শুক্রবার, ২১ জুন ২০২৪

১২টা পর্যন্ত ভোট পড়েছে ১৭ শতাংশ: ইসি সচিব

মঙ্গলবার সাংবাদিকদের কাছে ব্রিফ করেন ইসি সচিব জাহাংগীর আলম। ছবি: সংগৃহীত
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত : ২১ মে, ২০২৪ ১৩:২২

সারা দেশে ১৫৬টি উপজেলায় চলছে ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ। এই নির্বাচনে ১৩ হাজার ১৫৫টি কেন্দ্রের মধ্যে ১০ হাজার কেন্দ্রে সকাল ৮টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত ১৬.৯ শতাংশ অর্থাৎ প্রায় ১৭ শতাংশ ভোট কাস্টিং হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার দুপুর ১টায় নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিব জাহাংগীর আলম এ তথ্য জানিয়েছেন।

উল্লেখ্য, দ্বিতীয় ধাপের ১৫৬ উপজেলা পরিষদের নির্বাচনে তিনটি পদে এক হাজার ৮২৪ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তার মধ্যে চেয়ারম্যান পদে ৬০৩ জন, ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৬৯৩ জন এবং নারী ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৫৯৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

আবার এসব পদে ২২ জন প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এরইমধ্যে বিজয়ী হয়েছেন। দুটি উপজেলায় তিনটি পদে সবাই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয় লাভ করেছেন।

বিষয়:

সিলেটে বিস্তৃত হচ্ছে বন্যা, পানিবন্দি প্রায় ১০ লাখ মানুষ

বন্যায় প্লাবিত হওয়ায় বিপাকে জনজীবন। সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা থেকে বৃহস্পতিবার তোলা। ছবি: সৈয়দ মাহামুদুর রহমান
আপডেটেড ২১ জুন, ২০২৪ ০০:০৪
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

টানা বৃষ্টি আর উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে দ্বিতীয় দফা বন্যায় সিলেট বিভাগের মানুষের যেন দুর্ভোগ আর দুর্দশার কোনো শেষ নেই। বিভাগের চার জেলার মধ্যে সিলেট ও মৌলভীবাজারেই বন্যার ক্ষতি সবচেয়ে বেশি। এই দুই জেলায় এখনও লাখ লাখ মানুষ পানিবন্দি। অন্যদিকে, বন্যার কবলে পড়েছেন লালমনিরহাট-কুড়িগ্রামের নিম্নাঞ্চলের মানুষও। তিস্তা-ধরলা-ব্রহ্মপুত্রের নদী তীরবর্তী এলাকায় ভাঙন দেখা দিয়েছে। এদিকে, মৌসুমী বায়ু সক্রিয় থাকায় বর্ষাকালে স্বাভাবিকভাবেই দেশের বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টিপাত হবে। আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে আজ থেকে টানা পাঁচ দিন থাকতে পারে বৃষ্টি। ফলে বন্যাকবলিত এলাকার মানুষদের আরও দুর্ভোগ বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

সিলেট ব্যুরো প্রধান দেবাশীষ দেবু জানিয়েছেন, সিলেটের বন্যা আরও বিস্তৃত হচ্ছে। ইতোমধ্যে সব উপজেলায় ছড়িয়ে পড়েছে বন্যার পানি। পানিবন্দি হয়ে আছেন জেলার প্রায় ১০ লাখ মানুষ। তবে গতকাল বৃষ্টি না হওয়ায় নতুন করে পানি আর বাড়েনি। নগর এলাকার পানি কিছুটা কমেছে। কমেছে নদীর পানিও।

এদিকে, বৃহস্পতিবার সিলেটে বন্যা পরিস্থিতি দেখতে এসে পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক জানিয়েছেন সুরমা নদী ভরাট হয়ে যাওয়ায় সিলেটে ঘন ঘন বন্যা হচ্ছে। দ্রুত নদী খনন করা হবে।

সিলেট আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, গত বুধবার সকাল ৬টা থেকে ৯টা পর্যন্ত সিলেটে ৫৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়। এ ছাড়া বৃহস্পতিবার সকাল ৬টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত ২০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়।

সিলেট আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ শাহ মো. সজিব বলেন, সিলেটের আকাশে মেঘ রয়েছে। আগামী দুদিন ভারী বৃষ্টি হতে পারে।

নদ-নদীর পানি কমলেও সিলেটের সব উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত রয়েছে। কোম্পানীগঞ্জ, গোয়াইনঘাট, জকিগঞ্জ, কানাইঘাট, গোলাপগঞ্জ ও সদর উপজেলার কিছু কিছু এলাকায় পানি কমার খবর পাওয়া গেছে। তবে পানিবন্দি মানুষের সংখ্যা এখনও কমেনি।

কোম্পানীগঞ্জের পাড়ুয়া গ্রামের বাসিন্দা জাফরুল হক বলেন, আজকে ঢল থামায় পানি বাড়েনি। তবে এখনও ঘরের ভেতর গলা সমান পানি। এই পানি কমতে অনেকদিন সময় লাগবে। তিনি বলেন, এখন পরিবার নিয়ে আশ্রয় কেন্দ্রে উঠেছি। কিন্তু এখানে রান্না করা খাবারের সংকট রয়েছে। তাই শুকনো খাবার খেয়েই কাটাতে হচ্ছে।

কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, পানিতে তলিয়ে গেছে উপজেলা পরিষদ কার্যালয়। এ ছাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেও পানি ঢুকে পড়েছে। এতে ব্যাহত হচ্ছে সেবা।

পানি উন্নয়ন বোর্ড জানায়, কুশিয়ারা নদীর পানি আমলশীদ পয়েন্টে সকাল ৬টায় ১৬ দশমিক ২৭ সেন্টিমিটার দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। বেলা ১১টায় তা আরও কমে ১৬ দশমিক ২৬ সেন্টিমিটার দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল।

সুরমা নদীর পানি কানাইঘাট পয়েন্টে সকাল ৬টায় ১৩ দশমিক ৫৯ সেন্টিমিটার দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। পরে তা আরও কমতে থাকে। বেলা ১১টায় ১৩ দশমিক ৫৫ সেন্টিমিটার দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। এই পয়েন্টে পানির বিপৎসীমা ১২ দশমিক ৭৫ সেন্টিমিটার।

সুরমা নদীর পানি সিলেট পয়েন্টে সকাল ৬টায় ১১ দশমিক ১৪ সেন্টিমিটার দিয়ে প্রবাহিত হয়। বেলা ১১টায় এই পয়েন্টে ১১ দশমিক ০৭ সেন্টিমিটার দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। এই পয়েন্টেও পানি কমেছে। এই পানির বিপৎসীমা ১০ দশমিক ৮০ সেন্টিমিটার।

সিলেট জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার মো ওমর সানি জানান, বন্যায় সিলেট জেলায় প্রায় ১০ লাখ মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন। জেলার ১৫৩টি পৌরসভা ও ইউনিয়নের মধ্যে ১৩০টিই প্লাবিত হয়েছে।

তিনি জানান, জেলায় বন্যার্তদের জন্য ৬৯৮টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তত রাখা হয়েছে। এর মধ্যে ৩৬১টি আশ্রয়কেন্দ্রে ২১ হাজার ৭০০ মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন।

সুরমা নদী খননের আশ্বাস

পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক বলেছেন, সিলেট নগরকে আগাম বন্যার কবল থেকে রক্ষা করতে সুরমা নদী ড্রেজিং করা হবে। নদীতে পলিমাটি থাকার ফলে এর আগেও ড্রেজিং কাজ ব্যাহত হয়েছিল। প্রকৌশলীদে সঙ্গে আলাপ করেছি দ্রুত সুরমা নদী ড্রেজিং ব্যবস্থা নেওয়া হবে। গতকাল বৃহস্পতিবার (২০ জুন) সিলেট নগরীর ৩৯ নং ওয়ার্ডের টুকেরবাজার এলাকার শাদীখাল পরিদর্শনকালে তিনি এসব বলেন।

তিনি আরও বলেন, দেশের ৯টি স্থানে ড্রেজিং স্টেশন তৈরি করা হচ্ছে। নদী ভাঙন, পলিমাটি অপসারণে নিয়মিত নদী খনন করা হবে। প্রতিমন্ত্রী বলেন, কিশোরগঞ্জের মিঠামইন সড়ক দিয়ে পানি পারাপারের জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ করছে সরকার। প্রধানমন্ত্রী বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বিগ্ন। বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় সবধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

এ সময় সিলেট সিটি কর্পোরেশনের মেয়র মো. আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী, সিলেট পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাবৃন্দ, সিলেট জেলা প্রশাসন কর্মকর্তাবৃন্দ, বিভিন্ন ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

সাত নদীর পানি বিপৎসীমার ওপরে

ভারী বৃষ্টিতে দেশের ৭ নদীর পানি এখন বিপৎসীমার ওপর দিয়ে বইছে। এরমধ্যে সুরমা নদীর পানি সর্বোচ্চ বিপৎসীমার ৮০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে বইছে। এদিকে আগামী দুই দিন ভারী বৃষ্টি অব্যাহত থাকবে বলে আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানায়, ব্রহ্মপুত্র-যমুনা নদ-নদীর পানি বাড়ছে, যা আগামী ৭২ ঘণ্টায় অব্যাহতভাবে বৃদ্ধি পেয়ে কয়েকটি পয়েন্টে বিপৎসীমায় পৌঁছাতে পারে। এদিকে গঙ্গা-পদ্মা নদীগুলোর পানি বাড়ছে, যা আগামী ৪৮ ঘণ্টা পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে।

জানা যায়, সুরমা ছাড়া দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের প্রধান নদীগুলোর পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা আগামী ২৪ ঘণ্টা পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে।

আবহাওয়া সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, আগামী ২৪ ঘণ্টায় দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চল ও পার্শ্ববর্তী উজানে মাঝারি থেকে ভারী এবং আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টায় দেশের উত্তরাঞ্চল ও উজানে ভারি থেকে অতিভারী বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস রয়েছে।

আগামী ২৪ ঘণ্টায় দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের নেত্রকোনা জেলার কয়েকটি নিম্নাঞ্চলে ও সিলেট, সুনামগঞ্জ জেলায় চলমান বন্যা পরিস্থিতি স্থিতিশীল থাকতে পারে। অপরদিকে মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলার মনু-খোয়াই নদী সংলগ্ন নিম্নাঞ্চলের চলমান বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে।

আগামী ৪৮ ঘণ্টায় দেশের উত্তরাঞ্চলের দুধকুমার, তিস্তা ও ধরলা নদীগুলোর পানি বৃদ্ধি পেতে পারে এবং কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট, রংপুর জেলার কয়েকটি নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। আগামী ২৪ ঘণ্টায় তিস্তা নদীর ডালিয়া পয়েন্টে পানি স্বল্পমেয়াদে বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে।

বিপৎসীমার ওপরে থাকা নদীগুলোর মধ্যে আছে- তিস্তা, সুরমা, কুশিয়ারা, মনু, খোয়াই, পুরাতন সুরমা এবং সোমেশ্বরী।

টানা ৫ দিন অব্যাহত থাকতে পারে বৃষ্টি

এদিকে, সক্রিয় মৌসুমী বায়ুর প্রভাবে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে অতিভারী বর্ষণ হতে পারে। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে সারাদেশে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা কিছুটা কমলেও রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় তা অব্যাহত থাকবে।

সক্রিয় মৌসুমী বায়ুর প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগর এলাকায় গভীর সঞ্চালনশীল মেঘমালা সৃষ্টি হওয়ায় চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত গতকালও বহাল রাখা হয়। আবহাওয়া অধিদপ্তরের দেওয়া পূর্বাভাসে এসব কথা জানানো হয়েছে। পূর্বাভাসে আরও বলা হয়েছে, আগামী ৫ দিন বৃষ্টিপাতের প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে।

আবহাওয়া অফিস জানায়, আজ রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে অতিভারী বর্ষণ হতে পারে।

গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুর থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দর সমূহের জন্য আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, রংপুর, দিনাজপুর, ঢাকা, ফরিদপুর, কুষ্টিয়া, যশোর, টাঙ্গাইল, খুলনা, পটুয়াখালী, ময়মনসিংহ এবং সিলেট অঞ্চলের উপর দিয়ে দক্ষিণ অথবা দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে দমকা অথবা ঝোড়োহাওয়াসহ অস্থায়ীভাবে বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এসব এলাকার নৌবন্দর সমূহকে ১ নম্বর সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

গত ২৪ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ বৃষ্টি হয়েছে পঞ্চগড়ে ১৫৩ মিলিমিটার। এর বাইরে সিলেট ও হবিগঞ্জে ১১০ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে।


নরসিংদীতে রাসেল ভাইপার সাপ আতঙ্ক

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নরসিংদী প্রতিনিধি

নরসিংদীর চিনিশপুরে হাড়িধোয়া নদীর পাশে কালীমন্দির (জামতলা) এলাকায় একটি রাসেল ভাইপার সাপ মারা হয়েছে। এঘটনার পর থেকে নদীপাড়ে বাসিন্দারা আতঙ্কে রয়েছে। বিষয়টি আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে নিশ্চিত করেছেন চিনিশপুর ইউপি চেয়ারম্যান মেহেদী হাসান তুহিন।

তিনি বলেন, ‘দুই-তিন আগে স্থানীয় লোকজন নদের পাশে জামতলা এলাকায় একটি রাসেল ভাইপার সাপ মেরে প্রথমে ইউনিয়ন পরিষদের সচিবকে অবগত করেন। পরবর্তীতে আমি খোঁজখবর নেই। স্থানীয়দের কাছ থেকে বিস্তারিত জেনেছি। তারা জানান, একটি রাসেল ভাইপার সাপ মেরেছে। এই এলাকায় নাকি আরেকটি সাপ চোখে পড়েছে। ধারনা করা হচ্ছে একাধিক রাসেল ভাইপার সাপ রয়েছে। রাতে ও দিনে চলাচলে চিনিশপুরবাসী সাবধানতা অবলম্বন করতে সচেতন করা হচ্ছে।

স্থানীয়রা জানান, হাড়িধোয়া নদীটি মেঘনার মোহনা থেকে শুরু হয়ে নরসিংদী সরকারি গুদাম হয়ে পৌর শহর ও হাজিপুর গ্রামের মাঝ দিয়ে প্রবাহিত হয়ে শিবপুর উপজেলার পুটিয়া বাজার হয়ে ভেলানগর দিয়ে চিনিশপুর গ্রামে প্রবাহিত হয়ে পলাশের শিতলক্ষায় যোগ হয়েছে। বিভিন্ন জেলায় নদী বেষ্টনী এলাকায় রাসেল ভাইপার সাপ আতঙ্কের পর এবার নরসিংদীর চিনিশপুরে এই প্রথম চোখে পরে সাপটি। এ বিষয়ে আতঙ্কে রয়েছে তারা।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে নরসিংদী সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আছমা সুলতানা নাসরিন বলেন, এই প্রথম আপনার কাছে জানতে পেড়েছি, চিনিশপুরে বিষাক্ত রাসেল ভাইপার সাপ মারা হয়েছে। আমরাও বিষয়টি নিয়ে সবাইকে সচেতন করে দিবো।

নরসিংদীর সিভিল সার্জন ডা. ফারহানা আহমেদ বলেন, প্রতি সপ্তাহে আমাদের সভা হয়, এসব সভায় আলোচনা হয় বিষাক্ত প্রাণীর কামড় আক্রমণ ও ক্ষতি থেকে প্রতিকার হওয়ার ভেকসিন সম্পর্কে। এ ছাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে সাপে কাটা, কুকুরের কামড়ের ভ্যাকসিন রয়েছে। তবে রাসেল ভাইপার সাপ নিয়ে বিশেষ কোনো ভ্যাকসিন নেই আমাদের কাছে। এটি একটি বিষাক্ত সাপ আমরা অবগত আছি। এ বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকা অতি জরুরি।

বিষয়:

সিলেটে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা স্থগিত

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাসস

বন্যা পরিস্থিতির অবনতির কারণে সিলেট বিভাগের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা আগামী ৮ জুলাই পর্যন্ত স্থগিত করা হয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার আন্তঃশিক্ষা বোর্ডের সমন্বয় কমিটির সভাপতি এবং ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক তপন কুমার একথা জানান। তিনি জানান, আজ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে ৯ জুলাই থেকে অনুষ্ঠাতব্য পরীক্ষাগুলো যথানিয়মে হবে।

তপন কুমার বলেন, এখানকার সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় ৮ জুলাই পর্যন্ত এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। বন্যার কারণে সিলেট বিভাগের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো বন্যাকবলিত মানুষদের আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। পরবর্তীতে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হলে সে অনুযায়ী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।

উল্লেখ্য, পূর্বনির্ধারিত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী চলতি মাসের ৩০ জুন থেকে সারা দেশে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। সম্প্রতি শিক্ষা বোর্ডের প্রকাশিত এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার রুটিন অনুযায়ী সিলেট বিভাগে ৮ জুলাই পর্যন্ত বাংলা প্রথম পত্র ও দ্বিতীয়পত্র এবং ইংরেজি প্রথমপত্র ও ইংরেজি দ্বিতীয়পত্রের পরীক্ষা হচ্ছে না। পরবর্তীতে এসব পরীক্ষার সময়সূচি জানিয়ে দেবে শিক্ষা বোর্ড।

বিষয়:

মৌলভীবাজারে বন্যার পানিতে ডুবে দুই কিশোরের মৃত্যু

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মৌলভীবাজার প্রতিনিধি

মৌলভীবাজার সদর উপজেলায় বন্যার পানিতে ডুবে দুই কিশোরের মৃত্যু হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার চাঁদনীঘাট ইউনিয়নের পশ্চিম শ্যামেরকোনা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত দুই কিশোরের নাম, হৃদয় আহমেদ (১৭) ও ছাদি মিয়া (১২)। তারা পশ্চিম শ্যামেরকোনা গ্রামের টাওয়ার রোডের জমির মিয়ার ছেলে হৃদয় ও পছন মিয়ার ছেলে ছাদি।

মৌলভীবাজার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হারুনোর রশিদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

স্থানীয় বাসিন্দা লুতফুর রহমান জানান, বৃহস্পতিবার সকালে কলাগাছের ভেলায় করে হৃদয় ও ছাদি তারা দুজন শ্যামেরকোনা এলাকার খেওয়াঘাট চলে যায়। সেখানে কলাগাছের ভেলা ভেঙ্গে গিয়ে ডুবে যায়। এই সময় তারা দুজন সাঁতার কাটতে কাটতে ডুবে গিয়ে কিছু দূর ভেসে ওঠে। পরে উদ্ধার করে মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে আসলে চিকিৎসক তাদেরকে মৃত ঘোষণা করেন।

স্থানীয় ইউপি সদস্য ফজলুর রহমান বলেন, ‌‘ধলাই নদী চৈত্রঘাট এলাকায় ভেঙ্গে চাঁদনীঘাট ইউনিয়নের শ্যামেরকোনা গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। বন্যার সময় আজ সকালে হৃদয় ও সাদি কলাগাছের ভেলা বানিয়ে ঘোরাঘুরি করছিল। খেওয়াঘাট তাদের কলাগাছের ভেলা ভেঙ্গে যায়। এসময় তারা দুজন পানিতে ডুবে মারা যায়।’


তিস্তায় নৌকা ডুবে শিশু নিহত, নিখোঁজ ৮

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ২০ জুন, ২০২৪ ১২:৩৪
কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি

কুড়িগ্রামের উলিপুরে তিস্তা নদীতে নৌকাডু‌বির ঘটনা ঘটেছে। বিয়ের দাওয়াত শেষে ফেরার প‌থে ২৫ থে‌কে ২৬ জন যাত্রী নি‌য়ে গতকাল বুধবার সন্ধ্যার দিকে নদীতে ডুবে যায় নৌকাটি। এতে আড়াই বছরের এক কন্যা শিশু নিহত হয়েছে। এ ছাড়া এ ঘটনায় ৭ থেকে ৮ জন নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানা গেছে।

বিষয়‌টি নি‌শ্চিত ক‌রে‌ছেন উলিপু‌র ফায়ার সার্ভি‌সের স্টেশন ইনচার্জ আব্বাস উদ্দিন।

তি‌নি জানান, এক‌টি নৌকায় ২৫ থে‌কে ২৬ জন যাত্রী নি‌য়ে দাওয়াত খে‌য়ে সুন্দরগঞ্জ উপ‌জেলার বেলকায় যাচ্ছিলেন। প‌থে তিস্তা নদীর তীব্র স্রো‌তে নৌকা‌টি ডু‌বে যায়। এতে অন‌্যরা নদী সাঁত‌রে পা‌র হতে পার‌লেও ৭ থে‌কে ৮ জন নিখোঁজ রয়েছে।

রাতেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করার সময় জেলা প্রশাসক সাইদুল আরীফ বলেন, ‘এক শিশু নিহত হয়েছে এটা নিশ্চিত। তবে নিখোঁজ হবার বিষয়ে এখনও আমরা নিশ্চিত হতে পারিনি।’


সিলেটের বন্যা: লাখ লাখ মানুষ পানিবন্দি, ঝুঁকিতে বিদ্যুৎকেন্দ্র

সিলেটের কোম্পানিগঞ্জে টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে শহরের অধিকাংশ এলাকা পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় বানভাসী মানুষের দুর্ভোগের শেষ নেই। গতকাল কোম্পানিগঞ্জ সদর থেকে তোলা। ছবি: ফোকাস বাংলা
আপডেটেড ২০ জুন, ২০২৪ ০০:৪৯
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

পবিত্র ঈদুল আজহার ছুটিতে সারাদেশে যখন আনন্দমুখর পরিবেশ তখন বিপরীত চিত্র সিলেট বিভাগের চার জেলায়। এখানে ঈদে কোরবানি পালন হয়েছে ঠিকই কিন্তু, ঈদের দুই তিন দিন থেকে পাহাড়ি ঢল আর অতিবর্ষণে নদ-নদীর পানি বাড়তে থাকায় প্লাবিত হয়ে পড়ে নিম্নাঞ্চল। সেই পানি বাড়তে বাড়তে এখন টইটম্বুর হয়ে বিপৎসীমার ওপরে চলে গেছে শহরের সবচেয়ে বড় প্রতিবেশী সুরমা নদী। পুরো জেলায় শুকনো মাঠ খুঁজে পাওয়া এখন দায়। নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার পর ঈদের দিন থেকেই সিলেট শহরে ঢুকে গেছে বন্যার পানি। গত ২০ দিনের মধ্যে সিলেটে এটি দ্বিতীয় দফায় প্লাবিত হওয়ার ঘটনা।

সিলেট ব্যুরো প্রধান দেবাশীষ দেবু জানান, এদিকে সৃষ্ট বন্যায় ঝুঁকিতে পড়েছে সিলেটের দক্ষিণ সুরমার বরইকান্দি এলাকার বিদ্যুতের সাবস্টেশন। সুরমা নদী ছাপিয়ে এই বিদ্যুৎকেন্দ্রে পানি প্রবেশ করতে শুরু করেছে। এটি প্লাবিত হলে দক্ষিণ সুরমার প্রায় ৫০ হাজার গ্রাহক বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়তে পারেন।

গত মঙ্গলবার বিকেল থেকে এই বিদ্যুৎকেন্দ্র রক্ষায় কাজ শুরু করেছে সেনাবাহিনী। তাদের সহায়তা করছে সিলেট সিটি করপোরেশন ও বিদ্যুৎ বিভাগ। নদীর পাড়ে বালির বস্তা ফেলে পানি আটকানোর চেষ্টা করছে তারা।

এদিকে, পানি বেড়ে যাওয়ায় সিলেটের প্রায় সব পর্যটন কেন্দ্র বন্ধ ঘোষণা করেছে জেলা প্রশাসন। এসব পর্যটন কেন্দ্রে পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত পর্যটকদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।

ওইদিন বিকেলে সেনাবাহিনীর এক টিম নিয়ে সাব-স্টেশনটি পরিদর্শন করেছেন সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী। এ সময় তিনি বলেন- এই সাব-স্টেশনে কোনো সমস্যা হলে চালু রাখতে সর্বাত্মক চেষ্টা চালানো হবে। এ ছাড়া যাতে পানি না উঠে সে জন্যও কাজ করা হচ্ছে।

জানা গেছে, দক্ষিণ সুরমার বরইকান্দি উপ-কেন্দ্রটি সিলেটে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিউবো) বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ সিলেট-৩ এর অধীনস্থ। এই উপ-কেন্দ্রের মাধ্যমে সিলেট রেলওয়ে স্টেশন, বরইকান্দি, কামালবাজার, মাসুকগঞ্জ, বিসিক, লালাবাজার, শিববাড়ী ও কদমতলীর কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালসহ সংলগ্ন এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়।

বিউবো বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ সিলেট-৩ নির্বাহী প্রকৌশলী শ্যামল চন্দ্র সরকার বলেন, উপকেন্দ্রটি ঝুঁকিতে রয়েছে। পানি উঠার আশঙ্কা রয়েছে। তবে এখনো উঠেনি। আমাদের সার্বিক প্রস্তুতি রয়েছে। সেনাবাহিনীও সাহায্য করছে।

এর আগে ২০২২ সালের বন্যায়ও তলিয়ে গিয়েছিলো এ বিদ্যুৎকেন্দ্র।

উল্লেখ্য, ২০ দিনের মাথায় দ্বিতীয় দফা পানিতে ভাসছে সিলেট। সোমবার ঈদের দিন সকাল থেকে সিলেটের অধিকাংশ এলাকায় বন্যা পরিস্থিতি দেখা দেয়।

সব পর্যটন কেন্দ্র বন্ধ

সিলেটের বেশির ভাগ পর্যটন কেন্দ্রের অবস্থান গোয়াইনঘাট উপজেলায়। এ উপজেলায় উপজেলায় বন্যা পরিস্থিতি অবনতি ঘটায় জননিরাপত্তা বিবেচনায় জাফলং, জলারবন রাতারগুল, বিছনাকান্দি ও পান্থুমাই পর্যটন স্পট অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। পরবর্তী ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত এসব স্পটে পর্যটকরা আসতে পারবেন না বলে জানিয়েছেন উপজেলা পর্যটন উন্নয়ন কমিটির আহবায়ক ও গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. তৌহিদুল ইসলাম।

এছাড়া কোম্পানীগঞ্জের সাদাপাথর পর্যটন কেন্দ্রেও পর্যটকদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।

সিসিকের ছুটি বাতিল

বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় সিটি কর্পোরেশনের (সিসিক) সব কর্মকর্তা-কর্মচারীর ছুটি বাতিল করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সিসিকের জনসংযোগ কর্মকর্তা সাজলু লস্কর।

তিনি জানান, গত মঙ্গলবার দুপুর ১টায় দক্ষিণ সুরমায় সিটি করপোরেশনের ২৮ ও ২৯ নং ওয়ার্ডের আশ্রয়কেন্দ্রে যান সিসিক মেয়র। এ সময় তিনি বন্যা দুর্গতদের জন্য সিসিকের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

এরপর দক্ষিণ সুরমায় সিসিকের ২৬নং ওয়ার্ডের টেকনিক্যাল কলেজ রোডসহ কয়েকটি বন্যা কবলিত এলাকা পরিদর্শন করেন মেয়র আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী।

সিলেট জেলায় আক্রান্ত প্রায় চার লাখ

সিলেটের জেলা প্রশাসন থেকে প্রেরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত জেলায় প্রায় ৩ লাখ ৭১ হাজার মানুষ বন্যায় আক্রান্ত হয়েছেন। ইতোমধ্যে জেলার কোম্পানীগঞ্জ, কানাইঘাট, গোয়াইনঘাট, জৈন্তাপুর ও জকিগঞ্জ উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা তলিয়ে গেছে। বন্যার্তদের জন্য জেলায় ৬১৯টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তত রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক শেখ রাসেল হাসান।

মৌলভীবাজারে ডুবল ৩৩২ গ্রাম, দুই লাখ মানুষ পানিবন্দি:

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি জানান, গত কয়েকদিনে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে ও ভারী বৃষ্টিপাতে সৃষ্ট বন্যায় মৌলভীবাজারের ছয় উপজেলার ৩৭ ইউনিয়নের ৩৩২টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এতে এক লাখ ৯৩ হাজার ৯৯০ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। ইতোমধ্যে বড়লেখা উপজেলার প্রশাসনের পক্ষ থেকে তালিমপুর ইউনিয়নের টেকাহালী উচ্চ বিদ্যালয় ও হাকালুকি উচ্চ বিদ্যালয় আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা কয়েকটি পরিবারের মাঝে শুকনো খাবার ও স্যালাইন বিতরণ করা হয়েছে।

বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত উপজেলাগুলোর মধ্যে বড়লেখার ১০টি, জুড়ীর ছয়টি, কুলাউড়ার ছয়টি, সদরের চারটি ও রাজনগর উপজেলার ছয়টি ইউনিয়ন, শ্রীমঙ্গল পাঁচটি ইউনিয়ন প্লাবিত হয়।

মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসক উর্মি বিনতে সালাম বুধবার (১৯ জুন) সকালে জানিয়েছেন, জেলার ৬টি উপজেলায় মোট ৯৮টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এর মধ্যে ৫৭১টি পরিবার আশ্রয় নিয়েছেন। ৫৬টি মেডিক্যাল টিম প্রস্তুত রয়েছে।

গত ২৪ ঘণ্টায় পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় পানিবন্দি লোকদের উদ্ধারের লক্ষ্যে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ হতে প্রয়োজনীয় তৎপরতা চালানো হচ্ছে। বন্যার সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের জন্য জেলা প্রশাসকের কার্যালয় এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়গুলোতে কন্ট্রোলরুম স্থাপন করা হয়েছে। প্রতিটি ইউনিয়নে ট্যাগ কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়েছে। বন্যার্তদের স্বাস্থ্যসেবা প্রদানের জন্য ইউনিয়নভিত্তিক মেডিক্যাল টিম গঠন করা হয়েছে।

সরকারি ও বেসরকারিভাবে ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। বন্যার্তদের সার্বিক সহযোগিতা প্রদান ও উদ্ধার কার্যক্রম চালানোর লক্ষ্যে স্বেচ্ছাসেবক টিম (স্কাউট, রোভার স্কাউট, রেড ক্রিসেন্ট, যুব রেড ক্রিসেন্ট, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স) প্রস্তুত রাখা হয়েছে। পুরো জেলায় বন্যা পরিস্থিতির ওপর সতর্ক দৃষ্টি রাখা হচ্ছে।

মৌলভীবাজার পওর বিভাগ, বাপাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী জাবেদ ইকবাল জানান, বুধবার সকাল ৯টায় ধলাই নদী (রেলওয়ে ব্রিজ) এলাকায় পানি বিপদসীমার ২৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। আর মনু নদী (চাঁদনীঘাট) এলাকায় পানি বিপৎসীমার আট সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে ও জুড়ী নদীর পানি বিপদসীমার ১৯৯ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। কুশিয়ারা নদীর (শেরপুর) পানি বিপৎসীমার ১২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

কুলাউড়া প্রতিনিধি জানান, টানা বৃষ্টি ও উজানের ঢলে মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি রয়েছেন। গতকাল বুধবার দুপুরে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কার্যালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

ঈদের দিন ভোররাত থেকে শুরু হওয়া ভারি বর্ষণ এখন পর্যন্ত অব্যাহত আছে। পাহাড়ি ঢল ও তিন দিনের টানা বৃষ্টিতে উপজেলার ১টি পৌরসভাসহ ৬টি ইউনিয়ন প্লাবিত হয়ে লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি রয়েছেন। অনেক রাস্তাঘাট তলিয়ে যাওয়ায় যান চলাচলও বন্ধ রয়েছে। তিন দিনের টানা বৃষ্টিতে উপজেলা পরিষদ এলাকা, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, পৌর শহরের মাগুরা, সাদেকপুর, বিহালা, সোনাপুর, কাদিপুর ইউনিয়নের ছকাপন, মৈন্তাম, ভাগমতপুর, গুপ্তগ্রাম, তিলকপুর, ভূকশিমইল ইউনিয়নের সাদিপুর, কোরবানপুর, মুক্তাজিপুর, জাবদা, কালেশার, কাইরচক, চিলারকান্দি, কানেহাত, জয়চণ্ডী ইউনিয়নের ঘাগটিয়া, মিরবক্সপুর, কামারকান্দি, কুটাগাঁও, কুলাউড়া সদর ইউনিয়নের দেখিয়ারপুর, কুলাউড়া গ্রাম, বনগাঁও, গাজীপুর আংশিকসহ অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও প্লাবিত হয়েছে।

প্রকল্প বাস্তবায়ন কার্যালয় জানিয়েছে, বুধবার পর্যন্ত কুলাউড়ার ৬০টি গ্রাম ও এলাকা প্লাবিত। এসব গ্রাম ও এলাকার লক্ষাধিক মানুষ বন্যা আক্রান্ত। এ ছাড়া ২২টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। এতে ১৯৭টি পরিবার আশ্রয় নিয়েছে। বন্যার্তদের স্বাস্থ্যসেবা প্রদানের জন্য ১৪টি মেডিকেল টিম গঠন করে কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।

এদিকে মঙ্গলবার দিনব্যাপী বিভিন্ন এলাকা ঘুরে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে খাবার বিতরণ করেন মৌলভীবাজার-২ আসনের সংসদ সদস্য শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল, কুলাউড়া পৌরসভার মেয়র অধ্যক্ষ সিপার উদ্দিন আহমদ ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপকমিটির সদস্য, স্কোয়াড্রন লিডার (অব.) সাদরুল আহমেদ খান।

মৌলভীবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জাবেদ ইকবাল বলেন, জেলার সবগুলো নদীর পানি বিপৎসীমার উপরে প্রবাহিত হচ্ছে। বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হবে।

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, সুনামগঞ্জ শহরে আশ্রয়কেন্দ্রে এসে খাবারের কষ্টে পড়েছেন সুনামগঞ্জের বন্যার্তরা। শিশুদের নিয়ে মায়েরাও রয়েছেন কষ্টে। ক্ষিদে সহ্য করতে না পেরে কান্নাকাটি করছে শিশুরা। বুধবার বেলা আড়াইটায় শহরের এইচএমপি উচ্চ বিদ্যালয়ের আশ্রয় কেন্দ্রে গিয়ে এই চিত্র দেখা গেছে।

সুনামগঞ্জ শহরের ময়নার পয়েন্টে ভাড়া বাসায় থাকেন আরিফুলন্নেছা। তিনি জানালেন, ঘরে কোমর সমান পানি। গত কয়েকদিন বন্যার জন্য তার গাড়ী চালক স্বামীর কোন রোজগার হয়নি। দুই দিন আগে এখানে এলেও তারা কোন সহায়তা পান নি। রান্না-বান্না করার সুযোগও নেই। কোন রকম দিন কাটছে তাদের। তিনি জানান, আজ সকালে একজন এসে পাউরুটি ও কলা দিয়েছে।

আরিফুলন্নেছার কথার সমর্থন জানালের পাশে থাকা তাসলিমা। এ সময় খাবারের জন্য ছোট্ট শিশু কান্না করায় শাসন করতে দেখা যায় তাসলিমাকে।

আশ্রয় কেন্দ্রে আসা মিনা লাল, রিতা লাল, সাম, রাবেয়া, সাজন বললেন, মঙ্গলবার থেকে আশ্রয় কেন্দ্রে আছি। কেউ আমাদের এখনও সাহায্য করেনি। হাতে টাকাও নেই, তাই কিছু কিনতেও পারছি না। বললেন, আপনারা দয়া করে কিছু করুন।

শান্তিবাগের বাসিন্দা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক (একজন নাইট ডিউটি করেন ও অন্যজন দিনমজুর) বললেন, ঘরে কোমর পানি। ঘরের জিনিসপত্র কিছু আসার সময় নিয়ে এসেছি, কিছু পাশের আরেক বাসায় রেখেছি। অন্যান্য সব কিছু পানির নীচে। বললেন, এখানে বাথরুম ও খাবার পানির সুবিধা থাকলেও খাবার কষ্টে আছি আমরা। সরকারি কোন ধরনের সহযোগিতা পাইনি। মঙ্গলবার রাতে আমরা আশ্রয় কেন্দ্রে এসেছি। আজ (বুধবার) সকালে এক বোতল পানি ও নাটি বিস্কুট দিয়ে গেছে একজন।

এদিকে তেঘরিয়ার বাসিন্দা পত্রিকা বিপণন কর্মী নুর হোসেন বললেন, তেঘরিয়া মসজিদে আশ্রয় নিয়েছি। আমাদের পাড়ার ২০ ঘর এখানে আশ্রয় নিয়েছে। এখন পর্যন্ত কেউ সহায়তা করেনি। তিনি বলেন, বন্যার পানির সঙ্গে ড্রেনের ময়লা-আবর্জনা ঘর-বাড়িতে গিয়ে ঢুকছে।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রাশেদ ইকবাল চৌধুরী বললেন, ৫৪১ টি আশ্রয়কেন্দ্রে ওঠেছেন ১৮ হাজার ৪২৯ জন বন্যার্ত মানুষ। যারা আশ্রয় কন্দ্রে এসেছেন সকলেই খাবার নিয়ে উঠেছেন। যারা খাবার নিয়ে উঠেননি তারা চাইলেই শুকনো খাবারসহ খাদ্য সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।


ঈদের ছুটি শেষে বেনাপোল দিয়ে আমদানি-রপ্তানি শুরু

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বেনাপোল প্রতিনিধি

ঈদুল আজহায় টানা পাঁচ দিন বন্ধ থাকার পর বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে দুই দেশের মধ্যে আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য শুরু হয়েছে।

আজ বুধবার সকাল ৯টা থেকে এই স্থলবন্দরের আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম শুরু হয়। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত ১০২ ট্রাক পণ্য আমদানি ও ২৫ ট্রাক পণ্য রপ্তানি হয়েছে।

বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আলহাজ শামসুর রহমান জানান, ঈদুল আজহা উপলক্ষে গত ১৪ জুন থেকে ১৮ জুন পর্যন্ত দুই দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য বন্ধ ছিল। ফলে, বন্দর এলাকায় তীব্র যানজট দেখা দিয়েছে। আটকে থাকা বেশির ভাগ পণ্যের মধ্যে বিভিন্ন শিল্প ও গার্মেন্টশিল্পের কাঁচামাল আছে।

বেনাপোল চেকপোস্ট ইমিগ্রেশন পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজহারুল ইসলাম জানান, ঈদে টানা পাঁচ দিন বেনাপোল বন্দর দিয়ে আমদানি-রপ্তানি বন্ধ থাকলেও যাত্রী পারাপার স্বাভাবিক ছিল। পাঁচ দিনে বেনাপোল বন্দর দিয়ে ৩৪ হাজার যাত্রী ভারতে গেছেন। যাত্রীদের দুর্ভোগের বিষয়টি মাথায় রেখে ইমিগ্রেশনের সব কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ছুটি বাতিল করা হয়েছিল।

বেনাপোল বন্দরের ডিরেক্টর (ট্র্যাফিক) রেজাউল করিম জানান, ঈদুল আজহার ছুটি শেষে আজ সকাল থেকে বেনাপোল দিয়ে ভারতের সঙ্গে আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য পুনরায় শুরু হয়েছে।


মৌলভীবাজারের জুড়ীতে ভয়াবহ বন্যা, আশ্রয়কেন্দ্রে ভিড় বাড়ছে

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
জুড়ী (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি

টানা বর্ষণ ও ভারতের উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের পানিতে মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলায় ভয়াবহ বন্যা দেখা দিয়েছে। ঢলের পানিতে নদ-নদীর পানি বেড়ে যাওয়ায় জুড়ী শহরসহ উপজেলার বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে ইতোমধ্যে ৫০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়েছেন।

ঢলের পানিতে প্লাবিত হয়েছে বেশ কিছু এলাকার সড়ক। সেই সঙ্গে তলিয়ে গেছে বিভিন্ন এলাকার ঘরবাড়ি ও দোকানপাট। বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে উপজেলার জায়ফরনগর ও পশ্চিমজুড়ী ইউনিয়ন।

ঢলের পানি উপজেলার বিভিন্ন নিম্নাঞ্চলে প্রবেশ করায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন ওই অঞ্চলের মানুষজন। অনেকেই তাদের বাড়ি ঘর ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্র কিংবা উঁচু এলাকায় আত্মীয় স্বজনদের বাসায় ছুটছেন। নিম্নাঞ্চলের মানুষদের অনেকেই জানিয়েছেন, ঢলের পানিতে তাদের ঘরবাড়ি তলিয়ে গেছে। এখন নিরুপায় হয়ে আশ্রয়কেন্দ্রে যাচ্ছেন।

জুড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লুসিকান্ত হাজং জানান, বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সকল ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে সাবেক পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়কমন্ত্রী ও স্থানীয় সংসদ সদস্য মো. শাহাব উদ্দিন (এমপি) জায়ফরনগর ও পশ্চিমজুড়ী ইউনিয়নের বন্যা কবলিত বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেন। এসময় তিনি জুড়ী মডেল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় আশ্রয়কেন্দ্র ও মক্তদীর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নেওয়া পরিবারের খোঁজখবর নেন। তাদের মধ্যে খাবার ও ত্রাণ বিতরণ করেন।

এ সময় তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন জুড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লুসিকান্ত হাজং, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এসএম মাইন উদ্দিন, জেলা পরিষদ সদস্য বদরুল ইসলাম, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান জুয়েল আহমদ, সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান রিংকু রঞ্জন দাস, বড়লেখা উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক একেএম হেলাল উদ্দিন, জায়ফরনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাসুম রেজা।

গতকাল মঙ্গলবার রাতে জুড়ী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কিশোর রায় চৌধুরী মনির উদ্যোগে বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে বন্যাদুর্গত মানুষের মধ্যে শুকনা খাবার বিতরণ করা হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন পশ্চিম জুড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আনফর আলী, সাবেক ছাত্রলীগ নেতা জাহাঙ্গীর আলম সহ আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের একাংশ।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান আজ বুধবার সকালে জানান, ‘বন্যায় ইতিমধ্যে উপজেলার ৬৫ টি গ্রাম প্লাবিত হয়ে প্রায় ৫০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়েছে। বন্যা পরিস্থিতি মোকাবেলায় জুড়ীতে ১৪টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। এসব আশ্রয়কেন্দ্রে এখন পর্যন্ত ৬০টি পরিবার আশ্রয় নিয়েছে।’

উপজেলা চেয়ারম্যান কিশোর রায় চৌধুরী মনি মুঠোফোনে বলেন, ‘আমি এখন আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করছি। ১৬টি আশ্রয়কেন্দ্রে ১৬০ টি পরিবারের প্রায় ৫০০ জন মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন। এই সংখ্যা সময়ের সঙ্গে সেঙ্গ বাড়ছে। আমরা শুকনো খাবার বিতরণ করছি। গতরাতে জায়ফরনগর ইউনিয়নের পক্ষ থেকে রান্না করা খাবার ও পশ্চিম জুড়ী ইউনিয়নের পক্ষ থেকে শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে। উপজেলা পরিষদের পক্ষ থেকে ত্রাণ ও সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।’

বিষয়:

সিলেটে বন্যা: বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র রক্ষায় কাজ করছে সেনাবাহিনী

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
সারা বাংলা ডেস্ক

সিলেট সিটি করপোরেশনের অনুরোধে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত বিদ্যুৎকেন্দ্রে রক্ষায় সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।

গতকাল মঙ্গলবার দক্ষিণ সুরমা বড়ইকান্দি বিদ্যুৎ উপকেন্দ্রটি রক্ষা করতে সেনাপ্রধান জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদের নির্দেশনায় ‘ইন এইড টু দি সিভিল পাওয়ার’-এর আওতায় মাঠে নামেন সেনাসদস্যরা।

এ বিদ্যুৎ উপকেন্দ্রটি থেকে সিলেট রেলওয়ে স্টেশন, শহরের পার্শ্ববর্তী বরইকান্দি, কামালবাজার, মাসুকগঞ্জ, বিসিক, লালাবাজার, শিববাড়ী ও কদমতলীর কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালসহ সংলগ্ন এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়। এসব এলাকায় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে সেনাসদস্যরা কাজ করে যাচ্ছেন।

উল্লেখ্য, সিলেটে অব্যাহত রয়েছে পাহাড়ি ঢল। এতে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। প্লাবিত হচ্ছে নতুন নতুন এলাকা। আজ বুধবার সকাল পর্যন্ত পানিবন্দি আছেন প্রায় সাত লাখ লোক।

পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সিলেট কার্যালয় সূত্র আজ বুধবার সকাল ৯টায় জানিয়েছে, সুরমা নদীর কানাইঘাট পয়েন্টে সুরমা নদীর পানি বিপৎসীমার ৯১ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। একই নদীর সিলেট পয়েন্টে পানি বইছে বিপৎসীমার ৩৭ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে। কুশিয়ারা নদীর আমলশীদ পয়েন্টে বিপৎসীমার ৪৬ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। একই নদীর ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্টে ৯২ ও শেরপুর পয়েন্টে বিপৎসীমার ১২ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে পানি বইছে। এ ছাড়া সারি-গোয়াইন নদীর সারিঘাট পয়েন্টে বিপৎসীমার ০.৯ সে.মি সেন্টিমিটার উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে ।

সিলেট আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ শাহ মো. সজিব জানান, সিলেটে মঙ্গলবার সকাল ৬টা থেকে বুধবার ৬টা পর্যন্ত ১০০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে এবং বুধবার সকাল ৬টা থেকে ৯টা পর্যন্ত বৃষ্টি ৫৫ মি.মি. বৃষ্টিপাত হয়েছে।

আগামী কয়েক দিন সিলেটে টানা বৃষ্টি হতে পারে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

বিষয়:

সিলেটে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি, পানিবন্দি সাত লাখ মানুষ

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১৯ জুন, ২০২৪ ১২:১৪
দেবাশীষ দেবু, সিলেট প্রতিনিধি

সিলেটে গত ২৪ ঘণ্টায় বৃষ্টি কিছুটা কমেছে। তবে অব্যাহত রয়েছে পাহাড়ি ঢল। এতে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। প্লাবিত হচ্ছে নতুন নতুন এলাকা। আজ বুধবার সকাল পর্যন্ত পানিবন্দি আছেন প্রায় সাত লাখ লোক।

সিলেট জেলা প্রশাসনের তথ্য মতে, গতকাল মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত নগরের ২১টি ওয়ার্ড ও জেলার ১ হাজার ৩২৩টি গ্রাম প্লাবিত হয়ে পড়েছে। এতে ৬ লাখ ৭৫ হাজার ৯৩৭ জন মানুষ বন্যা আক্রান্ত হয়েছেন। এর মধ্যে নগরের অর্ধলক্ষ লোক পানিবন্দি।

জেলা ও নগর মিলিয়ে ৬২৭টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। এর মধ্যে নগরে ৮০টি। এসব আশ্রয়কেন্দ্রে ১৭ হাজার ২৮৫ জন মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন বলে জানিয়েছে জেলা প্রশাসন। তবে বেশিরভাগ মানুষজন নিজের ঘর-বাড়ি ছেড়ে আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে ইচ্ছুক নন। অনেকেই আশ্রয় নিয়েছেন পাড়া-প্রতিবেশিদের উঁচু বাসা-বাড়ি বা আত্মীয়-স্বজনের ঘরে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সিলেট কার্যালয় সূত্র আজ বুধবার সকাল ৯টায় জানিয়েছে, সুরমা নদীর কানাইঘাট পয়েন্টে সুরমা নদীর পানি বিপৎসীমার ৯১ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। একই নদীর সিলেট পয়েন্টে পানি বইছে বিপৎসীমার ৩৭ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে। কুশিয়ারা নদীর আমলশীদ পয়েন্টে বিপৎসীমার ৪৬ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। একই নদীর ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্টে ৯২ ও শেরপুর পয়েন্টে বিপৎসীমার ১২ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে পানি বইছে। এ ছাড়া সারি-গোয়াইন নদীর সারিঘাট পয়েন্টে বিপৎসীমার ০.৯ সে.মি সেন্টিমিটার উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে ।

সিলেটের সীমান্তবর্তী পাঁচ উপজেলা গোয়াইনঘাট, কানাইঘাট, জৈন্তাপুর, কোম্পানীগঞ্জ ও জকিগঞ্জের পাশাপাশি বন্যা ছড়িয়ে পড়েছে সদর, দক্ষিণ সুরমা, বিশ্বনাথ, ফেঞ্চুগঞ্জ, গোলাপগঞ্জ ও বালাগঞ্জ উপজেলায়। এসব উপজেলার নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে।

২০ দিনের ব্যবধানে সিলেটে এনিয়ে দ্বিতীয় দফা বন্যা দেখা দিয়েছে। এর আগে গত ২৭ মে সিলেট বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এতে জেলার সব উপজেলার সাড়ে ৭ লাখ মানুষ আক্রান্ত হন। সেই বন্যার পানি পুরোপুরি নামার আগেই ১৫ জুন থেকে ফের বন্যা কবলিত হয়ে পড়ে সিলেট।

এর মধ্যে ঈদের দিন (১৭ জুন) ভোররাত থেকে সিলেটে শুরু হয় ভারী বর্ষণ। সঙ্গে নামে পাহাড়ি ঢল। সকাল হতে না হতেই তলিয়ে যায় নগরের অনেক এলাকা। জেলার বিভিন্ন স্থানেও বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হতে থাকে। মাটি হয়ে যায় সিলেটের ঈদ আনন্দ। ২০২২ সালে সিলেটে স্মরণকালের ভয়াবহ বন্যা হয়। এবারের বন্যা দুই বছর আগের সেই স্মৃতি মনে করিয়ে দিচ্ছে সিলেটবাসীকে।

নগরের তালতলা এলাকার বাসিন্দা নিলয় দাশ দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘যেভাবে পানি বাড়ছে তাতে এবার মনে হয় ২০২২ সালের বন্যাকেও ছাপিয়ে যাবে। গতকালকেই আমার বাসায় পানি ঢুকে গেছে। পরিবারের লোকদের আত্মীয়ের বাড়িতে পাঠিয়ে আমি একটি হোটেলে আশ্রয় নিয়েছি।’

ইতোমধ্যে নগরের শাহজালাল উপশহর, যতরপুর, মেন্দিবাগ, শিবগঞ্জ, রায়নগর, সোবহানীঘাট, কালিঘাট, কামালগড়, মাছিমপুর, তালতলা, জামতলা, কাজিরবাজার, মাদিনা মার্কেট, আখালিয়া, মেজরটিলা ও দক্ষিণ সুরমার লাউয়াই, বরইকান্দি, আলমপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় অনেকের বাসাবাড়িতে গলা পর্যন্ত পানি উঠেছে। নিচু এলাকাগুলোর কলোনি বা বাসা-বাড়ি প্রায় পুরোটাই তলিয়ে গেছে বন্যার পানিতে। এতে চরম বিপাকে এসব এলাকার মানুষ। অনেকে গেছেন আশ্রয়কেন্দ্রে, আবার অনেকে নিজের বাসা-বাড়ি ছেড়ে যেতে চাচ্ছেন না।

অপরদিকে, সিলেট সদর, গোয়াইনঘাট, কোম্পানীগঞ্জ ও জৈন্তাপুরসহ কয়েকটি উপজেলার গ্রামীণ অনেক রাস্তাঘাট তলিয়ে যাওয়ায় সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। অনেক কৃষিজমির ফসল তলিয়ে গেছে, ভেসে গেছে পুকুরের মাছ।

সিলেট আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ শাহ মো. সজিব জানান, সিলেটে মঙ্গলবার সকাল ৬টা থেকে বুধবার ৬টা পর্যন্ত ১০০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে এবং বুধবার সকাল ৬টা থেকে ৯টা পর্যন্ত বৃষ্টি ৫৫ মি.মি. বৃষ্টিপাত হয়েছে। আগামী কয়েক দিন সিলেটে টানা বৃষ্টি হতে পারে বলে জানিয়েছেন তিনি।

সিলেটের জেলা প্রশাসক শেখ রাসেল হাসান বলেন, ‘সিলেটে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় পানিবন্দি লোকদের উদ্ধারের লক্ষ্যে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় তৎপরতা চালানো হচ্ছে। বন্যার সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের জন্য জেলা প্রশাসকের কার্যালয় এবং উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়গুলোতে কন্ট্রোল রুম স্থাপন করা হয়েছে। প্রতিটি উপজেলায় ডেডিকেটেড অফিসার নিয়োগের পাশাপাশি প্রতিটি ইউনিয়নে ট্যাগ অফিসার নিয়োগ করা হয়েছে।’

তিনি বলেন, বন্যার্তদের স্বাস্থ্যসেবা প্রদানের জন্য ইউনিয়নভিত্তিক মেডিকেল টিম গঠন করে কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। আগামী ৩ দিন সিলেট অঞ্চলে ভারী বর্ষণের পূর্বাভাস রয়েছে। এ অবস্থা চলমান থাকলে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হবে।

এদিকে বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শনে দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. মুহিবুল ইসলাম বুধবার সিলেট আসবেন বলে জানা গেছে।

বিষয়:

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পাহাড়ধসে ৯ জনের মৃত্যু

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১৯ জুন, ২০২৪ ১২:৫২
কক্সবাজার প্রতিনিধি

কক্সবাজারে গতকাল মঙ্গলবার রাত থেকে শুরু হওয়া বৃষ্টি অব্যাহত রয়েছে। কখনও ভারী, আবার কখনও মাঝারি ধরনের বৃষ্টির কারণে উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ৪টি স্থানে পাহাড় ধ্বসের ঘটনা ঘটেছে। এতে ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে দুজন স্থানীয় বাসিন্দা ও অপর সাতজন রোহিঙ্গা।

গতকাল মঙ্গলবার মধ্যরাত থেকে বুধবার সকাল পর্যন্ত উখিয়ার ৮, ৯, ১০ ও ১৪ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পাহাড় ধসের এই ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মো. মিজানুর রহমান।

এর মধ্যে ৮ নম্বর ক্যাম্পে দুইজন, ৯ নম্বর ক্যাম্পে দুইজন, ১০ নম্বর ক্যাম্পে চারজন ও ১৪ নম্বর ক্যাম্পে একজনের মৃত্যু হয়েছে।

১০ নম্বর ক্যাম্পে নিহতরা হলেন, আবু মেহের (২৫), শাহানা (২২), আবুল কালাম (৫০) ও সেলিমা খাতুন (৪৫)। ৯ নম্বর ক্যাম্পে নিহতরা হলেন, মো. হোসেন (৫০), ও আনোয়ারা বেগম (১৮) ।

৮ ও ১৪ নম্বর ক্যাম্পে নিহতদের নাম নিশ্চিত করতে পারেননি আরআরআরসি মো. মিজানুর রহমান।

তিনি জানান, বুধবার সকাল ৬ টার দিকে ১০ নম্বর ক্যাম্পের বক্ল-সিতে পাহাড়ধসে মাটি চাপা পড়ে চারজনের মৃত্যু হয়। ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা করে চারজনের জনের মরদেহ উদ্ধার করে। গতকাল মঙ্গলবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে ৯ নম্বর ক্যাম্পের আই-৪ এ পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটে। ওখানে উদ্ধার করা হয় দুজনের মরদেহ। ভোর ৪টার দিকে ৮ ও ১৪ নম্বর ক্যাম্পে পাহাড়ধসে মারা যান আরও ৩ জন। এ ঘটনায় কেউ আহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি।

বিষয়:

বিপৎসীমা ছাড়াল নদীর পানি, নেত্রকোণায় বন্যার শঙ্কা

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১৯ জুন, ২০২৪ ১০:৫৯
সারা বাংলা ডেস্ক

নেত্রকোণায় বৃষ্টি আর উজান থেকে নেমে আসা ঢলে উপদাখালী নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। গতকাল মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত উপদাখালী নদীর পানি বিপৎসীমার ২৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সারোয়ার জাহান। এ ছাড়া জেলার প্রধান সবকটি নদীর পানিই বিপৎসীমা ছুঁই ছুঁই করছে বলে জানিয়েছেন পাউবোর এই নির্বাহী প্রকৌশলী।

এদিকে গতকাল মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত পূর্বধলা উপজেলার কংশ নদীর জারিয়া পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ২০ সেন্টিমিটার, খালিয়াজুড়ি উপজেলার ধনু নদীর পানি ৬৬ সেন্টিমিটার এবং দূর্গাপুর উপজেলার সোমেশ্বরী নদীর পানি দূর্গাপুর পয়েন্টে ৯৪ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে।

জেলা প্রশাসক শাহেদ পারভেজ বলেন, আমাদের ত্রাণের ব্যবস্থা যেগুলো তা প্রস্তুত আছে। আমাদের উপজেলা নির্বাহী অফিসার যারা আছেন তারা সার্বক্ষণিক মনিটরিং করছেন। আমরা পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছি। উত্তরে দিকে উজান এলাকায় পানি বা বৃষ্টি হচ্ছে কি না এগুলোও আমরা মনিটরিং করছি।

তিনি আরও বলেন, আমরা সামগ্রিকভাবে প্রস্তুত আছি। আমাদের প্রতিনিধি যারা আছেন, বিশেষ করে ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানদের সঙ্গে কথা হয়েছে। আমরা প্রার্থনা করি আল্লাহর কাছে যেন বন্যা না হয়। তারপরও যদি হয়, আমরা সরকারের পক্ষ থেকে প্রস্তুত আছি।

বিষয়:

ফের সিলেটের সব পর্যটনকেন্দ্র বন্ধ ঘোষণা

ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
সারা বাংলা ডেস্ক

সিলেটে আবারও বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় প্রধান প্রধান পর্যটনকেন্দ্রগুলো দ্বিতীয় দফায় বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার (১৮ জুন) দুপুরে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন সিলেটে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহাম্মদ মোবারক হোসেন।

জানা গেছে, এর আগে গত ৩০ মে বন্যা পরিস্থিতির কারণে প্রথম দফায় পর্যটনকেন্দ্রগুলো বন্ধ ঘোষণা করেছিলেন সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা পর্যটন উন্নয়ন কমিটির আহ্বায়করা। গত কয়েকদিনের বৃষ্টিপাত ও উজানের ঢলে ফের বন্যা দেখা দেওয়ায় দ্বিতীয় দফায় পর্যটনকেন্দ্রগুলো বন্ধের ঘোষণা এলো।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, আজ মঙ্গলবার থেকে পরবর্তী নির্দেশনা দেওয়া না পর্যন্ত সিলেটের পর্যটনকেন্দ্রগুলো বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

সিলেটের সবকটি নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। এতে তলিয়ে গেছে সাদাপাথর, জাফলং, বিছানাকান্দিসহ প্রধান প্রধান পর্যটনকেন্দ্র।

এ বিষয়ে সিলেটের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহাম্মদ মোবারক হোসেন বলেন, বন্যা পরিস্থিতির জন্য সিলেটের পর্যটনকেন্দ্রগুলো বন্ধ রাখতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এরইমধ্যে সেগুলো কার্যকর করা হয়েছে।

বিষয়:

banner close