বেনাপোলের ওপারে ভারতের পেট্রাপোল বন্দরে উচ্চ পচনশীল পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে সিরিয়ালের নামে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ট্রাক আটকে রাখা হয়। এ কারণে বেনাপোল দিয়ে পচনশীল পণ্য আমদানি প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে আমদানিকারকরা এ বন্দর ছেড়ে চলে গেছে অন্য বন্দরে। বেনাপোল কাস্টমস হাউসে রাজস্ব আয়ে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। রাজস্ব আয়ের একটা বড় অংশ আসে পচনশীল পণ্য আমদানি থেকে।
ভারত থেকে পচনশীল পণ্যের একটা বড় অংশ আমদানি হয় বেনাপোল বন্দর দিয়ে। প্রতিদিন বিভিন্ন ধরনের ফল, মাছ, সবজি, ক্যাপসিকাম, কাঁচা মরিচসহ অন্যান্য পচনশীল পণ্য আমদানি হয় দুপুরের পরপরই। ফলে সন্ধ্যার আগেই এসব পণ্য খালাশ হয়ে চলে যায় ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে। কিন্তু মাস খানেক ভারতীয় বন্দর কর্তৃপক্ষ সিরিয়ালের নামে পচনশীল পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে দুপুরের পর ২০ ট্রাক জেনারেল পণ্যের মাত্র ৫ ট্রাক পচনশীল পণ্যে রপ্তানি নিয়ম চালু করেছে। ফলে অধিকাংশ পচনশীল পণ্যচালান দিনের দিন প্রবেশ করতে না পেরে ওপারেই নষ্ট হচ্ছে। কোনো কোনো চালান সিরিয়াল পেয়ে রাতে প্রবেশের অনুমোতি পেলেও বেনাপোল কাস্টমস কর্তৃপক্ষ রাতে কোনো পচনশীল পণ্য খালাশ না দেওয়ায় পরের দিন বন্দর থেকে ডেলিভারি দেওয়া হচ্ছে। ফলে অধিকাংশ পণ্য পচন ধরতে শুরু করে।
পচনশীল পণ্য আমদানিকারকদের দাবি, সকাল থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত জেনারেল গুডস আমদানির অনুমতি দেওয়া হোক। শুধু পচনশীল পণ্যচালান আমদানির ক্ষেত্রে দুপুরের পর থেকে মাত্র ২-৩ ঘণ্টার জন্য একসঙ্গে সব পচনশীল পণ্যচালান আমদানির অনুমতি দিলে পচনশীল পণ্যচালান খুব দ্রুত সময়ে বেনাপোল বন্দরে প্রবেশ করতে পারবে। বাড়বে সরকারের রাজস্ব আয়। মাস খানেক আগেও এ বন্দর দিয়ে প্রতিদিন ১০০ থেকে ১৫০ ট্রাক পচনশীল পণ্য আমদানি হতো। যা থেকে সরকার প্রতিদিন ১৮-২০ কোটি টাকার রাজস্ব আয় করছিল। ফলে বর্তমানে আমদানির সংখ্যা গিয়ে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৫-১০ ট্রাকে। যদিও জাতীয় রাজস্ব বোর্ড পচনশীলপণ্য দ্রুত খালাস ও নিষ্পত্তিকরণ বিধিমালা-২০২১ নামে একটি নতুন বিধিমালা জারি করে। যার আওতায় ৬৩ ধরনের পচনশীল পণ্যের শুল্কায়নসহ সব কর্মকাণ্ড দ্রুত শেষ করার তাগিদ দেওয়া হয়েছে।
চলতি বছরের ৩০ মার্চ ভারতীয় পেট্রাপোল কাস্টমসের সহকারী কমিশনার অনিল কুমার সিংহ স্বাক্ষরিত এক পত্র জারি করে পেট্রাপোল বন্দর কর্তৃপক্ষের ম্যানেজারকে বলা হয়েছে। পচনশীল পণ্য দ্রুত রপ্তানির বিষয়টি সর্বাজ্ঞে প্রাধান্য দিতে হবে। এ আদেশ দ্রুত কার্যকর করতে বলা হলেও ভারতের পেট্রাপোল বন্দর কর্তৃপক্ষ তা করছেন না।
বেনাপোল আমদানিকারক সমিতির সভাপতি মহসিন মিলন জানান, পচনশীল পণ্য দ্রুত খালাশের নিয়ম থাকলেও ভারতের পেট্রাপোল বন্দর কর্তৃপক্ষ তা প্রতিপালন করছে না।
পচনশীল পণ্য দ্রুত আমদানিতে সিরিয়ালের নামে দীর্ঘসূত্রিতা প্রথা বাতিল করে আগের মতো আমদানির পণ্য দুই দেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় আলোচনা করে দ্রুত সমাধানের দাবি করেছে আমদানিকারকরা।
বেনাপোল বন্দর পরিচালক মো. রেজাউল করিম বলেন, সমস্যা সমাধানের জন্য ইতোমধ্যে পেট্রাপোল পোর্ট ম্যানেজারের সঙ্গে কথা বলেছি। ব্যবসায়ীদের সমস্যার কথা জানিয়েছি। অন্যান্য পণ্যের সঙ্গে পচনশীল পণ্যের গাড়ির সারাদিন বেনাপোল বন্দরে প্রবেশ করে, সে অনুযায়ী সিরিয়াল মেইনটেন করতে তাকে আমি অনুরোধ করেছি।
বেনাপোল কাস্টমসের যুগ্ম কমিশনার মো. শাফায়েত হোসেন জানান, বেনাপোলের ওপারে ভারতের পেট্রাপোল বন্দরে সিরিয়ালের নামে পচনশীল পণ্যসহ বিভিন্ন পণ্য রপ্তানিতে বিলম্ব হচ্ছে। ফলে বেনাপোল বন্দরে আগের তুলনায় আমদানি কমে গেছে। বেনাপোল বন্দর দিয়ে আমদানি কমে যাওয়ায় রাজস্ব আদায়ও অনেক কমে গেছে।
কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলা বিএনপির সভাপতি জাহেদুল আলম জাহাঙ্গীর হত্যা মামলায় উপজেলা ছাত্রদলের বহিষ্কৃত আহ্বায়ক মোকাররম হোসেন খোকা ও তার ভাতিজা মো. রিয়াজকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
গতকাল রাতে ঢাকার মিরপুর-১০ নম্বর এলাকা থেকে মোকাররম হোসেন খোকাকে এবং নেত্রকোনা শহরের বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে তার ভাতিজা মো. রিয়াজকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ নিয়ে এ মামলায় মোট ১৫ জনকে গ্রেপ্তারের কথা জানিয়েছে পুলিশ।
মিঠামইন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনোয়ার মোহাম্মদ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
এর আগে গত ১৫ জুলাই রাত ৯টার দিকে মিঠামইন বাজার থেকে মোটরসাইকেলে করে বাড়ি ফিরছিলেন জাহেদুল আলম জাহাঙ্গীর। মিঠামইন সদরের বেড়িবাঁধ এলাকায় নিজ বাসভবনের সামনে পৌঁছালে আগে থেকে ওত পেতে থাকা দুর্বৃত্তরা তাকে কুপিয়ে জখম করে। এ সময় তার সঙ্গে থাকা বিএনপি কর্মী হাদিস মিয়াকেও কুপিয়ে আহত করা হয়।
পরে স্বজনেরা তাদের উদ্ধার করে মিঠামইন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাদের শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। রাত ১১টার দিকে হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক জাহেদুল আলম জাহাঙ্গীরকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় ১৮ জুলাই নিহতের স্ত্রী তাসলিমা আক্তার চৌধুরী বাদী হয়ে মিঠামইন থানায় মামলা করেন। মামলায় তিনজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা ১০ থেকে ১২ জনকে আসামি করা হয়।
হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। মামলার তদন্তে বিভিন্ন তথ্যের ভিত্তিতে সন্দেহভাজনদের শনাক্ত করে অভিযান চালিয়ে এর আগে এ মামলায় ১৩ জনকে গ্রেপ্তারের জানিয়েছিল পুলিশ। সর্বশেষ মোকাররম হোসেন খোকা ও তার ভাতিজা রিয়াদকে গ্রেপ্তারের মধ্য দিয়ে মামলায় গ্রেপ্তারের সংখ্যা ১৫ জনে দাঁড়িয়েছে।
এদিকে, হত্যাকাণ্ডে সম্পৃক্ততার অভিযোগ ওঠার পর মোকাররম হোসেন খোকাকে উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়কের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়। ঘটনার পর থেকে তিনি পলাতক ছিলেন। তবে গ্রেপ্তারের আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেন মোকাররম হোসেন খোকা। ভিডিওতে তিনি দাবি করেন, একটি চক্র তাকে ফাঁসানোর উদ্দেশ্যে এ হত্যাকাণ্ডে তার নাম জড়িয়েছে।
চাঞ্চল্যকর এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ১৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হলেও হত্যার নেপথ্যের কারণ এবং ঘটনায় কার কী ভূমিকা ছিল, তা এখনো পুরোপুরি স্পষ্ট হয়নি। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ ও তদন্তের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটনের চেষ্টা করছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
সরকারি চাকরিতে কর্মরত থাকা অবস্থাতেই রাজনৈতিক দলের সাংগঠনিক পদ পাওয়ার অভিযোগ উঠেছে ভোলার চরফ্যাশন উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের উপসহকারী প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা সফিউল্ল্যাহ জগলুর বিরুদ্ধে। তিনি সদ্য গঠিত জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) চরফ্যাশন উপজেলা আহ্বায়ক কমিটির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক পদে রয়েছেন।
এ ঘটনায় সরকারি কর্মচারীদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততার আইনি বিধিনিষেধ ও আচরণবিধি প্রতিপালন নিয়ে স্থানীয় বিভিন্ন মহলে নানা প্রশ্ন ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, আগামী ছয় মাসের জন্য জাতীয় নাগরিক পার্টির চরফ্যাশন উপজেলা আহ্বায়ক কমিটির আংশিক অনুমোদন দেওয়া হয়। সাত সদস্যের এই কমিটিতে সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে সফিউল্ল্যাহ জগলুর নাম উল্লেখ রয়েছে। সরকারি চাকরিতে বহাল থেকে রাজনৈতিক দলের এমন গুরুত্বপূর্ণ পদে তার অন্তর্ভুক্তির বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ স্থানীয় সচেতন মহলে আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।
সরকারি কর্মচারী (আচরণ) বিধিমালা, ১৯৭৯-এর ২৫(১) বিধি অনুযায়ী—কোনো সরকারি কর্মচারী কোনো রাজনৈতিক দল বা তার অঙ্গসংগঠনের সদস্য হতে পারবেন না। এমনকি দেশ বা বিদেশে কোনো ধরনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে অংশ নিতে কিংবা সহায়তা করতে পারবেন না।
এ বিষয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির ভোলা জেলা আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট মো. জিয়াউর রহমান বলেন, ‘বিষয়টি আমি শুনেছি। আমাদের কাছে আসা তালিকার যাচাই-বাছাইয়ে ভুল ছিল। সরকারি চাকরিজীবীদের রাজনীতিতে যুক্ত হওয়ার কোনো সুযোগ নেই।’
অন্যদিকে এনসিপির চরফ্যাশন উপজেলা কমিটির আহ্বায়ক অহিদ ফয়সাল জানান, তিনি সরকারি চাকরিতে কর্মরত। আমাদের রাজনীতিতে তার মৌন সম্মতি রয়েছে। তবে ভুলবশত তার নাম ও ফোন নম্বর কমিটিতে উঠে এসেছে।
এ বিষয়ে সফিউল্ল্যাহ জগলুর মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
এ বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. রাজন আলী বলেন, ‘বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তাকে বিষয়টি জানানো হয়েছে।’
জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘বিষয়টি খতিয়ে দেখতে সরকারি বিধিমালা দেখা হবে এবং তার অবস্থান যাচাই করা হবে। তদন্তসাপেক্ষে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’
মা ইলিশ সংরক্ষণে মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞার সময় অবশেষে সরকারি খাদ্যসহায়তার আওতায় এলেন খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার ৬৪৬ জন মৎস্যজীবী। দীর্ঘদিন ধরে এ ধরনের সহায়তার বাইরে থাকা জেলেদের জন্য এটি নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলেছে। নিষেধাজ্ঞার সময় মাছ ধরতে না পারায় আয় বন্ধ হয়ে যাওয়া পরিবারগুলোর খাদ্যসংকট মোকাবিলায় এ উদ্যোগ স্বস্তি এনে দিয়েছে।
উপজেলা মৎস্য বিভাগ জানায়, ডুমুরিয়ায় নিবন্ধিত মৎস্যজীবীর সংখ্যা ৫ হাজার ৪৯৮ জন। এর আগে সাগরে মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞার সময় ৬৬৫ জন জেলে সরকারি বিশেষ ভিজিএফের চাল পেতেন। তবে মা ইলিশ ও জাটকা সংরক্ষণ এবং সুন্দরবনে মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞার সময় ডুমুরিয়ার জেলেদের জন্য এ ধরনের খাদ্যসহায়তার সুযোগ ছিল না। ফলে মাছ ধরার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি হলে অনেক পরিবারকে চরম আর্থিক অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়তে হতো।
বিশেষ করে সাগরের মোহনা ও সুন্দরবনসংলগ্ন এলাকায় মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করা জেলেদের দুর্ভোগ ছিল বেশি। নিষেধাজ্ঞার সময় মাছ ধরার সুযোগ না থাকায় কেউ ভ্যান বা রিকশা চালিয়ে, আবার কেউ দিনমজুরের কাজ করে সংসার চালাতেন। অনেকের পক্ষে পরিবারের সদস্যদের নিত্যপ্রয়োজনীয় খাবার জোগাড় করাও কঠিন হয়ে পড়ত।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এ পরিস্থিতি পরিবর্তনে ডুমুরিয়া উপজেলা মৎস্য বিভাগের উদ্যোগে বোট নিবন্ধন ও সাগরে মাছ ধরার অনুমতিপত্র সংগ্রহের কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। আগে উপজেলার বোটগুলোর নিবন্ধন ও অনুমতিপত্র না থাকায় সরকারি নথিতে সেগুলোর যথাযথ তথ্য সংরক্ষিত ছিল না। পরবর্তী সময়ে উপজেলা মৎস্য বিভাগের উদ্যোগে ২০২৫ সালে ৬৪টি বোটের অনুমতিপত্রের ব্যবস্থা করা হয়। প্রতিটি বোটে প্রায় ৮ থেকে ১৪ জন জেলে সাগরের মোহনা ও সুন্দরবনসংলগ্ন এলাকায় মাছ ধরতে যান।
বোটের নিবন্ধন ও অনুমতিপত্রের মাধ্যমে জেলেদের সরকারি নথিভুক্তি এবং সহায়তার আওতায় আসার সুযোগ তৈরি হয়। এরই ধারাবাহিকতায় এবার মা ইলিশ সংরক্ষণকালীন বিশেষ ভিজিএফের চাল পাচ্ছেন উপজেলার ৬৪৬ জন মৎস্যজীবী। দীর্ঘদিনের বঞ্চনা কাটিয়ে সরকারি সহায়তা পাওয়ায় তাদের মধ্যে স্বস্তি ও আশাবাদ তৈরি হয়েছে।
ডুমুরিয়ার জেলেদের প্রত্যাশা, মা ইলিশ সংরক্ষণকালীন এই সহায়তা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। পাশাপাশি জাটকা সংরক্ষণ ও সুন্দরবনে মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞার সময়ও প্রকৃত জেলেদের জন্য সরকারি সহায়তার সুযোগ সম্প্রসারণ করা হবে। তাদের মতে, জেলেদের কল্যাণ নিশ্চিত করা এবং মৎস্যসম্পদ রক্ষা—দুটি লক্ষ্যকে সমন্বিতভাবে এগিয়ে নেওয়া গেলে দেশের মৎস্য খাত আরও সমৃদ্ধ হবে।
ডুমুরিয়া উপজেলার সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সোহেল মো. জিল্লুর রহমান রিগান বলেন, ‘জেলেদের জীবন-জীবিকার সুরক্ষা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সাগরে মাছ ধরার অনুমতিপত্র প্রদানের মাধ্যমে জেলেদের সরকারি নথিভুক্তির সুযোগ তৈরি হয়েছে। ফলে মা ইলিশ সংরক্ষণকালীন বিশেষ ভিজিএফের আওতায় ৬৪৬ জন মৎস্যজীবীকে অন্তর্ভুক্ত করা সম্ভব হয়েছে। ডুমুরিয়ার জেলে পরিবারে আজ খুশির বন্যা বইছে। দীর্ঘদিন তারা এই ভিজিএফ থেকে বঞ্চিত ছিল। আমরা ডুমুরিয়ার মৎস্য চাষি ও মৎস্যজীবীদের কল্যাণে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।’
জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে ভাঙাচোরা ও ঝুঁকিপূর্ণ কাঠের ব্রিজে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে ২ উপজেলার ১০ গ্রামের মানুষ। পোগলদিঘা ইউনিয়নের চর টাকুরিয়া জিয়া খালের ওপর ২৫ বছর আগে নির্মিত পুরোনো পিলারের ওপর নির্মিত কাঠের ব্রিজটি বর্তমানে সংস্কার না করার কারণে জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে কাঠের ব্রিজটি। ফলে চরম আতঙ্ক জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে স্থানীয়রা। তৈরি পিলারের উপর স্থায়ীভাবে ব্রিজ নির্মাণের দাবি জানান স্থানীয়রা।
স্থানীয়রা জানান, উপজেলার পোগলদিঘা ইউনিয়নের টাকুরিয়া এলাকায়, জিয়া খালের ওপর ২০০১ সালের পর বিএনপির শাসনামলে একটি ব্রিজ নির্মাণের কাজ শুরু হয়। কিন্তু কোনো এক অজানা কারণে পিলার স্থাপনের পরপরই ব্রিজ নির্মাণকাজ বন্ধ হয়ে যায়। এতে করে জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার টাকুরিয়া, মালিপাড়া, ব্রাহ্মনজানী, মানিক পটল, বিন্নাফৈর, চর সরিষাবাড়ী এবং সিরাজগঞ্জের কাজিপুর উপজেলার মনসুরনগর, শালগ্রাম, মাজনাবাড়ীসহ ১০ গ্রামের হাজারো মানুষের চলাচলে চরম দুর্ভোগ ও ভোগান্তি পোহাতে হয়।
বিশেষ করে শুকনো মৌসুমে পায়ে হেঁটে খালটি পার হলেও বর্ষায় দুর্ভোগ বেড়ে যেত তাদের। তখন নৌকা আর বাঁশের সাঁকোই একমাত্র ভরসা ছিল। বর্ষা মৌসুমে পানি বেড়ে গেলে ওই এলাকার মানুষকে প্রায় সাত কিলোমিটার পথ ঘুরে চলাচল করতে হতো। পরে ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে ওসব পিলারের ওপর লোহা ও কাঠ দিয়ে ব্রিজ নির্মাণ করে দেওয়া হয়। তবে কাঠের ব্রিজ নির্মাণের দীর্ঘদিন পার হলেও সংস্কারের অভাবে জরাজীর্ণ হয়ে বিভিন্ন স্থানে ভেঙে গেছে ব্রিজটি।
স্থানীয় বাবুল সরকার বলেন, বিভিন্ন স্কুল-মাদ্রাসায় পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এই ভাঙাচোরা ব্রিজ ও খানাখন্দে ভরা রাস্তা দিয়ে পারাপার হতে হয়।
এ বিষয়ে পোগলদিঘা ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মোবারক আলী বলেন, ‘এলাকাবাসীর মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পারি। স্থানীয়দের যাতায়াতের দুর্ভোগ কমাতে পরিষদের মাধ্যমে ব্রিজটির লোহার অ্যাঙ্গেল ও কাঠ পরিবর্তন করে সংস্কার করে দেওয়া হবে। পরবর্তীতে স্থানীয় সংসদ সদস্য ফরিদুল কবির তালুকদার শামীম এমপির সাথে কথা বলে এখানে যাতে স্থায়ী একটা ব্রিজ হয় সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’
বিভিন্ন আয়োজনের মধ্যদিয়ে আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন চিত্রশিল্পী এসএম সুলতানের ৩২তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত হয়েছে। এ উপলক্ষে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে শনিবার (১০ অক্টোবর) সকাল ৯টায় সুলতান সংগ্রহশালা চত্বরে জেলা প্রশাসন, এস এম সুলতান বেঙ্গল চারুকলা মহাবিদ্যালয়, এস এম সুলতান ফাউন্ডেশন, এস এম সুলতান স্মৃতি সংগ্রহশালা, নড়াইল প্রেসক্লাব, জেলা শিল্পকলা একাডেমি, এস এম সুলতান শিশু চারু ও কারুকলা ফাউন্ডেশন, মূর্ছনা সংগীত নিকেতনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক এবং সামাজিক সংগঠন সুলতানের কবরে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করে।
এ ছাড়া কোরআন খতম, দোয়া মোনাজাত, শিশু-কিশোরদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ আবদুল ছালাম, জেলা পরিষদ প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মোস্তাফিজুর রহমান আলেক, নড়াইল জেলা হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক (ভারপ্রাপ্ত) ডা. আবুল ফজল মুহাম্মদ মশিউর রহমান বাবু, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) আহসান মাহমুদ রাসেল, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) টি এম রাহসিন কবির, সুলতান ফাউন্ডেশনের সাবেক সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট ইকবাল হোসেন সিকদার, এস এম সুলতান স্মৃতি সংগ্রহশালার কিউরেটর তন্দ্রা মুখার্জি, সহকারী কিউরেটর মেহেদী হাসান রানা, নড়াইল প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রশিদ লাবলুসহ অনেকে।
আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন চিত্রশিল্পী এসএম সুলতান ১৯৯৪ সালের ১০ অক্টোবর যশোর সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। এদিকে, ১৯২৪ সালের ১০ আগস্ট এসএম সুলতান নড়াইল পৌরসভার মাছিমদিয়া গ্রামে বাবা মেছের আলী ও মা মাজু বিবির ঘরে জন্মগ্রহণ করেন।
চিত্রশিল্পের মূল্যায়ন হিসেবে এস এম সুলতান ১৯৮২ সালে পেয়েছেন একুশে পদক, ১৯৯৩ সালে স্বাধীনতা পদক, ১৯৮৪ সালে রেসিডেন্ট আর্টিস্ট স্বীকৃতি, ১৯৮৬ সালে বাংলাদেশ চারুশিল্পী সংসদ সম্মাননা, ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ‘ম্যান অব দ্য ইয়ার’, নিউইয়র্কের বায়োগ্রাফিক্যাল সেন্টার থেকে ‘ম্যান অব অ্যাচিভমেন্ট’ এবং এশিয়া উইক পত্রিকা থেকে ‘ম্যান অব এশিয়া’ পুরস্কারসহ বিভিন্ন সম্মাননা পেয়েছেন। এদিকে, ২০০১ সাল থেকে সুলতান ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে একজন গুণী চিত্রশিল্পীকে সুলতান স্বর্ণ পদক দেওয়া হয়।
রাজবাড়ীতে চাঞ্চল্যকর চৌধুরী ফুয়াদ হাসান রোহান (২১) হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারর ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরি, গামছা, কালো টি-শার্ট ও নিহতের স্যান্ডেল উদ্ধার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। শনিবার (১০ অক্টোবর) ভোরে রাজবাড়ী সদর থানা পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) একটি বিশেষ দল দাদসী ইউনিয়ন ও আশপাশের এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদেরকে গ্রেফতার করে।
গ্রেফতারকৃক ব্যক্তিরা হলেন দাদসী ইউনিয়নের বক্তারপুর এলাকার ফিরোজ সরদার বাবু (৩৪), মো. রিয়াজ সরদার (২৩) এবং একই ইউনিয়নের সমেসপুর এলাকার মো. শরীফ (২৭)।
প্রেস ব্রিফিংয়ে পুলিশ জানায়, গত ৫ অক্টোবর বিকেল ৪টার দিকে অজ্ঞাত এক ব্যক্তির ফোন পেয়ে নিজ বাড়ি থেকে বের হন চৌধুরী ফুয়াদ হাসান (রোহান)। এরপর তিনি আর বাড়িতে ফিরে আসেননি। এ ঘটনায় পরদিন ৬ অক্টোবর তাঁর পরিবার রাজবাড়ী সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করে।
পরে গত ৮ অক্টোবর বিকেলে রাজবাড়ী সদর উপজেলার দাদসী ইউনিয়নের পাকুড়িকান্দা গ্রামের দিলীপ সেনের একটি পরিত্যক্ত ডোবা থেকে বস্তাবন্দী অবস্থায় রোহানের মরদেহ উদ্ধার করে। হয়।
এ ঘটনায় নিহতের বাবা ফরহাদ চৌধুরী রাজবাড়ী সদর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
পুলিশ জানায়, রোহানের নিখোঁজের খবর পাওয়ার পর থেকেই সদর থানা পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা শাখা যৌথভাবে তদন্ত শুরু করে। তথ্যপ্রযুক্তি ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তাঁরা হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ আরো জানায়, জমিজমা সংক্রান্ত পূর্বশত্রুতা ও পরিকল্পনার জেরে রোহানকে ডেকে নিয়ে গামছা ও টি-শার্ট দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। পরে মরদেহ পানিতে ভেসে ওঠা ঠেকাতে ধারালো ছুরি দিয়ে পেট কেটে দেওয়া হয়। এরপর আলামত নষ্ট করা ও মরদেহ গুম করার উদ্দেশ্যে বস্তাবন্দী করে বালুভর্তি বস্তা বেঁধে পরিত্যক্ত ডোবায় ফেলে দেওয়া হয় বলে পুলিশের ভাষ্য।
গ্রেফতার ব্যক্তিদের দেখানো মতে, ফিরোজ সরদার বাবুর শয়নকক্ষ থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরি ও গামছা উদ্ধার করা হয়। মো. রিয়াজ সরদারের শয়নকক্ষ থেকে শ্বাসরোধের কাজে ব্যবহৃত কালো টি-শার্ট উদ্ধার করা হয়। এ ছাড়া দাদসী ইউনিয়নের বক্তারপুর এলাকায় বিনয় কুমার দাসের পুকুরের কচুরিপানার মধ্যে থেকে নিহতের পরিহিত স্যান্ডেল উদ্ধার করা হয়েছে।
বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান সম্পাদক কাদের গনি চৌধুরী বলেছেন, আলোকচিত্র শুধু সময়ের দর্পণ নয়, এটি ইতিহাসের জীবন্ত সাক্ষী এবং সমাজ পরিবর্তনের শক্তিশালী হাতিয়ার।
তিনি বলেন, একটি ছবি কোনো কথা না বলেও মানুষের আবেগ, প্রতিবাদ, প্রতিরোধ ও মানবিকতার গভীর বার্তা তুলে ধরতে পারে। যুদ্ধ, দুর্ভিক্ষ, শোষণ ও মানুষের সংগ্রামের বাস্তব চিত্র বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরতে ফটোসাংবাদিকদের ভূমিকা অনস্বীকার্য।
বাংলাদেশ ফটোজার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন আয়োজিত সারাদেশের ফটোসাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাসস প্রধান এসব কথা বলেন।
কাদের গনি চৌধুরী বলেন, ফটোগ্রাফি এমন একটি বড় উদ্ভাবন, যা বিশ্বকে দেখার দৃষ্টিভঙ্গি পাল্টে দিয়েছে। একটি আলোকচিত্র ঘটনার পেছনের গল্প তুলে ধরার পাশাপাশি মানুষের মনে গভীর আলোড়ন সৃষ্টি করতে পারে। কখনো একটি ছবি মানুষের বিবেককে জাগিয়ে তোলে, আবার কখনো তা অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ও সামনে এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা জোগায়।
তিনি জানান, ২০১৫ সালের ২ সেপ্টেম্বর তুরস্কের সমুদ্রসৈকতে পড়ে থাকা তিন বছরের সিরীয় শিশু আয়লান কুর্দির নিথর দেহের ছবি বিশ্ববিবেককে নাড়া দিয়েছিল। শরণার্থী সংকট ও যুদ্ধের নির্মমতা তুলে ধরা ওই ছবি বিশ্ববাসীকে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করে। একইভাবে ১৯৯৩ সালে দক্ষিণ সুদানে দুর্ভিক্ষপীড়িত একটি শিশুর পেছনে শকুনের অপেক্ষারত থাকার ছবি তুলে ধরে ক্ষুধা ও মানবিক বিপর্যয়ের ভয়াবহতা। ছবিটি তুলে পুলিৎজার পুরস্কার পেয়েছিলেন কানাডীয় আলোকচিত্রী কেভিন কার্টার।
বাংলাদেশের ইতিহাসেও আলোকচিত্রের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ১৯৭৪ সালের দুর্ভিক্ষের সময় বাসন্তী ও দুর্গা নামের দুই নারীর শরীরে মাছ ধরার জাল জড়ানো ছবি, ক্ষুধার্ত মানুষের দুর্দশা এবং খাদ্যের জন্য মানুষের হাহাকারের দৃশ্য দেশ-বিদেশে আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। সীমান্তে কাঁটাতারে ঝুলে থাকা ফেলানীর মরদেহের ছবিও সীমান্তে মানুষের জীবন ও নিরাপত্তার প্রশ্নটি বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরেছিল।
বাংলাদেশের ইতিহাসে ফটোসাংবাদিকদের অবদানের কথা উল্লেখ করে কাদের গনি চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, অখণ্ডতা, জাতীয় ঐক্য ও সংহতি রক্ষায় ফটোসাংবাদিকদের অবদান অনস্বীকার্য। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ, ১৯৮২ থেকে ১৯৯০ সালের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন এবং সর্বশেষ চব্বিশের জুলাই-আগস্টের আন্দোলনের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলো ক্যামেরার ফ্রেমে ধারণ করে ফটোসাংবাদিকরা ইতিহাসের জীবন্ত দলিল তৈরি করেছেন।
ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস সংরক্ষণে আলোকচিত্রের ভূমিকা তুলে ধরে তিনি বলেন, পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী ভাষা আন্দোলনে পুলিশের গুলিতে নিহত হওয়ার ঘটনাগুলো আড়াল করতে চেয়েছিল। কিন্তু আলোকচিত্রী আমানুল হকের ধারণ করা ছবি সেই অপচেষ্টা ব্যর্থ করে দেয়।
বাংলাদেশের আলোকচিত্রীদের আন্তর্জাতিক অর্জনের প্রশংসা করে কাদের গনি চৌধুরী বলেন, বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন মর্যাদাপূর্ণ প্রতিযোগিতা ও পুরস্কারে বাংলাদেশের ফটোসাংবাদিকরা সাফল্য অর্জন করেছেন। ২০১৮ সালে রয়টার্সের ফটোসাংবাদিক মোহাম্মদ পনির হোসেন পুলিৎজার পুরস্কার লাভ করেন। বাংলাদেশের আলোকচিত্রীরা ওয়ার্ল্ড প্রেস ফটোসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সম্মাননা অর্জন করেছেন। তাঁদের অর্জনের তালিকায় রয়েছে ইউজিন স্মিথ ফান্ড, মাদার জোনস, ন্যাশনাল জিওগ্রাফির অল রোডস, পাইওনিয়ার ফটোগ্রাফার অ্যাওয়ার্ড, এইচআইপিএ এবং টাইম ম্যাগাজিনের পারসন অব দ্য ইয়ার-সংক্রান্ত স্বীকৃতি।
দেশের আলোকচিত্রীদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির প্রসঙ্গ তুলে ধরে কাদের গনি চৌধুরী বলেন, এখন পর্যন্ত কোনো আলোকচিত্রী স্বাধীনতা পদক পাননি। তবে একুশে পদক পেয়েছেন মো. কামরুজ্জামান, আফতাব আহমেদ, মনজুর আলম বেগ, মোহাম্মদ আলম, আমানুল হক, গোলাম মুস্তাফা, সাইদা খানম ও পাভেল রহমান। এ ছাড়া বাংলাদেশ শিল্পকলা পদক পেয়েছেন গোলাম মুস্তাফা, নাসির আলী মামুন, এমএ তাহের ও শফিকুল ইসলাম স্বপন।
বাংলাদেশ ফটোজার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি একেএম মহসিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় সঞ্চালনা করেন বাবুল তালুকদার। আলোচনায় অংশ নেন জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক রফিকুর রহমান ও বুলবুল আহমেদ।
এ ছাড়া বক্তব্য দেন সিনিয়র ফটোজার্নালিস্ট ও সাবেক সভাপতি রফিকুর রহমান, সাবেক সভাপতি নূর আহমেদ নুরু, বুলবুল আহমেদ ও শফিউদ্দিন আহমেদ বিটু, বাংলাদেশ সাংবাদিক উন্নয়ন সংস্থার কেন্দ্রীয় চেয়ারম্যান মমিনুর রশীদ শাইন, বাংলাদেশ ফটো জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক বাবুল তালুকদার, সহসভাপতি মশিউর রহমান এবং সাংগঠনিক সম্পাদক সালেকুজ্জামান চৌধুরী।
এ ছাড়া সংগঠনটির বগুড়া শাখার সভাপতি বজলুর রশীদ সুইট ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহিম, সিরাজগঞ্জ শাখার সভাপতি নওশাদ, রাজশাহী শাখার সভাপতি আসাদ, নোয়াখালী শাখার সভাপতি নাসিম শুভ, মৌলভীবাজার শাখার সভাপতি সামসাদ, নারায়ণগঞ্জ শাখার সাধারণ সম্পাদক শহীদ, খুলনা শাখার সভাপতি এম এ হাসান ও সাধারণ সম্পাদক উজ্জল, রংপুর শাখার সাধারণ সম্পাদক আফজাল, চট্টগ্রাম শাখার সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান এবং কক্সবাজার শাখার সভাপতি নুরুল ইসলাম হেলালীসহ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা।
সূত্র: বাসস
রক্তের কোনো সম্পর্ক নেই। নেই আত্মীয়তার বন্ধনও। তবু ১৫৭টি মেয়ের জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিনে তিনি হয়ে উঠেছেন তাদের আপনজন, কখনো বাবা, কখনো বড় ভাই, কখনো বা অভিভাবক।
মাত্র ৩৮ বছর বয়সে এমন এক দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছেন সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার আগনুকালি গ্রামের স্কুলশিক্ষক মাহবুবুল হোসেনের ছেলে সমাজকর্মী মামুন বিশ্বাস। অর্থের অভাবে যেসব মেয়ের বিয়ের স্বপ্ন বারবার ভেঙে গেছে, তাদের হাতে তিনি তুলে দিয়েছেন নতুন জীবনের দরজা। কনের বেনারসি, গহনা থেকে শুরু করে বিয়ের মঞ্চ, আলোকসজ্জা, খাবার—সবকিছুর আয়োজন করেছেন মানুষের সহযোগিতায়। তাই স্থানীয় মানুষের কাছে তার পরিচয় এখন একটাই ‘১৫৭ মেয়ের বাবা’।
অসহায় কোনো পরিবারের মেয়ের বিয়ে অর্থের অভাবে আটকে গেছে, এমন খবর পেলেই ছুটে যান মামুন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, বিশেষ করে ফেসবুকে সহযোগিতার আবেদন জানান। দেশ-বিদেশের বন্ধু ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করে সেই অর্থ পৌঁছে দেন প্রকৃত অসহায় পরিবারের হাতে। তারপর শুরু হয় আরেকটি গল্প—একটি মেয়ের চোখের জল মুছে গিয়ে সেখানে জায়গা নেয় স্বপ্নের আলো।
শুধু মুসলিম পরিবারের মেয়েদের নয়, হিন্দু সম্প্রদায়ের অসহায় পরিবার, বাকপ্রতিবন্ধী ছেলে-মেয়ে কিংবা সমাজের নানা শ্রেণি-পেশার মানুষের পাশেও দাঁড়িয়েছেন তিনি। যমুনার দুর্গম চর থেকে গ্রামের প্রত্যন্ত বাড়ি—মানুষের অসহায়ত্বের খবর পেলেই যেন সেখানে পৌঁছে যায় মামুনের মানবিকতার হাত।
জানা যায়, জেলার কামারখন্দ উপজেলার ঝাঐল ইউনিয়নের তেঘরি গ্রামের আতিয়া খাতুনের গল্পটিও ছিল এমনই এক দীর্ঘ অপেক্ষার। অর্থের অভাবে এর আগে দুইবার বিয়ে ঠিক হয়েও ভেঙে যায় তার। বাবা অসুস্থ, কর্মক্ষম নন। মা অন্যের বাড়িতে কাজ করে কোনোভাবে সংসার চালান। মেয়ের বিয়ের খরচ জোগাড় করা তাদের কাছে ছিল প্রায় অসম্ভব। আতিয়ার সেই অসহায়তার গল্প পৌঁছে যায় মামুন বিশ্বাসের কাছে। ফেসবুকে সহযোগিতার আবেদন জানান তিনি। মানুষের ভালোবাসায় মাত্র কয়েকদিনের মধ্যে প্রায় ৩ লাখ টাকা সংগ্রহ হয়। সেই অর্থে গত ২৫ সেপ্টেম্বর আয়োজন করা হয় আতিয়ার বিয়ে। যে মেয়েটির বিয়ের কার্ড বারবার থেমে গিয়েছিল, সেদিন তার হাতেই উঠেছিল মেহেদি। চোখে ছিল জল, তবে সেই জল ছিল দীর্ঘ অপেক্ষার শেষে পাওয়া আনন্দের।
বিয়ের পর আবেগাপ্লুত আতিয়া বলেন, ‘অর্থের অভাবে তার দুইবার বিয়ে ভেঙে গিয়েছিল। এবার মানুষের সহযোগিতা আর মামুন বিশ্বাসের উদ্যোগে তার বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে।’
আতিয়ার বিয়ের আনন্দের রেশ কাটতে না কাটতেই একই উপজেলার জামতৈল গ্রামের আরেক অসহায় মেয়ের খবর আসে মামুনের কাছে। মেয়েটির নাম সুচিত্রা রানী দাস। পরিবারের কোনো নিজস্ব বাড়ি নেই। ভাড়া বাসায় বসবাস। সংসারে তিন বেলা খাবার জোগাড় করাই যখন কঠিন, তখন মেয়ের বিয়ের খরচ যেন ছিল আকাশছোঁয়া স্বপ্ন। অর্থের সংকটে সুচিত্রার বিয়েও তিনবার ভেঙে যায়।
মামুন বিশ্বাস জানতে পেরে আবারও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মানুষের কাছে সহযোগিতার আহ্বান জানান। মাত্র পাঁচ দিনে সংগ্রহ হয় প্রায় ২ লাখ ৩২ হাজার টাকা। গত ১ অক্টোবর সেই অর্থে সুচিত্রা রানী দাসের সঙ্গে পলাশ কুমার ভৌমিকের বিয়ের আয়োজন করা হয়। শুধু বিয়ের আয়োজনই নয়, সুচিত্রার মায়ের হাতে নগদ ২১ হাজার টাকা তুলে দেন মামুন। সুচিত্রার মা কামনা রানী দাসের কাছে সেই দিনটি যেন ছিল দীর্ঘ অন্ধকারের শেষে ভোরের আলো।
উল্লাপাড়ার বড়হর ইউনিয়নের ধুনচি গ্রামের নন্দিনীর গল্প আরও কষ্টের। মাত্র ছয় বছর বয়সে বাবাকে হারিয়েছেন তিনি। অন্যের বাড়িতে কাজ করে মা দুই মেয়ের মুখে খাবার তুলে দিয়েছেন। প্রতিবেশীদের দেওয়া পুরোনো পোশাক পরে বড় হয়েছেন দুই বোন। দিনের পর দিন অভাবের সঙ্গে লড়াই করতে করতে মা-মেয়ে বাঁশ দিয়ে কুলা বানিয়ে বিক্রি করে সংসার চালান। এর মধ্যে নন্দিনীর বিয়ে ঠিক হয়েছে একবার, দু’বার নয়—ছয়বার। প্রতিবারই অর্থের সংকটে ভেঙে গেছে সেই সম্পর্ক।
নন্দিনীর কথা জানতে পেরে পাশে দাঁড়ান মামুন বিশ্বাস। ফেসবুকের মাধ্যমে প্রায় ২ লাখ ১২ হাজার টাকা সহযোগিতা সংগ্রহের ব্যবস্থা করেন তিনি।
মামুন বিশ্বাস বলেন, ‘১৫৭টি বিয়েসহ সব মানবিক এবং ভালো কাজের কৃতিত্ব ফেসবুক বন্ধুদের। আমি শুধু প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। মানবিক কাজে সহযোগিতা অব্যাহত থাকলে আগামীতে আরও ভালো ভালো কাজ করা হবে, ইনশাআল্লাহ।’
জাতীয় তাঁতী সমিতির সাবেক সভাপতি আব্দুস ছামাদ খান বলেন, ‘ইচ্ছা ও আন্তরিকতা থাকলে অসহায় ও অভিভাবকহীন সন্তানদের জন্য সুন্দরভাবে বিয়ের আয়োজন করা সম্ভব—মামুন বিশ্বাস তা সমাজের সামনে দেখিয়ে দিয়েছেন। তার মানবিক কর্মকাণ্ড প্রশংসনীয়।’
স্থানীয় পত্রিকার সম্পাদক ও ইতিহাস গবেষক মোহাম্মদ আব্দুল হামিদের বর্ণনা অনুযায়ী, ২০১৫ সালের শুরুর দিকে সিরাজগঞ্জের খুকনী গ্রামে এক চায়ের দোকানে ফেরদৌস নামের এক প্রতিবন্ধী শিশুকে অন্য শিশুদের নির্যাতনের শিকার হতে দেখেন মামুন বিশ্বাস। ঘটনাটি তার হৃদয়ে গভীরভাবে নাড়া দেয়। সেদিন রাতেই তিনি ফেসবুকে প্রতিবন্ধী শিশুদের সহায়তার আবেদন জানিয়ে একটি পোস্ট করেন। এভাবেই শুরু হয় তার মানবসেবার পথচলা। যমুনার দুর্গম চর থেকে শহরের অলিগলি কোথাও কোনো অসহায় মানুষের মুখে হতাশা দেখলে থেমে থাকতে চান না মামুন বিশ্বাস।
‘মৃত্যুদণ্ড জীবনের অধিকার কেড়ে নেই’ এই প্রতিপাদ্যে ঝিনাইদহে বিশ্ব মৃত্যুদণ্ড বিলোপ দিবস উদযাপন করা হয়েছে। ওয়েলফেয়ার এফোর্টস (উই) ও নারীপক্ষের আয়োজনে শনিবার (১০ অক্টোবর) সকালে উইর সম্মেলনকক্ষে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।
এতে মানবাধিকারকর্মী এন এস শাহজালাল, উইর পরিচালক শরিফা খাতুন, দবির হোসেন, সাংস্কৃতিককর্মী নাজিম উদ্দিন জুলিয়াস, আসাদুজ্জামানসহ অন্যান্যরা বক্তব্য রাখেন।
সে সময় বক্তারা বলেন, ‘২০২১ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত বিশ্বের ১০৮টি দেশে মৃত্যুদণ্ডের বিধান বাতিল করা হয়েছে। তবে এখনও ৫৬টি দেশে মৃত্যুদণ্ডের সাজা বহাল রয়েছে। এ ছাড়া ২৮টি দেশে মৃত্যুদণ্ডের আইন থাকলেও তা কার্যকর করা হয় না।’
বক্তারা আরও বলেন, ‘মৃত্যুদণ্ড মানুষের বেঁচে থাকার মৌলিক অধিকারকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। মানবাধিকার সুরক্ষা, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা ও জীবনের অধিকার নিশ্চিত করতে বিশ্বব্যাপী মৃত্যুদণ্ড বিলোপে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা প্রয়োজন।’
এ বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং মানবিক মূল্যবোধ জাগ্রত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তারা।
মাদারীপুরের কয়েক শতাব্দীর ঐতিহাসিক দৃষ্টিনন্দন বিশাল শকুনী লেক ও এর পরিবেশ বাঁচানোর দাবিতে এক সর্বাত্মক মানববন্ধন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (১০ অক্টোবর) সকাল ১০টায় ঐতিহাসিক শকুনি লেক পার্ক প্রাঙ্গণে "শকুনি বাঁচাও আন্দোলন"-এর আয়োজনে এই কর্মসূচি সম্পন্ন হয়।মানববন্ধনে বক্তারা শকুনি লেকের পানি দূষণ বন্ধ করা, লেক ঘিরে এর চারপাশে গড়ে ওঠা ফুটপাত দখল ও হকারমুক্ত করে এর স্বাভাবিক সৌন্দর্য ফিরিয়ে আনার জোর দাবি জানান।
কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীরা সর্বসম্মতিক্রমে ৪টি মূল দাবি ও লক্ষ্য তুলে ধরেন যা'র মধ্যে- লেকের চারপাশের সড়ক-ফুটপাত দখলমুক্ত করা এবং লেকে ভরাট বন্ধ রাখা, পলিথিনের ব্যবহার নিষিদ্ধ ও পরিহার করা, অপচনশীল প্লাষ্টিক দ্রব্য-বর্জ্য পানিতে ফেলা বন্ধ করা ও লেকের পাড়ে ব্যাপক বৃক্ষরোপণ করে পুরো এলাকাকে আরও মনোরম ও সবুজ করে তোলার দাবি জানানো হয় ।
উক্ত কর্মসূচিতে বীর মুক্তিযোদ্ধাবৃন্দ, জেলা প্রশাসনের প্রতিনিধি, বিশিষ্ট নাগরিকবৃন্দ স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের প্রতিনিধি, সাংবাদিক, খেলোয়াড়, সাধারণ নাগরিক এবং শরীর চর্চার জন্য লেকের চারদিকের সড়কে নিয়মিত হাঁটাহাঁটি করা বিভিন্ন ক্লাবের সদস্যসহ সর্বস্তরের নারী-পুরুষ সাধারণ মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ করেন।
আয়োজকরা জানান, পরিবেশ রক্ষা ও সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এছাড়াও মাদারীপুর সদর ২৫০ শয্যার হাসপাতালে রোগীদের গমনের সড়কে অবৈধভাবে গড় ওঠা কাঁচাবাজার, মাছবাজার, ফলের দোকান সহ অন্যান্য দোকান ও হকার উচ্ছেদে কার্যকরী স্থায়ী ব্যবস্থা নেয়ার আহবান জানিয়ে সবার মুখে একই ধ্বনি উচ্চারিত হয়- শকুনি লেক মাদারীপুরবাসীর আবেগ ও ঐতিহ্যের প্রতীক, 'শকুনী লেক বাঁচাও, মাদারীপুর বাঁচাও, মানুষ বাঁচাও'।
শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত এই গুরুত্বপূর্ণ লেক ও পর্যটন স্পটটি রক্ষাবেক্ষণে প্রশাসন ও পৌর কর্তৃপক্ষ উদাসীন কেনো- তা জানতে চেয়ে মানববন্ধনে অংশগ্রহনকারীরা এই সমস্যা দ্রত সমাধানের অনুরোধ জানিয়েছেন। তা না হলে তারা আরও কঠোর কর্মসূচী দিতে বাধ্য হবেন বলে উলেখ করা হয়।
ফরিদপুরের নগরকান্দার গজারিয়া স্কুল মাঠে শুরু হয়েছে জিএসসি গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট। গত শুক্রবার (৯ অক্টোবর) বিকেলে জমকালো অনুষ্ঠানে স্থানীয় কৃষ্ণারডাঙ্গী স্কুল মাঠে এ টুর্নামেন্টের উদ্বোধন করেন নগরকান্দা উপজেলা নির্বাহী অফিসার রেজওয়ানা আফরিন।
এসময় উপস্থিত ছিলেন টুর্নামেন্ট আয়োজক কমিটির সভাপতি ও ফরিদপুর মোহামেডান স্পোটিং ক্লাবের সভাপতি হানিফ মন্ডল, খেতনামা শিক্ষাবিদ আব্দুস সাত্তার মন্ডল, ফরিদপুর জিলা ক্রীড়া সংস্থার এডহক কমিটির সদস্য আলী রেজওয়ান বিশ্বাস তরুন, জেলা যুবদলের সভাপতি রাজিব হোসেন।
উদ্বোধনী খেলায় গতবারের চ্যাম্পিয়ন গোপালগঞ্জের বামুন্দি সিকদার ফুটবল একাদশ ট্রাইবেকারে ৫-৩ গোলে রংপুর জেলার জয় ফুটবল একাদশকে পরাজিত করে। নির্ধারিত সময়ে ২-২ গোলে সমতা থাকায় খেলাটি ট্রাইবেকারে গড়ায়। দুদলে একাধিক বিদেশী খেলোয়ার অংশ নেয়।
গজারিয়া স্পোটিং এন্ড একাডেমীর আয়োজন নকআউট ভিত্তিক এ ফুটবল টুর্নামেন্টে দেশের বিভিন্ন জেলার ৮টি দল অংশ নেয়। প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ন এ ফুটবল খেলাটি দেখতে সকাল থেকেই বিভিন্ন স্থান থেকে হাজারো দর্শক উপস্থিত হয় কৃষ্ণারডাঙ্গী স্কুল মাঠে।
যশোর পৌরসভার পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের আবাসন সুবিধা নিশ্চিত করতে শহরের মনিহার পুরাতন খুলনা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় সাততলাবিশিষ্ট আবাসিক ভবন নির্মাণের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছে। গত শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সকাল ১০টায় মনিহার সিনেমা হল সড়কসংলগ্ন এলাকায় এ নির্মাণকাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ও সংসদ সদস্য অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।
প্রকল্পের আওতায় সাততলা ভবনটিতে মোট ৪৮টি ফ্ল্যাট নির্মাণ করা হবে। এ ভবন নির্মাণের মাধ্যমে পৌরসভার পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের জন্য আবাসনের সুযোগ সৃষ্টি হবে। পাশাপাশি তাঁদের পরিবারগুলোর জীবনযাত্রার মান উন্নয়নেও প্রকল্পটি ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন উপলক্ষে প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা শহরকে পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তাঁদের আবাসন সুবিধা নিশ্চিত করা এবং জীবনমান উন্নয়নে এ ধরনের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ। পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের জন্য পরিকল্পিত আবাসন গড়ে তোলা হলে তাঁরা ও তাঁদের পরিবার উপকৃত হবেন। নগর উন্নয়নের পাশাপাশি নগরের সেবায় নিয়োজিত মানুষের জীবনমান উন্নয়নেও গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
প্রকল্পটির প্যাকেজ নম্বর PD/Pori.Abahan/Jasore.W1.47। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি), যশোরের বাস্তবায়নে ভবনটির নির্মাণকাজ সম্পন্ন হবে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজটি বাস্তবায়ন করছে মিম ডেভেলপমেন্ট ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেড, বনপাড়া, নাটোর।
সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে যশোর পৌরসভার পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের আবাসন সুবিধা সম্প্রসারিত হবে এবং তাঁদের জন্য উন্নত ও পরিকল্পিত জীবনযাপনের পরিবেশ তৈরির সুযোগ সৃষ্টি হবে।
কিশোরগঞ্জের হাওর উপজেলা মিঠামইনে স্থানীয় পর্যায়ে চোখের চিকিৎসা সুবিধা পৌঁছানো এবং অন্ধত্ব প্রতিরোধের লক্ষ্যে “চোখের প্রাথমিক পরিচর্যা দক্ষতা উন্নয়ন কর্মশালা” অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (১০ অক্টোবর) দৃষ্টি উন্নয়ন সংস্থা (ডাস), ঢাকার উদ্যোগে এবং 'Humanity Beyond Barriers (HBB) Inc, USA'-এর আর্থিক সহায়তায় দিনব্যাপী এই নন-রেসিডেনশিয়াল কর্মশালার আয়োজন করা হয়।
দৃষ্টি উন্নয়ন সংস্থার চেয়ারম্যান প্রকৌশলী আবদুল ওয়াদুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. সাইফুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা.আবদুল্লাহ-আল-শাফী।
কর্মশালায় প্রধান প্রশিক্ষক হিসেবে প্রশিক্ষণ প্রদান করেন ঢাকা ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজের চক্ষু বিশেষজ্ঞ এবং দৃষ্টি উন্নয়ন সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. শাহীন রেজা চৌধুরী।
অনুষ্ঠানে অধ্যাপক ডা. মো. শাহীন রেজা চৌধুরী বলেন, দেশের সার্বিক অন্ধত্ব ও চক্ষু চিকিৎসার বর্তমান চিত্র অত্যন্ত সংকটজনক। বর্তমানে দেশে প্রায় ২ কোটি ৭০ লাখ মানুষ কোনো না কোনোভাবে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধকতা বা অন্ধত্বের শিকার। এর মধ্যে শুধু ছানিজনিত সমস্যায় প্রায় ১০ লাখ রোগী অস্ত্রোপচারের অপেক্ষায় রয়েছেন এবং প্রতি বছর এই তালিকায় নতুন করে যুক্ত হচ্ছে ১ লাখ ৩০ হাজারেরও বেশি রোগী। এছাড়া দেশের ১৭ কোটি ৩০ লাখ মানুষের জন্য মাত্র ১,৫০০ থেকে ১,৬০০ জন চক্ষু বিশেষজ্ঞ রয়েছেন— অর্থাৎ প্রতি ১ লাখ ৪৪ হাজার মানুষের জন্য মাত্র ১ জন চিকিৎসক উপলব্ধ আছেন। নারী ও শিশুরা এই অন্ধত্ব ও দৃষ্টিত্রুটির শিকার বেশি হচ্ছে, যেখানে অন্ধ বা দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী মানুষের প্রায় ৫৫% নারী ও শিশু। হাওর অঞ্চলের মতো প্রত্যন্ত এলাকায় এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রাথমিক চক্ষু পরিচর্যা ও সচেতনতা অত্যন্ত জরুরি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) SPECS 2030 লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়নে এবং ২০৩০ সালের মধ্যে অন্তত ২ কোটি মানুষকে চক্ষু সেবার আওতায় আনতে এ ধরনের প্রশিক্ষণ কার্যকর ভূমিকা পালন করবে।
কর্মশালায় অংশগ্রহণকারীদের বিনামূল্যে প্রশিক্ষণ সনদ, ব্যাগ, ভিশন চার্ট, টর্চ লাইট, নেয়ার চার্টবুকসহ প্রয়োজনীয় শিক্ষা উপকরণ প্রদান করা হয়। অংশগ্রহণকারীরা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের লেকচার, লাইভ ডেমো এবং প্র্যাকটিক্যাল সেশনের মাধ্যমে চোখে ছানি, গ্লুকোমা, সংক্রমণ শনাক্তকরণ ও প্রাথমিক চিকিৎসার নানাবিধ কৌশল আয়ত্ত করেন।