ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপে ১৫৬টি উপজেলায় ভোটগ্রহণ শেষ হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত চলে ভোটগ্রহণ। ভোট গণনা শেষে রাতে নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশ করেন রিটার্নিং কর্মকর্তারা। সারা দেশের প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর থেকে জানা যায়-
ফরিদপুর
উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপে ফরিদপুরের নগরকান্দা ও সালথা উপজেলায় ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। নগরকান্দা উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপ-কমিটির সাবেক সহসম্পাদক কাজী শাহ জামান বাবুল। আনারস প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ৩৭ হাজার ২০৯ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মোটরসাইকেল প্রতীকের প্রার্থী বর্তমান উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মনিরুজ্জামান সরদার পেয়েছেন ২৫ হাজার ২৩৭ ভোট।
অন্যদিকে সালথা উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে বর্তমান চেয়ারম্যান ওয়াদুদ মাতুব্বর বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। আনারস প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ৩৫ হাজার ৫৪৫ ভোট তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী সালথা উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও মোটরসাইকেল প্রতীকের প্রার্থী মো. ওহিদুজ্জামান পেয়েছেন ৫ হাজার ৩৪২ ভোট।
নারায়ণগঞ্জ
উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপে নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলায় ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম। ঘোড়া প্রতীকে তিনি পেয়েছেন এক লাখ ১৫ হাজার ২৫২ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী দোয়াত কলম প্রতীকের প্রার্থী মো. শাহজালাল মিয়া পেয়েছেন ১৩ হাজার ১৩২ ভোট।
বিজয়ী মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম আড়াইহাজার উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সদস্য। তিনি কালাপাহাড়িয়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান। অন্যদিকে তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মো. শাহজালাল মিয়া আড়াইহাজার উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া
দ্বিতীয় ধাপের উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা ও আখাউড়ায় উপজেলায় ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। কসবা উপজেলায় আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের ফুফাতো ভাই ছাইদুর রহমান ও আখাউড়ায় মোগড়া ইউনিয়ন পরিষদের তিনবারের সাবেক চেয়ারম্যান মনির হোসেন বেসরকারিভাবে চেয়ারম্যান নির্বাাচিত হয়েছেন।
ঘোষিত ফলাফল অনুযায়ী, কসবা উপজেলায় ছায়েদুর রহমান স্বপন কাপ-পিরিচ প্রতীকে ৮৬ হাজার ৬৯৮ ভোট পেয়ে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও কুটি ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ছিলেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বর্তমান উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের সাবেক সহকারী একান্ত সচিব রাশেদুল কাউসার ভূইয়া আনারস প্রতীকে পেয়েছেন ৩৯ হাজার ৯৫৯ ভোট।
অন্যদিকে আখাউড়া উপজেলায় মনির হোসেন ঘোড়া প্রতীকে ২৮ হাজার ৩০৯ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি উপজেলা যুবলীগের সাবেক আহ্বায়ক ও মোগড়া ইউনিয়ন পরিষদের তিনবারের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান আনারস প্রতীকে পেয়েছেন ১৪ হাজার ৫৬৩ ভোট।
রাঙামাটি
ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপে রাঙামাটির রাজস্থলী, কাপ্তাই ও বিলাইছড়ি উপজেলায় শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। রাজস্থলী উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি উবাচ মারমা আনারস প্রতীকে ৭ হাজার ৭৫ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মো. রিয়াজ উদ্দীন রানা দোয়াত কলম প্রতীকে পেয়েছেন ২ হাজার ১৮ ভোট।
অন্যদিকে কাপ্তাই উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে উপজেলা যুবলীগের সভাপতি মো. নাছির উদ্দিন দোয়াত কলম প্রতীকে ৭ হাজার ৩৬২ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও সাবেক ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আনোয়ারুল ইসলাম চৌধুরী আনারস প্রতীকে পেয়েছেন ৬ হাজার ৯৭৩ ভোট।
অপরদিকে বিলাইছড়ি উপজেলায় মোট ১৩টি কেন্দ্রের মধ্যে ৫টি হেলিসর্টি ভোটকেন্দ্র রয়েছে। দুর্গম এলাকা হওয়ায় রাত সাড়ে ৯টা পর্যন্ত ফলাফল না আসায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কোনো ফলাফল ঘোষণা করেননি। তবে বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা যায়, পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (জেএসএস) সমর্থিত দোয়াত কলম প্রতীকের বিরোত্তম তঞ্চঙ্গ্যা চেয়ারম্যান পদে বিজয়ী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
লালমনিরহাট
লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ ও আদিতমারী উপজেলায় উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপে ভোটগ্রহণ শেষ হয়েছে। দুই উপজেলায় মধ্যে আদিতমারী উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে ফারুক ইমরুল কায়েস ও কালীগঞ্জ উপজেলায় জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক রাকিবুজ্জামান আহমেদ বিজয়ী হয়েছেন।
রাত সাড়ে ৯টার দিকে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা লুৎফর কবির তাদেরকে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত ঘোষণা করেন।
আদিতমারী উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে ফারুক ইমরুল কায়েস মোটরসাইকেল প্রতীকে পেয়েছেন ৩৩ হাজার ১৩৫ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রফিকুল আলম আনারস প্রতীকে পেয়েছেন ২৯ হাজার ১৮টি ভোট
কালীগঞ্জ উপজেলায় সাবেক সমাজকল্যাণমন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদের ছেলে রাকিবুজ্জামান আহমেদ আনারস প্রতীকে পেয়েছেন ২৪ হাজার ৩০৩ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী তার চাচা উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মাহবুবুজ্জামান আহমেদ ঘোড়া প্রতীকে পেয়েছেন ১৯ হাজার ৩৫০ ভোট।
পিরোজপুর
ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে দ্বিতীয় ধাপে পিরোজপুর জেলার দুই উপজেলায় শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। মঙ্গলবার পিরোজপুরের নেছারাবাদ ও কাউখালী উপজেলার ১৫টি ইউনিয়নের মোট ১২২টি ভোটকেন্দ্রে ইভিএম পদ্ধতিতে এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
কাউখালী উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে মো. আবু সাঈদ মিঞা ও নেছারাবাদ উপজেলায় আব্দুল হক নির্বাচিত হয়েছেন। রাতে নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা সৈয়দ শফিকুল হক বেসরকারিভাবে তাদের বিজয়ী ঘোষণা করেন।
নেছারাবাদ উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে আব্দুল হক আনারস প্রতীকে ৩৮ হাজার ৬১২ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী এস এম মুইদুল ইসলাম মোটরসাইল প্রতীকে পেয়েছেন ৩৫ হাজার ৫২০ ভোট।
অন্যদিকে কাউখালী উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে মো. আবু সাঈদ মিঞা ঘোড়া প্রতীকে ১১ হাজার ২৮৪ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মো. মনিরুজ্জামান তালুকদার পল্টন কাপ-পিরিচ প্রতীকে পেয়েছেন ৬ হাজার ২৯৪ ভোট।
ঝালকাঠি
উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপে ঝালকাঠি সদর ও নলছিটি উপজেলায় ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ঝালকাঠি সদর উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান ও ঝালকাঠি জেলা আওয়ামী লীগ সহ-সভাপতি খান আরিফুর রহমান। আনারস প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ৩৩ হাজার ৯৪৩ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী দোয়াত কলম প্রতীকের প্রার্থী মো. সুলতান খান পেয়েছেন ২৫ হাজার ৯৭১ ভোট।
অন্যদিকে নলছিটি উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মো. সালাউদ্দিন খান সেলিম বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। মোটরসাইকেল প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ২৩ হাজার ৯৩৯ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাবেক মেয়র তছলিম উদ্দিন চৌধুরী আনারস প্রতীকে পেয়েছেন ১৬ হাজার ৭৮৪ ভোট।
বাগেরহাট
উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপে বাগেরহাটে ফকিরহাট, মোল্লাহাট,ও চিতলমারী উপজেলায় ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ফকিরহাট উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন শেখ ওহিদুজ্জামান বাবু। মোটরসাইকেল প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ৪৬ হাজার ৬৫৪ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আনরস প্রতীকের প্রার্থী বর্তমানে উপজেলা চেয়ারম্যান স্বপন দাস পেয়েছেন ২৯ হাজার ৪৩৭ ভোট। এ উপজেলায় ভোট কাস্ট হয়েছে ৬২.৫০ শতাংশ।
চিতলমারী উপজেলার চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হয়েছেন মো. আলমগীর হোসেন সিদ্দিকী। দোয়াত কলম প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ৩৪ হাজার ৮৮৬ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বর্তমান উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও বাগেরহাট জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি অশোক কুমার বড়াল মোটরসাইকেল প্রতীকে পেয়েছেন ২২ হাজার ৭৬৩ ভোট। এ উপজেলায় ভোট কাস্ট হয়েছে ৪৫.৭৫ শতাংশ।
অন্যদিকে মোল্লাহাট উপজেলার চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হয়েছেন বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শাহিনুর আলম ছানা। দোয়াত কলম প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ২৯ হাজার ৯০২ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বর্তমান উপজেলা শেখ নাসির উদ্দীন আনারস প্রতীকে পেয়েছেন ১৯ হাজার ৯৫৪ ভোট। এ উপজেলায় ভোট কাস্ট হয়েছে ৫৩.৭৭ শতাংশ। জেলায় গড় ভোট কাস্টিং হয়েছে ৫৪ শতাংশ।
যশোর
দ্বিতীয় ধাপের উপজেলা নির্বাচনে যশোরের ঝিকরগাছা, শার্শা ও চৌগাছা উপজেলায় ভোটগ্রহণ করা হয়েছে। ভোটগ্রহণ শেষে রাতে বেসরকারিভাবে ফলাফল ঘোষণা করেন উপজেলাগুলোর দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তারা।
চৌগাছা উপজেলা চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হয়েছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা এসএম হাবিবুর রহমান। আনারস প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ৩৩ হাজার ৫৬৫ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ ড. মোস্তানিছুর রহমান পেয়েছেন ২৮ হাজার ৯৮০ ভোট।
নির্বাচনের সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও চৌগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুম্মিতা সাহা রাত সাড়ে ৯টায় এ ফলাফল ঘোষণা করেন।
ঝিকরগাছা উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হয়েছেন বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. মনিরুল ইসলাম। আনারস প্রতীকে মনিরুল ইসলাম পেয়েছেন ৪০ হাজার ৬৪৩ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী সেলিম রেজা ঘোড়া প্রতীকে পেয়েছেন ১৮ হাজার ৪৪৩ ভোট।
অন্যদিকে শার্শা উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে মো. সোহরাব হোসেন দোয়াত কলম প্রতীক নিয়ে ৩৭ হাজার ৫৭০ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মো. অহিদুজ্জামান আনারস প্রতীকে পেয়েছেন ১২ হাজার ২৯১ ভোট।
রাজশাহী
দ্বিতীয় ধাপে রাজশাহীর বাগমারা, দুর্গাপুর ও পুঠিয়া উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বাগমারা উপজেলায় বেসরকারিভাবে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন জাকিরুল ইসলাম সান্টু। তিনি ঘোড়া প্রতীকে পেয়েছেন ৪৭ হাজার ৩২২ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আব্দুর রাজ্জাক সরকার ওরফে আর্ট বাবু পেয়েছেন ৪ হাজার ৩২১ ভোট।
পুঠিয়া উপজেলায় বেসরকারিভাবে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন আবদুস সামাদ মোল্লা। তিনি আনারস প্রতীকে পেয়েছেন ২৬ হাজার ৬৬৫ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আহসানুল হক মাসুদ ঘোড়া প্রতীকে পেয়েছেন ২৩ হাজার ৬৭৯ ভোট।
অন্যদিকে দুর্গাপুর উপজেলায় বেসরকারিভাবে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন শরীফুজ্জামান শরীফ। তিনি মোটরসাইকেল প্রতীকে পেয়েছেন ৪২ হাজার ১১৩ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আব্দুল মজিদ সরদার পেয়েছেন ২৭ হাজার ৩৩২ ভোট।
সাতক্ষীরা
ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপে সাতক্ষীরার আশাশুনি, তালা ও দেবহাটা উপজেলায় ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আশাশুনি উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও বর্তমান উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এবিএম মোস্তাকিম বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি চিংড়ি প্রতীকে পেয়েছেন ৫১ হাজার ৬৬২ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী শাহনেওয়াজ ডালিম ঘোড়া প্রতীকে পেয়েছেন ৫০ হাজার ৭০৭ ভোট।
অপরদিকে সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলা নির্বাচনে মো. আল ফেরদাউস বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি হেলিকপ্টার প্রতীকে ২৬ হাজার ৩৭৭ ভোট পেয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মো. মজিবুর রহমান মোটরসাইকেল প্রতীকে পেয়েছেন ১৭ হাজার ১৫২ ভোট।
এ ছাড়া সাতক্ষীরার তালা উপজেলা নির্বাচনে ঘোষ সনৎ কুমার বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি কাপ পিরিচ প্রতীকে ৪৬ হাজার ৪৫৮ ভোট পেয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী সরদার মশিয়ার চিংড়ি প্রতীকে পেয়েছেন ৩২ হাজার ৪১৩ ভোট।
রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে প্রায় ১৮ কেজি স্বর্ণ উদ্ধার করা হয়েছে। শনিবার (২৮ মার্চ) রাতে দুবাই থেকে আসা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট বিজি ৩৪৮-এর কার্গো কম্পার্টমেন্টের শৌচাগারের প্যানেলের ভেতর থেকে ১৫৩টি স্বর্ণের বার উদ্ধার করা হয়। এগুলোর মোট ওজন ১৭ কেজি ৯০১ গ্রাম এবং বাজার মূল্য প্রায় ৩৮ কোটি টাকা।
রোববার (২৯ মার্চ) বিমানবন্দর-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, শনিবার রাত ৯টায় দুবাই থেকে ছেড়ে আসা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটটি ঢাকায় অবতরণ করে। গোপন খবরের ভিত্তিতে বিমানবন্দর গোয়েন্দা ও নিরাপত্তা সংস্থা যৌথভাবে ফ্লাইটে তল্লাশি চালায়। এক পর্যায়ে বিমানের কার্গো হোল্ডের একটি শৌচাগারের প্যানেলের ভেতর থেকে ১৫৩টি স্বর্ণের বার জব্দ করা হয়। এ ঘটনায় জড়িত কাউকে শনাক্ত করা যায়নি।
জানা গেছে, বিমানের শৌচাগারের স্প্যানের ভেতর স্বর্ণ বা কোনো ধাতব জাতীয় বস্তু রাখতে হলে স্ক্রু ড্রাইভার দিয়ে স্প্যানের নাটবল্টু খুলতে হয়।
সংশ্লিষ্ট গোয়েন্দা সংস্থার এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, শৌচারগারের নাটবল্টু খোলা কোনো যাত্রীর পক্ষে সম্ভব নয়। কারণ একজন যাত্রী বিমানবন্দর প্রবেশের সময় নিরাপত্তাসংক্রান্ত বিভিন্ন তল্লাশি করা হয়। এছাড়া বিমানে ওঠার আগে সর্বশেষ তল্লাশিতে তার হাত লাগেজে, শরীরে কোনো আগ্নেয়স্ত্র, দিয়াশলাই, কাঁচি, স্ক্রু ড্রাইভার, নেইল কাটার ও চাকু জাতীয় বস্তু পাওয়া গেলে তা জব্দ করে রাখেন বিমানবন্দর-সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তাকর্মীরা। ফলে যাত্রীর পক্ষে বিমানের টয়েলটের স্প্যান খোলা সম্ভব নয়।
গোয়েন্দা এ কর্মকর্তা আরও জানান, জব্দ করা ১৮ কেজি স্বর্ণ পাচারের সঙ্গে বিমানের কোনো না কোনো কর্মী প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত। এ বিষয়ে সঠিকভাবে তদন্ত হলে শনাক্ত হবে এর নেপথ্যে থাকা চক্র।
এ ব্যাপারে ঢাকা কাস্টম হাউসের জয়েন্ট কমিশনার (জেসি) কামরুল হাসান সমকালকে জানান, বিমানবন্দর গোয়েন্দা সংস্থার যৌথ অভিযানে এসব স্বর্ণবার জব্দ করা হয়েছে। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত জড়িত কোনো ব্যক্তিকে শনাক্ত করা যায়নি।
বিমানবন্দর থানার ওসি মোবারক হোসেন জানান, ৩৮ কোটি টাকার স্বর্ণ জব্দের ঘটনায় থানায় মামলা হলে তদন্তে পাচারের সঙ্গে জড়িত চক্রকে শনাক্ত করা সম্ভব হবে। এখনো কোনো মামলা বা সাধারণ ডায়েরি (জিডি) হয়নি। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কেউ থানায় যোগাযোগও করেননি।
ঢাকা কাস্টম হাউসের অপর এক কর্মকর্তা জানান, জব্দ করা স্বর্ণের বারগুলো নিয়ম অনুযায়ী বিমানবন্দর কাস্টমসের গুদামে জমা রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িতদের শনাক্তে তদন্ত শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো। বিমানবন্দর কর্তৃপকক্ষের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, চোরাচালান প্রতিরোধে নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে।
নওগাঁর বদলগাছীতে ফসলের মাঠ থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় ৩২৫ রাউন্ড থ্রি-নট-থ্রি রাইফেলের গুলি উদ্ধার করেছে পুলিশ। রোববার (২৯ মার্চ) সকালে উপজেলার আধাইপুর ইউনিয়নের দেউলিয়া উত্তরপাড়া গ্রামের পটলের খেত থেকে গুলিগুলো উদ্ধার করা হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জইদুল ইসলাম নামের এক বর্গাচাষি গতকাল রোববার সকালে আনছার চৌধুরীর ওই পটলের জমিতে জাল দেওয়ার জন্য খুঁটি বসাতে যায়। এরপর বর্গাচাষি জইদুল ইসলাম মাটির প্রায় এক ফুট নিচে শক্ত কিছু অনুভব করেন। পরে কোদাল দিয়ে মাটি খুঁড়লে একটি ভাঙা কাঠের বাক্সের ভেতরে পুরোনো বুলেট দেখতে পান।
ঘটনাটি তিনি সঙ্গে সঙ্গে সাবেক ইউপি সদস্য খোরশেদ আলমকে জানান। পরে খোরশেদ আলম ঘটনাস্থলে গিয়ে বিষয়টি থানা পুলিশকে অবহিত করেন। তবে গুলিগুলো কতো আগের এবং কীভাবে সেখানে এসেছে এসব বিষয়ে কেউ কিছু বলতে পারছে না।
খবর পেয়ে বদলগাছী থানার এসআই মোতাহার হোসেন সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পরবর্তীতে থানার ওসি (তদন্ত) নজরুল ইসলাম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং সেখান থেকে ৩২৫ রাউন্ড থ্রি-নট-থ্রি রাইফেলের গুলি উদ্ধার করেন।
বর্গাচাষি জইদুল ইসলাম জানান, তিনি জমিটি বন্ধক নিয়ে চাষাবাদ করেন। সকালে বাঁশের খুঁটি বসানোর সময় মাটির নিচে কাঠের বাক্সে থাকা গুলি দেখতে পান। তার ধারণা, গুলোগুলো অনেক পুরোনো।
সেখানে উপস্থিত বীরমুক্তিযোদ্ধা আক্কাস চৌধুরী, মুক্তিযোদ্ধা আইয়ুব চৌধুরী এবং মুক্তিযোদ্ধা মজিবর রহমান জানান, গুলির ধরণ ও জরাজীর্ণ অবস্থা দেখে ধারণা করা হচ্ছে গুলিগুলো ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময়কার। যুদ্ধ চলাকালীন সময়ে সেখানে হয়তো থেকে গেছিলো গুলিগুলো।
বদলগাছি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি নজরুল ইসলাম জানান, সকালে দেউলিয়া গ্রামের মাঠে কাজ করছিল কয়েকজন কৃষক। এ সময় কোদাল দিয়ে মাঠি খুরতেই গুলি দেখতে পান তারা। পরে থানায় খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ৩২৫ রাউন্ড থ্রি-নট-থ্রি রাইফেলের গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। গুলির ধরণ ও জরাজীর্ণ অবস্থা দেখে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, এগুলো অনেক আগের এবং পুরনো। দীর্ঘসময় মাটির নিচে থাকায় এগুলোতে মরিচা ধরেছে। উদ্ধারকৃত গুলিগুলো বর্তমানে পুলিশি হেফাজতে রয়েছে এবং পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
পরিবার-পরিজনদের সঙ্গে ঈদুল ফিতর উদযাপন ও দীর্ঘদিন ছুটি কাটিয়ে কর্মস্থলে ফিরতে শুরু করছে কর্মব্যস্ত ঘরমুখো মানুষ। এতে ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কে দিয়ে কর্মস্থলে যাওয়ার পথেও বেড়েছে যানবাহনের অতিরিক্ত চাপ। এর মধ্যে গণপরিবহন বাস ছাড়াও বেশিভাগই ছিল খোলা ট্রাক, ব্যক্তিগত প্রাইভেটকার ও মোটরসাইকেল চলাচল।
এনিয়ে উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বার টাঙ্গাইলের যমুনা সেতু দিয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় অর্থাৎ একদিনে ৪২ হাজার ৩৭৪ টি যানবাহন পারাপার হয় এবং টোল আদায় হয় ৩ কোটি ৩১ লাখ ১৫ হাজার ৫০ টাকা।
রোববার (২৯ মার্চ) সকালে যমুনা সেতু সাইট অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ রিযাজ উদ্দিন এ তথ্য জানিয়েছেন।
যমুনা সেতু কর্তৃপক্ষ জানায়, গত শুক্রবার রাত ১২টা থেকে শনিবার রাত ১২টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় অর্থাৎ এক দিনে ৪২ হাজার ৩৭৪টি যানবাহন পারাপার হয় এবং টোল আদায় হয় ৩ কোটি ৩১ লাখ ১৫ হাজার ৫০ টাকা।
এর মধ্যে টাঙ্গাইলের সেতু পূর্ব প্রান্তের উত্তরবঙ্গগামী লেন দিয়ে ১৮ হাজার ৩৬টি যানবাহন পারাপার হয়েছে। এ থেকে টোল আদায় হয়েছে ১ কোটি ৬০ লাখ ২৪ হাজার ৪৫০ টাকা। অপরদিকে সিরাজগঞ্জ সেতু পশ্চিম প্রান্তের ঢাকাগামী লেনে ২৪ হাজার ৩৩৮টি যানবাহন পারাপার হয় এবং টোল আদায় হয়েছে ১ কোটি ৭০ লাখ ৯ হাজার ৬০০ টাকা।
যমুনা সেতু সাইট অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ রিযাজ উদ্দিন বলেন, ‘ঈদের পর কয়েক দিন ধরে কর্মস্থলে যাওয়ার পথেও অতিরিক্ত যানবাহন চাপ বেড়েছে। কিন্তু সেতু পারাপার বা মহাসড়কে কোনো যানজট হয়নি। স্বাভাবিক গতিতেই যান পারাপার হচ্ছে। এ ছাড়া মহাসড়কে যানজট নিরসনে সেতু পূর্ব ও পশ্চিম উভয় অংশে মোটরসাইকেলসহ ৯টি করে ১৮টি টোল বুথ স্থাপন করা হয়েছে।’
রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে পদ্মা নদীতে বাস পড়ে ২৬ জনের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় সামনে এসেছে ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থার ঘাটতি ও ঘাট পরিচালনার বিশৃঙ্খলার চিত্র।
রেলিংবিহীন অরক্ষিত পন্টুন, অ্যাপ্রোচ সড়ক ঢালু ও খানাখন্দে ভরা সংযোগ সড়ক, ফেরিতে আগে উঠতে যানবাহনগুলোর প্রতিযোগিতা এবং অব্যবস্থাপনার কারণে ফেরিঘাটটি মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে। যার কারণে এমন মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
ইতোমধ্যে রাজবাড়ী জেলা প্রশাসক থেকে ৫ সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক ও রাজবাড়ী অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট উছেন মে বলেন, ‘বাস দুর্ঘটনায় এ পর্যন্ত ২৬ জনের মরদেহ উদ্ধার করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এর মধ্যে রাজবাড়ী জেলার ১২টি পরিবারের ১৮ জন রয়েছেন। এ ছাড়া কুষ্টিয়ার চারজন, ঝিনাইদহের একজন, গোপালগঞ্জের একজন, দিনাজপুরের একজন এবং ঢাকার আশুলিয়ার একজন। কোনো পরিবারের মা-ছেলে ও নাতির মৃত্যু হয়েছে, কোনো পরিবারে স্বামী-স্ত্রী, আবার কোনো পরিবারে মা-মেয়ে, মা-ছেলের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘ইতোমধ্যে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিহত ব্যক্তিদের পরিবারপ্রতি তাৎক্ষণিক ২৫ হাজার টাকা করে দেওয়া হচ্ছে। আহত ব্যক্তিদের তালিকা প্রস্তুত হলে ১৫ হাজার টাকা করে দেওয়া হবে।’
এ ছাড়া নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় থেকেও ছয় সদস্যের তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। এই তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. মুহিদুল ইসলাম। কমিটিতে তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে।
গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাথী দাস জানান, গত বুধবার বিকেল সোয়া ৫টার দিকে দৌলতদিয়ার ৩ নম্বর ফেরিঘাটে নদী পাড়ি দেওয়ার অপেক্ষায় থাকা ঢাকাগামী একটি যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পন্টুন থেকে নদীতে পড়ে যায়। বাসটি যাত্রা শুরু করেছিল কুষ্টিয়ার কুমারখালী থেকে।
সরেজমিনে ৩ নম্বর ঘাটে গিয়ে দেখা গেছে, অত্যন্ত পুরোনো আকারে ছোট পন্টুনটি অরক্ষিত অবস্থায় রয়েছে। লোহার রেলিং বা নিরাপত্তাবেষ্টনী নেই। এতে যাত্রী ও যানবাহনকে ফেরিতে ঝুঁকি নিয়ে ওঠানামা করতে হয়। অপর দুটি ঘাটেরও (৪ ও ৭ নম্বর ঘাট) একই চিত্র। ফেরিঘাটের মূল সড়ক থেকে পন্টুন পর্যন্ত সংযোগ (অ্যাপ্রোচ) সড়কগুলো বেশ ঢালু। তিনটি ঘাটেই সড়কগুলো খানাখন্দে ভরা। এতে যাত্রী ও মালামাল নিয়ে যানবাহনগুলোতে ফেরিতে ওঠানামা করতে প্রচণ্ড বেগ পেতে হয়। মাঝে মধ্যে এই সংযোগ সড়কে যানবাহন আটকে যাচ্ছে, কখনো দুর্ঘটনাও ঘটছে।
কুষ্টিয়া থেকে আসা গাজীপুরগামী এমআর পরিবহনের যাত্রী জিয়াউর রহমান বলেন, ‘পন্টুনে কোনো নিরাপত্তাবেষ্টনী বা রেলিং নেই; থাকলে ওই বাসটি নদীতে পড়ে ডুবে যেত না। এত মানুষের প্রাণহানিও হতো না। অথচ এদের কত বাজেট থাকে, এদের গাফিলতিতে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটেছে।
২৫ মার্চ বেলা ১১ টার দিকে দৌলতদিয়া ৭ নম্বর ফোরিঘাটের পন্টুনে আটকে যায় তরমুজ বোঝাই একটি ট্রাক। এতে করে অল্পের জন্য রক্ষা পায় তরমুজসহ ট্রাকে থাকা ৩ জন।
দৌলতদিয়ার ৭ নম্বর ঘাটে আসা ট্রাকচালক হামিদুর রহমান বলেন, ‘ফেরিতে ওঠানামার সড়কগুলো খাড়া ঢালু। লোড নিয়ে ফেরিতে গাড়ি ওঠানামা করতে অনেক সময় ব্রেক কন্ট্রোল (নিয়ন্ত্রণ) করতে সমস্যা হয়। ব্রেক ফেল করলেই দুর্ঘটনার শঙ্কা থাকে। ফেরিগুলোও পুরোনো।’ এগুলোর দিকে কারও নজর নেই। আমরা সব সময় এখান দিয়ে যাওয়ার সময় দুশ্চিন্তায় থাকি।’
সৌহার্দ্য পরিবহনের বাসটি নদীতে পড়ে যাওয়ার পেছনে ঘাট কর্তৃপক্ষের অব্যবস্থাপনা রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। নিয়ম অনুযায়ী, ঘাট পার হতে আসা যানবাহন পন্টুনে ওঠার আগের সড়কে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়াবে। এরপর ঘাটে আসা ফেরি থেকে সব যানবাহন নেমে যাওয়ার পর অপেক্ষায় থাকা যানবাহনগুলো ফেরিতে উঠবে। প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, গত বুধবার বিকেলে হাসনাহেনা নামের ফেরিটি ঘাটে এসে পৌঁছাতেই সংযোগ সড়ক থেকে চলতে শুরু করে বাসটি, যা সরাসরি নদীতে গিয়ে পড়ে।
সৌহার্দ্য পরিবহনের দৌলতদিয়া ঘাট তত্ত্বাবধায়ক মনির হোসেন বলেন, ‘দৌলতদিয়া ফেরিঘাটের জিরো পয়েন্টে অনেক সময় বিআইডব্লিউটিসির তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারীরা দায়িত্বে থাকেন। ঘাটের পরিস্থিতি না বুঝেই অনেক সময় নদী পাড়ি দিতে আসা ঢাকামুখী গাড়িগুলোকে ফেরিঘাটে পাঠিয়ে দেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘বুধবার দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিরা সৌহার্দ্য পরিবহনের বাসটিকেও ৩ নম্বর ঘাটে পাঠিয়ে দেন। ঘাটে এসে তারা দেখেন, একটি ফেরি যানবাহন নিয়ে চলা শুরু করেছে। উপায় না পেয়ে পন্টুনের মাথায় সংযোগ সড়কে পরের ফেরির জন্য অপেক্ষা করতে থাকেন তারা। কিছুক্ষণ পর আরেকটি ছোট ফেরি এসে পন্টুনে ধাক্কা দিয়ে ভেড়ে। সংযোগ সড়ক ঢালু সড়ক হওয়ায় এবং পন্টুনের ধাক্কা খাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে চালক নিয়ন্ত্রণ করতে পারেননি। সরাসরি পন্টুন থেকে নদীতে পড়ে যায় বাসটি।
স্ত্রী-সন্তান হারা রেজাউল করিম অভিযোগ করে বলেন, ‘ফেরি কর্তৃপক্ষের অনেক গাফিলতি আছে। ফেরিতে কতগুলো যানবাহন ধরবে সেটা তারা না দেখেই উপর থেকে বাসটিকে ডেকে নিচে নিয়ে আসে। অথচ বাসটি এসে ফেরির নাগাল পায়নি। তা ছাড়া অ্যাপ্রোচ সড়কের অবস্থা বেহাল। আমি চাই তদন্তসাপেক্ষে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হোক।’
বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন সংস্থার (বিআইডব্লিউটিসি) চেয়ারম্যান মো. সলিম উল্লাহ বলেন, ‘পন্টুনগুলোতে নিরাপত্তার স্বার্থে রেলিংয়ের ব্যবস্থা করা হবে, যেন ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা না ঘটে। যারা ফেরি ও ঘাট ব্যবস্থাপনার সঙ্গে জড়িত, তাদের আধুনিক মানের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে।’ একই সঙ্গে ঘাটের জরাজীর্ণতা দূর করতে দ্রুত সমাধানের কথাও জানান তিনি।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বিআইডব্লিউটিসির চেয়ারম্যান বলেন, ‘সাধারণত গাড়িগুলো পন্টুনে আসার আগে থামে। এরপর সুবিধামতো ফেরিতে উঠে পড়ে। কিন্তু দুর্ঘটনার সময় দেখা গেছে, হাসনাহেনা ফেরিটি প্রস্তুত ছিল না, তার আগেই চালকের ভুলে গাড়িটি পন্টুনে এসেছে। নিয়ম হলো, ফেরিতে থাকা গাড়িগুলো আগে নামবে, এরপর নতুন করে যানবাহন উঠবে।’
বিআইডব্লিউটিসির দৌলতদিয়া কার্যালয়ের সহকারী মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ সালাহ উদ্দিন বলেন,
‘বাসটি ‘ব্রেক ফেল’ করায় দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করছেন।’ তিনি বলেন, ‘ফেরিঘাটের জিরো পয়েন্টে তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারীসহ অন্য কর্মীরা নির্ধারিত দায়িত্ব পালন করে থাকেন। বুধবার দুর্ঘটনার আগে বাসটি ফেরিঘাটে অপেক্ষমাণ ছিল। বাসটি ব্রেক ফেইল করলে চালক নিয়ন্ত্রণ করতে না পারায় পদ্মা নদীতে পড়ে যায়।’
রাজবাড়ী জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের দায়িত্বরত সহকারী কমিশনার হাফিজুর রহমান বলেন, ‘প্রত্যক্ষদর্শী একাধিক বাসযাত্রী এবং স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বাসটিতে ত্রুটি ছিল। যে কারণে চালক বাসটি নিয়ন্ত্রণ করতে পারেননি। এরপরও তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। ইতোমধ্যে তদন্তের কাজ শুরু করেছেন। তদন্তের পর দুর্ঘটনার কারণ নির্ণয় করা সম্ভব হবে।’
রাজবাড়ী ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের উপসহকারী পরিচালক দেওয়ান সোহেল রানা বলেন, ‘এখন আর নিখোঁজের খবর পাওয়া যাচ্ছে না। যদি নিখোঁজের খবর আসে, তাহলে তাৎক্ষণিক অভিযান শুরু করা হবে।’
সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী ও রাজবাড়ী-১ আসনের সংসদ সদস্য আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম বলেন, ‘সরকার এর মধ্যে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিয়েছে এবং ভবিষ্যতে ঘাট ব্যবস্থাপনা উন্নয়নে কার্যকর পরিকল্পনা গ্রহণ করা হচ্ছে।’
নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান জানান, নিহতদের দাফনের জন্য প্রত্যেক পরিবারকে ২৫ হাজার টাকা এবং আহতদের ১৫ হাজার টাকা করে সহায়তা প্রদান করা হবে। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসনের বিষয়েও সরকার কাজ করবে।
তবে এই দুর্ঘটনা শুধু প্রাণহানির নয়, বরং ব্যবস্থাপনার ব্যর্থতা, নিরাপত্তা ঘাটতি এবং দায়িত্বহীনতার এক করুণ প্রতিচ্ছবি হয়ে উঠেছে। স্বজন হারানোর বেদনা আর প্রশাসনিক জবাবদিহির দাবিতে উত্তাল হয়ে উঠে দৌলতদিয়া ফেরিঘাট। পদ্মার বুকে ডুবে যাওয়া একটি বাস যেন উন্মোচন করে দিয়েছে বহুদিনের অব্যবস্থাপনা-যার মাশুল গুণতে হলো যাত্রীদের প্রাণ দিয়ে।
এখন দেখার বিষয়-তদন্ত কমিটির রিপোর্ট কী কেবল ফাইলের ভেতরেই বন্দি থাকবে, নাকি সত্যি বদলাবে দৌলতদিয়া ঘাটের ভাগ্য। তদন্ত কমিটির রিপোর্টের পর আদৌ কী বদলাবে ঘাটের চিত্র, নাকি এই কান্না আর ক্ষোভই হয়ে থাকবে পরবর্তী দুর্ঘটনার পূর্বাভাস হিসেবে।
যশোরে জ্বালানি তেল মজুদ থাকা সত্ত্বেও সরবরাহ বন্ধ রাখার অভিযোগে একটি ফিলিং স্টেশনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। অভিযানে প্রতিষ্ঠানটিকে আর্থিক জরিমানা করা হয়।
রবিবার (২৯ মার্চ) সদর উপজেলার বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে অভিযান চালিয়ে এ কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।
অভিযানের সময় প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের তেলের মজুদ, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং সরবরাহ পরিস্থিতি খতিয়ে দেখা হয়। এ সময় শহরের মনিহার এলাকার যাত্রিক ফিলিং স্টেশন-এ ৮১৫ লিটার পেট্রল মজুদ থাকা সত্ত্বেও বিক্রি বন্ধ রাখার প্রমাণ পাওয়া যায়।
এ ঘটনাকে ভোক্তা অধিকার লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচনা করে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর ৪৫ ধারায় প্রতিষ্ঠানটিকে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
একই অভিযানে করিম, চলন্তিকা, প্রাইম, চয়নিকা, জালালউদ্দিন, আমিন এবং মনিহার এলাকার মনির উদ্দিন ফিলিং স্টেশনেও তদারকি করা হয়। এসব প্রতিষ্ঠানে তেলের মজুদ ও বিক্রয় কার্যক্রম স্বাভাবিক পাওয়া গেলেও সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করা হয়েছে।
অভিযান পরিচালনা করেন সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শামীম হোসাইন।
তিনি জানান, ভোক্তাদের স্বার্থ রক্ষায় এ ধরনের অভিযান নিয়মিত পরিচালনা করা হবে। কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে তেল সরবরাহ বন্ধ রেখে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
৬ বছরেও জোড়া লাগেনি জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার ঝিনাই নদীর ওপর নির্মিত শুয়াকৈর ব্রিজটির দুই প্রান্ত। ২০২০ সালের প্রবল বন্যায় পানির তোড়ে ভেঙে যাওয়ায় ৬ বছরেও জোড়া লাগেনি কামরাবাদ ইউনিয়নের শুয়াকৈর এলাকায় নির্মিত এ ব্রিজটির পিলার ও স্প্যান। ফলে চলাচলের নানা দুর্ভোগ নিয়েই যাতায়াত করছে দুই উপজেলার ১৭ থেকে ২০টি গ্রামের প্রায় লক্ষাধিক মানুষ। বর্ষাকালে নৌকা আর শুষ্ক মৌসুমে এলাকাবাসীর স্বেচ্ছাশ্রমে নির্মিত কাঠের ব্রিজই এখন একমাত্র ভরসা স্থানীয়দের। এ ছাড়া বর্ষা মৌসুমে নৌকায় যাতায়াত করতে গিয়ে নৌকাডুবিতে প্রাণহানির মতোও ঘটনা ঘটেছে। এই দুর্ভোগ লাঘবে অতি দ্রুত ব্রিজটি মেরামতের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
উপজেলা এলজিইডি অফিস সূত্রে জানা যায়, ২০০৩-০৪ অর্থবছরে শুয়াকৈর-হুদুর মোড় এলাকায় ঝিনাই নদীর ওপর নির্মাণ করা হয় ২০০ মিটার দৈর্ঘ্যের ব্রিজটি। প্রায় ২ কোটি টাকায় সেতুটি নির্মাণের কার্যাদেশ পায় এম এইচ এন্টারপ্রাইজ। ২০০৬ সালে ব্রিজটির নির্মাণকাজ শেষ হয়। নির্মাণের ১৪ বছরের মাথায় গত ২০২০ সালের ২১ জুলাই দুপুরে বন্যার পানির তোড়ে ব্রিজটির দুটি পিলারসহ ২০ মিটার দৈর্ঘ্যের দুটি গার্ডার প্রায় এক ফুট ঢেবে যায় এবং ওইদিন রাতেই ব্রিজের মাঝের অংশের ৭ নম্বর পিলার এবং ৬ ও ৭ নম্বর স্প্যানের ৪০ মিটার পানির তোড়ে ভেঙে নদীতে বিলীন হয়ে যায়। সেতুর মাঝামাঝি তিনটি স্প্যানসহ ৬০ মিটার ব্রিজ নদীতে এক রাতেই বিলীন হয়ে যাওয়ায় চরাঞ্চলের মানুষের সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। নদী পারাপারে চরম ভোগান্তির শিকার হতে হয় এ অঞ্চলের মানুষদের। ব্রিজটি নদীতে বিলীন হওয়ায় সাধারন মানুষে দীর্ঘদিনের স্বপ্ন যেন ভেঙে চুরমার হয়ে যায়। বর্তমানে ভেঙে যাওয়া সেতুটির দুপাশের অংশ মূর্তিমান হিসেবে দাড়িয়ে আছে। সেতুটি নদীর গর্ভে বিলীন হয়ে যাওয়া ৬ বছর হলেও দৃশ্যমান কোনো উদ্দ্যোগ নেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের। এতে চরম অনিশ্চিত হতাশা ও চলাচলে দুর্ভোগে পড়েন সরিষাবাড়ী উপজেলার চররৌহা, চরনান্দিনা, বড়বাড়ীয়া, বীর বড়বাড়ীয়া, হেলেঞ্চাবাড়ী, স্বাধীনা বাড়ী, চরহাটবাড়ী, সিধুলী, চুনিয়াপটল, সিংগুরিয়া, ডিগ্রি পাজবাড়ী, খন্দকারবাড়ী, চরছাতারিয়া, আদ্রা, শুয়াকৈর ও পার্শ্ববর্তী মাদারগঞ্জ উপজেলার চর লোটাবর, শ্যামগঞ্জ কালিবাড়ী, সদরাবাড়ী ও রায়েরছড়াসহ চরাঞ্চলের প্রায় ২০ গ্রামের লক্ষাধিক মানুষ।
শুয়াকৈর গ্রামের সামাদ মণ্ডল, আব্দুল মোতালেব, জয়তন বেওয়া, শিক্ষার্থী রবিউল ইসলাম, বরণ মিয়া, সুমাইয়াসহ একাধিক স্থানীয়রা অভিযোগ করে বলেন, ‘আমাদের রাস্তা নেই, যাতায়াত করতে পারছি না। সবাই শুধু আশা দিয়ে যাচ্ছে। কেউ দুর্ভোগ লাঘবে এগিয়ে আসছে না। ব্রিজটি ভাঙার পর থেকে আমাদের আর দুঃখের শেষ নেই। নিম্নমানের কাজ করার কারণেই ব্রিজটি ভেঙে গেছে। নদী পাড়াপারে চরম বাধা হয়ে দাড়িয়েছে এলাকার মানুষের। জনবহুল এ চরাঞ্চলের নারী-পুরুষরা নদী পারাপারে বিকল্প হিসেবে নৌকায় গাদাগাদি করে প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করছে। নৌকায় পারাপারের জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয় নদীর দুই পাড়ে। কৃষক তাদের উৎপাদিত কৃষিপণ্য বাজারে নিয়ে যেতে না পারার কারণে ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এ ছাড়া চরাঞ্চলের স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ারও চরম বিঘ্নতার মুখে পড়তে হচ্ছে। ব্রিজটি নদীর গর্ভে বিলীন হওয়ায় বেকার হয়ে পড়ছে দুই পাড়ের শত শত দরিদ্র রিকশা, ভ্যান ও অটোরিকশা চালকরা। ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে ছোট ছোট ব্যবসায়ীরা।’
এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) গোলাম কিবরিয়া তমাল বলেন, ‘ব্রিজটি সংস্কার করার লক্ষ্যে স্থানীয় সংসদ সদস্য ফরিদুল কবির তালুকদার শামিমের পক্ষ থেকে ও উপজেলা এলজিইডি অফিস থেকে মন্ত্রণালয়ে তালিকা পাঠানো হয়েছে। তালিকাটি স্বাক্ষরিত হয়ে স্থানীয় সরকার অধিদপ্তরের গিয়েছে। ব্রিজটি সংস্কার করার সকল প্রস্তুতি চলমান রয়েছে।
এ বিষয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য ফরিদুল কবির তালুকদার শামিম এমপি বলেন, ‘৬ বছর ধরে ব্রিজটি ভাঙার কারণে মানুষের কষ্টের কথা বিবেচনা করে ইতোমধ্যেই শুয়াকৈর ব্রিজটি পুনর্নির্মাণ বা সংস্কারের বিষয়ে আমার পক্ষ থেকে ও এলজিইডি অফিস থেকে মন্ত্রণালয়ে আবেদন পাঠানো হয়েছে। আশা করি অতি দ্রুত শুয়াকৈরবাসীসহ দুই উপজেলার একাধিক গ্রামের মানুষের দুর্ভোগ শেষ হবে।’
বাগেরহাটের মোংলায় যৌথ বাহিনীর অভিযানে বিপুল পরিমাণ অবৈধ জ্বালানি তেল জব্দ করা হয়েছে। কোস্ট গার্ড ও নৌবাহিনীর সমন্বয়ে পরিচালিত এই অভিযানে প্রায় ১২ হাজার ৬১৩ লিটার তেল উদ্ধার হয়।
রোববার (২৯ মার্চ) মধ্যরাতে মোংলা অয়েল ইনস্টলেশন এলাকায় অবস্থিত যমুনা পেট্রোলিয়াম লিমিটেড-এ এই অভিযান চালানো হয়।
কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কোস্ট গার্ড, নৌবাহিনী, পুলিশ, এনএসআই এবং অতিরিক্ত জেলা প্রশাসনের সমন্বয়ে অভিযান পরিচালিত হয়। তেল সংরক্ষিত তিনটি ট্যাংক পরিমাপ এবং নথিপত্র যাচাই শেষে ১২ হাজার ৬১৩ লিটার অবৈধ তেল শনাক্ত করা হয়, যার বাজারমূল্য প্রায় ১২ লক্ষ ১০ হাজার ৮৫০ টাকা।
অবৈধভাবে মজুতকৃত তেলের বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকের তত্ত্বাবধানে চলমান রয়েছে।
দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারকে স্থিতিশীল রাখার লক্ষ্যে কোস্ট গার্ড ভবিষ্যতেও এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে বলে জানান সাব্বির আলম সুজন
এ ঘটনায় ডিপো ম্যানেজার মো. আল আমিন খানকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। অভিযান চলাকালে তিনি অনুপস্থিত থাকায় দাপ্তরিক নথি ও হিসাব উপস্থাপন করেন অস্থায়ী কম্পিউটার অপারেটর মো. ফারুক হোসাইন।
অন্যদিকে যমুনা অয়েল কোম্পানি লিমিটেড-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আমির মাসুদ জানান, ডিপোর তেলের হিসাবে অসঙ্গতি ধরা পড়ায় সংশ্লিষ্ট ট্যাংকগুলো সিলগালা করা হয়েছে। আল আমিন খানকে সাময়িক বরখাস্ত করে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে এবং বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে।
গাজীপুরের কাপাসিয়া থানার এলাকায় ডাকাতির প্রস্তুতিকালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ৪ জনকে আটক করেছে পুলিশ। গত শনিবার (২৮ মার্চ) গভীর রাতে উপজেলার চাঁদপুর ইউনিয়নের পাপলা চামুরখী মোড় থেকে একটি প্রাইভেটকার, খেলনা অস্ত্র, চাপাতিসহ বিভিন্ন জিনিস উদ্ধার করেছে।
থানার প্রেস রিলিজ মারফত জানা যায়, গত শনিবার (২৮ মার্চ) দিবাগত রাত ২টার দিকে কাপাসিয়া থানার এএসআই নজরুল ইসলামের নেতৃত্বে থানা পুলিশ সদর ইউনিয়নের বলখেলা বাজার এলাকায় টহলরত ছিলেন। ওই সময় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার পরামর্শে পার্শ্ববর্তী টহলরত এসআই মো. মিলন মিয়ার সহযোগিতা কামনা করেন। পরে একযোগে অতর্কিত অভিযান চালিয়ে তারা উল্লিখিত স্থান থেকে ৪ জনকে আটক করতে সক্ষম হয়।
আটককৃতরা হলেন- শেরপুর জেলার ঝিনাইগাতী উপজেলার প্রতাপনগর গ্রামের মানিক মিয়ার পুত্র মো. সাগর (২৪), টাঙ্গাইল জেলার বাসাইল থানার আইসড়া গ্রামের মৃত আ. আজিজ তালুকদারের পুত্র মশিউর রহমান জুয়েল (৩৫), জয়দেবপুর সদরের বরুদা এলাকার মৃত শহীদ জালাল উদ্দিনের পুত্র নওয়াব আলী (৬০), ময়মনসিংহ জেলার নান্দাইল উপজেলার রহিমপুর গ্রামের নুরুল ইসলামের পুত্র মো. সাব্বির (১৫)। তারা সবাই বর্তমানে গাজীপুর সদরের বিভিন্ন স্থানে বসবাস করে।
আটককৃতদের নিকট থেকে একটি পিস্তল সাদৃশ্য খেলনা পিস্তল, একটি শর্টগান সাদৃশ্য খেলনা শর্টগান, একটি চাপাতি, একটি কালো রঙের এক্সারসাইজ স্টিক, একটি মাস্টার চাবি, দুটি অ্যান্ড্রয়েড ও তিনটি মোবাইল ফোন, একটি ধূসর রঙের প্রাইভেট গাড়ি (নম্বর: ঢাকা মেট্রো- গ-১২-৬৪০২. জব্দ করা হয়।
থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. শাহীনুর রহমান জানান, ডাকাতির প্রস্তুতিকালে আটককৃতরা স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে থানায় সাধারণ ডায়রি নং- ১৩৬৫ মোতাবেক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। গতকাল রোববার সকালে তাদের গাজীপুর আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।
নওগাঁর মহাদেবপুরে স্বামীর ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত স্ত্রী আফসানা মিমি (২৮) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয়েছে। গত শুক্রবার (২৭ মার্চ) রাতে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যায়। এ ঘটনায় রাতেই উপজেলার বকাপুর এলাকা থেকে অভিযুক্ত স্বামী সাদ্দাম হোসেন সাগরকে (৩০) আটক করেছে পুলিশ।
আটক সাদ্দাম হোসেন উপজেলা সদর মধ্যবাজার গ্রামের জান মোহাম্মদের ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মহাদেবপুরে মধ্য বাজার এলাকার সাদ্দাম হোসেন তার স্ত্রীকে একটি বাড়িতে ভাড়া থাকতেন। গত ১৬ মার্চ পারিবারিক বিরোধের জের ধরে সাদ্দাম তার স্ত্রীকে ছুরিকাঘাত করেন। পরে গুরুতর জখম অবস্থায় স্থানীয়রা মিমিকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করায়। সেখানে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করান স্বজনরা। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত শুক্রবার রাতে তার মৃত্যু হয়।
এ বিষয়ে মহাদেবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওমর ফারুক বলেন, ‘এ ঘটনায় শুক্রবার রাতেই নিহত গৃহবধূর স্বামী সাদ্দাম হোসেনকে আটক করে থানা হেফাজতে নেওয়া হয়। তাকে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।
গোপালগঞ্জের পাঁচুড়িয়ায় ১৫০০ লিটার পেট্রোল অবৈধভাবে মজুদ করার অপরাধে ‘গঙ্গা মটরস’ নামক একটি প্রতিষ্ঠানকে ৯ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। আজ ২৮ মার্চ শনিবার দুপুর ১২:৩০ ঘটিকায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এই বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফারদিন খান প্রিন্স।
জানা গেছে, পাঁচুড়িয়া বাজারে অবস্থিত গঙ্গা মটরস নামের ওই প্রতিষ্ঠানে জননিরাপত্তা বিঘ্নিত করে এবং অধিক মুনাফার আশায় বিপুল পরিমাণ জ্বালানি তেল মজুদ করে রাখা হয়েছিল। খবর পেয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত সেখানে হানা দেয় এবং অবৈধভাবে রাখা ১৫০০ লিটার পেট্রোল জব্দ করে। আইন অমান্য করে এই বিপুল পরিমাণ তেল মজুদের দায়ে প্রতিষ্ঠানটিকে তাৎক্ষণিকভাবে ৯ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়।
জরিমানা করার পাশাপাশি জনস্বার্থ বিবেচনায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জব্দকৃত পেট্রোল সরকার নির্ধারিত মূল্যে উপস্থিত সাধারণ গ্রাহকদের মাঝে বিক্রির নির্দেশ দেন। এই খবর দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে সেখানে মোটরসাইকেল চালকদের দীর্ঘ লাইন পড়ে যায়। সাধারণ মানুষ সাশ্রয়ী মূল্যে তেল পাওয়ার সুযোগ পেয়ে প্রশাসনের এই পদক্ষেপকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জ্বালানি তেলের কৃত্রিম সংকট রোধ এবং বাজার স্থিতিশীল রাখতে এ ধরনের ঝটিকা অভিযান আগামীতেও অব্যাহত থাকবে। গঙ্গা মটরস মালিক অর্ণব শর্মা (৫৬) জানান তিনি অসুস্থ থাকার কারনে এক সপ্তাহ দোকান খুলতে পারেননি তাই তার দোকানে এ অবিক্রীত পেট্রোল মজুদ রয়েছে। তিনি অসৎ উদ্দেশ্য বা অধিক মুনাফার আশায় মজুদ করেন নি।
তেল পরিবহনের কাজে নিয়োজিত ট্যাংকলরি চালকসহ তিন শ্রমিককে ভ্রাম্যমাণ আদালতে জেল-জরিমানার প্রতিবাদে রংপুর বিভাগের ৮ জেলায় অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্মবিরতি শুরু করেছে শ্রমিক ইউনিয়ন। এতে উত্তরের ৮টি জেলায় জ্বালানি তেল সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে।
জ্বালানি তেল পরিবহনের সময় তিন শ্রমিককে ছয় মাসের কারাদণ্ড ও জরিমানা করার প্রতিবাদে এই অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি শুরু হয়েছে। এতে পার্বতীপুরে রেলহেড অয়েল ডিপো থেকে জ্বালানি তেল সরবরাহসহ সব কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে। পেট্রোল পাম্প মালিকরা শ্রমিকদের কর্মসূচির সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেছেন।
শ্রমিকরা জানিয়েছেন, জ্বালানি তেল নিয়ে নীলফামারীর যাওয়ার পথে তেলবাহী একটি লরির যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেয়। মেরামত করতে গাড়িটি দাড় করিয়ে শ্রমিকরা গাড়ির কেবিন খুলে কাজ করছিলেন। এ সময় নীলফামারী জেলার এনডিসি নিয়াজ ভূঁইয়া রাস্তায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন। তিনি লরি তল্লাশি করে কেবিনে দুটি জারকিনে ১০ লিটার পেট্রোল ও দুই লিটার ডিজেল পান। এ সময় অবৈধভাবে তেল পাচারের অভিযোগে একরামুল হক, চালক শ্রী কৃষ্ণচন্দ্র ও চালকের সহকারী রিফাতকে ছয় মাসের কারাদণ্ডাদেশ দেন। সেই সঙ্গে তিন জনকে মোট এক লাখ টাকা জরিমানা করেন।
এ ঘটনার প্রতিবাদে রবিবার সকাল থেকে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি শুরু করেন শ্রমিকরা। দুপুরে তারা পার্বতীপুর রেলহেড অয়েল ডিপোর সামনে একটি সমাবেশ ও পরে বিক্ষোভ মিছিল করেন।
শ্রমিকরা জানিয়েছেন, সড়কে মহাসড়কে পুলিশি হয়রানি ও অযৌক্তিকভাবে ট্যাংকলরি গাড়ির চালক, ম্যানেজার ও হেলপারকে জেল-জরিমানা করার প্রতিবাদে নিয়াজ ভূঁইয়াকে দ্রুত অপসারণ ও দণ্ডিত শ্রমিকদের নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে এই কর্মসূচি চলছে। দাবি বাস্তবায়ন বা পদক্ষেপ গ্রহণ না করা হলে এই কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।
এ বিষয়ে রংপুর বিভাগীয় ট্যাংকলরি শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি আতাউর রহমান জানান, অবিলম্বে জেল হাজতে পাঠানো শ্রমিকদের মুক্তির পাশাপাশি অভিযুক্ত এনডিসি নিয়াজ ভূঁইয়াকে অপসারণ করা না হলে কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।
এ বিষয়ে রংপুর বিভাগীয় ট্যাংকলরি শ্রমিক ইউনিয়নের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মঞ্জুরুল ইসলাম বলেন, জেল-জরিমানায় হাজতে পাঠানো শ্রমিকদের মুক্তির দাবিতে ধর্মঘট চলছে। আমরা আল্টিমেটাম দিয়েছি শ্রমিক ভাইদের নিঃশর্ত মুক্তি ও ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে এনডিসির অপসারণ না হলে আমাদের ধর্মঘট অব্যাহত থাকবে। আমাদের সঙ্গে পাম্প মালিকরাও একাত্মতা ঘোষণা করেছেন।
নড়াইলে ট্রাকে তেল দিতে না পারায় তানভীর ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজারকে ট্রাকচাপা দিয়ে হত্যার ঘটনায় জেলার সব ফিলিং স্টেশন বন্ধ ঘোষণা করেছে নড়াইল পেট্রোল পাম্প মালিক সমিতি।
রোববার (২৯ মার্চ) দুপুরে দিকে নড়াইল পেট্রোল পাম্প মালিক সমিতির যুগ্ম আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম হিট্রু পাম্প বন্ধ ঘোষনার বিষযটি নিশ্চিত করেছেন। তিনি মুঠো ফোনে বলেন, তুলরামপুরে মেসার্স তানভীর ফিলিং অ্যান্ড গ্যাস স্টেশনের ম্যানেজার নাহিদ সর্দার হত্যার ঘটনায় জেলার ১০টি পাম্প এক দিনের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। সেই সাথে প্রকৃত দোষের অতিদ্রুত আটকের ও দাবি জানান এই নেতা ৷
উলেখ্য, নড়াইলে ট্রাকে তেল দিতে না পারায় এক পেট্রোল পাম্প ম্যানেজারকে ট্রাক চাপা দিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় আরেক জন গুরুত্ব আহত অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছে।
রবিবার ( ২৯ মার্চ) দিবাগত রাত দুইটার দিকে সদর উপজেলার তুলারামপুর ইউনিয়নের তুলারামপুর রেল ব্রিজ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ট্রাক চাপায় নিহত নাহিদ সরদার(৩৩) উপজেলার তুলারামপুর ইউনিয়নের পেড়লী গ্রামের আকরাম সরদারের ছেলে। এবং আহত জিহাদ মোল্যা(২৭) একই ইউনিয়নের চামরুল গ্রামের জহুর আলীর ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নড়াইল সদর উপজেলার যশোর-নড়াইল মহাসড়কের পাশে তুলারামপুরে অবস্থিত মেসার্স তানভীর ফিলিং অ্যান্ড গ্যাস স্টেশনে শনিবার রাত ১২টার দিকে ট্রাকের ডিজেল নিতে আসেন পেড়লী গ্রামের ট্রাক চালক সুজাত মোল্যা। পাম্পে তেল না থাকায় তেল দিতে পারেননি পাম্প ম্যানেজার নাহিদ সরদার। তেল না পেয়ে ট্রাক চালকের সাথে বাগবিতণ্ডা হয়। বাগবিতণ্ডের এক পর্যায়ে ট্রাক চালক সুজাত ম্যানেজারকে ট্রাক চাপা দিয়ে হত্যা করার হুমকি দেন।
পরে রাত দুইটার দিকে মোটরসাইকেল যোগে নিজ গ্রাম পেড়লী যাচ্ছিলেন ম্যানেজার নাহিদ ও কর্মচারী জিহাদ। পাম্প থেকে ১০০ গজ দূরে গেলে পিছন দিয়ে এসে ট্রাক চালক সুজাত তার গাড়ি লক্ষ্য করে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলে পাম্প ম্যানেজার নাহিদ সরদার মারা যান। মারাত্মক আহত অবস্থায় জিহাদ মোল্যাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
তানভীর ফিলিং স্টেশনের সহকারী ম্যানেজার জসীম উদ্দিন বলেন,"গতকাল রাতে সুজাত নামের এক ট্রাকচালক স্টেশনে তেল নিতে আসেন।
এ সময় তেল নেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে ম্যানেজার নাহিদ সরদারের সঙ্গে ট্রাকচালকের বাগ্বিতণ্ডা হয়। তেল না পেয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে চালক প্রকাশ্যে ব্যবস্থাপককে ট্রাকচাপা দিয়ে হত্যার হুমকি দেন। পাম্পের কাজ শেষ করে নাহিদ তার সহযোগীকে নিয়ে যখন বাড়ি যাচ্ছিলেন, তখন পিছন দিয়ে গিয়ে তাকে ট্রাক চাপা দেয়।"
পাম্পের আরেক কর্মচারী সোহান হোসেন জানান, ম্যানেজার নাহিদ যখন মোটরসাইকেল যোগে বাড়ি যাচ্ছিলেন তখন ট্রাক ড্রাইভার ও পাম্প থেকে গাড়ি চালিয়ে তার পিছন দিকে যাচ্ছিলেন। আমাদের মনে সন্দেহ হলে আমরা দ্রুত সামনের দিকে যাই। গিয়ে দেখি তাকে চাপা দিয়ে গাড়ি দ্রুত চলে যাচ্ছে।'
এ ঘটনায় নিহতের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায় স্বজনের হাহাজারি আর শোকোর মাতম। হত্যাকারীকে দ্রুত আটক করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি পরিবারের সদস্যরা। নিহতের নাহিদের ভাই আকতার সরদার বলেন, একই গ্রামে বাড়ি হলে ও হত্যাকারীদের সাথে আমাদের কোনো পূর্ব বিরোধ নেই। পাম্পে তেল নাই। সে কীভাবে দেবে। তেল দিতে না পারায় আমার ভাইকে সুজাত ট্রাক চাপা দিয়ে হত্যা করেছে। আমি এ ঘটনায় সুষ্ঠু বিচার চাই।
এ বিষয়ে জানতে অভিযুক্তের বাড়িতে গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি। এমনকি বাড়িতে তার কোনো পরিবারের সদস্য না থাকায় অভিযুক্তের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। এ বিষয়ে তুলারামপুর হাইওয়ে পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সেকেন্দর আলী মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, আমরা সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থলে যাই৷ সেখানে গিয়ে দেখি নাহিদ নামে একজন মৃত অবস্থায় রাস্তার উপর পড়ে আছে। জিহাদ মোল্যাকে অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে পাঠানো হয়। পাম্প কর্তৃপক্ষের দাবি, পাম্পে তেল না পেয়ে তাকে ট্রাকে চাপা দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি আমরা তদন্ত করে দেখছি। এবং ট্রাক চালক ও ট্রাক আটক করার জন্য আমাদের চেষ্টা অব্যাহত আছে।
যশোরের মণিরামপুরে একটি ধানের আড়ত ও গুদামে অবৈধভাবে মজুত করা প্রায় ৭০০ লিটার জ্বালানি তেল জব্দ করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। শনিবার (২৮ মার্চ) সন্ধ্যায় উপজেলার খেদাপাড়া বাজারে ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাহির দায়ান আমিনের নেতৃত্বে এই অভিযান পরিচালিত হয়।
ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা গেছে, খেদাপাড়া বাজারের জ্বালানি তেল বিক্রেতা তবিবর রহমান ও পাশের ধান ব্যবসায়ী গোবিন্দ দাসের গুদামে প্লাস্টিকের চারটি ড্রামে এই বিপুল পরিমাণ তেল লুকিয়ে রাখা হয়েছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিকালে অভিযান চালানো হলে প্রথমে গোবিন্দের আড়তে ধানের স্তূপের নিচ থেকে এক ড্রাম তেল উদ্ধার করা হয়। পরে স্থানীয়দের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তবিবরের নিজস্ব গুদাম থেকে আরও তিন ড্রাম তেল জব্দ করা হয়। তবে অভিযানের খবর পেয়ে মূল অভিযুক্ত তবিবর রহমান সটকে পড়েন।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাহির দায়ান আমিন জানান, জব্দ করা তেলের মধ্যে ডিজেল, পেট্রল ও অকটেন রয়েছে। প্রাথমিকভাবে পরিমাপ না করা গেলেও ড্রামগুলোর ধারণক্ষমতা অনুযায়ী তেলের পরিমাণ আনুমানিক ৭০০ লিটার। জব্দ করা এই তেল মণিরামপুর বাজারের একটি ফিলিং স্টেশনের মাধ্যমে সরকারি নির্ধারিত মূল্যে বিক্রি করে প্রাপ্ত অর্থ রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দেওয়া হবে।
বাজারের স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, তবিবর রহমান দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ ক্রেতাদের কাছে তেল নেই বলে ফিরিয়ে দিতেন। অথচ তিনি গোপনে ১৮০ থেকে ২০০ টাকা লিটার দরে পেট্রল ও অকটেন বিক্রি করতেন। ধানের আড়তদার গোবিন্দের সাথে সখ্যের সুবাদে তবিবর তার গুদামকে অবৈধ মজুতের নিরাপদ স্থান হিসেবে ব্যবহার করে আসছিলেন। শনিবার সকালে আড়তে ধানের নিচে ড্রাম দেখতে পেয়ে স্থানীয়রাই প্রশাসনকে খবর দেয়।