ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপে ১৫৬টি উপজেলায় ভোটগ্রহণ শেষ হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত চলে ভোটগ্রহণ। ভোট গণনা শেষে রাতে নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশ করেন রিটার্নিং কর্মকর্তারা। সারা দেশের প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর থেকে জানা যায়-
ফরিদপুর
উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপে ফরিদপুরের নগরকান্দা ও সালথা উপজেলায় ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। নগরকান্দা উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপ-কমিটির সাবেক সহসম্পাদক কাজী শাহ জামান বাবুল। আনারস প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ৩৭ হাজার ২০৯ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মোটরসাইকেল প্রতীকের প্রার্থী বর্তমান উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মনিরুজ্জামান সরদার পেয়েছেন ২৫ হাজার ২৩৭ ভোট।
অন্যদিকে সালথা উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে বর্তমান চেয়ারম্যান ওয়াদুদ মাতুব্বর বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। আনারস প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ৩৫ হাজার ৫৪৫ ভোট তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী সালথা উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও মোটরসাইকেল প্রতীকের প্রার্থী মো. ওহিদুজ্জামান পেয়েছেন ৫ হাজার ৩৪২ ভোট।
নারায়ণগঞ্জ
উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপে নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলায় ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম। ঘোড়া প্রতীকে তিনি পেয়েছেন এক লাখ ১৫ হাজার ২৫২ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী দোয়াত কলম প্রতীকের প্রার্থী মো. শাহজালাল মিয়া পেয়েছেন ১৩ হাজার ১৩২ ভোট।
বিজয়ী মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম আড়াইহাজার উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সদস্য। তিনি কালাপাহাড়িয়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান। অন্যদিকে তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মো. শাহজালাল মিয়া আড়াইহাজার উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া
দ্বিতীয় ধাপের উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা ও আখাউড়ায় উপজেলায় ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। কসবা উপজেলায় আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের ফুফাতো ভাই ছাইদুর রহমান ও আখাউড়ায় মোগড়া ইউনিয়ন পরিষদের তিনবারের সাবেক চেয়ারম্যান মনির হোসেন বেসরকারিভাবে চেয়ারম্যান নির্বাাচিত হয়েছেন।
ঘোষিত ফলাফল অনুযায়ী, কসবা উপজেলায় ছায়েদুর রহমান স্বপন কাপ-পিরিচ প্রতীকে ৮৬ হাজার ৬৯৮ ভোট পেয়ে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও কুটি ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ছিলেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বর্তমান উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের সাবেক সহকারী একান্ত সচিব রাশেদুল কাউসার ভূইয়া আনারস প্রতীকে পেয়েছেন ৩৯ হাজার ৯৫৯ ভোট।
অন্যদিকে আখাউড়া উপজেলায় মনির হোসেন ঘোড়া প্রতীকে ২৮ হাজার ৩০৯ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি উপজেলা যুবলীগের সাবেক আহ্বায়ক ও মোগড়া ইউনিয়ন পরিষদের তিনবারের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান আনারস প্রতীকে পেয়েছেন ১৪ হাজার ৫৬৩ ভোট।
রাঙামাটি
ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপে রাঙামাটির রাজস্থলী, কাপ্তাই ও বিলাইছড়ি উপজেলায় শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। রাজস্থলী উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি উবাচ মারমা আনারস প্রতীকে ৭ হাজার ৭৫ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মো. রিয়াজ উদ্দীন রানা দোয়াত কলম প্রতীকে পেয়েছেন ২ হাজার ১৮ ভোট।
অন্যদিকে কাপ্তাই উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে উপজেলা যুবলীগের সভাপতি মো. নাছির উদ্দিন দোয়াত কলম প্রতীকে ৭ হাজার ৩৬২ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও সাবেক ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আনোয়ারুল ইসলাম চৌধুরী আনারস প্রতীকে পেয়েছেন ৬ হাজার ৯৭৩ ভোট।
অপরদিকে বিলাইছড়ি উপজেলায় মোট ১৩টি কেন্দ্রের মধ্যে ৫টি হেলিসর্টি ভোটকেন্দ্র রয়েছে। দুর্গম এলাকা হওয়ায় রাত সাড়ে ৯টা পর্যন্ত ফলাফল না আসায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কোনো ফলাফল ঘোষণা করেননি। তবে বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা যায়, পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (জেএসএস) সমর্থিত দোয়াত কলম প্রতীকের বিরোত্তম তঞ্চঙ্গ্যা চেয়ারম্যান পদে বিজয়ী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
লালমনিরহাট
লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ ও আদিতমারী উপজেলায় উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপে ভোটগ্রহণ শেষ হয়েছে। দুই উপজেলায় মধ্যে আদিতমারী উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে ফারুক ইমরুল কায়েস ও কালীগঞ্জ উপজেলায় জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক রাকিবুজ্জামান আহমেদ বিজয়ী হয়েছেন।
রাত সাড়ে ৯টার দিকে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা লুৎফর কবির তাদেরকে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত ঘোষণা করেন।
আদিতমারী উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে ফারুক ইমরুল কায়েস মোটরসাইকেল প্রতীকে পেয়েছেন ৩৩ হাজার ১৩৫ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রফিকুল আলম আনারস প্রতীকে পেয়েছেন ২৯ হাজার ১৮টি ভোট
কালীগঞ্জ উপজেলায় সাবেক সমাজকল্যাণমন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদের ছেলে রাকিবুজ্জামান আহমেদ আনারস প্রতীকে পেয়েছেন ২৪ হাজার ৩০৩ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী তার চাচা উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মাহবুবুজ্জামান আহমেদ ঘোড়া প্রতীকে পেয়েছেন ১৯ হাজার ৩৫০ ভোট।
পিরোজপুর
ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে দ্বিতীয় ধাপে পিরোজপুর জেলার দুই উপজেলায় শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। মঙ্গলবার পিরোজপুরের নেছারাবাদ ও কাউখালী উপজেলার ১৫টি ইউনিয়নের মোট ১২২টি ভোটকেন্দ্রে ইভিএম পদ্ধতিতে এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
কাউখালী উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে মো. আবু সাঈদ মিঞা ও নেছারাবাদ উপজেলায় আব্দুল হক নির্বাচিত হয়েছেন। রাতে নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা সৈয়দ শফিকুল হক বেসরকারিভাবে তাদের বিজয়ী ঘোষণা করেন।
নেছারাবাদ উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে আব্দুল হক আনারস প্রতীকে ৩৮ হাজার ৬১২ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী এস এম মুইদুল ইসলাম মোটরসাইল প্রতীকে পেয়েছেন ৩৫ হাজার ৫২০ ভোট।
অন্যদিকে কাউখালী উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে মো. আবু সাঈদ মিঞা ঘোড়া প্রতীকে ১১ হাজার ২৮৪ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মো. মনিরুজ্জামান তালুকদার পল্টন কাপ-পিরিচ প্রতীকে পেয়েছেন ৬ হাজার ২৯৪ ভোট।
ঝালকাঠি
উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপে ঝালকাঠি সদর ও নলছিটি উপজেলায় ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ঝালকাঠি সদর উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান ও ঝালকাঠি জেলা আওয়ামী লীগ সহ-সভাপতি খান আরিফুর রহমান। আনারস প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ৩৩ হাজার ৯৪৩ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী দোয়াত কলম প্রতীকের প্রার্থী মো. সুলতান খান পেয়েছেন ২৫ হাজার ৯৭১ ভোট।
অন্যদিকে নলছিটি উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মো. সালাউদ্দিন খান সেলিম বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। মোটরসাইকেল প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ২৩ হাজার ৯৩৯ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাবেক মেয়র তছলিম উদ্দিন চৌধুরী আনারস প্রতীকে পেয়েছেন ১৬ হাজার ৭৮৪ ভোট।
বাগেরহাট
উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপে বাগেরহাটে ফকিরহাট, মোল্লাহাট,ও চিতলমারী উপজেলায় ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ফকিরহাট উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন শেখ ওহিদুজ্জামান বাবু। মোটরসাইকেল প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ৪৬ হাজার ৬৫৪ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আনরস প্রতীকের প্রার্থী বর্তমানে উপজেলা চেয়ারম্যান স্বপন দাস পেয়েছেন ২৯ হাজার ৪৩৭ ভোট। এ উপজেলায় ভোট কাস্ট হয়েছে ৬২.৫০ শতাংশ।
চিতলমারী উপজেলার চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হয়েছেন মো. আলমগীর হোসেন সিদ্দিকী। দোয়াত কলম প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ৩৪ হাজার ৮৮৬ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বর্তমান উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও বাগেরহাট জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি অশোক কুমার বড়াল মোটরসাইকেল প্রতীকে পেয়েছেন ২২ হাজার ৭৬৩ ভোট। এ উপজেলায় ভোট কাস্ট হয়েছে ৪৫.৭৫ শতাংশ।
অন্যদিকে মোল্লাহাট উপজেলার চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হয়েছেন বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শাহিনুর আলম ছানা। দোয়াত কলম প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ২৯ হাজার ৯০২ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বর্তমান উপজেলা শেখ নাসির উদ্দীন আনারস প্রতীকে পেয়েছেন ১৯ হাজার ৯৫৪ ভোট। এ উপজেলায় ভোট কাস্ট হয়েছে ৫৩.৭৭ শতাংশ। জেলায় গড় ভোট কাস্টিং হয়েছে ৫৪ শতাংশ।
যশোর
দ্বিতীয় ধাপের উপজেলা নির্বাচনে যশোরের ঝিকরগাছা, শার্শা ও চৌগাছা উপজেলায় ভোটগ্রহণ করা হয়েছে। ভোটগ্রহণ শেষে রাতে বেসরকারিভাবে ফলাফল ঘোষণা করেন উপজেলাগুলোর দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তারা।
চৌগাছা উপজেলা চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হয়েছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা এসএম হাবিবুর রহমান। আনারস প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ৩৩ হাজার ৫৬৫ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ ড. মোস্তানিছুর রহমান পেয়েছেন ২৮ হাজার ৯৮০ ভোট।
নির্বাচনের সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও চৌগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুম্মিতা সাহা রাত সাড়ে ৯টায় এ ফলাফল ঘোষণা করেন।
ঝিকরগাছা উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হয়েছেন বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. মনিরুল ইসলাম। আনারস প্রতীকে মনিরুল ইসলাম পেয়েছেন ৪০ হাজার ৬৪৩ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী সেলিম রেজা ঘোড়া প্রতীকে পেয়েছেন ১৮ হাজার ৪৪৩ ভোট।
অন্যদিকে শার্শা উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে মো. সোহরাব হোসেন দোয়াত কলম প্রতীক নিয়ে ৩৭ হাজার ৫৭০ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মো. অহিদুজ্জামান আনারস প্রতীকে পেয়েছেন ১২ হাজার ২৯১ ভোট।
রাজশাহী
দ্বিতীয় ধাপে রাজশাহীর বাগমারা, দুর্গাপুর ও পুঠিয়া উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বাগমারা উপজেলায় বেসরকারিভাবে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন জাকিরুল ইসলাম সান্টু। তিনি ঘোড়া প্রতীকে পেয়েছেন ৪৭ হাজার ৩২২ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আব্দুর রাজ্জাক সরকার ওরফে আর্ট বাবু পেয়েছেন ৪ হাজার ৩২১ ভোট।
পুঠিয়া উপজেলায় বেসরকারিভাবে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন আবদুস সামাদ মোল্লা। তিনি আনারস প্রতীকে পেয়েছেন ২৬ হাজার ৬৬৫ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আহসানুল হক মাসুদ ঘোড়া প্রতীকে পেয়েছেন ২৩ হাজার ৬৭৯ ভোট।
অন্যদিকে দুর্গাপুর উপজেলায় বেসরকারিভাবে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন শরীফুজ্জামান শরীফ। তিনি মোটরসাইকেল প্রতীকে পেয়েছেন ৪২ হাজার ১১৩ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আব্দুল মজিদ সরদার পেয়েছেন ২৭ হাজার ৩৩২ ভোট।
সাতক্ষীরা
ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপে সাতক্ষীরার আশাশুনি, তালা ও দেবহাটা উপজেলায় ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আশাশুনি উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও বর্তমান উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এবিএম মোস্তাকিম বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি চিংড়ি প্রতীকে পেয়েছেন ৫১ হাজার ৬৬২ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী শাহনেওয়াজ ডালিম ঘোড়া প্রতীকে পেয়েছেন ৫০ হাজার ৭০৭ ভোট।
অপরদিকে সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলা নির্বাচনে মো. আল ফেরদাউস বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি হেলিকপ্টার প্রতীকে ২৬ হাজার ৩৭৭ ভোট পেয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মো. মজিবুর রহমান মোটরসাইকেল প্রতীকে পেয়েছেন ১৭ হাজার ১৫২ ভোট।
এ ছাড়া সাতক্ষীরার তালা উপজেলা নির্বাচনে ঘোষ সনৎ কুমার বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি কাপ পিরিচ প্রতীকে ৪৬ হাজার ৪৫৮ ভোট পেয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী সরদার মশিয়ার চিংড়ি প্রতীকে পেয়েছেন ৩২ হাজার ৪১৩ ভোট।
গত ৪ আগস্ট ২০২৫ তারিখে অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ কর্তৃক ২০২৫-২৬ কর বছরের জন্য www.etaxnbr.gov.bd ওয়েবসাইটের মাধ্যমে অনলাইনে ই-রিটার্ন দাখিল কার্যক্রম শুভ উদ্বোধন পর থেকে সম্মানিত করদাতাগণ অত্যন্ত ইতিবাচকভাবে সাড়া দিয়ে অদ্যাবধি ২০ লক্ষের বেশী ই-রিটার্ন দাখিল করেছেন।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড এক বিশেষ আদেশের মাধ্যমে এ বছর ৬৫ (পঁয়ষট্টি) বছর বা তদূর্ধ্ব বয়সের প্রবীণ করদাতা, শারীরিকভাবে অসমর্থ বা বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন করদাতা, বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশী করদাতা, মৃত করদাতার পক্ষে আইনগত প্রতিনিধি কর্তৃক রিটার্ন দাখিল এবং বাংলাদেশে কর্মরত বিদেশী নাগরিকগণ ব্যতীত সকল ব্যক্তি শ্রেণির করদাতার অনলাইনে আয়কর রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক করেছে। ২০২৫-২৬ করবছরে বেশ কয়েক শ্রেণির করদাতাগণকে অনলাইনে রিটার্ন দাখিলের বাধ্যবাদকতা হতে অব্যাহতি দেয়া হলেও তাঁরা ইচ্ছা পোষণ করলে অনলাইনে ই-রিটার্ন দাখিল করতে পারছেন। অন্যদিকে ই-রিটার্ন সিস্টেমে নিবন্ধন সংক্রান্ত সমস্যার কারণে কোন করদাতা অনলাইনে আয়কর রিটার্ন দাখিলে সমর্থ না হলে ১৫ ডিসেম্বর, ২০২৫ তারিখের মধ্যে সংশ্লিষ্ট উপকর কমিশনারের নিকট সুনির্দিষ্ট যৌক্তিকতাসহ আবেদন করলে সংশ্লিষ্ট অতিরিক্ত/যুগ্মকর কমিশনারের অনুমোদনক্রমে তিনি পেপার রিটার্ন দাখিল করতে পারবেন।
এবছর করদাতার পক্ষে তাঁর ক্ষমতাপ্রাপ্ত প্রতিনিধিও অনলাইনে ই-রিটার্ন দাখিল করতে পারছেন। এছাড়া, বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশী করদাতাগণের ক্ষেত্রে অনলাইনে রিটার্ন দাখিলের বাধ্যবাদকতা না থাকলেও তাঁর পাসপোর্ট নম্বর, জাতীয় পরিচয় পত্র নম্বর, ই-মেইল এড্রেস ইত্যাদি তথ্য [email protected] ই-মেইলে প্রেরণ পূর্বক আবেদন করলে আবেদনকারীর ই-মেইলে OTP এবং Registration Link প্রেরণ করা হচ্ছে এবং এর মাধ্যমে বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশী করদাতাগণও ই-রিটার্ন সিস্টেমে রেজিস্ট্রেশন করত: সহজেই অনলাইনে আয়কর রিটার্ন দাখিল করতে পারছেন।
কোনরুপ কাগজপত্র বা দলিলাদি upload আপলোড না করে সম্মানিত করদাতাগণ তাঁদের আয়, ব্যয়, সম্পদ ও দায়ের প্রকৃত তথ্য ই-রিটার্ন সিস্টেমে এন্ট্রি করে সহজে ঝামেলাহীনভাবে ঘরে বসেই ডেবিট কার্ড, ক্রেডিট কার্ড, ইন্টারনেট ব্যাংকিং অথবা মোবাইল ফাইন্যানশিয়াল সার্ভিস (বিকাশ, নগদ ইত্যাদি) এর মাধ্যমে অনলাইনে আয়কর পরিশোধ করে ই-রিটার্ন দাখিল করে তাৎক্ষণিকভাবে নিজেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে ই-রিটার্ন দাখিলের acknowledgement slip এবং প্রয়োজনীয় তথ্য উল্লেখপূর্বক স্বয়ংক্রিয়ভাবে আয়কর সনদ প্রিন্ট নিতে পারেন বিধায় দেশে-বিদেশে অবস্থানরত সকল বাংলাদেশী করদাতার কাছে ই-রিটার্ন দাখিল বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।
ই-রিটার্ন দাখিল প্রক্রিয়া সহজবোধ্য করার জন্য জাতীয় রাজস্ব বোর্ড গত বছরের ন্যায় এ বছরেও সম্মানিত করদাতাগণকে অনলাইন রিটার্ন দাখিলের জন্য প্রশিক্ষণ দিয়েছে। করদাতাগণ ছাড়াও জাতীয় রাজস্ব বোর্ড এ বছর করদাতার ক্ষমতাপ্রাপ্ত প্রতিনিধি তথা আয়কর আইনজীবী, চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যন্টস, কস্ট এন্ড ম্যানেজমেন্ট অ্যাকাউন্ট্যন্টস এবং চার্টার্ড সেক্রেটারিজগণকেও ই-রিটার্ন দাখিল প্রক্রিয়ার ওপর প্রশিক্ষণ প্রদান করেছে।
ই-রিটার্ন সংক্রান্ত যেকোন সমস্যায় করদাতাদের সহায়তা প্রদানের জন্য জাতীয় রাজস্ব বোর্ড একটি কল সেন্টার স্থাপন করেছে। উক্ত কল সেন্টারের ০৯৬৪৩ ৭১ ৭১ ৭১ নম্বরে ফোন করে করদাতাগণ e-Return সংক্রান্ত প্রশ্নের তাৎক্ষণিক টেলিফোনিক সমাধান পাচ্ছেন। এছাড়া, www.etaxnbr.gov.bd এর eTax Service অপশন হতে করদাতাগণ e-Return সংক্রান্ত যে কোন সমস্যা লিখিতভাবে জানালে তার সমাধান পাচ্ছেন। অধিকন্তু, সারাদেশের সকল কর অঞ্চলে স্থাপিত ই-রিটার্ন হেল্প-ডেস্ক হতে অফিস চলাকালীন সময়ে ই-রিটার্ন দাখিল বিষয়ক সকল সেবা ও পরামর্শ প্রদান করা হচ্ছে। সম্মানিত করদাতাগণ নিজ নিজ কর অঞ্চলে স্ব-শরীরে উপস্থিত হয়ে অথবা টেলিফোনের মাধ্যমে ই-রিটার্ন দাখিল সংক্রান্ত যাবতীয় সেবা গ্রহণ করছেন।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড সকল সম্মানিত ব্যক্তি করদাতাকে ই-রিটার্ন সিস্টেম ব্যবহার করে আগামী ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখের মধ্যে ২০২৫-২০২৬ করবর্ষের আয়কর রিটার্ন দাখিলের জন্য বিনীত অনুরোধ করছে।
মায়ের অবস্থা সংকটাপন্ন জানিয়ে দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
ফেসবুক পোস্টে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বড় ছেলে তারেক রহমান দেশবাসীর কাছে দোয়া চান।
শনিবার সকাল পৌনে ৯টার দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেইজে দেওয়া পোস্টে এসব কথা বলেন তারেক রহমান।
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া গুরুতর অসুস্থ ও সংকটাপন্ন অবস্থায় হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যায় রয়েছেন। তাঁর রোগমুক্তির জন্য দলমত নির্বিশেষে দেশের সকল স্তরের নাগরিক আন্তরিকভাবে দোয়া অব্যাহত রেখেছেন। মাননীয় প্রধান উপদেষ্টা তাঁর রোগমুক্তির জন্য দোয়ার সাথে সাথে চিকিৎসার সর্বত সহায়তার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছেন।’
তারেক রহমান আরও লেখেন ‘দেশ বিদেশের চিকিৎসক দল বরাবরের মতো তাঁদের উচ্চমানের পেশাদারিত্ব ছাড়াও সর্বোচ্চ আন্তরিকত সেবা প্রদান অব্যাহত রেখেছেন। বন্ধু প্রতীম একাধিক রাষ্ট্রের পক্ষ থেকেও উন্নত চিকিৎসাসহ সম্ভাব্য সব প্রকার সহযোগিতার আকাঙ্ক্ষা ব্যক্ত করা হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘সর্বজন শ্রদ্ধেয়া বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি সবার আন্তরিক দোয়া ও ভালোবাসা প্রদর্শন করায় জিয়া পরিবারের পক্ষ থেকে সবার প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ ও গভীর কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি। একই সাথে বেগম খালেদা জিয়ার আশু রোগমুক্তির জন্য সবার প্রতি দোয়া অব্যাহত রাখার জন্য ঐকান্তিক অনুরোধ জানাচ্ছি।’
এভারকেয়ার হাসপাতালে গত রোববার থেকে ভর্তি আছেন খালেদা জিয়া। অধ্যাপক শাহাবুদ্দিন তালুকদারের নেতৃত্বে মেডিকেল বোর্ডের নিবিড় তত্ত্বাবধায়নে তাঁর চিকিসা চলছে।
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘গত বৃহস্পতিবার আমি রাত ২টা পর্যন্ত এভারকেয়ার হাসপাতালে ছিলাম। ডাক্তাররা ম্যাডামকে নিবিড় পর্যবেক্ষনে চিকিৎসা দিচ্ছেন।’
শুক্রবার মহাসচিব জানান, বিএনপি চেয়ারপারসনের শারীরিক অবস্থা সংকটময় বলে জানিয়েছেন চিকিৎসক। সূত্র: বাসস
বাংলাদেশের নাম যদি বাংলাদেশই থাকে, তবে জামায়াত কখনোই দেশের ক্ষমতায় যেতে পারবে না বলে মন্তব্য করেছেন কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী, বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান।
শুক্রবার বিকেলে ইটনা উপজেলার মৃগা ইউনিয়ন বিএনপির আয়োজিত কর্মী সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বক্তৃতায় তিনি অভিযোগ করে বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে তাকে নিয়ে বিভিন্নভাবে অপমান-অবমাননা করা হয়েছে। “কালকেও আমাকে প্রচণ্ড বকা দেওয়া হয়েছে। কেন এসব বলা হচ্ছে, আমি বুঝি না,” যোগ করেন তিনি।
ফজলুর রহমান বলেন, “বাংলাদেশের নাম যদি বাংলাদেশ থাকে, তবে জামায়াত কোনোদিন ক্ষমতায় যেতে পারবে না। কারণ আল্লাহ মোনাফেকদের ফেভার করেন না। এই কথাগুলো বললেই তারা আমার বক্তব্য কাটছাঁট করে দেখায়।”
তিনি আরও বলেন, “আমাকে নিয়ে অপপ্রচার করছে স্বাধীনতাবিরোধী জামায়াত। তারা আমাকে ‘ফজা পাগলা’ বলে ডাকছে। যারা এ ধরনের কথা বলে তারা মুক্তিযুদ্ধবিরোধী শক্তি।”
তিনি বলেন, জামায়াত ইতিহাস বিকৃতির চেষ্টা করছে। “তারা বলে ৪৭ সালে নাকি মুক্তিযুদ্ধ হয়েছিল, ২৪ সালে শেষ যুদ্ধটা হয়েছে আর ৭১ সালে শুধু একটা গণ্ডগোল হয়েছিল। তারা মুক্তিযুদ্ধকে অস্বীকার করতে চায়।”
তিনি আরও বলেন, “তিন দিন অপেক্ষা করেছি। দেখি কেউ প্রতিবাদ করে না। দলও চুপ। তাই জীবন-মৃত্যুর ঝুঁকি নিয়ে বলেছি, রাজাকার-আলবদরের বংশধরেরা, এখনো বেঁচে আছি রে। মুক্তিযুদ্ধ আছে, থাকবে। মুক্তিযুদ্ধকে শেষ করতে চাইলে আরেকটা রাজনৈতিক লড়াই হবে।”
ফজলুর রহমান বলেন, আপনাদের জন্য আমি সম্মান বয়ে আনতে পারি নাই, আপনাদের জন্য একটা টাইটেল এনেছি৷ সেই টাইটেলটা হলো, আমি হইলাম ফজা পাগলা। যে হারামজাদারা আমাকে এই টাইটেলটা দিয়েছে তাদের নামটা হলো, স্বাধীনতাবিরোধী, মুক্তিযুদ্ধবিরোধী শক্তি জামায়াত। তাদের বিরুদ্ধে কথা বললেই নানা অপবাদ দিতে শুরু করে। তাদেরকে যদি ভোট দেন, তাহলে আপনারা আমার মৃতদেহই পাবেন। তাদেরকে কি ভোট দেবেন? দেবেন?’
নিজের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অপপ্রচারের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “বাপ-দাদার নাম নাই এমন লোকজন আমার নাম বিকৃত করে।
ফজলুর রহমান আরও বলেন, ৫ আগস্টের পরে কয়েকটি অস্ত্র চুরি করেছে, এসব দিয়ে ফজলু রহমানকে হত্যা করলেও মুক্তিযুদ্ধ শেষ হবে না।’ যতদিন চন্দ্র-সূর্য থাকবে, পদ্মা-মেঘনা-যমুনা থাকবে ততদিন মুক্তিযুদ্ধকে কেউ ধ্বংস করতে পারবে না। আমি সেই মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে। আমি মুক্তিযুদ্ধ বেইচ্ছা ভাত খাইনা'।
সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন তাঁর সহধর্মিণী ও জেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি উম্মে কুলসুম রেখা, জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আমিনুল ইসলাম রতন, ইটনা উপজেলা বিএনপির সভাপতি এস এম কামাল হোসেন, সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিকুর রহমান স্বপনসহ স্থানীয় নেতারা।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরগুনা-০২ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও বিএনপির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান আলহাজ্ব নুরুল ইসলাম মণি বলেছেন, আসন্ন নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে বিএনপি রাষ্ট্র ক্ষমতায় গেলে এবং তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হলে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ৫৪ বছরের বঞ্চনা ঘুচে যাবে। ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার এ নীতি অর্থাৎ তাদের সাংবিধানিক অধিকার প্রতিষ্ঠিত হবে। তাদের জান-মালের নিরাপত্তাসহ সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। তিনি শুক্রবার (২৮ নভেম্বর) সন্ধ্যায় বরগুনার বেতাগী পৌরসভার জেলে পাড়ায় স্থানীয় বিএনপি কর্তৃক আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে একথা বলেন।
তিনি বলেন, বিএনপি যতবার রাষ্ট্র ক্ষমতায় এসেছে, ততবার দেশে উন্নয়ন হয়েছে। বরগুনা-০২ আসনকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে। ভবিষ্যতেও এ ধারা অব্যাহত থাকবে।
এদিকে, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান কর্তৃক ঘোষিত রাষ্ট্র কাঠামো সংষ্কারের ৩১ দফাকে সমর্থন জানিয়ে বরগুনার বেতাগী উপজেলার সাত শতাধিক হিন্দু ধর্মাবালম্বী বিএনপিতে যোগদান করেছেন। যোগদান অনুষ্ঠানে তারা এলাকার সার্বিক উন্নয়নের স্বার্থে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষে ভোট দিয়ে বিএনপিকে রাষ্ট্র ক্ষমতায় আনা এবং তারেক রহমানকে প্রধানমন্ত্রী করার প্রত্যায় ব্যক্ত করেছেন। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরগুনা-০২ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও বিএনপির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান আলহাজ্ব নুরুল ইসলাম মণির হাতে ফুলের তোড়া দিয়ে তারা আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপিতে যোগদান করেন।
বেতাগী উপজেলা বিএনপির আহবায়ক মোঃ হুমায়ুন কবির মল্লিকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় অন্যান্যের মধ্যে বেতাগী উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি, সাবেক উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও পৌর মেয়র মোঃ শাহজাহান কবির, বরগুনা জেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক কে এম শফিকুজ্জামান মাহফুজ, জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক জাবেদুল ইসলাম জুয়েল, জেলা সেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব ফয়জুল মালেক সজীব, জেলা ছাত্রদলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সানাউল্লাহ সানি প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
ফেনী শহরের শাহীন একাডেমিসংলগ্ন র্যাব ক্যাম্পের পিছনের এলাকার হাশেম ম্যানশন নামে একটি তিনতলা ভবনের ৬টি ফ্ল্যাট ২৭ জনের কাছে বন্ধক দিয়ে দেড় কোটি টাকা নিয়ে পালিয়ে গেছে ভবন মালিক আবুল হাসেমের স্ত্রী বিবি আয়েশা ও তার দুই ছেলে আবু ছাইদ মুন্না ও মেহেদী হাছান।
শুক্রবার বিকেলে হাশেম ম্যানশনের সামনে প্রতারণার শিকার ১৭ জন ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবার প্রতারকদের খুঁজে বের করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন।
সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষে মো. আলমগীর বলেন, হাশেম ম্যানশনের মালিক একই পরিবারের বিবি আয়েশা ও তার দুই ছেলে প্রতারণার মাধ্যমে ৬টি ফ্ল্যাট মোট ২৭ জনের কাছে বন্ধক দিয়ে প্রায় দেড় কোটি টাকা নিয়ে পালিয়ে গেছে। তারা তাদের বাড়িটি কুটকৌশলে ধাপে ধাপে গোপনীয়ভাবে বিভিন্ন জনের কাছে বন্ধক দেয়। বন্ধকদারদের ভাড়ার টাকা নিয়মিত পরিশোধ করার আশ্বাস দেয়।
সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগীরা আরও বলেন, এভাবে প্রতারণার মাধ্যমে টাকা হাতিয়ে গত ২০ অক্টোবর তারা পালিয়ে যায়। পরে খরব নিয়ে জানতে পারি তারা এভাবে করে ২৭ জনের কাছে ৬টি ফ্লাট বন্ধক দেয়। বর্তমানে তারা আমাদেরকে পাওনা টাকা দেব দিচ্ছি বলে তালবাহানা করছে। এই ব্যাপারে আমরা ফেনী মডেল থানায় ও র্যাবের কাছে বিষয়টি অবগত করেছি। তাদের বিরুদ্ধে আমরা ৮ জন বন্ধকদার মামলা করেছি। যাহার মধ্যে বর্তমানে ৪টি ওয়ারেন্ট ইস্যু করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী লিপি আক্তার বলেন, আমরা আর্থিকভাবে বিপর্যস্ত, ক্ষতিগ্রস্ত অনেকে তার সারাজীবনের জমানো টাকা দিয়েছে, অনেকে তার চাকরির পেনশনের টাকা দিয়েছেন পরিবারগুলো এখন চরম অনিশ্চয়তায় রয়েছে। তিনি বলেন, যদি কেউ প্রতারকদের যে ধরিয়ে দিতে পারেন তাকে উপযুক্ত আর্থিক সম্মানী দেওয়া হবে এবং তার পরিচয় গোপন রাখা হবে। দয়া করে অসংখ্য ভুক্তভোগীদের সহায়তা করুন।
তারা এই পলাতক প্রতারকদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় দাবী জানান, যাতে তারা ন্যায়বিচার এবং কষ্টার্জিত অর্থ পুনরুদ্ধারে সহযোগিতা চান।
এ ব্যাপারে বিবি আয়েশা ও তার দুই ছেলে আবু ছাইদ মুন্না ও মেহেদী হাছাসের সাথে যোগাযোগের চেষ্ঠা করা হলেও তাদের ব্যবহত নাম্বার বদ্ধ পাওয়া যায়।
ফরিদপুরে নারীদের স্বাবলম্বী করে তুলতে প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের উদ্বোধন করেছেন ফরিদপুর-৩ আসনের বিএনপির মনোনীত প্রার্থী চৌধুরী নায়াব ইউসুফ। তার মায়ের নামে ‘শায়লা কামাল মহিলা প্রশিক্ষণ কেন্দ্র’ এর মাধ্যমে বিনামূল্যে নারীদের সেলাই, এম্ব্রোডারি, বাটিক সহ বিভিন্ন প্রশিক্ষণ দেয়া হবে বলে তিনি জানিয়েছেন।
শুক্রবার বিকালে শহরতলীর বায়তুল আমান এলাকায় এই প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের উদ্বোধন করা হয়। এসময় জিয়া মঞ্চ ফরিদপুর শাখার পক্ষ থেকে ৫টি সেলাই মেশিন প্রদান করা হয়। এদিন পাঁচজন নারীকে সেলাই প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কেন্দ্রটির যাত্রা শুরু হয় এবং পর্যায়ক্রমে প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের সংখ্যা ও প্রশিক্ষণার্থীর সংখ্যা বাড়ানো হবে বলে উদ্বোধনকালে চৌধুরী নায়াব ইউসুফ উল্লেখ করেন। তার বাবা মরহুম চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফ বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ছিলেন এবং বিএনপি সরকারের একাধিকবার মন্ত্রী ছিলেন।
উদ্বোধনকালে চৌধুরী নায়াব ইউসুফ বলেন- ফরিদপুর সদরের নারীদের স্বাবলম্বী করে গড়ে তুলতে এই প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের উদ্বোধণ করা হয়েছে। এখানে সেলাই প্রশিক্ষণের পাশাপাশি বাটিক, হাতের কাজ এবং বিভিন্ন প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে। কারণ, বিএনপি নারীদের ক্ষমতয়ান, স্বাবলম্বী ও শক্তিশালী করার জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করা করেছে। তারই অংশ এই প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, পর্যায় কেন্দ্রের সংখ্যা বাড়ানো হবে।
এ অনুষ্ঠানে জিয়া মঞ্চ ফরিদপুর জেলা কমিটির আহবায়ক আব্দুল্লাহ আল মামুনের সভাপতিত্বে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সদস্য সচিব এ বি সিদ্দিক অপু, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও চলতি দায়িত্ব দপ্তর মোঃ মাশরাফি আহমেদ, মহানগর জিয়া মঞ্চ এর আহবায়ক মো. কাইয়ুম মিয়া, সদস্য সচিব এনামুল করিম প্রমুখ।
ঢাকা সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ইন্টার্নশিপের সময় বারবার একই দৃশ্য দেখে ভীষণ কষ্ট হতো নার্স সিজানের। ডায়রিয়া ও লুজ মোশনে আক্রান্ত হয়ে ছোট ছোট শিশু ও কিশোররা বেশি আসত হাসপাতালে। প্রতিনিয়ত বাচ্চাদের এই কষ্ট দেখে তার ভীষণ খারাপ লাগতো। অসুস্থতার কারণ হিসেবে সিজান জানতে পারেন, খুব সাধারণ কিছু ভেজালযুক্ত খাবারই এর জন্য দায়ী। এখন শীতের সময় রাস্তার পাশে তৈরি হচ্ছে ভেজালযুক্ত গুড় দিয়ে পিঠা। আর বাচ্চারা বায়না ধরলে বাবা-মা বাধ্য হয়ে এগুলো কিনে খাওয়ান। আর রাসায়নিক যুক্ত এসব খাবার খেয়ে বাচ্চারা বেশি অসুস্থ হয়ে পড়ে। তাই এর থেকে পরিত্রাণ পেতে অন্তত একটি খাবারকে ভেজাল মুক্ত করতে তিনি ছুটে আসেন নিজ জেলা মাগুরাতে।
যেখানে খাঁটি খেজুরের গুড়ের সুনাম বহুদিনের। তখনই তার মাথায় আসে এই মানবিক উদ্যোগের চিন্তা। বাংলাদেশের মানুষের হাতে পৌঁছে দিতে হবে খাঁটি রাসায়নিকমুক্ত বিশুদ্ধ খেজুর গুড়।
প্রকৃতির ছোঁয়ায় বিশুদ্ধ জীবনের প্রতিশ্রুতি নিয়ে মাগুরা সদর উপজেলার ছয় চার গ্রামের মো. খায়রুজ্জামান সবুজের ছেলে মো. শাহরিয়ার সিজান সদর উপজেলার পাটকেলবাড়ি বাল্য বাজারের পেছনে গড়ে তুলেছেন ‘অর্গানিক ফুড ভ্যালি’ নামে ভেজালমুক্ত পাটালি ও গুড় তৈরির প্রজেক্ট।
২০২৪ সালে সিজান তার বন্ধু রিজু বিশ্বাস, ডেন্টাল ডাক্তার শেখ সালাউদ্দিনসহ আরো দুইজন রেজিস্টার নার্সকে সাথে নিয়ে নিজের অর্থ ও শ্রম দিয়ে মাগুরায় তিন লক্ষ টাকা দিয়ে একটি খেজুর বাগান ক্রয় করেন। রাজশাহী থেকে অভিজ্ঞ গাছি এনে শুরু করেন সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উপায়ে খাঁটি খেজুরের রস সংগ্রহ ও গুড় প্রস্তুত। গাছ থেকে রসের হাড়ি নামিয়ে বাগানেই জ্বাল করে তৈরি করা হয় এসব গুড় ও পাটালি। কোন পাতার জ্বাল দেয়া হয় না কারণ এতে ধোয়ার গন্ধ হয়ে যায়। কাঠের খড়ি ও প্রাকৃতিক উপায়ে সংগ্রহ করা খড়ি দিয়ে জ্বাল করে তৈরি করা হয়। এতে গুড় এবং পাটালির স্বাদ ভালো থাকে। প্রথম বছরেই মানুষের আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হন তিনি। ভেজালমুক্ত খাবারের সন্ধানে থাকা অসংখ্য পরিবার সিজানের এই গুড়কে বেছে নেন নিশ্চিন্তে।
সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, তার ক্রেতাদের বড় একটি অংশই সরকারি হাসপাতালের ডাক্তার ও নার্স। যারা প্রতিদিন অসংখ্য রোগীকে চিকিৎসা দেন এবং স্বাস্থ্য সচেতনতা সম্পর্কে সাধারণ মানুষের চেয়ে অনেক বেশি জানেন। তাদের আস্থা অর্জন করতে পেরে সিজানের আত্মবিশ্বাস আরো বেড়ে যায়। মাগুরার বিভিন্ন মিষ্টির দোকানগুলোতে বিক্রি করাসহ আশেপাশের জেলাগুলোতেও এই পাটালি বিক্রি করেন।
এ বছরও অভিজ্ঞ গাছি এনে খেজুর গাছ কেটে নতুন মৌসুমের কাজ শুরু করেছেন সিজান। তার এই ব্যক্তিগত উদ্যোগ আজ হাজারো পরিবারকে ভেজালমুক্ত নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে সাহায্য করছে। মাগুরার এই তরুণ নার্স প্রমাণ করেছেন, সামান্য ইচ্ছাশক্তি ও সৎ উদ্যোগও সমাজে বিশাল পরিবর্তন আনতে পারে।
এ ব্যাপারে সিজান বলেন, নার্সিং পেশার পাশাপাশি আমি এই কাজটিকে বেছে নিয়েছি শুধুমাত্র দেশের মানুষের কাছে অন্তত একটি ভেজালমুক্ত খাবার তুলে দেয়ার জন্য। এতে আমার কিছু আয় হবে আবার দেশে ছড়িয়ে দিতে পারব বিষমুক্ত একটি খাবার। গত বছর অল্প পরিসরে শুরু করেছিলাম। মাত্র তিন লক্ষ টাকার গাছ কিনেছিলাম তাতে সব খরচ বাদ দিয়ে দুই লাখ টাকা লাভ করেছি। তবে আশা করছি এ বছর ৮ থেকে ১০ লাখ টাকা লাভ করতে পারব। প্রথম প্রথম অনেকেই আমার এই উদ্যোগ দেখে নানা রকম কটু কথা বলতো। এখন আমার সফলতা দেখে সবাই প্রশংসা করে। দুই বছর এই কাজ করে বেশ সাড়া পাচ্ছি।
তার বন্ধু রিজু বিশ্বাস বলেন, খাদ্যে ভেজাল যখন নিত্যনৈমিত্তিক সমস্যা তখন নার্স শাহরিয়ার সিজান হয়ে উঠেছেন এক অনুপ্রেরণার নাম। নিজের চোখে দেখা সমস্যার সমাধান নিজের হাতেই তৈরি করেছেন তিনি। রুগ্ন সমাজকে সুস্থ পথে ফেরাতে এমন উদ্যোগ নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবিদার।
এলাকাবাসীরা জানান, বাজারে এখন ভেজালযুক্ত খাবারে পরিপূর্ণ। প্রতিনিয়ত সাধারণ মানুষ বিশেষ করে বাচ্চারা এসব ভেজাল যুক্ত খাবার খেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ে। তাই আমরা চাই নার্স শাহরিয়ার সিজানের মতো আমাদের সমাজের সব তরুণরা যেন ভেজালমুক্ত অন্তত একটি খাবার উপহার দিতে পারে।
জেলা নিরাপদ খাদ্যের সহকারী পরিচালক সুমন অধিকারী জানান, স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত পণ্যের জন্য সাধারণত বিএসটিআইয়ের অনুমোদন লাগে না। তবে বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদিত পণ্য বিক্রয়ের জন্য বিএসটিআইয়ের যশোর অফিসে আবেদন করলে অনুমোদন পাওয়া সম্ভব।
নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলায় ঘাগড়াপাড়া গ্রামের যুবক আনারুল ইসলাম (২৮) প্রায় এক মাস ধরে নিখোঁজ রয়েছেন। গত বুধবার তার শশুর বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা এলাকা থেকে নিজ বাড়ির উদ্দেশে রওনা হওয়ার পর থেকে তার আর কোনো খোঁজ মিলছে না।
পরিবার জানায়, নিখোঁজের সময় আনারুলের পরনে ছিল নেভি রঙের ফুলহাতা শার্ট ও লুঙ্গি। মানসিকভাবে তিনি কিছুটা অস্থির প্রকৃতির ছিলেন বলেও পরিবারের পক্ষ থেকে উল্লেখ করা হয়েছে। ঘটনার পর আনারুলের ছোট ভাই মো. নাজমুল ধর্মপাশা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। পরিবার ও স্বজনরা বিভিন্ন এলাকায় খোঁজাখুঁজি করলেও কোথাও আনারুলের সন্ধান পাওয়া যায়নি। পরিবার জানায়, আনারুল ২২ অক্টোবর স্ত্রী ও দুই সন্তানকে নিয়ে সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলার রাজধরপুর গ্রামে শ্বশুর বাড়িতে বেড়াতে যান। গত বুধবার তার স্ত্রী পরিবারের সদস্যদের জানান যে তারা মোহনগঞ্জ স্টেশন থেকে ট্রেনে করে আনারুলকে বাড়িতে পৌঁছে দিচ্ছেন। কিন্তু দীর্ঘ অপেক্ষার পরও তিনি বাড়ি না ফেরায় পরিবারের সন্দেহ দেখা দেয়। পরে যোগাযোগ করা হলে স্ত্রী জানান, তারা নাকি আনারুলকে নেত্রকোনা রেলস্টেশনে নামিয়ে দিয়ে গেছেন। এরপর থেকে তার কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। এ অবস্থায় শুক্রবার দুপুর ১২টায় নেত্রকোনা জেলা প্রেসক্লাব মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে আনারুল ইসলামের পরিবার। সংবাদ সম্মেলনে তারা প্রভাবশালী মহল, স্থানীয় প্রশাসন, গণমাধ্যম কর্মী ও সাধারণ মানুষের সহযোগিতা কামনা করেন। পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, যদি কোনো হৃদয়বান ব্যক্তি আনারুল ইসলামের সন্ধান পান বা তার অবস্থান সম্পর্কে তথ্য জানেন, তাহলে অনুগ্রহ করে ০১৮৬৭-২২৮৩১৯ নম্বরে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে। নিখোঁজ যুবকের নিরাপদ ও দ্রুত ফিরে আসার জন্য পরিবার সকলের দোয়া ও আন্তরিক সহায়তা কামনা করেছে।
রাঙামাটি জেলার স্থানীয় সাংবাদিকদের অংশগ্রহণে তিন দিনব্যাপী ‘ডিজিটাল মিডিয়া বিষয়ক প্রশিক্ষণ’-এর সমাপনী অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়েছে। শুক্রবার বিকেলে রাঙামাটি প্রেসক্লাব মিলনায়তনে প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (পিআইবি) এই সমাপনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
এবারের প্রশিক্ষণে জেলার বিভিন্ন প্রিন্ট, অনলাইন ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার মোট ৩৫ জন সাংবাদিক অংশ নেন। প্রশিক্ষণের মূল লক্ষ্য ছিল ডিজিটাল সংবাদ সংগ্রহ, তথ্য যাচাই (ফ্যাক্ট-চেকিং), মোবাইল জার্নালিজম, এআই ব্যবহারের কৌশল, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নৈতিকতা ও নিরাপত্তা-এসব বিষয়ে সাংবাদিকদের দক্ষতা বৃদ্ধি করা।
সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পিআইবির মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফ। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন রাঙামাটি অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ইমরানুল হক ভূইয়া, পিআইবির সিনিয়র প্রশিক্ষক গোলাম মোর্শেদ, রাঙামাটি প্রেসক্লাবের সভাপতি আনোয়ার আল হক, সিনিয়র সহসভাপতি সাখাওয়াত হোসেন রুবেল, সম্পাদক মোহাম্মদ ইলিয়াস, সাবেক সভাপতি ও প্রবীণ সাংবাদিক সুনীল কান্তি দে সহ প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারী অন্যান্য সাংবাদিকরা।
সমপনী অনুষ্ঠানে অতিথিরা বলেন, ‘ডিজিটাল যুগে সাংবাদিকতাকে আরও গতিশীল ও দায়িত্বশীল করতে এ ধরণের প্রশিক্ষণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ডিজিটাল টুল ব্যবহারে দক্ষতা বৃদ্ধি পেলে সংবাদ হবে আরও নির্ভুল, সময়োপযোগী ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন।’
অংশগ্রহণকারী সাংবাদিকরা জানান, ডিজিটাল নিরাপত্তা, কনটেন্ট তৈরি ও মোবাইল রিপোর্টিংয়ের হাতে–কলমে অনুশীলন তাদের পেশাগত কাজে নতুন মাত্রা যোগ করবে। শেষে অতিথিরা অংশগ্রহণকারীদের হাতে প্রশিক্ষণের সনদপত্র তুলে দেন।
কুষ্টিয়ায় গত ১ বছরে (অক্টোবর ২০২৪ থেকে অক্টোবর ২০২৫) পর্যন্ত সীমান্ত এলাকায় পরিচালিত বিভিন্ন অভিযানে ১০৮ কোটি টাকার মাদক ও চোরাচালানী পণ্য জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। এ সময় ৬টি ভারতীয় অটোমেটিক পিস্তল উদ্ধারসহ ৮ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়।
অভিযানের সময় ৭৩ কোটি ৯৪ লাখ ৫৫ হাজার ২২ টাকা মূল্যের মাদকদ্রব্য এবং ৩৪ কোটি ৩৯ লাখ ৮ হাজার ৯১ টাকার চোরাচালানী পণ্যসহ মোট ১০৮ কোটি ৩৩ লাখ ৬৩ হাজার ১১৪ টাকার অবৈধ দ্রব্য জব্দ করা হয়।
কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়ন (৪৭ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মাহবুব মুর্শেদ রহমান এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, ২০২৪ সালের আগস্ট–অক্টোবর তিন মাসে ২১ কোটি ৭৩ লাখ ৮ হাজার ৭৫০ টাকার মাদকদ্রব্য ও ৬ কোটি ৯৯ লাখ ৭৮ হাজার ৫০৫ টাকার চোরাচালানী পণ্যসহ মোট ২৮ কোটি ৭২ লাখ ৮৭ হাজার ২৫৫ টাকার সিজার সম্পন্ন করে ২৩ জন আসামিকে আটক করা হয়েছিল।
অন্যদিকে, চলতি বছরের একই সময় (আগস্ট–অক্টোবর ২০২৫) ১২ কোটি ২ লাখ ১৩ হাজার ৫৩০ টাকার মাদক এবং ১৫ কোটি ৮৩ লাখ ২৪ হাজার ৭৯২ টাকার চোরাচালানী পণ্যসহ মোট ২৭ কোটি ৮৫ লাখ ৩৮ হাজার ৩২২ টাকার সিজার সম্পন্ন করে ৩৯ জন আসামিকে আটক করেছে কুষ্টিয়া ৪৭ বিজিবি।
চলতি বছরে পরিচালিত যৌথ টাস্কফোর্স অভিযানে বিপুল পরিমাণ মাদক ও চোরাচালানী দ্রব্য উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত দ্রব্যের মধ্যে রয়েছে, ফেন্সিডিল: ৭৯৯ বোতল, ইয়াবা: ২২,৭২৮ পিস, এলএসডি: ৪৫ বোতল, নকল বিড়ি/ সিগারেট: ১,৭৭,৫১৪ প্যাকেট, বেহুন্দী ও চায়না দোয়ারী জাল: ১,৮৪,৯৬২ কেজি। উদ্ধারকৃত এসব দ্রব্যের বাজারমূল্য প্রায় ৬২ কোটি ৯২ লাখ টাকা। এ সময় ৬টি ভারতীয় অটোমেটিক পিস্তল উদ্ধারসহ ৮ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়।
তিনি আরও বলেন, কোটা আন্দোলনে নিহত ও আহত ১০টি পরিবারকে মোট ৪ লাখ ২৫ হাজার টাকা সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। একজন দৃষ্টিহীন বৃদ্ধকে উন্নত চিকিৎসা ও আর্থিক সহায়তা প্রদান। ৪২টি হতদরিদ্র্য পরিবারকে খাদ্যসামগ্রী এবং একজন এতিম কিশোরকে গবাদি পশু প্রদান।
এই মানবিক উদ্যোগগুলো বিজিবি ও স্থানীয় জনগণের মধ্যে আস্থা, সহযোগিতা ও সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করেছে বলে জানিয়েছেন ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক।
তিনি ভবিষ্যৎ অঙ্গীকার করে বলেন, কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়ন (৪৭ বিজিবি) তাদের এই অব্যাহত প্রচেষ্টা প্রমাণ করে যে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ শুধু দেশের সীমান্তই নয়, মানুষের হৃদয়ের সীমান্তও রক্ষা করে। ভবিষ্যতেও সীমান্ত সুরক্ষার পাশাপাশি মানবিক কল্যাণে নিজেদের নিবেদিত রাখবে ৪৭ বিজিবি।
দেশের ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের জন্য নতুন সম্ভাবনাময় একটি ফসল রোজেল যা বাংলায় চুকোর বা টক গাছ নামে পরিচিত। বীজ বপনের ২২০ দিন পর গাছ প্রতি গড়ে ৫শ গ্রাম থেকে ১ কেজি পর্যন্ত কাঁচা ফল এবং ১৫০ থেকে ৪শ গ্রাম বৃতির ফলন পাওয়া যায়। এছাড়া হেক্টর প্রতি তিন থেকে সাত টন পর্যন্ত ফলন পাওয়া যায়। এই ফল এবং মাংসল বৃতি থেকে জ্যাম, জেলী, চা, আচার, চাটনী, জুসসহ বিভিন্ন পানীয় উৎপাদন করা যায় ও রান্নাতেও ব্যবহার করা যায়। শুক্রবার বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) ফসল উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগে আয়োজিত রোজেল নিয়ে এক প্রদর্শনীতে এসব তথ্য জানান বিভাগটির অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক ও ‘রোজেল উদ্ভিদের পাতা ও বৃতি উৎপাদন, প্রক্রিয়াজাতকরণ, সংরক্ষণ ও ব্যবহারের কলা-কৌশল’ প্রকল্পের প্রধান গবেষক ড. মো. ছোলায়মান আলী ফকির।
এসময় তিনি রোজেলের উৎপাদন, চাষ পদ্ধতি, খাদ্যে ব্যবহার, ঔষধি ব্যবহার, পশু খাদ্য হিসেবে ব্যবহার সম্পর্কে জানান।
অধ্যাপক বলেন, এই উদ্ভিদটি পতিত জমিতে চাষাবাদ করা যায়। এটি আমাদের দেশে অপ্রচলিত একটি উদ্ভিদ। আমার লক্ষ্য কোনো জমি যাতে পতিত না থাকে। এ কারণেই আমি পতিত জমিতে চাষাবাদ উপযোগী অপ্রচলিত কিন্তু ব্যাপক পুষ্টিগুণ সম্পন্ন উদ্ভিদ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে গবেষণা পরিচালনা করে আসছি।
তিনি বলেন, রোজেল খাদ্য হিসাবে স্বাদে ও ভেষজ গুনে অনন্য। বাড়ীর আশে-পাশে রৌদ্রময় বা আংশিক ছায়াযুক্ত উঁচু জায়গাতে চার থেকে পাঁচটি রোজেল উদ্ভিদ থাকলে একটি পরিবারের জন্য চা, জ্যাম, জুস, আচার ইত্যাদির পারিবারিক চাহিদা মেটানো সম্ভব। শুধু তাই নয় রোজেল ভিত্তিক খাদ্য ও পানীয় ছোট-মাঝারি আকারের শিল্পের যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে।
রোজেলের পুষ্টিগুণ নিয়ে তিনি বলেন, জাত অনুসারে লাল ও সবুজ রোজেল পাওয়া যায়। তবে লাল রোজেলে এ্যান্থোসায়ানিন, ফ্লাভনয়েড, ক্যারোটিনসহ অন্যান্য অ্যান্টিএক্সিডেন্ট ও আমিষ, চর্বি বিদ্যমান যা উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিসসহ বিভিন্ন রোগ উপসম করে বলে গবেষণায় জানা গিয়েছে। মৌলিক পুষ্টি উপাদান বিশ্লেষণে দেখা যায় পাতায় ও বৃতিতে প্রোটিন, চর্বি, ফাইবার ও মিনারেলস থাকে। রোজেল বৃতিতে ৩-৪ গ্রাম প্রতি লিটার টোটাল অরগ্যানিক এসিড থাকে। এই অর্গানিক এসিডের উপস্থিতিতে বৃতি ও পাতা টক স্বাদ হয়। এই উদ্ভিদের শুকনা পাতা ও বৃতিতে সহজে ছত্রাক বা জীবাণু আক্রমণ করে না ফলে এটা ছত্রাক-ব্যাকটেরিয়া প্রতিরোধকারী। রোজেল সেবনের নির্দিষ্ট কোনো মাত্রা নেই কারণ এর পুরোটাই প্রাকৃতিক খাদ্য উপাদান সম্পন্ন। তাই এর তেমন কোনো প্বার্শ প্রতিক্রিয়া নেই।
এছাড়া রোজেলের অন্যান্য ব্যবহারের মধ্যে আশ উৎপাদন, পশুখাদ্য ও বায়োমাস হিসেবে ব্যবহারের কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, রোজেলের কান্ড ও শাখা থেকে পাটের মত আঁশ উৎপাদন ও ব্যবহার করা যায়। এ গোত্রীয় মেস্তা পাট আঁশের জন্য উৎপাদন ও ব্যবহার হয়ে আসছে। পরিপক্ক রোজেল বীজে প্রায় ২০ শতাংশ আমিষ ও ২০ শতাংশ চর্বি আছে যা প্রক্রিয়াকরণের পর পশুখাদ্য হিসাবে ব্যবহারের প্রচলন আফ্রিকা মহাদেশ থেকে জানা যায়। ফসল ক্ষেতের বেড়া-উদ্ভিদ হিসাবে রোজেল খুবই কার্যকর। ফসল কর্তনের পর উদ্ভিজ্জ বায়োমাস খড়ি হিসাবে ব্যবহার করা যায়। সুদৃশ্য সবুজ বা লালচে উদ্ভিদ শোভা বর্ধনকারী হিসাবে সুপরিচিত।
রোজেলের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের সম্ভাবনা উল্লেখ করে তিনি বলেন, লাল রোজেলের বৃতির রঙ জৈব খাদ্য রঙ হিসেবে ব্যবহার করা সম্ভব। বিদেশে এর ব্যাপক ব্যবহার রয়েছে। বাণিজ্যিকভাবে চাষাবাদ করলে জৈব খাদ্য রঙ বিদেশে রপ্তানি করার ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে।
অধ্যাপক আরও বলেন, রোজেল ক্যাফেইনমুক্ত। ১:৪, ১:৩ ও ১:২ বিভিন্ন অনুপাতে চায়ের সাথে রোজেল মিশানো হয়েছে। তবে সার্ভেতে অংশ নেয়া প্রায় ৬০ শতাংশ মানুষ চা দিয়ে মেশানো ছাড়া শুধু রোজেল পছন্দ করেছে।
তিনি আরো বলেন, আমার এই গবেষণায় আমার স্ত্রী রাকেয়া তৌফিকা নাজনীন রেসিপি প্রস্তুতি ও প্রক্রিয়াজাতকরণে সাহায্য করেছে। এছাড়া বিভাগটির অধ্যাপক ড. নেছার উদ্দীন, অধ্যাপক ড. আলমগীর হোসেন, অধ্যাপক ড. সবিবুল হক এবং উদ্ভিদ রোগতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. দেলোয়ার হোসেন যুক্ত ছিলেন।
শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার ভোগাই নদীর পশ্চিম পাড়ে দীর্ঘদিন ধরে জরাজীর্ণ ও পরিত্যক্ত ভবনে চলছে ৪নং নয়াবিল ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কার্যক্রম। বহু পুরোনো আধাপাকা এই টিনশেড ভবনে ইউপির কাজ পরিচালনা করতে গিয়ে ধীরে ধীরে স্থবির হয়ে পড়েছে সার্বিক কর্মকাণ্ড। ফলে ইউনিয়নের অর্ধ লক্ষাধিক মানুষ নিয়মিত নাগরিক সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন, আর ত্রাণসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কার্যক্রম পরিচালনায় চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন জনপ্রতিনিধিরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ফেটে যাওয়া ইটের দেয়াল, মরিচা ধরা টিনের চালা ও পলেস্তরা খসে পড়া ঝুঁকিপূর্ণ এই ঘরেই চলছে ইউনিয়ন পরিষদের নানা কার্যক্রম। বৃষ্টির সময় ছাদ ও চালার অসংখ্য ছিদ্র দিয়ে পানি পড়ে গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র ভিজে যাওয়া এখন নিত্যদিনের ঘটনা। ভবনের ভেতরে ১০-১৫ জনের বেশি বসার জায়গা না থাকায় অনেককে রোদ-বৃষ্টিতে দাঁড়িয়ে সেবা নিতে হয়।
স্থানীয় বাসিন্দা সামিউল ইসলাম বলেন, “জোরে বাতাস উঠলেই আতঙ্কে থাকি। কখন টিন উড়ে যায় আর দেয়াল ভেঙে পড়ে, বলা মুশকিল। এমন ঝুঁকিপূর্ণ জায়গায় কিভাবে এত গুরুত্বপূর্ণ কাজ হয় বুঝি না।”
এমন দুরাবস্থার মধ্যেই চলছে গ্রাম আদালত, চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্যদের বৈঠক, ইউপি সচিবের দাপ্তরিক কাজ এবং ডিজিটাল সেন্টারের সেবা। একটি কাজ করতে গিয়ে অন্যটি বন্ধ রাখতে হয়, ফলে গুরুতরভাবে ব্যাহত হচ্ছে সেবা প্রদান। ভবনের অভাবে সরকারি ত্রাণ, কম্পিউটার ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ নথি যত্রতত্র রাখা হচ্ছে—যা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি চুরির ঝুঁকিতেও রয়েছে।
ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. শরীফ আল ফায়েদ জানান, “বৃষ্টি হলেই ভেতরে পানি ঢুকে কোনো কাগজপত্রই নিরাপদ থাকে না। একটি ইউনিয়নের সব কাজ এক ছাদের নিচে করতে গিয়ে আমরা বিপাকে পড়ছি।”
ইউপি চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান মিজান বলেন, “ত্রাণ বিতরণ থেকে শুরু করে দৈনন্দিন দাপ্তরিক কাজ—সবকিছুই এই জরাজীর্ণ ভবনে অত্যন্ত কষ্টে করতে হয়। বৈঠক বা গ্রাম আদালত পরিচালনার মতো পরিবেশও নেই।”
নালিতাবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা আক্তার ববি জানান, নয়াবিল ইউনিয়ন পরিষদের বর্তমান ভবনের অবস্থা সম্পর্কে তারা অবগত। নতুন ভবন নির্মাণের জন্য মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। সারাদেশে নতুন ইউনিয়ন পরিষদ ভবন নির্মাণ শুরু হলে নয়াবিল ইউনিয়ন পরিষদও নতুন কমপ্লেক্স পাবে।
উল্লেখ্য, মুক্তিযুদ্ধের আগেই নির্মিত এই ভবনটিতে ১৯৮৩ সাল থেকে নয়াবিল ইউনিয়ন পরিষদ কার্যক্রম চালাচ্ছে। এর আগে রামচন্দ্রকুড়া মন্ডলিয়াপাড়া ইউনিয়ন ও নয়াবিল ইউনিয়ন যৌথ পরিষদ হিসেবেও এখানে দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালিত হতো।
নদী বাঁচাও, দেশ বাঁচাও, শীতলক্ষ্যা বাঁচাও, আমাদের বাঁচাও স্লোগানে সকাল সকাল মুখরিত রূপগঞ্জের শীতলক্ষ্যা নদীর তীর।
শীতলক্ষ্যা নদী বাঁচাতে ছয় দফা প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে নারায়ণগঞ্জ- ১ (রূপগঞ্জ) আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী আনোয়ার হোসেন মোল্লার নেতৃত্বে ‘সেভ দ্যা শীতলক্ষ্যা’ নামে র্যালী কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। শুক্রবার সকালে উপজেলার মুড়াপাড়া কলেজ থেকে রান উইথ আনোয়ার হোসেন মোল্লা টু সেভ দ্যা শীতলক্ষ্যা ব্যানারে র্যালীটি শুরু হয়ে শীতলক্ষ্যা নদীর তীর দিয়ে ৩ কিলোমিটার সড়ক প্রদক্ষিণ করে হাটাব বাজারে গিয়ে শেষ হয়।
নারায়ণগঞ্জ -১ (রূপগঞ্জ) আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী আনোয়ার হোসেন মোল্লার নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত র্যালীতে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও নারায়ণগঞ্জ জেলা সেক্রেটারি মুহাম্মদ হাফিজুর রহমান হাফিজ।
র্যালী শেষে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে হাফিজুর রহমান বলেন, এই শীতলক্ষা হচ্ছে রূপগঞ্জের প্রাণ। শীতলক্ষ্যা কে কেন্দ্র করে নারায়ণগঞ্জে শিল্প কারখানার প্রসার ঘটেছিল। এই শীতলক্ষ্যার স্বচ্ছ পানি ছিল নাব্যতা ছিল। এই শীতলক্ষ্যা ধ্বংস হয়েছে অসৎ দুর্নীতিবাজ চাঁদাবাজ নেতৃত্ব আর সুবিধাবাদী ব্যবসায়ীদের কারণে। আসুন আগামীতে শুধু শীতলক্ষ্যা নয় গোটা বাংলাদেশকে নতুন করে গড়ে তোলার জন্য আমরা শপথ গ্রহণ করি। সৎ নেতৃত্বের সুন্দর বাংলাদেশ গড়ে তুলি। সমাবেশে র্যালির মূল প্রতিপাদ্য তুলে ধরে বক্তব্য, রাখেন আনোয়ার হোসেন মোল্লা।
তার দেওয়া অঙ্গীকার গুলো হচ্ছে: ১। নদী দখলকারীদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি, ২। নদীর দুই পাড়ে সবুজ বেষ্টনী, ৩। নদীর পানি পরিষ্কার ও দূষণ নিয়ন্ত্রণ, ৪। আধুনিক ওয়াকওয়ে, লাইটিং, বিনোদন ক্ষেত্র, ৫। পরিবেশবান্ধব নদী পরিবহন ব্যবস্থা ও ৬। নদীভিত্তিক নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি।
এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন জেলা কর্ম পরিষদ সদস্য অধ্যাপক মোহাম্মদ আলী খাঁন, জেলা আইন সম্পাদক অ্যাডভোকেট ইসরাফিল, জেলা শিবির সভাপতি আকরাম হোসেন, রূপগঞ্জ উত্তর ও পশ্চিম আমীর আবদুল মজিদ, ও মাওলানা ফারুক আহমাদ, দক্ষিণ, উত্তর ও পশ্চিম সেক্রেটারি, আনিসুর রহমান, খাইরুল ইসলাম, মোহাম্মদ হানিফ ভূঁঞা প্রমুখ।