আজ ২৪ এপ্রিল, সাভারের রানা প্লাজা ধসের ১১ বছর। ২০১৩ সালের আজকের এই দিনে সকাল পৌনে ৯টার দিকে সাভার বাসস্ট্যান্ডের পাশে রানা প্লাজা নামে একটি ৯ তলা ভবন ধসে ঘটেছিল বাংলাদেশ তথা এশিয়ার অন্যতম বড় শিল্প দুর্ঘটনা। বিশ্ব ইতিহাসে তৃতীয় বৃহত্তম শিল্প দুর্ঘটনা বলা হয় একে। সে দিনের সেই ভয়াল দুর্ঘটনায় জীবন দিতে হয়েছিল ১ হাজার ১৭৫ জন শ্রমিককে। আর সে দিন দুই হাজারেরও বেশি মানুষ আহত হয়। তাদের মধ্যে অনেকে বেঁচে থাকলেও আজীবনের জন্য পঙ্গুত্ব বরণে বাধ্য হয়েছেন।
লোমহর্ষক এই ট্র্যাজেডির শিকার অনেকেরই সন্তান নিঃসঙ্গতা আর অর্থাভাবে ভিন্ন ভিন্ন পথের সারথি হলেও অত্যন্ত মমতার আশ্রয়ে গাইবান্ধার ‘অরকা হোমস’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানে বেড়ে উঠছে ২১ জন শিশু, কিশোর-কিশোরী। যাদের কেউ হারিয়েছে বাবাকে, কেউবা মাকে। কেউ কেউ আবার বাবা-মা উভয়কে হারিয়ে একেবারেই হয়েছে নিঃস্ব। কারও কারও বাবা-মা আহত হয়ে পঙ্গুত্ববরণ করেছে আজীবনের জন্য। এ ছাড়াও আরও ৩২ জন এতিম-অসহায় শিশু-কিশোর-কিশোরীর ঠিকানা হয়েছে অরকা হোমস। বাবা-মা হারানো বিভিন্ন জেলার এসব শিশুর লেখাপড়া, খেলাধুলা ও বিনোদনসহ পুনর্বাসনের দায়িত্ব নিয়েছে জেলার অরকা হোমস নামের প্রতিষ্ঠানটি।
অরকা হোমসের প্রথম কার্যক্রম শুরু হয় ২০১৪ সালে চট্টগ্রামের উত্তর পতেঙ্গায়। পরে একই বছরের ২২ ডিসেম্বর গাইবান্ধা শহর থেকে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার দূরে ফুলছড়ি উপজেলার কঞ্চিপাড়া ইউনিয়নের হোসেনপুর গ্রামে অরকা-হোমস প্রতিষ্ঠিত হয়। এটি প্রতিষ্ঠা করেছে রাজশাহী ক্যাডেট কলেজের সাবেক শিক্ষার্থীদের সংগঠন ওল্ড রাজশাহী ক্যাডেট অ্যাসোসিয়েশন (অরকা)।
অরকা হোমস কার্যালয় সূত্র জানায়, ওই বছরের ২৬ ডিসেম্বর প্রায় ১ কোটি ৯০ লাখ টাকা ব্যয়ে তিনতলাবিশিষ্ট দুটি এবং পরবর্তীতে প্রায় দুই কোটি টাকা ব্যয়ে চারতলাবিশিষ্ট একটি ভবন নির্মাণ করা হয়। যেখানে ৫২ জন এতিম অসহায় শিশু, কিশোর-কিশোরী আশ্রয় পেয়েছে। এর মধ্যে ২১ জন মেয়ে, ৩১ জন ছেলে। তাদের মধ্যে ২১ জন রানা প্লাজা ট্র্যাজেডির ঘটনায় এতিম হওয়া শিশু। এখানে থেকেই তারা লেখাপড়া চালিয়ে যাচ্ছে। এর মধ্যে ৯ জন মেয়ে, ১২ জন ছেলে।
এদের মধ্যে ২০১৪ সালে অরকা হোমস যখন গাইবান্ধায় প্রতিষ্ঠিত হয় তখন রানা প্লাজা ধসে মাকে হারিয়ে ভর্তি হয় সব থেকে কম বয়সি শিশু সৌরভ। তখন সৌরভের বয়স মাত্র ছয় বছর। সেই সৌরভের বয়স এখন ১৭। সে বর্তমানে নবম শ্রেণিতে পড়ে। সৌরভের বাড়ি জামালপুর জেলার সদর উপজেলার বলমুইপাড়া গ্রামে। ছয় বছরে বয়সে আসা শিশু সৌরভের তখনকার কোনো কিছুই মনে পড়ে না। তবে বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সবই জেনে গেছে সৌরভ। প্রতিবছরই পড়ে পত্রিকার পাতায়, দেখে টেলিভিশনে।
একান্ত সাক্ষাৎকারে দৈনিক বাংলার গাইবান্ধার এ প্রতিবেদককে সৌরভ জানায়, তারা বাবা বাদশা মিয়া কাজ করতে অক্ষম হওয়ায় তার মা কল্পনা বেগম পোশাক শ্রমিকের কাজ নেন। তার মা ওই ভবনের তিন তলায় পোশাক শ্রমিকের অপারেটর ছিলেন।
রানা প্লাজা ট্র্যাজেডিতে প্রাণ হারান তিনি। এরপর এতিম সৌরভের জায়গা হয় অরকা হোমসে।
সৌরভ জানায়, ‘শুনেছি আমার বয়স যখন ছয় বছর; তখন মা রানা প্লাজায় মারা যান। ধ্বংসযজ্ঞের ১৬ দিন পর মাকে খুঁজে পান বাবা-ভাই ও আমার স্বজনরা। মায়ের দেহ নাকি তখন গলে পচে গেছে, কিন্তু তার গলায় থাকা পোশাক কারখানার আইডি কার্ড দেখে আমার মাকে চিনতে পারেন আমার বাবা।
এ ছাড়া সৌরভ আরও জানায়, শুনেছি মায়ের উপার্জনে আমাদের পরিবার চলত। মা চলে যাওয়ার পর বাবা নিরূপায় হয়ে আমাকে এখানে রেখে যান। আমার ভাই বড় হয়ে বিয়ে করে সংসার করছেন। বাবাও দ্বিতীয় বিয়ে করেছেন। এখন আমার খোঁজ-খবর রাখছেন দাদা। এখানে আমি ভালো আছি।
মাকে মনে পড়ে কি না জানতে চাইলে সৌরভ বলে, ‘সব সয়ে গেছে’। ছয় বছরের শিশু থাকতেই মাকে হারিয়েছি তো। এখন খুব একটা কষ্ট হয় না। তবে প্রতিবছর এই দিনটি আসলে সাংবাদিক এবং বিভিন্নভাবে মায়ের কথা মনে করিয়ে দেয়। তখন মনে হয় আমারও একজন মা ছিলেন।
সৌরভ জানায়, বড় হয়ে প্রতিষ্ঠিত হতে চাই। আর কাজ করতে গিয়ে আমার মা জীবন দিয়েছেন। একটা মাহারা শিশুর আশ্রয় হয়েছে অরকা হোমসে। আমিও এরকম একটি প্রতিষ্ঠান গড়ার স্বপ্ন দেখি। যেখানে অসহায়-এতিম ছেলে-মেয়েরা বিনা টাকায় খেয়ে-থেকে পড়ালেখা করতে পারবে।
প্রতিষ্ঠানটির সহকারী ম্যানেজার মিল্লাত মণ্ডল প্রতিষ্ঠাকালীন সময় থেকেই অরকা হোমসে আছেন। সৌরভের বিষয়ে জানতে চাইলে স্মৃতিচারণ করে তিনি দৈনিক বাংলাকে বলেন, ২০১৪ সালে সৌরভ যখন এখানে আসে তখন ওর বয়স ছয় বছর। তখন এটি প্রসারিত ছিল না, ছিল না জনবলও। ও (সৌরভ) তখন বিছানায় পেশাব করত, আমি পরিষ্কার করতাম। এখন অনেক বড় হয়েছে। এখানে আসার পর প্রায় টানা এক মাস সৌরভ প্রায় সার্বক্ষণিক মায়ের জন্য, বাড়ির জন্য কেঁদেছে। ওকে আমরা সবাই অনেক স্নেহে মানুষ করেছি। কারণ সব থেকে ছোট এবং কম বয়সের ছিল সৌরভ।
এ সময় তিনি আরও বলেন, মাহারা সৌরভ অনেক ভদ্র এবং নম্র। সৌরভ প্রচণ্ড মেধাবী। সে এখানে দ্বিতীয় শ্রেণি থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত প্রত্যেক ক্লাসে প্রথম ছিল। আর এবার নবম শ্রেণিতে উঠেছে সৌরভ। এ সময় সৌরভের আচরণে সন্তুষ্ট হয়ে প্রাণ ভরে দোয়া করেন- সৌরভ জীবনে অনেক বড় হোক।
শুধু সৌরভই নয়, আল-আমিন মিয়া, জিয়াদ হোসেন, তাহমিনা আক্তার, বীথিসহ হোমসে আশ্রয় হওয়া সবারই আছে প্রায় একই রকম শোকগাথা ইতিহাস। তবে, এতিম-অসহায় এই শিশুদের স্বপ্ন পূরণে কাজ করেই চলেছে অরকা হোমস।
প্রকৃতির ছায়াঘেরা অরকা হোমসের ক্যাম্পাস। ক্যাম্পাসের ভেতরেই ভবন, স্কুল, চারতলা ভবনের একটিতে থাকে ছেলেরা। আর মেয়েরা থাকে তিনতলার অপর ভবনটিতে। এখানে থাকা শিশু-কিশোরের সবাই পড়াশোনা করছে পাশের মুসলিম একাডেমিতে। আছে খেলার মাঠ, লাইব্রেরি ও বিনোদনের ব্যবস্থা। এ ছাড়া তাদের দেখভালের জন্য রয়েছেন একজন তত্ত্বাবধায়ক, একজন ম্যানেজার, সহকারী ম্যানেজার, নারী কেয়ারটেকারসহ আটজন। তাদের জন্য রয়েছে ২২ জন গৃহশিক্ষক। রয়েছেন শরীরচর্চার শিক্ষকও। ধর্ম শিক্ষার ব্যবস্থাও রয়েছে সেখানে। নামাজের জন্য ক্যাম্পাসেই রয়েছে পাকা মসজিদ।
গাইবান্ধা অরকা হোমসের পরিচালক মো. জাহিদুল হক জানান, ২০১৪ সালে মাত্র ৮টি শিশু নিয়ে অরকা হোমসের যাত্রা শুরু হয়। এখন এখানে শিশু রয়েছে ৫২টি। তার মধ্যে ২১টি শিমু রানা প্লাজা ট্র্যাজেডির বাবা-মা হারানো; বাকিরা এতিম অসহায়। তাদের পড়াশোনা থেকে সবকিছুই আমরা দিচ্ছি।
তিনি বলেন, এই ২১ জন ছাড়াও বিভিন্ন সময়ে এখানকার ৩১ শিশু-কিশোরের কেউ মাধ্যমিক পেরিয়ে উচ্চ মাধ্যমিকে পড়ছে, কেউ কারিগরি শিক্ষায় প্রশিক্ষিত হচ্ছে, আবার কারও কর্মসংস্থান হওয়ায় অরকা হোমস ছেড়ে চলেও গেছে।
এ সময় এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, দেশ-বিদেশে থাকা অরকার সদস্যদের আর্থিক সহায়তায়ই মূলত হোমসের ব্যয় মেটানো হয়। এ ছাড়া বাংলাদেশের তৈরি পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারকদের প্রতিনিধিত্বকারী সংগঠন বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ) প্রতি মাসে নির্দিষ্ট পরিমাণ আর্থিক অনুদান দিয়ে আসছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে এই অনুদান প্রদানে বিজিএমইএ গড়িমসি করছে বলে অভিযোগ হোমস-সংশ্লিষ্টদের।
লক্ষ্মীপুর পৌর শহরে ১৪৪ ধারার মধ্যেই পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়েছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। শহরের চকবাজার এলাকায় রোববার (৫ এপ্রিল) বিকেল পাঁচটায় বৈষম্যবিরোধী নেতা-কর্মীরা মিছিল বের করার চেষ্টা করলে পুলিশ বাধা দেয়। এ সময় সংঘর্ষে সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ (ওসি) অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে দুজনকে আটক করেছে।
এর আগে গত শনিবার (৪ এপ্রিল) রাতে পৌর এলাকার হাসপাতাল রোডে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কর্মী হাবিবুর রহমান ও ছাত্রদল-সমর্থিত জুলাই ফাইটার্সের কর্মী আকবর হোসেনের মধ্যে কথা-কাটাকাটির জেরে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনার জের ধরে আজ একই স্থানে দুটি সংগঠন পাল্টাপাল্টি কর্মসূচির ঘোষণা দেয়। এতে প্রশাসন সংঘর্ষের আশঙ্কায় বিকেল সাড়ে ৪টা থেকে চকবাজার এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করে। লক্ষ্মীপুরের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ক্যাথোয়াইপ্রু মারমা এ নির্দেশনা জারি করেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের কর্মীদের সঙ্গে ছাত্রদল-সমর্থিত জুলাই ফাইটার্সের নেতা-কর্মীদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া, ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। পুলিশ বিক্ষুব্ধদের ছত্রভঙ্গ করতে লাঠিপেটা করে। এতে এলাকাজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। কয়েকটি দোকানপাট দ্রুত বন্ধ হয়ে যায় এবং সাধারণ মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যান।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়। সংঘর্ষের সময় দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে লক্ষ্মীপুর সদর মডেল থানার ওসি মো. ওয়াহিদ পারভেজ আহত হয়েছেন।
লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও) অরূপ পাল বলেন, ‘সদর থানার ওসি ওয়াহিদ পারভেজ হাতের আঙুলে আঘাত পেয়েছেন। তিনি হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন এবং তার আঙুলের এক্স-রে করা হয়েছে।’
এছাড়া এ ঘটনায় উভয়পক্ষের অন্তত ৯ জন আহত হন। আহতদের স্থানীয় হাসপাতালসহ বিভিন্ন ক্লিনিকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
সংঘর্ষের ঘটনায় পুলিশের ভূমিকার সমালোচনা করেছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের কর্মী হাবিবুর রহমান বলেন, ‘আমাদের কর্মসূচি ছিল সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ। নির্ধারিত কর্মসূচিতে অংশ নিতে সবাই জড়ো হলে পুলিশ আমাদের বাধা দেয়। একপর্যায়ে পুলিশ অতর্কিতভাবে লাঠিপেটা করে, এতে আমাদের বেশ কয়েকজন কর্মী আহত হন।’
ছাত্রদল-সমর্থিত জুলাই ফাইটার্সের কর্মী আকবর হোসেন বলেন, ‘প্রশাসন ১৪৪ ধারা জারি করার পর বৈষম্যবিরোধীরা তা ভঙ্গ করার চেষ্টা করে। কর্মসূচি পালনে পুলিশ তাদের বাধা দিলে তারা আমাদের নেতা-কর্মীদের ওপর হামলা করে।’
লক্ষ্মীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. রেজাউল হক বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়। বিকেলে ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে মিছিলের চেষ্টা করলে পুলিশ বাধা দেয়। এই নিয়ে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশের পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি এখন স্বাভাবিক রয়েছে।
ঢাকা মেডিকেল কলেজে (ঢামেক) এইডস আক্রান্ত এক কারবন্দির মৃত্যু হয়েছে। কারবন্দির নাম অনিক হোসাইন (৩০)। তার পিতার নাম রনি হোসাইন। তাৎক্ষণিকভাবে এর চেয়ে বেশি পরিচয় এবং মামলার বিষেয়ে বিস্তারিত জানা জানা যায়নি। রোববার (৫ এপ্রিল) সকাল ১১টার দিকে কারারক্ষীদের পাহারায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক মো. ফারুক মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে গণমাধ্যমকে বলেন, মরদেহটি ঢামেক মর্গে রাখা হয়েছে।’
প্রসঙ্গত, গত ২৯ মার্চ তাকে অসুস্থ অবস্থায় ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার (কেরানীগঞ্জ) থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে ব্রিক ফিল্ডের জন্য মাটি কাটার ফলে সৃষ্ট গর্তে জমে থাকা পানিতে পড়ে দুই কন্যা শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। রোববার সকালে উপজেলার হারুয়ালছড়ি ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের করিম বাপের বাড়ি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলো একই এলাকার হাবিবের মেয়ে সাকি মনি (৭) ও জাকির হোসেনের মেয়ে সানজিদা (৮)।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কিছুদিন আগে ব্রিক ফিল্ডে থেকে ভেকু মেশিন দিয়ে মাটি কেটে নেওয়ায় প্রায় ২০ ফুট গভীর গর্ত তৈরি হয়। সাম্প্রতিক বৃষ্টিতে সেখানে পানি জমে ডোবার সৃষ্টি হয়। সকালে বাড়ির পাশে খেলতে গিয়ে অসাবধানতাবশত ওই পানিতে পড়ে যায় দুই শিশু।
অনেকক্ষণ তাদের না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করে।
স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ইকবাল হোসেন চৌধুরী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, জনবসতিপূর্ণ এলাকায় গভীর গর্ত করে ইটভাটার মাটি কাটার ফলে এ দুর্ঘটনাটি ঘটেছে। কোনও অবস্থাতেই মাটি খোকোদের বেপরোয়া গতি থামানো যাচ্ছে না। এ ব্যাপারে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তিনি।
কুড়িগ্রামের সহজ-সরল কনটেন্ট ক্রিয়েটর তাইজুল ইসলাম তাজুর ফেসবুক পেজ (তাজু ভাই ২.০) খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। ‘সরকারি রেটে জিলাপি বিক্রি’ কনটেন্টে ভাইরাল হওয়া ‘তাজু ভাই ২.০’ হঠাৎ করেই অদৃশ্য হয়ে গেছে।
রোববার (৫ এপ্রিল) দুপুরের পর থেকে পেজটি আর পাওয়া যাচ্ছে না।
তাইজুলের সহযোগী শাহ আলম হোসেন জানান, এটি প্রযুক্তিগত সমস্যাও হতে পারে। তিনি আশা করেন, দ্রুতই পেজটি চালু হবে।
জানা যায়, ২৬ মার্চ চরনারায়ণপুরের একটি বাজারে ‘সরকারি রেটে জিলাপি বিক্রি’ ভিডিও প্রকাশের পর দ্রুত ভাইরাল হন তাজুল। তার সরলতা, স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থাপন এবং গ্রামীণ জীবনের বাস্তব চিত্র তুলে ধরার ভিন্নধর্মী কনটেন্ট দ্রুত মানুষের মন জয় করে। তবে জনপ্রিয়তার পাশাপাশি বিভিন্ন মহলে সমালোচনার মুখেও পড়তে হয় তাকে। অল্প সময়েই তার পেজের ফলোয়ার সংখ্যা ১০ লাখ ছাড়িয়ে যায়।
তবে হঠাৎ পেজটি অদৃশ্য হওয়ায় নেটিজেনদের মধ্যে হতাশা দেখা দিয়েছে। অনেকেই অতিরিক্ত ট্রলকে দায়ী করছেন।
সব মিলিয়ে, স্বল্প সময়ে অর্জিত এই জনপ্রিয়তা এখন তাজুর জীবনে একদিকে যেমন সম্ভাবনার দুয়ার খুলেছে। অন্যদিকে তৈরি করেছে অনাকাঙ্ক্ষিত চাপ ও অনিশ্চয়তা। তার ফেসবুক পেজের রহস্যজনক অন্তর্ধান সেই অনিশ্চয়তাকে আরো বাড়িয়ে দিয়েছে বলে মনে করছেন।
স্থানীয় ইউপি সদস্য কবিরুল ইসলাম বলেন, দ্রুত ফলোয়ার বাড়ায় মেটা কর্তৃপক্ষ যাচাইয়ের অংশ হিসেবে পেজটি সাময়িকভাবে সরিয়ে রাখতে পারে।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের মাঝামাঝি সময় থেকে কনটেন্ট তৈরি শুরু করলেও দীর্ঘদিন তেমন সাড়া পাননি তাজু। নাগেশ্বরীর চরাঞ্চলের বাসিন্দা তাইজুল পেশায় রাজমিস্ত্রীর সহকারী হিসেবে ঢাকায় কাজ করতেন। ঈদে বাড়ি এসে স্থানীয় সমস্যা তুলে ধরে ভিডিও তৈরি করেই আলোচনায় আসেন।
ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড দখল করে ১৯৪৮ সালে গড়ে তোলা ইসরায়েল নামে দখলদার ইহুদি রাষ্ট্রটির জন্মের পর একাধিকবার মুসলিমদের সঙ্গে যুদ্ধ-সংঘাতে জড়িয়েছে। জয়-পরাজয় যা-ই হোক না কেন, ভূমি ছাড়ার দৃশ্য বা নিজেদের মধ্যে অনৈক্য কখনও দেখেনি তেলআবিব। কিন্তু, ২০২৩ সালে হামাসের দীর্ঘদিনের পুঞ্জিভূত ক্ষোভের বিস্ফোরণ ইহুদিদের ভিত কাঁপিয়ে দেয়। ধ্বংস হওয়ার ভয় ঢুকেছে তাদের অন্তরে।
এরপর টানা দু’বছর ধরে ফিলিস্তিনিদের ওপর চালানো ইসরায়েলি নৃশংস গণহত্যাও ‘ব্যাক ফায়ার’ করেছে। ইরানের হামলায় টিকতে না পেরে অবৈধ এ ভূখণ্ড ছাড়তে ইহুদিদের মধ্যে প্রতিযোগিতা শুরু হয়।
ঢল নামে সীমান্ত এলাকা ও বিমানবন্দরগুলোতে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রকে নিয়ে ইরানে যৌথ আগ্রাসন শুরু করে ইসরায়েল। এতে বেশ ক্ষুব্ধ খোদ ইসরায়েলিরাই। যুদ্ধের চিত্র বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, মার্কিন-ইসরায়েলি ভয়াবহ হামলায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে ইরানের। দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ সরকার ও সামরিক বাহিনীর উচ্চপদস্থ অনেক নেতার মৃত্যু হয়েছে।
সব মিলিয়ে ইরানে নিহতের সংখ্যা দুই হাজার ছুঁই ছুঁই। এ ছাড়া সামরিক ও বেসামরিক হাজার হাজার অবকাঠামো বিধ্বস্ত হয়েছে, কিন্তু হাল ছাড়েনি ইরানিরা। ধীরে ধীরে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে একাট্টা হয়ে উঠছে সাধারণ নাগরিকরা। সর্বশেষ গত ৩ এপ্রিল ইরানে মার্কিন বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার পর কিছু ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে উপজাতি নারীদেরও বন্দুক হাতে মার্কিন পাইলটকে খুঁজতে দেখা যায়। এই দৃশ্য ইরানিদের যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে একাট্টা ও প্রতিবাদী হওয়ার স্পষ্ট প্রমাণ।
অপরদিকে ইসরায়েলের চিত্র পুরোপুরি উল্টো। ইরানের রেজিম চেঞ্জ বা শাসন ব্যবস্থা পরিবর্তনের জন্য আগ্রাসন শুরু করলেও সরকারবিরোধী আন্দোলন হচ্ছে ইসরায়েলে।
দফায় দফায় প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর পদত্যাগ, যুদ্ধবন্ধসহ বিভিন্ন দাবিতে রাস্তায় নামছে ইসরায়েলিরা। সর্বশেষ গত শনিবার যুদ্ধবিরোধী ব্যানার বহন করে এবং প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে স্লোগান দিয়ে তেল আবিবে শত শত ইসরায়েলি ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের প্রতিবাদে সমাবেশ করেছে।
ইরানের সঙ্গে সংঘাতের কারণে গণজমায়েতের ওপর বিধিনিষেধ থাকা সত্ত্বেও বিক্ষোভকারীরা একটি কেন্দ্রীয় চত্বরে জড়ো হন। তাদের হাতে থাকা প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল: ‘বোমা নয়—আলোচনা করুন! অন্তহীন যুদ্ধ বন্ধ করুন!’
ইসরায়েলি-ফিলিস্তিনি তৃণমূল গোষ্ঠী ‘স্ট্যান্ডিং টুগেদার’ এর সহ-পরিচালক অ্যালন-লি গ্রিন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘আমরা এখানে ইরান, লেবানন ও গাজায় চলমান যুদ্ধ বন্ধের পাশাপাশি পশ্চিম তীরে গণহত্যা বা পরিকল্পিত আক্রমণ বন্ধের দাবি জানাতে এসেছি।’
গ্রিন বলেন, ‘ইসরায়েলে সবসময়ই যুদ্ধ লেগে থাকে। তাই যদি আমাদের বিক্ষোভ করতে দেওয়া না হয়, তবে আমাদের কখনোই কথা বলতে দেওয়া হবে না।’
এর আগে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম ওয়াইনেটের এক প্রতিবেদনে জানা যায়, যুদ্ধ অবসানের দাবিতে গত ২৮ মার্চও ইসরায়েলজুড়ে হাজার হাজার বিক্ষোভকারী সমাবেশ করেছে। তেল আবিব, হাইফা ও জেরুজালেমে এ প্রতিবাদী কর্মসূচি পালিত হয়।
বিক্ষোভকারীরা জানান, চলমান ক্ষেপণাস্ত্র হামলার হুমকি সত্ত্বেও তারা ‘জীবনের জন্য’ এই বিক্ষোভে অংশ নিয়েছেন এবং যুদ্ধকালীন সরকারি নীতির তীব্র বিরোধিতা করছেন।
ইরানে মার্কিন-ইসরায়েলি আগ্রাসন শুরু হওয়ার পর জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়েছে ইসরায়েলিদের। ক্রমেই বাড়ছে মূল্যস্ফীতি। জ্বালানির মূল্য, খাবারের দাম, পরিবহন খরচ-সবই বেড়েছে। সঙ্গে বিঘ্ন ঘটছে বাণিজ্যে।
ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা থেকে বাঁচতে ইসরায়েলিদের দিন-রাতের অধিকাংশ সময় থাকতে হচ্ছে বাঙ্কারে, যা তাদের উৎপাদন কমিয়ে ভোগ বাড়িয়ে দিয়েছে। যেকোনো একটি শহরে ছোট্ট একটি ড্রোন বা একটি রকেট আঘাত হানলে সর্বোচ্চ ক্ষতি হতে পারে একটি ফ্ল্যাটের বা কোনো একটি দোকানের।
কিন্তু, আকাশে সেই বস্তুর আগমন শনাক্ত হওয়ার পর যে সাইরেন বাজে তাতে একটি শহরের সব বাসিন্দাকে পালাতে হয়। এক মাসের বেশি সময় ধরে এ লুকোচুরি খেলা খেলতে গিয়ে তাদের জীবন নাজেহাল হয়ে পড়েছে।
বরগুনায় হামের সংক্রমণ আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় সদর উপজেলাকে ‘রেড জোন’ ঘোষণা করেছে স্বাস্থ্য বিভাগ। পরীক্ষাগারে পাঠানো নমুনার প্রায় ৩০ শতাংশেই শনাক্ত হচ্ছে হাম, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। শিশু থেকে শুরু করে বয়স্করাও আক্রান্ত হচ্ছেন এই ভাইরাসজনিত রোগে। ইতোমধ্যে হাম আক্রান্ত হয়ে তিন শিশুর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।
হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের স্বজনদের অভিযোগ, হাসপাতালে পর্যাপ্ত ওষুধ সরবরাহ না থাকায় প্যারাসিটামল ছাড়া অন্য কোনো ওষুধ দেওয়া হচ্ছে না। ফলে প্রয়োজনীয় ওষুধ বাইরে থেকে কিনতে হচ্ছে, যা অনেক পরিবারের জন্য বাড়তি আর্থিক চাপ তৈরি করছে।
ঢলুয়া এলাকার বাসিন্দা শিউলি বেগম জানান, তার শিশুসন্তানকে চারদিন ধরে সদর হাসপাতালে ভর্তি রাখতে হয়েছে এবং এ সময় প্রায় ৫ হাজার টাকার ওষুধ বাইরে থেকে কিনতে হয়েছে। ‘হাসপাতাল থেকে শুধু প্যারাসিটামল দেওয়া হয়,’ এ অভিযোগ করেন তিনি।
বরগুনা সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে নতুন করে ১০ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত হাম-সন্দেহজনক রোগী শনাক্ত হয়েছে ১৩২ জন। এর মধ্যে ৭৪ জনের নমুনা পরীক্ষার জন্য পাঠানো হলে ২৫ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়।
এদিকে, গুরুতর অসুস্থ রোগীদের দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে উন্নত চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছে। তাদের মধ্যে তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে স্বাস্থ্য বিভাগ।
বরগুনা সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ আবুল ফাত্তাহ বলেন, ‘সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আমরা ইতোমধ্যে টিকাদান কার্যক্রম শুরু করেছি। আশা করছি, দ্রুতই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে।’
স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে সবাইকে সতর্ক থাকার পাশাপাশি শিশুদের নিয়মিত টিকা নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে শমশেরনগর ক্যামেলিয়া ডানকান ফাউন্ডেশন হাসপাতালে টানা দশ দিন ধরে চিকিৎসা কার্যক্রম বন্ধ থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন ডানকান ব্রাদার্সের আওতাধীন ১৫টি চা-বাগানের লক্ষাধিক শ্রমিক ও কর্মকর্তা-কর্মচারী। চিকিৎসকদের অনুপস্থিতি ও নিরাপত্তাহীনতার কারণে কার্যত অচল হয়ে পড়েছে একসময়ের নির্ভরযোগ্য এই চিকিৎসাকেন্দ্র।
জানা যায়, গত ২৬ মার্চ রাতে মাথাব্যথা নিয়ে শমশেরনগর ক্যামেলিয়া ডানকান ফাউন্ডেশন হাসপাতালে ভর্তি হয় শমশেরনগর চা-বাগানের রবিদাস টিলার বাসিন্দা বাবুল রবিদাসের মেয়ে ঐশী রবিদাস। পরদিন ২৭ মার্চ সকালে তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় ভুল চিকিৎসার অভিযোগ তুলে ক্ষুব্ধ চা-শ্রমিকরা হাসপাতালে গিয়ে স্টাফদের অবরুদ্ধ করে এবং একপর্যায়ে ভাঙচুর চালায়।
এরপর থেকেই চিকিৎসক ও নার্সদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়ায় হাসপাতালের চিকিৎসা কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়। তবে প্রশাসনিক কার্যক্রম সীমিত পরিসরে চালু রয়েছে।
নিহত ঐশীর স্বজনদের অভিযোগ, চিকিৎসায় অবহেলার কারণেই তার মৃত্যু হয়েছে। অন্যদিকে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিষয়টি তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ৫০ শয্যাবিশিষ্ট ক্যামেলিয়া ডানকান ফাউন্ডেশন হাসপাতালটি ১৯৯৪ সালে শমশেরনগরের ফাঁড়ি কানিহাটি চা-বাগানে প্রতিষ্ঠিত হয়। দীর্ঘদিন ধরে এটি ডানকান ব্রাদার্সের ১৫টি চা-বাগানের শ্রমিকদের জন্য অস্ত্রোপচারসহ বিভিন্ন আধুনিক চিকিৎসাসেবা প্রদান করে আসছে। তবে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সংকটসহ নানা কারণে কয়েক বছর ধরে এখানে অস্ত্রোপচার বন্ধ রয়েছে।
বর্তমানে হাসপাতালের সেবা বন্ধ থাকায় চা-শ্রমিকরা বাধ্য হয়ে উপজেলা ও জেলা সদর হাসপাতালসহ বিভিন্ন স্থানে গিয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
স্থানীয় চা-শ্রমিকরা জানান, নিরাপত্তাহীনতার অজুহাতে চিকিৎসকরা হাসপাতাল ত্যাগ করেছেন, ফলে তারা চিকিৎসা সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। দ্রুত চিকিৎসা কার্যক্রম পুনরায় চালুর দাবি জানিয়েছেন তারা।
স্থানীয় চা-শ্রমিক নেতা সীতারাম বীন বলেন, ‘ক্যামেলিয়া হাসপাতালে দ্রুত চিকিৎসাসেবা চালু, অতীতের মতো সব ধরনের অপারেশন পুনরায় শুরু, ঐশী রবিদাসের মৃত্যুর কারণ এবং হাসপাতালের অপ্রীতিকর ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত জরুরি।’
বাংলাদেশ চা-শ্রমিক ইউনিয়নের নেতা রামভজন কৈরী বলেন, ‘ঐশীর মৃত্যুতে আমরা গভীরভাবে শোকাহত। তবে সহিংসতা কোনোভাবেই কাম্য নয়। তদন্তের মাধ্যমে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া উচিত ছিল। হাসপাতালের সেবা পুনরায় চালুর জন্য সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা চলছে।’
এ বিষয়ে শমশেরনগর চা-বাগানের ব্যবস্থাপক ও ডানকান ব্রাদার্সের উপমহাব্যবস্থাপক মো. কামরুজ্জামান জানান, হাসপাতালটি একটি স্বতন্ত্র ফাউন্ডেশনের অধীনে পরিচালিত। পুরো বিষয়টি ইংল্যান্ডে অবস্থিত ক্যামেলিয়া ডানকান ফাউন্ডেশন পর্যবেক্ষণ করছে। শিশুটির মৃত্যুর কারণ, চিকিৎসায় গাফিলতি ছিল কি না এবং হামলার ঘটনাও পৃথকভাবে তদন্ত করা হবে।
তিনি আরও বলেন, ‘নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত চিকিৎসকদের ফিরে আসা কঠিন। হাসপাতাল চালু হওয়ার বিষয়টি এখন ফাউন্ডেশনের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে।’
ক্যামেলিয়া ডানকান ফাউন্ডেশন হাসপাতালের প্রশাসনিক কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম জানান, হাসপাতাল খোলা থাকলেও চিকিৎসক উপস্থিত না থাকায় সেবা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। এ বিষয়ে দ্রুতই হেড অফিস থেকে সিদ্ধান্ত আসতে পারে।
সুন্দরবনে মধু আহরণ মৌসুম শুরু। এরই মধ্যে বনে ফুটেছে খলিসা, গরান, পশুর, হারগোজাসহ রঙ-বেরঙের ফুল। মৌমাছির গুঞ্জনে মুখর হয়ে উঠেছে পুরো বনাঞ্চল। মধু আহরণে বনে যাওয়ার প্রস্তুতি নিয়ে ব্যস্ত মৌয়ালরা। তবে উপকূলজুড়ে বনজীবীদের মধ্যে বিরাজ করছে বনদস্যুর আতঙ্ক।
ঘ্রাণ ও স্বাদে অতুলনীয় সুন্দরবনের মধু সংগ্রহ করতে জীবনবাজি রাখতে হয় মৌয়ালদের। এতদিন নদীতে কুমির আর ডাঙায় বাঘের ভয় থাকলেও এবার নতুন করে যুক্ত হয়েছে বনদস্যুর আতঙ্ক।
মৌয়ালরা বলছেন, কয়েকটি দস্যু দল বনে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। বনজীবীদের অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায় এবং শারীরিক নির্যাতনের ঘটনাও ঘটছে। ফলে এবার মধু আহরণে যেতে অনাগ্রহ দেখাচ্ছেন অনেক মৌয়াল। এতে যেমন মধু সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন না হওয়ার শঙ্কা রয়েছে, তেমনি জীবিকা সংকটে পড়তে পারেন হাজারো মৌয়াল।
বন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ১ এপ্রিল থেকে সুন্দরবনে টানা দুই মাস মধু সংগ্রহের অনুমতি দেওয়া হবে। এ বছর সাতক্ষীরা রেঞ্জ এলাকায় ১ হাজার ১০০ কুইন্টাল (১ কুইন্টাল-১০০ কেজি) মধু এবং ৬০০ কুইন্টাল মোম আহরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
বন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ২০২১ সালে সুন্দরবন থেকে ৪ হাজার ৪৬৩ কুইন্টাল মধু আহরণ করা হয়েছিল। ২০২২ সালে তা কমে দাঁড়ায় ৩ হাজার ৮ কুইন্টালে। ২০২৩ সালে আরও কমে হয় ২ হাজার ৮২৫ কুইন্টাল। ২০২৪ সালে কিছুটা বেড়ে ৩ হাজার ১৮৩ কুইন্টাল মধু আহরণ করা হয়। আর ২০২৫ সালে তা কমে দাঁড়ায় ২ হাজার ৭৬ কুইন্টালে, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ৩৫ শতাংশ কম।
২০২৪ সালে প্রায় ৮ হাজার মৌয়াল মধু আহরণে নিয়োজিত থাকলেও ২০২৫ সালে তা নেমে আসে প্রায় ৫ হাজারে। স্থানীয়দের মতে, এবার এই সংখ্যা আরও কমতে পারে।
সাতক্ষীরা ও খুলনার পার্শবর্তী মৌয়ালরা জানান, সুন্দরবনে ডাকাতের তৎপরতা বেড়েছে। বিশেষ করে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর অপহরণের ঘটনা বাড়ছে বলে দাবি তাদের। এতে পরিবার-পরিজনের নিরাপত্তার কথা ভেবে অনেকেই বনে যেতে নিরুৎসাহিত হচ্ছেন।
স্থানীয়দের মধ্যে অনেকে জানান, ছোটবেলা থেকে জঙ্গলে যাই, কোনো দিন বাঘ-কুমিরের ভয় পাইনি। কিন্তু এখন ডাকাতের ভয় সবচেয়ে বেশি। একবার ধরা পড়লে আর রক্ষা নেই। তাই এবার মধু কাটা বাদ দিয়ে এলাকায় দিনমজুরি কাজ করবো।
আগে আমরা সাতজন মিলে নৌকায় যেতাম। এবার ডাকাতের ভয়ে কেউই যেতে চাইছে না। বাপ-দাদার পেশা হলেও নিরাপত্তা না থাকলে এ পেশা ছেড়ে দিতে হবে।’
মৌয়ালরা আরও বলেন, ‘ঋণ করে মধু কাটতে যাই। কিন্তু ডাকাতের হাতে পড়লে সব হারিয়ে নিঃস্ব হতে হয়।’
তবে বন বিভাগ বলছে, মৌয়ালদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে কোস্ট গার্ডের সঙ্গে যৌথ টহল জোরদার করা হয়েছে এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
সুন্দরবন পশ্চিম বন বিভাগের সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) মো. মশিউর রহমান জানান, মৌয়ালদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাজ চলছে এবং প্রয়োজনীয় সহায়তাও দেওয়া হচ্ছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, পরিস্থিতির উন্নতি হবে।
নীলফামারী জেলার কিশোরগঞ্জ উপজেলার চাঁদখানা ইউনিয়নের গ্রাম পুলিশ নিয়োগে অনিয়ম করায় নিয়োগ বঞ্চিত ভুক্তভুগি একজন কিশোরগঞ্জ ইউএনও তানজিমা আঞ্জুম সোহানিয়ার বিরুদ্ধে রবিবার (৫ এপ্রিল) বিকালে কিশোরগঞ্জ প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেছেন।
গ্রাম পুলিশ (মহল্লাদার) নিয়োগে শারীরিক ফিটনেস ও মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থী কিশোরগঞ্জ উপজেলার চাঁদখানা ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের মোঃ সহিদুল ইসলামের ছেলে মোঃ আব্দুল হালিম নিয়োগ বঞ্চিত হয়ে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন। তিনি তার লিখিত অভিযোগে বলেন, গত ২ নভেম্বর’২০২৫ তারিখে কিশোরগঞ্জ উপজেলা নিবার্হী অফিসার প্রিতম সাহা একটি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি আহ্বান করেন।
এই বিজ্ঞপ্তির প্রেক্ষিতে ওই নিয়োগ বঞ্চিত আব্দুল হালিম আবেদন করে শারীরিক ফিটনেস ও মৌখিক পরীক্ষার ফলাফলে উত্তীর্ণ হন। গ্রাম পুলিশ (মহল্লাদার) নিয়োগ কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নিবার্হী অফিসার তানজিমা আঞ্জুম সোহানিয়া গত ৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ তারিখে তার স্বাক্ষরিত ফলাফলে সংক্ষুদ্ধ প্রার্থী আব্দুল হালিমকে মনোনিত করেন। নিয়োগপত্রের জন্য আমি যোগাযোগ করলে আমাকে ইউএনও অফিসের সহকারী ফুয়াদ ও মুকুল হোসেন আমার কাছে ৪ লক্ষ টাকা দাবী করে। তাদের দাবীকৃত টাকা দিতে না পারায় পরবর্তীতে শারীরিক ফিটনেস পরীক্ষায় অযোগ্য ব্যক্তি মজিদুল ইসলাম নামে একজনকে ইউএনও গোপনে নিয়োগ দিয়েছে বলে জানতে পেরেছি। এ বিষয়ে ইউএনও তানজিমা আঞ্জুম সোহানিয়ার কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমার আবেদনে ক্রটি থাকায় আমাকে চাকুরী দেয়া সম্ভব হচ্ছে না। যাকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে সে তো শারীরিক যোগ্যতায় পাস করেনি, তাহলে তার কিভাবে চাকুরী হয় বললে তখন তিনি বলেন, এটি আমাদের বিষয়। নিয়োগকৃত ব্যক্তির তথ্য চাইলে আমাকে তথ্য দেয়া হয়নি। এ বিষয়ে চেয়ারম্যানকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি আমাকে বলেন, তিনি এ বিষয়ে কিছু জানেন না। কাকে নিয়োগ দিয়েছে, কিভাবে কোন প্রক্রিয়ায় নিয়োগ দিয়েছে তা আমার জানা নেই।
সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী আরও বলেন, আমার মামা খালু না থাকায় চূড়ান্ত মনোনিত হয়েও আমাকে চাকুরী দেয়া হয়নি। আমি বিষয়টি আপনাদের মাধ্যমে উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের আশু দৃষ্টি কামনাসহ সুষ্ঠ তদন্ত পূর্বক আমাকে চাকুরীতে নিয়োগদান প্রদান ও ওই ইউএনও’র বিচারের দাবী জানাচ্ছি।
চাঁদখানা ইউপি চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান যাদু জানান, আব্দুল হালিম নামে একজন শারীরিক ফিটনেস ও মৌখিক পরীক্ষায় চূড়ান্তভাবে মনোনিত হয়েছেন। তিনি নিয়োগপত্রের আশায় ছিলেন এতকুটুই আমার জানা আছে। কাউকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে কিনা আমার জানা নেই। কেউ যোগদান করতেও আসেনি।
এ ব্যাপারে বদলীকৃত উপজেলা নির্বাহী অফিসার তানজিমা আঞ্জুম সোহানিয়ার ফোনে একাধিকবার ফোন দেয়া হলে ফোন রিসিভ করেননি। ফলে তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।
পৃথক ঘটনায় বগুড়ার শিবগঞ্জে দুইদিনে দুই নারী হত্যার ঘটনা ঘটেছে। মাত্র সাড়ে ১২ ঘণ্টার ব্যবধানে এ দুই হত্যার ঘটনা ঘটে।
রবিবার (৫ এপ্রিল) সকালে বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার মোকামতলা ইউনিয়নের জাবারীপুর গ্রামে পারিবারিক বিরোধকে কেন্দ্র করে মারামারির সময় ননদের ধাক্কায় ভাবী মোমেনা বেগম (৬৮) এর মৃত্যুর হয়। নিহত মোমেনা বেগম ওই এলাকার বাবু সরকারের স্ত্রী।
জানা যায়, একই এলাকার মোমেনা বেগমের পরিবারের সঙ্গে ননদ জোলেখা ও তার স্বামী বেলাল হোসেনের পরিবারের দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে তাদের মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া-বিবাদ লেগেই থাকত। রবিবার সকাল সাড়ে আটটার দিকে ওই বিরোধের জেরে দুই পক্ষের মধ্যে মারামারি শুরু হয়। এ সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এগিয়ে আসেন মোমেনা বেগম। প্রতিপক্ষ বেলাল হোসেন ও তার স্ত্রী জোলেখার আঘাতে মোমেনা বেগম গুরুতর আহত হন। পরে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
এর আগে শনিবার (৪ এপ্রিল) সন্ধ্যায় শিবগঞ্জ উপজেলার ময়দানহাটা ইউনিয়নে মহব্বত নন্দীপুর এলাকায় নিজ বাড়িতে খুন হন শাহানাজ বেগম (৭০)। তিনি বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাবেক প্রিন্সিপাল অফিসার এবং মৃত আবদুল খালেকের স্ত্রী।
নিহতের ভাতিজা সুজন জানান, শনিবার সন্ধ্যায় দুর্বৃত্তরা শাহানাজ বেগমের বাড়িতে প্রবেশ করে তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে পালিয়ে যায়। ঘটনার সময় তারা স্থানীয় দাড়িদহ বাজারে ছিলেন। বাড়িতে লোক ঢোকার খবর পেয়ে দ্রুত সেখানে গিয়ে দেখেন শাহানাজ বেগম রক্তাক্ত অবস্থায় বিছানায় পড়ে আছেন। পরে তাকে উদ্ধার করে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
শিবগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শাহীনুজ্জামান জানান, দুটি হত্যাকাণ্ডের খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। শাহানাজ বেগম হত্যাকাণ্ডের কারণ উদঘাটন ও জড়িতদের শনাক্ত করতে তদন্ত চলছে। অন্যদিকে জাবারীপুরে মোমেনা বেগমের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। দুটি ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
নির্বাচন কমিশনার বিগ্রেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবু ফজল মোঃ সানাউল্লাহ বলেছেন, নির্বাচন কমিশন যে কোনো ধরনের অনিয়মের ক্ষেত্রে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করবে। ভোটের দিন কিংবা তার আগে বা পরে যে কোনো পর্যায়ে অনিয়মের অভিযোগ এলে তা যাচাই করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার মতো কোনো ঘটনা আমরা দেখতে চাই না। দায়িত্বপ্রাপ্ত কেউ অবহেলা করলে তাকে ছাড় দেওয়া হবে না।
রবিবার (৫ মার্চ) সকাল ১০টায় বগুড়া-৬ সদর আসনে উপনির্বাচন উপলক্ষে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, ভিজিল্যান্স ও অবজারভেশন টিম এবং সংশ্লিষ্ট সেলের সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি আরও বলেন, ভোট কারচুপি বা কোনো ধরনের অনিয়ম করার চিন্তাও যেন কেউ না করে। এমন কোনো চেষ্টা হলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অনেক ক্ষেত্রে প্রিজাইডিং কর্মকর্তাদের অসতর্কতা বা সিদ্ধান্তহীনতার কারণে ভোটের গ্রহণযোগ্যতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। একটি ছোট ভুল পুরো নির্বাচনকে বিতর্কে ফেলে দিতে পারে। এজন্য দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের আরও সতর্ক থাকতে হবে।
নির্বাচন কমিশনার আবু ফজল মোঃ সানাউল্লাহ বলেন, একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনের জন্য সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। ভোটগ্রহণ থেকে শুরু করে ফলাফল ঘোষণা পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন তিনি।
বগুড়া জেলা প্রশাসক মোঃ তৌফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ। এসময় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর অতিরিক্ত মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মামুনুর রশিদ, রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার আ ন ম বজলুর রশিদ, রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি মোঃ শাহজাহান, নওগাঁ-১৬ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আরিফুল ইসলাম মাসুম, আনসার বাহিনীর রাজশাহী রেঞ্জের পরিচালক শফিকুল ইসলাম, বগুড়া জেলা পুলিশ সুপার মির্জা সায়েম মাহমুদ, ৪০ বীরের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট তানভীর আহমেদ তমাল, রিটার্নিং কর্মকর্তা ফজলুল করিমসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
খ্রিস্টীয় ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব ‘স্টার সানডে’ উপলক্ষে শেরপুরের ঝিনাইগাতী ও শ্রীবরদী অঞ্চলের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সদস্যদের সাথে শুভেচ্ছা ও সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন ঝিনাইগাতী-শ্রীবরদী আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও ধানের শীষের মনোনীত জননন্দিত নেতা মো. মাহমুদুল হক রুবেল। রোববার (৫ই এপ্রিল ) দিনভর তিনি সীমান্তবর্তী বিভিন্ন গ্রামের গির্জা ও খ্রিষ্টান পরিবারগুলোর সাথে এই আনন্দ ভাগ করে নেন।
সকাল থেকেই উৎসবমুখর পরিবেশে ধানের শীষের এমপি পার্থী জনাব, মাহমুদুল হক রুবেল ও তাঁর একমাত্র কন্যা রুবাইদা হক রিমঝিম মরিয়মনগর এলাকার উপজাতি সম্প্রদায়ের মানুষের সাথে সাক্ষাৎ করেন। এসময় তিনি স্থানীয় সাধারণ মানুষের খোঁজখবর নেন এবং ধর্মীয় সম্প্রীতির বন্ধন দৃঢ় করার আহ্বান জানান। শুভেচ্ছা বিনিময়কালে মরিয়মনগর ধর্মপল্লীর পক্ষ থেকে তাঁদের উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানো হয়। ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সদস্যরা তাঁদের মাঝে প্রিয় নেতাকে পেয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন।
পরবর্তীতে তিনি পর্যায়ক্রমে মরিয়ম নগর,বড় গজনী, ছোট গজনী, বড় গজনী (প্রাইমারি স্কুল গির্জা), ডেফলাই, গান্ধীগাঁও, নকশি, বাঁকাকুড়া ও সন্ধ্যাকুড়া গ্রামের গির্জা সহ ১৯টি গির্জা পরিদর্শন করেন এবং এসব এলাকায় বসবাসরত খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের সাথে ‘স্টার সানডে’র কেক কাটেন এবং ব্যক্তিগত পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা উপহার বিনিময় করেন। মাহমুদুল হক রুবেল "দৈনিক বাংলাকে"বলেন, “বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। প্রতিটি উৎসবে আমরা একে অপরের পরিপূরক। এই অঞ্চলের পিছিয়ে পড়া ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর প্রতিটি মানুষের সুখে-দুঃখে আমি অতীতেও ছিলাম, ভবিষ্যতেও থাকব।”
এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের দলীয় নেতৃবৃন্দসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। শুভেচ্ছা বিনিময়কালে নেতৃবৃন্দ উল্লেখ করেন যে, এই অঞ্চলের পাহাড়ি জনপদে পাহাড়ি-বাঙালি যে দীর্ঘদিনের ভ্রাতৃত্বের সম্পর্ক রয়েছে, মাহমুদুল হক রুবেলের এই ঝটিকা সফর তা আরও মজবুত করবে। দিনশেষে বিকেলে তিনি গজনী অঞ্চলের বিভিন্ন গির্জায় প্রার্থনা সভায় অংশগ্রহণকারী খ্রিস্টান নেতৃবৃন্দের সাথে সংক্ষিপ্ত মতবিনিময় শেষে সফর সমাপ্ত করেন। সংবাদটি এলাকায় বেশ চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে এবং সাধারণ মানুষের মাঝে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।
ফুয়েল কার্ডের জন্য পঞ্চগড় বিআরটিএ ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে বাইকারদের সকাল থেকে উপচে পড়া ভীড় চোখে পরার মত।
পঞ্চগড় জেলা প্রশাসক হল রুমে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বর্তমান সময় বিবেচনা করে তেল সংকট নিরসন করতে যাদের গাড়ির বৈধ্যরেজিস্ট্রেশন, ড্রাইভিং লাইসেন্স নম্বর ও টেক্স টোকেন রয়েছে তাদের মাঝে ফুয়েল কার্ড বিতরণ করা হবে ৫টি উপজেলায়।
পঞ্চগড় সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা ফাহমিদা সুলতানা জানান, জেলা প্রশাসক মোসাঃ শুকরিয়া পারভীন স্যারের নির্দেশনায় ফুয়েল কার্ড বিতরণ করা হচ্ছে বাইকারদের মধ্যে, যাদের গাড়ির বৈধ্য রেজিস্ট্রেশন, ড্রাইভিং লাইসেন্স নম্বর ও ট্যাক্স টোকেন রয়েছে যাচাই করে তাদেরকে দেওয়া হচ্ছে, তিনি আরও জানান ক্রাইসিস বৈশ্বিক এবং পাবলিক আতংকিত হয়ে ক্রাইসিস তৈরি করছে।
সহকারী পরিচালক বিআরটিএ, পঞ্চগড় সার্কেল, পঞ্চগড় তন্ময় কুমার ধর এর সাথে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টার করার পরও উনাকে ফোনে পাওয়া যায় নি।
নবিজতুল্লাহ নবিজ বাইকার তিনি জানান যে, বিআরটিএ তে ফুয়েল কার্ডের জন্য গত ২ এপ্রিল সকালে এসে ফাইল জমা দেই কিন্তু উপচে পড়া ভীড়ের জন্য বিকালে এসে ফুয়েল কার্ড নিতে হয়।
পঞ্চগড় ফিলিং স্টেশন ও করতোয়া ফিলিং স্টেশন এর কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বললে উনারা জানান যে, পঞ্চগড় জেলা প্রশাসকের নির্দেশনায় ফুয়েল কার্ড ছাড়া তেল দেওয়া হচ্ছে না।