ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপে ১৫৬টি উপজেলায় ভোটগ্রহণ শেষ হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত চলে ভোটগ্রহণ। ভোট গণনা শেষে রাতে নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশ করেন রিটার্নিং কর্মকর্তারা। সারা দেশের প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর থেকে জানা যায়-
ফরিদপুর
উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপে ফরিদপুরের নগরকান্দা ও সালথা উপজেলায় ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। নগরকান্দা উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপ-কমিটির সাবেক সহসম্পাদক কাজী শাহ জামান বাবুল। আনারস প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ৩৭ হাজার ২০৯ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মোটরসাইকেল প্রতীকের প্রার্থী বর্তমান উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মনিরুজ্জামান সরদার পেয়েছেন ২৫ হাজার ২৩৭ ভোট।
অন্যদিকে সালথা উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে বর্তমান চেয়ারম্যান ওয়াদুদ মাতুব্বর বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। আনারস প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ৩৫ হাজার ৫৪৫ ভোট তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী সালথা উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও মোটরসাইকেল প্রতীকের প্রার্থী মো. ওহিদুজ্জামান পেয়েছেন ৫ হাজার ৩৪২ ভোট।
নারায়ণগঞ্জ
উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপে নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলায় ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম। ঘোড়া প্রতীকে তিনি পেয়েছেন এক লাখ ১৫ হাজার ২৫২ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী দোয়াত কলম প্রতীকের প্রার্থী মো. শাহজালাল মিয়া পেয়েছেন ১৩ হাজার ১৩২ ভোট।
বিজয়ী মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম আড়াইহাজার উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সদস্য। তিনি কালাপাহাড়িয়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান। অন্যদিকে তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মো. শাহজালাল মিয়া আড়াইহাজার উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া
দ্বিতীয় ধাপের উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা ও আখাউড়ায় উপজেলায় ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। কসবা উপজেলায় আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের ফুফাতো ভাই ছাইদুর রহমান ও আখাউড়ায় মোগড়া ইউনিয়ন পরিষদের তিনবারের সাবেক চেয়ারম্যান মনির হোসেন বেসরকারিভাবে চেয়ারম্যান নির্বাাচিত হয়েছেন।
ঘোষিত ফলাফল অনুযায়ী, কসবা উপজেলায় ছায়েদুর রহমান স্বপন কাপ-পিরিচ প্রতীকে ৮৬ হাজার ৬৯৮ ভোট পেয়ে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও কুটি ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ছিলেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বর্তমান উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের সাবেক সহকারী একান্ত সচিব রাশেদুল কাউসার ভূইয়া আনারস প্রতীকে পেয়েছেন ৩৯ হাজার ৯৫৯ ভোট।
অন্যদিকে আখাউড়া উপজেলায় মনির হোসেন ঘোড়া প্রতীকে ২৮ হাজার ৩০৯ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি উপজেলা যুবলীগের সাবেক আহ্বায়ক ও মোগড়া ইউনিয়ন পরিষদের তিনবারের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান আনারস প্রতীকে পেয়েছেন ১৪ হাজার ৫৬৩ ভোট।
রাঙামাটি
ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপে রাঙামাটির রাজস্থলী, কাপ্তাই ও বিলাইছড়ি উপজেলায় শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। রাজস্থলী উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি উবাচ মারমা আনারস প্রতীকে ৭ হাজার ৭৫ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মো. রিয়াজ উদ্দীন রানা দোয়াত কলম প্রতীকে পেয়েছেন ২ হাজার ১৮ ভোট।
অন্যদিকে কাপ্তাই উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে উপজেলা যুবলীগের সভাপতি মো. নাছির উদ্দিন দোয়াত কলম প্রতীকে ৭ হাজার ৩৬২ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও সাবেক ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আনোয়ারুল ইসলাম চৌধুরী আনারস প্রতীকে পেয়েছেন ৬ হাজার ৯৭৩ ভোট।
অপরদিকে বিলাইছড়ি উপজেলায় মোট ১৩টি কেন্দ্রের মধ্যে ৫টি হেলিসর্টি ভোটকেন্দ্র রয়েছে। দুর্গম এলাকা হওয়ায় রাত সাড়ে ৯টা পর্যন্ত ফলাফল না আসায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কোনো ফলাফল ঘোষণা করেননি। তবে বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা যায়, পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (জেএসএস) সমর্থিত দোয়াত কলম প্রতীকের বিরোত্তম তঞ্চঙ্গ্যা চেয়ারম্যান পদে বিজয়ী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
লালমনিরহাট
লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ ও আদিতমারী উপজেলায় উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপে ভোটগ্রহণ শেষ হয়েছে। দুই উপজেলায় মধ্যে আদিতমারী উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে ফারুক ইমরুল কায়েস ও কালীগঞ্জ উপজেলায় জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক রাকিবুজ্জামান আহমেদ বিজয়ী হয়েছেন।
রাত সাড়ে ৯টার দিকে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা লুৎফর কবির তাদেরকে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত ঘোষণা করেন।
আদিতমারী উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে ফারুক ইমরুল কায়েস মোটরসাইকেল প্রতীকে পেয়েছেন ৩৩ হাজার ১৩৫ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রফিকুল আলম আনারস প্রতীকে পেয়েছেন ২৯ হাজার ১৮টি ভোট
কালীগঞ্জ উপজেলায় সাবেক সমাজকল্যাণমন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদের ছেলে রাকিবুজ্জামান আহমেদ আনারস প্রতীকে পেয়েছেন ২৪ হাজার ৩০৩ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী তার চাচা উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মাহবুবুজ্জামান আহমেদ ঘোড়া প্রতীকে পেয়েছেন ১৯ হাজার ৩৫০ ভোট।
পিরোজপুর
ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে দ্বিতীয় ধাপে পিরোজপুর জেলার দুই উপজেলায় শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। মঙ্গলবার পিরোজপুরের নেছারাবাদ ও কাউখালী উপজেলার ১৫টি ইউনিয়নের মোট ১২২টি ভোটকেন্দ্রে ইভিএম পদ্ধতিতে এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
কাউখালী উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে মো. আবু সাঈদ মিঞা ও নেছারাবাদ উপজেলায় আব্দুল হক নির্বাচিত হয়েছেন। রাতে নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা সৈয়দ শফিকুল হক বেসরকারিভাবে তাদের বিজয়ী ঘোষণা করেন।
নেছারাবাদ উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে আব্দুল হক আনারস প্রতীকে ৩৮ হাজার ৬১২ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী এস এম মুইদুল ইসলাম মোটরসাইল প্রতীকে পেয়েছেন ৩৫ হাজার ৫২০ ভোট।
অন্যদিকে কাউখালী উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে মো. আবু সাঈদ মিঞা ঘোড়া প্রতীকে ১১ হাজার ২৮৪ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মো. মনিরুজ্জামান তালুকদার পল্টন কাপ-পিরিচ প্রতীকে পেয়েছেন ৬ হাজার ২৯৪ ভোট।
ঝালকাঠি
উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপে ঝালকাঠি সদর ও নলছিটি উপজেলায় ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ঝালকাঠি সদর উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান ও ঝালকাঠি জেলা আওয়ামী লীগ সহ-সভাপতি খান আরিফুর রহমান। আনারস প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ৩৩ হাজার ৯৪৩ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী দোয়াত কলম প্রতীকের প্রার্থী মো. সুলতান খান পেয়েছেন ২৫ হাজার ৯৭১ ভোট।
অন্যদিকে নলছিটি উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মো. সালাউদ্দিন খান সেলিম বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। মোটরসাইকেল প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ২৩ হাজার ৯৩৯ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাবেক মেয়র তছলিম উদ্দিন চৌধুরী আনারস প্রতীকে পেয়েছেন ১৬ হাজার ৭৮৪ ভোট।
বাগেরহাট
উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপে বাগেরহাটে ফকিরহাট, মোল্লাহাট,ও চিতলমারী উপজেলায় ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ফকিরহাট উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন শেখ ওহিদুজ্জামান বাবু। মোটরসাইকেল প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ৪৬ হাজার ৬৫৪ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আনরস প্রতীকের প্রার্থী বর্তমানে উপজেলা চেয়ারম্যান স্বপন দাস পেয়েছেন ২৯ হাজার ৪৩৭ ভোট। এ উপজেলায় ভোট কাস্ট হয়েছে ৬২.৫০ শতাংশ।
চিতলমারী উপজেলার চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হয়েছেন মো. আলমগীর হোসেন সিদ্দিকী। দোয়াত কলম প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ৩৪ হাজার ৮৮৬ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বর্তমান উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও বাগেরহাট জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি অশোক কুমার বড়াল মোটরসাইকেল প্রতীকে পেয়েছেন ২২ হাজার ৭৬৩ ভোট। এ উপজেলায় ভোট কাস্ট হয়েছে ৪৫.৭৫ শতাংশ।
অন্যদিকে মোল্লাহাট উপজেলার চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হয়েছেন বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শাহিনুর আলম ছানা। দোয়াত কলম প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ২৯ হাজার ৯০২ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বর্তমান উপজেলা শেখ নাসির উদ্দীন আনারস প্রতীকে পেয়েছেন ১৯ হাজার ৯৫৪ ভোট। এ উপজেলায় ভোট কাস্ট হয়েছে ৫৩.৭৭ শতাংশ। জেলায় গড় ভোট কাস্টিং হয়েছে ৫৪ শতাংশ।
যশোর
দ্বিতীয় ধাপের উপজেলা নির্বাচনে যশোরের ঝিকরগাছা, শার্শা ও চৌগাছা উপজেলায় ভোটগ্রহণ করা হয়েছে। ভোটগ্রহণ শেষে রাতে বেসরকারিভাবে ফলাফল ঘোষণা করেন উপজেলাগুলোর দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তারা।
চৌগাছা উপজেলা চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হয়েছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা এসএম হাবিবুর রহমান। আনারস প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ৩৩ হাজার ৫৬৫ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ ড. মোস্তানিছুর রহমান পেয়েছেন ২৮ হাজার ৯৮০ ভোট।
নির্বাচনের সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও চৌগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুম্মিতা সাহা রাত সাড়ে ৯টায় এ ফলাফল ঘোষণা করেন।
ঝিকরগাছা উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হয়েছেন বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. মনিরুল ইসলাম। আনারস প্রতীকে মনিরুল ইসলাম পেয়েছেন ৪০ হাজার ৬৪৩ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী সেলিম রেজা ঘোড়া প্রতীকে পেয়েছেন ১৮ হাজার ৪৪৩ ভোট।
অন্যদিকে শার্শা উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে মো. সোহরাব হোসেন দোয়াত কলম প্রতীক নিয়ে ৩৭ হাজার ৫৭০ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মো. অহিদুজ্জামান আনারস প্রতীকে পেয়েছেন ১২ হাজার ২৯১ ভোট।
রাজশাহী
দ্বিতীয় ধাপে রাজশাহীর বাগমারা, দুর্গাপুর ও পুঠিয়া উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বাগমারা উপজেলায় বেসরকারিভাবে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন জাকিরুল ইসলাম সান্টু। তিনি ঘোড়া প্রতীকে পেয়েছেন ৪৭ হাজার ৩২২ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আব্দুর রাজ্জাক সরকার ওরফে আর্ট বাবু পেয়েছেন ৪ হাজার ৩২১ ভোট।
পুঠিয়া উপজেলায় বেসরকারিভাবে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন আবদুস সামাদ মোল্লা। তিনি আনারস প্রতীকে পেয়েছেন ২৬ হাজার ৬৬৫ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আহসানুল হক মাসুদ ঘোড়া প্রতীকে পেয়েছেন ২৩ হাজার ৬৭৯ ভোট।
অন্যদিকে দুর্গাপুর উপজেলায় বেসরকারিভাবে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন শরীফুজ্জামান শরীফ। তিনি মোটরসাইকেল প্রতীকে পেয়েছেন ৪২ হাজার ১১৩ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আব্দুল মজিদ সরদার পেয়েছেন ২৭ হাজার ৩৩২ ভোট।
সাতক্ষীরা
ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপে সাতক্ষীরার আশাশুনি, তালা ও দেবহাটা উপজেলায় ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আশাশুনি উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও বর্তমান উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এবিএম মোস্তাকিম বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি চিংড়ি প্রতীকে পেয়েছেন ৫১ হাজার ৬৬২ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী শাহনেওয়াজ ডালিম ঘোড়া প্রতীকে পেয়েছেন ৫০ হাজার ৭০৭ ভোট।
অপরদিকে সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলা নির্বাচনে মো. আল ফেরদাউস বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি হেলিকপ্টার প্রতীকে ২৬ হাজার ৩৭৭ ভোট পেয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মো. মজিবুর রহমান মোটরসাইকেল প্রতীকে পেয়েছেন ১৭ হাজার ১৫২ ভোট।
এ ছাড়া সাতক্ষীরার তালা উপজেলা নির্বাচনে ঘোষ সনৎ কুমার বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি কাপ পিরিচ প্রতীকে ৪৬ হাজার ৪৫৮ ভোট পেয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী সরদার মশিয়ার চিংড়ি প্রতীকে পেয়েছেন ৩২ হাজার ৪১৩ ভোট।
প্রযুক্তিকে শুধু যন্ত্রপাতি ও বিভিন্ন ব্যবস্থার সমষ্টি হিসেবে না দেখে এর মাধ্যমে শহরকে আরও দক্ষ, টেকসই, সংযুক্ত ও নাগরিকবান্ধব করে গড়ে তুলতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ও প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটির বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান ডা. শাহাদাত হোসেন।
শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটিতে দুই দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি সম্মেলন ‘আইকনেক্ট ২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। পরবর্তী প্রজন্মের তড়িৎ ও ইলেকট্রনিকস, কম্পিউটার ব্যবস্থা ও প্রযুক্তিবিষয়ক এ সম্মেলনে দেশ-বিদেশের গবেষক, শিক্ষাবিদ, প্রযুক্তিবিদ ও শিল্প খাতের প্রতিনিধিরা অংশ নিচ্ছেন।
ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্ব শুধু বিদ্যমান জ্ঞান শিক্ষার্থীদের মধ্যে স্থানান্তর করা নয়; নতুন জ্ঞান সৃষ্টি, উদ্ভাবনকে উৎসাহিত করা এবং ভবিষ্যতের জটিল সমস্যা মোকাবিলায় তরুণদের প্রস্তুত করাও বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। আইকনেক্টের মতো সম্মেলন গবেষণা ও জ্ঞানকে ভৌগোলিক ও বিষয়ভিত্তিক সীমারেখা অতিক্রম করে নতুন সহযোগিতার সুযোগ তৈরি করে।’
তিনি বলেন, ‘আইকনেক্ট ২০২৬ যেন শুধু কারিগরি উপস্থাপনা ও অধিবেশনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থাকে। এটি অর্থবহ আলোচনা, নতুন সহযোগিতা এবং দীর্ঘস্থায়ী একাডেমিক অংশীদারত্ব তৈরির কার্যকর প্ল্যাটফর্ম হয়ে উঠবে—এটাই প্রত্যাশা।’
প্রযুক্তির অগ্রগতির পাশাপাশি মানবকল্যাণ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে মেয়র বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা, স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষার উন্নয়ন, শিল্প খাতকে শক্তিশালী করা এবং টেকসই শহর গড়ে তুলতে প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনকে কাজে লাগাতে হবে।’ তিনি তরুণ গবেষক ও শিক্ষার্থীদের নতুন ও কঠিন প্রশ্ন নিয়ে কাজ করার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক এস. এম. নছরুল কদির বলেন, ‘আইকনেক্ট ২০২৬ আয়োজনের উদ্দেশ্য শুধু একটি আন্তর্জাতিক অনুষ্ঠান সম্পন্ন করা নয়; গবেষণা, জ্ঞান ও উদ্ভাবনের মাধ্যমে সমাজ, শিল্প ও দেশের অর্থনীতিতে বাস্তব অবদান রাখা।’
তিনি বলেন, ‘শিল্প ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানো এবং গবেষণার বাস্তব ও বাণিজ্যিক প্রয়োগ নিশ্চিত করা জরুরি। আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে অংশীদারত্ব বাড়িয়ে প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটির গবেষণা, শিক্ষা ও আন্তর্জাতিক অবস্থান আরও শক্তিশালী করা হবে।’
উপাচার্য বলেন, ‘শুধু র্যাংকিং অর্জন নয়, প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটিকে একটি মানসম্পন্ন, গবেষণাভিত্তিক ও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে গড়ে তোলাই লক্ষ্য।’
অনুষ্ঠানে আইকনেক্ট ২০২৬-এর সাধারণ সভাপতি অধ্যাপক ড. শহীদ মো. আসিফ ইকবাল, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. শেখ ফাত্তাহ, অধ্যাপক ড. সেলিয়া শাহনাজ, খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. শেখ মো. রবিউল ইসলাম, প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটির রেজিস্ট্রার মোহাম্মদ ইফতেখার মনির, ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক সুফিয়া আক্তার এবং সম্মেলনের আয়োজক সভাপতি ও ইইই বিভাগের চেয়ারম্যান সহযোগী অধ্যাপক টোটন চন্দ্র মল্লিক বক্তব্য দেন। বক্তারা আধুনিক প্রযুক্তি, গবেষণা ও উদ্ভাবনের গুরুত্ব তুলে ধরে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, গবেষণার প্রসার এবং প্রযুক্তির বাস্তব প্রয়োগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সম্মেলনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, রোবোটিকস, বিদ্যুৎ ব্যবস্থা, যোগাযোগ প্রযুক্তি ও কম্পিউটার ব্যবস্থাসহ আধুনিক প্রযুক্তির বিভিন্ন বিষয়ে গবেষণা ও জ্ঞান বিনিময় হচ্ছে। আয়োজকদের প্রত্যাশা, আইকনেক্ট ২০২৬-এর মাধ্যমে প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে দেশ-বিদেশের গবেষক, শিক্ষাবিদ ও শিল্প খাতের প্রতিনিধিদের মধ্যে নতুন সহযোগিতা ও অংশীদারত্বের সুযোগ তৈরি হবে।
এক দশকেরও বেশি সময় পর যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটনে পা রাখা চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংকে হোয়াইট হাউসে জাঁকজমকপূর্ণ আনুষ্ঠানিকতা ও বর্ণাঢ্য রাষ্ট্রীয় নৈশভোজে স্বাগত জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। দিনব্যাপী নানা জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজনের মধ্য দিয়ে দুই নেতা দ্বিপক্ষীয় বৈঠক সম্পন্ন করলেও এসব আনুষ্ঠানিকতার আড়ালে বিশ্বের শীর্ষ দুই পরাশক্তির মধ্যকার কৌশলগত ও অর্থনৈতিক দ্বন্দ্ব স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। খবর বার্তা সংস্থা এএফপি ও চীনের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সিনহুয়া’র।
যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের প্রেসিডেন্টদের এই বহুল আলোচিত শীর্ষ বৈঠকে বাণিজ্য, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), তাইওয়ান সংকট এবং চলমান ইরান যুদ্ধ প্রাধান্য পায়। বৈঠক শেষে ডোনাল্ড ট্রাম্প সাংবাদিকদের জানান, তাদের মধ্যে ‘দারুণ বৈঠক’ হয়েছে। অন্যদিকে প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং সংঘাত এড়িয়ে দুই পরাশক্তির ‘শান্তিপূর্ণভাবে সহাবস্থান’ বজায় রাখার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘চীন ও যুক্তরাষ্ট্রকে দায়িত্বশীল বৃহৎ দেশ হিসেবে কাজ করতে হবে।’
বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান অর্থনৈতিক উত্তেজনা প্রশমনে বাণিজ্য যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আগামী ১০ জানুয়ারি পর্যন্ত দুই মাসের জন্য বাড়ানোর বিষয়ে উভয় পক্ষ একমত হয়েছে। মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজকে জানান, চীনের উপপ্রধানমন্ত্রী হে লিফেংয়ের সঙ্গে আকস্মিক আলোচনার পর তথাকথিত ‘বুসান চুক্তি’র মেয়াদ বাড়ানোর এই সিদ্ধান্ত হয়। বেসেন্ট বলেন, ‘আমরা যেটিকে বুসান চুক্তি বলি, দুই দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক উত্তেজনা কমানোর এই সমঝোতার মেয়াদ ১০ নভেম্বর শেষ হওয়ার কথা ছিল। এখন তা ১০ জানুয়ারি পর্যন্ত বাড়ানো হবে।’ তবে বেইজিং এই বিরতির মেয়াদ দুই বছর করার আশা করেছিল। চুক্তির আওতায় চীনের কৃষিপণ্য আমদানি বৃদ্ধি, কিছু পণ্যে শুল্ক হ্রাস এবং ২০০টি বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের বিষয়গুলো আলোচনায় রয়েছে। চীনা প্রেসিডেন্ট এই সমঝোতাকে দুই দেশের জনগণ ও বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য ‘সুসংবাদ’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে সম্পর্কের ক্ষেত্রে ‘নতুন পদ্ধতি’ গ্রহণের ওপর জোর দেন।
বৈঠকে তাইওয়ান ইস্যুতে নিজের দেশের কঠোর অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন সি চিন পিং। সিনহুয়া জানায়, সি ট্রাম্পকে এ বিষয়ে ‘বিচক্ষণতা’ প্রদর্শনের পরামর্শ দিয়ে বলেন, চীন আশা করে যুক্তরাষ্ট্র ‘তাইওয়ানের স্বাধীনতার’ বিরোধিতা করবে। পাশাপাশি আঞ্চলিক অখণ্ডতা রক্ষায় বেইজিংয়ের অবস্থান স্পষ্ট করেন তিনি। অন্যদিকে, ইরান যুদ্ধ অবসানে গত ১৭ জুনের সমঝোতা স্মারকের শর্তাবলীতে ফিরে যেতে ওয়াশিংটনকে তাগিদ দেন সি, যার আওতায় যুদ্ধবিরতি, হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া এবং সামুদ্রিক অবরোধ প্রত্যাহারের শর্ত অন্তর্ভুক্ত ছিল।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়েও শীর্ষ পর্যায়ের এই বৈঠকে গভীর আলোচনা হয়। সি চিন পিং বলেন, এই প্রযুক্তির উন্নয়ন যেন ‘সবসময় মানুষের নিয়ন্ত্রণে’ থাকে এবং এর সুফল যেন মানবকল্যাণে ব্যবহৃত হয়, তা নিশ্চিত করতে বিশ্বের শীর্ষ দুই অর্থনীতির ঐতিহাসিক দায়বদ্ধতা রয়েছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, দুই পরাশক্তিকে নিশ্চিত করতে হবে যেন কোনো অবস্থাতেই ‘কোনো সংঘাত ও কোনো মুখোমুখি অবস্থান’ তৈরি না হয়। জবাবে ট্রাম্প এআই-কে ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স’ হিসেবে অভিহিত করলেও এই প্রযুক্তির বিকাশে নতুন কোনো অভ্যন্তরীণ বিধিনিষেধ আরোপের প্রয়োজনীয়তা নাকচ করে দেন।
দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের পর সন্ধ্যায় হোয়াইট হাউসের ইস্ট রুমে সি চিন পিং ও তার স্ত্রী পেং লিয়ুয়ানের সম্মানে এক ‘ব্ল্যাক-টাই’ রাষ্ট্রীয় নৈশভোজের আয়োজন করেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প। মার্কিন উপাদানের সঙ্গে চীনা রন্ধনশৈলীর মেলবন্ধনে এই বিশেষ ভোজের তত্ত্বাবধান করেন মেলানিয়া। ১৯৭২ সালে রিচার্ড নিক্সন ও চৌ এনলাইয়ের ঐতিহাসিক সফরের স্মৃতিবিজড়িত আমেরিকান স্পার্কলিং ওয়াইন দিয়ে ভোজের সূচনা হয়। অতিথিদের মেনুতে ছিল সিল্কি হলুদ স্কোয়াশ ভেলুতে স্যুপ, তিলের আবরণ দেওয়া সামুদ্রিক সি-বাস মাছ এবং হোয়াইট হাউসের নিজস্ব মধুর আইসক্রিমসংবলিত ভ্যানিলা ক্রেমু। নৈশভোজে অ্যাপলের টিম কুক, টেসলার ইলন মাস্ক, অ্যামাজনের জেফ বেজোস, অ্যালফাবেটের সুন্দর পিচাই, ওপেনএআইয়ের স্যাম অল্টম্যান এবং এনভিডিয়ার জেনসেন হুয়াংসহ মার্কিন প্রযুক্তি খাতের শীর্ষ নির্বাহীরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে চীনা ঐতিহ্যকে সম্মান জানিয়ে হোয়াইট হাউস লাল রঙের ডালিয়া ও রনুনকুলাস ফুল দিয়ে সাজানো হয়। সংগীত পরিবেশন করেন ক্লাসিক্যাল ধারার গায়ক ক্রিস্টোফার ম্যাককিও এবং মার্কিন সামরিক ব্যান্ডের শিল্পীরা। নৈশভোজের মঞ্চে ট্রাম্প সি চিন পিংকে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় প্রতীক টাকমাথা ঈগলের (বাল্ড ঈগল) একটি ভাস্কর্য উপহার দেন। ট্রাম্প জানান, আমেরিকার মুক্ত চেতনার প্রতীক এই শিল্পকর্মটির নকশায় তিনি ও মেলানিয়া ব্যক্তিগতভাবে ভূমিকা রেখেছেন। ট্রাম্প বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট সি এবং আমি দুজনেই বুঝি যে আমরা ভিন্ন ভিন্ন ব্যবস্থার প্রতিনিধিত্ব করি। তবে আমাদের জনগণের মধ্যে সম্পর্ক টিকে আছে।’ নৈশভোজ শেষে অতিথিদের হোয়াইট হাউসের নির্মাণাধীন ৪০ কোটি ডলারের নতুন বলরুম ঘুরিয়ে দেখান ট্রাম্প এবং বলেন, ‘আপনাদের সম্মানে, আপনারাই প্রথম এখানে পা রাখবেন।’
এর আগে বৃহস্পতিবার সকালে হোয়াইট হাউসের দক্ষিণ লনে আনুষ্ঠানিক অভ্যর্থনা, সদ্য সংস্কার করা রোজ গার্ডেনে সামরিক কুচকাওয়াজ এবং আকাশে বি-২ বোমারু বিমানসহ মার্কিন যুদ্ধবিমানের ফ্লাইপাস্টের মাধ্যমে চীনা প্রেসিডেন্টকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়। ট্রাম্প সিকে হোয়াইট হাউসের নতুন হেলিপ্যাড ও মেরিন ওয়ান হেলিকপ্টারও প্রদর্শন করেন। ওভাল অফিসে আলোচনার প্রাক্কালে সিএনএন, এমএস নাও ও পলিটিকোর সাংবাদিকদের আদালতের আদেশে প্রবেশাধিকার ফিরে পাওয়ার প্রসঙ্গ টেনে ট্রাম্প রসিকতা করে মন্তব্য করেন যে চীনা সাংবাদিকদের আচরণ সবচেয়ে বেশি বন্ধুত্বপূর্ণ।
দিনের বিভিন্ন আনুষ্ঠানিকতার ফাঁকে দুই নেতা যখন ভেতরে আলোচনা করছিলেন, তখন বাইরে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন একদল প্রতিবাদকারী। তারা ‘সি চিনপিং এখানে স্বাগত নন’ এবং ‘হংকংকে স্বাধীন করো’ বলে স্লোগান দেন। ফেন্টানিল পাচার কিংবা হংকংয়ের কারাবন্দি সংবাদমাধ্যম উদ্যোক্তা জিমি লাইয়ের মতো স্পর্শকাতর বিষয়ে সাংবাদিকরা প্রশ্ন করার চেষ্টা করলেও দুই নেতার কেউই সে বিষয়ে কোনো উত্তর দেননি।
উল্লেখ্য, বুধবার সন্ধ্যায় মেরিল্যান্ডের জয়েন্ট বেস অ্যান্ড্রুজ সামরিক ঘাঁটিতে পৌঁছালে ট্রাম্প দম্পতি সশরীরে উপস্থিত হয়ে চীনা প্রেসিডেন্টকে স্বাগত জানান, যা গত ১১ বছরে কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্টের ক্ষেত্রে প্রথম। শুক্রবার দুই দেশের শীর্ষ নেতাদের সস্ত্রীক ইউএস ন্যাশনাল আর্কাইভস পরিদর্শনের মধ্য দিয়ে তিন দিনের এই রাষ্ট্রীয় সফর শেষ হতে যাচ্ছে।
সুন্দরবনের কোকিলমনি এলাকা থেকে গভীর সমুদ্রে ইঞ্জিন বিকল হয়ে ভাসতে থাকা ফিশিং বোটসহ আট জন জেলেকে জীবিত উদ্ধার করেছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড। শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) সকালে কোস্ট গার্ড সদর দপ্তরের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
কোস্ট গার্ড সূত্রে জানা যায়, গত ১৯ সেপ্টেম্বর দুপুর এগারোটায় আট জন জেলেসহ একটি ফিশিং বোট মাছ ধরার সময় সুন্দরবনের কোকিলমনি থেকে ১১ নটিক্যাল মাইল দক্ষিণে গভীর সমুদ্রে পৌঁছালে-এর ইঞ্জিন বিকল হয়ে পড়ে এবং বোটটি ভাসতে শুরু করে। এরপর গত বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিকাল তিনটার দিকে বোটটি মোবাইল নেটওয়ার্কের আওতায় আসলে এক জেলে বোটের মালিককে ফোন করে বিষয়টি জানান। বোট মালিক তাৎক্ষণিকভাবে কোস্ট গার্ড পশ্চিম জোনের কাছে সহায়তার আবেদন করেন।
এই তথ্যের ভিত্তিতে কোস্ট গার্ড স্টেশন কোকিলমনির একটি দল দ্রুত গভীর সমুদ্রে উদ্ধার অভিযান চালিয়ে বিকল হওয়া বোট ও আট জেলেকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করে। উদ্ধারের পর জেলেদের প্রাথমিক চিকিৎসা এবং প্রয়োজনীয় খাবার সরবরাহ করা হয়।
বর্তমানে বোটটিসহ উদ্ধারকৃত জেলেদের মালিকপক্ষের কাছে হস্তচান্তরের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। কোস্ট গার্ড জানিয়েছে, উপকূলীয় ও সমুদ্র এলাকায় শৃঙ্খলা রক্ষা এবং সাধারণ মানুষের জরুরি উদ্ধার কার্যক্রমে তাদের এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
কক্ষের ভেতরে ধুলো জমছে লাখ লাখ টাকা মূল্যের আধুনিক আলট্রাসনোগ্রাফি ও এক্স-রে যন্ত্রপাতিতে। অথচ বাইরে দাঁড়িয়ে অসহায় দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছেন রোগীরা। মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা সরঞ্জাম থাকা সত্ত্বেও প্রয়োজনীয় লোকবলের অভাবে মাসের পর মাস ধরে বন্ধ রয়েছে মৌলিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা। ফলে উপজেলার চা-শ্রমিক, দিনমজুর ও প্রান্তিক আয়ের মানুষের বাড়তি অর্থ গুনে বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারের দ্বারস্থ হতে হচ্ছে; অর্থাভাবে অনেকে আবার চিকিৎসাও করাতে পারছেন না।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, ৫০ শয্যার এ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটিতে আলট্রাসনোগ্রাফির দুটি সচল মেশিন থাকা সত্ত্বেও কোনো সনোলজিস্ট নেই। ফলে প্রায় তিন মাস ধরে আলট্রাসনোগ্রাফি কক্ষের তালা আর খোলেনি। অন্যদিকে, হাসপাতালে থাকা একমাত্র অ্যানালগ এক্স-রে মেশিনটিও গত জুন থেকে পুরোপুরি অচল। আগে বেসরকারি সংস্থা ‘ব্র্যাক’-এর একটি প্রকল্পের আওতায় একজন টেকনোলজিস্ট সেবা দিলেও প্রকল্পটির মেয়াদ শেষে আর কাউকে পদায়ন করা হয়নি। ফলে জরুরি এসব ডায়াগনস্টিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন রোগীরা।
সরেজমিনে দেখা যায়, চিকিৎসকের কক্ষ থেকে ব্যবস্থাপত্র নিয়ে রোগ নির্ণয় বিভাগে ছুটে গিয়েও খালি হাতে ফিরছেন সেবাগ্রহীতারা। কম খরচে পরীক্ষা করানোর ভরসায় দূর-দূরান্ত থেকে আসা রোগীরা পড়ছেন চরম বিপাকে।
হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা ভুক্তভোগী জলিল মিয়া ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সরকারি হাসপাতালে আসি যাতে অল্প খরচে টেস্ট করাতে পারি। কিন্তু এখানে মেশিন বন্ধ থাকায় বাইরে ছুটতে হয়। টেস্টের খরচ ছাড়াও যাতায়াতে আলাদা টাকা নষ্ট হয়।
একই অভিজ্ঞতার কথা জানান মেহেরুন বেগম নামের আরেক স্থানীয় বাসিন্দা। তিনি বলেন, শ্রীমঙ্গলের বেশিরভাগ রোগীই দিনমজুর বা চা-বাগানের সীমিত আয়ের মানুষ। সরকারি যন্ত্র যদি পড়ে পচেই যায়, তবে আমাদের মতো গরিব মানুষের লাভ কী? যন্ত্রের চেয়ে আজ লোকবলের অভাবই আমাদের বড় রোগ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এ বিষয়ে শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সিনথিয়া তাসমিন জানান, জনবল সংকটের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। তিনি বলেন, ‘সনোলজিস্ট ও টেকনোলজিস্ট না থাকায় এবং মেশিনটি অ্যানালগ প্রযুক্তির হওয়ায় রোগীদের সেবা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। হাসপাতালে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদ শূন্য থাকায় সীমিত সামর্থ্য দিয়েই বাকি কার্যক্রম চালাতে হচ্ছে। শূন্যপদে জনবল নিয়োগ এবং একটি ডিজিটাল এক্স-রে মেশিনের চাহিদা জানিয়ে ইতোমধ্যেই স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে লিখিত আবেদন পাঠানো হয়েছে।
সরকারি চিকিৎসা ব্যবস্থার আধুনিকায়নে কোটি কোটি টাকা বরাদ্দ হলেও মাঠপর্যায়ে জনবলের সমন্বয়ের অভাবে সেই সুফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন সাধারণ মানুষ এমনটাই মনে করছেন স্থানীয় সচেতন মহল। দ্রুততম সময়ে শ্রীমঙ্গলে প্রয়োজনীয় বিশেষজ্ঞ ও টেকনোলজিস্ট পদায়নের দাবি স্থানীয়দের।
ফরিদপুরে বাখুন্ডা সুজন সংঘের আয়োজনে চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফ স্মৃতি গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট-২০২৬-এর ২য় কোয়াটার ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। উত্তেজনাপূর্ণ এ খেলায় জামালপুর স্পোর্টিং ক্লাবকে ১-০ গোলে হারিয়ে জয় পেয়েছে গজারিয়া স্পোর্টিং ক্লাব। গত বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ফরিদপুরের বাখুন্ডা মিনি স্টেডিয়ামে এ খেলা অনুষ্ঠিত হয়।
খেলায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ফরিদপুর-৩ সদর আসনের সংসদ সদস্য চৌধুরী নায়াব ইউসুফ।
টুর্নামেন্ট পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক শাহ্ শফিকুল আলম (রানু মিয়া) -এর সভাপতিত্বে এ সময় ফরিদপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক আফজাল হোসেন খান পলাশ, ফরিদপুর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মাহবুব হোসেন পিয়াল, ফরিদপুর জেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক তানভীর চৌধুরী রুবেল, মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক আরিফুজ্জামান অপু, মহানগর যুবদলের সভাপতি বেনজির আহমেদ তাবরীজ, জেলা সেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব শাহরিয়ার হোসেন শিথিল, শহর বিএনপির সাবেক সভাপতি মো. রেজাউল ইসলাম, কোতোয়ালি থানা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হাসান চৌধুরী রঞ্জন, মামুনুর রশীদ বাবু, বাখুন্ডা সুজন সংঘের সিনিয়র সহ-সভাপতি নেভি হান্নান, ক্রীড়া সম্পাদক শাওন আহমেদ সহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও বিপুলসংখ্যক ফুটবলপ্রেমী দর্শক উপস্থিত ছিলেন।
খেলায় গজারিয়া স্পোর্টিং ক্লাব ও জামালপুর স্পোর্টিং ক্লাব মুখোমুখি হয়। শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল উপহার দেয় গজারিয়া স্পোর্টিং ক্লাব। নির্ধারিত সময়ের খেলায় ১টি গোল করে শেষ পর্যন্ত ১-০ গোলের ব্যবধানে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে গজারিয়া স্পোর্টিং ক্লাব। পরে আমন্ত্রিত অতিথিরা সেরা খেলোয়ার ও গোলদাতাকে পুরস্কৃত করেন।
পিরোজপুর পৌর এলাকায় সুপেয় পানির তীব্র সংকট নিরসন, সৌরবিদ্যুৎ (সোলার) স্ট্রিট লাইট প্রকল্পের সঠিক বাস্তবায়ন এবং পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় স্থানীয় প্রশাসন, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) রাতে পিরোজপুর সদর পৌরসভা কার্যালয়ে এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্টের (বিসিসিটি) ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির বন ও পরিবেশ বিষয়ক সহ-সম্পাদক কাজী রওনাকুল ইসলাম টিপু।
মতবিনিময় সভায় বিসিসিটি-র ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাজী রওনাকুল ইসলাম টিপু বলেন, ‘পৌরবাসীকে শতভাগ নাগরিক সেবা নিশ্চিত করতে এবং উন্নয়নমূলক প্রকল্পগুলোর সঠিক বাস্তবায়ন তদারকি করতে জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্টের অধীনস্থ কাজগুলো সরজমিনে পরিদর্শন করা হচ্ছে। ইতিপূর্বে পৌরসভায় ১১৩টি সোলার স্ট্রিট লাইট স্থাপনের প্রকল্প অনুমোদন পেলেও তা যথাযথভাবে সম্পন্ন হয়নি। প্রকল্পটি পুনরায় চালু করে সোলার লাইটগুলোর সুফল যেন সাধারণ মানুষ পায়, সে ব্যাপারে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। জনগণের আমানত নিয়ে কোনো ধরনের অনিয়ম বা অপচয় সহ্য করা হবে না’।
পৌর এলাকার সুপেয় পানির সংকট নিরসনে তিনি বলেন, উপকূলীয় এই অঞ্চলে পানির সমস্যা দূর করতে কম খরচে মানুষের দোরগোড়ায় পানীয় জল পৌঁছে দেওয়ার জন্য সুনির্দিষ্ট উদ্যোগ হাতে নেওয়া হয়েছে। এ কাজে ফ্রান্স সরকারের অনুদান প্রকল্পসহ আন্তর্জাতিক যেকোনো সহযোগিতার সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবিলায় পরিবেশবান্ধব কর্মসূচির কথা উল্লেখ করে তিনি আরও জানান, আগামী পাঁচ বছরে দেশজুড়ে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ, নদী ও খাল পুনঃখনন করে সুনির্দিষ্ট বৈজ্ঞানিক উপায়ে পানির প্রবাহ নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি জলবায়ু সচেতনতা বৃদ্ধিতে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত করার পরিকল্পনাও রয়েছে।
মতবিনিময় সভায় পিরোজপুর পৌরসভার পৌর প্রশাসক ও স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক (ডিডিএলজি) মাহমুদুর রহমান মামুন, পৌরসভার অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ, স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতৃবৃন্দ এবং জেলায় কর্মরত বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকগণ উপস্থিত ছিলেন।
মাদারীপুরের শিবচরে এক্সপ্রেসওয়েতে বিকল হয়ে থাকা একটি বাসে হানিফ পরিবহনের বাসের ধাক্কায় তিনজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ১৫ জন।
শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে ঢাকা-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ের শিবচরের বাখরেরকান্দি এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতদের নাম-পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
স্থানীয়সূত্রে জানা গেছে, গোপালগঞ্জ থেকে দুপুরে যাত্রী নিয়ে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয় পালকি পরিবহনের একটি বাস। মাঝপথে ঢাকা-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ের বাখরেরকান্দি এলাকায় পৌঁছালে বাসটির চাকা বিকল হয়ে যায়। এ সময় দ্রুতগতিতে আসা হানিফ পরিবহনের একটি বাস পেছন থেকে সজোরে ধাক্কা দেয়।
খবর পেয়ে ফরিদপুরের ভাঙ্গা ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় একটি ক্লিনিকে ভর্তি করেন। দুর্ঘটনার পর কিছু সময়ের জন্য ঢাকামুখী লেনে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরে শিবচর হাইওয়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বিকেল ৫টার দিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
শিবচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এইচএম ইবনে মিজান বলেন, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে উদ্ধার কাজের জন্য হাইওয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নিহতদের পরিচয় শনাক্তের কাজ চলছে।
নাটোরে বায়েজিদ বিন মাহমুদ নামে সাত বছরের এক শিশুর ডান হাতের শাহাদাত আঙুলের কেটে বিচ্ছিন্ন করার মামলায় পুলিশের এক কনস্টেবল ও তার স্ত্রীকে গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) ভোরে গ্রেপ্তারের পর কঠোর গোপনীয়তায় আদালতের মাধ্যমে তাদের কারাগারে প্রেরণ করা হয়।
এলাকাবাসী জানায়, গত বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) রাতে নাটোর শহরের বড় হরিশপুর চেয়ারম্যান রোড এলাকায় ব্যাংক কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান মিলনের পরিবার এবং তাদের ভাড়াটিয়া পুলিশ সুপার কার্যালয়ে কর্মরত কনস্টেবল শাকিল হোসেন পারিবারিকভাবে পিকনিকের আয়োজন করে। সেখানে ওই কনস্টেবলের চার বছর বয়সি মেয়ের সঙ্গে বাড়ির মালিক মিলনের ছেলে বায়োজিদের ধাক্কাধাক্কি হয়। পরে বিষয়টি পারিবারিকভাবে মীমাংসা করা হয়।
পরদিন বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) দায়িত্ব পালন শেষে পুলিশ কনস্টেবল শাকিল বাসায় ফিরে শিশু বায়োজিতকে জোর করে তার বাসায় নিয়ে স্ত্রী নাছরিন সুলতানার সহযোগিতায় খাটের পায়ার ওপর হাত রেখে ধারালো বটি দিয়ে শিশুটির ডান হাতের শাহাদাত আঙুল বিচ্ছিন্ন করে ফেলে। পরে বায়োজিদের চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে কনস্টেবল শাকিল পরিবারসহ পালিয়ে যায়। এরপর শিশু বায়োজিতকে প্রথমে নাটোর জেনারেল হাসপাতাল পরে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
সদর থানার ওসি মনসুর রহমান জানান, মামলা দায়েরের পর কনস্টেবল শাকিল ও তার স্ত্রীকে গ্রেফতারের পর আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে। শিশুদের কর্মকাণ্ড নিয়ে বড়দের প্রতিক্রিয়ার বিষয়টিকে পুলিশ গুরুত্ব দিয়ে দেখছে। অন্যদিকে মৌখিকভাবে ওই কনস্টেবল অভিযোগ করে জানান, বায়োজিত তার মেয়েকে যৌন নিপীড়ন করেছে। তবে তার এই অভিযোগে সত্যতা মেলেনি। কোন মামলাও দায়ের হয়নি।
একসময় হাঁসের পালক ছিল মানুষের কাছে নিছক ফেলনা। হাঁসের পালক সংগ্রহ করে সাধারণত তা ফেলে দেওয়া হতো। সেই অবহেলিত পালকই এখন হয়ে উঠেছে সম্ভাবনাময় শিল্পের কাঁচামাল। জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলার তিলকপুর বাজারে হাঁসের পালক সংগ্রহ করে প্রক্রিয়াজাতের মাধ্যমে তৈরি করা হচ্ছে ডাউন বা পালকের তুলা। এই তুলা দিয়ে তৈরি হচ্ছে শীতের জ্যাকেট, কম্বল, পিলোসহ বিভিন্ন পণ্য। আর পালকের বড় অংশ দিয়ে তৈরি হচ্ছে ব্যাডমিন্টনের ফেদারের কক।
তিলকপুর বাজারে গড়ে ওঠা ‘শারাবাংলা ডাউন প্রোডাক্টস’ নামের প্রতিষ্ঠানটি দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে মাসে গড়ে ২২ টন হাঁসের পালক সংগ্রহ করছে। প্রক্রিয়াজাত করা এসব পালক চীন, ভিয়েতনাম, তাইওয়ানসহ বিভিন্ন দেশে পাঠানো হচ্ছে।
উদ্যোক্তার ভাষ্য, বিদেশে এসব পণ্যের চাহিদা থাকায় ছোট পরিসরের এই উদ্যোগকে বড় শিল্পে রূপ দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক উদ্যোক্তা মো. আলতাফ হোসেন জানান, বর্তমানে তার প্রতিষ্ঠানে প্রায় ৫ কোটি টাকা বিনিয়োগ রয়েছে। দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে মাসে গড়ে ২২ টন হাঁসের পালক সংগ্রহ করা হয়। পরে চীন থেকে আনা বিশেষায়িত মেশিনের মাধ্যমে পালক বাছাই, পরিষ্কার ও বিভিন্ন ধাপে প্রক্রিয়াজাত করে ডাউন বা পালকের তুলা তৈরি করা হয়।
তিনি বলেন, ২০১৪-১৫ সালে ছোট পরিসরে হাঁসের পালক নিয়ে ব্যবসা শুরু করেছিলেন। এ বিষয়ে অভিজ্ঞতা না থাকায় তখন কাঙ্ক্ষিত লাভ করতে পারেননি। পরে ২০১৫ সালে চীনে গিয়ে এ বিষয়ে পড়াশোনা করেন এবং এক বছর ইন্টার্নশিপ করেন। সেখানে হাঁসের পালক সংগ্রহ, বাছাই ও প্রক্রিয়াজাতকরণের বিষয়ে বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন করেন। দেশে ফিরে সেই অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে ২০২২ সালে নতুনভাবে ব্যবসা শুরু করেন।
আলতাফ হোসেন বলেন, আগে মানুষ হাঁসের পালক ফেলে দিত। ব্যবসা শুরুর পর বিভিন্নভাবে প্রচার করে মানুষকে পালকের মূল্য সম্পর্কে জানানো হয়। এখন অনেকেই পালক ফেলে না দিয়ে সংগ্রহ করে রাখেন এবং বিক্রি করেন। সারাদেশে তাদের প্রায় ৩৫ থেকে ৪০টি ভেন্ডার রয়েছে। শুরুতে পালক প্রক্রিয়াজাত করে বিদেশে পাঠাতে বেশ সময় লাগত। পরে চীন থেকে বিশেষায়িত মেশিন আনা হয়। এতে প্রক্রিয়াজাতকরণের মান ও সক্ষমতা বেড়েছে। বর্তমানে চীন, ভিয়েতনাম ও তাইওয়ানে পণ্য পাঠানো হচ্ছে। চীন, রাশিয়াসহ বিভিন্ন দেশে এসব পণ্যের চাহিদা রয়েছে বলেও জানান তিনি।
আলতাফ হোসেন বলেন, পুরো প্রক্রিয়াজাতকরণ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে আরও ১০ থেকে ১৫ কোটি টাকা বিনিয়োগ প্রয়োজন হবে। তখন এই পালকের তুলা দিয়ে দেশেই জ্যাকেট, পিলো ও কম্বল তৈরি করে বিদেশে রপ্তানি করা সম্ভব হবে। শীতপ্রধান দেশগুলোতে এসব পণ্যের চাহিদা বেশি।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশে গার্মেন্টস শিল্পের বড় বাজার রয়েছে। সেই অভিজ্ঞতা ও অবকাঠামো কাজে লাগিয়ে দেশে হাঁসের পালকের ডাউন দিয়ে জ্যাকেট, পিলো ও কম্বল তৈরি করে বিদেশে রপ্তানি করা গেলে এ খাত আরও সম্প্রসারিত হতে পারে। পাশাপাশি হাঁসের বড় পালক দিয়ে ব্যাডমিন্টনের ফেদারের কক তৈরি করা যায়। এসব পালক প্রক্রিয়াজাত করে ভারতে পাঠানো হচ্ছে।
প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা জানান, কয়েক বছর আগেও হাঁসের পালক ফেলে দেওয়া হতো। এখন পালকের আর্থিক মূল্য তৈরি হওয়ায় গ্রামাঞ্চলের অনেকেই সেগুলো সংরক্ষণ করে বিক্রি করছেন। ফলে একদিকে বর্জ্য হিসেবে ফেলে দেওয়া একটি উপাদান অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হচ্ছে, অন্যদিকে হাঁস পালনের সঙ্গে জড়িত মানুষ অতিরিক্ত আয়ের সুযোগ পাচ্ছেন।
প্রথমে বিভিন্ন এলাকা থেকে সংগ্রহ করা পালক শুকিয়ে নেওয়া হয়। এরপর মেশিনের মাধ্যমে বাছাই ও পরিষ্কার করে বিভিন্ন ধাপে প্রক্রিয়াজাত করা হয়। প্রয়োজন অনুযায়ী পালকের বিভিন্ন অংশ আলাদা করে ডাউন বা তুলা এবং ফেদার প্রস্তুত করা হয়।
প্রতিষ্ঠানটিতে বর্তমানে নারী-পুরুষ মিলিয়ে ১৬ জন কর্মী নিয়মিত কাজ করছেন। তাদের মধ্যে স্থানীয় বাসিন্দারাও রয়েছেন। ফলে হাঁসের পালককে কেন্দ্র করে স্থানীয় পর্যায়ে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয়েছে।
প্রতিষ্ঠানের নারী কর্মী মিমি আক্তার বলেন, আমি দীর্ঘদিন ধরে এখানে কাজ করছি। এখান থেকে যে বেতন পাই, তা দিয়ে সংসার চলছে। পাশাপাশি সন্তানদের লেখাপড়ার খরচও চালাতে পারছি।
পুরুষ কর্মী সোহেল রানা বলেন, সারাদেশ থেকে হাঁসের পালক সংগ্রহ করে এখানে আনা হয়। প্রথমে সেগুলো শুকানো হয়। এরপর মেশিনে দিয়ে প্রক্রিয়াজাত করে প্রয়োজনীয় অংশ আলাদা করা হয়। পরে আবার শুকিয়ে প্রস্তুত করা হয়। আমার বাবা আগে এই কাজ করতেন, পরে আমি তার সঙ্গে যুক্ত হয়ে কাজ করছি।
আক্কেলপুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. আমিরুল ইসলাম বলেন, প্রতিষ্ঠানটি সারাদেশ থেকে হাঁসের পালক সংগ্রহ করে প্রক্রিয়াজাত করে চীন ও ভিয়েতনামসহ বিভিন্ন দেশে পাঠাচ্ছে। তাদের সারাদেশে প্রায় ৩৫ থেকে ৪০টি ভেন্ডার রয়েছে। আগে মানুষ হাঁসের পালক ফেলে দিত। এখন তারা সেগুলো সংরক্ষণ করে বিক্রি করছেন।
তিনি আরও বলেন, হাঁসের পালককে বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহার করার ফলে হাঁস পালনের সঙ্গে যুক্ত মানুষ অতিরিক্ত আয়ের সুযোগ পাচ্ছেন। একই সঙ্গে হাঁস পালনে আগ্রহও বাড়তে পারে। এ ধরনের উদ্যোগের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা রয়েছে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জে প্রায় ৫০০ কাবের অংশগ্রহণে শুরু হয়েছে ৬ষ্ঠ জেলা কাব ক্যাম্পুরী ২০২৬। পাঁচ দিনের এ আয়োজনে আনন্দ নিয়েই কাবরা শিখছে দলবদ্ধভাবে কাজ করা, দায়িত্ববোধ, সৃজনশীলতা, শৃঙ্খলা এবং প্রতিকূল পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার নানা কৌশল।
গত বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) থেকেই জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে কাবরা আসতে শুরু করে নামোশংকরবাটি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে। আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের এক দিন আগেই তারা নিজেদের থাকার পরিসর তৈরি করে নেয়। তাঁবু স্থাপনসহ প্রয়োজনীয় প্রস্তুতির কাজও তারা নিজেরাই দলবদ্ধভাবে সম্পন্ন করে। এ প্রস্তুতি শুধু ক্যাম্পে থাকার ব্যবস্থা নয়, স্কাউটিং শিক্ষারও গুরুত্বপূর্ণ অংশ। নিজেদের কাজ নিজেরা করার মাধ্যমে কাবরা শিখছে দায়িত্ব নেওয়া, একে অন্যকে সহযোগিতা করা এবং দলবদ্ধভাবে কাজ করা।
ক্যাম্পুরীর শুরু থেকেই কিছুটা বৈরী আবহাওয়া, বৃষ্টি ও অপরিচিত পরিবেশে কয়েক দিন অবস্থান তাদের শেখাচ্ছে পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার বাস্তব অভিজ্ঞতা। গত বৃহস্পতিবার বিকেলে আনুষ্ঠানিক ভাবে শুরু হয় ৬ষ্ঠ চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা কাব ক্যাম্পুরী ২০২৬।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা প্রশাসক আবু সালেহ মো. মুসা জঙ্গী। সভাপতিত্ব করেন সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মারুফ আফজাল রাজন। বিশেষ অতিথি ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এ কে এম ওয়াসিম ফিরোজ, জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুল মতিন, অতিরিক্ত জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আব্দুর রাজ্জাক এবং বাংলাদেশ স্কাউটস রাজশাহী অঞ্চলের সহকারী পরিচালক জান্নাতুল ফেরদৌস। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন জেলা স্কাউটসের সম্পাদক মোহাম্মদ মারুফুল হক।
১২ ‘উৎসবে’ শেখা ও আনন্দ : কাবদের কাছে ক্যাম্পুরীর প্রতিটি চ্যালেঞ্জকে আকর্ষণীয় ও উপভোগ্য করে তুলতে প্রতিটি কার্যক্রমের নাম দেওয়া হয়েছে ‘উৎসব’। এবারের ক্যাম্পুরীতে রয়েছে মোট ১২টি উৎসব—‘সুস্থ থাকি’, ‘নিজের বাড়ি নিজে সাজাই’, ‘মেতে উঠি উল্লাসে’, ‘জ্ঞানের আলো’, ‘স্বপ্ন’, ‘বাঁচতে হলে জানতে হবে’, ‘রং এ ঢং এ সাজি’, ‘বন্ধু গড়ি’, ‘শান্তি ও সম্প্রীতি’, ‘সৃষ্টির উল্লাসে’, ‘গুপ্ত ধনের সন্ধানে’ ও ‘তাঁবু জলসা’।
এর মধ্যে উৎসব-২, ৪, ১০ ও ১২ প্রতিযোগিতামূলক। অন্য উৎসবগুলো অংশগ্রহণমূলক। কোথাও কাবরা নিজেদের সৃজনশীলতা প্রকাশ করছে, কোথাও জ্ঞান ও দক্ষতার চর্চা করছে। আবার কোনো আয়োজনে দলবদ্ধভাবে কাজ করে তৈরি করছে বন্ধুত্ব ও সম্প্রীতির বন্ধন।
আজ শনিবার মহা তাঁবু জলসা ও ক্যাম্প ফায়ারের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হবে পাঁচ দিনের এ আয়োজন । তবে, সমাপনী হলেও শেষ হচ্ছে না কাবদের একসঙ্গে থাকা। তারা সেদিন রাতে ভেন্যুতেই রাত্রিযাপন করবে। এরপর রবিবার ফিরে যাবে নিজ নিজ বিদ্যালয়ে পাঁচ দিনের স্মৃতি নিয়ে।
ময়মনসিংহে ডেঙ্গুর প্রকোপ দ্রুত বাড়ছে। পরিস্থিতি ক্রমেই উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালে। চলতি সেপ্টেম্বরের প্রথম ২৪ দিনে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে এ হাসপাতালে ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ২৫১ জন।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টার দিকে মমেক হাসপাতালের ডেঙ্গু সামারিতে প্রকাশিত তথ্য থেকে এ চিত্র পাওয়া গেছে।
হাসপাতালের তথ্যানুযায়ী, সেপ্টেম্বরের প্রথম ২৪ দিনে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নেওয়া ১ হাজার ২৫১ জনের মধ্যে ৮১৫ জন পুরুষ, ৩৭৫ জন নারী ও ৬১ জন শিশু। একই সময়ে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে।
সর্বশেষ মারা যাওয়া রোগী খেলন সরকার (৬৫)। তিনি ময়মনসিংহ নগরীর রামবাবু রোড এলাকার নরেন্দ্র সরকারের স্ত্রী। ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে গত ২১ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা ৭টার দিকে তিনি মমেক হাসপাতালে ভর্তি হন। চিকিৎসা অবস্থায় ২৩ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ৯টার দিকে তার মৃত্যু হয়।
এদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় মমেক হাসপাতালে নতুন করে ৫৯ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে ৭৬ জন ছাড়পত্র নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন। একই সময়ে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে।
বর্তমানে মমেক হাসপাতালে ১৩০ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাদের মধ্যে ৯২ জন পুরুষ, ৩৮ জন নারী ও ১০ জন শিশু।
হাসপাতালের পরিসংখ্যান আরও বলছে, চলতি বছরের শুরু থেকে ২৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মমেক হাসপাতালে মোট ২ হাজার ৭০৬ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন। এ সময়ে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ২৩ জন।
ডেঙ্গুর এই ঊর্ধ্বমুখী পরিস্থিতিতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ রোগীদের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। মমেক হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) ডা. মাইন উদ্দিন বলেন, ‘ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। ভর্তি রোগীদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে চিকিৎসক ও সংশ্লিষ্টরা কাজ করছেন।’ পাশাপাশি ডেঙ্গু প্রতিরোধে সবাইকে সচেতন থাকার আহ্বান জানান তিনি।
রাজধানীর বারিধারা ডিপ্লোম্যাটিক জোনে ফুটপাতে বিশ্রাম নেওয়ার সময় গাড়িচাপায় নির্মাণ শ্রমিক মেহেদী হাসান মীমের মৃত্যুর ঘটনায় করা মামলায় গ্রেপ্তার কিশোরকে সংশোধনাগারে পাঠানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) ঢাকার শিশু আদালত-৮-এর বিচারক মো. আব্দুল মোক্তাদির তাকে সংশোধনাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। ওই কিশোরকে আদালতে হাজির করে গুলশান থানা-পুলিশ। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গুলশান থানার এসআই মো. আরেফিন ইসলাম তাকে সংশোধনাগারে আটক রাখার আবেদন করেন। অন্যদিকে তার পক্ষে অ্যাডভোকেট মো. আলমগীর হোসেন জামিনের আবেদন করেন।
জামিন আবেদনে বলা হয়, এই কিশোর গাড়িতে ড্রাইভারের পাশের আসনে বসা ছিল। নিহত মেহেদী একজন শ্রবণ ও বাকপ্রতিবন্ধী ছিলেন। তাকে হর্ন বাজানো সত্ত্বেও দ্রুত সরে যেতে না পারায় দুর্ঘটনাটি অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে ঘটে যায়।
আবেদনে আরও বলা হয়, স্থানীয়ভাবে আপস-মীমাংসার মাধ্যমে কিশোরের পরিবারের পক্ষ থেকে ক্ষতিপূরণ হিসেবে ক্ষতিগ্রস্ত পক্ষকে নগদ ৯ লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে।
তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনে বলা হয়, মামলাটি তদন্তকালে ঘটনাস্থলসহ আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনায় দেখা যায়, ঘটনার পরপরই প্রাইভেটকারের ডান পাশের ড্রাইভিং সিটের দরজা খুলে কিশোরকে বের হতে দেখা যায়। তদন্তকালে তার সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া যাচ্ছে। মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। তাই মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তাকে আটক রাখার আবেদন করা হয়। শুনানি শেষে আদালত তাকে জামিন না দিয়ে সংশোধনাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
মেহেদীর মৃত্যুর ঘটনায় তার বড় ভাই মোক্তাদীর ইসলাম বাদী হয়ে গত বুধবার রাজধানীর গুলশান থানায় সড়ক পরিবহন আইনে মামলা করেন।
মামলায় অভিযোগ করা হয়, বেপরোয়াভাবে প্রাইভেটকার চালিয়ে তার ভাইকে গাড়িচাপা দিয়ে গুরুতর আহত করেন এবং এতে তার মৃত্যু ঘটে। মামলার এজাহারে গাড়িচালক হিসেবে আকাশ মারক নামে একজনকে আসামি করা হয়েছে।
গত মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীর বারিধারা ডিপ্লোম্যাটিক জোনের ১ নম্বর সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে। দ্রুতগতির একটি প্রাইভেটকার ফুটপাতে বসে থাকা মেহেদীকে চাপা দিয়ে দুটি ল্যাম্প পোস্টে ধাক্কা দেয়। পরে পথচারী ও নির্মাণ শ্রমিকরা গাড়িটি তুলে তাকে উদ্ধার করেন। পুলিশ তাকে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ওই কিশোরকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
কিশোর-তরুণদের মধ্যে মাদকাসক্তির ঝুঁকি এবং অনলাইন জুয়া ও বেটিংয়ের বিস্তার নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকেন্দ্রিক প্রতিরোধ ব্যবস্থা জোরদার করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এর অংশ হিসেবে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মাদক ও জুয়া প্রতিরোধ কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। শিক্ষার্থীদের মাদক ও জুয়ার ক্ষতিকর প্রভাব থেকে দূরে রাখা, সচেতনতা বাড়ানো এবং নিরাপদ শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করাই এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা ফয়সল হাসান এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ সিদ্ধান্তের কথা জানান। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মাদক ও জুয়া প্রতিরোধে কমিটি গঠন করা হবে। তবে কমিটি কবে নাগাদ গঠন করা হবে, সদস্য কাঠামো কী হবে এবং কমিটির সুনির্দিষ্ট দায়িত্ব ও কার্যপরিধি কী থাকবে—এসব বিষয়ে বিজ্ঞপ্তিতে বিস্তারিত জানানো হয়নি।
মাদক নিয়ে আগের উদ্যোগ: শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মাদকবিরোধী সচেতনতা তৈরিতে অবশ্য এটি সরকারের প্রথম উদ্যোগ নয়। শিক্ষার্থীদের মাদকের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে সচেতন করতে বিভিন্ন সময়ে শিক্ষা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নানা কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।
মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) বিভিন্ন সময়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মাদকবিরোধী আলোচনা ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনার নির্দেশ দিয়েছে। ২০২৪ সালে মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে জাতীয় সংগীতের পর নিয়মিত মাদকবিরোধী সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়। ২০২৫ সালেও মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মাদকের কুফল নিয়ে ডকুমেন্টারি ও থিম সং প্রদর্শনের উদ্যোগ নেওয়া হয়।
এসব উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য ছিল শিক্ষার্থীদের মধ্যে মাদকের ক্ষতিকর দিক তুলে ধরা এবং মাদকবিরোধী সামাজিক সচেতনতা তৈরি করা। এবার কমিটি গঠনের মাধ্যমে এ ধরনের কার্যক্রমকে আরও প্রতিষ্ঠানভিত্তিক ও নিয়মিত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
জুয়া নিয়ে নতুন বাস্তবতা: মাদক প্রতিরোধের পাশাপাশি এবার জুয়াকেও একই প্রতিরোধ কাঠামোর আওতায় আনা হয়েছে। বিশেষ করে মোবাইল ফোন ও ইন্টারনেটের মাধ্যমে অনলাইন জুয়া ও বেটিংয়ের সুযোগ সহজলভ্য হওয়ায় বিষয়টি নতুন করে গুরুত্ব পেয়েছে।
চলতি বছর জুয়া প্রতিরোধ আইন, ২০২৬ কার্যকর হয়েছে। নতুন আইনে প্রচলিত জুয়ার পাশাপাশি অনলাইন জুয়া ও অনলাইন বেটিংকে অপরাধ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে জুয়ার ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে জনসচেতনতা বাড়াতে গণমাধ্যম, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও সামাজিক সংগঠনের মাধ্যমে প্রচার কার্যক্রম পরিচালনার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে।
আইনে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে জুয়ার কুফল সম্পর্কে সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনার দায়িত্ব শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ওপর দেওয়া হয়েছে। আর জুয়া প্রতিরোধে আইন প্রয়োগ, সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় ও নীতিগত নির্দেশনার ক্ষেত্রে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব রয়েছে।
নজরদারি ও সচেতনতার ওপর গুরুত্ব: নতুন কমিটি গঠনের ফলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মাদক ও জুয়ার ঝুঁকি সম্পর্কে নিয়মিত সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা, শিক্ষার্থী-শিক্ষক-অভিভাবকদের সম্পৃক্ত করা এবং ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে।
তবে শুধু কমিটি গঠন করলেই এ উদ্যোগ কার্যকর হবে না। নিয়মিত সভা ও কর্মসূচি, শিক্ষার্থীদের কাউন্সেলিং, অভিভাবকদের সম্পৃক্ততা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থার সহযোগিতা নিশ্চিত করা জরুরি।
এখন কমিটিগুলোর সদস্য কাঠামো, দায়িত্ব, কার্যপরিধি এবং গঠনের সময়সীমা নিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পরবর্তী নির্দেশনার অপেক্ষা। এসব নির্দেশনা এবং মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়নের ওপরই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানভিত্তিক এ উদ্যোগের কার্যকারিতা অনেকটা নির্ভর করবে।