শনিবার, ৪ জুলাই ২০২৬
১৯ আষাঢ় ১৪৩৩
ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচন

দ্বিতীয় ধাপে নির্বাচিত হলেন যারা

ফাইল ছবি
সারা বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত
সারা বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত : ২২ মে, ২০২৪ ০০:২৭

ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপে ১৫৬টি উপজেলায় ভোটগ্রহণ শেষ হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত চলে ভোটগ্রহণ। ভোট গণনা শেষে রাতে নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশ করেন রিটার্নিং কর্মকর্তারা। সারা দেশের প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর থেকে জানা যায়-

ফরিদপুর

উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপে ফরিদপুরের নগরকান্দা ও সালথা উপজেলায় ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। নগরকান্দা উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপ-কমিটির সাবেক সহসম্পাদক কাজী শাহ জামান বাবুল। আনারস প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ৩৭ হাজার ২০৯ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মোটরসাইকেল প্রতীকের প্রার্থী বর্তমান উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মনিরুজ্জামান সরদার পেয়েছেন ২৫ হাজার ২৩৭ ভোট।

অন্যদিকে সালথা উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে বর্তমান চেয়ারম্যান ওয়াদুদ মাতুব্বর বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। আনারস প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ৩৫ হাজার ৫৪৫ ভোট তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী সালথা উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও মোটরসাইকেল প্রতীকের প্রার্থী মো. ওহিদুজ্জামান পেয়েছেন ৫ হাজার ৩৪২ ভোট।

নারায়ণগঞ্জ

উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপে নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলায় ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম। ঘোড়া প্রতীকে তিনি পেয়েছেন এক লাখ ১৫ হাজার ২৫২ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী দোয়াত কলম প্রতীকের প্রার্থী মো. শাহজালাল মিয়া পেয়েছেন ১৩ হাজার ১৩২ ভোট।

বিজয়ী মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম আড়াইহাজার উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সদস্য। তিনি কালাপাহাড়িয়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান। অন্যদিকে তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মো. শাহজালাল মিয়া আড়াইহাজার উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া

দ্বিতীয় ধাপের উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা ও আখাউড়ায় উপজেলায় ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। কসবা উপজেলায় আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের ফুফাতো ভাই ছাইদুর রহমান ও আখাউড়ায় মোগড়া ইউনিয়ন পরিষদের তিনবারের সাবেক চেয়ারম্যান মনির হোসেন বেসরকারিভাবে চেয়ারম্যান নির্বাাচিত হয়েছেন।

ঘোষিত ফলাফল অনুযায়ী, কসবা উপজেলায় ছায়েদুর রহমান স্বপন কাপ-পিরিচ প্রতীকে ৮৬ হাজার ৬৯৮ ভোট পেয়ে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও কুটি ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ছিলেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বর্তমান উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের সাবেক সহকারী একান্ত সচিব রাশেদুল কাউসার ভূইয়া আনারস প্রতীকে পেয়েছেন ৩৯ হাজার ৯৫৯ ভোট।

অন্যদিকে আখাউড়া উপজেলায় মনির হোসেন ঘোড়া প্রতীকে ২৮ হাজার ৩০৯ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি উপজেলা যুবলীগের সাবেক আহ্বায়ক ও মোগড়া ইউনিয়ন পরিষদের তিনবারের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান আনারস প্রতীকে পেয়েছেন ১৪ হাজার ৫৬৩ ভোট।

রাঙামাটি

ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপে রাঙামাটির রাজস্থলী, কাপ্তাই ও বিলাইছড়ি উপজেলায় শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। রাজস্থলী উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি উবাচ মারমা আনারস প্রতীকে ৭ হাজার ৭৫ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মো. রিয়াজ উদ্দীন রানা দোয়াত কলম প্রতীকে পেয়েছেন ২ হাজার ১৮ ভোট।

অন্যদিকে কাপ্তাই উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে উপজেলা যুবলীগের সভাপতি মো. নাছির উদ্দিন দোয়াত কলম প্রতীকে ৭ হাজার ৩৬২ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও সাবেক ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আনোয়ারুল ইসলাম চৌধুরী আনারস প্রতীকে পেয়েছেন ৬ হাজার ৯৭৩ ভোট।

অপরদিকে বিলাইছড়ি উপজেলায় মোট ১৩টি কেন্দ্রের মধ্যে ৫টি হেলিসর্টি ভোটকেন্দ্র রয়েছে। দুর্গম এলাকা হওয়ায় রাত সাড়ে ৯টা পর্যন্ত ফলাফল না আসায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কোনো ফলাফল ঘোষণা করেননি। তবে বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা যায়, পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (জেএসএস) সমর্থিত দোয়াত কলম প্রতীকের বিরোত্তম তঞ্চঙ্গ্যা চেয়ারম্যান পদে বিজয়ী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

লালমনিরহাট

লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ ও আদিতমারী উপজেলায় উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপে ভোটগ্রহণ শেষ হয়েছে। দুই উপজেলায় মধ্যে আদিতমারী উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে ফারুক ইমরুল কায়েস ও কালীগঞ্জ উপজেলায় জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক রাকিবুজ্জামান আহমেদ বিজয়ী হয়েছেন।

রাত সাড়ে ৯টার দিকে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা লুৎফর কবির তাদেরকে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত ঘোষণা করেন।

আদিতমারী উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে ফারুক ইমরুল কায়েস মোটরসাইকেল প্রতীকে পেয়েছেন ৩৩ হাজার ১৩৫ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রফিকুল আলম আনারস প্রতীকে পেয়েছেন ২৯ হাজার ১৮টি ভোট

কালীগঞ্জ উপজেলায় সাবেক সমাজকল্যাণমন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদের ছেলে রাকিবুজ্জামান আহমেদ আনারস প্রতীকে পেয়েছেন ২৪ হাজার ৩০৩ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী তার চাচা উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মাহবুবুজ্জামান আহমেদ ঘোড়া প্রতীকে পেয়েছেন ১৯ হাজার ৩৫০ ভোট।

পিরোজপুর

ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে দ্বিতীয় ধাপে পিরোজপুর জেলার দুই উপজেলায় শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। মঙ্গলবার পিরোজপুরের নেছারাবাদ ও কাউখালী উপজেলার ১৫টি ইউনিয়নের মোট ১২২টি ভোটকেন্দ্রে ইভিএম পদ্ধতিতে এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।

কাউখালী উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে মো. আবু সাঈদ মিঞা ও নেছারাবাদ উপজেলায় আব্দুল হক নির্বাচিত হয়েছেন। রাতে নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা সৈয়দ শফিকুল হক বেসরকারিভাবে তাদের বিজয়ী ঘোষণা করেন।

নেছারাবাদ উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে আব্দুল হক আনারস প্রতীকে ৩৮ হাজার ৬১২ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী এস এম মুইদুল ইসলাম মোটরসাইল প্রতীকে পেয়েছেন ৩৫ হাজার ৫২০ ভোট।

অন্যদিকে কাউখালী উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে মো. আবু সাঈদ মিঞা ঘোড়া প্রতীকে ১১ হাজার ২৮৪ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মো. মনিরুজ্জামান তালুকদার পল্টন কাপ-পিরিচ প্রতীকে পেয়েছেন ৬ হাজার ২৯৪ ভোট।

ঝালকাঠি

উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপে ঝালকাঠি সদর ও নলছিটি উপজেলায় ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ঝালকাঠি সদর উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান ও ঝালকাঠি জেলা আওয়ামী লীগ সহ-সভাপতি খান আরিফুর রহমান। আনারস প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ৩৩ হাজার ৯৪৩ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী দোয়াত কলম প্রতীকের প্রার্থী মো. সুলতান খান পেয়েছেন ২৫ হাজার ৯৭১ ভোট।

অন্যদিকে নলছিটি উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মো. সালাউদ্দিন খান সেলিম বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। মোটরসাইকেল প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ২৩ হাজার ৯৩৯ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাবেক মেয়র তছলিম উদ্দিন চৌধুরী আনারস প্রতীকে পেয়েছেন ১৬ হাজার ৭৮৪ ভোট।

বাগেরহাট

উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপে বাগেরহাটে ফকিরহাট, মোল্লাহাট,ও চিতলমারী উপজেলায় ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ফকিরহাট উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন শেখ ওহিদুজ্জামান বাবু। মোটরসাইকেল প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ৪৬ হাজার ৬৫৪ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আনরস প্রতীকের প্রার্থী বর্তমানে উপজেলা চেয়ারম্যান স্বপন দাস পেয়েছেন ২৯ হাজার ৪৩৭ ভোট। এ উপজেলায় ভোট কাস্ট হয়েছে ৬২.৫০ শতাংশ।

চিতলমারী উপজেলার চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হয়েছেন মো. আলমগীর হোসেন সিদ্দিকী। দোয়াত কলম প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ৩৪ হাজার ৮৮৬ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বর্তমান উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও বাগেরহাট জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি অশোক কুমার বড়াল মোটরসাইকেল প্রতীকে পেয়েছেন ২২ হাজার ৭৬৩ ভোট। এ উপজেলায় ভোট কাস্ট হয়েছে ৪৫.৭৫ শতাংশ।

অন্যদিকে মোল্লাহাট উপজেলার চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হয়েছেন বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শাহিনুর আলম ছানা। দোয়াত কলম প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ২৯ হাজার ৯০২ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বর্তমান উপজেলা শেখ নাসির উদ্দীন আনারস প্রতীকে পেয়েছেন ১৯ হাজার ৯৫৪ ভোট। এ উপজেলায় ভোট কাস্ট হয়েছে ৫৩.৭৭ শতাংশ। জেলায় গড় ভোট কাস্টিং হয়েছে ৫৪ শতাংশ।

যশোর

দ্বিতীয় ধাপের উপজেলা নির্বাচনে যশোরের ঝিকরগাছা, শার্শা ও চৌগাছা উপজেলায় ভোটগ্রহণ করা হয়েছে। ভোটগ্রহণ শেষে রাতে বেসরকারিভাবে ফলাফল ঘোষণা করেন উপজেলাগুলোর দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তারা।

চৌগাছা উপজেলা চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হয়েছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা এসএম হাবিবুর রহমান। আনারস প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ৩৩ হাজার ৫৬৫ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ ড. মোস্তানিছুর রহমান পেয়েছেন ২৮ হাজার ৯৮০ ভোট।

নির্বাচনের সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও চৌগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুম্মিতা সাহা রাত সাড়ে ৯টায় এ ফলাফল ঘোষণা করেন।

ঝিকরগাছা উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হয়েছেন বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. মনিরুল ইসলাম। আনারস প্রতীকে মনিরুল ইসলাম পেয়েছেন ৪০ হাজার ৬৪৩ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী সেলিম রেজা ঘোড়া প্রতীকে পেয়েছেন ১৮ হাজার ৪৪৩ ভোট।

অন্যদিকে শার্শা উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে মো. সোহরাব হোসেন দোয়াত কলম প্রতীক নিয়ে ৩৭ হাজার ৫৭০ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মো. অহিদুজ্জামান আনারস প্রতীকে পেয়েছেন ১২ হাজার ২৯১ ভোট।

রাজশাহী

দ্বিতীয় ধাপে রাজশাহীর বাগমারা, দুর্গাপুর ও পুঠিয়া উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বাগমারা উপজেলায় বেসরকারিভাবে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন জাকিরুল ইসলাম সান্টু। তিনি ঘোড়া প্রতীকে পেয়েছেন ৪৭ হাজার ৩২২ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আব্দুর রাজ্জাক সরকার ওরফে আর্ট বাবু পেয়েছেন ৪ হাজার ৩২১ ভোট।

পুঠিয়া উপজেলায় বেসরকারিভাবে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন আবদুস সামাদ মোল্লা। তিনি আনারস প্রতীকে পেয়েছেন ২৬ হাজার ৬৬৫ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আহসানুল হক মাসুদ ঘোড়া প্রতীকে পেয়েছেন ২৩ হাজার ৬৭৯ ভোট।

অন্যদিকে দুর্গাপুর উপজেলায় বেসরকারিভাবে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন শরীফুজ্জামান শরীফ। তিনি মোটরসাইকেল প্রতীকে পেয়েছেন ৪২ হাজার ১১৩ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আব্দুল মজিদ সরদার পেয়েছেন ২৭ হাজার ৩৩২ ভোট।

সাতক্ষীরা

ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপে সাতক্ষীরার আশাশুনি, তালা ও দেবহাটা উপজেলায় ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

আশাশুনি উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও বর্তমান উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এবিএম মোস্তাকিম বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি চিংড়ি প্রতীকে পেয়েছেন ৫১ হাজার ৬৬২ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী শাহনেওয়াজ ডালিম ঘোড়া প্রতীকে পেয়েছেন ৫০ হাজার ৭০৭ ভোট।

অপরদিকে সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলা নির্বাচনে মো. আল ফেরদাউস বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি হেলিকপ্টার প্রতীকে ২৬ হাজার ৩৭৭ ভোট পেয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মো. মজিবুর রহমান মোটরসাইকেল প্রতীকে পেয়েছেন ১৭ হাজার ১৫২ ভোট।

এ ছাড়া সাতক্ষীরার তালা উপজেলা নির্বাচনে ঘোষ সনৎ কুমার বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি কাপ পিরিচ প্রতীকে ৪৬ হাজার ৪৫৮ ভোট পেয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী সরদার মশিয়ার চিংড়ি প্রতীকে পেয়েছেন ৩২ হাজার ৪১৩ ভোট।

বিষয়:

ল' রিপোর্টার্স ফোরামের নেতৃত্বে ইয়াছিন-মুন্না

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা

আইন, বিচার, সংবিধান ও মানবাধিকার বিষয়ক সাংবাদিকদের সংগঠন ল' রিপোর্টার্স ফোরামের (এলআরএফ) ২০২৬-২০২৭ মেয়াদে সভাপতি পদে নির্বাচিত হয়েছেন ইংরেজি দৈনিক অবজারভারের সিনিয়র রিপোর্টার মুহাম্মদ ইয়াছিন। সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচিত হয়েছেন বাংলাদেশ প্রতিদিনের আরাফাত মুন্না।

কার্যনির্বাহী কমিটিতে সহ-সভাপতি পদে সমকালের আবু সালেহ রনি, যুগ্ম সম্পাদক পদে বাংলানিউজের তানভীর আহমেদ, কোষাধ্যক্ষ পদে চ্যানেল টোয়েন্টি ফোরের মনজুর হোসাইন, সাংগঠনিক সম্পাদক পদে টাইমস অব বাংলাদেশের আহমেদ আল আমীন, দপ্তর সম্পাদক পদে খবরের কাগজের মাহমুদুল আলম, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক পদে ইন্ডিপেন্ডেন্ট টেলিভিশনের জাহিদুল বাশার এবং কার্যনির্বাহী সদস্য পদে চ্যানেল ওয়ানের জান্নাতুল ফেরদৌসী মানু ও আমাদের সময়ের আসাদুর রহমান নির্বাচিত হয়েছেন।

শুক্রবার (৩ জুলাই) সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির দক্ষিণ হলে ভোট গ্রহণ শেষে প্রধান নির্বাচন কমিশনার আরটিভির হেড অব নিউজ ইলিয়াস হোসেন এই ফলাফল ঘোষণা করেন। এ সময় কমিশনের অপর দুই সদস্য এটিএন নিউজের হেড অব নিউজ মাশহুদুল হক ও সিনিয়র সদস্য সাজেদুল হক উপস্থিত ছিলেন। কমিশনের সাচিবিক সহায়তায় ছিলেন বাংলানিউজের স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট ইলিয়াছ সরকার।

এর আগে ফোরামের বার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, বিশেষ অতিথি ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল। সভায় আরও বক্তব্য রাখেন বিএনপির আইন বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার বদরুদ্দোজা বাদল, বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের সদস্য নাসির উদ্দিন আহমেদ অসীম, মোহাম্মদ শিশির মনির ও সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সম্পাদক মোহাম্মদ আলী। সাধারণ সভায় সভাপতিত্ব করেন বিাদায়ী কমিটির সভাপতি হাসান জাবেদ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বিদায়ী কমিটিরি সেক্রেটারি মনিরুজ্জামান মিশন।

এসময় আরও উপস্তিত ছিলেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার অনীক আর হক, ফোরামের প্রতিষ্ঠাতা আহ্বায়ক মনোজ কান্তি রায়, প্রতিষ্ঠাতা সদস্য সচিব কাজী আব্দুল হান্নান, ফোরামের সাবেক সভাপতি স্বপন দাশ গুপ্ত, সালেহ উদ্দিন, এম বদি-উজ-জামান, আশুতোষ সরকার, সাঈদ আহমেদ খান, ওয়াকিল আহমেদ হিরণ, শামীমা আক্তার ও আশরাফ উল আলম প্রমুখ।


জোরদার করা হচ্ছে নদী-খাল খনন কর্মসূচি: টুকু

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

হাওরাঞ্চলের মৎস্যজীবীদের জীবিকা নির্বাহের সুবিধার্থে দেশের সকল উন্মুক্ত জলাশয় প্রকৃত মৎস্যজীবীদের জন্য উন্মুক্ত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। একইসঙ্গে অকাল বন্যা ও জলাবদ্ধতা থেকে বোরো ফসল রক্ষায় অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নদী ও খাল খনন কর্মসূচি আরও জোরদার করা হচ্ছে।

শুক্রবার (৩ জুলাই) সকাল সাড়ে নয়টায় নেত্রকোনা সার্কিট হাউসে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব তথ্য জানান মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার মৎস্যজীবী ও সাধারণ মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় বদ্ধপরিকর। সরকারের মূল নীতি হচ্ছে—জাল যার, জল তার। এই নীতি অনুযায়ী সবার জন্য, বিশেষ করে প্রকৃত মৎস্যজীবীদের সুবিধার্থে জলাশয় উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে।

ইজারা প্রথার কারণে সৃষ্ট সমস্যার কথা উল্লেখ করে সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, ইজারা দেওয়ার ফলে প্রভাবশালীরা যেভাবে হাওর বা জলাশয় দখল করে রাখতো এবং সাধারণ মানুষকে নামতে বাধা দিত, সেই প্রতিবন্ধকতা দূর করা হবে। সরকার আইনগতভাবে এই ধরনের সকল বাধা দূর করার উদ্যোগ নিয়েছে যাতে সাধারণ মানুষ ও মৎস্যজীবীরা নির্বিঘ্নে জলাশয়ে মৎস্য আহরণ করে জীবিকা নির্বাহ করতে পারে।

হাওরের জলাশয়গুলো ইজারামুক্ত করার প্রশ্নে প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, মহান স্বাধীনতার ঘোষক, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান খাল খনন কর্মসূচি গ্রহণ করেছিলেন তারই যোগ্য উত্তরসূরী প্রধানমন্ত্রী দেশনায়ক তারেক রহমান ইতোমধ্যেই খাল ও নদী খনন এবং জলাশয়কে কিভাবে ঠিক রাখা যায় এ ব্যাপারে পদক্ষেপ নেওয়া শুরু করেছেন এবং উদ্বোধনও করেছেন। তোমধ্যে অনেকগুলো খাল ও নদী খনন করেছি আমরা।

কাজেই এই নদীর নাব্যতা যাতে না কমে যায় এবং জলাবদ্ধতায় যাতে মানুষ দুর্ভোগে না পড়ে, জলাশয়গুলোতে যাতে মৎস্য চাষ করতে পারে, সেই ব্যাপারে আমরা ইতোমধ্যেই পদক্ষেপ নিয়েছি।

মত বিনিময়কালে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে সফরসঙ্গী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রেলপথ মন্ত্রণালয় এবং সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ এমপি, নেত্রকোনা-৪ (মদন-মোহনগঞ্জ-খালিয়াজুরী) আসনের সংসদ সদস্য ও সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর।

এছাড়াও জেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দ, জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমের কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

সার্কিট হাউসে এই ব্রিফিং শেষে দিনব্যাপী সরকারি সফরের অংশ হিসেবে প্রতিমন্ত্রী জেলার মদন উপজেলার উচিতপুর ট্রলার ঘাটের পথসভায় অংশগ্রহণ এবং মাছের পোনা অবমুক্তকরণ কর্মসূচিতে অংশ নিতে রওনা হন।

দিনব্যাপী এই সফরে তিনি পরবর্তীতে খালিয়াজুড়ি উপজেলার মেন্দিপুর ইউনিয়নের রোয়াইল ও নাওটানা সংযোগস্থলে ফিশারিতে মাছের পোনা অবমুক্তকরণ, সদরের বাজোয়াইল কীর্তনখোলা ফিশারি এবং মোহনগঞ্জ উপজেলার গাগলাজুর ইউনিয়নের বরান্তর চিরাডুবি হাওরে মাছের পোনা অবমুক্তকরণ কর্মসূচিতে অংশ নেবেন। সফর শেষে আজ রাতেই প্রতিমন্ত্রীর ঢাকায় ফেরার কথা রয়েছে।


হতাশাগ্রস্ত জাতির দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেন মেজর জিয়া: সমাজকল্যাণ মন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়কমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেছেন, ‘দেশের অভ্যুদয়ের সঙ্গে যে নামটি জড়িত সেটি হচ্ছে মেজর জিয়াউর রহমান। দেশমাতৃকার টানে সাহসিকতার সঙ্গে চট্টগ্রামে প্রথম বিদ্রোহ করেছিলেন ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের একজন মেজর হিসেবে। জাতি যখন কোনো দিকনির্দেশনা পাচ্ছিলেন না, জাতি যখন হতাশাগ্রস্ত, তখন দায়িত্ব নিজ কাঁধে তুলে নিয়েছিলেন মেজর জিয়া।’

শুক্রবার (৩ জুলাই) দুপুরে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার পোমরায় শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের প্রথম সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন ও দোয়া শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সমাজকল্যাণ মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

ডা. জাহিদ হোসেন বলেন, ‘ইতিহাস থেকে কেউ শিক্ষা নিতে চায় না। বিগত সময়ে ভুল ইতিহাস গেলানোর চেষ্টা করা হয়েছে। আমাদের বাচ্চাদেরকে এবং নতুন প্রজন্মকে ভুল ইতিহাস শেখানোর চেষ্টা করা হয়েছে। সেই শিক্ষাটা কি ২০২৪-এর ৫ আগস্ট হেলিকপ্টারে করে পালিয়ে যাওয়া? ইতিহাস তৈরি করা যায় না, ইতিহাস সৃষ্টি করা হয়। সেই ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান।’

এর আগে সমাজকল্যাণ মন্ত্রী শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের রাঙ্গুনিয়ার পোমরা জিয়ানগরস্থ প্রথম সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা জানান এবং বিশেষ মোনাজাতে অংশ নেন ও গাছের চারা রোপণ করেন। পরে তিনি রাঙ্গুনিয়া এতিম ও দুঃস্থ শিশুদের বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র পরিদর্শন করেন। প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে ৪৮তম ব্যাচের প্রশিক্ষণার্থীদের মধ্যে পোশাক ও শিক্ষা সামগ্রী বিতরণ করেন তিনি।

এ সময় ডা. জাহিদ হোসেন বলেন, ‘প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে যারা নিজেকে দুর্বল ভাবেন, তারা যাতে আর দুর্বল না ভাবেন, সেজন্য প্রশিক্ষণোত্তর এখানে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হবে। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের মতো বীরকে জাতি যাতে আজীবন শ্রদ্ধা জানাতে পারে, সম্মান জানাতে পারে, সেরকম একটি আবহ রাঙ্গুনিয়ার জিয়ানগরে করা হবে।’

চট্টগ্রাম বিভাগীয় সমাজসেবা কার্যালয়ের পরিচালক মোহাম্মদ শহীদুল ইসলামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম-৮ আসনের সংসদ সদস্য মো. এরশাদ উল্লাহ, রাঙ্গুনিয়া আসনের সংসদ সদস্য হুমাম কাদের চৌধুরী, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নাজমুল হাসান এবং এতিম ও দুঃস্থ শিশুদের বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের উপ-তত্ত্বাবধায়ক মো. ছানাউল্লাহ। অনুষ্ঠানে উপজেলা বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, ১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে নিহত হওয়ার পর প্রথমে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে রাঙ্গুনিয়ার পোমরায় দাফন করা হয়েছিল। পরে তার মরদেহ ঢাকায় নিয়ে গিয়ে চন্দ্রিমা উদ্যানে (বর্তমান জিয়া উদ্যান) সমাহিত করা হয়।


বিশ্বকাপ ঘিরে সংঘর্ষ ঠেকাতে বড় স্ক্রিনস্থলে পুলিশের বিশেষ নজরদারি

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ফুটবল বিশ্বকাপের জয়-পরাজয় নিয়ে সমর্থকদের উচ্ছ্বাস যাতে প্রাণঘাতী সংঘর্ষে রূপ না নেয়, সে জন্য রাজধানীর বিভিন্ন পাড়া-মহল্লা ও জনসমাগমস্থলে, বড় স্ক্রিনে খেলা দেখার স্থানগুলোতে বিশেষ নজরদারি চালাবে থানা-পুলিশ ও ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। শুক্রবার (৩ জুলাই) বিকালে মিন্টো রোডে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান ডিবির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম।

রাজধানীর আদাবরে ব্রাজিলের খেলা দেখা ও জয় উদযাপনকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে বিএনপি নেতা মো. আবুল বাশার বাদশা হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের গ্রেপ্তার-পরবর্তী এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে বড় স্ক্রিনে খেলা দেখা হয়। এসব স্থান আমরা নজরদারিতে রাখছি। ডিএমপির সব থানাকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কোথায় কোথায় বড় স্ক্রিনে খেলা দেখানো হয়, সেসব আয়োজকদের সঙ্গে যোগাযোগ করে পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হবে। ডিবিও নজরদারি করবে, যাতে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা না ঘটে।’

নগরবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আনন্দটা যেন আনন্দের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে, কোনোভাবেই তা বিষাদে পরিণত না হয়। খেলায় হার-জিত থাকবে। সবাই পরস্পরের মতামত ও সমর্থনকে সম্মান করবেন এবং সহনশীল আচরণ করবেন।’

ডিবি জানায়, গত সোমবার (২৯ জুন) রাতে ফুটবল বিশ্বকাপে জাপানের বিপক্ষে ব্রাজিলের জয় উদযাপনকে কেন্দ্র করে আদাবরের নবোদয় হাউজিং এলাকায় স্থানীয় কয়েকজন কিশোর ঢোল ও বাঁশি বাজিয়ে আনন্দ করছিলেন। এ সময় হাবিব নামে এক ব্যক্তি নিরব নামে এক যুবককে মারধর করেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে গত বুধবার রাতে ইউনিট বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. আবুল বাশার বাদশাকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়।

এ ঘটনায় সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগে গত বৃহস্পতিবার ময়মনসিংহ থেকে নিরব, রিপন, মজনু ও মিজানুর রহমানকে গ্রেপ্তার করে ডিবির তেজগাঁও বিভাগ।

অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘গ্রেপ্তার চারজনের মধ্যে রিপন সরাসরি ছুরিকাঘাত করেছে। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরিটিও উদ্ধার করা হয়েছে।’

তিনি আরও জানান, হামলায় আহত ইউনিট বিএনপির সভাপতি গুরুতর আহত অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন রয়েছেন।


বস্তুনিষ্ঠ ও নিরপেক্ষ সংবাদ পরিবেশন গণতন্ত্রের রক্ষাকবচ: এমপি খোকন

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মাদারীপুর প্রতিনিধি

মাদারীপুরের ডাসার উপজেলা পূর্ব মাইজপাড়া দারুল উলুম কওমিয়া মাদ্রাসার কোমলমতি এতিম শিক্ষার্থীদের সাথে নিয়ে রেলী ও কেক কেটে এনটিভি'র ২৪ তম বছরে পদার্পণ অনুষ্ঠান উদ্বোধন করলেন কালকিনি-মাদারীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য আনিসুর রহমান তালুকদার খোকন।

শুক্রবার (৩ জুলাই) জুমআ'র নামাজ শেষে এনিটিভি'র মাদারীপুর জেলা করসপনডেন্ট সিনিয়র সাংবাদিক এম, আর মুর্তজার আয়োজনে ও দৈনিক বাংলা প্রতিনিধি মোঃ ফায়েজুল কবীরের সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি হিসাবে এসময় উপস্থিত থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এর উদ্বোধনকালে তিনি বলেন, অবাধ- নিরপেক্ষ, স্বাধীন ও বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার কোনো বিকল্প নেই, নিরপেক্ষ ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন গণতন্ত্রের রক্ষাকবচ। বিএনপি যতবার দেশের রাষ্ট্র ক্ষমতায় এসেছে সাংবাদিকরা ততবার তাদের সংবাদ পরিবেশনের ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ স্বাধীনতা ভোগ করেছে এবং বর্তমানে তা আরো সুসংহত হয়েছে।

অনুষ্ঠানে উক্ত মাদ্রাসার তত্বাবধায়ক মোঃ এনায়েত খান, প্রিন্সিপাল মোঃ মনিরুজ্জামান, জেলা যুবদলের আহবায়ক ফারুক বেপারী ছাড়াও সাংবাদিকদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মোঃ মহসিন তালুকদার (এশিয়ান টিভি) মোঃ ফরিদ উদ্দিন মুপ্তি (বাংলাভিশন), এসএম রাসেল (আলোকিত প্রতিদিন), সাংবাদিক সোহাগ কাজী, লিখন মাহমুদ, মোঃ রেজা প্রমুখ।

এমপি খোকন তালুকদার বর্তমান সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কর্তৃক গৃহীত গণমাধ্যমগুলোর স্বাধীনতা, বাক স্বাধীনতা, সাংবাদিকদের সুরক্ষা ও উন্নয়নে কাজ করার কথা উল্লেখ করেন। তিনি এনটিভি'র মাদারীপুর প্রতিনিধি সহ উপস্থিত অন্যান্য সাংবাদিকদের বর্তমান সরকারের গৃহীত বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মসূচীগুলো মাদারীপুরবাসি সহ দেশের সবার সামনে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে তুলে ধরার আহবান জানান।

পরে তিনি মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে বর্তমান সরকারের গৃহিত ৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচীর আওতায় সবাইকে সাথে একটি মেহগনি গাছের চারা রোপণ করেন।


ভূতুড়ে বিদ্যুৎ বিলের সঙ্গে বাড়ছে লোডশেডিং, দুর্ভোগে মানুষ

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কোটালীপাড়া (গোপালগঞ্জ) প্রতিনিধি

একদিকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লোডশেডিং, অন্যদিকে মিটারের রিডিংয়ের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ বিদ্যুৎ বিল। দুই দিকের এই চাপে দিশেহারা গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলার প্রায় ৭৩ হাজার পল্লী বিদ্যুৎ গ্রাহকেরা। মোবাইল ব্যাংকিং বিকাশে বিল দেওয়ার পরও বিদ্যুৎ বিলের কাগজে বিল দেখানো হচ্ছে। জুন মাসের বিদ্যুৎ বিল হাতে পাওয়ার পর উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে অসংখ্য গ্রাহক এসকল অভিযোগ নিয়ে ছুটছেন পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে।

অভিযোগ উঠেছে, অনেক গ্রাহকের বিলে প্রকৃত ইউনিটের চেয়ে বেশি ইউনিট দেখিয়ে বিল তৈরি করা হয়েছে। পাশাপাশি বকেয়া আদায়ের নামে অনিয়ম ও নগদ টাকা আত্মসাতের অভিযোগও উঠেছে কিছু কর্মীর বিরুদ্ধে।

জানা গেছে, কোটালীপাড়া পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির দুটি সাবস্টেশন ও ১০টি ফিডারের আওতায় প্রায় ৭৩ হাজার গ্রাহক বিদ্যুৎ সেবা পাচ্ছেন। তবে জুন মাসে অধিকাংশ গ্রাহকের বিদ্যুৎ বিল অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

অনেকের দাবি, গত মাসের তুলনায় দুই থেকে চার গুণ পর্যন্ত বেশি বিল এসেছে। আবার অনেক ক্ষেত্রে বিলের কাগজে উল্লেখ করা মিটার রিডিংয়ের সঙ্গে বাস্তব রিডিংয়ের কোনো মিল পাওয়া যাচ্ছে না।

কোটালীপাড়া পৌরসভার বাগান উত্তরপাড়ার বাসিন্দা দিলিপ বাড়ৈ জানান, ১২ মার্চ থেকে ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত ২৯০ ইউনিটে বিল করা হয় ২ হাজার ২২০ টাকা। পরবর্তী মাসে ৫৫০ ইউনিটের জন্য বিল হয় ৫ হাজার ১৮১ টাকা। আর ১৬ মে থেকে ১৫ জুন পর্যন্ত ৮৮৫ ইউনিটে বিল করা হয়েছে ১২ হাজার ১৫৯ টাকা। মিটারে সমস্যা না কোথায় সমস্যা কিছুই বুঝতে পারছি না। মাত্র দুই মাসের ব্যবধানে বিল বেড়েছে প্রায় ১০ হাজার টাকা। একদিকে লোডশেডিংয়ের কারনে ঠিকমত বিদ্যুৎ পাচ্ছি না। অন্যদিকে প্রকৃত ব্যবহারের তুলনায় অস্বাভাবিক বিল করে সাধারণ মানুষের ওপর বাড়তি আর্থিক চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে।

কান্দি ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান উত্তম কুমার বাড়ৈ বলেন, মে-জুন মাসের বিলে ১০ জুন পর্যন্ত মিটারের রিডিং দেখানো হয়েছে ৬ হাজার ৭৯৫ ইউনিট। অথচ ২৪ জুন বিল হাতে পাওয়ার পর মিটারে তিনি দেখতে পান রিডিং ৬ হাজার ৭৫৫ ইউনিট। অর্থাৎ বিলে মিটারের বর্তমান অবস্থার চেয়েও বেশি ইউনিট দেখানো হয়েছে। বিষয়টি জানালে পল্লী বিদ্যুৎ অফিস অভিযোগ নিয়ে যেতে বলে।

কোটালীপাড়া পল্লী বিদ্যুতের জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) মফিজুল ইসলাম বলেন, জুন মাসের বিল নিয়ে বেশ কিছু অভিযোগ পাওয়া গেছে। মিটার রিডিংয়ের কিছু অসঙ্গতি পাওয়া গেছে। লোকবল সংকটের কারণে কিছু ক্ষেত্রে মিটারের কাছে না গিয়ে অনুমাননির্ভর রিডিং করা হয়ে থাকতে পারে।

লোডশেডিং প্রসঙ্গে তিনি জানান, কোটালীপাড়ায় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে প্রায় ১৮ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ প্রয়োজন হলেও ন্যাশনাল লোড ডিসপ্যাচ সেন্টার (এনএলডিসি) থেকে পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ৮ থেকে ১২ মেগাওয়াট। ফলে চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ সরবরাহ সম্ভব হচ্ছে না এবং বাধ্য হয়েই লোডশেডিং করতে হচ্ছে।


দুধ দিয়ে গোসল করে ব্রাজিল ছেড়ে আর্জেন্টিনায় ফুটবল ভক্ত

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি

বাংলাদেশের ফুটবল উন্মাদনা নতুন করে আবারও আলোচনার জন্ম দিয়েছে। মানিকগঞ্জে এক ফুটবল ভক্তের ‘সমর্থক ট্রান্সফার’-এর ঘটনা এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক ভাইরাল। দীর্ঘদিনের একনিষ্ঠ ব্রাজিল সমর্থক সজিব আহম্মেদ আনুষ্ঠানিকভাবে নিজের দল ত্যাগ করে আর্জেন্টিনার সমর্থক হিসেবে যোগ দিয়েছেন। এই বিশেষ মুহূর্তটিকে স্মরণীয় করে রাখতে এবং আগের দলের প্রতি ‘পাপমোচন’ ও নতুন দলের প্রতি পূর্ণ আনুগত্য প্রকাশ করতে তিনি রীতিমতো দুধ দিয়ে গোসল করেছেন।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) রাত ১০টার দিকে মানিকগঞ্জের বেতিলা-মিতরা ইউনিয়নে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটে। স্থানীয়রা জানান, সজিব অনেক দিন ধরেই ব্রাজিলের সমর্থন করে আসলেও আর্জেন্টিনা দলের সাম্প্রতিক সাফল্য এবং ২০২২ সালে কাতার বিশ্বকাপে তাদের বিশ্বজয়ী পারফরম্যান্সে মুগ্ধ হয়ে মনে মনে দলবদলের চিন্তা করছিলেন। অবশেষে স্থানীয় আর্জেন্টিনা সমর্থকদের উপস্থিতিতে তিনি একটি ছোটখাটো অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই ঘোষণা দেন। অনুষ্ঠানের শুরুতে তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে শপথবাক্য পাঠ করানো হয়।

শপথ নেওয়ার পর বালতি ভর্তি দুধ দিয়ে গোসল সম্পন্ন করেন সজিব। এরপর তিনি ব্রাজিলের জার্সি শরীর থেকে খুলে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী আর্জেন্টিনার আকাশী-সাদা জার্সি পরিধান করেন। সজিব আহম্মেদ তাঁর প্রতিক্রিয়ায় বলেন, “অনেক চিন্তা-ভাবনা করে আজ থেকে আমি আর্জেন্টিনার সমর্থক হিসেবে নতুন যাত্রা শুরু করলাম। ২০২২ সালে তারা বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ায় আমার এই সিদ্ধান্ত আরও দৃঢ় হয়েছে। এখন থেকে লিওনেল মেসির দলের জন্য আমার প্রাণ থাকবে।”

সজিবের এই অভিনব ‘দলবদল’ মানিকগঞ্জ এলাকায় ফুটবলপ্রেমীদের মাঝে হাসাহাসি ও আলোচনার ঝড় তুলেছে। আর্জেন্টিনা সমর্থকরা তাকে ফুল দিয়ে বরণ করে নিলেও ব্রাজিল ভক্তরা বিষয়টিকে মজার ছলে ‘বছরের সেরা ফুটবল ট্রান্সফার’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। ফুটবল নিয়ে এদেশের মানুষের আবেগ ও ভালোবাসা মাঝে মাঝে এমন নাটকীয় মোড় নেয়, যা বিশ্বজুড়ে বিরল।


বিরল হৃদরোগে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছে ২১ মাসের হেনজা

২১ মাস বয়সী হেনজা এলনাজ । ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি

হাসি-খুশি শৈশবের বদলে জন্মের পর থেকেই হাসপাতালের বিছানায় ২১ মাস বয়সী হেনজা এলনাজের নিত্যসঙ্গী। মাত্র চার মাস বয়সে তীব্র শ্বাসকষ্ট নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর চিকিৎসকদের পরীক্ষায় ধরা পড়ে, সে ‘ডাইলেটেড কার্ডিওমায়োপ্যাথি (ডিসিএম)’ নামের অত্যন্ত জটিল ও বিরল হৃদরোগে আক্রান্ত।

হেনজা সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার দ্বাবাড়ীয়া গ্রামের বাসিন্দা মো. আল্লামা ইকবাল তুসার ও আনিকা বিনতে রহমান উপমা দম্পতির একমাত্র কন্যা।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, রোগ শনাক্ত হওয়ার পর অবস্থার অবনতি হলে হেনজাকে ঢাকার ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। দীর্ঘদিন আইসিইউতে চিকিৎসা দেওয়ার পরও উন্নতি না হওয়ায় চিকিৎসকরা তাকে ভারতে নেওয়ার পরামর্শ দেন। স্বজনদের সহযোগিতা এবং ঋণ নিয়ে প্রায় ২৫ লাখ টাকা ব্যয়ে ভারতের বেঙ্গালুরুতে বিশ্বখ্যাত হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. দেবী শেঠী ও শিশু হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. শাশিরাজের তত্ত্বাবধানে হেনজার চিকিৎসা করানো হয়। পরিবারের দাবি, চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী হেনজা যে ধরনের বিরল হৃদরোগে আক্রান্ত, এ পর্যন্ত বিশ্বে মাত্র তিনজন শিশুর শরীরে এমন রোগ শনাক্ত হয়েছে।

বর্তমানে ঢাকার একটি হাসপাতালে তার চিকিৎসা চলমান রয়েছে। প্রতি মাসে ওষুধ, পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও চিকিৎসা বাবদ ব্যয় হচ্ছে প্রায় ৬০ থেকে ৭০ হাজার টাকা। অথচ হেনজার বাবা একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে মাসে মাত্র ২০ হাজার টাকা বেতনে চাকরি করেন। সীমিত আয়ে চিকিৎসার ব্যয় বহন করতে গিয়ে পরিবার এখন চরম আর্থিক সংকটে পড়েছে। চিকিৎসার জন্য নেওয়া ঋণের বোঝাও দিন দিন বাড়ছে।

চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী, হেনজাকে দ্রুত আবারও ভারতে নিয়ে বিশেষায়িত চিকিৎসা ও জেনেটিক পরীক্ষা করানো প্রয়োজন। তবে দীর্ঘমেয়াদি এই চিকিৎসায় ভবিষ্যতে প্রায় এক থেকে দুই কোটি টাকারও বেশি ব্যয় হতে পারে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।

অসহায় মা আনিকা বিনতে রহমান উপমা বলেন, আমার মেয়েটি প্রতিদিন জীবনের সঙ্গে যুদ্ধ করছে। একজন মা হিসেবে সন্তানের কষ্ট দেখা ছাড়া আমার আর কিছুই করার নেই। সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, মানবিক সংগঠন এবং সরকারের কাছে আমার মেয়ের জীবন বাঁচাতে সহযোগিতা চাই।

হেনজার বাবা আল্লামা ইকবাল তুসার বলেন, আমি প্রতিদিন আমার মেয়ের শ্বাসকষ্ট দেখে ভেঙে পড়ি। সবকি

ছু শেষ করে দিয়েছি চিকিৎসার জন্য। এখন আর কিছুই বাকি নেই। টাকার অভাবে ওর চিকিৎসা থেমে যাচ্ছে এটা আমাদের জন্য মৃত্যুর চেয়েও কষ্টের। কেউ যদি আমার মেয়েকে বাঁচাতে এগিয়ে আসতেন। তাহলে আমার মেয়ের জীবন বাঁচতে পারে।

একটি ছোট্ট হৃদয়ের এই লড়াই এখন শুধুই একটি পরিবারের নয়, এটি মানবতার লড়াই। সময়মতো সহায়তা পেলে হয়তো আবারও বাঁচার সুযোগ পেতে পারে ছোট্ট হেনজা।


সন্তানদের অবহেলায় রাস্তায় শতবর্ষী বাবা, দায়িত্ব নিলেন প্রতিমন্ত্রী টুকু

স্বজনের নিষ্ঠুরতা, নাতনি পুলিশ হেফাজতে
ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
শামীম আল মামুন, টাঙ্গাইল

জীবনের শেষ প্রান্তে এসে মানুষ সবচেয়ে বেশি আশ্রয় খোঁজেন নিজের সন্তান-স্বজনের কাছে। কিন্তু টাঙ্গাইলের এক শতবর্ষী বৃদ্ধের ভাগ্যে জুটেছে তার উল্টো চিত্র। যে মানুষটি সারাজীবন পরিশ্রম করে সন্তানদের বড় করেছেন, বয়সের ভারে ন্যুব্জ হয়েছেন, চোখের দৃষ্টিশক্তি প্রায় হারিয়েই ফেলেছেন, শেষ পর্যন্ত তাকেই ফেলে রাখা হলো রাস্তার পাশে। অসহায় সেই বৃদ্ধের পাশে দাঁড়ালেন টাঙ্গাইল সদর আসনের সংসদ সদস্য ও মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।

গত বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সন্ধ্যায় টাঙ্গাইল সদর উপজেলার বৈল্লা বাজারের সেতুর পাশে কান্নারত অবস্থায় উদ্ধার হন বৃদ্ধ মফিজ উদ্দিন।

স্থানীয়দের ভাষ্য, প্রায় দৃষ্টিশক্তিহীন এই বৃদ্ধ গত কয়েক বছর ধরেই একা চলাফেরা করতে পারেন না। বয়সের ভার ও শারীরিক দুর্বলতায় দৈনন্দিন জীবনযাপনের প্রতিটি ক্ষেত্রেই তাকে অন্যের সহায়তার ওপর নির্ভর করতে হয়।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এনায়েতপুর গ্রামের বাসিন্দা মফিজ উদ্দিন তিন ছেলে ও তিন মেয়ের জনক। প্রায় আট বছর আগে স্ত্রী মারা যাওয়ার পর থেকেই তার জীবন হয়ে ওঠে নিঃসঙ্গ। এক ছেলে মারা গেছেন, বড় ছেলে পক্ষাঘাতগ্রস্ত, আর ছোট ছেলে আলাদা সংসার করেন। জীবনের শেষ সম্বলটুকুও মাত্র ১০০ টাকার বিনিময়ে দুই ছেলের নামে লিখে দিয়েছিলেন তিনি। এরপর থেকেই পরিবারে তার অবস্থান ক্রমেই অনিশ্চিত হয়ে পড়ে।

এলাকাবাসী জানান, তিনি পক্ষাঘাতগ্রস্ত বড় ছেলে শামসুলের বাড়িতেই বসবাস করতেন। ছেলের স্ত্রী মারা যাওয়ার পর সেখানে নাতনি ও তার স্বামী থাকতেন। কিন্তু তারা বৃদ্ধ দাদার দেখাশোনা করতে চাননি। একপর্যায়ে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তাকে বাড়ি থেকে প্রায় তিন কিলোমিটার দূরে নিয়ে গিয়ে রাস্তার পাশে ফেলে রেখে চলে যান। দীর্ঘ সময় সেখানে বসে কান্না করছিলেন তিনি। পরে স্থানীয়রা এগিয়ে এসে তার পরিচয় শনাক্ত করেন।

ততক্ষণে খবরটি পৌঁছে যায় প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর কাছে। বিষয়টি জানার পর তিনি তাৎক্ষণিকভাবে টাঙ্গাইল সদর থানার ওসি গোলাম মুক্তার আশরাফ উদ্দিনকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। প্রতিমন্ত্রীর নির্দেশনায় পুলিশ রাতেই ঘটনাস্থলে গিয়ে বৃদ্ধকে উদ্ধার করে নিরাপদে তার ছোট মেয়ে রিনা বেগমের জিম্মায় পৌঁছে দেয়। একই সঙ্গে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিষয়ে আইনগত পদক্ষেপ শুরু করে পুলিশ। ইতিমধ্যে নাতনিকে থানা হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।

শুধু উদ্ধারেই থেমে থাকেননি প্রতিমন্ত্রী। বৃদ্ধের চিকিৎসা, খাবার, বাসস্থান এবং প্রয়োজনীয় সব ব্যয়ভার ব্যক্তিগতভাবে বহনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। দ্রুত বৃদ্ধভাতার ব্যবস্থা করার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনে তার থাকার জন্য আলাদা কক্ষ ভাড়া নেওয়া এবং সেই খরচও নিয়মিত বহন করবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী।

প্রথমদিকে বাবার দায়িত্ব নিতে অনাগ্রহ প্রকাশ করলেও প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলার পর ছোট মেয়ে রিনা বেগম বাবার দেখাশোনার দায়িত্ব নিতে সম্মত হন।

এবিষয়ে রিনা বেগম বলেন, পাশের বাড়ির লোকজনের মাধ্যমে জানতে পারি আমার বাবাকে রাস্তার পাশে ফেলে রেখে যাওয়া হয়েছে। বাবাকে ওই অবস্থায় দেখে খুব কষ্ট পেয়েছি। প্রতিমন্ত্রী আমার সঙ্গে কথা বলেছেন এবং সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন। এখন থেকে বাবার দায়িত্ব আমিই পালন করব।

টাঙ্গাইল সদর থানার ওসি গোলাম মুক্তার আশরাফ উদ্দিন বলেন, প্রতিমন্ত্রীর নির্দেশ পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে। তিনি বর্তমানে তার ছোট মেয়ের হেফাজতে রয়েছেন। নাতনিকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তবে তার স্বামী পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পালিয়ে যান।

এ বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, ‘একজন অসহায় বৃদ্ধকে এভাবে রাস্তায় ফেলে রেখে যাওয়ার ঘটনা অত্যন্ত অমানবিক ও হৃদয়বিদারক। বাবা-মা আমাদের সবচেয়ে বড় আশীর্বাদ। তাদের অবহেলা করার কোনো সুযোগ নেই। যতদিন প্রয়োজন, এই বৃদ্ধের চিকিৎসা, থাকা-খাওয়া ও প্রয়োজনীয় সহযোগিতার দায়িত্ব আমি নেব। একই সঙ্গে যারা তাকে এভাবে পরিত্যাগ করেছে, তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। সমাজের প্রতিটি মানুষকে অসহায় প্রবীণদের পাশে দাঁড়াতে হবে।’


স্বাধীনতার ৫৫ বছর পরও বীরাঙ্গনার স্বীকৃতি মেলেনি বুলবুলি রানীর

জীবনের শেষ প্রান্তে এসে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা
ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ভাঙ্গুড়া (পাবনা) প্রতিনিধি

স্বাধীনতার ৫৫ বছর পেরিয়ে গেলেও পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলার বাসিন্দা বুলবুলি রানী ঘোষ (৬৯) এখনো পাননি বীরাঙ্গনার রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি। স্বীকৃতি না পাওয়ায় জীবনের শেষ প্রান্তে এসেও তিনি বঞ্চিত রয়েছেন সরকারি ভাতা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা থেকে। দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন দপ্তরে আবেদন করেও কোনো ফল না পাওয়ায় তিনি এখন ন্যায্য স্বীকৃতির আশায় দিন গুনছেন।

বুলবুলি রানী ঘোষ জানান, ১৯৭১ সালের ১৪ মে তিনি পাবনার ফরিদপুর উপজেলার ডেমরা কুণ্ডুপাড়া গ্রামে বাবার বাড়িতে অবস্থান করছিলেন। সে সময় পাকহানাদার বাহিনীর সদস্যরা তাকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে পাশের একটি বাগানে নিয়ে নির্যাতন ও ধর্ষণ করে। তখন তার বয়স ছিল মাত্র ১৫ বছর।

স্বাধীনতার পর সামাজিক লজ্জা ও সম্মানের ভয়ে পরিবার বিষয়টি গোপন রেখে তার বিয়ে দেয়। কিন্তু কিছুদিন পর ঘটনাটি জানাজানি হলে স্বামী তাকে পরিত্যাগ করেন। এরপর আর তার সংসার হয়নি। পরবর্তীতে তার বাবা অমূল্য ঘোষ পরিবার নিয়ে ভাঙ্গুড়া উপজেলার অষ্টমণিষা গ্রামে বসবাস শুরু করেন। বাবার মৃত্যুর পর নিঃসন্তান ও অসহায় বুলবুলি এখন ভাই সুশান্ত ঘোষের আশ্রয়ে জীবনযাপন করছেন।

বুলবুলি রানী ঘোষের অভিযোগ, বার্ধক্যজনিত নানা রোগে ভুগলেও আর্থিক সংকটের কারণে নিয়মিত চিকিৎসা করাতে পারছেন না। এমনকি ঠিকমতো খাবার ও ওষুধও জোটে না। জীবনের শেষ সময়ে তিনি রাষ্ট্রের কাছে শুধু একজন বীরাঙ্গনা হিসেবে স্বীকৃতি চান।

তিনি বলেন, ‘অনেকের দ্বারে দ্বারে ঘুরেছি। আবেদন করেছি, অপেক্ষা করেছি। কিন্তু আজও বীরাঙ্গনার স্বীকৃতি পাইনি। এখন আমি ক্লান্ত। আমি বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের পুত্র, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে আমার ন্যায্য স্বীকৃতি ও সহায়তা কামনা করছি।’

তিনি আরও জানান, কয়েক বছর আগে অষ্টমণিষা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সুলতানা জাহান বকুলের পরামর্শে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেছিলেন। এরপর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও আর কোনো অগ্রগতির খবর পাননি।

অষ্টমণিষা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সুলতানা জাহান বকুল জানান, প্রায় দুই বছর আগে বুলবুলি রানী ঘোষের আবেদনের পর ফরিদপুর উপজেলার মুক্তিযোদ্ধারা তাকে বীরাঙ্গনার স্বীকৃতি দেওয়ার পক্ষে সুপারিশ করেন। সেই ভিত্তিতে তিনিও ইতিবাচক সুপারিশ করে আবেদনটি সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠিয়েছেন।

ভাঙ্গুড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরিফুজ্জামান বলেন, ‘বুলবুলি রানী ঘোষের আবেদনের বিষয়টি আমি শুনেছি। তবে আবেদনটি আগের কর্মকর্তার সময়ে করা হয়েছিল। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই-বাচাইয়ের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের করা হবে।’


ফরিদপুরে পাঠশালা কিন্ডারগার্টেন স্কুলে প্রদর্শনী ফুটবল ম্যাচ

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মাহবুব পিয়াল, ফরিদপুর

বিশ্বকাপ ফুটবল উপলক্ষে ফরিদপুর শহরের কমলাপুর বটতলায় অবস্থিত শিশু শিক্ষার অন্যতম প্রতিষ্টান পাঠশালা কিন্ডারগার্টেন স্কুলের উদ্যোগে এক বর্ণাঢ্য প্রদর্শনী ফুটবল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শিক্ষার্থীদের ফুটবলের প্রতি আগ্রহ বৃদ্ধি এবং খেলাধুলার মাধ্যমে শারীরিক ও মানসিক বিকাশে উৎসাহিত করতেই এ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়।

রোমাঞ্চকর এ ম্যাচে ব্রাজিল দল ২-১ গোলের ব্যবধানে আর্জেন্টিনা দলকে পরাজিত করে শিরোপা জয় করে। ব্রাজিলের হয়ে সাদ একটি গোল করেন। আর্জেন্টিনার পক্ষে শামীম একটি গোল শোধ দেন। অপর গোলটি আত্মঘাতী হওয়ায় ব্রাজিল জয় নিশ্চিত করে।

প্রতিষ্ঠানটির প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ রোকনউদ্দিন রুমনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ফরিদপুর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মাহবুব হোসেন পিয়াল।

এ সময় বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন রিফাত আহমেদ, রাসু চৌধুরী, রিনা বিশ্বাস, মো. খালিদ হাসান তুহিন, সালমা খানম, ইয়ারুন নাহার রুনা, পিংকি আসমা, শিল্পী লামিয়া ও হোসনেয়ারা প্রমুখ। এছাড়া শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত থেকে খেলা উপভোগ করেন।

খেলা শেষে আর্জেন্টিনা দলের খেলোয়াড় শামীম ‘ম্যান অব দ্য ম্যাচ’ নির্বাচিত হন। পরে প্রধান অতিথি মাহবুব হোসেন পিয়াল বিজয়ী ও রানারআপ দলের খেলোয়াড়দের হাতে ট্রফি ও পুরস্কার তুলে দেন।


গৌরীনাথপুরে প্রতিদিন বিক্রি হয় কোটি টাকার ড্রাগন ফল

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মহেশপুর (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি

ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার গৌরীনাথপুর বাজার এখন দেশের অন্যতম বৃহৎ ড্রাগন ফলের পাইকারি বিপণনকেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। ‘ড্রাগনের রাজধানী’ হিসেবে পরিচিত এ বাজারে মৌসুমজুড়ে প্রতিদিন সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত চলে জমজমাট বেচাকেনা। জেলার পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা কৃষকদের উৎপাদিত ড্রাগন ফল বিক্রি হয় এই বাজারে। বর্তমানে প্রতিদিন কয়েক কোটি টাকার ফল বিক্রি হচ্ছে। স্থানীয়ভাবে বড় বাজার গড়ে ওঠায় ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন কৃষক।

সরেজমিনে গৌরীনাথপুর বাজারে গিয়ে দেখা যায়, বাজারজুড়ে সারি সারি আড়তে লাল, গোলাপি ও হলুদ রঙের ড্রাগন ফলের স্তূপ। ভোর থেকেই কৃষকেরা ভ্যান, পিকআপ ও ট্রাকযোগে ফল নিয়ে আসছেন। আড়তগুলোতে চলছে বাছাই, ওজন ও প্যাকেটজাত করার ব্যস্ততা। এরপর দেশের বিভিন্ন জেলায় ট্রাকযোগে পাঠানো হচ্ছে এসব ফল।

ব্যবসায়ীরা জানান, বর্তমানে বাজারে প্রায় ১০০টি আড়তে প্রতিদিন কোটি কোটি টাকার ড্রাগন ফল কেনাবেচা হচ্ছে। এখান থেকে ঢাকাসহ চট্টগ্রাম, খুলনা, রাজশাহী, সিলেট, বরিশাল, রংপুরসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ফল সরবরাহ করা হয়।

স্থানীয় কৃষক আব্দুল হক বলেন, আগে ড্রাগন ফল বিক্রির জন্য দূরের বাজারে যেতে হতো। এখন গৌরীনাথপুরেই বড় বাজার হওয়ায় পরিবহন খরচ কমেছে এবং ন্যায্যমূল্যও পাচ্ছি।

আরেক কৃষক রবিউল ইসলাম বলেন, ড্রাগন চাষে খরচ তুলনামূলক কম, লাভও ভালো। বাজারে ক্রেতার অভাব নেই। তাই প্রতিবছরই বাগানের পরিধি বাড়াচ্ছি।

আড়তদার সাইদুর রহমান বলেন, মৌসুমের সময় প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ ড্রাগন ফল বাজারে আসে। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে পাইকাররা এখানে এসে সরাসরি ফল কিনে নিয়ে যান। কৃষকও ভালো দাম পান, আমরাও ব্যবসা করতে পারছি।

পাইকারি ব্যবসায়ী আব্দুর রহিম বলেন, গৌরীনাথপুরের ড্রাগনের মান ভালো হওয়ায় দেশের বাজারে এর চাহিদা অনেক বেশি। প্রতিদিন কয়েকটি ট্রাক ভর্তি ফল বিভিন্ন জেলায় পাঠানো হচ্ছে।

মহেশপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ইয়াসমিন সুলতানা বলেন, ড্রাগন ফলের নিরাপদ উৎপাদন নিশ্চিত করতে কৃষকদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও কারিগরি পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। কোনো ধরনের ক্ষতিকর রাসায়নিকের অপব্যবহার যেন না হয়, সে বিষয়ে আমরা সার্বক্ষণিক নজরদারি করছি। পাশাপাশি গৌরীনাথপুর বাজারের সুষ্ঠু বিপণন ব্যবস্থাপনা এবং কৃষকদের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতেও কৃষি বিভাগ কাজ করে যাচ্ছে।


অল-ওয়েদার রোডকে ঘিরে হাওরে নতুন অর্থনৈতিক সম্ভাবনার স্বপ্ন

হাওরে ইপিজেড ও শিল্পাঞ্চল গড়ার দাবি আরো জোরালো হচ্ছে
ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নজরুল ইসলাম, অষ্টগ্রাম (কিশোরগঞ্জ)

চারিদিকে থইথই জলরাশি, আর তার বুক চিরে সুদূরপ্রসারী দৃষ্টিনন্দন অল-ওয়েদার রোড। বর্ষায় রূপকথার মতো সুন্দর আর শুকনো মৌসুমে ফসলের সবুজ গালিচায় মোড়ানো জেলা কিশোরগঞ্জের তিন হাওর উপজেলা ইটনা, মিঠামইন ও অষ্টগ্রাম। কিন্তু এই অপরূপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের আড়ালে লুকিয়ে আছে এক নির্মম অর্থনৈতিক বাস্তবতা।

এখানকার প্রায় শতভাগ মানুষের প্রধান জীবিকা কৃষি ও মৎস্য। এই একমুখী অর্থনীতির কারণে বছরের পর বছর প্রকৃতির খামখেয়ালিপনার কাছে জিম্মি হয়ে আছে লাখো মানুষের ভাগ্য। অতিবৃষ্টি, খরা, অকাল বন্যা, হঠাৎ শিলাবৃষ্টি কিংবা পোকার আক্রমণে ফসল নষ্ট হলে এখানকার মানুষের ঘুরে দাঁড়ানোর আর কোনো বিকল্প পথ থাকে না। এই ভংগুর অর্থনৈতিক বৃত্ত ভাঙতে এবং টেকসই উন্নয়নের জন্য হাওরাঞ্চলে এখন এক নতুন শিল্পবিপ্লবের সময় এসেছে। আর সেই বিপ্লবের পথ দেখাতে পারে গাজীপুর ও নরসিংদীর সফল অর্থনৈতিক মডেল।

ইতিহাস থেকে জানা যায়, একসময় নরসিংদী ও গাজীপুর অঞ্চলের বহু মানুষ জীবিকার তাগিদে কিশোরগঞ্জের হাওরে কৃষিশ্রমিক হিসেবে আসতেন। কিন্তু গত কয়েক দশকে বস্ত্রশিল্প, তৈরি পোশাক খাত এবং বিভিন্ন মাঝারি ও ভারী শিল্পের প্রসারে সেখানে অর্থনৈতিক চিত্র পুরোপুরি বদলে গেছে। শিল্পায়নের ফলে সেখানকার বেকারত্ব দূর হয়েছে এবং মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত হয়েছে। অথচ এখন উল্টো চিত্র দেখা যাচ্ছে হাওরে।

আজ এ অঞ্চলের হাজার হাজার বেকার যুবক কাজের সন্ধানে গাজীপুর, নরসিংদী কিংবা নারায়ণগঞ্জের শিল্পকারখানাগুলোতে পাড়ি জমাচ্ছেন। এই বাস্তবতাই প্রমাণ করে একটি অঞ্চলের স্থায়ী অর্থনৈতিক মুক্তি ও দুর্যোগকালীন নিরাপত্তার জন্য শুধু কৃষির ওপর নির্ভর করে থাকা ঝুঁকিপূর্ণ। কৃষির পাশাপাশি বিকল্প কর্মসংস্থান ও শিল্পায়নই হতে পারে একমাত্র রক্ষা কবচ।

অতীতে যোগাযোগ ব্যবস্থার অভাবে হাওরে শিল্পকারখানার কথা চিন্তা করাও ছিল আকাশকুসুম কল্পনা। তবে বর্তমানে দৃষ্টিনন্দন অল-ওয়েদার রোড সেই স্থবিরতা অনেকটাই দূর করেছে।

ভৌগোলিক কারণে এই যোগাযোগ ব্যবস্থার রূপ দুই ঋতুতে দুই রকম; শুকনো মৌসুমে অল-ওয়েদার রোডের কল্যাণে সড়ক যোগাযোগের পাশাপাশি বর্ষাকালে চারপাশ পানিতে ভেসে গেলে অভ্যন্তরীণ যাতায়াতে দ্রুতগামী নৌযোগাযোগের ব্যবস্থা রয়েছে। তবে এই যোগাযোগ ব্যবস্থায় স্থায়ী ও যুগান্তকারী রূপান্তর ঘটতে যাচ্ছে অষ্টগ্রাম-চাতলপাড় সংলগ্ন নদীতে নির্মাণাধীন নতুন সেতুর মাধ্যমে। দ্রুত এই সেতুর কাজ পুরোপুরি সম্পন্ন হলে বর্ষা বা শুকনো মৌসুমের সীমাবদ্ধতা আর থাকবে না। অষ্টগ্রাম থেকে চাতলপাড় হয়ে সরাসরি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিশ্বরোড লিঙ্ক ধরে সারা বছরই দেশের যেকোনো প্রান্তে দ্রুততম সময়ে সড়ক পথে পণ্য ও যাত্রী পরিবহন করা সম্ভব হবে। সড়ক ও নৌপথের এই অভূতপূর্ব মেলবন্ধনকে কাজে লাগিয়েই মূলত হাওর অঞ্চলকে একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ ‘অর্থনৈতিক হাব’ হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব। ফলে ইটনা-মিঠামইন-অষ্টগ্রাম এমন একটি বাণিজ্যিক কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হবে যেখানে কৃষি, শিল্প, বাণিজ্য এবং আধুনিক পর্যটনের এক অভূতপূর্ব সমন্বয় ঘটবে। এর ফলে এক বিশাল বহুমুখী সাপ্লাই চেইন নেটওয়ার্ক তৈরি হবে, যা পুরো অঞ্চলের চেহারাই বদলে দেবে।

বিনিয়োগ ও শিল্পকারখানা স্থাপনের জন্য কিশোরগঞ্জের এই হাওর অঞ্চল বর্তমানে অন্যতম আদর্শ একটি স্থান। কারণ, দেশের অন্যান্য শিল্পাঞ্চলের তুলনায় এখানে শিল্প স্থাপনের জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণে জমি রয়েছে, যা অত্যন্ত সাশ্রয়ী ও সস্তায় লিজ বা কেনা সম্ভব। এর চেয়েও বড় সুবিধা হলো এখানকার বিশাল ও কর্মক্ষম শ্রমশক্তি। হাওরে পর্যাপ্ত পরিমাণে কঠোর পরিশ্রমী শ্রমিক রয়েছেন, যাদের খুব সহজেই এবং তুলনামূলক কম মজুরিতে কারখানার কাজে যুক্ত করা সম্ভব। এই সাশ্রয়ী জমি ও সস্তা শ্রমের মেলবন্ধন যেকোনো বড় শিল্পোদ্যোক্তার জন্য উৎপাদন খরচ কমিয়ে আনার এক দারুণ সুযোগ তৈরি করবে।

এই অনুকূল পরিবেশকে কাজে লাগিয়ে হাওর অঞ্চলে একটি রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা বা ইপিজেড স্থাপন করা এখন সময়ের দাবি। সেখানে তৈরি পোশাক শিল্প বা হালকা প্রকৌশল শিল্প গড়ে উঠলে স্থানীয় যুবসমাজের কর্মসংস্থান হবে, বিশেষ করে নারীদের অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন ঘটবে। পাশাপাশি, হাওরের উদ্বৃত্ত ধান ও দেশীয় মাছের সঠিক বাণিজ্যিক ব্যবহারের জন্য মেগা কোল্ড স্টোরেজ চেইন, আধুনিক অটো রাইস মিল এবং মাছ প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানা স্থাপন করাও জরুরি। আধুনিক হিমাগার থাকলে জেলেরা মাছ ধরার পর তা নষ্ট হওয়ার ভয়ে কম দামে বেচতে বাধ্য হবেন না। এছাড়া ধানের কুঁড়া থেকে ভোজ্য তেল উৎপাদনের মতো উপজাত শিল্প এবং অষ্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী পনিরকে কেন্দ্র করে আধুনিক ডেইরি প্রসেসিং প্ল্যান্ট স্থাপন করা গেলে তা আন্তর্জাতিক বাজারেও জায়গা করে নিতে পারবে।


banner close