কক্সবাজারের টেকনাফে নাফ নদে মাছ শিকার করে ফেরার পথে মিয়ানমার নৌবাহিনীর গুলিতে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন বাংলাদেশি দুই জেলে।সেন্টমার্টিনের কাছাকাছি এলাকায় রোববার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় আহত এক জেলেকে টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেয়া হলেও আরেকজনকে গুরুতর অবস্থায় কক্সবাজার মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
টেকনাফ থানার ওসি মুহাম্মদ ওসমান গণি বলেন, ‘তাদের একজন টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপ দক্ষিণ পাড়ার মোহাম্মদ ছিদ্দিকের ছেলে মোহাম্মদ ফারুক ও আরেকজন মাঝের ডেইল এলাকার মোহাম্মদ ইসমাইল।’
টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক প্রণয় রুদ্র বলেন, ‘আজ (রোববার) ১২টার দিকে দুইজন চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে আসে।’
তিনি আরও বলেন, ‘প্রথমে আমরা জানতে পারি তারা জেলে। একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে কক্সবাজার হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। আহতদের মধ্যে ইসমাইল সামান্য আহত। তাকে টেকনাফে চিকিৎসা প্রদান করা হচ্ছে। অন্যজন ফারুকের তিনটি গুলি লেগেছে ডান পায়ে ও বাম ঊরু এবং বাম হাতের আঙুলে।’
ট্রলারের মাঝি মোহাম্মদ ইউসুফ বলেন, ‘সেন্টমার্টিনের কাছাকাছি মাছ ধরা শেষে শাহপরীর দ্বীপ জেটি ঘাট দিয়ে ফিরছিলাম। এ সময় নাইক্ষ্যংদিয়া সংলগ্ন অংশে মিয়ানমার নৌবাহিনীর একটি জাহাজ আমাদের অতিক্রম করছিল। মিয়ানমার নৌবাহিনীর জাহাজ থেকে হঠাৎ আমাদের ট্রলার লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়। এতে আমাদের দুই জেলে গুলিবিদ্ধ হয়। আমরা নাফ নদের বাংলাদেশের জলসীমায় ছিলাম এবং হাত উঁচু করে বাংলাদেশি পতাকা দেখিয়ে তাদের গুলি না করতে ইশারা করছিলাম। এরপরও তারা মানেনি; গুলি করতে থাকে।’
আহত জেলে মোহাম্মদ ইসমাইল বলেন, ‘এফবি মায়ের দোয়া ট্রলার নিয়ে গত চার দিন আগে ৯ জন মাঝিমাল্লা নিয়ে সাগরে মাছ ধরতে যাই। আজ (রোববার) ফেরার পথে সাগরে মিয়ানমারের অংশ অবস্থান নেয়া মিয়ানমারের নৌবাহিনীর একটি জাহাজ সংকেত দিয়ে তাদের দিকে যেতে বলে। ওটা মিয়ানমারের জলসীমা হওয়ায় তারা শাহপরীর দ্বীপের দিকে চলে আসতে থাকে। এ সময় পরপর গুলিবর্ষণ করে। এ ঘটনায় দুজন গুলিবিদ্ধ হন। অন্যরা অক্ষত আছে।’
ফেরদৌস স্টিল রিসাইক্লিং শিপ ইয়ার্ডের সেই পুরনো জাহাজটি বিষাক্ত গ্যাসমুক্ত করতে এবার অনিক মেরিন ও প্রান্তিক মেরিন নামের দুই বেসরকারি উদ্ধারকারী কোম্পানির সহায়তা নেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) ফেরদৌস স্টিল শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ডের সেই জাহাজটি দুই বেসরকারি উদ্ধারকারী কোম্পানি পরিদর্শন করে নমুণা সংগ্রহ করেছেন। এই দুই প্রতিষ্ঠান পূর্ণাঙ্গ ‘ঝুঁকি প্রশমন পরিকল্পনা উপস্থাপন করবে বলে জানা গেছে।
বেসরকারি কোম্পানির সহায়তা কেন জানতে চাইলে বাংলাদেশ শিপ রিসাইক্লিং বোর্ডের মহাপরিচালক এ এস এম শফিউল আলম তালুকদার বলেন, বেসরকারি হলেও দেশে-বিদেশে রেসকিউ কোম্পানি হিসেবে তাদের সুনাম আছে। তারা আগেও সফলভাবে এরকম পরিস্থিতি সামলেছে।
সোমবার (১৭ আগস্ট) দুই উদ্ধারকারী কোম্পানি জাহাজের গ্যাস অপসারণে একটি খসড়া পরিকল্পনা দিয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, মঙ্গলবার তারা আবার নিজস্ব যন্ত্রপাতি নিয়ে ঘটনাস্থলে যাবে। গ্যাসের উপস্থিতি ও তীব্রতা পরিমাপ শেষে বিস্তারিত মিটিগেশন প্ল্যান আমাদের জানাবে। এরপর করণীয় নির্ধারণ করা হবে। কোনো ধরনের ঝুঁকি ছাড়া শতভাগ নিরাপত্তা নিশ্চিত করে আমরা জাহাজটি গ্যাসমুক্ত করতে চাই। এরপর কোম্পানি দুটির কারিগরি ও আর্থিক প্রস্তাব পর্যালোচনা করে কারা কাজ করবে তা ঠিক করবে বিশেষজ্ঞ কমিটি। ঝুঁকি প্রশমন পরিকল্পনায় জাহাজটি বিষাক্ত গ্যাসমুক্ত করা, ব্যালাস্ট ট্যাংকের (জাহাজের জলাধার) পানি অপসারণ ও স্লাজযুক্ত পানি অপসারণ–এই তিনটি বিষয় বিবেচনায় রাখা হচ্ছে বলে জানান শফিউল আলম তালুকদার।
ব্যালাস্ট ট্যাংকের ভেতরে এত বেশি মাত্রায় হাইড্রোজেন সালফাইড কীভাবে তৈরি হল, সে বিষয়ে তদন্ত করা হবে জানিয়ে তিনি বলেন, ট্যাংকের ভেতরে কোনো জৈব পদার্থ, পয়ঃবর্জ্য, স্লাজ বা অন্য কোনো দূষিত পদার্থ ঢুকেছিল কিনা, তা পরীক্ষা করা হবে। সেখানে স্লাজ বা পয়ঃবর্জ্য থেকে থাকলে তা কীভাবে এল তাও দেখা হবে।এদিকে এ দুর্ঘটনায় তদন্ত কমিটি ঘটনার তিন দিন পর দুর্ঘটনাকবলিত জাহাজের ভেতরে গিয়ে তদন্ত শুরু করেছে।
এদিকে ফেরদৌস স্টিল শিপ ইয়ার্ডে গ্যাসের বিষক্রিয়ায় ৯ শ্রমিকের মৃত্যুর ঘটনায় চার দিন পর পুলিশ বাদী হয়ে একটি অপমৃত্যু (ইউডি) মামলা দায়ের করেছেন। নিহত বা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পক্ষ থেকে কেউ মামলা করতে না আসায় সোমবার সীতাকুণ্ড মডেল থানায় পুলিশ বাদী হয়ে এই মামলা দায়ের করে।
সীতাকুণ্ড মডেল থানার ওসি মো. মহিনুল ইসলাম জানান, দুর্ঘটনায় ৯ জনের প্রাণহানি ঘটলেও কোনো পরিবার অভিযোগ নিয়ে আসেনি। এ কারণে পুলিশ বাদী হয়ে অপমৃত্যু মামলা করেছে। ময়নাতদন্ত ও ফরেনসিক প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অপরদিকে গেল সোমবার বিকেলে শিল্প মন্ত্রণালয়, চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন ও বিএসবিআরএ গঠিত তদন্ত কমিটির সদস্যরা বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থায় দুর্ঘটনাস্থলে প্রবেশ করেন। তদন্ত দলের সঙ্গে ঢাকা থেকে আসা বিস্ফোরক বিশেষজ্ঞ, পরিবেশ ও নৌ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা রয়েছেন। এ ছাড়া চট্টগ্রাম পরিবেশ অধিদপ্তর, বিস্ফোরক অধিদপ্তর ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারাও তদন্ত দলের সঙ্গে ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন।
শিল্প মন্ত্রণালয়ের গঠিত তদন্ত টিমের প্রধান ও এ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব এ কে এম বেনজামিন রিয়াজী সোমবার জানিয়েছিলেন, শিল্প মন্ত্রণালয় গঠিত তদন্ত টিম রোববার সকাল থেকে ইয়ার্ডে এসে তদন্তে শুরু করেছে। জাহাজের ব্যালাস্ট ট্যাংকারে থাকে পানি। ওখানে বিষাক্ত গ্যাসের পরিমাপ খুবই বেশি।
প্রান্তিক ও আলিফ নামে দুই প্রতিষ্ঠানের উদ্ধারকারী টিম গ্যাসের পরিমাণ নির্ণয় করার পর কী কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে তা বিস্তারিত বলা যাবে। তবে প্রাথমিক ধারণা করা হচ্ছে জাহাজটির ব্যালাস্ট ট্যাংকে (জলাধার) বিপজ্জনক মাত্রায় গ্যাস জমে ছিল। সেখান থেকে বিষাক্ত হাইড্রোজেন সালফাইড গ্যাস ছড়িয়ে প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে।
তদন্তে যুক্ত এইচআর শিপ ম্যানেজমেন্টের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘আমরা সোমবার সকাল থেকে জাহাজটিতে তদন্ত শুরু করেছি। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত দুর্ঘটনার কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত বলা যাবে না।’
এর আগে শিল্প মন্ত্রণালয়, চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন এবং বাংলাদেশ শিপ ব্রেকার্স অ্যান্ড রিসাইক্লার্স অ্যাসোসিয়েশন পৃথক তিনটি তদন্ত কমিটি গঠন করলেও জাহাজের ভেতরে থাকা বিষাক্ত গ্যাসের ঝুঁকির কারণে কোনো কমিটির সদস্যই দুর্ঘটনাস্থলে যেতে পারেননি।
বাংলাদেশ শিপ রিসাইক্লিং বোর্ডের (বিএসআরবি) মহাপরিচালক এ এস এম শফিউল আলম তালুকদার বলেন, শিল্প মন্ত্রণালয় গঠিত বিশেষজ্ঞ দলসহ অন্যান্য তদন্ত কমিটির সদস্যরা সোমবার সকাল থেকে ফেরদৌস স্টিল শিপইয়ার্ড পরিদর্শন করেছেন। জাহাজে কোনো বিষাক্ত গ্যাস রয়েছে কি না, তা অনুসন্ধান করা হয়েছে।
বাংলাদেশ শিপ রিসাইক্লিং বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, জাহাজটির বিভিন্ন চেম্বারে এখনো বিষাক্ত গ্যাস থাকার আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষ করে হাইড্রোজেন সালফাইডের তীব্রতা ও বিষক্রিয়ার ঝুঁকির কারণে নিরাপত্তা নিশ্চিত না করে তদন্তকারীদের জাহাজের ভেতরে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি।
শিল্প মন্ত্রণালয় বুয়েটের রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক মো. ইয়াসির আরাফাত খানের নেতৃত্বে আট সদস্যের একটি বিশেষায়িত বিশেষজ্ঞ দল গঠন করে। গত সোমবার থেকে বিশেষজ্ঞ দলটিও কাজ শুরু করেছে।
গত শুক্রবার (১৪ আগস্ট) সকাল নয়টার দিকে ভাটিয়ারীর স্টেশন রোড এলাকায় ফেরদৌস স্টিল শিপ রিসাইক্লিং ইয়ার্ডে একটি স্ক্র্যাপ জাহাজ কাটার সময় বিষাক্ত গ্যাসে আক্রান্ত হয়ে ৯ শ্রমিকের মৃত্যু হয়। দুর্ঘটনার পর আহত কয়েকজনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়।
কুমিল্লায় পারিবারিক কলহের জেরে স্ত্রীকে বৈদ্যুতিক শক দিয়ে হত্যার দায়ে মো. আজাদ নামে এক ব্যক্তিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে কুমিল্লার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ পঞ্চম আদালতের বিচারক মোহাম্মদ সুলতান উদ্দীন প্রধান এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় আসামি আজাদ আদালতের কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন।
মামলার এজাহার ও আদালত সূত্রে জানা যায়, দণ্ডপ্রাপ্ত মো. আজাদ কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার মুন্সিরহাট ইউনিয়নের বসন্তপুর গ্রামের মো. কবির হোসেনের ছেলে। পারিবারিক কলহের জেরে ২০২৩ সালের ২৭ জুলাই রাতে তার স্ত্রী ও তিন সন্তানের জননী তানিয়া বেগমকে হাতে-পায়ে বৈদ্যুতিক তার জড়িয়ে বৈদ্যুতিক শক দিয়ে হত্যা করা হয়।
এ ঘটনায় নিহত তানিয়া বেগমের মা মায়া বেগম বাদী হয়ে জামাতা মো. আজাদকে আসামি করে চৌদ্দগ্রাম থানায় হত্যা মামলা করেন।
মামলা দায়েরের পর পুলিশ তদন্ত শুরু করে। পাশাপাশি নিহত তানিয়া বেগমের ময়নাতদন্ত করা হয়। তদন্ত ও ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে তার মৃত্যুর ঘটনাকে হত্যাকাণ্ড হিসেবে উল্লেখ করা হয়। পরে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আজাদের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
মামলার বিচারিক কার্যক্রমে দীর্ঘদিন ধরে সাক্ষীদের সাক্ষ্যগ্রহণ ও জেরা করা হয়। একই সঙ্গে বিভিন্ন নথি ও তথ্য-উপাত্ত পর্যালোচনা শেষে আদালত আসামি আজাদকে দোষী সাব্যস্ত করেন। পরে মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) তাকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেন আদালত।
রায় ঘোষণার পর নিহতের স্বজনরা সন্তোষ প্রকাশ করেন। তারা বলেন, দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ার পর এ রায়ের মাধ্যমে তারা ন্যায়বিচার পেয়েছেন। একই সঙ্গে দ্রুত রায় কার্যকরের দাবি জানান তারা।
দলিল লেখকদের পেশাগত অধিকার ও মর্যাদা রক্ষাসহ ৭ দফা দাবি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ফরিদপুর জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে আইন বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করেছে বাংলাদেশ দলিল লেখক সমিতি ফরিদপুর জেলা শাখার নেতৃবৃন্দ। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) সকালে সংগঠনের পক্ষ থেকে এ স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।
এ সময় বাংলাদেশ দলিল লেখক সমিতি ফরিদপুর জেলা শাখার সভাপতি মো. সাইফুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক সফিকুল ইসলাম সহ জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
স্মারকলিপিতে দলিল রেজিস্ট্রেশন পদ্ধতি আধুনিকায়নের নামে দলিল লেখকদের পেশাচ্যুত না করা, প্রতিটি দলিলের বিপরীতে ন্যূনতম ৫ হাজার টাকা সম্মানী ভাতা বাস্তবায়ন এবং লাইসেন্সপ্রাপ্ত দলিল লেখক ছাড়া অন্য কাউকে দলিলের মুসাবিদা ও রেজিস্ট্রেশনের জন্য দাখিলের সুযোগ না দেওয়ার দাবি জানানো হয়।
এছাড়া থানা, জেলা ও কেন্দ্রীয় কমিটির সুপারিশ ছাড়া অনভিজ্ঞ ব্যক্তিদের দলিল লেখার লাইসেন্স প্রদান না করা, থানা ও জেলা কার্যালয়ে সরকারি খরচে দলিল লেখকদের বসার স্থান ও নামাজের জায়গা নির্মাণ এবং পক্ষগণের সরবরাহ করা কাগজপত্রের ভিত্তিতে দলিল প্রস্তুত করার কারণে পেশাগত দায়িত্ব পালনরত দলিল লেখকদের আসামি না করার দাবি জানানো হয়েছে। স্মারকলিপিতে দলিল লেখক কাউন্সিল গঠনের অনুমতি দেওয়ার দাবি জানানো হয়।
বাংলাদেশ দলিল লেখক সমিতি ফরিদপুর জেলা শাখার সভাপতি মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, দীর্ঘদিন ধরে দলিল লেখকরা মানুষের জমি-জমা সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ কাজে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। তাদের পেশাগত অধিকার, নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। এ সময় তারা সরকারের কাছে দ্রুত ৭ দফা দাবি বাস্তবায়নের আহ্বান জানান।
সাইফুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশ দলিল লেখক সমিতির চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মো. এ রশিদ এবং মহাসচিব কে. এস. হোসেন টমাসের নেতৃত্বে এসব দাবি বাস্তবায়নে সারাদেশের দলিল লেখকেরা আজ ঐক্যবদ্ধ। সরকার দলিল লেখকদের যৌক্তিক দাবিগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
সাতক্ষীরা সদর থানা হাজতের ভেতরে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাসুদুর রহমানকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে। একই ঘটনায় ডিউটি অফিসার পিংকি রায় ও সহকারী ডিউটি অফিসার এনিভা খাতুনকেও বদলি করা হয়েছে। সোমবার (১৭ আগস্ট) সাতক্ষীরা জেলা পুলিশ এ সিদ্ধান্ত নেয়।
এর আগে, গত ১৫ আগস্ট সাতক্ষীরা শহরের সুলতানপুর এলাকা থেকে জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক কাজী আকতার হোসেন, কালীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য মাস্টার শফিকুল ইসলাম, জেলা তাঁতী লীগের সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হোসেন এবং পৌর ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি শেখ মোস্তাফিজুর রহমান শোভনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
এরপর অভিযোগ ওঠে, থানার ভেতরে ওসির বিশেষ অনুমতি নিয়ে আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতা-কর্মী হাজতের সামনে গিয়ে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং ভিডিও ধারণ করেন। পরে ওই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
ভিডিওতে জেলা তাঁতী লীগের সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হোসেনকে হাজতের ভেতর থেকে বক্তব্য দিতে দেখা যায়। তাকে বলতে শোনা যায়, ‘আজ ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী পুলিশ আমাদের অন্যায়ভাবে ধরে নিয়ে এসেছে। আমরা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।’ এ সময় তাকে ‘শেখ হাসিনা আসবে, বাংলাদেশ হাসবে’সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক স্লোগান দিতেও দেখা যায়।
সাতক্ষীরা সদর থানার একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, গত ১৫ আগস্ট দুপুর দুইটার দিকে জেলা তাঁতী লীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ আলমগীর কবিরসহ কয়েকজন আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মী থানায় অবস্থান করছিলেন। এ সময় আর্জেন্টিনার জার্সি পরা এক ব্যক্তি থানায় এসে অনুমতি নিয়ে তার সঙ্গে দেখা করেন এবং ভিডিও ধারণ করেন। ঘটনাটির ভিডিও থানার সিসিটিভি ক্যামেরায় সংরক্ষিত রয়েছে বলেও জানান ওই কর্মকর্তা।
এ ঘটনায় সাতক্ষীরা সদর থানার ওসি মাসুদুর রহমানকে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে ডিউটি অফিসার পিংকি রায় ও সহকারী ডিউটি অফিসার এনিভা খাতুনকে বদলি করা হয়েছে।
সদ্য প্রত্যাহার হওয়া ওসি মাসুদুর রহমানের বিরুদ্ধে এর আগেও বিভিন্ন অভিযোগ ওঠার দাবি করেছেন স্থানীয় কয়েকজন। সম্প্রতি সাতক্ষীরা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে এক সাংবাদিক ও এক জমিদাতা সিন্ডিকেটের হামলার শিকার হওয়ার ঘটনায় উল্টো ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা এবং পাল্টাপাল্টি মামলা দেওয়ার অভিযোগও তার বিরুদ্ধে রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, ভুক্তভোগীদের সহযোগিতা করার পরিবর্তে আর্থিক বা রাজনৈতিক স্বার্থে কাউন্টার মামলা বা পাল্টাপাল্টি মামলা দেওয়ার প্রবণতা ছিল। তার এমন ভূমিকার কারণে জেলা ছাত্রদলের সিনিয়র সহসভাপতি মনজুরুল আলম বাপ্পিসহ নেতা-কর্মীদের ওপর চিহ্নিত ব্যক্তিরা হামলার সাহস পেয়েছেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। একই সঙ্গে ১৫ আগস্টকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগের নিষিদ্ধ কর্মকাণ্ড বাড়ার অভিযোগও করা হয়েছে।
এসব ঘটনার প্রতিবাদে সোমবার বিকেলে ওসির স্থায়ী অপসারণ ও শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মানববন্ধন করে সাতক্ষীরা জেলা ছাত্রদল।
ঘটনাটি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাতক্ষীরা জেলা জজ আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) অ্যাডভোকেট কামরুজ্জামান ভুট্টো। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ হওয়ার পরও দলটির নেতা-কর্মীরা বিভিন্ন সময় সাতক্ষীরায় নিষিদ্ধ কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছেন। এসব ঘটনায় সদর থানার ওসির পক্ষ থেকে সব সময় কার্যকর পদক্ষেপ নিতে দেখা যায় না।
কামরুজ্জামান ভুট্টো বলেন, সম্প্রতি কয়েকজন আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মী গ্রেপ্তার হওয়ার পর থানা হাজতের ভেতরে তাদের দিয়ে ভিডিও ধারণ করে তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক। এ ঘটনায় শুধু ওসিকে বদলি করাই যথেষ্ট নয়, তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
তবে ভিডিও ধারণের ঘটনা সম্পর্কে ভিন্ন কথা বলেছেন সাতক্ষীরা জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মিথুন সরকার। তিনি বলেন, ভিডিও ধারণের বিষয়টি তাদের জানা নেই। আর ওসিসহ তিন পুলিশ কর্মকর্তার বদলির বিষয়টি নিয়মিত বদলির অংশ।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে সাতক্ষীরা সদর থানার সদ্য প্রত্যাহার হওয়া ওসি মাসুদুর রহমানের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।
জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় খাদ্যপণ্যের মোড়কে অতিরিক্ত লবণ, চিনি ও ট্রান্স ফ্যাটের পরিমাণ স্পষ্টভাবে উল্লেখ এবং ক্ষতিকর উপাদানসমৃদ্ধ খাবারে স্বাস্থ্য সতর্কবার্তা সংযুক্ত করার দাবিতে নরসিংদীর রায়পুরায় অবস্থান কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
গত সোমবার (১৭ আগস্ট) উপজেলা পরিষদ চত্বরে পিপলস ডেভেলপমেন্ট সোসাইটি (পিডিএস) ও সিটিজেন নেটওয়ার্কের উদ্যোগে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
এতে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা খলিলুর রহমান সরকার, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম, উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. বোরহান উদ্দিন, উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা শিখা আক্তার এবং পিপলস ডেভেলপমেন্ট সোসাইটির (পিডিএস) নির্বাহী পরিচালক মো. তাজুল ইসলামসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা।
অবস্থান কর্মসূচিতে বক্তারা বলেন, অতিরিক্ত লবণ, চিনি ও ট্রান্স ফ্যাটযুক্ত খাবার নিয়মিত গ্রহণের ফলে বিভিন্ন অসংক্রামক রোগের ঝুঁকি বাড়ছে। খাদ্যপণ্যের মোড়কে এসব উপাদানের পরিমাণ স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হলে ভোক্তারা পণ্য কেনার আগে এর পুষ্টিমান ও ক্ষতিকর উপাদান সম্পর্কে জানতে পারবেন এবং সচেতনভাবে খাদ্যপণ্য নির্বাচন করতে পারবেন।
বক্তারা আরও বলেন, শুধু উপাদানের পরিমাণ উল্লেখ করাই নয়, অতিরিক্ত লবণ, চিনি ও ট্রান্স ফ্যাটসমৃদ্ধ খাদ্যপণ্যের মোড়কে সহজে দৃশ্যমান স্বাস্থ্য সতর্কবার্তা সংযুক্ত করা প্রয়োজন। এতে ভোক্তাদের মধ্যে সচেতনতা বাড়বে এবং অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
পিপলস ডেভেলপমেন্ট সোসাইটির (পিডিএস) নির্বাহী পরিচালক মো. তাজুল ইসলাম বলেন, “অতিরিক্ত লবণ, চিনি ও ট্রান্স ফ্যাটযুক্ত খাবার গ্রহণের কারণে অসংক্রামক রোগের ঝুঁকি বাড়ছে। জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় খাদ্যপণ্যের মোড়কে এসব উপাদানের পরিমাণ স্পষ্টভাবে উল্লেখ ও স্বাস্থ্য সতর্কবার্তা সংযুক্ত করা জরুরি।”
তিনি আরও বলেন, এ বিষয়ে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের মাধ্যমে খাদ্য মন্ত্রণালয়ে স্মারকলিপি প্রদান এবং অ্যাডভোকেসি সভা করা হয়েছে। জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় কার্যকর নীতিমালা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত পদক্ষেপ কামনা করেন তিনি।
অবস্থান কর্মসূচি থেকে খাদ্যপণ্যের মোড়কে লবণ, চিনি ও ট্রান্স ফ্যাটের পরিমাণ উল্লেখ, ক্ষতিকর উপাদানসমৃদ্ধ খাবারে স্বাস্থ্য সতর্কবার্তা সংযুক্ত এবং জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় কার্যকর নীতিমালা বাস্তবায়নের দাবি জানানো হয়।
চোরের আস্তানা থেকে উদ্ধার হয়েছিল পাঁচটি গরু। কিন্তু উদ্ধার হওয়ার পরও শেষ হয়নি তাদের দুর্ভোগ। মালিকের সন্ধান না মেলায় গরুগুলোর ঠাঁই হয়েছে নওগাঁর রানীনগর থানার প্রাঙ্গণে। তবে সেখানে অবহেলায় নয়, বরং পরম যত্ন আর মমতায় চলছে তাদের লালন-পালন। আর এরই মধ্যে থানার শেড ঘরেই নতুন অতিথির আগমন একটি গাভী জন্ম দিয়েছে ফুটফুটে এঁড়ে বাছুর। ব্যতিক্রমী এ ঘটনায় এলাকায় যেমন কৌতূহল তৈরি হয়েছে, তেমনি থানার ওসি মোহাম্মদ জাকারিয়া মণ্ডলের মানবিক উদ্যোগও প্রশংসা কুড়িয়েছে।
প্রায় এক মাস ধরে থানার প্রাঙ্গণেই রয়েছে উদ্ধার হওয়া পাঁচটি গরু। চুক্তিভিত্তিক একজন লোকের মাধ্যমে নিয়মিত খাবার, পরিচর্যা ও দেখভালের ব্যবস্থা করেছেন থানার ওসি। শুধু তাই নয়, উপজেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগের মাধ্যমে গরুগুলোর স্বাস্থ্য পরীক্ষাও অব্যাহত রয়েছে। বর্তমানে মা ও বাছুরসহ সবগুলো গরুই সুস্থ ও স্বাভাবিক রয়েছে।
থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত জুলাই মাসে নওগাঁর রানীনগর, আত্রাই, বদলগাছী ও মহাদেবপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় একাধিক ডাকাতির ঘটনা ঘটে। ধারাবাহিক এসব ঘটনার রহস্য উদঘাটনে পুলিশ সুপারের নেতৃত্বে ঘটনাগুলো পর্যালোচনা করে কয়েকটি চৌকস দল গঠন করা হয়। গোয়েন্দা তথ্য, প্রযুক্তিগত ডাটা বিশ্লেষণ ও বিভিন্ন তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে প্রথমে শনাক্ত করা হয় গরু চুরির সঙ্গে জড়িত এক কুখ্যাত চোরকে।
এরই ধারাবাহিকতায় পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলামের নির্দেশে গত ১৪ জুলাই সন্ধ্যায় জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও রানীনগর থানা পুলিশ যৌথ অভিযান শুরু করে। পরে র্যাবের সহযোগিতায় নাটোরের নলডাঙ্গা থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে নওগাঁর কুখ্যাত গরু চোর আসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে আসলাম চোরাই গরু রাখার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেয়। সেই তথ্যের ভিত্তিতে পরদিন ১৫ জুলাই ভোর রাতে নাটোরের সিংড়া উপজেলার ছোট চৌগ্রামে অসিতের বাড়িতে অভিযান চালায় পুলিশ। সেখানে অসিতকে আটক করার পর তার গোয়ালঘরে তল্লাশি চালিয়ে উদ্ধার করা হয় পাঁচটি চোরাই গরু। উদ্ধার হওয়া গরুগুলোর মধ্যে একটি ছিল গর্ভবতী।
এরপর গরুগুলোর প্রকৃত মালিকের সন্ধান শুরু করে পুলিশ। কিন্তু দীর্ঘ সময়েও মালিকের সন্ধান না মেলায় আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী গরুগুলোকে রানীনগর থানা প্রাঙ্গণে রাখার ব্যবস্থা করা হয়। সেই থেকে থানার আঙিনাতেই চলছে তাদের নতুন জীবন।
এদিকে কিছুদিন পর গর্ভবতী গাভীটি একটি এঁড়ে বাছুর জন্ম দিলে থানার পরিবেশেও যেন যোগ হয় ভিন্ন এক আবহ। পুলিশ সদস্যদের ব্যস্ততার মাঝেই মা ও বাছুরের যত্নে নেওয়া হচ্ছে বাড়তি নজর। বিষয়টি ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মধ্যেও ব্যাপক আগ্রহ ও সাড়া তৈরি হয়।
রানীনগর থানার ওসি মোহাম্মদ জাকারিয়া মণ্ডল বলেন, ‘গরুগুলোর প্রকৃত মালিকের সন্ধান না পাওয়া পর্যন্ত আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী থানায় রাখা হয়েছে। গরুগুলোর যাতে কোনো ধরনের কষ্ট না হয়, সে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে নিয়মিত দেখভালের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এর মধ্যে একটি গাভী বাছুর জন্ম দিয়েছে। বর্তমানে মা ও বাছুরসহ সবগুলো গরুই সুস্থ আছে।’
তিনি জানান, চলতি সপ্তাহের মধ্যে প্রকৃত মালিকের সন্ধান না পাওয়া গেলে আগামী সপ্তাহে আদালতের কাছে গরুগুলো প্রকাশ্য নিলামে বিক্রির অনুমতি চাওয়া হবে। আদালতের অনুমতি পাওয়া গেলে নিয়ম অনুযায়ী নিলাম অনুষ্ঠিত হবে। নিলাম থেকে পাওয়া অর্থের মধ্য থেকে গরুগুলোর এতদিনের লালন-পালনের ব্যয়ও নিয়ম অনুযায়ী সমন্বয় করা হবে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় এক অদ্ভুত ও অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার প্রেক্ষিতে বিয়ে ভেঙে গেছে। বিয়ের ভোজে বরপক্ষের জন্য সাজানো বড় থালায় (খদরে) খাসির মাংস না থাকায় চরম ক্ষুব্ধ হয়ে বিয়ে না করেই কনের বাড়ি ত্যাগ করেছেন জাপানপ্রবাসী বর জুনায়েদ। গত সোমবার (১৭ আগস্ট) বিকেলে উপজেলার ধরখার ইউনিয়নের তোলাতালা গ্রামে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটে। বর জুনায়েদ পার্শ্ববর্তী কসবা উপজেলার নিয়ামতপুর গ্রামের আব্দুল জলিলের পুত্র।
প্রত্যক্ষদর্শী ও কনেপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, আনন্দঘন পরিবেশে আত্মীয়স্বজনসহ কনের বাড়িতে পৌঁছালে জুনায়েদকে ফুল দিয়ে সাড়ম্বরে বরণ করে নেওয়া হয়। গেট ও বরণ অনুষ্ঠান শেষে বরকে আপ্যায়নের জন্য নির্ধারিত স্থানে বসানো হয়। অন্যান্য অতিথিদের খাওয়া-দাওয়ার পর বরের জন্য বিশেষ থালায় খাবার পরিবেশন করা হয়। কিন্তু খাবারের মেন্যুতে খাসির মাংস অনুপস্থিত থাকায় জুনায়েদ হঠাৎ বেঁকে বসেন। তিনি সাফ জানিয়ে দেন যে, খাসির মাংস ছাড়া তিনি ভোজন করবেন না এবং এই অবস্থায় বিয়ের কোনো আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করবেন না।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে কনেপক্ষের মুরুব্বি ও আত্মীয়স্বজনরা তাঁকে অনেক অনুনয়-বিনয় ও বোঝানোর চেষ্টা করলেও তিনি তাঁর সিদ্ধান্তে অনড় থাকেন। এক পর্যায়ে কোনো উপায় না দেখে এবং নিজের জিদ বজায় রেখে তিনি একাই কনের বাড়ি থেকে চলে যান। কনের পিতা শফিক মিয়া অত্যন্ত ভারাক্রান্ত কণ্ঠে বলেন, “আমাকে আগে জানানো হলে খদরে খাসির ব্যবস্থা করতাম। এ বিষয়ে আমাকে আগে কিছুই বলা হয়নি। এরপরও আমরা সবাই ছেলেকে বোঝানোর চেষ্টা করেছি কিন্তু তিনি কোনোভাবেই রাজি হননি।”
স্থানীয় ইউপি সদস্য আশিক মিয়া এই ঘটনাকে ‘অত্যন্ত দুঃখজনক’ অভিহিত করে বলেন, সামান্য খাবারের বিষয় নিয়ে এমন অনমনীয় আচরণ কারও কাম্য নয়। একটি সুন্দর সম্পর্কের এমন অপমৃত্যুতে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলায় বাড়ির আঙ্গিনায় রাখা একটি প্লাস্টিকের ড্রাম থেকে ১৪ দিন বয়সী এক নবজাতক শিশুর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গত সোমবার রাত ১০টার দিকে উপজেলার মীরওয়ারিশপুর ইউনিয়নের মজুমদারহাট এলাকায় এই বিয়োগান্তক ঘটনাটি ঘটে। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের অভিযোগে শিশুটির মা ফাতেমা বেগমকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের নভেম্বরে সৌরভ হোসেন ও ফাতেমা বেগমের বিয়ে হয় এবং গত ৪ আগস্ট তাঁদের কোলজুড়ে এক পুত্রসন্তান আসে। সোমবার সন্ধ্যা থেকে শিশুটিকে খুঁজে না পাওয়ায় পরিবারের সদস্যদের মনে সন্দেহের সৃষ্টি হয়। ফাতেমার কাছে জানতে চাইলে তিনি অসংলগ্ন ও বিভ্রান্তিকর তথ্য দিতে থাকেন। তিনি কখনও দাবি করেন যে কেউ তাঁকে আঘাত করে শিশুটিকে নিয়ে গেছে, আবার কখনও দাবি করেন ‘শিশুটিকে জিনে নিয়ে গেছে’। তাঁর এমন অসংলগ্ন কথাবার্তায় পরিবারের লোকজন তল্লাশি শুরু করলে এক পর্যায়ে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের জন্য রাখা একটি ড্রামে নবজাতকটির নিথর দেহ পাওয়া যায়।
পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে ফাতেমা বেগম তাঁর সন্তানকে ড্রামের পানিতে চুবিয়ে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, নবজাতকটি সারাদিন কান্নাকাটি করত এবং তাঁকে ঘুমাতে দিত না, যার ফলে চরম ক্ষুব্ধ হয়ে তিনি এই অমানবিক পথ বেছে নেন। এ বিষয়ে বেগমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শামসুজ্জামান গণমাধ্যম-কে বলেন, ‘নবজাতককে পানিতে ফেলে হত্যার অভিযোগে তার মাকে পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। ঘটনাটি তদন্ত করে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ওই নবজাতকের পরিবারকে লিখিত অভিযোগ দিতে বলা হয়েছে।’ এই ঘটনায় এলাকায় গভীর শোক ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের উদ্যোগে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের শারাফাত চৌধুরী মাল্টি-পারপাস হলে গতকাল অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘জুলাইয়ের কণ্ঠস্বর: তারুণ্য, প্রত্যয় ও প্রতিরোধ’ শীর্ষক এক বিশেষ আলোচনা সভা। উক্ত অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টি বোর্ডের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান এবং উপাচার্য (মনোনীত) আমন্ত্রিত অতিথি ও শিক্ষার্থীদের আমন্ত্রণ জানান।
অনুষ্ঠানে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ এমপি প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য উপস্থাপন করেন কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের ট্রাস্টি বোর্ডের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও কিংবদন্তী ধারাভাষ্যকার চৌধুরী জাফরউল্লাহ শারাফাত। এছাড়াও উল্লেখিত বিষয়ের ওপর বিশেষ আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান মোহাম্মদ সানজাদ শেখ।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের ভাইস চ্যান্সেলর (মনোনীত) অধ্যাপক ড. এইচ এম জহিরুল হক। বক্তারা তাদের গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য তুলে ধরেন এবং তরুণ সমাজকে প্রগতি ও দেশ গঠনে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের প্রধান, শিক্ষক, কর্মকর্তা এবং শিক্ষার্থীরা এ সময় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
জনাব ববি হাজ্জাজ বলেন, ১৮ জুলাই কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটির সামনে আমি আন্দোলনে ছিলাম। ৫ আগস্টের মাত্র তিন দিন পরেই এই বিশ্ববিদ্যালয় প্রথম ক্লাস শুরু করে। আমি অবাক হয়েছি আপনাদের এই তৎপরতা দেখে। আমি নিজে দেখেছি ৪০ জন সশস্ত্র পুলিশ সদস্যরা ক্যাম্পাস দখলে নিয়েছিল। ভবন ভাঙচুর করে ছিল। এই ভগ্নদশা থেকে এত জলদি শিক্ষার্থীদের ক্লাসে ফেরানো বেশ চ্যালেঞ্জিং ছিল। যেটা কানাডিয়ান বিশ্ববিদ্যালয় করে দেখিয়েছে।
প্রতিষ্ঠার মাত্র এক দশকেই বিশ্ববিদ্যালয় তার শিক্ষার মানের কারণে অনেক দূর এগিয়েছে বলে প্রশংসা করেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী।
এ ছাড়াও ডিপার্টমেন্ট অব শিপিং অ্যান্ড মেরিটাইন সায়েন্স চালু করে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দক্ষ জনশক্তি তৈরি করছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও কিংবদন্তি ধারাভাষ্যকার চৌধুরী জাফরউল্লাহ শারাফাত বলেন, শিক্ষার্থীদের উন্নয়নে যা যা করণীয় বিশ্ববিদ্যালয় ট্রাস্টি বোর্ড তাই করবে। এ জন্য শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে একটি রূপরেখা আহ্বান করেছেন তিনি।
এ সময় শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে অধ্যাপক ড. এইচ এম জহিরুল হক বলেন, সমাজ পরিবর্তন করতে হলে নিজেকে পরিবর্তন করতে হবে। এজন্য নিজের উজ্জ্বল ক্যারিয়ার গড়তে হবে। সবশেষে উপস্থিত অতিথি ও শিক্ষার্থীদের ধন্যবাদ জানিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (ববি) একমাসে শিক্ষার্থীদের মধ্যে কমপক্ষে পাঁচটি সংঘাতের ঘটনা ঘটেছে। পাঁচ সংঘাতের মধ্যে একটিরও দৃশ্যমান বিচার করতে পারেনি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। বিচারকার্যে প্রশাসনের এই ব্যর্থতার কারনেই শিক্ষার্থীরা তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে একে অপরের সাথে সংঘর্ষে জড়াচ্ছে বারবার। একমাসে পৃথক চারটি ঘটনায় আটটি বিভাগের শিক্ষার্থীরা একে অপরের সাথে সংঘাতে জড়িয়েছে বলে তথ্য পাওয়া গেছে।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র ও সংঘর্ষের সাথে জড়িত বিভাগগুলোর শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলে জানাগেছে, গত ৩০ দিনে ইংরেজি-অর্থনীতি, সমাজবিজ্ঞান-আইন, গণিত-গণযোগাযোগ ও বাংলা-ইতিহাস এই আটটি বিভাগের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। আরেকটি সংঘর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়ের দুটি ছাত্রসংগঠন ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্য সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।
ঘটনাগুলোতে তিনটি তদন্ত কমিটি গঠিত হলেও অদৃশ্য কারণে তদন্ত কার্যক্রম আগায়নি। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বলছে তদন্ত রিপোর্ট জমা হওয়ার পরে ব্যবস্থা নেয়া হবে কিন্তু রিপোর্টই দিতে গড়িমসি করছেন তদন্ত কমিটি। একটি সূত্র জানিয়েছে গঠিত কমিটি নানা বাহানায় সময় বৃদ্ধি করে প্রতিবেদন জমা দিতে দেরি করছেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মুস্তাফিজুর রহমান সৌরভ বলেন, অপরাধীদের শাস্তি নিশ্চিতে এসকল সংঘর্ষের ঘটনা এড়ানো যেত। শাস্তি নিশ্চিতে হলে সবার কাছে একটি মেসেজ যেত, যাতে করে এ সকল সংঘর্ষ আর ঘটত না। ঘটলেও সংঘর্ষের তীব্রতা বাড়ত না। ভবিষ্যতে এমন ঘটনা এড়ানোর জন্য প্রশাসনের উচিত সুস্থ তদন্তে অপরাধীদের বিশ্ববিদ্যালয়ে শৃঙ্খলা ভঙ্গের আইনে নিয়ে এসে শাস্তি নিশ্চিত করা।
গত ১৫ আগস্ট রাতে ছাত্রীকে প্রেমের প্রস্তাব ও উত্ত্যক্তের অভিযোগকে কেন্দ্র করে ইংরেজি ও অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটে। রাত ৯টা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত সংঘর্ষে দুই বিভাগের অন্তত ১০ শিক্ষার্থী আহত হন বলে জানা যায়। এ সময় আহত শিক্ষার্থীদের হাসপাতালে নেওয়ার পথে বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাম্বুলেন্স থেকে নামিয়ে মারধর এবং চালককেও মারধরের অভিযোগ উঠেছে এই সংঘর্ষে থেকে।
গত ৫ আগস্ট ‘অদম্য জুলাই’ মিছিলে বহিরাগত অভিযোগে শিবির-ছাত্রদলের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে দুই পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি মনিরুল ইসলামের পায়ে রক্তক্ষরণ হয়েছে। ছাত্রদলের কয়েকজন নেতাকর্মীও ঘটনাস্থলে আহত হন। এসংঘর্ষের উভয় পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হন। সংঘর্ষের পর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর শিবির ও ছাত্রদলের সাথে বসলেও দৃশ্যমান কোনো বিচার বা পদক্ষেপ নেয়নি।
এর আগে ১৫ জুলাই বিশ্ববিদ্যালয় ‘বিজয়-২৪’ হলে ডেকে নিয়ে বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী মো. ইনামুল হকের ওপর ইতিহাস বিভাগের কিছু শিক্ষার্থী হামলা করে। হলের দ্বিতীয় তলার করিডোরে এই ঘটনা ঘটে। ঐ ঘটনায় ইনামুল হক বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ জমা দেন। অভিযোগে তিনি বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি মো. মোশাররফ হোসেন, সাংস্কৃতিক সম্পাদক অংকন এবং ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী সাকিবসহ ২০-২৫ জনকে অভিযুক্ত করেন।
এঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষার্থী সাকিবও ইনামুল হকের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ জমা দেয় প্রক্টর অফিসে। ঘটনা তদন্তের জন্য চার সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠিত হলেও কমিটি এখনো তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে পারেনি।
এরও আগে ২০ জুলাই ফুটবল বিশ্বকাপের ফাইনাল খেলার দিন পূর্ববিরোধের জেরে আইন ও সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে বিভাগ দুটির শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায়ও কোনো বিচার করতে পারেনি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
একদিন ও গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ঐ সংঘর্ষের সংবাদ সংগ্রহে জন্য সাংবাদিকদের উপস্থিত হলে তারাও হামলার স্বীকার হন। সংঘর্ষটির তদন্ত কমিটি গঠিত হলেও এখনো তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে পারেনি কমিটিটি।
বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক ও বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী আরিফ হোসেন শান্ত, ইতিহাসের সাথে বাংলা বিভাগের জুনিয়র দ্বারা সিনিয়র সংঘর্ষ হলো তখন ঐটার বিচারহীনতায় পরবর্তীতে রাষ্ট্রবিজ্ঞানের সাথে আইন বিভাগ, গণিত সাথে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ ও অর্থনীতির সাথে ইংরেজী বিভাগের সংঘর্ষ এভাবে ধারাবাহিক ভাবে ডিপার্টমেন্ট বাই ডিপার্টমেন্ট চলতেই আছে। যদি অতীতের ঘটনার সুস্থ ভাবে বিচার হতো তাহলে এতো দূর পর্যন্ত গড়াতো না, যেটা আমি মনে করি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর সহযোগী অধ্যাপক মো.মেহেদী হাসান বলেন, যেসব বিভাগের শিক্ষার্থীরা সংঘর্ষে জড়িয়েছে আমরা তাদের বিভাগের চেয়ারম্যানদের সাথে বসেছি। এই সংঘর্ষের পিছনে আমাদের মনে হয়েছে তাদের অস্বাভাবিক আচরণের পিছনে মাদকাসক্তি থাকতে পারে। আমরা পুলিশের সাথে কথা বলেছি। তারা আমাদের হেল্প করতে চেয়েছে। আমি দায়িত্ব গ্রহণের পরে যতগুলো ঘটনা ঘটেছে সবগুলো তদন্ত কমিটি আমি দ্রুত সময়ের মধ্যে করে ফেলেছি। তদন্ত কমিটি রিপোর্ট শৃঙ্খলা কমিটিতে জমা দিবে। তদন্ত কমিটি ও শৃঙ্খলা কমিটির সিন্ধান্ত হবে সিন্ডিকেটে। সিন্ডিকেট চূড়ান্ত সিন্ধান্ত গ্রহণ করবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. মামুন অর রশিদ বলেন, ইতোমধ্যে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত কমিটি রিপোর্ট জমা দিলে, বিচার নিশ্চিত কারার আশ্বস্ত করেছেন উপাচার্য।
প্রশাসনকে ঢেলে সাজাতে শিগগিরই ‘জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন’ গঠন করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক ও কৃষিবিষয়ক উপদেষ্টা নজরুল ইসলাম খান। তিনি বলেছেন, সংস্কার কমিশনে যাতে ভূত-টুত না থাকে সে বিষয়টি আগে নিশ্চিত করতে হবে। এজন্য একটু সময় লাগছে। তবে, দ্রুতই কমিশন গঠন হবে।
সোমবার (১৭ আগস্ট) দুপুরে সরকারের ১৮০ দিন পূর্তি উপলক্ষে এক মতবিনিময় সভায় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এই তথ্য জানান। রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্র শাপলায় এই মতবিনিময় সভা হয়।
সভায় প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসনবিষয়ক উপদেষ্টা ইসমাইল জবিহউল্লাহ বলেন, জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন করার জন্য নির্বাচনী ইশতেহারে যে কথা বলা আছে সরকার সেই পয়েন্ট থেকে সরে আসেনি। বরং সেই লক্ষ্যেই কাজ করছে।
তিনি আরও বলেন, সংস্কার করার জন্য অন্তর্বর্তী সরকারের সময় রিপোর্ট দেওয়া হয়েছিল। সেটাও আমরা লক্ষ্য করেছি। খুব শিগগিরই জনপ্রশাসন সংস্কারে আনুষ্ঠানিকভাবে কমিশন করতে যাচ্ছি।
সভায় গণমাধ্যম কমিশন গঠনের কাজও চলছে বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে আমরা অংশীদারদের সঙ্গে বৈঠক করার উদ্যোগ নিয়েছি এবং অংশীদারদের সঙ্গে বৈঠকের কাজও প্রায় শেষ করেছি। এখন আমরা ওয়ার্কিং গ্রুপ করব। তারা একটা ন্যাশনাল অ্যাকশন প্ল্যানের ড্রাফট তৈরি করবেন। তারপর আমরা এটা মন্ত্রিসভার কাছে উপস্থাপন করব।
এসএসসি পরীক্ষার খাতা পুনঃমূল্যায়নে ১২ লাখের বেশি আবেদন জমা পড়ার পর এ বিষয়ে নতুন নীতিমালা তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। কোন ধরনের খাতা পুনঃমূল্যায়নের আওতায় আসবে এবং কোনগুলো পুনঃমূল্যায়ন করা হবে না—নীতিমালায় তা নির্ধারণ করা হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
সোমবার (১৭ আগস্ট) গণমাধ্যমকর্মীদের প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, খাতা পুনঃমূল্যায়নের সুযোগ দেওয়ার পর বিপুলসংখ্যক আবেদন জমা পড়েছে। ফলে প্রত্যেক শিক্ষার্থীর প্রতিটি খাতা পুনরায় পরীক্ষা করা বাস্তবসম্মত নয়। তিনি বলেন, ২০ লাখ শিক্ষার্থীর প্রত্যেকের খাতা পুনরায় দেখা সরকারের পক্ষে সম্ভব নয়। এ কারণে পুনঃমূল্যায়নের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট মানদণ্ড নির্ধারণ করা প্রয়োজন।
শিক্ষামন্ত্রী জানান, ইতোমধ্যে ১২ লাখের বেশি আবেদন জমা পড়েছে। এসব আবেদনের নিষ্পত্তি করে শিক্ষার্থীদের কলেজে ভর্তি কার্যক্রমও এগিয়ে নিতে হবে। বিপুলসংখ্যক খাতা পুনঃমূল্যায়ন করতে গেলে ভর্তি প্রক্রিয়ায়ও বিলম্ব হতে পারে বলে তিনি জানান।
আবেদনগুলোর বর্তমান অবস্থা নিয়ে মিলন বলেন, বর্তমানে যারা আবেদন করেছে, তাদের ক্ষেত্রে টেবুলেশন শিট ও নিরীক্ষার বিষয়গুলো যাচাই করা হবে। যেসব খাতায় গুরুতর সমস্যা বা অসঙ্গতি পাওয়া যাবে, সেগুলোকে অগ্রাধিকার দিয়ে দেখা হবে।
তিনি আরও বলেন, ‘পাবলিক এক্সামিনেশনস (অফেন্সেস) (অ্যামেন্ডমেন্ট) অ্যাক্ট, ১৯৮০’ সংশোধনের মাধ্যমে খাতা পুনঃমূল্যায়নের সুযোগ চালু করা হয়েছিল। তবে এবারের অভিজ্ঞতায় বিপুলসংখ্যক আবেদন আসায় এর প্রয়োগের ক্ষেত্রে একটি সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রয়োজন হয়ে পড়েছে।
খাতা পুনঃমূল্যায়নের মাধ্যমে পরীক্ষকদের মূল্যায়ন পদ্ধতিও যাচাই করা হবে বলে জানান শিক্ষামন্ত্রী। কোনো পরীক্ষক খাতা যথাযথভাবে মূল্যায়ন করেছেন কি না, নম্বর দেওয়ার ক্ষেত্রে অস্বাভাবিকতা রয়েছে কি না—এসব বিষয়ও পর্যালোচনা করা হবে। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট পরীক্ষকদের প্রশিক্ষণের আওতায় আনার কথাও জানান তিনি।
সরকারের নতুন নীতিমালায় কোন ধরনের খাতা পুনঃমূল্যায়নযোগ্য হবে এবং কোন ক্ষেত্রে আবেদন গ্রহণ করা হবে না—তা স্পষ্ট করা হবে। এর মাধ্যমে একদিকে শিক্ষার্থীদের ন্যায্যতা নিশ্চিত করার চেষ্টা থাকবে, অন্যদিকে বিপুলসংখ্যক খাতা পুনঃমূল্যায়নের কারণে কলেজে ভর্তি কার্যক্রমে সম্ভাব্য দীর্ঘসূত্রতা এড়ানোর লক্ষ্য থাকবে।
বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন, কারখানায় তালা ঝুলছে দীর্ঘদিন ধরে—অথচ কাগজপত্রে সেই ভূতুড়ে মিলের পেতেই চালান হয়ে গেল বিপুল পরিমাণ সরকারি গম! নরসিংদী জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কার্যালয়ের অসাধু কর্মকর্তাদের যোগসাজশে বন্ধ একটি ফ্লাওয়ার মিলের নামে ১০০ মেট্রিক টন গম বরাদ্দ দিয়ে তা হরিলুটের চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। অচল মিলে সরকারি সম্পদ বরাদ্দের খবর চাউর হতেই নরসিংদী খাদ্য দপ্তরে শুরু হয়েছে তীব্র তোলপাড়। অনিয়ম ঢাকতে তড়িঘড়ি করে গঠন করা হয়েছে তদন্ত কমিটি, চলছে একে অপরের ঘাড়ে দায় চাপানোর মহোৎসব।
সরকারি বিধিমালা অনুযায়ী, নরসিংদী জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কার্যালয় তালিকাভুক্ত চারটি ফ্লাওয়ার মিলের মাধ্যমে গম ভাঙিয়ে সমপরিমাণ ফলিত আটা সরকারি গুদামে জমা নিয়ে থাকে। এই তালিকার অন্যতম প্রতিষ্ঠান কারারচরের ‘মেসার্স মেরাজ ফ্লাওয়ার মিল’। বিপুল পরিমাণ বিদ্যুৎ বিল বকেয়া থাকায় চলতি বছরের ৭ জুন থেকেই পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি মিলটির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়। এর আগে ঈদুল আজহার সময় থেকেই কারখানাটির সমস্ত উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ ছিল।
অথচ এই সম্পূর্ণ অচল ও বিদ্যুৎহীন মিলটির অনুকূলে গত ১৩ জুলাই প্রায় ১৯ লাখ টাকা বাজারমূল্যের ১০০ মেট্রিক টন ওএমএস-এর গম বরাদ্দ দেওয়া হয় (বিলি আদেশ বা ডিও নং-০১০৪৫৩, সিডিভি নং-২৬২৭-০০০৩২৮৫৬৮৪)। বরাদ্দপত্রে স্বাক্ষর করেন নরসিংদী সদর উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক জান্নাতি ময়না এবং ডিও গ্রহণ করেন মিল মালিক মো. মিরাজ আলম ভূঁইয়া। সচল অন্য তিনটি মিল থাকা সত্ত্বেও কোনো স্বার্থে একটি বিদ্যুৎহীন বন্ধ কারখানায় এত বড় চালান পাঠানো হলো, তা নিয়ে জনমনে বিস্তর প্রশ্ন উঠেছে।
ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর এবং স্থানীয় সাংবাদিকরা খোঁজখবর নেওয়া শুরু করলে বিপাকে পড়ে জেলা খাদ্য দপ্তর। অনিয়ম ও থলের বিড়াল আড়াল করতে ২৬ জুলাই তড়িঘড়ি করে একটি আদেশ জারি করা হয় (স্মারক নং-১৩.০১.৬৮০০.০০০.০০০.৫৭.০০০৯.২৫.৬২৮)। উক্ত আদেশে মেরাজ ফ্লাওয়ার মিলের নামে থাকা অবশিষ্ট ৭৬.৬০০ মেট্রিক টন গমের উপবরাদ্দ বাতিল করে বাকি তিনটি সচল মিলের মধ্যে বণ্টন করে দেওয়া হয়। একই সাথে প্রশাসনিক দায় এড়াতে গঠন করা হয় একটি তদন্ত কমিটি।
সরেজমিনে কারারচরস্থ মেসার্স মেরাজ ফ্লাওয়ার মিলে গিয়ে দেখা যায়, কারখানাটি দীর্ঘদিন ধরে ভুতুড়ে অবস্থায় বন্ধ পড়ে আছে এবং বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন। মিল মালিক মো. মিরাজ আলম ভূঁইয়া দাবি করেন, ‘আমার মিলে বিদ্যুৎ না থাকায় আমি অন্য মিল থেকে গম পেষন করে সরকারি গুদামে জমা দিয়েছি।’ তবে সরকারি নিয়ম লঙ্ঘন করে নিজস্ব মিলের বাইরে অন্য কোথায় গম ভাঙানো হলো এবং আদৌ পুরো ১০০ টন গম পেষন হয়েছে নাকি কালোবাজারে বিক্রি করে হিসাব মেলানো হয়েছে—তার কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে, পুরো কেলেঙ্কারির বিষয়ে জানতে চাইলে দায় এড়িয়ে যান নরসিংদী জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা মোহাম্মদ ছালেহ উদ্দিন। তিনি বলেন, আমি বিস্তারিত কিছুই জানি না। কাগজপত্র আমার কাছে আসলে আমি শুধু স্বাক্ষর করি, বাকি সব কাজ উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা করেন।
উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক জান্নাতি ময়না অবশ্য জানান, মিল বন্ধের বিষয়ে মালিক আমাদের আগে অবহিত করেননি। তদন্তে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকার সত্যতা মিলেছে, তবে বরাদ্দকৃত ১০০ মেট্রিক টন গমের আটা তারা গুদামে জমা দিয়েছেন।
অভিজ্ঞ মহলের মতে, বন্ধ মিলের নামে বরাদ্দ দেখিয়ে সরকারি খাদ্যশস্য তুলে নেওয়ার ঘটনাটি কোনো সাধারণ ভুল নয়; এটি কর্মকর্তা ও মিল মালিকের সুপরিকল্পিত আর্থিক দুর্নীতি। সরকারি গম নিজস্ব মিলে না ভাঙিয়ে বাইরে নিয়ে যাওয়ার পেছনে বড় ধরনের গম চোরাচালানের সিন্ডিকেট সক্রিয় রয়েছে। স্থানীয়রা অনতিবিলম্বে এ ঘটনায় জড়িত অসাধু কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য খাদ্য মন্ত্রণালয় ও দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।