ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপে ১৫৬টি উপজেলায় ভোটগ্রহণ শেষ হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত চলে ভোটগ্রহণ। ভোট গণনা শেষে রাতে নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশ করেন রিটার্নিং কর্মকর্তারা। সারা দেশের প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর থেকে জানা যায়-
ফরিদপুর
উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপে ফরিদপুরের নগরকান্দা ও সালথা উপজেলায় ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। নগরকান্দা উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপ-কমিটির সাবেক সহসম্পাদক কাজী শাহ জামান বাবুল। আনারস প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ৩৭ হাজার ২০৯ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মোটরসাইকেল প্রতীকের প্রার্থী বর্তমান উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মনিরুজ্জামান সরদার পেয়েছেন ২৫ হাজার ২৩৭ ভোট।
অন্যদিকে সালথা উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে বর্তমান চেয়ারম্যান ওয়াদুদ মাতুব্বর বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। আনারস প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ৩৫ হাজার ৫৪৫ ভোট তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী সালথা উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও মোটরসাইকেল প্রতীকের প্রার্থী মো. ওহিদুজ্জামান পেয়েছেন ৫ হাজার ৩৪২ ভোট।
নারায়ণগঞ্জ
উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপে নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলায় ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম। ঘোড়া প্রতীকে তিনি পেয়েছেন এক লাখ ১৫ হাজার ২৫২ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী দোয়াত কলম প্রতীকের প্রার্থী মো. শাহজালাল মিয়া পেয়েছেন ১৩ হাজার ১৩২ ভোট।
বিজয়ী মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম আড়াইহাজার উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সদস্য। তিনি কালাপাহাড়িয়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান। অন্যদিকে তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মো. শাহজালাল মিয়া আড়াইহাজার উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া
দ্বিতীয় ধাপের উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা ও আখাউড়ায় উপজেলায় ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। কসবা উপজেলায় আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের ফুফাতো ভাই ছাইদুর রহমান ও আখাউড়ায় মোগড়া ইউনিয়ন পরিষদের তিনবারের সাবেক চেয়ারম্যান মনির হোসেন বেসরকারিভাবে চেয়ারম্যান নির্বাাচিত হয়েছেন।
ঘোষিত ফলাফল অনুযায়ী, কসবা উপজেলায় ছায়েদুর রহমান স্বপন কাপ-পিরিচ প্রতীকে ৮৬ হাজার ৬৯৮ ভোট পেয়ে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও কুটি ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ছিলেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বর্তমান উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের সাবেক সহকারী একান্ত সচিব রাশেদুল কাউসার ভূইয়া আনারস প্রতীকে পেয়েছেন ৩৯ হাজার ৯৫৯ ভোট।
অন্যদিকে আখাউড়া উপজেলায় মনির হোসেন ঘোড়া প্রতীকে ২৮ হাজার ৩০৯ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি উপজেলা যুবলীগের সাবেক আহ্বায়ক ও মোগড়া ইউনিয়ন পরিষদের তিনবারের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান আনারস প্রতীকে পেয়েছেন ১৪ হাজার ৫৬৩ ভোট।
রাঙামাটি
ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপে রাঙামাটির রাজস্থলী, কাপ্তাই ও বিলাইছড়ি উপজেলায় শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। রাজস্থলী উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি উবাচ মারমা আনারস প্রতীকে ৭ হাজার ৭৫ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মো. রিয়াজ উদ্দীন রানা দোয়াত কলম প্রতীকে পেয়েছেন ২ হাজার ১৮ ভোট।
অন্যদিকে কাপ্তাই উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে উপজেলা যুবলীগের সভাপতি মো. নাছির উদ্দিন দোয়াত কলম প্রতীকে ৭ হাজার ৩৬২ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও সাবেক ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আনোয়ারুল ইসলাম চৌধুরী আনারস প্রতীকে পেয়েছেন ৬ হাজার ৯৭৩ ভোট।
অপরদিকে বিলাইছড়ি উপজেলায় মোট ১৩টি কেন্দ্রের মধ্যে ৫টি হেলিসর্টি ভোটকেন্দ্র রয়েছে। দুর্গম এলাকা হওয়ায় রাত সাড়ে ৯টা পর্যন্ত ফলাফল না আসায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কোনো ফলাফল ঘোষণা করেননি। তবে বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা যায়, পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (জেএসএস) সমর্থিত দোয়াত কলম প্রতীকের বিরোত্তম তঞ্চঙ্গ্যা চেয়ারম্যান পদে বিজয়ী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
লালমনিরহাট
লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ ও আদিতমারী উপজেলায় উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপে ভোটগ্রহণ শেষ হয়েছে। দুই উপজেলায় মধ্যে আদিতমারী উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে ফারুক ইমরুল কায়েস ও কালীগঞ্জ উপজেলায় জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক রাকিবুজ্জামান আহমেদ বিজয়ী হয়েছেন।
রাত সাড়ে ৯টার দিকে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা লুৎফর কবির তাদেরকে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত ঘোষণা করেন।
আদিতমারী উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে ফারুক ইমরুল কায়েস মোটরসাইকেল প্রতীকে পেয়েছেন ৩৩ হাজার ১৩৫ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রফিকুল আলম আনারস প্রতীকে পেয়েছেন ২৯ হাজার ১৮টি ভোট
কালীগঞ্জ উপজেলায় সাবেক সমাজকল্যাণমন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদের ছেলে রাকিবুজ্জামান আহমেদ আনারস প্রতীকে পেয়েছেন ২৪ হাজার ৩০৩ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী তার চাচা উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মাহবুবুজ্জামান আহমেদ ঘোড়া প্রতীকে পেয়েছেন ১৯ হাজার ৩৫০ ভোট।
পিরোজপুর
ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে দ্বিতীয় ধাপে পিরোজপুর জেলার দুই উপজেলায় শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। মঙ্গলবার পিরোজপুরের নেছারাবাদ ও কাউখালী উপজেলার ১৫টি ইউনিয়নের মোট ১২২টি ভোটকেন্দ্রে ইভিএম পদ্ধতিতে এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
কাউখালী উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে মো. আবু সাঈদ মিঞা ও নেছারাবাদ উপজেলায় আব্দুল হক নির্বাচিত হয়েছেন। রাতে নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা সৈয়দ শফিকুল হক বেসরকারিভাবে তাদের বিজয়ী ঘোষণা করেন।
নেছারাবাদ উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে আব্দুল হক আনারস প্রতীকে ৩৮ হাজার ৬১২ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী এস এম মুইদুল ইসলাম মোটরসাইল প্রতীকে পেয়েছেন ৩৫ হাজার ৫২০ ভোট।
অন্যদিকে কাউখালী উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে মো. আবু সাঈদ মিঞা ঘোড়া প্রতীকে ১১ হাজার ২৮৪ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মো. মনিরুজ্জামান তালুকদার পল্টন কাপ-পিরিচ প্রতীকে পেয়েছেন ৬ হাজার ২৯৪ ভোট।
ঝালকাঠি
উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপে ঝালকাঠি সদর ও নলছিটি উপজেলায় ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ঝালকাঠি সদর উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান ও ঝালকাঠি জেলা আওয়ামী লীগ সহ-সভাপতি খান আরিফুর রহমান। আনারস প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ৩৩ হাজার ৯৪৩ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী দোয়াত কলম প্রতীকের প্রার্থী মো. সুলতান খান পেয়েছেন ২৫ হাজার ৯৭১ ভোট।
অন্যদিকে নলছিটি উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মো. সালাউদ্দিন খান সেলিম বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। মোটরসাইকেল প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ২৩ হাজার ৯৩৯ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাবেক মেয়র তছলিম উদ্দিন চৌধুরী আনারস প্রতীকে পেয়েছেন ১৬ হাজার ৭৮৪ ভোট।
বাগেরহাট
উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপে বাগেরহাটে ফকিরহাট, মোল্লাহাট,ও চিতলমারী উপজেলায় ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ফকিরহাট উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন শেখ ওহিদুজ্জামান বাবু। মোটরসাইকেল প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ৪৬ হাজার ৬৫৪ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আনরস প্রতীকের প্রার্থী বর্তমানে উপজেলা চেয়ারম্যান স্বপন দাস পেয়েছেন ২৯ হাজার ৪৩৭ ভোট। এ উপজেলায় ভোট কাস্ট হয়েছে ৬২.৫০ শতাংশ।
চিতলমারী উপজেলার চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হয়েছেন মো. আলমগীর হোসেন সিদ্দিকী। দোয়াত কলম প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ৩৪ হাজার ৮৮৬ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বর্তমান উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও বাগেরহাট জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি অশোক কুমার বড়াল মোটরসাইকেল প্রতীকে পেয়েছেন ২২ হাজার ৭৬৩ ভোট। এ উপজেলায় ভোট কাস্ট হয়েছে ৪৫.৭৫ শতাংশ।
অন্যদিকে মোল্লাহাট উপজেলার চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হয়েছেন বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শাহিনুর আলম ছানা। দোয়াত কলম প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ২৯ হাজার ৯০২ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বর্তমান উপজেলা শেখ নাসির উদ্দীন আনারস প্রতীকে পেয়েছেন ১৯ হাজার ৯৫৪ ভোট। এ উপজেলায় ভোট কাস্ট হয়েছে ৫৩.৭৭ শতাংশ। জেলায় গড় ভোট কাস্টিং হয়েছে ৫৪ শতাংশ।
যশোর
দ্বিতীয় ধাপের উপজেলা নির্বাচনে যশোরের ঝিকরগাছা, শার্শা ও চৌগাছা উপজেলায় ভোটগ্রহণ করা হয়েছে। ভোটগ্রহণ শেষে রাতে বেসরকারিভাবে ফলাফল ঘোষণা করেন উপজেলাগুলোর দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তারা।
চৌগাছা উপজেলা চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হয়েছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা এসএম হাবিবুর রহমান। আনারস প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ৩৩ হাজার ৫৬৫ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ ড. মোস্তানিছুর রহমান পেয়েছেন ২৮ হাজার ৯৮০ ভোট।
নির্বাচনের সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও চৌগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুম্মিতা সাহা রাত সাড়ে ৯টায় এ ফলাফল ঘোষণা করেন।
ঝিকরগাছা উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হয়েছেন বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. মনিরুল ইসলাম। আনারস প্রতীকে মনিরুল ইসলাম পেয়েছেন ৪০ হাজার ৬৪৩ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী সেলিম রেজা ঘোড়া প্রতীকে পেয়েছেন ১৮ হাজার ৪৪৩ ভোট।
অন্যদিকে শার্শা উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে মো. সোহরাব হোসেন দোয়াত কলম প্রতীক নিয়ে ৩৭ হাজার ৫৭০ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মো. অহিদুজ্জামান আনারস প্রতীকে পেয়েছেন ১২ হাজার ২৯১ ভোট।
রাজশাহী
দ্বিতীয় ধাপে রাজশাহীর বাগমারা, দুর্গাপুর ও পুঠিয়া উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বাগমারা উপজেলায় বেসরকারিভাবে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন জাকিরুল ইসলাম সান্টু। তিনি ঘোড়া প্রতীকে পেয়েছেন ৪৭ হাজার ৩২২ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আব্দুর রাজ্জাক সরকার ওরফে আর্ট বাবু পেয়েছেন ৪ হাজার ৩২১ ভোট।
পুঠিয়া উপজেলায় বেসরকারিভাবে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন আবদুস সামাদ মোল্লা। তিনি আনারস প্রতীকে পেয়েছেন ২৬ হাজার ৬৬৫ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আহসানুল হক মাসুদ ঘোড়া প্রতীকে পেয়েছেন ২৩ হাজার ৬৭৯ ভোট।
অন্যদিকে দুর্গাপুর উপজেলায় বেসরকারিভাবে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন শরীফুজ্জামান শরীফ। তিনি মোটরসাইকেল প্রতীকে পেয়েছেন ৪২ হাজার ১১৩ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আব্দুল মজিদ সরদার পেয়েছেন ২৭ হাজার ৩৩২ ভোট।
সাতক্ষীরা
ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপে সাতক্ষীরার আশাশুনি, তালা ও দেবহাটা উপজেলায় ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আশাশুনি উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও বর্তমান উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এবিএম মোস্তাকিম বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি চিংড়ি প্রতীকে পেয়েছেন ৫১ হাজার ৬৬২ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী শাহনেওয়াজ ডালিম ঘোড়া প্রতীকে পেয়েছেন ৫০ হাজার ৭০৭ ভোট।
অপরদিকে সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলা নির্বাচনে মো. আল ফেরদাউস বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি হেলিকপ্টার প্রতীকে ২৬ হাজার ৩৭৭ ভোট পেয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মো. মজিবুর রহমান মোটরসাইকেল প্রতীকে পেয়েছেন ১৭ হাজার ১৫২ ভোট।
এ ছাড়া সাতক্ষীরার তালা উপজেলা নির্বাচনে ঘোষ সনৎ কুমার বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি কাপ পিরিচ প্রতীকে ৪৬ হাজার ৪৫৮ ভোট পেয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী সরদার মশিয়ার চিংড়ি প্রতীকে পেয়েছেন ৩২ হাজার ৪১৩ ভোট।
টাঙ্গাইলের বাসাইলে লাঙ্গুলিয়া নদীর ওপর নির্মিত কাঠের সাঁকো এলাকাবাসীদের যাতায়াতের একমাত্র ভরসা। কিন্তু উপজেলার খাটরা গ্রামে কাঠের সাঁকোটি বর্তমানে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে গেছে। যার ফলে ১৫-২০টি গ্রামের হাজার হাজার মানুষ ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করছে। স্বাধীনতার ৫৪ বছর হয়ে গেলেও এ নদীর ওপর একটি ব্রিজ নির্মাণ করা হয়নি বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়,সাঁকো দিয়ে পায়ে হেঁটে যাতায়াত সম্ভব হলেও যানবাহন চলাচল করছে ঝুঁকি নিয়ে। যেকোন সময় ঘটে যেতে পারে দুর্ঘটনা।উৎপাদিত খাদ্যশস্য, কৃষিপণ্যসহ বিভিন্ন কাঁচামাল বাজারজাতকরণে ব্যাপক দুর্ভোগ পোহাতে হয়।নির্বাচন আসলে অনেকেই প্রতিশ্রুতি দেয় ব্রিজ করে দেবে,নির্বাচন গেলে আর খোঁজ থাকে না বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
জানা যায়,বাসাইল উপজেলার ফুলকি ইউনিয়নের ফুলকি ও খাটরা,বল্লা, কাজিপুরসহ ১৫-২০ টি গ্রামের মানুষের উপজেলা সদরে পৌঁছানোর একমাত্র রাস্তা এই কাঠের সাঁকো।কাউলজানী বোর্ড বাজার এলাকায় সরকারি প্রাথমকি বিদ্যালয়,ব্যাংকের শাখা, লুৎফা-শান্তা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও কাউলজানী নওশেরিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীসহ হাজারও মানুষ ঝুঁকি নিয়ে এই কাঠের সাঁকো দিয়ে প্রতিদিন চলাচল করছে।কালিহাতী উপজেলার রামপুর,গান্ধিনা,তেজপুরসহ কয়েকটি গ্রামের মানুষ এ সড়ক দিয়ে যাতায়াত করে থাকেন। প্রায় ১২ বছর আগে এলাকাবাসী নদীর ওপর এই কাঠের সাঁকোটি নির্মাণ করেন।
স্থানীয় বাসিন্দা হামেদ আলী মিয়া বলেন,স্বাধীনতার পর অনেক এমপি আইলো গেল কেউ এই ব্রিজটি করে দেয় না।শুধু বলেই এই ব্রিজ করে দিমু, কিন্তু এই ব্রিজ করে দেয় না।নির্বাচন আসলে বলে এই ব্রিজ করে দিমু,নির্বাচন যাওয়ার পর আর মনে থাকে না।আমাদের এই ব্রিজটি খুবই দরকার।হাজার হাজার মানুষ এই ব্রিজ দিয়ে চলাচল করে।
অটোচালক রিপন বলেন,এই কাঠের সাঁকো দিয়ে চলাচল করা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে গেছে।যে কোন সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।এই কাঠের সাঁকো অনেক সময় নষ্ট হয়ে যায়।পরে টাকা তুলে আমাদের এই কাঠের সাঁকো ঠিক করতে হয়।
আরেক অটোচালক আজমত আলী বলেন,এই ব্রিজ করে দেবে অনেকেই কথা দেয়।কিন্তু এখন পর্যন্ত এই ব্রিজটি কেউ করে দেয়নি।আমাদের কাঠের ব্রিজ দিয়ে চলাচল করতে হয়।এই ব্রিজে আমি দুর্ঘটনার শিকার হয়।তক্তা ভেঙ্গে আমার অটোগাড়ি নিচে পড়ে যায়।পরে ৬ জনে মিলে আমার অটোগাড়ি উপরে তুলি।কাঠের সাঁকো দিয়ে আমাদের প্রতিনিয়ত ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে।আমাদের এখানে ব্রিজ হওয়া অতি প্রয়োজন।
স্থানীয় বাসিন্দা রাজু আহমেদ বলেন,আমাদের এই যে কাঠের ব্রিজ খুবই ঝুঁকিপূর্ণ।বিভিন্ন এলাকার মানুষ এই ব্রিজ দিয়ে চলাচল করে।ভ্যান-অটো,সিএনজিও গুলো ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে।সকাল হলেই শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে যায়।যখন এই ব্রিজের ওপর দিয়ে মানুষ চলাচল করে তখন মনে হয় ব্রিজটি দোলতেছে।সরকারের কাছে আবেদন যে এই ব্রিজটি যেন দ্রুতই করে দেয়।
বাসাইল উপজেলা প্রকৌশলী কাজী ফাত্তাউর রহমান বলেন,বাসাইলের খাটরা ব্রিজটি অনূর্ধ্ব একশো প্রকল্পের প্রথম দিকের সিরিয়ালে রাখা হয়েছে।অনূর্ধ্ব একশো প্রকল্প শুরু হওয়ার মাত্রাই এই খাটরা ব্রিজ টেন্ডার আহবান করা হবে।
তিনি আরও বলেন,নির্বাহী প্রকৌশলী ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী খাটরা ব্রিজের ব্যাপারে দিকনির্দেশনা প্রদান করেছেন।মন্ত্রী তাগিদ দিচ্ছেন,এই ব্রিজটি যত দ্রুত সম্ভব করা হয়।অনূর্ধ্ব একশো প্রকল্পে যদি সময় লাগে তাহলে টাঙ্গাইলের অন্য প্রকল্প থেকে ব্রিজ করার জন্য জোর তাগিদ দিয়েছেন মন্ত্রী।খাটরা ব্রিজের ব্যাপারে বাসাইল উপজেলা প্রকৌশলী ও টাঙ্গাইল নির্বাহী প্রকৌশলী সচেষ্ট রয়েছে।
খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলা-য় এ বছর আমের বাম্পার ফলন হয়েছে। প্রতিকূল আবহাওয়া কাটিয়ে উপজেলার বিভিন্ন বাগানে এখন থোকায় থোকায় ঝুলছে আম, যা দেখে স্থানীয় চাষিদের মুখে ফুটেছে স্বস্তির হাসি।
উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের বাগানগুলোতে ল্যাংড়া, হিমসাগর, আম্রপালি ও মল্লিকার মতো উন্নত জাতের আমের ভালো ফলন হয়েছে। ফলন ভালো হওয়ায় এবং বাজারে ভালো দাম পাওয়ার আশায় খুশি আমচাষিরা।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ডুমুরিয়ার মাটি ও জলবায়ু আম চাষের জন্য উপযোগী। এ বছর লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে আম্রপালি ও হিমসাগর জাতের গাছে বেশি ফল ধরেছে।
উপজেলার খর্নিয়া ইউনিয়ন-এর টিপনা গ্রামের চাষি মো. আতিয়ার রহমান সরদার জানান, গত বছরের তুলনায় এবার আমের গুটি ঝরে পড়া কম হয়েছে। নিয়মিত পরিচর্যা এবং কৃষি বিভাগের পরামর্শে পোকামাকড়ের আক্রমণও নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে এ বছরের ফলন গত কয়েক বছরের ক্ষতি পুষিয়ে দেবে বলে আশা করছেন তারা।
ডুমুরিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. নাজমুল হুদা বলেন, কৃষকরা এখন আধুনিক পদ্ধতিতে আম চাষ করছেন। কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও কারিগরি সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। নিরাপদ ও বিষমুক্ত আম উৎপাদনে ফ্রুট ব্যাগিং পদ্ধতিও জনপ্রিয় হয়ে উঠছে, যা আমের গুণগত মান ও বাজারমূল্য বাড়াতে সহায়তা করছে।
এদিকে কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই বাণিজ্যিকভাবে আম সংগ্রহ শুরু হবে। স্থানীয় চাহিদা পূরণ করে ডুমুরিয়ার আম দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ডুমুরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মিজ সবিতা সরকার আমচাষিদের নিরাপদ উৎপাদনের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, আমে কোনো ধরনের ক্ষতিকর রাসায়নিক বা ফরমালিন ব্যবহার করা যাবে না। পাশাপাশি উন্নত জাতের আম চাষের মাধ্যমে এ অঞ্চলে বাণিজ্যিক সম্ভাবনা আরও বাড়বে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
জয়পুরহাট জেলার ব্র্যান্ডিং পণ্য কচুর লতি। যা লতিরাজ কচু হিসেবে পরিচিত। এই লতিরাজ কচু চাষে জেলার কৃষকদের ভাগ্য বদলেছে। তবে সময়ের ব্যবধানে ঐতিহ্যবাহী এই কৃষিপণ্য এখন হারিয়ে যাওয়ার শঙ্কায় রয়েছে। চাষাবাদে অবহেলা, সঠিক পরিকল্পনার অভাব এবং বাজার ব্যবস্থার দুর্বলতায় দিন দিন কমে যাচ্ছে কচুর লতির উৎপাদন।
সকাল হলেই পাঁচবিবি উপজেলার বটতলীতে জমে উঠে লতির হাট। এই লতির হাটের জন্য এই স্থানের নাম হয়ে উঠেছে লতিহাটি। তবে বাজারের সঠিক ব্যবস্থা ও পণ্য সংরক্ষণের সঠিক জায়গা না থাকায় এখন এই বাজার হারাচ্ছে তার গৌরব। এর সাথে হারিয়ে যাচ্ছে জয়পুরহাটের গর্ব লতিরাজ কচু।
স্থানীয় কৃষকরা জানান, আগে জয়পুরহাটের বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপকভাবে কচুর লতি চাষ হতো। কিন্তু বর্তমানে সারের দাম বৃদ্ধি এবং কৃষি উপকরণের খরচ বেড়ে যাওয়ায় কৃষকরা আগ্রহ হারাচ্ছেন। পাশাপাশি কৃষি অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে পর্যাপ্ত পরামর্শ ও প্রণোদনা না পাওয়ায় অনেকেই এই চাষ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, প্রতিদিন বাজারে কচুর লতির সরবরাহ কমে যাচ্ছে। ফলে চাহিদা থাকা সত্ত্বেও বাজারে স্থিতিশীলতা নেই। সঠিক বাজার ব্যবস্থাপনা না থাকায় তারা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন এবং পণ্য সংরক্ষণেও সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন। কচুর লতি চাষে এখনই কার্যকর কোন উদ্যোগ না নিলে জয়পুরহাটের এই ঐতিহ্যবাহী ‘লতিরাজ’ একসময় শুধুই স্মৃতিতে পরিণত হবে।
এবিষয়ে কৃষিবিদ ও সহকারী অধ্যাপক মো. জাকির হোসেন বলেন, যথাযথ পরিকল্পনা ও সরকারি সহায়তা পেলে কচুর লতি আবারও জয়পুরহাটের অন্যতম প্রধান কৃষিপণ্য হিসেবে ফিরে আসতে পারে। এজন্য প্রয়োজন কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে ঋণ ও প্রণোদনা প্রদান। এছাড়া একটি সুসংগঠিত বাজার ব্যবস্থা গড়ে তোলা।
পাঁচবিবি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. জসিম উদ্দিন বলেন, পাঁচবিবি উপজেলায় তিন মৌসুমে কচুর লতি চাষ হয়। আমাদের এ বছরের লক্ষ্য মাত্রা ৯৩০ সেক্টর জমি। কচুর লতি চাষে আমরা কৃষি বিভাগ থেকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছি। আর বাজার সংক্রান্ত যে সমস্যাটি রয়েছে তা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সাতক্ষীরার তালা উপজেলার বুড়ন গোয়ালপোতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মূল ভবনটি মারাত্মকভাবে জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। ছাদের পলেস্তারা খসে পড়া ও পিলারে ফাটল দেখা দেওয়ায় শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকক্ষে বসানো যাচ্ছে না। বাধ্য হয়ে খোলা আকাশের নিচে ছাপরা ঘরে চলছে পাঠদান। বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৯৭ সালে প্রতিষ্ঠিত এই বিদ্যালয়টির প্রতিটি পিলারে বড় ধরনের ফাটল ধরেছে। ছাদের বিভিন্ন অংশ থেকে নিয়মিত পলেস্তারা খসে পড়ছে। গত দেড় মাসে অন্তত তিনবার পলেস্তারা খসে পড়ার ঘটনা ঘটেছে। এতে দুই শিক্ষার্থী আহত হয়েছে।
এ অবস্থায় অনেক অভিভাবক সন্তানদের স্কুলে পাঠাতে অনীহা প্রকাশ করছেন। ক্লাস্টারের সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা অসিত কুমার বর্মন শনিবার (৯ মে) বিদ্যালয়টি পরিদর্শন করেন। তিনি বলেন, “বিদ্যালয় পরিদর্শনের সময় তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী অর্নবের হাতে পলেস্তারা খসে পড়ে। এতে শিশুরা ভীত হয়ে পড়েছে এবং অনেকেই শ্রেণিকক্ষে ঢুকতে চাচ্ছে না।” বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মিজানুর রহমান ৫ মে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে লিখিত আবেদন করেছেন। আবেদনে তিনি উল্লেখ করেন, ভবনটির অবস্থা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। শিক্ষকরা পর্যন্ত অফ পিরিয়ডে ভবনের বাইরে অবস্থান করছেন। এ পরিস্থিতিতে দ্রুত অস্থায়ী শ্রেণিকক্ষ নির্মাণ ও নতুন ভবন নির্মাণের দাবি জানানো হয়েছে।
এ বিষয়ে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. রুহুল আমীন বলেন, “বিদ্যালয়টির ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থার বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছি। প্রধান শিক্ষকের আবেদনটি আমরা ইতোমধ্যে সুপারিশসহ প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিকল্পনা ও উন্নয়ন বিভাগের পরিচালকের কাছে পাঠিয়েছি। জরুরি ভিত্তিতে অস্থায়ী গৃহ নির্মাণ ও নতুন ভবন নির্মাণের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে অনুরোধ জানানো হয়েছে।” এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা।
ঝিনাইদহ সদর উপজেলার ফুরসন্ধি ইউনিয়নের দহকোলা গ্রামে ধানের জমির পানি এক জমি থেকে অন্য জমিতে যাওয়াকে কেন্দ্র করে দু’পক্ষের সংঘর্ষে অন্তত ৮ জন আহত হয়েছেন| সোমবার সকালে এ ঘটনা ঘটে| আহতদের ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে|
স্থানীয়রা জানান, দহকোলা গ্রামে আলিমদ্দি ও জাহিদ বিশ্বাসের নেতৃত্বে পৃথক দুটি সামাজিক দল রয়েছে| গত শুক্রবার জাহিদ বিশ্বাসের সমর্থক সঞ্জয়ের ধানের জমির পানি আলিমউদ্দিন সমর্থক রবেন মণ্ডলের জমিতে প্রবেশ করলে এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা সৃষ্টি হয়|
এ ঘটনার জেরে শনিবার সন্ধ্যায় সঞ্জয়কে মারধরের অভিযোগ ওঠে প্রতিপক্ষের লোকজনের বিরুদ্ধে| এরপর থেকেই এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছিল|
এরই ধারাবাহিকতায় সোমবার সকালে পূর্ব বিরোধকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে| সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ৮ জন আহত হন| স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন| ঘটনার পর এলাকায় অতিরিক্ত উত্তেজনা দেখা দিলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ মোতায়েন করা হয়|
ঝিনাইদহ সদর থানার এসআই আবুল বাসার জানান, জমির পানি অন্য জমিতে যাওয়া নিয়ে পূর্ব বিরোধের জেরে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে| পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে| অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে|
ঝিনাইদহে উত্তম কৃষি চর্চায় টেকসই নিরাপদ ও মানসম্মত খাদ্য উৎপাদন বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে| সোমবার সকালে শহরের একটি মিলনায়তনে এ কর্মশালার আয়োজন করে ব্র্যাক সীড এন্ড এগ্রো এন্টারপ্রাইজ|
ব্যাকের জেলা অ-অর্ডিনেটর শিপ্রা বিশ্বাসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো.কামরুজ্জামান| বিশেষ অতিথি ছিলেন সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নুর-এ নবী, ব্র্যাক সীড এন্ড এগ্রো'র পিএম নাজমুল হক, আরএসএম কামরুল হাসান, আকতারুল ইসলাম| এছাড়াও অনুষ্ঠানে সিনিয়র টিএসও আল-আমিন, জাকির হোসেন, রইজুল ইসলামসহ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন|
দিনব্যাপী এই কর্মশালায় ঝিনাইদহের বিভিন্ন উপজেলার ৮০ বীজ ব্যবসায়ীরা অংশ নেন| কর্মশালায় বক্তারা, উত্তম কৃষি চর্চা বাস্তবায়নের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক মানের কৃষিপণ্য উৎপাদন সম্ভব| কৃষককে নিরাপদ ও গুণগত মানসম্পন্ন খাদ্য উৎপাদন নিশ্চিত করার পাশাপাশি পরিবেশ এবং সামাজিক সুরক্ষার বিষয় গুরুত্ব প্রদাণ করতে নানা বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়|
চুয়াডাঙ্গার দর্শনা এলাকায় আবারও বোমা সদৃশ বস্তু উদ্ধারের ঘটনায় জনমনে নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। কেরু অ্যান্ড কোম্পানি সংলগ্ন হঠাৎপাড়া এলাকায় শনিবার গভীর রাত থেকে রোববার সকাল পর্যন্ত পৃথক দুটি স্থান থেকে লাল টেপ মোড়ানো সন্দেহজনক বোমা সাদৃশ্য বস্তু উদ্ধার করেছে পুলিশ।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার রাতের দিকে কেরুজ কর্মচারী সালামের বাড়ির সামনে একটি বোমা সদৃশ বস্তু পড়ে থাকতে দেখা যায়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সেটি উদ্ধার করে। পরদিন রোববার সকাল প্রায় ১১টার দিকে পাশের খ্রিস্টান কবরস্থান এলাকা থেকে আরও একটি একই ধরনের বস্তু উদ্ধার করা হয়। এর আগেও কেরু এলাকায় বিক্ষিপ্তভাবে অন্তত ১৪টি বোমা সদৃশ বস্তু উদ্ধার করা হয়েছিল, যা স্থানীয়দের মধ্যে চরম উদ্বেগ তৈরি করে। তখন রাজশাহী ও যশোর থেকে আসা বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট সেগুলো নিরাপদ স্থানে নিয়ে নিয়ন্ত্রিত বিস্ফোরণের মাধ্যমে ধ্বংস করে। সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছিলেন, উদ্ধার হওয়া বস্তুগুলো ছিল উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন।
সর্বশেষ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। শনিবার রাত সাড়ে ১২টা পর্যন্ত ঘটনাস্থলে পুলিশ ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা অবস্থান করেন এবং পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেন।
দর্শনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি তদন্ত) হিমেল রানা জানান, গতরাতে একটি এবং আজ সকালে আরও একটি মোট দুটি বোমা সদৃশ বস্তু উদ্ধার করা হয়েছে। সেগুলো আপাতত নিরাপদ স্থানে রাখা হয়েছে। রাজশাহী বোম্ব ডিসপোজাল টিমকে খবর দেওয়া হয়েছে, তারা এসে এগুলো নিষ্ক্রিয় করবে।
চুয়াডাঙ্গার পুলিশ সুপার রুহুল কবির খান বলেন, ঘটনাটি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। উদ্ধার হওয়া বস্তুগুলো আসলেই বোমা বা ককটেল হলে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ ঘটনায় স্থানীয়দের মাঝে আতঙ্ক বিরাজ করছে, তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রশাসন তৎপর রয়েছে।
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় একটি বাসায় গ্যাস লিকেজ থেকে বিস্ফোরণে একই পরিবারের ৫ জন দগ্ধের ঘটনায় মো. কালাম (৩৫) মারা গেছেন।
সোমবার (১১ মে) বেলা ১১টার দিকে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়। মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন ইনস্টিটিউটের আবাসিক সার্জন ডা. শাওন বিন রহমান।
তিনি জানান, কালামের শ্বাষনালী সহ শরীরের ৯৫শতাংস দগ্ধ হয়েছিল। বর্তমানে কালামের স্ত্রী সায়মা ৬০ শতাংস, মুন্না ৩০ শতাংস, কথা ৫২ শতাংস এবং মুন্নি ৩৫ শতাংশ নিয়ে ভর্তি আছে। তাদের সবার অবস্থাই খুবই আশঙ্কাজনক।
এর আগে রোববার সকাল ৭টার দিকে ফতুল্লা গিরিধারা এলাকার গ্রাম বাংলা টাওয়ারের সামনের বাড়িতে এই দুর্ঘটনা ঘটে। দগ্ধরা হলেন- সবজি বিক্রেতা মো. কালাম (৩৫), তার স্ত্রী সায়মা(৩২)। তাদের ছেলে মুন্না (১২), দুই মেয়ে কথা (৪) ও মুন্নি (৭)।
তাদেরকে হাসপাতালে নিয়ে আসা প্রতিবেশী মো. হাসান জানান, সকাল ৭ টার দিকে সেই বাসায় হঠাৎ বিস্ফোরণ হয়। শব্দ শুনে আশপাশের লোকজন এগিয়ে গিয়ে দেখেন, ঘরের ভেতর আগুন জ্বলছে। তখন ভেতর থেকে তাদেরকে উদ্ধার করা হয়। সঙ্গে সঙ্গে নিয়ে আসা হয় বার্ন ইনস্টিটিউটে।
তিনি জানান, ধারণা করা হচ্ছে বাসার গ্যাস লিকেজ থেকে এই দুর্ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। তাদের গ্রামের বাড়ি পটুয়াখালী জেলার বাউফল থানার বালুকদিয়ে গ্রামে।
পতাকা নামাতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে গুরুতর আহত হয়ে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন রয়েছেন রাজবাড়ীর বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের জেলা কার্যালয়ের অফিস সহায়ক মনিরা খাতুন (৩০)।
রোববার (১০মে) বিকেলে রাজবাড়ী-কুষ্টিয়া আঞ্চলিক মহাসড়কের দক্ষিণ ভবানীপুর পশু হাসপাতাল এলাকায় নিরাপদ খাদ্য অফিসে এ ঘটনা ঘটে।
জানা গেছে, রোববার বিকেলে অফিস ছুটি হওয়ার কিছুক্ষণ আগে জাতীয় পতাকা নামাতে গিয়ে পতাকার পাইপটি অসাবধানতাবশত বিদ্যুতের সঞ্চালন লাইনের হাই ভোল্টেজ তারের ওপর পড়ে যায়। পাইপটি স্টিল থাকায় বিদ্যুতায়িত হয়ে মনিরার সারা শরীরে আগুন ধরে যায়। তখন অফিসে কেউ না থাকায় উদ্ধার করতে দেরি হওয়ায় তার সারা শরীর আগুনে ঝলসে যায়। রাস্তার লোকজন টের পেয়ে ফায়ার সার্ভিসকে জানালে ফায়ার সার্ভিসের একটি দল এসে মনিরাকে উদ্ধার করে রাজবাড়ী জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি দেখে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ণ ইউনিটে রেফার করা হলে সেখানে নিয়ে ভর্তি করা হয়।
জেলা নিরাপদ খাদ্য অফিসার মো. আসিফুর রহমান বলেন, আমাদের অফিসের স্টাফ মনিরার অবস্থা সংকটাপন্ন। সে ঢাকা মেডিকেলের বার্ন ইউনিটে ভর্তি রয়েছে। তার জ্ঞান ফিরেছে।
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় একটি বাসায় গ্যাস লিকেজ থেকে বিস্ফোরণে একই পরিবারের চারজন দগ্ধ হয়েছেন। তাদেরকে উদ্ধার করে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে পাঠানো হয়।
সোমবার(১১ মে) সকাল ছয়টার দিকে ফতুল্লার কুতুবপুর লাকিবাজার এলাকার এই ঘটনা ঘটে।
দগ্ধরা হলেন, অটো রিক্সা চালক আব্দুল কাদের (৫০), তার ছেলে মোহাম্মদ মেহেদী (১৭), সাকিব (১৬) ও রাকিব(১৬) ।
দগ্ধদের হাসপাতালে নিয়ে আসা প্রতিবেশী মো. ফারুক বলেন, সকাল ৬টার দিকে আমরা বিকট শব্দ শুনে বাসায় গিয়ে দেখতে পাই দগ্ধ অবস্থায় বাবা-ছেলেরা ঝলসে গেছে। পরে তাদেরকে উদ্ধার করে জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটে নিয়ে আসলে চিকিৎসক তাদেরকে ভর্তি রাখেন। আব্দুল কাদের পেশায় অটো রিক্সা চালক। তিনি তিন ছেলে ও স্ত্রীকে নিয়ে সেখানে ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন।
তিনি আরও বলেন, সকালে আব্দুল কাদেরের স্ত্রী গৃহস্থালি কাজের জন্য ঘরের বাইরে ড্রামে পানি ভরার কাজে ব্যস্ত ছিলেন। এ কারণে তার কোন ক্ষতি হয়নি। তবে ওই সময় আব্দুল কাদের ও তার তিন ছেলে ঘরের ভেতরে ছিল। যে কারণে তারা দগ্ধ হয়েছে। তবে ফ্রিজের কম্প্রেসার বিস্ফোরণে নাকি গ্যাস লিকেজ থেকে বিস্ফোরণে এ ঘটনা ঘটেছে তা নিশ্চিত নই। তবে শুনেছি ফ্রিজটি এখনো অক্ষত অবস্থায় রয়েছে।
জাতীয় বার্ন প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে আবাসিক চিকিৎসক সহকারী অধ্যাপক ডা. শাওন বিন রহমান জানান, নারায়ণগঞ্জের ফতুলা থেকে দগ্ধ হয়ে চারজন এসেছে। তাদের মধ্যে আব্দুল কাদেরের ৫৭শতাংশ দগ্ধ, তার তিন ছেলে মেহেদির ১৮ শতাংশ দগ্ধ, সাকিবের ১৭ শতাংশ দগ্ধ, রাকিবের ২৫ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে। তাদের সবাইকে ভর্তি রাখা হয়েছে।
নারায়ণগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপপরিচালক আব্দুল্লাহ আল আরিফিন বলেন,
‘প্রাথমিকভাবে ধারণা করা যাচ্ছে, গ্যাস লিকেজ থেকে বিস্ফোরণে এ ঘটনা ঘটেছে। তদন্তের পর নিশ্চিত করে বিস্তারিত বলা সম্ভব হবে।
যশোরের কেশবপুরে পেশাগত দায়িত্ব পালনের জের ধরে রাজীব চৌধুরী নামে এক সাংবাদিককে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে হয়রানি করার হুমকির অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে গত শনিবার কেশবপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী ওই সংবাদকর্মী।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, রাজীব চৌধুরী কেশবপুর নিউজক্লাবের সাংগঠনিক সম্পাদক এবং জাতীয় 'দৈনিক নবচেতনা' পত্রিকার কেশবপুর উপজেলা প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত। গত ৮ মে শুক্রবার রাত ৯টা ১০ মিনিটের দিকে তিনি সাতবাড়িয়া গ্রামস্থ নিজ বাড়িতে অবস্থানকালে মাহমুদা সুলতানা রেশমা (৩২) নামের এক নারী তাকে মোবাইল ফোনে কল করেন। ওই নারী বিবাদী সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ তুলে দাবি করেন যে, তার নামে নিউজ করা হয়েছে।
রাজীব চৌধুরী ওই নারীর নামে কোনো সংবাদ পরিবেশন করেননি বলে বারবার নিশ্চিত করা সত্ত্বেও বিবাদী কোনো কুচক্রী মহলের ইন্ধনে তাকে কুরুচিপূর্ণ ভাষায় আক্রমণ করেন। সাংবাদিক রাজীব এর প্রতিবাদ করলে ওই নারী আরও ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে গালিগালাজ করেন এবং ভবিষ্যতে মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে বড় ধরনের আর্থিক ও সামাজিক ক্ষতি করার হুমকি দিয়ে ফোন কেটে দেন।
ভুক্তভোগী সাংবাদিক রাজীব চৌধুরী বলেন, আমি বিবাদীকে বারবার বলেছি যে তার নামে কোনো নিউজ হয়নি। কিন্তু তিনি কারো প্ররোচনায় আমাকে সামাজিকভাবে হেয় করতে এবং আমার কলম স্তব্ধ করতে এই হুমকি দিয়েছেন। ফোনে দেওয়া হুমকির রেকর্ড আমার কাছে সংরক্ষিত আছে। আমি বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।
ঘটনার বিষয়ে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও সাংবাদিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দকে অবহিত করার পর থানায় অভিযোগ দাখিল করা হয়। কেশবপুর থানা পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগটি গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে এবং তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
মাহমুদা সুলতানা রেশমার মোবাইল ফোনে একাধিক বার যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও পাওয়া যায় নাই।
এদিকে একজন দায়িত্বশীল সংবাদকর্মীকে এভাবে হুমকির ঘটনায় স্থানীয় সাংবাদিক মহলে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হয়েছে।
পঞ্চগড় বোদা উপজেলার ২ নং ময়দান দিঘি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান গত এপ্রিল মাসের ৬ তারিখে মৃত্যু বরণ করেন তার পর থেকে পরিষদের সকল কার্যক্রম বন্ধ।
সরজমিন গিয়ে দেখা যায়, ২ নং ময়দান দিঘি ইউনিয়ন পরিষদের নাগরিক সেবা থেকে সাধারণ মানুষ বঞ্চিত ১ মাস থেকে, জন্ম নিবন্ধন, মৃত্যু সনদ, চেয়ারম্যানের পরিচয় পত্র সহ কয়েকটি নাগরিক সেবা থেকে বঞ্চিত, শুধু গ্রাম্য আদালত চলমান।
পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মোঃ আইনুল ইসলাম জানান ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব কেউ না থাকায় সকল কার্যক্রম বন্ধ আছে, কারণ চেয়ারম্যানে সাক্ষর অন্য কেউ দিতে পারবেন না, তিনি আরও জানান এ বিষয় বোদা উপজেলা নির্বাহি অফিসার মহোদয় কে জানানো হলে তিনি বলেন লিখত ভাবে পঞ্চগড় জেলা প্রশাসক মহোদয় কে জানানো হয়েছে।
পঞ্চগড় বোদা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ রবিউল ইসলাম জানান এটি প্রশাসনিক বিষয় তবে দূরত্ব প্রশাসক নিয়োগ করা হবে।
মৌলভীবাজারের কুলাউড়া পাবলিক লাইব্রেরি পুনরায় সচল এবং অতিসত্বর ডাকবাংলোতে দৃশ্যমান করার দাবিতে মৌলভীবাজার-২ (কুলাউড়া) আসনের সংসদ সদস্য শওকতুল ইসলাম শকুর কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেছে কবি-সাহিত্যিকদের সংগঠন ‘স্রোত সাহিত্য পর্ষদ’। রোববার (১০ মে) সন্ধ্যায় সংগঠনের নেতৃবৃন্দ তাঁর হাতে স্মারকলিপি তুলে দেন। স্মারকলিপি গ্রহণ করে এমপি শওকতুল ইসলাম শকু বিষয়টি গুরুত্বসহকারে বিবেচনার আশ্বাস দেন এবং ইতিবাচক সাড়া প্রদান করেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন কুলাউড়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি জয়নাল আবেদিন বাচ্চু, ক্রীড়া সংস্থার সাবেক সাধারণ সম্পাদক এনামুল ইসলাম, কুলাউড়া ডিগ্রি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ সৌম্য প্রদীপ ভট্টাচার্য সজল, কুলাউড়া উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বদরুজ্জামান সজল, বিএনপি নেতা রেদোয়ান খান, জাসদ নেতা মইনুল ইসলাম শামীম, উপজেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সুফিয়ান প্রিন্স, সংগঠক শফিক মিয়া আফিয়ান, সাবেক ছাত্রনেতা রেহান উদ্দিন আহমেদ, কবি সঞ্জয় দেবনাথ, চিকিৎসক হেমন্ত চন্দ্র পাল, নাসির জামান খান জাকি, নুরুল ইসলাম খান বাবলা, কামরাঙ্গা সম্পাদক কামরুল হাসান, স্রোত সাহিত্য পর্ষদ’র আহ্বায়ক নুরুল ইসলাম ইমন, যুগ্ম আহ্বায়ক সিরাজুল আলম জুবেল, প্রভাষক খালিক উদ্দিন, জামায়াতে ইসলামী যুব বিভাগ কুলাউড়া পৌর শাখার সভাপতি সাইফুর রহমান, প্রভাষক আজিজুর রহমান, সাংবাদিক এইচডি রুবেল, আমার দেশ পাঠক মেলা’র সভাপতি আজিজুল ইসলাম উজ্জ্বল , স্রোত সাহিত্য পর্ষদের সদস্য শাহীন আহমেদ, মৌসুম সরকার, শাহরিয়ার চৌধুরী সহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
উল্লেখ্য, এর আগে ভেঙে ফেলা কুলাউড়া পাবলিক লাইব্রেরির স্থানে পুনরায় আধুনিক লাইব্রেরি নির্মাণ ও চালুর দাবিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবরও স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। স্থানীয়দের দাবি, ডাকবাংলো মাঠসংলগ্ন নির্ধারিত স্থানে দ্রুত আধুনিক সুবিধাসম্পন্ন একটি পাবলিক লাইব্রেরি পুনর্নির্মাণ ও চালু করা হোক।