বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারি ২০২৬
২ মাঘ ১৪৩২

রাজধানীতে কলেজশিক্ষার্থীকে কুপিয়ে হত্যা

প্রতীকী ছবি
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা
প্রকাশিত
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা
প্রকাশিত : ১ নভেম্বর, ২০২২ ১৩:০২

রাজধানীর মুগদায় এক কলেজশিক্ষার্থীকে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। পূর্ব শত্রুতার জেরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

গতকাল সোমবার রাতে মুগদার মাণ্ডা ১ নম্বর গলির হিরা মিয়ার মুরগির দোকানের সামনে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে। নিহত ১৯ বছর বয়সী ওই শিক্ষার্থীর নাম রাকিবুল ইসলাম রাতুল।

পুলিশ জানিয়েছে, রাত সাড়ে ৮টার দিকে চাপাতির আঘাতে আহত হন রাতুল। পরে সাড়ে ৯টার দিকে তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেয়া হয়। রাত সাড়ে ১২টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

রাতুলের বড় ভাই রাহাত বলেন, কী কারণে আমার ভাইকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে, এ বিষয়ে আমি কিছু বলতে পারছি না।

মুগদা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রেজাউল করিম জানান, রাতুলের মাথার পেছনে গভীর আঘাত রয়েছে। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, রাতুলের সঙ্গে তার কিছু বন্ধুর ঝামেলা ছিল। সেটা সমাধানের জন্য রাতে মান্ডা ১ নম্বর গলিতে তাকে যেতে বলা হয়। সেখানে গেলে চাপাতি দিয়ে তার মাথায় আঘাত করে দুর্বৃত্তরা। পূর্ব শত্রুতার জেরে এ ঘটনা ঘটানো হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে জোর তৎপরতা চলছে।

এসআই রেজাউল জানান, রাতুলের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢামেক হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।


সোনারগাঁয়ে মহাসড়কে সিএনজিতে আগুন, দুই ডাকাত গ্রেপ্তার

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
সোনারগাঁ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে ডাকাতদের ব্যবহৃত একটি সিএনজি চালিত বেবিট্যাক্সিতে আগুন দিয়ে দুই ডাকাত সদস্যকে আটক করে গণধোলাইয়ের পর পুলিশে দিয়েছে স্থানীয় জনতা।

গত বুধবার (১৪ জানুয়ারি) রাত সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার পিরোজপুর ইউনিয়নের মৃধাকান্দী এলাকায় মহাসড়কে এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ গণধোলাইয়ের শিকার দুই ডাকাতকে সোনারগাঁ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়েছেন। গ্রেফতারকৃতরা হলেন রবিন মিয়া ও ওমর ফারুক ওরফে চাপাতি ফারুক। রবিন মিয়া উপজেলার কাজিরগাঁও গ্রামের জাকির হোসেনের ছেলে এবং ফারুক চেঙ্গাকান্দি এলাকার হেলাল মিয়ার ছেলে।

বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) দুপুরে তাদের বিরুদ্ধে ভুক্তভোগী মো. সারোয়ার হোসেন বাদি হয়ে থানায় ডাকাতির মামলা দায়েরের পর নারায়ণগঞ্জ আদালতে পাঠিয়েছে পুলিশ।

স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের বিভিন্ন যানবাহনে ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেই চলছে। গাড়ির দরজা ও জানালার কাচ ভেঙে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে সর্বস্ব লুট করে নিয়ে যায়। ডাকাতরা বিদেশ ফেরত প্রবাসীদের গাড়ি টার্গেট করে ডাকাতি ছিনতাই করে যাচ্ছে। এসব ঘটনায় পুলিশ নির্বিকার হয়ে পড়ে। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় গত এক সপ্তাহ ধরে মহাসড়কের ডাকাতি ও ছিনতাই প্রবণ এলাকায় সন্ধ্যার পর থেকে পাহাড়ার ব্যবস্থা করে পুলিশ।

গত বুধবার (১৪ জানুয়ারি) রাতে ডাকাতদলের তিন সদস্য (নারায়ণগঞ্জ-থ ১১-৫২২৩) নাম্বারের একটি সিএনজি বেবিট্যাক্সি দিয়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মৃধাকান্দী এলাকায় বিভিন্ন পথচারীদের কাছ থেকে টাকা-পয়সাসহ বিভিন্ন মালামাল লুট করে নিয়ে যাচ্ছিল। বিষয়টি টের পেয়ে তাদের ধাওয়া দিয়ে আটক করা হয়। পরে ডাকাতদের ব্যবহৃত সিএনজি চালিত সিএনজি বেবিট্যাক্সিতে আগুন ধরিয়ে দেয় বিক্ষুদ্ধ জনতা। খবর পেয়ে সোনারগাঁ ফায়ার সার্ভিসের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নেভায়।

পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে দুই ডাকাতকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। ডাকাতদের বিরুদ্ধে ভূক্তভোগী মো. সারোয়ার হোসেন বাদি হয়ে মামলা দায়ের করেন।

সোনারগাঁ থানার ওসি মুহিবুল্লাহ জানান, পুলিশ অভিযান চালিয়ে দুই ডাকাতকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। অন্যদের ধরতে অভিযান চলমান রয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের পর আদালতে পাঠানো হয়েছে।


নির্বাচন ঘিরে সীমান্ত সুরক্ষা ও অবৈধ অস্ত্র অনুপ্রবেশ ঠেকাতে বিজিবির সাংবাদ সম্মেলন 

আপডেটেড ১৫ জানুয়ারি, ২০২৬ ১৯:০১
বেনাপোল প্রতিনিধি

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সীমান্ত সুরক্ষা, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার এবং অভ্যন্তরীন আইন শৃংখলা রক্ষায় বিজিবি গৃহীত বিভিন্ন কার্যক্রম নিয়ে যশোর ৪৯ বিজিবি বেনাপোল সদর দপ্তরে সাংবাদিক সম্মেলনের আয়োজন করেন।

বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে যশোর বিজিবির কমান্ডিং অফিসার লেঃ কর্ণেল সাইফুল্লাহ সিদ্দিকী বলেন, সীমান্ত সুরক্ষা আইনের কারনে যশোরের শার্শা এবং চৌগাছা থানা এলাকায় নির্বাচনী কার্যক্রম তদারকি আইন শৃংখলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করে যাচ্ছে বিজিবি। ইতিমধ্যে এই দুটি উপজেলার সবক'টি ভোট কেন্দ্র রেকি করা হয়েছে। নির্বাচনী এলাকার যশোর গোপালগঞ্জ এবং নড়াইল জেলার ১৬টি থানায় ১১টি অস্থায়ী বেজ ক্যাম্প স্থাপন করা হবে। বিজিবি মোবাইল এবং স্টাইকিং ফোর্স হিসাবে দায়িত্ব পালন করবে।

সীমান্তবর্তী শার্শা এবং চৌগাছা উপজেলায় বিজিবি এককভাবে দায়িত্ব পালন করবে। আগামী ২৯ জানুয়ারি থেকে ১লা ফেব্রুয়ারীর মধ্যে নির্বাচনী দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় ফোর্স মোতায়েন করা হবে। বর্তমানে বিজিবি সদস্যরা অপারেশন ডেভিল হান্ট-২ কার্যক্রমে সক্রিয়ভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

পাশাপাশি সীমান্তে টহল জোরদার করা হয়েছে যাতে অবৈধ অস্ত্র দেশে প্রবেশ করতে না পারে। এবং অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার কার্ক্রম জোরদার এবং জনসচেতনতামুলক সভার মাধ্যমে স্থানীয় জনসাধারণ কে সচেতন করার জন্য ইউনিয়ন পর্যায়ে সুশীল সমাজের সাথে মত বিনিময় করা হচ্ছে।


ফেনী নদীর তীব্র ভাঙন রোধে জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে মানববন্ধন

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ফেনী প্রতিনিধি

ফেনীতে ২০২৪ সালের ভয়াবহ বন্যায় মুছাপুর রেগুলেটর ধ্বসে পড়ার পর জোয়ার-ভাটার তীব্র প্রভাবে ছোট ফেনী নদীতে ব্যাপক ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। এতে শত শত বসতঘর ও ফসলি জমি হুমকির মুখে পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে নদীভাঙ্গন রোধ ও বসতঘর রক্ষায় জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণের দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) দুপুরে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে এই মানববন্ধনের আয়োজন করেন ভাঙ্গন কবলিত এলাকার বাসিন্দারা।

মানববন্ধনে সোনাগাজী উপজেলার চর মজলিশপুর ইউনিয়নের চর গোপালগাঁও, চান্দলা, কুঠিরহাট, জলদাপাড়া, মিয়াজী ঘাট, পুরাতন কাজিরহাট জামে মসজিদ সংলগ্ন এলাকাবাসি ও দাগনভূঞা উপজেলার জগতপুর গ্রামের নদীভাঙন কবলিত মানুষ এই কর্মসূচিতে অংশ নেন। পরে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে ভূমি মন্ত্রণালয়ে স্মারকলিপি প্রদান করেন।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, মুছাপুর রেগুলেটর ধ্বসে পড়ার পর থেকে ছোট ফেনী নদীতে জোয়ার–ভাটার চাপ বেড়ে গিয়ে নদীর তীর দ্রুত ভেঙে পড়ছে। ইতোমধ্যে বহু পরিবার তাদের ঘরবাড়ি হারিয়েছে, অনেকে আবার ভিটেমাটি হারানোর আশঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন। দ্রুত কার্যকর প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে সামনে আরও বড় মানবিক বিপর্যয় দেখা দেবে।

অবিলম্বে নদীভাঙ্গন রোধে টেকসই বাঁধ নির্মাণ, মুছাপুর রেগুলেটর সংস্কার এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসনের জন্য জেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেন স্থানীয়রা।


লোহাগাড়ায় অস্ত্রসহ কুখ্যাত সন্ত্রাসী রিফাত আটক

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
লোহাগাড়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি

চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলায় গোপন তথ্যের ভিত্তিতে কুখ্যাত সন্ত্রাসী রিফাত (৩৫) নামে একজনকে আটক করেছে সেনাবাহিনী।

আজ বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) আনুমানিক ৫ টার সময় উপজেলার চরম্বা ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডস্থ তেলিবিলায় লোহাগাড়া আর্মি ক্যাম্প কমান্ডার ক্যাপ্টেন ওলিদ বিন মৌদের (২৬ ইবি) নেতৃত্বে সেনাবাহিনী ও লোহাগাড়া থানা পুলিশ কর্তৃক অবৈধ অস্ত্রধারী রিফাতকে তার নিজ বাড়ি থেকে যৌথ অভিযান পরিচালনা করে তাকে অস্ত্রসহ আটক করা হয়।

আরো জব্দ করা হয়, ২টি এলজি, ৭ টি কার্তুজ, ২ লিটার মদ, ৪টি রাম দা, ৬ টি চাকু, ১টি ড্রোন, ৮টি মোবাইল,৩ টি মেমরি কার্ড, ১টি রকেট প্যারাসুট,ফ্ লেয়ার সিগন্যাল গান, ১টি পেনড্রাইভ, ১টি মোটরসাইকে।

জানা গেছে, সেনাবাহিনীর দীর্ঘদিনের গোয়েন্দা নজরদারির পর গোপন তথ্যের ভিত্তিতে তাকে আটক করা হয়। সে চরম্বা সহ লোহাগাড়ার বিভিন্ন জায়গায় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের মূল হোতা ছিল বলেও জানা গেছে।

ক্যাম্প কমান্ডার ক্যাপ্টেন ওলিদ বিন মৌদের বলেন, উদ্ধারকৃত অস্ত্রসহ আসামিকে লোহাগাড়া থানায় হস্তান্তর করা হয়। উক্ত বিষয়ে আইনী ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

লোহাগাড়া থানার কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবদুল জলিল বলেন, তার বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মামলা হয়েছে। কালকে আদালতে পাঠানো হবে।


কিশোরগঞ্জে বৃদ্ধাকে গলাকেটে হত্যার ঘটনায় দুজন গ্রেপ্তার

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নীলফামারী প্রতিনিধি

নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলায় এক বৃদ্ধাকে গলাকেটে হত্যার ঘটনায় দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব। বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) বিকেলে র‌্যাবের সিনিয়র সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বিপ্লব কুমার গোস্বামী স্বাক্ষরিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- উপজেলার গাড়াগ্রাম ইউনিয়নের জুম্মারপাড় এলাকার ইসমাইল হোসেনের ছেলে মো. এরশাদ আলী (৪৫) ও তার ছেলে মো. সজিব (২২)।

জানা যায়,গাড়াগ্রাম ইউনিয়নের কালিরধান এলাকার প্রয়াত জমসের আলীর স্ত্রী দেলোয়ারা বেগম ওরফে দুলালীর দুই ছেলে-মেয়ে কেউ বাড়িতে থাকেন না। স্বামী মারা যাওয়ার পর থেকে তিনি বাড়িতে একাই থাকতেন। গত ৯ জানুয়ারী দুপুরে তাকে বাড়ির উঠানে গলা কেটে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা।

র‌্যাবের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, এ ঘটনায় ভিকটিমের ভাই হাফিজুল ইসলাম বাদী হয়ে কিশোরগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা দায়ের করে। এরই ধারাবাহিকতায় গতকাল বুধবার (১৪ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় নীলফামারী র‌্যাব-১৩, সিপিসি-২ ও র‌্যাব-৪ এর যৌথ অভিযানে ঢাকা জেলার সাভারের জয়নাবাড়ী এলাকা মামলার তদন্তে প্রাপ্ত পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর তাদের কিশোরগঞ্জ থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।


ইরানে নিহত আড়াই হাজার ছাড়াল, গ্রেপ্তার ১৮ হাজার

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

জীবনযাত্রার ব্যয়বৃদ্ধি ঘিরে দেশ জুড়ে শুরু বিক্ষোভ-প্রতিবাদে উত্তাল ইরান। দমন-প্রতিরোধ এবং সংঘর্ষে এ পর্যন্ত মৃত্যু আড়াই হাজার ছাড়িয়েছে। এছাড়া ১৮ হাজারের বেশি বিক্ষোভকারী গ্রেপ্তার হয়েছেন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মানবাধিকার সংস্থা এইচআরএএনএর বরাতে বুধবার (১৪ জানুয়ারি) এ খবর ছেপেছে দুবাই ভিত্তিক সংবাদমাধ্যম খালিজ টাইমস।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অর্থনৈতিক সংকটের জেরে শুরু হওয়া এই বিক্ষোভ এখন বর্তমান শাসনব্যবস্থা উৎখাতের আন্দোলনে রূপ নিয়েছে। তেহরান থেকে শুরু হওয়া এই অস্থিরতা এখন ইসফাহান ও শিরাজসহ দেশটির প্রধান শহরগুলোতে ছড়িয়ে পড়েছে। তবে ইরান সরকার এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিহতের কোনো সঠিক সংখ্যা প্রকাশ করেনি।

ইরানের সামরিক কমান্ডার আবদুল রহিম মুসাভি অভিযোগ করেছেন যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল দেশটিতে আইএসের সদস্য মোতায়েন করে সন্ত্রাসী হামলা চালাচ্ছে। তেহরানের দাবি, বহিরাগত এই গোষ্ঠীগুলো সাধারণ মানুষের বিক্ষোভকে ছিনতাই করে সহিংসতা উসকে দিচ্ছে। এরই মধ্যে সাড়ে তিনশ মসজিদ এবং দুইশ এম্বুলেন্সসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা আন্দোলনকারীদের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তবে নিরাপত্তা বাহিনী এই বিশৃঙ্খলা দমনে কঠোর অবস্থান নিয়েছে।

এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানি বিক্ষোভকারীদের প্রতি আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন তাদের জন্য শিগগিরই সহায়তা আসছে। ট্রাম্প তেহরানের সঙ্গে পূর্বনির্ধারিত সব বৈঠক বাতিল করে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, বিক্ষোভকারীদের ওপর হামলাকারীদের কঠোর মূল্য দিতে হবে। তিনি এই হত্যাকাণ্ডের জন্য দায়ীদের তালিকা মনে রাখার জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানান।

উল্লেখ্য, ইরানের রিয়ালের রেকর্ড দরপতন এবং ক্রমবর্ধমান জীবনযাত্রার ব্যয়ের প্রতিবাদে শুরু হওয়া এই আন্দোলন গত কয়েক দশকের মধ্যে দেশটির জন্য সবচেয়ে বড় অভ্যন্তরীণ চ্যালেঞ্জ।

একদিকে ট্রাম্পের অব্যাহত হুমকি, অন্যদিকে ইরানের পাল্টা পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি। যতই সময় গড়াচ্ছে ততই যেন বাড়ছে ইরানি মার্কিন হামলার আশঙ্কা। এতে, সংকট আরও ঘনীভূত হওয়ার পাশাপাশি ক্রমশ জটিল হচ্ছে পরিস্থিতি।

গত মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ডে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন ট্রাম্প। এসময় তিনি জানান, ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভে প্রাণহানির প্রকৃত সংখ্যা জেনে দেশটির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে যুক্তরাষ্ট্র। এছাড়া, বিক্ষোভকারীদের কাউকে মৃত্যুদণ্ড দিলে ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেয়ার হুঁশিয়ারি দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ‘ইরান ইস্যুটি আলোচনার টেবিলে। আমরা নিহতদের প্রকৃত সংখ্যা অনুসন্ধানে কাজ করছি। সেই অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা।’

শিগগিরই এক বিক্ষোভকারীকে ইরান মৃত্যুদণ্ড দেবে বলে শঙ্কা জানিয়েছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর। এর আগে, গ্রেপ্তার হওয়া হাজারো বিক্ষোভকারীদের মৃত্যুদণ্ডের বিষয়ে শঙ্কা জানায় জাতিসংঘ।

তেহরানের বিক্ষোভকারীদের দেশপ্রেমিক অভিহিত করে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান ট্রাম্প। যুক্তরাষ্ট্র থেকে সহায়তার আশ্বাসও দেন তিনি। ইরানে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা ও সহিংসতা উস্কে দেয়ার জন্য ট্রাম্পকে দোষারোপ করে জাতিসংঘে চিঠি দিয়েছেন ইরানের প্রতিনিধি।

চলমান উত্তেজনার মাঝেই যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী ইরানের নির্বাসিত যুবরাজের সঙ্গে সাক্ষাত করেন ট্রাম্পের দূত স্টিভ উইটকভ। ফক্স নিউজের এক সাক্ষাৎকারে রেজা পাহলভি, ইরান সরকারের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান জানান।

এদিকে, ধোঁয়াশা কাটছে না সরকারবিরোধী আন্দোলনের মৃতের সংখ্যা নিয়ে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা এইচআরএএন—এর দাবি, ইরানের চলমান আন্দোলনে প্রাণহানির সংখ্যা আড়াই হাজার ছাড়িয়েছে। তবে কানাডাভিত্তিক গণমাধ্যম সিবিসি জানায়, সহিংসতায় প্রাণহানির সংখ্যা ১২ থেকে ২০ হাজার পর্যন্ত হতে পারে।

অন্যদিকে, কয়েকদিন বন্ধ থাকার পর সীমিত পরিসরে স্বাভাবিক হচ্ছে ইরানের ল্যান্ডলাইন ও মোবাইল পরিষেবা। এতে করে বহির্বিশ্বের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছেন তেহরানবাসী। তবে বিচ্ছিন্ন ইন্টারনেট পরিষেবা। এমন অবস্থায় বিনামূল্যে ইন্টারনেট সেবা দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে ইলন মাস্কের স্টারলিংক। স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগ না হওয়ায় উদ্বিগ্ন ইরানের প্রবাসীরা।

যুক্তরাষ্ট্রের পর কানাডার নাগরিকদের ইরান ছাড়ার পরামর্শ দিয়েছে অটোয়া। এছাড়া, ভ্রমণ সতর্কতা জারি করেছে ফ্রান্সও। পাশাপাশি ইউরোপের বেশ কয়েকটি দেশ তেহরানের আন্দোলনে ব্যাপক প্রাণহানির জন্য দেশটির রাষ্ট্রদূতকে তলব করে নিন্দা জানিয়েছে।


বান্দরবানে ইট পোড়াতে উজাড় হচ্ছে বন, সাবাড় হচ্ছে পাহাড়

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বান্দরবান প্রতিনিধি

বান্দরবানের লামা আজিজনগর গজালিয়া এলাকায় সন্ত্রাসীদের পাহারায় চলছে অবৈধ ইটভাটা । এই ইটভাটা টিতে পাহাড় কেটে মাটি ও অবাদে পোড়ানো হচ্ছে বনাঞ্চলের কাঠ। অভিযোগ উঠেছে এসব অবৈধ কর্মকাণ্ডের নেতৃত্ব দিচ্ছেন মোহাম্মদ উল্ল্যাহ আজম খান ও তার দুই পুত্র ফরহাদ ও আলভি।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০০১ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত মোহাম্মদ উল্ল্যাহ আজম খান আজিজ নগর ইউপি চেয়ারম্যান ছিলেন। সেসময় আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় এলাকায় আধিপাত্যের বলয় সৃষ্টি করে নানা অনিয়মের মধ্যে গজালিয়া এলাকায় এসবিএম নামে অবৈধ ইটভাটা পরিচালনা করে আসছেন তিনি। যেখানে বিভিন্ন সশস্ত্র সন্ত্রাসী মজুদ রেখেছেন ইটভাটাটি পাহাড়া দিতে। ফলে এলাকাবাসীরা এদের ভয়ে মুখ খুলতেও সাহস পাচ্ছেন না। আর এসব অবৈধ অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে নতুন করে যুক্ত হয়েছেন তারই পুত্র ফরহাদ হোসেন ও আলভি।

স্থানীয়রা আরও বলেন ৩ পার্বত্য জেলায় অবৈধ সকল ইটভাটা গুড়িয়ে দেওয়ার নির্দেশ ছিল হাইকোর্টের।

অন্যান্য ইটভাটায় অভিযান পরিচালনা করলেও এই ভাটা মালিকের প্রভাব ও টাকা বিনিময়ের কারণে এখনো পর্যন্ত কোন প্রকার অভিযান পরিচালনা করেনি প্রশাসন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একধীক সংবাদকর্মী বলেন, সম্প্রতি অবৈধ ইটভাটার তথ্য সংগ্রহ করতে গজালিয়া এলাকায় আজম খানের এসবিএম ব্রিক ফিল্ডে গেলে, তথ্য সংগ্রহকালে ভাটা মালিক মোহাম্মদ উল্ল্যাহ আজম খানের নির্দেশে তারই ছেলে ফরহাদ ও ম্যানেজার কবিরসহ ভাটা শ্রমীকরা মোবাইল কেড়ে নেয় এবং অধৌত আচরণ করেন। তারা চট্টগ্রামের সাবেক আওয়ামী নেতার ক্যাডার নীতিতে জড়িত থেকে বেশ কয়েকটি হত্যাও করেছিলেন তারা। এখনও কয়েকটি লোক ইটভাটার চুল্লিতে পুড়িয়ে ফেললে কিছু যায় আসে না বলে দাম্ভিকতা প্রকাশ করেন।

এ বিষয়ে ইটভাটা মালিক মোহাম্মদ উল্ল্যাহ আজম খান, ইটভাটাটির অনুমোদন নেই বলে স্বীকার করলেও সাংবাদিকদের সাথে ঘটে যাওয়া লাঞ্চনার ঘটনায় শ্রমীকদের দায়ী করছেন তিনি।

লামা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মঈন উদ্দীন বলেন, তিনি সদ্য যোগদান করেছেন ফলে ক্রমান্বয়ে উপজেলার সবকটি ইটভাটায় অভিযান পরিচালনা করছেন। তবে গজালিয়ার এই এইসবিএম ভাটাটিতে এখনো পর্যন্ত অভিযান পরিচালনা করা হয়নি। এ নিয়ে বান্দরবান পরিবেশ অধিদপ্তরকে একাধিক বার অভিযান পরিচালনা করতে আহ্বান জানানো হলেও তারা আসেননি। তবে অতিশিগ্রই অভিযান পরিচালনা করা হবে বলে জানান তিনি।

বান্দরবান পরিবেশ অধিদপ্তরের সহারী পরিচালক মো. রেজাউল করিম বলেন, জেলায় এই মুহূর্তে কয়টি ইটভাটা চালু আছে তার সঠিক তথ্য তার কাছে নেই। তবে লামা উপজেলার আজিজ নগর, ফাইতং ইউনিয়নসহ ৩১টি ইটভাটা চালু রয়েছে। গজালিয়া ইউনিয়নের আজম উল্লাহ খানের এসবিএম ইটভাটার বিরুদ্ধে মামলা প্রক্রিয়াধীন আছে। জনবল ও লজিস্টিক সংকটের কারণে নিয়মিত অভিযান চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে বলে জানান তিনি।


মাগুরায় ২ কেজি চাল দিয়ে শুরু হয় ভাবির হোটেল 

‘অভাবে দিন যাচ্ছে লজ্জায় কারো কাছে কিছু চাইনে’
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মাগুরা প্রতিনিধি

এটি কোনো ফাইভ স্টার হোটেলের গল্প নয়, এখানে নেই কোনো আলো ঝলমলে ঝাড়বাতি বা রঙিন লাইট। নেই কোনো দামি চেয়ার টেবিল। আছে শুধু অপলকহীন পথের দিকে তাকিয়ে থাকা। কখন একজন কাস্টমার আসবে ভাবির হোটেলে সেই অপেক্ষায়!

প্রায় ১০ বছর আগে মাগুরা সদরের পারনান্দুয়ালী বাস টার্মিনাল এলাকায় বিশ্বরোডসংলগ্ন গড়ে উঠেছে সম্পূর্ণ ঘরোয়া পরিবেশে ফরিদা বেগমের ‘ভাবির হোটেল’ নামে খ্যাত এই হোটেলটি।

টিনের ভাঙাচোরা একটি এক কক্ষবিশিষ্ট মাটির ছাপরা ঘর। চারিপাশে বাঁশের বেড়া। কোনো কোনো পাশের বেড়া আবার ভেঙে পড়ে গেছে। বসার ব্যবস্থা হিসেবে হোটেলে আছে ২/৩টা বেঞ্চ এবং নড়বড়ে টেবিল। সেখানেই পরম মমতায় আপ্যায়ন করা হয় নিজের হাতের রান্না করা দেশিয় চালের ভাত, ডাল, মুরগির গোশ, ভর্তা, ভাজি, মুড়িঘণ্ট ইত্যাদি। প্রতিদিন মাত্র ২ কেজি চাল রান্না করা হয়। কাস্টমারদের কাছে বিক্রি করার পর যে খাবার বেঁচে যায়, তাই খেয়ে বেঁচে থাকেন ফরিদা বেগমের পরিবার।

২১ বছর আগে জীবিকার তাগিদে সাতক্ষীরা থেকে স্বামী আবদুল জলিলের (৫৫) হাত ধরে মাগুরায় এসেছিলেন ফরিদা বেগম (৪৭)। কাজ করতে করতে মাগুরার মায়ায় পড়ে যান তারা আর ফিরে যান নি দেশে। তাদের গ্রামের বাড়িতেও নিজস্ব জমি বলতে তেমন কিছু নেই।

আব্দুল জলিল কারেন্ট মিস্ত্রির কাজ করতেন, আর ফরিদা বেগম বাসা বাড়িতে কাজ শুরু করেন। পারনান্দুয়ালী এলাকায় ২ হাজার টাকায় ভাড়া বাসায় থাকেন তারা। একমাত্র ছেলে সন্তানকে নিয়ে মোটামুটি ভালোই চলছিল সংসার। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাসের কাছে একদিন হার মানতে হয় তাদের। ২০০৭ সালে বিদ্যুতের কাজ করতে গিয়ে ফরিদার স্বামী মারাত্মকভাবে অগ্নি দগ্ধ হয়। তারপর থেকে সে আর কোন কাজ করতে পারে না। তার চিকিৎসার পেছনে প্রচুর টাকা নেমে যায়। এখনো প্রতিদিন ৩০০ টাকার ওষুধ লাগে। অভাবের তাড়নায় ছেলেকেও লেখাপড়া শেখাতে পারেননি। বাসার কাছেই গাড়ি সাড়ার একটি লেদে ছেলেকে কাজে লাগিয়ে দেন।কিন্তু তাতেই বা আর কয় টাকা আসে। সংসার চালাতে আর স্বামীর চিকিৎসার খরচ চালাতে হিমশিম খেয়ে যান ফরিদা বেগম। নানা কষ্ট আর চিন্তাই ফরিদা নিজেই অসুস্থ হয়ে পড়েন। ধরা পড়ে ডায়াবেটিক এবং হাই প্রেসার। এছাড়া হাতে পায়ে ব্যথা অনুভব করেন সব সময়। আগের মতো শরীরে বল পাননা তিনি, তাই বাধ্য হয়ে বাসা বাড়ির কাজ ছেড়ে দিতে হয় তাকে। কিন্তু সংসার তো চালাতে হবে, সেই চিন্তা করে রাস্তার পাশেই পারনান্দুয়ালী এলাকার বাসিন্দা ইকবালের কাছ থেকে ২৫০০ টাকায় ছাপরা ঘর ভাড়া নিয়ে শুরু করেন এই ‘ভাবির হোটেল’। বাস টার্মিনালের পাশে হওয়ায় গাড়ির ড্রাইভার এবং শ্রমিক লেভেলের লোকজন বেশি আসে এখানে। ভাঙ্গা হোটেল দেখে ভদ্র ও শিক্ষিত সমাজের লোকজন এখানে আসেন না বললেই চলে। প্রতিদিন ২ কেজি চাল রান্না করা হয়, বিক্রি করার পর যে খাবার বেঁচে যায়, তাই খেয়ে জীবন বাঁচান ফরিদার পরিবার। দিনে মাত্র পাঁচ ছয় জন কাস্টমার আসে এই হোটেলে।

এই সামান্য টাকায় সংসার কিভাবে চলে তা জানতে চাইলে ফরিদা বেগম দৈনিক বাংলাকে জানান, কি করব, খাবার বিক্রি করে যে টাকা পায় কোনরকমে কষ্টে চলে সংসার। এছাড়া তো আর কিছু করারও নেই। ভিক্ষা করতে তো আর পারি না। লজ্জায় কারো কাছে কিছু চাইনে। বাসা বাড়িতে কাজ করার সময় আগে মানুষ একটু গোশ দিত, কাপড় চোপর দিত, বাসার কাজ ছেড়ে দেয়ার পর এখন আর কেউ কিছু দেয় না। আমার শীতের কোনো কাপড় নেই শাড়ি ছিরে চাদর বানিয়ে তাই গায়ে দিই। কেউ এসে একটা শীতের কাপড় বা কম্বলও দেয়নি।

ফরিদার স্বামী আব্দুল জলিল বলেন, আগুনে পুড়ে যাওয়ার পর পায়ে খুব বেশি জোর দিতে পারি না তাই ভারি কোনো কাজ করতে পারি না। ওষুধ খরচ আর সংসার চালানোর জন্যি নিজেদের খাবারের চাল দিয়েই এই হোটেল চালায়। কিন্তু ২৫ কেজির চাল ১৫-২০ দিনের মধ্যে শেষ হয়ে যায়। এখন চালের দোকানে অনেক দেনা। কাঠের খড়ি কিনে রান্না করতে হয়, সেখানেও অনেক দেনা হয়ে গিছি। দুই মাসের ঘর ভাড়া বাকি, কবে এই টাকা শোধ দিতে পারব জানিনে। দেনার দায়ে হোটেলটাই শেষ পর্যন্ত বন্ধ করে দিতে হবে মনে হয়।

হোটেলের পাশে লেদ মিস্ত্রি রিপন বলেন, অনেকদিন ধরেই ফরিদা বেগম কষ্ট করে এই হোটেল চালান। তারা খুব ভালো মানুষ। প্রশাসন যদি ওনাদের একটু সাহায্য করত তাহলে একটি পরিবার বেঁচে যেত।


রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে নিরাপদ কর্মস্থলের দাবিতে মানববন্ধন

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
রাজশাহী প্রতিনিধি

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) নিরাপদ কর্মপরিবেশের দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় অফিসার সমিতি। বুধবার (১৪ জানুয়ারি) সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত রাবির সিনেট ভবনের সামনে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, একটি মহল পরিকল্পিতভাবে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শান্তিপূর্ণ শিক্ষা ও প্রশাসনিক পরিবেশ অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্র চালিয়ে যাচ্ছে। তারা অভিযোগ করেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ও একাডেমিক কার্যক্রমে বিঘ্ন সৃষ্টির পাশাপাশি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ওপর ন্যাক্কারজনক হামলার ঘটনা ঘটছে। অফিস চলাকালীন সময় ও অফিস শেষে বাড়ি ফেরার পথে কর্মকর্তাদের ওপর হামলা, হয়রানি ও মানসিক নির্যাতনের ঘটনা দিন দিন বেড়েই চলেছে।

বক্তারা আরও বলেন, মব সৃষ্টি করে কর্মকর্তাদের শারীরিকভাবে আঘাত করা ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে কর্মস্থলকে অনিরাপদ করে তোলা হচ্ছে। এর ফলে শুধু কর্মকর্তা-কর্মচারীরাই নয়, পুরো বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বার্থ ও ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

তারা অভিযোগ করে বলেন, শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় দোষীদের বিরুদ্ধে সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হলেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। প্রশাসনের এই নীরবতাকে অফিসার সমিতি তীব্রভাবে নিন্দা ও প্রতিবাদ জানায়।

গত মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) তারিখে অনুষ্ঠিত জরুরি সভায় এ পরিস্থিতির প্রতিবাদে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়, যার অংশ হিসেবেই এই মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়।

মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় অফিসার সমিতির সভাপতি মো. আনোয়ারুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক রিয়াজ উদ্দিন, কোষাধ্যক্ষ আল-আমিন বিদ্যুৎ, প্রচার সম্পাদক আব্দুল মানিক এবং সদস্য রোকসানা বেগম টুকটুকি প্রমুখ।


সুনামগঞ্জে নিন্মতম মজুরি ও শ্রম আইন বাস্তবায়নসহ বিভিন্ন দাবিতে জেলা প্রশাসককে স্মারক লিপি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি

হোটেল ও রেস্তোরাঁ সেক্টরে সরকার ঘোষিত নিম্নতম মজুরির গেজেট অবিলম্বে বাস্তবায়ন, নিয়োগপত্র-পরিচয়পত্র প্রদানসহ ৮ ঘণ্টা শ্রমদিবস কার্যকরের দাবিতে বুধবার (১৪ জানুয়ারি) সকালে জেলা প্রশাসকের নিকট স্মারকলিপি প্রদান করেছে সুনামগঞ্জ জেলা হোটেল রেস্তোরাঁ সেক্টরে সরকার ঘোষিত নিন্মতম মজুরি ও শ্রম আইন বাস্তবায়ন সংগ্রাম পরিষদ সুনামগঞ্জ জেলা কমিটি। স্মারকলিপি গ্রহণ করেন সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক ড. মো. ইলিয়াস মিয়া।

স্মারক লিপি প্রদান কালে উপস্থিত ছিলেন সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক ফবলু মিয়া, যুগ্ম আহ্বায়ক সুরঞ্জিত দাস, টিটু দাস, সদস্য মতিউর রহমান, হুমায়ুন কবির প্রমুখ।

স্মারক লিপিতে উল্লেখ করা হয়, গত ৫ মে ২০২৫ খ্রি. হোটেল ও রেস্তোরাঁ সেক্টরে সরকার ঘোষিত নিন্মতম মজুরির চূড়ান্ত গেজেট ঘোষণা করা হয়। নিয়ম অনুযায়ী যে মাসে গেজেট ঘোষণা হয়, সেই মাস থেকেই ঘোষিত মজুরি কার্যকর করার কথা। অথচ ৯ মাস অতিবাহিত হলেও এখনও পর্যন্ত অধিকাংশ হোটেল ও রেস্তোরাঁ প্রতিষ্ঠানসমূহে ঘোষিত গেজেট বাস্তবায়ন করা হচ্ছে না। সরকার ঘোষিত গেজেট অনুযায়ী মজুরি পরিশোধ করা না হলে শ্রম অধ্যাদেশ-২০২৫ এর ২৮৯-ধারা অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট মালিককে ১ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড এবং ২০ হাজার হতে ৫০ হাজার টাকা জরিমানাসহ গেজেট অনুযায়ী শ্রমিকের সকল বকেয়া পাওনা পরিশোধ করার কথা বলা হয়েছে। সে মোতাবেক সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তর কার্যকর কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করছে না। যে কারণে শ্রমিদের মধ্যে চরম অসন্তোষ ও ক্ষোভ বিরাজমান।

উদ্ভুত পরিস্থিতিতে সরকারে সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জাননো হয়।


ফেনীতে মহাসড়কের পাশে ময়লার ভাগাড়, চলাচলে বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ফেনী প্রতিনিধি

ফেনী-নোয়াখালী জাতীয় মহাসড়কের পাশে দাগনভূঞা পৌরসভার ময়লার ভাগাড়। বর্জ্য নিষ্কাশন ব্যবস্থাপনা না থাকায় পৌর এলাকার সব ময়লা-আবর্জনা ফেলা হয় সেখানে। বিভিন্ন ধরনের পশুপাখি ময়লার স্তূপে বিচরণ ও ঘাটাঘাটি করতে দেখা যায়। পঁচা ময়লা-আবর্জনার তীব্র দুর্গন্ধ ও সেগুলো পোড়ানোর ধোঁয়ায় স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রয়েছেন জনসাধারণ।

স্থানটি পার হওয়ার সময় ভোগান্তি পোহাতে হয় পথচারী ও যানবাহন যাত্রীদের। এ সময় হাত দিয়ে নাক-মুখ বন্ধ করে রাখেন তারা। স্থানটি অতিক্রম করার সময় গাড়ির গতি বাড়িয়ে দেন চালকরা। এতে দুর্ঘটনা ঘটেছে কয়েকবার। বিষয়টি নিয়ে এলাকাবাসী ক্ষুব্ধ হলেও এখন পর্যন্ত কোনো প্রতিকার পাননি।

জানা যায়, গত তিন বছর ধরে দাগনভূঞা পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ড কৃষ্ণরামপুরের এই জায়গাটিতে প্রতিনিয়ত ময়লা-আবর্জনা ফেলা হচ্ছে। এতে স্থানটি এখন ময়লার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। ছড়িয়ে পড়া জীবাণুর কারণে স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেকে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। শ্বাসকষ্ট, অ্যাজমা, এলার্জিসহ বিভিন্ন রোগের ঝুঁকিতে রয়েছে জনসাধারণ। অবস্থা এতটাই বেগতিক যে, অনেকেই এলাকা ছাড়ার পরিকল্পনা করছেন। ময়লার দুর্গন্ধে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, যানবাহনের যাত্রী, অফিসগামী কর্মকর্তা-কর্মচারী ও স্থানীয় এলাকাবাসী মারাত্মক দুর্ভোগের সম্মুখীন হচ্ছেন। এ বিষয়ে প্রতিবাদ করতে গিয়ে একাধিকবার অপ্রীতিকর ঘটনাও ঘটেছে।

আবর্জনার কারণে স্বাস্থ্যঝুঁকিতে থাকা লোকজন বিভিন্ন সময়ে ততকালীন পৌর মেয়রের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েও কোনো ফল পাননি। যদিও পৌর কর্তৃপক্ষ দাবি করেছিলেন শিগগিরই এ সংকট কেটে যাবে।

পথচারী ও স্থানীয় এলাকাবাসী জানান, ময়লার স্তূপে সারাদিন মশা-মাছি ভনভন করে। পঁচা-আবর্জনা আর সেগুলো পোড়ানোর ধোঁয়ার তীব্র গন্ধে চলাচল করতে কষ্ট হয়। গাড়ি চালকরা স্তূপের পাশ দিয়ে দুর্গন্ধের কারণে দ্রুত গাড়ি চালিয়ে চলে যেতে হয়। এতে অনেক সময় দুর্ঘটনা ঘটে। ময়লা-আবর্জনা উন্মুক্ত স্থানে ফেলায় বাতাসের মাধ্যমে বিভিন্ন রোগ জীবাণু ছড়াচ্ছে। নাকে হাত দিয়ে চলতে হচ্ছে। এছাড়া ময়লার ভাগাড়ের কারণে নষ্ট হচ্ছে পরিবেশ।

দাগনভূঞা উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও পৌর প্রশাসক মো. শাহীদুল ইসলাম বলেন, রাস্তার পাশে যে ময়লাটা ফেলা হয় এটা আমরা অনেকটা বাধ্য হয়ে ফেলতে হয়। আমাদের এখানে একটি ডাম্পিং স্টেশন করার পরিকল্পনা আছে। সেটা নিয়ে আমরা কাজ করছি। আমরা কিছু জায়গা পেয়েছি। সেটা আমরা পরিদর্শন করেছি। অল্প সময়ে যদি আমরা ডাম্পিং স্টেশনের কাজ শুরু করতে পারি। তাহলে ময়লাগুলো সেখানে ফেলবো।

সড়কের পাশে বর্জ্য নিষ্কাশন বন্ধ করে জনসাধারণকে স্বাস্থ্যঝুঁকি থেকে রক্ষা ও সমস্যা সমাধানে সরকার দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন এমনটি প্রত্যাশা স্থানীয়দের।


মৌলভীবাজারে বিজিবির বড় সাফল্য

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কুলাউড়া (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি

মৌলভীবাজারে সীমান্ত সুরক্ষা, চোরাচালান ও মাদকদ্রব্য দমন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং দুর্যোগকালে উদ্ধার কার্যক্রমে নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপ তুলে ধরে সংবাদ সম্মেলন করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। বুধবার (১৪ জানুয়ারি) দুপুরে শ্রীমঙ্গল ব্যাটালিয়নের (৪৬ বিজিবি) ব্যবস্থাপনায় উত্তর-পূর্ব রিজিয়ন, সরাইলের উদ্যোগে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন শ্রীমঙ্গল সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার কর্নেল বি এম তৌহিদ হাসান।

তিনি জানান, সরাইল রিজিয়নের অধীন দায়িত্বপূর্ণ ১ হাজার ২০৪ কিলোমিটার সীমান্ত এলাকায় চারটি সেক্টরের আওতায় ১৩টি ইউনিট নিরলসভাবে কাজ করছে। গত ১ নভেম্বর ২০২৫ থেকে অদ্যাবধি পরিচালিত চোরাচালানবিরোধী অভিযানে ৭২ জন আসামিসহ ১৬৪ কোটি ১৯ লাখ ৫০ হাজার ৪৭২ টাকা মূল্যের চোরাচালানি মালামাল জব্দ করা হয়েছে। একই সময়ে ৫ কোটি ৪৭ লাখ ৩০ হাজার ২৯২ টাকা মূল্যের মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়।

এ ছাড়া অভিযানে ২টি বিদেশি পিস্তলসহ ৫টি আগ্নেয়াস্ত্র, ২টি ম্যাগাজিন, ২ রাউন্ড গোলাবারুদ ও ২৪টি ডেটোনেটর উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

কর্নেল তৌহিদ হাসান আরও বলেন, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সীমান্ত এলাকায় টহল জোরদার করার পাশাপাশি গোয়েন্দা নজরদারিও বাড়ানো হয়েছে- যাতে যেকোনো ধরনের অপরাধ ও নাশকতা প্রতিরোধ করা যায়। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন শ্রীমঙ্গল ব্যাটালিয়নের (৪৬ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সরকার আসিফ মাহমুদসহ বিজিবির উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।


বেনাপোলে মিথ্যা ঘোষণায় আমদানি করা ইলিশ মাছের চালান আটক

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বেনাপোল প্রতিনিধি

বেনাপোল স্থলবন্দরে মিথ্যা ঘোষণায় বিপুল পরিমাণ ভারতীয় ইলিশ মাছের জ্বালা আটক করেছে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। পণ্য চালান টিতে সাদা মাছের সাথে ঘোষণা বহির্ভূত প্রায় সাড়ে ৩ টন ইলিশ মাছ আমদানি করা হয়েছে। মিথ্যা ঘোষণায় আমদানি করা পণ্যের চালানের সাথে পরীক্ষণ সুপারেন্টেনডেন্ট এর জোকসাজেস থাকতে পারে বলে অভিযোগ করছেন ব্যবসায়ীরা পচনশীল পণ্য বিবেচনায় নিয়ে অন্যান্য মাছগুলি খালাসের ব্যবস্থা করা হলেও ইলিশ মাছ বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। গত মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) রাতে বেনাপোল কাস্টমস হাউসের ৩১ নম্বর কাঁচামালের শেডে গোপন তথ্যের ভিত্তিতে চালানটি আটক করা হয়। আমদানিকৃত দুটি ভারতীয় ট্রাক (WB25K-3029 ও WB11E-5027) থেকে পণ্য খালাসের সময় সন্দেহ দেখা দিলে বেনাপোল কাস্টমসের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে কায়িক পরীক্ষা চালানো হয়। কায়িক পরীক্ষায় ঘোষণাপত্রে ‘সুইট ফিস’ বোয়াল, ফলিও ও বাঘাইর মাছ উল্লেখ থাকলেও বাস্তবে ২২৫ প্যাকেজের মধ্যে ৫৪ প্যাকেজে পাওয়া যায় প্রায় সাড়ে ৩ টন ভারতীয় ইলিশ। যার বাজার মূল্য প্রায় ৩০ লাখ টাকা। ঘোষণার সঙ্গে পণ্যের এই স্পষ্ট অমিলের কারণে পুরো চালানটি তাৎক্ষণিকভাবে জব্দ করা হয়।

পণ্য চালানটির ভারতীয় রপ্তানিকারক ছিল মেসার্স আরজে ইন্টারন্যাশনাল আমদানিকারক বাংলাদশের সাতক্ষীরার মেসার্স জান্নাত এন্টারপ্রাইজ। উভয় পক্ষের সমন্বয়েই ঘোষণাপত্রে পণ্যের প্রকৃতি গোপন রেখে উচ্চমূল্যের ও নিয়ন্ত্রিত পণ্য কম শুল্কে খালাসের চেষ্টা করা হচ্ছিল বলে কাস্টমস সূত্রে জানা গেছে।

বেনাপোল কাস্টমস হাউসের কমিশনার মোহাম্মদ ফাইজুর রহমান বলেন, ঘোষণাপত্রের সঙ্গে পণ্যের প্রকৃত অবস্থার স্পষ্ট অমিল পাওয়া গেছে, যা শুল্ক আইনের গুরুতর লঙ্ঘন। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। আমদানিকারক, সি অ্যান্ড এফ এজেন্টসহ সংশ্লিষ্ট সবাই তদন্তের আওতায় রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, কাস্টমসের কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী যদি এই ধরনের অনিয়মে জড়িত থাকেন, তদন্তে তা প্রমাণিত হলে তাদের বিরুদ্ধেও আইন ও বিধি অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ বিষয়ে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না।


banner close