বান্দরবানে সেনাবাহিনীর সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে কেএনএফের তিন সদস্য নিহত হয়েছে। আজ রোববার সকালে রুমা-রোয়াংছড়ি সীমান্তের রৌনিনপাড়া এলাকার গভীর জঙ্গলে কেএনএফের একটি আস্তানায় অভিযান চালানোর সময় এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, রৌনিনপাড়া এলাকার গহিন অরণ্যে কেএনএফ আস্তানায় অভিযান পরিচালনা করে যৌথ বাহিনী। এ সময় উভয়পক্ষের মধ্যে ব্যাপক গুলাগুলির ঘটনায় কেএনএফের তিন সদস্য ঘটনাস্থলে নিহত হন। নিহতদের এখনো কোনো পরিচয় পাওয়া যায়নি।
এদিকে ঘটনার পর আশপাশের পাড়াগুলোতে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। এসব এলাকায় সেনাবাহিনী তল্লাশি চালাচ্ছে। সেখানে নিরাপত্তা বাহিনীর টহল জোরদার করা হয়েছে।
মরদেহ পাওয়ার খবর শোনার পর রোয়াংছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) পারভেজ আলী জানান, রুমা-রোয়াংছড়ি সীমান্তবর্তী রৌনিনপাড়া এলাকায় তিনজন নিহত হওয়ার খবর পেয়েছি। মরদেহ উদ্ধারে আমরা ঘটনাস্থলে যাচ্ছি।
মরদেহ তিনটি উদ্ধারের পর বান্দরবানের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হোসাইন মো. রায়হান কাজেমী বলেন, উপজেলার দুর্গম রৌনিনপাড়া এলাকা থেকে পুলিশ তিনটি মরদেহ উদ্ধার করেছে। এ সময় মরদেহের পাশ থেকে অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার করা হয়।
তিন যুবকের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় বান্দরবান সদর হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
গত ২ এপ্রিল রুমা উপজেলার সোনালী ব্যাংকে ডাকাতি করে অর্থ লুট করে একদল সশস্ত্র লোক। পুলিশের ১০টি এবং আনসার সদস্যের ৪টি অস্ত্রও লুট করে নিয়ে যায় তারা। অপহরণ করা হয় ব্যাংকটির ম্যানেজার নেজাম উদ্দিনকে। তবে দুদিন পর রুমার একটা পাহাড়ি এলাকা থেকে ছাড়া পান তিনি। রুমার ঘটনার পরদিনই থানচি উপজেলার সোনালী ও কৃষি ব্যাংকেও দিন-দুপুরে অর্থ লুটের ঘটনা ঘটে। দুটি ঘটনায় পাহাড়ে সশস্ত্র সংগঠন ‘কুকি চিন ন্যাশনাল ফ্রন্ট-কেএনএফ’ জড়িত বলে জানিয়েছেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এরপর থেকে লুট হওয়া অস্ত্র-অর্থ উদ্ধার, সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে রুমা ও থানচিতে অভিযান চালাচ্ছে সেনাবাহিনী, বিজিবি, র্যাব ও পুলিশ সদস্যের যৌথ বাহিনী। অভিযান সমন্বয় করছেন সেনাবাহিনী। যৌথ বাহিনীর এই অভিযানে বিভিন্ন এলাকা থেকে এখন পর্যন্ত ২২ নারীসহ ৭৮ জনকে গ্রেপ্তারের খবর জানিয়েছে পুলিশ।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরের বগডহর গ্রামের প্রবাস ফেরত যুবক সাজিদ এখন কৃষিতে সফল উদ্যোক্তা হিসেবে পরিচিত মুখ। আধুনিক ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে চাষাবাদ করে অল্প সময়েই তিনি ভাগ্যের চাকা ঘুরিয়েছেন। তার এই সাফল্য স্থানীয় তরুণদের জন্য অনুপ্রেরণার দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে।
জানা যায়, কয়েক বছর সৌদি আরবে প্রবাস জীবন কাটানোর পর দেশে ফিরে নিজ গ্রামের আহমেদ সিটি গার্ডেন এলাকার অনাবাদি পতিত জমিতে কৃষিকাজ শুরু করেন সাজিদ। উপজেলা কৃষি অফিসের পরামর্শে মাত্র ৪০ শতাংশ জমিতে মালচিং পদ্ধতিতে জলবায়ু সহিষ্ণু ‘মহারানী হাইব্রিড করলা’ চাষ শুরু করেন তিনি।
কৃষি বিভাগের ‘ফ্লাড রিকনস্ট্রাকশন ইমারজেন্সি অ্যাসিস্ট্যান্স প্রজেক্ট’-এর আওতায় একটি প্রদর্শনীর মাধ্যমে প্রয়োজনীয় উপকরণ সহায়তা পান সাজিদ। পাশাপাশি উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা আবু নোমানের সার্বক্ষণিক পরামর্শ ও প্রশিক্ষণে মালচিং, ড্রিপ ইরিগেশন এবং সুষম সার ব্যবস্থাপনার মতো আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করেন। এতে উৎপাদন খরচ কমে আসে এবং ফলন উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়।
সরেজমিনে দেখা যায়, আহমেদ সিটি গার্ডেনের পতিত জমি পরিষ্কারের কাজ এখনো চলমান রয়েছে। আবাদকৃত ৪০ শতাংশ জমিতে বর্তমানে করলা উত্তোলন চলছে। এ পর্যন্ত প্রায় ৬০০ কেজি করলা উত্তোলন করা হয়েছে। বাজারে করলার পাইকারি মূল্য কেজি প্রতি ৬০ টাকা হওয়ায় ইতোমধ্যে প্রায় ৩৬ হাজার টাকার করলা বিক্রি হয়েছে।
সাজিদ জানান, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে আগামী দেড় মাসে আনুমানিক দেড় থেকে ২ টন করলা বিক্রি করা সম্ভব হবে। তিনি আরও বলেন, “প্রবাস থেকে দেশে ফিরে স্থায়ী ও সম্মানজনক পেশা হিসেবে কৃষিকেই সবচেয়ে নিরাপদ মনে হয়েছে।” চলতি মৌসুমে তিনি আরও ৩ বিঘা জমিতে টমেটো, শসা ও অফ-সিজন তরমুজ চাষের পরিকল্পনার কথাও জানান।
উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা আবু নোমান বলেন, সাজিদের খামার থেকে নিয়মিতভাবে স্থানীয় বাজারে সবজি সরবরাহ হচ্ছে। এতে তার আর্থিক সচ্ছলতার পাশাপাশি কয়েকজন বেকার যুবকের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর আলম লিটন বলেন, “সাজিদের সাফল্য প্রমাণ করে—যথাযথ উদ্যোগ, পরিশ্রম ও আধুনিক প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহারে কৃষিই হতে পারে লাভজনক ও টেকসই পেশা।” তিনি আরও বলেন, প্রবাস ফেরত যুবকদের জন্য সাজিদের এই অর্জন একটি বাস্তব উদাহরণ।
প্রবাস ফেরত সাজিদের এই সাফল্য শুধু ব্যক্তিগত অর্জন নয়, বরং দেশের তরুণ সমাজকে কৃষিমুখী হওয়ার একটি অনুপ্রেরণামূলক দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে।
বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ ও হিজলা উপজেলার মধ্যবর্তী মেঘনা নদীতে একটি জেলে ট্রলার ডুবে চার জেলে নিখোঁজ হয়েছেন। ট্রলারে থাকা পাঁচজনের মধ্যে একজন প্রাণে বেঁচে ফিরতে পারলেও বাকি চারজনের এখনো কোনো সন্ধান মেলেনি।
নিখোঁজ জেলেরা হলেন,মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার পালপাড়া গ্রামের শাহীন মীর (১৭), আরিফ হোসেন (১৯), শাহীন (১৭) ও নয়ন (১৯)।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী জেলে শামিম হোসেন দিদার (২৫) জানান, শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) রাত আনুমানিক ৪টার দিকে হিজলা উপজেলার ধুলখোলা ইউনিয়নের বাথুয়ারচর সংলগ্ন মেঘনা নদীতে দুর্ঘটনাটি ঘটে। তিনি ধুলখোলা ইউনিয়নের পালপাড়া গ্রামের সাজাহান দিদারের ছেলে।
দিদার বলেন,পাঁচজন মিলে একটি ছোট ট্রলারে করে রাতে মাছ ধরতে যাই। জাল পেতে ট্রলার নোঙর করে আমরা ঘুমিয়ে পড়ি। ভোররাতে হঠাৎ বিকট শব্দ ও ধাক্কায় ঘুম ভেঙে যায়। মুহূর্তের মধ্যেই ট্রলার উল্টে আমরা সবাই নদীতে ছিটকে পড়ি। সবাই তীরে ওঠার চেষ্টা করি। অন্য জেলেদের সহায়তায় আমি উঠতে পারলেও বাকিরা আর উঠতে পারেনি।
তিনি ধারণা করেন, কোনো লঞ্চের ধাক্কায় ট্রলারটি ডুবে যেতে পারে। তবে নিশ্চিতভাবে কীভাবে দুর্ঘটনাটি ঘটেছে, তা বলতে পারেননি তিনি।
স্থানীয় বাসিন্দা হারুন অর রশিদ মৃধা জানান, রাতেই একজনকে উদ্ধার করা সম্ভব হলেও চার জেলের কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। নদীর প্রবল স্রোতের কারণে উদ্ধার কাজ ব্যাহত হচ্ছে।
নৌ-পুলিশের কালীগঞ্জ স্টেশনের ইনচার্জ মো. এনামুল হক বলেন, খবর পেয়ে বিষয়টি খোঁজ নেওয়া হয়েছে। ঘটনাস্থল হিজলা উপজেলার ধুলখোলা ইউনিয়ন এলাকায় পড়েছে।
বরিশাল হিজলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইলিয়াস সিকদার জানান, ঘটনার পরদিন দুপুরে তিনি বিষয়টি অবগত হন। তাৎক্ষণিকভাবে নৌ-পুলিশকে নিখোঁজ জেলেদের উদ্ধারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে কুমিল্লা জেলায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিশেষ তৎপরতা জোরদার করেছে জেলা পুলিশ। গত এক মাসে পরিচালিত ধারাবাহিক অভিযানে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র, গোলাবারুদ ও মাদক উদ্ধার করার পাশাপাশি বিভিন্ন মামলায় ১ হাজার ৩৮২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ডিসেম্বর মাসজুড়ে জেলার বিভিন্ন থানা এলাকায় নির্বাচনকেন্দ্রিক বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। এসব অভিযানে দেশি ও বিদেশি পিস্তল, এলজি, পাইপগান, শটগানসহ বিভিন্ন ধরনের আগ্নেয়াস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়েছে। একই সঙ্গে রামদা, কিরিচ, ছুরি ও চাপাতির মতো দেশীয় অস্ত্রও জব্দ করা হয়।
মাদকবিরোধী অভিযানে উদ্ধার করা হয়েছে গাঁজা, ফেনসিডিল, ইয়াবা, দেশি ও বিদেশি মদ, মাদকজাত ইনজেকশন, ফ্রাফ সিরাপ এবং ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেটসহ বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য।
পুলিশের তথ্যমতে, এক মাসে মাদক মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছেন ১৮৫ জন, ‘ডেভিল হান্ট ফেজ-২’ অভিযানে আটক ৪২৬ জন, নিয়মিত মামলায় গ্রেপ্তার ৭৫০ জন এবং ডাকাতি মামলায় আটক ২১ জন। সব মিলিয়ে মোট গ্রেপ্তারের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৩৮২ জনে।
ডাকাতি প্রতিরোধে পরিচালিত অভিযানে ৪টি পিকআপ ও ১টি মিনি ট্রাক জব্দ করা হয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন জেলা থেকে ডাকাতির মাধ্যমে লুণ্ঠিত ৫ দশমিক ৫ ভরি স্বর্ণালংকার এবং ফেনী জেলা থেকে ডাকাতি হওয়া ৮টি গরু উদ্ধার করা হয়।
নগরীতে চুরি ও ছিনতাই রোধে দৃশ্যমান উদ্যোগ হিসেবে কুমিল্লা শহরের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে ২০টি চেকপোস্ট স্থাপন করা হয়েছে। এসব চেকপোস্টে দিন-রাত তল্লাশি চালিয়ে সন্দেহভাজনদের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
কুমিল্লা জেলার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান বলেন, “আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে কুমিল্লায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জেলা পুলিশ জিরো টলারেন্স নীতিতে কাজ করছে। অপরাধী যেই হোক, কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। মাদক, অস্ত্র, ডাকাতি ও চুরি-ছিনতাই দমনে আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।”
তিনি আরও জানান, জননিরাপত্তার স্বার্থে প্রয়োজনে চেকপোস্টের সংখ্যা আরও বাড়ানো হবে।
গাজীপুরের টঙ্গীতে বিদেশি পিস্তলসহ আব্দুল্লাহ আল মামুন ওরফে রতন (৩০) নামে এক যুবককে গ্রেফতার করেছে টঙ্গী পূর্ব থানা পুলিশ।
রবিবার (১১ জানুয়ারী) মধ্য রাতে টঙ্গীর পূর্ব আরিচপুর এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। এসময় তার কাছ থেকে ম্যাগাজিনসহ একটি বিদেশি পিস্তল উদ্ধার করে পুলিশ। একই দিন দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য নিশ্চিত করেন গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের অপরাধ দক্ষিণ বিভাগের উপ পুলিশ কমিশনার মহিউদ্দিন আহমেদ।
গ্রেপ্তারকৃত মামুন লালমনিরহাট জেলা সদরের খোটামারা গ্রামের মৃত-আবেদ আলীর ছেলে। তিনি মরকুন পশ্চিমপাড়া জনৈক মিরার বাড়িতে ভাড়া থাকতেন।
পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে টঙ্গী পূর্ব থানার উপ পরিদর্শক তুহিন মিয়া ও সহকারী উপ পরিদর্শক রুহুল আমিনের নেতৃত্বে আসামি মামুন ওরফে রতনকে গ্রেফতার করার পর তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে পূর্ব আরিচপুর এলাকায় সাবেক কাউন্সিলর শাহ আলম রিপনের বাড়ীর ভাড়াটিয়া সুজনের কক্ষে থেকে পিস্তলটি উদ্ধার করা হয়। তার বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট আইনে মামলা দায়ের করে বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।
ফরিদপুরের আলীপুর ব্রিজের উপর থেকে বোমা সদৃশ্য ব্যাগটি উদ্ধারের ২৪ ঘন্টা পর শক্তিশালী বোমাটি বিস্ফোরনের মাধ্যমে নিষ্ক্রিয় করা হয়। এসময় ঘটনাস্থলে বিকট শব্দ ও কম্পনের সৃষ্টি হয়। এটি রিমোট কন্টোল দ্বারা নিয়ন্ত্রিত একটি প্রাণঘাতী আইইডি বোমা বলে নিশ্চিত করেন বোমা ডিস্পোজাল টিম।
রোববার (১১ জানুয়ারি) সকাল ১০ টার দিকে ঢাকা থেকে আসা এন্টি ট্রেরিজম ইউনিট (এটিইউ) এর সদস্যরা বোমাটি নিষ্ক্রিয় করে। এটি সুইচ ও রিমোট নিয়ন্ত্রিত শক্তিশালী আইইডি ছিল বলে জানিয়েছে এটিইউ এর সদস্য ও পুলিশ পরিদর্শক শংকর কুমার ঘোষ।
শহরের গোয়ালচামট বিসর্জন ঘাটে কুমার নদের পাড়ে বালুর বস্তায় ঘেরা ও উপরে বুলেট প্রুভ চাদর এবং রিং বেস্টনি দেয়া। এছাড়াও প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করে ১শ গজ দুর থেকে তারের সংযোগে বোমাটির বিষ্ফোরণ ঘটানো হয়।
এটিইউ এর সদস্য ও পুলিশ পরিদর্শক শংকর কুমার ঘোষ বলেন, এটি সাধারন বোমার চেয়ে কিছুটা শক্তিশালী আইইডি বিস্ফোরক। যা সুইচ যুক্ত রিমোট কন্টোল দ্বারা পরিচালিত একটি প্রাণঘাতী বিস্ফোরক ছিল।
এসময় একশ গজ দুরে সেখানে উপস্থিত গণমাধ্যম কর্মী নাইম শেখ জানান, বোমাটি নিস্ক্রিয় করার সময় বিকট শব্দ হয় ও মাটি কেপে উঠে। বিস্ফোরিত অংশ ১৫ ফিট উচ্চতায় উঠে যায় ও আগুনসহ কালো ধোয়ার সৃষ্টি হয়।
এর আগে শনিবার সকালে ফরিদপুর শহরের প্রাণকেন্দ্র আলীপুর আলীমুজ্জামান ব্রীজের পশ্চিম অংশে একটি ব্যাগের মধ্যে রাখা বোমাটি উদ্ধার করে যৌথ বাহিনী । উদ্ধারের পর বোমাটি কুমার নদের পাড়ে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে রাখা হয়।
ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শহীদুল ইসলাম জানান, এ ঘটনার পর থেকে শহরে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। কারা বোমাটি রেখেছিল সে বিষয়ে অনুসন্ধান চালাচ্ছে পুলিশ।
চট্টগ্রামে চাঞ্চল্যকর আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফ হত্যা মামলার পরোয়ানাভুক্ত এক পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব। গ্রেপ্তারকৃত আসামির নাম গণেশ (১৯), যিনি চট্টগ্রাম নগরের কোতোয়ালি থানাধীন সেবক কলোনির বাসিন্দা শরিফ দাশের ছেলে। গত শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে নগরের লালদীঘি এলাকার জেলা পরিষদ সুপার মার্কেট থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। র্যাব-৭-এর একটি বিশেষ দল গোপন সংবাদ ও দীর্ঘ গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে তাঁর অবস্থান শনাক্ত করে এই সফল অভিযান পরিচালনা করে। গ্রেপ্তারের পর প্রয়োজনীয় আইনি আনুষ্ঠানিকতা শেষে তাঁকে কোতোয়ালি থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
হত্যাকাণ্ডের প্রেক্ষাপট ও মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ২৬ নভেম্বর চট্টগ্রাম আদালত ভবন এলাকায় চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের জামিন শুনানিকে কেন্দ্র করে এক রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সেই সময় একদল উত্তেজিত জনতা আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফকে অত্যন্ত নির্মমভাবে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করে। এই পৈশাচিক ঘটনার পর নিহত আলিফের পিতা জামাল উদ্দিন বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন, যেখানে শুরুতে ৩১ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছিল। এই হত্যাকাণ্ডটি দেশজুড়ে ব্যাপক ক্ষোভ ও আলোচনার জন্ম দেয় এবং দ্রুত বিচার নিশ্চিতের দাবি ওঠে।
মামলার তদন্ত শেষে ২০২৫ সালের ১ জুন তৎকালীন কোতোয়ালি জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার মাহফুজুর রহমান আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। পরবর্তীতে গত ২৫ আগস্ট চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট এস এম আলাউদ্দিন মাহমুদের আদালত দীর্ঘ শুনানি শেষে মোট ৩৯ জনের বিরুদ্ধে এই চার্জশিট গ্রহণ করেন। তদন্তকালে এজাহারভুক্ত তিনজনের বিরুদ্ধে পর্যাপ্ত তথ্য-প্রমাণ না পাওয়ায় তাঁদের অব্যাহতি দিয়ে নতুন করে চিন্ময় কৃষ্ণ দাসসহ আরও ১০ জনকে আসামির তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়। চট্টগ্রাম র্যাবের সহকারী পরিচালক (গণমাধ্যম) এ আর এম মোজাফ্ফর হোসেন জানিয়েছেন যে, গ্রেপ্তারকৃত আসামি গণেশ দীর্ঘদিন ধরে ধরাছোঁয়ার বাইরে ছিলেন। বর্তমানে তাঁর বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং মামলার অন্য পলাতক আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
টেকনাফ সীমান্তের ওপারে মিয়ানমারের অভ্যন্তরে চলমান গৃহযুদ্ধের ভয়াবহ প্রভাব আবারও দেখা দিল বাংলাদেশের অভ্যন্তরে। রবিবার সকালে ওপার থেকে ছোড়া গুলিতে টেকনাফ সীমান্তে এক শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে হোয়াইক্যং ইউনিয়নের তেচ্ছিব্রিজ এলাকায় এই হৃদয়বিদারক ঘটনাটি ঘটে। নিহত আফনান আরা (১২) ওই ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মোহাম্মদ জসিমের কন্যা। স্থানীয়রা জানান, হঠাৎ করেই মিয়ানমার থেকে একটি গুলি এসে সীমান্ত অতিক্রম করে শিশুটির গায়ে লাগে এবং সে ঘটনাস্থলেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে। নিরপরাধ এই শিশুর এমন মৃত্যুতে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
এই হত্যাকাণ্ডের খবর ছড়িয়ে পড়ার সাথে সাথে স্থানীয় জনতা ও নিহতের স্বজনদের মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী তাৎক্ষণিকভাবে তেচ্ছিব্রিজ এলাকায় জড়ো হয়ে কক্সবাজার-টেকনাফ মহাসড়ক অবরোধ করেন। প্রতিবেদনটি লেখা পর্যন্ত আন্দোলনকারীরা সড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করছেন, যার ফলে ওই গুরুত্বপূর্ণ রুটে সকল ধরণের যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। সাধারণ মানুষের দাবি, সীমান্তের ওপারে নিয়মিত সংঘাতের কারণে এপারের বাসিন্দাদের জীবনের নিরাপত্তা এখন চরম ঝুঁকির মুখে রয়েছে। তাঁরা এই পরিস্থিতির স্থায়ী সমাধান এবং সীমান্ত এলাকায় নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য সরকারের কাছে জোর দাবি জানিয়েছেন।
হোয়াইক্যং পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ খোকন কান্তি নাথ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছেন যে, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে চলমান প্রবল সংঘাতের জেরেই এই অনাকাঙ্ক্ষিত প্রাণহানি ঘটেছে। তিনি আরও জানান যে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছেছেন এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করছেন। বিক্ষোভকারীদের বুঝিয়ে মহাসড়ক থেকে সরিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক করার প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, গত দুই-তিন দিন ধরে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সে দেশের সেনাবাহিনী এবং বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষ ও গোলাগুলি চলছে। প্রায়ই ভারী অস্ত্রের গগনবিদারী শব্দে সীমান্ত অঞ্চল কেঁপে উঠছে, যা এপার বাংলাদেশের মানুষের মনে গভীর আতঙ্কের জন্ম দিয়েছে। আজকের এই ঘটনা সেই আতঙ্ককে আরও কয়েকগুণ বাড়িয়ে দিল।
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ ওসমান হাদি হত্যা মামলার চার্জশিটে নির্দেশদাতা উত্তর সিটি করপোরেশনের ৬নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর তাইজুল ইসলাম চৌধুরী ওরফে বাপ্পি বর্তমানে ভারতের কলকাতায় পুলিশ পরিচয়ে আত্মগোপনে রয়েছে বলে এরই মধ্যে নিশ্চিত করেছে পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)।
ডিবির দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা বলেন, ‘আমাদের সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, বাপ্পি এখন কলকাতায় আছে। তিনি ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে অবৈধপথে বাংলাদেশে প্রবেশ করে দ্বিতীয় বিয়ে করে। মাদারীপুরের শিবচরের এক মেয়েকে বিয়ে করে তাকে নিয়ে আবারও অবৈধপথে ভারতে চলে যায়। সেখান থেকেই হাদি হত্যার পুরো মিশন পরিচালনা করে।’
ডিবির তথ্যানুযায়ী, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর বাপ্পি ভারতে পালিয়ে যায়। আওয়ামী লীগের আরও কয়েকজন নেতা তার সঙ্গে রয়েছে। কলকাতার রাজারহাটের ওয়েস্ট বেড়াবেড়ি মেঠোপাড়া এলাকার ঝনঝন গলির একটি চারতলা ভবনের দ্বিতীয় তলায় তিনি আত্মগোপনে আছেন। গত ৬ জানুয়ারি রাতেও তিনি সেখানেই ছিলেন বলে ডিবি সূত্রে জানা যায়।
এর আগে গত ৬ জানুয়ারি আদালতে দাখিল করা চার্জশিটে মোট ১৭ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। এদের মধ্যে বাপ্পি ছাড়াও শুটার ফয়সাল করিম মাসুদ ও তার সহযোগী আলমগীর হোসেনসহ ৫ জন পলাতক রয়েছেন। চার্জশিটে বলা হয়েছে, রাজনৈতিক কারণেই এ হত্যাকাণ্ড।
ডিবি কর্মকর্তা জানান, অভিযুক্তরা অবৈধ পথে ভারতে গেছে। তাদের অবস্থানের অফিসিয়াল তথ্য-প্রমাণ নেই। ফলে নিয়মিত প্রক্রিয়ায় ইন্টারপোলের কাছে সহায়তা চাওয়া যাচ্ছে না। আদালতের অনুমতি পেলে ইন্টারপোলের কাছে আবেদন করা হবে।
উল্লেখ্য, গত ১২ ডিসেম্বর জুমার নামাজের পর রাজধানীর পুরানা পল্টনের কালভার্ট রোডে রিকশায় থাকা অবস্থায় হাদির মাথায় গুলি করা হয়। গুরুতর আহত হাদিকে চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে নেওয়া হলেও ১৮ ডিসেম্বর তিনি মারা যান। এরপর ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবেরের করা মামলায় তদন্ত চালিয়ে ডিবি এ চার্জশিট দাখিল করে।
চার্জশিটে উল্লেখ করা হয়, হামলার পর শুটার ফয়সাল ও আলমগীরকে নির্বিঘ্নে ভারতে পালানোর ব্যবস্থা করে বাপ্পি।
নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ায় ব্রিজ নির্মাণের আগে মাটি পরীক্ষায় গ্যাস বের হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। দুর্ঘটনার আশঙ্কায় গ্যাস নির্গমন আপাতত বন্ধ করে রাখা হয়েছে। গত শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) বিকেলে উপজেলার চরকিং ইউনিয়নের ভৈরব বাজার-সংলগ্ন এলাকার একটি খালের পাড়ে এ ঘটনা ঘটে।
উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্র জানায়, বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে হেলফ প্রকল্পের আওতায় ৪৫ মিটার দৈর্ঘ্যের একটি ব্রিজ নির্মাণের কাজ পেয়েছেন ঠিকাদার সাইফুল ইসলাম শেখ। কাজটি তদারকি করছে হাতিয়া উপজেলা এলজিইডি। গত বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) বিকেলে ব্রিজ নির্মাণের প্রস্তুতি হিসেবে ওই স্থানে প্রায় ১১২ ফুট গভীর সয়েল টেস্ট সম্পন্ন করেন ঠিকাদারের শ্রমিকরা। সয়েল টেস্ট শেষে তারা স্থান ত্যাগ করেন। পরদিন শুক্রবার বিকেলে হঠাৎ ওই স্থান থেকে গ্যাস বের হতে শুরু করে। ওই সময় স্থানীয়রা আগুন ধরালে গ্যাসে আগুন জ্বলে ওঠে। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে উৎসুক-জনতা ঘটনাস্থলে ভিড় জমায়।
স্থানীয় বাসিন্দা জিল্লুর রহমান বলেন, ‘আসলে এটা কীভাবে হচ্ছে বা এটি সত্যিকারের গ্যাস কি না আমরা বুঝি না। নিজের চোখে আগুন জ্বলতে দেখেছি। লোকজন আগুন ধরিয়ে দেখান। যদি এটা সত্যিই প্রাকৃতিক গ্যাস হয়, তাই বিষয়টি পরীক্ষা করা জরুরি।’
হাতিয়া উপজেলা প্রকৌশলী এমদাদুল হক গ্যাস বের হওয়ার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘গ্যাস বের হওয়ার পর তা বন্ধ করে রাখা হয়েছে। আগামী এক থেকে দুই দিনের মধ্যে বিষয়টি বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি লিমিটেড—বাপেক্সকে জানানো হবে।’
এ বিষয়ে হাতিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো.আলাউদ্দিন বলেন, ‘একটি জায়গা থেকে বোরিং করার পরে সেখান থেকে গ্যাস বের হচ্ছে। আপাতদৃষ্টিতে মনে হচ্ছে না অনেক বেশি গ্যাস জমা আছে। তবে নিচে অবশ্যই কিছু শক্তি জমা আছে, এটা তারই প্রতিফলন। এখন এটা এক্সপার্ট ছাড়া অন্য কিছু বলা যাবে না। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কতৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।’
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সম্মুখ সারির যোদ্ধা ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. চৌধুরী সায়মা ফেরদৌস বলেছেন, সবাই যার যার অবস্থান থেকে সচেতন হলে এবং নিজেদের অধিকার আদায়ে সোচ্চার হলে এ দেশে আর কোনো স্বৈরাচারী শক্তি মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে পারবে না। তিনি বলেন, ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান বঞ্চনা ও নির্যাতনের ফল।’ গতকাল শনিবার দুপুরে রক্তদান সংগঠন সন্ধানী কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ ইউনিটের পুনর্মিলনী ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তার বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বক্তব্যের শুরুতে তিনি আপসহীন নেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। ড. সায়মা ফেরদৌস বলেন, ‘দেশের জন্য বেগম খালেদা জিয়ার ত্যাগ বিরল দৃষ্টান্ত। রাজপথে তার দৃঢ় কণ্ঠস্বর এবং অন্যায়ের সঙ্গে আপস না করার অবস্থানের কারণেই আজ আমরা স্বৈরাচারমুক্ত দেশ গড়ার পথে এগোতে পেরেছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘আবু সাঈদের বিশ্বাসে ভরা বুক, মুগ্ধের তৃষ্ণার্ত মানুষকে পানি খাওয়াতে গিয়ে জীবন উৎসর্গ এবং ওয়াসিমের আত্মত্যাগ—এসবের যথাযথ মূল্যায়ন আমাদের করতেই হবে। জুলাইকে হেরে যেতে দেওয়া যাবে না।’
ড. সায়মা ফেরদৌস বলেন, ‘এ দেশের মানুষ নিজেদের অধিকার রক্ষায় বারবার রক্ত দিয়েছে। আমরা পরিবর্তনের কথা বলি, কিন্তু সেই পরিবর্তন একদিনে সম্ভব নয়। যার যার অবস্থান থেকে সৎভাবে নিজের দায়িত্ব পালন করলেই পরিবর্তন সম্ভব।’
ভোটাধিকার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘ভোটের অধিকার মানে—আমার ভোট আমি দেব, যাকে খুশি তাকেই দেব। এটি প্রতিটি নাগরিকের গণতান্ত্রিক অধিকার, যা দীর্ঘদিন ধরে কেড়ে নেওয়া হয়েছিল।’ তরুণ প্রজন্মকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, ‘ভোটের গুরুত্ব বোঝতে হবে। যারা স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়ন করবে, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখবে, পাহাড় ও সমতলের মানুষকে একই বাংলাদেশি প্ল্যাটফর্মে আনবে, কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে—বিবেচনা ও বিবেকের আলোকে তাদেরই ভোট দিতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘দেশপ্রেম তখনই জাগ্রত হয়, যখন রাষ্ট্র দেশপ্রেমকে মূল্যায়ন করে।’
কুমিল্লার প্রতি আবেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘আমি গর্ববোধ করি আমি কুমিল্লার মেয়ে। কুমিল্লায় যতবারই আসি, ততবারই মনে হয় নিজের ঘরে ফিরে এসেছি।’
কুমিল্লা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. মিজানুর রহমান তাইবুরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন সন্ধানী কুমেক ইউনিটের সাধারণ সম্পাদক আসিফ মোস্তফা। শোক প্রস্তাব উপস্থাপন করেন ডা. সাঈদ মো. সারোয়ার।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- বিএনপির কেন্দ্রীয় সহসাংগঠনিক সম্পাদক মোস্তাক মিয়া, কুমিল্লা মহানগর বিএনপির সভাপতি উদবাতুল বারী আবু, দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আশিকুর রহমান মাহমুদ ওয়াসিম, সিনিয়র সহসভাপতি আমিরুজ্জামান ভুঁইয়া এবং মহানগর যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক রিয়াজুদ্দিন রিয়াজ।
এ ছাড়া বক্তব্য দেন কুমেকের উপাধ্যক্ষ ডা. সজীবুর রশিদ, ড্যাব কুমেক শাখার সভাপতি ডা. মিনহাজুর রহমান তারেক, সাধারণ সম্পাদক ডা. রফিকুর রহমানসহ চিকিৎসক ও সাবেক সন্ধানিয়ান নেতারা।
শেরপুর ও জামালপুরের সাংবাদিকদের নিয়ে প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশের (পিআইবি) উদ্যোগে দুদিনব্যাপী নির্বাচনকালীন সাংবাদিকতাবিষয়ক প্রশিক্ষণের সমাপনী ও সনদ বিতরণী অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) বিকেলে শেরপুর জেলা প্রশাসনের তুলশীমালা ট্রেনিং সেন্টারে আয়োজিত সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, পিআইবির মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফ।
ওই সময় তিনি বলেন, ‘আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন জাতির জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। নির্বাচনকালীন সময়ে কোনোভাবে সাংবাদিকদের দ্বারা যাতে কোনো বিচ্যুতি না ঘটে, সেটি নিশ্চিত করতে সাংবাদিকদের প্রশিক্ষিত করা বা আইন-কানুনে আরও দক্ষ করতে পিআইবি এই প্রশিক্ষণের আয়োজন করেছে। রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ হিসেবে গণমাধ্যমকর্মীদের অনেক দায়িত্ব ও কর্তব্য আছে। সেটি সঠিকভাবে পালনে তাদের ভূমিকা রাখতে হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানে তরুণ প্রজন্ম যে সংস্কার ও পরিবর্তনের উদ্দেশ্যে আত্মত্যাগ করেছেন তার সঠিক বাস্তবায়ন করতে হবে। এই লড়াইয়ে স্বৈরাচারের পতন ঘটেছে, এ সাহসিকতা ধারণ করেই ভোটকেন্দ্রে গিয়ে নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে হবে।’
প্রশিক্ষণে রিসোর্স পারসন হিসেবে ছিলেন- পিআইবির প্রশিক্ষক জিলহাজ উদ্দিন নিপুন, এটিএন বাংলার চিফ রিপোর্টার একরামুল হক সায়েম ও জাতীয় দৈনিকের সিনিয়র রিপোর্টার বাহারাম খান। ওই সময় আরও বক্তব্য রাখেন, শেরপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি কাকন রেজা, সাধারণ সম্পাদক মাসুদ হাসান বাদল প্রমুখ। এ সময় প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মেরাজ উদ্দিন, কার্যকরী সভাপতি আব্দুর রফিক মজিদ, সিনিয়র সহসভাপতি মুগনিউর রহমান মনি, সহসভাপতি শাহরিয়ার মিল্টন, সাংগঠনিক সম্পাদক আবু হানিফ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
প্রশিক্ষণে নির্বাচনকালীন রিপোর্টিংয়ের প্রয়োজনীয়তা ও সমাজে এর প্রভাব, নির্বাচনকালীন সংবাদ পরিবেশনে সাংবাদিকদের করণীয় ও বর্জনীয়, সাংবাদিকতার নীতিমালা, নির্বাচন কমিশনের নীতিমালা ও প্রাসঙ্গিক আইন বিষয়ে আলোচনা করা হয়। প্রশিক্ষণে শেরপুর ও জামালপুর জেলায় কর্মরত ৫০ জন সাংবাদিক অংশগ্রহণ করেন।
৬ হাজার ৪৩৭ একর আয়তন বেষ্টিত বিচ্ছিন্ন দ্বীপচর মুজিবনগর। এই চরটি ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার আওতাধীন। পুরো চরঘেরা তেঁতুলিয়া নদী। নদীপথে খেয়া পারাপারেই এখানকার বাসিন্দাদের একমাত্র যোগাযোগমাধ্যম। চরের বাসিন্দারা জেলে পেশা ও কৃষিকাজে জড়িত। এই দ্বীপে প্রায় ২০ হাজার মানুষের বসতি হলেও স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণের জন্য একটি ক্লিনিকও নেই। তারা দীর্ঘবছর ধরে চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে। ভৌগোলিক বিচ্ছিন্নতা, যোগাযোগ ব্যবস্থার দুর্বলতা এবং স্বাস্থ্য খাতে চরম অবহেলার কারণে দ্বীপবাসীর দুর্ভোগ দিন দিন বেড়েই চলেছে।
জানা যায়, মুজিবনগর দ্বীপে একটি ক্লিনিকও নেই। কোনো ধরনের ওষুধ সরবরাহ নেই। ফলে সাধারণ রোগেও মানুষকে নির্ভর করতে হয় স্থানীয় ঝাড়ফুঁক বা অনভিজ্ঞ চিকিৎসার ওপর। দ্বীপটির মূল ভূখণ্ড থেকে নদী দ্বারা বিচ্ছিন্ন হওয়ায় জরুরি রোগীদের হাসপাতালে নেওয়া অত্যন্ত কষ্টসাধ্য। চরফ্যাশন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যেতে নৌকাই একমাত্র ভরসা। কিন্তু প্রতিকূল আবহাওয়া, নদীর স্রোত ও নৌযানের স্বল্পতার কারণে অনেক সময় রোগী পরিবহন সম্ভব হয় না। যদি রাতে কোনো ব্যক্তি অসুস্থ হয়ে যায় তাহলে একেবারেই নদী পার হওয়া যায় না। এতে করে জরুরি রোগীরা সময়মতো চিকিৎসা না পেয়ে ঝুঁকির মুখে পড়ছেন। জরুরি রোগী পরিবহনের জন্য নৌ-অ্যাম্বুলেন্সও নেই।
সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে রয়েছেন গর্ভবতী নারী, শিশু ও বয়স্করা। গর্ভকালীন পরীক্ষা, নিরাপদ প্রসব কিংবা নবজাতকের চিকিৎসার কোনো সুব্যবস্থা নেই। অনেক নারী ঝুঁকিপূর্ণভাবে ঘরেই সন্তান প্রসব করতে বাধ্য হচ্ছেন। শিশুদের মধ্যে অপুষ্টি, ডায়রিয়া ও জ্বরের প্রকোপ উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেন, বারবার জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জানানো হলেও কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের মৌলিক দায়িত্ব হলেও দ্বীপবাসী তা থেকে বঞ্চিত। একজন বাসিন্দা বলেন, ‘অসুস্থ হলে আমরা আল্লাহর ওপর ভরসা ছাড়া আর কোনো উপায় পাই না।’
স্থানীয় ফজল মাঝি বলেন, ‘প্রায় ৪০ বছর আগ থেকে মুজিনবগর ইউনিয়নে বসবাস করে আসছি। প্রথম থেকে এখনো অব্দি একটি ক্লিনিকও সরকার স্থাপন করেনি। মূল ভূখণ্ডে যেতে আমাদের নদী পার হতে হয়। যাতায়াতের একমাত্র মাধ্যম নৌকা। আমরা প্রতিনিয়ত মৃত্যুর প্রহর গুণছি। কারণ কোনো একজন ব্যক্তি গুরুতর অসুস্থ্য হলে তাৎক্ষণিক হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হয় না।’
বিবি কলছুম বলেন, ‘২০২৪ সালে হঠাৎ আমার প্রসব বেদনা শুরু হয়। পরে অবস্থা আশঙ্কাজনক হয়ে যায় কিন্তু সেদিন গভীর রাত হওয়াতে আমার পরিবারের লোকজন মূল ভূখণ্ডে আমাকে নিতে পারেনি। কারণ চরফ্যাশন সদর হাসপাতালে যেতে নদী পার হতে হয়। তবে সেইদিন রাতেই একজন ধাত্রী মহিলা দিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বাচ্চা ডেলিভারি করাই।’
দ্বীপবাসীর আশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত পদক্ষেপ নেবে এবং মুজিবনগরের মানুষও অন্য এলাকার মতো মৌলিক চিকিৎসাসেবা পাওয়ার সুযোগ পাবে। তা না হলে স্বাস্থ্যঝুঁকি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
ইউপি সদস্য মনির হাওলাদার বলেন, ‘দ্বীপটিতে দ্রুত একজন স্থায়ী চিকিৎসক নিয়োগ, পর্যাপ্ত ওষুধ সরবরাহ এবং জরুরি রোগী পরিবহনের জন্য নৌ-অ্যাম্বুলেন্স চালু করা জরুরি। একই সঙ্গে একটি উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্র স্থাপনের দাবি জানাই।’
চরফ্যাশন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শোভন বসাক বলেন, ‘দেশের নাগরিক হিসেবে মুজিবনগর দ্বীপের মানুষের স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার সাংবিধানিক অধিকার রয়েছে। আমি সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট বিষয়টি অবগত করব।’
শীত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে জয়পুরহাটে গাছিদের খেজুরের রস থেকে গুড় তৈরির ধুম পড়ে গেছে। মধ্যরাত থেকে তারা খেজুরের রস সংগ্রহ করতে শুরু করেন। এরপর শুরু হয় গুড় তৈরির কর্মযজ্ঞ। এ ছাড়া এ অঞ্চলের খেজুরের রস মিষ্টি হওয়ায় দূর-দূরান্ত থেকে অনেকে তা পান করতে আসেন। ফেরার পথে খাঁটি গুড় সঙ্গে নিয়ে যান। যদিও স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে নিপাহ ভাইরাস প্রতিরোধে কাঁচা রস খেতে নিষেধ করা হচ্ছে। প্রয়োজনে ফুটিয়ে পান করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। চলতি মৌসুমে জেলা থেকে ২৭২ টন গুড় উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে কৃষি বিভাগ।
সরেজমিনে জানা যায়, বিভিন্ন জেলা থেকে অন্তত ৬০০ গাছি এ জেলায় খেজুরের রস সংগ্রহ করতে এসেছেন। তারা তীব্র শীত উপেক্ষা করে ভোর রাতে গাছ থেকে রস সংগ্রহ করেন। এরপর টিনের বড় তাওয়ায় রেখে জ্বাল দেওয়া হয় ৩ থেকে ৪ ঘণ্টা। আরও কয়েকটি প্রক্রিয়া শেষে প্রস্তুত হয় সুস্বাদু পাটালি ও লালি গুড়, যা বিক্রি হচ্ছে জয়পুরহাটসহ আশপাশের বিভিন্ন জেলায়। অনেকেই কিনে নিয়ে যাচ্ছেন শীতের পিঠাপুলি খাওয়ার জন্য। প্রকারভেদে প্রতি কেজি গুড় বিক্রি হচ্ছে ২০০ থেকে ৪০০ টাকায়। খেজুরের রস বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৬০ টাকা কেজি দরে।
জয়পুরহাট সদরের কুঠিবাড়ী ব্রিজ এলাকার গাছি আব্দুল হান্নান বলেন, ‘রাত ৩টার দিকে আমরা গাছে উঠে রস সংগ্রহ করি। এরপর ভোরের দিকে সেই রস নিয়ে এসে বড় তাওয়ায় ঢালা হয়। তারপর ৪ ঘণ্টার মতো জ্বাল দিতে হয়। একপর্যায়ে ঘন হলে সেই রস নামিয়ে গুড় তৈরি করা হয়। এরপর এই গুড় বাজারে বিক্রি করি। অনেকে এখান থেকে কিনে নিয়ে যায়।’
একই এলাকার গুড় বিক্রেতা আনছের আলী বলেন, ‘পাটালি গুড় ভালোটা ৪০০ টাকা আর নরমালটা ২০০ টাকা কেজি বিক্রি করছি। লালি গুড় ভালোটা ৪০০ টাকা ও নরমালটা ২০০ টাকা কেজি। এ ছাড়া রস বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৬০ টাকা কেজি দরে। আমাদের এই গুড় রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় পাঠানো হচ্ছে। চাহিদা অনুযায়ী গুড় সরবরাহ করতে পারছি না।’
কালাই উপজেলার পুনট থেকে খেজুরের গুড় কিনতে এসেছেন আবু রায়হান। তিনি বলেন, বাড়িতে আত্মীয়-স্বজন আসবে। এ জন্য খেজুরের গুড় কিনতে এসেছি। গুড় দিয়ে পিঠাপুলি করা হবে। এ জন্য ভালো পাটালি গুড় তিন কেজি ও লালি গুড় এক কেজি কিনেছি।’
সদর উপজেলার গতন শহর এলাকা থেকে গুড় কিনতে এসেছেন আজিজুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘এখানে খেজুরের রস থেকে খাঁটি গুড় পাওয়া যাচ্ছে শোনে কিনতে এসেছি। বাজারে অনেক সময় ভেজাল পাওয়া যায়। এ জন্য বাড়িতে পিঠা বানানোর জন্য এখান থেকে চার কেজি গুড় কিনলাম।’
নওগাঁ জেলার ধামুরহাট থেকে এসেছেন হাবিব হাসান বলেন, ‘এখানে খেজুরের রস খাওয়ার জন্য এসেছিলাম। রস খেয়ে অনেক ভালো লাগল। এখানে রস থেকে খাঁটি গুড় তৈরি করা হচ্ছে। তাই বাড়িতে পিঠা বানানোর জন্য দুই কেজি কিনলাম।’
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ এ কে এম সাদিকুল ইসলাম বলেন, ‘জয়পুরহাট জেলায় প্রায় ২৬ হাজার খেজুর গাছ রয়েছে। এসব গাছ থেকে গাছিরা রস সংগ্রহ করে গুড় তৈরি করছেন। চলতি মৌসুমে জেলায় ২৭২ টন গুড় উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। আমরা চাষিদের পরামর্শ দিচ্ছি গাছে হাঁড়ি বসানোর সময় যেন নেট দিয়ে ঘিরে দেওয়া হয়। বাদুড় বা অন্য কোনো প্রাণীর সংস্পর্শে না আসে এবং হাঁড়ির মধ্যে যেন চুনের প্রলেপ দেয়। এতে কাঁচা রস কোনো জীবাণুর মাধ্যমে সংক্রমিত হবে না। এতে আমরা নিরাপদ রস পাব।’
জয়পুরহাট জেলা নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা সুমাইয়া আফরিন জিনিয়া বলেন, জেলায় যেসব জায়গায় গুড় উৎপাদন হয়ে থাকে সেসব জায়গা নিয়মিত তদারকি করা হয়ে থাকে। আমরা কীটের মাধ্যমে ভেজাল গুড় শনাক্ত করে থাকি। যারা ভেজাল গুড় তৈরি ও বিক্রি করে তাদের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যে ভ্রাম্যমাণ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। যদি কেউ ভেজাল গুড় তৈরি করে বা বিক্রি করে তবে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জয়পুরহাট সিভিল সার্জন ডা. মো. আল মামুন বলেন, ‘বাদুড়ের সংস্পর্শের কারণে খেজুরের রস খেলে নিপা ভাইরাসের ঝুঁকি থাকে। এতে মানুষের জীবনের ঝুঁকি থাকে। স্বাস্থ্য বিভাগের মাসিক সভায় আমি সকল কর্মকর্তাকে এই বিষয়টি নিয়ে কাজ করার জন্য নির্দেশ দিয়েছি। তারা মানুষকে সচেতন করতে মাঠপর্যায়ে কাজ করছে। পাশাপাশি সর্বস্তরের মানুষের আমার পরামর্শ কেউ যেন কাঁচা রস না খায়। খেলেও ১০০ ডিগ্রি তাপমাত্রায় অন্তত ১৫ মিনিট ফুটিয়ে খেতে হবে।’