সুন্দরবনের অভ্যন্তরে শেখেরটেকে মোগল আমলে নির্মিত হয়েছিল একটি দুর্গ। সেই দুর্গের ধ্বংসাবশেষের মধ্যে এখনো মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে রয়েছে কালী মন্দির। অনুমানিক ৪০০ বছরের পুরোনো মন্দিরটি প্রথমবারের মতো সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
অধিকাংশ ইতিহাসবিদ শেখেরটেক এলাকার দুর্গটিকে মোগল আমলে রাজা প্রতাপাদিত্যের নির্মিত কোনো দুর্গ বলে মনে করেন। সেই দুর্গের মন্দিরটি এখন সরকারের বনবিভাগ ও প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর যৌথভাবে সংস্কার করছে। এতে অর্থায়ন করছে বনবিভাগ। আর কারিগরি সহায়তা করছে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর।
খুলনাঞ্চলের বন সংরক্ষক মিহির কুমার দো বলেন, ‘মন্দিরটির ওপরে গাছপালা জন্ম নিয়েছে। ওই ভারে এটি যেকোনো সময় ভেঙে যেতে পারে। তা ছাড়া দেয়ালেও কোথাও কোথাও ইট খুলে পড়ছে। তাই টেকসইভাবে এটি সংস্কার করা হচ্ছে। সুন্দরবন সুরক্ষা প্রকল্পের আওতায় এখানে ৭৫ লাখ টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। তবে যেহেতু এটি ঐতিহাসিক নিদর্শন, তাই প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের কাছ থেকে কারিগরি সহায়তা নিয়ে সংস্কার করা হচ্ছে।’
প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মন্দিরটি ধ্বংসপ্রাপ্ত অবস্থায় কোনো রকম টিকে আছে। এর স্থাপত্য কাঠামো ও শিল্পশৈলী দেখে অনুমান করা হয়, ৪০০ বছর আগে এটি নির্মিত হয়েছে। এর দক্ষিণ ও পশ্চিম দিকে রয়েছে দুটি প্রবেশদ্বার। এতে মোট চার ধরনের ইট ব্যবহার করা হয়েছে।
মন্দিরের বাইরের অংশ ৬৫৫ সেন্টিমিটার বর্গাকার। আর ভেতরের অংশ ৩২৫ সেন্টিমিটার বর্গাকার। দেয়ালের পুরুত্ব ১৬৫ সেন্টিমিটার। ভেতরে উত্তরদিকে একটি ছোট কুঠুরি রয়েছে। দক্ষিণ ও পশ্চিম পাশের প্রতিটি প্রবেশপথ ৯৭ সেন্টিমিটার চওড়া।
মন্দিরের বাইরের দিকে জ্যামিতিক নকশা, ফুল-লতা-পাতা প্রভৃতি সংবলিত পোড়ামাটির অলঙ্কৃত ইট ব্যবহার করা হয়েছে। দক্ষিণ ও পশ্চিম দিকে প্রবলভাবে ধ্বংসপ্রাপ্ত মন্দিরটির অভ্যন্তরের বিভিন্ন স্থানেও ফাটল ধরেছে। মন্দিরটির শীর্ষে গাছপালা ও উদ্ভিদপূর্ণ। বড় বড় গাছের শিকড় প্রবেশ করে মন্দিরের ডোম ও দেওয়ালগুলোকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। ইতোমধ্যে ডোম ও দেয়ালগুলোতে ফাটল ধরেছে। এই ফাটলের ফলে মন্দিরের ডোম ও দক্ষিণ-পশ্চিম অংশ এবং উত্তর-পূর্ব কোণের ইট খসে পড়েছে।
মন্দিরের চারপাশে দেয়াল থেকে খসে পড়া ইটের অংশ ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে। এ ছাড়া মন্দিরের চারপাশে বিশেষ করে দক্ষিণ দিকে প্রচুর ছোট-বড় গাছ রয়েছে, যার ছায়ার কারণে মন্দিরে সূর্যের আলো প্রবেশ করতে পারে না।
প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর বলছে, মন্দির নির্মাণে স্থানীয় শামুকের তৈরি চুন, মাটি পুড়িয়ে তৈরি করা ইট ও শিবসা নদীর বালু ব্যবহার করা হয়েছিল।
প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর থেকে সংস্কার কাজটি তদারকি করছেন খুলনা ও বরিশাল বিভাগের আঞ্চলিক পরিচালক লাভলী ইয়াসমিন। তিনি বলেন, ‘একমাস আগে থেকে আমরা সংস্কার কাজ শুরু করে দিয়েছি। সংস্কারের আগে আমাদের প্রকৌশলীরা এর প্রাক্কলন তৈরি করেছিলেন। সংস্কারের জন্য আগে যেসব আকারের ইট ছিল, সেই আকারের ইট তৈরি করে, মন্দিরের আকৃতি অপরিবর্তনীয় রাখা হচ্ছে।’
তিনি বলেন, ঠিক তৈরির সময়ে এটি যেমন ছিল, এখনো তেমন থাকবে। শুধু দীর্ঘস্থায়ী সংরক্ষণের জন্য এটাকে মজবুত করা হবে।
কাজ শেষ হতে অনেক সময় লাগবে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এটি দুর্গম এলাকা। সেখানে বাঘের আধিক্য রয়েছে। মালামাল পৌঁছাতে ও শ্রমিক দিয়ে কাজ করাতে খুবই জটিলতা হচ্ছে, তবুও আমরা হাল ছাড়ছি না। ইতোমধ্যে আমাদের দুই ধাপের শ্রমিকরা সেখান থেকে পালিয়ে চলে এসেছেন। এখন শ্রমিকদের বুঝিয়ে, বন বিভাগের অস্ত্রধারী নিরাপত্তারক্ষী রেখে সংস্কারের কাজ করা হচ্ছে।’
কালী মন্দিরটিকে ঘিরে ইতোমধ্যে বনবিভাগ নির্মাণ করেছে শেখেরটেক ইকোট্যুরিজম কেন্দ্র। এটি সুন্দরবনের পশ্চিম বনবিভাগের খুলনা রেঞ্জের কালাবগি ফরেস্ট স্টেশনের আদাচাই টহল ফাঁড়ির ১৬নং কম্পার্টমেন্ট এলাকায় শিবসা নদীর পূর্ব পাড়ে অবস্থিত। যা খুলনা শহর থেকে নদীপথে প্রায় ৮৫ কিলোমিটার দূরে।
বনবিভাগ জানায়, ২০২১ সালে সুন্দরবনে নতুন করে চারটি পর্যটন কেন্দ্র তৈরির উদ্যোগ নেয় বনবিভাগ। সেগুলো হলো- সুন্দরবনের খুলনা রেঞ্জের শেখেরটেক ও কালাবগী, শরণখোলা রেঞ্জের আলীবান্ধা ও চাঁদপাই রেঞ্জের আন্ধারমানিক। ২৪ কোটি ৯৫ লাখ টাকা ব্যয়ে তিন বছরমেয়াদি এ প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। তবে নতুন যে চারটি পর্যটনকেন্দ্র নির্মাণ করা হয়ে, তার মধ্যে ঐতিহাসিক নিদর্শন থাকায় সব থেকে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে শেখেরটেক ইকোট্যুরিজম কেন্দ্রটি।
মন্দিরটির সংস্কার একটি ভালো উদ্যোগ বলে জানিয়েছেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফরেস্ট্রি অ্যান্ড উড ডিসিপ্লিনের অধ্যাপক ড. ওয়াসিউল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘মন্দিরটি আরও ২০ বছর আগে আমি পরিদর্শন করেছি। খুবই ভঙ্গুর দশায় রয়েছে। এটির সংরক্ষণ করার জন্য যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি ছিল।’
তবে ওই এলাকার জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি এড়াতে বনবিভাগের আরও সতর্ক হতে হবে জানিয়ে তিনি বলেন, ইতোমধ্যে সেখানে প্রচুর গাছপালা কেটে কংক্রিটের ফুট ট্রেইল নির্মাণ করা হয়েছে। উচিত ছিল পরিকল্পিতভাবে পরিবেশের সঙ্গে ভারসাম্য রেখে পর্যটনকেন্দ্র নির্মাণ করা। বনবিভাগের উচিত হবে, সেখানে সীমিত পরিসরে পর্যটক পাঠানো। কারণ পর্যটনের জন্য বনের পরিবেশ নষ্ট বা বাঘেদের যন্ত্রণা দেওয়া ঠিক হবে না।
পবিত্র মাহে রমজান মাসকে সামনে রেখে নেত্রকোনা জেলা ও পৌর প্রশাসন উদ্যোগে শহরের ফুটপাত দখলমুক্ত করে জনসাধারণের স্বাভাবিক চলাচল নিশ্চিত করতে বিশেষ বাজার মনিটরিং ও উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করেছে। অভিযানে নেতৃত্ব দেন জেলা প্রশাসক সাইফুর রহমান, পুলিশ সুপার তরিকুল ইসলাম এবং পৌর প্রশাসক আরিফুল ইসলাম সরদারসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তারা। আরো উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) নেত্রকোনা স্বজল কুমার সরকার, নেত্রকোনা সদর, উপজেলা নির্বাহী অফিসার আসমা বিনতে রফিক, নেত্রকোনা সদর মডেল থানার ওসি মো. -আল মামুন সরকার। অভিযানটি পৌরসভার সামনের সড়ক থেকে শুরু করে মাছ বাজার, তেরী বাজার ও ছোট বাজারসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পরিচালিত হয়।
সরকার নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য সহনীয় রাখা, ভেজাল ও অতিরিক্ত দামে বিক্রি বন্ধ এবং এ সময় বিভিন্ন দোকানে মূল্যতালিকা টাঙানো আছে কিনা তা যাচাই করা হয় এবং নির্ধারিত মূল্যের বেশি দামে পণ্য বিক্রি না করার জন্য ব্যবসায়ীদের কঠোরভাবে সতর্ক করা হয়। ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ ও বাজারে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোর নজরদারির কথা জানানো হয়। অভিযানের অংশ হিসেবে ফুটপাত দখল করে গড়ে ওঠা অস্থায়ী দোকানপাট অপসারণ করা হয়। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পথচারীদের নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করতে ফুটপাত দখলের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করা হবে। জেলা প্রশাসক সাইফুর রহমান বলেন, রমজান মাসে দ্রব্যমূল্য স্থিতিশীল রাখা ও জনদুর্ভোগ কমাতে নিয়মিত বাজার তদারকি অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পুলিশ সুপার তরিকুল ইসলাম বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং বাজারে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে পুলিশের নজরদারি ও টহল জোরদার করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানান, জনস্বার্থে এ ধরনের বাজার মনিটরিং ও দখলমুক্ত অভিযান ভবিষ্যতেও ধারাবাহিকভাবে পরিচালিত হবে।
কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং খাদ্য প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেছেন, ৩১ দফা বাস্তবায়ন করতে বিভিন্ন কর্মসূচি হাতে নিয়েছে সরকার। সেই অনুযায়ী আমরা সর্বোচ্চ প্রদক্ষেপ নিচ্ছি। বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখতেও মনিটরিং করা হচ্ছে। আশা করি, বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখতে সক্ষম হবো।
শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) টাঙ্গাইলে জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপারসহ বিভিন্ন কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা জানান তিনি।
নিম্ন আয়ের মানুষের প্রোটিনের চাহিদা পূরণ করতে রাজধানী ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ ২৫টি জায়গায় ন্যায্যমূল্যে মাংস, দুধ, ডিম বিক্রি করা হচ্ছে। পর্যায়ক্রমে এটি জেলা পর্যায়েও ছড়িয়ে দেওয়া হবে, বলেন প্রতিমন্ত্রী।
রমজানে নিত্যপণ্যের বাড়তি চাহিদা নিয়ে তিনি বলেন, রমজানে প্রয়োজনীয় সব পণ্যের পর্যাপ্ত মজুদ আছে, কোথাও কোনো ঘাটতি নেই। সুন্দর ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে ব্যবস্থা করা হবে। আমাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব সততা, নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে বাস্তবায়ন করা হবে। এতে সবার সার্বিক সহযোগিতা ও দোয়া কামনা করছি।
এছাড়া মাদক, সন্ত্রাস, কিশোর গ্যাংমুক্ত নিরাপদ টাঙ্গাইল গড়াসহ সব প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে সবার সঙ্গে কথা হয়েছে। প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার কথাও জানান তিনি।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক শরীফা হক, পুলিশ সুপার মুহাম্মদ শামসুল আলম সরকার, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সঞ্জয় কুমার মহন্ত, টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের সভাপতি আতাউর রহমান আজাদ, সাবেক সভাপতি জাফর আহমেদসহ অন্যান্য কর্মকর্তা।
এর আগে প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু নিজ জেলা টাঙ্গাইলে পৌঁছালে তাকে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়।
নকল দূরীকরণের ন্যায় মাদক, সন্ত্রাস ও কিশোর গ্যাংমুক্ত দেশ গড়ে তোলা হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলায় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
এহছানুল হক মিলন বলেন, কচুয়া উপজেলা মাদকমুক্ত, সন্ত্রাসমুক্ত ও ইভটিজিংমুক্ত করা হবে। যেভাবে কচুয়া থেকে নকলমুক্ত এর যাত্রা শুরু হয়েছিল, ঠিক সেভাবে যাত্রা শুরু হবে। দুর্নীতিমুক্ত এর যাত্রাও কচুয়া থেকে শুরু হবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে এসব বাস্তবায়ন করা হবে।
শিক্ষামন্ত্রী এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়ার পর আজ তিনি নিজ এলাকা চাঁদপুরের কচুয়ায় উপস্থিত হন।
এ সময় চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক মো. নাজমুল ইসলাম সরকার, পুলিশ সুপার মো. রবিউল হাসানসহ প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
চট্টগ্রাম পোর্টের কার্যক্রম উন্নত করতে এবং বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বাড়াতে সরকারের মনোযোগ দেওয়া জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, চট্টগ্রাম পোর্টের কার্যক্রম আরো উন্নততর করতে হবে। বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। কর্মসংস্থান বাড়াতে হবে। বিনিয়োগের মাধ্যমেই তো বাণিজ্যিক রাজধানী হবে। আমাদেরকে সেদিকে হাঁটতে হবে।
অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাওয়ার পর প্রথমবারের মতো শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) সকালে নিজ জেলা চট্টগ্রামে আসেন তিনি। চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নেমে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন।
অর্থমন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথমবার চট্টগ্রামে আসার অনুভূতি জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ভালো লাগছে। আমরা গণতান্ত্রিক পরিবেশে ফিরে এসেছি। একটি নির্বাচিত সংসদ, সরকার হয়েছে। বাংলাদেশের মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষা, প্রত্যাশা পূরণে আমাদের সবাইকে মিলে কাজ করতে হবে। চট্টগ্রামের উন্নয়নে কাজ করতে হবে।’
পরিকল্পনা প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে খসরু বলেন, ‘অনেক পরিকল্পনা আছে। এগুলো তো এক কথায় বলা যাবে না। সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে কর্মসংস্থান। আমরা প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ধাপে ধাপে সব কাজ করব।’
বিমানবন্দরে চট্টগ্রাম সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, নগর বিএনপির আহ্বায়ক ও সংসদ সদস্য এরশাদ উল্লাহ, দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও পটিয়া আসনের সংসদ সদস্য এনামুল হক এনাম, চট্টগ্রামের ডিসি জাহিদুল ইসলাম মিঞা, নগর ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাইফুল আলমসহ নগর, উত্তর ও দক্ষিণ জেলা বিএনপি এবং অঙ্গ সংগঠনের নেতারা তাকে স্বাগত জানান।
চট্টগ্রাম সফরে তিনি নগরের আকবরশাহ থানার উত্তর কাট্টলীর নাজির বাড়ির পারিবারিক কবরস্থানে মা-বাবার কবর জিয়ারত এবং কদমতলী মাদারবাড়ী জামে মসজিদে জুমার নামাজ আদায়ের কর্মসূচি রয়েছে।
দুপুরের পর নগরের মেহেদিবাগে নিজ বাসভবনে দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ ও কুশল বিনিময় করবেন তিনি। বিকেল তিনটায় একই স্থানে চট্টগ্রাম বন্দরের কার্যক্রম গতিশীল করার লক্ষ্যে বন্দর সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হবে। পরে রাত ৮টা ২৫ মিনিটে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দেওয়ার কথা রয়েছে তার।
সারাদেশের সড়কে চাঁদাবাজির সুযোগ নেই বলে দৃঢ় অবস্থান জানিয়েছেন পানি সম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি।
শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টার দিকে লক্ষ্মীপুর সার্কিট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে সড়কে চাঁদাবাজির প্রসঙ্গ উঠলে তিনি এ মন্তব্য করেন।
লক্ষ্মীপুরের দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা সমস্যা সমাধানে বৃহত্তর নোয়াখালীর আওতায় একটি নতুন প্রকল্প নেওয়ার পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন মন্ত্রী। এ্যানি চৌধুরী বলেন, লক্ষ্মীপুরের জলাবদ্ধতা দূরীকরণের জন্য ইতিমধ্যে বৃহত্তর নোয়াখালীর মধ্যে একটি নতুন প্রকল্প- ভুলুয়া নদী খনন এবং রহমতখালী খান পুনঃখনন। আমরা যদি এ প্রকল্পটি হাতে নিতে পারি লক্ষ্মীপুরে যে জলাবদ্ধতা-ব্যাধি দীর্ঘদিনের মানুষের যেই কষ্টের জায়গা, সেখান থেকে আমরা মুক্ত হতে সক্ষম হবো।
পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রকল্প গ্রহণে আগ্রহের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রকল্প আমরা গ্রহণ করার ইচ্ছে রয়েছে, আমরা সেই দিকেই নজর দিচ্ছি। মেঘনা নদী ও রহমতখালী খাল পাড়ে ভাঙন রয়েছে, পিজিভিলিটি স্ট্যাডির মাধ্যমে তা সমাধান করার লক্ষ্যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দেশব্যাপী খাল খনন করা হবে। ১৮০ দিনের কর্মসূচি মধ্যে সর্বোচ্চ সেটা করা হবে। খুব শিগগিরই খাল খনন কর্মসূচি শুরু হবে। সেটার মধ্যে লক্ষ্মীপুরও অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
তিন দিনের সফরে বৃহস্পতিবার রাতে নিজ জেলা লক্ষ্মীপুরে পৌঁছান তিনি। সকালে সার্কিট হাউসে জেলা প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। এর আগে তাকে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়।
বরিশাল সদর উপজেলায় গোলপাতার একটি খেতে এক বৃদ্ধের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহত ব্যক্তির নাম মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন চৌধুরী (৬১)। গত বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) রাত প্রায় সোয়া ৯টার দিকে উপজেলার রায়পাশা-কড়াপুর ইউনিয়নের শিবপাশা গ্রামের বাদামতলা এলাকায় বসুরহাট-কাশিপুর বাজার সড়কের পাশ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
জানা যায়, সড়কের উত্তর পাশে একটি গোলপাতার খেতে দেলোয়ার হোসেনের নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেন। পরে এয়ারপোর্ট থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে মরদেহ উদ্ধার করে। নিহত দেলোয়ার হোসেন বরিশাল সদর উপজেলার উত্তর কড়াপুরের বসুরহাট এলাকার মৃত নজির চৌধুরীর ছেলে।
প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, দুর্বৃত্তরা তার মাথার বামপাশে ধারাল অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে হত্যা করেছে। সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুতের পর মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের এয়ারপোর্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান জানান, গত বুধবার সন্ধ্যার পর থেকে রাত সোয়া ৯টার মধ্যে যে কোনো সময় হত্যাকাণ্ডটি ঘটতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ঘটনার পেছনের কারণ উদঘাটনে তদন্ত শুরু হয়েছে।
গাজীপুরে জয়দেবপুর রেলওয়ে স্টেশনে ট্রেনে কাটা পড়ে ঢাকা রেঞ্জের পুলিশের এস আই এর হাত এবং পা বিচ্ছিন্ন হওয়ার ঘটনা ঘটে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জয়দেবপুর রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এস আই মো. কাইয়ুম আলী। বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) সকালের দিকে জয়দেবপুর রেলওয়ে স্টেশনের ৪ নম্বর লাইনে ঢাকাগামী চাপাই এক্সপ্রেস ট্রেনের নিচে পড়ে রেঞ্জের গাজীপুর জেলায় কর্মরত এসআই (স.) হাবিবের ডান হাত এবং পা কাটা পড়ে।
জয়দেবপুর রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. কাইয়ুম আলী গণমাধ্যমকে জানান, এস আই হাবিব ফোনে কথা বলছিলেন। ওই সময় রাজশাহী থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী ‘চাপাই এক্সপ্রেস’ ট্রেনে কাটা পড়ে পুলিশ সদস্য আহত হওয়ার ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর পর স্টেশনে কর্তব্যরত অন্য পুলিশ সদস্যরা তাকে দ্রুত শহীদ তাজ উদ্দিন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। বর্তমানে তিনি সেখানেই চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
মেঘনা নদীর বরিশালের হিজলা উপজেলায় একটি ডুবোচর ঘিরে অবৈধভাবে মাছ নিধনের অভিযোগে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ ঘেরজাল ও খুঁটি জব্দ করেছে মৎস্য অধিদপ্তর ও নৌপুলিশ। এ সময় তিন জেলেকে আটক করা হয়েছে।
জানা গেছে, হিজলা উপজেলার লঞ্চঘাট সংলগ্ন মেঘনার একটি ডুবোচর কৌশলে ঘেরজাল দিয়ে আটকে কিছু অসাধু জেলে দীর্ঘদিন ধরে মাছ ধরছিলেন। এতে বিভিন্ন প্রজাতির মাছের পোনা নির্বিচারে ধ্বংস হচ্ছিল, যা নদীর প্রাকৃতিক মৎস্য সম্পদের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়ায়।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বরিশাল মৎস্য অধিদপ্তরের সিনিয়র সহকারী পরিচালক সমীর কুমার বসাকের নেতৃত্বে মৎস্য অধিদপ্তর ও হিজলা নৌপুলিশ যৌথ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে প্রায় দুই হাজার খুঁটি, বিপুল পরিমাণ অবৈধ ঘেরজাল এবং দুটি ট্রলার জব্দ করা হয়।
রোজার মাস মানেই সিরাজগঞ্জের কালিয়া গ্রামে মুড়ি ভাজার কারিগরদের জন্য ব্যস্ততার চরম সময়। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত তাঁদের ঘরে-ঘরে, বাড়ি-ঘরে ভেজা মুড়ির খোঁজ চলে। এই সময়, ছোট্ট গ্রামে তৈরি মুড়ি শহরের বাজার থেকে শুরু করে পার্শ্ববর্তী গ্রামে মানুষের মুখে পৌঁছে যায়।
অনিকা সাহা, একসময় ঘরে বসেই পরিবারের খাবার-দাবার যোগাড় করতেন, আজ কালিয়া গ্রামের মুড়ি ভাজার কারিগরদের অন্যতম। তিনি বলেন, সারা বছরই আমাদের কাজ থাকে, তবে রোজার সময় ব্যস্ততা দ্বিগুণ। মানুষ এসেই তাদের চাল নিয়ে মুড়ি ভেজে নেয়। কেউ কেউ আগেভাগে জানিয়ে যায় যাতে আমরা তাদের জন্য মুড়ি প্রস্তুত রাখি।
শান্তা রানী সাহা আরও জানান, এই ব্যবসার মাধ্যমে আমাদের পরিবারে সচ্ছলতা এসেছে। ছেলে-মেয়েদের লেখাপড়া, সংসারের দৈনন্দিন খরচ সবই মেটানো সম্ভব হচ্ছে। এক যুগ ধরে আমরা এই ব্যবসা করি। পুরনো আর্থিক সমস্যার অনেকটাই এভাবেই দূর হয়েছে।
মুড়ি ভাজার এই ছোট্ট কারখানায় প্রতিদিন নানা মানুষের দেখা মেলে। আবুল হোসেন জানিয়েছেন, আমি প্রতিদিন অন্তত ২০ কেজি চাল মুড়ি ভাজার জন্য নিয়ে আসি। নিজের জন্য এবং আত্মীয়স্বজনের জন্য। প্রতি কেজি চালের জন্য মুজুরি হিসেবে ৩০ টাকা দিতে হয়।
সিরাজগঞ্জ শহরের রায়পুর মহল্লার আব্দুস ছামাদ বলেন, বাজারের মুড়িতে নানা কেমিক্যাল মিশানো থাকে, যা স্বাস্থ্য ঝুঁকি বাড়ায়। কালিয়া গ্রামের কারিগররা আমাদের সামনে স্বাস্থ্যসম্মতভাবে মুড়ি ভেজে দিচ্ছে। তাই এখানে সবাই ভরসা করে আসে।
মুড়ি ভাজার এই প্রথা শুধু আর্থিক জীবিকা নয়, এটি পরিবার-পরিজনের সঙ্গে কারিগরদের সম্পর্ককেও দৃঢ় করে। সকাল থেকে রাত, রোজা-রোজার মধ্যে ব্যস্ততায় তারা কাজ করে চলেছেন, আর তার বিনিময়ে তাদের ঘরে এসেছে অর্থ, পরিবারের আনন্দ এবং গ্রামের সুস্বাদু মুড়ির গন্ধ।
কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার কালির বাজারে সিএনজি অটোরিকশা স্ট্যান্ডে চাঁদাবাজি করতে বাধা দেওয়ায় যুবদল নেতাকে ছুরিকাঘাতের অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া এই ঘটনায় আরেকজন আহত হয়েছেন। এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছেন বলে বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) নিশ্চিত করেছেন কুমিল্লা কোতয়ালী মডেল থানার ওসি তৌহিদুল আনোয়ার।
আহত মো. ওমর ফারুক ভূঁইয়া কুমিল্লার ১ নং দক্ষিণ কালিবাজার রাইচো ভূঁইয়া বাড়ির আব্দুল মালেক ভূঁইয়া ছেলে ও তার চাচা শামসুল হক ভূঁইয়ার ছেলে তাইফুল হক ।
লিখিত অভিযোগের সূত্র জানায়, কালির বাজারে মাসুম নামে এক ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে চাঁদাবাজি করে আসছেন। তার এ কাজে বাধা দেন যুবদল নেতা উমর ফারুক ভুঁইয়া। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে মাসুমের নেতৃত্বে একটি দল গত বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় উমর ফারুক ভূঁইয়ার বাড়ির সামনে এসে উমর ফারুক ও তার চাচাতো ভাই তাইফুল হকের ওপর হামলা চালান।
অভিযুক্ত হামলাকারীরা উমর ফারুকের কাঁধ, পেট ও পিঠে ছুরিকাঘাত করেন। তাকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হসপিটালে নিয়ে যাওয়া হয়।
আহত তাইফুল হক বলেন, আজকে মাগরিবের পর আমার চাচাতো ভাই ও আমি আমাদের বাড়ির সামনে অবস্থান করেছিলাম। তখন ছাত্রলীগ নেতা মাসুমের নেতৃত্বে কয়েকটি বাইকে এসে একদল সন্ত্রাসী আমার বড় ভাইকে চাপাতি দিয়ে কোপাতে থাকে। আমার ভাইয়ের বাম কাঁধে, পিঠে কুপিয়ে যখম করে সন্ত্রাসীরা। আমি বাধা দিতে গেলে আমার ওপরও তারা হামলা চালায়।
যুবদল নেতা উমর ফারুক ভুঁইয়া বলেন, ছাত্রলীগ নেতা মাসুম কালির বাজারের সিএনজি অটোরিকশা স্ট্যান্ডে চাঁদাবাজি করলে আমি বাধা দেই। এক পর্যায়ে তারা ক্ষিপ্ত হয়েই আমার বাড়ির সামনে গিয়ে তাদের একটি দল চাপাতি, সুইসগিয়ার দিয়ে আমার ওপর হামলা চালায়। আমার ওপর হামলা দেখে আমাকে বাঁচাতে আসা আমার চাচাতো ভাই তাইফুল হকের ওপরও তারা হামলা চালায়।
হামলাকারীরা হলেন বল্লবপুরের আলী আজগরের ছেলে মাসুদ আল হাসান মাসুম, হাত কাটা বাইল্লা, রেন্ডি মামুন, বাইল্লার ছেলে অপু, ইউছুফ, আবুল কালাম, আনিস, মিজান। হামলাকারীরা আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের সাথে জড়িত।
অভিযুক্ত মাসুমের সাথে ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
কুমিল্লা কোতয়ালী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি তৌহিদুল আনোয়ার বলেন, এ বিষয়ে মামলা হয়েছে। দুই গ্রুপের মধ্যে বিরোধ হয়েছে বলে জেনেছি। তদন্তের পর বিস্তারিত জানা যাবে।
পবিত্র মাহে রামাদানের আগমনে সিয়াম সাধনার আনন্দ এখন মেহেরপুর জেলা কারাগারে। রমজানের আগমনে মেহেরপুর জেলা কারাগার কয়েদিদের ধর্মীয় অধিকার নিশ্চিত করতে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে কারাপক্ষ।
কারাগারের তথ্য অনুযায়ী, রমজান মাসের প্রথম দিনে ২৮২ জন মুসলিম কয়েদি রোজা রাখবেন।
গত বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) রাত ১১টার দিকে মেহেরপুর জেলা কারাগারের জেল সুপার আমান উল্লাহ এইসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
জেলাকারা সূত্রে জানা গেছে, মেহেরপুর জেলা কারাগারের কয়েদি ধারণক্ষমতা ৩৫০ জন, যেখানে বর্তমানে ৩০৬ জন কয়েদি রয়েছেন। এদের মধ্যে ২৯৮ জন পুরুষ এবং ৮ জন নারী। মোট কয়েদির মধ্যে ২৯২ জন মুসলিম, ১৪ জন অমুসলিম।
এছাড়াও ৩ জন বিদেশি বন্দিও রয়েছে। স্বাস্থ্যগত কারণে ১০ জন কয়েদি এ বছর রোজা রাখবেন না।
কর্তব্যরত মেহেরপুর জেল সুপার আমান উল্লাহ বলেন, রোজাদার কয়েদিদের জন্য সাহরি ও ইফতারের বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। সেহরির জন্য ভাত, ডাল, সবজি ও ডিম এবং ইফতারে ছোলা, মুড়ি, পেঁয়াজু, খেজুর ও শরবত পরিবেশন করা হবে।
রোজাদার কয়েদিদের জন্য আলাদা রান্নার ব্যবস্থা রয়েছে। তারা আগের দিন রাতে রোজা রাখতে আগ্রহিদের লিস্টে নাম দেন এবং ভোররাতে সেলের দরজা খুলে সেহরি পরিবেশন করা হয়। তারাবি নামাজেরও ব্যবস্থা কারাগারের ভেতরেই করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, বর্তমানে কারাগারে বরাদ্দকৃত জনবল ৮০ জনের বিপরীতে কাজ করছেন মাত্র ৬৩ জন। জনবল সংকট থাকা সত্ত্বেও বন্দিদের ধর্মীয় অধিকার নিশ্চিত করাই আমাদের অগ্রাধিকার।
নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনায় কোনো ঝুঁকি নেই এবং রমজান মাসে কারাগারের কার্যক্রম নিয়মমাফিক পরিচালিত হবে।
বনদস্যু আতঙ্কে উপকূলজুড়ে মাছ ধরা কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে। দুবলার চরে অবস্থান নেওয়া প্রায় ১০ হাজার জেলে নিরাপত্তাহীনতার কারণে সাগরে নামতে সাহস পাচ্ছেন না। জেলেদের দাবি, গত সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) রাতে ২০ জন জেলে অপহরণের পর থেকে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠেছে।
দুবলা ফিশারমেন গ্রুপের সভাপতি কামাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, নিরাপত্তা না থাকায় জেলেরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে আর সাগরে যেতে চাইছেন না। মৌসুম শেষের মুখে আয় না হওয়ায় পরিবার নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন তারা।
স্থানীয় জেলে নেতা মোহতাসিম ফরাজী বলেন, দস্যু চক্রগুলো নদী ও সাগরে সক্রিয় হয়ে জেলেদের ধরে মুক্তিপণ আদায় করছে। টাকা দিতে না পারলে মারধরের ঘটনাও ঘটছে। গত সপ্তাহেই গুরুতর আহত চার জেলে চিকিৎসা নিয়েছেন।
রেঞ্জ কর্মকর্তা শরীফুল ইসলাম জানান, দস্যু তৎপরতা বৃদ্ধির বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে এবং বনরক্ষীরা জেলেদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে কাজ করছে। বন বিভাগের কর্মকর্তারা বলেন, জেলেরা পাস নিতে না আসায় রাজস্ব আদায়েও প্রভাব পড়ছে। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, জেলেরা না যাওয়ায় বেচা-কেনা প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে।
কৃষকের প্রণোদনার অর্থ আত্মসাৎ এবং ভুয়া বিল-ভাউচার সমন্বয়ের মাধ্যমে গত ১০ বছরে প্রায় এক কোটি টাকার সম্পত্তি অর্জনের অভিযোগ উঠেছে কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার উপসহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা আবুল হাসেমের বিরুদ্ধে।
অভিযোগ অনুযায়ী, চাকরিজীবনের এই সময়ে তিনি কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার চরতালজাঙ্গা ও বগাদিয়া এলাকায় একাধিক দাগে জমি কিনেছেন। এসব জমির প্রকৃত ক্রয়মূল্যের তুলনায় দলিলে উল্লেখ করা হয়েছে অনেক কম দাম।
জানা গেছে, ২০২৫ সালের ৩ সেপ্টেম্বর সদর উপজেলার চরতালজাঙ্গা এলাকায় ১২০৫ দাগে ২০ শতাংশ জমি কেনেন আবুল হাসেম। স্থানীয় বাসিন্দা আবদুল জলিলের কাছ থেকে জমিটি ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকায় কেনা হলেও দলিলে মূল্য দেখানো হয় ৩ লাখ ৯৮ হাজার টাকা (দলিল নম্বর ২১১৪)।
এর আগে, ২০২৪ সালের ১৩ আগস্ট একই এলাকায় ১০৩০ দাগে ১২ শতাংশ জমি মজিবুর রহমান টিটুর কাছ থেকে কেনা হয় ২৬ লাখ টাকায়। তবে দলিলে উল্লেখ করা হয় মাত্র ৫ লাখ টাকা (দলিল নম্বর ১০৯১)। ২৬ লাখ টাকায় জমি বিক্রির বিষয়টি স্বীকার করেছেন মজিবুর রহমান টিটু।
২০২৪ সালে চরতালজাঙ্গা এলাকায় সাজেদুল ইসলাম সাজুর কাছ থেকে ১০ শতাংশ জমি ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকায় কেনেন আবুল হাসেম। জমির খারিজ জটিলতার কারণে এটিরও দলিল হয়নি।
একই বছরের ১৮ ডিসেম্বর কিশোরগঞ্জ সদরের বগাদিয়া এলাকায় মাছুম আকন্দ, রাদিফা আক্তার ও খন্দকার তাহমিনা ইজদানীর কাছ থেকে সিএস ৩২৩৬ ও ৩২৩৮ দাগে চার শতাংশ জমি কেনা হয় ১৮ লাখ ৪১ হাজার টাকায় (দলিল নম্বর ৮৪৫৪)।
এ ছাড়া ২০২৩ সালে একই এলাকায় তার ভাই আবুল কাশেমের কাছ থেকে ১২০৬ দাগে ৩০ শতাংশ জমি ৯ লাখ টাকায় কেনেন। ২০২৪ সালে তার কাছ থেকেই ১২৮৫ দাগে ২৫ শতাংশ জমি ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকায় এবং ১২০৩ দাগে ২৫ শতাংশ জমি ৭ লাখ টাকায় কেনা হয়। তবে বাটোয়ারা সোলেনামা সংক্রান্ত জটিলতার কারণে এসব জমির দলিল সম্পন্ন হয়নি বলে জানা গেছে।
এর আগে ২০১৭ সালে সদর উপজেলার মহিনন্দ ইউনিয়নের ভাটপাড়া গ্রামের ফাহমিদা বেগমের (আবুল হাসেমের স্ত্রীর বড় বোন) কাছ থেকে একই দাগে তিন শতাংশ জমি ১৩ লাখ ৫০ হাজার টাকায় কেনা হয়। তবে খারিজ সংক্রান্ত জটিলতায় সেটির রেজিস্ট্রি হয়নি।
এসব জমির দলিলমূল্য অনুযায়ী মোট মূল্য দাঁড়ায় ৬৯ লাখ ৭৩ হাজার টাকা। তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, জমিগুলোর প্রকৃত বাজারমূল্য প্রায় ৯৫ লাখ ৪১ হাজার টাকা।
২০১৫ সালের ১১ নভেম্বর চরতালজাঙ্গা এলাকায় ১২০৪ দাগে আজহারুল ইসলাম লিটনের কাছ থেকে ১৬ শতাংশ জমি কেনেন তিনি। জমিটির ক্রয়মূল্য ছিল ৩ লাখ টাকা, আর দলিলে দেখানো হয় ১ লাখ ৮৪ হাজার টাকা (দলিল নম্বর ২৯৬২)।
কৃষি অফিসের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, গত ১০ বছরে আবুল হাসেমের মোট বেতন দাঁড়ায় ৪১ লাখ ৩৯ হাজার ২৮০ টাকা। বাসাভাড়া বাবদ পেয়েছেন ১৬ লাখ ৫৫ হাজার ৭১২ টাকা। এ ছাড়া চিকিৎসাভাতা হিসেবে পেয়েছেন ১ লাখ ৮৪ হাজার টাকা।
আবুল হাসেম ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট নেত্রকোনা জেলার মদন উপজেলায় ব্লক সুপারভাইজার হিসেবে চাকরিতে যোগ দেন। পরে ২০০৫ সালে বাজিতপুর উপজেলায় উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত হন। ২০০৬ সালে বদলি হয়ে নিজ উপজেলা তাড়াইলে যোগ দেন এবং সেখানে টানা ৯ বছর দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৫ সালে ইটনা উপজেলায় সমমান পদে উপসহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা হিসেবে যোগ দেন। পরে ২০১৭ সালে কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলায় বদলি হন।
স্থানীয় একাধিক সূত্রের দাবি, কিশোরগঞ্জ সদরে যোগদানের পর থেকেই তিনি বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েন।
অভিযোগের বিষয়ে আবুল হাসেমের বক্তব্য জানতে চাইলে তার দাবি তিনি স্থানীয়ভাবে কৃষি জমি চাষাবাদ করে লাভবান হয়ে সেই টাকায় সম্পত্তি কিনেছেন। তবে তার দাবির সাথে স্থানীয়দের বক্তব্যের মিল পাওয়া যায়নি। নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক আবুল হাসেমের একাধিক প্রতিবেশী জানিয়েছেন তিনি কোন প্রকার কৃষি জমি চাষাবাদ করেননি। এমনকি গ্রামের বাড়িতেও খুব যাতায়াত করেননি।
উল্লেখ্য যে, ২০২৪ সালের ৮ নভেম্বর বিভিন্ন প্রকল্পের প্রদর্শনী নামমাত্র বাস্তবায়ন, কোথাও আবার বাস্তবায়ন না করেই অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠে তৎকালীন কৃষি কর্মকর্তা ফাহিমা আক্তার ফাহিমের বিরুদ্ধে। তখন পুরো উপজেলায় বেশির ভাগ প্রদর্শনীতে মোট বরাদ্দের ৩০ শতাংশও পাননি কৃষকেরা। এসব অভিযোগে সেই কৃষি কর্মকর্তাকে তাৎক্ষণিক বদলি করা হয়। কৃষি অফিসের একাধিকসূত্র জানায়, এসব অনিয়ম দুর্নীতির ‘মাস্টারসাইন্ড’ ছিলেন উপসহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা আবুল হাসেম। তারপরেও আবুল হাসেম এখনও রয়েছেন বহাল তবিয়তে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কৃষি অফিসের ওই কর্মকর্তা জানান, অফিসে উচ্চমান সহকারী থাকা সত্ত্বেও বেশির ভাগ আর্থিক ফাইল করেন আবুল হাসেম, যেটার কোনো বিধান নেই। এছাড়াও একই স্টেশনে তিন বছরের অধিক সময় চাকরির বিধান না থাকলেও আবুল হাসেম রয়েছেন ৮ বছরেরও বেশি সময় ধরে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে অনিয়ম ও আর্থিক ফাইল করার বিষয়টি অস্বীকার করে দুর্নীতির অভিযোগগুলোকে মিথ্যা হিসেবে আখ্যা দেন আবুল হাসেম।
কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জয়নুল আলম তালুকদার জানান, তিনি সম্প্রতি এখানে যোগদান করেছেন। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে তার কাছে এ পর্যন্ত কোনো লিখিত বা মৌখিক অভিযোগ আসেনি। ভবিষ্যতে এ ধরনের কোনো অভিযোগ পাওয়া গেলে বিষয়টি যথাযথভাবে যাচাই করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হবে।