কম শিক্ষার্থী নিয়ে পাশাপাশি থাকা প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো একীভূত করার পরিকল্পনা করেছে সরকার। খুলনা জেলায় এমন ৪৬টি প্রাথমিক বিদ্যালয় একীভূত করার জন্য প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে সুপারিশ করা হয়েছে।
খুলনা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শেখ অহিদুল আলম বলেন, ‘আমাদের জেলাতে মোট ১ হাজার ১৫৯টি বিদ্যালয় রয়েছে। এর মধ্যে ৪৭টি বিদ্যালয়ে ৫০ জনের কম শিক্ষার্থী আছে। তবে পারিপার্শ্বিক বিবেচনায় ৪৬টি বিদ্যালয়কে একীভূত করার জন্য সুপারিশ করা হয়েছে।’
তবে একীভূত করার পর কোনো বিদ্যালয় বন্ধ হবে না জানিয়ে তিনি বলেন, ‘পাশাপাশি থাকা দুটি বিদ্যালয়ের একটিতে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির পাঠদান করা হবে। একইভাবে অন্যটিতে তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির পাঠদান করা হবে। এটা ভাগাভাগি করে পাঠদান করানো হবে।’
৫০ জনের কম শিক্ষার্থী রয়েছে এমন কয়েকটি বিদ্যালয়ে পরিদর্শন করেছেন এই প্রতিবেদক। খুলনা শহর থেকে প্রায় ৬০ কিলোমিটার দূরে বিল খুলশী ও বিল ডাকাতিয়ার মাঝামাঝি প্রত্যন্ত ময়নাপুর গ্রামে রয়েছে ময়নাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। সেখানে তিনজন শিক্ষার্থীকে পাঠদান করান দুজন শিক্ষক।
গত বছর জেলা শিক্ষা অফিস থেকে ওই বিদ্যালয়টির কার্যক্রম বন্ধ করে দিতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করা হয়েছিল। তবে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে বিদ্যালয়টি সম্পূর্ণ বন্ধ করার ব্যাপারে কোনো সিদ্ধান্ত দেয়নি।
ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক স্বপ্না রানী বলেন, বিদ্যালয়টিতে দিন দিন শিক্ষার্থী সংখ্যা কমে আসেছে। কারণ এই বিলে কম পরিবারের বসবাস। এ ছাড়া পার্শ্ববর্তী অনেক বিদ্যালয়ও রয়েছে।
ভালো অবকাঠামো না থাকায় শিক্ষার্থীরা সেখানে ভর্তি হতে চায় না জানিয়ে তিনি বলেন, এই বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল ১৯৯১ সালে। ২০১৩ সালে সরকার বিদ্যালয়টিকে জাতীয়করণ করে। ২০১৫ সাল পর্যন্ত এখানে ৬০-৭০ জন শিক্ষার্থী লেখাপড়া করত। তবে পার্শ্ববর্তী আধা কিলোমিটারের মধ্যে আরেকটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। ২০১৫ সালে সেখানে দুইতলা পাকা ভবন নির্মাণ করা হয়। যে কারণে স্থানীয় শিক্ষার্থীরা ওই বিদ্যালয়টিতে চলে যায়।
স্বপ্না রানী জানান, বিদ্যালয়টি থেকে গত ৫ বছরে পাস করে বের হয়েছে মাত্র ৩০ জন। আর ২০২২ সালে শিক্ষার্থী ছিল মাত্র একজন। ২০২৩ সালে আরও দুজন নতুন করে ভর্তি হওয়ায় বর্তমানে তিনজন শিক্ষার্থী রয়েছে। তারাও চলে যেতে পারে। কারণ দুর্বল অবকাঠামোর জন্য তাদের মায়েরাও এখানে পড়াতে চান না। ২০০৮ সালে সংসদ সদস্য নারায়ণ চন্দ্র চন্দ জেলা পরিষদের মাধ্যমে এখানে একটি আধাপাকা ভবন নির্মাণ করিয়ে দেন। পরে আর অবকাঠামো নির্মাণ হয়নি।
শিক্ষা কর্মকর্তা শেখ অহিদুল আলম বলেন, এ ধরনের বিদ্যালয়গুলোতে শ্রেণিভিত্তিক পাঠদান ভাগাভাগি হলে আর শিক্ষার্থী সংকট হবে না। অর্থাৎ একটিতে কম শিক্ষার্থী বা অন্যটিতে বেশি শিক্ষার্থী এমন সমস্যা হবে না।
তিনি আরও বলেন, একীভূত হওয়ার ফলে শিক্ষার্থীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় তাদের মধ্যে প্রতিযোগিতাও বাড়বে। ফলে শিক্ষার মান আরও ভালো হবে।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের খুলনা বিভাগীয় উপপরিচালক মো. মোসলেম উদ্দিন বলেন, অল্প শিক্ষার্থী রয়েছে, তবে পাশাপাশি কোনো বিদ্যালয় নেই- এমন বিদ্যালয়গুলো যথারীতি চালু থাকবে। ঢালাওভাবে কিছু করা হচ্ছে না। স্থানীয় বাস্তবতা ও পারিপার্শ্বিকতা বিবেচনায় নিয়ে বিদ্যালয়গুলো একীভূত করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, ‘সারা দেশে এ ধরনের ৩০০টি প্রতিষ্ঠানের তালিকা করা হয়েছে। এটা মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে। নির্দেশনা এলে পরবর্তী কার্যক্রম শুরু করা হবে।’
বরিশাল জেলা পুলিশের তিন সদস্যের ডোপ টেস্টে পজিটিভ ফলাফল আসায় পুরো পুলিশ বিভাগে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। মাদকমুক্ত পুলিশ বাহিনী গড়ার অংশ হিসেবে চলমান ডোপ টেস্ট কার্যক্রমের মধ্যেই এই ঘটনা সামনে আসে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বরিশাল জেলা পুলিশকে মাদকমুক্ত রাখতে সম্প্রতি সকল সদস্যের ডোপ টেস্ট কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) উজিরপুর থানা পুলিশের সদস্যদের ডোপ টেস্ট করা হয়। এতে তিনজন কনস্টেবলের রিপোর্ট পজিটিভ আসে।
ডোপ টেস্টে পজিটিভ ফলাফল আসার পর ওই তিন পুলিশ সদস্যকে জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে নিয়ে আসা হয় এবং সেখানে তাদের রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক পুলিশ সদস্য জানান, জেলা পুলিশের সব ইউনিটে পর্যায়ক্রমে ডোপ টেস্ট কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। জেলার ১০টি থানার সব পুলিশ সদস্যকে এই পরীক্ষার আওতায় আনা হচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে গত ১৭ এপ্রিল উজিরপুর থানার তিন সদস্যকে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আনা হয়। পরে তাদের ডোপ টেস্টে পজিটিভ ফলাফল আসে।
উজিরপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ফারুক হোসেন বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, তিন পুলিশ সদস্যকে জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে নেওয়া হয়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ দেখছে।
জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মাদকমুক্ত বাহিনী গঠনের লক্ষ্যে এই ডোপ টেস্ট কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে এবং যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হবে তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়ায় পদ্মা নদীর কলাবাগান এলাকায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলন প্রতিরোধে অভিযান পরিচালনা করে ১০ জনকে আটক এবং ১টি ড্রেজার (কাটার) ও ২টি ক্যারিং বডি জব্দ করা হয়েছে।
আটককৃতরা হলেন- ঢাকা জেলার উত্তর শিমিলা উপজেলার দোহার এলাকার মৃত জামাল শেখের ছেলে মিজান শেখ (৪৫), বরগুনা জেলার বাবনা উপজেলার গলয় বুনিয়া এলাকার হালিম আকনের ছেলে শাকিল আকন (১৮), পটুয়াখালী সদরের জনকাঠি এলাকার সানু ফকিরের ছেলে জাকারিয়া ফকির (১৮), রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া বড় মসজিদপাড়া এলাকার জাবাই মণ্ডলের ছেলে আনো মণ্ডল (৩০), রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দ উপজেলার ছাত্তার মেম্বার পাড়া এলাকার মনছের শেখের ছেলে শাহিন শেখ (৩০), পিরোজপুর জেলা ইন্দুরকানি উপজেলার বলেশ্বর এলাকার জাকির হাওলাদারের ছেলে মো. রাকিব হাওলাদার (১৮), বরিশাল জেলার মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার জালিরচর গ্রামের রফিজ উদ্দিন বেপারীর ছেলে নিজাম বেপারী (৪৫), পটুয়াখালী সদর উপজেলার পশ্চিম আতালিয়া গ্রামের নজরুল শিকদারের ছেলে সাইদুল সিকদার (২৪), বরগুনা জেলার বাবনা উপজেলার পূর্ব বল্গানিয়া এলাকার মোতালেবের ছেলে ইয়াসিন (১৮), মাদারীপুর জেলার শিবচর উপজেলার চড় জানা জাত এলাকার আব্দুর মাতব্বরের ছেলে আবুল কালাম (৪২)।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, দৌলতদিয়া ইউনিয়নের পদ্মা নদীর কলাবাগান এলাকায় গোয়ালন্দ উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মুনতাসির হাসান খানের নেতৃত্বে কোস্টগার্ড ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ গত সোমবার রাত ১২টা থেকে মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) ভোর সাড়ে ৪টার পর্যন্ত অভিযান পরিচালনা করে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনে ব্যবহৃত একটি বালু উত্তোলনকৃত ড্রেজার (কাটার) এবং ২টি ক্যারিং বডি (বাল্কহেড) জব্দ এবং ১০ জন ব্যক্তিকে আটক করা হয়।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন দৌলতদিয়া নৌপুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ত্রিনাথ সাহা, রাজবাড়ী কোস্ট গার্ড কমান্ডার কনটিজেন্ট শাহিন আলম ও অন্যরা।
পাবনার বেড়া উপজেলায় আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরগুলো এখন মাদকসেবী ও অপরাধীদের নিরাপদ আশ্রয়ে পরিণত হয়েছে। উপজেলার হাটুরিয়া-নাকালিয়া, বক্তারপুর ও কুশিয়ারা আশ্রয়ণ প্রকল্পের অনেক ঘর বরাদ্দপ্রাপ্তরা ব্যবহার না করায় সেগুলোতে দিনরাত চলছে মাদক ও জুয়ার আড্ডা। এতে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন প্রকল্পে বসবাসরত অন্য পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দারা।
সরেজমিনে ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বক্তারপুর আশ্রয়ণ প্রকল্পের ৭২টি ঘরের মধ্যে ৩৬টি এবং কুশিয়ারা প্রকল্পের ৮৯টি ঘরের মধ্যে ৫১টি ঘরই বর্তমানে ফাঁকা পড়ে আছে। অভিযোগ রয়েছে, প্রকৃত ভূমিহীনদের বদলে অনেক ক্ষেত্রে বিত্তবান ও প্রভাবশালীদের নামে ঘর বরাদ্দ দেওয়ায় তারা সেখানে থাকছেন না। এই সুযোগে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহল ঘরগুলো অবৈধভাবে দখল করে মাদক বেচাকেনা ও সেবনের আস্তানা হিসেবে ব্যবহার করছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রকল্পের এক বাসিন্দা বলেন, ‘যাদের নামে ঘর বরাদ্দ হয়েছে, তাদের অনেকেই এখানে কোনোদিন আসেনি। দীর্ঘ দিন ঘরগুলো পরিত্যক্ত থাকায় রাতে বহিরাগত ও মাদকসেবীদের আনাগোনা বেড়ে যায়। প্রতিবাদ করলে উল্টো হুমকির মুখে পড়তে হয়। আমরা এখন সন্তানদের নিরাপত্তা নিয়ে খুবই দুশ্চিন্তায় আছি।’
বেড়া মডেল থানার ওসি নিতাই চন্দ্র সরকার জানান, আশ্রয়ণ প্রকল্পগুলোতে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের বিষয়ে পুলিশ সতর্ক রয়েছে। তিনি বলেন, ‘ওই এলাকায় পুলিশের নিয়মিত টহল ও নজরদারি বাড়ানো হবে। অপরাধীদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনতে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’
এ বিষয়ে বেড়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নুরেন মাইশা খান জানান, ঘরগুলো নিয়মিত তদারকি করা হচ্ছে। যারা বরাদ্দ পেয়েও ঘরে থাকছেন না, তাদের বরাদ্দ বাতিল করে প্রকৃত ভূমিহীনদের তালিকা তৈরি করে ঘরগুলো বুঝিয়ে দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হবে।
ভুক্তভোগী এলাকাবাসীর দাবি, শুধু অভিযান নয়, প্রকৃত ভূমিহীনদের পুনর্বাসন নিশ্চিত এবং নিয়মিত প্রশাসনিক তদারকি বজায় রাখলেই কেবল এই সামাজিক অস্থিরতা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব।
ঢাকা মেডিকেলে কলেজ থেকে মনিকা আক্তার মিতু নামের এক ভুয়া শিক্ষার্থী আটক করে পুলিশে দিয়েছে কলেজ প্রশাসন।
মঙ্গলবার দুপুরের দিকে তার সন্দেহজনক চলাফেরা দেখে তাকে কলেজ প্রশাসনের কাছে সোপর্দ করেন শিক্ষার্থীরা। পরে তাকে শাহবাগ থানায় সোপর্দ করা হয়েছে।
জানা যায়, ঢাকা মেডিকেল কলেজের পুরোনো ভবনের নিচতলায় লেডিস কমন রুমে অ্যাপ্রোন পরে চলাফেরা করার সময় অন্য শিক্ষার্থীদের চোখে পড়ে।
তারা তার সাথে কথা বলেন ও তার আইডি কার্ড দেখে নিশ্চিত হন, তিনি এই কলেজের কেউ নন। পরে তাকে আটক করে কলেজ প্রশাসনের কাছে সোপর্দ করেন।
এদিকে কলেজ প্রশাসন তার তথ্য যাচাই-বাছাই করে নিশ্চিত হন, তিনি কলেজের কেউ নন। পরে ওই তরুণী তা স্বীকার করেন।
পরে কলেজ প্রশাসন শাহবাগ থানায় তাকে সোপর্দ করে। ওই তরুণী জানিয়েছেন, তিনি মুন্সীগঞ্জ জেলার টঙ্গিবাড়ী উপজেলার মমিন আলীর মেয়ে। বর্তমানে নবাবগঞ্জে থাকেন। তবে কী কারণে বা কেন এ রকম মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজে এসেছিলেন, সে ব্যাপারে কিছুই বলেনি।
ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক মো. ফারুক জানিয়েছেন, ওই তরুণীকে শাহবাগ থানায় সোপর্দ করা হয়েছে।
বরগুনার আমতলী উপজেলায় ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের মধ্যে বিনামূল্যে গোলপাতার চারা, ভার্মি কম্পোস্ট এবং উফশী আউশ ধানের বীজ ও রাসায়নিক সার বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়েছে। উফশী আউশ ধানের আবাদ বাড়াতে উপজেলার ১২ হাজার কৃষক এই প্রণোদনা পাচ্ছেন। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) উপজেলা কৃষি অফিসের আয়োজনে অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. রাসেল। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন আমতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ জাফর আরিফ চৌধুরী।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, উপকূলীয় পরিবেশ সংরক্ষণ ও কৃষি বৈচিত্র্য বৃদ্ধির লক্ষ্যে উপজেলার ৬০ জন কৃষকের মধ্যে গোলপাতার চারা ও ভার্মি কম্পোস্ট বিতরণ করা হবে। প্রতিটি কৃষক পাবেন ২০১টি করে গোলপাতার চারা এবং নির্ধারিত পরিমাণ ভার্মি কম্পোস্ট। এ ছাড়া উফশী আউশ ধানের আবাদ বাড়াতে উপজেলার ১২ হাজার কৃষককে প্রণোদনার আওতায় আনা হয়েছে। এ কর্মসূচির আওতায় প্রতিটি কৃষককে ৫ কেজি উন্নতমানের আউশ ধানের বীজ, ১০ কেজি ডিএপি সার এবং ১০কেজি এমওপি সার দেওয়া হবে। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বন কর্মকর্তা মনিরুল ইসলাম, উপসহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা জিয়াউর রহমান, উপজেলা কৃষি অফিসের সকল উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা এবং স্থানীয় প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকেরা।
বক্তারা বলেন, সরকারের এ ধরনের প্রণোদনা কর্মসূচি কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, কৃষকদের উৎসাহ প্রদান এবং খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তারা আশা প্রকাশ করেন, এই সহায়তার মাধ্যমে আমতলীতে আউশ ধানের আবাদ বৃদ্ধি পাবে এবং কৃষকের আর্থিক অবস্থার উন্নয়ন ঘটবে।
জামিন পেলেন দেড় মাসের শিশুসহ কারাগারে যাওয়া যুব মহিলা লীগ নেত্রী শিল্পী বেগম। গতকাল মঙ্গলবার রাত ৮টার দিকে শুনানি শেষে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মোস্তাফিজুর রহমান ৫ হাজার টাকা মুচলেখায় পুলিশ রিপোর্ট পর্যন্ত তার জামিন মঞ্জুর করে আদেশ দেন।
আসামিপক্ষের আইনজীবী ফারজানা ইয়াসমিন রাখি এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
এদিন বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে রাজধানীর তেজগাঁও থানার বিস্ফোরক আইনের একটি মামলায় শুনানি শেষে ঢাকার অতিরিক্ত মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আওলাদ হোসাইন মুহাম্মদ জোনাইদ তার জামিন নামঞ্জুর করে আদেশ দেন।
এরপর কাইফা ইসলাম সিমরান নামে দেড় মাসের কন্যাসন্তানকে বুকে নিয়ে ও পেটে বেল্ট পরে কাঁদতে কাঁদতে কারাগারে যান শিল্পী। হৃদয়বিদারক এ ঘটনায় গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়।
এর আগে দুপুর ২টার দিকে তাকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হয়। এরপর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক শেখ নজরুল ইসলাম আসামিকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন।
ওই আবেদনে বলা হয়, আসামি মামলার ঘটনায় জড়িত থাকার বিষয়ে যথেষ্ট সাক্ষ্য-প্রমাণাদি পাওয়া গেছে। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে সোমবার সন্ধ্যা সোয়া ৭টার দিকে তেজগাঁও থানার রেলওয়ে কলোনি স্টেশন রোডের নিজ বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাকে প্রাথমিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। আসামি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন দমন করতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন বলে তদন্তে জানা যাচ্ছে। মামলাটির তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে জেলহাজতে আটক রাখা বিশেষ প্রয়োজন।
এ সময় তার আইনজীবী ফারজানা ইয়াসমিন রাখি জামিন চেয়ে আবেদন করেন। শুনানিতে তিনি উল্লেখ করেন, তার ১ মাস ১৬ দিনের কন্যাসন্তান রয়েছে। তার সিজারিয়ান অস্ত্রোপচার করা হয়েছে। যেকোনো শর্তে তার জামিন প্রার্থণা করছি। শুনানি শেষে আদালত জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। বিকেল ৩টা ১২ মিনিটকে আদালত থেকে বের করা হয়। এসময় আদালতের চতুর্থ তলায় কাঁদতে থাকেন তিনি।
পরে তার কোলে তুলে দেওয়া হয় দেড় মাস বয়সি বাচ্চাকে। এসময় আদালতের বারান্দায় রাখা বেঞ্চে বসিয়ে সেই বাচ্চাকে দুধ খাওয়ান ওই মা। পরে ওই বাচ্চাকে কোলে নিয়ে তাকে আদালতের হাজতখানায় নেওয়া হয়। এসময় তিনি কাঁদতে থাকেন। যুবলীগ নেত্রী আক্ষেপ করে বলেন, ‘রাজনৈতিক কারণে বাচ্চাসহ কারাগারে যেতে হচ্ছে।’
মামলার সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় বর্ষের আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থী মো. তাহমিদ মুবিন রাতুল। তিনি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের একজন সক্রিয় কর্মী ছিলেন। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই বিকেল ৫টার দিকে রাজধানীর চানখাঁরপুল এলাকায় আন্দোলনরত অবস্থায় তিনি গুলিবিদ্ধ হন। তার সহপাঠীরা তাকে ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যান। ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা চলাকালীন ছাত্রলীগের অসংখ্য নেতাকর্মী তাদের আক্রমণ করেন।
পরবর্তীতে আসামি শিল্পীর নির্দেশে ২৩ জুলাই সন্ধ্যা পৌনে ৭টায় মামলার এজাহারনামীয় আসামিরাসহ আরও অজ্ঞাত ১২০-১৩০ জন আসামি দেশীয় ধারাল অস্ত্র এবং পিস্তল, বোমা নিয়ে ওই শিক্ষার্থীর বাসায় হামলা চালান। এতে আসবাব ও ইলেকট্রনিকস জিনিসপত্র ভাঙচুর করে পাঁচ লাখ টাকার ক্ষতিসাধন করেন। তিন লাখ টাকা মূল্যের বাসার বিভিন্ন মালামাল লুটপাট ও চুরি করে নিয়ে যান। ভুক্তভোগীর বাসার সামনে রাস্তার ওপর বোমা বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। শিল্পী ও অন্য আসামিরা হত্যার উদ্দেশে ওই শিক্ষার্থীর বাবা মো. সোহেল রানাকে এলোপাতাড়ি মারধর করেন।
এ ঘটনায় গত বছরের ২৫ জানুয়ারি তেজগাঁও থানায় মামলা করা হয়।
বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম বলেছেন, নির্বাচনী ইশতেহার ও প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সারাদেশের বন্ধ জুটমিলগুলো চালু করতে কাজ করছে সরকার। সরকারি-বেসরকারি যে কোনো ব্যবস্থাপনায় পাটকল চালু করা হবে। তিনি মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) নরসিংদীর পলাশের কো-অপারেটিভ জুটমিল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, নরসিংদীর দুটিসহ সারাদেশেই বন্ধ কারখানাগুলো পর্যায়ক্রমে চালু করা হবে। এসব কারখানায় দেশি-বিদেশি উদ্যোক্তাদের আকৃষ্ট করা হচ্ছে, যাতে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়। বিগত সরকারের সময়ে বন্ধ হয়ে যাওয়ার ফলে বেশ কিছু মানুষ কর্মশূন্য হয়ে পড়ে। বর্তমান সরকার জনগণের সরকার তাই জনগণের কল্যাণে ও তাদের কর্মসংস্থানে এই সরকার বদ্ধপরিকর।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন, বিজিএমসির চেয়ারম্যান, বিগ্রেডিয়ার জেনারেল মো. কবির উদ্দিন সিকদার, মুখ্য পরিচালন কর্মকর্তা মামনুর রশিদ, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব সুব্রত সিকদারসহ বিভিন্ন কর্মকর্তারা। বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী পরে ঘোড়াশালে অবস্থিত বাংলাদেশ জুট মিল ও ঘোড়াশাল প্রান কারখানা(এএমসিএল) পরিদর্শন করেন।
সুন্দরবনে অভিযান চালিয়ে ডাকাত দল ছোট সুমন বাহিনীর এক সদস্যকে আটক করেছে বাংলাদেশ কোস্টগার্ড। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়েছে। আটক আবদুস সামাদ মোল্লার (৩৫) বাড়ি বাগেরহাটের রামপাল উপজেলায়। তিনি ছোট সুমন বাহিনীর সেকেন্ড-ইন-কমান্ড (দ্বিতীয় প্রধান) বলে জানিয়েছেন কোস্টগার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম।
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) দুপুরে সাব্বির আলম বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্দেশনায় সুন্দরবনে সক্রিয় বনদস্যুদের দমনে ‘অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন’ ও ‘অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড’ নামে দুটি বিশেষ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে ‘অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড’-এর তৃতীয় ধাপে অভিযান চালানো হয়। এ সময় ছোট সুমন বাহিনীর সেকেন্ড-ইন-কমান্ড সামাদ মোল্লাকে আটক করা হয়।
কোস্ট গার্ড সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সোমবার রাত ১০টার দিকে রামপাল উপজেলার শুকদারা বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে আবদুস সামাদ মোল্লাকে আটক করা হয়। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ছোট সুমন বাহিনীর হয়ে সুন্দরবনে ডাকাতি কার্যক্রমে জড়িত ছিলেন।
পরে আবদুস সালামের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মঙ্গলবার ভোরে মোংলা থানার সুন্দরবনের নন্দবালা খালসংলগ্ন এলাকায় আরেকটি অভিযান চালানো হয়। সেখান থেকে একটি একনলা বন্দুক, এয়ারগান ও দুটি অবিস্ফোরিত কার্তুজ উদ্ধার করা হয়। আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে কোস্টগার্ড।
কুষ্টিয়া জেলার ভেড়ামারায় সরকারি নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। ওই বালু রাখা হচ্ছে রাস্তায়। এতে একদিকে যেমন নষ্ট হচ্ছে রাস্তা, অন্যদিকে সাধারণ মানুষের চলাচলের জায়গা সংকুচিত হয়ে চরম ভোগান্তির সৃষ্টি হচ্ছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, এলাকায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে তা জনগুরুত্বপূর্ণ সরকারি রাস্তায় এবং পাশের খালি জায়গায় স্তূপ করে রাখা হয়েছে। বালু ভর্তি ভারী ট্রাক চলাচলের কারণে এলাকার একমাত্র পাকা রাস্তাটি বিভিন্ন জায়গায় দেবে গিয়ে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, প্রভাবশালী এই চক্রটি ক্ষমতার অপব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে এই অবৈধ ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। সরকারি জায়গা দখল করে বালু রাখায় পথচারীদের চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে এবং ধুলোবালিতে পরিবেশ দূষিত হয়ে শ্বাসকষ্টসহ নানা স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে। এলাকাবাসী বাধা দিলে উল্টো হুমকি-ধামকি দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ভুক্তভোগী বলেন, "রাস্তাটি আমাদের যাতায়াতের প্রধান পথ। বালু ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের কারণে এখন এই রাস্তা দিয়ে হাঁটাই দায় হয়ে পড়েছে। আমরা প্রশাসনের কাছে এর দ্রুত সমাধান চাই।"
এ বিষয়ে স্থানীয় সচেতন মহল অবিলম্বে প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন। তারা বলছেন, দ্রুত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে বালু উত্তোলন বন্ধ এবং সরকারি জায়গা থেকে বালুর স্তূপ অপসারণ না করলে জনদুর্ভোগ আরও বাড়বে।
এ বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কুষ্টিয়া জেলার নির্বাহী প্রকৌশলী আমিনুর রহমান বলেন, বিষয় টা আপনাদের মাধ্যমে এবং ভিডিও ফুটেজ দেখে অবগত হয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
ভেড়ামারার নির্বাহী প্রকৌশলী মিজানুর রহমান বলেন, এটা কুষ্টিয়া পাউবোর দায়িত্বে। এ বিষয়ে কুষ্টিয়ার কমকর্তারা বলতে পারবেন। এটা আমার কোনো বিষয় নয়।
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে এসএসসি পরীক্ষায় কাঁচপুর ওমর আলী উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে পরীক্ষায় ২০২৫ সালের প্রশ্নে ১৭৭ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষা দিয়েছে। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) বাংলা প্রথম পত্র সৃজনশীল পরীক্ষায় এক ঘন্টা ২৫ মিনিট পরীক্ষা দেওয়ার পর বিষয়টি নজরে এসে। ফলে পরীক্ষা কেন্দ্রের মধ্যে হৈ চৈ পড়ে যায়। এতে করে পরীক্ষার্থীদের মধ্যে ফেল করার আতংঙ্ক বেড়ে যায়। অভিভাবকদের মধ্যেও ভয় ও সংশয় তৈরি হয়। শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা কেন্দ্র সচিবের গাফলতিকে দায়ী করেছেন।
এ ঘটনার নজরে আসার পর তড়িঘড়ি করে সোনারগাঁ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে সময় বৃদ্ধির আবেদন করেন কেন্দ্র সচিব মো. আবদুল মতিন সরকার। পরে পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকরা পরীক্ষা কেন্দ্রে কেন্দ্র সচিবের পদত্যাগ চেয়ে বিভিন্ন স্লোগানে বিক্ষোভ করেন। এছাড়াও তারা গাফলতিকে দায়ী করেছেন।
এদিকে যথাযথ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে উপজেলা প্রশাসন পরে অতিরিক্ত সময় দিয়ে নতুন সিলেবাসে পরীক্ষা নেওয়া হয়।
জানা যায়, এসএসসি পরীক্ষা উপজেলার কাঁচপুর ওমর আলী উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে এ বছর সিনহা উচ্চ বিদ্যালয়, দবরউদ্দিন ভূঁইয়া উচ্চ বিদ্যালয়, মদনপুর রহমানিয়া উচ্চ বিদ্যালয় ও নাসিম মেমোরিয়াল ল্যাবরোটরি স্কুলের ৭৬০ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয়। এদের মধ্যে ১৭৭ জন শিক্ষার্থীকে ২০২৫ সালের সিলেবাসের প্রশ্ন সরবরাহ করা হয়। এ প্রশ্নেই শিক্ষার্থীরা এক ঘন্টা ২৫ মিনিট পরীক্ষা দেয়। পরবর্তীতে পুরাতন প্রশ্নে পরীক্ষা দেওয়ার বিষয়টি শিক্ষার্থীদের নজরে আসে। বিষয়টি কেন্দ্র সচিবসহ সংশ্লিষ্টদের অবগত করা হলে তাৎক্ষনিকভাবে ইউএনওকে জানিয়ে সঠিক প্রশ্নে সময় বৃদ্ধি করে পরীক্ষা নেওয়া হয়।
সিনহা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সায়মা আক্তার জানায়, বহু নির্বাচনী পরীক্ষা শেষে তারা সৃজনশীল পরীক্ষায় অংশ নেন। তাদেরকে কেন্দ্র দায়িত্বরতরা ২০২৫ সালের সিলেবাসের প্রশ্ন সরবরাহ করেন। পরীক্ষার প্রথম দিন হওয়ার কারনে তাদের বিষয়টি প্রথমে নজরে আসেনি। পরবর্তীতে নজরে এলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ভয় ও আতংঙ্ক বিরাজ করে। কেউ কেউ ফেল করার ভয়ে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন।
মদনপুর রহমানিয়া উচ্চ বিদ্যালয় শিক্ষার্থী আয়মান রহমান জানায়, এমন ভুল হতে থাকলে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যত শংঙ্কায় পড়বে। আগামী দিনে এমন পরিস্থিতি যেন না হয় সেজন্য সংশ্লিষ্ট সকলকে সচেতন হওয়া দরকার।
রাবেয়া বসরি নামের এক অভিভাবক জানান, কেন্দ্র সচিবের দায়িত্বে গাফলতির কারনে তাদের সন্তানদের ভবিষ্যত অন্ধকারের দিকে যাচ্ছিল। এমন দায়িত্বহীন ব্যক্তিকে অব্যাহতি দিয়ে সঠিক দায়িত্ববান শিক্ষককে দায়িত্ব দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
কাঁচপুর ওমর আলী উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রের কেন্দ্র সচিব মো.আবদুল মতিন সরকার জানান, সিলেবাসের সাল দৃষ্টিগোচর না হওয়ার কারনে এমন হয়েছে। তাছাড়া প্রশ্নের অতিরিক্ত আরো দুটি প্রশ্নের প্যাকেট বেশি আসার কারনে বিষয়টি নজরে আসেনি। ফলে এমন পরিস্থিতি হয়েছে। আগামী দিনগুলোতে এ বিষয়টি মাথায় রেখে দায়িত্ব পালন করবেন বলে জানিয়েছেন।
সোনারগাঁ উপজেলা নির্বাহী অফিসার আসিফ আল জিনাত বলেন, পুরাতন সিলেবাসে পরীক্ষার বিষয়টি নজরে আসা মাত্র বোর্ডের কর্মকর্তারদের সঙ্গে কথা বলে অতিরিক্ত সময় দিয়ে নতুন সিলেবাসে পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে। আশা করি পরীক্ষার্থীদের মধ্যে তেমন কোন সমস্যা হবে না। শিক্ষার্থীদের এ বিষয়ে আতংঙ্কের কোন কারন নেই।
অবৈধভাবে ভারতে অনুপ্রবেশের অভিযোগে ভারতীয় কারাগারে আটক বাংলাদেশী যবক শিপন হাওলাদার মারা যাওয়ার পর ওই যুবকের মরদেহ শেরপুর সীমান্ত দিয়ে হস্তান্তর করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ।
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) দুপুরে শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার নাকুগাঁও সীমান্ত দিয়ে দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী ও পুলিশের উপস্থিতিতে ওই মরদেহ হস্তান্তর করা হয়। মৃত ওই যুবক শিপন হাওলাদার (৩৫) দেশের বরগুনা জেলার সদর উপজেলার সবেজ হাওলাদারের ছেলে।
পুলিশ ও বিজিবি জানায়, প্রায় ১৯ মাস আগে শিপন হাওলাদার ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে ভারতে অনুপ্রবেশ করে। পরে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর হাতে আটক হলে তাকে সেখানকার পুলিশে সোপর্দ করা হয়। এরপর ভারতীয় আদালত অবৈধ অনুপ্রবেশের দায়ে তাকে কারাদন্ড দিয়ে তুরা কারাগারে পাঠায়। আগামী ২৮ এপ্রিল তার কারাভোগের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ছিল। এর আগেই গত বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) শিপন অসুস্থ হয়ে পড়লে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয়। দুই দেশের আইনী প্রক্রিয়া শেষে ২১ এপ্রিল মঙ্গলবার দুপুর একটার দিকে শিপনের মরদেহ তার স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
মরদেহ হস্তান্তরকালে ভারতীয় বিএসএফ এর পক্ষে ঢালু কোম্পানী কমান্ডার ইন্সপেক্টর কিমা রায়, বাংলাদেশের বিজিবি’র পক্ষে হাতিপাগার সবেদার ফুল মিয়া সরকার, নালিতাবাড়ী থানা পুলিশের ওসি আশরাফুজ্জামানসহ দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী ও পুলিশের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
ঢাকার জাতীয় ক্যানসার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের উপ-পরিচালক ড. আহমদ হোসেনকে (৫০) কুপিয়ে জখম করার ঘটনায় ৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব।
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) দুপুর পৌনে ১২টায় র্যাব সদর দপ্তরের উপ-পরিচালক (মিডিয়া) মেজর লুৎফর রহমান হাদী এ তথ্য জানান।
তিনি জানান, গতকাল জাতীয় ক্যানসার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে উপ-পরিচালককে সন্ত্রাসী হামলায় কুপিয়ে জখম করার চাঞ্চল্যকর ঘটনায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রধান অভিযুক্তসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব।
বনানী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. মেহেদী হাসান জানান, আহত উপ-পরিচালককে বেশ কিছুদিন ধরে বিদেশি নম্বর থেকে টেন্ডার দেওয়ার জন্য হুমকি দিয়ে আসছিল একটি চক্র। সোমবার (২০ এপ্রিল) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে অফিস শেষ করে ক্যানসার হাসপাতাল থেকে তার বাসায় ফেরার পথে পুরাতন ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের পেছনের গলিতে অজ্ঞাত ২-৩ ব্যক্তি তার ডান হাত ও পিঠে ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায়। পরে তাকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে ক্যান্সার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেলে ভর্তি করা হয়।
কুষ্টিয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য মুফতি আমির হামজার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন সিরাজগঞ্জের আদালত। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) আদালত এই আদেশ প্রদান করেন। জেলা প্রশাসকের (ডিসি) বদলি সংক্রান্ত বিষয়ে বিতর্কিত মন্তব্যের জের ধরে তার বিরুদ্ধে এই আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত হয় গত ২৭ মার্চ। কুষ্টিয়ার হরিপুর জামে মসজিদে জুমার নামাজের খুতবার আগে মুসল্লিদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখার সময় এমপি আমির হামজা অভিযোগ করেন, কুষ্টিয়ার বর্তমান জেলা প্রশাসক এখানে বদলি হয়ে আসার জন্য প্রায় ২০ থেকে ৩০ কোটি টাকা ব্যয় করেছেন। তার এই বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হলে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
এই মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৩ এপ্রিল এমপি আমির হামজাকে একটি লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়। সেখানে উল্লেখ করা হয় যে, তার এমন বক্তব্যে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হয়েছে এবং জনমনে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। নোটিশে তাকে সাত দিনের সময় বেঁধে দিয়ে জানতে চাওয়া হয়েছিল জেলা প্রশাসক ঠিক কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে এই টাকা দিয়েছেন, তার নাম প্রকাশ করতে হবে।
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে উক্ত অভিযোগের স্বপক্ষে কোনও প্রমাণ বা তথ্য জনসম্মুখে প্রকাশ করতে ব্যর্থ হওয়ায় আদালত আজ তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির আদেশ দেন। আইন সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, প্রশাসনের একজন শীর্ষ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে তথ্যপ্রমাণ ছাড়া এমন মন্তব্য করা আইনত দণ্ডনীয় এবং এটি সরকারি চাকরিজীবীদের মর্যাদাহানি করে।
মামলার আইনজীবী আব্দুল মজিদ জানান, একজন দায়িত্বশীল সংসদ সদস্যের কাছ থেকে এমন অসংলগ্ন বক্তব্য কাম্য নয়। সরকার যখন দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে কাজ করছে, তখন প্রশাসনের বিরুদ্ধে এমন গুরুতর অভিযোগ তোলার আগে অবশ্যই পর্যাপ্ত তথ্য ও প্রমাণ থাকা প্রয়োজন। প্রমাণ দিতে ব্যর্থ হওয়ায় এবং বিভ্রান্তি ছড়ানোর কারণেই আদালত এই কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছেন।