ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপে ১৫৬টি উপজেলায় ভোটগ্রহণ শেষ হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত চলে ভোটগ্রহণ। ভোট গণনা শেষে রাতে নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশ করেন রিটার্নিং কর্মকর্তারা। সারা দেশের প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর থেকে জানা যায়-
ফরিদপুর
উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপে ফরিদপুরের নগরকান্দা ও সালথা উপজেলায় ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। নগরকান্দা উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপ-কমিটির সাবেক সহসম্পাদক কাজী শাহ জামান বাবুল। আনারস প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ৩৭ হাজার ২০৯ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মোটরসাইকেল প্রতীকের প্রার্থী বর্তমান উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মনিরুজ্জামান সরদার পেয়েছেন ২৫ হাজার ২৩৭ ভোট।
অন্যদিকে সালথা উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে বর্তমান চেয়ারম্যান ওয়াদুদ মাতুব্বর বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। আনারস প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ৩৫ হাজার ৫৪৫ ভোট তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী সালথা উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও মোটরসাইকেল প্রতীকের প্রার্থী মো. ওহিদুজ্জামান পেয়েছেন ৫ হাজার ৩৪২ ভোট।
নারায়ণগঞ্জ
উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপে নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলায় ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম। ঘোড়া প্রতীকে তিনি পেয়েছেন এক লাখ ১৫ হাজার ২৫২ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী দোয়াত কলম প্রতীকের প্রার্থী মো. শাহজালাল মিয়া পেয়েছেন ১৩ হাজার ১৩২ ভোট।
বিজয়ী মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম আড়াইহাজার উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সদস্য। তিনি কালাপাহাড়িয়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান। অন্যদিকে তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মো. শাহজালাল মিয়া আড়াইহাজার উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া
দ্বিতীয় ধাপের উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা ও আখাউড়ায় উপজেলায় ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। কসবা উপজেলায় আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের ফুফাতো ভাই ছাইদুর রহমান ও আখাউড়ায় মোগড়া ইউনিয়ন পরিষদের তিনবারের সাবেক চেয়ারম্যান মনির হোসেন বেসরকারিভাবে চেয়ারম্যান নির্বাাচিত হয়েছেন।
ঘোষিত ফলাফল অনুযায়ী, কসবা উপজেলায় ছায়েদুর রহমান স্বপন কাপ-পিরিচ প্রতীকে ৮৬ হাজার ৬৯৮ ভোট পেয়ে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও কুটি ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ছিলেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বর্তমান উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের সাবেক সহকারী একান্ত সচিব রাশেদুল কাউসার ভূইয়া আনারস প্রতীকে পেয়েছেন ৩৯ হাজার ৯৫৯ ভোট।
অন্যদিকে আখাউড়া উপজেলায় মনির হোসেন ঘোড়া প্রতীকে ২৮ হাজার ৩০৯ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি উপজেলা যুবলীগের সাবেক আহ্বায়ক ও মোগড়া ইউনিয়ন পরিষদের তিনবারের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান আনারস প্রতীকে পেয়েছেন ১৪ হাজার ৫৬৩ ভোট।
রাঙামাটি
ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপে রাঙামাটির রাজস্থলী, কাপ্তাই ও বিলাইছড়ি উপজেলায় শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। রাজস্থলী উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি উবাচ মারমা আনারস প্রতীকে ৭ হাজার ৭৫ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মো. রিয়াজ উদ্দীন রানা দোয়াত কলম প্রতীকে পেয়েছেন ২ হাজার ১৮ ভোট।
অন্যদিকে কাপ্তাই উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে উপজেলা যুবলীগের সভাপতি মো. নাছির উদ্দিন দোয়াত কলম প্রতীকে ৭ হাজার ৩৬২ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও সাবেক ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আনোয়ারুল ইসলাম চৌধুরী আনারস প্রতীকে পেয়েছেন ৬ হাজার ৯৭৩ ভোট।
অপরদিকে বিলাইছড়ি উপজেলায় মোট ১৩টি কেন্দ্রের মধ্যে ৫টি হেলিসর্টি ভোটকেন্দ্র রয়েছে। দুর্গম এলাকা হওয়ায় রাত সাড়ে ৯টা পর্যন্ত ফলাফল না আসায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কোনো ফলাফল ঘোষণা করেননি। তবে বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা যায়, পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (জেএসএস) সমর্থিত দোয়াত কলম প্রতীকের বিরোত্তম তঞ্চঙ্গ্যা চেয়ারম্যান পদে বিজয়ী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
লালমনিরহাট
লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ ও আদিতমারী উপজেলায় উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপে ভোটগ্রহণ শেষ হয়েছে। দুই উপজেলায় মধ্যে আদিতমারী উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে ফারুক ইমরুল কায়েস ও কালীগঞ্জ উপজেলায় জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক রাকিবুজ্জামান আহমেদ বিজয়ী হয়েছেন।
রাত সাড়ে ৯টার দিকে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা লুৎফর কবির তাদেরকে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত ঘোষণা করেন।
আদিতমারী উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে ফারুক ইমরুল কায়েস মোটরসাইকেল প্রতীকে পেয়েছেন ৩৩ হাজার ১৩৫ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রফিকুল আলম আনারস প্রতীকে পেয়েছেন ২৯ হাজার ১৮টি ভোট
কালীগঞ্জ উপজেলায় সাবেক সমাজকল্যাণমন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদের ছেলে রাকিবুজ্জামান আহমেদ আনারস প্রতীকে পেয়েছেন ২৪ হাজার ৩০৩ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী তার চাচা উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মাহবুবুজ্জামান আহমেদ ঘোড়া প্রতীকে পেয়েছেন ১৯ হাজার ৩৫০ ভোট।
পিরোজপুর
ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে দ্বিতীয় ধাপে পিরোজপুর জেলার দুই উপজেলায় শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। মঙ্গলবার পিরোজপুরের নেছারাবাদ ও কাউখালী উপজেলার ১৫টি ইউনিয়নের মোট ১২২টি ভোটকেন্দ্রে ইভিএম পদ্ধতিতে এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
কাউখালী উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে মো. আবু সাঈদ মিঞা ও নেছারাবাদ উপজেলায় আব্দুল হক নির্বাচিত হয়েছেন। রাতে নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা সৈয়দ শফিকুল হক বেসরকারিভাবে তাদের বিজয়ী ঘোষণা করেন।
নেছারাবাদ উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে আব্দুল হক আনারস প্রতীকে ৩৮ হাজার ৬১২ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী এস এম মুইদুল ইসলাম মোটরসাইল প্রতীকে পেয়েছেন ৩৫ হাজার ৫২০ ভোট।
অন্যদিকে কাউখালী উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে মো. আবু সাঈদ মিঞা ঘোড়া প্রতীকে ১১ হাজার ২৮৪ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মো. মনিরুজ্জামান তালুকদার পল্টন কাপ-পিরিচ প্রতীকে পেয়েছেন ৬ হাজার ২৯৪ ভোট।
ঝালকাঠি
উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপে ঝালকাঠি সদর ও নলছিটি উপজেলায় ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ঝালকাঠি সদর উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান ও ঝালকাঠি জেলা আওয়ামী লীগ সহ-সভাপতি খান আরিফুর রহমান। আনারস প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ৩৩ হাজার ৯৪৩ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী দোয়াত কলম প্রতীকের প্রার্থী মো. সুলতান খান পেয়েছেন ২৫ হাজার ৯৭১ ভোট।
অন্যদিকে নলছিটি উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মো. সালাউদ্দিন খান সেলিম বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। মোটরসাইকেল প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ২৩ হাজার ৯৩৯ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাবেক মেয়র তছলিম উদ্দিন চৌধুরী আনারস প্রতীকে পেয়েছেন ১৬ হাজার ৭৮৪ ভোট।
বাগেরহাট
উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপে বাগেরহাটে ফকিরহাট, মোল্লাহাট,ও চিতলমারী উপজেলায় ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ফকিরহাট উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন শেখ ওহিদুজ্জামান বাবু। মোটরসাইকেল প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ৪৬ হাজার ৬৫৪ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আনরস প্রতীকের প্রার্থী বর্তমানে উপজেলা চেয়ারম্যান স্বপন দাস পেয়েছেন ২৯ হাজার ৪৩৭ ভোট। এ উপজেলায় ভোট কাস্ট হয়েছে ৬২.৫০ শতাংশ।
চিতলমারী উপজেলার চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হয়েছেন মো. আলমগীর হোসেন সিদ্দিকী। দোয়াত কলম প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ৩৪ হাজার ৮৮৬ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বর্তমান উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও বাগেরহাট জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি অশোক কুমার বড়াল মোটরসাইকেল প্রতীকে পেয়েছেন ২২ হাজার ৭৬৩ ভোট। এ উপজেলায় ভোট কাস্ট হয়েছে ৪৫.৭৫ শতাংশ।
অন্যদিকে মোল্লাহাট উপজেলার চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হয়েছেন বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শাহিনুর আলম ছানা। দোয়াত কলম প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ২৯ হাজার ৯০২ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বর্তমান উপজেলা শেখ নাসির উদ্দীন আনারস প্রতীকে পেয়েছেন ১৯ হাজার ৯৫৪ ভোট। এ উপজেলায় ভোট কাস্ট হয়েছে ৫৩.৭৭ শতাংশ। জেলায় গড় ভোট কাস্টিং হয়েছে ৫৪ শতাংশ।
যশোর
দ্বিতীয় ধাপের উপজেলা নির্বাচনে যশোরের ঝিকরগাছা, শার্শা ও চৌগাছা উপজেলায় ভোটগ্রহণ করা হয়েছে। ভোটগ্রহণ শেষে রাতে বেসরকারিভাবে ফলাফল ঘোষণা করেন উপজেলাগুলোর দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তারা।
চৌগাছা উপজেলা চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হয়েছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা এসএম হাবিবুর রহমান। আনারস প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ৩৩ হাজার ৫৬৫ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ ড. মোস্তানিছুর রহমান পেয়েছেন ২৮ হাজার ৯৮০ ভোট।
নির্বাচনের সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও চৌগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুম্মিতা সাহা রাত সাড়ে ৯টায় এ ফলাফল ঘোষণা করেন।
ঝিকরগাছা উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হয়েছেন বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. মনিরুল ইসলাম। আনারস প্রতীকে মনিরুল ইসলাম পেয়েছেন ৪০ হাজার ৬৪৩ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী সেলিম রেজা ঘোড়া প্রতীকে পেয়েছেন ১৮ হাজার ৪৪৩ ভোট।
অন্যদিকে শার্শা উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে মো. সোহরাব হোসেন দোয়াত কলম প্রতীক নিয়ে ৩৭ হাজার ৫৭০ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মো. অহিদুজ্জামান আনারস প্রতীকে পেয়েছেন ১২ হাজার ২৯১ ভোট।
রাজশাহী
দ্বিতীয় ধাপে রাজশাহীর বাগমারা, দুর্গাপুর ও পুঠিয়া উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বাগমারা উপজেলায় বেসরকারিভাবে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন জাকিরুল ইসলাম সান্টু। তিনি ঘোড়া প্রতীকে পেয়েছেন ৪৭ হাজার ৩২২ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আব্দুর রাজ্জাক সরকার ওরফে আর্ট বাবু পেয়েছেন ৪ হাজার ৩২১ ভোট।
পুঠিয়া উপজেলায় বেসরকারিভাবে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন আবদুস সামাদ মোল্লা। তিনি আনারস প্রতীকে পেয়েছেন ২৬ হাজার ৬৬৫ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আহসানুল হক মাসুদ ঘোড়া প্রতীকে পেয়েছেন ২৩ হাজার ৬৭৯ ভোট।
অন্যদিকে দুর্গাপুর উপজেলায় বেসরকারিভাবে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন শরীফুজ্জামান শরীফ। তিনি মোটরসাইকেল প্রতীকে পেয়েছেন ৪২ হাজার ১১৩ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আব্দুল মজিদ সরদার পেয়েছেন ২৭ হাজার ৩৩২ ভোট।
সাতক্ষীরা
ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপে সাতক্ষীরার আশাশুনি, তালা ও দেবহাটা উপজেলায় ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আশাশুনি উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও বর্তমান উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এবিএম মোস্তাকিম বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি চিংড়ি প্রতীকে পেয়েছেন ৫১ হাজার ৬৬২ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী শাহনেওয়াজ ডালিম ঘোড়া প্রতীকে পেয়েছেন ৫০ হাজার ৭০৭ ভোট।
অপরদিকে সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলা নির্বাচনে মো. আল ফেরদাউস বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি হেলিকপ্টার প্রতীকে ২৬ হাজার ৩৭৭ ভোট পেয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মো. মজিবুর রহমান মোটরসাইকেল প্রতীকে পেয়েছেন ১৭ হাজার ১৫২ ভোট।
এ ছাড়া সাতক্ষীরার তালা উপজেলা নির্বাচনে ঘোষ সনৎ কুমার বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি কাপ পিরিচ প্রতীকে ৪৬ হাজার ৪৫৮ ভোট পেয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী সরদার মশিয়ার চিংড়ি প্রতীকে পেয়েছেন ৩২ হাজার ৪১৩ ভোট।
গ্রামের উন্নয়ন পরিকল্পনা, সরকারি সেবার তদারকি, স্থানীয় বিরোধ মীমাংসা থেকে নারী ও শিশু নির্যাতন, মাদক, সন্ত্রাস ও চুরির মতো অপরাধ প্রতিরোধ—গ্রামীণ জীবনের নানা ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখার লক্ষ্য নিয়ে আবারও ফিরছে ‘গ্রাম সরকার’। ইউনিয়ন পরিষদের সহায়ক সংগঠন হিসেবে প্রতিটি ওয়ার্ডে এ সরকার গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে স্থানীয় সরকার বিভাগ। এ জন্য তৈরি করা হয়েছে ‘গ্রাম সরকার আইন, ২০২৬’-এর খসড়া। প্রস্তাবিত কাঠামোয় জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের পাশাপাশি কৃষক, শ্রমিক, শিক্ষক, ব্যবসায়ী, পেশাজীবী, যুব প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণের সুযোগ রাখা হয়েছে।
খসড়া অনুযায়ী, প্রতিটি ওয়ার্ডে একজন গ্রাম সরকার প্রধান, একজন উপদেষ্টা ও ১৫ জন সদস্য থাকবেন। সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য হবেন প্রধান এবং সংরক্ষিত আসনের নারী সদস্য থাকবেন উপদেষ্টা। গ্রাম সরকারের মেয়াদ হবে প্রথম সভা থেকে পাঁচ বছর। ইতোমধ্যে খসড়াটির বিষয়ে মতামত চেয়েছে স্থানীয় সরকার বিভাগ। তবে প্রস্তাবিত ব্যবস্থাটি চূড়ান্তভাবে অনুমোদিত ও কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত এর বিধানগুলোকে প্রস্তাব হিসেবেই বিবেচনা করতে হবে।
গ্রামীণ প্রশাসনে নতুন কাঠামোর প্রস্তাব: গ্রাম সরকারকে ইউনিয়ন পরিষদের সহায়ক সংগঠন হিসেবে গড়ে তোলার কথা বলা হয়েছে খসড়ায়। এর কাজ শুধু অবকাঠামো উন্নয়ন বা সরকারি কর্মসূচি বাস্তবায়নে সহযোগিতার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না; গ্রামীণ সমাজে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা, জনসচেতনতা বাড়ানো এবং স্থানীয় সমস্যা চিহ্নিত করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করার দায়িত্বও থাকবে।
প্রস্তাবিত আইনে গ্রাম সরকারকে একটি সংবিধিবদ্ধ সংস্থা হিসেবে প্রতিষ্ঠার কথা বলা হয়েছে। আইনের বিধান সাপেক্ষে স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি অর্জন, অধিকারে রাখা এবং হস্তান্তরের ক্ষমতাও থাকবে এর। তবে এটি সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১৫২(১)-এ সংজ্ঞায়িত প্রশাসনিক একাংশ হিসেবে গণ্য হবে না।
প্রথমবার গ্রাম সরকার গঠনের তারিখ সরকার সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দিয়ে নির্ধারণ করবে। পরবর্তী সময়ে মেয়াদ শেষ হওয়ার আগের ১৮০ দিনের মধ্যে নতুন গ্রাম সরকার গঠনের প্রস্তাব রয়েছে। কোনো গ্রাম সরকার বাতিল হলে বাতিলাদেশ জারির পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে নতুনটি গঠন করতে হবে।
১৫ সদস্যে থাকবে নানা শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিত্ব: প্রস্তাবিত গ্রাম সরকারের সদস্য কাঠামোয় সমাজের বিভিন্ন শ্রেণির মানুষকে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এতে দু’জন গণ্যমান্য ব্যক্তি বা সমাজসেবক, প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর একজন পুরুষ ও একজন নারী সদস্য, দু’জন কৃষক, একজন নিকাহ রেজিস্ট্রার, একজন সমবায় সমিতির সদস্য, একজন পল্লী চিকিৎসক, একজন শিক্ষক, একজন ব্যবসায়ী, একজন পেশাজীবী, একজন শ্রমিক, একজন যুব প্রতিনিধি এবং ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর একজন সদস্য রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে—সংশ্লিষ্ট এলাকায় এমন জনগোষ্ঠীর সদস্য থাকলে।
কোনো শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধি পাওয়া না গেলে গণ্যমান্য ব্যক্তি বা সমাজসেবকের সংখ্যা বাড়িয়ে সেই ঘাটতি পূরণের বিধান রাখার কথা বলা হয়েছে। সদস্য নির্বাচনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের ভোটার তালিকায় নাম থাকা ভোটারদের কমপক্ষে ১০ শতাংশের উপস্থিতিতে পরিচালনাকারী কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে হ্যাঁ-না ভোট গ্রহণের প্রস্তাব রয়েছে।
এ কাঠামোর মাধ্যমে স্থানীয় নেতৃত্বের পাশাপাশি কৃষি, শ্রম, শিক্ষা, ব্যবসা ও পেশাজীবী মহলের অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে প্রতিনিধিত্ব কতটা কার্যকর হবে, সদস্য নির্বাচনের প্রক্রিয়া কীভাবে পরিচালিত হবে এবং বিভিন্ন শ্রেণির মানুষের মতামত সিদ্ধান্ত গ্রহণে কতটা গুরুত্ব পাবে, তা নির্ভর করবে চূড়ান্ত আইন ও বাস্তবায়নব্যবস্থার ওপর।
অপরাধ প্রতিরোধে থাকবে সম্মিলিত উদ্যোগ: প্রস্তাবিত গ্রাম সরকারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব হবে গ্রাম পর্যায়ে অপরাধ প্রতিরোধে সামাজিক উদ্যোগ গড়ে তোলা। নারী ও শিশু নির্যাতন, সন্ত্রাস, চুরি, মাদক এবং বিভিন্ন ধরনের জুয়ার বিরুদ্ধে সম্মিলিত প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া, সামাজিক সচেতনতা বাড়ানো এবং এ-সংক্রান্ত প্রতিবেদন ইউনিয়ন পরিষদে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে খসড়ায়।
স্থানীয় বিরোধ মীমাংসা ও গ্রামে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতেও উদ্যোগ নেবে গ্রাম সরকার। এ ক্ষেত্রে তাদের লিখিত সিদ্ধান্ত আইনানুগ কর্তৃপক্ষ গ্রহণ করতে পারবে বলে প্রস্তাবে উল্লেখ রয়েছে।
তবে অপরাধ প্রতিরোধের দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে গ্রাম সরকারের ক্ষমতার সীমা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় এবং স্থানীয় বিরোধ নিষ্পত্তির প্রক্রিয়া গুরুত্বপূর্ণ হবে। এসব দায়িত্ব যেন প্রচলিত আইন ও বিচারিক প্রক্রিয়ার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পালন করা হয়, সে বিষয়টিও বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বিবেচনায় রাখতে হবে।
রাস্তা, কালভার্ট ও প্রকল্পের তদারকি: গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নে অগ্রাধিকার নির্ধারণ করবে গ্রাম সরকার। গ্রামের রাস্তা, কালভার্টসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামোর উন্নয়নে পরিকল্পনা প্রণয়ন এবং চলমান প্রকল্পের অগ্রগতি ও আর্থিক বিষয় পর্যালোচনার দায়িত্ব থাকবে তাদের।
এতে স্থানীয় পর্যায়ে কোন এলাকার উন্নয়ন আগে প্রয়োজন, কোথায় সড়ক বা কালভার্ট সংস্কার জরুরি এবং কোন প্রকল্পে সমস্যা রয়েছে—এসব বিষয় চিহ্নিত করে ইউনিয়ন পরিষদকে জানানো সম্ভব হবে। তবে প্রকল্প বাস্তবায়ন ও অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আইনগত দায়িত্ব ও আর্থিক বিধিবিধানই কার্যকর থাকবে।
শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কৃষিতেও নজর: প্রাথমিক ও গণশিক্ষার প্রসারে এবং শিক্ষার্থীদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করতে সহযোগিতা করবে গ্রাম সরকার। পরিবার পরিকল্পনা, পুষ্টি, টিকাদান ও প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা বাস্তবায়নেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সহায়তা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
বিশুদ্ধ পানীয় জলের সরবরাহ এবং স্বাস্থ্যসম্মত ল্যাট্রিন কর্মসূচি বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করবে সংগঠনটি। প্রয়োজনে নিজস্ব তত্ত্বাবধানেও ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ থাকবে।
কৃষির ক্ষেত্রেও স্থানীয় পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করবে গ্রাম সরকার। সার, উন্নতমানের বীজ ও কীটনাশকের সরবরাহ সম্পর্কে নিয়মিত খোঁজ রাখা এবং সংকট দেখা দিলে ইউনিয়ন পরিষদ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দ্রুত জানানোর দায়িত্ব থাকবে। এ ছাড়া সমবায় সমিতি গঠন, ক্ষুদ্র শিল্প স্থাপন, হাঁস-মুরগির খামার, মাছ চাষ ও পশুপালনে গ্রামীণ জনগণকে উৎসাহিত করবে। বৃক্ষরোপণ, খাল খনন, পরিবেশ ও প্রাণী সংরক্ষণ এবং নারী, যুবক, প্রবীণ ও শিশুদের কল্যাণে বিভিন্ন কার্যক্রম নেওয়ার সুযোগও রাখা হয়েছে।
পাঁচ বছরের মেয়াদ, শপথ ও সদস্যপদের শর্ত: গ্রাম সরকার প্রধান, উপদেষ্টা ও সদস্যদের দায়িত্ব গ্রহণের আগে পরিচালনাকারী কর্তৃপক্ষের সামনে শপথ নিতে হবে। গ্রাম সরকার গঠনের ৩০ দিনের মধ্যে শপথের ব্যবস্থা করার প্রস্তাব রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের ভোটার তালিকায় নাম না থাকলে কেউ সদস্য হতে পারবেন না। বাংলাদেশের নাগরিকত্ব পরিত্যাগ বা হারানো, আদালত কর্তৃক অপ্রকৃতিস্থ ঘোষিত হওয়া কিংবা সংশ্লিষ্ট এলাকার বাইরে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করার ক্ষেত্রেও সদস্যপদের অযোগ্যতা তৈরি হবে।
নৈতিক স্খলনজনিত ফৌজদারি অপরাধে আদালত কর্তৃক কমপক্ষে এক বছরের কারাদণ্ড হলে এবং মুক্তির পর পাঁচ বছর অতিবাহিত না হলে সদস্য হওয়া যাবে না। ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হওয়া বা থাকা কিংবা ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে নেওয়া ঋণ মেয়াদোত্তীর্ণ অবস্থায় অনাদায়ী থাকলেও সদস্য হওয়ার যোগ্যতা থাকবে না।
যথাযথ তদন্তের পর কোনো সদস্যকে অপসারণের বিধানও রাখা হয়েছে। যথোপযুক্ত কারণ ছাড়া পরপর তিনটি সভায় অনুপস্থিত থাকা, দায়িত্ব পালনে অক্ষমতা বা অস্বীকৃতি, অসদাচরণ, দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি কিংবা ক্ষমতার অপব্যবহারের প্রমাণ পাওয়া গেলে তার পদ হারানোর সুযোগ থাকবে।
তহবিল গঠন ও বাতিলের ক্ষমতা: প্রত্যেক গ্রাম সরকারের জন্য ‘গ্রাম সরকার তহবিল’ গঠনের প্রস্তাব রয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদ থেকে পাওয়া অর্থ এবং অন্যান্য উৎস থেকে আসা অর্থ এ তহবিলে জমা হবে। তবে তহবিল পরিচালনা, ব্যয় অনুমোদন ও হিসাব সংরক্ষণের বিস্তারিত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রাম সরকারের আর্থিক জবাবদিহি নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হবে।
খসড়া অনুযায়ী, জেলা প্রশাসক স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে, পরিদর্শনকারী কর্মকর্তার প্রতিবেদন বা কোনো ব্যক্তির আবেদনের ভিত্তিতে গ্রাম সরকারের কার্যক্রম তদন্তের জন্য কর্মকর্তা নিয়োগ করতে পারবেন। তদন্তে দায়িত্ব পালনে ধারাবাহিক ব্যর্থতা, প্রশাসনিক বা আর্থিক দায়িত্ব পালনে অক্ষমতা, জনস্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ড কিংবা ক্ষমতার অপব্যবহারের প্রমাণ পাওয়া গেলে গ্রাম সরকার বাতিল করতে পারবেন জেলা প্রশাসক। তবে এ সিদ্ধান্তের আগে সংশ্লিষ্ট গ্রাম সরকারকে কারণ দর্শানোর সুযোগ দিতে হবে।
গ্রাম সরকার বাতিল হলে নতুন সরকার গঠন না হওয়া পর্যন্ত পরিচালনাকারী কর্তৃপক্ষের গঠিত এডহক কমিটি দায়িত্ব পালন করবে। গ্রাম সরকারের কার্যালয় ওয়ার্ডের মধ্যবর্তী স্থানে অথবা হাটবাজার কিংবা গ্রোথ সেন্টার এলাকায় স্থাপনের প্রস্তাবও রয়েছে।
পুরোনো ব্যবস্থা, নতুন প্রত্যাশা: সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাসনামলে ১৯৭০-এর দশকে গ্রাম সরকার নামে একটি স্থানীয় সরকারব্যবস্থা চালু হয়েছিল। পরে ২০০৩ সালে এ বিষয়ে আইন করা হয়। ওই আইনে প্রতিটি ওয়ার্ডে একজন প্রধান, একজন উপদেষ্টা ও ১৩ জন সদস্য নিয়ে গ্রাম সরকার গঠনের বিধান ছিল। পরবর্তী সময়ে আইনটি বাতিল করা হয়।
পুরোনো ব্যবস্থার মতো নতুন খসড়াতেও গ্রামীণ উন্নয়ন, অপরাধ প্রতিরোধ, স্থানীয় বিরোধ মীমাংসা ও সরকারি কর্মসূচিতে সহযোগিতার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তবে এবার সদস্য সংখ্যা বাড়িয়ে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের প্রতিনিধিত্ব অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব করা হয়েছে।
গত মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে গ্রাম সরকার পুনর্বহালের প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হয়। বিষয়টি পরবর্তী বৈঠকের আলোচ্যসূচিতে রাখার কথা বলা হয়েছে।
নতুন গ্রাম সরকার কার্যকর হলে গ্রামের সমস্যা স্থানীয় পর্যায়ে চিহ্নিত করা, উন্নয়ন অগ্রাধিকার নির্ধারণ এবং সরকারি সেবার সঙ্গে জনগণের যোগাযোগ বাড়ানোর একটি কাঠামো তৈরি হতে পারে। তবে এর কার্যকারিতা নির্ভর করবে সদস্য নির্বাচন কতটা গ্রহণযোগ্য হয়, দায়িত্ব ও ক্ষমতার সীমা কতটা স্পষ্ট থাকে, আর্থিক জবাবদিহি কীভাবে নিশ্চিত করা হয় এবং ইউনিয়ন পরিষদ ও অন্যান্য সরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বয় কতটা কার্যকর হয়—এসব বিষয়ের ওপর।
ছুটির দিনে পরিবারের জন্য বাজার করতে এসে হিসাব মেলাতে হিমশিম অবস্থা ক্রেতাদের। চালের দাম বেড়েছে, সবজির বাজারে চড়া দাম, ডিম-মুরগি কিনতেও গুনতে হচ্ছে বাড়তি টাকা। মাছের বাজারেও স্বস্তি নেই। এর সঙ্গে সয়াবিন তেলের সরবরাহসংকট যুক্ত হওয়ায় নিত্যপণ্য কিনতে গিয়ে বাড়তি ভোগান্তিতে পড়ছেন সাধারণ মানুষ। বাজারে গিয়ে পছন্দের পণ্য কেনার চেয়ে এখন কোনটি বাদ দেওয়া যায়, সেই হিসাবই বড় হয়ে উঠেছে। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) রাজধানীর কারওয়ান বাজার, নিউমার্কেট ও লালবাগসহ বিভিন্ন বাজার ঘুরে এবং ক্রেতা-বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে নিত্যপণ্যের এমন চিত্র পাওয়া গেছে।
চালের দামেও বাড়তি চাপ: খুচরা বাজারে ব্র্যান্ডভেদে প্রতি কেজি মিনিকেট চাল বিক্রি হচ্ছে ৬৫-৭৬ টাকায়। ডায়মন্ড, মঞ্জুর ও সাগর ব্র্যান্ডের মিনিকেটের দাম ৭৪-৭৫ টাকা, যা এক সপ্তাহ আগে ছিল প্রায় ৭২ টাকা। রশিদ ব্র্যান্ডের মিনিকেট বিক্রি হচ্ছে ৬৫ টাকায়, আগের তুলনায় ২ টাকা বেশি। মোজাম্মেল ব্র্যান্ডের মিনিকেটের দাম কেজিতে ৭৬ টাকা।
সরু চালের আরেক ধরন নাজিরশাইল মানভেদে ৭০-৯৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। গত এক থেকে দেড় সপ্তাহে এ চালের দামও কেজিতে ২-৩ টাকা বেড়েছে। সরকারি সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) তথ্যানুযায়ী, পাইজাম, ব্রি-২৮ ও ব্রি-২৯ চালের দাম কেজিতে ৫৮-৬৫ টাকা। এক সপ্তাহে এসব চালের দাম বেড়েছে প্রায় ৩ টাকা। তবে মোটা চালের দাম ৫০-৫৫ টাকার মধ্যে রয়েছে।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, ধানের দাম বৃদ্ধি, মিলপর্যায়ে চালের মূল্যবৃদ্ধি এবং পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় খুচরা বাজারেও এর প্রভাব পড়েছে। কারওয়ান বাজারের একটি পাইকারি দোকানের ব্যবস্থাপক শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘কুষ্টিয়াসহ বিভিন্ন অঞ্চলে মিলপর্যায়ে চালের দাম কিছুটা বেড়েছে। কোথাও কোথাও বস্তাপ্রতি দাম বেড়েছে ৫০ টাকা পর্যন্ত।’
পাইকারি বিক্রেতাদের ভাষ্য, ডিজেলের দাম বাড়ার পর দিনাজপুর থেকে চাল আনতে ট্রাকপ্রতি প্রায় তিন হাজার টাকা এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে আনতে দুই হাজার টাকা পর্যন্ত পরিবহন ব্যয় বেড়েছে। অন্যান্য খরচও বেড়েছে। ফলে কেজিতে ৫০ পয়সা থেকে ১ টাকা পর্যন্ত বাড়তি দাম গুনতে হচ্ছে ক্রেতাদের।
কারওয়ান বাজারে বাজার করতে আসা বেসরকারি চাকরিজীবী হাসিবুল হাসান বলেন, ‘সেপ্টেম্বরের শুরুতে আটাশ চাল ৬০ টাকা কেজি দরে কিনেছিলেন। মাসের শেষ দিকে দাম ছিল ৬২ টাকা। এখন কিনতে হচ্ছে ৬৪ টাকায়। দোকানিরা পরিবহন ব্যয় ও মোকামে চালের দাম বৃদ্ধির কথা বলছেন।’
সবজির বাজারে টমেটো ২৫০, শিম ১৬০ টাকা: সবজির বাজারে ক্রেতাদের সবচেয়ে বেশি ভোগাচ্ছে টমেটো, শিম ও বেগুনের দাম। বাজারভেদে টমেটো বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ২০০-২৫০ টাকায়। শিমের দাম ১৪০-১৬০ টাকা এবং বেগুনের দাম ১৫০ টাকা পর্যন্ত। আগাম শীতকালীন সবজি বাজারে এলেও উচ্চমূল্যের কারণে তা কিনতে বাড়তি খরচ করতে হচ্ছে।
ফুলকপি প্রতি পিস ৭০ টাকা এবং মুলা কেজিপ্রতি ৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বরবটি, ঝিঙা ও করলার দাম কেজিতে প্রায় ৮০ টাকা। লম্বা বেগুনের কেজি ১০০ টাকা, গোল বেগুন ১২০ টাকা এবং ঢ্যাঁড়স, পটল, কাঁকরোলসহ বিভিন্ন সবজি বিক্রি হচ্ছে ৭০-১২০ টাকায়। লাউ প্রতি পিস ৪০-৬০ টাকা ও কচুর মুখি ৮০ টাকা কেজি দরে পাওয়া যাচ্ছে।
তুলনামূলক কম দামে মিলছে পেঁপে, কেজি ৩০ টাকা। সাধারণ শসার দাম ৫০-৬০ টাকা হলেও দেশি শসা কিনতে গুনতে হচ্ছে ৮০-১০০ টাকা। কয়েক সপ্তাহ আগে কেজিপ্রতি ২০০ টাকা পর্যন্ত ওঠা কাঁচামরিচের দাম কিছুটা কমেছে। সরবরাহ বাড়ায় এখন মানভেদে ১২০-১৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
বাজার করতে আসা আবু দাউদ বলেন, ‘দুটি ফুলকপি কিনেছি ১৪০ টাকায়। একটি লাউয়ের দাম পড়েছে ৫০ টাকা। এক পোয়া কাঁচামরিচ ৪০ টাকায়।’ তার ভাষায়, কয়েকটি সবজি কিনতেই অনেক টাকা চলে যাচ্ছে। বাজারে এসে কোনটি কিনবেন আর কোনটি বাদ দেবেন, সেই হিসাব করতে হচ্ছে।
ডিমের দামে ভিন্নতা, মুরগিও সস্তা নয়: ডিমের বাজারে একেক জায়গায় একেক দাম দেখা গেছে। কোনো বাজারে ফার্মের মুরগির ডিমের ডজন ১৪০ টাকা, আবার অন্য বাজারে তা ১৫৫-১৬৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পাড়া-মহল্লার দোকানে চারটি ডিম কিনতে ৫০-৫৫ টাকা লাগছে। ফলে বাজারভেদে একই পণ্য কিনতে ক্রেতাদের বাড়তি অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে।
মুরগির বাজারে ব্রয়লার বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ১৮০-২০০ টাকায়। সোনালি মুরগির দাম ৩১০-৩৪০ টাকা এবং দেশি মুরগির দাম প্রায় ৬০০ টাকা। বিক্রেতারা বলছেন, ব্রয়লার মুরগির দাম কয়েক সপ্তাহ ধরে ১৮০-২০০ টাকার মধ্যে ওঠানামা করছে। এক সপ্তাহে দাম ১০ টাকা কমলেও পরের সপ্তাহে আবার বাড়ছে।
গরুর মাংসের দামেও স্বস্তি নেই। রাজধানীর বাজারে প্রতি কেজি গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে ৮০০ টাকায়।
মাছের বাজারেও বাড়তি খরচ: মাছ কিনতে গিয়েও ক্রেতাদের বাড়তি টাকা গুনতে হচ্ছে। তেলাপিয়া বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ২৫০-২৬০ টাকা, পাঙাশ ২২০-২৩০ টাকা এবং রুই-কাতলা ৩৮০-৪২০ টাকায়। মাঝারি আকারের রুই ৩০০-৩৫০ টাকা ও বড় রুই ৪৫০-৫০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। পাবদার দাম ৩৫০-৪০০ টাকা, পোয়া ২৬০ টাকা, মৃগেল ২৫০-৩০০ টাকা এবং চাষের কই ৩০০ টাকা।
আকার ও মানভেদে চিংড়ির দাম কেজিপ্রতি ১ হাজার ৩০০ টাকা। ট্যাংরা বিক্রি হচ্ছে ৭০০ টাকা, ভেটকি ৪০০-৫৫০ টাকা, বাইম ৬০০-৮০০ টাকা এবং দেশি কই ৭০০-৮০০ টাকা কেজি দরে। চাষের শিং মাছের দাম ৩০০-৪৫০ টাকা। বোয়াল, শোল, রূপচাঁদা ও নদীর বেলে মাছের দামও আকার ও মানভেদে কেজিপ্রতি হাজার টাকা ছাড়াতে পারে।
কারওয়ান বাজারের মাছ বিক্রেতা রমিজ উদ্দিন বলেন, ‘শুক্রবার (৯ অক্টোবর) মাছের চাহিদা বেশি থাকায় কিছু মাছের দাম বাড়ে। সরবরাহের ওপর নির্ভর করে একই দিনেও দামের পরিবর্তন হতে পারে। বাজারভেদে কেজিপ্রতি ১০-২০ টাকার পার্থক্যও দেখা যায়।’
তেলের সরবরাহ সংকটে বাড়তি ভোগান্তি: নিত্যপণ্যের বাড়তি দামের সঙ্গে সয়াবিন তেলের পর্যাপ্ত সরবরাহ না থাকায় ক্রেতাদের ভোগান্তি আরও বেড়েছে। দাম বাড়ানোর পরও বাজারে প্রয়োজনমতো তেল না পাওয়ার অভিযোগ রয়েছে। ফলে একদিকে বাড়তি দাম, অন্যদিকে পণ্য সংগ্রহের অনিশ্চয়তা—দুই দিক থেকেই চাপে পড়ছেন ক্রেতারা।
চাল, সবজি, ডিম, মাছ, মুরগি ও তেলের বাজারের চিত্র বলছে, সংসারের দৈনন্দিন ব্যয় সামলানো ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে। বিশেষ করে সীমিত আয়ের পরিবারগুলোকে খাবারের তালিকা ছোট করা কিংবা প্রয়োজনীয় পণ্য কেনার পরিমাণ কমানোর কথা ভাবতে হচ্ছে। ছুটির দিনের বাজারেও তাই স্বস্তির বদলে বাড়তি খরচের দুশ্চিন্তাই সঙ্গী হচ্ছে ক্রেতাদের।
শরৎকে কেবল প্রকৃতির ঋতু হিসেবে নয়, মানুষের মিলন ও আনন্দের উপলক্ষ হিসেবেও দেখতে চায় সাংস্কৃতিক সংগঠন সত্যেন সেন শিল্পীগোষ্ঠী। সুর, নৃত্য, আবৃত্তি আর রঙের আঁচড়ে সেই ভাবনারই প্রকাশ ঘটল সংগঠনটির ‘শরৎ উৎসব-১৪৩৩’-এ। শিশু-কিশোরদের পরিবেশনা, শিল্পীদের গান আর শরৎকে ঘিরে নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে পুরান ঢাকার সীমান্ত গ্রন্থাগার প্রাঙ্গণের সাহারা মঞ্চে তৈরি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ। সেখানে শৈশবের সাংস্কৃতিক আয়োজনের স্মৃতিচারণের পাশাপাশি উৎসবের মধ্য দিয়ে মানুষে মানুষে সংযোগ বাড়ানোর তাগিদ দেন অভিনেতা মামুনুর রশীদ।
শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৯টায় সরোদ বাদনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় উৎসব। যন্ত্রসংগীতশিল্পী শামীম জহিরের পরিবেশনার পর মঞ্চে আসে শিশুদের নানা পরিবেশনা। একক ও দলীয় সংগীত, নৃত্য, আবৃত্তি এবং আলোচনা পর্বে সাজানো ছিল দিনব্যাপী আয়োজন। উদ্বোধনী পর্ব শেষে শুরু হয় শিশু-কিশোরদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা। ‘শরৎ ঋতু’ বিষয়ক এ প্রতিযোগিতায় অংশ নেয় ১০০ শিশু-কিশোর। বিভিন্ন বিভাগে বিজয়ী ১২ জনকে দেওয়া হয় পুরস্কার।
উৎসবে স্বাগত বক্তব্য ও ঘোষণাপত্র পাঠ করেন সত্যেন সেন শিল্পীগোষ্ঠীর সাধারণ সম্পাদক মানজার চৌধুরী সুইট। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনটির সহসভাপতি, লেখক, গবেষক ও নৃত্যশিল্পী অধ্যাপক নিগার চৌধুরী। আরও উপস্থিত ছিলেন সমাজসেবক মোরশেদ আহমেদ চৌধুরী এবং স্থানীয় সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠক বীর মুক্তিযোদ্ধা শফিউর রহমান দুলু।
উৎসবের গানে গানে উঠে আসে ঋতুর আবহ ও সাংস্কৃতিক চর্চার বৈচিত্র্য। একক সংগীত পরিবেশন করেন মহাদেব ঘোষ, অনিমা রায়, ফেরদৌসী কাকলি, রত্না সরকার, মাহমুদুল হাসান, সঞ্জয় কবিরাজ, নবনীতা জাহিদ চৌধুরী অনন্যা, শ্রাবণী গুহ রায়, তামান্না নিগার তুলি, এস এম মেজবা ও শান্তা সরকার। একক আবৃত্তি পরিবেশন করেন নাইলা তারান্নুম চৌধুরী কাকলি ও বেলায়েত হোসেন।
দলীয় পরিবেশনায় অংশ নেয় শিশু-কিশোর সংগঠন সীমান্ত খেলাঘর আসর, গেণ্ডারিয়া কিশলয় কচি-কাঁচা মেলা, সুরবিহার ও শিল্পবৃত্ত। নৃত্য পরিবেশন করে নৃত্যফ, স্পন্দন, স্বপ্ন বিকাশ কলা কেন্দ্র ও অংশী। এ ছাড়া সত্যেন সেন শিল্পীগোষ্ঠী, নির্ঝরিণী একাডেমি ও সুরনন্দনের শিল্পীরা দলীয় সংগীত পরিবেশন করেন।
‘শরৎ কথন’ পর্বে আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন অভিনেতা মামুনুর রশীদ। তার কথায় উঠে আসে শৈশবের সাংস্কৃতিক উৎসবের স্মৃতি এবং সমসাময়িক সময়ে মানুষের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হওয়ার আক্ষেপ। তিনি বলেন, ‘একসময় এ ধরনের উৎসবে সবাই একসঙ্গে মিলিত হতেন। সেই মিলনের আনন্দ ও সম্মিলিত সাংস্কৃতিক চর্চা থেকে মানুষ ক্রমেই দূরে সরে যাচ্ছে, যা অনভিপ্রেত।’
মামুনুর রশীদের মতে, উৎসব-অনুষ্ঠানের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত মানুষকে একত্র করা এবং সবার মনের কথা প্রকাশের সুযোগ তৈরি করা। আয়োজনের মধ্য দিয়ে যদি ঐক্যের সুর প্রতিষ্ঠিত হয়, তবে একজন মানুষ সবার হয়ে উঠতে পারেন। অন্যথায় উৎসব মানুষকে এক করার বদলে বিভাজনের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তাই ভিন্নতা ও বিভেদকে প্রাধান্য না দিয়ে একই চেতনা থেকে সম্মিলিতভাবে সাংস্কৃতিক আয়োজন করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
শিশু-কিশোরদের পরিবেশনায় মুগ্ধতার কথাও জানান এই অভিনেতা। তাদের গান, নাচ ও উপস্থাপনার মধ্যে তিনি খুঁজে পান নিজের শৈশবের সাংস্কৃতিক পরিবেশের স্মৃতি। তার অনুভূতিতে, উৎসবের আয়োজনে যেন এক টুকরো শরৎ এসে ধরা দিয়েছে।
তারুণ্যের শক্তিকে দেশ গঠন, সামাজিক উন্নয়ন ও ইতিবাচক পরিবর্তনের ধারায় সম্পৃক্ত করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর কলেজভিত্তিক ভিডিপি মৌলিক প্রশিক্ষণ একটি সময়োপযোগী উদ্যোগ। শিক্ষার্থীদের মধ্যে শৃঙ্খলাবোধ, দেশপ্রেম, নেতৃত্বের গুণাবলি, পারস্পরিক সহযোগিতা ও সামাজিক দায়িত্ববোধ জাগ্রত করার পাশাপাশি মাদকমুক্ত সমাজ গঠন, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং সুস্থ ক্রীড়াচর্চায় উদ্বুদ্ধ করছে এ প্রশিক্ষণ। এরই ধারাবাহিকতায় পঞ্চগড়ে প্রশিক্ষণের প্রথম ধাপের সমাপনী, বৃক্ষ ও সনদ বিতরণ এবং দুই কলেজের প্রশিক্ষণার্থীদের অংশগ্রহণে প্রীতি ফুটবল ম্যাচ আয়োজন তরুণদের বহুমুখী বিকাশের এক অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে।
গত বুধবার (৭ অক্টোবর) পঞ্চগড় জেলার দেবীগঞ্জ, সদর ও আটোয়ারী উপজেলার কালিগঞ্জ বিএম কলেজ, শহীদ জিয়াউর রহমান ডিগ্রি কলেজ এবং মির্জা গোলাম হাফিজ সরকারি কলেজে কলেজভিত্তিক ভিডিপি মৌলিক প্রশিক্ষণের প্রথম ধাপের সমাপনী অনুষ্ঠিত হয়।
এ উপলক্ষে প্রশিক্ষণার্থীদের মধ্যে বৃক্ষ ও প্রশিক্ষণ সনদ বিতরণ করা হয়। বৃক্ষ বিতরণের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের পরিবেশ সংরক্ষণ ও সবুজায়নে সম্পৃক্ত করার পাশাপাশি প্রশিক্ষণ সনদ তাদের অর্জিত দক্ষতার স্বীকৃতি প্রদান করে। এ ধরনের উদ্যোগ তরুণদের মধ্যে সামাজিক দায়িত্ববোধ জাগ্রত এবং দেশ ও জনগণের কল্যাণে ইতিবাচক ভূমিকা পালনে উৎসাহিত করছে।
একই দিন বিকেল ৩টায় আটোয়ারীর মির্জা গোলাম হাফিজ সরকারি কলেজ মাঠে ওই কলেজ ও শহীদ জিয়াউর রহমান ডিগ্রি কলেজের প্রশিক্ষণার্থীদের মধ্যে প্রীতি ফুটবল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়। খেলায় চ্যাম্পিয়ন দলকে ৫ হাজার টাকা এবং রানার্সআপ দলকে ৩ হাজার টাকার চেক প্রদান করা হয়। প্রশিক্ষণের পাশাপাশি এ ক্রীড়া আয়োজন শিক্ষার্থীদের শারীরিক সক্ষমতা, দলীয় সংহতি, পারস্পরিক সম্প্রীতি ও ক্রীড়াসুলভ মনোভাব বিকাশে ভূমিকা রাখে। প্রশিক্ষণ, পরিবেশবান্ধব কার্যক্রম ও ক্রীড়াচর্চার সমন্বয়ে এসব উদ্যোগ তরুণদের গঠনমূলক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার পাশাপাশি মাদকমুক্ত সমাজ গঠন ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠার পথ সুগম করছে।
অনুষ্ঠানে স্থানীয় আনসার-ভিডিপির সদস্য, প্রশিক্ষণার্থী ও বিপুলসংখ্যক দর্শকের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ আয়োজনকে প্রাণবন্ত করে তোলে। প্রশিক্ষণার্থীরা বাংলাদেশ আনসার ও ভিডিপির প্রতি তাদের ভালোবাসা ও উদ্দীপনা প্রকাশ করেন। বাহিনীর সদস্যদের উদ্যোগ ও প্রচেষ্টায় প্রশিক্ষণ, বৃক্ষ বিতরণ ও ক্রীড়াচর্চার সমন্বিত এ আয়োজন তরুণদের শৃঙ্খলা, দেশপ্রেম ও সামাজিক দায়িত্ববোধে উদ্বুদ্ধ করার পাশাপাশি পরিবেশ সংরক্ষণ এবং দেশ গঠনমূলক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত হতে উৎসাহিত করছে।
সমাপনী অনুষ্ঠানে রংপুর রেঞ্জের উপমহাপরিচালক মোহাম্মদ আব্দুল আউয়াল এবং পঞ্চগড় জেলা কমান্ড্যান্ট মো. ফরিদ রহমানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
নারায়ণগঞ্জে কোস্ট গার্ডের অভিযানে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে আনা বিপুল পরিমাণ ভারতীয় পণ্য জব্দ করা হয়েছে।
শুক্রবার (৯ অক্টোবর) কোস্ট গার্ড মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, ‘নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ থানাধীন এস এইচ এস ফিলিং স্টেশনসংলগ্ন এলাকায় গত বুধবার (৭ অক্টোবর) রাত ১১টায় কোস্ট গার্ড স্টেশন পাগলা কর্তৃক গোপন সংবাদের ভিত্তিতে একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযান চলাকালীন উক্ত এলাকায় সন্দেহজনক একটি কাভার্ড ভ্যান তল্লাশি করে প্রায় ৪ কোটি ৮৮ লাখ ৮৯ হাজার ৫০০ টাকা মূল্যের অবৈধভাবে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে আনা ১২৯৭ পিস ভারতীয় শাড়ি, ২৭৩ পিস ভারতীয় ব্লাংকেট ও বিপুল পরিমাণ ভারতীয় প্রসাধনীসহ কাভার্ড ভ্যানটি জব্দ করা হয়। এ সময় চালক ও হেলপারের মুচলেকা নিয়ে কাভার্ড ভ্যানসহ ছেড়ে দেওয়া হয়।
জব্দকৃত সকল আলামতের পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কোতোয়ালি ডিভিশন সিদ্দিকবাজার কাস্টমস এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট এর নিকট হস্তান্তর করা হয়।’ তিনি আরও বলেন, ‘চোরাচালান রোধে কোস্ট গার্ড ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত রাখবে।’
গ্যালারি ভর্তি হাজার হাজার দর্শকের উপস্থিতিতে মাগুরা জেলা প্রশাসক গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট-২০২৬-এর ফাইনালে মহম্মদপুর উপজেলা একাদশকে ২-১ গোলে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে মাগুরা পৌরসভা একাদশ। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) বিকেলে মাগুরা জেলা স্টেডিয়ামে দীর্ঘদিন পর গ্যালারিতে প্রায় ৭ হাজার দর্শক টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলা উপভোগ করেছে।
জেলা প্রশাসক ও জেলা ক্রীড়া সংস্থার সভাপতি মোতাকাব্বীর আহমেদের সভাপতিত্বে ফাইনাল খেলার উদ্বোধন করেন মাগুরা-১ আসনের সংসদ সদস্য মনোয়ার হোসেন খান।
ফাইনাল খেলার প্রথমার্ধে মাগুরা পৌরসভা একাদশের পক্ষে সিফাত ও বাপ্পি একটি করে দুটি গোল করেন। অন্যদিকে মহম্মদপুর উপজেলা একাদশের পক্ষে একমাত্র গোলটি করেন তারিকুল। ফাইনাল ম্যাচে সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হয় চ্যাম্পিয়ন দলের শাহরিয়ার বাপ্পি।
খেলা শেষে চ্যাম্পিয়ন ও রানার্সআপ দলের খেলোয়াড়দের হাতে পুরস্কার তুলে দেন বিভাগীয় কমিশনার আব্দুল্লাহ হারুন। মাগুরা জেলা প্রশাসক মোতাকাব্বীর আহমেদ, পুলিশ সুপার মোল্লা আজাদ হোসেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) আব্দুল কাদের, পৌর প্রশাসক আরিফুল ইসলাম সরদার, ক্রিড়া সংস্থার সদস্য সচিব রুবায়েত হোসেন খানসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
এ সময় বিভাগীয় কমিশনার আব্দুল্লাহ হারুন বলেন, ‘বর্তমান সরকারের উদ্যোগের অংশ হিসেবে তৃণমূল পর্যায় থেকে প্রতিভাবান খেলোয়াড় বাছাই এবং জাতীয় পর্যায়ের খেলোয়াড় গড়ে তোলার লক্ষ্যে এ টুর্নামেন্টের আয়োজন করা হয়েছে। এ ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকবে।’
টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলাকে ঘিরে জেলা স্টেডিয়ামে সংস্কৃতিক পরিবেশনা উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি করে। আয়োজকদের পক্ষ থেকে দর্শকদের মাঝে ১৫টি ফুটবল পুরস্কার দেওয়া হয়।
ভোরের কুয়াশা চিরে যখন পাহাড়ি টিলার বুক চিরে আলো ফোটে, তখন হাতছানি দেয় চিরহরিৎ এক মায়াবী রূপ। পিঠে ঝুড়ি আর আঙুলের নিখুঁত টানে ‘দুটি পাতা একটি কুঁড়ি’ তোলার দৃশ্য দেখে পর্যটকের ক্যামেরার ফ্রেম হয়তো মোহগ্রস্ত হয়; কিন্তু সেই সবুজের গহীন আড়ালে লুকিয়ে থাকে শতবর্ষের নীরব দীর্ঘশ্বাস আর বঞ্চনার নির্মম এক বাস্তবতা।
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার ফুলবাড়ী, চাম্পারায়, পাত্রখোলা কিংবা মাধবপুর—সব বাগানের চিত্রনাট্য প্রায় একই সূত্রে গাঁথা। সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত বিরতিহীন শ্রম, রোদ-বৃষ্টি-কাদার সাথে লড়াই। অথচ দিনশেষে হাতে ওঠে মাত্র ১৭৮ টাকার নামমাত্র মজুরি। নিত্যপণ্যের ঊর্ধ্বগতির এই যুগে ১৭৮ টাকায় একবেলার সদা মেটানোই যেখানে অসম্ভব, সেখানে পুরো পরিবারের অন্নসংস্থান চা শ্রমিকদের কাছে যেন এক অলৌকিক টিকে থাকার লড়াই।
দুপুরের চড়া রোদে যখন শরীর নুয়ে পড়ে, তখন বাগানের ছায়ায় বসে শ্রমিকদের আহারের চিত্রটি দেশের চা-শিল্পের আসল কঙ্কালসার রূপটি উন্মোচন করে। কারো পলিথিনের পুটুলিতে পান্তা ভাত, কারো মোটা আটার শুকনো রুটি। তরকারি কেনা যেখানে বিলাসিতা, সেখানে ভাতের সঙ্গী হয় চা-গাছের কচি পাতা বেটে তৈরি ঝাল মিশ্রণনস্থানীয় ভাষায় যা ‘পাতিচখা’ বা পাতা চাটনি। কচি চা পাতা, পোড়া আলু, কাঁচামরিচ ও পেঁয়াজের সাথে সামান্য চানাচুর মিশিয়ে ক্ষুধা নিবারণ করেন তারা।
শ্রমিক গীতা মাদ্রাজী বলছিলেন, ডাল-তরকারি তো দূরের স্বপ্ন, চাল জোগাড় করতেই প্রাণ যায়। রুটির সাথে গাছের পাতা আর মরিচ চটকে পেট ভরিয়ে আবার কাজে নামি। এই আমাদের জীবন।
কমলগঞ্জের ২২টি বাগানের আধুনিক চা-শিল্প দাঁড়িয়ে আছে মূলত এই শ্রমিকদের হাড়ভাঙা খাটুনির ওপর। অথচ মান্ধাতা আমলের বসতবাড়ি, ভঙ্গুর স্যানিটেশন আর নামমাত্র চিকিৎসা নিয়ে প্রজন্মের পর প্রজন্ম এই মাটির বুকেই আবদ্ধ হয়ে আছেন তারা।
এ বিষয়ে বাগান ব্যবস্থাপকরা শ্রমিকদের কঠোর জীবনের কথা স্বীকার করেন।
চাম্পারায় চা বাগানের ব্যবস্থাপক রাহেল রানা জানান, শ্রমিকদের জীবনযাত্রা অত্যন্ত কষ্টসাধ্য এবং তাদের মানোন্নয়নে কাজ চলমান রয়েছে।
কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সন্দ্বীপ তালুকদার জানান, স্থানীয় প্রশাসন সবসময় শ্রমিকদের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে এবং অসুস্থতাসহ জরুরি প্রয়োজনে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়।
পর্যটকদের কাছে যা চোখজুড়ানো সবুজ স্বর্গ, চা শ্রমিকদের কাছে তা ঘাম আর বঞ্চনার এক অদৃশ্য খাঁচা। ‘দুটি পাতা একটি কুঁড়ি’র অর্থনীতি চাঙা থাকলেও ১৭৮ টাকার মজুরিতে আজও বদলায়নি তাদের নুন-ভাতের ভাগ্য।
বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে শহীদ আবু সাঈদ গেটের নির্মাণকাজের উদ্বোধন করেছেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু।
শুক্রবার (৯ অক্টোবর) বিকেল ৩টায় বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এ নির্মাণকাজের উদ্বোধন করেন তিনি।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু বলেছেন, আবু সাঈদ গণতান্ত্রিক আন্দোলনের প্রতিকৃতি। তার আত্মদানের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলন টার্নিং পয়েন্টে পৌঁছেছিল। আবু সাঈদের পাশাপাশি সারা দেশে প্রায় এক হাজার ৪০০ জন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ আত্মদান করেছেন। তাদের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে দীর্ঘ স্বৈরশাসনের পতন হয়েছে। রংপুরের সন্তান আবু সাঈদের জন্য এ অঞ্চলের মানুষ গর্ববোধ করেন।
দুলু বলেন, আবু সাঈদের স্মৃতি ধরে রাখতে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রবেশমুখে আবু সাঈদ গেট নির্মাণের উদ্যোগ একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ। ভবিষ্যতে এই পথ দিয়ে চলাচলকারী মানুষ গেটটি দেখে তার আত্মত্যাগের কথা জানতে পারবেন। জুলাইয়ে আত্মদানকারীদের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে বর্তমান সরকার একটি মানবিক, গণতান্ত্রিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে কাজ করছে।
উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বেরোবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শওকাত আলীর সভাপতিত্বে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শহীদ আবু সাঈদের বাবা মো. মকবুল হোসেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সদস্য অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ-আল-মামুন। এছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
মাত্র ১০ মিনিটের তাণ্ডব! আর তাতেই লণ্ডভণ্ড হয়ে গেল কয়েক হাজার বিঘা জমির শত শত কৃষকের হাড়ভাঙা খাটুনির ফসল কলা আর পেঁপে বাগান। টাঙ্গাইলের মধুপুরের পাহাড়ি অঞ্চলে হঠাৎ এক আকস্মিক ঝড়ো হাওয়া ও ঘূর্ণিঝড় আঘাত হেনেছে গত বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বিকেলে। তাতেই ঝড়ের তীব্র বাতাসে মুহূর্তেই মাটিতে লুটিয়ে পড়েছে বিঘার পর বিঘা কলা ও পেঁপের বাগান।
কৃষি বিভাগ বলছে, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে প্রায় ১০০ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। স্থানীয় সংসদ সদস্য ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী দেশের বাইরে রাষ্ট্রীয় সফরে থাকায় তার পক্ষে মধুপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি জাকির হোসেন সরকারসহ বিএনপির একটি প্রতিনিধিদল বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করে কৃষকদের সাথে দেখা করে তাদের সাথে কথা বলেছে।
সরেজমিনে শোলাকুড়ি ইউনিয়নের জয়না গাছা, হরিনধরা, গাবগাইছাসহ বিভিন্ন গ্রামে গিয়ে কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, মধুপুর উপজেলার শোলাকুড়ি, অরণখোলা, ফুলবাগচালা ও কুড়াগাছা ইউনিয়নের প্রায় ৬০টি গ্রামে এভাবেই ১০ মিনিটের আকস্মিক ঝড়ে কলার বাগান বিধ্বস্ত হয়ে গেছে। হঠাৎ তীব্র ঝড়ে প্রায় ৭০০ কৃষকের অতি কষ্টে চাষ করা কলা ও পেঁপের বাগান ধ্বংস হয়ে গেছে। ধারদেনা করে আবাদ করা ফসলের ক্ষতিতে দিশেহারা হয়ে পড়েছে কৃষকরা।
স্থানীয়রা জানান, ঝড়ের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে ফলন্ত কলাগাছগুলোর মাজা ভেঙে গেছে, কোথাও বা পুরো গাছ উপড়ে পড়েছে। চাষিরা এখন চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন শেষে মধুপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি জাকির হোসেন সরকার বলেন, ‘ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী রাষ্ট্রীয় কাজে দেশের বাইরে থাকার কারণে তিনি আসতে পারেনি।’ তাকে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করার নির্দেশ দিয়েছেন। ফলে সভাপতি জাকির হোসেন সরকার তার দলের নেতা-কর্মীদের নিয়ে বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিদর্শন করেন।
জাকির হোসেন সরকার আরও বলেন, ‘কয়েকটি ইউনিয়নে হঠাৎ কয়েক মিনিটের ঝড়ে অনেক ক্ষতি হয়েছে।’ এ সময় তিনি কৃষকদের সাথে কথা বলে তাদের সমবেদনা জানান।
শোলাকুড়ি ইউপি সদস্য খোকন মিয়া (৫০) জানান, প্রচুর পরিমাণে কৃষকের ক্ষতি হয়েছে। কোনো জমিতেই খাড়া গাছ নাই। কৃষক দিশেহারা হয়ে পড়েছে।
হরিণধরা গ্রামের কৃষক নূর মুহাম্মদ (৪৫) জানান, পেঁপে দুই বিঘা, লাউ পাঁচ বিঘা জমির ফসল একেবারে নষ্ট হয়েছে। তার অনেক টাকার ক্ষতি হয়েছে।
গাবগাইছা গ্রামের কৃষক আবেদ আলী (৫৮) জানান, তার ১৭০০ কলাগাছ ঝড়ে বিধ্বস্ত হয়ে মাটিতে পড়ে গেছে। তার ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৮ লাখ টাকার মতো হবে বলে জানান এই কৃষক।
একই গ্রামের কৃষক জিয়াউল হক (৪৮) বলেন, ‘তার ৫০ বিঘা জমির কলাসহ গাছ ভেঙে গেছে।’ হঠাৎ ঝড়ে এমন ক্ষতি তিনি দিশেহারা হয়ে পড়েছে। তার পেঁপে-কলা নিয়ে প্রায় এক কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে তিনি মনে করছেন।
আরেক কৃষক আব্দুস ছাত্তার (৩৫) জানান, তার ৭ হাজার কলাগাছ, ৩ হাজার পেঁপে বৃহস্পতিবারের (৮ অক্টোবর) ঝড়ে একদম ভেঙে পড়েছে। তার ক্ষতির পরিমাণ ধারণা করছে প্রায় ৭৫ লাখ টাকার মতো।
শুধু নূর মোহাম্মদ, আব্দুস ছাত্তার, জিয়াউল হকই নয়, ছোট-বড় প্রায় ৭ কৃষকের আবাদি কলা-পেঁপে ঝড়ে নষ্ট হয়েছে।
কৃষকরা তাদের ধারদেনা ঋণ নিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছে। কী দিয়ে এবার ঋণ পরিশোধ করবে?
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা বলছে, কলাচাষিদের কাছে এই ক্ষতি শুধু কিছু গাছের মৃত্যু নয়, এর সাথে মিশে ছিল তাদের পুরো পরিবারের বেঁচে থাকার স্বপ্ন ও ধারদেনার হিসাব। ধারদেনা ও চড়া সুদে ঋণ নিয়ে করা এই চাষ মুহূর্তের মধ্যে শেষ হয়ে যাওয়ায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন স্থানীয় হাজারো কৃষক। ক্ষতিগ্রস্ত চাষিদের দাবি, সরকারিভাবে দ্রুত সহায়তা ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা না করা হলে, এই বিপুল ক্ষতি কাটিয়ে আবার ঘুরে দাঁড়ানো তাদের পক্ষে অসম্ভব হয়ে পড়বে।
মধুপুর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা এবিএম খায়রুল ইসলাম বলেন, ‘বৃহস্পতিবার থেকে কৃষি বিভাগ ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করে যাচ্ছে। কৃষকের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরুপণ করতে কাজ করে যাচ্ছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে মধুপুরে প্রায় ১০০ কোটি টাকার কৃষি ফসলের ক্ষতি হয়েছে।
মধুপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মমতাজ বেগম বলছে, এ ঝড়ে ৭০০ কৃষকের কলা-পেঁপেসহ অন্যান্য ফসলের ক্ষতি হয়েছে। কৃষকদের তালিকা করা হচ্ছে সরকারি সহযোগিতা পেলে কৃষকদের মাঝে বিতরণ করা হবে।
এমন ক্ষতিতে সার-বীজ ও পরিচর্যা করতে গিয়ে তাদের ধারদেনা ব্যাংক ঋণ নিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছে। তাদের ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে সুদমুক্ত ঋণ ও সরকারি সহযোগিতা চান কৃষকরা।
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের প্রয়াত প্রধান সম্পাদক তৌফিক ইমরোজ খালিদীর জানাজা ও দাফনের চূড়ান্ত সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়েছে। শনিবার (১০ অক্টোবর) রাজধানীর বনানীর ওল্ড ডিওএইচএস খেলার মাঠে তাঁর জানাজা অনুষ্ঠিত হবে এবং এরপর মিরপুরের শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে তাঁকে সমাহিত করা হবে।
লন্ডন থেকে শনিবার (১০ অক্টোবর) সকালে তৌফিক ইমরোজ খালিদীর মরদেহ দেশে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। বিমানবন্দর থেকে মরদেহ প্রথমে তাঁর বাসভবনে নেওয়া হবে, যেখানে পরিবারের সদস্য ও স্বজনেরা তাঁকে শেষ বিদায় জানাবেন।
পরবর্তীতে সর্বসাধারণের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত মরদেহ বনানীর ওল্ড ডিওএইচএস খেলার মাঠে রাখা হবে। বিকেল ৩টায় সেখানেই তাঁর জানাজা অনুষ্ঠিত হবে এবং জানাজা শেষে বিকেল ৫টায় মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন হবে।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) পূর্ব লন্ডনের ব্রিকলেইন মসজিদে তাঁর প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে স্থানীয় বাংলাদেশি কমিউনিটি ও সাবেক সহকর্মীরা অংশ নেন। জানাজা শেষে পরিবার ও প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে তাঁর ছেলে রাদ শারার খালিদী জানান, তাঁর বাবা সাংবাদিকতায় সবসময় সততা, সততা ও বস্তুনিষ্ঠতার নীতি বজায় রেখে চলতেন এবং পেশাগত জীবনে নানান প্রতিকূলতার মুখোমুখি হলেও আদর্শের সঙ্গে কখনো আপস করেননি।
উল্লেখ্য, ব্যক্তিগত সফরে লন্ডনে অবস্থানকালে গত ১ অক্টোবর রাতে তৌফিক ইমরোজ খালিদী হঠাৎ মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণজনিত সমস্যায় আক্রান্ত হন। দ্রুত লন্ডনের সেন্ট বার্থোলোমিউস হাসপাতালে ভর্তি করা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২ অক্টোবর দুপুর ২টা ২৩ মিনিটে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
ময়নামতি রানীর বাংলো পেরোলেই চোখে পড়ে চারা উৎপাদনকারীদের কর্মব্যস্ততা। কাকডাকা ভোর থেকে শুরু হয় বীজতলা তৈরি, চারার পরিচর্যা, পানি দেওয়া ও বিক্রির কাজ। দুপুরে কিছুটা বিরতি থাকলেও বিকেল গড়াতেই আবার শুরু হয় ব্যস্ততা। শীতের আগমুহূর্তে চারা বিক্রির মৌসুম জমে ওঠায় এখন দিন-রাতের বেশির ভাগ সময়ই মাঠে কাটছে কৃষকদের।
এমন দৃশ্য কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার সমেশপুরের। এ গ্রামের সবজির চারা এখন যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। ছয় দশকের বেশি সময় ধরে এ এলাকায় চলে আসছে সবজির চারা উৎপাদন। চলতি মৌসুমে প্রায় ১৫ থেকে ২০ একর জমিতে উৎপাদিত চারা বিক্রি করে ৫০ কোটি টাকার বাণিজ্যের লক্ষ্যমাত্রা ধরেছেন চাষিরা। তবে সম্ভাবনাময় এ খাতে সেচ সংকট, বর্ষায় জলাবদ্ধতা, মানসম্মত বীজ ও মাটি পরীক্ষার সুযোগের অভাবসহ নানা সমস্যায় ভুগছেন তারা।
এই জনপদে উৎপাদিত হচ্ছে ফুলকপি, বাঁধাকপি, টমেটো, বেগুন, মরিচ, শিম, লাউ, কুমড়া ও ব্রকলিসহ অন্তত ২৩ ধরনের সবজির চারা। এক দফা চারা বিক্রি শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই শুরু হয় নতুন করে বীজ বপনের প্রস্তুতি।
সরেজমিনে দেখা গেছে, মাঠজুড়ে কেউ চারায় পানি দিচ্ছেন, কেউ চারা তুলছেন, আবার কেউ ব্যস্ত ক্রেতাদের সঙ্গে দরদামে। দূরদূরান্ত থেকে আসা ক্রেতাদের গাড়িতে চারা তুলে দিচ্ছেন চাষিরা। পলিথিনে ঢাকা ছোট ছোট তাবুর ভেতর মাচার ওপর সারিবদ্ধ ট্রেতে কোকোপিটে বেড়ে উঠছে নানা জাতের সবজির চারা।
চারা উৎপাদনকারী আবদুল কুদ্দুস বলেন, ‘১৯৬৬ সাল থেকে সমেশপুরে সবজির চারা উৎপাদন হয়ে আসছে। এখানকার চারা দেশের অন্তত ৩৪টি জেলায় যায়। গ্রামের প্রায় দেড়শ পরিবার চারা উৎপাদন ও বিক্রির সঙ্গে জড়িত।’
আরেক চারা উৎপাদনকারী জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, ‘চলতি মৌসুমে অন্তত ৫০ কোটি টাকার চারা বিক্রির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চারা উৎপাদন ও বিক্রিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন চাষিরা।’
চাষি মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘বুড়িচংয়ে ধানের পর চারা উৎপাদন থেকেই কৃষকদের অন্যতম বেশি আয় হয়। কিন্তু কৃষি অফিস থেকে তারা তেমন কোনো সুযোগ-সুবিধা পান না। বিশেষ করে ভালো বীজ ও মাটি নিয়ে গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে।’ সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পাওয়া গেলে চারা উৎপাদন আরও বিস্তৃত করা সম্ভব বলে জানান তিনি।
চাষিরা জানান, এখন চারা বিক্রির মূল মৌসুম। অথচ এ সময়েই দেখা দিয়েছে সেচের সংকট। আবার বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয় চারা উৎপাদন। মানসম্মত বীজ ও সার সংগ্রহের পাশাপাশি মাটি পরীক্ষা নিয়েও রয়েছে নানা জটিলতা। এসব সমস্যা সমাধানে কৃষি বিভাগের কাছ থেকে কাঙ্ক্ষিত সহযোগিতা না পাওয়ার অভিযোগও তাদের।
সমেশপুরের কৃষকদের সমস্যাগুলো শুনেছেন জানিয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোছা. আফরিন আক্তার বলেন, ‘চারা উৎপাদনকারীদের সমস্যাগুলো ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।’ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ারও আশ্বাস দেন তিনি।
স্থানীয়রা জানান, বুড়িচং উপজেলায় ধানের পর কৃষকদের আয়ের অন্যতম বড় উৎস সবজির চারা উৎপাদন ও বিক্রি। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা, আধুনিক প্রযুক্তি ও প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা গেলে সমেশপুরের চারা উৎপাদন আরও সম্প্রসারিত হবে। এতে কৃষকদের আয় বাড়ার পাশাপাশি দেশের সবজি উৎপাদনেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এ জনপদ।
বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তে বিজিবির নজরদারি ও অপারেশনাল সক্ষমতা আরও জোরদারের লক্ষ্যে বান্দরবানের আলীকদম উপজেলার কুরুকপাতা ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী এলাকায় নবনির্মিত ‘ছোট আগলা টিওবি’ উদ্বোধন করা হয়েছে।
শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সকালে বিজিবির কক্সবাজার রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল কাজী সামশের উদ্দীন নবনির্মিত এ টিওবিটির উদ্বোধন করেন।
বিজিবির কক্সবাজার রিজিয়ন ও রামু সেক্টরের অধীনস্থ রামু ব্যাটালিয়ন (৩০ বিজিবি) দায়িত্বপূর্ণ বান্দরবানের আলীকদম উপজেলার কুরুকপাতা ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী ছোট আগলা এলাকায় এই টিওবি’র নির্মাণকাজ সম্পন্ন করে। সীমান্তের নিকটবর্তী এ স্থাপনা থেকে চোরাচালান ও অবৈধ অনুপ্রবেশ প্রতিরোধ, সীমান্তে কার্যকর নজরদারি এবং অন্যান্য আভিযানিক কার্যক্রম আরও দক্ষতার সঙ্গে পরিচালনা করা সম্ভব হবে।
উদ্বোধনকালে রিজিয়ন কমান্ডার টিওবি’র দায়িত্বপ্রাপ্ত বিজিবি সদস্যদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। অনুষ্ঠানে বিজিবি রামু সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার কর্নেল মো. আনোয়ার-উল-আলম, কক্সবাজার রিজিওনের পরিচালক (অপারেশন) লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মফিজুর রহমান ভূঁইয়া, রামু বব্যাটালিয়ন (৩০ বিজিবি) এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল ইমরুল কায়েস মেহেদী, সহকারী পরিচালক মো. কবির হোসেন এবং বিজিবির অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, সীমান্ত থেকে বিদ্যমান বিওপিগুলোর দূরত্বের কারণে এ এলাকায় নজরদারি ও আভিযানিক কার্যক্রম পরিচালনায় কিছুটা চ্যালেঞ্জ ছিল। নতুন টিওবি স্থাপনের ফলে সীমান্তে বিজিবির উপস্থিতি বৃদ্ধি এবং দ্রুত প্রতিক্রিয়া সক্ষমতা আরও জোরদার হবে। পাশাপাশি স্থানীয় জনগণের নিরাপত্তা ও আস্থাও বৃদ্ধি পাবে।
কিশোরগঞ্জের হাওর উপজেলা অষ্টগ্রামে অত্যন্ত ভাবগাম্ভীর্যপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে পূর্ব অষ্টগ্রাম পীর সাহেব বাড়ি জামে মসজিদ, মাদ্রাসা ও খানকা শরীফের তিনতলা নতুন ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছে।
শুক্রবার (৯ অক্টোবর) জুমার নামাজের পর ওই মসজিদের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়। এ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে অত্র দরবার শরীফের গদিনশীন পীর আলহাজ ফজলুল করিম উপস্থিত থেকে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর সুখ, শান্তি এবং সার্বিক মঙ্গল কামনা করে বিশেষ মোনাজাত পরিচালনা করেন।
ওই অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, পবিত্র আল-কোরআনের কাব্য অনুবাদকারী আলহাজ মোহাম্মদ তৈয়ব আলী ও আলহাজ শাফিউদ্দিন সরদার।
এ সময় এলাকার বিভিন্ন গণ্যমান্য ব্যক্তিরা, স্থানীয় মুরুব্বি এবং ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা উপস্থিত ছিলেন।