নাটোরের সিংড়া উপজেলা পরিষদের নির্বাচন থেকে নিজের প্রার্থিতা প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছেন চেয়ারম্যান প্রার্থী লুৎফুল হাবীব রুবেল। রুবেল ডাক টেলিযোগাযোগ, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকের শ্যালক।
আজ রোববার নাটোরের গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে পাঠানো ভিডিও বার্তায় নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন রুবেল।
ভিডিওতে নিজেকে ষড়যন্ত্রের শিকার দাবি করে লুৎফুল হাবীব রুবেল বলেন, ২০০২ সাল থেকে ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত, ২০০৫ সালে সিংড়া গোল ই আফরোজ কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি ছিলেন, বর্তমানে উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্বরত। গত ৩ তারিখে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে পদত্যাগ করেন। ইউনিয়ন পরিষদেও পরপর তিনবার নির্বাচিত হন।
গত ৮ তারিখে উপজেলা পরিষদের নির্বাচনের জন্য মনোনয়নপত্র জমা দেন। তারপর যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে তার সঙ্গে তিনি জড়িত নন। তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র হয়েছে। তাকে নির্বাচন থেকে দূরে রাখতে বিভিন্ন মহল সক্রিয় আছে।
রুবেল আরও বলেন, উপজেলা পরিষদের নির্বাচন নিয়ে প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা দিয়েছেন যে, কোনো মন্ত্রী-সংসদ সদস্যের আত্মীয়-স্বজন নির্বাচন করতে পারবে না। তারই আলোকে এই ঘোষণার প্রতি শ্রদ্ধা রেখে এবং প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকের নির্দেশনা অনুযায়ী মনোনয়নপত্রটি প্রত্যাহার করে নিয়েছেন তিনি। অফিসিয়াল যে প্রক্রিয়াগুলো রয়েছে সেগুলো যত দ্রুত সম্ভব সম্পন্ন করবেন।
ভিডিও বার্তার বিষয়ে কথা বলতে লুৎফুল হাবীব রুবেলের মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তা বন্ধ পাওয়া যায়।
সিংড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সিংড়া পৌরসভার মেয়র মো. জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন, ভিডিওটি তাকেও পাঠানো হয়েছে এবং রুবেলের পক্ষের লোকজন ফোন দিয়ে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তের বিষয়টি তাকে জানিয়েছেন।
পবিত্র ঈদুল আজহা ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে রূপগঞ্জে জমে উঠেছে কোরবানির প্রস্তুতি। পশুর হাটের পাশাপাশি এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন কসাই সরঞ্জাম ও মাংস কাটার উপকরণ বিক্রেতারা। উপজেলার বিভিন্ন সড়ক, অলিগলি ও বাজারের মোড়ে থরে থরে সাজানো দেখা যাচ্ছে হোগলা, প্লাস্টিক ও মাংস কাটার কাঠের খাটিয়া কিংবা গাছের গুঁড়ি।
ঈদকে কেন্দ্র করে অস্থায়ী দোকানগুলোতে বিভিন্ন আকার ও দামের এসব পণ্যের পসরা বসেছে। বিক্রেতারা জানান, সর্বনিম্ন ২০০ টাকা থেকে শুরু করে ৬০০ টাকা পর্যন্ত দামে খাটিয়া বিক্রি হচ্ছে। এর মধ্যে তেঁতুল কাঠের তৈরি খাটিয়ার চাহিদাই সবচেয়ে বেশি।
ঈদ যত ঘনিয়ে আসছে, ততই বাড়ছে গাছের গুঁড়ির চাহিদা। রূপগঞ্জের বিভিন্ন হাট-বাজার ও সড়কের পাশে মৌসুমি ব্যবসায়ীরা সাজিয়ে বসেছেন গাছের গুঁড়ির দোকান। তেঁতুল, নিম, করইসহ নানা ধরনের গাছের গুঁড়ি পাওয়া গেলেও ক্রেতাদের প্রথম পছন্দ তেঁতুল কাঠ। সাধারণত এক ফুট থেকে সোয়া ফুট দৈর্ঘ্যের এসব গুঁড়ি ২০০ থেকে ৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
স্থানীয় ক্রেতা ইসলাম বলেন, “কোরবানির ঈদে খাটিয়া প্রয়োজন হয়। তাই এবার ৪০০ টাকায় একটি তেঁতুল কাঠের খাটিয়া কিনেছি।” আরেক ক্রেতা ছালেক জানান, আগে মূলত কসাইরাই এসব খাটিয়া ব্যবহার করতেন, তবে এখন সাধারণ মানুষও পরিচ্ছন্নভাবে মাংস কাটার সুবিধার জন্য কিনে নিচ্ছেন।
উপজেলার একাধিক স-মিল মালিক জানান, সব গাছ দিয়ে ভালো গুঁড়ি তৈরি করা যায় না। তেঁতুল কাঠ সবচেয়ে শক্ত ও টেকসই হওয়ায় এর চাহিদা বেশি। অন্য গাছের গুঁড়ি দিয়ে মাংস কাটলে কাঠের গুঁড়া উঠে মাংসের মান নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকে। এছাড়া তেঁতুল কাঠের গুঁড়ি সহজে নষ্ট হয় না এবং পরিষ্কার করে সংরক্ষণ করলে বহুদিন ব্যবহার করা যায়।
তারা আরও জানান, আগের মতো এখন আর সহজে তেঁতুল গাছ পাওয়া যায় না। পাওয়া গেলেও বেশি দামে কিনতে হয়। পরে স-মিলে এনে খণ্ড করে গুঁড়ি তৈরি করে বাজারজাত করা হয়।
মৌসুমি গুঁড়ি বিক্রেতা ছালামত মোল্লা বলেন, ঈদকে ঘিরে গুঁড়ির কদর বেড়েছে। ছোট, মাঝারি ও বড় তিন ধরনের গুঁড়ি বিক্রি করছেন তিনি। সবচেয়ে বেশি বিক্রি হচ্ছে তেঁতুল কাঠের গুঁড়ি, যার দাম ২০০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত।
রূপগঞ্জের ৫ নম্বর ওয়ার্ড এলাকার বাসিন্দা আওলাদ ভুঁইয়া বলেন, “গরু কেনা শেষ। শুধু গাছের গুঁড়ি কেনা বাকি ছিল। তেঁতুল কাঠ ভালো হওয়ায় ৩৫০ টাকায় একটি কিনলাম।” তিনি জানান, পশু জবাইয়ের পর পরিচ্ছন্নভাবে মাংস কাটতে গাছের গুঁড়ি অনেক বেশি কার্যকর।
নবগ্রাম থেকে আসা কাঠ ব্যবসায়ী আক্তার হোসেন বলেন, গত কয়েক বছরে তেঁতুল গাছ পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। এ কারণে তেঁতুল কাঠের তৈরি গুঁড়ির দাম কিছুটা বেশি। তবে এখন মানুষ পরিচ্ছন্নভাবে মাংস কাটার বিষয়ে আগের চেয়ে অনেক সচেতন।
অন্যদিকে মুড়াপাড়া বাজারে হোগলা বিক্রি করছেন আসলাম মিয়া। তিনি জানান, এবার হোগলার দামও বেড়েছে। বিভিন্ন চরাঞ্চলে হোগলপাতা কম জন্মানোর কারণে সরবরাহ সংকট দেখা দিয়েছে। ফলে উপকূলীয় এলাকা থেকে হোগলপাতা সংগ্রহ ও বুননের খরচ বেড়ে গেছে।
তার দোকানে বড় আকারের একটি হোগলা ২০০ থেকে ৩০০ টাকায় এবং মাঝারি আকারের হোগলা প্রায় ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
ঈদকে ঘিরে রূপগঞ্জে পশুর পাশাপাশি কোরবানির আনুষঙ্গিক সামগ্রীর এই জমজমাট বাজার স্থানীয় ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের মাঝে বাড়তি প্রাণচাঞ্চল্য এনে দিয়েছে।
১৪ বছরের কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগে খালু আলমগীর হোসেনকে আটক করেছে আমতলী থানা পুলিশ। আজ রবিবার দিবাগত রাতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
ঘটনা ঘটেছে আমতলী উপজেলার খাকদোন গ্রামে গত সোমবার সকালে।এলাকাবাসী আলমগীর হোসেনের কঠোর শাস্তি দাবী করেছেন। জানাগেছে, দুই বছর বয়সে ওই কিশোরীর মা মারা যান। এরপর থেকে ওই কিশোরী নানা বাড়ীতে বড় হয়। গত রবিবার রাতে খালু আলমগীর হোসেন শ্বশুর বাড়ীতে বেড়াতে আসে। সোমবার ১৮ মে সকালে ওই কিশোরীকে খালু আলমগীর জোরপুর্বক ধর্ষণ করে। ওই বিষয়টি কিশোরী নানা বাড়ীর লোকজনকে জানায়। ঘটনা জেনে নানী আমতলী থানায় অভিযোগ দেন।
রবিবার রাতে পুলিশ তাকে তার বাড়ী থেকে আটক করেছে। এ ঘটনায় আমতলী থানায় মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। রবিবার দুপুরে পুলিশ ওই কিশোরীকে উদ্ধার করে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের অন স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে ডাক্তারী পরীক্ষার জন্য পাঠিয়েছেন। নানী বলেন, বিষয়টি আমি মেনে নিতে পারিনি তাই থানায় অভিযোগ দিয়েছি। ওর কঠোর শাস্তি দাবী করছি। নির্যাতনের শিকার ওই কিশোরী বলেন, নানা বাড়ীতে আমাকে একা পেয়ে খালু আলমগীর হোসেন জোরপুর্বক ধর্ষণ করেছে। আমি তার শাস্তি দাবী করছি। আমতলী থানার ওসি আবু শাহাদাত মো. হাচনাইন পারভেজ বলেন, এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন। আইনী প্রক্রিয়া শেষে তাকে আদালতে পাঠানো হবে। তিনি আরো বলেন, ওই কিশোরীকে উদ্ধার করে ডাক্তারী পরীক্ষার জন্য বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের অন স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে ডাক্তারী পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে।
বাঁশ, পাটকাঠি আর ছন দিয়ে তৈরি ছোট্ট কুঁড়ে ঘর। বাইরে থেকে সাধারণ চোখে তেমন কিছু মনে না হলেও ভেতর থেকে হাতুড়ি আর গরম লোহা পেটানোর টুংটাং ভেসে আসা শব্দই বলে দিচ্ছে, এটি একটি কামারশালা। সেই শব্দ যেন জানান দিচ্ছে— আর বেশি দেরি নেই, আসছে পবিত্র ঈদুল আজহা।
বছরের বেশির ভাগ সময় নিরব পড়ে থাকা দৌলতপুর উপজেলার কামারশালাগুলোতে এখন ফিরেছে প্রাণচাঞ্চল্য। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলছে ছুরি, দা, বটি ও চাপাতি তৈরির কাজ। তবে নতুন সরঞ্জাম তৈরির চেয়ে পুরোনো সরঞ্জাম মেরামত ও শান দেওয়ার কাজই বেশি করছেন কামাররা।
কোরবানির পশু জবাই ও মাংস প্রস্তুতের প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম কিনতে কিংবা পুরোনোগুলো ধারালো করতে প্রতিদিনই ভিড় করছেন ক্রেতারা।
উপজেলার সদর, হোসেনাবাদ, প্রাগপুর, মরিচা, ফিলিপনগর, খলিশাকুন্ডি, আল্লারদর্গা ও তারাগুনিয়া এলাকার বিভিন্ন কামারশালায় গিয়ে দেখা যায়, আগুনে লোহা গরম করে হাতুড়ির আঘাতে তৈরি করা হচ্ছে বিভিন্ন ধরনের ধারালো সরঞ্জাম। একদিকে নতুন ছুরি-বটি তৈরি হচ্ছে, অন্যদিকে পুরোনো দা-ছুরি শান দিতে আসছেন সাধারণ মানুষ।
কামারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আকার ও মানভেদে ছুরি বিক্রি হচ্ছে ২০০ থেকে ৩০০ টাকায়। দা ৫০০ থেকে ১ হাজার টাকা, বটি ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকা, পশু জবাইয়ের ছুরি ৩০০ থেকে ১ হাজার টাকা এবং চাপাতি ৫০০ থেকে ২ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া পুরোনো ছুরি বা দা শান দিতে ৫০ টাকা থেকে শুরু করে কাজের ধরন অনুযায়ী ১৫০ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছে।
হোসেনাবাদ বাজারের কামার প্রশান্ত বলেন, “বছরের অন্য সময়ের তুলনায় কোরবানির ঈদকে কেন্দ্র করেই সবচেয়ে বেশি কাজের চাপ থাকে। কয়েকদিন ধরে রাত জেগে কাজ করছি। কিন্তু লোহা ও কয়লার দাম বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন খরচও অনেক বেড়েছে। এখন নতুন করে আর কাজ নিচ্ছি না, মানুষের আগের অর্ডার শেষ করতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে।”
কামার রামপদ কর্মকার বলেন, “ঈদের আগে কাজের অনেক চাপ থাকে। মানুষ নতুন ছুরি-বটি কিনছে, আবার পুরোনোগুলোও শান দিচ্ছে। এই সময়টাতে যা আয় হয়, তা দিয়েই বছরের অনেকটা সময় চলে। আধুনিক যন্ত্রপাতির ছোঁয়ায় ধীরে ধীরে এই শিল্প বিলীনের পথে। নতুন প্রজন্মও আর এই কাজ শিখতে আগ্রহ দেখাচ্ছে না। আমরা অনেকেই এখন কৃষি কাজের সাথে জড়িত।”
কামারশালায় আসা জাহিদুল ইসলাম জানান, তিনি পাঁচটি ছুরি ও দুটি চাপাতি মেরামত ও ধারালো করতে এনেছেন। তিনি বলেন, “কোরবানির দিন আমাদের পরিবারের পক্ষ থেকে পশু কোরবানি দেওয়া হবে। সেজন্য এগুলো ঠিকঠাক করে নিচ্ছি। বছরে এই একটা সময়েই এসবের কথা মনে পড়ে। দোকানে এখন এত ভিড় যে ঈদের আগের দিন এসে নিতে বলেছে।”
আরেক ক্রেতা আতিকুর রহমান বলেন, “আমি নতুন করে দুটি ছুরি ও একটি বটি কিনতে এসেছি। বর্তমান বাজারদর ও শ্রমের তুলনায় দাম ঠিকই আছে।”
ক্রেতাদের ভাষ্য, কোরবানির সময় ভালো মানের ধারালো সরঞ্জামের চাহিদা বেশি থাকে। তাই তারা স্থানীয় কামারদের হাতে তৈরি সরঞ্জামের ওপরই বেশি আস্থা রাখছেন।
খুলনার হরিনটানা থানাধীন কৈয়া বাজার জয়খালী ব্রিজ সংলগ্ন মসজিদের বারান্দায় ডালিম গাজি (৪১) নামে একজন দিনমজুরের লাশ পাওয়া গেছে। আজ রবিবার ভোর সাড়ে ৫ টায় এ ঘটনা ঘটে। হরিণটানা থানার অফিসার ইনচার্জ হেলাল উদ্দিন ঘটনা নিশ্চিত করেছেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, খুলনার শহর সংলগ্ন কৈয়া বাজার জয়খালী ব্রিজ এলাকায় বাইতুল মা’মুর জামে মসজিদের বারান্দায় ভোরে নামাজে আসলে মুসল্লিরা মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে থানায় ফোন দিলে ঘটনাস্থলে পুলিশ উপস্থিত হয়।
নিহতের মাথায় ইটের আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। পাশে রক্তাক্ত ইট পাওয়া গেছে। কে বা কারা মেরেছে এখনও নিশ্চিত হতে পারেনি পুলিশ।
মৃত ডালিম গাজি খুলনার কয়রা উপজেলার মহেশ্বরীপুর এলাকার আবুল হোসেন গাজি ও ভানু বিবির সন্তান। পেশায় দিনমজুর।
ঘটনাস্থলে সিআইডি টিম আলামত সংগ্রহের কাজ শেষ করে মরদেহ খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ এর প্রক্রিয়া চলছে। এ হত্যাকাণ্ডের পর পরই স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।
হরিণটানা থানার অফিসার ইনচার্জ হেলাল উদ্দিন বলেন, স্থানীয়রা সকালে নামাজে এসে মসজীদের বারান্দায় মরদেহটি পড়ে থাকতে দেখে খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। সুরতহাল রিপোর্ট করে ময়নাতদন্তের জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। ইট দিয়ে মাথার ডান পাশে আঘাত করে তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। রাতে হত্যা করে মসজিদের বারান্দায় ফেলে যায় হত্যাকারী। আশপাশের সিসি ফুটেজ সংগ্রহের চেষ্টা করা হচ্ছে। সে একজন দিন মজুর। কাজের উদ্দেশ্যে খুলনায় আসে। পরিবারের সদস্যদের খবর দেওয়া হয়েছে।
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে বর্ণাঢ্য নৃত্য উৎসবের মধ্য দিয়ে পাঁচ দিনব্যাপী নৃত্য কর্মশালার সমাপ্তি হয়েছে। শনিবার রাতে শ্রীমঙ্গল নৃত্যালয়ের আয়োজনে শহরের জেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে এ উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। এতে বাংলাদেশ ও ভারতের বিভিন্ন নৃত্যদল অংশ নিয়ে মনোমুগ্ধকর পরিবেশনা উপস্থাপন করে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন মৌলভীবাজার-৪ আসনের সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমান চৌধুরী। এসময় উপস্থিত ছিলেন শ্রীমঙ্গল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জহিরুল ইসলাম মুন্না, শ্রীমঙ্গল উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক মহিউদ্দিন ঝাড়ু, শ্রীমঙ্গল সম্মিলিত সাংস্কৃতিক পরিষদের সভাপতি মশিউর রহমান রিপন, ভারতের কলকাতা থেকে আগত নৃত্যশিল্পী সুমন মন্ডল, দিল্লি থেকে আগত নৃত্যশিল্পী নিপুন দাডু নাবিলা, ঢাকা থেকে আগত নৃত্যশিল্পী ও প্রশিক্ষক আবু নাইম এবং শ্রীমঙ্গল নৃত্যালয়ের পরিচালক দ্বীপ দত্ত আকাশসহ স্থানীয় সাংস্কৃতিক ব্যক্তিরা।
শ্রীমঙ্গল নৃত্যালয়ের পরিচালক দ্বীপ দত্ত আকাশ জানান, গত ১৯ মে থেকে শুরু হওয়া পাঁচ দিনব্যাপী এই নৃত্য প্রশিক্ষণ কর্মশালায় শ্রীমঙ্গল নৃত্যালয়ের ১০৫ জন নৃত্যশিল্পী অংশ নেন। কর্মশালায় ঢাকা থেকে আগত প্রশিক্ষক আবু নাইম অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের নৃত্যের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে প্রশিক্ষণ প্রদান করেন।
তিনি আরও বলেন, কর্মশালার সমাপনী দিনে আয়োজিত নৃত্য উৎসবে শ্রীমঙ্গল নৃত্যালয়সহ বাংলাদেশ ও ভারতের মোট ১৮টি নৃত্যদল অংশ নেয়। উৎসবটি স্থানীয় দর্শকদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার সৃষ্টি করে।
রামিসাসহ সারাদেশে শিশু ও নারী ধর্ষণ, নির্যাতন এবং হত্যার ঘটনার প্রতিবাদে নাটোরের বাগাতিপাড়ায় মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। রবিবার সকালে উপজেলার বিহারকোল বাজার এলাকায় দ্রুত ধর্ষকদের দৃষ্টান্তমূলক বিচারের দাবিতে এ কর্মসূচির আয়োজন করে বাগাতিপাড়া কিশোরী-কিশোর ও ভূমিহীন সংগঠন।
মানববন্ধনে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। এসময় অংশগ্রহণকারীরা “ধর্ষণ ও নির্যাতনের সংস্কৃতি বন্ধ কর”, “ধর্ষকদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার ও শাস্তি চাই”সহ বিভিন্ন স্লোগান সম্বলিত ব্যানার ও ফেস্টুন প্রদর্শন করেন।
মানববন্ধনে বক্তব্য দেন ভূমিহীন সংগঠনের কিশোরী সদস্য বিন্দু আক্তার ও কিশোর সদস্য তুহিন আহমেদ। তারা বলেন, সমাজ থেকে ধর্ষণ ও সহিংসতা বন্ধে পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং প্রশাসনকে একযোগে কাজ করতে হবে। একইসঙ্গে নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানান তারা।
সংগঠন পর্যায় থেকে বক্তব্য দেন ভূমিহীন নেত্রী শিখা বেগম এবং ভূমিহীন আঞ্চলিক কমিটির সভাপতি জালাল উদ্দিন। তারা বলেন, নারী ও শিশুদের বিরুদ্ধে সহিংসতার ঘটনায় বিচারহীনতার সংস্কৃতি বন্ধ করতে হবে। অপরাধীদের দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা গেলে এ ধরনের অপরাধ অনেকাংশে কমে আসবে।
এছাড়া শুভাকাঙ্ক্ষী হিসেবে বক্তব্য দেন উত্তম কুমার ভৌমিক ও ইদ্রিস আলী। “নিজেরা করি” পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন কর্মসূচি সংগঠক শাহমিস বিউটি এবং অঞ্চল সমন্বয়ক জাহাঙ্গীর আলম।
কিশোরগঞ্জের ভৈরব শহরের রামশংকরপুর এলাকাবাসীর আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে বিশালাকৃতির এক গরু, যার নাম দেওয়া হয়েছে ‘ভৈরবের বস’। ফ্রিজিয়ান ফ্ল্যাক বি জাতের এই সাদা-কালো পাহাড়সম গরুটিকে ঘিরে কৌতুহলী মানুষের ভিড় এখন প্রতিদিনের ঘটনা। ১১শ কেজি ওজনের এই গরুটি লালন-পালন করে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন স্থানীয় যুবক সাদ্দাম হোসেন।
মৃত বীরমুক্তিযোদ্ধা জয়নাল আবেদীনের ছেলে সাদ্দাম হোসেন পেশায় একজন ওয়ার্কশপ ব্যবসায়ী। ২০১৪ সাল থেকে ব্যবসার পাশাপাশি তিনি শখের বসে গত ৩ বছর যাবত কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে গবাদি পশু লালন পালন করেন৷ গতবছর কোরবানির ঈদেও তিনি তিনটি গরু বিক্রি করে বেশ লাভবান হয়েছিলেন। তবে এবারের আকর্ষন তার তিন বছরের অক্লান্ত পরিশ্রমে গড়ে তোলা ‘ভৈরবের বস’।
এবিষয়ে সাদ্দাম হোসেন বলেন, প্রায় তিন বছর আগে স্থানীয় একটি হাট থেকে মাত্র ৮০ হাজার টাকায় ফ্রিজিয়ান ফ্ল্যাক বি জাতের বাছুরটি কিনেছিলেন তিনি। দীর্ঘ এই সময়ে পরম যত্নে সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উপায়ে গরুটিকে মোটাতাজা করা হয়েছে। গরুকে ক্ষতিকর কোনো স্টেরয়েড বা ক্ষতিকর ইনজেকশন ব্যবহার করা হয়নি। নিজের জমিতে আবাদ করা ঘাস, গমের ভুসি ও খৈল প্রাকৃতিক দানাদার খাদ্য খাইয়ে লালন পালন করেছি। ভৈরব এলাকায় এর আগে এত বড় গরু আর কেউ তৈরি করতে পারেনি। প্রতিদিনই মানুষ দূর-দূরান্ত থেকে আসছে ভৈরবের বসকে দেখতে। কেউ ছবি তুলছে-এটাই আমার বড় তৃপ্তি।
তিনি আরো বলেন, এই ৩ বছরে গরুটির পেছনে তার খরচ হয়েছে প্রায় ৩ লাখ টাকা। বর্তমানে এর ওজন ১,১০০ কেজি (প্রায় ২৭ মণ) ছাড়িয়েছে। আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে তার এই আদরের 'ভৈরব বস'-এর দাম হেঁকেছেন ৯ লক্ষ টাকা। গরুটির বিশাল দেহ আর শান্ত স্বভাব দেখে অনেক ক্রেতাই আগ্রহ দেখাচ্ছেন।
স্থানীয় প্রতিবেশী নাদিম মিয়া বলেন, সাদ্দাম নিজের মেধা আর পরিশ্রমে এই অসাধ্য সাধন করেছে। সে যদি ভালো দাম পায়, তবে এলাকায় আরও অনেক যুবক এমন আধুনিক ও প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে গরু পালনে আগ্রহী হবে।
এখন সাদ্দাম আশা করছেন, ন্যায্য মূল্যে গরুটি বিক্রি করতে পারলে তিনি ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে খামার গড়ে তুলবেন। 'ভৈরব বস' এখন শুধু সাদ্দামের স্বপ্ন নয়, বরং পুরো রামশংকরপুর গ্রামের গর্বে পরিণত হয়েছে।
ফরিদপুরের নগরকান্দায় যাত্রীবাহী বিআরটিসি বাস এবং অ্যাম্বুলেন্সের মধ্যে এক বিধ্বংসী মুখোমুখি সংঘর্ষে ৫ জন নিহত হয়েছেন। রোববার (২৪ মে) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের শংকর পাশা বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন এলাকায় এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি ঘটে। পুলিশ জানিয়েছে, নিহতদের সবাই দুর্ঘটনাকবলিত অ্যাম্বুলেন্সের আরোহী ছিলেন। তাৎক্ষণিকভাবে নিহতদের নাম-পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।
ভাঙ্গা হাইওয়ে পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, সকালে ভাঙ্গা থেকে ফরিদপুর অভিমুখে যাচ্ছিল একটি বিআরটিসি বাস। পথে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি অ্যাম্বুলেন্সের সাথে বাসটির প্রচণ্ড বেগে সংঘাত হয়। সংঘর্ষের তীব্রতায় অ্যাম্বুলেন্সটি সম্পূর্ণ দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই এর ৫ জন যাত্রী শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন।
ভাঙ্গা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হেলালউদ্দিন জানান যে, খবর পাওয়ার পরপরই হাইওয়ে পুলিশ এবং নগরকান্দা উপজেলা ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার তৎপরতা শুরু করেন। ধ্বংসস্তূপ থেকে ৫ জনের নিথর দেহ উদ্ধার করা হয়েছে। বর্তমানে নিহতদের পরিচয় নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে এবং মরদেহগুলো ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানোর প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার বড়মানিকা ইউনিয়নের গফুরগঞ্জ বাজারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে সাতটি দোকান পুড়ে গেছে। রবিবার (২৪ মে) ভোর সাড়ে ৪টার দিকে বাজারের ২ নম্বর ওয়ার্ড এলাকায় এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। আগুনে কয়েক কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভোর রাতে হঠাৎ বাজারের একটি দোকান থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যেই আগুন পাশের দোকানগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় বাজারজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং স্থানীয় লোকজন আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চালান। পরে খবর পেয়ে বাংলাদেশ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স এর বোরহানউদ্দিন ইউনিটের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
অগ্নিকাণ্ডে বেল্লাল ভ্যারাইটিজ স্টোর, নজরুল ফাস্ট ফুড, সোহেল ফার্মেসি, নিজাম খলিফার কাপড়ের দোকান, হাসান মালের হোটেল ও আহসান উল্লাহর মুদি দোকানসহ মোট সাতটি দোকানের মালামাল পুড়ে যায়। এর মধ্যে পাঁচটি দোকান সম্পূর্ণ এবং দুটি দোকান আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস।
ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী বেল্লাল জানান, প্রতিদিনের মতো শনিবার রাত ২টার দিকে দোকান বন্ধ করে তিনি বাসায় যান। ভোর রাতে আগুন লাগার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে এসে দেখেন পুরো দোকান আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। তিনি বলেন, “দোকানে প্রায় ১০ লাখ টাকা নগদ ছিল। এছাড়া সার-কীটনাশক, বিকাশের মোবাইল সিম, গ্যাস সিলিন্ডারসহ বিভিন্ন ধরনের মুদি মালামাল ছিল। আমার প্রায় ৬০ লাখ টাকার মালামাল পুড়ে গেছে। কিছুই বের করতে পারিনি।”
অন্য ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরাও জানান, আগুনের তীব্রতা এত বেশি ছিল যে দোকান থেকে কোনো মালামাল সরিয়ে নেওয়ার সুযোগ পাওয়া যায়নি। অনেকেই দীর্ঘদিনের সঞ্চয় ও ব্যবসার মূলধন হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। ক্ষতিগ্রস্তদের দাবি, দ্রুত সরকারি সহায়তা না পেলে তাদের পক্ষে আবার ব্যবসা শুরু করা কঠিন হয়ে পড়বে।
এ বিষয়ে ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র ফায়ার ফাইটার মো. সিদ্দিকুর রহমান বলেন, “প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। তবে তদন্ত শেষে ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ এবং আগুন লাগার সঠিক কারণ জানা যাবে।”
তিনি আরও জানান, বাজারের দোকানগুলো ঘনবসতিপূর্ণ হওয়ায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। তবে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যদের দ্রুত পদক্ষেপের কারণে আশপাশের আরও কয়েকটি দোকান রক্ষা করা সম্ভব হয়েছে।
ঘটনার পর এলাকাবাসীর মধ্যে শোক ও উদ্বেগ বিরাজ করছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও ব্যবসায়ী নেতারা ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন। পাশাপাশি বাজার এলাকায় বৈদ্যুতিক লাইনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন তারা।
গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলার নরুন উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে ঈদুল আযহা উপলক্ষে অস্থায়ী পশুর হাট বসানোকে কেন্দ্র করে এলাকাজুড়ে সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। সরকারি নির্দেশনা ও উপজেলা আইনশৃঙ্খলা সভার সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাঠে এই পশুর হাট পরিচালিত হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
জানা যায়, ঈদুল আযহা উপলক্ষে অস্থায়ী পশুর হাট স্থাপনের জন্য জারি করা নোটিশে স্পষ্টভাবে উল্লেখ ছিল—কোন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাঠে কিংবা জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হয় এমন সড়কে গরুর হাট বসানো যাবে না। এছাড়া সম্প্রতি অনুষ্ঠিত উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভায়ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাঠে পশুর হাট না বসানোর বিষয়ে কঠোর বার্তা দেওয়া হয়েছিল।
তবে সেই নির্দেশনা অমান্য করেই নরুন উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে নির্বিঘ্নে চলছে পশুর হাট। প্রতিদিন শত শত গরু ও ক্রেতা-বিক্রেতার সমাগমে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ নোংরা ও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, হাটকে কেন্দ্র করে আশপাশের এলাকায় যানজট ও জনদুর্ভোগও বাড়ছে।
এলাকাবাসীর প্রশ্ন, প্রশাসনের সুস্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা ও সভার সিদ্ধান্ত থাকার পরও কীভাবে একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাঠে পশুর হাট পরিচালিত হচ্ছে। তারা বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়ার চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কেউ মন্তব্য করতে রাজি হননি।
সবুজ ধানের দোল, বাতাসে শীষের মৃদু শব্দ আর সেই মাঠজুড়ে যেন কৃষির এক নতুন সম্ভাবনার গল্প। একই জমিতে একসঙ্গে ৫৮ জাতের ধান। কোথাও উচ্চ ফলনশীল, কোথাও লবণসহিষ্ণু, আবার কোথাও পুষ্টিসমৃদ্ধ বা সুগন্ধি ধানের সারি। খুলনার বটিয়াঘাটা উপজেলার বয়ারভাঙ্গা গ্রামে গড়ে ওঠা এই ব্যতিক্রমধর্মী প্রযুক্তি গ্রাম এখন দক্ষিণাঞ্চলের কৃষকদের জন্য এক জীবন্ত গবেষণাগার।
বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের (ব্রি) এলএসটিডি প্রকল্পের আওতায় প্রায় ১০০ একর জমিতে গড়ে তোলা হয়েছে এই প্রযুক্তি গ্রাম। যেখানে কৃষকরা বইয়ের পাতায় নয়, সরাসরি মাঠে দাঁড়িয়েই শিখছেন আধুনিক কৃষির নতুন প্রযুক্তি ও উন্নত ধানের জাত সম্পর্কে।
বোরো মৌসুমে চাষ উপযোগী ৬১টি ধানের জাতের মধ্যে ৫৮টি জাত এখানে প্রদর্শন করা হয়েছে। কৃষকরা একই মাঠে বিভিন্ন জাতের ধানের বৃদ্ধি, ফলন, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা এবং পরিবেশ উপযোগিতা সরাসরি পর্যবেক্ষণ করতে পারছেন।
কৃষি কর্মকর্তা ড. মো. আনোয়ার হোসেন, প্রকল্প পরিচালক, এলএসটিডি প্রকল্প বলেন, এ ধরনের প্রদর্শনী কৃষকদের সিদ্ধান্ত গ্রহণ সহজ করছে। কোন জমিতে কোন জাত ভালো ফলন দেবে—তা এখন আর অনুমানের ওপর নির্ভর করছে না, বরং মাঠ পর্যায়ের বাস্তব অভিজ্ঞতার ভিত্তিতেই কৃষকরা সিদ্ধান্ত নিতে পারছেন।
ব্রি স্যাটেলাইট স্টেশন, খুলনার বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তাদের পরামর্শে অনেক কৃষক ব্রি হাইব্রিড ধান-৮ চাষ করে লাভবান হয়েছেন। এই জাতের ধানে রোগবালাই তুলনামূলক কম হওয়ায় কীটনাশক ও রাসায়নিক সারের ব্যবহারও কম করতে হচ্ছে।
স্থানীয় এক কৃষক জানান, মাত্র পাঁচ কাঠা জমি থেকে তিনি পেয়েছেন ১০ মণ ৫ কেজি ধান। উৎপাদন খরচ কম হওয়ায় লাভও হয়েছে বেশি। ফলে আগামী মৌসুমে আরও বেশি জমিতে এই জাতের ধান চাষের পরিকল্পনা করছেন তারা।
প্রযুক্তি গ্রামের আরেকটি বড় দিক হলো পরিবেশবান্ধব চাষাবাদ। অনেক কৃষক এখন কীটনাশক ছাড়াই ধান চাষ করে আশানুরূপ ফলন পাচ্ছেন।
স্থানীয় কৃষকদের ভাষ্য, যান্ত্রিক পদ্ধতিতে ধান রোপণ ও কর্তনের ফলে শ্রম ও উৎপাদন খরচ অনেকটাই কমেছে। একই সঙ্গে পরিবেশের ক্ষতিও কম হচ্ছে। তিন বিঘা জমিতে কীটনাশক ছাড়াই ধান চাষ করে এক কৃষক প্রায় প্রচলিত ফলনের সমান উৎপাদন পেয়েছেন বলে জানান।
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের কৃষিতে দীর্ঘদিনের বড় চ্যালেঞ্জ লবণাক্ততা ও জলাবদ্ধতা। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে এ সমস্যা আরও প্রকট হয়ে উঠছে। এমন পরিস্থিতিতে প্রযুক্তি গ্রামটিকে ঘিরে নতুন আশার আলো দেখছেন কৃষক ও কৃষি বিশেষজ্ঞরা।
এখানে লবণসহিষ্ণু ও প্রতিকূল পরিবেশ উপযোগী বিভিন্ন ধানের জাত নিয়ে গবেষণা ও মাঠপর্যায়ে পরীক্ষা চালানো হচ্ছে। এলএসটিডি প্রকল্পের মাধ্যমে কৃষকদের সরবরাহ করা হচ্ছে উন্নত বীজ, সার, কৃষিযন্ত্র ও আধুনিক কৃষি সহায়তা।
বৈজ্ঞানিক বিল্লাল হোসাইন বলেন, প্রযুক্তি গ্রামের মাধ্যমে কৃষকদের মধ্যে আধুনিক ও টেকসই কৃষি ব্যবস্থার প্রতি আস্থা তৈরি হচ্ছে। একই সঙ্গে গবেষণার ফল সরাসরি কৃষকের হাতে পৌঁছে যাওয়ায় উৎপাদন ব্যবস্থায়ও আসছে ইতিবাচক পরিবর্তন।
খুলনার বটিয়াঘাটার এই প্রযুক্তি গ্রাম এখন শুধু ধান উৎপাদনের ক্ষেত্র নয়; এটি হয়ে উঠেছে ভবিষ্যতের কৃষির এক জীবন্ত প্রদর্শনী। যেখানে একই সঙ্গে চলছে গবেষণা, শিক্ষা ও বাস্তব অভিজ্ঞতার সমন্বয়।
দক্ষিণাঞ্চলের কৃষির চিত্র বদলে দিতে পারে—এমন প্রত্যাশাই এখন স্থানীয় কৃষক ও সংশ্লিষ্টদের।
রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার ঘটনা মানুষের মানবিক মূল্যবোধের চূড়ান্ত অবক্ষয়ের প্রমাণ বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, দীর্ঘদিনের ফ্যাসিবাদী শাসন শুধুমাত্র দেশের মানুষের অধিকার আর অর্থ সম্পদই লুট করেনি, বিচার বিভাগসহ সকল প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করে দিয়েছে। বিশেষ করে মানবতা ও সামাজিক মূল্যবোধকে বিনষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। একটি নিষ্পাপ শিশুর নির্মম মৃত্যুই এ বিষয়টি প্রমাণ করে। এক মাসের মধ্যে শিশু রামিসা হত্যাকারীর সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হবে। শনিবার (২৩ মে) ময়মনসিংহের ত্রিশালে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৭তম জন্মজয়ন্তীর তিন দিনব্যাপী অনুষ্ঠানমালার উদ্বোধনী দিনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন তিনি। এসময় তিনি আগামী এক বছরকে (২৫ মে ২০২৬ থেকে ২৫ মে ২০২৭ সাল পর্যন্ত) ‘নজরুল বর্ষ’ হিসেবে ঘোষণা করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকের অনুষ্ঠানে আমি পরিস্কারভাবে আপনাদের সামনে তুলে ধরতে চাই। এই ধরনের শিশু নির্যাতন বা নারী নির্যাতন বর্তমান সরকার কোনোভাবেই মেনে নেবে না। বর্তমান সরকার রামিসার এই হত্যাকারীর সর্বোচ্চ শাস্তি ইনশাল্লাহ আগামী এক মাসের মধ্যেই নিশ্চিত করবে। সেই সর্বোচ্চ শাস্তি হচ্ছে মৃত্যুদণ্ড। যাতে করে ভবিষ্যতে কোনো ব্যক্তি, মানুষ এভাবে শিশু বা নারী নির্যাতন করার সাহস না পায়।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটি নিরাপদ ও মানবিক রাষ্ট্র এবং সমাজ প্রতিষ্ঠা করতে হলে আমাদের আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতেই হবে। রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিবর্তন ঘটাতে হবে। একই সঙ্গে আমাদের জাতীয় জীবনে পুনরায় বাংলাদেশের আবহমান কালের ধর্মীয় ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক মূল্যবোধের পুনরুজ্জীবন ঘটাতে হবে। এক্ষেত্রে কবি কাজী নজরুল ইসলামের জীবন ও কর্ম প্রাসঙ্গিক।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, কবি নজরুলের জীবন ও কর্ম বিশ্বব্যাপী আরও বেশি করে ছড়িয়ে দেওয়া প্রয়োজন। তার জীবনদর্শন প্রজন্মের পর প্রজন্মে পৌঁছে দিতে হবে। এ লক্ষ্যে আমাদের জাতীয় কবির স্মৃতি বিজড়িত ত্রিশালকে নজরুল সিটি হিসাবে ঘোষণা করা যায় কি না এ ব্যাপারে সম্ভাবতা যাচাইয়ের জন্য আমি সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় ও পর্যটন বিভাগের প্রতি আহ্বান জানাব। একটি নিরাপদ রাষ্ট্র নিশ্চিত করতে হলে আমাদের আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে হবে। রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিবর্তন ঘটাতে হবে। একই সঙ্গে আমাদের জাতীয় জীবনে পুনরায় বাংলাদেশের আবহমানকালের ধর্মীয় ও সামাজিক মূল্যবোধের পুর্নজাগরণ ঘটাতে হবে। এক্ষেত্রে কবি কাজী নজরুল ইসলামের জীবন এবং কর্ম প্রাসঙ্গিক।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ত্রিশালে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের নামে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেছিলেন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া। এ প্রজন্মের অনেকেই হয়তো জানেন না, ১৯৭৬ সালে ঢাকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জাতীয় কবির নামাজে জানাজার পর কবির লাশবাহী খাটিয়া যারা কাঁধে করে বহন করেছিলেন, তাদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান।
নজরুলের সাহিত্য ও আদর্শ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের জাতীয় ইতিহাসে কাজী নজরুল মানেই বাংলা সাহিত্যের এক নতুন মোড়ের উদয়, বাংলা সাহিত্যের এক নতুন রুচির বিপ্লব। তিনি ছিলেন নারীর অধিকার, মেহনতী মানুষের কল্যাণ, অসম্প্রদায়িক বিশ্ব ও মানবতার উদারণ।
সংস্কৃতি মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরীর সভাপতিত্বে সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম, পাট ও বস্ত্র প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম, সংস্কৃতি সচিব কানিজ মওলা, জেলা পরিষদ প্রশাসক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালক লতিফুর রহমান শিবলী, ইনস্টিটিউটের ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান কবিপৌত্রী খিলখিল কাজী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক তারিখ মনজুর, ময়মনসিংহ-৭ আসনের সংসদ সদস্য মাহবুবুর রহমান লিটন এবং জেলা প্রশাসক সাইফুর রহমান বক্তব্য দেন।
অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ময়মনসিংহ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও ত্রিশাল উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক এনামুল হক ভুইয়া।
এর আগে ত্রিশাল উপজেলার বইলরে চার কিলোমিটার দীর্ঘ ধরার খালের উদ্ধোধনী অনুষ্ঠনে অংশগ্রহণ করেন প্রধানমন্ত্রী।
এ সময় প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে বলেন, জনগণ ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিএনপিকে বিজয়ী করার পর আমাদের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী পরিবারের সুবিধার জন্যে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষকের সুবিধার জন্যে কৃষি কার্ড, কোমলমতি শিশুদের জন্যে স্কুল ব্যাগ, পোশাক, খাবার, মসজিদের ইমামদের জন্যে ভাতা কার্যক্রম শুরু করেছি। পর্যায়ক্রমে সবাইকে এসব সুবিধার আওতায় আনা হবে। বিএনপির তার প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী জনগনের ভাগ্য উন্নয়নে কাজ করবে। আপনারা লক্ষ্য করবেন এক শ্রেণি এসব কথা না বলে শুধু ষড়যন্ত্র করে আর রাস্তাঘাটে আন্দোলনের নামে জনদুর্ভোগ করতে চায়।
তারেক রহমান আরো বলেন, বিএনপির সরকার গঠন করায় তাদের জালা ধরেছে। অন্তবর্তী সরকারের সময় যে সকল ঘটনা ঘটেছে আপনারা তাদেরকে সেই কিছু বলতে দেখেছেন প্রতিবাদ করতে দেখেছেন করেননি। কারন তারা বিএনপির সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনা নস্যাৎ করতে চায়। বিএনপির সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনা নষ্ট হলে জনগনের ক্ষতি হবে, আপনাদের ক্ষতি তাই এদেরকে আপনাদেরও প্রতিহত করতে হবে। বিএনপি সরকার কর্মমুখী শিক্ষাকে গুরুত্ব দিয়ে সারাদেশে ভোকেশনাল শিক্ষাকে গুরুত্ব দিচ্ছে। যাতে আগামী প্রজন্ম কর্মমুখী হয়ে গড়ে উঠতে পারে।
পরে বিকেলে ময়মনসিংহ উত্তর দক্ষিণ জেলা বিএনপি ও ময়মনসিংহ মহানগর বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতারা সাংগঠনিক সভায় দিক নির্দেশনামূলক বক্তব্য দেন।
দেশে হাম পরিস্থিতি ক্রমেই ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। তবে শুধু বাংলাদেশেই নয়; ২০২৬ সালে বিশ্বের বেশ কয়েকটি দেশে নতুন করে হামের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা সতর্ক করে বলেছে, টিকাদানের হার কমে যাওয়ায় বিশ্বের কিছু অঞ্চলে আবার হাম রোগের পুনরুত্থান দেখা যাচ্ছে। বাংলাদেশে হামের প্রাদুর্ভাব সবচেয়ে প্রাণঘাতী হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। এই সতর্কবার্তার মধ্যেই শনিবার (২৩ মে) স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, দেশে হাম ও উপসর্গে আরও ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে হামের শুরু থেকে এ পর্যন্ত ৭০ দিনে (১৫ মার্চ থেকে ২৩ মে) ৫১২ জনের মৃত্যু ঘটল; যা চলতি বছর বিশ্বে হামে সর্বোচ্চ মৃত্যুর ঘটনা।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত একদিনে (শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে শনিবার সকাল ৮টা) সারা দেশে আরও ১ হাজার ৯৬৭ শিশুর শরীরে হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে। হাম শনাক্ত হয়ে বরিশালে ১টি শিশু মারা গেছে। আর হামের উপসর্গে ঢাকায় ৪, চট্টগ্রামে ২, সিলেটে ৪, বরিশালে ১ ও ময়মনসিংহে ১ শিশু মারা গেছে। এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে হামের উপসর্গে দেশে ৪২৬ শিশুর মৃত্যুর তথ্য জানা গেছে। এ সময়ে হাম শনাক্তের পর মারা গেছে ৮৬ শিশু।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে ৬২ হাজার ৫০৭ শিশুর। এ সময় হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৪৯ হাজার ৩৮৯ শিশু। তবে এর মধ্যে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ৪৫ হাজার ১১ শিশু বাড়ি ফিরেছে।
প্রসঙ্গত, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালে ভারত, পাকিস্তান, ইয়েমেন, মেক্সিকো, অ্যাঙ্গোলা, কাজাখস্তান, ইন্দোনেশিয়া, সুদান ও ক্যামেরুনসহ বহু দেশে নতুন করে হামের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র-কানাডার মতো উন্নত দেশগুলোতেও হাম ফিরে আসার তথ্য পাওয়া গেছে। তবে মৃত্যুর সংখ্যার আধিক্যের কারণে গুরুতর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে বাংলাদেশকে ঘিরে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুসারে, দেশের ৬৪ জেলার মধ্যে ৫৮টিতেই সংক্রমণ ছড়িয়েছে। পরীক্ষাগারে একদিকে নিশ্চিত রোগী শনাক্ত হচ্ছে, অন্যদিকে উপসর্গ নিয়ে ভুগছে অনেক শিশু। বিশেষ করে পাঁচ বছরের কম বয়সি শিশুদের মধ্যে আক্রান্তের হার সবচেয়ে বেশি।
আক্রান্তের তুলনায় বাংলাদেশে মৃত্যুহার বেশি হওয়ার পেছনে একাধিক কারণ কাজ করছে বলে মনে করছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। দেশে হামে এখন মৃত্যুহার দশমিক ৯৮ শতাংশ। মৃত্যুহার বেশি হওয়ার কারণের মধ্যে রয়েছে নিয়মিত টিকাদানে ঘাটতি, দীর্ঘদিন এমআর (হাম-রুবেলা) ক্যাম্পেইন বন্ধ থাকা, শিশুদের অপুষ্টি, দেরিতে হাসপাতালে আসা এবং দরিদ্র জনগোষ্ঠীর মধ্যে স্বাস্থ্যসেবার সীমিত সুযোগ। বিশেষ করে পাঁচ বছরের কম বয়সি অপুষ্ট শিশুরা হামের জটিলতায় দ্রুত নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া, শ্বাসকষ্ট ও মস্তিষ্কের প্রদাহে আক্রান্ত হচ্ছে। বিগত কয়েক বছরে অনেক এলাকায় নিয়মিত টিকাদান কার্যক্রম দুর্বল হয়ে পড়েছিল। আবার কোথাও মাঠপর্যায়ে স্বাস্থ্যকর্মীর সংকট রয়েছে। অত্যন্ত সংক্রামক হওয়ায় হাম দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আক্রান্তের সংখ্যা তুলনামূলক কম হলেও জটিলতা ও মৃত্যুহার বেশি হওয়ায় বাংলাদেশ এখন হাম সংক্রমণে বৈশ্বিক উদ্বেগের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।