সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
২২ ভাদ্র ১৪৩৩

বেনাপোল দিয়ে পচনশীল পণ্য আমদানি প্রায় বন্ধ

ছবি: সংগৃহীত
রাশেদুর রহমান রাশু, বেনাপোল (যশোর)
প্রকাশিত
রাশেদুর রহমান রাশু, বেনাপোল (যশোর)
প্রকাশিত : ২১ এপ্রিল, ২০২৪ ১৩:১৬

বেনাপোলের ওপারে ভারতের পেট্রাপোল বন্দরে উচ্চ পচনশীল পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে সিরিয়ালের নামে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ট্রাক আটকে রাখা হয়। এ কারণে বেনাপোল দিয়ে পচনশীল পণ্য আমদানি প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে আমদানিকারকরা এ বন্দর ছেড়ে চলে গেছে অন্য বন্দরে। বেনাপোল কাস্টমস হাউসে রাজস্ব আয়ে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। রাজস্ব আয়ের একটা বড় অংশ আসে পচনশীল পণ্য আমদানি থেকে।

ভারত থেকে পচনশীল পণ্যের একটা বড় অংশ আমদানি হয় বেনাপোল বন্দর দিয়ে। প্রতিদিন বিভিন্ন ধরনের ফল, মাছ, সবজি, ক্যাপসিকাম, কাঁচা মরিচসহ অন্যান্য পচনশীল পণ্য আমদানি হয় দুপুরের পরপরই। ফলে সন্ধ্যার আগেই এসব পণ্য খালাশ হয়ে চলে যায় ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে। কিন্তু মাস খানেক ভারতীয় বন্দর কর্তৃপক্ষ সিরিয়ালের নামে পচনশীল পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে দুপুরের পর ২০ ট্রাক জেনারেল পণ্যের মাত্র ৫ ট্রাক পচনশীল পণ্যে রপ্তানি নিয়ম চালু করেছে। ফলে অধিকাংশ পচনশীল পণ্যচালান দিনের দিন প্রবেশ করতে না পেরে ওপারেই নষ্ট হচ্ছে। কোনো কোনো চালান সিরিয়াল পেয়ে রাতে প্রবেশের অনুমোতি পেলেও বেনাপোল কাস্টমস কর্তৃপক্ষ রাতে কোনো পচনশীল পণ্য খালাশ না দেওয়ায় পরের দিন বন্দর থেকে ডেলিভারি দেওয়া হচ্ছে। ফলে অধিকাংশ পণ্য পচন ধরতে শুরু করে।

পচনশীল পণ্য আমদানিকারকদের দাবি, সকাল থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত জেনারেল গুডস আমদানির অনুমতি দেওয়া হোক। শুধু পচনশীল পণ্যচালান আমদানির ক্ষেত্রে দুপুরের পর থেকে মাত্র ২-৩ ঘণ্টার জন্য একসঙ্গে সব পচনশীল পণ্যচালান আমদানির অনুমতি দিলে পচনশীল পণ্যচালান খুব দ্রুত সময়ে বেনাপোল বন্দরে প্রবেশ করতে পারবে। বাড়বে সরকারের রাজস্ব আয়। মাস খানেক আগেও এ বন্দর দিয়ে প্রতিদিন ১০০ থেকে ১৫০ ট্রাক পচনশীল পণ্য আমদানি হতো। যা থেকে সরকার প্রতিদিন ১৮-২০ কোটি টাকার রাজস্ব আয় করছিল। ফলে বর্তমানে আমদানির সংখ্যা গিয়ে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৫-১০ ট্রাকে। যদিও জাতীয় রাজস্ব বোর্ড পচনশীলপণ্য দ্রুত খালাস ও নিষ্পত্তিকরণ বিধিমালা-২০২১ নামে একটি নতুন বিধিমালা জারি করে। যার আওতায় ৬৩ ধরনের পচনশীল পণ্যের শুল্কায়নসহ সব কর্মকাণ্ড দ্রুত শেষ করার তাগিদ দেওয়া হয়েছে।

চলতি বছরের ৩০ মার্চ ভারতীয় পেট্রাপোল কাস্টমসের সহকারী কমিশনার অনিল কুমার সিংহ স্বাক্ষরিত এক পত্র জারি করে পেট্রাপোল বন্দর কর্তৃপক্ষের ম্যানেজারকে বলা হয়েছে। পচনশীল পণ্য দ্রুত রপ্তানির বিষয়টি সর্বাজ্ঞে প্রাধান্য দিতে হবে। এ আদেশ দ্রুত কার্যকর করতে বলা হলেও ভারতের পেট্রাপোল বন্দর কর্তৃপক্ষ তা করছেন না।

বেনাপোল আমদানিকারক সমিতির সভাপতি মহসিন মিলন জানান, পচনশীল পণ্য দ্রুত খালাশের নিয়ম থাকলেও ভারতের পেট্রাপোল বন্দর কর্তৃপক্ষ তা প্রতিপালন করছে না।

পচনশীল পণ্য দ্রুত আমদানিতে সিরিয়ালের নামে দীর্ঘসূত্রিতা প্রথা বাতিল করে আগের মতো আমদানির পণ্য দুই দেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় আলোচনা করে দ্রুত সমাধানের দাবি করেছে আমদানিকারকরা।

বেনাপোল বন্দর পরিচালক মো. রেজাউল করিম বলেন, সমস্যা সমাধানের জন্য ইতোমধ্যে পেট্রাপোল পোর্ট ম্যানেজারের সঙ্গে কথা বলেছি। ব্যবসায়ীদের সমস্যার কথা জানিয়েছি। অন্যান্য পণ্যের সঙ্গে পচনশীল পণ্যের গাড়ির সারাদিন বেনাপোল বন্দরে প্রবেশ করে, সে অনুযায়ী সিরিয়াল মেইনটেন করতে তাকে আমি অনুরোধ করেছি।

বেনাপোল কাস্টমসের যুগ্ম কমিশনার মো. শাফায়েত হোসেন জানান, বেনাপোলের ওপারে ভারতের পেট্রাপোল বন্দরে সিরিয়ালের নামে পচনশীল পণ্যসহ বিভিন্ন পণ্য রপ্তানিতে বিলম্ব হচ্ছে। ফলে বেনাপোল বন্দরে আগের তুলনায় আমদানি কমে গেছে। বেনাপোল বন্দর দিয়ে আমদানি কমে যাওয়ায় রাজস্ব আদায়ও অনেক কমে গেছে।

বিষয়:

রূপায়ণ গ্রুপের চেয়ারম্যানের মা ফরিদা বেগমের দাফন সম্পন্ন

প্রতিদিন মায়ের কাছে হাজিরা দিতাম —লিয়াকত আলী খাঁন মুকুল
ছবি: মরহুমা ফরিদা বেগম।
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রূপায়ণ গ্রুপের চেয়ারম্যান লিয়াকত আলী খাঁন মুকুলের মমতাময়ী মা ফরিদা বেগমের দাফন সম্পন্ন হয়েছে। রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) বাদ জোহর রাজধানীর বনানী কবরস্থানে তার দাফন সম্পন্ন হয়। এর আগে গুলশানের আজাদ মসজিদে মরহুমার নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।
গত শনিবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে নিজ বাসভবনে ফরিদা বেগম হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। এ সময় গুলশানের কন্টিনেন্টাল হাসপাতালে (সাবেক ইউনাইটেড মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল) নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যু সময় তার বয়স হয়েছিল ৭৪ বছর। তিনি চার ছেলে, নাতি-নাতনিসহ অসংখ্য আত্মীয়স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
গুলশান আজাদ মসজিদে জানাজার আগে উপস্থিত মুসল্লিদের উদ্দেশ্যে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন মরহুমার বড় ছেলে এবং রূপায়ণ গ্রুপের চেয়ারম্যান লিয়াকত আলী খাঁন মুকুল। মায়ের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে তিনি বলেন, ১৫ বছর বয়সে বাবা হারিয়েছি, সেই সময় থেকে মা-ই আমাদের অভিভাবক ছিলেন। আমরা চার ভাই এখানে উপস্থিত আছি। উনার জন্যই আমরা চার ভাই একসঙ্গে আছি।
তিনি হজ পালন করেছেন। ওমরাহও করেছেন। মহান আল্লাহ উনার জীবনের গুনাহর খাতা মাফ করে যে জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করেন।
মায়ের স্মৃতি মনে করে আবেগাপ্লুত হয়ে কান্নাজড়িত কণ্ঠে লিয়াকত আলী খাঁন মুকুল বলেন, যেখানেই থাকতাম, প্রতিদিন মায়ের কাছে হাজিরা দিতাম। তিনি আমাকে আদর দিতেন, চুমু দিতেন। আজ তিনি আমাদের মধ্যে নেই। আমার মায়ের কথায় কেউ কষ্ট পেয়ে থাকলে মাফ করে দেবেন।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে সবার কাছে দোয়া চেয়ে তিনি বলেন, মহান আল্লাহ যেন আমার মাকে মাফ করে বেহেশত নসিব করেন, সবাই তার জন্য দোয়া করবেন। মায়ের সব পাওনার দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নেন তিনি।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন মরহুমার দৌহিত্র, রূপায়ণ গ্রুপের কো-চেয়ারম্যান ও দেশ রূপান্তরের প্রকাশক মাহির আলী খাঁন রাতুল, মরহুমার ছেলে ও রূপায়ণ গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান আলী আকবর খাঁন রতন, মরহুমার দৌহিত্র ও রূপায়ণ গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান সাইফ আলী খাঁন অতুলসহ পরিবারের সদস্যরা।
ফরিদা বেগমের মৃত্যুতে রূপায়ণ গ্রুপের প্রতিষ্ঠানগুলোতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সরকারের মন্ত্রী, বিভিন্ন ব্যবসায়ী গ্রুপ ও সামাজিক সংগঠন গভীর শোক প্রকাশ করেছে। রাতেই হাসপাতালে ছুটে যান। জানাজা এবং দাফনেও শরিক হন অনেকেই। এ সময় মরহুমার বড় ছেলে রূপায়ণ গ্রুপের চেয়ারম্যান লিয়াকত আলী খাঁন মুকুলসহ পরিবারের সদস্য ও আত্মীয়স্বজনদের সান্ত্বনা দেন তারা। একইসঙ্গে ফরিদা বেগমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন।
ফরিদা বেগমের মৃত্যুতে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী ব্যারিস্টার আন্দালিভ রহমান পার্থ, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, মাছরাঙা টেলিভিশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) অঞ্জন চৌধুরী পিন্টু, দেশ রূপান্তরের সম্পাদক মুস্তাফিজ শফি ও কালবেলার সম্পাদক সন্তোষ শর্মাসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ শোক জানিয়েছেন। তা ছাড়া ঢাকা ক্লাব লিমিটেড, রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (রিহ্যাব), অ্যাসোসিয়েশন অব টেলিভিশন চ্যানেল ওনার্স (অ্যাটকো) সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান শোক প্রকাশ করেছে।

ফরিদা বেগমের জানাজায় শরিক হয়ে সমবেদনা জানান দৈনিক আগামীর সময়ের সম্পাদক মোস্তফা মামুন, রিহ্যাবের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট আব্দুর রাজ্জাক, স্থপতি রফিক আজম, ইউএস বাংলা এয়ারলাইন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আব্দুল্লাহ আল মামুন, অভিনেতা নাদের চৌধুরী, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সাবেক চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ তাজুল ইসলামসহ নানা শ্রেণিপেশার মানুষ। জানাজায় রূপায়ণ গ্রুপের কর্মকর্তা-কর্মচারী ছাড়াও অনেক সরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাসহ সর্বস্তরের মানুষ অংশগ্রহণ করেন।


রূপায়ণ গ্রুপের চেয়ারম্যানের মা ফরিদা বেগম আর নেই

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রূপায়ণ গ্রুপের চেয়ারম্যান লিয়াকত আলী খাঁন মুকুলের মমতাময়ী মা ফরিদা বেগম আর নেই (ইন্নালিল্লাহি ওয়াইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৪ বছর।

রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) রাত ১২ টার দিকে বার্ধ্যক্যজনিত কারণে নিজ বাসভবনে হঠাৎ তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। এ সময় গুলশানের কন্টিনেন্টাল হাসপাতালে (সাবেক ইউনাইটেড হাসপাতাল) নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তিনি চার ছেলে, পুত্রবধু ও নাতি-নাতনিসহ অসংখ্য আত্মীয়-স্বজন এবং গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

রবিবার বাদ জোহর গুলশান আজাদ মসজিদে জানাজা শেষে বনানী কবরস্থানে তার দাফন সম্পন্ন হয়।

ফরিদা বেগমের মৃত্যুতে রূপায়ণ পরিবারে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তাঁর মৃত্যুতে শোক জানিয়েছেন বিভিন্ন ব্যবসায়ী ও সামাজিক সংগঠনের নেতারা। শোকবার্তায় তারা মরহুমার রুহের মাগফেরাত কামনা করেন।


কুমিল্লায় ৯ বছরের শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ, ১৪ বছরের কিশোর আটক

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
তরিকুল ইসলাম তরুন, কুমিল্লা দঃজেলা প্রতিনিধি

কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ায় ৯ বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে ১৪ বছর বয়সী এক কিশোরকে আটক করেছে পুলিশ। মামলা দিয়ে পরে শিশুটিকে বিজ্ঞ আদালতে পাঠানো হয়েছে। রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) ব্রাহ্মণপাড়া থানা পুলিশ বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ভুক্তভোগী শিশু ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা পূর্ব পোমকাড়া মুকবুল হোসেন দাখিল মাদ্রাসার দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী এবং অভিযুক্ত কিশোরও ঐ পোমকাড়া গ্রামের একই বাড়ির বাসিন্দা।

পুলিশ জানায়, গত ৫ সেপ্টেম্বর দুপুর ১২টার দিকে মোবাইলে ছবি দেখানোর কথা বলে বিভিন্নভাবে ফুসলিয়ে শিশুটিকে পূর্ব পোমকাড়া এলাকার একটি মসজিদের ছাদে নিয়ে যায় ওই কিশোর। সেখানে শিশুটিকে ধর্ষণ করে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। একপর্যায়ে শিশুটি কান্নাকাটি ও চিৎকারের চেষ্টা করলে অভিযুক্ত কিশোর ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।

ঘটনার পর শিশুটির মা ব্রাহ্মণপাড়া থানায় এসে অভিযোগ দায়ের করেন। পরে ব্রাহ্মণপাড়া থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ৯(১) ধারায় মামলা করা হয়।

ব্রাহ্মণপাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ ফারুক হোসেন দৈনিক বাংলা ও দৈনিক কুমিল্লার কাগজ কে বলেন, অভিযান চালিয়ে জড়িত ১৪ বছর বয়সী শিশুকে আটক করে এবং পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়ার জন্য বিজ্ঞ আদালতে পাঠায়। মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে। এবিষয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যকর সৃষ্টি হয় এবং স্থানীয় জনগণ ক্ষেপে বিচারের দাবি করে প্রশাসনের কাছে, অভিযুক্তের বাড়ি ঘর থেকে নির্মুল করতে বিক্ষোভ করে।পরবর্তীতে পুলিশ ঘটনার স্থান পরিদর্শন করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ রাখে।এবিষয়ে সংসদ সদস্য জসিম উদ্দিন জানান অপরাধী দের ছাড় নেই যে অন্যায় করবে তাকে আইনের আওতায় এনে বিচার করা হবে।


ইটনায় ফিরল ঐতিহ্যের নৌকাবাইচ, সুরমার বুকে লাখো মানুষের ঢল

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
রাকিবুল হাসান রোকেল, কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি

হাওরের জল যেন শনিবার উৎসবের রঙে রাঙিয়ে উঠেছিল। বৈঠার ছন্দ, সারিগানের সুর আর লাখো মানুষের উচ্ছ্বাসে কিশোরগঞ্জের ইটনায় ফিরে এলো বাংলার হারিয়ে যেতে বসা ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচ। প্রায় ৫০ বছর পর উপজেলার ধনপুর বাজারসংলগ্ন সুরমা নদীতে এ আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়।

সকাল থেকেই নদীর দুই তীরে এবং সহস্রাধিক নৌকায় ভিড় জমাতে থাকেন দর্শনার্থীরা। কেউ পরিবার নিয়ে নৌকায় বসে, কেউ তীরে দাঁড়িয়ে উপভোগ করেন বৈঠার তালে তালে ছুটে চলা মাঝিদের রুদ্ধশ্বাস লড়াই।

কিশোরগঞ্জের বিভিন্ন উপজেলা ছাড়াও নেত্রকোনা, সুনামগঞ্জ ও হবিগঞ্জ থেকে আসা মানুষ প্রতিযোগিতা উপভোগ করেন। আয়োজকদের দাবি, বিকেল পর্যন্ত চলা এ আয়োজনে লাখো মানুষের সমাগম হয়।

দুপুর ১২টায় শুরু হওয়া প্রতিযোগিতায় ১২টি দৌড়ের নৌকা অংশ নেয়। হাওরবাসীর কাছে নৌকাবাইচ শুধু একটি খেলা নয়, এটি শৈশবের স্মৃতি ও গ্রামবাংলার লোকঐতিহ্যের পুনর্মিলনের দিন হয়ে ওঠে।

স্থানীয়দের বলছেন, কিশোরগঞ্জের হাওরাঞ্চলে নৌকাবাইচের ইতিহাস প্রায় ৫০০ বছরের পুরোনো। সময়ের সঙ্গে এ ঐতিহ্য হারিয়ে যেতে বসেছিল। ইটনায় সর্বশেষ প্রায় অর্ধশতক আগে নৌকাবাইচ হয়েছিল। সেই হারানো উৎসব ফিরিয়ে আনতেই এবার সুরমা নদীতে আয়োজন করা হয় প্রতিযোগিতার।

ধনপুর এলাকার জিতেন্দ্র দাস বলেন, নৌকাবাইচ শুধু বিনোদন নয়, এটি গ্রামবাংলার শতবর্ষী ঐতিহ্য ও লোকসংস্কৃতির অন্যতম অনুষঙ্গ। আধুনিকতার প্রভাবে জারি, সারি, ভাটিয়ালি গান, লাঠিখেলা ও অন্যান্য লোকজ আয়োজন হারিয়ে যেতে বসেছে। তাই প্রতিবছর এমন আয়োজনের দাবি জানিয়েছেন তিনি।

জীবনে প্রথমবার নৌকাবাইচ দেখতে এসেছেন পাশের নেত্রকোনার খালিয়াজুড়ি উপজেলার বাসিন্দা মোবাশ্বির ফয়সাল। তিনি বলেন, ছোটবেলা থেকে মুরব্বিদের মুখে নৌকাবাইচের রোমাঞ্চের গল্প শুনেছি। আশপাশের এলাকায় কয়েকবার আয়োজন হলেও কখনো যাওয়ার সুযোগ হয়নি। এবার শুনলাম মামার বাড়ির পাশেই সুরমা নদীতে নৌকাবাইচ হচ্ছে, তাই বন্ধুদের নিয়ে একটি ছোট নৌকায় করে চলে এসেছি।

তিনি আরও বলেন, হাজার হাজার মানুষের সঙ্গে একসঙ্গে এই আয়োজন উপভোগ করে দারুণ লাগছে। আমরা চাই, হাওরের প্রতিটি এলাকায় প্রতি বছরই এমন নৌকাবাইচের আয়োজন হোক।

হাওরের তিন উপজেলা ইটনা, মিঠামইন ও অষ্টগ্রাম নিয়ে গঠিত কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমানের উৎসাহে ধনপুর ইউনিয়নবাসী এ আয়োজন করে।

প্রতিযোগিতায় প্রথম পুরস্কার হিসেবে দেওয়া হয় সোনার হরিণ, দ্বিতীয় পুরস্কার রুপার ময়ূর এবং তৃতীয় পুরস্কার এলইডি টেলিভিশন। বিজয়ী নৌকার মালিকদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন অনুষ্টানের প্রধান অতিথি ফজলুর রহমান।

ফজলুর রহমান বলেন, নৌকাবাইচ ভাটিবাংলার প্রাণের উৎসব। ৫০ বছর পর এ আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য হারানো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি তরুণদের মাদক থেকে দূরে রেখে খেলাধুলা ও সুস্থ বিনোদনের সঙ্গে সম্পৃক্ত করা। তিনি বলেন, এই নৌকাবাইচে লক্ষাধিক লোকের সমাগম ঘটেছে। হাওরের মানুষেরা ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা নিয়ে নৌকাবাইচ দেখতে এসেছে। তারা অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে সেটি উপভোগ করেছে। হাওরের হারিয়ে যাওয়া এই ঐতিহ্য ধরে রাখতে প্রতিবছর নৌকাবাইচের আয়োজন করা হবে।

আয়োজক কমিটির সদস্য ও উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সুমেশ চন্দ্র গোপ বলেন, সকাল থেকেই হাজার হাজার মানুষ নৌকা নিয়ে সুরমা নদীর দুই পাড়ে ভিড় করেন। দুপুরের পর দর্শনার্থীর সংখ্যা লাখ ছাড়িয়ে যায়। এত মানুষের সমাগম ঘটবে এটা ভাবতেও পারিনি।

এই অনুষ্ঠানে কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিন, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান, জেলা পরিষদের প্রশাসক খালেদ সাইফুল্লাহ ভিপি সোহেল, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী উম্মে কুলসুম রেখা এবং জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম রতন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।


গোপালগঞ্জে বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে নিহত ৩, আহত ৩০

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি

গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশের খাদে পড়ে অন্তত ৩ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ৩০ জন যাত্রী। রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) সকাল পৌনে ১১টার দিকে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের মুকসুদপুর উপজেলার গেড়াখোলা ব্রিজের কাছে এই দুর্ঘটনা ঘটে।

ভাঙ্গা হাইওয়ে থানার সার্জেন্ট মো. আজাদুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, খুলনা থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী ‘টুঙ্গিপাড়া এক্সপ্রেস’ পরিবহনের একটি দ্রুতগামী বাস চালক নিয়ন্ত্রণ হারালে মহাসড়কের পাশের খাদে ছিটকে পড়ে। এতে বাসটি মারাত্মকভাবে দুমড়েমুচড়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই ৩ জন যাত্রী প্রাণ হারান। আহতদের মধ্যে ১৬ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাঁদের দ্রুত উদ্ধার করে মুকসুদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই হাইওয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার তৎপরতা শুরু করেন। পুলিশ জানিয়েছে, নিহতদের নাম-পরিচয় এখন পর্যন্ত শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি এবং চিকিৎসাধীন অনেকের অবস্থা সংকটাপন্ন হওয়ায় নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।


নোয়াখালীতে ভুল চিকিৎসায় শিশু মৃত্যুর অভিযোগ, হাসপাতাল বন্ধ

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নোয়াখালী প্রতিনিধি

নোয়াখালীর মাইজদী শহরের দত্তেরহাট ইসলামিয়া চক্ষু হাসপাতালে ভুল চিকিৎসার কারণে মোসলিম (১২) নামে এক শিশুর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাটি ঘটে। মৃত মোসলিম লক্ষ্মীপুর জেলার কমলনগর উপজেলার চরবসু গ্রামের মাহফুজুর রহমানের ছেলে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত প্যারামেডিকস ও হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবুল হোসেনের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ এনেছে শিশুটির পরিবার।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, বিকেলে খেলাধুলার সময় চোখে আঘাত পাওয়ায় মোসলিমকে দ্রুত ইসলামিয়া চক্ষু হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। অভিযোগ রয়েছে, হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্যারামেডিকস আবুল হোসেন শিশুটির চোখে অ্যানেসথেসিয়া প্রয়োগ করার পরপরই মোসলিম অসুস্থ হয়ে বমি শুরু করে। অবস্থার অবনতি দেখে তাকে দ্রুত নোয়াখালী ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। সেখানে পৌঁছানোর পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

অভিযুক্ত আবুল হোসেন দাবি করেছেন যে, তিনি কেবল লোকাল অ্যানেসথেসিয়া ড্রপ ব্যবহার করেছিলেন এবং এতে মৃত্যুর কোনো সম্ভাবনা নেই। তবে নোয়াখালী ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. রাজীব আহমেদ চৌধুরী নিশ্চিত করেছেন যে, শিশুটিকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়েছিল। বিষয়টি জানার পরপরই সুধারাম থানা পুলিশকে অবহিত করা হয়। সুধারাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নজরুল ইসলাম জানান, ভুক্তভোগী পরিবার ৯৯৯-এ কল করে বিষয়টি জানালে পুলিশ ব্যবস্থা নেয়। যেহেতু ঘটনার সূত্রপাত ভিন্ন জেলা থেকে, তাই আইনি প্রক্রিয়া কমলনগর থানা পুলিশের মাধ্যমে সম্পন্ন হতে পারে বলে তিনি জানান।

ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে নোয়াখালীর সিভিল সার্জন ডা. আনোয়ার হোসেন তাৎক্ষণিকভাবে হাসপাতালটি পরিদর্শন করেন এবং পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ করে দিয়েছেন। তিনি জানান, মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনের জন্য অপেক্ষা করা হচ্ছে। লিখিত অভিযোগ প্রাপ্তি সাপেক্ষে এবং তদন্ত শেষে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।


গাজীপুরে কাভার্ড ভ্যানের ধাক্কায় মা-ছেলেসহ নিহত ৪

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
গাজীপুর প্রতিনিধি

গাজীপুরের কালিয়াকৈরে সিএনজি চালিত অটোরিকশার সঙ্গে কাভার্ড ভ্যানের মুখোমুখি সংঘর্ষে ঘটনাস্থলেই সিএনজিতে থাকা ২ আরোহী নিহত হয়েছেন। এঘটনায় আরও তিনজন আহত হয়েছেন। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও দুইজন মারা যায়।

শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সাড়ে ১১টার দিকে কালিয়াকৈর-ফুলবাড়িয়া-মাওনা আঞ্চলিক সড়কের কাঞ্চনপুর চেয়ারম্যান বাড়ি এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। তাৎক্ষণিক ভাবে হতাহতদের নাম পরিচয় জানা যায়নি।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সকালে কালিয়াকৈর থেকে ৪ জন যাত্রী নিয়ে একটি সিএনজি শ্রীপুরের মাওনা চৌরাস্তার দিকে যাচ্ছিল। সিএনজি অটোরিকশাটি কালিয়াকৈর-ফুলবাড়িয়া-মাওনা আঞ্চলিক সড়কের কাঞ্চনপুর চেয়ারম্যান বাড়ি এলাকায় পৌঁছলে বিপরীত দিক থেকে আসার একটি কভার্ডভ্যানে সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। ঘটনাস্থলেই দুজন মারা যান।

গুরুতর আহত তিনজনকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে কালিয়াকৈর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও দুই জন মারা যায় । এদের মধ্যে দুইজন মা ও ছেলে।

কালিয়াকৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানায়, ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। দুইজন ঘটনাস্থলেই নিহত হয়েছে। চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরো দুই জন মারা যান। নিহত ও আহতের পরিচয় শনাক্তে কাজ করা হচ্ছে। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা চলমান রয়েছে।


বর্জ্য জমা দিলেই মিলবে ভাত-মাছ-চালসহ নিত্যপণ্য

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

পরিচ্ছন্ন নগর গঠনে নাগরিকদের সরাসরি সম্পৃক্ততা বৃদ্ধি, বর্জ্যের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনযাত্রায় সহায়তার লক্ষ্যে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) ও বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ‘বর্জ্যের বিনিময়ে বাজার’ কর্মসূচিতে অভূতপূর্ব সাড়া পাওয়া গেছে।

শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর কামরাঙ্গীরচরের আশরাফাবাদ উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত অস্থায়ী বাজারে এলাকার হাজারো নাগরিক বাসাবাড়ির প্লাস্টিক বর্জ্য জমা দিয়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় বিভিন্ন পণ্য সংগ্রহ করেন।

কর্মসূচির উদ্বোধন করেন ডিএসসিসির প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য হামিদুর রহমান।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, পরিচ্ছন্ন নগর গঠনে নাগরিকদের সক্রিয় অংশগ্রহণ অত্যন্ত জরুরি। ‘বর্জ্যের বিনিময়ে বাজার’ সেই অংশগ্রহণকে উৎসাহিত করার একটি কার্যকর মডেল। ড্রেন ও নালা-নর্দমায় প্লাস্টিকসহ অন্যান্য বর্জ্য ফেলার কারণে পানি নিষ্কাশন বাধাগ্রস্ত হয়ে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। নাগরিকরা নির্ধারিত স্থানে বর্জ্য জমা দিলে জলাবদ্ধতা নিরসন ও পরিবেশ সুরক্ষা—দুটোই নিশ্চিত হবে।

এই কর্মসূচি পুরো নগরীতে ছড়িয়ে দেওয়ার কথা জানিয়ে প্রশাসক বলেন, শিগগিরই গুলিস্তানে ডিএসসিসির উদ্যোগে একটি স্থায়ী স্টল স্থাপন করা হবে। পর্যায়ক্রমে ডিএসসিসির প্রতিটি ওয়ার্ডেও কর্মসূচিটি সম্প্রসারণ করা হবে।

এছাড়া অন্তর্বর্তীকালীন বর্জ্য স্থানান্তর কেন্দ্রের (এসটিএস) সুবিধাজনক স্থানে পথশিশুদের জন্য চেয়ার-টেবিল ও বইসহ ‘বইপড়ার বিনিময়ে খাবার’ কর্মসূচি চালুর পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।

বক্তব্যের শেষে কামরাঙ্গীরচরবাসীকে বুড়িগঙ্গা নদী রক্ষা, দখলমুক্ত রাখা এবং যত্রতত্র বর্জ্য না ফেলার আহ্বান জানান প্রশাসক।

বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক জামাল উদ্দিন বলেন, আমরা প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে কেবল সহায়তা না দিয়ে পরিচ্ছন্নতা অভিযানের অংশীদার করছি। গত দুই বছরে সংগৃহীত প্লাস্টিক বর্জ্য বিক্রি করে প্রায় ১ কোটি টাকা আয় হয়েছে, যা দিয়ে প্রায় ৪ লাখ মানুষকে আহার করানো সম্ভব হয়েছে।

এই প্রকল্পের আওতায় আগামী এক বছরে ১০০টি ভ্রাম্যমাণ ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে প্রায় ১ লাখ কেজি প্লাস্টিক বর্জ্য সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ডিএসসিসির প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা এয়ার কমডোর মো. মাহবুবুর রহমান তালুকদার, সিটি করপোরেশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এবং বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের স্বেচ্ছাসেবকরা উপস্থিত ছিলেন।


চিনিকলের সংকট নিরসনে পণ্য বহুমুখীকরণ, কৃষিভিত্তিক শিল্পায়ন চালুর বিষয়ে তাগিদ

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশনের (বিএসএফআইসি) মিলসমূহের বিদ্যমান সংকট নিরসন ও তা থেকে উত্তরণের উপায় শীর্ষক এক গুরুত্বপূর্ণ সেমিনার গত ২ সেপ্টেম্বর বিএসএফআইসি-এর চিনিশিল্প ভবনের বোর্ডরুমে জিয়া পরিষদের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সেমিনারে উপস্থিত ছিলেন বিএসএফআইসি-র চেয়ারম্যান মো. শামছুজ্জামান সুরুজ, সম্মানিত যুগ্মসচিব ও সংস্থার পরিচালক (ইক্ষু উন্নয়ন ও গবেষণা) ড. আব্দুল আলীম খান, বিএসএফআইসি-র জিয়া পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মো. গোলাম রব্বানী ও সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আশরাফ সরকার (জুয়েল)সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

এছাড়াও ভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্মে (জুম) যুক্ত ছিলেন সংস্থার পরিচালকবৃন্দ, সচিব, বিভিন্ন দপ্তরের প্রধান, বিএসএফআইসি’র জিয়া পরিষদের সভাপতি মো. আবু রায়হান, সহ-সভাপতি মো. হাসানুজ্জামান সহ করপোরেশনের আওতাধীন সকল চিনিকলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও অন্যান্য কর্মকর্তাবৃন্দ। সেমিনারে চিনিকলগুলোর বিদ্যমান নানা সমস্যা, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি এবং সংকট উত্তরণের বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএসএফআইসির চেয়ারম্যান শামছুজ্জামান সুরুজ বলেন, ‘জননায়ক ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী দেশে বন্ধ কলকারখানা পুনরায় চালু করা, ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্যে চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশনের বন্ধ চিনিকলগুলো পুনরায় উজ্জীবিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’

তিনি আরও জানান, লোকসান কমিয়ে প্রতিষ্ঠানগুলোকে লাভের ধারায় ফেরাতে মিলগুলোর বাই-প্রোডাক্ট (উপজাত) দক্ষতার সাথে ব্যবহার করে পণ্যের বহুমুখীকরণ এবং কৃষিভিত্তিক শিল্পায়নেরমাধ্যমে করপোরেশনের লাভজনক সংস্থায় রূপান্তর করার নানা পরিকল্পনা ও পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।

সমাপনী বক্তব্যে চেয়ারম্যান করপোরেশনের গতিশীলতা ফেরাতে এবং গৃহীত উদ্যোগসমূহ সফল করতে উপস্থিত সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীকে সর্বোচ্চ আন্তরিকতা, নিষ্ঠা ও সততার সাথে নিজ নিজ দায়িত্ব পালনের নির্দেশ প্রদান করেন।


মায়ানমারে পাচারকালে বিপুল পরিমাণ সিমেন্টসহ আটক ১২

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

চোরাচালান রোধে কোস্ট গার্ডের অভিযানে মায়ানমারে পাচারকালে বিপুল পরিমাণ সিমেন্টসহ ১২ জন পাচারকারী আটক। শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কোস্ট গার্ড মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, নোয়াখালীর হাতিয়া থানাধীন মেঘনা নদীতে শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) ভোর সাড়ে ৫টায় কোস্ট গার্ড স্টেশন হাতিয়া কর্তৃক গোপন সংবাদের ভিত্তিতে একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযান চলাকালীন উক্ত এলাকায় সন্দেহজনক ২টি বোটে তল্লাশি চালিয়ে অবৈধভাবে শুল্ক-কর ফাঁকি দিয়ে মায়ানমারে পাচারের উদ্দেশে বহনকৃত প্রায় ২ লক্ষ ৯৭ হাজার ৫০০ টাকা মূল্যের ৫৯৫ বস্তা (২৯ হাজার ৭৫০ কেজি) সিমেন্ট ও পাচারকাজে ব্যবহৃত ২টি বোটসহ ১২ জন পাচারকারীকে আটক করা হয়। জব্দকৃত আলামত ও আটককৃত পাচারকারীদের পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, চোরাচালান রোধে কোস্ট গার্ড ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত রাখবে।


শ্রমজীবী মানুষের মর্যাদা নিশ্চিত করবে টেকসই অগ্রগতি: মাহদী আমিন

ছবি: প্রধানমন্ত্রীর শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন।
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

শ্রমজীবী মানুষকে জাতীয় অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি উল্লেখ করে তাদের টেকসই নিরাপত্তা, মর্যাদা ও দক্ষতা বৃদ্ধির ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন।

শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রাজধানীর কাকরাইলের ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্সে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজের (বিলস) সম্মেলন ও সাধারণ সভায় তিনি এসব কথা বলেন। ‘মর্যাদা, অধিকার, ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিতে এগিয়ে যাবার প্রত্যয়’ শীর্ষক এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

মাহ্দী আমিন বলেন, শ্রমিক শুধু শ্রম দেন না, তারাই দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখেন। শ্রমের মর্যাদা নিশ্চিত করা মানে দেশের মর্যাদা নিশ্চিত করা। ন্যায্য মজুরি কোনো অনুগ্রহ নয়, এটি শ্রমিকের ন্যায্য প্রাপ্য। নিরাপদ কর্মপরিবেশ প্রতিটি শ্রমিকের মৌলিক অধিকার।

তিনি বলেন, শ্রমিকের কল্যাণ মানে শুধু একজন কর্মীর কল্যাণ নয়, একটি পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। দক্ষ শ্রমিক দেশের অন্যতম বড় উৎপাদনশীল সম্পদ। শ্রমিকের দক্ষতা বাড়লে শিল্পের সক্ষমতা ও দেশের প্রতিযোগিতার শক্তি বাড়ে। প্রযুক্তির পরিবর্তনের সঙ্গে শ্রমিকের দক্ষতাকেও এগিয়ে নিতে হবে।

আগামী প্রজন্মের শ্রমশক্তিকে নতুন শিল্প ও নতুন কর্মসংস্থানের জন্য প্রস্তুত করার পাশাপাশি উৎপাদনশীলতা বাড়াতে শ্রমিকের দক্ষতা ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতায় বিনিয়োগের ওপর জোর দেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এই মুখপাত্র।

শিল্পখাতের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে মালিক-শ্রমিক সুসম্পর্ক ও অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, শিল্পের উন্নয়ন নিশ্চিত করতে মালিক ও শ্রমিককে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে এক হয়ে কাজ করতে হবে। সরকারের ‘ত্রিপক্ষীয় পরামর্শ ব্যবস্থা’র (ট্রাইপারটাইট কনসালটেশন)-মাধ্যমেই শিল্পখাতকে সামনের দিকে এগিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

মাহ্দী আমিন বলেন, মালিক ও শ্রমিকের মধ্যকার সম্পর্ক কেবল আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না; এটি হতে হবে আস্থা, পারস্পরিক নির্ভরতা ও গভীর ভালোবাসার। একটি টেকসই শিল্পব্যবস্থা গড়ে তুলতে উভয় পক্ষের মধ্যে নিয়মিত কার্যকর যোগাযোগ, দায়িত্বশীলতা ও পারস্পরিক বিশ্বাস প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এই মুখপাত্র বলেন, কর্মক্ষেত্রে ন্যায়বিচার থাকলে আস্থা তৈরি হয়, আর আস্থা থাকলে উৎপাদন বাড়ে। নারী শ্রমিকের নিরাপত্তা ও সমান সুযোগের নিশ্চয়তা অর্থনীতির সক্ষমতাও বাড়ায়। কর্মসংস্থানের সংখ্যা গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু সেই কর্মসংস্থানের মানও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি বলেন, শ্রমিকের সন্তান যেন আরো ভালো শিক্ষা ও বড় স্বপ্নের সুযোগ পায়, এটিও শ্রমিক কল্যাণের অংশ। আজকের শ্রমশক্তিকে আগামী দিনের পরিবর্তনের জন্য প্রস্তুত করাই হবে আমাদের অন্যতম বড় বিনিয়োগ। শ্রমের শক্তি, শিল্পের সক্ষমতা এবং রাষ্ট্রের দায়িত্ব— এই তিনের সমন্বয়েই গড়ে উঠবে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ।

একবিংশ শতাব্দীর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দক্ষ জনশক্তি ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করে মাহ্দী আমিন বলেন, দক্ষ শ্রমিকই দেশের প্রধান উৎপাদনশীল সম্পদ। প্রযুক্তি ও বৈশ্বিক চাহিদার পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে শ্রমিকের পেশাগত দক্ষতা বাড়াতে হবে, যাতে শিল্পের সক্ষমতা ও আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা করার শক্তি বহুগুণে বৃদ্ধি পায়।

আগামী প্রজন্মের জন্য নতুন নতুন শিল্প ও মানসম্মত কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টিতে এখন থেকেই আধুনিক প্রশিক্ষণে বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়ে তিনি কর্মসংস্থানের পরিমাণের পাশাপাশি কাজের মান (ডিসেন্ট জব) ও সামাজিক অন্তর্ভুক্তির ওপর জোর দেন।

দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক অর্জনে শ্রমিকের ঐতিহাসিক অবদানের কথা স্মরণ করে মাহ্দী আমিন বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানসহ দেশের প্রতিটি গণতান্ত্রিক পথযাত্রায় শ্রমজীবী মানুষ বারবার রাজপথে নেমে এসেছেন। নিজেদের স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে দেশের কল্যাণ, জনগণের অধিকার এবং সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে তাদের এই সাহসী অবস্থান জাতীয় ইতিহাসের এক অনন্য অধ্যায়।


পীর শামিমের মরদেহ নিয়ে রহস্য, কবরস্থানে নেই দেহ

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৌলতপুর (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে আলোচিত পীর আব্দুর রহমান ওরফে শামিমের মরদেহ স্থানীয় কবরস্থান থেকে তুলে তার দরবার প্রাঙ্গণে নতুন করে দাফন করার অভিযোগ উঠেছে তার ভক্তদের বিরুদ্ধে।

স্বজনদের অভিযোগ, গত শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতের কোনো একসময় উপজেলার ফিলিপনগর দারোগার মোড় এলাকার স্থানীয় একটি কবরস্থান থেকে শামিমের মরদেহ তুলে শামিমি বাবার দরবার শরিফ’ নামে পরিচিত স্থানে নতুন করে দাফন করা হয়েছে।

খবর পেয়ে শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালেদুর রহমান।

নিহত শামিমের বড় ভাই ফজলুর রহমান বলেন, সকালে খবর পেয়ে তারা কবরস্থানে গিয়ে দেখেন, কবরটি খোঁড়া হয়েছে। মরদেহ তুলে নেওয়ার আলামতও পাওয়া গেছে। পরে দরবার প্রাঙ্গণে গিয়ে একটি নতুন কবর খোঁড়া এবং খাপাচি দিয়ে মাটি চাপা অবস্থায় দেখতে পান তারা।

দৌলতপুর থানার ওসি খালেদুর রহমান বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ সরিয়ে নেওয়ার আলামত পাওয়া গেছে। নতুন কবরের ভেতরে কঙ্কালসদৃশ বস্তু দেখা যাচ্ছে। তবে সেটি শামিমের মরদেহের অংশ কি না, তা নিশ্চিত হতে আরও প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে। তাদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, চলতি বছরের ১১ এপ্রিল দুপুরে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে শামিমের দরবারে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। এ সময় তাকে মারধর করে হত্যার অভিযোগ করা হয়। পরদিন ১২ এপ্রিল ময়নাতদন্ত শেষে স্থানীয় একটি কবরস্থানে তার মরদেহ দাফন করা হয়।

শামিম হত্যার ঘটনায় তার বড় ভাই বাদী হয়ে দৌলতপুর থানায় মামলা করেন। মামলায় জেলা শিবিরের সাবেক সভাপতি ও খেলাফত মজলিসের এক নেতাসহ চারজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া অজ্ঞাতপরিচয়ে আরও ১৮০ থেকে ২০০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

মরদেহ কবরস্থান থেকে সরিয়ে দরবার প্রাঙ্গণে দাফনের অভিযোগে এখন পর্যন্ত কাউকে আটক করা হয়েছে কি না, তাৎক্ষণিকভাবে তা জানা যায়নি।


বিদ্যুতের তারে নারীর মৃত্যু, লাশ গুমের চেষ্টায় গ্রেপ্তার ১

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ফরিদপুর প্রতিনিধি

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে আখ ক্ষেতের চারপাশে পেতে রাখা বিদ্যুতের তারে জড়িয়ে নবীরন নেছা (৫৫) নামে এক নারীর মৃত্যু ও লাশ গুম চেষ্টা মামলার প্রধান আসামি রফিকুল ইসলাম মৃধাকে (৩৫) গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

গত শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) রাত ২টার দিকে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার বেপারিপাড়া এলাকা থেকে তাকে আটক করে র‌্যাব-১০-এর একটি আভিযানিক দল।

এ বিষয়ে শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে র‌্যাব-১০-এর ফরিদপুর ক্যাম্প থেকে প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিস্তারিত তুলে ধরেন ফরিদপুর ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার সিপিসি-৩, এডি মেজর ফারহান মাহমুদ মোক্তাদা।

এর আগে গত শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় গোয়ালন্দ ঘাট থানায় রফিকুলকে প্রধান এবং অজ্ঞাত আরও ৩-৪ জনের বিরুদ্ধে বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন নিহত নারীর বড় মেয়ে জুলেখা আক্তার। মামলার নং৩। ধারা ৩০৪/ এ এবং ২০১।

তবে ঘটনাটি ৪ লাখ টাকার বিনিময়ে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টাকারীরা ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছে। থানার ওসি জানিয়েছেন, বাদী এ বিষয়ে অভিযোগ না দিলে তার কিছুই করার নেই।

র‌্যাবের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২ সেপ্টেম্বর রাত ৯টার দিকে উপজেলার দৌলতদিয়া ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের আইনদ্দিন প্রামাণিক পাড়ায় রফিকুল মৃধার আখ ক্ষেতের পাশ থেকে নবীরন নেছার মরদেহ উদ্ধার করেন স্বজনরা। এর আগে নারীর মৃত্যুর বিষয়টি টের পেয়ে রফিকুল ও তার কয়েকজন সহযোগী লাশটি গুম করার জন্য আখ ক্ষেতের পাশের পুকুর পাড়ে গর্ত খুড়ে সেখানে পুতে রাখার চেষ্টা করে। নিহত নারী স্থানীয় দুলাল বেপারী পাড়ার আব্দুর রহিম শেখের স্ত্রী।

এদিকে এ মৃত্যু নিয়ে এলাকার কয়েকজন বিএনপি নেতা ৪ লাখ টাকার বিনিময়ে বিষয়টি মীমাংসা করে দেন। তবে বিষয়টি পরবর্তীতে জানাজানি হয়ে গেলে পুলিশ লাশটি কবর দেওয়ার আগ মুহূর্তে তাদের হেফাজতে নিয়ে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠান।

তবে নারীর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং লাশ গুম চেষ্টার ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে নিন্দা ও প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। নেটিজেনরা এর সাথে জড়িত সকলকে আইনের আওতায় আনতে প্রশাসনের কাছে দাবি জানান।

নবিরন বেগমের মৃত্যু ও লাশ গুমের ঘটনায় তার বড় মেয়ে গত শুক্রবার রাতে থানায় মামলা দায়ের করলে র‌্যাব-১০-এর একটি দল রাতেই প্রধান আসামি রফিকুল ইসলাম মৃধাকে ফরিদপুর থেকে গ্রেপ্তার করে।


banner close