রোববার, ২৩ আগস্ট ২০২৬
৮ ভাদ্র ১৪৩৩

পাগলা মসজিদের দানবাক্সে ৭ কোটি ৭৮ লাখ টাকা

ছবি: দৈনিক বাংলা
কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশিত
কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ২১ এপ্রিল, ২০২৪ ১০:৩৩

অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদের দানবাক্সে মিলেছে সাত কোটি ৭৮ লাখ ৬৭ হাজারের বেশি টাকা। দিনভর গণনা শেষে কিশোরগঞ্জের আলোচিত মসজিদটিতে এ পরিমাণ অর্থ পাওয়ার কথা শনিবার রাত দুইটার দিকে জানান জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ।

তিনি আরও জানান, শনিবার সকাল সাড়ে সাতটার দিকে মসজিদের ৯টি দানবাক্স খোলার পর টাকাগুলো প্রথমে বস্তুায় ভরে মসজিদের দ্বিতীয় তলার মেঝেতে ঢালা হয়। পরে দিনভর গণনা শেষে সাত কোটি ৭৮ লাখ ৬৭ হাজার ৫৩৭ টাকা পাওয়া যায়। এ ছাড়াও বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা ও স্বর্ণালংকার পাওয়া গেছে। জেলা শহরের ঐতিহাসিক মসজিদের ৯টি দানবাক্স প্রতি তিন মাস পরপর খোলা হয়। রমজানের কারণে এবার বাক্সগুলো খোলা হয়েছে চার মাস ১০ দিন পর।

অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও দানবাক্স খোলা কমিটির আহ্বায়ক কাজী মহুয়া মমতাজের তত্ত্বাবধানে ডিসি মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ ও পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ রাসেল শেখের উপস্থিতিতে শনিবার সকালে দানবাক্সগুলো খোলা হয়। ৯টি দানবাক্স খুলে ২৭ বস্তা টাকা পাওয়া যায়।

দানবাক্সগুলো খোলার পর গণনা দেখতে মসজিদের আশপাশে ভিড় করেন উৎসুক মানুষ। তাদের মধ্যে অনেকে আসেন দূরদুরান্ত থেকে।

টাকা গণনা কাজে জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ছাড়াও মাদ্রাসার ১১২ ছাত্র, ব্যাংকের ৭০ জন স্টাফ, মসজিদ কমিটির ৩৪ জন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ১০ জন সদস্য অংশ নেন।

এর আগে ২০২৩ সালের ৯ ডিসেম্বর তিন মাস ২০ দিন পর দানবাক্সগুলো খোলা হয়েছিল। তখন ২৩টি বস্তায় ছয় কোটি ৩২ লাখ ৫১ হাজার ৪২৩ টাকা পাওয়া যায়।

ঐতিহাসিক এ মসজিদের দানবাক্সে একসঙ্গে এত টাকা পাওয়াটা তখন ছিল রেকর্ড। এবার সেই রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে।

মসজিদে নগদ টাকা ছাড়াও নিয়মিত হাঁস-মুরগি, গরু-ছাগলসহ বিভিন্ন ধরনের জিনিসপত্র দান করেন বিভিন্ন জেলা থেকে আসা অসংখ্য মানুষ। দানবাক্সে টাকার সঙ্গে থাকে বিভিন্ন ধরনের মূল্যবান অলংকারও।

পাগলা মসজিদ কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন ডিসি। আর সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন পৌরসভার মেয়র মো. পারভেজ মিয়া।

মেয়র পারভেজ মিয়া জানান, পাগলা মসজিদের দানের টাকায় আন্তর্জাতিক মানের একটি ইসলামি কমপ্লেক্স নির্মাণ করা হবে। কমপ্লেক্সটি এশিয়া মহাদেশের মধ্যে অন্যতম স্থাপত্য হিসেবে বানানো হবে। এ জন্য আনুমানিক ব্যয় ধরা হয়েছে ১১৫ থেকে ১২০ কোটি টাকা। সেখানে একসঙ্গে প্রায় ৩৫ হাজার মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারবেন। ২০০ গাড়ি পার্কিংয়ের ব্যবস্থা থাকবে। এ ছাড়া একসঙ্গে পাঁচ হাজার নারীর নামাজের জন্য আলাদা ব্যবস্থা থাকবে।

মসজিদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা বীর মুক্তিযোদ্ধা শওকত উদ্দিন ভূইয়া জানান, করোনাভাইরাস সংক্রমণের শুরুতে মসজিদে মুসল্লিদের চলাচল এবং নারীদের প্রবেশাধিকার বন্ধ থাকলেও দান অব্যাহত ছিল।

তিনি আরও জানান, পাগলা মসজিদ ও ইসলামি কমপ্লেক্সের খরচ চালিয়ে দানের বাকি টাকা ব্যাংকে জমা রাখা হয়। এ থেকে জেলার বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও এতিমখানায় অনুদান দেয়া হয়। অসহায় ও জটিল রোগে আক্রান্তদের সহায়তাও করা হয়। তা ছাড়া সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিক্যাল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতালের করোনা ইউনিটে নিয়োজিত স্বেচ্ছাসেবকদেরও এ দানের টাকা থেকে সহায়তা করা হয়েছে।

মসজিদের পেশ ইমাম মুফতি খলিলুর রহমান জানান, প্রতিদিনই দেশের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষ এসে দান করে থাকেন এ মসজিদে। যারা দান করতে আসেন, তারা বলে থাকেন, এখানে দান করার পর তাদের আশা পূরণ হয়েছে। তাই এখানে দান করেন তারা।

জেলা শহরের হারুয়া এলাকায় নরসুন্দার তীরে প্রায় ১০ শতাংশ জমিতে পাগলা মসজিদ গড়ে ওঠে। বর্তমানে সেটি সম্প্রসারিত হয়ে ৩ একর ৮৮ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।


নির্বাচিত

সিরাজগঞ্জে হারানো মোবাইল পেয়ে ৫৩ পরিবারের মুখে হাসি

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি

হারিয়ে যাওয়ার পর অনেকেই ধরে নিয়েছিলেন প্রিয় মোবাইল ফোনটি আর হয়তো ফিরে পাওয়া সম্ভব নয়। কারও মোবাইলে ছিল গুরুত্বপূর্ণ ছবি ও স্মৃতি, কারও ছিল প্রয়োজনীয় তথ্য, আবার কারও কাছে ফোনটিই ছিল প্রতিদিনের কাজের অন্যতম ভরসা। সেই হতাশার মাঝেই সিরাজগঞ্জ জেলা পুলিশের তৎপরতায় ফিরে এলো ৫৩টি হারানো মোবাইল ফোন। স্বজন হারানোর মতো কষ্টের পর প্রিয় ফোন ফিরে পেয়ে মালিকদের মুখে ফুটেছে স্বস্তি ও আনন্দের হাসি।

গত শনিবার (২২ আগস্ট) বিকালে সিরাজগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে উদ্ধার হওয়া ৫৩টি মোবাইল ফোন প্রকৃত মালিকদের হাতে তুলে দেওয়া হয়।

মোবাইল ফোন ফিরে পেয়ে মালিকদের অনেকেই পুলিশের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তাদের ভাষায়, হারানো মোবাইল ফিরে পাওয়া শুধু একটি মূল্যবান জিনিস ফিরে পাওয়া নয়, এর সঙ্গে ফিরে এসেছে প্রয়োজনীয় তথ্য, ব্যক্তিগত ছবি, যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম এবং অনেক স্মৃতি।

মোবাইল হাতে পেয়ে হানিফ বাবু বলেন, ‘হারানোর পর মোবাইলটি ফিরে পাবেন এমনটা ভাবেননি।’ পুলিশের আন্তরিক প্রচেষ্টায় সেটি ফিরে পাওয়ায় তিনি জেলা পুলিশের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।

সিরাজগঞ্জ জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. নাজরান রউফ জানান, পুলিশ সুপারের সার্বিক দিকনির্দেশনায় জেলা পুলিশের সাইবার ইউনিট ও থানা পুলিশের সহযোগিতায় জেলার বিভিন্ন থানা এলাকা থেকে হারিয়ে যাওয়া মোবাইল ফোনগুলো উদ্ধার করা হয়।

পরে প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই ও মালিকানা নিশ্চিত করে ৫৩টি মোবাইল ফোন প্রকৃত মালিকদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

হারানো মোবাইল উদ্ধারের এই উদ্যোগ সাধারণ মানুষের মধ্যে জেলা পুলিশের প্রতি আস্থা আরও বাড়াবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

প্রযুক্তির সহায়তায় হারানো সম্পদ উদ্ধারে পুলিশের এমন তৎপরতা সাধারণ মানুষের জন্য ইতিবাচক বার্তা বহন করছে।

এ সময় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. হাফিজুর রহমান, শিক্ষানবিস সহকারী পুলিশ সুপার, সদর থানার অফিসার ইনচার্জসহ সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সিরাজগঞ্জ জেলা পুলিশ জানান, একটি হারানো ফোন যখন ফিরে আসে, তখন শুধু একটি ডিভাইস নয়—ফিরে আসে মানুষের আস্থা। ৫৩টি ফোন উদ্ধারের এই উদ্যোগে সেই আস্থারই প্রতিফলন ঘটেছে।


নির্বাচিত

রোহিঙ্গা সংকট মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ ইস্যু, সমাধানের দায়িত্ব তাদেরই: আইনমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় রোহিঙ্গা ইস্যুতে জাতীয় ঐক্যের বিকল্প নেই। এটি সমাধানে আন্তর্জাতিক আইন ও সংবিধান মেনে কাজ করছে সরকার।

তিনি বলেন, রোহিঙ্গা সংকট মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ ইস্যু, সেজন্য এটির সমাধানের দায়িত্ব তাদেরই।

রোববার (২৩ আগস্ট) জাতীয় প্রেসক্লাবে রোহিঙ্গা সংকট সমাধান বিষয়ক এক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।

আইনমন্ত্রী বলেন, সরকার মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করার পক্ষে নয়। বলতে চাই, রোহিঙ্গারা বাংলাদেশি নয়, তারা এই ভূখণ্ডের জনগোষ্ঠী নয়। রোহিঙ্গাদের আন্তর্জাতিকভাবে যেভাবে দেখা হচ্ছে, আমরাও ঠিক একইভাবে দেখছি যে, এটি মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ সমস্যা।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ সরকার বিষয়টিকে মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখছে। রোহিঙ্গারা যখন বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে, তখন বিষয়টি আর শুধু মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ সংকটের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি; এটি আন্তর্জাতিক ইস্যুতে পরিণত হয়েছে। বাংলাদেশ সরকার মানবিক মূল্যবোধের জায়গা থেকে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়েছে এবং তাদের পাশে দাঁড়িয়েছে।

আইনমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক ও মানবাধিকার আইন মেনে রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশের সরকার আন্তর্জাতিকভাবে যে পদক্ষেপ নিতে চায়, সেই পদক্ষেপের পক্ষে দেশের সাধারণ মানুষের সমর্থন আছে—এমন জনমত তৈরি করতে হবে।


নির্বাচিত

স্থানীয় সরকার নির্বাচন যথাসময়েই হবে: মঈন খান

এলজিআরডি মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় (এলজিআরডি) মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান জানিয়েছেন সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার নিয়মকানুন মেনে বিএনপি সরকার যথাসময়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচন সম্পন্ন করবে। রবিবার (২৩ আগস্ট) সচিবালয়ে নিজ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক সভায় তিনি এ কথা বলেন।

ড. আবদুল মঈন খান বলেন, আমাদের এই মন্ত্রণালয় একটি ব্যতিক্রমধর্মী মন্ত্রণালয়। জনগণকে সরাসরি সেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে এ মন্ত্রণালয়ের ভূমিকা অগ্রগণ্য। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় সঠিকভাবে কাজ করলে পুরো দেশ সঠিকভাবে পরিচালিত হবে। কারণ, এ মন্ত্রণালয় সরাসরি তৃণমূলের মানুষের সঙ্গে কাজ করে। মন্ত্রণালয় সফল হলে সরকারও সফল হবে।

তিনি বলেন, সরকার সব মানুষের সেবা করবে। তবে দরিদ্র মানুষের সেবাকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। বিগত ১৭ বছরে ধনিক শ্রেণিকে সেবা দিতে গিয়ে দরিদ্র মানুষের অধিকার হরণ করা হয়েছিল। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দরিদ্র মানুষের জন্য ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড চালু করেছেন। অতীতের মতো ভবিষ্যতেও দরিদ্র মানুষের প্রয়োজন মেটানোর লক্ষ্য নিয়ে কাজ করা হবে। দেশের জনগণই তার অগ্রাধিকার।

স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, বিএনপি জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে সরকার গঠন করেছে। ২০০৮ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত চারটি নির্বাচনে জনগণের ইচ্ছার প্রতিফলন হয়নি। দীর্ঘদিন পর ২০২৬ সালের নির্বাচনের মাধ্যমে সত্যিকার অর্থে জনগণের প্রতিনিধিত্বকারী সরকার কাজ করছে।

তিনি বলেন, এক বছর দীর্ঘ সময়। সংবিধানের নিয়মকানুন মেনে, সরকারের নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এবং জনগণের ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটাতে স্থানীয় সরকারের প্রতিটি স্তরে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এসব নির্বাচনে সত্যিকার অর্থে জনগণের প্রতিনিধিরাই নির্বাচিত হবেন।

ড. আবদুল মঈন খান আরও বলেন, শুধু স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় নয়, সরকারের সব পর্যায়ে অনিয়ম ও দুর্নীতির জন্য সংশ্লিষ্ট প্রত্যেককে জবাবদিহির আওতায় আসতে হবে। বিএনপি প্রতিশোধের রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না; তারা আইনের শাসনের রাজনীতিতে বিশ্বাস করে। সরকার সত্যিকার অর্থে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনার পথে এগিয়ে যাচ্ছে।

সভায় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, বিগত সরকারের সময়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়কে ঘিরে লুটপাট ও দুর্নীতির যে অভিযোগ উঠেছিল, তা থেকে বেরিয়ে আসতে তারা কাজ করছেন।


নির্বাচিত

নওগাঁয় এবার ১৫১ শয্যার আধুনিক হাসপাতাল নির্মাণের পরিকল্পনা

* চিকিৎসাসেবায় আসছে বড় পরিবর্তন : স্বাস্থ্যমন্ত্রী
ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
সবুজ হোসেন, নওগাঁ

স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, প্রত্যেকটা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল আমরা ৫০ এবং জেলা সদর হাসপাতালের জন্য ১০ শয্যা করে ডায়ালাইসিস প্রতিস্থাপন করতে যাচ্ছি। যাতে করে টারশিয়ারি লেভেলে রোগীদের ঢাকায় যেতে না হয়। ডিস্ট্রিক্ট লেভেলে ৬০টি ডায়ালাইসিস মেশিন থাকবে। আমরা আশা করি ৬০টি ডায়ালাইসিস মেশিন ডেইলি যদি ৩ রাউন্ডও করে, ১৮০টা রোগীকে ডায়ালাইসিস করতে পারবে। এটি স্থাপন করতে আমাদের আর ৩ মাসও সময় লাগবে না ইনশাল্লাহ, আমাদের মেশিন টেন্ডার হয়ে গেছে।

রোববার (২৩ আগস্ট) বেলা ১২ টার দিকে নওগাঁ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে তিনি সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন। এর আগে সকাল ১০টার দিকে মন্ত্রী হাসপাতালটিতে আকস্মিক পরিদর্শনে আসেন এবং বিভিন্ন ওয়ার্ড ঘুরে দেখেন ও রোগীদের সঙ্গে কথা বলেন।

সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, আমরা আগামী দুই বছরের মধ্যে উপজেলা লেভেলে ১০টি করে ডায়ালাইসিস বেড স্থাপন করবো। বিল্ডিংয়ের কাজ অলরেডি ডিপিপি হয়ে গেছে, টেন্ডারে চলে যাবে, বিল্ডিং হবে। শুধু ডায়ালাইসিস না, দোয়া করবেন আমাদের জন্য, আমরা ৫০ থেকে প্রথম ১০১ শয্যা ঘোষণা করেছি। গত সপ্তাহে আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, আমাদের সামনে আরও ভিশনকে বৃদ্ধি করতে হবে, ৫০ বছরের চিন্তা করে করব। ১০১ থেকে ১৫১ শয্যাবিশিষ্ট করে করতেছি আমরা এখন। নতুনভাবে আবার ডিপিপি করে এটা একেবারেই টেন্ডার হয়ে যাবে। ১৫১ শয্যার ভেতরে ২৫টা সিট থাকবে মহিলাদের জন্য, মায়ের সেবার জন্য, যাতে আমাদের মেয়েদের কষ্ট না হয়। ২০টা সিট আমাদের শিশুদের জন্য আলাদা থাকবে। ফিজিওথেরাপির জন্য একটা মহিলা ওয়ার্ড থাকবে, একটা পুরুষ ওয়ার্ড থাকবে। দুইজন ডাক্তার থাকবে, মহিলাদের মহিলারা ফিজিওথেরাপি দেবে, পুরুষদের পুরুষরা ফিজিওথেরাপি দেবে।

মন্ত্রী বলেন, অত্যাধুনিক প্যাথলজি ল্যাব তৈরি করা হবে, অত্যাধুনিক প্যাথলজি সেবা দেওয়া হবে। আল্ট্রাসাউন্ড মেশিন থেকে সকল মেশিন দিয়ে এগুলিকরা হবে, ৯ তলা বিল্ডিং হবে যেটা খালি জায়গায় হবে। আর যেটা আগে থেকে আছে যদি ফাউন্ডেশন থাকে ভার্টিক্যালি উপরে উঠবে। এভাবে আমরা স্বাস্থ্যসেবাটাকে উপজেলা লেভেলে নিয়ে যাচ্ছি।

সারাদেশের হাসপাতালগুলোর জনবল সংকট নিয়ে মন্ত্রী বলেন, গত ১৭ বছরে কোনো নতুন ডাক্তার নিয়োগ হয়নি, যেই পরিমাণ আমাদের দরকার। ২০ কোটি মানুষ! ডাক্তার আছে আমাদের কয়জন? কয়জন ডাক্তার নেওয়া হয়েছে? এখন আমরা ৫ হাজার ডাক্তার নিতে যাচ্ছি, সকল ফরমালিটিজ শেষ হয়ে গেছে। আড়াইহাজার নার্স এবং আড়াইহাজার ফার্মাসিস্ট নিতে যাচ্ছি। পিএসসিতে আরও ডাক্তারদের ইন্টারভিউ চলছে। আমরা আশা করি আগামী এক বছরের ভেতরে উই উইল হ্যাভ আ ভেরি গুড বাঞ্চ অফ ডক্টরস। আমরা অনেক ডাক্তার পেয়ে যাব ইনশাল্লাহ। তখন ডাক্তারের অসুবিধাটা থাকবে না।

​​মন্ত্রী আরও বলেন, দেশে ব্যাঙের ছাতার মতন প্রাইভেট ক্লিনিক-হাসপাতাল উঠেছে। গত ১৭ বছর এদের কোনো অ্যাকাউন্টেবিলিটি সৃষ্টি করা হয়নি, তারা কারও কাছে জবাবদিহি না। আমি যতখানি যাচ্ছি, দুই-একটা করে দেখতেছি, বন্ধ করতেছি, লাইসেন্স না থাকলে বন্ধ করতেছি। আমাদের ডিসি সাহেবরা সিভিল সার্জনদের নিয়ে মোবাইল কোর্ট করতেছে, জরিমানা করতেছে, চেষ্টা করতেছে। এখন অবশ্য তারা অনেকে হুঁশিয়ার। আমাদের তো মাত্র ৬টা মাস হলো, আরেকটু সময় দেন। কারণ ১৮-২০টা বছর তো এ দেশে কোনো অ্যাকাউন্টেবিলিটি ছিল না। আপনারাও কথা বলতে পারতেন না। আজকে যেভাবে আমাকে প্রশ্ন করতে পারেন, আগে কিন্তু পারতেন না। আগে এমপি সাহেবরা আইসা এইভাবে বইসা দেখত না, মন্ত্রী সাহেবরা আসত না। এমন একটা সিচুয়েশন গেছে যেখানে কারও কাছে জবাবদিহিতা ছিল না। আমরা শুরু করেছি, আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীও অত্যন্ত সিরিয়াস। দোয়া করবেন, আশা করি আমরা এই স্বাস্থ্য খাতকে অনেক উন্নত করব।

এ সময় নওগাঁ -৫ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য জাহিদুল ইসলাম ধলু, নওগাঁর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, ২৫০ শয্যা নওগাঁ জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা.আ. ম. আখতারুজ্জামান, সিভিল সার্জন ডা. আমিনুল ইসলামসহ স্বাস্থ্য বিভাগের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


নির্বাচিত

তালাবদ্ধ বাড়িতে মিলল একই পরিবারের চারজনের লাশ

গণপতি চক্রবর্তীসহ নিহতরা। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ২৩ আগস্ট, ২০২৬ ১০:৫৫
রংপুর প্রতিনিধি

রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়া এলাকায় এক অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকের বাড়ি থেকে একই পরিবারের চার সদস্যের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার রাত ১০টার দিকে স্থানীয় বাসিন্দারা বাড়ির ভেতরে মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেন। নিহতরা হলেন—রংপুর জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তাঁর স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী, তাঁদের মাস্টার্স সম্পন্ন করা কন্যা আগামী চক্রবর্তী এবং কনিষ্ঠ পুত্র প্রিয়ম চক্রবর্তী, যে জিলা স্কুলের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র ছিল।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, চারজনকেই অত্যন্ত নৃশংসভাবে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। বাড়ির বিভিন্ন স্থানে মরদেহগুলো ছড়িয়ে ছিটিয়ে ছিল। গণপতি চক্রবর্তীর দোতলা বাড়ির ছাদে স্ত্রী প্রীতিলতা ও মেয়ে আগামী'র মরদেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়। অন্যদিকে, ছাদের ভিন্ন এক প্রান্তে পাওয়া যায় গণপতি চক্রবর্তীর নিথর দেহ। সবার ছোট সন্তান প্রিয়মের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে ঘরের খাটের নিচ থেকে।

এই চাঞ্চল্যকর গণহত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মাছুয়াপাড়া এলাকা জুড়ে তীব্র আতঙ্ক ও শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয়দের বরাত দিয়ে জানা গেছে, ঘটনার সময় কয়েকজন যুবককে ওই বাড়ি থেকে তড়িঘড়ি করে বের হয়ে যেতে দেখা গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, পূর্বপরিকল্পিতভাবে এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে।

রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ এবং গোয়েন্দা সংস্থার উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা ইতোমধ্যেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন এবং আলামত সংগ্রহ শুরু করেছেন। হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ এবং এর নেপথ্যে থাকা খুনিদের শনাক্ত করতে নিবিড় তদন্ত শুরু হয়েছে। তবে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে রংপুর মেট্রোপলিটন কোতোয়ালী থানার আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। নৃশংস এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছেন এলাকাবাসী।


নির্বাচিত

সিলেট তেলবাহী ট্রাক ও অটোরিকশার সংঘর্ষে শিশু-নারীসহ ৪ জনের মৃত্যু

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
সিলেট ব্যুরো

সিলেটের ওসমানীনগরে তেলবাহী ট্রাক ও অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে শিশু ও নারীসহ ৪ জনের প্রাণহানির ঘটেছে। এতে আহত তিনজনকে ওসমানী মেডিকেল হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। শনিবার বেলা আড়াইটার দিকে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ওসমানীনগর ব্রাহ্মণগ্রাম এলাকায় সিএনজি চালিত অটোরিকশা ও তেলবাহী ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়।

নিহতদের নাম পরিচয় এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে, একজন শিশু এবং একজন নারী, দুইজন পুরুষ বলে জানা গেছে।

সিলেটের ওসমানীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম মোস্তফা এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

জানা গেছে, সিলেট থেকে ঢাকাগামী তেলবাহী ট্রাক ওসমানীনগরের ব্রাক্ষ্মণগ্রাম (কসরতল) পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি যাত্রীবাহী সিএনজি চালিত অটোরিকশার সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়।

দুর্ঘটনায় সিএনজি চালিত অটোরিকশার ৫ জন গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেলে প্রেরণ করেন। হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক চারজনকে মৃত ঘোষণা করেন।

এর আগে গত ৭ আগস্ট শুক্রবার সকালে সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের ওসমানীনগরে ইউনিক পরিবহন ও বেঙ্গল পরিবহনের দুটি বাসের সংঘর্ষে ৯ জনের প্রাণহানি ঘটে।


নির্বাচিত

সিলেটে তেলবাহী ট্রাক ও অটোরিকশার সংঘর্ষে নিহত ৪

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
সিলেট প্রতিনিধি

সিলেটের ওসমানীনগরে তেলবাহী ট্রাক এবং সিএনজিচালিত অটোরিকশার মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনায় ৪ জন নিহত হয়েছেন। আজ শনিবার (২২ আগস্ট) দুপুর ২টার দিকে সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের উপজেলার গোয়ালাবাজার ইউনিয়নের ব্রাহ্মণগ্রাম নামক স্থানে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। ওসমানীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম মোস্তফা গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

পুলিশ ও স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সিলেট থেকে ঢাকাগামী একটি দ্রুতগতির তেলবাহী ট্রাক ব্রাহ্মণগ্রাম এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা যাত্রী বোঝাই একটি অটোরিকশার সাথে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে অটোরিকশার ভেতরে থাকা সাতজন যাত্রীই গুরুতরভাবে আহত হন। স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত তাঁদের উদ্ধার করে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠালে সেখানে পৌঁছানোর পূর্বেই ২ জন মারা যান। পরবর্তীতে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও ২ জনের মৃত্যু হয়। নিহতদের মধ্যে ২ জন পুরুষ এবং ২ জন নারী রয়েছেন, তবে তাৎক্ষণিকভাবে তাঁদের নাম-পরিচয় নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।

হাইওয়ে পুলিশের শেরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনিসুর রহমান জানিয়েছেন, দুর্ঘটনায় আহত আরও ৩ জন বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন, যাঁদের মধ্যে একজনের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। পুলিশ ইতোমধ্যেই ঘাতক তেলবাহী ট্রাক ও দুমড়ে-মুচড়ে যাওয়া অটোরিকশাটি নিজেদের হেফাজতে নিয়েছে।

উল্লেখ্য, মাত্র ১৫ দিন আগেই গত ৭ আগস্ট এই একই মহাসড়কের ওসমানীনগর এলাকায় দুটি বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে ৯ জন প্রাণ হারিয়েছিলেন। সেই রেশ কাটতে না কাটতেই পুনরায় একই অঞ্চলে সড়ক দুর্ঘটনায় ৪ জনের প্রাণহানির ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে গভীর শোক ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। মহাসড়কে বেপরোয়া গতি নিয়ন্ত্রণে আরও কঠোর ব্যবস্থার দাবি তুলেছেন এলাকাবাসী।


নির্বাচিত

জয়পুরহাটে ট্রেনের স্প্রিং ভেঙে বিকল, উত্তরাঞ্চলের সাথে রেল যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
জয়পুরহাট প্রতিনিধি

জয়পুরহাটের পুরানাপুল এলাকায় চিলাহাটি থেকে রাজশাহীগামী ‘বরেন্দ্র এক্সপ্রেস’ ট্রেনের কয়েল স্প্রিং ভেঙে বিকল হয়ে পড়ার ঘটনা ঘটেছে। এর ফলে উত্তরাঞ্চলের সাথে রাজশাহী ও ঢাকাগামী ট্রেন যোগাযোগ সাময়িকভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। তবে চালক ও পরিচালকের দ্রুত তৎপরতায় একটি ভয়াবহ দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পেয়েছেন ট্রেনে থাকা শত শত যাত্রী।

স্থানীয় ও রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, আজ শনিবার (২২ আগস্ট) সকালে বরেন্দ্র এক্সপ্রেস (৭৩২ নম্বর) ট্রেনটি জয়পুরহাটের পুরানাপুল রেলগেট অতিক্রম করার পরপরই একটি বগির কয়েল স্প্রিং ভেঙে নিচে পড়ে যায়। এর ফলে ট্রেনটি রেললাইনের ওপর স্থবির হয়ে পড়ে। ট্রেনের পরিচালক আনোয়ার হোসেন গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে, স্প্রিং ভেঙে যাওয়ার বিষয়টি দ্রুত তাদের নজরে আসায় ট্রেনটি থামিয়ে দেওয়া সম্ভব হয়েছে, অন্যথায় বড় ধরনের বিপর্যয়ের আশঙ্কা ছিল।

এই যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বর্তমানে পার্বতীপুর, সান্তাহার, রাজশাহী ও ঢাকা রুটে ট্রেন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। আকস্মিক এই ট্রেন বিভ্রাটের ফলে আশপাশের বিভিন্ন স্টেশনে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ট্রেন আটকা পড়েছে, যার ফলে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ যাত্রীরা।

রেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঘটনার পরপরই পার্বতীপুর ও সান্তাহার জংশন থেকে রিলিফ বা উদ্ধারকারী ট্রেনের জন্য বার্তা পাঠানো হয়েছে। উদ্ধারকারী দল ইতোমধ্যেই ঘটনাস্থলের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছে। তবে উদ্ধার কাজ সম্পন্ন করে রেল যোগাযোগ পুনরায় কখন স্বাভাবিক হবে, সে বিষয়ে নিশ্চিত করে কিছু জানাতে পারেনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। রেল যোগাযোগ সচল করতে দ্রুততম সময়ে কাজ চলছে বলে জানানো হয়েছে।


নির্বাচিত

ভারত থেকে ফিরছে ৫ মরদেহ, বেনাপোলে অপেক্ষায় স্বজনরা

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

কলকাতার নিউ মার্কেট এলাকার একটি হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ হারানো কুষ্টিয়ার চারজন এবং সাভারের একজনসহ মোট পাঁচজন বাংলাদেশির মরদেহ আজ দেশে ফেরার কথা রয়েছে। বেনাপোল আন্তর্জাতিক চেকপোস্ট ইমিগ্রেশনের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফেরদৌস হোসেন খান জানিয়েছেন, আজ শনিবার দুপুর ২টার দিকে মরদেহগুলো ভারতীয় সীমান্ত পার হয়ে বাংলাদেশে আসার সম্ভাবনা রয়েছে।

অগ্নিকাণ্ডে নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন কুষ্টিয়ার আড়ুয়াপাড়ার সাংবাদিক দেবাশীষ দত্ত (৪০), তাঁর স্ত্রী আফসানা শারমীন (২৫), তাঁদের তিন বছরের শিশু স্বর্ণশীষ দত্ত এবং দেবাশীষের শ্বশুর মো. আকরাম আলী (৬৪)। এছাড়া অন্যজন হলেন সাভারের আমিনবাজারের বেগুনবাড়ি এলাকার বাসিন্দা আহম্মেদ বাবু (৩৭)।

নিহত আহম্মেদ বাবুর মরদেহ সংগ্রহের জন্য গতকাল শুক্রবার বিকেল থেকেই বেনাপোল সীমান্তে অপেক্ষা করছেন তাঁর স্বজনরা। বাবুর মেজো ভাই মনির হোসেন গণমাধ্যমকে জানান, তাঁর ভাই গত সোমবার ব্যবসায়িক কাজে কলকাতায় গিয়েছিলেন। দুর্ঘটনার পর থেকে বাবুর সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং পরবর্তীতে ভারতীয় হাইকমিশন থেকে পাঠানো ছবির মাধ্যমে তাঁর পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়।

এদিকে সাংবাদিক দেবাশীষ দত্ত এবং তাঁর পরিবারের সদস্যদের মরদেহ গ্রহণ করতে কুষ্টিয়া থেকে স্বজন ও সাংবাদিকরা বেনাপোল অভিমুখে রওনা হয়েছেন। উল্লেখ্য, কলকাতার মির্জা গালিব স্ট্রিটের ওই হোটেলে মধ্যরাতে আগুন লাগার ফলে ধোঁয়ায় দম বন্ধ হয়ে অনেক পর্যটক হতাহত হন। মরদেহগুলো দেশে আসার পর যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। এই মর্মান্তিক ঘটনায় কুষ্টিয়া ও সাভার এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।


নির্বাচিত

মহাসড়ক পার হতে গিয়ে ট্রাকচাপায় বিজিবি সদস্য নিহত

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বগুড়া প্রতিনিধি

বগুড়ার মোকামতলায় রাস্তা পার হতে গিয়ে ট্রাকের ধাক্কায় রফিকুল ইসলাম (৪৮) নামের এক বিজিবি সদস্য নিহত হয়েছেন। শনিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে রংপুর-বগুড়া মহাসড়কের মোকামতলা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত রফিকুল ইসলাম কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার পান্থাপাড়া ফরকের হাট এলাকার বাসিন্দা। তিনি নওগাঁর পত্নীতলা বিজিবি ক্যাম্পে হাবিলদার হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

স্থানীয়রা জানান, মোকামতলা ইউনিয়ন পরিষদের সামনে মহাসড়ক পার হচ্ছিলেন রফিকুল ইসলাম। এসময় দ্রুতগতির একটি ট্রাক তাকে চাপা দিয়ে চলে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

কুন্দারহাট হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রইচউদ্দিন জানান, দুর্ঘটনার পর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ট্রাকটি শনাক্ত এবং চালককে আটকের চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় আইনগত নেওয়া হবে।


নির্বাচিত

গজারিয়ায় দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকে পিকআপের ধাক্কায় নিহত ১, আহত ২

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ২২ আগস্ট, ২০২৬ ১১:৫৭
​গজারিয়া (মুন্সীগঞ্জ) প্রতিনিধি

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া অংশে দাঁড়িয়ে থাকা একটি পণ্যবাহী ট্রাকের পেছনে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পিকআপের ধাক্কায় তোতা মিয়া (৩২) নামের এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় পিকআপের চালক ও হেলপার গুরুতর আহত হয়েছেন।

​শনিবার (২২ আগস্ট) রাত আনুমানিক আড়াইটার দিকে গজারিয়া থানাধীন জামালদী ফুটওভার ব্রিজের সামনে চট্টগ্রামগামী লেনে এ দুর্ঘটনাটি ঘটে।

​নিহত তোতা মিয়া নওগাঁ জেলার রানীনগর উপজেলার পারুল ভূসিয়া গ্রামের আমজাদ মিয়ার ছেলে। আহতরা হলেন: পিকআপ চালক বগুড়া জেলার আদমদীঘি উপজেলার ছাতিয়ান গ্রামের নুরুজ্জামানের ছেলে রুমান আলী রনি (২৫) এবং চালকের সহকারী নিহত তোতা মিয়ার ভাই সোহাগ (৩৫)।

​পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রামগামী একটি পণ্যবাহী ট্রাক মহাসড়কের পাশে দাঁড়ানো ছিল। এ সময় পেছন থেকে আসা একটি দ্রুতগতির পিকআপ ট্রাকটির পেছনে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে পিকআপের সামনের অংশ দুমড়েমুচড়ে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকের নিচে ঢুকে যায়। তীব্র ধাক্কায় পিকআপে থাকা এক যাত্রী ছিটকে নিচে পড়ে মাথায় গুরুতর আঘাত পান এবং ভেতরে আটকে পড়েন চালক ও সহকারী। ​খবর পেয়ে ভবেরচর হাইওয়ে থানার টহল পুলিশ ও গজারিয়া ফায়ার সার্ভিসের টিম দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করে গজারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তোতা মিয়াকে মৃত ঘোষণা করেন। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে আহত অপর দুজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

​ভবেরচর হাইওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ শাহ কামাল আখন্দ বলেন, 'দুর্ঘটনায় কবলিত ট্রাক ও পিকআপ দুটি জব্দ করে থানা হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে যান চলাচল সম্পূর্ণ স্বাভাবিক রয়েছে। এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন।'


নির্বাচিত

চলন্ত এসি বাসে আগুন, অল্পের জন্য রক্ষা পেলেন ২৫ যাত্রী

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কক্সবাজার প্রতিনিধি 

কক্সবাজার থেকে ঢাকাগামী ‘আইকন পরিবহণ’-এর একটি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত (এসি) বাসে চলন্ত অবস্থায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। গত শুক্রবার (২১ আগস্ট) রাত ১টার দিকে রামু উপজেলার কলঘর বাজারের পশ্চিমে এন আলম ফিলিং স্টেশনের সামনে এই দুর্ঘটনা ঘটে। বাসের ভেতর দ্রুত আগুন ও ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়লেও স্থানীয়দের তৎপরতায় বড় ধরনের প্রাণহানি থেকে রক্ষা পেয়েছেন বাসে থাকা প্রায় ২৫ থেকে ৩০ জন যাত্রী।

প্রত্যক্ষদর্শী ও বাসযাত্রীদের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, চলন্ত অবস্থায় হঠাৎ বাসের ভেতরে ধোঁয়া দেখা দিলে যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। বাসের স্বয়ংক্রিয় দরজা ও জানালাগুলো বন্ধ থাকায় যাত্রীরা ভেতরে আটকা পড়েন। এই সময় বিকট শব্দ ও ধোঁয়া দেখে স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত এগিয়ে আসেন এবং বাসের জানালার কাচ ভেঙে ভেতরে আটকে পড়া যাত্রীদের একে একে নিরাপদে বের করে আনেন। বাসের এক যাত্রী মোহাম্মদ রানা জানান, সাত সদস্যের পরিবার নিয়ে তিনি কক্সবাজার ভ্রমণে গিয়েছিলেন। বাসের ভেতরে প্রচণ্ড ধোঁয়ায় তাঁদের শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছিল এবং আগুন লাগার সময় বাসের চালক বা সহকারী কাউকে তাঁরা কাছে পাননি।

ঘটনার খবর পাওয়ার ১০ মিনিটের মধ্যেই রামু হাইওয়ে থানা পুলিশের একটি দল সেখানে পৌঁছে উদ্ধারকাজে সহায়তা করে। রামু হাইওয়ে থানার সার্জেন্ট পারভেজ গণমাধ্যমকে জানান, তাঁরা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে বাসের যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেন। ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি আসার আগেই স্থানীয়রা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চালান।

রামু ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের স্টেশন অফিসার মো. আবদুল কাদের চৌধুরী বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে যে যান্ত্রিক ত্রুটি অথবা ইঞ্জিনের অতিরিক্ত তাপ উৎপাদন থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। তবে প্রকৃত কারণ নির্ণয়ে তদন্ত চলছে। এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো গুরুতর হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।


নির্বাচিত

সরকারি দামে মিলছে না সার, বস্তাপ্রতি বাড়তি ৬০০ টাকা

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বিশেষ প্রতিবেদক

আমন চাষে চাহিদা মতো সার পাওয়া নিয়ে দিশেহারা কৃষকরা। এখন আমন ধান রোপণ ও পরিচর্যার গুরুত্বপূর্ণ সময় হলেও প্রয়োজন অনুযায়ী সার নেই। কারণ ডিলারের দোকানে সরকারি ভর্তুকির সার মিলছে না। তবে খুচরা দোকানে সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে সার। এ অবস্থায় কৃষকরা সারের খোঁজে ছুটে বেড়াচ্ছে এক দোকান থেকে আরেক দোকান। বিশেষ করে টিএসপি ও ডিএপি সারের ক্ষেত্রে এ পরিস্থিতি বেশি প্রকট।

কৃষকদের অভিযোগ, ডিলাররা দোকানে সার না রেখে গোপনে অন্যত্র লুকিয়ে রেখে বিক্রি করছে বেশি দামে। সার নিয়ে এ ধারা অব্যাহত থাকলে চলতি আমন উৎপাদনে ব্যাপক নেতিবাচক প্রভাব পড়ার শঙ্কা রয়েছে। ভুক্তভোগী কৃষক এবং কৃষি বিভাগ সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, কৃষক পর্যায়ে সরকার নির্ধারিত প্রতি কেজি ২২ টাকা দরে ১ হাজার ১০০ টাকা হবে ৫০ কেজির এক বস্তার দাম। আর টিএসপির কেজি ২৭ টাকা দরে বস্তা ১ হাজার ৩৫০ টাকা, ডিএপির কেজি ২১ টাকা দরে ৫০ কেজির বস্তা ১ হাজার ৫০ টাকা এবং এমওপি সারের কেজি ২০ টাকা দরে প্রতি বস্তা ১ হাজার টাকায় বিক্রি হওয়ার কথা। কিন্তু মাঠপর্যায়ের চিত্র ভিন্ন। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন এলাকায় অনুমোদিত ডিলারের দোকানে সরকারি দামে সার না পেয়ে খুচরা বাজার থেকে কিনতে হচ্ছে বাড়তি দামে। সেক্ষেত্রে কৃষকদের টিএসপির ৫০ কেজির বস্তা ১ হাজার ৭০০ থেকে ১ হাজার ৮০০ টাকায় কিন্তু। তাতে একেক বস্তা সারে কৃষককে সরকারি দামের তুলনায় ৩৫০-৪৫০ টাকা বাড়তি গুনতে হচ্ছে। আর ডিএপির ক্ষেত্রেও ১ হাজার ৬০০ থেকে ১ হাজার ৭০০ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছে। ফলে প্রতি বস্তায় কৃষকের ৫৫০-৬৫০ টাকা অতিরিক্ত ব্যয় হচ্ছে।

সূত্র জানায়, দেশে চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে দেশে সারের চাহিদা ৬৭ লাখ ৭০ হাজার ৫০০ টনে দাঁড়াবে। তার মধ্যে ইউরিয়া ২৬ লাখ ২২ হাজার, টিএসপি ৯ লাখ ১ হাজার ৫০০, ডিএপি ১৩ লাখ ৫৫ হাজার ৭০০, এমওপি ৯ লাখ ৭০ হাজার টন। তাছাড়া এনপিকেএস (নাইট্রোজেন, ফসফরাস, পটাশ ও সালফারের সুষম সার), জিপসাম, জিংক সালফেট, ম্যাগনেসিয়াম সালফেট, বোরন ও অ্যামোনিয়াম সালফেটের চাহিদা ৯ লাখ ২১ হাজার ৩০০ টন ধরা হয়েছে।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দেশে সারের মজুত ১৬ লাখ টনেরও কিছু বেশি। কিন্তু সারের মূল্যবৃদ্ধি ও সরবরাহে ঘাটতি আমন চাষে কৃষকদের উদ্বিগ্ন করে তুলেছে। কারণ সময়মতো সার না পেলে ব্যাহত হতে পারে ধানের স্বাভাবিক বৃদ্ধি। তাছাড়া উৎপাদন কমে যাওয়ারও আশঙ্কা থাকে। পাশাপাশি আমন উৎপাদনে সার বেশি দাম কিনলে কৃষকের ব্যয় বাড়বে। তাতে দেশের খাদ্যনিরাপত্তায় বিঘ্নের আশঙ্কা বাড়ে। তখন দেশে খাদ্যের আমদানি নির্ভরতাও বাড়বে।

তবে দেশে সারের কোনো সংকট নেই দাবি করে কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ জানিয়েছেন, সার নেই অভিযোগ আসছে কিন্তু ম্যাজিস্ট্রেট ও প্রশাসন যাওয়ার পর দেখা যাচ্ছে বিতরণ করার পরও অতিরিক্ত সার থাকছে। বরং ক্রেতা নেই। কোনো কোনো জেলায় আগের বছরের তুলনায় আমরা বেশি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। তারপরও সার না থাকার অভিযোগ আসছে। এ নিয়ে প্রশাসন কাজ করছে। যারা কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করছে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে। তাছাড়া প্রতিবেশী দেশগুলোর তুলনায় এদেশ বেশি ভর্তুকি দেই। সেজন্য ওসব দেশের তুলনায় এখানে দাম কম। তবে সার পাচার হওয়ার বিষয়ে কোনো তথ্য নেই। তারপরও বিজিবিকে সীমান্তে সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

কিশোরগঞ্জের ইটনায় নতুন নীতিমালায় লোকসান, তিন ডিলারের লাইসেন্স সমর্পণ: ইটনা উপজেলায় ব্যবসায়ে লোকসানের কারণ দেখিয়ে তিন বিসিআইসি ডিলার উপজেলা কৃষি অফিসে লাইসেন্স জমা দিয়েছেন।

প্রদীপ কুমার পাল, সাজ্জাদ মিয়া ও সঞ্জয় সাহা নামের এই তিন ডিলার জানান, নতুন নীতিমালায় জামানত দুই লাখ থেকে বাড়িয়ে তিন লাখ টাকা করা হয়েছে। এ ছাড়া ইউনিয়নে ডিলারের সংখ্যা বাড়লেও মোট বরাদ্দের পরিমাণ একই থাকছে। এভাবে লস দিয়ে ব্যবসা চালানো সম্ভব নয়।

কিশোরগঞ্জ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. সাদিকুর রহমান বলেন, শূন্য হওয়া তিনটি ডিলার পদের জন্য বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছে; আগামী ৩১ আগস্ট আবেদনের শেষ তারিখ।

জয়পুরহাটে পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকলেও সারের দাম নেওয়া হচ্ছে আকাশচুম্বী। সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বস্তাপ্রতি ৪০০ থেকে ৬০০ টাকা বেশি নিচ্ছেন অসাধু ব্যবসায়ীরা।

জেলার কালাই পৌরশহরের আঁওড়া মহল্লার কৃষক আমিনুর রহমান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘দোকানে তালিকামূল্য ঝোলানো থাকলে কী হবে, দাম তো বেশিই নিচ্ছে। মেমো চাইলে সারই দিতে চায় না। আবাদে লোকসানের শঙ্কা প্রকাশ করে ক্ষেতলালের হাটশহর গ্রামের কৃষক নজরুল ইসলাম বলেন, ‘সারের পাশাপাশি অন্য খরচও বেড়ে গেছে। কিন্তু ধানের দাম তো বাড়ে না।’

চাষিদের অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করেছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরাও। ক্ষেতলালের সার ব্যবসায়ী শাহজামান তালুকদার বলেন, ‘কৃষকদের অভিযোগ সত্য। নজরদারি করলে কৃষকরা উপকৃত হবেন।’

তবে জেলা সার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি রওনকুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, ‘চাহিদার তুলনায় সারের প্রাপ্যতা অনেক কম। তবে প্রত্যন্ত এলাকায় যদি কোনো সমস্যা থাকে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ বিসিআইসির কোনো ডিলার সারের দাম বেশি নিচ্ছেন না বলেও দাবি করেন তিনি।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক একেএম সাদিকুল ইসলাম বলেন, জেলাজুড়ে ডিলার পয়েন্টে কর্মকর্তাদের ফোন নম্বর দেওয়া আছে। সারের দাম বেশি নেওয়ার প্রমাণসহ অভিযোগ পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মেহেরপুরের পরিস্থিতি আরও আশঙ্কাজনক। জেলায় চলতি মৌসুমে ২৬ হাজার ৮০০ হেক্টর জমিতে আমন আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। কিন্তু প্রয়োজনের তুলনায় সার বরাদ্দ কম মেলায় তৈরি হয়েছে কৃত্রিম সংকট। আমন মৌসুমে ইউরিয়া, এমওপি, টিএসপি ও ডিএপি সারের ব্যাপক প্রয়োজন থাকলেও চাহিদার তুলনায় মাত্র ৫০ থেকে ৬০ ভাগ বরাদ্দ পাওয়া যাচ্ছে। বিশেষ করে টিএসপি সারের সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে। সরকারি ডিলারের কাছে দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়েও ৫-১০ কেজির বেশি টিএসপি মিলছে না।

সদর উপজেলার উজুলপুর গ্রামের কৃষক আসাদুল ইসলাম বলেন, ‘এক হাজার ৩৫০ টাকা বস্তার সার এক হাজার ৮০০ থেকে দুই হাজার টাকা দাম হাঁকাচ্ছে। বাকিতে নিলে এ দাম আরও বাড়িয়ে বলছে। বাধ্য হয়ে উচ্চমূল্যেই সার কিনতে হচ্ছে।’

কলাচাষি আবেদ আলী বলেন, ‘আমার ৮ বিঘা কলার জমিতে ৮ বস্তা টিএসপি দরকার। ডিলারের কাছে সারাদিন ধরনা দিয়ে লাইনে দাঁড়িয়ে থেকে একটি আইডি কার্ডে ১০ কেজি টিএসপি পেয়েছি।’

বাংলাদেশ ফার্টিলাইজার অ্যাসোসিয়েশন মেহেরপুর জেলা শাখার সভাপতি হাফিজুর রহমান হাফি বলেন, ‘বর্তমানে বেশি সংকট হচ্ছে টিএসপি সারের। বরাদ্দ অনুযায়ী চার ভাগের এক ভাগ সারও পাওয়া যাচ্ছে না।’ তবে বেশি দামে বিক্রির অভিযোগ তিনি অস্বীকার করেন।

লালমনিরহাটে ডিলাররা সরকারি ভর্তুকির সার গোপন গুদামে লুকিয়ে রেখে খুচরা বিক্রেতাদের মাধ্যমে চড়া দামে বিক্রি করছে। চরম টিএসপি ও ডিএপি সংকটে অতিষ্ঠ হয়ে লালমনিরহাটের কালীগঞ্জে সারের দাবিতে কৃষক মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ প্রকাশ করেন। পরবর্তীতে স্থানীয় উপজেলা প্রশাসনের আশ্বাসে প্রায় ২ ঘণ্টা পর অবরোধ তুলে নেন ভুক্তভোগী কৃষকেরা।

প্রতিবেদনটি তৈরিতে সহায়তা করেছেন কিশোরগঞ্জ, জয়পুরহাট, মেহেরপুর ও লালমনিরহাট প্রতিনিধি।


নির্বাচিত

banner close