শনিবার, ৭ মার্চ ২০২৬
২৩ ফাল্গুন ১৪৩২

চা বাগান থেকে যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

ছবি: দৈনিক বাংলা
মৌলভীবাজার প্রতিনিধি
প্রকাশিত
মৌলভীবাজার প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ২২ এপ্রিল, ২০২৪ ১৪:৩৫

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জের একটি চা বাগানে গাছের সঙ্গে ফাঁস লাগা অবস্থায় এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সোমবার সকালে উপজেলার ফুলবাড়ি চা বাগান এলাকার ৮ নম্বর সেকশনে ওই যুবকের মরদেহ উদ্ধার করে কমলগঞ্জ থানা পুলিশ। প্রাণ হারানো যুবক ১৯ বছর বয়সী সজল বাউরি, যিনি ওই বাগানের চা শ্রমিক চুন্নু বাউরির ছেলে।

স্থানীয় একজন জানান, ‘রাতে মা-বাবার সঙ্গে ভাত নিয়ে সজল বাউরির ঝগড়া হয়। আমরা তাদের ঝগড়া শুনতে পাই। সকালে বাগানে গাছের সঙ্গে তার মরদেহ দেখে তার মা-বাবাকে জানাই। পরে পুলিশ এসে মরদেহ উদ্ধার করে নিয়ে যায়। সে বাগানে শ্রমিকের কাজ করত।

সজল বাউরির বাবা চুন্নু বাউরী বলেন, ‘আমার সঙ্গে ও ছেলের মায়ের সঙ্গে গরম ভাত করে দেয়ার জন্য সন্ধ্যায় ঝগড়া হয়। সে ঠাণ্ডা ভাত খাবে না। পরে রাত ৮টার দিকে ঘর থেকে বের হয়ে যায়। আমরা ভাবছি হয়তো প্রতিবেশী কারও ঘরে রাতে থাকতে পারে। তাই আর খোঁজখবর নিইনি।’

তিনি আরও বলেন, ‘সকালে হঠাৎ শ্রমিকরা কাজে গেলে চা বাগানের ৮ নম্বর সেকশনে এলাকায় গাছের সঙ্গে ফাঁস লাগা অবস্থায় সজলের মরদেহ দেখতে পেয়ে আমাদের খবর দেয়। আমরা পুলিশকে বিষয়টা জানাই। পরে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে নিয়ে যায়।’

কমলগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) জিয়াউল বলেন, ‘বাগানের ৮ নম্বর সেকশন এলাকায় একটি গাছের সঙ্গে গলায় ফাঁস দেয়া সজল বাউরির মরদেহ সকালে উদ্ধার করা হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘মরদেহ ময়নাতদন্ত করার জন্য মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হবে। এ ঘটনায় থানায় অপমৃত্যুর মামলা করা হয়েছে।’


নাটোরে বাঁশের ঝাড়ে পানির ট্যাংকিতে মিলল ১০ হাজার লিটার ডিজেল

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নাটোর প্রতিনিধি

নাটোরের সিংড়ায় বাঁশের ঝাড়ে মাটির নিচে পানির ট্যাংকিতে ১০ হাজার লিটার ডিজেল উদ্ধার করেছে উপজেলা প্রশাসন। শনিবার দুপুরে উপজেলার নিংগইন এলাকায় অভিযান চালানো হয়। এ সময় জ্বালানি তেল মজুত রেখে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির অভিযোগে রুবেল হোসন নামে এক ব্যবসায়ীকে ৫ হাজার টাকা জড়িমানা করে ভ্রাম্যমাণ আদালত।

সিংড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার আব্দুল্লাহ আল রিফাত জানান, নিংগইন ভাটোপাড়া মসজিদের দক্ষিণ পাশে বাঁশের ঝাঁড়ের মধ্যে মাটির নিচে পানির ট্যাংকিতে ১০ হাজার লিটার ডিজেল মজুত করে সততা ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী রুবেল হোসেন। পরে সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে ওই এলাকায় অভিযান চালিয়ে ঘটনার সত্যতা মেলে। পরে বিপুল পরিমাণ তেল অবৈধভাবে মজুত করে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির অপরাধে ব্যবসায়ী রুবেল হোসেনকে ৫ হাজার টাকা জড়িমানা করা হয়। সেই সাথে এই তেল দোকানে স্থানান্তর করে স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় বিক্রির নির্দেশ প্রদান করা হয়।

অভিযানে উপস্থিত ছিলেন, সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা শাহাদত হোসেন, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা খন্দকার ফরিদ, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো. তাশরিফুল ইসলাম প্রমুখ।


বসন্তের ছোঁয়ায় বোয়ালখালীতে ভাঁটফুলের অপূর্ব সৌন্দর্য

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
আবু নাঈম, বোয়ালখালী (চট্টগ্রাম)

বসন্তের আগমনে প্রকৃতি যেন নতুন রঙে সেজে ওঠে। চারদিকে যখন পলাশ, শিমুল আর নানা বুনো ফুলের রঙিন সমারোহ, তখন চট্টগ্রামের বোয়ালখালীর জ্যৈষ্ঠপুরা গ্রামে সূর্যব্রত বিলের পাশ দিয়ে যাওয়া একটি গ্রামীণ সড়কের দুই পাশে ফুটে থাকা ভাঁটফুল যেন প্রকৃতির এক অপূর্ব সাজ।

শীতের শেষ আর বসন্তের শুরুতেই গ্রামীণ বাংলার আনাচে-কানাচে, রাস্তার ধারে কিংবা ঝোঁপঝাড়ের মাঝে অযত্নে-অবহেলায় ফুটে ওঠে এই ফুল। দূর থেকে দেখলে মনে হয়, প্রকৃতি যেন নিজ হাতে সাজিয়ে দিয়েছে সাদা-বেগুনি রঙের বিশাল এক ফুলের তোড়া।

স্থানভেদে এ ফুলের নাম ভাঁটফুল, ভাঁটফুল, ঘেটুফুল, বা ঘণ্টাকর্ণ। তবে চট্টগ্রামের বোয়ালখালীসহ পাহাড়ি অঞ্চলে এটি ‘ভাটিফুল’ নামেই বেশি পরিচিত। সাধারণত ফাল্গুনের শেষ থেকে চৈত্রের শুরুতেই এ ফুল ফোটতে শুরু করে এবং বসন্ত থেকে গ্রীষ্ম পর্যন্ত এর সৌন্দর্য ছড়িয়ে থাকে।

ভাঁটগাছের প্রধান কাণ্ড সোজাভাবে দাঁড়িয়ে থাকে এবং সাধারণত ২ থেকে ৪ মিটার পর্যন্ত লম্বা হয়। এর পাতা দেখতে কিছুটা পানপাতার মতো, আকারে ৪ থেকে ৭ ইঞ্চি লম্বা এবং কিছুটা খসখসে। ডালের শীর্ষে পুষ্পদণ্ডে ফোটে সাদা রঙের ফুল, যার পাপড়িতে থাকে বেগুনি রঙের আভা। ফুলগুলো থেকে ছড়িয়ে পড়ে মিষ্টি সৌরভ, যা সহজেই পথচারীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। মৌমাছিরাও এই ফুল থেকে মধু সংগ্রহ করে।

গ্রামের মেঠোপথের ধারে, পতিত জমিতে, পাহাড়ি বন কিংবা ছড়ার পাশে প্রাকৃতিকভাবেই জন্মায় এই বুনোফুল। ইংরেজিতে একে বলা হয় Hill Glory Bower এবং এর বৈজ্ঞানিক নাম Clerodendrum viscosum। এটি ল্যামিয়াসি (Lamiaceae) পরিবারের একটি উদ্ভিদ এবং বাংলাদেশের পরিচিত বুনোফুলগুলোর অন্যতম।

স্থানীয় সাংবাদিক দেবাশীষ বড়ুয়া রাজু বলেন, ‘ভাঁটফুলের সঙ্গে আমার ছোটবেলার অনেক স্মৃতি জড়িয়ে আছে। ছোটবেলায় আমরা এই ফুলের পাপড়ি ছিঁড়ে পানিতে ফেলতাম, তখন পাপড়িগুলো ঘুরতে থাকত—দেখতে খুব ভালো লাগত।’

স্কুলছাত্র ইনাম হোসেন জানায়, ফাল্গুন মাস এলেই প্রকৃতিতে ভাঁটফুল ফুটে ওঠে। এতে পরিবেশে নতুন এক মাত্রা যোগ হয়। বসন্তের আগমনে পলাশ-শিমুলের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে এই ফুল ফোটে। বিশেষ করে রাস্তার দুপাশ, পরিত্যক্ত মাঠ, বন কিংবা জলাশয়ের পাশে এই ফুল বেশি দেখা যায়।

তবে স্থানীয়দের মতে, আগের তুলনায় বর্তমানে ভাঁটফুলের সংখ্যা কিছুটা কমে গেছে। তবুও বনে-বাদাড়ে অযত্নে ফুটে থাকা এই ফুলের সৌন্দর্যে মুগ্ধ না হয়ে পারা যায় না। বসন্ত এলেই তাই প্রকৃতির নীরব সৌন্দর্যের বার্তা নিয়ে ফুটে ওঠে বুনো ভাঁটফুল।


কক্সবাজারে নিখোঁজ নারীর মরদেহ মিলল হাসপাতালে লিফটের গর্তে

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কক্সবাজার প্রতিনিধি 

কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে শিশুসন্তানের চিকিৎসা করতে এসে নিখোঁজ নারীর মরদেহ পাওয়া গেছে একই হাসপাতালের লিফটের নিচের গর্তে!

শনিবার দুপুর ১টায় পঁচা গন্ধের উৎস সন্ধান করে এই মরদেহের সন্ধান পাওয়া যায়।

নিহত নারীর নাম কোহিনূর আকতার। তিনি উখিয়া উপজেলার রাজাপালং ইউনিয়ন ৭নং ওয়ার্ড দক্ষিণ ডেইলপাড়া এলাকার কাতার প্রবাসী নুরুল ইসলামের স্ত্রী।

সত্যতা নিশ্চিত করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা মং টিং নিও জানান, হাসপাতালের সর্বসাধারণের ব্যবহৃত লিফটের নিচ থেকে গন্ধ বের হলে তার উৎস সন্ধানের পর লিফটের নিচের গর্তে মরদেহটির সন্ধান পাওয়া যায়।

তিনি বলেন, ‘মরদেহের সন্ধান পেয়ে স্বজনদের তথ্যটা জানানো হয়। তারপর স্বজন, পুলিশ ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের উপস্থিতিতে উদ্ধার করা হয়। তবে কীভাবে নারীটি সেখানে পড়েছে তার কোনো ক্লু মিলছে না।

এ ব্যাপারে কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ছমিউদ্দীন জানান, কহিনুর আকতার গত ৩ মার্চ তার বড় মেয়ে মরিয়ম আক্তার (৫) অসুস্থ হওয়ায় কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করান। শিশুটিকে হাসপাতালের ৫ম তলার শিশু ওয়ার্ডের ২নং ইউনিটে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছিল। ওই সময় মা ও মেয়ে উভয়েই হাসপাতালে অবস্থান করছিলেন। পরদিন ৪ মার্চ দুপুর আনুমানিক সাড়ে ১২টার দিকে কহিনুর আকতার ওষুধ আনার কথা বলে হাসপাতালের ৫ম তলা থেকে নিচে নামেন। এরপর থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন।

এ ঘটনায় নিখোঁজ নারীর শ্বশুর আলী আকবর থানায় একটি নিখোঁজ ডায়রি করেন।

ওসি বলেন, ‘নিখোঁজের পর থেকে পুলিশ কোহিনূর আকতারকে বিভিন্ন স্থানে খোঁজ করা অব্যাহত রাখে। এর মধ্যে হাসপাতালে কর্তৃপক্ষ জানায় লিফটের নিচে একটি মরদেহ পাওয়া গেছে। খবর পেয়ে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে গেছে। কীভাবে নারীটি গর্তে পড়ে গেছে তার কোনো ক্লু পাওয়া যায়নি। অনুসন্ধান চলছে। বিস্তারিত পরে জানা যাবে।’


সাশ্রয়ী মূল্যে পণ্য বিক্রয় নিশ্চিত করতে হবে

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বগুড়া প্রতিনিধি

ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ ফয়সাল আজাদ বলেছেন, ব্যবসা নয় জনসেবা। টিসিবির পণ্য সবার জন্য। ব্যবসার পরিবর্তে মানবসেবা ও সবার জন্য সাশ্রয়ী মূল্যে পণ্য বিক্রয় নিশ্চিত করতে হবে। তিনি বলেন, ‘বগুড়ার অবস্থান ভালো। তবে কিছু জায়গায় ডিলারের সংখ্যা কম আছে। এটা আগামী জুন-জুলাই পর্যন্ত থাকবে। আগামী মাসের মধ্যেই সারাদেশে নতুন ডিলার নিয়োগের বিষয়ে সার্কুলার দেওয়া হবে। এ ছাড়া নতুন পণ্য আপনারা এ মাসে না পেলেও আগামী মাসে পাবেন। এটা সবচেয়ে জরুরি। এসব পণ্য ভোক্তারা কিনবেন অনেক কম মূল্যে।’

শনিবার বেলা ১১টার দিকে বগুড়া জেলা প্রশাসক সভাকক্ষে জেলা প্রশাসন ও টিসিবি ক্যাম্প অফিসের আয়োজনে জেলার টিসিবি ডিলারদের সাথে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

রাইস ব্রান তেলের কথা উল্লেখ করে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ ফয়সাল আজাদ বলেন, ‘রাইস ব্রান তেল এটি সম্পন্ন দেশীয় পণ্য। চালের তুষ থেকে উৎপাদিত একটি স্বাস্থ্যকর ভোজ্য তেল। এটি অনেক ভালো মানের তেল। যা স্বাস্থ্যের জন্য ভালো। রাইস ব্রানের পাশাপাশি ক্যানোলা তেল যুক্ত করা হচ্ছে। এটি পুষ্টিগুণ এবং স্বাস্থ্য উপকারিতা।’

তিনি বলেন, ‘কয়েকটি জেলার মধ্যে ট্রাকসেল নিয়ে এখন পর্যন্ত কোনো সমস্যা হয়নি বগুড়ায়। ভালো টিবিসি অফিস সেটিও বগুড়া। সবচেয়ে ভালো কাজ হয়েছে এই বগুড়াতেই।’

বগুড়া জেলা প্রশাসক তৌফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে সভায় আরও বক্তব্য দেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মেজাবাউল করিম, টিসিবি ক্যাম্প অফিস বগুড়ার সহকারী পরিচালক (অফিস প্রধান) সাদ্দাম হোসাইন। সভায় সরকারি কর্মকর্তাসহ জেলার বিভিন্ন এলাকার ডিলাররা উপস্থিত ছিলেন।


দৈনিক বাংলায় সংবাদ প্রকাশের পর সেই মা-মেয়ের খালাস

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ৭ মার্চ, ২০২৬ ২২:১১
 ইউসুফ বিন হোছাইন, পেকুয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি 

দৈনিক বাংলায় সংবাদ প্রকাশের পর খালাস পেলেন সেই মা-ও মেয়ে। গত বৃহস্পতিবার থানায় ইউএনওর অভিযান, বিচারপ্রার্থী মা-মেয়েকে ১ মাসের সাজা শিরোনামে সংবাদ প্রকাশ করা হয় ওই সংবাদের পর শনিবার কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট শহিদুল আলমের বিশেষ বেঞ্চে মা-মেয়েকে বেকসুর খালাসের রায় দেন।

কক্সবাজারের পেকুয়া থানায় গত বুধবার পৈতৃক জমি নিয়ে বিরোধের জেরে বিচারপ্রার্থী মা-মেয়েকে থানা পুলিশ কর্তৃক বেধড়ক মারধর করে। এ ঘটনায় জুবাইদা জন্নাত (২৩) ও তার মা রেহেনা মোস্তফা রানু (৩৮) কারাগারে প্রেরণ করেন পেকুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহবুব আলম।

পেকুয়া থানার এসআই পল্লব কোমার ঘুষের কাছে একটি পারিবারিক জায়গা জমির মামলার তদন্ত দেন চকরিয়া সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিসট্রেট আদালত। মামলার তদন্তের দায়িত্বে থাকায় প্রতিবেদন পক্ষে দেওয়ার নামে জুবাইদা ও তার মায়ের কাছ থেকে ২০ হাজার টাকা ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ করেন মামলার বাদি জুবাইদা ও তার মা রেহেনা বেগম রানু।

ঘুষ নেওয়ার পর আরও বেশি টাকার বিনিময়ে বিবাদীর পক্ষে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন পেকুয়া থানার এসআই পল্লব কোমার ঘোষ। তারই পরিপ্রেক্ষিতে গিয়ে মা-মেয়ে ঘুষের টাকা ফেরত চান সেই এসআই পল্লবের কাছে। এতেই বাধে হট্টগোল। পল্লব কোমার ঘুষের সাথে কথা-কাটাকাটি হলে বেধড়ক পেটানো হয় সেই মা-মেয়েকে। পরবর্তীতে পেকুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহবুব আলমকে খবর দিয়ে মা-মেয়েকে এক মাসের সাজা দেওয়া হয়।

ঘটনার খবর জানতে পেরে ভুক্তভোগী পরিবার এই প্রতিবেদকের সঙ্গে যোগাযোগ করে ঘটনার বর্ণনা তুলে ধরলে গত ৫ মার্চ ‘থানায় ইউএনওর অভিযান, বিচারপ্রার্থী মা-মেয়েকে ১ মাসের সাজা’ শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশ হয়। এই সংবাদ ছড়িয়ে পড়লে সচেতন মহলে নানা-আলোচনা সমালোচনা সৃষ্টি হয়।


কালীগঞ্জ হাসপাতালে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর ঝটিকা সফর: স্বাস্থ্য কর্মকর্তাসহ ৪ চিকিৎসক অনুপস্থিত

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
গাজিপুর জেলা প্রতিনিধি

গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আকস্মিক ঝটিকা পরিদর্শন করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল। শনিবার (৭ মার্চ) সকাল ১০টায় তিনি কোনো পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই হাসপাতালে পৌঁছালে সেখানে এক হট্টগোলের সৃষ্টি হয়। পরিদর্শনের শুরুতেই মন্ত্রী দেখেন যে, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রেজওয়ানা রশিদ তাঁর কর্মস্থলে উপস্থিত নেই। স্বাস্থ্যমন্ত্রীর উপস্থিতির খবর পেয়ে তিনি তড়িঘড়ি করে পরে হাসপাতালে আসেন। মন্ত্রী দীর্ঘ সময় নিয়ে হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড ও জরুরি বিভাগ পরিদর্শন করেন এবং সেখানে ভর্তি থাকা রোগীদের সাথে কথা বলে তাঁদের খোঁজখবর নেন।

পরিদর্শন শেষে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী তাঁর অসন্তোষ প্রকাশ করে জানান, পরিদর্শনের সময় চারজন চিকিৎসককে ডিউটিতে পাওয়া যায়নি। এর মধ্যে একজন চিকিৎসক নিয়মবহির্ভূতভাবে দীর্ঘ দিন ধরে কর্মস্থলে অনুপস্থিত রয়েছেন বলে তথ্য পাওয়া গেছে। মন্ত্রী হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, চিকিৎসকদের এই ধরণের দায়িত্বহীনতা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না এবং তাঁদের বিরুদ্ধে দ্রুত কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তিনি হাসপাতালের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও চিকিৎসা সেবার মান বাড়াতে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন।

পরিদর্শনকালে স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে হাতের কাছে পেয়ে নিজেদের ক্ষোভ উগড়ে দেন চিকিৎসা নিতে আসা সাধারণ রোগীরা। তাঁদের অভিযোগের পাহাড় ছিল দীর্ঘ। রোগীরা জানান, হাসপাতালে সময়মতো কোনো ডাক্তার পাওয়া যায় না। ডাক্তাররা এলেও ১-২ ঘণ্টা নিজেদের রুমের ভেতর গল্পগুজব করে সময় কাটান এবং রোগী দেখতে বসেন না। এমনকি রোগীরা তাঁদের সমস্যার কথা বলতে চাইলে ডাক্তাররা তা মন দিয়ে শোনেন না বরং দ্রুত প্রেসক্রিপশন লিখে দিয়ে বাইরের প্রাইভেট ক্লিনিক থেকে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করিয়ে আনতে বাধ্য করেন। সরকারি এই হাসপাতালে শিশু, মেডিসিন ও গাইনি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের প্রায়ই অনুপস্থিত থাকতে দেখা যায় বলে রোগীরা অভিযোগ করেন।

রোগীদের আরও অভিযোগ রয়েছে ওষুধের সংকট নিয়ে। তাঁরা জানান, হাসপাতাল থেকে পর্যাপ্ত ওষুধ দেওয়া হয় না এবং অধিকাংশ ওষুধ বাইরের ফার্মেসি থেকে কিনতে বলা হয়। সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য হলো, কিছু কিছু চিকিৎসক সরকারি হাসপাতালে হাজিরা দেওয়ার পরপরই স্থানীয় বেসরকারি ক্লিনিকে অপারেশন করতে বা রোগী দেখতে চলে যান। এর ফলে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর এই সরকারি চিকিৎসাকেন্দ্রটি কার্যত সেবাবঞ্চিত হয়ে পড়েছে। মন্ত্রী রোগীদের প্রতিটি অভিযোগ গুরুত্বের সাথে শোনেন এবং এগুলোকে অনতিবিলম্বে সংশোধনের আশ্বাস দেন।

পরিদর্শনকালে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সঙ্গে কালীগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) জাকিয়া সারোয়ার লিমা, কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাকির হোসেনসহ উপজেলার বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। স্বাস্থ্যমন্ত্রীর এই ঝটিকা সফরের পর কালীগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্মরতদের মধ্যে এক ধরণের আতঙ্ক ও উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা, মন্ত্রীর এই হস্তক্ষেপের ফলে দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত অনিয়ম দূর হয়ে হাসপাতালটিতে শিক্ষার পরিবেশ ও সেবার মান ফিরে আসবে।


দিনাজপুরে বিজিবির অভিযান: ২৫ কেজি ওজনের দুই কষ্টিপাথরের মূর্তিসহ আটক ১

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দিনাজপুর জেলা প্রতিনিধি

দিনাজপুরের বিরল উপজেলায় পৃথক দুটি অভিযানে ২৫ কেজি ৬৭০ গ্রাম ওজনের মূল্যবান দুটি কষ্টিপাথরের মূর্তিসহ একজনকে আটক করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। শনিবার (৭ মার্চ) বিকেলে ২০ বিজিবি জয়পুরহাট ব্যাটালিয়নের সদর দপ্তরে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এই তথ্য নিশ্চিত করেন ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ লতিফুল বারী। আটক ব্যক্তির নাম রাসেল ইসলাম (৩৩), তিনি বিরল উপজেলার ধনগ্রাম এলাকার মকবুল হোসেনের ছেলে।

বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শুক্রবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে ২০ বিজিবি জয়পুরহাট ব্যাটালিয়নের একটি বিশেষ টহল দল বিরল উপজেলার ধনগ্রাম এলাকায় রাসেলের বাড়িতে হানা দেয়। তল্লাশিকালে তাঁর বসতঘর থেকে ১৫ কেজি ৬২০ গ্রাম ওজনের একটি প্রাচীন কষ্টিপাথরের মূর্তি উদ্ধার করা হয় এবং রাসেলকে আটক করা হয়। পরবর্তীতে তাঁকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনি ফরক্কাবাদ এলাকায় আরও একটি মূর্তি লুকিয়ে রাখার কথা স্বীকার করেন।

রাসেলের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ভোররাতেই ফরক্কাবাদ গ্রামে দ্বিতীয় দফায় অভিযান চালায় বিজিবি। সেই অভিযানে ১০ কেজি ৫০ গ্রাম ওজনের আরও একটি কষ্টিপাথরের মূর্তি উদ্ধার করা সম্ভব হয়। বিজিবি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, উদ্ধারকৃত দুটি মূর্তির মোট আনুমানিক বাজার মূল্য প্রায় ২৫ লাখ ৭২ হাজার ৬০০ টাকা। মূর্তি দুটির ঐতিহাসিক গুরুত্ব ও পুরাতাত্ত্বিক মূল্য যাচাই করার জন্য ইতিমধ্যে জেলা প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের সাথে যোগাযোগ করা হয়েছে।

লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ লতিফুল বারী জানান, উদ্ধারকৃত কষ্টিপাথরের মূর্তিগুলো পাচারের উদ্দেশ্যে সংগ্রহ করা হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আটক রাসেলের বিরুদ্ধে বিরল থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাঁকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হবে। বিজিবির এমন তৎপরতা সীমান্তে চোরাচালান রোধে এবং জাতীয় ঐতিহ্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।


টঙ্গী বাজার ফোম মার্কেটে ভয়াবহ আগ্নিকাণ্ড

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
টঙ্গী (গাজীপুর) প্রতিনিধি

গাজীপুরের টঙ্গীতে একটি ফোম মার্কেটে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। গত বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) রাত সাড়ে এগারোটা দিকে টঙ্গী বাজার আনারকলি রোডের মা সফুরন্নেছা সুপার মার্কেটে এই ঘটনা ঘটে।

খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের টঙ্গী, উত্তরা ও কুর্মিটোলার মোট ৬টি ইউনিট প্রায় দেড় ঘন্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, মার্কেটের ভিতরে একটি দোকানে হঠাৎ করে আগুনের কুন্ডলী দেখতে পান তারা। মুহূর্তেই বেশ কয়েকটি দোকানে আগুন ছড়িয়ে পরে। এতে ১০ থেকে ১৫টি দোকানের সব মালামাল পুরে ছাই হয়ে যায়।

ফায়ার সার্ভিসের দাবি মার্কেটটিতে বিপুল পরিমাণ ধায্য কেমিক্যাল, ফোম ও প্লাস্টিক সামগ্রী ছিল। তাছাড়া জনবহুল এলাকা হওয়ার মানুষের উপচে পড়া ভীড় ও পানি সংকটে আগুন নিয়ন্ত্রণে বেগ পেতে হয়।

ফায়ার সার্ভিসের (ঢাকা জোন ৩) এর উপ সহকারী পরিচালক আব্দুল মান্নান বলেন, খবর পেয়ে টঙ্গী ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট তাৎক্ষণিক ভাবে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। পরবর্তীতে আগুনের ভয়াবহতা দেখে উত্তরা ও কুর্মিটোলা থেকে আরও তিনটি ইউনিট যুক্ত হয়। মোট ৬টি ইউনিটের দেড় ঘন্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হই।

প্রাথমিকভাবে আগুন লাগার কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানা যায়নি। তবে প্রচুর ধায্য পদার্থ থাকায় ও পর্যাপ্ত পানির উৎস না থাকায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রচুর বেগ পেতে হয়েছে।


১৮শ বছরের ইতিহাস: তিন সভ্যতার নীরব সাক্ষী ‘দমদম পীরস্থান ঢিবি'

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মণিরাম (যশোর) প্রতিনিধি

প্রাচীন বাংলার জনপদ যশোরের মণিরামপুর। এই জনপদের ধুলোবালি আর মাটির পরতে পরতে লুকিয়ে আছে হাজার বছরের বিস্ময়। মণিরামপুর বাজার থেকে মাত্র ৬ কিলোমিটার দূরে ভোজগাতি ইউনিয়নের দোনার গ্রামে নিভৃতে দাঁড়িয়ে আছে এক ঢিবি, যা স্থানীয়দের কাছে ‘দমদম পীরস্থান’ নামে পরিচিত। এক সময় লোকমুখে এটি সুলতানি আমলের স্থাপনা বলে পরিচিত থাকলেও, প্রত্নতাত্ত্বিক খনন দেখিয়েছে এক অবিশ্বাস্য সত্য। এটি কেবল কয়েকশ বছরের নয়, বরং ১৮শ বছরেরও বেশি প্রাচীন এক জনপদের ধ্বংসাবশেষ যা আমাদের নিয়ে যায় যিশুখ্রিস্টের জন্মের সমসাময়িক এক সুপ্রাচীন অতীতে।

​১৯৮৬ সালের এক বিকেলে স্থানীয়রা যখন ঢিবি সংলগ্ন মাদ্রাসার জন্য মাটি খুঁড়ছিলেন, তখন হঠাৎ কোদালের মুখে বেরিয়ে আসে প্রাচীন ইটের সুনিপুণ গাঁথুনি। মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়ে সেই খবর। দীর্ঘকাল মাটির নিচে চাপা পড়ে থাকা রহস্যময় এক স্থাপত্যের হাতছানি হাজার হাজার মানুষকে সেই অজপাড়াগাঁয়ে টেনে আনে। জনমানুষের এই কৌতূহলকে গুরুত্ব দিয়ে ২০০৪-০৫ অর্থবছরে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর আনুষ্ঠানিকভাবে প্রথম খনন কাজ শুরু করে। খননকালে প্রথমদিকে ছাদ বিহীন ৮টি পূর্ণাঙ্গ কক্ষ আবিস্কৃত হয়। চার বছরের নিরবচ্ছিন্ন প্রচেষ্টায় উন্মোচিত হয় এক বিশাল মন্দিরের ধ্বংসাবশেষ। ২০০৬-০৭ সাল পর্যন্ত সময়ের মধ্য মোট কক্ষ পাওয়া যায় ১৮টি। পরবর্তীতে দ্বিতীয় দফার খননকালে দেখা যায়, এই মন্দিরটি মূলত দুটি পৃথক যুগে নির্মিত হয়েছিল। প্রথম যুগে এটি ছিল একটি বর্গাকার স্থাপনা, যা পরবর্তীকালে মন্দিরের পবিত্রতা ও কর্মপরিধি বাড়াতে পূর্বদিকে সম্প্রসারিত করে আয়তাকার রূপ দেওয়া হয়। গর্ভগৃহের ভেতরে পাওয়া যায় ছোট-বড় ২৪টি কক্ষ, যা আজও দর্শকদের ভাবিয়ে তোলে সেই সময়ের উন্নত স্থাপত্যশৈলী নিয়ে।

​প্রত্নতত্ত্ববিদদের মতে, এই ঢিবিটি আসলে এক বিরল প্রত্নস্থল। এখানে তিনটি ভিন্ন ধর্ম ও সভ্যতার ছাপ একই সুতোয় গাঁথা। খননকালে পাওয়া ছোট পাথরের বুদ্ধমূর্তি আর পোড়ামাটির ফলক সাক্ষ্য দেয় এটি এক সময় বৌদ্ধদের উপাসনালয় ছিল। আবার মন্দিরের নকশায় পদ্মপাপড়ি খচিত ইট, সাপের ফণাযুক্ত পাত্র এবং ১৩তম জৈন তীর্থঙ্কর মল্লিনাথের বিগ্রহের উপস্থিতি ইঙ্গিত করে যে, এটি ছিল একটি প্রাচীন জৈন মন্দির। সেখানে সম্ভবত পঞ্চনাগ বা সপ্তনাগের উপাসনা হতো। খ্রিস্টীয় দ্বিতীয় বা তৃতীয় শতকের ‘এন্টিমনির কাজল শলাকা’ এবং ‘রুলেটেড’ মৃৎপাত্রের মতো দুর্লভ প্রত্নবস্তুর আবিষ্কার একে বাংলাদেশের অন্যতম প্রাচীন মন্দিরের মর্যাদায় অধিষ্ঠিত করেছে। সময়ের বিবর্তনে মন্দিরটি পরিত্যক্ত হলে এলাকাটি জনশূন্য হয়ে পড়ে এবং কালক্রমে এটি একটি উঁচু ঢিবি বা সমাধিতে রূপান্তরিত হয়। পরবর্তীতে কোনো এক সুফি সাধক এখানে আস্তানা গাড়লে এটি ‘পীরস্থান’ হিসেবে পরিচিতি পায়।

​​এই প্রত্নস্থলের নামকরণের গল্পটিও বেশ রোমাঞ্চকর। প্রবীণদের মুখে শোনা যায়, অতীতে এই উঁচু ঢিবির ওপর দিয়ে হেঁটে চলার সময় মাটির নিচ থেকে এক ধরনের গুম গুম বা ‘দমদম’ আওয়াজ পাওয়া যেত। সেই রহস্যময় শব্দ থেকেই এর নাম হয়ে যায় ‘দমদম টিবি’। গ্রামের প্রবীণ ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দমদম পীরস্থান ঢিবি থেকে কিছুটা দক্ষিণে মঙ্গল শাহ নামে এক পীরের আস্তানা ছিল। একসময় এলাকার মানুষ বিভিন্ন রোগব্যাধি থেকে মুক্তি পাওয়ার আশায় এখানে টাকা, মুরগি ও ছাগল মানত করতেন। রোগমুক্তির পর তারা সেই স্থানে মানত করা পশু-পাখি জবাই করে মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করতেন। বর্তমানে এ প্রথা এখনো কিছুটা চালু থাকলেও আগের তুলনায় অনেক কমে গেছে। তবে এই প্রথা ঠিক কবে থেকে শুরু হয়েছে সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য স্থানীয়দের জানা নেই। এছাড়াও এই ঢিবির পাশেই রয়েছে বিশাল এক জলাধার, যার নাম ‘কুমারী দিঘি’। এই দিঘিকে ঘিরে স্থানীয়দের অন্তহীন লোককথা আজও মুখে মুখে ঘোরে। এক সময় বিশ্বাস করা হতো, এলাকায় কোনো অনুষ্ঠান হলে কুমারী মেয়েরা দিঘির পাড়ের কুয়ায় গিয়ে প্রার্থনা করলে মুহূর্তের মধ্যেই সোনার থালা-বাসন আর গামলা ভেসে উঠত। ব্যবহার শেষে আবার ফেরত দিলে সেগুলো অদৃশ্য হয়ে যেত। সেই অলৌকিক কুয়া আজ ভরাট হয়ে গেলেও তাকে ঘিরে মানুষের আবেগ কমেনি। তবে পর্যটকদের সবচেয়ে বেশি টানে দিঘির পাড়ে থাকা রহস্যময় ‘অচিন বৃক্ষ’। এই দুর্লভ প্রজাতির গাছগুলো যেন প্রকৃতির এক রহস্যময় খেলা। কথিত আছে, সেই ১৮শ বছর আগে মন্দির প্রতিষ্ঠার সময়ই এগুলো লাগানো হয়েছিল। সাতটি গাছের মধ্যে এখন মাত্র তিনটি টিকে আছে। এদের অদ্ভুত বৈশিষ্ট্য হলো, বছরের ছয় মাস এই গাছগুলো একদম শুকনো কাঠের মতো প্রাণহীন হয়ে থাকে, আর বাকি ছয় মাস অলৌকিক প্রাণ ফিরে পেয়ে নতুন পাতায় ও সুগন্ধি ফুলে ভরে ওঠে। এমন অদ্ভুত গাছ এদেশের আর কোথাও দেখা যায় না। অনেকে বিশ্বাস করেন এই ফুল সব রোগের মহৌষধ। আশ্চর্যের বিষয় হলো, অনেক চেষ্টা করেও এই গাছ অন্য কোথাও লাগানো সম্ভব হয়নি; নিজের মাটি ছেড়ে গেলেই চারাগুলো মারা যায়।

​​দমদম পীরস্থান ঢিবির বর্তমান অবস্থা নিয়ে কথা হয় প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সাথে। খনন কাজের তদারকিতে থাকা একজন গবেষক জানান, ‘প্রথম ও দ্বিতীয় দফার খননে আমরা লক্ষ্য করি মাটির প্রতিটি স্তর ভিন্ন ভিন্ন সময়ের কথা বলছে। বিশেষ করে খ্রিস্টীয় দ্বিতীয় শতকের ‘রুলেটেড’ মৃৎপাত্রের টুকরো পাওয়া যাওয়াটা আমাদের জন্য বড় আবিষ্কার। এটি প্রমাণ করে যে, প্রায় দুই হাজার বছর আগে এই অঞ্চলে একটি অত্যন্ত সুসংগঠিত এবং শিল্পমনা জনপদ ছিল। অন্যদিকে, ঢিবির পাশেই বসবাসরত আশিোর্ধ্ব আব্দুল কুদ্দুস শৈশবের স্মৃতিচারণ করে বলেন, ছোটবেলায় এই ঢিবিকে খুব ভয় পেতাম। ঘন জঙ্গলে ঘেরা জায়গাটার নিচে সোনার শহর আছে বলে বড়দের কাছে শুনতাম। আজ যখন প্রাচীন ঘরগুলো চোখের সামনে দেখি, তখন অবাক হয়ে ভাবি আমরা আসলে কত প্রাচীন এক ইতিহাসের ওপর দাঁড়িয়ে আছি। বর্তমানে এলাকাটি পর্যটকদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু। ঢাকা থেকে আসা একজন গবেষক মুগ্ধতা প্রকাশ করে বলেন, বাংলাদেশে বৌদ্ধ, জৈন এবং মুসলিম ঐতিহ্যের এমন সহাবস্থান বিরল। বিশেষ করে ‘অচিন বৃক্ষ’ উদ্ভিদবিজ্ঞানের কাছেও একটি রহস্য হতে পারে। সরকারিভাবে একে পূর্ণাঙ্গ পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হলে এটি দেশের অন্যতম সেরা হেরিটেজ সাইট হতে পারে।


বাকৃবির তিন অ্যালামনাই পাচ্ছেন স্বাধীনতা পুরস্কার 

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাকৃবি প্রতিনিধি

জাতীয় পর্যায়ে গৌরবোজ্জ্বল ও কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ‘স্বাধীনতা পুরস্কার ২০২৬’ পাচ্ছেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) তিন অ্যালামনাই। তারা হলেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ক্ষেত্রে অবদানের জন্য বাকৃবির সাবেক অধ্যাপক ড. জহুরুল করিম এবং গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ক্ষেত্রে অবদানের জন্য ড. মোহাম্মদ আবদুল বাকী ও বাকৃবির সাবেক অধ্যাপক ড. এম এ রহিম। গত বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বিভিন্ন ক্ষেত্রে গৌরবোজ্জ্বল ও কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ এ বছর ১৫ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি ও ৫টি প্রতিষ্ঠানকে স্বাধীনতা পুরস্কারের জন্য মনোনীত করা হয়েছে।

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, গবেষণা ও প্রশিক্ষণ, সাহিত্য, সংস্কৃতি, সমাজসেবা, চিকিৎসা, জনপ্রশাসন এবং পরিবেশ সংরক্ষণসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদানের জন্য এই পুরস্কার প্রদান করা হচ্ছে।

বাকৃবির সাবেক অধ্যাপক ড. জহুরুল করিম বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএআরআই) এবং ঢাকাস্থ পরমাণু শক্তি কেন্দ্রের বিজ্ঞানী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি)-এর মহাপরিচালক হিসেবে তিনি দায়িত্ব পালন করেছেন এবং পরবর্তীতে তিনি জাতীয় কৃষি গবেষণা ব্যবস্থার শীর্ষ সংস্থা বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল (বিএআরসি) এর নির্বাহী চেয়ারম্যান হন। বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ বিজ্ঞান একাডেমির সভাপতি হিসেবে কর্মরত আছেন।

ড. মোহাম্মদ আবদুল বাকী বাকৃবির কৃষি প্রকৌশল অনুষদের শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবের অ্যাডজাঙ্কট প্রফেসর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি একাধারে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের (ব্রি) সাবেক মহাপরিচালক এবং ফার্ম মেশিনারী এন্ড পোষ্ট হারভেস্ট টেকনোলজি (এফএমপিএইচটি) বিভাগের প্রাক্তন মূখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা হিসেবে সফলতার সাথে দায়িত্ব পালন করেছেন।

অধ্যাপক ড. এম এ রহিম বাকৃবির কৃষি অনুষদের উদ্যানতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। পরবর্তীতে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের বাউ-জার্মপ্লাজম সেন্টারের প্রধান নির্বাহী ও প্রধান গবেষক হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে তিনি ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির কৃষি বিজ্ঞান বিভাগের বিভাগীয় প্রধান হিসেবে কর্মরত আছেন।


ফিলিং স্টেশনে জ্বালানি তেল কম, ভোগান্ততে মোটরসাইকেল আরোহীরা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ভৈরব (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি

কিশোরগঞ্জের ভৈরবে ফিলিং স্টেশনগুলিতে চাহিদা মতো জ্বালানি তেল সরবরাহ না থাকায় যানবাহন চালক, মোটরসাইকেল আরোহীরা ভোগান্ততে পড়েছেন। ফিলিং স্টেশন থেকে তারা তাদের চাহিদা অনুযায়ী পেট্রোল, ডিজেল ও অকটেন সরবরাহ পাচ্ছেন না। গ্রাহকদের চাহিদা অনুযায়ী বিক্রি করতে না পারায়ও আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন পাম্প মালিকরা।

শুক্রবার (৬ মার্চ) সকালে থেকে শহরের ফিলিং স্টেশনে ঘুরে গেলে দেখা যায়, বাস,পিকআপসহ বিভিন্ন যানবাহন চালক ও মোটরসাইকেল আরোহীরা জ্বালানি তেল নিতে স্টেশনে ভিড় করছেন। কিন্তু তাদের অভিযোগ তারা চাহিদা অনুযায়ী জ্বালানি তেল পাচ্ছে না।

সম্প্রতি মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-আমেরিকা ও ইসরায়েলে যুদ্ধের কারণে এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে বলে জ্বালানি তেল ব্যবসায়ী ফিলিং স্টেশনের মালিকরা জানিয়েছেন।

যাত্রী নিয়ে কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রামে যাবেন প্রাইভেটকার চালক মো.রাজু। তিনি বলেন, পাম্পে জ্বালানির জন্য এসেছি আমার গাড়ির জন্য প্রয়োজন ২০ লিটার কিন্তু পাম্প থেকে আমাকে দিচ্ছে ৪ লিটার। এখন বাকি পথ কিভাবে যাবো সেই চিন্তায় আছি। আমাদের দাবি সরকার যেন দ্রুত দেশের জ্বালানি সংকট দূর করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করুক।

মোটরসাইকেল আরোহী জাহাঙ্গীর আলম বলেন, আমার বাইকের জন্য তেল নিতে এসে দেখি পাম্প থেকে একজন মোটরসাইকেল আরোহীকে ২শত টাকার বেশি জ্বালানি তৈল দিচ্ছে না। আমার চাহিদা মত তেল পায়নি। তৈল তো খাবার জিনিস না বেশি নিয়ে কি করবো।

আরেক মোটরসাইকেল আরোহী রায়হান মিয়া বলেন, আমি বাইকের জন্য ফুল ট্যাংকি করতে আসছি কিন্তু পাম্প থেকে ফুল ট্যাংকি করতে দেয়নি। আমাকে মাত্র ৫ শত টাকার তৈল দিয়েছে৷

ঔষধ কোম্পানি বিক্রয় কর্মী আরিফুর রহমান বলেন, আমাদের তো সবসময় মার্কেটে দৌঁড়াদৌড়ি করতে হয়। তাই গাড়িতে বেশি জ্বালানি রাখতে হয়। কিন্ত আমরা সেই পরিমাণ তেল পাচ্ছি না।

মোটরসাইকেল আরোহী মো. রিয়াদ বলেন, তিনশ টাকার তৈল চেয়েছি তারা ১শত টাকার তেল দিয়েছে। আমি গ্রাম থেকে এসেছি যে পরিমাণ তেল নিতে কিন্ত যে পরিমাণ তেল দিয়েছে তা যেতেই শেষ হয়ে যাবে।

মোটরসাইকেল সাইকেল আরোহী সাইফুল আলম বলেন, আমি ঢাকায় যাবো দরকার ১ হাজার টাকার তেল। কিস্তু পাম্প থেকে আমাকে দিয়েছে ২শত টাকার তেল। এখন কিভাবে ঢাকায় যাবো সেই ভাবনায় আছি।

এবিষয়ে মিন্টু মিয়া ফিলিং স্টেশন ম্যানেজার আহমেদ জিসান বলেন, আমাদের দেশের জ্বালানি চাহিদা মতো

সরবরাহ ঠিক রাখতে। সরকার যেন যে কোন পরিস্থিতিতে দেশে ১/২ মাসের জন্য জ্বালানি তেল মজুত রাখেন। দেশে যেকোন সংকটকালে মজুতকৃত জ্বালানি তেল দিয়ে সংকট দূর করতে পারেন।

ভাই ভাই ফিলিং স্টেশন মালিক আব্দুল মান্নান মিয়া বলেন, আমাদের পাম্পে যা চাহিদা রয়েছে সেই অনুযায়ী জ্বালানি তেল পাচ্ছি না। এই সপ্তাহে পেয়েছি কিন্তু সামনের সপ্তাহে কি পরিমাণ জ্বালানি পাবো সেটা নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছি। স্বল্প জ্বালানি দিয়েই গ্রাহকদের চাহিদা অনুযায়ী না দিয়ে সীমিত পরিমাণে সরবরাহ করা হচ্ছে।


মাগুরায় পাট দিবসে র‍্যালি ও আলোচনা 

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মাগুরা প্রতিনিধি 

‘সোনালী আশের সোনার দেশ পরিবেশ বান্ধব বাংলাদেশ’ এই স্লোগান নিয়ে মাগুরা জেলা প্রশাসন ও জেলা পাট অধিদপ্তরের আয়োজনে মাগুরায় জাতীয় পাট দিবসে র‍্যালি ও আলোচনা সভা হয়েছে। শুক্রবার (৬ মার্চ) সকালে মাগুরা জেলা প্রশাসন চত্বর থেকে একটি র‍্যালি বের হয়। র‍্যালি শেষে মাগুরা জেলা প্রশাসক সম্মেলন কক্ষে হয় আলোচনা সভা।

সভায় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) আব্দুল কাদেরের সভাপতিত্বে বক্তব্য দেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সদর সার্কেল দীপঙ্কর ঘোষ, জেলা পাট উন্নয়ন কর্মকর্তা শেখ মাহবুবুল ইসলাম, জেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপ- পরিচালক আব্দুল আউয়াল, পাট চাষি রাজু আহমেদ, মো. মিলন মিয়া ও মনিরুল ইসলাম প্রমুখ।

সভায় বক্তারা বলেন, বাংলাদেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়নে পাটের বিকল্প নেই। প্রতি বছর বাংলাদেশ বিদেশে পাট রপ্তানি করে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করে। তাই পরিবেশ বান্ধব বাংলাদেশ গড়তে পাটের চাষ বাড়াতে হবে। জেলার পাট চাষিদের প্রশিক্ষণ, উন্নয়ন, উদ্বুদ্ধকরণ, বিনামূল্যে সার প্রদান করতে হবে। পাট ও পাট জাত পণ্যের বাজার বাড়াতে পাটের চাষ বাংলাদেশের বাড়াতে হবে।


নওগাঁয় পাওনা টাকা চাওয়া নিয়ে ব্যবসায়ীকে মারধর

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নওগাঁ প্রতিনিধি

নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলায় পাওনা টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে আব্দুল মান্নান (৩২) নামে এক সার ও কীটনাশক ব্যবসায়ীর ওপর মারধর ও টাকা লুটের অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার (৬ মার্চ) সকাল ১০টার দিকে উপজেলার সারতা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী আব্দুল মান্নান সারতা গ্রামের বাসিন্দা। তিনি গ্রামের মোড়ে সার ও কীটনাশকের ব্যবসা করেন। এ ঘটনায় একই গ্রামের নবীর উদ্দিনের ছেলে মনিরুজ্জামানকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

আব্দুল মান্নান অভিযোগ করে জানান, প্রায় দুই বছর আগে মনিরুজ্জামান তার দোকান থেকে সার ও কীটনাশক বাকি নেন। ওই সময় কীটনাশক বাবদ প্রায় পাঁচ হাজার টাকা পাওনা হয়। পরে একাধিকবার টাকা চাইতে গেলে মনিরুজ্জামান বিভিন্নভাবে তালবাহানা করেন।

শুক্রবার (৬ মার্চ) সকালে মনিরুজ্জামান আবারও কীটনাশক বাকি চাইতে দোকানে আসেন। কিন্তু আগের পাওনা টাকা পরিশোধ না করায় আব্দুল মান্নান তাকে আর বাকি দিতে অস্বীকার করেন। এতে মনিরুজ্জামান দোকান থেকে সরে যান। পরে কিছুক্ষণ পর তিনি দলবল নিয়ে এসে আব্দুল মান্নানের ওপর হামলা করেন বলে অভিযোগ। এ সময় মারধরে গুরুতর আহত হয়ে আব্দুল মান্নান জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। পরে দোকানের ক্যাশবাক্সে থাকা টাকা ও মালামাল লুট করে নিয়ে যায় মনিরুজ্জামান ও তার সহযোগীরা। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে মনিরুজ্জামান বলেন, আব্দুল মান্নানের সঙ্গে কোনো মারামারি হয়নি। তবে টাকা পাওনা নিয়ে আমাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়েছিল।

এ বিষয়ে মহাদেবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলাম বলেন, এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


banner close