শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
২৮ ভাদ্র ১৪৩৩
ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচন

দ্বিতীয় ধাপে নির্বাচিত হলেন যারা

ফাইল ছবি
সারা বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত
সারা বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত : ২২ মে, ২০২৪ ০০:২৭

ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপে ১৫৬টি উপজেলায় ভোটগ্রহণ শেষ হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত চলে ভোটগ্রহণ। ভোট গণনা শেষে রাতে নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশ করেন রিটার্নিং কর্মকর্তারা। সারা দেশের প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর থেকে জানা যায়-

ফরিদপুর

উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপে ফরিদপুরের নগরকান্দা ও সালথা উপজেলায় ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। নগরকান্দা উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপ-কমিটির সাবেক সহসম্পাদক কাজী শাহ জামান বাবুল। আনারস প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ৩৭ হাজার ২০৯ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মোটরসাইকেল প্রতীকের প্রার্থী বর্তমান উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মনিরুজ্জামান সরদার পেয়েছেন ২৫ হাজার ২৩৭ ভোট।

অন্যদিকে সালথা উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে বর্তমান চেয়ারম্যান ওয়াদুদ মাতুব্বর বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। আনারস প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ৩৫ হাজার ৫৪৫ ভোট তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী সালথা উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও মোটরসাইকেল প্রতীকের প্রার্থী মো. ওহিদুজ্জামান পেয়েছেন ৫ হাজার ৩৪২ ভোট।

নারায়ণগঞ্জ

উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপে নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলায় ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম। ঘোড়া প্রতীকে তিনি পেয়েছেন এক লাখ ১৫ হাজার ২৫২ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী দোয়াত কলম প্রতীকের প্রার্থী মো. শাহজালাল মিয়া পেয়েছেন ১৩ হাজার ১৩২ ভোট।

বিজয়ী মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম আড়াইহাজার উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সদস্য। তিনি কালাপাহাড়িয়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান। অন্যদিকে তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মো. শাহজালাল মিয়া আড়াইহাজার উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া

দ্বিতীয় ধাপের উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা ও আখাউড়ায় উপজেলায় ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। কসবা উপজেলায় আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের ফুফাতো ভাই ছাইদুর রহমান ও আখাউড়ায় মোগড়া ইউনিয়ন পরিষদের তিনবারের সাবেক চেয়ারম্যান মনির হোসেন বেসরকারিভাবে চেয়ারম্যান নির্বাাচিত হয়েছেন।

ঘোষিত ফলাফল অনুযায়ী, কসবা উপজেলায় ছায়েদুর রহমান স্বপন কাপ-পিরিচ প্রতীকে ৮৬ হাজার ৬৯৮ ভোট পেয়ে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও কুটি ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ছিলেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বর্তমান উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের সাবেক সহকারী একান্ত সচিব রাশেদুল কাউসার ভূইয়া আনারস প্রতীকে পেয়েছেন ৩৯ হাজার ৯৫৯ ভোট।

অন্যদিকে আখাউড়া উপজেলায় মনির হোসেন ঘোড়া প্রতীকে ২৮ হাজার ৩০৯ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি উপজেলা যুবলীগের সাবেক আহ্বায়ক ও মোগড়া ইউনিয়ন পরিষদের তিনবারের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান আনারস প্রতীকে পেয়েছেন ১৪ হাজার ৫৬৩ ভোট।

রাঙামাটি

ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপে রাঙামাটির রাজস্থলী, কাপ্তাই ও বিলাইছড়ি উপজেলায় শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। রাজস্থলী উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি উবাচ মারমা আনারস প্রতীকে ৭ হাজার ৭৫ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মো. রিয়াজ উদ্দীন রানা দোয়াত কলম প্রতীকে পেয়েছেন ২ হাজার ১৮ ভোট।

অন্যদিকে কাপ্তাই উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে উপজেলা যুবলীগের সভাপতি মো. নাছির উদ্দিন দোয়াত কলম প্রতীকে ৭ হাজার ৩৬২ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও সাবেক ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আনোয়ারুল ইসলাম চৌধুরী আনারস প্রতীকে পেয়েছেন ৬ হাজার ৯৭৩ ভোট।

অপরদিকে বিলাইছড়ি উপজেলায় মোট ১৩টি কেন্দ্রের মধ্যে ৫টি হেলিসর্টি ভোটকেন্দ্র রয়েছে। দুর্গম এলাকা হওয়ায় রাত সাড়ে ৯টা পর্যন্ত ফলাফল না আসায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কোনো ফলাফল ঘোষণা করেননি। তবে বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা যায়, পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (জেএসএস) সমর্থিত দোয়াত কলম প্রতীকের বিরোত্তম তঞ্চঙ্গ্যা চেয়ারম্যান পদে বিজয়ী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

লালমনিরহাট

লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ ও আদিতমারী উপজেলায় উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপে ভোটগ্রহণ শেষ হয়েছে। দুই উপজেলায় মধ্যে আদিতমারী উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে ফারুক ইমরুল কায়েস ও কালীগঞ্জ উপজেলায় জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক রাকিবুজ্জামান আহমেদ বিজয়ী হয়েছেন।

রাত সাড়ে ৯টার দিকে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা লুৎফর কবির তাদেরকে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত ঘোষণা করেন।

আদিতমারী উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে ফারুক ইমরুল কায়েস মোটরসাইকেল প্রতীকে পেয়েছেন ৩৩ হাজার ১৩৫ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রফিকুল আলম আনারস প্রতীকে পেয়েছেন ২৯ হাজার ১৮টি ভোট

কালীগঞ্জ উপজেলায় সাবেক সমাজকল্যাণমন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদের ছেলে রাকিবুজ্জামান আহমেদ আনারস প্রতীকে পেয়েছেন ২৪ হাজার ৩০৩ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী তার চাচা উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মাহবুবুজ্জামান আহমেদ ঘোড়া প্রতীকে পেয়েছেন ১৯ হাজার ৩৫০ ভোট।

পিরোজপুর

ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে দ্বিতীয় ধাপে পিরোজপুর জেলার দুই উপজেলায় শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। মঙ্গলবার পিরোজপুরের নেছারাবাদ ও কাউখালী উপজেলার ১৫টি ইউনিয়নের মোট ১২২টি ভোটকেন্দ্রে ইভিএম পদ্ধতিতে এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।

কাউখালী উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে মো. আবু সাঈদ মিঞা ও নেছারাবাদ উপজেলায় আব্দুল হক নির্বাচিত হয়েছেন। রাতে নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা সৈয়দ শফিকুল হক বেসরকারিভাবে তাদের বিজয়ী ঘোষণা করেন।

নেছারাবাদ উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে আব্দুল হক আনারস প্রতীকে ৩৮ হাজার ৬১২ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী এস এম মুইদুল ইসলাম মোটরসাইল প্রতীকে পেয়েছেন ৩৫ হাজার ৫২০ ভোট।

অন্যদিকে কাউখালী উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে মো. আবু সাঈদ মিঞা ঘোড়া প্রতীকে ১১ হাজার ২৮৪ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মো. মনিরুজ্জামান তালুকদার পল্টন কাপ-পিরিচ প্রতীকে পেয়েছেন ৬ হাজার ২৯৪ ভোট।

ঝালকাঠি

উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপে ঝালকাঠি সদর ও নলছিটি উপজেলায় ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ঝালকাঠি সদর উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান ও ঝালকাঠি জেলা আওয়ামী লীগ সহ-সভাপতি খান আরিফুর রহমান। আনারস প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ৩৩ হাজার ৯৪৩ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী দোয়াত কলম প্রতীকের প্রার্থী মো. সুলতান খান পেয়েছেন ২৫ হাজার ৯৭১ ভোট।

অন্যদিকে নলছিটি উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মো. সালাউদ্দিন খান সেলিম বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। মোটরসাইকেল প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ২৩ হাজার ৯৩৯ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাবেক মেয়র তছলিম উদ্দিন চৌধুরী আনারস প্রতীকে পেয়েছেন ১৬ হাজার ৭৮৪ ভোট।

বাগেরহাট

উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপে বাগেরহাটে ফকিরহাট, মোল্লাহাট,ও চিতলমারী উপজেলায় ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ফকিরহাট উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন শেখ ওহিদুজ্জামান বাবু। মোটরসাইকেল প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ৪৬ হাজার ৬৫৪ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আনরস প্রতীকের প্রার্থী বর্তমানে উপজেলা চেয়ারম্যান স্বপন দাস পেয়েছেন ২৯ হাজার ৪৩৭ ভোট। এ উপজেলায় ভোট কাস্ট হয়েছে ৬২.৫০ শতাংশ।

চিতলমারী উপজেলার চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হয়েছেন মো. আলমগীর হোসেন সিদ্দিকী। দোয়াত কলম প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ৩৪ হাজার ৮৮৬ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বর্তমান উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও বাগেরহাট জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি অশোক কুমার বড়াল মোটরসাইকেল প্রতীকে পেয়েছেন ২২ হাজার ৭৬৩ ভোট। এ উপজেলায় ভোট কাস্ট হয়েছে ৪৫.৭৫ শতাংশ।

অন্যদিকে মোল্লাহাট উপজেলার চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হয়েছেন বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শাহিনুর আলম ছানা। দোয়াত কলম প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ২৯ হাজার ৯০২ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বর্তমান উপজেলা শেখ নাসির উদ্দীন আনারস প্রতীকে পেয়েছেন ১৯ হাজার ৯৫৪ ভোট। এ উপজেলায় ভোট কাস্ট হয়েছে ৫৩.৭৭ শতাংশ। জেলায় গড় ভোট কাস্টিং হয়েছে ৫৪ শতাংশ।

যশোর

দ্বিতীয় ধাপের উপজেলা নির্বাচনে যশোরের ঝিকরগাছা, শার্শা ও চৌগাছা উপজেলায় ভোটগ্রহণ করা হয়েছে। ভোটগ্রহণ শেষে রাতে বেসরকারিভাবে ফলাফল ঘোষণা করেন উপজেলাগুলোর দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তারা।

চৌগাছা উপজেলা চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হয়েছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা এসএম হাবিবুর রহমান। আনারস প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ৩৩ হাজার ৫৬৫ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ ড. মোস্তানিছুর রহমান পেয়েছেন ২৮ হাজার ৯৮০ ভোট।

নির্বাচনের সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও চৌগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুম্মিতা সাহা রাত সাড়ে ৯টায় এ ফলাফল ঘোষণা করেন।

ঝিকরগাছা উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হয়েছেন বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. মনিরুল ইসলাম। আনারস প্রতীকে মনিরুল ইসলাম পেয়েছেন ৪০ হাজার ৬৪৩ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী সেলিম রেজা ঘোড়া প্রতীকে পেয়েছেন ১৮ হাজার ৪৪৩ ভোট।

অন্যদিকে শার্শা উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে মো. সোহরাব হোসেন দোয়াত কলম প্রতীক নিয়ে ৩৭ হাজার ৫৭০ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মো. অহিদুজ্জামান আনারস প্রতীকে পেয়েছেন ১২ হাজার ২৯১ ভোট।

রাজশাহী

দ্বিতীয় ধাপে রাজশাহীর বাগমারা, দুর্গাপুর ও পুঠিয়া উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বাগমারা উপজেলায় বেসরকারিভাবে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন জাকিরুল ইসলাম সান্টু। তিনি ঘোড়া প্রতীকে পেয়েছেন ৪৭ হাজার ৩২২ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আব্দুর রাজ্জাক সরকার ওরফে আর্ট বাবু পেয়েছেন ৪ হাজার ৩২১ ভোট।

পুঠিয়া উপজেলায় বেসরকারিভাবে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন আবদুস সামাদ মোল্লা। তিনি আনারস প্রতীকে পেয়েছেন ২৬ হাজার ৬৬৫ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আহসানুল হক মাসুদ ঘোড়া প্রতীকে পেয়েছেন ২৩ হাজার ৬৭৯ ভোট।

অন্যদিকে দুর্গাপুর উপজেলায় বেসরকারিভাবে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন শরীফুজ্জামান শরীফ। তিনি মোটরসাইকেল প্রতীকে পেয়েছেন ৪২ হাজার ১১৩ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আব্দুল মজিদ সরদার পেয়েছেন ২৭ হাজার ৩৩২ ভোট।

সাতক্ষীরা

ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপে সাতক্ষীরার আশাশুনি, তালা ও দেবহাটা উপজেলায় ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

আশাশুনি উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও বর্তমান উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এবিএম মোস্তাকিম বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি চিংড়ি প্রতীকে পেয়েছেন ৫১ হাজার ৬৬২ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী শাহনেওয়াজ ডালিম ঘোড়া প্রতীকে পেয়েছেন ৫০ হাজার ৭০৭ ভোট।

অপরদিকে সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলা নির্বাচনে মো. আল ফেরদাউস বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি হেলিকপ্টার প্রতীকে ২৬ হাজার ৩৭৭ ভোট পেয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মো. মজিবুর রহমান মোটরসাইকেল প্রতীকে পেয়েছেন ১৭ হাজার ১৫২ ভোট।

এ ছাড়া সাতক্ষীরার তালা উপজেলা নির্বাচনে ঘোষ সনৎ কুমার বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি কাপ পিরিচ প্রতীকে ৪৬ হাজার ৪৫৮ ভোট পেয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী সরদার মশিয়ার চিংড়ি প্রতীকে পেয়েছেন ৩২ হাজার ৪১৩ ভোট।

বিষয়:

নির্বাচিত

বরিশালে সাংবাদিক পুলক চ্যাটার্জির ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

সাংবাদিক পুলক চ্যাটার্জি। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১১:৪৬
অনলাইন ডেস্ক

বরিশালে কর্মরত জাতীয় দৈনিকগুলোর ব্যুরো প্রধানদের সংগঠন ন্যাশনাল ডেইলিজ ব্যুরো চিফ অ্যাসোসিয়েশনের (এনডিবিএ) সভাপতি এবং দৈনিক সমকাল পত্রিকার বরিশালের সাবেক ব্যুরো প্রধান, প্রবীণ সাংবাদিক পুলক চ্যাটার্জির ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। শুক্রবার সন্ধ্যায় নগরীর প্যারারা রোডে অবস্থিত সমকালের বরিশাল ব্যুরো অফিস থেকে তাঁর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

ঘটনার বিষয়ে কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আল মামুন উল ইসলাম জানান, পারিপার্শ্বিক আলামত দেখে প্রাথমিকভাবে এটিকে আত্মহনন বলেই ধারণা করা হচ্ছে। তবে মৃত্যুর সঠিক কারণ নিশ্চিত করতে পুলিশ কাজ করছে এবং পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শেষে বিস্তারিত জানা যাবে।

এদিকে সদালাপী ও অভিজ্ঞ এই সাংবাদিকের আকস্মিক মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় সংবাদকর্মী ও সুধীমহলে গভীর শোকের ছায়া নেমে আসে। স্থানীয় জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকদের বরাতে জানা গেছে, সাম্প্রতিক সময়ে সমকাল থেকে চাকরিচ্যুত হওয়ার পর থেকে তিনি তীব্র আর্থিক সংকট ও গভীর মানসিক হতাশায় ভুগছিলেন।


নির্বাচিত

মাদকের টাকা জোগাড় করতে এক গ্রামের ৪ শিশু বিক্রির অভিযোগ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
রাকিবুল হাসান রোকেল, কিশোরগঞ্জ

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে এক গ্রামে মাত্র তিন বছরে চারটি শিশু সন্তান টাকার বিনিময়ে বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয়দের দাবি, দারিদ্র্য ও মাদকের নেশার টাকা জোগাড় করতেই উপজেলার জালালপুর ইউনিয়নের উত্তর চরপুক্ষিয়া গ্রামে চারটি পরিবার এমন ঘটনা ঘটিয়েছে। সর্বশেষ গত ২ সেপ্টেম্বর জন্ম নেওয়া এক নবজাতককে ৬০ হাজার টাকায় বিক্রি করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

এ ঘটনায় ৬ সেপ্টেম্বর কটিয়াদী মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়। অভিযোগ প্রকাশের পর অভিযুক্ত কয়েকটি পরিবার গ্রাম ছেড়ে চলে গেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। পুলিশ বলছে, অভিযোগের তদন্ত চলছে এবং সত্যতা মিললে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অভিযোগসূত্রে জানা গেছে , উত্তর চরপুক্ষিয়া গ্রামের জাকির মিয়া ও ফারজানা আক্তার দম্পতির সংসারে আগে থেকেই দুই ছেলে সন্তান রয়েছে। গত ২ সেপ্টেম্বর তাদের আরেকটি পুত্রসন্তানের জন্ম হয়। জন্মের পর নবজাতককে পাশের পাকুন্দিয়া উপজেলার মঠখোলা এলাকায় ৬০ হাজার টাকায় বিক্রি করা হয় বলে অভিযোগ।

শিশুটির বাবা জাকির মিয়ার দাবি, তার অজান্তেই স্ত্রী ফারজানা, শাশুড়ি ও দুই দালালের মাধ্যমে এই লেনদেন হয়েছে। অন্যদিকে ফারজানা আক্তার পাল্টা দাবি করেন, তার স্বামী দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত এবং সংসারের সংকটের জন্য তিনিই দায়ী। সন্তান বিক্রির সময় অনুমতি দিয়ে অন্যদের পরামর্শে এখন হঠাৎ করে তিনি থানায় অভিযোগ করেছেন।

স্থানীয়সূত্র বলছে, জাকির-ফারজানা দম্পতির মতো একই গ্রামের আরও তিন পরিবার গত তিন বছরে নিজেদের তিন শিশু সন্তান বিক্রি করেছে। গ্রামের মঙ্গলা বেগম নামে এক নারী ভিক্ষুকের মাধ্যমে এসব শিশু বিক্রির ঘটনা ঘটেছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। মঙ্গলা বেগম বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে ঘুরে এসব শিশু কেনাবেচা করেন।

জাকির মিয়া বলেন, তার সন্তানকে যাদের কাছে বিক্রি করা হয়েছিল, সেখানে গিয়ে কাউকে খোঁজে পাননি। তিনি ধারণা করেছেন, তার সন্তানকে আরও বেশি টাকায় অন্যত্র বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে।

গ্রামের বাসিন্দা আতিকুল ইসলাম ফারুক বলেন,
“একটা সন্তানের জন্য মানুষ কত ডাক্তার-কবিরাজ দেখায়, কত সম্পদ নষ্ট করে। কিন্তু আমাদের গ্রামে নেশার টাকার জন্য নিজের সন্তান বিক্রি করে দেওয়ার মতো নজিরবিহীন ঘটনা ঘটছে।”

কাজল মিয়া বলেন, “যারা কয়েকটা টাকার জন্য নিজের সন্তান বিক্রি করতে পারে, তারা অন্যের সন্তান বিক্রি করতেও দ্বিধা করবে না। এদের কঠিন বিচার হলে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি হতো না।”

আরেক বাসিন্দা জামাল উদ্দিন বলেন, “এই এলাকায় মাত্র তিন বছরের মধ্যে চারটি শিশু বিক্রির ঘটনা ঘটেছে। সবশেষ ২ সেপ্টেম্বর জাকিরের স্ত্রী ফারজানা তার স্বামীকে না জানিয়েই নবজাতক বিক্রি করে দিয়েছেন।”

গ্রামবাসীর দাবি, এসব ঘটনার পর তারা নিজেদের সন্তানদের নিরাপত্তা নিয়েও আতঙ্কে রয়েছেন।

স্থানীয় বাসিন্দা বাবুল মিয়া বলেন, “এই গ্রামে নারী-পুরুষের পাশাপাশি উদ্বেগজনকভাবে কোমলমতি শিশুরাও মাদকের সংস্পর্শে জড়িয়ে পড়ছে। এতে শিশুদের স্বাভাবিক বেড়ে ওঠা, শিক্ষা ও ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর শঙ্কা তৈরি হয়েছে।”

ফরিদ মিয়া বলেন, “ফারজানা গর্ভে থাকতেই সন্তান বিক্রি করবে বলে এলাকায় প্রচার করছিল। এমনকি তখনই কিছু টাকাও হাতে পেয়েছিল। পরে হঠাৎ শুনি, সত্যিই সন্তান বিক্রি করে দিয়েছে।”

সন্তান বিক্রি করা জাকির হোসেনের ছোট ভাই মোহাম্মদ রাসেল বলেন, তার ভাই আগে কখনো বিড়ি-সিগারেটও খেতেন না। প্রবাসে যাওয়ার পর ফিরে এসে শুনেছেন, তিনি মাদকাসক্ত হয়ে পড়েছেন। রাসেল বলেন, “আমার ভাই হোক বা যেই হোক, আমি তার বিচার চাই। সুস্থ বিবেক থাকলে কেউ নিজের সন্তান অন্যের হাতে তুলে দিতে পারে না।”

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক স্থানীয় বাসিন্দার দাবি, জাকির-ফারজানার নবজাতক ৬০ হাজার টাকায়, সাদ্দাম হোসেনের এক সন্তান দেড় লাখ টাকায় এবং জাকির হোসেন ও আসাদ মিয়ার দুটি সন্তান দুই লাখ টাকা করে বিক্রি করা হয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রথমে যাদের কাছে শিশুদের বিক্রি করা হয়েছিল, তাদের কেউ কেউ পরে আরও বেশি দামে অন্যত্র বিক্রি করে দিয়েছেন। ফলে চার শিশুর বর্তমান অবস্থান ও নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

কটিয়াদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম বলেন, শিশু বিক্রির অভিযোগ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। পাশাপাশি এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান ও সচেতনতামূলক কার্যক্রমও জোরদার করা হয়েছে।


নির্বাচিত

কোস্ট গার্ডের অভিযানে হরিণের মাংসসহ আটক ১

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

বরগুনার পাথরঘাটায় কোস্ট গার্ডের অভিযানে হরিণের মাংস, চামড়া ও মাথাসহ একজন অবৈধ মাংস ব্যবসায়ী আটক। শুক্রবার কোস্ট গার্ড মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, বরগুনার পাথরঘাটা থানাধীন দক্ষিণ চরদুয়ানীর কালিয়ার খাল এলাকায় গত বৃহস্পতিবার মধ্যরাত ২টায় কোস্ট গার্ড স্টেশন পাথরঘাটা কর্তৃক গোপন সংবাদের ভিত্তিতে একটি অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযান চলাকালীন উক্ত এলাকায় একটি সন্দেহজনক কাঠের বোট তল্লাশি করে প্রায় ৪ লক্ষ ২৪ হাজার টাকা মূল্যের ৩৫০ কেজি হরিণের মাংস, ৩ টি চামড়া, ১ টি মাথা ও চোরাচালান কাজে ব্যবহৃত একটি বোটসহ একজন অবৈধ মাংস ব্যবসায়ীকে আটক করা হয়।

জব্দকৃত আলামত ও আটককৃত আসামির পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পাথরঘাটা উপজেলা বন বিভাগের নিকট হস্তান্তর করা হয়।

তিনি আরও বলেন, বন্যপ্রাণী হত্যা ও পাচার রোধে কোস্ট গার্ড ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত রাখবে।


নির্বাচিত

মাদারীপুরে ঘুমন্ত কিশোরীকে গলায় ছুড়ি চালালো দুর্বৃত্তরা

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মাদারীপুর প্রতিনিধি

মাদারীপুর সদর উপজেলার কালিকাপুর ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ড এলাকায় গত ৫ দিন আগে ঘরে ঢুকে এক কাতার প্রবাসীর স্ত্রী আইভিকে হত্যা করা হয়। এবার নিহত আইভির ফুপু ও প্রতিবেশী স্থানীয় মো. হালান শরীফের বড় মেয়ে তানিয়া (১৬) নামের এক কিশোরীকে ঘুমন্ত অবস্থায় গলায় ছুড়ি মেরে পালিয়েছে দুর্বৃত্তরা । এতে তার গলার অনেকাংশ কেটে গিয়ে রক্তাক্ত মারাত্মক আহত হয় তানিয়া। শুক্রবার দুপুরে এ ঘটনা ঘটে। এসময় আহত কিশোরী তানিয়ার আর্ত চিৎকারে তার আত্মীয়-স্বজন ও আশেপাশের লোকজন দ্রুত ছুটে এসে মুমূর্ষু ও রক্তাক্তাবস্থায় তাকে উদ্ধার করে মাদারীপুর সদর ২৫০ শয্যার হাসপাতালে নিয়ে গেলে দায়িত্বরত চিকিৎসক প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন।

আহত তানিয়ার পারিবার বলছেন, কে বা কারা এবং কেনো এমন ভয়ানক কান্ড ঘটিয়ে পালিয়ে গেছে তা' তারা বলতে পারছেন না, তবে কয়েকদিন আগে আইভি হত্যাকাণ্ডের সাথে এর কোনো যোগসূত্র থাকতে পারে। আহত তানিয়ার লিখে যাওয়া একটি চিরকুট থেকে জানা যায়, তাকে ছুরিকাঘাত করে দ্রুত পালিয়ে যায় মুখে মাক্স পরিহিত দুই জন। তারা ঘরে ঢুকে পিছন থেকে ছুরিকাঘাত করে। পুলিশ ঘটনাস্থল ও হাসপাতাল পরিদর্শন করে দুর্বৃত্তদের সনাক্তের চেষ্টা করছেন বলে জানিয়েছেন সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ। এ ব্যাপারে লিখিত অভিযোগ পেলে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে বলেও তিনি জানান।


নির্বাচিত

নাফ নদীতে গোসল করতে নেমে নিখোঁজ দুই শিশুর মৃত্যু

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
টেকনাফ (কক্সবাজার) প্রতিনিধি

কক্সবাজারের টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপ জেটিঘাটসংলগ্ন নাফ নদীতে গোসল করতে নেমে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

শুক্রবার এ ঘটনা ঘটে। প্রায় ৪ ঘণ্টা পর কোস্ট গার্ড ও স্থানীয় জেলেদের তল্লাশিতে তাদের উদ্ধার করা হয়। পরে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তাদের মৃত্যু হয়।

মারা যাওয়া দুই শিশু হলো- শাহপরীর দ্বীপ উত্তরপাড়া এলাকার মোহাম্মদ উল্লাহর ছেলে মোহাম্মদ নিশান (১২) ও একই এলাকার কেফায়েত উল্লাহর ছেলে আরজিন (১০)। তারা দুজনই সাবরাং ইউনিয়নের উত্তরপাড়া এলাকার বাসিন্দা।

শাহপরীর দ্বীপ পুলিশ ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সঞ্জিব নাথ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

স্থানীয়রা জানান, বেলা ১১টার দিকে কয়েকজন শিশু জেটিঘাটসংলগ্ন নাফ নদীতে গোসল করতে নামে। একপর্যায়ে নিশান ও আরজিন নদীর গভীর পানিতে চলে যায়। এরপর তাদের আর দেখা যায়নি। খবর পেয়ে স্থানীয় জেলে ও কোস্ট গার্ড সদস্যরা নদীতে তল্লাশি শুরু করেন। প্রায় ৪ ঘণ্টা পর দুই শিশুকে উদ্ধার করা হয়।

জেটিঘাটে বড়শি দিয়ে মাছ শিকার করা আবদুল মজু বলেন, ‘শিশু দুটি প্রায় ৪ ঘণ্টা পানিতে তলিয়ে ছিল। তারা অনেক পানি খেয়েছিল। দ্রুত উদ্ধার করা গেলে হয়তো তাদের বাঁচানো সম্ভব হতো।’

তিনি আরও বলেন, ‘শুক্রবার ছুটির দিনে জেটিঘাট এলাকায় অনেক শিশু নদীতে গোসল করতে আসে। সাধারণত তারা অল্প পানিতে থাকে। কিন্তু আজ দুই শিশু গভীর পানিতে চলে যাওয়ায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।’

শাহপরীর দ্বীপ ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আবদুস সালাম বলেন, ‘দুই শিশুকে উদ্ধার করা গেলেও বাঁচানো যায়নি। দ্রুত উদ্ধার করা সম্ভব হলে হয়তো তাদের জীবন রক্ষা করা যেত। ভবিষ্যতে যাতে শিশুরা ঝুঁকিপূর্ণভাবে নাফ নদীতে গোসল করতে না নামে, সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন হতে হবে।’

শাহপরীর দ্বীপ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই সঞ্জীব নাথ বলেন, ‘স্থানীয় জেলে ও কোস্ট গার্ড সদস্যরা তল্লাশি চালিয়ে দুই শিশুকে উদ্ধার করেন। উদ্ধারের পর তাদের হাসপাতালে নেওয়ার পথে মৃত্যু হয়।’

টেকনাফ মডেল থানার ওসি সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘নাফ নদীতে গোসল করতে নেমে মৃত্যু হওয়া দুই শিশুর মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।’


নির্বাচিত

দাউদকান্দিতে ৫ বছর ধরে ভাঙা সেতুতে ঝুঁকি নিয়ে পারাপার

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দাউদকান্দি (কুমিল্লা) প্রতিনিধি

কুমিল্লার দাউদকান্দিতে পাঁচ বছর ধরে ভাঙা অবস্থায় পড়ে আছে বাজারখোলা খালের ওপর নির্মিত একটি সেতু। ঝুঁকিপূর্ণ সেতুটি দিয়েই প্রতিদিন চলাচল করছে শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন বয়সি মানুষ। সিএনজি অটোরিকশা ও মোটরসাইকেলও পারাপার হচ্ছে ভাঙা অংশের ওপর দিয়ে। এতে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

উপজেলার পাঁচগাছিয়া পশ্চিম ইউনিয়নের হরিনাবাজ-বর-ভবানীপুর এলাকার বাজারখোলা খালের ওপর সেতুটির অবস্থান। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সেতুটি সংস্কার বা পুনর্নির্মাণ না হওয়ায় তাদের দুর্ভোগ দিন দিন বাড়ছে।

স্থানীয় সূত্র ও উপজেলা প্রকৌশল অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ১৯৯০-এর দশকে বাজারখোলা খালের ওপর সেতুটি নির্মাণ করা হয়। প্রায় পাঁচ বছর আগে মাঝের অংশের একটি পিলার দেবে গিয়ে সেতুতে ফাটল দেখা দেয়। পরে সেতুটির বিভিন্ন অংশ ভেঙে পড়লেও তা মেরামত বা নতুন করে নির্মাণের উদ্যোগ বাস্তবায়িত হয়নি।

সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা যায়, সেতুটির মাঝের অংশসহ বিভিন্ন স্থানে ভাঙন রয়েছে। চলাচলের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হলেও বিকল্প সড়ক না থাকায় বাধ্য হয়ে স্থানীয়রা সেতুটি ব্যবহার করছেন। শিক্ষার্থী, পথচারী ও যানবাহন চালকদের প্রতিনিয়ত ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হতে হচ্ছে।

এলাকাবাসী জানান, গুপ্তছাম, ভবানীপুর, টেটুলিয়া, তুলাতলী, নলচাক, নয়াচর, পাঁচগাছিয়া, বাজারখোলা উত্তর, বাজারখোলা দক্ষিণ ও শৈটারদিয়া গ্রামের মানুষ এই সেতুর ওপর দিয়ে চলাচল করেন। এসব গ্রামের স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের প্রতিদিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যেতে সেতুটি পার হতে হয়। ভাঙা অংশ দিয়ে চলাচলের সময় তাদের মধ্যে আতঙ্ক কাজ করে।

দুর্গাপুর এলাকার শিক্ষার্থী মো. রাসেল বলেন, ‘সেতুতে উঠলেই ভয়ে বুক ধরফড় করে। মনে হয় যেকোনো সময় ভাঙা অংশও ধসে পানিতে পড়ে যাব। এই সেতু ছাড়া আমাদের আর কোনো রাস্তা নেই। প্রতিদিন অনেকটা ঝুঁকি নিয়ে পার হতে হয়।’

স্থানীয় বাসিন্দা মো. সবকার আরিফ ও মো. শাকিল আহমেদ চৌধুরী বলেন, ‘পাঁচ বছর ধরে সেতুটি এভাবে পড়ে আছে। প্রতিদিন হাজারো মানুষ ঝুঁকি নিয়ে পার হচ্ছে। শিক্ষার্থীরা আতঙ্ক নিয়ে স্কুলে যায়। অসুস্থ রোগীদের হাসপাতালে নেওয়ার সময়ও ভোগান্তিতে পড়তে হয়। দ্রুত সেতুটি সংস্কার অথবা নতুন করে নির্মাণ করা জরুরি।’

দাউদকান্দি উপজেলা প্রকৌশলী মো. জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘বাজারখোলা সেতুটি নতুন করে নির্মাণের জন্য অধিদপ্তরে প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। এ সেতুসহ উপজেলায় প্রায় সাত থেকে আটটি সেতু মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘মেরামতের উপযোগী প্রায় ৭০টি সেতুর তালিকা করে সদর দপ্তরে লিখিতভাবে আবেদন জানানো হয়েছে। অনুমোদন পাওয়া গেলে এসব সেতুর মেরামতকাজ করা সম্ভব হবে।’


নির্বাচিত

চুয়াডাঙ্গায় বদলাচ্ছে মাদকের ধরন, ঝুঁকিতে তরুণরা

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
চুয়াডাঙ্গা ও দামুড়হুদা প্রতিনিধি

সীমান্তের জেলা চুয়াডাঙ্গায় মাদকের পুরোনো চিত্রে ধীরে ধীরে যুক্ত হচ্ছে নতুন বাস্তবতা। একসময় ফেনসিডিল, গাঁজা ও ইয়াবাই ছিল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানের প্রধান লক্ষ্য। এখন সেই তালিকায় ক্রমেই জায়গা করে নিচ্ছে ট্যাপেন্টাডলসহ বিভিন্ন নেশাজাতীয় ট্যাবলেট। পাশাপাশি বিভিন্ন অভিযানে মিলছে বুপ্রেনরফাইন ইনজেকশনও। ফলে মাদক নিয়ন্ত্রণে প্রচলিত ধারণার বাইরে নতুন ধরনের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

সীমান্তে দায়িত্বরত ৬ বিজিবির কয়েক বছরের অভিযানের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলেও পরিবর্তনের এই চিত্রটি চোখে পড়ে। ২০২৩ সালের আগস্ট থেকে ২০২৪ সালের জুলাই পর্যন্ত চুয়াডাঙ্গা-৬ বিজিবির অভিযানে ১১ হাজারের বেশি নেশাজাতীয় ট্যাবলেট ও ইয়াবা উদ্ধারের তথ্য পাওয়া যায়। এর পরের এক বছরে, অর্থাৎ ২০২৪ সালের ১ আগস্ট থেকে ২০২৫ সালের ৩১ জুলাই পর্যন্ত উদ্ধার হয় ২৫ হাজার ৪৮৫ পিস বিভিন্ন ধরনের নেশাজাতীয় ট্যাবলেট। বিজিবির পরবর্তী তথ্যানুযায়ী, এসব ট্যাবলেটের মধ্যে ভায়াগ্রা, সেনেগ্রা ও ট্যাপেন্টাডল, স্ক্রাফ সিরাপ ছিল। একই সময় সীমান্ত এলাকায় বিজিবির অভিযানে ১০ হাজার ৬১৭ বোতল ফেনসিডিল এবং ২৩৮ কেজিরও বেশি গাঁজা উদ্ধার হয়েছে।

তবে শুধু উদ্ধারকৃত মাদকের পরিমাণ দিয়ে বাজারের প্রকৃত চিত্র নির্ধারণ করা যায় না। কোন এলাকায় কত অভিযান হয়েছে, পাচারকারীরা কোন পথে মাদক সরিয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি কতটা ছিল, এসব বিষয়ও উদ্ধার সংখ্যাকে প্রভাবিত করে। তারপরও এক বছরে স্ক্রাফ সিরাপ, ট্যাপেন্টাডলসহ ট্যাবলেট উদ্ধারের বড় ধরনের বৃদ্ধি মাদক সরবরাহের ধরন নিয়ে নতুন করে ভাবার কারণ তৈরি করেছে।

দামুড়হুদা, দর্শনা ও জীবননগরের বিস্তীর্ণ সীমান্ত এলাকা দীর্ঘদিন ধরেই মাদকপাচারের ঝুঁকিতে রয়েছে। সীমান্তের বিভিন্ন পয়েন্টে স্ক্রাফ সিরাপ, ফেনসিডিল, গাঁজা, ইয়াবা ও ট্যাপেন্টাডল বুপ্রেনরফাইন ইনজেকশন উদ্ধারের ঘটনা নিয়মিতই ঘটছে।

কিন্তু উদ্বেগের জায়গাটি এখন শুধু সীমান্ত নয়। সীমান্ত অতিক্রম করার পর এসব মাদক কীভাবে জেলার বিভিন্ন প্রান্তে পৌঁছে যাচ্ছে, সেটিও সামনে আসছে একের পর এক অভিযানে।

এর একটি বড় উদাহরণ গত বছরের সেপ্টেম্বরে চুয়াডাঙ্গা শহরের একটি কুরিয়ার সার্ভিসের সামনে থেকে ৫ হাজার ৭০০ পিস ইয়াবা উদ্ধারের ঘটনা। ঘটনাটি ইঙ্গিত দেয়, সীমান্ত থেকে মাদক প্রবেশের পর তা পরিবহন, কুরিয়ার বা অন্যান্য যোগাযোগব্যবস্থার মাধ্যমে জেলার ভেতরেও সরবরাহের চেষ্টা হতে পারে।

ফলে মাদক প্রতিরোধে সীমান্তের পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ পরিবহন ও সরবরাহ নেটওয়ার্ক শনাক্ত করাও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

মাদকের ধরন পরিবর্তনের সঙ্গে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে স্ক্রাফ সিরাপ, ট্যাপেন্টাডল। বিভিন্ন অভিযানে কখনো শত শত, আবার কখনো হাজার হাজার পিস ট্যাবলেট উদ্ধারের ঘটনা ঘটছে। একই সঙ্গে বুপ্রেনরফাইন ইনজেকশন উদ্ধারের ঘটনাও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরে এসেছে।

এতে মাদক নিয়ন্ত্রণে নতুন একটি জটিলতা তৈরি হয়েছে। কারণ প্রচলিত মাদকের পাশাপাশি ওষুধজাত নেশাদ্রব্যের ব্যবহার ও সরবরাহ ঠেকাতে আলাদা ধরনের নজরদারি প্রয়োজন।

মাদকের বিস্তারের সঙ্গে সবচেয়ে বড় সামাজিক আশঙ্কা তৈরি হয়েছে কিশোর ও তরুণদের ঘিরে।

সম্প্রতি জীবননগরে আয়োজিত মাদকবিরোধী সচেতনতামূলক এক অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার সীমান্তবর্তী এলাকায় শিক্ষার্থীদের মাদক পরিবহনে ব্যবহার করার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, পঞ্চম থেকে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীদেরও কোনো কোনো ক্ষেত্রে মাদক বহনের কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। পাশাপাশি উচ্চমাধ্যমিক ও অনার্স পর্যায়ের শিক্ষার্থী-তরুণদের মধ্যে মাদকাসক্তির প্রবণতা নিয়েও তিনি সতর্ক করেন।

মাদক পরিস্থিতির এই পরিবর্তনের আড়ালে আরও একটি উদ্বেগজনক চিত্র সামনে আসছে। অভিযোগ রয়েছে, মাদক কারবারের মূল নিয়ন্ত্রক বা বড় কারবারিরা অনেক সময় নিজেদের আড়ালে রেখে অপেক্ষাকৃত কম বয়সি ও সহজে প্রভাবিত করা যায়, এমন ব্যক্তিদের ব্যবহার করছে।

চুয়াডাঙ্গা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের প্রসিকিউটর আকুব্বার আলীর ভাষ্য, মাদকের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। মাদক বিক্রেতা ও সেবনকারী উভয়ের বিরুদ্ধেই আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। বিভিন্ন ক্ষেত্রে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে সাজা দেওয়া হচ্ছে এবং দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে সামারি ট্রায়াল ব্যবস্থাও কার্যকর রয়েছে।

তবে তার মতে, মাদক এখন এমন একটি সামাজিক সমস্যায় পরিণত হয়েছে, যা কেবল কোনো একটি সংস্থার অভিযান দিয়ে নির্মূল করা সম্ভব নয়। মাদক প্রতিরোধে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, জনপ্রতিনিধি, সমাজের বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষসহ সবাইকে সম্পৃক্ত হতে হবে।

চুয়াডাঙ্গার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রুহুল কবির খানের মতে, মাদকসংক্রান্ত মামলায় দ্রুত আইনগত প্রক্রিয়া শেষ করে সাজা নিশ্চিত করার ফলে অপরাধীদের মধ্যে আইনের ভয় তৈরি হচ্ছে।

তিনি জানান, মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে দ্রুত বিচার কার্যক্রমের পাশাপাশি আত্মসমর্পণের সুযোগও রাখা হচ্ছে। তার দাবি, অতীতে মাদক মামলার আসামিদের অনেকে দ্রুত জামিন পেয়ে যেতেন, বর্তমানে দ্রুত বিচার ও শাস্তির কারণে মাদক ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্টদের মধ্যে আইনি পরিণতি নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে।

পুলিশ সুপার আরও বলেন, ‘চুয়াডাঙ্গাকে মাদকমুক্ত করতে জেলা পুলিশ ধারাবাহিকভাবে কাজ করছে।’

চুয়াডাঙ্গা-৬ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল নাজমুল হাসান জানান, সীমান্ত নিরাপত্তার পাশাপাশি মাদক ও চোরাচালান ঠেকাতে বিজিবির নজরদারি অব্যাহত রয়েছে। গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, সীমান্তে নিয়মিত টহল এবং প্রয়োজন অনুযায়ী বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। ভবিষ্যতেও অবৈধ কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে এসব কার্যক্রম আরও জোরদার করার কথা জানান তিনি।


নির্বাচিত

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মোবাইলে লুডু খেলা নিয়ে বিরোধে যুবক নিহত

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে মোবাইল ফোনে লুডু খেলা নিয়ে বিরোধের জেরে রফিক মিয়া (৪০) নামে এক দিনমজুরের মৃত্যু হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় উপজেলার গুনিয়াউক ইউনিয়নের নিশ্চিন্তপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত রফিক মিয়া ওই গ্রামের মৃত লোকমান মিয়ার ছেলে। তিনি দিনমজুর হিসেবে কাজ করতেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সন্ধ্যায় নিশ্চিন্তপুর গ্রামের শহীদ মাস্টারের বাগানবাড়িতে বসে সালমান মিয়া ও বশির আহমেদ মোবাইল ফোনে লুডু খেলছিলেন। এ সময় রফিক মিয়া সেখানে গিয়ে খেলা দেখতে থাকেন। একপর্যায়ে তিনি খেলায় ভুল চাল দেওয়া হচ্ছে বলে মন্তব্য করলে সালমান ও বশির ক্ষুব্ধ হন। এ নিয়ে তাদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়।

স্থানীয় কয়েকজন বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করে পরিস্থিতি শান্ত করলেও কিছুক্ষণ পর আবার উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। অভিযোগ রয়েছে, এ সময় সালমান মিয়া রফিকের গলা চেপে ধরেন এবং তাকে কিল-ঘুষি মারেন। এতে রফিক মিয়া মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।

পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে নাসিরনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

নিহতের চাচাতো ভাই জিলু মিয়া অভিযোগ করেন, লুডু খেলাকে কেন্দ্র করে সালমান ও বশির রফিককে মারধর করেন। এরপরই তার মৃত্যু হয়।

তবে ঘটনার পর অভিযুক্ত সালমান মিয়া ও বশির আহমেদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

নাসিরনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিনুল ইসলাম বলেন, ‘মরদেহে বড় ধরনের কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি, তবে কিল-ঘুষির আলামত রয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। এ ঘটনায় রাত পর্যন্ত থানায় কোনো মামলা দায়ের হয়নি।’


নির্বাচিত

দৌলতপুরের পদ্মায় পানি বেড়ে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত, সাপ আতঙ্কে বানভাসি মানুষ

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
আতিয়ার রহমান, দৌলতপুর (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি

টানা বৃষ্টি ও ভারতের উজান থেকে নেমে আসা ঢলে কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে পদ্মা নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। এতে উপজেলার রামকৃষ্ণপুর ও চিলমারী ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে প্রায় অর্ধলাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। ডুবে গেছে সড়ক ও আবাদি জমি। অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পানি ঢুকে পড়ায় বন্ধ রয়েছে শ্রেণি কার্যক্রম। রান্নার জায়গা ও চলাচলের পথ তলিয়ে যাওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন চরাঞ্চলের মানুষ। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে বিষধর সাপের উপদ্রব। ঘরবাড়ি ও বসতভিটার আশপাশে সাপের আনাগোনা দেখা গেছে আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন বানভাসি মানুষের।

পাবনা ওয়াটার হাইড্রোলজি বিভাগের তথ্যানুযায়ী, ভারী বর্ষণ ও উজানের ঢল অব্যাহত থাকায় গত এক সপ্তাহ ধরে পদ্মা নদীতে গড়ে প্রতিদিন প্রায় ১০ সেন্টিমিটার করে পানি বাড়ছে। শুক্রবার সকাল ৯টায় হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্টে নদীর পানির উচ্চতা ছিল ১৪ দশমিক ০২ সেন্টিমিটার। সেখানে বিপৎসীমা ১৩ দশমিক ৮০ সেন্টিমিটার। অর্থাৎ বিপৎসীমার মাত্র শূন্য দশমিক ৭৮ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে পদ্মার পানি।

পাবনা ওয়াটার হাইড্রোলজি বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী ইলিয়াস হোসেন বলেন, ‘উজান থেকে নেমে আসা ঢল ও টানা বৃষ্টির কারণেই পদ্মায় পানি দ্রুত বাড়ছে। পানি বৃদ্ধির প্রবণতা এখনো অব্যাহত রয়েছে।’

স্থানীয় সূত্র জানায়, হঠাৎ পানি বেড়ে যাওয়ায় চরাঞ্চলের যোগাযোগব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। সড়কগুলো পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় নৌকা, ডিঙ্গি নৌকা (টিন দিয়ে তৈরি বিশেষ নৌকা) ও ভেলাই হয়ে উঠেছে চলাচলের প্রধান মাধ্যম। অনেক পরিবারের রান্নার জায়গা পানিতে তলিয়ে গেছে। দেখা দিয়েছে খাবার ও বিশুদ্ধ পানির সংকট। গবাদিপশু নিয়ে বিপাকে পড়েছেন কৃষক ও খামারিরা।

চিলমারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল মান্নান বলেন, ‘উজান থেকে নেমে আসা ঢলের পানিতে গত দুই-তিন দিনে তার ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। ১৯টি গ্রামের মধ্যে ১৭টির নিম্নাঞ্চলের ঘরবাড়িতে পানির উঠে গেছে। এতে প্রায় ৩০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। স্কুলগুলোতে পাঠদান বন্ধ রাখা হয়েছে। পানি ওঠার পর থেকে বিষধর সাপের উপদ্রবও বেড়েছে। ঘর থেকে বের হতে ভয় পাচ্ছেন অনেকে।

রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সিরাজ মণ্ডল বলেন, ‘আমার ইউনিয়নের প্রতিটি গ্রামের চারপাশে এখন পানি। সড়কগুলো ডুবে যাওয়ায় স্বাভাবিক চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। অনেক বাড়ির ভেতরে পানি না ঢুকলেও ভিটা পর্যন্ত পানি উঠে এসেছে। পানির দুর্ভোগের পাশাপাশি সাপের আতঙ্কেও মানুষ দিশেহারা।’

এদিকে পদ্মার পানি বৃদ্ধিতে ফিলিপনগর ও মরিচা ইউনিয়নের চরাঞ্চলের বিস্তীর্ণ আবাদি জমিও তলিয়ে গেছে।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অনিন্দ্য গুহ ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয়ের কর্মকর্তারা গত বুধবার দুপুরে প্লাবিত এলাকা পরিদর্শন করেছেন। এ সময় ক্ষতিগ্রস্ত ৭০টি পরিবারের মধ্যে জরুরি ত্রাণ হিসেবে শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা শুভাগত বিশ্বাস বলেন, ‘আমরা ইতোমধ্যে প্লাবিত এলাকা পরিদর্শন করেছি। বানভাসি মানুষের তালিকা তৈরি করে তাদের প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। পরিস্থিতির অবনতি হলে দুর্গতদের আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সার্বিক পরিস্থিতি আমরা নিয়মিত পর্যবেক্ষণে রেখেছি।’

দুর্গতদের দাবি, দ্রুত পর্যাপ্ত শুকনো খাবার ও বিশুদ্ধ পানি সরবরাহের পাশাপাশি সাপের কামড়ের চিকিৎসায় প্রয়োজনীয় অ্যান্টিভেনম ও জরুরি চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে হবে। পানি আরও বাড়লে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।


নির্বাচিত

চট্টগ্রামে বিদেশি চক্রের গোপন আস্তানা, চীন-পাকিস্তানিসহ আটক ৬৩

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
চট্টগ্রাম ব্যুরো

চট্টগ্রাম নগরীর একটি বহুতল ভবনে বিদেশি নাগরিকভিত্তিক একটি সংঘবদ্ধ চক্রের গোপন আস্তানার সন্ধান পেয়ে বড় ধরনের অভিযান পরিচালনা করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। নগরীর খুলশী-জালালাবাদ এলাকার একটি আটতলা ভবনে পরিচালিত এই যৌথ অভিযানে চীন, পাকিস্তান, লাওস ও ভিয়েতনামের নাগরিকসহ মোট ৬৩ জন বিদেশিকে আটক করা হয়েছে। একই সঙ্গে তাদের হেফাজত থেকে ৭০টি ল্যাপটপ ও স্মার্টফোনসহ বিপুল পরিমাণ ইলেকট্রনিক ডিভাইস জব্দ করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার রাতে পুলিশের বিশেষায়িত কাউন্টার টেররিজম ইউনিট এবং থানা-পুলিশের সমন্বয়ে গঠিত একটি যৌথ দল ওই ভবনে এই ঝটিকা অভিযান চালায়। অভিযানের সত্যতা নিশ্চিত করে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম) মোহাম্মদ ফয়সাল আহম্মেদ জানান, বহুতল ভবনটিতে বিপুলসংখ্যক বিদেশি নাগরিকের সন্দেহজনক উপস্থিতি ও কার্যকলাপের গোপন সংবাদের ভিত্তিতেই এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়। আটক ব্যক্তিরা ঠিক কী উদ্দেশ্যে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছিলেন, ভবনটিতে তাদের জড়ো হওয়ার মূল কারণ কী ছিল এবং তারা কোন ধরনের কর্মকাণ্ড কিংবা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্পৃক্ত—সেসব বিষয়ে গভীর তদন্ত শুরু হয়েছে। পাশাপাশি তাদের ভিসার মেয়াদ ও যাবতীয় ভ্রমণ নথিপত্রের বৈধতাও যাচাই করা হচ্ছে।

অভিযানসংশ্লিষ্ট সূত্রের ধারণা, ভবনটিকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে বিদেশি নাগরিকদের নিয়মিত যাতায়াত ছিল এবং সেখানে বড় অঙ্কের অর্থ লেনদেনের মাধ্যমে অনলাইন জুয়া বা ক্যাসিনোসদৃশ অবৈধ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছিল। তবে উদ্ধারকৃত ডিভাইসগুলো থেকে এখনও সুনির্দিষ্ট তথ্য উদ্ধারে কাজ চলছে। আটক ব্যক্তিদের মধ্যকার গোপন বার্তা আদান-প্রদান, অনলাইন নেটওয়ার্কের ব্যাপ্তি এবং ডিজিটাল মাধ্যম বা ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে কি না, তা শনাক্ত করতে জব্দকৃত সরঞ্জামগুলোর তথ্য পর্যালোচনা করছেন তদন্তকারীরা।


নির্বাচিত

কাপ্তাই লেকের পানি বৃদ্ধি, খুলে দেওয়া হয়েছে ১৬ জলকপাট

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বিজয় ধর, রাঙামাটি

কাপ্তাই লেকে পানির উচ্চতা বেড়ে যাওয়ায় আবারও বাঁধের স্পিলওয়ের ১৬টি জলকপাট খুলে পানি নিষ্কাশন শুরু করা হয়েছে। আজ শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) সকাল ৮টা থেকে প্রতিটি জলকপাট ৬ ইঞ্চি করে খুলে দেওয়া হয়। বর্তমানে লেকে পানির উচ্চতা ১০৫ দশমিক ৫১ ফুট।
কাপ্তাই কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র সূত্রে জানা গেছে, লেকের পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায় এবং রাঙামাটি জেলার বিভিন্ন স্থানে বাড়িঘর পানিতে ডুবে যাওয়া ও ভাঙন সৃষ্টি হওয়ায় আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে স্পিলওয়ের জলকপাট খুলে পানি নিষ্কাশন করা হচ্ছে। লেকের পানির উচ্চতা ১০৫ ফুটে নেমে এলে জলকপাটগুলো বন্ধ করে দেওয়া হবে।
এর আগে গত ২৯ আগস্ট কাপ্তাই লেকের পানির উচ্চতা বেড়ে ১০৬.০১ ফুট এমএসএল-এ পৌঁছালে স্পিলওয়ের ১৬টি জলকপাট প্রতিটি ৬ ইঞ্চি করে খুলে দেওয়া হয়েছিল। তখন প্রায় ৯ হাজার কিউসেক পানি নিষ্কাশন করা হয়। পরে পানির উচ্চতা পরিস্থিতি বিবেচনায় জলকপাটের খোলার পরিমাণ পর্যায়ক্রমে বাড়ানো হয়েছিল। একপর্যায়ে প্রতিটি গেট ৩ ফুট পর্যন্ত খোলা হয় এবং এতে প্রায় ৫৮ হাজার কিউসেক পানি নিষ্কাশিত হয়েছিল।
পানি কমে আসায় পরবর্তীতে স্পিলওয়ের ১৬টি জলকপাট বন্ধ করে দেওয়া হয়। তবে সাম্প্রতিক সময়ে আবারও কাপ্তাই লেকের পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় আজ সকাল থেকে জলকপাটগুলো পুনরায় খুলে দেওয়া হয়েছে।
কাপ্তাই কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মাহমুদ হাসান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, বর্তমানে লেকের পানির উচ্চতা ১০৫ দশমিক ৫১ ফুট। পরিস্থিতি বিবেচনায় ১৬টি জলকপাট ৬ ইঞ্চি করে খুলে পানি নিষ্কাশন করা হচ্ছে। পানির উচ্চতা ১০৫ ফুটে স্থির হলে গেটগুলো বন্ধ করে দেওয়া হবে।
কর্তৃপক্ষ জানায়, কাপ্তাই লেকের সর্বোচ্চ পানি ধারণসীনা ১০৯ ফুট এমএসএল। তাই আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে পানি নিষ্কাশন করা হচ্ছে।


নির্বাচিত

ক্রীড়াঙ্গনের উন্নয়নে দুই প্যানেলের দুই ইশতেহার

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
খুলনা ব্যুরো

খুলনা জেলা ক্রীড়া সংস্থার কার্যনির্বাহী পরিষদ নির্বাচন-২০২৬ জমে উঠেছে। আগামীকাল শনিবার এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনে দুটি প্যানেল প্রতিদ্বন্দিতা করছেন। এই দুই প্যানেলের পক্ষ থেকে নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার খুলনা প্রেসক্লাবে পৃথক দুটি সংবাদ সম্মেলনে ‘সম্মিলিত ক্লাব ঐক্য পরিষদ’ এবং ‘সম্মিলিত ক্রীড়া সংগঠক পরিষদ’ তাদের ইশতেহার ও প্যানেল প্রকাশ করেন।

‘সম্মিলিত ক্লাব ঐক্য পরিষদের ১৪ দফা

বেলা সাড়ে ১১টায় ‘সম্মিলিত ক্লাব ঐক্য পরিষদ’ (মোল্লা খায়রুল ইসলাম নেতৃত্বাধীন পরিষদ)-এর সংবাদ সম্মেলনে পরিষদের নেতৃবৃন্দ তাদের ১৪ দফার নির্বাচনী ইশতেহার ও পূর্ণাঙ্গ প্যানেল আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেন।

সংবাদ সম্মেলনে সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী মোল্লা খায়রুল ইসলাম বলেন, দক্ষ, অভিজ্ঞ ও প্রতিশ্রুতিশীল তরুণ ক্রীড়া সংগঠক এবং সাবেক ক্রীড়াবিদদের সমন্বয়ে এই প্যানেল গঠন করা হয়েছে। খুলনাকে খেলাধুলার নগরী তথা ‘স্পোর্টস সিটি’ হিসেবে দেশজুড়ে পরিচিত করাই তাদের মূল লক্ষ্য।

সম্মেলনে উপস্থাপিত ১৪ দফা ইশতেহারের উল্লেখযোগ্য অঙ্গীকারগুলো হলো- খুলনা জেলা স্টেডিয়ামের পূর্ণাঙ্গ রূপদান এবং বন্ধ থাকা খেলাধুলা পুনরায় চালুকরণ, লীগের নামে সাময়িক টুর্নামেন্ট না করে পূর্ণাঙ্গ লীগ আয়োজন, জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের সহায়তায় ও নিজস্ব অর্থায়নে তরুণ খেলোয়াড় তৈরির নিয়মিত প্রশিক্ষণ করা।

এছাড়া জেলা স্টেডিয়ামে আধুনিক সুইমিংপুল ও জিম নির্মাণ, স্বচ্ছ অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে ক্রীড়া সংস্থার ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করা, বিভিন্ন বয়সভিত্তিক ক্রিকেট টুর্নামেন্ট ও নিয়মিত প্রমিলা ক্রিকেট লীগ চালু করা এবং জেলা স্টেডিয়ামকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের ভেন্যু হিসেবে গড়ে তোলা ও সার্কিট হাউস মাঠসহ জেলার অন্যান্য মাঠকে খেলার উপযোগী করা।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, আগামী ১২ সেপ্টেম্বর সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত খুলনা জেলা স্টেডিয়ামে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনে ২২২ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। ২৬ জনের পূর্ণাঙ্গ প্যানেলে ৪ জন সহ-সভাপতি, ১ জন সাধারণ সম্পাদক, ১ জন অতিরিক্ত সাধারণ সম্পাদক, ২ জন যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক, ১ জন কোষাধ্যক্ষ এবং ১৩ জন নির্বাহী সদস্য পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন (যার মধ্যে ইতোমধ্যে ৪ জন সংরক্ষিত সদস্য পদে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন)।

প্যানেলের মূল প্রার্থী তালিকায় আছেন- সহ-সভাপতি: এস. এম মোয়াজ্জেম রশীদী দোজা, চৌধুরী শফিকুল ইসলাম হোসেন, মো. জুলফিকার আলী খান, শাহ আসিফ হোসেন (রিংকু), সাধারণ সম্পাদক: মোল্লা খায়রুল ইসলাম, অতিরিক্ত সাধারণ সম্পাদক: শেখ হেমায়েত উল্লাহ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক: আলহাজ্জ বেলাল হোসেন, কে. এম আশরাফুল আলম (নান্নু) এবং কোষাধ্যক্ষ হাসান জহীর মুকুল।

‘সম্মিলিত ক্রীড়া সংগঠক পরিষদ’ এদিকে বেলা সাড়ে ১২টায় ‘সম্মিলিত ক্রীড়া সংগঠক পরিষদ’ মনোনীত ‘রেজভী-ফয়েজ-মামুন-জাহাঙ্গীর-পিলু-আবুল’ প্যানেলের সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সংগঠনটির পক্ষ থেকে সততা ও জবাবদিহিতার অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয়।

লিখিত বক্তব্যে প্যানেলের সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী ও খুলনা বিভাগীয় নারী ক্রিকেট দলের সাবেক প্রধান কোচ ইমতিয়াজ হোসেন পিলু বলেন, খুলনার ক্রীড়াঙ্গনের ঐতিহ্য পুনরুদ্ধার, মাঠের সংকট ও অব্যবস্থাপনা দূর করা এবং সাধারণ ক্লাবগুলোর অধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার লক্ষ্যেই ১২ জনের এই শক্তিশালী প্যানেল গঠিত হয়েছে।

লিখিত বক্তব্যে ক্রীড়াঙ্গনের নানা অনিয়ম তুলে ধরে তিনি জানান, দীর্ঘদিন ধরে ক্লাসভিত্তিক লবি এবং প্রশাসনিক অব্যবস্থাপনার কারণে খুলনার ক্রীড়াঙ্গন স্থবির হয়ে পড়েছে। নিয়মিত প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় বিভাগ ক্রিকেট লিগ না হওয়ায় নতুন খেলোয়াড় উঠে আসছে না।

সর্বশেষ ২০২১ সালে প্রথম বিভাগ ক্রিকেট লিগ আয়োজিত হলেও এরপর থেকে তা বন্ধ রয়েছে। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনেও ভোটারের নিরপেক্ষতা নিশ্চিত না হওয়া এবং স্বল্পসংখ্যক ক্লাবের হাতে ভোট নিয়ন্ত্রিত থাকার বিষয়টিতে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

নির্বাচনে প্যানেলটির মূল প্রার্থীরা হলেন: সহ-সভাপতি (৪ জন): মো. হাসান মেহেদী রেজভী, মজিবর রহমান ফয়েজ, শরীফ মো. বদরুজ্জামান (মামুন), ও শেখ জাহাঙ্গীর হোসেন। সাধারণ সম্পাদক: ইমতিয়াজ হোসেন পিলু, অতিরিক্ত সাধারণ সম্পাদক: মো. আবুল হোসেন আবুল, যুগ্ম-সম্পাদক: মো. খাইরুল আহসান (মানিক), কোষাধ্যক্ষ: মোহাম্মদ আলী, নির্বাহী সদস্য মিলজার হোসেন, এস এম আজাদ হোসেন জুয়েল, মো. জোবায়ের ইসলাম এবং মনিরুজ্জামান মহাসীন।

সংবাদ সম্মেলন থেকে নির্বাচন কমিশনের কাছে ভোটাররা যাতে স্বতঃস্ফূর্ত ও স্বাধীনভাবে ভোট প্রদান করতে পারেন এবং বুথের ভেতরে কোনো প্রার্থী প্রবেশ না করেন, সেই পরিবেশ সুনিশ্চিত করার জোর দাবি জানানো হয়।


নির্বাচিত

চট্টগ্রামে রেস্টুরেন্টের খাদ্য নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম
    অভিযান-জরিমানাতেও থামছে না বাসি খাবার, ক্ষতিকর রং-পোকা

রান্নাঘরে তেলাপোকার অবাধ বিচরণ। ফ্রিজে কাঁচা মাছ-মাংসের পাশে বাসি মাংস ও খিচুড়ি। খাবারে অননুমোদিত ক্ষতিকর রং। সংরক্ষণ করা হচ্ছে দুর্গন্ধযুক্ত ও পচা পানি। বাইরে থেকে পরিচ্ছন্ন ও আধুনিক রেস্টুরেন্ট- ভেতরে গেলেই মিলছে এমন ভয়াবহ চিত্র। চট্টগ্রাম নগরের হোটেল-রেস্টুরেন্টে গত দুই বছর ধরে অভিযান চালিয়েও একই ধরনের অনিয়ম পাচ্ছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।

সর্বশেষ বৃহস্পতিবারেও নগরীর দেওয়ানহাট মোড়ে তিন রেস্টুরেন্টে অভিযান চালিয়ে ১ লাখ ৪৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এর মধ্যে গ্র্যান্ড তাজমহল হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্টে অননুমোদিত ক্ষতিকর রংমিশ্রিত কাশ্মীরি মরিচ, দুর্গন্ধযুক্ত রং, পচা পানি এবং বাসি মাংস ও খিচুড়ি। এসব খাবার কাঁচা মাছ-মাংসের সঙ্গে একই ফ্রিজে রাখার অভিযোগে ৮০ হাজার টাকা জরিমানা করে অধিদপ্তর।

একই অভিযানে আলিফ রেস্টুরেন্টের রান্নাঘরে তেলাপোকার বিচরণ এবং কাঁচা মাছ-মাংসের সঙ্গে বাসি খাবার সংরক্ষণের অভিযোগে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। ক্যাফে আরমান হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্টকেও একই ধরনের অপরাধে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা ও সতর্ক করা হয়েছে।

জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ফয়েজ উল্যাহ বলেন, ‘অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ, বাসি খাবার কিংবা ক্ষতিকর রং-কেমিক্যালের ব্যবহার কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না। ভোক্তার জীবন ও স্বাস্থ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেললে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। অনিয়ম ধরা পড়লেই কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অভিযান চলবে, অনিয়মকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা আরও কঠোর হবে।’

চট্টগ্রামের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী, মানবাধিকার সংগঠক, লেখক ও কলামিস্ট অ্যাডভোকেট এ. এম. জিয়া হাবীব আহসান বলেন, ‘শুধু জরিমানা করে নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা যাবে না। একই অপরাধ বারবার হলে শাস্তি বাড়াতে হবে। আইনের প্রয়োগ ও সরকারি নজরদারির দুর্বলতার সুযোগেই অনিয়মকারীরা বারবার পার পেয়ে যাচ্ছে। জরিমানাকে ব্যবসার খরচে পরিণত না করে পুনরাবৃত্তিকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে।’

এদিকে ভোক্তা অধিকারের তথ্য বলছে, গত দুই বছরে অনিয়মের ধরন প্রায় একই। কোথাও বাসি খাবার ফ্রিজে রেখে বিক্রি, কোথাও কাঁচা মাছ-মাংসের সঙ্গে রান্না করা খাবার সংরক্ষণ, কোথাও পোকামাকড়ের উপদ্রব। আবার কোনো প্রতিষ্ঠানে পাওয়া গেছে মেয়াদোত্তীর্ণ খাদ্যপণ্য, পোড়া তেল, অননুমোদিত কেমিক্যাল কিংবা খাবারে ক্ষতিকর রং। ২০২৪ সালের অক্টোবরেই নগরের বিভিন্ন এলাকায় অভিযানে একাধিক রেস্টুরেন্টে বাসি খাবার, নোংরা রান্নাঘর ও অননুমোদিত কেমিক্যাল ব্যবহারের অভিযোগ ধরা পড়ে। জামালখানের একটি রেস্টুরেন্টে ফ্রিজে বাসি ভাত, গ্রিল ও রান্না করা মাংস রাখার অভিযোগে ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। কাপ্তাই সড়কের একটি রেস্টুরেন্টে অভিযানে পাওয়া যায় বাসি গ্রিল, মেয়াদোত্তীর্ণ দধি, পোকাযুক্ত খাবার, পোড়া তেল, নোংরা মসলা ও অপরিচ্ছন্ন রান্নাঘর। সেখানেও গুনতে হয় জরিমানা।

আরও জানা যায়, গত ২০২৫ সালে চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় পরিচালিত অভিযানেও হোটেল-রেস্টুরেন্টের রান্নাঘরে উঠে আসে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের চিত্র। স্টেশন রোড এলাকায় অভিযানে একাধিক প্রতিষ্ঠানে পচা ডিম, তেলাপোকার উপদ্রব ও অপরিচ্ছন্ন রান্নাঘর পাওয়ার কথা জানায় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। বহদ্দারহাটে অভিযানে ধরা পড়ে অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে খাবার তৈরি ও ক্ষতিকর কেমিক্যাল ব্যবহারের অভিযোগ। জিইসি মোড় এলাকায় কয়েকটি রেস্টুরেন্টে বাসি মাছ-মাংস বিক্রি এবং খাবারে ক্ষতিকর উপাদান ব্যবহারের অভিযোগে বড় অঙ্কের জরিমানাও করা হয়।

২০২৬ সালেও থামেনি অনিয়ম:

জানুয়ারিতে স্টেডিয়াম ও সিআরবি এলাকায় চারটি প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করা হয়। সেখানে অননুমোদিত কেমিক্যাল ব্যবহার এবং অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে খাদ্য প্রক্রিয়াজাতের অভিযোগ পাওয়া যায়। মে মাসে আগ্রাবাদ ও মোহরা এলাকায় অভিযান চালিয়ে অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে খাদ্য উৎপাদন, বাসি খাবার সংরক্ষণ ও মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য বিক্রির অভিযোগে জরিমানা করা হয়।

আগস্টে জামালখানে তিন প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করা হয় অপরিচ্ছন্ন ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্য রান্না ও উৎপাদনের অভিযোগে। একই মাসে কাপ্তাই রাস্তার মাথা এলাকায় একটি রেস্টুরেন্টে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার রান্না, প্রস্তুত ও সংরক্ষণের পাশাপাশি মেয়াদোত্তীর্ণ দই, বাসি গ্রিল ও রান্না করা মাংস ফ্রিজে রাখার অভিযোগ ধরা পড়ে। এরপর বৃহস্পতিবার দেওয়ানহাটে আবারও বাসি খাবার, কাঁচা মাছ-মাংসের সঙ্গে রান্না করা খাবার রাখা, ক্ষতিকর রং, পচা পানি ও তেলাপোকার উপস্থিতি ধরা পড়ল।

অভিযান বাড়ছে, অপরাধও ফিরছে:

ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম বিভাগের প্রকাশিত তথ্যেও তদারকির বড় পরিসর স্পষ্ট। বিভিন্ন অর্থবছরে বিভাগজুড়ে হাজার হাজার অভিযান চালানো হয়েছে এবং বিপুল অঙ্কের জরিমানা আদায় করা হয়েছে। কিন্তু এই বিপুল জরিমানার পরও যদি বাসি খাবার, নোংরা রান্নাঘর, ক্ষতিকর রং ও অননুমোদিত কেমিক্যালের ব্যবহার বন্ধ না হয়, তাহলে প্রশ্ন উঠতেই পারে- শুধু অর্থদণ্ড দিয়ে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কতটা সম্ভব? কারণ জরিমানা হচ্ছে ভোক্তার খাবারে অনিয়ম ধরা পড়ার পর। কিন্তু তার আগে কত মানুষ সেই খাবার খেয়ে ফেলছেন, তার হিসাব নেই।

অন্যদিকে অভিযান পরিচালনাকারী কর্মকর্তারা বলছেন, ‘সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যসুরক্ষা নিশ্চিত করতে তদারকি অভিযান অব্যাহত থাকবে। বৃহস্পতিবারের অভিযান শেষে উপপরিচালক ফয়েজ উল্যাহও ভবিষ্যতে নিয়মিত অভিযান পরিচালনার কথা জানিয়েছেন।


নির্বাচিত

banner close