ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের প্রথম ধাপে ১৩৯টি উপজেলায় ভোটগ্রহণ শেষ হয়েছে। গতকাল বুধবার সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ করা হয়। ভোট গণনা শেষে রাতে নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা করেন রিটার্নিং কর্মকর্তারা। যারা এবার নির্বাচিত হলেন:
নবাবগঞ্জ (ঢাকা) : নাসির উদ্দিন আহমেদ ঝিলু বিপুল ভোটে ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। আনারস প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ৪১৪২১ ভোট। এ ছাড়া ভাইস চেয়ারম্যান পদে ইঞ্জিনিয়ার আরিফুর রহমান জয়ী হয়েছেন। তালা প্রতীক নিয়ে তিনি পেয়েছেন ৪৪৩০০ ভোট। মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে কলস প্রতীক নিয়ে ২৫১৮১ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন রোকসানা।দোহার উপজেলায় আলমগীর হোসেন আনারস প্রতীক নিয়ে ৩৭,৫৫৪ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন।
এ ছাড়া ভাইস চেয়ারম্যান পদে মোহাম্মদ গিয়াসউদ্দিন সোহাগ (তালা প্রতীক) নিয়ে ৪৯ হাজার ৭৪৬ ভোট এবং মহিল ভাইস চেয়ারম্যান পদে শামীমা আক্তার বিথী (হাঁস প্রতীক) নিয়ে ৩০ হাজার ৬৭১ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন।
নরসিংদী: নরসিংদী সদর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আনোয়ার হোসেন বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছে। ভাইস চেয়ারম্যান পদে মো. ওয়ালিউর রহমান ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে আঞ্জুমান বেগম জিয়ী হয়েছে।
এ ছাড়া পলাশ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে সৈয়দ জাবেদ হোসেন চেয়ারম্যান নির্বিাচিত হয়েছে। ভাইস চেয়ারম্যান পদে কারী উল্লাহ সরকার ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে সেলিনা আক্তার বিজয়ী হয়েছে। এ নিয়ে সৈয়দ জাবেদ হোসেন তিনবার উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলেন।
চাঁদপুর: চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে দোয়াত-কলম প্রতীক নিয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন অধ্যাপক সিরাজুল মোস্তফা তালকুদার। মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে নাজমা আক্তার আঁখি নির্বাচিত হন। তবে পুরুষ ভাইস চেয়ারম্যান পদে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন শওকত হোসেন বাদল। মতলব উত্তরে ঘোড়া প্রতীকে ৩৩ হাজার ৭০৭ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন মোহাম্মদ মানিক (আওয়ামী লীগ)।
এই উপজেলায় পুরুষ ভাইস চেয়ারম্যান পদে রিয়াজউদ্দিন রিয়াজ নির্বাচিত হন। তবে মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন লাভলী চৌধুরী।
গাজীপুর: গাজীপুর সদর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ইজাদুর রহমান মিলন বেসরকারিভাবে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হয়েছেন। এ ছাড়া ভাইস চেয়ারম্যান পদে বেলায়েত হোসেন ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে হাসিনা সরকার নির্বাচিত হয়েছেন।
কালীগঞ্জ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে মোহাম্মদ আমজাদ হোসেন নির্বাচিত হয়েছেন। ভাইস চেয়ারম্যান পদে মোজাম্মেল হক এবং মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে জুয়েনা আহমেদ নির্বাচিত হয়েছেন।
এ ছাড়া কাপাসিয়া উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে মো. আমানত হোসেন খান নির্বাচিত হয়েছেন। ভাইস চেয়ারম্যান পদে হাফিজুল হক চৌধুরী ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান শামীমা নাসরিন বিজয়ী হয়েছেন।
টাঙ্গাইল: টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে বেসরকারিভাবে জয়ী হয়েছেন আবদুল ওয়াদুদ তালুকদার সবুজ। অন্যদিকে মধুপুর উপজেলায় জয়ী হয়েছেন অ্যাডভোকেট ইয়াকুব আলী।
মানিকগঞ্জ: মানিকগঞ্জের সিংগাইরে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন কাপ পিরিচ প্রতিকের সায়েদুল ইসলাম। এছাড়া ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন মো. রমিজ উদ্দিন এবং মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান হয়েছেন আনোয়ারা খাতুন।
হরিরামপুরে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন দেওয়ান সাইদুর রহমান। ভাইস-চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন মো. বিল্লাল হোসেন ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান হয়েছেন শামিমা আক্তার চায়না।
ফরিদপুর: কারাগারে থেকে ফরিদপুর সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে আনারস প্রতীক নিয়ে নির্বাচিত হয়েছেন মো. সামচুল আলম চৌধুরী। তিনি পেয়েছেন ৩১ হাজার ৯৩১ ভোট।
রাজবাড়ী: প্রথম ধাপে রাজবাড়ীর পাংশা ও কালুখালী উপজেলা পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (৮ মে) ভোটগ্রহণ শেষে রাত সাড়ে ১০টায় বেসরকারিভাবে ফলাফল ঘোষণা করেন রিটার্নিং অফিসার।
পাংশা উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে ৫৪ হাজার ৫৭৭ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোটরসাইকেল প্রতীকের খন্দকার সাইফুল ইসলাম বুড়ো। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আনারস প্রতীকের ফরিদ হাসান ওদুদ ৩৫ হাজার ৯৪২ ভোট পেয়ে পরাজিত হয়েছেন।
অপরদিকে কালুখালী উপজেলা পরিষদের নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে আলিউজ্জামান চৌধুরী টিটু আনারস প্রতীকে ৩৮ হাজার ৫৭৮ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন। এছাড়া অপর তিন প্রার্থীর মধ্যে এনায়েত হোসেন মোটরসাইকেল প্রতীকে ২ হাজার ৯০০ ভোট, এ বি এম রোকনুজ্জামান কাপ পিরিচ প্রতীকে ৩৪১ ভোট ও মাসুদুর রহমান দোয়াত-কলম প্রতীকে ২৩৭ ভোট পেয়ে পরাজিত হয়েছেন।
জেলা নির্বাচন অফিসার ও ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদের প্রথম ধাপের নির্বাচনের রিটার্নিং অফিসার অলিউল ইসলাম বলেন, প্রথম ধাপে পাংশা ও কালুখালী উপজেলা পরিষদের নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হয়েছে। কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পর বেসরকারিভাবে ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছে। কোনো প্রার্থীর আজকের নির্বাচন নিয়ে অভিযোগ ছিল না।
মধুখালী উপজেলায় দোয়াতকলম প্রতীকে মোহাম্মদ মুরাদুজ্জামান ২৯ হাজার ৪৭৮ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। চরভদ্রাসনে আনারস প্রতীকে আনোয়ার আলী মোল্লা ১৬ হাজার ১৬ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন।
মাদারীপুর: মাদারীপুর সদর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে বিজয়ী হয়েছেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য, মাদারীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) শাজাহান খানের ছেলে আসিবুর রহমান খান আসিব। আনারস প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে তিনি মোট ভোট পেয়েছেন ৭৫৫৯৪।
ভাইস চেয়ারম্যান পদে মনিরুল ইসলাম ভূঁইয়া তালা প্রতীকে ৬০ হাজার ১০৫ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন। অন্যদিকে মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে হাঁস প্রতীকের ফারিয়া হাসান রাখি ৫৬ হাজার ১৭৫ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন।
রাতে এ ফলাফল ঘোষণা করেন সদর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও নির্বাচন কর্মকর্তা মোসা. নাননী খান।
রাজৈর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে মোটরসাইকেল প্রতীকে ৪৩ হাজার ৭শ ৪১ ভোট পেয়ে মোহসিন মিয়া বেসরকারি ভাবে চেয়ারম্যান বিজয়ী হয়েছেন।
শরীয়তপুর: শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে একেএম ইসমাইল হক, ভাইস চেয়ারম্যান পদে আলমগীর ফকির ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে রাজিয়া সুলতানা মনি বিজয়ী হয়েছেন।
ভেদরগঞ্জ উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে ওয়াছেল কবির গুলফাম, ভাইস চেয়ারম্যান পদে আজাহারুল ইসলাম গাজী ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে রোকসানা আনোয়ার বিজয়ী হয়েছেন।
গোপালগঞ্জ: গোপালগঞ্জ সদর উপজেলায় বিশিষ্ট আইটি ব্যবসায়ী ও কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক লীগের উপদেষ্টা কামরুজ্জামান ভূঁইয়াবেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি টেলিফোন প্রতীকে ৩১ হাজার ৩৫৪ ভোট পেয়েছেন। কোটালীপাড়ায় উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য বিমল কৃষ্ণ বিশ্বাস ৪০ হাজার ২৭১ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার প্রতীক দোয়াত-কলম। দোয়াত-কলম প্রতীক নিয়ে ৪০ হাজার ৭৯২ ভোট পেয়ে টুঙ্গিপাড়ায় উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. বাবুল শেখ নির্বাচত হয়েছেন।
কিশোরগঞ্জ: কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে মোহাম্মদ সোহেল বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। আনারস প্রতীকে ২৩ হাজার ৯৬৬ ভোট পেয়ে দ্বিতীয়বারের মতো উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলেন তিনি।
পুরুষ ভাইস চেয়ারম্যান পদে মোহাম্মদ আল আমিন (অপু) বিজয়ী হয়েছেন। টিউবওয়েল প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ৩৭ হাজার ৫৪১ ভোট। মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে কলস প্রতীকে ৪৯ হাজার ৫২৫ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন ছাবিয়া পারভীন জেনি।
বরিশাল: রিটার্নিং কর্মকর্তা বরিশাল জেলার জ্যেষ্ঠ নির্বাচন অফিসার ওহিদুজ্জামান মুন্সী জানান, সদর উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হয়েছেন কাপ-পিরিচ প্রতীকের আব্দুল মালেক। তিনি পেয়েছেন ১৯ হাজার ৮০৭ ভোট।
ভাইস চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হয়েছেন মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মো. জসিমউদ্দিন। তিনি তালা প্রতীক নিয়ে ২৯ হাজার ৯৩৭ ভোট পেয়েছেন। এ ছাড়া মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হয়েছেন অ্যাডভোকেট হালিমা বেগম। তিনি পেয়েছেন ৪১ হাজার ৫৩৫ ভোট।
বাকেরগঞ্জ উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হয়েছেন রাজিব আহম্মদ তালুকদার। তিনি কাপ-পিরিচ প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ৩৮ হাজার ৮৬৫ ভোট। তার মা পারভীন তালুকদার আওয়ামী লীগের সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য ছিলেন। এছাড়া ভাইস চেয়ারম্যান পদে আবদুস সালাম মল্লিক ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে জাহানারা মাহাবুব নির্বাচিত হয়েছেন।
পিরোজপুর: পিরোজপুরের ৩ উপজেলায় বিজয়ী চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যানরা সবাই আওয়ামী লীগের সমর্থক। জেলার সদর উপজেলায় চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন ওই উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়াম্যান এসএম বায়েজিদ হোসেন।
ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন তালা প্রতীকের মো. রফিকুল ইসলাম, এবং মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন পদ্মফুল প্রতীকের শাহানাজ পারভীন (শানু)।
নাজিরপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন এসএম নুরে আলম সিদ্দিকী শাহীন। ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছে চশমা প্রতীকের শেখ মো. মোস্তাফিজুর রহমান রঞ্জু , এবং মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন সেলাই প্রতীকের আলো শিকদার। ইন্দুরকানীতে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. জিয়াউল আহসান গাজী। ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন তালা প্রতীকের মাহমুদুল হক দুলাল ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন কলস প্রতীকের দিলারা পারভীন।
নোয়াখালী: নোয়াখালীর সূবর্ণচর উপজেলায় পরিষদ নির্বাচনে স্থানীয় সংসদ সদস্য একরামুল করিম চৌধুরীর ছেলে আতাহার ইশরাক সাবাব চৌধুরী (আনারস) ৩৭,৬৪৮ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত।
ফেনী: ফেনীর ফুলগাজী উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে ২৭,৬৩৫ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন কাপ-পিরিচ মার্কার প্রার্থী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. হারুন মজুমদার।
ভাইস চেয়ারম্যান পদে ১১,০৮৯ ভোট পেয়ে টিয়া পাখি মার্কার প্রার্থী আমজাদ হাট ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি অনিল বনিক তৃতীয় বারের মতো নির্বাচিত হয়েছেন। মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে উপজেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মঞ্জুরা আজিজ বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন।
মেহেরপুর: মুজিবনগর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আনারস প্রতীকে ১৭ হাজার ৬৩ ভোট পেয়ে আমাম হোসেন মিলু বেসরকারিভাবে উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন।
এ ছাড়া টিউবওয়েল প্রতীক নিয়ে ২০ হাজার ৬৫২ ভোট পেয়ে বিএম জাহিদ হাসান রাজিব ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন এবং কলস প্রতীক নিয়ে ২০ হাজার ৫৮ভোট পেয়ে মোছা. তকলীমা দ্বিতীয়বারের মতো মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন।
মোটরসাইকেল প্রতীক নিয়ে ৪০ হাজার ৯২৩ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে আনারুল ইসলাম মেহেরপুর সদর উপজেলার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন।
চশমা প্রতীক নিয়ে ৩৬ হাজার ১৮৬ ভোট পেয়ে দ্বিতীয়বারের মতো আবুল হাসেম ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। আর মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে বৈদ্যুতিক পাখা প্রতীক নিয়ে ৩৪ হাজার ৬৪৬ ভোট পেয়ে লতিফন নেছা লতা দ্বিতীয়বারের মতো ভাইসচেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন।
কুষ্টিয়া: আনারস প্রতীকে ৬৭ হাজার ৪৮১ ভোট পেয়ে কুষ্টিয়া সদর উপজেলার চেয়ারম্যান পদে আতাউর রহমান আতা নির্বাচিত হয়েছেন। ঘোড়া প্রতীকে ২৫ হাজার ১০১ ভোট পেয়ে খোকসা উপজেলার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন আল মামুস মুর্শেদ শান্ত।
ভাইস চেয়ারম্যান পদে মো. সাহাবুদ্দিন মিয়া ৩৫ হাজার ৩৪৬ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন এবং মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে ২৬ হাজার ৪৪৩ ভোট পেয়েছেন নির্বাচিত হয়েছেন নুর জাহান পারুল।
কক্সবাজার: কক্সবাজার সদর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে হেভিওয়েট প্রার্থী জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক পৌর মেয়র মুজিবুর রহমানকে হারিয়ে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুল আবছার। নুরুল আবছার পেয়েছেন ৩৪৯৭৪ ভোট। তিনি কক্সবাজার পৌরসভার চারবারের টানা চেয়ারম্যান (মেয়রের আগের পদ) ছিলেন।
কুমিল্লা: কুমিল্লার লাকসাম উপজেলায় অ্যাডভোকেট মো. ইউনুছ ভূইয়া বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন। তিনি লাকসাম উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি। অপরদিকে মনোহরগঞ্জ উপজেলায় বিজয়ী হয়েছেন মো. আবদুল মান্নান চৌধুরী। তিনি উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি। এছাড়া মেঘনা উপজেলায় বিজয়ী হয়েছেন মো. তাজুল ইসলাম তাজ। তিনি উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদে রয়েছেন।
মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন ভোটের মাঠে নতুন মুখ অধ্যাপিকা রোমেনা আকতার। তিনি পেয়েছেন ৩৬,৫৪২ ভোট।অন্যদিকে এ উপজেলায় বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন রশিদ মিয়া। মহেশখালী উপজেলায় চেয়ারম্যান হয়েছেন দোয়াত-কলম প্রতীকের প্রার্থী মোহাম্মদ জয়নাল আবেদীন। তিনি পেয়েছেন ৩৮১২৯ ভোট।
ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন আবু ছালেহ এবং মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান হয়েছেন মনোয়ারা কাজল। কুতুবদীয়ায় ব্যারিস্টার মোহাম্মদ হানিফ বিন কাশেম চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি ঘোড়া প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ২৭৩৯৪ ভোট।
ভাইস চেয়ারম্যান পদে জামায়াতে ইসলামির আকবর খান এবং মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগ নেত্রী হাসিনা আকতার বিউটি নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি তৃতীয়বারের মতো নির্বাচিত হলেন।
রাঙামাটি: রাঙামাটির কাউখালী উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে সামশুদ্দোহা চৌধুরী রড ২৩ হাজার ৬৯৩ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন এছাড়া ভাইস চেয়ারম্যান পদে কোন প্রতিদ্বন্ধী না থাকায় লাথোয়াই মারমা আগেই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে নিংবাইউ মারমা ২১ হাজার ৮০৩ ভোট পেয়ে পুনরায় নির্বাচিত হয়েছেন।
রাঙামাটি সদর উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে অন্ন সাধন চাকমা ১৪ হাজার ৮৮৫ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। পুরুষ ভাইস চেয়ারম্যান পদে পলাশ কুসুম চাকমা ১১ হাজার ৪৫০ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে রিতা চাকমা ২০ হাজার ৭৯৮ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন।
খাগড়াছড়ি: প্রথম ধাপে খাগড়াছড়ির চারটি উপজেলা পরিষদের নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। লক্ষীছড়ি ছাড়া অন্য তিন উপজেলা রামগড়, মানিকছড়ি ও মাটিরাঙ্গায় শান্তিপূর্নভাবে নির্বাচন সম্পন্ন হয়। ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন মো. আলী হোসেন এবং মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান হয়েছেন মোছা. আমেনা বেগম।
রামগড়ে চেয়ারম্যান হয়েছেন আনারস প্রতীকের বিশ্ব প্রদীপ কুমার কার্বারি। ভাইস চেয়ারম্যান পদে চশমা প্রতীকে মোবারক হোসেন এবং মহিলা ভাইস-চেয়ারম্যান পদে প্রজাপতি প্রতীক নিয়ে নাছিমা আহসান নীলা নির্বাচিত হয়েছেন।
মানিকছড়িতে আনারস প্রতীকে পুনরায় চেয়ারম্যান হয়েছেন জয়নাল আবেদিন। ভাইস চেয়ারম্যান পদে বেসরকারি ফলাফলে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন চলাপ্রু মারমা নিলয়। এবং মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন নূর জাহান আফরিন লাকি।
বান্দরবান: বান্দরবান সদরে চেয়ারম্যান পদে মোটরসাইকেল প্রতীক নিয়ে ১৯ হাজার ১৪৪ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন আব্দুল কুদ্দুছ।উড়োজাহাজ প্রতীক নিয়ে ১৩ হাজার ৩৯৮ ভোট পেয়ে ভাইস চেয়ারম্যান পদে বিজয়ী হয়েছেন ফারুক আহমেদ ফাহিম। আর মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে মেহাইনু মারমা ১৭ হাজার ৯০ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার প্রতীক প্রজাপতি।
অন্যদিকে বান্দরবানের আলীকদম উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে দোয়াত-কলম প্রতীক নিয়ে নয় হাজার ৭০০ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন জামাল উদ্দিন। ভাইস চেয়ারম্যান পদে মোহাম্মদ রিটন নয় হাজার ১৪৬ ভোট ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে শিরিন আক্তার আট হাজার ৮৬৮ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন।
বগুড়া: সারিয়াকান্দিতে এমপিপুত্র সাখাওয়াত হোসেন সজল (প্রতীক: আনারস), সোনাতলায় এমপির ছোট ভাই ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট মিনহাদুজ্জামান লীটন (প্রতীক:আনারস) এবং গাবতলীতে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় বন ও পরিবেশ বিষয়ক উপকমিটির সদস্য অরুণ কান্তি রায় সিটন (প্রতীক: ঘোড়া) নির্বাচিত হয়েছেন।
আনারস প্রতীকে অ্যাডভোকেট মিনহাদুজ্জামান লীটন ২০ হাজার ৪৮৩ ভোট পেয়ে পুণরায় নির্বাচিত হয়েছেন। নির্বাচনে ভাইস চেয়ারম্যান পদে যুবলীগ নেতা ফিদা হাসান টিটু এর আগে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেত্রী ওয়াছিয়া আকতার লুনা নির্বাচিত হয়েছেন।
সারিয়াকান্দির চেয়ারম্যান পদে আনারস প্রতীকে সাখাওয়াত হোসেন সজল ৩৭ হাজার ২৪৮ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। গাবতলীর চেয়ারম্যান পদে ঘোড়া প্রতীকে অরুণ কান্তি রায় সিটন ৪১ হাজার ৬০৯ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন।
সিরাজগঞ্জ: আনারস প্রতীকে ৪৭ হাজার ৮৯৭ ভোট পেয়ে সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার চেয়ারম্যান হয়েছেন মো. রিয়াজ উদ্দিন।কাজিপুর উপজেলার চেয়ারম্যান পদে আবার বিজয়ী হয়েছেন বর্তমান চেয়ারম্যান খলিলুর রহমান সিরাজী। আনারস প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ৪৫ হাজার ১৩১ ভোট।
বেলকুচি উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে বিজয়ী হয়েছেন মোহাম্মাদ আমিনুল ইসলাম সরকার। তিনি দোয়াত-কলম প্রতীকে পেয়েছেন ৫৪হাজার ৮৪১ ভোট। রাত সাড়ে ১১টার দিকে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. শহীদুল ইসলাম বেসরকারিভাবে এ ফলাফল ঘোষণা করেন।
সিলেট: ভোট গণনার পর রাতে রিটার্নিং কর্মকর্তা ও সিনিয়র জেলা নির্বাচন অফিসার জিল্লুর রহমান বেসরকারিভাবে ফলাফল ঘোষণা করেন। ঘোষিত ফলাফলে সিলেট সদর উপজেলায় জেলা আওয়ামী লীগ যুগ্ম সম্পাদক অধ্যক্ষ সুজাত আলী রফিক, দক্ষিণ সুরমায় উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বদরুল ইসলাম, গোলাপগঞ্জে সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মঞ্জুর কাদির শাফি এবং বিশ্বনাথ উপজেলায় জেলা বিএনপি সাবেক সহসভাপতি ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মো. সুহেল আহমদ চৌধুরী বিজয়ী হয়েছেন।
কাপ-পিরিচ প্রতীক নিয়ে অধ্যক্ষ সুজাত আলী রফিক পেয়েছেন ২৩ হাজার ২৬৭ ভোট। এ উপজেলায় ভাইস চেয়ারম্যান পদে মো. সাইফুল ইসলাম ১৮ হাজার ৬৪২ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার প্রতীক উড়োজাহাজ।
আর মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে মোছা. হাসিনা আক্তার ফুটবল প্রতীকে ৩৫ হাজার ৭৯২ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। টেলিফোন প্রতীক নিয়ে ২০ হাজার ৬১৫ ভোট পেয়ে দক্ষিণ সুরমা উপজেলার চেয়ারম্যান পদে বিজয়ী হয়েছেন মো. বদরুল ইসলাম। তিনি উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক।
ভাইস চেয়ারম্যান পদে মো.মাহবুবুর রহমান ১৯ হাজার ৮৩০ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার প্রতীক মাইক। মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে পদ্ম ফুল প্রতীকে ২০ হাজার ২৯৮ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন আইরিন আক্তার কলি।
সুনামগঞ্জ: সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলা পরিষদ নির্বাচন চেয়ারম্যান পদে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক প্রদীপ রায় (দোয়াত কলম) প্রতীক নিয়ে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন। এ ছাড়াও ভাইস চেয়ারম্যান পদে এ বি এম মনসুর সুদীপ ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে ছবি চৌধুরী বিজয়ী হয়েছেন।
মৌলভীবাজার: মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়া উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে বিজয়ী হয়েছেন আঞ্জুমানে আল ইসলাহ’র প্রার্থী মাওলানা ফজলুল হক খান সাহেদ।
ময়মনসিংহ: ময়মনসিংহের ফুলপুর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে বিজয়ী হয়েছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহবায়ক মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান। ধোবাউড়া উপজেলা পরিষদ নির্বাচন নির্বাচিত হয়েছেন উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক ডেভিড রানা চিসিম।
এ ছাড়া হালুয়াঘাট উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন উত্তর জেলা বিএনপির বহিষ্কৃত নেতা মোহাম্মদ আবদুল হামিদ।
নেত্রকোনা: নেত্রকোনার দুর্গাপুরে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন নাজমুল হাসান নীরা (সাদ্দাম আকঞ্জি)। তিনি এর আগে উপজেলার ভাইস চেয়ারম্যান ছিলেন। মোটরসাইকেল প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ৩১ হাজার ১৫৫ ভোট।
জুড়ী উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে উপজেলা সেচ্ছাসেবক লীগের আহ্বায়ক কিশোর রায় চৌধুরী মনি বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন।বড়লেখা উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নেতা আজির উদ্দিন বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন।
হবিগঞ্জ: হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলা পরিষদের প্রাক্তন চেয়ারম্যান ইকবাল হোসেন খান আনারস প্রতীকে ৪২ হাজার ৪৩৩ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন।
এ ছাড়া আজমিরীগঞ্জ উপজেলা পরিষদের প্রাক্তন চেয়ারম্যান মো. আলাউদ্দিন মিয়া কাপ পিরিচ প্রতীকে ১৫ হাজার ১৮২ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন।
যশোর: যশোরের কেশবপুর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে মফিজুর রহমান নির্বাচিত হয়েছেন। ঘোড়া প্রতীকে তিনি ভোট পেয়েছেন ১৮ হাজার ৪৬৬।
রাজশাহী: কাপ-পিরিচ প্রতীক নিয়ে ৪৬ হাজার ৩৯৫ ভোট পেয়ে রাজশাহীর তানোর উপজেলার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন লুৎফর হায়দার রশিদ ময়না।
এ দিকে দোয়াত-কলম প্রতীক নিয়ে ৬৭ হাজার ৮৮ ভোট পেয়ে গোদাগাড়ী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন মো. বেলাল উদ্দিন সোহেল। তিনি উপজেলার দেওপাড়া ইউপির চেয়ারম্যান ছিলেন।
ভাইস চেয়ারম্যান পদে তালা প্রতীকের আব্দুল্লাহ আল মামুন ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে ফুটবল প্রতীকের প্রার্থী রাবেয়া খাতুন নির্বাচিত হয়েছেন। মণিরামপুর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আনারস প্রতীকে ৫৪ হাজার ৩২৮ ভোট পেয়ে আমজাদ হোসেন লাভলু নির্বাচিত হয়েছেন।
এ ছাড়া ভাইস চেয়ারম্যান পদে সন্দীপ ঘোষ ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে কাজী জলি আক্তার নির্বাচিত হয়েছেন।
নাটোর: নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে ১১ হাজার ২৪০ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন জেলা আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক (জোড়াফুল প্রতীক) মো. রবিউল ইসলাম।
ভাইস চেয়ারম্যান পদে ১৮ হাজার ৪৯৬ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন মো. খালেদ মাহমুদ ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে ১৮ হাজার ৮১ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন মোছা. রিনা পারভিন।
সদর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে ৩৪ হাজার ৭৯৭ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও কাপ-পিরিচ প্রতীকের প্রার্থী মো. শরিফুল ইসলাম রমজান। ভাইস চেয়ারম্যান পদে বেসরকারিভাবে মো. শরিফুর রহমান এবং মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে কামরুন্নাহার নির্বাচিত হয়েছেন।
এ ছাড়া সিংড়া উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে পুরুষ ভাইস চেয়ারম্যান পদে বেসরকারি ভাবে আনিছুর রহমান লিখন এবং মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে শামীমা হক রোজী নির্বাচিত হয়েছেন। এখানে চেয়ারম্যান পদে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আগেই নির্বাচিত হন দেলোয়ার হোসেন।
নীলফামারী: নীলফামারীর ডিমলায় ভাতিজাকে হারিয়ে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আনোয়ারুল হক সরকার মিন্টু। ঘোড়া প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ২৭ হাজার ২৯০ ভোট।
ভাইস চেয়ারম্যান পদে ২৩ হাজার ৫৩১ ভোট পেয়ে উত্তম কুমার রায় এবং নারী ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৫৩ হাজার ৩৬০ ভোট পেয়ে তৃতীয় বারের মতো নির্বাচিত হয়েছেন আয়েশা সিদ্দিকা। ডোমার উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন সরকার ফারহানা আক্তার সুমি। তিনি টেলিফোন প্রতীকে ৩৯ হাজার ৩২৫ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি বাংলাদেশ যুব মহিলা লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ও বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ডের সাধারণ সম্পাদক (কল্যাণ ও পুনর্বাসন)।
লক্ষ্মীপুর: কমলনগর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে বিজয়ী হয়েছেন বাংলাদেশ ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলনের বহিষ্কৃত কেন্দ্রীয় নেতা আল্লামা খালেদ সাইফুল্লাহ। তিনি মোটরসাইকেল প্রতীকে পেয়েছেন ১৮ হাজার ২৩০ ভোট। চশমা প্রতীকে ২৮ হাজার ১০৩ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন ভাইস চেয়ারম্যান পদে সালেহ উদ্দিন রাজু৷ মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে সাজেদা আক্তার সুমি কলস প্রতীকে ৩১ হাজার ৯১ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন।
রামগতি উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন সাবেক বিএনপি নেতা শরাফ উদ্দিন আজাদ সোহেল। কাপ-পিরিচ প্রতীক নিয়ে ২৯ হাজার ৬৯৩ ভোট পেয়েছেন তিনি। আজাদ উপজেলা পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান।
গাইবান্ধা: গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে আবু সাঈদ বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি মোটরসাইকেল প্রতীকে ৩০ হাজার ৪৯৯ ভোট পেয়েছেন।
ঠাকুরগাঁও: ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে আনারস প্রতীকে ৬৩ হাজার ৭৬২ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে মো. সফিকুল ইসলাম নির্বাচিত হয়েছেন।
ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৫১ হাজার ৩৬০ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন বই প্রতীকের মো. মোমিনুল ইসলাম। এ ছাড়াও বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হয়েছেন শীমা আক্তার।
হরিপুর উপজেলায় মোটরসাইকেল প্রতীকে মো. আব্দুল কাইয়ুম পুস্প ৩২ হাজার ৭৮৭ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। ভাইস চেয়ারম্যান পদে রিয়াজুল ইসলাম সকার টিউবওয়েল প্রতীকে ৪১ হাজার ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন এবং মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে মোছা. আসিয়া বেগম কলস প্রতীকে ৩৬ হাজার ২১৮ ভোটে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন।
চুয়াডাঙ্গা: চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে আনারস প্রতীকে আলি মুনছুর বাবু নির্বাচিত হয়েছেন। ভাইস চেয়ারম্যান পদে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় শফিউল কবীর ইউসুফ এবং মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে তানিয়া খাতুন নির্বাচিত হয়েছেন।
জীবননগর উপজেলা নির্বাচনে সাবেক উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হাফিজুর রহমান (কাপ-পিরিচ) বেসরকারিভাবে আবারও চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। ভাইস চেয়ারম্যান পদে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বর্তমান ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম ঈসা এবং মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে রেনুকা আক্তার রিতা নির্বাচিত হয়েছেন।
লালমনিরহাট: লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি লিয়াকত হোসেন বাচ্চু বেসরকারিভাবে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন আলা উদ্দিন এবং মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে শারমিন সুলতানা সাথী নির্বাচিত হয়েছেন। পাটগ্রাম উপজেলা পরিষদে টানা চতুর্থবারের মতো বেসসরকারীভাবে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন রুহুল আমিন বাবুল। ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন মোফাজ্জল হোসেন এবং মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে রেজওয়ানা পারভীন নির্বাচিত হয়েছেন।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ: ভোলাহাট উপজেলায় বিএনপির বহিষ্কৃত উপজেলা সহ-সভাপতি মো. আনারুল ইসলাম বেসরকারি ভাবে বিজয়ী হন। ভাইস চেয়ারম্যান পদে বহিষ্কৃত বিএনপি নেতা মো. কামাল উদ্দিন এবং মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে উপজেলা মহিলা যুলীগের সাধারণ সম্পাদক মোসা. শাহাজাদী বিশ্বাস বিজয়ী হন।
অপরদিকে নাচোল উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে টানা তৃতীয়বারের মতো উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন আব্দুল কাদের। এছাড়া ভাইস চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হয়েছেন কামাল উদ্দিন এবং মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হয়েছেন শামীমা খাতুন লিপি।
সাতক্ষীরা: সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক শেখ মেহেদী হাসান সুমন বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন।
অপরদিকে শ্যামনগর উপজেলা নির্বাচনে উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক সাইদ উজ জামান সাইদ বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ও যুবলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. শের আলম। এ দিকে নাসিরনগর উপজেলায় প্রথমবারের মতো নারী চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি রোমা আক্তার।
মাগুরা: মাগুরা সদর উপজেলায় মো. রানা আমির ওসমান মোটরসাইকেল প্রতীকে ৮৩ হাজার ৫৭১ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন।অন্যদিকে শ্রীপুর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে শরিয়তউল্লাহ হোসেন মিয়া রাজন মোটরসাইকেল প্রতীকে ৪৪ হাজার ৯৪৭ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন।
ঝিনাইদহ: ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে আনারস প্রতীকে শিবলী নোমানী বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। ভাইস চেয়ারম্যান পদে শফিকুজ্জান রাসেল এবং মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে শাহনাজ পারভীন বিজয়ী হয়েছেন।
নড়াইল: নড়াইললের কালিয়া উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চিংড়ী মাছ প্রতীকে ৩০ হাজার ৪৬৩ ভোট পেয়ে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন খান শামীম রহমান ওছি। এছাড়া ভাইস চেয়ারম্যান (পুরুষ) পদে ১৯ হাজার ৫৭৭ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন মো. মাহাবুবুল আলম।
ভাইস চেয়ারম্যান (মহিলা) পদে ৪২ হাজার ৪৭৯ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন মোসা. ববিতা খানম।
বাগেরহাট: বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে রাড়িপাড়া ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি মেহেদী হাসান বাবু নির্বাচিত হয়েছেন। এ উপজেলায় ভাইস চেয়ারম্যান পদে কচুয়া উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি শেখ সুমন ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে হনুফা খাতুন নির্বাচিত হয়েছেন।
রামপাল উপজেলায় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ মোয়াজ্জেম হোসেন পুনরায় চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হয়েছেন। ভাইস চেয়ারম্যান পদে উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক নুরুল হক লিপন এবং মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে উপজেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মুসাম্মাৎ হোসনেয়ারা (মিলি) পুনরায় নির্বাচিত হয়েছেন।
এ ছাড়া এ জেলায় প্রথম ধাপে বাগেরহাট সদর উপজেলায় ৩ প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। বিজয়ীরা হলেন, চেয়ারম্যান পদে বাগেরহাট সদর উপজেলা পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান ও জেলা যুবলীগের সভাপতি সরদার নাসির উদ্দিন, ভাইস চেয়ারম্যান পদে জেলা আওয়ামী লীগের শিক্ষা ও মানবসম্পদ বিষয়ক সম্পাদক ও বর্তমান ভাইস চেয়ারম্যান খান রেজাউল ইসলাম এবং মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে বাগেরহাট পৌর আওয়ামী লীগের মহিলাবিষয়ক সম্পাদক ও বর্তমান মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান রিজিয়া পারভীন।
পঞ্চগড়: পঞ্চগড় জেলার সদর উপজেলা পরিষদে চেয়ারম্যান পদে সাবেক ছাত্রলীগ নেতা এএস মো শাহনেওয়াজ প্রধান শুভ ঘোড়া প্রতীক নিয়ে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি পেয়েছেন ৩১ হাজার ৯৯৮টি ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন উপজেলা চেয়ারম্যান ও সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. আমিরুল ইসলাম। তিনি মোটরসাইকেল প্রতীক নিয়ে ভোট পেয়েছেন ১৫ হাজার ৩৮৭টি।
তেঁতুলিয়া উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হয়েছেন ব্যবসায়ী নিজাম উদ্দিন খাঁন। তিনি পেয়েছেন ৩৬ হাজার ৮৪০টি ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মুক্তারুল হক মুকু ঘোড়া প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ১১ হাজার ৮৬৫টি ভোট।
অপরদিকে আটোয়ারী উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হয়েছেন জেলা আওয়ামী লীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক আনিসুর রহমান। তিনি ঘোড়া প্রতীকে পেয়েছেন ৩১ হাজার ৭৫৭ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি তৌহিদুল ইসলাম মোটরসাইকেল প্রতীকে ভোট পেয়েছেন ২৫ হাজার ৮৮৭টি।
জেলার তিন উপজেলায় মোট ভোটার ৪ লাখ ৪২ হাজার ৮৭৬ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ২২ হাজার ৮৬৯ জন ও নারী ভোটার ২ লাখ ২০ হাজার ৩ জন। তিন উপজেলায় ভোট কেন্দ্র ১৫৬টি ও বুথ ১ হাজার ২১৬টি। তিন উপজেলায় চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে মোট ৩৩ জন প্রার্থী ভোট লড়াই করেছেন।
দিনাজপুর:উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের প্রথম ধাপে দিনাজপুরে তিনটি উপজেলায় ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। জেলার হাকিমপুর উপজেলায় উপজেলা চেয়ারম্যান পদে মো. কামাল হোসেন রাজ মোটরসাইকেল প্রতীকে ২২ হাজার ২৫১ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী হারুন উর রশীদ হারুন টেলিফোন প্রতীকে পেয়েছেন ১৯ হাজার ৩৭৮ ভোট।
ঘোড়াঘাট উপজেলায় কাজি শুভ রহমান চৌধুরী আনারস প্রতীকে ২৮ হাজার ৬৩৯ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী সারোয়ার হোসেন মোটরসাইকেল প্রতীকে পেয়েছেন ৮ হাজার ৩৮৪ ভোট।
বিরামপুর উপজেলায় মো. পারভেজ কবির ঘোড়া প্রতীকে ৪২ হাজার ৯৬৭ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মতিউর রহমান আনারস প্রতীকে পেয়েছেন ৩২ হাজার ৮০৭ভোট।
জয়পুরহাট: জয়পুরহাটের কালাই উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মিনফুজুর রহমান মিলন মোটরসাইকেল প্রতীকে ৪২ হাজার ৪৫৪ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন।
ক্ষেতলাল উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ক্ষেতলাল পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি দুলাল মিয়া সরদার দোয়াত কলম প্রতীকে ৩০ হাজার ৩৯০ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন।
এ ছাড়া আক্কেলপুর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মোকসেদ আলী মণ্ডল মোটরসাইকেল প্রতীকে ১৯ হাজার ৫৩৯ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন।
রংপুর: উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের প্রথম ধাপে রংপুরের পীরগাছায় উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ মিলন চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি মোটরসাইকেল প্রতীকে পেয়েছেন ৪২ হাজার ৭৬৮ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি মনোয়ারুল ইসলাম দোয়াত-কলম প্রতীকে পেয়েছেন ৪০ হাজার ৯৪৮ ভোট।
অন্যদিকে কাউনিয়া উপজেলায় পুনরায় চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হয়েছেন আওয়ামী লীগের আনোয়ারুল ইসলাম মায়া। তিনি মোটরসাইকেল প্রতীকে পেয়েছেন ৬০ হাজার ৭১৪ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী একই দলের আব্দুর রাজ্জাক আনারস প্রতীকে পেয়েছেন ৪৭ হাজার ৮৬৩ ভোট।
কুড়িগ্রাম:কুড়িগ্রামে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে রৌমারীর মো. শহিদুল ইসলাম শালু কাপ পিরিচ, চিলমারীর রুকনুজ্জামান শাহিন আনারস ও রাজিবপুরের মো শফিউল আলম আনারস প্রতীকে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন।
শহিদুল ইসলাম শালু রৌমারী উপজেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি। তিনি ২৪ হাজার ৫০৪ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মো. মজিবুর রহমান বঙ্গবাসী টেলিফোন প্রতীকে পেয়েছেন ২৪ হাজার ২৫৩ ভোট পেয়েছেন। রৌমারী উপজেলায় মোট ৬১টি ভোট কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। ভোটার সংখ্যা ১ লাখ ৬৮ হাজার।
চিলমারীতে রুকনুজ্জামান শাহিন আনারস প্রতীকে ২৮ হাজার ১৯৪ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি চিলমারী উপজেলা জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী রেজাউল করিম লিচু কাপ পিরিচ প্রতীকে ১১ হাজার ৫৮৪ ভোট পেয়ে পরাজিত হয়েছেন। রেজাউল করিম লিচু চিলমারী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। এই উপজেলায় মোট ভোটার সংখ্যা ১ লাখ ৯ হাজার ৪৪৪ জন।
রাজিবপুরে মো. শফিউল আলম আনারস প্রতীকে বেসরকারিভাবে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি ভোট পেয়েছেন ১৭ হাজার ৭৪৬টি। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আরিফুর রনি তালুকদার রানা ঘোড়া প্রতীকে পেয়েছেন ১৭ হাজার ৩৮৬ ভোট। নির্বাচিত শফিউল আলম কুড়িগ্রাম জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য।
কুড়িগ্রাম জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলমগীর কবির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পাবনা: উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের প্রথম ধাপে পাবনার তিনটি উপজেলায় ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সুজানগর উপজেলা চেয়ারম্যান পদে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল ওহাব মোটরসাইকেল প্রতীকে ৬২ হাজার ৭৫২ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহিনুজ্জামান শাহীন (আনারস) পেয়েছেন ৫৮ হাজার ৪৪১ ভোট।
সাঁথিয়া উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে বর্তমান ভাইস চেয়ারম্যান ও পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সোহেল রানা খোকন (কাপ-পিরিচ) ৩৮ হাজার ৫২৬ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী উপজেলা যুবলীগের সভাপতি আশরাফুজ্জামান টুটুল (আনারস) পেয়েছেন ৩৪ হাজার ৭১২ ভোট। আর বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজলা আ'লীগের সাবেক সভাপতি আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ দেলোয়ার পেয়েছেন ১৪ হাজার ১৭৪ ভোট।
বেড়ায় বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান ও আমিনপুর থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রেজাউল হক বাবু (হেলিকপ্টার) ২৯ হাজার ৬৮৯ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী উপজেলা আওয়ামী লীগের বহিষ্কৃত সভাপতি ও সাবেক পৌর মেয়র আব্দুল বাতেন (ঘোড়া) পেয়েছেন ২৩ হাজার ৭৬৬ ভোট। এই উপজেলার আরেক নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আফজার হোসেন পেয়েছেন ১৯ হাজার ৬২২ ভোট।
জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান বলেন, পাবনার তিনটি উপজেলা কোন প্রকার সহিংসতা ছাড়াই অবাধ নিরপেক্ষভাবে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। কোথাও কোনও অভিযোগ নেই। সুষ্ঠু ভোট করতে যারা সহযোগিতা করেছেন সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানান তিনি।
যশোর: উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের প্রথম ধাপে যশোরে দুইটি উপজেলায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। কেশবপুর উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে ঘোড়া প্রতীকের মফিজুর রহমান ১৮ হাজার ৪৬৬ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী শালিক প্রতীকের নাসিমা আকতার সাদেক পেয়েছেন ১৪ হাজার ১৬ ভোট। এ নির্বাচনে তিনটি পদে ১৪ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।
এ ছাড়া ভাইস চেয়ারম্যান পদে তালা প্রতীকের আব্দুল্লাহ আল মামুন ৩২ হাজার ৪৩৪ ভোট পেয়ে ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে ফুটবল প্রতীকের রাবেয়া ইকবাল ৩৭ হাজার ৩০৭ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন।
কেশবপুর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও সহকারী রিটানিং কর্মকর্তা রবিউল ইসলাম বলেন, কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই কেশবপুরে শান্তিপূর্ণভাবে উপজেলা পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এখানে মোট ভোটার সংখ্যা দুই লাখ ২০ হাজার ৯৫৪ জন। মোট ৯৫টি কেন্দ্রের ৬৭০টি কক্ষে সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ইভিএমে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়।
মণিরামপুর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে উপজেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেন লাভলু আনারস মার্কায় ৫৯ হাজার ২৭৩ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক প্রভাষক ফারুক হোসেন পেয়েছেন ৫২ হাজার ৭১৮ ভোট। এছাড়া এই উপজেলায় ভাইস চেয়ারম্যান পদে সন্দীপ ঘোষ ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে পুনরায় কাজী জলি আক্তার বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন।
ঠাকুরগাঁও: ঠাকুরগাঁওয়ে চেয়ারম্যান পদে বালিয়াডাঙ্গী উপজেলায় আনারস প্রতীকের মো. সফিকুল ইসলাম ও হরিপুরে মোটরসাইকেল প্রতীকের মো. আব্দুল কাইয়ুম নির্বাচিত হয়েছেন।
বুধবার (৮ মে) ভোটগ্রহণ ও গণনা শেষে রাত ১০টার দিকে বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা পরিষদের সভাকক্ষে ফলাফল ঘোষণা করেন উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং অফিসার মো. দলিল উদ্দিন। অপরদিকে হরিপুর উপজেলা পরিষদের সভাকক্ষে ফলাফল ঘোষণা করেন উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং অফিসার মো. আব্দুল মান্নান।
বালিয়াডাঙ্গী উপজেলায় ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৫১ হাজার ৩৬০ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন বই প্রতীকের মো. মোমিনুল ইসলাম ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হয়েছেন শীমা আক্তার।
হরিপুর উপজেলায় ভাইস চেয়ারম্যান পদে রিয়াজুল ইসলাম সকার টিউবওয়েল প্রতীকে ৪১ হাজার ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। এছাড়া মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে মোছা. আসিয়া বেগম কলস প্রতীকে নির্বাচিত হয়েছেন।
স্থানীয় সরকার বিভাগের অতিরিক্ত সচিব ড. মো. মনিরুজ্জামানকে ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) পদে নিয়োগ দিয়েছে সরকার। মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) প্রেষণে তাকে নিয়োগ দিয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।
অপর এক আদেশে ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. আমিনুল ইসলামকে সচিব পদমর্যাদায় এক বছরের জন্য জাতীয় স্থানীয় সরকার ইনস্টিটিউটের (এনআইএলজি) মহাপরিচালক (ডিজি) পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দিয়েছে সরকার।
অন্যদিকে মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব ইয়াসমীন পারভীনকে প্রত্যাহার করে সচিব হিসেবে পরবর্তী পদায়নের জন্য জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করা হয়েছে। আর জাতীয় স্থানীয় সরকার ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক (সচিব) ড. রওশন আরা বেগমকে মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব করা হয়েছে।
আলাদা প্রজ্ঞাপনে অভোগ করা অবসরোত্তর ছুটি ও এ-সংক্রান্ত সুবিধা স্থগিতের শর্তে মো. বেলাল হোসেনকে এক বছরের চুক্তিতে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী পদে নিয়োগ দিয়েছে সরকার।
অন্য যেকোনো পেশা, ব্যবসা কিংবা সরকারি, আধা সরকারি, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বা সংগঠনের সঙ্গে কর্ম-সম্পর্ক পরিত্যাগের শর্তে গ্রেড-১-এর প্রধান প্রকৌশলী পদে নিয়োগ পেয়েছেন তিনি। নিয়োগের অন্যান্য শর্ত চুক্তিপত্র দিয়ে নির্ধারণ করা হবে।
বন্দরনগরী চট্টগ্রামের শিল্প এলাকাগুলোর বাতাসে এখন উদ্বেগ আর অনিশ্চয়তার ছাপ স্পষ্ট। রপ্তানি আয়ের অন্যতম মূল চালিকাশক্তি এই অঞ্চলের পোশাক ও শিল্প খাত আজ অভ্যন্তরীণ নানা সংকট ও আন্তর্জাতিক বাজারের টানাপোড়েনে দেয়ালে গিয়ে ঠেকেছে।
উৎপাদন ব্যয় জ্যামিতিক হারে বাড়লেও বিশ্ববাজারে পণ্যের দাম মেলেনি, উল্টো আশঙ্কাজনকভাবে কমেছে ক্রয়াদেশ। বাধ্য হয়ে অনেক কারখানা বন্ধ রাখতে হচ্ছে, যার চূড়ান্ত মাশুল গুনছেন হাজার হাজার সাধারণ শ্রমিক।
গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ায় ডায়িং ও বয়লারসহ কারখানার প্রধান প্রধান উৎপাদন প্রক্রিয়া মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। বিকল্প হিসেবে জেনারেটর চালাতে গিয়ে আকাশচুম্বী হচ্ছে ডিজেল খরচ। চট্টগ্রাম রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলের (সিইপিজেড) বিজিএমইএ সহসভাপতি অঞ্জন শেখর দাশ জানান, সিইপিজেডে ৬৫ মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদার বিপরীতে একসময় মাত্র ৬ মেগাওয়াট সরবরাহ মিলত। বর্তমানে তা বাড়িয়ে ৩৫ মেগাওয়াটে নেওয়া হলেও প্রতিদিন গড়ে ১ হাজার ৮০০ লিটার ডিজেল পুড়িয়ে কারখানা সচল রাখতে হচ্ছে। অতিরিক্ত জ্বালানি খরচের কারণে সামগ্রিক উৎপাদন ব্যয় প্রায় দ্বিগুণ বেড়ে গেছে এবং গড় উৎপাদন সক্ষমতা ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত কমেছে।
জ্বালানি সংকটের সঙ্গে যোগ হয়েছে উচ্চ ব্যাংক সুদ, ডলার-সংকট ও ঋণপত্র (এলসি) খোলার জটিলতা। বিজিএমইএর পরিচালক সাইফ উল্যাহ মানসুর জানান, চট্টগ্রাম অঞ্চলে একসময় প্রায় ৭০০টি পোশাক কারখানা সচল থাকলেও প্রতিকূল পরিস্থিতিতে কমতে কমতে তা এখন মাত্র ৩০০টিতে নেমে এসেছে। সংকট কতটা ঘনীভূত তার উদাহরণ দিয়ে বিজিএমইএর সাবেক প্রথম সহসভাপতি নাসির উদ্দিন চৌধুরী জানান, লোকসান ও জ্বালানি সংকটে টিকতে না পেরে গত ছয় মাসে তিনি নিজের ৪টি কারখানা বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়েছেন।
শিল্প পুলিশ-৩-এর হিসাব অনুযায়ী, গত ছয় মাসে চট্টগ্রামের ২৫টি কারখানা স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে গেছে, যেখানে কর্মরত ছিলেন ৪ হাজার ৮৬৪ জন শ্রমিক। সাময়িকভাবে বন্ধ রয়েছে আরও ২৫টি কারখানা, যার ওপর নির্ভরশীল ছিলেন ২ হাজার ৪৬৮ জন। এ ছাড়া চালু থাকা প্রতিষ্ঠানগুলো থেকেও ছাঁটাই করা হয়েছে ৫৩০ জন শ্রমিককে। স্থায়ী-অস্থায়ী কারখানা বন্ধ ও ছাঁটাই মিলিয়ে মোট ৭ হাজার ৮৬২ জন শ্রমিকের কর্মসংস্থান এখন তীব্র অনিশ্চয়তার মুখে।
আন্তর্জাতিক বাজারাংশ দখলেও পিছিয়ে পড়ছে বাংলাদেশ। মার্কিন বাজারের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, চলতি বছরে যুক্তরাষ্ট্র চীন থেকে পোশাক আমদানি ৪২.৮ শতাংশ কমালেও সেই সুযোগ বাংলাদেশ নিতে পারেনি; উল্টো বাংলাদেশ থেকে তাদের আমদানি কমেছে ৮.১ শতাংশ। বিপরীতে ভিয়েতনাম ১.৫ শতাংশ, কম্বোডিয়া ১৪.৯ শতাংশ এবং ইন্দোনেশিয়া ৫.৫ শতাংশ রপ্তানি প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। উদ্যোক্তাদের মতে, কাঁচামাল আমদানি থেকে পণ্য রপ্তানির অতিরিক্ত সময় (লিড টাইম), চট্টগ্রাম বন্দরের কনটেইনার জট ও এলসি জটিলতার কারণেই প্রতিযোগী দেশগুলোর কাছে বাজার হারাচ্ছে বাংলাদেশ।
কাজ কমে যাওয়ায় ওভারটাইম একপ্রকার বন্ধ, ফলে কর্মরত শ্রমিকদের মাসিক আয় নেমে এসেছে অর্ধেকে। আর চাকরি হারিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন অনেক শ্রমিক। চীনা মালিকানাধীন এক প্রতিষ্ঠানের ছাঁটাই হওয়া শ্রমিক মাঈননুদ্দিন জানান, ক্রয়াদেশ নেই জানিয়ে তাদের বিদায় দেওয়া হয়েছে। নতুন কাজ এলে আবার ডাকার আশ্বাস দেওয়া হলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে সংসার চালানো অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
শিল্প এলাকায় অসন্তোষ এড়াতে নজরদারি ও তদারকি বাড়ানো হয়েছে বলে জানান চট্টগ্রাম শিল্প পুলিশ সুপার মাহমুদা বেগম।
তিনি বলেন, যেকোনো বিশৃঙ্খলা এড়াতে মালিক ও শ্রমিকদের মধ্যে সার্বক্ষণিক সমন্বয় রাখা হচ্ছে। তবে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের স্পষ্ট বক্তব্য, দ্রুত নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস-বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং ব্যাংকিং খাতের নীতিমালা সহজ করা না গেলে চট্টগ্রামের শিল্প খাতকে বাঁচিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়বে।
চোরাচালান রোধে কোস্ট গার্ডের অভিযানে ঢাকার ধোলাইপাড়ে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে আনা বিপুল পরিমাণ ভারতীয় শাড়ি জব্দ। মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) বিকালে কোস্ট গার্ড মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, ‘ঢাকার যাত্রাবাড়ি থানাধীন ধোলাইপাড় বাসস্ট্যান্ডসংলগ্ন এলাকায় মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) দুপুর ২টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত কোস্ট গার্ড স্টেশন পাগলা কর্তৃক গোপন সংবাদের ভিত্তিতে একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযান চলাকালীন উক্ত এলাকায় সন্দেহজনক ২টি ভ্যান গাড়ি তল্লাশি করে প্রায় ২ কোটি ৩ লক্ষ ৪০ হাজার টাকা মূল্যের অবৈধভাবে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে আনা ১০১৭ পিস ভারতীয় শাড়ি জব্দ করা হয়। এ সময় প্রকৃত মালিক না পাওয়ায় ভ্যানচালকদের মুচলেকা নিয়ে ভ্যানসহ ছেড়ে দেওয়া হয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘জব্দকৃত শাড়ির পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বংশাল সার্কেল কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটরের নিকট হস্তান্তর করা হয়।’
চোরাচালান রোধে কোস্ট গার্ড ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত রাখবে।
চট্টগ্রামের রাউজানে ৮০০ বছরের পুরোনো দৃষ্টিনন্দন ঐতিহাসিক সাহেববিবি মসজিদ।এখনো কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। মসজিদটি রাউজান পৌরসভার ৯নং ওয়ার্ডের হাঁড়ি মিয়া চৌধুরী বাড়িতে অবস্থিত। এ মসজিদ শুধু রাউজানেই নয়, পুরো চট্টগ্রামের একটি ঐতিহাসিক নিদর্শন ও কালজয়ী নাম।
জানা যায়, এই মসজিদটির প্রতিষ্ঠাতা হলে ওই এলাকার জমিদার আমির মোহাম্মদ চৌধুরীর সহধর্মিণী ও আলোচিত মালকা বানুর মা সাহেববিবি। ওনার নামে এই মসজিদ প্রতিষ্ঠিত।
ইতিহাস ঘেটে জানা যায়, আরাকান রাজ সভার কবি মহাকবি আলাওলের একমাত্র কন্যা সাহেববিবি (প্রকাশ সাহাবিবি) নামকরণে এই মসজিদ ‘সাহেববিবি মসজিদ’ নামে পরিচিত। জমিদার হাঁড়িমিয়া চৌধুরী বংশের আমির মোহাম্মদ চৌধুরীও তার সহধর্মিণী সাহেববিবি দম্পতির দুই কন্যা আলাকা বানু ও মালকা বানু। মালকা বানু বাংলাদেশের এক ঐতিহাসিক কালজয়ী নাম ও চরিত্র। মালকা বানু নিয়ে দেশে হয়েছে অসংখ্যা নাটক ও ছবি। মালকা বানু চট্টগ্রামের বাঁশখালির জমিদার মনু মিয়ার প্রেমে পড়ে বিয়ে করেন এবং বাঁশখালিতে বসবাস করেন। মালকা বানু আর মনু মিয়াকে নিয়ে হয়েছিল চলচ্চিত্র।
সেই ঐতিহাসিক মালকা বানুর মা সাহেববিবির নামে করা সাহেববিবি মসজিদ। যা এখনো কালজয়ী এক সাক্ষী হয়ে রয়েছে রাউজানের বুকে। স্থানীয়দের তথ্যমতে, কবরস্থানসহ মসজিদটি ৩০ শতক জমির উপর নির্মিত। বিভিন্ন কারুকাজ সংবলিত টেরাকোটার ইট ও চুন-সুরকির গাঁথুনিতে মসজিদটি নির্মিত। মসজিদের পূর্ব দেয়ালে তিনটি প্রবেশপথ। পশ্চিম দিকে গম্বুজ থেকেও উঁচু মিনার।
মসজিদের বিষয়ে নিয়ে এলাকার কয়েকজন বৃদ্ধলোক দের সাথে কথা হলে তারা বলেন, ‘ছোটবেলায় দাদার মুখে শুনেছিলাম এই মসজিদটি বহু বছর পূর্বে নির্মাণ করা হয়েছিল। আমার দাদাও তার দাদার মুখে শুনেছিল এটি বিদেীশ মিস্ত্রী দ্বারা শত শত বছর পূর্বে নির্মাণ করেছে।
এই মসজিদে নাকি তখন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মোছাভাত (আঞ্চলিক শব্দ) অর্থাৎ কয়েক দিনের খাবার নিয়ে পাঁয়ে হেটে দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ আসত নামাজ পড়ার জন্য। বাদশা মুহাম্মদ শাহ স্টেটের আমলে ডিমের আটা, চুন-সুরকি দিয়ে দেশের ২২টি গ্রামে একই রকম মসজিদ নির্মাণ করা হয়েছিল। ২২টি মসজিদের মধ্যে প্রথম নির্মাণ করা হয়েছিল সাহেববিবি মসজিদ।’ সাহেববিবি মসজিদটির ভেতরে প্রায় শতাধিক মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারেন।
খুলনা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বলেছেন আমরা নগরবাসীকে নিরাপদ ও সুস্থ্য রাখতে চাই। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বিগত ৩ মাস পূর্বে বাংলাদেশে ডেঙ্গু সংক্রমণ ব্যপক হারে বৃদ্ধি পাবে বলে সতর্ক করেছিল। সরকারের নির্দেশনা মোতাবেক ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব রোধে তখন থেকে কেসিসি ব্যপক কর্মসূচি গ্রহণ করে। প্রচার প্রচারণার মাধ্যমে নগরবাসীকে অবহিত করা, পরিচ্ছন্নতা অভিযান জোরদার ও ড্রেন, নর্দমা, খাল, পরিষ্কার করা এবং ফগার মেশিনের মাধ্যমে অ্যাডাল্টিসাইড ও ড্রেন-নর্দমায় লার্ভিসাইড স্প্রে করা হচ্ছে। এ ছাড়া ক্রাশ প্রোগ্রাম চালু করা হয়েছে।
কেসিসির প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সকালে সোনাডাঙ্গা আবু বক্কার খান আদর্শ (রেজি.) প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পের চিকিৎসা কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। স্বল্প আয়ের পরিবারের আবাসস্থলের নিকটবর্তী মেডিকেল ক্যাম্পগুলো স্থাপন করা হয়েছে।
ক্যাম্পগুলোতে ডেঙ্গুজ্বরসহ সকল প্রকার জ্বরে আক্রান্ত নারী, পুরুষ ও শিশুদের বিনামূল্যে প্রাথমিক চিকিৎসাসেবা প্রদান করা হবে। পরে প্রশাসক রূপসা ভেড়িবাধ এলাকায় হাজী আবু হানিফ মাদরাসা ও এতিমখানা এবং টুটপাড়া তালতলা মাতৃসদন হাসপাতালে স্থাপিত মেডিকেল ক্যাম্পের চিকিৎসা কার্যক্রম পরিদর্শন করেন। প্রশাসক মেডিকেল ক্যাম্পে আগত রোগীদের সাথে কথা বলেন এবং পরিবারের কোনো সদস্য জ্বরে আক্রান্ত হলে বিনামূল্যে চিকিৎসা গ্রহণের আহ্বান জানান।
কেসিসি প্রশাসক আরও বলেন, ‘ডেঙ্গু সংক্রমণের হার হিসেব করে এলাকাভিত্তিক রেড, অরেঞ্জ ও ইয়েলো জোনে ভাগ করে ক্রাশ প্রোগ্রামের আওতায় এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে মোবাইল কোর্ট পরিচালিত হচ্ছে, বাড়ির আঙিনা অপরিচ্ছন্ন থাকা ও এডিস মশার উৎপত্তি স্থল পাওয়া গেলে জরিমানা করার পাশাপাশি বাড়ির মালিকদের সতর্ক করা হচ্ছে।’
কেসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রাজিব আহমেদ, সচিব মো. রেজা রশীদ, প্রধান প্রকৌশলী মশিউজ্জামান খান, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা মো. আনিসুর রহমান, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. শরীফ শাম্মিউল ইসলাম, সমাজসেবক সাদিজুর রহমান সবুজ, শেখ জামিরুল ইসলা জামিল, মেহেদী হাসান সোহাগ প্রমুখ মেডিকেল ক্যাম্প উদ্বোধনকালে উপস্থিত ছিলেন।
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে আর্থিক অনুদানসহ শিক্ষা, স্বাস্থ্য, ক্রীড়া ও কৃষি সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। একই দিনে মাদকের ভয়াবহতা থেকে তরুণ প্রজন্মকে রক্ষা এবং মাদকমুক্ত সমাজ গড়ার লক্ষ্যে মাদকবিরোধী সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সীতাকুণ্ড উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়াম হলে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এসব সহায়তা বিতরণ করা হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফখরুল ইসলামের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা।
অনুষ্ঠানে উপজেলার ৪০টি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী পরিবারকে মোট ৮০ হাজার টাকা নগদ অনুদান দেওয়া হয়। এ ছাড়া সমাজকল্যাণ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে শিক্ষার্থীদের মাঝে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা অনুদান প্রদান করা হয়।
এর আগে জেলা প্রশাসক সীতাকুণ্ড উপজেলার বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। এ সময় সরকারি সেবার মান বাড়ানো, স্থানীয় সমস্যা চিহ্নিত করা এবং জনগণের দোরগোড়ায় সরকারি সেবা পৌঁছে দেওয়ার বিষয়ে কর্মকর্তাদের বিভিন্ন দিকনির্দেশনা দেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ফজলে রাব্বি, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. আলতাপ হোসেন, উপজেলা প্রকৌশলী আলমগীর বাদশা, উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোতাসিম বিল্লাহ, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কল্পনা রহমান, প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. কল্লোল বড়ুয়া, উপজেলা মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তা তাহমিনা তামান্না, খাদ্য কর্মকর্তা শামসুন্নাহার স্বর্ণা ও উপজেলা প্রকল্প কর্মকর্তা জামিরুল ইসলাম। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা লুৎফুন্নেছা বেগম।
পরে জেলা প্রশাসক সীতাকুণ্ড মডেল থানা পরিদর্শন করেন।
এদিকে সীতাকুণ্ডের মুরাদপুর ইউনিয়নের ভাটেরখিল ৫ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে মাদকবিরোধী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা।
সমাবেশে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ফখরুল ইসলামের সভাপতিত্বে বক্তব্য দেন সীতাকুণ্ড মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মহিনুল ইসলাম। এ সময় উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ফজলে রাব্বি, প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা গোলাম রহমানসহ উপজেলার বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
হেযবুত তওহীদের বিরুদ্ধে হেফাজতে ইসলামের মিথ্যাচার, ফতোয়াবাজি ও হুমকির প্রতিবাদ এবং সংগঠনটির সদস্যদের জানমালের নিরাপত্তার দাবিতে ফরিদপুরে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) ফরিদপুর প্রেসক্লাবের মরহুম শামসুদ্দিন মোল্লা মিলনায়তনে হেযবুত তওহীদ ফরিদপুর জেলা শাখার উদ্যোগে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা হেযবুত তওহীদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের মিথ্যাচার, ফতোয়াবাজি ও হুমকির অভিযোগ তুলে এর প্রতিবাদ জানান। একই সঙ্গে সংগঠনের সদস্যদের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান তারা।
সাংবাদিক সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন হেজবুত তওহীদ ফরিদপুর জেলা শাখার সভাপতি মো. রেজাউল করিম।
এ সময় হেযবুত তওহীদ কেন্দ্রীয় কমিটির ছাত্রকল্যাণবিষয়ক সম্পাদক মোখলেছুর রহমান সুমন, ফরিদপুর জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মো. জিহাদ মোল্লাসহ ফরিদপুর প্রেসক্লাবের সদস্য এবং বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন ।
লিখিত বক্তব্যে বক্তারা বলেন, ‘গত ১ আগস্ট নোয়াখালী জিলা স্কুল মাঠে অনুষ্ঠিত হেফাজতে ইসলামের একটি সমাবেশে হেযবুত তওহীদের বিরুদ্ধে উসকানিমূলক ও কুরুচিপূর্ণ মিথ্যা প্রচারণা চালানো হয়েছে।’ ওই সমাবেশে হেযবুত তওহীদের ইমাম ও সদস্যদের বিরুদ্ধে অগণতান্ত্রিক ও হিংসাত্মক বক্তব্য দেওয়া হয় বলেও দাবি করা হয়।’
বক্তারা দাবি জানান, নোয়াখালীর সমাবেশে হেযবুত তওহীদের বিরুদ্ধে সহিংসতায় উসকানি, প্রকাশ্য হুমকি ও ফতোয়া প্রদানকারীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নিত হবে। হেযবুত তওহীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা প্রচারণা হ্যান্ডবিল বিতরণ এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বা মসজিদ ব্যবহার করে জনতাকে উসকানি দেওয়ার কার্যক্রম অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। নোয়াখালীসহ সারা দেশে হেযবুত তওহীদের সদস্যদের ঘরবাড়ি, সংগঠনের কার্যালয় ও উন্নয়নমূলক প্রকল্পগুলোর সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে এবং সংগঠনের স্বাধীনতা, শান্তিপূর্ণ মতপ্রকাশ এবং ধর্মীয় অধিকার নির্বিঘ্নে চর্চার পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। কোনো গোষ্ঠী বা ফতোয়ার জোরে নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকার খর্ব করা চলবে না।
পরে তারা মিথ্যা প্রচারণা, উগ্রবাদ, মব সহিংসতা, ধর্মীয় বিদ্বেষ এবং আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার প্রবণতার বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান গ্রহণ করেন এবং বাংলাদেশের সংবিধান, আইনের শাসন ও প্রত্যেক নাগরিকের মৌলিক অধিকার রক্ষায় কার্যকর ভূমিকা পালনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ, প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, গণমাধ্যম এবং দেশের সচেতন নাগরিকদের প্রতি আহ্বান জানান।
বাংলাদেশ পুলিশের দুই ডিআইজিসহ ১৭ কর্মকর্তাকে বদলি ও পদায়ন করেছে সরকার। এর মধ্যে একজন ডিআইজিকে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার এবং আরেকজনকে র্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে।
বদলির আদেশে দুই ডিআইজি ছাড়াও চারজন অতিরিক্ত ডিআইজি রয়েছেন। পাশাপাশি পুলিশ সুপার ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পদমর্যাদার দুজন কর্মকর্তাকে সংযুক্ত করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের পুলিশ-১ শাখা থেকে পৃথক তিনটি প্রজ্ঞাপনে এসব কর্মকর্তাকে বিভিন্ন ইউনিট ও পদে বদলি করা হয়। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে উপসচিব তৌছিফ আহমেদ এসব প্রজ্ঞাপনে সই করেন।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ডিআইজি মাহবুবুর রশীদকে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের পুলিশ কমিশনার হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে। তিনি এর আগে পুলিশের বিশেষ শাখায় (এসবি) ডিআইজি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
অন্যদিকে, পিবিআইয়ের ডিআইজি মো. হুমায়ুন কবিরকে র্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক হিসেবে বদলি করা হয়েছে। এ ছাড়া অতিরিক্ত ডিআইজি মো. হুমায়ুন কবীরকে পুলিশ অধিদপ্তরে এবং অতিরিক্ত ডিআইজি মো. তোফায়েল আহমেদ মিয়াকে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) যুগ্ম পুলিশ কমিশনার হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে।
এ ছাড়া সুপারনিউমারারি অতিরিক্ত ডিআইজি পদমর্যাদার মোহাম্মদ নাজমুল আলমকে ডিএমপির উপপুলিশ কমিশনার এবং পুলিশ সুপার মো. জাফর হোসেনকে সিআইডিতে বদলি করা হয়েছে।
পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার মো. আবুল কালাম আজাদকে গাজীপুর ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারের কমান্ড্যান্ট এবং এস এম সিরাজুল হুদাকে ঝিনাইদহ ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারের কমান্ড্যান্ট করা হয়েছে।
এ ছাড়া পুলিশ সুপার মো. শাহাদাত হোসেন, এম কে এইচ জাহাঙ্গীর হোসেন ও মো. আবদুর রহমানকে পিবিআইয়ে বদলি করা হয়েছে। এম কে এইচ জাহাঙ্গীর হোসেনের সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের উপপুলিশ কমিশনার হিসেবে আগের বদলির আদেশও বাতিল করা হয়েছে।
এস এম রফিকুল ইসলামকে এপিবিএনে পুলিশ সুপার, মুহাম্মদ খালেদ-উজ-জামানকে সিআইডিতে পুলিশ সুপার এবং সিলেট মেট্রোপলিটনের উপকমিশনার মো. রিয়াজুল কবিরকে রংপুর রেঞ্জ ডিআইজির কার্যালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে।
অন্যদিকে, পুলিশ অধিদপ্তরে পুলিশ সুপার হিসেবে মো. আসলাম উদ্দিনকে বদলি করা হয়েছে। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নূরুল আমীনকে এপিবিএন ও বিশেষায়িত ট্রেনিং সেন্টার, খাগড়াছড়িতে সংযুক্ত করা হয়েছে। এসবির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. রেজাউল করিমকেও একই ইউনিটে সংযুক্ত করা হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়েছে, জনস্বার্থে জারি করা এসব আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে। পাশাপাশি আগের কয়েকটি বদলি আদেশও বাতিল করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
এর মধ্যে মোহাম্মদ কামরুজ্জামানকে পুলিশ অধিদপ্তরে অতিরিক্ত ডিআইজি এবং মল্লিক আহসান উদ্দিন সামীকে নড়াইলে পুলিশ সুপার হিসেবে বদলির আদেশ বাতিল করা হয়েছে।
আগামী ৩০ ও ৩১ আগস্ট দুই দিনের সফরে নিজ জেলা ঠাকুরগাঁওয়ে যাওয়ার কথা থাকলেও নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সেই সফর স্থগিত করা হয়েছে।
বুধবার (২৫ আগস্ট) বিকেলে ঢাকা পোস্টকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঠাকুরগাঁওয়ের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ রফিকুল হক।
জেলা প্রশাসক বলেন, মহামান্য রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের আগামী ৩০ ও ৩১ আগস্ট ঠাকুরগাঁও সফরের কথা ছিল। অনিবার্য কারণে সফরটি স্থগিত করা হয়েছে। তবে আগামী এক-দুই দিনের মধ্যে নতুন সফরসূচি নির্ধারণ হতে পারে।
এর আগে রাষ্ট্রপতির সফর উপলক্ষ্যে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি শুরু করেছিল জেলা প্রশাসন। প্রশাসনিক ব্যবস্থা, আবাসন, যানবাহনসহ বিভিন্ন বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
গত সোমবার (২৪ আগস্ট) রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের আপন বিভাগের প্রটোকল শাখা থেকে ঠাকুরগাঁওয়ের জেলা প্রশাসকের কাছে পাঠানো চিঠিতে জানানো হয়, রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ৩০ ও ৩১ আগস্ট ঠাকুরগাঁও জেলা সফর করবেন। সফর শেষে ৩১ আগস্ট তার ঢাকায় ফেরার কথা ছিল।
একই চিঠিতে রাষ্ট্রপতি ও তার সফরসঙ্গীদের গমনাগমনের জন্য প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা, আবাসন ও যানবাহনের ব্যবস্থা করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেওয়া হয়। পাশাপাশি সফরের বিস্তারিত সূচি ও সফরসঙ্গীদের অনুমোদিত তালিকা পরে পাঠানো হবে বলেও জানানো হয়েছিল।
রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেওয়ার পর নিজ জেলা ঠাকুরগাঁওয়ে মির্জা ফখরুলের প্রথম সফর ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছিল। তার সফরকে কেন্দ্র করে জেলা প্রশাসনের পাশাপাশি বিভিন্ন সরকারি দপ্তরেও প্রস্তুতি শুরু হয়। তবে শেষ পর্যন্ত অনিবার্য কারণে সফরটি স্থগিত করা হল।
নীলফামারীর প্রান্তিক উপজেলা ডিমলার প্রায় সাড়ে তিন লাখ মানুষের একমাত্র সরকারি চিকিৎসাকেন্দ্র ৫০ শয্যার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। চিকিৎসাসেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে সরকারি উদ্যোগে গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক অবকাঠামো, রয়েছে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জামও। কিন্তু চিকিৎসক ও জনবল সংকটে ব্যাহত হচ্ছে প্রতিষ্ঠানটির স্বাভাবিক কার্যক্রম। দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে অপারেশন থিয়েটার। ফলে দুর্ঘটনায় আহত রোগী, জটিল রোগে আক্রান্ত মানুষ কিংবা প্রসূতি মায়েদের সিজারিয়ানসহ প্রয়োজনীয় অস্ত্রোপচারের জন্য ছুটতে হচ্ছে জেলা সদর কিংবা রংপুরের বিভিন্ন হাসপাতালে।
হাসপাতালে চিকিৎসক ও প্রয়োজনীয় জনবল না থাকায় কাঙ্ক্ষিত সেবা না পেয়ে প্রতিদিনই ভোগান্তিতে পড়ছেন প্রত্যন্ত এলাকার সাধারণ মানুষ। বিশেষ করে দরিদ্র ও নিম্ন আয়ের রোগীদের চিকিৎসার জন্য দূরের হাসপাতালে যেতে হচ্ছে বাড়তি অর্থ খরচ করে। এতে সরকারি স্বাস্থ্যসেবার ওপর নির্ভরশীল মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়ছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ৫০ শয্যার এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মোট ২০৬টি পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন প্রয়োজনের তুলনায় কমসংখ্যক জনবল। শূন্য রয়েছে ৯৩টি পদ। এর মধ্যে চিকিৎসকের ৩৩টি অনুমোদিত পদের বিপরীতে ১৮টি পদই শূন্য। দীর্ঘদিন ধরে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার পদটিও খালি রয়েছে। আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও) পদ থাকলেও বর্তমানে ওই পদে কোনো চিকিৎসক নেই। ফলে একজন মেডিকেল অফিসারকে ভারপ্রাপ্ত আরএমও হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে।
চিকিৎসক সংকটের কারণে বহির্বিভাগে রোগীদের চাপ সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে কর্তৃপক্ষকে। প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে। আবার প্রয়োজনীয় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও অন্যান্য সুবিধা না থাকায় অনেক রোগীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্যত্র পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
সবচেয়ে বেশি সংকট তৈরি হয়েছে অস্ত্রোপচার সেবায়। হাসপাতালের অবকাঠামো ও প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি থাকার পরও জনবল সংকটে দীর্ঘদিন ধরে অপারেশন থিয়েটার কার্যত বন্ধ। ফলে জরুরি অস্ত্রোপচার প্রয়োজন এমন রোগীদের জেলা সদর হাসপাতাল কিংবা বেসরকারি হাসপাতালে যেতে হচ্ছে।
ডিমলা উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার প্রত্যাশা থাকলেও প্রয়োজনীয় সেবা না পাওয়ায় তাদের অনেককেই বাইরে যেতে হচ্ছে। এতে যাতায়াত, পরীক্ষা-নিরীক্ষা, ওষুধ ও চিকিৎসার খরচ মিলিয়ে ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে সিজারিয়ান অপারেশনের প্রয়োজন হওয়া দরিদ্র পরিবারের প্রসূতি নারীদের জন্য পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, একটি উপজেলা পর্যায়ের সরকারি হাসপাতালে অবকাঠামো ও যন্ত্রপাতি থাকার পরও শুধু জনবল সংকটে সেবা বন্ধ থাকা অত্যন্ত হতাশাজনক। দ্রুত চিকিৎসকসহ শূন্য পদগুলো পূরণ করে অপারেশন থিয়েটার চালু করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
স্বাস্থ্যসেবা সংশ্লিষ্টরা বলছেন, একটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কার্যক্রম শুধু বহির্বিভাগে রোগী দেখা পর্যন্ত সীমাবদ্ধ নয়। জরুরি চিকিৎসা, প্রসূতি সেবা, অস্ত্রোপচারসহ প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে হলে অনুমোদিত পদ অনুযায়ী চিকিৎসক ও অন্যান্য জনবল থাকা জরুরি। বিশেষ করে ডিমলার মতো বড় জনসংখ্যার একটি উপজেলার জন্য জনবল সংকট দীর্ঘস্থায়ী হলে এর সরাসরি প্রভাব পড়ে সাধারণ মানুষের ওপর।
হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আবু হেনা মোস্তফা কামাল বলেন, ‘জনবল সংকটের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।’ শূন্যপদগুলো পূরণ হলে হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা আরও কার্যকর হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
এদিকে ডিমলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বর্তমান পরিস্থিতি সরকারি স্বাস্থ্য অবকাঠামোর একটি বড় বাস্তবতাকেই সামনে এনেছে—ভবন আছে, যন্ত্রপাতি আছে; কিন্তু সেগুলো পরিচালনার মতো পর্যাপ্ত জনবল নেই। ফলে সরকারি বিনিয়োগে গড়ে ওঠা অবকাঠামোর পূর্ণ সুফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন লাখো মানুষ।
স্থানীয়দের প্রশ্ন, চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে যদি প্রয়োজনীয় চিকিৎসক ও জনবলই না থাকে, তাহলে কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত অবকাঠামো ও কেনা আধুনিক যন্ত্রপাতি কতটা কাজে আসছে? ডিমলার মানুষের এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে দ্রুত শূন্যপদ পূরণ, অপারেশন থিয়েটার চালু এবং প্রয়োজনীয় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার দাবি এখন জোরালো হচ্ছে।
বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর অতিরিক্ত মহাপরিচালক পদে পদোন্নতি পেয়েছেন আনসার-ভিডিপি একাডেমির কমান্ড্যান্ট মো. সাইফুল্লাহ রাসেল।
সোমবার (২৪ আগস্ট) বাহিনীর সদর দপ্তরে এক অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানে তাঁর র্যাংক ব্যাজ পরিধান ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ এবং অতিরিক্ত মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মামুনূর রশীদ সদ্য পদোন্নতিপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাইফুল্লাহ রাসেলকে নতুন পদের র্যাংক ব্যাজ পরিয়ে দেন এবং ফুলেল শুভেচ্ছা জানান।
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মহাপরিচালক বলেন যে, যোগ্যতা, পেশাদারিত্ব ও সাংগঠনিক আস্থার মাধ্যমেই সাইফুল্লাহ রাসেল এই পদোন্নতি অর্জন করেছেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ১৮তম বিসিএসের এই অভিজ্ঞ কর্মকর্তার নেতৃত্ব ও দক্ষতায় আনসার-ভিডিপি একাডেমির প্রশিক্ষণ কার্যক্রম আরও গতিশীল ও আধুনিক হবে, যা ভবিষ্যতে বাহিনীকে একটি সুবৃহৎ ও পেশাদার প্যারামিলিটারি ফোর্স হিসেবে আরও শক্তিশালী করে তুলবে।
অনুষ্ঠানে বাহিনীর সদর দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ, বিভিন্ন জোনের অধিনায়ক এবং জেলা কমান্ড্যান্টরা উপস্থিত ছিলেন। সাইফুল্লাহ রাসেলের এই নতুন পদায়ন ও র্যাংক ব্যাজ পরিধানের ঘটনাটি তাঁর দীর্ঘ পেশাগত ক্যারিয়ারের একটি বিশেষ স্বীকৃতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ঢাকা ক্লাবের সভাপতি শামীম হোসেনসহ আরও চারজনের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাৎ ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগে মামলা করেছেন চাকরিচ্যুত এক কর্মী।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুর রহমানের আদালতে মামলাটি দায়ের করেন ক্লাবের সাবেক ‘অ্যাটেন্ডেন্ট’ আশিক মোল্লা।
বাদীপক্ষের আইনজীবী হাবিবুর রহমান বলেন, “আদালত বাদীর জবানবন্দি রেকর্ড করে অভিযোগ আমলে নিয়ে আসামিদের আগামী ২৯ সেপ্টেম্বর আদালতে হাজির হতে সমন জারি করেছেন।”
মামলার অন্য আসামিরা হলেন—ডাইরেক্টর (ফাইন্যান্স) তুহিন রেজা, সিও ও সচিব অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট কর্নেল ছাব্বির আহম্মেদ ও চিফ ফাইন্যান্স অফিসার (সিএফও) ইকবাল হোসেন।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, আশিক মোল্লা ২০১৭ সালের ২৩ নভেম্বর ঢাকা ক্লাবে ‘অ্যাটেন্ডেন্ট’ পদে যোগদান করেন, যা স্থায়ী হয় পরের বছরের ১৯ অগাস্ট। দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালনের পর গত ২৬ জানুয়ারি ‘চাকরি বিধিমালা লঙ্ঘন করে’ তাকে সাময়িক বরখাস্ত রাখা হয়। এর চয় মাস বাদে ২৭ জুলাই তাকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।
এজাহারে বলা হয়, সার্ভিস বেনিফিট, প্রভিডেন্ট ফান্ড, গ্র্যাচুইটি, নোটিস পে ও বকেয়া বেতন বাবদ ৪ লাখ ৯০ হাজার টাকা পাওনা ছিল আশিক মোল্লার। পাওনা টাকা না পেয়ে বাদী কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের উপমহাপরিদর্শকের কার্যালয়ে বাংলাদেশ শ্রম আইনের ১২৪(ক)-এর (৫) ধারায় মধ্যস্থতার আবেদন জানান। তবে আসামিরা নোটিস পেয়েও উপস্থিত না হওয়ায় শ্রম পরিদর্শক বাদীকে লিখিত ছাড়পত্র দেন।
ছাড়পত্র পাওয়ার পর ১৫ অগাস্ট বাদী ঢাকা ক্লাবে গেলে আসামিরা তাকে ১ লাখ ১৬ হাজার ৯৮১ টাকার একটি চেক দেন। তবে বাকি তিন লাখ ৭৩ হাজার ১৯ টাকা অস্বীকৃতি জানান তারা।
সেই টাকা নিয়ে বেশি বাড়াবাড়ি করলে আসামিরা আশিককে মেরে ফেলার হুমকি দেন বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।
জামালপুরে ইশরাত জাহান (৩৪) নামে এক গৃহবধূ হত্যার ঘটনায় প্রধান আসামি কাউওসার আহমেদ খানকে (৩২) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) দুপুরে শহরের বাগেরহাটা এলাকায় পিবিআই কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পিবিআই জামালপুরের পুলিশ সুপার পংকজ দত্ত।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, গত ২৩ আগস্ট সকালে জামালপুর শহরের পাঁচরাস্তা মোড় এলাকার কলাবাগান গলিতে বাবুল মিয়ার বাড়ির পাঁচতলায় ইশরাত জাহান নামের এক গৃহবধূর মরদেহ পাওয়া যায়।
প্রাথমিকভাবে জানা যায় নিহত ইশরাত জাহান ও কাউসার আহমেদ খান স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে ওই বাসায় ভাড়া থাকতেন এবং তাদের ঘরে দুটি সন্তান আছে। এরপর নিহতের মা মুক্তা বেগম কাউসার আহমেদ খানসহ অজ্ঞাত দুই জনের বিরুদ্ধে জামালপুর সদর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরে মামলাটির তদন্ত শুরু করে পিবিআই।
তদন্তে জানা যায়, ২০১৪ সালে ইশরাত জাহানের সাথে শাওন নামের এক ব্যক্তির বিয়ে হয়। তাদের দাম্পত্য জীবনে একজন মেয়ে ও একজন ছেলে সন্তান জন্ম নেয়। ইশরাতের স্বামী শাওন ২০২১ সালে মারা গেলে ইশরাত তার দুই সন্তানদের নিয়ে জামালপুর শহরে বসবাস করতে থাকে। প্রায় ৩ বছর আগে কাউসার আহমেদ খানের মনোহারি দোকানে কেনাকাটা করার সুবাদে ইশরাতের সাথে পরিচয় হয়। এক সময় ইশরাত দোকানের বকেয়া টাকা পরিশোধ করার জন্য কাউসারকে তার বাসায় ডেকে নিয়ে যায়। কাউসার সেখানে গেলে পরিকল্পিতভাবে ইশরাতের সাথে শারীরিক সম্পর্কে জড়ায় কাউসার। তাদের শারীরিক সর্ম্পকের বিষয়টি গোপনে ভিডিও ধারণ করে রাখে ইশরাত। পরবর্তীতে সেই ভিডিও দিয়ে কাউসারকে ব্ল্যাকমেইল করে মোটা অঙ্কের অর্থ আদায় করতে থাকে। এভাবে আসামি কাউসার তার সঞ্চিত অর্থ শেষ করার পর জামালপুর শহরে তার বাড়ির জমি বিক্রিসহ মা ও স্ত্রীর স্বর্ণালংকার বিক্রির অর্থ ইশরাতের হাতে তুলে দেয়। এ ছাড়া ইশরাত ব্ল্যাকমেইল করার জন্য বিভিন্ন লোকজনদের টার্গেট করত এবং কাউসারকে সেসব লোকদের ফাঁদে ফেলে বাসায় নিয়ে আসতে চাপ প্রয়োগ করত।
আসামি কাউসার একপর্যায়ে এসব কাজ করতে অস্বীকৃতি জানালে ইশরাত ও কাউসারের মধ্যে সম্পর্কের টানাপোড়েন শুরু হয়। পুলিশ সুপার পংকজ দত্ত আরও জানান, ঘটনার দিন ইশরাত আসামি কাউসারকে ফোন করে তার ভাড়া বাসায় ডেকে নিয়ে যায় এবং কাউসারের কাছে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করলে তাদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে ইশরাত আসামি কাউসারের স্ত্রীকে ফোন দিয়ে তাদের অবৈধ সর্ম্পকের কথা জানিয়ে দেয়। কাউসার তার সাথেই আছে এমন কথা বলে কাউসারকে তার স্ত্রীর সাথে ফোনে কথা বলিয়ে দিতে চাইলে কাউসার কথা বলতে না চাওয়ায় তাদের মধ্যে ধস্তাধস্তি শুরু হয়। একপর্যায়ে কাউসার ইশরাতের গলা চেপে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।
এরপর পিবিআই তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় কাউসার আহমেদ খানকে গত সোমবার (২৪ আগস্ট) বিকেলে জামালপুর শহরের বাগেরহাটা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে। পরে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।