মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
১৩ আশ্বিন ১৪৩৩
ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচন

দ্বিতীয় ধাপে নির্বাচিত হলেন যারা

ফাইল ছবি
সারা বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত
সারা বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত : ২২ মে, ২০২৪ ০০:২৭

ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপে ১৫৬টি উপজেলায় ভোটগ্রহণ শেষ হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত চলে ভোটগ্রহণ। ভোট গণনা শেষে রাতে নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশ করেন রিটার্নিং কর্মকর্তারা। সারা দেশের প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর থেকে জানা যায়-

ফরিদপুর

উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপে ফরিদপুরের নগরকান্দা ও সালথা উপজেলায় ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। নগরকান্দা উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপ-কমিটির সাবেক সহসম্পাদক কাজী শাহ জামান বাবুল। আনারস প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ৩৭ হাজার ২০৯ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মোটরসাইকেল প্রতীকের প্রার্থী বর্তমান উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মনিরুজ্জামান সরদার পেয়েছেন ২৫ হাজার ২৩৭ ভোট।

অন্যদিকে সালথা উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে বর্তমান চেয়ারম্যান ওয়াদুদ মাতুব্বর বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। আনারস প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ৩৫ হাজার ৫৪৫ ভোট তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী সালথা উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও মোটরসাইকেল প্রতীকের প্রার্থী মো. ওহিদুজ্জামান পেয়েছেন ৫ হাজার ৩৪২ ভোট।

নারায়ণগঞ্জ

উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপে নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলায় ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম। ঘোড়া প্রতীকে তিনি পেয়েছেন এক লাখ ১৫ হাজার ২৫২ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী দোয়াত কলম প্রতীকের প্রার্থী মো. শাহজালাল মিয়া পেয়েছেন ১৩ হাজার ১৩২ ভোট।

বিজয়ী মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম আড়াইহাজার উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সদস্য। তিনি কালাপাহাড়িয়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান। অন্যদিকে তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মো. শাহজালাল মিয়া আড়াইহাজার উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া

দ্বিতীয় ধাপের উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা ও আখাউড়ায় উপজেলায় ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। কসবা উপজেলায় আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের ফুফাতো ভাই ছাইদুর রহমান ও আখাউড়ায় মোগড়া ইউনিয়ন পরিষদের তিনবারের সাবেক চেয়ারম্যান মনির হোসেন বেসরকারিভাবে চেয়ারম্যান নির্বাাচিত হয়েছেন।

ঘোষিত ফলাফল অনুযায়ী, কসবা উপজেলায় ছায়েদুর রহমান স্বপন কাপ-পিরিচ প্রতীকে ৮৬ হাজার ৬৯৮ ভোট পেয়ে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও কুটি ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ছিলেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বর্তমান উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের সাবেক সহকারী একান্ত সচিব রাশেদুল কাউসার ভূইয়া আনারস প্রতীকে পেয়েছেন ৩৯ হাজার ৯৫৯ ভোট।

অন্যদিকে আখাউড়া উপজেলায় মনির হোসেন ঘোড়া প্রতীকে ২৮ হাজার ৩০৯ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি উপজেলা যুবলীগের সাবেক আহ্বায়ক ও মোগড়া ইউনিয়ন পরিষদের তিনবারের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান আনারস প্রতীকে পেয়েছেন ১৪ হাজার ৫৬৩ ভোট।

রাঙামাটি

ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপে রাঙামাটির রাজস্থলী, কাপ্তাই ও বিলাইছড়ি উপজেলায় শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। রাজস্থলী উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি উবাচ মারমা আনারস প্রতীকে ৭ হাজার ৭৫ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মো. রিয়াজ উদ্দীন রানা দোয়াত কলম প্রতীকে পেয়েছেন ২ হাজার ১৮ ভোট।

অন্যদিকে কাপ্তাই উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে উপজেলা যুবলীগের সভাপতি মো. নাছির উদ্দিন দোয়াত কলম প্রতীকে ৭ হাজার ৩৬২ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও সাবেক ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আনোয়ারুল ইসলাম চৌধুরী আনারস প্রতীকে পেয়েছেন ৬ হাজার ৯৭৩ ভোট।

অপরদিকে বিলাইছড়ি উপজেলায় মোট ১৩টি কেন্দ্রের মধ্যে ৫টি হেলিসর্টি ভোটকেন্দ্র রয়েছে। দুর্গম এলাকা হওয়ায় রাত সাড়ে ৯টা পর্যন্ত ফলাফল না আসায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কোনো ফলাফল ঘোষণা করেননি। তবে বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা যায়, পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (জেএসএস) সমর্থিত দোয়াত কলম প্রতীকের বিরোত্তম তঞ্চঙ্গ্যা চেয়ারম্যান পদে বিজয়ী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

লালমনিরহাট

লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ ও আদিতমারী উপজেলায় উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপে ভোটগ্রহণ শেষ হয়েছে। দুই উপজেলায় মধ্যে আদিতমারী উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে ফারুক ইমরুল কায়েস ও কালীগঞ্জ উপজেলায় জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক রাকিবুজ্জামান আহমেদ বিজয়ী হয়েছেন।

রাত সাড়ে ৯টার দিকে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা লুৎফর কবির তাদেরকে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত ঘোষণা করেন।

আদিতমারী উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে ফারুক ইমরুল কায়েস মোটরসাইকেল প্রতীকে পেয়েছেন ৩৩ হাজার ১৩৫ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রফিকুল আলম আনারস প্রতীকে পেয়েছেন ২৯ হাজার ১৮টি ভোট

কালীগঞ্জ উপজেলায় সাবেক সমাজকল্যাণমন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদের ছেলে রাকিবুজ্জামান আহমেদ আনারস প্রতীকে পেয়েছেন ২৪ হাজার ৩০৩ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী তার চাচা উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মাহবুবুজ্জামান আহমেদ ঘোড়া প্রতীকে পেয়েছেন ১৯ হাজার ৩৫০ ভোট।

পিরোজপুর

ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে দ্বিতীয় ধাপে পিরোজপুর জেলার দুই উপজেলায় শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। মঙ্গলবার পিরোজপুরের নেছারাবাদ ও কাউখালী উপজেলার ১৫টি ইউনিয়নের মোট ১২২টি ভোটকেন্দ্রে ইভিএম পদ্ধতিতে এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।

কাউখালী উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে মো. আবু সাঈদ মিঞা ও নেছারাবাদ উপজেলায় আব্দুল হক নির্বাচিত হয়েছেন। রাতে নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা সৈয়দ শফিকুল হক বেসরকারিভাবে তাদের বিজয়ী ঘোষণা করেন।

নেছারাবাদ উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে আব্দুল হক আনারস প্রতীকে ৩৮ হাজার ৬১২ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী এস এম মুইদুল ইসলাম মোটরসাইল প্রতীকে পেয়েছেন ৩৫ হাজার ৫২০ ভোট।

অন্যদিকে কাউখালী উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে মো. আবু সাঈদ মিঞা ঘোড়া প্রতীকে ১১ হাজার ২৮৪ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মো. মনিরুজ্জামান তালুকদার পল্টন কাপ-পিরিচ প্রতীকে পেয়েছেন ৬ হাজার ২৯৪ ভোট।

ঝালকাঠি

উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপে ঝালকাঠি সদর ও নলছিটি উপজেলায় ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ঝালকাঠি সদর উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান ও ঝালকাঠি জেলা আওয়ামী লীগ সহ-সভাপতি খান আরিফুর রহমান। আনারস প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ৩৩ হাজার ৯৪৩ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী দোয়াত কলম প্রতীকের প্রার্থী মো. সুলতান খান পেয়েছেন ২৫ হাজার ৯৭১ ভোট।

অন্যদিকে নলছিটি উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মো. সালাউদ্দিন খান সেলিম বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। মোটরসাইকেল প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ২৩ হাজার ৯৩৯ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাবেক মেয়র তছলিম উদ্দিন চৌধুরী আনারস প্রতীকে পেয়েছেন ১৬ হাজার ৭৮৪ ভোট।

বাগেরহাট

উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপে বাগেরহাটে ফকিরহাট, মোল্লাহাট,ও চিতলমারী উপজেলায় ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ফকিরহাট উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন শেখ ওহিদুজ্জামান বাবু। মোটরসাইকেল প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ৪৬ হাজার ৬৫৪ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আনরস প্রতীকের প্রার্থী বর্তমানে উপজেলা চেয়ারম্যান স্বপন দাস পেয়েছেন ২৯ হাজার ৪৩৭ ভোট। এ উপজেলায় ভোট কাস্ট হয়েছে ৬২.৫০ শতাংশ।

চিতলমারী উপজেলার চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হয়েছেন মো. আলমগীর হোসেন সিদ্দিকী। দোয়াত কলম প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ৩৪ হাজার ৮৮৬ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বর্তমান উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও বাগেরহাট জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি অশোক কুমার বড়াল মোটরসাইকেল প্রতীকে পেয়েছেন ২২ হাজার ৭৬৩ ভোট। এ উপজেলায় ভোট কাস্ট হয়েছে ৪৫.৭৫ শতাংশ।

অন্যদিকে মোল্লাহাট উপজেলার চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হয়েছেন বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শাহিনুর আলম ছানা। দোয়াত কলম প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ২৯ হাজার ৯০২ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বর্তমান উপজেলা শেখ নাসির উদ্দীন আনারস প্রতীকে পেয়েছেন ১৯ হাজার ৯৫৪ ভোট। এ উপজেলায় ভোট কাস্ট হয়েছে ৫৩.৭৭ শতাংশ। জেলায় গড় ভোট কাস্টিং হয়েছে ৫৪ শতাংশ।

যশোর

দ্বিতীয় ধাপের উপজেলা নির্বাচনে যশোরের ঝিকরগাছা, শার্শা ও চৌগাছা উপজেলায় ভোটগ্রহণ করা হয়েছে। ভোটগ্রহণ শেষে রাতে বেসরকারিভাবে ফলাফল ঘোষণা করেন উপজেলাগুলোর দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তারা।

চৌগাছা উপজেলা চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হয়েছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা এসএম হাবিবুর রহমান। আনারস প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ৩৩ হাজার ৫৬৫ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ ড. মোস্তানিছুর রহমান পেয়েছেন ২৮ হাজার ৯৮০ ভোট।

নির্বাচনের সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও চৌগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুম্মিতা সাহা রাত সাড়ে ৯টায় এ ফলাফল ঘোষণা করেন।

ঝিকরগাছা উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হয়েছেন বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. মনিরুল ইসলাম। আনারস প্রতীকে মনিরুল ইসলাম পেয়েছেন ৪০ হাজার ৬৪৩ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী সেলিম রেজা ঘোড়া প্রতীকে পেয়েছেন ১৮ হাজার ৪৪৩ ভোট।

অন্যদিকে শার্শা উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে মো. সোহরাব হোসেন দোয়াত কলম প্রতীক নিয়ে ৩৭ হাজার ৫৭০ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মো. অহিদুজ্জামান আনারস প্রতীকে পেয়েছেন ১২ হাজার ২৯১ ভোট।

রাজশাহী

দ্বিতীয় ধাপে রাজশাহীর বাগমারা, দুর্গাপুর ও পুঠিয়া উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বাগমারা উপজেলায় বেসরকারিভাবে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন জাকিরুল ইসলাম সান্টু। তিনি ঘোড়া প্রতীকে পেয়েছেন ৪৭ হাজার ৩২২ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আব্দুর রাজ্জাক সরকার ওরফে আর্ট বাবু পেয়েছেন ৪ হাজার ৩২১ ভোট।

পুঠিয়া উপজেলায় বেসরকারিভাবে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন আবদুস সামাদ মোল্লা। তিনি আনারস প্রতীকে পেয়েছেন ২৬ হাজার ৬৬৫ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আহসানুল হক মাসুদ ঘোড়া প্রতীকে পেয়েছেন ২৩ হাজার ৬৭৯ ভোট।

অন্যদিকে দুর্গাপুর উপজেলায় বেসরকারিভাবে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন শরীফুজ্জামান শরীফ। তিনি মোটরসাইকেল প্রতীকে পেয়েছেন ৪২ হাজার ১১৩ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আব্দুল মজিদ সরদার পেয়েছেন ২৭ হাজার ৩৩২ ভোট।

সাতক্ষীরা

ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপে সাতক্ষীরার আশাশুনি, তালা ও দেবহাটা উপজেলায় ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

আশাশুনি উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও বর্তমান উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এবিএম মোস্তাকিম বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি চিংড়ি প্রতীকে পেয়েছেন ৫১ হাজার ৬৬২ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী শাহনেওয়াজ ডালিম ঘোড়া প্রতীকে পেয়েছেন ৫০ হাজার ৭০৭ ভোট।

অপরদিকে সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলা নির্বাচনে মো. আল ফেরদাউস বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি হেলিকপ্টার প্রতীকে ২৬ হাজার ৩৭৭ ভোট পেয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মো. মজিবুর রহমান মোটরসাইকেল প্রতীকে পেয়েছেন ১৭ হাজার ১৫২ ভোট।

এ ছাড়া সাতক্ষীরার তালা উপজেলা নির্বাচনে ঘোষ সনৎ কুমার বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি কাপ পিরিচ প্রতীকে ৪৬ হাজার ৪৫৮ ভোট পেয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী সরদার মশিয়ার চিংড়ি প্রতীকে পেয়েছেন ৩২ হাজার ৪১৩ ভোট।

বিষয়:

নির্বাচিত

শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘পিচ্চি রাজা’ পালানোর ঘটনায় ৫ পুলিশ সদস্য বরখাস্ত

একাধিক মামলার আসামি শীর্ষ সন্ত্রাসী রাজা ওরফে পিচ্চি রাজা। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
গাজীপুর প্রতিনিধি

ঢাকার আদালতে হাজিরা শেষে গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগারে নেওয়ার পথে একাধিক মামলার আসামি শীর্ষ সন্ত্রাসী রাজা ওরফে পিচ্চি রাজা পালানোর ঘটনায় পাঁচ পুলিশ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এদিকে এ ঘটনায় পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সকালে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার (ভারপ্রাপ্ত) মোহাম্মদ তাহেরুল হক চৌহান গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

তিনি বলেন, ‘আসামি পলায়নের পরে পুলিশের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তাসহ পাঁচজনকে সাসপেন্ড করেছি। গাড়ির ড্রাইভারসহ পাঁচজনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। ডিসি হেডকোয়ার্টারের নেতৃত্বে ওই তদন্ত কমিটি কাজ করবে।’

এর আগে গত রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকালে ঢাকা মেট্রোপলিটন আদালতে হাজিরার জন্য পিচ্চি রাজাকে প্রিজন ভ্যানে করে ঢাকায় নেওয়া হয়। আদালতে হাজিরা শেষে তাকে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার-১ এ ফিরিয়ে নেওয়া হচ্ছিল।

প্রিজনভ্যানটি গাজীপুরের নাওজোড় এলাকায় পৌঁছালে পিচ্চি রাজা প্রাকৃতিক কাজ সারার জন্য শৌচাগারে যাওয়ার কথা বলে। পরে দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যরা তাকে একটি শৌচাগারে নিয়ে যান। সেখানে সুযোগ পেয়ে কৌশলে পালিয়ে যায় সে।

চলতি বছরের ১৯ মে মোহাম্মদপুর এলাকার শীর্ষ মাদককারবারি হিসেবে পরিচিত রাজা ওরফে পিচ্চি রাজাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পিচ্চি রাজা, তার স্ত্রী ও শ্যালক নেপাল থেকে দেশে ফেরার খবরে পুলিশ বিমানবন্দরে অবস্থান নেয়। পরে ইমিগ্রেশন পুলিশের সহায়তায় তাদের হেফাজতে নেওয়া হয়।

পিচ্চি রাজার বিরুদ্ধে মাদক ও অস্ত্রসহ একাধিক মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।


নির্বাচিত

নির্মাণের একদিন পরই হাতের ঘষায় উঠে সড়কের পিচ

* সড়কটির নির্মাণ ও সংস্কারকাজে ব্যয় ১ কোটি ৯৩ লাখ টাকা
ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নরসিংদী প্রতিনিধি

নির্মাণের এক দিন পরই হাতের ঘষায় উঠে আসছে পিচের আস্তরণ। কোথাও পা দিয়ে চাপ দিলেই আলগা হয়ে যাচ্ছে কার্পেটিং। প্রয়োজনীয় বালি, ইটের খোয়া ও পাথরের স্তর যথাযথভাবে না দিয়েই মাটির ওপর কার্পেটিং করার অভিযোগ উঠেছে প্রায় ২ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন একটি সড়কে। এমন চিত্র সামনে আসার পর প্রকল্পের কাজের মান, তদারকি এবং সরকারি অর্থ ব্যয়ের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে নরসিংদীর মনোহরদীতে।

উপজেলার খিদিরপুর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের বৈরাগীরচর, কালিরচর, ভাওয়ালিয়াপাড়া হয়ে মনতলা বাজার পর্যন্ত ১ হাজার ৪০০ মিটার সড়কটি স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) গ্রামীণ সড়ক প্রকল্পের আওতায় নির্মাণ করা হচ্ছে। সড়কটির নির্মাণ ও সংস্কারকাজে ব্যয় ধরা হয়েছে ১ কোটি ৯৩ লাখ টাকা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রকল্পের প্রায় এক হাজার মিটার অংশের কার্পেটিং ২৪ সেপ্টেম্বর রাতে করা হয়। পরদিন সকালে সড়কে গিয়ে তারা দেখতে পান, বিভিন্ন স্থানে হাত দিয়ে ঘষা দিলেই পিচ উঠে আসছে। পা দিয়ে চাপ দিলে কোনো কোনো অংশের কার্পেটিংও আলগা হয়ে যাচ্ছে। পরে স্থানীয়রা নিজেরাই হাত দিয়ে সড়কের বিভিন্ন অংশের পিচ তুলে ফেলেন।

মাটির ওপরই কার্পেটিং: স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, সড়কের মাটির লেভেল করার পর প্রয়োজনীয় ইটের খোয়া, বালু ও পাথরের স্তর যথাযথভাবে প্রস্তুত করা হয়নি। এসব উপকরণ ব্যবহারের পরিবর্তে সরাসরি মাটির ওপর কার্পেটিং করা হয়েছে। ফলে সড়কের ভিত্তির সঙ্গে কার্পেটিংয়ের যথাযথ বন্ধন তৈরি হয়নি। নির্মাণের পরপরই কার্পেটিং উঠে যাওয়ায় তাদের এ অভিযোগ আরও জোরালো হয়েছে বলে দাবি স্থানীয়দের।

গত শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) সকালে কালিরচর এলাকায় গিয়ে স্থানীয়দের এমন অভিযোগের সত্যতাও সরেজমিনে দেখা যায়। সদ্য কার্পেটিং করা সড়কের বিভিন্ন স্থানে হাত দিয়ে ঘষা দিলে পিচের স্তর উঠে আসতে দেখা যায়। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে যান।

তদারকি নিয়ে প্রশ্ন: সড়ক নির্মাণকাজে সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী ও মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের নিয়মিত তদারকি ছিল কি না—এ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা। তাদের ভাষ্য, সরকারি অর্থে নির্মিত একটি সড়কের কাজ যদি নির্মাণের পরদিনই এভাবে নষ্ট হতে শুরু করে, তাহলে প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় মান নিয়ন্ত্রণ কতটা কার্যকর ছিল, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

স্থানীয়দের কেউ কেউ প্রকল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ঠিকাদারের সঙ্গে যোগসাজশ করে অনিয়মের সুযোগ দেওয়ার অভিযোগ করেছেন। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে কোনো স্বাধীন প্রমাণ বা তদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদন এখনো পাওয়া যায়নি।

স্থানীয়রা সংশ্লিষ্ট নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ফুলকাম বাদশা ও উপজেলা প্রকৌশলী হরষিত কুমার সাহার ভূমিকা তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তাদের অভিযোগ, প্রকৌশলীদের যথাযথ তদারকি থাকলে নিম্নমানের কাজ করার সুযোগ তৈরি হতো না।

ঠিকাদারের বক্তব্যেও উঠল প্রকৌশলীদের প্রসঙ্গ: অভিযোগের বিষয়ে মেসার্স মরিয়ম এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মো. হাসান মিয়া বলেন, নির্বাহী প্রকৌশলী ও উপজেলা প্রকৌশলী যেভাবে নির্দেশ দিয়েছেন, তিনি সেভাবেই কাজ করেছেন। কার্পেটিং উঠে গেলে তার কী করার আছে—এমন প্রশ্নও তোলেন তিনি।

তবে একই সঙ্গে তিনি বলেন, নির্মাণাধীন সড়কে যে সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে, তা সমাধানের জন্য এলাকাবাসীকে তিনি কথা দিয়েছেন। নিজের ক্ষতি হলেও সমস্যার সমাধান করবেন।

ঠিকাদারের এমন বক্তব্যের পর প্রকল্পের কারিগরি নির্দেশনা কে দিয়েছেন, কী উপকরণ ও কী পদ্ধতিতে কাজ করার কথা ছিল এবং বাস্তবে তা অনুসরণ করা হয়েছে কি না—এসব প্রশ্নের উত্তর খোঁজা জরুরি হয়ে উঠেছে।

কর্মকর্তারা জানেন, তদন্তও হয়েছে: মনোহরদী উপজেলা প্রকৌশলী হরষিত কুমার সাহা বলেন, সড়কের অনিয়মের বিষয়ে তিনি অবগত হয়েছেন। সরেজমিনে তদন্তও করা হয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে বিষয়টির সমাধান করা হবে।

নরসিংদী স্থানীয় সরকার বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ফুলকাম বাদশা বলেন, বিষয়টি তার নজরে এসেছে। দ্রুত এর সমাধান করা হবে।

পরে মনোহরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাহমুদুল হাসান সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তিনি সড়কের কাজ নিয়ম অনুযায়ী সম্পন্ন করার নির্দেশ দেন।

সরকারি অর্থের অপচয়ের আশঙ্কা: প্রায় ২ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন একটি সড়কের কার্পেটিং যদি নির্মাণের পরপরই উঠে যায়, তাহলে সড়কটির স্থায়িত্ব নিয়ে বড় প্রশ্ন তৈরি হয়। একই সঙ্গে নিম্নমানের কাজের কারণে ভবিষ্যতে পুনরায় সংস্কারের প্রয়োজন হলে সরকারি অর্থের ওপর বাড়তি চাপ পড়তে পারে বলে আশঙ্কা স্থানীয়দের।

এ কারণে শুধু উঠে যাওয়া কার্পেটিং পুনরায় করে দিলেই সমস্যার সমাধান হবে না বলে মনে করছেন এলাকাবাসী। তাদের দাবি, সড়কের নিচের স্তর থেকে শুরু করে কার্পেটিং পর্যন্ত প্রতিটি ধাপের কারিগরি পরীক্ষা করতে হবে। প্রকল্পের নকশা, প্রাক্কলন ও কার্যাদেশ অনুযায়ী কাজ হয়েছে কি না, ব্যবহৃত বালু, খোয়া, পাথর ও বিটুমিনের মান কী ছিল—এসবও পরীক্ষা করা প্রয়োজন।

তাদের আরও দাবি, তদন্তে কোনো ধরনের অনিয়ম বা সরকারি অর্থের অপব্যবহারের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার, তদারকির দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা এবং দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে।


নির্বাচিত

যাত্রীসেবা না বাড়ালে বাস কোম্পানির রুট বাতিল: সড়কমন্ত্রী

ছবি: সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেছেন, ঢাকার গণপরিবহনে শৃঙ্খলা ও যাত্রীসেবার মান বাড়াতে বাস কোম্পানিগুলোকে নির্দিষ্ট সময় দেওয়া হবে। এ সময়ের মধ্যে সেবার মান উন্নত না হলে নতুন কোম্পানি গঠন এবং প্রয়োজনে রুট বাতিল করে সরকারি ব্যবস্থাপনায় বাস পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) তেজগাঁও সড়ক ভবনে বাস রুট রেশনালাইজেশন কার্যক্রম নিয়ে বাস মালিকদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

শেখ রবিউল আলম বলেন, ‘বাসের মান, যাত্রীসেবা ও শৃঙ্খলা নিশ্চিত করার দায়িত্ব কোম্পানির। চালক-কর্মচারীরা নিয়ম না মানলে তার দায়ও কোম্পানিকে নিতে হবে।’

বাস মালিকদের ভাড়া বাড়ানোর দাবির বিষয়ে সড়কমন্ত্রী বলেন, ‘আগে মানসম্মত সেবা নিশ্চিত করতে হবে। এরপর প্রয়োজন অনুযায়ী ভাড়া সমন্বয়ের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।’

এ ছাড়া ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ সড়কে চার্জিং অটোরিকশা চলাচল নিয়ন্ত্রণ, দক্ষ চালকদের দ্রুত লাইসেন্স দেওয়া এবং যাত্রীবান্ধব বাসস্টপেজ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানান শেখ রবিউল আলম।


নির্বাচিত

‘দুই কোটি টাকার নিচে নেব না’—ঘুষ দাবি করায় প্রকৌশলী বরখাস্ত

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২২:৩৭
লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি

দুই কোটি টাকা ঘুষ দাবির কথোপকথনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর লক্ষ্মীপুরে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নুরুল আমিনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) পিডিবির তদন্ত ও শৃঙ্খলা পরিদপ্তর থেকে জারি করা দাপ্তরিক আদেশে এ তথ্য জানানো হয়।

দাপ্তরিক আদেশে বলা হয়েছে, নুরুল আমিনের বিরুদ্ধে আর্থিক লেনদেনসংক্রান্ত কথোপকথনের একটি ভিডিও গণমাধ্যমে প্রচারিত হওয়ায় বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (কর্মচারী) চাকরি বিধিমালা, ১৯৮২-এর ১৪১(১) বিধির অধীনে ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে তাঁকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়।

এর আগে রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) রাতে প্রায় ৮ মিনিট ৫০ সেকেন্ডের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওটিতে বিভিন্ন প্রকল্পের মালামাল, ঠিকাদারি বিল, বিল আটকে রাখা, ‘ক্রস আর্ম’ ও অর্থ লেনদেন নিয়ে কথোপকথন শোনা যায়।

ভিডিওর একটি অংশে একজনকে বলতে শোনা যায়, ‘আমি দুই কোটি টাকা থেকে নড়ব না।’ পরে তাঁকে বলতে শোনা যায়, ‘ছয় কোটি টাকা তিনগুণ না, আমি দুই কোটি টাকার কমে নড়ব না। চেয়ারম্যানের কাছে যেতে হলে যাবো। দেখি চেয়ারম্যান কী কয়।’

আরেক অংশে কথিত প্রকৌশলীর কণ্ঠে শোনা যায়, ‘একটা বিলের জন্য যদি দুই কোটি টাকা নিই, তাহলে চেয়ারম্যান কি আমার বিরুদ্ধে যাবে? আমাকে জায়গামতো পোস্টিং দেবে।’ পরে একটি কাজের মালামালের হিসাব নিয়ে ‘তিন লাখ টাকার ওয়ার্কে মালামাল লাগে ৩০ লাখ টাকা’—এমন কথোপকথন শোনা যায়।

ভিডিওর আরেক অংশে পাঁচ কোটি টাকার মালামালের প্রসঙ্গ তুলে একজনকে বলতে শোনা যায়, ‘পাঁচ কোটি টাকা থেকে আমাকে দুই কোটি টাকা দেন, আমি সব সই করে দেবো।’ ভিডিওতে কয়েকজন ব্যক্তির কাছ থেকে নগদ টাকা গ্রহণের দৃশ্যও রয়েছে। তবে ওই ব্যক্তিদের মুখ স্পষ্ট নয় এবং তাঁদের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

পিডিবি চেয়ারম্যান মো. রেজাউল করিম সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, ভিডিওটির বিষয়ে জানার পর সংশ্লিষ্ট বিভাগকে ওই কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়। ইতোমধ্যে তাঁকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে এবং তাঁর বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরুর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্ত শেষ হওয়ার পর চাকরির বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

পিডিবি চেয়ারম্যান আরও বলেন, প্রতিষ্ঠানের ভেতরে থাকা কোনো অসাধু ব্যক্তির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পিডিবি পিছপা হবে না।

ভাইরাল ভিডিও ও নুরুল আমিনের সাময়িক বরখাস্তের পর লক্ষ্মীপুর পিডিবির সেবা নিয়ে ২০২৫ সালে ওঠা বিভিন্ন অভিযোগও নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

২০২৫ সালের ৩ জুলাই লক্ষ্মীপুর প্রেস ক্লাবের সামনে পিডিবির সেবা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে বিক্ষোভ সমাবেশ করেন একদল গ্রাহক। ওই সমাবেশ থেকে নির্বাহী প্রকৌশলী নুরুল আমিনকে অপসারণের দাবি জানানো হয়।

সমাবেশে বণিক সমিতির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আব্দুল আজিজ, সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদসহ গ্রাহকেরা বক্তব্য দেন। বক্তারা পিডিবির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে ঘুষ ও অনিয়মের অভিযোগ তুলে সাধারণ গ্রাহকদের হয়রানির দাবি করেন।

তাঁদের অভিযোগ, ২০২৫ সালের ২২ জুন হঠাৎ করে দুই শতাধিক প্রিপেইড মিটার লক হয়ে যায়। ঘুষ না দেওয়ার কারণে এসব মিটার লক করা হয়েছে বলেও তাঁরা দাবি করেন।

সমাবেশে দেওয়া লিখিত অভিযোগে মোট ১৬টি অনিয়মের অভিযোগ তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে সরকারি মিটার ও ট্রান্সফরমার ব্যবহারের নামে অতিরিক্ত অর্থ আদায়, এলটি সংযোগের ভয় দেখিয়ে টাকা নেওয়া, সরকারি মালামাল বিক্রি, একই ঠিকাদারকে বারবার কাজ দেওয়া, মিটার পরিবর্তন ও সংযোগের ক্ষেত্রে ঘুষ দাবি এবং সরকারি ফ্রি সেবার নামেও অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ ছিল।

গ্রাহক তছলিম মিয়া অভিযোগ করেন, ব্যাটারির সমস্যায় তাঁর মিটার বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর কয়েক দিন অফিসে ঘোরাঘুরি করেন। পরে তাঁকে সুমন মজুমদার নামে এক ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলা হয়। তাঁর দাবি, ওই ব্যক্তির মাধ্যমে তিনটি মিটারের জন্য দুই হাজার টাকা করে মোট ছয় হাজার টাকা দিতে হয়েছে।

আরেক গ্রাহক আমির হোসেন অভিযোগ করেন, মিটারের ব্যাটারিসংক্রান্ত সমস্যার জন্য রিমন নামে এক ব্যক্তির মাধ্যমে তাঁকে এক হাজার ৫০০ টাকা দিতে হয়েছে।

তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। স্থানীয় ঠিকাদার লোকমান হোসেন বলেন, তিনি প্রায় ৪০ বছর ধরে ঠিকাদারি করছেন। নির্বাহী প্রকৌশলীর পছন্দের লোক না হওয়ায় বর্তমানে তাঁকে বাদ দিয়ে সবুজ নামের একজন ঠিকাদারের মাধ্যমে কাজ করানো হচ্ছে বলে তাঁর অভিযোগ।

তাঁর ভাষ্য, ‘আমি দীর্ঘদিন ধরে ঠিকাদারি করছি। কিন্তু বর্তমানে আমাকে বাদ দিয়ে অন্যদের মাধ্যমে কাজ করানো হচ্ছে।’

ভাইরাল ভিডিওটির সত্যতা, কণ্ঠস্বরের পরিচয়, ভিডিও ধারণের সময় ও স্থান এবং কথোপকথনে উল্লেখ করা অর্থের সঙ্গে বাস্তব কোনো লেনদেনের সম্পর্ক রয়েছে কি না—এসব বিষয় স্বাধীনভাবে এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। পিডিবির আনুষ্ঠানিক তদন্তে এসব বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য বেরিয়ে আসার কথা রয়েছে।


নির্বাচিত

কাপাসিয়ায় হান্নান শাহে্‌র মৃত্যুবার্ষিকীতে মিলাদ ও দোয়া 

কাপাসিয়ায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী প্রয়াত নেতা ব্রিগেডিয়ার (অব.) আ স ম হান্নান শাহে্‌র দশম মৃত্যুবার্ষিকীতে ঘাগুটিয়া গ্রামের নিজ বাড়ি আঙিনায় মিলাদ মাহফিল ও দোয়া। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কাপাসিয়া (গাজীপুর) প্রতিনিধি

গাজীপুরের কাপাসিয়ায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী প্রয়াত নেতা ব্রিগেডিয়ার (অব.) আ স ম হান্নান শাহে্‌র দশম মৃত্যুবার্ষিকীতে ঘাগুটিয়া গ্রামের নিজ বাড়ি আঙিনায় মিলাদ মাহফিল ও দোয়া হয়েছে। গত রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) বাদ আসর দোয়া মাহফিলে দলের বিভিন্ন পর্যায়ের বিপুলসংখ্যক নেতা-কর্মী অংশগ্রহণ করেন।

মিলাদ ও দোয়া পূর্ব আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও কাপাসিয়া উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক শাহ রিয়াজুল হান্নান।

উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, কবি, নাট্যকার অধ্যাপক আবু মহম্মদ রইস, কাপাসিয়া ডিগ্রি কলেজ গভর্নিং বডির সভাপতি প্রফেসর একেএম মাজহারুল ইসলাম, উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও ইউপি চেয়ারম্যান খলিলুর রহমান, উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক আব্দুল করিম বেপারী, জেলা বিএনপি নেতা আফজাল হোসাইন, বিএনপির সিনিয়র নেতা এম এ হাসেম চৌধুরী, বিএনপি নেতা জাহাঙ্গীর আলম, কাপাসিয়া প্রেসক্লাবের সভাপতি ও উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক সদস্য এফ এম কামাল হোসেন প্রমুখ।


নির্বাচিত

রংপুরে ভোটার হতে এসে রোহিঙ্গা যুবক আটক

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
রংপুর প্রতিনিধি

রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলা নির্বাচন কার্যালয়ে ভোটার হতে এসে শওকত নামে এক রোহিঙ্গা যুবক আটক হয়েছেন। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে তাকে আটক করা হয়।

নির্বাচন কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, শওকত পীরগঞ্জ উপজেলার পাঁচগাছি ইউনিয়নের জাহাঙ্গীরাবাদ গ্রামের বাসিন্দা পরিচয়ে ভোটার হওয়ার জন্য উপজেলা নির্বাচন অফিসে যান। এ সময় তিনি নাগরিকত্ব সনদ, জন্মনিবন্ধনসহ প্রয়োজনীয় বিভিন্ন কাগজপত্র জমা দেন। যাচাই-বাছাইয়ের সময় তাঁর পরিচয় ও কথাবার্তায় অসংগতি ধরা পড়ে। পরে জিজ্ঞাসাবাদে তাঁর পরিচয় নিয়ে সন্দেহ আরও বাড়ে।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে শওকত জানান, তিনি কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফের ২৭ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাসিন্দা। টেকনাফের এক ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যমে তিনি পীরগঞ্জে আসেন। ওই ব্যক্তি তাঁকে পীরগঞ্জের নাগরিক বানিয়ে বিদেশে পাঠানোর কথা বলেছিলেন। পরে পীরগঞ্জে এসে ওই ব্যক্তি তাঁকে উপজেলা নির্বাচন কার্যালয়ে নিয়ে যান এবং সেখান থেকে চলে যান।

শওকতের ভাষ্য অনুযায়ী, চলে যাওয়ার সময় ওই ব্যক্তি তাঁর মোবাইল ফোন থেকে নিজের ব্যবহৃত নম্বরও মুছে দেন। ফলে ওই ব্যক্তির নাম-পরিচয় বা ঠিকানা সম্পর্কে তিনি কিছু জানাতে পারেননি।

এদিকে পাঁচগাছি ইউনিয়নের নামে তৈরি করা কাগজপত্রের সত্যতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান সুলতান মন্ডল বলেন, শওকত যে কাগজপত্র দেখিয়েছেন, সেগুলো ইউনিয়ন পরিষদ থেকে দেওয়া হয়নি। এসব কাগজে তাঁর স্বাক্ষর ও ইউনিয়নের সিল জাল করা হয়েছে।

পীরগঞ্জ উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আজিজার রহমান বলেন, শওকতকে দেখে প্রথম থেকেই তাঁদের সন্দেহ হয়েছিল। পরে কথাবার্তায় সন্দেহ আরও বাড়ে। একপর্যায়ে তাঁকে জাতীয় সংগীত বলতে বলা হলে তিনি তা বলতে পারেননি। এতে তাঁর নাগরিকত্ব নিয়ে সন্দেহ আরও জোরালো হয়। জিজ্ঞাসাবাদেও তাঁর বক্তব্যে রোহিঙ্গা হওয়ার বিষয়টি উঠে আসে।

পীরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজমূল হক বলেন, ঘটনাস্থলে পুলিশের একটি দল পাঠানো হয়েছে। নির্বাচন অফিস থেকে অভিযোগ পেলে বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ঘটনাটি ভোটার নিবন্ধন প্রক্রিয়ায় ভুয়া নাগরিকত্বের কাগজপত্র ব্যবহারের অভিযোগের বিষয়টিও সামনে এনেছে। তবে শওকতকে ভোটার বানানোর সঙ্গে জড়িত ব্যক্তির পরিচয় ও কাগজপত্র জালিয়াতির বিষয়টি তদন্তের পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে।


নির্বাচিত

অস্ত্র নয়, জনগণই দেশের সবচেয়ে বড় শক্তি: ফয়জুল করীম

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীম বলেছেন, দেশের সবচেয়ে বড় শক্তি অস্ত্র নয়, জনগণ। তাঁর দাবি, অতীতে ব্রিটিশ ও পাকিস্তান শাসন এবং শেখ হাসিনার সরকারের ক্ষেত্রেও জনগণের সমর্থনের বিষয়টি ক্ষমতায় থাকার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছিল।

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ময়মনসিংহের ত্রিশাল নজরুল অডিটোরিয়াম হলরুমে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ত্রিশাল উপজেলা শাখার কর্মী সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ফয়জুল করীম বলেন, ‘বর্তমানে এ দেশের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো জনগণ, অস্ত্র নয়।’ তিনি বলেন, ব্রিটিশদের কাছে অস্ত্র থাকলেও জনগণ ছিল না, তাই তারা ক্ষমতায় থাকতে পারেনি। পাকিস্তানের কাছেও অস্ত্র ছিল, কিন্তু জনগণ ছিল না। একইভাবে শেখ হাসিনার কাছেও অস্ত্র ছিল, কিন্তু জনগণ ছিল না বলে তিনি ক্ষমতায় থাকতে পারেননি—এমন মন্তব্য করেন তিনি।

জনগণের কাছে যাওয়ার আহ্বান

ইসলামী আন্দোলনের নেতা-কর্মীদের জনগণের কাছে গিয়ে দাওয়াতি কার্যক্রম পরিচালনার আহ্বান জানিয়ে ফয়জুল করীম বলেন, জনশক্তি বাড়াতে মানুষের দ্বারে দ্বারে গিয়ে দ্বীনের দাওয়াত পৌঁছে দিতে হবে। দাওয়াতি কার্যক্রমের মাধ্যমে মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

তিনি বলেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নেতা-কর্মীদের প্রত্যেককে জনগণের কাছে যেতে হবে। যারা দ্বীনের কাজ করবেন, তাঁদেরও মানুষের কাছে গিয়ে দাওয়াতি কাজ করতে হবে।

ফয়জুল করীম আরও বলেন, গত নির্বাচনে ইসলামী আন্দোলন ‘ইসলামের পক্ষে একটি বাক্স’ স্লোগান সামনে রেখে নির্বাচনে অংশ নিয়েছিল। আল্লাহর জমিনে আল্লাহর হুকুমত প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই তাঁদের নির্বাচনে অংশগ্রহণ বলে উল্লেখ করেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ যা কিছু করে, সবকিছুই আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য করে।

শরিয়াভিত্তিক রাষ্ট্রকাঠামোর কথা

ইসলামের নামে যারা অনৈসলামিক কার্যক্রম পরিচালনা করছে, দেশের মানুষ একসময় তাদের প্রত্যাখ্যান করবে বলে মন্তব্য করেন ইসলামী আন্দোলনের এই নেতা। তবে এটি তাঁর রাজনৈতিক বক্তব্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

তিনি বলেন, জনগণের কাছে গিয়ে দাওয়াতি কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে মানুষের প্রত্যাশা পূরণে শরিয়াভিত্তিক রাষ্ট্রকাঠামো প্রতিষ্ঠার পথ তৈরি করা সম্ভব।

নতুন কমিটির শপথ

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ত্রিশাল উপজেলা শাখার নবনির্বাচিত সভাপতি এস এম মাঈনুদ্দীন জাহাঙ্গীরের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক প্রভাষক মাহফুজুর রহমানের সঞ্চালনায় কর্মী সম্মেলন ও নবগঠিত কমিটির শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক (ময়মনসিংহ বিভাগ) প্রভাষক হাফেজ মাওলানা মো. আলমগীর হোসাইন তালুকদার। বিশেষ বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা শাখার সভাপতি মুফতি ইয়াকুব সাঈদ।

আমন্ত্রিত অতিথিদের মধ্যে বক্তব্য দেন ময়মনসিংহ উত্তর জেলা শাখার সভাপতি মুফতি গোলাম মাওলা ভূঁইয়া, জামিয়া সাওতুল হেরা মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল মুফতি জহিরুল ইসলাম, ইসলামী যুব আন্দোলন বাংলাদেশ ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা শাখার সভাপতি এইচ এম হুজাইফা, দক্ষিণ জেলা ছাত্র আন্দোলনের সভাপতি আব্দুল্লাহ আল-মামুন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ময়মনসিংহ মহানগর শাখার সভাপতি আলহাজ্ব হাদিউল ইসলাম এবং ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মাওলানা ফজলুল করিম রসুলপুরীসহ দলের নেতারা।

পরে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ত্রিশাল উপজেলা শাখার নবগঠিত কমিটির সদস্যদের শপথবাক্য পাঠ করান দলের সিনিয়র নায়েবে আমীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীম।


নির্বাচিত

শরণখোলায় বলেশ্বর নদীতে গরু নিয়ে কুমির ও মানুষের লড়াই

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
খুলনা ব্যুরো

শরণখোলায় বলেশ্বর নদীতে গরুকে কুমির টেনে নেওয়ার সময় মানুষের সাথে কুমিরের লড়াই হয়েছে। লড়াইয়ে পরাস্ত কুমির গরুটিকে ছেড়ে পানির নীচে চলে যায়। ঘটনাটি ঘটেছে শরণখোলা উপজেলার বগী গ্রাম সংলগ্ন বলেশ্বর নদীর চরে গতকাল সোমবার দুপুরে।


প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বগী গ্রামের পুতুল বেগমের গৃহপালিত একটি গরু বলেশ্বর নদীর চরে ঘাস খেতে যান। নদীতে জোয়ার এলে গরুটি সাতরে ছোট খাল পার হওয়ার সময় আকষ্মিক একটি কুমির গরুটির পিছন দিকে কামড়ে ধরে নদীর দিকে টেনে নিতে থাকে। এ সময় গরুটির আর্তচিৎকারে ঘটনাস্থলের অদুরে নদীতে মাছ ধরারত জেলেরা ঘটনাটি দেখে দ্রুত এগিয়ে আসে। জেলেরা গরুটির গলায় দড়ি পেচিয়ে কিনারের দিকে টানতে থাকে। অনেকক্ষণ মানুষ আর কুমিরের টানাটানিতে অবশেষে কুমির গরুটি ছেড়ে দিয়ে পানির নীচে ডুব দেয় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন।


গরুর মালিক হতদরিদ্র নারী পুতুল বেগম বলেন, কুমিরের আক্রমণে তার গরু গুরুতর জখম হয়েছে। উঠে দাড়াতে পারছেনা। স্থানীয় পশু চিকিৎসককে দিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। এখন কি হয় বলা যাচ্ছেনা। এই গরুটি তার একমাত্র সম্বল বলে জানালেন পুতুল বেগম।


নির্বাচিত

অষ্টগ্রামে ১২ কেজি গাঁজাসহ মাদক চক্রের ৪ সদস্য আটক

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
​অষ্টগ্রাম-মিঠামইন (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি

​কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রামে অভিযান চালিয়ে ১২ কেজি গাঁজাসহ আন্তজেলা মাদক ব্যবসায়ী চক্রের চার সদস্যকে আটক করেছে অষ্টগ্রাম থানা-পুলিশ। গত রোববার বিকেলে উপজেলার ইকুরদিয়া ঘাটসংলগ্ন এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়।

​সোমবার বিকেলে অষ্টগ্রাম থানার ওসি মোহাম্মদ রোকনুজ্জামান সাংবাদিকদের কাছে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

​পুলিশ সূত্রে জানা যায়, রোবাবর বিকেল ৩টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অষ্টগ্রাম থানা-পুলিশের একটি দল ইকুরদিয়া ঘাট এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় তল্লাশি চালিয়ে ১২ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয় এবং মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে চক্রের চার সদস্যকে হাতেনাতে আটক করা হয়।

এরা হলেন টাঙ্গাইল জেলার নাগরপুর থানার দফত্তর গ্রামের আব্দুল রাজ্জাকের ছেলে মিলন হোসেন (২৮) এবং একই এলাকার আ. করিমের ছেলে মো. শামীম (৩৪); অপর দুই জন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বাঞ্ছারামপুর থানার পদুয়োলা গ্রামের মৃত ইলিয়াস মিয়ার ছেলে সাইফুর রহমান (৩২) এবং একই থানার লাখাঁড়িপাড়া গ্রামের মো. আমিন মিয়ার ছেলে মো. জাকারিয়া (১৯)। ​এ ঘটনায় অষ্টগ্রাম থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করা হয়েছে।


নির্বাচিত

নাটোরে আঙুল বিচ্ছিন্ন হওয়া শিশুর বাড়িতে জেলা প্রশাসক

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নাটোর প্রতিনিধি

নাটোরে আঙুল বিচ্ছিন্ন হওয়া আহত শিশু বায়েজিদ বিন মাহমুদের বাড়িতে গিয়ে তার পরিবারের খোঁজখবর নিয়ে সান্ত্বনা দিয়েছেন জেলা প্রশাসক সুমনী আক্তার। গতকাল সোমবার সকালে তিনি শহরের বড় হরিশপুর চেয়ারম্যান রোড এলাকায় শিশুটির বাড়িতে যান। এ সময় জেলা প্রশাসক শিশুটিকে বুকে জড়িয়ে নেন এবং তার শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন।


এলাকাবাসী জানায়, গত বুধবার রাতে বড় হরিশপুর চেয়ারম্যান রোড এলাকায় ব্যাংক কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান মিলনের পরিবার এবং তাদের ভাড়াটিয়া পুলিশ সুপার কার্যালয়ে কর্মরত কনস্টেবল শাকিল হোসেনের পরিবার পারিবারিকভাবে পিকনিকের আয়োজন করে। সেখানে কনস্টেবলের ৪ বছর বয়সি মেয়ের সঙ্গে মিলনের ৭ বছর বয়সি ছেলে বায়েজিদের ধাক্কাধাক্কি হয়। পরে বিষয়টি পারিবারিকভাবে মীমাংসা করা হয়।


পরদিন বৃহস্পতিবার দায়িত্ব পালন শেষে কনস্টেবল শাকিল বায়েজিদকে জোর করে নিজের বাসায় নিয়ে যান বলে অভিযোগ। সেখানে স্ত্রী নাছরিন সুলতানার সহযোগিতায় খাটের পায়ার ওপর শিশুটির ডান হাতের শাহাদাত আঙুল রেখে ধারালো বটি দিয়ে বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। শিশুটির চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে শাকিল ও তার পরিবারের সদস্যরা পালিয়ে যান।


পরে বায়েজিদকে প্রথমে নাটোর জেনারেল হাসপাতাল এবং পরে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ ঘটনায় মামলা হলে কনস্টেবল শাকিল ও তার স্ত্রী নাছরিন সুলতানাকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।
শিশুটির বাবা মাহমুদুল হাসান মিলন বলেন, ‘জেলা প্রশাসক তার সন্তানকে বুকে জড়িয়ে নেওয়ায় সীমাহীন কষ্টের মধ্যেও তিনি ও তার স্ত্রী সান্ত্বনা পেয়েছেন।’


জেলা প্রশাসক বলেন, ‘অসুস্থ শিশুটির খোঁজখবর নিতে তার বাসায় যাওয়া হয়েছে। শিশুটির পাশে দাঁড়ানো, তাকে সাহস ও ভালোবাসা দেওয়া সবার দায়িত্ব। জেলা প্রশাসন সবসময় বায়েজিদ ও তার পরিবারের পাশে থাকবে।’


নির্বাচিত

কালকিনিতে ডেঙ্গু রোধে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মাদারীপুর প্রতিনিধি  

মাদারীপুরের কালিকিনি উপজেলায় ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালানো হয়েছে। সোমবার উপজেলার পাইলট গার্লস হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজের আয়োজনে এবং ‘বিডিক্লিন’ কালকিনির সহযোগিতায় এ অভিযান চালানো হয়।

কর্মসূচি পালন করা হয়। ‘শিক্ষার আলোয় আলোকিত হোক মন পরিচ্ছন্নতায় সুন্দর হোক শিক্ষাঙ্গন’- এ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে ডেঙ্গু প্রতিরোধে এই অভিযান পরিচালিত হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন কালকিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কিশোর কুমার দাস। ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতন হওয়ার পাশাপাশি বিদ্যালয়, বাড়ি-ঘর ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার বিষয়ে তিনি ছাত্র-শিক্ষকসহ উপস্থিত সবাইকে দিকনির্দেশনা দেন।

অভিযানে প্রধান অতিথিসহ উপস্থিত শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও উপস্থিত সকলেই সমন্বিতভাবে বিদ্যালয়টির প্রাঙ্গণ পরিষ্কার অভিযানে অংশ নিয়ে জমে থাকা পানি ও ময়লা-আবর্জনা অপসারণ করেন। একই সঙ্গে এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংসের উদ্যোগ নেওয়া হয়।

প্রধান অতিথি এ সময় বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ ও আশপাশ পরিষ্কার রাখা, কোথাও পানি জমতে না দেওয়া এবং এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংসের বিষয়ে সবাইকে সচেতন করে ‘এই শহর এই দেশ আমার এবং তা’ পরিচ্ছন্ন রাখার দায়িত্বও আমার’—এ বার্তায় সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে বিদ্যালয়, বাড়িঘর, অফিস-আদালত, পলিথিন প্যাক, নালা-নর্দমা, ডাবের খোসা, টায়ার, ফুলের টব ও যোখানে পানি জমে এডিশ মশার জন্ম হতে পারে এমন পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার আহ্বান জানান। এ ছাড়া কর্মসূচি থেকে ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্ন পরিবেশ ও জনসচেতনতার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।


নির্বাচিত

দেশেই নির্মিত টাগবোটে বাড়ছে পায়রা বন্দরের সক্ষমতা

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
খুলনা ব্যুরো

দেশের সমুদ্রবন্দর অবকাঠামো উন্নয়নের সঙ্গে বাড়ছে স্থানীয়ভাবে উচ্চপ্রযুক্তির জাহাজ নির্মাণের সুযোগও। এরই ধারাবাহিকতায় পায়রা বন্দর কর্তৃপক্ষের জন্য ৭০ টন বোলার্ড পুল ক্ষমতাসম্পন্ন আধুনিক টাগবোট ‘টিয়াখালী-৪’ নির্মাণ করেছে বাংলাদেশ নৌবাহিনী পরিচালিত খুলনা শিপইয়ার্ড লিমিটেড (কেএসওয়াই)। দেশীয় প্রযুক্তি, প্রকৌশল দক্ষতা ও জনবল ব্যবহার করে নির্মিত এ টাগবোট দেশের জাহাজ নির্মাণ শিল্পের সক্ষমতার পাশাপাশি পায়রা বন্দরের সামুদ্রিক কার্যক্রমে নতুন সক্ষমতা যোগ করবে।

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) খুলনা শিপইয়ার্ডে আনুষ্ঠানিকভাবে টাগবোটটির লঞ্চিং করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন খুলনা শিপইয়ার্ড লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রিয়ার এডমিরাল মো. আব্দুল লতিফ। এ সময় কেএসওয়াই, পায়রা বন্দর কর্তৃপক্ষ এবং প্রকল্পসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

পায়রা বন্দর কর্তৃপক্ষের জন্য ৭০ টন বোলার্ড পুল ক্ষমতাসম্পন্ন দুটি টাগবোট নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় দ্বিতীয় টাগবোট হিসেবে ‘টিয়াখালী-৪’ নির্মাণ করা হয়েছে। সিঙ্গাপুরের Navnautic Private Limited-এর নকশায় এবং আন্তর্জাতিক মান নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠানের তত্ত্বাবধানে নির্মিত টাগবোটটিতে আধুনিক Z-Drive Propulsion System ব্যবহার করা হয়েছে।

৩৭ মিটার দীর্ঘ টাগবোটটির ডিসপ্লেসমেন্ট ১ হাজার ১০০ টন এবং ড্রাফট ৫ মিটার। সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় ১৩ দশমিক ৮ মাইল। আধুনিক এই প্রযুক্তির ফলে বন্দরে বড় জাহাজের বার্থিং, আনবার্থিং, টোয়িং এবং দিক পরিবর্তন ও নিয়ন্ত্রণের কাজ আরও কার্যকরভাবে করা সম্ভব হবে।

অর্থনীতির দিক থেকে এর গুরুত্ব শুধু একটি টাগবোট নির্মাণে সীমাবদ্ধ নয়। বন্দরের জাহাজ পরিচালনায় নিজস্ব সক্ষমতা বাড়লে সামুদ্রিক পণ্য পরিবহনের কার্যক্রম আরও নির্বিঘ্ন করার সুযোগ তৈরি হয়। একই সঙ্গে স্থানীয় শিপইয়ার্ডে এ ধরনের উচ্চপ্রযুক্তির জাহাজ নির্মাণের সক্ষমতা বাড়লে ভবিষ্যতে সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের জাহাজের চাহিদার একটি অংশ দেশীয় প্রতিষ্ঠান থেকে পূরণের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

টাগবোটটির বহুমুখী ব্যবহারযোগ্যতাও অর্থনৈতিক গুরুত্ব বাড়িয়েছে। ফায়ার ফাইটিং সিস্টেমের পাশাপাশি এতে রেসকিউ অপারেশন, আন্ডারওয়াটার সার্ভে, স্যালভেজ কার্যক্রম, প্রতিকূল আবহাওয়ায় সমুদ্রে চলাচল এবং পাইলট পরিবহনের সুবিধা রয়েছে। ফলে শুধু নিয়মিত বন্দর পরিচালনা নয়, জরুরি ও বিশেষায়িত সামুদ্রিক কার্যক্রমেও এটি ব্যবহার করা যাবে।

খুলনা শিপইয়ার্ডের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটি এখন পর্যন্ত ৮০০টির বেশি নতুন জাহাজ নির্মাণ এবং ২ হাজার ৫০০টির বেশি জাহাজ মেরামতের অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে। ফলে দেশীয় জাহাজ নির্মাণ খাতে দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা ও অবকাঠামোকে কাজে লাগিয়ে আরও জটিল ও প্রযুক্তিনির্ভর জাহাজ নির্মাণের সুযোগ তৈরি হচ্ছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, দেশের বন্দর ও নৌপরিবহন অবকাঠামোর সম্প্রসারণের সঙ্গে জাহাজ নির্মাণ শিল্পের স্থানীয় সক্ষমতা বাড়ানো গেলে এর অর্থনৈতিক সুফল বহুমুখী হতে পারে। এতে দক্ষ জনশক্তির কর্মসংস্থান, প্রকৌশল ও প্রযুক্তি জ্ঞানের বিকাশ এবং দেশীয় শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি হবে। পাশাপাশি সামুদ্রিক বাণিজ্য সম্প্রসারণের সঙ্গে ব্লু ইকোনমির সম্ভাবনাও কাজে লাগানোর সুযোগ বাড়বে।

পায়রা বন্দরের জন্য ‘টিয়াখালী-৪’ নির্মাণ তাই শুধু একটি জাহাজ সংযোজনের ঘটনা নয়; বরং দেশের বন্দর সক্ষমতা ও স্থানীয় জাহাজ নির্মাণ শিল্পের পারস্পরিক বিকাশের একটি দৃষ্টান্ত। ভবিষ্যতে এ ধরনের প্রযুক্তিনির্ভর জাহাজ নির্মাণের পরিধি বাড়াতে পারলে দেশের সামুদ্রিক অর্থনীতিতে স্থানীয় শিল্পের অংশগ্রহণ আরও বাড়ার সুযোগ রয়েছে।


নির্বাচিত

অষ্টগ্রামে আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
অষ্টগ্রাম-মিঠামইন প্রতিনিধি, (কিশোরগঞ্জ)

কিশোরগঞ্জের হাওর উপজেলা অষ্টগ্রামে আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা হয়েছে। ​সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলা সম্প্রসারিত প্রশাসনিক ভবন মিলনায়তনে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাথী দাসের সভাপতিত্বে ও থানার ওসি কর্মকর্তা মোহাম্মদ রোকনুজ্জামানের সঞ্চালনায় এ সভা হয়।

এ সময় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. আমিনুল ইসলাম, বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি মো. শাহ আলম, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার গিয়াস উদ্দিন আশরাফী, অষ্টগ্রাম সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সৈয়দ ফয়াজ হাসান বাবু, উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক এসএম শাহীন, অষ্টগ্রাম হোসেনিয়া ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাও. নূরুল আবছার, উপজেলা প্রেসক্লাব সভাপতি নজরুল ইসলাম সাগর, উপজেলা আনসার ভিডিপি কর্মকর্তা তৌহিদ মিয়া, পূর্ব অষ্টগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান সুরমা আক্তার ও কাস্তুল ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান এনায়েতুল্লাহসহ উপজেলার বিভিন্ন দপ্তরের সরকারি কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

​সভায় উপজেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, অষ্টগ্রাম বড় বাজারের যানজট নিরসনে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ, মাদক ও জুয়া নির্মূলের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।


নির্বাচিত

banner close