ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের প্রথম ধাপে ১৩৯টি উপজেলায় ভোটগ্রহণ শেষ হয়েছে। গতকাল বুধবার সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ করা হয়। ভোট গণনা শেষে রাতে নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা করেন রিটার্নিং কর্মকর্তারা। যারা এবার নির্বাচিত হলেন:
নবাবগঞ্জ (ঢাকা) : নাসির উদ্দিন আহমেদ ঝিলু বিপুল ভোটে ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। আনারস প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ৪১৪২১ ভোট। এ ছাড়া ভাইস চেয়ারম্যান পদে ইঞ্জিনিয়ার আরিফুর রহমান জয়ী হয়েছেন। তালা প্রতীক নিয়ে তিনি পেয়েছেন ৪৪৩০০ ভোট। মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে কলস প্রতীক নিয়ে ২৫১৮১ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন রোকসানা।দোহার উপজেলায় আলমগীর হোসেন আনারস প্রতীক নিয়ে ৩৭,৫৫৪ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন।
এ ছাড়া ভাইস চেয়ারম্যান পদে মোহাম্মদ গিয়াসউদ্দিন সোহাগ (তালা প্রতীক) নিয়ে ৪৯ হাজার ৭৪৬ ভোট এবং মহিল ভাইস চেয়ারম্যান পদে শামীমা আক্তার বিথী (হাঁস প্রতীক) নিয়ে ৩০ হাজার ৬৭১ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন।
নরসিংদী: নরসিংদী সদর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আনোয়ার হোসেন বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছে। ভাইস চেয়ারম্যান পদে মো. ওয়ালিউর রহমান ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে আঞ্জুমান বেগম জিয়ী হয়েছে।
এ ছাড়া পলাশ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে সৈয়দ জাবেদ হোসেন চেয়ারম্যান নির্বিাচিত হয়েছে। ভাইস চেয়ারম্যান পদে কারী উল্লাহ সরকার ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে সেলিনা আক্তার বিজয়ী হয়েছে। এ নিয়ে সৈয়দ জাবেদ হোসেন তিনবার উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলেন।
চাঁদপুর: চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে দোয়াত-কলম প্রতীক নিয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন অধ্যাপক সিরাজুল মোস্তফা তালকুদার। মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে নাজমা আক্তার আঁখি নির্বাচিত হন। তবে পুরুষ ভাইস চেয়ারম্যান পদে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন শওকত হোসেন বাদল। মতলব উত্তরে ঘোড়া প্রতীকে ৩৩ হাজার ৭০৭ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন মোহাম্মদ মানিক (আওয়ামী লীগ)।
এই উপজেলায় পুরুষ ভাইস চেয়ারম্যান পদে রিয়াজউদ্দিন রিয়াজ নির্বাচিত হন। তবে মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন লাভলী চৌধুরী।
গাজীপুর: গাজীপুর সদর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ইজাদুর রহমান মিলন বেসরকারিভাবে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হয়েছেন। এ ছাড়া ভাইস চেয়ারম্যান পদে বেলায়েত হোসেন ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে হাসিনা সরকার নির্বাচিত হয়েছেন।
কালীগঞ্জ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে মোহাম্মদ আমজাদ হোসেন নির্বাচিত হয়েছেন। ভাইস চেয়ারম্যান পদে মোজাম্মেল হক এবং মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে জুয়েনা আহমেদ নির্বাচিত হয়েছেন।
এ ছাড়া কাপাসিয়া উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে মো. আমানত হোসেন খান নির্বাচিত হয়েছেন। ভাইস চেয়ারম্যান পদে হাফিজুল হক চৌধুরী ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান শামীমা নাসরিন বিজয়ী হয়েছেন।
টাঙ্গাইল: টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে বেসরকারিভাবে জয়ী হয়েছেন আবদুল ওয়াদুদ তালুকদার সবুজ। অন্যদিকে মধুপুর উপজেলায় জয়ী হয়েছেন অ্যাডভোকেট ইয়াকুব আলী।
মানিকগঞ্জ: মানিকগঞ্জের সিংগাইরে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন কাপ পিরিচ প্রতিকের সায়েদুল ইসলাম। এছাড়া ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন মো. রমিজ উদ্দিন এবং মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান হয়েছেন আনোয়ারা খাতুন।
হরিরামপুরে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন দেওয়ান সাইদুর রহমান। ভাইস-চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন মো. বিল্লাল হোসেন ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান হয়েছেন শামিমা আক্তার চায়না।
ফরিদপুর: কারাগারে থেকে ফরিদপুর সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে আনারস প্রতীক নিয়ে নির্বাচিত হয়েছেন মো. সামচুল আলম চৌধুরী। তিনি পেয়েছেন ৩১ হাজার ৯৩১ ভোট।
রাজবাড়ী: প্রথম ধাপে রাজবাড়ীর পাংশা ও কালুখালী উপজেলা পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (৮ মে) ভোটগ্রহণ শেষে রাত সাড়ে ১০টায় বেসরকারিভাবে ফলাফল ঘোষণা করেন রিটার্নিং অফিসার।
পাংশা উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে ৫৪ হাজার ৫৭৭ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোটরসাইকেল প্রতীকের খন্দকার সাইফুল ইসলাম বুড়ো। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আনারস প্রতীকের ফরিদ হাসান ওদুদ ৩৫ হাজার ৯৪২ ভোট পেয়ে পরাজিত হয়েছেন।
অপরদিকে কালুখালী উপজেলা পরিষদের নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে আলিউজ্জামান চৌধুরী টিটু আনারস প্রতীকে ৩৮ হাজার ৫৭৮ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন। এছাড়া অপর তিন প্রার্থীর মধ্যে এনায়েত হোসেন মোটরসাইকেল প্রতীকে ২ হাজার ৯০০ ভোট, এ বি এম রোকনুজ্জামান কাপ পিরিচ প্রতীকে ৩৪১ ভোট ও মাসুদুর রহমান দোয়াত-কলম প্রতীকে ২৩৭ ভোট পেয়ে পরাজিত হয়েছেন।
জেলা নির্বাচন অফিসার ও ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদের প্রথম ধাপের নির্বাচনের রিটার্নিং অফিসার অলিউল ইসলাম বলেন, প্রথম ধাপে পাংশা ও কালুখালী উপজেলা পরিষদের নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হয়েছে। কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পর বেসরকারিভাবে ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছে। কোনো প্রার্থীর আজকের নির্বাচন নিয়ে অভিযোগ ছিল না।
মধুখালী উপজেলায় দোয়াতকলম প্রতীকে মোহাম্মদ মুরাদুজ্জামান ২৯ হাজার ৪৭৮ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। চরভদ্রাসনে আনারস প্রতীকে আনোয়ার আলী মোল্লা ১৬ হাজার ১৬ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন।
মাদারীপুর: মাদারীপুর সদর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে বিজয়ী হয়েছেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য, মাদারীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) শাজাহান খানের ছেলে আসিবুর রহমান খান আসিব। আনারস প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে তিনি মোট ভোট পেয়েছেন ৭৫৫৯৪।
ভাইস চেয়ারম্যান পদে মনিরুল ইসলাম ভূঁইয়া তালা প্রতীকে ৬০ হাজার ১০৫ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন। অন্যদিকে মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে হাঁস প্রতীকের ফারিয়া হাসান রাখি ৫৬ হাজার ১৭৫ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন।
রাতে এ ফলাফল ঘোষণা করেন সদর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও নির্বাচন কর্মকর্তা মোসা. নাননী খান।
রাজৈর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে মোটরসাইকেল প্রতীকে ৪৩ হাজার ৭শ ৪১ ভোট পেয়ে মোহসিন মিয়া বেসরকারি ভাবে চেয়ারম্যান বিজয়ী হয়েছেন।
শরীয়তপুর: শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে একেএম ইসমাইল হক, ভাইস চেয়ারম্যান পদে আলমগীর ফকির ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে রাজিয়া সুলতানা মনি বিজয়ী হয়েছেন।
ভেদরগঞ্জ উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে ওয়াছেল কবির গুলফাম, ভাইস চেয়ারম্যান পদে আজাহারুল ইসলাম গাজী ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে রোকসানা আনোয়ার বিজয়ী হয়েছেন।
গোপালগঞ্জ: গোপালগঞ্জ সদর উপজেলায় বিশিষ্ট আইটি ব্যবসায়ী ও কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক লীগের উপদেষ্টা কামরুজ্জামান ভূঁইয়াবেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি টেলিফোন প্রতীকে ৩১ হাজার ৩৫৪ ভোট পেয়েছেন। কোটালীপাড়ায় উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য বিমল কৃষ্ণ বিশ্বাস ৪০ হাজার ২৭১ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার প্রতীক দোয়াত-কলম। দোয়াত-কলম প্রতীক নিয়ে ৪০ হাজার ৭৯২ ভোট পেয়ে টুঙ্গিপাড়ায় উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. বাবুল শেখ নির্বাচত হয়েছেন।
কিশোরগঞ্জ: কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে মোহাম্মদ সোহেল বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। আনারস প্রতীকে ২৩ হাজার ৯৬৬ ভোট পেয়ে দ্বিতীয়বারের মতো উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলেন তিনি।
পুরুষ ভাইস চেয়ারম্যান পদে মোহাম্মদ আল আমিন (অপু) বিজয়ী হয়েছেন। টিউবওয়েল প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ৩৭ হাজার ৫৪১ ভোট। মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে কলস প্রতীকে ৪৯ হাজার ৫২৫ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন ছাবিয়া পারভীন জেনি।
বরিশাল: রিটার্নিং কর্মকর্তা বরিশাল জেলার জ্যেষ্ঠ নির্বাচন অফিসার ওহিদুজ্জামান মুন্সী জানান, সদর উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হয়েছেন কাপ-পিরিচ প্রতীকের আব্দুল মালেক। তিনি পেয়েছেন ১৯ হাজার ৮০৭ ভোট।
ভাইস চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হয়েছেন মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মো. জসিমউদ্দিন। তিনি তালা প্রতীক নিয়ে ২৯ হাজার ৯৩৭ ভোট পেয়েছেন। এ ছাড়া মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হয়েছেন অ্যাডভোকেট হালিমা বেগম। তিনি পেয়েছেন ৪১ হাজার ৫৩৫ ভোট।
বাকেরগঞ্জ উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হয়েছেন রাজিব আহম্মদ তালুকদার। তিনি কাপ-পিরিচ প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ৩৮ হাজার ৮৬৫ ভোট। তার মা পারভীন তালুকদার আওয়ামী লীগের সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য ছিলেন। এছাড়া ভাইস চেয়ারম্যান পদে আবদুস সালাম মল্লিক ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে জাহানারা মাহাবুব নির্বাচিত হয়েছেন।
পিরোজপুর: পিরোজপুরের ৩ উপজেলায় বিজয়ী চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যানরা সবাই আওয়ামী লীগের সমর্থক। জেলার সদর উপজেলায় চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন ওই উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়াম্যান এসএম বায়েজিদ হোসেন।
ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন তালা প্রতীকের মো. রফিকুল ইসলাম, এবং মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন পদ্মফুল প্রতীকের শাহানাজ পারভীন (শানু)।
নাজিরপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন এসএম নুরে আলম সিদ্দিকী শাহীন। ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছে চশমা প্রতীকের শেখ মো. মোস্তাফিজুর রহমান রঞ্জু , এবং মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন সেলাই প্রতীকের আলো শিকদার। ইন্দুরকানীতে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. জিয়াউল আহসান গাজী। ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন তালা প্রতীকের মাহমুদুল হক দুলাল ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন কলস প্রতীকের দিলারা পারভীন।
নোয়াখালী: নোয়াখালীর সূবর্ণচর উপজেলায় পরিষদ নির্বাচনে স্থানীয় সংসদ সদস্য একরামুল করিম চৌধুরীর ছেলে আতাহার ইশরাক সাবাব চৌধুরী (আনারস) ৩৭,৬৪৮ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত।
ফেনী: ফেনীর ফুলগাজী উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে ২৭,৬৩৫ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন কাপ-পিরিচ মার্কার প্রার্থী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. হারুন মজুমদার।
ভাইস চেয়ারম্যান পদে ১১,০৮৯ ভোট পেয়ে টিয়া পাখি মার্কার প্রার্থী আমজাদ হাট ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি অনিল বনিক তৃতীয় বারের মতো নির্বাচিত হয়েছেন। মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে উপজেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মঞ্জুরা আজিজ বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন।
মেহেরপুর: মুজিবনগর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আনারস প্রতীকে ১৭ হাজার ৬৩ ভোট পেয়ে আমাম হোসেন মিলু বেসরকারিভাবে উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন।
এ ছাড়া টিউবওয়েল প্রতীক নিয়ে ২০ হাজার ৬৫২ ভোট পেয়ে বিএম জাহিদ হাসান রাজিব ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন এবং কলস প্রতীক নিয়ে ২০ হাজার ৫৮ভোট পেয়ে মোছা. তকলীমা দ্বিতীয়বারের মতো মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন।
মোটরসাইকেল প্রতীক নিয়ে ৪০ হাজার ৯২৩ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে আনারুল ইসলাম মেহেরপুর সদর উপজেলার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন।
চশমা প্রতীক নিয়ে ৩৬ হাজার ১৮৬ ভোট পেয়ে দ্বিতীয়বারের মতো আবুল হাসেম ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। আর মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে বৈদ্যুতিক পাখা প্রতীক নিয়ে ৩৪ হাজার ৬৪৬ ভোট পেয়ে লতিফন নেছা লতা দ্বিতীয়বারের মতো ভাইসচেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন।
কুষ্টিয়া: আনারস প্রতীকে ৬৭ হাজার ৪৮১ ভোট পেয়ে কুষ্টিয়া সদর উপজেলার চেয়ারম্যান পদে আতাউর রহমান আতা নির্বাচিত হয়েছেন। ঘোড়া প্রতীকে ২৫ হাজার ১০১ ভোট পেয়ে খোকসা উপজেলার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন আল মামুস মুর্শেদ শান্ত।
ভাইস চেয়ারম্যান পদে মো. সাহাবুদ্দিন মিয়া ৩৫ হাজার ৩৪৬ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন এবং মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে ২৬ হাজার ৪৪৩ ভোট পেয়েছেন নির্বাচিত হয়েছেন নুর জাহান পারুল।
কক্সবাজার: কক্সবাজার সদর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে হেভিওয়েট প্রার্থী জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক পৌর মেয়র মুজিবুর রহমানকে হারিয়ে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুল আবছার। নুরুল আবছার পেয়েছেন ৩৪৯৭৪ ভোট। তিনি কক্সবাজার পৌরসভার চারবারের টানা চেয়ারম্যান (মেয়রের আগের পদ) ছিলেন।
কুমিল্লা: কুমিল্লার লাকসাম উপজেলায় অ্যাডভোকেট মো. ইউনুছ ভূইয়া বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন। তিনি লাকসাম উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি। অপরদিকে মনোহরগঞ্জ উপজেলায় বিজয়ী হয়েছেন মো. আবদুল মান্নান চৌধুরী। তিনি উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি। এছাড়া মেঘনা উপজেলায় বিজয়ী হয়েছেন মো. তাজুল ইসলাম তাজ। তিনি উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদে রয়েছেন।
মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন ভোটের মাঠে নতুন মুখ অধ্যাপিকা রোমেনা আকতার। তিনি পেয়েছেন ৩৬,৫৪২ ভোট।অন্যদিকে এ উপজেলায় বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন রশিদ মিয়া। মহেশখালী উপজেলায় চেয়ারম্যান হয়েছেন দোয়াত-কলম প্রতীকের প্রার্থী মোহাম্মদ জয়নাল আবেদীন। তিনি পেয়েছেন ৩৮১২৯ ভোট।
ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন আবু ছালেহ এবং মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান হয়েছেন মনোয়ারা কাজল। কুতুবদীয়ায় ব্যারিস্টার মোহাম্মদ হানিফ বিন কাশেম চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি ঘোড়া প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ২৭৩৯৪ ভোট।
ভাইস চেয়ারম্যান পদে জামায়াতে ইসলামির আকবর খান এবং মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগ নেত্রী হাসিনা আকতার বিউটি নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি তৃতীয়বারের মতো নির্বাচিত হলেন।
রাঙামাটি: রাঙামাটির কাউখালী উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে সামশুদ্দোহা চৌধুরী রড ২৩ হাজার ৬৯৩ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন এছাড়া ভাইস চেয়ারম্যান পদে কোন প্রতিদ্বন্ধী না থাকায় লাথোয়াই মারমা আগেই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে নিংবাইউ মারমা ২১ হাজার ৮০৩ ভোট পেয়ে পুনরায় নির্বাচিত হয়েছেন।
রাঙামাটি সদর উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে অন্ন সাধন চাকমা ১৪ হাজার ৮৮৫ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। পুরুষ ভাইস চেয়ারম্যান পদে পলাশ কুসুম চাকমা ১১ হাজার ৪৫০ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে রিতা চাকমা ২০ হাজার ৭৯৮ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন।
খাগড়াছড়ি: প্রথম ধাপে খাগড়াছড়ির চারটি উপজেলা পরিষদের নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। লক্ষীছড়ি ছাড়া অন্য তিন উপজেলা রামগড়, মানিকছড়ি ও মাটিরাঙ্গায় শান্তিপূর্নভাবে নির্বাচন সম্পন্ন হয়। ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন মো. আলী হোসেন এবং মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান হয়েছেন মোছা. আমেনা বেগম।
রামগড়ে চেয়ারম্যান হয়েছেন আনারস প্রতীকের বিশ্ব প্রদীপ কুমার কার্বারি। ভাইস চেয়ারম্যান পদে চশমা প্রতীকে মোবারক হোসেন এবং মহিলা ভাইস-চেয়ারম্যান পদে প্রজাপতি প্রতীক নিয়ে নাছিমা আহসান নীলা নির্বাচিত হয়েছেন।
মানিকছড়িতে আনারস প্রতীকে পুনরায় চেয়ারম্যান হয়েছেন জয়নাল আবেদিন। ভাইস চেয়ারম্যান পদে বেসরকারি ফলাফলে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন চলাপ্রু মারমা নিলয়। এবং মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন নূর জাহান আফরিন লাকি।
বান্দরবান: বান্দরবান সদরে চেয়ারম্যান পদে মোটরসাইকেল প্রতীক নিয়ে ১৯ হাজার ১৪৪ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন আব্দুল কুদ্দুছ।উড়োজাহাজ প্রতীক নিয়ে ১৩ হাজার ৩৯৮ ভোট পেয়ে ভাইস চেয়ারম্যান পদে বিজয়ী হয়েছেন ফারুক আহমেদ ফাহিম। আর মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে মেহাইনু মারমা ১৭ হাজার ৯০ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার প্রতীক প্রজাপতি।
অন্যদিকে বান্দরবানের আলীকদম উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে দোয়াত-কলম প্রতীক নিয়ে নয় হাজার ৭০০ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন জামাল উদ্দিন। ভাইস চেয়ারম্যান পদে মোহাম্মদ রিটন নয় হাজার ১৪৬ ভোট ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে শিরিন আক্তার আট হাজার ৮৬৮ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন।
বগুড়া: সারিয়াকান্দিতে এমপিপুত্র সাখাওয়াত হোসেন সজল (প্রতীক: আনারস), সোনাতলায় এমপির ছোট ভাই ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট মিনহাদুজ্জামান লীটন (প্রতীক:আনারস) এবং গাবতলীতে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় বন ও পরিবেশ বিষয়ক উপকমিটির সদস্য অরুণ কান্তি রায় সিটন (প্রতীক: ঘোড়া) নির্বাচিত হয়েছেন।
আনারস প্রতীকে অ্যাডভোকেট মিনহাদুজ্জামান লীটন ২০ হাজার ৪৮৩ ভোট পেয়ে পুণরায় নির্বাচিত হয়েছেন। নির্বাচনে ভাইস চেয়ারম্যান পদে যুবলীগ নেতা ফিদা হাসান টিটু এর আগে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেত্রী ওয়াছিয়া আকতার লুনা নির্বাচিত হয়েছেন।
সারিয়াকান্দির চেয়ারম্যান পদে আনারস প্রতীকে সাখাওয়াত হোসেন সজল ৩৭ হাজার ২৪৮ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। গাবতলীর চেয়ারম্যান পদে ঘোড়া প্রতীকে অরুণ কান্তি রায় সিটন ৪১ হাজার ৬০৯ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন।
সিরাজগঞ্জ: আনারস প্রতীকে ৪৭ হাজার ৮৯৭ ভোট পেয়ে সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার চেয়ারম্যান হয়েছেন মো. রিয়াজ উদ্দিন।কাজিপুর উপজেলার চেয়ারম্যান পদে আবার বিজয়ী হয়েছেন বর্তমান চেয়ারম্যান খলিলুর রহমান সিরাজী। আনারস প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ৪৫ হাজার ১৩১ ভোট।
বেলকুচি উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে বিজয়ী হয়েছেন মোহাম্মাদ আমিনুল ইসলাম সরকার। তিনি দোয়াত-কলম প্রতীকে পেয়েছেন ৫৪হাজার ৮৪১ ভোট। রাত সাড়ে ১১টার দিকে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. শহীদুল ইসলাম বেসরকারিভাবে এ ফলাফল ঘোষণা করেন।
সিলেট: ভোট গণনার পর রাতে রিটার্নিং কর্মকর্তা ও সিনিয়র জেলা নির্বাচন অফিসার জিল্লুর রহমান বেসরকারিভাবে ফলাফল ঘোষণা করেন। ঘোষিত ফলাফলে সিলেট সদর উপজেলায় জেলা আওয়ামী লীগ যুগ্ম সম্পাদক অধ্যক্ষ সুজাত আলী রফিক, দক্ষিণ সুরমায় উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বদরুল ইসলাম, গোলাপগঞ্জে সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মঞ্জুর কাদির শাফি এবং বিশ্বনাথ উপজেলায় জেলা বিএনপি সাবেক সহসভাপতি ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মো. সুহেল আহমদ চৌধুরী বিজয়ী হয়েছেন।
কাপ-পিরিচ প্রতীক নিয়ে অধ্যক্ষ সুজাত আলী রফিক পেয়েছেন ২৩ হাজার ২৬৭ ভোট। এ উপজেলায় ভাইস চেয়ারম্যান পদে মো. সাইফুল ইসলাম ১৮ হাজার ৬৪২ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার প্রতীক উড়োজাহাজ।
আর মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে মোছা. হাসিনা আক্তার ফুটবল প্রতীকে ৩৫ হাজার ৭৯২ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। টেলিফোন প্রতীক নিয়ে ২০ হাজার ৬১৫ ভোট পেয়ে দক্ষিণ সুরমা উপজেলার চেয়ারম্যান পদে বিজয়ী হয়েছেন মো. বদরুল ইসলাম। তিনি উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক।
ভাইস চেয়ারম্যান পদে মো.মাহবুবুর রহমান ১৯ হাজার ৮৩০ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার প্রতীক মাইক। মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে পদ্ম ফুল প্রতীকে ২০ হাজার ২৯৮ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন আইরিন আক্তার কলি।
সুনামগঞ্জ: সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলা পরিষদ নির্বাচন চেয়ারম্যান পদে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক প্রদীপ রায় (দোয়াত কলম) প্রতীক নিয়ে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন। এ ছাড়াও ভাইস চেয়ারম্যান পদে এ বি এম মনসুর সুদীপ ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে ছবি চৌধুরী বিজয়ী হয়েছেন।
মৌলভীবাজার: মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়া উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে বিজয়ী হয়েছেন আঞ্জুমানে আল ইসলাহ’র প্রার্থী মাওলানা ফজলুল হক খান সাহেদ।
ময়মনসিংহ: ময়মনসিংহের ফুলপুর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে বিজয়ী হয়েছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহবায়ক মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান। ধোবাউড়া উপজেলা পরিষদ নির্বাচন নির্বাচিত হয়েছেন উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক ডেভিড রানা চিসিম।
এ ছাড়া হালুয়াঘাট উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন উত্তর জেলা বিএনপির বহিষ্কৃত নেতা মোহাম্মদ আবদুল হামিদ।
নেত্রকোনা: নেত্রকোনার দুর্গাপুরে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন নাজমুল হাসান নীরা (সাদ্দাম আকঞ্জি)। তিনি এর আগে উপজেলার ভাইস চেয়ারম্যান ছিলেন। মোটরসাইকেল প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ৩১ হাজার ১৫৫ ভোট।
জুড়ী উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে উপজেলা সেচ্ছাসেবক লীগের আহ্বায়ক কিশোর রায় চৌধুরী মনি বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন।বড়লেখা উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নেতা আজির উদ্দিন বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন।
হবিগঞ্জ: হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলা পরিষদের প্রাক্তন চেয়ারম্যান ইকবাল হোসেন খান আনারস প্রতীকে ৪২ হাজার ৪৩৩ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন।
এ ছাড়া আজমিরীগঞ্জ উপজেলা পরিষদের প্রাক্তন চেয়ারম্যান মো. আলাউদ্দিন মিয়া কাপ পিরিচ প্রতীকে ১৫ হাজার ১৮২ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন।
যশোর: যশোরের কেশবপুর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে মফিজুর রহমান নির্বাচিত হয়েছেন। ঘোড়া প্রতীকে তিনি ভোট পেয়েছেন ১৮ হাজার ৪৬৬।
রাজশাহী: কাপ-পিরিচ প্রতীক নিয়ে ৪৬ হাজার ৩৯৫ ভোট পেয়ে রাজশাহীর তানোর উপজেলার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন লুৎফর হায়দার রশিদ ময়না।
এ দিকে দোয়াত-কলম প্রতীক নিয়ে ৬৭ হাজার ৮৮ ভোট পেয়ে গোদাগাড়ী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন মো. বেলাল উদ্দিন সোহেল। তিনি উপজেলার দেওপাড়া ইউপির চেয়ারম্যান ছিলেন।
ভাইস চেয়ারম্যান পদে তালা প্রতীকের আব্দুল্লাহ আল মামুন ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে ফুটবল প্রতীকের প্রার্থী রাবেয়া খাতুন নির্বাচিত হয়েছেন। মণিরামপুর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আনারস প্রতীকে ৫৪ হাজার ৩২৮ ভোট পেয়ে আমজাদ হোসেন লাভলু নির্বাচিত হয়েছেন।
এ ছাড়া ভাইস চেয়ারম্যান পদে সন্দীপ ঘোষ ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে কাজী জলি আক্তার নির্বাচিত হয়েছেন।
নাটোর: নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে ১১ হাজার ২৪০ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন জেলা আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক (জোড়াফুল প্রতীক) মো. রবিউল ইসলাম।
ভাইস চেয়ারম্যান পদে ১৮ হাজার ৪৯৬ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন মো. খালেদ মাহমুদ ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে ১৮ হাজার ৮১ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন মোছা. রিনা পারভিন।
সদর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে ৩৪ হাজার ৭৯৭ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও কাপ-পিরিচ প্রতীকের প্রার্থী মো. শরিফুল ইসলাম রমজান। ভাইস চেয়ারম্যান পদে বেসরকারিভাবে মো. শরিফুর রহমান এবং মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে কামরুন্নাহার নির্বাচিত হয়েছেন।
এ ছাড়া সিংড়া উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে পুরুষ ভাইস চেয়ারম্যান পদে বেসরকারি ভাবে আনিছুর রহমান লিখন এবং মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে শামীমা হক রোজী নির্বাচিত হয়েছেন। এখানে চেয়ারম্যান পদে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আগেই নির্বাচিত হন দেলোয়ার হোসেন।
নীলফামারী: নীলফামারীর ডিমলায় ভাতিজাকে হারিয়ে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আনোয়ারুল হক সরকার মিন্টু। ঘোড়া প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ২৭ হাজার ২৯০ ভোট।
ভাইস চেয়ারম্যান পদে ২৩ হাজার ৫৩১ ভোট পেয়ে উত্তম কুমার রায় এবং নারী ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৫৩ হাজার ৩৬০ ভোট পেয়ে তৃতীয় বারের মতো নির্বাচিত হয়েছেন আয়েশা সিদ্দিকা। ডোমার উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন সরকার ফারহানা আক্তার সুমি। তিনি টেলিফোন প্রতীকে ৩৯ হাজার ৩২৫ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি বাংলাদেশ যুব মহিলা লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ও বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ডের সাধারণ সম্পাদক (কল্যাণ ও পুনর্বাসন)।
লক্ষ্মীপুর: কমলনগর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে বিজয়ী হয়েছেন বাংলাদেশ ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলনের বহিষ্কৃত কেন্দ্রীয় নেতা আল্লামা খালেদ সাইফুল্লাহ। তিনি মোটরসাইকেল প্রতীকে পেয়েছেন ১৮ হাজার ২৩০ ভোট। চশমা প্রতীকে ২৮ হাজার ১০৩ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন ভাইস চেয়ারম্যান পদে সালেহ উদ্দিন রাজু৷ মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে সাজেদা আক্তার সুমি কলস প্রতীকে ৩১ হাজার ৯১ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন।
রামগতি উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন সাবেক বিএনপি নেতা শরাফ উদ্দিন আজাদ সোহেল। কাপ-পিরিচ প্রতীক নিয়ে ২৯ হাজার ৬৯৩ ভোট পেয়েছেন তিনি। আজাদ উপজেলা পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান।
গাইবান্ধা: গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে আবু সাঈদ বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি মোটরসাইকেল প্রতীকে ৩০ হাজার ৪৯৯ ভোট পেয়েছেন।
ঠাকুরগাঁও: ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে আনারস প্রতীকে ৬৩ হাজার ৭৬২ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে মো. সফিকুল ইসলাম নির্বাচিত হয়েছেন।
ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৫১ হাজার ৩৬০ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন বই প্রতীকের মো. মোমিনুল ইসলাম। এ ছাড়াও বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হয়েছেন শীমা আক্তার।
হরিপুর উপজেলায় মোটরসাইকেল প্রতীকে মো. আব্দুল কাইয়ুম পুস্প ৩২ হাজার ৭৮৭ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। ভাইস চেয়ারম্যান পদে রিয়াজুল ইসলাম সকার টিউবওয়েল প্রতীকে ৪১ হাজার ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন এবং মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে মোছা. আসিয়া বেগম কলস প্রতীকে ৩৬ হাজার ২১৮ ভোটে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন।
চুয়াডাঙ্গা: চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে আনারস প্রতীকে আলি মুনছুর বাবু নির্বাচিত হয়েছেন। ভাইস চেয়ারম্যান পদে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় শফিউল কবীর ইউসুফ এবং মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে তানিয়া খাতুন নির্বাচিত হয়েছেন।
জীবননগর উপজেলা নির্বাচনে সাবেক উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হাফিজুর রহমান (কাপ-পিরিচ) বেসরকারিভাবে আবারও চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। ভাইস চেয়ারম্যান পদে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বর্তমান ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম ঈসা এবং মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে রেনুকা আক্তার রিতা নির্বাচিত হয়েছেন।
লালমনিরহাট: লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি লিয়াকত হোসেন বাচ্চু বেসরকারিভাবে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন আলা উদ্দিন এবং মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে শারমিন সুলতানা সাথী নির্বাচিত হয়েছেন। পাটগ্রাম উপজেলা পরিষদে টানা চতুর্থবারের মতো বেসসরকারীভাবে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন রুহুল আমিন বাবুল। ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন মোফাজ্জল হোসেন এবং মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে রেজওয়ানা পারভীন নির্বাচিত হয়েছেন।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ: ভোলাহাট উপজেলায় বিএনপির বহিষ্কৃত উপজেলা সহ-সভাপতি মো. আনারুল ইসলাম বেসরকারি ভাবে বিজয়ী হন। ভাইস চেয়ারম্যান পদে বহিষ্কৃত বিএনপি নেতা মো. কামাল উদ্দিন এবং মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে উপজেলা মহিলা যুলীগের সাধারণ সম্পাদক মোসা. শাহাজাদী বিশ্বাস বিজয়ী হন।
অপরদিকে নাচোল উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে টানা তৃতীয়বারের মতো উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন আব্দুল কাদের। এছাড়া ভাইস চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হয়েছেন কামাল উদ্দিন এবং মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হয়েছেন শামীমা খাতুন লিপি।
সাতক্ষীরা: সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক শেখ মেহেদী হাসান সুমন বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন।
অপরদিকে শ্যামনগর উপজেলা নির্বাচনে উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক সাইদ উজ জামান সাইদ বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ও যুবলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. শের আলম। এ দিকে নাসিরনগর উপজেলায় প্রথমবারের মতো নারী চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি রোমা আক্তার।
মাগুরা: মাগুরা সদর উপজেলায় মো. রানা আমির ওসমান মোটরসাইকেল প্রতীকে ৮৩ হাজার ৫৭১ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন।অন্যদিকে শ্রীপুর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে শরিয়তউল্লাহ হোসেন মিয়া রাজন মোটরসাইকেল প্রতীকে ৪৪ হাজার ৯৪৭ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন।
ঝিনাইদহ: ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে আনারস প্রতীকে শিবলী নোমানী বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। ভাইস চেয়ারম্যান পদে শফিকুজ্জান রাসেল এবং মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে শাহনাজ পারভীন বিজয়ী হয়েছেন।
নড়াইল: নড়াইললের কালিয়া উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চিংড়ী মাছ প্রতীকে ৩০ হাজার ৪৬৩ ভোট পেয়ে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন খান শামীম রহমান ওছি। এছাড়া ভাইস চেয়ারম্যান (পুরুষ) পদে ১৯ হাজার ৫৭৭ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন মো. মাহাবুবুল আলম।
ভাইস চেয়ারম্যান (মহিলা) পদে ৪২ হাজার ৪৭৯ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন মোসা. ববিতা খানম।
বাগেরহাট: বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে রাড়িপাড়া ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি মেহেদী হাসান বাবু নির্বাচিত হয়েছেন। এ উপজেলায় ভাইস চেয়ারম্যান পদে কচুয়া উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি শেখ সুমন ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে হনুফা খাতুন নির্বাচিত হয়েছেন।
রামপাল উপজেলায় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ মোয়াজ্জেম হোসেন পুনরায় চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হয়েছেন। ভাইস চেয়ারম্যান পদে উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক নুরুল হক লিপন এবং মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে উপজেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মুসাম্মাৎ হোসনেয়ারা (মিলি) পুনরায় নির্বাচিত হয়েছেন।
এ ছাড়া এ জেলায় প্রথম ধাপে বাগেরহাট সদর উপজেলায় ৩ প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। বিজয়ীরা হলেন, চেয়ারম্যান পদে বাগেরহাট সদর উপজেলা পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান ও জেলা যুবলীগের সভাপতি সরদার নাসির উদ্দিন, ভাইস চেয়ারম্যান পদে জেলা আওয়ামী লীগের শিক্ষা ও মানবসম্পদ বিষয়ক সম্পাদক ও বর্তমান ভাইস চেয়ারম্যান খান রেজাউল ইসলাম এবং মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে বাগেরহাট পৌর আওয়ামী লীগের মহিলাবিষয়ক সম্পাদক ও বর্তমান মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান রিজিয়া পারভীন।
পঞ্চগড়: পঞ্চগড় জেলার সদর উপজেলা পরিষদে চেয়ারম্যান পদে সাবেক ছাত্রলীগ নেতা এএস মো শাহনেওয়াজ প্রধান শুভ ঘোড়া প্রতীক নিয়ে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি পেয়েছেন ৩১ হাজার ৯৯৮টি ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন উপজেলা চেয়ারম্যান ও সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. আমিরুল ইসলাম। তিনি মোটরসাইকেল প্রতীক নিয়ে ভোট পেয়েছেন ১৫ হাজার ৩৮৭টি।
তেঁতুলিয়া উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হয়েছেন ব্যবসায়ী নিজাম উদ্দিন খাঁন। তিনি পেয়েছেন ৩৬ হাজার ৮৪০টি ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মুক্তারুল হক মুকু ঘোড়া প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ১১ হাজার ৮৬৫টি ভোট।
অপরদিকে আটোয়ারী উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হয়েছেন জেলা আওয়ামী লীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক আনিসুর রহমান। তিনি ঘোড়া প্রতীকে পেয়েছেন ৩১ হাজার ৭৫৭ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি তৌহিদুল ইসলাম মোটরসাইকেল প্রতীকে ভোট পেয়েছেন ২৫ হাজার ৮৮৭টি।
জেলার তিন উপজেলায় মোট ভোটার ৪ লাখ ৪২ হাজার ৮৭৬ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ২২ হাজার ৮৬৯ জন ও নারী ভোটার ২ লাখ ২০ হাজার ৩ জন। তিন উপজেলায় ভোট কেন্দ্র ১৫৬টি ও বুথ ১ হাজার ২১৬টি। তিন উপজেলায় চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে মোট ৩৩ জন প্রার্থী ভোট লড়াই করেছেন।
দিনাজপুর:উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের প্রথম ধাপে দিনাজপুরে তিনটি উপজেলায় ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। জেলার হাকিমপুর উপজেলায় উপজেলা চেয়ারম্যান পদে মো. কামাল হোসেন রাজ মোটরসাইকেল প্রতীকে ২২ হাজার ২৫১ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী হারুন উর রশীদ হারুন টেলিফোন প্রতীকে পেয়েছেন ১৯ হাজার ৩৭৮ ভোট।
ঘোড়াঘাট উপজেলায় কাজি শুভ রহমান চৌধুরী আনারস প্রতীকে ২৮ হাজার ৬৩৯ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী সারোয়ার হোসেন মোটরসাইকেল প্রতীকে পেয়েছেন ৮ হাজার ৩৮৪ ভোট।
বিরামপুর উপজেলায় মো. পারভেজ কবির ঘোড়া প্রতীকে ৪২ হাজার ৯৬৭ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মতিউর রহমান আনারস প্রতীকে পেয়েছেন ৩২ হাজার ৮০৭ভোট।
জয়পুরহাট: জয়পুরহাটের কালাই উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মিনফুজুর রহমান মিলন মোটরসাইকেল প্রতীকে ৪২ হাজার ৪৫৪ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন।
ক্ষেতলাল উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ক্ষেতলাল পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি দুলাল মিয়া সরদার দোয়াত কলম প্রতীকে ৩০ হাজার ৩৯০ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন।
এ ছাড়া আক্কেলপুর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মোকসেদ আলী মণ্ডল মোটরসাইকেল প্রতীকে ১৯ হাজার ৫৩৯ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন।
রংপুর: উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের প্রথম ধাপে রংপুরের পীরগাছায় উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ মিলন চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি মোটরসাইকেল প্রতীকে পেয়েছেন ৪২ হাজার ৭৬৮ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি মনোয়ারুল ইসলাম দোয়াত-কলম প্রতীকে পেয়েছেন ৪০ হাজার ৯৪৮ ভোট।
অন্যদিকে কাউনিয়া উপজেলায় পুনরায় চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হয়েছেন আওয়ামী লীগের আনোয়ারুল ইসলাম মায়া। তিনি মোটরসাইকেল প্রতীকে পেয়েছেন ৬০ হাজার ৭১৪ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী একই দলের আব্দুর রাজ্জাক আনারস প্রতীকে পেয়েছেন ৪৭ হাজার ৮৬৩ ভোট।
কুড়িগ্রাম:কুড়িগ্রামে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে রৌমারীর মো. শহিদুল ইসলাম শালু কাপ পিরিচ, চিলমারীর রুকনুজ্জামান শাহিন আনারস ও রাজিবপুরের মো শফিউল আলম আনারস প্রতীকে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন।
শহিদুল ইসলাম শালু রৌমারী উপজেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি। তিনি ২৪ হাজার ৫০৪ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মো. মজিবুর রহমান বঙ্গবাসী টেলিফোন প্রতীকে পেয়েছেন ২৪ হাজার ২৫৩ ভোট পেয়েছেন। রৌমারী উপজেলায় মোট ৬১টি ভোট কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। ভোটার সংখ্যা ১ লাখ ৬৮ হাজার।
চিলমারীতে রুকনুজ্জামান শাহিন আনারস প্রতীকে ২৮ হাজার ১৯৪ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি চিলমারী উপজেলা জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী রেজাউল করিম লিচু কাপ পিরিচ প্রতীকে ১১ হাজার ৫৮৪ ভোট পেয়ে পরাজিত হয়েছেন। রেজাউল করিম লিচু চিলমারী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। এই উপজেলায় মোট ভোটার সংখ্যা ১ লাখ ৯ হাজার ৪৪৪ জন।
রাজিবপুরে মো. শফিউল আলম আনারস প্রতীকে বেসরকারিভাবে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি ভোট পেয়েছেন ১৭ হাজার ৭৪৬টি। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আরিফুর রনি তালুকদার রানা ঘোড়া প্রতীকে পেয়েছেন ১৭ হাজার ৩৮৬ ভোট। নির্বাচিত শফিউল আলম কুড়িগ্রাম জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য।
কুড়িগ্রাম জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলমগীর কবির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পাবনা: উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের প্রথম ধাপে পাবনার তিনটি উপজেলায় ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সুজানগর উপজেলা চেয়ারম্যান পদে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল ওহাব মোটরসাইকেল প্রতীকে ৬২ হাজার ৭৫২ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহিনুজ্জামান শাহীন (আনারস) পেয়েছেন ৫৮ হাজার ৪৪১ ভোট।
সাঁথিয়া উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে বর্তমান ভাইস চেয়ারম্যান ও পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সোহেল রানা খোকন (কাপ-পিরিচ) ৩৮ হাজার ৫২৬ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী উপজেলা যুবলীগের সভাপতি আশরাফুজ্জামান টুটুল (আনারস) পেয়েছেন ৩৪ হাজার ৭১২ ভোট। আর বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজলা আ'লীগের সাবেক সভাপতি আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ দেলোয়ার পেয়েছেন ১৪ হাজার ১৭৪ ভোট।
বেড়ায় বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান ও আমিনপুর থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রেজাউল হক বাবু (হেলিকপ্টার) ২৯ হাজার ৬৮৯ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী উপজেলা আওয়ামী লীগের বহিষ্কৃত সভাপতি ও সাবেক পৌর মেয়র আব্দুল বাতেন (ঘোড়া) পেয়েছেন ২৩ হাজার ৭৬৬ ভোট। এই উপজেলার আরেক নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আফজার হোসেন পেয়েছেন ১৯ হাজার ৬২২ ভোট।
জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান বলেন, পাবনার তিনটি উপজেলা কোন প্রকার সহিংসতা ছাড়াই অবাধ নিরপেক্ষভাবে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। কোথাও কোনও অভিযোগ নেই। সুষ্ঠু ভোট করতে যারা সহযোগিতা করেছেন সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানান তিনি।
যশোর: উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের প্রথম ধাপে যশোরে দুইটি উপজেলায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। কেশবপুর উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে ঘোড়া প্রতীকের মফিজুর রহমান ১৮ হাজার ৪৬৬ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী শালিক প্রতীকের নাসিমা আকতার সাদেক পেয়েছেন ১৪ হাজার ১৬ ভোট। এ নির্বাচনে তিনটি পদে ১৪ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।
এ ছাড়া ভাইস চেয়ারম্যান পদে তালা প্রতীকের আব্দুল্লাহ আল মামুন ৩২ হাজার ৪৩৪ ভোট পেয়ে ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে ফুটবল প্রতীকের রাবেয়া ইকবাল ৩৭ হাজার ৩০৭ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন।
কেশবপুর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও সহকারী রিটানিং কর্মকর্তা রবিউল ইসলাম বলেন, কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই কেশবপুরে শান্তিপূর্ণভাবে উপজেলা পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এখানে মোট ভোটার সংখ্যা দুই লাখ ২০ হাজার ৯৫৪ জন। মোট ৯৫টি কেন্দ্রের ৬৭০টি কক্ষে সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ইভিএমে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়।
মণিরামপুর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে উপজেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেন লাভলু আনারস মার্কায় ৫৯ হাজার ২৭৩ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক প্রভাষক ফারুক হোসেন পেয়েছেন ৫২ হাজার ৭১৮ ভোট। এছাড়া এই উপজেলায় ভাইস চেয়ারম্যান পদে সন্দীপ ঘোষ ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে পুনরায় কাজী জলি আক্তার বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন।
ঠাকুরগাঁও: ঠাকুরগাঁওয়ে চেয়ারম্যান পদে বালিয়াডাঙ্গী উপজেলায় আনারস প্রতীকের মো. সফিকুল ইসলাম ও হরিপুরে মোটরসাইকেল প্রতীকের মো. আব্দুল কাইয়ুম নির্বাচিত হয়েছেন।
বুধবার (৮ মে) ভোটগ্রহণ ও গণনা শেষে রাত ১০টার দিকে বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা পরিষদের সভাকক্ষে ফলাফল ঘোষণা করেন উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং অফিসার মো. দলিল উদ্দিন। অপরদিকে হরিপুর উপজেলা পরিষদের সভাকক্ষে ফলাফল ঘোষণা করেন উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং অফিসার মো. আব্দুল মান্নান।
বালিয়াডাঙ্গী উপজেলায় ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৫১ হাজার ৩৬০ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন বই প্রতীকের মো. মোমিনুল ইসলাম ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হয়েছেন শীমা আক্তার।
হরিপুর উপজেলায় ভাইস চেয়ারম্যান পদে রিয়াজুল ইসলাম সকার টিউবওয়েল প্রতীকে ৪১ হাজার ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। এছাড়া মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে মোছা. আসিয়া বেগম কলস প্রতীকে নির্বাচিত হয়েছেন।
রূপগঞ্জে কোরবানির পশুর চাহিদা রয়েছে ১৫ হাজারের মত। এর বিপরীতে বিভিন্ন খামারে মজুত রয়েছে ২৫ হাজার পশু। ঈদুল আজহা যতই ঘনিয়ে আসছে ততই ব্যস্ততা বাড়ছে খামারিদের। বাজারমূল্য ঠিক থাকলে লাভের মুখ দেখার আশা তাদের। আর পছন্দ ও সাধ্যের মধ্যে পশু বেছে নিতে আগেভাগেই খামারে প্রান্তিক চাষিদের বাড়িতে ভিড় করছেন ক্রেতারা।
হাটে দালালের চক্কর, ঝুক্কি-ঝামেলা থেকে বাঁচতে ক্রেতারা খামারে ও কৃষকের বাড়িতে বেশি ভিড় করছেন। খামারগুলো পারিবারিকভাবে পরিদর্শন, কোরবানি পর্যন্ত গরু রাখা, গরু আহত হলে ক্ষতিপূরণ, মারা গেলে সমুদয় টাকা ফেরতসহ নানা সুবিধা দিয়ে কোরবানির পশু বিক্রি করছেন। ফলে ক্রেতাদের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।
কোরবানির ঈদের আর কয়েক দিন বাকি থাকলেও আগেভাগেই পছন্দের গরু বেছে নিতে রাজধানী ঢাকার মালিবাগ থেকে রূপগঞ্জের একটি খামারে এসেছেন মো. শামিম খান। কোরবানির হাটের ঝক্কি এড়াতে খামার থেকেই গরু কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। দেলোয়ার মিয়া নামে আরেক জন ক্রেতা বলেন, আগেভাগে গরু কিনে রাখছি। এতে শেষ সময়ে দরদামের ঝামেলা নেই। ঈদের আগে দিন খামারি বাসায় গরু পাঠিয়ে দেবে।
এরকম সুবিধা দিয়ে রূপগঞ্জের কৃষক ও খামারিরা গরু-ছাগল বিক্রি করছেন। নিচে ৬০ হাজার টাকা থেকে সর্বোচ্চ ২ লাখ টাকা দামের গরু রয়েছে।
কামাল, জুয়েল, শাহালমরা জানান, ৩ থেকে ৬ মাস আগে বিভিন্ন হাটবাজার থেকে গরু ও ছাগল কিনে লালন-পালন করে হৃষ্টপুষ্ট করে গড়ে তুলেছি প্রাকৃতিক উপায়ে। ১৫ বছর ধরে এ ব্যবসা করছি। গরুকে কোনো ক্ষতিকারক ইনজেকশন বা হরমোন দেয়া হয় না। নিয়মিত যত্ন, পুষ্টিকর খাবার এবং গোসলের মাধ্যমে গরুগুলোকে সুস্থ ও নাদুস-নুদুস করে তোলেছি|
সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক খুদের ভাত, আলু সিদ্ধ, মসুর, খেসারি ডাল, চোকর, বুটের খোসা, ভুট্টা, গম ইত্যাদি খাবার খেয়ে হৃষ্টপিষ্ট করা হয়েছে।
জুয়েল মিয়া নামের খামারি বলেন, গোখাদ্যের বাড়তি দাম দুশ্চিন্তায় ফেলেছে। তারপরও ভালো লাভের আশা রয়েছে। গরুর লালনপালনেও খরচ বেড়েছে।
আওলাদ হোসেন, মোমেন মিয়া বলেন, পরিশ্রমী ও পরিচ্ছন্ন খামার থেকে প্রতি বছর কোরবানির গরু কিনে থাকি। এবারও কিনে খামারে রেখেছি। খামার থেকে ইসলাম, শাওন, জয়নাল, আমিনুলসহ অনেকেই কোরবানির গরুর বুকিং দিয়েছেন। বিভিন্ন এলাকার ক্রেতারাও গরু কিনেছেন এখানে থেকে।
উপজেলার প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তা ডা. সজল কুমার দাস জানান, রূপগঞ্জের ডেইরি ফার্মগুলো মূলত কোরবানিকে টার্গেট করে গরু লালন-পালন করে থাকে। বাণিজ্যিকভাবে ফার্মগুলো গড়ে উঠেছে। প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রাণীসম্পদ বিভাগ দিয়ে থাকে।
কোরবানির পশুর হাটে জরুরি সেবা দিতে পশু চিকিৎসক দল দায়িত্ব পালন করার পাশাপাশি বর্জ্য ব্যবস্থাপনায়ও কাজ করবে বলে জানিয়েছে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর।
ঘরের আঙিনাজুড়ে কালচে পানি। পানির ওপর ভাসছে ময়লা-আবর্জনা। বাতাসে তীব্র দুর্গন্ধ। সন্ধ্যা নামলেই বাড়ে মশার উপদ্রব। এমন পরিবেশেই বছরের পর বছর বসবাস করছেন সিরাজগঞ্জের বেলকুচি উপজেলার শেরনগর মধ্যপাড়ার কয়েক হাজার মানুষ।
স্থানীয়দের অভিযোগ, আশপাশের কয়েকটি প্রসেস মিল এবং গার্মেন্টসের পানি, অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও জলাবদ্ধতার কারণে তাদের এই দুর্ভোগ। বৃষ্টি হলেই পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে।
গত শনিবার বিকালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, শেরনগর মধ্যপাড়ার বিভিন্ন বাড়ির সামনে ও সরু সড়কে জমে আছে ময়লা মিশ্রিত পানি। কোথাও ড্রেনের পানি উপচে উঠছে। কোথাও আবার স্থির হয়ে থাকা পানিতে জন্ম নিয়েছে মশা। দুর্গন্ধে কয়েক মিনিটের বেশি দাঁড়িয়ে থাকাও কষ্টকর হয়ে পড়ে।
এই এলাকার বাসিন্দা ৬৫ বছর বয়সি আব্দুল হালিম মন্ডল। একসময় তাঁতশ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন। এখন বয়সের ভারে অনেকটাই কর্মহীন। ১৫ সদস্যের পরিবার নিয়ে তার বসবাস এই এলাকায়। ঘরের সামনে জমে থাকা নোংরা পানির দিকে তাকিয়ে তিনি বলেন, ‘আমাদের কষ্টের কথা বলে শেষ করা যাবে না। টিউবওয়েলের পানিতেও গন্ধ। বৃষ্টি হলেই ঘরের ভেতরে পানি উঠে যায়। এই এলাকার কথা শুনে অনেকে আত্মীয়তা করতে চায় না। ছেলে-মেয়ের বিয়ের সম্বন্ধ এলে লোকজন এসে না বসেই চলে যায়।’
তিনি জানান, মশার উপদ্রবে তার স্ত্রী দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ। ১৫-১৬ বছর ধরে এই ভোগান্তি। রাতে ঠিকমতো ঘুমাতে পারি না। পৌরসভা থেকে একবার মশা মারার ওষুধ ছিটিয়েছিল। কিন্তু মশা কমেনি, বরং আরও বেড়েছে মনে হয়।
শুধু আব্দুল হালিম নন, শেরনগর মধ্যপাড়া ও আশপাশের প্রায় ৫০০ থেকে ৭০০ পরিবারের অন্তত পাঁচ হাজার মানুষ একই দুর্ভোগে আছেন।
স্থানীয় নারী আলেয়া বেগম প্রতিবেদককে বলেন, ‘বৃষ্টি হলে ঘরে থাকা যায় না, পানি উঠে যায়। অনেক সময় আত্মীয়ের বাড়িতে গিয়ে থাকতে হয়। আমরা গরিব মানুষ, কোথায় যাব? সামনে ঈদ, আবার বৃষ্টি হলে ঘরে ঈদ করা কঠিন হবে।’
এলাকাটিতে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও দুটি মসজিদ রয়েছে। জলাবদ্ধতার প্রভাব পড়ছে শিশুদের জীবনেও।
শিক্ষার্থী রাহাত বলেন, ‘বৃষ্টি হলে ১০-১৫ দিন স্কুলে যেতে পারি না। খেলাধুলাও করা যায় না। আমরা চাই এই সমস্যার একটা সমাধান হোক।’
মোছা. হাশমত আরা নামের আরেক বাসিন্দা বলেন, ‘বৃষ্টি হলে কোমর পানি হয়। রান্নাবান্না করা যায় না। আমার স্বামী নাইট গার্ডের চাকরি করে। অন্য কোথাও গিয়ে থাকার সামর্থ্য আমাদের নেই।’
স্থানীয় মুদি দোকানদার শমসের আলী বলেন, ‘পানির গন্ধে দোকানে বসা কষ্ট হয়ে পড়ে। এভাবে কতদিন চলবে বুঝতে পারছি না।’
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক ব্যক্তি বলেন, ‘মুকন্দগাঁতী, চন্দনগাঁতী, কামারপাড়া ও শেরনগরের বিভিন্ন এলাকার ড্রেনের পানি এসে এই এলাকায় জমা হয়। পাশাপাশি কয়েকটি প্রসেস মিলের বর্জ্যপানিও এখানে এসে পড়ছে।’=
তিনি বলেন, ‘সঠিকভাবে ড্রেনেজ ব্যবস্থা করে পানি বের করার ব্যবস্থা করলে হাজার হাজার মানুষের ভোগান্তি কমবে।’
তিনি অভিযোগ করেন, মাসখানেক আগে পৌরসভার উদ্যোগে লাখ লাখ টাকা খরচ করে এলাকায় একটি নালা খনন করা হলেও তাতে কাঙ্ক্ষিত সুফল মেলেনি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বছরের পর বছর ধরে সমস্যাটি চললেও স্থায়ী সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ দেখা যায়নি। ফলে জলাবদ্ধতা, দুর্গন্ধ ও মশার যন্ত্রণা নিয়েই দিন কাটছে শেরনগরের মানুষের।
বেলকুচি পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী মনিরুজ্জামান তালুকদার বলেন, ‘পানি নিষ্কাশনের জন্য পৌরসভার রাজস্ব তহবিল থেকে খাল খননের জন্য এক কিলোমিটার কাজ শুরু করা হয়েছে। তিনশ মিটার খাল খনন শেষ হয়েছে। কিছু জটিলতার কারণে বাকি কাজ শুরু করা যাচ্ছে না। জটিলতা শেষ হলে সাতশ মিটার খাল খনন পর্যায়ক্রমে শেষ করা হবে। পানি নিষ্কাশনের জন্য মার্স্টার ড্রেন করার পরিকল্পনা রয়েছে। এক কিলোমিটার খাল খননে কত টাকা বাজেট হয়েছে জানতে চাইলে বলেন, ‘১৫-১৮ লাখ টাকার মতো হবে। তবে তিনি অফিসিয়ালি টাকার পরিমাণ সুনির্দিষ্ট করে জানাতে পারেননি।
বেলকুচি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌরসভার প্রশাসক আফরিন জাহান জানান, বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে। এটার অংশ হিসেবে শেরনগর খাল/নালা খনন/সংস্কারের উদ্যোগ নেয়াসহ নানাবিধ কার্যক্রমের পরিকল্পনা ও তার আংশিক বাস্তবায়ন ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। বর্তমান পৌর প্রশাসক কর্তৃক কয়েকবার সরেজমিনে শেরনগর এলাকা পরিদর্শন করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, প্রসেস মিলের বর্জ্য পানি বন্ধে পৌরসভা নিয়মিত মনিটরিংসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে পরামর্শ চালিয়ে যাচ্ছে। ঈদের পূর্বে ড্রেন পরিষ্কারসহ রুটিন কাজ চলবে। এ ছাড়া পানি নিষ্কাশনের জন্য জরুরি প্রয়োজনে পাম্পের মাধ্যমে করা হবে। বেলকুচি পৌরসভা এলাকায় মাস্টার ড্রেন না থাকায় পানি জমে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। এমপি মহোদয়ের সাথে পরামর্শক্রমে শেরনগর ব্রিজ থেকে ক্ষিদ্রমাটিয়া স্লুইসগেট পর্যন্ত একটি মাস্টার ড্রেন প্রকল্প খুব দ্রুত বাস্তবায়নের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, যা প্রক্রিয়াধীন আছে।
বগুড়ার সান্তাহার পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের নতুন বাজার এলাকায় দীর্ঘ প্রায় ১০ বছর ধরে চরম জলাবদ্ধতা ও অবকাঠামোগত সমস্যায় ভুগছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এলাকাটিতে প্রায় প্রায় ৫০০ মানুষের বসবাস হলেও স্থানীয়দের অভিযোগ, বিগত এক দশকে জনগণের দুর্ভোগ সমাধানে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেয়নি জনো প্রতিনিধিরা। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, সামান্য বৃষ্টি হলেই নতুন বাজার এলাকার রাস্তাঘাট ও বসত বাড়ির আশ পাশে পানি জমে যায়। দীর্ঘদিন ধরে ড্রেনেজ ব্যবস্থা অকার্যকর থাকায় পানি নিষ্কাশনের কোনো পথ নেই। এতে সাধারণ মানুষের চলাচল ব্যাহত হচ্ছে, পাশাপাশি বাড়ছে মশার উপদ্রব ও পানিবাহিত রোগের আশঙ্কা।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, নির্বাচন এলেই জনো প্রতিনিধিরা নানা উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দেন। কিন্তু ভোট শেষ হলেই আর খোঁজ থাকে না সাধারণ মানুষের দুর্ভোগের। স্থানীয়দের দাবি, গত ১০ বছরে কোনো কমিশনারই এলাকাটির স্থায়ী সমস্যা সমাধানে দৃশ্যমান কোনো কাজ করেননি।
সম্প্রতি এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে সান্তাহার পৌরসভায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হলেও এখনো পর্যন্ত কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে জানান ভুক্তভোগীরা। অভিযোগপত্রে দ্রুত ড্রেন পরিষ্কার, নতুন ড্রেন নির্মাণ ও জলাবদ্ধতা নিরসনে জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানাই।স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন,
আমরা নিয়মিত কর দেই,ভোট দেই। কিন্তু আমাদের কষ্ট দেখার কেউ নেই। শিশু, বৃদ্ধ ও রোগীদের সবচেয়ে বেশি ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী। তাদের দাবি, অবিলম্বে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে ভবিষ্যতে পৌরসভা ঘেরাও কর্মসূচিতে যেতে বাধ্য হবেন তারা।
এই বিষয় এ সান্তাহার পৌরসভার ইঞ্জিনিয়ার আবু রায়হান জানান, তিনি এ বিষয়ে অবগত আছেন। বলেন, অর্থ বছর শেষ হয়ে গেছে। নতুন অর্থ বছরে ড্রেনের জন্য আবেদন করে দ্রুত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করব।
শহীদ শরীফ ওসমান হাদির বোন মাসুমা হাদি বলেছেন, বর্তমান সরকার শহীদ ওসমান হাদির রক্তের ওপর ভর করে ক্ষমতায় এসেছে। আর ইউনূস সরকার ওসমান হাদির রক্তের সঙ্গে বেইমানি করেছে গেছে। আপনারাও (বিএনপি সরকার) যদি মনে করেন ভারতের তাঁবেদারি করে পাঁচ বছর ক্ষমতায় টিকে থাকবেন, তাহলে জনগণ তা মেনে নেবে না।
রোববার (১৭ মে) বেলা ১১টার দিকে বরিশাল নগরীর সদর রোডের টাউন হলের সামনে আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।
ভারতের সংখ্যালঘু মুসলিম নিধন, সীমান্তে হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদ এবং শহীদ শরীফ ওসমান হাদির হত্যাকারীদের বিচারের দাবিতে ‘বরিশালের সর্বস্তরের শিক্ষার্থীদের’ ব্যানারে এ সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।
মাসুমা হাদি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রথমে লন্ডন থেকে বাংলাদেশে এসে ওসমান হাদির কবর জিয়ারত করেছেন। কিন্তু আমরা দেখলাম, তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে গেলেও ওসমান হাদির কবর জিয়ারত করেননি। এই প্রশ্ন শুধু আমার না, পুরো বাংলাদেশের।
তিনি বলেন, ওসমান হাদির খুনিদের বিচার না হওয়া মানে বাংলাদেশ হেরে যাবে, জুলাইয়ের বিজয় হেরে যাবে। জুলাই সনদ নিয়ে এখন যে টালবাহানা চলছে, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না করা মানে ওসমান হাদির রক্তের সঙ্গে বেইমানি করা। জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ও ওসমান হাদি হত্যার বিচার না করে বিভিন্ন ইস্যু তৈরি করে মানুষকে ভুলিয়ে রাখা সম্ভব নয়।
মাসুমা হাদি বলেন, আমরা এখন শুধু বিচার চাইতে আসিনি। দেশের ১৭ কোটি মানুষকে সঙ্গে নিয়ে ওসমান হাদির বিচার আদায় করে নেব। ওসমান হাদি কারও একার না, কোনো দলেরও না। ওসমান হাদি মানেই বাংলাদেশ।
তিনি আরও বলেন, ওসমান হাদি শিখিয়ে গেছে কীভাবে স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে অস্ত্র ছাড়া আন্দোলন করতে হয়, কীভাবে দাবি আদায় করে নিতে হয় এবং কীভাবে ইনসাফের পক্ষে থাকতে হয়। আমরা কাউকে ভয় পাই না।
নিজের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কার কথাও তুলে ধরেন মাসুমা হাদি। তিনি বলেন, আজ সকালে আমার হোয়াটসঅ্যাপে কেউ একজন আমাকে এই প্রোগ্রামে যোগ না দিতে বলেছে। আমাকেও গুলি করে হত্যা করা হতে পারে, যাতে ওসমান হাদির বিচারের দাবিতে কেউ আওয়াজ না তোলে।
মাসুমা হাদি বলেন, আমি ওসমান হাদিকে আঙুল ধরে হাঁটতে শিখিয়েছি। আমাকে ভয় দেখিয়ে লাভ নেই। আমি মরে গেলেও আপনারা ওসমান হাদির বিচার আদায় করে ছাড়বেন।
সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিলে বরিশালের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। এ সময় সমাবেশস্থল ও আশপাশে পুলিশ সদস্যদের উপস্থিতি দেখা যায়।
টাঙ্গাইলের বাসাইলে কৃষিকাজে উৎপাদন বৃদ্ধিতে কৃষকদের নিয়ে দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালা ‘পার্টনার কংগ্রেস’ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রবিবার (১৭ মে) সকালে উপজেলা পরিষদ হলরুমে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উদ্যোগে এ কংগ্রেসের আয়োজন করা হয়।
“প্রোগ্রাম অন এগ্রিকালচারাল অ্যান্ড রুরাল ট্রান্সফরমেশন ফর নিউট্রিশন, এন্টারপ্রেনারশিপ অ্যান্ড রেজিলিয়েন্স ইন বাংলাদেশ (পার্টনার)” প্রকল্পের আওতায় আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন টাঙ্গাইল খামারবাড়ি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো: আশেক পারভেজ।
অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোহাম্মদ নেয়ামত উল্ল্যা। স্বাগত বক্তব্য রাখেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শাহজাহান আলী।
উপজেলা পাট উন্নয়ন কর্মকর্তা সবুজ মিয়ার সঞ্চালনায় আরও বক্তব্য রাখেন উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. হীরা মিয়া, বাসাইল থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আলমগীর কবির, উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মামুন আল জাহাঙ্গীর, উপজেলা মহিলা দলের সভাপতি রাশেদা সুলতানা রুবি, কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মারিয়া জান্নাত প্রমুখ।
এসময় হাবলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান খোরশেদ আলম, কাশিল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রমজান আলীসহ উপজেলার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার কৃষক, খামারি, কৃষি উদ্যোক্তারা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, ‘পার্টনার’ প্রকল্পের মাধ্যমে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং গ্রামীণ উদ্যোক্তা তৈরির মাধ্যমে দেশের সামগ্রিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে।
মাগুরা সদর উপজেলার রাউতড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে ২টি দেশীয় ওয়ান শুটারগান, ৪টি ককটেল, ২টি শর্টগানের সীসা কার্তুজ এবং ৪টি হাসুয়াসহ এক অবৈধ অস্ত্রধারীকে গ্রেফতার করেছে র্যাব-৬, সিপিসি-২, ঝিনাইদহ।
র্যাব জানায়, নিয়মিত মামলার আসামি, সাজাপ্রাপ্ত ও ওয়ারেন্টভুক্ত অপরাধী গ্রেফতার, অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী ও মাদক কারবারিদের আইনের আওতায় আনতে র্যাব ফোর্সেস ধারাবাহিক অভিযান পরিচালনা করে আসছে। এরই অংশ হিসেবে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব-৬, সিপিসি-২, ঝিনাইদহ ক্যাম্পের একটি আভিযানিক দল মাগুরা সদর থানাধীন রাউতড়া গ্রামস্থ গীরিদারি আশ্রমের সামনে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে।
অভিযানে অবৈধ অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী মোঃ নাইম (৩৫) কে গ্রেফতার করা হয়। তিনি মাগুরা সদর উপজেলার রাউতড়া গ্রামের সুলতান বিশ্বাসের ছেলে।
র্যাবের দাবি, গ্রেফতারকৃতের কাছ থেকে ২টি দেশীয় ওয়ান শুটারগান, ৪টি ককটেল, ২টি শর্টগানের সীসা কার্তুজ এবং ৪টি হাসুয়া উদ্ধার করা হয়েছে।
উদ্ধারকৃত আগ্নেয়াস্ত্র, গুলি, ককটেল ও অন্যান্য আলামত উপস্থিত সাক্ষীদের সামনে বিধি মোতাবেক জব্দ করা হয়।
পরবর্তীতে গ্রেফতার আসামি ও জব্দকৃত আলামত মাগুরা সদর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় অস্ত্র ও বিস্ফোরক আইনে নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে জানিয়েছে র্যাব।
র্যাব-৬, সিপিসি-২, ঝিনাইদহের কোম্পানি কমান্ডার স্কোয়াড্রন লিডার ইমামীম মুবীন সরকার সুমন বলেন, “অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার, মাদকবিরোধী অভিযান এবং চাঞ্চল্যকর অপরাধে জড়িতদের গ্রেফতারে র্যাবের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
মাদারীপুর শহরের তরমুগুরিয়া এলাকায় প্রসিসেস প্রতিবন্ধী স্কুল পরিদর্শনে গিয়ে প্রতিবন্ধীদের পরম স্নেহে নিজের কাছে ও বুকে টেনে নিয়ে আদর করলেন সদর-২ আসনের এমপি জাহান্দার আলী মিয়া।
আজ রবিবার (১৭ ই মে) দুপুরে স্কুল চলাকালীন সময়ে তিনি উক্ত স্কুলটি পরিদর্শনে গেলে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক পলি খানম সহ অন্যান্য ৩২ জন শিক্ষক ও স্কুলের ৩৯০ জন ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে অধিকাংশই তাকে উষ্ণ সংবর্ধনা জানান। এসময় তিনি স্কুলের বিভিন্ন ক্লাসে গিয়ে প্রতিবন্ধীদের পাঠদান কার্যক্রম, কবিতা আবৃত্তি, নৃত্য ও সঙ্গীত পরিবেশন উপভোগ করেন। তবে তিনি স্কুলটির ভগ্নদশা, ক্লাসরুম সংকট, সংকুচিত জায়গা, টিনের ঘরে পাঠদান, শিক্ষক- শিক্ষিকাদের অফিসরুম সহ একটি তিনতলা বিশিষ্ট ভবনের অসমাপ্ত আংশিক কাজ দেখে দুঃখ ও উদ্বেগ প্রকাশ করে মাদারীপুর জেলা প্রশাসক, শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী সহ সংশ্লিষ্টদের নজরে নিয়ে তা আশু সমাধানের ব্যাপারে স্কুল কর্তৃপক্ষকে আশ্বাস দেন।
এসময় তিনি বলেন, প্রতিবন্ধীদের প্রতি রয়েছে আমাদের মানবিক দায়বদ্ধতা, তারা আমাদের কারো না কারো সন্তান, তারা আমাদের বোঝা নয়- তারা সমাজের অবিচ্ছেদ্য অংশ, তাদের ব্যাপারে আমাদের সরকার ও আমরা অত্যন্ত স্নেহশীল, তাদেরও মধ্যে রয়েছে অনেক প্রতিভা। সেই প্রতিভাকে ফুটিয়ে তুলতে হলে সবার আগে দরকার সঠিক পরিচর্যা এবং এজন্য সবাইকে উদার হতে হবে, তাদের সাহায্যে হাত বাড়িয়ে দিতে হবে।
মাগুরায় দুইদিন ব্যাপী জি আই পণ্য স্বীকৃত হাজরাপুরী লিচু'র মেলা উদ্বোধন করেছেন প্রধান অতিথি হিসেবে সংস্কৃতি মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী এমপি।
শনিবার বিকেলে মাগুরা সদর উপজেলার হাজরাপুর ইউনিয়ন পরিষদ সংলগ্ন লিচু বাগানে এ মেলার উদ্বোধন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে মাগুরা জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মাহমুদের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন মাগুরা-১ আসনের সংসদ সদস্য মনোয়ার হোসেন খান, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য এ্যাড.নেওয়াজ হালিমা আরলী, পুলিশ সুপার মোল্লা আজাদ হোসেন, জেলা পরিষদ প্রশাসক আলি আহম্মেদ, সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মোহাম্মদ আল মারুফ, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক তাজুল ইসলাম ও সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেহেরুন্নাহার। বক্তব্য রাখেন নারী উদ্যোক্তা জেনিস ফারজানা তানিয়া, লিচু চাষী জহুরুল ইসলাম পিয়াল ও মনিরুজ্জামান।
মেলায় বক্তারা বলেন, হাজরাপুরী লিচু সারা বাংলাদেশ বিখ্যাত। হাজরাপুরী লিচু আজ মাগুরার চাহিদা মিটিয়ে সারাদেশে যাচ্ছে। ইতি মধ্যে হাজরাপুরী লিচু জিআই পণ্য হিসাবে স্বীকৃতি পেয়েছে। আমাদের এই গৌরব ধরে রাখতে হবে। লিচু মৌসুমে লিচু চাষীদের লিচু সংগ্রহ করতে সহযোগিতা করতে হবে। লিচু চাষিরা দাবি করে বলেন, মাগুরার লিচু জি আই পণ্য স্বীকৃতি পাওয়ায় আমরা খুবই খুশি। এজন্য লিচু সংরক্ষণের জন্য লিচুর কোল্ড স্টোরেজ করতে হবে। প্রত্যেক লিচু চাষীকে কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে স্প্রে মেশিন প্রদান করতে হবে।
সংস্কৃতি মন্ত্রী এ্যাড. নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, হাজরাপুরি লিচুর অনেক কদর রয়েছে। মাগুরার হাজরাপুরী লিচু জি আই পণ্য স্বীকৃতি পাওয়ায় এ বছর জেলায় একশত কোটি টাকার লিচু বিক্রি হবে। এজন্য আমরা খুব গর্বিত। আমাদের এই গৌরব ধরে রাখতে হবে। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে লিচুর অনেক ভূমিকা রয়েছে। এ লিচু সংরক্ষণ, লিচু চাষীদের যথাযথ প্রশিক্ষণ প্রদানের মাধ্যমে দক্ষ করে গড়ে তুলতে হবে।
মাগুরা জেলা প্রশাসন দুদিন ব্যাপী মেলার আয়োজন করে। এ মেলায় ১৮ টি স্টল অংশ নিয়েছে। রবিবার এ মেলার সমাপনী হবে।
কুমিল্লা নগরীর কোতয়ালী মডেল থানাধীন গাজীপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৯১৩৫ পিস ইয়াবাসহ এক মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)-১১, সিপিসি-২।
রোববার (১৭ মে) র্যাব-১১, সিপিসি-২ কুমিল্লার অধিনায়কের কার্যালয় থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত শুক্রবার (১৬ মে) রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব-১১, সিপিসি-২ এর একটি বিশেষ আভিযানিক দল কুমিল্লা জেলার কোতয়ালী মডেল থানাধীন গাজীপুর এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় মোঃ রাকিব হোসেন (২০) নামে এক মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি গাজীপুর এলাকার নূর আলমের ছেলে।
অভিযানকালে গ্রেপ্তারকৃত আসামির হেফাজত থেকে ৯১৩৫ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।
র্যাব জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, গ্রেপ্তারকৃত রাকিব দীর্ঘদিন ধরে সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে ইয়াবা সংগ্রহ করে কুমিল্লাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পাইকারি ও খুচরা মূল্যে বিক্রি করে আসছিলেন।
র্যাব-১১ আরও জানায়, মাদকবিরোধী ধারাবাহিক অভিযানের অংশ হিসেবে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে এবং মাদকের মতো সামাজিক ব্যাধির বিরুদ্ধে তাদের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
এ ঘটনায় গ্রেপ্তারকৃত আসামির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার বালিয়াবিল এলাকায় কৃষকের বাড়িতে ডাকাতির সময় সক্রিয় ডাকাত দলের তিন সদস্যকে আটক করেছে এলাকাবাসী।
শনিবার দিবাগত রাতে সদর উপজেলার পুটাইল ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বালিয়াবিল এলাকার কৃষক চাঁন মিয়ার বাড়িতে ডাকাতির সময় স্থানীয়রা তাদের হাতেনাতে আটক করে। তবে কৌশলে ডাকাত দলের মূল হোতা সজীব মিয়া পালিয়ে যায়।
আটককৃতরা হলেন সদর উপজেলার পুটাইল ইউনিয়নের উত্তর পুটাইল এলাকার কিসমত আলী, মুসা মিয়া ও আল আমিন হোসেন।
ভুক্তভোগী ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, শনিবার গভীর রাতে একটি সংঘবদ্ধ ডাকাত দল কৃষক চাঁন মিয়ার বাড়িতে প্রবেশ করে। পরে দেশীয় অস্ত্রের মুখে পরিবারের সদস্যদের জিম্মি করে ৬০ হাজার টাকা দাবি করে ডাকাতরা।
একপর্যায়ে কৌশলে ঘরের বাইরে বের হয়ে চিৎকার শুরু করেন বাড়ির মালিক চাঁন মিয়া। তার চিৎকারে প্রতিবেশী ও আশপাশের লোকজন ঘটনাস্থলে এসে বাড়িটি ঘিরে ফেলে। এসময় ডাকাত দলের তিন সদস্যকে আটক করে গণপিটুনি দেয় স্থানীয়রা। পরে পুলিশে খবর দেওয়া হলে ঘটনাস্থল থেকে তাদের আটক করে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ।
এ বিষয়ে মানিকগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ ইকরাম হোসেন জানান, খবর পেয়ে আহত অবস্থায় তিন ডাকাত সদস্যকে আটক করেছে থানা পুলিশ। এ ঘটনায় বাড়ির মালিক কৃষক চাঁন মিয়া বাদী হয়ে থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।
তিনি আরও জানান, আটককৃতদের বিরুদ্ধে এর আগেও বালিয়াবিল এলাকায় ডাকাতির অভিযোগ রয়েছে।
বরিশালে হামের উপসর্গে আক্রান্ত হয়ে আরও এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এতে বিভাগে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩২ জনে। এর মধ্যে শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে মারা গেছেন ২২ জন।
রোববার (১৭ মে) সকালে হাসপাতাল পরিচালকের কার্যালয় এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
সবশেষ মারা যাওয়া শিশুটি পটুয়াখালী সদরের বড় বিঘাই এলাকার বাসিন্দা মো. কাওসার হোসেনের সাত মাস বয়সী মেয়ে নুসাইবা। শনিবার দিবাগত রাতে শেবাচিম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
হাসপাতাল সূত্র জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৪২ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। একই সময়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন ৬২ জন। বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন ১৯৬ জন রোগী। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত শেবাচিম হাসপাতালে হাম ও উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন ২ হাজার ১৯৫ জন।
হামের প্রকোপ বাড়তে থাকায় শেবাচিম হাসপাতালে তিনটি কক্ষে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। রোগীর চাপ সামাল দিতে নতুন করে আরও একটি হাম ওয়ার্ড চালু করা হয়েছে। একই সঙ্গে বরিশাল জেনারেল হাসপাতালেও বাড়ছে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা।
বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয়ের তথ্যমতে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত বিভাগে হাম উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৫ হাজার ৬৭৫ জন। তাদের মধ্যে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৫ হাজার ৬১৫ জন।
বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য কার্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ডা. মো. লোকমান হাকিম জানান, মার্চ মাস থেকে বিভাগে হামের প্রাদুর্ভাব ভয়াবহ আকার ধারণ করে। তবে ইতোমধ্যে শিশুদের টিকাদান কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ার ৬ নং ঘাঘরকান্দা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বিতর্কিত সহকারি শিক্ষক তপতী বাড়ৈর স্থায়ী বদলীসহ শাস্তির দাবীতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে শিক্ষার্থী অভিভাবকেরা।
রবিবার (১৭ মে) সকাল সাড়ে ১০টা থেকে ঘণ্টাব্যাপী বিদ্যালয়ের সামনের সড়কে এই মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। বিক্ষোভে শতাধিক অভিভাবক অংশ নেন।
উপজেলা শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, সহকারি শিক্ষক তপতী বাড়ৈর বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম, স্বেচ্ছাচারিতা, ক্লাস ফাঁকি, শিক্ষার্থীদের প্রতি অমানবিক আচরণসহ শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগ এনে এলাকাবাসী লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন। একপর্যায়ে তপতী বাড়ৈর স্থায়ী বদলীর দাবী এনে অভিভাবকেরা দুইদিন শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে আসা বন্ধ করে দেন।
এ ঘটনার পর উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নির্দেশনা মোতাবেক উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা তপতী বাড়ৈকে মৌখিকভাবে অন্য বিদ্যালয়ে ডেপুটেশনে স্থানান্তর করেন। তদন্ত কমিটি অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার তপতী বাড়ৈকে শাস্তিস্বরূপ লঘুদণ্ড প্রদান ও স্থায়ী বদলীর সুপারিশ করেন।
পরবর্তীতে তপতী বাড়ৈ মৌখিক ডেপুটেশন বাতিলের দাবীতে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। এ কারণে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন শিক্ষার্থী অভিভাবকেরা।
অভিভাবক শাহানাজ বেগম বলেন, “আমার দুটি সন্তান এখানে লেখাপড়া করে। আমাদের সন্তানদের ভালোর জন্য চরিত্রহীন, অদক্ষ, বেয়াদপ ও মামলাবাজ শিক্ষক তপতী বাড়ৈর স্থায়ী বদলীর জন্য দীর্ঘদিন ধরে আমরা আন্দোলন করে আসছি। শিক্ষা অফিসের তদন্তে এসব অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার পরও তপতী বাড়ৈর স্থায়ী বদলী না হওয়ায় আমরা আন্দোলনে নেমেছি।”
অভিভাবক বোরহান খান বলেন, “আমরা বহুবার তার বিরুদ্ধে অভিযোগ দিয়েছি। কিন্তু কোনো সমাধান হয়নি। তিনি উল্টো ভয়ভীতি দেখান। শুনেছি তার একাধিক বিয়ে রয়েছে। এক শিক্ষা অফিসারকে ফাঁসিয়ে ২০ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। তার কারণে এখানে ভালো কোনো শিক্ষক থাকতে পারেন না। অনেক সহ্য করেছি, আর না। আমরা তার স্থায়ী বদলী চাই। কর্তৃপক্ষ যদি ৩ দিনের ভিতরে স্থায়ী বদলী না করে তাহলে আমরা আমাদের সন্তানদের এখানে পড়াবো না।”
বিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক সভাপতি হোসেন মোল্লা বলেন, “যেখানে বিদ্যালয়ের কোনো শিক্ষার্থী ও অভিভাবকই চান না তিনি এখানে থাকুন, সেখানে তার স্থায়ী অপসারণের জন্য অভিভাবকেরা আন্দোলন করছেন। অন্যদিকে তিনি ডিপিইও, টিইওসহ অনেকের নামে মামলা করছেন এই স্কুলে থাকার জন্য। এর আগে অভিভাবকদের অভিযোগ ও আন্দোলনের সংবাদ প্রকাশ করায় এক সাংবাদিক, এই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করেন অদক্ষ শিক্ষক তপতী বাড়ৈ। তপতী বাড়ৈর এত অপশক্তির উৎস কোথায়, আমরা তা জানতে চাই? তপতী বাড়ৈ শিক্ষক নামের কলঙ্ক।”
উপজেলা শিক্ষা অফিসার শেখর রঞ্জন ভক্ত বলেন, “তপতী বাড়ৈর বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলায় স্থায়ী বদলীর জন্য জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার ৩টি শূন্য বিদ্যালয়ের তালিকা চেয়েছিল। অনেক আগেই তালিকা দেওয়া হয়েছে। কেন স্থায়ী বদলী হচ্ছে না, সেটা জেলা অফিসের বিষয়।”
এ ব্যাপারে জানার জন্য জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারকে কয়েকবার মোবাইলে কল করেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছেন ডুমুরিয়া উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) অমিত কুমার বিশ্বাস। অবৈধভাবে খাঁচায় বন্দি করে রাখা একটি বন্য ঘুঘু পাখি উদ্ধার করে উন্মুক্ত আকাশে অবমুক্ত করেছেন তিনি।
রবিবার (১৭ মে) দুপুরে উপজেলা ভূমি অফিস প্রাঙ্গণে পাখিটি অবমুক্ত করা হয়। ডুমুরিয়া উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সহকারী কমিশনার (ভূমি) অমিত কুমার বিশ্বাসের নির্দেশনায় গুটুদিয়া এলাকায় বন বিভাগের একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে স্থানীয় এক শিকারির কাছ থেকে বন্য ঘুঘু পাখিটি উদ্ধার করা হয়। পরে পাখিটিকে নিরাপদে উপজেলা ভূমি অফিসে নিয়ে আসা হয়।
পাখি অবমুক্তকালে সহকারী কমিশনার (ভূমি) অমিত কুমার বিশ্বাস বলেন, “বন্যপ্রাণী আমাদের প্রকৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। এদের খাঁচায় বন্দি রাখা শুধু আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ নয়, এটি পরিবেশের ভারসাম্যের জন্যও হুমকি। বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা আইন অমান্য করে যারা পাখি শিকার বা ক্রয়-বিক্রয় করবে, তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।”
তিনি আরও বলেন, প্রকৃতির সৌন্দর্য ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় সবাইকে সচেতন হতে হবে। কোনো এলাকায় পাখি শিকার বা বন্যপ্রাণী পাচারের খবর পেলে দ্রুত প্রশাসনকে জানানোর আহ্বান জানান তিনি।
পাখি অবমুক্তকরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ডুমুরিয়া উপজেলা বন বিভাগের কর্মকর্তা মোঃ লিয়াকত আলী খান, ডুমুরিয়া প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শেখ মাহতাব হোসেন, সাংবাদিক এস রফিক, আব্দুল লতিফ মোড়লসহ ভূমি অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এবং স্থানীয় পরিবেশবাদী সংগঠনের প্রতিনিধিরা।
প্রশাসনের এই মানবিক ও পরিবেশবান্ধব উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল। তাদের মতে, এমন কার্যক্রম পাখি শিকার ও বন্যপ্রাণী পাচার রোধে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।