সাতক্ষীরা জেলার পাঁচ হাজার ফার্মেসির ড্রাগ লাইসেন্স রয়েছে। যার মধ্যে দুই হাজারের মতো লাইসেন্স নীতিমালা না মেনেই ইস্যু করা হয়েছে। মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে এসব লাইসেন্স অবৈধ উপায়ে ইস্যু করা হয়। বাংলাদেশ ক্যামিস্ট অ্যান্ড ড্রাগিস্টস সমিতির সাতক্ষীরা অফিস সহকারী আলমগীর হোসেন বস্ ওরফে আলমগীর এবং কম্পিউটার অপারেটর সুমনের মাধ্যমে সাতক্ষীরা জেলার ড্রাগ সুপার ঘুষ নিয়ে এ কাজ করে থাকেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
নিয়মানুযায়ী কোনো ওষুধের দোকান তথা ফার্মেসি করার জন্য ড্রাগ লাইসেন্স প্রয়োজন হয়। আর এই ড্রাগ লাইসেন্স তিনিই পাবেন, যার ফার্মাসিস্টের প্রশিক্ষণ ও সনদ রয়েছে। দুই বছর মেয়াদি এ ড্রাগ লাইসেন্স ইস্যু করা হয়। এজন্য পৌরসভার মধ্যে তিন হাজার টাকা ও পৌরসভার বাইরে গ্রাম এলাকার জন্য এক হাজার পাঁচশ টাকা চালান কেটে জমা দিতে হয়। এরপর দুই বছর অন্তর এ লাইসেন্স নবায়ন করতে হয়।
ড্রাগ লাইসেন্স করার জন্য ফার্মাসিস্টের এই শর্তটি অনেকেই সঠিকভাবে পূরণ করেন না। অনেকেই ছয় মাস মেয়াদি ফার্মাসিস্ট কোর্স করে ড্রাগ লাইসেন্স সংগ্রহের পর অন্যকে দিয়ে ওষুধ ব্যবসা পরিচালনা করেন। আবার অনেকে ভিন্ন ফার্মেসিতে থেকেই নতুন ফার্মেসি খুলে রমরমা ওষুধ ব্যবসা চালিয়ে বনে গেছেন ডাক্তার।
আর এভাবেই সাতক্ষীরা ড্রাগ সুপারের কার্যালয়ে অনৈতিক সুবিধার বিনিময়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে চলে মোটা অংকের ঘুষ বাণিজ্য। ৩০ থেকে ৫০ হাজার টাকা ঘুষের বিনিময়ে হাজারের অধিক অবৈধ লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। আবার তাদের দাবি করা ঘুষ না দিলে সব শর্ত পূরণ করার পরও লাইসেন্স ইস্যু করতে গড়িমসি করা হয়। ড্রাগ লাইসেন্স পেতে ব্যাংক স্বচ্ছলতা সনদপত্র, লাইসেন্স ফি জমা দেয়ার ট্রেজারি চালান, দোকান ভাড়ার রশিদপত্র, ফার্মাসিস্টের অঙ্গীকারনামা ও পৌর/ইউনিয়নের ট্রেড লাইসেন্স জমা দিতে হয়। পাঁচ থেকে সাত কর্মদিবসের মধ্যে নবায়ন করে দেওয়ার নিয়ম থাকলেও তাদের নির্দিষ্ট অংকের ঘুষ না দিলে বেগ পোহাতে হয় বছরের পর বছর।
সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সংলগ্ন সুন্দরবন ফার্মেসির মালিক আবু জাফর সিদ্দিক ড্রাগ লাইসেন্স করতে সাতক্ষীরা জেলা ড্রাগ সুপারের কার্যালয়ে গেলে কতিপয় ব্যক্তি ৩০ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করে। পরবর্তীতে অফিস সহকারী আলমগীরের মাধ্যমে ২৫ হাজার টাকা ঘুষ দিয়েও মেলেনি লাইসেন্স।
আশাশুনির আনুলিয়া বাজারের রহমান ফার্মেসিতে ফার্মাসিস্ট নেই। ওই ফার্মেসির মালিক এক ফার্মাসিস্টকে দোকানের কর্মচারী দেখিয়ে ড্রাগ লাইসেন্সের জন্য অফিস সহকারী আলমগীর ও সুমনের মাধ্যমে ড্রাগ সুপারের কার্যালয়ে আবেদন করেন। পরে মোটা অংকের ঘুষের বিনিময়ে ড্রাগ সুপার লাইসেন্স ইস্যু করেন।
এদিকে বেশিরভাগ ফার্মেসি টাকা দিয়ে লাইসেন্স নিলেও ভয় আর আতঙ্কে মুখ খুলতে চায় না। বাংলাদেশ ক্যামিস্ট অ্যান্ড ড্রাগিস্টস সমিতির সাতক্ষীরা অফিসের নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, ড্রাগ সুপারের কার্যালয়ে ঘুষ লেনদেন দীর্ঘদিনের ব্যাপার। টাকা না দিলে এখানে মেলেনা ড্রাগ লাইসেন্স। আর এগুলো আলমগীর ও সুমনের মাধ্যমেই হয়।
এ ব্যাপারে মূল অভিযুক্ত আলমগীর হোসেন এ প্রতিবেদককে বলেন, ‘মানুষ কি এতটাই পাগল হয়ে গেছে যে এতগুলো টাকা দেবে লাইসেন্স করার জন্য, যা শুনছেন তা মিথ্যা।’
কম্পিউটার অপারেটর সুমন মুঠোফোনে এ প্রতিবেদককে বলেন, ‘এসব প্রতিবেদন বাদ দেন ভাই। আমি দেখা করবানে। দেখা হলে সব মিটে যাবেনে।’
সাতক্ষীরা জেলা ড্রাগ সুপার আবু হানিফ বলেন, ড্রাগ লাইসেন্স পেতে ও নবায়ন করতে সরকারি ফি ছাড়া কোনো টাকা নেওয়া হয় না। অভিযোগটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। তার নাম ভাঙ্গিয়ে কে বা কারা টাকা নিয়ে থাকে তা তিনি জানেন না।
বাড়ির পাশেই রেল লাইন। পোষা ছাগল ছুটে রেলনাইনের ওপর উঠে পড়ে। ছাগল ধরে আনতে গিয়ে রেলে কাটা পড়েন আমিনুর রহমান ওরফে চান মিয়া(৫৫) নামে এক কৃষক।
শুক্রবার (১৩ মার্চ) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার সারুলিয়া গ্রামে এই দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত আমিনুর সারুলিয়া গ্রামের তামজেল হোসেনের ছেলে।
পুলিশ এবং স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার (১৩ মার্চ) সকাল ৭টার দিকে চান মিয়ার বাড়িসংলগ্ন রেল লাইনের পাশে ছাগল বাধতে যান। ছাগলটি দৌড়ে রেল লাইনের ওপর উঠে পড়ে। দড়ি ধরে টেনে আনতে যান। প্রতিদিনের মতো এ সময় খুলনা থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী জাহানাবাদ এক্সপ্রেস ট্রেনের নিচে তিনি কাটা পড়েন।
প্রত্যক্ষদর্শী একই গ্রামের হোসেন আলী ও ইদ্রিস মোল্যা বলেন,আমরা রেল লাইনের বিপরীত পাশের জমিতেই কাজ করছিলাম। ট্রেন আসছে চিৎকার করে চান মিয়াকে দুই তিনবার বলেছি। মনে হয় ট্রেনের বিকট শব্দে তিনি তা শুনতে পাননি। ফলে চান মিয়া ট্রেনে কাটা পড়ে। তারা বলেন চান মিয়া কৃষি কাজ করে। আমাদের চিৎকারে গ্রামের লোকজন ঘটনা স্থলে ছুটে আসে। মরদেহ উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে আসে। খবর পেয়ে থানা পুলিশ বাড়িতে
আসে।
লোহাগড়া থানার ওসি আব্দুর রহমান বলেন,খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। ঘটনাস্থল রেলের জায়গায় হওয়ায় রেলওয়ে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়েছে।
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলায় অবস্থিত মণিপুরী ললিতকলা একাডেমির উপপরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) প্রভাস চন্দ্র সিংহকে অনিয়ম ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে তার পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। গত বুধবার (১১ মার্চ) মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসক তৌহিদুজ্জামান পাভেল স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশের মাধ্যমে তাকে অব্যাহতি দিয়ে একাডেমির প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামানকে।
একাডেমি সূত্রে জানা গেছে, গত জুলাই মাসে প্রভাস চন্দ্র সিংহের বিরুদ্ধে শিল্পীদের সম্মানী ভাতা আত্মসাতের অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি গুরুত্বের সাথে নিয়ে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক আসমা সুলতানা নাসরীন এই তদন্তের দায়িত্ব পালন করেন। দীর্ঘ তদন্ত শেষে গত ৫ জানুয়ারি প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানানো হয়, অভিযুক্ত ও অভিযোগকারীদের লিখিত জবানবন্দি এবং সংশ্লিষ্ট নথিপত্র পর্যালোচনায় অভিযোগটি সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে।
২০২৪ সালের ২৮ নভেম্বর সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে প্রভাস চন্দ্র সিংহকে উপপরিচালক ও ভিডিও বিভাগের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। তবে তার নিয়োগের পরপরই একাডেমির নৃত্য, বাদ্যযন্ত্র, নাট্য ও সংগীত প্রশিক্ষকসহ অফিস সহায়করা একযোগে তার দায়িত্ব প্রাপ্তির বিরোধিতা করেন। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও উৎসবের প্রশিক্ষণ বিল নিজ নামে উত্তোলন, শিল্পীদের নামে-বেনামে ভুয়া ভাউচারে টাকা তুলে আত্মসাৎ, শিল্পীদের প্রাপ্য সম্মানী সঠিকভাবে প্রদান না করাসহ নানা অভিযোগ উল্লেখ করে ১ ডিসেম্বর তারা জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে মন্ত্রণালয়ে একটি লিখিত অভিযোগ জমা দেন।
গত সোমবার সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব শিউলী হরি স্বাক্ষরিত এক পত্রে তাকে উপপরিচালকের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। এরপরই জেলা প্রশাসন নতুন দায়িত্বের বিষয়ে আদেশ জারি করা হয়।
এ বিষয়ে প্রভাস চন্দ্র সিংহ জানান, বর্তমানে তাকে একাডেমির তার পূর্বের পদ ‘গবেষণা বিষয়ক কর্মকর্তা’ হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে বলা হয়েছে।
অন্যদিকে, একাডেমির নবনিযুক্ত পরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) ও কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ‘মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নিয়মিত পরিচালক নিয়োগ না হওয়া পর্যন্ত আমাকে এই একাডেমির অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রতিষ্ঠানের স্বচ্ছতা বজায় রাখাই আমাদের লক্ষ্য।’
দীর্ঘদিন ধরে চলা এই অস্থিরতার অবসান ঘটিয়ে একাডেমির প্রশাসনিক কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ফিরে আসবে বলে আশা করছেন স্থানীয় শিল্পী ও কলাকুশলীরা।
উপকূলীয় এলাকায় প্রকৃতির নান্দনিক সৌন্দর্য আরও বেড়েছে বিচ জবা ফুলের (স্থানীয় ভাষায় বলই) সৌন্দর্যে। নদীর ধার এবং খালের পাড় ঘেঁষে এই গাছের হলুদ ফুলের মধ্যে গাঢ় মেরুন রঙের কেন্দ্র বিশেষভাবে চোখে পড়ে।
স্থানীয়রা জানান, এই গাছ মূলত উপকূলীয় মাটি ও লবণাক্ত পরিবেশে ভালো জন্মে। এ কারণে সুন্দরবনের আশেপাশের এলাকায় বিচ জবা প্রচুর দেখা যায়। ফুল ফোটার সময় গাছের সৌন্দর্য পুরো এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে, যা স্থানীয় পর্যটক ও প্রকৃতি প্রেমীদের আকর্ষণ করছে।
স্থানীয় বাসিন্দা রুবেল মীর বলেন, ‘এই গাছের ছায়া ও পাতা স্থানীয় জীববৈচিত্র্যের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ, কারণ পাখি ও কীটপতঙ্গরা এখানে বাস করে।’ এছাড়া বিচ জবার কাঠ ও ছাল স্থানীয়ভাবে ব্যবহার হয় গৃহস্থালি কাজে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, উপকূলীয় অঞ্চলে বিচ জবার সংরক্ষণ ও পরিচর্যা করা প্রয়োজন, যাতে এই প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও পরিবেশের ভারসাম্য বজায় থাকে।
ফলে বলা যায়, বিচ জবা কেবল ফুল নয়, বরং উপকূলীয় অঞ্চলের এক প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের আধার।
রাজশাহী বার সমিতির বার্ষিক নির্বাচনে ২১টি পদের মধ্যে ২০টিতেই বিজয়ী হয়েছেন বিএনপিপন্থি আইনজীবীরা। তারা জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ঐক্য পরিষদ থেকে নির্বাচনে অংশ নেন। সভাপতি পদে এই প্যানেল থেকেই আবুল কাসেম ও সাধারণ সম্পাদক পদে পারভেজ তৌফিক জাহেদী নির্বাচিত হয়েছেন।
গত বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত এবং আধা ঘণ্টা বিরতির পর বেলা দেড়টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ১ নম্বর বার ভবনের দ্বিতীয় তলায় ভোট গ্রহণ চলে। নির্বাচনে মোট ৬৯৩ জন ভোটারের মধ্যে ৬২৬ জন ভোট দেন। গণনা শেষে রাতে ফল ঘোষণা করা হয়।
নির্বাচন কমিশনার শেখ মো. জাহাঙ্গীর আলম সেলিম জানান, নির্বাচনে বার সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ মোট ২১টি পদের মধ্যে ২০টিতেই জয় পেয়েছে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ঐক্য পরিষদের প্যানেল। তবে শুধু সহ-সভাপতি পদে গণতান্ত্রিক আইনজীবী সমিতি মনোনীত প্যানেলের প্রার্থী এ কে এম মিজানুর রহমান বিজয়ী হয়েছেন।
জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ঐক্য পরিষদ মনোনীত প্যানেল থেকে নির্বাচিত অন্যান্যরা হলেন- সহ-সভাপতি মাহাবুবুল ইসলাম, সহ-সভাপতি মজিজুল হক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক (সাধারণ) ইমতিয়ার মাসরুর আল আমিন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক (কল্যাণ) নুর-এ কামরুজ্জামান ইরান, হিসাব সম্পাদক শাখাওয়াত হোসেন শামীম, লাইব্রেরি সম্পাদক সেলিম রেজা মাসুম, অডিট সম্পাদক তানভীর আহমেদ জুলেট, প্রেস অ্যান্ড ইনফরমেশন সম্পাদক শাহজামাল, ম্যাগাজিন অ্যান্ড কালচার সম্পাদক জানিজ ফাতেমা কাজল এবং সদস্য ইয়াসিন আলী, শামীম আহমেদ, মাঈনুর রহমান, হাফিজুল ইসলাম, জাকির হোসেন (২), শাহীন আলম মাহমুদ, রেশমা খাতুন, হুমায়ুন কবির শাম্মী এবং রহিমা খাতুন।
নির্বাচনে ২১টি পদের বিপরীতে পৃথক দুটি প্যানেলে ৪২ জন প্রার্থী এবং স্বতন্ত্রভাবে সভাপতি পদে একজন ও সাধারণ সম্পাদক পদে তিনজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।
গাংনী উপজেলার পোড়াপাড়া গ্রামে একটি ইটভাটায় মাটি বহনকারি ড্রামট্রাক বিদ্যুতায়িত হয়ে গাড়িতে থাকা জহিরুল ইসলাম (৪৫) মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় তার সহকারী সজীব (৩০) গুরুতর আহত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছে। গত বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) মধ্যরাতে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত জহিরুল ইসলাম গাংনী উপজেলার বামন্দী ইউনিয়নের তেরাইল গ্রামের মৃত আব্দুল মাজিদের ছেলে। আহত সজীব একই উপজেলার মটমুড়া ইউনিয়নের ছাতিয়ান গ্রামের লাল্টু মিয়ার ছেলে।
স্থানীয়রা জানান, পোড়াপাড়া গ্রামের ময়নালের থ্রি-স্টার ইটভাটায় মাটি ফেলে ফেরার সময় ড্রামট্রাকটি অসাবধানতাবশত ইটভাটার বৈদ্যুতিক সংযোগের মেন তারের সাথে জড়িয়ে পড়ে। এতে মুহূর্তেই ট্রাকটি বিদ্যুতায়িত হয়ে ঘটনাস্থলেই চালক জহিরুল ইসলামের মৃত্যু হয়।
এ সময় গুরুতর আহত অবস্থায় সহকারী সজীবকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। পরে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে রেফার্ড করেন।
ড্রামট্রাকের মালিক কাফিরুল ইসলাম জানান, নিহত জহিরুল ইসলাম প্রায় ৫ বছর ধরে তার ড্রামট্রাকটি চালাচ্ছিলেন।
রাতে ইটভাটায় মাটি রেখে ফেরার সময় অসাবধানতাবশত ট্রাকের ড্রাম পুরোপুরি নামানো না থাকায় সেটি বৈদ্যুতিক খুঁটির মেন তারের সাথে স্পর্শ করে বিদ্যুতায়িত হয়।
গাংনী থানার ওসি উত্তম কুমার দাস জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। পরে পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকায় নিহতের মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
ঐতিহ্যবাহী পঞ্চগড় বাজার পূর্বে এটি ছিল হাঁট-কালের বিবর্তনে বর্তমানে বাজারে পরিণত হয়েছে। পঞ্চগড় জেলার ৫টি উপজেলার মধ্যে সবচেয়ে বড় বাজার এটি। বাজার তৈরি হওয়ার পর থেকে নারীদের জন্য কোন প্রকার ওয়াশ ব্লক ছিল না। ওয়াশ ব্লক না থাকায় নারীদের বিভিন্ন ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। অনেক নারীরা তাদের আত্মীয়দের বাসায় যান। যাদের কোন নিকটতম আত্মীয় নেই সে সব নারীদের বাধ্য হয়ে কেনাকাটা বাদ দিয়ে বাড়ির পথে হাটতে হয়।
সে সব বিষয় বিবেচনা করে পঞ্চগড় জেলা পরিষদ ২টি ওয়াশ ব্লক তৈরি করেন। পঞ্চগড় পৌরসভা স্থাপিত হওয়ার কয়েক বছর পরেই পুরুষদের ওয়াশ ব্লক তৈরি হয় কিন্তু ৩ যুগ পরেই নারীদের ওয়াশ ব্লক তৈরি করেন পঞ্চগড় জেলা পরিষদ।
একজন ভোক্তভোগী , মোছাঃ ফাতেমা বেগম ৯নং মাগুরা ইউনিয়নের বাসিন্দা তিনি জানান, বাজার করতে এসে ওয়াশ ব্লকের প্রয়োজন হলে তখন আমাদেরকে এদিক ওদিক ছোটাছুটি করতে হয়। তিনি আরও জানান যে ২টি ওয়াশ ব্লক তৈরি হয়েছে সেই ওয়াশ ব্লক খোলা হলে আমাদের নারীদের জন্য অনেক উপকার হবে বলে আশা করি।
পঞ্চগড় বাজার ও বাসস্ট্যান্ড এ মহিলাদের জন্য ২টি ওয়াশ ব্লক নির্মাণ করেন জেলা পরিষদ পঞ্চগড় অর্থবছর ২০২৪-২৫খ্রি.।
প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (ভা:) জেলা পরিষদ পঞ্চগড়, অঞ্জন কুমার সরকার জানান যে, ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে চাবি নেওয়া হয়েছে, পূর্বে থেকে পুরুষের ওয়াশ ব্লক রয়েছে, সেই স্থানেই বর্তমানে নারীদের ওয়াশ ব্লক স্থাপন করা হয়েছে, আগামীকাল খোলার পর পরিষ্কার পরি”ছন্নতার পরে ব্যবহারের জন্য অনুমতি দেওয়া হবে, এবং নারীদের দীর্ঘদিনের সমস্যা সমাধান হবে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জের সোনামসজিদ স্থলবন্দর দিয়ে ভারতে যাওয়ার সময় দুটি স্বর্ণের বারসহ মো. সানি নামে একজনকে আটক করেছে বিজিবি। সনি ময়মনসিংহ জেলার গফরগাঁও উপজেলার বড় বড়াই কাউরাইদ গ্রামের রফিকুল ইসলামের ছেলে। গত বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) বিকেলে ভারত যাওয়ার সময় তাকে আটক করা হয়। শুক্রবার (১৩ মার্চ) সকালে চাঁপাইনবাবগঞ্জের ৫৯ বিজিবির পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য গণমাধ্যমকে জানানো হয়।
বিজিবি জানায় নিয়মিত তল্লাসীর সময় আর্চওয়ে মেটাল ডিটেক্টরে ধাতব বস্তুর সংকেত পাওয়া গেলে সনি মাই নামে বাংলাদেশি পাসপোর্টধারী ভারতগামী ওই যাত্রীকে আটক করে বিজিবি সদস্যরা। পরে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে নেওয়া হয়, সেখানে এক্স-রে করে পায়ু পথে থাকা দুটি স্বর্ণের বারের অস্তিত্ব পাওয়া যায়। উদ্ধার করা দুটি স্বর্ণের বারের ওজন ২৩১ দশমিক ৮১ গ্রাম। চাঁপাইনবাবগঞ্জ স্বর্ণ জুয়েলারি সমিতি পরীক্ষা করে এগুলো খাঁটি স্বর্ণ বলে নিশ্চিত করেছে। যার আনুমানিক বাজারমূল্য ৫৩ লাখ ৯৪ হাজার ৬০০ টাকা।
মহানন্দা ব্যাটালিয়ন (৫৯ বিজিবি) এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল গোলাম কিবরিয়া বলেন, রাজস্ব ফাঁকি দিতে চোরাকারবারীরা নানা কৌশল অবলম্বন করছে। তবে এসব অপকৌশল প্রতিরোধে বিজিবি সতর্ক রয়েছে।
তিনি আরও জানান, আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা করে তাকে শিবগঞ্জ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতি সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনা হত্যাকাণ্ড ‘পরিকল্পিত’ বলে অভিযোগ করেছেন নিহতের পরিবার। সিসিটিভি ফুটেজে বিভাগের শিক্ষক সহ সকল স্টাফ আধা ঘণ্টার মধ্যে বিভাগ ত্যাগ করে হত্যাকাণ্ডের পূর্বমুহূর্তে ওই শিক্ষিকাকে একা রেখে প্রস্থান করছিলেন তারা। এতে তাদের প্রতি সন্দেহ আরও ঘনীভূত হয়েছে।
গত বুধবার (৪ মার্চ) বিকেল ৪ টার দিকে সমাজকল্যাণ বিভাগের সাবেক কর্মচারী ফজলুর রহমানের ছুরিকাঘাতে নিজ কক্ষে নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার হন ওই শিক্ষিকা।
ক্যাম্পাস ও বিভাগ সূত্রে, ঘটনার দিন সমাজকল্যাণ বিভাগের ২১-২২ শিক্ষাবর্ষের পরীক্ষা শেষ করে শিক্ষিকা রুনা নিজ কক্ষে অবস্থান করছিলেন। ওইদিন বিভাগে ইফতার মাহফিলের আয়োজনের বিল উত্তোলনের জন্য নোট প্রস্তুত করতে বলেন বিভাগের সেমিনার লাইব্রেরিয়ান ফজলুল হককে। এ সময় বিভাগের সহকারী রেজিস্ট্রার মোজাম্মেল হক, কর্মচারী সোহাগ, নৈশপ্রহরী সুমন-সহ বিভাগের শিক্ষক হাবিবুর রহমান উপস্থিত ছিলেন। হত্যাকাণ্ডের পূর্বে একে একে বিভাগের শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বিভাগ ত্যাগ করেন। বিভিন্ন কাজে বিভাগ ত্যাগ করায় ওই সময়ে শিক্ষিকা রুনা একবারেই নিঃসঙ্গ হয়ে পড়েছিলেন। এই সুযোগে ফজলুর রহমান শিক্ষিকার কক্ষে ঢুকে তাকে ছুরিকাঘাত করে। এ সময় বিভাগের আশেপাশের কক্ষগুলোতে কেউ না থাকায় তৎক্ষনাৎ কারও সাহায্য পান নাই নিহত শিক্ষিকা রুনা।
জানা যায়, হত্যাকাণ্ডের সপ্তাহখানেক আগে দাপ্তরিক কাজে অদক্ষ হওয়ায় ওই বিভাগের সহকারী রেজিস্ট্রার বিশ্বজিৎকে উম্মুল মুমিনীন আয়েশা সিদ্দিকা হল এবং অসদাচারণের কারণে মাসখানেক আগে ফজলুর রহমানকে (খুনি) রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে বদলি করা হয়।
ইসলামিক স্টাডিজ অ্যান্ড থিওলজি অনুষদ ভবনের অভ্যন্তরের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত বুধবার (৪ মার্চ) ঘটনার দিন বিকেল ৩ টায় ৩৮ মিনিটে শিক্ষক হাবিবুর রহমান বিভাগ ত্যাগ করেন। পরে বিকেল ৩ টায় ৪১ মিনিটে বিভাগের কর্মকর্তা মোজাম্মেল এবং ফজলুল হক (লাইব্রেরিয়ান) ও সোহাগ বিপরীত পাশের গেট দিয়ে অনুষদ ভবন ত্যাগ করেন। এ সময় নতুন সহকারী রেজিস্ট্রার মোজাম্মেল কর্মচারী নৈশপ্রহরী সুমনকে বলেন, তারা যতক্ষণ না আসে ততক্ষণ চেয়ারম্যানের এখানে যেন থাকে এমনটা জানান ফজলু (লাইবেরিয়ান) ও কর্মচারী সোহাগ। অর্থাৎ নৈশপ্রহরী সুমনকে বিভাগের দেখভালের দায়িত্ব দিয়ে যান। তবে হত্যাকাণ্ড ঘটনার মাত্র তিন মিনিট আগে (৪ টায় ৯ মিনিট) সুমনও বিভাগ ছেড়ে একই গেইট দিয়ে বেরিয়ে যান। একই সময়ে ভবনের সম্মুখ গেইট দিয়ে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের কর্মচারী মজিদকে ভবনে ঢুকে দোতলার ঘটনাস্থলের সামনে দিয়ে তৃতীয় তলার রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে উঠতে দেখা যায়।
এর পূর্বে, বিকেল ৪ টা ১ মিনিটে ফজলুর রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের কিচেন রুম থেকে পকেটে করে পলিথিনে মোড়ানো ‘অজ্ঞাত বস্তু’ নিয়ে বের হয়ে আর সেখানে ফিরে নাই। তবে এর আগে ওই কক্ষে বস্তুটি নিয়ে তাকে বেশ কিছুক্ষণ লুকোচুরি ও পায়চারি করতে দেখা যায়। পরে ফজলুর ৪টা ৪ মিনিটে তৃতীয় তলা থেকে দ্বিতীয় তলার রুনার কক্ষের দিকে যান। সেখান থেকে আবার তিনি ৪ টা ৮ মিনিটে ফিরে আসেন। পরে ফজলুর ৪ টা ১০ মিনিটে তৃতীয় তলা থেকে সিড়ি দিয়ে নেমে ফের দ্বিতীয় তলায় রুনার কক্ষে যান। দুই মিনিট পরেই বিকেল ৪টা ১২ মিনিটে ‘আল্লাহ বাঁচাও বাঁচাও’ বলে চিৎকার করেন শিক্ষিকা রুনা।
পরবর্তীতে ভবনের নিচে থাকা দুই আনসার সদস্য ও দুই শিক্ষার্থী ঘটনাস্থলে পৌঁছালে হত্যাকারী ফজলু কক্ষের মধ্যেই আটকে পড়ে। এ সময় কক্ষটি আটকানো দেখে দরজার উপর দিয়ে কক্ষের মধ্যে শিক্ষিকা রুনাকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন তারা। এসময় ইফতারের আয়োজনের কাজ ব্যস্ত থাকা বিভাগটির তিন শিক্ষার্থীও সেখানে উপস্থিত হয়ে দরজা ভেঙে ফেলেন। তখন তারা ফজলুকে নিজের গলায় ছুরি চালানো অবস্থায় দেখেন। ফজলুর গণপিটুনি থেকে বাঁচার জন্য আত্মহত্যার নাটক করেন বলে দাবি করেন উপস্থিত শিক্ষার্থীরা। ঘটনার দিন দুপুর সাড়ে ১২ টায় বিভাগের শিক্ষক শ্যাম সুন্দরও বিভাগ ছাড়েন বলে জানান বিভাগের কর্মকর্তারা।
শিক্ষার্থীদের দাবি, ঘটনার দিন বিভাগের ইফতার মাহফিল ছিল। সেখানে সকল শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীর উপস্থিত থাকার কথা থাকলেও সবার একসঙ্গে বিভাগ ত্যাগের বিষয়টি রহস্যজনক। বিষয়টি তদন্ত হওয়া উচিত।
সেমিনার লাইব্রেরিয়ান ফজলুল হক বলেন, পরীক্ষা শেষ করে ইফতারের বিলের জন্য ম্যাম চেক দেয় এবং নোট প্রস্তুত করতে বলেন। এ কাজ শেষ করে আমার মেয়েকে স্কুল থেকে আনতে ম্যামকে বলে যাই। এসময় আমার সাথে সহকারী রেজিস্ট্রার মোজাম্মেল হকও ছিলেন।
কর্মচারী সোহাগ বলেন, টিসিবির মালামাল আনতে ফজলুল ভাবি আর সহকারী রেজিস্ট্রার এক সাথে বের হয়েছিলাম।
সহকারী রেজিস্ট্রার মোজাম্মেল হক জানান, আমি ম্যাম থেকে ছুটি নিয়ে শেখপাড়া বাজারে ফল কিনতে গিয়েছিলাম। আমার সঙ্গে ফজলুল এবং সোহাগ ছিল। এবং যাওয়ার সময় নৈশপ্রহরী সুমনের কাছে বিভাগের দায়িত্ব দিয়ে গিয়েছিলাম।
নৈশপ্রহরী সুমন বলেন, নিজের বাসায় দরকারি কাজ থাকায় ম্যামের থেকে ছুটি নিয়ে ঠিক ৪টায় বিভাগ ছেড়ে বাড়িতে গিয়েছিলাম। তবে সিসিটিভি ফুটেজে তাকে ৪টায় ৮ মিনিটেও (হত্যার ৪ মিনিট আগে) ওই ভবনে দেখা যাওয়ার জিজ্ঞেস করলে পরে তিনি থাকার বিষয়টি স্বীকার করেন। এর আগে নৈশপ্রহরী সুমন বিভাগে থাকাকালীন ফজলু দ্বিতীয় তলায় গেলেও তার সঙ্গে দেখা হয়নি বলে দাবি সুমনের। এছাড়া, বিভাগে দায়িত্ব পালনে চরম অবহেলার অভিযোগও রয়েছে নৈশপ্রহরী সুমনের বিরুদ্ধে।
হত্যাকাণ্ডের শিকার শিক্ষিকা রুনার পরিবার জানান, বিভাগে একজন শিক্ষককে কিভাবে একা রেখে সবাই চলে যায়। ফজলু কিভাবে জানল রুনা বিভাগে একা ছিল। আমাদের কাছে এটা পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড মনে হয়েছে। সুষ্ঠু তদন্ত করে হত্যাকারী ও হত্যার সাথে জড়িত সকলকে দ্রুত আইনের আওতায় এনে বিচার করতে হবে।
সাতক্ষীরা ব্যাটালিয়ন (৩৩ বিজিবি) এর অধীনস্থ ভোমরা, কাকডাঙ্গা, মাদরা, সুলতানপুর ও হিজলদী বিওপির আভিযানিক দল দায়িত্বপ্রাপ্ত এলাকায় শুক্রবার (১৩ মার্চ) মাদক চোরাচালান বিরোধী বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে ভারতীয় ২৩ বোতল মদ, ৭০ পিস ভায়াগ্রা ট্যাবলেট ও ৫৮৪ পিস মোবাইল ডিসপ্লেসহ ঔষধ, শাড়ি ও কমমেটিকস সামগ্রী আটক করে।
ভোমরা বিওপির পৃথক তিনটি বিশেষ দল মেইন পিলার ৩ হতে সাতক্ষীরা সদর থানাধীন শ্মশান ঘাট ও ফলমোড় নামক স্থান হতে ৩৮,৫৬০/-টাকা মূল্যের ভারতীয় মদ, ভায়াগ্রা ট্যাবলেট, জিরা ও ফুসকা আটক করে। মাদরা বিওপির বিশেষ আভিযানিক দল
কলারোয়া থানাধীন উত্তর ভাদিয়ালি নামক স্থান হতে ১ লক্ষ ৪০ হাজার -টাকা মূল্যের ভারতীয় ঔষধ আটক করে। কাকডাঙ্গা বিওপির কলারোয়া থানাধীন ভাদিয়ালি নামক স্থান হতে ৮০ হাজার টাকা মূল্যের ভারতীয় শার্টের পিস আটক করে। মাদরা বিওপির কলারোয়া থানাধীন তেঁতুলতলা মাঠ নামক স্থান হতে ৩৫ হাজার টাকা মূল্যের ভারতীয় শাড়ি আটক করে। সুলতানপুর বিওপির কলারোয়া থানাধীন আমবাগান নামক স্থান হতে ১ লক্ষ ৫ হাজার টাকা মূল্যের ভারতীয় ঔষধ আটক করে।
এছাড়া হিজলদী বিওপির বিশেষ আভিযানিক দল সীমান্ত পিলার ১৩/৩ এস এর ১৪ আরবি কলারোয়া থানাধীন বড়ালী নদীরপাড় নামক স্থান হতে ২০,৪৪,০০০/-টাকা মূল্যের ভারতীয় মোবাইল ডিসপ্লে আটক করে।
সর্বমোট তেইশ লক্ষ দুই হাজার টাকা মূল্যের মাদক চোরাচালানী মালামাল জব্দ করে। এবিষয়ে মাদক ও চোরাচালান আইনে মামলা হয়েছে বলে বিজিবি সুত্রে জানাযায়।
জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি মো. জাহাঙ্গীর হোসেনকে হাতুরী ও লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে মারাত্বক ভাবে আহত করেছে সন্ত্রাসীরা। পরে তাকে উদ্ধার করে ফরিদপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে সদর উপজেলার ডিক্রিরচর ইউনিয়নের বেরিবাঁধ এলাকায়। এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ দায়ের হলেও পুলিশ কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি।
অভিযোগ ও ভুক্তভোগী জাহাঙ্গীরের স্বজনেরা জানান, জমি নিয়ে বিরোধের জের ধরে পাঞ্জু মেম্বার, সজীব, সুজন গংদের সাথে বিরোধ চলছিল মো. বদর উদ্দিন বেপারীর। বিরোধের জেরে স্থানীয় ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সভাপতি বদর উদ্দিন বেপারীর ছেলে ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতি মো. জাহাঙ্গীর হোসেন বুধবার (১১ মার্চ) রাতে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রেখে বাড়ী ফিলছিলেন। এসময় পাঞ্জু মেম্বারের নেতৃত্বে সজীব, তামীম, সোহানসহ অজ্ঞাত আরো ৪/৫ জন লোহার রড, হাতুরী, রামদা, ছ্যান নিয়ে জাহাঙ্গীরের উপর হামলা চালায়। এসময় হামলাকারীরা হাতুরী দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে পিটিয়ে জাহাঙ্গীরকে গুরুতর আহত করে। হামলাকারীরা এসময় জাহাঙ্গীরের কাছে থাকা দোকানের সাড়ে ৫ লাখ টাকা ছিনিয়ে নেয়। রক্তাক্ত অবস্তায় জাহাঙ্গীরকে মৃত ভেবে হামলাকারীরা ফেলে রাখে। পরে স্থানীয়রা গুরুতর আহত অবস্থায় জাহাঙ্গীরকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়। বর্তমানে জাহাঙ্গীর সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। এ ঘটনায় কোতয়ালী থানায় একটি অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।
বিএনপি নেতা বদর উদ্দিন বেপারী জানান, জমি নিয়ে পাঞ্জু মেম্বারের সাথে বিরোধ চলছিল। এরই জের ধরে আমার ছেলের উপর হামলা চালানো হয়। এছাড়া আমার ছেলের কাছে থাকা রড, সিমেন্ট বিক্রির সাড়ে ৫ লাখ টাকা ছিনিয়ে নিয়ে যায়।
হামলার শিকার যুবদল নেতা জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, রাতে বাড়ী ফেরার পথে পাঞ্জু মেম্বারের নেতৃত্বে আমার উপর হামলা হয়। হামলাকারীরা হাতুরী, লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে আমাকে মারাত্বক ভাবে আহত করে।
পাঞ্জু বেপারীর ভাই হেলালুদ্দিন জানান, আমাদের জায়গা জোরপূবক দখলে নিতে গেলে তাদের বাঁধা প্রদান করা হয়। এ নিয়ে আমার ভাইকে মারপিট করলে পরবর্তীতে মারামারি হয়।
কোতয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলাম জানান, এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
বান্দরবান জেলার লামা উপজেলায় লাকড়ি বোঝাই একটি ট্রাক ২০০ ফুট পাহাড়ি খাদে পড়ে চালকসহ ২ জন নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) দিনগত রাতে উপজেলার ফাঁসিয়াখালী- লামা সড়কের ইয়াংছা টার্নিং পয়েন্টে এ দূর্ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন- ইয়াংছা কালিরঝিরির বাসিন্দা আব্দুল কাদেরের ছেলে ট্রাক চালক মো. আলমগীর (৩৫) ও পোয়াংবাড়ীর বাসিন্দা মোহাম্মদ হোসেনের ছেলে আনোয়ার হোসেন(৪৫)।
স্থানীয় সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) দিনগত রাত ৮ টার দিকে লাকড়ি বোঝাই একটি ট্রাক উপজেলার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের বনপুর এলাকা থেকে লাকড়ি বোঝাই করে ইয়াংছার দিকে যাচ্ছিল। এ সময় ট্রাকটি সড়কের ইয়াংছা টার্নিং পয়েন্টে পৌঁছলে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে যায়। এতে গাড়ির চালক মো. আলমগীর ও আনোয়ার হোসেন গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে দায়িত্বরত চিকিৎসক মো. আলমগীর ও আনোয়ার হোসেনকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে লামা থানা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ মুহাম্মদ শাহজাহান কামাল বলেন, এ ঘটনায় কারো কোন অভিযোগ না থাকায় লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পাশাপাশি দুইটি অপমৃত্যু রুজু করা করা হয়েছে। যা পরবর্তীতে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
বাগেরহাটের রামপালে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত বর-কনেসহ ১৪ জনের মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। পরিবারের অনুরোধের পর ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহগুলো বুঝিয়ে দেওয়া হয়।
বৃহস্পতিবার রাতে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও রামপাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে এসব মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
নিহতদের মধ্যে বরসহ তার পরিবারের নয়জন সদস্য রয়েছেন। শুক্রবার ভোরে তাদের মরদেহ মোংলার শেহালাবুনিয়া গ্রামে পৌঁছায়। অন্যদিকে কনে, তার বোন, দাদি ও নানির মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয়েছে খুলনার কয়রা উপজেলায়।
পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, বুধবার রাতে কয়রা উপজেলার আমাদী ইউনিয়নের নাকসা গ্রামের বাসিন্দা আবদুস সালাম মোড়লের মেয়ে মার্জিয়া আক্তার (মিতু)–এর সঙ্গে মোংলা পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আবদুর রাজ্জাকের ছেলে আহাদুর রহমান (সাব্বির)–এর বিয়ে সম্পন্ন হয়।
বিয়ের পর বৃহস্পতিবার দুপুর সোয়া ১২টার দিকে নবদম্পতিসহ দুই পরিবারের সদস্যরা একটি মাইক্রোবাসে করে মোংলার উদ্দেশে রওনা দেন।
পথিমধ্যে রামপাল উপজেলার বেলাই ব্রিজ এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা নৌবাহিনীর একটি বাসের সঙ্গে মাইক্রোবাসটির মুখোমুখি সংঘর্ষ ঘটে। দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই এবং হাসপাতালে নেওয়ার পথে চালকসহ ১৪ জনের মৃত্যু হয়। আহত একজন বর্তমানে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
নিহতদের মধ্যে রয়েছেন বর আহাদুর রহমান, তার বাবা আবদুর রাজ্জাক, ভাই আবদুল্লাহ সানি, বোন উম্মে সুমাইয়া (ঐশী), তার ছেলে সামিউল ইসলাম ফাহিম, বড় ভাই আশরাফুল আলমের স্ত্রী ফারহানা সিদ্দিকা (পুতুল) ও তাদের সন্তান আলিফ, আরফা ও ইরাম। এছাড়া নিহত হয়েছেন কনে মার্জিয়া আক্তার (মিতু), তার ছোট বোন লামিয়া আক্তার, দাদি রাশিদা বেগম, নানি আনোয়ারা বেগম এবং মাইক্রোবাসের চালক নাঈম।
জানা গেছে, বর আহাদুর রহমান মোংলা শহরে একটি মোবাইল ফোনের দোকান পরিচালনা করতেন। কনে মার্জিয়া আক্তার কয়রার নাকসা আলিম মাদ্রাসার আলিম প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।
নিহত উম্মে সুমাইয়ার শ্বশুর আবদুল আলীম বলেন, ‘বিয়ের অনুষ্ঠানে আমিও ছিলাম। তারা বৃহস্পতিবার দুপুরের পর মোংলার উদ্দেশে রওনা দেন। দুর্ঘটনায় আমার পুত্রবধূ ও একমাত্র নাতিও মারা গেছে।’
শুক্রবার সকালে মোংলার শেহালাবুনিয়ায় বরের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, শত শত মানুষ সেখানে ভিড় করেছেন। স্বজনদের কান্নায় পুরো এলাকা ভারী হয়ে উঠেছে। বাড়ির ভেতরে পরিবারের চার নারী সদস্যের মরদেহ রাখা হয়েছে এবং উপজেলা পরিষদ চত্বরে রাখা হয়েছে বাকি পাঁচজনের মরদেহ।
নিহত আবদুর রাজ্জাকের ছোট ভাই সাজ্জাদ সরদার জানান, আশপাশের ৯টি মসজিদ থেকে খাটিয়া এনে মরদেহগুলো রাখা হয়েছে। গোসল শেষে একে একে নয়জনকে খাটিয়ায় তোলা হয়েছে। শুক্রবার জুমার নামাজের পর উপজেলা পরিষদ চত্বরে তাদের জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। পরে মোংলা পৌর কবরস্থানে দাফন করা হবে।
‘সবার জন্য সুস্থ কিডনি-মানুষের যত্নে বাঁচাও ধনণী’ এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে ঝিনাইদহে পালিত হয়েছে বিশ্ব কিডনি দিবস। দিবসটি উপলক্ষে বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) সকালে শহরের কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকা থেকে ক্যাম্পস কিডনি ও ডায়ালাইসিস সেন্টারের পক্ষ থেকে একটি র্যালি বের করা হয়। র্যালিটি শহরের প্রধান সড়ক ঘুরে একই স্থানে এসে শেষ হয়। পরে সেখানে অনুষ্ঠিত হয় সংক্ষিপ্ত সমাবেশে এতে সংস্থাটির মেডিকেল অফিসার ডা. রিফাত বিন শরিফ, ম্যানেজার রাকিবুল ইসলামসহ অন্যরা বক্তব্য দেন।
কিডনি রোগ সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা, পরিমিত খাদ্যাভ্যাস এবং সুস্থ জীবনযাপন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখকরে বক্তারা কিডনি রোগ প্রতিরোধে সবাইকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান।