বৃহস্পতিবার, ২৮ মে ২০২৬
১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচন

দ্বিতীয় ধাপে নির্বাচিত হলেন যারা

ফাইল ছবি
সারা বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত
সারা বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত : ২২ মে, ২০২৪ ০০:২৭

ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপে ১৫৬টি উপজেলায় ভোটগ্রহণ শেষ হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত চলে ভোটগ্রহণ। ভোট গণনা শেষে রাতে নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশ করেন রিটার্নিং কর্মকর্তারা। সারা দেশের প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর থেকে জানা যায়-

ফরিদপুর

উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপে ফরিদপুরের নগরকান্দা ও সালথা উপজেলায় ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। নগরকান্দা উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপ-কমিটির সাবেক সহসম্পাদক কাজী শাহ জামান বাবুল। আনারস প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ৩৭ হাজার ২০৯ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মোটরসাইকেল প্রতীকের প্রার্থী বর্তমান উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মনিরুজ্জামান সরদার পেয়েছেন ২৫ হাজার ২৩৭ ভোট।

অন্যদিকে সালথা উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে বর্তমান চেয়ারম্যান ওয়াদুদ মাতুব্বর বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। আনারস প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ৩৫ হাজার ৫৪৫ ভোট তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী সালথা উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও মোটরসাইকেল প্রতীকের প্রার্থী মো. ওহিদুজ্জামান পেয়েছেন ৫ হাজার ৩৪২ ভোট।

নারায়ণগঞ্জ

উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপে নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলায় ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম। ঘোড়া প্রতীকে তিনি পেয়েছেন এক লাখ ১৫ হাজার ২৫২ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী দোয়াত কলম প্রতীকের প্রার্থী মো. শাহজালাল মিয়া পেয়েছেন ১৩ হাজার ১৩২ ভোট।

বিজয়ী মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম আড়াইহাজার উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সদস্য। তিনি কালাপাহাড়িয়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান। অন্যদিকে তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মো. শাহজালাল মিয়া আড়াইহাজার উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া

দ্বিতীয় ধাপের উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা ও আখাউড়ায় উপজেলায় ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। কসবা উপজেলায় আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের ফুফাতো ভাই ছাইদুর রহমান ও আখাউড়ায় মোগড়া ইউনিয়ন পরিষদের তিনবারের সাবেক চেয়ারম্যান মনির হোসেন বেসরকারিভাবে চেয়ারম্যান নির্বাাচিত হয়েছেন।

ঘোষিত ফলাফল অনুযায়ী, কসবা উপজেলায় ছায়েদুর রহমান স্বপন কাপ-পিরিচ প্রতীকে ৮৬ হাজার ৬৯৮ ভোট পেয়ে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও কুটি ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ছিলেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বর্তমান উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের সাবেক সহকারী একান্ত সচিব রাশেদুল কাউসার ভূইয়া আনারস প্রতীকে পেয়েছেন ৩৯ হাজার ৯৫৯ ভোট।

অন্যদিকে আখাউড়া উপজেলায় মনির হোসেন ঘোড়া প্রতীকে ২৮ হাজার ৩০৯ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি উপজেলা যুবলীগের সাবেক আহ্বায়ক ও মোগড়া ইউনিয়ন পরিষদের তিনবারের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান আনারস প্রতীকে পেয়েছেন ১৪ হাজার ৫৬৩ ভোট।

রাঙামাটি

ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপে রাঙামাটির রাজস্থলী, কাপ্তাই ও বিলাইছড়ি উপজেলায় শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। রাজস্থলী উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি উবাচ মারমা আনারস প্রতীকে ৭ হাজার ৭৫ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মো. রিয়াজ উদ্দীন রানা দোয়াত কলম প্রতীকে পেয়েছেন ২ হাজার ১৮ ভোট।

অন্যদিকে কাপ্তাই উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে উপজেলা যুবলীগের সভাপতি মো. নাছির উদ্দিন দোয়াত কলম প্রতীকে ৭ হাজার ৩৬২ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও সাবেক ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আনোয়ারুল ইসলাম চৌধুরী আনারস প্রতীকে পেয়েছেন ৬ হাজার ৯৭৩ ভোট।

অপরদিকে বিলাইছড়ি উপজেলায় মোট ১৩টি কেন্দ্রের মধ্যে ৫টি হেলিসর্টি ভোটকেন্দ্র রয়েছে। দুর্গম এলাকা হওয়ায় রাত সাড়ে ৯টা পর্যন্ত ফলাফল না আসায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কোনো ফলাফল ঘোষণা করেননি। তবে বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা যায়, পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (জেএসএস) সমর্থিত দোয়াত কলম প্রতীকের বিরোত্তম তঞ্চঙ্গ্যা চেয়ারম্যান পদে বিজয়ী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

লালমনিরহাট

লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ ও আদিতমারী উপজেলায় উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপে ভোটগ্রহণ শেষ হয়েছে। দুই উপজেলায় মধ্যে আদিতমারী উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে ফারুক ইমরুল কায়েস ও কালীগঞ্জ উপজেলায় জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক রাকিবুজ্জামান আহমেদ বিজয়ী হয়েছেন।

রাত সাড়ে ৯টার দিকে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা লুৎফর কবির তাদেরকে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত ঘোষণা করেন।

আদিতমারী উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে ফারুক ইমরুল কায়েস মোটরসাইকেল প্রতীকে পেয়েছেন ৩৩ হাজার ১৩৫ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রফিকুল আলম আনারস প্রতীকে পেয়েছেন ২৯ হাজার ১৮টি ভোট

কালীগঞ্জ উপজেলায় সাবেক সমাজকল্যাণমন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদের ছেলে রাকিবুজ্জামান আহমেদ আনারস প্রতীকে পেয়েছেন ২৪ হাজার ৩০৩ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী তার চাচা উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মাহবুবুজ্জামান আহমেদ ঘোড়া প্রতীকে পেয়েছেন ১৯ হাজার ৩৫০ ভোট।

পিরোজপুর

ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে দ্বিতীয় ধাপে পিরোজপুর জেলার দুই উপজেলায় শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। মঙ্গলবার পিরোজপুরের নেছারাবাদ ও কাউখালী উপজেলার ১৫টি ইউনিয়নের মোট ১২২টি ভোটকেন্দ্রে ইভিএম পদ্ধতিতে এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।

কাউখালী উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে মো. আবু সাঈদ মিঞা ও নেছারাবাদ উপজেলায় আব্দুল হক নির্বাচিত হয়েছেন। রাতে নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা সৈয়দ শফিকুল হক বেসরকারিভাবে তাদের বিজয়ী ঘোষণা করেন।

নেছারাবাদ উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে আব্দুল হক আনারস প্রতীকে ৩৮ হাজার ৬১২ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী এস এম মুইদুল ইসলাম মোটরসাইল প্রতীকে পেয়েছেন ৩৫ হাজার ৫২০ ভোট।

অন্যদিকে কাউখালী উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে মো. আবু সাঈদ মিঞা ঘোড়া প্রতীকে ১১ হাজার ২৮৪ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মো. মনিরুজ্জামান তালুকদার পল্টন কাপ-পিরিচ প্রতীকে পেয়েছেন ৬ হাজার ২৯৪ ভোট।

ঝালকাঠি

উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপে ঝালকাঠি সদর ও নলছিটি উপজেলায় ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ঝালকাঠি সদর উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান ও ঝালকাঠি জেলা আওয়ামী লীগ সহ-সভাপতি খান আরিফুর রহমান। আনারস প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ৩৩ হাজার ৯৪৩ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী দোয়াত কলম প্রতীকের প্রার্থী মো. সুলতান খান পেয়েছেন ২৫ হাজার ৯৭১ ভোট।

অন্যদিকে নলছিটি উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মো. সালাউদ্দিন খান সেলিম বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। মোটরসাইকেল প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ২৩ হাজার ৯৩৯ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাবেক মেয়র তছলিম উদ্দিন চৌধুরী আনারস প্রতীকে পেয়েছেন ১৬ হাজার ৭৮৪ ভোট।

বাগেরহাট

উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপে বাগেরহাটে ফকিরহাট, মোল্লাহাট,ও চিতলমারী উপজেলায় ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ফকিরহাট উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন শেখ ওহিদুজ্জামান বাবু। মোটরসাইকেল প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ৪৬ হাজার ৬৫৪ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আনরস প্রতীকের প্রার্থী বর্তমানে উপজেলা চেয়ারম্যান স্বপন দাস পেয়েছেন ২৯ হাজার ৪৩৭ ভোট। এ উপজেলায় ভোট কাস্ট হয়েছে ৬২.৫০ শতাংশ।

চিতলমারী উপজেলার চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হয়েছেন মো. আলমগীর হোসেন সিদ্দিকী। দোয়াত কলম প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ৩৪ হাজার ৮৮৬ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বর্তমান উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও বাগেরহাট জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি অশোক কুমার বড়াল মোটরসাইকেল প্রতীকে পেয়েছেন ২২ হাজার ৭৬৩ ভোট। এ উপজেলায় ভোট কাস্ট হয়েছে ৪৫.৭৫ শতাংশ।

অন্যদিকে মোল্লাহাট উপজেলার চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হয়েছেন বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শাহিনুর আলম ছানা। দোয়াত কলম প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ২৯ হাজার ৯০২ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বর্তমান উপজেলা শেখ নাসির উদ্দীন আনারস প্রতীকে পেয়েছেন ১৯ হাজার ৯৫৪ ভোট। এ উপজেলায় ভোট কাস্ট হয়েছে ৫৩.৭৭ শতাংশ। জেলায় গড় ভোট কাস্টিং হয়েছে ৫৪ শতাংশ।

যশোর

দ্বিতীয় ধাপের উপজেলা নির্বাচনে যশোরের ঝিকরগাছা, শার্শা ও চৌগাছা উপজেলায় ভোটগ্রহণ করা হয়েছে। ভোটগ্রহণ শেষে রাতে বেসরকারিভাবে ফলাফল ঘোষণা করেন উপজেলাগুলোর দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তারা।

চৌগাছা উপজেলা চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হয়েছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা এসএম হাবিবুর রহমান। আনারস প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ৩৩ হাজার ৫৬৫ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ ড. মোস্তানিছুর রহমান পেয়েছেন ২৮ হাজার ৯৮০ ভোট।

নির্বাচনের সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও চৌগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুম্মিতা সাহা রাত সাড়ে ৯টায় এ ফলাফল ঘোষণা করেন।

ঝিকরগাছা উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হয়েছেন বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. মনিরুল ইসলাম। আনারস প্রতীকে মনিরুল ইসলাম পেয়েছেন ৪০ হাজার ৬৪৩ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী সেলিম রেজা ঘোড়া প্রতীকে পেয়েছেন ১৮ হাজার ৪৪৩ ভোট।

অন্যদিকে শার্শা উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে মো. সোহরাব হোসেন দোয়াত কলম প্রতীক নিয়ে ৩৭ হাজার ৫৭০ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মো. অহিদুজ্জামান আনারস প্রতীকে পেয়েছেন ১২ হাজার ২৯১ ভোট।

রাজশাহী

দ্বিতীয় ধাপে রাজশাহীর বাগমারা, দুর্গাপুর ও পুঠিয়া উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বাগমারা উপজেলায় বেসরকারিভাবে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন জাকিরুল ইসলাম সান্টু। তিনি ঘোড়া প্রতীকে পেয়েছেন ৪৭ হাজার ৩২২ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আব্দুর রাজ্জাক সরকার ওরফে আর্ট বাবু পেয়েছেন ৪ হাজার ৩২১ ভোট।

পুঠিয়া উপজেলায় বেসরকারিভাবে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন আবদুস সামাদ মোল্লা। তিনি আনারস প্রতীকে পেয়েছেন ২৬ হাজার ৬৬৫ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আহসানুল হক মাসুদ ঘোড়া প্রতীকে পেয়েছেন ২৩ হাজার ৬৭৯ ভোট।

অন্যদিকে দুর্গাপুর উপজেলায় বেসরকারিভাবে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন শরীফুজ্জামান শরীফ। তিনি মোটরসাইকেল প্রতীকে পেয়েছেন ৪২ হাজার ১১৩ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আব্দুল মজিদ সরদার পেয়েছেন ২৭ হাজার ৩৩২ ভোট।

সাতক্ষীরা

ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপে সাতক্ষীরার আশাশুনি, তালা ও দেবহাটা উপজেলায় ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

আশাশুনি উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও বর্তমান উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এবিএম মোস্তাকিম বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি চিংড়ি প্রতীকে পেয়েছেন ৫১ হাজার ৬৬২ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী শাহনেওয়াজ ডালিম ঘোড়া প্রতীকে পেয়েছেন ৫০ হাজার ৭০৭ ভোট।

অপরদিকে সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলা নির্বাচনে মো. আল ফেরদাউস বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি হেলিকপ্টার প্রতীকে ২৬ হাজার ৩৭৭ ভোট পেয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মো. মজিবুর রহমান মোটরসাইকেল প্রতীকে পেয়েছেন ১৭ হাজার ১৫২ ভোট।

এ ছাড়া সাতক্ষীরার তালা উপজেলা নির্বাচনে ঘোষ সনৎ কুমার বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি কাপ পিরিচ প্রতীকে ৪৬ হাজার ৪৫৮ ভোট পেয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী সরদার মশিয়ার চিংড়ি প্রতীকে পেয়েছেন ৩২ হাজার ৪১৩ ভোট।

বিষয়:

মেঘনায় ঝড়ের কবলে পড়ে নৌকাডুবি: বাবা-ছেলেসহ ৩ জনের মরদেহ উদ্ধার

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বরিশাল প্রতিনিধি

বরিশালের হিজলা উপজেলায় মেঘনা নদীতে ঝড়ের কবলে পড়ে নৌকাডুবির ঘটনায় নিখোঁজ বাবা-ছেলেসহ তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

বুধবার (২৭ মে) ভোররাতে মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলার ভাসানচর এলাকা থেকে দুইজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এর আগে মঙ্গলবার আরেকজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছিল।

নিহতরা হলেন,নুর ইসলাম জোমাদ্দার (৪৫), তাঁর ছেলে ইব্রাহিম জোমাদ্দার (১২) এবং একই এলাকার মো. হারুন বিশ্বাস (৪৫)।

হিজলা নৌ পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সোমবার বিকেলে আলীগঞ্জ খেয়াঘাট থেকে ধুলখোলা খেয়াঘাটের উদ্দেশ্যে আটজন যাত্রী নিয়ে একটি ইঞ্জিনচালিত নৌকা রওনা হয়। নৌকাটি পুরাতন হিজলা ফেরিঘাট এলাকায় পৌঁছালে হঠাৎ কালবৈশাখী ঝড়ের কবলে পড়ে ডুবে যায়।

এ সময় স্থানীয়রা দ্রুত উদ্ধার তৎপরতা চালিয়ে পাঁচজনকে জীবিত উদ্ধার করতে সক্ষম হন। তবে নুর ইসলাম জোমাদ্দার, তাঁর ছেলে ইব্রাহিম এবং হারুন বিশ্বাস নিখোঁজ হন।

পরে মঙ্গলবার সকাল পৌনে ৬টার দিকে পুরাতন হিজলা এলাকা থেকে হারুন বিশ্বাসের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এরপর বুধবার রাত ২টার দিকে মেহেন্দীগঞ্জের ভাসানচর এলাকায় দুটি মরদেহ ভাসতে দেখে স্থানীয় জেলেরা নৌ পুলিশকে খবর দেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ দুটি উদ্ধার করে।

স্বজনরা পরে মরদেহ দুটি নুর ইসলাম জোমাদ্দার ও তাঁর ছেলে ইব্রাহিম জোমাদ্দারের বলে শনাক্ত করেন।

হিজলা নৌ পুলিশের পরিদর্শক গৌতম চন্দ্র মন্ডল জানান, উদ্ধার হওয়া মরদেহগুলো পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।


হামের সংক্রমণের জন্য বিগত দুই সরকার দায়ী: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
রাকিবুল হাসান রোকেল, কিশোরগঞ্জ

দেশে হামের সংক্রমণ বৃদ্ধির জন্য বিগত আওয়ামী লীগ সরকার ও অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে দায়ী করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেন, নিয়মিত এমআর টিকাদান কর্মসূচি বন্ধ থাকায় দেশে হামের সংক্রমণ বেড়েছে।

বুধবার (২৭ মে) দুপুরে শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পরিদর্শনে গিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

মন্ত্রী বলেন, “গত ১৭ বছর ফ্যাসিবাদের আমলে এবং অন্তর্বর্তীকালীন সময় স্বাস্থ্যখাতের বরাদ্দের টাকা লুটপাট হয়েছে। ইউনিসেফ, গ্যাভি ও এডিবির পক্ষ থেকে পাঁচবার অনুরোধ করার পরও আন্তর্জাতিকভাবে টিকা সংগ্রহ না করে ব্যক্তিগতভাবে লাভবান হওয়ার জন্য বেসরকারি উৎস থেকে টিকা কেনা হয়েছে।”

তিনি বলেন, প্রতি চার বছর পরপর এমআর টিকার ক্যাম্পেইন হওয়ার কথা থাকলেও ২০২০ সালের ডিসেম্বরের পর তা আর হয়নি। “এর ফল এখন আমাদের ভোগ করতে হচ্ছে,” বলেন তিনি।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, ডোনার দেশগুলোর সহযোগিতায় অল্প সময়ের মধ্যে হামের টিকা সংগ্রহ করা হয়েছে। গ্যাভির কাছ থেকে ধার হিসেবে টিকা এনে প্রথমে বেশি আক্রান্ত ১৮ জেলার ৩০ উপজেলায় টিকাদান কার্যক্রম শুরু হয়।

পরে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ, ময়মনসিংহ ও বরিশাল সিটি করপোরেশনেও কার্যক্রম চালানো হয়।

তিনি বলেন, গত ২০ তারিখে শুরু হওয়া দেশব্যাপী ক্যাম্পেইনে দুই কোটির বেশি শিশুকে টিকা দেওয়া হয়েছে, যা নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার ১০৩ শতাংশ। এখনো উপজেলার পর্যায়ে বাড়ি বাড়ি গিয়ে টিকাদান কার্যক্রম চালানো হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা নিয়ে সমালোচনা করে মন্ত্রী বলেন, “যেসব মেশিন আমদানি করে বেশি টাকা মারা যাবে, সেসব রেডিওথেরাপি মেশিন কিনে বিভিন্ন হাসপাতালে ফেলে রাখা হয়েছে। অনেকগুলোই এখন অকেজো।”

জনবল সংকটের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, আগামী জুলাই থেকে এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেওয়া হবে, যার ৮০ শতাংশ নারী। তাদের মাধ্যমে গ্রামপর্যায়ে মিডওয়াইফ ও কেয়ারগিভার সেবা চালুর পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।

ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুতির কথা জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, এক লাখের বেশি ডেঙ্গু স্যালাইন মজুত করা হয়েছে।

আউটসোর্সিং নিয়োগব্যবস্থার সমালোচনা করে তিনি বলেন, “এই পদ্ধতিতে তিন স্তরে দুর্নীতি হয়। টেন্ডারে, নিয়োগে এবং বেতনের সময়। আমরা এটি বন্ধ করব।”

পরিদর্শনের সময় উপস্থিত ছিলেন কিশোরগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মাজহারুল ইসলাম, জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিন, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান, জেলা পরিষদের প্রশাসক খালেদ সাইফুল্লাহ খান সোহেল, শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজের উপ-পরিচালক ডা. সাইফুল ইসলামসহ প্রশাসনের কর্মকর্তারা।

এর আগে সকালে মন্ত্রী পাকুন্দিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও হোসেনপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শন করেন।


চামড়ার ন্যায্য দাম নিশ্চিতে কঠোর নজরদারি করা হবে: বাণিজ্যমন্ত্রী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি

আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে কোরবানির পশুর চামড়ার ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করতে কঠোর নজরদারির আশ্বাস দিয়েছেন শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, দেশের প্রান্তিক চামড়া সংগ্রহকারীরা যাতে তাদের সংগৃহীত চামড়ার সঠিক ও ন্যায্যমূল্য পান, সেটি নিশ্চিত করতে সরকারের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ তদারকি বজায় রাখা হবে।

আজ বুধবার (২৭ মে) দুপুরে সিলেট সার্কিট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বাণিজ্যমন্ত্রী এই কথা জানান। প্রেস ব্রিফিংয়ের পর তিনি সার্কিট হাউসেই স্থানীয় চা-শ্রমিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় অংশ নেন।

বাণিজ্যমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, চামড়ার বাজারে কোনো ধরনের অনিয়ম দেখা দিলে প্রয়োজনে সরকার সরাসরি হস্তক্ষেপ করবে। যদি অভ্যন্তরীণ বাজারে চামড়া ক্রয়ের ক্ষেত্রে ধীরগতি কিংবা স্থবিরতা লক্ষ করা যায়, তবে পরিস্থিতি বিবেচনায় সরকার 'ওয়েট ব্লু' চামড়া বিদেশে রপ্তানির অনুমতি দেবে। এসব বাস্তবমুখী উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্যই হলো কোরবানির চামড়ার সঠিক সংরক্ষণ নিশ্চিত করা এবং এই খাত থেকে দেশের রপ্তানি আয় বাড়ানো। এর পাশাপাশি তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, সরকারের आगामी বাজেট ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি করবে এবং দেশে নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণ করতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।

উল্লেখ্য, দেশের বাজারে দীর্ঘদিন ধরে চামড়ার কাঙ্ক্ষিত মূল্য না পাওয়ায় ক্ষোভ থেকে এ বছর চামড়া সংগ্রহ না করার ঘোষণা দিয়েছিল কওমি মাদ্রাসাগুলো। পরবর্তী সময়ে স্থানীয় প্রশাসনের বিশেষ হস্তক্ষেপে ও আশ্বাসে তারা এই সিদ্ধান্ত থেকে সরে এলেও, চামড়ার বাজারদর ও ন্যায্যমূল্য প্রাপ্তি নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে এখনো উদ্বেগ কাটেনি।


ইজারা দেয়া হয়নি, বৃষ্টির কারণে মেট্রো স্টেশনের নিচে কোরবানির পশু রাখা হয়: প্রতিমন্ত্রী শাহে আলম

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি

স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম জানিয়েছেন, রাজধানীর দিয়াবাড়ি মেট্রোরেল স্টেশনের নিচের জায়গা কোরবানির পশুর হাটের জন্য ইজারা দেওয়া হয়নি। বৃষ্টির কারণে কিছু পশুর মালিক দুইদিন এখানে আশ্রয় নিয়েছিলেন। তবে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

বুধবার (২৭ মে) দুপুরে মেট্রোরেল স্টেশনের নিচ থেকে কোরবানির পশুর ‘হাট’ অপসারণের পর সেখানে পরিচ্ছনতা কার্যক্রম চালিয়েছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)।

দুপুর সোয়া ২টার দিকে পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা মেট্রোরেলের নিচে এসে কাজ শুরু করেন। বেলা আড়াইটার দিকে একটি পে-লোডার আনা হয়। এরপর সড়কে জমে থাকা বর্জ্য অপসারণ, ময়লা পরিষ্কার এবং হাটের বিভিন্ন অংশ পরিচ্ছন্ন করার কাজ চলতে থাকে।

এরপরই এই কার্যক্রম পরিদর্শনে আসেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। পরিদর্শনকালে তিনি বলেছেন, গত কয়েকদিনের টানা ভারী বৃষ্টির কারণে রাজধানীর উত্তরার দিয়াবাড়িতে মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে কুরবানির পশু আশ্রয় নেয়।

তিনি আরও বলেন, দিয়াবাড়ি মেট্রো স্টেশনের নিচে উত্তর সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে কোনো ইজারা দেওয়া হয়নি। কিন্তু অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতের কারণে কিছু পশুর মালিক দুদিন এখানে আশ্রয় নিয়েছিলেন। দুইদিনই সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তা এবং প্রশাসক নিজেও এসেছেন। ম্যাজিস্ট্রেটের সহযোগিতায় তাদেরকে এখান থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। ইজারাদারকেও জরিমানা করা হয়েছে। এখানে থাকা পশুর বর্জ্য অপসারণ করা হচ্ছে।

ঊল্লেখ্য, এবার ঢাকার বড় কুরবানির পশুর হাট বসেছে উত্তরার দিয়াবাড়িতে। এই হাটে বিপুল পরিমাণ পশুর সমাগম হওয়ায় মূলত নির্ধারিত সীমানা ছাড়িয়ে প্রধান সড়ক ও মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে পশু বেঁধে রেখেছিলেন বিক্রেতারা।

এতে সংশ্লিষ্ট এলাকায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয় এবং সাধারণ মানুষের চলাচলে বিঘ্ন ঘটে। মেট্রোরেল স্টেশনের নিচের সড়কে অবৈধভাবে পশু বেঁধে রাখার ঘটনায় গতকাল অভিযান চালিয়ে সেগুলো সরিয়ে দেওয়ার কথা জানায় প্রশাসন। একই সঙ্গে হাটের ইজারাদারকে ঘটনাস্থলে ডেকে সতর্ক করা হয়।

কিন্তু বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলছে নানা সমালোচনা। ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের ঘটনা আর না ঘটে, সে বিষয়ে প্রশাসন সজাগ থাকবে বলে জানিয়েছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান।


বগুড়ার কাহালুতে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় ৩ জনের মৃত্যু

আপডেটেড ২৭ মে, ২০২৬ ১৮:৪৫
নিজস্ব প্রতিনিধি

বগুড়ার কাহালু উপজেলায় একই রাতে দুটি পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় তিনজন নিহত হয়েছেন। বুধবার (২৭ মে) সকালে কাহালু থানা পুলিশ দুই দুর্ঘটনায় তিনজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। এর আগে মঙ্গলবার দিবাগত রাতে বগুড়া-সান্তাহার আঞ্চলিক সড়কের নারহট্ট এবং বিবিরপুকুর বাজার এলাকায় এই দুর্ঘটনা দুটি ঘটে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রথম দুর্ঘটনাটি ঘটে রাত সাড়ে ১২টার দিকে নারহট্ট গ্রামের পাশে অবস্থিত নিউ হোপ ফিড মিলের সামনে। ওই মিলের নৈশকালীন ডিউটি শেষে রাস্তা পার হওয়ার সময় অজ্ঞাত একটি ভারী যানের ধাক্কায় পিষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান রবিউল আউয়াল ওরফে জিয়া (৪২) নামের এক শ্রমিক। নিহত জিয়া দিনাজপুর জেলার বীরগঞ্জ উপজেলার তরতবাড়ি গ্রামের আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে।

অন্য দুর্ঘটনাটি ঘটে রাত পৌনে ৩টার দিকে বিবিরপুকুর বাজারের পশ্চিমে পাগলা পীর বউবাজার এলাকায়। ঢাকা থেকে আসা একটি ট্রাক বিকল হয়ে সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় মেরামত কাজ চলছিল। এ সময় অপর একটি দ্রুতগামী বাস দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকটিকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে বাসের সুপারভাইজার উত্তম মন্ডল (৩০) এবং ট্রাকের সহকারী হৃদয় (৩০) গুরুতর আহত হন। তাদের উদ্ধার করে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ভোর সাড়ে ৪টার দিকে উত্তম এবং সকালে হৃদয় মারা যান।

কাহালু থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ব্রজেন চন্দ্র মাহাতো ও এসআই সুজল চন্দ্র দেবনাথ পৃথক এই দুটি দুর্ঘটনায় তিনজনের মৃত্যুর সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। এই মর্মান্তিক ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।


ঝড়-বৃষ্টি উপেক্ষা করে সৌদির সঙ্গে মিল রেখে ফরিদপুরের ১০ গ্রামে ঈদ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মাহবুব পিয়াল, ফরিদপুর প্রতিনিধি

ঝড়-বৃষ্টি উপেক্ষা করে সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে ফরিদপুরের বোয়ালমারউপজেলার ১০ গ্রামের আংশিক ধর্মপ্রাণমুসল্লিরা বুধবার (২৭ মে) আগাম ঈদুল আজহা উদযাপন করেছেন।

সকাল ৮টায় ঈদের জামাত শুরু হওয়ার কথা থাকলেও ভারী বর্ষণের কারণে নির্ধারিত সময় পিছিয়ে যায়। পরে সকাল পৌনে ১০টা থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত পর্যায়ক্রমে সহস্রাইল দায়রা শরীফ সংলগ্ন জামে মসজিদে, মাইটকুমড়া জামে মসজিদসহ চারটি এলাকায় ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বোয়ালমারী উপজেলার শেখর ও রূপাপাত ইউনিয়নের কাঁটাগড়, সহস্রাইল, দরিসহস্রাইল, মাইটকুমড়া, রাখালতলিসহ অন্তত ১০ গ্রামের কিছু মানুষ দীর্ঘদিন ধরে সৌদি আরবের চাঁদ দেখার সঙ্গে মিল রেখে রোজা ও দুই ঈদ পালন করে আসছেন। এ অঞ্চলের মুসল্লিরা মূলত চট্টগ্রামের সাতকানিয়া ও সীতাকুণ্ডের মাহমুদাবাদ মির্জাখিল দরবার শরিফের অনুসারী।

সবচেয়ে বড় ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয় সহস্রাইল উত্তরপাড়া জামে মসজিদে। সেখানে ইমামতি করেন মাওলানা রাকিবুল হাসান রাকিব। স্থানীয়দের পাশাপাশি আশপাশের বিভিন্ন উপজেলা ও জেলা থেকেও কয়েকশ মুসল্লি জামাতে অংশ নেন।

তবে ভারী বৃষ্টির কারণে রাখালতলি এলাকার মুসল্লিরা নির্ধারিত জামাত আদায় করতে পারেননি বলে জানা গেছে।

নামাজ শেষে মুসল্লিদের মাঝে তবারক বিতরণ করা হয়। এছাড়া দূর-দূরান্ত থেকে আগত মুসল্লিদের জন্য বিশেষ আপ্যায়নের ব্যবস্থাও করা হয়।

মুসল্লি জাহিদুর রহমান বলেন, আমাদের পূর্বপুরুষরা বহু বছর ধরে সৌদির সঙ্গে মিল রেখে ঈদ পালন করে আসছেন। আমরাও সেই ঐতিহ্য অনুসরণ করছি।

স্থানীয় আয়োজকদের মধ্যে আলফাডাঙ্গা সরকারি ডিগ্রি কলেজের প্রভাষক ও কাটাগড় গ্রামের বাসিন্দা মাহিদুল হক বলেন, সারা বিশ্বের মুসলমানদের একই দিনে ঈদ পালন করা উচিত বলে আমরা মনে করি।

তাই সৌদির সঙ্গে মিল রেখে আমরা ঈদুল আজহার নামাজ আদায় করেছি। দিনদিন প্রতি বছর এখানে মুসল্লির সংখ্যা বাড়ছে।

বোয়ালমারী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আনোয়ার হোসেন বলেন, সহস্রাইল ও মাইটকুমড়া এলাকায় শান্তিপূর্ণভাবে ঈদের জামাত সম্পন্ন করতে পুলিশের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।

এ ব্যাপারে এস এম রকিবুল হাসান বলেন, সৌদির সঙ্গে মিল রেখে কয়েকটি গ্রামে ঈদ উদযাপনের বিষয়টি দীর্ঘদিনের ধর্মীয় অনুশীলন। প্রতিবছর তারা এভাবেই ঈদের নামাজ আদায় করে থাকেন।


‘কৃষি উন্নয়নে খাল খননের বিকল্প নেই’

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
চরফ্যাশন (ভোলা) প্রতিনিধি

ভোলা-৪ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম নয়ন বলেছেন, 'কৃষি উন্নয়নে খাল খননের বিকল্প নেই। কৃষিবান্ধব উন্নয়নের লক্ষ্যে বিএনপি সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।'

বুধবার (২৭ মে) ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার আমিনাবাদ ইউনিয়নের 'বয়াতির খাল' খনন কাজের শুভ উদ্বোধন শেষে তিনি এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএডিসি)-এর উদ্যোগে প্রায় ২৪ লাখ টাকা ব্যয়ে ২ কিলোমিটার দীর্ঘ এই খাল খনন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম নয়ন বলেন, 'খাল খননের মাধ্যমে কৃষকের ভাগ্য পরিবর্তন হবে ইনশাআল্লাহ। বয়াতির খাল খনন সম্পন্ন হলে কৃষকরা সহজে সেচ সুবিধা পাবেন, জলাবদ্ধতা কমবে এবং কৃষি উৎপাদন আরও বৃদ্ধি পাবে। গ্রামীণ অবকাঠামো ও কৃষির উন্নয়নে এ ধরনের কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণ করা হবে।'

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে খালটি ভরাট হয়ে থাকায় চরম ভোগান্তিতে ছিলেন এলাকার কৃষকেরা। বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা এবং শুষ্ক মৌসুমে তীব্র সেচ সংকটে কৃষিকাজ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হতো। দীর্ঘদিন পর খাল খনন কার্যক্রম শুরু হওয়ায় স্বস্তি ফিরে এসেছে স্থানীয় এলাকাবাসীর মাঝে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রোমান আফরোজ, সহকারী কমিশনার (ভূমি) এমদাদুল হক, উপজেলা বিএনপি নেতা গোফরান মহাজন, কাজি মনজুর হোসেন, খাইরুল ইসলাম সোহেল, মমিনুল ইসলাম ভুট্রো, কামাল গোলদারসহ গণ্যমান্য ব্যক্তি ও স্থানীয় এলাকাবাসী।

এর আগে পৌর এলাকার হতদরিদ্র মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে ইজিপিপি কর্মসূচির আওতায় 'সুন্দরি-বোয়ালখালী খাল' খনন কাজেরও উদ্বোধন করেন সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম নয়ন।


বৃষ্টি ও যানজটে নাকাল উত্তরের ঈদযাত্রা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
টাঙ্গাইল জেলা প্রতিনিধি

পবিত্র ঈদুল আজহার আর মাত্র কয়েক ঘণ্টা বাকি থাকতে নাড়ির টানে বাড়ি ফেরা মানুষের ভিড়ে মহাসড়কগুলোতে চরম স্থবিরতা নেমে এসেছে। বিশেষ করে উত্তরের পথে ঈদযাত্রার শেষ দিনে যাত্রী ও যানবাহনের তীব্র চাপের কারণে ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কে কয়েক কিলোমিটার দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে কিছুক্ষণ পর পর নামা মুষলধারে বৃষ্টি। সড়ক ও আবহাওয়ার এই দ্বিমুখী প্রতিকূলতায় আটকে পড়া যাত্রী ও চালকদের অসহনীয় ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। অনেকেই বাধ্য হয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে খোলা ট্রাক কিংবা বাসের ছাদে চড়ে গন্তব্যে পৌঁছানোর চেষ্টা করছেন।

মহাসড়কের বর্তমান চিত্র অনুযায়ী, টাঙ্গাইলের করটিয়া থেকে যমুনা সেতু পর্যন্ত প্রায় ৪৮ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে যানবাহন থেমে থেমে চলছে। এছাড়া মির্জাপুর ক্যাডেট কলেজ থেকে জামুর্কি পর্যন্ত প্রায় ১৫ কিলোমিটার রাস্তায় তীব্র ধীরগতি লক্ষ্য করা গেছে। ভুক্তভোগী যাত্রীরা জানিয়েছেন, স্বাভাবিক সময়ে যে পথ পাড়ি দিতে মাত্র দুই ঘণ্টা লাগত, এখন সেখানে ছয় থেকে আট ঘণ্টা সময় ব্যয় হচ্ছে। বাড়তি সময়ের পাশাপাশি পরিবহনগুলোতে কয়েক গুণ বেশি ভাড়া আদায়ের অভিযোগও উঠেছে। বিশেষ করে নারী ও শিশুদের নিয়ে এই দীর্ঘ যানজটে আটকে থেকে যাত্রীরা চরম শারীরিক ও মানসিক ক্লান্তির কথা জানিয়েছেন।

হাইওয়ে পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এই দীর্ঘ যানজটের পেছনে বেশ কয়েকটি কারণ রয়েছে। মহাসড়কে হঠাৎ ফিটনেসবিহীন যানবাহন বিকল হয়ে পড়া, এলেঙ্গা ফ্লাইওভারের নির্মাণকাজ চলমান থাকা এবং চার লেনের কিছু অংশের কাজ সমাপ্ত না হওয়ায় যানবাহনের স্বাভাবিক গতি ব্যাহত হচ্ছে। এছাড়া ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত গাড়ি চলে আসায় যমুনা সেতু দিয়ে দ্রুত পারাপার সম্ভব হচ্ছে না। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে উত্তরবঙ্গ থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী যানবাহনগুলোকে বঙ্গবন্ধু সেতুর গোলচত্বর থেকে সরিয়ে ভূঞাপুর হয়ে বিকল্প পথে ঢাকায় পাঠানো হচ্ছে।

পদ্মা সেতুর মতো যমুনা সেতুতেও যানবাহনের রেকর্ড পারাপার লক্ষ্য করা গেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় এই সেতু দিয়ে মোট ৫৬ হাজার ২৩৯টি যানবাহন পারাপার হয়েছে, যা থেকে টোল আদায় করা হয়েছে ৩ কোটি ৮২ লাখ ৯৭ হাজার ৫০ টাকা। এত বিপুল সংখ্যক গাড়ি একসাথে সড়কে নামায় ট্রাফিক ব্যবস্থা সামাল দিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে হিমশিম খেতে হচ্ছে। টাঙ্গাইল হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শরীফ উদ্দিন জানিয়েছেন, অতিরিক্ত চাপের কারণে যানবাহন কিছুটা ধীরগতিতে চললেও পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক করতে তারা নিরলস কাজ করছেন। মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে বাড়তি পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

ঈদযাত্রার শেষ সময়ে এসে আবহাওয়া ও সড়কের এমন চিত্র প্রতিবছরের চেনা ভোগান্তির কথাই মনে করিয়ে দিচ্ছে। তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঘরমুখো মানুষ যেন নিরাপদে বাড়ি পৌঁছাতে পারেন, সেজন্য তারা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মহাসড়কের কিছু অংশে গতি ফিরলেও বড় ধরনের যানজট পুরোপুরি নিরসন হতে আরও কিছুটা সময়ের প্রয়োজন হতে পারে। মহাসড়কে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে টহল কার্যক্রম জোরদারের পাশাপাশি ভ্রাম্যমাণ আদালতের নজরদারিও বাড়ানো হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে।


মিঠামইনে দুই ভাইকে বেঁধে রেখে বড় ভাইকে বল্লমের আঘাতের পর নদীতে ফেলে হত্যা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
রাকিবুল হাসান রোকেল, কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি 

কিশোরগঞ্জের মিঠামইনে দুই ছোট ভাইকে হাত-পা বেঁধে রেখে বড় ভাইকে বল্লমের আঘাত করে নদীতে ফেলে হত্যার অভিযোগ উঠেছে।

মঙ্গলবার দিবাগত রাত আনুমানিক আড়াইটার দিকে উপজেলার মুশুরিয়া এলাকার ঘোড়াউত্রা নদীতে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত সাইদুর রহমান (৩০) মিঠামইন উপজেলার গোপদিঘী ইউনিয়নের ধলাই গ্রামের ফুল মিয়ার ছেলে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সাইদুর রহমান তার দুই ভাই আনিছুর রহমান ও আতাউর রহমানকে নিয়ে ঘোড়াউত্রা নদীতে রিংজাল দিয়ে মাছ ধরছিলেন। এ সময় মুখোশ পরা চারজন অজ্ঞাত ব্যক্তি দেশীয় অস্ত্র বল্লম ও দা নিয়ে তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়।

হামলাকারীরা প্রথমে আনিছুর ও আতাউরকে মারধর করে হাত-পা বেঁধে ফেলে। পরে সাইদুর রহমানকে লক্ষ্য করে বল্লম দিয়ে আঘাত করে নদীতে ফেলে দেয়। একপর্যায়ে তিনি পানিতে ডুবে গেলে হামলাকারীরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।

পরে স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে মিঠামইন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। চিকিৎসকের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে জানা যায়, তার ডান পাশের ফুসফুসের উপরের অংশে গুরুতর আঘাতের কারণে মৃত্যু হয়েছে।

নিহতের ছোট ভাই হাবিবুর রহমান অভিযোগ করে বলেন, চার-পাঁচ দিন আগে জাল ফেলাকে কেন্দ্র করে মশুরিয়া গ্রামের নোয়াব মিয়াসহ কয়েকজনের সঙ্গে সাইদুর রহমানের কথা-কাটাকাটি হয়েছিল। সে সময় নোয়াব মিয়া তাদের ওই এলাকায় জাল ফেললে ঝামেলা হবে বলে হুমকি দিয়েছিলেন। তার দাবি, পূর্বের সেই বিরোধের জের ধরেই এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হতে পারে। তবে এ বিষয়ে অভিযুক্তদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

মিঠামইন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লিয়াকত আলী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশ কাজ করছে। নিহত সাইদুর রহমানের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।


সৌদির সঙ্গে মিল রেখে বগুড়ার তিনটি উপজেলায় আগাম ঈদ উদযাপন

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বগুড়া জেলা প্রতিনিধি

বগুড়ার তিনটি উপজেলায় সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে আজ বুধবার পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপিত হয়েছে। জেলার গাবতলী, সোনাতলা ও ধুনট উপজেলার কিছু এলাকার বাসিন্দারা দেশের প্রচলিত সময়ের এক দিন আগেই এই ঈদ উৎসবে মেতে ওঠেন। সকাল সাড়ে ৭টায় গাবতলী রেলস্টেশন সংলগ্ন রেলওয়ে জামে মসজিদে প্রধান জামাতটি অনুষ্ঠিত হয়। বৃষ্টির কারণে নির্ধারিত সময়ের কিছুটা পরে এবং মসজিদের ভেতরে নামাজ সম্পন্ন করা হলেও মুসল্লিদের মধ্যে উৎসাহের কমতি ছিল না। গাবতলীতে এটি চতুর্থবারের মতো আগাম ঈদ উদযাপনের ঘটনা।

প্রতিকূল আবহাওয়া ও বৃষ্টির ফলে এবারের জামাতে মুসল্লিদের উপস্থিতি অন্যবারের তুলনায় কিছুটা কম ছিল। তবে নারী ও শিশুসহ অর্ধশতাধিক মুসল্লি এই নামাজে অংশগ্রহণ করেন। শুধু গাবতলী নয়, পাশের কাহালু ও ধুনট উপজেলা থেকেও অনেক ধর্মপ্রাণ মানুষ এই বিশেষ জামাতে অংশ নিতে আসেন। নামাজ শেষে মুসল্লিরা একে অপরের সঙ্গে কোলাকুলি ও ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে গাবতলী মডেল থানা পুলিশ পুরো এলাকায় বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করেছিল।

নামাজে ইমামতি করা স্থানীয় বাসিন্দা মিজানুর রহমান এই আগাম ঈদ উদযাপনের ধর্মীয় ও বৈজ্ঞানিক যুক্তি তুলে ধরেন। পেশায় দর্জি ও দ্বীনি এলেম চর্চাকারী মিজানুর রহমান উল্লেখ করেন, ২০১২ সাল থেকে তারা রাসুল (সা.)-এর সুন্নাহ ও বিশ্বের একক চাঁদ দেখার নীতির ওপর ভিত্তি করে এই নিয়ম মেনে আসছেন। তার মতে, আধুনিক প্রযুক্তির যুগে সৌদি আরবে চাঁদ দেখার খবর দ্রুত পাওয়ার পরও তারিখের ভিন্নতা শবে কদর বা আরাফাতের সিয়ামের মতো গুরুত্বপূর্ণ ইবাদতে বিভ্রান্তি তৈরি করে। তাই সৌদি আরবে আরাফাতের দিন অতিবাহিত হওয়ার পরদিনই তারা ঈদুল আজহার সালাত আদায় ও কোরবানি সম্পন্ন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

এই জামাতে অংশ নেওয়া মুসল্লিরা জানান, ধর্মীয় বিশ্বাস পালনের স্বাধীনতায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে তারা যথেষ্ট সহযোগিতা ও নিরাপত্তা পাচ্ছেন। তবে তারা দেশের আলেম-ওলামাদের প্রতি বিশেষ আহ্বান জানিয়েছেন যেন এই বিষয় নিয়ে কোনো সামাজিক বিভেদ সৃষ্টি না হয়। তারা মনে করেন, কোরআন ও হাদিসের আলোকে আলেমদের একত্রে বসে একটি যৌক্তিক ও বৈজ্ঞানিক সিদ্ধান্তে পৌঁছানো উচিত যাতে তারিখের এই পার্থক্য ও বিভ্রান্তি স্থায়ীভাবে নিরসন করা সম্ভব হয়। নামাজ শেষে মুসল্লিরা নিজ নিজ বাড়িতে গিয়ে পশু কোরবানির আনুষ্ঠানিকতা শুরু করেন।

গাবতলী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রাকিব হোসেন জানিয়েছেন, অত্যন্ত শান্ত ও সুশৃঙ্খল পরিবেশে ঈদের জামাত সম্পন্ন হয়েছে। কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই নামাজ শেষে মুসল্লিরা স্বাভাবিকভাবে নিজ নিজ গন্তব্যে ফিরে গেছেন। যদিও দেশের অধিকাংশ মানুষ আগামীকাল বৃহস্পতিবার ঈদুল আজহা পালন করবেন, তবে এই বিশেষ গোষ্ঠীর মানুষজন ধর্মীয় ও আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় আজকেই তাদের উৎসব পালন সম্পন্ন করেছেন। প্রশাসনিক নজরদারিতে পুরো এলাকায় শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় ছিল।


কোরবানির গরু চুরি করতে গিয়ে জনতার হাতে আটক চোর

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
গজারিয়া (মুন্সীগঞ্জ) প্রতিনিধি

মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় কোরবানির গরু চুরি করতে গিয়ে জনতার হাতে আটক হয়েছে মুরাদ (২২) নামের এক যুবক। তাকে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেছে স্থানীয় জনতা।

বুধবার (২৭ মে) রাত আড়াইটার দিকে উপজেলার ভবেরচর ইউনিয়নের ভিটিকান্দি গ্রামের দেওয়ান বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।

​আটক মুরাদ ভিটিকান্দি গ্রামের আওলাদ হোসেনের ছেলে।

​ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, ভবেরচর ইউনিয়নের ভিটিকান্দি গ্রামের দক্ষিণপাড়ার বাসিন্দা আব্দুল মতিন দেওয়ান কোরবানির জন্য একটি গরু কিনে বাড়িতে রেখেছিলেন। রাত আড়াইটার দিকে মুরাদসহ একদল চোর গরুটি চুরি করার উদ্দেশ্যে বাঁধন খুলে নিয়ে পালানোর চেষ্টা করছিল। বিষয়টি টের পেয়ে বাড়ির মালিক আব্দুল মতিন তাদের ধাওয়া দিলে মুরাদকে স্থানীয়রা হাতেনাতে আটক করেন। এসময় তার সঙ্গে থাকা অন্য সহযোগীরা পালিয়ে যায়। পরে উত্তেজিত জনতা তাকে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করে।

ভুক্তভোগী গরুর মালিক আব্দুল মতিন দেওয়ান বলেন, 'রাত আড়াইটার দিকে ঘুম না আসায় আমি মোবাইল চালাচ্ছিলাম। এসময় হঠাৎ খেয়াল করি একজন ব্যক্তি আমাদের কুরবানির জন্য আনা গরুটি চুরি করার চেষ্টা করছে। আমি পেছন থেকে ধাওয়া দিয়ে তাকে আটক করি।'

​আটক মুরাদ প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানায়, চুরির এই ঘটনায় তার সাথে শরীফ, জমিস, রাহুল ও সাগরসহ আরও চারজন জড়িত ছিল। সে আরও স্বীকার করে, এ ঘটনার কিছুক্ষণ আগে তারা পার্শ্ববর্তী বাড়ি থেকে দুটি মোবাইল ফোনও চুরি করেছে এবং তারা নিয়মিত একসাথে ইয়াবা সেবন করতো।

​এ বিষয়ে গজারিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মো. হাসান আলী বলেন, ‘খবর পাওয়ার পরপরই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। স্থানীয়রা একজনকে আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছে। এ ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি এবং আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।’


পূর্ব শত্রুতার জেরে যুবককে ছুরিকাঘাতে হত্যা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নওগাঁ প্রতিনিধি

পূর্ব শত্রুবার জেরে জয়পুরহাট জেলার আক্কেলপুর উপজেলায় মাসুম হোসেন (২৮) নামে এক যুবককে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাতে হত্যা করেছে প্রতিপক্ষরা। মঙ্গলবার (২৬ মে) রাত সাড়ে ১০টার দিকে আক্কেলপুর উপজেলার তিলকপুর হাটের জিরো পয়েন্টে এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত মাসুম হোসেন নওগাঁ সদর উপজেলার তিলকপুর ইউনিয়নের শ্রীধরপুর গ্রামের বাসীন্দা।

জানা যায়- প্রতিপক্ষের সাথে জমিজমা নিয়ে দীর্ঘদিন থেকে মাসুম হোসেন এর বিরোধ চলে আসছিল। মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে তিলকপুর হাটের জিরো পয়েন্ট এলাকায় মাসুম হোসেন এর সাথে প্রতিপক্ষ শিবলু রহমানসহ কয়েকজনের কথাকাটি হয়। এক পর্যায়ে মাসুমের ওপর হামলা করে শরীরের বিভিন্ন স্থানে ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায় প্রতিপক্ষ। পরে গুরুত্বর আহতাবস্থায় স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে নওগাঁ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নেয়। তবে হাসপাতালে নিয়ে আসার পথে তিনি মারা যান।

তিলকপুর ইউনিয়নের ওয়ার্ড মেম্বার ইয়াছিন আলী (নান্নু) বলেন, জমিজমা নিয়ে মাঝেমধ্যে দুইপক্ষের মধ্যে ঝগড়া হতো। শেষ পর্যন্ত যা হত্যায় রুপ নেয়। এটি একটি নেক্কারজনক ঘটনা। এ অন্যায়কে কোনভাবে সাপোর্ট করা যাবে না। অন্যায় যেই করুক না কেন, তার দৃষ্টান্তমুলক শাস্তি হওয়া দরকার।

নওগাঁ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান নিহতের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন- মারধরের ঘটনা জয়পুরহাট জেলার আক্কেলপুর থানার মধ্যে হলেও নিহত ও হামলাকারীর বাড়ি নওগাঁ সদর থানায়। নিহতের মরদেহ নওগাঁ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে রয়েছে।


সৌদির সঙ্গে মিল রেখে চাঁদপুর ও পটুয়াখালীর ৮৫ গ্রামে আজ ঈদুল আযহা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
অনলাইন ডেস্ক

সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে মিল রেখে আজ বুধবার (২৭ মে) চাঁদপুরের অর্ধশতাধিক এবং পটুয়াখালীর ৩৫টি গ্রামে পবিত্র ঈদুল আযহা উদযাপিত হচ্ছে। প্রায় এক শতাব্দী প্রাচীন রীতির অনুসরণে দেশের অন্যান্য স্থানের তুলনায় একদিন আগেই এসব গ্রামের হাজার হাজার ধর্মপ্রাণ মুসলমান উৎসবের আনন্দে মেতেছেন।

চাঁদপুর জেলার হাজীগঞ্জ, ফরিদগঞ্জ ও মতলব উত্তর উপজেলার প্রায় অর্ধশতাধিক গ্রামে আজ ঈদের আমেজ বিরাজ করছে। হাজীগঞ্জের সাদ্রা দরবার শরীফের প্রতিষ্ঠাতা মাওলানা ইসহাক (রহ.) ১৯২৮ সালে প্রথম চাঁদ দেখার ভিত্তিতে একদিন আগে রোজা ও ঈদ পালনের এই প্রথা চালু করেন। সেই থেকে তাঁর অনুসারীরা বিশ্বের যেকোনো প্রান্তে চাঁদ দেখার খবরের ওপর ভিত্তি করে ধর্মীয় উৎসব পালন করে আসছেন। আজ সকাল থেকে জেলার সাদ্রা দরবার শরীফ মাঠ, সাদ্রা হামিদিয়া ফাজিল মাদ্রাসা ময়দান ও সমেশপুর ঈদগাহ মাঠসহ বিভিন্ন স্থানে মোট ৩০টি ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হচ্ছে। হাজীগঞ্জ উপজেলার সাদ্রা, সমেশপুর, অলীপুর এবং ফরিদগঞ্জের সুরঙ্গচাউল ও টোরামুন্সিরহাটসহ বেশ কয়েকটি গ্রামে উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে ঈদের নামাজ ও কোরবানির প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।

অন্যদিকে একই রীতিতে পটুয়াখালী জেলার ৩৫টি গ্রামের প্রায় ২৫ হাজার মানুষ আজ পবিত্র ঈদুল আযহা উদযাপন করছেন। আজ সকাল ৮টায় পটুয়াখালী সদর উপজেলার বদরপুর দরবার শরীফে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হওয়ার মধ্য দিয়ে এই উৎসবের সূচনা হয়। পটুয়াখালীর বদরপুর ও ছোটবিঘাই ছাড়াও গলাচিপা, বাউফল ও কলাপাড়া উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে আজ ঈদের নামাজ আদায় শেষে পশু কোরবানি করা হচ্ছে। ১৯২৮ সাল থেকে এখানকার বাসিন্দারা একদিন আগে ঈদ উদযাপনের এই ঐতিহ্য লালন করে আসছেন।

সকাল থেকেই এসব এলাকার শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে সব বয়সী মানুষ নতুন পোশাকে ঈদগাহে সমবেত হন। জামাত শেষে মুসল্লিরা একে অপরের সঙ্গে কোলাকুলি ও কুশল বিনিময় করেন। নামাজের পর মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে পশু কোরবানি এবং আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে যাতায়াতের মাধ্যমে দিনটি আনন্দময় করে তুলছেন তারা।


banner close