সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
১৩ আশ্বিন ১৪৩৩

নেত্রকোণায় বিল থেকে স্কুল ছাত্রের মরদেহ উদ্ধার

নেত্রকোণা প্রতিনিধি
প্রকাশিত
নেত্রকোণা প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ১৬ মে, ২০২৪ ১৫:৩৩

নেত্রকোণা পূর্বধলায় আকিব হাসান মাহিন নামে এক স্কুল ছাত্রের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তিনি পূর্বধলা জগৎমনি পাইলট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের বিজ্ঞান বিভাগের একজন ছাত্র।

আজ বৃহস্পতিবার সকালে পূর্বধলার থানা পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা মরদেহটি উদ্ধার করেন।

পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, গতকাল বুধবার উপজেলার রাজধলা বিলের উত্তর পশ্চিম কোণে মেহগনি বাগানে বন্ধুদের সঙ্গে ঘুরতে আসে রাজপাড়া গ্রামের ফারুক আহমেদ ওরফে কাশেমের ছেলে আকিব হাসান মাহিন (১৭)। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন উপজেলা শহরের সোহেল রানার ছেলে আবির ও তার বন্ধু সাইমন। বেলা ৫টার দিকে সাইমন এবং আবির দুইজন ঘটনাস্থল থেকে চলে যায়। কিন্তু মাহিন রাত ১০টা পর্যন্ত বাসায় না ফিরলে তার স্বজনরা রাত ভর তাকে খোঁজাখুজি করেন। আজ বৃহস্পতিবার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে তার স্বজনরা রাজধলা বিলের উত্তর পশ্চিম কোণে মাহিনের পরিহিত জামা ও ব্যাবহৃত মোবাইল দেখতে পান। স্থানীয় লোকজন এবং তার স্বজনরা অনুমান করেন মহিনের মৃতদেহ বিলে থাকতে পারে। পরে ফায়ার সার্ভিসের একটি ডুবুরি দল ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে মরদেহ উদ্ধার করেন। এ সময় পূর্বধলা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে নেত্রকোণা জেলার পূর্বধলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাশেদুল ইসলাম দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে নেত্রকোণা জেলা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। পরিবারের অভিযোগের প্রেক্ষিতে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

বিষয়:

নির্বাচিত

কুমিল্লায় কিশোর গ্যাংবিরোধী সাঁড়াশি অভিযান, তিন দফায় আটক ১,২৯৩

* অপরাধে সম্পৃক্ততা না থাকলে হয়রানি নয়: পুলিশ সুপার
কুমিল্লায় কিশোর গ্যাং ও বখাটেদের বিরুদ্ধে পুলিশের সাঁড়াশি অভিযান। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মাহফুজ নান্টু কুমিল্লা

কুমিল্লায় কিশোর গ্যাং ও বখাটেদের বিরুদ্ধে ফের সাঁড়াশি অভিযান চালিয়েছে জেলা পুলিশ। জেলার ১৮ থানায় একযোগে পরিচালিত সর্বশেষ অভিযানে ৪১৫ জনকে আটক করা হয়েছে। এ নিয়ে সাম্প্রতিক তিন দফার অভিযানে আটক হয়েছেন মোট ১ হাজার ২৯৩ জন।

গত রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৭টা থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত জেলা পুলিশ ও গোয়েন্দা পুলিশের সমন্বয়ে নগরীসহ জেলার বিভিন্ন এলাকা ও গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে এ অভিযান চালানো হয়। অভিযানে জেলা পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান পিপিএমসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সরাসরি অংশ নেন।

পুলিশ জানায়, এর আগে কিশোর গ্যাংবিরোধী পৃথক দুই অভিযানে ৬২৪ ও ২৫৪ জনকে আটক করা হয়েছিল। সর্বশেষ ৪১৫ জনসহ তিন দফায় আটকের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ২৯৩ জনে।

এর মধ্যে প্রথম অভিযানে ৬২৪, দ্বিতীয় অভিযানে ২৫৪ এবং তৃতীয় অভিযানে ৪১৫ জন আটক হন। আগের দুই অভিযানে যাচাই-বাছাই শেষে ৫৯৭ জনকে মুচলেকা নিয়ে অভিভাবকদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। আদালতে পাঠানো হয় ২৮১ জনকে।

সর্বশেষ অভিযানে আটক ৪১৫ জনের বিষয়ে চলছে যাচাই-বাছাই। অপরাধের সঙ্গে সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

এদিকে ধারাবাহিক সাঁড়াশি অভিযানে স্বস্তি ফিরেছে নগরবাসীর মধ্যে। তবে অভিযানের নামে কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি যেন হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়েও সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

নগরীর বাসিন্দা সুমন আহমেদ বলেন, ‘নগরীতে চুরি-ছিনতাই বেড়ে যাওয়ায় মানুষের মধ্যে উদ্বেগ ছিল। পুলিশের সাঁড়াশি অভিযানে কিশোর গ্যাংসহ বিভিন্ন সামাজিক অপরাধ কমছে। তবে অভিযানে কেউ যেন হয়রানির শিকার না হন, সেটিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন।’

কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, কিশোর-তরুণদের নিরাপদ রাখা এবং অপরাধ দমনে জেলা পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে। কোনো নাগরিক যেন হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়ে পুলিশ সদস্যদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অভিযানে কোনো পুলিশ সদস্যের সম্পৃক্ততার বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধেও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’


নির্বাচিত

ফরিদপুরে চুরি হওয়া কালীমূর্তি ৬ দিনেই উদ্ধার, গ্রেপ্তার ৪

ফরিদপুর শহরের শতবর্ষী ঐতিহ্যবাহী পুরাতন কালীবাড়ি মন্দিরে চুরির ছয় দিনের মধ্যেই কষ্টিপাথরের কালীমূর্তি, স্বর্ণ-রৌপ্যের অলংকার ও ছয়টি পিতলের প্রতিমাসহ অধিকাংশ মালামাল উদ্ধার করেছে পুলিশ। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ফরিদপুর প্রতিনিধি

ফরিদপুর শহরের শতবর্ষী ঐতিহ্যবাহী পুরাতন কালীবাড়ি মন্দিরে চুরির ছয় দিনের মধ্যেই কষ্টিপাথরের কালীমূর্তি, স্বর্ণ-রৌপ্যের অলংকার ও ছয়টি পিতলের প্রতিমাসহ অধিকাংশ মালামাল উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

পুলিশের দাবি, চোরচক্র মন্দিরের একাধিক তালা কেটে প্রায় ২০ কেজি ওজনের কালীমূর্তিটি নিয়ে যায়। পরে বোয়ালমারী উপজেলার রূপাপাত এলাকার একটি বাড়ির পেছনে মাটির নিচে পুঁতে রাখা অবস্থায় মূর্তিটি উদ্ধার করা হয়।

গত রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) ফরিদপুর জেলা পুলিশ আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান পুলিশ সুপার শাহরিয়ার মোহাম্মদ মিয়াজি।

পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১৯ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ১০টার দিকে পূজা-অর্চনা শেষে কালীমাতাকে শয়ন দিয়ে মন্দিরের দরজা ও গেটে তালা লাগিয়ে চলে যান মন্দিরের সেবায়েত ও কমিটির সভাপতি কুশল চক্রবর্তী। পরদিন ভোরে মন্দিরে গিয়ে তিনি একাধিক তালা কাটা ও দরজা খোলা দেখতে পান। ভেতরে গিয়ে দেখা যায়, শ্বেতপাথরের শিবমূর্তির ওপর স্থাপিত কষ্টিপাথরের কালীমূর্তিটি নেই। একই সঙ্গে মূর্তির সঙ্গে থাকা স্বর্ণালংকার, বিভিন্ন পিতলের প্রতিমা এবং মহাদেবের রৌপ্যের অলংকারও চুরি হয়েছে।

এ ঘটনায় কুশল চক্রবর্তীর অভিযোগের ভিত্তিতে ২০ সেপ্টেম্বর ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় মামলা করা হয়।

পরে পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল), কোতোয়ালি থানা পুলিশ, গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার সমন্বয়ে একাধিক দল তদন্তে নামে। তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার, গোয়েন্দা তথ্য ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চোরচক্রের সদস্যদের শনাক্ত করে ফরিদপুরের বিভিন্ন এলাকায় ধারাবাহিক অভিযান চালিয়ে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—আলফাডাঙ্গা থানার বুড়াইচ গ্রামের আসাদুজ্জামান সাদ্দাম (৩৮), তার মা সাজেদা বেগম (৬৫), বোয়ালমারী থানার কান্দাকুল গ্রামের আল আমিন মোল্লা (২৪) এবং আতিয়ার রহমান।

অন্যদিকে আসাদুজ্জামান সাদ্দাম ও আল আমিন মোল্লার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বোয়ালমারী থানার রূপাপাত এলাকার একটি বাড়ির পেছনে অভিযান চালিয়ে মাটির নিচে পুঁতে রাখা কষ্টিপাথরের কালীমূর্তিটি উদ্ধার করে পুলিশ।

পুলিশের তথ্যমতে, গ্রেপ্তার আসাদুজ্জামান সাদ্দামের বিরুদ্ধে চুরি, দস্যুতা, ডাকাতি ও মূর্তি চুরিসহ ১০টির বেশি মামলা রয়েছে। আল আমিন মোল্লার বিরুদ্ধেও একই ধরনের আটটির বেশি মামলা রয়েছে।

পুলিশ সুপার শাহরিয়ার মোহাম্মদ মিয়াজি বলেন, প্রথমদিকে কোনো নির্দিষ্ট সূত্র না থাকায় ঘটনাটি ক্লু-লেস মনে হয়েছিল। তবে তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার, গোয়েন্দা তৎপরতা ও ধারাবাহিক অভিযানের মাধ্যমে ছয় দিনের মধ্যে চুরির রহস্য উদঘাটন করা সম্ভব হয়েছে। একই সঙ্গে কালীমূর্তিসহ অধিকাংশ চুরি যাওয়া মালামাল উদ্ধার করা হয়েছে।


নির্বাচিত

নওগাঁয় জাগের জলে জেগেছে সোনালি সম্ভাবনা

চলতি মৌসুমে নওগাঁয় পাটের ফলন। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নওগাঁ প্রতিনিধি

অনুকূল আবহাওয়া, পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত এবং পাট জাগ দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় পানি থাকায় চলতি মৌসুমে নওগাঁয় পাটের ফলন ভালো হয়েছে। একই সঙ্গে ভালো হয়েছে পাটের আঁশের গুণগত মানও। ফলে মৌসুমের শুরুতেই মানসম্মত পাটের চাহিদা বেড়েছে বাজারে। আর চাহিদা থাকায় অন্য বছরের তুলনায় এবার ভালো দামও পাচ্ছেন কৃষকরা।

জেলার বিভিন্ন বাজারে বর্তমানে মান ও জাতভেদে প্রতি মণ শুকনা পাট বিক্রি হচ্ছে ৩ হাজার ৮০০ টাকা থেকে ৪ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এবার মণপ্রতি দাম বেড়েছে অন্তত ৬০০ টাকা। কোথাও কোথাও ভালো মানের পাটের দাম আরও বাড়ার প্রত্যাশা করছেন কৃষক ও ব্যবসায়ীরা।

জেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েক বছর ধরে নওগাঁয় পাটের আবাদ ও উৎপাদন ধারাবাহিকভাবে কমেছে। ২০২১-২০২২ মৌসুমে জেলায় ৫ হাজার ৭২৫ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছিল। ওই মৌসুমে উৎপাদন হয়েছিল ১৫ হাজার ৫৬০ মেট্রিক টন। ২০২২-২০২৩ মৌসুমে ৫ হাজার ৩৩০ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়ে উৎপাদন হয়েছিল ১৪ হাজার ৬৫০ মেট্রিক টন। ২০২৩-২০২৪ মৌসুমে আবাদ কমে দাঁড়ায় ৪ হাজার ৫৬০ হেক্টরে। ওই মৌসুমে উৎপাদন হয় ১২ হাজার ৭১০ মেট্রিক টন। এরপর ২০২৪-২০২৫ মৌসুমে ৩ হাজার ৫৫০ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছিল। সেখান থেকে উৎপাদন হয়েছিল ৯ হাজার ৯৬৫ মেট্রিক টন পাট। চলতি ২০২৫-২০২৬ মৌসুমে জেলায় পাটের আবাদ হয়েছে ৩ হাজার ১৭০ হেক্টর জমিতে। এ পরিমাণ জমি থেকে সম্ভাব্য উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৮ হাজার ৯৪০ টন পাট।

মৌসুমের শুরুতেই ভালো দাম পাওয়ায় পাট বিক্রি করে সন্তোষ প্রকাশ করছেন চাষিরা। জেলার বিভিন্ন বাজারে বর্তমানে প্রতি মণ শুকনা পাট ৩ হাজার ৮০০ থেকে ৪ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। তবে মান ও জাতভেদে জেলার বৃহত্তম পাটের হাট হিসেবে পরিচিত মান্দার সতীহাটে প্রতি মণ পাটের দাম উঠছে ৩ হাজার ৮০০ থেকে সর্বোচ্চ ৪ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত।

পাট চাষিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রতি বিঘা জমিতে পাট আবাদ করতে জমি চাষ, বীজ, সার, পরিচর্যা, পাট কাটা, জাগ দেওয়া, আঁশ ছাড়ানো, ধোয়া ও শুকানোসহ গড়ে খরচ হচ্ছে ১৬ থেকে ১৭ হাজার টাকা। বর্তমান বাজারদর অনুযায়ী খরচ বাদ দিয়ে বিঘাপ্রতি ৩০ থেকে ৩২ হাজার টাকা পর্যন্ত নিট লাভ করছেন কৃষকরা।

জেলার বৃহত্তম পাটের হাট হিসেবে পরিচিত মান্দার সতীহাটে সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা যায়, ভোর থেকেই বিভিন্ন যানবাহনে করে পাট নিয়ে হাটে আসছেন কৃষকরা। কারও ভ্যানে, কারও নছিমনে আবার কেউ অন্যান্য যানবাহনে করে নিয়ে আসছেন দেশি, তোষা ও মেস্তা জাতের পাট।

হাটের বিভিন্ন স্থানে স্তূপ করে রাখা হয়েছে শুকনা পাট। ব্যবসায়ীরা পাটের আঁশের রং, মান, আর্দ্রতা ও জাত দেখে দরদাম করছেন। সরবরাহের তুলনায় চাহিদা বেশি থাকায় অনেক কৃষকই একাধিক ব্যবসায়ীর সঙ্গে দরদাম করে পাট বিক্রি করছেন। মান ও জাতভেদে প্রতি মণ পাট বিক্রি হচ্ছে ৩ হাজার ৮০০ থেকে ৪ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত।

নওগাঁ সদর উপজেলার খলিশাকুড়ি এলাকার পাটচাষি দুলাল হোসেন বলেন, সতীহাটে পাট বিক্রি করতে এসেছেন তিনি। এবার ৫ বিঘা জমিতে পাট চাষ করেছেন। পাট জাগ দেওয়ার আগেই ফড়িয়া ব্যবসায়ীরা অগ্রিম ৩ হাজার ৮০০ টাকা মণ দরে ১০ মণ পাটের বুকিং দিয়েছিলেন। অবশিষ্ট পাট এখন ৪ হাজার টাকা মণ দরে বিক্রি করেছেন। গত বছর যে দামে পাট বিক্রি করেছেন, এবার তার চেয়ে মণপ্রতি ৭০০ টাকা বেশি পাচ্ছেন বলেও জানান তিনি।

মান্দা উপজেলার দক্ষিণ মৈণম গ্রামের পাটচাষি অতিশ কুমার বলেন, এবার পাটের বাজারদর বেশ ভালো। পাট কাটার পর পানিতে জাগ দেওয়া, আঁশ ছাড়ানো, ধোয়া ও শুকানোর কাজ বেশ শ্রমসাধ্য। তবে এবার পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাতের কারণে জলাশয়গুলোতে পানি থাকায় জাগ দেওয়ার জন্য বাড়তি বিড়ম্বনায় পড়তে হয়নি। পর্যাপ্ত পানির কারণে সহজেই পাট জাগ দিতে পেরেছেন। এতে পাটের আঁশের রংও ভালো হয়েছে।

একই এলাকার পাটচাষি অনুপ কুমার বলেন, বর্তমানে পাটের দাম ভালো। এবার পানির সংকটও হয়নি। বাজারে প্রকারভেদে সাড়ে ৩ হাজার থেকে সাড়ে ৪ হাজার টাকা মণ পর্যন্ত পাট বিক্রি হচ্ছে। ইতোমধ্যে কিছু পাট বিক্রি করেছেন। আরও কিছু পাট রেখে দিয়েছেন। কয়েকদিন পর সেগুলো বিক্রি করবেন বলে জানান তিনি।

নওগাঁ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মনজুর রহমান বলেন, চলতি বছর জেলায় ৩ হাজার ১৭০ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে। এ পরিমাণ জমি থেকে ৮ হাজার ৯১০ টন পাট উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, কৃষি বিভাগ পাটকে আবারও ‘সোনালি আঁশ’ হিসেবে সুপরিচিত করতে কৃষকদের পাট চাষে উৎসাহিত করছে। প্রান্তিক চাষিদের সরকারি প্রণোদনার আওতায় ৮০০ জন পাটচাষিকে বিনামূল্যে বীজ, সারসহ পরিবহন খরচ এবং আনুষঙ্গিক ও অপ্রত্যাশিত ব্যয়ের জন্য নগদ অর্থ দেওয়া হয়েছে।


নির্বাচিত

ইবির নতুন ছাত্র উপদেষ্টা মামুন আল রশীদ

ছবি: অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মামুন আল রশীদ।
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ইবি প্রতিনিধি

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) নতুন ছাত্র উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন ফলিত রসায়ন ও কেমিকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মামুন আল রশীদ। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) এক বছরের জন্য তাকে এ পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মো. আতিকুর রহমান স্বাক্ষরিত অফিস আদেশে এ তথ্য জানানো হয়।

অফিস আদেশে বলা হয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসা আরবি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. ওবায়দুল ইসলামের মেয়াদ গত ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ শেষ হওয়ায় তার স্থলে অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মামুন আল রশীদকে ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ থেকে এক বছরের জন্য ছাত্র উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. একেএম মতিনুর রহমান।

অফিস আদেশ অনুযায়ী, নতুন ছাত্র উপদেষ্টা বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা পাবেন। এদিকে দীর্ঘদিন নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে ছাত্র উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করায় অধ্যাপক ড. মো. ওবায়দুল ইসলামকে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানানো হয়েছে।

নবনিযুক্ত ছাত্র উপদেষ্টা বলেন, ‘আমি চিঠি পেয়েছি। কর্তৃপক্ষের কাছে কৃতজ্ঞ। সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা চাই। বেশকিছু পরিকল্পনা নিয়ে সামনে আগাব ইনশাআল্লাহ।’


নির্বাচিত

লালমনিরহাটে ট্রাক-অটোরিকশা সংঘর্ষে নিহত ৩, আহত ৭

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
লালমনিরহাট প্রতিনিধি

লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার বুড়িমারী-লালমনিরহাট মহাসড়কে মালবাহী ট্রাক ও যাত্রীবাহী অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে তিনজন নিহত হয়েছেন। এ দুর্ঘটনায় আরও অন্তত সাতজন যাত্রী গুরুতর আহত হয়েছেন। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলার বুড়িমারী ইউনিয়নের ঘুন্টি এলাকায় এ মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুড়িমারী স্থলবন্দর থেকে যাত্রী নিয়ে একটি অটোরিকশা পাটগ্রামের দিকে যাচ্ছিল। পথিমধ্যে ঘুন্টি এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা বুড়িমারী স্থলবন্দরগামী একটি ট্রাক আকস্মিক যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে অটোরিকশাটিকে সরাসরি ধাক্কা দেয়। এ সময় ট্রাকটি অটোরিকশাকে দুমড়েমুচড়ে দিয়ে সড়কের পাশের একটি দোকানে ঢুকে পড়ে। এতে ঘটনাস্থলেই অটোরিকশার দুই আরোহী প্রাণ হারান।

খবর পেয়ে স্থানীয়দের সহায়তায় পাটগ্রাম ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধারকারী দল আহতদের উদ্ধার করে পাটগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মোস্তাকীন নামের আরও একজনের মৃত্যু হয়। আহতদের মধ্যে পাঁচজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাঁদের উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে এবং বাকি দুজনকে স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

পাটগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম দুর্ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার তৎপরতা চালায় এবং এখন পর্যন্ত এ ঘটনায় তিনজন নিহত ও সাতজন আহত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে।


নির্বাচিত

নেত্রকোনায় আট মাসে পানিতে ডুবে ৮২ জনের মৃত্যু

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
এ,বি, চৌধুরী নাদিম, নেত্রকোনা

নেত্রকোনায় চলতি বছরের প্রথম আট মাসে পানিতে ডুবে ৮২ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের প্রায় ৯৫ শতাংশই শিশু। তাদের বেশির ভাগের বয়স এক থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে। একের পর এক এমন মৃত্যুতে উদ্বেগ বাড়লেও দুর্ঘটনা প্রতিরোধে তৃণমূল পর্যায়ে কার্যকর ও টেকসই উদ্যোগের ঘাটতি রয়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও সচেতন মহল।

জেলা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত পানিতে ডুবে ৮২ জনের মৃত্যু হয়েছে। মাসভিত্তিক হিসাবে জানুয়ারিতে ৩ জন, ফেব্রুয়ারিতে কেউ মারা যায়নি, মার্চে ৪, এপ্রিলে ৬, মে মাসে ১৫, জুনে ২৭, জুলাইয়ে ৯ এবং আগস্টে ১৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। বর্ষাকালে জুন মাসেই সর্বোচ্চ ২৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। জেলার ১০ উপজেলার মধ্যে কলমাকান্দায় মৃত্যুর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি।

নেত্রকোনা নদী, নালা, খাল, বিল, পুকুর, ডোবা ও হাওরবেষ্টিত জেলা। জেলার গ্রামীণ জনপদের অনেক বাড়ির উঠান পেরোলেই রয়েছে কোনো না কোনো জলাশয়। বর্ষাকালে এসব জলাশয় পানিতে পূর্ণ হয়ে ওঠে। ফলে বাড়ির আশপাশেই শিশুদের জন্য তৈরি হয় ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশ।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, অধিকাংশ দুর্ঘটনার সময় পরিবারের প্রাপ্তবয়স্ক সদস্যরা নিজ নিজ কাজে ব্যস্ত থাকেন। বাবারা কৃষিকাজ বা জীবিকার কাজে বাইরে থাকেন, আর মায়েরা রান্নাবান্না ও গৃহস্থালির কাজে ব্যস্ত থাকেন। এ সুযোগে শিশুরা বাড়ির আশপাশে খেলতে গিয়ে কখনো পুকুর, ডোবা কিংবা খালে পড়ে যায়। অল্প সময়ের মধ্যেই ঘটে যায় মর্মান্তিক পরিণতি।

সচেতনতা তৈরির পাশাপাশি শিশুদের সাঁতার শেখানোর ওপর জোর দেওয়ার কথা বলছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। তবে এক থেকে পাঁচ বছর বয়সী শিশুদের ক্ষেত্রে শুধু সাঁতার শেখানোই যথেষ্ট নয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, এ বয়সে শিশুদের সার্বক্ষণিক নজরদারি, বাড়ির আশপাশের জলাশয়ে নিরাপত্তাব্যবস্থা এবং অভিভাবকদের সচেতনতাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

নেত্রকোনা জনউদ্যোগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা হায়দার জাহান চৌধুরী বলেন, বর্ষাকালে নেত্রকোনার গ্রামগুলো পানিতে থইথই করে। গ্রামে শিশুদের দেখভালের জন্য আলাদা কেউ থাকেন না। মায়েদের একদিকে সন্তান সামলাতে হয়, অন্যদিকে সংসারের কাজ করতে হয়। বাবারাও জীবিকার তাগিদে বাইরে থাকেন। ফলে অল্প সময়ের অসতর্কতায় শিশুরা পানিতে পড়ে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘এ ধরনের মৃত্যু রোধে গ্রামে ব্যাপক সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালাতে হবে। পাশাপাশি শিশু দিবাযত্ন কেন্দ্র গড়ে তোলা এবং পুকুর-ডোবার চারপাশে বাঁশের নেট বা খুঁটি দিয়ে ঘের দেওয়ার মতো স্থানীয়ভাবে বাস্তবসম্মত ব্যবস্থা নিতে হবে।’

শিশুদের সাঁতার শেখানোর বিভিন্ন প্রকল্পের কথা মাঝেমধ্যে শোনা গেলেও এসব কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা ও বাস্তব প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। তাদের কেউ কেউ অভিযোগ করেন, প্রকল্প গ্রহণের পর মাঠপর্যায়ে যথাযথ বাস্তবায়ন না হওয়ায় প্রত্যাশিত সুফল মিলছে না। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রকল্প বা সংস্থার বক্তব্য জানা যায়নি।

জেলা প্রশাসক খন্দকার মুশফিকুর রহমান বলেন, পানিতে ডুবে শিশুদের মৃত্যু রোধে প্রতিটি উপজেলায় জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম নেওয়া হয়েছে। জেলা পর্যায়ে এ বিষয়ে মতবিনিময় সভাও হয়েছে। সব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে সভা করে সচেতনতা কার্যক্রম পরিচালনার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

জেলা প্রশাসক আরও বলেন, শিশুদের সাঁতার শেখানোর জন্য স্থানীয় পুকুরগুলোকে কাজে লাগানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

পরিসংখ্যান বলছে, পানিতে ডুবে মৃত্যু নেত্রকোনায় বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়; বরং এটি প্রতি বছর বর্ষাকালে আরও প্রকট হয়ে ওঠা একটি জনস্বাস্থ্য ও নিরাপত্তাজনিত সমস্যা। বিশেষ করে এক থেকে পাঁচ বছর বয়সি শিশুদের মৃত্যু কমাতে শুধু মৌসুমি প্রচার নয়, বছরজুড়ে পরিবার ও সম্প্রদায়ভিত্তিক সচেতনতা, নিরাপদ জলাশয় ব্যবস্থাপনা, শিশুদের সাঁতার ও পানিনিরাপত্তা শিক্ষা এবং স্থানীয় পর্যায়ে নজরদারি জরুরি।

একটি শিশুর পানিতে ডুবে মৃত্যু শুধু একটি পরিবারের অপূরণীয় ক্ষতি নয়; এটি একটি সম্ভাবনাময় জীবনের অকাল সমাপ্তি। তাই মৃত্যুর পর কারণ খোঁজার চেয়ে দুর্ঘটনার আগেই ঝুঁকি চিহ্নিত করে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়াই এখন নেত্রকোনার জন্য সবচেয়ে বড় প্রয়োজন।


নির্বাচিত

চেয়ারম্যান ও সচিবের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২৩:৩৬
ফুলবাড়িয়া (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি

ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলার রাঙ্গামাটিয়া ইউনিয়ন পরিষদের জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন জালিয়াতির ঘটনায় ইউপি চেয়ারম্যান ও প্রশাসনিক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছে স্থানীয় সরকার বিভাগের রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয় জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন শাখা।


এর আগে গত বৃহস্পতিবার দৈনিক বাংলা পত্রিকায় ‘গর্ভ ছাড়াই জন্ম, ৪৫ দিন পর মৃত্যু, ১১৫ সনদে উঠে এলো ভয়ংকর তথ্য’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হয়। বিডিআরআইএস সিস্টেমে ১১৫ অস্তিত্বহীন শিশুর জন্মের ৪৫ দিনের মধ্যে ভুয়া জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন করার স্থানীয় সরকার বিভাগের রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয় থেকে জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন শাখার সহকারী রেজিস্ট্রার জেনারেল সামিউল ইসলাম রাহাদ ফুলবাড়িয়া উপজেলার রাঙ্গামাটিয়া ইউনিয়ন পরিষদের নিবন্ধক মো. রফিকুল ইসলাম চৌধুরী ও সহকারী নিবন্ধক হাজেরা খাতুনের বিরুদ্ধে আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে নির্দেশনা দিয়েছেন। গত শনিবার এ সংক্রান্ত একটি চিঠি ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে আসছে।


সূত্রে জানা গেছে, ভুয়া জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন করে সরকার কর্তৃক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পরিকাঠামো হিসেবে ঘোষিত বি ডি আর আই এস সিস্টেমের তথ্য শুদ্ধাতা নষ্ট করেছেন। লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে গিয়ে ১১৫ জন অস্তিত্বহীন শিশুর ৪৫ দিনের মধ্যে মৃত উল্লেখ করে ভুয়া জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন করা হয়েছে বলে স্বীকার করেছেন ইউপি চেয়ারম্যান মো. রফিকুল ইসলাম চৌধুরী।

প্রশাসনিক কর্মকর্তা হাজেরা খাতুন দাবি করেছেন, ভুয়া জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন করায় তিনি অবগত না। কাজটি করেছেন ইউনিয়নের উদ্যোক্তা আশরাফুল ইসলাম চৌধুরী। ইউপি চেয়ারম্যান ও সচিবের নিবন্ধক ও সহকারী নিবন্ধকের ক্ষমতা প্রত্যাহার করে বিধি মোতাবেক অন্য কোনো ব্যক্তিকে নিবন্ধক ও নিবন্ধন সহকারী দায়িত্ব প্রদান করতে বলা হয়েছে। সরকারি কর্মচারী দায়িত্ব পালনে অবহেলা ও অসদাচরণের জন্য নিবন্ধন সহকারী হাজেরা খাতুনের বিরুদ্ধে স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) কর্মচারী চাকরি বিধিমালা অনুযায়ী ২০১১ এর ৩৪ বিধি মোতাবেক প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন শাখার সহকারী রেজিস্ট্রার জেনারেল সামিউল ইসলাম রাহাদ।


ফুলবাড়িয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শহীদুল ইসলাম সোহাগ জানিয়েছেন, জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন জালিয়াতির ঘটনায় স্থানীয় সরকার বিভাগের রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয় থেকে ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে গত শনিবার একটি চিঠি এসেছে। আমাকে অনুলিপি দেওয়া হয়েছে। অফিসিয়ালি পাইনি, পেলেই পরবর্তী আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


নির্বাচিত

দেবীগঞ্জে নারীর মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় পরকীয়া প্রেমিক আটক

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দেবীগঞ্জ (পঞ্চগড়) প্রতিনিধি

পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে হাসিনা হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন এবং ঘটনায় জড়িত মাহাবুলকে (৩২) আটক করেছে গোয়েন্দা পুলিশ। শনিবার ভোরে দেবীগঞ্জ উপজেলার ভাউলাগঞ্জ বাজার থেকে তাকে আটক করা হয়। আটক মাহাবুল হক দেবীগঞ্জ উপজেলার বালাপাড়া বাজার মধ্যপাড়া গ্রামের সামিয়ারের ছেলে। পরে তিনি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। সন্ধ্যায় এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানায় জেলা পুলিশ।


পরে জিজ্ঞাসাবাদে মাহাবুল হক প্রাথমিকভাবে স্বীকার করেন যে, তিনি এই হত্যাকাণ্ডের সাথে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত। ভিকটিম তার প্রতিবেশী ভাবী। হাসিনা বয়সে তার চেয়ে বড়। প্রায় ৫/৬ মাস পূর্ব থেকে হাসিনার সঙ্গে তার ব্যক্তিগত সম্পর্ক তৈরি হয়।


পরে তাদের মধ্যে একাধিকবার শারীরিক সম্পর্ক হয়। ঘটনার দিন ২৪ সেপ্টেম্বর রাত ১১টায় হাসিনা মাহাবুলের মোবাইল ফোনে কল করেন। মাহাবুল তার কলটি কেটে দিয়ে, পরে তাকে কলব্যাক করে কথা বলেন। হাসিনা তার স্বামীকে ভাত খেতে দিয়ে পাশের বাড়িতে খাৎনা অনুষ্ঠানে যাওয়ার কথা বলে, সে পাশের ধানক্ষেতের আইলের কাছে মাহাবুলের জন্য অপেক্ষা করবে বলে সে আসতে বলেন। ঘটনাস্থল ধান ক্ষেতের আইলে গিয়ে মাহাবুল হাসিনাকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে। পরে তাদের মধ্যে শারীরিক সম্পর্ক হয়।


সেখানে হাসিনার শরীর ভালো লাগছে না এবং তার মাথায় পানি দিতে বলে। মাহাবুল হাসিনার মাথায় দুই হাত দিয়ে সোজা করে শোয়ানোর সময় ঘাড় ভেঙ্গে যায়। হাসিনার মুখ নাক দিয়ে লালা বের হলে মাহাবুল হাত দিয়ে মুছে দেয়। মাথায় পানি দেয়, বুক হাত পা ডলাডলি করে। দেখে হাসিনা মারা গেছে। পরে হাসিনার মোবাইল বের করে মাহাবুলের করা ডায়াল নম্বর ডিলিট করে দিয়ে তার ম্যাক্সির পকেটে রেখে দেয়।
এর আগে শুক্রবার সকালে দেবীগঞ্জ উপজেলার চিলাহাটি ইউপির মধ্যপাড়া গ্রামের বালাপাড়া ধানক্ষেতের আইল থেকে নুরবানু ওরফে হাসিনার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। সে বালাপাড়া বাজার, মধ্যপাড়ার নুর রশিদের স্ত্রী।


পঞ্চগড় গোয়েন্দা পুলিশের কর্মকর্তা আবু হোসেন বলেন, ১২ ঘন্টার মধ্যেই এ চাঞ্চল্যকর ঘটনার রহস্য উন্মোচন করে মূল আসামীকে গ্রেপ্তার করেছি। তাদের মধ্যে পরকিয়ার সম্পর্ক ছিল। ওই নারীর কিভাবে মৃত্যু হয়েছে তা ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনের পর আরও নিশ্চিত হওয়া যাবে।


নির্বাচিত

হরিরামপুরকে দুর্গম ঘোষণার উদ্যোগ, গেজেটে নাম না থাকায় ক্ষোভ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
হরিরামপুর (মানিকগঞ্জ) প্রতিনিধি

নদী-চরবেষ্টিত মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলা। উপজেলার ১৩টি ইউনিয়নের মধ্যে বেশ কয়েকটি ইউনিয়নের বড় অংশই পদ্মা নদীর চরাঞ্চল ও নদীভাঙনপ্রবণ এলাকা। বর্ষা মৌসুমে এসব এলাকায় যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও কঠিন হয়ে পড়ে। কোথাও নৌযানই একমাত্র যোগাযোগের মাধ্যম, আবার নদীভাঙন ও বন্যায় অনেক সময় বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে জনপদ।


এমন ভৌগোলিক বাস্তবতায় হরিরামপুরকে দুর্গম এলাকা হিসেবে সরকারি গেজেটে অন্তর্ভুক্ত করে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দুর্গম ভাতা দেওয়ার দাবি উঠেছে। ইতোমধ্যে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের ভোটার তালিকা হালনাগাদ কার্যক্রমের আওতায় হরিরামপুরকে দুর্গম এলাকা হিসেবে বিবেচনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের গেজেটভুক্ত দুর্গম এলাকার তালিকায় হরিরামপুরের নাম না থাকায় ক্ষোভ রয়েছে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে।


সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ভোটার তালিকা হালনাগাদ কার্যক্রম উপলক্ষে দেশের ২৩ জেলার ৭৫টি উপজেলাকে দুর্গম এলাকা হিসেবে বিবেচনার জন্য নির্বাচন কমিশন সচিবালয় থেকে উদ্যোগ নেওয়া হয়। এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব মো. নাসির উদ্দিন চৌধুরী (নি:স:-২) স্বাক্ষরিত একটি চিঠি ২০২৫ সালের ২৪ এপ্রিল মহাপরিচালক, জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগ, ঢাকা বরাবর পাঠানো হয়। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দাবি, নির্বাচন কমিশনের কার্যক্রমে দুর্গম এলাকা হিসেবে বিবেচিত হলেও হরিরামপুরকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট গেজেটে দুর্গম উপজেলা হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। ফলে একই ধরনের ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্য থাকা সত্ত্বেও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা দুর্গম ভাতার সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।


সরকারি নথি পর্যালোচনায় সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মানিকগঞ্জের দৌলতপুর ও হরিরামপুরকে গ-শ্রেণির উপজেলা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে দৌলতপুরকে চর উপজেলা হিসেবে দুর্গম এলাকার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হলেও হরিরামপুরকে একইভাবে তালিকাভুক্ত করা হয়নি। এ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন হরিরামপুরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।


তাদের ভাষ্য, দৌলতপুরের মতো হরিরামপুরেরও বড় একটি অংশ চরাঞ্চল। উপজেলার আজিমনগর, লেছরাগঞ্জ ও সুতালড়ি ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকা পদ্মা নদী ও চরাঞ্চলঘেরা। নদীভাঙন, নৌপথনির্ভর যোগাযোগ, বর্ষায় প্লাবন এবং অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতার কারণে এসব এলাকায় সরকারি দায়িত্ব পালন করতে বাড়তি সময়, শ্রম ও ঝুঁকি নিতে হয়।


দুর্গম ভাতার দাবিতে জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন: দুর্গম এলাকা হিসেবে গেজেটভুক্ত করার দাবিতে গত ২২ সেপ্টেম্বর হরিরামপুর উপজেলার দুর্গম চরাঞ্চলে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের স্বাক্ষরিত একটি আবেদন মানিকগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কাছে দেওয়া হয়েছে।


আবেদনের অনুলিপি দেওয়া হয়েছে মানিকগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য, হরিরামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং হরিরামপুর উপজেলা প্রেসক্লাব বরাবর।
আবেদনকারীদের দাবি, ভৌগোলিক অবস্থান, যোগাযোগব্যবস্থা, নদীভাঙন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার সীমাবদ্ধতা এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি বিবেচনায় হরিরামপুরকে দুর্গম উপজেলা হিসেবে সরকারি গেজেটে অন্তর্ভুক্ত করা প্রয়োজন।


তাদের দাবি, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নিয়মিত বেতন-ভাতার পাশাপাশি দুর্গম এলাকার জন্য প্রযোজ্য ২০ শতাংশ ভাতা পাওয়ার সুযোগ চান। তবে এই ভাতা চালুর বিষয়টি সংশ্লিষ্ট সরকারি নীতিমালা ও কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভরশীল।
উপজেলার আজিমনগর, লেছরাগঞ্জ ও সুতালড়ি ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকা চরাঞ্চল হিসেবে পরিচিত। সংশ্লিষ্টদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই তিন ইউনিয়নে মোট ১৩টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এর মধ্যে সুতালড়ি রামচন্দ্রপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কার্যক্রম বর্তমানে নেই বলে দাবি করা হয়েছে।


এ ছাড়া এসব বিদ্যালয়ের কয়েকটিতে প্রধান শিক্ষক নেই এবং একাধিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। দুর্গম যোগাযোগব্যবস্থার কারণে শিক্ষক-কর্মচারীদের নিয়মিত যাতায়াত ও পদায়ন নিয়েও নানা সমস্যা দেখা দেয় বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।


নদীভাঙনের কারণে বিদ্যালয়ের অবস্থান পরিবর্তন, যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতা এবং বর্ষায় নৌপথের ওপর নির্ভরশীলতা শিক্ষা কার্যক্রমকে বাধাগ্রস্ত করছে। একই ধরনের পরিস্থিতির কথা জানিয়েছেন হারাকান্দি চরাঞ্চলের বাসিন্দারাও।
স্থানীয়দের ভাষ্য, চরাঞ্চলের অধিকাংশ মানুষ কৃষিকাজ ও নদীনির্ভর জীবিকার সঙ্গে যুক্ত। ফলে শিক্ষার্থীদের নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিতি এবং অভিভাবকদের শিক্ষাবিষয়ক সম্পৃক্ততাও অনেক ক্ষেত্রে কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় থাকে না।


স্থানীয়দের মতে, বিদ্যুৎ, ইন্টারনেটসহ আধুনিক যোগাযোগ প্রযুক্তির সুবিধাও চরাঞ্চলের সব এলাকায় সমানভাবে পৌঁছেনি। ফলে সরকারি তথ্য সংগ্রহ, ভোটার তালিকা হালনাগাদ, বিভিন্ন জরিপ ও প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনায় মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বাড়তি ভোগান্তি পোহাতে হয়।


নির্বাচন কমিশনের বিভিন্ন কার্যক্রমে দুর্গম এলাকার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়ার নজির রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। ভোটার তালিকা হালনাগাদ ও নির্বাচনী দায়িত্ব পালনের সময় দুর্গম এলাকায় কর্মরতদের অতিরিক্ত ভাতা দেওয়ার সুযোগ অতীতেও ছিল বলে দাবি তাদের।


কেন গেজেটভুক্তি প্রয়োজন:
হরিরামপুরকে দুর্গম উপজেলা হিসেবে গেজেটভুক্ত করার দাবিদারদের যুক্তি, শুধু নদী বা চরাঞ্চল থাকা নয়—একটি এলাকার যোগাযোগব্যবস্থা, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনার বাস্তবতা এবং জনগণের মৌলিক সেবা পাওয়ার সুযোগও দুর্গমতা নির্ধারণের ক্ষেত্রে বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।
তাদের দাবি, হরিরামপুরের দুর্গম চরাঞ্চলে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা দায়িত্ব পালন করছেন। অথচ দুর্গম এলাকার স্বীকৃতি না থাকায় তারা প্রাপ্য সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।


এ কারণে নির্বাচন কমিশনের কার্যক্রমে দুর্গম হিসেবে বিবেচিত হওয়ার বিষয়টি পর্যালোচনা করে হরিরামপুরকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট গেজেটে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি দিন দিন জোরালো হচ্ছে।
হরিরামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা আক্তার বলেন, চর ভাতার বিষয়ে ডিসি স্যার বরাবর একটা আবেদন দেয়া হয়েছে, এটার বিষয়ে লেখাও হয়েছে। মিনিস্ট্রি থেকে আমরা এখনো কেন ফিডব্যাক পাইনি। ডিসি স্যার ওইটা তাদেরকেও অবহিত করা হয়েছে।


মানিকগঞ্জের জেলা প্রশাসক নাজমুন আরা সুলতানার বক্তব্যের জন্য মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে ফোন রিসিভ করেনি।


নির্বাচিত

বামন্দী-কাজীপুর সড়কে গর্ত আর খানাখন্দ, ভোগান্তিতে মানুষ

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
গাংনী (মেহেরপুর) প্রতিনিধি

কৃষিনির্ভর মেহেরপুরের বাণিজ‍্যিক এলাকা খ্রেত গাংনী উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ বামন্দী-কাজীপুর সড়কটি দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। সড়কের বিভিন্ন স্থানে সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় গর্ত ও খানাখন্দ। কিছু স্থানের গর্তের গভিরতা এক থেকে দেড় ফিট পর্যন্ত হবে। সামান্য বৃষ্টি হলেই এসব গর্তে পানি জমে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। এতে প্রতিনিয়ত ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।


স্থানীয়দের অভিযোগ, বছরের পর বছর ধরে সড়কটির এমন বেহাল দশা হলেও সংস্কারে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নিতে দেখা যাচ্ছে না সড়ক বিভাগকে। ফলে সময় গড়িয়ে যাওয়ার সাথে সাথে সড়কটি যেন এখন মরণফাঁদে পরিণত হচ্ছে। তবে উপজেলা প্রকৌশল দপ্তর বলছে, বরাদ্দ না থাকায় সংস্কারকাজ করতে বিলম্ব হচ্ছে তাদের।


স্থানীয়রা জানান, বামন্দী-কাজীপুর সড়কটি গাংনী উপজেলার অন্যতম ব্যস্ত সড়ক। এই সড়কটি দুটি জেলার মানুষের সংযোগ সড়ক হিসেবেও পরিচিত। এ পথে বাস, ট্রাক, নসিমন, অটোরিকশা, পাখিভ্যান ও মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন ধরনের যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় সড়কের অধিকাংশ জায়গায় বড় বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। বৃষ্টির সময় গর্তগুলো পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় কোথায় গর্ত আর কোথায় সমতল, তা বোঝা কঠিন হয়ে পড়ে। ফলে এসড়কটি একটি দুর্ঘটনার ফাঁদে রূপ নিয়েছে।


পথচারী গৃহবধূ শারমিন আক্তার বলেন, ‘এ সড়কটি দিয়ে আমাদের জেলা ও উপজেলা শহরে যাওয়া লাগে। এত গুরুত্বপূর্ণ একটি সড়কটি, অথচ এই সড়কে চলাচল করা যায় না। কেন কর্তৃপক্ষ উদ্যোগ নিচ্ছে না, সেটাও বুঝতে পারছি না। এই সড়ক দিয়ে চলাচলকারী যানবাহনের চালকরা সব সময় আতঙ্কে থাকেন কখন গাড়ি গর্তে পড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আমার এক চাচাতো বোনের বাচ্চা নিয়ে যাওয়ার সময় গাড়ি উল্টে তার হাত ভেঙে গেছে। একটু বৃষ্টি হলে সড়কটিতে পানিতে ডুবে যায়।’


পাখিভ্যানচালক টিটু হোসেন বলেন, ‘আমি ভ‍্যানে করে ইটসহ আড়তের মালামাল নিয়ে ভাড়ায় যায়। বর্তমানে এই রাস্তায় ভাড়া ধরতেও মন চায় না। পরিবারের মুখে একমুঠো ভাত তুলে দেওয়ার জন্য বাধ্য হয়ে এ রাস্তা দিয়ে চলাচল করতে হয়। অনেক সময় যা আয় হয়, গাড়ি নষ্ট হলে তার চেয়ে বেশি খরচ হয়। সড়কটি দ্রুত সংস্কার করা দরকার। আর কোনোমতে আটকে গেলে পাঁচজন মিলে ধাক্কা দেওয়া লাগে।’


নসিমনচালক আক্কাস আলী বলেন, ‘আমি প্রতিদিন চাউল লোড করে গাংনী যায়। গাংনী উপজেলায় এর চেয়ে খারাপ রাস্তা চোখে পড়ে না। আমাদের গাড়ি প্রায়ই নষ্ট হয়। মেরামত করতে বাড়তি খরচ গুণতে হয়। অনেক দুর্ঘটনাও দেখেছি। বড় কোনো দুর্ঘটনার আগেই সড়কটি সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।’


স্কুলশিক্ষক ফারুক আহমদ বলেন, ‘আমাদের বাচ্চাদের স্কুল-কলেজ যাওয়ার প্রধান সড়ক এটি। অথচ বতর্মান সময়ে এই সড়কটি দিয়ে চলাচল করা একদম অসম্ভব হয়ে পড়েছে। আমাদের অনেক শিক্ষার্থী এই সড়ক দিয়ে যাওয়ার সময় কাদা-পানি লেগে পোশাক নষ্টের পাশাপাশি শারীরিকভাবেও ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। তাই এটি দ্রুত সংস্কারের জন‍্য কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।’


স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের গাংনী উপজেলা প্রকৌশলী রোকনুজ্জামান বলেন, ‘বামন্দী-কাজীপুর সড়ক মেরামতের জন্য ঊর্ধ্বতনদের কাছে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ আসলেই দ্রুত কাজ শুরু করা হবে।’
মেহেরপুর-৭৪/২ (গাংনী) আসনের সংসদ সদস্য মো. নাজমুল হুদা বলেন, ‘সড়কটি অত্যন্ত বেহাল অবস্থায় রয়েছে। এই সড়কসহ উপজেলার অন্যান্য সড়কের বিষয়ে ঊর্ধ্বতনদের কাছে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেওয়া হয়েছে।’


নির্বাচিত

টেকনাফের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আলুর বস্তায় অস্ত্র-বিস্ফোরক, আটক ৩

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
টেকনাফ (কক্সবাজার) প্রতিনিধি

কক্সবাজারের টেকনাফে অস্ত্র, গোলাবারুদ, বিস্ফোরক ও বিভিন্ন সরঞ্জামসহ তিন রোহিঙ্গাকে আটক করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। রোববার হ্নীলা ইউনিয়নের লেদা বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। এ সময় অস্ত্র ও সরঞ্জাম পরিবহনে ব্যবহৃত একটি ইজিবাইক জব্দ করা হয়েছে।


আটক ব্যক্তিরা হলেন- উখিয়ার কুতুপালং ক্যাম্পের রুবালির ছেলে মো. উসমান বেলাল, একই ক্যাম্পের ইউনুসের ছেলে মো. আনসার আলী এবং টেকনাফের মোচনি ক্যাম্পের ফয়েজ আহমদের ছেলে মো. মুসলিম।


টেকনাফ ব্যাটালিয়ন (২ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. হানিফুর রহমান ভূঁইয়া এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।


বিজিবি সূত্র জানায়, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে খবর পাওয়া যায়, লেদা বাজার হয়ে একটি ভারী অস্ত্রের চালান রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অবস্থানরত একটি সশস্ত্র দলের কাছে হস্তান্তর করা হবে। এ তথ্যের ভিত্তিতে গতকাল সকাল সাড়ে ১০টার দিকে লেদা বাজার এলাকায় বিজিবির একটি দল সন্দেহজনক একটি ইজিবাইক থামায়। পরে মেটাল ডিটেক্টরের মাধ্যমে ইজিবাইকে থাকা বস্তার ভেতর ধাতব পদার্থের উপস্থিতি শনাক্ত করা হয়।


এরপর ইজিবাইকসহ তিনজনকে লেদা বিওপিতে নিয়ে তল্লাশি চালানো হয়। এ সময় আলুর বস্তার ভেতর লুকানো অবস্থায় অস্ত্র, গোলাবারুদ, বিস্ফোরক ও বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।


বিজিবি জানায়, উদ্ধার করা মালামালের মধ্যে রয়েছে দুটি জি-৩ রাইফেল, দুটি দেশীয় একনলা বন্দুক, ৪২ রাউন্ড গুলি, তিনটি টেজার, ছয়টি ওয়াকিটকি সেট, একটি ম্যাগাজিন, চার কেজি বিস্ফোরক, ২৫টি জর্দার কৌটা, ২৫টি লাল স্কচটেপ, দুটি অ্যান্ড্রয়েড ও একটি বাটন মোবাইল ফোন। এ ছাড়া অস্ত্র পরিবহনে ব্যবহৃত ইজিবাইকটিও জব্দ করা হয়েছে।


লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. হানিফুর রহমান ভূঁইয়া বলেন, ‘রোহিঙ্গা ক্যাম্পের পাশে অস্ত্র-গোলাবারুদের একটি চালান হস্তান্তরের সময় তিন রোহিঙ্গাকে আটক করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে অস্ত্র ও বিস্ফোরক উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনি প্রক্রিয়া চলছে।’


তিনি আরও বলেন, ‘সীমান্ত এলাকায় অস্ত্র, বিস্ফোরকসহ সব ধরনের সংঘবদ্ধ অপরাধ প্রতিরোধে বিজিবি সতর্ক ও তৎপর রয়েছে। অবৈধ অস্ত্রের চালান প্রতিহত ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গোয়েন্দা নজরদারি, নিয়মিত টহল এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বিত অভিযান অব্যাহত থাকবে।’


নির্বাচিত

উৎপাদন খরচ না ওঠায় লোকসানের মুখে দিনাজপুরের কৃষকরা

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
আর মিজান, দিনাজপুর

দিনাজপুর ফুলবাড়ী উপজেলায় শুরু হয়েছে আগাম জাতের আমন ধান কাটা ও মাড়াইয়ের কাজ। চলতি মৌসুমে ভালো ফলন হলেও বাজারে প্রত্যাশিত দাম না পাওয়ায় অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় কৃষকরা। বিঘাপ্রতি উৎপাদন খরচের চেয়ে বিক্রয়মূল্য কম হওয়ায় আর্থিক লোকসানের সম্মুখীন হতে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তারা।


উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে ফুলবাড়ীতে ১৮ হাজার ১৫০ হেক্টর জমিতে আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে আগাম জাতের ধানের আবাদ হয়েছে ১ হাজার ৬৫০ হেক্টর জমিতে, যা থেকে আনুমানিক ৮ হাজার ৪১৫ টন ধান উৎপাদনের আশা করা হচ্ছে। ৯০ থেকে ১১০ দিনে পেকে যাওয়া এই ধান কাটার পর ওই জমিতে আলু এবং পরবর্তীতে ভুট্টা চাষ করে থাকেন স্থানীয় কৃষকরা।


উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের চাষিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, চলতি মৌসুমে সার, বীজ, কীটনাশক, সেচ ও শ্রমিকের মজুরি বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রতি বিঘা জমিতে ধান উৎপাদনে খরচ হয়েছে ২০ হাজার টাকার বেশি। বিঘাপ্রতি ১৮ থেকে ২২ মণ ফলন পাওয়া গেলেও স্থানীয় বাজারে বর্তমানে প্রকারভেদে ধান বিক্রি হচ্ছে ৭৫০ থেকে ৯০০ টাকা মণ দরে। এতে প্রতি বিঘা জমি থেকে চাষিদের আয় আসছে ১৭ থেকে ১৯ হাজার টাকা, যা উৎপাদন খরচের তুলনায় বিঘা প্রতি প্রায় ২ থেকে ৩ হাজার টাকা কম।
কৃষকরা জানান, আগাম শীতকালীন সবজি ও আলু চাষের প্রস্তুতি নিতে এবং সমিতি বা মহাজনের নেওয়া কৃষিঋণ পরিশোধ ও সংসারের দৈনন্দিন ব্যয় মেটাতে কম দাম সত্ত্বেও তারা ধান বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন।


বাজারের এমন নিম্নমুখী আচরণের বিষয়ে ফুলবাড়ী বাজারের ধান আড়তদার ও চাউল কল মালিক সমিতির প্রতিনিধিরা জানান, গত কয়েক সপ্তাহে প্রতি মণ ধানের দাম ২০০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত কমেছে। চালের সার্বিক সুষম সরবরাহ এবং আমদানিকৃত চালের উপস্থিতির কারণে বাজারে দেশীয় ধানের চাহিদা ও দামে এই প্রভাব পড়েছে বলে ব্যবসায়ীদের ধারণা।


ধানের বাজারদর প্রসঙ্গে উপজেলা অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ শাহানুর রহমান জানান, ধানের বাজারমূল্য নির্ধারণ বা নিয়ন্ত্রণ করা কৃষি বিভাগের এখতিয়ারভুক্ত নয়। তবে উৎপাদন খরচ কমিয়ে আনতে সরকারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন সময়ে কৃষকদের বিনামূল্যে বীজ ও রাসায়নিক সার সহায়াতাসহ প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।


নির্বাচিত

বর্ষা এলেই পানির নিচে রাঙামাটির ঝুলন্ত সেতু, হতাশ পর্যটকরা

# ঝুলন্ত সেতু রক্ষায় নতুন প্রকল্পের উদ্যোগ
ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বিজয় ধর, রাঙামাটি

রাঙামাটির পর্যটনের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ ৩৩৫ ফুট দীর্ঘ ঝুলন্ত সেতু। কাপ্তাই হ্রদের নীল জলরাশির ওপর দাঁড়িয়ে থাকা এই সেতু বছরের পর বছর ধরে জেলার পর্যটনের প্রতীক হিসেবে পরিচিত। তবে বর্ষা এলেই কাপ্তাই হ্রদের পানি বেড়ে সেতুটির পাটাতন পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় ব্যাহত হচ্ছে পর্যটন কার্যক্রম। এতে একদিকে কাঙ্ক্ষিত আকর্ষণটি দেখতে না পেরে হতাশ হয়ে ফিরছেন পর্যটকরা, অন্যদিকে কমে যাচ্ছে বোট চালকসহ পর্যটননির্ভর ব্যবসায়ীদের আয়-রোজগার।

এবারও গত ২৯ আগস্ট থেকে পানিতে তলিয়ে যায় রাঙামাটির এই পর্যটন আইকন। পরে হ্রদের পানি কিছুটা কমে গত ৪ সেপ্টেম্বর বিকেলে সেতুটির অধিকাংশ অংশ ভেসে উঠলে গত ৫ সেপ্টেম্বর পর্যটকদের জন্য সেতুটি খুলে দেওয়া হয়। কিন্তু উজান থেকে নেমে আসা পানিতে হ্রদের পানি আবারও বেড়ে যাওয়ায় গত ১১ সেপ্টেম্বর বিকেলে সেতুর পাটাতন পুনরায় পানিতে তলিয়ে যায়। পরিস্থিতি বিবেচনায় ঝুঁকি এড়াতে সেতুতে পর্যটকদের প্রবেশ ও চলাচলে অনির্দিষ্টকালের জন্য নিষেধাজ্ঞা জারি করে কর্তৃপক্ষ।

এর আগে গত ২৯ আগস্ট টানা বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে কাপ্তাই হ্রদের পানি দ্রুত বেড়ে গেলে সেতুটি পানিতে তলিয়ে যায়। ওই দিন দুপুর থেকেই পর্যটকদের প্রবেশ ও চলাচলে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। পরে পানি কমে গেলে সেতুটির অধিকাংশ অংশ ভেসে ওঠে এবং গত ৫ সেপ্টেম্বর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে পর্যটকদের জন্য তা খুলে দেওয়া হয়।

আশির দশকে রাঙামাটির প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে কাজে লাগিয়ে শহরের শেষ প্রান্তে দুটি দ্বীপকে সংযুক্ত করতে নির্মাণ করা হয় ৩৩৫ ফুট দীর্ঘ এই ঝুলন্ত সেতু। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এটি হয়ে ওঠে রাঙামাটির পর্যটনের প্রতীক, পরিচিতি পায় ‘সিম্বল অব রাঙামাটি’ হিসেবে।

তবে সেতুটি নির্মাণের সময় কাপ্তাই হ্রদের পানির সর্বোচ্চ স্তর ও রুলকার্ভের বিষয়টি যথাযথভাবে বিবেচনায় নেওয়া হয়নি বলে সংশ্লিষ্টদের মত। ফলে বর্ষা মৌসুমে হ্রদের পানি বাড়লেই প্রতি বছর একই সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে। প্রশ্ন উঠছে, প্রতি বছর কেন একইভাবে পানিতে তলিয়ে যাবে রাঙামাটির এই গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন স্থাপনা? এর স্থায়ী সমাধানই বা কী?

শুধু পর্যটকদের হতাশাই নয়, ঝুলন্ত সেতু পানিতে তলিয়ে যাওয়ার সরাসরি প্রভাব পড়ছে পর্যটননির্ভর মানুষের আয়-রোজগারেও। সেতুকে ঘিরে প্রতিদিন বোট নিয়ে পর্যটকদের আনা-নেওয়া করেন বহু চালক। সেতু বন্ধ থাকায় পর্যটকের আগ্রহ কমে যাচ্ছে, কমছে বোটের ট্রিপও। একইভাবে পর্যটনকেন্দ্রের আশপাশের ছোট-বড় ব্যবসায়ীরাও ক্ষতির মুখে পড়ছেন।

ঢাকা থেকে রাঙামাটি ভ্রমণে আসা পর্যটক শুভ্র নীল বলেন, ‘সত্যিকার অর্থে আমরা জানতাম না যে ঝুলন্ত সেতু পানিতে তলিয়ে গেছে। তারপরও অনেকে পানির ওপর দিয়ে হাঁটছেন। যেহেতু সেতুটি প্রতি বছর পানির নিচে তলিয়ে যায়, তাই এটি সংস্কার করা খুবই জরুরি।’

রাঙামাটি পর্যটন নৌ-যান ঘাটের টোল আদায়কারী মো. ফখরুল ইসলাম বলেন, ‘প্রতি বছর বর্ষাকালে উজানের পানি নেমে সেতুর পাটাতন ডুবে যায়। এতে সেতু দেখতে পর্যটক কম আসে রাঙামাটিতে। ঝুলন্ত সেতুটিকে আধুনিকায়ন করা গেলে রাঙামাটিতে পর্যটক আরও বাড়বে।’

সংশ্লিষ্টদের মতে, সেতুটিকে বর্তমান অবস্থান থেকে অন্তত পাঁচ ফুট উঁচু করা গেলে প্রতি বছর পানিতে ডুবে যাওয়ার ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব। বর্তমানে সেতুটি প্রায় ১০৫ ফুট লেভেল বিবেচনায় নির্মিত। এটিকে পাঁচ ফুট উঁচু করা হলে উচ্চতা দাঁড়াবে প্রায় ১১০ ফুটে। অন্যদিকে কাপ্তাই হ্রদের সর্বোচ্চ পানির স্তর ধরা হয়েছে ১০৯ ফুট। ফলে সামান্য উচ্চতা বাড়ানো গেলে ভবিষ্যতে পানিতে তলিয়ে যাওয়ার সমস্যা অনেকটাই এড়ানো সম্ভব বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীরা।

এদিকে রাঙামাটি পর্যটন করপোরেশন জানিয়েছে, তাদের আবেদনের পর পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড নতুন একটি আধুনিক ঝুলন্ত সেতু নির্মাণের জন্য ডিপিপি প্রণয়ন করে পাঠিয়েছে। প্রস্তাবিত আধুনিক ঝুলন্ত সেতুটি নির্মাণে প্রাথমিকভাবে সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে ৪৫ কোটি টাকা।

রাঙামাটি পর্যটন করপোরেশনের ব্যবস্থাপক আলোক বিকাশ চাকমা বলেন, ‘প্রতি বছর ঝুলন্ত সেতু ডুবে যাওয়ার কারণে আমরা ব্যবসায়িকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি। সরকারও রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। আমরা বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি।’

আলোক বিকাশ চাকমা আরও জানান, উজানের পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় গত ১১ সেপ্টেম্বর থেকে পুনরায় সেতুটি পানিতে ডুবে যায়। বর্তমানে সেতুটির পাটাতন প্রায় ৮-১০ ইঞ্চি পানির নিচে রয়েছে।

এ প্রসঙ্গে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডে নির্বাহী প্রকৌশলী তুষিত চাকমা বলেন, ‘প্রকল্পটির যাচাই কমিটির সভা পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভার সিদ্ধান্ত মোতাবেক ডিপিপি পুনর্গঠন করে মন্ত্রণালয়ে ডিপিপি প্রেরণ করা হবে।’

সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, শুধু বর্ষা এলেই সেতু বন্ধ রাখা নয়, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মাধ্যমে এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান করা হবে। কাপ্তাই হ্রদের পানির ওঠানামার সঙ্গে যাতে রাঙামাটির পর্যটনের এই আইকনকে বারবার হারিয়ে যেতে না হয়, সে জন্য দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার দাবি তাদের।

কারণ, একটি সেতু শুধু দুই প্রান্তকে যুক্ত করে না। রাঙামাটির ক্ষেত্রে এই ঝুলন্ত সেতুটি যুক্ত করেছে পর্যটন, বোট ব্যবসা, ক্ষুদ্র ব্যবসা এবং জেলার অর্থনীতির একটি বড় অংশকে। তাই প্রতি বছর বর্ষায় সেতুটি পানিতে তলিয়ে যাওয়ার সমস্যার স্থায়ী সমাধান এখন সময়ের দাবি।


নির্বাচিত

banner close