মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬
৩০ আষাঢ় ১৪৩৩

রামুতে বাবা-ছেলেকে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা

কক্সবাজারের রামু থানা। ফাইল ছবি
কক্সবাজার প্রতিনিধি
প্রকাশিত
কক্সবাজার প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ২২ এপ্রিল, ২০২৪ ১৬:১৬

কক্সবাজারের রামু উপজেলায় দুইজনকে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। নিহত দুজন সম্পর্কে বাবা ও ছেলে। রোববার রাত ১টার দিকে উপজেলার গর্জনিয়া ইউনিয়নের উত্তর থোয়াইঙ্গাকাটা মৌলভীরঘোনা এলাকার নজরুল ইসলামের চায়ের দোকানের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত দুইজন হলেন-একই এলাকার জাফর আলম (৫৫) এবং তার ছেলে মো. সেলিম (৩৫)।

রামু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু তাহের দেওয়ান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ঘটনাটি কারা, কী কারণে ঘটিয়েছে তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। প্রাথমিকভাবে স্থানীয় দুইপক্ষের মধ্যে পূর্ব বিরোধের জেরে ঘটনাটি ঘটেছে বলে তথ্য পাওয়া গেছে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, মিয়ানমার থেকে পাচার হয়ে আসা গরু চোরাচালানকে কেন্দ্র করে দুই গ্রুপের মধ্যে বিরোধের জের ধরে জোড়া খুনের এ ঘটনা ঘটেছে।

ওসি আবু তাহের বলেন, ‘রোববার মধ্যরাতে রামুর গর্জনিয়া ইউনিয়নের থোয়াইঙ্গাকাটা মৌলভীঘোনা এলাকায় স্থানীয় স্টেশনের একটি দোকানে সেলিমসহ কয়েকজন বন্ধু মিলে আড্ডা দিচ্ছিল। এ সময় মুখোশ পরিহিত ১৫ থেকে ২০ জনের একদল অজ্ঞাত দুর্বৃত্ত অতর্কিত তার ওপর হামলা করে। দুর্বৃত্তরা ধারালো অস্ত্রের কয়েকটি কোপ দিলে তিনি চিৎকার করে পালানোর চেষ্টা চালায়। এ সময় ছেলের চিৎকার শুনে তাকে লক্ষ্য করে বাবা জাফর আলম টর্চের আলো ফেলেন। পরে দুর্বৃত্তরা তাদের লক্ষ্য করে গুলি করে পালিয়ে যায়।’

ওসি আরেও বলেন, দুর্বৃত্তরা পালিয়ে গেলে স্থানীয়রা ঘটনাস্থল থেকে রক্তাক্ত অবস্থায় বাবা-ছেলেকে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। এ সময় হাসপাতালের চিকিৎসক দুইজনকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহতদের স্বজন জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘রাতে স্থানীয় একটি দোকানে আড্ডা দেয়ার সময় মুখোশ পরিহিত একদল লোক ধারালো অস্ত্র ও গুলি করে বাবা-ছেলেকে হত্যা করেছে। তাদের সঙ্গে কোনো লোকজনের পূর্ব শত্রুতা ছিল কিনা জানি না।’

স্থানীয়রা জানায়, একই এলাকার ‘আবছার ডাকাত’ এবং ‘শাহীন ডাকাত’ গ্রুপের মধ্যে দীর্ঘদিন যাবত আধিপত্য বিস্তার এবং বার্মিজ গরু চোরাচালানকে কেন্দ্র করে বিরোধ চলে আসছিল। রোববার রাতে শাহীন ডাকাত গ্রুপের ১৪ থেকে ১৫ জন লোক চোরাচালানের গরু পার করার জন্য ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। সেখানে আবছার ডাকাত গ্রুপের ২০ থেকে ২২ জন দেশীয় অস্ত্র ও বন্দুক নিয়ে অতর্কিত হামলা চালায়।

ওসি আবু তাহের জানান, ঘটনার কারণ জানার পাশাপাশি জড়িতদের চিহ্নিত করে গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

বিষয়:

কুয়েট ও কেএমপির যৌথ উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
খুলনা ব্যুরো

পরিবেশ সংরক্ষণ, সবুজায়ন সম্প্রসারণ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (কুয়েট) ও খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ (কেএমপি)-এর যৌথ উদ্যোগে ‘বৃক্ষরোপণ সপ্তাহ-২০২৬’ উপলক্ষে মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।

অনুষ্ঠানে কুয়েটের ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মুহাম্মদ মাছুদ, মোহাম্মদ জাহিদুল হাসান, বিপিএম (সেবা), পুলিশ কমিশনার, খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ (কেএমপি) এবং এ.কে.এম. মোশাররফ হোসেন মিয়াজী, কমান্ড্যান্ট (ডিআইজি), পুলিশ ট্রেনিং সেন্টার (পিটিসি), খুলনা-এর উপস্থিতিতে ক্যাম্পাসে বৃক্ষরোপণ করা হয়।

এ সময় ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মুহাম্মদ মাছুদ বলেন, ‘একটি গাছ শুধু পরিবেশের ভারসাম্যই রক্ষা করে না, এটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ পৃথিবী গড়ে তোলার অন্যতম ভিত্তি। পরিবেশ রক্ষায় প্রত্যেক নাগরিককে নিজ নিজ অবস্থান থেকে বৃক্ষরোপণ ও বৃক্ষ সংরক্ষণে এগিয়ে আসতে হবে। কুয়েট একটি সবুজ, পরিচ্ছন্ন ও পরিবেশবান্ধব ক্যাম্পাস গড়ে তুলতে ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে।

বৃক্ষরোপণ সপ্তাহ-২০২৬ উপলক্ষে এ মহৎ উদ্যোগে অংশগ্রহণ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যৌথভাবে কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য আমি খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সুদর্শন কুমার রায়, উপপুলিশ কমিশনার (উত্তর বিভাগ); জাকিয়া সুলতানা, অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার (উত্তর); শিহাব করিম, সহকারী পুলিশ কমিশনার (দৌলতপুর জোন); মো. গোলাম মোর্শেদ, সহকারী পুলিশ কমিশনার (স্টাফ অফিসার) সহ খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।

কুয়েটের পক্ষে অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের ডিনবৃন্দ, ইনস্টিটিউটের পরিচালকবৃন্দ, রেজিস্ট্রার, বিভিন্ন বিভাগের বিভাগীয় প্রধানগণ, দপ্তর ও শাখা প্রধানগণ, শিক্ষক, কর্মকর্তা এবং কর্মচারীগণ অংশগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে দেশীয়, ফলজ, বনজ ও ঔষধি প্রজাতির বৃক্ষরোপণ করা হয়।

বক্তারা বলেন, পরিবেশ সংরক্ষণ ও টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এ ধরনের যৌথ উদ্যোগ সমাজে ইতিবাচক বার্তা পৌঁছে দেবে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে পরিবেশ সচেতন করে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

অনুষ্ঠান শেষে অতিথিবৃন্দ ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে বৃক্ষরোপণ করেন এবং সবুজ ও বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়ে তোলার প্রত্যয়ে সকলকে অন্তত একটি করে গাছ রোপণ ও পরিচর্যার আহ্বান জানান।


পান্নারপুল-নহল চৌমুহনী সড়ক সংস্কার না হওয়ায় দুর্ভোগে ৩ লাখ মানুষ

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দেবিদ্বার (কুমিল্লা) প্রতিনিধি

সংস্কারের প্রতিশ্রুতি মিলেছে বারবার। সর্বশেষ টেন্ডারও সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। কিন্তু বাস্তবে সাত বছর ধরে ভাঙাচোরা অবস্থায় পড়ে আছে কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার পান্নারপুল থেকে মুরাদনগর উপজেলার নহল চৌমুহনী পর্যন্ত প্রায় পাঁচ কিলোমিটার সড়ক। ফলে এ এলাকার অন্তত তিন লাখ মানুষ সীমাহীন দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন দিনের পর দিন বছ‌রের পর বছর।

গুরুত্বপূর্ণ এ সড়ক দিয়ে প্রতিদিন হাজারো পথচারী, শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, কৃষক, ব্যবসায়ী ও বিভিন্ন ধরনের যানবাহন চলাচল করলেও বর্তমানে এটি কার্যত চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।

সরেজমিনে গি‌য়ে দেখা যায়, পৌর এলাকার পান্নারপুল থে‌কে নহল চৌমুহনী পর্যন্ত সড়ক‌টি দীর্ঘ‌দিন সংস্কার না হওয়ায় সড়ক‌টির বিভিন্ন স্থানে ইট-পাথর বেরিয়ে এসেছে। সৃ‌স্টি হ‌য়ে‌ছে বড় বড় গর্ত, কোথাও ছোট-বড় খানাখন্দ। সামান্য বৃষ্টিতেই গর্তগুলো পানিতে তলিয়ে থাকায় কোনটি রাস্তা আর কোনটি গর্ত, তা বোঝার উপায় থাকে না। ফলে যানবাহন ধীরগতিতে চলাচল করছে এবং প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছে রোগীবাহী অ্যাম্বুলেন্স। জরুরি রোগী নিয়ে হাসপাতালে যেতে অনেক সময় বিলম্ব হচ্ছে, যা রোগীর জন্যও ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। সড়‌কের মুরাদনগর উপ‌জেলাধীন বাকী অং‌শেরও একই অবস্থা।

জানা গেছে, পান্নারপুল-নহল চৌমু‌হনী-বাখরাবাদ সড়কটি একসময় পেট্রোল বাংলার অধীনে ছিল। পরে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) আওতায় আনা হয়। পরবর্তীতে ইলিয়টগঞ্জ থেকে নহল চৌমুহনী হয়ে মুরাদনগর পর্যন্ত অংশ সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের অধীনে স্থানান্তর করা হয়। এই সড়ক ব্যবহার করে দুই উপজেলার লাখো মানুষ অল্প সময়ে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে যাতায়াত করেন।

স্থানীয় বাসিন্দা কাজী নাছির উদ্দিন বলেন, সড়কের পাশে কয়েকটি উচ্চ বিদ্যালয়, মাদ্রাসা ও প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। প্রতিদিন শত শত শিক্ষার্থী ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে। প্রায়ই যাত্রী বহনকারী অটোরিকশা উল্টে দুর্ঘটনা ঘটছে। খানাখ‌ন্দে প‌ড়ে দীর্ঘ সময় আট‌কে থা‌কে মালামাল প‌রিবহ‌নের পিকআপ ভ‌্যান। কয়েক বছর ধরে সংস্কারের আশ্বাস শুনে আসছি, কিন্তু বাস্তবে কোনো কাজ হয়নি। দেবিদ্বার ও মুরাদনগর উপজেলার মধ্যে সড়কটির দায়িত্ব নিয়ে টানাপড়েন চলছে। এর খেসারত দিচ্ছেন সাধারণ মানুষ।

দেবিদ্বার পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মো. আব্দুল কাদের বলেন, মরিচাকান্দা জিয়া স্মৃতি আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনের অংশে বড় বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। পান্নারপুল থেকে নহল চৌমুহনী পর্যন্ত পুরো সড়কের একই অবস্থা। মানুষ প্রতিনিয়ত অভিযোগ করছে, কিন্তু তাদের সন্তোষজনক কোনো জবাব দিতে পারছি না। দুই উপজেলার মধ্যে সমন্বয়ের অভাব এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর দায়িত্ব নিয়ে টানাপোড়েনের কারণেই সংস্কারকাজ দীর্ঘদিন ঝুলে আছে। একাধিকবার আশ্বাস দেওয়া হলেও বাস্তবে কোনো কাজ হয়নি।

দেবিদ্বার উপজেলা এলজিইডির সহকারী প্রকৌশলী মো. নাজমুল হাসান বলেন, সড়কের একটি অংশ দেবিদ্বারের হলেও সংস্কার প্রকল্পটি মুরাদনগর উপজেলার আওতায় হয়েছে। আমাদের জানা মতে, কাজের টেন্ডার ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে।

মুরাদনগর উপজেলা প্রকৌশলী কাজী ফয়সাল বারী বলেন, পান্নারপুল থেকে নহল চৌমুহনী পর্যন্ত সড়ক সংস্কারের টেন্ডার সম্পন্ন হয়েছে। ঠিকাদারও কাজের প্রস্তুতি নিয়েছেন। বর্ষা মৌসুমের কারণে কাজ শুরু করা সম্ভব হয়নি। বর্ষার পরপরই কাজ ধরবে বলে তিনি জানিয়েছেন।


নড়াইলে টানা বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা, ভোগান্তিতে পৌরবাসী

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কার্ত্তিক দাস, নড়াইল

টানা বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতায় নাকাল নড়াইল পৌর এলাকার মানুষ। নাগরিক অসচেতনতা, অপরিকল্পিতভাবে বেড়ে ওঠা দালানকোঠা, বাড়ি-ঘর ও রাস্তা নির্মাণে পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ হয়ে যাওয়া, অতিবৃষ্টিতে নদীগুলোর নাব্যতা সংকট, খালের মাঝখানে আড়াআড়ি বাঁধ দেওয়া কিংবা খালগুলো ভরাট করে এক্সক্যাভেটর যাওয়ার জন্য সড়ক নির্মাণ, সার্ভিস ড্রেনগুলো আবর্জনায় ভরে থাকা, নিয়মিত খালগুলো পরিষ্কার না রাখা ইত্যাদি কারণে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়ে এমন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে বলে সচেতন মহলের অভিমত।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পর পৌরসভার নির্বাচিত মেয়রের পদ শূন্য হয়ে পড়ে। বর্তমানে পৌর প্রশাসক হিসেবে দায়িত্বে আছেন জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের ডিডিএলজি মো. নাজমুল হুদা।

আধুনিকীকরণ কালিদাস ট্যাঙ্ক (পুকুর) পাড়ে দাঁড়িয়ে আছে প্রথম শ্রেণির মর্যাদা সম্পন্ন নড়াইল পৌর ভবন। জেলা হেড কোয়ার্টারে পৌরসভার অবস্থান হলেও এখানকার নাগরিকদের শুধু অফিসিয়াল সুযোগ-সুবিধা ছাড়া জীবনমানের কোনো পরিবর্তন হয়নি। এখানে নেই কোনো উন্নতমানের আবাসিকসহ খাবার হোটেল, নেই ভালো মার্কেটসহ বিপণিবিতান, খেলাধুলার উপযুক্ত মাঠ, বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে নাগরিকদের চরম দুর্ভোগের মধ্যে দিন যাপন করতে হয়। ড্রেনেজ ব্যবস্থা এবং সময়োপযোগী পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা না থাকায় সামান্য বৃষ্টিতেই নাকাল অবস্থা। প্রতি বছর এই অচলাবস্থার মধ্যে জীবন কাটাতে হয় নাগরিকদের।

সরেজমিন দেখা গেছে, পৌর এলাকার ১২টি ছোট-বড় খাল চিত্রা এবং কাজলা নদীর সঙ্গে সংযোগ ছিল। সেগুলো কালেভদ্রে ভরাট করে দখল হয়ে যাওয়ায় পৌর বাসিন্দাদের বাড়ি-ঘরে হাঁটু পানি উঠছে। জমে থাকা পানি থেকে দুগর্ন্ধ ছড়াচ্ছে। পোকামাকড় কিলবিল করছে। ড্রেন এবং বাথরুমের ময়লা-আবর্জনা বৃষ্টির পানির সঙ্গে ভেসে ঘরে ঢুকছে। অনেকে বাড়ি-ঘর ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছে। যাদের যাওয়ার কোনো জায়গা নেই তারা ওই পরিবেশের মধ্যে রাত কাটাতে বাধ্য হচ্ছে।

পৌর ভবন থেকে ঢিল ছোড়া দূরত্বে নড়াইল কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দান। ঈদগাহের পাশে বসবাসকারী সিটি কলেজের সহকারী অধ্যাপক আশীষ হাজরা, সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক নিখিল দাস, সরকারি চাকরিজীবী এসআই শংকর কুমার, অরুন শীলসহ অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় সামান্য বৃষ্টি হলে এ পাড়া তলিয়ে যায়। এই পাড়ায় প্রায় ৪০টি পরিবার বসবাস করে। পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করতে পৌরসভায় আবেদন করা হয়েছে। কিন্তু এ ব্যাপারে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি পৌর কর্তৃপক্ষ।’

নড়াইল প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাক মাহাবুবুর রশিদ লাবলু ও সাংবাদিক আব্দুস সাত্তার বলেন, ‘এক দিনের বৃষ্টিতে ঘরের মধ্যে পানিতে সয়লাব। পরিবারের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র খাটের উপরে তুলে রেখে তার ওপরই রান্নাবান্না-খাওয়া দাওয়া ও রাত যাপন করতে হচ্ছে। পাশের পুকুর থেকে মাছ ভেসে ঘরে প্রবেশ করছে। মাছের সঙ্গে ভেসে আসছে বাথরুমের ময়লা-আবর্জনাও। নিদারুণ কষ্টের মধ্যে দিনযাপন করতে হচ্ছে।’ তারা বলেন, ‘নড়াইল পৌরসভা প্রথম শ্রেণির পৌরসভা হওয়া সত্তেও নাগরিদের তেমন কোনো সুযোগ-সুবিধা নেই। পৌরসভা নামেই তাল পুকুর, ঘটি ডোবে না।’

মাছিমদিয়া গ্রামের বাসিন্দা নড়াইল প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি এনামুল করিব টুকু বলেন, ‘টানাবৃষ্টিতে আমার এলাকার চারপাশের প্রায় শতাধিক পরিবার পানিবন্দি। পোকামাকড়ের সঙ্গে রাত কাটাতে হচ্ছে। সর্দি-কাশিসহ বাচ্চাদের নানা ধরনের অসুখ দেখা দিয়েছে।’

বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট এস এ মতিন বলেন, ‘নড়াইল পৌর এলাকায় ছোট বড় ১২টি খাল ছিল। ৪ কিলোমিটার দীর্ঘ এসব খালের সিংহভাগই দখল ও ভরাট করে মার্কেটসহ বিভিন্ন স্থাপনা গড়ে তোলা হয়েছে। এতে বর্ষার পানি নিষ্কাশন না হওয়ায় এলাকাবাসী জলাবদ্ধতার শিকার হচ্ছেন।

শহরের প্রবীণ ব্যক্তি ছামি মোল্যা বলেন, ‘নাগরিকদের ভোটে নির্বাচিত পৌরসভার মেয়ররা তাদের দায়িত্ব-কর্তব্য পালনে হীনমন্যতার পরিচয় দিয়েছে। নগর উন্নয়নে বিদেশি সংস্থা থেকে অর্থ বরাদ্দ পাওয়া গেলেও সেগুলো কারচুপির অভিযোগ রয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘পৌরসভা বর্তমানে সরকারি চাকরিজীবী দিয়ে পরিচালিত হচ্ছে। তারা-তো দায়িত্ব পালনে গড়িমসি দেখাবেই। তবে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি থাকাকালিন সময়েও তারা ব্যর্থ।’ ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘কবে মুত্তি পাব আমরা জলাবদ্ধতার হাত থেকে?’

নবনিযুক্ত অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ও স্থানীয় সরকার বিভাগের (ডিডিএলজি) পরিচালক মো. নাজমুল হুদা বলেন, ‘নতুন কর্মস্থলে যোগ দিয়েছি এক সপ্তাহও হয়নি। পৌরসভার দায়িত্ব নেওয়ার পর জলাবদ্ধতার চিত্র ঘুরে ঘুরে দেখেছি। সামান্য বৃষ্টিতে প্রথম শ্রেণির পৌরসভার নাগরিক এভাবে পানিতে নিমজ্জিত হয় তা খুব একটা দেখা যায় না।’ তিনি বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, ‘পৌর এলাকার পানি নিষ্কাশনের পথগুলো বেশিরভাগ ভরাট করা হয়েছে। যতটুকু আছে তা ময়লা-আর্বজনায় ভরা। পানি বের হতে পারে না। চেষ্টা করব পৌর নাগরিকদের ভালো লাখার।’ তবে সকল মহলের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।


ফেনীতে সপ্তাহব্যাপী বৃক্ষমেলা ও রোপণ অভিযান উদ্বোধন

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
আবু তাহের ভূঁইয়া, ফেনী 

‘বৃক্ষরোপণে সাজাই দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’-এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে ফেনীতে উৎসবমুখর পরিবেশে সপ্তাহব্যাপী বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সকালে ফিতা কেটে ও বেলুন উড়িয়ে মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ফেনী জেলা প্রশাসক মনিরা হক।

​এর আগে বেলা সাড়ে ১১টায় শহরের মিজান রোডস্থ মিজান ময়দান থেকে একটি বর্ণাঢ্য র‍্যালি বের করা হয়। র‍্যালিটি শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে জহির রায়হান হল মাঠে এসে শেষ হয়। এবারের মেলায় মোট ২০টি স্টল স্থান পেয়েছে। যেখানে দেশি-বিদেশি নানা প্রজাতির ফলদ, বনজ ও ফুলের চারা প্রদর্শন ও বিক্রির জন্য নিয়ে আসা হয়েছে।

​র‍্যালি শেষে জহির রায়হান মাঠে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। ফেনী বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মোহাম্মদ রুহুল আমিনের সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাইদুর রহমান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) আল আমিন সরকার, ফেনী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ আতিক উল্লাহ, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুলতানা নাসরিন কান্তা।

অনুষ্ঠানে রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক সালাহ উদ্দিন মামুন, ফেনী সদর বন বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা বাবুল চন্দ্র ভৌমিক, জেলা করাত কল মালিক সমিতির সভাপতি মোজাম্মেল হোসেন চৌধুরী (আমির) ও নার্সারি মালিক সমিতির সভাপতি আবু বক্কর ছিদ্দিকসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন। সাংস্কৃতিক সংগঠক মাহতাব সোহেলের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথিরা শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন।

​উদ্বোধনী বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মনিরা হক পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গাছ লাগানোর ওপর বিশেষ জোর দেন। তিনি বলেন, গাছ শুধু আমাদের পরিবেশই রক্ষা করে না, মানুষের দৈনন্দিন জীবনের সাথেও এটি ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে। বিশেষ করে বায়ুমণ্ডলে অক্সিজেনের ভারসাম্য বজায় রাখতে আমাদের বেশি বেশি করে গাছ রোপণ করতে হবে। তবে শুধু গাছ লাগালেই দায়িত্ব শেষ হয় না, সেগুলোর সঠিক পরিচর্যাও নিশ্চিত করতে হবে।

​​উল্লেখ্য, জহির রায়হান হল মাঠে আয়োজিত এই মেলাটি প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। মেলা চত্বরে সাশ্রয়ী মূল্যে মানসম্মত চারার পাশাপাশি দর্শনার্থীদের জন্য গাছের পরিচর্যাবিষয়ক পরামর্শের সুবিধাও রাখা হয়েছে।


পাবনায় তরুণ উদ্যোক্তার সৌদি জাতের খেজুর চাষ, জেলাজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি

৩৩ শতাংশ জমি থেকে ৬০ গাছের বাগান সাহসী উদ্যোগ
ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
আটঘরিয়া (পাবনা) প্রতিনিধি

মরুভূমির তপ্ত বালু আর তীব্র রোদে যে খেজুরের ফলন হয়, সেই সুস্বাদু ও দামি বিদেশি খেজুর এখন ফলছে বাংলাদেশের মাটিতে। একসময় যে উন্নত জাতের খেজুর পুরোপুরি আমদানির ওপর নির্ভরশীল ছিল, তা সফলভাবে চাষ করে পাবনায় নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছেন তরুণ উদ্যোক্তা সাইফুদ্দিন হিরুক। তার এই ব্যতিক্রমী ও সাহসী উদ্যোগ ইতোমধ্যে জেলাজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।

সরেজমিনে পাবনার আটঘরিয়া উপজেলার একদন্ত ইউনিয়নে গিয়ে দেখা যায়, সবুজ পাতার ফাঁকে ফাঁকে ঝুলছে থোকা থোকা খেজুর। বিস্তীর্ণ মাঠে যেন এক টুকরো মধ্যপ্রাচ্যের আবহ।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০২২ সালে গয়েশপুর এলাকার এক ব্যক্তির কাছ থেকে কয়েকটি উন্নত জাতের খেজুরের চারা সংগ্রহ করে যাত্রা শুরু করেন সাইফুল ইসলাম হিরুক। প্রথমে মাত্র ৩৩ শতাংশ জমিতে চারটি চারা রোপণ করেন তিনি। শুরুতে এই উদ্যোগে অনেকেই তাকে নিরুৎসাহিত করেছিলেন।

অনেকেই বলেছিলেন, বাংলাদেশের আবহাওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যের খেজুর ফলানো অসম্ভব। কিন্তু হিরুক থেমে যাননি। নিয়মিত পরিচর্যা, ধৈর্য ও কৃষি বিভাগের পরামর্শ মেনে অক্লান্ত পরিশ্রম করে গেছেন। মাত্র কয়েক বছরের ব্যবধানে সেই ছোট্ট উদ্যোগ আজ পরিণত হয়েছে প্রায় ৬০টি গাছের এক সমৃদ্ধ খেজুর বাগানে। হিরুকের এই বাগানে ঠাঁই পেয়েছে সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের জনপ্রিয় ১০ থেকে ১২টি উন্নত জাতের খেজুর।

এর মধ্যে রয়েছে— আজওয়া, মরিয়ম, মেজুল, ছুক্কারি, ওয়ারহিছ, বড়ই খেজুরসহ বিভিন্ন আকর্ষণীয় জাত। উদ্যোক্তা জানান, প্রতিটি জাতের আলাদা বৈশিষ্ট্য রয়েছে। অনেক গাছ থেকে উন্নতমানের ‘সাকার’ বা চারা উৎপন্ন হচ্ছে, যা দিয়ে নতুন করে বাগান সম্প্রসারণ করা সম্ভব। বাগানে খেজুরের বাম্পার ফলন দেখতে প্রতিদিনই দূর-দূরান্ত থেকে ছুটে আসছেন কৃষক, শিক্ষার্থী, বেকার যুবক ও সাধারণ মানুষ। কেউ আসছেন শখের বসে ছবি তুলতে, আবার কেউ আসছেন হিরুকের কাছ থেকে পরামর্শ নিয়ে নতুন বাগান গড়ার স্বপ্ন বুক বেঁধে। পুষ্পপাড়া এলাকা থেকে আসা দর্শনার্থী আব্দুল কাইয়ুম বলেন, ‘লোকমুখে শোনে বিশ্বাস হচ্ছিল না। তাই নিজের চোখে দেখতে এসেছি। এসে তো আমি অভিভূত! আমরা জানতাম খেজুর শুধু সৌদি আরবেই হয়। এখন দেখছি আমাদের পাশেই হচ্ছে। আমার নিজেরও এখন একটা বাগান করার শখ জাগছে।’

একদন্ত এলাকার স্থানীয় যুবক রুহুল আমিন বলেন, ‘মরুভূমির খেজুর যে আমাদের দেশের মাটিতেও এত সুন্দরভাবে জন্মাতে পারে, হিরু ভাই তা প্রমাণ করে দিয়েছেন। এলাকার যুবকদের জন্য এটি একটি বড় অনুপ্রেরণা।’

নিজের অনুভূতি ব্যক্ত করতে গিয়ে সফল চাষি সাইফুদ্দিন হিরুক বলেন, ‘শখের বশে যখন শুরু করি, তখন অনেকেই তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করেছিলেন। কিন্তু আমি দমে যাইনি। আজ যখন গাছে ফল এসেছে, তখন মনের ভেতর অন্যরকম এক আনন্দ কাজ করছে। সরকারি সহযোগিতা ও ঋণ সুবিধা পেলে এই বাগানকে আরও বড় পরিসরে সম্প্রসারণ করার পরিকল্পনা রয়েছে আমার।’

কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে, উপযুক্ত জাত নির্বাচন, সঠিক পরাগায়ন এবং আধুনিক কৃষিপদ্ধতি ব্যবহার করলে বাংলাদেশের মাটিতেও উন্নত জাতের বাণিজ্যিক খেজুর চাষ বিপুল সম্ভাবনাময়।

এ বিষয়ে পাবনা জেলা প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘হিরুক যে উদ্যোগ নিয়েছেন তা সত্যিই প্রশংসনীয়। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে তাকে নিয়মিত কারিগরি পরামর্শ ও সব ধরনের সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে। আমরা আশা করছি, তার এই সাফল্য দেখে জেলার আরও অনেক তরুণ উদ্যোক্তা এই অর্থকরী ফসল চাষে এগিয়ে আসবেন।’


মাগুরায় জুলাই শহীদ ও গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে প্রস্তুতিমূলক সভা 

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মাগুরা প্রতিনিধি

জুলাই শহীদ দিবস ও জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস ২০২৬ উপলক্ষে মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সকালে জেলা প্রশাসক সম্মেলন কক্ষে এক প্রস্তুতি সভা হয়েছে। জেলা প্রশাসনের আয়োজনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় মাগুরা জেলা প্রশাসক মোতাকাব্বীর আহমেদের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) আব্দুল কাদের, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শাহ শিবলী সাদিক, জেলা পরিষদের প্রশাসক আলি আহমদ, জেলা সিভিল সার্জন ডাক্তার শামীম কবির, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেহেরুন্নেছা, জেলা তথ্য অফিসার পাভেল দাস, জেলা মহিলাবিষয়ক অধিদপ্তরের উপপরিচালক আব্দুল আউয়াল, মাগুরা প্রেসক্লাবের সভাপতি অধ্যাপক সাইদুর রহমান ও পৌর বিএনপির সভাপতি মাসুদ হাসান খান কিজিল প্রমুখ। তা ছাড়া সভায় বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান, সাংবাদিক ও শহীদ পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় জানানো হয়, আগামী পাঁচ আগস্ট জুলাই শহীদ দিবস ও আগামী ১৬ আগস্ট জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস যথাযথভাবে মাগুরায় পালিত হবে। এ উপলক্ষে ওই দিন জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ, আলোচনা সভা, সংবর্ধনা ও বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে মোনাজাত ও প্রার্থনা হবে।

দিবসটি পালনের জন্য সবার সহযোগিতা কামনা করা হয়। বক্তারা আরও বলেন, জুলাই শহীদ আন্দোলন আমাদের অনুপ্রেরণার উৎস। ছাত্র-জনতার আন্দোলনের তীব্র প্রতিবাদের মুখে ফ্যাসিস্ট সরকারের পতন হয়েছে। এ আন্দোলনে মা হারিয়েছে তার সন্তান, পিতা হারিয়েছে তার সন্তান এবং দেশ হারিয়েছে অনেক মেধাবী শিক্ষার্থীদের। ৫ আগস্টের স্মৃতি দেশ ও জাতি কোনোদিন ভুলবে না।


জলাবদ্ধতা নিরসনে খুলে দেওয়া হলো শৈলমারী স্লুইসগেট

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
​ডুমুরিয়া (খুলনা) প্রতিনিধি

খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার অন্যতম প্রধান সমস্যা ‘বিল ডাকাতিয়া’র ভয়াবহ জলাবদ্ধতা নিরসনে অবশেষে খুলে দেওয়া হয়েছে শৈলমারী স্লুইসগেট (সুইচগেট)। গত রোববার (১২ জুলাই) ডুমুরিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মিজ সবিতা সরকার উপস্থিত থেকে এই স্লুইসগেটটি উন্মুক্ত করেন।

এর ফলে বিল ডাকাতিয়া অঞ্চলের দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত পানি নিষ্কাশনের পথ সুগম হলো, যা স্থানীয় লাখো মানুষের মনে স্বস্তি ফিরিয়ে এনেছে। ​জলাবদ্ধতা দূরীকরণে প্রশাসনের তৎপরতা, স্লুইসগেটটি খুলে দেওয়ার সময় উপজেলা নির্বাহী অফিসার সবিতা সরকার বলেন, বিল ডাকাতিয়ার জলাবদ্ধতা এ অঞ্চলের মানুষের জন্য একটি দীর্ঘমেয়াদি দুর্ভোগ। স্থানীয় জনগণের কষ্ট লাঘব এবং কৃষি ও মৎস্য খাতের ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে দ্রুত পানি নিষ্কাশন করা অত্যন্ত জরুরি ছিল।

শাসনের পক্ষ থেকে পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং পানি নিষ্কাশন প্রক্রিয়া যাতে বাধাগ্রস্ত না হয়, সেদিকে কঠোর নজরদারি রাখা হবে।

​উপস্থিত ব্যক্তিবর্গ গুরুত্বপূর্ণ এই উদ্যোগ বাস্তবায়নের সময় ঘটনাস্থলে আরও উপস্থিত ছিলেন:পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী উজ্জ্বকুমার সেন, খুলনা পানি উন্নয়ন বিভাগ-১: আব্দুর রহমান তাযকিয়া, প্রকৌশলী, যিনি কারিগরি ও জলকপাট ব্যবস্থাপনার বিষয়টি তদারকি করেন।

রুদাঘরা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক জিএম আমানুল্লাহ, স্থানীয় বিএনপি নেতা আব্দুর রব আকুঞ্জি, ​উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও সাধারণ কৃষক সমাজ।

​খুলনার ডুমুরিয়া ও ফুলতলা উপজেলার একটি বিশাল অংশজুড়ে বিল ডাকাতিয়া বিস্তৃত। বছরের পর বছর ধরে অপরিকল্পিত পলি ভরাট এবং পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা সংকুচিত হওয়ার কারণে সামান্য বৃষ্টিতেই এই বিলে কৃত্রিম বন্যা বা স্থায়ী জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। এতে হাজার হাজার একর ফসলি জমি পানির নিচে তলিয়ে যায় এবং শত শত মৎস্য ঘের ভেসে যায়, যার ফলে স্থানীয় অর্থনীতি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

​শৈলমারী স্লুইসগেটটি খুলে দেওয়ার ফলে বিলে আটকে থাকা অতিরিক্ত পানি পশুর বা শিবসা নদীতে নেমে যাওয়ার সুযোগ পাবে। তবে স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, সাময়িক গেট খোলার পাশাপাশি শৈলমারী নদী ও খালের পলি অপসারণ (ড্রেজিং) করা না হলে এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়।


নওগাঁর পুলিশ লাইন্সে পথচলা শুরু করল লাইব্রেরি ‘বাতিঘর’

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নওগাঁ প্রতিনিধি

সভ্যতার অগ্রযাত্রায় বই কেবল জ্ঞানের আধারই নয়, বরং একটি জাতির ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও মূল্যবোধের নির্ভরযোগ্য বাহক। একটি সমৃদ্ধ গ্রন্থাগার নতুন চিন্তার দুয়ার খুলে দেয়, মননকে বিকশিত করে এবং মানুষকে আলোকিত জীবনের পথে এগিয়ে যেতে অনুপ্রাণিত করে। বিশিষ্ট প্রাবন্ধিক প্রমথ চৌধুরীর ভাষায়, লাইব্রেরি হচ্ছে এক ধরনের মনের হাসপাতাল। অর্থাৎ, মানসিক সুস্থতা, আত্মিক বিকাশ ও জ্ঞানচর্চার অন্যতম আশ্রয়স্থল একটি গ্রন্থাগার।

এই দর্শনকে সামনে রেখে পুলিশ সদস্যদের মধ্যে বইপাঠের অভ্যাস গড়ে তোলা এবং জ্ঞানচর্চার পরিবেশ নিশ্চিত করতে নওগাঁ জেলা পুলিশ নিয়েছে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ। এরই অংশ হিসেবে জেলা পুলিশ লাইন্সের লাইব্রেরি ‘বাতিঘর’কে আরও আধুনিক ও পাঠকবান্ধব করে গড়ে তোলা হয়েছে। বইপাঠের অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত করতে সেখানে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ (এসি) ব্যবস্থাও সংযোজন করা হয়েছে, যাতে দায়িত্ব পালনের ফাঁকে পুলিশ সদস্যরা স্বাচ্ছন্দ্যে বই পড়তে পারেন।

নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন, যুগে যুগে লাইব্রেরি বা গ্রন্থাগার মানুষের মেধা, মনন, ইতিহাস ও সংস্কৃতিকে ধারণ ও লালন করার অন্যতম বিশ্বস্ত মাধ্যম হিসেবে কাজ করে আসছে। মানুষের মানসিক সুস্থতা ও আত্মিক বিকাশে বই পড়ার কোনো বিকল্প নেই।

তিনি আরও বলেন, পুলিশিং অত্যন্ত ব্যস্ত ও চ্যালেঞ্জিং পেশা। তারপরও আমি আমার সহকর্মীদের সবসময় বলি, সুযোগ পেলেই বই পড়ুন। অনলাইন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অপ্রয়োজনীয় ব্যবহার কমিয়ে বইয়ের সঙ্গে সময় কাটান। একটি ভালো বই শুধু জ্ঞানই বাড়ায় না, এটি একজন মানুষকে আরও বিচক্ষণ, মানবিক ও দায়িত্বশীল করে তোলে। একজন দক্ষ ও পেশাদার পুলিশ সদস্য গড়ে তুলতেও বই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

সম্প্রতি বাংলাদেশ পুলিশের নতুন ইউনিফর্মে দায়িত্ব পালনের প্রথম দিনেই পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম জেলা পুলিশ লাইন্সের লাইব্রেরি ‘বাতিঘর’ পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি লাইব্রেরির সার্বিক পরিবেশ ঘুরে দেখেন, বইয়ের সংগ্রহ সম্পর্কে খোঁজখবর নেন এবং পুলিশ সদস্যদের নিয়মিত বইপাঠে উদ্বুদ্ধ করেন। তিনি বলেন, প্রযুক্তির এই যুগে তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার যেমন প্রয়োজন, তেমনি বইপাঠের অভ্যাসও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ বই মানুষকে গভীরভাবে চিন্তা করতে শেখায় এবং পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধিতে কার্যকর ভূমিকা রাখে।


কুষ্টিয়া দৌলতপুরে মরিচের বাম্পার ফলনে কৃষকের মুখে হাসি

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
আতিয়ার রহমান, দৌলতপুর (কুষ্টিয়া)

কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলায় চলতি মৌসুমে মরিচের আবাদ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে টানা ভারি বৃষ্টিপাত ও বন্যার কারণে বাজারে মরিচের সরবরাহ কমে যাওয়ায় দামও বেড়েছে। বর্তমানে উপজেলার পাইকারি বাজারে কেজিপ্রতি ৯৫ থেকে ১০০ টাকায় মরিচ বিক্রি হচ্ছে। ফলে স্থানীয় কৃষকদের মুখে হাসি ফুটেছে। তবে খুচরা বাজারে দাম ১০৫ থেকে ১১০ টাকায় পৌঁছানোয় অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন সাধারণ ভোক্তারা।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে মরিচ চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২ হাজার ৫৯৫ হেক্টর। কৃষকদের আগ্রহ বাড়ায় লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে প্রায় ১৫৫ হেক্টর বেশি জমিতে মরিচের আবাদ হয়েছে।

কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মরিচ রোপণের পর দীর্ঘদিন বৃষ্টির দেখা না মেলায় এবং তীব্র তাপদাহের কারণে অনেক গাছ শুকিয়ে যায়। অনেক জমিতে গাছে মরিচও কম ধরে। এছাড়া বিভিন্ন ধরনের পোকার আক্রমণে ফলন ব্যাহত হয়। তবে গত কয়েক দিনের বৃষ্টিতে গাছগুলো আবার সতেজ হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে সামনে ভালো ফলনের আশা করছেন তারা।

উপজেলার মথুরাপুর ইউনিয়নের কৃষক আব্দুল জাব্বার ও সোহেল বলেন ‘বর্তমানে বাজারে মরিচের দাম ভালো। তবে গাছে মরিচ তুলনামূলক কম ধরেছে। দাম যদি ১০০ টাকার ওপরে স্থিতিশীল থাকে, তাহলে আমরা ভালো লাভ করতে পারব।

আরেক কৃষক আকবর হোসেন বলেন, মরিচ লাগানোর পর দীর্ঘদিন অনাবৃষ্টির কারণে গাছের বৃদ্ধি ব্যাহত হয়েছিল। এখন কয়েক দিনের বৃষ্টিতে গাছগুলো আবার সতেজ হয়েছে। সামনে ফলন আরও বাড়বে বলে আশা করছি।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) বিকেলে উপজেলার অন্যতম বৃহৎ পাইকারি কাঁচাবাজার তারাগুনিয়ায় কেজিপ্রতি ৯৫ থেকে ১০০ টাকায় মরিচ বিক্রি হয়েছে। তবে একই দিন সকালে সেখানে ৭৫ থেকে ৮০ টাকা কেজি দরে বেচাকেনা হয়েছে বলে ব্যবসায়ীরা জানান। একদিনের কয়েক ঘন্টার মধ্যে ১৫ থেকে ২০ টাকা দাম বেড়ে যাওয়ায় কৃষকদের মধ্যে আশাবাদ তৈরি হয়েছে।

অন্যদিকে শনিবার (১১ জুলাই) বিকেলে উপজেলার হোসেনাবাদ কাঁচাবাজারে খুচরা পর্যায়ে মরিচ ১০৫ থেকে ১১০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হতে দেখা যায়। বাজারের ক্রেতা আকিজ হোসেন বলেন, ‘বৃষ্টির কারণে বাজারে মরিচের দাম বেড়েছে। তবে ১০০ টাকার নিচে হলে আমাদের জন্য ভালো হতো। এর আগে আমরা ৫০ থেকে ৬০ টাকা কেজি দরে মরিচ কিনেছি।’

উপজেলা কৃষি অফিস ও স্থানীয় কৃষকদের তথ্য অনুযায়ী, বীজ, সার, সেচ, কীটনাশক এবং শ্রমিকের মজুরিসহ এক বিঘা জমিতে মরিচ চাষে প্রায় ৬০ থেকে ৭০ হাজার টাকা খরচ হয়। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবং বাজারে বর্তমান দাম বজায় থাকলে উৎপাদন খরচের প্রায় দ্বিগুণ পর্যন্ত লাভ করা সম্ভব বলে মনে করছেন কৃষকরা।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রেহেনা পারভিন বলেন, ‘কৃষকদের নিয়মিত মাঠপর্যায়ে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। পোকার আক্রমণ ও রোগবালাই দমনে প্রয়োজনীয় নির্দেশনাও দেওয়া হচ্ছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এ মৌসুমে দৌলতপুরে মরিচের ভালো ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে।’

বর্তমান বাজারদর অব্যাহত থাকলে চলতি মৌসুমে মরিচ চাষে ভালো লাভের মুখ দেখবেন বলে আশা করছেন দৌলতপুরের কৃষকরা। তবে ভোক্তাদের প্রত্যাশা, উৎপাদন বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাজারে মরিচের দামও স্বাভাবিক পর্যায়ে নেমে আসবে।


শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে বরিশালে মহাসড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ মিছিল

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বরিশাল ব্যুরো

টানা বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতার মধ্যে সোমবার এইচএসসি পরীক্ষা নেওয়া এবং অভিন্ন প্রশ্নপত্র অতীতের চেয়ে কঠিন হওয়ার অভিযোগ তুলে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক অবরোধ করে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলনের পদত্যাগের দাবি করেছেন পরীক্ষার্থীরা।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) বেলা সোয়া ১২টার দিকে বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের সামনের ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক অবরোধ করে নগরীর বিভিন্ন কলেজের পরীক্ষার্থীরা।

অবরোধের ফলে সড়কের দুইধারে অসংখ্য যানবাহন আটকা পরে যাত্রীদের চরম দুর্ভোগে পরতে হয়েছে। এ রিপোর্ট লেখার সময় দুপুর দুইটার দিকেও অবরোধ চলছে।

বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীদের একজন হাতেম আলী কলেজ শিক্ষার্থী আলিফ হোসেন বলেন, বৈরী পরিবেশের মধ্যেও সোমবার পরীক্ষা গ্রহণ করা হয়েছে। তাছাড়া কঠিন পরীক্ষার আগেও পর্যাপ্ত বন্ধ দেওয়া হয়নি। উল্টো অতীতের চেয়ে এবার প্রশ্নপত্র কঠিন হয়েছে। এমনকি সিলেবাসের বাইরে থেকে প্রশ্ন করা হয়েছে।

এছাড়াও বৈরী আবহাওয়ার কারণে অনেকস্থানেই পরীক্ষা নেওয়ার মতো পরিবেশ নেই। অভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা হওয়ার পরেও এক বোর্ডে পরীক্ষা স্থগিত করা হলেও সব বোর্ডে তা স্থগিত করা হয়নি।

আলিফ আরো বলেন-সমস্যাগুলো সমাধান না করেই শিক্ষামন্ত্রী আমাদের কটুক্তি করেছেন তাই আমরা আগামী ২৪ ঘন্টার মধ্যে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করছি। পাশাপাশি এই পরীক্ষা ব্যবস্থার পরিবর্তন দাবি করছি।


সিরাজগঞ্জের যমুনার চরে আর্জেন্টিনা বটগাছ

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
গোলাম মোস্তফা রুবেল, সিরাজগঞ্জ

ফুটবল বিশ্বকাপের উত্তাপ চলছে পুরোদমে। তার অংশ হতে আর্জেন্টিনার আকাশি-সাদা রঙে রঙিন হয়ে উঠেছে সিরাজগঞ্জের যমুনা নদীর বুকে জেগে ওঠা বেলকুচি উপজেলার বড়ধুল চরে একটি বিশাল গাছ। দূর থেকে তাকালেই মনে হবে, সবুজ প্রকৃতির বুক চিরে দাঁড়িয়ে আছে আর্জেন্টিনার বিশাল এক পতাকা। প্রিয় দলের প্রতি এমন ব্যতিক্রমী ভালোবাসা এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে।

সিরাজগঞ্জের বেলকুচি উপজেলার দৌলতপুর ইউনিয়নের আজুগরা ও জামতৈল ইউনিয়নের মাঝামাঝি স্থানে দাঁড়িয়ে থাকা গাছটিকে ঘিরেই এই ব্যতিক্রমী আয়োজন। ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপের সময় প্রথম আকাশি-সাদা রঙে সাজানো হয়েছিল গাছটি। ২০২৬ সালের বিশ্বকাপকে ঘিরে আবারও নতুন করে রঙ করা হয়েছে সেটি।

এই আয়োজনের পেছনে নেই কোনো ব্যক্তি বা সংগঠনের একক অর্থায়ন। স্থানীয় প্রবীণ, তরুণ ও কিশোররা যার যতটুকু সামর্থ্য, ঠিক ততটুকু অর্থ দিয়েছেন। কেউ ৫ টাকা, কেউ ১০ টাকা, কেউ ৫০ বা ১০০ টাকা করে সহযোগিতা করেছেন। সবার ছোট ছোট অবদান মিলিয়ে প্রায় ১০ হাজার টাকা ব্যয়ে গাছটিকে আর্জেন্টিনার পতাকার আদলে রাঙানো হয়েছে।

শুধু একটি গাছ নয়, এলাকার পরিবেশও যেন ফুটবলের রঙে রঙিন। বিভিন্ন সড়কে উড়ছে আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল, ফ্রান্সসহ বিভিন্ন দেশের পতাকা। এক রিকশাচালক নিজের জীবিকার বাহনটিকেও সাজিয়েছেন আর্জেন্টিনার পতাকার আদলে। বিশ্বকাপ এলেই এলাকায় বসে খেলা দেখার আয়োজন, আড্ডা ও নৈশভোজে মেতে ওঠেন সব দলের সমর্থকরা। প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকে শুধু মাঠের খেলায়, বাস্তবে নয়।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, ফুটবল আমাদের আনন্দের উৎসব। আমরা যে যার পছন্দের দলকে সমর্থন করি, কিন্তু সম্পর্কের জায়গায় কোনো বিভেদ নেই। বিশ্বকাপ এলে পুরো এলাকা উৎসবের গ্রামে পরিণত হয়।

আয়োজনের অন্যতম উদ্যোক্তা মো. রাসেল হোসেন বলেন, আর্জেন্টিনা আমাদের আবেগের নাম। সেই ভালোবাসা প্রকাশ করতেই ২০২২ সালে প্রথম গাছটিকে রঙ করি। এবার বিশ্বকাপে আবারও নতুন করে সাজানো হয়েছে। এই আয়োজন কারও একার নয়, এলাকার সবাই স্বতঃস্ফূর্তভাবে অর্থ ও শ্রম দিয়ে পাশে দাঁড়িয়েছেন। আমরা চাই, এই গাছ ফুটবলপ্রেম আর সম্প্রীতির প্রতীক হয়ে থাকুক।

আর্জেন্টিনা পতাকার আদলে নিজের রিকশা সাজানো চালক বলেন, রিকশাই আমার জীবিকা। কিন্তু আর্জেন্টিনা আমার ভালোবাসা। তাই নিজের রিকশাটাকেও প্রিয় দলের রঙে সাজিয়েছি। যাত্রীরাও রিকশা দেখে ছবি তোলেন, ভালো লাগে। বিশ্বকাপ এলেই অন্যরকম আনন্দ কাজ করে।

হাজার হাজার কিলোমিটার দূরের আর্জেন্টিনা হয়তো কখনো জানবে না বেলকুচির এই গাছটির গল্প। তবে আকাশি-সাদা রঙে মোড়া এই গাছটি প্রমাণ করে, ফুটবল শুধু একটি খেলা নয়, এটি মানুষের ভালোবাসা, আবেগ আর সম্প্রীতির এক অনন্য ভাষা।


চীনে মেরিটাইম ফোরামে সামুদ্রিক অগ্রগতির রূপরেখা তুলে ধরল বাংলাদেশ

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
চট্টগ্রাম ব্যুরো

চীনের ইয়াংঝৌ শহরে অনুষ্ঠিত চায়না মেরিটাইম ফোরাম-২০২৬ এবং ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স অন শিপ টেকনোলজি অ্যান্ড সেফটি-২০২৬-এ অংশ নিয়ে বৈশ্বিক মানের সামুদ্রিক মানবসম্পদ গড়ে তুলতে বাংলাদেশের অগ্রগতি, সক্ষমতা এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরেছে চার সদস্যের বাংলাদেশ প্রতিনিধিদল।

প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন বাংলাদেশ মেরিন একাডেমির কমান্ড্যান্ট ক্যাপ্টেন কাজী এ. বি. এম. শামীম। সম্মেলনে উপস্থাপিত তার মূল প্রবন্ধে তিনি স্মার্ট, গ্রিন ও ইন্টেলিজেন্ট শিপিং ব্যবস্থার জন্য দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিতে বাংলাদেশের সামুদ্রিক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ ব্যবস্থার আধুনিকায়নে নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন নাবিক ও সামুদ্রিক পেশাজীবী তৈরির লক্ষ্যে বাংলাদেশে শিক্ষা-প্রশিক্ষণের মান উন্নয়ন, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং বৈশ্বিক মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কারিকুলাম বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

এদিকে, নৌপরিবহন অধিদপ্তরের কন্ট্রোলার অব মেরিটাইম এডুকেশন ক্যাপ্টেন সাঈদ আহমেদ উচ্চপর্যায়ের প্যানেল আলোচনায় অংশ নিয়ে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বৃদ্ধি, প্রযুক্তি বিনিময় এবং দক্ষ নাবিক তৈরিতে যৌথ উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

ফোরামে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে সামুদ্রিক শিক্ষা, গবেষণা, প্রযুক্তি বিনিময় এবং কর্মসংস্থান সহযোগিতা আরও জোরদার করার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়। এছাড়া ভবিষ্যতে দুই দেশের মধ্যে সমুদ্রবিষয়ক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ খাতে পারস্পরিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের সম্ভাবনাও আলোচনায় উঠে আসে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, আন্তর্জাতিক এই সম্মেলনে বাংলাদেশের সক্রিয় অংশগ্রহণ দেশের সামুদ্রিক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ ব্যবস্থাকে বৈশ্বিক পরিসরে আরও পরিচিত করবে এবং আন্তর্জাতিক শিপিং শিল্পে বাংলাদেশের দক্ষ মানবসম্পদের চাহিদা বৃদ্ধির পাশাপাশি বৈশ্বিক সামুদ্রিক খাতে দেশের অবস্থান আরও সুদৃঢ় করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।


ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে দুই বাসের সংঘর্ষে নিহত ১, আহত ১০

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মাহফুজ নান্টু, কুমিল্লা প্রতিনিধি:

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজেলায় দুটি যাত্রীবাহী বাসের সংঘর্ষে এক যাত্রী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে সদর দক্ষিণ উপজেলার সুয়াগাজী এলাকায় রাহাত ফিলিং স্টেশনের সামনে চট্টগ্রামগামী লেনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ময়নামতি হাইওয়ে ক্রসিং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল মমিন।

পুলিশ জানায়, ফেনী থেকে কুমিল্লাগামী মদিনা পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস সুয়াগাজী এলাকায় পৌঁছালে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাগামী সিডিএম পরিবহনের একটি বাসকে পেছন থেকে ধাক্কা দেয়। এতে মদিনা পরিবহনের বাসটির সামনের অংশ এবং সিডিএম পরিবহনের বাসটির পেছনের অংশ দুমড়ে-মুচড়ে যায়।

দুর্ঘটনায় সিডিএম পরিবহনের যাত্রী ইমরান গাজী (২৮) ঘটনাস্থলেই নিহত হন। তিনি চাঁদপুর সদর উপজেলার বাসিন্দা এবং ফজলুল হক গাজীর ছেলে।

এ ঘটনায় অন্তত ১০ জন আহত হন। আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

ওসি আবদুল মমিন জানান, দুর্ঘটনার পর ক্ষতিগ্রস্ত দুটি বাস জব্দ করা হয়েছে। নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।


banner close