ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপে ১৫৬টি উপজেলায় ভোটগ্রহণ শেষ হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত চলে ভোটগ্রহণ। ভোট গণনা শেষে রাতে নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশ করেন রিটার্নিং কর্মকর্তারা। সারা দেশের প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর থেকে জানা যায়-
ফরিদপুর
উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপে ফরিদপুরের নগরকান্দা ও সালথা উপজেলায় ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। নগরকান্দা উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপ-কমিটির সাবেক সহসম্পাদক কাজী শাহ জামান বাবুল। আনারস প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ৩৭ হাজার ২০৯ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মোটরসাইকেল প্রতীকের প্রার্থী বর্তমান উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মনিরুজ্জামান সরদার পেয়েছেন ২৫ হাজার ২৩৭ ভোট।
অন্যদিকে সালথা উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে বর্তমান চেয়ারম্যান ওয়াদুদ মাতুব্বর বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। আনারস প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ৩৫ হাজার ৫৪৫ ভোট তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী সালথা উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও মোটরসাইকেল প্রতীকের প্রার্থী মো. ওহিদুজ্জামান পেয়েছেন ৫ হাজার ৩৪২ ভোট।
নারায়ণগঞ্জ
উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপে নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলায় ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম। ঘোড়া প্রতীকে তিনি পেয়েছেন এক লাখ ১৫ হাজার ২৫২ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী দোয়াত কলম প্রতীকের প্রার্থী মো. শাহজালাল মিয়া পেয়েছেন ১৩ হাজার ১৩২ ভোট।
বিজয়ী মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম আড়াইহাজার উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সদস্য। তিনি কালাপাহাড়িয়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান। অন্যদিকে তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মো. শাহজালাল মিয়া আড়াইহাজার উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া
দ্বিতীয় ধাপের উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা ও আখাউড়ায় উপজেলায় ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। কসবা উপজেলায় আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের ফুফাতো ভাই ছাইদুর রহমান ও আখাউড়ায় মোগড়া ইউনিয়ন পরিষদের তিনবারের সাবেক চেয়ারম্যান মনির হোসেন বেসরকারিভাবে চেয়ারম্যান নির্বাাচিত হয়েছেন।
ঘোষিত ফলাফল অনুযায়ী, কসবা উপজেলায় ছায়েদুর রহমান স্বপন কাপ-পিরিচ প্রতীকে ৮৬ হাজার ৬৯৮ ভোট পেয়ে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও কুটি ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ছিলেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বর্তমান উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের সাবেক সহকারী একান্ত সচিব রাশেদুল কাউসার ভূইয়া আনারস প্রতীকে পেয়েছেন ৩৯ হাজার ৯৫৯ ভোট।
অন্যদিকে আখাউড়া উপজেলায় মনির হোসেন ঘোড়া প্রতীকে ২৮ হাজার ৩০৯ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি উপজেলা যুবলীগের সাবেক আহ্বায়ক ও মোগড়া ইউনিয়ন পরিষদের তিনবারের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান আনারস প্রতীকে পেয়েছেন ১৪ হাজার ৫৬৩ ভোট।
রাঙামাটি
ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপে রাঙামাটির রাজস্থলী, কাপ্তাই ও বিলাইছড়ি উপজেলায় শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। রাজস্থলী উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি উবাচ মারমা আনারস প্রতীকে ৭ হাজার ৭৫ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মো. রিয়াজ উদ্দীন রানা দোয়াত কলম প্রতীকে পেয়েছেন ২ হাজার ১৮ ভোট।
অন্যদিকে কাপ্তাই উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে উপজেলা যুবলীগের সভাপতি মো. নাছির উদ্দিন দোয়াত কলম প্রতীকে ৭ হাজার ৩৬২ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও সাবেক ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আনোয়ারুল ইসলাম চৌধুরী আনারস প্রতীকে পেয়েছেন ৬ হাজার ৯৭৩ ভোট।
অপরদিকে বিলাইছড়ি উপজেলায় মোট ১৩টি কেন্দ্রের মধ্যে ৫টি হেলিসর্টি ভোটকেন্দ্র রয়েছে। দুর্গম এলাকা হওয়ায় রাত সাড়ে ৯টা পর্যন্ত ফলাফল না আসায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কোনো ফলাফল ঘোষণা করেননি। তবে বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা যায়, পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (জেএসএস) সমর্থিত দোয়াত কলম প্রতীকের বিরোত্তম তঞ্চঙ্গ্যা চেয়ারম্যান পদে বিজয়ী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
লালমনিরহাট
লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ ও আদিতমারী উপজেলায় উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপে ভোটগ্রহণ শেষ হয়েছে। দুই উপজেলায় মধ্যে আদিতমারী উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে ফারুক ইমরুল কায়েস ও কালীগঞ্জ উপজেলায় জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক রাকিবুজ্জামান আহমেদ বিজয়ী হয়েছেন।
রাত সাড়ে ৯টার দিকে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা লুৎফর কবির তাদেরকে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত ঘোষণা করেন।
আদিতমারী উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে ফারুক ইমরুল কায়েস মোটরসাইকেল প্রতীকে পেয়েছেন ৩৩ হাজার ১৩৫ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রফিকুল আলম আনারস প্রতীকে পেয়েছেন ২৯ হাজার ১৮টি ভোট
কালীগঞ্জ উপজেলায় সাবেক সমাজকল্যাণমন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদের ছেলে রাকিবুজ্জামান আহমেদ আনারস প্রতীকে পেয়েছেন ২৪ হাজার ৩০৩ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী তার চাচা উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মাহবুবুজ্জামান আহমেদ ঘোড়া প্রতীকে পেয়েছেন ১৯ হাজার ৩৫০ ভোট।
পিরোজপুর
ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে দ্বিতীয় ধাপে পিরোজপুর জেলার দুই উপজেলায় শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। মঙ্গলবার পিরোজপুরের নেছারাবাদ ও কাউখালী উপজেলার ১৫টি ইউনিয়নের মোট ১২২টি ভোটকেন্দ্রে ইভিএম পদ্ধতিতে এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
কাউখালী উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে মো. আবু সাঈদ মিঞা ও নেছারাবাদ উপজেলায় আব্দুল হক নির্বাচিত হয়েছেন। রাতে নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা সৈয়দ শফিকুল হক বেসরকারিভাবে তাদের বিজয়ী ঘোষণা করেন।
নেছারাবাদ উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে আব্দুল হক আনারস প্রতীকে ৩৮ হাজার ৬১২ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী এস এম মুইদুল ইসলাম মোটরসাইল প্রতীকে পেয়েছেন ৩৫ হাজার ৫২০ ভোট।
অন্যদিকে কাউখালী উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে মো. আবু সাঈদ মিঞা ঘোড়া প্রতীকে ১১ হাজার ২৮৪ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মো. মনিরুজ্জামান তালুকদার পল্টন কাপ-পিরিচ প্রতীকে পেয়েছেন ৬ হাজার ২৯৪ ভোট।
ঝালকাঠি
উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপে ঝালকাঠি সদর ও নলছিটি উপজেলায় ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ঝালকাঠি সদর উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান ও ঝালকাঠি জেলা আওয়ামী লীগ সহ-সভাপতি খান আরিফুর রহমান। আনারস প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ৩৩ হাজার ৯৪৩ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী দোয়াত কলম প্রতীকের প্রার্থী মো. সুলতান খান পেয়েছেন ২৫ হাজার ৯৭১ ভোট।
অন্যদিকে নলছিটি উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মো. সালাউদ্দিন খান সেলিম বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। মোটরসাইকেল প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ২৩ হাজার ৯৩৯ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাবেক মেয়র তছলিম উদ্দিন চৌধুরী আনারস প্রতীকে পেয়েছেন ১৬ হাজার ৭৮৪ ভোট।
বাগেরহাট
উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপে বাগেরহাটে ফকিরহাট, মোল্লাহাট,ও চিতলমারী উপজেলায় ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ফকিরহাট উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন শেখ ওহিদুজ্জামান বাবু। মোটরসাইকেল প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ৪৬ হাজার ৬৫৪ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আনরস প্রতীকের প্রার্থী বর্তমানে উপজেলা চেয়ারম্যান স্বপন দাস পেয়েছেন ২৯ হাজার ৪৩৭ ভোট। এ উপজেলায় ভোট কাস্ট হয়েছে ৬২.৫০ শতাংশ।
চিতলমারী উপজেলার চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হয়েছেন মো. আলমগীর হোসেন সিদ্দিকী। দোয়াত কলম প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ৩৪ হাজার ৮৮৬ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বর্তমান উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও বাগেরহাট জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি অশোক কুমার বড়াল মোটরসাইকেল প্রতীকে পেয়েছেন ২২ হাজার ৭৬৩ ভোট। এ উপজেলায় ভোট কাস্ট হয়েছে ৪৫.৭৫ শতাংশ।
অন্যদিকে মোল্লাহাট উপজেলার চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হয়েছেন বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শাহিনুর আলম ছানা। দোয়াত কলম প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ২৯ হাজার ৯০২ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বর্তমান উপজেলা শেখ নাসির উদ্দীন আনারস প্রতীকে পেয়েছেন ১৯ হাজার ৯৫৪ ভোট। এ উপজেলায় ভোট কাস্ট হয়েছে ৫৩.৭৭ শতাংশ। জেলায় গড় ভোট কাস্টিং হয়েছে ৫৪ শতাংশ।
যশোর
দ্বিতীয় ধাপের উপজেলা নির্বাচনে যশোরের ঝিকরগাছা, শার্শা ও চৌগাছা উপজেলায় ভোটগ্রহণ করা হয়েছে। ভোটগ্রহণ শেষে রাতে বেসরকারিভাবে ফলাফল ঘোষণা করেন উপজেলাগুলোর দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তারা।
চৌগাছা উপজেলা চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হয়েছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা এসএম হাবিবুর রহমান। আনারস প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ৩৩ হাজার ৫৬৫ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ ড. মোস্তানিছুর রহমান পেয়েছেন ২৮ হাজার ৯৮০ ভোট।
নির্বাচনের সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও চৌগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুম্মিতা সাহা রাত সাড়ে ৯টায় এ ফলাফল ঘোষণা করেন।
ঝিকরগাছা উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হয়েছেন বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. মনিরুল ইসলাম। আনারস প্রতীকে মনিরুল ইসলাম পেয়েছেন ৪০ হাজার ৬৪৩ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী সেলিম রেজা ঘোড়া প্রতীকে পেয়েছেন ১৮ হাজার ৪৪৩ ভোট।
অন্যদিকে শার্শা উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে মো. সোহরাব হোসেন দোয়াত কলম প্রতীক নিয়ে ৩৭ হাজার ৫৭০ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মো. অহিদুজ্জামান আনারস প্রতীকে পেয়েছেন ১২ হাজার ২৯১ ভোট।
রাজশাহী
দ্বিতীয় ধাপে রাজশাহীর বাগমারা, দুর্গাপুর ও পুঠিয়া উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বাগমারা উপজেলায় বেসরকারিভাবে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন জাকিরুল ইসলাম সান্টু। তিনি ঘোড়া প্রতীকে পেয়েছেন ৪৭ হাজার ৩২২ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আব্দুর রাজ্জাক সরকার ওরফে আর্ট বাবু পেয়েছেন ৪ হাজার ৩২১ ভোট।
পুঠিয়া উপজেলায় বেসরকারিভাবে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন আবদুস সামাদ মোল্লা। তিনি আনারস প্রতীকে পেয়েছেন ২৬ হাজার ৬৬৫ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আহসানুল হক মাসুদ ঘোড়া প্রতীকে পেয়েছেন ২৩ হাজার ৬৭৯ ভোট।
অন্যদিকে দুর্গাপুর উপজেলায় বেসরকারিভাবে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন শরীফুজ্জামান শরীফ। তিনি মোটরসাইকেল প্রতীকে পেয়েছেন ৪২ হাজার ১১৩ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আব্দুল মজিদ সরদার পেয়েছেন ২৭ হাজার ৩৩২ ভোট।
সাতক্ষীরা
ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপে সাতক্ষীরার আশাশুনি, তালা ও দেবহাটা উপজেলায় ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আশাশুনি উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও বর্তমান উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এবিএম মোস্তাকিম বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি চিংড়ি প্রতীকে পেয়েছেন ৫১ হাজার ৬৬২ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী শাহনেওয়াজ ডালিম ঘোড়া প্রতীকে পেয়েছেন ৫০ হাজার ৭০৭ ভোট।
অপরদিকে সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলা নির্বাচনে মো. আল ফেরদাউস বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি হেলিকপ্টার প্রতীকে ২৬ হাজার ৩৭৭ ভোট পেয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মো. মজিবুর রহমান মোটরসাইকেল প্রতীকে পেয়েছেন ১৭ হাজার ১৫২ ভোট।
এ ছাড়া সাতক্ষীরার তালা উপজেলা নির্বাচনে ঘোষ সনৎ কুমার বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি কাপ পিরিচ প্রতীকে ৪৬ হাজার ৪৫৮ ভোট পেয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী সরদার মশিয়ার চিংড়ি প্রতীকে পেয়েছেন ৩২ হাজার ৪১৩ ভোট।
বেসরকারি উদ্যোগে বাণিজ্যিক (মার্চেন্ট) সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের অন্যতম বড় বাধা ছিল উৎপাদিত বিদ্যুতের মূল্য ও জাতীয় গ্রিড ব্যবহারের মাশুল নির্ধারণ। সেই জটিলতা কাটিয়ে এবার মার্চেন্ট সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদিত বিদ্যুতের বিক্রয়মূল্য ও গ্রিড ব্যবহারের মাশুল নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। নতুন আদেশ অনুযায়ী, বিতরণ সংস্থাগুলো ইউনিটপ্রতি ৬ টাকা ৯৮ পয়সা থেকে সর্বোচ্চ ৭ টাকা ১১ পয়সা দরে বিদ্যুৎ কিনবে। চলতি 0 অক্টোবর থেকে এ দর কার্যকর হবে। গত বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) প্রস্তাবের ওপর গণশুনানি শেষে এ আদেশ দেয় বিইআরসি। আদেশ অনুযায়ী, ৩৩ কিলোভোল্ট স্তরে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) ইউনিটপ্রতি ৬ টাকা ৯৮ পয়সা এবং ১৩২ কিলোভোল্ট স্তরে ৭ টাকা ১১ পয়সা দরে বিদ্যুৎ কিনবে।
এ ছাড়া মার্চেন্ট সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সঞ্চালনের জন্য মাশুলও নির্ধারণ করা হয়েছে। ২৩০ কিলোভোল্ট স্তরে প্রতি ইউনিটে ৩৭ দশমিক ৮৯ পয়সা, ১৩২ কিলোভোল্টে ৩৮ দশমিক ২৫ পয়সা এবং ৩৩ কিলোভোল্টে ৩৮ দশমিক ৯৭ পয়সা হারে পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশকে এ মাশুল দিতে হবে।
নবায়নযোগ্য জ্বালানিভিত্তিক কেন্দ্রের বিদ্যুৎ কেন্দ্রীয়ভাবে সমন্বয় ও বিলিংয়ের জন্য একক ক্রেতা হিসেবে পিডিবির সমন্বয় ও নিষ্পত্তি মাশুল নির্ধারণ করা হয়েছে ইউনিটপ্রতি ৫ পয়সা। একই সঙ্গে পরিচালন পদ্ধতি, বিলিং, বিদ্যুতের হিসাব-নিকাশ ও নিষ্পত্তির বিভিন্ন শর্তও নির্ধারণ করেছে কমিশন।
বিইআরসি জানায়, গত ১ এপ্রিল পিডিবি এ বিষয়ে একটি সমন্বিত প্রস্তাব জমা দেয়। এরপর ৭ থেকে ৩০ জুলাইয়ের মধ্যে পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ এবং ছয়টি বিতরণ সংস্থা পৃথক প্রস্তাব দেয়। এসব প্রস্তাব ও সংশ্লিষ্ট নথি পর্যালোচনার পর ২৩ আগস্ট গণশুনানি অনুষ্ঠিত হয়। শুনানিতে পাওয়া তথ্য ও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্য বিশ্লেষণ করে কমিশন চূড়ান্ত আদেশ দেয়।
সরকার নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে বাণিজ্যিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের সুযোগ দিয়েছে। এ ব্যবস্থায় বড় শিল্প ও রপ্তানিমুখী প্রতিষ্ঠান বেসরকারি উৎপাদনকারীর কাছ থেকে সরাসরি বিদ্যুৎ কিনতে পারবে। ক্রেতা ও বিক্রেতা নিজেদের মধ্যে বিদ্যুতের দাম নির্ধারণ করতে পারবে। তবে বিতরণ সংস্থার কাছে বিক্রি করা বিদ্যুতের মূল্য এবং জাতীয় গ্রিড ব্যবহারের মাশুল নির্ধারণ করবে বিইআরসি।
নীতিমালা অনুযায়ী, বাণিজ্যিক কেন্দ্রের উৎপাদিত বিদ্যুতের সর্বোচ্চ ২০ শতাংশ বিতরণ সংস্থার কাছে বিক্রি করা যাবে। দেশের যেকোনো স্থানে সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করে জাতীয় গ্রিডের মাধ্যমে অন্য এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহেরও সুযোগ রয়েছে। এ ক্ষেত্রে নির্ধারিত সঞ্চালন ও বিতরণ মাশুল পরিশোধ করতে হবে।
গত বছরের অক্টোবরে ‘নবায়নযোগ্য জ্বালানিভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনে বেসরকারি অংশগ্রহণ বাড়ানোর নীতি, ২০২৫’ গেজেট আকারে প্রকাশ করে সরকার। এতে প্রথমবারের মতো বাণিজ্যিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, ক্রেতার সঙ্গে সরাসরি বিদ্যুৎ কেনাবেচার চুক্তি এবং জাতীয় গ্রিড ব্যবহারের আইনি স্বীকৃতি দেওয়া হয়। সৌর, বায়ু, জীবভর ও বর্জ্যসহ পরিচ্ছন্ন উৎসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রকে এ নীতিতে সবুজ বাণিজ্যিক কেন্দ্র হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে।
তবে বাণিজ্যিক বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিচালনার জন্য বিইআরসির উৎপাদন লাইসেন্স নিতে হবে। আইন বা নীতি পরিবর্তনের কারণে বিনিয়োগকারীর ক্ষতি হলে সরকারি সুরক্ষার ব্যবস্থাও নীতিতে রাখা হয়েছে।
চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) পরিচালনা করবে বিদেশি অপারেটর। বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) অর্থনৈতিক বিষয় সম্পর্কিত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এ সংক্রান্ত খসড়া চুক্তির চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে বিদেশি অপারেটরের হাতে এনসিটি পরিচালনার প্রক্রিয়া আরও এক ধাপ এগোল।
অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে চুক্তির খসড়া অনুমোদন দেওয়া হয়। তবে বৈঠকের পর প্রকাশিত তথ্যে অপারেটরের নাম সরাসরি উল্লেখ করা হয়নি। সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব কর্তৃপক্ষের প্রকল্প-সংক্রান্ত তথ্যে অবশ্য সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ডকে প্রস্তাবিত অপারেটর হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব কাঠামোর আওতায় এনসিটি ও এর অতিরিক্ত কনটেইনার ইয়ার্ড পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব বিদেশি অপারেটরকে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। সংশ্লিষ্টদের মতে, আন্তর্জাতিক মানের ব্যবস্থাপনা, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং কনটেইনার ওঠানামার সক্ষমতা বাড়ানোই এ উদ্যোগের অন্যতম উদ্দেশ্য।
ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনা: এনসিটি পরিচালনার জন্য ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে সরকারের আলোচনা বেশ কিছুদিন ধরেই চলছিল। বিভিন্ন পর্যায়ে চুক্তির মেয়াদ, বিনিয়োগ, রাজস্ব ভাগাভাগি এবং পরিচালনাগত শর্ত নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, প্রকল্পটির সম্ভাব্য ব্যয় প্রায় ২০ কোটি ৫০ লাখ মার্কিন ডলার।
আলোচনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের বরাতে বিভিন্ন সময়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানা যায়, ডিপি ওয়ার্ল্ড দীর্ঘমেয়াদি পরিচালনার সুযোগ চেয়েছিল। তবে সরকারের পক্ষ থেকে চুক্তির শর্তে দেশের স্বার্থ, বন্দরের আয় এবং অর্থনৈতিক সুবিধাকে গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম গত ১৮ এপ্রিল চট্টগ্রামে সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে সম্ভাব্য চুক্তিতে দেশের স্বার্থ ও জনগণের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, প্রস্তাবের কিছু দিক বাংলাদেশের জন্য ইতিবাচক হলেও কিছু ক্ষেত্রে আর্থিক ঝুঁকিও রয়েছে। তাই সব দিক বিবেচনা করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
চট্টগ্রাম বন্দরের কনটেইনার ব্যবস্থাপনায় নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। বন্দরের মোট কনটেইনার ওঠানামার বড় একটি অংশ এই টার্মিনালের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। ফলে এনসিটির পরিচালনা ব্যবস্থায় পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে।
২০২৪ সালের জুলাইয়ে আগের পরিচালনাকারীর মেয়াদ শেষ হওয়ার পর বাংলাদেশ নৌবাহিনী নিয়ন্ত্রিত চট্টগ্রাম ড্রাইডক লিমিটেড এনসিটির পরিচালনার দায়িত্ব নেয়। এর আগে দীর্ঘ সময় দেশীয় প্রতিষ্ঠান সাইফ পাওয়ারটেক টার্মিনালটি পরিচালনা করে।
সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতাসম্পন্ন অপারেটর যুক্ত হলে টার্মিনালের দক্ষতা বাড়ানো, জাহাজের অপেক্ষার সময় কমানো এবং কনটেইনার ব্যবস্থাপনায় আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে।
তবে এনসিটি বিদেশি অপারেটরের হাতে দেওয়ার উদ্যোগ নিয়ে বন্দরকেন্দ্রিক শ্রমিক সংগঠন ও বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে। তাদের প্রধান প্রশ্ন—বিদেশি প্রতিষ্ঠান দায়িত্ব নিলে বর্তমানে কর্মরত শ্রমিকদের চাকরি, সুযোগ-সুবিধা ও ভবিষ্যৎ কর্মসংস্থানের কী হবে।
বন্দর রক্ষা কমিটিসহ বিভিন্ন সংগঠন দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আগে বন্দরের আয়, জাতীয় স্বার্থ, নিরাপত্তা এবং শ্রমিকদের ওপর সম্ভাব্য প্রভাব পর্যালোচনার দাবি জানিয়েছে। তাদের বক্তব্য, বিদেশি প্রতিষ্ঠানকে দায়িত্ব দেওয়ার আগে দেশের সক্ষমতা ও বিদ্যমান পরিচালনব্যবস্থার কার্যকারিতাও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।
অন্যদিকে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, চুক্তির শর্ত নির্ধারণের সময় দেশের স্বার্থ এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বিষয় বিবেচনায় রাখা হবে।
এনসিটি পরিচালনার বিষয়ে দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর পক্ষ থেকেও প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। সাইফ-কসমস-এভারেস্টের সমন্বিত একটি প্রতিষ্ঠানগোষ্ঠী ১৫ বছরের জন্য এনসিটি পরিচালনার প্রস্তাব দিয়েছিল। তাদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, টার্মিনালের মালিকানা ও নিয়ন্ত্রণ চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের কাছেই থাকবে।
এ ছাড়া মেঘনা গ্রুপও এনসিটি পরিচালনার বিষয়ে আগ্রহ দেখিয়েছিল। ফলে বিদেশি প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি দেশীয় প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা ও প্রস্তাব নিয়েও বিভিন্ন পর্যায়ে আলোচনা হয়েছে।
বৃহস্পতিবারের অনুমোদনের ফলে এনসিটি পরিচালনায় বিদেশি অপারেটর নিয়োগের প্রক্রিয়া গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে পৌঁছেছে। তবে পূর্ণাঙ্গ চুক্তিতে বিনিয়োগের পরিমাণ, রাজস্ব ভাগাভাগি, পরিচালন ব্যয়, শ্রমিকদের চাকরির নিরাপত্তা, প্রযুক্তি ব্যবহারের শর্ত এবং চুক্তি শেষে সম্পদের ব্যবস্থাপনা কী হবে—এসব বিষয় বিস্তারিতভাবে নির্ধারিত থাকবে।
সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব কর্তৃপক্ষের প্রকাশিত তথ্যে ডিপি ওয়ার্ল্ডকে প্রস্তাবিত অপারেটর হিসেবে উল্লেখ করা হলেও বৃহস্পতিবারের অনুমোদনের পর প্রকাশিত সংক্ষিপ্ত তথ্যে প্রতিষ্ঠানের নাম সরাসরি উল্লেখ করা হয়নি। ফলে চূড়ান্ত চুক্তিপত্র প্রকাশের পরই বিদেশি অপারেটরের দায়িত্ব, আর্থিক কাঠামো ও অন্যান্য শর্ত সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ চিত্র পাওয়া যাবে।
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের জন্য এনসিটি দেশের প্রধান কনটেইনার টার্মিনালগুলোর একটি হওয়ায় এর পরিচালনা পরিবর্তনের সিদ্ধান্তকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সরকারের পক্ষ থেকে দক্ষতা ও সক্ষমতা বাড়ানোর কথা বলা হলেও চুক্তির আর্থিক ও শ্রমসংক্রান্ত শর্তগুলো প্রকাশের পরই এর পূর্ণাঙ্গ প্রভাব স্পষ্ট হবে।
মাগুরায় ২৩৫ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহারের বিপরীতে ৫০৬ কোটি টাকার বিলের ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার মাত্র ২০ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহারের বিপরীতে ২৯ হাজার ১৩৮ টাকার বিল পাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় নতুন করে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে।
ভুক্তভোগী গ্রাহক বাবু মোল্যা (৫৫) মাগুরা সদর উপজেলার গোপালগ্রাম ইউনিয়নের সংকোচখালি গ্রামের বাসিন্দা। তিনি জানান, দীর্ঘদিন ধরে তাঁর বাড়িতে বিদ্যুৎ বিল ২০০ থেকে ২৫০ টাকার মধ্যে আসে। তবে এবার পাওয়া বিলের কাগজে বিদ্যুৎ ব্যবহার দেখানো হয়েছে মাত্র ২০ ইউনিট। অথচ বিলের পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়েছে ২৯ হাজার ১৩৮ টাকা।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) বিষয়টি নিয়ে বাবু মোল্যা বিস্ময় ও উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তাঁর অভিযোগ, অস্বাভাবিক বিল নিয়ে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কার্যালয়ে যাওয়ার আগে সেখানকার লোকজন তাঁকে বিলের কাগজের বিষয়ে বিভিন্নভাবে হয়রানি করেছেন।
তবে অভিযোগের বিষয়ে মাগুরা জেলা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির এজিএম ফজলুল আনোয়ার বলেন, বিষয়টি দেখা হচ্ছে।
এর আগে মাগুরার শালিখা উপজেলার গ্রাহক আলেয়া খাতুনের নামে ২৩৫ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহারের বিপরীতে ৫০৬ কোটি ৮৩ লাখ টাকার বিল আসার ঘটনা দেশজুড়ে আলোচনার সৃষ্টি করে। সেই ঘটনার পর এবার মাত্র ২০ ইউনিট ব্যবহারের বিপরীতে ২৯ হাজার ১৩৮ টাকার বিল আসায় নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে বিদ্যুৎ বিল প্রস্তুত ও যাচাই-বাছাইয়ের প্রক্রিয়া নিয়ে।
সচেতন মহলের দাবি, এ ধরনের অস্বাভাবিক বিলের কারণ খুঁজে বের করে দায়িত্বশীলদের জবাবদিহির আওতায় আনা প্রয়োজন। একই সঙ্গে ঘটনাগুলো নিছক হিসাবের ভুল, নাকি অন্য কোনো কারণে এমন বিল তৈরি হচ্ছে—তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের খতিয়ে দেখা উচিত।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইয়াবা সেবনের একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কিশোরগঞ্জের ইটনা উপজেলা আহ্বায়ক মো. নাজমুল ঠাকুরকে দল থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। তবে নাজমুল ঠাকুর দাবি করেছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি ভুয়া এবং ভিডিওতে থাকা ব্যক্তি তিনি নন।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) এনসিপির কিশোরগঞ্জ জেলা আহ্বায়ক কমিটির দপ্তর ও জুলাই গণঅভ্যুত্থান এবং মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সম্পাদক রাতুল নাহিদ ভূঁইয়ার স্বাক্ষরিত এক পত্রে বহিষ্কারের বিষয়টি জানানো হয়।
দলীয় পত্রে বলা হয়েছে, নাজমুল ঠাকুরের বিরুদ্ধে গুরুতর সাংগঠনিক শৃঙ্খলা পরিপন্থী কর্মকাণ্ড এবং সংগঠনের নীতি ও আদর্শবিরোধী কার্যকলাপে জড়িত থাকার সুস্পষ্ট ও সুনির্দিষ্ট অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনায় কেন্দ্রীয় কমিটির মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম ও ঢাকা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফুল্লাহ হায়দারের পরামর্শে এবং কিশোরগঞ্জ জেলা আহ্বায়ক শেখ খায়রুল কবিরের নির্দেশক্রমে এ সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
চিঠি অনুযায়ী, নাজমুল ঠাকুরকে এনসিপির প্রাথমিক সদস্যপদসহ সংগঠনের সব পর্যায়ের পদ ও দায়িত্ব থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। এ আদেশ তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হবে বলেও জানানো হয়েছে।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও নিয়ে নাজমুল ঠাকুর নিজের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে সেটিকে ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন’ বলে দাবি করেছেন। তাঁর দাবি, ভিডিওতে যে ব্যক্তিকে দেখা যাচ্ছে, তিনি নন। ভিডিওটি মেটাডাটা ও ফ্রেম-বাই-ফ্রেম বিশ্লেষণের জন্য বিশেষজ্ঞদের কাছে পাঠানো হয়েছে এবং এ বিষয়ে প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রকৃত তথ্য জানা যাবে।
নাজমুল ঠাকুর আরও দাবি করেন, ইটনার কিছু অমীমাংসিত বিষয়ে তিনি হস্তক্ষেপ করায় একটি পক্ষ তাঁর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে এবং ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটিও সেই ষড়যন্ত্রের অংশ। তিনি প্রতিবেদন না পাওয়া পর্যন্ত গুজব বা বিভ্রান্তিকর তথ্যে কান না দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
এনসিপির কিশোরগঞ্জ জেলা আহ্বায়ক শেখ খায়রুল কবির জানিয়েছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার বিষয়টি দলের নজরে আসার পর যাচাই-বাছাই করে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলার গাবসারা ইউনিয়নের যমুনার চরাঞ্চলের গাবসারা মৌজার ১৭টি সিটের বিআরএস জরিপ বহাল রাখার দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছে ১৩ গ্রামের ভুক্তভোগী প্রায় ১৫-২০ হাজার জন জমির মালিক। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে ভূঞাপুর প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেছে ভুক্তভোগীরা।
সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগীরা লিখিত বক্তব্যে জানান, ১৯৯৬ সালে এ উপজেলায় বিআরএস জরিপের কাজ শুরু করে ভূমি মন্ত্রণালয়। তারই ধারাবাহিকতায় গাবসারা ইউনিয়নের চর গাবসারা মৌজায় ১৭টি সিটে নকশার কিস্তার কাজ শেষ করে ডিপি খতিয়ান তৈরি করে মাঠ পর্চা বিতরণ করে ভূমি মালিকদের মধ্যে। ১৯৯৭ সালে ভূমি মালিকদেরকে মাঠ পর্চা প্রদান করে।
এরপর ১৯৯৯ সালে অ্যাটেস্টেশনের কাজ শেষ করে। এতে প্রায় ১০ হাজার খতিয়ানের ওপর প্রায় ৩ শতাধিক ৩০ ধারা আপত্তি দেওয়া হয়। ২০১১ সাল পর্যন্ত সেসব আপত্তি যথাযথ শুনানির মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা হয়। পরবর্তীতে সামান্য ৩১ ধারা আপত্তি চলাকালীন সময়ে অজ্ঞাত কারণে জরিপ কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। জরিপ কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাওয়াতে ওই মৌজাগুলোতে হালনাগাদ খাজনা ও খারিজও বন্ধ হয়ে যায়।
ফলে জমি বেচা-কেনা, ব্যাংক ঋণ থেকে বঞ্চিত হয়ে পড়ে প্রায় ১৩ গ্রামের মানুষ।
ফলে বাধ্য হয়ে ২৯ এপ্রিল ২০২৫ তারিখ পূর্বের জরিপ বহাল রাখার দাবিতে এলাকার প্রায় ১০ হাজার ভুক্তভোগীরা স্বাক্ষর করে মহাপরিচালক জরিপ অধিদপ্তর বরাবর আবেদন করেন। পরে জরিপ অধিদপ্তর কর্তৃক সরেজমিনে পরিদর্শনের জন্য একটি টিম গঠন করেন। কিন্তু তারা পরিদর্শন শেষে এ মৌজাটি নদী প্রবাহিত বলে প্রতিবেদন দেন।
সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগীদের দাবি, ভূমি অধিদপ্তরের প্রতিবেদন সম্পন্ন অযৌতিক। কারণ এ মৌজাগুলোর চারদিকে সকল মৌজার জরিপ চূড়ান্ত হয়েছে অনেক আগেই। শুধু মাত্র একটি মৌজাতে নদী হতে পারে না। এগুলো সব কৃষি জমি। এ প্রতিবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত ৩ সেপ্টেম্বর মৌজাটির জরিপ বাতিল করে নতুন ডিজিটাল জরিপ করার নির্দেশ দেন জরিপ অধিদপ্তর। যার ফলে ফুসে উঠে প্রায় ১৩ গ্রামের মানুষ।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন গাবসারা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. শাআলম শাপলা, বিএনপি নেতা আক্তার হোসেন ফকির, ইউপি সচিব মো. সোহরাব হোসেন প্রমুখ।
আগামী জানুয়ারি থেকে জুনের মধ্যে দেশের সব ইউনিয়ন পরিষদসহ স্থানীয় সরকার নির্বাচন সম্পন্ন করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ শুরু করেছে সরকার বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তিনি বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে। জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে প্রয়োজনে প্রতিটি নির্বাচনে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হবে।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) দুপুরে গাইবান্ধা সার্কিট হাউসের সম্মেলন কক্ষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ যতবার পথ হারিয়েছে, ততবার বিএনপির হাত ধরেই পথ খুঁজে পেয়েছে। অর্থনৈতিকভাবে ভঙ্গুর একটি দেশ হিসেবে কিছুদিন আগে আবারও বিএনপি দেশের দায়িত্ব নিয়েছে। গাইবান্ধার উন্নয়নের জন্য প্রধানমন্ত্রী আমাকে দায়িত্ব দিয়েছেন। সুষম বণ্টনের ভিত্তিতে দেশের প্রতিটি জেলার উন্নয়ন করা হবে।
মীর শাহে আলম বলেন, সরকারি কোনো লাভজনক পদে থেকে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ নেই। তবে এমপিওভুক্ত স্কুলের শিক্ষকরা নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন কি না, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে নির্বাচন কমিশন।
দেশের বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় সরকারের নতুন উদ্যোগের কথা তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ছাদে সোলার স্থাপনের মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদন করে সংকট মোকাবিলায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ছাদ সোলার থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ সংশ্লিষ্টদের নিজস্ব চাহিদা মেটানোর পর জাতীয় গ্রিডে দেওয়া হবে। এ লক্ষ্যে ইতোমধ্যে ৩৭০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে একটি ভঙ্গুর অর্থনৈতিক ব্যবস্থা আমরা উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছি। ৬০ হাজার কোটি টাকা ঋণের বোঝা আমাদের মাথায়। বিগত ছয় মাসে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে মুনাফা ও ঋণসহ মোট ২৫ হাজার কোটি টাকা পরিশোধ করা হয়েছে।
মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন রংপুর বিভাগীয় জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম, জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সভাপতি ডা. মইনুল হাসান সাদিক, সহসভাপতি অধ্যাপক ডা. জিয়াউল হাসান জিয়া, সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুন্নবী টিটুল, জেলা ও উপজেলা বিএনপি এবং সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস গোয়ালন্দ উপজেলা শাখার ২০২৬-২৭ সেশনের কমিটির শপথ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে সভাপতি পদে মাওলানা আবুল হাশেম ও সাধারণ সম্পাদক পদে মাওলানা মোবারক হোসেন ও সাংগঠনিক সম্পাদক পদে মাওলানা শাহীন আলমকে নির্বাচিত করা হয়। বৃহস্পতিবার গোয়ালন্দ উপজেলা খেলাফত মজলিসের আয়োজেনে উপজেলা মডেল মসজিদের হলরুমে আয়োজিত সভায় পূর্বের কমিটি বিলুপ্ত করে নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়।
কমিটি গঠন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস রাজবাড়ী জেলা শাখার সভাপতি হাফেজ মাওলানা ইলিয়াস মোল্লা।
খেলাফত মজলিস গোয়ালন্দ উপজেলা শাখার সভাপতি মাওলানা আবুল হাশেমের সভাপতিত্বে এ সময় বিশেষ অতিথি ছিলেন, খেলাফত মজলিস রাজবাড়ী জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক হাফেজ মাওলানা ইব্রাহিম খলিল, সাংগঠনিক সম্পাদক মহাসিন মিজি, সহ-সাধারণ সম্পাদক আল আমিন মোল্লা।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে হাফেজ মাওলানা ইলিয়াস মোল্লা বলেন, ‘ঐক্য, শৃঙ্খলা ও ত্যাগের সমন্বয়ে সংগঠনকে সামনে এগিয়ে নিতে হবে। ইসলামী আন্দোলনের লক্ষ্য অর্জনে প্রত্যেকের সাহসী ও দায়িত্বশীল ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’
এ সময় জেলা, উপজেলা ও বিভিন্ন ইউনিয়ন পর্যায়ের নেতা-কর্মী, স্থানীয় শিক্ষাবিদ ও ওলামায়ে কেরাম উপস্থিত ছিলেন।
সারাদেশের যথাযোগ্য মর্যাদায় আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস পালিত হয়েছে। এবারের প্রতিপাদ্য ছিল ‘দীর্ঘ জীবনের জন্য নতুন ভাবনা’। দিবসটি উপলক্ষে বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) (১ অক্টোবর)সারাদেশের বর্ণাঢ্য র্যালি ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। ব্যুরো, জেলা ও উপজেলা প্রতিনিধিদের পাঠানোর খবরে বিস্তারিত;
মাহবুব পিয়াল, ফরিদপুর : ‘দীর্ঘ জীবনের জন্য নতুন ভাবনা’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে ফরিদপুরে ৩৬তম আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস পালিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) (১ অক্টোবর) সকাল ১০টায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে একটি র্যালি বের করা হয়। র্যালিটি শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে গিয়ে শেষ হয়। পরে সকাল সাড়ে ১০টায় জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
জেলা প্রশাসন, জেলা সমাজসেবা কার্যালয় ও এনজিওসমূহের আয়োজনে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা প্রশাসক মাজহারুল ইসলাম।
জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ এহিয়াতুজ্জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সোহরাব হোসেন, যশোর শিক্ষা বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান ও দৈনিক ফাতেহাবাদের সম্পাদক প্রফেসর এবিএম সাত্তার, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও সমাজসেবক অধ্যাপক এম.এ সামাদ, বাংলাদেশ প্রবীণ হিতৈষী সংঘ ফরিদপুর জেলা শাখার সভাপতি ড. এম.এ জলিল, ফরিদপুর ডায়াবেটিক হাসপাতালে সাবেক সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক শেখ আব্দুস সামাদ, লেখক ও গবেষক মফিজ ইমাম মিলন, মহানগর বিএনপির আহবায়ক এএফএম কাইয়ুম জঙ্গি, বিশিষ্ট এনজিও ব্যক্তিত্ব আজহারুল ইসলাম, এসডিসির নির্বাহী পরিচালক কাজী আশরাফুল হাসান, ফরিদপুর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মাহবুব হোসেন পিয়াল সহ ফরিদপুরের প্রবীণ ব্যক্তিগণ উপস্থিত ছিলেন।
সমাজসেবা অধিদপ্তর ফরিদপুরের ইউসিডি অফিসার কে.এম. সুজাউদ্দিন রাশেদের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় প্রবীণদের অধিকার, মর্যাদা, সামাজিক নিরাপত্তা এবং দীর্ঘায়ু মানুষের জন্য প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়।
পরে ১০৭ বছর বয়সি প্রবীণ মোহাম্মদ গৈজদ্দিন মুন্সিকে বাংলাদেশ প্রবীণ হিতষি সংঘ ফরিদপুর জেলা শাখা ও দৈনিক ফতেহাবাদের পক্ষ থেকে বিশেষ পুরস্কারে পুরস্কৃত করা হয়।
মাগুরা প্রতিনিধি জানান : আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস উপলক্ষে বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) (১ অক্টোবর)সকালে মাগুরা জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাগুরার জেলা প্রশাসক মোতাকাব্বীর আহমেদ বলেন, প্রবীণরা আমাদের পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের অভিজ্ঞতার ভাণ্ডার। তাঁদের জীবনের অভিজ্ঞতা, শ্রম ও অবদানের ওপর দাঁড়িয়ে গড়ে উঠেছে আমাদের বর্তমান। তাই বার্ধক্যকে বোঝা হিসেবে নয়—অভিজ্ঞতা, মর্যাদা ও অংশগ্রহণের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে দেখতে হবে। দীর্ঘায়ুর এই সময়ে প্রবীণদের জন্য স্বাস্থ্যসেবা, সামাজিক নিরাপত্তা, পারিবারিক সহায়তা, নিরাপদ জীবনযাপন এবং সম্মানজনক পরিবেশ নিশ্চিত করা আমাদের সবার দায়িত্ব।
সাতক্ষীরা প্রতিনিধি জানান: দীর্ঘ জীবনের জন্য নতুন ভাবনা এই প্রতিপাদ্য সামনে রেখে আন্তর্জাতিক ৩৬তম প্রবীণ দিবস উদযাপন ২০২৬ উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠান সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসন ও জেলা সমাজ সেবা কার্যালয় এর আয়োজনে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক সম্মেলনে কক্ষে বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সকাল ১০ সময় অনুষ্ঠিত হয়। সাতক্ষীরা জেলা সমাজ সেবা অফিসার এস এম রফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন সাতক্ষীরা অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক রিপন বিশ্বাস। জেলা সমাজ সেবা অফিসের অতিরিক্ত ডিডি রোকনুজ্জামান এর সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন সাতক্ষীরা সিভিল সার্জনের প্রতিনিধি ডাক্তার জয়ন্ত কুমার, জেলা তথ্য অফিসার জাহারুল ইসলাম টুটুল,সাতক্ষীরা সদর সমাজ সেবা অফিসার সরীফুল ইসলাম, সাতক্ষীরা মহিলা অধিদপ্তরের প্রোগ্রাম ফতেমা জোহরা। অন্যন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন গাজী হেলাল, মোহাম্মদ আলী সিদ্দিকী প্রমূখ।
পটুয়াখালী প্রতিনিধি জানান: নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে পটুয়াখালীতে ৩৪তম আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস ২০২৬ পালিত হয়েছে।
দিবসটি উপলক্ষে বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৯ টায় জেলা প্রশাসন কার্যালয় প্রাঙ্গণ থেকে এক বর্ণাঢ্য র্যালি শুরু হয়ে শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে একই স্থানে গিয়ে শেষ হয়।
পরবর্তীতে সকাল ১০টায় জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে দিবসটির তাৎপর্য তুলে ধরে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
জেলা সমাজ সেবা অধিদপ্তরের উপপরিচালক এসএম ফজলুল করিম সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন প্রবীণ হিতৈষী সংঘ সভাপতি সৈয়দ আবদুর রাজ্জাক, সাধারণ সম্পাদক মোখলেছুর রহমান, জেলা জামাতে ইসলামী আমীর নাজমুল আহসান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (উন্নয়ন ও মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা) মহসিন উদ্দীন, সহকারী কমিশনার অনিক সাহা প্রমুখ।
জীবননগর (চুয়াডাঙ্গা) প্রতিনিধি : ‘দীর্ঘ জীবনের জন্য নতুন ভাবনা’ এই প্রতিপাদ্যে নানা আয়োজনে চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে আন্তজার্তিক প্রবীণ দিবস পালন হয়েছে। দিবসটি পালন উপলক্ষে বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৯ টায় জীবননগর উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকে একটি বর্ণাঢ্য র্যালী বের করা হয়। র্যালীটি সড়কের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে একই স্থানে এসে শেষ হয়। র্যালী শেষে জীবননগর উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে প্রবীণদের নিয়ে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন জীবননগর উপজেলা প্রশাসন, উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয় ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনসমূহ।
অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন জীবননগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুমাইয়া সুলতানা এ্যানি।
জীবননগর উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা জাকির উদ্দিনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন, জীবননগর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা প্রবীণ কমিটির সভাপতি শাহাজাহান আলী, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন, একাডেমিক সুপারভাইজার সৈয়দ আব্দুর জব্বার, সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা জুয়েল শেখ, সমাজসেবা কর্মকর্তা নূরআলম, উপজেলা লোকমোর্চার প্রোগ্রামার অফিসার আব্দুল আলীম সজল প্রমূখ।
এছাড়াও অনুষ্ঠানে বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, প্রবীণ কমিটির সদস্য বৃন্দ, রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দসহ প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
ভেড়ামারা (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি : কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলায় বিশ্ব প্রবীণ দিবস পালিত হয়েছে।ভেড়ামরা উপজেলা জ্যেষ্ঠ নাগরিক পরিষদের উদোগে বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) (১ অক্টোবর)বেলা ১১ঘটিকার সময় উপজেলা চত্বরে বিশ্ব প্রবীণ দিবস উপলক্ষ্যে আলোচনা সভা, র্যালি, নগদ অর্থ প্রদান ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সারা বিশ্বের ন্যায় বাংলাদেশেও ‘ বিশ্ব প্রবীণ দিবস পালিত হয়। এ বছরের প্রতিপাদ্য ছিল ‘দীর্ঘ জীবনের জন্য নতুন ভাবনা’। ভেড়ামারা উপজেলা জ্যেষ্ঠ নাগরিক পরিষদের সভাপতি ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আমিনুল ইসলাম খোকন সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথী হিসেবে বক্তব্য রাখেন, ভেড়ামারা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ডা. গাজী আশিক বাহার।বিশেষ অতিথী হিসেবে বক্তব্য রাখেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার ফারুক আহমেদ, উপজেলা সমাজ সেবা অফিসার এমদাদুল হক বিশ্বাস সহ ভেড়ামারা উপজেলা জ্যেষ্ঠ নাগরিক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা, সহ-সভাপতি বজলুর রহমান, যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক মোলায়েম হোসেন প্রমুখ।
জয়পুরহাট প্রতিনিধি জানান : ‘দীর্ঘ জীবনের জন্য নতুন ভাবনা’ এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে জয়পুরহাটে পালিত হয়েছে আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস। বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সকালে দিবসটি উপলক্ষে পুলিশ সুপার কার্যালয়ের সামনে থেকে র্যালি বের হয়ে শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে মডেল মসজিদ কমপ্লেক্সের সামনে শেষ হয়। পরে সম্মেলন কক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন, জেলা প্রশাসক আল মামুন মিয়া, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক গোলজার হোসেন, জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক এ. কে. এম. মনিরুজ্জামান,এসো এনজিওর নির্বাহী পরিচালক ও জেলা এনজিও সমন্বয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক মতিনুর রহমান মতিন,বাংলাদেশ প্রবীণ হিতৈষী সংঘের সভাপতি আকরাম হোসেন, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হাই, জেলা সিনিয়র সিটিজেন ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আফজাল হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক মোহফেল উদ্দিন।
মাদারগঞ্জ (জামালপুর) প্রতিনিধি জানান: জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলায় আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস উপলক্ষে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উদ্যোগে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
উপজেলা পরিষদ চত্বরে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা শেষে পরিষদের সভাকক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা তৌফিকুল ইসলাম খালেকের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুমন চৌধুরী। বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা রহুল আমিন, উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা আবুল খায়ের নূর মোহাম্মদ, মাদারগঞ্জ প্রেসক্লাবের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক খাদেমুল ইসলাম ও এনজিও প্রতিনিধি জাহিদুল ইসলাম।
এ সময় উপজেলার বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, সাংবাদিক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুমন চৌধুরী বলেন, প্রবীণরা আমাদের সমাজের অভিজ্ঞতা ও জ্ঞানের ভান্ডার। তাদের অবদানেই পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্র সমৃদ্ধ হয়েছে। জীবনের শেষ প্রান্তে এসে কোনো প্রবীণ যেন অবহেলা ও অনাদরে না থাকেন, সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন হতে হবে।
তিনি আরও বলেন, প্রবীণদের যথাযথ সম্মান, নিরাপত্তা ও সেবা নিশ্চিত করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। তাদের অভিজ্ঞতা ও পরামর্শ নতুন প্রজন্মের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ। তাই প্রবীণদের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়া এবং তাদের কল্যাণে সম্মিলিতভাবে কাজ করা প্রয়োজন।
শেরপুর প্রতিনিধি জানান: ‘দীর্ঘ জীবনের জন্য নতুন ভাবনা’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে শেরপুরে আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস উপলক্ষে জেলা প্রশাসন ও সমাজসেবা অধিদপ্তরের আয়োজনে র্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সকালে আয়োজিত র্যালিতে অংশগ্রহণের মাধ্যমে দিবসটির কর্মসূচি শুরু হয়। পরবর্তীতে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন শেরপুর জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিন। বিশেষ অতিথি ছিলেন পুলিশ সুপার, শেরপুরের পক্ষে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সদর সার্কেল নাসরিন আক্তার। সভাপতিত্ব করেন শেরপুর জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক কামরুজ্জামান খান। এ সময় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. শাকিল আহমেদ, প্রেসক্লাব সভাপতি কাকন রেজা, বিএনপি নেতা আব্দুল আওয়াল, জামায়াত নেতা, আব্দুল বাতেনসহ অন্যান্য রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সম্মানিত নাগরিকবৃন্দ এবং বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীগণ উপস্থিত ছিলেন। আলোচনা সভায় প্রবীণ জনগোষ্ঠীর মর্যাদা, অধিকার, নিরাপদ ও সুস্থ জীবনযাপন নিশ্চিতকরণ এবং সমাজে তাঁদের সক্রিয় অংশগ্রহণের সুযোগ সৃষ্টির বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়।
তজুমদ্দিন (ভোলা) প্রতিনিধি জানান: দীর্ঘ জীবনের জন্য নতুন ভাবনা এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে ভোলার তজুমদ্দিনে আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস পালিত হয়েছে। গতকাল বুধবার উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের আয়োজনে উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে র্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় উপজেলা সমাজসেবা অফিসার জনাব মো. সিদ্দিকুর রহমানের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার জনাব মোঃ বনি আমিন। বিশেষ অতিথি হিসেবে সভায় বক্তৃতা করেন, তজুমদ্দিন থানার অফিসার ইনচার্জ মিজানুর রহমান, মানব সেবা সংস্থার সভাপতি রফিকুল ইসলাম সাদী, দীপাঞ্চল ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক হেলাল উদ্দিন লিটন। আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, প্রবীণরা আমাদের সমাজের অভিজ্ঞতার ভান্ডার। তাদের সম্মান ও সুরক্ষা নিশ্চিত করা আমাদের সকলের নৈতিক দায়িত্ব। প্রবীণদের স্বাস্থ্যসেবা, সামাজিক নিরাপত্তা ও মর্যাদাপূর্ণ জীবন নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে।
মহাদেবপুর (নওগাঁ) প্রতিনিধি জানান: নওগাঁর মহাদেবপুরে আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস উপলক্ষে র্যালী ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। উপজেলা প্রশাসন ও সমাজসেবা কার্যালয়ের আয়োজনে বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) (১ অক্টোবর)দুপুরে উপজেলা পরিষদ হলরুমে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মানজুরা মুশাররফ। উপজেলা সমাজসেবা অফিসার মো. রেজওয়ানুল হকের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন উপজেলা প্রবীণ হিতেষী সংঘের সভাপতি, সাবেক শিক্ষক মোঃ আছসালাতুজ্জামান আরজু, সহকারি কমিশনার (ভূমি) জান্নাতুল নাঈম বিনতে আজিজ, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. খুরশিদুল ইসলাম, উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডা. গোলাম রাব্বানী প্রমুখ। অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা একাডেমিক সুপার ভাইজার মো. ফরিদুল ইসলাম, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. গোলাম রাব্বানী, মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তা সুলতান মাহমুদ প্রমুখ। এর আগে একটি র্যালি উপজেলা পরিষদের সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করে।
জয়পুরহাটে যৌতুকের দাবিতে এক গৃহবধূর গায়ে দাহ্য পদার্থ নিক্ষেপের অভিযোগ উঠেছে তার স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে। গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় গত ৬ দিন ধরে জয়পুরহাট জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন তিনি।
ভুক্তভোগী সাবেকুন নাহার (২৭) জয়পুরহাট সদর উপজেলার কাদোয়া কয়রাপাড়া গ্রামের মোশাররফ হোসেনের মেয়ে। প্রায় দুই বছর আগে পাঁচবিবি উপজেলার খাসবাট্টা তৈফিকপাড়া গ্রামের আলেফ উদ্দীনের ছেলে সাজু মিয়ার সঙ্গে তার বিয়ে হয়। তাদের সংসারে সাড়ে ৩ মাস বয়সি একটি শিশুসন্তান রয়েছে।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সাবেকুন নাহার জানান, বিয়ের সময় তার পরিবার আড়াই লাখ টাকা যৌতুক দিয়েছিল। তবে সম্প্রতি তার স্বামী সাজু মিয়া আরও টাকা দাবি করে আসছিলেন। বাবা দরিদ্র হওয়ায় অতিরিক্ত টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে গত ২৫ সেপ্টেম্বর রাতে তার গায়ে গরম পানি অথবা ক্ষতিকর কোনো দাহ্য পদার্থ ছিটিয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
সাবেকুনের বাবা মোশাররফ হোসেনের অভিযোগ, ওই রাতে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে তার মেয়ের স্বামী ও শ্বশুর দাহ্য পদার্থ নিক্ষেপ করেন। সাবেকুনের চিৎকার শোনে স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন। মেয়ের শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হলে তিনি থানায় মামলা করবেন বলে জানান।
জয়পুরহাট জেনারেল হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. মুর্শিদা পারভীন জলি জানান, রোগী দাহ্য কোনো পদার্থে দগ্ধ হয়েছেন। গরম পানি নাকি অ্যাসিড কোনটি ব্যবহার করা হয়েছে, তা নিশ্চিত হতে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে। বর্তমানে তার চিকিৎসা অব্যাহত রয়েছে।
এদিকে ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত স্বামী ও শ্বশুর পলাতক রয়েছেন বলে জানা গেছে। তবে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তারা তাদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেন।
পাঁচবিবি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তামবিরুল ইসলাম জানান, ঘটনার বিষয়ে এখন পর্যন্ত ভুক্তভোগীর পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ বা মামলা পেলে তদন্তসাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ফ্যামিলি কার্ড বিতরণে কিছু অনিয়ম ও ভুল ছিল। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় সেগুলো সংশোধন করে নতুনভাবে কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। তিনি বলেছেন, কাজ করতে করতেই শেখার সুযোগ তৈরি হয়। তবে অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা না নিলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও শিক্ষকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) বিকেলে নেত্রকোনার দুর্গাপুরে সুসং সরকারি মহাবিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি। দেশের আটটি উপজেলায় একযোগে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে কৃষক কার্ড উদ্বোধন উপলক্ষে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে দুর্গাপুর উপজেলা প্রশাসন।
কায়সার কামাল বলেন, আজ কৃষক কার্ডের উদ্বোধন হয়েছে এবং দুর্গাপুরও এ কার্যক্রমের অংশীদার হয়েছে। এখন পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, এখানে কোনো ধরনের ত্রুটি হয়নি। ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড বিতরণে সরকার জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে।
তিনি বলেন, দল, মত, পথ, জাতি, ধর্ম, বর্ণ ও গোষ্ঠী নির্বিশেষে দুর্নীতিমুক্তভাবে ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড বিতরণ করতে হবে। এটিই প্রধানমন্ত্রীর প্রত্যাশা ও নির্দেশনা। আগের ভুলের পুনরাবৃত্তি যেন না হয়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।
ডেপুটি স্পিকার স্থানীয় প্রশাসন ও নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, আগের দেড় দশকের প্রশাসনিক সংস্কৃতির সঙ্গে বর্তমান প্রশাসনকে এক করে দেখা যাবে না। কাজের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।
আমলাতান্ত্রিক জটিলতার প্রসঙ্গ তুলে কায়সার কামাল বলেন, জনগণের জন্য বিভিন্ন অনুদান বরাদ্দ হলেও অনেক সময় স্থানীয় সংসদ সদস্যরা তাৎক্ষণিকভাবে সে বিষয়ে জানতে পারেন না। জনগণের জন্য বরাদ্দ করা অনুদানের তথ্য স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের জানানো স্থানীয় প্রশাসনের প্রাথমিক দায়িত্ব।
এ দায়িত্ব পালনে ব্যত্যয় ঘটলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হবে বলে জানান তিনি। প্রয়োজনে জনগণও তাঁদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা করতে পারবেন বলে উল্লেখ করেন ডেপুটি স্পিকার।
এর আগে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করে শিক্ষকদের উপস্থিতি নিয়েও কথা বলেন কায়সার কামাল। তিনি বলেন, অতীতে অনেক কিছু হয়েছে। সেসব অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে সামনে এগোতে হবে। অতীতকে ক্ষমা করা হলেও কোনো কর্মকর্তা বা শিক্ষক অতীত থেকে শিক্ষা না নিলে তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অনুষ্ঠানে নেত্রকোনা সদর-বারহাট্টা আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সভাপতি ডা. আনোয়ারুল হক, কেন্দুয়া-আটপাড়া আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ড. রফিকুল ইসলাম হিলালী, জেলা প্রশাসক খন্দকার মুশফিকুর রহমান, জেলা পরিষদ প্রশাসক অ্যাডভোকেট নুরুজ্জামান নুরুসহ স্থানীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
জামালপুরের ইসলামপুরে পারিবারিক কলহের জেরে গৃহবধূ মঞ্জুয়ারা বেগমের হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও ফাঁসির দাবিতে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) দুপুরে ইসলামপুর উপজেলার চর গোয়ালিনী ইউনিয়নের হরিনধরা ব্রিজে নিহতের স্বজন ও এলাকাবাসীর ব্যানারে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধনে নিহত মঞ্জুয়ারা বেগমের মা রিনা বেগম, ছোট বোন আঞ্জুয়ারা বেগম, স্থানীয় হাফিজুর রহমান, শহিদুল ইসলাম মোল্লা, বিল্লাল মাস্টার, রাশেদুল ইসলামসহ অন্যরা বক্তব্য রাখেন। এ সময় বক্তারা বলেন, ‘ইসলামপুর উপজেলার চর পুটিমারি ইউনিয়নের ৪নং চরের বাসিন্দা সুজন ও তার স্ত্রী মঞ্জুয়ারা বেগম দম্পতির তিন জন সন্তান রয়েছে। কয়েক বছর আগে তাদের ছোট সন্তানকে ১২ দিন বয়সে মঞ্জুয়ারার দেবর লুৎফর পালক নেয়।
পরবর্তীতে লুৎফর তার স্ত্রীকে তালাক দিয়ে আবার নতুন করে বিয়ে করেন। এরপর থেকেই লুৎফরের নতুন স্ত্রী পালক সন্তানকে নির্যাতন শুরু করে।
শিশুসন্তানকে নির্যাতন করায় তার গর্ভধারিণী মা মঞ্জুয়ারা বেগম ক্ষুব্ধ হন এবং বাধা দেন। এতে করে মঞ্জুয়ারার সাথে তার স্বামী সুজন ও দেবর লুৎফরের কলহ সৃষ্টি হয়। কলহের জেরে গৃহবধূ মঞ্জুয়ারাকে চলতি বছরের গত ২৬ সেপ্টেম্বর নিজ বাড়িতে হত্যা করা হয়।
হত্যার ঘটনায় স্বামী সুজন ও দেবর লুৎফর, লোকমান, হামিদুর রহমান মলিন, আব্দুর রাজ্জাকসহ হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত সকল আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। এ ঘটনায় আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
সিলেট থেকে পণ্যবাহী ট্রাকে করে কৌশলে ঢাকায় পাচারের চেষ্টাকালে মৌলভীবাজারে বিদেশি মদের একটি বড় চালান জব্দ করেছে পুলিশ। এ সময় চালক ও সহকারীর সিটের পেছনে অভিনব কায়দায় লুকিয়ে রাখা ৮০ বোতল বিদেশি মদসহ দুজনকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। জব্দ করা হয়েছে মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত ট্রাকটিও।
বৃহস্পতিবার ভোরে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের শেরপুর গোলচত্বর এলাকায় মৌলভীবাজার সদর মডেল থানার শেরপুর পুলিশ ফাঁড়ির একটি দল এ অভিযান পরিচালনা করে।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—সাতক্ষীরা সদর উপজেলার রসুলপুর এলাকার মো. শফিকুল ইসলামের ছেলে মেহেদী হাসান ওরফে সকাল (৩২) এবং একই উপজেলার ইটাগাছা এলাকার মো. শফিকুল ইসলামের ছেলে জাহিদুল ইসলাম (৩০)।
জানা গেছে, সীমান্ত এলাকা হয়ে আসা বিদেশি মদের একটি চালান ট্রাকযোগে ঢাকার উদ্দেশে যাচ্ছে—এমন গোপন তথ্যের ভিত্তিতে মহাসড়কে সতর্ক অবস্থান নেন শেরপুর পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা। ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই ওবায়দুল্লাহর নেতৃত্বে ভোররাতে শেরপুর গোলচত্বরে সিলেট থেকে ঢাকাগামী একটি ট্রাক সংকেত দিয়ে থামানো হয়।
তল্লাশির একপর্যায়ে চালক ও সহকারীর বসার সিটের ঠিক পেছনে বিশেষ কৌশলে লুকানো চারটি চটের বস্তা নজরে আসে পুলিশের। পরে বস্তাগুলো খুলে বিভিন্ন নামীদামি ব্র্যান্ডের মোট ৮০ বোতল বিদেশি হুইস্কি উদ্ধার করা হয়।
উদ্ধারকৃত মাদকের তালিকায় রয়েছে ৪৬ বোতল রয়্যাল স্ট্যাগ ডিলাক্স, ১৮ বোতল এসি ব্ল্যাক পিউর গ্রেইন ডিলাক্স এবং ১৬ বোতল আইকনআইকিউ হোয়াইট ফাইনেস্ট ইন্টারন্যাশনাল গ্রেইন হুইস্কি।
পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটককৃতরা স্বীকার করেছে, তারা পরস্পর যোগসাজশে সীমান্ত এলাকা থেকে সংগ্রহ করা এই মদের চালানটি বেশি দামে বিক্রির উদ্দেশে রাজধানীতে নিয়ে যাচ্ছিল।
অভিযানের সত্যতা নিশ্চিত করে মৌলভীবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম জানান, মহাসড়ক দিয়ে মাদক পাচারের এ অপতৎপরতা হাতেনাতে নস্যাৎ করে দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন অনুযায়ী নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে। চক্রের পেছনে আর কারা জড়িত, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলায় সরকারি সড়ক নির্মাণকাজে চুক্তির শর্ত ভঙ্গ করে নিম্নমানের ইট ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। নিম্নমানের ইট দিয়ে কাজ করায় বাধা দিতে গিয়ে এলজিইডির কর্মকর্তা, সার্ভেয়ার ও স্থানীয় এলাকাবাসীকে মারধর ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগে থানায় মামলা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলার এজাহার নামীয় এক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। একই সঙ্গে ঘটনাস্থল থেকে নিম্নমানের ইট জব্দ করা হয়েছে।
জানা গেছে, বোদা উপজেলার ৫ নম্বর বড়শশী ইউনিয়নের মহিষবাথান-ভাউলাগঞ্জ ভায়া নায়েকপাড়া মোড় পর্যন্ত ৭৪৭ মিটার কাঁচা রাস্তা পাকা করার জন্য কার্যাদেশ পায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘মেসার্স ভাই বোন ট্রেডার্স’। তবে কাজটি সাব-ঠিকাদার হিসেবে বাস্তবায়ন করছিলেন দেবীগঞ্জ উপজেলার ভাউলাগঞ্জ এলাকার ‘মেসার্স দুলাল ট্রেডার্স’-এর স্বত্বাধিকারী মো. শাহীনুর ইসলাম শাহীন (৩৩)।
গত বৃহস্পতিবার (২৯ সেপ্টেম্বর) বড়শশী ইউনিয়নের মৌলভীপাড়া জামে মসজিদসংলগ্ন নির্মাণাধীন সড়কের দুই পাশে এজিংয়ের কাজে নিম্নমানের ও কথিত ৩ নম্বর ইট ব্যবহারের খবর পান এলজিইডির কর্মকর্তারা। পরে বোদা উপজেলা প্রকৌশলী মো. ফিরোজুর রহমান ও সার্ভেয়ার মো. হযরত আলী ঘটনাস্থলে গিয়ে কাজ পরিদর্শনকালে একপর্যায়ে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন সাব-ঠিকাদার শাহীনুর ইসলাম শাহীন। পরে তার সঙ্গে থাকা দলবল এলজিইডির কর্মকর্তাদের সঙ্গে ধাক্কাধাক্কি ও দুর্ব্যবহার করেন।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় এলাকাবাসীর মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলজিইডির কর্মকর্তারা বোদা থানা-পুলিশকে খবর দেন। তবে সাব-ঠিকাদার শাহীনুর ইসলাম শাহীনকে পুলিশ আটক করে এবং পরে তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
এ ঘটনায় বোদা উপজেলা প্রকৌশলী কার্যালয়ের সার্ভেয়ার মো. হযরত আলী বাদী হয়ে বোদা থানায় মামলা করেন।
তদন্ত কর্মকর্তা এসআই (নি.) তপন কুমার রায় ঘটনাস্থলের পাশের মো. মিনারুল ইসলামের বাড়ির খোলা জায়গা থেকে রাস্তা নির্মাণকাজে ব্যবহারের জন্য রাখা ১০০ পিস নিম্নমানের ইট জব্দ করেন। জব্দ করা ইটের গায়ে ‘MMR2’ লেখা রয়েছে বলে মামলার নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
বোদা উপজেলা প্রকৌশলী মো. ফিরোজুর রহমান বলেন, ‘নিম্নমানের ইট দিয়ে এজিংয়ের কাজ করায় সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারকে এর আগেও সতর্ক করা হয়েছিল। কিন্তু সতর্ক করার পরও তারা তা না মেনে কাজ চালিয়ে যাচ্ছিলেন। এ নিয়ে এলাকাবাসী প্রতিবাদ করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।’
এলজিইডি পঞ্চগড়ের নির্বাহী প্রকৌশলী মাইনুল ইসলাম বলেন, ‘সরকারি সড়কের কাজে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের ঘটনায় মামলা করা হয়েছে। বিষয়টি আইনগতভাবে তদন্ত করা হচ্ছে এবং পরবর্তী পদক্ষেপ আইন অনুযায়ী নেওয়া হবে।
বোদা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, সরকারি কাজে বাধা, অর্থ অপচয়, প্রতারণা ও হুমকির অভিযোগে মামলাটি করা হয়েছে। মামলার প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।’