সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
৪ ফাল্গুন ১৪৩২

যেভাবে সংসদ নির্বাচন করেছি, উপজেলায় সেভাবে ভোট হবে: ইসি আনিছুর

ছবি: দৈনিক বাংলা
চট্টগ্রাম ব্যুরো
প্রকাশিত
চট্টগ্রাম ব্যুরো
প্রকাশিত : ২৪ এপ্রিল, ২০২৪ ২২:২৩

প্রতীকী ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রাম ব্যুরো

নির্বাচন কমিশনার (ইসি) মো. আনিছুর রহমান বলেছেন, জাতীয় নির্বাচনের মতো এবারের ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে কোনো অনিয়ম হলে কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে কুণ্ঠাবোধ করা হবে না। যেভাবে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন করেছি, সেভাবে এ নির্বাচন হবে। কোনোভাবে জাতীয় নির্বাচনের চেয়ে নিচে নামার সুযোগ নেই।
আজ বুধবার চট্টগ্রাম নগরীর পিটিআই মিলনায়তনে ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচন ২০২৪ উপলক্ষে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার জেলা এবং রাঙামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার রিটার্নিং অফিসার, সহকারী রিটার্নিং অফিসার, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য ও নির্বাচন সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সি আনিছুর বলেন, আসন্ন উপজেলা নির্বাচনে চট্টগ্রাম বিভাগের ৯টি জেলার প্রতিটি উপজেলায় ইভিএমের মাধ্যমে এবং বাকি জেলাগুলোর উপজেলা পরিষদে ব্যালট পেপারের মাধ্যমে নির্বাচন সম্পন্ন হবে। এ নির্বাচনে কোনো ধরনের অনিয়ম গ্রহণযোগ্য হবে না। কোনো কেন্দ্রে যদি ভোট কারচুপি বা অনিয়ম হয় তবে সে কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রিজাইডিং অফিসার সঙ্গে সঙ্গে ভোট বন্ধ করে দিতে পারবেন। নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা আইনের পক্ষে থেকে যেকোনো ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারবেন। নিরাপত্তা নিশ্চিতে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী সর্বদা আপনাদের পাশে থাকবে।

তিনি বলেন, গত নির্বাচন একই দিনে সম্পন্ন হলেও এবারের নির্বাচনে ব্যবস্থাপনার সুবিধা ও কৃচ্ছ্রতাসাধনে চারটি ভাগে নির্বাচন শেষ করার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ৮ মে ১৫০টি উপজেলায় প্রথম পর্যায়ে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। বাকি উপজেলাগুলোতে ২১ মে, ২৯ মে ও ৫ জুন ভোট গ্রহণ করা হবে। তবে বান্দরবান জেলার তিনটি উপজেলায় নির্বাচন স্থগিত রাখা হয়েছে। দুর্গম, পাহাড়ি ও দ্বীপ এলাকাগুলোতে স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতায় ভোটের আগের দিন নির্বাচনী সরঞ্জাম পৌঁছে দেওয়া হবে এবং বাকি উপজেলাগুলোতে ভোটের দিন সকাল ৮টার আগে ব্যালট পেপার পৌঁছে দেওয়া হবে এবং বিকাল ৪টায় ভোট গ্রহণ শেষ হবে।

ইসি বলেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মতো এ নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী থাকছে না এবং দলীয় প্রতীক দেওয়া হচ্ছে না। কাজেই নির্বাচন প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হবে। আশা করছি ভোটারের সংখ্যাও বাড়বে।

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-১৬ (বাঁশখালী) আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমানের প্রার্থিতা শেষ মুহূর্তে বাতিলের বিষয়টি উল্লেখ করে নির্বাচন কমিশনার বলেন, চট্টগ্রামে ভোট গ্রহণ শেষ হওয়ার ১৫ মিনিট আগে তার প্রার্থিতা বাতিল হয়েছে। কারণ বাতিল করার মতো উপাদানও ছিল। তাকে (মোস্তাফিজুর রহমান) সপ্তাহখানেক আগে থেকে নজরদারি করা হচ্ছিল। যখন তিনি থানায় ঢুকে পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে মারধর করছেন, সার্কেল এসপি তাকে নিবৃত্ত করতে পারছেন না, এরপর আর বসে থাকা যায়নি। তখন আমরা প্রার্থিতা বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমরা এ ক্ষেত্রেও ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচন চলাকালীন সময়ে কোনো রকমের সিদ্ধান্ত নিতে কুণ্ঠাবোধ করব না।

ইসি আনিছুর রহমান নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে বলেন, আমাদের একটাই চাওয়া- নির্বাচনকে সুন্দর করতে হবে।
প্রিজাইডিং অফিসারদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আপনারা কেন্দ্রের সব দায়িত্ব পালন করবেন। ইচ্ছা করলে নির্বাচন বন্ধ করতে পারবেন। আপনারা ভোটের দিন যে যেখানে থাকবেন, সর্বময় ক্ষমতা প্রয়োগ করবেন। তবে তা আইনের পক্ষে হতে হবে। এতে যদি কোনো রকমের বিপদগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে, আমরা আপনাদের পাশে আছি।

চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার মো. তোফায়েল ইসলামের সভাপতিত্বে ও চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক আবুল বাসার মোহাম্মদ ফখরুজ্জামানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় চট্টগ্রাম মেট্টোপলিটন পুলিশ কমিশনার কৃষ্ণপদ রায়, পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জ ডিআইজি নুরে আলম মিনা, বিজিবি রিজিয়ন কমান্ডার মো. আজিজুর রহমান, ডিজিএফআই শাখা অধিনায়ক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল তোফায়েল মোস্তফা সরোয়ার, আনসার ও ভিডিপি উপ-মহাপরিচালক মো. সাইফুল্লাহ রাসেল, অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার, জেলা পুলিশ সুপার এসএম শফিউল্লাহ, আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মো. ইউনুচ আলী, সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তা, সিনিয়র জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা, সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা, সংশ্লিষ্ট সব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সব থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ও জেলাপর্যায়ের অন্য কর্মকর্তারা সভায় উপস্থিত ছিলেন।


ফুলবাড়িয়ায় জেলেদের জালে উঠে এলো শিশুর মরদেহ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ফুলবাড়িয়া (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি

ফুলবাড়িয়া উপজেলার আন্ধারিয়াপাড়া গ্রামে এক ফিসারিতে জেলেরা মাছ ধারার সময় জালে ওঠে এক শিশুর মরদেহ। সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) সকাল দশটা থেকে শিশু আব্দুল্লাহ হেল ফুয়াদ (৯) কে পাওয়া যাচ্ছিল না। দুপুরে বাড়ির দক্ষিণ পাশে ফিসারিতে মাঝ ধরার সময় জালে উঠে আসে শিশুটির মরদেহ। পরিবারের ধারণা খেলা করার সময় ফিসারির পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একমাত্র ছেলে হারিয়ে শিশুটির পরিবার প্রায় পাগল। হৃদয়বিধারক এ ঘটনায় এলাকায়ও শোকের ছায়া নেমে আসে।

ফুলবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জয়নাল আবেদিনের ছোট ভাই হুমায়ন কবিরের ছেলে আব্দুল্লাহ হেল ফুয়াদ। মাদ্রাসায় লেখাপড়ার সুবাদে ময়মনসিংহ শহরে পরিবারের সাথে বসবাস করে। গত দুই দিন আগে আন্ধারিয়াপাড়া গ্রামে নিজ বাড়িতে আসে। সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকে তাকে পাওয়া যাচ্ছিল না। বিভিন্ন জায়গায় খুঁজাখুজি করেন পরিবারের লোকজন। দুপুর প্রায় সাড়ে ১২ টায় বাড়ির পাশে তাদের ফিসারিতে জেলেরা জাল দিয়ে মাছ ধারার সময় জালে উঠে আসে শিশু ফুয়াদের লাশ। দুপুর ১ টা ১০ মিনিটে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতালে নিয়ে গেলে জরুরি বিভাগের দায়িত্বরত চিকিৎসক শিশুটিকে মৃত ঘোষণা করেন।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, হুমায়ন কবিরের তিন মেয়ে এক ছেলে। সবার ছোট ফুয়াদ। অনেকটা চঞ্চল প্রকৃতির ছিল। গত দুই দিন আগে ময়মনসিংহ থেকে বাবা-মায়ের সাথে বাড়িতে আসে। বাড়িতে আসার পর থেকে গ্রামের শিশুদের সাথে খেলাধুলায় মত্ত ছিল। সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) বিকালে ফুয়াদসহ পরিবারের সবাই ময়মনসিংহ চলে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সকাল ১০ টা থেকে তাকে পাওয়া যাচ্ছিল না। আশেপাশের বাড়িতে খোঁজাখুজি করেন। না পেয়ে পরিবারের ধারণা ছিল শিশুদের সাথে কোথাও খেলা করছে না হয় বাড়ির পাশে একটি মোড়ের দোকানে গিয়েছে। দুপুরে জেলেরা মাছ ধরার সময় জালে উঠে আসে ফুয়াদের মরদেহ।

নিহত শিশুর চাচা সাবেক উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মো. রফিকুল ইসলাম রাকিব বলেন, পরিবারের সবাই গত দুদিন আগে ময়মনসিংহ থেকে বাড়িতে আসে, গতকাল সোমবার চলে যাওয়ার কথা ছিল। দুপুরে বাড়ির পাশে ফিসারিতে মাছ ধারার জালে মরদেহ উঠে আসে। ধারনা করা হচ্ছে খেলা করতে করতে কোন এক সময় পানিতে পরে তলিয়ে মৃত্যু হয়।

ফুলবাড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য পরিবার ও পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. হাসানুল হোসাইন বলেন, দুপুর ১ টা ১০ মিনিটে মৃত অবস্থায় এক শিশুকে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

ফুলবাড়িয়া থানার ওসি সাইফুল্লাহ সাইফ বলেন, পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু হয়েছে বলে জানতে পারছি, ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। পরিবারের কোন অভিযোগ না থাকলে বিনা ময়না তদন্তে লাশ দিয়ে দেওয়া হবে।


জলাতঙ্ক ভ্যাকসিনের তীব্র সংকটে চরম ভোগান্তিতে রোগীরা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নেত্রকোনা প্রতিনিধি

নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতালে কুকুর, বিড়াল বা বানরের কামড়ে আক্রান্ত রোগীদের জীবন রক্ষাকারী জলাতঙ্ক প্রতিরোধী ভ্যাকসিনের (এআরভি) তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। গত বেশ কিছুদিন ধরে হাসপাতালে সরকারি সরবরাহের কোনো ভ্যাকসিন না থাকায় বিপাকে পড়েছেন জেলা ও দূর-দূরান্ত থেকে আসা শত শত ভুক্তভোগী। এমনকি হাসপাতালের বাইরে ফার্মেসিগুলোতেও চড়া দাম দিয়ে এই ভ্যাকসিন পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন রোগীরা। সরকারি সেবা নেই, অজুহাত ‘সাপ্লাই সংকট’ নিয়ম অনুযায়ী সরকারি হাসপাতালে এই ভ্যাকসিন বিনামূল্যে বা নামমাত্র মূল্যে পাওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে চিত্র উল্টো।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, হাসপাতালে গেলেই দায়িত্বরতরা সরাসরি জানিয়ে দিচ্ছেন যে সরকারি সরবরাহ নেই। ফলে অসহায় রোগীরা ফিরে যাচ্ছেন অথবা দালালের খপ্পরে পড়ে হয়রানির শিকার হচ্ছেন। হাসপাতালের সংশ্লিষ্ট শাখা থেকে বারবার ‘সাপ্লাই নেই’ এমন গতানুগতিক অজুহাত দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ সাধারণ মানুষের। বাইরের ফার্মেসিতেও হাহাকার হাসপাতালে ভ্যাকসিন না পেয়ে রোগীরা যখন বাইরের ওষুধের দোকানে ছুটছেন, সেখানেও মিলছে না সমাধান। শহরের বড় বড় ফার্মেসিগুলো ঘুরেও মিলছে না ইনজেকশন। অনেক রোগী অভিযোগ করেছেন, কিছু দোকানে গোপনে এই ভ্যাকসিন থাকলেও তা কয়েকগুণ বেশি দামে বিক্রি করা হচ্ছে। দরিদ্র রোগীদের পক্ষে এই চড়া দাম দিয়ে জীবন রক্ষাকারী ওষুধ কেনা অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ভুক্তভোগীদের আর্তনাদ হাসপাতালের বারান্দায় অপেক্ষায় থাকা সদর উপজেলার এক ভুক্তভোগী বলেন, ‘কুকুরে কামড়ানোর পর দৌড়ে হাসপাতালে আসলাম। ডাক্তার বলল সরকারি ভ্যাকসিন নাই। বাইরে কিনতে গেলাম, সেখানেও নাই। এখন বিষ শরীরে ছড়িয়ে পড়লে এর দায় কে নেবে? আমরা গরিব মানুষ বলেই কি আমাদের কোনো মূল্য নেই?’ কর্তৃপক্ষের বক্তব্য ভ্যাকসিন সংকটের বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা জানান, চাহিদার তুলনায় বরাদ্দ অনেক কম এবং সেন্ট্রাল ড্রাগ স্টোর (সিএমএসডি) থেকে সরবরাহ বন্ধ থাকায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

সরবরাহ পাওয়ার সাথে সাথেই সেবা চালু করা হবে বলে তারা আশ্বস্ত করেন। জনস্বাস্থ্য ঝুঁকি বিশেষজ্ঞদের মতে, জলাতঙ্ক একটি প্রাণঘাতী রোগ। সময়মতো ভ্যাকসিন না নিলে মৃত্যু নিশ্চিত। নেত্রকোনা জেলায় ইদানীং বেওয়ারিশ কুকুরের উপদ্রব বাড়ায় কামড়ে আক্রান্তের সংখ্যাও বেড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে ভ্যাকসিনের এই ভয়াবহ সংকট পুরো জেলার জনস্বাস্থ্যকে ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে। এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুততম সময়ের মধ্যে সরকারি উদ্যোগে জেলা সদর হাসপাতালে জলাতঙ্কের ভ্যাকসিন সরবরাহ নিশ্চিত করা হোক এবং বাজার নিয়ন্ত্রণে মনিটরিং বাড়ানো হোক।


ব্যাংক ম্যানেজারের স্ত্রীর নামে দুদকের মামলা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বগুড়া প্রতিনিধি

বগুড়ায় অসাধু উপায়ে জ্ঞাত আয় বহির্ভূতভাবে ৭৮ লক্ষাধিক টাকার সম্পদ অর্জনের অভিযোগে নাজিয়া জাহান (৪০) নামে গৃহবধূর বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) মামলা করা হয়েছে। দুদক জেলা কার্যালয়ের উপ-সহকারী পরিচালক রোকনুজ্জামান সম্প্রতি এ মামলা করেন। গতকাল সোমবার বিকালে দুদক কর্মকর্তা এ তথ্য দিয়েছেন।

এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, নাজিয়া জাহান যমুনা ব্যাংক লিমিটেড বগুড়া শাখার বরখাস্ত সাবেক ব্যবস্থাপক সাওগাত আরমানের স্ত্রী। তার বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ ওঠে। এর পরিপ্রেক্ষিতে তার বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ প্রাথমিক অনুসন্ধানে প্রধান কার্যালয় নির্দেশ দেয়। নাজিয়া জাহান গত ২০২৪ সালের ১৮ আগস্ট দুদক বগুড়া জেলা কার্যালয়ে সম্পদ বিবরণী জমা দেন।

সম্পদ বিবরণী যাচাই/ অনুসন্ধানকালে নাজিয়া জাহানের নামে ৩৬ লাখ ৩৪ হাজার ৮০০ টাকা মূল্যমানের স্থাবর সম্পদ এবং ৭৩ লাখ ৫৬ হাজার ৪৬১ টাকা মূল্যমানের অস্থাবর সম্পদসহ মোট ১ কোটি ৯ লাখ ৯১ হাজার ২৬১ টাকা মূল্যমানের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ অর্জনের তথ্য পাওয়া যায়। এক্ষেত্রে নাজিয়া জাহান দুদকে দেওয়া সম্পদ বিবরণীতে ৩৫ লাখ ৪৬ হাজার ২৬১ টাকা মূল্যমানের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ অর্জনের তথ্য গোপন করেন।

এভাবে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন ঘোষণা দিয়ে তিনি দুদক আইন, ২০০৪ এর ২৬(২) ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন।

অপরদিকে সম্পদ বিবরণী যাচাই/ অনুসন্ধানকালে নাজিয়া জাহানের নামে মোট ১ কোটি ৯ লাখ ৯১ হাজার ২৬১ টাকা মূল্যমানের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের তথ্য পাওয়া যায়। তিনি ঋণ/দায়ের স্বপক্ষে কোনও রেকর্ডপত্র দেখাতে পারেননি। ঋণ/দায় ব্যাংকিং চ্যানেল কর্তৃক সমর্থিত না হওয়ায় তার নিট সম্পদের মূল্য দাঁড়ায় ১ কোটি ৯ লাখ ৯১ হাজার ২৬১ টাকা।

এ ছাড়া যাচাই/ অনুসন্ধানকালে নাজিয়া জাহানের পারিবারিক ব্যয় পাওয়া যায় মোট ৫ লাখ ৭০ হাজার টাকা। ফলে পারিবারিক ব্যয়সহ অর্জিত সম্পদের মোট মূল্য দাঁড়ায় ১ কোটি ১৫ লাখ ৬১ হাজার ২৬১ টাকা। আয়কর নথি পর্যালোচনায় তার গ্রহণযোগ্য আয় পাওয়া যায় ৩৭ লাখ ৪৩ হাজার ১২৪ টাকা।

তাই নাজিয়া জাহান জ্ঞাত আয়ের উৎস বহির্ভূত ৭৮ লাখ ১৮ হাজার ১৩৭ টাকা মূল্যমানের সম্পদ অর্জন করে তা নিজ ভোগ-দখলে রেখে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ এর ২৭(১) ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন।

দুদক জেলা কার্যালয়ের উপ-সহকারী পরিচালক রোকনুজ্জামান গতকাল সোমবার বিকালে জানান, প্রধান কার্যালয়ের অনুমোদন পাওয়ার পর সম্প্রতি তিনি নিজ কার্যালয়ে ওই আসামির বিরদ্ধে মামলা করেছেন। তদন্তকারী কর্মকর্তা নিয়োগ করার পর তদন্ত শেষে চার্জশিট ও বিচার কার্যক্রম শুরু হবে।


কুড়িগ্রামের বাজারে লাগামহীন হয়ে ওঠেছে বিভিন্ন পণ্যের দাম

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি

রোজার আগেই কুড়িগ্রাম ও হিলির বাজারে লাগামহীন হয়ে ওঠেছে বিভিন্ন পণ্যের দাম। গত দুই দিনে লেবু, রসুন, শসা, গাজর, বেগুন ও আদাসহ প্রায় সব নিত্যপণ্যের দাম বেড়েছে। তবে আলুর দাম রয়েছে নাগালের মধ্যে। জেলা শহরের খুচরা ও পাইকারি বাজার ঘুরে এসব তথ্য জানা গেছে।

বাজার ঘুরে জানা যায়, রোজার আগেই লেবুর দাম বেড়ে প্রতি পিস বিক্রি হচ্ছে ১২ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত। গত দুই দিনের ব্যবধানে শুকনা মরিচ, রসুন, আদা এবং সয়াবিন তেলের দাম অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে। আলুর স্বল্পমূল্যে কিছুটা স্বস্তি থাকলেও বেড়েছে বেগুন, গাজর ও শসার দাম। পেঁয়াজের দামও কিছুটা বেড়েছে।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে। তবে মোকামে দাম বেশি হওয়ায় তারা বাধ্য হয়ে বেশি দামে বিক্রি করছেন। ফলে ভোক্তাদের চাপে পড়তে হচ্ছে। রমজানে বাজার মূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখতে মোকামগুলোতে সরকারের নজরদারি বাড়ানোর পরামর্শ পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ীদের।

শহরের জিয়া বাজারের পাইকারি আড়তগুলোতে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত দুই দিনে শুকনা মরিচের দাম কেজি প্রতি ৫০ টাকা বেড়েছে। রসুনের দাম কেজি প্রতি ৪০ থেকে ৫০ টাকা বেড়ে সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) ১৪০ টাকা কেজি বিক্রি হয়েছে। দুই দিনের ব্যবধানে পেঁয়াজের দাম কেজি প্রতি ১০ টাকা বেড়ে ৫২ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

জেলা শহরের জিয়া বাজারের সবজি ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর জানান, রসুন, শুকনা মরিচ, আদা, বেগুন, গাজরসহ বেশ কিছু সবজির দাম বেড়েছে। দাম বড়লেও খুচরা ব্যবসায়ীদের লাভ বাড়েনি। তারা বেশি দামে কিনছেন বলে বেশি দামেই বিক্রি করছেন। কিন্তু তাদের ক্রয় মূল্য ও বিক্রয় মূল্যের ব্যবধান আগের মতোই আছে।

পৌর বাজারের ব্যবসায়ী ওলিল বলেন, ‘এক সপ্তাহ আগে যে লেবু প্রতি পিস কিনেছিলাম ৫ টাকা, এখন সেই লেবুর পিস হইছে ১২ টাকা। দুই দিন আগে রসুন ৯০ টাকা কেজি কিনছি। এখন কিনছি ১৬০ টাকা। বেগুন ছিল ২৫ টাকা, এখন ৫০ টাকা কিনতে হচ্ছে। শসার কেজি ছিল ৪০ টাকা, এখন ৫০ টাকা। গাজর ছিল ২০ টাকা, এখন কিনতে হচ্ছে ৩২ টাকা। করলাসহ আরও কয়েকটা শবজির দামও বেড়েছে। রোজার জন্য লেবুসহ সব জিনিসের দাম বাড়ছে। আমরাও বেশি দামে বিক্রি করছি। কয়েক রোজা গেলে হয়তো দাম আবার কমতে পারে।’

এদিকে খোলা সয়াবিন তেলের দামও বেড়েছে লিটার প্রতি পাঁচ টাকা। বোতলজাত তেলের দাম বাড়ারও গুঞ্জন চলছে। সবমিলে এবারের রমজানেও নিত্যপণ্য নিয়ে ভোক্তাদের স্বস্তির কোনো লক্ষণ মিলছে না।

তবে রমজান ঘিরে নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিয়েছে জেলা প্রশাসন। এ উপলক্ষে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ও ব্যবসায়ী প্রতিনিধিসহ সংশ্লিষ্টদের নিয়ে সভা করে বাজার মনিটরিংয়ের জন্য উপকমিটি করেছে জেলা প্রশাসন। সভায় বাজারগুলোতে দৃশ্যমান স্থানে পণ্যের দামের তালিকা টানিয়ে দেওয়াসহ ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ বলেন, ‘রমজান উপলক্ষে নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে নিয়মিত বাজার মনিটরিং ও ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিক্রির সময় খাদ্যদ্রব্য নিরাপদ রাখতে সুরক্ষা ব্যবস্থা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ইউএনওরা বাজারগুলোতে মূল্য তালিকা প্রদর্শন নিশ্চিত করতে ব্যবস্থা নেবেন।’

সরবরাহ কমের অজুহাতে রমজান শুরুর আগেই দিনাজপুরের হিলিতে লেবু ও শসার দাম বেড়ে দ্বিগুণ হয়েছে। হঠাৎ দাম বাড়াই বিপাকে পড়েছেন নিম্ন আয়ের মানুষ।

হিলি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বেশিরভাগ সবজির দোকানেই লেবুর দেখা মিলছে না। দু’একটি দোকানে থাকলেও দাম বাড়তি। একইভাবে সব দোকানেই শসার দাম বেশি। দুদিন আগে যে লেবুর হালি ২০-৩০ টাকা বিক্রি হয়েছিল, তা এখন বেড়ে ৬০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। আকারে বড় লেবুর দাম কেউ কেউ ৭০-৮০ টাকা হালি বিক্রি করছেন। শসা ৩০ থেকে ৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হলেও এখন ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে বেগুন আগের মতোই ৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। ফুলকপি ২০ টাকা কেজি, বাঁধাকপি ২০ টাকা কেজি, শিম ২০ টাকা কেজি, টমেটো ৪০ টাকা কেজি, আলু ১৫-১৭ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

হিলি বাজারে আসা নির্মল কুমার বলেন, ‘বাড়িতে অনুষ্ঠান থাকায় লেবু লাগবে। কিন্তু বাজারে এসে দাম শোনে অবাক হয়েছি। এক হালি লেবু চাচ্ছে ১০০ টাকা। এটি কী মেনে নেওয়ার মতো। জীবনে এত দাম দিয়ে লেবু কিনে খাইনি। তারপরও এখন যেহেতু লাগবেই সেহেতু ১২০ টাকায় দুই হালি নিয়েছি।’

আরেক ক্রেতা আসলাম হোসেন বলেন, ‘দুদিন আগেই বাজার থেকে লেবু কিনে নিয়ে গেলাম ২০ টাকা হালি। অথচ সেই লেবু আজ কিনতে এসে দাম শুনি ৬০ টাকা হালি। আরেকটু বড়গুলোর দাম আরও বেশি। রমজান শুরু না হতেই বাজার অস্থির। কমবেশি সব পণ্যের দাম বেড়েছে। এটা তো চিন্তার বিষয়।’

জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর দিনাজপুরের সহকারী পরিচালক বোরহান উদ্দিন বলেন, ‘কেউ যেন কোনো পণ্যের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে দাম বাড়াতে না পারে, সে লক্ষ্যে আমরা নিয়মিত বাজার মনিটরিং করছি। বিশেষ করে রমজানকেন্দ্রিক যেসব পণ্যের চাহিদা থাকে সেগুলোর দাম বাড়াতে যাতে না পারে, সেদিকে লক্ষ্য রাখছি। এরপরও কারও বিরুদ্ধে এই ধরনের অভিযোগ পাওয়া গেলে জরিমানাসহ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’


সিলেটে ১৫ পাওয়ার জেল ও ১৭ ইলেকট্রিক ডেটোনেটর উদ্ধার

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
সিলেট প্রতিনিধি

সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলা থেকে ১৫ পাওয়ার জেল এবং ১৭ ইলেকট্রিক ডেটোনেটর উদ্ধার করা হয়েছে। সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) বিকালে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানিয়েছেন জকিগঞ্জ ব্যাটালিয়নের (১৯ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল জুবায়ের আনোয়ার।

বিজিবি জানায়, গত রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) রাতে জকিগঞ্জ ব্যাটালিয়ন (১৯ বিজিবি) ও র‌্যাব-৯ এর সমন্বয়ে সিলেট জেলার জকিগঞ্জ উপজেলাধীন কাজলসার ইউনিয়নের রায়গঞ্জ এলাকার আটগ্রাম পেট্রোবাংলা পয়েন্টের রায়গ্রাম যাত্রী ছাউনির পেছনে পলিথিন দিয়ে মোড়ানো পরিত্যক্ত অবস্থায় ১৫ পাওয়ার জেল এবং ১৭ ইলেকট্রিক ডেটোনেটর উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার পাওয়ার জেল ও ইলেকট্রিক ডেটোনেটরগুলোর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কাউকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে বিজিবি ও র‍্যাব-৯ এর তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

লেফটেন্যান্ট কর্নেল জুবায়ের আনোয়ার জানান, পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে উদ্ধার পাওয়ার জেল ও ইলেকট্রিক ডেটোনেটরগুলো জিডি মূলে সিলেট জেলার জকিগঞ্জ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ছাড়াও দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে জকিগঞ্জ ব্যাটালিয়নের (১৯ বিজিবি) গোয়েন্দা তৎপরতা এবং সীমান্ত সুরক্ষায় বিজিবির এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।


মালয়েশিয়ায় পাচারকালে নারী-পুরুষ-শিশুসহ ১৫ জন উদ্ধার

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
টেকনাফ (কক্সবাজার) প্রতিনিধি

টেকনাফের বাহারছড়ায় কোস্টগার্ড ও র‍্যাবের যৌথ অভিযানে মালয়েশিয়ায় পাচারের উদ্দেশে আটক করে রাখা নারী, পুরুষ ও শিশুসহ ১৫ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সিয়াম-উল-হক স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায়- টেকনাফ থানাধীন বাহারছড়া কচ্ছপিয়া এলাকার কুখ্যাত মানব পাচারকারী মো. আব্দুল আলী তার নিজ বাড়ির একটি গুদাম ঘরে কয়েকজন নারী, পুরুষ ও শিশুকে সাগর পথে মালয়েশিয়ায় পাচারের উদ্দেশে আটকে রেখেছে।

এ তথ্যের ভিত্তিতে গত রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৪টার দিকে কোস্টগার্ড স্টেশন টেকনাফ, আউটপোস্ট বাহারছড়া এবং র‍্যাবের সমন্বয়ে ওই বাড়িতে যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

অভিযান চলাকালে বাড়ির গুদামঘরে তল্লাশি চালিয়ে পাচারের উদ্দেশে বন্দি থাকা ১৫ জন ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করা হয়।

তবে অভিযানের সময় যৌথবাহিনীর উপস্থিতি টের পেয়ে পাচারকারীরা পালিয়ে যায়। ফলে কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।

উদ্ধারকৃতদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, সংঘবদ্ধ মানব পাচারকারী চক্র বিদেশে উন্নত জীবনযাপনের স্বপ্ন, উচ্চ বেতনের চাকরি এবং কম খরচে বিদেশ পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে কক্সবাজারসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গা নাগরিকদের মালয়েশিয়ায় পাঠানোর পরিকল্পনা করছিল।

উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য টেকনাফ মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।


সূর্যমুখী চাষে কৃষকের নতুন সাফল্য

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কেশবপুর (যশোর) প্রতিনিধি

সারাবিশ্বে সূর্যমুখী তেলের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় দেশের অনেক এলাকায় বাণিজ্যিক ভাবে চাষাবাদ হচ্ছে সূর্যমুখী ফুল। এরই ধারাবাহিকতায় যশোর জেলার কেশবপুর উপজেলাতেও এ ফসলের চাষ শুরু হয়েছে। উপজেলায় এবার সূর্যমুখী চাষ যেন হয়ে উঠেছে আলোচিত সাফল্যের গল্প। চলতি মৌসুমে উপজেলা কৃষি অফিসের প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় মোট ১০৬ হেক্টর জমিতে সূর্যমুখী ফুলের আবাদ করে আশাতীত ফলনের স্বপ্ন দেখছেন স্থানীয় কৃষকরা।

উপজেলার মঙ্গলকোট ইউনিয়নএ পাঁচজন কৃষক প্রত্যেকে ১ কেজি করে উন্নত জাতের সূর্যমুখী বীজ নিয়ে মোট ২ বিঘা জমিতে আবাদ শুরু করেন। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবং জমি প্রস্তুত ভালো হওয়ায় মাঠজুড়ে এখন হলুদ ফুলে ছেয়ে গেছে সূর্যমুখীর বাগান।

সরেজমিনে দেখা যায়, সূর্যের দিকে মুখ তুলে থাকা সারি সারি সূর্যমুখী ফুল যেন কেশবপুরের কৃষিজমিকে রূপ দিয়েছে এক অনন্য সৌন্দর্যের উদ্যানে। চারদিকে সবুজ গাছ আর হলুদ ফুলের মেলবন্ধনে তৈরি হয়েছে অপরূপ দৃশ্য। আকর্ষণীয় এই ফুলের মাঠ দেখতে আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে দর্শনার্থীরাও ভিড় করছেন। অনেকে আবার স্মৃতি ধরে রাখতে সূর্যমুখীর সঙ্গে দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন।

কৃষকের মুখে আশার কথা কৃষক ইব্রাহিম স্থানীয় একটি ক্লিনিকে চাকরি করার পাশাপাশি কৃষি কাজে যুক্ত আছেন। তিনি উপজেলা কৃষি অফিস থেকে প্রণোদনার আওতায় পাওয়া ১ কেজি সূর্যমুখী বীজ দিয়ে বাড়ির পাশে ১ বিঘা জমিতে চাষ করেছেন।

তিনি বলেন, মঙ্গলকোট ইউনিয়নের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা কিশোর কুমার আমাকে সূর্যমুখী চাষে উদ্বুদ্ধ করেন। এখন আমার জমির প্রায় সব গাছে ফুল ফুটেছে। বাজারদর ভালো থাকলে এ ফসল থেকে ভালো লাভ হবে।

আরেক কৃষক সুমন জোয়ারদার জানান, আগে বিভিন্ন ধরনের সবজি চাষ করেছি কিন্তু সূর্যমুখী করিনি। এবার উপজেলা কৃষি অফিসের সহায়তায় শুরু করেছি। বর্তমানে প্রতিটি গাছে ফুল ধরেছে। এক একটি ফুলের ওজন প্রায় ৩০০ থেকে ৫০০ গ্রাম হবে বলে ধারণা করছি। আগামী মৌসুমে আরও বেশি জমিতে সূর্যমুখী চাষ করব।

মাঠ পর্যায়ে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তার তদারকি মজিদপুর ইউনিয়ন এর দায়িত্বপ্রাপ্ত উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা নাজমুল আলম জানান, আমি সবসময় কৃষকদের নতুন নতুন লাভজনক ফসল চাষে উদ্বুদ্ধ করি। এ বছর আমার কর্মএলাকায় পাঁচজন কৃষক সূর্যমুখী চাষ করেছেন। নিয়মিত তাদের মাঠ পরিদর্শন করছি এবং প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিচ্ছি।

কেশবপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ফসলের নিবিড়তা বৃদ্ধিকরণ প্রকল্পের আওতায় প্রণোদনা কর্মসূচির অংশ হিসেবে কৃষকদের সূর্যমুখীর বীজ দেওয়া হয়েছে। মূল উদ্দেশ্য হলো এই ফসলের বাজারে চাহিদা ও মূল্য ভালো হওয়ায় কৃষকরা যেন লাভবান হন এবং ভবিষ্যতে নিজেরাই বীজ কিনে আবাদে আগ্রহী হন।

তিনি আরও বলেন, উপজেলা কৃষি অফিসের মাধ্যমে কৃষকদের রোগবালাই ও পোকামাকড়ের আক্রমণ থেকে ফসল রক্ষায় নিয়মিত পরামর্শ ও মাঠ পর্যায়ের সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। এই কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে দেশের কৃষি উন্নয়নের অন্যতম সংস্থা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর।

কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, সূর্যমুখী একটি স্বল্প মেয়াদি ও তুলনামূলক কম খরচের ফসল। তেলের জন্য এই ফসলের চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। ফলে বাজারে এর দামও কৃষকের অনুকূলে থাকছে। চলতি মৌসুমে কেশবপুরে ফলন প্রত্যাশা অনুযায়ী হলে আগামী মৌসুমে আরও বেশি কৃষক সূর্যমুখী চাষে যুক্ত হবেন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

মাঠজুড়ে হলুদ ফুলের হাসি আর কৃষকের চোখে নতুন স্বপ্ন সব মিলিয়ে কেশবপুরে সূর্যমুখী চাষ এখন শুধু একটি ফসল নয়, হয়ে উঠেছে লাভজনক কৃষির নতুন সম্ভাবনার নাম।


শ্যামনগরে তরমুজ খেত লণ্ডভণ্ড করেছে দুর্বৃত্তরা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
শ্যামনগর (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি

সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার কৈখালী ইউনিয়নে রাতের আঁধারে এক কৃষকের তরমুজ খেত লণ্ডভণ্ড করে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। দুর্বৃত্তরা তরমুজের চারা উপড়ে ফেলে খেত নষ্ট করে দিয়েছে বলে জানা গেছে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক পরিবারটি বড় ধরনের আর্থিক বিপর্যয়ের আশঙ্কায় পড়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কৈখালী ইউনিয়নের জয়াখালী গ্রামের বাসিন্দা মাওলানা আমিন আলী দীর্ঘদিন ধরে কৃষিকাজ করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন। তিনি শ্যামনগর উপজেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের নির্বাহী সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন। সংসারের খরচ নির্বাহ করতে তিনি দুই বিঘা জমিতে তরমুজ চাষ করেন। কিন্তু গত রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) গভীর রাতে দুর্বৃত্তরা তার তরমুজ খেতে ঢোকে চারাগাছ উপড়ে ফেলে জমির বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে দেয়।

সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) সকালে দেখা যায়, তরমুজের সারিবদ্ধভাবে লাগানো চারাগাছগুলো উপড়ে ফেলা হয়েছে। খেতের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে আছে চারাগাছ। আশপাশের জমিগুলোতে তরমুজের চারা ঠিকঠাক থাকলেও কেবল মাওলানা আমিন আলীর খেতেই এ ধরনের ধ্বংসযজ্ঞ চালানো হয়েছে বলে জানান স্থানীয়রা।

এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক পরিবার চরম উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তাদের দাবি, তরমুজ চাষই ছিল এ মৌসুমে তাদের একমাত্র ভরসা। এখন চারা নষ্ট হওয়ায় বড় ক্ষতির মুখে পড়েছেন তারা।

এ সময় কান্নাজড়িত কণ্ঠে আমিন আলীর স্ত্রী বলেন, ‘আল্লাহর কাছে বিচার দিলাম। সারা বছর আমাদের পরিবারের অবলম্বন এই তরমুজ খেত। যারা আমাদের উপার্জনের পথ নষ্ট করেছে, আমরা তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।’

এলাকাবাসীরা জানান, মাওলানা আমিন আলী স্থানীয় মক্তবে পড়ানোর পাশাপাশি মসজিদ কমিটির সেক্রেটারির দায়িত্ব পালন করেন। কৃষিকাজই তার পরিবারের একমাত্র আয়ের উৎস। স্থানীয়ভাবে তার সঙ্গে কারও শত্রুতা নেই বলেও দাবি করেন তারা। এলাকাবাসীর ধারণা, দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট দেওয়া এবং জামায়াত প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণায় সরব ভূমিকা রাখাই তার জন্য কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে।

দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।


হালদা নদীতে ঝাঁপ দেওয়া সাব্বির এখনো নিখোঁজ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
রাউজান (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি

রাউজান উপজেলা থেকে হাটহাজারীতে ওরসে যাওয়ার পথে কিশোর গ্যাংয়ের হামলায় হালদা নদীতে পড়ে তলিয়ে গেছেন মো. সাব্বির নামে এক তরুণ। এই ঘটনায় আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন। এদিকে নিখোঁজের ৩৩ ঘণ্টা পার হলেও সন্ধান মেলেনি সাব্বিরের।

গত রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দলের দুটি ইউনিট নদীতে তল্লাশি চালিয়ে তার সন্ধান না পেয়ে কার্যক্রম স্থগিত ঘোষণা করে। গত শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) রাত ১২টার দিকে হাটহাজারী উপজেলার মাদার্শা ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের রামদাশ মুন্সির হাটের হালদা নদীর খেয়াঘাটে এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। মো. সাব্বির রাউজান উপজেলার উরকিরচর ইউনিয়নের মইশকরম গ্রামের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের মানা উল্লাহ চৌধুরীর বাড়ির আব্দুল মান্নানের একমাত্র ছেলে।

জানা গেছে, গত শনিবার রাতে হাটহাজারী উপজেলার রামদাশ মুন্সির হাট এলাকায় প্রসিদ্ধ বুজুর্গ আব্দুল করিম শাহ (রহ.) প্রকাশ পোয়া ফরিকের ওরস অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এই উদ্দেশে এদিন রাতে সাব্বির কয়েক বন্ধুসহ নৌকায় হালদা নদী পার হয়ে সেখানে যান। ওরস থেকে বাড়ি ফেরার উদ্দেশে নৌকায় ওঠলে অতর্কিতভাবে ২০-২৫ জনের একটি কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য তাদের ওপর হামলা চালায়। নৌকায় থাকা পাঁচ-ছয়জনকে বেধড়ক মারধর করে। এ সময় কিশোর গ্যাংয়ের হামলা থেকে বাঁচতে সাব্বিরসহ কয়েকজন নদীতে ঝাঁপ দেন। সাঁতার কেটে নদী থেকে বাকিরা তীরে আসতে পারলেও সাব্বির নদীতে তালিয়ে যায়।

রামদাশ মুন্সির হাটস্থ হালদা নৌপুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এএসআই রমজান আলী বলেন, ‘কয়েকজন বন্ধু মিলে ওরসে এসেছিলেন। তাদের কয়েকজনের ওপর দুর্বৃত্তরা হামলা চালায়। এতে তারা নদীতে ঝাঁপ দেয়। ৯৯৯-এ কল পেয়ে থানা থেকে পুলিশ এলে আমরা জানতে পারি। ভোর থেকে নৌপুলিশ এবং সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল অনুসন্ধান চালিয়েছে। তার সন্ধান পাওয়া যায়নি।’

হাটহাজারী মডেল থানার ওসি জাহিদুর রহমান বলেন, ‘ছেলেরা তর্কের কারণে হামলার ঘটনা ঘটেছে।’ নিখোঁজের পিতা আব্দুল মান্নান বলেন, ‘এখনো আমার ছেলের সন্ধান পায়নি।’


কুষ্টিয়ায় দুর্বৃত্তদের হামলায় মসজিদের ইমাম আহত

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কুষ্টিয়া প্রতিনিধি

কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে মসজিদের এক ইমামকে রড ও কাঠের বাটাম দিয়ে পেটানোর অভিযোগ ওঠেছে দুর্বৃত্তদের বিরুদ্ধে। গত রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ৮টার দিকে কুমারখালী উপজেলার যদুবয়রা ইউনিয়নের নিদেনবাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

আহত ব্যক্তির নাম আসলাম উদ্দিন (২১)। তিনি যদুবয়রা ইউনিয়নের কেশবপুর গ্রামের মিনহাজ উদ্দিনের ছেলে এবং জোতমোড়া দক্ষিণপাড়া জামে মসজিদের ইমাম। এ ছাড়া তিনি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে ছাত্রশিবির কর্মী হিসেবে ৬টি ভোটকেন্দ্রের দায়িত্বে ছিলেন বলে জানা গেছে। বর্তমানে তিনি কুমারখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

এ বিষয়ে আহত ইমাম আসলাম উদ্দিন বলেন, ‘রাতে এশার নামাজ শেষে বাড়িতে ফিরছিলাম। লালনবাজার-সংলগ্ন বাবুর স্কেল (কাট পরিমাপ যন্ত্র) এলাকায় পৌঁছালে দুটি মোটরসাইকেলে চার থেকে পাঁচজন লোক এসে আমার রাস্তা আটকিয়ে রড ও কাঠের বাটাম দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে বেধড়ক মারপিট করে দ্রুত চলে যায়। হামলাকারীদের মুখ বাঁধা ও মুখে মাস্ক পড়া ছিল।’

যদুবয়রা ইউনিয়নের জোতমোড়া দক্ষিণপাড়া জামে মসজিদ পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক জানান, এশার নামাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে দুর্বৃত্তরা ইমাম সাহেবের ওপর হামলা চালিয়েছে। তার পিঠে, হাতে, পায়ের মাংসপেশি ও কপালে আঘাতের চিহৃ রয়েছে। বর্তমানে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

কুমারখালী উপজেলা ছাত্রশিবিরের সভাপতি রিয়াদ আল মাহমুদ বলেন, ‘গত রাতে আমাদের কর্মী আসলাম ভাই মসজিদ থেকে বাড়ি ফেরার পথে ৫-৬ জন দুর্বৃত্ত অতর্কিত হামলা চালিয়ে তাকে গুরুতর আহত করেছে। আসলাম উদ্দিন ছাত্রশিবিরের কর্মী সে নির্বাচনে জামায়াতের পক্ষে কাজ করায় তার ওপর হামলার ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। আমরা এর প্রতিবাদ জানাই। খুব শিগগিরই এ ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

কুমারখালী থানার ওসি জামাল উদ্দিন বলেন, ‘একজন মসজিদের ইমামের ওপর হামলার খবর পেয়েছি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’


সোনারগাঁয়ে যুবককে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
সোনারগাঁ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে দুর্বৃত্তরা এক যুবককে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ ওঠেছে। গত রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) রাতে উপজেলার নোয়াগাঁও ইউনিয়নের পরমেশ্বরদী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত যুবকের নাম মো. নাঈম মিয়া (২২)। সে পরমেশ্বরদী গ্রামের আ. হেকিমের ছেলে। নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে।

এ ঘটনায় সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) সকালে নিহতের বড় ভাই নাসিমুল ইসলাম বাদি হয়ে সোনারগাঁ থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আবুল হোসেন নামের একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

জানা যায়, উপজেলার নোয়াগাঁও ইউনিয়নের পরমেশ্বরদী গ্রামের আ. হেকিমের ছেলে মো. নাঈম মিয়া পেশায় একজন রাজমিস্ত্রী। পাশাপাশি সুদের ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। গত রোববার রাত ৮টার দিকে নাঈম ও নাসিমুল দুই ভাই পাড়ার চায়ের দোকানে বসে আড্ডা দিচ্ছিলেন। হঠ্যাৎ অপরিচিত এক ফোন পেয়ে বাইরে যায় নাঈম। পরে রাত ৯টার দিকে বাড়ির পাশে একটি খেতে বস্তাবন্দি অবস্থায় নাঈমের দেহ পড়ে ছিল। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে সোনারগাঁ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করে।

নিহতের বড় ভাই নাসিমুল ইসলাম জানান, তারা দুই ভাই এক সঙ্গে রাজমিস্ত্রীর কাজ করেন। ঘটনার আগে তারা বাড়ির পাশের একটি চায়ের দোকানে বসে ছিলেন। হঠাৎ একজনের ফোন পেয়ে মোবাইলে কথা বলতে বলতে সেখান থেকে বের হয়ে যায়। সে ফোনে বলতেছিল, ‘আমার কাছে টাকা নাই’। দুই-তিনবার এ কথা বলছিল। তখনো একটু দূরে দাঁড়িয়ে কথা বলতেছিল। কিছুক্ষণ পর দেখি নাঈম সেখানে নাই। একটু পর তিনিও বাড়িতে চলে যান।

তিনি আরও জানান, বাড়িতে গিয়ে ছোট ভাই নাঈমকে তার মোবাইলে কল দিয়ে বন্ধ পান। আধা ঘণ্টার পর বাইরে হৈ-চৈ শোনতে পেয়ে বেরিয়ে যান নাছিমুল। লোকজন ডাকাত ডাকাত বলে চিৎকার করছিল। পরে এলাকাবাসীর সঙ্গে পাশের জমিতে গিয়ে নাঈমের বস্তাবন্দি রক্তাক্ত অবস্থায় দেখতে পান। পরে হাসপাতালে নেওয়ার পর ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

সোনারগাঁ থানার ওসি মো মহিববুল্লাহ জানান, নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে মর্গে পাঠানো হয়েছে। শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। হত্যকাণ্ডের ঘটনায় একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

ওসি আরও বলেন, ‘নাঈম পেশায় রাজমিস্ত্রী। তিনি সুদের বিনিময়ে মানুষকে টাকা ধার দিতেন। হত্যাকারীদের সঙ্গে লেনেদেনের দ্বন্দ্বের জেরে হত্যাকাণ্ডটি সংঘটিত হয়েছে। হত্যাকাণ্ডে জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারেও পুলিশ কাজ করছে।


ঝিনাইগাতী সার গুদাম ঠিকাদারের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ঝিনাইগাতী (শেরপুর) প্রতিনিধি

শেরপুর জেলার ঝিনাইগাতী উপজেলার সারের গুদামের ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান মেসার্স সরকার ট্রেডার্সের মনোনীত প্রতিনিধি মেহেদী হাসান হালিমের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ ওঠেছে। এ অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন ট্রাক মালিক ও শ্রমিক সমিতির সভাপতি সিরাজুল ইসলাম।

অভিযোগে বলা হয়েছে, গত মাসে উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন ট্রাক চালকরা। অভিযোগে জানানো হয়, সারের গুদামে প্রতিটি ট্রাক লোডের জন্য আগে ২৫০ টাকা এবং বর্তমানে ৫০০ টাকা চাঁদা নেওয়া হচ্ছে।

এ বিষয়ে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, টেন্ডারের মাধ্যমে ঠিকাদার হিসেবে নিযুক্ত হয়েছে দিনাজপুরের পার্বতীপুরের মেসার্স সরকার ট্রেডার্স, এবং ২০২৫ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর ২ (দুই) বছর মেয়াদি চুক্তিনামায় প্রতিষ্ঠানটির প্রোপ্রাইটর আনছার আলী স্বাক্ষর করে মেহেদী হাসান হালিমকে প্রতিনিধি হিসেবে নিযুক্ত করেন। এরপর থেকেই ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের প্রোপ্রাইটর আনছার আলীর ছত্রছায়ায় নিয়মিতভাবে চাঁদাবাজি শুরু করেন হালিম।

ট্রাকচালকরা জানান, পূর্বে এ ধরনের টাকা দিতে হতো না, তবে বর্তমান ঠিকাদারের পক্ষ থেকে চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে। টাকা না দিলে গুদামে ট্রাক লোড বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এতে তারা নানা সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন এবং দ্রুত প্রতিকার চান।

এ বিষয়ে মেহেদী হাসান হালিম বলেছেন, ‘আমি কোনো টাকা নেই না। তারা আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ এনে গুদামে গোলযোগ সৃষ্টি করার চেষ্টা করছে। টাকা নেওয়ার কোনো প্রমাণ তারা দিতে পারবে না। আমি গুদামের কার্যক্রম নিয়ম মেনে পরিচালনা করছি।’

গুদামের ইনচার্জ আদিলুজ্জামান দৈনিক বাংলাকে জানান, এই বিষয়টি প্রশাসনের আওতায় না থাকলেও তিনি পরিস্থিতি সমাধানের জন্য চেষ্টা করছেন। তিনি আরও জানান, আজ থেকে ট্রাক চালকদের কোনো টাকা নেওয়া হবে না। তবে সিসিটিভি ভিডিও ফুটেজ শুধু ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া প্রকাশ করা যাবে না।

এ ঘটনায় ট্রাকচালকদের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে, এবং তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।


মৌলভীবাজারে ৫ম শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগে অভিযুক্ত আটক

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মৌলভীবাজার প্রতিনিধি

মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলার সোনাটিকি গ্রামে ১০ বছর বয়সি এক শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ ওঠেছে প্রতিবেশী সৈয়দ নানখার আলীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগী শিশুর পরিবার ইতোমধ্যে রাজনগর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে।

অভিযোগের সূত্রে জানা যায়, রাজনগর উপজেলার ৩নং মুন্সিবাজার ইউনিয়নের সোনাটিকি এলাকায় গত রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) এ ঘটনা ঘটে। অভিযোগ অনুযায়ী, বাড়ির উঠানে একা থাকা পঞ্চম শ্রেণির এক ছাত্রীকে প্রতিবেশী সৈয়দ নানখার আলী শ্লীলতাহানির চেষ্টা করেন। এ সময় মেয়েটির চিৎকারে পরিবারের সদস্যরা ছুটে এলে অভিযুক্ত পালিয়ে যায়। অভিযুক্ত ব্যক্তি সোনাটিকি গ্রামের মৃত আকদছ আলীর ছেলে সৈয়দ নানখার আলী (৪০)।

ভুক্তভোগী শিশুর পরিবার জানায়, ঘটনাটি ঘটে সম্প্রতি গ্রামের একটি নির্জন স্থানে। অভিযুক্ত ব্যক্তি কৌশলে শিশুটিকে ডেকে নিয়ে শ্লীলতাহানির চেষ্টা করে। শিশুর চিৎকারে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্ত সেখান থেকে পালিয়ে যায়। পরে পরিবার বিষয়টি জানতে পেরে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করে।

পরিবারের সদস্যরা জানান, ঘটনার পর শিশুটি শারীরিক ও মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ে। পরে তাকে চিকিৎসার জন্য মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে সে চিকিৎসাধীন রয়েছে। ভুক্তভোগীর পরিবার ঘাটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও অভিযুক্তের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে।

এ বিষয়ে এলাকাবাসী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘একটি শিশুর সঙ্গে এমন ঘটনা খুবই নিন্দনীয়। আমরা প্রশাসনের কাছে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাচ্ছি।’

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে রাজনগর থানা অফিসার ইনচার্জ মো. মোবারক হোসেন জানান, মৌলভীবাজারের রাজনগরে এক স্কুলছাত্রীকে শ্লীলতাহানির চেষ্টার অভিযোগে অভিযুক্ত সৈয়দ নানখার আলীকে আটক করেছে পুলিশ।


banner close