ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপে ১৫৬টি উপজেলায় ভোটগ্রহণ শেষ হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত চলে ভোটগ্রহণ। ভোট গণনা শেষে রাতে নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশ করেন রিটার্নিং কর্মকর্তারা। সারা দেশের প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর থেকে জানা যায়-
ফরিদপুর
উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপে ফরিদপুরের নগরকান্দা ও সালথা উপজেলায় ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। নগরকান্দা উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপ-কমিটির সাবেক সহসম্পাদক কাজী শাহ জামান বাবুল। আনারস প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ৩৭ হাজার ২০৯ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মোটরসাইকেল প্রতীকের প্রার্থী বর্তমান উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মনিরুজ্জামান সরদার পেয়েছেন ২৫ হাজার ২৩৭ ভোট।
অন্যদিকে সালথা উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে বর্তমান চেয়ারম্যান ওয়াদুদ মাতুব্বর বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। আনারস প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ৩৫ হাজার ৫৪৫ ভোট তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী সালথা উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও মোটরসাইকেল প্রতীকের প্রার্থী মো. ওহিদুজ্জামান পেয়েছেন ৫ হাজার ৩৪২ ভোট।
নারায়ণগঞ্জ
উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপে নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলায় ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম। ঘোড়া প্রতীকে তিনি পেয়েছেন এক লাখ ১৫ হাজার ২৫২ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী দোয়াত কলম প্রতীকের প্রার্থী মো. শাহজালাল মিয়া পেয়েছেন ১৩ হাজার ১৩২ ভোট।
বিজয়ী মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম আড়াইহাজার উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সদস্য। তিনি কালাপাহাড়িয়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান। অন্যদিকে তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মো. শাহজালাল মিয়া আড়াইহাজার উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া
দ্বিতীয় ধাপের উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা ও আখাউড়ায় উপজেলায় ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। কসবা উপজেলায় আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের ফুফাতো ভাই ছাইদুর রহমান ও আখাউড়ায় মোগড়া ইউনিয়ন পরিষদের তিনবারের সাবেক চেয়ারম্যান মনির হোসেন বেসরকারিভাবে চেয়ারম্যান নির্বাাচিত হয়েছেন।
ঘোষিত ফলাফল অনুযায়ী, কসবা উপজেলায় ছায়েদুর রহমান স্বপন কাপ-পিরিচ প্রতীকে ৮৬ হাজার ৬৯৮ ভোট পেয়ে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও কুটি ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ছিলেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বর্তমান উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের সাবেক সহকারী একান্ত সচিব রাশেদুল কাউসার ভূইয়া আনারস প্রতীকে পেয়েছেন ৩৯ হাজার ৯৫৯ ভোট।
অন্যদিকে আখাউড়া উপজেলায় মনির হোসেন ঘোড়া প্রতীকে ২৮ হাজার ৩০৯ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি উপজেলা যুবলীগের সাবেক আহ্বায়ক ও মোগড়া ইউনিয়ন পরিষদের তিনবারের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান আনারস প্রতীকে পেয়েছেন ১৪ হাজার ৫৬৩ ভোট।
রাঙামাটি
ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপে রাঙামাটির রাজস্থলী, কাপ্তাই ও বিলাইছড়ি উপজেলায় শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। রাজস্থলী উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি উবাচ মারমা আনারস প্রতীকে ৭ হাজার ৭৫ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মো. রিয়াজ উদ্দীন রানা দোয়াত কলম প্রতীকে পেয়েছেন ২ হাজার ১৮ ভোট।
অন্যদিকে কাপ্তাই উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে উপজেলা যুবলীগের সভাপতি মো. নাছির উদ্দিন দোয়াত কলম প্রতীকে ৭ হাজার ৩৬২ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও সাবেক ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আনোয়ারুল ইসলাম চৌধুরী আনারস প্রতীকে পেয়েছেন ৬ হাজার ৯৭৩ ভোট।
অপরদিকে বিলাইছড়ি উপজেলায় মোট ১৩টি কেন্দ্রের মধ্যে ৫টি হেলিসর্টি ভোটকেন্দ্র রয়েছে। দুর্গম এলাকা হওয়ায় রাত সাড়ে ৯টা পর্যন্ত ফলাফল না আসায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কোনো ফলাফল ঘোষণা করেননি। তবে বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা যায়, পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (জেএসএস) সমর্থিত দোয়াত কলম প্রতীকের বিরোত্তম তঞ্চঙ্গ্যা চেয়ারম্যান পদে বিজয়ী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
লালমনিরহাট
লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ ও আদিতমারী উপজেলায় উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপে ভোটগ্রহণ শেষ হয়েছে। দুই উপজেলায় মধ্যে আদিতমারী উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে ফারুক ইমরুল কায়েস ও কালীগঞ্জ উপজেলায় জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক রাকিবুজ্জামান আহমেদ বিজয়ী হয়েছেন।
রাত সাড়ে ৯টার দিকে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা লুৎফর কবির তাদেরকে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত ঘোষণা করেন।
আদিতমারী উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে ফারুক ইমরুল কায়েস মোটরসাইকেল প্রতীকে পেয়েছেন ৩৩ হাজার ১৩৫ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রফিকুল আলম আনারস প্রতীকে পেয়েছেন ২৯ হাজার ১৮টি ভোট
কালীগঞ্জ উপজেলায় সাবেক সমাজকল্যাণমন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদের ছেলে রাকিবুজ্জামান আহমেদ আনারস প্রতীকে পেয়েছেন ২৪ হাজার ৩০৩ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী তার চাচা উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মাহবুবুজ্জামান আহমেদ ঘোড়া প্রতীকে পেয়েছেন ১৯ হাজার ৩৫০ ভোট।
পিরোজপুর
ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে দ্বিতীয় ধাপে পিরোজপুর জেলার দুই উপজেলায় শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। মঙ্গলবার পিরোজপুরের নেছারাবাদ ও কাউখালী উপজেলার ১৫টি ইউনিয়নের মোট ১২২টি ভোটকেন্দ্রে ইভিএম পদ্ধতিতে এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
কাউখালী উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে মো. আবু সাঈদ মিঞা ও নেছারাবাদ উপজেলায় আব্দুল হক নির্বাচিত হয়েছেন। রাতে নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা সৈয়দ শফিকুল হক বেসরকারিভাবে তাদের বিজয়ী ঘোষণা করেন।
নেছারাবাদ উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে আব্দুল হক আনারস প্রতীকে ৩৮ হাজার ৬১২ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী এস এম মুইদুল ইসলাম মোটরসাইল প্রতীকে পেয়েছেন ৩৫ হাজার ৫২০ ভোট।
অন্যদিকে কাউখালী উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে মো. আবু সাঈদ মিঞা ঘোড়া প্রতীকে ১১ হাজার ২৮৪ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মো. মনিরুজ্জামান তালুকদার পল্টন কাপ-পিরিচ প্রতীকে পেয়েছেন ৬ হাজার ২৯৪ ভোট।
ঝালকাঠি
উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপে ঝালকাঠি সদর ও নলছিটি উপজেলায় ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ঝালকাঠি সদর উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান ও ঝালকাঠি জেলা আওয়ামী লীগ সহ-সভাপতি খান আরিফুর রহমান। আনারস প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ৩৩ হাজার ৯৪৩ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী দোয়াত কলম প্রতীকের প্রার্থী মো. সুলতান খান পেয়েছেন ২৫ হাজার ৯৭১ ভোট।
অন্যদিকে নলছিটি উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মো. সালাউদ্দিন খান সেলিম বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। মোটরসাইকেল প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ২৩ হাজার ৯৩৯ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাবেক মেয়র তছলিম উদ্দিন চৌধুরী আনারস প্রতীকে পেয়েছেন ১৬ হাজার ৭৮৪ ভোট।
বাগেরহাট
উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপে বাগেরহাটে ফকিরহাট, মোল্লাহাট,ও চিতলমারী উপজেলায় ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ফকিরহাট উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন শেখ ওহিদুজ্জামান বাবু। মোটরসাইকেল প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ৪৬ হাজার ৬৫৪ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আনরস প্রতীকের প্রার্থী বর্তমানে উপজেলা চেয়ারম্যান স্বপন দাস পেয়েছেন ২৯ হাজার ৪৩৭ ভোট। এ উপজেলায় ভোট কাস্ট হয়েছে ৬২.৫০ শতাংশ।
চিতলমারী উপজেলার চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হয়েছেন মো. আলমগীর হোসেন সিদ্দিকী। দোয়াত কলম প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ৩৪ হাজার ৮৮৬ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বর্তমান উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও বাগেরহাট জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি অশোক কুমার বড়াল মোটরসাইকেল প্রতীকে পেয়েছেন ২২ হাজার ৭৬৩ ভোট। এ উপজেলায় ভোট কাস্ট হয়েছে ৪৫.৭৫ শতাংশ।
অন্যদিকে মোল্লাহাট উপজেলার চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হয়েছেন বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শাহিনুর আলম ছানা। দোয়াত কলম প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ২৯ হাজার ৯০২ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বর্তমান উপজেলা শেখ নাসির উদ্দীন আনারস প্রতীকে পেয়েছেন ১৯ হাজার ৯৫৪ ভোট। এ উপজেলায় ভোট কাস্ট হয়েছে ৫৩.৭৭ শতাংশ। জেলায় গড় ভোট কাস্টিং হয়েছে ৫৪ শতাংশ।
যশোর
দ্বিতীয় ধাপের উপজেলা নির্বাচনে যশোরের ঝিকরগাছা, শার্শা ও চৌগাছা উপজেলায় ভোটগ্রহণ করা হয়েছে। ভোটগ্রহণ শেষে রাতে বেসরকারিভাবে ফলাফল ঘোষণা করেন উপজেলাগুলোর দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তারা।
চৌগাছা উপজেলা চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হয়েছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা এসএম হাবিবুর রহমান। আনারস প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ৩৩ হাজার ৫৬৫ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ ড. মোস্তানিছুর রহমান পেয়েছেন ২৮ হাজার ৯৮০ ভোট।
নির্বাচনের সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও চৌগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুম্মিতা সাহা রাত সাড়ে ৯টায় এ ফলাফল ঘোষণা করেন।
ঝিকরগাছা উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হয়েছেন বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. মনিরুল ইসলাম। আনারস প্রতীকে মনিরুল ইসলাম পেয়েছেন ৪০ হাজার ৬৪৩ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী সেলিম রেজা ঘোড়া প্রতীকে পেয়েছেন ১৮ হাজার ৪৪৩ ভোট।
অন্যদিকে শার্শা উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে মো. সোহরাব হোসেন দোয়াত কলম প্রতীক নিয়ে ৩৭ হাজার ৫৭০ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মো. অহিদুজ্জামান আনারস প্রতীকে পেয়েছেন ১২ হাজার ২৯১ ভোট।
রাজশাহী
দ্বিতীয় ধাপে রাজশাহীর বাগমারা, দুর্গাপুর ও পুঠিয়া উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বাগমারা উপজেলায় বেসরকারিভাবে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন জাকিরুল ইসলাম সান্টু। তিনি ঘোড়া প্রতীকে পেয়েছেন ৪৭ হাজার ৩২২ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আব্দুর রাজ্জাক সরকার ওরফে আর্ট বাবু পেয়েছেন ৪ হাজার ৩২১ ভোট।
পুঠিয়া উপজেলায় বেসরকারিভাবে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন আবদুস সামাদ মোল্লা। তিনি আনারস প্রতীকে পেয়েছেন ২৬ হাজার ৬৬৫ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আহসানুল হক মাসুদ ঘোড়া প্রতীকে পেয়েছেন ২৩ হাজার ৬৭৯ ভোট।
অন্যদিকে দুর্গাপুর উপজেলায় বেসরকারিভাবে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন শরীফুজ্জামান শরীফ। তিনি মোটরসাইকেল প্রতীকে পেয়েছেন ৪২ হাজার ১১৩ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আব্দুল মজিদ সরদার পেয়েছেন ২৭ হাজার ৩৩২ ভোট।
সাতক্ষীরা
ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপে সাতক্ষীরার আশাশুনি, তালা ও দেবহাটা উপজেলায় ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আশাশুনি উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও বর্তমান উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এবিএম মোস্তাকিম বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি চিংড়ি প্রতীকে পেয়েছেন ৫১ হাজার ৬৬২ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী শাহনেওয়াজ ডালিম ঘোড়া প্রতীকে পেয়েছেন ৫০ হাজার ৭০৭ ভোট।
অপরদিকে সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলা নির্বাচনে মো. আল ফেরদাউস বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি হেলিকপ্টার প্রতীকে ২৬ হাজার ৩৭৭ ভোট পেয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মো. মজিবুর রহমান মোটরসাইকেল প্রতীকে পেয়েছেন ১৭ হাজার ১৫২ ভোট।
এ ছাড়া সাতক্ষীরার তালা উপজেলা নির্বাচনে ঘোষ সনৎ কুমার বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি কাপ পিরিচ প্রতীকে ৪৬ হাজার ৪৫৮ ভোট পেয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী সরদার মশিয়ার চিংড়ি প্রতীকে পেয়েছেন ৩২ হাজার ৪১৩ ভোট।
উৎপাদন খরচ বিবেচনা করে ডিমের যৌক্তিক মূল্য নির্ধারণ এবং পোলট্রি খামারিদের ডিজিটাল ডেটাবেইস চালুর দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ পোলট্রি ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশন (বিপিআইএ)। এ ছাড়া পোলট্রি খামারিদের ডিজিটাল ডেটাবেইস চালুর দাবি জানিয়েছে। শনিবার (১১ জুলাই) জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর আহমেদ চৌধুরী হলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি তুলে ধরেন অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোশাররফ হোসেন চৌধুরী। এর আগে একই দাবিতে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন করেন পোলট্রি খামারিরা।
বিপিআইএ সভাপতি মোশাররফ হোসেন চৌধুরী লিখিত বক্তব্যে বলেন, দেশের হাজার হাজার ডিম উৎপাদনকারী খামারি দীর্ঘদিন ধরে উৎপাদন খরচের চেয়ে কম দামে ডিম বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন। প্রতিদিন তারা লোকসান গুনছেন, ক্রমে ঋণগ্রস্ত হচ্ছেন। অনেকেই লোকসানের বোঝা টানতে না পেরে খামার বন্ধ করে দিচ্ছেন। এই পরিস্থিতি চলতে থাকলে দেশের ডিম উৎপাদন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
পোলট্রি খাতে যৌক্তিক মূল্য (ফেয়ার প্রাইস) নির্ধারণের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, উৎপাদন খরচ বিবেচনা করে এমন একটি মূল্য নির্ধারণ করতে হবে, যাতে খামারিরা অন্তত ন্যায্য মুনাফা পান এবং উৎপাদন অব্যাহত রাখতে পারেন।
সারাদেশের পোলট্রি খামারিদের একটি ডিজিটাল ডেটাবেইস তৈরির আহ্বান জানিয়ে বিপিআইএ সভাপতি বলেন, সারা দেশের খামারিদের একটি জাতীয় ডিজিটাল ডেটাবেইস চালু হলে প্রকৃত খামারিদের সহজে শনাক্ত করা এবং খামারিদের ঝরে পড়া সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যাবে। উৎপাদন ও বাজার পরিস্থিতি বাস্তব সময়ে পর্যবেক্ষণ করা যাবে। সরকারি প্রণোদনা, ভর্তুকি ও স্বল্পসুদে ঋণ সরাসরি প্রকৃত খামারিদের কাছে পৌঁছানো সম্ভব হবে।
সংবাদ সম্মেলনে বিপিআইএ মহাসচিব এম. সাফির রহমান বলেন, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় গুলোর সমন্বয়ের অভাবে পোলট্রি খাতে সুফল পাওয়া যায় না। সবাইকে নিয়ে জাতীয় পোলট্রি বোর্ড গঠন করা হোক। উৎপাদন খরচ কমাতে পারলে আগামী এক দশকে পোলট্রি খাত সফল শিল্প খাতে পরিণত হবে।
দেশের পূর্বাঞ্চলে, বিশেষ করে চট্টগ্রাম ও নোয়াখালী অঞ্চলে ভয়াবহ বন্যায় পোলট্রি খাতের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে উল্লেখ করে সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও কৃষিবিদ অঞ্জন মজুমদার বলেন, বিপুলসংখ্যক মুরগি ও গবাদিপশু মারা যাওয়ায় অনেক খামারি সর্বস্ব হারিয়েছেন, যা দেশের খাদ্য নিরাপত্তায় নতুন ঝুঁকি তৈরি করেছে। এই দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে বাজারে এক ধরনের অদৃশ্য সিন্ডিকেট বা মধ্যস্বত্বভোগী চক্র সক্রিয় হয়ে উঠেছে।
অঞ্জন মজুমদার আরও বলেন, যখন খামারিরা লোকসান দিয়ে সাড়ে চার টাকায় ডিম বিক্রি করতে বাধ্য হন, তখনো ভোক্তাকে সাড়ে দশ টাকায় ডিম কিনতে হয়। ডিম পচনশীল পণ্য হওয়ায় খামারিরা তা মজুত করতে পারেন না, আর এই দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে মধ্যস্থতাকারীরা মাত্র ৪৮ ঘণ্টার ব্যবধানে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন বিপিআইএ’র উপদেষ্টা এন সি বণিক, সহসভাপতি মেজবাউর রহমান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হোসেন, প্রচার সম্পাদক সফিকুর রহমান, সমাজকল্যাণ সম্পাদক গাজী নূর হোসেন, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মুন্না মুন্সী।
জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, পরিবেশ গবেষণা, বৃক্ষরোপণ এবং পরিবেশ সচেতনতা বৃদ্ধিতে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ব্র্যাক ব্যাংক ও তরুপল্লব যৌথভাবে ৬ জন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে ‘দ্বিজেন শর্মা পরিবেশ পদক ২০২৫’ প্রদান করেছে। শুক্রবার (১০ জুলাই) ঢাকার বাংলা একাডেমিতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বিজয়ীদের হাতে এই সম্মাননা তুলে দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আব্দুল আউয়াল মিন্টু। বিশেষ অতিথি ছিলেন অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব নাজমা মোবারেক।
বাংলাদেশের প্রখ্যাত উদ্ভিদবিজ্ঞানী ও প্রকৃতিবিদ প্রয়াত অধ্যাপক দ্বিজেন শর্মার স্মরণে প্রবর্তিত এই পদক প্রকৃতি সংরক্ষণে নিবেদিত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে সম্মানিত করে, যাঁদের কাজ পরিবেশ রক্ষায় মানুষকে উদ্বুদ্ধ করছে।
বিরল ও বিলুপ্তপ্রায় উদ্ভিদ সংরক্ষণ, প্রায় ১,৮০০ প্রজাতির উদ্ভিদ সংরক্ষণ এবং ১২০টিরও বেশি গবেষণাপত্রের মাধ্যমে জীববৈচিত্র্য গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য ‘নিসর্গ পুরস্কার’ পেয়েছেন অধ্যাপক ড. মো. আশরাফুজ্জামান।
প্রাকৃতিক কৃষি চর্চা, দেশীয় বীজ সংরক্ষণ, কৃষি ঐতিহ্য রক্ষা এবং টেকসই কৃষি ও কৃষিভিত্তিক পর্যটনের সফল মডেল গড়ে তোলার স্বীকৃতিস্বরূপ ‘জীববৈচিত্র্য পুরস্কার’ পেয়েছে প্রাণ বৈচিত্র্য খামার।
দুই দশক ধরে ৩০ হাজারেরও বেশি ফলদ, বনজ ও ঔষধি গাছ রোপণ এবং রংপুর অঞ্চলে তৃণমূল পর্যায়ে বৃক্ষরোপণ আন্দোলন গড়ে তোলার জন্য ‘বৃক্ষসখা সম্মাননা’ পেয়েছেন মো. বাদশা মিয়া।
ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে টেকসই কৃষি, ছাদবাগান, নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন ও পরিবেশ সচেতনতা ছড়িয়ে দিয়ে বাংলাদেশের প্রথম নারী অ্যাগ্রো-ইনফ্লুয়েন্সার হিসেবে লাখো মানুষের কাছে পৌঁছে যাওয়ার স্বীকৃতিস্বরূপ ‘সবুজ সারথী সম্মাননা’ পেয়েছেন উম্মে কুলসুম পপি।
বিজ্ঞান ও ডিজিটাল প্রযুক্তির উদ্ভাবনী ব্যবহারের মাধ্যমে জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে অবদান এবং বিশেষ করে ‘ট্রি সেনসাস ২০২৫’ প্রকল্পে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার জন্য ‘নবীন নিসর্গী সম্মাননা’ পেয়েছেন সুমাইয়া মারিয়ম।
সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, প্রবালপ্রাচীর গবেষণা এবং বাংলাদেশের ব্লু ইকোনমি বিকাশে অগ্রণী অবদানের পাশাপাশি দেশের নথিভুক্ত সামুদ্রিক মাছের প্রজাতির সংখ্যা ৪৭৫ থেকে ৭৪০-এ উন্নীত করার স্বীকৃতিস্বরূপ ‘পরিবেশ কীর্তিমান সম্মাননা’ পেয়েছেন অধ্যাপক ড. কাজী আহসান হাবিব।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আব্দুল আউয়াল মিন্টু বলেন, ‘প্রকৃতি সংরক্ষণ এখন আর কোনো বিকল্প নয়; এটি আমাদের জাতীয় দায়িত্ব। আজকের সম্মাননাপ্রাপ্তরা প্রমাণ করেছেন, একজন মানুষের নিষ্ঠা ও উদ্যোগও পরিবেশে দীর্ঘমেয়াদি ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে এবং অন্যদের অনুপ্রাণিত করতে পারে। প্রকৃতি রক্ষার এই প্রচেষ্টা সমাজজুড়ে ছড়িয়ে দিতে হবে।’
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে নাজমা মোবারেক বলেন, টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে সরকার, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, বেসরকারি খাত ও নাগরিকদের সম্মিলিত উদ্যোগের বিকল্প নেই। আজকের সম্মাননাপ্রাপ্তরা দেখিয়েছেন, স্থানীয় পর্যায়ের উদ্যোগও জাতীয় উন্নয়ন ও পরিবেশ সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
ব্র্যাক ব্যাংকের ম্যানেজিং ডিরেক্টর অ্যান্ড সিইও তারেক রেফাত উল্লাহ খান বলেন, দায়িত্বশীল ব্যাংকিং আমাদের কাছে শুধু আর্থিক সেবা প্রদানের বিষয় নয়; এটি মানুষ, সমাজ ও পরিবেশের জন্য দীর্ঘমেয়াদি মূল্য সৃষ্টি করার অঙ্গীকার। ‘দ্বিজেন শর্মা পরিবেশ পদক’-এর মাধ্যমে আমরা সেই মানুষদের সম্মান জানাচ্ছি, যারা তাদের কাজের মাধ্যমে একটি সবুজ, টেকসই ও বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়ে তুলতে অনন্য অবদান রেখে চলেছেন।
তরুপল্লবের সাধারণ সম্পাদক মোকাররম হোসেন বলেন, দ্বিজেন শর্মা পরিবেশ পদক শুধু একটি সম্মাননা নয়; এটি পরিবেশ সংরক্ষণে নিবেদিত মানুষের প্রতি জাতির কৃতজ্ঞতার প্রকাশ। একই সঙ্গে এটি নতুন প্রজন্মকে বাংলাদেশের প্রাকৃতিক ঐতিহ্য রক্ষায় আরও সক্রিয়ভাবে এগিয়ে আসতে অনুপ্রাণিত করবে।
২০২৫ সালে প্রবর্তিত ব্র্যাক ব্যাংক-তরুপল্লবের ‘দ্বিজেন শর্মা পরিবেশ পদক’ পরিবেশ সংরক্ষণে অসামান্য অবদান রাখা ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে সম্মানিত করে। গত বছর এই দুই প্রতিষ্ঠান প্রকৃতি সংরক্ষণে বিশেষ অবদানের জন্য চারজন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে এ সম্মাননা প্রদান করেছিল।
বাগেরহাটে শুরু হয়েছে সপ্তাহব্যাপী বৃক্ষমেলা। শনিবার (১১ জুলাই) সকালে জেলা পরিষদ অডিটোরিয়াম প্রাঙ্গণে বেলুন উড়িয়ে ও ফিতা কেটে মেলার উদ্বোধন করেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম।
উদ্বোধনের আগে জেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামের সামনে থেকে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রাটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে মেলা প্রাঙ্গণে এসে শেষ হয়। পরে প্রতিমন্ত্রী মেলায় অংশ নেওয়া বিভিন্ন স্টল পরিদর্শন করেন।
এরপর জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেনের সভাপতিত্বে জেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে বৃক্ষমেলা উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা অক্সিজেন গ্রহণ করি এবং কার্বন ডাই-অক্সাইড ত্যাগ করি। গাছ ঠিক উল্টো কাজটি করে। তাই মানুষের জীবন ও গাছের মধ্যে নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। গাছ ভালো থাকলে, আমরাও ভালো থাকব। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান সৌদি আরবে নিমগাছ রোপণ করেছিলেন। হজে যাওয়া মানুষ জানেন, তীব্র রোদ ও ৪০ থেকে ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার মধ্যেও নিমগাছ স্বস্তি দেয়।’ তিনি আরও বলেন, ‘একজন পণ্ডিত ব্যক্তি বলেছিলেন, যার বাড়িতে নিমগাছ আছে, তার বাড়িতে ডাক্তারের প্রয়োজন কম হয়।’
গাছ ও পরিবেশ সংরক্ষণের গুরুত্ব তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘সরকার ঔষধি, ফলজ ও বনজ বৃক্ষরোপণ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, নদী-খাল খনন, কর্মসংস্থান ও পরিবেশ সংরক্ষণ নিয়ে নিয়মিত কাজ করছে। শুধু গাছ লাগালেই হবে না, সেগুলোর যথাযথ পরিচর্যা ও সংরক্ষণও নিশ্চিত করতে হবে।’ কোনো প্রতিষ্ঠানের অবহেলায় গাছ নষ্ট হলে বা মারা গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি সতর্ক করেন। আরও বক্তব্য রাখেন, পুলিশ সুপার হাসান মোহাম্মাদ নাছের রিকাবদার, সামাজিক বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা শাহিন কবির এবং জেলা বিএনপির আহ্বায়ক এটিএম আকরাম হোসেন তালিম।
সামাজিক বন বিভাগের তথ্যানুযায়ী, মেলায় বিভিন্ন প্রজাতির ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা নিয়ে ১৯টি স্টল অংশ নিয়েছে। প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত এসব স্টলে চারা প্রদর্শন ও বিক্রি চলবে। আগামী ১৭ জুলাই সমাপনী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে সপ্তাহব্যাপী এ বৃক্ষমেলার পর্দা নামবে।’
মাদারীপুর সদর উপজেলার খোয়াজপুর ইউনিয়ন কাজীরটেক পুরাতন ফেরিঘাটের বাহেরচর কাতলায় ভাঙনকবলিত অংশে বালুভর্তি ‘জিওব্যাগ’ নিক্ষেপ কাজের উদ্বোধন করা হয়েছে। শনিবার (১১ জুলাই) কাজের উদ্বোধন করেন মাদারীপুর সদর-২ আসনের সংসদ সদস্য জাহান্দার আলী মিয়া। এ সময় উপস্থিত ছিলেন মাদারীপুর সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও জজকোর্টের জিপি অ্যাডভোকেট গুলজার আহম্মেদ চিশতী মস্তফা, সাবেক সাধারণ সম্পাদক (সদর উপজেলা) মর্তুজা আলম ঢালীসহ বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের অন্যান্য নেতা-কর্মী সমর্থক এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
উল্লেখ্য, এবার বর্ষা মৌসুম শুরু হওয়ার পর থেকে মাদারীপুর শহরের পার্শ্ববর্তী ঘেষা আড়িয়ালখাঁ নদীর অববাহিকায় অবস্থিত কাজিরটেক পুরাতন ফেরিঘাট বাহেরচর কাতলা এলাকায় ভাঙন দেখা দেয়। এতে নদীর পাড়ের বহু বাসিন্দাদের আবাদী জমিজমা নদীগর্ভে চলে যায়, এ ছাড়া ঘরবাড়ি, স্থাপনা- বসতি ভাঙনের মুখে পড়ে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে জরুরি ভাঙন রোধে মাদারীপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের তত্ত্বাবধানে ‘জিওব্যাগ’ ফেলা কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়।
উদ্বোধনকালে এমপি জাহান্দার আলী মিয়া বলেন,‘ কৃষিজমি রক্ষাসহ মানুষের বসতবাড়ি ও অন্যান্য স্থাপনা রক্ষা করা বর্তমান জনবান্ধব সরকার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অগ্রাধিকার দিয়েছেন এবং স্থানীয় সংসদ সদস্য হিসেবে জনদুর্ভোগ লাঘব করা, কাজগুলো বাস্তবায়ন করা আমার নৈতিক দায়িত্ব।’
মাদারীপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী (এসডি-১) মো. হাসান কবীর জানান, প্রাথমিক পর্যায়ে ভাঙনকবলিত অংশে ৮ হাজার ও অবস্থা বিবেচনায় পরবর্তীতে আরও ৮ হাজারসহ মোট ১৬ হাজার ‘জিওব্যাগ’ ওই ভাঙনকবলিত অংশে ফেলা হবে- যাতে ভাঙনের তীব্রতা কমে গিয়ে কৃষিজমি, বসত বাড়িঘর ও অন্যান্য স্থাপনা রক্ষা পায়।
ফেনীর ছাগলনাইয়ায় পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে মোহনা টেলিভিশনের সাংবাদিক নিজাম উদ্দিন সজীবের ওপর হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (১১ জুলাই) সকাল দুপুরে ফেনী প্রেসক্লাব প্রাঙ্গণে কর্মরত সকল সাংবাদিকের ব্যানারে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন ফেনী প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু তাহের।
সাপ্তাহিক স্বদেশ পত্র সম্পাদক এন এন জীবন এবং দৈনিক ডিজিটাল সময়ের সহযোগী সম্পাদক এবিএম নিজাম উদ্দিনের সঞ্চালনায় বক্তব্য দেন ফেনী রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি শাহাদাত হোসেন, ফেনী প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ও ডিবিসি নিউজের জেলা প্রতিনিধি মুহাম্মদ আবু তাহের ভূঁইয়া, সাংবাদিক রবিউল হক রবি, বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম বিএমএসএফের সাবেক কেন্দ্রীয় সাধরণ সম্পাদক জসিম মাহমুদ, সাংবাদিক ইউনিয়ন ফেনীর সভাপতি সিদ্দিক আল মামুন, টেলিভিশন জার্নালিস্ট ক্লাবের সভাপতি আতিয়ার সজল, বিএমইউজে ফেনীর সভাপতি মাসুম বিল্লাহ ভূঁইয়া, সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন, সাবেক সভাপতি কামাল উদ্দিন ভূঁইয়া ও সিনিয়র সাংবাদিক এম এ সাঈদ খান, ফেনী সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ মনির, বাংলাদেশ ফটো জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন ফেনীর সাধারণ সম্পাদক দুলাল তালুকদার, ছাগলনাইয়া প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি শেখ কামাল, একাত্তর টেলিভিশন ও দৈনিক যুগান্তর প্রতিনিধি নুরুজ্জামান সুমন, দৈনিক বণিক বার্তা প্রতিনিধি নুরুল্লাহ কায়সার, গ্রীন টিভি প্রতিনিধি ফখরুল ইসলাম, দৈনিক যায়যায় দিন প্রতিনিধি আবু ইউসুফ মিন্টু, দৈনিক সমকাল প্রতিনিধি জহিরুল ইসলাম জাহাঙ্গীর, দৈনিক দেশ রূপান্তর প্রতিনিধি জহিরুল ইসলাম রাজু, আমাদের সময় প্রতিনিধি কবির আহমেদ নাছির এবং সরেজমিন প্রতিনিধি চুমকি আক্তারসহ অন্যান্য সাংবাদিকরা।
বক্তারা সাংবাদিক নিজাম উদ্দিন সজীবের ওপর সংঘটিত হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান। তারা অভিযোগ করেন, তাকে গুলি করে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে এবং নদীতে ভাসিয়ে দেওয়ার মতো নৃশংস পরিকল্পনা ছিল, যা স্বাধীন সাংবাদিকতার ওপর গুরুতর আঘাত।
বক্তারা এ ঘটনায় ইতোমধ্যে দুইজন আসামিকে গ্রেপ্তার করায় পুলিশ প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানান। একই সঙ্গে হামলার সঙ্গে জড়িত প্রকৃত আসামি ও হামলার নেপথ্যের নির্দেশদাতাদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, ‘অতীতেও সাংবাদিকদের ওপর দমনপীড়ন চালিয়ে কোনো ফ্যাসিবাদী সরকার টিকে থাকতে পারেনি।’ স্বাধীন সাংবাদিকতার পথ রুদ্ধ করার যেকোনো অপচেষ্টা প্রতিহত করতে সাংবাদিক সমাজ ঐক্যবদ্ধ থাকবে বলেও তারা দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
সুনামগঞ্জে অতি বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে জেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ইতোমধ্যে তাহিরপুর বড়ছড়া, টেকেরঘাট, যাদুকাটা নদী প্রবাহ, চলতি ও খাসিয়ামারা নদী দিয়ে উজান থেকে পাহাড়ি ঢল নামছে। পাহাড়ি ঢল আর থেমে থেমে বৃষ্টির কারণে জনজীবন বিপর্যস্ত হচ্ছে। নিম্নাঞ্চলের কিছু কিছু গ্রাম প্লাবিত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। ইতোমধ্যে জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটি জরুরি সভা করে প্রতিটি উপজেলায় দুর্যোগ মোকাবিলার আগাম প্রস্তুতি হিসেবে কন্ট্রলরুম চালু করেছে।
শনিবার (১১ জুলাই) দুপুরে জেলার বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার শক্তিয়ারখলায় অতিবৃষ্টি এবং পাহাড়ি ঢলের পানিতে তলিয়ে যাওয়া সাবমার্জিবল সড়ক পরিদর্শন করেন সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিনহাজুর রহমান।
এ সময় তিনি বলেন, ‘এখন পর্যন্ত কোনো রকম বিপদের আশঙ্কা নেই। উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের পানি সাবমার্জিবল সড়কের উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে করচার হাওরে গিয়ে পতিত হচ্ছে। বৃষ্টি থেমে যাওয়ায় রাস্তায় পানি অনেক কমেছে। ইতোমধ্যে সুনামগঞ্জের সংশ্লিষ্ট সকল সরকারি দপ্তরগুলো দুর্যোগ মোকাবিলায় সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। স্থানীয়দের সাথে কথা বলে ভবিষ্যতে এ রাস্তাটিতে প্রয়োজনীয়সংখ্যক কালভার্ট নির্মাণ এবং রাস্তার দুইপাশে সীমানা চিহ্নিতকরণের জন্য জেলা প্রশাসক নির্দেশনা দেন।’
এ সময় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. মতিউর রহমান খান, বিশ্বম্ভরপুরের ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাহফুজুর রহমান ও স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানরা উপস্থিত ছিলেন।
ভোলার চরফ্যাশন উপজেলায় চলমান এইচএসসি পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বনের (নকল) সুবিধা না পেয়ে একটি পরীক্ষাকেন্দ্রে ব্যাপক হামলা ও ভাঙচুর চালিয়েছে বিক্ষুব্ধ পরীক্ষার্থীরা। হামলায় কলেজের শিক্ষক, গভর্নিং বডির সভাপতি ও পথচারীসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ লাঠিপেটা ও কয়েক রাউন্ড টিয়ারশেল নিক্ষেপ করেছে।
শনিবার (১১ জুলাই) দুপুর সোয়া ১টার দিকে উপজেলার ফাতেমা মতিন মহিলা মহাবিদ্যালয় কেন্দ্রে এই সংঘাতের ঘটনা ঘটে।
জানা গেছে, দুপুর ১টার দিকে পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর পরীক্ষার্থীরা হল থেকে বের হয়ে কলেজের মূল ফটকে অবস্থান নেয়। পরে তারা সংঘবদ্ধ হয়ে বিক্ষোভ শুরু করে এবং কলেজের গেট ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। হামলাকারীরা অধ্যক্ষের কক্ষসহ বিভিন্ন কক্ষে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাঠিপেটা ও কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
ফাতেমা মতিন মহিলা মহাবিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. মহিউদ্দিন বাচ্চু জানান, তার কেন্দ্রে মোট ৯০০ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৮৮৪ জন নিয়মিত পরীক্ষা দিচ্ছেন, যাদের সবাই চরফ্যাশন সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী।
তাদের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) পরীক্ষা ছিল। সকালে এমসিকিউ পরীক্ষার প্রশ্ন কমন না পড়ায় পরীক্ষার্থীরা অসদুপায় অবলম্বনের চেষ্টা করে। কক্ষ পরিদর্শকরা এতে বাধা দিলে পরীক্ষার্থীরা শিক্ষকদের সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণ শুরু করে। ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ কক্ষে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন। তবে সৃজনশীল প্রশ্ন দেওয়ার পর পরীক্ষার্থীরা আবারও পরিদর্শকদের সাথে চরম শৃঙ্খলা পরিপন্থি আচরণ শুরু করে।
অধ্যক্ষ আরও জানান, উদ্ভূত পরিস্থিতিতে কেন্দ্রের নিরাপত্তার স্বার্থে তিনি বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী অফিসার, থানার ওসি এবং বরিশাল বোর্ডের চেয়ারম্যানকে অবহিত করলে থানা থেকে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
দুপুর ১টায় পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর পরীক্ষার্থীরা কলেজের প্রধান ফটক ভেঙে ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করে। ব্যর্থ হয়ে তারা পেছনের গেট ভেঙে এবং দেওয়াল টপকে ভেতরে প্রবেশ করে বিভিন্ন কক্ষে ভাঙচুর চালায়। একপর্যায়ে পরীক্ষার্থীরা উত্তরপত্র (খাতা) ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলে শিক্ষকরা তা প্রতিহত করেন। এতে কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি হুমায়ুন কবির সিকদারসহ ৪-৫ জন শিক্ষক আহত হন। এ ছাড়া হামলাকারীদের ইটপাটকেলের আঘাতে বেশ কয়েকজন পথচারীও আহত হয়েছেন। আহত শিক্ষকরা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন। এই বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের আলোকে পরবর্তী আইনিব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান অধ্যক্ষ।
চরফ্যাশন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাহমুদ আল ফরিদ ভূঁইয়া জানান, পরীক্ষাকেন্দ্রে হামলার খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালায়। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে পুলিশ দুই রাউন্ড টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে পরিবেশ নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ বা মামলা দায়ের করা হয়নি। অভিযোগ পেলে পরবর্তী আইনিব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ভোলার জেলা প্রশাসক ডা. শামীম রহমান জানান, পরীক্ষার হলে অসদুপায় অবলম্বন করতে না দেওয়ায় চরফ্যাশনের ফাতেমা মতিন মহিলা কলেজ কেন্দ্রে এই হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে।
বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলার ফুলশ্রী গ্রাম এখন অনেকটাই জনশূন্য হয়ে পরেছে। গ্রেপ্তারকৃত আসামি ওই গ্রামের রিয়াজ ফকিরের (২৬) পুলিশের নির্যাতনে মৃত্যুর গুজবে তার স্বজন ও এলাকাবাসী মিছিল নিয়ে আগৈলঝাড়া থানায় হামলা, ভাঙচুর ও পুলিশ সদস্যদের মারধর করে আহত করেন। এ ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলার পর গ্রেপ্তার আতঙ্কে গ্রামের অধিকাংশ নারী ও পুরুষ বাড়িঘর ছেড়ে আত্মগোপনে রয়েছেন বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
ফলে গ্রামের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। অধিকাংশ পরিবারের নারী-পুরুষ সদস্যরা সম্ভাব্য গ্রেপ্তার এড়াতে বিভিন্নস্থানে আশ্রয় নিয়েছেন। অপরদিকে থানা পুলিশের দায়ের করা মামলায় ৪৩ জনের নামোল্লেখসহ অজ্ঞাত পরিচয়ে আরও তিন শতাধিক ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে। ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে এখন পর্যন্ত ২২ জন নারী ও পুরুষকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।
মামলার এজাহারে নামোল্লেখ করা আসামি নিয়েও জনমনে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। এলাকাবাসী মিছিল নিয়ে থানায় ঢুকে হামলা, ভাঙচুর ও পুলিশ সদস্যদের মারধরের পুরো ঘটনার ভিডিও ফুটেজ থাকা সত্ত্বেও এজাহারে যাদের আসামি করা হয়েছে তা নিয়ে পুরো উপজেলাজুড়ে ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়েছে।
জানা গেছে, হামলার ঘটনার সাথে থানাসংলগ্ন বাকাল ইউনিয়নের ফুলশ্রী গ্রামের নারী ও পুরুষরা জড়িত থাকলেও মামলার এজাহারে রাজিহার ও গৈলা ইউনিয়নের বাসিন্দাদের আসামি করা হয়েছে। এ ছাড়া ঘটনার সংবাদ সংগ্রহে যাওয়া আগৈলঝাড়া প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ও যুগান্তর প্রতিনিধি সাইফুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক ও বাংলা টিভির বরিশাল প্রতিনিধি এফএম নাজমুল রিপনকে মামলার আসামি করা হয়েছে। একইসাথে দীর্ঘদিন পর্যন্ত নিজ এলাকা গৈলা ইউনিয়নের সেরাল গ্রাম থেকে আত্মগোপনে থাকা কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী যুবলীগের আগৈলঝাড়া উপজেলা শাখার সভাপতি কামরুজ্জামান আজাদ সেরনিয়াবাত ও জেলা যুবলীগ নেতা সাগর সেরনিয়াবাতকে আসামি করা হয়েছে।
দুইজন সাংবাদিক নেতাকে আলোচিত এ মামলায় আসামি করার বিষয়টি সম্পূর্ণ রহস্যজনক দাবি করে শনিবার (১১ জুলাই) দুপুরে আগৈলঝাড়া প্রেসক্লাবের নেতারা স্থানীয় সংসদ সদস্য ও তথ্যমন্ত্রী এম জহির উদ্দিন স্বপনকে পুরো বিষয়টি অবহিত করেন। প্রেসক্লাব কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সাথে তথ্যমন্ত্রীর মতবিনিময় সভায় বিষয়টি জানানো হয়।
পরবর্তীতে থানার ওসির উপস্থিতিতে তথ্যমন্ত্রী সঠিক তদন্ত করে ও পুরো ঘটনার ভিডিওচিত্র পর্যালোচনা করে কোনো নিরপরাধ ব্যক্তিদের মামলায় যেন হয়রানি করা না হয়, সে ব্যাপারে ভূমিকা নেওয়ার জন্য ওসিকে নির্দেশ প্রদান করেন। পাশাপাশি তথ্যমন্ত্রী পুরো ঘটনার সাথে জড়িত প্রকৃত দায়ী ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারপূর্বক আইনের আওতায় আনতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের সহযোগিতা করার জন্য সকলের প্রতি আহ্বান করেন।
অপরদিকে বরিশালের পুলিশ সুপার এজেডএম মোস্তাফিজুর রহমান জানিয়েছেন, থানায় হামলার ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারে সাঁড়াশি অভিযান চলছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজ, ভিডিওচিত্র এবং অন্যান্য তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে হামলায় অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের শনাক্ত করা হচ্ছে। অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং ঘটনায় জড়িত কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
পাশাপাশি পুলিশ সুপার আরও বলেন, ‘যদি কারও নাম ভুলবশত এজাহারে অর্ন্তভুক্ত হয়ে থাকে, আর তদন্তে তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হয়, তাহলে তাদের কোনো ধরনের হয়রানি বা গ্রেপ্তার করা হবে না। আপাতত ভিডিও ফুটেজ দেখে হামলাকারীদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
সূত্রমতে, আলোচিত এ মামলায় গ্রেপ্তারের পর জেলহাজতে প্রেরণ করা ব্যক্তিরা হলেন, রিয়াজ ফকিরের বাবা সিদ্দিক ফকির, বোন শারমিন আক্তার, গিয়াস ফকির, সবুজ ফকির, মান্নান ফকির, রিফাত ফকির, নাঈম ফকির, হাবিবুর রহমান, রাজু হাওলাদার, তাহমিনা বেগম, মনোয়ারা বেগম, আসমা আক্তার, মমতাজ বেগম, ঝুমুর বেগম, নাজমা আক্তার, তানজিলা আক্তারসহ মোট ২২ জন। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে ১২ জন নারী ও ১০ জন পুরুষ।
স্থানীয় বাসিন্দারা আরও জানিয়েছেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ টহল অব্যাহত রয়েছে। যে কারণে পুলিশের চলমান অভিযানের কারণে গ্রামের অধিকাংশ পরিবারের নারী ও পুরুষ সদস্যরা অনেকটাই আত্মগোপনে রয়েছেন।
থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত বুধবার সন্ধ্যায় নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে চুরি মামলার সন্ধিগ্ধ আসামি ফুলশ্রী গ্রামের রিয়াজ ফকিরকে একটি চুরির মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়। থানা হাজতে থাকার সময় রিয়াজ লোহার দরজার সাথে নিজের মাথায় নিজে আঘাত করে জ্ঞান শূন্য হয়ে পরে। পরে ওইদিন রাত ১১টার দিকে তাকে প্রথমে আগৈলঝাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও পরে গভীর রাতে বরিশাল শেরই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
গত বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) দুপুরে রিয়াজ ফকিরের মৃত্যুর গুজব ছড়িয়ে পড়লে তার স্বজন ও স্থানীয়দের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। বিকেলে কয়েকশ মানুষ মিছিল নিয়ে আগৈলঝাড়া থানায় হামলা চালায়। এ সময় থানার বিভিন্ন স্থাপনা ভাঙচুরসহ কর্তব্যরত ডিউটি অফিসার এএসআই আব্দুল হালিমকে মারধর করা হয়।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ লাঠিপেটা করলে উভয়পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে পুলিশের ছয় সদস্যসহ অন্তত ১২ জন আহত হয়।
এ ঘটনায় আগৈলঝাড়া থানার এসআই ওমর ফারুক বাদী হয়ে মামলা করে।
খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (কেডিএ) একটি আয়োজন বর্জন করেছেন জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীরা। ঐ মতবিনিময় সভার মূল ব্যানারে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর দুই সংসদ সদস্যের নাম অন্তর্ভুক্ত না করার অভিযোগে এনে এই আয়োজন বর্জন করে তারা।
শনিবার (১১ জুলাই) সকাল সাড়ে ১০টায় খুলনা বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘আগামীর খুলনা বিনির্মাণে কেডিএ ও জনগণের ভাবনা’ শীর্ষক এই গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভাটি অনুষ্ঠিত হয়।
উল্লেখ্য, গত ১২ জুন খুলনা মহানগর বিএনপির সভাপতি শফিকুল আলম মনাকে কেডিএর নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেয় সরকার এবং খুলনার সামগ্রিক উন্নয়নে অংশীজনদের মতামত ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা গ্রহণের উদ্দেশ্যেই এই সভার আয়োজন করা হয়েছিল।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে খুলনা-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের হুইপ রকিবুল ইসলাম বকুলের উপস্থিত থাকার কথা থাকলেও তিনি শেষ পর্যন্ত সভায় যোগ দেননি।
কেডিএর প্রধান কার্যালয়টি মূলত খুলনা-২ আসনের সোনাডাঙ্গা থানা এলাকায় অবস্থিত, যে আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য খুলনা মহানগর জামায়াতের সেক্রেটারি জাহাঙ্গীর হুসাইন হেলাল। অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণপত্রে বিশেষ অতিথি হিসেবে খুলনার মোট ৬ জন সংসদ সদস্যের নাম থাকলেও মূল মঞ্চের ব্যানারে বিএনপির ৪ জন এমপির নাম স্থান পায় এবং জামায়াতের দুই সংসদ সদস্যের নাম রহস্যজনকভাবে বাদ পড়ে।
এই ঘটনার তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে সভা থেকে দলবলসহ বের হয়ে যাওয়ার সময় খুলনা মহানগর জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি মো. জাহাঙ্গীর আলম অভিযোগ করেন, এটি প্রশাসনের নির্লজ্জ দলীয়করণের একটি স্পষ্ট উদাহরণ। তিনি বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, বর্তমানে বিদেশে অবস্থানরত এমপিদের নাম ব্যানারে জ্বলজ্বল করলেও যে আসনে অনুষ্ঠানটি হচ্ছে সেই খুলনা-২ আসন এবং খুলনা-৬ আসনের জামায়াত মনোনীত এমপিদের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে।
বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে কেডিএ কর্মকর্তাদের নজরে আনা হলে তারা ব্যানার পরিবর্তনের আশ্বাস দিলেও এক ঘণ্টারও বেশি সময় কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় তারা সভা বর্জন করতে বাধ্য হন। জামায়াত নেতা আরও যোগ করেন, সবাইকে সাথে নিয়ে খুলনার উন্নয়নে তারা আন্তরিক এবং তাদের সংসদ সদস্যরা সংসদে নিয়মিত খুলনার সমস্যা নিয়ে কথা বলছেন; এমনকি এই সভার প্রথম আমন্ত্রণপত্রেও তাদের নাম ছিল না, যা প্রতিবাদের পর সংশোধন করা হলেও ব্যানারে আবারও একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটানো হয়েছে।
অবশ্য উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে কেডিএ চেয়ারম্যান শফিকুল আলম মনা জানান, কর্মকর্তারা ভুলবশত নাম দুটি বাদ দিয়েছিলেন। পরবর্তীতে খুলনা মহানগর জামায়াতের আমির মাহফুজুর রহমান বিষয়টি উত্থাপন করার পর তিনি নিজে উদ্যোগী হয়ে নাম দুটি যুক্ত করার নির্দেশ দেন এবং জামায়াত নেতাদের বসার অনুরোধ জানান, কিন্তু ততক্ষণে তারা সভাস্থল ত্যাগ করেন এবং পরে আর ফিরে আসেননি।
জামায়াত নেতাকর্মীদের এই বয়কটের পরও অবশ্য কেডিএ চেয়ারম্যান শফিকুল আলম মনার সভাপতিত্বে সভাটি স্বাভাবিক নিয়মেই সম্পন্ন হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন খুলনা-১ আসনের সংসদ সদস্য আমির এজাজ খান। এছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে খুলনা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রেজাউল করিম, বিভাগীয় কমিশনার মো. আব্দুল্লাহ্ হারুন, রেঞ্জ ডিআইজি মো. মোস্তাফিজুর রহমান, মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ জাহিদ হাসান, জেলা পরিষদের প্রশাসক এসএম মনিরুল হাসান বাপ্পী, বিসিবি’র পরিচালক মো. শফিকুল আলম তুহিন এবং খুলনা মহানগর মুক্তিযোদ্ধা সংসদের আহ্বায়ক ও সাবেক মেয়র মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান মনি সহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা বক্তব্য রাখেন।
সভায় বক্তারা আগামীর খুলনাকে জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে উন্নত যোগাযোগ, পরিকল্পিত আবাসন ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনাসমৃদ্ধ একটি আধুনিক ও টেকসই গ্রিন-সিটি হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
গাজীপুর মেট্রোপলিটন এলাকায় অপরাধ নিয়ন্ত্রণে কঠোর অবস্থানে রয়েছে পুলিশ। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত এই ছয় মাসে মেট্রোপলিটন এলাকায় ৮৪২টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এর মধ্যে মাদকের মামলার সংখ্যাই সর্বোচ্চ ৩৯৭টি।
এক সংবাদ সম্মেলনে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ (জিএমপি) অপরাধ দক্ষিণ বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মহিউদ্দিন আহমেদ সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এসব তথ্য জানায়।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গত ছয় মাসে পুলিশ ১০টি হত্যা, ২০টি ডাকাতি, ২০টি ছিনতাই, ৬৬টি নারী ও শিশু নির্যাতন এবং ২৮টি অস্ত্র মামলা রেকর্ড করেছে। অভিযানে ১টি বিদেশি পিস্তলসহ বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। শুধু চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসেই ৮৮২ জন ছিনতাইকারীকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
তিনি জানান, সম্প্রতি গাজীপুরা জ্বিলানি মার্কেট এলাকায় সংঘটিত ছিনতাইয়ের ঘটনা চিহ্নিত দুই ছিনতাইকারী জাহিদ দেওয়ান (২৬) ও কামাল হোসেনকে (২৬) গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে দুইটি ধারালো দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, মহানগর এলাকায় নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগের ঝটিকা মিছিলের চেষ্টায় ৩টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ ঘটনায় ইতোমধ্যে ১৯ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং জড়িত অন্যদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
মাদক ও কিশোর গ্যাং নির্মূলে তিনি বলেন, মাজার বস্তি, কেরানীর টেক, ব্যাংকের মাঠ ও এরশাদ নগরসহ বিভিন্ন এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান জোরদার করা হয়েছে। এছাড়া কিশোর গ্যাং নিয়ন্ত্রণে তথ্য সংগ্রহের পাশাপাশি তাদের নির্মূলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে পুলিশ। সম্প্রতি টঙ্গী পূর্ব এলাকায় আধিপত্য বিস্তার ও মহড়ার ঘটনায় ১৮ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
অপরাধ দমনে তারা জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছেন। জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশের এ কার্যক্রমে নাগরিকদের সচেতনতা ও সহায়তা কামনা করা হয়েছে।
অবশেষে দুই পাশে সংযোগ সড়ক হলো জামালপুরের সরিষাবাড়ীর ঘুইঞ্চার চরের কোটি টাকার ব্রিজে। নির্মাণের ২ বছরেও রাস্তা না থাকায় ব্রিজটি কোনো কাজেই আসছিল না চরাঞ্চলের মানুষের। ফলে ব্রিজ হলেও দীর্ঘদিন ধরে চলাচলে পোহাতে হতো নানা দুর্ভোগ ও ভোগান্তি। বর্তমানে ব্রিজের দুইপাশে সংযোগ সড়ক হওয়ায় খুশি এ চরাঞ্চলের মানুষ।
জানা যায়, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের উদ্যোগে ‘গ্রামীণ রাস্তায় সেতু কালভার্ট নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় ২০২৩-২৪ অর্থবছরে উপজেলার আওনা ইউনিয়নের দুর্গম চরাঞ্চল ঘুইঞ্চার চরে যমুনা নদীর শাখা অংশের উপর ১ কোটি ১৪ লাখ টাকা ব্যয়ে ১৫ মিটার দৈর্ঘ্যের গার্ডার ব্রিজ নির্মাণ করা হয়। নির্মাণের ২ বছর হলেও দুই পাশে কোনো সংযোগ সড়ক না থাকার কারণে স্থানীয়দের কোনো কাজেই আসছিল না ব্রিজটি। ফলে চলাচলে নানা দুর্ভোগ ও ভোগান্তি পোহাতে হতো। বিশেষ করে কৃষিপণ্য সরবরাহ ও স্কুল কলেজগামী শিক্ষার্থীদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হতো। এ ছাড়া বন্যা মৌসুমে গামছা পড়ে নদী সাঁতরে পার হতে হতো বলে জানিয়েছে স্থানীয়রা।
বিষয়টি জানার পর স্থানীয় সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সভাপতি ফরিদুল কবির তালুকদার শামিম এমপির নির্দেশনায় উপজেলা নির্বাহী অফিসার আফরোজা আফসানা ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা শওকত জামিলের তত্ত্বাবধানে ব্রিজের দুই পাশে করা হয় ১ হাজার ৮০০ ফুট সংযোগ সড়ক। ফলে দীর্ঘদিনের চলাচলের চরম ভোগান্তি ও দুর্ভোগ থেকে রক্ষা পেল স্থানীয়রা।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার আফরোজা আফসানা বলেন, ‘বিষয়টি জানার পর সরেজমিনে তদন্ত করে এমপি মহোদয়ের সাথে কথা বলে রাস্তা করে দেওয়া হয়। এখন মানুষ ওই ব্রিজ দিয়ে চলাচল করতে পারে।’
খুলনা নগরীর চাঞ্চল্যকর আরফানা হোসেন নির্জনা হত্যাকাণ্ডের রহস্য ৩৬ ঘণ্টার মধ্যে উদঘাটন করেছে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ (কেএমপি)। শনিবার (১১ জুলাই) সকালে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের সদর দপ্তরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ জাহিদুল হাসান হত্যাকাণ্ডের বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন।
তিনি জানান, ঘটনার ৩৬ ঘণ্টার মধ্যেই পুলিশের একটি আভিযানিক দল নির্জনার মা আরিফা ইয়াসমিন সীমাকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়। নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে তিনি স্বীকার করেন যে, মেয়ের সাথে বিভিন্ন ছেলেদের প্রেমের সম্পর্ক থাকার কারণে পারিবারিক কলহের সৃষ্টি হয় এবং এই কলহকে কেন্দ্র করেই তাদের একমাত্র মেয়েকে হত্যা করা হয়।
মা এর জবানবন্দি থেকে জানা যায়, ঘটনার দিন বিকেলে পরিবারের সাথে নির্জনার বাকবিতণ্ডা হয়। এক পর্যায়ে মা তাকে কয়েকটি চড়-থাপ্পড় মারেন। ঘরের ভেতর শোরগোল শুনে বাবা আলীম হোসেন আকাশ সেখানে এসে তাদের চুপ করতে বলেন। কিন্তু মেয়ে শান্ত না হওয়ায় একটি কাঠের চলা দিয়ে তার মাথায় আঘাত করা হয়, যার ফলে ঘটনাস্থলেই নির্জনার মৃত্যু হয়। হত্যাকাণ্ডের পর বাবা ও মা মিলে মেয়ের লাশ একটি প্লাস্টিকের বস্তায় ভরে এবং ছেঁড়া লুঙ্গি দিয়ে পেঁচিয়ে বাবা মোটরসাইকেলে করে নিরালার প্রান্তিকা আবাসিক এলাকার একটি নিরিবিলি রাস্তায় ফেলে রেখে আসে।
মায়ের জবানবন্দি থেকে জানা যায়, পরিবারের ইচ্ছার বিরুদ্ধে তেরখাদা আজগড়া এলাকায় একটি ছেলের সাথে তার বিয়ে করায় তারা ক্ষুব্ধ ছিল। শ্বশুর বাড়িতে যাওয়ার জন্য ওই দিন সকালে মেয়েটি বাড়ি থেকে বের হয়। পরবর্তীতে তাকে বুঝিয়ে বাড়িতে ফিরে আনা হয়। বিকেলে এঘটনা ঘটে।
গত ৮ জুলাই রাতে ওই স্থান থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় নির্জনার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। সুরতহালকারী পুলিশ কর্মকর্তা এসআই লাভলী পাল জানান, নির্জনার মাথার ডান ও বাম পাশে আঘাতের গভীর ক্ষত ছিল এবং গলায় কালো দাগ পাওয়া গিয়েছিল। মরদেহ উদ্ধারের পর পুলিশ গত শুক্রবার সদর থানায় মামলা দায়ের করে। গত শুক্রবার মহানগর হাকিম ইব্রাহীম খলিল মুহিমের আদালতে নির্জনার মা আরিফা ইয়াসমিন সীমা দায় স্বীকার করে জবানবন্দি প্রদান করেন এবং এরপর তাকে জেলহাজতে পাঠানো হয়।
তদন্তকারী কর্মকর্তাদের ভাষ্যমতে, নিহতের বাবা মো. আলীম হোসেন আকাশ ঘটনার পর থেকেই পলাতক রয়েছেন এবং তাকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত আছে। এর আগে গত বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সংবাদ পেয়ে নির্জনার মা খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে গিয়ে মেয়ের লাশ শনাক্ত করেন। ওই সময় তিনি দাবি করেছিলেন, বাড়ি ছাড়ার আগে তার মেয়ে একটি চিঠি লিখেছিল, যাতে লেখা ছিল—‘আমার কোনো খোঁজখবর তোমরা নিও না’।
এদিকে, বাবা আলীম হোসেন আকাশ পলাতক থাকলেও ফেসবুকের মাধ্যমে তিনি বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াচ্ছেন। তিনি একটি স্ট্যাটাসের মাধ্যমে প্রমাণ করতে চেয়েছেন যে তার মেয়ে স্বেচ্ছায় ঘর থেকে চলে গিয়েছিল এবং এর সপক্ষে একটি চিঠিও প্রকাশ করেন। তবে পুলিশ জানায়, চিঠির সত্যতা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। যেদিন রাতে নির্জনার লাশ পাওয়া যায়, ঠিক সেই সময়েই তার বাবার ফেসবুক আইডি থেকে একটি স্ট্যাটাস দেওয়া হয়, যেখানে লেখা ছিল—‘নিশ্চয়ই আল্লাহর কোনো পরিকল্পনা আছে, সকল কষ্ট এবং দুঃখে আলহামদুলিল্লাহ’।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আলীম হোসেন আকাশের প্রোফাইল ঘেঁটে দেখা যায়, তিনি নিয়মিত টিকটকার হিসেবে সক্রিয় ছিলেন এবং স্ত্রী-সন্তানকে নিয়ে বিভিন্ন টিকটক ভিডিও তৈরি করে ইউটিউব চ্যানেলে আপলোড করতেন। তিনি নিজেকে কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার ও ব্যবসায়ী হিসেবে দাবি করলেও তার পেশার বিষয়টি এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ জাহিদুল হাসান জানান, প্রাথমিক তদন্তে তাদের ধারণা নির্জনার বাবা একজন মাদকাসক্ত। বর্তমানে পলাতক বাবাকে খুঁজে বের করতে পুলিশ বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালাচ্ছে।
এদিকে খুলনায় এমন চাঞ্চল্যকর ঘটনায় জনমনে তৈরি হয়েছে বিভিন্ন প্রশ্ন ও রহস্য। বিশেষ করে বাবা-মায়ের একমাত্র সন্তান হিসেবে কি করে তারা তাদের সন্তানকে হত্যা করতে পারে এমন প্রশ্ন করছেন অনেকে। খুলনায় এমন ঘটনা এই প্রথম বলেও মনে করছেন অনেকে।
টানা কয়েকদিনের অবিরাম বর্ষণ এবং উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের পানিতে সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার ধারারগাঁও-মাইজবাড়ী সড়কের বিভিন্ন অংশ তলিয়ে গেছে। সড়কের একাধিক স্থানে ভাঙন, দেবে যাওয়া ও মাটি সরে যাওয়ার ঘটনায় এলাকার হাজারো মানুষ চরম দুর্ভোগ ও ভোগান্তির মধ্যে পড়েছেন। বিশেষ করে শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, কৃষক, শ্রমজীবী ও ব্যবসায়ীদের চলাচল ব্যাহত হচ্ছে।
জানা যায়, প্রায় দুই কিলোমিটার দীর্ঘ ধারারগাঁও-মাইজবাড়ী সড়কটি এলাকার মানুষের সুনামগঞ্জ শহরের সঙ্গে যোগাযোগের একমাত্র স্থলপথ। এর মধ্যে প্রায় আধা কিলোমিটার এখনো কাঁচা রয়েছে। সম্প্রতি ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের পানির চাপে সড়কের পাঁচটি স্থানে হাঁটু থেকে কোমরসমান পানি জমে গেছে। কোথাও কোথাও পাকা অংশ দেবে গেছে, আবার অনেক স্থানে ভাঙন ও খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, সড়কের বিভিন্ন অংশ পানিতে ডুবে থাকায় মানুষ পায়ে হেঁটে কাদা ও পানি মাড়িয়ে শহরমুখী হচ্ছেন। কেউ কেউ নৌকায় যাতায়াত করছেন। অনেক শিক্ষার্থী বিদ্যালয়ে যেতে পারছে না। সড়কের দুপাশের বাড়িঘরের বারান্দা পর্যন্ত পানি উঠে গেছে।
অবসরপ্রাপ্ত সার্জেন্ট মো. মুনায়েম বলেন, ‘এটি আমাদের এলাকার মানুষের একমাত্র সড়কপথ। বছরে প্রায় ১০ মাস আমরা এই রাস্তা ব্যবহার করি। কিন্তু কয়েকদিনের বৃষ্টিতেই সড়কের উপর হাঁটু থেকে কোমরসমান পানি উঠেছে। অনেক জায়গায় রাস্তা দেবে গেছে ও ভেঙে পড়েছে। ধোপাখালি খাল, নদী এবং আশপাশের বিল ভরাট হয়ে যাওয়ায় পানি দ্রুত নামতে পারছে না। খাল ও জলাধার খনন এবং সড়ক সংস্কার জরুরি।
ধারারগাঁও গ্রামের মরিয়ম বেগম বলেন, ‘রাস্তার উপর পানি থাকায় চলাচল করতে খুব কষ্ট হচ্ছে। বাচ্চারা স্কুলে যেতে পারছে না। চারদিকের পানি এসে ঘরের বারান্দা পর্যন্ত উঠেছে।’
স্থানীয় বাসিন্দা ইদ্রিস আলী বলেন, ‘ধোপাখালি খাল দিয়ে আসা পানি বিল-হাওরে জমে উপচে সড়কের উপর উঠছে। সড়কটি অনেক নিচু হয়ে গেছে। ভাঙনও রয়েছে। আমরা কার্যত পানিবন্দি অবস্থায় আছি।’
আবহাওয়া অধিদপ্তর ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের সাম্প্রতিক তথ্যানুযায়ী, উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় নিম্নাঞ্চলে জলাবদ্ধতা ও স্বল্পমেয়াদি বন্যার ঝুঁকি রয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, শুধু জরুরি সংস্কার নয়, ভবিষ্যতে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় সড়কটির উঁচু করে চলাচলের উপযোগী করে দিতে হবে।