রোববার, ২৩ জুন ২০২৪

পিএস‌সির সদস্য হলেন আলী আজম‌

আলী আজম। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড
১ নভেম্বর, ২০২২ ১০:৪৮
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা
প্রকাশিত
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা
প্রকাশিত : ১ নভেম্বর, ২০২২ ১০:৩৬

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের বিদায়ী জ্যেষ্ঠ স‌চিব কে এম আলী আজমকে সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) সদস্য পদে নিয়োগ দিয়েছে সরকার।

সাংবিধানিক ক্ষমতাবলে আলী আজমের অবসরোত্তর ছুটি ও এ সংক্রান্ত সুবিধা স্থগিতের শর্তে তাকে এ নিয়োগ দিয়েছেন রাষ্ট্রপ‌তি। আজ মঙ্গলবার এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জা‌রি করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।

চাক‌রির মেয়াদ শেষ হওয়ায় আলী আজমকে আগামী বৃহস্প‌তিবার থেকে অবসরে পা‌ঠিয়ে গতকাল সোমবার প্রজ্ঞাপন জারি করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।

দায়িত্ব নেয়ার দিন থেকে পাঁচ বছর মেয়াদে বা তার বয়স ৬৫ বছর পূর্ণ হওয়ার মধ্যে যে‌টি আগে ঘটে, সেই সময় আলী আজম‌ পিএস‌সির সদস্যের দা‌য়িত্বে থাকবেন।

‌অবসরপ্রাপ্ত জ্যেষ্ঠ স‌চিব মো. সোহরাব হোসাইন পিএস‌সির চেয়ারম্যানের দায়িত্বে আছেন। নতুন করে আলী আজমকে নিয়ে কমিশনের সদস্য সংখ্যা হবে ১৩ জন।


বরগুনার আমতলীতে সেতু ভেঙে নিহত ৯, নিখোঁজ ১

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ২২ জুন, ২০২৪ ১৯:০৮
বরগুনা প্রতিনিধি

বরগুনার আমতলীতে বরযাত্রীবাহী একটি মাইক্রোবাস সেতু ভেঙে খালে পড়ে ডুবে গেছে। এ ঘটনায় উদ্ধারকৃত নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৯ জন হয়েছে এবং এখনও ১ জন নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানা গেছে।

আজ শনিবার (২২ জুন) দুপুর ২টার দিকে হলদিয়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী শাখাওয়াত হোসেন তপু।

জানা যায়, দুপুরে হলদিয়া ইউনিয়নের ঝুঁকিপূর্ণ সেতু দিয়ে একটি বরযাত্রীবাহি মাইক্রোবাস ও অটোরিকশা পার হওয়ার সময় ব্রিজ ভেঙে খালে পড়ে যায়। এ সময় অটোরিকশার যাত্রীরা বের হয়ে এলেও মাইক্রোবাসের যাত্রীরা বের হতে পারেনি। এ ঘটনায় আহত অবস্থায় উদ্ধার হওয়া চারজনকে হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য প্রেরণ করা হয়েছে।

স্থানীয় হলদিয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান মিন্টু মল্লিক জানান, আমতলী পৌর শহরে হলদিয়া ইউনিয়নের হলদিয়া গ্রামের মনির হাওলাদারের মেয়ের বিয়ে। দুপুরে মনির হাওলাদারের নিকট আত্মীয়রা একটি মাইক্রোবাস ও একটি ব্যাটারী চালিত ইজিবাইককে চেপে মেয়ের জামাই বাড়ি বৌভাতে যাওয়ার পথে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

বরগুনা জেলা প্রশাসক মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। এ ব্রীজ নির্মাণ যে ঠিকাদার অনিয়ম করেছে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

বরগুনা-১ আসনের সাংসদ গোলাম সরোয়ার টুকু বলেন, নিহতের স্বজনদের হাসপাতালে সমবেদনা জানিয়েছি। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। ঘটনাস্থলে বিক্ষুদ্ধ মানুষকে শান্ত করেছি।

তিনি আরও বলেন, ব্রীজ নির্মাণে অনিয়মের কারনে এমন ঘটনা ঘটে থাকলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। নিহতের পরিবারকে আর্থিকভাবে সহায়তা করা হবে।

আমতলী থানার ওসি কাজী শাখাওয়াত হোসেন তপু বলেন, নিহতদের মধ্যে ৯ জনকে উদ্ধার করে উপজেলা হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে ছয়জন নারী ও দুইজন শিশু। গাড়িটিতে আরও দুইজন যাত্রী ছিল। তাদের মধ্যে একজনের লাশ পাওয়া গেছে। বাকিদের নিখোঁজের সন্ধানে উদ্ধার অভিযান চলছে।

ঘটনাস্থলে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, উপজেলা চেয়ারম্যানসহ স্থানীয় সংসদ সদস্য উপস্থিত হয়েছেন।


সিলেটে নেমে যাচ্ছে বন্যার পানি, তীব্র ভাঙন যমুনার দুই পাড়ে

বন্যায় প্লাবিত সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ২২ জুন, ২০২৪ ১৩:৪৯
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

৫ দিন পর সিলেটের আকাশে সূর্যের দেখা মিলেছে। গতকাল সকালে রোদের দেখা পেয়ে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন জেলার বিভিন্ন এলাকার বানভাসি মানুষ। বৃষ্টি না হওয়ায় এবং উজানের ঢল না নামায় গতকাল সিলেট অঞ্চলে কমতে শুরু করেছে নদ-নদীর পানি। তবে নদীগুলো এখনও বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় পানি কমছে ধীরে। তবে বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। যদিও এখনও পানিবন্দি অবস্থায় আছেন ১০ লাখেরও বেশি মানুষ। গতকাল শুক্রবার পানিবন্দি মানুষের তথ্য নিশ্চিত করেছে সিলেট জেলা প্রশাসন।

জেলা প্রশাসন জানায়, দ্বিতীয় দফার বন্যায় সিলেটে ১০ লাখ ৪৩ হাজার ১৬১ জন মানুষ পানিবন্দি। এর মধ্যে সিটি করপোরেশনের ৪২টি ওয়ার্ডের মধ্যে ২৯টি ওয়ার্ডে বন্যাদুর্গত প্রায় ৬০ হাজার মানুষ। ৭১৩টি আশ্রয়কেন্দ্রে এখন পর্যন্ত আশ্রয় নিয়েছেন ২৮ হাজার ৯২৫ জন।

জেলা প্রশাসনের তথ্যে আরও জানা যায়, জেলার ১৫৩টি ইউনিয়নের মধ্যে ১৩৬টি ইউনিয়নের ১ হাজার ৬০২টি গ্রাম বন্যায় প্লাবিত হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি গোয়াইনঘাট, জৈন্তাপুর, গোলাপগঞ্জ, কোম্পানীগঞ্জ, কানাইঘাট, জকিগঞ্জ, বিশ্বনাথ ও ওসমানী নগর উপজেলা।

গতকাল শুক্রবার বেলা ১২টা পর্যন্ত সিলেট পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) দেওয়া তথ্যমতে, সিলেটের প্রধান দুটি নদী সুরমা ও কুশিয়ারার কয়েকটি পয়েন্টে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হলেও আগে থেকে অনেকটা কমেছে পানি।

সিলেট আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ শাহ মোহাম্মদ সজীব হোসাইন জানান, বৃহস্পতিবার দুপুর থেকে গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত কোনো বৃষ্টিপাত হয়নি। একইভাবে গত ২৪ ঘণ্টায় ভারতের চেরাপুঞ্জিতেও কোনো বৃষ্টিপাতের খবর পাওয়া যায়নি।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) তথ্যমতে, শুক্রবার দুপুর ১২টায় সুরমা নদীর পানি কানাইঘাট পয়েন্টে বিপৎসীমার ৫৮ সেন্টিমিটার ও সিলেট পয়েন্টে ১৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। কুশিয়ারা নদীর অমলসীদ পয়েন্টে ৫৫ সেন্টিমিটার ও শেওলা পয়েন্টে পানি ৫ সেন্টিমিটার এবং একই নদীর ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্টে ১০৩ ও শেরপুর পয়েন্টে ২০ সেন্টিমিটার বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সিলেটের নির্বাহী প্রকৌশলী দীপক রঞ্জন দাশ বলেন, নতুন করে বৃষ্টি না হওয়ায় পানি কিছুটা কমতে শুরু করেছে। বৃষ্টিপাত আর পাহাড়ি ঢল না হলে পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতি হবে।

তবে অনেকে অভিযোগ করছেন বন্যাকবলিত এলাকাগুলোতে উদ্ধার কার্যক্রম ও ত্রাণ সহায়তা মিলছে না। পানিবাহিত রোগ ছড়ানোর আশঙ্কাও বাড়ছে। এছাড়া দেখা দিয়েছে সাপের উপদ্রব।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে বন্যাকবলিত এলাকার মানুষের জন্য ৩০ লাখ টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে এবং ৬০০ মেট্রিক টন চাল দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে উদ্ধার তৎপরতাও চলমান।

হবিগঞ্জে রাস্তা ভেঙে ঢুকছে পানি, ভেসেছে ১০ সড়ক

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, উজানের পাহাড়ি ঢল ও টানা বৃষ্টিতে হবিগঞ্জের বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। জেলার ৯টি উপজেলার মধ্যে নবীগঞ্জ, মাধবপুর, লাখাই ও আজমিরীগঞ্জের বেশ কিছু গ্রাম পানিতে প্লাবিত হয়েছে। খোয়াই নদীর পানি কমতে শুরু করায় হবিগঞ্জ শহরের বিভিন্ন এলাকা থেকে পানি নামতে শুরু করেছে। অন্যদিকে নবীগঞ্জ উপজেলায় কুশিয়ারার পানি বৃদ্ধি হওয়ায় নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। সুনামগঞ্জ-জগন্নাথপুর-আউশকান্দি আঞ্চলিক মহাসড়কসহ ১০টি পাকা সড়ক বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে।

এতে পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন অর্ধলক্ষাধিক মানুষ। অনেকেই ছুটছেন আশ্রয়কেন্দ্রে। বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছেন জেলা প্রশাসক। নতুন করে দক্ষিণ কসবা গ্রামের পাকা সড়ক ভেঙে দ্রুত গতিতে বিভিন্ন গ্রামে পানি প্রবেশ করছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড ও স্থানীয়রা জানায়, খোয়াই নদীর পানি কমতে শুরু করেছে। অন্যদিকে বৃদ্ধি পাচ্ছে কুশিয়ারা নদীর পানি। কুশিয়ারার পানি শেরপুর পয়েন্টে বিপৎসীমার ২১, বানিয়াচংয়ের মার্কুলি পয়েন্টে ৩৩ ও আজমিরীগঞ্জে ৫৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

গত কয়েকদিন ধরে উজানের পাহাড়ি ঢল ও টানা বৃষ্টিতে কুশিয়ারা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ উপচে নবীগঞ্জের বিভিন্ন গ্রামে পানি প্রবেশ করতে থাকে। এতে ইনাতগঞ্জ ইউনিয়নের রাজনগর, উমরপুর, মোস্তফাপুর, দক্ষিণগ্রাম, পাঠানহাটি, মনসুরপুর, দরবেশপুর, দিঘীরপাড়, নোয়াগাঁও, চন্ডিপুর, প্রজাতপুর, লামলীপাড়, দীঘলবাক ইউনিয়নের রাধাপুর, ফাদুল্লাহ, দুর্গাপুর, মথুরাপুর, হোসেনপুর, মাধবপুর, পশ্চিম মাধবপুর, গালিমপুর, আউশকান্দি ইউনিয়নের পাহাড়পুর, পারকুল, উমরপুর, দীঘর ব্রাহ্মণগ্রাম, বড় ভাকৈর (পশ্চিম) ইউনিয়নের সোনাপুর, চরগাঁও, বড় ভাকৈর (পূর্ব), করগাঁও, কালিয়াভাঙ্গা, দেবপাড়া ও কুর্শি ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রাম বন্যার পানিতে প্লাবিত হয়েছে।

সুনামগঞ্জ-জগন্নাথপুর-আউশকান্দি আঞ্চলিক মহাসড়কসহ ১০টি পাকা সড়ক বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে বন্ধ রয়েছে যান চলাচল। কুশিয়ারা নদী ঘেঁষা ইনাতগঞ্জ ও দীঘলবাক ইউনিয়নের অধিকাংশ এলাকা বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। অনেকের ঘরবাড়িতে প্রবেশ করেছে পানি। ফলে মানবেতর অবস্থায় জীবনযাপন করছে সাধারণ মানুষ।

সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ ধারণ করছে। এমন অবস্থায় বন্যাকবলিতরা আশ্রয়কেন্দ্রে ছুটছে। ১৪টি আশ্রয়কেন্দ্রের মধ্যে ৯টিতে প্রায় ৩০০ পরিবার আশ্রয় নিয়েছে। আশ্রয়কেন্দ্রে সরকারি খাদ্য সহায়তা না পাওয়ার অভিযোগও রয়েছে।

এদিকে বৃহস্পতিবার দুপুরের পর দীঘলবাক ইউনিয়নের দক্ষিণ কসবা গ্রামের পাকা সড়ক ভেঙে দ্রুতগতিতে বিভিন্ন গ্রামে পানি প্রবেশ করছে। এতে মানুষ আতঙ্কে উৎকণ্ঠায় জীবনযাপন করছে।

বন্যার পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে ইনাতগঞ্জে অবস্থিত শেভরন পরিচালিত এশিয়া মহাদেশের অন্যতম গ্যাসক্ষেত্র বিবিয়ানা ও পারকুলে অবস্থিত কুশিয়ারা নদী ঘেঁষা বিবিয়ানা ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রে। বিবিয়ানা গ্যাস ও বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র থেকে ৪-৫ ফুট নিচে বর্তমানে পানি রয়েছে। তবে দ্রুতহারে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় গ্যাসক্ষেত্রে পানি প্রবেশের আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

যমুনার পানিতে তলাচ্ছে ফসলি জমি, ভাঙছে ঘরবাড়ি

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে সিরাজগঞ্জের যমুনাসহ সব কটি নদীতে পানি বাড়ছে। ফলে শুরু হয়েছে নদীপাড়ে ভাঙন। বিগত ভাঙনের পর যেটুকু সম্বল বেঁচে ছিল সেটিও হারানোর আশঙ্কায় চরম আতঙ্কে দিন পার করছেন নদীপাড়ের শত শত ভাঙনকবলিত মানুষ।

ইতোমধ্যে চর ও নিচু এলাকায় পানি প্রবেশ করেছে। দ্রুতগতিতে পানি বাড়ার কারণে যমুনা নদীর চরাঞ্চলে ফসলি জমি তলিয়ে যাচ্ছে। একদিকে ঘরবাড়ি নদীতে বিলীন হচ্ছে, অন্যদিকে ফসলি জমি তলিয়ে যাওয়ায় দুশ্চিন্তার পাশাপাশি বন্যা আতঙ্ক বিরাজ করছে চরাঞ্চলের মানুষের মাঝে।

গতকাল সকালে সিরাজগঞ্জ শহর রক্ষা হার্ড পয়েন্টে যমুনা নদীর পানির সমতল রেকর্ড করা হয়েছে ১১ দশমিক ৯৭ মিটার। ২৪ ঘণ্টায় ২০ সেন্টিমিটার বেড়ে বিপৎসীমার ৯৩ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। অপরদিকে, কাজিপুর মেঘাই ঘাট পয়েন্টে পানির সমতল রেকর্ড করা হয়েছে ১৩ দশমিক ৭১ মিটার। ২৪ ঘণ্টায় ২৬ সেন্টিমিটার বেড়ে বিপৎসীমার ১ দশমিক ৯ মিটার নিচ প্রবাহিত হচ্ছে।

স্থানীয়রা জানান, যমুনা নদীতে আশঙ্কাজনকভাবে পানি বাড়ায় শাহজাদপুরের জালালপুর, খুকনী ও কৈজুরী ইউনিয়নে দেখা দিয়েছে ভয়াবহ ভাঙন। কয়েক দিনের ব্যবধানে দেড় শতাধিক ঘরবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে বলে জানিয়েছেন ভাঙনকবলিতরা।

ক্ষতিগ্রস্তরা জানান, শাহজাদপুরের জালালপুর, খুকনী ও কৈজুরী এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে চলা ভয়াবহ ভাঙনে হাজার হাজার মানুষ ঘরবাড়ি-জমি হারিয়েছেন। অসংখ্য সরকারি-বেসরকারি স্থাপনা, রাস্তাঘাট নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। দীর্ঘ আন্দোলন ও প্রতীক্ষার পর সরকার এ অঞ্চলে ভাঙন রোধে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ প্রকল্প অনুমোদন দেয়। প্রকল্পটির কাজ শুরু হলেও ঠিকাদার ও পাউবোর গাফিলতিতে দ্রুত কাজ সম্পন্ন হচ্ছে না। ফলে আবার ভাঙনের কবলেই পড়েছে এসব অঞ্চল। চলতি মৌসুমে জালালপুর ও কৈজুরী ইউনিয়নের শতাধিক বাড়িঘর ও ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে বলে ভুক্তভোগীরা জানান। নদীতে সব কিছু হারিয়ে বাস্তুহারা ও নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন ভাঙনকবলিত এসব মানুষ।

একই উপজেলার কৈজুরী ইউনিয়নের পাঁচিল গ্রামের কৃষক ফরহাদ হোসেন বলেন, ‘চরের জমিতে চাষাবাদ করে সারা বছর চলতে হয়। প্রত্যেক বছর বন্যায় আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হই। এক বিঘা জমিতে তিলের আবাদ করেছি। এখন দেখি পানি বাড়ছে। এভাবে পানি বাড়লে ৪-৫ দিনের মধ্যে জমি তলিয়ে যাবে।’

সদর উপজেলা কৃষি অফিসার আনোয়ার সাদাত বলেন, ‘এই মুহূর্তে চরের জমিতে তিল ও পাট চাষ করা রয়েছে। কয়েক দিন ধরে যমুনা নদীতে পানি বাড়ছে। আমরা সব সময় খোঁজখবর রাখছি। কৃষক যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয় সেদিকে খেয়াল রাখা হচ্ছে।’

সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘শাহজাদপুর উপজেলায় যমুনার ডান তীর সংরক্ষণের জন্য সাড়ে ছয় কিলোমিটার এলাকাজুড়ে ৬৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে বাঁধ নির্মাণকাজ চলছে। কাজের মেয়াদ যদিও চলতি বছরের জুন পর্যন্ত। তবে কাজ শেষ না হওয়ায় আরও এক বছর মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে।’

বিষয়:

বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়কে চাপ বেড়েছে ঢাকাগামী যানবাহনের

ঈদের ছুটি শেষে স্বস্তিতে কর্মস্থলে ফিরছে মানুষ
ঢাকামুখী যানবাহনের চাপ বেড়েছে। ছবিটি গতকাল বিকেলে মহাসড়কের সরাতৈল এলাকা থেকে তোলা। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ২২ জুন, ২০২৪ ১২:২৯
ফরমান শেখ, ভূঞাপুর (টাঙ্গাইল)

স্বজনদের সঙ্গে ঈদুল আজহার ছুটি কাটিয়ে ফের কর্মস্থলে ফিরতে শুরু করেছেন উত্তরবঙ্গের মানুষ। ফলে ঢাকা-টাঙ্গাইল-বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়কে বৃদ্ধি পাচ্ছে যানবাহনের চাপ। বাড়ি যাওয়ার পথে কখনো যানজট, কখনো ভোগান্তি, আবার কখনো স্বস্তিও ছিল। তবে ফেরার সময় ব্যাপক স্বস্তি অনুভব করেছেন কর্মজীবীরা।

গতকাল শুক্রবার বিকেলে মহাসড়কের বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব রেলস্টেশন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, সেতুর পূর্ব টোলপ্লাজা থেকে হাতিয়া পর্যন্ত কয়েক কিলোমিটার এলাকাজুড়ে যানবাহনের অতিরিক্ত চাপ ছিল। তবে স্বাভাবিক গতিতেই যানবাহন চলাচল করছে। কোথাও যানবাহনের যানজট ছিল না। অন্যদিকে অসংখ্য ব্যক্তিগত গাড়ি ও মোটরসাইকেল চলাচল করছে।

কর্মস্থলে যাওয়ার পথ স্বস্তিদায়ক হলেও অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ করেছেন যাত্রীরা। অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়ার দিকে বেশি বেপরোয়া হয়ে উঠেছে এলাকাভিত্তিক চলাচলকারী তিন চাকার পরিবহনগুলো। বিশেষ করে ভাড়ায়চালিত সিএনজি চালকরা কয়েক গুণ ভাড়া আদায় করছে। এতে করে হয়রানি ও অস্বস্তি প্রকাশ করেন কর্মজীবীরা।

বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্বপাড়ে বাসের জন্য অপেক্ষা করছিলেন ভূঞাপুরের মোতালেব মিয়া। তিনি বলেন, ছুটি শেষ, শনিবার সকাল থেকে অফিস। তাই আজই চলে যেতে হচ্ছে। কিন্তু সেতু পূর্ব থেকে গাজীপুর চন্দ্রা পর্যন্ত ভাড়া চাচ্ছে ৫০০ টাকা। কী আর করার, যেতে হবেই। স্বাভাবিকের তুলনায় ৩০০ টাকা বেশি। তবে মহাসড়কে যানবাহনের চাপ থাকলেও কোনো যানজট দেখতে পাচ্ছি না।

কুড়িগ্রাম থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী দেশ ট্রাভেলের চালক শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘ঈদের ছুটি শেষে কর্মস্থলে ছুটছে মানুষ। ঈদের আগে মহাসড়কের সেতু পূর্ব থেকে এলেঙ্গা পর্যন্ত চার লেনের কাজ চলমান থাকায় কিছুটা সমস্যায় পড়তে হয়েছে। কিন্তু ঢাকায় ফিরতে পথে এই অংশে কোনো ধরনের যানজট নেই। তবে মহাসড়কে কিছু কিছু এলাকায় ধীরগতিতে চলাচল করতে হচ্ছে। তা ছাড়া স্বস্তিতেই গাড়ি চালাচ্ছি।’

বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়কের সার্বিক পরিস্থিতির বিষয়ে জানতে চাইলে এলেঙ্গা হাইওয়ে পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মীর মো. সাজেদুর রহমান বলেন, ঈদের ছুটি শেষে কর্মস্থলে ছুটছে মানুষ। মহাসড়কে ঢাকা ও উত্তরবঙ্গগামী সব যানবাহন স্বাভাবিক গতিতে চলছে। এ ছাড়া মহাসড়কে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে সার্বক্ষণিকভাবে পুলিশ কাজ করে যাচ্ছে।

বঙ্গবন্ধু সেতু সাইট অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী আহসানুল কবীর পাভেল জানান, দুপুরের পর থেকে ঢাকা-টাঙ্গাইল-বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়কে ঢাকামুখী যানবাহনের চাপ বেড়েছে। এ নিয়ে গত বৃহস্পতিবার রাত ১২টা থেকে শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত সেতু পূর্ব ও পশ্চিমে ২৪ হাজার ৯৭৩টি যানবাহন পারাপার হয়েছে এবং বিপরীতে ১ কোটি ৭১ লাখ ২৭ হাজার ৬৫০ টাকা টোল আদায় করা হয়।


কুড়িগ্রামে প্লাবিত হচ্ছে নতুন নতুন এলাকা

আপডেটেড ২২ জুন, ২০২৪ ১০:৪৩
কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি

কুড়িগ্রামে তিস্তা, দুধকুমার, ব্রহ্মপুত্র ও ধরলা নদীসহ ১৬ নদীর পানি প্রতিদিনই বেড়ে চলছে। পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় বন্যা পরিস্থিতির সার্বিক অবনতি হয়েছে। শুক্রবার তিস্তা ও ধরলা নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তিস্তা নদীর পানি কাউনিয়া পয়েন্টে বিপৎসীমার ৫৫ সেন্টিমিটার এবং ধরলার পানি ফুলবাড়ির শিমুলবাড়ি পয়েন্টে ১৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছে। এতে নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে।

শুক্রবার কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী রাফসান জানি জানান, বিকাল ৩টায় দুধকুমার নদের পাটেশ্বরী পয়েন্টে পানি সামান্য কমে এখন বিপৎসীমার ২ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে, তিস্তা নদীর কাউনিয়া পয়েন্টে পানি ২৫ সেন্টিমিটার বেড়ে বিপৎসীমার ৫৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে এবং ধরলা নদীর পানি ফুলবাড়ি উপজেলার শিমুলবাড়ি পয়েন্টে ১০ সেন্টিমিটার কমে বিপৎসীমার ১৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এভাবে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে অন্য সব নদ-নদীর পানিও বিপৎসীমা অতিক্রম করার সম্ভাবনা রয়েছে।

এদিকে নদীর পানি বাড়ার কারণে তিস্তা ও ধরলা নদীসহ অন্যান্য নদনদীর অববাহিকার নিম্নাঞ্চল ও চরাঞ্চলের কয়েক হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। ভেঙে পড়েছে এসব এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা। তলিয়ে গেছে বিভিন্ন কাঁচা সড়ক। অনেকেই নৌকা এবং কলাগাছের ভেলা দিয়ে যাতায়াত করছে।

ডুবে গেছে বাদাম, পাটক্ষেত, ভুট্টা, মরিচ ও শাক-সবজি ক্ষেতসহ বিভিন্ন উঠতি ফসল। এসব এলাকায় বন্যা পরিস্থিতির কারণে সাধারণ মানুষ পড়েছেন বিপাকে।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইদুল আরীফ জানান, দুর্যোগ কবলিত পরিবারের সংখ্যা প্রায় ৪ হাজার। পানিবন্দি প্রায় ২০ হাজার মানুষ। একই সঙ্গে বিভিন্ন স্থানে ভাঙন দেখা দিয়েছে। উপজেলাপর্যায়ে ১৪৪ মে. টন জিআর চাল এবং নগদ ১০ লাখ ৩৫ হাজার টাকা ত্রাণ হিসেবে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। তা বিতরণের প্রস্তুতি চলছে। নতুন করে ঢাকা থেকে বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে ১০ লাখ টাকা, ৯ হাজার প্যাকেট শুকনা খাবার এবং ৫০০ মে. টন চাল।

বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (ওয়েস্ট রিজিওন) এ কে এম তাহমিদুল ইসলাম উলিপুরের বেগমগঞ্জসহ বিভিন্ন ভাঙন কবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছেন। তিনি বলেন, ‘একদিকে বন্যা আবার আর একদিকে নদীভাঙন এ জেলার জন্য দুর্ভাগ্য। এ জেলার ওপর দিয়ে প্রবাহিত ছোট-বড় ১৬টি নদ-নদীর সবই ভাঙনপ্রবন। এর মধ্যে ব্রহ্মপুত্র, তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার বিধ্বংসী ভাঙনপ্রবন। নদীভাঙন প্রতিরোধে চলমান কার্যক্রম পরিদর্শনের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের দুঃখ-কষ্ট নিরসনে কি কি উদ্যোগ নেওয়া যায় তা পানি উন্নয়ন বোর্ড বিবেচনা করবে।’


আতঙ্ক ছড়াচ্ছে রাসেলস ভাইপার

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ২২ জুন, ২০২৪ ০৮:০৮
নিজস্ব প্রতিবেদক

সারা দেশের বিভিন্ন জেলায় রাসেলস ভাইপার সাপ যেন এক নতুন আতঙ্কের নাম হয়ে উঠেছে। গত কয়েক মাস ধরে এই বিষধর সাপটি নিয়ে ফেসবুকসহ নানা মাধ্যমে নেতিবাচক খবর দেখা যাচ্ছে। প্রতিদিনই কোথাও না কোথাও এই সাপের কারণে মানুষ মৃত্যুর খবর পাওয়া যাচ্ছে। যে সাপ চরাঞ্চলসহ জনমানবহীন এলাকায় থাকার কথা, সেই সাপ লোকালয়ে বেশি দেখা যাওয়ার খবরে উদ্বেগের কারণ হচ্ছে বলে অনেকেই উল্লেখ করেছেন। কয়েক দিন আগে ভোলার এক বাড়িতে রাসেলস ভাইপারের বসবাস করার ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।

গতকাল শুক্রবার ফরিদপুর সদর উপজেলার নর্থচ্যানেলের দুর্গম চরে বিষধর রাসেলস ভাইপার সাপের কামড়ে একজন কৃষকের মৃত্যর খবর পাওয়া গেছে। ফরিদপুরের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। মারা যাওয়া কৃষকের নাম হোসেন বেপারী (৫১)। তিনি সদর উপজেলার নর্থচ্যানেল ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের পরেশউল্লা ব্যাপারীর ছেলে।

এদিকে জেলার পার্শ্ববর্তী ডিক্রিরচর ইউনিয়নে বৃহস্পতি ও শুক্রবার দুদিনে দুটি রাসেলস ভাইপার সাপ দেখতে পেয়ে সেগুলো পিটিয়ে মেরেছে গ্রামবাসী।

শুক্রবার সকালে সদর উপজেলার ডিক্রিরচর ইউনিয়নের আইজউদ্দীন মাতুব্বরের ডাঙ্গি গ্রামে ক্ষেতে কাজ করার সময় একটি রাসেলস ভাইপার সাপ দেখতে পান ওই গ্রামের তোতা মোল্লার ছেলে মুরাদ মোল্লা (৪৫)। মুরাদ মোল্লা বলেন, সকালে বাদামের জমিতে কাজ করার সময় সাপটি নজরে পড়ে। এরপর লাঠি এনে তিন-চারটি বাড়ি মেরে সাপটি মেরে ফেলি।

এর আগের দিন (বৃহস্পতিবার) ওই গ্রামের হারুন শেখের ছেলে ইউসুফ আরও একটি রাসেলস ভাইপার সাপ পিটিয়ে মেরে ফেলেন বলে জানান।

সম্প্রতি বিষাক্ত সাপ রাসেলস ভাইপারকে কেন্দ্র করে সারা দেশে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। কেউ কেউ আবার বলছেন, এসব নাকি গুজব। কেউ আবার এই সাপ মারতে পারলে পুরস্কারও ঘোষণা করেছেন। সব মিলিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।

ফরিদপুরে রাসেলস ভাইপার (চন্দ্রবোড়া) সাপ মারতে পারলে ৫০ হাজার টাকা পুরস্কারের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২০ জুন) বিকেলে শহরের রাসেল স্কয়ারে জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে আওয়ামী লীগের ৭৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন উপলক্ষে প্রস্তুতি সভায় এ ঘোষণা দেওয়া হয়। সভায় জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহ্ মো. ইশতিয়াক আরিফ তার বক্তব্যের একপর্যায়ে রাসেলস ভাইপার (চন্দ্রবোড়া) সাপ নিয়ে বলেন, ফরিদপুর কোতোয়ালি এলাকায় কেউ যদি রাসেলস ভাইপার সাপ মারতে পারেন তাহলে তাকে ৫০ হাজার টাকা পুরস্কার দেওয়া হবে।

এ বিষয়ে ফরিদপুরের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা গোলাম কুদ্দুস ভূঁইয়া জানান, যেকোনো বন্যপ্রাণী নিধন আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। রাসেলস ভাইপার এ দেশ থেকে বিলুপ্ত হওয়ার পরে ২০১৪ সাল থেকে আবার সাপটির দেখা যাচ্ছে। এ সাপের বংশবৃদ্ধির হার বেশি। একবারে একটি মা সাপ ৬০-৭০টি বাচ্চা দেয় এবং প্রায় সবকটি বাচ্চা বেঁচে যায়। এ সাপ সাধারণত চর এলাকায় থাকে। এদের খাবার ব্যাঙ ও ইঁদুর।

তিনি আরও বলেন, ‘পুরস্কারের এ ঘোষণায় উদ্বুদ্ধ হয়ে কেউ যদি রাসেলস ভাইপার সাপ ধরতে অথবা মারতে গিয়ে সাপের কামড়ে মারা যান, তাহলে এর দায় কে নেবে?’

জানা গেছে, দেশের বিভিন্ন স্থানে বেড়ে যাওয়া মারাত্মক বিষধর সাপ রাসেলস ভাইপারের উপদ্রবে ও দংশনে বাড়ছে মৃত্যুও। বিশেষ করে ফরিদপুর, মানিকগঞ্জ, রাজশাহীসহ পদ্মা নদী-তীরবর্তী এলাকায় দেখা দিয়েছে আতঙ্ক।

পদ্মা-তীরবর্তী মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলা। এই এলাকার মূল ভূখণ্ড থেকে লেছড়াগঞ্জ ইউনিয়নের এনায়েতপুর গ্রামে যেতে হয় নৌকায়, সময় লাগে ১ ঘণ্টা। এই চরেই জেঁকে বসেছে রাসেলস ভাইপারের আতঙ্ক। কেননা গত ৩ মাসে এই সাপের কামড়ে মারা গেছেন ৫ জন। স্থানীয়রা পিটিয়ে মেরেছেন অন্তত ৩৫ থেকে ৪০টি সাপ।

ভুক্তভোগীর একজন স্বজন জানান, তার বোনজামাই ভুট্টা আনতে গিয়ে সাপের কামড় খান। সেই সাপটি রাসেলস ভাইপার ছিল। পরে তার বোন জামাইকে ফরিদপুর মেডিকেলে নেওয়া হয়েছিল। সেখানে ১০টি ভ্যাকসিন দিলে বিষ নামেনি। পরে ঢাকায় আনার পথে তার বোন জামাইয়ের মৃত্যু হয়।

শুধু মানিকগঞ্জ নয়, ফরিদপুর জেলার পদ্মা তীরবর্তী চরাঞ্চলেও দেখা মিলছে রাসেলস ভাইপারের। ফলে আতঙ্কে চরে কৃষি কাজ করতে ভয় পাচ্ছেন সাধারণ মানুষ।

কৃষকরা জানান, এই সাপের জন্য ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। কারণ কৃষকরা আতঙ্কে জমিতে কাজ করতে পারছেন না। সব সময় তাদের ভয়ের মধ্যে থাকতে হচ্ছে।

রাসেলস ভাইপার বা চন্দ্রবোড়া সাপ। যাকে বাংলাদেশ থেকে বিলুপ্ত ঘোষণা করা হলেও পদ্মা-তীরবর্তী বিভিন্ন এলাকায় আবারও দেখা মিলছে বিষধর এই সাপের। গবেষকরা বলছে, প্রতিকূল পরিবেশে টিকে থাকতে স্বভাব পরিবর্তন করছে রাসেলস ভাইপার।

সাপ ও সরীসৃপ গবেষক বোরহান বিশ্বাস রমন বলেন, সঠিক সার্ভে না করেই বাংলাদেশ থেকে রাসেলস ভাইপার বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে। কিন্তু আমাদের বিভিন্ন অঞ্চলে এই সাপটি টিকে ছিল। পরবর্তীতে গঙ্গা হয়ে পদ্মা দিয়ে ২০০৯-১০ সালে ভেসে এসে পদ্মার চরাঞ্চলে অবস্থান নেয়। তারা বংশ বিস্তার করে এবং বন্যায় এগুলো বিভিন্ন জেলায় ভেসে যায়। বর্তমানে এই সাপ দেশের ২৮টি জেলায় ছড়িয়ে পড়েছে। অন্য সাপ যেমন পালিয়ে যেতে চেষ্টা করে সেখানে এই সাপগুলো এটা করে না। এ ধরনের সাপগুলোর কাছাকাছি যখন মানুষ চলে আসে তারা শব্দ করতে থাকে আবার যখন তার রেঞ্জে মানুষ চলে যায় তখনই আতঙ্কিত হয়ে কামড় দিয়ে বসে।

চন্দ্রবোড়া সাপের দেখা মিলছে যেসব এলাকায়, সেখানকার সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানালেন, সংকট আছে অ্যান্টি ভেনমের। তবে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বলছে, অ্যান্টি ভেনেমের কোনো সংকট নেই।

স্বাস্থ্য সচিব জাহাঙ্গীর আলম বলেন, এই সাপগুলোর প্রভাব আগে ছিল না। ভারত থেকে এসেছে বলেই এটি বেড়ে যাচ্ছে। আমাদের কাছে রাসেলস ভাইপারের যে ন্যাচারাল ক্যারেক্টার আছে এখন এই ক্যারেক্টার অনেকটা পরিবর্তন হয়েছে। ফলে যে অ্যান্টি ভেনম আমরা পুশ করি, সেটি এখন কার্যকর হচ্ছে না।

ছোবল দিলে কী করতে হবে

প্রায় ৪০০০-এর বেশি সর্প দংশনের রোগীর চিকিৎসা দেওয়া ডা. ফরহাদ উদ্দীন হাসান চৌধুরী। এই সাপে ছোবল দিলে কী করতে হবে তা তিনি তার এক পোস্টে লেখেন-

বাংলাদেশের প্রধান ৩টি বিষাক্ত সাপ হলো গোখরা (কোবরা), কেউটে (ক্রেইট) এবং রাসেলস ভাইপার বা চন্দ্রবোড়া। রাসেলস ভাইপার অপেক্ষাকৃত বেশি বিষধর। অতিসম্প্রতি এই সাপটির প্রকোপ বেড়ে গেছে। তবে এই সাপটি নিজ থেকে তাঁড়া করে কাউকে দংশন করে না। মূলত অসাবধানতাবশত কেউ এই সাপের গায়ে পাড়া দিলে এই সাপটি ছোবল দেয়।

তিনি বলেন, এই সাপের বিষ শরীরে প্রবেশ করলে মূলত শরীরের রক্ত পাতলা হয়ে শরীরের বিভিন্ন জায়গা থেকে স্বতঃস্ফূর্ত রক্তক্ষরণ হতে পারে, কিডনি বিকল হতে পারে, স্নায়ু অবশ হয়ে ফুসফুসের কার্যকারিতা হারিয়ে যেতে পারে এমনকি হার্ট অ্যাটাকও হতে পারে। বাংলাদেশে সর্প দংশন প্রতিরোধী যে অ্যান্টিভেনম রয়েছে সেগুলো কোবরা এবং ক্রেইটের বিপরীতে ভালোভাবে কাজ করলেও রাসেলস ভাইপারের বিরুদ্ধে ভালোমতো কাজ করে না। এই এন্টিভেনমটিতে ভারতীয় রাসেলস ভাইপারের বিরুদ্ধে উপাদান রয়েছে। ভারতীয় রাসেলস ভাইপারের বিষ এবং বাংলাদেশের রাসেলস ভাইপারের বিষের ভেতরে উপাদানগত বৈসাদৃশ্য বেশি হওয়ায় এটি পুরাপুরি কাজ করে না।

ডা. ফরহাদ বলেন, আমাদের দেশের এই সাপটির বিরুদ্ধে একটি কার্যকরী অ্যান্টিভেনম তৈরি করার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের চিকিৎসা বিজ্ঞানী অধ্যাপক অনিরুদ্ধ ঘোষের নেতৃত্বে একদল গবেষক বিগত প্রায় ৪-৫ বছর নিরলস পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। আশা করি আমরা অদূর ভবিষ্যতে রাসেলস ভাইপারের বিরুদ্ধে কার্যকরী দেশীয় একটি অ্যান্টিভেনম পেতে পারি। বিষাক্ত আর অবিষাক্ত মিলিয়ে আমি জীবনে ৩০০০-৪০০০ এর বেশি সর্প দংশনের রোগী নিজেই চিকিৎসা করেছি। কোবরা, ক্রেইট, রাসেলস ভাইপার সব ধরনের সাপের কামড়ের চিকিৎসা করেছি। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত রাসেলস ভাইপারের ক্ষেত্রে ৫০%-এর বেশি রোগীকে বাঁচাতে পারিনি। তবে আক্রান্ত হওয়ার পরপরই দ্রুততম সময়ে হাসপাতালে এলে অতিদ্রুত অ্যান্টিভেনম শুরু করলে ও সাপোর্টিভ চিকিৎসা যেমন ডায়ালাইসি, ভেন্টিলেশন ইত্যাদি দিলে রোগী বাঁচানো সম্ভব বলে মনে করি।


যমুনা নদীতে পানি বাড়ছে, ভাঙনের আতঙ্কে নদীপাড়ের মানুষ

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ভূঞাপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি

উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে যমুনা নদীতে পানি বাড়ছে। একইসঙ্গে শুরু হয়েছে নদীর পাড় ভাঙন। বিগত ভাঙনের পর যেটুক সম্বল বেঁচে ছিল সেটিও ভাঙনের আশঙ্কায় চরম হতাশার দিন পার করছেন নদীপাড়ের শতশত ভাঙন কবলিত মানুষ। ইতোমধ্যে কিছু কিছু এলাকায় ভাঙন শুরু হয়ে গেছে।

আজ শুক্রবার সকালে উপজেলার গোবিন্দাসী ইউনিয়নের এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, চিতুলিয়াপাড়া, ভালকুটিয়া, কষ্টাপাড়া ও নিকরাইল ইউনিয়নের মাটিকাটা, পাটিতাপাড়া, কোনাবাড়ী এলাকাসহ বেশ কয়েকটি এলাকায় কয়েক দিন ধরে ভাঙন চলছে। এতে দিশেহারা হয়ে গেছেন নদীপাড়ের মানুষ।

তাদের অভিযোগ, গেল বছর ভাঙন রোধে খানুরবাড়ী, চিতুলিয়াপাড়াসহ বিভিন্ন স্থানে নামমাত্র নিম্নমানের জিও ব্যাগ ফেলেন জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড। সেগুলো এখন ধসে যাওয়ার শঙ্কায় রয়েছে। এ ছাড়া প্রভাবশালী ব্যক্তিরা প্রভাব খাটিয়ে নিজ নিজ বাড়ির সামনে জিওব্যাগ ফেলেন। দরিদ্র পরিবারের বাড়ির সামনে জিওব্যাগ ফেলা হয় না।

গত বছর ভাঙনের শিকার একাধিক ব্যক্তিরা জানান, শুকনো মৌসুমে বালু ব্যবসায়ীরা অবৈধভাবে নদীতে জেগে ওঠা চর কেটে ট্রাকে করে বালু নিয়ে বিক্রি করে। এতে নদীর গতিপথ পরিবর্তন হয়ে নতুন নতুন এলাকায় ভাঙন দেখা দেয়। বালু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করা যায় না। যার কারণে নদীতে পানি আসলে ব্যাপক ভাঙন দেখা দেয়।

গত বছর বন্যায় ভাঙন রোধে পানি উন্নয়ন বোর্ডের ফেলা গাইড বাঁধের জিওব্যাগ আনলোড ড্রেজারগুলোর কারণে ধসে যাচ্ছে। যার ফলে কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত পাকা ও আধপাকা সড়ক, গাইড বাঁধ বসত-বাড়ি, মসজিদ-মন্দির, ছোট-বড় বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ নানা স্থাপনা ভাঙনের হুমকিতে রয়েছে।

পাটিতাপাড়ার ওমেছা, সুফিয়া ও কোরবান আলী বলেন- যমুনা নদীতে গত কয়েকদিন ধরে পানি বাড়ছে। এতে পানি বৃদ্ধির সঙ্গে ভাঙনও দেখা দিয়েছে। কিন্তু ভাঙনরোধে কোনো উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে না। গত বছর বসতভিটা ভেঙে যেটুকু থাকার জায়গা ছিল সেটি এবারও চোখের সামনে নদী গর্ভে বিলীনের পথে।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মামুনুর রশীদ বলেন, কিছুদিন ধরে যমুনা নদীতে পানি বৃদ্ধি শুরু হয়েছে। কিন্তু ভাঙনের বিষয়টি আপনার মাধ্যমে জানতে পারলাম। ভাঙনরোধে ঊর্ধ্বতন দপ্তরে অবগত করাসহ জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের সাথে কথা বলব এবং ভাঙনরোধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

টাঙ্গাইল জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাজ্জাদ হোসেন বলেন, ভূঞাপুরে ভাঙনের বিষয়টি ইউএনওর মাধ্যমে জানতে পারলাম। ভাঙন এলাকাগুলোর মধ্যে গোবিন্দাসী ও নিকরাইলের জন্য একটি প্রকল্প জমা দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ওই এলাকার ইকোনমিক জোনের কাজ শুরু হলে স্থায়ী বাঁধ হয়ে যাবে।


ফরিদপুরে বাসচাপায় ইজিবাইকের ২ যাত্রী নিহত

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ফরিদপুর প্রতিনিধি

ফরিদপুরের মধুখালীতে পূর্বাশা পরিবহনের একটি বাসের চাপায় সুমন আলী (৩৮) ও সিরাজ হাওলাদার (৬০) নামে ইজিবাইকের দুই যাত্রী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ৯ জন।

গতকাল বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে ঢাকা-মাগুরা মহাসড়কের মধুখালী বাজার এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত সুমন ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার কান্ডুপাশা গ্রামের বাবুর আলীর ছেলে ও অপর নিহত সিরাজ হাওলাদার বরিশাল সদরের সারুখালী এলাকার মৃত ইয়াছিন হাওলাদারের ছেলে বলে জানা যায়।

আহতরা হলেন, ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার কান্ডুপাশা গ্রামের মিলন (৩২), মিম (০৩), সোনালী (০৬), জসিম (৩২), শিরিন (৩০), শারমিন বেগম (২৫), এছাড়া বরিশাল সদরের সারুখালীর লিজা বেগম (৪৫) এবং একই জেলার বারইকান্দী এলাকার রাহাত বেপারী (২৫) ও ফরিদপুর সদরের পূর্ব গঙ্গাবর্দী এলাকার শামচু শেখ (৪০)।

ফরিদপুরের করিমপুর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সালাউদ্দিন চৌধুরী বলেন, ‘ঢাকা-মাগুরা মহাসড়কের মাগুরাগামী লেনের উপর মধুখালী বাজার হতে একটি ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক গোন্দারদিয়ায় যাওয়ার জন্য ফরিদপুরগামী লেন থেকে মাগুরাগামী লেনে যাওয়া মাত্রই ঢাকাগামী পূর্বাশা পরিবহনের একটি বাস নিজ লেন ছেড়ে মাগুরাগামী লেনে যেয়ে ইজিবাইকটিকে চাপা দেয়। এতে দুইজন নিহত হয়েছেন আহত হয়েছেন আরও ৯ জন। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয়দের সহায়তায় আহতদের উদ্ধার করে ফরিদপুরের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করছেন। বাসটি জব্দ করা হয়েছে। এ ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা পক্রিয়াধীন।’


কক্সবাজারে পাহাড় ধসে স্বামী-স্ত্রীর মৃত্যু

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ২১ জুন, ২০২৪ ১২:২৩
কক্সবাজার প্রতিনিধি

কক্সবাজারের বাদশাঘোনা এলাকায় পাহাড়ধসে মাটি চাপা পড়ে এক দম্পতির মৃত্যু হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত সাড়ে ৩টার দিকে কক্সবাজার পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাদশাঘোনা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন, একই এলাকার নজির হোসেনের ছেলে মো. আনোয়ার হোসেন (২৬) ও মাইমুনা আক্তার (২০)।

বিষয়টি নিশ্চত করেছেন স্থানীয় পৌর কাউন্সিলার হেলাল উদ্দিন।

তিনি বলেন, বৃহস্পতিবার মধ্যরাত থেকে কক্সবাজার শহরে থেমে থেমে মাঝারি ও ভারী বৃষ্টি হচ্ছিল। ভোর রাত ৩টার দিকে মুষলধারে ভারী বৃষ্টিপাত হয়। রাতে খাবার খেয়ে নিজের শয়ন কক্ষে স্ত্রীসহ ঘুমিয়ে পড়েন আনোয়ার হোসেন। এক পর্যায়ে রাত সাড়ে ৩টার দিকে পাহাড়ের খাদের নিচে ঘরটির ওপর বড় এক খণ্ড মাটি এসে পড়ে। এতে স্বামী-স্ত্রী দুইজনই মাটি চাপা পড়ে মারা যান।

মৃত আনোয়ার হোসেন স্থানীয় ওমর ফারুক জামে মসজিদের মুয়াজ্জিন ছিলেন এবং তার স্ত্রী মাইমুনা ৫ মাসের গর্ভবতী ছিলেন বলে জানান নিহতের স্বজনরা।

পৌর কাউন্সিলর আরও বলেন, ঘটনার পর চিৎকার শুনে স্থানীয়রাে এসে মাটির নিচ থেকে দুইজনকে উদ্ধার করেন। পরে তাদের কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

মরদেহ কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে বলে জানান হেলাল উদ্দিন।


সিলেটে বিস্তৃত হচ্ছে বন্যা, পানিবন্দি প্রায় ১০ লাখ মানুষ

বন্যায় প্লাবিত হওয়ায় বিপাকে জনজীবন। সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা থেকে বৃহস্পতিবার তোলা। ছবি: সৈয়দ মাহামুদুর রহমান
আপডেটেড ২১ জুন, ২০২৪ ০০:০৪
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

টানা বৃষ্টি আর উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে দ্বিতীয় দফা বন্যায় সিলেট বিভাগের মানুষের যেন দুর্ভোগ আর দুর্দশার কোনো শেষ নেই। বিভাগের চার জেলার মধ্যে সিলেট ও মৌলভীবাজারেই বন্যার ক্ষতি সবচেয়ে বেশি। এই দুই জেলায় এখনও লাখ লাখ মানুষ পানিবন্দি। অন্যদিকে, বন্যার কবলে পড়েছেন লালমনিরহাট-কুড়িগ্রামের নিম্নাঞ্চলের মানুষও। তিস্তা-ধরলা-ব্রহ্মপুত্রের নদী তীরবর্তী এলাকায় ভাঙন দেখা দিয়েছে। এদিকে, মৌসুমী বায়ু সক্রিয় থাকায় বর্ষাকালে স্বাভাবিকভাবেই দেশের বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টিপাত হবে। আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে আজ থেকে টানা পাঁচ দিন থাকতে পারে বৃষ্টি। ফলে বন্যাকবলিত এলাকার মানুষদের আরও দুর্ভোগ বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

সিলেট ব্যুরো প্রধান দেবাশীষ দেবু জানিয়েছেন, সিলেটের বন্যা আরও বিস্তৃত হচ্ছে। ইতোমধ্যে সব উপজেলায় ছড়িয়ে পড়েছে বন্যার পানি। পানিবন্দি হয়ে আছেন জেলার প্রায় ১০ লাখ মানুষ। তবে গতকাল বৃষ্টি না হওয়ায় নতুন করে পানি আর বাড়েনি। নগর এলাকার পানি কিছুটা কমেছে। কমেছে নদীর পানিও।

এদিকে, বৃহস্পতিবার সিলেটে বন্যা পরিস্থিতি দেখতে এসে পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক জানিয়েছেন সুরমা নদী ভরাট হয়ে যাওয়ায় সিলেটে ঘন ঘন বন্যা হচ্ছে। দ্রুত নদী খনন করা হবে।

সিলেট আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, গত বুধবার সকাল ৬টা থেকে ৯টা পর্যন্ত সিলেটে ৫৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়। এ ছাড়া বৃহস্পতিবার সকাল ৬টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত ২০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়।

সিলেট আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ শাহ মো. সজিব বলেন, সিলেটের আকাশে মেঘ রয়েছে। আগামী দুদিন ভারী বৃষ্টি হতে পারে।

নদ-নদীর পানি কমলেও সিলেটের সব উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত রয়েছে। কোম্পানীগঞ্জ, গোয়াইনঘাট, জকিগঞ্জ, কানাইঘাট, গোলাপগঞ্জ ও সদর উপজেলার কিছু কিছু এলাকায় পানি কমার খবর পাওয়া গেছে। তবে পানিবন্দি মানুষের সংখ্যা এখনও কমেনি।

কোম্পানীগঞ্জের পাড়ুয়া গ্রামের বাসিন্দা জাফরুল হক বলেন, আজকে ঢল থামায় পানি বাড়েনি। তবে এখনও ঘরের ভেতর গলা সমান পানি। এই পানি কমতে অনেকদিন সময় লাগবে। তিনি বলেন, এখন পরিবার নিয়ে আশ্রয় কেন্দ্রে উঠেছি। কিন্তু এখানে রান্না করা খাবারের সংকট রয়েছে। তাই শুকনো খাবার খেয়েই কাটাতে হচ্ছে।

কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, পানিতে তলিয়ে গেছে উপজেলা পরিষদ কার্যালয়। এ ছাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেও পানি ঢুকে পড়েছে। এতে ব্যাহত হচ্ছে সেবা।

পানি উন্নয়ন বোর্ড জানায়, কুশিয়ারা নদীর পানি আমলশীদ পয়েন্টে সকাল ৬টায় ১৬ দশমিক ২৭ সেন্টিমিটার দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। বেলা ১১টায় তা আরও কমে ১৬ দশমিক ২৬ সেন্টিমিটার দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল।

সুরমা নদীর পানি কানাইঘাট পয়েন্টে সকাল ৬টায় ১৩ দশমিক ৫৯ সেন্টিমিটার দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। পরে তা আরও কমতে থাকে। বেলা ১১টায় ১৩ দশমিক ৫৫ সেন্টিমিটার দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। এই পয়েন্টে পানির বিপৎসীমা ১২ দশমিক ৭৫ সেন্টিমিটার।

সুরমা নদীর পানি সিলেট পয়েন্টে সকাল ৬টায় ১১ দশমিক ১৪ সেন্টিমিটার দিয়ে প্রবাহিত হয়। বেলা ১১টায় এই পয়েন্টে ১১ দশমিক ০৭ সেন্টিমিটার দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। এই পয়েন্টেও পানি কমেছে। এই পানির বিপৎসীমা ১০ দশমিক ৮০ সেন্টিমিটার।

সিলেট জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার মো ওমর সানি জানান, বন্যায় সিলেট জেলায় প্রায় ১০ লাখ মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন। জেলার ১৫৩টি পৌরসভা ও ইউনিয়নের মধ্যে ১৩০টিই প্লাবিত হয়েছে।

তিনি জানান, জেলায় বন্যার্তদের জন্য ৬৯৮টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তত রাখা হয়েছে। এর মধ্যে ৩৬১টি আশ্রয়কেন্দ্রে ২১ হাজার ৭০০ মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন।

সুরমা নদী খননের আশ্বাস

পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক বলেছেন, সিলেট নগরকে আগাম বন্যার কবল থেকে রক্ষা করতে সুরমা নদী ড্রেজিং করা হবে। নদীতে পলিমাটি থাকার ফলে এর আগেও ড্রেজিং কাজ ব্যাহত হয়েছিল। প্রকৌশলীদে সঙ্গে আলাপ করেছি দ্রুত সুরমা নদী ড্রেজিং ব্যবস্থা নেওয়া হবে। গতকাল বৃহস্পতিবার (২০ জুন) সিলেট নগরীর ৩৯ নং ওয়ার্ডের টুকেরবাজার এলাকার শাদীখাল পরিদর্শনকালে তিনি এসব বলেন।

তিনি আরও বলেন, দেশের ৯টি স্থানে ড্রেজিং স্টেশন তৈরি করা হচ্ছে। নদী ভাঙন, পলিমাটি অপসারণে নিয়মিত নদী খনন করা হবে। প্রতিমন্ত্রী বলেন, কিশোরগঞ্জের মিঠামইন সড়ক দিয়ে পানি পারাপারের জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ করছে সরকার। প্রধানমন্ত্রী বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বিগ্ন। বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় সবধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

এ সময় সিলেট সিটি কর্পোরেশনের মেয়র মো. আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী, সিলেট পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাবৃন্দ, সিলেট জেলা প্রশাসন কর্মকর্তাবৃন্দ, বিভিন্ন ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

সাত নদীর পানি বিপৎসীমার ওপরে

ভারী বৃষ্টিতে দেশের ৭ নদীর পানি এখন বিপৎসীমার ওপর দিয়ে বইছে। এরমধ্যে সুরমা নদীর পানি সর্বোচ্চ বিপৎসীমার ৮০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে বইছে। এদিকে আগামী দুই দিন ভারী বৃষ্টি অব্যাহত থাকবে বলে আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানায়, ব্রহ্মপুত্র-যমুনা নদ-নদীর পানি বাড়ছে, যা আগামী ৭২ ঘণ্টায় অব্যাহতভাবে বৃদ্ধি পেয়ে কয়েকটি পয়েন্টে বিপৎসীমায় পৌঁছাতে পারে। এদিকে গঙ্গা-পদ্মা নদীগুলোর পানি বাড়ছে, যা আগামী ৪৮ ঘণ্টা পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে।

জানা যায়, সুরমা ছাড়া দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের প্রধান নদীগুলোর পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা আগামী ২৪ ঘণ্টা পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে।

আবহাওয়া সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, আগামী ২৪ ঘণ্টায় দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চল ও পার্শ্ববর্তী উজানে মাঝারি থেকে ভারী এবং আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টায় দেশের উত্তরাঞ্চল ও উজানে ভারি থেকে অতিভারী বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস রয়েছে।

আগামী ২৪ ঘণ্টায় দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের নেত্রকোনা জেলার কয়েকটি নিম্নাঞ্চলে ও সিলেট, সুনামগঞ্জ জেলায় চলমান বন্যা পরিস্থিতি স্থিতিশীল থাকতে পারে। অপরদিকে মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলার মনু-খোয়াই নদী সংলগ্ন নিম্নাঞ্চলের চলমান বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে।

আগামী ৪৮ ঘণ্টায় দেশের উত্তরাঞ্চলের দুধকুমার, তিস্তা ও ধরলা নদীগুলোর পানি বৃদ্ধি পেতে পারে এবং কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট, রংপুর জেলার কয়েকটি নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। আগামী ২৪ ঘণ্টায় তিস্তা নদীর ডালিয়া পয়েন্টে পানি স্বল্পমেয়াদে বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে।

বিপৎসীমার ওপরে থাকা নদীগুলোর মধ্যে আছে- তিস্তা, সুরমা, কুশিয়ারা, মনু, খোয়াই, পুরাতন সুরমা এবং সোমেশ্বরী।

টানা ৫ দিন অব্যাহত থাকতে পারে বৃষ্টি

এদিকে, সক্রিয় মৌসুমী বায়ুর প্রভাবে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে অতিভারী বর্ষণ হতে পারে। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে সারাদেশে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা কিছুটা কমলেও রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় তা অব্যাহত থাকবে।

সক্রিয় মৌসুমী বায়ুর প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগর এলাকায় গভীর সঞ্চালনশীল মেঘমালা সৃষ্টি হওয়ায় চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত গতকালও বহাল রাখা হয়। আবহাওয়া অধিদপ্তরের দেওয়া পূর্বাভাসে এসব কথা জানানো হয়েছে। পূর্বাভাসে আরও বলা হয়েছে, আগামী ৫ দিন বৃষ্টিপাতের প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে।

আবহাওয়া অফিস জানায়, আজ রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে অতিভারী বর্ষণ হতে পারে।

গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুর থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দর সমূহের জন্য আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, রংপুর, দিনাজপুর, ঢাকা, ফরিদপুর, কুষ্টিয়া, যশোর, টাঙ্গাইল, খুলনা, পটুয়াখালী, ময়মনসিংহ এবং সিলেট অঞ্চলের উপর দিয়ে দক্ষিণ অথবা দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে দমকা অথবা ঝোড়োহাওয়াসহ অস্থায়ীভাবে বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এসব এলাকার নৌবন্দর সমূহকে ১ নম্বর সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

গত ২৪ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ বৃষ্টি হয়েছে পঞ্চগড়ে ১৫৩ মিলিমিটার। এর বাইরে সিলেট ও হবিগঞ্জে ১১০ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে।


নরসিংদীতে রাসেল ভাইপার সাপ আতঙ্ক

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নরসিংদী প্রতিনিধি

নরসিংদীর চিনিশপুরে হাড়িধোয়া নদীর পাশে কালীমন্দির (জামতলা) এলাকায় একটি রাসেল ভাইপার সাপ মারা হয়েছে। এঘটনার পর থেকে নদীপাড়ে বাসিন্দারা আতঙ্কে রয়েছে। বিষয়টি আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে নিশ্চিত করেছেন চিনিশপুর ইউপি চেয়ারম্যান মেহেদী হাসান তুহিন।

তিনি বলেন, ‘দুই-তিন আগে স্থানীয় লোকজন নদের পাশে জামতলা এলাকায় একটি রাসেল ভাইপার সাপ মেরে প্রথমে ইউনিয়ন পরিষদের সচিবকে অবগত করেন। পরবর্তীতে আমি খোঁজখবর নেই। স্থানীয়দের কাছ থেকে বিস্তারিত জেনেছি। তারা জানান, একটি রাসেল ভাইপার সাপ মেরেছে। এই এলাকায় নাকি আরেকটি সাপ চোখে পড়েছে। ধারনা করা হচ্ছে একাধিক রাসেল ভাইপার সাপ রয়েছে। রাতে ও দিনে চলাচলে চিনিশপুরবাসী সাবধানতা অবলম্বন করতে সচেতন করা হচ্ছে।

স্থানীয়রা জানান, হাড়িধোয়া নদীটি মেঘনার মোহনা থেকে শুরু হয়ে নরসিংদী সরকারি গুদাম হয়ে পৌর শহর ও হাজিপুর গ্রামের মাঝ দিয়ে প্রবাহিত হয়ে শিবপুর উপজেলার পুটিয়া বাজার হয়ে ভেলানগর দিয়ে চিনিশপুর গ্রামে প্রবাহিত হয়ে পলাশের শিতলক্ষায় যোগ হয়েছে। বিভিন্ন জেলায় নদী বেষ্টনী এলাকায় রাসেল ভাইপার সাপ আতঙ্কের পর এবার নরসিংদীর চিনিশপুরে এই প্রথম চোখে পরে সাপটি। এ বিষয়ে আতঙ্কে রয়েছে তারা।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে নরসিংদী সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আছমা সুলতানা নাসরিন বলেন, এই প্রথম আপনার কাছে জানতে পেড়েছি, চিনিশপুরে বিষাক্ত রাসেল ভাইপার সাপ মারা হয়েছে। আমরাও বিষয়টি নিয়ে সবাইকে সচেতন করে দিবো।

নরসিংদীর সিভিল সার্জন ডা. ফারহানা আহমেদ বলেন, প্রতি সপ্তাহে আমাদের সভা হয়, এসব সভায় আলোচনা হয় বিষাক্ত প্রাণীর কামড় আক্রমণ ও ক্ষতি থেকে প্রতিকার হওয়ার ভেকসিন সম্পর্কে। এ ছাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে সাপে কাটা, কুকুরের কামড়ের ভ্যাকসিন রয়েছে। তবে রাসেল ভাইপার সাপ নিয়ে বিশেষ কোনো ভ্যাকসিন নেই আমাদের কাছে। এটি একটি বিষাক্ত সাপ আমরা অবগত আছি। এ বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকা অতি জরুরি।

বিষয়:

সিলেটে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা স্থগিত

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাসস

বন্যা পরিস্থিতির অবনতির কারণে সিলেট বিভাগের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা আগামী ৮ জুলাই পর্যন্ত স্থগিত করা হয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার আন্তঃশিক্ষা বোর্ডের সমন্বয় কমিটির সভাপতি এবং ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক তপন কুমার একথা জানান। তিনি জানান, আজ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে ৯ জুলাই থেকে অনুষ্ঠাতব্য পরীক্ষাগুলো যথানিয়মে হবে।

তপন কুমার বলেন, এখানকার সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় ৮ জুলাই পর্যন্ত এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। বন্যার কারণে সিলেট বিভাগের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো বন্যাকবলিত মানুষদের আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। পরবর্তীতে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হলে সে অনুযায়ী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।

উল্লেখ্য, পূর্বনির্ধারিত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী চলতি মাসের ৩০ জুন থেকে সারা দেশে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। সম্প্রতি শিক্ষা বোর্ডের প্রকাশিত এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার রুটিন অনুযায়ী সিলেট বিভাগে ৮ জুলাই পর্যন্ত বাংলা প্রথম পত্র ও দ্বিতীয়পত্র এবং ইংরেজি প্রথমপত্র ও ইংরেজি দ্বিতীয়পত্রের পরীক্ষা হচ্ছে না। পরবর্তীতে এসব পরীক্ষার সময়সূচি জানিয়ে দেবে শিক্ষা বোর্ড।

বিষয়:

মৌলভীবাজারে বন্যার পানিতে ডুবে দুই কিশোরের মৃত্যু

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মৌলভীবাজার প্রতিনিধি

মৌলভীবাজার সদর উপজেলায় বন্যার পানিতে ডুবে দুই কিশোরের মৃত্যু হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার চাঁদনীঘাট ইউনিয়নের পশ্চিম শ্যামেরকোনা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত দুই কিশোরের নাম, হৃদয় আহমেদ (১৭) ও ছাদি মিয়া (১২)। তারা পশ্চিম শ্যামেরকোনা গ্রামের টাওয়ার রোডের জমির মিয়ার ছেলে হৃদয় ও পছন মিয়ার ছেলে ছাদি।

মৌলভীবাজার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হারুনোর রশিদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

স্থানীয় বাসিন্দা লুতফুর রহমান জানান, বৃহস্পতিবার সকালে কলাগাছের ভেলায় করে হৃদয় ও ছাদি তারা দুজন শ্যামেরকোনা এলাকার খেওয়াঘাট চলে যায়। সেখানে কলাগাছের ভেলা ভেঙ্গে গিয়ে ডুবে যায়। এই সময় তারা দুজন সাঁতার কাটতে কাটতে ডুবে গিয়ে কিছু দূর ভেসে ওঠে। পরে উদ্ধার করে মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে আসলে চিকিৎসক তাদেরকে মৃত ঘোষণা করেন।

স্থানীয় ইউপি সদস্য ফজলুর রহমান বলেন, ‌‘ধলাই নদী চৈত্রঘাট এলাকায় ভেঙ্গে চাঁদনীঘাট ইউনিয়নের শ্যামেরকোনা গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। বন্যার সময় আজ সকালে হৃদয় ও সাদি কলাগাছের ভেলা বানিয়ে ঘোরাঘুরি করছিল। খেওয়াঘাট তাদের কলাগাছের ভেলা ভেঙ্গে যায়। এসময় তারা দুজন পানিতে ডুবে মারা যায়।’


তিস্তায় নৌকা ডুবে শিশু নিহত, নিখোঁজ ৮

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ২০ জুন, ২০২৪ ১২:৩৪
কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি

কুড়িগ্রামের উলিপুরে তিস্তা নদীতে নৌকাডু‌বির ঘটনা ঘটেছে। বিয়ের দাওয়াত শেষে ফেরার প‌থে ২৫ থে‌কে ২৬ জন যাত্রী নি‌য়ে গতকাল বুধবার সন্ধ্যার দিকে নদীতে ডুবে যায় নৌকাটি। এতে আড়াই বছরের এক কন্যা শিশু নিহত হয়েছে। এ ছাড়া এ ঘটনায় ৭ থেকে ৮ জন নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানা গেছে।

বিষয়‌টি নি‌শ্চিত ক‌রে‌ছেন উলিপু‌র ফায়ার সার্ভি‌সের স্টেশন ইনচার্জ আব্বাস উদ্দিন।

তি‌নি জানান, এক‌টি নৌকায় ২৫ থে‌কে ২৬ জন যাত্রী নি‌য়ে দাওয়াত খে‌য়ে সুন্দরগঞ্জ উপ‌জেলার বেলকায় যাচ্ছিলেন। প‌থে তিস্তা নদীর তীব্র স্রো‌তে নৌকা‌টি ডু‌বে যায়। এতে অন‌্যরা নদী সাঁত‌রে পা‌র হতে পার‌লেও ৭ থে‌কে ৮ জন নিখোঁজ রয়েছে।

রাতেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করার সময় জেলা প্রশাসক সাইদুল আরীফ বলেন, ‘এক শিশু নিহত হয়েছে এটা নিশ্চিত। তবে নিখোঁজ হবার বিষয়ে এখনও আমরা নিশ্চিত হতে পারিনি।’


banner close