বুধবার, ৬ মে ২০২৬
২৩ বৈশাখ ১৪৩৩

তীব্র গরমে হাঁসফাঁস অবস্থা, বিপাকে খেটে খাওয়া মানুষ 

ছবি: দৈনিক বাংলা
মইনুল হক মৃধা, রাজবাড়ী
প্রকাশিত
মইনুল হক মৃধা, রাজবাড়ী
প্রকাশিত : ২২ এপ্রিল, ২০২৪ ১২:৫৮

তীব্র গরমে যেন নাভিশ্বাস উঠছে! সারা দেশের মতোই দাবদাহে পুড়ছে রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দ। গতকাল রোববার বিকাল সাড়ে ৩টায় এখানে তাপমাত্রা ৩৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়। দাবদাহে আমের গুটি, ধানের শিষ ঝরে যাচ্ছে। সবজি খেতসহ সব ধরনের চাষ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা করছে কৃষক। হাসপাতালে শিশু রোগীর সংখ্যা প্রতিদিনই বৃদ্ধি পাচ্ছে।

এদিকে টানা দাবদাহে জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে। প্রচণ্ড গরমের সাধারণ ও কর্মজীবী মানুষের ভোগান্তি আর কষ্ট বেড়েছে। তবে সবচেয়ে বিপাকে পড়েছেন খেটে খাওয়া মানুষ। তীব্র রোদের কারণে দিনমজুর, রিকশাচালক ও ভ্যানচালকরা কাজ করতে পারছেন না। এদিকে কাজ না করলে খাবার জুটবে না। তাই পেটের তাড়নায় প্রচণ্ড দাবদাহ উপেক্ষা করে কাজে বেরিয়েছেন অনেকে। প্রচণ্ড গরমে কয়েক দিন ধরেই হাট-বাজারে মানুষের সমাগম কম। অনেকেই ব্যবসা-প্রতিষ্ঠান বন্ধ রেখেছেন। ভ্যানচালক বাবু শেখ বলেন, ‘গরমে কাজ করতে না পেরে আয় কমে গেছে। আগে দিনে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা আয় করা যেত। এখন প্রচণ্ড গরমের কারণে সারা দিনে ২০০ টাকা আয় করা মুশকিল হয়ে পড়েছে।’

গোয়ালন্দ পৌর এলাকার বিপেন রায়ের পাড়া এলাকার শারমিন আক্তার বলেন, ‘প্রচণ্ড গরম পড়েছে। বাচ্চা নিয়ে খুবই সমস্যায় আছি। ঘরের মধ্যে গরমে থাকা যায় না। আমার দুই সন্তান গত কয়েক দিন ধরে জ্বর-সর্দি ও কাশিতে ভুগছে। আজ গোয়ালন্দ হাসপাতালে ডাক্তার দেখাতে নিয়ে আসছি।’

গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. মো. শরিফুল ইসলাম জানান, হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের বেশিরভাগই গরমজনিত রোগে আক্রান্ত। তীব্র গরমে শিশুদের ডায়রিয়া, টাইফয়েড, শরীরে ঘাম বসে নিউমোনিয়া, ঠাণ্ডা, সর্দি, কাশি, জ্বর ও প্রস্রাবে সংক্রমণ দেখা দিচ্ছে। তিনি পরামর্শ দেন, প্রখর রোদে শিশুকে ঘরের বাইরে বের হতে দেওয়া যাবে না। টাটকা খাবার খাওয়াতে হবে এবং ফ্যানের নিচে রাখতে হবে। গোয়ালন্দ উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, তীব্র তাপদাহের কারণে বোরো ধান, আমের গুটি ঝরে শুকিয়ে যাচ্ছে। আমগাছে পানি স্প্রে এবং বোরো ধানসহ সব ধরনের সবজিখেতে প্রতিদিনই সেচ দিতে এবং সেচের পানি ধরে রাখার পরামর্শ দিচ্ছেন কৃষি কর্মকর্তারা।

গোয়ালন্দ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. খোকন উজ্জামান বলেন, ‘প্রচণ্ড দাবদাহের কারণে ফসলের ক্ষতি হচ্ছে। আমাদের কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা সার্বক্ষণিক গরমে করণীয় বিষয়ে কৃষকদেরকে পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছেন।’ গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জ্যোতি বিকাশ চন্দ্র বলেন, ‘উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সোস্যাল মিডিয়ায় জনসাধারণকে সতর্ক করা হচ্ছে এবং জনসাধারণকে আরো সতর্ক করতে মাইকিং করা হবে, তারা যেন অতি প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বাহির না হয়। শরবত, পানি ও ফলমূল বেশি বেশি খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।’ এ ছাড়া স্ট্রোক, ডায়রিয়াসহ গরমজনিত রোগীদের চিকিৎসার জন্য উপজেলা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।


হাম-রুবেলা ক্যাম্পেইন পালন উপলক্ষ্যে জেলা পর্যায়ে সমন্বয় সভা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
সৈকত মোঃ সোহাগ, খুলনা ব্যুরো

হাম-রুবেলা ক্যাম্পেইন ২০ এপ্রিল থেকে ১০ মে ২০২৬ তারিখ পর্যন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এই সময়ের মধ্যে ৬ মাস থেকে ৫ বছরের কম বয়সী সকল শিশুকে এক ডোজ হাম-রুবেলা টিকা প্রদান করা হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় আজ (বুধবার) খুলনা সিভিল সার্জন দপ্তরের সম্মেলনকক্ষে জেলা পর্যায়ের সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় সভাপতি খুলনা সিভিল সার্জন ডা. মোছাঃ মাহফুজা খাতুন বলেন, হামের বিরুদ্ধে হার্ড ইমিউনিটি অর্জনে গৃহভিত্তিক যাচাই জোরদার এবং শিশুদের টিকা গ্রহণে অভিভাবকদের সচেতন করতে হবে। তিনি আরও বলেন, হামের টিকার পক্ষে প্রচার-প্রচারণায় সব পক্ষকে সোচ্চার হতে হবে। হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন সফল করতে মসজিদের ইমাম-মুয়াজ্জিনসহ সকলের প্রতি আহবান জানান তিনি।

স্বাগত বক্তৃতা করেন ডেপুটি সিভিল সার্জন ডাঃ মোঃ মিজানুর রহমান। হাম-রুবেলা টিকা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য উপস্থাপন করেন বিশ^ স্বাস্থ্য সংস্থার মেডিকেল অফিসার ডা. নাজমুর রহমান সজিব। সভায় সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা স্বাস্থ্য পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তারা অংশ নেন।

উল্লেখ্য, খুলনা জেলার নয়টি উপজেলায় এক লাখ ৫৬ হাজার ৪২০ শিশুকে এক ডোজ হাম-রুবেলা টিকা প্রদানের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত টিকা প্রদানের লক্ষ্যমাত্রার ৮৯ শতাংশ অর্জিত হয়েছে। ছুটির দিন ব্যতীত প্রতিদিন সকাল আটটা থেকে বিকেল চারটা পর্যন্ত এই ক্যাম্পেইন চলবে।


মহাসড়ক দখলমুক্ত করতে ত্রিশালে প্রশাসনের বিশেষ উচ্ছেদ অভিযান

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ত্রিশাল (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি

ঢাকা ময়মনসিংহ মহাসড়কে সাধারণ মানুষের নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করতে ও সড়ক দুর্ঘটনা রোধে ময়মনসিংহের ত্রিশালে এক বিশেষ উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করেছে উপজেলা প্রশাসন।

আজ বুধবার (৬ মে) দুপুরে মহাসড়কের ব্যস্ততম দরিরামপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এ অভিযান চালানো হয়।অভিযানের নেতৃত্ব দেন ত্রিশাল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আরাফাত সিদ্দিকী। এ সময় ফুটপাত ও মহাসড়কের পাশে গড়ে ওঠা বেশ কিছু অবৈধ স্থাপনা ও দোকানপাট গুঁড়িয়ে দিয়ে রাস্তা দখলমুক্ত করা হয়।অভিযানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলার সহকারী কমিশনার ভূমি মাহবুবুর রহমান, পৌরসভার সচিব নওশীন আহমেদ, ত্রিশাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুনসুর আহাম্মদ। অভিযান শেষে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আরাফাত সিদ্দিকী জানান, মহাসড়কে পথচারী ও যানবাহন চলাচল ঝুঁকিমুক্ত করতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তিনি কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, জনস্বার্থে এবং সড়ক দুর্ঘটনা রোধে এই উচ্ছেদ অভিযান আগামীতেও অব্যাহত থাকবে। মহাসড়ক কোনোভাবেই দখল করতে দেওয়া হবে না।


বাজার মন্দা ও সরকারি গুদামের কঠোর শর্তে দিশেহারা হাওরের কৃষক

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ৬ মে, ২০২৬ ১৫:১২
রাকিবুল হাসান রোকেল, কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি

কিশোরগঞ্জের হাওরাঞ্চলে ধানের বাজারে ক্রেতা সংকট এবং সরকারি গুদামে ধান সংগ্রহের কঠিন শর্তের কারণে কৃষকেরা চরম বিপাকে পড়েছেন। প্রাকৃতিক দুর্যোগের কবলে পড়া ধান কোনোমতে ঘরে তুললেও তা বিক্রি করতে না পেরে এক নিদারুণ অর্থকষ্টে দিন কাটছে এই অঞ্চলের প্রান্তিক চাষিদের। ফলে বাধ্য হয়ে ন্যায্যমূল্য বিসর্জন দিয়ে তারা স্থানীয় দালালদের কাছে অত্যন্ত সস্তায় ধান বিক্রি করে দিচ্ছেন বলে এক গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে।
কৃষকদের সহায়তায় সরকার ধান সংগ্রহ অভিযান শুরু করলেও এর সুফল সাধারণ চাষিদের দোরগোড়ায় পৌঁছাচ্ছে না। সরকারি গুদামে ধান দিতে গেলে আর্দ্রতা পরীক্ষা ও ব্যাংক হিসাবসহ নানাবিধ দাপ্তরিক জটিলতার মুখোমুখি হতে হচ্ছে তাদের। অনেক ক্ষেত্রে গুদাম থেকে ধান ফেরত আনার বাড়তি পরিবহন খরচ জোগাতে না পেরে কৃষকেরা হতাশ হয়ে পড়ছেন। এই সুযোগে মধ্যস্বত্বভোগীরা মাত্র ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা মণে ধান কিনে নিচ্ছে এবং পরবর্তীতে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে সেই ধানই সরকারি গুদামে সরবরাহ করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
ইটনা উপজেলা সদরের কৃষক সুলতান মিয়া আক্ষেপ করে বলেন, “সরকারি গুদামে ধান দিতে গেলে নানা ঝামেলায় পড়তে হয়। ভালো ধান নিয়ে গেলেও বলা হয়, ধান ময়লা বা আর্দ্রতা বেশি। তাই বাধ্য হয়ে দালালের কাছে কম দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।” সরকার প্রতি মণ ধানের মূল্য ১ হাজার ৪৪০ টাকা নির্ধারণ করলেও সাধারণ কৃষকের পকেটে তার সুফল যাচ্ছে না। কৃষক মহসিন মিয়া এ প্রসঙ্গে বলেন, “শ্রমিকের খরচ কাটা হয়, প্রতি মণে এক-দুই কেজি বেশি ধান নেওয়া হয়, দালালকেও দিতে হয়।” তাঁর মতে, সরকার সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে ধান সংগ্রহ করলে এই শোষণ বন্ধ হতো।
প্রাকৃতিক দুর্যোগ এবং ঋণের চাপের দ্বিমুখী সংকটে হাওরের জীবনযাত্রা এখন বিপর্যস্ত। প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে ধান শুকানো সম্ভব হচ্ছে না, ফলে আর্দ্রতা বেশি থাকায় সরকারি গুদাম তা গ্রহণ করছে না। ইটনা উপজেলার লাইমপাশা গ্রামের কৃষক তারু মিয়া বলেন, “একদিকে প্রাকৃতিক দুর্যোগ, অন্যদিকে ঋণের চাপ-এই দুই সংকটে আমরা আরও বিপাকে পড়েছি।” ক্ষুদ্র কৃষকদের অভিযোগ, গুদামে ধান দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রভাবশালী ও বড় কৃষকেরা বেশি সুবিধা পাচ্ছেন। ছিলনী গ্রামের কৃষক এমাদ মিয়া এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমাদের মতো ছোট কৃষকেরা সুযোগই পাই না।”
প্রশাসনিক ও কৃষি কর্মকর্তারা এই সংকটের কথা স্বীকার করলেও সরকারি নীতিমালার বাইরে পদক্ষেপ নিতে অপরাগতা প্রকাশ করেছেন। ইটনা উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক বাবুল আকরাম জানান, “বেশি আর্দ্রতার ধান কেনা সম্ভব নয়। এতে সংরক্ষণে ঝুঁকি থাকে। সরকারি নির্দেশনার বাইরে আমাদের কিছু করার নেই।” উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বিজয় কুমার হাওলাদার মনে করেন, ধান শুকাতে না পারাটাই বর্তমান পরিস্থিতির মূল অন্তরায়। ইটনা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাখন চন্দ্র সূত্রধর আশ্বাস দিয়ে বলেন, “গুদামে হয়রানির অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
কৃষি বিভাগের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, জেলায় এবার প্রায় সাড়ে ১৩ হাজার হেক্টর জমির ফসল তলিয়ে গেছে, যাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন অর্ধলাখ কৃষক। চাষিদের দাবি অনুযায়ী ক্ষতির আর্থিক মূল্য ৫০০ কোটি টাকারও বেশি। জেলায় ১২ লাখ মেট্রিক টন ধান উৎপাদনের বিপরীতে সরকারি ক্রয়ের লক্ষ্যমাত্রা মাত্র ১৮ হাজার ৩৩০ মেট্রিক টন, যা চাহিদার তুলনায় নগণ্য। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. সাদিকুর রহমান বলেন, লটারির মাধ্যমে তালিকা করায় অনেক কৃষক বাদ পড়ছেন, যা অসন্তোষের কারণ হতে পারে। জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিন এ প্রসঙ্গে গণমাধ্যমকে বলেন, “সরকার চায় কৃষকেরা যেন কোনোভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত না হন। কৃষকদের হয়রানির অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”


রবীন্দ্র জন্মোৎসব ঘিরে উৎসবমুখর নওগাঁর পতিসর

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নওগাঁ প্রতিনিধি

বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬৫তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে নওগাঁর আত্রাই উপজেলার পতিসর এখন উৎসবমুখর। ২৫ বৈশাখকে সামনে রেখে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে নেওয়া হয়েছে বর্ণাঢ্য আয়োজন।

পতিসরের ঐতিহাসিক কাচারি বাড়িতে চলছে শেষ মুহূর্তের সাজসজ্জা ও প্রস্তুতি। আগামী ৮ মে দিনব্যাপী অনুষ্ঠানে থাকবে আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক আয়োজন এবং নাগর নদের তীরে গ্রামীণ মেলা।

আত্রাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান জানান, সকালে পতিসর কাছারিবাড়ি প্রাঙ্গণে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। এতে কবির জীবন ও কর্ম নিয়ে আলোচনা করবেন দেশের খ্যাতিমান কবি ও সাহিত্যিকরা। অনুষ্ঠানে রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গেরও উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।

তিনি আরও জানান, দর্শনার্থীদের জন্য ৮ মে পতিসর কুঠিবাড়ি উন্মুক্ত থাকবে। দিনভর সেখানে দর্শনার্থীদের ভিড় থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নেওয়া হয়েছে কয়েক স্তরের ব্যবস্থা।

পুলিশ সুপার তারিকুল ইসলাম জানান, জাতীয় পর্যায়ের এ আয়োজনকে ঘিরে পুলিশের পক্ষ থেকে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। একাধিকবার পরিদর্শন করা হয়েছে অনুষ্ঠানস্থল। পুলিশ, ডিবি ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা সার্বক্ষণিক দায়িত্বে থাকবেন।

আত্রাই-রাণীনগর আসনের সংসদ সদস্য শেখ মো. রেজাউল ইসলাম রেজু বলেন, পতিসরে এবারের জন্মবার্ষিকী আয়োজন স্মরণকালের অন্যতম সেরা হবে বলে আশা করা হচ্ছে। স্থানীয় পর্যায়েও প্রস্তুতি ও উৎসাহ রয়েছে।

সব মিলিয়ে রবীন্দ্র জন্মোৎসবকে ঘিরে পতিসর এখন পরিণত হয়েছে এক প্রাণবন্ত সাংস্কৃতিক মিলনমেলায়।


কমলগঞ্জে অভ্যন্তরীণ বোরো ধান-চাল সংগ্রহ কার্যক্রমের উদ্বোধন

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলায় অভ্যন্তরীণ বোরো ধান ও চাল সংগ্রহ অভিযান আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়েছে। বুধবার (৬ মে) দুপুরে উপজেলার ভানুগাছ খাদ্য গুদাম প্রাঙ্গণে ফিতা কেটে এ কার্যক্রমের সূচনা করা হয়।

উপজেলা প্রশাসন ও খাদ্য বিভাগের আয়োজনে অনুষ্ঠিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আসাদুজ্জামান। এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন মৌলভীবাজার জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মো. দুরুদ আহমদ, উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক রুমি দেবসহ সংশ্লিষ্টরা।

এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন কমলগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি আসহাবুজ্জামান শাওন, সাধারণ সম্পাদক আহমেদুজ্জামান আলম, ভানুগাছ খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বিধান কান্তি রায়, শমশেরনগর খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ইসমাম ইবনে খতিব এবং মিল মালিক কানু চন্দ্র প্রমুখ।

উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক রুমি দেব জানান, ভানুগাছ ও শমশেরনগর খাদ্য গুদামে বোরো ধান ৩৬ টাকা কেজি দরে মোট ৪৯১ টন এবং সিদ্ধ চাল ৪৯ টাকা কেজি দরে ২৩৫ টন সংগ্রহ করা হবে।

উদ্বোধনী বক্তব্যে ইউএনও মো. আসাদুজ্জামান বলেন, প্রকৃত কৃষকরা যাতে তাদের উৎপাদিত ফসলের ন্যায্য মূল্য পান, তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন কাজ করছে।

ধান দিতে আসা এক স্থানীয় কৃষক জানান, বাজার দরের তুলনায় সরকারি মূল্য কিছুটা বেশি হওয়ায় তারা খুশি। তবে সংগ্রহ প্রক্রিয়া আরও সহজ ও হয়রানিমুক্ত করার দাবি জানান তিনি।


খুলনায় সরকারিভাবে অভ্যন্তরীণ বোরো ধান সংগ্রহের উদ্বোধন

আপডেটেড ৬ মে, ২০২৬ ১৩:৪০
সৈকত মোঃ সোহাগ, খুলনা ব্যুরো

খুলনা জেলার ডুমুরিয়া উপজেলায় সরকারিভাবে অভ্যন্তরীণ বোরো ধান সংগ্রহ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন ও খাদ্য বিভাগের কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে এই কর্মসূচি শুরু হয়, যা সাধারণত প্রতি বছরের মে মাসের মাঝামাঝি সময়ে পরিচালিত হয়ে থাকে।
বুধবার (৬ মে) সকাল ১০টায় উপজেলা খাদ্য গুদাম চত্বরে এ উদ্বোধনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে ধান সংগ্রহ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মিজ সবিতা সরকার। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা সুলতানা পারভীন।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা সোহেল মো. জিল্লুর রহমান রিগান এবং উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. নাজমুল হুদা। এছাড়া ডুমুরিয়া প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শেখ মাহতাব হোসেন, এপিএপিও আলি হাসান, কৃষক প্রতিনিধি মো. আব্দুল কুদ্দুস, শেখ আব্দুল গফফার, জান্নাতুল ফেরদৌসসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।
সরকারি নিয়ম অনুযায়ী কৃষি মন্ত্রণালয় ও খাদ্য বিভাগের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা পূরণে সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে ধান সংগ্রহ করা হয়। বর্তমান ব্যবস্থায় ‘কৃষকের অ্যাপ’-এর মাধ্যমে লটারিতে নির্বাচিত নিবন্ধিত কৃষকরাই গুদামে ধান বিক্রির সুযোগ পান।
এ সময় জানানো হয়, ধানের আর্দ্রতা সর্বোচ্চ ১৪ শতাংশের মধ্যে থাকতে হবে এবং ধান অবশ্যই পরিষ্কার, পুষ্ট ও চিটামুক্ত হতে হবে। ধানের মূল্য সরাসরি কৃষকের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা দেওয়া হবে।
উদ্বোধনী বক্তব্যে ইউএনও সবিতা সরকার বলেন, ধান সংগ্রহে কোনো ধরনের অনিয়ম বা দালালচক্রের হস্তক্ষেপ বরদাশত করা হবে না। প্রকৃত কৃষকরাই যেন সরকারি সুবিধা পান, সে বিষয়ে প্রশাসন কঠোর অবস্থানে থাকবে। তিনি কৃষকদের ধান ভালোভাবে শুকিয়ে ও পরিষ্কার করে নির্ধারিত মান বজায় রেখে গুদামে আনার আহ্বান জানান।
তিনি আরও জানান, লটারির মাধ্যমে নির্বাচিত কৃষকদের কোনো ধরনের হয়রানি ছাড়াই ধান বিক্রির সুযোগ নিশ্চিত করা হবে এবং মূল্য সরাসরি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পৌঁছে যাবে।
অনুষ্ঠান শেষে অতিথিরা গুদাম চত্বরে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশ নেন। পুরো অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন খাদ্য গুদাম কর্মকর্তা মো. আমিনুর রহমান।


নারায়ণগঞ্জে বিপুল পরিমাণ মাদক ও অস্ত্র সহ আটক ১৩

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি

নারায়ণগঞ্জ শহরের বোয়ালিয়া খাল এলাকায় র‌্যাব-১১ এর তিন সদস্যকে কুপিয়ে জখম করার ঘটনাকে কেন্দ্র করে অভিযান পরিচালনা করে যৌথ বাহিনী। এতে সন্ত্রাসী ও মাদক ব্যবসায়ী সহ ১৩ জনকে আটক করা হয়। তাদের আস্তানা থেকে বিপুল পরিমাণ মাদক ও অস্ত্র উদ্ধার করা হয়।

বুধবার (৬ মে ) সকাল সাড়ে ১১ টায় র‌্যাব-১১ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্ণেল এইচএম সাজ্জাদ হোসেন স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

আটককৃতরা হলেন - মোঃ সোহেল রানা (৪০), মোঃ আঃ রাজ্জাক (৪০), জোবায়ের হোসেন (২২), মোঃ শামিম আহম্মদ (২২), মিঠুন (৩৪), মোঃ ইমন প্রধান (২৬), মোঃ আকাশ (৩০), মোঃ রুবেল (৩৭), মোঃ আরাফাত হোসেন (২৮), মোঃ সুজন (৩২), মোঃ হৃদয় মিয়া (৩২), মোঃ টুটুল খান (৩৮), মোঃ রেজাউল করিম (৪৮)। তারা সকলে মাসদাইর এলাকার মাদক ব্যবসায়ী ও সন্ত্রাসী। তাদের আস্তানায় অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ মাদক ও অস্ত্র উদ্ধার করা হয়।

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে র‌্যাব কর্মকর্তা জানায়, ৫ মে দুপুরে রামগঞ্জ শহরের মাসদাইর বোয়ালিয়া খাল এলাকায় তথ্য সংগ্রহকালে সন্ত্রাসীরা র‍্যাব সদস্যদের উপর দেশীয় অস্ত্র নিয়ে অতর্কিত হামলা চালায়। এই হামলায় ৩ জন র‍্যাব সদস্যদের শরীর জখম ও আঘাতপ্রাপ্ত হয়।

এরই ধারাবাহিকতায়, ৫ মে সন্ধ্যা সাড়ে ৬ টা হতে রাত ১২ টা পর্যন্ত শহরের মাসদাইর এলাকায় সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করে এই চক্রের ১৩ জন সক্রিয় সদস্যকে আটক করা হয়। এ সময় তাদের আস্তানা থেকে ৬ রাউন্ড পিস্তলের গুলি, ছুরি-চাকু ১০টি, চাইনিজ কুড়াল ৭টি, রামদা ২টি, চাপাতি ৩টি, সিসি ক্যামেরা ৪টি, ড্রোন ১টি, নগদ ১১ লাখ ৬৪ হাজার ৫০০ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।

এছাড়া ২৩৫ কেজি গাঁজা, ১১ হাজার পিস ইয়াবা জব্দ করা হয়েছে, যা তারা এলাকায় ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করছিল। এ ঘটনায় আটককৃত আসামীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নারায়ণঞ্জ জেলার ফতুল্লা থানায় হস্তান্তর প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

এর আগে, মঙ্গলবার দুপুরে র‍্যাব-১১ এর চার সদস্যের একটি টিম বোয়ালিয়া খাল এলাকায় গিয়ে নানা তথ্য সংগ্রহ করে। এসময় এক দল সন্ত্রাসী র‍্যাব সদস্যদের উপস্থিতি টের পেয়ে ধারালো অস্ত্রসহ ধাওয়া দেয় ও তিন জন সদস্যকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। পরে আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়।

আহত র‍্যাব সদস্যরা হলেন- ইব্রাহিম, মাহী ও নাজিবুল। তাদের মধ্যে নজিবুল গুরুতর আহত হওয়ায় তাকে ঢাকা মেডিক্যালে পাঠানো হয়েছে। এবং অপর দুজনকে নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এ ঘটনার পর পুরো এলাকাজুড়ে যৌথ বাহিনী অভিযান পরিচালনা করে।


সিংগাইরে ৫ বছরের শিশুকন্যাকে ধর্ষণ, সৎ বাবা গ্রেফতার

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
সিংগাইর (মানিকগঞ্জ) প্রতিনিধি

মানিকগঞ্জের সিংগাইরে পাঁচ বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে তার সৎ বাবা মতি মিয়াকে (৪৪) আটক করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। বুধবার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জেলা গোয়েন্দা শাখার ইনচার্জ। অভিযুক্ত মতি মিয়া উপজেলার মাধবপুর গ্রামের বাসিন্দা বলে জানা গেছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ৪ মে শিশুটির মা নিজ স্বামীকে অভিযুক্ত করে সিংগাইর থানায় মামলা দায়ের করেন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় মঙ্গলবার টাঙ্গাইল জেলার মির্জাপুর থেকে তাকে পাকড়াও করা হয়।
মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, প্রায় পাঁচ বছর আগে ভুক্তভোগীর মাকে বিয়ে করেন মতি মিয়া। গত ১ মে গভীর রাতে নিজ ঘরেই শিশুটির ওপর পৈশাচিক নির্যাতন চালায় সে। ঘটনার পর অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ শুরু হলে পরদিন সকালে বিষয়টি জানাজানি হয়।
আশঙ্কাজনক অবস্থায় ভুক্তভোগী শিশুকে প্রথমে সিংগাইর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে তাকে দ্রুত মানিকগঞ্জ জেলা হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়, যেখানে বর্তমানে তার চিকিৎসা চলছে। এই জঘন্য অপরাধের সংবাদ ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয় এবং স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।


কালীগঞ্জে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান, অবৈধ মাটি কাটায় জরিমানা ও কারাদণ্ড

আপডেটেড ৬ মে, ২০২৬ ১৩:০৬
কালীগঞ্জ (গাজীপুর) প্রতিনিধি

গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে অবৈধভাবে শীতলক্ষ্যা নদীর সীমায় মাটি কাটার দায়ে একটি প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা এবং নেশাগ্রস্ত অবস্থায় জনশৃঙ্খলা বিনষ্টের দায়ে এক ব্যক্তিকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

বুধবার (৬ মে ২০২৬) উপজেলার বরিহাটি, তুমলিয়া, ব্রাহ্মণগাঁও ও বক্তারপুর এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট জাকিয়া সরওয়ার লিমা।

অভিযানে শীতলক্ষ্যা নদীর সীমার মধ্যে অনুমতি ছাড়া মাটি কাটার অপরাধে যমুনা স্পেসটেক জয়েন্টভেঞ্চার লিমিটেডের এইচআর অ্যাডমিন মো. সুজাত উদ্দিনকে বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০ এর ১৫(১) ধারায় ২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।

অন্যদিকে, ব্রাহ্মণগাঁও এলাকার মো. জহিরুল ইসলাম (৩৬) নেশাগ্রস্ত অবস্থায় জনসাধারণের শান্তি বিনষ্ট করায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ এর ৩৬(৫) ধারায় তাকে ১ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

ভ্রাম্যমাণ আদালতের এই অভিযানে মোট দুটি মামলা দায়ের করা হয়। এর মধ্যে একটিতে ২ লাখ টাকা অর্থদণ্ড আদায় করা হয়েছে এবং অপর মামলায় একজনকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

অভিযানে প্রসিকিউটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন কালীগঞ্জ থানার এএসআই স্বপন কুমার পাল এবং বেঞ্চ সহকারী হিসেবে ছিলেন মাহবুবুল ইসলাম।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।


চরফ্যাশনে ২ হাজার জেলে পেলেন খাদ্য সহায়তা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
চরফ্যাশন (ভোলা) প্রতিনিধি

ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধি ও জেলেদের জীবনমান উন্নয়নে সরকারের যুগান্তকারী পদক্ষেপের অংশ হিসেবে ভোলার চরফ্যাশনে নিবন্ধিত জেলেদের মাঝে বিশেষ খাদ্য সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। ‘ইলিশ সম্পদ উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা (২য় সংশোধিত) প্রকল্প’-এর আওতায় বুধবার সকালে চরফ্যাশন উপজেলা পরিষদ চত্বরে এই মানবিক সহায়তার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।

উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে ও মৎস্য বিভাগের সহযোগিতায় উপজেলার মোট ২ হাজার নিবন্ধিত জেলে পরিবারের হাতে এই বিশাল খাদ্য সামগ্রী তুলে দেওয়া হয়। জনপ্রতি প্যাকেজে দেওয়া হয়েছে ১২ কেজি আটা, ৮ কেজি মসুর ডাল, ১৬ কেজি আলু, ১০ লিটার সয়াবিন তেল, ৪ কেজি চিনি এবং ৪ কেজি লবণ। উদ্বোধনী পর্ব শেষে উপজেলা অফিসার্স ক্লাব মিলনায়তনে সুশৃঙ্খলভাবে এই বিতরণ কাজ সম্পন্ন করা হয়।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজের সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা জয়ন্ত কুমার অপু।

এসময় অতিথি হিসেবে জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন উপস্থিত ছিলেন।

সভাপতির বক্তব্যে ইউএনও রুমানা আফরোজ বলেন, 'ইলিশ আমাদের জাতীয় সম্পদ। এই সম্পদ রক্ষায় সরকার যখন মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে, তখন যেন আমাদের শ্রমজীবী জেলে ভাইদের কষ্ট না হয়, সেটি নিশ্চিত করতেই এই উদ্যোগ। এই খাদ্য সহায়তা জেলেদের সংকটকালীন সময়ে টিকে থাকতে বড় ভূমিকা রাখবে।'

উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা জয়ন্ত কুমার অপু জানান, কেবল খাদ্য সহায়তা নয়, জেলেদের বিকল্প কর্মসংস্থান ও ইলিশের অভয়াশ্রম রক্ষায় মৎস্য বিভাগ নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। প্রকৃত জেলেরা যেন এই সুবিধার আওতায় আসে, সে বিষয়ে কঠোর তদারকি করা হচ্ছে।

বিপুল পরিমাণ এই খাদ্যসামগ্রী হাতে পেয়ে জেলেরা সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তারা জানান, বর্তমান বাজার দরের ঊর্ধ্বগতির সময়ে এই সহায়তা তাদের পরিবারে বড় স্বস্তি বয়ে এনেছে। এর ফলে ইলিশ রক্ষায় সরকারি আইন মেনে চলতে তারা আরও উৎসাহিত হবেন বলে আশা প্রকাশ করছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।



শরণখোলায় সংখ্যালঘু পরিবারে হামলা, ভাঙচুর-লুটপাট

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
শরণখোলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি

বাগেরহাটের শরণখোলায় সংখ্যালঘু (হিন্দু) একটি পরিবারের ওপর হামলা, বসতঘর ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের হয়েছে।

মঙ্গলবার (৫ মে) সকালে ভুক্তভোগী রবীন ঢালী ২৬ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। এ ঘটনায় দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন উপজেলার উত্তর রাজাপুর গ্রামের জামাল শিকদারের ছেলে রাজু শিকদার এবং রাজৈর গ্রামের শহিদুল ইসলামের ছেলে নাইম ইসলাম।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার (৪ মে) দুপুরে উপজেলার ধানসাগর ইউনিয়নের রতিয়া রাজাপুর গ্রামে এ হামলার ঘটনা ঘটে। জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে একই এলাকার প্রভাবশালী সোবাহান হাওলাদারের নেতৃত্বে ৫০ থেকে ৬০ জনের একটি দল রবীন ঢালীর বাড়িতে হামলা চালায়।

হামলাকারীরা দা, হাতুড়ি, শাবল ও লাঠিসোটা নিয়ে বসতঘরে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। ঘর ও ঘরের আসবাবপত্র ভেঙে ফেলে। বাধা দিতে গেলে বাড়ির নারী সদস্যদেরও মারধর করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

এ ঘটনায় আহতদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

ভুক্তভোগী রবীন ঢালী বলেন, “আমি বাইরে থাকার সুযোগে পরিকল্পিতভাবে সন্ত্রাসী ভাড়া করে আমার বাড়িতে হামলা চালানো হয়। বসতঘরসহ সব কিছু ধ্বংস করে এখন আমি নিঃস্ব, এই দেশে থাকার মতো অবস্থাও নেই।”

তিনি আরও বলেন, দীর্ঘদিন ধরে জমি নিয়ে বিরোধ চলছিল এবং বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।

ঘটনার পরদিন দুপুরে বাগেরহাটের পুলিশ সুপার হাসান মোহাম্মদ নাছের ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তিনি ভুক্তভোগী পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।

ভুক্তভোগী পরিবারের স্বজনরা জানান, এ ঘটনায় এলাকায় চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে এবং নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। তারা দ্রুত দোষীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

শরণখোলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শামিনুল হক জানান, ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়, তবে তার আগেই হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। ঘটনাস্থল থেকে দেশীয় অস্ত্র জব্দ করা হয়েছে। তিনি বলেন, “মামলা হয়েছে, দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং বাকি আসামিদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”


সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলা, প্রেসক্লাব-রিপোর্টার্স ইউনিটির প্রতিবাদ ও ক্ষোভ

আপডেটেড ৬ মে, ২০২৬ ১১:০৮
চরফ্যাশন (ভোলা) প্রতিনিধি

চরফ্যাশনে কর্মরত সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে ডিজিটাল আইনে মামলা দায়েরের ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সংবাদকর্মীরা। বিএনপির বহিষ্কৃত এক নেতার করা এ মামলাকে ‘উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও হয়রানিমূলক’ উল্লেখ করে তা দ্রুত প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়েছে।

মঙ্গলবার (৫ মে) রাতে চরফ্যাশন প্রেসক্লাব মিলনায়তনে প্রেসক্লাব ও রিপোর্টার্স ইউনিটির যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এক প্রতিবাদ সভায় এই ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটে। উপজেলার বিভিন্ন গণমাধ্যমে কর্মরত সাংবাদিকরা এতে অংশ নিয়ে সংহতি জানান।

সভায় সাংবাদিকরা অভিযোগ করেন, চরফ্যাশন উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক (বহিষ্কৃত) মোতাহার হোসেন আলমগীর মালতিয়া সাংবাদিকদের পেশাগত মর্যাদা ক্ষুণ্ণের চেষ্টা করছেন। তারা বলেন, ওই নেতা প্রথমে সাংবাদিকদের নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য করেন এবং পরবর্তীতে তার রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড নিয়ে সংবাদ প্রকাশিত হলে প্রতিহিংসাবশত বরিশাল সাইবার ক্রাইম ট্রাইব্যুনালে মামলাটি দায়ের করেন।

সভায় সাংবাদিক নেতারা বলেন, 'সাংবাদিকদের কণ্ঠরোধ করার জন্য এ ধরনের মামলার আশ্রয় নেওয়া মুক্ত সাংবাদিকতার জন্য চরম হুমকি। ডিজিটাল আইনের অপপ্রয়োগ করে সত্যের পথ রুদ্ধ করার চেষ্টা অতীতেও সফল হয়নি, বর্তমানেও হবে না।' তারা আরও বলেন, বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার পরিবেশ বিঘ্নিত হলে সমাজের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নষ্ট হবে।

বক্তারা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ও সাংবাদিকদের নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার দায়িত্ব রাষ্ট্রের। হয়রানিমূলক এই মামলা দ্রুত প্রত্যাহার করা না হলে রাজপথে কঠোর কর্মসূচি পালনের হুঁশিয়ারি দেন তারা।

উল্লেখ্য, গত ২৮ এপ্রিল মামলাটি দায়ের করা হলে আদালত তা রেকর্ডভুক্ত করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। এ ঘটনার পর থেকেই চরফ্যাশনের সাংবাদিক সমাজে অসন্তোষ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে।

প্রতিবাদ সভায় চরফ্যাশন প্রেসক্লাব ও রিপোর্টার্স ইউনিটির নেতৃবৃন্দসহ স্থানীয় বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।


মেহেরপুরে বাড়ির সামনে থেকে বোমা সদৃশ বস্তু উদ্ধার

আপডেটেড ৬ মে, ২০২৬ ১০:৫৬
মেহেরপুর প্রতিনিধি

মেহেরপুরের গাংনী উপজেলায় একটি বোমা সদৃশ বস্তু উদ্ধার করেছে পুলিশ।
বুধবার (৬ মে) সকাল ৮টার দিকে উপজেলার সীমান্তবর্তী তেঁতুলবাড়িয়া গ্রামের হাজীপাড়ায় মৃত আনারুল ইসলামের ছেলে সানোয়ার হোসেন পলাশের বাড়ির গেটের সামনে থেকে বস্তুটি উদ্ধার করা হয়।
সানোয়ার হোসেন পলাশের চাচাতো ভাই শামীম হোসেন জানান, সকালে হাঁটতে বের হয়ে বাড়ির মূল ফটকের সামনে কালো টেপে মোড়ানো একটি বস্তু দেখতে পান। পরে বিষয়টি সানোয়ার হোসেন পলাশ ও পুলিশকে জানানো হয়।
সানোয়ার হোসেন পলাশ জানান, বোমা সদৃশ বস্তুটিতে লেখা ছিল হাত দিলেই বাস্ট। তবে কে বা কারা এটি সেখানে রেখে গেছে, তা তিনি জানাতে পারেননি।
গাংনী থানার ওসি (তদন্ত) আল মামুন জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। উদ্ধার হওয়া বস্তুটি নিরাপত্তার জন্য পানিভর্তি বালতিতে রাখা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে।


banner close