বুধবার, ২৭ মে ২০২৬
১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

ঘূর্ণিঝড় ‘রেমাল’ মোকাবিলায় জেলায় জেলায় প্রস্তুতি

মোংলায় ঘূর্ণিঝড় নিয়ে সচেতন করতে কোস্টগার্ডের মাইকিং। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড
২৬ মে, ২০২৪ ০৫:১৯
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত : ২৬ মে, ২০২৪ ০৫:১৮

বঙ্গোবসাগরে থাকা গভীর নিম্নচাপটি ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেওয়ায় তা ‘রেমালে’ পরিণত হয়েছে। আজ রোববার মধ্যরাতে এটি আঘাত হানার আশঙ্কা করছেন আবহাওয়াবিদরা। এ জন্য দেশের ছয় জেলাকে ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলার জন্য বিশেষভাবে প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দিয়েছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. মহিববুর রহমান। এ ঘূর্ণিঝড় নিয়ে এ পর্যন্ত প্রাপ্ত পূর্বাভাস ও ভূমি অতিক্রমের সম্ভাব্য এলাকার ভিত্তিতে এ নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জেলাগুলো হলো সাতক্ষীরা, বাগেরহাট, খুলনা, বরগুনা, পটুয়াখালী ও ভোলা।

গতকাল ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় প্রস্তুতি সভায় প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘গত ১৫ বছরে ঘূর্ণিঝড়সহ সব দুর্যোগে তার নিবিড় পর্যবেক্ষণ ও নির্দেশনায় আমরা যথাসময়ে প্রস্তুতি নিয়ে মানুষের দুর্দশা লাঘব এবং জীবন ও সম্পদের ক্ষতি কমাতে সক্ষম হয়েছি। এ ঘূর্ণিঝড়টিও যাতে একই ধারাবাহিকতায় সফলভাবে মোকাবিলা করতে পারি তার জন্য আমরা প্রস্তুত রয়েছি।’

প্রতিমন্ত্রী মুহিববুর রহমান বলেন, ‘আমরা ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোর জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারদের সঙ্গে কথা বলে স্থানীয় প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য নির্দেশনা দিয়েছি। উপকূলবর্তী সব জেলাকে ঘূর্ণিঝড়ের জন্য প্রস্তুতি নিতে বলা হয়েছে। এ পর্যন্ত প্রাপ্ত পূর্বাভাস ও সম্ভাব্য ভূমি অতিক্রম এলাকার ভিত্তিতে সাতক্ষীরা, বাগেরহাট, খুলনা, বরগুনা, পটুয়াখালী, ভোলা জেলাসমূহকে অধিকতর প্রস্তুত থাকার জন্য বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘এক সপ্তাহ ধরে এই ঝড়টির বিষয়ে আমরা খোঁজখবর রাখছি। বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করে নিয়মিতভাবে পূর্বাভাস দিচ্ছে এবং আগাম কার্যাবলি (অ্যান্টিসিপেটরি অ্যাকশন) ও সাড়া প্রদানে সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত দিয়ে সহযোগিতা করছে। আমরা ভারতে অবস্থিত আঞ্চলিক বিশেষায়িত আবহওয়া কেন্দ্রের সঙ্গেও নিয়মিত যোগাযোগ রাখছি। এর পাশাপাশি বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য আন্তর্জাতিক পূর্বাভাস মডেল নিয়মিত পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে সময়োপযোগী কার্যক্রম গ্রহণ করছি।’

সভায় প্রতিমন্ত্রী বলেন, এই ঘূর্ণিঝড়টি মোকাবিলায় সার্বক্ষণিক তথ্য বিনিময়ের লক্ষ্যে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের এনডিআরসিসি ২৪ ঘণ্টা খোলা রয়েছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর মানবিক সহায়তা ও ত্রাণ কার্যক্রম প্রেরণ শুরু করেছে। ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচির (সিপিপি) ৭৮ হাজার স্বেচ্ছাসেবক কয়েক দিন যাবৎ মাঠে আগাম সতর্কবার্তা প্রচারসহ আশ্রয়কেন্দ্র পরিদর্শন ও প্রস্তুতের কাজ করছে। মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্বে অ্যান্টিসিপেটরি অ্যাকশন টেকনিক্যাল ওয়ার্কিং গ্রুপ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ, বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ ও সাইক্লোন আর্লি অ্যাকশন প্রটোকল অনুসরণ করে প্রতিষ্ঠানভিত্তিক আগাম কার্যক্রম শুরু করেছে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ঘূর্ণিঝড়ের গতি-প্রকৃতি এবং আবহাওয়া অধিদপ্তর কর্তৃক বিপদ সংকেত জারি করা মাত্র মানুষকে আশ্রয়কেন্দ্রে আনা হবে। দুর্যোগবিষয়ক স্থায়ী আদেশাবলি অনুযায়ী স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানসমূহ এবং বিভিন্ন পর্যায়ের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটিগুলো কার্যকর হয়েছে।

ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতির অংশ হিসেবে সভায় কয়েকটি বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সেগুলো হলো আগাম সতর্কতার বিজ্ঞপ্তি প্রচার ও জনগণকে সচেতন করা, আগাম মানবিক কার্যাবলি গ্রহণ করা, মাঠ প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় ও বিভিন্ন পর্যায়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটিসমূহের সভা অনুষ্ঠান, সব পর্যায়ে নিয়ন্ত্রণকক্ষ খোলা, আশ্রয়কেন্দ্রগুলো প্রস্তুত করা, আশ্রয়কেন্দ্রে শুকনা খাবার, শিশু খাদ্য এবং গো-খাদ্যের ব্যবস্থা করা, জনগণকে আশ্রয়কেন্দ্রে আনার বিষয়ে প্রস্তুতি গ্রহণ। দুর্যোগ তথ্য পাওয়ার জন্য টোল ফ্রি ১০৯০ ব্যবহারের কথা বলা হয় সভায়। দৈনিক বাংলার বিভিন্ন জেলা প্রতিনিধিদের পাঠানোর সংবাদের ভিত্তিতে ‘রেমাল’ নিয়ে বিভিন্ন জেলার প্রস্তুতির সম্পর্কে জানা গেছে নানা তথ্য।

পিরোজপুর: বঙ্গোপসাগরে সৃষ্টি হতে যাওয়া ঘূর্ণিঝড় ‘রেমাল’ এর জন্য পিরোজপুরে প্রস্তুত করা হয়েছে ৫৬১ টি ঘূর্ণিঝড়ের আশ্রয়কেন্দ্র। যার মধ্যে ২৯৫ টি সাইক্লোন শেল্টার এবং ২৬৬ টি বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং এই আশ্রয়কেন্দ্রে ২ লাখ ৮০ হাজার ৫০০ জন মানুষ আশ্রয় নিতে পারবে।

শনিবার বিকেলে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের শহীদ আব্দুর রাজ্জাক সাইফ-মিজান সভাকক্ষে জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহেদুর রহমান এ তথ্য দেন।

সভায় জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহেদুর রহমান আরও জানান, ঘূর্নিঝড় রেমাল মোকাবিলায় একটি জেলা প্রশাসন থেকে একটি কন্টোলরুমসহ প্রতিটি উপজেলায় একটি টিম করা হয়েছে, ৬৫ টি মেডিকেল টিম প্রস্তুত রয়েছে, ২ লাখ ৬৩ হাজার পানি বিশুদ্ধ করণ ট্যাবলেজ মজুত রাখা হয়েছে, ঝড়ের ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য প্রাথমিক পর্যায়ে ১৩৫০ হাজার প্যাকেট শুকনা খাবার, ৬১১ মে. ট. চাল ও নগদ ৬ লক্ষ ১০ হাজার টাকা প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এছাড়াও দুর্যোগ পরিবর্তিতে ক্ষতিগ্রস্তদের ঘর মেরামতের জন্য ৯৭ বান্ডিল টিন রয়েছে। এ ছাড়া ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় রেডক্রিসেন্টের ২৫০ জন স্বেচ্ছাসেবক ও সিপিপি ২৪২০ জন সদস্য প্রস্তুত রয়েছে। রেমালের প্রভাবে পিরোজপুরের নদীসমূহে স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে বেশি পানি দেখা গেছে এবং জেলার কয়েক স্থানে হালাকা বৃষ্টি পড়েছে।

বরগুনা: বরগুনায় ঘূর্ণিঝড় রেমালের প্রভাবে গোমট আবহাওয়া বিরাজসহ নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এতে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন নদী তীরের বাসিন্দারা। শনিবার জেলার পায়রা, বলেশ্বর ও বিষখালী নদীর পানি স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় অন্তত তিন ফুট বেড়েছে বলে জানান নদী তীরের বাসিন্দারা। বরগুনা সদর উপজেলার বড়ইতলা এলাকায় গেলে দেখা যায়, পানিতে এখানকার বেড়িবাঁধের বাহিরের নিম্নাঞ্চল তলিয়ে গেছে। এখানে আশ্রয়কেন্দ্রের স্বল্পতা রয়েছে। তাই যা আছে তাতে সকলের স্থান সংকুলান হয় না। বরগুনার জেলা প্রশাসক মোহা. রফিকুল ইসলাম বলেন, দুপুরে জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা হয়েছে। সভার মাধ্যমে আমরা ঘূর্ণিঝড় মোকাবেলায় সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছি। এদিকে বরগুনার পানি উন্নয়ন বোর্ড জেলার বিভিন্ন স্থানে এক কিলোমিটার বেড়িবাঁধ ঝুঁকিপূর্ণ রয়েছে বলে জানিয়েছেন এবং এসব বাঁধ ভেঙ্গে গেলে তা তাৎক্ষণিকভাবে মেরামতের জন্য ৮০০ জিও ব্যাগ প্রস্তুত রাখা হয়েছে বলে জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় জানানো হয়েছে। জেলায় ঘূর্ণিঝড় ‘রেমাল’ মোকাবিলায় বরগুনায় ৬৭৩টি আশ্রয়কেন্দ্রসহ প্রায় ১০ হাজার স্বেচ্ছাসেবক প্রস্তুত রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ও জেলা মোহা. রফিকুল ইসলাম। শনিবার দুপুরে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির জরুরি প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়। দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় জেলা প্রশাসনসহ সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসক মোহা. রফিকুল ইসলাম জানান, ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। বরগুনায় ৩টি মুজিব কেল্লা, ৬৭৩টি আশ্রয়কেন্দ্রসহ প্রায় ১০ হাজার স্বেচ্ছাসেবক প্রস্তুত রাখা হয়েছে। যারা ঘূর্ণিঝড় পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সময়ে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করবেন। এ ছাড়া ৪২২ মেট্রিক টন খাদ্যশস্য, ৩৭ লাখ নগদ অর্থ প্রস্তুত রয়েছে। তিনি আরও জানান, ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকার জন্য জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ১০ টি কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে ৪২ টি মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে। দুর্যোগ প্রস্তুতি সভায় জেলা এনজিও ফোরামের সভাপতি মোতালেব মৃধা, প্রেসক্লাবের সভাপতি অ্যাডভোকেট মোস্তফা কাদের, রেডক্রিসেন্ট, দুর্যোগ প্রস্তুতি কর্মসূচি (সিপিপি), বিভিন্ন সরকারি, বেসরকারি সংস্থা ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত থেকে তাদের প্রস্তুতির বিষয় তুলে ধরেন।

মোংলা: ‘রেমাল’ প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়ে রোববার সন্ধ্যায় সুন্দরবন উপকূলে আঘাত হানবে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। মোংলা আবাহওয়া অফিসের ইনচার্জ মো. হারুন অর রশিদ জানান, এটি বর্তমান যেই অবস্থান দেখাচ্ছে তাতে ঘূর্ণিঝড়ের কেন্দ্রটি বাংলাদেশের ওপর দিয়েই অতিক্রম করার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে সুন্দরবন এলাকা এবং বরিশালের পটুয়াখালী, বরগুনা, ও ভোলা জেলায় রেমাল এর আঘাত হানার সম্ভাবনা বেশি রয়েছে।

এদিকে ঘূর্ণিঝড় রেমালের প্রভাবে সাগর উত্তাল থাকায় এরই মধ্যে মোংলা সমুদ্র বন্দরকে ৭ নম্বর সতর্ক সংকেত জারি করেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। ঘূর্ণিঝড় রেমালের প্রভাবে সব রকম সতর্কমূলক প্রস্তুতি নিয়েছে মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ। কোস্ট গার্ড, নৌ বাহিনী ও উপজেলা প্রশাসনের সমন্বয়ে শনিবার দুপুরে মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের সভাকক্ষে জরুরি বৈঠক করা হয়েছে।

বন্দর কর্তৃপক্ষের হারবার মাস্টার কমান্ডার সাইফুর রহমান বলেন, মোংলা বন্দরে এই মুহূর্তে সিমেন্টের কাঁচামাল ক্লিংকার, সার, পাথর ও গ্যাসবাহী ছয়টি জাহাজ অবস্থান করেছে। সেগুলোকে নিরাপদে নোঙ্গর করতে বলা হয়েছে। এদিকে ঘূর্ণিঝড় ‘রেমাল’ মোকাবিলায় সব রকম প্রস্ততি নিয়েছে উপজেলা প্রশাসনও। উপজেলা নির্বাহী অফিসার নিশাত তামান্না বলেন, ১০৩ টি আশ্রয়কেন্দ্রসহ ১৩২০জন স্বেচ্ছাসেবক প্রস্তুত রাখা হয়েছে। আবহাওয়া অফিস থেকে ঘূর্ণিঝড়ের সংকেত বাড়ানোর সঙ্গে সঙ্গেই আমাদের কার্যক্রমের গতি বাড়ানো হবে। কন্ট্রোল রুমও খোলা হয়েছে।

এদিকে মোংলা উপকূলে সচেতনতামূলক মাইকিং করেছে কোস্ট গার্ডের সদস্যরা। শনিবার সকাল থেকে ঘণ্টাব্যাপী মোংলার পশুর বিভিন্ন স্থানে এ প্রচার মাইকিং করা হয়।

মোংলা কোস্ট গার্ড পশ্চিম জোনের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট মো. মুনতাসীর ইবনে মহসীন জানান, সকাল থেকে সুন্দরবন লাঘোয়া মোংলা উপকূলের ঝুঁকিপূর্ণ বিভিন্ন এলাকায় প্রচার মাইকিং করেন কোস্ট গার্ড সদস্যরা।

বাগেরহাট: ঘূর্ণিঝড় রেমাল ধেয়ে আসার খবরে উপকূলীয় জেলা বাগেরহাটের নদী তীরবর্তী এলাকায় বসবাস করা মানুষের মাঝে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। এরই মধ্যে শনিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে শুরু হয়েছে বৃষ্টিপাত। তবে সকাল থেকে আকাশ কখনো রোদ আবার কখনো মেঘাচ্ছন্ন হচ্ছে। নদীতে থাকা মাছ ধরা ট্রলার গুলো উপকূলের ছোট ছোট খালে আশ্রয় নিয়েছে। কোস্টগার্ডের পক্ষ থেকে চালানো হচ্ছে জনসচেতনামূলক প্রচার-প্রচারণা। এরই মধ্যে রেমাল মোকাবেলায় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সকল ধরনের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে।

বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক মো. খালিদ হোসেন বলেন, ঘূর্ণিঝড় রেমাল মোকাবেলায় বাগেরহাটে ৩৫৯টি আশ্রয় কেন্দ্রে ও ৩ হাজার ৫শ ৫ জন স্বেচ্ছাসেবক প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এ ছাড়া ৬৪৩ মেট্রিকটন চাল ও ৫লক্ষ ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। জেলার ৯টি উপজেলার সকল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের সতর্ক থাকতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের সকল কর্মকর্তাদের ছুটি বাতিলের পাশাপাশি উপকূলের ঝুঁকিপূর্ণ বেরিবাধ এলাকায় গুলো নজরদারিতে রাখা হয়েছে।

পটুয়াখালী: জেলায় রেমাল মোকা‌বেলায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির প্রস্তু‌তি মূলক জরুরী সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার সকাল সাড়ে ১০টায় জেলা প্রশাসকের দরবার হলে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক নুর কুতুবুল আলম। সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান হাফিজুর রহমান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক যাদব সরকার। জেলা সিভিল সার্জন ডা. এসএম কবির হাসান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার যোবায়ের আহাম্মেদ।

গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. হারুন অর রশিদ, কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. নজরুল ইসলাম, পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফুর রহমান, পটুয়াখালী প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া রিদয়, সিপিপি, রেড ক্রিসেন্টসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

জেলা প্রশাসক জানান দুর্যোগ মোকাবিলায় জেলায় ৭০৩ টি সাইক্লোন শেল্টার ৩৫টি মুজিব কিল্লা, ৭৩০ মেট্রিক টন চাল, ১০ লক্ষ টাকার শিশু খাদ‌্য, ১০ লাখ টাকার গোখাদ‌্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এ ছাড় শুকনা খাবার র‌য়ে‌ছে ১৫০০ প‌্যা‌কেট। নগদ টাকা র‌য়ে‌ছে ২৪ লাখ ৭ হাজার টাকা ৫০০ টাকা।

এ সময় মানুষকে সচেতন ও দুর্যোগে উদ্ধার কাজ পরিচালনার জন্য রেডক্রিসেন্ট ও সিপিপির ৯ হাজার স্বেচ্ছাসেবককে প্রস্তুত থাকাসহ বিদ্যুৎ বিভাগ সড়ক বিভাগ ফায়ার সার্ভিসকে দিকনির্দেশনা প্রদান করেন জেলা প্রশাসক।

জেলায় মোট ৭৬টি মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে পর্যাপ্ত পরিমাণ স্যালাইন, ঔষধ ও পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট সংরক্ষিত রয়েছে। জেলায় ১৩০০ কিলোমিটার বেড়িবাঁধের মধ্যে ১০ কিলোমিটার ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। দুর্যোগের সময় কোথাও ভাঙন দেখা দিলে তা মেরামতের জন্য ১৬ হাজার জিও ব্যাগ রয়েছে বলে জানিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।

এদিকে জেলায় ৮৭ হাজার হেক্টর জমিতে রয়েছে মুগ ডাল এবং ২০ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো ধান রয়েছে বলে জানিয়েছে কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তর। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রফিউদ্দিন মোহাম্মদ যোবায়ের বলেন গুজোব মোকাবেলার জন্যে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে।

এদিকে কলাপাড়া উপকূলীয় অঞ্চলের জনগন, মৎস্যজীবি ও নৌযান সমূহকে ক্ষয়ক্ষতি থেকে রক্ষার জন্য জনসচেতনতা মূলক কার্যক্রম শুরু করেছে নিজামপুর কোষ্টগার্ড। শনিবার সকাল নয়টায় মৎস্য বন্দর আলীপুর- মহিপুরে মাইকিং ও লিফলেট বিতরন করে কোস্ট গার্ডের সদস্যরা। এসময় তারা খাপড়াভাঙ্গা নদীতে অবস্থানরত ট্রলার সমূহে থাকা জেলেদের ঘূর্নিঝড়ের সময় করনীয় সম্পর্কে দিক নির্দেশনা দেন।

ঝালকাঠি: জেলায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার বেলা ১১টায় জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ও জেলা প্রশাসক ফারাহ্ গুল নিঝুম। এ সভায় পুলিশ সুপার, স্বাস্থ্য, কৃষি, খাদ্য, শিক্ষা, দপ্তরের প্রধানগন এবং বিদ্যুৎ, ফায়ার সার্ভিস, পানি উন্নয়ন বোর্ড, সড়ক বিভাগ, রেডক্রিসেন্টসহ জেলা পর্যায়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা যোগ দেন।

সভায় জেলা প্রশাসক ফারাহ্ গুল নিঝুম বলেন, ঘূর্ণিঝড় ‘রেমাল’ মোকাবিলায় সর্বাত্মক প্রস্তুতি নেওয়া শুরু হয়েছে। এই কয় দিন সংশ্লিষ্ট সব পর্যায়ের কর্মকর্তাদের স্টেশন ত্যাগ না করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ঘূর্ণিঝড় ‘রেমাল’ মোকাবিলায় নির্ধারিত সাইক্লোন শেল্টারসহ আশ্রয়কেন্দ্রের জন্য সহ জেলার সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ব্যবহার উপযোগী করা হয়েছে।


বুধবার সৌদির সঙ্গে মিল রেখে জামালপুরের ১৬ গ্রামে ঈদুল আজহা উদযাপন হবে

আপডেটেড ২৭ মে, ২০২৬ ০৩:০১
নিজস্ব প্রতিনিধি

সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে মিল রেখে জামালপুরের তিনটি উপজেলার ১৬টি গ্রামে বুধবার (২৭ মে) পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপন করা হবে।

জেলাটির সরিষাবাড়ী, ইসলামপুর ও মাদারগঞ্জ উপজেলার এসব গ্রামের সুরেশ্বরী ও কুতুববাগী তরিকার অনুসারী মুসল্লিরা প্রতি বছরের মতো এবারও মধ্যপ্রাচ্যের সাথে মিল রেখে ঈদের নামাজ আদায় এবং কোরবানি সম্পন্ন করবেন। এর মধ্যে সরিষাবাড়ী পৌরসভার বলারদিয়ার মধ্যপাড়া মাস্টারবাড়ি জামে মসজিদ মাঠে সকাল ৮টায় প্রধান ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

ঈদ উপলক্ষে সংশ্লিষ্ট গ্রামগুলোতে ইতিমধ্যে শেষ মুহূর্তের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। স্থানীয় মসজিদ ও ঈদগাহ মাঠগুলো পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করার পাশাপাশি পরিবারগুলোতে কোরবানির পশু কেনার কাজও শেষ হয়েছে।

বলারদিয়ার মধ্যপাড়া মাস্টারবাড়ি জামে মসজিদের ইমাম মাওলানা হাফেজ আব্দুল করিম জানান, তারা দীর্ঘদিন ধরে শরিয়ত সম্মতভাবে সৌদি আরবের চাঁদের হিসাব অনুযায়ী রোজা ও ঈদ পালন করে আসছেন এবং এবারও শান্তিপূর্ণভাবে ঈদের জামাত আয়োজনের সব প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। এই আগাম ঈদকে কেন্দ্র করে গ্রামগুলোর বাসিন্দাদের মাঝে এখন উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে।


আকাঙ্ক্ষিত পর্যটক মিলবে কি? ঈদের আগে বুকিং সংকটে মৌলভীবাজারের পর্যটন পল্লী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মৌলভীবাজার প্রতিনিধি

প্রতি বছর ঈদের ছুটিতে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জে পর্যটকদের ঢল নামে। সবুজ চা-বাগান, লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান, মাধবপুর লেক, হামহাম জলপ্রপাত আর বিলাসবহুল রিসোর্টগুলোর চিরচেনা উপচেপড়া ভিড় এবার ম্লান হওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। দেশজুড়ে শিশুদের মধ্যে হাম রোগের প্রাদুর্ভাব এবং সড়ক ও রেলযোগাযোগের বেহাল দশার কারণে এবার ঈদ মৌসুমে পর্যটক সমাগম আশঙ্কাজনক হারে কমতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা।


সাধারণত ঈদের ছুটিকে কেন্দ্র করে এক মাস আগেই এখানকার হোটেল-রিসোর্টগুলোর প্রায় শতভাগ অগ্রিম বুকিং সম্পন্ন হয়ে যায়। কিন্তু এবার চিত্র সম্পূর্ণ উল্টো। ঈদের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়েও অধিকাংশ হোটেল-রিসোর্টের কক্ষ খালি পড়ে রয়েছে। বিশেষ করে পরিবার নিয়ে যারা ভ্রমণের পরিকল্পনা করছিলেন, তারা শিশুদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বিবেচনায় ভ্রমণ স্থগিত করছেন।

শ্রীমঙ্গলের নভেম ইকো রিসোর্ট, বালিশিরা, চাওমিন এবং কমলগঞ্জের টিলাগাঁও ও অরণ্য নিবাস রিসোর্টের মতো জনপ্রিয় থাকার জায়গাগুলোতে প্রতি ঈদে বুকিংয়ের জন্য হাহাকার পড়ে যায়। তবে এবার এখনও সিংহভাগ কক্ষই খালি।

রাধানগর পর্যটন কল্যান পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক ও নিসর্গ নিরব ইকো কটেজ এর মালিক কাজী সামছুল হক বলেন, "ঈদ একেবারে সন্নিকটে , অথচ এখন পর্যন্ত মাত্র ৪০ শতাংশ বুকিং হয়েছে। তবে ঈদের ছুটি চলাকালীন শেষ মুহূর্তে আরও কিছু বুকিং হতে পারে বলে আশা করছি।"

পর্যটক কমে যাওয়ার এই ধাক্কা শুধু হোটেল-রিসোর্টেই সীমাবদ্ধ নেই; এর প্রভাব পড়ছে রেস্টুরেন্ট, পরিবহন, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী এবং স্থানীয় ট্যুর গাইডদের ওপরও। শ্রীমঙ্গল রাধানগরের চামুং রেস্টুরেন্টের মালিক তাপস দাস জানান, ঈদে পর্যটকদের কারণে তাদের বিক্রি কয়েকগুণ বেড়ে যায়। এবার পর্যটক কমলে তাদের বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়তে হবে। কারণ এই ঈদ মৌসুমের আয়ের ওপরই বছরের একটি বড় অংশের ব্যবসা নির্ভর করে।

ব্যবসায়ীদের মতে, পর্যটন মন্দার পেছনে শুধু হাম আতঙ্কই একমাত্র কারণ নয়, এর সাথে যুক্ত হয়েছে অনুন্নত অবকাঠামো ও বৈশ্বিক পরিস্থিতি। ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের সংস্কার কাজ এবং পর্যটন এলাকার সংযোগ সড়কগুলোর খারাপ অবস্থার কারণে সড়কপথে ভ্রমণ কষ্টদায়ক হয়ে উঠেছে। ঢাকা-সিলেট রেলপথে চাহিদার তুলনায় ট্রেনের সংখ্যা অনেক কম। ইরান-ইসরাইল যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং গত কয়েক বছরের ধারাবাহিকতায় বিদেশী পর্যটকের আগমন প্রায় শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে।

শ্রীমঙ্গল গ্র্যান্ড সেলিম রিসোর্ট অ্যান্ড ট্যুরের ব্যবস্থাপক সেলিম আহমেদ এবং পর্যটন ব্যবসায়ী ও ট্যুর গাইড অপারেটর এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক রাসেল আলম জানান, যোগাযোগ ব্যবস্থার দুর্বলতা ও যানজটের কারণে দেশী-বিদেশী পর্যটকেরা আগ্রহ হারাচ্ছেন। তারা জরুরি ভিত্তিতে সিলেট-ঢাকা রেলপথে ট্রেনের সংখ্যা বাড়ানোর জন্য সরকারের কাছে জোর দাবি জানান।

পর্যটক আগমন কম হওয়ার শঙ্কা থাকলেও, যারা আসবেন তাদের সার্বিক নিরাপত্তা ও স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করতে তৎপর রয়েছে প্রশাসন। পর্যটন পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামরুল চৌধুরী জানান, পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জেলা পুলিশ, উপজেলা প্রশাসন, ট্যুরিস্ট পুলিশ, র‌্যাব ও বিজিবি যৌথভাবে মাঠে থাকবে। এছাড়া দর্শনার্থীরা যাতে নির্বিঘ্নে ঈদের আনন্দ উপভোগ করতে পারেন, সেজন্য পর্যটন কেন্দ্রগুলোর আশেপাশের সড়কগুলোতে যানজট নিরসনে বিশেষ ভূমিকা রাখবে পর্যটন পুলিশ।
স্থানীয় ব্যবসায়ীদের প্রত্যাশা, সব প্রতিবন্ধকতা কাটিয়ে ছুটির দিনগুলোতে পর্যটকরা আবারও চায়ের রাজধানীতে ফিরে আসবেন এবং প্রাণবন্ত হয়ে উঠবে শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জের পর্যটন শিল্প।


শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজের দিঘি থেকে দুই শিশুর মরদেহ উদ্ধার

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বরিশাল প্রতিনিধি
বরিশাল শের ই বাংলা মেডিক্যাল কলেজের দিঘি থেকে ১০ বছর বয়সি দুই শিশুর মরদেহ উদ্ধার করেছে ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের ডুবুরি দল।
মঙ্গলবার (২৬ মে) রাত ১০টার দিকে মেডিক্যাল কলেজের সেন্ট্রাল মসজিদের সামনের দিঘি থেকে মরদেহ দুটি উদ্ধার করা হয়।
মৃত মো. আরাফাত মল্লিক (১০) বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার চৈতা রঘুনাথপুর এলাকার বিপ্লব মল্লিকের ছেলে ও ঢাকার একটি মাদ্রাসার ছাত্র এবং মৃত আকাশ (১০) ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার বাসিন্দা মো. বেল্লাল এর ছেলে ও বরিশাল নগরের ভাটারখাল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী।
মৃত আকাশের চাচা মাসুদ জানান, মৃত আকাশ তাদের সাথে বরিশাল নগরের বান্দরোডস্থ চরের বাড়ি এলাকায় বসবাস করেন। দুপুরে পরিবারের সবার অজান্তে বাসা থেকে বের হয়, এরপর রাতে স্থানীয়দের মাধ্যমে মেডিক্যাল কলেজের দিঘি থেকে আকাশের মরদেহ উদ্ধারের খবর পাই।
অপরিদেক আরাফাত মল্লিক মামা সুরুজ জানান, আরাফাত বাবা মায়ের সাথে ঢাকায় থাকেন। কোরবানির ঈদ উপলক্ষ্যে গতকাল ঢাকা থেকে বরিশালে তার (মাম) বাড়িতে বেড়াতে এসেছেন। দুপুরে আকাশের ডাকে সাড়া দিয়ে বাসা থেকে বের হয়। এরপর খোঁজাখুঁজি করে জানতে পারি দুপুরে তারা গোসলের জন্য মেডিক্যাল কলেজের দীঘিতে আসছিল। এরপর সেই দিঘি থেকেই তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
বরিশাল নদী ফায়ার স্টেশনের লিডার নজরুল ইসলাম জানান, রাত সাড়ে ৯টার দিকে খবর পেয়ে বরিশাল শের ই বাংলা মেডিক্যাল কলেজের দিঘির ঘাটলাতে আসেন তারা। এরপর ডুবুরি শাহিনের নেতৃত্বে তল্লাশি অভিযান চালিয়ে দুই শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারের পর স্বজনরা মরদেহ বুঝে নিয়েছেন।


ঈদযাত্রায় স্থবির ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক, ৪০ কিলোমিটার জুড়ে তীব্র যানজট

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
অনলাইন ডেস্ক

পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে ঘরমুখো মানুষের চাপে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের গাজীপুরের চন্দ্রা থেকে টাঙ্গাইলের মির্জাপুর পর্যন্ত প্রায় ৪০ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে ভয়াবহ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। মঙ্গলবার (২৬ মে) সন্ধ্যার পর থেকে মহাসড়কের এই বিশাল অংশে যাত্রী ও যানবাহনের চাপ কয়েকগুণ বেড়ে যাওয়ায় যাতায়াত ব্যবস্থা স্থবির হয়ে পড়ে।

মহাসড়কের বর্তমান চিত্র অনুযায়ী, গাজীপুরের ভোগড়া বাইপাস থেকে কালিয়াকৈর উপজেলার চন্দ্রা ত্রিমোড় হয়ে টাঙ্গাইলের মির্জাপুর বাইপাস পর্যন্ত যানবাহনের দীর্ঘ সারি দেখা গেছে। রাজধানী ঢাকা, সাভার ও গাজীপুর থেকে উত্তরাঞ্চলগামী বাস, ট্রাক ও ব্যক্তিগত গাড়ির অতিরিক্ত চাপের কারণে চন্দ্রা ত্রিমোড় এলাকায় সৃষ্টি হয়েছে তীব্র জটলা। এর ফলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সড়কে আটকে থেকে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন হাজার হাজার যাত্রী।

জানা গেছে, মঙ্গলবার সকালে গাজীপুরের শিল্পকারখানাগুলো ছুটি হওয়ার পর থেকেই মহাসড়কে পোশাক শ্রমিকসহ সাধারণ যাত্রীদের ঢল নামে। এর ওপর দিনের বেলা মুষলধারে বৃষ্টি হওয়ায় পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটে। বৃষ্টির কারণে হাজার হাজার যাত্রী সড়কে আটকা পড়লে এক পর্যায়ে যানবাহনের তীব্র সংকট দেখা দেয়। সন্ধ্যার পর থেকে যখন বড় বাস ও মালবাহী ট্রাকগুলো একযোগে সড়কে নামতে শুরু করে, তখন থেকেই যানজট পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।

টাঙ্গাইল অংশের এলেঙ্গা থেকে যমুনা সেতুর পূর্ব প্রান্ত পর্যন্তও যানবাহনের ধীরগতি লক্ষ্য করা গেছে। তবে মির্জাপুর থেকে কালিয়াকৈর অংশে যানজটের তীব্রতা সবচেয়ে বেশি। যাত্রীবাহী বাসের পাশাপাশি বিপুল সংখ্যক পণ্যবাহী ট্রাক ও ব্যক্তিগত গাড়ি চলাচল করায় মহাসড়কের স্বাভাবিক গতি ব্যাহত হচ্ছে।

হাইওয়ে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শেষ মুহূর্তে প্রায় ২০ লাখ মানুষ গাজীপুর ছাড়ছেন, যার ফলে যানবাহনের এই বিশাল চাপ সামাল দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে। যানজট নিরসনে এবং যাত্রী নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হাইওয়ে পুলিশের একাধিক দল মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে কাজ করে যাচ্ছে। তবে অতিরিক্ত যানবাহনের চাপ না কমা পর্যন্ত পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতির সম্ভাবনা কম।


ছাগলনাইয়ায় ড্রাম ট্রাক ও নোহার ভয়াবহ সংঘর্ষ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ফেনী (ছাগলনাইয়া) প্রতিনিধি

ফেনীর ছাগলনাইয়া উপজেলা মডেল মসজিদের সামনে মঙ্গলবার (২৬ মে) একটি বালু বোঝাই ড্রাম ট্রাক ও মাইক্রোবাসের মধ্যে তীব্র সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।

ভোর ৫টার দিকে সংঘটিত এই মুখোমুখি সংঘর্ষে মাইক্রোবাসটি সম্পূর্ণভাবে দুমড়ে-মুচড়ে গেলেও অলৌকিকভাবে বড় ধরনের বিপদ থেকে রক্ষা পেয়েছেন চালকসহ ভেতরে থাকা তিন আরোহী। তারা সবাই সামান্য আঘাত পেলেও বর্তমানে সুস্থ আছেন বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। দুর্ঘটনার পরপরই ঘাতক ড্রাম ট্রাকটির চালক ও সহকারী ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে আত্মগোপন করেন। খবর পেয়ে স্থানীয়রা উদ্ধার তৎপরতা শুরু করেন এবং বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।


বাসাইলে সিএনজি ও মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে আহত ৫

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাসাইল(টাঙ্গাইল)প্রতিনিধি

টাঙ্গাইলের বাসাইলে সিএনজি ও মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে ৫ জন গুরুতর আহত হয়েছেন।

মঙ্গলবার (২৬ মে) রাত ৮টার দিকে বাসাইল-ভাতকুড়া আঞ্চলিক সড়কের বিয়ালা পূর্বপাড়া ব্র্যাক অফিসের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

​স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, রাতে বাসাইল-ভাতকুড়া সড়কের বিয়ালা পূর্বপাড়া এলাকায় বিপরীত দিক থেকে আসা একটি মোটরসাইকেল ও সিএনজির মধ্যে মুখোমুখি সংঘর্ষ ঘটে। এতে বাহন দুটি দুমড়েমুচড়ে যায় এবং মোটরসাইকেল আরোহী ও সিএনজি যাত্রীসহ মোট ৫ জন গুরুতর আহত হয়।

​দুর্ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করে। এদের মধ্যে আশঙ্কাজনক অবস্থায় দুই মোটরসাইকেল আরোহীকে তাৎক্ষণিকভাবে টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

​অপর তিনজনকে উদ্ধার করে প্রথমে বাসাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেন। তবে তাদের অবস্থাও আশঙ্কাজনক হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য চিকিৎসকের পরামর্শে তাদেরকেও টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

​শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত, আহতদের বিস্তারিত পরিচয় জানা যায়নি। দুর্ঘটনার পর সড়কটিতে কিছুক্ষণের জন্য যানবাহন চলাচল বিঘ্নিত হলেও পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।


পটুয়াখালীতে ১৪ লক্ষ টাকা মূল্যের সামুদ্রিক মাছ ও জাটকা জব্দ, আটক ৩

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
এইচ এম মোজাহিদুল ইসলাম নান্নু, পটুয়াখালী প্রতিনিধি

সামুদ্রিক মৎস্য সম্পদের সুষ্ঠু প্রজনন, উৎপাদন ও সংরক্ষণ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সরকার ১৫ এপ্রিল ২০২৬ হতে ১১ জুন ২০২৬ পর্যন্ত মোট ৫৮ দিন বাংলাদেশের সামুদ্রিক জলসীমায় সকল প্রকার মৎস্য আহরণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে।

উক্ত নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে কোস্ট গার্ড স্টেশন পটুয়াখালী, জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (NSI) ও মৎস্য অধিদপ্তর সমন্বয়ে আজ ২৬ মে ২০২৬ মঙ্গলবার সকাল ১১ টায় পটুয়াখালী সদর থানাধীন টোল প্লাজা সংলগ্ন এলাকায় একটি যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযান চলাকালীন উক্ত এলাকায় সন্দেহজনক ১ টি পিকআপ তল্লাশি করে প্রায় ১৪ লক্ষ ৩৫ হাজার টাকা মূল্যের ৭৫০ কেজি বিভিন্ন প্রকার সামুদ্রিক মাছ ও ১৩০০ কেজি জাটকাসহ পিকআপ, চালক ও ২ জন হেল্পারকে আটক করা হয়।

পরবর্তীতে পটুয়াখালী নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক নিষিদ্ধ সামুদ্রিক মাছ ও জাটকা পরিবহনের অপরাধে চালক এবং হেলপারদ্বয়কে মোট ১৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়। জব্দকৃত মাছ পটুয়াখালী নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও পটুয়াখালী উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার উপস্থিতিতে স্থানীয় মাদ্রাসা, গরীব ও দুস্থদের মাঝে বিতরণ করা হয়।

মৎস্য সম্পদ রক্ষায় কোস্ট গার্ড ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত রাখবে।


এবারের ঈদে প্রায় ১ কোটি পশু কুরবানি দেয়া হবে: প্রাণিসম্পদমন্ত্রী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কুমিল্লা প্রতিনিধি

পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষ্যে দেশজুড়ে প্রায় ১ কোটি গবাদিপশু কোরবানির সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। আজ মঙ্গলবার (২৬ মে) দুপুরে কুমিল্লা মহানগরের নেউরা পশুর হাট পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই আশাবাদ ব্যক্ত করেন। মন্ত্রী জানান যে, কোরবানিকে কেন্দ্র করে প্রান্তিক চাষি ও খামারিদের স্বার্থ রক্ষায় সরকার বদ্ধপরিকর। পশুর হাটের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “একেবারে প্রান্তিক চাষি থেকে শুরু করে ক্রেতা পর্যন্ত কোরবানির পশুর ক্রয়-বিক্রয় যেন সম্পূর্ণ নিরাপদ হয়, সে জন্য সরকার সব ধরনের কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।”

মন্ত্রী আমিন উর রশিদ আরও উল্লেখ করেন যে, কোরবানির পশু লালন-পালন বর্তমানে দেশের লাখো পরিবারের আয়ের প্রধান উৎস এবং এটি একটি শিল্পভিত্তিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে রূপ নিয়েছে। খামারিদের সক্ষমতা বাড়াতে সরকারের পক্ষ থেকে প্রশিক্ষণ ও বিভিন্ন সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে, যা কৃষিভিত্তিক অর্থনীতিকে আরও গতিশীল করছে। হাটের ব্যবস্থাপনা প্রসঙ্গে তিনি জানান, প্রতিটি পশুর হাটে ভেটেরিনারি মেডিক্যাল টিম মোতায়েন রয়েছে যারা পশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষা নিশ্চিত করছে। এছাড়া জাল নোট শনাক্তকরণ মেশিন এবং চাঁদাবাজি রোধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিবিড় তদারকি অব্যাহত থাকবে।

পরিদর্শনকালে কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. ইউসুফ মোল্লা (টিপু), জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো. সামছুল আলম এবং সদর দক্ষিণ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুজন চন্দ্র রায়সহ স্থানীয় প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন বলে গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে। ঈদের আগমুহূর্ত পর্যন্ত এই পর্যবেক্ষণ কার্যক্রম চলবে যাতে সাধারণ মানুষ নির্বিঘ্নে কোরবানির পশু ক্রয় করতে পারেন।


ঈদ-উল-আযহায় জননিরাপত্তায় বিশেষ সতর্ক অবস্থানে র‍্যাব-৫

আপডেটেড ২৬ মে, ২০২৬ ২০:৫৫
আমিনুল ইসলাম বনি, রাজশাহী ব্যুরো

আসন্ন পবিত্র ঈদ-উল-আযহা উপলক্ষে ঘরমুখো মানুষের যাত্রা নিরাপদ করতে এবং ঈদ উৎসবকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে র‍্যাব-৫, রাজশাহী। রাজশাহী মহানগরীসহ দায়িত্বপূর্ণ পাঁচটি জেলায় (রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নাটোর, নওগাঁ এবং জয়পুরহাট) বিশেষ টহল ও চেকপোস্ট কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।

সোমবার (২৬ মে) বেলা ১১টায় সিটি হাটে এ বিষয়ে প্রেস ব্রিফিং করেন র‍্যাব-৫, রাজশাহীর অধিনায়ক লেঃ কর্নেল খন্দকার মোঃ মাহমুদুর রহমান, পিএসসি।

তিনি বলেন ঈদযাত্রায় ঘরমুখো মানুষ যেন ডাকাতি, চুরি, ছিনতাই, মলম পার্টি ও অজ্ঞান পার্টির কবলে না পড়েন, সেজন্য রেলস্টেশন, বাসস্ট্যান্ড এবং ঢাকা-রাজশাহী-চাঁপাইনবাবগঞ্জ মহাসড়ক এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা বাড়ানো হয়েছে। বিশেষ করে কাশিয়াডাঙ্গা মোড়, সিটি হাট মোড়, নওহাটা ব্রিজ এবং বেলপুকুর বাইপাস এলাকায় নিয়মিত চেকপোস্ট ও রোবাস্ট পেট্রোলিং পরিচালনা করছে র‍্যাব।

তিনি আরেও জানান সিটি হাটসহ দায়িত্বপূর্ণ এলাকার পশুর হাটগুলোতে ছিনতাই, জাল টাকা লেনদেন ও চাঁদাবাজি রোধে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। হাটে ক্রেতা-বিক্রেতাদের নিরাপত্তায় সাদা পোশাকে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে এবং জাল টাকা শনাক্ত করার মেশিন স্থাপন করা হয়েছে।

এছাড়াও বর্তমান গরম আবহাওয়া ও জনস্বাস্থ্যের কথা বিবেচনায় সিটি হাটে আগতদের জন্য র‍্যাব-৫ এর উদ্যোগে মেডিকেল ক্যাম্পেইন পরিচালিত হচ্ছে। এছাড়া পশুবাহী যানবাহনের নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করতে স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছে র‍্যাব।

অন্যদিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে গুজব ছড়ানো প্রতিরোধে র‍্যাবের বিশেষ টিম সার্বক্ষণিক নজরদারি করছে। গুজব শনাক্ত হলে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ব্রিফিংয়ে র‍্যাব-৫ এর অধিনায়ক বলেন, “শান্তি ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে আসন্ন ঈদ উদযাপনের লক্ষ্যে আমরা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছি। ঘরমুখো মানুষ যেন নিরাপদে ও নির্বিঘ্নে প্রিয়জনদের সাথে ঈদ উদযাপন করতে পারেন, সেই লক্ষ্যেই আমাদের এই নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, ঈদকেন্দ্রিক ছুটিতে সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা রক্ষায় র‍্যাব-৫ সার্বক্ষণিকভাবে প্রস্তুত রয়েছে। যেকোনো ধরনের সন্দেহজনক কার্যকলাপ সম্পর্কে নিকটস্থ র‍্যাব ক্যাম্প বা আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে দ্রুত তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করার জন্য তিনি সর্বসাধারণের প্রতি আহ্বান জানান।


সাত বছরের শিশুকে প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণচেষ্টা, অভিযুক্ত গ্রেপ্তার

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
রংপুর প্রতিনিধি

রংপুরের মাহিগঞ্জে সাত বছর বয়সী এক শিশুকে চিপস দেওয়ার কথা বলে পাটখেতে নিয়ে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে বদিয়ার জামান (৪৫) নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৬ মে) দুপুরে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ (আরএমপি) সদর দফতরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ।

মামলার বিবরণ অনুযায়ী, সোমবার রাতে নগরীর মাহিগঞ্জের কলাবাড়ি এলাকায় চিপস কিনে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে শিশুটিকে ডেকে নিয়ে পার্শ্ববর্তী একটি পাটখেতে নির্যাতনের চেষ্টা করেন অভিযুক্ত ব্যক্তি। স্থানীয়রা বিষয়টি টের পেয়ে এগিয়ে এলে বদিয়ার জামান দ্রুত পালিয়ে যান। এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার পর ভুক্তভোগী শিশুর অভিভাবক রাতেই মাহিগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ জানান যে, “মামলার পরপরই মাহিগঞ্জ থানা-পুলিশ ও ডিবির সমন্বয়ে একটি দল অভিযানে নামে।” পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তি এলাকা ছাড়লেও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় মিঠাপুকুর উপজেলার রাধাবল্লভপুর গ্রাম থেকে তাকে আটক করা সম্ভব হয়। গ্রেপ্তার বদিয়ার জামান পেশায় একজন শ্রমিক এবং তিনি অধিকাংশ সময় ঢাকায় থাকলেও মাঝে মাঝে রংপুরে যাতায়াত করেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ মতে, ওই ব্যক্তি এলাকায় লম্পট হিসেবে পরিচিত এবং তার একাধিক বিবাহের তথ্য পাওয়া গেছে। কমিশনার আরও উল্লেখ করেন যে, “গ্রেপ্তার আসামিকে আজ দুপুরে আদালতে পাঠানো হয়েছে।” ভুক্তভোগী পরিবার যাতে দ্রুত ন্যায়বিচার পায়, সেজন্য পুলিশ আদালতে অতি দ্রুত তদন্ত প্রতিবেদন পেশ করবে


শেষ মুহুর্তের বেচাকেনায় জমে উঠেছে ভৈরবের গরুর হাট

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ভৈরব (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি

শেষ মুহুর্তের বেচাকেনায় জমে উঠেছে কিশোরগঞ্জের ভৈরবের গরুর হাট। আর মাত্র একদিন পরই মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল আজহা। আল্লাহর তালার সন্তুষ্টির জন্য পছন্দের পশুটি কিনতে ভৈরবের পশুর হাটগুলিতে ভীঁড় করছেন ক্রেতরা।

মঙ্গলবার (২৬ মে) বিকালে ভৈরব শহরের সৈয়দ নজরুল ইসলাম সড়ক সেতু সংলগ্ন বৈশাখী মেলার মাঠে আয়োজিত সবচেয়ে বড় পশুর হাটে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ভৈরব শহরের বাসিন্দারা কোরবানির জন্য পশু কিনতে বাজারে ভীঁড় করছেন। তারা তাদের সাধ্যের মধ্য পছন্দের পশু কিনতে দরদাম করছেন। কেউ পছন্দের পশু কিনে বাজার থেকে বাসায় নিয়ে যাচ্ছেন৷ আবার কেউ পরিবারের স্বজনদের সাথে নিয়ে পশু কিনতে বৃষ্টি ভেজা কাঁদার মধ্যে ছুটছেন তারা।

এসময় কথা হয় স্থানীয় ভৈরব সরকারি মহিলা কলেজের প্রভাষক মো.শাহেদ আহমেদ বলেন, আমরা যারা শহরে বসবাস করে থাকি তারা তো ঈদের আগের দিনই কোরবানীর পশু কিনতে হয়। কারণ বেশি আগে কিনলে গরু রাখা ও লালন পালন করার মত পর্যাপ্ত জায়গা ও লোকজন না থাকায় দুর্ভোগ পোহাতে হয়। তাই আজকে হাটে এসেছি দেখছি দরদাম করছি যদি কথাবার্তায় গরুর দাম ঠিক হয়ে যায় তাহলে কিনে নিয়ে যাবো।

আরেক স্থানীয় বাসিন্দা আবু সুফিয়ান বলেন, কোরবানীর জন্য পশু কিনতে দামের কথা চিন্তা না করাই ভালো। কারণ আল্লাহতালাকে সন্তুষ্টির জন্য আমরা কোরবানী দিয়ে থাকি। তবে প্রত্যেকেই সামর্থ্য অনুযায়ী কোরবানী দিয়ে থাকেন। এবছর বাজার থেকে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা দিয়ে একটি ষাড় গরু কিনেছি।

কালীপুর এলাকার খামারী মাহবুব মিয়া বলেন, ভৈরবের গরু বাজারে শেষ মুহুর্তের ভালো বেচাকেনা হয়ে থাকে। আজকে বিকালের পর হাটে ভালো গরু বেচাকেনা হয়েছে। আমার খামারের ১০টি গরু বিক্রি করেছি। এখনো আরো গরু বিক্রির বাকী রয়েছে। আশা করছি কালকের মধ্যে সকল গরু বিক্রি হয়ে যাবে। তবে বৈরী আবহাওয়া থাকায় হাটে ক্রেতা ও বিক্রেতারা অনেক দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।


ঈদের ছুটিতে বাড়ি ফেরার পথে গৌরনদীতে বাসের ধাক্কায় একই পরিবারের ৩ জন নিহত

নিহত ফিরোজ মাহমুদ ও তাঁর স্ত্রী-কন্যা। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
গৌরনদী (বরিশাল) প্রতিনিধি

বরিশালের গৌরনদীতে ঈদের ছুটিতে পরিবারের সঙ্গে বাড়ি ফেরার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় একই পরিবারের তিনজন নিহত হয়েছে। মঙ্গলবার (২৬ মে) বেলা ১টার দিকে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের গৌরনদী উপজেলার বাটাজোর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত ব্যক্তিরা হলো উজিরপুর উপজেলার বাসিন্দা ফিরোজ মাহমুদ (৩৯) ও তাঁর স্ত্রী মনিরা বেগম এবং তাঁদের শিশুকন্যা জান্নাত আক্তার।

স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মোটরসাইকেলে করে স্ত্রী-সন্তানকে নিয়ে বাড়ির পথে যাচ্ছিলেন ফিরোজ মাহমুদ। বাটাজোর এলাকায় যানজটের কারণে মোটরসাইকেল থামিয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন। এ সময় হঠাৎ পেছন দিক থেকে দ্রুতগতির একটি যাত্রীবাহী বাস ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই নিহত হয় তিনজন।

দুর্ঘটনার পর ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী বাসটিতে ভাঙচুর চালায়। তবে চালক ও হেলপার পালিয়ে যান। এ সময় ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়, ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রীরা। গৌরনদী ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন কর্মকর্তা মো.

মিজানুর রহমান জানান, পেছন দিক থেকে ধাক্কা লাগায় ঘটনাস্থলেই তিনজনের মৃত্যু হয়। ভাঙচুরের খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

গৌরনদী হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মহসীন জানান, দুর্ঘটনাকবলিত বাসটি জব্দ করা হয়েছে এবং চালক ও হেলপারকে আটকের চেষ্টা চলছে।


ছদ্মবেশে দোকান ঘর থেকে ৫ বস্তা মাদকদ্রব্য গাঁজা উদ্ধার করলো র‍্যাব

আপডেটেড ২৬ মে, ২০২৬ ১৮:০৯
ভৈরব (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি

ছদ্দবেশে দোকান ঘর থেকে ৫ বস্তা মাদকদ্রব্য গাঁজা উদ্ধারসহ জাকির হোসেন (৩২) নামের এক মাদক কারবারিকে আটক করেছে ভৈরব র‍্যাব ক্যাম্প সদস্যরা। সে বাজিতপুর উপজেলার পিরোজপুর গ্রামের বাজেরগাও এলাকার বীরমুক্তিযোদ্ধা বদিউর রহমানের ছেলে।

মঙ্গলবার (২৬ মে) দুপুরে বাজিতপুর উপজেলার পিরোজপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে মাদকসহ কারবারিকে আটক করা হয়েছে।

র‍্যাব ক্যাম্প সুত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারে সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে সড়ক পথে মাদকের একটি বড় চালান আসছে। তারই সুত্র ধরে ভৈরব র‍্যাব ক্যাম্পের একটি আভিযানিক দল কিশোরগঞ্জ জেলার বাজিতপুর উপজেলার পিরোজপুর গ্রামের বাজেরগাও এলাকার জাকির হোসেন নামের এক কুখ্যাত মাদক কারবারির বসতবাড়িতে ছদ্দবেশে গোয়েন্দা নজরদারি চালায়। পরে মাদক কারবারির দোকান ঘরের ভিতরে খুঁড়খুটো দিয়ে ঢেকে রাখা অবস্থায় ৫ বস্তা (১১৬ কেজি) মাদকদ্রব্য গাঁজা উদ্ধার করা হয়। এসময় মাদক কারবারি জাকির হোসেনকে আটক করা হয়।

এবিষয়ে ভৈরব র‍্যাব ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার তপন সরকার জানান, কোরবানি ঈদকে সামনে রেখে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী গরুর হাটসহ বিভিন্ন দায়িত্বে ব্যস্ত থাকার সুযোগে সড়কপথে একটি চক্র সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে মাদকদ্রব্য সরবরাহ করছে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে খবর পেয়ে আমরা ছদ্দবেশ ধারণ করে গোয়েন্দা নজরদারিতে কুখ্যাত মাদক কারবারি জাকির হোসেনের দোকান ঘর থেকে ৫ বস্তায় ১১৬ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়। এই ঘটনায় কারবারিকে সংশ্লিষ্ট থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হবে তিনি জানান।


banner close