছেন। আর সুস্বাদু ফলের আশায় চড়া দামে এসব লিচু কিনে প্রতিনিয়ত প্রতারিত হচ্ছেন সাধারণ ক্রেতারা।
সরেজমিনে পাবনার সর্ববৃহৎ লিচুর হাট ঈশ্বরদীর জয়নগর, সাহাপুর ও সদর উপজেলার বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ছোট ছোট ডালসহ থোকায় থোকায় লিচু সাজিয়ে বসেছেন বিক্রেতারা। তবে এসব লিচুর সিংহভাগই এখনো লালচে বর্ণ ধারণ করেনি, আকারেও ছোট। মূলত 'দেশি' জাতের এসব লিচু স্বাদে অত্যন্ত টক এবং আঁটি বড়।
কৃষি বিভাগ বলছে, সাধারণত মে মাসের শেষ দিকে বা জুনের শুরুতে লিচু পরিপক্ব হয়। কিন্তু অসাধু সিন্ডিকেট অগ্রিম লাভের আশায় ক্ষতিকারক কীটনাশক ও রং ব্যবহার করে লিচুর গায়ে কৃত্রিম আভা এনে বাজারে ছাড়ছে।
বাজারে পরিপক্ব লিচুর সংকট থাকায় এই অপরিপক্ব লিচুই বিক্রি হচ্ছে চড়া দামে। দেশি লিচু প্রতি ১০০ লিচু বিক্রি হচ্ছে ৩৫০ থেকে ৪৫০ টাকায়।
ক্রেতাদের অভিযোগ, বাইরের চাকচিক্য দেখে বেশি দামে লিচু কিনে বাড়িতে নিয়ে দেখা যাচ্ছে ভেতরে শাঁস নেই এবং খেতে অত্যন্ত টক। শহরের বড় বাজারের এক ক্রেতা বলেন, "বাচ্চাদের বায়নায় ৪০০ টাকা দিয়ে ১০০ লিচু কিনলাম, কিন্তু একটাও মুখে দেওয়ার মতো না। বাজারে তদারকি না থাকায় আমাদের এভাবে ঠকানো হচ্ছে।"
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সময়ের আগে লিচু পাকানোর জন্য অনেক সময় 'ইথ্রেল' বা অন্যান্য হরমোন জাতীয় রাসায়নিক ব্যবহার করা হয়, যা স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকিস্বরূপ। বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে এটি বিষক্রিয়ার কারণ হতে পারে।
জেলা কৃষি কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম প্রামানিক জানান,
"আমরা বাগান মালিকদের বারবার পরামর্শ দিচ্ছি নির্দিষ্ট সময়ের আগে লিচু না পাড়তে। যারা অপরিপক্ব লিচুতে রঙ মিশিয়ে বিক্রি করছে, তাদের বিরুদ্ধে দ্রুতই ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালনা করা হবে।"
পাবনার ঐতিহ্যবাহী বোম্বাই ও চায়না-৩ লিচু বাজারে আসতে আরও প্রায় ১৫ দিন সময় লাগবে। ততদিন পর্যন্ত ধৈর্য ধরার এবং সচেতনভাবে ফল কেনার পরামর্শ দিয়েছেন কৃষি সংশ্লিষ্টরা।
ঝিনাইদহ সদর উপজেলার ফুরসন্দি ইউনিয়ন আবারো উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। পূর্বের সংঘর্ষে দুইজন নিহত হওয়ার ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই নতুন করে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে এবং যেকোন সময় বড় ধরনের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।
গত বছরের ২৮ এপ্রিল দিঘিরপাড় গ্রামে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে সংঘর্ষে জড়ায় প্রভাবশালী দু’পক্ষ। ওই দিন বাড়িঘরে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। হামলা ও সংঘর্ষে পাঁচজন আহত হন। ওই ঘটনায় মারা যায় দুইজন। এক বছর পর আবারো ওই ইউনিয়নের দোহাকুলা গ্রামে আবারো ঘটেছে সংঘর্ষের ঘটনা।
জানা যায়, সামাজিক আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দোহাকুলা গ্রামের যুবলীগ নেতা আবু সাঈদ শিকদার ও বিএনপি নেতা আব্দুল বারিক মোল্লার সমর্থকদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিলো। গত শুক্রবার বারিক মোল্লার সমর্থক সঞ্জয়ের ধানের জমির পানি আবু সাঈদ শিকদারের সমর্থক রোমেন মন্ডলের জমিতে প্রবেশ করলে এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে বাকবিত-া সৃষ্টি হয়। এ ঘটনার জেরে শনিবার সন্ধ্যায় টিকারী বাজারে আবু সাঈদের সমর্থক জাহিদুল, ওমর আলী, রোমেন মন্ডলসহ আরও কয়েকজন সঞ্জয়কে মারধর করে। এরপর থেকেই এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছিল।
এরই ধারাবাহিকতায় সোমবার সকালে পূর্ব বিরোধকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ৮ জন আহত হন। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। সংঘর্ষের পর এলাকায় উত্তেজনা চলছে। যেকোন সময় আবারো বড় ধরনের রক্তক্ষয়ি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশংকা করছে স্থানীয়রা।
ঝিনাইদহ সদর থানার ওসি আসাদুজ্জামান বলেন, এলাকায় উত্তেজনা থাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। কোন প্রকার সংঘর্ষ বা অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে পুলিশ কঠোর অবস্থানে আছে।
ঝিনাইদহের মহেশপুরে সেলিনা বেগম (৫০) নামের এক নারীর ছিনতাই হওয়া ৬ লাখ টাকা উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় গ্রেফতার করা হয়েছে ওই নারীর ভাতিজাসহ আরও দুইজনকে। জব্দ করা হয়েছে দুটি মোটরসাইকেল। সোমবার রাতে মহেশপুর উপজেলার আলাদা স্থান থেকে তাদের আটক করা হয়।
আটককৃতরা হলো-উপজেলার জলিলপুর গ্রামে মৃত খলিলুর রহমানের ছেলে লিটন শেখ (৪০), একই গ্রামের আইয়ুব হোসেন খান’র ছেলে আমিনুর রহমান খান (২৪) ও আব্দুর রহিম বিশ্বাসের ছেলে মোস্তফা জামান ওরফে বরকত বিশ্বাস (৪৭)। আটক লিটন শেখ ওই নারী সেলিনা বেগমের ভাতিজা।
পুলিশ জানায়, সোমবার মহেশপুর উপজেলার পান্তাপাড়া গ্রামের সেলিনা বেগম পার্শবর্তী চুয়াডাঙ্গা জেলার জীববনগর থেকে এনজিওর ৬ লাখ টাকা নিয়ে ভাতিজা লিটন শেখের মোটরসাইকেলে বাড়ি ফিরছিলেন। পথে বিকাল ৪ টার দিকে মহেশপুরের পান্তাপাড়া ইউনিয়নের মথুরানগর গ্রামের দত্তনগর-জলিলপুর সড়কে পৌঁছালে দুইজন ছিনতাইকারী মোটরসাইকেলে এসে সেলিনা বেগমের হাত থেকে টাকাসহ ব্যাগটি ছিনিয়ে নিয়ে চলে যায়।
এ ঘটনার পর টাকা উদ্ধারে অভিযান শুরু করে পুলিশ। বিভিন্ন স্থানের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে একটি মোটরসাইকেল শনাক্ত করে তারা। সেই মোটরসাইকেলের সুত্র ধরে প্রথমে আমিনুর রহমানকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি ছিনতাইয়ের কথা স্বীকার করে। পরে তার স্বীকারোক্তি মোতাকে আটক করা হয় সেলিনা বেগমের ভাজিতা লিটন ও বরকত বিশ্বাসকে। উদ্ধার করা হয় ছিনাতাইয়ের ৬ লাখ টাকা।
মহেশপুর থানার ওসি মেহেদি হাসান বলেন, সেলিনা বেগমের ভাতিজা লিটন শেখ এই ছিনতাইয়ে মুল পরিকল্পনাকারী। লিটন ও শাওন বদ্দি এই পরিকল্পনা করে। আমরা ৩ জনকে আটক করেছে। বাকি আসামীকেও দ্রুতই আটক করা হয়। এ ঘটনায় থানায় মামলা হলে আটককৃতদের ওই মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়।
কিশোরগঞ্জের ভৈরবে টানা বৃষ্টিতে প্রায় ২১৫ হেক্টর বোরো ধানক্ষেত পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় চরম বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা। বিশেষ করে জোয়ানশাহী হাওরসহ নিচু এলাকার বিস্তীর্ণ জমিতে পানি জমে থাকায় ধান কাটতে হিমশিম খেতে হচ্ছে কৃষকদের। তলিয়ে যাওয়া জমি থেকে ধান কাটতে দেড় হাজার টাকা দিয়েও মিলছে না ধান কাটার শ্রমিক। বছরের একটি মাত্র ফসল ঘরে তোলা নিয়ে দুশ্চিন্তায় ভৈরবের কৃষকরা।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার শ্রীনগর, আগানগর, শিমুলকান্দি, সাদেকপুর ও আশপাশের বিভিন্ন ইউনিয়নের হাওর এলাকায় টানা বৃষ্টিতে পাকা ও আধাপাকা ধানক্ষেত পানির নিচে চলে গেছে। এতে কম্বাইন্ড হারভেস্টার মেশিন ব্যবহার করা সম্ভব হচ্ছে না। অন্যদিকে শ্রমিক সংকটের কারণে অতিরিক্ত মজুরি দিয়েও শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না। ধারদেনা করে চাষাবাদ করেছিলেন। এখন ফসল ঘরে তুলতে না পারায় ঋণ পরিশোধ ও সংসার চালানো নিয়ে তারা চরম অনিশ্চয়তায় রয়েছেন। কেউ পরিবার-পরিজন নিয়ে পানিতে নেমে নিজেই ধান কাটার চেষ্টা করছেন। বর্তমানে দেড় হাজার টাকা মজুরি দিয়েও ধান কাটার শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না। পানিতে জমি ডুবে থাকায় যন্ত্রচালিত হারভেস্টারও মাঠে নামানো যাচ্ছে না। ফলে সময়মতো ধান ঘরে তুলতে না পারলে আরও বড় ক্ষতির আশঙ্কা করছেন তারা।
শ্রীনগর ইউনিয়নের জাফরনগর গ্রামের কৃষক ইসলাম মিয়া বলেন, এই বছর জোয়ান শাহী হাওরে ৫ খানি জমিতে ধান চাষ করেছি। কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিতে আমাদের হাওরের ধানের জমি তলিয়ে যাওয়ায় ধান কাটার শ্রমিক পাচ্ছি না। যদিও ১৫ শত টাকা রোজে শ্রমিক আসে তারা সকাল ৮ টায় ধান কাটতে আসলে আবার দুপুর ২টা বাজলেই চলে যায়। জমিতে ১ মণ ধান ফলাতে খরচ পড়ে ২ হাজার টাকা। কিন্তু বাজারে ১মণ ধান বিক্রি করতে হয় ৭/৮ শত টাকায়। এই দুঃখেই জীবন বাঁচে না।
জগমোহনপুর গ্রামের কৃষক আফিল উদ্দিন বলেন, হাওরে আমি ৮ খানি জমিতে ধান চাষ করছি। শুধু মাত্র দুই খানি জমির ধান কাটতে পারছি। আর বাকী জমির ধান পানিতে ডুবে গেছে এখন শ্রমিকের কারণে কাটতে পারছি না। পুরো জমিতে ধান বুক পানির নিচে পড়ে আছে। আমাদের বছরে একটি ফসলই হলো ধান। এই ধান দিয়েই সারা বছরের খোরাক হয় আর বাকী ধান বিক্রি করে সংসার চলে।
আরেক কৃষক জালাল মিয়া বলেন, আমরা গ্রামের কৃষকরা বৈশাখের বোরো ধানের ফসল থেকেই পরিবারের এক বছরের খোরাক হয়। এই বছর বৃষ্টির পানিতে জমি তলিয়ে ধান পচে গেছে। এখন পচে যাওয়া ধান কাটতে ১৫ শত টাকা দিয়েও কামলা পায়তেছি না তাই নিজেই কোন রকমভাবে ধান কেটে নৌকা দিয়ে টেনে আনতে হচ্ছে।
কৃষক পাষাণ আলী বলেন, জোয়ানশাহী হাওরে ৩ হাজার খানি জমি রয়েছে। আমার ৬ খানি জমির ধান রয়েছে ৷ এক সপ্তাহের বৃষ্টিতে সব জমির ধান পানিতে ডুবে গেছে৷ এখন এসব ধান ধানতে যে খরচ পড়ছে তা ধান বিক্রি করেও সেই খরচ উঠবে না। যে ক্ষেতের ধান কাটলামো একদিন তা তিন দিনে কাটতে হয়তেছে। সরকার যদি কোন সহযোগিতা করে তাহলে কিছু রক্ষা হবে বলে তার দাবি তা না হলে পরিবার নিয়ে না খেয়ে থাকতে হবে।
কোন ছেলে সন্তান না থাকায় স্বামীকে সাথে নিয়ে জোয়ানশাহী ১০ খানি জমিতে ধান চাষ করেন জাফরনগর গ্রামের জাহানারা বেগম। তিনি বলেন, মাত্র ১ খানি জমির ধান কাটছি। বাকী জমি পানির নিচে পড়ে আছে। এখন মানুষ নাই নৌকা নাই কেমনে ধান কাটমু। যদি ধান ক্ষেত না কাটতে পারি তাহলে সারা বছর কি খেয়ে বাঁচবো সেই চিন্তায় আছি। হাওরের ধানের ক্ষেতের দিকে তাকালে শুধু কান্দন আসে।
এবিষয়ে ভৈরব উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আকলিমা বেগম জানান, চলতি মৌসুমে উপজেলায় ৬ হাজার ৯১০ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও বাস্তবে আবাদ হয়েছে ৬ হাজার ৯৩০ হেক্টরে। তবে অতিবৃষ্টির কারণে ইতোমধ্যে ২১৫ হেক্টর জমির ধান পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে। তিনি আরও জানান, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে এবং সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।