শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬
৩ শ্রাবণ ১৪৩৩
কালবৈশাখীর তাণ্ডব

বিভিন্ন জেলায় ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত নষ্ট হয়েছে ফসলের খেত

ছবি: দৈনিক বাংলা
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত : ৭ মে, ২০২৪ ১৩:৪০

কালবৈশাখীতে দেশের বিভিন্ন এলাকায় অসংখ্য ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। গাছ ও বিদ্যুতের খুঁটি উপড়ে পড়ে বন্ধ হয়ে গেছে বিদ্যুৎ সংযোগ। ঝড়ের সঙ্গে শিলাবৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ফসলের খেত। ফলে তীব্র দাবদাহে ফসল নষ্ট হওয়ার পর আরেক দফা ক্ষতিগ্রস্ত হলেন কৃষক। বিস্তারিত ব্রাহ্মণবাড়িয়া, মুন্সীগঞ্জ, ত্রিশাল প্রতিনিধিদের পাঠানো প্রতিবেদনে।

ঝড়ে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন নাসিরনগরের ৭ গ্রাম

নাসিরনগরে কালবৈশাখীর তাণ্ডবে ৭টি গ্রাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেখানে বন্ধ বিদ্যুৎ সরবরাহ। ৪০টির মতো বসতঘর, দোকানপাট ও হাঁস-মুরগির খামার ক্ষতিগ্রস্ত। গত রোববার সন্ধ্যা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত থাকা কালবৈশাখীতে এমনটি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো হলো- উপজেলা সদর ইউনিয়ন, নাসিরপুর, দাতমণ্ডল, ধনকুড়া, কুলিকুণ্ডা ও মন্নরপুর।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, রোববার সন্ধ্যায় ঝড়ে এসব এলাকার বসতঘর, খামার ও দোকানপাটের টিনের চাল প্রায় দুই কিলোমিটার দূরে উড়ে যায়। তাছাড়া প্রতিটি গ্রামের গাছপালা ভেঙে বিদ্যুতের তারের ওপর ঝুলে আছে। ভেঙে গেছে পল্লী বিদ্যুতের পাঁচটি খুঁটি ও বেশ কিছু ট্রান্সমিটার। চার শতাধিক সংযোগ লাইন ও দুই শতাধিক মিটার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, নাসিরনগরে কালবৈশাখীতে সদরে ৯টি, কুলিকুণ্ডা ৩টি, দাতমণ্ডল ১০টি, নাসিরপুর ৫টি, ধনকুড়া ৪টি মন্নরপুর গ্রামে ৮-১০টি ও বুড়িশ্বর গ্রামে ৩টি ঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

নাসিরনগর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জোনাল ম্যানেজার প্রকৌশলী আমজাদ হোসেন বলেন, ‘রোববারের কালবৈশাখী ঝড়ে প্রায় পাঁচ শতাধিক জায়গায় বিদ্যুতের সঞ্চালন লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বেশকিছু খুঁটি ও মিটারও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আমরা জেলা অফিসে যোগাযোগের পর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে খুঁটি মেরামতের কাজ করছি। ঝড়ে ৩৩ কেভি বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বিকল্প পদ্ধতিতে বিদ্যুৎ সরবারহের চেষ্টা করা হলেও সে লাইনটি কাজ করছে না। ফলে রাত থেকে বিদ্যুৎ পাচ্ছেন না গ্রাহকরা।’

মুন্সীগঞ্জে ক্ষতিগ্রস্ত বাঙ্গি খেত

রোববার দিনগত রাতে মুন্সীগঞ্জে ৩০ মিনিটের ঝড়-শিলা বৃষ্টিতে বিভিন্ন জায়গায় ফসলের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বিশেষ করে মেঘনা নদী তীরবর্তী পৌরসভার অন্তত ৩ এলাকায় ৫ হেক্টর জমিতে আবাদ করা খেতের বাঙ্গি পুরোপুরি বিনষ্ট হয়ে ক্ষতি কয়েক লাখ টাকা বলে দাবি কৃষকের। কৃষি অফিস জানিয়েছে, কালবৈশাখী ও শিলাবৃষ্টিতে জেলা সদর ও গজারিয়া উপজেলার বাঙ্গি-সবজিসহ অন্তত ৬১০ হেক্টর জমির ফসল আক্রান্ত হয়েছে। এ ছাড়া বেশিরভাগ খেতের বাঙ্গি শিলাবৃষ্টিতে পুরোপুরি বিনষ্ট হয়ে গেছে। মুন্সীগঞ্জ পৌরসভার খাসকান্দি, রমজানবেগ ও চরকেওয়ার ইউনিয়নের চরমশুরা এলাকায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ অনেক বেশি। এছাড়াও সদর উপজেলার পঞ্চসার, রামপাল ইউনিয়নে ঝিঙ্গা, তীল, বোরো ধান, ভুট্টা করলা, চিচিঙ্গাসহ শাকসবজির ক্ষেত শীলাবৃষ্টিতে আক্রান্ত হয়েছে। সোমবার সকালে সরেজমিনে পৌরসভার খাসকান্দি এলাকায় গেলে ক্ষেতের পাশে বিমর্ষ অবস্থায় বসে থাকা বাঙ্গি চাষি জয়নাল হাসানের সঙ্গে দেখা হয়। তিনি জানান, ‘এবার ৮৬ শতাংশ জমিতে বাঙ্গি আবাদ করেছি। মাত্র বাঙ্গিগুলো পরিপক্ব হতে শুরু করেছিল। আর কিছুদিন পরে সেগুলো খেত থেকে তুলে বাজারে বিক্রি করার কথা। কিন্তু রোববার রাতে সর্বনাশ হয়ে গেছে। আমার মাথায় হাত পড়ে গেছে। এমন পরিস্থিতির শিকার আগে হইনি।’

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক বিপ্লব কুমার মোহন্ত দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘আমাদের মাঠ কর্মীদের কাছ থেকে প্রাথমিকভাবে যে তথ্য পেয়েছি তাতে জেলা সদর ও গজারিয়া উপজেলার ৬১০ হেক্টর জমির ফসল শিলাবৃষ্টি ও কালবৈশাখী ঝড়ে আক্রান্ত হয়েছে। এর মধ্যে কিছু বেঁচে যাবে আবার কিছু ক্ষতির মুখে পড়বে। তিনি জানান, ৬৫ হেক্টর জমির সবজি, ১৪০ হেক্টর জমির ভুট্টা, ১২০ হেক্টর জমির তীল, ৪২ হেক্টর জমির পাট, ৫ হেক্টর জমির বাঙ্গি, দেড় হেক্টর জমির মরিচ ও ২৭৪ হেক্টর জমির বোরো ধান আক্রান্ত হয়েছে।’ এই কর্মকর্তা বলেন, ‘বাঙ্গির ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে কৃষকের বেগ পেতে হবে। এ ছাড়া অন্যান্য ফসলের ক্ষতিও ব্যাপক। তবে আর্থিক পরিমাণ নিরুপণ করা এখনি সম্ভব নয়।’

ত্রিশালে শিলাবৃষ্টিতে ধানের ক্ষতি

ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় শিলাবৃষ্টিতে কৃষকের বোরো ধানের ক্ষতি হয়েছে। এ ছাড়া অনেক টিনের ঘরের (উপরের অংশ) চাল ছিদ্র হয়ে গেছে। উপজেলা রামপুর ইউনিয়নের কাকচর এলাকার ব্যবসায়ী আবু ইয়াহিয়া বলেন, ‘গতকাল রাতে শিলা বৃষ্টিতে আমাদের ঘরের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। আমার জন্মের পর কখনো এমন শিলা বৃষ্টি দেখিনি।’ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. শহিদউল্লাহ বলেন, ‘ইতোমধ্যে জাতীয় সংসদ সদস্য এবিএম আনিছুজ্জামান শিলা বৃষ্টির ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জেনে তাকে অবহিত করতে বলেছেন। আমরা সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন চেয়ারম্যানদের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণের তালিকা দেওয়ার জন্য অবগত করেছি।’


বন্যার আঘাতে কৃষিতে বিপর্যয়, পথে বসার শঙ্কায় রুমার কৃষক

মাছ, পেঁপে, ধান সব হারিয়ে নিঃস্ব কৃষাণী গোলাপ্রু
ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
রুমা (বান্দরবান) প্রতিনিধি

‘হাতে ও ঘরে কোনো টাকা নেই। বাজার করা দূরের কথা, এক খিলি পান খাওয়ার টাকাও শেষ। কৃষিই ছিল একমাত্র আয়ের উৎস। সাঙ্গু নদীর বন্যার পানি সবকিছু শেষ করে দিয়েছে আমাকে। এখন আমি ঋণের বোঝা হয়ে গেছি।

কথাগুলো বলছিলেন বান্দরবানের রুমা উপজেলার সদর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের নামিপাড়া এলাকার কৃষাণী গোলাপ্রু মার্মা (৪৭)। গত মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) বিকেলে রুমা সদরঘাট এলাকার একটি দোকানে এই প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপকালে তিনি সাম্প্রতিক বন্যায় নিজের ক্ষয়ক্ষতির বর্ণনা দেন।

গোলাপ্রু মার্মার সংসারে দুই মেয়ে ও এক ছেলে। গত ৩০ বছর ধরে কৃষিকাজ ও সবজি চাষের মাধ্যমে সংসার চালিয়ে আসছেন তিনি। তাঁর দাবি, এত দীর্ঘ কৃষিজীবনে কখনো এমন বিপর্যয়ের মুখে পড়তে হয়নি। একই এলাকায় আরও ১২ থেকে ১৪টি পরিবার কৃষিকাজ করলেও তাঁর মতো এত বড় ক্ষতির শিকার আর কেউ হননি।

গোলাপ্রু মার্মা জানান, প্রবল বর্ষণে সৃষ্ট বন্যায় তাঁর মাছের পুকুর, পেঁপে বাগান, ধান ও বিভিন্ন সবজির ক্ষেত পানিতে তলিয়ে যায়। সব মিলিয়ে তাঁর প্রায় সাত লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।

তিনি বলেন, উপজেলা প্রশাসনের কাছ থেকে লিজ নেওয়া একটি পুকুরে গত বছর ৭৫ হাজার টাকা ব্যয়ে চিংড়ি ও মাছের পোনা অবমুক্ত করেছিলেন। মাছ ও চিংড়িগুলো বিক্রির উপযোগী হয়ে উঠেছিল। বন্যার পানিতে সব ভেসে যাওয়ায় বছর শেষে সম্ভাব্য সাড়ে চার লাখ টাকার আয়ের আশা শেষ হয়ে গেছে।

শুধু মাছের খামারই নয়, তাঁর ৪২০টি হাইব্রিড পেঁপে গাছেও ভালো ফলন এসেছিল। এক সপ্তাহ পর থেকে বিক্রি শুরুর কথা ভাবছিলেন তিনি । প্রতি সপ্তাহে প্রায় ১০ মণ পেঁপে ২৫ থেকে ৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করবেন। তাঁর হিসাবে, বন্যা না হলে এ বাগান থেকে বছরে প্রায় চার লাখ টাকা আয় হতে পারত। তাও বোন নেই শেষ হয়ে গেল।

এ ছাড়া ওলকচু চাষে প্রায় ৫০ হাজার টাকা বিনিয়োগ করেছিলেন। কিন্তু বন্যার পানিতে ক্ষেত তলিয়ে যাওয়ায় সব পচে নষ্ট হয়েছে। হাইব্রিড ধানের চারা রোপণে আরও প্রায় ২৫ হাজার টাকা খরচ করেছিলেন। তাঁর আশা ছিল, মৌসুম শেষে অন্তত ৩০০ আড়ি ধান ঘরে তুলতে পারবেন। কিন্তু বন্যার পানিতে ধানের চারাগুলো কাদার সঙ্গে মিশে গেছে।

আধা কানি জমিতে শশা এবং আধা কানি জমিতে বরবটির চাষ করেছিলেন। এসব সবজি বিক্রি করে প্রতি হাটে তিন থেকে চার হাজার টাকা আয় হতো। বন্যার আগে প্রায় এক মাস ধরে সেই আয়েই সংসারের সব খরচ চলছিল। কিন্তু প্রবল বর্ষণে সৃষ্ট বন্যায় সেই আয়ের পথও বন্ধ হয়ে গেছে।

কৃষিকাজে বিনিয়োগ করতে বিভিন্ন উৎস থেকে ঋণ নিয়েছিলেন গোলাপ্রু মার্মা। বর্তমানে কৃষি ব্যাংক থেকে নেওয়া ১ লাখ ২০ হাজার টাকা, বেসরকারি সংস্থা আইডিএফের ১ লাখ টাকা এবং প্রতিবেশীদের কাছ থেকে ধার নেওয়া ৫০ হাজার, ৩০ হাজার ও ১৫ হাজার টাকাসহ মোট কয়েক লাখ টাকার ঋণের বোঝা তাঁকে দুশ্চিন্তায় ফেলেছে।

তিনি বলেন, ‘ঋণের কিস্তির কথা চিন্তা করে মাথায় কিছুই কাজ করছে না। কীভাবে এই ঋণ শোধ করব, বুঝতে পারছি না।’

বন্যার প্রভাব পড়েছে তাঁর সন্তানদের শিক্ষাজীবনেও। বড় মেয়ে সম্প্রতি মাস্টার্সে ভর্তি হয়েছেন এবং জাপানে উচ্চশিক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। ছোট মেয়ে বর্তমানে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন। তাঁদের পড়াশোনার জন্য প্রতি মাসে প্রায় ১৮ হাজার টাকা পাঠাতে হতো। কিন্তু কৃষি থেকে আয়ের সব পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দুই মেয়েকেই বাড়ি ফিরে আসতে বলেছেন তিনি।

গত ৬ থেকে ১১ জুলাই পর্যন্ত টানা ছয় দিনের ভারী বর্ষণে রুমা উপজেলার ওপর দিয়ে প্রবাহিত সাঙ্গু নদীতে পাহাড়ি ঢল নামে। নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়। এতে নদীতীরবর্তী এলাকার মাছের খামার, ধান ও সবজির ক্ষেত ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তার সাথে পাহাড়ের বাগান ও পাহাড়ে জুম চাষের পাহাড় ধসে ব্যাপক হারে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

রুমা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ ফরিদুল হক বলেন, সাম্প্রতিক বন্যায় উপজেলার কৃষকরাই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। প্রাথমিকভাবে অন্তত ৩৫০ জন কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে চূড়ান্ত তালিকা প্রস্তুত না হওয়া পর্যন্ত সঠিক সংখ্যা বলা সম্ভব নয়। ইতিমধ্যে মাঠপর্যায়ে সরেজমিন পরিদর্শনের পাশাপাশি স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও কৃষকদের সহযোগিতায় প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা প্রস্তুতের কাজ চলছে।

রুমা সদর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান অংসিনু মার্মা বলেন, টানা বৃষ্টিতে সৃষ্ট বন্যা ও পাহাড়ধসে অন্তত এক হাজার পরিবার বিভিন্নভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে প্রাথমিক ধারণা করা হচ্ছে। ইউনিয়নের নয়জন সদস্য ও তিনজন সংরক্ষিত নারী সদস্যের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা প্রস্তুতের কাজ চলছে। দুই-এক দিনের মধ্যে চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা সম্ভব হবে।

অন্যদিকে গালেঙ্গ্যা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মেনরত ম্রো জানান, তার ইউনিয়নে প্রাথমিকভাবে ৮৩টি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে।


কৃষকদের সহায়তায় বীজ ও ভ্যাকসিন বিতরণ অনিয়মে ‘জিরো টলারেন্স’: কৃষিমন্ত্রী

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
চট্টগ্রাম ব্যুরো

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেছেন, বন্যাকবলিত চট্টগ্রাম অঞ্চলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ অনেক বেশি। সরকারের পক্ষে একবারে সব ক্ষতি পূরণ করা সম্ভব না হলেও কৃষকদের দ্রুত ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য বীজ, সার, গবাদিপশুর ভ্যাকসিন ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। বীজ ও ভ্যাকসিন বিতরণে কোনো ধরনের অনিয়ম বা দুর্নীতি সহ্য করা হবে না। এ বিষয়ে সরকারের অবস্থান ‘জিরো টলারেন্স’।

শনিবার (১৮ জুলাই) মন্ত্রী চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে বিভাগীয় ও জেলা পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সাথে মতবিনিময়কালে এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, প্রত্যেক মানুষের জীবনেই দুঃসময় আসে। সেই সময়ে সরকার ও সমাজ যদি ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ায়, তবে তারা নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর শক্তি পায়। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ও খামারিদের পুনর্বাসনে সরকার সর্বোচ্চ আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করছে।

মন্ত্রী কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের কাছে যেন কোনো ধরনের অতিরিক্ত মূল্য নেওয়া না হয় এবং সরকারি সহায়তা যেন প্রকৃত উপকারভোগীদের হাতে পৌঁছে- তা নিশ্চিত করতে হবে। অতীতের মতো কোনো অনিয়ম বরদাশত করা হবে না।

গবাদিপশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, আগামী ১৫ দিনের মধ্যে বন্যাকবলিত এলাকায় শতভাগ গবাদিপশুকে এফএমডি (ক্ষুরা রোগ) প্রতিরোধী ভ্যাকসিনের আওতায় আনা হবে। ছয় মাস আগে যেসব পশুকে টিকা দেওয়া হয়েছে, নির্ধারিত সময় অনুযায়ী তাদেরও পুনরায় টিকা নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি বলেন, একটি গবাদিপশু মারা গেলে একজন খামারির যে আর্থিক ও মানসিক ক্ষতি হয়, তা অনুধাবন করেই সরকার দ্রুত ভ্যাকসিন কার্যক্রম জোরদার করছে।

এ সময় কৃষি মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব মো: খোরশেদ আলম, চট্টগ্রাম বিভাগীয় মৎস্য অধিদপ্তরের পরিচালক মো: আনোয়ার হোসেন, চট্টগ্রাম বিভাগীয় প্রাণিসম্পদ দপ্তরের পরিচালক ডা. মো: আতিয়ার রহমান, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ, জেলা মৎস্য কর্মকর্তা সালমা বেগম, জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা.মো: আলমগীর, চট্টগ্রাম অঞ্চলের উপ-পরিচালক আপ্রু মারমা, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দ মাহবুবুল হক- সহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


খুলে দেওয়া হলো কাপ্তাই বাঁধের ১৬ জলকপাট

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বিজয় ধর, রাঙামাটি

রাঙামাটির কাপ্তাই লেকের পানির উচ্চতা বিপৎসীমার কাছাকাছি পৌঁছানোয় শনিবার (১৮ জুলাই) সকাল ১১টা ২০ মিনিট এ কাপ্তাই কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের স্পিলওয়ের ১৬টি জলকপাট ৬ ইঞ্চি করে একযোগে খুলে দেওয়া হয়েছে। এর ফলে প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ৯ হাজার কিউসেক পানি কর্ণফুলী নদীতে প্রবাহিত হচ্ছে।

কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মাহমুদ হাসান জানান, শনিবার সকাল ১০ টায় কাপ্তাই লেকের পানির উচ্চতা ১০৪.০৮ ফুট এমএসএলে পৌঁছায়। টানা বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে লেকে পানির প্রবাহ বাড়তে থাকায় পানি নিয়ন্ত্রণে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, বর্তমানে বিদ্যুৎকেন্দ্রের পাঁচটি ইউনিট চালু রয়েছে। এসব ইউনিট থেকে গড়ে ২শত ২২ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের পাশাপাশি প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ৩২ হাজার কিউসেক পানি টারবাইনের মাধ্যমে নিষ্কাশন করা হচ্ছে।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) বিদ্যুৎকেন্দ্র কর্তৃপক্ষ এক বিজ্ঞপ্তিতে স্পিলওয়ের জলকপাট খুলে পানি ছাড়ার প্রস্তুতির কথা জানায়। লেকের সর্বোচ্চ পানি ধারণক্ষমতা ১০৯ ফুট এমএসএল। পরিস্থিতি অনুযায়ী প্রয়োজনে পর্যায়ক্রমে গেট আরও খুলে পানি নিষ্কাশনের পরিমাণ বাড়ানো হতে পারে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

এদিকে কর্ণফুলী নদীর তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে বলে জানানো হয়েছে।

এদিকে রাঙামাটি জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী শনিবার কাপ্তাই পানি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের জলকপাট দিয়ে পানি ছাড়ার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন। এসময় রাঙামাটি জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো: রুহুল আমিন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) আলমগীর হোসেন, কাপ্তাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রায়হানুল ইসলামসহ কাপ্তাই পিডিবি এবং রাঙামাটি জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


চাঁপাইনবাবগঞ্জে বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা ও ছানি অপারেশন

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি

চাঁপাইনবাবগঞ্জে বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা, ওষুধ বিতরণ, চশমা প্রদান ও ছানি রোগী বাছাই কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (১৮ জুলাই) সকালে সদর উপজেলার পৌর এলাকার নামো শংকর বাটী ডিগ্রি কলেজে বগুড়ার গাক চক্ষু হাসপাতালের উদ্যোগে এ চক্ষু ক্যাম্পের আয়োজন করা হয়।

চক্ষু ক্যাম্প উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় গ্রামীণ উন্নয়ন কর্ম (গাক) এর জ্যেষ্ঠ পরিচালক ড. মাহবুব আলমের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন, সদর উপজেলা ভূমি কর্মকর্তা ইকরামুল হক, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি সম্প্রসারণ অনুষদের শিক্ষক প্রফেসর ড মোস্তাফিজুর রহমান, গণ যোগাযোগ ও সাংবাদিক অনুষদের মশিহুর রহমানসহ অন্যান্যরা।

বক্তারা,গাক চক্ষু হাসপাতালের অসচ্ছল মানুষের দোরগোড়ায় চক্ষুসেবা পৌঁছে দেওয়ার এই ধরনের উদ্যোগের ভুয়সি প্রশংসা করেন। গাকে'র এ ধরনের কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে এমন প্রত্যাশার কথা জানান বক্তারা ।

চক্ষু ক্যাম্পে আগত বিভিন্ন বয়সী মানুষ বিনামূল্যে চক্ষু পরীক্ষা করান। আয়োজকরা জানান,'ক্যাম্পে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে নির্বাচিত ছানি রোগীদের বিনামূল্যে অস্ত্রোপচারের জন্য বগুড়ার বনানীতে অবস্থিত গাক চক্ষু হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, নির্বাচিত রোগীদের যাতায়াত, অস্ত্রোপচার, ওষুধ, চশমা এবং থাকা-খাওয়ার সব ব্যয় বহন করবে গাক চক্ষু হাসপাতাল। এ ছাড়া চক্ষু ক্যাম্পে সেবা গ্রহীতা রোগীদের প্রয়োজন অনুযায়ী বিনামূল্যে ওষুধ এবং চশমা বিতরণ করা হয়।'

চক্ষু ক্যাম্প বাস্তবায়নে সার্বিক সহযোগিতা করে নামো শংকর বাটী ডিগ্রি কলেজ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ।


তিনজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত ১২ জনের নামে মামলা

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি

কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলা বিএনপির সভাপতি জাহিদুল আলম জাহাঙ্গীর হত্যার ঘটনায় তিনজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১০ থেকে ১২ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা হয়েছে। গত শুক্রবার (১৭ জুলাই) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে নিহতের স্ত্রী তসলিমা আক্তার চৌধুরী বাদী হয়ে মিঠামইন থানায় মামলাটি করেন।

মামলার এজাহারে নাম উল্লেখ করা তিন আসামি হলেন বরগুনার বামনা উপজেলার চাকাতাসুনিয়া গ্রামের মৃত সুলতান মীরনের ছেলে মো. হেলাল (২৪), লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলার সুধামপুর গ্রামের নূর হোসেনের ছেলে মহিন উদ্দিন (৩২) এবং একই উপজেলার মধ্যপাড়া গ্রামের রহমত উল্লাহ খোকনের ছেলে মো. শাহিন আলম ওরফে শাকিল (২৭)।

পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার রাতে স্থানীয় লোকজন মো. হেলালকে আটক করেন। পরে অভিযান চালিয়ে একই রাতে মহিন উদ্দিন ও শাহিন আলম ওরফে শাকিলকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এজাহারে বাদী উল্লেখ করেন, গত বুধবার (১৫ জুলাই) রাত পৌনে ১০টার দিকে মিঠামইন উপজেলা সদরের বেড়িবাঁধ এলাকায় নিজ বাসভবনে প্রবেশের সময় আগে থেকে ওত পেতে থাকা একদল সন্ত্রাসী পরিকল্পিতভাবে তার স্বামীর ওপর ধারালো চাপাতি, কিরিচ, কুড়াল ও রামদাসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে অতর্কিত হামলা চালায়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন।

পরে তাকে উদ্ধার করে কিশোরগঞ্জের শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

মিঠামইন থানার ওসি মনোয়ার হোসেন বলেন, মামলার লিখিত অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে। গ্রেপ্তার তিন আসামি কারাগারে আছে। পাশাপাশি হত্যাকাণ্ডের মূল কারণ উদ্‌ঘাটন এবং জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

এদিকে শুক্রবার (১৭ জুলাই) জুমার নামাজের পর স্থানীয় হেলিপ্যাড মাঠে জাহিদুল আলম জাহাঙ্গীরের জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। এতে জেলা বিএনপির সভাপতি ও পাট ও বস্ত্র প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও কিশোরগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মাজহারুল ইসলাম, কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমানসহ দলীয় নেতা-কর্মী এবং বিপুলসংখ্যক স্থানীয় মানুষ অংশ নেন।

জানাজা শেষে কাঠবাজার-সংলগ্ন পারিবারিক কবরস্থানে জাহিদুল আলম জাহাঙ্গীরকে দাফন করা হয়।


অবশেষে নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রমের উদ্বোধন

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
সবুজ হোসেন, নওগাঁ

দীর্ঘ প্রতিক্ষার পর বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে শিক্ষা কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয়ের। শনিবার (১৮ জুলাই) বেলা সাড়ে ১১ টার দিকে শহরের বরুনকান্দি মোড় এলাকায় অবস্থিত বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্থায়ী ক্যাম্পাসে নামফলক উন্মোচনের মধ্য দিয়ে শিক্ষা কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন প্রধান অতিথি শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

এসময় মন্ত্রী বিশ্ববিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষ, আধুনিক ল্যাইব্রেরি এবং কম্পিউটার ল্যাব ঘুরে দেখেন।

ফলক উন্মোচন অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব আব্দুল খালেক, বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড.মামুন আহমেদ, ইউজিসির সদস্য অধ্যাপক ড.আব্দুল্লাহ আল মামুন, মাধ্যমিক উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক ড.খান মঈনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল,বিশ্ববিদ্যালয়ের উপচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ হাছানাত আলীসহ নওগাঁর ৬টি সংসদীয় আসনের সংসদ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

পরে দুপুর সোয়া ১২টার দিকে সদর উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে আয়োজিত সুধী সমাবেশ ও নবাগত শিক্ষার্থীদের বরণ অনুষ্ঠানে যোগ দেন প্রধান অতিথি।


সেই শিশু নিরবের পাশে দাঁড়ালেন নীলফামারী জেলা প্রশাসক

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নীলফামারী প্রতিনিধি

কুপির তেল ফুরিয়ে গেলে নীলফামারী রেলওয়ে স্টেশনের ল্যাম্পপোস্টের আলোয় বসে পড়াশোনা করা সাত বছরের শিশু নিরবকে নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর তার পাশে দাঁড়িয়েছেন নীলফামারী জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামান।

গত শুক্রবার (১৭ জুলাই) বিকেলে জেলা প্রশাসক নীলফামারী রেলওয়ে স্টেশনের ২ নম্বর প্ল্যাটফর্মসংলগ্ন ছোট্ট ঘরে গিয়ে নিরব ও তার পরিবারের খোঁজখবর নেন। এ সময় তিনি পরিবারের হাতে খাদ্য সহায়তা তুলে দেন।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামান বলেন, ‘সংবাদটি আমার নজরে আসে। সেখানে দেখেছি, বাড়িতে বিদ্যুৎ না থাকায় নিরব প্রতিদিন সন্ধ্যা থেকে রাত পর্যন্ত স্টেশনের ল্যাম্পপোস্টের আলোয় পড়াশোনা করে। বড় হয়ে সে সেনাবাহিনীর কর্মকর্তা হওয়ার স্বপ্ন দেখে। তার সেই স্বপ্ন পূরণে আমরা পাশে দাঁড়িয়েছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘নিরব পড়াশোনার প্রতি অত্যন্ত আগ্রহী। তাই সরকারি শিশু সদনের মাধ্যমে তার পড়াশোনার দায়িত্ব নেওয়া হয়েছে। সে কিছুটা অসুস্থ, তাই তার চিকিৎসার ব্যবস্থাও করা হবে। এ ছাড়া পরিবারটি রেলওয়ের জমিতে বসবাস করছে। সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে তাদের জন্য সরকারি খাস জমির ব্যবস্থা করে স্থায়ী আবাসনের জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে নির্দেশ দিয়েছি ‘

জেলা প্রশাসকের এই উদ্যোগে স্বস্তি ও আনন্দ প্রকাশ করেন নিরবের মা রুপসানা বেগম। তিনি সন্তানের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের জন্য জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে সম্মতি জানান।

এ সময় সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোবাশ্বিরা আমাতুল্লাহ, জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. মনোয়ারুল ইসলাম, নীলফামারী সরকারি শিশু পরিবার (বালক)-এর উপতত্ত্বাবধায়ক শাহ মো. আল আমিন, নীলফামারী রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার মিঠুন রায়সহ জেলা প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


সন্ধ্যার মধ্যে দেশের ৮ অঞ্চলে ৬০ কিমি বেগে ঝড়ের আভাস

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
অনলাইন ডেস্ক

দেশের আটটি অঞ্চলের ওপর দিয়ে অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়ার পূর্বাভাস দিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর। এসব এলাকায় ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৬০ কিলোমিটার বেগে বাতাসের পাশাপাশি বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত প্রদর্শনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শনিবার (১৮ জুন) আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ ড. মুহাম্মদ আবুল কালাম মল্লিক স্বাক্ষরিত এক বিশেষ বুলেটিনে এই তথ্য জানানো হয়েছে। আবহাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, আজ সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার এবং সিলেট অঞ্চলের ওপর দিয়ে দক্ষিণ বা দক্ষিণ-পূর্ব দিক হতে ৪৫ হতে ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এসব এলাকার আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকার পাশাপাশি বজ্রসহ বৃষ্টিপাতের প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।

এদিকে, আবহাওয়ার অন্য এক পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে যে, পশ্চিমবঙ্গ ও সংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত সুস্পষ্ট লঘুচাপটি বর্তমানে দুর্বল হয়ে বিহার অঞ্চলে অবস্থান করছে। এটি আরও দুর্বল হয়ে মৌসুমি বায়ুর অক্ষের সাথে মিশে যেতে পারে। বর্তমানে মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলে সক্রিয় এবং দেশের অন্যত্র মোটামুটি সক্রিয় অবস্থায় রয়েছে। উত্তর বঙ্গোপসাগরে এটি বেশ প্রবল রূপ ধারণ করেছে।

এর প্রভাবে আগামীকাল রবিবার সকাল ৯টা পর্যন্ত রংপুর, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ স্থানে এবং দেশের অন্যান্য বিভাগের অনেক জায়গায় হালকা হতে মাঝারি ধরণের বৃষ্টিপাত হতে পারে। বিশেষ করে রংপুর বিভাগের কিছু কিছু স্থানে ভারী হতে অতি ভারী বর্ষণের সতর্কতা দেওয়া হয়েছে। এই সময়ে সারাদেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রায় বড় কোনো পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই বলে আবহাওয়া অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে।


দেশের সকল সমুদ্র বন্দরে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর এলাকায় বায়ুচাপের আধিক্যের ফলে উপকূলীয় অঞ্চল ও সমুদ্র বন্দরগুলোতে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার সৃষ্টি হয়েছে। এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে দেশের সকল সমুদ্র বন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত প্রদর্শনের নির্দেশ দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। শনিবার (১৮ জুলাই) এক বিশেষ সতর্কবার্তায় এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের পক্ষ হতে জানানো হয়েছে যে, বায়ুচাপের তারতম্যের প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগর, তৎসংলগ্ন বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকা এবং সমুদ্র বন্দরসমূহের ওপর দিয়ে শক্তিশালী ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরকে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত (পুনঃ ৩ নম্বর) বহাল রাখতে বলা হয়েছে।

দুর্যোগপূর্ণ এই আবহাওয়ার প্রেক্ষাপটে সাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারসমূহকে জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিতে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি অবস্থান করতে এবং অত্যন্ত সাবধানতার সাথে চলাচল করতে কঠোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বায়ুচাপের এই অস্থিতিশীলতা উপকূলীয় জনপদে কোনো ধরণের ক্ষয়ক্ষতি ঘটাতে পারে কি না, সে বিষয়েও নজরদারি রাখছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।


পানির উচ্চতা বৃদ্ধি, শনিবার কাপ্তাই বাঁধের ১৬ জলকপাট খোলা হচ্ছে

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

জেলার কাপ্তাই লেকের পানির উচ্চতা বৃদ্ধি পাওয়ায় আজ শনিবার বাঁধের স্পিলওয়ের ১৬টি জলকপাট আংশিক খুলে পানি নিষ্কাশনের প্রস্তুতি নিয়েছে কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র কর্তৃপক্ষ।

উজান ও ভাটির পানি ব্যবস্থাপনা এবং সম্ভাব্য বন্যা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

গত বৃহস্পতিবার (১৭ জুলাই) রাতে কাপ্তাই কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক (তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী) মাহমুদ হাসান স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয় ।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) সন্ধ্যা ৭টায় কাপ্তাই লেকের পানির উচ্চতা ছিল ১০৩ দশমিক ৯১ ফুট এমএসএল। লেকের সর্বোচ্চ পানি ধারণক্ষমতা ১০৯ ফুট এমএসএল। সাম্প্রতিক ভারি বৃষ্টিপাতে ক্যাচমেন্ট এলাকায় পানির প্রবাহ বেড়ে যাওয়ায় লেকের পানি দ্রুত বাড়ছে।

এ পরিস্থিতিতে আগামী শনিবার (১৮ জুলাই) বেলা ১১টার পর যেকোনো সময় স্পিলওয়ের ১৬টি গেট ৬ ইঞ্চি করে খুলে পানি নিষ্কাশন শুরু করা হতে পারে। প্রাথমিকভাবে এতে প্রায় ৯ হাজার কিউসেক পানি কর্ণফুলী নদীতে প্রবাহিত হবে।

এ বিষয়ে কাপ্তাই পানি বিদ্যুৎকেন্দ্রের ব্যবস্থাপক (তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী) মাহমুদ হাসান গণমাধ্যমকে বলেন, ‘লেকের পানির উচ্চতা, উজান থেকে আসা পানির প্রবাহ (ইনফ্লো) এবং বৃষ্টিপাতের পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। পরিস্থিতির পরিবর্তনের ওপর ভিত্তি করে স্পিলওয়ে খোলার সময় এগিয়ে বা পিছিয়ে দেওয়া হতে পারে। একই সঙ্গে ইনফ্লো আরও বৃদ্ধি পেলে পর্যায়ক্রমে গেট আরও বেশি খুলে পানি নিষ্কাশনের পরিমাণ বাড়ানো হবে।’

তিনি আরও জানান, বর্তমানে কাপ্তাই পানি বিদ্যুৎকেন্দ্রের পাঁচটি ইউনিট চালু রয়েছে। এসব ইউনিটের মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদনের পাশাপাশি প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ৩২ হাজার কিউসেক পানি নিষ্কাশন করা হচ্ছে।

এদিকে স্পিলওয়ে খোলার সম্ভাব্য ঘোষণায় কর্ণফুলী নদীর তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। পরিস্থিতি অনুযায়ী পরবর্তী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছে বিউবো।


বান্দরবানে অনুপ্রবেশের অভিযোগে মিয়ানমারের দুই নারীসহ আটক ৩

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বান্দরবান প্রতিনিধি

বান্দরবানের থানচি উপজেলার সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের অভিযোগে মিয়ানমারের দুই নারী নাগরিক ও তাদের এক বাংলাদেশি সহযোগীকে আটক করে থানচি থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, আটক তিনজনের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

শুক্রবার (১৬ জুলাই) এ ঘটনায় থানচি থানায় একটি মামলা দায়ের করে তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

আটককৃতরা হলেন- মিয়ানমারের মংডু এলাকার বাসিন্দা মা তুন যং ম্রো (২০), মা তুন ইয়াং ম্রো (২১) এবং তাদের সহযোগী বান্দরবানের থানচি উপজেলার সদর ইউনিয়নের ওয়াক চাক্কুপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মুয়ই ম্রো (৪৬)।

থানচি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কানন সরকার জানান, সীমান্ত এলাকা দিয়ে অবৈধ অনুপ্রবেশ ও এ সংক্রান্ত অপরাধ প্রতিরোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান অব্যাহত রয়েছে, আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

সীমান্তবর্তী বংকুপাড়া বিজিবি ক্যাম্পের সদস্যরা গত বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) মিয়ানমারের দুই নারী নাগরিক ও তাদের বাংলাদেশি এক সহযোগীকে আটক করেন। পরে তাদের পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে।


মিঠামইনে বিএনপি সভাপতি জাহাঙ্গীরের দাফন সম্পন্ন, হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তির আশ্বাস

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক, কিশোরগঞ্জ

কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলা বিএনপির সভাপতি জাহেদুল আলম জাহাঙ্গীর হত্যা মামলার সঙ্গে জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তির আওতায় আনার আশ্বাস দিয়েছেন বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম।

শুক্রবার (১৭ জুলাই) বিকেলে মিঠামইন সদরের হেলিপ্যাড মাঠে জাহাঙ্গীরের জানাজা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

এর আগে জুমার নামাজের পর হেলিপ্যাড মাঠে জাহেদুল আলম জাহাঙ্গীরের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

শরীফুল আলম বলেন, “জাহাঙ্গীর দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত কর্মী ছিলেন। প্রায় ১৭ বছর আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ছিলেন। বাড়িঘর ছেড়ে কঠিন সময় পার করেও সুসময়ে এসে এভাবে হত্যাকাণ্ডের শিকার হবেন, তা কল্পনাও করা যায় না। তার এই অকাল মৃত্যু আমাদের গভীরভাবে শোকাহত করেছে।”

শরীফুল আলম আরও বলেন, এ হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং দলের উচ্চপর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। কারা ইন্দনদাতা সেটিও দেখছে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী। তিনি বলেন, ভাড়াটে খুনি এনে হত্যাকাণ্ড হাওরে বিরল ঘটনা। এর পিছনে যারাই জড়িত, তারা যতই শক্তিশালী হোক কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।

কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান বলেন, জাহাঙ্গীর দীর্ঘদিন ধরে দলের জন্য নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করেছেন এবং প্রতিটি আন্দোলন-সংগ্রামে সাহসিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন। তাকে গভীর ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে হত্যা করা হয়েছে। তিনি বলেন, হামলায় জড়িতদের গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশকে ধন্যবাদ জানাই। তবে শুধু হামলাকারীদের গ্রেপ্তার করলেই হবে না, হত্যার নেপথ্যে থাকা পরিকল্পনাকারী, অর্থদাতা ও মদদদাতাদেরও দ্রুত আইনের আওতায় আনতে হবে।

তিনি আরও বলেন, জাহাঙ্গীর শুধু রাজনৈতিক সহকর্মী ছিলেন না, দলের একজন নিবেদিতপ্রাণ সৈনিক ছিলেন। তার মৃত্যু বিএনপির জন্য বড় ক্ষতি। নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি।

জানাজায় কিশোরগঞ্জ-৬ আসনের সংসদ সদস্য ও বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম, কিশোরগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মাজহারুল ইসলাম, কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান, জেলা ও উপজেলা বিএনপি এবং বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীসহ বিপুলসংখ্যক স্থানীয় মানুষ অংশ নেন।


রাজধানীর ডেমরা পুলিশ লাইনস ভবন থেকে কনস্টেবলের মরদেহ উদ্ধার

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর ডেমরা পুলিশ লাইনস ভবন থেকে মো. সাইদুল ইসলাম (২১) নামে এক পুলিশ কনস্টেবলের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। শুক্রবার (১৭ জুলাই) সকালে সহপাঠীরা উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, পারিবারিক কলহ থেকে হতাশা এবং তারপর গলায় ফাঁস দিয়ে মৃত্যু হয়েছে তার।

নিহত সাইদুল ইসলাম ফেনী সদর উপজেলার লেমুয়া উত্তর চাঁদপুর গ্রামের মো. সাদেকের ছেলে। তার পুলিশ বিপি নম্বর: ০৭২৬২৬৬৪৬৫। তিনি ডেমরা পুলিশ লাইনের ২০ তলা ভবনের নবম তলার একটি কক্ষে থাকতেন। মাত্র ৯ মাস আগে তিনি পুলিশ কনস্টেবল পদে চাকরিতে যোগদান করেছিলেন।

তার চাচা মো. সোহাগ জানান, পারিবারিক কলহের জেরে সাইদুল কিছুদিন ধরে চরম বিষণ্ণতায় ভুগছিলেন। গত রাত আনুমানিক সাড়ে ১১টার দিকে ডেমরা পুলিশ লাইনের ওই ভবনের সপ্তম তলায় নিজের রুমে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে বিছানার চাদর পেঁচিয়ে ফাঁস দেন। ​পরে তাকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। তবে হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই তার মৃত্যু হয় বলে চিকিৎসকরা জানান।

​ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. ফারুক চিকিৎসকের বরাত দিয়ে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢামেক হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। ঘটনাটি সংশ্লিষ্ট থানাকে অবহিত করা হয়েছে এবং পুলিশ এ বিষয়ে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নিচ্ছে। এদিকে মৃত্যুর পূর্বে নিজের ফেসবুকে এক পোস্টে সাইদুল লেখে গেছেন হতাশার কথা।


banner close