সুন্দরবনের অভ্যন্তরে শেখেরটেকে মোগল আমলে নির্মিত হয়েছিল একটি দুর্গ। সেই দুর্গের ধ্বংসাবশেষের মধ্যে এখনো মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে রয়েছে কালী মন্দির। অনুমানিক ৪০০ বছরের পুরোনো মন্দিরটি প্রথমবারের মতো সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
অধিকাংশ ইতিহাসবিদ শেখেরটেক এলাকার দুর্গটিকে মোগল আমলে রাজা প্রতাপাদিত্যের নির্মিত কোনো দুর্গ বলে মনে করেন। সেই দুর্গের মন্দিরটি এখন সরকারের বনবিভাগ ও প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর যৌথভাবে সংস্কার করছে। এতে অর্থায়ন করছে বনবিভাগ। আর কারিগরি সহায়তা করছে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর।
খুলনাঞ্চলের বন সংরক্ষক মিহির কুমার দো বলেন, ‘মন্দিরটির ওপরে গাছপালা জন্ম নিয়েছে। ওই ভারে এটি যেকোনো সময় ভেঙে যেতে পারে। তা ছাড়া দেয়ালেও কোথাও কোথাও ইট খুলে পড়ছে। তাই টেকসইভাবে এটি সংস্কার করা হচ্ছে। সুন্দরবন সুরক্ষা প্রকল্পের আওতায় এখানে ৭৫ লাখ টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। তবে যেহেতু এটি ঐতিহাসিক নিদর্শন, তাই প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের কাছ থেকে কারিগরি সহায়তা নিয়ে সংস্কার করা হচ্ছে।’
প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মন্দিরটি ধ্বংসপ্রাপ্ত অবস্থায় কোনো রকম টিকে আছে। এর স্থাপত্য কাঠামো ও শিল্পশৈলী দেখে অনুমান করা হয়, ৪০০ বছর আগে এটি নির্মিত হয়েছে। এর দক্ষিণ ও পশ্চিম দিকে রয়েছে দুটি প্রবেশদ্বার। এতে মোট চার ধরনের ইট ব্যবহার করা হয়েছে।
মন্দিরের বাইরের অংশ ৬৫৫ সেন্টিমিটার বর্গাকার। আর ভেতরের অংশ ৩২৫ সেন্টিমিটার বর্গাকার। দেয়ালের পুরুত্ব ১৬৫ সেন্টিমিটার। ভেতরে উত্তরদিকে একটি ছোট কুঠুরি রয়েছে। দক্ষিণ ও পশ্চিম পাশের প্রতিটি প্রবেশপথ ৯৭ সেন্টিমিটার চওড়া।
মন্দিরের বাইরের দিকে জ্যামিতিক নকশা, ফুল-লতা-পাতা প্রভৃতি সংবলিত পোড়ামাটির অলঙ্কৃত ইট ব্যবহার করা হয়েছে। দক্ষিণ ও পশ্চিম দিকে প্রবলভাবে ধ্বংসপ্রাপ্ত মন্দিরটির অভ্যন্তরের বিভিন্ন স্থানেও ফাটল ধরেছে। মন্দিরটির শীর্ষে গাছপালা ও উদ্ভিদপূর্ণ। বড় বড় গাছের শিকড় প্রবেশ করে মন্দিরের ডোম ও দেওয়ালগুলোকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। ইতোমধ্যে ডোম ও দেয়ালগুলোতে ফাটল ধরেছে। এই ফাটলের ফলে মন্দিরের ডোম ও দক্ষিণ-পশ্চিম অংশ এবং উত্তর-পূর্ব কোণের ইট খসে পড়েছে।
মন্দিরের চারপাশে দেয়াল থেকে খসে পড়া ইটের অংশ ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে। এ ছাড়া মন্দিরের চারপাশে বিশেষ করে দক্ষিণ দিকে প্রচুর ছোট-বড় গাছ রয়েছে, যার ছায়ার কারণে মন্দিরে সূর্যের আলো প্রবেশ করতে পারে না।
প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর বলছে, মন্দির নির্মাণে স্থানীয় শামুকের তৈরি চুন, মাটি পুড়িয়ে তৈরি করা ইট ও শিবসা নদীর বালু ব্যবহার করা হয়েছিল।
প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর থেকে সংস্কার কাজটি তদারকি করছেন খুলনা ও বরিশাল বিভাগের আঞ্চলিক পরিচালক লাভলী ইয়াসমিন। তিনি বলেন, ‘একমাস আগে থেকে আমরা সংস্কার কাজ শুরু করে দিয়েছি। সংস্কারের আগে আমাদের প্রকৌশলীরা এর প্রাক্কলন তৈরি করেছিলেন। সংস্কারের জন্য আগে যেসব আকারের ইট ছিল, সেই আকারের ইট তৈরি করে, মন্দিরের আকৃতি অপরিবর্তনীয় রাখা হচ্ছে।’
তিনি বলেন, ঠিক তৈরির সময়ে এটি যেমন ছিল, এখনো তেমন থাকবে। শুধু দীর্ঘস্থায়ী সংরক্ষণের জন্য এটাকে মজবুত করা হবে।
কাজ শেষ হতে অনেক সময় লাগবে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এটি দুর্গম এলাকা। সেখানে বাঘের আধিক্য রয়েছে। মালামাল পৌঁছাতে ও শ্রমিক দিয়ে কাজ করাতে খুবই জটিলতা হচ্ছে, তবুও আমরা হাল ছাড়ছি না। ইতোমধ্যে আমাদের দুই ধাপের শ্রমিকরা সেখান থেকে পালিয়ে চলে এসেছেন। এখন শ্রমিকদের বুঝিয়ে, বন বিভাগের অস্ত্রধারী নিরাপত্তারক্ষী রেখে সংস্কারের কাজ করা হচ্ছে।’
কালী মন্দিরটিকে ঘিরে ইতোমধ্যে বনবিভাগ নির্মাণ করেছে শেখেরটেক ইকোট্যুরিজম কেন্দ্র। এটি সুন্দরবনের পশ্চিম বনবিভাগের খুলনা রেঞ্জের কালাবগি ফরেস্ট স্টেশনের আদাচাই টহল ফাঁড়ির ১৬নং কম্পার্টমেন্ট এলাকায় শিবসা নদীর পূর্ব পাড়ে অবস্থিত। যা খুলনা শহর থেকে নদীপথে প্রায় ৮৫ কিলোমিটার দূরে।
বনবিভাগ জানায়, ২০২১ সালে সুন্দরবনে নতুন করে চারটি পর্যটন কেন্দ্র তৈরির উদ্যোগ নেয় বনবিভাগ। সেগুলো হলো- সুন্দরবনের খুলনা রেঞ্জের শেখেরটেক ও কালাবগী, শরণখোলা রেঞ্জের আলীবান্ধা ও চাঁদপাই রেঞ্জের আন্ধারমানিক। ২৪ কোটি ৯৫ লাখ টাকা ব্যয়ে তিন বছরমেয়াদি এ প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। তবে নতুন যে চারটি পর্যটনকেন্দ্র নির্মাণ করা হয়ে, তার মধ্যে ঐতিহাসিক নিদর্শন থাকায় সব থেকে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে শেখেরটেক ইকোট্যুরিজম কেন্দ্রটি।
মন্দিরটির সংস্কার একটি ভালো উদ্যোগ বলে জানিয়েছেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফরেস্ট্রি অ্যান্ড উড ডিসিপ্লিনের অধ্যাপক ড. ওয়াসিউল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘মন্দিরটি আরও ২০ বছর আগে আমি পরিদর্শন করেছি। খুবই ভঙ্গুর দশায় রয়েছে। এটির সংরক্ষণ করার জন্য যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি ছিল।’
তবে ওই এলাকার জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি এড়াতে বনবিভাগের আরও সতর্ক হতে হবে জানিয়ে তিনি বলেন, ইতোমধ্যে সেখানে প্রচুর গাছপালা কেটে কংক্রিটের ফুট ট্রেইল নির্মাণ করা হয়েছে। উচিত ছিল পরিকল্পিতভাবে পরিবেশের সঙ্গে ভারসাম্য রেখে পর্যটনকেন্দ্র নির্মাণ করা। বনবিভাগের উচিত হবে, সেখানে সীমিত পরিসরে পর্যটক পাঠানো। কারণ পর্যটনের জন্য বনের পরিবেশ নষ্ট বা বাঘেদের যন্ত্রণা দেওয়া ঠিক হবে না।
নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে অবস্থিত একটি বিদ্যুৎকেন্দ্রের সাবস্টেশনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার (১ মে) বিকেলে ৩৫০ মেগাওয়াট ইলেকট্রিসিটি জেনারেশন কোম্পানি অব বাংলাদেশ (ইজিসিবি) পাওয়ার প্ল্যান্টের ২৩০/১৩২ কেভি ট্রান্সফরমারে এই আগুন লাগে।
খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আধা ঘণ্টার প্রচেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়। স্বস্তির বিষয় হলো, এই দুর্ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে গ্রিড উপকেন্দ্রের ভেতর হঠাৎ বিকট শব্দ শোনা যায় এবং এরপরই ট্রান্সফরমার থেকে ঘন কালো ধোঁয়া বের হতে শুরু করে। মুহূর্তের মধ্যে আগুন ছড়িয়ে পড়লে কেন্দ্রে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তারা দ্রুত ফায়ার সার্ভিসকে খবর দিলে আদমজী ইপিজেড ফায়ার স্টেশনের সদস্যরা এসে কাজ শুরু করেন এবং বড় ধরনের বিপদ ঘটার আগেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
অগ্নিকাণ্ডের পর পর বিদ্যুৎকেন্দ্র ও গ্রিড উপকেন্দ্র এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে কারিগরি ত্রুটি বা অতিরিক্ত তাপের কারণে ট্রান্সফরমারে আগুন লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে আগুনের সঠিক কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ জানতে তদন্ত চলছে।
নারায়ণগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের উপ-সহকারী পরিচালক আব্দুল্লাহ আল আরিফিন জানান, তদন্ত শেষেই এই বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
ময়মনসিংহ নগরীতে চলন্ত নাগরদোলা ভেঙে পড়ে ৫ শিশু-কিশোর আহত হয়েছে। শুক্রবার (১ মে) রাত সাড়ে ৭ টার দিকে নগরীর জয়নুল আবেদীন উদ্যানে এই ঘটনা ঘটে।
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের উপ-পরিদর্শক (এসআই) জবাইদুল ইসলাম ৫ জন হাসপাতালে ভর্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
স্থানীয় সুত্র জানায়, বেশ কয়েকজনকে নিয়ে নাগরদোল ঘুরছিলো। হঠাৎ নাগরদোলাটি ভেঙ্গে নিচে পড়ে যায়। এসব বেশ কয়েকজন গুরুতর আহত হলে তাদেরকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। এই পার্কে অবৈধ ভাবে এসব নাগরদোলা বসে ব্যবসা করে আসছিলো। কর্তৃপক্ষকে এগুলো অপসারন করার বারবার তাগিদ দিলেও দৈনিক চাঁদার কারনে সেগুলো অপসারন করেনি। যার কারনেই এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। এসময় পার্ক জুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
কোতোয়ালী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শিবিরুল ইসলাম বলেন, নগরীর জয়নুল উদ্যানে নাগরদোলা ভেঙে পড়ে ৫ শিশু-কিশোর আহত হয়েছে। আহতদের উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। আহতদের একজনোর অবস্থা গুরুতর। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন আছে।
পুলিশ ক্যাম্পের উপ-পরিদর্শক (এসআই) জবাইদুল ইসলাম বলেন, আহতরা সবার বয়স ৮ থেকে ১৫ বছরের মাঝে হবে। তবে, আহদের পরিচয় জানাতে পারেননি তিনি।
নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে চাচাতো ভাই আবু বকর সিদ্দিককে (৩৫) বসত বাড়ির সিঁড়ি থেকে তুলে নিয়ে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগে মামলা হয়েছে চাচাতো ভাই ইয়াসিন আরাফাত সুজন ও তার শ্যালক রাহাতের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে রাহাতকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব।
নিহত সিদ্দিক উপজেলার ছয়ানী ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের খোয়াজপুর গ্রামের চাপরাশি বাড়ির মৃত হাজি আমিন উল্লাহর ছেলে।
শুক্রবার (১ মে) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন র্যাব-১১ সিপিসি-৩ এর কোম্পানি কমান্ডার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মুহিত কবীর।
এর আগে, গত বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) দুপুর আড়াইটার দিকে রংপুর মহানগরীর হাজিরহাট থানার ১ নম্বর ওয়ার্ডের গংগাহারী এলাকা থেকে মামলার দ্বিতীয় আসামি মো. রাহাত (২২)-কে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি একই এলাকার চিত্তনী বাড়ির মো. সোলোমানের ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সিদ্দিক ঢাকার গাজীপুর চৌরাস্তা এলাকায় বড় ভাইয়ের খাবারের দোকানে কাজ করতেন। কিছুদিন আগে তিনি বাড়িতে আসেন। গত ২১ এপ্রিল দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে নিজ বসত ঘরের সিঁড়িতে বসে মোবাইল দেখছিল রাহাত। ওই সময় পূর্ব শক্রতা ও ওমান প্রবাসী সুজনের স্ত্রী নিয়ে বিরোধের জেরে সুজন ও তার শ্যালক রাহাতসহ ৪-৫ জনের একটি দল সিঁড়ি থেকে তাকে তুলে নিয়ে যায়। পরে বাড়ির পাশের একটি পুকুরপাড়ে নিয়ে গিয়ে মুখে গামছা পেঁচিয়ে লোহার রড দিয়ে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে গুরুতর জখম করা হয়। পরে তাকে মৃত ভেবে বাড়ির সামনে ফেলে রেখে যায় দুর্বৃত্তরা।
স্থানীয়রা উদ্ধার করে প্রথমে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২৫ এপ্রিল দুপুরে তার মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় নিহতের বড় ভাই নিজাম উদ্দিন বাদী হয়ে ২৭ এপ্রিল সুজন ও রাহাতের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত ৩-৪ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। মামলার প্রধান আসামি হানিফ চৌধুরীর ছেলে ইয়াসিন আরাফাত সুজন (৩৫) সিদ্দিকের মৃত্যুর পরপরই বিদেশে পালিয়ে গেছেন বলে জানা গেছে।
র্যাব-১১ সিপিসি-৩ কোম্পানির কমান্ডার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মুহিত কবীর আরও বলেন, আসামির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য রংপুর মহানগরীরর কোতয়ালি থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
মহান শ্রমিক দিবসে কুমিল্লার শাসন–বুড়িচং–মীরপুর সড়কে সিএনজি চালকদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। অতিরিক্ত ‘জিবি’ (টোকেন ফি) আদায়ের প্রতিবাদে শুক্রবার (১ মে) সকালে ভরাসার বাজার, নানুয়ার বাজার ও বুড়িচং উপজেলা সদরসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ মিছিল করেন শত শত চালক।
চালকদের অভিযোগ, শাসন গাছা সিএনজি স্টেশনে একটি সিন্ডিকেটের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হচ্ছে। সকালে হলুদ রঙের টোকেনের নামে ১৫ টাকার বিপরীতে ৩০ টাকা এবং দুপুরের পর লাল টোকেনের ক্ষেত্রেও একইভাবে অতিরিক্ত অর্থ নেওয়া হয়। রাত ৮টার পর আরও বেশি হারে ‘জিবি’ আদায় করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।
এ সময় আন্দোলনরত চালকরা কুমিল্লা-৫ আসনের সংসদ সদস্য হাজী মো. জসিম উদ্দিন জসিমের গাড়ি ভরাসার বাজার এলাকায় থামিয়ে তাদের দাবি-দাওয়ার বিষয় তুলে ধরেন। তারা জানান, চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাদের শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়।
বুড়িচং উপজেলা শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক মো. আবুল কাসেম বলেন, “চালকরা বিষয়টি আমাকে জানালে আমি ঘটনাস্থলে যাই। তাদের দাবিগুলো যৌক্তিক, এবং দীর্ঘদিন ধরে তারা এই অনিয়মের শিকার হচ্ছেন।”
পরবর্তীতে সংসদ সদস্য বিষয়টি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীর নজরে আনেন। দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দেওয়া হলে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে চালকদের সঙ্গে আলোচনা করেন। তারা ‘জিবি’ আগের হারে নির্ধারণ, অতিরিক্ত আদায় বন্ধ এবং ভাড়ার অনিয়ম দূর করার আশ্বাস দিলে চালকরা তাদের আন্দোলন স্থগিত করেন।
এ ঘটনায় এলাকায় সাময়িক যান চলাচল ব্যাহত হলেও পরিস্থিতি বর্তমানে স্বাভাবিক রয়েছে। এবিষয়ে বিএনপির নেতৃবৃন্দ বলেন জিবি যারা তুলে তারা বিএনপির কেউ না,জেলা পরিষদের নাম ভাঙ্গিয়ে এসব অপকর্ম করে যাচ্ছে, এগুলো করতে দেওয়া হবে না।
মাশরুম চাষ সম্প্রসারণের মাধ্যমে পুষ্টি উন্নয়ন ও দারিদ্র হ্রাসকরণ প্রকল্পের আওতায় অঞ্চল পর্যায়ে খুলনা বিভাগে প্রথমবারের মতো আয়োজিত তিন দিনব্যাপী মাশরুম মেলার সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান শুক্রবার (১ মে) খুলনা শহিদ হাদিস পার্কে অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে অতিথিরা বলেন, সুস্থ থাকতে হলে মাশরুম খাওয়ার কোন বিকল্প নেই। মাশরুমে অনেক গুণাবালী রয়েছে। মাশরুম চাষ করে অনেকে সংসারের খরচ জোগাচ্ছে। এই মেলার মাধ্যমে মাশরুম চাষে অনেকের মধ্যে আগ্রহ বৃদ্ধি পাবে। অল্প জায়গায় মাশরুমের চাষ করা যায়, খরচ সামান্য এবং এতে ভিটামিন রয়েছে। মাশরুম চাষ করে নিজে উদ্যোক্তা হওয়া সম্ভব।
তারা আরও বলেন, মাশরুম চাষ আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টিতে অমিয় সম্ভাবনার হাতছানি। বেকারত্ব, পুষ্টিহীনতা, মাথাপিছু আয়ের স্বল্পতা, নারী ও বেকার যুবকদের আত্মকর্মসংস্থান, দারিদ্র বিমোচনসহ বিভিন্ন বিষয় বিবেচনায় মাশরুম একটি সম্ভাবনাময় ফসল। এ থেকে বোঝা যাচ্ছে মাশরুম জাদুকরী। আপনি মাশরুম চাষ করেন বা নাই করেন, নিজের বাড়িতে খাবার হিসেবে ব্যবহার করেন।
সমাপনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন খুলনা অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (সার্বিক) আবু সায়েদ মোঃ মনজুর আলম ও আঞ্চলিক বীজ প্রত্যয়ন অফিসার বিভাস চন্দ্র সাহা।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর খুলনা অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক কৃষিবিদ মোঃ রফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে স্বাগত বক্তৃতা করেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ মোঃ নজরুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে জেলা কৃষক দলের সভাপতি মোল্যা কবীর হোসেন, ফুলতলা উপজেলার উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা সালমা সুলতানা, মাশরুম উদ্যোক্তা মোঃ আজিজুল ইসলাম ও রিপন কুমার রায় বক্তব্য রাখেন।
অনুষ্ঠান শেষে মাশরুম মেলায় খুলনার বিভিন্ন জেলা থেকে অংশগ্রহণকারী ২২টি স্টলের প্রতিনিধিদের মাঝে সনদপত্র প্রদান করা হয়। এছাড়া প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অধিকারী স্টল প্রতিনিধিদের মাঝে পুরস্কার ও সনদপত্র প্রদান করা হয়।
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে চলমান অনিশ্চয়তা কাটিয়ে নতুন সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি জানান, সুপারিশপ্রাপ্ত ১৪ হাজার ৩০০ সহকারী শিক্ষককে খুব শিগগিরই শর্তসাপেক্ষে নিয়োগ দেওয়া হবে। শুক্রবার (১ মে) বিকেলে চাঁদপুরের কচুয়া সরকারি পাইলট হাইস্কুল মাঠে আয়োজিত এক ফুটবল টুর্নামেন্টের পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি সরকারের এই ইতিবাচক অবস্থানের কথা তুলে ধরেন।
শিক্ষামন্ত্রী নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে আলোচনা প্রসঙ্গে স্বীকার করেন যে, দ্রুততম সময়ে পরীক্ষা নেওয়ার কারণে কিছু ক্ষেত্রে প্রশ্ন ও সমালোচনা তৈরি হয়েছিল। তবে সাধারণ মানুষের কনফিউশন দূর করতে এবং শিক্ষার মান বজায় রাখতে সরকার সবদিক খতিয়ে দেখে নিয়োগ প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করার কাজ করছে।
এই পদক্ষেপের মাধ্যমে প্রাথমিক স্তরের শিক্ষক সংকট দ্রুত কেটে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
নিয়োগের পাশাপাশি শিক্ষকদের দীর্ঘদিনের দাবি বদলি প্রক্রিয়া নিয়েও আশার বাণী শুনিয়েছেন মন্ত্রী। তিনি জানান, শুধু প্রাথমিক নয়, এমপিওভুক্ত স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষকদের বদলি কার্যক্রমও শিগগিরই শুরু হতে যাচ্ছে।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে কচুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান রাসেল ও জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোসাদ্দেক হোসেন উপস্থিত ছিলেন। মন্ত্রীর এই ঘোষণায় দীর্ঘ প্রতীক্ষায় থাকা চাকরিপ্রার্থী ও শিক্ষকদের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে।
দীর্ঘ এক বছর বন্ধ থাকার পর অবশেষে সীমান্ত বাণিজ্য পুনরায় চালু হল। শুক্রবার দুপুরে মিয়ানমার থেকে একটি কাঠ বোঝাই ট্রলার টেকনাফ স্থল বন্দরে পৌঁছার মধ্যে দিয়ে বনএরর কার্যক্রম সচল হয়েছে।
শুক্রবার (১ মে) সকালে আরাকান আর্মি নিয়ন্ত্রিত মিয়ানমারের মংডু এলাকা ট্রলারটি টেকনাফের উদ্দেশ্যে রওনা হয় এবং দুপুর দেড় টার দিকে ট্রলারটি টেকনাফ স্থলবন্দরের ঘাটে এসে পৌঁছে বলে নিশ্চিত করেন বন্দরের পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান ইউনাইটেড ল্যান্ড পোর্ট লিমিটেড-এর টেকনাফ শাখার মহাব্যবস্থাপক (হিসাব) মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন চৌধুরী।তিনি জানান,“একটি কাঠের বোট বন্দরে পৌঁছেছে।”
এর আগে গত ১৪ এপ্রিল কক্সবাজারের টেকনাফ স্থলবন্দর পরিদর্শন করেছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। ওই সময় তিনি বন্দরের কার্যক্রম সচল করার ঘোষণা দেন।
ঘোষণার প্রেক্ষিতে বন্দর চালু হয়েছে জানিয়ে টেকনাফ স্থলবন্দরের শ্রমিকদের নেতা (মাঝি) শামসুল আলম বলেন,“দীর্ঘ এক বছরের বেশি সময় পর একটি কাঠের বোট বন্দরে এসেছে। এতে বন্দরের কার্যক্রম ফের চালু হওয়ায় শ্রমিক ও ব্যবসায়ীদের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে।”
জানা যায়, শুক্রবার (১ মে) সকালে আরাকান আর্মির নিয়ন্ত্রণাধীন মিয়ানমারের মংডুর হায়েনখালী খাল থেকে বোটটি টেকনাফের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করে। টেকনাফের ব্যবসায়ী মো. ফারুকের কাছে বোটটি এসেছে।
উল্লেখ্য, দেড় বছর ধরে চলমান সংঘাতের কারণে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের প্রায় ২৭০ কিলোমিটার সীমান্ত এলাকা বর্তমানে আরাকান আর্মির নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এর ফলে নাফ নদী-এর মিয়ানমার অংশে নৌযান চলাচলও তাদের নিয়ন্ত্রণে চলে যায়।
গত বছরের এপ্রিল মাসের শুরুতে পণ্যবাহী জাহাজ থেকে কমিশন (চাঁদা) দাবিকে কেন্দ্র করে আরাকান আর্মির বাধার মুখে মিয়ানমারের জান্তা সরকার সীমান্ত বাণিজ্য কার্যত বন্ধ ঘোষণা করে। এতে শতাধিক আমদানি-রপ্তানিকারক বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েন। পাশাপাশি প্রায় ৫০০ কোটি টাকার রাজস্ব হারায় বাংলাদেশ সরকার। তবে দীর্ঘ অচলাবস্থার পর এই কাঠের বোটের আগমন সীমান্ত বাণিজ্য পুনরায় চালুর সম্ভাবনার একটি ইতিবাচক ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে পীর পরিচিতি পাওয়া আব্দুর রহমান শামিম (৬৫) হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি রাজীব মিস্ত্রিকে (৩২) রাজশাহী থেকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)।
বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) দিবাগত রাতে ১১ টার দিকে রাজশাহীর গোদাগাড়ী এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার রাজীব মিস্ত্রি ফিলিপনগর ইউনিয়নের পশ্চিম দক্ষিণ ফিলিপনগর গ্রামের গাজী মিস্ত্রির ছেলে এবং তিনি মামলার ৩ নম্বর আসামি।
বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) দিবাগত রাত সাড়ে ১১টার দিকে কুষ্টিয়া র্যাব-১২ এর কোম্পানি কমান্ডার ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুদীপ্ত সরকারের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, র্যাব-৫ রাজশাহী ও র্যাব-১২ কুষ্টিয়ার যৌথ অভিযানে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান বলেন, পীর হত্যা, আস্তানায় হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় দায়ের করা মামলা এবং বিভিন্ন ভিডিও ফুটেজের ভিত্তিতে জড়িতদের শনাক্ত করা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত এ ঘটনায় ৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। র্যাবের হাতে গ্রেপ্তার রাজিব কে আজকে দুপুরে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হবে।
এর আগে, গত রোববার ও সোমবার দিবাগত গভীর রাতে একই ইউনিয়নের পশ্চিম-দক্ষিণ ফিলিপনগর ও ইসলামপুর এলাকা থেকে বিপ্লব হোসেন (২৬), আলিফ ইসলাম (২৩) এবং দশম শ্রেণির ছাত্র আলঙ্গীর হোসেন (১৬)-কে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ।
উল্লেখ্য, গত ১১ এপ্রিল কোরআন অবমাননার অভিযোগ তুলে আব্দুর রহমান শামিমকে তাঁর আস্তানার ভেতরে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় ১৩ এপ্রিল নিহতের বড় ভাই, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক ফজলুর রহমান বাদী হয়ে দৌলতপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
নারায়ণগঞ্জের বন্দরে পুলিশের কর্মকর্তা সহ দুজনের ওপর হামলা চালিয়ে কুপিয়ে জখম করেছে একদল দুর্বৃত্ত। এ সময় পুলিশের শটগান ছিনিয়ে নিয়ে যায়। পরে অভিযান চালিয়ে ছিনতাই হওয়া অস্ত্রটি উদ্ধার করে পুলিশ।
শুক্রবার (১ মে) ভোরে বন্দর উপজেলার চৌধুরী বাড়ী সাকিনস্থ হাবিব নগর এলাকায় অভিযান চালিয়ে অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। সেই সাথে তিনজনকে আটক করা হয়।
আহত দুই জন হলেন, মদনগঞ্জ পুলিশ ফাঁড়ির সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) সোহেল রানা ও কনস্টেবল ফয়সাল হোসেন। তাদের মধ্যে কনস্টেবল ফয়সাল হোসেন অবস্থা গুরুতর হাওয়ায় তাকে ঢাকার রাজারবাগ পুলিশ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ৩০ এপ্রিল দিবাগত রাতে বন্দর থানায় ছিনতাইয়ের অভিযোগ পেয়ে থানার ডিউটি অফিসার বন্দরের মদনগঞ্জ পুলিশ ফাঁড়ি এলাকায় দায়িত্বরত এএসআই মোঃ সোহেল রানাকে বিষয়টি অবগত করে। পরবর্তী এএসআই মোঃ সোহেল রানা সংগীয় ফোর্সসহ অভিযোগকারীদের সঙ্গে নিয়ে বন্দর থানাধীন চৌধুরী বাড়ী সাকিনস্থ হাবিব নগর রোডস্থ জনৈক গুলু মিয়ার বাড়ীতে গেলে পুলিশের উপস্থিত টের পেয়ে অজ্ঞাতনামা ১৪-১৫ জন দুস্কৃতিকারী দেশীয় অস্ত্র-শস্ত্র দিয়ে পুলিশের উপর হামলা চালিয়ে কনস্টেবল
ফয়সাল হোসেনকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাথারী কুপিয়ে গুরুত্বর রক্তাক্ত জখম করে। এসময় তার কাছ থেকে সরকারী শর্টগান ছিনিয়ে নেয়। আর এএসআই সোহেল রানার ডান পায়ে হাটুর নিচে কুপিয়ে জখম করে।
পরে খবর পেয়ে অতিরিক্ত পুলিশ গিয়ে তাদের উদ্ধার করে ও বন্দর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়। তবে উন্নত চিকিৎসার জন্য কনস্টেবল ফয়সাল হোসেনকে রাজারবাগ পুলিশ হাসপাতালে নেওয়া হয় ।
পরবর্তীতে বন্দর থানা ও মদনগঞ্জ ফাঁড়ির পুলিশ অভিযান পরিচালনা করে ভোরে বন্দর চৌধুরী বাড়ী এলাকায় জনৈক গুলু মিয়া বাড়ীর ভাড়াটিয়া সোহান এর টিন সেট ঘরের পিছন থেকে ছিনতাই হওয়া শর্টগানটি পরিত্যক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে। এই ঘটনায় সন্দেহভাজন হিসাবে তিনজনকে আটক করা হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করে নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তারেক আল মেহেদী বলেন, পুলিশের অস্ত্রটি উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় সন্দেহভাজন তিন জনকে আটক করা হয়েছে।
ধর্ষণে ব্যর্থ হয়ে ফরিদপুরে ৭ বছরের শিশু আইরিন আক্তার কবিতাকে শ্বাসরোধে হত্যা করে মাদকাসক্ত যুবক ইসরাফিল। একটি পরিত্যক্ত বাড়িতে নিয়ে তাকে হত্যা করা হয়।গ্রেফতারের পর জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশকে এমন তথ্য জানিয়েছে ঘাতক ইসরাফিল। এ ঘটনায় ৩ জনকে আটক করা হয়েছে।
ইসরাফিল ফরিদপুর সদর উপজেলার গেরদা ইউনিয়নের বাখুন্ডা পূর্বপাড়ার ইবাদত মৃধার ছেলে। নিহত শিশু কবিতা একই এলাকার বাকা বিশ্বাস এর মেয়ে। সে স্থানীয় বোকাইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিশু শ্রেনীতে পড়ত।
ফরিদপুর কোতয়ালী থানায় আজ শুক্রবার (১ মে) সকাল ১১টায় এক প্রেস বিফিং এ সদর সার্কেল এর সহকারী পুলিশ সুপার আজমীর হোসেন জানান, শিশুটি নিখোঁজ এর পর থানায় সাধারণ ডায়েরি করে তার পিতা। গতকাল বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) শিশুটির অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে সন্দেহভাজন আসামী ইসরাফিলকে আটক করে পুলিশ।
তিনি জানান, গ্রেফতারের পর জিজ্ঞাসাবাদে ইসরাফিল জানায়, ২৪ এপ্রিল সন্ধ্যায় সে ইয়াবা সেবন করে। পরে সে ওই শিশু কবিতাকে চকলেট খাওয়ানোর লোভ দেখিয়ে বাখুন্ডা আশ্রয়ন কেন্দ্রে আশিক এর পরিত্যাক্ত ঘরে নিয়ে যায়। সেখানে সে শিশুটিকে ধর্ষণের চেষ্টা চালায়। ধর্ষনে ব্যর্থ হয়ে ইসরাফিল শিশুটির গলা চেপে ধরে শ্বাসরোধ করে মৃত্যু নিশ্চিত করে মরদেহ পাশেই নাছিমা বেগম এর বাড়ির টয়লেট এর ট্যাংকিতে ফেলে দেয়।
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) ট্যাংকি থেকে গন্ধ বের হলে নাসিমা ঢাকনা তুলে লাশ দেখতে পেয়ে ভীত হয়ে পড়ে। শিশু হত্যার দায় তাদের উপর চাপতে পারে এই ভয়ে নাসিমা তার ছেলে আমিন ও রহমান মরদেহটি একটি প্লাস্টিকের ড্রামে ভরে বাড়ির অদুরে নিয়ে একটি কলা বাগানে ফেলে রাখে। ৩০ এপ্রিল কলা বাগানে কাজ করার সময় স্থানীয় দু'জন মরদেহ দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেয়। জিজ্ঞাসাবাদে ইসরাফিল একাই শিশুটিকে হত্যা করেছে বলে জানিয়েছে।
পুলিশ ঘাতক ইসরাফিলকে ও লাশ গোপন করার অভিযোগে নাসিমা বেগম ও তার ছেলে আমিনকে গ্রেফতার করেছে। নাসিমা একই এলাকার মৃত আবুল কালাম আজাদ এর স্ত্রী। প্রেস বিফিং এ কোতয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুল হাসানসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এ ঘটনায় নিহত শিশুর পিতা বাকা বিশ্বাস বাদী হয়ে কোতয়ালী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছে।
সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলায় এনজিও থেকে নেওয়া ঋণের কিস্তি পরিশোধ না করার অভিযোগে জান্নাতি খাতুন (২৫) নামের এক গৃহবধূকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় উপজেলার মাগুড়াবিনোদ ইউনিয়নের নাদোসৈয়দপুর পাটগাড়ীপাড়া এলাকার নিজ বাড়ি থেকে তাঁকে হেফাজতে নেয় পুলিশ। জান্নাতি খাতুন স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুর রাজ্জাকের স্ত্রী এবং তাঁদের আড়াই বছর বয়সী একটি পুত্রসন্তান রয়েছে।
শুক্রবার দুপুরে আদালতের নির্দেশে জান্নাতি খাতুনকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তাড়াশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাবিবুর রহমান এক গণমাধ্যমকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, “আদালতের গ্রেফতারি পরোয়ানা থাকায় তাকে গ্রেফতার করে প্রথমে থানা হেফাজতে রাখা হয়েছিল। আজ দুপুরে আদালতে পাঠালে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।”
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, জান্নাতি খাতুনের স্বামী আব্দুর রাজ্জাক ইতিপূর্বে টিএমএসএসের নাটোরস্থ গুরুদাসপুর শাখায় কর্মরত ছিলেন। চাকরির সময় তিনি প্রায় ২৪ হাজার ৮০০ টাকা জামানত হিসেবে জমা রাখেন এবং স্ত্রীর নামে ৫০ হাজার টাকা ক্ষুদ্র ঋণ গ্রহণ করেন। পরবর্তীতে চাকরি ছেড়ে দিলেও তিনি কিস্তির মাধ্যমে ঋণের অর্ধেক টাকা পরিশোধ করেছিলেন। তবে বাকি পাওনা অর্থ তাঁর পূর্বের গচ্ছিত জামানত থেকে সমন্বয় করার জন্য এনজিও কর্তৃপক্ষকে বারবার অনুরোধ জানালেও সংস্থাটি তা প্রত্যাখ্যান করে জান্নাতি খাতুনের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করে।
এ বিষয়ে জান্নাতি খাতুনের স্বামী আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘৫০ হাজার টাকা ঋণের প্রায় ২৫ হাজার টাকা কিস্তির মাধ্যমে পরিশোধ করেছি। অবশিষ্ট চাকরির জামানতের টাকা ঋণের সঙ্গে সমন্বয়ের জন্য সংস্থার সুপারভাইজারকে বারবার অনুরোধ করেছি। কিন্তু তারা সেটা শুনে আমার স্ত্রীর বিরুদ্ধে মামলা করেছেন।
মুন্সীগঞ্জের টঙ্গিবাড়ী উপজেলার সোনারং গ্রামের দুই ইতালি প্রবাসী ভাইয়ের পারিবারিক বিরোধ শেষ পর্যন্ত রক্তক্ষয়ী পরিণতিতে গড়িয়েছে। ইতালির লেচ্চে শহরে বড় ভাই হুমায়ুন ফকিরের (৩৫) ছুরিকাঘাতে ছোট ভাই নয়ন ফকির (২৫) নিহত হওয়ার ঘটনায় এলাকায় শোক ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। নিহতের পরিবার এ ঘটনাকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে দাবি করেছে।
নিহত নয়ন ফকির ও অভিযুক্ত হুমায়ুন ফকির টঙ্গীবাড়ী উপজেলার পশ্চিম সোনারং এলাকার দেলোয়ার ফকিরের ছেলে।
শুক্রবার (১ মে) দুপুরে দেলোয়ার ফকিরের বাড়িতে গেলে তিনি এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।
তিনি জানান, গত বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) স্থানীয় সময় রাত আনুমানিক ৮টার দিকে ইতালির লেচ্চে শহরে বড় ভাই হুমায়ুন ফকির উত্তেজিত হয়ে ছোট ভাই নয়ন ফকিরকে ধারালো ছুরি দিয়ে পেছন থেকে উপর্যুপরি আঘাত করেন। এতে ঘটনাস্থলেই নয়নের মৃত্যু হয়।
ছোট ভাইকে হত্যার পর হুমায়ুন ভিডিও কলের মাধ্যমে দেশে থাকা পরিবারের সদস্যদের সাথে যোগাযোগ করেন। সেই ভিডিও কলে তিনি নয়ন ফকিরের রক্তাক্ত মরদেহ স্বজনদের দেখান এবং নিজেই তাকে খুন করেছেন বলে স্বীকারোক্তি দেন। স্বজনরা মোবাইলের স্ক্রিনে নয়নের নিথর দেহ দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন। মুহূর্তেই পুরো এলাকায় এই খবর ছড়িয়ে পড়ে।
শুক্রবার (১ মে) সরেজমিনে সোনারং গ্রামে নিহত নয়নের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে পুরো পরিবেশ। বাড়িতে ভিড় করছেন উৎসুক এলাকাবাসী ও স্বজনেরা।
পরিবারের সদস্যরা জানান, হুমায়ুন ও নয়ন দুই ভাই। তাঁদের একমাত্র বোন দিলারা আক্তার। ৮-৯ বছর আগে অবৈধপথে লিবিয়া হয়ে ইতালিতে যান হুমায়ুন। পরে চার বছর আগে প্রায় ১৩ লাখ টাকা খরচ করে ছোট ভাই নয়নকে একইভাবে ইতালিতে নিয়ে যান।
সম্প্রতি বাবা-মায়ের ভরণপোষণের জন্য বিভিন্ন সময়ে দেওয়া ১৬ লাখ টাকার অর্ধেক, অর্থাৎ ৮ লাখ টাকা নয়নের কাছে দাবি করেন হুমায়ুন। নয়ন সেই টাকা দিতেও রাজি ছিলেন। এর মধ্যেই হুমায়ুনের দ্বিতীয় বিয়ে নিয়ে পরিবারে নতুন করে দ্বন্দ্ব তৈরি হয়।
স্বজনেরা জানান, হুমায়ুন দ্বিতীয় বিয়ে করার পর তাঁর বাবা দেলোয়ার ফকির নতুন স্ত্রীকে বাড়িতে তোলার বিষয়টি মেনে নিতে পারেননি। একপর্যায়ে ক্ষোভে হুমায়ুনের ঘরের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন তিনি। পরিবার মনে করছে, এসব বিষয় নিয়েই হুমায়ুন ক্ষুব্ধ ছিলেন।
নিহতের বোন দিলারা আক্তার বলেন, নয়ন সব টাকা পরিশোধ করেছিল। এমনকি আরও ৮ লাখ টাকা দিতেও রাজি ছিল। কিন্তু দ্বিতীয় বিয়ের পর থেকেই হুমায়ুনের সঙ্গে পরিবারের বিরোধ বাড়তে থাকে। হত্যার দিন আগে থেকেই ছুরি নিয়ে ওঁত পেতে ছিল সে। নয়ন সাইকেল চার্জ দিতে গেলে পেছন থেকে পিঠে এবং পরে মাথায় আঘাত করে হত্যা করা হয়।
হুমায়ুনের প্রথম স্ত্রী আমেনা আফরিন বলেন, প্রায় তিন বছর আগে আমাদের বিয়ে হয়। দেড় বছর বয়সী একটি ছেলে সন্তান রয়েছে। বিয়ের আগ থেকেই হুমায়ুনের নিজের এক আত্মীয় নারীর সঙ্গে সম্পর্ক ছিল। পরে দেশে এসে সেই নারীকে দ্বিতীয় বিয়ে করে আবার ইতালিতে চলে যান। সে আমাকে ঠিকমতো ভরণপোষণ দিত না। বিভিন্ন সময় মানসিক নির্যাতন করত। বাড়ি ছেড়ে চলে যেতে চাপ দিত। বলত, মামলা না করলে কাবিনের ৫ লাখ টাকা দেবে এবং ছেলের জন্য প্রতি মাসে ১০ হাজার টাকা পাঠাবে। ১৫ দিনের মধ্যে চলে যাওয়ার শর্তে আমি সম্প্রতি তাকে তালাক দিতে রাজি হই।
হুমায়ুনের মা বিউটি বেগম বলেন, হুমায়ুন নয়নকে ইতালি নেওয়ার সময় টাকা খরচ করেছিল। কিন্তু নয়ন পরে তার চেয়ে বেশি টাকা দিয়েছে। এরপরও বাবা-মায়ের জন্য দেওয়া টাকার অর্ধেক চাইছিল। নয়ন তাতেও রাজি ছিল। কিন্তু দ্বিতীয় বিয়ে নিয়ে পারিবারিক ঝামেলার জেরেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে।
অভিযুক্ত হুমায়ুন ফকিরের দ্বিতীয় স্ত্রী তায়েবা আক্তার বলেন, আমার সাথে তার বিয়ের আগ থেকেই প্রেমের সম্পর্ক ছিলো। তাই আমরা ৮-৯ মাস আগে বিয়ে করেছি। তবে দুই ভাইয়ের দ্বন্দ পাওনা টাকা নিয়ে।
টঙ্গিবাড়ী থানা-পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ঘটনার দুই দিন আগে ইতালি থেকে থানায় ফোন করেছিলেন হুমায়ুন। তিনি দাবি করেন, ছোট ভাইয়ের কাছে তাঁর ১৩ লাখ টাকা পাওনা রয়েছে এবং এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে বলেন। পুলিশ তাঁকে জানায়, লিখিত অভিযোগ ছাড়া ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব নয়। পরে তাঁর প্রথম স্ত্রীকে দিয়ে পরিবারের কয়েকজনের বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ করানো হয়।
পুলিশের ধারণা, দ্বিতীয় বিয়ে নিয়ে হুমায়ুনের পরিবারের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। প্রথম স্ত্রীকে বাড়ি ছাড়তে চাপ দেওয়াকে কেন্দ্র করেও উত্তেজনা তৈরি হয়। এসব বিষয় নিয়ে তিনি পরিবার ও ভাইয়ের ওপর ক্ষুব্ধ ছিলেন।
টঙ্গীবাড়ী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মনিরুল ইসলাম ডাবলু বলেন, ‘ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ওই বাড়িতে গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করেছে। পারিবারিক দ্বন্দ্বে এক ভাইয়ের হাতে আরেক ভাই ইতালিতে খুন হয়েছে, এ বিষয়ে স্থানীয়ভাবে কোন অভিযোগ পেলে পুলিশ বিষয়টি খতিয়ে দেখবে।’
চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি
চুয়াডাঙ্গায় বন্যপ্রাণি খরগোশ হত্যা ও শিকারের অপরাধে চারজনকে কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। এসময় উদ্ধার করা হয়েছে ৬টি মৃত ও ৫টি জীবিত খরগোশ।
চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার তিতুদহ গ্রামের কেরু এন্ড কোম্পানির মাঠে বৃহস্পতিবার রাতে ওই ঘটনা ঘটে। কারাদণ্ড প্রাপ্তরা হলেন-ঝিনাইদহ জেলার সাধুহাটি গ্রামের মনোরঞ্জন বিশ্বাসের ছেলে উজ্জ্বল কুমার বিশ্বাস, একই জেলার এনায়েতপুর গ্রামের মৃত তোয়াজ আলী ছেলে সাদগার আলী, একই গ্রামের সাধু মন্ডলের ছেলে সুকুমার মন্ডল ও মোহন কুমার বিশ্বাসের ছেলে সুধাংশু কুমার বিশ্বাস।
ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার বিকেলে বন্যপ্রাণি শিকার করতে তিতুদহ গ্রামের কেরু এন্ড কোম্পানির মাঠে আসেন ১৪-১৬ জন। এসময় কয়েকটি গ্রুপে বিভক্ত হয়ে মাঠে খরগোশ শিকারের জন্য ফাঁদ পাতেন তারা। ফাঁদে ছয়টি খরগোশ আটকা পড়লে সেগুলো দেশীয় অস্ত্র দা দিয়ে কুপিয়ে মেরে ফেলা হয়। একই সাথে পাঁচটি জীবিত খরগোশ আটকে রাখা হয়।
বিষয়টি জানতে পারেন প্রাণিবিদ্যা বিভাগের প্রভাষক আহসান হাবীব শিপলু। বিষয়টি সদর উপজেলা বন বিভাগকে অবহিত করেন তিনি। পরে সেখানে অভিযান চালায় বন বিভাগ, স্থানীয় বাংলাদেশ ওয়ার্ল্ডলাইফ এন্ড নেচার ইনিশিয়েটিভের সদস্যরা ও পুলিশ। এসময় অন্যরা পালিয়ে গেলেও চার শিকারিকে আটক করা হয়।
চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা বন কর্মকর্তা আবুল খায়ের আতা জানান, ঘটনাটি সন্ধ্যার পর চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আমিনুল ইসলামকে জানানো হয়। রাতে ঘটনাস্থলে পৌঁছে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন তিনি। পরে বন্যপ্রাণি সংরক্ষণ আইনে চার জনকে দশ দিন করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এসময় জীবিত উদ্ধারকৃত পাঁচটি খরগোশ বনে অবমুক্ত করা হয়। মৃত খরগোশগুলো মাটিতে পুঁতে রাখা হয়। সাজা প্রাপ্তদের রাতেই পুলিশ প্রহরায় চুয়াডাঙ্গা জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।