সোমবার, ১০ আগস্ট ২০২৬
২৬ শ্রাবণ ১৪৩৩

রাঙামাটিতে ইউপিডিএফের ডাকা অর্ধদিবস অবরোধ চলছে

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড
২০ মে, ২০২৪ ১০:৫৮
সারা বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত
সারা বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত : ২০ মে, ২০২৪ ১০:৫৮

রাঙামাটির লংগদুতে ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টের (ইউপিডিএফ) এক কর্মী ও এক সমর্থককে গুলি করে হত্যার প্রতিবাদে তাদের গ্রেপ্তার ও শাস্তির দাবিতে ডাকা অর্ধদিবস অবরোধ চলছে।

আজ সোমবার সকাল ৬টা থেকে ইউপিডিএফের অবরোধ শুরু হয়। এর প্রভাবে রাঙামাটি-চট্টগ্রাম ও রাঙামাটি-খাগড়াছড়ি সড়কে বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। তবে জেলার অভ্যন্তরে গণপরিবহন চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।

ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ)-এর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সরকারের পার্বত্য চট্টগ্রামের শাসন বিধি (১৯০০ সালের রেগুলেশন) বাতিল করার প্রচেষ্টার প্রতিবাদে ইউপিডিএফ আন্দোলন গড়ে তুলেছে। ঠিক এমন সময় সরকারের এজেন্ডা বাস্তবায়ন ও আন্দোলন বানচাল করে দেওয়ার জন্য সন্তু লারমা তার সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের দিয়ে শনিবার লংগদুতে ইউপিডিএফ কর্মী বিদ্যাধন চাকমা ও সমর্থক ধন্যমণি চাকমাকে নির্মমভাবে গুলি করে হত্যা করেছে। খুনিদের গ্রেফতার ও শাস্তির দাবিতে আজকের এই অবরোধ।

অবরোধ সমর্থনে রাঙামাটি শহরে কোনো ধরনের পিকেটিং চোখে না পড়লেও রাঙামাটি-চট্টগ্রাম সড়কের সাপছড়ি, রাঙামাটি-খাগড়াছড়ি সড়কের কুতুকছড়ি, ঘিলাছড়ি এলাকায় ইউপিডিএফ কর্মীরা অবস্থান নিয়ে রাস্তায় গাছ জ্বালিয়ে বিক্ষোভ, মিছিল ও সমাবেশ করেছে। এ সময় রাস্তায় কিছু পণ্যবাহী ট্রাক আটকা পড়ে। তবে শহরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।

প্রসঙ্গত, গত শনিবার ১৮ মে সকালে লংগদুতে একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসী সাংগঠনিক কাজে নিয়োজিত ইউপিডিএফ কর্মীদের ওপর হামলা চালায়। এ হামলায় ঘটনাস্থলে ইউপিডিএফ সদস্য বিদ্যা ধন চাকমা ওরফে তিলক (৪৫) ও সমর্থক ধন্য মনি চাকমা (৩৫) ঘটনাস্থলেই নিহত হন। এই ঘটনায় ইউপিডিএফ সন্তু লারমা নেতৃত্বাধীন পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতিকে দায়ী করেছে। তবে সংগঠনটির নেতারা এই অভিযোগ অস্বীকার করে এটি ইউপিডিএফের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দের বহিঃপ্রকাশ বলে পাল্টা অভিযোগ করেছে।


নির্বাচিত

সরকারের আরও এক নতুন দায়িত্বে সালাহউদ্দিন আহমদ

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

‘বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস পে কমিশন, ২০২৫’-এর প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় সুপারিশ প্রণয়নের জন্য সাত সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করেছে সরকার।

অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীকে সভাপতি করে গঠিত এই কমিটিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদসহ সরকারের একাধিক মন্ত্রী ও গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তাদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

সম্প্রতি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। এতে জানানো হয়েছে যে, কমিটির মূল কাজ হবে পে কমিশনের প্রতিবেদনটি গভীরভাবে পর্যালোচনা করা এবং তা বাস্তবায়নে সরকারের কাছে প্রয়োজনীয় সুপারিশ তুলে ধরা।

গঠিত এই উচ্চপর্যায়ের কমিটিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ছাড়াও সদস্য হিসেবে রয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, মহিলা ও শিশু বিষয়ক এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন এবং আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।

এছাড়া ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর এবং জনপ্রশাসন ও খাদ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী, এমপি এই কমিটিতে সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

প্রজ্ঞাপনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, কাজের সুবিধার্থে বা প্রয়োজনীয় পরামর্শের জন্য কমিটি চাইলে সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে অভিজ্ঞ যেকোনো ব্যক্তিকে পরবর্তীতে নতুন সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করতে পারবে।


নির্বাচিত

‘আমার দুই ধনকে বুকে এনে দে’ সৌদির আগুনে দুই সন্তান হারিয়ে মায়ের আহাজারি

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
রিফাত হোসাইন সবুজ, নওগাঁ প্রতিনিধি

‘বড় ছাওয়াল গেছে সাত বছর হলো, আর মেজো ছাওয়াল গেছে দুই বছর। কোনোদিন ছুটিতে বাড়ি আসতে পারেনি। ছাওয়ালটা কইতো—মা, কষ্ট করে খেয়ে দেনা শোধ করছি। বাড়ির কাজ শুরু করছি, দেশে আইসা বিল্ডিংয়ের কাজটা শেষ করমু। কিন্তু আমার বাবার আর বাড়ি আসা হলো না। কী সর্বনাশ হয়ে গেল বাবা আমার!

কথাগুলো বলতে বলতে বারবার কান্নায় ভেঙে পড়ছিলেন ময়না খাতুন। সৌদি আরবে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে দুই সন্তান সুমন ও মোহনকে হারিয়ে শোকে পাথর হয়ে গেছেন তিনি। সন্তানদের ফিরে পাওয়ার আকুতি আর বুকফাটা আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে নওগাঁর আত্রাই উপজেলার গন্ডগোহালী গ্রামের পরিবেশ।

সোমবার (১০ আগস্ট) সকালে গন্ডগোহালী গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, মোহন ও সুমনের বাড়িতে চলছে শোকের মাতম। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে পরিবেশ। স্বজন ও প্রতিবেশীদের চোখেমুখেও নেমে এসেছে শোকের ছায়া।

এর আগে রোববার (৯ আগস্ট) দুপুরে সৌদি আরবের রিয়াদের শিফা থানা এলাকার একটি সোফা তৈরির কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এতে সেখানে কর্মরত দুই ভাই মোহন প্রামাণিক ও সুমন প্রামাণিকসহ আত্রাই উপজেলার অন্তত ১০ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে জেলা প্রশাসন।

ময়না খাতুন বলেন, কাল সকালে মেজো ব্যাটার সঙ্গে কথা কইছি। কইল- মা, ভালো আছি। তুমি ভাত খাও, তুমি সুস্থ থাকো। ভাই মাল দিতে গেছে, মাল দিয়া আসবে।

এরপরই বদলে যায় সবকিছু। আগুন লাগার পর ছেলের পাঠানো ভয়েস মেসেজের কথা বলতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি।

ময়না খাতুন বলেন, ‘ছাওয়াল ভয়েস মেসেজ দিয়া কইল,মা, দুইডা কথা কমু, আমি আর কথা কমু না। আগুন লাগছে মা, পুড়ে যাচ্ছি, মরে যাচ্ছি মা।’

এই কথাগুলোই এখন মায়ের কাছে সন্তানের শেষ স্মৃতি।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘হামার দুই বাবারে হামার বুকে এনে দাও বাবা। আমার বাবাদের একবার দেখে কলিজাটা ঠান্ডা করমু। আমার দুই ধনকে আমার বুকে এনে দে বাবা।’

মোহনের বিয়ের স্বপ্নের কথাও বলতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন মা। তিনি বলেন, ‘মোহন কইতো—মা, দেশে আইসা বিয়া করমু। মেয়া-টিয়ে দেখো না। দশটা দেখে একটা পছন্দ কইরা বিয়া করমু মা। বাড়ির কাজটাও শেষ করমু।’

মায়ের সেই স্বপ্ন আর পূরণ হলো না। সংসার গড়ার স্বপ্ন নিয়ে বিদেশে পাড়ি দেওয়া মোহনকে এখন ফিরতে হবে নিথর দেহ হয়ে।

নওগাঁর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, সৌদি আরবে অগ্নিকাণ্ডে নওগাঁর আত্রাই উপজেলার এখন পর্যন্ত ১০ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হওয়া গেছে। নিহতদের পরিবারের সঙ্গে প্রশাসনের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হচ্ছে। মরদেহগুলো দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনতে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করা হচ্ছে।

প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিহতরা হলেন,আত্রাই উপজেলার বিশা ইউনিয়নের ডুবাই গ্রামের মৃত বাদলের ছেলে সুমন (৩৫), একই গ্রামের চঞ্চলের ছেলে হাসিবুল হাসান শুভ (২৭), কালিকাপুর ইউনিয়নের গন্ডগোহালী গ্রামের গাফফার প্রামাণিকের ছেলে মোহন প্রামাণিক ও সুমন প্রামাণিক, একই গ্রামের জান্নারের ছেলে রুবেল হোসেন (৩০) এবং ফজলুর প্রামাণিকের ছেলে কলি প্রামাণিক (৩৫), পারকাসুন্দা গ্রামের মৃত তমেজ উদ্দিনের ছেলে আব্দুল জলিল (৩৮), বিশা গ্রামের আজহারের ছেলে সাগর (৩১) ও একই গ্রামের মজনুর ছেলে মজিদুল (৩৪) এবং উদনপৈ গ্রামের ময়েন শেখের ছেলে ফরিদ শেখ (৩২)।

সৌদি আরবের কর্মস্থলে আগুনে একসঙ্গে এতজন স্বজন হারানোর ঘটনায় আত্রাইয়ের বিভিন্ন গ্রামে এখন শোকের ছায়া। স্বজনদের একটাই আকুতি—প্রিয় মানুষগুলোর মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে এনে শেষবারের মতো মায়ের কোলে ও স্বজনদের কাছে তুলে দেওয়া হোক।


নির্বাচিত

কুমিল্লা শিক্ষাবোর্ডে পাসের হার ও জিপিএ-৫ দুটিতেই মেয়েরা এগিয়ে

ছবিগুলো কুমিল্লা নবাব ফয়জুন্নেছা সরকারি বালিকা বিদ্যালয়। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা

চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলে কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ও জিপিএ-৫ অর্জনে ছেলেদের তুলনায় এগিয়ে রয়েছে মেয়েরা। এ বছর এ বোর্ডে মেয়েদের পাসের হার ৬৬ দশমিক ৮৮ শতাংশ, যেখানে ছেলেদের পাসের হার ৬৩ দশমিক ২৪ শতাংশ।

কুমিল্লা শিক্ষাবোর্ডের ফলাফল বিবরণী অনুযায়ী, বোর্ডের অধীন ছয় জেলার ১ হাজার ৮২৩টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে এ বছর এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয় ১ লাখ ৪৫ হাজার ৮৩৫ জন শিক্ষার্থী। এর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ৯৫ হাজার ৩৯৯ জন। উত্তীর্ণদের মধ্যে ৩৭ হাজার ২০৩ জন ছেলে এবং ৫৮ হাজার ১৯৬ জন মেয়ে।

ফলাফলে দেখা যায়, ছেলেদের তুলনায় মেয়েদের পাসের হার ৩ দশমিক ৬৪ শতাংশ বেশি। একইভাবে জিপিএ-৫ অর্জনেও মেয়েরা এগিয়ে রয়েছে। এ বছর কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডে জিপিএ-৫ পেয়েছে মোট ৯ হাজার ৮১৪ জন। এর মধ্যে ৫ হাজার ৮৪৮ জন মেয়ে এবং ৩ হাজার ৯৬৬ জন ছেলে।

অর্থাৎ, মোট জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের মধ্যে মেয়েদের সংখ্যাই বেশি।

এদিকে, গত বছরের তুলনায় চলতি বছর কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার বেড়েছে। তবে কমেছে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীর সংখ্যা। এ বছর বোর্ডে মোট পাসের হার ৬৫ দশমিক ৪২ শতাংশ।


নির্বাচিত

সৌদি আরবে আগুনে মৃত্যু: পরিচয় মিলেছে নওগাঁর ১৩ জনের

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১০ আগস্ট, ২০২৬ ১২:৫০
মো. সবুজ হোসেন, নওগাঁ প্রতিনিধি

সৌদি আরবের রিয়াদের মানফুয়া এলাকায় একটি সোফা তৈরির কারখানায় অগ্নিকান্ডে নিহত ১৬ বাংলাদেশির মধ্যে ১৩ জনের বাড়ি নওগাঁ জেলায়। নিহতদের মধ্যে ১২ জন আত্রাই ও একজন নওগাঁ সদর উপজেলার বাসিন্দা।


বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নওগাঁর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম।

নিহতরা হলেন, আত্রাই উপজেলার সাদনগর গ্রামের সাগর (৩৮), খরস্রােতা গ্রামের মজিদুল (৩৪) ও আব্দুল জলিল (৪৮), উজানপৈ গ্রামের ফরিদ শেখ (৩২), ডুবাই গ্রামের সুমন (৩১) ও হাসিবুল হাসান শুভ (৩৭), কালিকাপুর ইউনিয়নের গন্ডগোহালি গ্রামের মহন প্রামাণিক (২২) ও তাঁর ছোট ভাই সুমন প্রামাণিক (১৬), একই গ্রামের রুবেল প্রামাণিক (৩০), কলিমুল্লাহ প্রামাণিক (৩৫), বোয়ালা গ্রামের হৃদয় (৩২), মধ্যবোয়ালিয়া গ্রামের মিনহাজ (৩০) এবং নওগাঁ সদর উপজেলার নওগাঁ পৌরসভার পার-নওগাঁ এলাকার শাহিন (৩৮)।


নিহতদের স্বজন, স্থানীয় বাসিন্দা ও স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, সৌদি আরবের রিয়াদের মানফুয়া এলাকার একটি সোফা তৈরির কারখানায় নওগাঁর আত্রাই, সদর, নাটোরের নলডাঙ্গা ও রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার বেশ কিছু শ্রমিক কাজ করতেন। গতকাল রোববার স্থানীয় সময় দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ওই কারখানায় আগুন লাগে। অগ্নিকা-ের ঘটনায় ওই কারখানার মধ্যে আটকে পড়া ১৬ বাংলাদেশির মৃত্যু হয়েছে। এদের মধ্যে ১৩ জনের বাড়ি নওগাঁর আত্রাই ও সদর উপজেলায়। বাকি দুইজনের বাড়ি নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলায় এবং একজনের বাড়ি রাজশাহীর বাগমারা উপজেলায়।


সৌদির রিয়াদে থাকা অন্য বাংলাদেশি প্রবাসীদের বরাত দিয়ে ফরিদ শেখের চাচাতো ভাই জাহিদুল ইসলাম বলেন, অগ্নিকা-ের সময় ওই কারখানায় থাকা শ্রমিকেরা সবাই ঘুমিয়ে ছিলেন। কারখানার মূল ফটক বাইরে থেকে তালা দেওয়া ছিল। ঘুমন্ত অবস্থায় কারখানায় আগুন লাগায় ফরিদ শেখসহ সেখানে থাকা সব শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। ওই কারখানার শ্রমিকেরা দিনের বেলায় ঘুমিয়ে থাকে এবং রাতে কারখানায় কাজ করতেন।


নওগাঁর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, নিহত ব্যক্তিদের পরিচয় শনাক্ত এবং তাঁদের মরদেহ দেশে আনার বিষয়ে সৌদি আরবে বাংলাদেশ দূতাবাসের শ্রমকল্যাণ উইং কাজ করছে। যথাযথ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে মরদেহ দ্রুত দেশে আনার ব্যাপারে সরকার ও স্থানীয় প্রশাসনের অব্যাহত রয়েছে।


নির্বাচিত

কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডে পাসের হারে শীর্ষে ফেনী জেলা

ফেনী গার্লস ক্যাডেট কলেজ। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ফেনী প্রতিনিধি

২০২৬ সালের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট পরীক্ষায় কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে থাকা জেলাগুলোর মধ্যে সাফল্যের শীর্ষে অবস্থান করছে ফেনী। বোর্ডে সামগ্রিক পাসের হার ৬৫.৪২ শতাংশ হলেও ফেনী জেলা ৭২.৬২ শতাংশ পাসের হার নিয়ে প্রথম স্থান অধিকার করেছে। বোর্ডের দেওয়া আনুষ্ঠানিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এ বছর ফেনীর ১৮৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে ২১টি কেন্দ্রের মাধ্যমে মোট ১৪ হাজার ৯০০ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অবতীর্ণ হয়েছিল। এর মধ্যে ১০ হাজার ৮২১ জন শিক্ষার্থী সফলভাবে উত্তীর্ণ হয়েছে এবং ৪ হাজার ৭৯ জন শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছে। জেলায় সর্বমোট ১ হাজার ১৩৯ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পাওয়ার গৌরব অর্জন করেছে।

কুমিল্লা বোর্ডের অন্তর্ভুক্ত ছয়টি জেলার জেলাওয়ারি ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, ফেনী জেলা ৭২.৬২ শতাংশ পাসের হার নিয়ে তালিকার প্রথমে রয়েছে। এর পরেই ৭১.৫০ শতাংশ পাসের হার নিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে আছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া। অন্যান্য জেলাগুলোর মধ্যে কুমিল্লায় পাসের হার ৬৪.৭৮ শতাংশ, লক্ষ্মীপুরে ৬৩.৯১ শতাংশ এবং চাঁদপুরে ৬৩.৬৩ শতাংশ রেকর্ড করা হয়েছে। তবে বোর্ডের অধীনে থাকা জেলাগুলোর মধ্যে নোয়াখালী জেলায় পাসের হার সবচেয়ে কম, যা ৫৯.৯৮ শতাংশ।

সাফল্যের এই ধারায় ফেনী গার্লস ক্যাডেট কলেজের কৃতিত্ব বিশেষভাবে নজর কেড়েছে। প্রতিষ্ঠানটি থেকে ৫৬ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে শতভাগ পাসের ধারা বজায় রেখেছে এবং তাদের মধ্যে ৫৫ জনই জিপিএ-৫ লাভ করেছে। বরাবরের মতো এই স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানটি কুমিল্লা বোর্ডের সেরা তালিকার শীর্ষ কাতারে নিজের জায়গা ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে।


নির্বাচিত

নীলফামারীতে শৃঙ্খলা, পরিচ্ছন্নতা ও পেশাদারিত্বের ওপর গুরুত্বারোপ

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নাসির উদ্দিন শাহ মিলন, নীলফামারী প্রতিনিধি

পুলিশ সদস্যদের শৃঙ্খলা, পরিচ্ছন্নতা, পোশাকের সঠিক ব্যবহার ও পেশাদারিত্ব নিশ্চিত করতে নীলফামারী জেলা পুলিশের উদ্যোগে কিট প্যারেড অনুষ্ঠিত হয়েছে।

গতকাল রোববার সকাল ৯টায় নীলফামারী পুলিশ লাইন্সের ড্রিল শেডে অনুষ্ঠিত এ কিট প্যারেডে জেলা পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটের অফিসার ও ফোর্স সদস্যরা অংশগ্রহণ করেন।

কিট প্যারেডে অভিবাদন গ্রহণ ও পুলিশ সদস্যদের কিটসামগ্রী পরিদর্শন করেন নীলফামারীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মোহসিন। এ সময় তিনি পুলিশ সদস্যদের ব্যবহৃত কিটসামগ্রীর মান, যথাযথ ব্যবহার ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা পর্যবেক্ষণ করেন। পরিদর্শনের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট সদস্যদের জিএস মার্ক প্রদান করা হয়।

এ ছাড়া যেসব পুলিশ সদস্যের কিটসামগ্রী পাওনা রয়েছে, তাদের সংশ্লিষ্ট অফিস থেকে প্রয়োজনীয় কিটসামগ্রী সংগ্রহ করার নির্দেশ দেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার।

কিট পরিদর্শন শেষে পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে শৃঙ্খলা ও পেশাদারিত্ব বজায় রাখার কোনো বিকল্প নেই।’ ড্রেস রুলস যথাযথভাবে মেনে পোশাক পরিধান, নিয়মিত পিটি-প্যারেডে অংশগ্রহণ, স্বাস্থ্য সচেতনতা, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং খেলাধুলার মাধ্যমে শারীরিক সক্ষমতা ধরে রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

একই সঙ্গে জনগণের সেবায় আরও আন্তরিকতা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের জন্য পুলিশ সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহসিন।

কিট প্যারেডে সহকারী পুলিশ সুপার (প্রবি.) জ্যোতির্ময় ঘোষ, সহকারী পুলিশ সুপার (প্রবি.) মো. আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ খান, আরআই, পুলিশ লাইন্স নীলফামারীসহ জেলা পুলিশের বিভিন্ন পদমর্যাদার সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।


নির্বাচিত

ঠাকুরগাঁওয়ে আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস পালিত

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি

শোভাযাত্রা ও আলোচনা সভার মধ্য দিয়ে ঠাকুরগাঁওয়ে পালিত হলো আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস।

দিবসটি পালন উপলক্ষে গতকাল রোববার দুপুরে ইএসডিও থ্রাইভ প্রকল্প, জাতীয় আদিবাসী পরিষদ ঠাকুরগাঁও জেলা শাখার আয়োজনে ও হেকস্/ইপারের সহযোগিতায় প্রেসক্লাব চত্বর থেকে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হয়।

‘আদিবাসী ধাত্রীদের সন্মান-জীবন ও সুস্বাস্থ্য রক্ষা’ এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে শোভাযাত্রাটি শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে পূর্বের স্থানে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে দিবসটির তাৎপর্য তুলে ধরে অনুষ্ঠিত হয় আলোচনা সভা।

আদিবাসী পরিষদের সভাপতি যাকোব খালকোর সভাপতিত্বে সভায় বক্তৃতা করেন, ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শরিফুল ইসলাম শরীফ, জেলা বিএনপির দপ্তর সম্পাদক মামুনুর রশিদ মামুন, জাতীয় আদিবাসী পরিষদের উপদেষ্টা, ইমরান হোসেন চৌধুরী, ঠাকুরগাঁও প্রেসক্লাবের সভাপতি লুৎফর রহমান মিঠু, সাধারণ সম্পাদক তানভীর হাসান তানু প্রমুখ।

এ সময় বক্তারা আদিবাসীদের অধিকার ও জীবনমান উন্নয়নে বিভিন্ন দাবি তুলে ধরেন এবং তা বাস্তবায়নে সরকারের প্রতি জোর আহ্বান জানান।

উল্লেখ্য, বিশ্বের আদিবাসী জনগোষ্ঠীর অধিকার, সংস্কৃতি, ভাষা ও ঐতিহ্য সংরক্ষণ এবং তাদের জীবন-জীবিকার সংকট সম্পর্কে সচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে প্রতি বছর ৯ আগস্ট আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস পালিত হয়। ১৯৯৪ সালে জাতিসংঘ ৯ আগস্টকে আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস হিসেবে ঘোষণা করে।


নির্বাচিত

‘চা-শ্রমিক’ পরিচয়ের আড়ালে হারিয়ে যাচ্ছে ভাষা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মৌলভীবাজার প্রতিনিধি

চা-বাগানে বসবাসকারী মানুষকে সাধারণত একটি পরিচয়েই দেখা হয় ‘চা-শ্রমিক’। কিন্তু এই পেশাগত পরিচয়ের আড়ালে রয়েছে বহু জাতিগোষ্ঠীর নিজস্ব ভাষা, সংস্কৃতি, ইতিহাস ও ঐতিহ্য। দীর্ঘদিনের দারিদ্র্য, বঞ্চনা ও শ্রমের চক্রে এসব স্বতন্ত্র পরিচয় ক্রমেই হারিয়ে যাচ্ছে।

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল ও হবিগঞ্জের চানপুরসহ বিভিন্ন চা-বাগানের শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তাদের অনেকেই নিজেদের মাতৃভাষা ও সংস্কৃতি চর্চার সুযোগ থেকে দূরে সরে যাচ্ছেন। প্রজন্মের পর প্রজন্ম চা-বাগানে কাজ করলেও জীবনমানের বড় পরিবর্তন আসেনি। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে সাংস্কৃতিক পরিচয় হারানোর আশঙ্কা।

প্রচণ্ড রোদ কিংবা ঝুম বৃষ্টির মধ্যেও চা-বাগানের শ্রমিকদের কচি পাতা সংগ্রহ করতে দেখা যায়। দিনের পর দিন একই শ্রম, সামান্য মজুরি আর সীমিত সুযোগ-সুবিধার মধ্যে জীবন কাটে তাদের। আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবসের মতো বিষয়ও অনেকের কাছে অপরিচিত। তাদের কাছে প্রতিটি দিনই জীবিকা টিকিয়ে রাখার সংগ্রাম।

শ্রীমঙ্গলের হরিণছড়া চা-বাগানের শ্রমিক কৈশলা ঘাটোয়াল ১৪ বছর বয়সে চা-বাগানে কাজ শুরু করেন। তখন দৈনিক মজুরি ছিল ২০ টাকা। এখন মজুরি ১৮৭ টাকা হলেও তার মতে, এই আয় দিয়ে সংসারের ন্যূনতম চাহিদা পূরণ করাই কঠিন।

তিনি বলেন, ‘দুই বেলা ঠিকমতো খেতে পারি না। নিজের একটা ভালো ঘর করার স্বপ্ন দেখি; কিন্তু এই আয়ে সেটা কীভাবে সম্ভব? জমিটাও তো আমাদের নয়।’

আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস সম্পর্কে জানতে চাইলে কৈশলার উত্তর, ‘রাস্তায় মিছিল হয়, এটুকুই জানি।’

শুধু কৈশলা বা গৈারা নন, চা-বাগানের আরও অনেক শ্রমিকের অভিজ্ঞতাও একই। সপ্তাহজুড়ে কঠোর পরিশ্রমের বিনিময়ে তারা পান সামান্য মজুরি ও সীমিত রেশন। ছুটির আগের দিন কাজে অনুপস্থিত থাকলে অনেক ক্ষেত্রে ছুটির দিনের মজুরিও কেটে নেওয়া হয়। অধিকাংশ শ্রমিক পরিবার এখনো বাগানের লেবার লাইনে বসবাস করে। সেখানে নিরাপদ পানি, স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্যসেবার সুযোগও সীমিত।

বাংলাদেশ চা-শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক নিপেন পাল জানান, প্রজন্মের পর প্রজন্ম চা-শিল্পে কাজ করেও শ্রমিকদের জীবনমানের বড় পরিবর্তন আসেনি।

তিনি বলেন, ‘মুখে হাসি লেগে থাকলেও তাদের দুঃখের শেষ নেই। প্রজন্মের পর প্রজন্ম এই শিল্পে কাজ করেও তারা জমির মালিক হতে পারেননি। চা-শিল্প এগিয়েছে; কিন্তু শ্রমিকদের জীবনমানের পরিবর্তন খুব একটা হয়নি।’

তবে সংকট শুধু অর্থনৈতিক নয়। চা-বাগানে বসবাসকারী স্বল্পপরিচিত অনেক জাতিগোষ্ঠীর ভাষা ও সংস্কৃতিও হারিয়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।

পাত্রকলা চা-বাগানের অধিকারকর্মী লিটন গঞ্জু জানান, চা-বাগানে ৩০-৩৫টি স্বল্পপরিচিত আদিবাসী জনগোষ্ঠীর মানুষ বসবাস করেন। মণিপুরি, খাসিয়া বা গারোদের তুলনায় এসব জনগোষ্ঠী সম্পর্কে মানুষের জানাশোনা কম। ফলে সরকারি সুযোগ-সুবিধা ও সাংস্কৃতিক সহায়তা থেকেও তারা পিছিয়ে আছেন।

লিটন গঞ্জুর মতে, সরকারি বিভিন্ন উদ্যোগে মণিপুরি, খাসিয়া ও গারো জনগোষ্ঠী তুলনামূলকভাবে বেশি সুবিধা পেলেও চা-বাগানের স্বল্পপরিচিত জনগোষ্ঠীগুলো অনেক ক্ষেত্রে সেই সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়। এমনকি অনেক জনগোষ্ঠী সম্পর্কে সরকারের কাছেও পর্যাপ্ত তথ্য নেই।

মৌলভীবাজারের দুর্বার উন্নয়ন সহায়ক সংস্থার (ডিইউএসএস) নির্বাহী পরিচালক তাপস ঘোষ জানান, বিভিন্ন উপজেলায় আদিবাসী জনগোষ্ঠীর জন্য সরকারি অনুদান বিতরণের প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করতে গিয়ে তারা দেখেছেন, অধিকাংশ ক্ষেত্রে খাসিয়া, গারো ও মণিপুরি সম্প্রদায়ের সদস্যরা এসব সুবিধা পান। চা-বাগানের পিছিয়ে থাকা অনেক জনগোষ্ঠী এসব অনুদানের খবরই জানেন না।

তার সংস্থার পক্ষ থেকে কয়েকটি উপজেলায় চা-বাগানের জনগোষ্ঠীর মধ্যে সরকারি সহায়তা সম্পর্কে সচেতনতা তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

সমতলে বসবাসকারী সাঁওতাল, ওরাঁও, মুন্ডা, গারো ও ত্রিপুরাসহ বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর তুলনায় অন্যান্য জাতিগোষ্ঠীর চা-বাগানবাসী মানুষ অনেক ক্ষেত্রে বেশি বঞ্চিত বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অর্থনৈতিক সুযোগ, সাংস্কৃতিক চর্চা ও সামাজিক অংশগ্রহণ, প্রায় সব ক্ষেত্রেই তাদের পিছিয়ে থাকার চিত্র দেখা যায়।

বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের সিলেট বিভাগের সভাপতি গৌরাঙ্গ পাত্র বলেন, ‘চা-বাগানের অনেক মানুষ বাগানের সীমানার বাইরে বৃহত্তর সমাজের সঙ্গে তেমনভাবে সম্পৃক্ত হতে পারেন না। নিজেদের অধিকার ও জাতিগত পরিচয় সম্পর্কেও অনেকের মধ্যে সচেতনতার ঘাটতি রয়েছে।’

তার দাবি, উত্তরবঙ্গে বসবাসের কারণে চা-বাগানের কিছু জনগোষ্ঠী আদিবাসী হিসেবে তালিকাভুক্ত হলেও বাগানে বসবাসকারী অধিকাংশ জনগোষ্ঠী এখনো সেই স্বীকৃতি পায়নি। ফলে তাদের ভাষা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সংরক্ষণেও কার্যকর উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না।

সংশ্লিষ্টদের মতে, চা-বাগানের মানুষের সংকটকে শুধু মজুরি ও কর্মপরিবেশের প্রশ্ন হিসেবে দেখলে পুরো চিত্রটি পাওয়া যাবে না। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে ভূমির নিরাপত্তা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সামাজিক অধিকার এবং নিজস্ব পরিচয় টিকিয়ে রাখার লড়াই।

তারা আরও জানান, অর্থনৈতিক উন্নয়নের পাশাপাশি তাদের মাতৃভাষা, সাংস্কৃতিক চর্চা ও জাতিগত পরিচয় রক্ষায় সরকারি উদ্যোগ না নেওয়া হলে বহু ভাষা ও ঐতিহ্য হয়তো আগামী প্রজন্মের কাছে আর পৌঁছাবে না।


নির্বাচিত

দুর্ভোগের বাসে এবার স্বস্তির যাত্রা শিক্ষার্থীদের পাশে কুমিল্লার প্রশাসক

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মাহফুজ নান্টু, কুমিল্লা প্রতিনিধি

কুমিল্লা থেকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে যাতায়াতকারী শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের কথা শোনে ব্যক্তিগত উদ্যোগে তাদের ব্যবহৃত বাসটি সংস্কার করে দিলেন কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপু।

বাসটির প্রায় ৭০টি আসন সংস্কার করে পুরোনো প্লাস্টিকের সিটের পরিবর্তে লাগানো হয়েছে আরামদায়ক ফোমের সিট। সমাধান করা হয়েছে বাসের বিভিন্ন সমস্যা। শিক্ষার্থীদের সুবিধার্থে চালু করা হয়েছে ফ্রি Wi-Fi জোন। পাশাপাশি যাত্রাপথে তাদের জন্য সকালের নাশতা ও বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থাও করা হয়েছে।

কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপু বলেন, ‘কুমিল্লা থেকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে যাতায়াতকারী শিক্ষার্থীদের বিষয়টি জেনেছি। তাদের প্রায় ৭০ আসনের বাসটি সংস্কার করা প্রয়োজন ছিল। বিশেষ করে সিটের সমস্যা ছিল। তাই নতুন করে সিট লাগানোর পাশাপাশি বাসে Wi-Fi জোনও তৈরি করে দিয়েছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা ভালোভাবে লেখাপড়া করতে পারলে দেশ সমৃদ্ধ হবে। আমরাও কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ গড়ার দিকে এগিয়ে যাব।’


নির্বাচিত

২০১৯ সাল থেকে এগিয়ে চলছে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘এসো আমরা গড়ি’

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

মানুষের জন্য কিছু করার প্রত্যয় নিয়ে ২০১৯ সালের ১ জুলাই যাত্রা শুরু করে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘এসো আমরা গড়ি’। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই শিক্ষা, মানবিক সহায়তা, পরিবেশ সংরক্ষণ ও সামাজিক সচেতনতামূলক বিভিন্ন কার্যক্রমের মাধ্যমে মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করে যাচ্ছে সংগঠনটি।

‘এসো আমরা গড়ি’ বিশ্বাস করে, সমাজ পরিবর্তনের জন্য সবসময় বড় কোনো উদ্যোগের প্রয়োজন হয় না। একজন মানুষের পাশে দাঁড়ানো, একজন শিক্ষার্থীর হাতে শিক্ষা উপকরণ তুলে দেওয়া কিংবা একটি গাছ লাগানোর মতো ছোট ছোট উদ্যোগও একটি সুন্দর ও মানবিক সমাজ গঠনের ভিত্তি হতে পারে।

প্রতিষ্ঠার পর থেকে সংগঠনটির উদ্যোগে বিনামূল্যে বেসিক কম্পিউটার প্রশিক্ষণ, শিক্ষার্থীদের মধ্যে শিক্ষাসামগ্রী বিতরণ, ফলদ গাছের চারা রোপণ ও বিতরণ, খাদ্য বিতরণসহ বিভিন্ন সামাজিক ও মানবিক কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে। বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করা, প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা এবং পরিবেশ রক্ষায় বৃক্ষরোপণের মতো কার্যক্রমেও সংগঠনটি কাজ করে যাচ্ছে।

সংগঠনটির লক্ষ্য শুধু একটি কার্যক্রম আয়োজন করে তা শেষ করা নয়; বরং মানুষের মধ্যে মানবিক দায়িত্ববোধ ও স্বেচ্ছাসেবী মানসিকতা তৈরি করা। বিশেষ করে তরুণদের সামাজিক কাজে সম্পৃক্ত করে একটি সক্রিয় ও মানবিক স্বেচ্ছাসেবী শক্তি গড়ে তুলতে কাজ করছে ‘এসো আমরা গড়ি’।

সম্প্রতি সংগঠনটি ‘Active Volunteer Team’ গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে। এর মাধ্যমে শুধু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অনুসারী নয়, বরং বাস্তবে মানুষের পাশে দাঁড়াতে আগ্রহী তরুণদের নিয়ে একটি সক্রিয় স্বেচ্ছাসেবী দল গড়ে তোলার পরিকল্পনা করা হয়েছে। সংগঠনটির প্রত্যাশা—প্রত্যেক স্বেচ্ছাসেবী অন্তত মাসে একটি দিন সমাজের জন্য কাজ করবেন।

সংগঠনটির সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্মেও মানুষের ব্যাপক সাড়া পাওয়া যাচ্ছে। ‘এসো আমরা গড়ি’র ফেসবুক পেজে ইতোমধ্যে ১০ হাজারের বেশি মানুষ যুক্ত হয়েছেন। সংগঠনটি মনে করে, এই সমর্থন শুধু একটি সংখ্যাগত অর্জন নয়; বরং মানুষের মধ্যে সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডের প্রতি আগ্রহেরও একটি প্রতিফলন।


‘এসো আমরা গড়ি’র প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি কাজী সালাউদ্দিন তমাল বলেন,

«“আমি বিশ্বাস করি, পরিবর্তনের জন্য আমাদের কারও অপেক্ষা করে বসে থাকার প্রয়োজন নেই। আমরা প্রত্যেকে যদি নিজের জায়গা থেকে একজন মানুষের জন্যও কিছু করি, তাহলে সেই ছোট ছোট উদ্যোগ একদিন বড় পরিবর্তনের কারণ হতে পারে।

‘এসো আমরা গড়ি’ শুধু একটি সংগঠনের নাম নয়; এটি মানুষের জন্য কিছু করার একটি আহ্বান। আমরা চাই, আমাদের সঙ্গে যারা যুক্ত হবেন তারা শুধু একটি পরিচয় বহন করবেন না—তারা বাস্তবে মানুষের পাশে দাঁড়াবেন।

আমাদের লক্ষ্য হাজার হাজার মানুষকে শুধু অনুসারী বানানো নয়; বরং এমন কিছু মানুষ তৈরি করা, যারা প্রয়োজনের সময়ে মানুষের জন্য এগিয়ে আসবেন। আজ আমরা একটি গাছ লাগালে হয়তো তার ছায়া আমরা পাব না, কিন্তু ভবিষ্যৎ প্রজন্ম সেই ছায়ায় দাঁড়াবে—আমাদের কাজের প্রকৃত সার্থকতা সেখানেই।

আমরা চাই, দেশের প্রতিটি প্রান্তে মানুষের মধ্যে একটি বিশ্বাস তৈরি হোক—‘আমি একা নই, আমার পাশে মানুষ আছে।’ আর সেই মানুষগুলোর একজন হতে পারে আমি, আপনি কিংবা আমরা সবাই।”»

আগামী দিনে শিক্ষা, পরিবেশ, মানবিক সহায়তা ও সামাজিক সচেতনতার পাশাপাশি আরও বিস্তৃত পরিসরে স্বেচ্ছাসেবী কার্যক্রম পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে ‘এসো আমরা গড়ি’র। বিশেষ করে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বৃক্ষরোপণ, শিক্ষার্থীদের সহযোগিতা এবং তরুণদের স্বেচ্ছাসেবী কাজে সম্পৃক্ত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

‘এসো আমরা গড়ি’ মনে করে—একটি সুন্দর সমাজ গড়ে তোলার দায়িত্ব শুধু কোনো প্রতিষ্ঠান বা সরকারের নয়; সমাজের প্রত্যেক মানুষেরই কিছু না কিছু দায়িত্ব রয়েছে।

সেই দায়িত্ববোধ থেকেই সংগঠনটির আহ্বান—

“এসো, আমরা গড়ি—মানুষের জন্য, মানবতার জন্য।”


নির্বাচিত

প্যারোলে মুক্তি পেয়ে হাতকড়া হাতে বাবার জানাজায় আ. লীগ নেতা

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মনিরুজ্জামান শেখ জুয়েল, কোটালীপাড়া (গোপালগঞ্জ) প্রতিনিধি

বাবা আর নেই, এই খবরটি পেয়েছিলেন কারাগারে বসেই। শেষবার বাবার মুখটি দেখতে এবং জানাজায় অংশ নিতে প্যারোলে মুক্তি পেয়ে কাশিমপুর কারাগার থেকে কোটালীপাড়ায় আসেন সাবেক পৌর মেয়র ও উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শেখ মোহাম্মদ কামাল হোসেন। তবে বাবার সঙ্গে এ ছিল একেবারেই অন্যরকম সাক্ষাৎ। পিতা-পুত্রের কোনো কথা হয়নি, হয়নি চোখে চোখ রাখার সুযোগ। কারণ, বাবা তখন নিথর।

শনিবার (৮ আগস্ট) বিকেলে কাশিমপুর কারাগার থেকে আট ঘণ্টার প্যারোলে মুক্তি দেওয়া হয় কামাল হোসেনকে। কড়া নিরাপত্তার মধ্যে পুলিশের প্রিজন ভ্যানে করে রাত ১১টার দিকে তাকে কোটালীপাড়া পৌর ভবন মাঠে নিয়ে আসা হয়। সেখানে তার বাবা বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ লুৎফর রহমানের দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।

প্রিজন ভ্যান থেকে নেমে বাবার মরদেহ দেখেই কান্নায় ভেঙে পড়েন কামাল হোসেন। জীবিত বাবার সঙ্গে শেষবার কথা বলার সুযোগ আর হয়নি তার। নিথর বাবাকে একবার দেখে জানাজায় অংশ নেন তিনি। জানাজা শেষে আবারও পুলিশের প্রিজন ভ্যানে করে তাকে কাশিমপুর কারাগারে ফিরিয়ে নেওয়া হয়।

শেখ লুৎফর রহমান (৯৫) শুক্রবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে কোটালীপাড়া পৌরসভার নিজ বাসভবনে বার্ধক্যজনিত কারণে মারা যান। তিনি চার ছেলে ও চার মেয়ের জনক ছিলেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক ও সামাজিক জীবনে তিনি কোটালীপাড়া পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি এবং কোটালীপাড়া মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বিভিন্ন সামাজিক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গেও তিনি যুক্ত ছিলেন। কোটালীপাড়া পাবলিক ইউনিয়ন ইনস্টিটিউশন (মডেল) ও কোটালীপাড়া শাহানা রশিদ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সাবেক সভাপতির দায়িত্বও পালন করেছেন তিনি।

বাবার মৃত্যুর পর জানাজায় অংশ নেওয়ার সুযোগ চেয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে কারা কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করা হয়। পরে কর্তৃপক্ষ নির্ধারিত সময়ের জন্য তাকে প্যারোলে মুক্তি দেয়।

কোটালীপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রিয়াদ মাহমুদ বলেন, কামাল হোসেনের বিরুদ্ধে ঢাকা ও গোপালগঞ্জে একাধিক মামলা রয়েছে। এসব মামলায় তিনি বর্তমানে কাশিমপুর কারাগারে রয়েছেন। বাবার মৃত্যুর কারণে তাকে আট ঘণ্টার জন্য প্যারোলে মুক্তি দেওয়া হয়। তিনি কোটালীপাড়ায় এসে বাবার জানাজায় অংশ নেওয়ার পর তাকে পুনরায় কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

এর আগে শনিবার বাদ আসর কোটালীপাড়া পৌর ঈদগাহ মাঠে বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ লুৎফর রহমানের প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে পৌর ভবন মাঠে দ্বিতীয় জানাজা শেষে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় পঞ্চপল্লী কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

দুই জানাজায় স্থানীয় বীর মুক্তিযোদ্ধা, বিএনপি, জামায়াতে ইসলামীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতাকর্মী এবং সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

বাবার জানাজায় অংশ নিতে কামাল হোসেনের কয়েক ঘণ্টার এই প্যারোলের দৃশ্য ছিল আবেগঘন।


নির্বাচিত

চুয়াডাঙ্গা সীমান্তে বিএসএফের পুশইন চেষ্টা, প্রতিহত করলো বিজিবি

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
জীবননগর (চুয়াডাঙ্গা) প্রতিনিধি 

চুয়াডাঙ্গার জীবননগর সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) কর্তৃক তিনজনকে পুশইনের চেষ্টা প্রতিহত করলো বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। রোববার ভোর ৩ টার দিকে জীবননগর উপজেলার মাধবখালী সীমান্ত এলাকায় পুশইনের এ চেষ্টা করে বিএসএফ।

রোববার সকাল ১০ টার সময় বিজিবির মহেশপুর-৫৮ ব্যাটালিয়নের সহকারী পরিচালক মুন্সী ইমদাদুর রহমান এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে গণমাধ্যম কর্মীদেরকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার মাধবখালী সীমান্ত পিলার ৭০/২ এস বরাবর অবস্থিত গেইট দিয়ে রোববার ভোর ৩ টার দিকে ৩২ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের মেটেরী ক্যাম্পের বিএসএফ সদস্যরা তিন জন ব্যক্তিকে (এক পুরুষ ও দুই নারী) বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করে। উক্ত ব্যক্তিরা বাংলাদেশে প্রবেশের পূর্বেই মাধবখালী বিওপির টহল দলের নজরে আসে। মাধবখালী বিওপির টহল দল শুন্যলাইন থেকে তাদের বাংলাদেশে প্রবেশে বাধা প্রদান করলে উক্ত ব্যক্তিরা সীমান্তের শুন্য লাইন থেকে ৪০ গজ ভারতের অভ্যন্তরে অবস্থান নেয়। বিজিবির দৃঢ় অবস্থানের কারণে তিন জন ব্যক্তি ভোর ৫ টা ২০ মিনিটের সময় ভারতের তারকাটার নিকট ফেরত যায়। পরবর্তীতে ৩২ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের মেটেরি ক্যাম্পের সদস্যরা ৭ টা ৫৫ মিনিটের সময় ৬৮/৫-এস সীমান্ত গেইট খুলে তাদেরকে ভারতের অভ্যন্তরে ফিরিয়ে নিয়ে যায়।

মহেশপুর-৫৮ ব্যাটালিয়নের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঘটনাটি ইতোমধ্যে ৩২ বিএসএফ ব্যাটালিয়নকে অবহিত করা হয়েছে। সীমান্ত সুরক্ষা, পুশইন ও অবৈধ অনুপ্রবেশ প্রতিরোধ এবং সীমান্ত এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে বিজিবি দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনসহ সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে বলেও প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।


নির্বাচিত

কুলাউড়া সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি নিহত

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কুলাউড়া প্রতিনিধি

মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার পৃথিমপাশা ইউনিয়নের বিপরীতে ভারতের অভ্যন্তরে মাগুরুলি এলাকায় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে তারা মিয়া (২০) নামে এক বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। তিনি চোরাকারবারের সঙ্গে জড়িত ছিলেন বলে জানিয়েছে বিজিবি। নিহত তারা মিয়া কুলাউড়া উপজেলার মুড়ইছড়া বস্তি এলাকার আব্দুল মালেকের ছেলে।

রবিবার (৯ আগস্ট) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ৪৬ বিজিবির শ্রীমঙ্গল ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সরকার আসিফ মাহমুদ।

বিজিবির এই কর্মকর্তা জানান, রবিবার ভোর ৪টার দিকে কুলাউড়া সীমান্তের ওপারে ভারতের মাগুরুলি এলাকায় একদল চোরাকারবারি যাওয়ার সময় বিএসএফ গুলি চালায়। এতে তারা মিয়া গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন।

তিনি আরও জানান, নিহত তারা মিয়ার বিরুদ্ধে চোরাকারবারের একটি মামলাও রয়েছে। ঘটনার বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ ও প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহের কাজ চলছে বলেও জানিয়েছে বিজিবি।


নির্বাচিত

banner close