শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬
৯ কার্তিক ১৪৩৩

উপজেলা নির্বাচনের প্রথম ধাপে যারা বিজয়ী হলেন

ফাইল ছবি
আপডেটেড
৯ মে, ২০২৪ ১৫:৩১
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত : ৯ মে, ২০২৪ ১৫:১২

ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের প্রথম ধাপে ১৩৯টি উপজেলায় ভোটগ্রহণ শেষ হয়েছে। গতকাল বুধবার সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ করা হয়। ভোট গণনা শেষে রাতে নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা করেন রিটার্নিং কর্মকর্তারা। যারা এবার নির্বাচিত হলেন:

নবাবগঞ্জ (ঢাকা) : নাসির উদ্দিন আহমেদ ঝিলু বিপুল ভোটে ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। আনারস প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ৪১৪২১ ভোট। এ ছাড়া ভাইস চেয়ারম্যান পদে ইঞ্জিনিয়ার আরিফুর রহমান জয়ী হয়েছেন। তালা প্রতীক নিয়ে তিনি পেয়েছেন ৪৪৩০০ ভোট। মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে কলস প্রতীক নিয়ে ২৫১৮১ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন রোকসানা।দোহার উপজেলায় আলমগীর হোসেন আনারস প্রতীক নিয়ে ৩৭,৫৫৪ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন।

এ ছাড়া ভাইস চেয়ারম্যান পদে মোহাম্মদ গিয়াসউদ্দিন সোহাগ (তালা প্রতীক) নিয়ে ৪৯ হাজার ৭৪৬ ভোট এবং মহিল ভাইস চেয়ারম্যান পদে শামীমা আক্তার বিথী (হাঁস প্রতীক) নিয়ে ৩০ হাজার ৬৭১ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন।

নরসিংদী: নরসিংদী সদর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আনোয়ার হোসেন বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছে। ভাইস চেয়ারম্যান পদে মো. ওয়ালিউর রহমান ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে আঞ্জুমান বেগম জিয়ী হয়েছে।

এ ছাড়া পলাশ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে সৈয়দ জাবেদ হোসেন চেয়ারম্যান নির্বিাচিত হয়েছে। ভাইস চেয়ারম্যান পদে কারী উল্লাহ সরকার ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে সেলিনা আক্তার বিজয়ী হয়েছে। এ নিয়ে সৈয়দ জাবেদ হোসেন তিনবার উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলেন।

চাঁদপুর: চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে দোয়াত-কলম প্রতীক নিয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন অধ্যাপক সিরাজুল মোস্তফা তালকুদার। মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে নাজমা আক্তার আঁখি নির্বাচিত হন। তবে পুরুষ ভাইস চেয়ারম্যান পদে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন শওকত হোসেন বাদল। মতলব উত্তরে ঘোড়া প্রতীকে ৩৩ হাজার ৭০৭ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন মোহাম্মদ মানিক (আওয়ামী লীগ)।

এই উপজেলায় পুরুষ ভাইস চেয়ারম্যান পদে রিয়াজউদ্দিন রিয়াজ নির্বাচিত হন। তবে মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন লাভলী চৌধুরী।

গাজীপুর: গাজীপুর সদর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ইজাদুর রহমান মিলন বেসরকারিভাবে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হয়েছেন। এ ছাড়া ভাইস চেয়ারম্যান পদে বেলায়েত হোসেন ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে হাসিনা সরকার নির্বাচিত হয়েছেন।

কালীগঞ্জ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে মোহাম্মদ আমজাদ হোসেন নির্বাচিত হয়েছেন। ভাইস চেয়ারম্যান পদে মোজাম্মেল হক এবং মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে জুয়েনা আহমেদ নির্বাচিত হয়েছেন।

এ ছাড়া কাপাসিয়া উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে মো. আমানত হোসেন খান নির্বাচিত হয়েছেন। ভাইস চেয়ারম্যান পদে হাফিজুল হক চৌধুরী ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান শামীমা নাসরিন বিজয়ী হয়েছেন।

টাঙ্গাইল: টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে বেসরকারিভাবে জয়ী হয়েছেন আবদুল ওয়াদুদ তালুকদার সবুজ। অন্যদিকে মধুপুর উপজেলায় জয়ী হয়েছেন অ্যাডভোকেট ইয়াকুব আলী।

মানিকগঞ্জ: মানিকগঞ্জের সিংগাইরে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন কাপ পিরিচ প্রতিকের সায়েদুল ইসলাম। এছাড়া ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন মো. রমিজ উদ্দিন এবং মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান হয়েছেন আনোয়ারা খাতুন।

হরিরামপুরে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন দেওয়ান সাইদুর রহমান। ভাইস-চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন মো. বিল্লাল হোসেন ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান হয়েছেন শামিমা আক্তার চায়না।

ফরিদপুর: কারাগারে থেকে ফরিদপুর সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে আনারস প্রতীক নিয়ে নির্বাচিত হয়েছেন মো. সামচুল আলম চৌধুরী। তিনি পেয়েছেন ৩১ হাজার ৯৩১ ভোট।

রাজবাড়ী: প্রথম ধাপে রাজবাড়ীর পাংশা ও কালুখালী উপজেলা পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (৮ মে) ভোটগ্রহণ শেষে রাত সাড়ে ১০টায় বেসরকারিভাবে ফলাফল ঘোষণা করেন রিটার্নিং অফিসার।

পাংশা উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে ৫৪ হাজার ৫৭৭ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোটরসাইকেল প্রতীকের খন্দকার সাইফুল ইসলাম বুড়ো। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আনারস প্রতীকের ফরিদ হাসান ওদুদ ৩৫ হাজার ৯৪২ ভোট পেয়ে পরাজিত হয়েছেন।

অপরদিকে কালুখালী উপজেলা পরিষদের নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে আলিউজ্জামান চৌধুরী টিটু আনারস প্রতীকে ৩৮ হাজার ৫৭৮ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন। এছাড়া অপর তিন প্রার্থীর মধ্যে এনায়েত হোসেন মোটরসাইকেল প্রতীকে ২ হাজার ৯০০ ভোট, এ বি এম রোকনুজ্জামান কাপ পিরিচ প্রতীকে ৩৪১ ভোট ও মাসুদুর রহমান দোয়াত-কলম প্রতীকে ২৩৭ ভোট পেয়ে পরাজিত হয়েছেন।

জেলা নির্বাচন অফিসার ও ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদের প্রথম ধাপের নির্বাচনের রিটার্নিং অফিসার অলিউল ইসলাম বলেন, প্রথম ধাপে পাংশা ও কালুখালী উপজেলা পরিষদের নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হয়েছে। কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পর বেসরকারিভাবে ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছে। কোনো প্রার্থীর আজকের নির্বাচন নিয়ে অভিযোগ ছিল না।

মধুখালী উপজেলায় দোয়াতকলম প্রতীকে মোহাম্মদ মুরাদুজ্জামান ২৯ হাজার ৪৭৮ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। চরভদ্রাসনে আনারস প্রতীকে আনোয়ার আলী মোল্লা ১৬ হাজার ১৬ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন।

মাদারীপুর: মাদারীপুর সদর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে বিজয়ী হয়েছেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য, মাদারীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) শাজাহান খানের ছেলে আসিবুর রহমান খান আসিব। আনারস প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে তিনি মোট ভোট পেয়েছেন ৭৫৫৯৪।

ভাইস চেয়ারম্যান পদে মনিরুল ইসলাম ভূঁইয়া তালা প্রতীকে ৬০ হাজার ১০৫ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন। অন্যদিকে মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে হাঁস প্রতীকের ফারিয়া হাসান রাখি ৫৬ হাজার ১৭৫ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন।

রাতে এ ফলাফল ঘোষণা করেন সদর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও নির্বাচন কর্মকর্তা মোসা. নাননী খান।

রাজৈর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে মোটরসাইকেল প্রতীকে ৪৩ হাজার ৭শ ৪১ ভোট পেয়ে মোহসিন মিয়া বেসরকারি ভাবে চেয়ারম্যান বিজয়ী হয়েছেন।

শরীয়তপুর: শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে একেএম ইসমাইল হক, ভাইস চেয়ারম্যান পদে আলমগীর ফকির ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে রাজিয়া সুলতানা মনি বিজয়ী হয়েছেন।

ভেদরগঞ্জ উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে ওয়াছেল কবির গুলফাম, ভাইস চেয়ারম্যান পদে আজাহারুল ইসলাম গাজী ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে রোকসানা আনোয়ার বিজয়ী হয়েছেন।

গোপালগঞ্জ: গোপালগঞ্জ সদর উপজেলায় বিশিষ্ট আইটি ব্যবসায়ী ও কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক লীগের উপদেষ্টা কামরুজ্জামান ভূঁইয়াবেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি টেলিফোন প্রতীকে ৩১ হাজার ৩৫৪ ভোট পেয়েছেন। কোটালীপাড়ায় উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য বিমল কৃষ্ণ বিশ্বাস ৪০ হাজার ২৭১ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার প্রতীক দোয়াত-কলম। দোয়াত-কলম প্রতীক নিয়ে ৪০ হাজার ৭৯২ ভোট পেয়ে টুঙ্গিপাড়ায় উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. বাবুল শেখ নির্বাচত হয়েছেন।

কিশোরগঞ্জ: কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে মোহাম্মদ সোহেল বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। আনারস প্রতীকে ২৩ হাজার ৯৬৬ ভোট পেয়ে দ্বিতীয়বারের মতো উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলেন তিনি।

পুরুষ ভাইস চেয়ারম্যান পদে মোহাম্মদ আল আমিন (অপু) বিজয়ী হয়েছেন। টিউবওয়েল প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ৩৭ হাজার ৫৪১ ভোট। মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে কলস প্রতীকে ৪৯ হাজার ৫২৫ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন ছাবিয়া পারভীন জেনি।

বরিশাল: রিটার্নিং কর্মকর্তা বরিশাল জেলার জ্যেষ্ঠ নির্বাচন অফিসার ওহিদুজ্জামান মুন্সী জানান, সদর উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হয়েছেন কাপ-পিরিচ প্রতীকের আব্দুল মালেক। তিনি পেয়েছেন ১৯ হাজার ৮০৭ ভোট।

ভাইস চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হয়েছেন মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মো. জসিমউদ্দিন। তিনি তালা প্রতীক নিয়ে ২৯ হাজার ৯৩৭ ভোট পেয়েছেন। এ ছাড়া মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হয়েছেন অ্যাডভোকেট হালিমা বেগম। তিনি পেয়েছেন ৪১ হাজার ৫৩৫ ভোট।

বাকেরগঞ্জ উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হয়েছেন রাজিব আহম্মদ তালুকদার। তিনি কাপ-পিরিচ প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ৩৮ হাজার ৮৬৫ ভোট। তার মা পারভীন তালুকদার আওয়ামী লীগের সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য ছিলেন। এছাড়া ভাইস চেয়ারম্যান পদে আবদুস সালাম মল্লিক ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে জাহানারা মাহাবুব নির্বাচিত হয়েছেন।

পিরোজপুর: পিরোজপুরের ৩ উপজেলায় বিজয়ী চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যানরা সবাই আওয়ামী লীগের সমর্থক। জেলার সদর উপজেলায় চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন ওই উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়াম্যান এসএম বায়েজিদ হোসেন।

ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন তালা প্রতীকের মো. রফিকুল ইসলাম, এবং মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন পদ্মফুল প্রতীকের শাহানাজ পারভীন (শানু)।

নাজিরপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন এসএম নুরে আলম সিদ্দিকী শাহীন। ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছে চশমা প্রতীকের শেখ মো. মোস্তাফিজুর রহমান রঞ্জু , এবং মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন সেলাই প্রতীকের আলো শিকদার। ইন্দুরকানীতে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. জিয়াউল আহসান গাজী। ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন তালা প্রতীকের মাহমুদুল হক দুলাল ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন কলস প্রতীকের দিলারা পারভীন।

নোয়াখালী: নোয়াখালীর সূবর্ণচর উপজেলায় পরিষদ নির্বাচনে স্থানীয় সংসদ সদস্য একরামুল করিম চৌধুরীর ছেলে আতাহার ইশরাক সাবাব চৌধুরী (আনারস) ৩৭,৬৪৮ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত।

ফেনী: ফেনীর ফুলগাজী উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে ২৭,৬৩৫ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন কাপ-পিরিচ মার্কার প্রার্থী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. হারুন মজুমদার।

ভাইস চেয়ারম্যান পদে ১১,০৮৯ ভোট পেয়ে টিয়া পাখি মার্কার প্রার্থী আমজাদ হাট ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি অনিল বনিক তৃতীয় বারের মতো নির্বাচিত হয়েছেন। মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে উপজেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মঞ্জুরা আজিজ বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন।

মেহেরপুর: মুজিবনগর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আনারস প্রতীকে ১৭ হাজার ৬৩ ভোট পেয়ে আমাম হোসেন মিলু বেসরকারিভাবে উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন।

এ ছাড়া টিউবওয়েল প্রতীক নিয়ে ২০ হাজার ৬৫২ ভোট পেয়ে বিএম জাহিদ হাসান রাজিব ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন এবং কলস প্রতীক নিয়ে ২০ হাজার ৫৮ভোট পেয়ে মোছা. তকলীমা দ্বিতীয়বারের মতো মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন।

মোটরসাইকেল প্রতীক নিয়ে ৪০ হাজার ৯২৩ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে আনারুল ইসলাম মেহেরপুর সদর উপজেলার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন।

চশমা প্রতীক নিয়ে ৩৬ হাজার ১৮৬ ভোট পেয়ে দ্বিতীয়বারের মতো আবুল হাসেম ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। আর মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে বৈদ্যুতিক পাখা প্রতীক নিয়ে ৩৪ হাজার ৬৪৬ ভোট পেয়ে লতিফন নেছা লতা দ্বিতীয়বারের মতো ভাইসচেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন।

কুষ্টিয়া: আনারস প্রতীকে ৬৭ হাজার ৪৮১ ভোট পেয়ে কুষ্টিয়া সদর উপজেলার চেয়ারম্যান পদে আতাউর রহমান আতা নির্বাচিত হয়েছেন। ঘোড়া প্রতীকে ২৫ হাজার ১০১ ভোট পেয়ে খোকসা উপজেলার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন আল মামুস মুর্শেদ শান্ত।

ভাইস চেয়ারম্যান পদে মো. সাহাবুদ্দিন মিয়া ৩৫ হাজার ৩৪৬ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন এবং মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে ২৬ হাজার ৪৪৩ ভোট পেয়েছেন নির্বাচিত হয়েছেন নুর জাহান পারুল।

কক্সবাজার: কক্সবাজার সদর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে হেভিওয়েট প্রার্থী জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক পৌর মেয়র মুজিবুর রহমানকে হারিয়ে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুল আবছার। নুরুল আবছার পেয়েছেন ৩৪৯৭৪ ভোট। তিনি কক্সবাজার পৌরসভার চারবারের টানা চেয়ারম্যান (মেয়রের আগের পদ) ছিলেন।

কুমিল্লা: কুমিল্লার লাকসাম উপজেলায় অ্যাডভোকেট মো. ইউনুছ ভূইয়া বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন। তিনি লাকসাম উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি। অপরদিকে মনোহরগঞ্জ উপজেলায় বিজয়ী হয়েছেন মো. আবদুল মান্নান চৌধুরী। তিনি উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি। এ‌ছাড়া মেঘনা উপজেলায় বিজয়ী হয়েছেন মো. তাজুল ইসলাম তাজ। তিনি উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদে রয়েছেন।

মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন ভোটের মাঠে নতুন মুখ অধ্যাপিকা রোমেনা আকতার। তিনি পেয়েছেন ৩৬,৫৪২ ভোট।অন্যদিকে এ উপজেলায় বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন রশিদ মিয়া। মহেশখালী উপজেলায় চেয়ারম্যান হয়েছেন দোয়াত-কলম প্রতীকের প্রার্থী মোহাম্মদ জয়নাল আবেদীন। তিনি পেয়েছেন ৩৮১২৯ ভোট।

ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন আবু ছালেহ এবং মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান হয়েছেন মনোয়ারা কাজল। কুতুবদীয়ায় ব্যারিস্টার মোহাম্মদ হানিফ বিন কাশেম চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি ঘোড়া প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ২৭৩৯৪ ভোট।

ভাইস চেয়ারম্যান পদে জামায়াতে ইসলামির আকবর খান এবং মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগ নেত্রী হাসিনা আকতার বিউটি নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি তৃতীয়বারের মতো নির্বাচিত হলেন।

রাঙামাটি: রাঙামাটির কাউখালী উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে সামশুদ্দোহা চৌধুরী রড ২৩ হাজার ৬৯৩ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন এছাড়া ভাইস চেয়ারম্যান পদে কোন প্রতিদ্বন্ধী না থাকায় লাথোয়াই মারমা আগেই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে নিংবাইউ মারমা ২১ হাজার ৮০৩ ভোট পেয়ে পুনরায় নির্বাচিত হয়েছেন।

রাঙামাটি সদর উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে অন্ন সাধন চাকমা ১৪ হাজার ৮৮৫ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। পুরুষ ভাইস চেয়ারম্যান পদে পলাশ কুসুম চাকমা ১১ হাজার ৪৫০ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে রিতা চাকমা ২০ হাজার ৭৯৮ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন।

খাগড়াছড়ি: প্রথম ধাপে খাগড়াছড়ির চারটি উপজেলা পরিষদের নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। লক্ষীছড়ি ছাড়া অন্য তিন উপজেলা রামগড়, মানিকছড়ি ও মাটিরাঙ্গায় শান্তিপূর্নভাবে নির্বাচন সম্পন্ন হয়। ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন মো. আলী হোসেন এবং মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান হয়েছেন মোছা. আমেনা বেগম।

রামগড়ে চেয়ারম্যান হয়েছেন আনারস প্রতীকের বিশ্ব প্রদীপ কুমার কার্বারি। ভাইস চেয়ারম্যান পদে চশমা প্রতীকে মোবারক হোসেন এবং মহিলা ভাইস-চেয়ারম্যান পদে প্রজাপতি প্রতীক নিয়ে নাছিমা আহসান নীলা নির্বাচিত হয়েছেন।

মানিকছড়িতে আনারস প্রতীকে পুনরায় চেয়ারম্যান হয়েছেন জয়নাল আবেদিন। ভাইস চেয়ারম্যান পদে বেসরকারি ফলাফলে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন চলাপ্রু মারমা নিলয়। এবং মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন নূর জাহান আফরিন লাকি।

বান্দরবান: বান্দরবান সদরে চেয়ারম্যান পদে মোটরসাইকেল প্রতীক নিয়ে ১৯ হাজার ১৪৪ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন আব্দুল কুদ্দুছ।উড়োজাহাজ প্রতীক নিয়ে ১৩ হাজার ৩৯৮ ভোট পেয়ে ভাইস চেয়ারম্যান পদে বিজয়ী হয়েছেন ফারুক আহমেদ ফাহিম। আর মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে মেহাইনু মারমা ১৭ হাজার ৯০ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার প্রতীক প্রজাপতি।

অন্যদিকে বান্দরবানের আলীকদম উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে দোয়াত-কলম প্রতীক নিয়ে নয় হাজার ৭০০ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন জামাল উদ্দিন। ভাইস চেয়ারম্যান পদে মোহাম্মদ রিটন নয় হাজার ১৪৬ ভোট ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে শিরিন আক্তার আট হাজার ৮৬৮ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন।

বগুড়া: সারিয়াকান্দিতে এমপিপুত্র সাখাওয়াত হোসেন সজল (প্রতীক: আনারস), সোনাতলায় এমপির ছোট ভাই ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট মিনহাদুজ্জামান লীটন (প্রতীক:আনারস) এবং গাবতলীতে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় বন ও পরিবেশ বিষয়ক উপকমিটির সদস্য অরুণ কান্তি রায় সিটন (প্রতীক: ঘোড়া) নির্বাচিত হয়েছেন।

আনারস প্রতীকে অ্যাডভোকেট মিনহাদুজ্জামান লীটন ২০ হাজার ৪৮৩ ভোট পেয়ে পুণরায় নির্বাচিত হয়েছেন। নির্বাচনে ভাইস চেয়ারম্যান পদে যুবলীগ নেতা ফিদা হাসান টিটু এর আগে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেত্রী ওয়াছিয়া আকতার লুনা নির্বাচিত হয়েছেন।

সারিয়াকান্দির চেয়ারম্যান পদে আনারস প্রতীকে সাখাওয়াত হোসেন সজল ৩৭ হাজার ২৪৮ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। গাবতলীর চেয়ারম্যান পদে ঘোড়া প্রতীকে অরুণ কান্তি রায় সিটন ৪১ হাজার ৬০৯ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন।

সিরাজগঞ্জ: আনারস প্রতীকে ৪৭ হাজার ৮৯৭ ভোট পেয়ে সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার চেয়ারম্যান হয়েছেন মো. রিয়াজ উদ্দিন।কাজিপুর উপজেলার চেয়ারম্যান পদে আবার বিজয়ী হয়েছেন বর্তমান চেয়ারম্যান খলিলুর রহমান সিরাজী। আনারস প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ৪৫ হাজার ১৩১ ভোট।

বেলকুচি উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে বিজয়ী হয়েছেন মোহাম্মাদ আমিনুল ইসলাম সরকার। তিনি দোয়াত-কলম প্রতীকে পেয়েছেন ৫৪হাজার ৮৪১ ভোট। রাত সাড়ে ১১টার দিকে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. শহীদুল ইসলাম বেসরকারিভাবে এ ফলাফল ঘোষণা করেন।

সিলেট: ভোট গণনার পর রাতে রিটার্নিং কর্মকর্তা ও সিনিয়র জেলা নির্বাচন অফিসার জিল্লুর রহমান বেসরকারিভাবে ফলাফল ঘোষণা করেন। ঘোষিত ফলাফলে সিলেট সদর উপজেলায় জেলা আওয়ামী লীগ যুগ্ম সম্পাদক অধ্যক্ষ সুজাত আলী রফিক, দক্ষিণ সুরমায় উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বদরুল ইসলাম, গোলাপগঞ্জে সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মঞ্জুর কাদির শাফি এবং বিশ্বনাথ উপজেলায় জেলা বিএনপি সাবেক সহসভাপতি ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মো. সুহেল আহমদ চৌধুরী বিজয়ী হয়েছেন।

কাপ-পিরিচ প্রতীক নিয়ে অধ্যক্ষ সুজাত আলী রফিক পেয়েছেন ২৩ হাজার ২৬৭ ভোট। এ উপজেলায় ভাইস চেয়ারম্যান পদে মো. সাইফুল ইসলাম ১৮ হাজার ৬৪২ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার প্রতীক উড়োজাহাজ।

আর মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে মোছা. হাসিনা আক্তার ফুটবল প্রতীকে ৩৫ হাজার ৭৯২ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। টেলিফোন প্রতীক নিয়ে ২০ হাজার ৬১৫ ভোট পেয়ে দক্ষিণ সুরমা উপজেলার চেয়ারম্যান পদে বিজয়ী হয়েছেন মো. বদরুল ইসলাম। তিনি উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক।

ভাইস চেয়ারম্যান পদে মো.মাহবুবুর রহমান ১৯ হাজার ৮৩০ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার প্রতীক মাইক। মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে পদ্ম ফুল প্রতীকে ২০ হাজার ২৯৮ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন আইরিন আক্তার কলি।

সুনামগঞ্জ: সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলা পরিষদ নির্বাচন চেয়ারম্যান পদে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক প্রদীপ রায় (দোয়াত কলম) প্রতীক নিয়ে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন। এ ছাড়াও ভাইস চেয়ারম্যান পদে এ বি এম মনসুর সুদীপ ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে ছবি চৌধুরী বিজয়ী হয়েছেন।

মৌলভীবাজার: মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়া উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে বিজয়ী হয়েছেন আঞ্জুমানে আল ইসলাহ’র প্রার্থী মাওলানা ফজলুল হক খান সাহেদ।

ময়মনসিংহ: ময়মনসিংহের ফুলপুর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে বিজয়ী হয়েছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহবায়ক মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান। ধোবাউড়া উপজেলা পরিষদ নির্বাচন নির্বাচিত হয়েছেন উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক ডেভিড রানা চিসিম।

এ ছাড়া হালুয়াঘাট উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন উত্তর জেলা বিএনপির বহিষ্কৃত নেতা মোহাম্মদ আবদুল হামিদ।

নেত্রকোনা: নেত্রকোনার দুর্গাপুরে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন নাজমুল হাসান নীরা (সাদ্দাম আকঞ্জি)। তিনি এর আগে উপজেলার ভাইস চেয়ারম্যান ছিলেন। মোটরসাইকেল প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ৩১ হাজার ১৫৫ ভোট।

জুড়ী উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে উপজেলা সেচ্ছাসেবক লীগের আহ্বায়ক কিশোর রায় চৌধুরী মনি বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন।বড়লেখা উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নেতা আজির উদ্দিন বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন।

হবিগঞ্জ: হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলা পরিষদের প্রাক্তন চেয়ারম্যান ইকবাল হোসেন খান আনারস প্রতীকে ৪২ হাজার ৪৩৩ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন।

এ ছাড়া আজমিরীগঞ্জ উপজেলা পরিষদের প্রাক্তন চেয়ারম্যান মো. আলাউদ্দিন মিয়া কাপ পিরিচ প্রতীকে ১৫ হাজার ১৮২ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন।

যশোর: যশোরের কেশবপুর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে মফিজুর রহমান নির্বাচিত হয়েছেন। ঘোড়া প্রতীকে তিনি ভোট পেয়েছেন ১৮ হাজার ৪৬৬।

রাজশাহী: কাপ-পিরিচ প্রতীক নিয়ে ৪৬ হাজার ৩৯৫ ভোট পেয়ে রাজশাহীর তানোর উপজেলার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন লুৎফর হায়দার রশিদ ময়না।

এ দিকে দোয়াত-কলম প্রতীক নিয়ে ৬৭ হাজার ৮৮ ভোট পেয়ে গোদাগাড়ী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন মো. বেলাল উদ্দিন সোহেল। তিনি উপজেলার দেওপাড়া ইউপির চেয়ারম্যান ছিলেন।

ভাইস চেয়ারম্যান পদে তালা প্রতীকের আব্দুল্লাহ আল মামুন ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে ফুটবল প্রতীকের প্রার্থী রাবেয়া খাতুন নির্বাচিত হয়েছেন। মণিরামপুর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আনারস প্রতীকে ৫৪ হাজার ৩২৮ ভোট পেয়ে আমজাদ হোসেন লাভলু নির্বাচিত হয়েছেন।

এ ছাড়া ভাইস চেয়ারম্যান পদে সন্দীপ ঘোষ ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে কাজী জলি আক্তার নির্বাচিত হয়েছেন।

নাটোর: নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে ১১ হাজার ২৪০ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন জেলা আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক (জোড়াফুল প্রতীক) মো. রবিউল ইসলাম।

ভাইস চেয়ারম্যান পদে ১৮ হাজার ৪৯৬ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন মো. খালেদ মাহমুদ ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে ১৮ হাজার ৮১ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন মোছা. রিনা পারভিন।

সদর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে ৩৪ হাজার ৭৯৭ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও কাপ-পিরিচ প্রতীকের প্রার্থী মো. শরিফুল ইসলাম রমজান। ভাইস চেয়ারম্যান পদে বেসরকারিভাবে মো. শরিফুর রহমান এবং মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে কামরুন্নাহার নির্বাচিত হয়েছেন।

এ ছাড়া সিংড়া উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে পুরুষ ভাইস চেয়ারম্যান পদে বেসরকারি ভাবে আনিছুর রহমান লিখন এবং মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে শামীমা হক রোজী নির্বাচিত হয়েছেন। এখানে চেয়ারম্যান পদে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আগেই নির্বাচিত হন দেলোয়ার হোসেন।

নীলফামারী: নীলফামারীর ডিমলায় ভাতিজাকে হারিয়ে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আনোয়ারুল হক সরকার মিন্টু। ঘোড়া প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ২৭ হাজার ২৯০ ভোট।

ভাইস চেয়ারম্যান পদে ২৩ হাজার ৫৩১ ভোট পেয়ে উত্তম কুমার রায় এবং নারী ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৫৩ হাজার ৩৬০ ভোট পেয়ে তৃতীয় বারের মতো নির্বাচিত হয়েছেন আয়েশা সিদ্দিকা। ডোমার উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন সরকার ফারহানা আক্তার সুমি। তিনি টেলিফোন প্রতীকে ৩৯ হাজার ৩২৫ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি বাংলাদেশ যুব মহিলা লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ও বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ডের সাধারণ সম্পাদক (কল্যাণ ও পুনর্বাসন)।

লক্ষ্মীপুর: কমলনগর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে বিজয়ী হয়েছেন বাংলাদেশ ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলনের বহিষ্কৃত কেন্দ্রীয় নেতা আল্লামা খালেদ সাইফুল্লাহ। তিনি মোটরসাইকেল প্রতীকে পেয়েছেন ১৮ হাজার ২৩০ ভোট। চশমা প্রতীকে ২৮ হাজার ১০৩ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন ভাইস চেয়ারম্যান পদে সালেহ উদ্দিন রাজু৷ মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে সাজেদা আক্তার সুমি কলস প্রতীকে ৩১ হাজার ৯১ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন।

রামগতি উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন সাবেক বিএনপি নেতা শরাফ উদ্দিন আজাদ সোহেল। কাপ-পিরিচ প্রতীক নিয়ে ২৯ হাজার ৬৯৩ ভোট পেয়েছেন তিনি। আজাদ উপজেলা পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান।

গাইবান্ধা: গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে আবু সাঈদ বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি মোটরসাইকেল প্রতীকে ৩০ হাজার ৪৯৯ ভোট পেয়েছেন।

ঠাকুরগাঁও: ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে আনারস প্রতীকে ৬৩ হাজার ৭৬২ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে মো. সফিকুল ইসলাম নির্বাচিত হয়েছেন।

ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৫১ হাজার ৩৬০ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন বই প্রতীকের মো. মোমিনুল ইসলাম। এ ছাড়াও বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হয়েছেন শীমা আক্তার।

হরিপুর উপজেলায় মোটরসাইকেল প্রতীকে মো. আব্দুল কাইয়ুম পুস্প ৩২ হাজার ৭৮৭ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। ভাইস চেয়ারম্যান পদে রিয়াজুল ইসলাম সকার টিউবওয়েল প্রতীকে ৪১ হাজার ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন এবং মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে মোছা. আসিয়া বেগম কলস প্রতীকে ৩৬ হাজার ২১৮ ভোটে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন।

চুয়াডাঙ্গা: চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে আনারস প্রতীকে আলি মুনছুর বাবু নির্বাচিত হয়েছেন। ভাইস চেয়ারম্যান পদে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় শফিউল কবীর ইউসুফ এবং মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে তানিয়া খাতুন নির্বাচিত হয়েছেন।

জীবননগর উপজেলা নির্বাচনে সাবেক উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হাফিজুর রহমান (কাপ-পিরিচ) বেসরকারিভাবে আবারও চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। ভাইস চেয়ারম্যান পদে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বর্তমান ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম ঈসা এবং মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে রেনুকা আক্তার রিতা নির্বাচিত হয়েছেন।

লালমনিরহাট: লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি লিয়াকত হোসেন বাচ্চু বেসরকারিভাবে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন আলা উদ্দিন এবং মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে শারমিন সুলতানা সাথী নির্বাচিত হয়েছেন। পাটগ্রাম উপজেলা পরিষদে টানা চতুর্থবারের মতো বেসসরকারীভাবে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন রুহুল আমিন বাবুল। ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন মোফাজ্জল হোসেন এবং মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে রেজওয়ানা পারভীন নির্বাচিত হয়েছেন।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ: ভোলাহাট উপজেলায় বিএনপির বহিষ্কৃত উপজেলা সহ-সভাপতি মো. আনারুল ইসলাম বেসরকারি ভাবে বিজয়ী হন। ভাইস চেয়ারম্যান পদে বহিষ্কৃত বিএনপি নেতা মো. কামাল উদ্দিন এবং মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে উপজেলা মহিলা যুলীগের সাধারণ সম্পাদক মোসা. শাহাজাদী বিশ্বাস বিজয়ী হন।

অপরদিকে নাচোল উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে টানা তৃতীয়বারের মতো উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন আব্দুল কাদের। এছাড়া ভাইস চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হয়েছেন কামাল উদ্দিন এবং মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হয়েছেন শামীমা খাতুন লিপি।

সাতক্ষীরা: সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক শেখ মেহেদী হাসান সুমন বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন।

অপরদিকে শ্যামনগর উপজেলা নির্বাচনে উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক সাইদ উজ জামান সাইদ বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ও যুবলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. শের আলম। এ দিকে নাসিরনগর উপজেলায় প্রথমবারের মতো নারী চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি রোমা আক্তার।

মাগুরা: মাগুরা সদর উপজেলায় মো. রানা আমির ওসমান মোটরসাইকেল প্রতীকে ৮৩ হাজার ৫৭১ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন।অন্যদিকে শ্রীপুর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে শরিয়তউল্লাহ হোসেন মিয়া রাজন মোটরসাইকেল প্রতীকে ৪৪ হাজার ৯৪৭ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন।

ঝিনাইদহ: ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে আনারস প্রতীকে শিবলী নোমানী বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। ভাইস চেয়ারম্যান পদে শফিকুজ্জান রাসেল এবং মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে শাহনাজ পারভীন বিজয়ী হয়েছেন।

নড়াইল: নড়াইললের কালিয়া উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চিংড়ী মাছ প্রতীকে ৩০ হাজার ৪৬৩ ভোট পেয়ে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন খান শামীম রহমান ওছি। এছাড়া ভাইস চেয়ারম্যান (পুরুষ) পদে ১৯ হাজার ৫৭৭ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন মো. মাহাবুবুল আলম।

ভাইস চেয়ারম্যান (মহিলা) পদে ৪২ হাজার ৪৭৯ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন মোসা. ববিতা খানম।

বাগেরহাট: বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে রাড়িপাড়া ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি মেহেদী হাসান বাবু নির্বাচিত হয়েছেন। এ উপজেলায় ভাইস চেয়ারম্যান পদে কচুয়া উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি শেখ সুমন ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে হনুফা খাতুন নির্বাচিত হয়েছেন।

রামপাল উপজেলায় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ মোয়াজ্জেম হোসেন পুনরায় চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হয়েছেন। ভাইস চেয়ারম্যান পদে উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক নুরুল হক লিপন এবং মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে উপজেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মুসাম্মাৎ হোসনেয়ারা (মিলি) পুনরায় নির্বাচিত হয়েছেন।

এ ছাড়া এ জেলায় প্রথম ধাপে বাগেরহাট সদর উপজেলায় ৩ প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। বিজয়ীরা হলেন, চেয়ারম্যান পদে বাগেরহাট সদর উপজেলা পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান ও জেলা যুবলীগের সভাপতি সরদার নাসির উদ্দিন, ভাইস চেয়ারম্যান পদে জেলা আওয়ামী লীগের শিক্ষা ও মানবসম্পদ বিষয়ক সম্পাদক ও বর্তমান ভাইস চেয়ারম্যান খান রেজাউল ইসলাম এবং মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে বাগেরহাট পৌর আওয়ামী লীগের মহিলাবিষয়ক সম্পাদক ও বর্তমান মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান রিজিয়া পারভীন।

পঞ্চগড়: পঞ্চগড় জেলার সদর উপজেলা পরিষদে চেয়ারম্যান পদে সাবেক ছাত্রলীগ নেতা এএস মো শাহনেওয়াজ প্রধান শুভ ঘোড়া প্রতীক নিয়ে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি পেয়েছেন ৩১ হাজার ৯৯৮টি ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন উপজেলা চেয়ারম্যান ও সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. আমিরুল ইসলাম। তিনি মোটরসাইকেল প্রতীক নিয়ে ভোট পেয়েছেন ১৫ হাজার ৩৮৭টি।

তেঁতুলিয়া উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হয়েছেন ব্যবসায়ী নিজাম উদ্দিন খাঁন। তিনি পেয়েছেন ৩৬ হাজার ৮৪০টি ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মুক্তারুল হক মুকু ঘোড়া প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ১১ হাজার ৮৬৫টি ভোট।

অপরদিকে আটোয়ারী উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হয়েছেন জেলা আওয়ামী লীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক আনিসুর রহমান। তিনি ঘোড়া প্রতীকে পেয়েছেন ৩১ হাজার ৭৫৭ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি তৌহিদুল ইসলাম মোটরসাইকেল প্রতীকে ভোট পেয়েছেন ২৫ হাজার ৮৮৭টি।

জেলার তিন উপজেলায় মোট ভোটার ৪ লাখ ৪২ হাজার ৮৭৬ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ২২ হাজার ৮৬৯ জন ও নারী ভোটার ২ লাখ ২০ হাজার ৩ জন। তিন উপজেলায় ভোট কেন্দ্র ১৫৬টি ও বুথ ১ হাজার ২১৬টি। তিন উপজেলায় চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে মোট ৩৩ জন প্রার্থী ভোট লড়াই করেছেন।

দিনাজপুর:উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের প্রথম ধাপে দিনাজপুরে তিনটি উপজেলায় ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। জেলার হাকিমপুর উপজেলায় উপজেলা চেয়ারম্যান পদে মো. কামাল হোসেন রাজ মোটরসাইকেল প্রতীকে ২২ হাজার ২৫১ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী হারুন উর রশীদ হারুন টেলিফোন প্রতীকে পেয়েছেন ১৯ হাজার ৩৭৮ ভোট।

ঘোড়াঘাট উপজেলায় কাজি শুভ রহমান চৌধুরী আনারস প্রতীকে ২৮ হাজার ৬৩৯ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী সারোয়ার হোসেন মোটরসাইকেল প্রতীকে পেয়েছেন ৮ হাজার ৩৮৪ ভোট।

বিরামপুর উপজেলায় মো. পারভেজ কবির ঘোড়া প্রতীকে ৪২ হাজার ৯৬৭ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মতিউর রহমান আনারস প্রতীকে পেয়েছেন ৩২ হাজার ৮০৭ভোট।

জয়পুরহাট: জয়পুরহাটের কালাই উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মিনফুজুর রহমান মিলন মোটরসাইকেল প্রতীকে ৪২ হাজার ৪৫৪ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন।

ক্ষেতলাল উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ক্ষেতলাল পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি দুলাল মিয়া সরদার দোয়াত কলম প্রতীকে ৩০ হাজার ৩৯০ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন।

এ ছাড়া আক্কেলপুর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মোকসেদ আলী মণ্ডল মোটরসাইকেল প্রতীকে ১৯ হাজার ৫৩৯ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন।

রংপুর: উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের প্রথম ধাপে রংপুরের পীরগাছায় উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ মিলন চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি মোটরসাইকেল প্রতীকে পেয়েছেন ৪২ হাজার ৭৬৮ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি মনোয়ারুল ইসলাম দোয়াত-কলম প্রতীকে পেয়েছেন ৪০ হাজার ৯৪৮ ভোট।

অন্যদিকে কাউনিয়া উপজেলায় পুনরায় চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হয়েছেন আওয়ামী লীগের আনোয়ারুল ইসলাম মায়া। তিনি মোটরসাইকেল প্রতীকে পেয়েছেন ৬০ হাজার ৭১৪ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী একই দলের আব্দুর রাজ্জাক আনারস প্রতীকে পেয়েছেন ৪৭ হাজার ৮৬৩ ভোট।

কুড়িগ্রাম:কুড়িগ্রামে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে রৌমারীর মো. শহিদুল ইসলাম শালু কাপ পিরিচ, চিলমারীর রুকনুজ্জামান শাহিন আনারস ও রাজিবপুরের মো শফিউল আলম আনারস প্রতীকে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন।

শহিদুল ইসলাম শালু রৌমারী উপজেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি। তিনি ২৪ হাজার ৫০৪ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মো. মজিবুর রহমান বঙ্গবাসী টেলিফোন প্রতীকে পেয়েছেন ২৪ হাজার ২৫৩ ভোট পেয়েছেন। রৌমারী উপজেলায় মোট ৬১টি ভোট কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। ভোটার সংখ্যা ১ লাখ ৬৮ হাজার।

চিলমারীতে রুকনুজ্জামান শাহিন আনারস প্রতীকে ২৮ হাজার ১৯৪ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি চিলমারী উপজেলা জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী রেজাউল করিম লিচু কাপ পিরিচ প্রতীকে ১১ হাজার ৫৮৪ ভোট পেয়ে পরাজিত হয়েছেন। রেজাউল করিম লিচু চিলমারী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। এই উপজেলায় মোট ভোটার সংখ্যা ১ লাখ ৯ হাজার ৪৪৪ জন।

রাজিবপুরে মো. শফিউল আলম আনারস প্রতীকে বেসরকারিভাবে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি ভোট পেয়েছেন ১৭ হাজার ৭৪৬টি। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আরিফুর রনি তালুকদার রানা ঘোড়া প্রতীকে পেয়েছেন ১৭ হাজার ৩৮৬ ভোট। নির্বাচিত শফিউল আলম কুড়িগ্রাম জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য।

কুড়িগ্রাম জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলমগীর কবির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

পাবনা: উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের প্রথম ধাপে পাবনার তিনটি উপজেলায় ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সুজানগর উপজেলা চেয়ারম্যান পদে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল ওহাব মোটরসাইকেল প্রতীকে ৬২ হাজার ৭৫২ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহিনুজ্জামান শাহীন (আনারস) পেয়েছেন ৫৮ হাজার ৪৪১ ভোট।

সাঁথিয়া উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে বর্তমান ভাইস চেয়ারম্যান ও পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সোহেল রানা খোকন (কাপ-পিরিচ) ৩৮ হাজার ৫২৬ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী উপজেলা যুবলীগের সভাপতি আশরাফুজ্জামান টুটুল (আনারস) পেয়েছেন ৩৪ হাজার ৭১২ ভোট। আর বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজলা আ'লীগের সাবেক সভাপতি আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ দেলোয়ার পেয়েছেন ১৪ হাজার ১৭৪ ভোট।

বেড়ায় বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান ও আমিনপুর থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রেজাউল হক বাবু (হেলিকপ্টার) ২৯ হাজার ৬৮৯ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী উপজেলা আওয়ামী লীগের বহিষ্কৃত সভাপতি ও সাবেক পৌর মেয়র আব্দুল বাতেন (ঘোড়া) পেয়েছেন ২৩ হাজার ৭৬৬ ভোট। এই উপজেলার আরেক নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আফজার হোসেন পেয়েছেন ১৯ হাজার ৬২২ ভোট।

জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান বলেন, পাবনার তিনটি উপজেলা কোন প্রকার সহিংসতা ছাড়াই অবাধ নিরপেক্ষভাবে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। কোথাও কোনও অভিযোগ নেই। সুষ্ঠু ভোট করতে যারা সহযোগিতা করেছেন সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানান ‍তিনি।

যশোর: উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের প্রথম ধাপে যশোরে দুইটি উপজেলায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। কেশবপুর উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে ঘোড়া প্রতীকের মফিজুর রহমান ১৮ হাজার ৪৬৬ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী শালিক প্রতীকের নাসিমা আকতার সাদেক পেয়েছেন ১৪ হাজার ১৬ ভোট। এ নির্বাচনে তিনটি পদে ১৪ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।

এ ছাড়া ভাইস চেয়ারম্যান পদে তালা প্রতীকের আব্দুল্লাহ আল মামুন ৩২ হাজার ৪৩৪ ভোট পেয়ে ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে ফুটবল প্রতীকের রাবেয়া ইকবাল ৩৭ হাজার ৩০৭ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন।

কেশবপুর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও সহকারী রিটানিং কর্মকর্তা রবিউল ইসলাম বলেন, কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই কেশবপুরে শান্তিপূর্ণভাবে উপজেলা পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এখানে মোট ভোটার সংখ্যা দুই লাখ ২০ হাজার ৯৫৪ জন। মোট ৯৫টি কেন্দ্রের ৬৭০টি কক্ষে সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ইভিএমে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়।

মণিরামপুর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে উপজেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেন লাভলু আনারস মার্কায় ৫৯ হাজার ২৭৩ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক প্রভাষক ফারুক হোসেন পেয়েছেন ৫২ হাজার ৭১৮ ভোট। এছাড়া এই উপজেলায় ভাইস চেয়ারম্যান পদে সন্দীপ ঘোষ ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে পুনরায় কাজী জলি আক্তার বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন।

ঠাকুরগাঁও: ঠাকুরগাঁওয়ে চেয়ারম্যান পদে বালিয়াডাঙ্গী উপজেলায় আনারস প্রতীকের মো. সফিকুল ইসলাম ও হরিপুরে মোটরসাইকেল প্রতীকের মো. আব্দুল কাইয়ুম নির্বাচিত হয়েছেন।

বুধবার (৮ মে) ভোটগ্রহণ ও গণনা শেষে রাত ১০টার দিকে বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা পরিষদের সভাকক্ষে ফলাফল ঘোষণা করেন উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং অফিসার মো. দলিল উদ্দিন। অপরদিকে হরিপুর উপজেলা পরিষদের সভাকক্ষে ফলাফল ঘোষণা করেন উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং অফিসার মো. আব্দুল মান্নান।

বালিয়াডাঙ্গী উপজেলায় ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৫১ হাজার ৩৬০ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন বই প্রতীকের মো. মোমিনুল ইসলাম ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হয়েছেন শীমা আক্তার।

হরিপুর উপজেলায় ভাইস চেয়ারম্যান পদে রিয়াজুল ইসলাম সকার টিউবওয়েল প্রতীকে ৪১ হাজার ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। এছাড়া মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে মোছা. আসিয়া বেগম কলস প্রতীকে নির্বাচিত হয়েছেন।

বিষয়:

নির্বাচিত

ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনুর শারীরিক অবস্থার উন্নতি

শারীরিকভাবে সুস্থ হয়ে ওঠেছেন ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনু। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বিএনপি চেয়ারম্যানের অন্যতম উপদেষ্টা ও ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনুর শারীরিক অবস্থা আগের চেয়ে উন্নতি হয়েছে। বর্তমানে তিনি কিছুটা সুস্থতাবোধ করছেন।

ভূমিমন্ত্রীর এপিএস নাজমুল হক জানান, ভূমিমন্ত্রী মহোদয় আগের চেয়ে কিছুটা সুস্থতাবোধ করছেন। রক্তশূন্যতার সমস্যাটা ঠিক হয়েছে। আরও কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা আছে সেগুলো আজ করা হবে। আশা করছি দ্রুত তিনি সুস্থ হয়ে ওঠবেন। ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় রক্তশূন্যতা দেখা দিয়েছিল, সেটি কেটে গেছে। এখন তিনি শারীরিকভাবে সুস্থ হয়েছেন ও কথা বলছেন।

এদিকে অসুস্থ ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনুর শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নিতে হাসপাতালে যান বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা মির্জা আব্বাস উদ্দিন আহমেদ, জাতীয় সংসদের হুইপ অ্যাডভোকেট রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার ফারজানা শারমীন পুতুল, প্রধানমন্ত্রীর গবেষণা কর্মকর্তা মো. আব্দুস সাত্তার পাটোয়ারী, প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত চিকিৎসক ডা. আ ন ম মনোয়ারুল কাদির বিটু ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদের সাংগঠনিক সম্পাদক আমান উল্লাহ আমানসহ বিভিন্ন শ্রেণিপেশার নেতারা ও বিশিষ্ট ব্যক্তিরা। এ সময় তারা ভূমিমন্ত্রীর আশু রোগমুক্তি কামনা করছেন।

এ ছাড়া বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতা বিশিষ্ট ব্যক্তিরা তাকে দেখতে হাসপাতালে যান।


নির্বাচিত

শেখ হাসিনার বিচার দেখতে অপেক্ষা করছে দেশের মানুষ: মীর শাহে আলম

বগুড়ার এক সুধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের মানুষ শেখ হাসিনার বিচার দেখতে অপেক্ষা করছে বলে মন্তব্য করে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেছেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বর্তমানে ভারতে অবস্থান করছেন। মাঝেমধ্যেই এমন হুমকি দেওয়া হয় যে শেখ হাসিনা দেশে ফিরে আসবেন। আমরাও চাই, তিনি দেশে ফিরে আসুন।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) দুপুরে বগুড়ার মোকামতলা উপজেলার সৈয়দপুর ইউনিয়নের রাধাকান্তপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এক সুধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এই মন্তব্য করেন তিনি।

মীর শাহে আলম বলেন, ‘ইতিহাস কখনো মুছে ফেলা সম্ভব নয়, সত্যকেও চিরদিন আড়াল করে রাখা যায় না। আওয়ামী লীগ যতই প্রচেষ্টা চালাক না কেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান যে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক, এই ঐতিহাসিক সত্য কখনোই পরিবর্তন করা সম্ভব নয়।’

পাশাপাশি তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কথা স্মরণ করে বলেন, ‘তিনি সারা জীবন আপসহীন থেকেছেন।’

শেখ হাসিনার প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী একটি তুলনা তুলে ধরে বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যেদিন দেশে ফিরেছিলেন, সেদিন ঢাকায় অসংখ্য মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে সমবেত হয়েছিলেন তাকে স্বাগত জানাতে। অথচ উল্টো চিত্র দেখা গেছে শেখ হাসিনার ক্ষেত্রে, যাকে শেষ পর্যন্ত দেশ ছাড়তে বাধ্য হতে হয়েছিল।

তার মতে, এই দুটি ঘটনাই স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে জনগণের প্রকৃত ভালোবাসা ও সমর্থন কোন দিকে রয়েছে।

বক্তব্যের একপর্যায়ে জামায়াতে ইসলামীর সমালোচনা করে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, ‘আমরা বেহেশতের নিশ্চয়তা দিতে না পারলেও উন্নয়নের নিশ্চয়তা দিতে চাই। আর জামায়াত পারে বেহেশতের লোভ দেখাতে।’

জামায়াতে ইসলামীর বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, দলটি বড় বড় বুলি আওড়ালেও মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেমদের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে তারা কখনো বাস্তবসম্মত কোনো উদ্যোগ নেয়নি। বিপরীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিজেই এই ধর্মীয় কর্মীদের জন্য মাসিক সম্মানী ভাতার ব্যবস্থা করে দিয়েছেন।

মোকামতলা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মাহমুদ হাসান তৌফিকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সমাবেশে আরও উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন শিবগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি এস এম তাজুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবদুল ওহাব, মোকামতলা উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব রোকন-উদ-দৌলা রুবেল, শিবগঞ্জ উপজেলা বিএনপির ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক মীর শাকরুল আলম সীমান্ত, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবদুল করিম এবং শিবগঞ্জ উপজেলা যুবদলের সভাপতি খালিদ হাসান আরমানসহ দল ও অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।

এর আগে প্রধানমন্ত্রীর কন্যা জাইমা রহমানের জন্মদিন উপলক্ষে সৈয়দপুর উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ২ হাজার মানুষকে চক্ষু চিকিৎসাসেবা প্রদান করে মীর শাহে আলম ফাউন্ডেশন।


নির্বাচিত

‘প্রেমিকের সঙ্গে কক্সবাজারের হোটেলে উঠতে পারবে না অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েরা’

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কক্সবাজার প্রতিনিধি

কক্সবাজারের আবাসিক হোটেলগুলোতে জাতীয় পরিচয় পত্র (এনআইডি) ছাড়া অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েদের প্রেমিকের সঙ্গে অবস্থানের জন্য রুম ভাড়া দেওয়ার তথ্যপ্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট হোটেলের মালিক-ম্যানেজারের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন সংরক্ষিত সংসদ সদস্য ও কক্সবাজার জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শামীম আরা স্বপ্না।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) দুপুরে কক্সবাজার জেলা প্রশাসন আয়োজিত জেলার নিরাপদ পর্যটন নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে হোটেল-মোটেল-রেস্তোরাঁ মালিক, পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী ও অংশীজনের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় বক্তব্যকালে তিনি এ কথা জানান।

তিনি বলেন, কক্সবাজারে ইদানীং দেখা যায় ছোট ছোট মেয়েরা তাদের প্রেমিকদের হাত ধরে আপনাদের হোটেলে চলে আসে। তারা তো আন্ডার এজ (অপ্রাপ্ত বয়স্ক) তাদের এখনো একা হোটেলে থাকার বয়স হয়নি। আপনারা তাদেরকে এনআইডি ছাড়া অবস্থান করতে দেন, এটা আইনত অনেক বড় অপরাধ। এর ফলে নানা ধরনের অঘটন ঘটছে। কেউ পথে-ঘাটে প্রাণ হারাচ্ছেন, আবার কেউ আত্মহত্যার পথ বেছে নিচ্ছেন।

কক্সবাজারকে দেশের সবচেয়ে সুন্দর পর্যটন এলাকা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ ধরনের পরিস্থিতি কক্সবাজারে হতে দেওয়া যায় না। আপনাদের প্রতি অনুরোধ, কেউ মা-বাবার সঙ্গে এলে থাকতে পারবেন। তবে প্রেমিকের সঙ্গে এলে জাতীয় পরিচয়পত্র ছাড়া হোটেলে থাকার অনুমতি দেওয়া যাবে না। এরপরও এ ধরনের ঘটনা ধরা পড়লে সংশ্লিষ্ট হোটেল মালিক ও ম্যানেজারদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

প্রসঙ্গত, গত ৮ অক্টোবর কুমিল্লায় সপ্তম শ্রেণির স্কুলছাত্রী জান্নাতুল তাজমিনের মরদেহ উদ্ধার করা হলে দেশব্যাপী চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। ১৩ বছর বয়সী এই শিক্ষার্থী হত্যার শিকার হওয়ার আগে কক্সবাজারে 'তানজু আক্তার' নামে তার কথিত প্রেমিক রাজুর সঙ্গে একটি হোটেলে অবস্থান করেন এবং যেখানকার নিবন্ধন খাতায় বয়স উল্লেখ করা হয় ১৮ বছর।


নির্বাচিত

বল প্রয়োগ করলে ফ্যাসিবাদী, না করলে পুলিশকে দুর্বল মনে করে মানুষ: আইজিপি

খুলনার বয়রা পুলিশ লাইনে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির। ছবি সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় বল প্রয়োগ করলে পুলিশকে ফ্যাসিবাদী বলা হয়, আর বল প্রয়োগ না করলে মানুষ দুর্বল মনে করে বলে মন্তব্য করেছেন, পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির।

তিনি বলেন, গত ১৭ বছরে পুলিশ ও জনগণের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হয়েছে। সমাজে মাদককে প্রতিষ্ঠিত করা হয়েছে। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে কাজ করছে পুলিশ।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) খুলনার বয়রা পুলিশ লাইনে খুলনা বিভাগের কমিউনিটি পুলিশিং বিষয়ক সুধী সমাবেশ শেষে সাংবাদিকদের কাছে তিনি এই মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আরও কার্যকর করতে স্বরাষ্ট্র ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনে একটি আইনি কাঠামো তৈরি করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে কমিউনিটি পুলিশিং পুলিশের একটি শাখা হিসেবে কাজ করবে।

আইজিপি আরও বলেন, কিশোর গ্যাং, চাঁদাবাজি ও মাদক নিয়ন্ত্রণে দেশব্যাপী যৌথ অভিযান চলছে। পাশাপাশি চাঁদাবাজির অভিযোগে জনগণের অভিযোগ ছাড়াই পুলিশের স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে মামলা করার ক্ষমতা দিতে নতুন আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।


নির্বাচিত

ডেঙ্গু প্রতিরোধে সবাইকে সচেতন হতে হবে: রাজশাহী জেলা প্রশাসক

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
রাজশাহী ব্যুরো

ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন রাজশাহীর জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘ডেঙ্গু প্রতিরোধে ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজের প্রত্যেককে সচেতন হতে হবে। বাড়িঘর ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখার পাশাপাশি কোথাও যেন পানি জমে মশার প্রজননক্ষেত্র তৈরি না হয়, সেদিকে সবাইকে বিশেষ নজর দিতে হবে।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) সকাল ১০টায় রাজশাহী জেলা সুইমিং প্রাঙ্গণে রাজশাহী জেলা প্রশাসনের আয়োজনে জাতীয় ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এবারের প্রতিপাদ্য ছিল ‘ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতন হোন, সুস্থ থাকুন’।

জেলা প্রশাসক আরও বলেন, ‘ডেঙ্গু প্রতিরোধে শুধু প্রশাসনের উদ্যোগ যথেষ্ট নয়; এ ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাড়ির ছাদ, ফুলের টব, পরিত্যক্ত পাত্র, ড্রাম ও অন্যান্য স্থানে জমে থাকা পানি নিয়মিত পরিষ্কার করতে হবে। মশার বংশবিস্তার রোধে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।’

পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং জনসচেতনতা বাড়ানোর মাধ্যমে ডেঙ্গুর ঝুঁকি অনেকাংশে কমানো সম্ভব। তাই ডেঙ্গু প্রতিরোধে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা ও সম্মিলিত প্রচেষ্টা জোরদার করতে হবে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকারের উপপরিচালক (উপসচিব) নজরুল ইসলাম, সিনিয়র সহকারী কমিশনার (ভূমি অধিগ্রহণ শাখা) মো. আরিফ হোসেন, সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. বোরহান উদ্দিন অন্তর এবং জেলা ক্রীড়া কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর হোসেনসহ জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

অনুষ্ঠানে ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা এবং মশার প্রজননস্থল ধ্বংসের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।


নির্বাচিত

দেড়শ বছরেও অটুট তাড়াশের ঐতিহাসিক তিন গম্বুজ মসজিদ

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
গোলাম মোস্তফা রুবেল, সিরাজগঞ্জ

নদীর ঢেউয়ে ভেসে আসে সময়ের গল্প, সিরাজগঞ্জের তাড়াশে ভদ্রাবতী নদীর তীরে দাঁড়িয়ে আছে ইতিহাসের নীরব সাক্ষী। তিনটি গম্বুজ, চুন-সুরকির মজবুত গাঁথুনি, পুরু দেয়াল আর দেয়ালজুড়ে সূক্ষ্ম কারুকাজ। সব মিলিয়ে মসজিদটি যেন অতীতের স্থাপত্যশৈলীর এক জীবন্ত নিদর্শন। উপজেলার বারুহাঁস গ্রামের ঐতিহাসিক চৌধুরীবাড়ি জামে মসজিদটি দেড় শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে বহন করে চলেছে স্থানীয় ইতিহাস, ধর্মীয় ঐতিহ্য ও জমিদারি আমলের স্মৃতি। প্রতিদিনই এখানে নামাজ আদায় করতে আসেন মুসল্লিরা। শুক্রবার দূর-দূরান্ত থেকেও ছুটে আসেন অনেকে। এই ঐতিহাসিক স্থাপনাটি সংরক্ষণে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগের উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।

স্থানীয়দের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ১৮৭৫ সালে বারুহাঁসের জমিদার দেল মাহমুদ চৌধুরী মসজিদটি নির্মাণ করেন। তবে জমিদার পরিবারের সদস্যদের দেওয়া তথ্যে নির্মাতার নাম দেলোয়ার হোসেন খান চৌধুরী হিসেবে উল্লেখ রয়েছে। জমিদারবাড়ির সামনে নির্মিত মসজিদটির দক্ষিণ পাশে রয়েছে পরিবারের পুরোনো বাড়ি ও পারিবারিক কবরস্থান। চারপাশে ভদ্রাবতী নদী ও খালের পরিবেশ স্থাপনাটির সৌন্দর্যে যোগ করেছে ভিন্ন মাত্রা।

মসজিদটির বিশেষ আকর্ষণ তিনটি গম্বুজ, আটটি পিলারের ওপর নির্মিত তিনটি বড় মিনার এবং পাঁচটি ছোট মিনার। কাঠের তৈরি তিনটি দরজা পেরিয়ে ভেতরে ঢুকলে চোখে পড়ে দেয়ালের নান্দনিক অলংকরণ ও কারুকাজ। চুন-সুরকি দিয়ে নির্মিত পুরু দেয়াল এবং পুরোনো নির্মাণশৈলী মসজিদটিকে দিয়েছে স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য।

প্রায় চার শতক জায়গার ওপর নির্মিত মসজিদটির ভেতরের আয়তন তুলনামূলক ছোট। তিন সারিতে প্রায় ৬০ জন মুসল্লি একসঙ্গে নামাজ আদায় করতে পারেন। বাইরে খোলা বারান্দায় রয়েছে আরও দুই সারিতে নামাজ পড়ার ব্যবস্থা। ইমামের জন্য আলাদা মেহরাব ও মিম্বার না থাকলেও মসজিদে সংরক্ষিত রয়েছে একটি কাঠের মিম্বার, যার ওপর দাঁড়িয়ে জুমার খুতবা দেন ইমাম। দেড় শতাব্দীর বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও মূল কাঠামোয় বড় ধরনের পরিবর্তন হয়নি বলে জানান জমিদার পরিবারের সদস্যরা। তবে স্থাপনাটির সৌন্দর্য বাড়াতে বিভিন্ন সময়ে কিছু সংস্কারকাজ করা হয়েছে।

দীর্ঘদিন মসজিদটিতে ইমামতি করেছেন বারুহাস গ্রামের মো. খলিলুর রহমান। অসুস্থতার কারণে বর্তমানে তার ছেলে আবদুস সবুর ইমামতির দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি বলেন, এই মসজিদ আমাদের এলাকার ইতিহাস ও ঐতিহ্যের সাক্ষী। এমন মসজিদে ইমামতি করতে পারা সৌভাগ্যের।

মসজিদের মুয়াজ্জিন ৮০ বছর বয়সি আবদুল লতিফ খন্দকার। তার বাবা দৈয়ম আলী খন্দকারও এ মসজিদে মুয়াজ্জিনের দায়িত্ব পালন করেছেন। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে ধর্মীয় কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত থাকার মধ্য দিয়ে মসজিদটি স্থানীয় মানুষের জীবন ও ঐতিহ্যের অংশ হয়ে উঠেছে।

মসজিদের বর্তমান ইমাম ও খতিব হাফেজ মাওলানা মো. খবির উদ্দিন বলেন, ৩১ বছর ধরে এই মসজিদের ইমাম হিসেবে রয়েছি। জুমার নামাজের দিন মসজিদ কানায় কানায় পরিপূর্ণ হয়ে যায়। প্রায় দেড়শ বছরের পুরোনো এই মসজিদে ইমামতির দায়িত্ব পালন করতে আমি নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে করি।

জমিদার দেলোয়ার হোসেন খান চৌধুরীর নাতি মো. শাহনেওয়াজ খান চৌধুরী নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার একটি স্কুল অ্যান্ড কলেজের সহকারী অধ্যাপক। তিনি বলেন, মসজিদের মূল কাঠামো ঠিক রেখে পরবর্তী সময়ে সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য কিছু কাজ করা হয়েছে। মসজিদটি জমিদার পরিবারের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হয়। ইমাম ও মুয়াজ্জিনের বেতনসহ অন্যান্য খরচ নির্বাহের জন্য জমিদার দেলোয়ার হোসেন খান চৌধুরী ১০ বিঘা জমি ওয়াক্ফ করে গেছেন।

কর্মসূত্রে পরিবারের অনেক সদস্য এলাকায় থাকেন না উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রয়োজন কিংবা বার্ষিক বিভিন্ন অনুষ্ঠানে যোগ দিতে তারা এলাকায় আসেন। তার মতে, মসজিদের স্থাপত্যশৈলীর সঙ্গে মোগল আমলে নির্মিত মসজিদগুলোর বেশ মিল রয়েছে।

জমিদার পরিবারের চতুর্থ প্রজন্মের সদস্য বিশাল খান চৌধুরী বলেন, ছোটবেলা থেকে মসজিদের ভবন যেভাবে দেখেছি, এখনো সেভাবেই আছে। টুকটাক সংস্কার হলেও দেড়শ বছর পরও মসজিদটির কাঠামোয় তেমন কোনো পরিবর্তন হয়নি। প্রতিদিনই অনেকে মসজিদটি দেখতে ও নামাজ আদায় করতে আসেন। বিশেষ করে শুক্রবার অনেক দূরের মানুষও এখানে নামাজ পড়তে আসেন।

গবেষক-লেখক ও খুলনার উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষক প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের অতিরিক্ত পরিচালক খ ম রেজাউল করিম বলেন, দেড়শ বছরের পুরোনো মসজিদটি ইতিহাসের নীরব সাক্ষী হয়ে টিকে আছে। মোগল আমলে নির্মিত মসজিদগুলোর সঙ্গে এর স্থাপত্যশৈলীর বেশ মিল পাওয়া যায়। জমিদারবাড়ি ও মসজিদ ঘিরে প্রবহমান ভদ্রাবতী নদী স্থাপনাটির সৌন্দর্য আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

তাড়াশ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নুসরাত জাহান বলেন, ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলো শুধু ইট-পাথরের কাঠামো নয়, এগুলো পূর্বপুরুষদের শিল্পবোধ, স্থাপত্যশৈলী, সংস্কৃতি ও ঐতিহাসিক পরিচয়ের গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন। দীর্ঘদিন ধরে এসব স্থাপনা অতীতের ইতিহাস ও ঐতিহ্য বহন করে আসছে। তাই এগুলো সংরক্ষণ করা সবার দায়িত্ব।

ইউএনও আরও বলেন, বারুহাঁসের ঐতিহাসিক ইমামবাড়ী তথা তিন গম্বুজ মসজিদের গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করে সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে আলোচনা করে মসজিদটির ইতিহাস, নির্মাণশৈলী ও প্রত্নতাত্ত্বিক গুরুত্ব সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানার চেষ্টা করা হবে।


নির্বাচিত

প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেসসচিবের পরিচয়ে প্রতারণা, নাটোরে গ্রেপ্তার ১

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নাটোর প্রতিনিধি

প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেসসচিবের পরিচয় ব্যবহার করে ডিজিটাল মাধ্যমে প্রতারণা করে অর্থ আদায় করার অভিযোগে আবু হুরায়রা খালেদ নামে একজনকে গ্রেফতার করেছে নাটোর জেলা পুলিশ। শনিবার (২৪ অক্টোবর) দুপুরে পুলিশ সুপার কার্যালয়ের সামনে এক প্রেসব্রিফিংয়ে এই তথ্য জানান পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শরীফুল হক। গ্রেফতারকৃত আবু হুরায়রা খালেদ নাটোরের সিংড়া উপজেলার বালুয়া-বাসুয়া গ্রামের জিয়াদুল ইসলের ছেলে।

পুলিশ সুপার জানান, দীর্ঘদিন ধরেই প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেসসচিব আতিকুর রহমান রুমনের অফিস স্টাফ পরিচয় দিয়ে আবু হুরায়রা খালেদ তার ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বর ব্যবহার করে হোয়াটসঅ্যাপ, বিকাশ, নগদ ও রকেটসহ বিভিন্ন ডিজিটাল মাধ্যমে রাজনৈতিক প্রভাবশালী ব্যক্তিবর্গ, সরকারি চাকরিজীবী ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সাথে যোগাযোগ করে আসছিল। এই ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করে সে ও তার সহযোগী চক্র সরকারি সুযোগ-সুবিধা প্রদান এবং রাজনৈতিক পদে পদায়ন বা মনোনয়ন পাইয়ে দেওয়ার মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে বিভিন্ন জনের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ আদায় করতো। বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেসসচিব আতিকুর রহমান রুমনের দৃষ্টিগোচর হয়। পরবর্তীতে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে ডিবি পুলিশের একটি চৌকস টিম তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় অভিযুক্তের অবস্থান শনাক্ত করে অভিযান চালায়। অভিযানে সিংড়া থানার বালুয়া বাসুয়া গ্রাম থেকে আবু হুরায়রা খালেদকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত আসামির বিরুদ্ধে সিংড়া থানায় সাইবার নিরাপত্তা আইন ২০২৩ এর ধারায় মামলা মামলা দায়ের করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, অভিযুক্ত রাশেদ ২০১৬ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত নাটোরের সিংড়া পৌর ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ছিল এবং ২০১৮ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ বেতার রংপুরের টেকনিশিয়ান হিসেবে কর্মরত ছিল। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভুয়া আইডি ব্যবহার ও প্রতারণার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে পূর্বেও মামলা রয়েছে। প্রতারনার জন্য আবু হুরায়রা খালেদ একাধিকবার কারাবরণও করেছেন। প্রতারক চক্রের অন্যান্য সহযোগীদের গ্রেফতারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।


নির্বাচিত

ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে দুর্ঘটনা প্রতিরোধে প্রশাসনের ৫ সিদ্ধান্ত

মানিকগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে মতবিনিময় সভা। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি

মানিকগঞ্জের ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের অংশে দুর্ঘটনা প্রতিরোধে এবং সড়কে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বিশেষ মতবিনিময় সভা হয়েছে। শনিবার (২৪ অক্টোবর) সকালে মানিকগঞ্জ জেলা প্রশাসনের আয়োজনে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে এই মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় জেলা প্রশাসক নাজমুন আরা সুলতানার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সারওয়ার আলম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সার্বিক মো. খায়রুল ইসলাম, বিআরটিএ’র ঢাকা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক প্রকৌশলী মোবারক হোসেন, জেলা কৃষকদলের সভাপতি গোলাম কিবরিয়া সাইদ, মানিকগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম বিশ্বাস ও জেলা পরিবহন মালিক সমিতির সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক লিটনসহ হাইওয়ে পুলিশ ও ট্রাফিক পুলিশের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

জেলা প্রশাসক নাজমুন আরা সুলতানা বলেন, তিন চাকার গাড়ী ও বাইক দুর্ঘটনার অন্যতমন কারন একারনে তিন চাকার গাড়ীগুলিকে মহাসড়ক ও আঞ্চলিক মহাসড়কে চলতে দেওয়া হবে না। রুট পারমিট ছাড়া কোন গাড়ীকে সড়কে চলতে দেওয়া হবে না। লাইসেন্সবিহীন চালককে গাড়ী দেওয়া যাবে না। হেল্পারগণ যাতে গাড়ী চালাতে না পারে সেটা নিশ্চিত করতে হবে। একইসাথে সড়কের ত্রুটি মুক্ত করতে সড়ক ও জনপথ বিভাগকে ব্যবস্থা নিতে হবে।


নির্বাচিত

ভাগ্নের ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে হামলা, বৃদ্ধ মামার মৃত্যু

ফজলে আলী হাজারী। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কমলনগর (লক্ষ্মীপুর) প্রতিনিধি

লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ভাগ্নের একটি পোস্টকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে হামলায় বৃদ্ধ মামা ফজলে আলী হাজারীর (৬০) মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) রাতে উপজেলার চরকাদিরা ইউনিয়নের বটতলী বাজারে এ ঘটনা ঘটে। নিহত ফজলে আলী চরকাদিরা ইউনিয়নের ছয় নম্বর ওয়ার্ড বটতলী এলাকার বাসিন্দা।

মেঘনা নদীর ভাঙনের শিকার হয়ে উপজেলার লুধুয়া ফলকন এলাকা থেকে স্থানান্তরিত হয়ে তিনি ওই এলাকায় বসতি স্থাপন করেন। খবর পেয়ে পুলিশ নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে প্রেরণ করেছেন। ঘটনার পর হামলায় অভিযুক্তরা এলাকা ছেড়ে গা-ঢাকা দিয়েছেন।

জানা গেছে, প্রেমের সম্পর্কের সূত্রধরে প্রায় দুই বছর আগে ফজলে আলীর ভাগ্নে দেলোয়ার মাহমুদের সঙ্গে বটতলী এলাকার বাসিন্দা জামাল হোসেনের মেয়ে জেরিন আক্তারের বিয়ে হয়। কিন্তু কিছু দিন পর পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি হলে তাদের বিবাহবিচ্ছেদ ঘটে। সম্প্রতি জেরিনের অন্যত্র বিয়ে হলে ফেনীতে কর্মরত সাবেক স্বামী দেলোয়ার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে তাকে (জেরিনকে) নিয়ে আবেগময় একটি পোস্ট দেয়। এ নিয়ে জেরিনের আত্মীয়স্বজনের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়।

শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) রাতে জেরিনের স্বজনরা বটতলী বাজারে মামা ফজলে আলীর কাছে দেলোয়ারের ফেসবুক পোস্টের বিষয়ে অভিযোগ করেন। এ সময় ফজলে আলী বিষয়টি দেলোয়ার বাড়ি ফিরলে সমাধানের কথা জানান। কিন্তু এরই মধ্যে জেরিনের স্বজনরা ফজলে আলীর ওপর আকস্মিক হামলা করেন। তাদের এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষির আঘাতে গুরুতর আহত হলে স্থানীয়রা ফজলে আলীকে উদ্ধার করে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। অবস্থার অবনতিতে সেখান থেকে ঢাকায় নেওয়ার পথে রাতেই তার মৃত্যু হয়।

নিহতের ছেলে মো. ফয়সাল জানান, সামান্য ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে জেরিনের খালাতো ভাই মো. মাহফুজের নেতৃত্বে স্বজনরা হামলা চালিয়ে তার বাবাকে মেরে ফেলেছেন। ঘটনার পর হামলাকারীরা এলাকা ছেড়ে গা-ঢাকা দিয়েছেন। একটি প্রভাবশালী মহল বিষয়টি মীমাংসা করার অপচেষ্টা করছেন।

তিনি বলেন, আমি আমার বাবার হত্যার বিচার চাই। এজন্য আইনী পদক্ষেপের লক্ষ্যে পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করছি।

এদিকে অভিযুক্ত মাহফুজসহ অন্যরা আত্মগোপনে থাকায় এ বিষয়ে তাদের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

কমলনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফরিদুল আলম জানান, শনিবার সকালে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। ভিকটিমের পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। তদন্ত করে জড়িতদের গ্রেপ্তারসহ আইনী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।


নির্বাচিত

ফরিদপুরে বীর মুক্তিযোদ্ধা ইমারত হোসেন চৌধুরীর স্মরণসভা অনুষ্ঠিত

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মাহবুব পিয়াল, ফরিদপুর

ফুলসুতি কমিউনিটি অব ফরিদপুরের উদ্যোগে বিশিষ্ট সমাজসেবক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা ইমারত হোসেন চৌধুরীর স্মরণসভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) বিকাল ৪টায় শহরের কোট পাড় ‘ল কেয়ার অ্যান্ড অ্যাসোসিয়েট’ কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়। পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা করা হয়। কোরআন তেলাওয়াত করেন মরহুম ইমারত হোসেন চৌধুরীর নাতি রাফিদ চৌধুরী।

স্মরণসভায় বক্তারা মরহুমের কর্মময় জীবনের ওপর আলোকপাত করে বলেন, ‘বীর মুক্তিযোদ্ধা ইমারত হোসেন চৌধুরী মহান স্বাধীনতা সংগ্রামে সম্মুখ সারিতে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। তিনি ১৯৭১ সালে ভারতে গিয়ে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন এবং জীবন বাজি রেখে যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেন। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি অত্যন্ত সদালাপী, হাসিমুখে কথা বলা ও বন্ধুসুলভ একজন মানুষ ছিলেন। ফুলসতি গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্ম নেওয়া এই কৃতী সন্তান আজীবন সমাজসেবায় নিজেকে নিয়োজিত রেখেছিলেন। তিনি অত্যন্ত ধার্মিক ছিলেন এবং শারীরিক অসুস্থতা সত্ত্বেও কখনো জামায়াতে নামাজ আদায় করা মিছ করতেন না।

অনুষ্ঠানে বীর মুক্তিযোদ্ধার স্মৃতিচারণ করে ফুলসুতি কমিউনিটি অব ফরিদপুরের প্রধান উপদেষ্টা বদিউজ্জামান ভাদু বলেন, ‘ইমারত হোসেন চৌধুরী কেবল একজন দেশপ্রেমিক যোদ্ধাই ছিলেন না, বরং তিনি ছিলেন সমাজ পরিবর্তনের একজন কারিগর। তার সততা এবং মানুষের প্রতি ভালোবাসা আমাদের চিরকাল অনুপ্রাণিত করবে।’

ফুলসুতি কমিউনিটির নেতারা ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন লেখক, গবেষক প্রবীণ সাংবাদিক প্রধান উপদেষ্টা বদিউজ্জামান চৌধিুরী ভাদু। এ সময় মফিজ ইমাম মিলন, দেলোয়ার হোসেন চৌধুরী সাবু, আ. স. ম. জাহাঙ্গীর হোসেন চৌধুরী টিটো, জি. এইচ লাভলু পাটোয়ারী, নিয়াজুল ইসলাম চৌধুরী, রুমন চৌধুরী, মোহাম্মদ ওয়াসিম, চৌধুরী সাজেদুস, মোহাম্মদ লিটু চৌধুরী এবং চৌধুরী মোহাম্মদ হাসানসহ আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন।

আলোচনা সভা শেষে বীর মুক্তিযোদ্ধা ইমারত হোসেন চৌধুরীর রুহের মাগফিরাত ও শান্তি কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করা হয়। দোয়া মাহফিলটি পরিচালনা করেন হাফেজ, মাওলানা তৈয়বুর রহমান।


নির্বাচিত

চাঁদাবাজি নির্মূলে শিগগিরই নতুন আইন আসছে: আইজিপি

অপরাধীদের বিচারের মুখোমুখি করতেই নতুন আইনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে
ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
খুলনা ব্যুরো 

দেশ থেকে চাঁদাবাজির দৌরাত্ম্য স্থায়ীভাবে বন্ধ করতে দ্রুততম সময়ের মধ্যে নতুন একটি আইন প্রণয়ন করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির। প্রস্তাবিত আইনটি পাস হলে ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষের অভিযোগ ছাড়াই কেবল ডিজিটাল প্রমাণের ওপর ভিত্তি করে পুলিশ নিজেই বাদী হয়ে চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে সরাসরি আইনি ব্যবস্থা নিতে পারবে।

শনিবার খুলনা পুলিশ লাইন্সে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আয়োজিত এক বিশেষ সভায় আইজিপি এ তথ্য প্রকাশ করেন।

আইনের প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে আইজিপি বলেন, চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা সমাজে রাজনৈতিক বা অন্য কোনো আধিপত্য বজায় রেখে প্রভাব বিস্তার করে। তাদের ভীতি ও ক্ষমতার দাপটে সাধারণ মানুষ থানায় গিয়ে অভিযোগ দায়ের কিংবা আদালতে সাক্ষ্য দিতে সাহস পান না। এই বাস্তবতায় অপরাধীদের বিচারের মুখোমুখি করতেই নতুন আইনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আইনটি কার্যকর হলে পুলিশ স্বপ্রণোদিত হয়ে পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারবে এবং কোনো ঘটনার সুনির্দিষ্ট ডিজিটাল প্রমাণ মিললেই অভিযুক্তদের আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে।

দায়িত্ব পালনে পুলিশের সীমাবদ্ধতা ও চ্যালেঞ্জ তুলে ধরে তিনি বলেন, অনেক ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে আইন প্রয়োগ করতে গিয়ে পুলিশ যদি বল প্রয়োগ করে, তবে বলা হয় ‘পুলিশ ফ্যাসিস্ট’। আর যদি বল প্রয়োগ না করে, তখন বলা হয় ‘পুলিশ দুর্বল’। এর কোনো অপবাদই বাহিনীর জন্য কাম্য নয় উল্লেখ করে তিনি জানান, সবার সমন্বয়ে একটি পেশাদার ও কার্যকর পুলিশ বাহিনী গড়ে তোলার কাজ চলছে, যা ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা ও দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গঠনে ভূমিকা রাখবে।

বিগত দেড় দশকের শাসনব্যবস্থার সমালোচনা করে পুলিশপ্রধান দাবি করেন, বিগত ১৭ বছরে দেশে মাদককে অনেকটাই স্বাভাবিক বিষয় হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা হয়েছিল। তবে বর্তমান প্রশাসন অপরাধ নিয়ন্ত্রণে আপসহীন অবস্থান নিয়েছে এবং কিশোর গ্যাং, চাঁদাবাজি এবং মাদকের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করেছে।

এছাড়া কমিউনিটি পুলিশিং কার্যক্রমকে মাঠপর্যায়ে অর্থবহ করার সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে তিনি উল্লেখ করেন, অতীতে এই ব্যবস্থা মূলত ‘বুক প্র্যাকটিস’ হিসেবে কেবল কাগজেই সীমাবদ্ধ ছিল। তবে এবার স্বরাষ্ট্র ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সমন্বিত উদ্যোগে আইনি কাঠামোর ভেতরেই পুলিশের সহযোগী শাখা হিসেবে একে রূপ দেওয়া হচ্ছে, যাতে নাগরিক সেবার পরিধি আরও গতিশীল হয়।

উক্ত মতবিনিময় সভায় খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ জাহিদুল হাসান এবং খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি মো. রেজাউল করিমসহ জেলা ও মহানগর পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বিষয়:

নির্বাচিত

গাজীপুরে পোশাক কারখানায়র গোডাউনে অগ্নিকাণ্ড, নিয়ন্ত্রণে ৮ ইউনিট

‘সুপ্রিম গার্মেন্টস’ নামের একটি পোশাক কারখানায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে
ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ২৪ অক্টোবর, ২০২৬ ১৩:০০
অনলাইন ডেস্ক

গাজীপুরের কাশিমপুরের শৈলডুবি এলাকায় অবস্থিত ‘সুপ্রিম গার্মেন্টস’ নামের একটি পোশাক কারখানায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ৮ ইউনিট।

শনিবার সকাল সোয়া ১০টার দিকে কারখানা ভবনে হঠাৎ এই আগুনের সূত্রপাত হয়।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে কাশিমপুর ফায়ার সার্ভিসের দায়িত্বরত কর্মকর্তা খায়রুল ইসলাম গণমাধ্যমকে জানান, অগ্নিকাণ্ডের খবর পাওয়ার পরপরই ফায়ার সার্ভিসের ইউনিটগুলো ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নেভানোর তৎপরতা শুরু করে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে আগুনের কারণ, সার্বিক ক্ষয়ক্ষতির আর্থিক পরিমাণ কিংবা কোনো ধরনের হতাহতের ঘটনা ঘটেছে কি না, তা জানা সম্ভব হয়নি।


নির্বাচিত

মব সৃষ্টির অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে যা বললেন শিশুর বাবা

মেয়ের ওপর হওয়া নির্যাতনের সুষ্ঠু বিচার প্রার্থনা করে দেশবাসীর সহযোগিতা কামনা করেন
ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

গাজীপুরের টঙ্গীর আউচপাড়া এলাকার একটি আবাসিক মাদরাসায় ছয় বছর বয়সী এক শিশুকে যৌন নিপীড়ন এবং পরবর্তী সময়ে অভিযুক্ত শিক্ষককে মারধরের ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন শিশুটির বাবা শাহজালাল রুমি। শনিবার দিবাগত রাত আনুমানিক ৩টার দিকে গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তিনি প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষের আনা পাল্টা অভিযোগ অস্বীকার করেন এবং মেয়ের ওপর হওয়া নির্যাতনের সুষ্ঠু বিচার প্রার্থনা করে দেশবাসীর সহযোগিতা কামনা করেন।

মাদরাসায় বিশৃঙ্খলা বা দলবল নিয়ে চড়াও হওয়ার অভিযোগ খণ্ডন করে তিনি বলেন, ‘আমি আমার সন্তানের বিচার চাইতে মাদরাসায় গিয়েছিলাম, মব সৃষ্টি করতে নয়। প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ দাবি করছে, আমি নাকি মব সৃষ্টি করেছি এবং ফ্ল্যাট দখল করতে গিয়েছি। আমি কেন মব সৃষ্টি করব? যদি আমি মব সৃষ্টি করতাম, তাহলে সেখানে ২০০ লোক ছিল, তারা সবাই আমাকে মারল না কেন? আমি তো একজন বাবা হিসেবে আমার সন্তানের সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনার বিচার চাইতে গিয়েছিলাম।’

প্রতিষ্ঠানটিতে ভাঙচুরের অভিযোগ প্রসঙ্গে প্রকৃত অবস্থা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আমি স্বীকার করছি, সেখানে ছোট একটি কাচের গ্লাস ভেঙেছে। আমি বলেছি, এর ক্ষতিপূরণ দিয়ে দেব। তবে শিক্ষক আসার আগেই গ্লাসটি ভেঙেছিল। ওই সময়ের ভিডিও রেকর্ডও রয়েছে। আমি ইচ্ছাকৃতভাবে কিছু ভাঙতে চাইনি।’

মাদরাসা থেকে ১৭ লাখ টাকা চুরির যে অভিযোগ উঠেছে, তা সিসিটিভি ফুটেজের মাধ্যমে নিরপেক্ষ প্রমাণের দাবি জানিয়ে রুমি বলেন, ‘প্রতিষ্ঠানে সিসিটিভি ক্যামেরা রয়েছে। আমি কোথায় ১৭ লাখ টাকা নিয়ে গেছি, সেটি সিসিটিভি ফুটেজ দেখে যাচাই করা হোক। মাদরাসায় এত টাকা কিভাবে রাখা হয়, সেই বিষয়টিও পরিষ্কার হওয়া দরকার। আমার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ তোলা হচ্ছে, সেগুলোরও সুষ্ঠু তদন্ত হোক।’

ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের প্রতি নিজের মনোভাব স্পষ্ট করে তিনি উল্লেখ করেন, ‘আমি মাদরাসার বিরুদ্ধে নই, শিক্ষকদের বিরুদ্ধেও নই। আমি দ্বিনি শিক্ষার জন্য আমার মেয়েকে সেখানে পাঠিয়েছিলাম। কিন্তু যেখানে আমার সন্তান নিরাপদ থাকবে না, সেখানে এমন ঘটনা ঘটলে একজন বাবা হিসেবে আমি কী করব? আমি ইসলাম বা প্রকৃত আলেমদের বিরুদ্ধে কথা বলছি না। যারা ধর্মীয় পরিচয়কে ব্যবহার করে অপরাধ করে এবং সত্য আড়াল করার চেষ্টা করে, আমি তাদের বিরুদ্ধে কথা বলছি।’

অনাকাঙ্ক্ষিত এ ঘটনার পর পরিবারের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া মানসিক যন্ত্রণার বিবরণ দিয়ে রুমি বলেন, ‘এই ঘটনার পর আমি এক রাতও ঠিকমতো ঘুমাতে পারিনি। আমার দিন কিভাবে কাটছে, তা আল্লাহই ভালো জানেন। আমার জায়গায় অন্য কেউ থাকলে পরিস্থিতি আরো খারাপ হতে পারত। আমি একজন বাবা। আমার সন্তানের সঙ্গে এমন ঘটনা ঘটার কথা শোনার পর নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়েছিল।’

প্রতিষ্ঠানটির শীর্ষ কর্তাব্যক্তির অবহেলার অভিযোগ এনে তিনি আরও বলেন, ‘ঘটনার বিষয়ে আমি তিন দিন আগেই অধ্যক্ষকে অভিযোগ জানিয়েছিলাম। কিন্তু তিনি বারবার বলেছেন, তিনি কিছু জানেন না। আমি তার কক্ষের বাইরে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেছি। পরে তার সঙ্গে কথা বলতে গেলে এমন আচরণ করেছেন, যেন তিনি আমার সঙ্গে দেখা করতেই চান না। আমি জানতে চেয়েছি, অভিযোগ জানানোর পরও কেন কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি?’

বিষয়:

নির্বাচিত

banner close