মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬
১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচন

দ্বিতীয় ধাপে নির্বাচিত হলেন যারা

ফাইল ছবি
সারা বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত
সারা বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত : ২২ মে, ২০২৪ ০০:২৭

ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপে ১৫৬টি উপজেলায় ভোটগ্রহণ শেষ হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত চলে ভোটগ্রহণ। ভোট গণনা শেষে রাতে নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশ করেন রিটার্নিং কর্মকর্তারা। সারা দেশের প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর থেকে জানা যায়-

ফরিদপুর

উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপে ফরিদপুরের নগরকান্দা ও সালথা উপজেলায় ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। নগরকান্দা উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপ-কমিটির সাবেক সহসম্পাদক কাজী শাহ জামান বাবুল। আনারস প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ৩৭ হাজার ২০৯ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মোটরসাইকেল প্রতীকের প্রার্থী বর্তমান উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মনিরুজ্জামান সরদার পেয়েছেন ২৫ হাজার ২৩৭ ভোট।

অন্যদিকে সালথা উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে বর্তমান চেয়ারম্যান ওয়াদুদ মাতুব্বর বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। আনারস প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ৩৫ হাজার ৫৪৫ ভোট তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী সালথা উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও মোটরসাইকেল প্রতীকের প্রার্থী মো. ওহিদুজ্জামান পেয়েছেন ৫ হাজার ৩৪২ ভোট।

নারায়ণগঞ্জ

উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপে নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলায় ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম। ঘোড়া প্রতীকে তিনি পেয়েছেন এক লাখ ১৫ হাজার ২৫২ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী দোয়াত কলম প্রতীকের প্রার্থী মো. শাহজালাল মিয়া পেয়েছেন ১৩ হাজার ১৩২ ভোট।

বিজয়ী মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম আড়াইহাজার উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সদস্য। তিনি কালাপাহাড়িয়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান। অন্যদিকে তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মো. শাহজালাল মিয়া আড়াইহাজার উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া

দ্বিতীয় ধাপের উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা ও আখাউড়ায় উপজেলায় ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। কসবা উপজেলায় আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের ফুফাতো ভাই ছাইদুর রহমান ও আখাউড়ায় মোগড়া ইউনিয়ন পরিষদের তিনবারের সাবেক চেয়ারম্যান মনির হোসেন বেসরকারিভাবে চেয়ারম্যান নির্বাাচিত হয়েছেন।

ঘোষিত ফলাফল অনুযায়ী, কসবা উপজেলায় ছায়েদুর রহমান স্বপন কাপ-পিরিচ প্রতীকে ৮৬ হাজার ৬৯৮ ভোট পেয়ে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও কুটি ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ছিলেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বর্তমান উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের সাবেক সহকারী একান্ত সচিব রাশেদুল কাউসার ভূইয়া আনারস প্রতীকে পেয়েছেন ৩৯ হাজার ৯৫৯ ভোট।

অন্যদিকে আখাউড়া উপজেলায় মনির হোসেন ঘোড়া প্রতীকে ২৮ হাজার ৩০৯ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি উপজেলা যুবলীগের সাবেক আহ্বায়ক ও মোগড়া ইউনিয়ন পরিষদের তিনবারের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান আনারস প্রতীকে পেয়েছেন ১৪ হাজার ৫৬৩ ভোট।

রাঙামাটি

ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপে রাঙামাটির রাজস্থলী, কাপ্তাই ও বিলাইছড়ি উপজেলায় শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। রাজস্থলী উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি উবাচ মারমা আনারস প্রতীকে ৭ হাজার ৭৫ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মো. রিয়াজ উদ্দীন রানা দোয়াত কলম প্রতীকে পেয়েছেন ২ হাজার ১৮ ভোট।

অন্যদিকে কাপ্তাই উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে উপজেলা যুবলীগের সভাপতি মো. নাছির উদ্দিন দোয়াত কলম প্রতীকে ৭ হাজার ৩৬২ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও সাবেক ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আনোয়ারুল ইসলাম চৌধুরী আনারস প্রতীকে পেয়েছেন ৬ হাজার ৯৭৩ ভোট।

অপরদিকে বিলাইছড়ি উপজেলায় মোট ১৩টি কেন্দ্রের মধ্যে ৫টি হেলিসর্টি ভোটকেন্দ্র রয়েছে। দুর্গম এলাকা হওয়ায় রাত সাড়ে ৯টা পর্যন্ত ফলাফল না আসায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কোনো ফলাফল ঘোষণা করেননি। তবে বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা যায়, পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (জেএসএস) সমর্থিত দোয়াত কলম প্রতীকের বিরোত্তম তঞ্চঙ্গ্যা চেয়ারম্যান পদে বিজয়ী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

লালমনিরহাট

লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ ও আদিতমারী উপজেলায় উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপে ভোটগ্রহণ শেষ হয়েছে। দুই উপজেলায় মধ্যে আদিতমারী উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে ফারুক ইমরুল কায়েস ও কালীগঞ্জ উপজেলায় জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক রাকিবুজ্জামান আহমেদ বিজয়ী হয়েছেন।

রাত সাড়ে ৯টার দিকে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা লুৎফর কবির তাদেরকে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত ঘোষণা করেন।

আদিতমারী উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে ফারুক ইমরুল কায়েস মোটরসাইকেল প্রতীকে পেয়েছেন ৩৩ হাজার ১৩৫ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রফিকুল আলম আনারস প্রতীকে পেয়েছেন ২৯ হাজার ১৮টি ভোট

কালীগঞ্জ উপজেলায় সাবেক সমাজকল্যাণমন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদের ছেলে রাকিবুজ্জামান আহমেদ আনারস প্রতীকে পেয়েছেন ২৪ হাজার ৩০৩ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী তার চাচা উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মাহবুবুজ্জামান আহমেদ ঘোড়া প্রতীকে পেয়েছেন ১৯ হাজার ৩৫০ ভোট।

পিরোজপুর

ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে দ্বিতীয় ধাপে পিরোজপুর জেলার দুই উপজেলায় শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। মঙ্গলবার পিরোজপুরের নেছারাবাদ ও কাউখালী উপজেলার ১৫টি ইউনিয়নের মোট ১২২টি ভোটকেন্দ্রে ইভিএম পদ্ধতিতে এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।

কাউখালী উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে মো. আবু সাঈদ মিঞা ও নেছারাবাদ উপজেলায় আব্দুল হক নির্বাচিত হয়েছেন। রাতে নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা সৈয়দ শফিকুল হক বেসরকারিভাবে তাদের বিজয়ী ঘোষণা করেন।

নেছারাবাদ উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে আব্দুল হক আনারস প্রতীকে ৩৮ হাজার ৬১২ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী এস এম মুইদুল ইসলাম মোটরসাইল প্রতীকে পেয়েছেন ৩৫ হাজার ৫২০ ভোট।

অন্যদিকে কাউখালী উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে মো. আবু সাঈদ মিঞা ঘোড়া প্রতীকে ১১ হাজার ২৮৪ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মো. মনিরুজ্জামান তালুকদার পল্টন কাপ-পিরিচ প্রতীকে পেয়েছেন ৬ হাজার ২৯৪ ভোট।

ঝালকাঠি

উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপে ঝালকাঠি সদর ও নলছিটি উপজেলায় ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ঝালকাঠি সদর উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান ও ঝালকাঠি জেলা আওয়ামী লীগ সহ-সভাপতি খান আরিফুর রহমান। আনারস প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ৩৩ হাজার ৯৪৩ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী দোয়াত কলম প্রতীকের প্রার্থী মো. সুলতান খান পেয়েছেন ২৫ হাজার ৯৭১ ভোট।

অন্যদিকে নলছিটি উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মো. সালাউদ্দিন খান সেলিম বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। মোটরসাইকেল প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ২৩ হাজার ৯৩৯ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাবেক মেয়র তছলিম উদ্দিন চৌধুরী আনারস প্রতীকে পেয়েছেন ১৬ হাজার ৭৮৪ ভোট।

বাগেরহাট

উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপে বাগেরহাটে ফকিরহাট, মোল্লাহাট,ও চিতলমারী উপজেলায় ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ফকিরহাট উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন শেখ ওহিদুজ্জামান বাবু। মোটরসাইকেল প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ৪৬ হাজার ৬৫৪ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আনরস প্রতীকের প্রার্থী বর্তমানে উপজেলা চেয়ারম্যান স্বপন দাস পেয়েছেন ২৯ হাজার ৪৩৭ ভোট। এ উপজেলায় ভোট কাস্ট হয়েছে ৬২.৫০ শতাংশ।

চিতলমারী উপজেলার চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হয়েছেন মো. আলমগীর হোসেন সিদ্দিকী। দোয়াত কলম প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ৩৪ হাজার ৮৮৬ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বর্তমান উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও বাগেরহাট জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি অশোক কুমার বড়াল মোটরসাইকেল প্রতীকে পেয়েছেন ২২ হাজার ৭৬৩ ভোট। এ উপজেলায় ভোট কাস্ট হয়েছে ৪৫.৭৫ শতাংশ।

অন্যদিকে মোল্লাহাট উপজেলার চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হয়েছেন বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শাহিনুর আলম ছানা। দোয়াত কলম প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ২৯ হাজার ৯০২ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বর্তমান উপজেলা শেখ নাসির উদ্দীন আনারস প্রতীকে পেয়েছেন ১৯ হাজার ৯৫৪ ভোট। এ উপজেলায় ভোট কাস্ট হয়েছে ৫৩.৭৭ শতাংশ। জেলায় গড় ভোট কাস্টিং হয়েছে ৫৪ শতাংশ।

যশোর

দ্বিতীয় ধাপের উপজেলা নির্বাচনে যশোরের ঝিকরগাছা, শার্শা ও চৌগাছা উপজেলায় ভোটগ্রহণ করা হয়েছে। ভোটগ্রহণ শেষে রাতে বেসরকারিভাবে ফলাফল ঘোষণা করেন উপজেলাগুলোর দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তারা।

চৌগাছা উপজেলা চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হয়েছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা এসএম হাবিবুর রহমান। আনারস প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ৩৩ হাজার ৫৬৫ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ ড. মোস্তানিছুর রহমান পেয়েছেন ২৮ হাজার ৯৮০ ভোট।

নির্বাচনের সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও চৌগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুম্মিতা সাহা রাত সাড়ে ৯টায় এ ফলাফল ঘোষণা করেন।

ঝিকরগাছা উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হয়েছেন বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. মনিরুল ইসলাম। আনারস প্রতীকে মনিরুল ইসলাম পেয়েছেন ৪০ হাজার ৬৪৩ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী সেলিম রেজা ঘোড়া প্রতীকে পেয়েছেন ১৮ হাজার ৪৪৩ ভোট।

অন্যদিকে শার্শা উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে মো. সোহরাব হোসেন দোয়াত কলম প্রতীক নিয়ে ৩৭ হাজার ৫৭০ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মো. অহিদুজ্জামান আনারস প্রতীকে পেয়েছেন ১২ হাজার ২৯১ ভোট।

রাজশাহী

দ্বিতীয় ধাপে রাজশাহীর বাগমারা, দুর্গাপুর ও পুঠিয়া উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বাগমারা উপজেলায় বেসরকারিভাবে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন জাকিরুল ইসলাম সান্টু। তিনি ঘোড়া প্রতীকে পেয়েছেন ৪৭ হাজার ৩২২ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আব্দুর রাজ্জাক সরকার ওরফে আর্ট বাবু পেয়েছেন ৪ হাজার ৩২১ ভোট।

পুঠিয়া উপজেলায় বেসরকারিভাবে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন আবদুস সামাদ মোল্লা। তিনি আনারস প্রতীকে পেয়েছেন ২৬ হাজার ৬৬৫ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আহসানুল হক মাসুদ ঘোড়া প্রতীকে পেয়েছেন ২৩ হাজার ৬৭৯ ভোট।

অন্যদিকে দুর্গাপুর উপজেলায় বেসরকারিভাবে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন শরীফুজ্জামান শরীফ। তিনি মোটরসাইকেল প্রতীকে পেয়েছেন ৪২ হাজার ১১৩ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আব্দুল মজিদ সরদার পেয়েছেন ২৭ হাজার ৩৩২ ভোট।

সাতক্ষীরা

ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপে সাতক্ষীরার আশাশুনি, তালা ও দেবহাটা উপজেলায় ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

আশাশুনি উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও বর্তমান উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এবিএম মোস্তাকিম বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি চিংড়ি প্রতীকে পেয়েছেন ৫১ হাজার ৬৬২ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী শাহনেওয়াজ ডালিম ঘোড়া প্রতীকে পেয়েছেন ৫০ হাজার ৭০৭ ভোট।

অপরদিকে সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলা নির্বাচনে মো. আল ফেরদাউস বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি হেলিকপ্টার প্রতীকে ২৬ হাজার ৩৭৭ ভোট পেয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মো. মজিবুর রহমান মোটরসাইকেল প্রতীকে পেয়েছেন ১৭ হাজার ১৫২ ভোট।

এ ছাড়া সাতক্ষীরার তালা উপজেলা নির্বাচনে ঘোষ সনৎ কুমার বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি কাপ পিরিচ প্রতীকে ৪৬ হাজার ৪৫৮ ভোট পেয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী সরদার মশিয়ার চিংড়ি প্রতীকে পেয়েছেন ৩২ হাজার ৪১৩ ভোট।

বিষয়:

ছদ্দবেশে দোকান ঘর থেকে ৫ বস্তা মাদকদ্রব্য গাঁজা উদ্ধার করলো র‍্যাব

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ভৈরব (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি

ছদ্দবেশে দোকান ঘর থেকে ৫ বস্তা মাদকদ্রব্য গাঁজা উদ্ধারসহ জাকির হোসেন (৩২) নামের এক মাদক কারবারিকে আটক করেছে ভৈরব র‍্যাব ক্যাম্প সদস্যরা। সে বাজিতপুর উপজেলার পিরোজপুর গ্রামের বাজেরগাও এলাকার বীরমুক্তিযোদ্ধা বদিউর রহমানের ছেলে।

মঙ্গলবার (২৬ মে) দুপুরে বাজিতপুর উপজেলার পিরোজপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে মাদকসহ কারবারিকে আটক করা হয়েছে।

র‍্যাব ক্যাম্প সুত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারে সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে সড়ক পথে মাদকের একটি বড় চালান আসছে। তারই সুত্র ধরে ভৈরব র‍্যাব ক্যাম্পের একটি আভিযানিক দল কিশোরগঞ্জ জেলার বাজিতপুর উপজেলার পিরোজপুর গ্রামের বাজেরগাও এলাকার জাকির হোসেন নামের এক কুখ্যাত মাদক কারবারির বসতবাড়িতে ছদ্দবেশে গোয়েন্দা নজরদারি চালায়। পরে মাদক কারবারির দোকান ঘরের ভিতরে খুঁড়খুটো দিয়ে ঢেকে রাখা অবস্থায় ৫ বস্তা (১১৬ কেজি) মাদকদ্রব্য গাঁজা উদ্ধার করা হয়। এসময় মাদক কারবারি জাকির হোসেনকে আটক করা হয়।

এবিষয়ে ভৈরব র‍্যাব ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার তপন সরকার জানান, কোরবানি ঈদকে সামনে রেখে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী গরুর হাটসহ বিভিন্ন দায়িত্বে ব্যস্ত থাকার সুযোগে সড়কপথে একটি চক্র সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে মাদকদ্রব্য সরবরাহ করছে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে খবর পেয়ে আমরা ছদ্দবেশ ধারণ করে গোয়েন্দা নজরদারিতে কুখ্যাত মাদক কারবারি জাকির হোসেনের দোকান ঘর থেকে ৫ বস্তায় ১১৬ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়। এই ঘটনায় কারবারিকে সংশ্লিষ্ট থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হবে তিনি জানান।


মীরসরাইয়ে মেশিনেই থেমে গেল রাসেলের জীবন, ফোটানো হলো না পরিবারের মুখে হাসি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মীরসরাই (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি

কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে কিছু টাকা জমানোর আশায় রাতভর কাজ করছিলেন ১৭ বছরের তরুণ মোহাম্মদ রাসেল। কিন্তু পরিবারের মুখে হাসি ফোটানোর সেই স্বপ্ন শেষ হয়ে গেল কারখানার মেশিনেই। চট্টগ্রামের মীরসরাই উপজেলায় ফিড মিলের সাইলোতে ঢুকে মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে তার।
মঙ্গলবার (২৬ মে) ভোর দেড়টার দিকে উপজেলার জোরারগঞ্জ ইউনিয়নের দক্ষিণ সোনাপাহাড় এলাকায় অবস্থিত নাহার এগ্রো ফিড মিলে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত রাসেল একই এলাকার মোহাম্মদ আলমগীরের একমাত্র ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ইলেকট্রিকের কাজের পাশাপাশি ঈদের আগে বাড়তি আয় করতে গত কয়েকদিন ধরে নাহার ফিড মিলে রাতের শিফটে কাজ করছিলেন রাসেল। সোমবার রাতেও কয়েকজন যুবকের সঙ্গে কারখানায় কাজ করছিলেন তিনি।
প্রত্যক্ষদর্শী মোহাম্মদ রাব্বি জানান, কাজ করার সময় হঠাৎ করে রাসেল ফিডমিলের ভুট্টা রাখার সাইলোতে তলিয়ে যায়। তিনি বলেন, ‘আমি তাকে টেনে তোলার চেষ্টা করেছি, কিন্তু পারিনি। পরে অন্যদের খবর দিলে সবাই মিলে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাই।’
পরে গুরুতর অবস্থায় রাসেলকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স মস্তাননগর হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নাহার এগ্রো ফিড মিলের ম্যানেজার মো. ফাহিম উদ্দিন বলেন, ‘রাতে কয়েকজন স্থানীয় শ্রমিক কাজ করছিল। এ সময় একজন মেশিনে আটকে যায়। পরে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।’
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান, মধ্যরাতে দুর্ঘটনায় আহত অবস্থায় এক যুবককে হাসপাতালে আনা হয়। পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, মেশিনের ভেতরে দম বন্ধ হয়ে তার মৃত্যু হয়েছে।


চলতি মাসের বেতনের দাবিতে সোনারগাঁয়ে পোশাক শ্রমিকদের মহাসড়ক অবরোধ, পুলিশের লাঠি চার্জ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
সোনারগাঁও (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি

বকেয়া বেতন ভাতার দাবিতে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে ঢাকা চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করে পোশাক শ্রমিকরা। এসময় তারা মহাসড়কের অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করে। এতে মহাসড়কে তীব্র যানজট দেখা দিয়েছে। ভোগান্তিতে পড়েছেন চালক ও যাত্রীরা।

মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলার মহাসড়কের পাশে টিপরদি এলাকায় চৈতি গার্মেন্টসের শ্রমিকরা এ অবরোধ করে। অবরোধে মহাসড়কের দুই পাশে যান চলাচল সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে যায়। এতে সোনারগাঁয়ের এক প্রান্তে মেঘনা টোলপ্লাজা ও অপর প্রান্তে কাঁচপুর পর্যন্ত প্রায় ১০ কিলোমিটার যানজট ছড়িয়ে পড়েছে। ফলে ভোগান্তিতে পড়েন ঈদ যাত্রায় ঘরমুখো মানুষ।

খবর পেয়ে সোনারগাঁ উপজেলা নির্বাহী অফিসার আসিফ আল জিনাত, সোনারগাঁ থানার ওসি মো. গোলাম সারোয়ার, পরিদর্শক তদন্ত জামালউদ্দিন ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে শ্রমিকদের মহাসড়ক থেকে বুঝিয়ে সরিয়ে দিতে চাইলে পুলিশ ও শ্রমিকদের মধ্যে শুরু হয় ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া। এসময় শ্রমিকরা পুলিশের ওপর ইট পাটকেল নিক্ষেপ করে। এক পর্যায়ে পুলিশ লাঠিচার্জ ও টিয়ারসেল নিক্ষেপ করে মহাসড়ক থেকে সরিয়ে দেয়। এদিকে শ্রমিকদের মহাসড়ক অবরোধের কারণে মহাসড়কের উভয় পাশে ১০ কিলোমিটার দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।

জানা যায়, উপজেলার টিপুরদী এলাকায় চৈতি কম্পোজিটের শ্রমিকরা বেতন-ভাতার দাবিতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভে নামে। এতে মহাসড়কের টিপুরদী থেকে মেঘনা টোলপ্লাজা ও অপরদিকে মদনপুর পর্যন্ত ১০ কিলোমিটার তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়। পরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থল পৌঁছে অবরোধকারীদের বুঝিয়ে মহা সড়ক থেকে সরানোর প্রচেষ্ঠা চালায়। তবে,বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা মহাসড়ক ছাড়তে অপরাগতা প্রকাশ করলে উত্তেজনা তৈরি হয়। বিষয়টি ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষে রূপ নেয়। একপর্যায়ে শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ টিয়ারগ্যাস রাবার বুলেট ছোড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালায়।

আন্দোলনরত শ্রমিকদের দাবি, এপ্রিল মাসের বকেয়াসহ চলতি মে মাসের বেতন ঈদের আগে পরিশোধ করতে হবে। তাদের ভাষ্য, কারখানা মালিকপক্ষ পুরো বেতন দিতে অপরাগতা প্রকাশ করায় ক্ষোভে আন্দোলন শুরু করেছেন। তবে এপ্রিল মাসের বেতন ও ঈদ বোনাস পরিশোধ করলেও মে মাসের বেতন পুরো না দিয়ে প্রত্যেক শ্রমিককে ৬ হাজার টাকা করে প্রদান করে। বাকি টাকা ঈদের পর দেবেন বলে জানিয়েছেন।
যানজটে বসে থাকা তিশা বাসের যাত্রী সাখাওয়াত হোসেন বলেন, দুপুরে মদনপুর এলাকায় পৌঁছতেই যানজটে আটকা পড়ি মোগরাপাড়া চৌরাস্তা এলাকায়। এখন গাড়ি একটুও সামনে এগোচ্ছে না।

ট্রাকচালক রজ্জব মিয়া বলেন, হঠাৎ এমন যানজট কেন হলো কিছুই বুঝতে পারছি না। সকালেও মহাসড়কে যানজট দেখিনি। চৈতি কম্পোজিটের জিএম মিজানুর রহমান বলেন, শ্রমিকরা অযুক্তিক দাবি করেছেন। তারপরও তাদের এপ্রিল মাসের বেতন ও ঈদ বোনাসের সাথে চলতি মাসের বেতন থেকে ৬ হাজার টাকা করে পরিশোধ করা হয়েছে। তারা চলতি মাস শেষ না হতেই পুরো মাসের বেতন চাচ্ছেন। তারপরও বিষয়টি আমরা বিবেচনা করবো।

কাচপুর হাইওয়ে থানার ওসি মো. শামীম শেখ বলেন, মঙ্গলবার দুপুর থেকে চৈতি গার্মেন্টসের শ্রমিকরা বেতন ও বোনাসের দাবিতে সড়ক অবরোধ করে আন্দোলন শুরু করে। এতে সড়কের একটি লেনে যানজটের সৃষ্টি হয়। সেই যানজট মেঘনা টোল প্লাজার দিকে গিয়ে ঠেকেছে। শ্রমিকদের বুঝিয়ে শুনিয়ে সড়ক থেকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছেন।

সোনারগাঁ থানার ওসি গোলাম সারোয়ার বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিতে দুই রাউন্ড টিয়ারগ্যাস ছোড়া হয়েছে। কোনো গুলি চালানো হয়নি। বর্তমানে গাড়ি চলাচল করছে।


প্রস্তুত শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দান, সকাল ৯টায় ১৯৯তম ঈদ জামাতে থাকছে বিশেষ ট্রেন

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
রাকিবুল হাসান রোকেল, কিশোরগঞ্জ

ঈদুল আজহার ১৯৯তম জামাত আয়োজনের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দানে। সকাল ৯টায় দেশের অন্যতম বৃহৎ এ ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হবে।

দূর-দূরান্ত থেকে আগত মুসল্লিদের সুবিধার্থে এবারও বিশেষ ট্রেনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। পাশাপাশি নেওয়া হয়েছে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা।

মঙ্গলবার (২৬ মে) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দানে প্রস্তুতি পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান কিশোরগঞ্জ-১ (সদর-হোসেনপুর) আসনের সংসদ সদস্য মাজহারুল ইসলাম, জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিন ও পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান।

সংসদ সদস্য মাজহারুল ইসলাম বলেন, ঈদুল ফিতরের মতো এবারও শোলাকিয়ার মুসল্লিরা নির্বিঘ্নে নামাজ আদায় করে নিরাপদে বাড়ি ফিরতে পারবেন। জেলা প্রশাসন প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আগত মুসল্লিদের থাকা-খাওয়াসহ প্রয়োজনীয় সুবিধা নিশ্চিত করা হয়েছে। তিনি সবার জন্য ঈদুল আজহার শুভেচ্ছাও জানান।

জেলা প্রশাসক ও শোলাকিয়া ঈদগাহ পরিচালনা কমিটির সভাপতি সোহানা নাসরিন বলেন, ঐতিহ্য অনুযায়ী এবারও সকাল ৯টায় জামাত শুরু হবে। এতে ইমামতি করবেন কিশোরগঞ্জ শহরের বড়বাজার জামে মসজিদের খতিব মাওলানা মুফতি আবুল খায়ের মো. ছাইফুল্লাহ।

তিনি জানান, মুসল্লিদের যাতায়াত সহজ করতে ভৈরব ও ময়মনসিংহ থেকে দুটি বিশেষ ট্রেন চালানো হবে। ভৈরব থেকে ট্রেনটি সকাল ৬টায় ছেড়ে কিশোরগঞ্জ পৌঁছাবে সকাল ৮টায়। অন্যদিকে ময়মনসিংহ থেকে ট্রেন ছাড়বে ভোর সাড়ে ৫টায় এবং কিশোরগঞ্জ পৌঁছাবে সকাল ৮টা ১০ মিনিটে। ঈদ জামাত শেষে দুপুর ১২টায় ট্রেন দুটি কিশোরগঞ্জ স্টেশন থেকে ফিরতি যাত্রা করবে।

জেলা প্রশাসক আরও বলেন, মুসল্লিদের অজুর জন্য মাঠসংলগ্ন পুকুর প্রস্তুত রাখা হয়েছে। জরুরি চিকিৎসাসেবার জন্য থাকবে মেডিকেল টিম ও অ্যাম্বুলেন্স। সুপেয় পানির ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। এ ছাড়া কিশোরগঞ্জ শহরের সরযূ বালা সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয় মাঠে সকাল ৮টায় নারীদের জন্য পৃথক ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হবে।

পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, দেশের বৃহত্তম ঈদ জামাতকে কেন্দ্র করে বহুস্তরীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পুরো ঈদগাহ ও আশপাশের এলাকাকে কয়েকটি সেক্টরে ভাগ করে নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়েছে। মাঠে পুলিশ, র‍্যাব, আনসার ও সাদা পোশাকের গোয়েন্দা সদস্যদের পাশাপাশি অ্যান্টি-টেররিজম ইউনিট (এটিইউ) দায়িত্ব পালন করবে। পুরো এলাকা থাকবে সিসিটিভি ক্যামেরা ও ড্রোন নজরদারির আওতায়।

তিনি বলেন, নিরাপত্তার স্বার্থে মুসল্লিদের শুধু জায়নামাজ সঙ্গে আনার অনুরোধ জানানো হচ্ছে। ছাতা, ব্যাগ, লাঠি বা কোনো ধরনের ধাতব বস্তু বহন না করার আহ্বান জানানো হয়েছে। তল্লাশি কার্যক্রম নির্বিঘ্ন করতে মুসল্লিদের নির্ধারিত সময়ের আগেই মাঠে উপস্থিত হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

১৮২৮ সালে যাত্রা শুরু করা শোলাকিয়া ঈদগাহ দেশের অন্যতম প্রাচীন ও বৃহত্তম ঈদ জামাতের স্থান হিসেবে পরিচিত। প্রতিবছর ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহায় লাখো মুসল্লির সমাগম ঘটে এই ঐতিহাসিক ঈদগাহে।


জঙ্গল সলিমপুরে যৌথ বাহিনীর ক্যাম্পে হামলার ঘটনায় মামলা, আসামি ৩ শতাধিক

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুরে যৌথ বাহিনীর ক্যাম্পে অতর্কিত হামলা ও নির্মাণাধীন একটি ক্যাম্প এক্সক্যাভেটর দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় মামলা দায়ের করেছে পুলিশ।
সোমবার {২৫ মে} রাতে সীতাকুণ্ড থানায় ৪৩ জনের নাম উল্লেখ করে এই মামলাটি করা হয়। সীতাকুণ্ড থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আলমগীর হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ফৌজদারহাট পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক সোহেল রানা বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেছেন।
মামলায় ঘটনাস্থল থেকে ইতিমধ্যে আটক হওয়া পাঁচজনসহ নামীয় ৪৩ জন এবং অজ্ঞাতনামা আরও দুই থেকে তিনশ জনকে আসামি করা হয়েছে। পুলিশের দাবি, উসকানি দিয়ে সরকারি সম্পত্তির বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি সাধন, পুলিশের সরকারি কাজে বাধা সৃষ্টি ও বিস্ফোরণ ঘটানোসহ সুনির্দিষ্ট বিভিন্ন ধারায় এই আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
এর আগে রোববার দিবাগত রাত ১টার দিকে জঙ্গল সলিমপুরের আলীনগর স্কুলে অবস্থিত যৌথ বাহিনীর একটি অস্থায়ী ক্যাম্পে একদল সন্ত্রাসী অতর্কিতভাবে গুলিবর্ষণ শুরু করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ও আত্মরক্ষার্থে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও পাল্টা গুলি চালালে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে চলা এই তীব্র গোলাগুলির মাঝেই সন্ত্রাসীরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একটি নির্মাণাধীন ক্যাম্প ভাঙচুর করে মাটির সাথে মিশিয়ে দেয়।
শুধু তাই নয়, যৌথ বাহিনীর যাতায়াত ও অভিযান ঠেকাতে সন্ত্রাসীরা সলিমপুরের মূল সড়কের বিভিন্ন অংশের রাস্তা কেটে চলাচলের সম্পূর্ণ অনুপযোগী করে তোলে। এই ঘটনার পর পুরো এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে এবং জড়িতদের গ্রেফতারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে।


ঈদযাত্রায় নিরাপত্তা নিশ্চিতে মহাসড়কে বিজিবির টহল

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি

পবিত্র ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে রাজধানী থেকে ঘরে ফেরা মানুষের যাত্রা নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক করতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। মঙ্গলবার সকাল থেকে মহাসড়কের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে বিজিবি নারায়ণগঞ্জ ব্যাটালিয়ন-৬২ এর সদস্যদের বিশেষ টহল কার্যক্রম শুরু হয়েছে। মূলত মহাসড়কে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড যেন না ঘটে, সে লক্ষ্যে সরকারের নির্দেশনায় এই বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

বিজিবি সূত্র জানিয়েছে, ঈদ ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে যানবাহনের পাশাপাশি যাত্রীদের চাপও বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিশেষ করে দেশের দক্ষিণ ও পূর্বাঞ্চলের মানুষ এই রুট ব্যবহার করে নিজ গন্তব্যে পৌঁছান। এমন জনবহুল সময়ে মহাসড়কে চুরি, ছিনতাই এবং ডাকাতির মতো অপরাধ সংঘটনের আশঙ্কা থাকে। যাত্রীদের এমন অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি থেকে সুরক্ষা দিতেই নারায়ণগঞ্জের মেঘনা টোল প্লাজা ও কাঁচপুর সেতুসহ আশপাশের গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় বিজিবির সশস্ত্র টহল জোরদার করা হয়েছে।

মাঠ পর্যায়ের এই কার্যক্রমে মেঘনা টোল প্লাজা এলাকায় নায়েব সুবেদার মো. আতাউর রহমানের নেতৃত্বে এবং কাঁচপুর সেতু এলাকায় হাবিলদার মো. আমিনুল ইসলামের নেতৃত্বে বিজিবি সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন। টহল দেওয়ার পাশাপাশি তারা যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং যানবাহনের স্বাভাবিক চলাচলে সহযোগিতার ওপর জোর দিচ্ছেন। ঈদযাত্রাকে নিরাপদ রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অন্যান্য ইউনিটের পাশাপাশি বিজিবির এই সক্রিয় অবস্থান সাধারণ যাত্রীদের মধ্যে স্বস্তি ও আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে।

নারায়ণগঞ্জ বিজিবি ব্যাটালিয়ন-৬২ এর অধিনায়ক মির্জা মোহাম্মদ আরাফাত এই টহল কার্যক্রমের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, ঈদযাত্রাকে নির্বিঘ্ন করতে মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে ৮ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। সাধারণ মানুষ যেন কোনো অপরাধের শিকার না হয়ে নিরাপদে পরিবারের কাছে পৌঁছাতে পারেন, সেজন্য বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আগামী দিনগুলোতে টহল ও নজরদারির পরিধি আরও বাড়ানো হবে বলেও তিনি নিশ্চিত করেছেন।

সামগ্রিকভাবে, ঈদযাত্রাকে আনন্দময় ও নিরাপদ রাখতে বিজিবির এই ভূমিকা অত্যন্ত কার্যকর হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। মহাসড়কের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় ও ট্রাফিক সিগন্যালে বিজিবি সদস্যদের এই নিয়মিত উপস্থিতি কেবল নিরাপত্তা বৃদ্ধি করবে না, বরং পরিবহন সংশ্লিষ্টদের আইন মানার ক্ষেত্রেও সজাগ রাখবে। সরকারের এই সমন্বিত প্রচেষ্টার ফলে এবার যাত্রীরা একটি সুন্দর ও নিরাপদ পরিবেশে ঈদ উদযাপনে বাড়ি ফিরতে পারবেন বলে আশা করা হচ্ছে।


কোরবানি হাটে মহিষের গুঁতোয় নিহত ২

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
জামালপুর প্রতিনিধি

জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জে কোরবানির পশুর হাটে মহিষের আক্রমণে দুজনের মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (২৫ মে) সন্ধ্যায় জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মজিবুর রহমানের মৃত্যু হয়।

গত রবিবার (২৪ মে) উপজেলার চর আমখাওয়া ইউনিয়নের সানন্দবাড়ী কোরবানির পশুর হাটে একটি মহিষের আক্রমণে রুহুল আমিন নামে একজন নিহত হন। একই ঘটনায় আরো কয়েকজন আহত হন।

নিহত মজিবুর রহমান সানন্দবাড়ী এলাকার চর মাদার গ্রামের মৃত নুর মোহাম্মদের ছেলে। অপরজন রুহুল আমিন রাজিবপুর উপজেলার জাউনিয়ার কড়াইডাঙ্গীপাড়া গ্রামের বাসিন্দা।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রবিবার স্থানীয় আকন্দপাড়া গ্রামের এক ব্যক্তি বিক্রির উদ্দেশ্যে কয়েকটি মহিষ নিয়ে সানন্দবাড়ী হাটে আসেন। হাটে আনার পর একটি মহিষ হঠাৎ উত্তেজিত হয়ে ওঠে এবং নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।

একপর্যায়ে মহিষটি হাটজুড়ে ছোটাছুটি শুরু করে এবং সামনে থাকা লোকজনকে আক্রমণ করতে থাকে। মহিষের আক্রমণ থেকে বাঁচতে হাটে থাকা মানুষজন আতঙ্কে দৌড়াদৌড়ি শুরু করেন।

এ সময় রুহুল আমিনসহ অন্তত ছয়জন আহত হন। গুরুতর আহত রুহুল আমিনকে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।

অপরদিকে আহত মজিবুর রহমানকে প্রথমে দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাকে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার সন্ধ্যায় তিনি মারা যান।

দেওয়ানগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ার হোসেন বলেন, হঠাৎ মহিষের আক্রমণে আহত মজিবুর রহমান চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত দুজনের মৃত্যু হয়েছে।

তিনি আরো জানান, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় কেউ অভিযোগ করেনি।


ট্রেনের ছাদ থেকে পড়ে যুবকের মৃত্যু

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ময়মনসিংহ প্রতিনিধি

ময়মনসিংহ নগরীর ঘুন্টি এলাকায় ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা জামালপুরগামী কমিউটার ট্রেনের ছাদ থেকে পড়ে অজ্ঞাত এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। এ সময় আরও আহত হয়েছেন দুই যুবক। আহতদের ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

ময়মনসিংহ জিআরপি থানার ওসি আখতারুজ্জামান জানান, মঙ্গলবার (২৬ মে) বেলা সাড়ে ১১টার সময় ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা ময়মনসিংহ হয়ে জামালপুরগামী কমিউটার ট্রেন যাওয়ার পথে ময়মনসিংহ নগরীর ঘুন্টি এলাকায় ট্রেনের ছাদে থাকা তিন যুবক নিচে পড়ে যান।

তিনি আরও জানান তাদের উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে অজ্ঞাত এক যুবককে কর্মরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। নিহত যুবকের নাম পরিচয় জানা যায়নি। বাকি আহত দুই জনকে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।


নারায়ণগঞ্জে ইয়াবাসহ ভারতীয় নাগরিক গ্রেপ্তার

আপডেটেড ২৬ মে, ২০২৬ ০২:০৬
নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি

নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে বিপুল পরিমাণ ইয়াবাসহ আব্দুল্লাহ হীল বাকি (২৩) নামে এক ভারতীয় নাগরিককে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব-১১। রোববার (২৫ মে) রাত সাড়ে ৮টার দিকে সিদ্ধিরগঞ্জের চিটাগাং রোড এলাকায় একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে তাকে আটক করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তি আন্তর্জাতিক মাদক চোরাচালান চক্রের একজন সক্রিয় সদস্য বলে র‍্যাব কর্মকর্তাদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে নিশ্চিত করেছেন।

র‍্যাব সূত্রে জানা গেছে, আটক আব্দুল্লাহ হীল বাকি ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের সেপাহিজালা জেলার বৈশকালা এলাকার আব্দুল কাশেমের ছেলে। তিনি বৈধ ভ্রমণ ভিসা নিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছিলেন। তবে ভ্রমণের আড়ালে তিনি দীর্ঘদিন ধরে সীমান্ত দিয়ে মাদক চোরাচালান ও সরবরাহের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলে গোয়েন্দা তথ্যে উঠে এসেছে।

জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, ওই ভারতীয় নাগরিক বাংলাদেশে এসে কুমিল্লার সীমান্তবর্তী এলাকায় অবস্থান করতেন এবং সেখান থেকে ইয়াবাসহ বিভিন্ন মাদকদ্রব্য সংগ্রহ করতেন। পরবর্তীতে বিশেষ কৌশলে এসব মাদক নারায়ণগঞ্জ, ঢাকাসহ এর আশেপাশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ ও বিক্রি করতেন তিনি। অভিযানের সময় তার কাছ থেকে ৭৬০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে, যা তিনি বিক্রির উদ্দেশ্যে ওই এলাকায় নিয়ে এসেছিলেন।

র‍্যাব-১১ এর অপারেশন অফিসার ক্যাপ্টেন রওনক এরফান খান এই অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তারা জানতে পারেন যে একজন আন্তর্জাতিক মাদক কারবারি ইয়াবার একটি বড় চালান নিয়ে চিটাগাং রোড এলাকায় অবস্থান করছেন। এই তথ্যের ভিত্তিতে দ্রুত অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানিয়েছে, ভ্রমণ ভিসার অপব্যবহার করে যারা এ ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হচ্ছে, তাদের শনাক্ত করতে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত আসামীকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে এবং এই চক্রের সাথে স্থানীয় আর কারা জড়িত আছে, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। এই ধরনের আন্তর্জাতিক মাদক চোরাচালান রুখতে র‍্যাবের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানানো হয়েছে।


চাঁদপুরে দুই লঞ্চের সংঘর্ষে ১০ যাত্রী আহত

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
চাঁদপুর জেলা প্রতিনিধি

চাঁদপুর লঞ্চঘাটে বৈরী আবহাওয়ার মধ্যে দ্রুত ভিড়তে গিয়ে দুটি যাত্রীবাহী লঞ্চের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সোমবার দুপুর ২টার দিকে ঘটা এই দুর্ঘটনায় অন্তত ১০ জন যাত্রী আহত হয়েছেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, ঢাকা থেকে আসা ‘ঈগল-৭’ ও ‘ময়ূর-২’ নামের লঞ্চ দুটির মধ্যে এই সংঘর্ষ ঘটে। ঝড়ের কবলে পড়ে লঞ্চ দুটি নিয়ন্ত্রণ হারালে এই দুর্ঘটনাটি ঘটে, যার ফলে লঞ্চ দুটির একাংশ বেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

দুর্ঘটনার সময় ঈগল-৭ লঞ্চটি ঘাটে ভেড়ার পর যাত্রীরা নামার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। ঠিক সেই মুহূর্তে তীব্র বাতাসের কারণে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ময়ূর-২ লঞ্চটি সজোরে সেটিকে ধাক্কা দেয়। আকস্মিক এই ধাক্কায় লঞ্চের ভেতরে থাকা যাত্রীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। প্রাণ বাঁচাতে হুড়োহুড়ি করে নামতে গিয়ে নারী ও শিশুসহ অন্তত ১০ জন আহত হন। এদের মধ্যে কয়েকজনকে গুরুতর অবস্থায় চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

ঝড়ের সময় লঞ্চঘাট এলাকায় এক ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। প্রবল বাতাস ও ঢেউয়ের কারণে যাত্রীরা প্রায় দুই ঘণ্টা ঘাটে আটকা পড়ে থাকেন। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় নৌ-পুলিশ, কোস্টগার্ড এবং ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা। তারা দীর্ঘ প্রচেষ্টায় আতঙ্কিত যাত্রীদের উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে সক্ষম হন। লঞ্চ মালিকদের প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, ঝড়ের তীব্রতা এতই বেশি ছিল যে তারা অতীতে এমন পরিস্থিতি খুব কমই দেখেছেন।

বিআইডব্লিউটিএ চাঁদপুরের উপপরিচালক মো. কামরুজ্জামান দুর্ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, ঝড়ের কবলে পড়ে লঞ্চ দুটির সংঘর্ষে ঘাটের চারটি পন্টুনের মধ্যে তিনটিই মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে যাত্রীদের নিরাপত্তার স্বার্থে বিকেলের পর থেকে লঞ্চ চলাচল পুনরায় স্বাভাবিক করা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পন্টুনগুলো দ্রুত সংস্কারের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।


পদ্মা নদীতে ট্রলারডুবি: ২৩ গরুসহ এক ব্যবসায়ী নিখোঁজ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি

মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলায় পদ্মা নদীতে ট্রলারডুবির এক মর্মান্তিক ঘটনায় ২৩টি কোরবানির গরুসহ আইয়ুব আলী (৪৫) নামে এক ব্যবসায়ী নিখোঁজ হয়েছেন। সোমবার দুপুরে পদ্মা সেতুর ১৫ নম্বর পিলারের সামনে ঝড়ের কবলে পড়ে এই দুর্ঘটনা ঘটে। নিখোঁজ ব্যবসায়ী আইয়ুব আলী ফরিদপুরের চরভদ্রাসনের সালিপুর গ্রামের মৃত আব্দুর রহমান মিস্ত্রির ছেলে বলে শনাক্ত করা হয়েছে। এই ঘটনায় ট্রলারে থাকা অন্যান্য ব্যবসায়ীদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।

স্থানীয় পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, ফরিদপুরের চরভদ্রাসন এলাকা থেকে ২০ জন ব্যবসায়ী মোট ২৮টি কোরবানির গরু নিয়ে ঢাকার কেরানীগঞ্জের হাটের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিলেন। দুপুর আড়াইটার দিকে ট্রলারটি যখন পদ্মা সেতুর নিচে পৌঁছায়, তখন হঠাৎ তীব্র ঝড় শুরু হয়। বৈরী আবহাওয়ার তোড়ে ট্রলারটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে তলিয়ে যায়। ট্রলারে থাকা ২০ জনের মধ্যে ১৯ জন সাঁতরে তীরে উঠতে সক্ষম হলেও ব্যবসায়ী আইয়ুব আলী নদীর স্রোতে নিখোঁজ হন।

দুর্ঘটনা কবলিত ট্রলারে থাকা ২৮টি গরুর মধ্যে মাত্র পাঁচটিকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। বাকি ২৩টি গরু তীব্র স্রোতে নদীতে ভেসে গেছে। মাওয়া নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. ইলিয়াস জানিয়েছেন, ঝড়ের তীব্রতা এবং নদীতে প্রচণ্ড ঢেউ থাকায় ট্রলারটি দ্রুত ডুবে যায়। নিখোঁজ ব্যবসায়ীর পাশাপাশি ডুবে যাওয়া ট্রলারটিরও এখন পর্যন্ত কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। এই ঘটনায় ব্যবসায়ীরা চরম আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন।

উদ্ধার অভিযানের বিষয়ে মুন্সীগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপসহকারী পরিচালক মুহাম্মদ সফিকুল ইসলাম জানান, খবর পাওয়ার পরপরই লৌহজং থেকে একটি উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। তবে পদ্মা নদীর বর্তমান পরিস্থিতি অত্যন্ত প্রতিকূল। প্রচণ্ড বাতাস এবং উত্তাল ঢেউয়ের কারণে ডুবুরি দল তাদের কার্যক্রম শুরু করতে পারছে না। নদীর স্রোত ও আবহাওয়ার উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত পূর্ণাঙ্গ উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

নৌ-পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, আবহাওয়া পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলেই নিখোঁজ ব্যবসায়ীর সন্ধানে এবং ডুবে যাওয়া ট্রলারটি শনাক্ত করতে পুনরায় অভিযান শুরু করা হবে। বর্তমানে দুর্ঘটনাস্থল ও এর আশেপাশে নৌ-পুলিশের টহল জোরদার করা হয়েছে। কোরবানির ঈদের আগ মুহূর্তে এমন দুর্ঘটনায় নিখোঁজ ব্যবসায়ীর পরিবার এবং অন্যান্য ব্যবসায়ীদের মাঝে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।


বরিশালে নৌকাডুবিতে বাবা-ছেলেসহ ৩ জন নিখোঁজ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বরিশাল জেলা প্রতিনিধি

বরিশালের হিজলায় মেঘনার শাখা নদীতে আকস্মিক ঝড়ের কবলে পড়ে একটি ইঞ্জিনচালিত নৌকা ডুবে গেছে। এ ঘটনায় বাবা-ছেলেসহ ৩ জন নিখোঁজ রয়েছেন।

সোমবার বিকেল ৪টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

নিখোঁজরা ব্যক্তিরা হলেন, হিজলা উপজেলার ধূলখোলা ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মো. নুর ইসলাম (৪৫), তার ছেলে মো. ইব্রাহিম (১২) এবং মো. হারুন বিশ্বাস (৪৫)।

বিষয়টি নিশ্চিত করে হিজলা নৌ-পুলিশ ফাড়ির ইনচার্য পরিদর্শক গৌতম চন্দ্র মন্ডল জানান, জেলে কার্ডের চাল নিয়ে আলিগঞ্জ খেয়াঘাট থেকে ধুলখোলা খেয়াঘাটের উদ্দেশ্যে একটি ইঞ্জিনচালিত নৌকা রওনা দেয়। মাঝ নদীতে যাওয়ার পর আকস্মিক ঝড় শুরু হলে নৌকাটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ডুবে যায়।

নৌকায় থাকা ৮ জনের মধ্যে ৫ জন যাত্রী পাশ দিয়ে যাওয়া অপর একটি ট্রলারে উঠে প্রাণে রক্ষা পান। তবে ৩ জন নিখোঁজ হয়ে যান।

তিনি আরো জানান, নিখোঁজদের সন্ধানে স্থানীয়রা নদীতে জাল ফেলে উদ্ধারের চেষ্টা করছেন। এছাড়াও উদ্ধার অভিযানে নৌ-পুলিশের সাথে ফায়ার সার্ভিস ও কোস্ট গার্ড সদস্যরাও অংশ নিয়েছেন।

নিখোঁজদের সন্ধানে তল্লাশি অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছেন পরিদর্শক গৌতম চন্দ্র মন্ডল।


ঈদের আগে বঞ্চনা, ৪ চা বাগানে শ্রমিকদের অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মৌলভীবাজার প্রতিনিধি

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক থেকে ঋণ না পাওয়ায় চরম অর্থ সংকটে পড়েছে দেউন্দি টি কোম্পানি লিমিটেড। এর জের ধরে কোম্পানিটির অধীনে থাকা মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জের মিরতিংগা এবং হবিগঞ্জের লালচান্দ, নোয়াপাড়া ও দেউন্দিসহ মোট চারটি চা-বাগানের শ্রমিকদের সাপ্তাহিক মজুরি (তলব) প্রদান বন্ধ করে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এর প্রতিবাদে এবং বকেয়া মজুরি পরিশোধের দাবিতে সোমবার (২৫ মে) সকাল থেকে ৪টি বাগানে একযোগে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি শুরু করেছেন সাধারণ শ্রমিকরা। পবিত্র ঈদুল আজহার ঠিক আগ মুহূর্তে মজুরি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চরম উদ্বেগ, উৎকণ্ঠা আর হতাশায় দিন কাটছে বাগানগুলোর শতাধিক মুসলিম শ্রমিক পরিবারের।
মিরতিংগা চা-বাগানের ম্যানেজার ও ডেপুটি ম্যানেজারের সই করা এক লিখিত বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, কৃষি ব্যাংক লোন না দেওয়ায় ২১ মে থেকে শ্রমিকদের সাপ্তাহিক তলব বন্ধ থাকবে। পরবর্তী তলব ব্যাংকের ঋণের ওপর নির্ভর করছে। একই সঙ্গে, যতদিন পর্যন্ত কর্তৃপক্ষ তলব দিতে পারবে না, ততদিন শ্রমিকদের কোনো প্রকার স্ববেতন বা মজুরি বহন করা হবে না বলে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত ২১ মে (বৃহস্পতিার) শ্রমিকদের সাপ্তাহিক মজুরি ও স্টাফদের বেতন-ভাতা দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু লোন না পাওয়ার অজুহাতে কর্তৃপক্ষ আকস্মিকভাবে তা বন্ধ করে দেয়। বর্তমান দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির বাজারে দৈনিক মাত্র ১৮৭.৪৩ টাকা মজুরিতে চা-শ্রমিকদের এমনিতেই ‘নুন আনতে পান্তা ফুরায়’ অবস্থা। তার ওপর সারা সপ্তাহ হাড়ভাঙা খাটুনি খেটে ঈদের মুখে এসে মজুরি না পেয়ে ক্ষোভে ফুঁসে উঠেছেন শ্রমিকরা। পূর্বঘোষিত আল্টিমেটাম অনুযায়ী সোমবার সকাল থেকে মিরতিংগা চা-বাগানের ফ্যাক্টরির সামনে জড়ো হয়ে কাজ বন্ধ রেখে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন তারা।
মিরতিংগা চা-বাগান পঞ্চায়েত সভাপতি মন্টু অলমিকের সভাপতিত্বে এই কর্মবিরতি ও আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের মনু-ধলই ভ্যালির সভাপতি ও স্থানীয় ইউপি সদস্য ধনা বাউরি, চা-ছাত্র যুব পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক মানিক প্রসাদ পাল, সিরাজুল ইসলাম জব্বার, রামনারাইন কৈরী, ইমরান নাজির এবং মহিলা দফার সর্দার নিয়তি রাজগৌড় প্রমুখ।
শ্রমিক নেতা ধনা বাউরী বলেন,"ঈদের ঠিক আগ মুহূর্তে পূর্ণ মজুরি না পাওয়ায় শ্রমিকরা বাধ্য হয়ে কাজ বন্ধ করেছেন। মিরতিংগা বাগানেই শতাধিক মুসলিম শ্রমিক পরিবার রয়েছে, যারা এই মজুরির ওপরই নির্ভরশীল। এখন তারা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।"
এদিকে চা-বাগানের এই অচলাবস্থায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন চা-শ্রমিক সংঘ মৌলভীবাজার জেলা কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শ্যামল অলমিক ও সাধারণ সম্পাদক হরিনারায়ন হাজরা। এক যুক্ত বিবৃতিতে তারা বলেন, শ্রমিকদের কেবল এই সপ্তাহের মজুরিই আটকে নেই, ২০২২ সালের এরিয়ার বকেয়া ৪ হাজার টাকাও এখনো পরিশোধ করা হয়নি। এছাড়াও প্রভিডেন্ট ফান্ডের (পিএফ) চাঁদা নিয়মিত জমা না করা এবং ন্যূনতম চিকিৎসা সেবা না মেলার অভিযোগও তোলেন তারা। নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে বকেয়া পরিশোধ করে দ্রুত বাগান চালুর বিষয়ে সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ দাবি করেন।
সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে মিরতিংগা চা-বাগানের ডেপুটি ব্যবস্থাপক রেজাউল হায়াত খান (ইমন) বলেন, "বাগানে শ্রমিকদের কোনো বকেয়া নেই। ব্যাংক থেকে গত বৃহস্পতিবার টাকা উত্তোলন করা যায়নি বলে সাময়িক সমস্যা হয়েছে। আমরা শ্রমিকদের ‘হাফ পেমেন্ট’ (অর্ধেক মজুরি) দিতে চেয়েছিলাম, কিন্তু তারা তা গ্রহণ না করে আন্দোলন শুরু করেছে।"

শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত, উদ্ভূত সমস্যা সমাধানে হবিগঞ্জের নয়াপাড়া চা-বাগান পঞ্চায়েত সভাপতি কমেট নায়েক জানিয়েছেন, বাগান কর্তৃপক্ষ ও শ্রমিক প্রতিনিধিদের মধ্যে বৈঠক চলছে। তবে চূড়ান্ত কোনো সুরাহা এখনো হয়নি। বকেয়া মজুরি ও ঈদের বোনাস নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন সাধারণ শ্রমিকরা।


banner close