মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
৩০ ভাদ্র ১৪৩৩
ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচন

দ্বিতীয় ধাপে নির্বাচিত হলেন যারা

ফাইল ছবি
সারা বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত
সারা বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত : ২২ মে, ২০২৪ ০০:২৭

ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপে ১৫৬টি উপজেলায় ভোটগ্রহণ শেষ হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত চলে ভোটগ্রহণ। ভোট গণনা শেষে রাতে নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশ করেন রিটার্নিং কর্মকর্তারা। সারা দেশের প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর থেকে জানা যায়-

ফরিদপুর

উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপে ফরিদপুরের নগরকান্দা ও সালথা উপজেলায় ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। নগরকান্দা উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপ-কমিটির সাবেক সহসম্পাদক কাজী শাহ জামান বাবুল। আনারস প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ৩৭ হাজার ২০৯ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মোটরসাইকেল প্রতীকের প্রার্থী বর্তমান উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মনিরুজ্জামান সরদার পেয়েছেন ২৫ হাজার ২৩৭ ভোট।

অন্যদিকে সালথা উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে বর্তমান চেয়ারম্যান ওয়াদুদ মাতুব্বর বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। আনারস প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ৩৫ হাজার ৫৪৫ ভোট তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী সালথা উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও মোটরসাইকেল প্রতীকের প্রার্থী মো. ওহিদুজ্জামান পেয়েছেন ৫ হাজার ৩৪২ ভোট।

নারায়ণগঞ্জ

উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপে নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলায় ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম। ঘোড়া প্রতীকে তিনি পেয়েছেন এক লাখ ১৫ হাজার ২৫২ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী দোয়াত কলম প্রতীকের প্রার্থী মো. শাহজালাল মিয়া পেয়েছেন ১৩ হাজার ১৩২ ভোট।

বিজয়ী মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম আড়াইহাজার উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সদস্য। তিনি কালাপাহাড়িয়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান। অন্যদিকে তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মো. শাহজালাল মিয়া আড়াইহাজার উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া

দ্বিতীয় ধাপের উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা ও আখাউড়ায় উপজেলায় ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। কসবা উপজেলায় আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের ফুফাতো ভাই ছাইদুর রহমান ও আখাউড়ায় মোগড়া ইউনিয়ন পরিষদের তিনবারের সাবেক চেয়ারম্যান মনির হোসেন বেসরকারিভাবে চেয়ারম্যান নির্বাাচিত হয়েছেন।

ঘোষিত ফলাফল অনুযায়ী, কসবা উপজেলায় ছায়েদুর রহমান স্বপন কাপ-পিরিচ প্রতীকে ৮৬ হাজার ৬৯৮ ভোট পেয়ে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও কুটি ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ছিলেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বর্তমান উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের সাবেক সহকারী একান্ত সচিব রাশেদুল কাউসার ভূইয়া আনারস প্রতীকে পেয়েছেন ৩৯ হাজার ৯৫৯ ভোট।

অন্যদিকে আখাউড়া উপজেলায় মনির হোসেন ঘোড়া প্রতীকে ২৮ হাজার ৩০৯ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি উপজেলা যুবলীগের সাবেক আহ্বায়ক ও মোগড়া ইউনিয়ন পরিষদের তিনবারের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান আনারস প্রতীকে পেয়েছেন ১৪ হাজার ৫৬৩ ভোট।

রাঙামাটি

ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপে রাঙামাটির রাজস্থলী, কাপ্তাই ও বিলাইছড়ি উপজেলায় শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। রাজস্থলী উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি উবাচ মারমা আনারস প্রতীকে ৭ হাজার ৭৫ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মো. রিয়াজ উদ্দীন রানা দোয়াত কলম প্রতীকে পেয়েছেন ২ হাজার ১৮ ভোট।

অন্যদিকে কাপ্তাই উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে উপজেলা যুবলীগের সভাপতি মো. নাছির উদ্দিন দোয়াত কলম প্রতীকে ৭ হাজার ৩৬২ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও সাবেক ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আনোয়ারুল ইসলাম চৌধুরী আনারস প্রতীকে পেয়েছেন ৬ হাজার ৯৭৩ ভোট।

অপরদিকে বিলাইছড়ি উপজেলায় মোট ১৩টি কেন্দ্রের মধ্যে ৫টি হেলিসর্টি ভোটকেন্দ্র রয়েছে। দুর্গম এলাকা হওয়ায় রাত সাড়ে ৯টা পর্যন্ত ফলাফল না আসায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কোনো ফলাফল ঘোষণা করেননি। তবে বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা যায়, পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (জেএসএস) সমর্থিত দোয়াত কলম প্রতীকের বিরোত্তম তঞ্চঙ্গ্যা চেয়ারম্যান পদে বিজয়ী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

লালমনিরহাট

লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ ও আদিতমারী উপজেলায় উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপে ভোটগ্রহণ শেষ হয়েছে। দুই উপজেলায় মধ্যে আদিতমারী উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে ফারুক ইমরুল কায়েস ও কালীগঞ্জ উপজেলায় জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক রাকিবুজ্জামান আহমেদ বিজয়ী হয়েছেন।

রাত সাড়ে ৯টার দিকে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা লুৎফর কবির তাদেরকে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত ঘোষণা করেন।

আদিতমারী উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে ফারুক ইমরুল কায়েস মোটরসাইকেল প্রতীকে পেয়েছেন ৩৩ হাজার ১৩৫ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রফিকুল আলম আনারস প্রতীকে পেয়েছেন ২৯ হাজার ১৮টি ভোট

কালীগঞ্জ উপজেলায় সাবেক সমাজকল্যাণমন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদের ছেলে রাকিবুজ্জামান আহমেদ আনারস প্রতীকে পেয়েছেন ২৪ হাজার ৩০৩ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী তার চাচা উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মাহবুবুজ্জামান আহমেদ ঘোড়া প্রতীকে পেয়েছেন ১৯ হাজার ৩৫০ ভোট।

পিরোজপুর

ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে দ্বিতীয় ধাপে পিরোজপুর জেলার দুই উপজেলায় শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। মঙ্গলবার পিরোজপুরের নেছারাবাদ ও কাউখালী উপজেলার ১৫টি ইউনিয়নের মোট ১২২টি ভোটকেন্দ্রে ইভিএম পদ্ধতিতে এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।

কাউখালী উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে মো. আবু সাঈদ মিঞা ও নেছারাবাদ উপজেলায় আব্দুল হক নির্বাচিত হয়েছেন। রাতে নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা সৈয়দ শফিকুল হক বেসরকারিভাবে তাদের বিজয়ী ঘোষণা করেন।

নেছারাবাদ উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে আব্দুল হক আনারস প্রতীকে ৩৮ হাজার ৬১২ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী এস এম মুইদুল ইসলাম মোটরসাইল প্রতীকে পেয়েছেন ৩৫ হাজার ৫২০ ভোট।

অন্যদিকে কাউখালী উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে মো. আবু সাঈদ মিঞা ঘোড়া প্রতীকে ১১ হাজার ২৮৪ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মো. মনিরুজ্জামান তালুকদার পল্টন কাপ-পিরিচ প্রতীকে পেয়েছেন ৬ হাজার ২৯৪ ভোট।

ঝালকাঠি

উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপে ঝালকাঠি সদর ও নলছিটি উপজেলায় ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ঝালকাঠি সদর উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান ও ঝালকাঠি জেলা আওয়ামী লীগ সহ-সভাপতি খান আরিফুর রহমান। আনারস প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ৩৩ হাজার ৯৪৩ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী দোয়াত কলম প্রতীকের প্রার্থী মো. সুলতান খান পেয়েছেন ২৫ হাজার ৯৭১ ভোট।

অন্যদিকে নলছিটি উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মো. সালাউদ্দিন খান সেলিম বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। মোটরসাইকেল প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ২৩ হাজার ৯৩৯ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাবেক মেয়র তছলিম উদ্দিন চৌধুরী আনারস প্রতীকে পেয়েছেন ১৬ হাজার ৭৮৪ ভোট।

বাগেরহাট

উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপে বাগেরহাটে ফকিরহাট, মোল্লাহাট,ও চিতলমারী উপজেলায় ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ফকিরহাট উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন শেখ ওহিদুজ্জামান বাবু। মোটরসাইকেল প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ৪৬ হাজার ৬৫৪ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আনরস প্রতীকের প্রার্থী বর্তমানে উপজেলা চেয়ারম্যান স্বপন দাস পেয়েছেন ২৯ হাজার ৪৩৭ ভোট। এ উপজেলায় ভোট কাস্ট হয়েছে ৬২.৫০ শতাংশ।

চিতলমারী উপজেলার চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হয়েছেন মো. আলমগীর হোসেন সিদ্দিকী। দোয়াত কলম প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ৩৪ হাজার ৮৮৬ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বর্তমান উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও বাগেরহাট জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি অশোক কুমার বড়াল মোটরসাইকেল প্রতীকে পেয়েছেন ২২ হাজার ৭৬৩ ভোট। এ উপজেলায় ভোট কাস্ট হয়েছে ৪৫.৭৫ শতাংশ।

অন্যদিকে মোল্লাহাট উপজেলার চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হয়েছেন বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শাহিনুর আলম ছানা। দোয়াত কলম প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ২৯ হাজার ৯০২ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বর্তমান উপজেলা শেখ নাসির উদ্দীন আনারস প্রতীকে পেয়েছেন ১৯ হাজার ৯৫৪ ভোট। এ উপজেলায় ভোট কাস্ট হয়েছে ৫৩.৭৭ শতাংশ। জেলায় গড় ভোট কাস্টিং হয়েছে ৫৪ শতাংশ।

যশোর

দ্বিতীয় ধাপের উপজেলা নির্বাচনে যশোরের ঝিকরগাছা, শার্শা ও চৌগাছা উপজেলায় ভোটগ্রহণ করা হয়েছে। ভোটগ্রহণ শেষে রাতে বেসরকারিভাবে ফলাফল ঘোষণা করেন উপজেলাগুলোর দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তারা।

চৌগাছা উপজেলা চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হয়েছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা এসএম হাবিবুর রহমান। আনারস প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ৩৩ হাজার ৫৬৫ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ ড. মোস্তানিছুর রহমান পেয়েছেন ২৮ হাজার ৯৮০ ভোট।

নির্বাচনের সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও চৌগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুম্মিতা সাহা রাত সাড়ে ৯টায় এ ফলাফল ঘোষণা করেন।

ঝিকরগাছা উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হয়েছেন বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. মনিরুল ইসলাম। আনারস প্রতীকে মনিরুল ইসলাম পেয়েছেন ৪০ হাজার ৬৪৩ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী সেলিম রেজা ঘোড়া প্রতীকে পেয়েছেন ১৮ হাজার ৪৪৩ ভোট।

অন্যদিকে শার্শা উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে মো. সোহরাব হোসেন দোয়াত কলম প্রতীক নিয়ে ৩৭ হাজার ৫৭০ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মো. অহিদুজ্জামান আনারস প্রতীকে পেয়েছেন ১২ হাজার ২৯১ ভোট।

রাজশাহী

দ্বিতীয় ধাপে রাজশাহীর বাগমারা, দুর্গাপুর ও পুঠিয়া উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বাগমারা উপজেলায় বেসরকারিভাবে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন জাকিরুল ইসলাম সান্টু। তিনি ঘোড়া প্রতীকে পেয়েছেন ৪৭ হাজার ৩২২ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আব্দুর রাজ্জাক সরকার ওরফে আর্ট বাবু পেয়েছেন ৪ হাজার ৩২১ ভোট।

পুঠিয়া উপজেলায় বেসরকারিভাবে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন আবদুস সামাদ মোল্লা। তিনি আনারস প্রতীকে পেয়েছেন ২৬ হাজার ৬৬৫ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আহসানুল হক মাসুদ ঘোড়া প্রতীকে পেয়েছেন ২৩ হাজার ৬৭৯ ভোট।

অন্যদিকে দুর্গাপুর উপজেলায় বেসরকারিভাবে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন শরীফুজ্জামান শরীফ। তিনি মোটরসাইকেল প্রতীকে পেয়েছেন ৪২ হাজার ১১৩ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আব্দুল মজিদ সরদার পেয়েছেন ২৭ হাজার ৩৩২ ভোট।

সাতক্ষীরা

ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপে সাতক্ষীরার আশাশুনি, তালা ও দেবহাটা উপজেলায় ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

আশাশুনি উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও বর্তমান উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এবিএম মোস্তাকিম বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি চিংড়ি প্রতীকে পেয়েছেন ৫১ হাজার ৬৬২ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী শাহনেওয়াজ ডালিম ঘোড়া প্রতীকে পেয়েছেন ৫০ হাজার ৭০৭ ভোট।

অপরদিকে সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলা নির্বাচনে মো. আল ফেরদাউস বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি হেলিকপ্টার প্রতীকে ২৬ হাজার ৩৭৭ ভোট পেয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মো. মজিবুর রহমান মোটরসাইকেল প্রতীকে পেয়েছেন ১৭ হাজার ১৫২ ভোট।

এ ছাড়া সাতক্ষীরার তালা উপজেলা নির্বাচনে ঘোষ সনৎ কুমার বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি কাপ পিরিচ প্রতীকে ৪৬ হাজার ৪৫৮ ভোট পেয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী সরদার মশিয়ার চিংড়ি প্রতীকে পেয়েছেন ৩২ হাজার ৪১৩ ভোট।

বিষয়:

নির্বাচিত

বরিশালে ৩১ নামজারি আবেদন পেন্ডিং, দুই কর্মকর্তা শোকজ

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বরিশাল প্রতিনিধি

সদর উপজেলার বিএম ইউনিয়ন ভূমি অফিসে দীর্ঘদিন ধরে নামজারি ও হোল্ডিংয়ের আবেদন পেন্ডিং থাকায় দুই ভূমি কর্মকর্তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। সোমবার সকাল ৯টার দিকে আকস্মিক পরিদর্শনে গিয়ে এ আবেদন দীর্ঘদিন ধরে নিষ্পত্তি না হওয়ার বিষয়টি দেখতে পান বরিশালের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো. ওবায়দুল্লাহ।

পরিদর্শনকালে অফিসের নথিপত্র ও চলমান কার্যক্রম পর্যালোচনা করে দেখা যায়, ৩১টি নামজারি আবেদন ৩০ দিনের বেশি সময় ধরে পেন্ডিং রয়েছে। একই সঙ্গে ১১টি হোল্ডিং আবেদনেরও নিষ্পত্তি হয়নি। দীর্ঘদিন ধরে এসব আবেদন ঝুলে থাকায় সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষ ভোগান্তিতে পড়ছেন বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ঘটনায় বিএম ইউনিয়ন ভূমি অফিসের ইউনিয়ন ভূমি উপসহকারী কর্মকর্তা শিপন ভাবুক এবং ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রফিকুল ইসলামকে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে, দীর্ঘ সময় ধরে আবেদন নিষ্পত্তি না করা জনসাধারণের ভোগান্তির কারণ হচ্ছে এবং এতে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে। সরকারি দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন না করার বিষয়টি কেন দায়িত্বে অবহেলা হিসেবে গণ্য করা হবে না—সেই বিষয়ে তাদের কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে।

সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে কেন বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না, সেই বিষয়ে নোটিশ পাওয়ার পরবর্তী তিন কার্যদিবসের মধ্যে লিখিত জবাব দিতে বলা হয়েছে।

প্রশাসনের এমন আকস্মিক পরিদর্শনের ফলে ভূমি অফিসগুলোতে সেবার মান বাড়বে এবং দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকা আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তির মাধ্যমে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

জেলা প্রশাসক মো. মামুন খন্দকার বলেছেন, ‘ভূমি সেবার সঙ্গে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন প্রয়োজন ও অধিকার জড়িত। কোনো আবেদন অযৌক্তিকভাবে দীর্ঘদিন পেন্ডিং রাখা হবে না। জনগণকে হয়রানি না করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নামজারি ও হোল্ডিংসহ সব সেবা নিশ্চিত করতে হবে। দায়িত্বে অবহেলা, কর্মবিমুখতা কিংবা জনভোগান্তি সৃষ্টি হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। একই সঙ্গে দ্রুত সেবা প্রদান ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসনের তদারকি কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।’


নির্বাচিত

শেরপুরে সারের গোডাউন ও বিক্রয় কার্যক্রম মনিটরিং

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
শেরপুর প্রতিনিধি

জেলার নকলা উপজেলায় গতকাল সোমবার সার ডিলারদের গোডাউন ও সার বিক্রয় কার্যক্রম মনিটরিং করেছেন জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিন। সোমবার দুপুরে জেলা প্রশাসক নকলা উপজেলার বিভিন্ন সার ডিলারের গোডাউন এবং বিক্রয় কার্যক্রম পরিদর্শন করেন।

মনিটরিংকালে সার ডিলারদের সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী সার সংরক্ষণ ও ন্যায্যমূল্যে কৃষকদের কাছে বিক্রয়ের বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়। পাশাপাশি সার সরবরাহ ও বিক্রয় ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

এ সময় নকলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর আলম, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাদিয়া আফরিন এ্যানি, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল ওয়াদুদ, নকলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রিপন চন্দ্র গোপ, জেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির সদস্য দেলোয়ার হোসেন সাঈদী, জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক আবু রায়হান রুপন, নকলা উপজেলা কৃষক দলের আহ্বায়ক রফিকুল ইসলাম, পৌর কৃষক দলের আহ্বায়ক মনিরুল ইসলাম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।


নির্বাচিত

ঢাকায় যাওয়ার পথে দৌলতদিয়ায় ৫ শিশুকে উদ্ধার

# খেলতে খেলতে কৌতূহল, ইজিবাইক ভাড়া করে মাগুরা থেকে রওনা
ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
রাজবাড়ী প্রতিনিধি

কৈশোরের দুরন্তপনা ও কৌতূহল থেকে একসঙ্গে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেওয়া পাঁচ শিশুকে রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া বাসস্ট্যান্ড থেকে উদ্ধার করেছে গোয়ালন্দ ঘাট থানার পুলিশ। পরে অভিভাবকদের থানায় ডেকে এনে শিশুদের তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। গতকাল সোমবার দুপুর ২টার দিকে দৌলতদিয়া বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে ১০ থেকে ১৩ বছর বয়সি ওই পাঁচ শিশুকে উদ্ধার করা হয়।

উদ্ধার হওয়া শিশুরা হলো—মাগুরা সদর উপজেলার কাদিরাবাদ এলাকার আনোয়ার ও বিউটি দম্পতির ছেলে মো. হিরোন (১১), সাগর বিশ্বাস ও রোজিনা বেগমের ছেলে জিসান (১৩), নাজমুল ও আঙ্গুরার ছেলে আবুজার (১৩), মো. তরিকুল ইসলাম টিয়া ও মোছা. লতিফা বেগমের ছেলে মো. আব্দুল্লাহ (১৩) এবং আলমগীর বিশ্বাস ও নাজমা বেগমের ছেলে খালিদ বিশ্বাস (১০)।

পুলিশ ও শিশুদের পরিবারের সূত্রে জানা যায়, পাঁচ শিশু পরস্পরের বন্ধু। তারা একসঙ্গে খেলাধুলা করত। গতকাল সোমবার সকালে হঠাৎ কৌতূহলবশত কাউকে না জানিয়ে ঢাকার উদ্দেশে বাড়ি থেকে বেরিয়ে পড়ে। পরে একটি ইজিবাইক ভাড়া করে মাগুরা সদর থানা এলাকার কাদিরাবাদ থেকে রওনা দেয় তারা। ইজিবাইকে করে দুপুর ২টার দিকে দৌলতদিয়া বাসস্ট্যান্ডে এসে পৌঁছায়।

এদিকে সন্তানদের বাড়িতে না পেয়ে তাদের অভিভাবকরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। দীর্ঘ সময় সন্তানদের সন্ধান না পেয়ে তারা উদ্বিগ্ন ও আতঙ্কিত হয়ে পড়েন।

দৌলতদিয়া বাসস্ট্যান্ডে উদ্দেশ্যহীনভাবে ঘোরাফেরা করতে দেখে গোয়ালন্দ ঘাট থানার টহল পুলিশের সদস্যরা পাঁচ শিশুর সঙ্গে কথা বলেন। একপর্যায়ে পুলিশ তাদের বাড়ি, পরিচয় ও সেখানে আসার কারণ জানতে পারে। শিশুদের কথাবার্তা থেকে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর পুলিশ তাদের অভিভাবকদের সঙ্গে যোগাযোগ করে।

খবর পেয়ে পাঁচ শিশুর বাবা-মা ও অভিভাবকরা গোয়ালন্দ ঘাট থানায় ছুটে আসেন। দীর্ঘ সময় পর সন্তানদের ফিরে পেয়ে সেখানে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। পরে প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই শেষে পুলিশ শিশুদের তাদের বাবা-মায়ের কাছে বুঝিয়ে দেয়।

গোয়ালন্দ ঘাট থানার ওসি সফিকুল ইসলাম বলেন, ‘পাঁচ শিশু একসঙ্গে খেলাধুলা করত। কৌতূহল ও দুরন্তপনার বশে তারা পরিবারের কাউকে না জানিয়ে ঢাকার উদ্দেশে মাগুরা থেকে বেরিয়ে পড়ে। দৌলতদিয়া বাসস্ট্যান্ডে উদ্দেশ্যহীনভাবে ঘোরাফেরা করার সময় টহল পুলিশের সদস্যরা তাদের উদ্ধার করেন। পরে অভিভাবকদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা থানায় এসে শিশুদের নিয়ে যান।’ সন্তানদের বিষয়ে অভিভাবকদের আরও সচেতন থাকার পাশাপাশি শিশুদের একা কোথাও যেতে না দেওয়ার জন্যও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।


নির্বাচিত

শিবচরে প্রতিবন্ধী ও অসহায় মানুষের মুখে হাসি ফুটাল প্রশাসন

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মাদারীপুর প্রতিনিধি

মাদারীপুরের শিবচরে বর্তমান সরকারের বিভিন্ন সহায়তা কর্মসূচির অংশ হিসেবে শিবচর উপজেলার বিভিন্ন এলাকার একশ প্রতিবন্ধীর মাঝে ১০০ হুইলচেয়ার এবং ২৭টি অসহায় পরিবারের মধ্যে ২ বান করে ঢেউটিন বিতরণ করা হয়েছে।

সোমবার দুপুরে উপজেলার পদ্মা অডিটোরিয়ামে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এসব সহায়তা বিতরণ করা হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এইচ,এম ইবনে মিজানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে মাদারীপুর জেলা প্রশাসক মিজ্ মর্জিনা আক্তার উপস্থিত থেকে উল্লেখিত প্রতিবন্ধী ও অসহায়দের মাঝে সরকারি উক্ত সহায়তা তুলে দেন।

হুইলচেয়ার হাতে পেয়ে প্রতিবন্ধীদের অনেকেই আবেগাপ্লুত ও খুশিতে আত্মহারা হয়ে পড়েন। দীর্ঘদিন ধরে চলাচলে কষ্ট পাওয়া এসব মানুষেরা হুইলচেয়ার পেয়ে স্বস্তি প্রকাশ করেন। একইভাবে ঘর নির্মাণ ও সংস্কারের জন্য দুই বান করে ঢেউটিন পেয়ে ২৭টি অসহায় পরিবারের সদস্যদের মাঝেও আনন্দ দেখা যায়। তারা বলেন, ‘সরকারের এ ধরনের সহায়তা শুধু প্রয়োজনই মেটায় না বরং তাদের মধ্যে নতুন করে বাঁচার আশাও তৈরি করে। বিশেষ করে চলাচলে অক্ষম ব্যক্তিদের জন্য একটি হুইলচেয়ার তাদের দৈনন্দিন জীবনকে অনেক সহজ করে তুলবে।’


সরকারের এমন মানবিক ও জনকল্যাণমূলক উদ্যোগের প্রশংসা করে উপস্থিত গণ্যমান্য ব্যক্তি, রাজনৈতিক নেতা, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি ও স্থানীয়রা বলেন, ‘সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষদের স্বাবলম্বী ও স্বাভাবিক জীবনযাপনে সহায়তা করতে এই ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত রাখা প্রয়োজন। অনুষ্ঠানে জেলা ও শিবচর উপজেলার সরকারি কর্মকর্তা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, গণমাধ্যমকর্মীসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।


নির্বাচিত

চবির আলাওল হলে সিসিটিভি বন্ধ, নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কায় শিক্ষার্থীরা

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
চবি প্রতিনিধি

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) আলাওল হলের ৩২টি সিসিটিভি ক্যামেরা লাগানো হয়েছিল। ক্যামেরাগুলো কয়েকদিন চললেও বর্তমানে সচল সবগুলো সিসিটিভি ক্যামেরা বন্ধ রাখা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ হল প্রভোস্ট ইচ্ছাকৃতভাবে সিসিটিভি ক্যামেরাগুলো বন্ধ করে রেখেছে। ফলে নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কায় আছেন আলাওল হলের আবাসিক শিক্ষার্থীরা।

হল সূত্রে জানা যায়, প্রায় আড়াই লক্ষ টাকা ব্যায়ে পুরো হলের বিভিন্ন জায়গায় সিসিটিভি ক্যামেরা লাগানো হয়েছে। চার তলা বিশিষ্ট আলাওল হলের চারটি ব্লকে মোট ৩২টি সিসিটিভি ক্যামেরা লাগানো হয়েছে। কিন্তু কোনো যান্ত্রিক ত্রুটি না থাকা সত্ত্বেও বন্ধ রাখা হয়েছে ক্যামেরাগুলো।

আবাসিক শিক্ষার্থী রায়হান বলেন, ‘হলের সিসিটিভি বন্ধ থাকাতে আমরা নিরাপত্তাহীনতায় আছি। কিছুদিন আগেও শাহ আমানত হল থেকে অস্ত্র নিয়ে একজনকে বের হতে দেখেছি আমরা, এখন যদি আমাদের হলে সিসিটিভি বন্ধ থাকে তাহলে এটা আমাদের জন্য আতঙ্কের কারণ।’

সিসিটিভি ক্যামেরা না থাকায় হল গেইটের সামনে সাইকেল বা মোটরসাইকেল রাখতে শঙ্কা প্রকাশ করছেন হলের আবাসিক শিক্ষার্থীরা।

আবু নাসিম বলেন, আমি সন্ধ্যার দিকে আলাওল হলের গেইটের সামনে বাইক টা রাখি। বের হয়ে দেখি, হুন্ডার সেলফ কী টা ভেঙ্গে ফেলছে, আমার সিটের কাভার ছিড়ে ফেলছে এবং হুন্ডার বডিতে প্রচুর স্ক্রেচ ফালানো হয়েছে। সিসিটিভি ক্যামেরা থাকার কারণে আমাদের জিনিসপত্রগুলো রাখি। কিন্তু ক্যামেরাগুলো যদি অচল হয়, আমরা কোথায় কী রাখব এটার কোনো নিশ্চয়তা নাই।

হল সংসদ প্রতিনিধিদের সাথে কথা বলে জানা যায়, আলাওল হলের পুর্ববর্তী প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ এনামুল হকের সময়ে আবাসিক শিক্ষক অধ্যাপক ড. মোজাম্মেল হক মিলনের নেতৃত্বে পুরো হলে সিসিটিভি ক্যামেরা লাগানোর কাজ শুরু হয়। কিন্তু কাজ চলাকালীন সময়ে হলের প্রভোস্ট পরিবর্তন হয়ে অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জামালুল আকবর চৌধুরী দায়িত্ব নেন। দায়িত্বপ্রাপ্ত হয়ে সিসিটিভি ক্যামেরাগুলো উদ্বোধন করা হলেও পরবর্তীতে বিভিন্ন কারণ দেখিয়ে সিসিটিভি ক্যামেরাগুলো বন্ধ করে দেয়া হয়।

আলাওল হলের সমাজসেবা, পরিবেশ ও মানবাধিকারবিষয়ক সম্পাদক আশরাফুল ইসলাম বলেন, চাকসু হল সংসদ চাকসু নির্বাচনের পরবর্তী সময়ে তৎকালীন প্রভোস্টের সাথে কথা বলে হলে সিসিটিভি স্থাপনের জন্য জোরালো দাবি জানাই। তারই প্রেক্ষিতে তৎকালীন প্রভোস্ট কাজ শুরু করে সিসিটিভির বিষয়ে। বর্তমান প্রভোস্ট আসার পরে বিলজনিত সমস্যার কারণে সিসিটিভিগুলো বন্ধ করে দেয়া হয়।

তিনি আরও বলেন, সিসিটিভি যতদিন চালু ছিলো ততদিন কোনো বড় সমস্যা তৈরি হয় নাই। বন্ধ হওয়ার পরেই আমরা হলে ফোন চুরির মতো গুরুতর অভিযোগ পেয়েছি। বারবার হল প্রভোস্টকে জানানোর পরেও এটা চালু হয়নি।

আলাওল হলের যোগাযোগ ও আবাসন বিষয়ক সম্পাদক মাইন হানজালা বলেন, সিসিটিভি লাগানোর কাজ শেষ না হতেই পুর্ববর্তী প্রভোস্টের মেয়াদ শেষ হয়ে যায়। নতুন প্রভোস্ট দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই এটা ছাত্র সংসদের পক্ষ থেকে আমরা উদ্বোধন করে দিই। গত প্রায় দুইমাস যাবৎ আমরা হল সংসদের মাধ্যমে

উনি কেন ক্যামেরাগুলো চালু করছেন না এ বিষয়ে বারবার জানতে চেয়েছি।

তিনি আরও বলেন, উনি ইচ্ছাকৃতভাবে এটা সমাধান করতেছেন না। উনি কাজ একপ্রকার ঝুলিয়ে রেখেছেন।

আলাওল হলের জিএস নূরনবী হাসান বলেন, আমাদের হলের বিদ্যুতের লাইনের ভোল্টেজ আপ ডাইউন করে। ভোল্টেজ কমে গেলেও যাতে আমাদের সিসিটিভি ক্যামেরাতে কোনো সমস্যা না করে একটা যন্ত্রাংশ কিনার জন্য আমাদের হাউজ টিউটর প্রভোস্ট স্যারকে বলেছিল। এ কারণ দেখিয়ে প্রশাসন এটা বন্ধ করে রেখেছে। টাকার সাথে সিসিটিভি অন-অফের কোনো সম্পর্ক নাই। প্রশাসন চাইলে এখন ই চালু করতে পারে সিসিটিভি।

চবির আলাওল হলের আবাসিক শিক্ষক অধ্যাপক ড মোজাম্মেল হক মিলন বলেন, কাজটা শুরু হওয়ার পরেই আমি এক্সিডেন্ট করেছিলাম। পরবর্তীতে ১ মাস বা তারও বেশি সময় আমি অফিস কম করেছি। এর মাঝে আমাদের হল প্রভোস্ট পরিবর্তন হয়েছে। আমি কাজ শুরু করলেও সব দায়িত্ব এখন প্রভোস্ট স্যারের কাছে। পরবর্তী ডিলগুলো স্যারই করেছেন। নেগোশিয়েট, মনিটর কি ফেরত দিবে না রাখবে এসব স্যার করেছে। আমি এসবের মধ্যে আর ছিলাম না।

এ বিষয়ে জানতে একাধিকবার কল দিয়েও পাওয়া যায়নি আলাওল হল প্রভোস্ট অধ্যাপক ড মোহাম্মদ জামালুল আকবর চৌধুরীকে।


নির্বাচিত

গোয়ালন্দে নির্বাচন কর্মকর্তার ঘুষ নেওয়ার ভিডিও ভাইরাল, শোকজ

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
রাজবাড়ী প্রতিনিধি

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা খবিরুল আলমের ঘুষ নেওয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর তাকে শোকজ করা হয়েছে। একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে নির্বাচন অফিস। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত অভিযোগটি প্রমাণিত হয়েছে বলা যাচ্ছে না।

গত বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, উপজেলা নির্বাচন অফিসে নিজের চেয়ারে বসে এক সেবাগ্রহীতার কাছ থেকে টাকা নিচ্ছেন নির্বাচন কর্মকর্তা খবিরুল আলম। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনার সৃষ্টি হয়।

ভুক্তভোগী হিসেবে রাসেল মোল্লা নামে এক ব্যক্তি দাবি করেন, তিনি বাহরাইন প্রবাসী। দেশে এসে নতুন ভোটার আইডি কার্ড করার জন্য গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাচন অফিসে গেলে খবিরুল আলম তার কাছে ৫ হাজার টাকা দাবি করেন। পরে অনুরোধ করে তিনি ২ হাজার টাকা দেন। টাকা দেওয়ার পর তার ভোটার আইডি কার্ডের কাজ সম্পন্ন করা হয় বলে দাবি করেন রাসেল।

রাসেল আরও দাবি করেন, তিনি অসুস্থতার কথা জানানোর পরও তাকে কয়েক দিন অফিসে ঘোরানো হয়। তার অভিযোগ, টাকা না দিলে নির্বাচন অফিসে সেবা পেতে নানা ধরনের হয়রানির শিকার হতে হয়। তবে এসব অভিযোগেরও তদন্ত চলছে।

এদিকে ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর নির্বাচন অফিসে সেবাগ্রহীতাদের হয়রানি ও ঘুষ লেনদেনের আরও অভিযোগ সামনে আসে। কয়েকজন ভুক্তভোগী দাবি করেন, টাকা ছাড়া বিভিন্ন সেবা পেতে তাদের দীর্ঘদিন ঘুরতে হয়েছে। আবার টাকা দিলে দ্রুত কাজ হয়ে যায়। স্থানীয় কয়েকটি কম্পিউটার দোকানের মাধ্যমে দালাল চক্রের লেনদেনের অভিযোগও করেছেন কেউ কেউ।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক ব্যক্তি দাবি করেন, জরুরি ভিত্তিতে বিদেশ যাওয়ার জন্য তিনি ৫০ হাজার টাকা দিয়ে ভোটার আইডির কাজ করিয়েছেন। তবে এসব অভিযোগের স্বতন্ত্র সত্যতা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে নির্বাচন কর্মকর্তা খবিরুল আলমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে, এ বিষয়ে আমি কোনো মন্তব্য করতে পারব না।’

গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাইফুল হুদা জানান, বিষয়টি নির্বাচন অফিসের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। তারা খবিরুল আলমের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন।

রাজবাড়ী জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা শেখ মোহাম্মদ জালাল উদ্দীন বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘুষ নেওয়ার ভিডিও দেখার পর খবিরুল আলমকে শোকজ করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে তদন্তও চলছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

ফরিদপুর আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মো. মাহাবুব আলম শাহ জানান, খবিরুল আলমকে শোকজ করা হয়েছে এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জবাব দিতে বলা হয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নির্বাচন অফিস দুর্নীতির বিষয়ে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করছে বলেও জানান তিনি।

বর্তমানে খবিরুল আলম তার দায়িত্বে রয়েছেন। তদন্ত শেষে অভিযোগের সত্যতা ও তার বিরুদ্ধে পরবর্তী ব্যবস্থা সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।


নির্বাচিত

রাউজানে যুবদলকর্মী হত্যা মামলায় ৪ জন গ্রেপ্তার

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
রাউজান (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি

চট্টগ্রামের রাউজানে যুবদলকর্মী মোহাম্মদ করিম হত্যা মামলায় চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা পুলিশ। এ সময় হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি চাপাতি, দুটি আগ্নেয়াস্ত্র ও দুই রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। গতকাল সোমবার দুপুরে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান পুলিশ কর্মকর্তারা। এর আগে রোববার চট্টগ্রাম নগর ও হাটহাজারী এলাকা থেকে ওই চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।


গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—সৈয়দ মোহাম্মদ শুক্কুর (২৭), মো. জাবেদ (২৮), মো. সেলিম (৫০) ও মো. আলামিন (২৯)। তাদের মধ্যে শুক্কুর ও জাবেদকে নগরের চান্দগাঁও থানার কাপ্তাই রাস্তার মাথা এলাকা থেকে এবং সেলিম ও আলামিনকে হাটহাজারীর দক্ষিণ মাদার্শা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের সবার বাড়ি রাউজানের উরকিরচর এলাকায়।


পুলিশ জানায়, শুক্কুর ও জাবেদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যা মামলার পলাতক আসামি মো. পারভেজের পরিত্যক্ত একটি গরুর খামার থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত চাপাতি, দুটি আগ্নেয়াস্ত্র ও দুই রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়।


গত ৩ সেপ্টেম্বর রাতে রাউজানের উরকিরচর ইউনিয়নের কেরানীহাট বাজারে মোটরসাইকেলে করে আসা ১০ থেকে ১২ জন অস্ত্রধারী যুবদলকর্মী মোহাম্মদ করিমকে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা করে। পরদিন নিহত করিমের স্ত্রী বিলকিস আক্তার রাউজান থানায় অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা করেন।


পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার চারজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।


নির্বাচিত

এক গাছে ২৫ কেজি টমেটো, চাহিদা বাড়ছে গ্রাফটিং চারায়

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মৌলভীবাজার প্রতিনিধি

একটি গাছেই মিলছে ২০ থেকে ২৫ কেজি পর্যন্ত টমেটো। ভারী বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতাতেও তুলনামূলকভাবে টিকে থাকছে গাছ। এমন বৈশিষ্ট্যের কারণে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে উৎপাদিত ‘গ্রাফটিং টমেটোর চারা’ এখন কৃষকদের কাছে দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে এসব চারা যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে।

তিতবেগুন বা বনবেগুনের শক্ত শেকড়ের সঙ্গে উন্নত জাতের টমেটোর ডগাজুড়ে তৈরি করা হয় এই বিশেষ চারা। বুনো তিতবেগুনের শেকড় শক্ত ও পানিসহিষ্ণু হওয়ায় সাধারণ টমেটো গাছের তুলনায় গ্রাফটিং করা গাছ প্রতিকূল পরিবেশে বেশি টিকে থাকে। বিশেষ করে অতিবৃষ্টি ও জলাবদ্ধতার সময় উইল্টিংসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে টমেটো গাছ নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি কমে যায়।

কমলগঞ্জ উপজেলার আদমপুর, জালালপুর, বনগাঁও, কান্দিগাঁও, মধ্যগাঁও ও নাজাতকোনা গ্রামের বিভিন্ন নার্সারি ঘুরে দেখা গেছে, গ্রাফটিং চারা তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন শ্রমিকরা। নিখুঁত হাতে ব্লেড দিয়ে তিতবেগুনের গোড়ার অংশের সঙ্গে টমেটোর ওপরের অংশজুড়ে দেওয়া হচ্ছে। পরে বিশেষ ক্লিপ বা পলিথিন দিয়ে জোড়া লাগানো হয়। কয়েক দিনের পরিচর্যায় দুটি অংশ একীভূত হয়ে তৈরি হয় শক্তিশালী টমেটোর চারা।

নার্সারি উদ্যোক্তা ও কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কমলগঞ্জে প্রতি মৌসুমে প্রায় ৬৫ থেকে ৭০ লাখ গ্রাফটিং চারা উৎপাদন হয়। প্রতিটি চারার বাজারদর ১২ থেকে ১৫ টাকা। এতে মৌসুমে ৫ থেকে ৬ কোটি টাকার লেনদেন হচ্ছে। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে এসব চারা যাচ্ছে কুমিল্লা, কক্সবাজার, ময়মনসিংহ, পটুয়াখালীসহ দেশের বিভিন্ন জেলায়।

স্থানীয় কৃষক মো. আব্দুল করিম বলেন, ‘সাধারণ টমেটো গাছ থেকে যেখানে ৫ থেকে ১০ কেজি ফলন পাওয়া যায়, সেখানে গ্রাফটিং করা একটি গাছ থেকে ২০ থেকে ২৫ কেজি পর্যন্ত টমেটো পাওয়া যায়। ভারী বৃষ্টিতেও এসব গাছ সহজে নষ্ট হয় না।’ তিনি বলেন, ‘মৌসুম শুরুর আগেই ৮ থেকে ১০টি জেলার কৃষক অগ্রিম চারা বুকিং দিয়ে রাখেন। চাহিদা এত বেশি যে অনেক সময় সময়মতো সরবরাহ দিতে হিমশিম খেতে হয়।’

চারা তৈরির কাজকে কেন্দ্র করে নার্সারিগুলোতে তৈরি হয়েছে মৌসুমি কর্মসংস্থানও। একজন দক্ষ কারিগর দিনে প্রায় এক হাজার থেকে এক হাজার ২০০টি চারা জোড়া লাগাতে পারেন। ফলে চারা উৎপাদনের পাশাপাশি শ্রমিকদের আয়-রোজগারের সুযোগও বাড়ছে।

কমলগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. রাকিবুল ইসলাম বলেন, ‘চলতি মৌসুমে উপজেলায় প্রায় ৬০ হেক্টর জমিতে গ্রীষ্মকালীন টমেটো চাষ করছেন ৪৮০ জন কৃষক। কমলগঞ্জে উৎপাদিত ৬৫ থেকে ৭০ লাখ গ্রাফটিং চারা স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে চলে যাচ্ছে। এক মৌসুমেই এ খাত থেকে ৫ থেকে ৬ কোটি টাকার গ্রামীণ অর্থনীতি সচল হচ্ছে। আগ্রহী কৃষকদের কৃষি বিভাগ নিয়মিত প্রযুক্তিগত পরামর্শ দিচ্ছে।’

কৃষি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রোগবালাই সহনশীলতা, প্রতিকূল আবহাওয়ায় টিকে থাকার সক্ষমতা এবং তুলনামূলক বেশি ফলনের কারণে গ্রাফটিং টমেটোর চারা কৃষকদের আগ্রহ বাড়াচ্ছে। চাহিদা ও বাজার সম্প্রসারিত হওয়ায় কমলগঞ্জে এই প্রযুক্তিনির্ভর চারা উৎপাদন ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।


নির্বাচিত

পাথরঘাটা নিমাই শাহ মাজারে মাদকের আড্ডা, বাড়ছে নিরাপত্তা ঝুঁকি

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২১:৫১
জয়পুরহাট প্রতিনিধি

জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার আটাপুর ইউনিয়নের পাথরঘাটা নিমাই শাহ মাজার এলাকায় মাদকসেবীদের অবাধ বিচরণ ও আড্ডায় উদ্বেগ বাড়ছে স্থানীয়দের মধ্যে। অভিযোগ রয়েছে, সন্ধ্যার পর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত মাজারসংলগ্ন একটি ঘরে নিয়মিত বসছে মাদক সেবনের আসর। এতে একদিকে ধর্মীয় স্থাপনার পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে, অন্যদিকে চুরি-ছিনতাইসহ নানা অপরাধের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মাজারের পাশ দিয়ে বয়ে গেছে তুলশীগঙ্গা নদী। প্রতি বছর নদীর তীরে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ঐতিহ্যবাহী ‘বান্নি’ উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। উৎসবে নারীরা নদীতে স্নান করার পর পোশাক পরিবর্তনের জন্য সমস্যায় পড়তেন। তাদের সুবিধার কথা বিবেচনা করে জেলা পরিষদের তহবিল থেকে নদীর তীরে একটি ঘর নির্মাণ করা হয়। উৎসবের সময় নারীরা ওই ঘরটি গোসল ও পোশাক পরিবর্তনের কাজে ব্যবহার করেন। তবে উৎসব শেষ হলে ঘরটি সাধারণত বন্ধ থাকে। স্থানীয়দের অভিযোগ, এই সুযোগে কিছুদিন আগে মাদকসেবীরা ঘরটির তালা ভেঙে ভেতরে ঢুকে সেটিকে মাদক সেবনের আখড়ায় পরিণত করেছে। সন্ধ্যা নামার পরপরই সেখানে শুরু হয় মাদকসেবীদের আনাগোনা। রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তাদের সংখ্যা বাড়ে এবং গভীর রাত পর্যন্ত চলে আড্ডা।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, মাজার এলাকায় মাদকসেবীদের এমন অবাধ বিচরণ শুধু পরিবেশই নষ্ট করছে না, এর সঙ্গে বাড়ছে চুরি ও অন্যান্য অপরাধের ঝুঁকিও। সম্প্রতি মাজারের সিন্দুক ভেঙে দানের টাকা চুরির ঘটনা ঘটে। এর এক-দুই দিনের মধ্যেই মাজারসংলগ্ন মসজিদ থেকেও ফ্যান চুরি করা হয়। পরপর এসব ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।

মাজার দেখভালের দায়িত্বে থাকা বৃদ্ধ কফিল উদ্দিন মণ্ডল বলেন, মাজার এলাকায় নেশাখোরদের আড্ডা বসায় চুরির ঘটনা বেড়েছে। তাদের কিছু বলতেও ভয় লাগে। ফলে অনেকটা অসহায় অবস্থায় মাজার দেখভাল করতে হচ্ছে।’

স্থানীয়রা বলছেন, পবিত্র মাজার ও ধর্মীয় স্থাপনার আশপাশে মাদকসেবীদের এমন অবাধ বিচরণ কোনোভাবেই কাম্য নয়। বিশেষ করে নারীদের ব্যবহারের জন্য নির্মিত ঘরটি তালা ভেঙে মাদক সেবনের স্থানে পরিণত হওয়ায় বিষয়টি আরও উদ্বেগজনক। দ্রুত ঘরটির ভাঙা তালা মেরামত, নিয়মিত পাহারার ব্যবস্থা এবং মাদকসেবীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

এলাকাবাসীর দাবি, মাজারের পবিত্রতা ও নিরাপদ পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে। একই সঙ্গে মাদকসেবীদের আড্ডা বন্ধে নিয়মিত নজরদারি ও প্রয়োজনীয় অভিযান পরিচালনা করা হলে মাজার ও আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।


নির্বাচিত

চায়না দুয়ারির সর্বগ্রাসী ফাঁদে বিলুপ্তির পথে দেশি মাছ

ছবি: দৈনিকবাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
পাবনা প্রতিনিধি

নদীর পানি কমেছে; কিন্তু কমেনি জালের দাপট। অগভীর পানির তলদেশ ঘেঁষে পাতা হচ্ছে একের পর এক নিষিদ্ধ ‘চায়না দুয়ারি’। জালের সূক্ষ্ম ফাঁস ভেদ করে বের হতে পারছে না রেণু-পোনা, ছোট মাছ কিংবা জলজপ্রাণী। ফলে একদিকে প্রতিদিন নিঃশেষ হচ্ছে মাছের মজুত, অন্যদিকে প্রজননক্ষম মাছ কমে যাওয়ায় হুমকিতে পড়ছে ভবিষ্যৎ মৎস্যসম্পদ। পাবনার পদ্মা, যমুনা, ইছামতী, বড়াল ও চলনবিলের বিভিন্ন অংশে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

একসময় পাবনার নদী-বিল ছিল দেশি মাছের অন্যতম বড় ভাণ্ডার। স্থানীয় হাট-বাজারে পাবদা, টেংরা, বোয়াল, শিং, মাগুর, চিংড়িসহ নানা প্রজাতির মাছের সরবরাহ ছিল চোখে পড়ার মতো। এখন অনেক এলাকায় এসব মাছ আগের তুলনায় কম পাওয়া যাচ্ছে। মৎস্যসংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা, নির্বিচারে রেণু-পোনা ও মা-মাছ আহরণ চলতে থাকলে বেশ কিছু দেশি প্রজাতি মাছ স্থানীয় জলাশয় থেকে আরও দ্রুত হারিয়ে যেতে পারে।

সরেজমিনে চাটমোহর, ভাঙ্গুড়া ও ফরিদপুর উপজেলার চলনবিলের অংশ এবং বেড়া ও সাঁথিয়ার নদ-নদীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, অগভীর পানিতে তলদেশের কাছাকাছি পেতে রাখা হয়েছে চায়না দুয়ারি। দূর থেকে অনেক সময় এসব জাল বোঝার উপায় নেই। লোহার রিং দিয়ে তৈরি বক্স আকৃতির ফাঁদের মুখ দিয়ে মাছ ঢুকে পড়লে বের হওয়ার সুযোগ থাকে না। জালের ফাঁস এতটাই ছোট যে রেণু-পোনা ও অতি ছোট মাছও আটকা পড়ে।

স্থানীয়রা জানান, বর্ষার শুরুতেই ইছামতী নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে এই জালের ব্যবহার বাড়তে থাকে। সুজানগরের গাজনার বিলেও একই চিত্র দেখা যায়। রাতের বেলায় কিংবা দুর্গম বিল এলাকায় জাল পেতে মাছ ধরায় অনেক সময় তাৎক্ষণিকভাবে তা প্রশাসনের নজরে আসে না। ফলে দিনের বেলায় অভিযান চললেও রাতের আঁধারে আবার নতুন করে জাল বসানোর অভিযোগ রয়েছে।

চায়না দুয়ারির ক্ষতি শুধু মাছের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। কুঁচো, কাঁকড়া ও বিভিন্ন জলজ কীটপতঙ্গও এই জালে আটকা পড়ে মারা যাচ্ছে। এসব প্রাণী জলজ পরিবেশের খাদ্যশৃঙ্খল ও প্রাকৃতিক ভারসাম্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ফলে নির্বিচারে আহরণের কারণে নদী ও বিলের স্বাভাবিক প্রতিবেশব্যবস্থাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বিশেষ করে ডিমওয়ালা মা-মাছ ও পোনা একসঙ্গে ধরা পড়ায় মাছের প্রজননচক্রে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

নিষিদ্ধ জালের বিরুদ্ধে অবশ্য প্রশাসনের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। পাবনার বিভিন্ন উপজেলায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে নিয়মিত চায়না দুয়ারি জাল জব্দ ও পুড়িয়ে ধ্বংস করা হচ্ছে। অভিযানে অনেক সময় হাজার হাজার মিটার জাল উদ্ধার হচ্ছে। কিন্তু অভিযানের পরও ব্যবহার বন্ধ না হওয়ায় প্রশ্ন উঠেছে নজরদারি ও সরবরাহব্যবস্থা নিয়ে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, আটঘরিয়া, বেড়া, কাশিনাথপুর ও চাটমোহরের কয়েকটি হাটে গোপনে চায়না দুয়ারি বিক্রি হচ্ছে। ফলে শুধু জেলেদের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। উৎপাদন, পরিবহন ও বিক্রির সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে উৎসেই সরবরাহ বন্ধ করতে হবে। পাশাপাশি জেলেদের সচেতন করা এবং বৈধ জাল ব্যবহারে উৎসাহ দেওয়াও জরুরি।

সংশ্লিষ্টদের মতে, একটি চায়না দুয়ারি তাৎক্ষণিকভাবে মাছ ধরার সুযোগ দিলেও এর বিনিময়ে ধ্বংস হচ্ছে ভবিষ্যতের মৎস্যসম্পদ। তাই নদী-বিলের গুরুত্বপূর্ণ প্রজনন এলাকায় নিয়মিত নজরদারি, নিষিদ্ধ জালের বিরুদ্ধে সমন্বিত অভিযান এবং বিক্রয়কেন্দ্রে কঠোর তদারকি জরুরি। এখনই কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে পাবনার নদী-বিল থেকে হারিয়ে যেতে পারে বহু দেশি মাছের প্রজাতি। মাছের ঐতিহ্য রক্ষায় তাই চায়না দুয়ারির বিরুদ্ধে সামাজিক ও প্রশাসনিক প্রতিরোধ জোরদারের বিকল্প নেই।


নির্বাচিত

দুর্ধর্ষ অভিযানে জাহাঙ্গীর হত্যা মামলায় আরও এক সন্দেহভাজন আটক

ছবি: (কোলাজ) দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কিশোরগঞ্জ (অষ্টগ্রাম - মিঠামইন) প্রতিনিধি:

কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলা বিএনপির সভাপতি জাহিদুল ইসলাম জাহাঙ্গীর হত্যা মামলায় হাওরের পানিতে স্পিডবোট নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার সময় এক দুর্ধর্ষ অভিযান চালিয়ে আবু হুরাইরা মোহাম্মদ তরিক জাহান মুমেন (২৮) নামে আরও এক সন্দেহভাজন আসামিকে আটক করা হয়েছে।

​সোমবার (১৪ অক্টোবর) দুপুরে মিঠামইন থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মনোয়ার মোহাম্মদের নেতৃত্বে পুলিশ এই অভিযান পরিচালনা করে।

​গ্রেপ্তারকৃত আবু হুরাইরা মোহাম্মদ তরিক জাহান মুমেন মিঠামইন উপজেলার ঘাগড়া এলাকার বাসিন্দা মাওলানা শেরজাহান মুমেনের ছেলে।

*​যেভাবে পরিচালিত হয় অভিযান:*
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জাহাঙ্গীর হত্যা মামলার সন্দেহভাজন আসামি তারিক জাহান হাওরের জলপথ ব্যবহার করে স্পিডবোটে পালিয়ে যাচ্ছেন—এমন গোপন সংবাদ পায় পুলিশ। খবর পাওয়ার পরপরই ওসি মনোয়ার মোহাম্মদের নেতৃত্বে পুলিশের একটি চৌকস দল দ্রুত স্পিডবোট নিয়ে তার পিছু ধাওয়া করে। মাঝ-হাওরে পুলিশের স্পিডবোট থেকে মাইকিং করে আসামির বোট থামানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। দীর্ঘ রোমাঞ্চকর ধাওয়া শেষে হাওরের মাঝপথেই পুলিশ তাকে কাবু করে আটক করতে সক্ষম হয়।
​উল্লেখ্য, গত জুলাই মাসে নিজ বাড়ির সামনে নৃশংসভাবে হত্যাকাণ্ডের শিকার হন মিঠামইন উপজেলা বিএনপির সভাপতি জাহিদুল ইসলাম জাহাঙ্গীর। ঘটনার পর থেকেই জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে এলাকা জুড়ে সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে আসছে পুলিশ। এ নিয়ে চাঞ্চল্যকর এই হত্যা মামলায় পুলিশ মোট ১৩ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করল।
​মিঠামইন থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মনোয়ার মোহাম্মদ আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, হত্যাকাণ্ডে জড়িত সকল অপরাধীকে আইনের আওতায় না আনা পর্যন্ত পুলিশের এই অভিযান অব্যাহত থাকবে।


নির্বাচিত

স্থানীয় সরকার নির্বাচন হবে স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য: সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী পুতুল

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২৩:২২
নাটোর প্রতিনিধি

সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন পুতুল বলেছেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন বিগত যে কোনও সময়ের চেয়ে একটি স্বচ্ছ নির্বাচন হবে। যে নির্বাচনে কোন দলীয় প্রতীক থাকবে না এবং আমরা চেষ্টা করবো যে স্থানীয় সরকার কার্যক্রম রয়েছে তা শতভাগ সক্রিয় করার জন্য। যোগ্য, ভালো ও শিক্ষিত- যারা ধ্বংস হওয়া স্থানীয় সরকারকে পুনরুজ্জীবিত করতে পারবে এ ধরনের মানুষ দিয়ে যাতে স্থানীয় সরকার নির্বাচন হয়। রোববার দুপুরে নাটোর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে জেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির মিটিংয়ে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।


এসময় পুতুল আরও বলেন, বর্তমান সরকারের জনগণের সরকার তা দেশের জনগণ জানে, বিশ্বাস করে এবং আস্থা অর্জন করতে শুরু করেছে বলে আমি বিশ্বাস করি। অনেক কিছু আছে যা জনগণের চাহিদার ভেতর রয়েছে যা আমরা পৌঁছাতে পারেনি। যার ভেতর অন্যতম গ্যাসের সমস্যা, বিদ্যুতের সমস্যা, তেলের সমস্যা। যে সমস্যাগুলো দীর্ঘদিন ধরে দেশের মাটিতে পতিত করা হয়েছে, আমাদের পরনির্ভরশীল করা হয়েছে এই তিনটি সেক্টরে যাতে অন্যের দিকে তাকিয়ে থাকি।

এই সমস্যা গুলো আমরা বর্তমান সরকার এমনভাবে সমাধান করতে চাই, যাতে বাংলাদেশকে আর কারো উপর নির্ভরশীল হয়ে না থাকতে হয়। সমস্যা ও সমাধানের এই মধ্যবর্তী সময়টুকু আমাদের সবারই কষ্ট হচ্ছে। এই কষ্টের জন্য বর্তমান সরকার এমনকি স্বয়ং মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বারংবার এবং আমরা যখন যেখানে যাই দেশের সকল মানুষের কাছে দুঃখ প্রকাশ করি। আমাদের আন্তরিকতার ও প্রচেষ্টার কোনো কমতি নেই, সকলের সহযোগিতা চাই।


জেলা প্রশাসক মোছা. সুমনী আক্তারের সভাপতিত্বে এ সময় অন্যান্যের ভেতরে উপস্থিত ছিলেন, পুলিশ সুপার শরিফুল হক, সিভিল সার্জন মশিউর রহমান, জেলা বিএনপির সদস্য সচিব আসাদুজ্জামান আসাদসহ জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা।


নির্বাচিত

নিখোঁজের তিন দিন পর শিশুর মরদেহ উদ্ধার

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২২:৫৯
জামালপুর প্রতিনিধি

জামালপুরের মাদারগঞ্জে নিখোঁজের তিন দিন পর মরিয়ম আক্তার (০৭) নামের এক শিশুর মাটিচাপা দেওয়া মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গত শনিবার রাত ১টার দিকে উপজেলার চরলোটাবর এলাকার জামিনুর নামের এক ব্যক্তির বাড়ি থেকে মাটির নিচে চাপা দেওয়া অবস্থায় মরিয়মের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।


শিশু মরিয়ম ওই এলাকার বাহাদুর আলীর মেয়ে। সে সিধুলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
স্থানীয়দের বরাতে ওসি স্নেহাশীষ রায় জানান, তিন দিন আগে বিদ্যালয়ে যাওয়ার পর নিখোঁজ হয় মরিয়ম আক্তার। এরপর পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাননি। পরে শনিবার রাতে বিদ্যালয়ের পাশের জামিনুরের বসতঘরে মাটিচাপা দেওয়া অবস্থায় তার পরিবার মরদেহের সন্ধান পায়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ ।


মাদারগঞ্জ মডেল থানার ওসি স্নেহাশীষ রায় আরও জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, শিশুটিকে হত্যা করে মরদেহ মাটিচাপা দিয়ে রাখা হয়েছিল। মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নেয়া হয়েছে। এ ঘটনায় দুজনকে আটক করা হয়েছে। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।


নির্বাচিত

banner close