ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপে ১৫৬টি উপজেলায় ভোটগ্রহণ শেষ হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত চলে ভোটগ্রহণ। ভোট গণনা শেষে রাতে নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশ করেন রিটার্নিং কর্মকর্তারা। সারা দেশের প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর থেকে জানা যায়-
ফরিদপুর
উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপে ফরিদপুরের নগরকান্দা ও সালথা উপজেলায় ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। নগরকান্দা উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপ-কমিটির সাবেক সহসম্পাদক কাজী শাহ জামান বাবুল। আনারস প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ৩৭ হাজার ২০৯ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মোটরসাইকেল প্রতীকের প্রার্থী বর্তমান উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মনিরুজ্জামান সরদার পেয়েছেন ২৫ হাজার ২৩৭ ভোট।
অন্যদিকে সালথা উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে বর্তমান চেয়ারম্যান ওয়াদুদ মাতুব্বর বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। আনারস প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ৩৫ হাজার ৫৪৫ ভোট তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী সালথা উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও মোটরসাইকেল প্রতীকের প্রার্থী মো. ওহিদুজ্জামান পেয়েছেন ৫ হাজার ৩৪২ ভোট।
নারায়ণগঞ্জ
উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপে নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলায় ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম। ঘোড়া প্রতীকে তিনি পেয়েছেন এক লাখ ১৫ হাজার ২৫২ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী দোয়াত কলম প্রতীকের প্রার্থী মো. শাহজালাল মিয়া পেয়েছেন ১৩ হাজার ১৩২ ভোট।
বিজয়ী মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম আড়াইহাজার উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সদস্য। তিনি কালাপাহাড়িয়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান। অন্যদিকে তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মো. শাহজালাল মিয়া আড়াইহাজার উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া
দ্বিতীয় ধাপের উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা ও আখাউড়ায় উপজেলায় ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। কসবা উপজেলায় আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের ফুফাতো ভাই ছাইদুর রহমান ও আখাউড়ায় মোগড়া ইউনিয়ন পরিষদের তিনবারের সাবেক চেয়ারম্যান মনির হোসেন বেসরকারিভাবে চেয়ারম্যান নির্বাাচিত হয়েছেন।
ঘোষিত ফলাফল অনুযায়ী, কসবা উপজেলায় ছায়েদুর রহমান স্বপন কাপ-পিরিচ প্রতীকে ৮৬ হাজার ৬৯৮ ভোট পেয়ে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও কুটি ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ছিলেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বর্তমান উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের সাবেক সহকারী একান্ত সচিব রাশেদুল কাউসার ভূইয়া আনারস প্রতীকে পেয়েছেন ৩৯ হাজার ৯৫৯ ভোট।
অন্যদিকে আখাউড়া উপজেলায় মনির হোসেন ঘোড়া প্রতীকে ২৮ হাজার ৩০৯ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি উপজেলা যুবলীগের সাবেক আহ্বায়ক ও মোগড়া ইউনিয়ন পরিষদের তিনবারের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান আনারস প্রতীকে পেয়েছেন ১৪ হাজার ৫৬৩ ভোট।
রাঙামাটি
ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপে রাঙামাটির রাজস্থলী, কাপ্তাই ও বিলাইছড়ি উপজেলায় শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। রাজস্থলী উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি উবাচ মারমা আনারস প্রতীকে ৭ হাজার ৭৫ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মো. রিয়াজ উদ্দীন রানা দোয়াত কলম প্রতীকে পেয়েছেন ২ হাজার ১৮ ভোট।
অন্যদিকে কাপ্তাই উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে উপজেলা যুবলীগের সভাপতি মো. নাছির উদ্দিন দোয়াত কলম প্রতীকে ৭ হাজার ৩৬২ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও সাবেক ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আনোয়ারুল ইসলাম চৌধুরী আনারস প্রতীকে পেয়েছেন ৬ হাজার ৯৭৩ ভোট।
অপরদিকে বিলাইছড়ি উপজেলায় মোট ১৩টি কেন্দ্রের মধ্যে ৫টি হেলিসর্টি ভোটকেন্দ্র রয়েছে। দুর্গম এলাকা হওয়ায় রাত সাড়ে ৯টা পর্যন্ত ফলাফল না আসায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কোনো ফলাফল ঘোষণা করেননি। তবে বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা যায়, পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (জেএসএস) সমর্থিত দোয়াত কলম প্রতীকের বিরোত্তম তঞ্চঙ্গ্যা চেয়ারম্যান পদে বিজয়ী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
লালমনিরহাট
লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ ও আদিতমারী উপজেলায় উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপে ভোটগ্রহণ শেষ হয়েছে। দুই উপজেলায় মধ্যে আদিতমারী উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে ফারুক ইমরুল কায়েস ও কালীগঞ্জ উপজেলায় জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক রাকিবুজ্জামান আহমেদ বিজয়ী হয়েছেন।
রাত সাড়ে ৯টার দিকে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা লুৎফর কবির তাদেরকে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত ঘোষণা করেন।
আদিতমারী উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে ফারুক ইমরুল কায়েস মোটরসাইকেল প্রতীকে পেয়েছেন ৩৩ হাজার ১৩৫ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রফিকুল আলম আনারস প্রতীকে পেয়েছেন ২৯ হাজার ১৮টি ভোট
কালীগঞ্জ উপজেলায় সাবেক সমাজকল্যাণমন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদের ছেলে রাকিবুজ্জামান আহমেদ আনারস প্রতীকে পেয়েছেন ২৪ হাজার ৩০৩ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী তার চাচা উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মাহবুবুজ্জামান আহমেদ ঘোড়া প্রতীকে পেয়েছেন ১৯ হাজার ৩৫০ ভোট।
পিরোজপুর
ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে দ্বিতীয় ধাপে পিরোজপুর জেলার দুই উপজেলায় শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। মঙ্গলবার পিরোজপুরের নেছারাবাদ ও কাউখালী উপজেলার ১৫টি ইউনিয়নের মোট ১২২টি ভোটকেন্দ্রে ইভিএম পদ্ধতিতে এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
কাউখালী উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে মো. আবু সাঈদ মিঞা ও নেছারাবাদ উপজেলায় আব্দুল হক নির্বাচিত হয়েছেন। রাতে নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা সৈয়দ শফিকুল হক বেসরকারিভাবে তাদের বিজয়ী ঘোষণা করেন।
নেছারাবাদ উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে আব্দুল হক আনারস প্রতীকে ৩৮ হাজার ৬১২ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী এস এম মুইদুল ইসলাম মোটরসাইল প্রতীকে পেয়েছেন ৩৫ হাজার ৫২০ ভোট।
অন্যদিকে কাউখালী উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে মো. আবু সাঈদ মিঞা ঘোড়া প্রতীকে ১১ হাজার ২৮৪ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মো. মনিরুজ্জামান তালুকদার পল্টন কাপ-পিরিচ প্রতীকে পেয়েছেন ৬ হাজার ২৯৪ ভোট।
ঝালকাঠি
উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপে ঝালকাঠি সদর ও নলছিটি উপজেলায় ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ঝালকাঠি সদর উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান ও ঝালকাঠি জেলা আওয়ামী লীগ সহ-সভাপতি খান আরিফুর রহমান। আনারস প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ৩৩ হাজার ৯৪৩ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী দোয়াত কলম প্রতীকের প্রার্থী মো. সুলতান খান পেয়েছেন ২৫ হাজার ৯৭১ ভোট।
অন্যদিকে নলছিটি উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মো. সালাউদ্দিন খান সেলিম বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। মোটরসাইকেল প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ২৩ হাজার ৯৩৯ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাবেক মেয়র তছলিম উদ্দিন চৌধুরী আনারস প্রতীকে পেয়েছেন ১৬ হাজার ৭৮৪ ভোট।
বাগেরহাট
উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপে বাগেরহাটে ফকিরহাট, মোল্লাহাট,ও চিতলমারী উপজেলায় ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ফকিরহাট উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন শেখ ওহিদুজ্জামান বাবু। মোটরসাইকেল প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ৪৬ হাজার ৬৫৪ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আনরস প্রতীকের প্রার্থী বর্তমানে উপজেলা চেয়ারম্যান স্বপন দাস পেয়েছেন ২৯ হাজার ৪৩৭ ভোট। এ উপজেলায় ভোট কাস্ট হয়েছে ৬২.৫০ শতাংশ।
চিতলমারী উপজেলার চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হয়েছেন মো. আলমগীর হোসেন সিদ্দিকী। দোয়াত কলম প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ৩৪ হাজার ৮৮৬ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বর্তমান উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও বাগেরহাট জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি অশোক কুমার বড়াল মোটরসাইকেল প্রতীকে পেয়েছেন ২২ হাজার ৭৬৩ ভোট। এ উপজেলায় ভোট কাস্ট হয়েছে ৪৫.৭৫ শতাংশ।
অন্যদিকে মোল্লাহাট উপজেলার চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হয়েছেন বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শাহিনুর আলম ছানা। দোয়াত কলম প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ২৯ হাজার ৯০২ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বর্তমান উপজেলা শেখ নাসির উদ্দীন আনারস প্রতীকে পেয়েছেন ১৯ হাজার ৯৫৪ ভোট। এ উপজেলায় ভোট কাস্ট হয়েছে ৫৩.৭৭ শতাংশ। জেলায় গড় ভোট কাস্টিং হয়েছে ৫৪ শতাংশ।
যশোর
দ্বিতীয় ধাপের উপজেলা নির্বাচনে যশোরের ঝিকরগাছা, শার্শা ও চৌগাছা উপজেলায় ভোটগ্রহণ করা হয়েছে। ভোটগ্রহণ শেষে রাতে বেসরকারিভাবে ফলাফল ঘোষণা করেন উপজেলাগুলোর দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তারা।
চৌগাছা উপজেলা চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হয়েছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা এসএম হাবিবুর রহমান। আনারস প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ৩৩ হাজার ৫৬৫ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ ড. মোস্তানিছুর রহমান পেয়েছেন ২৮ হাজার ৯৮০ ভোট।
নির্বাচনের সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও চৌগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুম্মিতা সাহা রাত সাড়ে ৯টায় এ ফলাফল ঘোষণা করেন।
ঝিকরগাছা উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হয়েছেন বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. মনিরুল ইসলাম। আনারস প্রতীকে মনিরুল ইসলাম পেয়েছেন ৪০ হাজার ৬৪৩ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী সেলিম রেজা ঘোড়া প্রতীকে পেয়েছেন ১৮ হাজার ৪৪৩ ভোট।
অন্যদিকে শার্শা উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে মো. সোহরাব হোসেন দোয়াত কলম প্রতীক নিয়ে ৩৭ হাজার ৫৭০ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মো. অহিদুজ্জামান আনারস প্রতীকে পেয়েছেন ১২ হাজার ২৯১ ভোট।
রাজশাহী
দ্বিতীয় ধাপে রাজশাহীর বাগমারা, দুর্গাপুর ও পুঠিয়া উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বাগমারা উপজেলায় বেসরকারিভাবে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন জাকিরুল ইসলাম সান্টু। তিনি ঘোড়া প্রতীকে পেয়েছেন ৪৭ হাজার ৩২২ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আব্দুর রাজ্জাক সরকার ওরফে আর্ট বাবু পেয়েছেন ৪ হাজার ৩২১ ভোট।
পুঠিয়া উপজেলায় বেসরকারিভাবে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন আবদুস সামাদ মোল্লা। তিনি আনারস প্রতীকে পেয়েছেন ২৬ হাজার ৬৬৫ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আহসানুল হক মাসুদ ঘোড়া প্রতীকে পেয়েছেন ২৩ হাজার ৬৭৯ ভোট।
অন্যদিকে দুর্গাপুর উপজেলায় বেসরকারিভাবে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন শরীফুজ্জামান শরীফ। তিনি মোটরসাইকেল প্রতীকে পেয়েছেন ৪২ হাজার ১১৩ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আব্দুল মজিদ সরদার পেয়েছেন ২৭ হাজার ৩৩২ ভোট।
সাতক্ষীরা
ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপে সাতক্ষীরার আশাশুনি, তালা ও দেবহাটা উপজেলায় ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আশাশুনি উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও বর্তমান উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এবিএম মোস্তাকিম বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি চিংড়ি প্রতীকে পেয়েছেন ৫১ হাজার ৬৬২ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী শাহনেওয়াজ ডালিম ঘোড়া প্রতীকে পেয়েছেন ৫০ হাজার ৭০৭ ভোট।
অপরদিকে সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলা নির্বাচনে মো. আল ফেরদাউস বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি হেলিকপ্টার প্রতীকে ২৬ হাজার ৩৭৭ ভোট পেয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মো. মজিবুর রহমান মোটরসাইকেল প্রতীকে পেয়েছেন ১৭ হাজার ১৫২ ভোট।
এ ছাড়া সাতক্ষীরার তালা উপজেলা নির্বাচনে ঘোষ সনৎ কুমার বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি কাপ পিরিচ প্রতীকে ৪৬ হাজার ৪৫৮ ভোট পেয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী সরদার মশিয়ার চিংড়ি প্রতীকে পেয়েছেন ৩২ হাজার ৪১৩ ভোট।
কিশোরগঞ্জের নিকলীতে মাদক মামলার এক আসামিকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টার সময় পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় করা মামলায় বহিষ্কৃত ছাত্রদল নেতা সিয়াম হাসান অক্ষয়সহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
গ্রেপ্তার অন্য দুজন হলেন নিকলী সদরের পুকুরপাড় গ্রামের ফেরদৌস মিয়ার ছেলে মো. শাহরুখ (২৭) ও একই গ্রামের মিয়া হোসেনের ছেলে মো. হিমেল (২৭)।
সিয়াম হাসান অক্ষয় খালিসাহাটি গ্রামের বাহার উদ্দিন বাচ্চুর ছেলে। তিনি নিকলী উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন। সর্বশেষ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে তাকে বহিষ্কার করা হয়। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) ভোরে নিকলী সদরের বড় তালাবপাড় গ্রামে শ্বশুরবাড়ি থেকে অক্ষয়কে গ্রেপ্তার করা হয়। শাহরুখ ও হিমেলকে তাদের নিজ নিজ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, অক্ষয়ের নেতৃত্বে শতাধিক কিশোরের একটি দল এলাকায় সক্রিয় রয়েছে। এই দলের সদস্যদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত রোববার রাত ১০টার দিকে নিকলী সদরের টিএন্ডটি মোড় এলাকায় অভিযান চালিয়ে শাকিল (২২) নামের এক যুবককে ৬ পিস ইয়াবা, ইয়াবা বিক্রির নগদ ৩ হাজার টাকাসহ আটক করে পুলিশ। এ খবর পেয়ে অক্ষয় ও তার সহযোগীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশ সদস্যদের ঘেরাও করেন। একপর্যায়ে পুলিশকে ধাক্কা দিয়ে আটক শাকিলকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন তারা।
এ ঘটনায় নিকলী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) তুষার বাদী হয়ে অক্ষয়সহ ছয়জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১০ থেকে ১৫ জনকে আসামি করে থানায় মামলা করেন।
নিকলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইশতিয়াক আহমেদ বলেন, ‘মাদক, ইভটিজিং ও ছিনতাই প্রতিরোধে পুলিশ জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করবে। এ ঘটনায় জড়িত অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।’
সীতাকুণ্ডে লরির ধাক্কায় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী নিহত, এবং আরও এক শিক্ষার্থীসহ আহত ২০ যাত্রী । এই ঘটনায় মহাসড়ক ও রেললাইন অবরোধ করেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার কুমিরা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন ঢাকা চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা মিনিবাসে লরির ধাক্কায় মাইশা (২১) নামে এক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী নিহত হয়েছেন। এই ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্য শিক্ষার্থী রাজিয়া সুলতানাসহ মিনিবাসের ১০ যাত্রী আহত হয়েছেন। দুর্ঘটনার পর বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক ও রেললাইন অবরোধ করেছেন।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে সীতাকুণ্ড উপজেলার আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের গেটসংলগ্ন ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত মাইশা মীরসরাই উপজেলার খৈয়াছড়া ইউনিয়নের বড়তাকিয়া এলাকার বাসিন্দা সাখাওয়াত হোসেন ও সালমা আক্তারের মেয়ে। আহত শিক্ষার্থী রাজিয়া ও মাইশা আক্তার আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মোস্তফা মনির চৌধুরী জানান, দুর্ঘটনায় তাদের দুই শিক্ষার্থী মাইশা ও রাজিয়া আহত হন। দুজনই ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী। আহত মাইশাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হলে চিকিৎসক মাইশাকে মৃত ঘোষণা করেন। দুর্ঘটনার পর বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক ও রেললাইন অবরোধ করেছে। এতে শত শত বাস, ট্রাক আটকা পড়ে এবং ট্রেন চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হয় ।
বার আউলিয়া হাইওয়ে পুলিশ জানায়, ঢাকামুখী একটি কনটেইনারবাহী লরি আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের গেট এলাকা অতিক্রম করার সময় সামনে থাকা একটি প্রাইভেটকার হঠাৎ উল্টো দিকে মোড় নেয়। এ সময় প্রাইভেটকারটিকে বাঁচাতে গিয়ে দ্রুতগতির লরিটি মহাসড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা ঢাকামুখী ৮ নম্বর পরিবহনের একটি মিনিবাসকে একপাস থেকে ধাক্কা দেয়। এতে লরিটি মহাসড়কে উল্টে যায়।
দুর্ঘটনায় বাস থেকে নামা দুই বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী চাপা পড়েন এবং মিনি বাসের ভেতরে থাকা ১০ থেকে ২০ জন যাত্রী আহত হন। পরে আহতদের উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হয়। চমেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়ার পর চিকিৎসক মাইশাকে মৃত ঘোষণা করেন রাজিয়া সুলতানা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে চমেক ত্যাগ করেন ।
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ উপপরিদর্শক (এসআই) আলাউদ্দিন জানান, সীতাকুণ্ডে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত দুই বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীসহ বেশ কয়েকজনকে চমেক হাসপাতালে আনা হয়। তাদের মধ্যে মাইশাকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক অন্য আহত শিক্ষার্থী রাজিয়া সুলতানা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে বাসায় চলে যান।
বার আউলিয়া হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির সার্জেন্ট শফিউল ইসলাম শুভ দুর্ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, দুর্ঘটনার পর মহাসড়কে উল্টে যাওয়া লরি ও ক্ষতিগ্রস্ত বাসটি সরিয়ে থানায় নেওয়া হয়েছে। আইনগত প্রক্রিয়া শেষে নিহতের মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
মজুরি বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন দাবিতে পোশাক শ্রমিকদের অসন্তোষকে কেন্দ্র করে গাজীপুরের শিল্পাঞ্চলের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অক্ষুণ্ণ রাখতে নিরাপত্তাবলয় আরও সুসংহত করেছে স্থানীয় প্রশাসন। পরিবেশ স্বাভাবিক রাখার লক্ষ্যে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদস্য বাড়ানোর পাশাপাশি নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের সংখ্যাও বৃদ্ধি করা হয়েছে।
প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, সোমবার যেখানে ১০ প্লাটুন বিজিবি নিয়োজিত ছিল, মঙ্গলবার তা বাড়িয়ে ১১ প্লাটুন করা হয়েছে। একই সঙ্গে মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালনকারী নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের সংখ্যা ২১ জন থেকে বাড়িয়ে ২৫ জনে নির্ধারণ করা হয়েছে। এসব প্রশাসনিক কর্মকর্তার দিকনির্দেশনায় বিজিবি সদস্যরা স্পর্শকাতর এলাকাগুলোতে নজরদারি চালাচ্ছেন। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সকালে গাজীপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার (মিডিয়া ও রিসার্চ সেল) মো. আরিফ হোসাঈন বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
জেলা প্রশাসনের ভাষ্য অনুযায়ী, শ্রমিক অসন্তোষের পরিপ্রেক্ষিতে পুরো শিল্পাঞ্চলের পরিস্থিতির ওপর তীক্ষ্ণ নজর রাখা হচ্ছে। যেকোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা প্রতিরোধ করতে বিজিবি ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের সমন্বিত তত্ত্বাবধানে এই নিরাপত্তা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
এদিকে মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত গাজীপুরের মহাসড়ক কিংবা আঞ্চলিক সড়কগুলোতে শ্রমিকদের কোনো অবস্থান কর্মসূচি বা অবরোধের তথ্য পাওয়া যায়নি। বরং বিভিন্ন কারখানায় নির্ধারিত সময়ে শান্তিপূর্ণভাবে শ্রমিকদের নিজ নিজ কর্মস্থলে প্রবেশ করতে দেখা গেছে। গত কয়েক দিনের টানটান উত্তেজনার পর এদিন পরিস্থিতি তুলনামূলক শান্ত থাকলেও যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায় রয়েছে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
খুন, গুলি আর রক্তপাত—কোনোভাবেই থামছে না খুলনায় সহিংসতার ধারাবাহিকতা। একের পর এক হত্যাকাণ্ডে বাড়ছে উদ্বেগ, ছড়াচ্ছে আতঙ্ক। সর্বশেষ রূপসার আঠারোবেকি নদীর চরে মিলেছে দুই যুবকের গুলিবিদ্ধ মরদেহ। সব মিলিয়ে গত ১২ দিনে খুলনা মহানগর ও জেলায় প্রাণ গেছে সাতজনের। একই সময়ে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন আরও পাঁচজন। তাদের মধ্যে যুবদলের বর্তমান ও সাবেক তিন নেতা রয়েছেন।
সোমবার (২ নভেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে রূপসা উপজেলার আইচগাতি ইউনিয়নের সিংহের চর এলাকা থেকে মরদেহ দুটি উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত ব্যক্তিরা হলেন মেহেদী হাসান (৩৫) ও রেজাউল করিম (৩০)।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার (২ নভেম্বর) দুপুরে আঠারোবেকি নদীর চরে প্রথমে একটি মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয় লোকজন। পরে ভাটার সময় পানি কমে গেলে একই স্থানে আরেকটি মরদেহ দেখতে পান তারা। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয়দের সহযোগিতায় মরদেহ দুটি উদ্ধার করে।
নিহত মেহেদী রূপসার রাজাপুর এলাকার আব্দুল্লাহর ছেলে। একসময় তিনি জেলখানা ঘাটের মাঝি ছিলেন। পুলিশের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, খুলনার অপরাধজগতে আলোচিত রনি চৌধুরী ওরফে গ্রেনেড বাবুর গড়া সন্ত্রাসী গ্রুপ ‘বি-কোম্পানি’র সক্রিয় সদস্য ছিলেন মেহেদী ও রেজাউল। তাদের দুজনের শরীরেই গুলির চিহ্ন পাওয়া গেছে।
রূপসা থানার ওসি মাসুম খান বলেন, মেহেদী ও রেজাউলকে গুলি করে হত্যার পর তাদের মরদেহ নদীতে ফেলে দেওয়া হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। মেহেদীর চোখের ওপর ভ্রুর পাশে গুলির চিহ্ন রয়েছে। অন্যদিকে রেজাউলের থুতনির নিচে ও পিঠে গুলির চিহ্ন পাওয়া গেছে। হত্যার কারণ অনুসন্ধান করা হচ্ছে।
মেহেদীর মরদেহ উদ্ধারের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসেন তার বাবা আব্দুল্লাহ। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, মেহেদী আলাদা থাকতেন। ছেলের সঙ্গে তার তেমন যোগাযোগ ছিল না।
১২ দিনে সাত হত্যাকাণ্ড; খুলনায় সাম্প্রতিক সময়ে হত্যাকাণ্ডের ধারাবাহিকতা উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে। এর আগে গত রোববার সন্ধ্যায় নগরের আড়ংঘাটা থানার রায়েরমহল এলাকার একটি রেস্তোরাঁয় নিজ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে খুন হন খুলনা মহানগর তাঁতি দলের যুগ্ম আহ্বায়ক হুমায়ুন কবির। দুর্বৃত্তরা তাকে কুপিয়ে হত্যা করে।
শনিবার রাতে নগরের লবণচরা এলাকার একটি সড়ক থেকে এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে হত্যার পর সড়কে ফেলে রাখা হয়েছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এর আগে ২৫ অক্টোবর নগরের সোনাডাঙ্গা থানা এলাকায় একজনকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। ২৪ অক্টোবর দক্ষিণ টুটপাড়া গাছতলা এলাকায় কলেজশিক্ষক ধনঞ্জয় কুণ্ডু ওরফে আকাশ কুণ্ডুকে গুলি করে দুর্বৃত্তরা। একই দিন সকালে তেরখাদা উপজেলায় দুর্বৃত্তদের গুলিতে আহত হন যুবদল নেতা রামিম বিশ্বাস।
২২ অক্টোবর সকালে নগরের পূর্ব বানিয়াখামার এলাকায় এক যুবককে গুলি করে হত্যা করা হয়। একই দিন সন্ধ্যার পর জিন্নাহপাড়া এলাকায় গুলিতে প্রাণ হারান এক গৃহবধূ।
গুলির ঘটনায় আহত পাঁচজন: হত্যাকাণ্ডের পাশাপাশি খুলনায় গুলির ঘটনাও বেড়েছে। ২৬ অক্টোবর রাত থেকে ২৭ অক্টোবর বিকেল পর্যন্ত তিনটি পৃথক গুলির ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে বটিয়াঘাটা উপজেলার দুটি স্থানে গুলিতে আহত হন যুবদলের সাবেক দুই নেতা। অন্যদিকে খুলনা নগরে গুলিবিদ্ধ হন একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মী। এ ছাড়া ২৪ অক্টোবর তেরখাদায় গুলিবিদ্ধ হন যুবদল নেতা রামিম বিশ্বাস।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ নভেম্বর পর্যন্ত খুলনা মহানগর ও জেলায় গুলি, ধারালো অস্ত্রের আঘাতসহ বিভিন্নভাবে ৭৫ জন হত্যার শিকার হয়েছেন।
এসব হত্যাকাণ্ডের পেছনে অস্ত্র ও মাদক কারবার, চাঁদাবাজির নিয়ন্ত্রণ, পূর্বশত্রুতা এবং সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে বিরোধের মতো কারণ রয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ।
ধারাবাহিক হত্যাকাণ্ড ও গুলির ঘটনায় নগর ও জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এসব ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত, হত্যার কারণ উদ্ঘাটন এবং অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে তদন্ত চালাচ্ছে পুলিশ।
গাজীপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য এ.কে.এম. ফজলুল হক মিলন পোশাকশ্রমিকদের চলমান আন্দোলন কর্মসূচির মধ্যে পোশাক খাতে কর্মরত শ্রমিকদের সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ এবং তাদের সমস্যা ও দাবির কথা সরাসরি শুনতে গাজীপুরের বিভিন্ন গার্মেন্টস কারখানা পরিদর্শন করেছেন।
সোমবার (২ নভেম্বর) পরিদর্শনকালে শ্রমিকদের সাথে মতবিনিময় করেন গাজীপুর-৫ আসনের এই সংসদ সদস্য।
এ সময় এ.কে.এম. ফজলুল হক মিলন জানান, সরকার শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠা ও উপযুক্ত মজুরি নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর। এ লক্ষ্যে ইতোমধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে মজুরি বোর্ড গঠন করা হয়েছে।
এ সময় কোনো ধরনের উসকানি, গুজব কিংবা বিভ্রান্তিকর তথ্যে কান না দিয়ে শ্রমিকদের ধৈর্য, সংযম ও দায়িত্বশীল আচরণ বজায় রাখার আহ্বান জানান তিনি।
উল্লেখ্য, পোশাকশ্রমিকদের ন্যূনতম মাসিক মজুরি ১২ হাজার ৫০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণসহ বিভিন্ন দাবিতে গাজীপুরসহ দেশের কয়েকটি শিল্পাঞ্চলে বিক্ষোভ ও কর্মবিরতি চলছে।
সোমবার (২ নভেম্বর) সকালেও গাজীপুরের কোনাবাড়ী, সফিপুর, মৌচাক ও পল্লী বিদ্যুৎ এলাকায় বিভিন্ন কারখানার শ্রমিকেরা সড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ প্রসূত কর্মসূচি পালন করেন। এতে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের একাধিক অংশে যান চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে শিল্পাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে অতিরিক্ত পুলিশ ও বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।
এ ছাড়া শ্রমিক অসন্তোষের কারণে অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে গাজীপুরের বেশ কিছু পোশাক কারখানায় আজকের জন্য সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে কর্তৃপক্ষ।
গাজীপুরে শ্রমিক আন্দোলন ঘিরে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় ১২০টি শিল্পকারখানা সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। সোমবার (২ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ৮টা থেকে জেলার ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের কোনাবাড়ী, নাওজোড়, মৌচাক, কালিয়াকৈরের পল্লী বিদ্যুৎ ও হরিণহাটিসহ বিভিন্ন এলাকায় ন্যূনতম ৩০ হাজার টাকা মজুরির দাবিতে আন্দোলনে নামেন শ্রমিকেরা। এ সময় তারা মহাসড়কে আগুন জ্বালিয়ে দেন। পুলিশের গাড়িতে আগুন দেওয়ার পাশাপাশি শতাধিক যানবাহন ভাঙচুর করা হয়। এতে শিল্পাঞ্চলে উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
সোমবার (২ নভেম্বর) সন্ধ্যায় গাজীপুর শিল্প পুলিশের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আমজাদ হোসাইন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
এ পরিস্থিতিতে বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে সকাল থেকেই এসব এলাকার ১২০টি কারখানা সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়। পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলে আগামীকাল থেকে কারখানাগুলো চালু হতে পারে বলে জানা গেছে।
এদিকে, গুরুত্বপূর্ণ এই শিল্পাঞ্চলে কারখানা বন্ধ থাকায় উৎপাদন কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। এর প্রভাব পড়ছে স্থানীয় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের ওপরও।
গাজীপুর শিল্প পুলিশের পুলিশ সুপার আমজাদ হোসাইন বলেন, কারখানাগুলোর নিরাপত্তার স্বার্থে সেগুলো বন্ধ রাখা হয়েছে। শ্রমিকেরা চালু থাকা কারখানাগুলোকে লক্ষ্য করেই হট্টগোল সৃষ্টি করেন।
তিনি আরও বলেন, সোমবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে একদল শ্রমিক ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের পল্লী বিদ্যুৎ এলাকায় অবস্থান নেন। এতে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। শিল্প পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা যান চলাচল স্বাভাবিক করা ও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে কাজ শুরু করেন।
বেলা ১২টার দিকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে টিয়ার শেল ও সাউন্ড গ্রেনেড ছুড়ে শ্রমিকদের মহাসড়ক থেকে সরিয়ে দেন। এরপর যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
কিশোরগঞ্জে মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর জানাজা ও দাফনে বাধা দেওয়ার প্রতিবাদে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেছেন বীর মুক্তিযোদ্ধারা। সোমবার (২ নভেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে জেলা শহরের শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম চত্বরে এ কর্মসূচি পালিত হয়।
‘বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, কিশোরগঞ্জ জেলা কমান্ড’-এর ব্যানারে আয়োজিত এ মানববন্ধনে জেলার ১৩ উপজেলার মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের পরিবারের সদস্যরা অংশ নেন।
মানববন্ধনে বক্তারা পিরোজপুরের মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর জানাজা ও দাফনে বাধা দেওয়ার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানান। একই সঙ্গে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িত ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেন।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, মানিক পশারী একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন। নিজের জীবন বাজি রেখে যিনি দেশের স্বাধীনতার জন্য যুদ্ধ করেছেন, তার গার্ড অব অনার, জানাজা ও দাফন নিয়ে এমন পরিস্থিতি অত্যন্ত দুঃখজনক। স্বাধীন বাংলাদেশে এ ধরনের ঘটনা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। তারা এ ন্যক্কারজনক ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান।
ঘণ্টাব্যাপী এ মানববন্ধনে বক্তব্য দেন কিশোরগঞ্জ জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সদস্য সচিব মো. হাবিবুর রহমান, মুক্তিযোদ্ধা বসির উদ্দিন ফারুকী, গিয়াস উদ্দিন, করিমগঞ্জ মুক্তিযোদ্ধা সংসদের আহ্বায়ক আব্দুল মান্নান দুলাল শিকদার, হোসেনপুর মুক্তিযোদ্ধা সংসদের আহ্বায়ক রফিকুল ইসলাম, পাকুন্দিয়া মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সদস্য সচিব দেলোয়ার হোসেন মজলু, সদর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সদস্য সচিব মুক্তিযোদ্ধা নূরুল হক, জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার মো. আসাদউল্লাহ, জেলা মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ডের সভাপতি সারওয়ার আলম মাসুদ, সহসভাপতি শরিফ মিয়া ও উপদেষ্টা জামিল আনসারী প্রমুখ।
মানববন্ধন শেষে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের অংশগ্রহণে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে।
মানববন্ধনে বক্তারা আরও বলেন, ‘একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জামায়াতে ইসলামীর সাবেক নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দিয়েছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারী। ওই মামলায় সাঈদীর আমৃত্যু কারাদণ্ড হয়েছিল। ২০২৩ সালের ১৪ আগস্ট রাতে কারা হেফাজতে চিকিৎসা অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
বক্তাদের অভিযোগ, সাঈদীর বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেওয়ার বিষয়টি কেন্দ্র করে ক্ষোভের জেরে স্থানীয় জামায়াতের নেতা-কর্মীরা মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর জানাজা, গার্ড অব অনার ও দাফনে বাধা দেন।
বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে সচেতনতা সৃষ্টি এবং তরুণ প্রজন্মকে সম্পৃক্ত করার লক্ষ্যে ঝিনাইদহে হয়েছে সচেতনতামূলক প্রামাণ্য অনুষ্ঠান ‘তারুণ্যের কণ্ঠ’। বাংলাদেশ বেতারের জনসংখ্যা, স্বাস্থ্য ও পুষ্টি সেলের আয়োজনে কাঞ্চননগর মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সোমবার (২ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টায় জেলা শহরের কাঞ্চন নগর স্কুল অ্যান্ড কলেজে প্রামাণ্য অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জেলা পরিষদের প্রশাসক এম এ মজিদ।
বাংলাদেশ বেতারের উপস্থাপক সজীব দত্তের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ঝিনাইদহের পুলিশ সুপার মিয়া মোহাম্মদ আশিস বিন হাছান।
এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের উপপরিচালক মোহা. মোজাম্মেল করিম, মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রের মেডিকেল অফিসার (ক্লিনিক) ডা. মাহবুবা আখতার তাবীয়া, কাঞ্চননগর মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ প্রদীপ কুমার বিশ্বাসসহ সাংবাদিক, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।
অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থী ও অতিথিরা বাল্যবিবাহের ক্ষতিকর দিক, এর সামাজিক প্রভাব এবং প্রতিরোধে করণীয় বিষয়ে আলোচনা করেন। বক্তারা বলেন, বাল্যবিবাহ একটি সামাজিক সমস্যা। এটি প্রতিরোধে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সমাজের সবাইকে সচেতন হতে হবে। এ ক্ষেত্রে তরুণ প্রজন্ম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বাল্যবিবাহমুক্ত সমাজ গড়ে তুলতে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তারা।
মধুমতী নদীর বুকে বৈঠার ছন্দ, মাঝিদের গান আর দর্শনার্থীদের করতালিতে মুখর হয়ে উঠেছিল মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলার এলাংখালী ঘাট এলাকা। ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা দেখতে নদীর দুই তীরে সমবেত হন লাখো মানুষ। গ্রামীণ ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও উৎসবের মেলবন্ধনে দিনব্যাপী এ আয়োজন পরিণত হয় এক বিশাল মিলনমেলায়। গত রোববার (১ নভেম্বর) বিকেলে মধুমতী নদীতে শুরু হয় বর্ণিল এই নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা। এতে বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা সুসজ্জিত ১১টি নৌকা অংশ নেয়। রঙিন টি-শার্ট পরা মাঝিরা বাদ্যের তালে তালে গান গেয়ে বৈঠার ছন্দে নৌকা এগিয়ে নিতে থাকেন।
প্রতিযোগিতাকে ঘিরে নদীর দুই পাড়ে সৃষ্টি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ। এক পাশে মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলা, অন্য পাশে ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলা। দুই উপজেলার মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে নদীর দুই তীর পরিণত হয় জনসমুদ্রে। করতালি ও উল্লাসে মাঝিদের উৎসাহিত করেন দর্শনার্থীরা।
নৌকা বাইচকে কেন্দ্র করে দুই দিন আগে থেকেই মধুমতীর তীরে বসে বিশাল গ্রামীণ মেলা। শত শত অস্থায়ী দোকানে ছিল ক্রেতা ও দর্শনার্থীদের ভিড়। মেলায় মিষ্টি, জিলাপি, বাতাসা, কদমা, বিভিন্ন ধরনের সন্দেশ ও পিঠাপুলির পাশাপাশি শিশুদের জন্য ছিল রঙিন বেলুন, কাঠের খেলনা এবং বাঁশ-বেতের তৈরি কুটির শিল্পসামগ্রী। মাটির তৈরি নানা শৌখিন পণ্যের দোকানও ছিল মেলার অন্যতম আকর্ষণ।
নৌকা বাইচ উপভোগ করতে দূরদূরান্ত থেকে আসেন বৃদ্ধ, তরুণ, নারী ও শিশুসহ বিভিন্ন বয়সের মানুষ। প্রতিবছর এ আয়োজনকে কেন্দ্র করে মহম্মদপুর উপজেলার বিভিন্ন বাড়িতে আত্মীয়স্বজনের সমাগম ঘটে। অনেক পরিবারের কাছে দিনটি ঈদের আনন্দের মতোই বিশেষ। এ উপলক্ষে পুরো উপজেলায় তৈরি হয় উৎসবের আমেজ। বিপুলসংখ্যক মানুষের সমাগম সামাল দিতে নেওয়া হয় বাড়তি নিরাপত্তাব্যবস্থা।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ সরকারের সংস্কৃতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট নিতাই রায় চৌধুরী। তিনি বলেন, নদী আমাদের জীবন। নদীর প্রবাহের সঙ্গে আমাদের জীবনের প্রবাহ জড়িত। তাই নদীকে বাঁচিয়ে রাখতে হবে। নদী বেঁচে থাকলে আমাদের সংস্কৃতিও বেঁচে থাকবে।
তিনি আরও বলেন, গ্রামীণ মেলা, লাঠিখেলা ও নৌকা বাইচ বাংলার ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এসব আয়োজন ধরে রাখা আমাদের দায়িত্ব। গ্রামবাংলার সংস্কৃতি আমাদের শেকড়ের পরিচয় বহন করে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন মাগুরা জেলা পুলিশ সুপার মোল্লা আজাদ হোসেন (পিপিএম-সেবা), মাগুরা জেলা পরিষদের প্রশাসক আলী আহম্মেদ, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক আব্দুল কাদের, মহম্মদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বেদবতী মিস্ত্রী, সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাদমান আকিব, মহম্মদপুর উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক অধ্যক্ষ মৈমুর আলী মৃধা, কাজী সালিমা হক মহিলা কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ এসএম ইউনুস আলী সরদার, মাগুরা জেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি অধ্যাপক সাইদুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম শফিক এবং মহম্মদপুর উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি আজিজুর রহমান টুটুলসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
রাতে প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণের মধ্য দিয়ে দিনব্যাপী এ আয়োজনের সমাপ্তি ঘটে। ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচকে কেন্দ্র করে মধুমতীর তীরে মানুষের এই স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ আবারও তুলে ধরে গ্রামবাংলার সংস্কৃতি ও লোকজ ঐতিহ্যের প্রতি মানুষের গভীর ভালোবাসা।
হাওরাঞ্চলের প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত কিশোরগঞ্জের ভৈরব। মেঘনা নদীকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা এই বন্দরনগরী দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ ও বাণিজ্যিক কেন্দ্র। তবে অপরিকল্পিত নগরায়ণ, জনসচেতনতার অভাব এবং যথাযথ বর্জ্য ব্যবস্থাপনা না থাকায় দিন দিন দূষিত হচ্ছে ভৈরবের মেঘনা নদী। বিভিন্ন ধরনের ময়লা-আবর্জনা, প্লাস্টিক ও অপচনশীল বর্জ্য নদীতে ফেলার কারণে নষ্ট হচ্ছে পানির স্বাভাবিক গুণাগুণ। এতে হুমকির মুখে পড়ছে নদীর জলজ প্রাণী, জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশের ভারসাম্য।
আয়তনে ছোট হলেও ভৈরব একটি ঘনবসতিপূর্ণ জনপদ। জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে বর্জ্যের পরিমাণ। কিন্তু সেই অনুপাতে গড়ে ওঠেনি আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা অবকাঠামো। শহরের বিভিন্ন স্থানে নদীর তীর ঘেঁষে দেখা যায় ময়লা-আবর্জনার স্তূপ। কোথাও সরাসরি নদীতে ফেলা হচ্ছে পৌরসভার বর্জ্য। আবার কোথাও নদীর পাড়ে জমে থাকা প্লাস্টিক ও অন্যান্য আবর্জনা বৃষ্টির পানি এবং নদীর স্রোতের সঙ্গে মিশে পানিতে গিয়ে পড়ছে। এ ছাড়া বিভিন্ন স্থানে অপরিকল্পিত পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থার কারণে দূষিত পানি নদীতে মিশছে। ফলে নদীর পানি দূষণের পাশাপাশি আশপাশের পরিবেশেও বিরূপ প্রভাব পড়ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা এহসানুল হক পিন্টু বলেন, নদীকে কেন্দ্র করেই আজকের আধুনিক ভৈরব শহরের বিকাশ ঘটেছে। অথচ পরিকল্পনার অভাব ও জনসচেতনতা না থাকায় নদীর সঙ্গে যুক্ত খাল-বিলগুলো অবাধে ভরাট করা হচ্ছে। বাড়তি জনসংখ্যার আবাসন তৈরির জন্য একটি চক্র এসব জলাশয় ভরাট করছে। এতে নদীর স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, নদীতে সরাসরি পৌরসভার পয়োনিষ্কাশন লাইনের পানি এবং মানুষের ফেলা অপরিকল্পিত বর্জ্য মিশছে। এতে নদীর পানি দূষিত হচ্ছে এবং জলজ প্রাণীর স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। এখনই কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে।
স্থানীয় স্কুলশিক্ষক নজরুল ইসলাম রিপন বলেন, নদীর জীববৈচিত্র্য রক্ষায় শুধু সাময়িক পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম যথেষ্ট নয়। এ জন্য দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। নদী দূষণ রোধে প্রশাসনের নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরিতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। নদীর তীর ও আশপাশের এলাকায় নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে।
এ বিষয়ে ভৈরব পৌরসভার প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কেএম মামুনুর রশীদ বলেন, পৌরসভার পক্ষ থেকে নিয়মিত ময়লা-আবর্জনা সংগ্রহের চেষ্টা করা হয়। তবে ভৈরবে নিজস্ব ডাম্পিং স্টেশন না থাকায় বিপুল পরিমাণ বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছে।
তিনি বলেন, নদীতীরবর্তী এলাকার বাসিন্দা এবং নদীর পাশে ব্যবসা পরিচালনাকারীদের অনেকেই আশপাশে ময়লা-আবর্জনা ফেলেন। এ বিষয়ে জনসচেতনতা বাড়াতে পৌরসভার পক্ষ থেকে উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি নদীমাতৃক বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ এই সম্পদ রক্ষায় করণীয় নির্ধারণ এবং নজরদারি বাড়ানোর বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হবে।
পরিবেশসংশ্লিষ্টদের মতে, মেঘনা নদীর দূষণ রোধে পরিকল্পিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, আধুনিক ডাম্পিং স্টেশন স্থাপন, পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং নদীর তীর দখল ও দূষণ প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন। একই সঙ্গে খাল-বিলের স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনা এবং জনসচেতনতা বাড়ানো জরুরি। সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া না হলে ভৈরবের অর্থনীতি, পরিবেশ ও নদীকেন্দ্রিক জীববৈচিত্র্যের ওপর দূষণের প্রভাব আরও বাড়তে পারে।
খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুকৃবি) ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিকল্পনা ও উন্নয়ন শাখার পরিচালক মো. রাজিবুল করিম।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলরের অনুমোদনক্রমে গত রোববার জারি করা এক অফিস আদেশে এ দায়িত্ব দেওয়া হয়। আদেশ অনুযায়ী, সোমবার (২ নভেম্বর) থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত তিনি নিজ দায়িত্বের অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রারের দায়িত্ব পালন করবেন।
একই অফিস আদেশে উপ-পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক রেজাউল ইসলামকে রেজিস্ট্রারের চলতি দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে।
অফিস আদেশে আরও উল্লেখ করা হয়, দায়িত্ব পালনকালে রাজিবুল করিম বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি মোতাবেক প্রাপ্য যাবতীয় ভাতাদি পাবেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রমের গতিশীলতা, দাপ্তরিক সমন্বয় ও প্রাতিষ্ঠানিক কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে এ দায়িত্ব পুনর্বণ্টন করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে।
উল্লেখ্য, রাজিবুল করিম বর্তমানে খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিকল্পনা ও উন্নয়ন শাখার পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
মুন্সিগঞ্জের টঙ্গিবাড়ীতে এক গৃহবধূর ব্যক্তিগত মুহূর্তের ভিডিও গোপনে ধারণ করে তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি ও ব্ল্যাকমেলের অভিযোগে নূর আলম শেখ (৩২) নামের এক ইমামকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। সোমবার সকালে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
এর আগে রবিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে জেলার শ্রীনগর উপজেলার একটি মাদ্রাসায় অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। অভিযানে তাঁর ব্যবহৃত মুঠোফোনটিও জব্দ করা হয়েছে। চার সন্তানের জনক নূর আলমের বিরুদ্ধে এ ঘটনায় টঙ্গিবাড়ী থানায় নিয়মিত মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
পুলিশের তদন্তে জানা গেছে, নূর আলম শেখ বিগত প্রায় দেড় বছর ধরে টঙ্গিবাড়ী উপজেলার বালিগাঁও এলাকার একটি জামে মসজিদে ইমামতি করছিলেন। পাশাপাশি স্থানীয় এক শিশুর বাড়িতে গিয়ে ধর্মীয় শিক্ষক হিসেবে পাঠদান করতেন। এই সুবাদে শিশুটির মায়ের সঙ্গে তাঁর পরিচয় ও ঘনিষ্ঠতা গড়ে ওঠে এবং একপর্যায়ে অসৎ উদ্দেশ্যে তিনি গোপনে ওই গৃহবধূর ব্যক্তিগত মুহূর্তের দৃশ্য মুঠোফোনে ধারণ করেন।
ঘটনাটি প্রায় এক মাস আগে জানাজানি হলে স্থানীয় মসজিদ পরিচালনা কমিটি তাঁকে ইমামতির দায়িত্ব থেকে তাৎক্ষণিকভাবে অব্যাহতি দেয় এবং তিনি এলাকা ছাড়তে বাধ্য হন। এলাকা ত্যাগ করলেও অভিযুক্ত নূর আলম ওই গৃহবধূকে অনৈতিক সম্পর্কের জন্য অব্যাহতভাবে চাপ ও নানা মাধ্যমে হুমকি দিতে থাকেন। একপর্যায়ে তিনি ওই আপত্তিকর ভিডিও ফুটেজ গৃহবধূর পরিবারের এক সদস্যের কাছে পাঠিয়ে দেখা করার জন্য বাধ্য করার চেষ্টা করেন এবং দেখা না করলে ভিডিওটি অন্তর্জালে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখান।
জেলা গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক অর্জুন কুমার দাশ জানান, ভুক্তভোগী পক্ষের অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার পরপরই শ্রীনগরে অভিযান পরিচালনা করে মোবাইলসহ অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদেই তিনি অপরাধের সঙ্গে নিজের সম্পৃক্ততার কথা অকপটে স্বীকার করেছেন এবং তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
রাজধানীর মিরপুর এবং নিকটবর্তী শিল্পাঞ্চল সাভারের আশুলিয়া ও গাজীপুরে বিভিন্ন দাবিতে রাজপথে নেমে ব্যাপক বিক্ষোভ প্রদর্শন করছেন তৈরি পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা। সোমবার সকাল থেকে শুরু হওয়া এ আন্দোলনকে কেন্দ্র করে আশুলিয়া ও মিরপুরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে শ্রমিকদের দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া, ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও টিয়ারশেল ছোড়ার ঘটনা ঘটেছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সকাল ১০টার পর থেকে আব্দুল্লাহপুর-বাইপাইল সড়কের নরসিংহপুর ও নিশ্চিন্তপুর এলাকায় শ্রমিক-পুলিশ সংঘাতের রূপ নেয়। আন্দোলনকারীরা শুরুতে স্থানীয় অনন্ত ও পরবর্তীতে হা-মীম কারখানার সামনে অবস্থান নিয়ে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন এবং সড়ক অবরোধের চেষ্টা চালান। এ সময় পুলিশ বাধা দিতে গেলে চরম উত্তেজনার সৃষ্টি হয় এবং একপর্যায়ে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ছুড়ে শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা চালালে উভয় পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া শুরু হয়। ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে হতাহতের খবর না পাওয়া গেলেও পুরো এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে এবং অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। শিল্প পুলিশ-১-এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপস অ্যান্ড ইন্টেল) শোয়েব আহম্মেদ জানান, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে মাঠে পর্যাপ্ত পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন।
অন্যদিকে সকাল সোয়া ৯টার দিকে রাজধানীর মিরপুর-১০ নম্বর মোড়ে শ্রমিকেরা জড়ো হয়ে মূল সড়ক অবরুদ্ধ করার চেষ্টা করেন। এ সময় পুলিশ তাঁদের রাস্তা ছেড়ে দেওয়ার নির্দেশ দিলে শ্রমিকদের দিক থেকে ইটপাটকেল ছোড়া হয়। জবাবে পুলিশ টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে দ্রুত আন্দোলনকারীদের সড়ক থেকে সরিয়ে দিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়। মিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাফিজুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘শ্রমিকরা রাস্তা অবরোধ করতে এসেছিল, আমরা তাদের সরিয়ে দিয়েছি।’
এ ছাড়া সকাল সাড়ে ৮টা থেকেই গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার পল্লী বিদ্যুৎ ও মৌচাক মোড় এলাকায় ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন পোশাক কারখানার কর্মীরা। শ্রমিকদের অনড় অবস্থানের কারণে মহাসড়কের প্রায় ১০ কিলোমিটার জুড়ে তীব্র যানজট তৈরি হয়ে যানবাহন চলাচল সম্পূর্ণ থমকে যায়। সার্বিক নিরাপত্তা ও উদ্ভূত পরিস্থিতির মুখে কর্তৃপক্ষ মৌচাক, পল্লী বিদ্যুৎ, সুফিপুর ও হরিণঘাটী এলাকার পোশাক কারখানাগুলোতে সাময়িক ছুটি ঘোষণা করতে বাধ্য হয়েছে। কালিয়াকৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলাম জানান, মহাসড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে এবং যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঠেকাতে পুলিশ ও বিজিবিসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন রয়েছে।