বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬
১৩ কার্তিক ১৪৩৩

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ভয়াবহ আগুন, নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে ৯টি ইউনিট

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড
২৪ মে, ২০২৪ ১৩:০৫
সারা বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত
সারা বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত : ২৪ মে, ২০২৪ ১১:৫৭

কক্সবাজারের উখিয়ায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে ফায়ার সার্ভিসের ৯টি ইউনিট ও সেনাবাহিনী।

আজ শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে ১৩নং ক্যাম্পের কাঁঠাল গাছতলা বাজারে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত। তবে তাৎক্ষণিকভাবে অগ্নিকাণ্ডের কারণ জানা যায়নি।

উখিয়া থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামীম হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

১৩নং ক্যাম্পের বাসিন্দা শফিউল্লাহ বলেন, ‘আগুন এখনো জ্বলছে। ইতোমধ্যে অর্ধশত ঘর পুড়ে গেছে। জানি না কখন নিয়ন্ত্রণে আসবে।’

উখিয়া ফায়ার সার্ভিসের উপ-সহকারী পরিচালক কামাল হোসেন বলেন, ‘আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিস কাজ করছে। আগুনের পরিস্থিতি ভয়াবহ।’

বিস্তারিত আসছে...

বিষয়:

নির্বাচিত

আলুর দামে ধস, উৎপাদন খরচ তুলতে হিমশিম খাচ্ছে কৃষক

* রংপুরে কৃষক বিক্রি করছেন ১১–১৪ টাকায়, ঢাকায় আলু ৩০ টাকা * হিমাগার ভাড়া ও কম দামে চাপে চাষিরা, সরকারি সহায়তার দাবি
ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
পিএম হামিদুর রহমান হামিদ, রংপুর ব্যুরো

রংপুরে আলুর বাম্পার ফলন হলেও হাসি নেই কৃষকের মুখে। উৎপাদন খরচের তুলনায় বাজারদর অনেক কম হওয়ায় প্রতি কেজি আলুতে ১৪ থেকে ১৬ টাকা পর্যন্ত লোকসানের আশঙ্কা করছেন চাষিরা। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে হিমাগারের বাড়তি ভাড়া, সংরক্ষণসংকট ও বাজারে চাহিদা কমে যাওয়া। ফলে একদিকে আগের মৌসুমের আলু বিক্রি করতে পারছেন না কৃষকেরা, অন্যদিকে শুরু হয়েছে নতুন মৌসুমের আবাদ। এতে বিনিয়োগ করা অর্থ ফেরত পাওয়া নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন রংপুর অঞ্চলের আলুচাষিরা।

রংপুর জেলার আট উপজেলাতেই আলুর বাজারে একই চিত্র। বদরগঞ্জ, তারাগঞ্জ, গঙ্গাচড়া, কাউনিয়া, পীরগাছা, পীরগঞ্জ, রংপুর সদর ও মিঠাপুকুরের কৃষকেরা উৎপাদন খরচ তুলতে না পেরে আর্থিক সংকটে পড়েছেন। লোকসান কমানোর আশায় অনেকে হিমাগারে আলু রেখে দিয়েছেন। তবে নতুন আলু বাজারে আসতে শুরু করলে পুরোনো আলুর দাম আরও কমে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন তাঁরা।

মিঠাপুকুর উপজেলার রানীপুকুর ইউনিয়নের কৃষক আতাউর রহমান গত মৌসুমে ৪৯ বিঘা জমিতে আলু চাষ করেন। উৎপাদিত আলুর ৬১ কেজির পাঁচ হাজার ২০০ বস্তা হিমাগারে সংরক্ষণ করেন তিনি। এর মধ্যে তিন হাজার ১৪২ বস্তা আলু বিক্রি করে পেয়েছেন ১৪ লাখ ৬৮ হাজার টাকা। কিছুদিন আগে প্রায় ২৫০ বস্তা আলু কেজিপ্রতি মাত্র ১৫ টাকা দরে বিক্রি করেন। তাঁর হিসাবে, গত মৌসুমে ৪৯ বিঘা জমিতে আলু চাষে খরচ হয়েছে প্রায় ৫৭ লাখ টাকা। উৎপাদন ও সংরক্ষণ ব্যয় বিবেচনায় বর্তমান বাজারদরে আলু বিক্রি করলে বড় অঙ্কের লোকসান গুনতে হবে তাঁকে।

একই পরিস্থিতি রংপুর মহানগরীর ৩৩ নম্বর ওয়ার্ডের রঘুবাজার এলাকার কৃষক ভুপাল চন্দ্র রায়ের। দুটি হিমাগারে তার ৫০০ বস্তা আলু সংরক্ষিত রয়েছে। বর্তমান বাজারদরে বিক্রি করলে কেজিপ্রতি সাড়ে ১৫ থেকে ১৬ টাকা পর্যন্ত লোকসান হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তিনি। জানা গেছে, বর্তমানে হিমাগার গেটে প্রতি কেজি আলু বিক্রি হচ্ছে ১১ থেকে ১৪ টাকায়। অথচ উৎপাদনে কৃষকের ব্যয় অনেক বেশি। ফলে উৎপাদন খরচ তো দূরের কথা, অনেক ক্ষেত্রে সংরক্ষণ বাবদ খরচ তোলাও কঠিন হয়ে পড়েছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে রংপুর বিভাগের আট জেলায় এক লাখ ৯৭ হাজার ৬১৬ হেক্টর জমিতে ৫১ লাখ ৭৬ হাজার ৬৮৭ টন আলু উৎপাদিত হয়েছে। এর বিপরীতে বিভাগের ১২৪টি হিমাগারে সংরক্ষণ করা হয়েছে ১১ লাখ ৯৪ হাজার ৫৯২ টন, যা মোট উৎপাদনের ২৩ দশমিক ১ শতাংশ। সংরক্ষিত আলুর মধ্যে আট লাখ ৮২ হাজার ২৮৮ টন এখনো হিমাগারে মজুত রয়েছে।

অন্যদিকে, কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের হিসাবে, চলতি বছর দেশে আলু উৎপাদিত হয়েছে প্রায় এক কোটি ১৭ লাখ ৮৫ হাজার টন। সরকারি-বেসরকারি হিমাগার ও অ-হিমায়িত মডেল ঘরে সংরক্ষণ করা হয়েছে প্রায় ৩৩ লাখ ৯০ হাজার টন আলু। বাংলাদেশ কোল্ড স্টোরেজ অ্যাসোসিয়েশনের হিসাবেও হিমাগারগুলোতে এখনো বিপুল পরিমাণ আলু মজুত রয়েছে।

কৃষকের কাছ থেকে কম দামে আলু কেনা হলেও খুচরা বাজারে তার প্রতিফলন নেই। রংপুরের বাজারে প্রতি কেজি আলু বিক্রি হচ্ছে ২০ থেকে ২২ টাকায়। রাজধানী ঢাকায় একই আলুর দাম ২৫ থেকে ৩০ টাকা। উৎপাদক পর্যায়ে কম দাম এবং খুচরা বাজারে তুলনামূলক বেশি দামের এই ব্যবধান বাজারব্যবস্থাপনা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে।

এদিকে, বদরগঞ্জের শাহজালাল ও গঙ্গাচড়ার এমএনটি হিমাগারের ব্যবস্থাপক সুভাস মুখার্জি জানান, হিমাগার গেটে প্রকারভেদে প্রতি কেজি আলু ১১ থেকে ১৪ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, হিমাগার দুটির ধারণক্ষমতা যথাক্রমে ১৫ হাজার ও সাড়ে নয় হাজার টন। বর্তমানে সেখানে যথাক্রমে ৪০ ও ৪৮ শতাংশ আলু মজুত রয়েছে।

তারাগঞ্জের এনএন হিমাগারের ব্যবস্থাপক শরিফুল ইসলাম বলেন, তাদের হিমাগারে সংরক্ষিত দুই লাখ ৫০ হাজার বস্তা আলুর মধ্যে মাত্র ৬৩ হাজার বস্তা বের হয়েছে। অন্য বছর এ সময়ে দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আলু উত্তোলন করা হতো। আগামী ৪৫ থেকে ৫০ দিনের মধ্যে নতুন আলু বাজারে আসার কথা। বর্তমান গতিতে আলু উত্তোলন চলতে থাকলে সব আলু সময়মতো বের করা সম্ভব হবে কি না, তা নিয়ে শঙ্কা রয়েছে।

রংপুর আলুচাষি ও ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি তৈয়বুর রহমান বলেন, হিমাগারের ভাড়া বেশি হওয়ায় আলু সংরক্ষণ করেও লোকসান এড়ানো যাচ্ছে না।

বাংলাদেশ কোল্ড স্টোরেজ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোস্তফা আজাদ চৌধুরী বাবু বলেন, আলুর দাম ১৩ টাকায় নেমে আসায় হিমাগার থেকে আলু উত্তোলন ধীর হয়ে গেছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় কৃষকদের ভর্তুকি দেওয়া এবং প্রয়োজনে সরকারিভাবে আলু কেনার উদ্যোগ নেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর রংপুর অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক এস এম আবু বকর সাইফুল ইসলাম বলেন, গত দুই বছর ধরে আলু চাষে লোকসান হচ্ছে। এর অন্যতম কারণ চাহিদার তুলনায় উৎপাদন বেশি।

কৃষি অর্থনীতিবিদ ড. জাহাঙ্গীর আলমের মতে, আলুচাষিদের লোকসান কমাতে হিমাগার ভাড়ার অন্তত ৫০ শতাংশ ভর্তুকি দেওয়া এবং কৃষকদের মূল্য সহায়তার আওতায় আনা যেতে পারে। পাশাপাশি আলুর বহুমুখী ব্যবহার বাড়ানো, প্রক্রিয়াজাত শিল্পের বিকাশ ও রপ্তানির বাজার সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।


নির্বাচিত

মনিরামপুরে পৌঁছালো একই পরিবারের ৪ জনের মরদেহ

চারজনের মরদেহ গ্রামের বাড়িতে পৌঁছাতেই শোকে স্তব্ধ গ্রামবাসী। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

কক্সবাজারের ইনানীতে টুপটুপ রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডে নিহত যশোরের মণিরামপুরের একই পরিবারের চার সদস্যের মরদেহ ১১ দিন পর গ্রামের বাড়িতে পৌঁছেছে। বুধবার (২৮ অক্টোবর) ভোরে মরদেহগুলো মোহনপুর গ্রামে পৌঁছানোর পর সেখানে শোকের ছায়া নেমে আসে। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ। চলছে জানাজা ও দাফনের প্রস্তুতি।

নিহতদের স্বজনদের অভিযোগ, অনুমোদনহীন ও ঝুঁকিপূর্ণ রিসোর্টের অব্যবস্থাপনার কারণে প্রাণ হারিয়েছেন তাদের পরিবারের সদস্যরা। তারা অবৈধ রিসোর্ট বন্ধের পাশাপাশি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় দায়ীদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, পূজার ছুটিতে গত ১৫ অক্টোবর ঢাকা থেকে কক্সবাজারে বেড়াতে যান যশোরের মণিরামপুর উপজেলার মোহনপুর গ্রামের মতিয়ার রহমানের ছেলে নাহিদুর রহমান, তার স্ত্রী আফসানা খাতুন এবং দুই মেয়ে ইনায়া ও ইহানা। ১৬ অক্টোবর তারা ইনানীর ওই রিসোর্টে ওঠেন। ১৮ অক্টোবর দুপুরে তাদের চেকআউট করার কথা ছিল। তবে এর আগেই ১৭ অক্টোবর ভোরে রিসোর্টটিতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটে। এতে একই পরিবারের চার সদস্যসহ মোট ১০ জনের মৃত্যু হয়।

দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া ও ডিএনএ পরীক্ষার কারণে মরদেহ শনাক্ত করতে সময় লাগে। গত সোমবার বিকেলে কক্সবাজার পুলিশ ডিএনএ পরীক্ষার প্রতিবেদন হাতে পায়। এরপর আইনি আনুষ্ঠানিকতা শেষে মঙ্গলবার দুপুরে মরদেহগুলো পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে বুধবার (২৮ অক্টোবর) ভোরে সেগুলো গ্রামের বাড়িতে পৌঁছায়।

নাহিদুররা দুই ভাই। চাকরির কারণে দুই ভাই-ই গ্রামের বাইরে থাকতেন। মোহনপুরের পশ্চিমপাড়ায় ‘ফারজানা ম্যানশন’ নামে দোতলা বাড়িটিতে নাহিদুরের বৃদ্ধ বাবা মতিয়ার রহমান একাই থাকেন।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) দুপুরে ওই বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, স্বজন ও এলাকাবাসীর ভিড় জমেছে। বাড়ির বারান্দার পাশে একটি চেয়ারে বসে আছেন মতিয়ার রহমান। তাকে ঘিরে স্বজনেরা সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করছেন। ছেলে, পুত্রবধূ ও দুই নাতনিকে হারিয়ে তিনি শোকে স্তব্ধ।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে মতিয়ার রহমান বলেন, আগুনে পুড়ে মারা যাওয়ার আগের রাতে নাহিদের সঙ্গে আমার শেষ কথা হয়। তখন সে আমাকে বলেছিল, বাবা, তুমি চিন্তা করো না। তোমার নাতনিরা সি-বিচে আছে, বাচ্চারা খেলছে। মঙ্গলবার ঢাকায় ফিরব। বুধবার (২৮ অক্টোবর) তুমি ঢাকার মিরপুরের বাসায় চলে যেয়ো।’ সেটাই ছিল শেষ কথা। আর কথা হবে না।

নাতনিদের স্মৃতিচারণা করতে গিয়ে তিনি বলেন, ছুটিতে গ্রামে এলে নাতনিরা বাড়ি মাতিয়ে রাখত। কত খেলতাম তাদের সঙ্গে! আর কিছুই হবে না। ফুলের মতো নিষ্পাপ বাচ্চারাও পুড়ে মারা গেছে। কত কষ্ট পেয়েছে আমার সোনার মানিকেরা!

নিহত নাহিদের ফুফা আব্দুল লতিফ বলেন, কর্মজীবী মানুষ একটু সময় পেলেই বিনোদনের জন্য রিসোর্টে যান। কিন্তু সেই রিসোর্ট যদি অনিয়ন্ত্রিত হয় কিংবা অগ্নিনির্বাপণের ব্যবস্থা না থাকে, তাহলে সেখানে সব সময়ই জীবনের ঝুঁকি থাকে। এমন অব্যবস্থাপনার কারণে তাজা প্রাণগুলো অকালে ঝরে গেল। এর দায়ভার কে নেবে? আমাদের একটি পরিবার শেষ হয়ে গেল। তাদের তো আর ফিরে পাব না। তবে এসব অব্যবস্থাপনা দূর করতে হবে এবং জড়িত ব্যক্তিদের বিচারের আওতায় আনতে হবে।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, বুধবার (২৮ অক্টোবর)বেলা তিনটার দিকে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে চারজনকে দাফন করা হবে। তাদের দাফনের জন্য সকাল থেকেই কবর খোঁড়ার কাজ শুরু করেন গোরখোদক। নাহিদের মায়ের কবরের পাশে সমাহিত করা হবে নাহিদ, তার স্ত্রী ও দুই মেয়েকে।

কবর খোঁড়ার দৃশ্য দেখে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন ষাটোর্ধ্ব রবিউল ইসলাম। মোহনপুরের পশ্চিমপাড়ার বাসিন্দা তিনি দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বলেন, এত দিন শুধু শুনেছি, একসঙ্গে একাধিক মানুষকে কবর দেওয়া হয়েছে। এবার নিজের চোখে দেখছি, পাশাপাশি চারটি কবর খোঁড়া হয়েছে। একই পরিবারের চারজনকে দাফন করা হবে। এর আগে আমাদের গ্রামে এমন দৃশ্য দেখিনি।

নিহত নাহিদুর রহমান ঢাকার শ্যামলীতে গ্র্যান্ড পাওয়ার লিমিটেড নামের একটি প্রতিষ্ঠানে কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত ছিলেন। স্ত্রী ও দুই মেয়েকে নিয়ে তিনি রাজধানীর মিরপুরের শেওড়াপাড়ায় বসবাস করতেন। কক্সবাজারের ইনানীতে টুপটুপ রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডে তাদের মৃত্যুর পর ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে পরিচয় শনাক্ত করা হয়। পরে মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) তাদের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালের মর্গ থেকে মরদেহগুলো স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করেন কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক আবদুল মান্নান, পুলিশ সুপার সাজেদুর রহমান, সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার আবুল কালামসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।


নির্বাচিত

দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকে বাসের ধাক্কায় নিহত ৩

এ দুর্ঘটনায় বাসের আরও অন্তত ১৫ জন যাত্রী আহত হয়েছেন
ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
রংপুর প্রতিনিধি

রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলায় ঢাকা-রংপুর মহাসড়কে সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা একটি মাটিভর্তি ডাম্প ট্রাকের পেছনে যাত্রীবাহী বাসের তীব্র ধাক্কায় অন্তত তিনজনের প্রাণহানি ঘটেছে। এ দুর্ঘটনায় বাসের আরও অন্তত ১৫ জন যাত্রী আহত হয়েছেন। বুধবার ভোর ৬টার দিকে উপজেলার বৈরাগীগঞ্জ এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, ফজরের নামাজের পর বৈরাগীগঞ্জ শাহ আমানত ফিলিং স্টেশনের বিপরীতে মাজার মসজিদের সামনে মাটির একটি ডাম্প ট্রাক স্থির অবস্থায় ছিল। ওই সময় ঢাকা থেকে কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীগামী ‘খান এন্টারপ্রাইজ’-এর একটি দ্রুতগামী যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সরাসরি ট্রাকটির পেছনে আছড়ে পড়ে। সংঘর্ষের তীব্রতায় ঘটনাস্থলেই বাসের এক যাত্রী মারা যান।

দুর্ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দা, পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা সম্মিলিতভাবে আহতদের উদ্ধার করে দ্রুত রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। সেখানে জরুরি বিভাগে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পরবর্তীতে আরও দুজনের মৃত্যু হয়।

বড়দরগা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোয়াজ্জেম উদ্দিন সড়ক দুর্ঘটনায় তিনজন নিহত হওয়ার তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং তাদের চিকিৎসা চলছে। তবে নিহতদের নাম-পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি; তাদের পরিচয় নিশ্চিত করতে পুলিশ কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।


নির্বাচিত

ফেসবুক লাইভে ক্ষমা চেয়ে শ্যালিকাকে তালাকের ঘোষণা দিলেন নওগাঁর সেই মাসুদ

প্রথম স্ত্রীর উপস্থিতিতেই তাঁর আপন ছোট বোনকে বিয়ে করে দেশব্যাপী তীব্র সমালোচনার মুখে শ্যালিকাকে তালাকের ঘোষণা দিলেন
ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
অনলাইন ডেস্ক

প্রথম স্ত্রীর উপস্থিতিতেই তাঁর আপন ছোট বোনকে বিয়ে করে দেশব্যাপী তীব্র সমালোচনার মুখে পড়া নওগাঁর আইনজীবী সহকারী ও টিকটকার মো. মাসুদ রানা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এসে প্রকাশ্যে ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন। একই সঙ্গে নিজের ভুল স্বীকার করে নববিবাহিত শ্যালিকাকে আনুষ্ঠানিকভাবে তালাক দেওয়ার সিদ্ধান্ত জানিয়েছেন তিনি।

মঙ্গলবার রাতে ফেসবুক লাইভে এসে হাত জোড় করে ভুল স্বীকার করেন মাসুদ রানা। তিনি জানান, প্রথম স্ত্রীকে বহাল রেখেই সহোদরা শ্যালিকাকে বিয়ে করা তাঁর জীবনের মারাত্মক ভুল ছিল। ধর্মীয় বিধান ও সামাজিক বিধিনিষেধ সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা না থাকায় এমন ঘটনা ঘটেছে দাবি করে তিনি উল্লেখ করেন, এটি সামাজিক দৃষ্টিতে অনৈতিক এবং ইসলামি অনুশাসনে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ জেনে থাকলে কখনোই এ ধরনের পদক্ষেপ নিতেন না কিংবা বিষয়টি জনসমক্ষে আনতেন না। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে সমাজের প্রত্যাশা অনুযায়ী চলার অঙ্গীকার করে তিনি জানান, যাকে দ্বিতীয় বিয়ে করেছেন সেই শ্যালিকাকে তিনি অবিলম্বে তালাক দেবেন। একই সাথে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁদের ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়া বন্ধ করার অনুরোধ জানান তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নওগাঁর বদলগাছী উপজেলার বৈরাগীপাড়া এলাকায় প্রথম স্ত্রী মৌসুমীকে নিয়ে একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন মাসুদ রানা। গত ২৪ অক্টোবর সেখানে আনুষ্ঠানিকতার পর ২৫ অক্টোবর প্রথম স্ত্রীর আপন ছোট বোন পূর্ণিমাকে বিয়ে করেন তিনি। পরবর্তীতে দুই স্ত্রীকে নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে বিভিন্ন ছবি ও ভিডিও প্রকাশ করলে তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং দেশজুড়ে তীব্র নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়। এর আগে মাসুদ রানা দাবি করেছিলেন, প্রথম স্ত্রীর পূর্ণ সম্মতি ও সহযোগিতাতেই তিনি এই বিয়ে সম্পন্ন করেছিলেন।

এদিকে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে গত সোমবার রাতে নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলার মাতাজি বিরামগ্রাম এলাকায় চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। প্রথম স্ত্রীর উপস্থিতিতে শ্যালিকাকে বিয়ে করার প্রতিবাদে স্থানীয় উত্তেজিত জনতা মাসুদ রানার মুখে চুন-কালি মেখে দিয়ে তাঁকে এলাকা থেকে বিতাড়িত করে। উদ্ভূত পরিস্থিতির মুখে পরদিনই সামাজিক মাধ্যমে এসে অনুশোচনা প্রকাশ করে বিচ্ছেদের ঘোষণা দেন তিনি।

বিষয়:

নির্বাচিত

কক্সবাজারে রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডের ১০ দিন পর শিক্ষিকা মুক্তার মরদেহ উদ্ধার

ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কক্সবাজার প্রতিনিধি  

কক্সবাজারের ইনানীর পাটুয়ারটেক এলাকার মেরিন ড্রাইভ সংলগ্ন ‘টুপটুপ রিসোর্টে’ ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ১০ দিন পর ধ্বংসস্তূপ থেকে ঢাকার স্কুলশিক্ষিকা নাসরিন আক্তার মুক্তার কঙ্কালসদৃশ মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশের যৌথ অভিযানে ধ্বংসস্তূপ থেকে তার অবশিষ্টাংশ উদ্ধার করা হয়। এ নিয়ে ওই রিসোর্ট ট্র্যাজেডিতে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১১ জনে। গত সোমবার রাতে ডিএনএ পরীক্ষার ফলাফলে অগ্নিকাণ্ডে নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত হলেও নিখোঁজ নাসরিন আক্তার মুক্তার কোনো নমুনার সঙ্গে মিল পাওয়া যায়নি। এরপরই মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সকালে উখিয়া থানা পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা দুর্ঘটনাস্থলে আবার নতুন করে অনুসন্ধান অভিযান শুরু করেন। ঝুঁকিপূর্ণ ধ্বংসস্তূপ, আশপাশের নালা ও ঝোপঝাড়ে কয়েক ঘণ্টা অনুসন্ধানের পর দুপুরের দিকে মুক্তার মরদেহটি পাওয়া যায়। ১০ দিন অতিবাহিত হওয়ায় দেহটি কঙ্কালসদৃশ রূপ নিয়েছিল। পরে তার স্বামী দেওয়ান ফয়সাল গলার লকেট দেখে স্ত্রীর মরদেহ শনাক্ত করেন।

উখিয়া থানার ওসি আতিকুর রহমান মজুমদার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, আনঅফিসিয়ালি ডিএনএ টেস্টের রিপোর্টে একজনের অমিল থাকার তথ্য পেয়েই নিখোঁজ নারীর খোঁজে পুলিশ সকাল থেকে ধ্বংসস্তূপে তল্লাশি চালায়।

নিহত নাসরিন আক্তার মুক্তা ঢাকার আশুলিয়ার ‘স্বপ্নবিলাস নিরিবিলি স্কুলের’ শিক্ষিকা এবং ঢাকা জেলা জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি দেওয়ান ফয়সালের স্ত্রী। ঢাকার গাজীপুর থেকে দুই বান্ধবীর সঙ্গে তিনি কক্সবাজার ভ্রমণে এসেছিলেন। দুর্ঘটনার দিন ভোরে অন্য দুই বান্ধবী সমুদ্রসৈকতে হাঁটাহাঁটি করতে বের হলেও মুক্তা রিসোর্টের কক্ষে ঘুমিয়ে ছিলেন। আগুন লাগার পর দুই বান্ধবী প্রাণে বাঁচলেও কক্ষেই পুড়ে মর্মান্তিক মৃত্যু হয় মুক্তার।

এদিকে সিআইডির ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে পরিচয় নিশ্চিত হওয়া ১০ জনের মরদেহ মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) দুপুরের পর স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালের মর্গ থেকে মরদেহগুলো স্বজনদের হাতে তুলে দেন জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান ও পুলিশ সুপার এএনএম সাজেদুর রহমান।

শনাক্ত হওয়া নিহতদের মধ্যে ঢাকার শ্যামলীর গ্র্যান্ড পাওয়ার লিমিটেডের কর্মকর্তা মোহাম্মদ নাহিদুর রহমান (৪১), তার স্ত্রী আফসানা মতিন (৩৬) এবং দুই কন্যাপুত্র রোজাইনা ইনায়া (৯) ও মুনাইনা ইহানা (৬) রয়েছেন।

অন্য পরিবারের নিহত সদস্যরা হলেন—ঢাকার বনশ্রী ও খিলগাঁও এলাকার বাসিন্দা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চীনা ভাষা ও সংস্কৃতি বিভাগের শিক্ষার্থী মোহাম্মদ নাফিস তেহামি (২৪), ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী মৌলিতা মেহজাবিন আলভি (১৯), জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের শিক্ষার্থী লায়লা জাহান নাবিলা (২৫), ইসরাত জাহান মালিহা (২৭), ফারিয়া কবির (৩৩) এবং তার ছয় বছর বয়সি শিশুসন্তান মোহাম্মদ ফাইজান নূর।


নির্বাচিত

নওগাঁয় শ্যালিকাকে বিয়ে নিয়ে বিতর্ক, মাসুদকে এলাকা ছাড়ার অভিযোগ

নওগাঁর বদলগাছীতে প্রথম স্ত্রীকে সঙ্গে রেখেই আপন শ্যালিকাকে বিয়ে করে আলোচনায় মাসুদ রানা। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নওগাঁ প্রতিনিধি

নওগাঁর বদলগাছী উপজেলায় প্রথম স্ত্রীকে সঙ্গে রেখেই আপন শ্যালিকাকে বিয়ে করে আলোচনায় আসা টিকটকার ও আইনজীবীর সহকারী মাসুদ রানাকে গ্রাম থেকে বিতাড়িত করার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয়দের বিরুদ্ধে। গত সোমবার (২৬ অক্টোবর) রাত ১০টার দিকে মহাদেবপুর উপজেলার মাতাজি বিরামগ্রাম এলাকায় তার মুখে চুনকালি মাখিয়ে গ্রাম থেকে বের করে দেওয়া হয় বলে জানা গেছে।

প্রথম স্ত্রীর সম্মতিতে শ্যালিকাকে বিয়ের বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় ব্যাপক আলোচনা ও প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। স্থানীয়দের আপত্তি ও ভাড়া বাসায় থাকতে না দেওয়ার হুমকির মুখে সোমবার সন্ধ্যায় বদলগাছী ছেড়ে শ্বশুরবাড়িতে আশ্রয় নেন মাসুদ রানা (৩৫)। তার সঙ্গে ছিলেন প্রথম স্ত্রী মৌসুমী (২৮) ও দ্বিতীয় স্ত্রী পূর্ণিমা (২১)।

জানা যায়, মাসুদ রানা নওগাঁ সদর উপজেলার বাসিন্দা। তার প্রথম স্ত্রী মৌসুমী ও দ্বিতীয় স্ত্রী পূর্ণিমার বাড়ি মহাদেবপুর উপজেলার নারায়ণপুর গ্রামে। এর আগে মাসুদ রানা বদলগাছী সদর ইউনিয়নের বৈরাগীপাড়ায় মো. মুসলিম উদ্দিনের বাড়িতে ভাড়া থাকতেন। গত রোববার (২৫ অক্টোবর) সন্ধ্যায় পূর্ণিমার সঙ্গে মাসুদ রানার বিয়ে হয়। পরিবারের সম্মতি এবং প্রথম স্ত্রী মৌসুমীর অনুমোদনেই এ বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। বিয়ের পর মাসুদ রানা ও পূর্ণিমা নিজেদের বিয়ের খবর ফেসবুকে প্রকাশ করেন। এরপর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে শুরু হয় আলোচনা-সমালোচনা।

এদিকে বিয়ের খবর প্রকাশ্যে আসার পর বদলগাছী এলাকার কয়েকজন তাদের ভাড়া বাসায় থাকতে দেওয়া হবে না বলে ভয়ভীতি দেখান বলে অভিযোগ রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে সোমবার (২৬ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে মাসুদ রানা ও পূর্ণিমা ভাড়া বাসার মালামাল নিয়ে বদলগাছী ছেড়ে মহাদেবপুরে শ্বশুরবাড়িতে চলে যান। তবে সেখানেও শেষ পর্যন্ত পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকেনি বলে অভিযোগ উঠেছে।

অভিযোগ অনুযায়ী সোমবার (২৬ অক্টোবর) রাত ১০টার দিকে মহাদেবপুর উপজেলার মাতাজি বিরামগ্রামে স্থানীয় কয়েকজন মাসুদ রানার মুখে চুনকালি মাখিয়ে তাকে এলাকা থেকে বের করে দেন। এ ঘটনায় এলাকায় নতুন করে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

এলাকাবাসীর কয়েকজনের দাবি, এ ধরনের বিয়ে সমাজ ও তরুণ প্রজন্মের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে তারা মনে করেন। তাদের ভাষ্য, এ কারণেই মাসুদ রানাকে এলাকায় থাকতে দিতে চাননি তারা।

এ বিষয়ে মাসুদ রানা বলেন, তার শ্যালিকা পূর্ণিমার অন্য কোথাও বিয়ে হলে তাদের আগে ধারণ করা ভিডিওগুলোকে কেন্দ্র করে পূর্ণিমাকে হয়রানির শিকার হতে হতো বলে তিনি আশঙ্কা করেছিলেন। এ কারণেই প্রথম স্ত্রী মৌসুমীর সম্মতি ও সহযোগিতায় পূর্ণিমাকে বিয়ে করেছেন বলে দাবি করেন তিনি।

মহাদেবপুর থানার ওসি মো. ওমর ফারুকের সঙ্গে একাধিকবার ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।


নির্বাচিত

অনুমতি ছাড়া সড়ক খনন, দুই শ্রমিক আটক

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) অনুমতি ছাড়া অবৈধ গ্যাসসংযোগ দেওয়ার জন্য সড়ক খননের সময় দুই শ্রমিককে আটক করা হয়েছে। এ সময় খননকাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জাম জব্দ করেন সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তারা।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) রাজধানীর জুরাইনের উত্তর মুরাদপুর এলাকার লাল মিয়া সড়কে এ ঘটনা ঘটে। সড়কটি ডিএসসিসির অঞ্চল-৫-এর ৫২ নম্বর ওয়ার্ডের অন্তর্ভুক্ত।

ডিএসসিসির প্রকৌশল বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, মুরাদপুরের শরীফ মঞ্জিলের (হোল্ডিং নম্বর ৩০৭) জিয়া উদ্দিন বাদলের নেতৃত্বে সিটি করপোরেশনের অনুমতি ছাড়াই অবৈধ গ্যাসসংযোগ দেওয়ার জন্য সড়কটি খনন করা হচ্ছিল। খবর পেয়ে সেখানে অভিযান চালিয়ে দুই শ্রমিককে হাতেনাতে আটক করা হয়।

অভিযানকালে খননকাজে ব্যবহৃত দুটি হ্যামার ড্রিল, বৈদ্যুতিক তার ও দুটি কর্নি জব্দ করা হয়।

পরে কদমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সহযোগিতায় আটক দুই শ্রমিককে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

জনস্বার্থ রক্ষা ও সরকারি সম্পত্তির ক্ষতি রোধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে ডিএসসিসি।


নির্বাচিত

রংপুরে সার বিক্রিতে গরমিল, পাঁচ দিন বন্ধ ডিলার পয়েন্ট

* সার বিক্রির নথিতে অসংগতি, তদন্তে বেরিয়ে এল অনিয়ম
রংপুরে বন্ধ ডিলার পয়েন্টের ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
রংপুর প্রতিনিধি

রংপুরের বদরগঞ্জ ও মিঠাপুকুর উপজেলার তিনটি সার ডিলার পয়েন্টে সার বিক্রি ও বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। কোথাও বিক্রয় মেমো ও রেজিস্টারের হিসাবে অসংগতি, কোথাও খুচরা বিক্রেতার কাছে সার সরবরাহ, আবার কোথাও বিক্রয়কেন্দ্র নিয়মিত খোলা না রাখার তথ্য পাওয়া গেছে। সরেজমিনে নথিপত্র যাচাই ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্যে এসব অভিযোগ সামনে এসেছে। বদরগঞ্জের একটি ডিলার পয়েন্টে এক দিনের ইউরিয়া বিক্রির হিসাবে ৩৪ বস্তার পার্থক্য পাওয়া গেছে।

বদরগঞ্জ উপজেলার ১৫ নম্বর লোহানী ইউনিয়নের মণ্ডলের হাটে মেসার্স শান্তি সার বিতানের গত ১৯ অক্টোবরের বিক্রয় মেমোতে ৩১ বস্তা ইউরিয়া বিক্রির তথ্য রয়েছে। অথচ একই দিনের সেল রেজিস্টার ও স্টক রেজিস্টারে বিক্রি দেখানো হয়েছে ৬৫ বস্তা। এতে ৩৪ বস্তা ইউরিয়ার হিসাব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

এ ছাড়া, ছয় বস্তা ইউরিয়া সরবরাহের একটি মেমোতে থাকা মোবাইল নম্বরে যোগাযোগ করলে সুজন নামের এক ব্যক্তি জানান, তাঁর সুজন ট্রেডার্স নামে প্রতিষ্ঠান রয়েছে। তিনি কীটনাশকের পাশাপাশি সার বিক্রি করেন এবং ওই ডিলারসহ অন্য ডিলারদের কাছ থেকেও সার সংগ্রহ করেন। অন্য একটি মেমোতে থাকা নম্বরে যোগাযোগ করলে মেরাজ নামের এক ব্যক্তি দাবি করেন, তিনি কোনো সার নেননি; তাঁর নাম ব্যবহার করে কে সার নিয়েছে, তা-ও জানেন না।

মেসার্স শান্তি সার বিতানের ব্যবস্থাপক সন্দীপ বাবু বলেন, হিসাবের পার্থক্যে থাকা ৩৪ বস্তা ইউরিয়া মেমো ছাড়াই বিক্রি করা হয়েছে। কৃষি উপসহকারী কর্মকর্তাদের উপস্থিতি ও নির্দেশনায় খুচরা বিক্রেতাদের সার দেওয়া হয় বলেও তিনি দাবি করেন।

ডিলার মালিক সুবোধ কুমার কুন্ডু (গোবিন্দ) অভিযোগের স্পষ্ট জবাব না দিয়ে ঘটনাটিকে ভুলবশত হয়েছে বলে বিবেচনা করে বিষয়টি না বাড়ানোর অনুরোধ জানান।

বদরগঞ্জের শ্যামপুর ইউনিয়নের বিএডিসি সার ডিলার মেসার্স শ্যামপুর সার ঘর, প্রোপ্রাইটর হাবিবা বেগমের প্রতিষ্ঠান থেকেও সম্প্রতি ১০ বস্তা ইউরিয়াসহ একটি ভ্যান আটক করা হয়। অভিযোগ, সারগুলো কৃষকের পরিবর্তে খুচরা বিক্রেতার কাছে পাঠানো হচ্ছিল। ডিলার ব্যবস্থাপক রেজাউল ফোনে দাবি করেন, সার কৃষকের কাছে পাঠানো হয়েছে। তবে মেমোতে থাকা নম্বরে যোগাযোগ ও ভ্যানচালকের বক্তব্যে সার খুচরা দোকানে পাঠানোর তথ্য পাওয়া যায়।

ডিলার পয়েন্টে মেমো ও রেজিস্টার যাচাই করে অধিকাংশ ক্ষেত্রে বিক্রির পরিমাণে অসংগতি দেখা যায়। ব্যবস্থাপক রেজাউল এর সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা না দিয়ে কৃষি উপসহকারী কর্মকর্তার যোগসাজশে এমনটি করা হয় বলে দাবি করেন। তবে তাঁর এ অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

বদরগঞ্জ লোহানী ইউনিয়নের ইউনিয়নের কৃষি উপসহকারী কর্মকর্তা জিয়া বলেন, খুচরা বিক্রেতার কাছে সার বিক্রির অনুমতি দেওয়া হয়নি এবং মেমো ছাড়া এক কেজি সার বিক্রিরও নিয়ম নেই। অনিয়ম হয়ে থাকলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শ্যামপুরের কৃষি উপসহকারী কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম বলেন, নীতিমালাবহির্ভূত সার বিক্রি বা অনিয়ম করার সুযোগ নেই। তবে অভিযোগের বিষয়ে তিনি সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা দিতে পারেননি।

বদরগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সেলিনা আফরোজ বলেন, অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে গঠিত চার সদস্যের তদন্ত দলের সঙ্গে আজ সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেন। এ সময় বদরগঞ্জের লোহানী ইউনিয়নের বিসিআইসি সার ডিলার পয়েন্টে অনিয়মের সত্যতা পাওয়ায় সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

এদিকে, বদরগঞ্জ ও মিঠাপুকুর উপজেলার অধিকাংশ খুচরা সার বিক্রেতার দোকানে বিপুল পরিমাণ সার মজুত থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। এসব দোকানে মজুত থাকা সারের উৎস, ডিলারদের কাছ থেকে সরবরাহের পরিমাণ এবং বিক্রয়সংক্রান্ত নথিপত্র যাচাই করা হলে কৃষকের জন্য বরাদ্দ সার বিতরণের প্রকৃত চিত্র আরও স্পষ্ট হতে পারে।

স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, প্রতিষ্ঠানটি সপ্তাহে দুই থেকে তিন দিন খোলা থাকে। সরেজমিনে পাঁচ দিন গিয়েও এটি বন্ধ পাওয়া যায়। ষষ্ঠ দিনেও বন্ধ থাকায় কৃষি উপসহকারী কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগের পর প্রতিষ্ঠানটি খোলা হয়। পরিদর্শনে ব্যবস্থাপক সেল রেজিস্টার দেখাতে পারেননি। মেমো ও স্টক রেজিস্টারেও অসংগতি দেখা যায়। গুদামে সার রাখার জন্য মেঝের ওপর মাচার ব্যবস্থাও ছিল না।

সাংবাদিকদের কাগজপত্র দেখার এখতিয়ার নিয়ে প্রশ্ন তুলে প্রতিষ্ঠানটি পরিচালনাকারী খলিলুর রহমান বলেন, “আপনাদের কাছে সঠিক তথ্য থাকলে নিউজ করেন, আমি দেখে নিবো আপনাদেরকে।” বক্তব্যটি সাংবাদিকদের প্রতি হুমকিসূচক বলে প্রতীয়মান হয়।

খলিলুর রহমান মিঠাপুকুর বণিক সমিতির সভাপতি এবং বিএডিসি সার এসোসিয়েশনের সাথে যুক্ত আছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা যায়।

মিঠাপুকুরের কৃষি উপসহকারী কর্মকর্তা বলেন, তিনি সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত ডিলার পয়েন্টে থাকেন। মেমো ও রেজিস্টারের অসংগতির জন্য তিনি ব্যবস্থাপককে দায়ী করেন।

মিঠাপুকুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা লোকমান হেকিম বলেন, খলিলুর রহমান কে সাংবাদিকদের তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করতে বলেছেন। খুচরা বিক্রেতার কাছে তিন থেকে চার বস্তা সার দেওয়ার নিয়ম রয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন; তবে সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা বা তারিখ উল্লেখ করতে পারেননি। মেমো ছাড়া সার বিক্রি এবং রেজিস্টারের হিসাব সংরক্ষণে অনিয়মের সুযোগ নেই বলেও জানান তিনি।

তবে এমন অভিযোগ প্রমাণিত হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও জানান তিনি।


নির্বাচিত

সৈয়দপুরে সরকারি পাঠ্যবই কেজি দরে বিক্রির অভিযোগ

* প্রধান শিক্ষককে শোকজ, ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস শিক্ষা কর্মকর্তার
ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নীলফামারী প্রতিনিধি

নীলফামারীর সৈয়দপুরে শিক্ষার্থীদের জন্য বরাদ্দ দেওয়া সরকারি পাঠ্যবই কেজি দরে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আফরোজ আহমেদের বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) বিদ্যালয়টিতে পাঠ্যপুস্তকগুলো বস্তায় ভরে ভ্যানে তোলার দৃশ্য এলাকাবাসী ও সাংবাদিকরা ভিডিও ধারণ করে। টেন্ডার ছাড়াই গোপনে পাঠ্যপুস্তক বিক্রির ঘটনাটি প্রকাশ হলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা। অন্যদিকে, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জানিয়েছেন, প্রধান শিক্ষককে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হবে।

জানা যায়, প্রতি বছরের মতো এবারও শিক্ষার্থীদের জন্য বিনামূল্যে সরকারি পাঠ্যপুস্তক সংগ্রহ করে বিদ্যালয়টি। শিক্ষার্থীর সংখ্যার চেয়ে অতিরিক্ত চাহিদা দেখিয়ে বই সংগ্রহের পর সেগুলো শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিতরণ না করে বিক্রি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

বই কেনার সঙ্গে যুক্ত এক ব্যক্তি জানান, টেন্ডার ছাড়াই ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আমার নিকট ২১ টাকা কেজি দরে বইগুলো বিক্রি করেন।

এদিকে, কর্মচারীর অভিযোগ, ব্যবস্থাপক ও প্রধান শিক্ষকের যোগসাজশে বিদ্যুৎ চত্বরে নিয়মিত এ ধরনের কর্মকাণ্ড চলে।

এ ঘটনায় বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আফরোজ আহমেদ বলেন, ‘ব্যবস্থাপকের সঙ্গে কথা হয়েছে। আপনি সম্মানিত মানুষ, আপনার সম্মানী দিয়ে দিচ্ছি। ভিডিওগুলো ডিলিট করে দেন।’

এ বিষয়ে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের সৈয়দপুরের ব্যবস্থাপক (নির্বাহী প্রকৌশলীর কার্যালয়) প্রকৌশলী মো. গোলাম মোরসেলীন বলেন, ‘বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

সৈয়দপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম প্রামাণিক বলেন, ‘বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হবে।’

এলাকাবাসী বলেন, ‘সরকারি বইগুলো কীভাবে বিক্রির পর্যায়ে গেল, কত পরিমাণ বই বিক্রি করা হয়েছে এবং এ ঘটনায় কারা জড়িত—তা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে খতিয়ে দেখা জরুরি।’

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত, সরকারি পাঠ্যবইয়ের উৎস ও বিতরণ সংক্রান্ত নথি যাচাই এবং অনিয়ম প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি করেছেন অভিভাবকরা।


নির্বাচিত

কিশোরগঞ্জে ইমরান হত্যা অভিযুক্তের বাড়িতে আগুন

কিশোরগঞ্জে ইমরান হাসান নামে যুবককে ছুরিকাঘাতে হত্যায় অভিযুক্তের বাড়িতে আগুন। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি

কিশোরগঞ্জে ইমরান হাসান নামে এক যুবককে ছুরিকাঘাতে হত্যার ঘটনায় অভিযুক্তের বাড়িতে লুটপাট, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। এতে বসতঘরসহ তিনটি ঘর পুড়ে গেছে। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সকালে সদর উপজেলার প্যারাভাঙ্গা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এর আগে গত সোমবার (২৬ অক্টোবর) সন্ধ্যায় একই এলাকায় পাওনা টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে ছুরিকাঘাতে নিহত হন ইমরান হাসান (৩৫)।

নিহত ইমরান হাসান সদর উপজেলার মারিয়া ইউনিয়নের মধ্য কাতিয়ারচর এলাকার মৃত আব্দুস শহীদের ছেলে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত আবুল কালাম (৩০) প্যারাভাঙ্গা এলাকার নূর ইসলামের ছেলে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আবুল কালামের কাছে পাওনা ২ হাজার ৪০০ টাকা চাইতে গেলে ইমরানের সঙ্গে তার কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে আবুল কালামের ছুরিকাঘাতে ইমরান গুরুতর আহত হন। পরে তার মৃত্যু হয়।

এ হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সকালে কিশোরগঞ্জের নতুন জেলখানা মোড়ে মানববন্ধন করেন এলাকাবাসী। এ সময় তারা হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। পরে উত্তেজিত লোকজন অভিযুক্ত আবুল কালামের বাড়িতে গিয়ে ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ করেন। এতে বসতঘরসহ তিনটি ঘর পুড়ে যায়।

কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আবুল কালাম ভূঁইয়া বলেন, ‘খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এখনো মামলা হয়নি বলেও জানান তিনি।’


নির্বাচিত

গাজীপুরে মহাসড়ক অবরোধ করে শ্রমিক বিক্ষোভ, ১৫ কারখানা ছুটি

ছবি: বেতন-ভাতা বৃদ্ধির দাবিতে ঢাকা-টাঙ্গাইলের মহাসড়কের মৌচাক এলাকা অবরোধ করে কারখানার শ্রমিকরা।
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
আবিদ হোসেন বুলবুল, গাজীপুর

গাজীপুরের কালিয়াকৈরের ঢাকা-টাঙ্গাইলের মহাসড়কের মৌচাক এলাকায় বেতন-ভাতা বৃদ্ধির দাবিতে অবরোধ ঘোষণা করেছে কারখানার শ্রমিকরা। এতে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের কয়েক কিলোমিটার এলাকাজুড়ে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। এ ছাড়াও শ্রমিক বিক্ষোভের কারণে সফিপুর ও মৌচাক এলাকার অন্তত ১৫টি কারখানা ছুটি দিয়েছে। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সকাল ১০টার দিকে কালিয়াকৈরের এসেনশিয়াল ক্লোথিং লিমিটেড নামে কারখানায় বেতন বৃদ্ধির দাবিতে বিক্ষোভ শুরু করে শ্রমিকরা। পরে ছুটি হওয়া অন্যান্য কারখানার অনেক শ্রমিকরাও যোগ দিয়েছে আন্দোলনে।

পুলিশ ও শ্রমিক সূত্রে জানা যায়, এসেনশিয়াল ক্লোথিং লিমিটেড কারখানার শ্রমিকরা সকালে কারখানার সামনে আন্দোলন শুরু করে। এরপর তারা মিছিল নিয়ে কালিয়াকৈর-ফুলবাড়িয়া সড়কে অবস্থান নেয়। এ সময় শ্রমিকরা আশপাশের বিভিন্ন ফ্যাক্টরিতে ছুটি দেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করে। পরে শ্রমিকরা আশপাশের বেশ কয়েকটি কারখানার গেটে ইটপাটকেল ছুঁড়ে। পরে ওই সড়কের অনেক কারখানা পরিস্থিতি শান্ত রাখতে কারখানা ছুটি ঘোষণা করে। পরবর্তীতে শ্রমিকরা টাঙ্গাইল মহাসড়কের মৌচাকে অবস্থান নেয়। এরপর থেকেই ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। শ্রমিকরা এ সময় হাতে লাঠি নিয়ে বিভিন্ন কারখানার সামনে অবস্থান নিলে মৌচাক, সফিপুর ও কোনাবাড়ি এলাকার অন্তত ১৫ কারখানা ছুটি দিয়ে দেয়।

কালিয়াকৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলাম জানান, মহাসড়ক স্বাভাবিক করতে আন্দোলনরত শ্রমিকদের সাথে আলোচনা চলছে।

গাজীপুর শিল্প পুলিশের পুলিশ সুপার মো. আমজাদ হোসাইন বলেন, ‘মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সকাল কালিয়াকৈরের এসেনশিয়াল গার্মেন্টসে আন্দোলন শুরু করে। পরে আশপাশের ১৪-১৫টি কারখানা ছুটি দিয়েছে। এ সকল কারখানার শ্রমিকরা মহাসড়কে রয়েছে। তাদেরকে বুঝিয়ে মহাসড়ক থেকে সরানোর জন্য শিল্প পুলিশসহ জেলা পুলিশের সদস্যরা কাজ করছেন।


নির্বাচিত

২৪ ঘণ্টায় হাম ও হাম উপসর্গে আরও ৭ মৃত্যু, আক্রান্ত ১২৯৫

ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

গত ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আরও সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (২৬ অক্টোবর ) সকাল ৮টা থেকে মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সকাল ৮টার মধ্যে এই মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। এই সময়ের মধ্যে নিশ্চিত হামে মৃত্যু হয় ১ জনের এবং হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয় ৬ জনের।

একই সময়ের মধ্যে হাম ও হামের উপসর্গে আক্রান্ত হয়েছে ১ হাজার ২৯৫ জন। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) স্বাস্থ্য অধিদফতরের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়, গত ১৫ মার্চ থেকে আজকে পর্যন্ত হামের উপসর্গে দেশে ১ হাজার ১৩৫ শিশুর মৃত্যুর হয়েছে। এ সময় হাম শনাক্ত হওয়ার পর মারা গেছে ১০৫ শিশু। এ নিয়ে এখন পর্যন্ত হাম ও হামের উপসর্গে শিশুর মৃত্যু ১ হাজার ২৪০ জনে পৌঁছেছে।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে সন্দেহজনক হাম আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ১ হাজার ২৩২ জন এবং নিশ্চিত হাম শনাক্ত হয়েছে ৬৩ জনের। মোট ১ হাজার ২৯৫ শিশু হাম ও হামের উপসর্গে আক্রান্ত হয়েছে।

১৫ মার্চ থেকে এই পর্যন্ত মোট সন্দেহজনক হাম রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১ লাখ ৯৯ হাজার ১২৭ জন। এর মধ্যে এখন পর্যন্ত সুস্থ হয়ে ১ লাখ ৯১ হাজার ৯০ জন হাসপাতাল ছেড়েছে।


নির্বাচিত

মুক্তিযোদ্ধার দাফনে বাধার প্রতিবাদে জাবিতে সাঈদীর কুশপুত্তলিকা দাহ

মুক্তিযোদ্ধার দাফনে বাধার প্রতিবাদে জাবিতে বিক্ষোভ ও কুশপুত্তলিকা দাহ
ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
অনলাইন ডেস্ক

পিরোজপুরে বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর মরদেহ দাফনে বাধা প্রদান এবং রাষ্ট্রীয় সম্মাননা ব্যাহত করার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) একদল শিক্ষার্থী। সোমবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলা এলাকায় এ কর্মসূচি পালিত হয়। এ সময় ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আমৃত্যু কারাদণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াত নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর কুশপুত্তলিকা দাহ করেন।

সমাবেশে অংশ নিয়ে শিক্ষার্থীরা একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার শেষকৃত্যে এমন প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির তীব্র নিন্দা জানান এবং এই অপতৎপরতায় জড়িত ব্যক্তিদের অবিলম্বে শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানান। কর্মসূচির সঞ্চালক ও বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী আবু রায়হান কবির রাসেল বলেন, ‘রাজাকার একটি চেতনা, যারা বাংলাদেশ রাষ্ট্রে ভূখণ্ডগতভাবে পাকিস্তান পন্থা জিইয়ে রাখতে চায়। নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় আসার পরও একজন মুক্তিযোদ্ধাকে লুকিয়ে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়েছে। সাজাপ্রাপ্ত যুদ্ধাপরাধী এ টি এম আজহারকে সংসদে বসানো হয়েছে, এর চেয়ে লজ্জাকর কিছু হতে পারে না।’

এর আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রশিবিরের ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে তিনি উল্লেখ করেন, অনির্বাচিত প্রশাসনের সময়ে এমন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছিল বলে তারা মনে করেছিলেন; কিন্তু নির্বাচিত সরকারের আমলেও মুক্তিযোদ্ধার মর্যাদাহানির ঘটনা মেনে নেওয়া যায় না। ক্ষোভ প্রকাশ করে রাসেল বলেন, ‘কিন্তু পরবর্তী সময়ে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি হিসেবে যে নির্বাচিত সরকার এলো তাদের আমলেও একজন বীর মুক্তিযোদ্ধাকে লুকিয়ে গার্ড অব অনার দেওয়া হলো। এটি চরম ঘৃণ্য একটি কাজ। আমি সরকারের এমন আচরণের তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি।’

সমাবেশে সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের জাবি শাখার সংগঠক সোহাগী সামিয়া অভিযোগ করেন, যুদ্ধাপরাধের মামলায় সাক্ষ্য দেওয়ার কারণেই মানিক পশারীর শেষ বিদায়ে এমন প্রতিহিংসামূলক আচরণ করা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে সাক্ষী হওয়ায় একজন বীর মুক্তিযোদ্ধাকে গার্ড অব অনার দিয়ে স্বাভাবিক ও সুষ্ঠুভাবে দাফন করতে দেওয়া হয়নি। কাদের বাধার কারণে এটি হতে পারেনি, তাদের চিহ্নিত করা দরকার। তারা ধর্মকে সব সময় রাজনীতি করার জন্য ব্যবহার করেছে। তার সবচেয়ে বড় প্রমাণ হচ্ছে, তারা ইসলামি নিয়ম অনুযায়ী একজন মুসলিমের দাফন কার্যক্রম পর্যন্ত সম্পন্ন হতে দেয়নি।’

মুক্তিযুদ্ধ এবং জুলাই আন্দোলনের চেতনার গুরুত্ব তুলে ধরে সোহাগী সামিয়া বলেন, ‘যারা ২৪-এর নাম করে ৭১-কে নস্যাৎ করতে চান, তাদের চিনে রাখা দরকার। যারা ৭১-কে ধারণ করতে পারেন না, তারা কোনো দিন ২৪-কেউ ধারণ করতে পারবেন না।’

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ও প্রশাসনের ভূমিকার সমালোচনা করে তিনি আরও বলেন, ‘সরকার জনগণের হলে ২৪ ও ৭১-এর চেতনাকে ধারণ করত। একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার দাফনে উচ্ছৃঙ্খলভাবে বাধা দেওয়া হলে আইনগতভাবে তা প্রতিহত করত। কিন্তু আইন আজ মব সৃষ্টিকারী ও উগ্রপন্থিদের হাতে বন্দী।’


নির্বাচিত

banner close