বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬
৩১ আষাঢ় ১৪৩৩
ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচন

দ্বিতীয় ধাপে নির্বাচিত হলেন যারা

ফাইল ছবি
সারা বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত
সারা বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত : ২২ মে, ২০২৪ ০০:২৭

ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপে ১৫৬টি উপজেলায় ভোটগ্রহণ শেষ হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত চলে ভোটগ্রহণ। ভোট গণনা শেষে রাতে নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশ করেন রিটার্নিং কর্মকর্তারা। সারা দেশের প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর থেকে জানা যায়-

ফরিদপুর

উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপে ফরিদপুরের নগরকান্দা ও সালথা উপজেলায় ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। নগরকান্দা উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপ-কমিটির সাবেক সহসম্পাদক কাজী শাহ জামান বাবুল। আনারস প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ৩৭ হাজার ২০৯ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মোটরসাইকেল প্রতীকের প্রার্থী বর্তমান উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মনিরুজ্জামান সরদার পেয়েছেন ২৫ হাজার ২৩৭ ভোট।

অন্যদিকে সালথা উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে বর্তমান চেয়ারম্যান ওয়াদুদ মাতুব্বর বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। আনারস প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ৩৫ হাজার ৫৪৫ ভোট তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী সালথা উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও মোটরসাইকেল প্রতীকের প্রার্থী মো. ওহিদুজ্জামান পেয়েছেন ৫ হাজার ৩৪২ ভোট।

নারায়ণগঞ্জ

উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপে নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলায় ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম। ঘোড়া প্রতীকে তিনি পেয়েছেন এক লাখ ১৫ হাজার ২৫২ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী দোয়াত কলম প্রতীকের প্রার্থী মো. শাহজালাল মিয়া পেয়েছেন ১৩ হাজার ১৩২ ভোট।

বিজয়ী মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম আড়াইহাজার উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সদস্য। তিনি কালাপাহাড়িয়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান। অন্যদিকে তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মো. শাহজালাল মিয়া আড়াইহাজার উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া

দ্বিতীয় ধাপের উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা ও আখাউড়ায় উপজেলায় ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। কসবা উপজেলায় আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের ফুফাতো ভাই ছাইদুর রহমান ও আখাউড়ায় মোগড়া ইউনিয়ন পরিষদের তিনবারের সাবেক চেয়ারম্যান মনির হোসেন বেসরকারিভাবে চেয়ারম্যান নির্বাাচিত হয়েছেন।

ঘোষিত ফলাফল অনুযায়ী, কসবা উপজেলায় ছায়েদুর রহমান স্বপন কাপ-পিরিচ প্রতীকে ৮৬ হাজার ৬৯৮ ভোট পেয়ে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও কুটি ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ছিলেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বর্তমান উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের সাবেক সহকারী একান্ত সচিব রাশেদুল কাউসার ভূইয়া আনারস প্রতীকে পেয়েছেন ৩৯ হাজার ৯৫৯ ভোট।

অন্যদিকে আখাউড়া উপজেলায় মনির হোসেন ঘোড়া প্রতীকে ২৮ হাজার ৩০৯ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি উপজেলা যুবলীগের সাবেক আহ্বায়ক ও মোগড়া ইউনিয়ন পরিষদের তিনবারের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান আনারস প্রতীকে পেয়েছেন ১৪ হাজার ৫৬৩ ভোট।

রাঙামাটি

ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপে রাঙামাটির রাজস্থলী, কাপ্তাই ও বিলাইছড়ি উপজেলায় শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। রাজস্থলী উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি উবাচ মারমা আনারস প্রতীকে ৭ হাজার ৭৫ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মো. রিয়াজ উদ্দীন রানা দোয়াত কলম প্রতীকে পেয়েছেন ২ হাজার ১৮ ভোট।

অন্যদিকে কাপ্তাই উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে উপজেলা যুবলীগের সভাপতি মো. নাছির উদ্দিন দোয়াত কলম প্রতীকে ৭ হাজার ৩৬২ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও সাবেক ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আনোয়ারুল ইসলাম চৌধুরী আনারস প্রতীকে পেয়েছেন ৬ হাজার ৯৭৩ ভোট।

অপরদিকে বিলাইছড়ি উপজেলায় মোট ১৩টি কেন্দ্রের মধ্যে ৫টি হেলিসর্টি ভোটকেন্দ্র রয়েছে। দুর্গম এলাকা হওয়ায় রাত সাড়ে ৯টা পর্যন্ত ফলাফল না আসায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কোনো ফলাফল ঘোষণা করেননি। তবে বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা যায়, পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (জেএসএস) সমর্থিত দোয়াত কলম প্রতীকের বিরোত্তম তঞ্চঙ্গ্যা চেয়ারম্যান পদে বিজয়ী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

লালমনিরহাট

লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ ও আদিতমারী উপজেলায় উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপে ভোটগ্রহণ শেষ হয়েছে। দুই উপজেলায় মধ্যে আদিতমারী উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে ফারুক ইমরুল কায়েস ও কালীগঞ্জ উপজেলায় জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক রাকিবুজ্জামান আহমেদ বিজয়ী হয়েছেন।

রাত সাড়ে ৯টার দিকে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা লুৎফর কবির তাদেরকে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত ঘোষণা করেন।

আদিতমারী উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে ফারুক ইমরুল কায়েস মোটরসাইকেল প্রতীকে পেয়েছেন ৩৩ হাজার ১৩৫ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রফিকুল আলম আনারস প্রতীকে পেয়েছেন ২৯ হাজার ১৮টি ভোট

কালীগঞ্জ উপজেলায় সাবেক সমাজকল্যাণমন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদের ছেলে রাকিবুজ্জামান আহমেদ আনারস প্রতীকে পেয়েছেন ২৪ হাজার ৩০৩ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী তার চাচা উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মাহবুবুজ্জামান আহমেদ ঘোড়া প্রতীকে পেয়েছেন ১৯ হাজার ৩৫০ ভোট।

পিরোজপুর

ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে দ্বিতীয় ধাপে পিরোজপুর জেলার দুই উপজেলায় শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। মঙ্গলবার পিরোজপুরের নেছারাবাদ ও কাউখালী উপজেলার ১৫টি ইউনিয়নের মোট ১২২টি ভোটকেন্দ্রে ইভিএম পদ্ধতিতে এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।

কাউখালী উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে মো. আবু সাঈদ মিঞা ও নেছারাবাদ উপজেলায় আব্দুল হক নির্বাচিত হয়েছেন। রাতে নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা সৈয়দ শফিকুল হক বেসরকারিভাবে তাদের বিজয়ী ঘোষণা করেন।

নেছারাবাদ উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে আব্দুল হক আনারস প্রতীকে ৩৮ হাজার ৬১২ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী এস এম মুইদুল ইসলাম মোটরসাইল প্রতীকে পেয়েছেন ৩৫ হাজার ৫২০ ভোট।

অন্যদিকে কাউখালী উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে মো. আবু সাঈদ মিঞা ঘোড়া প্রতীকে ১১ হাজার ২৮৪ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মো. মনিরুজ্জামান তালুকদার পল্টন কাপ-পিরিচ প্রতীকে পেয়েছেন ৬ হাজার ২৯৪ ভোট।

ঝালকাঠি

উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপে ঝালকাঠি সদর ও নলছিটি উপজেলায় ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ঝালকাঠি সদর উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান ও ঝালকাঠি জেলা আওয়ামী লীগ সহ-সভাপতি খান আরিফুর রহমান। আনারস প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ৩৩ হাজার ৯৪৩ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী দোয়াত কলম প্রতীকের প্রার্থী মো. সুলতান খান পেয়েছেন ২৫ হাজার ৯৭১ ভোট।

অন্যদিকে নলছিটি উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মো. সালাউদ্দিন খান সেলিম বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। মোটরসাইকেল প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ২৩ হাজার ৯৩৯ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাবেক মেয়র তছলিম উদ্দিন চৌধুরী আনারস প্রতীকে পেয়েছেন ১৬ হাজার ৭৮৪ ভোট।

বাগেরহাট

উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপে বাগেরহাটে ফকিরহাট, মোল্লাহাট,ও চিতলমারী উপজেলায় ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ফকিরহাট উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন শেখ ওহিদুজ্জামান বাবু। মোটরসাইকেল প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ৪৬ হাজার ৬৫৪ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আনরস প্রতীকের প্রার্থী বর্তমানে উপজেলা চেয়ারম্যান স্বপন দাস পেয়েছেন ২৯ হাজার ৪৩৭ ভোট। এ উপজেলায় ভোট কাস্ট হয়েছে ৬২.৫০ শতাংশ।

চিতলমারী উপজেলার চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হয়েছেন মো. আলমগীর হোসেন সিদ্দিকী। দোয়াত কলম প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ৩৪ হাজার ৮৮৬ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বর্তমান উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও বাগেরহাট জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি অশোক কুমার বড়াল মোটরসাইকেল প্রতীকে পেয়েছেন ২২ হাজার ৭৬৩ ভোট। এ উপজেলায় ভোট কাস্ট হয়েছে ৪৫.৭৫ শতাংশ।

অন্যদিকে মোল্লাহাট উপজেলার চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হয়েছেন বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শাহিনুর আলম ছানা। দোয়াত কলম প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ২৯ হাজার ৯০২ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বর্তমান উপজেলা শেখ নাসির উদ্দীন আনারস প্রতীকে পেয়েছেন ১৯ হাজার ৯৫৪ ভোট। এ উপজেলায় ভোট কাস্ট হয়েছে ৫৩.৭৭ শতাংশ। জেলায় গড় ভোট কাস্টিং হয়েছে ৫৪ শতাংশ।

যশোর

দ্বিতীয় ধাপের উপজেলা নির্বাচনে যশোরের ঝিকরগাছা, শার্শা ও চৌগাছা উপজেলায় ভোটগ্রহণ করা হয়েছে। ভোটগ্রহণ শেষে রাতে বেসরকারিভাবে ফলাফল ঘোষণা করেন উপজেলাগুলোর দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তারা।

চৌগাছা উপজেলা চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হয়েছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা এসএম হাবিবুর রহমান। আনারস প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ৩৩ হাজার ৫৬৫ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ ড. মোস্তানিছুর রহমান পেয়েছেন ২৮ হাজার ৯৮০ ভোট।

নির্বাচনের সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও চৌগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুম্মিতা সাহা রাত সাড়ে ৯টায় এ ফলাফল ঘোষণা করেন।

ঝিকরগাছা উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হয়েছেন বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. মনিরুল ইসলাম। আনারস প্রতীকে মনিরুল ইসলাম পেয়েছেন ৪০ হাজার ৬৪৩ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী সেলিম রেজা ঘোড়া প্রতীকে পেয়েছেন ১৮ হাজার ৪৪৩ ভোট।

অন্যদিকে শার্শা উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে মো. সোহরাব হোসেন দোয়াত কলম প্রতীক নিয়ে ৩৭ হাজার ৫৭০ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মো. অহিদুজ্জামান আনারস প্রতীকে পেয়েছেন ১২ হাজার ২৯১ ভোট।

রাজশাহী

দ্বিতীয় ধাপে রাজশাহীর বাগমারা, দুর্গাপুর ও পুঠিয়া উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বাগমারা উপজেলায় বেসরকারিভাবে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন জাকিরুল ইসলাম সান্টু। তিনি ঘোড়া প্রতীকে পেয়েছেন ৪৭ হাজার ৩২২ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আব্দুর রাজ্জাক সরকার ওরফে আর্ট বাবু পেয়েছেন ৪ হাজার ৩২১ ভোট।

পুঠিয়া উপজেলায় বেসরকারিভাবে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন আবদুস সামাদ মোল্লা। তিনি আনারস প্রতীকে পেয়েছেন ২৬ হাজার ৬৬৫ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আহসানুল হক মাসুদ ঘোড়া প্রতীকে পেয়েছেন ২৩ হাজার ৬৭৯ ভোট।

অন্যদিকে দুর্গাপুর উপজেলায় বেসরকারিভাবে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন শরীফুজ্জামান শরীফ। তিনি মোটরসাইকেল প্রতীকে পেয়েছেন ৪২ হাজার ১১৩ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আব্দুল মজিদ সরদার পেয়েছেন ২৭ হাজার ৩৩২ ভোট।

সাতক্ষীরা

ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপে সাতক্ষীরার আশাশুনি, তালা ও দেবহাটা উপজেলায় ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

আশাশুনি উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও বর্তমান উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এবিএম মোস্তাকিম বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি চিংড়ি প্রতীকে পেয়েছেন ৫১ হাজার ৬৬২ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী শাহনেওয়াজ ডালিম ঘোড়া প্রতীকে পেয়েছেন ৫০ হাজার ৭০৭ ভোট।

অপরদিকে সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলা নির্বাচনে মো. আল ফেরদাউস বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি হেলিকপ্টার প্রতীকে ২৬ হাজার ৩৭৭ ভোট পেয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মো. মজিবুর রহমান মোটরসাইকেল প্রতীকে পেয়েছেন ১৭ হাজার ১৫২ ভোট।

এ ছাড়া সাতক্ষীরার তালা উপজেলা নির্বাচনে ঘোষ সনৎ কুমার বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি কাপ পিরিচ প্রতীকে ৪৬ হাজার ৪৫৮ ভোট পেয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী সরদার মশিয়ার চিংড়ি প্রতীকে পেয়েছেন ৩২ হাজার ৪১৩ ভোট।

বিষয়:

বাড়ল কাপ্তাই হ্রদের পানি, কর্ণফুলী বিদ্যুৎকেন্দ্রে সর্বোচ্চ উৎপাদন

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
রাঙামাটি প্রতিনিধি

বিগত এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে ভারী বর্ষণে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে রাঙামাটির কাপ্তাই হ্রদের পানি হুঁ হুঁ করে বৃদ্ধি পাচ্ছে। আর এর ফলে কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্রে এ বছরে সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়েছে।

গত এক সপ্তাহ আগে হ্রদের পানি ৭৮ ফুট মিনসি লেভেলের কাছে থাকলেও মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সকাল থেকে হ্রদের পানি ১০২ দশমিক ২৫ ফুট মিনসি লেভেল অতিক্রম করেছে। সেই সঙ্গে কাপ্তাই কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে। পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ৫টি ইউনিট হতে বিদ্যুৎ উৎপাদন ২২২ মেগাওয়াট ছাড়িয়েছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মাহমুদ হাসান বলেন, মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সকাল ৯টায় পানির লেভেল ছিল ১০২ দশমিক ২৫ ফুট মিন সি লেভেল। কেন্দ্রের ৫টি ইউনিট থেকে মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সকাল ৯টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়েছে ২ শত ২২ মেগাওয়াট। যা চলতি বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ উৎপাদন।

এর আগে গত বছরের নভেম্বর মাস পর্যন্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন ২ শত মেগাওয়াট ছাড়িয়ে গেলেও হ্রদে পানি স্বল্পতায় গত বছরের ডিসেম্বর হতে বিদ্যুৎ উৎপাদন ২০০ মেগাওয়াটের নিচে চলে আসে।


৪৩ জেলায় ফসলের ক্ষতি, মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৫৬

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বিশেষ প্রতিবেদক

অতিবৃষ্টি, পাহাড়ি ঢল ও পাহাড় ধসে দেশের সাত জেলায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৫৬ জনে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া আকাশভাঙা বৃষ্টি আর দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতায় দেশের ৪৩টি জেলার ফসলের ক্ষতি হয়েছে।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, বিকেলে ৪টা পর্যন্ত সারা দেশে ৫৬ জন মারা গেছেন। রাঙামাটিতে ৩ জন, বান্দরবানে ৬ জন, কক্সবাজারে ৩১ জন, চট্টগ্রামে ১৫ জন, মৌলভীবাজারে একজন মারা গেছেন। কক্সবাজারে নিহতদের মধ্যে ১৮ জন স্থানীয় ও ১৩ জন রোহিঙ্গা।

প্রতিবেদনের তথ্যানুযায়ী, দেশের ৫৯ উপজেলার ৩৩৪টি ইউনিয়ন ও ১২টি পৌরসভা বন্যায় প্লাবিত হয়েছে। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য এক হাজার ৫৯টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। এসব আশ্রয়কেন্দ্রে ১০ হাজার ৮৫৪ জন আশ্রয় নিয়ে আছেন।

মন্ত্রণালয় বলছে, খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি, বান্দরবান, কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ জেলা বন্যায় আক্রান্ত হয়েছে। অতিবৃষ্টি ও বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় মানবিক সহায়তা হিসেবে এখন পর্যন্ত সারা দেশে ৪ কোটি ৬০ লাখ টাকা এবং ৮ হাজার ৯৫০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে বন্যাকবলিত সাত জেলায় এক কোটি ৭৫ লাখ টাকা এবং তিন হাজার ২৫০ মেট্রিকটন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। আর বাকি ৫৭ জেলার প্রত্যেকটিতে ৫ লাখ টাকা করে নগদ সহায়তা এবং ১০০ মেট্রিক টন করে চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

এদিকে, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (ডিএই) প্রাথমিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, এবারের ভারি বৃষ্টিপাতে দেশের ৪৩টি জেলা কম-বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অতিবৃষ্টির কারণে নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি এবং ড্রেনেজ বা নিষ্কাশন ব্যবস্থার বিপর্যয়ের ফলে বিস্তীর্ণ চরাঞ্চল ও নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ১ লাখ ১৪ হাজার হেক্টরেরও বেশি কৃষিজমির ফসল পুরোপুরি বা আংশিক ক্ষতির মুখে পড়েছে। এই বিপুল পরিমাণ জমির ফসলের মধ্যে রয়েছে চলতি মৌসুমের প্রধান চালিকাশক্তি আউশ ধান, আমনের বীজতলা, গ্রীষ্মকালীন হরেক রকমের সবজি, আদা, হলুদ ও পেঁপেসহ নানা ধরনের অর্থকরী ফসল। নিচে ক্ষয়ক্ষতির একটি প্রধান খতিয়ান তুলে ধরা হলো:

আউশ ধান: সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে আউশ ধানের। প্রায় ৭৯,৫০০ হেক্টর জমির আউশ ধান এখন পানির নিচে। অনেক স্থানে ধান পেকে যাওয়ার মুহূর্তে এই দুর্যোগ আসায় কৃষকেরা ঘরে ফসল তুলতে পারেননি।

আমনের বীজতলা: আমন মৌসুমকে সামনে রেখে কৃষকেরা যে চারা তৈরি করেছিলেন, তার মধ্যে ১০,৫০৪ হেক্টর বীজতলা সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে। এর ফলে আগামী দিনে আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।

গ্রীষ্মকালীন সবজি: প্রায় ১৭,৮০০ হেক্টর জমির সবজি খেত জলমগ্ন হয়ে পড়েছে। কাঁচামরিচ, করলা, ঝিঙে, ধুন্দুল, শসাসহ বাজারে চলমান সবজির সরবরাহ লাইনে এর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে।

কৃষকদের চোখে জল ও দীর্ঘশ্বাস: কাগজে-কলমে হেক্টর কিংবা সংখ্যার যে হিসাব আমরা দেখি, মাঠপর্যায়ে কৃষকদের জীবনের বাস্তবতা তার চেয়েও অনেক বেশি নির্মম ও হৃদয়বিদারক। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, এই মুহূর্তে তাদের চারপাশ শুধু পানি আর অনিশ্চয়তায় ঘেরা।

খুলনা জেলার বতিয়াঘাটা উপজেলার খলশিবুনিয়া গ্রামের একজন আদর্শ কৃষক প্রসাদ রায়। চলতি আমন মৌসুমকে ঘিরে তার মনে ছিল অনেক বড় পরিকল্পনা। গত সপ্তাহেই তিনি অনেক কষ্ট করে নিজের ১০ কাঠা জমিতে আমনের বীজতলা তৈরি করেছিলেন। তার আশা ছিল, এই বীজতলা থেকে উৎপাদিত চারা দিয়ে তিনি নিজের ১৭ বিঘা জমিতে ধান চাষ করবেন। কিন্তু প্রকৃতির নির্মম পরিহাসে কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিতে তার পুরো বীজতলাটি পানির নিচে তলিয়ে গেছে।

প্রসাদ রায় বারবার চেষ্টা করেছেন নিজের উদ্যোগে শ্যালো পাম্প দিয়ে পানি সেচে খেতটা বাঁচাতে, কিন্তু চারদিকের পানি এত বেশি ছিল যে তার সমস্ত চেষ্টা ভেস্তে গেছে। চারাগুলো পানির নিচে পচে নষ্ট হয়ে গেছে। এখন তার সামনে নতুন করে বীজতলা তৈরি করা ছাড়া আর কোনো পথ খোলা নেই। তিনি অত্যন্ত আক্ষেপ করে বলেন, ‘আবার শুরু থেকে সব করতে হবে। নতুন করে বীজ কিনতে হবে, টাকা খরচ করতে হবে। অথচ পকেটে টাকা নেই। সামনে কী হবে, সেই অনিশ্চয়তা তো আছেই।’

নদী ভরাট ও মানবসৃষ্ট জলাবদ্ধতার অভিশাপ: প্রসাদ রায়ের এই দুর্দশার পেছনে কেবল প্রকৃতির বৃষ্টি দায়ী নয়, বরং মানবসৃষ্ট পরিবেশ বিপর্যয়ও সমানভাবে দায়ী। তিনি জানান, তাদের গ্রামের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া শালতা নদীটি গত পাঁচ বছরে পলি জমে সম্পূর্ণ ভরাট হয়ে গেছে। এছাড়া বিলের ভেতরের প্রাকৃতি খালগুলো প্রভাবশালীরা অবৈধভাবে দখল ও ভরাট করে ফেলেছে। ফলে বৃষ্টির পানি দ্রুত নিষ্কাশন হওয়ার কোনো পথ নেই। বছরের পর বছর ধরে এই অঞ্চলের মানুষ এই অবহেলা ও জলাবদ্ধতার দুর্ভোগ পোহাচ্ছে, কিন্তু স্থায়ী কোনো সমাধান হয়নি।

শিমের চারা হারিয়ে দিশেহারা মিরিন গোলদার: একই উপজেলার চক শৈলমারী গ্রামের কৃষক মিরিন গোলদার একটু বাড়তি লাভের আশায় এবার আগাম শিমের চাষ করেছিলেন। ধারদেনা করে প্রায় ৭০ হাজার টাকা খরচ করে তিনি শিমের চারা রোপণ করেছিলেন। কিন্তু অতিবৃষ্টিতে তার মাঠের প্রায় অর্ধেক চারা পচে গেছে। খুলনা জেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. নজরুল ইসলাম জানান, প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী এই জেলায় প্রায় ৩৪০ হেক্টর কৃষিজমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কিছু ফসল হয়তো পানি কমলে স্বাভাবিক হতে পারে, তবে বেশিরভাগই পুরোপুরি নষ্ট হয়ে গেছে।

পটুয়াখালীর আমন চাষি ও পানচাষিদের হাহাকার: পটুয়াখালী সদর উপজেলার আউলিয়াপুর গ্রামের কৃষক ফারুক হোসেনের গল্পটাও একই রকম। এক একর জমিতে তিনি রোপা আমনের বীজতলা করেছিলেন, যা এখন হাঁটুপানির নিচে। তিনি জানান, বাজার থেকে চড়া দামে আবার ধানের বীজ কিনে নতুন করে কাজ শুরু করার মতো আর্থিক সামর্থ্য এই মুহূর্তের অনেক কৃষকেরই নেই।

সবচেয়ে বড় ধাক্কা খেয়েছেন পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার কাগজিরপুল এলাকার পানচাষিরা। টানা বৃষ্টিতে পানের বরজগুলোর মাটি নরম হয়ে ভেঙে পড়েছে এবং লতাগুলো পচে গেছে। এখানকার পানচাষি বেলায়েত খান, জাকির হোসেন ও জাহাঙ্গীর হোসেনের সম্মিলিত লোকসানের পরিমাণ প্রায় ১৭ থেকে ২০ লাখ টাকা। ৭০ বছর বয়সি প্রবীণ চাষি বেলায়েত কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘আমার জীবনের সব সঞ্চয় এই বরজেই ঢেলেছিলাম। এখন সব হারিয়ে আমি নিঃস্ব।’ ছয় সদস্যের পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি জাকির জানান, তিনি ইতোমধ্যে ব্যাংক ও এনজিও থেকে নেওয়া ঋণের বোঝায় জর্জরিত। আর জাহাঙ্গীর ভাবছেন, এই বিপুল পরিমাণ ক্ষতি কাটিয়ে কীভাবে ঋণের কিস্তি শোধ করবেন আর কীভাবে পরিবারের মুখে দুমুঠো অন্ন তুলে দেবেন।

শ্রমজীবী মানুষের দুর্ভোগ: এই দুর্যোগ কেবল মাঠের কৃষকদেরই নয়, গ্রামীণ ও মফস্বল শহরের নিম্ন আয়ের শ্রমজীবী মানুষের জীবনকেও স্থবির করে দিয়েছে। পটুয়াখালী শহরের রিকশাচালক মোহাম্মদ জাকির হোসেনের কথাই ধরা যাক। গত কয়েকদিনের অবিরাম বৃষ্টির কারণে শহরের রাস্তাঘাট ফাঁকা, মানুষ ঘর থেকে বের হচ্ছে না।

জাকির হোসেন বলেন, ‘বৃষ্টির কারণে যাত্রী এক্কেবারে কমে গেছে। সকাল থেকে ভিজা ভিজা রিকশা চালাচ্ছি, কিন্তু রাস্তায় মানুষ নাই। স্বাভাবিক দিনে যা আয় করি, আজ তার অর্ধেকও হয় নাই। এই বাজারে অল্প টাকা দিয়া চাল-ডাল কিনব নাকি পরিবারের খরচ চালাব, তা মাথায় ধরছে না।’ দিনমজুর, ভ্যানচালক কিংবা ফেরিওয়ালাদের অবস্থাও ঠিক একই রকম।

এই বিপুল পরিমাণ ফসলের ক্ষয়ক্ষতি কেবল কৃষকের ব্যক্তিগত ক্ষতি নয়, এটি জাতীয় অর্থনীতি এবং সাধারণ ভোক্তাদের জীবনের ওপরও বড় প্রভাব ফেলবে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

বিশিষ্ট কৃষি অর্থনীতিবিদ জাহাঙ্গীর আলম খানের মতে, ক্ষয়ক্ষতির চূড়ান্ত পরিমাণ নির্ভর করবে বন্যা বা জলাবদ্ধতা কতদিন স্থায়ী হয় তার ওপর। যদি পানি দ্রুত নেমে যায়, তবে কিছু ফসল হয়তো রক্ষা পাবে। কিন্তু জলাবদ্ধতা দীর্ঘস্থায়ী হলে আউশ, আমন ও সবজির ক্ষতি অপূরণীয় রূপ নেবে।

জাহাঙ্গীর আলম খান আরও উল্লেখ করেন যে, এই দুর্যোগের প্রভাব শুধু ফসলের মাঠেই সীমাবদ্ধ নেই। দীর্ঘস্থায়ী পানির কারণে গ্রামীণ অঞ্চলে হাঁস-মুরগির খামার, গবাদিপশু, মৎস্য চাষের ঘের এবং পশুখাদ্যের (খড় ও ঘাস) তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। অনেক মাছের ঘের ভেসে গেছে, যা চাষিদের আরও ঋণের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

তাৎণিক পুনর্বাসন: কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ স্পষ্ট করে বলেছেন, ‘সরকার কৃষকের পাশে আছে। কৃষকেরা যাতে এই ধাক্কা সামলে দ্রুত মাঠে ফিরে যেতে পারেন এবং কৃষিকাজ চালিয়ে যেতে পারেন, তার জন্য সব ধরনের পুনর্বাসন সহায়তা দেওয়া হবে।’ প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ নির্দেশনায় স্থানীয় প্রশাসনকে দ্রুত এই তথ্য সংগ্রহ ও বিতরণের কাজ শেষ করতে বলা হয়েছে।

প্রতিবেদন তৈরিতে সহায়তা করেছেন সংশ্লিষ্ট জেলার প্রতিনিধিরা।


বর্ষা এলে সেন্টমার্টিন যেন মৃত্যুপুরী

* বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় দ্বীপ, খাদ্য-ওষুধ সংকটে ১১ হাজার মানুষ; জরাজীর্ণ আশ্রয়ণ প্রকল্পে ঝুঁকিতে ৩০০ বাসিন্দা * দাবি উঠেছে স্থায়ী বিদ্যুৎ, সি-অ্যাম্বুলেন্স, সি-ট্রাক, খাদ্য গুদাম, আধুনিক আশ্রয়কেন্দ্র ও উন্নত চিকিৎসা-শিক্ষা ব্যবস্থার। * ঝড়-তুফানে এখানে টাকা থাকলেও খাবার মেলে না। ঘরে কিছু না থাকায় অনেকে উপোষে থাকে। বাঁচতে চাইলে পানিও লবণাক্ত—তখন প্রশ্ন জাগে, আর কী খেয়ে আমরা টিকে থাকব?’ হালামিতুস সাদিয়া, দশম শ্রেণির ছাত্রী, সেন্ট মার্টিন বিএন ইসলামিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ।
ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
রহমত উল্লাহ, টেকনাফ 

কক্সবাজারের টেকনাফের সেন্টমার্টিন-বাংলাদেশের মানুষের কাছে সৌন্দর্যের এক স্বর্গ। নীল জলরাশি, প্রবাল, সারি সারি নারিকেল গাছ আর অপার প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে প্রতি বছর লাখো পর্যটক ছুটে আসেন এই দ্বীপে। কিন্তু এই স্বর্গের বাসিন্দাদের কাছে সেন্টমার্টিনে টিকে থাকা যেন প্রতিদিনের এক কঠিন পরীক্ষা।

বর্ষা এলেই মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে দেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপটি। বন্ধ হয়ে যায় নৌযোগাযোগ। তখন টেকনাফ থেকে খাবার, ওষুধ, জ্বালানি কিংবা প্রয়োজনীয় পণ্য পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়ে। কয়েক দিনের মধ্যেই শেষ হয়ে যায় বাজারের মজুত। বাধ্য হয়ে প্রায় ১১ হাজার মানুষকে পানি, বিস্কুট কিংবা যা পাওয়া যায় তা খেয়ে দিন পার করতে হয়।

১৯৯৭ সালে ভূমিহীন ও গৃহহীন ৫০ পরিবারের জন্য নির্মিত আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরগুলোও এখন জরাজীর্ণ। দীর্ঘ ২৯ বছরেও এসব ঘরের বড় ধরনের কোনো সংস্কার হয়নি। টিনের ছাউনি, বাঁশের বেড়া ও কাঠামো নষ্ট হয়ে যাওয়ায় বর্ষায় বৃষ্টির পানি ঢুকে পড়ে ঘরের ভেতর। এসব ঘরে বসবাস করা প্রায় ৩০০ মানুষের জীবন এখন ঝুঁকিপূর্ণ।

পর্যটনের স্বর্গ, বর্ষায় দুর্ভোগের দ্বীপ

সেন্টমার্টিন বাংলাদেশের সর্ব দক্ষিণে বঙ্গোপসাগরের উত্তর-পূর্বাংশে অবস্থিত একটি প্রবাল দ্বীপ। কক্সবাজার জেলার টেকনাফ থেকে প্রায় ৯ কিলোমিটার দক্ষিণে এবং মিয়ানমারের উপকূল থেকে প্রায় ৮ কিলোমিটার পশ্চিমে নাফ নদীর মোহনায় এর অবস্থান। মাত্র প্রায় ৮ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এই দ্বীপ পর্যটন মৌসুমে মুখর থাকলেও বর্ষা নামলেই নেমে আসে দুর্ভোগ।

থেমে যায় মাছ ধরা, বন্ধ আছে পর্যটন ব্যবসা। ফলে দ্বীপবাসীর আয়-রোজগারের পথও সংকুচিত হয়ে পড়ে।

সেন্টমার্টিনের বাসিন্দা জাবেদ ইকবাল চৌধুরী বলেন, ভারি বৃষ্টি ও জোয়ারের পানিতে দক্ষিণপাড়া, পশ্চিমপাড়া ও গলাচিপা এলাকার অনেক জায়গা পানির নিচে রয়েছে।

তিনি বলেন, ‘হালকা বৃষ্টি ও বাতাসেই সেন্টমার্টিনের সঙ্গে মূল ভূখণ্ডের নৌ যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। তখন খাদ্য, ওষুধ ও জ্বালানির সংকট দেখা দেয়। এখানে কোনো সরকারি খাদ্য গুদাম নেই। প্রতিদিন টেকনাফ থেকেই এসব পণ্য আনতে হয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘সূর্যের আলো না থাকায় সোলার বিদ্যুৎও বন্ধ হয়ে যায়। সাধারণত দুর্যোগের সময় জেনারেটরের মাধ্যমে বিদ্যুৎ দেওয়া হয়, কিন্তু জ্বালানি সংকটে সেটিও বন্ধ হয়ে যায়।’

সেন্টমার্টিন বিএন ইসলামিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের দশম শ্রেণির ছাত্রী হালামিতুস সাদিয়া বলেন, ‘ঝড়-তুফানে এখানে টাকা থাকলেও খাবার মেলে না। ঘরে কিছু না থাকায় অনেকে উপোষে থাকে। বাঁচতে চাইলে পানিও লবণাক্ত—তখন প্রশ্ন জাগে, আর কী খেয়ে আমরা টিকে থাকব?’ দুর্যোগ ও বৈরী আবহাওয়ায় খাদ্যসংকটের সমাধান হলে আমাদের এক নিঃশব্দ কান্না কমে যাবে। যদি এই সংকটের লাগাম টানা না হয়, তবে কোনো এক দুর্যোগে আমরা খাদ্যের অভাবে প্রাণ হারাব।’

সেন্টমার্টিন দ্বীপের অনার্স পড়ুয়া ছাত্র দিলোয়ার বলেন,

‘এটি বাংলাদেশের এক বিচ্ছিন্ন দ্বীপ। টেকনাফ থেকে কয়েকদিন ট্রলার না এলে বাজারে নিত্যপণ্যের ভয়াবহ সংকট দেখা দেয়, তখন অসাধু ব্যবসায়ীরা সুযোগ নিয়ে দাম বাড়িয়ে দেয়। এভাবেই দুর্ভোগের শেষ হয় না আমাদের।’

সেন্টমার্টিন দক্ষিণপাড়ার বাসিন্দা আব্দুল আজিজ বলেন, ‘দীর্ঘ ৫৮ দিন মাছ শিকার বন্ধ ছিল। কয়েকদিন হলো আবার সাগরে মাছ ধরতে যাচ্ছি। মাছ ধরা ছাড়া আমাদের আয়ের আর কোনো পথ নেই। পর্যটন বন্ধ থাকায় বিকল্প কোনো কাজও নেই। ‘আবহাওয়া খারাপ হলে মাছ ধরাও বন্ধ হয়ে যায়। তখন ঘরে চুলা জ্বলে না। আবার যোগাযোগ বন্ধ থাকলে বাজারের পণ্যও পাওয়া যায় না। বাধ্য হয়ে অনেক সময় পানা (বুনো শাক) খেয়ে দিন কাটাতে হয়।’

অতীতেও দেখা দিয়েছে খাদ্য সংকট

২০২৫ সালের জুন মাসে বৈরী আবহাওয়ার কারণে সাগর উত্তাল থাকায় টেকনাফ-সেন্টমার্টিন নৌপথে ১১ দিন পর্যন্ত যাত্রী ও পণ্যবাহী নৌযান চলাচল বন্ধ ছিল। এতে দ্বীপে খাদ্য ও জ্বালানি সংকট দেখা দেয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে জাহাজে করে ১৫০ টন খাদ্যপণ্য পাঠানো হয়েছিল।

এর আগে ঘূর্ণিঝড় মোখায় ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল সেন্টমার্টিন। ধ্বংস হয়েছিল হাজারো ঘরবাড়ি, উপড়ে গিয়েছিল অসংখ্য গাছ। মোখার পর দুই মাস পর্যন্ত খাদ্য ও পানির সংকটে কাটাতে হয়েছিল দ্বীপবাসীকে।

সেন্টমার্টিনের সাবেক ইউপি সদস্য হাবিবুর রহমান বলেন, ‘প্রতিনিয়ত দুর্যোগ ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে আমরা খাদ্য সংকটে পড়ি। বিষয়টি সরকার ও দেশবাসী জানেন। কিন্তু এখনো স্থায়ী কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ‘সেন্টমার্টিনে সরকারি খাদ্য গুদামের জন্য জায়গা রয়েছে। সেখানে দ্রুত খাদ্য গুদাম নির্মাণ করা হলে দুর্যোগের সময় মানুষ অন্তত খাদ্য নিরাপত্তা পাবে।’

সেন্ট মার্টিন দ্বীপের স্থানীয় বাসিন্দা ও অধিকারকর্মী তৈয়ব উল্লাহ বলেন, ‘বর্ষাকাল এখানে জীবন নিয়ে শঙ্কার সময়। সংকটাপন্ন রোগীকে টেকনাফে নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। চিকিৎসক সংকটও রয়েছে।’ আমরা শিক্ষা, চিকিৎসাসহ মৌলিক নাগরিক সুবিধার নিশ্চয়তা চাই। দুর্যোগের সময় হোটেল-রেস্টুরেন্টে আশ্রয় নিতে হয়, যা নিরাপদ নয়। তাই স্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র ও পশ্চিম পাশে টেকসই বাঁধ নির্মাণ জরুরি।’

সংসদে উঠেছে সেন্টমার্টিনবাসীর দুর্ভোগ

কক্সবাজার-৪ (উখিয়া-টেকনাফ) আসনের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী জাতীয় সংসদে সেন্টমার্টিনের মানুষের দুর্ভোগের বিষয়টি তুলে ধরেছেন।

তিনি বলেন, ‘সেন্টমার্টিনে মানুষ চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত। জরুরি সময়ে রোগীদের টেকনাফে নিয়ে আসা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ে। অতীতে চিকিৎসার অভাবে অনেক রোগী, এমনকি প্রসূতি নারীও মারা গেছেন।’

তিনি সেন্টমার্টিনে সার্বক্ষণিক চিকিৎসক, সি-ট্রাক ও সি-অ্যাম্বুলেন্স দেওয়ার জন্য সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

৫০ আশ্রয়ণ ঘরে ঝুঁকিতে ৩০০ মানুষ

১৯৯৭ সালে সরকার সেন্টমার্টিনে ভূমিহীন ও গৃহহীন ৫০ পরিবারের জন্য আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর নির্মাণ করে। কিন্তু নির্মাণের পর প্রায় তিন দশকে এসব ঘরের উল্লেখযোগ্য কোনো সংস্কার হয়নি।

আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দা আয়শা খাতুন বলেন, ‘বৃষ্টি এলেই ঘরের ভেতরে পানি পড়ে। দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় ঘরগুলো বসবাসের অনুপযোগী হয়ে গেছে।’

তিনি বলেন, ‘আমরা দিনমজুর, জেলে ও নিম্ন আয়ের মানুষ। নিজেদের টাকায় এসব ঘর সংস্কার করা সম্ভব নয়।’

সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি নুরুল আলম আরমান বলেন, ‘আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দাদের দুর্ভোগ বিবেচনা করে ঘরগুলো সংস্কারের জন্য আবেদন করেছি। এখানে প্রায় ৩০০ মানুষ বসবাস করছে। উপজেলা প্রশাসন দ্রুত সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে।’

প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা

সেন্টমার্টিনের মানুষের দুর্ভোগ কমাতে প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদি ও সমন্বিত উদ্যোগ। স্থায়ী বিদ্যুৎ ব্যবস্থা, সি-অ্যাম্বুলেন্স, সি-ট্রাক, সরকারি খাদ্য গুদাম, আধুনিক সাইক্লোন শেল্টার, উন্নত চিকিৎসা ব্যবস্থা এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্থাপন এখন সময়ের দাবি।

কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মো. আব্দুল মান্নান বলেন, ‘দুর্যোগ বা বৈরী আবহাওয়ায় সেন্টমার্টিনের মানুষ খাদ্য সংকটে পড়ে—বিষয়টি আমরা অবগত আছি। খাদ্য গুদামের জায়গা থাকলে খাদ্য অধিদপ্তরের সঙ্গে আলোচনা করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘সি-ট্রাক ও সি-অ্যাম্বুলেন্সের বিষয়েও সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা চলছে। পর্যাপ্ত চিকিৎসক পাঠানোর বিষয়টি দেখা হচ্ছে। আশ্রয়কেন্দ্র ও আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর সংস্কারের বিষয়েও উদ্যোগ নেওয়া হবে।’


উত্তরায় ছিনতাইকারী ধরে কূল পাচ্ছে না র‌্যাব

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ঢাকার বিমানবন্দর থেকে গাজীপুরের সড়কে ছিনতাইকারী ও মাদক কারবারীদের ধরতে র‌্যাব নিয়মিত অভিযান চালালেও সেই শূন্যস্থান দ্রুত পূরণ হয়ে যাচ্ছে বলে মনে করছেন র‌্যাব-১ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. নেয়ামুল হালিম চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘আমরা নিয়মিত গ্রেপ্তার অভিযান চালাচ্ছি। কিন্তু চারপাশে এত বস্তি থাকার কারণে কোনো না কোনোভাবে আবার সেটা রিফিল হয়ে যাচ্ছে। মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) দুপুরে ঢাকার কারওয়ান বাজারে র‍্যাবের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এমন মন্তব্য করেন।

সংবাদ সম্মেলনে মূলত, গাজীপুরের শ্রীপুরে দুই শিশুসন্তানের সামনে স্ত্রীকে ছুরিকাঘাতে হত্যার ঘটনায় স্বামী ছায়েদুল ইসলামকে গ্রেপ্তারের বিষয়ে তথ্য জানানো হয়। এর ফাঁকে উত্তরার ছিনতাই পরিস্থিতির প্রসঙ্গটি উঠে আসে।

উত্তরার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে র‍্যাব-১ অধিনায়ক বলেন, ‘উত্তরা বিভাগের পুলিশ গত দুই দিন অভিযান চালিয়েছে। প্রথম দিনে ৮২ জন এবং গতকাল প্রায় ১০০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গত সপ্তাহে আমরা টঙ্গী রেল স্টেশন ও মাজার বস্তিতে অভিযান চালিয়ে প্রায় ১৭ জনকে গ্রেপ্তার করেছি। ছিনতাইকারী ও মাদক কারবারীদের বিরুদ্ধে আমাদের এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।’

চলতি বছর এ পর্যন্ত উত্তরা ও আশপাশের এলাকা থেকে ছিনতাইকারী, চাঁদাবাজ ও মাদক কারবারীসহ প্রায় ১ হাজার ২০০ অপরাধীকে গ্রেপ্তারের তথ্য দেন র‍্যাবের এই কর্মকর্তা।

ছিনতাইকারীদের ‘আশ্রয় ও প্রশ্রয়দাতাদের’ বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমরা বেশ কিছু তথ্য পাচ্ছি। যারা পেছন থেকে সহযোগিতা করছে, তাদের বিরুদ্ধেও অভিযান চালানো হবে। আমরা কিছু নাম পেয়েছি, তবে তদন্তের স্বার্থে তা গোপন রাখা হচ্ছে।’

এর আগে সংবাদ সম্মেলনে শ্রীপুরের হত্যাকাণ্ডের বিস্তারিত তুলে ধরেন লেফটেন্যান্ট কর্নেল নেয়ামুল হালিম। তিনি বলেন, ‘গত রোববার গভীর রাতে শ্রীপুর পৌর এলাকায় ভাড়া বাসায় খুন হন পোশাককর্মী নাসিমা আক্তার (২৭)। ঘটনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই তার স্বামী ছায়েদুল ইসলামকে (৪০) গ্রেপ্তার করে র‍্যাব। এই দম্পতি এক ছেলে ও এক মেয়েকে নিয়ে ওই বাসায় বসবাস করতেন।’

র‍্যাব বলছে, ছায়েদুল দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত ছিলেন এবং নেশার জন্য তিনি নিয়মিত নাসিমার কাছে টাকা চাইতেন।

গত রোববার (১২ জুলাই) নাসিমা কারখানা থেকে বেতন পেয়ে বাসায় ফিরেছিলেন। রাতে ছায়েদুল তার কাছে তিন হাজার টাকা দাবি করেন। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে দুজনের মধ্যে তর্কবিতর্ক শুরু হয়।

লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. নেয়ামুল হালিম বলেন, ‘একপর্যায়ে ছায়েদুল ধারালো ছুরি দিয়ে স্ত্রীকে এলোপাতাড়ি আঘাত করলে ঘটনাস্থলেই নাসিমার মৃত্যু হয়।’

হত্যাকাণ্ডের সময় তাদের ৮ বছর বয়সি মেয়ে ও ৫ বছর বয়সি ছেলে ঘরেই ছিল এবং তাদের সামনেই এ ঘটনা ঘটে বলে জানান এই র‌্যাব কর্মকর্তা।

গ্রেপ্তার ছায়েদুল ইসলামের বিরুদ্ধে অপরাধের পুরনো কোনো রেকর্ড আছে কি না জানতে চাইলে র‍্যাব-১ অধিনায়ক বলেন, ‘তার বিরুদ্ধে আগের কোনো মামলার রেকর্ড নেই। তবে তিনি নিয়মিত মাদক সেবন করতেন।’


বন্যাদুর্গতদের পুনর্বাসনে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে সরকার: ত্রাণমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

পার্বত্য চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, চট্টগ্রাম ও সিলেটসহ বন্যাকবলিত জেলাগুলোতে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পুনর্বাসন, ত্রাণ ও স্বাস্থ্যসেবাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করছে সরকার। সচিবালয়ের তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) এ কথা জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে পার্বত্য চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম অঞ্চলে ভয়াবহ বন্যা দেখা দিলেও, বর্তমানে অনেক এলাকায় পানি নামতে শুরু করেছে।’

স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত সভায় স্বাস্থ্য, কৃষি ও পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, সংশ্লিষ্ট সচিব এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশ নেন। সভায় বন্যা-পরবর্তী পুনর্বাসন, কৃষি খাতের ক্ষয়ক্ষতির মূল্যায়ন, স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবিলা ও ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো দ্রুত পুনর্নির্মাণের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

মন্ত্রী জানান, দেশের সাতটি জেলা ও সিলেটসহ মোট আটটি জেলার ৫৯টি উপজেলা, ৩৬৮টি ইউনিয়ন ও ১২টি পৌরসভা বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রাথমিক হিসেবে প্রায় ৬ লাখ ৯ হাজার ৪১১টি পরিবার ক্ষতির মুখে পড়েছে।

এ পর্যন্ত ৫৪ জনের মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে, যাদের অধিকাংশই পাহাড়ধসে প্রাণ হারিয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘দুর্গত এলাকায় জরুরি ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ইতোমধ্যেই ১ কোটি ৭৫ লাখ টাকা ও ৩ হাজার ২৫০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি শুকনো খাবার বিতরণ করা হচ্ছে। এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে প্রতিটি ক্ষতিগ্রস্ত জেলায় অতিরিক্ত ২০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।’

আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, ‘আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে রান্না করা খাবার ও শুকনো খাবার সরবরাহ অব্যাহত রয়েছে। উদ্ধার কার্যক্রমে সেনাবাহিনী, বিজিবি ও কোস্ট গার্ডকে নিয়োজিত করা হয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘উদ্ধারকাজে সহায়তার জন্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় থেকে স্পিডবোট ও রাবার বোট পাঠানো হয়েছে।’

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী বলেন, ‘ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক ও অবকাঠামো দ্রুত সংস্কারের দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে দেওয়া হয়েছে। সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর মহাসড়ক ও সড়ক মেরামত করবে, স্থানীয় সরকার বিভাগের আওতাধীন অবকাঠামো দ্রুত সংস্কার করা হবে।’

গ্রামীণ কাঁচা সড়ক সংস্কারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং দুর্গত এলাকায় খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি চালু রাখা হবে বলে জানান মন্ত্রী।

এ সময় ত্রাণমন্ত্রী আরও বলেন, ‘বন্যা-পরবর্তী সময়ে পানিবাহিত রোগসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবিলায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিয়েছে। একই সঙ্গে কৃষি খাতের ক্ষয়ক্ষতির মূল্যায়ন করে কৃষকদের পুনর্বাসনে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’

তিনি বলেন, ‘চলতি বছরের এই বন্যা চট্টগ্রাম অঞ্চলের অন্যতম ভয়াবহ দুর্যোগ। এ কারণে প্রধানমন্ত্রী বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে একাধিকবার সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসকদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছেন।’

আসাদুল হাবিব দুলু জানান, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় তিনি আজ বুধবার থেকে বন্যাকবলিত এলাকায় সরেজমিন পরিদর্শন শুরু করবেন।


কৃষকদের কাছে কৃষিসেবা কার্যকরভাবে সরবরাহ করতে হবে: বিএডিসি চেয়ারম্যান

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি) প্রদত্ত কৃষিসেবা যেমন মানসম্পন্ন বীজ, সুষম নন-ইউরিয়া সার এবং সেচ সুবিধাদি কৃষকের দোরগোড়ায় আরো নির্বিঘ্নে ও যথাসময়ে সরবরাহ করার লক্ষ্যে গত ১১ ও ১২ জুলাই পর্যন্ত চুয়াডাঙ্গা, ঝিনাইদহ এবং ফরিদপুর জেলার বিভিন্ন কার্যক্রম পরিদর্শন করলেন বিএডিসির চেয়ারম্যান মো. আজিজুল ইসলাম।

পরিদর্শকালে চেয়ারম্যান বিএডিসি বলেন, কৃষকদের নিকট মানসম্পন্ন বীজ সরবরাহ করার বিষয়ে সমুদয় পদক্ষেপ পরিপূর্ণভাবে অনুসরণ করতে হবে এবং এক্ষেত্রে কোনরূপ ছাড় দেওয়া হবে না। বিএডিসির মাধ্যমে প্রথমবারের মতো দেশের অভ্যন্তরে গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজ বীজ উৎপাদনের বিষয়টি বিএডিসির জন্য একটি চ্যালেঞ্জ। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নির্ধারিত কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী আরও দায়িত্বশীলতা এবং জবাবদিহিতার পরিচয় দিয়ে স্ব-স্ব দায়িত্ব পালন করতে হবে। তিনি আরো বলেন যে, ডিলারদের নিকট সার সরবরাহের পর ডিলারদের মাধ্যমে কৃষকদের নিকট সার বিক্রির কার্যক্রমটি তদারকি করতে হবে।

কার্যক্রম পরিদর্শন শেষে তিনি এক আলোচনা সভায় অংশগ্রহণ করে বলেন যে, কৃষদের উন্নতি হলেই দেশের উন্নয়ন ঘটবে। সরকারের আধুনিক ও স্মার্ট কৃষি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সকলকে একনিষ্ঠভাবে দায়িত্ব পালন করে কৃষকদের স্বার্থ রক্ষায় কাজ করার ক্ষেত্রে চেয়ারম্যান, বিএডিসি গুরুত্বারোপ করেন।

বিএডিসির চুয়াডাঙ্গাস্থ বীজ প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্রে ধানবীজের গুণগতমান পরিদর্শন করছেন প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান মো. আজিজুল ইসলাম।


বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু বকরের ইন্তেকাল

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১৪ জুলাই, ২০২৬ ২১:২৯
নিজস্ব প্রতিবেদক

গতকাল সোমববার সন্ধ্যায় বার্ধক্য জনিত কারণে ৮ নম্বর সেক্টরের বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ আবু বকর ইন্তেকাল করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাহি রাজিউন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৯২ বছর।

তিনি ঢাকা ওয়াসার প্রধান প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা (পিআরএল রত) জনাব এ এম মোস্তফা তারেক এর পিতা। তাঁর আরেক সন্তান বাংলাদেশ সরকারের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ এর অতিরিক্ত সচিব, ড. রোকসানা তারান্নুৃম।

এই বীর মুক্তিযোদ্ধা ষাটের দশকে মাগুরা কলেজ, কুষ্টিয়া কলেজ, ঝিনাইদহ কলেজের ইংরেজির অধ্যাপক ছিলেন।

স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম বিসিএস (প্রশাসন) ক্যাডার এর একজন কর্মকর্তা হিসেবে তিনি অবসরে যান।

একুশে বই মেলাতে তাঁর অনেক বই প্রকাশিত হয়েছে।

পৈতৃক বাড়ি ঝিনাইদহের পারিবারিক কবর স্থানে আজ মঙ্গলবার যথাযথ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাকে দাফন করা হয়।

ঢাকা ওয়াসা পরিবার মরহুম এই বীর মুক্তিযোদ্ধার আত্মার মাগফেরাত কামনা করে শোকাহত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করেছেন।


চট্টগ্রামে বন্যাদুর্গতদের পাশে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি, ত্রাণসামগ্রী বিতরণ

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

গত কয়েকদিনের টানা ও রেকর্ড ভাঙা অতিভারী বর্ষণে চট্টগ্রাম জেলার অধিকাংশ নিচু এলাকা ও জনপদ প্লাবিত হওয়ায় চরম সংকটে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। বন্যাকবলিত এই সমস্ত সাধারণ মানুষের অবর্ণনীয় দুর্ভোগ লাঘবের লক্ষ্যে এবং মানবিক সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিতে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগ।

এরই অংশ হিসেবে বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড (বিআরইবি) ও স্থানীয় পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির যৌথ উদ্যোগে মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) বন্যাদুর্গত ও পানিবন্দি পরিবারের মাঝে প্রয়োজনীয় শুকনো ও নিত্যপ্রয়োজনীয় ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে।

পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা জানান, আকস্মিক বন্যায় বিদ্যুৎ সংযোগ ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি গ্রামীণ জনপদের মানুষ তীব্র খাদ্য ও পানীয় সংকটে পড়েছেন। এই মানবিক বিপর্যয়ের সময়ে একটি দায়িত্বশীল রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান হিসেবে সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়াতে তাঁরা দ্রুত এই সমন্বিত ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রমের পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন করেন।

আক্রান্ত এলাকার বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্র ও প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে গিয়ে দুর্গত মানুষের হাতে এই সমস্ত জরুরি ত্রাণসামগ্রী পৌঁছে দেওয়া হয় এবং বন্যা পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত পল্লী বিদ্যুতের পক্ষ থেকে এই ধরনের মানবিক ও প্রযুক্তিগত সহায়তা অব্যাহত থাকবে বলেও আশ্বস্ত করা হয়েছে।


নীলফামারীতে পরিবহন শ্রমিকদের মানববন্ধন

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নাসির উদ্দিন শাহ, নীলফামারী

নীলফামারী জেলা বাস মিনিবাস শ্রমিক ইউনিয়ন (রেজি. নং রাজ-২২০) সৈয়দপুরভিত্তিক নেতাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা, বানোয়াট ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য, চাঁদাবাজি এবং শ্রমিক নির্যাতনের অভিযোগে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) দুপুরে শহরের চৌরঙ্গী মোড়ে এ কর্মসূচির আয়োজন করে নীলফামারী জেলা বাস মিনিবাস ও কোচ পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের (রেজি. নং রাজ-৩৪৪৬) শ্রমিকরা।

এ সময় বক্তব্য দেন জেলা বাস মিনিবাস ও কোচ পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি নূর আলম, সাধারণ সম্পাদক মাসুদ রানা মানিক, জেলা শ্রমিকদলের সাধারণ সম্পাদক জামিয়ার রহমান এবং সড়ক পরিবহন মালিক গ্রুপের অর্থ সম্পাদক আবু তাহের প্রমুখ।

বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, ‘সৈয়দপুরভিত্তিক নীলফামারী জেলা বাস মিনিবাস শ্রমিক ইউনিয়ন দীর্ঘ ৪৮ বছর ধরে জেলার পরিবহন খাতে প্রভাব বিস্তার করে আসছে।’ এ সময় বিভিন্নভাবে জেলার বাস-মিনিবাস ও কোচ পরিবহন মালিক ও শ্রমিকদের হয়রানি ও নির্যাতন করা হয়েছে বলেও তারা দাবি করেন।

তাদের ভাষ্য, ‘মালিক ও শ্রমিকদের স্বার্থ রক্ষার উদ্দেশ্যে জেলাকেন্দ্রিক নীলফামারী জেলা বাস মিনিবাস ও কোচ পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়ন গঠন করা হয়েছে। নতুন এই সংগঠনকে নিয়ে মিথ্যা, বানোয়াট ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করা হচ্ছে, যা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না।’

বক্তারা আরও হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘ভবিষ্যতে কেউ যদি সংগঠনটির নেতা বা শ্রমিকদের সম্পর্কে মিথ্যা, বানোয়াট ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করেন, তাহলে শ্রমিকরা প্রচলিত আইনের আওতায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।


মৌলভীবাজারে বন্যাদুর্গতদের মাঝে পুলিশের ত্রাণ বিতরণ

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১৪ জুলাই, ২০২৬ ২০:২৭
মৌলভীবাজার প্রতিনিধি

মৌলভীবাজারের রাজনগরে বন্যাদুর্গত অসহায় মানুষের মাঝে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ এবং বিশেষ মেডিকেল ক্যাম্প পরিচালনা করেছে সিলেট রেঞ্জ পুলিশ। মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সকালে রাজনগর উপজেলার টেংরা ইউনিয়নের একামধু বেড়িবাঁধ এলাকায় এই মানবিক কার্যক্রমের আয়োজন করা হয়।

সিলেট রেঞ্জের ডিআইজি ড. জিল্লুর রহমান প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এই ত্রাণসামগ্রী বিতরণ ও মেডিকেল ক্যাম্পের কার্যক্রম পরিদর্শন করেন।

আকস্মিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কষ্ট লাঘবে রেঞ্জ পুলিশের পক্ষ থেকে চাল, ডাল, তেল, পেঁয়াজ, লবণ, আলু, চিড়া, মুড়ি ও বিস্কুটসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়।

একই সাথে চিকিৎসাসেবা বঞ্চিত বানভাসি মানুষের জন্য মৌলভীবাজার পুলিশ লাইন্স হাসপাতালের চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে একটি বিশেষ মেডিকেল ক্যাম্প পরিচালনা করা হয়। ক্যাম্পে বন্যার্তদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা প্রদানের পাশাপাশি বিনামূল্যে জরুরি ওষুধ, ওরস্যালাইন এবং বিশুদ্ধ পানির জন্য পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট বিতরণ করা হয়।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন সিলেট রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি আনোয়ারুল হক, পুলিশ সুপার মুহাম্মদ শরিফুল ইসলাম, পুলিশ সুপার আমিনুল ইসলাম, মৌলভীবাজারের পুলিশ সুপার মনিরুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) আসিফ মহিউদ্দীন, অতিরিক্ত সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) নভেল চাকমা, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) আবুল খয়েরসহ জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।


শিক্ষামন্ত্রীর বক্তব্যের প্রতিবাদে কুমিল্লায় এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মাহফুজ নান্টু, কুমিল্লা

বন্যা পরিস্থিতি, টানা বৃষ্টি ও প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যে এইচএসসি পরীক্ষা আয়োজন এবং শিক্ষামন্ত্রীর সাম্প্রতিক বক্তব্যের প্রতিবাদে কুমিল্লায় বিক্ষোভ ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা। মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) নগরীর কান্দিরপাড় পূবালী চত্বরে কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের সামনে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা এ কর্মসূচিতে অংশ নেন।

পরে তারা বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের দিকে অগ্রসর হলে আদর্শ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাতেমাতুজ জোহরা এবং কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুল আনোয়ার শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন। এরপর শিক্ষার্থীরা শিক্ষা বোর্ডের প্রধান ফটকের বাইরে অবস্থান নিয়ে বিভিন্ন স্লোগান দেন।

শিক্ষার্থীদের তিন দফা দাবির মধ্যে রয়েছে, দুর্যোগ পুরোপুরি শেষ না হওয়া পর্যন্ত এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত রাখা, ১৩ জুলাই বৈরী আবহাওয়ার কারণে যারা পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেননি তাদের জন্য পুনঃপরীক্ষার ব্যবস্থা করা এবং আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে শিক্ষামন্ত্রী এহসানুল হক মিলনের প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়া।

সমাবেশে শিক্ষার্থীরা বলেন, টানা বৃষ্টি, বন্যা ও জলাবদ্ধতার কারণে অনেক পরীক্ষার্থী চরম দুর্ভোগের মধ্য দিয়ে পরীক্ষা কেন্দ্রে পৌঁছাতে বাধ্য হয়েছেন। অনেক এলাকায় সড়ক পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় এবং যানবাহন সংকটের কারণে সময়মতো কেন্দ্রে পৌঁছানো অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে পরীক্ষা নেওয়া শিক্ষার্থীদের প্রতি অবিচার।

কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজের এক এইচএসসি পরীক্ষার্থী বলেন, বৈরী আবহাওয়ার কারণে গতকালের পরীক্ষা অনেকেরই খারাপ হয়েছে। এই পরীক্ষার ফল বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিকেলে ভর্তি প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই দুর্যোগকালীন সময়ে পরীক্ষা স্থগিত রাখতে হবে। একই সঙ্গে শিক্ষামন্ত্রীকে জনসম্মুখে ক্ষমা চাইতে হবে।

সমাবেশে শিক্ষার্থীরা আরও অভিযোগ করেন, শিক্ষামন্ত্রী শিক্ষার্থীদের নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করেছেন। ওই মন্তব্যের জন্যও তারা প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানান। পাশাপাশি কিছু শিক্ষার্থী শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতেও স্লোগান দেন।

উল্লেখ্য, সোমবার টানা ভারি বৃষ্টিতে কুমিল্লা নগরীর বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজ কেন্দ্রসহ কয়েকটি কেন্দ্রে কোমরসমান পানি পাড়ি দিয়ে পরীক্ষার্থীদের কেন্দ্রে পৌঁছাতে হয়। এ ঘটনায় অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। তারা এ পরিস্থিতির জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদারকির ব্যর্থতার অভিযোগ তোলেন।


চাঁপাইনবাবগঞ্জ ২৫০ শয্যা হাসপাতালে চিকিৎসক সংকট, ভোগান্তিতে রোগীরা

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
আব্দুর রব নাহিদ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ

নাতনিকে নিয়ে শিশু চিকিৎসকের খোঁজে হাসপাতালের একতলা থেকে আরেকতলায় ঘুরছিলেন শাহাবাজপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা মাহতাব উদ্দিন। দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষার পরও কাঙ্খিত চিকিৎসকের দেখা না পেয়ে হতাশ তিনি। মাহতাব উদ্দিন বলেন, ‘শিশু ডাক্তারকে খুঁজছি, কিন্তু কোথায় পাব বুঝতে পারছি না।’

মাহতাব উদ্দিনের মতো প্রতিদিনই অনেক রোগী ও স্বজনকে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের জন্য অপেক্ষা করতে হচ্ছে চাঁপাইনবাবগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে। চিকিৎসক ও অন্যান্য জনবল সংকটে ব্যাহত হচ্ছে হাসপাতালের স্বাভাবিক চিকিৎসাসেবা। বিশেষ করে মেডিসিন, সার্জারি ও শিশু বিভাগের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের ঘাটতির কারণে জটিল রোগীদের উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হচ্ছে।

হাসপাতালের তথ্য অনুযায়ী, চিকিৎসকদের অনুমোদিত ৮৫টি পদের বিপরীতে বর্তমানে কর্মরত আছেন ৩৮ জন। শূন্য রয়েছে ৪৭টি পদ। এর মধ্যে সিনিয়র কনসালট্যান্টের ১০টি পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন মাত্র দুজন। জুনিয়র কনসালট্যান্টের ১৪টি পদের মধ্যে কর্মরত রয়েছেন সাতজন।

এ ছাড়া ইমার্জেন্সি মেডিকেল অফিসারের আটটি পদের মধ্যে কর্মরত আছেন দুজন। সহকারী সার্জনের ২৮টি পদের বিপরীতে রয়েছেন ১০ জন। প্যাথলজিস্ট ও রেডিওলজিস্টের চারটি পদের মধ্যে দুটি এবং সহকারী রেজিস্ট্রারের নয়টি পদের মধ্যে চারটি পদ শূন্য রয়েছে।

হাসপাতাল সূত্র জানায়, গত এক মাসে সাতজন চিকিৎসক বদলি হয়েছেন। এর বিপরীতে নতুন যোগ দিয়েছেন মাত্র একজন। এতে চিকিৎসক সংকট আরও বেড়েছে। বিশেষ করে সার্জারি ও মেডিসিন বিভাগে এর প্রভাব পড়েছে।

চর অনুপনগরের বাসিন্দা আজিজুর রহমান গতকাল মঙ্গলবার বলেন, সোমবার দুপুরে তার মা ফাতেমাকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি করেছিলেন। পরে মঙ্গলবার তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। আজিজুর রহমান বলেন, এখানে ভর্তি করে লাভ কী, যদি চিকিৎসা না পাওয়া যায়?

অন্যদিকে শাহাবাজপুর ইউনিয়নের মাহতাব উদ্দিন বলেন, নাতনীতে চিকিৎসার জন্য নিয়ে এসেছিলেন। কিন্ত শিশু ডাক্তারকে পেলেন না, এখন কি করবেন বুঝতে পারছেন না। র্দীঘক্ষণ বসেছিলেন দোতালায় শিশু ডাক্তারের আশায়, কিন্ত কাউকে পায়নি। শুধু মাহাতাব উদ্দিন নয়, তার মতো আরও অনেক রোগী ও স্বজনকে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের জন্য বিভিন্ন ওয়ার্ডে ঘুরতে দেখা গেছে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার মানুষের চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট এ হাসপাতালে প্রতিদিনই শয্যা সংখ্যা বেশি রোগী ভর্তি থাকেন, অন্যদিকে বহিবিভাগে দুই হাজারের বেশি রোগী দেখতে হয় চিকিৎসকদের।

হাসপাতালের দ্বিতলায় লিফটের পাশেই থাকা কক্ষে এক চিকিৎসক দুপুর ১টার দিকে জানালেন, তিনি এখন পযন্ত ২০০ বেশি রোগী দেখেছেন। তখনও সেই কক্ষের সামনে অন্তত আরো ৩০-৪০ জন অপেক্ষমাণ ছিলেন। এ চিকিৎসক জানান সকাল ৮টা থেকে দুপুর ২টা পযন্ত সময়ে তাদের প্রতিদিনই প্রায় ২০০ কাছাকাছি রোগীকে দেখতে হয়।

পরিচ্ছন্নতা নিয়েও অভিযোগ : চিকিৎসকের পাশাপাশি সংকট রয়েছে হাসপাতালের অন্যান্য জনবলও। হাসপাতালের পরিক্ষার পরিচ্ছন্নতা নিয়েও বিস্তর অভিযোগ রোগী ও তাদের স্বজনদের। যেন হাসাপাতালে স্বজনের চিকিৎসার জন্য এসে নিজেই অসুস্থ হয়ে যাওয়ার উপক্রম বলে অভিযোগ রোগীর স্বজনদের।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের আসিয়া খাতুন, অভিযোগ করেন স্বামী তরিকুল ইসলামকে নিয়ে তিন দিন ধরে হাসপাতালে আছেন, হাসপাতালের পরিবেশে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তার অভিযোগ, হাসপাতালের টয়লেটসহ বিভিন্ন স্থানে দুর্গন্ধে থাকা কঠিন হয়ে পড়েছে। আসিয়া খাতুন বলেন, ‘গত তিন দিন ধরে টয়লেট পরিষ্কার করতে কাউকে আসতে দেখিনি।’

এদিকে, হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক মাহবুব হাসান বলেন, ২৫০ শয্যার বিপরীতে প্রতিদিন প্রায় ৫০০ রোগী ভর্তি থাকেন। বহির্বিভাগে প্রতিদিন গড়ে প্রায় দুই হাজার রোগী চিকিৎসা নিতে আসেন। সীমিত জনবল দিয়ে বিপুলসংখ্যক রোগীর সেবা দিতে চিকিৎসকদের হিমশিম খেতে হচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘২৫০ শয্যার বিপরীতে প্রয়োজনীয় জনবল আমরা এখনো পাইনি। জনবল সংকট আমাদের বড় চ্যালেঞ্জ। কয়েকজন চিকিৎসক পদোন্নতিজনিত কারণে বদলি হয়েছেন, বিশেষ করে সার্জারি ও মেডিসিন বিভাগে বিশেষজ্ঞ কেউ নেই, এর প্রভাব পড়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।’

পরিস্কার পরিচ্ছন্নতার বিষয়ে, তিনি বলেন এখানে সরকারি রাজস্ব খাতে তিনজন পরিচ্ছন্নতা কর্মী আছেন, এর বাইওে মাস্টাররোলে আছেন ৮ জন, অন্তত ৩০ জন কর্মীর প্রয়োজন, আমরা চেষ্টা করছি বর্তমান কর্মীদের দিয়ে হাসপাতালকে পরিস্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে।

২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতাল, চাঁপাইনবাবগঞ্জের তত্ত্বাবধায়ক ডা. জমির মো. হাসিবুস সাত্তার বলেন, বর্তমানে সার্জারি, মেডিসিন ও শিশু বিভাগে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সংকট রয়েছে। রোগীর চাপের তুলনায় চিকিৎসক কম থাকায় সেবা দিতে সমস্যা হচ্ছে।

তিনি বলেন, শূন্য পদে চিকিৎসক নিয়োগের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। নতুন চিকিৎসক যোগ দিলে পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।


ত্রিশালে ইউএনওর মাথায় আশীর্বাদের হাত রাখলেন অসহায় হেনা রানী

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ত্রিশাল (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি

দাপ্তরিক কাজের বাইরেও যে মানুষের প্রতি মানুষের দায়িত্ব আর আবেগের এক অদ্ভুত মেলবন্ধন তৈরি হতে পারে তারই এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরাফাত সিদ্দিকী।

জানা যায়, গত সোমবার (১৩ জুলাই) ত্রিশাল উপজেলার বালিপাড়া ইউনিয়নের বাসিন্দা হেনা রানী আচার্য্য এসেছিলেন ইউএনও কার্যালয়ে। কথা বলতে বলতে একপর্যায়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন এই বৃদ্ধা। জীবনের গল্পটা আর দশটা সাধারণ মানুষের মতো সহজ ছিল না তার। অনেক আগে স্বামী হারিয়েছেন। দুই কন্যাসন্তানকে বিয়ে দিলেও তারাও চরম দারিদ্র্যের শিকার। ভাঙা ঘরে এখন সম্পূর্ণ একাকী জীবন কাটছে তার।

জানা গেছে, ১৯৭৫ সালে এসএসসি পাস করা হেনা রানী আত্মসম্মানের কারণে কখনোই অন্যের কাছে হাত পাতেননি। সেলাইয়ের কাজ করে কোনোমতে দিন চলে। সম্প্রতি তিনি হৃদরোগে (হার্ট অ্যাটাক) আক্রান্ত হন। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, দ্রুত তার হার্টে রিং পরাতে হবে। কিন্তু এই বিপুল অঙ্কের চিকিৎসার খরচ জোগানোর সামর্থ্য তার নেই। নিরুপায় হয়ে অনেকের দ্বারে দ্বারে ঘুরে অবশেষে শেষ ভরসা নিয়ে এসেছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে। আর্তমানবতার এই ডাকে সাড়া না দিয়ে পারেননি ইউএনও আরাফাত সিদ্দিকী। তিনি তাৎক্ষণিকভাবে হেনা রানীর চিকিৎসার জন্য ব্যক্তিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগে আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন।

সহায়তা পেয়ে আবেগাপ্লুত হেনা রানী নিজের আসন থেকে উঠে পরম মমতায় ইউএনও আরাফাত সিদ্দিকীর মাথায় আশীর্বাদের হাত রাখেন। এ সময় পুরো কক্ষে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয় এবং উপস্থিত সবার মাঝে নীরবতা নেমে আসে। এই ঘটনায় আবেগাক্রান্ত হয়ে পড়েন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাও।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরাফাত সিদ্দিকী জানান, পেশাগত দায়িত্বের বাইরেও সমাজের অসহায় মানুষের প্রতি আমাদের এক ধরনের সামাজিক দায়বদ্ধতা থাকে। হেনা রানীর এই আশীর্বাদ আমার জীবনের অন্যতম বড় প্রাপ্তি। একই সাথে তিনি সমাজের বিত্তবান ও মানবিক মানুষের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, যে যার অবস্থান থেকে যেন এই অসহায় মানুষটির পাশে এসে দাঁড়ান।


banner close