ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপে ১৫৬টি উপজেলায় ভোটগ্রহণ শেষ হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত চলে ভোটগ্রহণ। ভোট গণনা শেষে রাতে নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশ করেন রিটার্নিং কর্মকর্তারা। সারা দেশের প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর থেকে জানা যায়-
ফরিদপুর
উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপে ফরিদপুরের নগরকান্দা ও সালথা উপজেলায় ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। নগরকান্দা উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপ-কমিটির সাবেক সহসম্পাদক কাজী শাহ জামান বাবুল। আনারস প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ৩৭ হাজার ২০৯ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মোটরসাইকেল প্রতীকের প্রার্থী বর্তমান উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মনিরুজ্জামান সরদার পেয়েছেন ২৫ হাজার ২৩৭ ভোট।
অন্যদিকে সালথা উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে বর্তমান চেয়ারম্যান ওয়াদুদ মাতুব্বর বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। আনারস প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ৩৫ হাজার ৫৪৫ ভোট তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী সালথা উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও মোটরসাইকেল প্রতীকের প্রার্থী মো. ওহিদুজ্জামান পেয়েছেন ৫ হাজার ৩৪২ ভোট।
নারায়ণগঞ্জ
উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপে নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলায় ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম। ঘোড়া প্রতীকে তিনি পেয়েছেন এক লাখ ১৫ হাজার ২৫২ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী দোয়াত কলম প্রতীকের প্রার্থী মো. শাহজালাল মিয়া পেয়েছেন ১৩ হাজার ১৩২ ভোট।
বিজয়ী মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম আড়াইহাজার উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সদস্য। তিনি কালাপাহাড়িয়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান। অন্যদিকে তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মো. শাহজালাল মিয়া আড়াইহাজার উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া
দ্বিতীয় ধাপের উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা ও আখাউড়ায় উপজেলায় ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। কসবা উপজেলায় আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের ফুফাতো ভাই ছাইদুর রহমান ও আখাউড়ায় মোগড়া ইউনিয়ন পরিষদের তিনবারের সাবেক চেয়ারম্যান মনির হোসেন বেসরকারিভাবে চেয়ারম্যান নির্বাাচিত হয়েছেন।
ঘোষিত ফলাফল অনুযায়ী, কসবা উপজেলায় ছায়েদুর রহমান স্বপন কাপ-পিরিচ প্রতীকে ৮৬ হাজার ৬৯৮ ভোট পেয়ে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও কুটি ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ছিলেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বর্তমান উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের সাবেক সহকারী একান্ত সচিব রাশেদুল কাউসার ভূইয়া আনারস প্রতীকে পেয়েছেন ৩৯ হাজার ৯৫৯ ভোট।
অন্যদিকে আখাউড়া উপজেলায় মনির হোসেন ঘোড়া প্রতীকে ২৮ হাজার ৩০৯ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি উপজেলা যুবলীগের সাবেক আহ্বায়ক ও মোগড়া ইউনিয়ন পরিষদের তিনবারের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান আনারস প্রতীকে পেয়েছেন ১৪ হাজার ৫৬৩ ভোট।
রাঙামাটি
ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপে রাঙামাটির রাজস্থলী, কাপ্তাই ও বিলাইছড়ি উপজেলায় শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। রাজস্থলী উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি উবাচ মারমা আনারস প্রতীকে ৭ হাজার ৭৫ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মো. রিয়াজ উদ্দীন রানা দোয়াত কলম প্রতীকে পেয়েছেন ২ হাজার ১৮ ভোট।
অন্যদিকে কাপ্তাই উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে উপজেলা যুবলীগের সভাপতি মো. নাছির উদ্দিন দোয়াত কলম প্রতীকে ৭ হাজার ৩৬২ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও সাবেক ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আনোয়ারুল ইসলাম চৌধুরী আনারস প্রতীকে পেয়েছেন ৬ হাজার ৯৭৩ ভোট।
অপরদিকে বিলাইছড়ি উপজেলায় মোট ১৩টি কেন্দ্রের মধ্যে ৫টি হেলিসর্টি ভোটকেন্দ্র রয়েছে। দুর্গম এলাকা হওয়ায় রাত সাড়ে ৯টা পর্যন্ত ফলাফল না আসায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কোনো ফলাফল ঘোষণা করেননি। তবে বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা যায়, পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (জেএসএস) সমর্থিত দোয়াত কলম প্রতীকের বিরোত্তম তঞ্চঙ্গ্যা চেয়ারম্যান পদে বিজয়ী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
লালমনিরহাট
লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ ও আদিতমারী উপজেলায় উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপে ভোটগ্রহণ শেষ হয়েছে। দুই উপজেলায় মধ্যে আদিতমারী উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে ফারুক ইমরুল কায়েস ও কালীগঞ্জ উপজেলায় জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক রাকিবুজ্জামান আহমেদ বিজয়ী হয়েছেন।
রাত সাড়ে ৯টার দিকে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা লুৎফর কবির তাদেরকে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত ঘোষণা করেন।
আদিতমারী উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে ফারুক ইমরুল কায়েস মোটরসাইকেল প্রতীকে পেয়েছেন ৩৩ হাজার ১৩৫ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রফিকুল আলম আনারস প্রতীকে পেয়েছেন ২৯ হাজার ১৮টি ভোট
কালীগঞ্জ উপজেলায় সাবেক সমাজকল্যাণমন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদের ছেলে রাকিবুজ্জামান আহমেদ আনারস প্রতীকে পেয়েছেন ২৪ হাজার ৩০৩ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী তার চাচা উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মাহবুবুজ্জামান আহমেদ ঘোড়া প্রতীকে পেয়েছেন ১৯ হাজার ৩৫০ ভোট।
পিরোজপুর
ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে দ্বিতীয় ধাপে পিরোজপুর জেলার দুই উপজেলায় শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। মঙ্গলবার পিরোজপুরের নেছারাবাদ ও কাউখালী উপজেলার ১৫টি ইউনিয়নের মোট ১২২টি ভোটকেন্দ্রে ইভিএম পদ্ধতিতে এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
কাউখালী উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে মো. আবু সাঈদ মিঞা ও নেছারাবাদ উপজেলায় আব্দুল হক নির্বাচিত হয়েছেন। রাতে নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা সৈয়দ শফিকুল হক বেসরকারিভাবে তাদের বিজয়ী ঘোষণা করেন।
নেছারাবাদ উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে আব্দুল হক আনারস প্রতীকে ৩৮ হাজার ৬১২ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী এস এম মুইদুল ইসলাম মোটরসাইল প্রতীকে পেয়েছেন ৩৫ হাজার ৫২০ ভোট।
অন্যদিকে কাউখালী উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে মো. আবু সাঈদ মিঞা ঘোড়া প্রতীকে ১১ হাজার ২৮৪ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মো. মনিরুজ্জামান তালুকদার পল্টন কাপ-পিরিচ প্রতীকে পেয়েছেন ৬ হাজার ২৯৪ ভোট।
ঝালকাঠি
উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপে ঝালকাঠি সদর ও নলছিটি উপজেলায় ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ঝালকাঠি সদর উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান ও ঝালকাঠি জেলা আওয়ামী লীগ সহ-সভাপতি খান আরিফুর রহমান। আনারস প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ৩৩ হাজার ৯৪৩ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী দোয়াত কলম প্রতীকের প্রার্থী মো. সুলতান খান পেয়েছেন ২৫ হাজার ৯৭১ ভোট।
অন্যদিকে নলছিটি উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মো. সালাউদ্দিন খান সেলিম বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। মোটরসাইকেল প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ২৩ হাজার ৯৩৯ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাবেক মেয়র তছলিম উদ্দিন চৌধুরী আনারস প্রতীকে পেয়েছেন ১৬ হাজার ৭৮৪ ভোট।
বাগেরহাট
উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপে বাগেরহাটে ফকিরহাট, মোল্লাহাট,ও চিতলমারী উপজেলায় ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ফকিরহাট উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন শেখ ওহিদুজ্জামান বাবু। মোটরসাইকেল প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ৪৬ হাজার ৬৫৪ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আনরস প্রতীকের প্রার্থী বর্তমানে উপজেলা চেয়ারম্যান স্বপন দাস পেয়েছেন ২৯ হাজার ৪৩৭ ভোট। এ উপজেলায় ভোট কাস্ট হয়েছে ৬২.৫০ শতাংশ।
চিতলমারী উপজেলার চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হয়েছেন মো. আলমগীর হোসেন সিদ্দিকী। দোয়াত কলম প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ৩৪ হাজার ৮৮৬ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বর্তমান উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও বাগেরহাট জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি অশোক কুমার বড়াল মোটরসাইকেল প্রতীকে পেয়েছেন ২২ হাজার ৭৬৩ ভোট। এ উপজেলায় ভোট কাস্ট হয়েছে ৪৫.৭৫ শতাংশ।
অন্যদিকে মোল্লাহাট উপজেলার চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হয়েছেন বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শাহিনুর আলম ছানা। দোয়াত কলম প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ২৯ হাজার ৯০২ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বর্তমান উপজেলা শেখ নাসির উদ্দীন আনারস প্রতীকে পেয়েছেন ১৯ হাজার ৯৫৪ ভোট। এ উপজেলায় ভোট কাস্ট হয়েছে ৫৩.৭৭ শতাংশ। জেলায় গড় ভোট কাস্টিং হয়েছে ৫৪ শতাংশ।
যশোর
দ্বিতীয় ধাপের উপজেলা নির্বাচনে যশোরের ঝিকরগাছা, শার্শা ও চৌগাছা উপজেলায় ভোটগ্রহণ করা হয়েছে। ভোটগ্রহণ শেষে রাতে বেসরকারিভাবে ফলাফল ঘোষণা করেন উপজেলাগুলোর দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তারা।
চৌগাছা উপজেলা চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হয়েছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা এসএম হাবিবুর রহমান। আনারস প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ৩৩ হাজার ৫৬৫ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ ড. মোস্তানিছুর রহমান পেয়েছেন ২৮ হাজার ৯৮০ ভোট।
নির্বাচনের সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও চৌগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুম্মিতা সাহা রাত সাড়ে ৯টায় এ ফলাফল ঘোষণা করেন।
ঝিকরগাছা উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হয়েছেন বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. মনিরুল ইসলাম। আনারস প্রতীকে মনিরুল ইসলাম পেয়েছেন ৪০ হাজার ৬৪৩ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী সেলিম রেজা ঘোড়া প্রতীকে পেয়েছেন ১৮ হাজার ৪৪৩ ভোট।
অন্যদিকে শার্শা উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে মো. সোহরাব হোসেন দোয়াত কলম প্রতীক নিয়ে ৩৭ হাজার ৫৭০ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মো. অহিদুজ্জামান আনারস প্রতীকে পেয়েছেন ১২ হাজার ২৯১ ভোট।
রাজশাহী
দ্বিতীয় ধাপে রাজশাহীর বাগমারা, দুর্গাপুর ও পুঠিয়া উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বাগমারা উপজেলায় বেসরকারিভাবে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন জাকিরুল ইসলাম সান্টু। তিনি ঘোড়া প্রতীকে পেয়েছেন ৪৭ হাজার ৩২২ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আব্দুর রাজ্জাক সরকার ওরফে আর্ট বাবু পেয়েছেন ৪ হাজার ৩২১ ভোট।
পুঠিয়া উপজেলায় বেসরকারিভাবে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন আবদুস সামাদ মোল্লা। তিনি আনারস প্রতীকে পেয়েছেন ২৬ হাজার ৬৬৫ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আহসানুল হক মাসুদ ঘোড়া প্রতীকে পেয়েছেন ২৩ হাজার ৬৭৯ ভোট।
অন্যদিকে দুর্গাপুর উপজেলায় বেসরকারিভাবে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন শরীফুজ্জামান শরীফ। তিনি মোটরসাইকেল প্রতীকে পেয়েছেন ৪২ হাজার ১১৩ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আব্দুল মজিদ সরদার পেয়েছেন ২৭ হাজার ৩৩২ ভোট।
সাতক্ষীরা
ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপে সাতক্ষীরার আশাশুনি, তালা ও দেবহাটা উপজেলায় ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আশাশুনি উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও বর্তমান উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এবিএম মোস্তাকিম বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি চিংড়ি প্রতীকে পেয়েছেন ৫১ হাজার ৬৬২ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী শাহনেওয়াজ ডালিম ঘোড়া প্রতীকে পেয়েছেন ৫০ হাজার ৭০৭ ভোট।
অপরদিকে সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলা নির্বাচনে মো. আল ফেরদাউস বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি হেলিকপ্টার প্রতীকে ২৬ হাজার ৩৭৭ ভোট পেয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মো. মজিবুর রহমান মোটরসাইকেল প্রতীকে পেয়েছেন ১৭ হাজার ১৫২ ভোট।
এ ছাড়া সাতক্ষীরার তালা উপজেলা নির্বাচনে ঘোষ সনৎ কুমার বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি কাপ পিরিচ প্রতীকে ৪৬ হাজার ৪৫৮ ভোট পেয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী সরদার মশিয়ার চিংড়ি প্রতীকে পেয়েছেন ৩২ হাজার ৪১৩ ভোট।
দিনাজপুর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ড কর্মচারী ইউনিয়ন ২০২৬ নির্বাচনে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের শপথ গ্রহণ ও অভিষেক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। একইসঙ্গে কর্মচারীদের সংবর্ধনা দেয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) শিক্ষাবোর্ড ভবনের নিচ তলায় এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
শিক্ষাবোর্ড কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি সৈয়দ মওদুদ উল করিম বাবুর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মো. মামুনুর রশীদ সুইটের সঞ্চালনায় আয়োজিত অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথির বক্তব্য দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর মো. ইলিয়াস আহমেদ বলেন শিক্ষা বোর্ডের সেবার মান বৃদ্ধি ও শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ বজায় রাখতে ইউনিয়নের নবনির্বাচিত নেতৃবৃন্দসহ সকল কর্মচারীকে দায়িত্বশীল ও নিষ্ঠার সাথে কাজ করার আহ্বান জানান।
বিশেষ অতিথির বক্তৃব্য দেন সচিব নুর মো. আব্দুর রাজ্জাক, পরিক্ষা নিয়ন্ত্রক মো. বোরহান উদ্দিন ও দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ড কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি সৈয়দ মওদুদ উল করিম বাবু এবং সাধারণ সম্পাদক মো. মামুনুর রশীদ সুইট এছাড়া বক্তব্য দেন সহকারী পরিক্ষা নিয়ন্ত্রক রেজাউল করিম চৌধুরী, সেকশন অফিসার মোতাহার হোসেন, উচ্চমান সহকারী সাবেক সাধারণ সম্পাদক গোলাম রব্বানী, নিম্নমান সহকারী গোলাম রব্বানী।
শপথ বাক্য অনুষ্ঠনে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তা এবং ইউনিয়নের সকল সদস্যবৃন্দ। শিক্ষাবোর্ডের কর্মচারী ইউনিয়নের নবনির্বাচিত প্রতিনিধিদের শপথবাক্য পাঠ করান দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর মো. ইলিয়াস আহমেদ।
নবনির্বাচিত প্রতিনিধিরা হলেন, সভাপতি সৈয়দ মওদুদ উল করিম বাবু সহ সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম সাধারণ সম্পাদক মো. মামুনুর রশীদ সুইট সহ সাধারণ সম্পাদক আবু জাহিদ মো. সায়েম। অর্থ সম্পাদক হেলাল উদ্দিন চৌধুরী। সাংগঠনিক সম্পাদক মাসুম আলী। ক্রিয়া ও সাংস্কৃতিকবিষয়ক সম্পাদক মো. আব্দুর রফিক অনুষ্ঠানে দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান ইউনিয়নের নবনির্বাচিত প্রতিনিধিদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করেন সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের ফুলেল শুভেচ্ছা জানান।
যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক বলেছেন, ‘বাংলাদেশের মানুষের বাকস্বাধীনতা নিশ্চিত করতে বর্তমান সরকার কাজ করছে। একই সঙ্গে দীর্ঘদিনের স্বৈরশাসনের কারণে সৃষ্ট অর্থনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সংকট থেকে দেশকে উত্তরণের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) দুপুরে ভোলা জেলা শহরের যুগিরঘোলে জেলা জাতীয়তাবাদী ক্রীড়াদলের কার্যালয় উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকার গঠনের পর থেকেই আমরা দীর্ঘ ১৭ বছরের স্বৈরাচারী শাসনের রেখে যাওয়া জঞ্জাল ও ভঙ্গুর অর্থনৈতিক অবস্থা থেকে দেশকে বের করে আনার চেষ্টা করছি। গণতান্ত্রিক চর্চাকে মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া এবং বাকস্বাধীনতা ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে সরকার ইতোমধ্যে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।
তিনি আরও বলেন, একটি মহল এবং আওয়ামী লীগের দোসররা দেশে অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টির অপচেষ্টা চালাচ্ছে। এসব বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট নেতারা সতর্ক রয়েছেন। আমরা চাই পুলিশ বাহিনী অতীতের মতো রাজনৈতিকভাবে ব্যবহৃত না হয়ে প্রকৃত অর্থে জনগণের বন্ধু হিসেবে দায়িত্ব পালন করুক। সে লক্ষ্যেই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
এদিকে একই দিন দুপুরে ভোলা শিল্পকলা একাডেমিতে আয়োজিত পৃথক এক অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী ভার্চুয়ালি সারাদেশে তথ্যপ্রযুক্তি জ্ঞানসম্পন্ন যুবকদের জন্য ‘কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির মাধ্যমে দক্ষতা উন্নয়ন’ শীর্ষক প্রকল্পের দ্বিতীয় ব্যাচের প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ভোলার জেলা প্রশাসক ডা. শামীম রহমান, পুলিশ সুপার শহিদুল্লাহ কাওছার, জেলা পরিষদের প্রশাসক গোলাম নবী আলমগীর এবং জেলা বিএনপির সদস্য সচিব রাইসুল আলমসহ অন্যান্য নেতারা।
ময়মনসিংহ-৭ (ত্রিশাল) আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য ডা. মাহবুবুর রহমান লিটন বলেছেন, “একজন রোগীও যেন হাসপাতাল থেকে ওষুধ ছাড়া খালি হাতে ফিরে না যান।” সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় সরকারি স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে হাসপাতালের চিকিৎসক, কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল ও আন্তরিকভাবে কাজ করতে হবে।
তিনি বলেন, সরকারি হাসপাতাল হচ্ছে সাধারণ ও অসহায় মানুষের চিকিৎসার অন্যতম প্রধান ভরসাস্থল। তাই হাসপাতালে আসা কোনো রোগী যেন প্রয়োজনীয় চিকিৎসা, ওষুধ কিংবা সেবা থেকে বঞ্চিত না হন, সেদিকে সংশ্লিষ্টদের বিশেষভাবে নজর দিতে হবে। চিকিৎসাসেবার মানোন্নয়নের পাশাপাশি রোগীদের সঙ্গে আন্তরিক ও মানবিক আচরণ নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সকালে ত্রিশাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের হলরুমে আয়োজিত উপজেলা হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির মাসিক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ত্রিশাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আয়োজনে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. এস এম জিয়াউল বারী।
সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হাসনাত জাহান খান, ত্রিশাল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মনসুর আহাম্মদ এবং উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান।
সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এমপি ডা. মাহবুবুর রহমান লিটন হাসপাতালের চিকিৎসাসেবাকে আরও গতিশীল ও জনবান্ধব করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি হাসপাতালের সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষ যাতে কোনো ধরনের হয়রানি বা ভোগান্তির শিকার না হন, সেদিকে সংশ্লিষ্টদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।
সভায় হাসপাতালের বিভিন্ন সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হয়। উপস্থিত সদস্যরা স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নে বিভিন্ন মতামত ও পরামর্শ তুলে ধরেন। সংশ্লিষ্টরা হাসপাতালের সেবার মান আরও উন্নত করতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার বিষয়ে আশ্বাস দেন।
সভায় বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, স্থানীয় সাংবাদিক, রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ এবং উপজেলা হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
সভা শেষে সংসদ সদস্য ডা. মাহবুবুর রহমান লিটন ত্রিশাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি হাসপাতালের বিভিন্ন বিভাগ ঘুরে দেখেন এবং চিকিৎসাসেবার সার্বিক কার্যক্রম সম্পর্কে খোঁজখবর নেন। পাশাপাশি চিকিৎসাধীন রোগীদের সঙ্গে কথা বলে তাদের শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন এবং চিকিৎসা ও ওষুধ পাওয়ার বিষয়ে তাদের সঙ্গে কথা বলেন।
হাসপাতাল পরিদর্শনকালে তিনি রোগীদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও ওষুধপ্রাপ্তি নিশ্চিত করার পাশাপাশি হাসপাতালের সার্বিক সেবার মান উন্নয়নে সংশ্লিষ্টদের আরও আন্তরিকভাবে দায়িত্ব পালনের নির্দেশনা দেন।
খাদ্য অধিদপ্তরের সাবেক পরিচালক ও সরকারের তৃতীয় গ্রেডের কর্মকর্তা সুকুমার রায় চাকরিজীবনে সর্বসাকুল্যে বেতন-ভাতা পেয়েছেন প্রায় এক কোটি টাকা। ২০১৭ সালে অবসর গ্রহণের পর পেনশন বাবদ পান প্রায় ৮০ লাখ টাকা। সব মিলিয়ে তার মোট বৈধ আয় দুই কোটি টাকার বেশি হওয়ার কথা নয়। অথচ অবসরের পর তার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, জমি এবং অন্যান্য স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের যে চিত্র উঠে এসেছে, তা রীতিমতো চোখ কপালে তোলার মতো।
এক অনুসন্ধানে জানা গেছে, শুধু সোনালী ব্যাংকেই তার নামে জমা রয়েছে ৫১ কোটি টাকার আমানত। এছাড়া তার নামে এক কোটি ২২ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র, ঢাকার পল্টন ও ফরিদপুর সদরে একাধিক ফ্ল্যাট এবং বোয়ালমারী উপজেলায় অন্তত ২৫০ শতাংশ জমি রয়েছে।
তিনি খাদ্য অধিদপ্তরে থাকাকালে খোলা বাজারে পণ্য বিক্রি (ওএমএস) প্রকল্পের অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে এই সম্পদ গড়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অবৈধ সম্পদের বিষয়ে জানতে চাইলে সুকুমার রায় ক্ষিপ্ত হয়ে দাবি করেন, তার ৫০০ কোটি টাকার সম্পদ রয়েছে এবং এতে কারোর কিছু বলার নেই।
অস্বাভাবিক এই ধনসম্পদের বিস্তার কেবল সুকুমার রায়ের নিজের নামেই সীমাবদ্ধ থাকেনি; বিস্তার ঘটেছে তার স্ত্রী, সন্তান এবং পিতার নামেও। নিজেকে গৃহিণী দাবি করা তার স্ত্রী বনশ্রী বোসের নামে সোনালী ব্যাংকের বিভিন্ন অ্যাকাউন্টে ২৫ কোটি ৫০ লাখ টাকার এফডিআর, আইএফআইসি ব্যাংকে অ্যাকাউন্ট, ৫৫ লাখ টাকার বিভিন্ন সঞ্চয়পত্র এবং ফরিদপুরে একটি বাড়ি রয়েছে।
এমনকি চাকরিজীবী হিসেবে পরিচয় দিয়েও সেই তথ্যের কোনো বৈধ প্রমাণ পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে সুকুমার রায়ের ইঞ্জিনিয়ার ছেলে সৌমেন রায়ের ব্যাংকেও লাখ লাখ টাকার অস্বাভাবিক লেনদেনের প্রমাণ মিলেছে এবং কৃষিজীবী বাবার নামে কেনা হয়েছে বিপুল পরিমাণ জমি, যার অর্থদাতার তালিকায় সুকুমার রায়ের নাম রয়েছে। এই বিশাল অঙ্কের কোনো সম্পদের বিবরণই তাদের কারও আয়কর নথিতে (ট্যাক্স ফাইল) উল্লেখ নেই।
খাদ্য অধিদপ্তরের সাবেক এই কর্মকর্তার প্রভাব এবং দুর্নীতি নিয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যেও চরম অসন্তোষ দেখা গেছে। অভিযোগ রয়েছে, তিনি কর্মজীবনে প্রভাব খাটিয়ে বিরোধী মতের কর্মকর্তাদের হয়রানি ও শাস্তিমূলক বদলি করতেন।
সার্বিক বিষয়ে অভিযোগের প্রেক্ষিতে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) জানিয়েছে, গণমাধ্যমের সূত্র ধরে এই বিপুল অবৈধ সম্পদের বিষয়ে সুষ্ঠু তদন্ত করে অতিদ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এছাড়াও জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) বলেছে, কর ফাইলে অপ্রদর্শিত এই বিপুল সম্পদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধাপূর্বক কঠোর আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের প্রক্রিয়া দ্রুতই শুরু করা হবে।
কাঁচা দুধের তৈরি মহিষের টক দই। লক্ষ্মীপুরের কমলনগর ও রামগতিসহ বাংলাদেশের সামাজিক অনুষ্ঠানে জনপ্রিয় খাবারের তালিকায় এর অবস্থান শীর্ষে থাকলেও বর্তমানে কমছে এর সরবরাহ। জেলার বাইরেও দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সুনাম রয়েছে সুস্বাদু এই দইয়ের।
পুরো জেলার দইয়ের বড় অংশ উৎপাদন হয় উপকূলীয় অঞ্চল কমলনগর ও রামগতি থেকে। কিন্তু মহিষের বাথান কমে যাওয়া ও চরাঞ্চলে মানুষের বসবাস বৃদ্ধিসহ বাণিজ্যিক ছোঁয়া না থাকায় দইয়ের উৎপাদন কমছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।
সরকারিভাবে উদ্যোগ নিতে পারলে এ অঞ্চলে উৎপাদিত মহিষের দইয়ের বিপ্লব ঘটত বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
রামগতি বাজারের দই বিক্রেতা নুরুজ্জামান প্রায় ৩২ বছর এ ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। তিনি জানান, বিয়ের অনুষ্ঠানে দই বাধ্যতামূলক। খাবারের শেষ মুহূর্তে ওয়ানটাইম কাপে ২৫০ গ্রাম দই থাকবে। অনেকেই পাতিল হিসেবেও আমাদের অর্ডার করেন। এসব অনুষ্ঠানে গরুর দই অর্ডার খুব কম পাওয়া যায়। দুধের দামের সঙ্গে দইয়ের দাম কমবেশি হয়।
চাকরিজীবী ইয়াকুব আলী ও ব্যবসায়ী ফারুক আহমেদ জানান, সুযোগ পেলেই তারা মহিষের দই খাওয়ার জন্য লক্ষ্মীপুরের রামগতিতে ছুটে যান। শুধু নিজেরাই নন, বাড়ির জন্যও দই সঙ্গে করে নিয়ে আসেন তারা।
দুধ বিক্রেতা মনির মিয়ার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মহিষের দুধের চাহিদা ব্যাপক বেড়েছে। কিন্তু আগের তুলনায় এখন মহিষের সংখ্যা অনেক কম। মহিষ পালনে মানুষ এখন কম আগ্রহ দেখাচ্ছে। যত বেশি মহিষ পালন হবে, দুধও তত বেশি উৎপাদিত হবে।
বাথানের মালিক রামগতি উপজেলার শাখাওয়াত মিয়া জানান, চরাঞ্চলে মানুষের বসবাস বেড়েছে। এ ছাড়া চাষাবাদও বেড়েছে। এতে মহিষের চারণভূমি কমেছে। এ জন্য অনেকেই মহিষ পালন ছেড়ে দিচ্ছেন।
কয়েকজন দই বিক্রেতার সঙ্গে মাঝেমধ্যেই কথা হয় এই প্রতিবেদকের। তারা জানায়, দিনে প্রায় ৫-৬ টনের মতো দই বিক্রি হয়। ২০০-২৫০ টাকা কেজি দরে দিনে কমপক্ষে প্রায় সাড়ে চার লাখ টাকার দই বিক্রি করে থাকেন দোকানিরা। এতে বছরে প্রায় ২৫ কোটি টাকার দই বিক্রি হয় এই দুই উপজেলাতেই। আগে এর পরিমাণ প্রায় দ্বিগুণ ছিল।
জানা যায়, জেলার পশ্চিম ও দক্ষিণের মেঘনা নদীর দ্বীপ চরগুলোতে মহিষের বাথান (চারণভূমি) থেকে এ দুধ আসে। বিশেষ করে রামগতি উপজেলা বয়ারচর, চর গজারিয়া, চরআবদুল্লাহ ও কমলনগর উপজেলার চর শামছুদ্দিনসহ বিভিন্ন চর এলাকার বাথান থেকে দুধ সংগ্রহ করা হয়।
দই তৈরির বিষয়ে বাথান মালিকরা জানান, চর থেকে দুধ আনার পর কাঁচা দুধ সরাসরি ১ থেকে ২ কেজি ধারণকৃত এক ধরনের পাত্রে ঢালা হয়। পাত্রগুলোকে টালি বলা হয়। টালিতে কাঁচা দুধ রাখার ১৫ থেকে ১৬ ঘণ্টা পর দুধ জমে দধি হয়। প্রতি লিটার দুধে ৯৫০ গ্রাম দধি হয়। এ দধি ফ্রিজিং ছাড়া এক সপ্তাহ পর্যন্ত ভালো থাকে। দধি বসানোর টালিগুলো পটুয়াখালী, বরগুনা ও পিরোজপুর থেকে আনা হয়। বর্তমানে সাইজ ভেদে প্রতিটি টালির দাম ১৬ থেকে ২০ টাকা।
কমলনগর ও রামগতি উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয় সূত্র জানায়, দুই উপজেলার চরাঞ্চলেই মহিষের উৎপাদন বেশি। কমলনগর ও রামগতি মেঘনা নদীর কয়েকটি দ্বীপে মূল ভূখণ্ডে প্রায় ১২ হাজার মহিষ পালন করা হলেও বর্তমানে চাষাবাদ অনেকটা কমে গেছে। রামগতি উপজেলার কয়েকটি চরে সাড়ে ৬ হাজার ও কমলনগরে ৫ হাজারের মতো মহিষ পালন করা হয়।
রামগতি উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. নজরুল ইসলাম বলেন, আমরা প্রতিনিয়ত মহিষ পালনে জনগণকে উদ্বুদ্ধ করে আসছি। এ অঞ্চলটি গরু ও মহিষ পালনের উপযুক্ত স্থান। এখানে বিশাল বিশাল চর রয়েছে। গরু ও মহিষ চাষিদের জন্য আমাদের পক্ষ থেকে সার্বিক সহযোগিতা সব সময় থাকবে।
কমলনগর উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসার ডা. মুহাম্মদ ইসমাইল হোসেন বলেন, আগের তুলনায় এ উপজেলায় মহিষের চাষ অনেকটা কমে গেছে। সরকারিভাবে উদ্যোগ নিতে পারলে মহিষ চাষে বিপ্লব ঘটত।
আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা-২০২৬ উপলক্ষে নীলফামারী জেলার পূজামণ্ডপগুলোর সার্বিক নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) জেলা পুলিশ, নীলফামারীর আয়োজনে পুলিশ সুপারের সম্মেলন কক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন নীলফামারীর পুলিশ সুপার মো. ফরহাদ হোসেন খাঁন।
সভায় পুলিশ সুপার বলেন, দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী যাতে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটিয়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটাতে না পারে, সে বিষয়ে জেলা পুলিশ সতর্ক রয়েছে। একই সঙ্গে গুজব ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো প্রতিরোধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
তিনি বলেন, জেলা পুলিশের সাইবার ক্রাইম মনিটরিং সেলের মাধ্যমে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে। পূজামণ্ডপগুলোর নিরাপত্তা, যানবাহন চলাচল ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা জোরদারসহ জেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সভায় জেলার বিভিন্ন পূজামণ্ডপ ও পূজা উদযাপন কমিটির প্রতিনিধিদের কাছ থেকে বিভিন্ন সমস্যা ও মতামত শোনা হয়। পুলিশ সুপার বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন।
এ সময় দুর্গাপূজার আগে, পূজা চলাকালীন এবং পূজা-পরবর্তী সময়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পূজা উদযাপন কমিটির নেতাদের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করা হয়। পাশাপাশি পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়।
সভায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহসিন (প্রশাসন ও অর্থ), অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফারুক আহমেদ পিপিএম-সেবা (নীলফামারী সার্কেল), অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এ কে এম ওহিদুন্নবী (সৈয়দপুর সার্কেল), জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এবং বিভিন্ন উপজেলা ও পৌরসভার পূজা উদযাপন পরিষদ ও পূজা উদযাপন ফ্রন্টের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
ফিঙ্গারপ্রিন্ট ক্লোন করে বিভিন্ন কোম্পানির সিম নিবন্ধন করে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িত ব্যক্তিদের নিকট উচ্চমূল্যে সিম বিক্রয় করা চক্রের সাথে জড়িত চক্রের তিন সদস্যকে আটক করেছে বাগেরহাট জেলা গোয়েন্দা পুলিশের একটি টিম।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) দুপুরে পুলিশ সুপারের কনফারেন্স রুমে বাগেরহাটের পুলিশ সুপার মো. জামিরুল ইসলাম এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান। গত বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে জেলা গোয়েন্দা শাখা, বাগেরহাটের একটি টিম অভিযান পরিচালনাকালে সংবাদ পায় বাগেরহাট সদর মডেল থানার কার্তিকদিয়া গ্রামের মামুন আলী খাঁর বাড়িতে বিভিন্ন ব্যক্তির ফিঙ্গারপ্রিন্ট ছাপ সংবলিত রাবারের কিট ও ফিঙ্গার স্কানার মেশিন ব্যবহার করে অবৈধভাবে বিভিন্ন কোম্পানির সিম অ্যাক্টিভ (ভুয়া সিম নিবন্ধন) করে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িত ব্যক্তিদের নিকট উচ্চমূল্যে সিম বিক্রয় করছে। এই সংবাদের ভিত্তিতে রাতেই অভিযান পরিচালনা করে ঘটনাস্থল থেকে আসামি মো. মামুন আলী খাঁ, মো. জিহাদ বিশ্বাস ও মো. লিটু বিশ্বাস বাবুকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পরবর্তীতে তাদের হেফাজত থেকে একটি ফিঙ্গার স্ক্যানার মেশিন, USB পোর্ট ৪টি, গ্রামীণ কোম্পানির অব্যবহৃত সিম কার্ড ২১টি (ইন অ্যাক্টিভ) যা সচল করা হবে, ফিঙ্গারপ্রিন্ট বায়োমেট্রিক ছাপ সংবলিত রাবারের কিট ১৪১টি, একটি প্লাস্টিক পেপারের উপর ফিঙ্গারের বায়োমেট্রিক ছাপ সংবলিত ৬টি ছাপ, নিবন্ধনের কাজে ব্যবহৃত একটি কাগজের মার্কিং টেপ, ১টি Infinix smart10 মডেলের মোবাইল ফোন যাতে smart BL, cockpit অ্যাপস রয়েছে, ১টি OPPO A77 মডেলের মোবাইল ফোন, যাতে cockpit অ্যাপস রয়েছে এবং ১টি OPPO APH1909 মডেলের মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। এ বিষয়ে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে ও জানান এই কর্মকর্তা।
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খানের সাথে তাঁর সচিবালয় কার্যালয়ে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন ঢাকা ওয়াসা জাতীয়তাবাদী এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন- (৩১৮৫)-সিবিএ-এর প্রতিনিধি দল।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) এই সাক্ষাৎকালে সিবিএ প্রতিনিধি দলের পক্ষ থেকে মন্ত্রীকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানানো হয়।
প্রতিনিধি দলে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা ওয়াসা জাতীয়তাবাদী এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের সভাপতি আজিজুল আলম খান, সাধারণ সম্পাদক মোঃ মনির হোসেন পাটোয়ারী এবং সহ-সভাপতি কামরুল হাসান।
সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে প্রতিনিধি দলটি ঢাকা ওয়াসার সার্বিক পরিস্থিতি ও বিদ্যমান নানা বিষয়াদি সম্পর্কে মন্ত্রীকে অবহিত করেন। মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান অত্যন্ত মনোযোগ সহকারে তাঁদের বক্তব্য শোনেন।
সাক্ষাৎকালে মন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, নগরবাসীকে সর্বোচ্চ ও মানসম্মত সেবা প্রদানে সিবিএ তাদের অবস্থান থেকে যথাযথ ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করবে। মন্ত্রীর এই আহ্বানের জবাবে সিবিএ-এর পক্ষ থেকেও সর্বোচ্চ সেবা নিশ্চিতকরণে কার্যকর ভূমিকা রাখার বিষয়ে তাঁকে পূর্ণ আশ্বস্ত করা হয়।
‘গুপ্ত দলটি সবসময় জনগণের স্বার্থবিরোধী কাজ করছে’ মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ‘কিছু কিছু রাজনৈতিক দল অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাকে অন্যায়ভাবে কাজে লাগিয়ে দেশে অরাজকতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে। বিএনপি সর্বশক্তি দিয়ে নিশ্চিত করবে আইন সবার জন্য সমান।’
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) দুপুর ২টার দিকে ফেনীর পরশুরামের ঘাটঘর এলাকায় মুহুরী-কহুয়া সেচ ও বন্যা নিয়ন্ত্রণ প্রকল্পের উদ্বোধন শেষে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপি রাজনীতি করে মানুষের জন্য। দেশের কল্যাণের জন্য। বিএনপির খাল খনন, নদী ড্রেজিং ও কৃষক কার্ড, ফ্যামিলি কার্ড সবকিছুই মানুষের কল্যাণের জন্য।’
তারেক রহমান বলেন, ‘বিএনপির খাল, নদী খনন সফল হলে এ এলাকার সাড়ে ৪ লাখ মানুষ উপকৃত হবে। ফলে ৩৪ হাজার হেক্টর জমিতে আবাদ হবে। এতে ১ লাখ মেট্রিক টন ফসল বেশি উৎপাদন হবে।’
সেপ্টেম্বরজুড়ে ডেঙ্গু আর হামের ছোবলে দেশের জনস্বাস্থ্য পরিস্থিতি হয়ে উঠেছে আরও উদ্বেগজনক। ডেঙ্গুতে এক মাসে প্রাণ হারিয়েছেন ১৪৮ জন, আর হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা ছাড়িয়েছে এক হাজার। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) মাসের শেষ দিনেও থামেনি মৃত্যুর মিছিল; ডেঙ্গুতে ছয়জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন নতুন করে ১ হাজার ৯৪৮ জন। অন্যদিকে, হামের উপসর্গ নিয়ে আরও চারজনের মৃত্যু এবং নতুন করে ১ হাজার ২২১ জনের উপসর্গ শনাক্ত হওয়ার খবর দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। মৃত্যু আর সংক্রমণের এই হিসাব যেন সেপ্টেম্বরের শেষ পাতায় এঁকে দিয়েছে জনস্বাস্থ্যের এক গভীর উদ্বেগের ছবি।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দেশে নতুন করে ডেঙ্গুতে ছয়জন এবং হামের উপসর্গ নিয়ে চারজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৯৪৮ জন। হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে আরও ১ হাজার ২২১ জনের শরীরে। তবে এখানে মৃত্যুর হিসাবের সময়সীমা আলাদা: ডেঙ্গুর ১৪৮ জনের সংখ্যা পুরো সেপ্টেম্বরের, আর হামের চারজনের সংখ্যা সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টার।
ডেঙ্গুতে সেপ্টেম্বরে ১৪৮ মৃত্যু: ডেঙ্গুর মাসভিত্তিক পরিসংখ্যানে সেপ্টেম্বরের চিত্র বিশেষভাবে উদ্বেগজনক। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারিতে ডেঙ্গুতে দুজন, ফেব্রুয়ারিতে দুজন, মে মাসে একজন, জুনে ১৩ জন, জুলাইয়ে ৩৬ জন এবং আগস্টে ৪৩ জন মারা যান। সেপ্টেম্বরে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৪৮ জনে।
এ নিয়ে ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশে ডেঙ্গুতে মোট ২৪৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। মাসভিত্তিক হিসাব বলছে, আগস্টের তুলনায় সেপ্টেম্বরে ডেঙ্গুতে মৃত্যুর সংখ্যা তিন গুণেরও বেশি হয়েছে।
একই সময়ে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন মোট ৭৯ হাজার ৬২০ জন। তাদের মধ্যে ৭৩ হাজার ৮৯০ জন সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন।
গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন রোগী ভর্তির হিসাবে চট্টগ্রাম বিভাগে সর্বোচ্চ ৩৪৩ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। খুলনায় ২৪৮, বরিশালে ২১২, রাজশাহীতে ২১১, ময়মনসিংহে ১০২, রংপুরে ৯৯ এবং সিলেটে ১৪ জন ভর্তি হয়েছেন।
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকায় ১৮৯ জন এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় ২১০ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। দুই সিটি করপোরেশনের বাইরের ঢাকা অঞ্চলে ভর্তি হয়েছেন আরও ৩২০ জন।
এই পরিসংখ্যান দেখায়, ডেঙ্গু মোকাবিলায় রাজধানীর পাশাপাশি দেশের অন্যান্য অঞ্চলেও কার্যকর প্রতিরোধ ও চিকিৎসা প্রস্তুতি প্রয়োজন। মশার প্রজননস্থল ধ্বংস, জমে থাকা পানি অপসারণ এবং আক্রান্ত ব্যক্তিদের দ্রুত চিকিৎসার আওতায় আনা এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ।
হামের উপসর্গে মৃত্যু ১ হাজার ছাড়িয়েছে: ডেঙ্গুর পাশাপাশি হামের পরিস্থিতিও উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও চারজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছরে হামের উপসর্গে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৭ জনে। একই সময়ে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে কারও মৃত্যুর তথ্য পাওয়া যায়নি। চলতি বছরে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ১০৮। এর মধ্যে পরীক্ষায় নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ১০১ জন এবং হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন ১ হাজার ৭ জন।
গত ১০ এপ্রিল থেকে এ পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্তের সংখ্যা ২১ হাজার ৫২০। আর হামের উপসর্গ দেখা গেছে মোট ১ লাখ ৯১ হাজার ৭৩১ জনের শরীরে।
গত ২৪ ঘণ্টায় পরীক্ষাগারে নতুন করে ১২৮ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। একই সময়ে হামের উপসর্গ নিয়ে নতুন করে শনাক্ত হয়েছেন ১ হাজার ২২১ জন।
বিভাগভিত্তিক তথ্য অনুযায়ী, হামের উপসর্গ নিয়ে সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছে ঢাকা বিভাগে। এ বিভাগে মৃতের সংখ্যা ৪৫২। এরপর সিলেটে ১৭৮, রাজশাহীতে ৯৩, চট্টগ্রামে ৮৫, ময়মনসিংহে ৮০, বরিশালে ৬০, খুলনায় ৪৪ এবং রংপুরে ১৫ জনের মৃত্যু হয়েছে।
হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু ও পরীক্ষায় নিশ্চিত হামজনিত মৃত্যু আলাদা পরিসংখ্যান। তাই রোগটির প্রকৃত পরিস্থিতি মূল্যায়নে পরীক্ষার মাধ্যমে শনাক্ত রোগী, উপসর্গযুক্ত রোগী এবং মৃত্যুর তথ্য পৃথকভাবে বিবেচনা করা জরুরি।
প্রতিরোধে ঘাটতি পূরণই বড় চ্যালেঞ্জ: ডেঙ্গু ও হাম—দুটি রোগের বিস্তার রোধে প্রয়োজন আলাদা কৌশল। ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে মশার প্রজননস্থল ধ্বংস, নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা অভিযান, ব্যক্তিগত সুরক্ষা এবং দ্রুত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে হবে। অন্যদিকে, হামের ক্ষেত্রে টিকাদানের আওতা বাড়ানো, টিকা থেকে বাদ পড়া শিশুদের শনাক্ত করা এবং সংক্রমণ দ্রুত চিহ্নিত করা বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ।
একই সময়ে দুই রোগের প্রকোপ থাকায় স্বাস্থ্যসেবার ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে হাসপাতালের প্রস্তুতি, প্রয়োজনীয় জনবল, রোগী ব্যবস্থাপনা এবং জনসচেতনতা কার্যক্রম জোরদার করা প্রয়োজন।
সেপ্টেম্বরের পরিসংখ্যান তাই কেবল মৃত্যুর হিসাব নয়; এটি রোগ প্রতিরোধের কার্যকারিতা ও স্বাস্থ্যসেবার প্রস্তুতি মূল্যায়নেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ। ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে ধারাবাহিক মশক ব্যবস্থাপনা এবং হামের বিস্তার ঠেকাতে টিকাদানের পূর্ণতা নিশ্চিত করা না গেলে জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি থেকেই যাবে।
দেশের ৬৪ জেলার সিভিল সার্জনের কার্যালয়ে পুষ্টিবিদের ৬৪টি পদ সংরক্ষণের অনুমোদন দিয়েছে সরকার। এর ফলে প্রতিটি জেলায় একটি করে নবম গ্রেডের পুষ্টিবিদের পদ ২০২৬-২৭ অর্থবছরেও বহাল থাকছে। স্বাস্থ্য খাতে পুষ্টিসেবা কার্যক্রমের প্রাতিষ্ঠানিক ধারাবাহিকতা বজায় রাখার ক্ষেত্রে এ সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ।
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ গত বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) এ-সংক্রান্ত সরকারি আদেশ জারি করে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ও অর্থ বিভাগের সম্মতির ভিত্তিতে রাজস্ব খাতে অস্থায়ীভাবে সৃজিত পদগুলো সংরক্ষণের অনুমোদন দেওয়া হয়।
আদেশে বলা হয়েছে, ৬৪ জেলার সিভিল সার্জনের কার্যালয়ে একটি করে মোট ৬৪টি পুষ্টিবিদের পদ সংরক্ষণ করা হবে। পদগুলো ২০২৪ সালের ১ জুন থেকে ২০২৫ সালের ৩১ মে পর্যন্ত ভূতাপেক্ষভাবে এবং ২০২৬ সালের ১ জুন থেকে ২০২৭ সালের ৩১ মে পর্যন্ত নিয়মিতভাবে সংরক্ষণের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
নবম গ্রেডের পদ, বেতন ২২ হাজার থেকে ৫৩ হাজার টাকা: সংরক্ষিত ৬৪টি পদই নবম গ্রেডের। জাতীয় বেতনস্কেল-২০১৫ অনুযায়ী এসব পদের বেতনক্রম ২২ হাজার থেকে ৫৩ হাজার ৬০ টাকা। পদগুলোর ব্যয় সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নির্ধারিত কোড থেকে নির্বাহ করা হবে।
স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের পার-৪ অধিশাখার সিনিয়র সহকারী সচিব সজীব আহমেদ স্বাক্ষরিত আদেশে বলা হয়েছে, পদ সংরক্ষণের ক্ষেত্রে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সংগঠন-১০ শাখা এবং অর্থ বিভাগের ব্যয় ব্যবস্থাপনা-৬ শাখার সংশ্লিষ্ট স্মারকে দেওয়া শর্তগুলো প্রযোজ্য হবে। যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদনক্রমে এ সরকারি মঞ্জুরি জারি করা হয়েছে।
দুই মন্ত্রণালয়ের সম্মতির পর আদেশ: সরকারি নথি অনুযায়ী, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ২০২৬ সালের ১০ আগস্ট এবং অর্থ বিভাগ ১০ সেপ্টেম্বর পদ সংরক্ষণে সম্মতি দেয়। এ দুই মন্ত্রণালয়ের সম্মতির ভিত্তিতে স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ চূড়ান্ত আদেশ জারি করে।
পদ সংরক্ষণের বিষয়টি জানিয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়, অর্থ বিভাগ, জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠান, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখা, ৬৪ জেলার সিভিল সার্জনের কার্যালয় এবং জেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তাদের কাছে আদেশের অনুলিপি পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি সরকারি আদেশটি স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের ওয়েবসাইটে প্রকাশের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট সিস্টেম অ্যানালিস্টকে অনুরোধ করা হয়েছে।
সরকারি এ সিদ্ধান্তের মাধ্যমে জেলা পর্যায়ে পুষ্টিবিদদের পদ সংরক্ষণের প্রশাসনিক অনুমোদন নিশ্চিত হলো। তবে পদ সংরক্ষণের অনুমোদনকে নতুন নিয়োগের ঘোষণা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই; নিয়োগসংক্রান্ত কোনো পৃথক সিদ্ধান্তের কথা আদেশে উল্লেখ করা হয়নি।
ঠাকুরগাঁও-১ আসনের আসন্ন উপনির্বাচনে পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দেবেন ১২টি দেশে বসবাসরত ২৯ জন প্রবাসী বাংলাদেশি ভোটার। গতকাল বুধবার নির্বাচন কমিশনের (ইসি) নির্বাচন পরিচালনা শাখার কর্মকর্তারা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
ইসির তথ্য অনুযায়ী, গত ১২ থেকে ২০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ অ্যাপের মাধ্যমে এসব প্রবাসী ভোটার নিবন্ধন সম্পন্ন করেন। তাদের বর্তমান ঠিকানায় পোস্টাল ব্যালট পাঠানোর প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে।
প্রবাসী ভোটার নিবন্ধনের তথ্যে দেখা যায়, সর্বোচ্চ পাঁচজন ভোটার যুক্তরাষ্ট্র থেকে নিবন্ধন করেছেন। মালয়েশিয়া, যুক্তরাজ্য ও কানাডা থেকে চারজন করে নিবন্ধন করেছেন। সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব, দক্ষিণ কোরিয়া ও অস্ট্রেলিয়া থেকে দুজন করে এবং জার্মানি, ইতালি, পর্তুগাল ও অস্ট্রিয়া থেকে একজন করে ভোটার পোস্টাল ব্যালটের জন্য নিবন্ধিত হয়েছেন।
এদিকে প্রবাসীদের পাশাপাশি নিজ নির্বাচনি এলাকার বাইরে অবস্থানরত সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী ও নির্বাচনী দায়িত্বে নিয়োজিত ব্যক্তিদেরও পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। দেশের অভ্যন্তরের পোস্টাল ভোটের নিবন্ধন কার্যক্রম গত ২৭ সেপ্টেম্বর শুরু হয়েছে, চলবে ৮ অক্টোবর পর্যন্ত।
ইসির ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে ভোটগ্রহণ হবে আগামী ২৯ অক্টোবর। ওই দিন সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত একটানা ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
তফসিল অনুযায়ী, রিটার্নিং কর্মকর্তার মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিলের শেষ সময় ৪ অক্টোবর। আপিল নিষ্পত্তি হবে ৬ অক্টোবর। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন ৭ অক্টোবর এবং ৮ অক্টোবর প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে। গত মঙ্গলবার মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে ছয় প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।
একদিকে শিক্ষকদের প্রয়োজনীয় কাজের তাড়া, অন্যদিকে শত শত চঞ্চল শিক্ষার্থীর হইচই। সবকিছুর মাঝে এক চিলতে শান্তির ছায়া হয়ে যিনি দাঁড়িয়ে থাকতেন, তিনি শেফালি বেগম। পদমর্যাদায় তিনি হয়তো একটি বিদ্যালয়ের ‘আয়া’ ছিলেন; কিন্তু দীর্ঘ ৩৪ বছরের একনিষ্ঠ সেবায় তিনি হয়ে উঠেছিলেন সবার প্রিয় ‘শেফালি খালা’, পরম মমতাময়ী।
নওগাঁ সদর উপজেলার ফতেপুর (১ম) উচ্চবিদ্যালয়ে দীর্ঘ ৩৪ বছর ধরে অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন শেষে অবশেষে বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) অবসরে গেলেন। তার এই বিদায়লগ্নে ফতেপুর উচ্চবিদ্যালয় চত্বরে নেমে এসেছিল এক অভূতপূর্ব আবেগঘন পরিবেশ, যা সচরাচর কোনো বড় কর্মকর্তার বিদায়বেলায়ও দেখা যায় না।
সংসারহীন জীবনে বিদ্যালয়ই ছিল শেফালির পরিবার। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি অবিবাহিত। নিজের কোনো ঘর-সংসার কিংবা সন্তান নেই। কিন্তু এই নিঃসঙ্গতা তাকে কখনো গ্রাস করতে পারেনি। কারণ, বিদ্যালয়ের প্রতিটি শিক্ষার্থীকেই তিনি নিজের সন্তান মনে করতেন। পরম স্নেহে শিক্ষার্থীদের টিফিনের খোঁজ নেওয়া, মায়ায় জড়িয়ে তাদের ভুলত্রুটি শুধরে দেওয়া আর কেউ অসুস্থ হলে মায়ের মতো পরম যত্নে আগলে রাখার কারণে তিনি ছিলেন সবার নয়নের মণি। শিক্ষকদের ফরমায়েশ খাটতে গিয়ে নিজের ক্লান্তিকেও কখনো প্রশ্রয় দেননি তিনি।
শেফালি বেগমের অবসরের দিনে পুরো বিদ্যালয়জুড়ে এক শোকাতুর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। শিক্ষক ও শিক্ষার্থী সবাই অশ্রুসজল। যে মানুষটি এতগুলো বছর ধরে আড়ালে থেকে নিঃশব্দে বিদ্যালয়ের চাকা সচল রেখেছিলেন, তার ত্যাগের যথাযথ মূল্যায়ন করেছে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। বিদায় অনুষ্ঠানে তাকে বিশেষ সম্মাননায় ভূষিত করা হয়। শ্রদ্ধার স্মারক হিসেবে তার হাতে তুলে দেওয়া হয় সংবর্ধনা উত্তরীয়, নগদ অর্থ ও বিভিন্ন উপহারসামগ্রী।
দুপুরে বিদ্যালয়ের আঙিনায় আরম্বরভাবে তার বিদায়ী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন নওগাঁ জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও ফতেপুর উচ্চবিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি-নূর-ই আলম মিঠু।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য প্রদান করেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সাজ্জাদুল ইসলাম, বিদ্যালয় পরিচালানা কমিটির সদস্য লিটন হোসেন, অন্যান্য অতিথি, শিক্ষক ও শিক্ষার্থী বক্তব্য প্রদান করেন।
বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি নূর-ই-আলম মিঠু বলেন, ‘শেফালি বেগম আমাদের বিদ্যালয়ের শুধু একজন কর্মচারী ছিলেন না, তিনি ছিলেন এই প্রতিষ্ঠানের অন্যতম এক স্তম্ভ। দীর্ঘ ৩৪ বছর ধরে তিনি যেভাবে প্রতিটি শিক্ষককে সম্মান করেছেন এবং প্রতিটি শিক্ষার্থীকে সন্তানের মতো ভালোবেসে আগলে রেখেছেন, তা আমাদের সবার জন্য এক অনন্য অনুপ্রেরণা। পদের দিক থেকে কেউ বড় বা ছোট হতে পারে; কিন্তু তার কর্তব্যপরায়ণতা এবং মমত্ববোধ আমাদের সবার চেয়ে অনেক উঁচুতে। তার এই নিঃস্বার্থ সেবার ঋণ ফতেপুর উচ্চবিদ্যালয় কোনোদিন শোধ করতে পারবে না। আমরা তার সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করি।’ বিদায়ী শেফালি বেগম তার বক্তব্যে সকলের নিকট দোয়া কামনা করেন।
অনুষ্ঠানের সবচেয়ে মানবিক ও চোখজোড়ানো দৃশ্যটি তৈরি হয় বিদায়ের ঠিক পর। সাধারণত সমাজের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা বা প্রধান শিক্ষকদের বিদায়বেলায় বিশেষ সম্মান জানানো হয়। তবে গুণী নারী শেফালির ক্ষেত্রে ফতেপুর উচ্চবিদ্যালয় সৃষ্টি করল এক অনন্য দৃষ্টান্ত। তাকে অত্যন্ত মর্যাদা ও ভালোবাসার সাথে একটি সুসজ্জিত ঘোড়ার গাড়িতে করে পৌঁছে দেওয়া হয় বাড়িতে। যাওয়ার বেলায় শিক্ষার্থীরা ফুলের পাপড়ি ছিটিয়ে সম্মান জানান।
বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শত শত শিক্ষার্থীর অশ্রুসিক্ত ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে, সেই রাজকীয় ঘোড়ার গাড়িতে চড়েই তিনি ফিরে যান নিজের বাড়িতে। যাওয়ার সময় শিক্ষার্থীদের কান্না আর ভালোবাসায় আবেগাপ্লুত হন সবাই।
বিদ্যালয়ের এই অনন্য উদ্যোগটি সমাজকে এক বড় বার্তা দিয়ে গেল—কাজের ছোট-বড় দিয়ে মানুষের প্রকৃত মূল্যায়ন হয় না। সততা, নিষ্ঠা ও নিঃস্বার্থ ভালোবাসা দিয়ে মানুষের হৃদয় জয় করতে পারলে প্রাতিষ্ঠানিক পদের গণ্ডি পেরিয়ে এমন রাজকীয় সম্মান পাওয়া সম্ভব। ফতেপুর উচ্চবিদ্যালয়ের ইতিহাসে শেফালি বেগম চিরকাল মায়াবী এক মায়ের প্রতিচ্ছবি এবং এক সুমহান অনুপ্রেরণার প্রতীক হয়ে থাকবেন।