দ্বিতীয় ধাপে ১৫৬ উপজেলায় নির্বাচনে ৩০ শতাংশের বেশি ভোট পড়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়াল। আজ মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীর আগারগাঁও নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান তিনি।
এর আগে মঙ্গলবার সকাল ৮টায় শুরু হয়ে বিরতিহীনভাবে ভোটগ্রহণ চলে বিকেল ৪টা পর্যন্ত। এবারের নির্বাচনে অধিকাংশ উপজেলার ভোটকেন্দ্রে ছিল ভোটার খরা। এ ছাড়া বিভিন্নস্থানে গুলিবর্ষণ, সংঘর্ষ ও প্রিসাইডিং কর্মকর্তা আটকসহ কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনার মধ্যে দিয়ে শেষ হয়েছে দ্বিতীয় ধাপের উপজেলা পরিষদ নির্বাচন।
সারা দেশে ভোটকেন্দ্রে ভোটারদের উপস্থিতি ছিল অনেক কম। এ নির্বাচনে ১৫৬টি উপজেলায় ১৩ হাজার ১৫৫টি কেন্দ্রের মধ্যে ১০ হাজার কেন্দ্রে সকাল ৮টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত ১৬ দশমিক ৯ শতাংশ ভোট কাস্টিং হয়েছে। দুপুর ১টায় নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিব মো. জাহাংগীর আলম এ তথ্য জানান।
দ্বিতীয় ধাপের নির্বাচনে রাজশাহী, রাজবাড়ী, লক্ষ্মীপুর, লালমনিরহাট, ফরিদপুর, কুমিল্লা, পটুয়াখালী, নেত্রকোণা, জামালপুরসহ অধিকাংশ জেলার উপজেলায় সারাদিন ভোটার উপস্থিতি দেখা গেছে। বিভিন্ন স্থানে বিক্ষিপ্ত সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেছে।
এদিকে, তৃতীয় ধাপের উপজেলা নির্বাচন উপলক্ষে ১১১টি উপজেলা সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী এলাকায় আগামী ২৯ মে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। গতকাল সোমবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের চাহিদা মোতাবেক ১১১টি উপজেলা পরিষদের সাধারণ নির্বাচন উপলক্ষে ভোটগ্রহণের দিন অর্থাৎ ২৯ মে সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী এলাকায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হলো।
২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে। প্রকাশিত ফলাফলে দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাস ও গৌরবময় অর্জনের চিত্র দেখা গেছে। বেশ কিছু প্রতিষ্ঠানে শতভাগ পাস ও শতভাগ জিপিএ-৫ পেয়ে দেশসেরা ফলাফলের ধারা অব্যাহত রেখেছে। তবে এই মেধা ও সাফল্যের পাশাপাশি দেশের কিছু প্রান্তে দেখা গেছে শিক্ষাব্যবস্থার করুণ চিত্র—যেখানে একাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের একজন শিক্ষার্থীও পাসের মুখ দেখতে পায়নি। সার্বিক ফলাফলেই ফুটে উঠেছে দেশের শিক্ষাব্যবস্থার বৈচিত্র্য ও কিছু অঞ্চলের চ্যালেঞ্জ।
নরসিংদীর নাছিমা কাদির মোল্লা হাইস্কুলে শতভাগ জিপিএ-৫ পেয়ে দেশসেরা
সালমা সুলতানা, নরসিংদী: নাছিমা কাদির মোল্লা হাইস্কুল অ্যান্ড হোমস বরাবরের মতো এবারও অসাধারণ সাফল্য অর্জন করে দেশসেরা ফল লাভ করেছে। প্রতিষ্ঠানটি থেকে বিজ্ঞান ও ব্যবসায় শিক্ষা শাখায় মোট ৩৮২ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে এবং শতভাগ পাসের পাশাপাশি ৩৮২ জনই জিপিএ-৫ পেয়েছে। প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা আবদুল কাদির মোল্লা ও প্রধান শিক্ষক মো. ইমন হোসেন জানান, সঠিক দিকনির্দেশনা, শিক্ষক-শিক্ষার্থী-অভিভাবকের সমন্বয় এবং কঠোর পরিশ্রমই এই সাফল্যের মূল চাবিকাঠি।
সাফল্যের ধারায় ফেনী গার্লস ক্যাডেট কলেজ
মুহাম্মদ আবু তাহের ভূঁইয়া, ফেনী: কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের অন্যতম সেরা প্রতিষ্ঠান ফেনী গার্লস ক্যাডেট কলেজ এবারও তাদের সাফল্যের ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছে। প্রতিষ্ঠানটির ৫৬ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৫৫ জনই জিপিএ-৫ অর্জন করেছে। কঠোর শৃঙ্খল, নিয়মিত অধ্যয়ন ও আধুনিক পাঠদান পদ্ধতিকে এই অর্জনের পেছনে মূল কারণ বলে জানান কলেজের অধ্যক্ষ কর্নেল এস এম ফয়সল। উল্লেখ্য, ফেনী জেলায় সামগ্রিকভাবে পাসের হার ৭২.৬২ শতাংশ এবং মোট জিপিএ-৫ পেয়েছে ১,১৩৯ জন।
মাগুরায় সেরা পুলিশ লাইন মাধ্যমিক বিদ্যালয়
শিউলি আফরোজ সাথী, মাগুরা: জেলায় ৯৮ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে শতভাগ পাস এবং ৪২ জন জিপিএ-৫ পেয়ে জেলায় প্রথম স্থান অর্জন করেছে মাগুরা পুলিশ লাইন মাধ্যমিক বিদ্যালয়। অন্যদিকে মাগুরা সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ে পাসের হার ৯৬.৮২ শতাংশ (৮৭ জন জিপিএ-৫) এবং মাগুরা সরকারি উচ্চবিদ্যালয়ে পাসের হার ৭৮.৭৩ শতাংশ (৬৮ জন জিপিএ-৫)। সভাপতি পুলিশ সুপার মোল্লা আজাদ হোসেন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকমণ্ডলী ও শিক্ষার্থীদের কঠোর পরিশ্রমকে এই ফলাফলের ভিত্তি হিসেবে আখ্যা দেন।
ফরিদপুর আদর্শ বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের গৌরবময় সাফল্য
মাহবুব পিয়াল, ফরিদপুর: জেলার ঐতিহ্যবাহী আদর্শ বালিকা উচ্চবিদ্যালয় চলতি বছরও চমৎকার ফলাফল বজায় রেখেছে। প্রতিষ্ঠানটি থেকে ১৯৩ জন শিক্ষার্থী অংশ নিয়ে ১৭৪ জন উত্তীর্ণ হয়েছে, যার মধ্যে পাসের হার ৯০.১৬ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩৩ জন শিক্ষার্থী। বিদ্যালয়ের ধারাবাহিক এই সাফল্যের জন্য প্রধান শিক্ষক মুহাম্মদ জয়নুল আবেদীনের নিবিড় পর্যবেক্ষণ ও কঠোর তদারকিকে সাধুবাদ জানিয়েছেন অভিভাবক ও শিক্ষকমণ্ডলী।
জিপিএ-৫ প্রাপ্তিতে শীর্ষে বগুড়া সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়
প্রবীর মহন্ত, বগুড়া: জেলায় প্রতিবারের মতো এবারও স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানগুলো অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করেছে। এর মধ্যে জিপিএ-৫ প্রাপ্তির হারে শীর্ষে উঠে এসেছে বগুড়া সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়; যেখানে ২১৮ জন পরীক্ষার্থীর সবাই পাস করার পাশাপাশি ১৮৪ জনই জিপিএ-৫ পেয়েছে। পরীক্ষার্থীর সংখ্যার দিক থেকে বৃহত্তম বিয়াম মডেল স্কুল ও কলেজ থেকে ৪৩৬ জন শিক্ষার্থী অংশ নিয়ে শতভাগ পাস ও ৩৪৩ জন জিপিএ-৫ অর্জন করেছে। এ ছাড়া আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) পাবলিক স্কুল থেকে ৩৫৭ জনের মধ্যে শতভাগ পাস ও ২৭৬ জন জিপিএ-৫ পেয়েছে। বগুড়া জিলা স্কুলে ২২৪ জনের মধ্যে ২২৩ জন পাস (১৭৫ জন জিপিএ-৫) এবং বগুড়া ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজে ৪১৮ জন পাস (৩২৪ জন জিপিএ-৫) করেছে। বগুড়া জেলায় মোট পাসের হার ৭২.৬৪ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে ৪,৪৭৮ জন।
ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়ায় দুই প্রতিষ্ঠানে শতভাগ ফেল
মো. আল আমিন, ফুলবাড়িয়া (ময়মনসিংহ): উপজেলায় শিক্ষা ব্যবস্থার চরম বিপর্যয় দেখা গেছে। উপজেলার শহীদ স্মৃতি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের ৮ জন এবং মজর আলী আকন্দ দাখিল মাদ্রাসার ১১ জন পরীক্ষার্থীর সবাই অকৃতকার্য হয়েছে। শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে নিয়মিত অনুপস্থিতি, মোবাইলে আসক্তি এবং অ-এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বেতনজনিত ক্ষোভকে এই বিপর্যয়ের কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। উপজেলায় সামগ্রিক পাসের হার এসএসসিতে ৪৬.৯৪ শতাংশ এবং দাখিলে ৩৮.২১ শতাংশ।
ভাঙ্গুড়ায় মাগুড়া মাদ্রাসায় ১৯ জনই অকৃতকার্য
মো. মেহেদী হাসান, ভাঙ্গুড়া (পাবনা): উপজেলার মাগুড়া দাখিল মাদ্রাসা থেকে অংশ নেওয়া ১৯ জন শিক্ষার্থীর একজনও পাস করতে পারেনি, অর্থাৎ পাসের হার শূন্য শতাংশ। ১৯৯৬ সালে প্রতিষ্ঠিত এই এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানটিতে শিক্ষার্থী সংকট এবং শিক্ষকদের পাঠদানে অনীহাকে স্থানীয়রা দায়ী করছেন। একই উপজেলার লতিফা-আয়শা দাখিল মাদ্রাসা থেকেও ২০ জন অংশ নিয়ে পাস করেছে মাত্র ১ জন শিক্ষার্থী, যা স্থানীয় শিক্ষাব্যবস্থার মান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
অপহরণ অভিযোগের মাত্র ৯ ঘণ্টার মধ্যে ১৩ বছর বয়সি এক শিশুকে উদ্ধার করেছে জেলা পুলিশের সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেল (সিসিআইসি)। এ ঘটনায় রবিউল মোল্যা (২০) নামে এক যুবককে আটক করেছে মাগুরা পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মাগুরা সদর থানাধীন বরুনাতৈল গ্রামের জারিয়া আক্তার গত রোববার (৯ আগস্ট) সন্ধ্যা ৬টার দিকে কান্নারত অবস্থায় পুলিশ সুপার, মাগুরার কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে ওয়ান স্টপ সার্ভিস সেন্টারে অভিযোগ করেন, তার ১৩ বছর বয়সি শিশুকন্যাকে অপহরণ করা হয়েছে।
অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ সুপার, মাগুরা অপহৃত শিশুটিকে দ্রুত উদ্ধারের জন্য জেলা পুলিশের সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেলকে দায়িত্ব দেন।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) শাহ্ শিবলী সাদিক এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) থান্দার খায়রুল হাসান পিপিএমের নির্দেশনায় সিসিআইসি, মাগুরার এসআই (নি.) অজয় দাসের নেতৃত্বে পুলিশ সদস্যরা তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করেন।
অভিযানের একপর্যায়ে সোমবার (১০ আগস্ট) ভোর রাত ৩টার দিকে মাগুরা জেলা ও খুলনা জেলার ডুমুরিয়া থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে অপহৃত শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়। এ সময় অপহরণের অভিযোগে মাগুরা সদরের বরুণাতৈল গ্রামের বাদশা মোল্যার ছেলে রবিউলকে আটক করা হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধার শিশু ও আটক ব্যক্তি বর্তমানে পুলিশ হেফাজতে রয়েছে। যথাযথ আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে তাদের বিষয়ে পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
বন্যার পানিতে নষ্ট হয়েছিল আমনের বীজতলা। এতে চলতি মৌসুমে আমন চাষ নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েছিলেন চট্টগ্রামের বোয়ালখালীর কৃষকরা। পরে সরকারি প্রণোদনা ও নিজেদের উদ্যোগে নতুন করে বীজতলা তৈরি করেন তারা। এখন সেই বীজতলার চারা নিয়ে মাঠে নেমেছেন কৃষকরা। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় চলছে আমন ধানের চারা রোপণের কাজ।
উপজেলা কৃষি কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে বোয়ালখালীতে ২৪৯ হেক্টর জমিতে আমনের বীজতলা তৈরির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ২১০ হেক্টর জমিতে বীজতলা তৈরি হয়েছে। এ ছাড়া ৪ হাজার ৮০০ হেক্টর জমিতে আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। ইতোমধ্যে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে প্রায় ৩০ হেক্টর জমিতে আমনের চারা রোপণ করা হয়েছে।
আহলা করলডেঙ্গা, আমুচিয়া, শ্রীপুর-খরণদ্বীপ, চরণদ্বীপ ও পোপাদিয়াসহ বিভিন্ন এলাকায় এখন আমনের চারা রোপণ চলছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, জৈষ্ঠ্যপুরা সূযব্রত বিলসহ বিভিন্ন এলাকার মাঠে কৃষকদের ব্যস্ততা। কেউ জমিতে চারা রোপণ করছেন, কেউ জমি প্রস্তুত করছেন। পানিতে ভেজা জমিতে সারিবদ্ধভাবে চারা রোপণ করছেন কৃষকরা। বন্যার ক্ষতি কাটিয়ে এবার ভালো ফলনের আশায় তারা মাঠে নেমেছেন। তবে চাষাবাদের বাড়তি খরচ নিয়ে তাদের মধ্যে রয়েছে উদ্বেগ।
জৈষ্ঠ্যপুরা সূযব্রত বিলের কৃষক খোরশেদ আলম তিন কানি (১২০ শতক) বর্গা জমিতে আমন চাষ করছেন। তিনি বলেন, ‘গত বছর প্রতি কানি জমিতে ট্রাক্টর দিয়ে চাষ করতে খরচ হয়েছিল ৩ হাজার টাকা। এবার একই কাজে খরচ হচ্ছে ৪ হাজার টাকা। শ্রমিকের দৈনিক মজুরি ৮০০ টাকা। প্রতি কানি জমিতে ৬০ থেকে ৭০ আড়ি ধান পাওয়ার আশা থাকলেও তার ধারণা, ৬০ আড়ির বেশি ফলন পাওয়া কঠিন হবে।
একই এলাকার কৃষক সুবল দে পাঁচ কানি (২০০ শতক) বর্গা জমিতে সাদা পানজা ধানের চারা রোপণ করছেন। তিনি বলেন, ‘প্রতি কানি জমিতে প্রায় ৫০ আড়ি ধান পাওয়ার আশা করছেন। কিন্তু উৎপাদন খরচের তুলনায় ধানের দাম কম হওয়ায় চাষ করে লাভ হচ্ছে না। বরং লোকসান হচ্ছে।’ এরপরও অন্য কোনো কাজ না জানায় প্রায় ৫০ বছর ধরে কৃষিকাজ করেই জীবিকা নির্বাহ করছেন তিনি।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শাহানুর ইসলাম বলেন, ‘সম্প্রতি বন্যায় উপজেলার প্রায় ৪৮ হেক্টর আমনের বীজতলা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের নতুন করে বীজতলা তৈরিতে সরকারি প্রণোদনার আওতায় সহায়তা দেওয়া হয়েছে। এতে কৃষকরা আবার আমন চাষে ফিরতে পেরেছেন।’
জামালপুরে সড়কে দাঁড়িয়ে থাকা রডবোঝাই ট্রাকে প্রাইভেটকারের ধাক্কায় একেএম ছামিউল হক (২৮) নামে এক সহকারী জজের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় প্রাইভেটকারের চালক ইদ্রিস আলী গুরুতর আহত হয়েছেন। সোমবার (১০ আগস্ট) ভোর ৪টার দিকে জামালপুর-ময়মনসিংহ সড়কের লাহিড়ীকান্দা এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে।
একেএম ছামিউল হক জামালপুর জজ আদালতের সহকারী জজ হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তিনি নেত্রকোনার সদর উপজেলার সাতপাই ছেটগাড়া গ্রামের একেএম ফজলুল হকের ছেলে। তিনি প্রাইভেটকারে করে ঢাকার লালমাটিয়া থেকে জামালপুর ফিরছিলেন।
পুলিশ জানায়, রডবোঝাই ট্রাকটির একটি চাকা ফুটো হয়ে গেলে চালক ও হেলপার ট্রাকটি সড়কের ওপর রেখে ঘুমিয়ে পড়েন। এ সময় পেছন থেকে প্রাইভেটকারটি ট্রাকটিতে ধাক্কা দিলে ঘটনাস্থলেই সহকারী জজ ছামিউল হক নিহত হন। গুরুতর আহত হন চালক ইদ্রিস আলী।
জামালপুর সদর থানার ওসি নাজমুস সাকিব জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের লোকজন ঘটনাস্থল থেকে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে জামালপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে নিয়ে আসে। পরে আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজের আবাদ ও উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে ঝিনাইদহে ১৫শ কৃষকের মাঝে বিনামূল্যে সার-বীজ ও কৃষি উপকরণ বিতরণ করা হয়েছে। সোমবার (১০ আগস্ট) সকালে সদর উপজেলা পরিষদ চত্বরে কৃষি বিভাগের আয়োজনে এ উপকরণ বিতরণ করা হয়। সে সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তারেক হাসান, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাসুদ রানা, ঝিনাইদহ প্রেসক্লাবের সভাপতি আসিফ ইকবাল মাখন, সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম লিটন, অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তা মুহাম্মদ জুনাইদ হাবীব, কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মীর রাকিবুল ইসলামসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।
কৃষি বিভাগ জানায়, খরিপ-২ মৌসুমে সরকারের কৃষি প্রণোদনার আওতায় সদর উপজেরার বিভিন্ন গ্রামের ১৫শ কৃষকের প্রত্যেককে ২০ কেজি রাসায়নিক সার, ১ কেজি পেঁয়াজ বীজ, ১ কেজি বালাইনাশক ও ২ কেজি পলিথিন রোল দেওয়া হয়।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য ১০টি ডাবল ডেকার বিআরটিসি বাস চালুর দাবিতে অবস্থান নিয়েছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু)। আন্দোলনকারীদের দাবিতে আগামী বৃহস্পতিবার এ বিষয় নিয়ে আলোচনার আশ্বাস দিয়েছেন চবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল্-ফোরকান।
সোমবার (১০ আগস্ট) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান নেয় চাকসু। এতে ‘ভয়েজ অব স্টুডেন্ট’ নামের সংগঠনের সভাপতি আশিকুর রহমানকে সংহতি প্রকাশ করতে দেখা যায়। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করে।
চাকসুর দাবির পরিপ্রেক্ষিতে আগামী বৃহস্পতিবার এ বিষয়ে বিআরটিসি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনার আশ্বাস দেন উপাচার্য।
চাকসুর যোগাযোগ ও আবাসনবিষয়ক সম্পাদক ইসহাক ভুঁইয়া বলেন, ‘আমাদের দাবি ছিল শিক্ষার্থীদের জন্য ১০টি ডাবল ডেকার বিআরটিসি বাস চালু করার জন্য, উপাচার্য আমাদের আশ্বাস দিয়েছেন আগামী বৃহস্পতিবার এ বিষয়ে বিআরটিসি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করবেন। তাই আমরা আগামী বৃহস্পতিবার পর্যন্ত আন্দোলন স্থগিত করেছি। তবে দাবি পূরণ না হলে আন্দোলন আরও তীব্র হবে।
পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংকের পাখিমারা বাজার আউটলেট শাখার গ্রাহকদের কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে করা মামলায় শাখা ব্যবস্থাপক মো. রাহাত ইসলামকে (৩৪) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
গত রোববার (৯ আগস্ট) পিরোজপুরের ভান্ডারিয়া থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি নীলগঞ্জ ইউনিয়নের পাখিমারা বাজারের আল- আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংকের আউটলেট শাখায় ব্যবস্থাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। তিনি নীলগঞ্জ ইউনিয়নের পূর্ব দৌলতপুর গ্রামের মৃত আব্দুল জব্বারের ছেলে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, পাখিমারা বাজারের ওই ব্যাংক আউটলেটের গ্রাহকদের টাকা আত্মসাতের ঘটনায় করা মামলায় রাহাত ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর আগে একই শাখার ক্যাশিয়ার রিয়াদুল ইসলাম ইউসুফের বিরুদ্ধে অর্ধশতাধিক গ্রাহকের কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ ওঠে। অভিযোগ প্রকাশের পর তিনি আত্মগোপনে চলে যান।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী গ্রাহকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। আমানতের টাকা ফেরতের দাবিতে তারা ব্যাংক ঘেরাও, বিক্ষোভ ও মানববন্ধনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেন। পরে ভুক্তভোগীদের অভিযোগের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়।
কলাপাড়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ফোরকান মিয়া বলেন, ‘পাখিমারা বাজারের আল- আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংকের আউটলেট শাখার গ্রাহকদের টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় রাহাত ইসলামকে পিরোজপুরের ভান্ডারিয়া থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।’
গ্রেপ্তারের পর প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে তাকে আদালতে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
তবে অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক কর্তৃপক্ষের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
জনবসতিহীন মাইলের পর মাইল বিস্তৃত ধানখেত। কোনো যাতায়াতের রাস্তা নেই, নেই কোনো বাড়িঘর। অথচ এই অনাবাদি ও ফসলি জমির মাঝেই মাথা তুলে দাঁড়িয়ে আছে কোটি টাকার চারটি পাকা ব্রিজ! চট্টগ্রাম-কাপ্তাই সড়কের রাউজান উপজেলার ৯ নম্বর পাহাড়তলী ইউনিয়নের চৌমুহনী বাজার এলাকায় গেলেই চোখে পড়বে এই অদ্ভুত দৃশ্য।
সরকারি অর্থের এমন অপচয়ের পর প্রায় আট বছর ধরে পরিত্যক্ত পড়ে থাকা এই ব্রিজগুলো এখন পরিণত হয়েছে ময়লা-আবর্জনার পচা ভাগাড়ে। দুর্গন্ধ ও পরিবেশ দূষণে অতিষ্ঠ স্থানীয় বাসিন্দা ও পথচারীরা।
৩ লাখ টাকার কাজে ১ কোটি ৩ লাখ টাকার ব্যয়
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ত্রাণ ও দুর্যোগ মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে এই চার কূলহীন ব্রিজ নির্মিত হয়। প্রতিটি ব্রিজের দৈর্ঘ্য ৩০ ফুট, প্রস্থ ১৫ ফুট। একটি ব্রিজ থেকে অন্যটির দূরত্ব আনুমানিক মাত্র ২০০ ফুট! খরচ ধরা হয় ২৫ লাখ ৮৪ হাজার টাকা। চারটি ব্রিজে সর্বমোট অপচয় হয়েছে ১ কোটি ৩ লাখ ৩৬ হাজার টাকা।
রাজনৈতিক প্রভাব ও ভিত্তিপ্রস্তর রূপকথা
২০১৯ সালের ১৪ মার্চ ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের মাধ্যমে এই চার ব্রিজের নির্মাণকাজের সূচনা হয়। তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এবং স্থানীয় তৎকালীন সংসদ সদস্য (বর্তমানে কারাবন্দী) এ.বি.এম ফজলে করিম চৌধুরী জাঁকজমকপূর্ণভাবে ব্রিজগুলোর উদ্বোধন করেন।
স্থানীয়রা জানান, ভিত্তিপ্রস্তরে সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের নাম ব্যবহার করা হলেও মূলত এটি ছিল এক চতুর প্রতারণা।
নেপথ্যে 'আবাসিক প্রকল্প' ও দখলের পাঁচতারা ছক
চৌমুহনী বাজারের ব্যবসায়ী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, সরকারি কোনো অফিস বা জনস্বার্থের জন্য এসব ব্রিজ নির্মাণ করা হয়নি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, মূল্যবান এই কৃষি জমিগুলোকে জোরপূর্বক হাউজিং বা আবাসিক এলাকায় রূপান্তর করার পাঁচতারা পরিকল্পনা ছিল তৎকালীন ক্ষমতাসীন দলের প্রভাবশালীদের। সরকারি টাকায় ব্রিজ বানিয়ে পরে কৃষকদের জমি দখলের পাঁচতারা ছক কষা হয়েছিল। সে সময় কেউ প্রতিবাদ করতে গেলে নেমে আসত হুমকি-ধমকি ও নির্যাতন।
'ক্ষমতাশালীদের কথা শুনতে বাধ্য ছিলাম': দায়সারা মন্তব্য পিআইওর
প্রকল্প বাস্তবায়নের অনিয়ম নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তৎকালীন রাউজান উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (বর্তমানে হাটহাজারীতে কর্মরত) নিয়াজ মোর্শেদ দায়সারা জবাব দেন। তিনি বলেন, সে সময় যারা ক্ষমতায় ছিলেন, তাদের নির্দেশনার বাইরে যাওয়ার কোনো সুযোগ বা একতীয়ার আমাদের ছিল না।
অন্যদিকে, নির্মাণকালে বিতর্কিত এই সরকারি প্রকল্পের জন্য কোনো ভূমি অধিগ্রহণ করা হয়েছিল কিনা—এ বিষয়ে জানতে চাইলে বর্তমান সহকারী কমিশনার (ভূমি) অংছিং মারমা জানান, সে সময় তিনি রাউজানে কর্মরত ছিলেন না, তাই বিষয়টি সম্পর্কে তিনি অবগত নন।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কাপ্তাই সড়কসংলগ্ন বিশাল ধানখেতের ওপর দাঁড়িয়ে থাকা এই চার ব্রিজের ওপরে ও নিচে এখন ময়লার স্তূপ। চারপাশের আবর্জনা পচে এলাকার পরিবেশ মারাত্মকভাবে দূষিত হচ্ছে। চৌমুহনী বাজারে আসা ক্রেতা-বিক্রেতা ও সাধারণ মানুষকে চরম দুর্গন্ধ সহ্য করে চলাচল করতে হচ্ছে।
হাতে গোনা কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তির ব্যক্তিগত স্বার্থে কোটি টাকার ওপর সরকারি অর্থ এভাবে জলে ফেলা এবং পরিবেশ নষ্ট করার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে জাতীয় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে একটি নির্মাণাধীন কারখানায় ডাকাতি হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ৭ ডাকাতকে গ্রেপ্তার করেছে জোরারগঞ্জ থানা পুলিশ। সোমবার (১০ আগস্ট) ভোরে অর্থনৈতিক অঞ্চল এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে লুণ্ঠিত বিভিন্ন মালামালও উদ্ধার করা হয়েছে।
মামলার এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, রোববার রাত ২টার দিকে ১০ থেকে ১৫ জনের একটি সশস্ত্র ডাকাত দল অর্থনৈতিক অঞ্চলের ‘অটো ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড’ কারখানায় হানা দেয়। ডাকাতরা কারখানার নিরাপত্তাকর্মীদের জিম্মি করে ২৫০ মিটার দামি বৈদ্যুতিক তার এবং তিনটি মোবাইল ফোনসহ মূল্যবান মালামাল লুট করে পালিয়ে যায়। এই ঘটনায় কারখানা কর্তৃপক্ষ বাদী হয়ে জোরারগঞ্জ থানায় একটি ডাকাতি মামলা করে।
মামলার পর ওসি মোহাম্মদ আব্দুল হালিমের নেতৃত্বে পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) হেলাল উদ্দিন ফারুকীসহ একটি বিশেষ টিম অভিযানে নামে। টানা ৩২ ঘণ্টার অভিযানের পর গতকাল ভোরে অর্থনৈতিক অঞ্চল ও সংলগ্ন বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ঘটনার সাথে জড়িত ৭ জনকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃতদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে উদ্ধার করা হয় লুণ্ঠিত বৈদ্যুতিক তার ও মোবাইল ফোনগুলো।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- মেহেদী হাসান (৩২), পিতা- মৃত নুরুল আফছার (পূর্ব হিঙ্গুলী)। সুজাউল হক প্রকাশ সুজা উল্লাহ (২৪), পিতা মো. সিরাজ মিয়া (মেহেদীনগর)। এমদাদুল হক প্রকাশ ইমরান (২৮), পিতা- মৃত ওবায়দুল হক (মেহেদীনগর)। মো. সাখাওয়াত হোসেন প্রকাশ নাহিদ (২৪), পিতা- হারুন অর রশিদ (পূর্ব হিঙ্গুলী)। মো. ইউসুফ (২৬), পিতা- আবুল কাশেম (মেহেদীনগর)। মো. রাকিব (২১), পিতা- হারুন অর রশিদ (খিলমুরারী)। মিজান উদ্দিন (৩২), পিতা- আব্দুল মান্নান (করেরহাট)।
খুলনা জেলার ডুমুরিয়া-ফুলতলা এবং যশোরের মণিরামপুর, অভয়নগর ও কেশবপুর—এই বিস্তীর্ণ অঞ্চলের মানুষের জন্য 'জলাবদ্ধতা' আর কোনো সাময়িক বা মৌসুমি দুর্যোগ নয়; বরং এটি দীর্ঘ চার দশকেরও বেশি সময় ধরে চেপে বসা এক স্থায়ী অভিশাপ। স্থানীয় জলবায়ু ও ভৌগোলিক বাস্তবতায় ভবদহ স্লুইসগেট আজ দীর্ঘস্থায়ী এই মানবিক ও অর্থনৈতিক সংকটের এক চরম প্রতীকে পরিণত হয়েছে।
সাম্প্রতিক তথ্যানুযায়ী, ভবদহ ও সংলগ্ন এলাকায় প্রায় ১০ লক্ষাধিক মানুষ সরাসরি এই পলিজনিত কৃত্রিম জলাবদ্ধতায় বন্দি হয়ে জীবনযাপন করছেন।
সম্প্রতি এই সংকট নিরসনে একটি সুনির্দিষ্ট বৈজ্ঞানিক ও বিশ্লেষণধর্মী পর্যালোচনায় জলাবদ্ধতার মূল কারণ, অতীতের সীমাবদ্ধতা এবং সম্ভাব্য দীর্ঘমেয়াদী সমাধানের উপায় উঠে এসেছে।
দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম বিল 'বিল ডাকাতিয়া'সহ ভবদহ অঞ্চলের হাজার হাজার হেক্টর কৃষি জমি বছরের সিংহভাগ সময় পানির নিচে তলিয়ে থাকে। মুক্তেশ্বরী, টেকা, শ্রী, হরি, ভদ্রা ও শালতা নদীর তলদেশ পলি জমে উঁচু হয়ে যাওয়ার ফলে বিল থেকে স্বাভাবিক পানি নিষ্কাশনের পথ সম্পূর্ণ অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে। এর প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়ছে অঞ্চলটির সামগ্রিক কাঠামোর ওপর। ফসল, মাছের ঘের ও সবজি চাষ বিনষ্ট হয়ে ধসে পড়েছে স্থানীয় গ্রামীণ অর্থনীতি। রাস্তাঘাট, বসতবাড়ি, হাটবাজার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বছরের পর বছর প্লাবিত থাকছে। স্যানিটেশন ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় এবং নিরাপদ পানির উৎস দূষিত হওয়ায় পানিবাহিত রোগের প্রাদুর্ভাব বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্রায় ২০ লাখ মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে আর্থ-সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অস্তিত্ব সংকটের মুখোমুখি।
১৯৬০-এর দশকে জোয়ার-ভাটা ও বন্যা থেকে সুরক্ষার জন্য নির্মিত পোল্ডার (বাঁধ-ঘেরা এলাকা) ব্যবস্থার কারণে জোয়ারের পলি প্লাবনভূমিতে ছড়িয়ে পড়তে পারেনি। ফলে পলি সরাসরি নদীখাতে জমে নদীগুলোকে ভরাট করে ফেলেছে।
উজান থেকে মিষ্টি পানির প্রবাহ হ্রাস, অবৈধ নদী দখল, নদীর চরে ইটের ভাটা স্থাপন এবং বিলে অননুমোদিত নেট-পাটা দিয়ে মাছ চাষ নদীগুলোর নাব্যতা হ্রাসের প্রক্রিয়াকে দ্রুততর করেছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বিভিন্ন সময়ে নেওয়া স্বল্পমেয়াদী খনন ও রেগুলেটর নির্মাণ প্রকল্পগুলো সঠিক রক্ষণাবেক্ষণ, তদারকি ও প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয়হীনতার অভাবে স্থায়ী ফল দিতে ব্যর্থ হয়েছে।
স্থানীয় কৃষকদের অভিজ্ঞতালব্ধ উদ্ভাবন টাইডাল রিভার ম্যানেজমেন্ট (TRM) বা জোয়ারাধার পদ্ধতি হলো কারিগরিভাবে সবচেয়ে কার্যকর সমাধান। এতে সাময়িকভাবে পোল্ডারের বাঁধ কেটে জোয়ারের পলিযুক্ত পানি বিলে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়; ফলে পলিতে বিল উঁচু হয় এবং নদীখাত পলি মুক্ত হয়ে নাব্য থাকে।
বিল ভায়না ও সাতক্ষীরার পাখিমারা বিলে TRM-এর সাফল্য থাকলেও সামাজিক ও প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থাপনার অভাবে এতে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত জমির মালিকদের সময়মতো ও স্বচ্ছভাবে ক্ষতিপূরণ না দেওয়া এবং বৈজ্ঞানিক মডেলিং মেনে সমন্বিতভাবে কাজ না করায় স্থানীয় জনগণের মধ্যে আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে। দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ইনস্টিটিউট অব ওয়াটার মডেলিং (IWM)-কে সমীক্ষার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
ভবদহ ও সংলগ্ন ৫টি নদীর ৮১.৫ কিলোমিটার অংশ পুনঃখননে সেনাবাহিনী তদারকি করছে। টেকসই TRM সিদ্ধান্ত গ্রহণে প্রশাসনিক বিলম্বের কারণে সম্প্রতি স্থানীয় সংগঠনগুলো তা দ্রুত কার্যকরের দাবি জানিয়ে স্মারকলিপি দিয়েছে।
কাকডাকা ভোরে জেগে ওঠে নড়াইল। প্রতিকূল আবহাওয়া ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ উপেক্ষা করেই বিশ্ববরেণ্য চিত্রশিল্পী এস এম সুলতানের সমাধিসৌধে সমবেত হতে থাকেন তার ভক্ত ও অনুরাগীরা। মুহূর্তের মধ্যেই ফুলে ফুলে ছেয়ে যায় শিল্পীর সমাধি।
সোমবার (১০ আগস্ট) দিনব্যাপী নানা ভাবগাম্ভীর্য ও আয়োজনের মধ্য দিয়ে নড়াইলে পালিত হয় বরেণ্য এই চিত্রশিল্পীর ১০৩তম জন্মবার্ষিকী।
দিনটি উপলক্ষে আয়োজিত নানা কর্মসূচির মধ্যে ছিল, শিল্পীর সমাধিতে পুষ্পমাল্য অর্পণ ও শ্রদ্ধাঞ্জলি, কোরআনখানি ও তবারক বিতরণ, শিশু-কিশোরদের চিত্রাঙ্কন উৎসব ও আর্টক্যাম্প, সুলতান পদক প্রদান, আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
প্রতি বছর শিল্পীর জন্মদিনে চিত্রা নদীতে ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হলেও, এবার তা না থাকায় ভক্ত ও দর্শনার্থীদের মনে কিছুটা হতাশা দেখা গেছে।
জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, এমপি।
বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির চারুকলা বিভাগের পরিচালক আব্দুল হালিম চঞ্চলের স্বাগত বক্তব্যের মাধ্যমে শুরু হওয়া এ সভায় মুখ্য আলোচক ও বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন অধ্যাপক রেজা আসাদ আল হুদা অনুপম (চারুকলা অনুষদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়), বিমানেশ চন্দ্র বিশ্বাস (সাবেক বিভাগীয় প্রধান, ড্রয়িং অ্যান্ড পেইন্টিং ডিসিপ্লিন, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়), অধ্যাপক ড. মো. আব্দাস সাত্তার (সুলতান সম্মাননা পদকপ্রাপ্ত শিল্পী), রেজাউদ্দীন স্টালিন (বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি), কানিজ মওলা (সচিব, সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়), মো. আতাউর রহমান, এমপি (নড়াইল-২), বিশ্বাস জাহাঙ্গীর আলম, এমপি (নড়াইল-১)
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, ‘এস এম সুলতান পল্লী বাংলার আত্মার শিল্পী এবং গ্রামীণ জীবনের মহাকাব্যিক রূপকার। বাংলার মাটি, মানুষ, কৃষকের ঘাম, সংগ্রাম, শক্তি আর স্বপ্ন—সবকিছুই তার তুলির আঁচড়ে পেয়েছে এক অনন্য শিল্পরূপ। তিনি শুধু একজন চিত্রশিল্পী ছিলেন না; তিনি ছিলেন শ্রমজীবী মানুষের জীবনবোধের এক অসাধারণ কারিগর। ক্যানভাসে তিনি যে অদম্য প্রাণশক্তি ও সৌন্দর্যের গল্প এঁকেছেন, তা কালজয়ী।’
নড়াইলের জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ আবদুল ছালামের সভাপতিত্বে সভায় ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির সচিব মো. জাকির হোসেন। পরবর্তীতে সন্ধ্যায় জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে এক মনোরম সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে দিনব্যাপী আয়োজনের সমাপ্তি ঘটে।
রংপুরে নিখোঁজ কিশোরীকে উদ্ধার অভিযানে ছাত্রদল নেতার মৃত্যুর ঘটনায় পীরগাছা থানা থেকে চার পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।
প্রত্যাহারকৃত পুলিশ সদস্যরা হলেন—পীরগাছা থানার এসআই কনক রঞ্জন বর্মন, এএসআই ওসমান আলী, কনস্টেবল প্রশান্ত কুমার ও সুমী আক্তার। শনিবার রাতে তাদের রংপুর পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়।
সোমবার (১০ আগস্ট) বিকেলে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন পীরগাছা থানার ওসি সেলিম মালিক।
তিনি জানান, গত ২৩ জুলাই রংপুরের পীরগাছা উপজেলার কৈকুড়ি ইউনিয়নের মোংলাকুটি গ্রামের কিশোরী মিমি আক্তার (১৫) নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় তার বাবা শফিকুল ইসলাম মিন্টু থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। এর সূত্র ধরে পীরগাছা থানার এসআই কনক রঞ্জন বর্মনের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় মিমির অবস্থান শনাক্ত করে এবং বৃহস্পতিবার রাতে সাভারের লোকপ্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের স্টাফ কোয়ার্টারে অভিযান চালায়।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, অভিযান চলাকালে পুলিশ ভবনের নিচতলায় অবস্থান করছিল। এ সময় ছাদ থেকে কিছু একটা নিচে পড়ে যাওয়ার শব্দ শুনে ঘটনাস্থলে গিয়ে সাভার থানা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি ও গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের দক্ষিণ হাতিবান্ধা গ্রামের জাফর বকশীর ছেলে মনোয়ারুল ইসলাম বকশীকে গুরুতর আহত অবস্থায় পাওয়া যায়। পরে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মনোয়ারুল ইসলাম বকশীর মৃত্যু হয়।
তবে নিহতের স্বজনরা মনোয়ারুলকে ছাদ থেকে ফেলে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন। এ ঘটনায় শনিবার সকালে নিহতের স্বজন, এলাকাবাসী ও রাজনৈতিক সহকর্মীরা পীরগাছা থানা ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেন। পরে পীরগাছা উপজেলা বিএনপির সভাপতি আমিনুল ইসলাম রাঙ্গার হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
পীরগাছা থানার ওসি সেলিম মালিক বলেন, এ ঘটনায় ঢাকা ও রংপুরে পৃথক দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
অভিযানে অংশ নেওয়া পীরগাছা থানার চার পুলিশ সদস্যকে পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়েছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সারা দেশে হামের প্রকোপ অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে নতুন করে ১ হাজার ১৫৫ জন শিশু আক্রান্ত হয়েছে এবং এই সময়ে মারা গেছে আরও ৫ শিশু।
সোমবার (১০ আগস্ট) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দেওয়া হাম-বিষয়ক হালনাগাদ প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় শনাক্ত হওয়া রোগীদের মধ্যে ৯৯২ জন হামের উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত হয়েছেন এবং ১৬৩ জনের দেহে নিশ্চিতভাবে হামের সংক্রমণ ধরা পড়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে ১০ আগস্ট পর্যন্ত সারা দেশে মোট নিশ্চিত হামরোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৭ হাজার ২৭৮ জনে। আর এই দীর্ঘ সময়ে হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে মোট আক্রান্তের সংখ্যা পৌঁছেছে ১ লাখ ৩৭ হাজার ৩১২ জনে। আক্রান্তদের মধ্যে এ পর্যন্ত ১ লাখ ১৯ হাজার ৩২২ জন হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে ভর্তি হয়েছিলেন, যার মধ্যে ১ লাখ ১৬ হাজার ১৩৯ জন শিশু সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র পেয়েছে।
পরিসংখ্যানে আরও দেখা যায়, গত ১৫ মার্চ থেকে ১০ আগস্ট পর্যন্ত সারা দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ৭৮০ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। নতুন করে আক্রান্ত ও প্রাণহানি বাড়তে থাকায় সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।