ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপে ১৫৬টি উপজেলায় ভোটগ্রহণ শেষ হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত চলে ভোটগ্রহণ। ভোট গণনা শেষে রাতে নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশ করেন রিটার্নিং কর্মকর্তারা। সারা দেশের প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর থেকে জানা যায়-
ফরিদপুর
উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপে ফরিদপুরের নগরকান্দা ও সালথা উপজেলায় ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। নগরকান্দা উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপ-কমিটির সাবেক সহসম্পাদক কাজী শাহ জামান বাবুল। আনারস প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ৩৭ হাজার ২০৯ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মোটরসাইকেল প্রতীকের প্রার্থী বর্তমান উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মনিরুজ্জামান সরদার পেয়েছেন ২৫ হাজার ২৩৭ ভোট।
অন্যদিকে সালথা উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে বর্তমান চেয়ারম্যান ওয়াদুদ মাতুব্বর বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। আনারস প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ৩৫ হাজার ৫৪৫ ভোট তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী সালথা উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও মোটরসাইকেল প্রতীকের প্রার্থী মো. ওহিদুজ্জামান পেয়েছেন ৫ হাজার ৩৪২ ভোট।
নারায়ণগঞ্জ
উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপে নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলায় ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম। ঘোড়া প্রতীকে তিনি পেয়েছেন এক লাখ ১৫ হাজার ২৫২ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী দোয়াত কলম প্রতীকের প্রার্থী মো. শাহজালাল মিয়া পেয়েছেন ১৩ হাজার ১৩২ ভোট।
বিজয়ী মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম আড়াইহাজার উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সদস্য। তিনি কালাপাহাড়িয়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান। অন্যদিকে তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মো. শাহজালাল মিয়া আড়াইহাজার উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া
দ্বিতীয় ধাপের উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা ও আখাউড়ায় উপজেলায় ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। কসবা উপজেলায় আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের ফুফাতো ভাই ছাইদুর রহমান ও আখাউড়ায় মোগড়া ইউনিয়ন পরিষদের তিনবারের সাবেক চেয়ারম্যান মনির হোসেন বেসরকারিভাবে চেয়ারম্যান নির্বাাচিত হয়েছেন।
ঘোষিত ফলাফল অনুযায়ী, কসবা উপজেলায় ছায়েদুর রহমান স্বপন কাপ-পিরিচ প্রতীকে ৮৬ হাজার ৬৯৮ ভোট পেয়ে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও কুটি ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ছিলেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বর্তমান উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের সাবেক সহকারী একান্ত সচিব রাশেদুল কাউসার ভূইয়া আনারস প্রতীকে পেয়েছেন ৩৯ হাজার ৯৫৯ ভোট।
অন্যদিকে আখাউড়া উপজেলায় মনির হোসেন ঘোড়া প্রতীকে ২৮ হাজার ৩০৯ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি উপজেলা যুবলীগের সাবেক আহ্বায়ক ও মোগড়া ইউনিয়ন পরিষদের তিনবারের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান আনারস প্রতীকে পেয়েছেন ১৪ হাজার ৫৬৩ ভোট।
রাঙামাটি
ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপে রাঙামাটির রাজস্থলী, কাপ্তাই ও বিলাইছড়ি উপজেলায় শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। রাজস্থলী উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি উবাচ মারমা আনারস প্রতীকে ৭ হাজার ৭৫ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মো. রিয়াজ উদ্দীন রানা দোয়াত কলম প্রতীকে পেয়েছেন ২ হাজার ১৮ ভোট।
অন্যদিকে কাপ্তাই উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে উপজেলা যুবলীগের সভাপতি মো. নাছির উদ্দিন দোয়াত কলম প্রতীকে ৭ হাজার ৩৬২ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও সাবেক ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আনোয়ারুল ইসলাম চৌধুরী আনারস প্রতীকে পেয়েছেন ৬ হাজার ৯৭৩ ভোট।
অপরদিকে বিলাইছড়ি উপজেলায় মোট ১৩টি কেন্দ্রের মধ্যে ৫টি হেলিসর্টি ভোটকেন্দ্র রয়েছে। দুর্গম এলাকা হওয়ায় রাত সাড়ে ৯টা পর্যন্ত ফলাফল না আসায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কোনো ফলাফল ঘোষণা করেননি। তবে বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা যায়, পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (জেএসএস) সমর্থিত দোয়াত কলম প্রতীকের বিরোত্তম তঞ্চঙ্গ্যা চেয়ারম্যান পদে বিজয়ী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
লালমনিরহাট
লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ ও আদিতমারী উপজেলায় উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপে ভোটগ্রহণ শেষ হয়েছে। দুই উপজেলায় মধ্যে আদিতমারী উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে ফারুক ইমরুল কায়েস ও কালীগঞ্জ উপজেলায় জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক রাকিবুজ্জামান আহমেদ বিজয়ী হয়েছেন।
রাত সাড়ে ৯টার দিকে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা লুৎফর কবির তাদেরকে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত ঘোষণা করেন।
আদিতমারী উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে ফারুক ইমরুল কায়েস মোটরসাইকেল প্রতীকে পেয়েছেন ৩৩ হাজার ১৩৫ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রফিকুল আলম আনারস প্রতীকে পেয়েছেন ২৯ হাজার ১৮টি ভোট
কালীগঞ্জ উপজেলায় সাবেক সমাজকল্যাণমন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদের ছেলে রাকিবুজ্জামান আহমেদ আনারস প্রতীকে পেয়েছেন ২৪ হাজার ৩০৩ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী তার চাচা উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মাহবুবুজ্জামান আহমেদ ঘোড়া প্রতীকে পেয়েছেন ১৯ হাজার ৩৫০ ভোট।
পিরোজপুর
ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে দ্বিতীয় ধাপে পিরোজপুর জেলার দুই উপজেলায় শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। মঙ্গলবার পিরোজপুরের নেছারাবাদ ও কাউখালী উপজেলার ১৫টি ইউনিয়নের মোট ১২২টি ভোটকেন্দ্রে ইভিএম পদ্ধতিতে এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
কাউখালী উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে মো. আবু সাঈদ মিঞা ও নেছারাবাদ উপজেলায় আব্দুল হক নির্বাচিত হয়েছেন। রাতে নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা সৈয়দ শফিকুল হক বেসরকারিভাবে তাদের বিজয়ী ঘোষণা করেন।
নেছারাবাদ উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে আব্দুল হক আনারস প্রতীকে ৩৮ হাজার ৬১২ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী এস এম মুইদুল ইসলাম মোটরসাইল প্রতীকে পেয়েছেন ৩৫ হাজার ৫২০ ভোট।
অন্যদিকে কাউখালী উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে মো. আবু সাঈদ মিঞা ঘোড়া প্রতীকে ১১ হাজার ২৮৪ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মো. মনিরুজ্জামান তালুকদার পল্টন কাপ-পিরিচ প্রতীকে পেয়েছেন ৬ হাজার ২৯৪ ভোট।
ঝালকাঠি
উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপে ঝালকাঠি সদর ও নলছিটি উপজেলায় ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ঝালকাঠি সদর উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান ও ঝালকাঠি জেলা আওয়ামী লীগ সহ-সভাপতি খান আরিফুর রহমান। আনারস প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ৩৩ হাজার ৯৪৩ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী দোয়াত কলম প্রতীকের প্রার্থী মো. সুলতান খান পেয়েছেন ২৫ হাজার ৯৭১ ভোট।
অন্যদিকে নলছিটি উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মো. সালাউদ্দিন খান সেলিম বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। মোটরসাইকেল প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ২৩ হাজার ৯৩৯ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাবেক মেয়র তছলিম উদ্দিন চৌধুরী আনারস প্রতীকে পেয়েছেন ১৬ হাজার ৭৮৪ ভোট।
বাগেরহাট
উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপে বাগেরহাটে ফকিরহাট, মোল্লাহাট,ও চিতলমারী উপজেলায় ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ফকিরহাট উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন শেখ ওহিদুজ্জামান বাবু। মোটরসাইকেল প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ৪৬ হাজার ৬৫৪ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আনরস প্রতীকের প্রার্থী বর্তমানে উপজেলা চেয়ারম্যান স্বপন দাস পেয়েছেন ২৯ হাজার ৪৩৭ ভোট। এ উপজেলায় ভোট কাস্ট হয়েছে ৬২.৫০ শতাংশ।
চিতলমারী উপজেলার চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হয়েছেন মো. আলমগীর হোসেন সিদ্দিকী। দোয়াত কলম প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ৩৪ হাজার ৮৮৬ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বর্তমান উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও বাগেরহাট জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি অশোক কুমার বড়াল মোটরসাইকেল প্রতীকে পেয়েছেন ২২ হাজার ৭৬৩ ভোট। এ উপজেলায় ভোট কাস্ট হয়েছে ৪৫.৭৫ শতাংশ।
অন্যদিকে মোল্লাহাট উপজেলার চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হয়েছেন বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শাহিনুর আলম ছানা। দোয়াত কলম প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ২৯ হাজার ৯০২ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বর্তমান উপজেলা শেখ নাসির উদ্দীন আনারস প্রতীকে পেয়েছেন ১৯ হাজার ৯৫৪ ভোট। এ উপজেলায় ভোট কাস্ট হয়েছে ৫৩.৭৭ শতাংশ। জেলায় গড় ভোট কাস্টিং হয়েছে ৫৪ শতাংশ।
যশোর
দ্বিতীয় ধাপের উপজেলা নির্বাচনে যশোরের ঝিকরগাছা, শার্শা ও চৌগাছা উপজেলায় ভোটগ্রহণ করা হয়েছে। ভোটগ্রহণ শেষে রাতে বেসরকারিভাবে ফলাফল ঘোষণা করেন উপজেলাগুলোর দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তারা।
চৌগাছা উপজেলা চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হয়েছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা এসএম হাবিবুর রহমান। আনারস প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ৩৩ হাজার ৫৬৫ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ ড. মোস্তানিছুর রহমান পেয়েছেন ২৮ হাজার ৯৮০ ভোট।
নির্বাচনের সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও চৌগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুম্মিতা সাহা রাত সাড়ে ৯টায় এ ফলাফল ঘোষণা করেন।
ঝিকরগাছা উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হয়েছেন বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. মনিরুল ইসলাম। আনারস প্রতীকে মনিরুল ইসলাম পেয়েছেন ৪০ হাজার ৬৪৩ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী সেলিম রেজা ঘোড়া প্রতীকে পেয়েছেন ১৮ হাজার ৪৪৩ ভোট।
অন্যদিকে শার্শা উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে মো. সোহরাব হোসেন দোয়াত কলম প্রতীক নিয়ে ৩৭ হাজার ৫৭০ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মো. অহিদুজ্জামান আনারস প্রতীকে পেয়েছেন ১২ হাজার ২৯১ ভোট।
রাজশাহী
দ্বিতীয় ধাপে রাজশাহীর বাগমারা, দুর্গাপুর ও পুঠিয়া উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বাগমারা উপজেলায় বেসরকারিভাবে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন জাকিরুল ইসলাম সান্টু। তিনি ঘোড়া প্রতীকে পেয়েছেন ৪৭ হাজার ৩২২ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আব্দুর রাজ্জাক সরকার ওরফে আর্ট বাবু পেয়েছেন ৪ হাজার ৩২১ ভোট।
পুঠিয়া উপজেলায় বেসরকারিভাবে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন আবদুস সামাদ মোল্লা। তিনি আনারস প্রতীকে পেয়েছেন ২৬ হাজার ৬৬৫ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আহসানুল হক মাসুদ ঘোড়া প্রতীকে পেয়েছেন ২৩ হাজার ৬৭৯ ভোট।
অন্যদিকে দুর্গাপুর উপজেলায় বেসরকারিভাবে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন শরীফুজ্জামান শরীফ। তিনি মোটরসাইকেল প্রতীকে পেয়েছেন ৪২ হাজার ১১৩ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আব্দুল মজিদ সরদার পেয়েছেন ২৭ হাজার ৩৩২ ভোট।
সাতক্ষীরা
ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপে সাতক্ষীরার আশাশুনি, তালা ও দেবহাটা উপজেলায় ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আশাশুনি উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও বর্তমান উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এবিএম মোস্তাকিম বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি চিংড়ি প্রতীকে পেয়েছেন ৫১ হাজার ৬৬২ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী শাহনেওয়াজ ডালিম ঘোড়া প্রতীকে পেয়েছেন ৫০ হাজার ৭০৭ ভোট।
অপরদিকে সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলা নির্বাচনে মো. আল ফেরদাউস বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি হেলিকপ্টার প্রতীকে ২৬ হাজার ৩৭৭ ভোট পেয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মো. মজিবুর রহমান মোটরসাইকেল প্রতীকে পেয়েছেন ১৭ হাজার ১৫২ ভোট।
এ ছাড়া সাতক্ষীরার তালা উপজেলা নির্বাচনে ঘোষ সনৎ কুমার বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি কাপ পিরিচ প্রতীকে ৪৬ হাজার ৪৫৮ ভোট পেয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী সরদার মশিয়ার চিংড়ি প্রতীকে পেয়েছেন ৩২ হাজার ৪১৩ ভোট।
সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী রবিউল আলম বলেছেন, আসন্ন ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে স্বল্প সময়ের মধ্যে বিপুল সংখ্যক যাত্রী ও কোরবানির পশু পরিবহন একটি বড় চ্যালেঞ্জ হলেও এবারের ঈদযাত্রা স্বস্তিদায়ক হবে।
শুক্রবার (২২ মে) কুমিল্লা জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে আয়োজিত সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ও আহতদের পরিবারের মাঝে ক্ষতিপূরণের চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেছেন। কুমিল্লা জেলা প্রশাসন ও বিআরটিএ কুমিল্লা সার্কেলের যৌথ উদ্যোগে এবং বিআরটিএ ট্রাস্টি বোর্ড ও বাংলাদেশ রেলওয়ের সহযোগিতায় এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৮৬ জনের পরিবার এবং আহত ৩৩ জনের মাঝে মোট ৪ কোটি ৮৯ লাখ টাকার ক্ষতিপূরণের চেক বিতরণ করা হয়। নিহতদের পরিবারকে ৫ লাখ টাকা করে মোট ৪ কোটি ৩০ লাখ টাকা এবং আহতদের ২ থেকে ৩ লাখ টাকা করে মোট ৫৯ লাখ টাকা প্রদান করা হয়।
অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে মন্ত্রী বলেন, অল্প সময়ের মধ্যে প্রায় আড়াই কোটি মানুষ ও কোরবানির পশু পরিবহন একটি বিশাল চ্যালেঞ্জ। দেশের অবকাঠামো ও পরিবহন ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতার কারণে প্রতি বছরই ঈদযাত্রা কঠিন হয়ে পড়ে। তবে সবার সহযোগিতা, জনসচেতনতা ও অনুকূল আবহাওয়া থাকলে এবারের ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন ও স্বস্তিদায়ক করা সম্ভব হবে।
সড়কমন্ত্রী বলেন, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক ১০ লেনে উন্নীত করার কাজ চলমান রয়েছে। পাশাপাশি দেশের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কের উন্নয়নেও সরকার কাজ করছে।
সড়ক দুর্ঘটনা প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, প্রতি বছর গড়ে প্রায় সাড়ে চার হাজার মানুষ সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারায়। চালকদের অদক্ষতা, আনফিট যানবাহন ও জনগণের অসচেতনতা দুর্ঘটনার প্রধান কারণ। এসব কমিয়ে আনতে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।
পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে দেশের ১৩ সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের জন্য ‘ঈদ উপহার’ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শুক্রবার (২২ মে) সন্ধ্যায় রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারম্যানের রাজনৈতিক কার্যালয়ের সিটি করপোরেশনের মেয়র ও প্রশাসকদের কাছে চেক হন্তান্তর করেন তিনি।
এ সময় স্থানীয় সরকারমন্ত্রী ও বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুস সালাম, উত্তর সিটির প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন, চট্টগ্রাম সিটির মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, খুলনার প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু, গাজীপুরের শওকত হোসেন সরকার, নারায়ণগঞ্জের অ্যাডভোকেট মো. সাখাওয়াত হোসেন খান, সিলেটের আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, বরিশালের বিলকিস জাহান শিরীনসহ ১৩ সিটির প্রশাসক উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে বিকেলে বাসায় আসর নামাজ পড়ে পায়ে হেঁটে গুলশানের দলীয় কার্যালয়ে যান প্রধানমন্ত্রী বলে জানান অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন।
তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ছুটির দিনে দলের কার্যালয়ে এসেছেন একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিতে। সারাদেশের সিটি করপোরেশনের প্রশাসক-মেয়রের কাছে ঈদ বোনাস হস্তান্তর করেছেন।’
সুন্দরবনে পৃথক দুটি অভিযানে দুর্ধর্ষ ডাকাত ‘দয়াল বাহিনী’ ও ‘বড় জাহাঙ্গীর বাহিনী’র কাছে জিম্মি থাকা ২১ জেলেকে উদ্ধার করেছে কোস্ট গার্ড। এ সময় অস্ত্র ও গোলাবারুদ জব্দ করা হয়।
শুক্রবার (২২ মে) কোস্ট গার্ড মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন বলেন, ‘বর্তমান সরকারের দিকনির্দেশনায় সুন্দরবন অঞ্চলে সক্রিয় সকল বনদস্যুদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড কঠোর অবস্থানে রয়েছে। এর অংশ হিসেবে কোস্ট গার্ডের নেতৃত্বে ‘অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন’ এবং ‘অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড’ নামে দুটি বিশেষ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে।
এই অভিযানের ধারাবাহিক সফলতা হিসেবে সপ্তমবারের মতো ‘অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড’-এর আওতায় দুটি পৃথক অভিযান পরিচালনা করে অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ দুর্ধর্ষ ডাকাত দয়াল বাহিনী ও বড় জাহাঙ্গীর বাহিনীর কাছে জিম্মি থাকা ২১ জেলেকে উদ্ধার করা হয়।
তিনি জানান, খুলনার কয়রা ও সাতক্ষীরার শ্যামনগর থানার জেলেরা মাছ ও কাঁকড়া ধরতে সুন্দরবনের গহিনে প্রবেশ করলে সুন্দরবনের দুর্ধর্ষ ডাকাত দয়াল বাহিনীর সদস্যরা ফিরিঙ্গি খাল ও কুনচিরখালসংলগ্ন এলাকা থেকে তাদের জিম্মি করে মুক্তিপণ দাবি করে। গোপন তথ্যে জানা যায়, জিম্মি জেলেদের নিয়ে দয়াল বাহিনীর সদস্যরা কয়রা থানায় আন্দারমানিকের টোটা, কেওড়াতলা খালসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে। প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে গত বৃহস্পতিবার ভোর ৪টায় কোস্ট গার্ড স্টেশন কয়রা ওই এলাকায় একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযান চলাকালে কোস্ট গার্ডের উপস্থিতি টের পেয়ে ডাকাতরা সুন্দরবনের ভেতরে পালিয়ে যাওয়ায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। পরে ওই এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে দুর্ধর্ষ ডাকাত দয়াল বাহিনীর কাছে জিম্মি থাকা ১০ জন জেলেকে উদ্ধার করা হয়।
অপরদিকে কোস্ট গার্ড ও র্যাবের গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায়, সুন্দরবনের কুখ্যাত ডাকাত বড় জাহাঙ্গীর বাহিনীর সদস্যরা খুলনার দাকোপ থানায় সুন্দরবনের শিবসা নদীর বড় দুদমুখ খালসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে। প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে একইদিন বিকাল ৫টায় কোস্ট গার্ড বেইস মোংলা ওই এলাকায় আরও একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে।
অভিযান চলাকালে কোস্ট গার্ডের উপস্থিতি টের পেয়ে ডাকাতরা আভিযানিক দলকে উদ্দেশ্য করে গুলি ছোড়ে। আত্মরক্ষায় পাল্টা গুলি চালালে ডাকাতরা বনের গহিনে পালিয়ে যায়। পরে ওই এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে একটি একনলা বন্দুক, ৫ রাউন্ড তাজা কার্তুজ, ১ রাউন্ড ফাঁকা কার্তুজ ও ডাকাতদের কাছে জিম্মি থাকা ১১ জন জেলে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়।
জব্দকৃত অস্ত্র ও গোলাবারুদের পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং উদ্ধারকৃত জেলেদের পরিবারের কছে হস্তান্তরের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
ঢাকার সাভারে ৭ বছরের এক শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে আব্দুর রাজ্জাক (৬৯) নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার (২১ মে) রাতে সাভারের আমিনবাজার ইউনিয়নের বিনোদবাড়ি এলাকার একটি বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে আমিনবাজার ফাঁড়ি পুলিশ।
গ্রেপ্তার আব্দুর রাজ্জাক পটুয়াখালীর বাউফলের বাসিন্দা। তিনি সাভারের আমিনবাজার ইউনিয়নের বিনোদবাড়ি এলাকার ওই বাসায় থাকতেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করে সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরমান আলী বলেন, ভুক্তভোগী শিশুটির পরিবার এবং গ্রেপ্তার ব্যক্তি একই বাড়ির পাশাপাশি দুটি ঘরে থাকে। বৃহস্পতিবার (২১ মে) বিকেলে রাজ্জাক শিশুটিকে ধর্ষণের চেষ্টা করে। বিষয়টি প্রকাশ পেলে লোকজন সন্ধ্যায় রাজ্জাকের বাড়ি ঘেরাও করে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে আটক করে।
তিনি আরও বলেন, রাতে ভুক্তভোগীর পরিবার ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে থানায় ধর্ষণচেষ্টার মামলা করেছে।
সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেছেন ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগারের প্রধান কারারক্ষী গোলাম মোস্তফা (৫৫)। গত বৃহস্পতিবার ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি। শুক্রবার (২২ মে) সকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক মো. ফারুক চিকিৎসকের বরাত দিয়ে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
কেরানীগঞ্জে বুধবার (২০ মে) রাস্তা পারাপারের সময় গাড়ির ধাক্কায় আহত হয়েছিলেন গোলাম মোস্তফা। পরে ঢামেক হাসপাতালে ওয়ান স্টপ ইমারজেন্সি সেন্টারে (ওসেক) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি।
নিহত গোলাম মোস্তফা ঠাকুরগাঁও জেলার পীরগঞ্জ থানার বন্ধনহোলা গ্রামের বাসিন্দা। তিনি মো. কালাম উদ্দিনের ছেলে এবং কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগারে প্রধান কারারক্ষী হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
নিহতের সহকর্মী কারারক্ষী মো. আরমান বলেন, গত বুধবার দুপুরের দিকে কেরানীগঞ্জে রাস্তা পারাপারের সময় একটি দ্রুত গাড়ির ধাক্কায় গুরুতর আহত হন গোলাম মোস্তফা। পরে আমরা তাকে দ্রুত ঢাকা মেডিকেলের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসি। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাতে মারা যান তিনি।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক মো. ফারুক চিকিৎসকের বরাত দিয়ে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশকে জানানো হয়েছে।
নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী মোরাজিব আহসানের ঝটিকা পরিদর্শনে কর্মস্থলে অনুপস্থিতি ও দেরিতে আসার প্রমাণ পাওয়ায় ১৬ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে তাৎক্ষণিকভাবে বদলি বা ‘স্ট্যান্ড রিলিজ’ করা হয়েছে। সম্প্রতি বরিশাল ও ঢাকার বিভিন্ন নৌপরিবহন দপ্তরে এই আকস্মিক পরিদর্শন পরিচালনা করেন প্রতিমন্ত্রী।
শুক্রবার (২২ মে) নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা কাজী আরিফ বিল্লাহ স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, পরিদর্শনকালে বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে যথাযথ কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমতি ছাড়াই কর্মস্থলে অনুপস্থিত পাওয়া যায়। এ ছাড়া অনেক কর্মচারী নির্ধারিত সময়ের অনেক পরে অফিসে উপস্থিত হন। এই ঘটনায় তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করে প্রতিমন্ত্রী দায়িত্বে অবহেলা এবং শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে দ্রুত প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।
প্রতিমন্ত্রীর নির্দেশনার পর বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) তাদের বরিশাল কার্যালয়ের মোট ১৩ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে স্ট্যান্ড রিলিজ করে। এদের মধ্যে ড্রেজিং বিভাগের ৯ জন, নৌ-সংরক্ষণ ও পরিচালন বিভাগের ২ জন, বন্দর ও পরিবহন বিভাগের ১ জন এবং হিসাব বিভাগের ১ জন রয়েছেন।
এর পাশাপাশি একই নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশন (বিআইডব্লিউটিসি) তাদের ৩ জন কর্মচারীকে তাৎক্ষণিকভাবে বদলি বা স্ট্যান্ড রিলিজ করেছে।
প্রতিমন্ত্রী রাজিব আহসান সংশ্লিষ্ট সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীকে আন্তরিকতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন এবং কঠোরভাবে অফিস সময় মেনে চলার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘সরকারি অফিসগুলোতে শৃঙ্খলা, দায়বদ্ধতা ও সেবার মান নিশ্চিত করতে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঝটিকা পরিদর্শন অব্যাহত রাখা হবে।’
টাঙ্গাইল সদর উপজেলার যমুনা নদীর ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করে অচিরেই স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণকাজ শুরুর ঘোষণা দিয়েছেন পাণিসম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি।
শুক্রবার (২২ মে) দুপুরে সদর উপজেলার কাকুয়া ইউনিয়নের চরপৌলি এলাকার নদীভাঙনকবলিত স্থান পরিদর্শন শেষে নদীর তীরবর্তী মিন্টু মেমোরিয়াল উচ্চবিদ্যালয় মাঠে ভাঙনকবলিত মানুষের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এ আশ্বাস দেন।
মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে পাণিসম্পদ মন্ত্রী বলেন, ‘টাঙ্গাইলের যমুনা নদীর বাম তীরের ভাঙনকবলিত এলাকাগুলো সুরক্ষায় প্রায় ৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। স্থানীয় মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণ এবং জনগণের স্বার্থে আগামী অর্থবছর থেকে যমুনা নদীর ভাঙন প্রতিরোধে স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণ শুরু করা হবে।’
শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি আরও বলেন, ‘সরকার নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নে দিনরাত কাজ করে যাচ্ছে।’ যমুনার ভাঙন রোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যেই তিনি সরেজমিনে পরিস্থিতি পরিদর্শনে এসেছেন।
যমুনা নদীর ভাঙনে প্রতি বছর নদীর তীরের অসংখ্য মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হন। এ দুর্ভোগ থেকে মানুষকে রক্ষা করতে সরকার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়েছে।
অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। তিনি বলেন, ‘আমরা যা বলি, তাই করি। নির্বাচনের আগে যমুনার ভাঙন রোধে স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণের যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম, সরকার তা বাস্তবায়নে উদ্যোগ নিয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের দুর্ভোগ লাঘবের পাশাপাশি এ অঞ্চলের উন্নয়নে সড়ক নির্মাণসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ বাস্তবায়ন করা হবে।’
টাঙ্গাইল সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আজগর আলীর সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় বক্তব্য দেন শরীফা হক, মোহাম্মদ শামসুল আলম সরকার, মো. শাহজাহান সিরাজ, হাসানুজ্জামিল শাহীন, মাহমুদুল হক সানু এবং খন্দকার আহমেদুল হক সাতিল।
অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, দলীয় নেতা-কর্মী এবং ভাঙনকবলিত এলাকার বিপুলসংখ্যক মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
সাতক্ষীরার তালা উপজেলায় একটি মাছের ঘের থেকে আবু সাঈদ কারিগর (৪৮) নামের এক কৃষকের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (২২ মে) সকালে উপজেলার নগরঘাটা ইউনিয়নের পাটকেলঘাটা থানার চকারকান্দা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
মৃত আবু সাঈদ কারিগর কলারোয়া উপজেলার দেওড়া গ্রামের মোন্তাজ কারিগরের ছেলে। চকারকান্দায় তার শ্বশুরবাড়ি।
স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য রফিকুল বলেন, আবু সাঈদের সঙ্গে ১৫ বছর আগে চকারকান্দা গ্রামের হাফিজুরের মেয়ের বিয়ে হয়। বছরখানেক আগে আবু সাঈদ স্ত্রীকে যৌতুকের দাবিতে মারধর করায় হাফিজুর সাতক্ষীরায় আদালতে একটি মামলা করেন। গত বৃহস্পতিবার (২১ মে) মামলার মীমাংসা হয়েছে। এরপর আবু সাঈদ হাফিজুরের বাড়িতে ছিলেন। শুক্রবার (২২ মে) সকালে শ্বশুরের ঘেরে যেতে বাড়ি থেকে বের হন তিনি। সকাল ৯টার দিকে স্বপন মণ্ডল নামের এক ব্যক্তির মাছের ঘেরে আবু সাঈদের লাশ দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
পাটকেলঘাটা থানার ওসি শফিকুর রহমান বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, হৃদ্রোগজনিত কারণে এই মৃত্যু হয়েছে। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্য মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
১১ ফুট লম্বা ও ৬ ফুট ২ ইঞ্চি উচ্চতার ষাঁড়টির ওজন প্রায় ৩২ মণ। কালো শরীর, চার পায়ের নিচের দিকে ও কপালে সাদা রঙের ছাপ। শান্ত প্রকৃতি হওয়ায় ফ্রিজিয়ান জাতের ষাঁড়টির নাম দেওয়া হয়েছে ‘ঠাণ্ডা ভোলা’। আসন্ন ঈদুল আজহার পশুর হাটে বিক্রির জন্য গরুটি বড় করেছেন যশোরের অভয়নগর উপজেলার সুন্দলী ইউনিয়নের ফুলেরগাতী গ্রামের কৃষক প্রসেনজিৎ রায় (৩১)। ঠাণ্ডা ভোলাকে দেখতে বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রায়ই লোকজন আসছেন।
প্রসেনজিৎ রায়ের গোয়ালে ছয়টি গরু ছিল। ঠাণ্ডা ভোলাকে পালন করতে গিয়ে তিনি একে একে সব গরু বিক্রি করে দিয়েছেন। তিনি জানান, সাড়ে ছয় বছর আগে একটি খামার থেকে ৩২ হাজার টাকায় ছোট্ট বকনা বাছুর কিনেছিলেন। ঘরের লক্ষ্মী মনে করে বাছুরটির নাম রাখা হয় ‘রাজলক্ষ্মী’। এরপর সে মাত্র একটি বাচ্চা প্রসব করে। সেটি এড়ে বাছুর। এখন রাজলক্ষ্মীর বাছুর ‘ঠাণ্ডা ভোলা’ বড় হয়েছে। তাকে তৈরি করা হয়েছে কোরবানি ঈদে বিক্রির জন্য। তিনি জানান, ঠাণ্ডা ভোলার ওজন করা হয়নি। তবে প্রাণিসম্পদ দপ্তর থেকে আসা লোকজন হিসাব–নিকাশ করে আমাদের জানিয়েছেন, তার ওজন ৩২ মণের বেশি। ষাঁড়টির দাম ১২ লাখ টাকা চাইছেন প্রসেনজিৎ রায়।
প্রসেনজিৎ রায় বলেন, ‘ঠাণ্ডা ভোলা ছোটবেলা থেকেই একেবারই শান্ত স্বভাবের। তাই ওর নাম রেখেছি ঠাণ্ডা ভোলা। এবার কোরবানিতে বিক্রির জন্য ওকে তৈরি করেছি। ওকে কোনো ফিড খাওয়ানো হয়নি কিংবা মোটাতাজাকরণ ইনজেকশন দেওয়া হয়নি। আমি চাই, ক্রেতারা সামনাসামনি এসে ওকে দেখে পছন্দ করে দাম বলুক। যদি দামদরে হয়, তাহলে বিক্রি করব।’
পরিবারের অন্য সদস্যদের মতো ষাঁড়টির সার্বক্ষণিক যত্ন নেন প্রসেনজিতের মা ঝরনা রায় (৫৬)। তিনি বলেন, ‘ফ্রিজিয়ান জাতের ঠাণ্ডা ভোলার বয়স চার বছর আট মাস। একেবারই প্রাকৃতিক পরিবেশে ঠাণ্ডা ভোলাকে আদর-যত্নে লালন–পালন করেছি। ওকে কাঁচা ঘাস, শর্ষের খইল, সয়াবিনের খইল, ছোলা, ভুট্টার ভুসি ও খড় খাইয়ে বড় করেছি।’
স্থানীয় পশুচিকিৎসক পবিত্র বিশ্বাস বলেন, ‘এই গরুর কৃত্রিম প্রজনন থেকে শুরু করে সবকিছুই দেখভাল করি। পরিবারের লোকজন ঠাণ্ডা ভোলাকে সন্তানের মতো লালন–পালন করে। ২৪ ঘণ্টা ফ্যানের নিচে থাকে। দিনে অন্তত একবার করে গোসল করায়, খাবার খায় অর্গানিক। কোরবানি ঈদের জন্য এই গরুর মাংস সম্পূর্ণ নিরাপদ।’
অভয়নগর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো. তৌহিদুল ইসলাম বলেন, ‘কিছুদিন আগে ওই এলাকায় গিয়ে আমি ষাঁড়টি দেখে এসেছি। ষাঁড়টি প্রাকৃতিকভাবে বড় করে তোলা হয়েছে। প্রাকৃতিকভাবে বড় করে তোলা গরুগুলো বেশ স্বাস্থ্যবান হয়। এবার ঈদে ষাঁড়টির দামও বেশি পাওয়া যাবে।’
ব্রহ্মপুত্র নদের ওপর একটি নৌকায় তোলা লাশবাহী ভ্যানের ছবি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ার পর নতুন করে আলোচনায় এসেছে কুড়িগ্রামের সীমান্তবর্তী রৌমারী ও রাজিবপুর উপজেলার যোগাযোগব্যবস্থা। ছবিটি ঘিরে স্থানীয় মানুষের দীর্ঘদিনের অবহেলা, বিচ্ছিন্নতা ও অবকাঠামোগত সংকটের বিষয়টি সামনে এসেছে। গত সোমবার (১৮ মে) ফেসবুকে ছবিটি পোস্ট করেন সামিউল ইসলাম নামের এক ব্যক্তি। তিনি লেখেন, ‘আমরা কুড়িগ্রামবাসী কতটা অসহায়, অবহেলিত ও বঞ্চিত, সেটা এই লাশবাহী গাড়ি দেখলেই বোঝা যায়। কবে হবে এই সমস্যার সমাধান?’ তার এই পোস্ট ইতোমধ্যে প্রায় এক লাখ মানুষ দেখেছেন। এতে অসংখ্য মানুষ আবেগঘন প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন।
সামিউল ইসলাম জানান, গত সোমবার (১৮ মে) রৌমারীতে তার বাড়ি ফেরার পথে চিলমারীর রমনা ঘাটে নৌকার ওপর লাশবাহী ভ্যানটি দেখতে পান। পরে সেটি মুঠোফোনে ধারণ করে ফেসবুকে পোস্ট করেন। ছবিটি কুড়িগ্রামের চরাঞ্চলের মানুষের বাস্তব জীবনের প্রতিচ্ছবি।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ছবির লাশবাহী ভ্যানটি রৌমারী থানার। কোনো অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনায় লাশ ময়নাতদন্তের জন্য জেলা শহরে নিতে এই গাড়ি ব্যবহার করা হয়। তবে রৌমারী ও রাজিবপুর উপজেলার সঙ্গে জেলা শহরের সড়ক যোগাযোগব্যবস্থা দুর্বল হওয়ায় ভ্যানটি কখনো কাঁচা ও ভাঙা রাস্তা ঠেলে, আবার কখনো নৌকায় তুলে নদী পার করতে হয়।
লাশবাহী গাড়িটির চালক আশিয়াল ইসলাম জানান, ব্রহ্মপুত্রের চরাঞ্চল পেরিয়ে লাশ নিয়ে জেলা শহরে পৌঁছানো খুবই কষ্টসাধ্য। বর্ষাকালে দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায়। ময়নাতদন্ত শেষে একইভাবে লাশ নিয়ে আবার রৌমারীতে ফিরতে হয়।
স্থানীয় সূত্র জানায়, আগে লাশ বহনের জন্য একটি কাঠের ভ্যান ব্যবহার করা হতো। সেটিতে লাশ পরিবহন ছিল ঝুঁকিপূর্ণ ও কষ্টকর। পরে রৌমারী থানা বিশেষভাবে একটি লাশবাহী ভ্যান তৈরি করে দেয়। তবে যানবাহনের পরিবর্তন হলেও এলাকার যোগাযোগব্যবস্থার উন্নতি হয়নি।
স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, রৌমারী ও রাজিবপুর দীর্ঘদিন ধরেই অবকাঠামোগতভাবে পিছিয়ে থাকা জনপদ। ব্রহ্মপুত্রের ভাঙনে প্রতি বছর বহু মানুষ ঘরবাড়ি ও জমিজমা হারাচ্ছেন। বর্ষা মৌসুমে বিস্তীর্ণ এলাকা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। অসুস্থ মানুষকে নৌকায় করে হাসপাতালে নিতে হয়, আবার মৃত্যুর পর লাশও নদী পেরিয়ে নিয়ে যেতে হয়। ভাঙা রাস্তা, কাদামাটি ও দুর্বল যোগাযোগব্যবস্থা এখানকার মানুষের নিত্যদিনের বাস্তবতা।
রৌমারী থানার ওসি কাওছার আলী বলেন, ‘অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনায় লাশ বহনের জন্য গাড়িটি তৈরি করা হয়েছে। আগে কাঠের ভ্যানে লাশ নেওয়া হতো। খোলা অবস্থায় লাশ বহন করলে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি ও বিব্রতকর পরিস্থিতি তৈরি হয়। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়েই এ বছর বিশেষভাবে ভ্যানটি তৈরি করা হয়েছে।’
পবিত্র ঈদুল আজহা ঘনিয়ে আসতেই মৌলভীবাজারের বিভিন্ন উপজেলার হাট-বাজারগুলোতে শুরু হয়েছে কামারদের দম ফেলার ফুসরতহীন ব্যস্ততা। কোরবানি পশুর মাংস কাটার দা, ছুরি, বঁটি ও চাপাতি তৈরি এবং শান দেওয়ার কাজে দিন-রাত টুং-টাং শব্দে মুখর হয়ে উঠেছে স্থানীয় কামারপাড়াগুলো।
সরেজমিনে উপজেলার ভানুগাছ বাজার, শমশেরনগর, মুন্সীবাজার, পতনঊষার ও আদমপুর বাজার ঘুরে দেখা যায়, সারা বছর অলস সময় পার করলেও এখন কারিগরদের যেন নাওয়া-খাওয়ার সময় নেই। কয়লার গনগনে আগুনে লোহা পুড়িয়ে হাতুড়ির নিখুঁত পিটুনিতে তৈরি হচ্ছে নতুন নতুন ধারালো সরঞ্জাম। একই সাথে পুরনো হাঁপরের শোঁ-শোঁ শব্দ আর হাতুড়ি পেটার আওয়াজে পুরো এলাকায় তৈরি হয়েছে এক উৎসবমুখর পরিবেশ।
বাজারে নানাবিধ সরঞ্জাম ও দামের চিত্র: এ বছর বাজারে লোহার তৈরি বিভিন্ন সরঞ্জামের দাম ক্রেতাদের নাগালের মধ্যেই রয়েছে বলে জানান ব্যবসায়ীরা। ক্রেতাদের সুবিধার্থে বিভিন্ন সরঞ্জামের দাম নিচে তুলে ধরা হলো-রেল লাইনের পাতের দা ৫০০ টাকা, রেল লাইনের পাতের চাপাতি ৫৫০ টাকা, গাড়ির স্প্রিংয়ের উন্নত চাপাতি ৭০০ থেকে ৯০০ টাকা, আকারভেদে বড় ছুরি ৬০০ থেকে ১,০০০ টাকা, বঁটি ও ছোট ছুরি ১০০ টাকার মধ্যে। এছাড়া পুরনো সরঞ্জাম শান দেওয়া ১০০ থেকে ১৫০ টাকা।
ঐতিহ্য টিকিয়ে রাখার লড়াই ও সংকট: স্থানীয় কর্মকার শ্যামল জানান, বেচাকেনা টুকটাক শুরু হলেও পশু কেনাবেচা পুরোদমে শুরু হলে আমাদের ব্যস্ততা আরও বাড়বে। তবে বাজারে লোহার দাম বাড়লেও সেই তুলনায় আমরা পণ্যের দাম বা হাড়ভাঙা পরিশ্রমের সঠিক মজুরি পাচ্ছি না।
অন্য কারিগরদের সাথে কথা বলে জানা যায়, সারা বছর পর্যাপ্ত কাজ না থাকায় অনেকেই বাধ্য হয়ে বাপ-দাদার এই আদি পেশা ছেড়ে দিচ্ছেন। ঐতিহ্যবাহী এই শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখতে সরকারি অর্থ সহায়তার দাবি জানিয়েছেন তারা।
আগেভাগেই প্রস্তুতি ক্রেতাদের; এদিকে শেষ মুহূর্তের ভিড় ও ঝামেলা এড়াতে সচেতন ক্রেতারা আগেভাগেই সেরে নিচ্ছেন কেনাকাটার কাজ। বাজারে আসা ক্রেতা রাজন ও জামাল মিয়া জানান, ঈদের শেষ সময়ে কামার দোকানগুলোতে প্রচণ্ড ভিড় থাকে। তাই পশু জবাই ও মাংস কাটার প্রয়োজনীয় উপকরণগুলো আগেভাগেই কিনে বা শান দিয়ে প্রস্তুত রাখছেন তারা।
লোহা আর আগুনের সাথে যুদ্ধ করে চলা এই কারিগরদের আশা, এবার কোরবানির ঈদ তাদের সারা বছরের মন্দা কাটিয়ে মুখে কিছুটা হলেও হাসির ঝিলিক এনে দেবে।
কালবৈশাখী ঝড়ের তাণ্ডবে প্রায় ২৮ ঘণ্টা ধরে জামালপুরের দুটি উপজেলার অধিকাংশ এলাকা বিদ্যুৎহীন রয়েছে। ঝড়ে বিভিন্ন স্থানে বিদ্যুতের খুঁটি ও তার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, উপড়ে পড়েছে গাছ। এতে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ে। গত বৃহস্পতিবার (২১ মে) সকাল ৯টা থেকে শুক্রবার (২২ মে) দুপুর ১টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ স্বাভাবিক না হওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন গ্রাহকরা। দৈনন্দিন কাজকর্ম, ব্যবসা-বাণিজ্য ও পানির সংকট নিয়েও ভোগান্তি পোহাতে হয় তাদের।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার (২১ মে) সকাল ৭টা থেকে টানা তিন ঘণ্টা জামালপুর জেলার বিভিন্ন এলাকায় ভারী বৃষ্টি ও বজ্রপাত হয়। এ সময় মাদারগঞ্জ ও ইসলামপুর উপজেলার ওপর দিয়ে তীব্র বেগে কালবৈশাখী ঝড় বয়ে যায়। ঝড়ে সড়কের পাশের অসংখ্য গাছ ও ডালপালা ভেঙে পড়ে। এতে মাদারগঞ্জ উপজেলার সাতটি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার অধিকাংশ এলাকায় এখনো বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। ওই উপজেলার প্রায় ৪০টি গ্রাম এখনো বিদ্যুৎহীন। অন্যদিকে ইসলামপুর উপজেলার পাথর্শী, পূর্ব গামারিয়া, ঢেংগারগড়, দেলিরপাড়, রৌহারকান্দাসহ ১০টি গ্রামে এখনো বিদ্যুৎ নেই।
স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন মানুষ। মুঠোফোন চার্জ দিতে না পারায় অনেকেই প্রয়োজনীয় যোগাযোগ রক্ষা করতে পারছেন না। ইন্টারনেট ও নেটওয়ার্ক সমস্যাও বেড়েছে। বিদ্যুৎ না থাকায় ফ্রিজে সংরক্ষিত খাবার নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এ ছাড়া মোটর চালাতে না পারায় অনেক বাসাবাড়িতে পানি ওঠানো যাচ্ছে না। এতে দৈনন্দিন কাজকর্ম ব্যাহত হচ্ছে।
মাদারগঞ্জ উপজেলার কড়ইচড়া ইউনিয়নের লালডোবা গ্রামের বাসিন্দা রাসেল মিয়া বলেন, ‘প্রায় ২৮ ঘণ্টা ধরে বিদ্যুৎ নেই। কখন আসবে তাও জানি না। মোবাইল চার্জ দিতে পারছি না। লোকজনের সঙ্গে যোগাযোগও করতে পারছি না। ঘরে থাকা ফ্রিজের খাবারও নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।’
ইসলামপুর উপজেলার পূর্ব গামারিয়ার বাসিন্দা মাইনুল ইসলাম বলেন, ‘বৃহস্পতিবার সকালে কারেন্ট চলে গেছে এখন পর্যন্ত আসে নাই। শুধু আজ না সামান্য বৃষ্টি হলেই কারেন্ট চলে যায়। এখন ফোনের চার্জও ঠিকভাবে দিতে পারতেছি না। আজকেও (শুক্রবার) সকাল থেকে বৃষ্টি হচ্ছে। কারেন্ট আজও আসবে কি না, তার নিশ্চয়তা নেই।’
পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির মাদারগঞ্জ জোনাল কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ঝড়ে সাতটি বিদ্যুতের খুঁটি ভেঙে গেছে। গাছের ডাল পড়ে প্রায় ৭০টি স্থানে তার ছিঁড়ে গেছে। এ ছাড়া অন্তত ১৩০টি গাছ উপড়ে পড়ে বিদ্যুৎ–সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়েছে।
পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির মাদারগঞ্জ জোনাল কার্যালয়ের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার সৈয়দা ফারজানা ইয়াসমিন বলেন, ‘বৃহস্পতিবার সকালের ঝড়-বৃষ্টিতে বিভিন্ন স্থানে গাছ উপড়ে বিদ্যুতের লাইনের ওপর পড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত খুঁটি ও লাইন মেরামতে মাঠপর্যায়ে কাজ চলছে। কয়েকটি এলাকায় আংশিক বিদ্যুৎ সরবরাহ চালু করা গেলেও জনবলসংকটের কারণে কাজ কিছুটা বিলম্বিত হচ্ছে। তবে খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে বিদ্যুৎ সরবরাহ চালুর চেষ্টা চলছে।’
জামালপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির মহাব্যবস্থাপক (চলতি দায়িত্ব) সাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘ইসলামপুর উপজেলার কাজ প্রায় শেষের দিকে। বিকেলের মধ্যে আশা করছি পুরোপুরি বিদ্যুৎ সরবরাহ চালু হবে। তবে মাদারগঞ্জ উপজেলায় বিদ্যুতের অনেক খুঁটি ভেঙে গেছে এবং তার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেখানে কাজ চলছে। কিন্তু এ উপজেলার পুরোপুরি বিদ্যুৎ সরবরাহ চালু করতে আরও সময় লাগতে পারে।’
দেড় মাসে লাগে ১২ ব্যাগ রক্ত। ছোট্ট শরীরে একের পর এক সূচের আঘাত। হাসপাতালের সাদা বিছানায় শুয়ে থেকেও ১২ বছর বয়সি সুমাইয়া আক্তার সম্পা এখনো বাঁচার স্বপ্ন দেখে। তবে তার এই স্বপ্নে বড় বাধা দারিদ্র্যতা। চতুর্থ শ্রেণির এই শিক্ষার্থীর দিন কাটছে রক্ত, জ্বর, ব্যথা আর কেমোথেরাপির আশঙ্কা নিয়ে।
চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, তার শরীরে বাসা বেঁধেছে ব্লাড ক্যান্সার। সুমাইয়ার বাড়ি শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার পোড়াগাঁও ইউনিয়নের বেকিকুড়া আমবাগান বাজার গ্রামে। তার বাবা আব্দুল করিম একজন হতদরিদ্র অটোরিকশাচালক।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, প্রায় এক দশক আগে জীবিকার তাগিদে সপরিবারে নারায়ণগঞ্জ চলে গিয়েছিলেন সুমাইয়ার বাবা আব্দুল করিম। অটোরিকশা চালিয়ে কোনোরকম ডাল-ভাত খেয়ে দিনাতিপাত করছিলেন তারা।প্রায় দুই মাস আগে হঠাৎ করেই অজ্ঞান হয়ে পড়ে তাদের তৃতীয় সন্তান সুমাইয়া।
পরিবারের সদস্যরা প্রথমে তাকে নারায়ণগঞ্জের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করেন। পরে অবস্থার অবনতি হলে নেওয়া হয় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসকেরা নিশ্চিত করেন, সুমাইয়া ব্লাড ক্যান্সারে আক্রান্ত। এখন প্রায়ই তার শরীর রক্তশূন্য হয়ে পড়ে। চিকিৎসকের পরামর্শে বারবার দিতে হচ্ছে বি-পজিটিভ রক্ত।
গত দেড় মাসে অন্তত ১২ ব্যাগ রক্ত দিতে হয়েছে তাকে। জ্বর ও অসহ্য ব্যথায় দুর্বল হয়ে পড়ছে শিশুটি। ঠিকমতো চিকিৎসা ও পুষ্টিকর খাবারের অভাবে দিন দিন নিস্তেজ হয়ে যাচ্ছে তার শরীর। পরিবারটির দুর্ভাগ্য যেন পিছু ছাড়ছে না। বড় মেয়েকে গত বছর বিয়ে দিয়েছেন তারা। মেজো ছেলে টাইফয়েডে আক্রান্ত হয়ে বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী হয়ে গেছে। আর ছোট মেয়ে সুমাইয়া এখন মরণব্যাধি ক্যান্সারের সঙ্গে লড়ছে।
সুমাইয়ার মা রিনা বেগম কান্নাজড়িত কন্ঠে বলেন, আমরা গরিব মানুষ ট্যাহা পয়সা না থাকায় মেয়েডারে চিকিৎসা করাতে পারতেছি না। তিনি জানান, গত দুই মাস আগে হঠাৎ করে সুমাইয়া অজ্ঞান হয়ে মাটিতে পড়ে যায়। তখন তারা সরা শরীর সাদা হয়ে যায় ও অবশ হয়ে যায়। প্রথমে তাকে নারায়ণগঞ্জের প্রো-একটিভ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করান। অবস্থার অবনতি হলে সেখানের চিকিৎসকরা ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করেন। ঢাকা মেডিকেল কলেজের চিকিৎসকরা সুমাইয়ার শরীরের নানা ধরনের পরীক্ষা নীরিক্ষা করার পর নিশ্চিত হন সে ব্লাড ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়েছে। এখন প্রায়ই তার শরীর সাদা হয়ে যায়। আর সাদা হয়ে গেলেই তার শরীরের বি পজিটিভ গ্রুপের রক্ত দিতে হয়। গত দেড় মাসে প্রায় ১২ ব্যাগ রক্ত ভরতে হয়েছে সুমাইয়ার শরীরে। এদিকে, সুমাইয়ার শরীরে জ্বর থাকে ও ব্যাথা করে। চিকিৎসা এবং পথ্যের অভাবে দিন দিন তার শরীর দুর্বল হয়ে যাচ্ছে।
চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, সুমাইয়াকে বাঁচাতে হলে নিয়মিত রক্ত দেওয়ার পাশাপাশি অন্তত ৮ থেকে ৯টি কেমোথেরাপি দিতে হবে। প্রতিটি কেমোথেরাপিতে খরচ হতে পারে প্রায় দেড় লাখ টাকা। সব মিলিয়ে চিকিৎসা ব্যয় দাঁড়াতে পারে ১৫ থেকে ২০ লাখ টাকার মতো, যা এই পরিবারের পক্ষে বহন করা অসম্ভব। তাই অসহায় বাবা-মা সরকারি বেসরকারি সংস্থা এবং সমাজের বিত্তবান ও মানবিক মানুষের সহায়তা কামনা করেছেন।