তীব্র দবদাহে পুড়ছে সারা দেশ। ৪১.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা নিয়ে পুড়ছে পবনার ঈশ্বরদী শহর। অসনীয় গরমে অতিষ্ঠ জেলার জনজীবন। এটিই চলতি মৌসুমে পাবনা জেলার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা। তীব্র দাবদাহে পাবনা শহরে হিটস্ট্রোকে একজনের মৃত্যু হয়েছে।
শনিবার দুপুরে পাবনা শহরের রুপকথা রোডে একটি চায়ের দোকানে চা খাওয়ার সময় হিটস্ট্রোক করেন তিনি। এসময় আশপাশের লোকজন তাকে উদ্ধার করে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। মৃত সুকুমার দাস (৬০) পাবনার শহরের শালগাড়িয়া জাকিরের মোড়ের বাসিন্দা।
ঈশ্বরদী আবহাওয়া অফিসের সহকারী পর্যবেক্ষক নাজমুল হক রঞ্জন জানান, কয়েকদিন ধরেই পাবনায় ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপরে তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। আজকে রেকর্ড করা হয়েছে ৪১.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস । এর আগে, এ বছর এতো তাপমাত্রা রেকর্ড হয়নি। ঈশ্বরদীসহ আশপাশের এলাকাজুড়ে তীব্র তাপপ্রবাহ বইছে। এ তাপমাত্রা আরও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এদিকে জেলায় তীব্র গরমে মানুষের হাঁসফাঁস অবস্থা। তীব্র এই তাপপ্রবাহে সব থেকে সবচেয়ে বেশি কষ্টে আছেন শ্রমজীবী মানুষ। জীবন-জীবিকার তাগিদে তীব্র রোদে কাজ করতে হচ্ছে খেটে খাওয়া মানুষদের। বাইরে বের হওয়ার সময় অনেকেই ছাতা নিয়ে বের হচ্ছেন।
কিশোরগঞ্জের হাওর উপজেলা অষ্টগ্রামে পুলিশের এক অভিনব ও ঝটিকা অভিযানে ১৬৭ পিস ইয়াবাসহ চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী স্বামী-স্ত্রীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সোমবার (৮ জুন) রাত ১০টার দিকে অষ্টগ্রাম থানার একটি চৌকস টিম ছদ্মবেশ ধারণ করে এই সফল অভিযান পরিচালনা করে।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন— পূর্ব অষ্টগ্রাম ইউনিয়নের শেখেরহাটির বাসিন্দা মিলু ভূইয়ার ছেলে রাহিম ভুইয়া (৪০) ও তার স্ত্রী রিমা বেগম টুক্কি (৩৬)।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গ্রেফতারকৃত রাহিম ও তার স্ত্রী রিমা এলাকার চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী। দীর্ঘদিন ধরে তারা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে মাদক ব্যবসা চালিয়ে আসছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গতকাল রাতে অষ্টগ্রাম থানা পুলিশের একটি বিশেষ দল কৌশলের আশ্রয় নিয়ে নিজেদের পরিচয় আড়াল করতে ছদ্মবেশ ধারণ করেন— কেউ পরেন নারীদের বোরকা, আবার কেউ সাজেন সাধারণ অটোরিকশা চালক।
এই অভিনব ছদ্মবেশে পুলিশ মাদক চক্রটির আস্তানায় হানা দেয়। পুলিশের উপস্থিতি টের পাওয়ার আগেই তাদের নিজ বাড়ি থেকে হাতেনাতে ১৬৭ পিস ইয়াবাসহ এই দম্পতিকে গ্রেফতার করা হয়।
থানা পুলিশ জানায়, "গ্রেফতারকৃত রাহিম ভূইয়া ও রিমা বেগম টুক্কি উভয়ের বিরুদ্ধেই এলাকায় মাদক সাম্রাজ্য গড়ে তোলার অভিযোগ রয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে এর আগেও একাধিক মাদক মামলা রয়েছে।"
থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. রুকনুজ্জামান এ প্রতিনিধিকে জানান, আসামিদের বিরুদ্ধে অষ্টগ্রাম থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি নতুন মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।তাদের এ অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানান এই কর্মকর্তা।
এলাকাকে মাদকমুক্ত করতে পুলিশের এমন সাহসী ও ব্যতিক্রমী অভিযানকে সাধুবাদ জানিয়েছেন স্থানীয় সাধারণ মানুষ।
কক্সবাজারের নবগঠিত মাতামুহুরী উপজেলার পূর্ব বড়ভেওলা ইউনিয়নে এক প্রবাসীর বাড়িতে দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। ডাকাতদল কেবল নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকারই লুট করেনি, অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে প্রবাসীর স্ত্রী ও তার স্কুলপড়ুয়া (১৫) কন্যাকে গণধর্ষণ করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এই নৃশংস ঘটনার পর পুলিশ দ্রুত অভিযান চালিয়ে এখন পর্যন্ত ৬ জনকে আটক করেছে।
গত সোমবার (৮ জুন) দিবাগত রাত আনুমানিক আড়াইটার দিকে ইউনিয়নের সিকদারপাড়া ডলনিরঘোনা এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার রাতে ৮ থেকে ১০ জনের একটি সশস্ত্র ডাকাতদল বাড়ির জানালার গ্রিল কেটে ভেতরে প্রবেশ করে। বাড়িতে কোনো পুরুষ সদস্য না থাকার সুযোগে তারা অস্ত্রের মুখে সবাইকে জিম্মি করে। ডাকাতরা ঘরের মূল্যবান মালামাল, নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার লুট করে। একপর্যায়ে তারা প্রবাসীর স্ত্রী ও তার দশম শ্রেণিতে পড়ুয়া কিশোরী কন্যাকে সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণ করে পালিয়ে যায়।
ভুক্তভোগীদের অবস্থা আশংকাজনক হওয়ায় রক্তাক্ত অবস্থায় মা-মেয়েকে উদ্ধার করে প্রথমে চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাদের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য দ্রুত কক্সবাজার সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
ভুক্তভোগী কিশোরীর মামা সাইদুল ইসলাম মারুফ জানান: "বাড়িতে পুরুষ মানুষ না থাকার সুযোগে ডাকাতদল আমার বোনের বাড়িতে হানা দেয়। তারা সব লুট করার পাশাপাশি আমার বোন ও ভাগ্নির ওপর পাশবিক নির্যাতন চালিয়েছে। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে আমার ভাগ্নির অবস্থা বর্তমানে খুবই আশঙ্কাজনক। চিকিৎসকরা তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে (আইসিইউ) রেখে চিকিৎসা দিচ্ছেন।"
ঘটনার খবর পেয়েই চকরিয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার অভিজিৎ দাশ এবং থানা পুলিশের একাধিক টিম তাৎক্ষণিকভাবে অভিযান চালিয়ে জড়িত সন্দেহে ৬ জনকে আটক করা হয়েছে।
পুলিশি অভিযানে ঘটনায় আটককৃতদের মধ্যে ৫ জনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তারা হলেন— রেজাউল, মেহেদী, বাবু, কেফায়েত ও তানজিদ। আটককৃতদের সবার বাড়ি একই ইউনিয়নে বলে জানা গেছে।
মাতামুহুরী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ ইন্সপেক্টর মোঃ মাসুদ ডাকাতি ও ধর্ষণের ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: মনির হোসেন ৬ জনকে গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ঘটনার অধিকতর তদন্তের জন্য পুলিশ টিম এখনো মাঠে কাজ করছে।
এই অমানুষিক ও বর্বরোচিত ঘটনার পর পুরো মাতামুহুরী এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও চরম উদ্বেগ বিরাজ করছে। স্থানীয় বাসিন্দারা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে দোষীদের দ্রুত বিচার এবং সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান।
ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডে রাস্তা খনন করে পুকুর তৈরী করে টিনের বেড়া দিয়ে রাস্তা আটকে দেওয়ায় চরম ভোগান্তির মুখে পড়েছে সেনাবাহিনী ও পুলিশ সদস্যসহ কয়েকটি পরিবারের লোকজন। এ ঘটনার প্রতিকার পেতে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো উপজেলা নির্বাহী অফিসারসহ সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগ ও স্থানীয় সুত্রে জানাগেছে, ১৫ বছর আগে ৪ ফুট রাস্তাসহ কাজী ইমান আলী ও তাঁর ভাই কাজী হোসেন আলী গংদের কাছ থেকে সেনা ও পুলিশ সদস্যসহ ৯ জন মিলে ৪০ শতক জমি কিনেন। পরবর্তীতে তারা বসতবাড়ি নির্মাণ করে বসবাস শুরু করেন। ১৫ বছর ধরে সাধারণ জনগনসহ স্কুল কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থীরা এ রাস্তা ব্যবহার করে যাতায়াত করছেন। সম্প্রতি কাজী ইমান আলী ও তাঁর ভাই হোসেন আলীর পারিবারিক দ্বন্দ্বে চলাচলের রাস্তা কেটে পুকুর তৈরী করে টিন দিয়ে বেড়া দিয়েছেন। এতে সেনা ও পুলিশ সদস্যসহ ৯টি পরিবারের সদস্যদের চলাচল চরমভাবে ব্যহত হয়ে পড়েছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, চলাচলের রাস্তা ঘেঁষেই পুকুর খনন করে টিন দিয়ে বেড়া দেওয়া হয়েছে। পুকুরে কোন পাড় ও প্যালাসাইডিং না থাকায় রাস্তা ভেঙ্গে পুকুরে বিলীন হয়ে যাচ্ছে।
অভিভাবকেরা তাদের বাচ্চাদের হাত ধরে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন। রাস্তা ক্রমাগত ভেঙ্গে যাওয়ায় পাশে থাকা চারতলা বিশিষ্ট একটি ভবনও অনেকটাই ঝুঁকিতে রয়েছে। আরেকটু সামনে গেলে দেখা যায় চলাচলের পুরা রাস্তায় কেটে ফেলা হয়েছে। সেইখানে পচা পানি দিয়ে এক হাতে জুতা নিয়ে চলতে হচ্ছে তাঁদের।
ভুক্তভোগীরা জানান,আমরা ৯ সদস্য মিলে রাস্তাসহ ৪০ শতক জমি ক্রয় করে বাসাবাড়ি করেছি। যা আমাদের দলিলেও উল্লেখ আছে। এ রাস্তা আমরাসহ অন্যান্যরাও ব্যবহার করে শান্তিপূর্ন ভাবে চলাচল করে আসছি। হঠাৎ তাদের দুই ভাইয়ের দ্বন্দ্বে কাজী হোসেন আলী রাস্তা কেটে পুকুর বানিয়েছেন। কতক জায়গায় পুরো রাস্তায় কেটে ফেলেছেন। এখন আমরা তাদের ভাইদের দ্বন্দ্বের শিকার হয়েছি।
তামান্না আক্তার বলেন, আমাদের জমি কেনার সময় দাতা নিজ দক্ষিণ পাশে রাস্তা দিয়েছেন। দুই ভাইয়ের পারিবারিক কলহে এখন আমাদের রাস্তা বন্ধ করে দিছেন। আমরা এখন কোন কাজ করতে পারতেছিনা। আর যারা বাসা করেছে তারাও চলাচল করতে পারতেছেনা। তাদের ভাইয়ে -ভাইয়ে সমস্যায় আমাদের সাজা ভোগ করতে হচ্ছে। আমরা তাদের দ্বন্দ্বের নিরসন ও রাস্তা চাই।
লীমা আক্তার বলেন, জীবনের সব শেষ করে জমি কিনে এখানে বাসা করেছি। তাঁদের পারিবারিক দ্বন্দ্বে আমাদের বাসার সাথে রাস্তা কেটে পুকুর বানিয়েছেন। এখন বাসা থেকে বের হতে পারি না , গেইটে প্রায় সবসময়ই তালা দিয়ে রাখতে হয়। মাঝখানে আমার বাচ্চা পা ফসকে পুকুরে পড়ে যায়। আল্লাহ জানে আবার কখন কোন বাচ্চা পানিতে পড়ে দুর্ঘটনার শিকার হয়। আমরা চাই তারা দ্রুত আমাদের রাস্তার সমাধান করে দিক। আমরা আর বন্ধি থাকতে চাই না।
মোশারফ হোসেন বলেন, এটি আগে থেকেই চলাচলের রাস্তা ছিল। দুই ভাইয়ের দ্বন্দ্বে বিল্ডিং ভেঙ্গে পুকুর খনন করেছে। এতেই আমাদের চলাচলের রাস্তা ধ্বসে গেছে। আমার বিল্ডিংটিও এখন ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। আমার ছোট্ট চারটি বাচ্চা আছে তারাও স্কুলে যেতে পারছেনা। আমরা খুব আতংকে আছি কখন জানি কোন বাচ্চা ঐ গর্তে পড়ে মারা যায়। প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষন করে ভোগান্তি থেকে পরিত্রানের দাবি জানান তিনি।
এ নিয়ে অভিযুক্ত কাজী হোসেন আলীর সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন ,আমার ভাই জোর করে শুধু আমার জমি দিয়েই রাস্তা নিতে চায় তাই রাস্তা আটকে দিয়েছি। এ জমি ছাড়াও আরো সমস্যা আছে। মিলেঝিলে পরে রাস্তা নিতে হবে এর আগে কোন রাস্তা হবে না।
কাজী ইমান আলী বলেন, আমিসহ আমরা ৪ ভাই রাস্তা দিয়েই তাদের কাছে জমি বিক্রি করেছি। আর ওই রাস্তাটি নতুন রাস্তা নয় এটি বহু বছরেরই পুরনো রাস্তা।
আমার সাথে ছোট ভাই হোসেন আলীর অন্য জমি নিয়ে বিরোধ থাকায় খামাখা সে ওই পরিবারগুলোর রাস্তা বন্ধ করে দিয়ে তাদেরকে ভোগান্তিতে ফেলেছেন।
ফুলবাড়িয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শহীদুল ইসলাম সোহাগ দৈনিক বাংলা কে বলেন, এ বিষয়ে পৌর প্রশাসককে সরেজমিনে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ করা হয়েছে।
কিশোরগঞ্জের হাওর উপজেলা অষ্টগ্রামে গ্রাম আদালত সম্পর্কে ব্যাপক জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে স্থানীয় সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানসমূহের অংশগ্রহণে সমন্বিত পরিকল্পনা প্রণয়ন বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বাংলাদেশ গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ (৩য় পর্যায়) প্রকল্পের আওতায় উপজেলা প্রশাসন এই কর্মশালার আয়োজন করে।
‘অল্প সময়ে স্বল্প খরচে সঠিক বিচার পেতে চল যাই গ্রাম আদালতে’ এই প্রতিপাদ্য নিয়ে মঙ্গলবার (৯ জুন) সকাল থেকে উপজেলা মিনি কনফারেন্স রুমে অনুষ্ঠিত এ কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) সিলভিয়া স্নিগ্ধা।
তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন, গ্রামীণ জনপদে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় আইনি সেবা পৌঁছে দিতে গ্রাম আদালতের ভূমিকা অপরিসীম। স্থানীয় সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো যদি সমন্বিতভাবে কাজ করে, তবে সাধারণ মানুষ গ্রাম আদালতের সুবিধা সম্পর্কে আরও বেশি জানতে পারবে। এর ফলে আদালতে মামলার জট যেমন কমবে, তেমনি প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষ ঘরে বসেই অল্প সময়ে ও নামমাত্র খরচে সঠিক বিচার পাবেন। এজন্য উঠান বৈঠক, লিফলেট বিতরণ ও স্থানীয় পর্যায়ে প্রচারণার মাধ্যমে জনগণকে গ্রাম আদালতের এক্তিয়ারভুক্ত বিষয়গুলো সম্পর্কে সচেতন করতে হবে।
উক্ত কর্মশালায় উপজেলার বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, সাংবাদিক, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি ও এনজিও কর্মীগণ অংশগ্রহণ করেন। দিনব্যাপী এই কর্মশালায় অংশগ্রহণকারীরা দলগত আলোচনার মাধ্যমে গ্রাম আদালতের প্রচার ও প্রসারে একটি সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করেন।
বরগুনার আমতলী উপজেলার গুলিশাখালী ইউনিয়নের কালিবাড়ী গ্রামে এক চিকিৎসাকর্মীর বাড়িতে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। ডাকাতেরা ঘরে ঢুকে ১৯ ভরি স্বর্ণালংকার ও নগদ ৪০ হাজার টাকা লুট করে নিয়ে গেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
সোমবার (৮ জুন) দিবাগত গভীর রাতে এ ঘটনা ঘটে। মঙ্গলবার সকালে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।
বাড়ির মালিক অবসরপ্রাপ্ত উপ-কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার ডা. আব্দুল মতি মিয়া জানান, রাতের কোনো এক সময় ৮ থেকে ১০ জনের একটি দল তাঁর বাড়ির জানালার গ্রিল ভেঙে ঘরে প্রবেশ করে। এ সময় ঘরে থাকা তাঁর ছোট ভাই আব্দুস সালামকে বেঁধে ফেলে ডাকাতেরা। পরে তারা আলমারি ভেঙে ঘরের বিভিন্ন মালামাল তছনছ করে।
ডা. মতি মিয়া বলেন, “ডাকাতেরা আমার আলমারিতে থাকা ১৯ ভরি স্বর্ণালংকার ও নগদ ৪০ হাজার টাকা নিয়ে গেছে। ঘটনায় থানায় মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছি।”
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ডাকাতেরা বেশ কিছু সময় ধরে বাড়ির ভেতরে অবস্থান করে মূল্যবান জিনিসপত্র খুঁজে নেয়। ঘটনার পর এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশ কাজ করছে বলে তিনি জানান।
বগুড়া সারিয়াকান্দিতে ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে নওখিলা পি এন উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী মুস্তাকিম (১৭) হত্যার বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালিত হয়েছে।
এ উপলক্ষ্যে মঙ্গলবার (৯ জুন) সকাল ১০ টার দিকে ওই স্কুলের শতশত শিক্ষার্থী উপজেলার পৌর এলাকার মাদ্রাসা মোড়ে সমবেত হন। পরে তারা একটি বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে উপজেলার প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করেছে। মিছিলটি উপজেলা চত্বরে গিয়ে শেষ হয় এবং সেখানে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ সমাবেশ করে।
সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, নওখিলা পি এন উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বিমান কুমার সাহা, উপজেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন বিপ্লব, উপজেলা যুব জামায়াতের সহ সভাপতি বেলাল হোসেন, পৌর যুব জামায়াতের সভাপতি সোহাগ মিয়া, উপজেলা শিবির সভাপতি আসিফ খান, বগুড়া জেলা শিবিরের অফিস সম্পাদক আব্দুস সোবহান, চন্দনবাইশা ইউনিয়নের যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক রঞ্জু মিয়া, হত্যার শিকার মুস্তাকিমের বোন শিরিনা আক্তার, তার সহপাঠী শিক্ষার্থী জাকারিয়া ইসলাম প্রমুখ। পরে শিক্ষার্থীরা মোস্তাকিন হত্যার সাথে জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার এবং বিচারের দাবিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর ৮ দফা দাবির মাধ্যমে স্মারকলিপি প্রদান করেন। উল্লেখ্য যে, ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে গত ২১ মে উপজেলার চন্দনবাইশা ইউনিয়নের ঘুঘুমারী গ্রামের মৃত জয়নাল আবেদীনের ছেলে এবং নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী মুস্তাকিমকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়েছে।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিজ সুমাইয়া ফেরদৌস বলেন, শিক্ষার্থীদের স্মারকলিপি আমরা হাতে পেয়েছি। তাদের দাবির ভিত্তিতে মুস্তাকিম হত্যার সাথে জড়িত আসামিদের দ্রুত গ্রেফতার করে তাদের আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে।
নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলায় প্রকাশ্যে এক যুবককে গুলি করেছে দুর্বৃত্তরা। এঘটনার সিসি ক্যামেরা ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।
গুলিতে আহত ফারুক হোসেন(২৭) হাজীপুর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের শরীফপুর গ্রামের আবুল কাশেমের ছেলে। তিনি পেশায় একজন রাজমিস্ত্রি। বর্তমানে তিনি নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।
মঙ্গলবার (৯ জুন) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার হাজীপুর ইউনিয়নের কালামিয়ার পোল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান , সকালে ফারুক হাজীপুর ও শরীফপুর ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী কালামিয়ার দোকান এলাকায় রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন। এ সময় একটি সিএনজি চালিত অটোরিকশায় করে ৩ থেকে ৪ জনের একটি দল সেখানে এসে উপস্থিত হয়। তারা তাকে টেনে নিয়ে অটোরিকশায় উঠানোর চেষ্টা করে। এসময় দুর্বৃত্তরা তাকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি ছোড়ে। এতে তার তলপেট ও হাঁটুতে গুলি লাগে এবং তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। ঘটনার পরপরই হামলাকারীরা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। গুলির শব্দ শুনে স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে ছুটে এসে আহত ফারুককে উদ্ধার করে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন।
নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও) ডা.রাজীব আহমেদ চৌধুরী বলেন, ফারুকের তলপেট ও হাঁটুতে গুলি লেগেছে। তবে বর্তমানে তার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে।
এ বিষয়ে বেগমগঞ্জ মডেল থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামসুজ্জামান বলেন, সন্ত্রাসীরা ওই যুবককে আকস্মিক গুলি করে পালিয়ে যায়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। প্রাথমিক ভাবে ধারণা করা হচ্ছে, এটা লোকাল গ্যানের গুলি। ঘটনার সাথে জড়িত দুর্বৃত্তদের সনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান চালানো হচ্ছে।
যশোরের কেশবপুর গ্রাম আদালত সম্পর্কে ব্যাপক জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং স্থানীয় পর্যায়ে বিরোধ নিষ্পত্তির কার্যক্রম আরও কার্যকর করার লক্ষ্যে কেশবপুর উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে মঙ্গলবার (৯ জুন) উপজেলা নির্বাহী অফিসারের সভাকক্ষে এক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গ্রাম আদালত সম্পর্কে ব্যাপক জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে স্থানীয় সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানসমূহের অংশগ্রহণে সমন্বিত পরিকল্পনা প্রণয়ন শীর্ষক এ কর্মশালার আয়োজন করে উপজেলা প্রশাসন, কেশবপুর এবং ‘বাংলাদেশে গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ (৩য় পর্যায়)’ প্রকল্প।
কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার রেকসোনা খাতুন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মেশকাতুল ইসলাম, কেশবপুর থানার অফিসার ইনচার্জ রোকসানা খাতুন এবং গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ প্রকল্পের জেলা ব্যবস্থাপক অ্যাডভোকেট মহিতোষ কুমার রায়।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. রোকনুজ্জামান, উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা আনজু মনোয়ারা বেগম, উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা রুপালি রানী দাস, কেশবপুর নিউজ ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মো. হারুনার রশীদ বুলবুলসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন উপজেলা কো-অর্ডিনেটর শংকর কুমার দাস।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী অফিসার রেকসোনা খাতুন বলেন, গ্রাম আদালত হলো সাধারণ মানুষের ন্যায়বিচার পাওয়ার একটি সহজ, দ্রুত ও ব্যয়-সাশ্রয়ী মাধ্যম। গ্রামের মানুষকে আদালতের দীর্ঘসূত্রতা ও ব্যয়বহুল প্রক্রিয়া থেকে মুক্তি দিতে গ্রাম আদালতের কার্যক্রমকে আরও জনপ্রিয় করতে হবে। এ জন্য সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, জনপ্রতিনিধি, গণমাধ্যমকর্মী এবং সচেতন নাগরিকদের সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মেশকাতুল ইসলাম বলেন, গ্রাম আদালত স্থানীয় পর্যায়ে বিরোধ নিষ্পত্তির একটি কার্যকর পদ্ধতি। ভূমি সংক্রান্ত ক্ষুদ্র বিরোধসহ বিভিন্ন দেওয়ানি ও ফৌজদারি বিষয়ের দ্রুত নিষ্পত্তির মাধ্যমে এটি সামাজিক সম্প্রীতি রক্ষা এবং মামলা জট কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। জনসচেতনতা বৃদ্ধি পেলে আরও বেশি মানুষ এই সেবার সুফল ভোগ করতে পারবেন।
কেশবপুর থানার অফিসার ইনচার্জ রোকসানা খাতুন বলেন, অনেক ছোটখাটো বিরোধ সময়মতো নিষ্পত্তি না হওয়ায় তা বড় ধরনের সংঘাতে রূপ নেয়। গ্রাম আদালত এসব বিরোধ স্থানীয় পর্যায়ে সমঝোতার মাধ্যমে সমাধানের সুযোগ সৃষ্টি করে। ফলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নত হয় এবং জনগণের মধ্যে শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় থাকে।
গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ প্রকল্পের জেলা ব্যবস্থাপক অ্যাডভোকেট মহিতোষ কুমার রায় বলেন, গ্রাম আদালত আইন, ২০০৬ অনুযায়ী ইউনিয়ন পরিষদে গঠিত এ আদালত অনধিক তিন লাখ টাকা মূল্যমানের নির্দিষ্ট দেওয়ানি ও ফৌজদারি বিরোধ নিষ্পত্তি করতে পারে। এখানে অল্প খরচে, দ্রুত সময়ে এবং আইনজীবী ছাড়াই বিচার পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। তাই গ্রাম আদালতকে জনগণের আরও কাছাকাছি পৌঁছে দিতে সচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদার করা প্রয়োজন।
কর্মশালায় গ্রাম আদালতের কার্যক্রম, বিচারিক এখতিয়ার, আবেদন প্রক্রিয়া, বিরোধ নিষ্পত্তির সুবিধা এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির বিভিন্ন কৌশল নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। বক্তারা বলেন, গ্রাম আদালত দরিদ্র, নারী, প্রতিবন্ধী ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য সহজলভ্য বিচার নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
কর্মশালায় অংশগ্রহণকারীরা ইউনিয়ন পর্যায়ে প্রচার-প্রচারণা বৃদ্ধি, গণমাধ্যমের সম্পৃক্ততা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সামাজিক সংগঠনগুলোর সহযোগিতার মাধ্যমে গ্রাম আদালত সম্পর্কে জনগণকে আরও সচেতন করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
উল্লেখ্য, গ্রাম আদালতের মূল প্রতিপাদ্য হচ্ছে— অল্প সময়ে, স্বল্প খরচে সঠিক বিচার পেতে চলো যাই গ্রাম আদালতে। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে স্থানীয় সরকার বিভাগ এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের আওতায় ‘বাংলাদেশে গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ (৩য় পর্যায়)’ প্রকল্প কাজ করে যাচ্ছে।
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার নিমসার বাজার এলাকায় হাইওয়ে পুলিশের একটি গাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। অবৈধ থ্রি-হুইলার আটককে কেন্দ্র করে সংঘটিত এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং কিছু সময়ের জন্য মহাসড়কে যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটে।
মঙ্গলবার (৯ জুন) সকাল ১১টার দিকে নিমসার সবজি বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন ময়নামতি হাইওয়ে ক্রসিং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবদুল মমিন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মহাসড়কে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে ময়নামতি হাইওয়ে থানার একটি টহল দল কয়েকটি অবৈধ থ্রি-হুইলার আটক করে। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে থ্রি-হুইলার চালকদের একটি সংঘবদ্ধ দল পুলিশের ওপর হামলা চালায়। একপর্যায়ে হামলাকারীরা হাইওয়ে পুলিশের গাড়িতে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে এবং ভাঙচুর চালায়। এতে গাড়িটি ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
ওসি আবদুল মমিন জানান, অবৈধ থ্রি-হুইলার আটকের পর ৩০ থেকে ৩৫ জনের একটি সংঘবদ্ধ দল অতর্কিতভাবে পুলিশের ওপর হামলা চালায়। হামলাকারীরা পুলিশের গাড়িতে ইটপাটকেল নিক্ষেপের পাশাপাশি পিটিয়ে ভাঙচুর করে এবং এলাকায় উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করে।
খবর পেয়ে অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। তিনি আরও জানান, হামলার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোল উপজেলার নেজামপুর রেলস্টেশন এলাকার রেললাইনের পাশ থেকে অজ্ঞাত এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করেছে রেলওয়ে পুলিশ।
মঙ্গলবার সকালে উপজেলার নেজামপুর রেলস্টেশনের প্লাটফরমের উত্তরে রেললাইনের ৩০৮/২ নম্বর পিলারের পাশ থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকাল সাড়ে ৬টার দিকে রহনপুর থেকে ছেড়ে আসা মহানন্দা ট্রেনের এক টিকিট পরীক্ষক (টিটি) রেললাইনের পাশে মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশকে জানায়। খবর পেয়ে নাচোল থানা পুলিশ ও রেলওয়ে পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহটি উদ্ধার করেন।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ রেলওয়ে পুলিশের এসআই আশীষ সরকার জানান, নেজামপুর রেলস্টেশনের প্লাটফরমের অদূরে রেললাইনের পাশ থেকে অজ্ঞাত ওই নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ওই নারীর পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে জানা যাবে।
কক্সবাজারের চকরিয়ায় বন্যপ্রাণী পাচারের এক সদস্য আটক করেছে বনবিভাগ। সেই সাথে বিপন্ন প্রজাতির ১টি মুখপোড়া হনুমান ও ১২টি কচ্ছপ উদ্ধার করা হয়। আটককৃত ব্যাক্তির নাম মোঃ হাদিস রহমান (৪০)।
সোমবার (৮ জুন) বিকেলে চকরিয়া পৌরসভার ভাঙ্গারমুখ এলাকার একটি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়। গ্রেপ্তার হওয়া হাদিস রহমান ঢাকা মিরপুর-১১ (রোড নং-৩, কাঁচাবাজার সংলগ্ন) এলাকার সুলতান মিয়ার ছেলে।
গোপন সূত্রে জানাযায়, চকরিয়া পৌরসভার ভাঙ্গারমুখ এলাকার একটি বাড়িতে পাচারের উদ্দেশ্যে বেশ কিছু বন্যপ্রাণী মজুত করে রাখা হয়েছে। এই তথ্যের ভিত্তিতে বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ চট্টগ্রামের চুনতি রেঞ্জ কর্মকর্তা আনিসুজ্জামান শেখের নেতৃত্বে বনবিভাগের একটি দল সেখানে ঝটিকা অভিযান চালায়। অভিযানে বাড়িটি থেকে হনুমান ও কচ্ছপগুলো উদ্ধারসহ পাচারকারী হাদিসকে আটক করা হয়।
চক্রটির সন্ধানে গিয়ে বনবিভাগ সূত্রে জানা গেছে, একটি শক্তিশালী ও সংঘবদ্ধ চক্র দীর্ঘদিন ধরে চট্টগ্রাম এবং পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন বনাঞ্চল থেকে অবৈধভাবে বন্যপ্রাণী সংগ্রহ করে আসছিল। পরে এগুলো ঢাকা হয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পাচার করা হতো। আটক হাদিস রহমান এই চক্রেরই একজন সক্রিয় সদস্য।
চুনতী বন্যপ্রাণী ও অভয়ারণ্য রেঞ্জ কর্মকর্তা আনিসুজ্জামান শেখ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান "আটক হাদিস রহমানের বিরুদ্ধে বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করে তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।"
বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ চট্টগ্রাম বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা আবু নাছের মোহাম্মদ ইয়াসিন নেওয়াজ জানান, বাংলাদেশে বন্যপ্রাণী শিকার, হত্যা, আটক এবং পাচার করা সম্পূর্ণ দণ্ডনীয় অপরাধ। অপরাধের ধরন অনুযায়ী এই আইনে সর্বোচ্চ ১২ বছরের কারাদণ্ড এবং ১৫ লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ডের বিধান রয়েছে। বন্যপ্রাণী রক্ষায় এই ধরণের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
সম্প্রতি অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক (অতিরিক্ত আইজিপি) পদে পদোন্নতি পাওয়ার পর নিজ জন্মভূমি শিবচরে সফর করেছেন ঢাকা রেঞ্জের সাবেক ডিআইজি ও শিবচরের কৃতি সন্তান রেজাউল করিম মল্লিক।
মঙ্গলবার (৯ জুন) সকাল ৯টার দিকে শিবচরে পৌঁছে সফরের শুরুতেই তিনি পারিবারিক কবরস্থানে গিয়ে তাঁর বাবা-মায়ের কবর জিয়ারত করেন এবং তাঁদের রুহের মাগফিরাত কামনা করে দোয়া করেন। এ সময় তাঁর মেঝো ভাই মো. আবুল কালাম মল্লিক, পরিবারের অন্যান্য সদস্য, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং সফরসঙ্গীরা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, রেজাউল করিম মল্লিক এর আগে ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। গত ৪ জুন ২০২৬ তারিখে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে তিনি ডিআইজি পদ থেকে পদোন্নতি পেয়ে অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক (অতিরিক্ত আইজিপি) পদে উন্নীত হন।
শিবচরের মল্লিক পরিবারে জন্ম নেওয়া এই পুলিশ কর্মকর্তার পদোন্নতির খবরে এলাকায় আনন্দের বন্যা বইছে। সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে দেখা গেছে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা। তাঁকে একনজর দেখতে এবং শুভেচ্ছা জানাতে অনেকেই ভিড় করেন।
পরে তিনি শিবচর থানায় পৌঁছালে থানা পুলিশের পক্ষ থেকে তাঁকে লাল গালিচা সংবর্ধনা দেওয়া হয়। সেখানে তিনি কর্মকর্তা ও সদস্যদের সঙ্গে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে এক গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভায় অংশ নেন।
মতবিনিময় সভায় অতিরিক্ত আইজিপি রেজাউল করিম মল্লিক বলেন,“অপরাধ দমন, মাদক, সন্ত্রাস, দালালি, চাঁদাবাজি ও প্রতারণা বন্ধে জিরো টলারেন্স বজায় রাখতে হবে। জনবান্ধব পুলিশি সেবা নিশ্চিত করতে হবে।”
তিনি থানার আধুনিকায়ন, সেবার মানোন্নয়ন এবং নাগরিকবান্ধব পুলিশিং কার্যক্রম আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি থানার সার্বিক কার্যক্রম সম্পর্কে খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।
সভায় উপস্থিত ছিলেন মাদারীপুর জেলার পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমান, শিবচর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মো. সালাউদ্দিন কাদের, শিবচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. কামাল হোসেনসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও সদস্যরা।
সফরের শেষ পর্যায়ে অতিরিক্ত আইজিপি রেজাউল করিম মল্লিক শিবচর থানা প্রাঙ্গণে একটি পরিবেশবান্ধব ফলজ বৃক্ষ অ্যাভোকাডো গাছ রোপণ করেন।
স্থানীয়দের মতে, অতিরিক্ত আইজিপির এই সফর শিবচরের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা, প্রশাসনিক কার্যক্রম এবং জনসেবামূলক উদ্যোগে নতুন গতি ও অনুপ্রেরণা যোগাবে।
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে ৯ বছরের এক শিশুকে ওজু শেখানোর কৌশলে বাথরুমে নিয়ে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ ইসানুর নামে এক মাদরাসা শিক্ষককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গত সোমবার দুপুরে উপজেলার একটি ভাড়া বাসায় এই ন্যাক্কারজনক ঘটনাটি ঘটে। অভিযুক্ত ইসানুর সুনামগঞ্জ জেলার দিরাই থানার মাছিমপুর গ্রামের বাসিন্দা এবং তিনি রূপগঞ্জে একটি ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়ে শিশুদের আরবি পড়াতেন।
জানা গেছে, ঘটনার দিন ভুক্তভোগী শিশুটি প্রতিদিনের মতো ওই শিক্ষকের কাছে পড়তে গিয়েছিল। পাঠদান চলাকালীন একপর্যায়ে ধর্মীয় নিয়ম অনুযায়ী ওজু শেখানোর অজুহাতে শিশুটিকে বাথরুমে ডেকে নেন ইসানুর। সেখানে শিশুটিকে হেনস্তা ও ধর্ষণের চেষ্টা করা হলে সে চিৎকার শুরু করে। বাচ্চার আর্তচিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্ত শিক্ষককে আপত্তিকর অবস্থায় ধরে ফেলেন। এসময় উত্তেজিত জনতা তাকে পিটুনি দিয়ে আটকে রাখেন এবং পরে থানা পুলিশে খবর দেন।
খবর পেয়ে রূপগঞ্জ থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযুক্ত শিক্ষককে গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে যায়। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শিশুটির মা বাদী হয়ে রূপগঞ্জ থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেছেন।পুলিশ অভিযুক্তকে ইতিমধ্যে সংশ্লিষ্ট আদালতে পাঠিয়েছে এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত নিশ্চিত করে অপরাধীর বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে।