চকরিয়া উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যানপদপ্রার্থী ফজলুল করিম সাঈদী যান চলাচল বন্ধ করে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে পথসভা করেছেন। গতকাল রোববার রাতে চকরিয়া পৌরশহরের কাজী মার্কেট চত্বরে মঞ্চ তৈরি করে এ পথসভা করা হয়। জনসমাগমে সড়ক ও মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকে প্রায় ৩ ঘণ্টা।
উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের আচরণবিধি অনুযায়ী, জনগণের চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হয় এমন কোনো সড়কে জনসভা কিংবা পথসভা করা যাবে না। প্রার্থীদের পক্ষে কোনো ব্যক্তিও অনুরূপ জনসভা ও পথসভা করতে পারবেন না। কোনো পথসভা করতে হলে কমপক্ষে ২৪ ঘণ্টা আগে সভার জায়গা ও সময় সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্তৃপক্ষকে অবহিত করতে হবে, যাতে ওই স্থানে চলাচল ও আইনশৃঙ্খলার জন্য পুলিশ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারে। এটি উপজেলা নির্বাচন আচরণবিধির ৭ ধারায় সুস্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে; কিন্তু এ ক্ষেত্রে কোনো বিধান মানেনি উপজেলা চেয়ারম্যানপ্রার্থী ফজলুল করিম সাঈদি।
সড়কের দুই পাশে বাঁশ দিয়ে যান ও জনসাধারণের চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়। সন্ধ্যা ৬টা থেকে কর্মী-সমর্থকরা মিছিল নিয়ে পথসভায় জড়ো হন। এ সময় মহাসড়কের একপাশে যানবাহন ও মানুষের চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। রাত ১০টার দিকে পথসভা শেষ হলে সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। বিকল্প রাস্তা না থাকায় লোকজন ধাক্কাধাক্কি করে কোনো রকমে চলাচল করে। এতে চুরি ছিনতাইয়ের মতো একাধিক ঘটনাও ঘটে।
চেয়ারম্যানপ্রার্থী ফজলুল করিম সাঈদির এ পথসভায় বক্তব্য দেন কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সালাহ উদ্দিন, চকরিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক গিয়াস উদ্দিন, চকরিয়া পৌরসভার মেয়র আলমগীর চৌধুরী, আওয়ামী লীগ নেতা সরওয়ার আলম, উপজেলা যুবলীগের সভাপতি শহীদুল ইসলাম ও পৌর যুবলীগের সভাপতি হাসানগীর হোছাইন।
চকরিয়া পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ নেতা জসিম উদ্দিনের সভাপতিত্বে এ পথসভা অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনী আচরণবিধি বিষয়ে জানতে তার সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘মহাসড়কে পথসভা হয়নি। মার্কেটের গাড়ি পার্কিং ও পাশের সড়কে হয়েছে। এর কারণে যানবাহন ও মানুষের চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে, তা ঠিক। তবে বিষয়টি সম্পূর্ণ চেয়ারম্যানপ্রার্থী সাঈদী দেখবেন।
কক্সবাজারগামী এক পর্যটক বলেন, ‘এ সড়কটি কক্সবাজারের সঙ্গে সারা দেশের যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম। কিন্তু নির্বাচনে প্রার্থীর লোকজন পথসভা করেছেন। এ সভার কারণে যানজটের কবলে পড়ে চকরিয়া পৌরশহর পার হতে প্রায় ৪০ মিনিট সময় লেগেছে।’ এ ব্যাপারে বক্তব্য নিতে চেয়ারম্যান প্রার্থী ফজলুল করিম সাঈদীর সঙ্গে ফোনে কথা বললে তিনি বলেন, ‘কাজী মার্কেট চত্বরের গাড়ি পার্কিংয়ের জন্য নির্ধারিত স্থানে পথসভা করা হয়েছে। আমার জনপ্রিয়তা আছে, জনসমাগম হয়েছে। তবে মহাসড়কে পথসভা করিনি। তারপরও জনসাধারণের সুবিধার্থে আমরা সভা দীর্ঘ করিনি।
মহাসড়কে পথসভার বিষয়ে জানতে চাইলে চকরিয়া থানার ওসি শেখ মোহাম্মদ আলী বলেন, ‘মহাসড়কে পথসভা করার খবর জানা নেই। এ বিষয়ে নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তাকে অবহিত করলে তিনি ব্যবস্থা নেবেন। মহাসড়কে পথসভা করে যানবাহন ও মানুষের চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়।’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. ফখরুল ইসলাম বলেন, ‘এ বিষয়ে আমার জানা নেই। খোঁজখবর নিয়ে সত্যতা পেলে আচরণ বিধিমালা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ আগামী ২১ মে চকরিয়া উপজেলা পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে চারজন, ভাইস চেয়ারম্যান পদে ছয়জন ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে তিনজন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
কেশবপুরে মাসিক এনজিও সমন্বয় কমিটির সভা হয়েছে। সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের সভাকক্ষে এ সভা হয়। এতে উপজেলার বিভিন্ন এনজিও কর্মকর্তারা অংশগ্রহণ করেন।
সভায় সভাপতির বক্তব্য প্রদান করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার রেকসোনা খাতুন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কেশবপুর সহকারী কমিশনার ভূমি কাজী মেশকাতুল ইসলাম। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন দুঃস্থ শিশু শিক্ষা উন্নয়ন সংস্থার পরিচালক মো. হারুনার রশীদ বুলবুল।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার রেকসোনা খাতুন বলেন, কেশবপুর উপজেলার সার্বিক উন্নয়নে সরকারি প্রতিষ্ঠান ও এনজিওগুলোর সমন্বিত প্রচেষ্টা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি মানবাধিকার সুরক্ষা, দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের সহায়তা, নারীর ক্ষমতায়ন এবং বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে সক্রিয় ভূমিকা গ্রহণের আহ্বান জানান। এছাড়া তিনি সকল এনজিওকে নিয়মিত মাসিক সমন্বয় সভায় অংশগ্রহণ করে নিজেদের কার্যক্রম তুলে ধরার জন্য অনুরোধ জানান।
দুঃস্থ শিশু শিক্ষা উন্নয়ন সংস্থার পরিচালক হারুনার রশীদ বুলবুল বলেন, উপজেলার উন্নয়ন কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করতে এনজিওগুলোর মধ্যে সমন্বয় ও সহযোগিতা জরুরি। বিশেষ করে ঝুঁকিপূর্ণ শিশুদের শিক্ষার নিশ্চয়তা, ঝরে পড়া শিক্ষার্থীদের পুনর্বাসন এবং দরিদ্র পরিবারের শিশুদের মানসম্মত শিক্ষাসেবা পৌছে দিতে এনজিওদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করা প্রয়োজন।
সভায় মানবসেবা ও সামাজিক সংস্থা-এর পরিচালক জুবায়ের হাসান রাকিব সংস্থার বিভিন্ন কার্যক্রম উপস্থাপন করেন। সংস্থাটি ২০২১ সালে কেশবপুরের সাগরদাঁড়ি কপোতাক্ষ নদের পাড়ে প্রতিষ্ঠিত একটি স্বাধীন, সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা। সংস্থার স্লোগান: ‘আমরা মানুষের সেবা করি– আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য’। তারা বন্যার্তদের সহায়তা, অসহায় শিশুদের শিক্ষা, নারী পাচার প্রতিরোধ, বৃক্ষরোপণ, মাদকমুক্ত সমাজ গঠন এবং দরিদ্র কৃষকের সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনা করে।
সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন সমাধান এনজিও’র সিনিয়র ম্যানেজার মুনছুর আলী, রিইব এনজিও’র সমন্বয়ক খালিদ হাসান, সুবোধ মিত্র মেমোরিয়াল অটিজম ও প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. সিরাজুল ইসলাম, এস আর যুব ও সমাজকল্যাণ সংস্থার পরিচালক গোলাম কিবরিয়া, মায়া পরিবেশ উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের পরিচালক মো. মিলন হোসেন, ভাব-এর ফিল্ড অফিসার কামরুজ্জামান রাজু, পল্লী মঙ্গল কর্মসূচির বুলবুল ইসলামসহ বিভিন্ন এনজিও কর্মকর্তারা।
নবম পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশসহ ৭ দফা দাবিতে নওগাঁয় বিক্ষোভ ও কর্মবিরতি করেছেন বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মচারিরা। সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারী দাবি আদায় ঐক্য পরিষদের ব্যানারে সকাল ৯টায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে জড়ো হন বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মচারীরা। পরে একটি বিক্ষোভ মিছিল করেন তারা।
এদিকে সকাল ৯টা থেকে ১১টা পর্যন্ত বিভিন্ন দপ্তরের ২ ঘণ্টা সেবা কার্যক্রম বন্ধ থাকে। ফলে সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষ ভোগান্তিতে পড়েন।
জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে সেবা নিতে আসা সাইফুল ইসলাম জানান, তিনি খাস জমির বন্দোবস্ত কাজ করার জন্য রাজস্ব শাখায় আসেন। আজকে সেই কাজের শেষ তারিখ। কিন্তু তিনি সকালে এসে দেখেন সরকারি কর্মচারীরা পে-স্কেলের দাবিতে আন্দোলন করছেন। কেউ অফিসে নেই।
আদালতে সেবা নিতে আসা রহিদুল সরকার বলেন, ‘দেওয়ানি মামলার আপিল শুনানি ছিল তার। তাই সকল কাগজপত্রাদি ঠিক করার প্রয়োজন ছিল। কিন্তু এসে দেখেন কোন কর্মচারী তার অফিসে নেই। আজকে শুনানী না হয় তাহলে অনেক সমস্যায় পড়তে হবে।’
এ সময় আন্দোলকারীরা বলেন, সরকারি কর্মচারীরা দীর্ঘদিন ধরে বৈষম্যহীন বেতন কাঠামোর দাবি জানাচ্ছেন। কিন্তু এ সরকার পে-স্কেল দিতে নানা টালবাহানা শুরু করেছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের বাজারে সরকারি কর্মচারীরা যে বেতন পায় দিয়ে পরিবার-পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। সরকার বিভিন্ন দাবি মেনে নিলেও কর্মচারীদের পে-স্কেল দিচ্ছে না। তাই এবার সরকারি কর্মচারীরা দ্রুত নবম পে-স্কেল বাস্তবায়ন এবং বেতন বৈষম্য দূরীকরণ করেই ঘরে ফিরবে। দ্রুত দাবি না মানলে নির্বাচন বয়কটের ঘোষণার হুশিয়ারি দেন তারা।
আন্দোলকারীরা হাফিজুর রহমান শুভ বলেন, ‘নো পে-স্কেল নো ইলেকশন। আমরা কোন নির্বাচনের দায়িত্ব পালন করব না। আমরা কোন ভোট দেবো না। আমাদের দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আমরা ঘরে ফিরে যাব না।’
আরেক আন্দোলনকারী নাহিদ আল-সালাম বলেন, ‘আমাদেরকে আশ্বাসের নামে মুলা দেখানো হচ্ছে। পে-স্কেল বাস্তবায়নে সরকার কমিশন গঠন করেও বাস্তবায়ন করতে পারছে না। এখন বলা হচ্ছে নির্বাচিত সরকারের দায়িত্ব। তাহলে কেন এ সরকার কমিশন গঠন করলো। ৫ আগস্টের পর বৈষম্য দূর করার জন্য আপনাদেরকে বসানো হয়েছে। আবারো যদি বৈষম্য করেন তাহলে একইভাবে টেনেহেঁচড়ে নামাবে মানুষ।’
আন্দোলকারীদের ৭ দফার মধ্যে আছে, ২০১৫ সালের পে-স্কেলের গেজেটে হরণকৃত তিনটি টাইম স্কেল ও সিলেকশন গ্রেড পুনর্বহাল, বেতন জ্যেষ্ঠতা রক্ষা, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে গ্রাচুইটির পাশাপাশি পেনশন প্রবর্তন এবং গ্রাচুইটির হার ৯০ শতাংশের পরিবর্তে ১০০ শতাংশ নির্ধারণের দাবি।
স্বনামধন্য কৃষি বিজ্ঞানী ড. মুহাম্মদ আতাউর রহমান বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বারি) এর নতুন মহাপরিচালক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। কৃষি মন্ত্রণালয় জারিকৃত আদেশ বলে তিনি বারি’র মহাপরিচালক (রুটিন দায়িত্ব) পদে নিয়োগপ্রাপ্ত হন। এর আগে ড. মুহাম্মদ আতাউর রহমান বারি’র পরিচালক (গবেষণা) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
ড. মুহাম্মদ আতাউর রহমান ১৯৯২ সালে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটে বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা হিসেবে যোগদান করেন। এরপর তিনি নিয়মিতভাবে
ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা, প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা, মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা এবং পরিচালক (প্রশিক্ষণ ও যোগাযোগ) পদে পদোন্নতি প্রাপ্ত হন।
তিনি জাপানের কিউসু বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ২০০৫ সালে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। তিনি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রশিক্ষণ, সেমিনার, সিম্পোজিয়াম ও ওয়ার্কশপ যোগদানের উদ্দেশ্যে নেপাল, ভারত, ভূটান, জাপান, থাইল্যান্ড, অস্টেলিয়া ও মালেশিয়া ভ্রমণ করেছেন।
এছাড়াও দেশি বিদেশি বিভিন্ন সায়েন্টিফিক জার্নালে নিয়মিতভাবে বৈজ্ঞানিক প্রবন্ধ প্রকাশ করেন। ড. মুহাম্মদ আতাউর রহমান ১৯৬৭ সালে দিনাজপুর জেলার এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্ম গ্রহণ করেন। ব্যক্তিগত জীবনে ২ সন্তানের জনক।
দুর্নীতি প্রতিরোধে পারিবারিক ভূমিকার গুরুত্ব তুলে ধরতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে দুর্নীতিবিরোধী বিতর্ক প্রতিযোগিতা হয়েছে।
সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) সকালে উপজেলা পরিষদের পুরনো হলরুমে দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটি (দুপ্রক), নবীনগর উপজেলা শাখার উদ্যোগে এ প্রতিযোগিতা হয়। এবারের বিতর্কের প্রতিপাদ্য ছিল— ‘দুর্নীতিবিরোধী মনোভাব সৃষ্টিতে পরিবারের ভূমিকাই মুখ্য’।
আয়োজকরা জানান, এ ধরনের আয়োজন শিক্ষার্থীদের মধ্যে সততা, নৈতিকতা ও দুর্নীতিবিরোধী চেতনা বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
প্রতিযোগিতায় লটারির মাধ্যমে পক্ষ ও বিপক্ষ দল নির্ধারণ করা হয়। এতে পক্ষে অংশগ্রহণ করে বিটঘর রাধানাথ উচ্চ বিদ্যালয় এবং বিপক্ষে অংশ নেয় নবীনগর ইচ্ছাময়ী পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়। এর আগে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণে ক ও খ গ্রুপের বাছাই পর্ব হয়।
দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটি (দুপ্রক), নবীনগর উপজেলা শাখার সভাপতি আবু কামাল খন্দকারের সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন নবীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন দুপ্রকারের উপজেলা শাখার সদস্যসচিব মোহাম্মদ হোসেন শান্তি।
শুরুতেই উপজেলা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ আল মামুন শিক্ষার্থীদের শপথবাক্য পাঠ করান। বিতর্ক প্রতিযোগিতায় মডারেটরের দায়িত্ব পালন করেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম লিটন। বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন কান্তি কুমার ভট্টাচার্য, মোশাররফ হোসেন ও আশিষ কুমার গুহ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন আব্বাস উদ্দিন হেলাল।
বিতর্ক প্রতিযোগিতায় নবীনগর সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বিজয়ী হয়। পরে অতিথিরা বিজয়ীদের হাতে চ্যাম্পিয়ন ট্রফি তুলে দেন।
কুষ্টিয়া জেলার ভেড়ামারা উপজেলায় দিনব্যাপী কৃষি প্রযুক্তি মেলা শুরু হয়েছে। এ উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র্যালি বের করা হয়। সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) কৃষি প্রযুক্তি মেলায় প্রধান অতিথি ছিলেন যশোর অঞ্চল কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর অতিরিক্ত পরিচালক কৃষিবিদ আলমগীর বিশ্বাস, বিশেষ অতিথি ছিলেন যশোর অঞ্চলে টেকসই কৃমি সাম্প্রসারণ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক কৃষিবিদ রবিউল ইসলাম। এতে আরোও ছিলেন ভেড়ামারা উপজেলা নির্বাহী অফিসার রফিকুল ইসলাম, ভেড়ামারা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি), ডা. গাজী আশিক বাহার, প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভেড়ামারা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মাহমুদা সুলতানা, অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন কুষ্টিয়া খামারবাড়ি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর উপপরিচালক কৃষিবিদ ড. শওকত হোসেন ভূঁইয়া, সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা রাশেদ হাসান, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মিজানুর রহমান, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা ইমদাদুল হক বিশ্বাস প্রমুখ।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহমুদা সুলতানা বলেন, সোমবার থেকে শুরু হওয়া এই মেলা চলবে বুধবার পর্যন্ত। ৩ দিন ব্যাপী এই মেলায় সরকারি দপ্তর ছাড়াও কৃষি উদ্যোক্তাদের স্টল স্থান পেয়েছে। এসব স্টলে কৃষি ও কৃষকের ফসল উৎপাদনের জন্য আধুনিক সব প্রযুক্তি ছাড়াও কৃষকদের উৎপাদিত উন্নত ও হাইব্রীড জাতের নানা ফসল প্রদর্শন করা হয়েছে।
বেকার যুবদের কর্মসংস্থান ও তাদের দক্ষতা উন্নয়নে ঝিনাইদহে দিনব্যাপী চাকরি মেলা ও সেমিনার হয়েছে। ঝিনাইদহ টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের আয়োজনে দিনব্যাপী কলেজ ক্যাম্পাসে এ মেলা হয়। সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) সকালে এ অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন ঝিনাইদহ চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি মোয়াজ্জেম হোসেন। কলেজ অধ্যক্ষ আনিচুর রহমান মৃধা শৈলকুপা সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজের অধ্যক্ষ প্রকৌশলী আল আলাউদ্দিন, সিআইডির সহকারী পুলিশ সুপার মতিয়ার রহমানসহ অন্যরা ছিলেন।
আয়োজকরা জানান, দিনব্যাপী মেলায় বেসরকারি ও বিভিন্ন সংস্থার ২০টি স্টলে বেকার যুবদের জীবনবৃত্তান্ত গ্রহণ ও সরাসরি ভাইভা গ্রহণ করা হয়। চাহিদা অনুযায়ী যুবদের চাকরি দেওয়া হবে। এবার এই মেলা থেকে ২ শতাধিক যুবক-যুবতীদের কর্মসংস্থানের আশা।
এক সময় যে অফিসের নাম শুনলে সাধারণ মানুষের চোখে ভেসে উঠত দালালদের দৌরাত্ম্য আর নথিপত্রের পাহাড়! সেই ত্রিশাল উপজেলা ভূমি অফিস এখন বদলে যাওয়ার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। অনিয়ম আর পুরোনো সংস্কৃতি ভেঙে সেখানে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা। পরিবর্তনের এই কারিগর আর কেউ নন বর্তমান সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাহবুবুর রহমান। তার সাহসী ও জনবান্ধব পদক্ষেপের ফলে ত্রিশাল ভূমি অফিস এখন সাধারণ মানুষের কাছে এক আস্থার ঠিকানায় পরিণত হয়েছে।
তিনি দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে মধ্যস্বত্বভোগী ও দালালচক্রের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি ঘোষণা করেন। তার কঠোর অবস্থানের কারণে অফিসের বারান্দা থেকে উধাও হয়েছে দালালদের আনাগোনা। এখন সেবাগ্রহীতারা কোনো মাধ্যম ছাড়া সরাসরি তার সঙ্গে কথা বলতে পারছেন। বিশেষ করে ই-নামজারি বা মিউটেশন প্রক্রিয়ায় তিনি যে গতি এনেছেন, তা উপজেলার মানুষের মাঝে ব্যাপক স্বস্তি তৈরি করেছে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ফাইল নিষ্পত্তি এখন এই অফিসের নিয়মিত অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। তিনি নিয়মিত আয়োজন করছেন ‘গণশুনানি’। এখানে কেবল অভাব-অভিযোগ শোনা হয় না, বরং আইনি জটিলতা নিরসনে তাৎক্ষণিক সমাধানও দেওয়া হয়।
সরেজমিনে দেখা গেছে, এসিল্যান্ড নিজেই সাধারণ মানুষের পাশে বসে তাদের সমস্যার কথা শুনছেন। এই সরাসরি যোগাযোগব্যবস্থার ফলে অফিসের কর্মচারীদের মধ্যেও তৈরি হয়েছে কাজের দায়বদ্ধতা। ফলে অনৈতিক লেনদেনের পথ পুরোপুরি রুদ্ধ হয়েছে। মাঠপর্যায়ে কঠোর অবস্থান ও জনস্বার্থ রক্ষা শুধু অফিস কক্ষেই সীমাবদ্ধ নয়। তার নেতৃত্বে গত কয়েক মাসে ব্রহ্মপুত্র নদ ও ফসলি জমি রক্ষায় অবৈধ বালু উত্তোলন ও মাটি কাটার বিরুদ্ধে চালিয়ে একের পর এক ঝটিকা অভিযান। এছাড়া সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা রক্ষায় নিত্যপণ্যের বাজার ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে নিশ্চিত করেছেন শৃঙ্খলা। উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে আসা সেবাগ্রহীতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে আগে যেখানে একটি কাজের জন্য মাসের পর মাস ঘুরতে হতো, এখন সেখানে অত্যন্ত সম্মানের সাথে দ্রুত সেবা পাওয়া যাচ্ছে।
সাফল্যের এই ধারাবাহিকতা নিয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘প্রশাসন হচ্ছে জনগণের সেবক। আমার লক্ষ্য সরকারি সেবা নিতে এসে কোনো মানুষ যেন হয়রানির শিকার না হয়। ভূমিসেবাকে শতভাগ স্বচ্ছ এবং দুর্নীতিমুক্ত করতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।’
চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুড়িং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) বিদেশি প্রতিষ্ঠানকে ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে কঠোর আন্দোলনে নেমেছে বন্দর শ্রমিক-কর্মচারীরা। আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় সোমবার বিকেলে নগরীর আগ্রাবাদে বিশাল কালো পতাকা মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশ থেকে শ্রমিক-কর্মচারী ঐক্য পরিষদ আগামীকাল মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১১টা থেকে বন্দর এলাকায় সর্বাত্মক অবরোধ কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছে। মূলত বন্দরের স্বার্থ রক্ষা এবং শ্রমিকদের অধিকার আদায়ের লক্ষ্যেই এই কঠোর কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে বলে সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
সোমবার বিকেলে আগ্রাবাদ বাদামতলের আক্তারুজ্জামান সেন্টার চত্বরে আয়োজিত সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি এস কে খোদা তোতন। সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শ্রম সংস্কার কমিশনের সদস্য ও টিইউসি চট্টগ্রাম জেলা কমিটির সভাপতি তপন দত্ত অভিযোগ করেন, গত সাত মাস ধরে এনসিটি ইজারা না দেওয়ার পক্ষে যৌক্তিক দাবি উপস্থাপন করা হলেও অন্তর্বর্তী সরকার বা বন্দর কর্তৃপক্ষ কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি। উল্টো শ্রমিকদের আন্দোলন নস্যাৎ করতে দমন-পীড়নের পথ বেছে নেওয়া হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে সম্প্রতি ১৬ জন শ্রমিককে স্ট্যান্ড রিলিজের মাধ্যমে অন্যত্র বদলি করা হয়েছে, যা শ্রমিকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।
সমাবেশে বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের নেতারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ভয়ভীতি প্রদর্শন বা বদলি করে এই ন্যায়সঙ্গত আন্দোলন থামানো যাবে না। তারা অবিলম্বে ১৬ শ্রমিকের বদলি আদেশ প্রত্যাহার এবং এনসিটি ইজারার চুক্তি প্রক্রিয়া থেকে সরে আসার জন্য কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানান। অন্যথায় মঙ্গলবার বেলা ১১টা থেকে সিমেন্স হোস্টেল ও ইসহাক ডিপো পয়েন্টে বন্দর অবরোধের মাধ্যমে সকল কার্যক্রম অচল করে দেওয়া হবে বলে তারা সতর্ক করেন। একই সাথে টানা তিন দিন সফলভাবে কর্মবিরতি পালন করায় সাধারণ শ্রমিকদের ধন্যবাদ জানান নেতৃবৃন্দ।
বক্তারা আরও উল্লেখ করেন, এনসিটি ইজারা দেওয়া হলে জাতীয় এই সম্পদের ওপর দেশের নিয়ন্ত্রণ দুর্বল হবে এবং শ্রমিকদের কর্মসংস্থান হুমকির মুখে পড়বে। সমাবেশে জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল, বিএফটিইউসি এবং টিইউসিসহ বিভিন্ন সংগঠনের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা উপস্থিত থেকে সংহতি প্রকাশ করেন। বন্দর সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, মঙ্গলবারের এই অবরোধ কর্মসূচি বাস্তবায়িত হলে দেশের প্রধান এই সমুদ্রবন্দরের আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমে স্থবিরতা নেমে আসতে পারে, যা জাতীয় অর্থনীতিতে বড় ধরণের প্রভাব ফেলবে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে।
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলায় দৌলতদিয়া ৪ নম্বর ফেরিঘাটে অবস্থানরত ‘শাহ মখদুম’ নামের একটি ফেরিতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৩টা ৪০ মিনিটের দিকে এই অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়। তবে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিটের দ্রুত তৎপরতায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসায় বড় ধরণের কোনো ক্ষয়ক্ষতি বা প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, ফেরিটি ঘাটে অবস্থানকালে হঠাৎ এর সাইলেন্সার পাইপের ভেতর থেকে তীব্র বেগে আগুনের শিখা বের হতে দেখা যায়। দীর্ঘক্ষণ ধরে আগুন বের হতে থাকায় সেখানে উপস্থিত যাত্রী ও চালকদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি অবনতির আশঙ্কায় দ্রুত ফেরিতে থাকা যানবাহনগুলোকে সরিয়ে নিরাপদ স্থানে বা পল্টুনে নেওয়া হয়। খবর পেয়ে গোয়ালন্দ ফায়ার সার্ভিসের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নির্বাপণ কাজ শুরু করে এবং অল্প সময়ের মধ্যেই তা নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়।
ঘটনার বিষয়ে গোয়ালন্দ ফায়ার সার্ভিসের টিম লিডার আব্দুল বাসাত খান জানান, দৌলতদিয়া ৪ নম্বর ঘাটে শাহ মখদুম ফেরিতে আগুন লাগার খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে কাজ শুরু করে। তাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আগুন সম্পূর্ণ নেভানো সম্ভব হয়েছে। তবে অগ্নিকাণ্ডে ফেরিটির কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করা যায়নি। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণে কাজ চলছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
বিআইডব্লিউটিসি দৌলতদিয়া ঘাট শাখার ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ সালাউদ্দিন অগ্নিকাণ্ডের কারণ সম্পর্কে জানান, ফেরির সাইলেন্সার পাইপের ময়লা পরিষ্কার করতে গিয়ে ধোঁয়া থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছিল। তিনি দাবি করেন, ফায়ার সার্ভিসের দ্রুত উপস্থিতির কারণে বড় ধরণের বিপদ এড়ানো গেছে এবং ফেরিটি বড় কোনো ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে এবং ফেরি চলাচল স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। মূলত যান্ত্রিক কোনো বড় ত্রুটি নয়, বরং রক্ষণাবেক্ষণজনিত অসাবধানতা থেকেই এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে গোপালগঞ্জ জেলায় নির্বাচনী উত্তাপ ও নিরাপত্তা প্রস্তুতি চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জেলার মোট ৩৯৭টি ভোট কেন্দ্রের মধ্যে ৩৮৫টিকেই ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ বা ‘অতি গুরুত্বপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। অর্থাৎ জেলার মাত্র ১২টি কেন্দ্রকে সাধারণ তালিকার অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং একটি অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন উপহার দিতে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে ব্যাপক সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
গোপালগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. আরিফ-উজ-জামান জানিয়েছেন, অধিকতর সতর্কতার অংশ হিসেবে ৩৮৫টি কেন্দ্রকে অতি গুরুত্বপূর্ণ তালিকার অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এসব কেন্দ্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাধারণ সদস্যদের পাশাপাশি অতিরিক্ত ফোর্স মোতায়েন করা হবে। একই সাথে প্রতিটি ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রকে সার্বক্ষণিক সিসিটিভি ক্যামেরার নজরদারিতে রাখা হবে এবং নির্বাচনী এলাকায় বিশৃঙ্খলা রুখতে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা টহল দেবেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে যে, ভোটকেন্দ্রে কোনো ধরণের অপ্রীতিকর ঘটনা বা বিশৃঙ্খলা বরদাশত করা হবে না।
জেলার পাঁচটি উপজেলার মধ্যে যে ১২টি কেন্দ্রকে সাধারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে সেগুলোর একটি তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। এর মধ্যে টুঙ্গিপাড়া উপজেলার কেড়াইলকোপা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও বাঘিয়ারঘাট স্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং কোটালীপাড়া উপজেলার কুরপালা ও পুণ্যবতী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। মুকসুদপুর উপজেলার মধ্যে প্রভাকরদি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, গাড়লগাতী কে. এম. উচ্চ বিদ্যালয় ও শিমুলপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে সাধারণ কেন্দ্র হিসেবে রাখা হয়েছে। এ ছাড়া কাশিয়ানী উপজেলার গিরিশচন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয় ও পিঙ্গুলিয়া ফাজিল মাদ্রাসা এবং গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার মহিলা ক্রীড়া কমপ্লেক্স, বীণাপানি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও বীণাপানি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় এই তালিকার অন্তর্ভুক্ত।
রিটার্নিং কর্মকর্তা ভোটারদের আশ্বস্ত করে বলেন, নাগরিকরা যাতে কোনো প্রকার ভয়-ভীতি বা শঙ্কার সম্মুখীন না হয়ে সশরীরে কেন্দ্রে এসে তাঁদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারেন, সে জন্য প্রশাসন সর্বাত্মক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। ভোটকেন্দ্রের ভেতরে ও বাইরের পরিবেশ সুশৃঙ্খল রাখতে পুলিশ, আনসার ও অন্যান্য বাহিনীর সমন্বয়ে একটি শক্তিশালী নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়েছে। সাধারণ মানুষকে নিজ নিজ ভোটাধিকার প্রয়োগ করার জন্য উদাত্ত আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, প্রশাসনের এই কড়া নজরদারি ও ব্যবস্থাপনার মূল লক্ষ্য হলো জনগণের রায়ের সঠিক প্রতিফলন নিশ্চিত করা। মূলত একটি উৎসবমুখর পরিবেশে নির্বাচন সম্পন্ন করতে গোপালগঞ্জ জেলা প্রশাসন এখন পুরোপুরি প্রস্তুত।
ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুরে নিজ বসতঘর থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের অত্যন্ত মেধাবী শিক্ষার্থী অনন্য গাঙ্গুলির (২৫) মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গতকাল রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) সকালে উপজেলার বাজার পাড়ার হাইস্কুল সড়কের নিজ বাড়ি থেকে তাঁর ঝুলন্ত মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। অনন্য ২০২২ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘ঘ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় মেধা তালিকায় প্রথম স্থান অধিকার করে দেশজুড়ে আলোচিত হয়েছিলেন। এমন এক উজ্জ্বল নক্ষত্রের আকস্মিক প্রয়াণে পরিবার ও সহপাঠীদের মাঝে গভীর শোক ও স্তব্ধতা বিরাজ করছে।
অনন্য গাঙ্গুলি কোটচাঁদপুর উপজেলার প্রদ্যুৎ কুমার গাঙ্গুলি ও রাধারানী ভট্টাচার্যের সন্তান। তাঁর বাবা প্রদ্যুৎ কুমার গাঙ্গুলি কোটচাঁদপুর মহিলা কলেজের ইংরেজি বিভাগের সাবেক প্রভাষক এবং মা রাধারানী কোটচাঁদপুর বালিকা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। দুই শিক্ষক দম্পতির সন্তান হিসেবে অনন্য নিজেও ছিলেন অত্যন্ত বিনয়ী ও মেধাবী, যার অকাল মৃত্যু কেউ মেনে নিতে পারছেন না।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, অনন্য পড়াশোনার প্রয়োজনে ঢাকায় থাকতেন। গত শনিবার (৩১ জানুয়ারি) রাতে তিনি ঢাকা থেকে কোটচাঁদপুরে নিজের বাড়িতে ফেরেন। রাতে পরিবারের সবার সাথে স্বাভাবিকভাবেই খাবার খেয়ে তিনি তাঁর শোবার ঘরে ঘুমাতে যান। পরদিন সকালে দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও কক্ষের দরজা না খোলায় তাঁর মা রাধারানী ভট্টাচার্য অনন্যকে নাশতা খাওয়ার জন্য ডাকতে যান। ভেতর থেকে কোনো সাড়া না পেয়ে সন্দেহ হলে তিনি জানালার ফাঁক দিয়ে উঁকি দিয়ে দেখতে পান, অনন্য সিলিং ফ্যানের সাথে ওড়নায় ঝুলছেন। তাঁর চিৎকারে স্থানীয়রা ছুটে আসেন এবং পুলিশে খবর দেওয়া হয়।
সন্তানের এমন মৃত্যুতে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন মা রাধারানী ভট্টাচার্য। তিনি জানান, অনন্য বাড়ি ফেরার পর তাঁর আচরণে কোনো অস্বাভাবিকতা লক্ষ্য করা যায়নি। এমনকি সাম্প্রতিক সময়ে কোনো বিষয় নিয়ে তাঁর মন খারাপ ছিল বলেও পরিবারের কেউ জানতেন না। কেন এমন ঘটনা ঘটল, তা নিয়ে চরম ধোঁয়াশার সৃষ্টি হয়েছে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে কোটচাঁদপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) এনায়েত আলী খন্দকার সংবাদমাধ্যমকে জানান, খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে স্বজনদের সহায়তায় ঝুলন্ত অবস্থায় থাকা ওই শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার করে। প্রাথমিক সুরতহাল শেষে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করতে মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য ঝিনাইদহ সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এটি আত্মহত্যা কি না বা এর পেছনে অন্য কোনো কারণ আছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। মেধাবী এই শিক্ষার্থীর প্রয়াণে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মাঝেও শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
দেশের ১৮ কোটি লোকের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করা কঠিন কাজ বলে মন্তব্য করে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেছেন, দেশের ১৮ কোটি মানুষের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করা অনেক কঠিন কাজ। তবে ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও উৎসবমুখর হবে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রস্তুতি বেশ ভালো।
রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) চট্টগ্রাম ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের লক্ষ্যে আয়োজিত আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি।
নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সহিংসতার বিষয়ে তিনি বলেন, যে সহিংসতার ঘটনা ঘটছে, সেগুলোর বেশিরভাগই নিজেদের দলের ভেতরে। কোনো অনুষ্ঠানে একজনকে দাওয়াত দিলে দুজন চলে আসে। তখন সিদ্ধান্তের অমিল হলে নিজেরাই লেগে যাচ্ছে। এজন্য জনসচেতনতা জরুরি।
প্রার্থীদের আচরণবিধি লঙ্ঘনের বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, প্রতিদিনই প্রার্থীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। দুয়েকটি আসনে ছোটখাটো লঙ্ঘন হচ্ছে না—তা নয়।
ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, নির্বাচনের সময় ইন্টারনেট খোলা থাকবে। কেউ বন্ধ করলে আমরা আইনগত ব্যবস্থা নেব। গুজব বা মিথ্যা সংবাদ ছড়ানো থেকে সবাইকে বিরত থাকতে হবে।
সাংবাদিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আগে সাংবাদিকরা স্বাধীনভাবে লিখতে বা প্রশ্ন করতে পারতেন না। এখন যেভাবে প্রশ্ন করতে পারছেন, তখন তা সম্ভব ছিল না। বর্তমান সরকার মত প্রকাশের স্বাধীনতা দিয়েছে। তবে মিথ্যা নয়, সত্য সংবাদ পরিবেশন করতে হবে।
নারীদের নিরাপত্তা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আপনারা এখানে যেভাবে নিরাপদ, নারীরাও ভোটকেন্দ্রে ঠিক সেভাবেই নিরাপদ থাকবেন।
এ সময় জঙ্গল সলিমপুরে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িত অনেককে আইনের আওতায় আনার কথাও জানান স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা।
তিনি আরও বলেন, চট্টগ্রামে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভালো রয়েছে। যেখানে যেরকম ব্যবস্থা নেওয়া দরকার সেখানে সেরকম নেওয়া হচ্ছে। কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে দেওয়া হবে না। সেনাবাহিনী, বিজিবি ও পুলিশ সমন্বিতভাবে কাজ করছে বলেও জানান তিনি।
এসময় উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীন ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা।
রাজধানীতে অপারেশন ‘ডেভিল হান্ট ফেইজ-২’ এর আওতায় গত একদিনে ২৬ জনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ।
গুলশান, সূত্রাপুর, মোহাম্মদপুর, খিলগাঁও, পল্টন, কলাবাগান, যাত্রাবাড়ী, কদমতলী ও হাতিরঝিল থানায় এই অভিযান চালানো হয়। এর মধ্যে গুলশান থানা একজন, সূত্রাপুর থানা চারজন, মোহাম্মদপুর থানা একজন, খিলগাঁও থানা তিনজন, পল্টন থানা পাঁচজন, কলাবাগান থানা একজন, যাত্রাবাড়ী সাতজন, কদমতলী থানা তিনজন ও হাতিরঝিল থানা একজনকে গ্রেপ্তার করেছে।
গুলশান থানার বিভিন্ন অপরাধপ্রবণ এলাকায় অপারেশন ডেভিল হান্ট এর অংশ হিসেবে দিনব্যাপী অভিযান পরিচালনা করে একজনকে গ্রেপ্তার করে। তার নাম মো. ইব্রাহিম।
অপরদিকে সূত্রাপুর থানার বিভিন্ন অপরাধপ্রবণ এলাকায় অপারেশন ডেভিল হান্ট এর অংশ হিসেবে দিনব্যাপী অভিযান পরিচালনা করে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরা হলো- রাব্বি হাসান, মাসুম ইফাদ, মুন শিকদার ও সাগর দে।
মোহাম্মদপুর থানা সূত্রে জানা যায়, বিভিন্ন অপরাধপ্রবণ এলাকায় অপারেশন ডেভিল হান্ট এর অংশ হিসেবে দিনব্যাপী অভিযান পরিচালনা করে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার নাম কবির হোসেন ওরফে হুমায়ুন কবির ওরফে হুমা।
খিলগাঁও থানা সূত্রে জানা যায়, বিভিন্ন অপরাধপ্রবণ এলাকায় অপারেশন ডেভিল হান্ট এর অংশ হিসেবে দিনব্যাপী অভিযানে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরা হলো- ফজলে রাব্বী, সাইদুল ইসলাম ও মাহতিন ইসলাম শাকিল।
পল্টন থানার বিভিন্ন অপরাধপ্রবণ এলাকায় অপারেশন ডেভিল হান্ট এর অংশ হিসেবে দিনব্যাপী অভিযানে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরা হলো- মো. বিল্লাল হোসেন, রকি মিয়া, ইয়াছিন মিয়া, মোহাম্মদ আলী ও ইসমাইল হোসেন।
কলাবাগান থানার বিভিন্ন অপরাধপ্রবণ এলাকায় অভিযান চালিয়ে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার নাম মো. সেলিম ওরফে রহিম।
যাত্রাবাড়ী থানার বিভিন্ন অপরাধপ্রবণ এলাকায় সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এআর হলো- গোলাম রাব্বী, নাসির খান ওরফে নাসির, সাজ্জাদ, মো. জালাল, হাসান আলী ওরফে আলম, রানা প্রধান ও রেনু বেগম।
কদমতলী থানার বিভিন্ন অপরাধপ্রবণ এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে তিনজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এরা হলো মো. অভি, মো. সালেহ আহাম্মেদ ফয়সাল ও মো. রনি।
এছাড়া হাতিরঝিল থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে পুলিশ একজনকে গ্রেপ্তার করে। তার নাম হাসিব। সবাইকে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।