ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপে ১৫৬টি উপজেলায় ভোটগ্রহণ শেষ হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত চলে ভোটগ্রহণ। ভোট গণনা শেষে রাতে নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশ করেন রিটার্নিং কর্মকর্তারা। সারা দেশের প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর থেকে জানা যায়-
ফরিদপুর
উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপে ফরিদপুরের নগরকান্দা ও সালথা উপজেলায় ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। নগরকান্দা উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপ-কমিটির সাবেক সহসম্পাদক কাজী শাহ জামান বাবুল। আনারস প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ৩৭ হাজার ২০৯ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মোটরসাইকেল প্রতীকের প্রার্থী বর্তমান উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মনিরুজ্জামান সরদার পেয়েছেন ২৫ হাজার ২৩৭ ভোট।
অন্যদিকে সালথা উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে বর্তমান চেয়ারম্যান ওয়াদুদ মাতুব্বর বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। আনারস প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ৩৫ হাজার ৫৪৫ ভোট তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী সালথা উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও মোটরসাইকেল প্রতীকের প্রার্থী মো. ওহিদুজ্জামান পেয়েছেন ৫ হাজার ৩৪২ ভোট।
নারায়ণগঞ্জ
উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপে নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলায় ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম। ঘোড়া প্রতীকে তিনি পেয়েছেন এক লাখ ১৫ হাজার ২৫২ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী দোয়াত কলম প্রতীকের প্রার্থী মো. শাহজালাল মিয়া পেয়েছেন ১৩ হাজার ১৩২ ভোট।
বিজয়ী মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম আড়াইহাজার উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সদস্য। তিনি কালাপাহাড়িয়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান। অন্যদিকে তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মো. শাহজালাল মিয়া আড়াইহাজার উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া
দ্বিতীয় ধাপের উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা ও আখাউড়ায় উপজেলায় ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। কসবা উপজেলায় আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের ফুফাতো ভাই ছাইদুর রহমান ও আখাউড়ায় মোগড়া ইউনিয়ন পরিষদের তিনবারের সাবেক চেয়ারম্যান মনির হোসেন বেসরকারিভাবে চেয়ারম্যান নির্বাাচিত হয়েছেন।
ঘোষিত ফলাফল অনুযায়ী, কসবা উপজেলায় ছায়েদুর রহমান স্বপন কাপ-পিরিচ প্রতীকে ৮৬ হাজার ৬৯৮ ভোট পেয়ে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও কুটি ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ছিলেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বর্তমান উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের সাবেক সহকারী একান্ত সচিব রাশেদুল কাউসার ভূইয়া আনারস প্রতীকে পেয়েছেন ৩৯ হাজার ৯৫৯ ভোট।
অন্যদিকে আখাউড়া উপজেলায় মনির হোসেন ঘোড়া প্রতীকে ২৮ হাজার ৩০৯ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি উপজেলা যুবলীগের সাবেক আহ্বায়ক ও মোগড়া ইউনিয়ন পরিষদের তিনবারের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান আনারস প্রতীকে পেয়েছেন ১৪ হাজার ৫৬৩ ভোট।
রাঙামাটি
ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপে রাঙামাটির রাজস্থলী, কাপ্তাই ও বিলাইছড়ি উপজেলায় শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। রাজস্থলী উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি উবাচ মারমা আনারস প্রতীকে ৭ হাজার ৭৫ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মো. রিয়াজ উদ্দীন রানা দোয়াত কলম প্রতীকে পেয়েছেন ২ হাজার ১৮ ভোট।
অন্যদিকে কাপ্তাই উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে উপজেলা যুবলীগের সভাপতি মো. নাছির উদ্দিন দোয়াত কলম প্রতীকে ৭ হাজার ৩৬২ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও সাবেক ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আনোয়ারুল ইসলাম চৌধুরী আনারস প্রতীকে পেয়েছেন ৬ হাজার ৯৭৩ ভোট।
অপরদিকে বিলাইছড়ি উপজেলায় মোট ১৩টি কেন্দ্রের মধ্যে ৫টি হেলিসর্টি ভোটকেন্দ্র রয়েছে। দুর্গম এলাকা হওয়ায় রাত সাড়ে ৯টা পর্যন্ত ফলাফল না আসায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কোনো ফলাফল ঘোষণা করেননি। তবে বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা যায়, পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (জেএসএস) সমর্থিত দোয়াত কলম প্রতীকের বিরোত্তম তঞ্চঙ্গ্যা চেয়ারম্যান পদে বিজয়ী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
লালমনিরহাট
লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ ও আদিতমারী উপজেলায় উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপে ভোটগ্রহণ শেষ হয়েছে। দুই উপজেলায় মধ্যে আদিতমারী উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে ফারুক ইমরুল কায়েস ও কালীগঞ্জ উপজেলায় জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক রাকিবুজ্জামান আহমেদ বিজয়ী হয়েছেন।
রাত সাড়ে ৯টার দিকে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা লুৎফর কবির তাদেরকে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত ঘোষণা করেন।
আদিতমারী উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে ফারুক ইমরুল কায়েস মোটরসাইকেল প্রতীকে পেয়েছেন ৩৩ হাজার ১৩৫ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রফিকুল আলম আনারস প্রতীকে পেয়েছেন ২৯ হাজার ১৮টি ভোট
কালীগঞ্জ উপজেলায় সাবেক সমাজকল্যাণমন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদের ছেলে রাকিবুজ্জামান আহমেদ আনারস প্রতীকে পেয়েছেন ২৪ হাজার ৩০৩ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী তার চাচা উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মাহবুবুজ্জামান আহমেদ ঘোড়া প্রতীকে পেয়েছেন ১৯ হাজার ৩৫০ ভোট।
পিরোজপুর
ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে দ্বিতীয় ধাপে পিরোজপুর জেলার দুই উপজেলায় শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। মঙ্গলবার পিরোজপুরের নেছারাবাদ ও কাউখালী উপজেলার ১৫টি ইউনিয়নের মোট ১২২টি ভোটকেন্দ্রে ইভিএম পদ্ধতিতে এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
কাউখালী উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে মো. আবু সাঈদ মিঞা ও নেছারাবাদ উপজেলায় আব্দুল হক নির্বাচিত হয়েছেন। রাতে নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা সৈয়দ শফিকুল হক বেসরকারিভাবে তাদের বিজয়ী ঘোষণা করেন।
নেছারাবাদ উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে আব্দুল হক আনারস প্রতীকে ৩৮ হাজার ৬১২ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী এস এম মুইদুল ইসলাম মোটরসাইল প্রতীকে পেয়েছেন ৩৫ হাজার ৫২০ ভোট।
অন্যদিকে কাউখালী উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে মো. আবু সাঈদ মিঞা ঘোড়া প্রতীকে ১১ হাজার ২৮৪ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মো. মনিরুজ্জামান তালুকদার পল্টন কাপ-পিরিচ প্রতীকে পেয়েছেন ৬ হাজার ২৯৪ ভোট।
ঝালকাঠি
উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপে ঝালকাঠি সদর ও নলছিটি উপজেলায় ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ঝালকাঠি সদর উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান ও ঝালকাঠি জেলা আওয়ামী লীগ সহ-সভাপতি খান আরিফুর রহমান। আনারস প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ৩৩ হাজার ৯৪৩ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী দোয়াত কলম প্রতীকের প্রার্থী মো. সুলতান খান পেয়েছেন ২৫ হাজার ৯৭১ ভোট।
অন্যদিকে নলছিটি উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মো. সালাউদ্দিন খান সেলিম বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। মোটরসাইকেল প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ২৩ হাজার ৯৩৯ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাবেক মেয়র তছলিম উদ্দিন চৌধুরী আনারস প্রতীকে পেয়েছেন ১৬ হাজার ৭৮৪ ভোট।
বাগেরহাট
উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপে বাগেরহাটে ফকিরহাট, মোল্লাহাট,ও চিতলমারী উপজেলায় ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ফকিরহাট উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন শেখ ওহিদুজ্জামান বাবু। মোটরসাইকেল প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ৪৬ হাজার ৬৫৪ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আনরস প্রতীকের প্রার্থী বর্তমানে উপজেলা চেয়ারম্যান স্বপন দাস পেয়েছেন ২৯ হাজার ৪৩৭ ভোট। এ উপজেলায় ভোট কাস্ট হয়েছে ৬২.৫০ শতাংশ।
চিতলমারী উপজেলার চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হয়েছেন মো. আলমগীর হোসেন সিদ্দিকী। দোয়াত কলম প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ৩৪ হাজার ৮৮৬ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বর্তমান উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও বাগেরহাট জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি অশোক কুমার বড়াল মোটরসাইকেল প্রতীকে পেয়েছেন ২২ হাজার ৭৬৩ ভোট। এ উপজেলায় ভোট কাস্ট হয়েছে ৪৫.৭৫ শতাংশ।
অন্যদিকে মোল্লাহাট উপজেলার চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হয়েছেন বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শাহিনুর আলম ছানা। দোয়াত কলম প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ২৯ হাজার ৯০২ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বর্তমান উপজেলা শেখ নাসির উদ্দীন আনারস প্রতীকে পেয়েছেন ১৯ হাজার ৯৫৪ ভোট। এ উপজেলায় ভোট কাস্ট হয়েছে ৫৩.৭৭ শতাংশ। জেলায় গড় ভোট কাস্টিং হয়েছে ৫৪ শতাংশ।
যশোর
দ্বিতীয় ধাপের উপজেলা নির্বাচনে যশোরের ঝিকরগাছা, শার্শা ও চৌগাছা উপজেলায় ভোটগ্রহণ করা হয়েছে। ভোটগ্রহণ শেষে রাতে বেসরকারিভাবে ফলাফল ঘোষণা করেন উপজেলাগুলোর দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তারা।
চৌগাছা উপজেলা চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হয়েছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা এসএম হাবিবুর রহমান। আনারস প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ৩৩ হাজার ৫৬৫ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ ড. মোস্তানিছুর রহমান পেয়েছেন ২৮ হাজার ৯৮০ ভোট।
নির্বাচনের সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও চৌগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুম্মিতা সাহা রাত সাড়ে ৯টায় এ ফলাফল ঘোষণা করেন।
ঝিকরগাছা উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হয়েছেন বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. মনিরুল ইসলাম। আনারস প্রতীকে মনিরুল ইসলাম পেয়েছেন ৪০ হাজার ৬৪৩ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী সেলিম রেজা ঘোড়া প্রতীকে পেয়েছেন ১৮ হাজার ৪৪৩ ভোট।
অন্যদিকে শার্শা উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে মো. সোহরাব হোসেন দোয়াত কলম প্রতীক নিয়ে ৩৭ হাজার ৫৭০ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মো. অহিদুজ্জামান আনারস প্রতীকে পেয়েছেন ১২ হাজার ২৯১ ভোট।
রাজশাহী
দ্বিতীয় ধাপে রাজশাহীর বাগমারা, দুর্গাপুর ও পুঠিয়া উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বাগমারা উপজেলায় বেসরকারিভাবে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন জাকিরুল ইসলাম সান্টু। তিনি ঘোড়া প্রতীকে পেয়েছেন ৪৭ হাজার ৩২২ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আব্দুর রাজ্জাক সরকার ওরফে আর্ট বাবু পেয়েছেন ৪ হাজার ৩২১ ভোট।
পুঠিয়া উপজেলায় বেসরকারিভাবে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন আবদুস সামাদ মোল্লা। তিনি আনারস প্রতীকে পেয়েছেন ২৬ হাজার ৬৬৫ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আহসানুল হক মাসুদ ঘোড়া প্রতীকে পেয়েছেন ২৩ হাজার ৬৭৯ ভোট।
অন্যদিকে দুর্গাপুর উপজেলায় বেসরকারিভাবে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন শরীফুজ্জামান শরীফ। তিনি মোটরসাইকেল প্রতীকে পেয়েছেন ৪২ হাজার ১১৩ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আব্দুল মজিদ সরদার পেয়েছেন ২৭ হাজার ৩৩২ ভোট।
সাতক্ষীরা
ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপে সাতক্ষীরার আশাশুনি, তালা ও দেবহাটা উপজেলায় ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আশাশুনি উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও বর্তমান উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এবিএম মোস্তাকিম বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি চিংড়ি প্রতীকে পেয়েছেন ৫১ হাজার ৬৬২ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী শাহনেওয়াজ ডালিম ঘোড়া প্রতীকে পেয়েছেন ৫০ হাজার ৭০৭ ভোট।
অপরদিকে সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলা নির্বাচনে মো. আল ফেরদাউস বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি হেলিকপ্টার প্রতীকে ২৬ হাজার ৩৭৭ ভোট পেয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মো. মজিবুর রহমান মোটরসাইকেল প্রতীকে পেয়েছেন ১৭ হাজার ১৫২ ভোট।
এ ছাড়া সাতক্ষীরার তালা উপজেলা নির্বাচনে ঘোষ সনৎ কুমার বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি কাপ পিরিচ প্রতীকে ৪৬ হাজার ৪৫৮ ভোট পেয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী সরদার মশিয়ার চিংড়ি প্রতীকে পেয়েছেন ৩২ হাজার ৪১৩ ভোট।
নেত্রকোনা সদর থানাদিন পৌরসভার ৮ নং ওয়ার্ডের থানার মোড় ব্রিজ সংলগ্ন নাগড়া এলাকায় বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি)-এর ত্রুটিপূর্ণ বৈদ্যুতিক খুঁটির টানার তারে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে একটি অন্তঃসত্ত্বা গাভির মৃত্যু হয়েছে। ঘটনাটি এলাকাজুড়ে চরম উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। নিহত গাভিটির মালিক পিন্টু চৌধুরী জানান, প্রতিদিনের ন্যায় গাভিটিকে ঘাস খাওয়ার জন্য ছেড়ে দেওয়া হয়।
গত শনিবার (৩১ জানুয়ারি) রাতে গাভিটি গোয়ালঘরে ফিরে না আসায়, পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেন। তবে দীর্ঘ সময় অনুসন্ধানের পরও গাভিটির কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। পরবর্তীতে আজ ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ইং তারিখ সকাল আনুমানিক ১১টার দিকে স্থানীয় কয়েকজন পথচারী থানার মোড় ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় একটি গাছের সঙ্গে বাঁধা পিডিবির বিদ্যুৎ খুঁটির টানার তারের সঙ্গে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট অবস্থায় গাভিটিকে মৃত দেখতে পান। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, টানার তারটি একটি গাছের সঙ্গে বাঁধা ছিল এবং সেখানে বিদ্যুৎ প্রবাহিত হচ্ছিল।
এ বিষয়ে পিডিবির একজন কর্মকর্তা জানান, বিদ্যুৎ খুঁটির পিলার থেকে লিকেজ হয়ে টানার তারে বিদ্যুৎ প্রবাহিত হচ্ছিল, যার ফলে এই দুর্ঘটনাটি ঘটে। গাভিটির মালিক আরও জানান, নিহত অন্তঃসত্ত্বা গাভিটির আনুমানিক বাজার মূল্য প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা। এতে তিনি মারাত্মক আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন। ঘটনাটি এলাকাবাসীর মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে।
স্থানীয়দের প্রশ্ন—পিডিবির এই ধরনের অবহেলার কারণে যদি কোনো মানুষ, বিশেষ করে কোনো শিশু প্রাণ হারাত, তবে এর দায়ভার কে নিত? সর্বমহল থেকে দাবি জানানো হয়েছে, পিডিবির সকল ত্রুটিপূর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ বৈদ্যুতিক তার দ্রুত সংস্কার করে জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত গাভির মালিককে যথাযথ ক্ষতিপূরণ দেওয়া হোক।
চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) পরিচালনার দায়িত্ব দুবাইভিত্তিক বিদেশি অপারেটর ‘ডিপি ওয়ার্ল্ড’-কে হস্তান্তরের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে দ্বিতীয় দিনের মতো উত্তাল রয়েছে বন্দর এলাকা। ‘বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ’-এর ডাকে আজ রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৮টা থেকে শুরু হওয়া ৮ ঘণ্টার এই কর্মবিরতির ফলে দেশের প্রধান এই সমুদ্রবন্দরের অপারেশনাল কার্যক্রমে নজিরবিহীন অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। জেটিগুলোতে কনটেইনার ও খোলা পণ্য ওঠানামা বন্ধ থাকার পাশাপাশি বন্দর থেকে পণ্য ডেলিভারি নেওয়ার কার্যক্রমও পুরোপুরি স্থবির হয়ে পড়েছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, ধর্মঘটের কারণে বন্দরের বিভিন্ন জেটিতে জাহাজ থেকে মালামাল খালাসের কাজ বন্ধ রেখেছেন শ্রমিকরা। বন্দরের ভেতরে পণ্য পরিবহনের জন্য নিয়োজিত কোনো কভার্ড ভ্যান, লরি কিংবা ট্রেলার প্রবেশ করতে পারছে না। জেটিগুলোতে কোনো শ্রমিকের দেখা মিলছে না, যার ফলে আমদানিকারক ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। বার্থ অপারেটরদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আজ কোনো জেটিতে কাজ করার জন্য শ্রমিক বুকিং দেওয়া সম্ভব হয়নি, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে জাতীয় সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর।
আন্দোলনের নেতৃত্বে থাকা বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক ও শ্রমিক দল নেতা হুমায়ুন কবির বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে বলেন, শ্রমিক-কর্মচারীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে এই কর্মবিরতি পালন করছেন। এনসিটির মতো একটি লাভজনক টার্মিনাল বিদেশিদের হাতে তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত দেশ ও শ্রমিকদের স্বার্থবিরোধী। তিনি জানান, সংগ্রাম পরিষদের ব্যানারে এই আন্দোলন অব্যাহত থাকবে এবং বিকেলে নতুন কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হতে পারে। তবে আইনি ব্যবস্থার প্রতি শ্রদ্ধা রেখে আজ কোনো ধরনের মিছিল বা প্রকাশ্য সমাবেশ করা হচ্ছে না বলে তিনি উল্লেখ করেন।
এদিকে, শ্রমিকদের এই অনড় অবস্থানের বিপরীতে কঠোর প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। প্রথম দিনের ধর্মঘটের প্রেক্ষাপটে আন্দোলনের সাথে যুক্ত চারজন কর্মকর্তাকে তাৎক্ষণিকভাবে বদলি করা হয়েছে। পাশাপাশি এই কর্মবিরতির ফলে সরকারের কী পরিমাণ রাজস্ব ক্ষতি হচ্ছে, তা নিরূপণে ছয় সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। বন্দর প্রশাসন স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে যে, আদালতের নির্দেশনা ও সরকারি সিদ্ধান্ত অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে পর্যায়ক্রমে আরও কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ (সিএমপি) কর্তৃপক্ষও বিশেষ সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নিয়েছে। শনিবার রাত ১২টা থেকে পরবর্তী এক মাসের জন্য বন্দর ও এর আশপাশের এলাকায় সব ধরনের সভা-সমাবেশ, মিছিল এবং জমায়েত নিষিদ্ধ করে গণবিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে। পুলিশের এই নিষেধাজ্ঞার কারণে আজ আন্দোলনকারীরা বন্দরে কাজের বিরতি দিলেও কোনো প্রকাশ্য মহড়া পরিচালনা করেনি। প্রশাসনের এমন মারমুখী অবস্থানে শ্রমিক মহলে চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে। বিকেলে সংগ্রাম পরিষদের পরবর্তী ঘোষণার ওপরই এখন নির্ভর করছে বন্দরের আগামীর কর্মচঞ্চলতা। মূলত এনসিটি লিজ ইস্যুকে কেন্দ্র করে সরকার ও শ্রমিকদের মধ্যকার এই সংঘাত বড় ধরনের অর্থনৈতিক ঝুঁকির ইঙ্গিত দিচ্ছে।
বাংলাদেশে যে কথা কেউ সাহস করে বলে না, সংসদে গিয়ে সেই সত্য কথাই বলতে চান বলে মন্তব্য করেছেন কিশোরগঞ্জ-৪ (ইটনা-মিঠামইন-অষ্টগ্রাম) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী, দলের চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা ও সাবেক সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমান।
শনিবার বিকেলে মিঠামইন উপজেলার ঘাগড়া ইউনিয়নে বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত এক পথসভায় তিনি এসব কথা বলেন। তফসিল ঘোষণার পর এটি ছিল তাঁর প্রথম আনুষ্ঠানিক নির্বাচনী প্রচারণা।
পথসভায় ফজলুর রহমান বলেন, “সংসদে যাওয়ার অর্থ হলো সত্য কথা বলার একটি বাতি সবসময় জ্বালিয়ে রাখা।” ইটনা-মিঠামইন-অষ্টগ্রামের মানুষ তাঁকে ভোট দিলে তিনি নিজেকে গৌরবান্বিত মনে করবেন বলে উল্লেখ করেন। তিনি আরও বলেন, উত্তরে ধনপুর থেকে দক্ষিণে বাঙালপাড়া পর্যন্ত প্রায় ৬০ কিলোমিটার বিস্তৃত হাওরাঞ্চলকে একটি ‘সোনার সংসার’ হিসেবে গড়ে তুলতে চান।
এর আগে গত ২২ জানুয়ারি ভৈরবে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের জনসভায় যোগ দিতে গিয়ে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন ফজলুর রহমান। সেদিন তাঁকে বাজিতপুরের জহুরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য ২৪ জানুয়ারি রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। অসুস্থতার কারণে তিনি এতদিন নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিতে পারেননি। সুস্থ হয়ে শনিবার ঢাকা থেকে সরাসরি পথসভায় যোগ দেন তিনি।
সভায় বক্তব্যে ফজলুর রহমান সাম্প্রতিক এক বক্তব্যের সমালোচনা করে বলেন, দেশের প্রধান উপদেষ্টা বাংলাদেশকে ‘চোর-বাটপারের দেশ’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন, যা লজ্জাজনক। তিনি বলেন, “ঘরের মালিক যদি নিজের সন্তানদের চোর বলে, সেটা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।”
তিনি ভোটারদের উদ্দেশে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে জামায়াতে ইসলামী প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “জামায়াত কিন্তু দুই নম্বর দল। এই পৃথিবীতে একটি মাত্র মুনাফেকের দল আছে, যারা ইসলামের নাম ব্যবহার করে, তাদের নাম জামায়াত।”
হেফাজতে ইসলামের আমিরের একটি বক্তব্য উদ্ধৃত করে তিনি বলেন, “হেফাজত ইসলামের আমির বলেছেন, কাফের ক্ষমতায় গেলে ইসলাম আবার ফিরে আসতে পারে, কিন্তু জামায়াত ক্ষমতায় গেলে বাংলাদেশে আর ইসলাম ফিরে আসবে না।”
নিজের বয়সের প্রসঙ্গ টেনে ফজলুর রহমান বলেন, তাঁর বয়স এখন ৭৮ বছর। তিনি একজন মুক্তিযোদ্ধা এবং আগামী কয়েক বছরের মধ্যে আর কোনো মুক্তিযোদ্ধার নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ থাকবে না। ভোটাররা চাইলে তাঁর জীবনের শেষ সময়ে একজন মুক্তিযোদ্ধাকে ভোট দিয়ে সম্মানিত করতে পারেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ঘাগড়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি নাজমুল হাসান ভূঞার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় আরও বক্তব্য দেন ফজলুর রহমানের সহধর্মিণী অ্যাডভোকেট উম্মে কুলসুম রেখা, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের আহ্বায়ক মো. ইব্রাহিম, উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি আফতাব উদ্দিন ভূঞা, সাধারণ সম্পাদক মো. আব্দুল্লাহ মিয়া, বিএনপি নেতা আলমগীর সিকদার, উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক জসিম উদ্দিন রুবেল, মিঠামইন বণিক সমিতির সভাপতি শাহীরিল আলম তপন, ঘাগড়া ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব মিয়াসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
রাজধানী ঢাকায় বিচারপ্রার্থী নারীকে ধর্ষণের অভিযোগে এক আইনজীবীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। পরে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। অভিযুক্ত আইনজীবীর নাম মো. শামসুল ইসলাম (৫৫)। তাকে গ্রেফতারের পর আদালতে সোপর্দ করা হয়।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ অনুযায়ী, রাজধানীর বিজয়নগরের মাহতাব সেন্টারের ১৬ তলায় অভিযুক্ত আইনজীবীর নিজস্ব চেম্বারে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী পল্টন মডেল থানায় মামলা দায়ের করেছেন।
মামলার এজাহারে ভুক্তভোগী নারী উল্লেখ করেন, মামলার তারিখ জানার জন্য তিনি চেম্বারে গেলে আইনজীবী প্রথমে তার শরীরে স্পর্শ করে বলেন, “তুমি কি চাও না তোমার মামলাটা দ্রুত শেষ হোক?” এরপর তিনি অফিস থেকে বের হতে চাইলে তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন।
ভুক্তভোগী নারী পেশায় একজন কাপড় ব্যবসায়ী। ব্যবসা সংক্রান্ত মামলায় আগে তাকে জেলে যেতে হয়েছিল। পরে অভিযুক্ত আইনজীবী মো. শামসুল ইসলামের মাধ্যমে গত বছরের ২৪ জুন আদালত থেকে জামিন পান তিনি। এরপর থেকে ওই আইনজীবীর মাধ্যমেই প্রতি মাসে মামলার হাজিরা দিচ্ছিলেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্টন থানার উপ-পরিদর্শক রয়েল হোসেন আদালতে দেওয়া আবেদনে উল্লেখ করেন, চলতি মাসে মামলার হাজিরার তারিখ জানার জন্য কয়েকদিন ধরে ভুক্তভোগী নারী হোয়াটসঅ্যাপে অভিযুক্ত আইনজীবীর সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি বিভিন্ন ব্যস্ততার কথা বলে এড়িয়ে যান।
গত ২৯ জানুয়ারি দুপুর দেড়টার দিকে ভুক্তভোগী নারী আবারও মামলার তারিখ জানতে চাইলে অভিযুক্ত আইনজীবী পরে যোগাযোগ করতে বলেন। একই দিনে রাতে আবার ফোন করলে তাকে বিজয়নগরের মাহতাব সেন্টারের ১৬ তলায় চেম্বারে যেতে বলেন। রাত ৯টার দিকে ভুক্তভোগী নারী সেখানে গেলে দেখেন, আইনজীবী একা বসে ফোনে কথা বলছেন।
মামলার তারিখ জানতে চাইলে তিনি কিছুক্ষণ অপেক্ষা করতে বলেন। একপর্যায়ে অভিযুক্ত আইনজীবী জানান, আগামী ১ ফেব্রুয়ারি মামলার হাজিরা আছে। এরপর ভুক্তভোগী নারী চেম্বার থেকে বের হতে গেলে ধর্ষণ করা হয় বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
এজাহারে আরও বলা হয়, ধর্ষণের পর ঘটনাটি কাউকে না জানাতে অভিযুক্ত আইনজীবী ভুক্তভোগী নারীকে ভয়ভীতি ও হুমকি দেন।
এ বিষয়ে ভুক্তভোগী নারী বলেন, “উনি (শামসুল ইসলাম) ওয়ারীতে আমাদের একই এলাকায় থাকেন। সে কারণে তাকে কাকা বলে ডাকতাম। তার মাধ্যমে আমার ব্যবসা সংক্রান্ত মামলার জামিন করাই। পরে মামলার তারিখ জানাতে টালবাহানা করছিলেন। ওইদিন অফিসে গেলে তিনি জোর করে ধর্ষণ করেন। আমি তার সর্বোচ্চ শাস্তি চাই।”
পল্টন মডেল থানায় মামলা দায়েরের পর শুক্রবার পুলিশ অভিযুক্ত আইনজীবীকে গ্রেফতার করে। পরে তাকে আদালতে হাজির করলে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুর রহমান তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। এ সময় আসামিপক্ষে আইনজীবীরা ওকালতনামা দাখিল করেন। তবে আদালত জামিন শুনানি না করেই তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের (সিএমএম) সংশ্লিষ্ট নারী ও শিশু জিআর শাখা সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
তদন্ত কর্মকর্তা রয়েল হোসেন বলেন, “আসামিকে গ্রেফতার করে নিয়মানুযায়ী আদালতে হাজির করা হয়েছে। আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন। মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে। ভুক্তভোগী নারীকে আদালতের আদেশ অনুযায়ী আলামতসহ ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।”
চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) পরিচালনার দায়িত্ব দুবাইভিত্তিক বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান ‘ডিপি ওয়ার্ল্ড’-এর হাতে হস্তান্তরের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে বন্দর এলাকা। জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের ডাকে আজ শনিবার সকাল ৮টা থেকে শুরু হয়েছে ৮ ঘণ্টার সর্বাত্মক অপারেশনাল ধর্মঘট। লিজ বাতিলের দাবিতে শ্রমিকদের এই অনড় অবস্থানের বিপরীতে বন্দর প্রশাসনও গ্রহণ করেছে অত্যন্ত কঠোর অবস্থান। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে দেশের প্রধান এই সমুদ্রবন্দরে এক ধরণের থমথমে ও উত্তেজনাপূর্ণ পরিবেশ বিরাজ করছে।
পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী, আজ শনিবার সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত বন্দরের সকল অপারেশনাল কার্যক্রম বন্ধ রাখার ডাক দিয়েছেন শ্রমিক নেতারা। কর্মসূচি সফল করতে ভোর থেকেই শ্রমিক দলের নেতাকর্মীরা বন্দরের বিভিন্ন পয়েন্টে অবস্থান নেন। এতে কনটেইনার খালাস ও পণ্য পরিবহনে বড় ধরণের স্থবিরতা তৈরি হয়েছে। উল্লেখ্য যে, গত বৃহস্পতিবার উচ্চ আদালত এনসিটি পরিচালনায় বিদেশি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি সম্পাদনের প্রক্রিয়াকে বৈধ বলে রায় দেওয়ার পর দীর্ঘ তিন মাস ধরে চলা এই আন্দোলন আরও বেগবান হয়েছে। শ্রমিকদের দাবি, এনসিটি বন্দরের একটি অত্যন্ত লাভজনক ও কৌশলগত সম্পদ, যা বিদেশিদের হাতে ছেড়ে দেওয়া হলে জাতীয় স্বার্থ ও দেশীয় শ্রমিকদের কর্মসংস্থান চরম ঝুঁকির মুখে পড়বে।
এদিকে, ধর্মঘট মোকাবিলায় ও বন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রম সচল রাখতে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। বন্দর প্রশাসনের পক্ষ থেকে সকল বিভাগীয় প্রধানকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে কর্মস্থলে অনুপস্থিত বা আন্দোলনে অংশ নেওয়া কর্মকর্তা-কর্মচারীদের তালিকা তৈরি করতে। চট্টগ্রাম বন্দরের পরিচালক (প্রশাসন) মোহাম্মদ ওমর ফারুক সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, উচ্চ আদালতের রায় অমান্য করে কেউ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করলে বা দাপ্তরিক কাজ ফেলে আন্দোলনে যোগ দিলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর বিভাগীয় ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা বন্দর এলাকায় কড়া নজরদারি বজায় রাখছেন।
আন্দোলনরত শ্রমিক নেতা হুমায়ুন কবীর বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে বলেন, "আমরা দেশের সম্পদ রক্ষার স্বার্থেই এই কর্মসূচি পালন করছি। গত তিন মাস ধরে আমরা শান্তিপূর্ণভাবে দাবি জানিয়ে আসছি, কিন্তু আমাদের কথা আমলে নেওয়া হচ্ছে না। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমাদের এই লড়াই চলবে।" আন্দোলন আরও জোরালো করতে আগামীকাল রোববারও (১ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত সকল অপারেশনাল ও দাপ্তরিক কার্যক্রম বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছেন শ্রমিক নেতারা। এই কর্মসূচিতে সংহতি জানিয়েছে শ্রমিক-কর্মচারী ঐক্য পরিষদ (স্কপ), যারা আগামীকাল বন্দর অভিমুখে কালো পতাকা মিছিল ও সমাবেশের ডাক দিয়েছে।
শ্রমিকদের এই অনড় অবস্থান এবং প্রশাসনের মারমুখী মেজাজের ফলে চট্টগ্রাম বন্দরের নিয়মিত কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে আগামীকাল দাপ্তরিক কাজও বন্ধ রাখার আহ্বানে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে বলে ধারণা করছেন ব্যবসায়ীরা। তারা দ্রুত আলোচনার মাধ্যমে সংকট সমাধানের আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য বড় ধরণের আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন না হয়। প্রশাসনের পক্ষ থেকে কাজে ফেরার আহ্বান জানানো হলেও শ্রমিকরা তাদের লিজ বাতিলের এক দফা দাবিতে এখনও অটল রয়েছেন।
নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলায় এক ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন চারজন। আজ শনিবার (৩১ জানুয়ারি) সকাল ৮টার দিকে উপজেলার পাটকাঠি শিবপুর এলাকায় বালুবোঝাই একটি দ্রুতগামী ড্রাম ট্রাক দুটি ব্যাটারিচালিত চার্জার ভ্যানকে চাপা দিলে এই হতাহতের ঘটনা ঘটে। নিহতরা সবাই স্থানীয় এনায়েতপুর ইউনিয়নের নূরপুর গ্রামের বাসিন্দা এবং তারা পেশায় কৃষক ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ছিলেন। এই দুর্ঘটনায় আরও একজন গুরুতর আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
নিহতরা হলেন—নূরপুর গ্রামের সঞ্চু উরাও (৪৮), বিপুল পাহান (২২), বীরেন (৫০) এবং উজ্জ্বল পাহান (২৪)। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় সামন্ত (৩০) নামে এক ভ্যানচালক গুরুতর আহত হয়েছেন, তাকে স্থানীয় হাসপাতালে উন্নত চিকিৎসার জন্য ভর্তি করা হয়েছে। একই গ্রামের এই চারজন মানুষের অকাল মৃত্যুতে নূরপুর গ্রামে এখন শোকের মাতম চলছে।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, শনিবার ভোরে নূরপুর গ্রাম থেকে দুটি চার্জার ভ্যানে কাঁচা হলুদ ও বেগুন বোঝাই করে মহাদেবপুর হাটে যাচ্ছিলেন কয়েকজন কৃষক ও ব্যবসায়ী। ভ্যান দুটি যখন পাটকাঠি শিবপুর এলাকায় পৌঁছায়, তখন বিপরীত দিক থেকে আসা নজিপুরগামী একটি বালুভর্তি ড্রাম ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ভ্যান দুটিকে সজোরে ধাক্কা দিয়ে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই দুই কৃষকের মৃত্যু হয়। স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত উদ্ধার কাজ শুরু করেন এবং আহতদের উদ্ধার করে মহাদেবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়ার পথে আরও দুজনের মৃত্যু ঘটে।
মহাদেবপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ঘাতক ড্রাম ট্রাকটি জব্দ করেছে। তবে দুর্ঘটনার পরপরই ট্রাকের চালক ও হেলপার পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। পুলিশ জানিয়েছে, ঘাতক চালককে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে এবং এ বিষয়ে একটি নিয়মিত মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। নিহতদের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানোর প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। মূলত ঘন কুয়াশা কিংবা বেপরোয়া গতির কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এলাকার উত্তেজিত জনতা ঘাতক চালকের দ্রুত বিচার ও সড়কে নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছেন।
রাজধানীর মুগদা এলাকা থেকে তিন বছর বয়সী এক শিশুকে অপহরণের ঘটনায় মূল হোতা মো. চাঁন মিয়াসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর কারওয়ান বাজার র্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক এম জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী জানান যে, অপহরণের মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে গাইবান্ধা জেলা থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার (২৮ জানুয়ারি) দুপুরে মুগদা হাসপাতালের গেটের বাইরে শিশুটির মা যখন তৃষ্ণা মেটাতে পানি কিনতে গিয়েছিলেন, ঠিক সেই সুযোগে অটোরিকশাচালক চাঁন মিয়া শিশুটিকে নিয়ে সেখান থেকে পালিয়ে যায়।
পরবর্তীতে সন্তানের সন্ধান না পেয়ে শিশুটির মা মুগদা থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। সেই মামলার সূত্র ধরে র্যাব আধুনিক তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান পরিচালনা করে মূল হোতা ও তাঁর তিন সহযোগীকে গ্রেপ্তারের পাশাপাশি গাইবান্ধা থেকে অপহৃত শিশুটিকে উদ্ধার করে। র্যাব জানিয়েছে যে অপহৃত শিশুটিকে ইতোমধ্যে সম্পূর্ণ সুস্থ অবস্থায় পরিবারের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের বিরুদ্ধে বর্তমানে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে।
কক্সবাজারের টেকনাফে এক মর্মান্তিক পারিবারিক সহিংসতার ঘটনায় নামাজরত অবস্থায় শাশুড়িকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে পুত্রবধূর বিরুদ্ধে। শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) বিকেল ৩টার দিকে উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়নের জাহাজপুরা পূর্বপাড়া সংলগ্ন গুচ্ছ গ্রাম এলাকায় এই লোমহর্ষক ঘটনাটি ঘটে। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ ছেনুয়ারা বেগম (২১) নামের ওই পুত্রবধূকে আটক করেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের বিবরণ অনুযায়ী, দিন পাঁচেক আগে পারিবারিক বিষয় নিয়ে শাশুড়ির সঙ্গে মনোমালিন্য হওয়ায় ছেনুয়ারা বাবার বাড়িতে চলে গিয়েছিলেন। গত বৃহস্পতিবার তিনি স্বামীর বাড়িতে ফিরে এসে সবার সঙ্গে স্বাভাবিক আচরণ করলেও নেপথ্যে প্রতিশোধের পরিকল্পনা আঁটছিলেন।
শুক্রবার দুপুরে পরিবারের পুরুষ সদস্যরা জীবিকার তাগিদে সাগরে মাছ ধরতে গেলে বাড়ির পরিবেশ জনশূন্য হয়ে পড়ে। সেই সুযোগে ছেনুয়ারা বেগম তাঁর শাশুড়ি মনোয়ারা বেগমকে নামাজরত অবস্থায় গলায় ধারালো দা দিয়ে আঘাত করে মরণঘাতী জখম করেন। আহত মনোয়ারা বেগমকে মুমূর্ষু অবস্থায় প্রথমে শামলাপুর হাসপাতাল এবং পরবর্তীতে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনার পর অভিযুক্ত পুত্রবধূ রক্তমাখা অস্ত্রটি ঘরের চালে লুকিয়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে এলাকাবাসী তাকে ধরে ফেলে। পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি শাশুড়িকে কুপিয়ে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন।
বাহারছড়া তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ দুর্জয় বিশ্বাস এ প্রসঙ্গে জানান, ‘ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে। আটক আসামি ছেনুয়ারা বেগমকে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য টেকনাফ মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।’ বর্তমানে নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে রাখা হয়েছে এবং এ ঘটনায় টেকনাফ মডেল থানায় আইনি কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। ইবাদতরত অবস্থায় এমন বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পুরো এলাকায় গভীর শোক ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে চলা ‘ডিজিটাল ডিভাইস অ্যান্ড ইনোভেশন এক্সপো’তে বিভিন্ন প্রযুক্তিপণ্য ও স্মার্টফোনের পাশাপাশি দেখা মিলছে আকারে ছোট বৈদ্যুতিক গাড়ির। পরিবেশবান্ধব এবং কম খরচে যাতায়াতের সুযোগ থাকায় ‘ডুয়েন স্যাং হো’ মডেলের বৈদ্যুতিক গাড়িটি এরই মধ্যে দর্শনার্থীদের মধ্যে বেশ কৌতূহল তৈরি করেছে। গত বুধবার এই শুরু হয় এক্সপো। প্রদর্শনীর ইনোভেশন জোনে নিজেদের বিভিন্ন উদ্ভাবন প্রদর্শন করছেন সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। ৪ দিনের এ প্রদর্শনী প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত। আজ শনিবার শেষ হবে এ প্রযুক্তি মেলা। এই প্রদর্শনীতে বিনামূল্যে প্রবেশের সুযোগ থাকলেও অনলাইনে অথবা প্রদর্শনী প্রাঙ্গণে নিবন্ধন করতে হবে।
চীনে তৈরি গাড়িটির বাংলাদেশি পরিবেশক জ্যাজি টেক কানেক্টরের কর্মকর্তারা জানান, আকারে ছোট গাড়িটি টু-ডোর (দুই দরজার) বাহন হলেও এতে অনায়াসেই ৪ জন যাত্রী বসতে পারবেন। শহরের জ্যাম এবং সরু রাস্তায় চলাচলের জন্য গাড়িটি অত্যন্ত উপযোগী। আরামদায়ক ভ্রমণের জন্য গাড়িটিতে ব্যবহার করা হয়েছে ম্যাকফারসন ফ্রন্ট সাসপেনশন এবং পেছনের দিকে কম্পোজিট শক-অ্যাবজরবিং সাসপেনশন। গাড়িটির দাম ধরা হয়েছে ৫ লাখ টাকা। তবে গাড়িটি কিনতে আরও ২ মাস অপেক্ষা করতে হবে।
একবার পূর্ণ চার্জে ৮০ থেকে সর্বোচ্চ ১০০ কিলোমিটার পর্যন্ত পথ পাড়ি দিতে সক্ষম গাড়িটিতে ২০০০ ওয়াট থেকে ৩ হাজার ৬০০ ওয়াটের শক্তিশালী মোটর ব্যবহার করা হয়েছে। ইলেকট্রিক পাওয়ার স্টিয়ারিং থাকায় জ্যামের মধ্যে গাড়িটি সহজে চালানো যায়। ১২ ইঞ্চির ভ্যাকুয়াম টায়ারযুক্ত গাড়িটির চারটি চাকাতেই ব্যবহার করা হয়েছে ডিস্ক ব্রেক এবং ব্রেক অ্যাসিস্ট সিস্টেম।
প্রদর্শনীতে আসা এক দর্শনার্থী জানান, শহরে কম দূরত্বে যাতায়াতের জন্য গাড়িটি বেশ কার্যকর। দাম কম হওয়ায় ছোট পরিবারের জন্য গাড়িটি সাশ্রয়ী সমাধান হতে পারে। আকর্ষণীয় রং ও আকারের পাশাপাশি গাড়িটিতে বেশ কিছু আকর্ষণীয় সুবিধাও রয়েছে।
রাজধানীর উত্তরার হাউস বিল্ডিং এলাকায় যান্ত্রিক ত্রুটির জেরে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় একটি যাত্রীবাহী বাসে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ব্যস্ততম এই এলাকায় ভূঁইয়া পরিবহনের একটি বাসে আগুন লাগে। তবে বাসটি খালি থাকায় এবং ফায়ার সার্ভিসের দ্রুত তৎপরতায় বড় ধরনের কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, উত্তরা হাউস বিল্ডিং এলাকায় বাসটি রাস্তার পাশে পার্কিং করে রাখা ছিল।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকাল সোয়া ৯টার দিকে হঠাৎ বাসটির ইঞ্জিনের দিক থেকে ধোঁয়া বের হতে দেখা যায়। মুহূর্তেই তা আগুনে রূপ নেয়। খবর পেয়ে উত্তরা ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং প্রায় ৪৫ মিনিটের প্রচেষ্টায় সকাল ১০টা ১২ মিনিটে আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনে।
উত্তরা পূর্ব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোর্শেদ আলম বলেন, বাসটি পার্কিং করা থাকলেও সেটির ইঞ্জিনের সুইচ চালু অবস্থায় ছিল। চালক ও তার সহকারী ইঞ্জিন চালু রেখেই পাশের একটি দোকানে চা পান করতে নেমেছিলেন। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, দীর্ঘক্ষণ ইঞ্জিন চালু থাকায় যান্ত্রিক ত্রুটি বা শর্ট সার্কিট থেকে এই আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। অগ্নিকাণ্ডের সময় বাসে কোনো যাত্রী ছিল না এবং চালক-সহকারী নিচে থাকায় তারা অক্ষত আছেন।
ফায়ার সার্ভিসের নিয়ন্ত্রণকক্ষের ডিউটি অফিসার খালেদা ইয়াসমিন জানিয়েছেন, আগুনের খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তাদের টিম ঘটনাস্থলে গিয়ে কাজ শুরু করে। বাসের ভেতরের অংশ আগুনে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হলেও আশেপাশের দোকানপাট বা অন্যান্য যানবাহনে আগুন ছড়িয়ে পড়ার আগেই তা নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে।
দিনের ব্যস্ত সময়ে উত্তরার মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় বাসে আগুনের ঘটনায় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে কিছুক্ষণ যানবাহন চলাচলে ধীরগতি তৈরি হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, আগুনের শিখা বাসের জানালা দিয়ে বের হচ্ছিল এবং কালো ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়েছিল। বর্তমানে ওই এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত বাসটি রাস্তা থেকে সরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যান্ত্রিক ত্রুটি ছাড়াও অন্য কোনো কারণ আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে লোকালয়ে ঘুড়ে বেড়াচ্ছে বনাঞ্চলের বানর। খাবারের সন্ধানে এদিক-ওদিক ছুটাছুটি করছে বানরগুলো। গত ৪/৫ দিন ধরে উপজেলার পোগলদিঘা ইউনিয়নের বয়ড়া বাজার, গাছ বয়ড়া, কোড়ানীপাড়া এলাকাগুলোতে ঘুড়তে দেখা যাচ্ছে এসব বানরদের। বনজঙ্গলে বানরের খাবার তীব্র সংকট দেখা দেয়ায় আশে-পাশের লোকালয়ে ছড়িয়ে পড়ছে এ প্রাণীগুলো।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ৪/৫ দিন ধরে উপজেলার পোগলদিঘা ইউনিয়নের বয়ড়া বাজার ও আশেপাশের গ্রামগুলোতে দেখা মিলছে এসব বানরের। ধারণা করা হচ্ছে শীতের কারণে বনাঞ্চলে ফল ও খাদ্য সংকটের কারণে খাদ্যের সন্ধানে অথবা কলার ট্রাকে করে টাঙ্গাইলের মধুপুর বনাঞ্চল অথবা শেরপুরের বনাঞ্চল থেকে লোকালয়ে চলে আসে বানরগুলো। কখনো ফল গাছে, কখনো বা ঘরের চালে কিংবা বহুতল ভবনের ছাদে সকাল থেকে বিকেল এভাবেই ঘুরে বেড়াচ্ছে বানরগুলো। সুযোগ পেলেই বাসা-বাড়িতে ঢুকে রান্না করা খাবার এবং কাঁচা সবজি ও ফলমূল নিয়ে যাচ্ছে। প্রয়োজনীয় খাবার না পেয়ে বাসা-বাড়িতেও হানা দিচ্ছে তারা। এতে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। আবার কেউ কেউ ডেকে খাবারও দেন। অনেকের রান্নাঘরের সামনে, ছাদে, বাউন্ডারি দেয়ালের ওপর খাদ্যের জন্য বসে থাকতে দেখা যায় বানরদের।
স্থানীয় ইকরামুল হক লালন, আঁখি বেগম বলেন, বানর সারাক্ষণ উৎপাত করে। প্রতিনিয়তই বাসার দেয়ালের ওপর ঘুরে বেড়ায়। ছাদে লাগানো ফল, সবজি খেয়ে ফেলে এবং নষ্ট করে। বাচ্চারা ভয় পেয়ে চিৎকার করে। তবে এদেরও বাঁচাতে হবে, খাদ্যের প্রয়োজনীয়তা অস্বীকার করার সুযোগ নেই।
এ বিষয়ে টাঙ্গাইলের মধুপুর জাতীয় উদ্যানের ফরেস্ট রেঞ্জার মোশারফ হোসেন বলেন, খাবারের সংকটের কারণে বানরগুলো লোকালয়ে যেতে পারে। তবে কোন বনাঞ্চল থেকে গিয়েছে সেটা বলা সম্ভব না। বিষয়টি নিয়ে সরিষাবাড়ী বন কর্মকর্তার সাথে কথা বলে বানরগুলোকে উদ্ধার করে বনে অবমুক্ত করার ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে শেরপুর বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ কর্মকর্তা সুমন সরকার বলেন, খাবারের সংকট হলে বানরগুলো বন ছেড়ে লোকালয়ে চলে যায়। তবে কেউ খাবার না দিলে বানরগুলো আবার বনে ফিরে যাবে। আর তাছাড়া এখান থেকে গিয়ে বানরগুলোকে পাওয়া যাবে না ধরাও যাবে না। তারা এক জায়গায় থাকে না। তাই সবাইকে সচেতন থাকতে হবে ও তাদের খাবার দেওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে।
পাবনা সদর উপজেলার দাপুনিয়া ইউনিয়নের চড়ুইমারী একটি মেহগনি গাছের বাগান থেকে ইমরান হোসেন ওরফে কালু (২২) নামের এক যুবকের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহত কালু দাপুনিয়া ইউনিয়নের খোড়কা উপুরপাড়া গ্রামের ইকরাম হোসেনের ছেলে। গত বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) রাতে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাবনা জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, ইমরান ওরফে কালুসহ কয়েকজন যুবক গত বৃহস্পতিবার রাত আনুমানিক ১০টার দিকে ওই মেহগনি বাগানের ভেতরে মাদক সেবন করছিলেন। মাদক নিয়ে বাগবিতণ্ডার এক পর্যায়ে কালুকে তার সঙ্গে থাকা বন্ধুরা উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করলে তিনি মারা যান। পরে ঘটনাস্থল থেকে অন্য বন্ধুরা পালিয়ে যায় বলে ধারণা করছে পুলিশ ও স্বজনরা।
পাবনা সদর থানার ওসি দুলাল হোসেন জানান, স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। থানায় মামলার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
চট্টগ্রামের পটিয়ায় বাসের ধাক্কায় মোটরসাইকেল আরোহী নাজমুস সাকিব (৩৯) নামের এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। তিনি বাংলাদেশ নৌবাহিনীর চট্টগ্রাম ঈসা খান ঘাঁটির সৈনিক। এ সময় আহত হন ইকরাম হোসেন (২৯) নামের আরেকজন।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্র জানিয়েছে, নিহত নাজমুস সাকিব চট্টগ্রাম নগরের পতেঙ্গা এলাকার মৃত আবু হানিফের ছেলে। নিহত সাকিব ও আহত ইকরাম মোটরসাইকেল নিয়ে ঘুরতে বের হয়েছিল। শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) সকাল ৮টায় পটিয়া বাইপাসের শেয়ানপাড়া এলাকায় একটি যাত্রীবাহী বাস চাপা দিলে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
র্যাবের একটি টহল টিম আহত ইকরামকে উদ্ধার করে পটিয়া হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে পাঠান।
পটিয়া ক্রসিং হাইওয়ে পুলিশের ওসি হারুনুর রশিদ জানান, বাসের ধাক্কায় মোটরসাইকেলের এক আরোহী ঘটনাস্থলে নিহত হয়েছেন। আরেকজন আহত হয়েছেন। তারা দুজনই নৌবাহিনীতে সৈনিক হিসেবে কর্মরত। তারা দুজন মোটরসাইকেল নিয়ে ঘুরতে বের হয়েছিল। মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করা হয়েছে। দুর্ঘটনার পর বাস নিয়ে চালক পালিয়ে গেছে।