শনিবার, ২৫ মে ২০২৪

অবশেষে স্বজনদের দেখা পেলেন এমভি আবদুল্লাহর ২৩ নাবিক

চট্টগ্রাম বন্দর জেটিতে ফিরেছেন এমভি আবদুল্লাহ জাহাজের নাবিকরা। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড
১৪ মে, ২০২৪ ১৮:০৩
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত : ১৪ মে, ২০২৪ ১৬:৩৮

সোমালিয়ান জলদস্যুদের হাত থেকে মুক্ত হওয়া জাহাজ এমভি আবদুল্লাহর ২৩ জন নাবিক নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরের জেটিতে এসে পৌঁছেছে। জাহাজ এমভি জাহান মনি-৩ তাদের নিয়ে আসে। আজ মঙ্গলবার বিকেল ৪টার দিকে জাহাজটি জেটিতে পৌঁছায়।

জাহাজের নাবিকরা এরই মধ্যে স্বজনদের সঙ্গে কথাও বলেছেন। দীর্ঘদিন প্রাণভয়ে থাকার পর অবশেষে স্বজনদের কাছে পেয়ে নাবিকদের অনেকে কেঁদে ফেলেন। নাবিকদের বরণ করতে ফুল হাতে জেটিতে এসে দাঁড়িয়ে ছিলেন স্বজনরা।

জলদস্যুদের কবলে থাকার দিনগুলোকে বিভিষীকার দিন বলে আখ্যা দেন নাবিকদের বরণ করতে আসা একজন স্বজন। তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, ‘সেই দিনগুলোকে আর মনে করতে চাই না।’

এক মাস আগে সোমালিয়ার জলদস্যুদের কাছে জিম্মিদশা থেকে মুক্ত হওয়া এমভি আব্দুল্লাহ বাংলাদেশের কুতুবদিয়ায় নোঙ্গর করেছে গতকাল সোমবার সন্ধ্যায়। কিন্তু দেশে ফিরলেও স্বজনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে তাদের আরও এক দিন অপেক্ষা করতে হয়।

গত ৪ মার্চ আফ্রিকার মোজাম্বিকের মাপুটো বন্দর থেকে ৫৮ হাজার টন কয়লা নিয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতের হামরিয়াহ বন্দরে যাওয়ার পথে ১২ মার্চ সোমালিয়ান জলদস্যুদের কবলে পড়ে জাহাজটি।

৩২ দিন জিম্মি থাকার পর ১৩ এপ্রিল জলদস্যুদের থেকে মুক্ত হয়ে দুবাই যায় জাহাজটি। এ সময় ইউরোপীয় ইউনিয়নের দুইটি যুদ্ধ জাহাজের পাহারায় এমভি আবদুল্লাহ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা পার হয়।


অপরাধী হলে, শিলাস্তির বিচার দাবী তার দাদার

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
শামীম আল মামুন, টাঙ্গাইল

ঝিনাইদহ-৪ আসনের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজীম আনার হত্যার সঙ্গে জড়িত গ্রেপ্তারকৃত শিলাস্তি রহমানের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চেয়েছেন তার চাচাতো দাদা বীরমুক্তিযোদ্ধা সেলিম মিয়া।

শনিবার (২৫ মে) দুপুরে শিলাস্তি রহমানের গ্রামের বাড়িতে সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলার ধবুরিয়া ইউনিয়নের পাইসানা গ্রামের মিয়া বাড়িটি পুরোপুরি ফাঁকা। শিলাস্তিদের টিনের ঘরে তালা ঝুলছে। টিনের ঘরের পাশেই নির্মাণ করা হয়েছে দোতলা একটি বাড়ি। তবে বাড়ির ভেতরে নেই কোন আসবাবপত্র। এসময় পাশের ঘর থেকে বেড়িয়ে আসেন শিলাস্তির চাচাতো দাদা সেলিম মিয়া। তিনি শিলাস্তির বাবা আরিফুর রহমানের বাবার ছোট ভাই বীরমুক্তিযোদ্বা সেলিম মিয়া।

এসময় তিনি জানান, শিলাস্তিরা দুই বোন। শিলাস্তি বড় ও ছোট বোন সুবাহ। তাদের কোন ভাই নেই। তার বাবা আরিফুর রহমান একজন জুট ব্যবসায়ি। ছোট বেলা থেকেই তারা ঢাকার উত্তরায় বসবাস করে। মাঝে মধ্যে গ্রামের বাড়িতে আসলেও দুই একদিন পর আবার চলে যেত। কারো সাথেই তেমন কোন কথাবার্তা হতোনা।

তিনি আরও বলেন, শিলাস্তির চলাফেরা উচ্ছৃঙ্খল এবং বাড়ির বাইরে দিনের পর দিন সময় কাটানোর কারণে তাদের সঙ্গে কথা বলা বাদ দিয়েছি আমি ও আমার পরিবারের লোকজন। মাঝে এলেও শিলাস্তির যে ড্রেসআপ তা দেখে মনে হত কোটিপতি। সে বাড়িতে বসেই সবার সামনে সিগারেটও খায়তো। আমি বাঁধা দিলে শুনতো না। পরে বাঁধা দেওয়া বাদ দিয়েছি। আমার নাতি শিলাস্তি অপরাধ করলে এবং সে অপরাধী হলে তার সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি করছি।

স্থানীয় লোকজন জানায়, শিলাস্তি রহমান ও তার পরিবার ঢাকায় বসবাস শুরু করে দীর্ঘদিন যাবৎ। তারা কেউ এখানে আসে না। শিলাস্তি রহমানের দাদার সম্পত্তি তার বাবা আরিফুর রহমান বিক্রি করে ঢাকায় চলে যায়।

এবিষয়ে নাগরপুর ধুবরিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শফিকুর রহমান খান বলেন, তারা অনেক আগে থেকেই ঢাকায় থাকে। সঠিক কেউ বলতেও পারে না যে শিলাস্তি কোথাকার। এখন আমরা জানতে পারলাম যে তার বাড়ি নাগরপুরের। গতকাল পর্যন্তও জানতাম না।

নাগরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি জসিম উদ্দিন বলেন, আমি এখনো কোন তথ্য পায়নি তার বিষয়ে। জানলে জানাতে পারবো।


চুয়াডাঙ্গার তাপমাত্রা ৪১ ডিগ্রি ছাড়াল

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি

আবারও দেশের চুয়াডাঙ্গা জেলায় তীব্র তাপপ্রবাহ শুরু হয়েছে। গত এপ্রিল মাসে জেলায় তাপমাত্রার রেকর্ড করেছিল। চলতি মে মাসে প্রথম দুই সপ্তাহ তাপমাত্রা কিছুটা প্রশমিত হলেও জেলায় টানা ৫ দিন মাঝারি থেকে তীব্র তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। বাতাসে আদ্রতার পরিমাণ বেশি থাকায় ভ্যাপসা গরম অনুভূত হচ্ছে। প্রখর তাপপ্রবাহ আর ভ্যাপসা গরমে জনজীবন বিপর্যস্ত। দিনের পাশাপাশি রাতের তাপমাত্রাও বৃদ্ধি পাচ্ছে। সেই সঙ্গে লোডশেডিং গরমের অস্বস্তি আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে। জীবিকার তাগিদে তীব্র রোদে পুড়ে কাজ করতে হচ্ছে শ্রমজীবী মানুষকে।

আজ শনিবার বিকেল ৩টায় চুয়াডাঙ্গার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৪১ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস বলে জানিয়েছে স্থানীয় আবহাওয়া অফিস। গতকাল শুক্রবার দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় চুয়াডাঙ্গায় ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

তীব্র গরমে ঘরে-বাইরে কোথাও এক মুহূর্ত স্বস্তি মিলছে না। তীব্র রোদের কারণে তাপ উঠছে মাটি থেকেও। সকাল থেকেই থাকছে প্রখর রোদের তাপ, ভ্যাপসা গরম। এতে জনজীবন দুর্বিষহ হয়ে পড়েছে। রোদের তীব্র তাপে মানুষ বাইরে বের হতে পারছেন না। দিনমজুর, ভ্যান-রিকশা চালকরা কাজ করতে না পেরে অলস সময়ও পার করছেন। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে রাস্তা ঘাটে লোকজনের চলাচল সীমিত হয়ে পড়ছে।

চুয়াডাঙ্গা আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জামিনুর রহমান জানান, টানা ৫ দিন ধরে এ জেলায় মাঝারি থেকে তীব্র তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। আজ বেলা ৩টায় জেলার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৪১ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এসময় বাতাসে আদ্রতার পরিমান ছিল শতকরা ৪২ শতাংশ।


চুয়াডাঙ্গায় আবারও তীব্র তাপপ্রবাহ শুরু

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি

চুয়াডাঙ্গায় আবারও বাড়তে শুরু করেছে তাপমাত্রা। গত কয়েকদিন ধরেই এ জেলার ওপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছে মাঝারি থেকে তীব্র তাপপ্রবাহ।

আজ সকাল থেকেই উত্তপ্ত হতে শুরু করছে এ জেলার জনপদ। বাতাসের আদ্রতা বেশি থাকায় ভ্যাপসা গরম অনুভূত হচ্ছে। এতে দুর্বিষহ হয়ে পড়েছে জনজীবন। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন শ্রমজীবীরা। একটু ছায়া পেলেই সেখানে বিশ্রাম নিতে হচ্ছে তাদের।

আজ শুক্রবার বিকেল ৩টার দিকে এ জেলার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চুয়াডাঙ্গা আবহাওয়া অফিস।

গত এপ্রিল ও মে মাসজুড়ে প্রথম সপ্তাহে চুয়াডাঙ্গার ওপর দিয়ে মাঝারি থেকে অতি তীব্র আকারের তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছিল। বৃষ্টির পর তাপমাত্রা সহনীয় হলেও মাঝারি থেকে তীব্র তাপপ্রবাহে আবারও অস্বস্তিতে পড়েছেন স্থানীয়রা।

চুয়াডাঙ্গা আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জামিনুর রহমান বলেন, ‘গত কয়েকদিন থেকে অব্যাহত থাকা মাঝারি তাপপ্রবাহ আজ তীব্ররূপ নিয়েছে। আজ বিকেলে তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং এ সময় বাতাসের আদ্রতা ছিল শতকরা ৪২ ভাগ।’


রোহিঙ্গা ক্যাম্পের আগুন নিয়ন্ত্রণে

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ২৪ মে, ২০২৪ ১৪:২২
কক্সবাজার প্রতিনিধি

কক্সবাজারের উখিয়ার পালংখালী ইউনিয়নের ১৩ নম্বর তানজিমারখোলা রোহিঙ্গা ক্যাম্পে লাগা আগুন সোয়া এক ঘণ্টা চেষ্টার পর নিয়ন্ত্রণে এসেছে। আজ শুক্রবার দুপুর পৌনে ১ টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে বলে জানিয়েছেন অতিরিক্ত শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মোহাম্মদ সামছু-দৌজা নয়ন।

এর আগে আজ বেলা সাড়ে ১১ টার দিকে উখিয়ার ১৩ নম্বর তানজিমারখোলা রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ডি-ব্লকের কাঁঠাল গাছতলাস্থ বাজারে আগুন লাগার ঘটনা ঘটে। এতে আগুনে পুড়ে গেছে অর্ধশতাধিক বসত ঘর ও বেশ কিছু দোকানপাটসহ অন্তত ৮০ টির বেশি স্থাপনা।

তবে কিভাবে আগুনের সূত্রপাত তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি বলে জানান অতিরিক্ত শরণার্থী কমিশনার।

কমিশনার বলেন, ‘বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উখিয়ার ১৩ নম্বর তানজিমারখোলা রোহিঙ্গা ক্যাম্পের কাঁঠাল গাছতলাস্থ বাজারে হঠাৎ আগুন লাগে। এরপর মুহুর্তেই তা বাজারের অন্য দোকানপাটসহ আশপাশে ক্যাম্পের বসত ঘরে ছড়িয়ে পড়ে। পরে তাৎক্ষণিক উখিয়া ফায়ার সার্ভিস স্টেশনে খবর দেওয়া হলে প্রথমে তাদের তিনটি ইউনিট ঘটনাস্থলে যায়। পরবর্তীতে স্টেশনটির আরও বেশ কয়েকটি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে যোগ দেয়। ফায়ার সার্ভিসের পাশাপাশি সেনাবাহিনীসহ রোহিঙ্গা ক্যাম্পের স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী কর্মীরাও আগুন নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করেছে।'

কিভাবে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি তথ্য দিয়ে সামছু-দৌজা নয়ন বলেন, ‘এটি নিছক দুর্ঘটনা নাকি নাশকতা তা খতিয়ে দেখতে ফায়ার সার্ভিস ও আইন শৃংখলা বাহিনীসহ প্রশাসনের সংশ্লিষ্টরা কাজ করছে। পাশাপাশি আগুনে ক্ষয়ক্ষতির পরিমান নির্ধারণেও সংশ্লিষ্টরা কাজ অব্যাহত রেখেছে।

আগুন লাগার কেউ হতাহত হয়েছে কিনা এ ব্যাপারে এখনো কোন তথ্য পাওয়া যায়নি বলেও জানান তিনি।

বিষয়:

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ভয়াবহ আগুন, নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে ৯টি ইউনিট

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ২৪ মে, ২০২৪ ১৩:০৫
সারা বাংলা ডেস্ক

কক্সবাজারের উখিয়ায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে ফায়ার সার্ভিসের ৯টি ইউনিট ও সেনাবাহিনী।

আজ শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে ১৩নং ক্যাম্পের কাঁঠাল গাছতলা বাজারে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত। তবে তাৎক্ষণিকভাবে অগ্নিকাণ্ডের কারণ জানা যায়নি।

উখিয়া থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামীম হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

১৩নং ক্যাম্পের বাসিন্দা শফিউল্লাহ বলেন, ‘আগুন এখনো জ্বলছে। ইতোমধ্যে অর্ধশত ঘর পুড়ে গেছে। জানি না কখন নিয়ন্ত্রণে আসবে।’

উখিয়া ফায়ার সার্ভিসের উপ-সহকারী পরিচালক কামাল হোসেন বলেন, ‘আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিস কাজ করছে। আগুনের পরিস্থিতি ভয়াবহ।’

বিস্তারিত আসছে...

বিষয়:

মাটির ট্রাকে বেহাল সড়ক

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ২৪ মে, ২০২৪ ১০:৩০
খোরশেদ আলম, সোনাইমুড়ী (নোয়াখালী)

নিয়ম-নীতি থাকলেও এর কোনো তোয়াক্কা নেই। প্রশাসনের নাকের ডগায় ঘটছে এমনি ঘটনা। সবাই যেন দেখেও না দেখার ভান করে চলেছে। আর এই উদাসীনতায় সরকারের কোটি কোটি টাকার রাস্তা বছর না পেরুতেই ভেঙ্গেচুরে একাকার হয়ে যাচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, মাটি ব্যবসায়ীরা প্রভাবশালী। তাদের সহযোগিতা করছে স্থানীয় প্রশাসনের লোকজন। সে জন্য ট্রাক্টর চলাচল বন্ধে বাধা দিয়েও কাজ হচ্ছে না।

জানা যায়, মাটিবাহী ট্রাকের দৌরাত্ম্যে সড়কগুলো ভেঙে গেছে। ফলে যান চলাচলের অনুপযুক্ত হয়ে পড়েছে। পথচারীদের জন্য পায়ে হেঁটে চলাও কঠিন হয়ে পড়েছে। কোনো কোনো রাস্তায় চালকরা রিকশা-ভ্যান নিয়েও যেতে চাচ্ছেন না। জনসাধারণের এমন ভোগান্তিতে জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসন যেন নীরব দর্শক। আর ক্রমেই অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠেছে অবৈধ ট্রাক্টর ও মাটি কারবারিরা।

কখনো কখনো প্রশাসন বাধা দিলে মাটিদস্যুরা রাতে এসব সড়ক-মহাসড়কে মাটি বহন করে। বহনের সময় সড়কজুড়ে মাটি পড়ে পুরু আস্তরণ সৃষ্টি হয়েছে। এসব মাটি থেকে বৃষ্টির আগে প্রচণ্ড ধুলা ও বৃষ্টির পরে সড়কে কাদায় মাখামাখি অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। দেখে মনে হয় ইটের খোয়া, পাথর ও বিটুমিনের পরিবর্তে মাটি দিয়ে নির্মাণ করা সড়ক।

স্থানীয় বাসিন্দা মিজানুর রহমান বলেন, ‘মাঝে মাঝে রাতের বেলায় পুলিশের লোকজন এসে গাড়ি আটক করে। কিছু টাকা দিলেই তারা চলে যায়। মাটি ব্যবসায়ীরা উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, মেম্বার, ক্ষমতাসীন দলের লোকজন হওয়ায় এলাকাবাসী ভয়ে মুখ খোলেন না। উপজেলার প্রায় রাস্তা দিয়েই ফসলি জমির মাটি কেটে নিয়ে যাচ্ছে বিভিন্ন ইটভাটায়। এতে বর্তমান সরকারের উন্নয়নের অংশ গ্রামীণ সড়কগুলো বিলীন হয়ে যাচ্ছে।’

উপজেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, উপজেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কানিজ ফাতেমা ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) শাহিন মিয়া এ বছরের জানুয়ারি থেকে এপ্রিল মাস পর্যন্ত উপজেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করে ২০টি মামলায় অবৈধভাবে মাটি কাটার অপরাধে ১১ লাখ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করেন।

উপজেলার কালিকাপুর গ্রামের মাটি ব্যবসায়ী মোশারফ হোসেন জানান, থানা পুলিশ ও স্থানীয় কিছু সাংবাদিককে টাকা দিয়েই ফসলি জমি থেকে মাটি কাটছেন। এ মাটি সড়ক দিয়ে যাচ্ছে বিভিন্ন ইটভাটায়। উপজেলা প্রশাসন থেকে কোনো অভিযান পরিচালনা করতে নামলেই তাদের কাছে খবর চলে আসে। পুলিশ প্রশাসনেও তাদের সোর্স রয়েছে। তারাই অগ্রিম খবর পৌঁছে দেয়। যার কারণে ভ্রাম্যমাণ আদালত এসে তাদের পায় না।

স্থানীয় প্রবীণ সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে জানা যায়, এখানে পুলিশ ও স্থানীয় ভুঁইফোড় পত্রিকার সংবাদকর্মীরা বিভিন্ন গ্রামগঞ্জে গিয়ে মাটি ব্যবসায়ীদের থেকে টাকা নেয়। এটা সত্য। আর এ কারণে এখানে তেমন কোনো গণমাধ্যমে মাটি ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ হতে দেখা যায় না।

সোনাইমুড়ী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শাহিন মিয়া বলেন, ফসলি জমি থেকে মাটি কাটা অপরাধ। মাটি ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

ইউএনও কানিজ ফাতেমা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখকে ফাঁকি দিয়ে কৃষিজমির মাটি কেটে বিক্রি করে আসছিল একটি চক্র। অভিযোগ পেয়ে মাটি কাটার অপরাধে বিভিন্ন সময় ২০টি মামলায় সাড়ে ১১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এ ছাড়া তাদের সতর্কও করা হয়েছে।


‘নির্বাচনী প্রক্রিয়া ধ্বংস হলে তা জাতির জন্য মঙ্গল বয়ে আনবে না’

ছবি: বাসস
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাসস

নির্বাচনী ব্যবস্থা গণতন্ত্রের সবচেয়ে বড় চাবিকাঠি। নির্বাচনী প্রক্রিয়া ধ্বংস হয়ে গেলে তা জাতির জন্য কোন মঙ্গল বয়ে আনবে না বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার বেগম রাশেদা সুলতানা।

আজ বৃহস্পতিবার নওগাঁ জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে ৬ষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচন উপলক্ষে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও চেয়ারম্যান প্রার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন তিনি।

ইসি রাশেদা বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন সবগুলো নির্বাচন অবাধ, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠভাবে সম্পন্ন করার চেষ্টা করেছে। যাতে এই নির্বাচনগুলো সহিংসতা মুক্ত হয়। মানুষ যাতে ভোট কেন্দ্র এসে নির্বিঘ্নে তাদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারেন।’

তিনি বলেন, ‘প্রথম ও দ্বিতীয় ধাপে উপজেলা নির্বাচন ভালো ভাবে সম্পন্ন হয়েছে। সামনের নির্বাচনগুলোও আমরা আরও ভালোভাবে সম্পন্ন করতে চাই। যাতে সাধারণ মানুষ বলতে পারে এই নির্বাচন কমিশন ভালো নির্বাচন করতে পারে।’

তিনি আরও বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন কোন ব্যাক্তিকে বিজয় করার লক্ষে কাজ করে না। প্রশাসনকেও সেভাবেই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তাদেরকে স্বাধীনভাবে কাজ করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। আমাদের একটাই উদ্দেশ্য নির্বাচন যাতে প্রশ্নবিদ্ধ না হয়। দেশে-বিদেশের সব জায়গায় যেন প্রশংসিত হয় বাংলাদেশের নির্বাচন ব্যবস্থা নিয়ে। নির্বাচন কমিশনের একটাই প্রত্যাশা নির্বাচন যেন কোন ব্যত্যায় না ঘটে। কালিমা লিপ্ত না হয়।’

প্রার্থীদের উদ্যেশ্যে তিনি বলেন, আচরণ বিধি মেনে প্রার্থীদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে প্রচার- প্রচারণা চালাতে হবে। বিনা কারণে একজন আরেকজনের প্রতিপক্ষ হয়ে আক্রমণ করে কথা বলা যাবে না। ভোটার যাতে ভোট কেন্দ্রে আসে সেই পরিবেশ গড়ে তুলতে হবে। কোন প্রার্থীর কোন অভিযোগ থাকলে কমিশনকে জানালে সাথে সাথে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দেন তিনি।

নওগাঁর জেলা প্রশাসক মো. গোলাম মওলার সভাপতিত্বে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় রাজশাহী বিভাগের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার ইমতিয়াজ হোসেন, রাজশাহী বিভাগের অতিরিক্ত ডিআইজি বিজয় বসাক, নওগাঁর পুলিশ সুপার মুহাম্মদ রাশিদুল হক, রাজশাহীর আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা দেলোয়ার হোসেন বক্তৃতা করেন।


চট্টগ্রাম নগরীতে কোরবানির জন্য প্রস্তুত সাড়ে ৮ লাখ গবাদি পশু

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ২৩ মে, ২০২৪ ১১:১২
ডেইজী মউদুদ, চট্টগ্রাম

চট্টগ্রামে বিভিন্ন উপজেলা ও সিটি করপোরেশন এলাকায় এবার কোরবানির জন্য প্রস্তুত রয়েছে সাড়ে ৮ লাখ গবাদি পশু। বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ পশু লালন পালনে এগিয়ে আসায় গত ৯ বছরে পশু উৎপাদন বেড়েছে ৩ গুণ। ইতোমধ্যে বিভিন্ন খামারে পশু বেচাকেনাও শুরু হয়েছে। দেশব্যাপী চাহিদার তুলনায় ২২ লাখ কোরবানির পশু অতিরিক্ত থাকায় কোনো পশু আমদানির প্রয়োজন নেই বলে জানিয়েছেন প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক।

নগরীতে এ বছরে কোরবানি পশুর চাহিদা ৮ লাখ ৮৫ হাজার ৭৬৫টি। এর মাঝে ৫ লাখ ২৬ হাজার ৪৭৫টি গরু, ৭১ হাজার ৩৬৫ টি মহিষ, ১ লাখ ৯৫ হাজার ৭৮৩ ছাগল, ভেড়া ৫৮ হাজার ৬৯২ টি এবং অন্যান্য পশু ৮৮টি।

জেলায় ছোট-বড় বিভিন্ন খামারে কোরবানির জন্য প্রস্তুত রয়েছে ৮ লাখ ৫২ হাজার ২৫৯টি গবাদি পশু। ফলে পশুর ঘাটতি রয়েছে ৩৩ হাজার ৪০৬টি। চাহিদার সঙ্গে জোগানের পার্থক্য এখন মাত্র ৩ শতাংশ। অথচ ২০১৫ সালে চট্টগ্রামে গবাদি পশুর উৎপাদন ছিল মাত্র ৩ লাখ ২০ হাজার। অর্থাৎ ৯ বছরে গবাদি পশুর উৎপাদন বেড়েছে ৩ গুণ।

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ডা. মো. রেয়াজুল হক এই প্রতিবেদককে বলেন, চট্টগ্রামে গবাদি পশুর খামার রয়েছে ১২ হাজারের ও বেশি। খামার ছাড়া ও ব্যক্তিপত পর্যায়ে পশু লালন পালন করায় কোরবানিতে বিদেশি পশুর ওপর নির্ভরশীলতা কমেছে। দেশে উৎপাদিত পশু দিয়েই কোরবানির চাহিদা পূরণ করা হচ্ছে।

মূলত প্রতি বছর কিছু পশুর ঘাটতি থাকে। তখন অন্য জেলা থেকে পশু এনে চাহিদা পূরণ করা হয়। এ বছরও পার্শ্ববর্তী জেলা রাঙামাটি, খাগড়াঝড়ি এবং দেশের উত্তরাঞ্চল থেকে পশু এনে সেই ঘাটতি পুশিয়ে নেওয়া হবে।

বর্তমানে খামারগুলোতে চলছে পশু মোটাতাজকরণ প্রক্রিয়া। বিদেশ থেকে পশু আমদানি বন্ধ থাকায় এবার পশুর দাম ভালো পাবেন বলে আশা করছেন খামারিরা। কোরবানির আগেই সব পশু বিক্রি করে দেবেন বলে তারা আশা করছেন।

উপসহকারী প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মতিউর রহমান এই প্রতিবেদককে জানান, এ বছরে কোরবানি পশুর চাহিদা স্থানীয় উৎপাদন নিয়ে মেটানো হবে। খামারিদের সব ধরনের সহযোগিতা দেওয়ায় পশু উৎপাদন বেড়েছে।

গৃহিণী সালেহা খানম বলেন, ‘পশুর দাম অতিরিক্ত। সেই সাথে মাংস রান্না করার সরঞ্জামাদির দামও গত বছরের তুলনায় কয়েকগুণ বেশি। আমরা মধ্যবিত্ত মানুষ। কোরবানি করতে পারব কি না এখনো বুঝতে পাচ্ছি না।’


ঘুষ ছাড়া মেলে না ড্রাগ লাইসেন্স

নেপথ্যে অফিস সহকারী আলমগীর ও সুমন
ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ২৩ মে, ২০২৪ ০৯:৫১
আবু সাঈদ, সাতক্ষীরা

সাতক্ষীরা জেলার পাঁচ হাজার ফার্মেসির ড্রাগ লাইসেন্স রয়েছে। যার মধ্যে দুই হাজারের মতো লাইসেন্স নীতিমালা না মেনেই ইস্যু করা হয়েছে। মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে এসব লাইসেন্স অবৈধ উপায়ে ইস্যু করা হয়। বাংলাদেশ ক্যামিস্ট অ্যান্ড ড্রাগিস্টস সমিতির সাতক্ষীরা অফিস সহকারী আলমগীর হোসেন বস্ ওরফে আলমগীর এবং কম্পিউটার অপারেটর সুমনের মাধ্যমে সাতক্ষীরা জেলার ড্রাগ সুপার ঘুষ নিয়ে এ কাজ করে থাকেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

নিয়মানুযায়ী কোনো ওষুধের দোকান তথা ফার্মেসি করার জন্য ড্রাগ লাইসেন্স প্রয়োজন হয়। আর এই ড্রাগ লাইসেন্স তিনিই পাবেন, যার ফার্মাসিস্টের প্রশিক্ষণ ও সনদ রয়েছে। দুই বছর মেয়াদি এ ড্রাগ লাইসেন্স ইস্যু করা হয়। এজন্য পৌরসভার মধ্যে তিন হাজার টাকা ও পৌরসভার বাইরে গ্রাম এলাকার জন্য এক হাজার পাঁচশ টাকা চালান কেটে জমা দিতে হয়। এরপর দুই বছর অন্তর এ লাইসেন্স নবায়ন করতে হয়।

ড্রাগ লাইসেন্স করার জন্য ফার্মাসিস্টের এই শর্তটি অনেকেই সঠিকভাবে পূরণ করেন না। অনেকেই ছয় মাস মেয়াদি ফার্মাসিস্ট কোর্স করে ড্রাগ লাইসেন্স সংগ্রহের পর অন্যকে দিয়ে ওষুধ ব্যবসা পরিচালনা করেন। আবার অনেকে ভিন্ন ফার্মেসিতে থেকেই নতুন ফার্মেসি খুলে রমরমা ওষুধ ব্যবসা চালিয়ে বনে গেছেন ডাক্তার।

আর এভাবেই সাতক্ষীরা ড্রাগ সুপারের কার্যালয়ে অনৈতিক সুবিধার বিনিময়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে চলে মোটা অংকের ঘুষ বাণিজ্য। ৩০ থেকে ৫০ হাজার টাকা ঘুষের বিনিময়ে হাজারের অধিক অবৈধ লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। আবার তাদের দাবি করা ঘুষ না দিলে সব শর্ত পূরণ করার পরও লাইসেন্স ইস্যু করতে গড়িমসি করা হয়। ড্রাগ লাইসেন্স পেতে ব্যাংক স্বচ্ছলতা সনদপত্র, লাইসেন্স ফি জমা দেয়ার ট্রেজারি চালান, দোকান ভাড়ার রশিদপত্র, ফার্মাসিস্টের অঙ্গীকারনামা ও পৌর/ইউনিয়নের ট্রেড লাইসেন্স জমা দিতে হয়। পাঁচ থেকে সাত কর্মদিবসের মধ্যে নবায়ন করে দেওয়ার নিয়ম থাকলেও তাদের নির্দিষ্ট অংকের ঘুষ না দিলে বেগ পোহাতে হয় বছরের পর বছর।

সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সংলগ্ন সুন্দরবন ফার্মেসির মালিক আবু জাফর সিদ্দিক ড্রাগ লাইসেন্স করতে সাতক্ষীরা জেলা ড্রাগ সুপারের কার্যালয়ে গেলে কতিপয় ব্যক্তি ৩০ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করে। পরবর্তীতে অফিস সহকারী আলমগীরের মাধ্যমে ২৫ হাজার টাকা ঘুষ দিয়েও মেলেনি লাইসেন্স।

আশাশুনির আনুলিয়া বাজারের রহমান ফার্মেসিতে ফার্মাসিস্ট নেই। ওই ফার্মেসির মালিক এক ফার্মাসিস্টকে দোকানের কর্মচারী দেখিয়ে ড্রাগ লাইসেন্সের জন্য অফিস সহকারী আলমগীর ও সুমনের মাধ্যমে ড্রাগ সুপারের কার্যালয়ে আবেদন করেন। পরে মোটা অংকের ঘুষের বিনিময়ে ড্রাগ সুপার লাইসেন্স ইস্যু করেন।

এদিকে বেশিরভাগ ফার্মেসি টাকা দিয়ে লাইসেন্স নিলেও ভয় আর আতঙ্কে মুখ খুলতে চায় না। বাংলাদেশ ক্যামিস্ট অ্যান্ড ড্রাগিস্টস সমিতির সাতক্ষীরা অফিসের নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, ড্রাগ সুপারের কার্যালয়ে ঘুষ লেনদেন দীর্ঘদিনের ব্যাপার। টাকা না দিলে এখানে মেলেনা ড্রাগ লাইসেন্স। আর এগুলো আলমগীর ও সুমনের মাধ্যমেই হয়।

এ ব্যাপারে মূল অভিযুক্ত আলমগীর হোসেন এ প্রতিবেদককে বলেন, ‘মানুষ কি এতটাই পাগল হয়ে গেছে যে এতগুলো টাকা দেবে লাইসেন্স করার জন্য, যা শুনছেন তা মিথ্যা।’

কম্পিউটার অপারেটর সুমন মুঠোফোনে এ প্রতিবেদককে বলেন, ‘এসব প্রতিবেদন বাদ দেন ভাই। আমি দেখা করবানে। দেখা হলে সব মিটে যাবেনে।’

সাতক্ষীরা জেলা ড্রাগ সুপার আবু হানিফ বলেন, ড্রাগ লাইসেন্স পেতে ও নবায়ন করতে সরকারি ফি ছাড়া কোনো টাকা নেওয়া হয় না। অভিযোগটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। তার নাম ভাঙ্গিয়ে কে বা কারা টাকা নিয়ে থাকে তা তিনি জানেন না।


নিখোঁজ এমপি আনারের মরদেহ মিলল পশ্চিমবঙ্গে

আনোয়ারুল আজিম আনার। ফাইল ছবি
আপডেটেড ২২ মে, ২০২৪ ১১:২১
নিজস্ব প্রতিবেদক

ভারতে গিয়ে নিখোঁজ বাংলাদেশের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজিম আনারের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে কলকাতার নিউটাউন থেকে।

ভারতীয় গণমাধ্যমে এ খবর দেওয়া হয়েছে। তবে তাকে হত্যা করা হয়েছে কি না সে বিষয়ে এখনও নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

সীমান্ত এলাকা ঝিনাইদহ-৪ আসনের টানা তিনবারের সংসদ সদস্য (এমপি) ও কালীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ছিলেন আনোয়ারুল আজীম আনার।

১৯ মে আনোয়ারুল আজীমের ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস) আব্দুর রউফ বলেছিলেন, ‘১১ মে সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজিম আনার চিকিৎসার জন্য ভারতে যান। কিন্তু এরপর ১৬ মে তার সঙ্গে শেষ কথা হয়েছে।’

বিষয়টি নিয়ে ১৯ মে ডিবি কার্যালয়েও যান আনোয়ারুল আজীমের মেয়ে মুমতারিন ফেরদৌস ডরিন।

সেদিন তিনি বলেছিলেন, ‘তিনদিন ধরে আমার বাবাকে ফোনে পাচ্ছি না। তার মোবাইল ফোনটি মাঝে মাঝে খোলা পাই আবার মাঝে মাঝে বন্ধ পাই। পরে এই বিষয়ে আমি ডিবি প্রধানের সঙ্গে যোগাযোগ করি। তিনি আমাকে বলেছেন বিষয়টি তিনি দেখছেন। পরে আজকে আমি ওনার কার্যালয়ে আসি। তিনি আমাদের সহযোগিতা করছেন। বাবাকে ফোনে না পাওয়ার কারণেই মূলত আমি ডিবি কার্যালয়ে এসেছি। আমি নিজেও ভারতে দ্রুত সময়ের মধ্যে যাব।’

এর আগে, গত ১১ মে চিকিৎসার জন্য ভারতে যান সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজীম আনার। এরপর দুদিন পরিবার ও দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে তার যোগাযোগ ছিল। ১৪ মে থেকে তার সঙ্গে সকল প্রকার যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। তার ব্যবহৃত হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরটিও বন্ধ থাকে।

বিষয়:

দ্বিতীয় ধাপে নির্বাচিত হলেন যারা

ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
সারা বাংলা ডেস্ক

ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপে ১৫৬টি উপজেলায় ভোটগ্রহণ শেষ হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত চলে ভোটগ্রহণ। ভোট গণনা শেষে রাতে নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশ করেন রিটার্নিং কর্মকর্তারা। সারা দেশের প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর থেকে জানা যায়-

ফরিদপুর

উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপে ফরিদপুরের নগরকান্দা ও সালথা উপজেলায় ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। নগরকান্দা উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপ-কমিটির সাবেক সহসম্পাদক কাজী শাহ জামান বাবুল। আনারস প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ৩৭ হাজার ২০৯ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মোটরসাইকেল প্রতীকের প্রার্থী বর্তমান উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মনিরুজ্জামান সরদার পেয়েছেন ২৫ হাজার ২৩৭ ভোট।

অন্যদিকে সালথা উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে বর্তমান চেয়ারম্যান ওয়াদুদ মাতুব্বর বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। আনারস প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ৩৫ হাজার ৫৪৫ ভোট তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী সালথা উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও মোটরসাইকেল প্রতীকের প্রার্থী মো. ওহিদুজ্জামান পেয়েছেন ৫ হাজার ৩৪২ ভোট।

নারায়ণগঞ্জ

উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপে নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলায় ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম। ঘোড়া প্রতীকে তিনি পেয়েছেন এক লাখ ১৫ হাজার ২৫২ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী দোয়াত কলম প্রতীকের প্রার্থী মো. শাহজালাল মিয়া পেয়েছেন ১৩ হাজার ১৩২ ভোট।

বিজয়ী মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম আড়াইহাজার উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সদস্য। তিনি কালাপাহাড়িয়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান। অন্যদিকে তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মো. শাহজালাল মিয়া আড়াইহাজার উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া

দ্বিতীয় ধাপের উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা ও আখাউড়ায় উপজেলায় ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। কসবা উপজেলায় আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের ফুফাতো ভাই ছাইদুর রহমান ও আখাউড়ায় মোগড়া ইউনিয়ন পরিষদের তিনবারের সাবেক চেয়ারম্যান মনির হোসেন বেসরকারিভাবে চেয়ারম্যান নির্বাাচিত হয়েছেন।

ঘোষিত ফলাফল অনুযায়ী, কসবা উপজেলায় ছায়েদুর রহমান স্বপন কাপ-পিরিচ প্রতীকে ৮৬ হাজার ৬৯৮ ভোট পেয়ে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও কুটি ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ছিলেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বর্তমান উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের সাবেক সহকারী একান্ত সচিব রাশেদুল কাউসার ভূইয়া আনারস প্রতীকে পেয়েছেন ৩৯ হাজার ৯৫৯ ভোট।

অন্যদিকে আখাউড়া উপজেলায় মনির হোসেন ঘোড়া প্রতীকে ২৮ হাজার ৩০৯ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি উপজেলা যুবলীগের সাবেক আহ্বায়ক ও মোগড়া ইউনিয়ন পরিষদের তিনবারের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান আনারস প্রতীকে পেয়েছেন ১৪ হাজার ৫৬৩ ভোট।

রাঙামাটি

ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপে রাঙামাটির রাজস্থলী, কাপ্তাই ও বিলাইছড়ি উপজেলায় শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। রাজস্থলী উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি উবাচ মারমা আনারস প্রতীকে ৭ হাজার ৭৫ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মো. রিয়াজ উদ্দীন রানা দোয়াত কলম প্রতীকে পেয়েছেন ২ হাজার ১৮ ভোট।

অন্যদিকে কাপ্তাই উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে উপজেলা যুবলীগের সভাপতি মো. নাছির উদ্দিন দোয়াত কলম প্রতীকে ৭ হাজার ৩৬২ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও সাবেক ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আনোয়ারুল ইসলাম চৌধুরী আনারস প্রতীকে পেয়েছেন ৬ হাজার ৯৭৩ ভোট।

অপরদিকে বিলাইছড়ি উপজেলায় মোট ১৩টি কেন্দ্রের মধ্যে ৫টি হেলিসর্টি ভোটকেন্দ্র রয়েছে। দুর্গম এলাকা হওয়ায় রাত সাড়ে ৯টা পর্যন্ত ফলাফল না আসায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কোনো ফলাফল ঘোষণা করেননি। তবে বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা যায়, পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (জেএসএস) সমর্থিত দোয়াত কলম প্রতীকের বিরোত্তম তঞ্চঙ্গ্যা চেয়ারম্যান পদে বিজয়ী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

লালমনিরহাট

লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ ও আদিতমারী উপজেলায় উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপে ভোটগ্রহণ শেষ হয়েছে। দুই উপজেলায় মধ্যে আদিতমারী উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে ফারুক ইমরুল কায়েস ও কালীগঞ্জ উপজেলায় জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক রাকিবুজ্জামান আহমেদ বিজয়ী হয়েছেন।

রাত সাড়ে ৯টার দিকে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা লুৎফর কবির তাদেরকে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত ঘোষণা করেন।

আদিতমারী উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে ফারুক ইমরুল কায়েস মোটরসাইকেল প্রতীকে পেয়েছেন ৩৩ হাজার ১৩৫ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রফিকুল আলম আনারস প্রতীকে পেয়েছেন ২৯ হাজার ১৮টি ভোট

কালীগঞ্জ উপজেলায় সাবেক সমাজকল্যাণমন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদের ছেলে রাকিবুজ্জামান আহমেদ আনারস প্রতীকে পেয়েছেন ২৪ হাজার ৩০৩ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী তার চাচা উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মাহবুবুজ্জামান আহমেদ ঘোড়া প্রতীকে পেয়েছেন ১৯ হাজার ৩৫০ ভোট।

পিরোজপুর

ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে দ্বিতীয় ধাপে পিরোজপুর জেলার দুই উপজেলায় শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। মঙ্গলবার পিরোজপুরের নেছারাবাদ ও কাউখালী উপজেলার ১৫টি ইউনিয়নের মোট ১২২টি ভোটকেন্দ্রে ইভিএম পদ্ধতিতে এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।

কাউখালী উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে মো. আবু সাঈদ মিঞা ও নেছারাবাদ উপজেলায় আব্দুল হক নির্বাচিত হয়েছেন। রাতে নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা সৈয়দ শফিকুল হক বেসরকারিভাবে তাদের বিজয়ী ঘোষণা করেন।

নেছারাবাদ উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে আব্দুল হক আনারস প্রতীকে ৩৮ হাজার ৬১২ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী এস এম মুইদুল ইসলাম মোটরসাইল প্রতীকে পেয়েছেন ৩৫ হাজার ৫২০ ভোট।

অন্যদিকে কাউখালী উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে মো. আবু সাঈদ মিঞা ঘোড়া প্রতীকে ১১ হাজার ২৮৪ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মো. মনিরুজ্জামান তালুকদার পল্টন কাপ-পিরিচ প্রতীকে পেয়েছেন ৬ হাজার ২৯৪ ভোট।

ঝালকাঠি

উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপে ঝালকাঠি সদর ও নলছিটি উপজেলায় ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ঝালকাঠি সদর উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান ও ঝালকাঠি জেলা আওয়ামী লীগ সহ-সভাপতি খান আরিফুর রহমান। আনারস প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ৩৩ হাজার ৯৪৩ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী দোয়াত কলম প্রতীকের প্রার্থী মো. সুলতান খান পেয়েছেন ২৫ হাজার ৯৭১ ভোট।

অন্যদিকে নলছিটি উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মো. সালাউদ্দিন খান সেলিম বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। মোটরসাইকেল প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ২৩ হাজার ৯৩৯ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাবেক মেয়র তছলিম উদ্দিন চৌধুরী আনারস প্রতীকে পেয়েছেন ১৬ হাজার ৭৮৪ ভোট।

বাগেরহাট

উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপে বাগেরহাটে ফকিরহাট, মোল্লাহাট,ও চিতলমারী উপজেলায় ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ফকিরহাট উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন শেখ ওহিদুজ্জামান বাবু। মোটরসাইকেল প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ৪৬ হাজার ৬৫৪ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আনরস প্রতীকের প্রার্থী বর্তমানে উপজেলা চেয়ারম্যান স্বপন দাস পেয়েছেন ২৯ হাজার ৪৩৭ ভোট। এ উপজেলায় ভোট কাস্ট হয়েছে ৬২.৫০ শতাংশ।

চিতলমারী উপজেলার চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হয়েছেন মো. আলমগীর হোসেন সিদ্দিকী। দোয়াত কলম প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ৩৪ হাজার ৮৮৬ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বর্তমান উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও বাগেরহাট জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি অশোক কুমার বড়াল মোটরসাইকেল প্রতীকে পেয়েছেন ২২ হাজার ৭৬৩ ভোট। এ উপজেলায় ভোট কাস্ট হয়েছে ৪৫.৭৫ শতাংশ।

অন্যদিকে মোল্লাহাট উপজেলার চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হয়েছেন বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শাহিনুর আলম ছানা। দোয়াত কলম প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ২৯ হাজার ৯০২ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বর্তমান উপজেলা শেখ নাসির উদ্দীন আনারস প্রতীকে পেয়েছেন ১৯ হাজার ৯৫৪ ভোট। এ উপজেলায় ভোট কাস্ট হয়েছে ৫৩.৭৭ শতাংশ। জেলায় গড় ভোট কাস্টিং হয়েছে ৫৪ শতাংশ।

যশোর

দ্বিতীয় ধাপের উপজেলা নির্বাচনে যশোরের ঝিকরগাছা, শার্শা ও চৌগাছা উপজেলায় ভোটগ্রহণ করা হয়েছে। ভোটগ্রহণ শেষে রাতে বেসরকারিভাবে ফলাফল ঘোষণা করেন উপজেলাগুলোর দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তারা।

চৌগাছা উপজেলা চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হয়েছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা এসএম হাবিবুর রহমান। আনারস প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ৩৩ হাজার ৫৬৫ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ ড. মোস্তানিছুর রহমান পেয়েছেন ২৮ হাজার ৯৮০ ভোট।

নির্বাচনের সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও চৌগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুম্মিতা সাহা রাত সাড়ে ৯টায় এ ফলাফল ঘোষণা করেন।

ঝিকরগাছা উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হয়েছেন বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. মনিরুল ইসলাম। আনারস প্রতীকে মনিরুল ইসলাম পেয়েছেন ৪০ হাজার ৬৪৩ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী সেলিম রেজা ঘোড়া প্রতীকে পেয়েছেন ১৮ হাজার ৪৪৩ ভোট।

অন্যদিকে শার্শা উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে মো. সোহরাব হোসেন দোয়াত কলম প্রতীক নিয়ে ৩৭ হাজার ৫৭০ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মো. অহিদুজ্জামান আনারস প্রতীকে পেয়েছেন ১২ হাজার ২৯১ ভোট।

রাজশাহী

দ্বিতীয় ধাপে রাজশাহীর বাগমারা, দুর্গাপুর ও পুঠিয়া উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বাগমারা উপজেলায় বেসরকারিভাবে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন জাকিরুল ইসলাম সান্টু। তিনি ঘোড়া প্রতীকে পেয়েছেন ৪৭ হাজার ৩২২ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আব্দুর রাজ্জাক সরকার ওরফে আর্ট বাবু পেয়েছেন ৪ হাজার ৩২১ ভোট।

পুঠিয়া উপজেলায় বেসরকারিভাবে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন আবদুস সামাদ মোল্লা। তিনি আনারস প্রতীকে পেয়েছেন ২৬ হাজার ৬৬৫ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আহসানুল হক মাসুদ ঘোড়া প্রতীকে পেয়েছেন ২৩ হাজার ৬৭৯ ভোট।

অন্যদিকে দুর্গাপুর উপজেলায় বেসরকারিভাবে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন শরীফুজ্জামান শরীফ। তিনি মোটরসাইকেল প্রতীকে পেয়েছেন ৪২ হাজার ১১৩ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আব্দুল মজিদ সরদার পেয়েছেন ২৭ হাজার ৩৩২ ভোট।

সাতক্ষীরা

ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপে সাতক্ষীরার আশাশুনি, তালা ও দেবহাটা উপজেলায় ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

আশাশুনি উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও বর্তমান উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এবিএম মোস্তাকিম বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি চিংড়ি প্রতীকে পেয়েছেন ৫১ হাজার ৬৬২ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী শাহনেওয়াজ ডালিম ঘোড়া প্রতীকে পেয়েছেন ৫০ হাজার ৭০৭ ভোট।

অপরদিকে সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলা নির্বাচনে মো. আল ফেরদাউস বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি হেলিকপ্টার প্রতীকে ২৬ হাজার ৩৭৭ ভোট পেয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মো. মজিবুর রহমান মোটরসাইকেল প্রতীকে পেয়েছেন ১৭ হাজার ১৫২ ভোট।

এ ছাড়া সাতক্ষীরার তালা উপজেলা নির্বাচনে ঘোষ সনৎ কুমার বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি কাপ পিরিচ প্রতীকে ৪৬ হাজার ৪৫৮ ভোট পেয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী সরদার মশিয়ার চিংড়ি প্রতীকে পেয়েছেন ৩২ হাজার ৪১৩ ভোট।

বিষয়:

একীভূত হচ্ছে খুলনার ৪৬টি প্রাথমিক বিদ্যালয়

খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার ময়নাপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়। সেখানে ৩ জন শিক্ষার্থীকে পাঠদান করান ২ জন শিক্ষক। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ২২ মে, ২০২৪ ১০:৩৭
আওয়াল শেখ, খুলনা

কম শিক্ষার্থী নিয়ে পাশাপাশি থাকা প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো একীভূত করার পরিকল্পনা করেছে সরকার। খুলনা জেলায় এমন ৪৬টি প্রাথমিক বিদ্যালয় একীভূত করার জন্য প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে সুপারিশ করা হয়েছে।

খুলনা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শেখ অহিদুল আলম বলেন, ‘আমাদের জেলাতে মোট ১ হাজার ১৫৯টি বিদ্যালয় রয়েছে। এর মধ্যে ৪৭টি বিদ্যালয়ে ৫০ জনের কম শিক্ষার্থী আছে। তবে পারিপার্শ্বিক বিবেচনায় ৪৬টি বিদ্যালয়কে একীভূত করার জন্য সুপারিশ করা হয়েছে।’

তবে একীভূত করার পর কোনো বিদ্যালয় বন্ধ হবে না জানিয়ে তিনি বলেন, ‘পাশাপাশি থাকা দুটি বিদ্যালয়ের একটিতে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির পাঠদান করা হবে। একইভাবে অন্যটিতে তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির পাঠদান করা হবে। এটা ভাগাভাগি করে পাঠদান করানো হবে।’

৫০ জনের কম শিক্ষার্থী রয়েছে এমন কয়েকটি বিদ্যালয়ে পরিদর্শন করেছেন এই প্রতিবেদক। খুলনা শহর থেকে প্রায় ৬০ কিলোমিটার দূরে বিল খুলশী ও বিল ডাকাতিয়ার মাঝামাঝি প্রত্যন্ত ময়নাপুর গ্রামে রয়েছে ময়নাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। সেখানে তিনজন শিক্ষার্থীকে পাঠদান করান দুজন শিক্ষক।

গত বছর জেলা শিক্ষা অফিস থেকে ওই বিদ্যালয়টির কার্যক্রম বন্ধ করে দিতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করা হয়েছিল। তবে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে বিদ্যালয়টি সম্পূর্ণ বন্ধ করার ব্যাপারে কোনো সিদ্ধান্ত দেয়নি।

ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক স্বপ্না রানী বলেন, বিদ্যালয়টিতে দিন দিন শিক্ষার্থী সংখ্যা কমে আসেছে। কারণ এই বিলে কম পরিবারের বসবাস। এ ছাড়া পার্শ্ববর্তী অনেক বিদ্যালয়ও রয়েছে।

ভালো অবকাঠামো না থাকায় শিক্ষার্থীরা সেখানে ভর্তি হতে চায় না জানিয়ে তিনি বলেন, এই বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল ১৯৯১ সালে। ২০১৩ সালে সরকার বিদ্যালয়টিকে জাতীয়করণ করে। ২০১৫ সাল পর্যন্ত এখানে ৬০-৭০ জন শিক্ষার্থী লেখাপড়া করত। তবে পার্শ্ববর্তী আধা কিলোমিটারের মধ্যে আরেকটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। ২০১৫ সালে সেখানে দুইতলা পাকা ভবন নির্মাণ করা হয়। যে কারণে স্থানীয় শিক্ষার্থীরা ওই বিদ্যালয়টিতে চলে যায়।

স্বপ্না রানী জানান, বিদ্যালয়টি থেকে গত ৫ বছরে পাস করে বের হয়েছে মাত্র ৩০ জন। আর ২০২২ সালে শিক্ষার্থী ছিল মাত্র একজন। ২০২৩ সালে আরও দুজন নতুন করে ভর্তি হওয়ায় বর্তমানে তিনজন শিক্ষার্থী রয়েছে। তারাও চলে যেতে পারে। কারণ দুর্বল অবকাঠামোর জন্য তাদের মায়েরাও এখানে পড়াতে চান না। ২০০৮ সালে সংসদ সদস্য নারায়ণ চন্দ্র চন্দ জেলা পরিষদের মাধ্যমে এখানে একটি আধাপাকা ভবন নির্মাণ করিয়ে দেন। পরে আর অবকাঠামো নির্মাণ হয়নি।

শিক্ষা কর্মকর্তা শেখ অহিদুল আলম বলেন, এ ধরনের বিদ্যালয়গুলোতে শ্রেণিভিত্তিক পাঠদান ভাগাভাগি হলে আর শিক্ষার্থী সংকট হবে না। অর্থাৎ একটিতে কম শিক্ষার্থী বা অন্যটিতে বেশি শিক্ষার্থী এমন সমস্যা হবে না।

তিনি আরও বলেন, একীভূত হওয়ার ফলে শিক্ষার্থীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় তাদের মধ্যে প্রতিযোগিতাও বাড়বে। ফলে শিক্ষার মান আরও ভালো হবে।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের খুলনা বিভাগীয় উপপরিচালক মো. মোসলেম উদ্দিন বলেন, অল্প শিক্ষার্থী রয়েছে, তবে পাশাপাশি কোনো বিদ্যালয় নেই- এমন বিদ্যালয়গুলো যথারীতি চালু থাকবে। ঢালাওভাবে কিছু করা হচ্ছে না। স্থানীয় বাস্তবতা ও পারিপার্শ্বিকতা বিবেচনায় নিয়ে বিদ্যালয়গুলো একীভূত করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘সারা দেশে এ ধরনের ৩০০টি প্রতিষ্ঠানের তালিকা করা হয়েছে। এটা মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে। নির্দেশনা এলে পরবর্তী কার্যক্রম শুরু করা হবে।’


দ্বিতীয় ধাপে ৩০ শতাংশের বেশি ভোট পড়েছে : সিইসি

রাজধানীর আগারগাঁও নির্বাচন ভবনে মঙ্গলবার সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন সিইসি কাজী হাবিবুল আউয়াল। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দ্বিতীয় ধাপে ১৫৬ উপজেলায় নির্বাচনে ৩০ শতাংশের বেশি ভোট পড়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়াল। আজ মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীর আগারগাঁও নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান তিনি।

এর আগে মঙ্গলবার সকাল ৮টায় শুরু হয়ে বিরতিহীনভাবে ভোটগ্রহণ চলে বিকেল ৪টা পর্যন্ত। এবারের নির্বাচনে অধিকাংশ উপজেলার ভোটকেন্দ্রে ছিল ভোটার খরা। এ ছাড়া বিভিন্নস্থানে গুলিবর্ষণ, সংঘর্ষ ও প্রিসাইডিং কর্মকর্তা আটকসহ কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনার মধ্যে দিয়ে শেষ হয়েছে দ্বিতীয় ধাপের উপজেলা পরিষদ নির্বাচন।

সারা দেশে ভোটকেন্দ্রে ভোটারদের উপস্থিতি ছিল অনেক কম। এ নির্বাচনে ১৫৬টি উপজেলায় ১৩ হাজার ১৫৫টি কেন্দ্রের মধ্যে ১০ হাজার কেন্দ্রে সকাল ৮টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত ১৬ দশমিক ৯ শতাংশ ভোট কাস্টিং হয়েছে। দুপুর ১টায় নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিব মো. জাহাংগীর আলম এ তথ্য জানান।

দ্বিতীয় ধাপের নির্বাচনে রাজশাহী, রাজবাড়ী, লক্ষ্মীপুর, লালমনিরহাট, ফরিদপুর, কুমিল্লা, পটুয়াখালী, নেত্রকোণা, জামালপুরসহ অধিকাংশ জেলার উপজেলায় সারাদিন ভোটার উপস্থিতি দেখা গেছে। বিভিন্ন স্থানে বিক্ষিপ্ত সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেছে।

এদিকে, তৃতীয় ধাপের উপজেলা নির্বাচন উপলক্ষে ১১১টি উপজেলা সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী এলাকায় আগামী ২৯ মে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। গতকাল সোমবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের চাহিদা মোতাবেক ১১১টি উপজেলা পরিষদের সাধারণ নির্বাচন উপলক্ষে ভোটগ্রহণের দিন অর্থাৎ ২৯ মে সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী এলাকায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হলো।

বিষয়:

banner close