জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের বিদায়ী জ্যেষ্ঠ সচিব কে এম আলী আজমকে সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) সদস্য পদে নিয়োগ দিয়েছে সরকার।
সাংবিধানিক ক্ষমতাবলে আলী আজমের অবসরোত্তর ছুটি ও এ সংক্রান্ত সুবিধা স্থগিতের শর্তে তাকে এ নিয়োগ দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি। আজ মঙ্গলবার এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।
চাকরির মেয়াদ শেষ হওয়ায় আলী আজমকে আগামী বৃহস্পতিবার থেকে অবসরে পাঠিয়ে গতকাল সোমবার প্রজ্ঞাপন জারি করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।
দায়িত্ব নেয়ার দিন থেকে পাঁচ বছর মেয়াদে বা তার বয়স ৬৫ বছর পূর্ণ হওয়ার মধ্যে যেটি আগে ঘটে, সেই সময় আলী আজম পিএসসির সদস্যের দায়িত্বে থাকবেন।
অবসরপ্রাপ্ত জ্যেষ্ঠ সচিব মো. সোহরাব হোসাইন পিএসসির চেয়ারম্যানের দায়িত্বে আছেন। নতুন করে আলী আজমকে নিয়ে কমিশনের সদস্য সংখ্যা হবে ১৩ জন।
গত বছরে প্রবল বৃষ্টিপাতে ভেঙে পড়া জীবননগরের ৪টি ব্রিজ ছয় মাস পেরিয়ে গেলেও মেরামত করা হয়নি। এলাকাবাসীর প্রচেষ্টায় কোনোরকম সংস্কার করে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণভাবে চলাচল করছেন পথচারীরা। সাইকেল, মোটরসাইকেল ও পাখিভ্যান পার হলেও ভারি যানবাহনগুলো ব্রিজের উপর দিয়ে পারাপার করতে পারছে না। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়ছে ওই এলাকার ২৫-৩০টি গ্রামের মানুষ।
গত বছর সেপ্টেম্বর মাসে ভারি বৃষ্টিপাতে জীবননগর উপজেলার সিংনগর বাওড়ের বাঁধ ভেঙে পানির প্রবল স্রোতে ভৈরব নদীতে থাকা ৪টি ব্রিজ ভেঙে পড়ে। সিংনগর, উথলী গ্রামের আচামিতে ব্রিজ, সন্তোষপুর ব্রিজ ও মনোহরপুর গ্রামের ব্রিজ ভেঙ্গে পড়ে। এর মধ্যে মনোহরপুর গ্রামের ব্রিজটি ভেঙে পড়ে চলাচল বন্ধ আছে। বাকি তিনটি ব্রিজ স্থানীয়দের সহযোগীয় কিছুটা মেরামত করে ঝুঁকিপূর্ণভাবে চলাচল করছে। ছয় মাস পেরিয়ে গেলেও সরকারীভাবে ব্রিজ সংস্কারের জন্য এখনো পর্যন্ত কোন উদ্যোগ চোখে পড়েনি।
সিংনগর গ্রামের আহাদ আলী বলেন, ছয় মাসের বেশি সময় ধরে ব্রীজটি ঝুঁকিপূর্ণভাবে আছে।
সাধারণ পথচারীদের যাতায়াত ও মালামাল আনা নেওয়া করতে চরম অসুবিধা হচ্ছে। কৃষকরা তাদের কৃষিপণ্য ঘরে তুলতে ও বাজারজাত করতে কষ্ট হচ্ছে। অসুস্থ রোগীদের হাসপাতালে নিতে সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে। ব্রিজটি সংস্কার করার জন্য মানববন্ধনসহ অনেকের জানানো হয়েছে। কিন্তু এখনো পর্যন্ত কোন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়নি।
সন্তোষপুর গ্রামের ইউপি সদস্য আব্দুস ছাত্তার বলেন, ব্রিজটি ভেঙে পড়ার পরে অনেক রাজনৈতিক ব্যক্তি ও সরকারি কর্মকর্তারা এসে পরিদর্শন করে গেছেন। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি। তবে উথলী ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জহুরুল হক ঝন্টু নিজ উদ্যোগে কিছু ইট ও খোয়া দিয়ে সংস্কার করে দিয়েছিল। তারপর থেকে ঝুঁকিপূর্ণভাবে এই ব্রিজের উপর দিয়ে মানুষ যাতায়াত করছে।
মনোহরপুর গ্রামের জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, এই গ্রামের মানুষ ব্রিজটি ব্যবহার করে মাঠের ফসল ঘরে আনে ও বিভিন্ন গ্রামে যাতায়াত করে। কিন্তু ব্রিজটি ভেঙে পড়ে যাওয়ার কারণে আর চলাচল করা যায় না। সাধারণ মানুষ পানির মধ্যে দিয়ে হেটে ব্রিজের ওপারে তাদের কৃষিজমিতে যায়।
স্থানীয়রা আরও জানিয়েছেন, ব্রিজগুলো ভেঙে যাওয়ার কারণে অনেকের ১০-১২ কিলোমিটার ঘুরে বিকল্প পথে যাতায়াত করতে হয়। এ বছরে বর্ষা মৌসুমে পানির স্রোতে ব্রিজের বাকি অংশগুলো ভেঙে গেলে গৃহবন্দি হয়ে পড়বে ২৫-৩০ টি গ্রামের মানুষ। বর্ষা মৌসুমের আগে ব্রিজগুলো মেরামতের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জোর দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
যেন প্রাণের উৎসব, উৎসবে আনন্দে মাতোয়ারা হাজারো দর্শক। পুরোনো বছরকে বিদায় জানিয়ে নতুন বছরকে বরণ করে নিতে মারমা সম্প্রদায় পালন করছেন মাহা সাংগ্রাই রি লং পোয়ে বা সাংগ্রাই জল উৎসব। তরুণ-তরুণীরা একে অপরকে পানি ছিটানোর মাধ্যমে সব দুঃখ-গ্লানি ধুয়েমুছে দিয়ে নতুন বছরকে বরণ করে নেন।
রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলার চিংম্রং বৌদ্ধবিহার মাঠে সাংগ্রাই জল উৎসব উদ্যাপন কমিটির আয়োজনে বুধবার (১৫ এপ্রিল) সকাল ১০টায় মারমা সম্প্রদায়ের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব সাংগ্রাই জল উৎসবের উদ্বোধন করেন পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী অ্যাডভোকেট দীপেন দেওয়ান। এ সময় তিনি বলেন, ‘এটি মারমা সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় সামাজিক উৎসব। এই উৎসবকে ঘিরে এখানে সকল ধর্ম-বর্ণ-জাতি-গোষ্ঠীর মিলন ঘটেছে। এ দেশ একটি অসাম্প্রদায়িক চেতনার দেশ।’
সাংগ্রাই জল উৎসব উদ্যাপন কমিটির আহ্বায়ক উথোয়াই মং মারমা সভাপতিত্ব করেন। পরে মারমা সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী নাচ-গান পরিবেশনার পাশাপাশি মাঠের একপাশে মারমা তরুণ-তরুণীরা জল খেলায় মেতে ওঠেন। এ ছাড়া ঐতিহ্যবাহী খেলাধুলা ও সাংগ্রাই মহা শোভাযাত্রা বের করা হয়।
সাংগ্রাই জল উৎসবে অংশ নিতে আসা মারমা সম্প্রদায়ের তরুণ-তরুণীরা বলেন, ‘আজ আমরা সাংগ্রাই উৎসবে এসেছি জল ছিটাতে। পুরাতন বর্ষকে বিদায় দিয়ে নতুন বছরকে বরণ করতে। এটা আমাদের প্রাণের উৎসব।’
ঠাকুরগাঁওয়ে পোল্ট্রি খাতে নেমে এসেছে গভীর সংকট। এক সময় জেলার মাংসের চাহিদার বড় অংশ পূরণ করা শত শত খামার এখন বন্ধ হয়ে গেছে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন খামারি ও শ্রমিকরা।
জেলার পোল্ট্রি অ্যাসোসিয়েশনের নেতৃবৃন্দদের দাবি এ খাতে সম্ভাবনার আলো দেখেছিলেন প্রায় ৯০০ প্রান্তিক খামারি। কেউ এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে, কেউ জমি বিক্রি করে, আবার কেউ ধার-দেনা করে গড়ে তুলেছিলেন মুরগির খামার। প্রান্তিক এসব খামারির দাবি—জেলার প্রায় ৮০ শতাংশ মাংসের চাহিদা তারা পূরণ করতেন। কিন্তু এখন সেই খাতেই নেমে এসেছে স্থবিরতা।
জেলার অর্ধেকের বেশি খামার বন্ধ হয়ে গেছে। লাখ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত সেড পড়ে আছে পরিত্যক্ত অবস্থায়।
লোকসানে ক্ষতিগ্রস্থ খামারি নজরুল ইসলাম বলেন, ব্যাংক ঋণ পেতে নানা জটিলতা, বাজার নিয়ন্ত্রণে অক্ষমতা এবং বড় বড় কোম্পানির সিন্ডিকেটের কারণে মুরগির বাচ্চা ও ফিডের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে।
বর্তমানে যেসব খামার এখনও চালু আছে, সেগুলোও টিকে থাকার লড়াইয়ে রয়েছে। খামারি ও কর্মচারীদের মধ্যে বাড়ছে উদ্বেগ ও শঙ্কা।
খামারি সুজন ইসলাম বলেন, আমাদের গ্রামে মোট ২৫ জন খামারি ছিলো। নানা জটিলতায় এখন মাত্র ৫ জন খামারি কোনরকমে খামার টিকিয়ে রেখেছেন। আমাদের জন্য নতুন পরিকল্পনা না গ্রহণ করলে এবং ঋণ সহায়তা না দিলে আমরা টিকে থাকতে পারবোনা।
ঠাকুরগাঁও পোল্ট্রি অ্যাসোসিয়েশনের সহ-সভাপতি আশরাফুজ্জামান বলেন, সরকারি সহায়তা, সহজ শর্তে ঋণ এবং বাজার নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হলে এই খাত আবার ঘুরে দাঁড়াতে পারে। সংশ্লিষ্টদের মতে, দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ না নিলে পোল্ট্রি খাতের এই সংকট আরও গভীর হতে পারে, যা প্রভাব ফেলবে সার্বিক মাংস সরবরাহ ব্যবস্থায়।
এ বিষয়ে ঠাকুরগাঁও প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা:ডা: ইজহার আহমেদ খান স্বীকার করে বলেন, জেলার প্রান্তিক খামারিরা ভালো নেই তারা নানা অসুবিধার মধ্যে রয়েছে। তারা যেন আবারও বন্ধ খামার গুলো চালু করতে পারে সেজন্য প্রাণী সম্পদ অধিদপ্তর তাদের পাশে থাকবে এবং ঋণ জটিলতা নিরসনে কাজ করবে।
বাঙালির প্রাণের উৎসব পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে রাজধানীর বারিধারা সোসাইটির উদ্যোগে দিনব্যাপী এক বর্ণিল আয়োজনের মধ্য দিয়ে বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩-কে বরণ করে নেওয়া হয়েছে। রাজধানীর বারিধারা লেক সাইড পার্ক প্রাঙ্গণজুড়ে সকাল থেকেই ছিল উৎসবের আমেজ, যেখানে লাল-সাদার আবহ, ঢোলের তালে তালে ছন্দ আর মানুষের উচ্ছ্বাস মিলেমিশে তৈরি করে এক অনন্য পরিবেশ।
অনুষ্ঠানের মূল আকর্ষণ ছিল সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। স্থানীয় শিল্পী এবং বারিধারা সোসাইটির সদস্যরা দলগতভাবে বৈশাখী গান, কবিতা আবৃত্তি ও নৃত্য পরিবেশন করেন। ‘এসো হে বৈশাখ, এসো এসো’ গানের সুরে পুরো আয়োজন যেন একসঙ্গে নতুন বছরের আহ্বানে সাড়া দেয়। শিশুদের অংশগ্রহণে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা আয়োজন করা হয়, যা ছোটদের মধ্যে উৎসবের আনন্দকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে। ঐতিহ্যবাহী ঢোলের বাজনা ও লোকজ উপস্থাপনাও অনুষ্ঠানে এনে দেয় গ্রামীণ বাংলার আবহ।
এই আয়োজনে স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের দূতাবাসের কর্মকর্তারাও অংশ নেন। বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত উপস্থিত থেকে এই আয়োজনের প্রশংসা করেন এবং বলেন, বাংলাদেশের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের এই প্রাণবন্ত প্রকাশ সত্যিই অনন্য। তার বক্তব্যে উঠে আসে বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতির মধ্য দিয়ে মানুষের মধ্যে সংযোগ তৈরির গুরুত্ব।
প্রবাসী বাংলাদেশিদের উপস্থিতিও ছিল লক্ষণীয়। কানাডা থেকে আসা এক অতিথি জানান, দেশের সংস্কৃতি ও শেকড়ের টানেই তারা বারবার ফিরে আসেন। পহেলা বৈশাখের মতো উৎসব তাদের কাছে শুধু আনন্দের নয়, বরং আত্মপরিচয়েরও একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। অনুষ্ঠানে প্রবীণ ও নবীনদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে পুরো আয়োজনটি এক মিলনমেলায় পরিণত হয়, যেখানে সবাই নতুন বছরের জন্য দেশের শান্তি, সমৃদ্ধি ও অগ্রগতির প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
দিনব্যাপী এই আয়োজনজুড়ে ছিল দেশীয় খাবারের সমাহার। পান্তা-ইলিশ, ভর্তা, পিঠাসহ নানা ঐতিহ্যবাহী খাবার উপভোগ করতে দেখা যায় অতিথিদের। খাওয়া-দাওয়া, আড্ডা আর সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মধ্য দিয়ে বৈশাখের আনন্দ ভাগ করে নেন সবাই।
সব মিলিয়ে বারিধারা সোসাইটির এই উদ্যোগ ছিল বাঙালিয়ানার এক প্রাণবন্ত প্রকাশ। আয়োজকদের মতে, এ ধরনের আয়োজন নতুন প্রজন্মের কাছে দেশীয় সংস্কৃতি তুলে ধরতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এবং সমাজে সংস্কৃতিচর্চাকে আরও এগিয়ে নেবে।
খালের পাড়ে পড়ে আছে নৌ-অ্যাম্বুলেন্স। দেখতে সচল মনে হলেও এর ইঞ্জিন নেই। চুরি হয়েছে প্রয়োজনীয় অন্য যন্ত্রাংশও। নদীপথে অসুস্থ মানুষকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার জন্য ২০২২ সালে এই অ্যাম্বুলেন্স চালু হয়। তবে উদ্বোধনের চার বছরে একবারের জন্যও রোগী আনা–নেওয়ায় এর ব্যবহার হয়নি।
লক্ষ্মীপুরের রামগতি উপজেলার আলেকজান্ডার বাজারসংলগ্ন সেন্টার খালের পাড়ে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে অ্যাম্বুলেন্সটি। উপজেলার দুর্গম চরাঞ্চলের মানুষের জন্য ২০২২ সালে ‘স্বপ্নযাত্রা’ নামের এই নৌ-অ্যাম্বুলেন্স কেনা হয়। এতে ব্যয় হয়েছিল প্রায় তিন লাখ টাকা।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে অ্যাম্বুলেন্সটি কেনা হয়। তবে ২০২২ সালে এটির উদ্বোধন করা হলেও তখন চালক নিয়োগ দেওয়া হয়নি। যার কারণে পড়ে থাকা নৌ-অ্যাম্বুলেন্সটির অনেক যন্ত্রাংশ চুরি হয়ে যায়।
জানতে চাইলে চর আবদুল্যাহ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কামাল উদ্দিন মঞ্জু বলেন, চালকসহ বিভিন্ন সংকটের কারণে শুরু থেকেই অ্যাম্বুলেন্সটি চালু করা যায়নি। ফলে চরাঞ্চলের মানুষ কার্যত চিকিৎসাসেবার মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
নৌ-অ্যাম্বুলেন্সের সেবা না পাওয়ায় নানা সময় ভোগান্তিতে পড়তে হয় এলাকার বাসিন্দাদের। চলতি বছরের ৮ এপ্রিল চর আবদুল্যাহে এমনই এক পরিস্থিতির মুখোমুখি হয় একটি পরিবার। সকাল থেকে পেটের তীব্র ব্যথায় কাতরাচ্ছিল এলাকার শিশু মো. মামুন। আশপাশের প্রাথমিক চিকিৎসাকেন্দ্রের ওষুধেও ব্যথা কমেনি। এরপর প্রতিবেশীরা তাকে হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেন। তবে চার ঘণ্টায়ও হাসপাতালে নেওয়ার জন্য কোনো নৌকা পাওয়া যায়নি। শেষ পর্যন্ত ছোট একটি নৌকা মেলে। সেটি দিয়েই তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়।
শিশুটিকে হাসপাতালে নেওয়ার ঘটনার বর্ণনা দিয়ে প্রতিবেশী সাইফুল ইসলাম বলেন, হঠাৎ মামুনের অবস্থা গুরুতর হয়ে পড়ে। কথা বলা তো দূরের কথা, কোনো সাড়াশব্দও ছিল না। এ নিয়ে সবাই দুশ্চিন্তায় ছিল। কিন্তু যাতায়াতের কোনো ব্যবস্থা না থাকায় পরিবারটি অসহায় হয়ে পড়ে। এরপর ভোগান্তি পেরিয়ে হাসপাতালে নেওয়া হয়। বর্তমানে সে অনেকটা সুস্থ রয়েছে।
মামুনের বাবা জাকির হোসেন নদীতে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করেন। তিনি বলেন, ‘নৌ-অ্যাম্বুলেন্সটি কখনোই মানুষের কাজে আসেনি। এক দিনের জন্যও কোনো রোগীকে বহন করতে দেখলাম না।’
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, রামগতির চর আবদুল্যাহ ও চরগজারিয়া ইউনিয়নসহ আশপাশের কয়েকটি চরে কয়েক হাজার মানুষের বসবাস। তাদের যোগাযোগব্যবস্থা পুরোপুরি নৌপথনির্ভর। বর্ষা মৌসুমে এক গ্রামের সঙ্গে অন্য গ্রামের যোগাযোগ প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। জরুরি প্রয়োজনে রামগতি যেতে হলে ট্রলার ভাড়া গুনতে হয় চার থেকে পাঁচ হাজার টাকা।
স্থানীয় লোকজনের অভিযোগ, পরিকল্পনার অভাব ও তদারকির ঘাটতির কারণে শুরু থেকেই ব্যর্থ হয়েছে এই নৌ-অ্যাম্বুলেন্সের উদ্যোগ। এ কারণে চরাঞ্চলের মানুষ জরুরি চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। নৌ-অ্যাম্বুলেন্স হিসেবে ব্যবহার না হলেও প্রথমে এটি স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতারা ব্যবহার করতেন। পরে সমালোচনার মুখে তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সেটি উদ্ধার করে সেন্টার খালে ফেলে রাখেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নিলুফা ইয়াসমিন জানান, নৌ-অ্যাম্বুলেন্সের বিষয়টি তাদের নজরে এসেছে। কেন এটি এত দিন অকার্যকর রয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হবে। চরাঞ্চলের মানুষ যাতে জরুরি চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত না হন, সে বিষয়ে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বাংলা নববর্ষ-১৪৩৩ উদযাপন উপলক্ষে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে উৎসবমুখর পরিবেশে হয়েছে ঐতিহ্যবাহী লাঠিখেলা। গত মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) বিকেলে উপজেলার নাটঘরের কুড়িঘর স্কুল মাঠে এ আয়োজন করা হয়।
স্থানীয়ভাবে আয়োজিত এই ব্যতিক্রমধর্মী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন নান্নু মিয়া। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. মহিউদ্দিন আহামেদ মহিন। উদ্বোধক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আসরাফ হোসেন রাজু।
এ ছাড়াও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, রাজনৈতিক নেতারা এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন।
লাঠিখেলা প্রদর্শনীতে উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের লাঠিয়াল দল অংশ নেয়। তারা দারুণ দক্ষতা, রণকৌশল ও শৈল্পিক নৈপুণ্যের মাধ্যমে দর্শকদের মুগ্ধ করে।
ঢোলের তালে তালে লাঠিয়ালদের চমৎকার কসরত, আক্রমণ-প্রতিরোধের কৌশল এবং দলগত সমন্বয় উপস্থিত দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার সৃষ্টি করে। পুরো মাঠ জুড়ে করতালি আর উল্লাসে এক প্রাণবন্ত পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের অংশগ্রহণ ও আগ্রহ ছিল চোখে পড়ার মতো। অনেকেই মোবাইলে এই ঐতিহ্যবাহী খেলার দৃশ্য ধারণ করেন এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেন, যা স্থানীয় সংস্কৃতির প্রতি নতুন করে আগ্রহ সৃষ্টি করছে।
উল্লেখ্য, এক সময় গ্রামবাংলায় আত্মরক্ষার গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে লাঠিখেলার ব্যাপক প্রচলন ছিল। জমিদারি আমলে লাঠিয়াল বাহিনী গ্রামীণ নিরাপত্তা রক্ষা, বিরোধ নিষ্পত্তি এবং বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করত। তবে সময়ের পরিবর্তনে এই ঐতিহ্যবাহী খেলা অনেকটাই বিলুপ্তির পথে চলে গেছে।
হারিয়ে যেতে বসা এই লোকজ ঐতিহ্যকে পুনরুজ্জীবিত করতে এবং নতুন প্রজন্মের কাছে তা তুলে ধরতেই এই আয়োজন করা হয়েছে বলে আয়োজকরা জানান। তারা আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের উদ্যোগ ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকলে লাঠিখেলার মতো প্রাচীন সংস্কৃতি আবারও গ্রামবাংলায় নতুন প্রাণ ফিরে পাবে।
দেশের সামুদ্রিক মৎস্য সম্পদ সংরক্ষণ, প্রজনন বৃদ্ধি এবং টেকসই আহরণ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বুধবার (১৫ এপ্রিল) থেকে ১১ জুন পর্যন্ত সমুদ্রে সব ধরনের মাছ ধরা সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এই সময়সীমায় সকল ফিশিং বোটকে সমুদ্রে না যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
শরণখোলা উপজেলা মৎস্য অফিসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বুধবার (১৫ এপ্রিল) থেকে শুরু হওয়া এই নিষেধাজ্ঞা ১১ জুন পর্যন্ত মোট ৫৮ দিন কার্যকর থাকবে।
উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা অঞ্জন বিশ্বাস বলেন, “প্রজনন মৌসুমে এই নিষেধাজ্ঞা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এতে সামুদ্রিক মাছের সংখ্যা পুনরুদ্ধার হবে এবং ভবিষ্যতে উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে। সবাইকে নিয়ম মেনে চলার অনুরোধ জানানো হচ্ছে।"
তিনি আরও জানান, এই নির্দেশ অমান্য করলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নিষেধাজ্ঞা চলাকালীন নিবন্ধিত জেলেরা সরকারি ভিজিএফ সহায়তার আওতায় থাকবেন।
মৎস্য বিভাগ সংশ্লিষ্ট সকল জেলে, নৌযান মালিক ও শ্রমিকদের নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে, যাতে সামুদ্রিক সম্পদ সংরক্ষণ কার্যক্রম সফলভাবে বাস্তবায়ন করা যায়।
মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় উপজেলার আড়ালিয়া ও মেঘনা উপজেলার হরিপুর সংযোগ সেতুর নির্মাণ কাজ চাঁদা না পেয়ে বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক প্রভাবশালী ব্যক্তির বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত রহিম বাদশার হুমকির মুখে জানমালের নিরাপত্তার স্বার্থে ২ দিন ধরে কাজ বন্ধ রেখেছেন নির্মাণ শ্রমিকরা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি)-এর অধীনে ‘গ্রামীণ সড়কে গুরুত্বপূর্ণ সেতু নির্মাণ প্রকল্প (১ম সংশোধিত)’-এর আওতায় মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া ও কুমিল্লার মেঘনা উপজেলাকে সংযুক্ত করতে ১০০ কোটি টাকা ব্যয়ে ৬৭৫ মিটার দীর্ঘ এই সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেয় সরকার। ২০২১ সালে শুরু হওয়া প্রকল্পটির কাজ ২০২৪ সালে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও জমি সংক্রান্ত জটিলতায় নির্মাণকাজ দুই বছর পিছিয়ে যায়। বর্তমানে প্রকল্পের প্রায় ৭০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে এবং আগামী এক বছরের মধ্যে এটি চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ম্যাক্স ইনফ্রাস্ট্রাকচার লিমিটেড।
বুধবার (১৫ এপ্রিল) আড়ালিয়া গ্রাম সংলগ্ন প্রকল্প এলাকায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, নির্মাণযজ্ঞ সম্পূর্ণ স্থবির হয়ে আছে। সাইটে কর্মরত শ্রমিকরা অলস সময় পার করছেন। কাজে যোগ না দেওয়ার কারণ জানতে চাইলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শ্রমিক জানান স্থানীয় প্রভাবশালী রহিম বাদশার হুমকির পর তারা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। যেকোনো সময় বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কায় তারা দুই দিন ধরে কাজ বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছেন।
বিষয়টি সম্পর্কে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ম্যাক্স ইনফ্রাস্ট্রাকচার লিমিটেডের প্রশাসনিক কর্মকর্তা আক্তার হোসেন জানান, সেতু নির্মাণের জন্য স্থানীয় ব্যক্তিদের কাছ থেকে ১৪৬ শতাংশ জমি নির্দিষ্ট মেয়াদে লিজ নেওয়া হয়েছে। ২০২৭ সাল পর্যন্ত লিজের অর্থ পরিশোধ করা আছে যার মধ্যে অভিযুক্ত রহিম বাদশার ২১ শতাংশ জমিও অন্তর্ভুক্ত। তাকে লিজ বাবদ ইতোমধ্যে ৬৩ হাজার ৫০০ টাকা পরিশোধ করা হয়েছে। তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘গত সোমবার রাত ৯টার দিকে রহিম বাদশা আমাদের কনস্ট্রাকশন ইয়ার্ডে এসে হিসাবরক্ষক মনিরুজ্জামানের কাছে মাসিক ৩ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবি করেন। অন্যথায় সাইটের কাজ তাকে বুঝিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেন। এরপর শ্রমিকদের ভয়ভীতি দেখিয়ে চলে যান তিনি। তার হুমকির মুখে মঙ্গলবার সকাল থেকে শ্রমিকরা আতঙ্কিত হয়ে কাজ বন্ধ করে দিয়েছেন। বিষয়টি আমরা মৌখিকভাবে গজারিয়া থানা পুলিশকে জানিয়েছি।’
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে রহিম বাদশা বলেন, চাঁদা দাবির বিষয়টি সম্পূর্ণ মিথ্যা। তাদের সাথে আমার জমির লিজের মেয়াদ ৪ মাস আগেই শেষ হয়েছে। আমি এখন আর জমি লিজ দিতে চাই না এবং তাদের আমার জমি ব্যবহার করতে নিষেধ করেছি। এ কারণেই তারা আমার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির সাজানো অভিযোগ আনছে।
এলজিইডির মেঘনা উপজেলা প্রকৌশলী মো. শহিদুল ইসলাম এ প্রসঙ্গে বলেন, উন্নয়নমূলক কাজ কারও হুমকিতে বন্ধ রাখার সুযোগ নেই। আমি বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখছি। যেকোনো উপায়ে দ্রুত কাজ পুনরায় চালু করার ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
গজারিয়া থানার ওসি মো. হাসান আলী জানান, বিষয়টি সম্পর্কে তিনি হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
পিরোজপুর জেলা প্রশাসন ও সড়ক বিভাগের যৌথ উদ্যোগে 'Highway Master Plan (HMP)-2040'-এর আওতায় বাস্তবায়নযোগ্য বিভিন্ন প্রকল্পসমূহের ওপর এক গুরুত্বপূর্ণ অংশীজন সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।বুধবার (১৫ এপ্রিল) দুপুর ২:৩০ ঘটিকায় পিরোজপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের শহীদ আব্দুর রাজ্জাক-সাইফ মিজান স্মৃতি সভাকক্ষে এই সভাটি আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মনজুর(এমপি)। এসময় তিনি তার বক্তব্যে বলেন, "সরকারের দীর্ঘমেয়াদী এই মাস্টার প্ল্যান পিরোজপুরের সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনবে। স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে এবং অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জনে উন্নত মহাসড়ক নেটওয়ার্কের কোনো বিকল্প নেই।"
আগামী ৫ বছরে আমাদের কোনটা প্রায়োরিটি, সেটাকে অবশ্যই আমরা গুরুত্ব দেব। যা করলে জনদুর্ভোগ কমবে, সেভাবে আমরা কাজ করলে ধাপে ধাপে পিরোজপুরকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারব। বিগত ২০ বছরে সড়ক ও জনপথ, এলজিইডি বা অন্যান্য সংস্থা কাজ না করায় অনেক টাকা অপচয় হয়েছে, যার ফলে আমাদের এখন বেগ পেতে হচ্ছে।
তিনি বলেন,মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাকে বলেছেন, "দেখো, যে কাজগুলো হয়নি সব তো একবারে করা সম্ভব না, তুমিও বোঝো। তবে তোমার এলাকার জনপ্রতিনিধিদের সাথে কথা বলে জনদুর্ভোগ কমানোর জন্য যে রাস্তাগুলো না করলেই নয়, সেগুলো চিহ্নিত করো।" আমি বলেছি যে, আমাদের কিছু রাস্তার কাজ ইতোমধ্যে ৬০-৭০ শতাংশ হয়ে আছে, আর কিছু ব্রিজের কাজ বাকি। আমরা সেগুলো সম্পন্ন করার চেষ্টা করব।
মাননীয় প্রতিমন্ত্রী তার বক্তব্যে পিরোজপুর জেলার পরিকল্পিত উন্নয়ন, জনদুর্ভোগ লাঘব এবং প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় অগ্রাধিকার ভিত্তিতে প্রকল্প বাস্তবায়নের ওপর জোর দিয়েছেন।
পিরোজপুরের জেলা প্রশাসক ও বিজ্ঞ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আবু সাঈদ-এর সভাপতিত্বে সভায় উপস্থিত ছিলেন,
পিরোজপুর জেলা পরিষদ প্রশাসক অধ্যক্ষ আলমগীর হোসেন,সওজ বরিশাল জোন এর অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মোঃ রেজাউল করিম,বরিশাল সওজ,সড়ক সার্কেল এর তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মোঃ মাসুদ খান,অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (উন্নয়ন ও মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনা)এবং উপপরিচালক, স্থানীয় সরকার, পিরোজপুর (অতিরিক্ত দায়িত্ব)মাহমুদুর রহমান মামুন,অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম এন্ড অপস্)মোঃ জিয়াউর রহমান,জেলা বিএনপির সভাপতি মোঃ নজরুল ইসলাম খান,সদস্য সচিব সাইদুল ইসলাম কিসমত,সড়ক বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা,বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিক এবং বিভিন্ন পর্যায়ের অংশীজনরা অংশগ্রহণ করেন।
সভায় পিরোজপুর জেলার আওতাধীন মহাসড়কগুলোর উন্নয়ন, সম্প্রসারণ এবং ২০৪০ সাল নাগাদ টেকসই সড়ক নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার বিভিন্ন পরিকল্পনা উপস্থাপন করা হয়।
বক্তারা জানান, এই মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে পিরোজপুরের সাথে অন্যান্য জেলার সংযোগ আরও সহজতর হবে, যা স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্য ও পর্যটন খাতের উন্নয়নে বড় ভূমিকা রাখবে।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন,সওজ পিরোজপুর এর উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী টি এম. রাজিমুল আলীম রাজু।
পহেলা বৈশাখ বাংলার প্রাণের উৎসব, যেখানে পান্তা-ইলিশ আর আনন্দ-উচ্ছ্বাসে মেতে ওঠে সব শ্রেণি-পেশার মানুষ। কিন্তু সেই আনন্দঘন পরিবেশই চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় রূপ নিল তর্ক-বিতর্ক আর শেষ পর্যন্ত সহিংসতায়। পান্তা ভাত চাইতে গিয়েই নাকে ঘুষি খেয়ে রক্তাক্ত হয়েছেন সনেট (৫৫) নামের এক ব্যক্তি এমন অভিযোগ উঠেছে উপজেলা পরিষদের সিএ সোহেল রানার বিরুদ্ধে।
মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) সকাল সারে ৯টার দিকে আলমডাঙ্গা উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এ ঘটনা ঘটে। মুহূর্তেই বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, সৃষ্টি করে তুমুল আলোচনা-সমালোচনার।
জানা যায়, উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে সকালে বর্ণাঢ্য বৈশাখী শোভাযাত্রা শেষে পরিষদ প্রাঙ্গণে পান্তা ভাত ও মাছ ভাজির আয়োজন করা হয়। উৎসবমুখর পরিবেশে সাধারণ মানুষ যখন খাবার নিতে ভিড় করেন, তখন সনেট নামের ওই ব্যক্তি খাবার নিতে গেলে তাকে বাধা দেন সিএ সোহেল রানা। এ নিয়ে শুরু হয় বাকবিতণ্ডা, যা দ্রুত উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে রূপ নেয়।
অভিযোগ রয়েছে, কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে সোহেল রানা সনেটের নাকে ঘুষি মারেন। এতে তিনি গুরুতরভাবে আহত হয়ে রক্তাক্ত হন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে নিকটস্থ হাসপাতালে ভর্তি করেন, যেখানে তার চিকিৎসা দেওয়া হয়। আহত সনেট পৌর এলাকার স্টেশনপাড়ার মৃত তোফাজ্জেল হোসেনের ছেলে।
ঘটনার পরপরই উৎসবের আনন্দ ম্লান হয়ে যায়। পান্তা ভাতের লাইনে ঘুষি এমন শিরোনামে বিষয়টি দ্রুত ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়দের মধ্যে শুরু হয় তীব্র প্রতিক্রিয়া ও সমালোচনা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক উপজেলা পরিষদের কয়েকজন কর্মচারী জানান, সোহেল রানা দীর্ঘদিন একই পদে কর্মরত থাকায় এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে চলেছেন। তাদের দাবি, তিনি প্রায়ই সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন। তবে তারা এটাও বলেন, অনেক সময় সরকারি কর্মচারীরাও সাধারণ মানুষের অসদাচরণের শিকার হন।
উল্লেখ্য, কয়েকদিন আগেও ফুয়েল কার্ড বিতরণ সংক্রান্ত একটি সংবাদ প্রকাশের সময় এক সাংবাদিকের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগ উঠেছিল সোহেল রানার বিরুদ্ধে, যা নিয়ে স্থানীয় মহলে আলোচনা হয়েছিল।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে সোহেল রানা বলেন, সকালে একজনের সঙ্গে একটু ভুল বোঝাবুঝি হয়েছিল। বিষয়টি আমরা মীমাংসা করে নিয়েছি। এটি নিয়ে সংবাদ করার প্রয়োজন নেই, আমি আপনার সঙ্গে দেখা করবো।
তবে বিষয়টিকে হালকাভাবে নিচ্ছে না প্রশাসন। চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক মিজ্ লুৎফুন নাহার বলেন, সরকারি কর্মচারী হিসেবে কারও সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণের কোনো সুযোগ নেই। আমাদের কাছে সব ধরনের মানুষই আসবে, তাদের সঙ্গে নিয়ম অনুযায়ী ভালো আচরণ করতে হবে। বিষয়টি শুনেছি, আলমডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দোষী প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পহেলা বৈশাখে যেখানে থাকার কথা ছিল শুভেচ্ছা আর সম্প্রীতির বার্তা, সেখানে আলমডাঙ্গায় ‘পান্তা ভাত’কে কেন্দ্র করে এই সহিংসতার ঘটনা নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে সরকারি সেবার মান ও আচরণ নিয়ে। উৎসবের দিনে এমন তিক্ত অভিজ্ঞতা স্থানীয়দের মনে ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে, আর এখন সবার দৃষ্টি প্রশাসনের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে।
মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলা প্রকৌশলী(এলজিইডি)মোহাম্মদ আশরাফুল ইসলাম ভূঁইয়া বদলি হলেও চেয়ার ছাড়তে নারাজ। অন্যদিকে, যোগদানের অপেক্ষমান ইঞ্জিনিয়ার গোলাম সামদানী ১৭ দিন পেরিয়ে গেলেও তার দায়িত্ব বুঝে পাচ্ছেন না। এতে ওই অফিসের উন্নয়নকাজ ব্যাহত হচ্ছে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্টদের মধ্যে বইছে সমালোচনার ঝড় ।
এদিকে, কানাঘুষার এক পর্যায়ে বিষয়টি গণমাধ্যম কর্মীরা জানতে পেরে বুধবার (১৫ এপ্রিল) দুপুরে প্রকৌশল অফিসে গেলে ঘটনার সত্যতা মেলে। এসময় উপজেলা ইঞ্জিনিয়ারের অফিস কক্ষে ঢুকে দেখা গেছে, দায়িত্ব প্রধানের বসার চেয়ারটি ফাঁকা। পাশে বসে চার্জ বুঝে নিতে অলস সময় পার করছেন সদ্য যোগদানকারী প্রকৌশলী গোলাম সামদানী।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান , গত ২৯ মার্চ এই স্টেশনে আমার বদলির অর্ডার হয়। এরপর মানিকগঞ্জ নির্বাহী প্রকৌশলী অফিসের সকল কার্যক্রম সম্পন্ন করে প্রতিদিনই দায়িত্ব বুঝে নিতে সিংগাইরে এসে অফিস করছি। দায়িত্বে থাকা ইঞ্জিনিয়ার আশরাফুল ইসলাম ভূঁইয়া তার প্রমোশন হওয়ার কথাসহ বিভিন্ন অজুহাতে আমাকে চার্জ বুঝিয়ে দিচ্ছেন না। তিনি আরো বলেন, দ্রুত দায়িত্ব বুঝে না পেলে জুন ক্লোজিং ও উন্নয়ন কাজ নির্দিষ্ট সময়ে বাস্তবায়ন অসম্ভব হয়ে পড়বে। এ প্রসঙ্গে ওই অফিসের উপ-সহকারী প্রকৌশলী নজরুল ইসলাম ও মাহাবুল ইসলামকে প্রশ্ন করা হলে তারা কোনোো সদুত্তর দিতে পারেননি।
এদিকে, বদলি হওয়া সিংগাইর উপজেলা ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ আশরাফুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন,আশা করছি মাস খানেকের মধ্যেই আমার প্রমোশন হবে। এ কারণে চার্জ বুঝিয়ে দিচ্ছি না। এটা স্যাক্রিফাইজের ব্যাপার ।
তবে অপর একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, জুন ক্লোজিংয়ে বিভিন্ন প্রকল্পের ঠিকাদারদের বিল ভাউচার পাশ হয়। সেখানে ইঞ্জিনিয়ারের একটা ভাগ থাকে। সেই লক্ষ্যেই মূলত চেয়ার ছাড়তে নারাজ ইঞ্জিনিয়ার আশরাফুল ইসলাম ভূঁইয়া।
সিংগাইর উপজেলা নির্বাহী অফিসার খায়রুন্নাহার বলেন,বদলির অর্ডার হলেও চার্জ বুঝিয়ে দিচ্ছেন না এটা আমি জানি। বিধি মোতাবেক অর্ডার কপি আমার কাছে আসার কথা। কি কারণে পেলাম সেটাও বুঝতে পারছি না ।
এ ব্যাপারে মানিকগঞ্জের সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী (এলজিইডি) হুমায়ুন কবির বলেন, আমি যতটুকু জানি নির্বাহী প্রকৌশলী স্যার দেশের বাইরে থাকলেও ইঞ্জিনিয়ার আশরাফুল ইসলাম ভূঁইয়া সাহেবকে চার্জ বুঝিয়ে দেয়ার জন্য বলেছেন।
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশন (সোনারগাঁ জাদুঘর) শুরু হয়েছে ৭ দিনব্যাপী বৈশাখী মেলা। গত মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) দুপুরে উৎসবমুখর পরিবেশে বেলুন, ফেস্টুন ও শান্তির প্রতীক পায়রা উড়িয়ে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এ মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য আজহারুল ইসলাম মান্নান।
ফাউন্ডেশনের পরিচালক কাজী মাহবুবুল আলমের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সোনারগাঁ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসিফ আল জিনাত, সোনারগাঁ থানার ওসি মো. মহিববুল্লাহ, টুরিস্ট পুলিশ নারায়ণগঞ্জ জোনের ইনচার্জ এ কে এম মাহবুবুল আলম, বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি কাজী নজরুল ইসলাম টিটু, সাধারণ সম্পাদক মোশাররফ হোসেন প্রমুখ।
বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশনের প্রথম গেট থেকে একটি বর্ণিল বৈশাখি শোভাযাত্রার মধ্যে দিয়ে মেলার আনুষ্ঠানিকতা শুরু। শোভাযাত্রাটি ফাউন্ডেশনের মেলা চত্বর প্রদক্ষিন করে। শোভাযাত্রায় স্থানীয় শিক্ষক-শিক্ষার্থী, রাজনৈতিক ও ফাউন্ডেশনের নেতৃবৃন্দসহ নানা শ্রেণি পেশার মানুষ অংশ নেন। পরে মেলার মঞ্চে মেলার উদ্বোধন করেন নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য আজহারুল ইসলাম মান্নান। আলোচনা শেষে বাউল গান ও লোকজ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপভোগ করেন অতিথিরা।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য আজহারুল ইসলাম মান্নান বলেন, বৈশাখী মেলা আমাদের বাঙালির আবহমান সংস্কৃতির এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। নতুন প্রজন্মকে আমাদের শিকড়ের সাথে পরিচয় করিয়ে দিতে এবং দেশীয় লোকজ শিল্পের প্রসারে এই মেলার গুরুত্ব অপরিসীম।
তিনি আরো বলেন, দেশকে এগিয়ে নিতে আমাদের সবাইকে দেশপ্রেম নিয়ে কাজ করতে হবে। আমরা যেমন আনন্দ করব, তেমনি দেশের অর্থনীতিও শক্তিশালী করার দিকে নজর রাখতে হবে। বিলাসিতা নয়, দেশের সম্মান বৃদ্ধি করাই আমাদের লক্ষ্য।
উদ্বোধনী আনুষ্ঠানিকতা শেষে প্রধান অতিথি মেলার ঐতিহ্যবাহী ‘হালখাতা’ উদ্বোধন করেন এবং মেলায় অংশগ্রহণকারী কারুশিল্পীদের বিভিন্ন স্টল পরিদর্শন করে তাঁদের খোঁজখবর নেন।
এবারের মেলায় দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা কারুশিল্পীরা তাঁদের হাতের তৈরি ঐতিহ্যবাহী কারুপণ্য প্রদর্শন ও বিক্রয় করছেন। দর্শনার্থীরা উপভোগ করতে পারছেন নাগরদোলা, বায়স্কোপ, হারিয়ে যাওয়া গ্রামীণ খেলা ও স্বাদ নিতে পারছেন বাহারি লোকজ খাবারের।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে শিল্পী মধু ও কিবরিয়ার বৈশাখের গান দর্শনার্থীদের মুগ্ধ করে। মেলা প্রাঙ্গণে লোকজ বাদ্যযন্ত্রের মূর্ছনা এবং দর্শনার্থীদের ব্যাপক উপস্থিতি উৎসবকে প্রাণবন্ত করে তুলেছে। মেলা চলবে ২০ এপ্রিল পর্যন্ত।
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এমপি সাংবাদিকদের বলেছেন, আগামী ২০ এপ্রিল ঐতিহাসিক আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের যে জনসভা, সেখানে দলমত নির্বিশেষে সবাই অংশগ্রহণ করবেন বগুড়ার উন্নয়নের স্বার্থে। ঐদিন স্বঃস্ফুর্তভাবে অংশগ্রহন করে বগুড়ার সন্তান হিসাবে, বগুড়ার মানুষ হিসেবে যদি সঠিকভাবে জনসভা সফল করতে পারি। তাহলে যত দাবি-দাওয়া আছে, গত ১৭ বছর বগুড়াবাসী যে উন্নয়ন বঞ্চিত ও বঞ্চনার শিকার সবই বাস্তবায়ন হবে।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এমপি আগামী ২০ এপ্রিল বগুড়া সফর করবেন। প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হওয়ার পর প্রথমবারের মতো বগুড়া সফরকালে তিনি বগুড়া সিটি কর্পোরেশন ঘোষনা সহ বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করবেন।
বুধবার (১৫ এপ্রিল) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে শহরের ঐতিহাসিক আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠ পরিদর্শন করেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এমপি এবং প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সেক্রেটারি আতিকুর রহমান রুমন। পরিদর্শন শেষে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এসব কথা বলেন।
পরিদর্শনকালে প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সেক্রেটারি আতিকুর রহমান রুমন বলেন, প্রধানমন্ত্রী এমন একজন মানুষ। যিনি জনবান্ধব। তিনি এই বগুড়ার কৃতি সন্তান। তিনি সফরে এসে সরকারি প্রোগ্রাম শেষে বগুড়ার মানুষের সাথে আলাদা করে দেখা করার জন্য এবং কথা বলার জন্য জনসভায় অংশ নেবেন। তারেক রহমান বগুড়ায় আসবেন, ইনশাল্লাহ আগামীতে বগুড়ার উন্নয়ন হবে।
এরআগে সকাল ১০টা বগুড়া সার্কিট হাউজে তাঁর সফরকে নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন করতে অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন এবং স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স (এসএসএফ)-এর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জেলা ও পুলিশ প্রশাসনের কর্মকর্তা এবং বিএনপির শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমও অংশ নেন।
বৈঠক শেষে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম জানান, আগামী ২০ এপ্রিল মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বগুড়া সার্কিট হাউজে পৌঁছাবেন। এরপর এখান থেকে তিনি বগুড়া জজকোর্ট প্রাঙ্গনে যাবেন। সেখানে বগুড়ার বার সমিতির নতুন ভবন যেটি নির্মান করা হয়েছে সেটি উদ্বোধন করবেন। সেখান থেকে জেলা ও দায়রা জজ এর কনফারেন্সরুমে যাবেন। সেখানে আইন ও বিচার মন্ত্রণালয়ের অধীনে ই-বেলবন্ড কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী।
এরপর সেখানে থেকে বগুড়াবাসীর স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য তিনি বগুড়া পৌরসভা চত্বেরে যাবেন। সেখানে বগুড়া সিটি করপোরেশনের ফলক উসেন্মাচন করবেন। এরপর সড়ক পথে প্রধানমন্ত্রী তাঁর জন্মস্থান এবং জন্মভিটা মহান স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের জন্মস্থান গাবতলীর বাগবাড়িতে যাবেন। বাগবাড়িতে জিয়াউর রহমান হসপিটাল পরিদর্শন করবেন। এরপর ওই গ্রামের ফ্যামিলি কার্ডের কর্মসূচিটি আনুষ্ঠানিকভাবে সুবিধাভোগী গৃহকর্র্তী এবং নারী প্রধানদের মাঝে বিতরণের মাধ্যমে উদ্বোধন করবেন। একই সাথে সুধিসমাবেশে তিনি বক্তব্য দিবেন। এরপরে খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন। তারপর তিনি নিজ বাড়িতে যাবেন। সেখান থেকে তিনি আবারও সার্কিট হাইজে আসবেন। ওইদিন বিকেল সাড়ে ৩টায় ঐতিহাসিক আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠে বগুড়া জেলা বিএনপি আয়োজিত জনসভায় অংশগ্রহণ করবেন।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বগুড়া-৭ (শাজাহানপুর-গাবতলী) আসনের সংসদ সদস্য মোরশেদ মিল্টন, বগুড়া জেলা প্রশাসক তৌফিকুর রহমান, জেলা পুলিশ সুপার মির্জা সায়েম মাহমুদ, বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা হেলালুজ্জামান তালুকদার লালু প্রমুখ।