নওগাঁয় আমচাষিদের প্রতিক্ষার অবসান হতে চলেছে। জেলা কৃষি অফিস থেকে আম পাড়ার ক্যালেন্ডার/সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়েছে। আগামী ২২ মে গুটি আম পাড়ার মধ্য দিয়ে আম নামানো শুরু হবে। চাষিরা জানান, এ বছর প্রচণ্ড দাবদাহ ও খরায় আম বাগানের যত্ন ও পরিচর্যা বেশি করতে হয়েছে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে- গুটি/স্থানীয় জাতের আম ২২ মে, গোপালভোগ ৩০ মে, ক্ষীরশাপাত/হিমসাগর ২ জুন, নাকফজলি ৫ জুন, ল্যাংড়া/হাড়িভাঙ্গা ১০ জুন, আম্রপালি ২০ জুন, ফজলি ২৫ জুন এবং আশ্বিনা/বারি-৪/বারি-১১/গৌড়মতি/কাটিমন ১০ জুলাই পাড়ার ক্যালেন্ডার প্রকাশ করা হয়।
এ বছর ৩৩ হাজার ৩০০ হেক্টর জমিতে আম বাগান গড়ে উঠেছে। যা থেকে ৪ লাখ ৩১ হাজার ৫০০ টন আম উৎপাদনের আশা। ব্যানানা ম্যাংগো, মিয়াজাকি, কাটিমন, গৌড়মতি, বারি আমচাসহ দেশি-বিদেশি মিলে প্রায় ১৬ জাতের আম চাষ হয়েছে।
জাত ভেদে আম বাগানের পরিমাণ নাকফজলি ৮৯৮ হেক্টর, ল্যাংড়া ১ হাজার ৬১৫ হেক্টর, ফজলি ১ হাজার ৪০৮ হেক্টর, গোপালভোগ ৬১০ হেক্টর, ক্ষীরশাপাত ১ হাজার ৪৭ হেক্টর, বারি-৪ আম ২ হাজার ৪০২ হেক্টর, বারি-১১ আম ৪২ দশমিক ৫০ হেক্টর, মল্লিকা ৩৭ হেক্টর, কাটিমন ১৫৪ দশমিক ৫০ হেক্টর, গৌড়মতি ১৪৩ দশমিক ২৫ হেক্টর, হাড়িভাঙা ৪১ দশমিক ৭৫ হেক্টর, ব্যানানা ম্যাংগো ১০৭ দশমিক ৫০ হেক্টর, আশ্বিনা ২ হাজার ৩২২ দশমিক ৫০ হেক্টর, কুমড়াজালি ১৩ হেক্টর, গুটি/ স্থানীয় ৬০৭ হেক্টর এবং আম্রপালি ১৮ হাজার ৪২২ হেক্টর। জেলায় যে পরিমাণ আম বাগান রয়েছে তার মধ্যে আম্রপালি ৬০ দশমিক ৮০ শতাংশ।
এ বছরের শুরুতে প্রচণ্ড শীত থাকায় ১৫-২০ দিন দেরিতে মুকুল আসে। এ ছাড়া এ বছর প্রচণ্ড খরা ও দাবদাহ বিরাজ করছে। আমের মৌসুমে এ পর্যন্ত দুইবার বৃষ্টি হওয়ায় চাষিদের ব্যাপক উপকার হয়েছে। বরেন্দ্র এলাকা হওয়ায় পানির স্বল্পতা রয়েছে। যেসব বাগান সেচের আওতায় সেগুলো সেচ দেওয়া সম্ভব হয়েছে।
বরেন্দ্র এলাকা হওয়ায় এখানকার আম সুস্বাদু ও সুমিষ্ট। স্বাদে অতুলনীয় হওয়ায় জেলায় ৬০ শতাংশ বাগানই আম্রপালি। এ জেলার আম ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ হয়ে থাকে। দেশের গণ্ডি পেরিয়ে এ জেলার আম বিদেশেও বেশ সুনাম কুড়িয়েছে।
আমচাষিরা বলেন, এ বছর প্রচণ্ড দাবদাহ ও খরায় অনেক আমের গুটি ঝরে পড়েছে। এতে গাছে কম পরিমাণ আম রয়েছে। এ বছর গাছে আম কিছুটা কম থাকলে গত বছরের তুলনায় ভালো দাম পাওয়া আশা চাষিদের। তবে প্রাকৃতিক কোনো দুর্যোগ না থাকলে লাভবান হতে পারবেন তারা।
সাপাহার উপজেলার ইসলামপুর গ্রামের আমচাষি নুরুজ্জামান বলেন, ‘আম চাষ লাভজনক হওয়ায় প্রতি বছরই বাড়ছে বাগানের পরিমাণ। আমের মুকুল থেকে শুরু করে বাজারজাত করা পর্যন্ত বিঘাতে প্রায় ৩০-৩৫ হাজার টাকা খরচ পড়ে। তবে এ বছর খরায় আরও ৪-৫ হাজার টাকা বেশি খরচ হয়েছে। অপেক্ষার প্রহর শেষ কিছুদিনের মধ্যে আম বাজারজাত করা হবে। গাছে আমের পরিমাণ কম হলেও দাম ভালো পেলে পুশিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে।’
বরেন্দ্র এগ্রো পার্কের স্বত্বাধিকারী সোহেল রানা বলেন, প্রায় ৭৫ বিঘা জমিতে বিভিন্ন জাতের আম বাগান রয়েছে। কৃষিচর্চা অনুসরণ করে বাগান করা হয়েছে।
নওগাঁ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. আবুল কালাম আজাদ বলেন- আমচাষিরা বাগানের পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন। এবার আম উৎপাদনের পাশাপাশি ভালো দাম পাওয়ার আশা। স্বাদ ও দাম ভালো পাওয়ায় আম্রপালি, বারি ও ব্যানানা জাতের বাগানের পরিমাণ বাড়ছে। রপ্তানি পরিসর বাড়াতে উত্তম কৃষিচর্চার মাধ্যমে কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
নবীন শিক্ষার্থীদের র্যাগিংয়ের অপরাধে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের চার বিভাগের ৪৮ শিক্ষার্থীকে এক বছর একাডেমিক বহিষ্কার অথবা অর্থদণ্ড দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। গত মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার ড. আবদুল আলিম বছির স্বাক্ষরিত আলাদা আলাদা চিঠিতে শাস্তির বিষয়টি জানানো হয়েছে। গত ২০ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা বোর্ডের সভার সিদ্ধান্ত মোতাবেক অপরাধের মাত্রানুযায়ী এই শাস্তি আরোপ করা হয়েছে বলে চিঠিতে জানানো হয়েছে।
আইন বিভাগের ৫ জন, মার্কেটিং বিভাগের ১৯ জন, কম্পিউটার সাইন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ১৪ জন, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের ১০ জনসহ চার বিভাগের ৪৮ শিক্ষার্থীকে শাস্তির আওতায় নিয়ে আসা হয়েছে।
অপরাধের মাত্রা অনুযায়ী ৪৮ শিক্ষার্থীকে তিন ক্যাটাগরিতে শাস্তি দেওয়া হয়েছে। কাউকে ১ বছরের বহিষ্কার বা ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে, কাউকে ৬ মাসের বহিষ্কার অথবা ১৫ হাজার টাকা জরিমানা। বাকিদের শুধু ১০ হাজার টাকা জরিমানার শাস্তি দেওয়া হয়েছে।
চিঠিতে জানানো হয়েছে, জরিমানা পরিশোধের সময়সীমাপত্র ইস্যুর তারিখ থেকে ১ মাস। এবং নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে জরিমানা পরিশোধ করতে ব্যর্থ হলে দ্বিগুনহারে জরিমানা প্রযোজ্য হবে বলে পত্রতে উল্লেখ করা হয়।
কম্পিউটার সাইন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. রাহাত হোসাইন ফয়সাল বলেন, ‘তিনটি ক্যাটাগরিতে শাস্তি নির্ধারণ করা হয়েছে—বহিষ্কার অথবা নির্দিষ্ট পরিমাণ জরিমানা। শিক্ষার্থীরা যেন ভুল শুধরে নেওয়ার সুযোগ পায়, সে জন্য প্রথমবার জরিমানের বিকল্প রাখা হয়েছে। তবে ভবিষ্যতে এমন অপরাধের ক্ষেত্রে সরাসরি বহিষ্কারাদেশ কার্যকর হবে।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর মো. মেহেদী হাসান সোহাগ বলেন, ‘মোট ৪৮ জন শিক্ষার্থীকে র্যাগিংয়ের বিষয়ে শাস্তি দেওয়া হয়েছে। র্যাগিংয়ের বিষয় বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করেছে। প্রাথমিকভাবে চারটি ডিপার্টমেন্টে তদন্ত রিপোর্ট দিয়েছে, ওই চারটি ডিপার্টমেন্টের স্টুডেন্টদের আমরা শাস্তির আওতাভুক্ত করেছি। আর অন্য একটি ডিপার্টমেন্ট তদন্ত রিপোর্টটে স্টুডেন্টের নাম উল্লেখ না করায় আমরা তাদের পুনরায় তদন্ত করার জন্য বলেছি। এবং পুনরায় তদন্ত রিপোর্ট নামসহ জমা দিলে আমরা তাদের আইনের আওতায় আনব।’
গুপ্ত ও নিষিদ্ধ সংগঠনের অপতৎপরতা, পরিকল্পিত সন্ত্রাস ও নৈরাজ্য সৃষ্টির প্রতিবাদে বগুড়ার শিবগঞ্জে মশাল মিছিল ও সমাবেশ করেছে বিএনপি। কর্মসূচিতে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম অভিযোগ করে বলেছেন, শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার পথ সুগম করতে একটি গুপ্ত সংগঠন বিভিন্নভাবে অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে। তাঁর দাবি, দেশের মানুষ এ বিষয়ে সচেতন এবং যেকোনো ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় বিএনপি প্রস্তুত।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) রাতে শিবগঞ্জ উপজেলা ও পৌর বিএনপির উদ্যোগে উপজেলা চত্বরে আয়োজিত মশাল মিছিল ও সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোতেও কর্মসূচিটি শিবগঞ্জে অনুষ্ঠিত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে।
সমাবেশে মীর শাহে আলম সাম্প্রতিক লংমার্চের সমালোচনা করে বলেন, যে মহাসড়ক দিয়ে কর্মসূচির অংশগ্রহণকারীরা গেছেন, সেখানে সাধারণ মানুষের মধ্যে তেমন আগ্রহ দেখা যায়নি। তাঁর দাবি, লংমার্চের নামে পায়ে হেঁটে যাওয়ার কথা থাকলেও কয়েকশ গাড়ি ব্যবহার করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, একদিকে তেল-গ্যাস না পাওয়ার অভিযোগ করা হচ্ছে, অন্যদিকে কর্মসূচিতে বিপুল পরিমাণ তেল-গ্যাস ব্যয় করা হয়েছে। সংসদের ভেতরে ও বাইরে ভিন্ন ধরনের বক্তব্য দেওয়া হচ্ছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
মীর শাহে আলম বলেন, একটি গুপ্ত সংগঠন ১১ দলের ফুটবল টিম গঠন করে শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার পথ তৈরি করতে অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে। তবে দেশের মানুষ সজাগ ও সচেতন উল্লেখ করে তিনি বলেন, যেকোনো ষড়যন্ত্র ও অপতৎপরতা মোকাবিলার সক্ষমতা বিএনপির রয়েছে।
তিনি বিএনপির দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের ইতিহাস তুলে ধরে বলেন, নানা নির্যাতন-নিপীড়ন সহ্য করেও দলটি দীর্ঘদিন আন্দোলন চালিয়ে গেছে। জনগণের সমর্থনে বিএনপি সরকার গঠন করেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, হুমকি-ধমকিতে দলটি ভীত হওয়ার নয়। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে সব ধরনের ষড়যন্ত্রের জবাব দেওয়া হবে।
প্রকাশিত অন্যান্য প্রতিবেদনে প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যের সঙ্গে একই কর্মসূচিতে দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং সন্ত্রাস-নৈরাজ্যের বিরুদ্ধে অবস্থানের কথাও উঠে এসেছে।
উন্নয়ন প্রসঙ্গে মীর শাহে আলম বলেন, বর্তমান সরকার শিবগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের উন্নয়নে কাজ করছে। একই সঙ্গে দেশের সব অঞ্চলে সুষম উন্নয়ন নিশ্চিত করতে বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে, যাতে উন্নয়নের সুফল প্রতিটি এলাকার মানুষ সমানভাবে ভোগ করতে পারেন।
এর আগে উপজেলা চত্বর থেকে মশাল মিছিল বের করেন বিএনপির নেতাকর্মী ও সমর্থকেরা। মিছিলটি বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় উপজেলা চত্বরে এসে শেষ হয়। পরে সেখানে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। কর্মসূচিতে বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী ও স্থানীয় সমর্থকেরা অংশ নেন।
যশোরের কেশবপুরের পদ্মবিল ও মার্সিনা বিলে ৪ হাজার মিটার অবৈধ চায়না দুয়ারি জাল জব্দ করে গত মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়েছে। উপজেলার ১০ নম্বর সাতবাড়িয়া ইউনিয়নের পদ্মবিলে জলাবদ্ধতার কারণে প্রায় ৫৫০ থেকে ৬০০ বিঘা জমির ধান পানিতে ডুবে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল।
পদ্মবিল ও মার্সিনা বিলের মধ্যবর্তী সংযোগস্থলে দুটি পাটা বাঁধ ও জাল দিয়ে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ বন্ধ করে রাখায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেনের দিকনির্দেশনায় সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয়ের পরিচালিত অভিযানে দুটি পাটা বাঁধ অপসারণ করে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনা হয়েছে। এতে বিস্তীর্ণ ফসলি জমির ধান জলমগ্নতা থেকে রক্ষা পেয়েছে।
একই অভিযানে পদ্মবিল ও মার্সিনা বিলের প্রায় আটটি স্থান থেকে আনুমানিক ৪ হাজার মিটার অবৈধ চায়না দুয়ারি জাল জব্দ করা হয়। পরে জব্দ করা জাল জনসম্মুখে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়।
সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সুদীপ বিশ্বাসের নেতৃত্বে পরিচালিত এ অভিযানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তা মো. মিয়াজান আলী, ভাল্লুকঘর পুলিশ ফাঁড়ির এএসআই নারদ কুমার বিশ্বাস, ভিডিপি দলনেতা মো. আলী হোসেন, দলনেতা তালিব হোসাইন, আনসার কমান্ডার মো. ইয়াসিন আলী, দলনেতা শেখ রাজিকুল ইসলাম ও মো. আমানত আলী গাজী। অভিযানের মাধ্যমে একদিকে যেমন কৃষিজমির জলাবদ্ধতা নিরসনে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনা হয়েছে, অন্যদিকে অবৈধ চায়না দুয়ারি জাল জব্দ ও ধ্বংসের মাধ্যমে মৎস্যসম্পদ রক্ষায়ও পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
কক্সবাজারের টেকনাফে ১৯৭০ সালে প্রতিষ্ঠিত কাটাখালী হাফেজিয়া দারুল কোরআন ফুরকানিয়া মাদ্রাসা ও খানাকাহের সম্পত্তি দখল ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। প্রতিষ্ঠাতা মরহুম শাহ সুফি আব্দুল কাদের ফকিরের একমাত্র ছেলে হাফেজ জালাল আহম্মদ বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টায় সাংবাদিক সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন।
লিখিত বক্তব্যে তিনি দাবি করেন, ২০০৬ সালে তার বাবার মৃত্যুর পর কয়েকজন ব্যক্তি মাদ্রাসার জায়গা-জমি, মার্কেট ও অন্যান্য সম্পত্তি দখলে নেন। এতে নগদ অর্থ ও সম্পদসহ এক কোটি ২০ লাখ টাকার বেশি ক্ষতি হয়েছে। পাশাপাশি জমি ও মার্কেটের আয়-ব্যয়েরও কোনো যথাযথ হিসাব দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
জালাল আহম্মদ বলেন, বাংলাদেশ ওয়াক্ফ প্রশাসক গত ২৩ জুন তাকে তিন বছরের জন্য মোতাওয়াল্লি নিয়োগ দিয়েছেন। তবে দখলদাররা ওই আদেশ মানছেন না। তিনি প্রতিষ্ঠানটির সম্পত্তি, মালিকানা ও আয়-ব্যয়ের বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেন।
এদিকে হাফেজ জালাল আহমেদের ছেলে নুরুল আফসার বলেন, মাদ্রাসাটি দখল করে রাতে সেখানে মাদকসেবীদের আড্ডা বসে। এখানে মাদক কেনাবেচাও হয়। এ জায়গা থেকে মাদকসহ একজনকে আটকের ঘটনায় মামলা রয়েছে, যার প্রমাণ আমাদের কাছে আছে। মাদক ব্যবসায়ীদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দেওয়ার কারণে তারা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।
অভিযোগের বিষয়ে নুরুল আমিন বলেন, মাদ্রাসা পরিচালনার দায়িত্ব ফরাজ খাতুন ছৈয়দ আমিনকে বুঝিয়ে দিয়েছিলেন। জায়গাটির মালিক ফকির সাহেব নন, ফরাজ খাতুন। মৃত্যুর আগে তিনি তাদের নামে জায়গাটি লিখে দিয়েছেন। ধর্ম মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা ও আদালতের রায় ভুয়া বলেও দাবি করেন তিনি।
টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম অনীক চৌধুরী বলেন, ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অনুমোদিত ওয়াক্ফ মোতাওয়াল্লি নিয়োগ দেওয়া হলে প্রতিষ্ঠানের দেখভাল ও পরিচালনার দায়িত্ব তার ওপর বর্তায়। কেউ এ নিয়ম অমান্য করলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তীব্র দাবদাহ আর ভ্যাপসা গরমে দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে জনজীবন। হাসফাঁস অবস্থা বিরাজ করছে প্রাণিকুলে। এরই মধ্যে বেড়েই চলেছে সর্দি-জ্বরসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্তদের সংখ্যা। তাই সেবা নিতে প্রতিদিনই রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে ৫০ শয্যা বিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতালে ভিড় বাড়ছে। কিন্তু ফ্যান সংকটের কারণে ভর্তিকৃত রোগীদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
পেটের ব্যথা নিয়ে হাসপাতালের নারী ওয়ার্ডে ভর্তিকৃত এক রোগী বলেন, ‘প্রচণ্ড গরমে ফ্যানের বাতাস না থাকায় দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে তাকে।’ অনেকটা আক্ষেপ নিয়েই তিনি বলেন, ‘পেটের ব্যাথার চেয়েও যেন বেশি অসহনীয় এই গরম। অথচ, বারান্দায় বেড আছে কিন্তু সিলিংফ্যান নেই। সারা দিন ছটফট করে পার করেছি। রাতটা কীভাবে কাটাব ভেবে পাচ্ছি না।’
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় সরেজমিনে হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, মহিলা ও পুরুষ ওযার্ডের বারান্দায় বেড থাকলেও সব স্থানে রোগীর মাথার উপরে ফ্যান নেই। ফলে অনেক রোগীকেই টেবিলফ্যান অথবা হাতপাখা ব্যবহার করতে দেখা গেছে।
হাসপাতালের পুরুষ ওয়ার্ডের এক রোগী বলেন, ‘ফ্যান না থাকায় রোগীদের পাশাপাশি তাদের স্বজনরাও কষ্ট পাচ্ছে। তাই বাধ্য হয়ে বাড়ি থেকে টেবিল ফ্যান নিয়ে এসেছি। যাতে কষ্ট একটু হলেও কম হয়।’
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. মারুফ হাসান জানান, পুরুষ ও মহিলা ওয়ার্ডের বারান্দায় সব বেডের উপরে সিলিংফ্যান নেই। হাসপাতালে বাড়তি রোগী থাকায় ওয়ার্ডের বাইরে বেডে আগত রোগীদের সেবা দেওয়া হচ্ছে। তা ছাড়া ওয়ার্ডে প্রতিটি বেডের উপরে ফ্যান রয়েছে। ফ্যান সংকটের বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছে, খুব শীঘ্রই তিনি ফ্যানের ব্যবস্থা করবেন বলে আশ্বস্ত করেছেন।
ডেঙ্গুর প্রকোপ প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং মশার প্রজননস্থল ধ্বংসের লক্ষ্যে গাজীপুরে বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু করেছে বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি গাজীপুর ইউনিট। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সকালে গাজীপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয় প্রাঙ্গণে যুব রেড ক্রিসেন্টের সদস্যদের অংশগ্রহণে এ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন গাজীপুরের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. নূরুল করিম ভূঁইয়া।
এ সময় গাজীপুর রেড ক্রিসেন্ট ইউনিটের সেক্রেটারি এ এম আশরাফ হোসেন টুলুসহ জেলা প্রশাসন ও রেড ক্রিসেন্টের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। অভিযানের প্রথম দিনে রেড ক্রিসেন্টের প্রায় ২০ জন যুব স্বেচ্ছাসেবক স্বতঃস্ফূর্তভাবে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে অংশ নেন।
এ সময় জেলা প্রশাসক বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে কেবল চিকিৎসাধীন থাকার ওপর নির্ভর করলেই চলবে না, বরং এর মূল উৎপত্তিস্থল বা মশার প্রজননস্থল ধ্বংস এবং পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। বাড়ির আঙিনা, ছাদ, নির্মাণাধীন ভবন, অফিস-আদালত ও আশপাশের কোথাও যেন কোনোভাবেই পানি জমে না থাকে, সেদিকে সবাইকে নিয়মিত নজর রাখতে হবে।
এ সময় পরিচ্ছন্নতা অভিযানের জন্য প্রয়োজনীয় বিভিন্ন সরঞ্জাম দিয়ে সার্বিক সহযোগিতা করায় গাজীপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. শওকত হোসেন সরকারকে বিশেষ ধন্যবাদ জানান। তিনি আশা প্রকাশ করেন, প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করার মাধ্যমেই ডেঙ্গুর ঝুঁকি কমিয়ে একটি নিরাপদ ও পরিচ্ছন্ন গাজীপুর গড়ে তোলা সম্ভব।
জেলা প্রশাসক মো. নূরুল করিম ভূঁইয়া চত্বরে উপস্থিত এক অসহায় পঙ্গু নারীর খোঁজখবর নেন। তার কথা শুনে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে তাকে ২০ হাজার টাকা সহায়তা প্রদান করা হয়। এ ছাড়া একটি ছোট ব্যবসা শুরু করে তার স্বাবলম্বী হওয়ার উদ্যোগে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন জেলা প্রশাসক। পরবর্তীতে তার ব্যবসা কেমন চলছে এবং নিয়মিত আয় হচ্ছে কি না, সে বিষয়েও তিনি আন্তরিক খোঁজখবর নেন।
উদ্বোধনের পর রেড ক্রিসেন্টের যুব স্বেচ্ছাসেবকরা জেলা প্রশাসকের কার্যালয় প্রাঙ্গণ ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় জমে থাকা ময়লা-আবর্জনা অপসারণ করেন এবং ডেঙ্গুর সম্ভাব্য মশার প্রজননস্থলগুলো পরিষ্কার করেন।
যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মোঃ আমিনুল হক বলেছেন, দায়িত্বভার গ্রহনের পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের উন্নয়নে যে পরিকল্পনা নিয়েছিলেন তা সাত মাসের মধ্যেই জনগণের সামনে দৃশ্যমান । আজ যখন জনগণের আস্থা ও বিশ্বাস অর্জনে, মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য আমরা ধাবিত হচ্ছি তখন বিরোধী দল সংসদে সমর্থন দেয়ার কথা বললেও বাইরে তাদের ভিন্ন রূপ দেখা যায়। মূলত মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় তাদের ভূমিকায় যে চরিত্র ছিল সংসদের বাইরে এসে তারা তা ফুঁটিয়ে তুলে। তারা মুখে বলে এক অন্তরে আরেক।
তিনি বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।
বাক স্বাধীনতার নামে বিরোধী মহল বিভিন্ন অপপ্রচার চালাচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, আজ দেশে অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি করার জন্য যারা আওয়ামী সন্ত্রাসীদের সাথে গুপ্তভাবে সহযোগিতা করছে তারাই আবার বলছে দেশের অস্তিতিশীল পরিস্থিতির জন্য সরকার দায়ী। অর্থাৎ জামায়াতে ইসলামের সেক্রেটারি বিএনপি'র উপর দায় চাপাতে চাচ্ছে। এর চেয়ে বড় মিথ্যাচার আর কি হতে পারে। মূলত জামায়াতে ইসলাম তাদের আচার আচরণে গুপ্ত হিসেবে জনগনের কাছে প্রতিষ্ঠিত হয়ে গেছে। জনগণের কাছে জান্নাতের টিকিট বিক্রি করতে না পেরে তারা এখন ভিন্ন পথ অবলম্বন করছে।
নাসিরনগর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে উপজেলা প্রশাসন আয়োজিত অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন স্থানীয় সংসদ সদস্য এম, এ হান্নান। এতে জেলা প্রশাসক মোঃ আবু সাঈদের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন সংরক্ষিত সংসদ সদস্য নাদিয়া পাঠান পাপন, তথ্য অধিদপ্তরের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমেদ, জেলা পরিষদ প্রশাসক মোঃ সিরাজুল ইসলাম সিরাজ, অর্থ মন্ত্রণালয়েরর সাবেক অতিরিক্ত সচিব মফিজ উদ্দিন প্রমূখ। পরে স্কুল, মাদ্রাসা, কলেজসহ ১২৭ টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ করা হয়।
চলতি বছরের ৯ মাসে কুমিল্লা, সিলেট, ময়মনসিংহ শ্রীমঙ্গল ৪টি সেক্টর নিয়ে গঠিত সরাইল রিজিয়নের আওতাধীন সীমান্তে অভিযান চালিয়ে ২৩টি আগ্নেয়াস্ত্র, ১৯ কেজি বিস্ফোরক, মাদক, বালু-পাথরসহ ৯৩১ কোটি ২৭ লাখ টাকার বিভিন্ন অবৈধ মালামাল জব্দ করা হয়েছে।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) উত্তর-পূর্ব সরাইল রিজিয়নের পক্ষে সংবাদ সম্মেলন করে এসব তথ্য জানান ২৮ ব্যাটালিয়ন সুনামগঞ্জের অধিনায়ক লে কর্নেল একেএম জাকারিয়া কাদির।
ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, সরাইল রিজিয়নের দায়িত্বপূর্ণ প্রায় ১,২০৪ কিলোমিটারে ৪টি সেক্টরের ১৩টি ব্যাটালিয়নের ২১১টি বিওপি ক্যাম্প জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ১১টি পিস্তল, ৭টি এয়ার গান, ৫টি পাইপ গান, ৬২ রাউন্ড কার্তুজের পাশাপাশি ১৯ কেজি উচ্চবিস্ফোরক, ১১৭টি ডেটোনেটর এবং ৩০ মিটার ডেটোনেটর তার উদ্ধার করেছে।
৩ লাখ ১ হাজার পিস ইয়াবা, ১৩ হাজার কেজি গাঁজা, ৬২ হাজার ৬০০ বোতল বিদেশি মদ এবং বিয়ার, ১৫ হাজার পাঁচশত ৮১ বোতল ফেনসিডিল ও ইস্কাফ সিরাপ, ৩ লাক ৭৩ হাজার ৫০০ পিস বিভিন্ন প্রকার যৌন উত্তেজক ট্যাবলেট এবং ১৬৯ লিটার চোলাই মদ জব্দ হয়েছে। এসব অভিযানে মোট ৩০৫ জন আসামিকে আটক হয়। এ ছাড়া প্রাকৃতিক সুরক্ষায় ১৫ হাজার ৯০০ ঘনফুট পাথর ও ৭ হাজার ৩০০ ঘনফুট বালু জব্দ করা হয়েছে।
পঞ্চগড় পৌর শহরের তুলারডাঙ্গা এলাকায় রাস্তার পাশের একটি খাল থেকে রেজাউল করিম রেজা (৪০) নামে এক কম্পিউটার কম্পোজ দোকান মালিকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পঞ্চগড় সদর থানা পুলিশ।
নিহত রেজাউল করিম রেজা ঠাকুরগাঁও জেলার ভেলাজান এলাকার মোস্তফা কামালের ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে পঞ্চগড় পৌরসভার রাজনগর এলাকায় পরিবার নিয়ে বসবাস করছিলেন। পঞ্চগড় সদর থানার সামনে তাঁর একটি কম্পিউটার কম্পোজের দোকান রয়েছে।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) রাতে দোকান বন্ধ করে বাড়িতে ফেরেন রেজাউল করিম রেজা। রাত ১২টার দিকে পারিবারিক কোনো বিষয় নিয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে তিনি আবার বাড়ি থেকে বের হয়ে যান। এরপর আর বাড়িতে ফিরে আসেননি তিনি।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সকালে তুলারডাঙ্গা এলাকায় রাস্তার পাশের একটি খালে স্থানীয় বাসিন্দারা তাঁর মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেন। খবর পেয়ে পঞ্চগড় সদর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।
পরে অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) সদস্যরাও ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রয়োজনীয় আলামত সংগ্রহ করেন।
পুলিশ সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত শেষে মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
পঞ্চগড় সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শইমী ইমতিয়াজ জানান, খবর পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। প্রাথমিকভাবে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ মর্গে পাঠানো হয়েছে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে নিখোঁজের পর ব্যবসায়ী রেজাউল করিম রেজার মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। মৃত্যুর কারণ নিয়ে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্তের পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে ফরিদপুরের ৭৬৫টি পূজামণ্ডপে শতভাগ সিসিটিভি ক্যামেরা নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছে জেলা পুলিশ। আগামী ১০ অক্টোবরের মধ্যে অচল ক্যামেরা সচল করা এবং যেসব মণ্ডপে ক্যামেরা নেই, সেখানে প্রয়োজন হলে ভাড়ায় হলেও সিসিটিভি স্থাপনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) ফরিদপুর জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে পূজা উদযাপন কমিটির নেতৃবৃন্দের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় পুলিশ সুপার শাহরিয়ার মোহাম্মদ মিয়াজী এই নির্দেশনা দেন। সভায় পূজাকেন্দ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, নিরাপত্তা ব্যবস্থা, সাইবার নজরদারি ও গুজব প্রতিরোধ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
জেলা পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর ফরিদপুরে পূজামণ্ডপ ছিল ৭৫৭টি। এবার তা বেড়ে হয়েছে ৭৬৫টি। এর মধ্যে কোতোয়ালী থানায় ১৯২টি, মধুখালীতে ১৫৯টি, বোয়ালমারীতে ১৩০টি, ভাঙ্গায় ৮৮টি, নগরকান্দায় ৬১টি, আলফাডাঙ্গায় ৪৩টি, সালথায় ৪৩টি, সদরপুরে ৩৫টি এবং চরভদ্রাসনে ১৪টি মণ্ডপ রয়েছে।
বর্তমানে ৬৪৪টি মণ্ডপে সিসিটিভি থাকলেও সচল রয়েছে ৫০৪টির ক্যামেরা। অর্থাৎ ১৪০টি ক্যামেরা অচল। পাশাপাশি ১২১টি মণ্ডপে এখনও কোনো সিসিটিভি স্থাপন করা হয়নি।
পুলিশ সুপার বলেন, মণ্ডপের নিরাপত্তা ও নজরদারিতে কোনো ধরনের শিথিলতা গ্রহণ করা হবে না। ১০ অক্টোবরের মধ্যে সব মণ্ডপে কার্যকর সিসিটিভি নিশ্চিত করতে হবে। প্রয়োজন হলে ভাড়া করে ক্যামেরা স্থাপনের পাশাপাশি আর্থিক ও প্রযুক্তিগত সহায়তার জন্য জেলা প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসন ও জেলা পরিষদের সঙ্গে যোগাযোগের পরামর্শ দেন তিনি।
পূজামণ্ডপের নিরাপত্তায় আগামী ১৫ থেকে ২১ অক্টোবর পর্যন্ত আনসার সদস্য মোতায়েন থাকবে। অধিক গুরুত্বপূর্ণ মণ্ডপে ছয়জন এবং অন্যান্য মণ্ডপে চারজন করে আনসার সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন।
এর পাশাপাশি পূজাকালীন পুলিশের টহল জোরদার, বিসর্জন ঘাটে বিশেষ নিরাপত্তা, স্বেচ্ছাসেবকদের কার্যক্রম মনিটরিং এবং শহরের যানজট নিয়ন্ত্রণে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা জোরদারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নির্বিঘ্ন পূজা উদযাপনে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিয়েও সভায় আলোচনা করা হয়।
পূজাকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব, অপপ্রচার, উসকানিমূলক বক্তব্য বা বিভ্রান্তিকর ছবি ছড়িয়ে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্টের চেষ্টা ঠেকাতে সাইবার মনিটরিং জোরদার করা হবে। এ জন্য সাইবার মনিটরিং টিম কাজ করবে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী দ্রুত ফ্যাক্ট চেক করা হবে। অপপ্রচারকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানানো হয়েছে।
নওগাঁ শহরে দিনেদুপুরে ব্যাটারিচালিত রিকশাযাত্রী এক নারীর কানের স্বর্ণের দুল ছিনতাইয়ের সময় নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ থেকে আসা তিন ছিনতাইকারী ও অজ্ঞান পার্টির সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) শহরের রুবীর মোড়ে জনগণের সহযোগিতায় তাদের প্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, ইউসুফ সর্দারের ছেলে মো: জামাল (৩৫), আব্দুর রবের ছেলে মো. ফরিদ (৩৩) এবং মাইনুদ্দিনের ছেলে মো: রবি (২৪)। তিনজনই নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ থানার চনপাড়া এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভিকটিম শাহানাজ আক্তার শিরিন নওগাঁ শহরের রজাকপুর এলাকা থেকে ব্যাটারিচালিত রিকশায় করে শহরের স্টাফ কোয়ার্টারে যাওয়ার পথে রুবীর মোড় এলাকায় পৌঁছালে ওই তিন ছিনতাইকারী তাকে ধারালো চাকুর ভয় দেখিয়ে খুন-জখমের হুমকি দেয়। একপর্যায়ে তারা ভিকটিমের কানে থাকা পাঁচ আনা ওজনের স্বর্ণের দুল ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এসময় ভিকটিমের আত্মচিৎকারে আশপাশের লোকজন দ্রুত এগিয়ে আসেন।
একই সঙ্গে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ কল পেয়ে নওগাঁ সদর থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয় জনগণের সহযোগিতায় পুলিশ চাকুসহ তিন আটক করে। এ সময় উত্তেজিত জনতা তাদের গণপিটুনি দেয়। পরে পুলিশ তাদের হেফাজতে নিয়ে থানায় নিয়ে আসে।
এবিষয়ে নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন, কেউ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর চেষ্টা করলে, ছাড় দেওয়া হবে না। পুলিশ সবসময় সাধারন মানুষের নিরাপত্তায় সজাগ ও তৎপর রয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে নিয়মিত ছিনতাই মামলা রুজু করা হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। যেকোনো সন্দেহজনক গতিবিধি দেখলেই পুলিশকে তাৎক্ষণিকভাবে জানানোর অনুরোধ জানান।
কোনো কোনো দিন ফজরের নামাজ পড়তে উঠে দেখি কলে সাপ্লাইয়ের পানি নাই -এ ছাড়াও সকাল ৭টার পর থেকে কলে পানি না থাকা এটা এখন আমাদের প্রতিদিনের ঘটনা-কথাগুলি বলছিলেন পটুয়াখালী পৌর এলাকার সদর রোডের বাসিন্দা গৃহবধূ জাহিদা খানম শিমুল। একই ধরনের কথা বলেন শহরের পুরান বাজার এলাকার বাসিন্দা গৃহবধূ মন্দিার দাস, শিমুলবাগ এলাকার বাসিন্দা গৃহবধূ মীম, নবাবপাড়ার এলাকার গৃহবধূ আফরোজা রুপা।
পটুয়াখালী পৌর এলাকার অধিকাংশ মানুষের জীবন যাত্রা পাল্টে গিয়েছে শুধু মাত্র পৌরসভার সাপ্লাইয়ের পানির অপ্রাপ্যতার উপর। শহরের অধিকাংশ এলাকায় বিশেষ করে গৃহবধূদের পানির এ ভোগান্তির কারণে নানা রকম বিড়ম্বনার শিকার হতে হচ্ছে।
সকাল থেকে পনি না থাকায় রাত জেগে পানি ধরে রাখতে হচ্ছে তাদেরকে। অধিকাংশ বাসায় কাজের সহযোগী মহিলারা দিনের বেলায় কাজ করে যাওয়ায় বাসন -পত্র কোন রকম জমানো পানি দিয়ে ধোয়া-মোছার কাজ করা সম্ভব হলেও প্রতিটি বাড়িতেই কাপড় চোপড় ধোয়া নিয়ে বিড়ম্বন পোহাতে হচ্ছে মারাত্মকভাবে।
পটুয়াখালী পৌর এলাকায় বর্তমানে ৯৪৮২ জন গ্রাহকের বিপরীতে ১২টি পাম্প হাউজ দিয়ে ১৪টি উৎপাদক নলকূপের মাধ্যমে ১০৬ কিলোমিটার পাইপ লাইনের মাধ্যমে ১০,৩৩২ ঘন মিটার পানি উত্তোলন করা হয়ে থাকে। বর্তমানে পটুয়াখালী পৌরএলাকায় ৫৭২টি হস্তচালিত টিউবওয়েলের মাধ্যমে বিভিন্ন স্পটে পানি সরবরাহ করে থাকে।
স্বাধীনতার পরবর্তিতে পটুয়াখালী পৌর এলাকার বিভিন্ন স্পটে ও বাসাবাড়িতে প্রায় ১৮০০ থেকে ১৯০০ টিউবওয়েল বসানো ছিল,যেগুলো দিয়ে পটুয়াখালী পৌরএলাকার অধিবাসীদের পানির চাহিদা মেটানো হতো । যে গুলিতে ৮৫০ খেকে ৯০০ ফুট লেয়ারে সুপেয় পানি পাওয়া যেত। এমাগত জনসংখ্যা বৃদ্ধি সহ পৌর এলাকার সীমানা বৃদ্ধির পাশাপশি হাই রাইজ ভবন নির্মান করে তাতে পাম্প হাউজ স্থাপনের ফলে পানির লেয়ার এখন ১১০ ফুট থেকে ১২০০ ফুটে চলে যাওয়ায় সেই টিউবওয়েবগুলি এখন অচল হয়ে পরে রয়েছে।স্বাধীনতার পরবর্তী পটুয়াখালী মিউনিসিপ্যালিটির ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে সরসরি পাইপলাইনের মাধ্যমে সীমিত সংখক এলাকায় পানি সরবরাহের কাজ শুরু করে। ২০০৪ সালে ডিপিএইচইড্যানিডা ওভার হেড ট্যাকিংর মাধ্যমে পানি সরবরাহ শুর করে যা বর্তমানে পৌর এলাকার ২৫ বর্গ কলোমিটার এলাকা পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে।
জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আশরাফুজ্জামান বলেন, পটুয়াখালী পৌর এলাকার সীমানা বৃদ্ধির পাশাপাশি জনসংখ্যা বৃদ্ধির সাথে সাথে পানির প্রাহকের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় পৌরসভা কর্তৃক সরবরাহকৃত পানি দিয়ে চাহিদা পূরণ করা ব্যাহত হচ্ছে।
তিনি অরোও জানান, সমস্যা নিরসনকল্পে সরকারের ২২টি পৌরসভায় পানি সরবরাহের প্রকল্প আওতায় সম্ভব্যতা যাচাইয়ের কাজ শেষ হয়েছে। সেখানে পটুয়াখালী পৌরসভার জন্য নতুন ৬টি উৎপাদক নলকূপ, ও ৭টি নতুন ওভার হেডট্যাংক নির্মাণসহ নতুন পাইপ লাইন নির্মাণের প্রস্তাব করা হয়েছে। পরিকল্পনাটি মন্ত্রণালয়ে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। পটুয়াখালী পৌরসভার পানি ও পয়:নিস্কাশন বিভাগের দায়িত্বপাপ্ত সহকারী প্রকৌশলী এম রিয়াজ উদ্দিন মজুমদার বলেন, বর্তমানে ১৪টি পাম্প হাউজের মাধ্যমে ১৮ ঘণ্টা পাম্প চালিয়ে ১০,৩৩২ ঘন মিটার পানি উত্তোলন করে তা গ্রাহকের মধ্যে সরবরাহ করে থাকি, সাম্প্রতিক সময়ের বিদুৎ এর ঘাটতির কারণে পাম্পগুলো থেকে নিরবিচ্ছিন্নভাবে পানি উত্তোলন করা ব্যাহত হচ্ছে। গ্রাহক বাড়ার সাথে সাথে পানির উপ চাপ বাড়ছে, প্রায় ১০ হাজার গ্রাহকের জন্য আরোও ১০ হাজার ঘন মিটার পানির চাহিদা রয়েছে।
এ দিকে পটুয়াখালী পৌরসভার বাসিন্দাদের দীর্ঘদিনের সুপেয় পানির সংকট নিরসনে ৪৫ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি প্রকল্প গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিবকে চিঠি দিয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়।
পটুয়াখালী-১ (১১১) আসনের সংসদ সদস্য এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) আলহাজ্ব আলতাফ হোসেন চৌধুরীর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রটোকল অফিসার-১ ও ‘মাননীয় সংসদ সদস্যগণের প্রতিশ্রুতি ও প্রত্যাশিত কর্মসূচি বাস্তবায়ন সমন্বয় সেল’-এর সদস্য সচিব মো. উজ্জ্বল হোসেন স্বাক্ষরিত চিঠিতে প্রকল্পের বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ এবং অগ্রগতি প্রতিবেদন পাঠানোর অনুরোধ জানানো হয়।
এর আগে গত ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ সংসদ সদস্য আলতাফ হোসেন চৌধুরী প্রধানমন্ত্রী বরাবর পটুয়াখালী পৌরসভার জন্য ৪৫ কোটি টাকার প্রকল্প গ্রহণের অনুরোধ জানিয়ে একটি আধা-সরকারি পত্র (ডিও) পাঠান।
সংকট নিরসনে প্রস্তাবিত প্রকল্পের আওতায় চারটি ওভারহেড ট্যাংক নির্মাণে ১৬ কোটি টাকা, ১০টি উৎপাদক নলকূপ স্থাপনে ৩ কোটি ২০ লাখ টাকা, ১০টি টেস্ট টিউবওয়েল স্থাপনে ২০ লাখ টাকা এবং ১২টি পাম্প হাউস নির্মাণ, পাম্প, ট্রান্সফরমার ক্রয় ও বৈদ্যুতিক সংযোগ স্থাপনে ৩ কোটি ২৮ লাখ টাকা ব্যয়ের প্রস্তাব করা হয়েছে।
এ ছাড়া ৩০ কেভি ক্ষমতাসম্পন্ন ২০টি থ্রি-ফেজ জেনারেটর স্থাপনে ৭ কোটি টাকা, ১৬০ মিলিমিটার ব্যাসের ২২ কিলোমিটার পাইপলাইন স্থাপনে ৮ কোটি ৮০ লাখ টাকা এবং ১১০ মিলিমিটার ব্যাসের ২০ কিলোমিটার পাইপলাইন স্থাপনে ৬ কোটি ৫৬ লাখ টাকা ব্যয়ের প্রস্তাব রয়েছে।
প্রস্তাবিত প্রকল্পটি দ্রুত বাস্তবায়ন হলে পটুয়াখালী পৌরসভার দীর্ঘদিনের সুপেয় পানি সংকট অনেকটাই দূর হবে এবং নাগরিকদের নিরাপদ পানি সরবরাহ নিশ্চিত হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
কুমিল্লা সদর উপজেলার আমড়াতলী ইউনিয়নের ভুবনঘর আবুল হাসেম আব্বাসিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে ভোটকেন্দ্র পুনর্বহালের দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সকালে কুমিল্লা প্রেসক্লাবের সামনে ভুবনঘর গ্রামের সহস্রাধিক নারী-পুরুষ জড়ো হয়ে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেন। এ সময় তারা আগের স্থানেই ভোটকেন্দ্র পুনর্বহালের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং বক্তব্য রাখেন।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া স্থানীয়রা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ভুবনঘর আবুল হাসেম আব্বাসিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে ভোটকেন্দ্র হিসেবে ভোটগ্রহণ হয়ে আসছে। ওই কেন্দ্রে এলাকার প্রায় ৪-৫ হাজার লোক ভোটাধিকার প্রয়োগ করে আসছেন। কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই সেখানে বিভিন্ন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
তাদের দাবি, আসন্ন নির্বাচনে ভোটকেন্দ্রটি ভুবনঘর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্থানান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে ভোটারদের দুর্ভোগ বাড়বে। বিশেষ করে বয়স্ক নারী-পুরুষসহ দূরের ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে যাতায়াতে সমস্যা হতে পারে।
স্থানীয়রা আরও বলেন, আবুল হাসেম আব্বাসিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পর্যাপ্ত কক্ষ, বড় ভবন ও বিশাল মাঠ রয়েছে। সেখানে ভোটারদের দাঁড়ানো, ভোটগ্রহণ এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্ব পালনের পর্যাপ্ত সুযোগ রয়েছে। বিপরীতে প্রস্তাবিত ভুবনঘর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে জায়গা তুলনামূলক কম।
মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন আমড়াতলী ইউনিয়নের মোতালেব, ফিরোজ, কামাল হোসেন মেম্বার, মো. আবুল হোসেন, হাজী সফিক মেম্বার, মিনু বেগম, মর্জিনা আক্তার, মো. ইয়াছিন, মো. দুলাল মিয়া, জলিল মিয়া, বাবুল মিয়া, আলম মিয়া, হানিফ হোসেন, আক্তার, মাহবুব মিয়া, মানিক মিয়া প্রমুখ।
মানববন্ধন শেষে এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে কুমিল্লা জেলা প্রশাসক ও জেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কাছে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। স্মারকলিপিতে ভোটারদের নির্বিঘ্নে ভোটাধিকার প্রয়োগের স্বার্থে ভুবনঘর আবুল হাসেম আবাসিয়া উচ্চ বিদ্যালয়কে পুনরায় ভোটকেন্দ্র হিসেবে নির্ধারণের দাবি জানানো হয়।