শনিবার, ১০ জানুয়ারি ২০২৬
২৭ পৌষ ১৪৩২
ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচন

দ্বিতীয় ধাপে নির্বাচিত হলেন যারা

ফাইল ছবি
সারা বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত
সারা বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত : ২২ মে, ২০২৪ ০০:২৭

ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপে ১৫৬টি উপজেলায় ভোটগ্রহণ শেষ হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত চলে ভোটগ্রহণ। ভোট গণনা শেষে রাতে নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশ করেন রিটার্নিং কর্মকর্তারা। সারা দেশের প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর থেকে জানা যায়-

ফরিদপুর

উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপে ফরিদপুরের নগরকান্দা ও সালথা উপজেলায় ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। নগরকান্দা উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপ-কমিটির সাবেক সহসম্পাদক কাজী শাহ জামান বাবুল। আনারস প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ৩৭ হাজার ২০৯ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মোটরসাইকেল প্রতীকের প্রার্থী বর্তমান উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মনিরুজ্জামান সরদার পেয়েছেন ২৫ হাজার ২৩৭ ভোট।

অন্যদিকে সালথা উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে বর্তমান চেয়ারম্যান ওয়াদুদ মাতুব্বর বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। আনারস প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ৩৫ হাজার ৫৪৫ ভোট তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী সালথা উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও মোটরসাইকেল প্রতীকের প্রার্থী মো. ওহিদুজ্জামান পেয়েছেন ৫ হাজার ৩৪২ ভোট।

নারায়ণগঞ্জ

উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপে নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলায় ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম। ঘোড়া প্রতীকে তিনি পেয়েছেন এক লাখ ১৫ হাজার ২৫২ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী দোয়াত কলম প্রতীকের প্রার্থী মো. শাহজালাল মিয়া পেয়েছেন ১৩ হাজার ১৩২ ভোট।

বিজয়ী মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম আড়াইহাজার উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সদস্য। তিনি কালাপাহাড়িয়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান। অন্যদিকে তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মো. শাহজালাল মিয়া আড়াইহাজার উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া

দ্বিতীয় ধাপের উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা ও আখাউড়ায় উপজেলায় ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। কসবা উপজেলায় আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের ফুফাতো ভাই ছাইদুর রহমান ও আখাউড়ায় মোগড়া ইউনিয়ন পরিষদের তিনবারের সাবেক চেয়ারম্যান মনির হোসেন বেসরকারিভাবে চেয়ারম্যান নির্বাাচিত হয়েছেন।

ঘোষিত ফলাফল অনুযায়ী, কসবা উপজেলায় ছায়েদুর রহমান স্বপন কাপ-পিরিচ প্রতীকে ৮৬ হাজার ৬৯৮ ভোট পেয়ে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও কুটি ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ছিলেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বর্তমান উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের সাবেক সহকারী একান্ত সচিব রাশেদুল কাউসার ভূইয়া আনারস প্রতীকে পেয়েছেন ৩৯ হাজার ৯৫৯ ভোট।

অন্যদিকে আখাউড়া উপজেলায় মনির হোসেন ঘোড়া প্রতীকে ২৮ হাজার ৩০৯ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি উপজেলা যুবলীগের সাবেক আহ্বায়ক ও মোগড়া ইউনিয়ন পরিষদের তিনবারের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান আনারস প্রতীকে পেয়েছেন ১৪ হাজার ৫৬৩ ভোট।

রাঙামাটি

ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপে রাঙামাটির রাজস্থলী, কাপ্তাই ও বিলাইছড়ি উপজেলায় শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। রাজস্থলী উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি উবাচ মারমা আনারস প্রতীকে ৭ হাজার ৭৫ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মো. রিয়াজ উদ্দীন রানা দোয়াত কলম প্রতীকে পেয়েছেন ২ হাজার ১৮ ভোট।

অন্যদিকে কাপ্তাই উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে উপজেলা যুবলীগের সভাপতি মো. নাছির উদ্দিন দোয়াত কলম প্রতীকে ৭ হাজার ৩৬২ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও সাবেক ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আনোয়ারুল ইসলাম চৌধুরী আনারস প্রতীকে পেয়েছেন ৬ হাজার ৯৭৩ ভোট।

অপরদিকে বিলাইছড়ি উপজেলায় মোট ১৩টি কেন্দ্রের মধ্যে ৫টি হেলিসর্টি ভোটকেন্দ্র রয়েছে। দুর্গম এলাকা হওয়ায় রাত সাড়ে ৯টা পর্যন্ত ফলাফল না আসায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কোনো ফলাফল ঘোষণা করেননি। তবে বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা যায়, পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (জেএসএস) সমর্থিত দোয়াত কলম প্রতীকের বিরোত্তম তঞ্চঙ্গ্যা চেয়ারম্যান পদে বিজয়ী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

লালমনিরহাট

লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ ও আদিতমারী উপজেলায় উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপে ভোটগ্রহণ শেষ হয়েছে। দুই উপজেলায় মধ্যে আদিতমারী উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে ফারুক ইমরুল কায়েস ও কালীগঞ্জ উপজেলায় জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক রাকিবুজ্জামান আহমেদ বিজয়ী হয়েছেন।

রাত সাড়ে ৯টার দিকে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা লুৎফর কবির তাদেরকে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত ঘোষণা করেন।

আদিতমারী উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে ফারুক ইমরুল কায়েস মোটরসাইকেল প্রতীকে পেয়েছেন ৩৩ হাজার ১৩৫ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রফিকুল আলম আনারস প্রতীকে পেয়েছেন ২৯ হাজার ১৮টি ভোট

কালীগঞ্জ উপজেলায় সাবেক সমাজকল্যাণমন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদের ছেলে রাকিবুজ্জামান আহমেদ আনারস প্রতীকে পেয়েছেন ২৪ হাজার ৩০৩ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী তার চাচা উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মাহবুবুজ্জামান আহমেদ ঘোড়া প্রতীকে পেয়েছেন ১৯ হাজার ৩৫০ ভোট।

পিরোজপুর

ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে দ্বিতীয় ধাপে পিরোজপুর জেলার দুই উপজেলায় শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। মঙ্গলবার পিরোজপুরের নেছারাবাদ ও কাউখালী উপজেলার ১৫টি ইউনিয়নের মোট ১২২টি ভোটকেন্দ্রে ইভিএম পদ্ধতিতে এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।

কাউখালী উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে মো. আবু সাঈদ মিঞা ও নেছারাবাদ উপজেলায় আব্দুল হক নির্বাচিত হয়েছেন। রাতে নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা সৈয়দ শফিকুল হক বেসরকারিভাবে তাদের বিজয়ী ঘোষণা করেন।

নেছারাবাদ উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে আব্দুল হক আনারস প্রতীকে ৩৮ হাজার ৬১২ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী এস এম মুইদুল ইসলাম মোটরসাইল প্রতীকে পেয়েছেন ৩৫ হাজার ৫২০ ভোট।

অন্যদিকে কাউখালী উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে মো. আবু সাঈদ মিঞা ঘোড়া প্রতীকে ১১ হাজার ২৮৪ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মো. মনিরুজ্জামান তালুকদার পল্টন কাপ-পিরিচ প্রতীকে পেয়েছেন ৬ হাজার ২৯৪ ভোট।

ঝালকাঠি

উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপে ঝালকাঠি সদর ও নলছিটি উপজেলায় ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ঝালকাঠি সদর উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান ও ঝালকাঠি জেলা আওয়ামী লীগ সহ-সভাপতি খান আরিফুর রহমান। আনারস প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ৩৩ হাজার ৯৪৩ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী দোয়াত কলম প্রতীকের প্রার্থী মো. সুলতান খান পেয়েছেন ২৫ হাজার ৯৭১ ভোট।

অন্যদিকে নলছিটি উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মো. সালাউদ্দিন খান সেলিম বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। মোটরসাইকেল প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ২৩ হাজার ৯৩৯ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাবেক মেয়র তছলিম উদ্দিন চৌধুরী আনারস প্রতীকে পেয়েছেন ১৬ হাজার ৭৮৪ ভোট।

বাগেরহাট

উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপে বাগেরহাটে ফকিরহাট, মোল্লাহাট,ও চিতলমারী উপজেলায় ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ফকিরহাট উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন শেখ ওহিদুজ্জামান বাবু। মোটরসাইকেল প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ৪৬ হাজার ৬৫৪ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আনরস প্রতীকের প্রার্থী বর্তমানে উপজেলা চেয়ারম্যান স্বপন দাস পেয়েছেন ২৯ হাজার ৪৩৭ ভোট। এ উপজেলায় ভোট কাস্ট হয়েছে ৬২.৫০ শতাংশ।

চিতলমারী উপজেলার চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হয়েছেন মো. আলমগীর হোসেন সিদ্দিকী। দোয়াত কলম প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ৩৪ হাজার ৮৮৬ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বর্তমান উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও বাগেরহাট জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি অশোক কুমার বড়াল মোটরসাইকেল প্রতীকে পেয়েছেন ২২ হাজার ৭৬৩ ভোট। এ উপজেলায় ভোট কাস্ট হয়েছে ৪৫.৭৫ শতাংশ।

অন্যদিকে মোল্লাহাট উপজেলার চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হয়েছেন বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শাহিনুর আলম ছানা। দোয়াত কলম প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ২৯ হাজার ৯০২ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বর্তমান উপজেলা শেখ নাসির উদ্দীন আনারস প্রতীকে পেয়েছেন ১৯ হাজার ৯৫৪ ভোট। এ উপজেলায় ভোট কাস্ট হয়েছে ৫৩.৭৭ শতাংশ। জেলায় গড় ভোট কাস্টিং হয়েছে ৫৪ শতাংশ।

যশোর

দ্বিতীয় ধাপের উপজেলা নির্বাচনে যশোরের ঝিকরগাছা, শার্শা ও চৌগাছা উপজেলায় ভোটগ্রহণ করা হয়েছে। ভোটগ্রহণ শেষে রাতে বেসরকারিভাবে ফলাফল ঘোষণা করেন উপজেলাগুলোর দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তারা।

চৌগাছা উপজেলা চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হয়েছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা এসএম হাবিবুর রহমান। আনারস প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ৩৩ হাজার ৫৬৫ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ ড. মোস্তানিছুর রহমান পেয়েছেন ২৮ হাজার ৯৮০ ভোট।

নির্বাচনের সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও চৌগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুম্মিতা সাহা রাত সাড়ে ৯টায় এ ফলাফল ঘোষণা করেন।

ঝিকরগাছা উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হয়েছেন বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. মনিরুল ইসলাম। আনারস প্রতীকে মনিরুল ইসলাম পেয়েছেন ৪০ হাজার ৬৪৩ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী সেলিম রেজা ঘোড়া প্রতীকে পেয়েছেন ১৮ হাজার ৪৪৩ ভোট।

অন্যদিকে শার্শা উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে মো. সোহরাব হোসেন দোয়াত কলম প্রতীক নিয়ে ৩৭ হাজার ৫৭০ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মো. অহিদুজ্জামান আনারস প্রতীকে পেয়েছেন ১২ হাজার ২৯১ ভোট।

রাজশাহী

দ্বিতীয় ধাপে রাজশাহীর বাগমারা, দুর্গাপুর ও পুঠিয়া উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বাগমারা উপজেলায় বেসরকারিভাবে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন জাকিরুল ইসলাম সান্টু। তিনি ঘোড়া প্রতীকে পেয়েছেন ৪৭ হাজার ৩২২ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আব্দুর রাজ্জাক সরকার ওরফে আর্ট বাবু পেয়েছেন ৪ হাজার ৩২১ ভোট।

পুঠিয়া উপজেলায় বেসরকারিভাবে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন আবদুস সামাদ মোল্লা। তিনি আনারস প্রতীকে পেয়েছেন ২৬ হাজার ৬৬৫ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আহসানুল হক মাসুদ ঘোড়া প্রতীকে পেয়েছেন ২৩ হাজার ৬৭৯ ভোট।

অন্যদিকে দুর্গাপুর উপজেলায় বেসরকারিভাবে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন শরীফুজ্জামান শরীফ। তিনি মোটরসাইকেল প্রতীকে পেয়েছেন ৪২ হাজার ১১৩ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আব্দুল মজিদ সরদার পেয়েছেন ২৭ হাজার ৩৩২ ভোট।

সাতক্ষীরা

ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপে সাতক্ষীরার আশাশুনি, তালা ও দেবহাটা উপজেলায় ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

আশাশুনি উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও বর্তমান উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এবিএম মোস্তাকিম বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি চিংড়ি প্রতীকে পেয়েছেন ৫১ হাজার ৬৬২ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী শাহনেওয়াজ ডালিম ঘোড়া প্রতীকে পেয়েছেন ৫০ হাজার ৭০৭ ভোট।

অপরদিকে সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলা নির্বাচনে মো. আল ফেরদাউস বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি হেলিকপ্টার প্রতীকে ২৬ হাজার ৩৭৭ ভোট পেয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মো. মজিবুর রহমান মোটরসাইকেল প্রতীকে পেয়েছেন ১৭ হাজার ১৫২ ভোট।

এ ছাড়া সাতক্ষীরার তালা উপজেলা নির্বাচনে ঘোষ সনৎ কুমার বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি কাপ পিরিচ প্রতীকে ৪৬ হাজার ৪৫৮ ভোট পেয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী সরদার মশিয়ার চিংড়ি প্রতীকে পেয়েছেন ৩২ হাজার ৪১৩ ভোট।

বিষয়:

নীলফামারীতে সুবিধা বঞ্চিতদের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নীলফামারী প্রতিনিধি

বাংলাদেশ স্কাউট অ্যান্ড গাইড ফেলোশীপের উদ্যোগে নীলফামারীতে ৩ শতাধিক সুবিধাবঞ্চিত মানুষের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়েছে। শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) সকালে শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক পিএলসির পৃষ্ঠপোষকতায় সদরের পলাশবাড়ী ডিগ্রি কলেজ মাঠে শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তৃতা দেন বাংলাদেশ স্কাউট অ্যান্ড গাইড ফেলোশিপের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ব্রি. জে. সামছুল আলম খান।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, শীতে সবচেয়ে কষ্টে থাকে সুবিধাবঞ্চিত মানুষ। তাদের পাশে দাঁড়ানো সামাজিক দায়িত্ব। তিনি বলেন, স্কাউট অ্যান্ড গাইড ফেলোশিপ সমাজসেবার কাজে সবসময় যুক্ত থাকে এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

এসময় শীতবস্ত্র বিতরণ কার্যক্রম কমিটির আহবায়ক রাসেল রহমান শিমুল, নির্বাহী সদস্য মোস্তফা কামাল অপু, প্রকৌশলী মো. আনোয়ার হোসেন, সাদেক হোসেন সনি, আশিকুর রহমান, শহীদ জাহান, পলাশবাড়ী ডিগ্রী কলেজের প্রভাষক মো. আব্দুর রহিম, সহকারী অধ্যাপক হ্রষিকেশ রায় সহ আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন।


জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার সমাধি জিয়ারত করেছে ইউট্যাব

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারত, পুষ্পার্ঘ অর্পণ ও ফাতেহা পাঠ করেছে ইউনিভার্সিটি টিচার্স এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ইউট্যাব)।

শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের জিয়া উদ্যান তারা এ কর্মসূচি পালন করেন।

এ সময় দোয়া পরিচালনা করেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ ছবিরুল ইসলাম হাওলাদার।

শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে ইউট্যাব-এর প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক ড. এবিএম ওবায়দুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশের গণতন্ত্রের মাতা, তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী, জাতীয় ঐক্যের প্রতীক ও আপসহীন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া আল্লাহর ডাকে সাড়া দিয়ে আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন।

তিনি আরও বলেন, এটি বাংলাদেশের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি। কেননা তিনি এমন একজন নেত্রী, যিনি এই দেশের জন্য তার সব কিছু হারিয়েছেন। তিনি হারিয়েছেন তার স্বামী, সন্তান ও বাড়ি। তিনি জেলের খাটে শুয়েছেন। সে সময় তিনি চিকিৎসা থেকেও বঞ্চিত ছিলেন। তখন ডাক্তাররা বলেছিলেন যে তাকে দেশের বাইরে চিকিৎসা না করালে, তার জীবন ঝুঁকির মধ্যে পড়বে। এরপরও তিনি বাংলাদেশের বাইরে কোথাও যাননি। তিনি বলেছিলেন, বাংলাদেশের বাইরে আমার এক ইঞ্চি জমি নাই, এক ইঞ্চি মাটি নাই। এই দেশের মাটিই আমার জায়গা, এই দেশের মানুষই আমার সন্তান।

ড. এবিএম ওবায়দুল ইসলাম বলেন, এই রকম একজন দেশপ্রেমিক নেত্রীর আমাদেরকে ছেড়ে চলে যাওয়াটা বাংলাদেশের জন্য অনেক বড় ক্ষতি।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের গণতন্ত্রের লড়াইয়ের জন্য, মানুষের অধিকার আদায়ের জন্য তিনি আজীবন লড়াই করেছেন। আপসহীন নেত্রী হিসেবে তিনি আখ্যায়িত হয়েছেন।

আজ তিনি বাংলাদেশের জনগণের জন্য এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছেছেন, কিন্তু বাংলাদেশের গণতন্ত্র ফিরে আসা দেখে যেতে পারলেন না। এটা আমাদের কষ্ট।

ইউট্যাব-এর প্রেসিডেন্ট বলেন, আমরা আশা করি, আল্লাহ তাকে জান্নাতবাসী করবেন। আমরা প্রার্থনা করি ও আশা করি তার স্বপ্ন বাংলাদেশে বাস্তবায়িত হবে। বাংলাদেশের ডেমোক্রেসি ফিরে আসবে এবং আগামী দিনে বাংলাদেশে আর ফ্যাসিবাদের উত্থান হবে না।

এ সময় ইউট্যাবের মহাসচিব অধ্যাপক ড. মো. মোর্শেদ হাসান খান বলেন, আমাদের গণতন্ত্রের মা নিজ হাতে সিগনেচার করে ২০১২ সালে ইউট্যাব অনুমোদন দিয়েছিলেন। তখন থেকেই এই সংগঠনটির যাত্রা শুরু।

তিনি তখন বুঝতে পেরেছিলেন, শহীদ জিয়াউর রহমানের আদর্শে বিশ্বাসী একটি শিক্ষক সংগঠন হওয়া উচিত। কারণ আমাদের দলে নানা মতের লোক ছিলেন, কিন্তু একটি পূর্ণাঙ্গ জাতীয়তাবাদী আদর্শে বিশ্বাসী এবং শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আদর্শে বিশ্বাসী সংগঠন গড়ে তোলার প্রয়োজন ছিল। তিনি সেটি অনুমোদন করেছিলেন ২০১২ সালে, এরপর ইউট্যাবের যাত্রা শুরু হয়।


শহীদ ওসমান হাদির হত্যাকারীদের বিচারের দাবিতে টঙ্গীতে মানববন্ধন

আপডেটেড ৯ জানুয়ারি, ২০২৬ ২৩:০২
টঙ্গী (গাজীপুর) প্রতিনিধি

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরীফ ওসমান হাদির হত্যাকারীদের বিচারের দাবীতে টঙ্গীতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) সকালে ঘোড়াশাল কালীগঞ্জ আঞ্চলিক সড়কের টিএন্ডটি বাজার এলাকায় টঙ্গী পূর্ব থানার সর্বস্থরের জনগনের ব্যানারে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

এসময় উপস্থিত ছিলেন গাজীপুর মহানগর এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব আসাদুজ্জামান দিপু, টঙ্গী পূর্ব থানা জামায়াতে ইসলামের আমির নজরুল ইসলাম, আইন বিষয়ক সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম, ৪৬ নং ওয়ার্ডের সভাপতি আবু ইউসুফ, ৪৭ নং ওয়ার্ড জামায়াতে ইসলামীর সহ সেক্রেটারি ইমরান হোসেন, এনসিপি নেতা তুষার, আশিক, আরিফ হাওলাদারসহ বিভিন্ন ওয়ার্ডের নেতাকর্মী ও এলাকাবাসী।

এসময় বক্তারা বলেন শহীদ শরীফ ওসমান হাদীর হত্যাকারীদের গ্রেফতার করতে না পারা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সরকারের ব্যর্থতা। অবিলম্বে হাদীর হত্যাকারীদের দেশে ফিরিয়ে এনে দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তি নিশ্চিত করা না গেলে জাতি এই সরকারকে কখনোই ক্ষমা করবে না।

শহীদ শরীফ ওসমান হাদি শুধু একজন ব্যক্তি নন তিনি একটি আদর্শের প্রতিক। হাদির আত্মত্যাগ বীর বাঙ্গালি কখনো মুছে যেতে দেবে না।


ক্ষুদ্রঋণ ব্যাংক অধ্যাদেশ ইতিবাচক-দৃষ্টান্তমূলক পদক্ষেপ : সিডিএফ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ক্ষুদ্রঋণ ব্যাংক অধ্যাদেশ ২০২৫ নিয়ে সম্প্রতি বিভিন্ন গণমাধ্যমে যে বিতর্ক ও প্রশ্ন উঠেছে, তার জবাবে অবস্থান স্পষ্ট করেছে ক্ষুদ্রঋণ প্রদানকারী সংগঠনগুলোর জাতীয় নেটওয়ার্ক—ক্রেডিট অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ফোরাম (সিডিএফ)। সংগঠনটি বলছে, প্রস্তাবিত ক্ষুদ্রঋণ ব্যাংক অধ্যাদেশ ক্ষুদ্রঋণবান্ধব নয় কিংবা এটি মুনাফাভিত্তিক উদ্যোগ—এ ধরনের আশঙ্কার সঙ্গে অধ্যাদেশের মূল দর্শনের কোনো সামঞ্জস্য নেই। বরং এই আইন পাস হলে ক্ষুদ্রঋণ খাতের কাঠামো আরও শক্তিশালী ও টেকসই হবে।

সিডিএফ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তাদের এই অবস্থান স্পষ্ট করে বলেছে-ক্ষুদ্রঋণ ব্যাংক অধ্যাদেশ ইতিবাচক ও দৃষ্টান্তমূলক পদক্ষেপ।

সিডিএফের মতে, প্রস্তাবিত ক্ষুদ্রঋণ ব্যাংক একটি সামাজিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচালিত হবে—এ বিষয়টি অধ্যাদেশের খসড়াতেই স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে। খসড়ার ৯ নম্বর ধারায় বলা হয়েছে, ব্যাংকটি সামাজিক ব্যবসার নীতিতে পরিচালিত হবে এবং বিনিয়োগকারীরা তাদের বিনিয়োগের অতিরিক্ত কোনো লভ্যাংশ নিতে পারবেন না। ফলে এটিকে মুনাফাভিত্তিক বা ব্যক্তিমালিকানার উদ্যোগ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।

গণমাধ্যমে প্রকাশিত বিভিন্ন বক্তব্যে ক্ষুদ্রঋণ ব্যাংক নিয়ে যেসব প্রশ্ন উঠেছে, তার মধ্যে অন্যতম হলো—ব্যাংক হলে ক্ষুদ্রঋণের মূল উদ্দেশ্য থেকে সরে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হবে কি না। এ বিষয়ে সিডিএফ বলছে, প্রস্তাবিত ব্যাংকের লক্ষ্য মুনাফা নয়; বরং দারিদ্র্য নিরসন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং ক্ষুদ্র উদ্যোগ ও কুটির শিল্পের বিকাশে সহায়তা করা। ব্যাংকটির কার্যক্রম হবে বহুমাত্রিক—এর আওতায় ঋণ কার্যক্রমের পাশাপাশি ইনস্যুরেন্স সেবা, রেমিট্যান্স, দেশি-বিদেশি অনুদান ও ঋণ গ্রহণের সুযোগ থাকবে। পাশাপাশি কৃষি খাতেও ঋণের পরিধি বাড়ানো সম্ভব হবে।

আরেকটি বড় বিতর্কের জায়গা হলো—এনজিও ও ব্যাংকের দ্বৈত নিয়ন্ত্রণ। এ প্রসঙ্গে সিডিএফের বক্তব্য, ক্ষুদ্রঋণ ব্যাংক আইন কার্যকর হলেও কোনো এনজিওকে বাধ্যতামূলকভাবে ব্যাংকে রূপান্তর করা হবে না। কোনো সংস্থা চাইলে সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে তাদের কার্যক্রম ব্যাংকের আওতায় আনতে পারবে। তবে যে অংশ ব্যাংকে রূপান্তরিত হবে, তা সম্পূর্ণ আলাদা কাঠামো ও ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত হবে এবং তার নিয়ন্ত্রণ থাকবে বাংলাদেশ ব্যাংকের হাতে। অন্যদিকে এনজিও অংশের নিয়ন্ত্রণ থাকবে মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটির (এমআরএ) অধীনে। ফলে একই কাঠামোয় দ্বৈত নিয়ন্ত্রণের প্রশ্নই ওঠে না।


জয়পুরহাটে বিপুল পরিমাণ যৌন উত্তেজক সিরাপ ও ভেজাল খাদ্য জব্দ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
জয়পুরহাট প্রতিনিধি

জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার রেলওয়ে সড়ক এলাকার একটি গোডাউনে অবৈধ যৌন উত্তেজক সিরাপ ও বিএসটিআই অনুমোদনবিহীন এবং মেয়াদোত্তীর্ণ ভেজাল খাদ্যসামগ্রী জব্দ করেছে ২০ বিজিবির জয়পুরহাট ব্যাটালিয়নের সদস্যরা। শুক্রবার দুপুরে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জয়পুরহাট ব্যাটালিয়নের (২০ বিজিবি) একটি বিশেষ টহলদল পাঁচবিবি সদর উপজেলার জামে মসজিদ সংলগ্ন রেলওয়ে সড়ক মার্কেট এলাকায় অভিযান চালায়। অভিযানে একটি গোডাউন তল্লাশি করে সীমান্ত পথে ভারতে পাচারের উদ্দেশ্যে মজুত রাখা বিপুল পরিমাণ অবৈধ যৌন উত্তেজক সিরাপ ও ভেজাল খাদ্যসামগ্রী উদ্ধার করা হয়। এসবের আনুমানিক বাজার মূল্য প্রায় ২৬ লাখ ৮৭ হাজার ৪৮৫ টাকা।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, অভিযানে জেনসি, টাচ, জেট টেন, রেইনবো, একে এল ওয়ান, হিট ফ্রুট, এইচ গ্রেফ, আর আগুন, সিকরসহ বিভিন্ন ব্র্যান্ডের কয়েক হাজার বোতল যৌন উত্তেজক সিরাপ জব্দ করা হয়। পাশাপাশি বিএসটিআই অনুমোদনবিহীন ললিপপ, জেল জুস, স্যালাইন, কৃত্রিম ফ্লেভার, ড্রিংকস, জেলো জুস ও বিভিন্ন প্রকার চিপস উদ্ধার করা হয়। অভিযানকালে গোডাউন স্বত্বাধিকারী নাজমুল হোসেন সরকার বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

জয়পুরহাট (২০ বিজিবি) ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ লতিফুল বারী জানান, মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির অংশ হিসেবে সীমান্ত এলাকায় এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে সীমান্ত নিরাপত্তা ও সামাজিক শৃঙ্খলা রক্ষায় স্থানীয় জনগণের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।


আড়াইহাজারে যৌথ বাহিনীর অভিযানে বিপুল পরিমাণ অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার ৫

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলার মেঘনা নদীবেষ্টিত দুর্গম চরাঞ্চলে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও সন্ত্রাসীদের আস্তানা নিয়ন্ত্রণে বিশেষ অভিযান চালিয়েছে সেনাবাহিনী ও পুলিশের যৌথ বাহিনী।

শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) বিকেলে অভিযান শেষে উদ্ধারকৃত অস্ত্রশস্ত্র ও গ্রেপ্তারদের নিয়ে খালিয়ারচর জাহানারা বেগম উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা তথ্য জানান ৪৫ এমএলআরএস রেজিমেন্টের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল জুবায়ের।

এর আগে, ভোর থেকে শুরু হওয়া এই অভিযানে কালাপাহাড়িয়া ইউনিয়ন থেকে পুলিশের খোয়া যাওয়া একটি আগ্নেয়াস্ত্র, বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ ও দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র উদ্ধার করা হয়। একই সঙ্গে পাঁচজন চিহ্নিত সন্ত্রাসীকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে পরিচালিত এই অভিযানে কালাপাহাড়িয়া ইউনিয়নের খালিয়ারচর, মধ্যারচর ও কদমিরচরসহ একাধিক এলাকা ঘিরে ফেলা হয়। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে যৌথ বাহিনীর সদস্যরা বিভিন্ন দলে বিভক্ত হয়ে সন্দেহভাজন সন্ত্রাসীদের বাড়িতে তল্লাশি চালান।

অভিযানে উদ্ধার করা অস্ত্র ও সরঞ্জামের মধ্যে রয়েছে— পুলিশের খোয়া যাওয়া একটি পিস্তল ও ম্যাগাজিন, ১০ রাউন্ড গুলি, পাঁচটি শটগানের কার্তুজ, আটটি ককটেল, ৩৮৮টি রামদা, সাতটি চাপাতি, একটি বড় ছোরা, ছয়টি ছোট ছোরা, ১৩টি দা, দুটি কুড়াল, ছয়টি হকিস্টিক, টেটা, ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত বড় টর্চলাইট, একটি ইলেকট্রিক শক দেওয়ার যন্ত্র এবং নগদ ১০ লাখ ১৫ হাজার ৮০০ টাকা।

গ্রেপ্তারকৃত পাঁচজন হলেন— মোহাম্মদ স্বপন, পারভেজ, মতিন, জাকির ও রিংকু মিয়া।

অভিযান শেষে উদ্ধারকৃত অস্ত্রশস্ত্র ও গ্রেপ্তারদের নিয়ে খালিয়ারচর জাহানারা বেগম উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সেখানে ৪৫ এমএলআরএস রেজিমেন্টের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল জুবায়ের বলেন,

“সন্ত্রাসের জনপদ হিসেবে পরিচিত কালাপাহাড়িয়া ইউনিয়নে নির্বাচনকে সামনে রেখে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও সন্ত্রাসীদের আস্তানার নিয়ন্ত্রণ নিতে এই বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।”

তিনি আরও জানান, অভিযানে সেনাবাহিনীর ১৪০ জন সদস্য এবং স্থানীয় থানা পুলিশের ১০ জন সদস্য অংশ নেন। নির্বাচনকালীন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।


৬ জনের লিফটে বরসহ ১০ জন, ভবনের দেয়াল ভেঙে উদ্ধার করল ফায়ার সার্ভিস

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি

কিশোরগঞ্জ শহরের একটি আবাসিক হোটেলে ছয়জন ধারণক্ষমতার লিফটে ১০ জন ওঠায় লিফট বিকল হয়ে নিচে নেমে যায়। এতে বরসহ ১০ জন বরযাত্রী লিফটের ভেতরে আটকা পড়েন। পরে প্রায় এক ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে ভবনের দেয়াল ভেঙে তাঁদের উদ্ধার করে ফায়ার সার্ভিস।

শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) বিকেলে জেলা শহরের স্টেশন রোড এলাকার খান টাওয়ারে অবস্থিত হোটেল শেরাটনে এই ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার বিকাল পৌনে ৩টার দিকে হোটেলটির চারতলা থেকে দোতলায় নামতে ছয়জন ধারণক্ষমতার লিফটে বরসহ ১০ জন ওঠেন।

অতিরিক্ত ওজনের কারণে লিফটটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিচে নেমে যায় এবং প্রান্তসীমায় গিয়ে থেমে পড়ে। এতে লিফটের ভেতরে থাকা সবাই আটকা পড়েন। এ সময় তাঁদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

লিফটটি আধুনিক প্রযুক্তিসম্পন্ন হওয়ায় সেটি ছিঁড়ে পড়েনি। লিফটের ভেতরে থাকা যাত্রীরা ইন্টারকমের মাধ্যমে হোটেল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পরে হোটেল কর্তৃপক্ষ ফায়ার সার্ভিসকে খবর দিলে তারা ঘটনাস্থলে এসে উদ্ধার তৎপরতা শুরু করে।

ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা প্রথমে লিফটটি ওপরে তোলার চেষ্টা করেন। এতে ব্যর্থ হলে নিচতলার লিফটসংলগ্ন দেয়াল ভেঙে একে একে ১০ জনকে উদ্ধার করা হয়। বিকাল পৌনে ৪টার দিকে উদ্ধারকাজ শেষ হয়। এ সময় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন, আতিকুর রহমান (৪০), মিনহাজ ইবনে ফারুক (৩০), জোনায়েদ তারেক (৩৫), মোনতাছির (২৫), ইয়াহিয়া তানভীর (২০), এমদাদ (৪০), হুমায়ুন কবির (৩০), রাইছুস সালেহীন (৩৫), রেজওয়ানুল হক (৩৯) ও জারিফ (৩২)।

তাঁদের মধ্যে বর হলেন জোনায়েদ তারেক। তাঁরা সবাই চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার তেকোটা গ্রামের বাসিন্দা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বরপক্ষের লোকজন দূরের হওয়ায় বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) দুপুরে তাঁরা কিশোরগঞ্জ শহরের হোটেল শেরাটনে অবস্থান নেন। শুক্রবার জুমার নামাজের পর শহরের পুরানথানায় অবস্থিত ঐতিহাসিক শহীদী মসজিদে বিয়ে সম্পন্ন হয়।

পরে মধ্যাহ্নভোজের জন্য হোটেল থেকে বের হওয়ার সময় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

কিশোরগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের লিডার আমিনুর রহমান বলেন, খবর পেয়ে আমরা দ্রুত ঘটনাস্থলে যাই। লিফটে আটকে পড়া ১০ জনকেই জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।

হোটেল শেরাটনের চেয়ারম্যান জিয়া উদ্দিন খান বলেন, লিফটে কোনো যান্ত্রিক ত্রুটি ছিল না। ধারণক্ষমতার দ্বিগুণ মানুষ ওঠায় এ পরিস্থিতি তৈরি হয়। লিফটটি আধুনিক হওয়ায় ধীরে নিচে নেমে গিয়ে থেমে পড়ে। ফায়ার সার্ভিস দক্ষতার সঙ্গে উদ্ধারকাজ সম্পন্ন করেছে।


দাউদকান্দিতে বাস উল্টে অগ্নিকাণ্ড: নারী ও শিশুসহ নিহত ৪, আহত ৩০

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কুমিল্লা প্রতিনিধি

ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার দাউদকান্দিতে যাত্রীদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডার জেরে বেপরোয়া গতিতে বাস চালাতে গিয়ে ভয়াবহ দুর্ঘটনার ঘটনা ঘটেছে। যাত্রীবাহী একটি বাস অটোরিকশা ও মোটরসাইকেলকে চাপা দিয়ে উল্টে গিয়ে অগ্নিকাণ্ডে নারী ও শিশুসহ চারজন নিহত হয়েছেন। এতে আহত হয়েছেন অন্তত ৩০ জন।

শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে দাউদকান্দি উপজেলার জিংলাতলি ইউনিয়নের বানিয়াপাড়া এলাকায় চট্টগ্রামগামী লেনে সিডিএম পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস এ দুর্ঘটনায় পড়ে। ত্রিমুখী সংঘর্ষের পর বাসটি সড়কে উল্টে গিয়ে আগুন ধরে যায়।

দাউদকান্দি হাইওয়ে থানা পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা যায়, নিহতদের মধ্যে দুইজন শিশু, একজন নারী ও একজন পুরুষ রয়েছেন।

নিহতরা হলেন—

শিশু হোসাইন (১৬ মাস), নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার মাঝেরচর গ্রামের সুমন মিয়ার ছেলে। তিনি পরিবারের সঙ্গে বাসের যাত্রী ছিলেন।

মোটরসাইকেল আরোহী মো. শামীম হোসেন (৩৮) ও তার ছেলে নাদিফ হোসেন (৭)। তারা দাউদকান্দি উপজেলার পেন্নই গ্রামের বাসিন্দা এবং জুমার নামাজ আদায়ের জন্য পাশের বানিয়াপাড়া দরবার শরীফের মসজিদে যাচ্ছিলেন।

বাসে নিহত নারী যাত্রীর পরিচয় এখনো শনাক্ত করা যায়নি।

নিহত শিশুর মা শাপলা বেগম জানান, দুর্ঘটনার সময় হোসাইন তার কোলে ছিল। বাসটি উল্টে গেলে শিশুটি গাড়ির নিচে চাপা পড়ে। পরে বাসে আগুন ধরে গেলে চোখের সামনেই সন্তানকে পুড়ে মারা যেতে দেখেন তিনি। এ ঘটনার পর জ্ঞান হারান শাপলা বেগম। জ্ঞান ফেরার পর বারবার সন্তানের নাম ধরে চিৎকার করতে থাকেন।

এদিকে ঘটনাস্থলেই নিহত হন শামীম হোসেন ও তার ছেলে নাদিফ। তাদের মৃত্যুসংবাদ শুনে থানায় এসে শামীমের ভাই রিয়াজ উদ্দিন জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন।

প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ জানায়, বাসটি বিভিন্ন স্থানে দাঁড়িয়ে যাত্রী তুলছিল। এতে যাত্রীরা বিরক্ত হয়ে চালককে না দাঁড়ানোর অনুরোধ করেন। এ নিয়ে বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে চালক বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালাতে শুরু করেন। এরপর অটোরিকশা ও মোটরসাইকেলকে চাপা দিয়ে বাসটি উল্টে যায় এবং অগ্নিকাণ্ড ঘটে।

দাউদকান্দি ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের স্টেশন অফিসার মো. এরশাদ জানান, আগুন নিয়ন্ত্রণের পর বাসের ভেতর থেকে চারজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। আহতদের উদ্ধার করে দাউদকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ কুমিল্লা ও ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

দাউদকান্দি হাইওয়ে থানার এসআই সন্দ্বীপ সাহা জানান, অতিরিক্ত গতি ও হার্ড ব্রেকের কারণে বাসটি উল্টে সড়কের সঙ্গে ঘর্ষণে আগুন লাগতে পারে।

ওসি ইকবাল বাহার বলেন, ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং যান চলাচল স্বাভাবিক করা হয়েছে। ঘাতক বাসচালককে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

দুর্ঘটনার পর বানিয়াপাড়া থেকে গৌরিপুর পর্যন্ত প্রায় পাঁচ কিলোমিটার এলাকায় দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।


কুষ্টিয়ায় বিজিবির বিশেষ অভিযান: পৌনে ৬ হাজার প্যাকেট অবৈধ বিড়ি উদ্ধার

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৌলতপুর কুষ্টিয়া প্রতিনিধি

কুষ্টিয়ায় পৃথক অভিযানে বিপুল পরিমাণ অবৈধ ও ভারতীয় পাতার বিড়ি উদ্ধার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (৪৭ বিজিবি)।

আজ শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) ও গতকাল বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) জেলার সীমান্ত ও বাইপাস এলাকায় এই অভিযানগুলো পরিচালিত হয়। উদ্ধারকৃত মালামালের মোট বাজার মূল্য ধরা হয়েছে ৩ লাখ ১৯ হাজার ৯০০ টাকা।

শুক্রবার দুপুরে ​বিজিবির দেওয়া এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয় , শুক্রবার সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়ন সদরের একটি চৌকস টহল দল ত্রিমোহনী বাইপাস এলাকায় বিশেষ অভিযান চালায়। অভিযানে পরিত্যক্ত অবস্থায় ৪,২০৬ প্যাকেট অবৈধ নকল বিড়ি উদ্ধার করা হয়। যার আনুমানিক সিজার মূল্য ২ লাখ ২৮ হাজার ৮০০ টাকা।

​এর আগে, গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা ৪০ মিনিটের দিকে দৌলতপুর উপজেলা চরচিলমারী বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় অপর একটি অভিযান চালানো হয়। সীমান্ত পিলার ১৫৭/৩-এস হতে প্রায় ১ কিলোমিটার বাংলাদেশের অভ্যন্তরে বাংলাবাজার মাঠপাড়া এলাকায় এই অভিযানে ১,৬৬০ প্যাকেট ভারতীয় পাতার বিড়ি উদ্ধার করে বিজিবি। উদ্ধারকৃত এই বিড়ির মূল্য প্রায় ৯১ হাজার ১০০ টাকা।

এবিষয়ে বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়, ​ উদ্ধারকৃত বিড়িগুলো সংশ্লিষ্ট কাস্টমস অফিসে জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

​কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়ন (৪৭ বিজিবি) এর অধিনায়ক জানিয়েছেন, সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি মাদক ও সকল প্রকার চোরাচালান রোধে বিজিবি জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছে। জনস্বার্থে এবং দেশের অর্থনীতি রক্ষায় বিজিবির এই ধরনের কঠোর ও কার্যকর অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।


গাইবান্ধায় প্রাথমিকে শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় ইলেকট্রনিক ডিভাইসসহ ৪৯ জন আটক

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

গাইবান্ধায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় পরীক্ষা কেন্দ্রে ইলেকট্রনিক ডিভাইসসহ অসাদুপায় অবলম্বনের অভিযোগে ৪৯ জন পরীক্ষার্থীকে আটক করা হয়েছে।

শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) দুপুর ৩ তিনটা থেকে বিকেল ৪ টা ৩০ মিনিটের দেড় ঘণ্টার পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে জেলার বিভিন্ন পরীক্ষা কেন্দ্র থেকে তাদের আটক করে দায়িত্বপ্রাপ্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও প্রশাসনের পরীক্ষা সংশ্লিষ্টরা। আটক ব্যক্তিদের কাছ থেকে মোবাইল ফোন, ব্লুটুথ ডিভাইসসহ ইলেকট্রনিক সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে।

গাইবান্ধার পরীক্ষা সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সারাদেশের ৬১ জেলার সাথে গাইবান্ধাতেও ৪৩ টি পরীক্ষা কেন্দ্রে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। বেলা ৩ টায় শুরু হওয়া পরীক্ষা চলে বিকেল সাড়ে ৪ টা পর্যন্ত। এসময় ৪৩ টি কেন্দ্রের মধ্যে ২৪ টি পরীক্ষা কেন্দ্র থেকে নারীসহ ৪৯ জনকে আটক করে সংশ্লিষ্টরা। ২৪ টি কেন্দ্রের মধ্যে সব থেকে সংখ্যাক ১১ জন পরীক্ষার্থীকে আটক হয় গাইবান্ধা সদর উপজেলার "কুপতলা আব্দুল কাইয়ূম হাইস্কুল" কেন্দ্র থেকে।

এসব বিষয় মোবাইল ফোনে নিশ্চিত করেছেন গাইবান্ধা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার লক্ষণ কুমার দাশ। তিনি বলেন শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় ইলেকট্রনিকস ডিভাইস ব্যবহার করে পরীক্ষা দেওয়ার সময় জেলার ২৪ টি পরীক্ষা কেন্দ্র থেকে ৪৯ জন পরীক্ষার্থীকে আটক করেছে সংশ্লিষ্টরা। এসময় তাদের কাছে থেকে ইলেকট্রনিকস ডিভাইস ও ব্লুটুথ ইয়ার ডিভাইস পাওয়া গেছে। তাদের মধ্যে নারী পরীক্ষার্থীও রয়েছে।

এসময় এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, আটককৃতদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলার প্রস্তুতি চলছে।

এদিকে, এই পরীক্ষা ঘিরে গতকাল বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) গাইবান্ধার জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান মোল্লা স্বাক্ষরিত এক আদেশে পরীক্ষা কেন্দ্রের চারদিকে ২০০ গজের মধ্যে ১৪৪ ধারা জারি করেন।

আদেশ অনুযায়ী পরীক্ষার দিন পরীক্ষা শুরুর ৩ ঘণ্টা আগে থেকে পরীক্ষা শেষের ২ ঘণ্টা পর পর্যন্ত অর্থাৎ এদিন দুপুর ১ টা থেকে বিকেল ৫ টা পর্যন্ত প্রতিটি পরীক্ষা কেন্দ্রের চারদিকে ২০০ গজের মধ্যে যেকোনো ধরনের সভা-সমাবেশ, বেআইনি জমায়েত, মিছিল, প্রচারণা এবং বাদ্যযন্ত্র ব্যবহার সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ থাকবে বলে আদেশ হয়। এছাড়া, পরীক্ষা চলাকালে কেন্দ্রগুলোর আশপাশে অননুমোদিত ব্যক্তির প্রবেশও নিষিদ্ধ করা হয়।

উল্লেখ্য, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ–২০২৫ এর লিখিত পরীক্ষাটি প্রথমে গত ২ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। তবে বিএনপির সাবেক চেয়ারপার্সন ও বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে সরকার ঘোষিত জাতীয় শোক দিবসের আওতায় পড়ায় ওই দিনের পরীক্ষা স্থগিত করা হয়। পরবর্তীতে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর পরীক্ষার নতুন তারিখ হিসেবে ৯ জানুয়ারি নির্ধারণ করে।

এরপর অধিদপ্তরের আরেকটি আদেশে পরীক্ষা কেন্দ্র ও তারিখ অপরিবর্তিত রেখে পূর্বনির্ধারিত সকাল ১০টার পরিবর্তে পরীক্ষার সময় দুপুর ৩টা থেকে ৪টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়।

প্রসঙ্গত: সর্বশেষ ২০২৩ সালের ৮ ডিসেম্বর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় গাইবান্ধায় ইলেকট্রনিক ডিভাইস ও মোবাইল ব্যবহারের মাধ্যমে জালিয়াতির অভিযোগে ৩৩ জন ওই নিয়োগ পরিক্ষার পরিক্ষার্থী এবং বহিরাগত ৫ জন সহ মোট ৩৮ জনকে আটক করে র‍্যাব। একই সাথে এদিন কেন্দ্র থেকেই বহিষ্কার করা হয় ৩৬ জন পরিক্ষার্থীকে।

এদিন র‍্যাব-১৩ গাইবান্ধার ক্যাম্পে সংবাদ সম্মেলন করে গণমাধ্যমকর্মীদের জানিয়েছিলো, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে জেলার বিভিন্ন কেন্দ্রে থেকে শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় অসাদুপায় অবলম্বনকারী ৩২ জন পরীক্ষার্থীসহ এই চক্রের হোতা মারুফ, মুন্না, সোহেল, নজরুল ও সোহাগসহ মোট ৩৮ জনকে আটক করা হয়। পরে তাদের কাছ থেকে ২২ টি মাস্টার কার্ড, ১৯ টি ব্লুটুথ ডিভাইস, ১৬ টি মোবাইল, স্ট্যাম্প ও ব্যাংক চেক উদ্ধার করা হয়।

র‍্যাব জানিয়েছিলো চক্রের ওই ৫ সদস্যের মধ্যে সোহেল নামে এক সদস্য ডিভাইস সংগ্রহ ও বিতরণ করেন, নজরুল পরীক্ষার্থী সংগ্রহ করতেন এবং মারুফ ও মুন্না বাহির থেকে প্রশ্নপত্র সমাধান করে পরীক্ষার্থীদের কাছে সরবরাহ করেন।


আমি খালেদা জিয়ার ভক্ত ছিলাম অনেক আগে থেকে : আসিফ নজরুল

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক সংগ্রাম, ব্যক্তিত্ব এবং তাঁর সঙ্গে কাটানো দীর্ঘদিনের অম্লান স্মৃতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল। আজ শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) এক ফেসবুক পোস্টে তিনি নিজেকে খালেদা জিয়ার দীর্ঘদিনের ‘ভক্ত’ হিসেবে পরিচয় দেন। পোস্টের সাথে তিনি একটি আবেগঘন ছবিও যুক্ত করেছেন, যেখানে তাঁকে খালেদা জিয়ার কফিনে মোড়ানো জাতীয় পতাকা ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের হাতে তুলে দিতে দেখা যাচ্ছে।

স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে আসিফ নজরুল আশির দশকের শেষদিকের কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, ১৯৮৮-৮৯ সালের দিকে সাংবাদিক হিসেবে ধানমণ্ডির বিএনপি কার্যালয়ে তিনি খালেদা জিয়ার সাক্ষাৎকার নিতে গিয়েছিলেন। সেই সময়কার একটি ঘটনার বর্ণনা দিয়ে তিনি লেখেন, সাক্ষাৎকারের এক পর্যায়ে তিনি খালেদা জিয়াকে একটি বেশ কঠিন প্রশ্ন করেছিলেন। এতে উপস্থিত জ্যেষ্ঠ নেতা সাইফুর রহমান ক্ষুব্ধ হলেও খালেদা জিয়া অত্যন্ত ধৈর্য ও সৌজন্যের পরিচয় দিয়েছিলেন এবং হাসিমুখে উত্তর দিয়েছিলেন। এরপরও বিভিন্ন সময়ে ‘সাপ্তাহিক বিচিত্রা’র জন্য তিনি বেশ কয়েকবার ম্যাডামের একান্ত সাক্ষাৎকার নিয়েছেন।

আইন উপদেষ্টা তাঁর পোস্টে আরও উল্লেখ করেন যে, ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর খালেদা জিয়ার ওপর যে অবর্ণনীয় নির্যাতন ও মিথ্যা মামলা চাপিয়ে দেওয়া হয়েছিল, তা সত্ত্বেও তিনি অসীম সাহসিকতায় দেশপ্রেমে অটল ছিলেন। আসিফ নজরুল দাবি করেন, শেখ হাসিনার ফ্যাসিস্ট আমলের ১৫ বছরেও তিনি কখনো খালেদা জিয়ার প্রতি শ্রদ্ধা ও সমর্থন প্রকাশে পিছুপা হননি। এমনকি বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল আলমগীর ছাড়া আর কাউকেই ওই দুঃসময়ে ম্যাডামের পক্ষে এতোটা সোচ্চার হতে দেখেননি বলে তিনি মন্তব্য করেন।

সবশেষে খালেদা জিয়ার শেষ বিদায় বেলার কথা উল্লেখ করে আসিফ নজরুল কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি লেখেন, জীবনের শেষ বিদায়ের দিনে সারাটা সময় তিনি খালেদা জিয়ার পরিবারের পাশে থাকার সুযোগ পেয়েছেন। দেশের জন্য আজীবন ত্যাগ স্বীকার করা এই মহীয়সী নেত্রীর কফিন জড়িয়ে রাখা জাতীয় পতাকাটি তাঁর সন্তানের হাতে তুলে দিতে পেরে তিনি নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে করছেন এবং আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করেছেন।


ফেনী হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটার এখন রান্নাঘর-শয়নকক্ষ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ফেনী প্রতিনিধি

২৫০ শয্যা বিশিষ্ট ফেনী জেনারেল হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটারের লেবার ওয়ার্ডে দুই বছর ধরে রান্নাবান্না চলছে। প্রতিদিন এখানে গর্ভবতী নারীদের নরমাল ডেলিভারি, সিজারিয়ান অপারেশন হলেও কিছু সিনিয়র স্টাফ নার্স থিয়েটারের কক্ষ রান্নাঘর ও শয়নকক্ষ হিসেবে ব্যবহার করছেন।

জানা গেছে, এসব অনিয়মের মধ্যে জড়িত নার্সরা হলেন নার্সিং সুপারভাইজার নূর জাহান, কল্পনা রানী, হ্যাপী রানী সূত্রধর, সীমা কর্মকার, রত্না বসাক, রানী বালা ও দেলোয়ারা বেগম প্রমুখ। তারা নিয়মিতভাবে হাসপাতালে রান্নার মত অনিয়মের সঙ্গে জড়িত।

সম্প্রতি অপারেশন থিয়েটারে রান্নাবান্নার একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ওই ভিডিওতে দেখা যায়, হাসপাতালের সিনিয়র নার্সদের দুজন অপারেশন থিয়েটারের কক্ষে শীতের পিঠা তৈরি করছেন। অন্যরাও অবাধে আসা-যাওয়া করছেন। ঠিক পাশের কক্ষে চলছে সিজারিয়ান অপারেশন। সেখানেও রোগীর স্বজনদের অবাধ চলাফেরা করতে দেখা যায়।

অভিযোগ রয়েছে, স্বাস্থ্যঝুঁকির এই চরম অবস্থা সম্পর্কে লেবার ওয়ার্ডে কর্মরত চিকিৎসকরা অবগত। বিভিন্ন সময়ে এখান থেকে রান্না করে চিকিৎসকরা ব্যক্তিগত আয়োজনে খাবার পরিবেশন করে থাকেন।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, এমন অনিয়ম রোগ-জীবাণু সংক্রমণের ঝুঁকি বহু গুণ বাড়ায় এবং চিকিৎসা শৃঙ্খলার চরমভাবে লঙ্ঘন হয়।

রহিম উল্লাহ নামে এক রোগীর আত্মীয় বলেন, “হাসপাতালের লেবার ওয়ার্ডে যেখানে নারীদের সিজার অপারেশন হয়, সেখানেই রান্নাবান্না করেন নার্সরা। এটা ভাবতেই শরীর শিউরে ওঠে। এমন জঘন্য কাজে যারা সম্পৃক্ত, তদন্ত করে তাদের সবার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।

রোগীর আর এক স্বজন সালাহ উদ্দিন বলেন, “আমার বোনের প্রসব বেদনা উঠলে তাকে ফেনী জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে এসেছি। এখানে এসে শুনছি নার্সরা না কি অপারেশন থিয়েটারে রান্না করেন। এটা কেমন কথা! তাও দুই বছর ধরে এটা চলে আসছে। এটা মারাত্মক?

নাম প্রকাশ না করার শর্তে আরেক রোগীর স্বজন বলেন, “সাংবাদিকরা এ ব্যাপারে সংবাদ সংগ্রহ করছেন জেনে নূর জাহান নামে একজন নার্স খুব দম্ভ করে বলেছেন, ‘খাইছি-আরও খামু, কনে কিয়া কইরবো দেখা যাবে’। অভিযুক্ত নার্সদের সঙ্গে কথা বলতে চাইলে তারা এ বিষয়ে কথা বলতে রাজি হননি।

হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. রোকন উদ দৌলা বলেন, “ওটির ভেতর রান্নাবান্না! এটা অসম্ভব ব্যাপার। ওটির ভেতরে কীভাবে রান্নাবান্না করে? সংক্রমণের অনেক বিষয় আছে এখানে। অবশ্যই এ ব্যাপারে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেব।”

হাসপাতালে জুনিয়র কনসালটেন্ট (অর্থো সার্জারি) ডা. মো. জামাল উদ্দিন বলেন, “এ বিষয়টি আমরা অবশ্যই গুরুত্বসহকারে দেখব এবং অবশ্যই ব্যবস্থা নেব। এমন স্পর্শকাতর জায়গায় রান্না করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

এ বিষয়ে হাসপাতালের তত্বাবধায়ক ডা. সাইফুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি আমি অবগত হয়েছি। এটা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি আরো বলেন, বিষয়টিতে আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছি। এ ব্যাপারে একটি তদন্ত কমিটি গঠিত হয়েছে। তদন্ত কমিটির সুপারিশের আলোকে বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেব।

ফেনীর সিভিল সার্জন মোহাম্মদ রুবাইয়াত বিন করিম বলেন, “অপারেশন থিয়েটারে রান্নাবান্না করার কোনো সুযোগ নেই। এতে মারাত্মক সংক্রমণের ঝুঁকি রয়েছে। আমরা অবশ্যই খোঁজ-খবর নেব।


নাগরিক সেবা বাস্তবায়নে উদ্যোক্তারাই মূল চালিকাশক্তি : ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কুমিল্লা প্রতিনিধি

নাগরিক সেবা আরও সহজ, সমন্বিত ও জনবান্ধব করার লক্ষ্যে মাঠপর্যায়ের উদ্যোক্তাদের দক্ষতা বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে আজ শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) কুমিল্লার সার্কিট হাউজ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘নাগরিক সেবা বাংলাদেশ’ বিষয়ক ওরিয়েন্টেশন ও উদ্যোক্তাদের জন্য দক্ষতা বৃদ্ধিমূলক কর্মশালা।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব।

প্রধান অতিথির বক্তৃতায় ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব বলেন, নাগরিক সেবা বাংলাদেশ সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ ও সময়োপযোগী সংস্কারমূলক উদ্যোগ, যার মূল লক্ষ্য হলো সরকারি সেবায় নাগরিকদের প্রবেশাধিকার সহজ করা, দীর্ঘদিনের ভোগান্তি কমানো এবং এক ছাদের নিচে সমন্বিত সেবা নিশ্চিত করা। তিনি বলেন, সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সেবাগুলোকে বিচ্ছিন্নভাবে নয়, বরং একটি সমন্বিত কাঠামোর আওতায় এক জায়গা থেকেই সেবা প্রদানের ব্যবস্থা করা হয়েছে, যা সেবার মান ও দক্ষতা উভয়ই বৃদ্ধি করবে। তিনি আরও বলেন, নাগরিক সেবা কেন্দ্রগুলো স্থানীয় পর্যায়ে সরকারের সেবাদানের বিশ্বাসযোগ্য প্রতিফলন হবে।

উল্লেখ্য, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের আয়োজনে এবং কুমিল্লা জেলা প্রশাসন ও এসপায়ার টু ইনোভেট (এটুআই)-এর সহযোগিতায় আয়োজিত এই কর্মশালায় কুমিল্লা ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার ইউনিয়ন, পৌরসভা, উপজেলা ও জেলা পরিষদ ডিজিটাল সেন্টারের নির্বাচিত ১০০ জন উদ্যোক্তা অংশগ্রহণ করেন।

কুমিল্লা জেলা প্রশাসক মোঃ রেজা হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই কর্মশালায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সিনিয়র সিস্টেম অ্যানালিস্ট মোঃ নবীর উদ্দীন এবং এসপায়ার টু ইনোভেট (এটুআই)-এর হেড অব প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্ট আব্দুল্লাহ আল ফাহিম। উক্ত কর্মশালায় স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন কুমিল্লার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) আলী রাজিব মাহমুদ মিঠুন এবং সঞ্চালনা করেন সহকারী কমিশনার মোঃ সালমান ফার্সি।


banner close