ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপে ১৫৬টি উপজেলায় ভোটগ্রহণ শেষ হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত চলে ভোটগ্রহণ। ভোট গণনা শেষে রাতে নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশ করেন রিটার্নিং কর্মকর্তারা। সারা দেশের প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর থেকে জানা যায়-
ফরিদপুর
উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপে ফরিদপুরের নগরকান্দা ও সালথা উপজেলায় ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। নগরকান্দা উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপ-কমিটির সাবেক সহসম্পাদক কাজী শাহ জামান বাবুল। আনারস প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ৩৭ হাজার ২০৯ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মোটরসাইকেল প্রতীকের প্রার্থী বর্তমান উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মনিরুজ্জামান সরদার পেয়েছেন ২৫ হাজার ২৩৭ ভোট।
অন্যদিকে সালথা উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে বর্তমান চেয়ারম্যান ওয়াদুদ মাতুব্বর বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। আনারস প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ৩৫ হাজার ৫৪৫ ভোট তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী সালথা উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও মোটরসাইকেল প্রতীকের প্রার্থী মো. ওহিদুজ্জামান পেয়েছেন ৫ হাজার ৩৪২ ভোট।
নারায়ণগঞ্জ
উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপে নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলায় ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম। ঘোড়া প্রতীকে তিনি পেয়েছেন এক লাখ ১৫ হাজার ২৫২ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী দোয়াত কলম প্রতীকের প্রার্থী মো. শাহজালাল মিয়া পেয়েছেন ১৩ হাজার ১৩২ ভোট।
বিজয়ী মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম আড়াইহাজার উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সদস্য। তিনি কালাপাহাড়িয়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান। অন্যদিকে তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মো. শাহজালাল মিয়া আড়াইহাজার উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া
দ্বিতীয় ধাপের উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা ও আখাউড়ায় উপজেলায় ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। কসবা উপজেলায় আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের ফুফাতো ভাই ছাইদুর রহমান ও আখাউড়ায় মোগড়া ইউনিয়ন পরিষদের তিনবারের সাবেক চেয়ারম্যান মনির হোসেন বেসরকারিভাবে চেয়ারম্যান নির্বাাচিত হয়েছেন।
ঘোষিত ফলাফল অনুযায়ী, কসবা উপজেলায় ছায়েদুর রহমান স্বপন কাপ-পিরিচ প্রতীকে ৮৬ হাজার ৬৯৮ ভোট পেয়ে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও কুটি ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ছিলেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বর্তমান উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের সাবেক সহকারী একান্ত সচিব রাশেদুল কাউসার ভূইয়া আনারস প্রতীকে পেয়েছেন ৩৯ হাজার ৯৫৯ ভোট।
অন্যদিকে আখাউড়া উপজেলায় মনির হোসেন ঘোড়া প্রতীকে ২৮ হাজার ৩০৯ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি উপজেলা যুবলীগের সাবেক আহ্বায়ক ও মোগড়া ইউনিয়ন পরিষদের তিনবারের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান আনারস প্রতীকে পেয়েছেন ১৪ হাজার ৫৬৩ ভোট।
রাঙামাটি
ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপে রাঙামাটির রাজস্থলী, কাপ্তাই ও বিলাইছড়ি উপজেলায় শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। রাজস্থলী উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি উবাচ মারমা আনারস প্রতীকে ৭ হাজার ৭৫ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মো. রিয়াজ উদ্দীন রানা দোয়াত কলম প্রতীকে পেয়েছেন ২ হাজার ১৮ ভোট।
অন্যদিকে কাপ্তাই উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে উপজেলা যুবলীগের সভাপতি মো. নাছির উদ্দিন দোয়াত কলম প্রতীকে ৭ হাজার ৩৬২ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও সাবেক ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আনোয়ারুল ইসলাম চৌধুরী আনারস প্রতীকে পেয়েছেন ৬ হাজার ৯৭৩ ভোট।
অপরদিকে বিলাইছড়ি উপজেলায় মোট ১৩টি কেন্দ্রের মধ্যে ৫টি হেলিসর্টি ভোটকেন্দ্র রয়েছে। দুর্গম এলাকা হওয়ায় রাত সাড়ে ৯টা পর্যন্ত ফলাফল না আসায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কোনো ফলাফল ঘোষণা করেননি। তবে বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা যায়, পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (জেএসএস) সমর্থিত দোয়াত কলম প্রতীকের বিরোত্তম তঞ্চঙ্গ্যা চেয়ারম্যান পদে বিজয়ী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
লালমনিরহাট
লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ ও আদিতমারী উপজেলায় উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপে ভোটগ্রহণ শেষ হয়েছে। দুই উপজেলায় মধ্যে আদিতমারী উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে ফারুক ইমরুল কায়েস ও কালীগঞ্জ উপজেলায় জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক রাকিবুজ্জামান আহমেদ বিজয়ী হয়েছেন।
রাত সাড়ে ৯টার দিকে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা লুৎফর কবির তাদেরকে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত ঘোষণা করেন।
আদিতমারী উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে ফারুক ইমরুল কায়েস মোটরসাইকেল প্রতীকে পেয়েছেন ৩৩ হাজার ১৩৫ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রফিকুল আলম আনারস প্রতীকে পেয়েছেন ২৯ হাজার ১৮টি ভোট
কালীগঞ্জ উপজেলায় সাবেক সমাজকল্যাণমন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদের ছেলে রাকিবুজ্জামান আহমেদ আনারস প্রতীকে পেয়েছেন ২৪ হাজার ৩০৩ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী তার চাচা উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মাহবুবুজ্জামান আহমেদ ঘোড়া প্রতীকে পেয়েছেন ১৯ হাজার ৩৫০ ভোট।
পিরোজপুর
ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে দ্বিতীয় ধাপে পিরোজপুর জেলার দুই উপজেলায় শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। মঙ্গলবার পিরোজপুরের নেছারাবাদ ও কাউখালী উপজেলার ১৫টি ইউনিয়নের মোট ১২২টি ভোটকেন্দ্রে ইভিএম পদ্ধতিতে এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
কাউখালী উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে মো. আবু সাঈদ মিঞা ও নেছারাবাদ উপজেলায় আব্দুল হক নির্বাচিত হয়েছেন। রাতে নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা সৈয়দ শফিকুল হক বেসরকারিভাবে তাদের বিজয়ী ঘোষণা করেন।
নেছারাবাদ উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে আব্দুল হক আনারস প্রতীকে ৩৮ হাজার ৬১২ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী এস এম মুইদুল ইসলাম মোটরসাইল প্রতীকে পেয়েছেন ৩৫ হাজার ৫২০ ভোট।
অন্যদিকে কাউখালী উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে মো. আবু সাঈদ মিঞা ঘোড়া প্রতীকে ১১ হাজার ২৮৪ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মো. মনিরুজ্জামান তালুকদার পল্টন কাপ-পিরিচ প্রতীকে পেয়েছেন ৬ হাজার ২৯৪ ভোট।
ঝালকাঠি
উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপে ঝালকাঠি সদর ও নলছিটি উপজেলায় ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ঝালকাঠি সদর উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান ও ঝালকাঠি জেলা আওয়ামী লীগ সহ-সভাপতি খান আরিফুর রহমান। আনারস প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ৩৩ হাজার ৯৪৩ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী দোয়াত কলম প্রতীকের প্রার্থী মো. সুলতান খান পেয়েছেন ২৫ হাজার ৯৭১ ভোট।
অন্যদিকে নলছিটি উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মো. সালাউদ্দিন খান সেলিম বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। মোটরসাইকেল প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ২৩ হাজার ৯৩৯ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাবেক মেয়র তছলিম উদ্দিন চৌধুরী আনারস প্রতীকে পেয়েছেন ১৬ হাজার ৭৮৪ ভোট।
বাগেরহাট
উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপে বাগেরহাটে ফকিরহাট, মোল্লাহাট,ও চিতলমারী উপজেলায় ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ফকিরহাট উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন শেখ ওহিদুজ্জামান বাবু। মোটরসাইকেল প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ৪৬ হাজার ৬৫৪ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আনরস প্রতীকের প্রার্থী বর্তমানে উপজেলা চেয়ারম্যান স্বপন দাস পেয়েছেন ২৯ হাজার ৪৩৭ ভোট। এ উপজেলায় ভোট কাস্ট হয়েছে ৬২.৫০ শতাংশ।
চিতলমারী উপজেলার চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হয়েছেন মো. আলমগীর হোসেন সিদ্দিকী। দোয়াত কলম প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ৩৪ হাজার ৮৮৬ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বর্তমান উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও বাগেরহাট জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি অশোক কুমার বড়াল মোটরসাইকেল প্রতীকে পেয়েছেন ২২ হাজার ৭৬৩ ভোট। এ উপজেলায় ভোট কাস্ট হয়েছে ৪৫.৭৫ শতাংশ।
অন্যদিকে মোল্লাহাট উপজেলার চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হয়েছেন বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শাহিনুর আলম ছানা। দোয়াত কলম প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ২৯ হাজার ৯০২ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বর্তমান উপজেলা শেখ নাসির উদ্দীন আনারস প্রতীকে পেয়েছেন ১৯ হাজার ৯৫৪ ভোট। এ উপজেলায় ভোট কাস্ট হয়েছে ৫৩.৭৭ শতাংশ। জেলায় গড় ভোট কাস্টিং হয়েছে ৫৪ শতাংশ।
যশোর
দ্বিতীয় ধাপের উপজেলা নির্বাচনে যশোরের ঝিকরগাছা, শার্শা ও চৌগাছা উপজেলায় ভোটগ্রহণ করা হয়েছে। ভোটগ্রহণ শেষে রাতে বেসরকারিভাবে ফলাফল ঘোষণা করেন উপজেলাগুলোর দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তারা।
চৌগাছা উপজেলা চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হয়েছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা এসএম হাবিবুর রহমান। আনারস প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ৩৩ হাজার ৫৬৫ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ ড. মোস্তানিছুর রহমান পেয়েছেন ২৮ হাজার ৯৮০ ভোট।
নির্বাচনের সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও চৌগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুম্মিতা সাহা রাত সাড়ে ৯টায় এ ফলাফল ঘোষণা করেন।
ঝিকরগাছা উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হয়েছেন বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. মনিরুল ইসলাম। আনারস প্রতীকে মনিরুল ইসলাম পেয়েছেন ৪০ হাজার ৬৪৩ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী সেলিম রেজা ঘোড়া প্রতীকে পেয়েছেন ১৮ হাজার ৪৪৩ ভোট।
অন্যদিকে শার্শা উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে মো. সোহরাব হোসেন দোয়াত কলম প্রতীক নিয়ে ৩৭ হাজার ৫৭০ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মো. অহিদুজ্জামান আনারস প্রতীকে পেয়েছেন ১২ হাজার ২৯১ ভোট।
রাজশাহী
দ্বিতীয় ধাপে রাজশাহীর বাগমারা, দুর্গাপুর ও পুঠিয়া উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বাগমারা উপজেলায় বেসরকারিভাবে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন জাকিরুল ইসলাম সান্টু। তিনি ঘোড়া প্রতীকে পেয়েছেন ৪৭ হাজার ৩২২ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আব্দুর রাজ্জাক সরকার ওরফে আর্ট বাবু পেয়েছেন ৪ হাজার ৩২১ ভোট।
পুঠিয়া উপজেলায় বেসরকারিভাবে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন আবদুস সামাদ মোল্লা। তিনি আনারস প্রতীকে পেয়েছেন ২৬ হাজার ৬৬৫ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আহসানুল হক মাসুদ ঘোড়া প্রতীকে পেয়েছেন ২৩ হাজার ৬৭৯ ভোট।
অন্যদিকে দুর্গাপুর উপজেলায় বেসরকারিভাবে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন শরীফুজ্জামান শরীফ। তিনি মোটরসাইকেল প্রতীকে পেয়েছেন ৪২ হাজার ১১৩ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আব্দুল মজিদ সরদার পেয়েছেন ২৭ হাজার ৩৩২ ভোট।
সাতক্ষীরা
ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপে সাতক্ষীরার আশাশুনি, তালা ও দেবহাটা উপজেলায় ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আশাশুনি উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও বর্তমান উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এবিএম মোস্তাকিম বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি চিংড়ি প্রতীকে পেয়েছেন ৫১ হাজার ৬৬২ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী শাহনেওয়াজ ডালিম ঘোড়া প্রতীকে পেয়েছেন ৫০ হাজার ৭০৭ ভোট।
অপরদিকে সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলা নির্বাচনে মো. আল ফেরদাউস বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি হেলিকপ্টার প্রতীকে ২৬ হাজার ৩৭৭ ভোট পেয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মো. মজিবুর রহমান মোটরসাইকেল প্রতীকে পেয়েছেন ১৭ হাজার ১৫২ ভোট।
এ ছাড়া সাতক্ষীরার তালা উপজেলা নির্বাচনে ঘোষ সনৎ কুমার বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি কাপ পিরিচ প্রতীকে ৪৬ হাজার ৪৫৮ ভোট পেয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী সরদার মশিয়ার চিংড়ি প্রতীকে পেয়েছেন ৩২ হাজার ৪১৩ ভোট।
ময়মনসিংহ জেলার জেলা প্রশাসক ও বিজ্ঞ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. সাইফুর রহমান জেলার ফুলবাড়িয়া উপজেলার বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প পরিদর্শন করেছেন।
সোমবার (২০ জুলাই) তিনি ফুলবাড়িয়ায় পৌঁছলে তাঁকে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ফুলেল শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানানো হয়।
এদিন জেলা প্রশাসক মো. সাইফুর রহমান উপজেলা ভূমি সংলগ্ন পুকুর খনন,ঘাটলা নির্মাণ কাজের উদ্বোধন ও মাছের পোনা অবমুক্তরন করেন। পরে পুকুর পাড়ে নারিকেল গাছের চারা রোপণ করেন তিনি।
সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে জেলা প্রশাসক ভূমি সংক্রান্ত সেবার মান উন্নতকরন, নামজারি, মিসকেইছ ও উপজেলার খাস জমির সঠিক তথ্য পরিমাপ করে দ্রুত সময়ের মধ্যে রিপোর্ট করতে কঠোর নির্দেশ প্রদান করেন।
জানাগেছে, জেলা প্রশাসক দিনব্যাপী এ ভ্রমনে উপজেলা পরিষদ,উপজেলা ভূমি অফিস,কালাদহ ইউনিয়ন পরিষদসহ ইউনিয়নটির ডিজিটাল সেন্টার, ইউনিয়ন ভূমি অফিস,ফুলবাড়িয়া থানা পরিদর্শন ও বিভিন্ন উন্নয়ন কাজ পরিদর্শন করেন।
পরে বিকেলে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর মাঝে সেলাই মেশিন এবং ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী ছাত্রছাত্রীদের মাঝে শিক্ষাবৃত্তি, সাইকেল বিতরণ, প্রাথমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষা উপকরণ
ও ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ করেন তিনি।
এর আগে পরিষদ মিলনায়তনে মাদক, জুয়া,বাল্যবিবাহ ও সামাজিক মূল্যবোধের অবক্ষয় রোধে সচেতনতামূলক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) শহিদুল ইসলাম সোহাগ,সহকারী কমিশনার (ভূমি) শেখ তাকী তাজওয়ার, ফুলবাড়িয়া থানার ওসি রাশেদুল হাসান প্রমূখ ।
মার্কেন্টাইল কো-অপারেটিভ ব্যাংকের ২ কোটি ১৬ লাখ টাকার চেক ডিজঅনারের মামলায় রিজেন্ট হাসপাতালের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাহেদকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। করোনার নমুনা পরীক্ষা নিয়ে জালিয়াতির অভিযোগে এর আগে দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনায় এসেছিলেন তিনি।
সোমবার (২০ জুলাই) বিকালে শুনানি শেষে ঢাকার যুগ্ম মহানগর দায়রা জজ আদালত-৫ এর বিচারক সাদিক আহম্মেদ এই আদেশ দিয়েছেন।
সাহেদের পক্ষে নিয়োজিত আইনজীবী মোহাম্মদ দবির উদ্দিন এই তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, ‘মার্কেন্টাইল কো-অপারেটিভ ব্যাংকের মামলাটি যখন হয় তখন তিনি সাড়ে চার বছর জেলে ছিলেন। তখন মামলাটিতে তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়নি। ২০২৫ সালের ৪ মে আদালত তাকে এই মামলায় এক বছরের সাজা দেয় এবং সমপরিমাণ টাকা (২ কোটি ১৬ লাখ) অর্থদণ্ডে দণ্ডিত করেন। এখন যেহেতু উনি কারাগারে গেছেন, আমরা আপিল করব।’
মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ২০১৫ সালে ব্যবসার উদ্দেশ্যে মার্কেন্টাইল কো-অপারেটিভ ব্যাংকের কাছ থেকে ২ কোটি ১৬ লাখ টাকা ঋণ নেন সাহেদ। ওই ব্যাংকে ঋণের বিপরীতে জামানত হিসেবে ২ কোটি ১৬ লাখ টাকার সমপরিমাণ মূল্যের একটি চেক জমা দেন তিনি। পরবর্তীতে সেই ঋণের টাকা পরিশোধ না করায় ব্যাংক কর্তৃপক্ষ চেকটি ডিজঅনার করে। ওই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ব্যাংকের পক্ষ থেকে ১৮৮১ সালের নেগোশিয়েবল ইনস্ট্রুমেন্ট আইনের ১৩৮ ধারায় ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলাটি দায়ের করা হয়। এরপর মামলাটি আনুষ্ঠানিকভাবে বিচার প্রক্রিয়ার জন্য ঢাকার মহানগর দায়রা জজ আদালতে বদলির নির্দেশ দেওয়া হয়।
মামলাটির বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে ২০২৫ সালের ৪ মে আদালত তাকে এই মামলায় এক বছরের কারাদণ্ড এবং সমপরিমাণ টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত করেন। ওই সময় তার বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানাসহ গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছিল।
এর আগে, রাজধানীর ইসিবি চত্বর থেকে সাহেদকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরবর্তীতে পল্লবী থানা পুলিশের চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে পল্লবী থানায় সোপর্দ করা হয়।
পুলিশের ইউনিফর্ম পরে আওয়ামী লীগের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার অভিযোগে ট্যুরিস্ট পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি মো. মনিরুজ্জামানকে বাধ্যতামূলক অবসর দিয়েছে সরকার। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরীর সই করা এক প্রজ্ঞাপনে এ আদেশ জারি করা হয়। সোমবার (২০ জুলাই) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ প্রজ্ঞাপন প্রকাশ করেছে।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ২০২৪ সালের ২৯ এপ্রিল ঝিনাইদহ-১ আসনের উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশী তার ছোট ভাই মো. ওয়াহিদুজ্জামান ঢাকার ধানমন্ডিতে দলটির রাজনৈতিক কার্যালয়ে মনোনয়নপত্র জমা দিতে গেলে মো. মনিরুজ্জামান পুলিশের ইউনিফর্ম পরিহিত অবস্থায় তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন এবং সক্রিয়ভাবে অংশ নেন।
পরদিন ৩০ এপ্রিল জাতীয় দৈনিক ও অনলাইন সংবাদমাধ্যমে ওই অনুষ্ঠানে তার ইউনিফর্ম পরিহিত উপস্থিতির ছবি ও সংবাদ প্রকাশিত হয়। এ ঘটনায় পুলিশের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা হিসেবে শিষ্টাচারবহির্ভূত আচরণ, উপনির্বাচনে বেআইনিভাবে প্রভাব বিস্তারের কৌশল অবলম্বন এবং জনসম্মুখে পুলিশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করা হয় এবং কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়।
তিনি লিখিত জবাব দিলেও ব্যক্তিগত শুনানিতে অংশ নিতে অনাগ্রহ প্রকাশ করেন। পরে অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনায় তিন সদস্যের তদন্ত বোর্ড গঠন করা হয়। তদন্ত শেষে বোর্ড অভিযোগগুলো প্রমাণিত হয়েছে বলে মত দেয়।
নওগাঁয় বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য (ফেনসিডিল) ধ্বংস করেছে প্রশাসন। সোমবার (২০ জুলাই) দুপুরে নওগাঁ জেলা প্রশাসকের কার্যলায় চত্বরে রোলার দিয়ে এসব মাদক ধ্বংস করা হয়।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন নওগাঁ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ও ভারপ্রাপ্ত ম্যাজিস্ট্রেট (মালখানা) আরেফিন রহমান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ( প্রশাসন ও অর্থ) মনিরুল ইসলামসহ পুলিশের কর্মকর্তারা।
জানা যায়, গত ৬ বছরে জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে মাদককারবারিদের কাছে থেকে এসব মাদকদ্রব্য (ফেনসিডিল) মাদক জব্দ করা হয়েছিল। মামলার পর এসব মাদক মালখানায় রাখা হয়েছিল। পরবর্তীতে এসব ধ্বংস করা হয়। এ সময় জেলা ফায়ার সার্ভিসের টিম সহযোগিতা করে।
নওগাঁ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ও ভারপ্রাপ্ত ম্যাজিস্ট্রেট (মালখানা) আরেফিন রহমান বলেন, ‘২০১৫ সাল থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত (৬ বছর) ১৫১টি মামলায় এসব মাদকদ্রব্য জব্দ করা হয়েছিল। যার পরিমাণ ১৬ হাজার ৬১ পিস। পরে সকলের উপস্থিতিতে এসব ধ্বংস করা হয়।’
জাতীয় হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন শেষ হলেও কুমিল্লায় হামের প্রকোপ পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি। প্রতিদিনই নতুন রোগী শনাক্ত হওয়ার পাশাপাশি বাড়ছে মৃত্যুর সংখ্যাও। গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছরে কুমিল্লায় হাম সন্দেহে ও পরীক্ষায় নিশ্চিত মিলিয়ে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৪ জনে।
মারা যাওয়া শিশুটির নাম রায়হান (১৮ মাস)। তার বাবার নাম ইমাম হোসেন। তাদের বাড়ি কুমিল্লার বরুড়া উপজেলায়। হামের উপসর্গ নিয়ে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের তথ্যানুযায়ী, নতুন করে ১৫ জন সন্দেহজনক হামরোগী শনাক্ত হয়েছেন। তাদের মধ্যে ১২ জনের শরীরে পরীক্ষার মাধ্যমে হাম নিশ্চিত হয়েছে। একই সময়ে ১৫ জন নতুন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এবং চিকিৎসা শেষে ১৮ জন হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন।
চলতি বছরের ১৯ জুলাই পর্যন্ত জেলায় মোট ৩ হাজার ১৯ জন সন্দেহজনক হামরোগী শনাক্ত হয়েছেন। এর মধ্যে পরীক্ষায় ৪৮২ জনের হাম নিশ্চিত হয়েছে। এ সময়ে হাম সন্দেহে ১৩ জন এবং পরীক্ষায় নিশ্চিত হামে একজনের মৃত্যু হয়েছে। ফলে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৪ জনে। একই সময়ে মোট ২ হাজার ৫৬৫ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে চিকিৎসা শেষে ২ হাজার ৫০২ জন হাসপাতাল ছেড়েছেন।
কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. মিয়া মনজুর আহমেদ এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘হামের উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।’ পাশাপাশি শিশুদের নির্ধারিত সময়ে টিকা নিশ্চিত করতে অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
এদিকে টিকাদান ক্যাম্পেইনের পরও কেন হাম ও হাম-সম্পর্কিত মৃত্যু পুরোপুরি কমছে না—এ বিষয়ে কুমিল্লার সিভিল সার্জন ডা. আলী নূর মোহাম্মদ বশীর আহমেদ বলেন, ‘যেসব শিশু মারা গেছে, তারা টিকা পেয়েছিল কি না, সেটি খতিয়ে দেখতে হবে। তবে আগের তুলনায় জেলায় হামে আক্রান্তের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এসেছে।’
যশোরের শার্শায় পৃথক দুইটি অভিযান চালিয়ে ২৬৯ বোতল উইনকেরেক্স এবং ৭৪৪ বোতল স্কাফসহ তিনজন মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করেছে র্যাব-৬।
গতকাল রবিবার (১৯ জুলাই) যশোর জেলার শার্শা থানাধীন গোবিনাথপুর বটতলা এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে অবৈধ মাদকদ্রব্য ২৬৯ বোতল উইনকেরেক্স এবং ৩০ বোতল স্কাফসহ দুইজন মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারকৃত আসামিরা হলেন যশোরের শার্শা থানাধীন বটতলা গ্রামের বাসিন্দা মোঃ কামাল হোসেনের ছেলে মোঃ বশির (২২) এবং মোঃ সানাউল্লাহ এর ছেলে মিনহাজ।এবং বিকালে যশোরের শার্শা থানাধীন টেংরালী বাউন্ডারিপাড়া এলাকায় অপর এক অভিযান পরিচালনা করে ৭৪৪ বোতল স্কাফসহ একজন মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারকৃত আসামি হলেন যশোরের শার্শা থানাধীন টেংরালিপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মোঃ হোসেন আলীর ছেলে আবু বক্কর (৩৬)। উদ্ধারকৃত মাদকদ্রব্য উপস্থিত সাক্ষীদের সম্মুখে বিধি মোতাবেক জব্দ করা হয়।
পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহনের নিমিত্তে যশোর জেলার শার্শা থানায় গ্রেফতারকৃত আসামিদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে নিয়মিত মামলা রুজু পূর্বক উদ্ধারকৃত আলামত ও আসামিদেরকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
চার দিনের টানা ভারী বৃষ্টিপাতে খুলনা অঞ্চলের মৎস্য ও কৃষি খাতে আনুমানিক ১৩০ কোটি ৫০ লাখ টাকারও বেশি ক্ষতি হয়েছে। মৎস্য অধিদপ্তর এবং কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী এ তথ্য পাওয়া গেছে।
খুলনা বিভাগের মৎস্য অধিদপ্তরের পরিচালক মো. জাহাঙ্গীর আলম জানিয়েছেন, ভারী বৃষ্টিপাতে বিভাগের ১০টি জেলা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে; এর মধ্যে খুলনা, বাগেরহাট ও সাতক্ষীরায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে।
তিনি জানান, বিভাগে মোট ৪,৭৬৪টি পুকুর এবং ২,৮০৮টি দিঘি ও মাছের ঘের ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে; এর মধ্যে শুধুমাত্র মৎস্য খাতেই প্রায় ১২৬ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে এবং মোট ক্ষতির প্রায় ৭০ শতাংশই হয়েছে চিংড়ি চাষিদের।
তবে তিনি জানান, মোট ক্ষতির মধ্যে সাদা মাছ চাষিরা ৭৩ কোটি টাকার ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন। এ ছাড়া চিংড়ি খাতে ১৫ কোটি, মাছের পোনা খাতে ৯ কোটি এবং কাঁকড়া ও কুচিয়া খাতে ২৯ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।
দেশের অন্যতম প্রধান চিংড়ি চাষের কেন্দ্রস্থল ডুমুরিয়া এলাকাটি সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেখানে প্রায় ৬৫০টি মৎস্য ঘের ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় প্রায় ৮ কোটি ৬০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।
সূত্র জানায়, বাঁধ ও মাছ চাষের অবকাঠামোসহ বিভিন্ন স্থাপনার ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৬ কোটি টাকা বলে ধারণা করা হচ্ছে। অবিরাম বৃষ্টিপাত এবং নদীর পানির উচ্চতা বেড়ে যাওয়াকে এই ক্ষতির কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন খুলনা বিভাগের মৎস্য অধিদপ্তরের পরিচালক মো. জাহাঙ্গীর আলম।
পুরস্কারপ্রাপ্ত চিংড়ি চাষি মাহতাব হোসেন বলেন, ‘চিংড়ি চাষ মৌসুমের শুরুতেই এমন প্রবল বৃষ্টিপাতের কথা চাষিরা আগে ধারণা করতে পারেননি। আমরা সবেমাত্র চিংড়ির পোনা ছাড়তে শুরু করেছি এবং এই উৎপাদন প্রক্রিয়া আরও ৬ মাস চলবে। এই ক্ষতি পুষিয়ে উঠতে সময় লাগবে।’ তিনি বলেন, ‘পাশাপাশি তিনি সতর্ক করেন যে, আরও বৃষ্টিপাত হলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে।’
এদিকে, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (ডিএই) কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, খুলনা জেলায় ফসলের ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ১৪ কোটি ৫০ লাখ টাকা বলে ধারণা করা হচ্ছে।
খুলনা অঞ্চলের কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (ডিএই) অতিরিক্ত পরিচালক মো. রফিকুল ইসলাম জানান, এতে ৭,৭৩৬ জন কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন এবং প্রায় ১৮০.৩ হেক্টর ফসলি জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন তরমুজ চাষিরা। তাদের ক্ষতির পরিমাণ আনুমানিক ৬.৫ কোটি টাকা। অন্যদিকে, ধান ও সবজি চাষে ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করা হয়েছে প্রায় ৮ কোটি টাকা।
তিনি বলেন, ‘জমি থেকে দ্রুত পানি নেমে যাওয়ায় কৃষকরা খুব শীঘ্রই এই ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে পারবেন; পাশাপাশি কৃষকরা আমন ধানের বিশাল আকারের বীজতলা প্রস্তুত রেখেছিলেন এবং বিএডিসি-র ১০০ টন বীজও মজুত ছিল।’
তিনি বলেন, ‘আরও বৃষ্টিপাত হলে কৃষকদের হয়তো কোনো সমস্যার মুখে পড়তে হবে না; পাশাপাশি সরকারি সহায়তা তাদের ক্ষতি পুষিয়ে নিতেও সহায়তা করবে।’
তেলিগাটি মৌজার অন্তর্গত বিল ডাকাতিয়ার মৎস্য ঘেরের মালিক মমরোজ আলী জানান, বৃষ্টির পানি উপচে পড়ার কারণে বিল ডাকাতিয়ার মৎস্য চাষিরা ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন।
তিনি জানান, ৬৫ একর এলাকাজুড়ে বিস্তৃত তার তিনটি মৎস্য খামারের মধ্যে দুটিই তলিয়ে গেছে। অতিরিক্ত পানির তোড়ে ও ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে প্রায় সাড়ে ৩ কোটি টাকার মাছ ভেসে গেছে। সরকার যদি আমাদের প্রণোদনা দেয়, তবে আমরা এই ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে পারব।
গাজীপুরের কালীগঞ্জে অনুমোদনহীন জ্যামের ফিলিংস ব্যবহার, বিএসটিআই (BSTI) লাইসেন্স জালিয়াতি এবং পণ্যের মোড়কে বাংলা ভাষার পরিবর্তে চাইনিজ ভাষা ব্যবহারের দায়ে ‘আইশিন ফুডস কোম্পানি লিমিটেড’ নামের একটি খাদ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানকে ৩ লাখ টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। সোমবার (২০ জুলাই) বিকেলে উপজেলার নাগরী ইউনিয়নের নাগরভেলা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন কালীগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জাকিয়া সরোয়ার লিমা।
আদালত ও তদন্ত সূত্রে জানা গেছে, নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে পরিচালিত এই অভিযানে প্রতিষ্ঠানটিতে চরম অব্যবস্থাপনা এবং নিরাপদ খাদ্য আইনের একাধিক গুরুতর লঙ্ঘন ধরা পড়ে।
প্রতিষ্ঠানটির উৎপাদিত পাউরুটি বা ব্রেডের মেয়াদ দেওয়া হচ্ছিল ২০ দিন থেকে এক মাস পর্যন্ত। তবে এত দীর্ঘ সময় পাউরুটি কীভাবে ভালো থাকবে, সে বিষয়ে কোনো বৈধ ল্যাব রিপোর্ট তারা দেখাতে পারেনি। এ ছাড়া প্রতিষ্ঠানটি যে ধরনের ব্রেড উৎপাদনের জন্য লাইসেন্স নিয়েছিল, বাস্তবে তার মিল না রেখে সম্পূর্ণ ভিন্নভাবে পাউরুটি উৎপাদন করছিল। বিশেষ করে ব্রেডের ভেতরে একটি ‘জ্যাম ফিলিংস’ ব্যবহার করা হচ্ছিল, যার উপকরণের কোনো সঠিক ব্যাখ্যা বা বৈজ্ঞানিক তথ্যসংশ্লিষ্ট কেউ দিতে পারেননি। এই জ্যাম ব্যবহারের কোনো বিএসটিআই অনুমোদনও ছিল না।
কারখানায় ব্যবহৃত উপকরণের মোড়ক এবং সকল নির্দেশনা চাইনিজ ভাষায় লেখা ছিল, যা ‘নিরাপদ খাদ্য আইন ২০১৩’-এর স্পষ্ট পরিপন্থি। দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী পণ্যের মোড়কে বাংলা ভাষার ব্যবহার বাধ্যতামূলক। এ ছাড়া অভিযানের সময় কারখানাটির হালনাগাদ কোনো ট্রেড লাইসেন্সও পাওয়া যায়নি।
এসব অপরাধে প্রতিষ্ঠানটিকে ৩ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। প্রতিষ্ঠানের পক্ষে উপস্থিত ইন্টারপ্রিটেশনাল মো. রিফাত (২৪) জরিমানার টাকা পরিশোধ করেন।
অভিযানে প্রসিকিউটর হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের গাজীপুর জেলা কার্যালয়ের নিরাপদ খাদ্য অফিসার ফারজানা ইয়াসমিন সোনিয়া। আদালত পরিচালনায় সহযোগিতা করেন বেঞ্চ সহকারী মাহবুবুল ইসলাম।
ফরিদপুরে নারীদের স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সার্ভিক্যাল ও ব্রেস্ট ক্যানসার প্রতিরোধে সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে এক কর্মশালা হয়েছে। সোমবার (২০ জুলাই) শহরের একটি রেস্টুরেন্টে এ কর্মশালার আয়োজন করে ফাউন্ডেশন ফর উইমেন পসিবিলিটিজের সহযোগিতায় ফরিদপুরের নন্দিতা সুরক্ষা ।
এতে নারী, কিশোরী, কমিউনিটি সদস্য, স্বেচ্ছাসেবী এবং নারী অধিকারকর্মীরা অংশগ্রহণ করেন। কর্মশালায় সার্ভিক্যাল ও ব্রেস্ট ক্যানসার সম্পর্কে মৌলিক ধারণা, ঝুঁকির কারণ, সতর্কতামূলক লক্ষণ, প্রাথমিক শনাক্তকরণ, HPV টিকা, VIA স্ক্রিনিং এবং ব্রেস্ট পরীক্ষার গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা করা হয়।
সেশনটি পরিচালনা করেন ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালের গাইনি বিভাগের প্রধান ডা অধ্যাপক সুলতানা বেগম লিপি। তিনি অংশগ্রহণকারীদের উদ্দেশ্যে বলেন, সার্ভিক্যাল ক্যানসার অনেকাংশে প্রতিরোধযোগ্য এবং সময়মতো পরীক্ষা ও চিকিৎসা গ্রহণের মাধ্যমে ব্রেস্ট ক্যানসারের ঝুঁকি ও জটিলতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব। তিনি নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং সচেতন জীবনযাপনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সমাপনী বক্তব্যে জেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর উপ-পরিচালক মাসউদা হোসেন নারীদের স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধিতে এ ধরনের উদ্যোগের প্রশংসা করেন।
নন্দিতা সুরক্ষার নির্বাহী পরিচালক তাহিয়াতুল জান্নাত রেমি বলেন, নারীদের স্বাস্থ্য, অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের সচেতনতামূলক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
গাজীপুরের কাপাসিয়ায় বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে লেবু, আম, সুপারিসহ বিভিন্ন জাতের প্রায় সাড়ে ৫ হাজার গাছের চারা বিতরণ করা হয়েছে। সোমবার (২০ জুলাই) দুপুরে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উদ্যোগে পরিষদ চত্বরে আনুষ্ঠানিকভাবে কৃষকদের মাঝে চারা বিতরণ কার্যক্রম উদ্বোধন করেন স্থানীয় সংসদ সদস্য মু. সালাহউদ্দিন আইউবী।
গাছের চারা ও সার সহায়তা প্রদান অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা কৃষি পুনর্বাসন বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হাফিজুল হক। কৃষকদের উদ্দেশ্য স্বাগত বক্তব্য দেন উপজেলা কৃষি পুনর্বাসন বাস্তবায়ন কমিটির সদস্য সচিব ও উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ আউলিয়া খাতুন।
কৃষি অফিস সূত্র জানায়, বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আওতায় কাপাসিয়া উপজেলার ৫৮২ জন কৃষকের মাঝে কৃষকপ্রতি ৫টি গাছের চারা, ২৫ কেজি জৈব সার এবং ৫টি করে বাঁশের খুঁটি বিতরণ করা হয়। এ ছাড়া ৯৭টি প্রতিষ্ঠানের মাঝে বিনামূল্যে প্রত্যেকটিতে ২০টি গাছের চারা, ১০০ কেজি জৈব সার এবং ২০টি বাঁশের খুঁটি দেওয়া হয়।
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনসংলগ্ন পুকুরে মাছের পোনা অবমুক্ত করা হয়েছে। এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন খুলনা-১ আসনের সংসদ সদস্য আমীর এজাজ খান। পরে পর্যায়ক্রমে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন জলাশয়েও দেশীয় প্রজাতির মাছের পোনা অবমুক্ত করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি দেশীয় ক্ষুদ্র মাছের জিনগত বৈচিত্র্য সংরক্ষণ, টেকসই প্রজনন প্রযুক্তির উন্নয়ন এবং গবেষণাভিত্তিক মৎস্যসম্পদ ব্যবস্থাপনায় এ ধরনের প্রকল্পের গুরুত্ব তুলে ধরেন।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. রেজাউল করিম, উপউপাচার্য প্রফেসর ড. হারুনর রশীদ খান, ট্রেজারার প্রফেসর ড. নূরুন্নবী, রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) প্রফেসর ড. এস এম মাহবুবুর রহমান, এফএমআরটি ডিসিপ্লিনের প্রধান প্রফেসর ড. মোস্তাফিজুর রহমান, সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের মুখ্য গবেষক প্রফেসর ড. গোলাম সরোয়ার, খানজাহান আলী হলের প্রভোস্ট প্রফেসর ড. খসরুল আলম, খান বাহাদুর আহছানউল্লা হলের প্রভোস্ট প্রফেসর শরীফ মোহাম্মদ খানসহ ডিসিপ্লিনের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অর্থ ও হিসাব বিভাগের পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) আবু সালেহ পারভেজ ও এস্টেট শাখা প্রধান এস এম মোহাম্মদ আলী এবং বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী।
নড়াইল জেলার গ্রামীণ ও শহরঞ্চলের সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা এখন চরম বিপর্যয়ের মুখে। গত বর্ষা মৌসুম থেকে শুরু হওয়া দুর্ভোগ বর্তমানে ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। জেলার বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা খানাখন্দে ভরে গিয়ে যান চলাচলের একেবারেই অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী রাস্তায় ধানগাছের চারা রোপণ ও মানববন্ধন করে প্রতিবাদ জানালেও মিলছে না কোনো স্থায়ী সমাধান। পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দ না থাকায় কাজ শুরু করতে পারছে না সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
সরেজমিনে গিয়ে স্থানীয় নানা শ্রেণিপেশার মানুষের সঙ্গে কথা বলে সড়কগুলোর করুণ চিত্র ফুটে উঠেছে। বৃষ্টি হলেই রাস্তার গর্তগুলোতে পানি জমে কাদা-পানিতে একাকার হয়ে যায়। দিনদিন গর্তগুলো আরও বড় হয়ে ছোট-বড় দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। নড়াইল পৌর এলাকার প্রায় সবকটি ওয়ার্ডের ভেতরের রাস্তার পিচ ও ইটের খোয়া উঠে বড় বড় খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে, যেখানে হেঁটে চলাও এখন দায়। সন্ধ্যার পর নড়াইলের গ্রামীণ রাস্তায় গাড়ি চালানো যায় না। গর্তে পানি জমে থাকলে বোঝার উপায় থাকে না। দিনের বেলাতেও বড় ঝুঁকি নিয়ে গাড়ি চালাতে হয়।
ভ্যানচালক আলী মিয়ার কণ্ঠেও ঝরে পড়ে জীবন-জীবিকার উৎকণ্ঠা। তিনি বলেন, লোড ভ্যান নিয়ে গ্রামের রাস্তায় যাওয়ার সাহস পাই না। গরিব মানুষ, ভ্যান নষ্ট হলে পরিবার নিয়ে না খেয়ে মরতে হবে।
গোবরা বাজার থেকে অভয়নগর নোয়াপাড়া-শংকরপাশা সড়কে বড় বড় গর্তের কারণে বেশ আগেই এ রুটে পরিবহন চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। এছাড়া খাশিয়াল-জয়নগর থেকে নড়াগাতি থানা বা জরুরি চিকিৎসা সেবার জন্য পার্শ্ববর্তী গোপালগঞ্জ ও খুলনা জেলায় যাতায়াতের প্রধান পথটি এখন চলাচলের অনুপযোগী।
মুলিয়া বাজার থেকে বরেন্দা যাওয়ার রাস্তাও কাদা-পানিতে দুর্গম রূপ নিয়েছে। আর মাছিমদিয়া চৌরাস্তা থেকে ঢাকা-বেনাপোল মহাসড়কের উপরিভাগ সম্পূর্ণ উঠে গেছে। রতডাঙ্গা পালবাড়ি মোড় থেকে হবখালী ইউনিয়ন বাজার এবং চুনখোলা থেকে খড়ড়িয়া বাজার সর্বত্রই বড় বড় খানাখন্দ।
জোড়াতালির সংস্কার ও স্থানীয় ক্ষোভ: ভোগান্তি থেকে মুক্তি পেতে এলাকাবাসী রাস্তায় ধানগাছের চারা লাগিয়ে এবং বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করে অভিনব প্রতিবাদ জানিয়েছেন।
নড়াগাতি থানার খাশিয়াল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. বরকত হোসেন অভিযোগ করে বলেন, বিক্ষুব্ধ মানুষের প্রদিবাদের পর কর্তৃপক্ষ নামকাওয়াস্তে ইটের খোয়া ফেলে রোলার দিয়ে ডলন দিয়েছিল। কিন্তু যানবাহনের চাপে কয়েকদিনের মধ্যেই রাস্তা আবার আগের মতো ভাঙ্গাচোরা হয়ে গেছে।
সড়কের এই বেহাল দশা স্বীকার করে নিয়ে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগের (এলজিইডি) নড়াইল অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী সরদার ইকরামুল কবির জানান, কয়েকটি রাস্তা সড়ক ও জনপথ বিভাগের এবং কিছু তাদের অধীন।
তিনি বলেন, জরুরি ভিত্তিতে আপৎকালীন কিছু রাস্তা সংস্কারের চেষ্টা করা হয়েছে। তবে বড় আকারের স্থায়ী কাজের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ পাওয়া যায়নি। বরাদ্দ না পেলে পুরোদমে মেরামতের কাজ শুরু করা যাচ্ছে না।
রাজধানী ঢাকাসহ দেশের ১৭টি জেলার ওপর দিয়ে আজ দুপুরের মধ্যে ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৬০ কিলোমিটার বেগে শক্তিশালী ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়ার পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। একই সাথে এসব এলাকায় বজ্রসহ বৃষ্টিপাতের প্রবল সম্ভাবনা থাকায় সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের নদীবন্দরগুলোকে বিশেষ সতর্কবার্তা প্রদান করেছে সংস্থাটি। সোমবার ভোর ৫টা হতে দুপুর ১টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরসমূহের জন্য দেওয়া এক আবহাওয়া বুলেটিনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
পূর্বাভাস অনুযায়ী, রংপুর, দিনাজপুর, রাজশাহী, পাবনা, বগুড়া, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, ঢাকা, ফরিদপুর, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, কুমিল্লা, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার এবং সিলেট অঞ্চলের ওপর দিয়ে পশ্চিম অথবা উত্তর-পশ্চিম দিক হতে ঘণ্টায় ৪৫ হতে ৬০ কিলোমিটার বেগে বৃষ্টি অথবা বজ্রবৃষ্টিসহ অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এই বিরূপ পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে এসব এলাকার নদীবন্দরসমূহকে ১ নম্বর সতর্কসংকেত প্রদর্শন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।