কক্সবাজারের চকরিয়ায় ডুলহাজারা স্টেশনে কক্সবাজার-চট্টগ্রাম রেলপথে ঈদ স্পেশাল ট্রেনের তিনটি কোচ লাইনচ্যুত হয়েছে। বুধবার সকাল পৌনে ১০টার দিকে ঘটনাটি ঘটে। এ সময় ট্রেনটি আটকা পড়ে তবে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
বিষয়টি নিশ্চিত করে কক্সবাজারের চকরিয়া রেলস্টেশনের ইনচার্জ মো. ফরহাদ দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘ট্রেনটির কয়েকটি বগি কেবল লাইন থেকে সরে গেছে। ট্রেনে আসনের বিপরীতে ৫০০ যাত্রীর পাশাপাশি দাঁড়িয়ে থাকা আরও ৮০ জন যাত্রী ছিলেন। তারা সবাই নিজ ব্যবস্থাপনায় গন্তব্য রওনা হয়েছেন।’
ডুলাহাজারা স্টেশনের ইনচার্জ আবদুল মান্নান বলেন, ‘ঈদ স্পেশাল-৯ ট্রেনটি সকাল ৭ টায় চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজারের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। পৌনে ১০টার দিকে ডুলাহাজারা স্টেশনে ঢোকার সময় ট্রেনটির ইঞ্জিনসহ তিনটি কোচ লাইনচ্যুত হয়। তবে এতে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।’
তিনি আরও বলেন, ‘লাইনচ্যুত কোচগুলো লাইনে তুলতে সময় লাগবে। তবে বিকল্প থাকায় কক্সবাজার-চট্টগ্রাম রেলপথে রেল যোগাযোগ বন্ধ থাকবে না।’
২০ দেশের পর্যটন সংস্থা ও প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে রাজধানীতে শুরু হয়েছে বাংলাদেশ ট্রাভেল অ্যান্ড ট্যুরিজম ফেয়ার (বিটিটিএফ) ২০২৬। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) ঢাকার আগারগাঁওয়ের একটি সম্মেলন কেন্দ্রে তিন দিনব্যাপী এ মেলার উদ্বোধন করেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. নূরুন্নাহার চৌধুরী।
ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (টোয়াব) আয়োজনে এবারের মেলার প্রতিপাদ্য ‘এআই পাওয়ার্ড ট্যুরিজম, সাসটেইনেবল ডেসটিনেশন’। পর্যটন খাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো, পরিবেশবান্ধব পর্যটন উৎসাহিত করা এবং আন্তর্জাতিক সংযোগ জোরদার করাই এ আয়োজনের মূল লক্ষ্য।
আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, এবারের মেলায় ২০০টির বেশি বুথ ও স্টলে ২২০টির বেশি প্রদর্শক অংশ নিচ্ছেন। পাশাপাশি ২৫০ জনের বেশি সম্ভাব্য ক্রেতা ও ২ হাজার ৫০০-এর বেশি ট্রেড ভিজিটরের অংশগ্রহণের প্রত্যাশা রয়েছে। মেলায় ৬০ হাজারের বেশি দর্শনার্থীর সমাগম হবে বলে আশা করছেন আয়োজকরা।
এবারের আয়োজনে অংশ নিচ্ছে- নেপাল, ভারত, সিঙ্গাপুর, মালদ্বীপ, ফিলিপাইন, তুরস্ক, সংযুক্ত আরব আমিরাত, চীন, শ্রীলঙ্কা, পাকিস্তান, থাইল্যান্ড, ব্রুনাই, সৌদি আরব, মালয়েশিয়া ও আজারবাইজানসহ ২০টি দেশের জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যটন সংস্থা এবং প্রতিনিধিরা। চারটি থিমভিত্তিক প্রদর্শনী হলে বিমান সংস্থা, হোটেল ও ট্যুর অপারেটররা নিজেদের সেবা ও পণ্য তুলে ধরছেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ড. নূরুন্নাহার চৌধুরী বলেন, ‘আধুনিক প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সমন্বয়ে বাংলাদেশের পর্যটন খাত নতুন যুগে প্রবেশ করছে। বিটিটিএফের মতো আয়োজন দেশের পর্যটনকে আন্তর্জাতিক পরিসরে তুলে ধরার পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব পর্যটনের চর্চা বাড়াতে ভূমিকা রাখছে। এ খাতের বিকাশে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।’
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. নাজনীন কাউসার চৌধুরী, বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের চেয়ারম্যান মো. সামীমুজ্জামান, বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ব্যারিস্টার মুতাসিম বিল্লাহ ফারুকী, বাংলাদেশ ট্যুরিস্ট পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি জিএম আজিজুর রহমান, বাংলাদেশে নিযুক্ত ফিলিপাইনের রাষ্ট্রদূত নিনা পি. কেইংলেট, পাকিস্তানের হাইকমিশনার ইমরান হায়দার, নেপালের রাষ্ট্রদূত ঘনশ্যাম ভান্ডারী এবং টোয়াব সভাপতি মোহাম্মদ হানিফ।
টোয়াব সভাপতি মোহাম্মদ হানিফ বলেন, ‘টানা ১৩টি সফল আয়োজনের ধারাবাহিকতায় বিটিটিএফ দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম পর্যটন প্ল্যাটফর্মে পরিণত হয়েছে। এ মেলা দেশীয় পর্যটনকে আন্তর্জাতিক পরিসরে তুলে ধরার পাশাপাশি বিদেশি অংশীজনদের সঙ্গে ব্যবসায়িক সম্পর্ক জোরদার এবং নতুন বাণিজ্যিক সম্ভাবনা তৈরিতে ভূমিকা রাখবে।’
এবারের মেলার টাইটেল স্পনসর ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স। এয়ারলাইন্স পার্টনার বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স এবং প্লাটিনাম হসপিটালিটি পার্টনার ক্রাউন প্লাজা ঢাকা এয়ারপোর্ট।
মেলার আয়োজনে সহযোগিতা করছে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়, সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়, জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন, বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড, বাংলাদেশ ট্যুরিস্ট পুলিশ ও এফবিসিসিআই।
উল্লেখ্য, মেলা আগামী শুক্রবার ও শনিবার প্রতিদিন সকাল ১১টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।
সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা পূরণে নবীন পুলিশ কর্মকর্তাদের সততা, দক্ষতা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি উল্লেখ করেন, সকল প্রকার ভয়-ভীতি ও পক্ষপাতমূলক আচরণ দূরে ঠেলে সমাজের অসহায় ও নিপীড়িত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে আইনি সুরক্ষার মাধ্যমে জনগণের বিশ্বাস অর্জন করতে হবে এবং সত্যিকার অর্থেই ‘জনগণের পুলিশ’ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে হবে। বৃহস্পতিবার সকালে রাজশাহীর সারদায় অবস্থিত বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমিতে ২৭তম শিক্ষানবিশ সার্জেন্ট ও ৪৩তম ক্যাডেট এসআই ব্যাচের মৌলিক প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ নির্দেশনা দেন।
সারদার প্যারেড গ্রাউন্ডে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অভিবাদন গ্রহণ ও সুসজ্জিত প্যারেড পরিদর্শন করেন। এই কুচকাওয়াজে দীর্ঘ ছয় মাসের মৌলিক প্রশিক্ষণ সমাপ্তকারী ২৭তম শিক্ষানবিশ সার্জেন্ট ব্যাচের ৮৪ জন এবং ৪৩তম ক্যাডেট এসআই ব্যাচের ১৬২ জন প্রশিক্ষণার্থী অংশগ্রহণ করেন।
প্রশিক্ষণের বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিশেষ দক্ষতা ও সাফল্যের স্বীকৃতিস্বরূপ নির্বাচিত ক্যাডেটদের হাতে পদক ও স্মারক তুলে দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। এর মধ্যে ২৭তম শিক্ষানবিশ সার্জেন্ট ব্যাচে সামগ্রিকভাবে শ্রেষ্ঠ সার্জেন্ট নির্বাচিত হন ওমর ফারুক, মেধাভিত্তিক মূল্যায়নে বেস্ট অ্যাকাডেমিক হন মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসাইন, মাঠের দক্ষতায় শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেন সাইফুল ইসলাম এবং লক্ষ্যভেদে পারদর্শিতার জন্য বেস্ট শুটার পুরস্কার লাভ করেন মো. আসাদুজ্জামান। অন্যদিকে ৪৩তম ক্যাডেট এসআই ব্যাচে সামগ্রিকভাবে শ্রেষ্ঠ ক্যাডেট হওয়ার গৌরব অর্জন করেন মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম, একাডেমিক শাখায় শীর্ষস্থান পেয়ে বেস্ট অ্যাকাডেমিক হন মো. বোরহানুল ইসলাম, শারীরিক ও মাঠের দক্ষতায় সেরা হন দেওয়ান গোলাম রসুল এবং নিশানাভেদে বেস্ট শুটার পুরস্কার পান মো. কামাল গনি।
ছয় মাসের কঠোর মৌলিক প্রশিক্ষণ সম্পন্নকারী নবীন কর্মকর্তারা এখন মাঠপর্যায়ে সরাসরি দায়িত্ব পালনে যাচ্ছেন। এর মধ্যে শিক্ষানবিশ সার্জেন্টরা ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা ও সংশ্লিষ্ট ইউনিটে যোগ দেবেন এবং ৪৩তম ক্যাডেট এসআইরা দেশের বিভিন্ন জেলায় শিক্ষানবিশ এসআই (নিরস্ত্র) হিসেবে সরাসরি আইনশৃঙ্খলা রক্ষার কাজে নিয়োজিত হবেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির, বিপিএম এবং বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমির অধ্যক্ষ (অতিরিক্ত আইজিপি) মো. মাইনুল হাসান, বিপিএম, পিপিএম, এনডিসি। এ ছাড়া অনুষ্ঠানে সামরিক ও বেসামরিক প্রশাসনের উচ্চপদস্থ ব্যক্তিবর্গ, বিশিষ্ট নাগরিক এবং সদ্য উত্তীর্ণ কর্মকর্তাদের পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
চাঁদপুরের বাবুরহাট এলাকায় সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের অধিগ্রহণ করা জমি এবং ফুটপাত দখল করে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের ঘটনায় দখলদারদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে স্বপ্রণোদিত হয়ে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে আগামী ১২ নভেম্বরের মধ্যে সরেজমিনে তদন্ত করে অবৈধ স্থাপনা ও দখলদারদের পরিচয় উল্লেখ করে প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে। চাঁদপুর জেলার চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. মুজাহিদুর রহমান স্বাক্ষরিত আদেশে জেলা সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীকে এ নির্দেশ দেন। বৃহস্পতিবার এসব তথ্য নিশ্চিত করেন চাঁদপুরের চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের নাজির ফখরুদ্দিন আহমেদ।
আদালতের আদেশে বলা হয়, গত ২৪ আগস্ট চাঁদপুর পৌরসভার বাবুরহাট এলাকায় সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের অধিগ্রহণ করা জমিতে গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছিল। তবে চাঁদপুর-মতলব সড়কের বাবুরহাট বাজারসংলগ্ন পশ্চিম পাশে সড়ক বিভাগের জমি ও জনসাধারণের চলাচলের ফুটপাত দখল করে পুনরায় বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ রয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক এলাকা বাবুরহাটে সড়ক সংকুচিত হয়ে নিয়মিত যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। এতে যানবাহন ও পথচারীদের স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি জনদুর্ভোগ বাড়ছে।সরকারি জমি উচ্ছেদের পর পুনরায় দখল এবং সড়ক-ফুটপাত দখল করে চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ হতে পারে বলেও আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ পরিস্থিতিতে সরকারি জমি দখলমুক্ত রাখা এবং যানবাহন ও পথচারীদের নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন আদালত। আদেশ অনুযায়ী, আগামী ১২ নভেম্বরের মধ্যে সরেজমিনে তদন্ত করে সংশ্লিষ্ট এলাকায় থাকা অবৈধ স্থাপনাগুলো চিহ্নিত করতে হবে। পাশাপাশি দখলদারদের নাম-ঠিকানাসহ বিস্তারিত প্রতিবেদন আদালতে দাখিলের জন্য চাঁদপুর সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীকে নির্দেশ দেওয়া হলো।
ঠাকুরগাঁও-১ সংসদীয় আসনের উপনির্বাচনে ডাব প্রতীকের প্রার্থীর পোলিং এজেন্টরা মূলত বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর পক্ষে কাজ করছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মির্জা ফয়সল আমীন। বৃহস্পতিবার সকাল সোয়া ৯টার দিকে ঠাকুরগাঁও সরকারি মহিলা কলেজ ভোটকেন্দ্র পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি এ দাবি করেন। মির্জা ফয়সল অভিযোগ করে বলেন, ডাব মার্কার এজেন্টরা সবাই জামায়াতের এজেন্ট হয়ে গেছে। জামায়াতের এজেন্টরা ডাব মার্কার কাগজ নিয়ে ঢুকে গেছে।
এর আগে নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বড় ব্যবধানে নিরঙ্কুশ বিজয়ের আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি জানান, উৎসবমুখর ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশেই নির্বাচন সম্পন্ন হবে বলে তিনি বিশ্বাস করেন এবং ভোটারদের মাঝে কোনো শঙ্কা দেখছেন না। প্রশাসন তাদের পর্যালোচনায় কোনো কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ মনে করলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে বলে মন্তব্য করেন তিনি। সকালের দিকে আবহাওয়া কিছুটা বৈরী থাকলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কেন্দ্রগুলোতে সাধারণ ভোটারদের উপস্থিতি আরও বৃদ্ধি পাবে বলে প্রত্যাশা প্রকাশ করেন এই প্রার্থী।
স্থানীয় নির্বাচন কার্যালয়ের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ঠাকুরগাঁও-১ আসনের তিনটি প্রশাসনিক এলাকায় মোট ১৮৫টি ভোটকেন্দ্রে ব্যালটের মাধ্যমে ভোট নেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে সদর উপজেলায় ১১৩টি, নবগঠিত রুহিয়া উপজেলায় ৩৩টি এবং ভুল্লী উপজেলায় ৩৯টি কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে।
আসনটিতে মোট ভোটারের সংখ্যা ৫ লাখ ১৫ হাজার ৮৫৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটারের সংখ্যা ২ লাখ ৫৭ হাজার ২১৯ এবং নারী ভোটার রয়েছেন ২ লাখ ৫৮ হাজার ৬৩০ জন। এ ছাড়া চারজন তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন। পাশাপাশি ডাকযোগে ভোটাধিকার প্রয়োগের জন্য ২৪৯ জন পুরুষ ও ৩৮ জন নারীসহ মোট ২৮৭ জন ভোটার পোস্টাল ব্যালটের নিবন্ধন সম্পন্ন করেছেন।
ঠাকুরগাঁও-১ সংসদীয় আসনের উপনির্বাচনে জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) প্রার্থী মির্জা ফয়সল আমীন। তবে ব্যালটের লড়াইয়ে সাধারণ জনগণের রায়ই চূড়ান্ত বলে উল্লেখ করেছেন তিনি। বৃহস্পতিবার সকালে ঠাকুরগাঁও সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে ভোটাধিকার প্রয়োগ শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি এ অভিমত জানান।
ভোট প্রদানের পর পরিবেশ মূল্যায়ন করতে গিয়ে মির্জা ফয়সল আমীন জানান, সবেমাত্র ভোটগ্রহণ শুরু হওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে সার্বিক পরিবেশ নিয়ে মন্তব্য করা সমীচীন হবে না। তবে এখন পর্যন্ত উৎসবমুখর ও শান্তিপূর্ণ আবহ বিরাজ করছে এবং ভোটাররা কোনো প্রকার বিঘ্ন ছাড়াই কেন্দ্রে আসছেন। আবহাওয়া কিছুটা প্রতিকূল হওয়া সত্ত্বেও বেলা বাড়ার সাথে সাথে ভোটার উপস্থিতি সন্তোষজনক হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। নিজের জয়ের ব্যাপারে দৃঢ় বিশ্বাস তুলে ধরার পাশাপাশি তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে জনগণের দেওয়া সিদ্ধান্তই শেষ কথা এবং সেই রায়কে বরণ করে নেওয়ার মানসিকতা সবার থাকা উচিত।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতির দায়িত্বভার গ্রহণ করার পর আসনটি শূন্য ঘোষণা করায় এ উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সকাল ৮টা থেকে শুরু হওয়া ভোটগ্রহণ বিরতিহীনভাবে বিকেল ৪টা পর্যন্ত চলবে।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, এ আসনের ১৮৫টি ভোটকেন্দ্রের ৯৮৯টি বুথে ভোট নেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলায় ১১৩টি, নবগঠিত রুহিয়া উপজেলায় ৩৩টি এবং ভুল্লী উপজেলায় ৩৯টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এ নির্বাচনে মোট ৫ লাখ ১৬ হাজার ১৩৮ জন ভোটার তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পাচ্ছেন।
আসনটিতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন মোট পাঁচজন প্রার্থী। তাঁদের মধ্যে বিএনপির মির্জা ফয়সল আমীন লড়ছেন ধানের শীষ প্রতীকে, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মো. দেলাওয়ার হোসেন লড়ছেন দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হাফেজ ডা. মো. খাদেমুল ইসলাম হাতপাখা প্রতীকে, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মো. আবদুল আলীম নিজামী বটগাছ প্রতীকে এবং বাংলাদেশ কংগ্রেসের হুসাইন মুহাম্মদ ওমর ফারুক ডাব প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
কিশোর গ্যাংয়ের সহিংসতা, চাঁদাবাজি, ছিনতাই ও মাদকসংক্রান্ত অপরাধ রুখে দিতে দেশজুড়ে সমন্বিত অভিযানের ছক কষছে পুলিশ। শুধু গ্যাংয়ের সদস্য নয়, তাদের সংগঠক, অর্থের জোগানদাতা এবং অপরাধে সহায়তাকারীদেরও শনাক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ জন্য পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটকে সক্রিয় গ্যাং, সদস্য ও পৃষ্ঠপোষকদের তালিকা তৈরি এবং হালনাগাদ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অপরাধপ্রবণ এলাকাগুলো চিহ্নিত করে পরবর্তী সময়ে সমন্বিত অভিযান পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে।
পুলিশের এই উদ্যোগের মধ্যে দেশের বিভিন্ন জেলায় ইতোমধ্যে কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযান জোরদার হয়েছে। অক্টোবরের প্রথমার্ধে কুমিল্লা, নোয়াখালী ও লক্ষ্মীপুরে একাধিক অভিযানে বিপুলসংখ্যক মানুষকে আটক করা হয়েছে। এসব অভিযানে সন্দেহভাজনদের পাশাপাশি গ্যাংয়ের কথিত নেতাদেরও শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।
তালিকায় থাকবে গ্যাংয়ের নেতা ও পৃষ্ঠপোষকেরা: পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) মো. সায়েদুর রহমান জানিয়েছেন, সক্রিয় কিশোর গ্যাং এবং তাদের সংগঠক ও পৃষ্ঠপোষকদের তথ্য সংগ্রহে পুলিশের সব ইউনিটকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তালিকা পাওয়ার পর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে অপরাধপ্রবণ এলাকাগুলোতে অভিযান পরিচালনার বিস্তারিত কর্মপরিকল্পনা তৈরি করা হবে।
তিনি বলেন, যাদের বিরুদ্ধে অপরাধের কোনো রেকর্ড নেই, তাদের শুধু সন্দেহের ভিত্তিতে তালিকাভুক্ত করার পরিকল্পনা নেই। জননিরাপত্তার জন্য হুমকি সৃষ্টি করছে এবং আইন ভাঙছে, এমন ব্যক্তিদের কর্মকাণ্ডের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এই উদ্যোগের আওতায় স্পেশাল ব্রাঞ্চ, ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি), স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়নসহ পুলিশের বিভিন্ন ইউনিট কাজ করছে।
স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়নের (এসআরবি) প্রাথমিক যাচাইয়ে ১ হাজার ৩৩৩টি কিশোর গ্যাং, ২১৩ জন দলনেতা বা সংগঠক এবং ২৭ জন পৃষ্ঠপোষকের একটি খসড়া তালিকা তৈরির তথ্য পাওয়া গেছে। পুলিশ সদরদপ্তরে পাঠানোর আগে তালিকাটি বিভাগীয় পর্যায়ে যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
বিভিন্ন জেলায় চলছে ধারাবাহিক অভিযান: কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা নিয়ন্ত্রণে সাম্প্রতিক সময়ে কয়েকটি জেলায় বড় পরিসরে অভিযান চালানো হয়েছে।
কুমিল্লায় ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে জেলা পুলিশের ১৮টি থানা ও গোয়েন্দা পুলিশের সমন্বয়ে বিশেষ অভিযান শুরু হয়। প্রথম পাঁচ দফার অভিযানে ২ হাজারের বেশি মানুষকে আটক করার তথ্য প্রকাশ করে পুলিশ। ২ অক্টোবরের অভিযানে আটক ৩৭০ জনের মধ্যে ২৭৯ জনকে মুচলেকা নিয়ে পরিবারের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়। বাকিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ ও সংশ্লিষ্ট তথ্য যাচাই করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানানো হয়। পরবর্তী অভিযানেও সেখানে শত শত মানুষকে আটক করা হয়েছে। ৯ অক্টোবর এক রাতের অভিযানে আরও ২৫২ জনকে আটক করার তথ্য প্রকাশিত হয়।
নোয়াখালীতে ১২ অক্টোবর সকাল পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টার অভিযানে জেলার নয়টি থানা এলাকা থেকে ১৪৫ জনকে আটক করে পুলিশ। একই সময়ে লক্ষ্মীপুরের ছয় থানায় তিন দিনের ধারাবাহিক অভিযানে মোট ৫৪৭ জনকে আটক করার তথ্য প্রকাশিত হয়। এসব অভিযানে আটকদের পরিচয়, বয়স ও অপরাধে সংশ্লিষ্টতা যাচাই করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট পুলিশ।
তবে এসব অভিযানে আটক হওয়া প্রত্যেক ব্যক্তি কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য বা অপরাধে জড়িত—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই। পুলিশও যাচাই-বাছাইয়ের পর অভিযোগের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেছে।
পরিসংখ্যানে তথ্যের ঘাটতি: কিশোর গ্যাংয়ের প্রকৃত সংখ্যা ও সদস্যদের বিষয়ে পুলিশের তথ্যভাণ্ডারে অসংগতি রয়েছে। বিভিন্ন ইউনিট নিজেদের মতো করে তালিকা তৈরি করায় কোথাও পুরোনো তথ্য রয়ে গেছে, আবার কোথাও পূর্ণাঙ্গ তালিকাই নেই।
পুলিশ সদরদপ্তরের আগের তথ্য অনুযায়ী, সারাদেশে ৩০৭টি কিশোর গ্যাংয়ের তথ্য ছিল। এর মধ্যে চট্টগ্রাম মহানগর এলাকায় ৯৩টি, ঢাকা রেঞ্জে ৭৮টি এবং চট্টগ্রাম রেঞ্জে ৫৪টি গ্যাংয়ের কথা উল্লেখ করা হয়েছিল। ডিএমপির তালিকায় ছিল ৪১টি গ্যাং। খুলনা, রাজশাহী, সিলেট ও বরিশাল মহানগরসহ কয়েকটি অঞ্চলের তথ্যও তালিকায় অন্তর্ভুক্ত ছিল। তবে এসব সংখ্যা ও এসআরবির সাম্প্রতিক খসড়া তালিকার মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। তালিকা তৈরির পদ্ধতি, তথ্য সংগ্রহের সময় এবং গ্যাং শনাক্তের সংজ্ঞা এক না হলে সংখ্যার এই পার্থক্য থেকেই যেতে পারে। ফলে দেশব্যাপী একটি সমন্বিত ও নিয়মিত হালনাগাদ তথ্যভাণ্ডার তৈরি করা পুলিশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
পুলিশ সদর দপ্তরের আগের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম নয় মাসে ৪৮টি গ্যাংয়ের ২৭০ সদস্য ৬৯টি ফৌজদারি মামলার মুখোমুখি হয়েছিল। এর মধ্যে ২১টি মামলা ছিল গ্যাংগুলোর নিজেদের মধ্যে সংঘাতের ঘটনায়। ওই ৪৮টি গ্যাংয়ের তালিকাভুক্ত সদস্যসংখ্যা ছিল ৫৭৭।
আইনের সীমার মধ্যে কঠোর হওয়ার নির্দেশ: কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযান পরিচালনার ক্ষেত্রে আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে পুলিশ। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, সুনির্দিষ্ট অপরাধের অভিযোগ ছাড়া কাউকে আটক বা গ্রেপ্তার করার পর তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া কঠিন। শুধু সন্দেহের ভিত্তিতে কিশোরদের অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করাও সমাধান নয়।
অতিরিক্ত আইজিপি সায়েদুর রহমানের ভাষ্য, কিশোর অপরাধ দমনে কঠোর হওয়া প্রয়োজন, তবে তা নিষ্ঠুরতার পর্যায়ে যাওয়া উচিত নয়। বিশেষ ক্ষমতা আইনে কিশোরদের গ্রেপ্তার করার মতো পদক্ষেপ ভালো চর্চা হবে না বলেও তিনি মন্তব্য করেছেন।
পুলিশের অনুসন্ধানে রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী ব্যক্তি বা অন্য কোনো মহল গ্যাংগুলোকে অর্থ, আশ্রয় কিংবা সুরক্ষা দিচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখার বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে। কারণ, অপরাধে জড়িত প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তিরা নিজেদের স্বার্থে কিশোরদের ব্যবহার করতে পারে। বয়স, পারিবারিক অসহায়ত্ব ও আইনের বিশেষ সুরক্ষার সুযোগ নিয়ে তাদের অপরাধে যুক্ত করার অভিযোগ রয়েছে।
শুধু গ্রেপ্তারে সমাধান নয়: মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিমিনোলজি ও পুলিশ সায়েন্স বিভাগের অধ্যাপক মো. উমর ফারুক মনে করেন, কিশোর গ্যাং দমনে শুধু সদস্যদের আটক করলে দীর্ঘমেয়াদি সমাধান আসবে না। গ্যাং পরিচালনায় অর্থ জোগানদাতা, সংগঠক ও প্রভাবশালী পৃষ্ঠপোষকদেরও আইনের আওতায় আনতে হবে।
তার মতে, গ্যাংয়ের সঙ্গে যুক্ত অনেক কিশোর পারিবারিক তদারকির বাইরে থাকে, কেউ কেউ মাদকাসক্তি বা সামাজিক নানা সংকটে জড়িয়ে পড়ে। তাদের ক্ষেত্রে নিয়মিত নজরদারি, কাউন্সেলিং, পরিবারের সম্পৃক্ততা এবং প্রয়োজনীয় যত্ন নিশ্চিত করা জরুরি।
কিশোর গ্যাংয়ের বিস্তার ঠেকাতে পুলিশের অভিযান ও অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, স্থানীয় সমাজ এবং সামাজিক সংগঠনগুলোকেও ভূমিকা রাখতে হবে। অপরাধে জড়িয়ে পড়া কিশোরদের পুনর্বাসন এবং নতুনদের অপরাধ থেকে দূরে রাখার ব্যবস্থা না থাকলে গ্রেপ্তার ও আটকের পরও একই সমস্যা ফিরে আসতে পারে।
সব মিলিয়ে, কিশোর গ্যাং দমনে পুলিশের নতুন উদ্যোগের কার্যকারিতা নির্ভর করবে হালনাগাদ তথ্যভাণ্ডার, নির্ভুলভাবে অপরাধী শনাক্তকরণ, পৃষ্ঠপোষকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা এবং আইনের যথাযথ প্রয়োগের ওপর। একই সঙ্গে নিরপরাধ কিশোরদের হয়রানি থেকে সুরক্ষা এবং অপরাধ থেকে ফিরে আসার সুযোগ নিশ্চিত করাও এই উদ্যোগের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
যথাযথ কর্তৃপক্ষের প্রাতিষ্ঠানিক ছাড়পত্র ও অনুমোদন ছাড়া কুয়াকাটার মাস্টারপ্ল্যান লঙ্ঘন করে গড়ে তোলার অভিযোগে ‘ইস্তাম্বুল হোটেল অ্যান্ড রিসোর্ট’-এর যাবতীয় নির্মাণকাজ আনুষ্ঠানিকভাবে বন্ধ করে দিয়েছে পটুয়াখালীর স্থানীয় উপজেলা প্রশাসন।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) দুপুরে কুয়াকাটা সৈকত ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্যসচিব ও কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আরিফুজ্জামান এবং কুয়াকাটা পৌরসভার প্রশাসক ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. ইয়াসীন সাদেক সরেজমিনে অভিযান চালিয়ে এ নির্দেশ জারি করেন।
পিরোজপুর-১ আসনের জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মাসুদ সাঈদী আলোচিত এই মেগা রিসোর্ট প্রকল্পটির চেয়ারম্যান হিসেবে রয়েছেন। কাজ বন্ধের পরপরই প্রকল্প এলাকায় সতর্কতামূলক ব্যানার ঝুলিয়ে দেওয়া হয়, যেখানে উল্লেখ করা হয় যে অনুমোদন ব্যতিরেক নির্মাণের কারণে এটি বন্ধ করা হয়েছে এবং নির্দেশ অমান্য করলে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ভূমি প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কলাপাড়া উপজেলার লতাচাপলী মৌজার প্রায় ২১ একর ৬৬ শতক জমিতে চলতি বছর জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর এই বহুতল রিসোর্ট প্রকল্পটির নির্মাণকাজ জোরেশোরে শুরু হয়। ইত্যবসরে প্রকল্পটির প্রায় ছয় একর জমি ঘিরে সুবিশাল সীমানাপ্রাচীর নির্মাণ শেষ হয়েছিল এবং সেখানে একটি আধুনিক মসজিদ ও বিশাল কনভেনশন হলের পরিকাঠামোগত কাজও পুরোদমে চলছিল।
অভিযানের বিষয়ে প্রকল্পটির স্থানীয় প্রতিনিধি মনির মুসুল্লি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি এবং রিসোর্টের চেয়ারম্যান সংসদ সদস্য মাসুদ সাঈদীর সাথে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
কুয়াকাটা পৌরসভার প্রশাসক ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. ইয়াসীন সাদেক জানান, অনুমোদন ছাড়া বহুতল স্থাপনা নির্মাণ দণ্ডনীয় অপরাধ এবং সরকারের গৃহীত কুয়াকাটার মহাপরিকল্পনায় সংশ্লিষ্ট জমিটি মূলত রেলওয়ের ভবিষ্যৎ অবকাঠামোর জন্য নির্ধারিত রয়েছে।
কলাপাড়া ইউএনও মো. আরিফুজ্জামান জানান, ইতিপূর্বেও রিসোর্ট কর্তৃপক্ষকে কাজ বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হলেও তারা তা অমান্য করেছিল। সম্প্রতি বিভাগীয় কমিশনারের স্পষ্ট প্রশাসনিক দিকনির্দেশনার আলোকেই এই আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে তিনি স্পষ্ট জানান যে, আইনের চোখে সবাই সমান এবং কে উদ্যোক্তা তা প্রশাসনের কাছে বিবেচ্য বিষয় নয়।
বগুড়ার নন্দীগ্রাম উপজেলায় মাঠে মাঠে শুরু হয়েছে আমন ধান কাটা-মাড়াইয়ের প্রস্তুতি। কোথাও কোথাও কৃষকরা পাকা ধান ঘরে তুলতে শুরু করেছেন। সবুজ ধানক্ষেতের সোনালি রূপ ধারণের সঙ্গে সঙ্গে কৃষকদের ব্যস্ততাও বেড়েছে। অনুকূল আবহাওয়া ও মাঠের বর্তমান অবস্থা বিবেচনায় এবারও আমন ধানের ভালো ফলনের আশা করছেন কৃষকরা।
উপজেলার বিভিন্ন এলাকার মাঠজুড়ে এখন পাকা ও আধাপাকা আমন ধানের শিষ বাতাসে দোল খাচ্ছে। কৃষকের স্বপ্নজুড়ে এখন সোনালি ধান ঘরে তোলার প্রত্যাশা। ধান কাটা-মাড়াই ও শুকানোর কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা। ফলন ভালো হলে উৎপাদন খরচ মিটিয়ে পরিবারের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি আর্থিকভাবেও লাভবান হওয়ার আশা করছেন কৃষকরা।
গ্রামবাংলার মাঠজুড়ে আমন ধানের এমন দৃশ্য কৃষকের পরিশ্রমের সার্থকতার বার্তা দিচ্ছে। বছরের এই সময়ে কৃষকের প্রধান ব্যস্ততা থাকে ধান কাটা-মাড়াই ও ঘরে তোলাকে ঘিরে। তবে কাঙ্ক্ষিত ফলন নিশ্চিত করতে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত আবহাওয়া অনুকূলে থাকা এবং ফসলের সঠিক পরিচর্যা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
নন্দীগ্রাম উপজেলার রণবাঘা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মিনহাজুর রহমান হাবিব বলেন, ‘গ্রামবাংলার কৃষি ও প্রকৃতি একে অপরের সঙ্গে নিবিড়ভাবে জড়িত। মাঠভরা আমন ধান কৃষকের পরিশ্রমের প্রতিচ্ছবি। সোনালি ধান ঘরে তোলার সময়টি গ্রামীণ জীবনে আনন্দের বার্তা নিয়ে আসে। কৃষকরা ভালো ফলন পেলে তাদের মুখে হাসি ফোটে, সেই সঙ্গে গ্রামীণ অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়ে।’
নন্দীগ্রাম উপজেলার শিমলা বাজারের ধানের আড়তদার মুনিরুজ্জামান বলেন, ‘ধানের জাত ও মানভেদে বাজারদর নির্ধারণ করা হয়। বর্তমানে নতুন আমন ধানের মধ্যে ব্রিধান-৪৯ প্রতি মণ ১ হাজার ২৫০ থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকা, মিনিকেট ১ হাজার ৪৫০ থেকে ১ হাজার ৫৫০ টাকা, সুবললতা ১ হাজার ৫০০ থেকে ১ হাজার ৬০০ টাকা এবং কাটারিভোগ ১ হাজার ৮০০ থেকে ১ হাজার ৯০০ টাকা দরে বেচাকেনা হচ্ছে।’
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা গাজীউল হক বলেন, ‘চলতি খরিপ-২ মৌসুমে নন্দীগ্রাম উপজেলায় ১৯ হাজার ৫৪০ হেক্টর জমিতে আমন ধানের চাষ হয়েছে। মাঠপর্যায়ে ধানের অবস্থা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। রোগবালাই ও পোকামাকড়ের আক্রমণ থেকে ফসল রক্ষা এবং উৎপাদন বাড়াতে কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘ধান পরিপক্ব হলে আবহাওয়ার পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত কাটা-মাড়াইয়ের ব্যবস্থা করতে হবে। এবারও এ উপজেলায় আমন ধানের আশাব্যঞ্জক ফলন হবে বলে আমরা আশা করছি। ধানের ফলন ভালো হলে কৃষকরা লাভবান হবেন।’
মাদারীপুর ২৫০ শয্যার সদর হাসপাতালে এক শ্রমিকের লাশ ৯ ঘন্টা আটকে রাখার অভিযোগে হাসপাতাল প্রাঙ্গণে বিক্ষোভের ঘটনা ঘটে। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) রাতে আরএমও ডা. অখিল সরকার এর বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ করেছে নিহতের স্বজনেরা। নিহত মোঃ সাইম শহরের আমিরাবাদ এলাকার শামসু মোল্লার ছেলে এবং পেশায় সে একজন শ্রমিক।
পুলিশ, নিহতের স্বজন, প্রত্যক্ষদর্শী ও হাসোতাল সূত্রে জানা গেছে, মাদারীপুর শহরের আমিরাবাদ এলাকার সাইফুল ইসলামের নির্মাণাধীন ভবনের ২য় তলায় থাই গ্লাসের কাজ করার সময় বিল্ডিংয়ের গা ঘেঁষে থাকা বিদ্যুৎ এর খুটির সাথে বিদ্যুৎ স্পৃষ্ট হয়ে মোঃ সাইম গুরুতর আহত হয়ে পড়লে স্হানীয়রা তাকে উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে লাশ মর্গে নিয়ে রাখা হয়।
লাশের ময়নাতদন্ত না করার জন্য জেলা প্রশাসকের কাছ থেকে নিহতের স্বজনেরা অনুমতি নিয়ে হাসপাতাল এসে লাশ আনতে গেলে বিপত্তির সৃষ্টির হয়। এ সময় হাসপাতালের জরুরী বিভাগ থেকে লাশ সনাক্তকরণের কাগজ দিচ্ছিলেন না হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
উক্ত ঘটনায় হাসপাতালের সামনে জড়ো হয়ে আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. অখিল সরকারের পদত্যাগ, বিচার ও গ্রেফতারের দাবিতে বিক্ষোভ করেন মৃতের স্বজনরা। পরবর্তীতে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাকিয়া সুলতানা ও সদর থানার ওসি আবুল কালাম আজাদ হাসপাতালে এসে নিহতের স্বজনের সাথে কথা বলে লাশ তাদের কাছে তুলে দেন।
মাদারীপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জাকিয়া সুলতানা বলেন, 'লাশ হাসপাতালে আটক রাখার খবর শুনে আমি এখানে এসেছি, ডিসি স্যার ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সাথে আমার কথা হয়েছে এবং এই ঘটনায় একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে খুব দ্রুত আইনগত ব্যবস্হা গ্রহণ করা হবে'।
বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর কারিগরি ও কর্মমুখী প্রশিক্ষণ সক্ষমতা সরেজমিনে প্রত্যক্ষ, নবনির্মিত ‘প্রান্তিক শক্তি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র’, (PSTC) ,'প্রান্তিক ট্রাভেলস','আনসার ব্যাংকের বিদেশ গমন ঋণ ও শেয়ার' ডিজিটাল ফেসিয়াল অ্যাটেনডেন্স সিস্টেম উদ্বোধন এবং বাহিনীর সহযোগী প্রতিষ্ঠান ‘প্রান্তিক শক্তি লিমিটেড’-কে আনুষ্ঠানিকভাবে রিক্রুটিং লাইসেন্স হস্তান্তর করেছেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী জনাব আরিফুল হক চৌধুরী, এমপি।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) গাজীপুরের সফিপুরে অবস্থিত বাংলাদেশ আনসার ও ভিডিপি একাডেমিতে আয়োজিত এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে তিনি এ লাইসেন্স হস্তান্তর করেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ।
সকাল ১০টায় মন্ত্রী একাডেমিতে পৌঁছালে তাঁকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানো হয়। এরপর প্রশাসনিক ভবনের সম্মেলন কক্ষে সংক্ষিপ্ত ব্রিফিং শেষে নবনির্মিত প্রান্তিক শক্তি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (PSTC) এর শুভ উদ্বোধন করেন।
উদ্বোধন শেষে মন্ত্রী (PSTC)- এর ৬জি ওয়েল্ডিং কর্মশালা, আধুনিক ড্রাইভিং সিমুলেটর প্রদর্শনী, গ্রিন এনার্জি (সৌরবিদ্যুৎ) প্রশিক্ষণ এবং ভ্রাম্যমাণ আইসিটি প্রশিক্ষণ বাস ঘুরে দেখেন। এরপর তিনি কুটির শিল্প প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, জাপানি ভাষা প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ও ল্যাঙ্গুয়েজ ল্যাব, আতিথেয়তা ও রন্ধনশিল্প (হসপিটালিটি অ্যান্ড কালিনারি) প্রশিক্ষণ কেন্দ্রসহ নির্মাণ ও অন্যান্য কারিগরি প্রশিক্ষণ শেড পরিদর্শন করেন। প্রশিক্ষণ ব্যবস্থার আধুনিক সুযোগ-সুবিধা ও আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণ পদ্ধতি দেখে তিনি ভূয়সী প্রশংসা করেন। পরিদর্শন শেষে তিনি একাডেমি প্রাঙ্গণে দরবার হলের নিকট একটি স্মারক বৃক্ষরোপণ করেন।
পরবর্তীতে দুপুর সাড়ে ১২টায় একাডেমির অডিটোরিয়ামে আয়োজিত মূল অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে ক্লিকের মাধ্যমে যুগান্তকারী সেবা ‘প্রান্তিক ট্রাভেলস’ এবং স্মার্ট ‘ফেসিয়াল অ্যাটেনডেন্স সিস্টেম’ (Facial Attendance System)-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। এ সময় ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে, আভি ওয়েলফেয়ার ট্রাষ্টের সমঝোতা চুক্তির অংশীদার তিনটি জাপানি কোম্পানির কর্নধারগণ বাহিনীর সদস্যদের দক্ষতা ও দ্বিপাক্ষিক সম্ভাবনার অংশীদারত্ব নিয়ে তাঁদের সন্তোষজনক মতামত তুলে ধরেন।
স্বাগত বক্তব্যে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ বলেন, “বাহিনীর ৬০ লাখ সদস্যের জীবনমান উন্নয়নে বৈদেশিক কর্মসংস্থানকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। সরকারের ১৮০ দিনের কর্মসূচির আওতায় প্রশিক্ষণ সক্ষমতা আধুনিকীকরণ করা হয়েছে। জাপানের শীর্ষ প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে এবং প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট প্রায় দুই লাখ কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে আনসার-ভিডিপির প্রশিক্ষিত জনবল প্রস্তুত রয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে আস্থা অর্জনে দক্ষতা ও কমপ্লায়েন্স নিশ্চিত করা জরুরি। এ লক্ষ্যে বিএমইটির ১০৪টি টিটিসি ও আনসার-ভিডিপির তৃণমূল নেটওয়ার্ক সমন্বিতভাবে কাজ করতে পারে। নব উদ্বোধিত ডিজিটাল ডেটাবেজ বিএমইটির সঙ্গে যুক্ত হয়ে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করবে। পাশাপাশি নিজস্ব সিআরএম (CRM) প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে বিদেশে কর্মরত সদস্যদের সার্বক্ষণিক সেবা ও নিরাপত্তা সহায়তা দেওয়া হবে।”
মন্ত্রী প্রধান অতিথির বক্তব্যে বলেন,মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বিদেশে দক্ষ শ্রমিক পাঠানোর যে বৃহৎ পরিকল্পনা তা বাস্তবায়নে আনসার ভিডিপির এই প্রশিক্ষণ প্রকল্পগুলো গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হতে যাচ্ছে। আজকের রিক্রুটিং লাইসেন্স পাওয়ার মধ্য দিয়ে আনসারের ভিডিপি তাদের কার্যক্রমকে আরো প্রাতিষ্ঠানিক, গতিশীল ও কার্যকর করে তুলতে পারবে বলে আমার দৃঢ় বিশ্বাস।
তিনি উল্লেখ করেন, আনসার ও ভিডিপি'র প্রশিক্ষণ প্রকল্পগুলো টিটিসির সাথে সমন্বিতভাবে পরিচালনার উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।আনসার -ভিডিপির এই প্রশিক্ষণ উদ্যোগের মাধ্যমে আমরা প্রমাণ করতে সক্ষম হব যে বিদেশে কর্মরত আমাদের সকল শ্রমিক দক্ষ। এক্ষেত্রে আমাদের বৈধ যে প্রক্রিয়াগুলো আছে তা কঠোরভাবে অনুসরণ করতে হবে।
‘প্রান্তিক শক্তি লিমিটেড’-কে সরকারি রিক্রুটিং লাইসেন্স প্রদান ও আধুনিক ‘প্রান্তিক শক্তি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র’ (PSTC) উদ্বোধনের মাধ্যমে আনসার-ভিডিপির সদস্যদের জন্য বৈধ ও নিরাপদ বৈদেশিক কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হলো। আন্তর্জাতিক চাহিদা অনুযায়ী কারিগরি, প্রযুক্তিগত ও ভাষাগত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে প্রান্তিক পর্যায়ে দক্ষ জনশক্তি তৈরি, দালালচক্রের শোষণ রোধ এবং বিশ্ব শ্রমবাজারে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি সমুন্নত রাখতে এ উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
একই সাথে আনসার-ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংকের সহজ শর্তের ‘প্রবাসী লোন’ এবং ‘প্রান্তিক ট্রাভেলস’ ও ফেসিয়াল অ্যাটেনডেন্সের মতো আধুনিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের সংযোজন বিদেশগমনের ব্যয়ভার ও প্রক্রিয়াকে সাধারণের জন্য সহজ ও ঝুঁকিমুক্ত করবে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথিকে বাহিনীর পক্ষ থেকে বিশেষ সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়। পরে আমন্ত্রিত অতিথিদের সম্মানে একাডেমি অডিটোরিয়ামে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশনা ও মধ্যাহ্নভোজের মাধ্যমে এ আয়োজনের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটে।
এই অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন গাজীপুর -১ সংসদ সদস্য মো মুজিবুর রহমান, সচিব প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রনালয়, বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর অতিরিক্ত মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মামুনূর রশিদ, আনসার ভিডিপি একাডেমির কমান্ড্যান্ট ও অতিরিক্ত মহাপরিচালক মোঃ সাইফুল্লাহ রাসেল এবং আমন্ত্রিত অতিথিবর্গ।
জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ‘১৬১১১’-এ তাৎক্ষণিক কল পেয়ে মাঝনদীতে যাত্রীবাহী লঞ্চে থাকা এক গুরুতর অসুস্থ যাত্রীকে জীবন রক্ষাকারী চিকিৎসা সহায়তা দিয়েছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড। কোস্ট গার্ড স্টেশন পাগলার একটি বিশেষ মেডিকেল টিম দ্রুত সাড়া দিয়ে এই মানবিক অপারেশনটি সফল করে।
বুধবার (২৮ অক্টোবর ২০২৬) বিকেলে কোস্ট গার্ড মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করেন।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত ২৭ অক্টোবর উন্নত চিকিৎসার উদ্দেশ্যে ভোলা থেকে ঢাকাগামী “এমভি ফারহান-০৯” নামক লঞ্চে রওনা দিয়েছিলেন এক ব্যক্তি। লঞ্চটি গত রাতে মুন্সিগঞ্জের মুক্তারপুর ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় পৌঁছালে রোগীর শারীরিক অবস্থার হঠাৎ মারাত্মক অবনতি ঘটে। এসময় লঞ্চে থাকা অন্য এক যাত্রী তাৎক্ষণিকভাবে কোস্ট গার্ডের জরুরি সেবা নম্বর ‘১৬১১১’-এ কল করে জরুরি সহায়তা কামনা করেন।
খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই কোস্ট গার্ড স্টেশন পাগলা থেকে একটি মেডিকেল টিম দ্রুত স্পিডবোট নিয়ে মাঝনদীতে চলমান লঞ্চে গিয়ে পৌঁছায়। সেখানে তারা অসুস্থ যাত্রীকে প্রাথমিক চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় জরুরি সহায়তা প্রদান করেন।
প্রাথমিক অবস্থার উন্নতির পর রোগীর উন্নত চিকিৎসার স্বার্থে তাকে কোস্ট গার্ডের নিজস্ব বোটযোগে দ্রুত সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে নিয়ে আসা হয়। পরবর্তীতে কোস্ট গার্ডের নিজস্ব তত্ত্বাবধানে ও ব্যবস্থাপনায় একটি বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্সযোগে রোগীকে আগারগাঁওয়ের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস ও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
কোস্ট গার্ড মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন বলেন, “দেশের মানুষের যেকোনো বিপদে ও জনসেবায় বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড সর্বদা নিয়োজিত আছে এবং ভবিষ্যতেও আমাদের এই মানবিক কার্যক্রম ও ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকবে।”
পটুয়াখালীর গলাচিপায় ‘মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান-২০২৬’ বাস্তবায়নে পরিচালিত মোবাইল কোর্টের অভিযানে নদী থেকে অবৈধভাবে আহরণ করা প্রায় ২৫ কেজি ইলিশসহ অন্যান্য মাছ জব্দ করা হয়। পরে জব্দ করা মাছ তিনটি মাদ্রাসা ও এতিমখানায় বিতরণ করা হয়। তবে বিতরণ করা মাছের একটি অংশ নির্ধারিত প্রতিষ্ঠানে না নিয়ে বাড়িতে নেওয়ার অভিযোগে দু’জনকে মোট ৮০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
জানা যায়, রতনদী-তালতলী ইউনিয়নের বন্যাতলী খেয়াঘাট-সংলগ্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে এসব মাছ জব্দ করা হয়। এ সময় সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা ভিক্টর বাইন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একটি দল উপস্থিত ছিল। পরে জব্দ করা মাছ স্থানীয় তিনটি মাদ্রাসা ও এতিমখানায় বিতরণ করা হয়।
পরবর্তীতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযোগ পাওয়া যায়, মাছ গ্রহণকারী কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা বিতরণ করা মাছ নির্ধারিত প্রতিষ্ঠানে না নিয়ে নিজেদের বাড়িতে নিয়ে গেছেন। বিষয়টি জানার পর রাত ৯টার দিকে সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা ভিক্টর বাইনের নেতৃত্বে সংশ্লিষ্ট মাদ্রাসা ও এতিমখানাগুলোতে অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযানকালে মোহাম্মদ ইসলামিয়া হাফিজিয়া মাদ্রাসায় গিয়ে প্রতিষ্ঠানটি তালাবদ্ধ অবস্থায় পাওয়া যায়। পরে মাদ্রাসার শিক্ষক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহকে ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এ সময় জানা যায়, মাদ্রাসাটি আবাসিক নয় এবং তিনি বিতরণ করা মাছ নিজের বাড়িতে নিয়ে গেছেন। মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ (২৭) জানান, তিনি ও আবুল হোসেন (৫৫) মাছ ভাগাভাগি করে নিয়েছেন।
তবে অন্য দুটি মাদ্রাসায় বিতরণ করা মাছ যথাযথভাবে পৌঁছেছে বলে সরেজমিন পর্যবেক্ষণে প্রতীয়মান হয়।
অভিযানে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার পর মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ ও আবুল হোসেনকে প্রত্যেককে ৪০ হাজার টাকা করে মোট ৮০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান চলাকালে জব্দ করা মাছের যথাযথ বণ্টন নিশ্চিত করতে প্রশাসনের এ ধরনের তদারকি অব্যাহত রয়েছে।
দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৯৮২ জন।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গু বিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় সবচেয়ে বেশি ৮১৬ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ঢাকা বিভাগে। এ সময়ে এ বিভাগে ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। চট্টগ্রাম বিভাগে ৩১৩ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। মারা গেছেন একজন। খুলনা বিভাগে ২১৪ জন ভর্তি হয়েছেন, মৃত্যু হয়েছে একজনের। রাজশাহী বিভাগে ২১৭ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এ বিভাগেও একজনের মৃত্যু হয়েছে।
এ ছাড়া বরিশাল বিভাগে ১৯৪ জন, রংপুর বিভাগে ১১৬ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ৮৪ জন ও সিলেট বিভাগে ২৮ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
এ নিয়ে চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ২৮ অক্টোবর পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ লাখ ৩০ হাজার ২১৯ জন। তাদের মধ্যে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ১ লাখ ২৩ হাজার ৬০৫ জন। বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন ৬ হাজার ২০৫ জন।