রোববার, ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
১০ ফাল্গুন ১৪৩২
ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচন

দ্বিতীয় ধাপে নির্বাচিত হলেন যারা

ফাইল ছবি
সারা বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত
সারা বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত : ২২ মে, ২০২৪ ০০:২৭

ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপে ১৫৬টি উপজেলায় ভোটগ্রহণ শেষ হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত চলে ভোটগ্রহণ। ভোট গণনা শেষে রাতে নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশ করেন রিটার্নিং কর্মকর্তারা। সারা দেশের প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর থেকে জানা যায়-

ফরিদপুর

উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপে ফরিদপুরের নগরকান্দা ও সালথা উপজেলায় ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। নগরকান্দা উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপ-কমিটির সাবেক সহসম্পাদক কাজী শাহ জামান বাবুল। আনারস প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ৩৭ হাজার ২০৯ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মোটরসাইকেল প্রতীকের প্রার্থী বর্তমান উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মনিরুজ্জামান সরদার পেয়েছেন ২৫ হাজার ২৩৭ ভোট।

অন্যদিকে সালথা উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে বর্তমান চেয়ারম্যান ওয়াদুদ মাতুব্বর বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। আনারস প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ৩৫ হাজার ৫৪৫ ভোট তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী সালথা উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও মোটরসাইকেল প্রতীকের প্রার্থী মো. ওহিদুজ্জামান পেয়েছেন ৫ হাজার ৩৪২ ভোট।

নারায়ণগঞ্জ

উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপে নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলায় ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম। ঘোড়া প্রতীকে তিনি পেয়েছেন এক লাখ ১৫ হাজার ২৫২ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী দোয়াত কলম প্রতীকের প্রার্থী মো. শাহজালাল মিয়া পেয়েছেন ১৩ হাজার ১৩২ ভোট।

বিজয়ী মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম আড়াইহাজার উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সদস্য। তিনি কালাপাহাড়িয়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান। অন্যদিকে তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মো. শাহজালাল মিয়া আড়াইহাজার উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া

দ্বিতীয় ধাপের উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা ও আখাউড়ায় উপজেলায় ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। কসবা উপজেলায় আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের ফুফাতো ভাই ছাইদুর রহমান ও আখাউড়ায় মোগড়া ইউনিয়ন পরিষদের তিনবারের সাবেক চেয়ারম্যান মনির হোসেন বেসরকারিভাবে চেয়ারম্যান নির্বাাচিত হয়েছেন।

ঘোষিত ফলাফল অনুযায়ী, কসবা উপজেলায় ছায়েদুর রহমান স্বপন কাপ-পিরিচ প্রতীকে ৮৬ হাজার ৬৯৮ ভোট পেয়ে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও কুটি ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ছিলেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বর্তমান উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের সাবেক সহকারী একান্ত সচিব রাশেদুল কাউসার ভূইয়া আনারস প্রতীকে পেয়েছেন ৩৯ হাজার ৯৫৯ ভোট।

অন্যদিকে আখাউড়া উপজেলায় মনির হোসেন ঘোড়া প্রতীকে ২৮ হাজার ৩০৯ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি উপজেলা যুবলীগের সাবেক আহ্বায়ক ও মোগড়া ইউনিয়ন পরিষদের তিনবারের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান আনারস প্রতীকে পেয়েছেন ১৪ হাজার ৫৬৩ ভোট।

রাঙামাটি

ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপে রাঙামাটির রাজস্থলী, কাপ্তাই ও বিলাইছড়ি উপজেলায় শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। রাজস্থলী উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি উবাচ মারমা আনারস প্রতীকে ৭ হাজার ৭৫ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মো. রিয়াজ উদ্দীন রানা দোয়াত কলম প্রতীকে পেয়েছেন ২ হাজার ১৮ ভোট।

অন্যদিকে কাপ্তাই উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে উপজেলা যুবলীগের সভাপতি মো. নাছির উদ্দিন দোয়াত কলম প্রতীকে ৭ হাজার ৩৬২ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও সাবেক ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আনোয়ারুল ইসলাম চৌধুরী আনারস প্রতীকে পেয়েছেন ৬ হাজার ৯৭৩ ভোট।

অপরদিকে বিলাইছড়ি উপজেলায় মোট ১৩টি কেন্দ্রের মধ্যে ৫টি হেলিসর্টি ভোটকেন্দ্র রয়েছে। দুর্গম এলাকা হওয়ায় রাত সাড়ে ৯টা পর্যন্ত ফলাফল না আসায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কোনো ফলাফল ঘোষণা করেননি। তবে বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা যায়, পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (জেএসএস) সমর্থিত দোয়াত কলম প্রতীকের বিরোত্তম তঞ্চঙ্গ্যা চেয়ারম্যান পদে বিজয়ী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

লালমনিরহাট

লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ ও আদিতমারী উপজেলায় উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপে ভোটগ্রহণ শেষ হয়েছে। দুই উপজেলায় মধ্যে আদিতমারী উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে ফারুক ইমরুল কায়েস ও কালীগঞ্জ উপজেলায় জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক রাকিবুজ্জামান আহমেদ বিজয়ী হয়েছেন।

রাত সাড়ে ৯টার দিকে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা লুৎফর কবির তাদেরকে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত ঘোষণা করেন।

আদিতমারী উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে ফারুক ইমরুল কায়েস মোটরসাইকেল প্রতীকে পেয়েছেন ৩৩ হাজার ১৩৫ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রফিকুল আলম আনারস প্রতীকে পেয়েছেন ২৯ হাজার ১৮টি ভোট

কালীগঞ্জ উপজেলায় সাবেক সমাজকল্যাণমন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদের ছেলে রাকিবুজ্জামান আহমেদ আনারস প্রতীকে পেয়েছেন ২৪ হাজার ৩০৩ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী তার চাচা উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মাহবুবুজ্জামান আহমেদ ঘোড়া প্রতীকে পেয়েছেন ১৯ হাজার ৩৫০ ভোট।

পিরোজপুর

ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে দ্বিতীয় ধাপে পিরোজপুর জেলার দুই উপজেলায় শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। মঙ্গলবার পিরোজপুরের নেছারাবাদ ও কাউখালী উপজেলার ১৫টি ইউনিয়নের মোট ১২২টি ভোটকেন্দ্রে ইভিএম পদ্ধতিতে এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।

কাউখালী উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে মো. আবু সাঈদ মিঞা ও নেছারাবাদ উপজেলায় আব্দুল হক নির্বাচিত হয়েছেন। রাতে নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা সৈয়দ শফিকুল হক বেসরকারিভাবে তাদের বিজয়ী ঘোষণা করেন।

নেছারাবাদ উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে আব্দুল হক আনারস প্রতীকে ৩৮ হাজার ৬১২ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী এস এম মুইদুল ইসলাম মোটরসাইল প্রতীকে পেয়েছেন ৩৫ হাজার ৫২০ ভোট।

অন্যদিকে কাউখালী উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে মো. আবু সাঈদ মিঞা ঘোড়া প্রতীকে ১১ হাজার ২৮৪ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মো. মনিরুজ্জামান তালুকদার পল্টন কাপ-পিরিচ প্রতীকে পেয়েছেন ৬ হাজার ২৯৪ ভোট।

ঝালকাঠি

উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপে ঝালকাঠি সদর ও নলছিটি উপজেলায় ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ঝালকাঠি সদর উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান ও ঝালকাঠি জেলা আওয়ামী লীগ সহ-সভাপতি খান আরিফুর রহমান। আনারস প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ৩৩ হাজার ৯৪৩ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী দোয়াত কলম প্রতীকের প্রার্থী মো. সুলতান খান পেয়েছেন ২৫ হাজার ৯৭১ ভোট।

অন্যদিকে নলছিটি উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মো. সালাউদ্দিন খান সেলিম বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। মোটরসাইকেল প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ২৩ হাজার ৯৩৯ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাবেক মেয়র তছলিম উদ্দিন চৌধুরী আনারস প্রতীকে পেয়েছেন ১৬ হাজার ৭৮৪ ভোট।

বাগেরহাট

উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপে বাগেরহাটে ফকিরহাট, মোল্লাহাট,ও চিতলমারী উপজেলায় ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ফকিরহাট উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন শেখ ওহিদুজ্জামান বাবু। মোটরসাইকেল প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ৪৬ হাজার ৬৫৪ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আনরস প্রতীকের প্রার্থী বর্তমানে উপজেলা চেয়ারম্যান স্বপন দাস পেয়েছেন ২৯ হাজার ৪৩৭ ভোট। এ উপজেলায় ভোট কাস্ট হয়েছে ৬২.৫০ শতাংশ।

চিতলমারী উপজেলার চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হয়েছেন মো. আলমগীর হোসেন সিদ্দিকী। দোয়াত কলম প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ৩৪ হাজার ৮৮৬ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বর্তমান উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও বাগেরহাট জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি অশোক কুমার বড়াল মোটরসাইকেল প্রতীকে পেয়েছেন ২২ হাজার ৭৬৩ ভোট। এ উপজেলায় ভোট কাস্ট হয়েছে ৪৫.৭৫ শতাংশ।

অন্যদিকে মোল্লাহাট উপজেলার চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হয়েছেন বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শাহিনুর আলম ছানা। দোয়াত কলম প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ২৯ হাজার ৯০২ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বর্তমান উপজেলা শেখ নাসির উদ্দীন আনারস প্রতীকে পেয়েছেন ১৯ হাজার ৯৫৪ ভোট। এ উপজেলায় ভোট কাস্ট হয়েছে ৫৩.৭৭ শতাংশ। জেলায় গড় ভোট কাস্টিং হয়েছে ৫৪ শতাংশ।

যশোর

দ্বিতীয় ধাপের উপজেলা নির্বাচনে যশোরের ঝিকরগাছা, শার্শা ও চৌগাছা উপজেলায় ভোটগ্রহণ করা হয়েছে। ভোটগ্রহণ শেষে রাতে বেসরকারিভাবে ফলাফল ঘোষণা করেন উপজেলাগুলোর দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তারা।

চৌগাছা উপজেলা চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হয়েছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা এসএম হাবিবুর রহমান। আনারস প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ৩৩ হাজার ৫৬৫ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ ড. মোস্তানিছুর রহমান পেয়েছেন ২৮ হাজার ৯৮০ ভোট।

নির্বাচনের সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও চৌগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুম্মিতা সাহা রাত সাড়ে ৯টায় এ ফলাফল ঘোষণা করেন।

ঝিকরগাছা উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হয়েছেন বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. মনিরুল ইসলাম। আনারস প্রতীকে মনিরুল ইসলাম পেয়েছেন ৪০ হাজার ৬৪৩ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী সেলিম রেজা ঘোড়া প্রতীকে পেয়েছেন ১৮ হাজার ৪৪৩ ভোট।

অন্যদিকে শার্শা উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে মো. সোহরাব হোসেন দোয়াত কলম প্রতীক নিয়ে ৩৭ হাজার ৫৭০ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মো. অহিদুজ্জামান আনারস প্রতীকে পেয়েছেন ১২ হাজার ২৯১ ভোট।

রাজশাহী

দ্বিতীয় ধাপে রাজশাহীর বাগমারা, দুর্গাপুর ও পুঠিয়া উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বাগমারা উপজেলায় বেসরকারিভাবে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন জাকিরুল ইসলাম সান্টু। তিনি ঘোড়া প্রতীকে পেয়েছেন ৪৭ হাজার ৩২২ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আব্দুর রাজ্জাক সরকার ওরফে আর্ট বাবু পেয়েছেন ৪ হাজার ৩২১ ভোট।

পুঠিয়া উপজেলায় বেসরকারিভাবে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন আবদুস সামাদ মোল্লা। তিনি আনারস প্রতীকে পেয়েছেন ২৬ হাজার ৬৬৫ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আহসানুল হক মাসুদ ঘোড়া প্রতীকে পেয়েছেন ২৩ হাজার ৬৭৯ ভোট।

অন্যদিকে দুর্গাপুর উপজেলায় বেসরকারিভাবে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন শরীফুজ্জামান শরীফ। তিনি মোটরসাইকেল প্রতীকে পেয়েছেন ৪২ হাজার ১১৩ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আব্দুল মজিদ সরদার পেয়েছেন ২৭ হাজার ৩৩২ ভোট।

সাতক্ষীরা

ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপে সাতক্ষীরার আশাশুনি, তালা ও দেবহাটা উপজেলায় ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

আশাশুনি উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও বর্তমান উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এবিএম মোস্তাকিম বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি চিংড়ি প্রতীকে পেয়েছেন ৫১ হাজার ৬৬২ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী শাহনেওয়াজ ডালিম ঘোড়া প্রতীকে পেয়েছেন ৫০ হাজার ৭০৭ ভোট।

অপরদিকে সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলা নির্বাচনে মো. আল ফেরদাউস বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি হেলিকপ্টার প্রতীকে ২৬ হাজার ৩৭৭ ভোট পেয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মো. মজিবুর রহমান মোটরসাইকেল প্রতীকে পেয়েছেন ১৭ হাজার ১৫২ ভোট।

এ ছাড়া সাতক্ষীরার তালা উপজেলা নির্বাচনে ঘোষ সনৎ কুমার বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি কাপ পিরিচ প্রতীকে ৪৬ হাজার ৪৫৮ ভোট পেয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী সরদার মশিয়ার চিংড়ি প্রতীকে পেয়েছেন ৩২ হাজার ৪১৩ ভোট।

বিষয়:

পার্বত্য চট্টগ্রাম বিশ্বমানের ইকোট্যুরিজম স্পট হবে: প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম

পার্বত্য চট্টগ্রামকে বিশ্বমানের ইকোট্যুরিজম স্পট হিসেবে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বরোপ করে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন বলেছেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম বাংলাদেশের এক গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল অঞ্চল। এখানে রয়েছে প্রাকৃতিক সম্পদ ও সৌন্দর্যের অপার সম্ভাবনা। সবাইকে সঙ্গে নিয়ে আমরা এই অঞ্চলকে পর্যটকদের জন্য বিশ্বমানের গন্তব্যে পরিণত করব। প্রতিমন্ত্রী বলেন, পাহাড় ও সমতলের মানুষের মধ্যে ‘হারমোনিয়াস’ সহাবস্থান নিশ্চিত করে একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে বর্তমান সরকার বদ্ধপরিকর। আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে পার্বত্য চট্টগ্রামের যোগাযোগ, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও মৌলিক সুবিধা নিশ্চিত করে সেখানে দৃশ্যমান পরিবর্তন আনা হবে।’

হাটহাজারীর স্থানীয় সমস্যা সমাধানে গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, যেকোনো অপরাধের বিরুদ্ধে আমরা সকলে মিলে জিরো টলারেন্স গ্রহণ করেছি। অপরাধের বিরুদ্ধে এক চুল ছাড় দেওয়া হবে না। সরকারি জমি ও খাল বেদখলমুক্ত করতে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, আমি আগে যেমন সাধারণ মানুষ ছিলাম, এখনো তেমনই আছি। হাটহাজারীর সন্তান হিসেবে মানুষের সেবায় কাজ করে যেতে চাই। কৃষকদের সুবিধার্থে খালের নাব্যতা ফিরিয়ে আনা হবে। হাটহাজারী বাসস্ট্যান্ড থেকে চৌধুরীহাট, বড়দিঘীর পাড় ও অক্সিজেন এলাকা পর্যন্ত যানজট কমাতে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয়ে তাৎক্ষণিক ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।

গত শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে হাটহাজারী উপজেলা কার্যালয়ের সভাকক্ষে সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে পরিচিতি ও সমন্বয় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

হাটহাজারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মুমিনের সভাপতিত্বে সমন্বয় সভায় এ সময় উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন ও বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি দপ্তরের কর্মকর্তারা।


রমজানে দইয়ের দাম কমনোয় প্রসংশিত ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ইউসুফ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মুরাদনগর (কুমিল্লা) প্রতিনিধি

আত্মশুদ্ধি ও সংযমের মাস পবিত্র মাহে রমজান। এ মাসে যেখানে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বৃদ্ধি পেয়ে সাধারণ মানুষকে চাপে ফেলে, সেখানে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়ে প্রশংসায় ভাসছেন কুমিল্লার মুরাদনগরের এক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী।

কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার রামচন্দ্রপুর এলাকায় দই ব্যবসায়ী ইউসুফ মিয়া রমজান উপলক্ষে নিজ উদ্যোগে দইয়ের দাম কমিয়ে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। দোকানের সামনে ব্যানার টানিয়ে মূল্যহ্রাসের ঘোষণা দিয়ে তিনি জানান- রমজানজুড়ে কম দামেই বিক্রি করবেন তার উৎপাদিত দই।

রামচন্দ্রপুরে অধ্যাপক আবদুল মজিদ কলেজের সামনে অবস্থিত ‘আল-মামুন দধি দোকান’ এর মালিক ইউসুফ মিয়া সোনাকান্দা গ্রামের জাহাঙ্গীর মিয়ার ছেলে। প্রায় ২৬ বছর ধরে খাঁটি দুধ থেকে তৈরি সুস্বাদু দই বিক্রি করে এলাকায় সুনাম কুড়িয়েছেন তিনি।

রমজানের আগে প্রতি কেজি দইয়ের দাম ছিল ২০০ টাকা। রমজান উপলক্ষে তিনি তা ৩০ টাকা কমিয়ে ১৭০ টাকায় বিক্রি করছেন। ২ কেজি দই ৪০০ টাকার পরিবর্তে ৩৫০ টাকায় এবং প্রতি কাপ দধি ৪০ টাকার বদলে ৩৫ টাকায় বিক্রি করছেন।

দই কিনতে এসে মেহেদি নামে এর ক্রেতা বলেন, ‘আমি নিয়মিত এই দোকান থেকেই দই কিনি। এখানকার দইয়ের স্বাদ ও মান অন্যদের চেয়ে ভালো। রমজানে দাম কমানোয় আমাদের মতো সাধারণ ক্রেতারা উপকৃত হচ্ছি।’

স্থানীয় মাওলানা খলিলুর রহমান বলেন, ‘রমজান মাসে সাধারণত পণ্যের দাম বাড়ে। দুধের দাম বৃদ্ধির পরও ইউসুফ ভাই পুরো রমজান জুড়ে দইয়ের দাম কমিয়ে বিক্রি করছেন- এটি সত্যিই প্রশংসনীয় উদ্যোগ। আল্লাহ তার ব্যবসায় বরকত দিন।’

ব্যবসায়ী ইউসুফ মিয়া জানান, ‘আমি প্রতিবছর রমজানে স্বাভাবিক মূল্যের চেয়ে কম দামে দই বিক্রি করি। আমার চেষ্টা থাকে, যেন এলাকার সব শ্রেণির মানুষ আমার দোকানের দই কিনে খেতে পারেন।’ তিনি সকলের কাছে দোয়া কামনা করেন।

রমজানে যখন অধিক মুনাফার প্রতিযোগিতায় বাজার অস্থির হয়ে ওঠে, তখন একজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীর এমন মানবিক উদ্যোগ স্থানীয়দের মাঝে ইতিবাচক বার্তা ছড়িয়ে দিয়েছে।


নীলফামারীতে আধুনিক ডাকবাংলো নির্মাণের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নীলফামারী প্রতিনিধি

নীলফামারীতে ৪ তলা বিশিষ্ট আধুনিক ডাকবাংলো ভবন নির্মাণ কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছে। রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে সদর উপজেলা ডাকবাংলো প্রাঙ্গণে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামান। এ সময় জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) সাইদুল ইসলাম, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিজ মোবাশ্বিরাসহ আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন।

জেলা পরিষদের অর্থায়নে ২ কোটি ৩০ লাখ ২ হাজার ২৪১ টাকা ব্যয়ে ভবনটি নির্মাণ করা হবে। ৪ তলা বিশিষ্ট এ আধুনিক ডাকবাংলোতে আবাসনসহ অতিথিদের জন্য প্রয়োজনীয় বিভিন্ন আধুনিক সুবিধা রাখা হবে।

ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামান বলেন, সরকারি অতিথি ও আগত সেবাগ্রহীতাদের জন্য মানসম্মত আবাসন সুবিধা নিশ্চিত করতে আধুনিক ডাকবাংলো নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ভবনটি নির্মিত হলে জেলার প্রশাসনিক কার্যক্রম ও অতিথি ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাইদুল ইসলাম জানান, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই কাজ সম্পন্ন করার লক্ষ্যে নির্মাণ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হবে। কাজের গুণগত মান নিশ্চিত করতে নিয়মিত তদারকি করা হবে।


এমপির নেতৃত্বে সাঁথিয়ায় পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
সাঁথিয়া (পাবনা) প্রতিনিধি

‘আমার এলাকা, আমার দায়িত্ব; ক্লিন বাংলাদেশ, গ্রিন বাংলাদেশ’- এই স্লোগানকে সামনে রেখে পাবনার সাঁথিয়া উপজেলাকে একটি আদর্শ ও পরিচ্ছন্ন জনপদ হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে এক বিশেষ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযানের শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে। গত শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) সকালে পাবনা-১ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেন প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এই অভিযানের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। উদ্বোধন শেষে তিনি নিজে ঝাড়ু হাতে নিয়ে পরিষ্কারকরণ কাজে অংশ নেন এবং উপস্থিত সকলকে উৎসাহিত করেন।

উদ্বোধনকালে ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেন বলেন, ‘একটি সবুজ ও বাসযোগ্য সাঁথিয়া গড়ে তোলা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। সরকার পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার বিষয়ে অত্যন্ত সচেতন, তবে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ ছাড়া এটি সফল করা সম্ভব নয়। নিজ নিজ আঙিনা ও এলাকা পরিচ্ছন্ন রাখার মাধ্যমে আমরা একটি রোগমুক্ত ও সুন্দর পরিবেশ উপহার দিতে পারি।’

তিনি আরও বলেন, এই অভিযান কেবল একদিনের জন্য নয়, বরং সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে এটিকে একটি সামাজিক আন্দোলনে রূপ দিতে হবে। এ সময় তিনি সবাইকে যত্রতত্র ময়লা না ফেলে নির্দিষ্ট স্থানে ফেলার আহ্বান জানান।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা, রাজনৈতিক নেতরার এবং বিভিন্ন পর্যায়ের স্বেচ্ছাসেবীরা উপস্থিত ছিলেন। অভিযানের শুরুতে একটি সংক্ষিপ্ত র‍্যালি ও সচেতনতামূলক প্রচারণা চালানো হয়। অনুষ্ঠান শেষে একটি পরিচ্ছন্ন ও সবুজ সাঁথিয়া গড়ার অঙ্গীকার নিয়ে কাজ শুরু করেন সংশ্লিষ্ট কর্মীরা।


খেলার মাঠ ভাড়া দেওয়ায় ওসির অপসারণ দাবিতে বিক্ষোভ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি

মসজিদ উন্নয়নে সিরাজগঞ্জের সলঙ্গায় খেলার মাঠ ভাড়া দেওয়ার অভিযোগে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)-এর অপসারণ দাবিতে বিক্ষোভ করেছেন ক্রীড়াপ্রেমী ও স্থানীয়রা। এ সময় (ওসি) জাফর ইমামের অপসারণ দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দিয়েছেন তারা। গত শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) সিরাজগঞ্জ পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম সানতু বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, বেশিরভাগ সময় মাটি পড়ে থাকে। এ কারণে মাঠের জায়গা নিয়ে কোন চাঁদাবাদজী কেউ করতে না পারে এ জন্য মসজিদ উন্নয়নে মাঠটি ভাড়া দেওয়া হয়েছে। এ নিয়ে যদি কেউ বিক্ষোভ করে আমাদের কোন কিছু করার নেই।

এরআগে, গত শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ৭টার দিকে মিছিলটি সলঙ্গা বাজার প্রদক্ষিণ শেষে থানার প্রধান ফটকে গিয়ে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করেন স্থানীয়রা।

বিক্ষোভকারী ঘুড়কা ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আলাউদ্দিন বলেন, থানার সামনের মাঠটি দুই গ্রামের ছেলেরা দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় তরুণদের খেলাধুলার একমাত্র ভরসা হিসেবে ব্যবহৃত মাঠটি ব্যবসায়ীদের কাছে ভাড়া দেওয়া হয়েছে। এতে স্থানীয় ক্রিড়াপ্রেমীদের খেলা ধুলোয় ব্যাহত হচ্ছে। তারা দাবি করেন, প্রশাসনের নীরব সমর্থনেই এ কার্যক্রম চলছে।

বিক্ষোভে অংশ নেওয়া স্থানীয়রা বলেন, খেলার মাঠ আমাদের অধিকার। এটি কোনো ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয় যে ইচ্ছেমতো ভাড়া দেওয়া হবে। আমরা দ্রুত এ সিদ্ধান্ত বাতিল এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জোড়দাবি জানাই।

সলঙ্গা থানা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি এম দুলাল উদ্দিন বলেন, আগে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা মাঠটি ভাড়া দিতো। বর্তমান থানার মসজিদ উন্নয়নের জন্য ব্যবসায়ীদের নিকট ভাড়া দেওয়ায় স্থানীয়রা বিক্ষোভ করেছে।

সলঙ্গা থানার ওসি ইমাম জাফর বলেন, মাঠটি থানার দখলে থাকা সরকারি সম্পত্তি। সরিষা শুকানোর বিনিময়ে অনেক আগেই ব্যবসায়ীরা থানার মসজিদ উন্নয়ন ফান্ডে কিছু টাকা দিয়ে আসছে। সম্প্রতি কিছু লোক মাঠ ভাড়া বাবদ অবৈধভাবে ব্যবসায়ীদের কাছে টাকা দাবি করেছিল, কিন্তু ব্যবসায়ীরা দেয়নি।

পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম সানতু বলেন, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নকে ঘিরে কেউ যাতে অপপ্রচার বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে না পারে, সে বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক রয়েছে।


ঝালকাঠিতে নতুন এমপিদের সাথে জেলা প্রশাসনের মতবিনিময় সভা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ঝালকাঠি প্রতিনিধি

ঝালকাঠির উন্নয়নে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন নবনির্বাচিত দুই সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম জামাল এবং ইসরাত সুলতানা ইলেন ভুট্টো। রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে ঝালকাঠি-১ আসনের সংসদ রফিকুল ইসলাম জামাল এবং ঝালকাঠি-২ আসনের সংসদ সদস্য ইসরাত সুলতানা ইলেন ভুট্টোর সাথে জেলা প্রশাসন ও সকল সরকারি দপ্তর প্রধানদের পরিচিতি ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ঝালকাঠির জেলা প্রশাসক মো. মমিন উদ্দিন সভায় সভাপতিত্ব করেছেন।

ঝালকাঠি জেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের স্থবিরতা কাটানো এবং জনসেবা নিশ্চিত করার বিষয়ে সভায় বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। এছাড়াও ঝালকাঠির অবহেলিত জনপদের রাস্তাঘাট, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

সরকারি প্রতিটি দপ্তরের কাজে স্বচ্ছতা বজায় রাখা এবং সাধারণ মানুষকে হয়রানিমুক্ত সেবা দেওয়ার নির্দেশনা দেন নবনির্বাচিত দুই সংসদ সদস্য। তারা এ জেলার অভ্যন্তরীণ শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রশাসন ও রাজনৈতিক দলগুলোর সমন্বিত প্রচেষ্টার আহ্বান জানান।

ঝালকাঠির পুলিশ সুপার মিজানুর রহমার চার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা জেলা পর্যায়ের সকল সরকারি দপ্তর প্রধান বিএনপির স্থানীয় শীর্ষ নেতারা এবং বিভিন্ন জাতীয় ও আঞ্চলিক গণমাধ্যম কর্মীরা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম জামাল তার বক্তব্যে বলেন, ‘জনগণ আমাদের ওপর যে আস্থা রেখেছেন, তার প্রতিদান দিতে আমরা বদ্ধপরিকর। দল-মতনির্বিশেষে ঝালকাঠিকে একটি আধুনিক ও বৈষম্যহীন জেলা হিসেবে গড়ে তোলা হবে।’

আরেক সংসদ সদস্য ইসরাত সুলতানা ইলেন ভুট্টো প্রশাসনের কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বলেন, ‘সরকারি সেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে হবে। কোনো প্রকার অনিয়ম বা দুর্নীতি সহ্য করা হবে না।’

সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মো. মমিন উদ্দিন আশ্বস্ত করে বলেন, ‘নতুন সংসদ সদস্যদের দিকনির্দেশনায় জেলা প্রশাসন ঝালকাঠির সকল উন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করে যাবে।’


দলীয় নয়, আমরা জনগণের সরকার গঠন করব: তথ্যমন্ত্রী

আপডেটেড ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ১৭:৩৬
বরিশাল জেলা প্রতিনিধি

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, বর্তমান সরকার কোনো দলীয় রাষ্ট্র বা দলীয় সরকার নয়, বরং জনগণের সত্যিকারের সরকার গঠন করতে বদ্ধপরিকর। আজ রবিবার বিকেলে বরিশালের গৌরনদী উপজেলার কান্ডাপাশা এলাকায় ‘কাপলাতলি খাল’ পুনঃখনন কর্মসূচির উদ্বোধনকালে তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। মন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে রাষ্ট্রের প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে জনবান্ধব করার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করে বলেন, সরকার নির্বাচনী ব্যবস্থাকে এমনভাবে সংস্কার ও শক্তিশালী করবে যাতে তা একটি স্থায়ী প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পায়। এর মাধ্যমে ক্ষমতার পরিবর্তন কেবল জনগণের ভোটের মাধ্যমেই সুনিশ্চিত হবে এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া দীর্ঘস্থায়ী হবে।

প্রশাসনিক ও পুলিশি সংস্কার প্রসঙ্গে মন্ত্রী অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, দেশের আমলাতন্ত্র ও পুলিশ বাহিনীকে এমন এক উন্নত কর্মপরিবেশ তৈরি করে দিতে হবে যেখানে তারা কোনো দলীয় প্রভাবমুক্ত থেকে কেবল জনগণের সেবক হিসেবে নিজেদের দায়িত্ব পালন করতে পারে। অতীতে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো যেভাবে দলীয় স্বার্থে ব্যবহৃত হয়েছে, সেই সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে এসে একটি পেশাদার ও নিরপেক্ষ প্রশাসনিক কাঠামো গড়ে তোলা বর্তমান সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। সরকারি কর্মকর্তাদের নির্ভয়ে অর্পিত দায়িত্ব পালন এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠায় মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের অংশ হিসেবে মন্ত্রী আরো বলেন, কৃষি ও সেচ ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তনের লক্ষ্যে সরকার সারাদেশে প্রায় ২০ হাজার কিলোমিটার খাল পুনঃখননের একটি বিশাল মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এই প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক কেন্দ্রীয় উদ্বোধন খুব শীঘ্রই অনুষ্ঠিত হবে। এরই ধারাবাহিকতায় বরিশাল, ভোলা, ঝালকাঠি ও পিরোজপুর জেলা সেচ উন্নয়ন প্রকল্পের অধীনে গৌরনদীর এই খাল খনন কাজের সূচনা করা হলো। মন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন যে, কেবল খাল খননই নয়, পরিবেশ রক্ষায় বনায়ন কর্মসূচির গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে খননকৃত খালের পাড়ে এবং আশপাশের এলাকায় ব্যাপক হারে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিও জোরদার করা হবে।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, জনগণের দোরগোড়ায় সরকারি সেবা পৌঁছে দিতে এবং সুশাসন নিশ্চিত করতে প্রশাসনের প্রতিটি স্তরকে জবাবদিহিতার আওতায় আনা হচ্ছে। কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং প্রাকৃতিক ভারসাম্য বজায় রাখতেই এই সমন্বিত উন্নয়ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। খাল পুনঃখনন ও বনায়ন কর্মসূচি উদ্বোধনের এই অনুষ্ঠানে স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ এবং বিপুল সংখ্যক সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন। মন্ত্রীর এই উন্নয়নমূলক কর্মসূচির উদ্বোধন স্থানীয় কৃষিজীবী মানুষের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করেছে।


পিরোজপুরে বাজার নিয়ন্ত্রণে কঠোর প্রশাসন: মূল্য তালিকায় কারসাজিতে ৫০ হাজার টাকা জরিমানার নির্দেশ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
পিরোজপুর জেলা প্রতিনিধি

পবিত্র রমজান মাসে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য স্থিতিশীল রাখা, সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং বাজার সিন্ডিকেট ভাঙতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে পিরোজপুর জেলা প্রশাসন। রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০ টায় জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সভায় ব্যবসায়ীদের প্রতি এই হুঁশিয়ারি দেয়া হয়।

‎মত বিনিময়​ সভায় সভাপতিত্ত্ব করেন পিরোজপুরের জেলা প্রশাসক ও বিজ্ঞ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আবু সাঈদ। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, প্রতিটি দোকানে বাধ্যতামূলকভাবে মূল্য তালিকা প্রদর্শন করতে হবে। তালিকার চেয়ে বেশি দাম নিলে বা তালিকা প্রদর্শন না করলে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীকে সর্বনিম্ন ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হবে।

‎​বাজার মনিটরিং ব্যবস্থা জোরদার করতে মাংস ব্যবসায়ীদের জন্য কঠোর নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। এখন থেকে পশু ক্রয়ের মূল রশিদ ব্যবসায়ীদের সংগ্রহে রাখতে হবে এবং মনিটরিং টিম চাইলে তা দেখাতে হবে। এছাড়া স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে পশু জবাই নিশ্চিত করতে প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার উপস্থিতি ও সীল নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

‎​সভায় জেলা প্রশাসক বাজারে কারসাজির কথা স্বীকার করে বলেন, "আমাদের সীমাবদ্ধতার সুযোগ নিয়ে যারা সিন্ডিকেট ও ভেজাল দ্রব্য বিক্রি করছে, তাদের আর ছাড় দেওয়া হবে না। আইনের মধ্যে থেকে ব্যবসা না করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"

‎​ ইফতারে ক্ষতিকারক রং ও রাসায়নিক মেশানো এবং অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে সেমাই তৈরিকারীদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালিত হবে।

‎​রমজানে পণ্যবাহী ট্রাকের চলাচল নিশ্চিত করতে পুলিশ সুপারকে বিশেষ অনুরোধ জানানো হয়েছে।

‎ডিজিটাল মেশিনে ওজন কারচুপি রোধে ইউনিয়ন পর্যায়ে মাইকিং ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালানো হবে।

‎​সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মোঃ মাজহারুল ইসলাম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (উন্নয়ন) মাহমুদুর রহমান মামুন, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট তানজিলা কবির ত্রপা এবং সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মামুনুর রশীদসহ জেলার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।

পবিত্র রমজান মাস জুড়ে জনস্বার্থে এই ঝটিকা অভিযান ও বাজার তদারকি অব্যাহত থাকবে বলে সভায় জানানো হয়


বিইউপিতে অমর একুশে ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন

আপডেটেড ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ১৯:৪০
অনলাইন ডেস্ক

বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস (বিইউপি)-এ যথাযথ মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের সাথে মহান শহীদ দিবস এবং আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত হয়েছে। মাতৃভাষার অধিকার আদায়ে ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি যারা আত্মত্যাগ করেছিলেন, সেই অমর ভাষা শহীদদের চিরস্মরণীয় স্মৃতির প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানাতে এই বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

গত শনিবার ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে ঢাকার মিরপুর সেনানিবাসস্থ বিইউপি প্রাঙ্গণে দিবসটি যথাযোগ্য মর্যাদায় উদযাপিত হয়েছে।

জাতীয় পতাকা অর্ধনমিতকরণের মধ্য দিয়ে দিবসের কর্মসূচি শুরু করা হয়। এরপর প্রত্যুষে ভাষা শহীদদের প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা নিবেদনের লক্ষ্যে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন বিইউপি-র ট্রেজারার এয়ার কমোডোর মোঃ রেজা এমদাদ খান, জিইউপি, বিইউপি, এনডিসি, পিএসসি, জিডি(পি)-এর নেতৃত্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি প্রতিনিধিদল।

পরবর্তীতে বাদ জোহর এক বিশেষ মোনাজাতের আয়োজন করা হয়, যেখানে বিইউপি-র উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাবৃন্দ, শিক্ষক ও কর্মচারীরা অংশগ্রহণ করেন এবং ভাষা শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন।


গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ: তথ্যমন্ত্রী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বরিশাল জেলা প্রতিনিধি

দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামো শক্তিশালী করতে এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠায় গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা বর্তমান সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, সাংবাদিকরা যাতে নির্ভয়ে এবং স্বাধীনভাবে তাদের পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে পারেন, সরকার সেই নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে সম্পূর্ণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। শনিবার রাতে বরিশালের আগৈলঝাড়া প্রেসক্লাবে স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে আয়োজিত এক বিশেষ মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। মন্ত্রী তাঁর নিজ নির্বাচনি এলাকায় সফরকালে স্থানীয় সংবাদকর্মীদের সঙ্গে এই সৌজন্য সাক্ষাতে মিলিত হন।

মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন তাঁর বক্তব্যে বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, সংবাদমাধ্যম হলো রাষ্ট্র ও জনগণের মধ্যে একটি কার্যকর সেতুবন্ধন। দায়িত্বশীল সংবাদ পরিবেশনার মাধ্যমে যেমন জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটে, তেমনি সরকারের কর্মকাণ্ডের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত হয়। তিনি সাংবাদিকদের আশ্বস্ত করে বলেন, পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে সরকার সাংবাদিকদের সবসময় সহযোগী হিসেবে পাশে থাকবে। অপপ্রচারের পরিবর্তে সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ তথ্য তুলে ধরার মাধ্যমে দেশ গঠনে ভূমিকা রাখার জন্য তিনি স্থানীয় সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান জানান।

আগৈলঝাড়া প্রেসক্লাবের সভাপতি মো. শামীমুল ইসলাম শামীমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই মতবিনিময় সভায় স্থানীয় সংবাদকর্মীরা তাঁদের পেশাগত বিভিন্ন সমস্যার কথা মন্ত্রীর কাছে তুলে ধরেন। সভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি সরদার হারুন রানা, মো. সাইফুল ইসলাম, এইচএম মাসুম এবং সাধারণ সম্পাদক নাজমুল রিপন। বক্তারা স্থানীয় পর্যায়ে সাংবাদিকতার চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলায় সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন এবং তথ্য মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতা কামনা করেন।

অনুষ্ঠানে আগৈলঝাড়া প্রেসক্লাবের সাবেক ও বর্তমান নেতৃবৃন্দের মধ্যে কেএম আজাদ রহমান, আকাশ মাহামুদ, সাইফুল মৃধা, সবুজ সরদার ও মানিক মোল্লাসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। মতবিনিময় সভা শেষে প্রেসক্লাবের পক্ষ থেকে তথ্যমন্ত্রীকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়। দীর্ঘ সময় ধরে চলা এই আলোচনায় মন্ত্রী স্থানীয় সাংবাদিকতার মানোন্নয়ন এবং প্রেস ক্লাবের অবকাঠামোগত উন্নয়নে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করেন। একুশের চেতনার আলোকে একটি বৈষম্যহীন ও বাকস্বাধীনতা সম্পন্ন সমাজ বিনির্মাণে গণমাধ্যমের ভূমিকা অনস্বীকার্য বলে তিনি তাঁর বক্তব্য শেষ করেন।


রামগতির চরাঞ্চলে দস্যুবাহিনীর তৎপরতায় আতঙ্কিত বাসিন্দারা

চাঁদা দিতে না পারায় ভয়ে বাড়ি ছাড়া ব্যবসায়ীর পরিবার
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
রামগতি-কমলনগর (লক্ষ্মীপুর) প্রতিনিধি

লক্ষ্মীপুরের রামগতি উপজেলার চরগাজী ইউনিয়নের মেঘনা তীরবর্তী দুর্গম বয়ারচরে কয়েকটি দস্যুবাহিনীর তৎপরতায় স্থানীয় বাসিন্দারা আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর ‘ভোল পাল্টিয়ে’ কয়েকটি ডাকাত বাহিনী ও দস্যু গ্রুপ চরটিতে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছেন। দস্যুবাহিনীর একের পর এক চুরি, ডাকাতি, অপহরণ, ধর্ষণ, হামলা ও লুটপাটের ঘটনায় সাধারণ মানুষ এখন অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন। সর্বশেষ দস্যুবাহিনীর দাবিকৃত চাঁদা দিতে না পারায় হামলার ভয়ে মাইনউদ্দিন নামে এক ব্যবসায়ী পরিবার-পরিজন নিয়ে এক সপ্তাহ ধরে এলাকার বাহিরে অবস্থান করেছেন। এমতাবস্থায় ওই এলাকার বাসিন্দারা নিরাপত্তায় দুর্গম এ চরটিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জোর তৎপরতার দাবি জানিয়েছেন

ভুক্তভোগী চরগাজী ইউনিয়নের দক্ষিণ টুমচর (বয়ারচর) এলাকার বাসিন্দা এবং স্থানীয় ব্রিজঘাট বাজারের মাংস ব্যবসায়ী মো. মাইন উদ্দিন জানান, প্রায় দুই মাস আগে স্থানীয় একটি চা দোকানের সামনে তার ছোট ছেলে মো. ফয়সাল আড্ডা দিচ্ছিল। এসময় কুখ্যাত দস্যুবাহিনী ‘ফরিদ বাহিনীর’ সেকেন্ড ইন কমান্ডার বাদশা ডাকাত সহযোগী ওয়ারেছ ডাকাতকে নিয়ে ফয়সালকে অপহরণ করে আস্তানায় নিয়ে যায়। পরে তার কাছে মুক্তিপণ হিসেবে ৫ লাখ টাকা দাবি করলে তিনি নিজের একটি গরু ও স্বর্ণালংকার বিক্রি করে ২ লাখ টাকা বাহিনীর প্রধান ফরিদ ডাকাতের হাতে দিয়ে ছেলেকে ছাড়িয়ে নেন। শুধু এতেই তারা থেমে যাননি। গত রোববার সকালে বাদশা, ওয়ারেছ মহিন ও মনিরসহ কয়েকজন সহযাগী নিয়ে তার বাড়িতে হানা দেন। এসময় তারা তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করে চাঁদা হিসেবে একটি গরু দাবি করেন। দাবিকৃত গরু না দিলে তার স্ত্রী ও ঘরে থাকা পুত্রবধূকে ধর্ষণের হুমকি দিয়ে চলে যায় তারা। এ ঘটনার পর থেকে আতঙ্কে পরিবারের সবাইকে নিয়ে তিনি বাড়ি ছেড়ে অন্যত্র অবস্থান করছেন।

তিনি বলেন, আমরা ফরিদ বাহিনীর প্রধান ফরিদ ডাকাত, ওয়ারেছ ডাকাত, বাদশা ডাকাত ও তার লোকজনদের গ্রেপ্তারের জন্য সেনাবাহিনী, কোস্টগার্ড ও পুলিশ প্রশাসনের কাছে জোর দাবি করছি।

মাইন উদ্দিনের ছেলে মো. মামুন বলেন, এক সাপ্তাহ ধরে আমরা এলাকা ছাড়া। আমি ব্রিজঘাট এলাকার একজন গোস্ত বিক্রেতা। ওয়ারেছ ও বাদশা ডাকাতের অত্যাচারে ঠিকমত ব্যবসা করতে পারছি না। প্রতিটি গরু থেকে তাদেরকে চাঁদা দিতে হচ্ছে।

এদিকে, সরেজমিন ঘুরে এলাকাবাসীর সাথে কথা বলে জানা গেছে, বয়ারচর এলাকাটি একটি দুর্গম চরাঞ্চল। ওই এলাকাটি বিভিন্ন ডাকাত বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত হয়ে আসছে। ২০২৪ সালর ৫ আগস্ট থেকে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির সুযোগে বিএনপির নাম ভাঙিয়ে ব্রিজঘাট, তেগাছিয়া ও টাংকিরঘাট এলাকায় হামলা, ভাঙচুর, ধর্ষণ, ডাকাতি, লুটপাট, অগ্নিসংযাগ ও অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায়, জমি দখল, বসতবাড়ি ও পুলিশ ফাঁড়ি দখলসহ ডাকাত বাহিনী বিভিন্ন অপকর্ম করে আসছে। এর মধ্যে ফরিদ বাহিনীর আধিপত্য সবচেয়ে বেশী। তার বাহিনীতে বাদশাহ, ওয়ারেছ, ভুট্টু, ফজলু, আলমগীর, হোসেন, আওলাদ, আইয়ুব আলী, কবির ও মাকছুদসহ অর্ধশতাধিক সদস্য রয়েছে। এসব ডাকাত সদস্যরা ছোট ছোট দলে বিভক্ত হয়ে বয়ারচরের ব্রিজঘাট, দক্ষিণ টুমচর, নুরুল্লার সমাজ, তেগাছিয়া ও টাংকিরঘাট এলাকায় সক্রিয় রয়েছেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ওই বাহিনীর প্রধান ফরিদ ডাকাত এক সময়ে নোয়াখালীর হাতিয়ার আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি মোহাম্মদ আলীর ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ছিল। বর্তমানে ভোল পাল্টিয়ে সে বিএনপির নাম ভাঙিয় আগের চেয়েও বেশি তৎপরতা চালাচ্ছে। তার এসব অপকর্ম নিয়ে জহির উদ্দীন নামে এক বাসিন্দা রামগতি থানা ও সেনা ক্যাম্পে পৃথক দুটি অভিযোগও করেছেন। এসব ডাকাতদের বিরুদ্ধে রামগতি, হাতিয়া ও ভোলাসহ দেশের বিভিন্ন থানায় তাদের বিরুদ্ধে কয়েক ডজন মামলা থাকলেও প্রশাসন কোনো পদক্ষপ নিচ্ছে না। অন্তত ১৫ টি মামলায় এসব ডাকাতদের বিরুদ্ধে রয়েছে গ্রেফতারি পরওয়ানা।

এসব বিষয় জানতে চাইলে অভিযুক্ত ওয়ারেছ ডাকাত তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তিনি এসব কাজের সাথে জড়িত নন। তবে, এসব বিষয়ে লেখালখি না করতে তিনি এ প্রতিবেদককে বিশেষ অপার দেন।

ফরিদ বাহিনীর প্রধান ফরিদ ডাকাতের বক্তব্য জানতে তার মুঠোফানে একাধিকবার কল করলেও তিনি ফোন রিসিভ করননি।

রামগতি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) লিটন দেওয়ান বলেন, বয়ারচর এলাকাটি খুবই দুর্গম। যে কারণে, অপরাধীরা সেখান বিভিন্ন ঘটনা ঘটিয়ে যাচ্ছে। তবে, বিভিন্ন সীমাবদ্ধতার মধ্যে চরটিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ চেষ্টা করছে।

তিনি বলেন, চাঁদা দিতে না পারায় ব্যবসায়ীর পরিবার এলাকা ছাড়ার বিষয়টি আমাকে কেউ জানায়নি। ভুক্তভাগীর পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে প্রয়াজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

লক্ষ্মীপুর জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মো. আবু তারেক বলেন, ঘটনাটি খতিয়ে দেখতে সংশ্লিষ্ট ওসিকে নির্দশ দেওয়া হবে।


কক্সবাজারের দশম উপজেলা হতে যাচ্ছে ‘মাতামুহুরী’, নিরীক্ষা শুরু

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কক্সবাজার জেলা প্রতিনিধি

কক্সবাজার জেলার প্রশাসনিক কাঠামোতে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হতে যাচ্ছে। দীর্ঘদিনের জনদাবি পূরণ করে চকরিয়া উপজেলার সাতটি ইউনিয়ন নিয়ে জেলার দশম উপজেলা হিসেবে ‘মাতামুহুরী’ গঠনের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। গত শনিবার বিকেলে চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে এই সংক্রান্ত প্রথম প্রশাসনিক সমন্বয় ও নিরীক্ষা সভা অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহীন দেলোয়ারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় নতুন উপজেলার সীমানা নির্ধারণ এবং প্রশাসনিক বিন্যাস নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। স্থানীয় জনমত এবং ভৌগোলিক গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে এই পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে বলে প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে।

প্রস্তাবিত মাতামুহুরী উপজেলাটি মূলত চকরিয়ার সাহারবিল, ভেওলা মানিকচর, পূর্ব বড় ভেওলা, পশ্চিম বড় ভেওলা, কোনাখালী, ঢেমুশিয়া ও বদরখালী ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত হবে। প্রায় তিন লাখ জনসংখ্যা অধ্যুষিত এই এলাকায় প্রবাহিত ২৮৭ কিলোমিটার দীর্ঘ মাতামুহুরী নদীর নামানুসারেই এই উপজেলার নামকরণ করা হয়েছে। নতুন উপজেলা গঠনের পাশাপাশি চকরিয়া উপজেলার মূল প্রশাসনিক কাঠামোর অধীনে আরও তিনটি নতুন ইউনিয়ন সৃষ্টির প্রস্তুতিও চলছে। হারবাং থেকে উত্তর হারবাং, বরইতলী থেকে পহরচাঁদা এবং ডুলহাজারা থেকে পৃথক করে মালুমঘাট ইউনিয়ন গঠনের প্রস্তাব চূড়ান্ত করা হয়েছে। এই প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাসের ফলে স্থানীয় পর্যায়ে সরকারি সেবা প্রাপ্তি আরও সহজতর হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এই উন্নয়ন প্রকল্পের নেপথ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও কক্সবাজার-১ আসনের সংসদ সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ। সদ্য সমাপ্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারণাকালে তিনি মাতামুহুরী উপজেলা বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। ক্ষমতা গ্রহণের প্রথম সপ্তাহের মধ্যেই সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে প্রশাসনিক তৎপরতা শুরু হওয়াকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ। উল্লেখ্য, ২০০১ সালে যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বে থাকাকালীন তিনি বৃহত্তর চকরিয়া থেকে পেকুয়া উপজেলা পৃথক করে নতুন উপজেলা প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে মাতামুহুরী উপজেলার প্রস্তাবটি সরকারের প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটি বা নিকার-এর (NICAR) পরবর্তী সভায় অনুমোদনের জন্য উপস্থাপিত হতে পারে বলে জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে।

মাতামুহুরী উপজেলা বাস্তবায়িত হলে এটি হবে পর্যটন শহর কক্সবাজারের দশম উপজেলা। এর ফলে অবহেলিত ও প্রান্তিক অঞ্চলের মানুষের প্রশাসনিক কষ্ট লাঘব হবে এবং জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন ঘটবে বলে স্থানীয় বাসিন্দারা মনে করছেন। দীর্ঘ ২৫ বছর আগে জেলা বিএনপির পক্ষ থেকে যে সাংগঠনিক উপজেলার ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল, আজ তা রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি পেতে যাওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-দীপনা লক্ষ্য করা গেছে। প্রশাসনিক এই মহতী উদ্যোগটি সফল হলে চকরিয়া ও মাতামুহুরী উভয় অঞ্চলের নাগরিক সুযোগ-সুবিধা আরও বৃদ্ধি পাবে এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নের নতুন দ্বার উন্মোচিত হবে। সব মিলিয়ে উপকূলীয় এই অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্ন এখন পূর্ণতার পথে।


সুন্দরবন দস্যুমুক্ত করতে শিগগির সাঁড়াশি অভিযান: পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী

হযরত খানজাহান (রহ.) মাজার জিয়ারত শেষে প্রতিমন্ত্রী সাংবাদিকদের সাথে কথা বলেন। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাগেরহাট প্রতিনিধি

সুন্দরবনে দস্যুবৃত্তি দমনে শিগগিরই সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করা হবে বলে জানিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম।

শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে হযরত খানজাহান (রহ.) মাজার জিয়ারত শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, এই অঞ্চলের অনেক মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করেন। জীবিকার তাগিদে তারা সুন্দরবনে প্রবেশ করেন এবং সেখানে গিয়ে দস্যুদের আক্রমণের শিকার হন। জীবিকা নির্বাহ করতে গিয়ে কেউ যেন ঝুঁকিতে না পড়েন, সে বিষয়টি সরকার গুরুত্ব দিয়ে দেখছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

তিনি জানান, সুন্দরবনে দস্যুবৃত্তি বন্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের নিয়ে শিগগিরই একটি সভা অনুষ্ঠিত হবে। সভা শেষে সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে, যাতে দস্যুদের কাছে কঠোর বার্তা পৌঁছে দেওয়া যায়।

সুন্দরবনের পরিবেশ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের সঙ্গে বসে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী। দ্রুত অভিযান চালিয়ে দস্যুদের নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

এ সময় বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন, পুলিশ সুপার হাছান চৌধুরী, জেলা বিএনপির সমন্বয়ক এম এ সালাম, সদস্য সচিব বীর মুক্তিযোদ্ধা মোজাফফর রহমান আলমসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।


banner close