মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট ২০২৬
১০ ভাদ্র ১৪৩৩
ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচন

দ্বিতীয় ধাপে নির্বাচিত হলেন যারা

ফাইল ছবি
সারা বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত
সারা বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত : ২২ মে, ২০২৪ ০০:২৭

ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপে ১৫৬টি উপজেলায় ভোটগ্রহণ শেষ হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত চলে ভোটগ্রহণ। ভোট গণনা শেষে রাতে নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশ করেন রিটার্নিং কর্মকর্তারা। সারা দেশের প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর থেকে জানা যায়-

ফরিদপুর

উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপে ফরিদপুরের নগরকান্দা ও সালথা উপজেলায় ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। নগরকান্দা উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপ-কমিটির সাবেক সহসম্পাদক কাজী শাহ জামান বাবুল। আনারস প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ৩৭ হাজার ২০৯ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মোটরসাইকেল প্রতীকের প্রার্থী বর্তমান উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মনিরুজ্জামান সরদার পেয়েছেন ২৫ হাজার ২৩৭ ভোট।

অন্যদিকে সালথা উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে বর্তমান চেয়ারম্যান ওয়াদুদ মাতুব্বর বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। আনারস প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ৩৫ হাজার ৫৪৫ ভোট তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী সালথা উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও মোটরসাইকেল প্রতীকের প্রার্থী মো. ওহিদুজ্জামান পেয়েছেন ৫ হাজার ৩৪২ ভোট।

নারায়ণগঞ্জ

উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপে নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলায় ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম। ঘোড়া প্রতীকে তিনি পেয়েছেন এক লাখ ১৫ হাজার ২৫২ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী দোয়াত কলম প্রতীকের প্রার্থী মো. শাহজালাল মিয়া পেয়েছেন ১৩ হাজার ১৩২ ভোট।

বিজয়ী মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম আড়াইহাজার উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সদস্য। তিনি কালাপাহাড়িয়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান। অন্যদিকে তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মো. শাহজালাল মিয়া আড়াইহাজার উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া

দ্বিতীয় ধাপের উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা ও আখাউড়ায় উপজেলায় ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। কসবা উপজেলায় আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের ফুফাতো ভাই ছাইদুর রহমান ও আখাউড়ায় মোগড়া ইউনিয়ন পরিষদের তিনবারের সাবেক চেয়ারম্যান মনির হোসেন বেসরকারিভাবে চেয়ারম্যান নির্বাাচিত হয়েছেন।

ঘোষিত ফলাফল অনুযায়ী, কসবা উপজেলায় ছায়েদুর রহমান স্বপন কাপ-পিরিচ প্রতীকে ৮৬ হাজার ৬৯৮ ভোট পেয়ে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও কুটি ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ছিলেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বর্তমান উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের সাবেক সহকারী একান্ত সচিব রাশেদুল কাউসার ভূইয়া আনারস প্রতীকে পেয়েছেন ৩৯ হাজার ৯৫৯ ভোট।

অন্যদিকে আখাউড়া উপজেলায় মনির হোসেন ঘোড়া প্রতীকে ২৮ হাজার ৩০৯ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি উপজেলা যুবলীগের সাবেক আহ্বায়ক ও মোগড়া ইউনিয়ন পরিষদের তিনবারের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান আনারস প্রতীকে পেয়েছেন ১৪ হাজার ৫৬৩ ভোট।

রাঙামাটি

ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপে রাঙামাটির রাজস্থলী, কাপ্তাই ও বিলাইছড়ি উপজেলায় শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। রাজস্থলী উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি উবাচ মারমা আনারস প্রতীকে ৭ হাজার ৭৫ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মো. রিয়াজ উদ্দীন রানা দোয়াত কলম প্রতীকে পেয়েছেন ২ হাজার ১৮ ভোট।

অন্যদিকে কাপ্তাই উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে উপজেলা যুবলীগের সভাপতি মো. নাছির উদ্দিন দোয়াত কলম প্রতীকে ৭ হাজার ৩৬২ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও সাবেক ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আনোয়ারুল ইসলাম চৌধুরী আনারস প্রতীকে পেয়েছেন ৬ হাজার ৯৭৩ ভোট।

অপরদিকে বিলাইছড়ি উপজেলায় মোট ১৩টি কেন্দ্রের মধ্যে ৫টি হেলিসর্টি ভোটকেন্দ্র রয়েছে। দুর্গম এলাকা হওয়ায় রাত সাড়ে ৯টা পর্যন্ত ফলাফল না আসায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কোনো ফলাফল ঘোষণা করেননি। তবে বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা যায়, পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (জেএসএস) সমর্থিত দোয়াত কলম প্রতীকের বিরোত্তম তঞ্চঙ্গ্যা চেয়ারম্যান পদে বিজয়ী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

লালমনিরহাট

লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ ও আদিতমারী উপজেলায় উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপে ভোটগ্রহণ শেষ হয়েছে। দুই উপজেলায় মধ্যে আদিতমারী উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে ফারুক ইমরুল কায়েস ও কালীগঞ্জ উপজেলায় জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক রাকিবুজ্জামান আহমেদ বিজয়ী হয়েছেন।

রাত সাড়ে ৯টার দিকে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা লুৎফর কবির তাদেরকে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত ঘোষণা করেন।

আদিতমারী উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে ফারুক ইমরুল কায়েস মোটরসাইকেল প্রতীকে পেয়েছেন ৩৩ হাজার ১৩৫ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রফিকুল আলম আনারস প্রতীকে পেয়েছেন ২৯ হাজার ১৮টি ভোট

কালীগঞ্জ উপজেলায় সাবেক সমাজকল্যাণমন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদের ছেলে রাকিবুজ্জামান আহমেদ আনারস প্রতীকে পেয়েছেন ২৪ হাজার ৩০৩ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী তার চাচা উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মাহবুবুজ্জামান আহমেদ ঘোড়া প্রতীকে পেয়েছেন ১৯ হাজার ৩৫০ ভোট।

পিরোজপুর

ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে দ্বিতীয় ধাপে পিরোজপুর জেলার দুই উপজেলায় শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। মঙ্গলবার পিরোজপুরের নেছারাবাদ ও কাউখালী উপজেলার ১৫টি ইউনিয়নের মোট ১২২টি ভোটকেন্দ্রে ইভিএম পদ্ধতিতে এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।

কাউখালী উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে মো. আবু সাঈদ মিঞা ও নেছারাবাদ উপজেলায় আব্দুল হক নির্বাচিত হয়েছেন। রাতে নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা সৈয়দ শফিকুল হক বেসরকারিভাবে তাদের বিজয়ী ঘোষণা করেন।

নেছারাবাদ উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে আব্দুল হক আনারস প্রতীকে ৩৮ হাজার ৬১২ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী এস এম মুইদুল ইসলাম মোটরসাইল প্রতীকে পেয়েছেন ৩৫ হাজার ৫২০ ভোট।

অন্যদিকে কাউখালী উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে মো. আবু সাঈদ মিঞা ঘোড়া প্রতীকে ১১ হাজার ২৮৪ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মো. মনিরুজ্জামান তালুকদার পল্টন কাপ-পিরিচ প্রতীকে পেয়েছেন ৬ হাজার ২৯৪ ভোট।

ঝালকাঠি

উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপে ঝালকাঠি সদর ও নলছিটি উপজেলায় ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ঝালকাঠি সদর উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান ও ঝালকাঠি জেলা আওয়ামী লীগ সহ-সভাপতি খান আরিফুর রহমান। আনারস প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ৩৩ হাজার ৯৪৩ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী দোয়াত কলম প্রতীকের প্রার্থী মো. সুলতান খান পেয়েছেন ২৫ হাজার ৯৭১ ভোট।

অন্যদিকে নলছিটি উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মো. সালাউদ্দিন খান সেলিম বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। মোটরসাইকেল প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ২৩ হাজার ৯৩৯ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাবেক মেয়র তছলিম উদ্দিন চৌধুরী আনারস প্রতীকে পেয়েছেন ১৬ হাজার ৭৮৪ ভোট।

বাগেরহাট

উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপে বাগেরহাটে ফকিরহাট, মোল্লাহাট,ও চিতলমারী উপজেলায় ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ফকিরহাট উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন শেখ ওহিদুজ্জামান বাবু। মোটরসাইকেল প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ৪৬ হাজার ৬৫৪ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আনরস প্রতীকের প্রার্থী বর্তমানে উপজেলা চেয়ারম্যান স্বপন দাস পেয়েছেন ২৯ হাজার ৪৩৭ ভোট। এ উপজেলায় ভোট কাস্ট হয়েছে ৬২.৫০ শতাংশ।

চিতলমারী উপজেলার চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হয়েছেন মো. আলমগীর হোসেন সিদ্দিকী। দোয়াত কলম প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ৩৪ হাজার ৮৮৬ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বর্তমান উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও বাগেরহাট জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি অশোক কুমার বড়াল মোটরসাইকেল প্রতীকে পেয়েছেন ২২ হাজার ৭৬৩ ভোট। এ উপজেলায় ভোট কাস্ট হয়েছে ৪৫.৭৫ শতাংশ।

অন্যদিকে মোল্লাহাট উপজেলার চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হয়েছেন বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শাহিনুর আলম ছানা। দোয়াত কলম প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ২৯ হাজার ৯০২ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বর্তমান উপজেলা শেখ নাসির উদ্দীন আনারস প্রতীকে পেয়েছেন ১৯ হাজার ৯৫৪ ভোট। এ উপজেলায় ভোট কাস্ট হয়েছে ৫৩.৭৭ শতাংশ। জেলায় গড় ভোট কাস্টিং হয়েছে ৫৪ শতাংশ।

যশোর

দ্বিতীয় ধাপের উপজেলা নির্বাচনে যশোরের ঝিকরগাছা, শার্শা ও চৌগাছা উপজেলায় ভোটগ্রহণ করা হয়েছে। ভোটগ্রহণ শেষে রাতে বেসরকারিভাবে ফলাফল ঘোষণা করেন উপজেলাগুলোর দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তারা।

চৌগাছা উপজেলা চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হয়েছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা এসএম হাবিবুর রহমান। আনারস প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ৩৩ হাজার ৫৬৫ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ ড. মোস্তানিছুর রহমান পেয়েছেন ২৮ হাজার ৯৮০ ভোট।

নির্বাচনের সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও চৌগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুম্মিতা সাহা রাত সাড়ে ৯টায় এ ফলাফল ঘোষণা করেন।

ঝিকরগাছা উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হয়েছেন বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. মনিরুল ইসলাম। আনারস প্রতীকে মনিরুল ইসলাম পেয়েছেন ৪০ হাজার ৬৪৩ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী সেলিম রেজা ঘোড়া প্রতীকে পেয়েছেন ১৮ হাজার ৪৪৩ ভোট।

অন্যদিকে শার্শা উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে মো. সোহরাব হোসেন দোয়াত কলম প্রতীক নিয়ে ৩৭ হাজার ৫৭০ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মো. অহিদুজ্জামান আনারস প্রতীকে পেয়েছেন ১২ হাজার ২৯১ ভোট।

রাজশাহী

দ্বিতীয় ধাপে রাজশাহীর বাগমারা, দুর্গাপুর ও পুঠিয়া উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বাগমারা উপজেলায় বেসরকারিভাবে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন জাকিরুল ইসলাম সান্টু। তিনি ঘোড়া প্রতীকে পেয়েছেন ৪৭ হাজার ৩২২ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আব্দুর রাজ্জাক সরকার ওরফে আর্ট বাবু পেয়েছেন ৪ হাজার ৩২১ ভোট।

পুঠিয়া উপজেলায় বেসরকারিভাবে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন আবদুস সামাদ মোল্লা। তিনি আনারস প্রতীকে পেয়েছেন ২৬ হাজার ৬৬৫ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আহসানুল হক মাসুদ ঘোড়া প্রতীকে পেয়েছেন ২৩ হাজার ৬৭৯ ভোট।

অন্যদিকে দুর্গাপুর উপজেলায় বেসরকারিভাবে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন শরীফুজ্জামান শরীফ। তিনি মোটরসাইকেল প্রতীকে পেয়েছেন ৪২ হাজার ১১৩ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আব্দুল মজিদ সরদার পেয়েছেন ২৭ হাজার ৩৩২ ভোট।

সাতক্ষীরা

ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপে সাতক্ষীরার আশাশুনি, তালা ও দেবহাটা উপজেলায় ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

আশাশুনি উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও বর্তমান উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এবিএম মোস্তাকিম বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি চিংড়ি প্রতীকে পেয়েছেন ৫১ হাজার ৬৬২ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী শাহনেওয়াজ ডালিম ঘোড়া প্রতীকে পেয়েছেন ৫০ হাজার ৭০৭ ভোট।

অপরদিকে সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলা নির্বাচনে মো. আল ফেরদাউস বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি হেলিকপ্টার প্রতীকে ২৬ হাজার ৩৭৭ ভোট পেয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মো. মজিবুর রহমান মোটরসাইকেল প্রতীকে পেয়েছেন ১৭ হাজার ১৫২ ভোট।

এ ছাড়া সাতক্ষীরার তালা উপজেলা নির্বাচনে ঘোষ সনৎ কুমার বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি কাপ পিরিচ প্রতীকে ৪৬ হাজার ৪৫৮ ভোট পেয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী সরদার মশিয়ার চিংড়ি প্রতীকে পেয়েছেন ৩২ হাজার ৪১৩ ভোট।

বিষয়:

ফাঁসি বহাল ২ জনের, ৪ আসামির যাবজ্জীবন

* ১০ জনকে খালাস * রায়ে সন্তুষ্ট মা, চান পরিবারের নিরাপত্তা
ছবি: মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি নুসরাতের মাদ্রাসার তৎকালীন অধ্যক্ষ এস এম সিরাজ-উদ-দৌলাকে আদালতে হাজির করা হয়।
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক ও ফেনী প্রতিনিধি 

সাত বছর আগে ফেনীর সোনাগাজীতে আগুনে পুড়িয়ে মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ১৬ জনের মধ্যে দুজনের সাজা বহাল রেখেছে হাইকোর্ট। এ ছাড়া চারজনকে যাবজ্জীবন এবং বাকি ১০ জনকে খালাস দেওয়া হয়েছে। ডেথ রেফারেন্স (মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন), আপিল ও জেল আপিলের শুনানি শেষে সোমবার (২৪ আগস্ট) বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেয়।

নুসরাতের মাদ্রাসার তৎকালীন অধ্যক্ষ এস এম সিরাজ-উদ-দৌলা ও তার সহযোগী শাহাদাত হোসেন শামীমের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখা হয়েছে।

যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- নূর উদ্দিন, সাইফুর রহমান মোহাম্মদ জোবায়ের, উম্মে সুলতানা ওরফে পপি ও জাবেদ হোসেন ওরফে সাখাওয়াত হোসেন।

খালাস প্রাপ্তরা হলেন—সোনাগাজীর সাবেক পৌর কাউন্সিলর মাকসুদ আলম, হাফেজ আব্দুল কাদের, আবছার উদ্দিন, কামরুন নাহার মনি, আব্দুর রহিম শরীফ, ইফতেখার উদ্দিন রানা, ইমরান হোসেন ওরফে মামুন, মোহাম্মদ শামীম, মাদ্রাসার গভর্নিং বডির তৎকালীন সহসভাপতি রুহুল আমীন ও মহিউদ্দিন শাকিল।

এদিকে নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলায় হাইকোর্টে আপিলের রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছে তার পরিবার।

রায় ঘোষণার পর এক প্রতিক্রিয়ায় নুসরাতের মা শিরিন আক্তার বলেন, ‘আদালতের প্রতি আমরা শ্রদ্ধাশীল। হাইকোর্ট যে রায় দিয়েছে, আমরা তাতে সন্তুষ্ট। আদালত হত্যার কথা বলেছে, তাকে হত্যা করা হইছে, তাতেই আমরা সন্তুষ্ট। আমার পরিবারকে হুমকিধমকি দিচ্ছে। এখন শুধু আমাদের নিরাপত্তার প্রয়োজন।’

২০১৯ সালে সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসা থেকে আলিম পরীক্ষা দিচ্ছিলেন নুসরাত। এর আগে ওই মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ দৌলার বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ তুলেছিলেন তিনি। ওই ঘটনায় নুসরাতের মা মামলা করার পর সে বছরের ২৭ মার্চ পুলিশ গ্রেপ্তার করে অধ্যক্ষ সিরাজকে।

সিরাজ গ্রেপ্তার হওয়ার পর তার পক্ষে নামে স্থানীয় প্রভাবশালীরা। তার মুক্তি দাবিতে মানববন্ধনেও সক্রিয় ছিল মাদ্রাসার কিছু শিক্ষার্থী। মামলা তুলে নিতে ক্রমাগত হুমকিও দেওয়া হচ্ছিল বলে নুসরাতের পরিবারের অভিযোগ।

এর মধ্যেই ৬ এপ্রিল পরীক্ষা শুরুর আগে পরীক্ষাকেন্দ্র সাইক্লোন শেল্টারের ছাদে নুসরাতকে কৌশলে ডেকে নিয়ে তার গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।

অগ্নিদগ্ধ নুসরাতকে ঢাকায় এনে বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়েছিল; টানা পাঁচ দিন যন্ত্রণা সহ্য করে ১০ এপ্রিল মারা যান তিনি।

নুসরাতের গায়ে আগুন দেওয়ার দুদিন পর তার ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান আটজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও কয়েকজনকে আসামি করে হত্যাচেষ্টার মামলা করেন। নুসরাতের মৃত্যুর পর এটি হত্যা মামলায় পরিণত নেয়।

নুসরাতকে যখন ঢাকা মেডিকেলে আনা হয়েছিল, তখনো তিনি বলছিলেন, ‘তিনি প্রতিবাদ করে যাবেন।’ প্রতিবাদী এই তরুণীর জন্য প্রতিবাদে ফেটে পড়েছিল দেশের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষ। বিচারের দাবিতে কর্মসূচি পালিত হয় গোটা দেশজুড়ে।

প্রথমে সোনাগাজী থানার পরিদর্শক কামাল হোসেন মামলাটি তদন্ত করলেও পুলিশের বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগ ওঠায় পরে তদন্তভার পায় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। ওই বছরের ২৯ মে পিবিআইয়ের পরিদর্শক শাহ আলম ১৬ জনকে আসামি করে অভিযোগপত্র দেন।

মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখা শাহাদাত হোসেন শামীমের বিষয়ে অভিযোগপত্রে বলা হয়, নুসরাতকে প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে প্রত্যাখ্যাত হওয়ায় ক্ষোভ ছিল শামীমের। নুসরাতকে মেরে ফেলতে কার কী ভূমিকা হবে, সেই পরিকল্পনা সাজান শামীম। কাউন্সিলর মাকসুদের কাছ থেকে ১০ হাজার টাকা নিয়ে তিনি তার বোরখা ও কেরোসিন কেনার ব্যবস্থা করেন।

নুসরাতের গায়ে আগুন দেওয়ার সময় বোরখা পরিহিত শামীম হাত দিয়ে নুসরাতের মুখ চেপে ধরেন। তার জবানবন্দির ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত বোরখা ও কেরোসিন ঢালতে ব্যবহৃত গ্লাসটি উদ্ধার করে পিবিআই।

হত্যাকাণ্ডের সাত মাসের মাথায় ২০১৯ সালের ২৪ অক্টোবর ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মামুনুর রশীদ আলোচিত এ মামলায় ১৬ আসামির সবাইকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার পাশাপাশি এক লাখ টাকা করে জরিমানা করেন।

২০১৯ সালের ২৯ অক্টোবর ডেথ রেফারেন্সের জন্য মামলার নথিপত্র হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় পৌঁছায়। চাঞ্চল্যকর মামলা হিসেবে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ডেথ রেফারেন্সের জন্য পেপারবুক তৈরি করা হয়। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরাও পৃথক আপিল ও জেল আপিল করেন।

অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের মামলার ডেথ রেফারেন্স, আপিল ও বিবিধ বিষয় শুনানি ও নিষ্পত্তির জন্য গত ১০ জুন হাইকোর্টের এই বেঞ্চ গঠন করে দেন প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী।

১৪ জুন বেঞ্চের কার্যক্রম শুরু হয়। এ হত্যা মামলার শুনানি শুরু হয় ২৮ জুলাই। টানা ১৭ কার্যদিবস শুনানি শেষে গত বৃহস্পতিবার রায় দেওয়া হলো।

এদিকে যৌন হয়রানির ঘটনায় নুসরাতকে থানায় ডেকে জিজ্ঞাসাবাদের ভিডিও ধারণ করে তা প্রচারের ঘটনায় সোনাগাজী মডেল থানার সাবেক ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনের বিরুদ্ধে ব্যারিস্টার ছায়েদুল হক সুমন আইসিটি আইনে একটি মামলা করেন।

এই মামলায় ২০১৯ সালের ২৮ নভেম্বর আদালত ওসি মোয়াজ্জেমকে আট বছরের কারাদণ্ড ও ১০ লাখ টাকা জরিমানা করে।


দেশের অধিকাংশ গাড়িচালক ‘ফিটনেসবিহীন’: সড়কমন্ত্রী

ছবি: সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেছেন, দেশের অধিকাংশ চালক ‘ফিটনেসবিহীন’, তারা উপযুক্ত প্রশিক্ষণ ছাড়াই হেলপার থেকে ড্রাইভার হয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘আমাদের সবার অঙ্গীকার হবে যে, ২০৩০ সালের মধ্যে যেন সড়ক দুর্ঘটনা অর্ধেকে নামিয়ে আনতে পারি। আমার কাছে সড়ক দুর্ঘটনার প্রধান পাঁচটি কারণ মনে হয়েছে। এত গবেষণার প্রয়োজন নেই। এর মধ্যে আছে ফিটনেসবিহীন যানবাহন, ফিটনেসবিহীন ড্রাইভার। দেশের অধিকাংশ ড্রাইভার ফিটনেসবিহীন, কারণ তারা হেলপার থেকে ড্রাইভার হয়েছেন। আর হচ্ছে সচেতনতার অভাব। এ ছাড়া রয়েছে অনিয়ন্ত্রিত গতি।’

সোমবার (২৪ আগস্ট) তেজগাঁওয়ে সড়ক ভবনে জরুরি চিকিৎসায় অ্যাম্বুলেন্স, মোটরসাইকেল সার্ভিসের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

সড়কমন্ত্রী বলেন, ‘প্রতি বছর ৫ হাজারের কাছাকাছি মানুষ সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যাচ্ছেন। এ সংখ্যাটি হ্রাস করতে আইন প্রয়োগের পাশাপাশি জনগণকে সচেতন করতে কাজ করছে সরকার।’

তিনি বলেন, ‘হাইওয়ের পাশের হাসপাতালগুলোতে আলাদা ইউনিট গঠন ও ১০ কিলোমিটারের মধ্যে যাতে অ্যাম্বুলেন্স থাকে তা নিশ্চিত করা হবে।’ এ সময় ২০২৭ সালের মধ্যে নতুন নিরাপদ সড়ক আইন প্রণয়নের কথাও জানান তিনি।

পরে দুর্ঘটনা-পরবর্তী চিকিৎসাসেবায় ৬০টি বেসিক লাইফ সাপোর্ট অ্যাম্বুলেন্স, ৪০টি মোটরসাইকেল অ্যাম্বুলেন্স ও হাইওয়ে পুলিশের জন্য ৮০টি পেট্রল মোটরসাইকেল উদ্বোধন করা হয়।


কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের উদ্বোধন অক্টোবরে: বিমান ও পর্যটনমন্ত্রী

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত।
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

চলতি বছরের অক্টোবরে কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর উদ্বোধন করা হবে বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিমানবন্দরটি উদ্বোধন করবেন বলে জানান তিনি।

সোমবার (২৪ আগস্ট) সচিবালয়ে এভিয়েশন ও পর্যটন খাতের সাংবাদিকদের সংগঠন এভিয়েশন অ্যান্ড ট্যুরিজম জার্নালিস্টস ফোরাম অব বাংলাদেশের (এটিজেএফবি) সদস্যদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, ‘কক্সবাজার বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে রূপান্তরের কাজ এগিয়ে চলছে। আগামী অক্টোবরে এটি আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হবে। কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের পাশাপাশি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক এয়ারলাইন্সও ফ্লাইট পরিচালনা করবে। ইতোমধ্যে কয়েকটি বিদেশি এয়ারলাইন্স কক্সবাজার থেকে ফ্লাইট পরিচালনায় আগ্রহ প্রকাশ করেছে।’

এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, ‘আন্তর্জাতিক এয়ারলাইন্সগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ ও সমন্বয়ের মাধ্যমে কক্সবাজার থেকে সরাসরি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরের প্রক্রিয়া চলছে।’

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল চালুর বিষয়ে তিনি বলেন, ‘টার্মিনালটি আগামী ডিসেম্বর মাসে চালু করার লক্ষ্যে আমরা এগিয়ে যাচ্ছি। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি চলছে। আগামী মাসে (সেপ্টেম্বর) জাপানি কনসোর্টিয়ামের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর হবে।’

তৃতীয় টার্মিনাল চালু হলে বিমানবন্দরের সক্ষমতা ও যাত্রীসেবার মান আরও বাড়বে এবং আন্তর্জাতিক মানের সেবা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে বলে জানান মন্ত্রী।

এ সময় এটিজেএফবির সভাপতি তানজিম আনোয়ার মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ায় এম রশিদুজ্জামান মিল্লাতকে সংগঠনের পক্ষ থেকে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানান। তিনি আশা প্রকাশ করেন, মন্ত্রীর নেতৃত্বে দেশের এভিয়েশন ও পর্যটন খাত আরও এগিয়ে যাবে। এ সময় এটিজেএফবির সাধারণ সম্পাদক বাতেন বিপ্লবসহ সংগঠনের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।


রাষ্ট্রপতি হওয়ার পর প্রথমবার ঠাকুরগাঁও যাচ্ছেন মির্জা ফখরুল

ছবি: রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আগামী রোববার (৩০ আগস্ট) দুই দিনের সফরে নিজ জেলা ঠাকুরগাঁও যাচ্ছেন নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সফর শেষে পরদিন সোমবার (৩১ আগস্ট) ঢাকায় ফিরবেন।

রাষ্ট্রপতির সফরকে কেন্দ্র করে ইতোমধ্যে প্রস্তুতিও শুরু করেছে জেলা প্রশাসন। এছাড়া প্রশাসনিক, আবাসন ও যানবাহনসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট সকলকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে ঠাকুরগাঁওয়ের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ রফিকুল হক।

সোমবার (২৪ আগস্ট) বিকেলে রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের আপন বিভাগের প্রটোকল শাখা থেকে ঠাকুরগাঁওয়ের জেলা প্রশাসকের কাছে এ-সংক্রান্ত একটি চিঠি পাঠানো হয়।

প্রটোকল অফিসার আবুল কালাম মো. লুৎফর রহমান স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আগামী ৩০ ও ৩১ আগস্ট ঠাকুরগাঁও জেলা সফর করবেন। সফর শেষে ৩১ আগস্ট তিনি ঢাকায় প্রত্যাবর্তন করবেন।

চিঠিতে রাষ্ট্রপতি ও তার সফরসঙ্গীদের গমনাগমনের জন্য প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা, আবাসন ও যানবাহনের ব্যবস্থা করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হয়েছে। পাশাপাশি রাষ্ট্রপতির সফরের বিস্তারিত সূচি ও সফরসঙ্গীদের অনুমোদিত তালিকা পরবর্তী সময়ে পাঠানো হবে বলেও জানানো হয়েছে।

এদিকে, রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেওয়ার পর নিজ জেলা ঠাকুরগাঁওয়ে মির্জা ফখরুলের এ সফর ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যেও তৈরি হয়েছে আগ্রহ। সফরকে কেন্দ্র করে প্রশাসনের পাশাপাশি বিভিন্ন সরকারি দপ্তরেও প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

এর আগে গত ২০ আগস্ট জাতীয় সংসদে অনুষ্ঠিত রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ২৫৫ ভোট পেয়ে জয়ী হন। তিনি জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী ও লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদকে পরাজিত করেন।

দীর্ঘ ৩৫ বছর পর জাতীয় সংসদে অনুষ্ঠিত রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বিজয়ী হন। পরদিন ২১ আগস্ট সন্ধ্যায় বঙ্গভবনের ঐতিহাসিক দরবার হলে দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন তিনি।


ময়নাতদন্তের রিপোর্টের সঙ্গে পুলিশের বক্তব্যের কিছু অংশ অমিল: ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক

ছবি: হত্যাকাণ্ডের শিকার রংপুর জিলা স্কুলের শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী, মেয়ে আগামী চক্রবর্তী ও ১২ বছরের শিশুসন্তান প্রিয়ম চক্রবর্তী।
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রংপুরে মাদকসেবনে বাধা দেয়ায় অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী ও স্ত্রী-সন্তানসহ ৪ জনকে হত্যার ঘটনায় পুলিশের বক্তব্য ও ময়নাতদন্তের রিপোর্টের কিছু অংশ মিলছে না।

সোমবার (২৪ আগস্ট) সাংবাদিকদের এ হত্যাকাণ্ড নিয়ে ময়নাতদন্তকারী ডা. বাবলু কিশোর বিশ্বাস জানিয়েছেন বিভিন্ন তথ্য।

তিনি বলেন, ‘ভিকটিম চারজনকেই শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। তবে চোয়াল ভাঙার কোনো প্রমাণ ময়নাতদন্তে পাওয়া যায়নি। অনেকেই গুজব রটিয়েছে যে এসিড ব্যবহার করে লাশগুলোর চেহারা নষ্ট করা হয়েছে। তবে এর প্রমাণ ময়নাতদন্তে পাওয়া যায়নি। মূলত লাশগুলোর কয়েকদিন ধরে পড়ে থাকার কারণে চেহারাগুলো ঝলসে যাওয়ার মতো হয়েছে।’

বাবলু কিশোর বিশ্বাস আরও বলেন, ‘ময়নাতদন্তে বিভিন্ন স্যাম্পল সংগ্রহ করা হয়েছে, সেগুলো সিআইডি ল্যাবে পাঠানো হবে।’

এদিকে গতকাল সংবাদ সম্মেলন করে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আব্দুল মাবুদ জানিয়েছিলেন, হত্যাকাণ্ডের শিকার আগামী চক্রবর্তীর গলা ও মুখে রশি পেঁচিয়ে এমনভাবে টানা হয়েছিল যে, আগামীর চোখগুলো বেরিয়ে আসে এবং দাঁতের চোয়াল ভেঙে যায়।

উল্লেখ্য, রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়ার বাসিন্দা রংপুর জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীর বাড়িতে তার স্বজনরা সাড়াশব্দ না পাওয়ায় শনিবার সন্ধ্যায় পুলিশে খবর দেয়। রাত সাড়ে ১০টার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে বাড়ির তালা ভেঙ্গে চিলেকোঠায় গণপতি চক্রবর্তী (৬৫), সিঁড়িতে স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী (৫২) ও মেয়ে আগামী চক্রবর্তী (২৫) এবং দোতলায় শোবার ঘরে রংপুর জিলা স্কুলে পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ুয়া প্রিয়ম চক্রবর্তীর (১২) লাশ দেখতে পায় পুলিশ। এমন মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় রংপুরসহ দেশজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে।

গ্রেপ্তারকৃত নগরীর মাছুয়াপাড়া এলাকার কানুদাসের ছেলে মুগ্ধ দাস (২৩) সিটি বাজারে মাছে দোকানের কর্মচারী এবং সিদ্ধার্থ দাস (১৯) স্বর্ণের দোকানে কারিগর হিসেবে কাজ করতো। তারা সম্পর্কে মামাতো ভাই।


নরসিংদীতে বিধবার জমি দখলের চেষ্টা, বাড়িতে হামলা

নরসিংদীর একটি রেস্তোরাঁয় ভুক্তভোগী পরিবারের সংবাদ সম্মেলন। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নরসিংদী প্রতিনিধি

নরসিংদীর রায়পুরায় জোহরা বেগম নামে এক বিধবার বসতবাড়িতে হামলা এবং সম্পত্তি জোরপূর্বক দখলের অপচেষ্টার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন হয়েছে। সোমবার (২৪ আগস্ট) সকালে নরসিংদী শহরের একটি রেস্তোরাঁয় ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী জোহরা বেগমের মেয়ে আরিফা আক্তার মুন্নি লিখিত বক্তব্যে জানান, তাদের নিজ গ্রাম বাঙালীনগরের মৌজা আর.এস ৩২৯ খতিয়ানে এস.এ-৪১৩ ও আর.এস-২১০৫ দাগের ১১ শতাংশ জমি তার মা দীর্ঘদিন ধরে ভোগদখল করে আসছেন।

অভিযোগ করা হয়, ওই জমির ওপর নজর পড়ে একই গ্রামের মৃত ফজলুর রহমানের ছেলে সানজারুল কবির জহির, আশরাফুল ইসলাম আসাদুল, হুমায়ুন কবির, ছাত্তার মিয়ার ছেলে নাজমুল আলম পারভেজ, টুটুল মিয়ার ছেলে সাজেদুল ইসলাম অনন এবং ফজলুর রহমানের মেয়ে পারভীন বেগমের।

মুন্নি জানান, জমিটি কবজা করতে ব্যক্তিরা নানা ষড়যন্ত্র চালিয়ে আসছিল। এরই ধারাবাহিকতায় গত বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) সকাল আনুমানিক ৯টার দিকে আসামিরা জোরপূর্বক জমি দখলের চেষ্টা চালায়। এতে জোহরা বেগমের বাড়ির লোকজন বাধা দিলে আসামিরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে বসতবাড়িতে হামলা চালায়। এ সময় জমি না ছাড়লে তাদের পরিবারকে জীবননাশের হুমকিও দেওয়া হয়। বর্তমানে আসামিদের ভয়ভীতি ও হুমকির মুখে জোহরা বেগম ও তার পরিবারের সদস্যরা তীব্র নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছেন।

এ ঘটনায় বিচার চেয়ে গত রোববার (২৩ আগস্ট) জোহরা বেগম বাদী হয়ে সানজারুল কবির জহিরসহ ৬ জনকে আসামি করে নরসিংদী জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের খবর ছড়িয়ে পড়লে আসামিরা আরও ক্ষিপ্ত হয়ে তাদের পুনরায় প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে বলে সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়।

এ বিষয়ে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার ও সুশীল সমাজ।


লোডশেডিং নিরসনে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা ইবি প্রশাসনের

কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) চলমান তীব্র লোডশেডিংয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ইবি প্রতিনিধি

কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) চলমান তীব্র লোডশেডিংয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। ল্যাব, লাইব্রেরি এবং আবাসিক হলগুলোর পাশাপাশি ক্যাম্পাস সংলগ্ন মেস এলাকাগুলোতে বিদ্যুৎ সংকটে স্বাভাবিক পড়াশোনা ও দৈনন্দিন জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। এই পরিস্থিতি নিরসনে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ স্বল্পমেয়াদী আশ্বাসের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদী কিছু বিকল্প পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে।

সম্প্রতিকালে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ উৎপাদনে ঘাটতির কারণে চাহিদার তুলনায় তিনভাগের একভাগ বিদ্যুৎ পাচ্ছে বলে জানা যায় বিদ্যুৎ কতৃপক্ষের বরাতে। লোডশেডিংয়ের মূল কারণ জানতে চাইলে পল্লী বিদ্যুতের স্বস্তিপুর জোনাল অফিসের ডিজিএম খালিদ মোহাম্মদ সালাউদ্দিন জানান, স্থানীয় সাব-স্টেশন বা লাইনে কোনো যান্ত্রিক ত্রুটি কিংবা ওভারলোড সমস্যা নেই।

তিনি বলেন, জাতীয় গ্রিডে প্রায় ৪ হাজার মেগাওয়াট উৎপাদন কমে যাওয়ায় এই সংকট তৈরি হয়েছে। ফলে আমাদের উপকেন্দ্রে প্রকৃত ২০ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে গড়ে মাত্র ৮ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাচ্ছি। তবে ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে চাহিদা আরও বেড়ে গেছে।

ক্যাম্পাসের তুলনায় ক্যাম্পাস সংলগ্ন এলাকায় লোডশেডিং ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। এ সংকটের ব্যাখ্যা দিয়ে ডিজিএম জানান, ক্যাম্পাস সংলগ্ন আবাসিক ও মেস এলাকাগুলো সাধারণ গ্রামীণ ফিডারের আওতাভুক্ত। ফলে মেস এলাকাগুলোতে আলাদা অগ্রাধিকার বা বিশেষ সুবিধা দেওয়ার কারিগরি সুযোগ নেই। তবে, ক্যাম্পাসে আলাদা 'এক্সপ্রেস ফিডারে' বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয় বলে জানান তিনি।

বিশ্ববিদ্যালয়ে চলমান সংকট নিরসনে গৃহীত পদক্ষেপ সম্পর্কে জানতে চাইলে ইবির প্রধান প্রকৌশলী আব্দুল মালেক জানান, বিদ্যুৎ সরবরাহের মূল নিয়ন্ত্রণ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের হাতে নেই। তবে উপ-উপাচার্য'সহ প্রশাসন সংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎ বিভাগের সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ ও সমন্বয় রাখছে।

চলমান এই সংকট নিরসনের জন্য দীর্ঘমেয়াদী বিকল্প উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং কিছু পরিকল্পনা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে কাজ করছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। প্রকৌশল দপ্তর সূত্রে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে ইনডোর টাইপ ১০/১৪ এমভিএ ৩৩/১১ কেভি বৈদ্যুতিক উপকেন্দ্র নির্মাণে কুষ্টিয়া পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সঙ্গে ২০২৫ সালে মে মাসে বিগত প্রশাসন চুক্তি স্বাক্ষর করেন।

চুক্তি মোতাবেক, বিশ্ববিদ্যালয়ের চাহিদা অনুযায়ী অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে। অতিরিক্ত বিদ্যুৎ পার্শ্ববর্তী এলাকায় জনস্বার্থে সরবরাহ করতে পারবে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ইবি প্রধান প্রকৌশলী তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় চলমান ইনডোর সাব-স্টেশনের কাজও দ্রুত এগিয়ে চলছে। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই ইনডোর সাব-স্টেশনের কাজ শেষ হবে বলে আশা করা যায়। সম্প্রতি পরিবেশ মন্ত্রণালয় পরিদর্শনের পর এ বিষয়ে ইতিবাচক মতামত দিয়েছে।

এ বিষয়ে প্রধান প্রকৌশলী বলেন, সাধারণত দূরবর্তী লাইন থেকে বিদ্যুৎ আনার কারণে যে কারিগরি ত্রুটি ও ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাট হয়, এটি চালু হলে তা আর থাকবে না। সাব-স্টেশনটি চালু হলে কারিগরি সমস্যাজনিত লোডশেডিং বন্ধ হবে এবং বিশ্ববিদ্যালয় শতভাগ অগ্রাধিকার পাবে। জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ পর্যাপ্ত থাকা সাপেক্ষে এটি পুরোপুরি কার্যকর হবে।

এই প্রকল্পের অগ্রগতি সম্পর্কে ডিজিএম খালিদ মোহাম্মদ সালাউদ্দিন জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদ্যুৎ ব্যবস্থার উন্নয়ন ও নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করতে এই চুক্তি গুরুত্বপূর্ণ। ইনডোর সাব-স্টেশনের কাজ চলমান এবং কাজের অগ্রগতি দৃশ্যমান। আশা করি, আগামী জুনের মধ্যে এটি চালু হতে পারে। এতে বিশ্ববিদ্যালয়'সহ সংশ্লিষ্ট এলাকায় বিদ্যুৎ ব্যবস্থা উন্নত হবে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলেন ইবি প্রধান প্রকৌশলী বলেন, প্রতিবছর তৈরি হওয়া এই সংকট নিরসনে দীর্ঘমেয়াদী পদক্ষেপ হিসেবে সোলার প্যানেল স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। একটি সরকারি প্রকল্পের অধীনে সোলার প্যানেল স্থাপনের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। এ বিষয়ে শিক্ষক প্রতিনিধি'সহ একটি দল খুব শীঘ্রই উপাচার্য স্যারের সাথে বৈঠকে বসবেন। উপাচার্যের অনুমোদন মিললে দ্রুতই প্রকল্পটি তৈরি করে চূড়ান্ত সাবমিট করা হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. একেএম মতিনুর রহমান বলেন, ইউজিসি ও সরকারের উদ্যোগে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সোলার প্যানেল চালুর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ক্যাম্পাসে টেকসই স্থানে সোলার প্যানেল বসানোর জন্য ইউজিসির প্রতিনিধি দলকে সরজমিনে পরিদর্শনের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় লজিস্টিক সহায়তার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। একইসাথে জাতীয় বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলা ও ক্যাম্পাসে অপচয় রোধে অপ্রয়োজনীয় এসি, ফ্যান এবং হলের হিটার ব্যবহার বন্ধে জরুরি নোটিশ জারি করা হয়েছে।


মাদারীপুরে মাকে ধর্ষণের পর হত্যা, বাঁচলনা অবুঝ শিশু আবিরও

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মাদারীপুর প্রতিনিধি

নদীর পানি বইছিল আপন গতিতেই। আর সেই ভাসমান জলের বুকেই ভেসে ছিল এক বছরের এক নিষ্পাপ প্রাণের নিথর শরীর। সোমবার (২৪ আগস্ট) সকালে মাদারীপুরের শিবচরের আড়িয়াল খাঁ নদীর নিলখী মাদ্রাসা ঘাটে যখন ছোট্ট আবিরের অর্ধগলিত মরদেহটি তীরে আনা হলো, তখন সেখানে উপস্থিত কোনো মানুষের চোখই শুকনো ছিল না। শিশু-তরুণ থেকে শুরু করে বৃদ্ধ—পুরো জনপদ কেঁদে উঠেছে এক অবুঝ সন্তানের এই করুণ পরিণতিতে।

ধর্ষণের শিকার হয়ে পাঁচ দিন আগে প্রাণ হারিয়েছিলেন মা শম্পা খাতুন। আর সেদিনই মায়ের কোল কেড়ে নিয়ে ব্রিজ থেকে নদীতে ফেলে দেওয়া হয়েছিল ফুটফুটে শিশু আবিরকে। জল্লাদের নিষ্ঠুরতার কাছে হেরে যাওয়া এই মায়ের আকুতি আর সন্তানের শেষ অবুঝ আর্তনাদ হয়তো মিশে গিয়েছিল নদীর তীব্র স্রোতে।

গত ১৯ আগস্ট শিবচরের এক ঝোপের পাশ থেকে অজ্ঞাত হিসেবে শম্পা খাতুনের মরদেহ উদ্ধার করেছিল পুলিশ। পরে জানা যায়, লালপুরের ছামরুল ইসলামের মেয়ে শম্পা নিজের সন্তানের এক উজ্জ্বল ভবিষ্যতের আশায় হয়তো লড়ছিলেন। কিন্তু লম্পট ফারুকের নজরে পড়ে শেষ হয়ে যায় তাঁর জীবনের সব স্বপ্ন।

আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে গ্রেপ্তারের পর ফারুক নিজেই স্বীকার করে সেই লোমহর্ষক কাহিনি। শম্পাকে ধর্ষণের পর হত্যা করার পর, তার এক বছরের অবুঝ শিশু আবিরকে ব্রিজের ওপর থেকে স্রেফ ছুঁড়ে ফেলে দিয়েছিল আড়িয়াল খাঁ নদীতে।

ঘাতকের স্বীকারোক্তির পর সবাই মনে মনে হয়তো একটা অলৌকিক কিছুর আশায় ছিলেন—যদি আবির বেঁচে থাকে! কিন্তু নিষ্ঠুর বাস্তবতা সামনে এলো পাঁচ দিন পর। নদীর পানিতে ভেসে উঠলো শিশুটির নিথর দেহ।

মরদেহ উদ্ধারের পর নিলখী এলাকার বাতাস ভারী হয়ে ওঠে সাধারণ মানুষের কান্না ও ক্ষোভে। উপস্থিত এক বৃদ্ধ শিউরে উঠে বললেন, মায়ের লাশ তো পেলাম, এখন এই দুধের শিশুর গলিত লাশও দেখতে হলো? একটা মানুষ কতটা পৈশাচিক হলে এমন দুধের শিশুকে ব্রিজের ওপর থেকে নদীতে ফেলে দিতে পারে?

আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী দ্রুততম সময়ে এই ক্লুলেস হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচন করলেও, এলাকার মানুষের মনে জমেছে গভীর ক্ষত। শম্পা ও আবিরের এই নিঃশব্দ প্রস্থান কেবল দুটি প্রাণের মৃত্যু নয়, যেন পুরো মানবতা ও বিবেকের পরাজয়।

এখন মাদারীপুরবাসী একটাই দাবি নিয়ে তাকিয়ে আছেন সুবিচারের দিকে—পাষণ্ড ফারুকের যেন এমন দৃষ্টান্তমূলক সর্বোচ্চ শাস্তি হয়, যাতে আর কোনো মায়ের কোল এভাবে খালি না হয়, কোনো অবুঝ শিশুকে আড়িয়াল খাঁ নদীর ঠাণ্ডা পানিতে অকালে প্রাণ দিতে না হয়।


দুবৃর্ত্তদের হামলায় প্রাণ গেল সাবেক কাউন্সিলরের

ছবি: ভৈরব পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর ও পৌর যুবলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আল আমিন সৈকত।
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ভৈরব (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি

কিশোরগঞ্জের ভৈরব পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর ও পৌর যুবলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আল আমিন সৈকত (৪০) দুর্বৃত্তদের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে নৃশংসভাবে খুন হয়েছে। গত রোববার (২৩ আগস্ট) রাত পৌনে ১২টার দিকে ভৈরব বাজার ট্রিনপট্রি রমজান মিয়ার হাউলি এলাকায় ঘটনাটি ঘটেছে।

তিনি ভৈরব বাজারে ব্যবসাও করত। পৌর শহরের ভৈরবপুর উত্তরপাড়া এলাকার আড়াই বেপারীর বংশের মৃত জসীম উদ্দিনের ছেলে।

পরিবার সুত্রে জানা যায়, প্রতিদিনের মতই আল আমিন সৈকত তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান আবাসিক হোটেলের অফিস থেকে মোটরসাইকেলযোগে বাসায় যাওয়ার পথে টিনপট্রির সোস্যাল ইসলামী ব্যাংকের নিকটে রমজান মিয়া হাউলির সড়কে কয়েকজন দুবৃর্ত্তরা তার মোটরসাইকেল থামিয়ে প্রথমে মাথায়, চোখ, হাত ও পায়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে একাধিক আঘাত করে। এসময় খবর পেয়ে স্বজনরা তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় একটি বেসরকারী হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নেয়া হলে কর্তব্যরত ডাক্তার তার অবস্থা খারাপ দেখে তাকে ঢাকায় রেফার্ড করে। তারপর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকে মৃত্যু ঘোষণা করে৷

নিহতের স্ত্রী তানিয়া খানম বলেন, রাত সাড়ে ১১টার দিকে আমার স্বামীকে কল দিলে তিনি আমাকে জানান কাজ শেষ করে বাসায় ফিরবে৷ এর কিছুক্ষণ পরে আবার ফোন দিলে তিনি বলেন আমি বের হচ্ছি তুমি ভাত রেডি কর। এর কিছুক্ষণ পরেই দৌড়ে এসে বললো ভাইকে তো কে জানি কুপিয়ে মেরে ফেলেছে। দৌড়ে গিয়ে দেখি রাস্তায় রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। পরে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে মৃত্যুবরণ করে। আমার স্বামীর হত্যার বিচার চাই। এইভাবে যেন কেউ আমার মত স্বামী হারা না হয়।

তার বন্ধু তমাল আহমেদ জানান, রোববার (২৩ আগস্ট) রাত সাড়ে ১১ টা পর্যন্ত আমরা একসাথে বসে তার আবাসিক হোটেলে আড্ডা গল্প দিচ্ছিলাম। পরে আমি বাসায় চলে যায় এবং সে তার বাসায় মোটরসাইকেলে চলে যায়। বাসায় গিয়েই আমি দূর্ঘটনার খবর পায়।

নিহতের চাচাত ভাই আরাফাত জানান, আমরা কয়েকজনে মিলে ঢাকায় নেয়ার পথেই সে গাড়ীতে মারা যায়। পরে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করে।

এবিষয়ে ভৈরব শহর ফাঁড়ির ইনচার্জ নুরুল হুদা জানান, আল আমিন সৈকতের ঘটনাটি খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। এই ঘটনার সাথে জড়িতদের সনাক্ত করতে পুলিশ কাজ করছে। তবে নিহতের মরদেহ তার এখনও ভৈরবে পৌঁছেনি জানতে পারি। তার পরিবারের সাথে কথা বলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতিকে বাকৃবি উপাচার্যের অভিনন্দন

ছবি: রাষ্ট্রপতি এবং বাকৃবির চ্যান্সেলর মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও বাকৃবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ. কে. ফজলুল হক ভূঁইয়া।
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাকৃবি প্রতিনিধি

২৩তম রাষ্ট্রপতি এবং বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) চ্যান্সেলর হিসেবে নির্বাচিত হওয়ায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন বাকৃবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ. কে. ফজলুল হক ভূঁইয়া।

সোমবার (২৪ আগস্ট) বাকৃবি উপাচার্যের দপ্তর থেকে পাঠানো এক অভিনন্দন বার্তার মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের পক্ষ থেকে এই শুভেচ্ছা জানানো হয়।

অভিনন্দন বার্তায় উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ. কে. ফজলুল হক ভূঁইয়া বলেন, দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের সততা, নিষ্ঠা, প্রজ্ঞা ও দেশপ্রেমের কারণেই তিনি দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে আসীন হয়েছেন, যা অত্যন্ত যুগোপযোগী ও গৌরবময়। তাঁর আপসহীন পথচলা ও দীর্ঘ সংগ্রামের রাজনৈতিক জীবন নতুন প্রজন্মের জন্য অনুকরণীয় ও শিক্ষণীয়। মহামান্য রাষ্ট্রপতির সুদীর্ঘ কর্মজীবনের অভিজ্ঞতা ও প্রজ্ঞা দেশের গণতন্ত্র সুসংহতকরণ, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, জাতীয় ঐক্য এবং জনকল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে বাকৃবি পরিবার দৃঢ়ভাবে আশা প্রকাশ করে।

বার্তায় বাকৃবির অবদানের কথা তুলে ধরে উপাচার্য জানান, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় দেশের কৃষি শিক্ষা, গবেষণা ও সম্প্রসারণের অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি। প্রতিষ্ঠার পর থেকে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ৬১ হাজার ৬৯৯ জন গ্র্যাজুয়েট দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং কৃষি খাতের উন্নয়নে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছেন। রাষ্ট্রপতির সুদৃঢ় ও অভিভাবকসুলভ দিক-নির্দেশনায় ঐতিহ্যবাহী এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি কৃষি শিক্ষা, গবেষণা ও প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনে আরও অনন্য উচ্চতায় পৌঁছাবে।

বার্তার শেষাংশে রাষ্ট্রপতি হিসেবে তার মেয়াদকালের সর্বাঙ্গীন সাফল্য, সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করা হয়।


যে ‘ওষুধের’ প্যাকেটেই প্রশ্ন, সেটিই ঢুকছে রোগীর প্রেসক্রিপশনে

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নওগাঁ প্রতিনিধি

চিকিৎসকের কাছে মানুষ যায় সুস্থ হওয়ার আশায়। অসুস্থ শরীর নিয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ, পরীক্ষা-নিরীক্ষা আর ওষুধের ওপরই ভরসা রাখেন রোগী ও স্বজনরা। কিন্তু সেই প্রেসক্রিপশনের ওষুধ যদি হয় অনুমোদনহীন। তাহলে চিকিৎসার নিরাপত্তা কোথায়।

নওগাঁ শহরের কাজীর মোড় এলাকার হলিপ্যাথ ডিজিটাল ল্যাব নামরর বেসরকারি ডায়াগনস্টিকে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের প্রেসক্রিপশনে এমন কিছু ওষুধ লেখার অভিযোগ উঠেছে, যেগুলোর বিষয়ে নওগাঁ ঔষধ প্রশাসন বলছে, এসব ওষুধে তাদের অনুমোদন নেই। এর মধ্যে রয়েছে Chole CF-3L নামের একটি পণ্য, যা প্রেসক্রিপশনে Vitamin D-3 Injection IP হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে। পণ্যটির প্যাকেটের গায়ে সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য (MRP) ছাপানো না থেকে সাদা কাগজে হাতে লেখা রয়েছে ৪০০ টাকা।

শুধু তাই নয়, একইভাবে Cap. Zecap এবং Voligel Max নামের আরও দুটি পণ্যও প্রেসক্রিপশনে লেখার অভিযোগ রয়েছে। এসব পণ্যের গুণগত মান, বৈধতা, আমদানির উৎস এবং বাজারজাতকরণ প্রক্রিয়া নিয়েও উঠেছে নানা প্রশ্ন।

অনুসন্ধানে আরও উঠে এসেছে, চিকিৎসকের সহযোগী হিসেবে বসা মাহফুজ নামের এক ব্যক্তি রোগীদের প্রেসক্রিপশনে ওষুধ লিখে দিচ্ছেন। অনুসন্ধানে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বক্তব্য অনুযায়ী, এসব পণ্য বাজারজাতকরণের সঙ্গেও তার সম্পৃক্ততা রয়েছে। ফলে চিকিৎসকের পরামর্শ, প্রেসক্রিপশন এবং ওষুধ সরবরাহ এই তিনটি বিষয়কে ঘিরে তৈরি হয়েছে স্বার্থের সংঘাতের প্রশ্নও।

সরেজমিনে জানা যায়, নওগাঁ শহরের কাজীর মোড়ের হলিপ্যাথ ডায়াগনস্টিক ল্যাবে প্রতি শুক্রবার রোগী দেখেন এমবিবিএস, বিসিএস (স্বাস্থ্য), এমডি (নিউরোমেডিসিন) বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক মোঃ মাহবুবুর রহমান। সহযোগী অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান সিরাজগঞ্জের

শহীদ এম. এ মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের। তিনি মূলত একজন স্নায়ুরোগ, ব্রেন, স্পাইন, স্ট্রোক, প্যারালাইসিস, মৃগী রোগ এবং মাথা ব্যথা বিশেষজ্ঞ।

সেখানে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের একটি অংশের প্রেসক্রিপশনে একই ধরনের কয়েকটি ওষুধ এবং একাধিক পরীক্ষা দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এর মধ্যে বিশেষভাবে নজরে এসেছে Chole CF-3L। ওষুধটির প্যাকেটের গায়ে ভারতের একটি প্রতিষ্ঠানের ঠিকানা ও ওয়েবসাইটের তথ্য রয়েছে। তবে অনুসন্ধানে সংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইটে পণ্যটির বিষয়ে সুস্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। একই সঙ্গে বাংলাদেশে কোন আমদানিকারকের মাধ্যমে পণ্যটি এসেছে, তারও কোনো স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, প্যাকেটের গায়ে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের অনুমোদনসংক্রান্ত কোনো নম্বর এনওসি (অনাপত্তি পত্র বা নো অবজেকশন সার্টিফিকেট) দেখা যায়নি। বাজারমূল্যও মুদ্রিত না থেকে সাদা কাগজে হাতে লেখা।

নওগাঁ ঔষধ প্রশাসনের পরিদর্শক রিতা রায় বিষয়টি সম্পর্কে বলেন, এসব ওষুধে তাদের অনুমতি নেই। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ঔষধ প্রশাসনের অনুমোদন থাকলে পণ্যের গায়ে সংশ্লিষ্ট অনুমোদনসংক্রান্ত তথ্য থাকার কথা। একই সঙ্গে কোনো পণ্যের MRP সাদা কাগজে বা হাতে লিখে দেওয়ার নিয়ম নেই।

অনুসন্ধানে আরও একটি বিষয় সামনে এসেছে। মাহফুজ নামের এক ব্যক্তি চিকিৎসকের পাশে বসে রোগীদের প্রেসক্রিপশনে ওষুধ লিখে দিচ্ছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। তার শিক্ষাগত যোগ্যতা উচ্চমাধ্যমিক পর্যন্ত বলে জানা গেছে। এবং তিনি নিজেও স্বীকার করেছেন।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, চিকিৎসক রোগী দেখে ওষুধের নাম বলে দিচ্ছেন এবং মাহফুজ তা প্রেসক্রিপশনে লিখছেন। কখনো কখনো মাহফুজ নিজেও কোনো ওষুধের নাম মনে করিয়ে দিচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। চিকিৎসক পছন্দ করলে সেটি প্রেসক্রিপশনে যুক্ত হচ্ছে, আর পছন্দ না হলে অন্য ওষুধের নাম বলা হচ্ছে। এমন দৃশ্যেরও বর্ণনা পাওয়া গেছে।

প্রেসক্রিপশনে লেখা ওষুধগুলোর মধ্যে তার সম্পৃক্ততায় বাজারজাত হওয়া পণ্য রয়েছে কি না এ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

মাহফুজের কাছে এসব ওষুধের অনুমোদন সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বাজারে এ ধরনের আরও অনেক পণ্য রয়েছে এবং হাজার হাজার পণ্য চলে। তিনি দাবি করেন, তারা শাহানুর নামের এক ব্যক্তির কাছ থেকে এসব পণ্য নেন।

Cap. Zecap প্রসঙ্গে তিনি এটিকে হারবাল পণ্য দাবি করে বলেন, তিনি প্রেসক্রিপশনে ওষুধ লিখে দেন। তবে চিকিৎসকের সিল তিনি দেন না।

এ বিষয়ে কথা বলতে শাহানুর নামের এক ব্যক্তি নিজেকে গুডলাইট কোম্পানির লোক হিসেবে পরিচয় দিয়ে ফোন করেন। তিনি বলেন, মাহফুজ কোম্পানির লোক এবং সে পণ্য সরবরাহ করতেই পারে। চিকিৎসক কোন পণ্য লিখেছেন, সে বিষয়ে চিকিৎসকের কাছেই জানতে হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

নিজের পরিচয় সম্পর্কে শাহানুর বলেন, মাহফুজ ও তিনি প্রতিবেশী ভাই। পাশাপাশি তিনি ওষুধ কোম্পানির নওগাঁ জেলা সমিতির সেক্রেটারি বলেও জানান।

চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশনে দেওয়া Chole CF-3L সেবনের পর অসুস্থ হয়ে পড়ার অভিযোগ করেছেন নওগাঁর বাসিন্দা সুনিতা রাণী। গত ১০ জুলাই ঘাড়ের ব্যথার চিকিৎসা নিতে তিনি ওই চিকিৎসকের কাছে যান। ৮০০ টাকা দিয়ে সিরিয়াল নিয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নেন। প্রথমে তাকে এক্স-রে, সিবিসি ও ডায়াবেটিসের পরীক্ষা দেওয়া হয়। রিপোর্ট দেখানোর পর অন্যান্য ওষুধের সঙ্গে Chole CF-3L দেওয়া হয়। এক গ্লাস গরম দুধের সঙ্গে মিশিয়ে ওষুধটি খেতে বলা হয় এবং ২১ দিন পর একই নিয়মে আরও দুটি ওষুধ খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয় বলে জানান তিনি।

সুনিতা রাণীর অভিযোগ, ওষুধটি খাওয়ার পর তার তীব্র গ্যাসের সমস্যা ও বমির উপসর্গ দেখা দেয়। তিনি বলেন, এমন অবস্থায় তিনি গলায় হাত দিয়ে বমি করার চেষ্টা করেন এবং প্রায় এক সপ্তাহ স্বাভাবিকভাবে কিছু খেতে পারেননি।

তার মেয়ে শিল্পী সরকার বলেন, বাড়ি ফেরার পর তার মাকে অস্বাভাবিক ও নার্ভাস মনে হচ্ছিল। রাতে পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ায় তারা ভয়ে ছিলেন এবং সারারাত ঘুমাতে পারেননি।

তবে ওই অসুস্থতার সঙ্গে নির্দিষ্ট ওষুধটির সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা চিকিৎসাবিজ্ঞানের নিরপেক্ষ পরীক্ষা ছাড়া নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়। কিন্তু রোগীর এমন অভিযোগ ওষুধটির নিরাপত্তা এবং অনুমোদনের বিষয়টি যথাযথভাবে যাচাইয়ের দাবি রাখে।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ডা. মো. মাহবুবুর রহমান বলেন, কোনো ওষুধ বৈধ না অবৈধ তা দেখা তার বিষয় নয়। অনুমোদন না থাকলে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর কেন ব্যবস্থা নিচ্ছে না, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি।

একপর্যায়ে তিনি বলেন, অবৈধ ওষুধও আমি লিখতে পারব। প্রতিটি ওষুধেরই পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া থাকে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

প্রেসক্রিপশন লেখার ক্ষেত্রে মাহফুজের ভূমিকা সম্পর্কে জানতে চাইলে চিকিৎসক বলেন, মাহফুজ তার সহকারী। তিনি ওষুধের নাম বলে দেন এবং মাহফুজ তা লিখে দেন।

নওগাঁ ঔষধ প্রশাসনের পরিদর্শক রিতা রায় বলেন, সংশ্লিষ্ট ওষুধগুলোতে তাদের অনুমতি নেই। অনুমোদিত ওষুধের প্যাকেটে প্রয়োজনীয় অনুমোদনসংক্রান্ত তথ্য থাকার কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, সাদা কাগজে বা হাতে লিখে কোনো পণ্যের MRP মূল্য দেওয়ার নিয়ম নেই।

নওগাঁর মানবাধিকার ও সমাজকর্মী নাইস পারভীন বলেন, একজন রোগী যখন চিকিৎসকের চেম্বারে প্রবেশ করেন, তখন তিনি চিকিৎসকের জ্ঞান, প্রেসক্রিপশন এবং ওষুধের নিরাপত্তার ওপর আস্থা রাখেন। তিনি সাধারণত জানেন না কোন ওষুধের অনুমোদন আছে, কোনটির নেই কোনটি নিবন্ধিত, কোনটি অনিবন্ধিত। কিংবা প্যাকেটে লেখা দামের সত্যতা কতটুকু। সেই অজ্ঞতার সুযোগে যদি কোনো অনুমোদনহীন পণ্য প্রেসক্রিপশনের মাধ্যমে রোগীর হাতে পৌঁছে যায়, তাহলে বিষয়টি কেবল একজন রোগীর পকেট কাটার অভিযোগে সীমাবদ্ধ থাকে না। এটি জনস্বাস্থ্য ও চিকিৎসা-নিরাপত্তার প্রশ্নে পরিণত হয়।

তিনি বলেন, বিশেষ করে কোনো ওষুধের অনুমোদন না থাকলে তার উপাদান, মান, সংরক্ষণ, আমদানি ও উৎপাদনপ্রক্রিয়া, কার্যকারিতা এবং সম্ভাব্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সম্পর্কে নিয়ন্ত্রক সংস্থার যাচাই কতটা হয়েছে। সেই প্রশ্ন সামনে আসা স্বাভাবিক। একদিকে চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন, অন্যদিকে চিকিৎসকের সহকারী হিসেবে বসা ব্যক্তির মাধ্যমে ওষুধ লেখা এবং একই ব্যক্তির ওই ওষুধের বাজারজাতকরণের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ। সব মিলিয়ে বিষয়টি আরও গভীর অনুসন্ধানের দাবি রাখে।

অন্যদিকে নওগাঁর সিভিল সার্জন ডা. আমিনুল ইসলাম বলেন, ঔষধ প্রশাসনের অনুমোদন ছাড়া কোনো ওষুধ প্রেসক্রাইব করা উচিত নয়। নির্দিষ্টভাবে বিষয়টি জানানো হলে তদন্ত করে দেখা হবে কেন ওই ওষুধ লেখা হয়েছে। তবুও আপনি যেতে অবগত করলেন আমরা তদন্ত করে দেখবো।


ফরিদপুর থেকে অপহরণ, টঙ্গীতে লাশ উদ্ধার

নিহত আকাশ সরদার। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
টঙ্গী (গাজীপুর) প্রতিনিধি

গাজীপুরের টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমা ময়দানের পরিত্যক্ত নালা থেকে আকাশ সরদার (২১) নামে এক যুবকের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সোমবার (২৪ আগস্ট) সকাল দশটার দিকে অর্ধগলিত লাশটি উদ্ধার করা হয়। আকাশ সরদার ফরিদপুর জেলার কোতোয়ালি থানার রহমত বেপারীপাড়া গ্রামের করিম সরদারের ছেলে।

পুলিশ জানায়, গত ২৭ আগস্ট চাকরি দেওয়ার কথা বলে আকাশকে ফরিদপুর থেকে ঢাকা নিয়ে আসে তার দুই বন্ধু মাজহারুল ইসলাম মিঠু ও অপু মিয়া। পরে আসামিদের যোগসাজশে ওই দিন সন্ধ্যায় আকাশের পরিবারের কাছে অপহরণের বিষয়টি জানানো হয়।

এরপর ফরিদপুরের কোতোয়ালি থানায় মামলা দায়ের হলে র‍্যাবের সহযোগিতায় আসামি মিঠুকে গ্রেফতার করা হয়। পরে আসামি মিঠুর দেওয়া তথ্য মতে টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমা ময়দানের একটি পরিত্যাক্ত নালা থেকে ভুক্তভোগী আকাশের অর্ধগলিত মরদেহটি উদ্ধার করে পুলিশ।

এবিষয়ে টঙ্গী পশ্চিম থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. ইয়ানুর রহমান বলেন, নিহতের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তে জন্য গাজীপুর মর্গে পাঠানোয় হয়েছে। আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।


জয়পুরহাটে চাঁদা না দেওয়ায় হামলা-লুটপাট, গ্রেপ্তার ১

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
জয়পুরহাট প্রতিনিধি

জয়পুরহাটের আক্কেলপুরে চাঁদা না দেওয়ায় এক ব্যবসায়ীর ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর এবং লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ১৮ জনকে আসামি করে গত রোববার (২৩ আগস্ট) থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলা দায়েরের পর বিকেলে মামলার প্রধান আসামি রাজুকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছেন পুলিশ।

গত শনিবার (২২ আগস্ট) দুপুরে আক্কেলপুর উপজেলার কৃষ্ণকোলা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। হামলাকারীরা দোকানের মালামাল ও বাড়ি থেকে নগদ টাকা লুট চারটি ট্র্যাক্টর, শ্যালো মেশিনসহ বিভিন্ন যন্ত্রাংশ ভাঙচুর করে নিয়ে গেছে বলে অভিযোগ করেছেন ওই ব্যবসায়ী।

‎এ ঘটনায় রোববার (২৩ আগস্ট) আক্কেলপুর থানায় মামলা করেছেন ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী আল-আমিন ও আজাদের বাবা কাশেম আলী। মামলার এজাহারে নগদ ৭ লাখ টাকা লুট ও ছয় লাখ ৯০ হাজার টাকা মালামাল নষ্ট করার কথা বলা হয়েছে।

সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, আক্কেলপুর উপজেলার বুড়াপুকুর- বিষ্ণপুর গ্রামের সাগর হোসেন কয়েক মাস আগে ৩ লাখ ১৫ হাজার টাকায় একটি ইজিবাইক কিনেছিলেন। গত ৯ আগস্ট রাতে তার বাড়ির তালা কেটে ইজিবাইকটি চুরি হয়। ইজিবাইকটি এখনো উদ্ধার হয়নি।

‎গত শুক্রবার (২১ আগস্ট) রাতে বুড়াপুকুর এলাকায় কয়েকজন লোক চারজনকে সন্দেহজনকভাবে ঘোরাঘুরি করতে দেখেন। পরে তাদের ধাওয়া করে তিনজনকে আটক করা হয়। একজন পালিয়ে যান। এসময় চাঁরদীঘি গ্রামের রাজু সেখানে গিয়ে আটক তিনজনকে রাতে মারধর করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।‎ পরদিন শনিবার বুড়াপুকুর গ্রামের মসজিদের পাশে একটি ফাঁকা জায়গায় প্রকাশ্যে সালিস বসায় রাজু। এতে আটক তিন সন্দেহভাজনসহ প্রায় শতাধিক মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

‎এরপর রাজুর নেতৃত্বে আটক তিন ব্যক্তিকে কৃষ্ণকোলা গ্রামের ভাই-ভাই ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কশপ ও মেশিনারিজের দোকানে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে বুড়াপুকুর-বিষ্ণপুর ও চাঁরদীঘি গ্রামে প্রায় তিন শতাধিক মানুষ জড়ো হন। একপর্যায়ে রাজু নেতৃত্বে লোকজন উত্তেজিত হয়ে দোকান ও পাশের বাড়িতে হামলা চালান বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এ সময় ওয়ার্কশপে ভাঙচুর লুটপাট ও পিছনেই তাদের বাড়িতে হামলা এবং লুটপাটের ঘটনাও ঘটে।

পরে পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আটক তিন চোর সন্দেহভাজনকে থানায় নিয়ে যায়। তাদের ১৫১ ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়। পরে ওই দিনই তারা জামিনে বের হয়ে আসেন।

‎ভুক্তভোগী ও মামলার বাদী ব্যবসায়ী আল-আমিন বলেন, প্রায় এক যুগ আগে তিনি ও তার ভাই আজাদ গ্রামে ওয়ার্কশপের ব্যবসা শুরু করেন। তারা সুনামের সঙ্গে ব্যবসা করে আসছেন। কয়েক দিন আগে তিলেকপুর ইউনিয়নের চাঁরদীঘি গ্রামের রাজু তার লোকজন নিয়ে পিকনিকে যাওয়ার কথা বলে তাদের কাছে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা চান। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে রাজু তাকে দেখে নেওয়ার হুমকি দেন বলে অভিযোগ করেন আল আমিন।

ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী মো. আজাদ হোসেন বলেন, চোরাই ইজিবাইকের কেনার অভিযোগ তুলে ও গুজব ছড়িয়া আমাদের দোকান ও বাড়িতে হামলা চালানো হয়। ভাঙচুরের পাশাপাশি বাড়ি থেকে নগদ প্রায় ১০ লাখ টাকা, স্বর্ণালংকার এবং দোকানের যন্ত্রাংশ মালামাল সহ প্রায় ১৪ লাখ টাকার মালামাল লুট করা হয়েছে। এ ঘটনায় আমি ও আমরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। তারা যেকোনো সময় আমার ও আমার পরিবারে ক্ষতি করতে পারে।

তিনি আরও বলেন দীর্ঘদিন থেকে বৈধভাবে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছি, কয়েকদিন আগে রাজু ও তার দলবল আমার কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা চায়। আমি দিতে অস্বীকৃতি জানালে রাজু সহ তার দলবল এ হামলা ও লুটপাটের ঘটনা ঘটায়। আমি আর সুষ্ঠু বিচার চাই।

আক্কেলপুর থানার ওসি শাহীন রেজা বলেন, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। চোরাই ইজিবাইকের মালামাল ক্রয়-বিক্রয়ের অভিযোগ মিথ্যা গুজব ছরিয়ে প্রধান আসামি রাজু সহ তার লোকজন তাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা ও বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর করেছে। এ ঘটনায় রোববার বিকেলে ১৮ জনের নামে থানায় মামলা হয়েছে। এরমধ্যে প্রধান আসামি রাজুকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে।


banner close