নির্বাচনে ভোট কম পড়ার পেছনে বড় একটি ফ্যাক্টর হলো বিএনপি। তবে এটিই একমাত্র ফ্যাক্টর নয়। বিশেষ করে আরেকটি বড় কারণ হলো স্থানীয় নির্বাচনে ভোটাররা চাকরিস্থল থেকে আসতে চান না। এখন ৬০ শতাংশের বেশি ভোটাররা আসতে চান না। এটা সারা পৃথিবীতেই এমন। ভারতেও সব দল অংশ নিলেও ৬০ শতাংশ ভোট পড়েনি।
আজ রোববার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন নির্বাচন কমিশনার (ইসি) মো. আলমগীর।
ইসি আলমগীর বলেন, ‘আমরা আশা করি, দ্বিতীয় ধাপের নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ হবে। ছোটখাটো যেসব সমস্যা মাঠে আছে সেগুলো যাতে না হয়, সেজন্য আমরা প্রশাসন অত্যন্ত সতর্ক রয়েছি। দ্বিতীয় ধাপের নির্বাচন প্রথম ধাপের নির্বাচনের চেয়েও সুষ্ঠু হবে।’
আলমগীর বলেন, ‘পুলিশ প্রশাসন ভোটের পরে ৪৮ ঘণ্টা থাকে। সে সময়ের মধ্যে তো কিছু হয়নি। ভোটাররা যাতে ভোট দিতে পারেন, তবে কত ভোট পড়বে তা বলা কঠিন। সেটা বলা যাবে না। যেহেতু সব দল অংশ নিচ্ছে না, তাই ভোটের হার নিয়ে এখনই কিছু বলা যাবে না।’
নির্বাচনী সহিংসতার জেরে গোপালগঞ্জে একজন মারা গেছে, সেখান থেকে কি শিক্ষা নিচ্ছে কমিশন? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘ভোটের কয়দিন পর এ ঘটনা ঘটেছে। তবে সেটা নির্বাচনের কারণে নাকি ব্যক্তিগত কারণে সেটাও দেখতে হবে। তদন্ত না হলে তো মূল কারণ বলা যায় না। এ ছাড়া নির্বাচন না থাকলে এ দেশে সহিংসতা হয় না, বিষয়টি তো এমন নয়। এখন পুলিশ যথাযথ ব্যবস্থা নিচ্ছে কি না সেটা দেখতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘ধান কাটার কারণে ভোট কম পড়েছে, বিষয়টা এমন নয়। আপনারা কেন বিষয়টা ওইদিকে নিয়ে আমাদের খোঁচা দেন। তাৎক্ষণিক কারণ ছিল সকালে বৃষ্টি। অন্যান্য কারণের মধ্যে ধান কাটাও একটা ছিল। তার বাইরে বড় একটি রাজনৈতিক দল অংশ নেয়নি, এসব কারণে ভোট কম পড়েছে। তারা নির্বাচনে ভোট দিতে ভোটারদের নিষেধ করেছে এটা তারা বলতে পারেন। তবে জোর করে কাউকে ভোট দিতে যেতে বাধা দিতে পারবেন না। ভোট বর্জনের কথা তারা বলতেই পারবেন।
নওগাঁর সাপাহার সীমান্ত এলাকায় নারী-পুরুষ এবং শিশুসহ ১৭ জনকে পুশইনের চেষ্টা শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হয়েছে। সীমান্তে বিজিবি কঠোর অবস্থানে থাকায় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) পুশইনের জন্য আনা সব ব্যক্তিকেই ফিরিয়ে নিয়েছে।
গত শুক্রবার (৫ জুন) রাত ১টার দিকে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) সদস্যরা তাদেরকে দেশে ফিরিয়ে নিয়ে যায়।
শনিবার (৬ জুন) সকালে বিষয়টি নওগাঁ ব্যাটালিয়ান ১৬ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম মাসুম নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে গত শুক্রবার (৫ জুন) সকাল সাড়ে সাতটায় সাপাহার উপজেলার হাঁপানিয়া সীমান্তের ২৩৮/এমপি সীমান্ত পিলার দিয়ে ১৭ জনকে পুশইনের চেষ্টা চালায় বিএসএফ। দীর্ঘ ১৯ ঘণ্টা যাবৎ এই চেষ্টা অব্যাহত রাখে দেশটির সীমান্তরক্ষী বাহিনী। ১৭ জনকে অনুপ্রবেশের চেষ্টা চালানোর সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থলে কড়া অবস্থান নেয় বিজিবি সদস্যরা। ফলে দিনভর শূন্যরেখা ও ভারতীয় সীমান্তের ভেতরে অবস্থান করলেও বাংলাদেশে প্রবেশ করতে পারেননি ওই ১৭ জন। তাদের বাংলাদেশি বলা হলেও বিএসএফের সঙ্গে বিজিবির পতাকা বৈঠকে কোনো প্রমাণাদি দেখাতে না পারায় তাদের ফেরত দেয়া হয়েছে। ১৭ জনের মধ্যে ৬ জন পুরুষ, ৬ জন নারী এবং পাঁচজন শিশু রয়েছে।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী কলমুডাঙ্গা গ্রামের ট্রাক্টর চালক মাহবুব আলম বলেন, ‘ওই ১৭ জনকে বিজিবি সদস্যরা পাহারা দিয়ে রেখেছিল। রাত ১১টার দিকে আমার ট্রাক্টরে ধান লোড দিচ্ছিলাম তখনও বিজিবি সদস্যরা সেখানে ছিল। এরপর বিএসএফ সদস্যরা তাদেরকে টেনে হিঁচড়ে ভারতে নিয়ে যায়। তারা বিএসএফ সদস্যদের সঙ্গে যেতে চাচ্ছিল না। নিয়ে যাওয়ার সময় তারা অনেক কান্নাকাটি করছিল। তাদের কান্নার শব্দ শুনে আমরা সামনে এগিয়ে গিয়েছিলাম। তখন বিএসএফ আমাদেরকে বাধা দিয়ে তাদেরকে নিয়ে চলে যায়।’
নওগাঁ ব্যাটালিয়ন ১৬ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম মাসুম বলেন, ‘খবর পাওয়ার পর ওই স্থানে বিজিবির টহল বৃদ্ধি করা হয়। মানবিক দিক বিবেচনা করে শুরুতে শূন্যরেখায় থাকতে দিলেও সন্ধ্যার পরে তাদেরকে নো-ম্যান্সল্যান্ডে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। রাত একটার দিকে বিএসএফ সদস্যরা সীমান্তের লাইট বন্ধ করে দেন। এরপর রাতের আঁধারে তারা পুশইনের চেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে ভারতে ফিরিয়ে নিয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। সীমান্তের ওই এলাকাতে বিজিবির টহল জোরদার রয়েছে।’
ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে “ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনমূলক র্যালি-২০২৬” অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (৬ জুন) বেলা ১১ টায় নগর ভবনের সামনে থেকে র্যালিটি শুরু হয়। এরপর মহানগরীর দড়িখরবোনা মোড়, কাদিরগঞ্জ হয়ে পুনরায় নগর ভবনে চত্বরে গিয়ে র্যালিটি শেষ হয়। র্যালিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের মাননীয় প্রশাসক মোঃ মাহফুজুর রহমান রিটন। র্যালি শেষে নগর ভবন চত্বরে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তব্য দেন রাসিক প্রশাসক।
এ সময় নগরবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে রাসিক প্রশাসক মাহফুজুর রহমান রিটন বলেন, ডেঙ্গু একটি মারাত্মক মশাবাহিত রোগ হলেও সচেতনতা ও সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমে এটি প্রতিরোধ করা সম্ভব। তাই আসুন, নিজেদের পরিবার ও প্রিয় নগরীকে সুরক্ষিত রাখতে সবাই মিলে ডেঙ্গু প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা পালন করি। ডেঙ্গু প্রতিরোধে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন আগাম প্রস্তুতি গ্রহণ করছে। ডেঙ্গমুক্ত রাজশাহী মহানগরী গড়ে তুলতে আমাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে। ডেঙ্গু প্রতিরোধে সিটি কর্পোরেশনের কার্যক্রমের পাশাপাশি নগরবাসীকেও নিজ আঙ্গিনা ও আশপাশ পরিষ্কার রাখতে হবে।
এ সময় জমে থাকা পানি অপসারণ এবং মশার প্রজননস্থল ধ্বংসে সকলকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান রাসিক প্রশাসক।
তিনি আরো বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অনুশাসন অনুযায়ী পরিচ্ছন্ন নগরী গড়ে তুলতে এবং নাগরিক সেবা সুনিশ্চিত করতে আমরা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি। ইতিপূর্বে হাম-রুবেলা মোকাবেলায় আমরা বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছিলাম। এবার ডেঙ্গু প্রতিরোধে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। বর্ষার আগে মশক নিধনে দুই সপ্তাহব্যাপী ফগার মেশিনে স্প্রে কার্যক্রম শুরু করা হবে।
র্যালিতে রাসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রেজাউল করিম, এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট নাজমুল আলম, প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা শেখ মো মামুন, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আহমদ আল মঈন, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. এএএম আঞ্জুমান আরা বেগম, প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা আবু সালেহ মো. নূর-ঈ-সাঈদ, রাসিকের ২৫ ও ২৮নং ওয়ার্ডের দায়িত্বপ্রাপ্ত কাউন্সিলর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, রাজশাহীর সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ আব্দুর রাজ্জাকসহ সিটি কর্পোরেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারী, সিডিসি‘র সদস্যবৃন্দ, ওয়ার্ড সচিব, স্বাস্থ্যকর্মীবৃন্দ ও রেড ক্রিসেন্ট ও বিডিক্লিনের স্বেচ্ছাসেবীবৃন্দ অংশগ্রহণ করে
ফেনীতে জেলা প্রশাসন ও জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের আয়োজনে ডেঙ্গু বিষয়ক সচেতনতা মূলক র্যালি ও বিশেষ পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালিত হয়েছে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ফেনী জেলা প্রশাসক মনিরা হক।
শনিবার (০৬ জুন) সকাল সাড়ে ১১ টায় ফেনী ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল প্রাঙ্গণে এ কর্মসূচি পালিত হয়। কর্মসূচির শুরুতে হাসপাতালের প্রশাসনিক ভবন থেকে একটি র্যালি শুরু হয়ে সদর হাসপাতাল মোড়ে গিয়ে সচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে জনসাধারণের মাঝে লিফলেট বিতরণ করা হয় এবং পুনরায় হাসপাতালের প্রশাসনিক ভবনের নিচে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের শেষ হয়।
সিভিল সার্জন ও ফেনী ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা: রুবাইয়াত বিন করিম এর সভাপতিত্বে উক্ত কর্মসূচিতে অংশগ্রহন করেন জেলা পুলিশ সুপার মো: শফিকুল ইসলাম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো: আল আমিন সরকার, ড্যাবের সাধারণ সম্পাদক মোবারক হোসেন দুলাল ও ফেনী ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার (আরএমও) ডা: রুকনুজ্জামান সহ হাসপাতালের ডাক্তার, নার্স, জেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীগণ।
সিভিল সার্জন ডা. রুবাইয়াত বিন করিম বলেন, ডেঙ্গু থেকে বাঁচতে হলে আমাদের নিজেদের সচেতন হতে হবে। আমরা যদি আমাদের আশপাশ পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে পারি তাহলে ডেঙ্গু প্রতিরোধ সম্ভব। সুতরাং আমাদের সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ফেনী জেলা প্রশাসক মনিরা হক বলেন, করোনার মতো ডেঙ্গুর কোন ভ্যাকশিনেশন নেই। ফলে আমাদের ডেঙ্গু ঠেকাতে গেলে প্রতিরোধমূলক কার্যক্রমে যেতে হবে। আমাদের আশপাশে জমে থাকা পানি এডিস মশার জন্য সুইটেবল। আমাদের আশপাশে ময়লা-আবর্জনা পড়ে থাকে। তাই চারপাশের পানি নিষ্কাশন প্রণালি সচল এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। আমাদের পরিবারগুলোকেও সচেতন হতে হবে। সরকারি উদ্যোগে আমরা কাজ করছি। আমরা সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছি।
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে সয়াবিন তেলবাহী একটি কাভার্ডভ্যানের চাকা ফেটে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশের খাদে পড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলে কাভার্ডভ্যান চালক বাবলু মিয়া (৫০) নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন হেলপার। স্থানীয়রা ওই হেলপারকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেছেন।
গতকাল শনিবার সকাল ৮ টার দিকে উপজেলার পিরোজপুর ইউনিয়নের নয়াগাঁও এলাকায় মহাসড়কের ঢাকামুখী লেনে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত বাবলু টাঙ্গাইল জেলার ধনবাড়ী থানার রামকৃষ্ণবাড়ী এলাকার মৃত সানোয়ার হোসেনের ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঢাকাগামী মায়ের দোয়া ট্রান্সপোর্ট নামে একটি কাভার্ডভ্যান (ঢাকা মেট্রো-উ ১১-৪২৮০) গতকাল শনিবার সকালে মহাসড়কের নয়াগাও এলাকা অতিক্রম করছিল। এসময় চলন্ত অবস্থায় হঠাৎ কাভার্ডভ্যানটির চাকা ফেটে যায়। এতে চালক গাড়ির নিয়ন্ত্রণ হারালে সড়কের পাশে থাকা পল্লী বিদ্যুতের খুঁটিতে সজোরে ধাক্কা দেয়। পরে কাভার্ডভ্যানটি উল্টে গেলে দুটি বিদ্যুতের খুঁটি ভেঙে পড়ে সড়কের পাশে খাদে পড়ে যায়। এসময় সাময়িকভাবে ওই এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। দুর্ঘটনায় চালক বাবলু মিয়া ঘটনাস্থলেই নিহত হন। গুরুতর আহত হন তাঁর সঙ্গে থাকা হেলপার। স্থানীয় লোকজন ও পুলিশ হেলপারকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়। দুর্ঘটনার পর কিছু সময় মহাসড়কে যান চলাচলে ধীরগতি সৃষ্টি হলেও পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
নিহতের ভাতিজা মো. শাকিল জানান, তার চাচা কাভার্ড ভ্যান চালাতেন। চট্টগ্রাম থেকে রূপচাঁদা ব্র্যান্ডের সয়াবিন তেল নিয়ে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দেন তিনি। পথে সোনারগাঁ এলাকায় পৌঁছালে গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে যায়। পরে পুলিশের মাধ্যমে দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে এসে তিনি জানতে পারেন তার চাচা ঘটনাস্থলেই মারা গেছেন।
কাঁচপুর হাইওয়ে থানার ওসি মো. শামীম শেখ বলেন, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে নিহত ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করে মর্গে পাঠানো হয়েছে। আহত হেলপারের পরিচয় এখনো জানা যায়নি। তিনি আরও বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে যাওয়ার কারণে এ দুর্ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলার জ্যৈষ্ঠপুরা পাহাড় থেকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় এক অজ্ঞাত ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
শনিবার (৬ জুন) সকাল ১১টার দিকে উপজেলার শ্রীপুর-খরণদ্বীপ ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের জ্যৈষ্ঠপুরা পাহাড়ের অরিহুরার চর এলাকার একটি লিচু বাগানে লাশটি দেখতে পান স্থানীয়রা।
স্থানীয়রা জানান, সকালে পাহাড়ে যাওয়া লোকজন লাশটি দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেন। নিহত ব্যক্তির পরনে সাদা টিস্যু গেঞ্জির ওপর একটি হাফহাতা গেঞ্জি ও কুঁচে করা লুঙ্গি ছিল। লাশে পচন ধরেছে। তার হাত দুটো পিছমোড়া করে এবং পা দুটো বাঁধা ছিল।
বোয়ালখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহফুজুর রহমান বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। লাশ উদ্ধার করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নিহতের পরিচয় শনাক্তে কাজ করছে পুলিশ।
ভারতীয় বাহিনী বিএসএফ এর পুশইন নিয়ে যখন বাংলাদেশের সিমান্ত এলাকায় তৎপর বিজিবি। ঠিক তখন মেহেরপুর জেলার প্রশাসনের চোখ ফাকি দিয়ে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করলো ৭ জন।
অথচ এই ৭জনের অনুপ্রবেশের কোন অফিসিয়্যাল তথ্য নেই প্রশাসনের কাছে।
স্থানীয়রা বলছেন আজ শনিবার ভোরে মেহেরপুর জেলার গাংনী উপজেলার তেতুলবাড়িয়া বাংলাদেশ সিমান্তের ১৪০ এর ৪ এস পিলার এলাকায় পুশইনের এ এঘটনা ঘটে। বিজিবির কর্মব্যাক্তিরা বলছেন পুশইনের ব্যাপারে কোন তথ্য নেই তাদের কাছে।
সিমান্ত এলাকার বাসিন্দা জাহাঙ্গীর আলম বলেন, আজ মধ্যরাতে ভারতীয় সিমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে ৭ জনকে পুশইন করে। তারা রাতে এই এলাকার বিভিন্ন বাড়িতে আশ্রয় নিয়ে, ভোরের দিকে গাড়িতে বিভিন্ন এলাকায় চলে যায়। যাদের মধ্যে ৩ জন নারী ও ৪ জন পুরুষ ছিলেন।
অনুপ্রবেশকারিদের বহণ করা ভ্যান চালক আকুববার বলেন,আজ ভোরে আমাকে ৬ জন যাত্রী ব্যাগ হাতে নিয়ে বলে। আমাদের শহরে বাস চলাচল করে এমন স্থানে নিয়ে যাবেন। তাতে ভাড়া কত নেবেন? আমি বলি ৩০০ টাকা লাগবে। তাতে তারা রাজি হয়। এবং বিকাশের মাধ্যমে টাকা উঠিয়ে আমাকে ভাড়া প্রদান করে ও বাকি টাকা তাদের কাছে রাখে। আমার সাথে কথা বলার সময় তারা বলেছিলো আমাদের বাড়ি গোপালগঞ্জ ও মাগুরা জেলাতে।
সিমান্ত এলাকা তেতুলবাড়িয়া গ্রামের মাসুম আলী বলেন, আমার বাড়ি সিমান্ত এলাকার ১৪০ এর ৪ এস সাথেই। গতরাতে মধ্যরাতে এক মেয়ে আমাদের আম বাগানে এসে আশ্রয় নেই। তবে সে কোন কথা বলছে না। শুধু একটা কথা বলছে আমার নাম রোজিনা। বলে কান্না করছে। তবে বিজিবি কিংবা পুলিশ বিষয়টি কেও জানে না।
এই অঞ্চল নিয়ন্ত্রণকারী কুষ্টিয়া ৪৭ বিজিবির সহকারি পরিচালক নুরুল হুদা বলেন, আমাদের জানামতে এঅঞ্চল দিয়ে কোন পুশইনের ঘটনা ঘটেনি। তবে হতে আরে দির্ঘ এলাকায় বিএসএফের সদস্যরা গোপনে তারকাটার যেকোন একপাশ দিয়ে বাংলাদেশ এলাকায় পুশইন করেছে। যার অফিসিয়াল কোন তথ্য আমাদের কাছে নেই। সে ক্ষেত্রে সকলের সহযোগিতা কামনা করছি।
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে যাত্রীবাহী বাস ও পিকআপ ভ্যানের মুখোমুখি সংঘর্ষে লোকমান মিয়া (২২) নামে এক পিকআপচালক নিহত হয়েছেন। শনিবার (৬ জুন) ভোর ৫টা ৪০ মিনিটের দিকে উপজেলার সাতগাঁও চৌমুহনা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষের পর পিকআপ ভ্যানটি দুমড়ে-মুচড়ে গেলে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত লোকমান মিয়া উপজেলার পশ্চিম শ্রীমঙ্গল লালবাগ এলাকার শাহ আলমের ছেলে। তিনি দুর্ঘটনাকবলিত পিকআপ ভ্যানটির চালক ছিলেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ময়মনসিংহ থেকে সিলেটগামী যাত্রীবাহী একটি বাস সাতগাঁও এলাকায় একটি যানবাহনকে ওভারটেক করার সময় বিপরীত দিক থেকে আসা একটি পিকআপ ভ্যানের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এতে পিকআপ ভ্যানটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
শ্রীমঙ্গল ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন কর্মকর্তা সোলায়মান আকঞ্জি জানান, খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। হাইড্রোলিক স্প্রেডারের সাহায্যে পিকআপ ভ্যানের ভেতর থেকে চালককে উদ্ধার করে শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়।
শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. নিশাত নওয়াব মুমু বলেন, ভোর পনে ৬টার দিকে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত একজনকে হাসপাতালে আনা হয়েছিল। তবে হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই তাঁর মৃত্যু হয়েছিল।
সাতগাঁও হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মামুন রহমান বলেন, দুর্ঘটনায় পিকআপচালক ঘটনাস্থলেই নিহত হন। দুর্ঘটনাকবলিত বাস ও পিকআপ ভ্যান জব্দ করে হাইওয়ে পুলিশের হেফাজতে রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
যশোরের শার্শা উপজেলার বেনাপোল পৌরসভার বড়আচড়া গ্রামে ব্যবসায়িক লেনদেন-সংক্রান্ত বিরোধের জেরে সোহাগ হোসেন (৩৬) নামে এক যুবককে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ার ঘটনা ঘটেছে।
গতকাল শুক্রবার (৫ জুন) রাত আনুমানিক ১০টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। তবে গুলি লক্ষ্যভ্রষ্ট হওয়ায় সোহাগ হোসেন প্রাণে রক্ষা পান।
সোহাগ বড়আচড়া গ্রামের মৃত হায়দার আলীর ছেলে। সে নিজ বাড়িতে থাকেন না। একই গ্রামের চেকপোস্ট এলাকার মশিয়ারের বাড়ির নিচতলায় ভাড়া থাকেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দুর্বৃত্তরা ঘরের বাইরে থেকে সোহাগকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। গুলিটি জানালা ভেদ করে ঘরে প্রবেশ করলেও লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে জানালা ও দরজা ভেদ করে বাইরে চলে যায়। এতে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
সোহাগ জানান, রাত ১০ টার সময় অফিস থেকে বাসায় ফেরার কিছুক্ষণ পরেই ১০ থেকে ১২ জনের একটি দল তাঁর বাড়িতে এসে হুমকি দেয়। একপর্যায়ে তারা ঘরের জানালার কাচ ও দরজা লক্ষ্য করে তিনটি গুলি ছুড়ে পালিয়ে যায়। এ সময় তিনি অল্পের জন্য প্রাণে রক্ষা পান।পূর্বের একটি ব্যবসায়িক লেনদেন সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এ হামলা ঘটে থাকতে পারে। ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করলে জড়িতদের শনাক্ত করা সম্ভব হবে।
এলাকাটি জনবসতিপূর্ণ হওয়ায় প্রকাশ্যে গুলির ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অনেকে।
বেনাপোল পোর্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি আশরাফ হোসেন জানান, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ব্যবহার করা গুলি ও তার খোসাসহ বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজ দেখে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, ব্যবসায়িক লেনদেন-সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এ গুলাগুলির ঘটনা ঘটে থাকতে পারে।’
‘সবাই মিলে ডেঙ্গু প্রতিরোধ করি, নিজ আঙিনা পরিষ্কার রাখি’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে শেরপুরে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতা বৃদ্ধি লক্ষ্যে র্যালি ও পরিচ্ছন্নতা প্রচার অভিযান অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (৬ জুন) সকালে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের উদ্যোগে জেলা সদর হাসপাতাল প্রাঙ্গণ থেকে র্যালিটির উদ্বোধন করেন প্রধান অতিথি জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিন।
এ সময় তিনি বলেন, “ডেঙ্গু প্রতিরোধে মশক নিধন ও পরিচ্ছন্নতা অভিযানের পাশাপাশি জনসচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে। এডিস মশার বংশবিস্তার রোধে সবাইকে নিজ নিজ বাড়ির আশপাশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে।”
র্যালিতে উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার এ কে এম জহিরুল ইসলাম, স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক ও পৌর প্রশাসক আরিফা সিদ্দিকা, সিভিল সার্জন ডা. মুহাম্মদ শাহীন, জেলা সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. সেলিম মিয়া, প্রেসক্লাব সভাপতি কাকন রেজাসহ জেলা প্রশাসন, স্বাস্থ্য বিভাগ ও পৌরসভার বিভিন্ন কর্মকর্তা-কর্মচারী।
র্যালিটি শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে। পরে অতিথিরা পরিচ্ছন্নতা প্রচার কর্মসূচির উদ্বোধন করেন।
নওগাঁর সাপাহার সীমান্ত এলাকায় নারী পুরুষ এবং শিশুসহ ১৭ জনকে পুশইনের চেষ্টা শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হয়েছে। সীমান্তে বিজিবির কঠোর অবস্থানে থাকায় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) পুশইনের জন্য আনা সব ব্যক্তিকেই নিজ ফিরিয়ে নিয়েছে।
শুক্রবার (৫ জুন) দিবাগত রাত ১টার দিকে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) সদস্যরা তাদেরকে দেশে ফিরিয়ে নিয়ে যায়।
শনিবার (৬ জুন) সকালে বিষয়টি নওগাঁ ব্যাটালিয়ান ১৬ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম মাসুম নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে গতকাল শুক্রবার (৫ জুন) সকাল সাড়ে সাতটার সাপাহার উপজেলার হাঁপানিয়া সীমান্তের ২৩৮/এমপি সীমান্ত পিলার দিয়ে ১৭ জনকে পুশইনের চেষ্টা চালায় বিএসএফ। দীর্ঘ ১৯ ঘন্টা যাবত এই চেষ্টা অব্যাহত রাখে দেশটির সীমান্তরক্ষী বাহিনী। ১৭ জনকে অনুপ্রবেশের চেষ্টা চালানোর সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থলে কড়া অবস্থান নেয় বিজিবি সদস্যরা। ফলে দিনভর তারা শূন্যরেখা ও ভারতীয় সীমান্তের ভেতরে অবস্থান করলেও বাংলাদেশে প্রবেশ করতে পারেননি। তাদের বাংলাদেশি বলা হলেও বিএসএফের সাথে বিজিবির পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও বিএসএফের পক্ষ থেকে কোন প্রমাণাদি দেখাতে না পারায় তাদের দেশের নেয়া হয়নি। ১৭ জনের মধ্যে ৬ জন পুরুষ ৬ জন নারী এবং পাঁচজন শিশু রয়েছে।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী কলমুডাঙ্গা গ্রামের ট্রাক্টর চালক মাহবুব আলম বলেন, ওই ১৭ জনকে বিজিবি সদস্যরা পাহারা দিয়ে রেখেছিল। রাত ১১টার দিকে আমার ট্রাক্টরে ধান লোড দিচ্ছিলাম তখনো বিজিবি সদস্যরা সেখানে ছিলো। এরপর বিএসএফ সদস্যরা তাদেরকে টেনে হিঁচড়ে ভারতে নিয়ে যায়। তারা বিএসএফ সদস্যদের সঙ্গে যেতে চাচ্ছিল না। নিয়ে যাওয়ার সময় তারা অনেক কান্নাকাটি করছিল। তাদের কান্নার শব্দ শুনে আমরা সামনে এগিয়ে গিয়েছিলাম। তখন বিএসএফ আমাদেরকে বাধা দিয়ে তাদেরকে নিয়ে চলে যায়।
নওগাঁ ব্যাটালিয়ান ১৬ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম মাসুম বলেন, খবর পাওয়ার পর ওই স্থানে বিজিবির টহল বৃদ্ধি করা হয়। মানবিক দিক বিবেচনা করে শুরুতে শূন্য লাইতে থাকতে দিলেও সন্ধ্যার পরে তাদেরকে নো-ম্যান্সল্যান্ডে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। রাত একটার দিকে বিএসএফ সদস্যরা সীমান্তের লাইট বন্ধ করে দেন। এরপর রাতের আঁধারে তারা পুশইনের চেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে ভারতে ফিরিয়ে নিয়েছেন বলে ধারণা করা যাচ্ছে। সীমান্তের ওই এলাকাতে বিজিবির টহল জোরদার রয়েছে।
সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলায় মাদক সেবনরত অবস্থায় নুরুল ইসলাম (৫৭) নামের এক ব্যক্তিকে আটক করেছে জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে তাকে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং ২,০০০ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।
ঘটনাটি ঘটেছে তাড়াশ উপজেলার সগুনা ইউনিয়নের ঈশ্বরপুর গ্রামে। দণ্ডিত নুরুল ইসলাম ওই গ্রামের মৃত কলি প্রামাণিকের ছেলে।
আদালত সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের একটি দল ঈশ্বরপুর গ্রামে অভিযান চালায়। অভিযানে মাদক সেবনরত অবস্থায় নুরুল ইসলামকে হাতেনাতে আটক করা হয়।
পরবর্তীতে সেখানে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন তাড়াশ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এ জেড এম নাহিদ হাসান। তিনি মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে আটককৃত নুরুল ইসলামকে ১ মাসের কারাদণ্ড এবং ২,০০০ টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও মেয়াদের শাস্তির আদেশ দেন।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এ জেড এম নাহিদ হাসান জানান, মাদকের বিরুদ্ধে প্রশাসনের এমন অভিযান নিয়মিত চলমান থাকবে। তরুণ সমাজ ও এলাকাকে মাদকমুক্ত করতে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।
দণ্ডিত আসামিকে সাজা পরোয়ানা মূলে সিরাজগঞ্জ জেলা কারাগারে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে বলে জানা গেছে।
বরগুনার আমতলীতে যাত্রীবাহী বাসের ধাক্কায় মোটরসাইকেল আরোহী দুলাভাই ও শ্যালকের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আরও এক কিশোর গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। শুক্রবার (৫ জুন) রাত ৮টার দিকে ঢাকা-কুয়াকাটা আঞ্চলিক মহাসড়কের আমতলী উপজেলার শাখারিয়া বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার লালুয়া গ্রামের মধু হাওলাদারের ছেলে মো. সজীব হাওলাদার (২৫) এবং তাঁর শ্যালক সাইফুল ইসলাম (১৬)। আহত আছাদুল ইসলাম (১৪) সাইফুলের ছোট ভাই। তাঁকে পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সজীব হাওলাদার মোটরসাইকেলে তাঁর দুই শ্যালক সাইফুল ও আছাদুলকে নিয়ে পটুয়াখালী থেকে কলাপাড়ার দিকে যাচ্ছিলেন। রাত ৮টার দিকে তারা শাখারিয়া বাসস্ট্যান্ড এলাকা অতিক্রম করার সময় কুয়াকাটা থেকে ছেড়ে আসা সম্রাট পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস মোটরসাইকেলটিকে ধাক্কা দেয়।
ধাক্কার ফলে মোটরসাইকেলটি সড়কে ছিটকে পড়ে। ঘটনাস্থলেই মোটরসাইকেলচালক সজীব হাওলাদারের মৃত্যু হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় সাইফুল ইসলাম ও আছাদুল ইসলামকে উদ্ধার করে পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সাইফুল ইসলামের মৃত্যু হয়। আহত আছাদুল বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
দুর্ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে ভিড় করেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং দুর্ঘটনাকবলিত মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করে।
আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু শাহাদাৎ মোহাম্মদ হাচনাইন পারভেজ বলেন, “দুর্ঘটনার পরপরই বাসটির চালক ও তাঁর সহকারী পালিয়ে যান। ঘটনাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।”
এ ঘটনায় নিহতদের পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। একই দুর্ঘটনায় পরিবারের দুই সদস্যের মৃত্যু এবং আরেকজনের গুরুতর আহত হওয়ার ঘটনায় এলাকাজুড়ে গভীর শোকের সৃষ্টি হয়েছে।
বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলার সাউথখালী ইউনিয়নের গাবতলা বাজারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে কয়েকটি দোকান পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এতে মুহূর্তেই নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন কয়েকটি ব্যবসায়ী পরিবার।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাত ৩টার দিকে হঠাৎ করে বাজারে আগুনের সূত্রপাত হয়। পরে তা দ্রুত আশপাশের দোকানগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে। এতে দুইটি মুদির দোকান, একটি মুরগির দোকান এবং তিনটি চায়ের দোকান সম্পূর্ণভাবে পুড়ে যায়।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, মুরগির দোকানে থাকা প্রায় ১০০টি মুরগি (প্রায় ২০০ কেজি) আগুনে পুড়ে যায়।
ঘটনার পর স্থানীয়রা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন এবং ফায়ার সার্ভিসে খবর দেন। রাস্তা খারাপ থাকায় ফায়ার সার্ভিস প্রায় এক ঘণ্টা পর ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। এর আগেই স্থানীয়দের চেষ্টায় আগুন আংশিকভাবে নিয়ন্ত্রণে আসে।
এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন হাফিজা (৩৫), আসাদুল হক (৫৫), শামিম হাওলাদার ও নয়ন শেখ। তারা জানান, আগুনে তাদের দোকানের সব মালামাল পুড়ে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।
হাফিজা বলেন, “সবকিছু শেষ হয়ে গেছে, এখন আর কিছুই অবশিষ্ট নেই।" আসাদুল হক বলেন, “এক মুহূর্তে আগুন সব শেষ করে দিয়েছে, ১০০টি মুরগি বাঁচাতে পারিনি।"
শরণখোলা থানার অফিসার ইনচার্জ মো. শামিনুল হক জানান, আগুন লাগার কারণ জানতে তদন্ত চলছে এবং ক্ষয়ক্ষতির তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্তরা সবার সহযোগিতা কামনা করছে।