বঙ্গোবসাগরে থাকা গভীর নিম্নচাপটি ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেওয়ায় তা ‘রেমালে’ পরিণত হয়েছে। আজ রোববার মধ্যরাতে এটি আঘাত হানার আশঙ্কা করছেন আবহাওয়াবিদরা। এ জন্য দেশের ছয় জেলাকে ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলার জন্য বিশেষভাবে প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দিয়েছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. মহিববুর রহমান। এ ঘূর্ণিঝড় নিয়ে এ পর্যন্ত প্রাপ্ত পূর্বাভাস ও ভূমি অতিক্রমের সম্ভাব্য এলাকার ভিত্তিতে এ নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জেলাগুলো হলো সাতক্ষীরা, বাগেরহাট, খুলনা, বরগুনা, পটুয়াখালী ও ভোলা।
গতকাল ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় প্রস্তুতি সভায় প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘গত ১৫ বছরে ঘূর্ণিঝড়সহ সব দুর্যোগে তার নিবিড় পর্যবেক্ষণ ও নির্দেশনায় আমরা যথাসময়ে প্রস্তুতি নিয়ে মানুষের দুর্দশা লাঘব এবং জীবন ও সম্পদের ক্ষতি কমাতে সক্ষম হয়েছি। এ ঘূর্ণিঝড়টিও যাতে একই ধারাবাহিকতায় সফলভাবে মোকাবিলা করতে পারি তার জন্য আমরা প্রস্তুত রয়েছি।’
প্রতিমন্ত্রী মুহিববুর রহমান বলেন, ‘আমরা ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোর জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারদের সঙ্গে কথা বলে স্থানীয় প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য নির্দেশনা দিয়েছি। উপকূলবর্তী সব জেলাকে ঘূর্ণিঝড়ের জন্য প্রস্তুতি নিতে বলা হয়েছে। এ পর্যন্ত প্রাপ্ত পূর্বাভাস ও সম্ভাব্য ভূমি অতিক্রম এলাকার ভিত্তিতে সাতক্ষীরা, বাগেরহাট, খুলনা, বরগুনা, পটুয়াখালী, ভোলা জেলাসমূহকে অধিকতর প্রস্তুত থাকার জন্য বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘এক সপ্তাহ ধরে এই ঝড়টির বিষয়ে আমরা খোঁজখবর রাখছি। বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করে নিয়মিতভাবে পূর্বাভাস দিচ্ছে এবং আগাম কার্যাবলি (অ্যান্টিসিপেটরি অ্যাকশন) ও সাড়া প্রদানে সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত দিয়ে সহযোগিতা করছে। আমরা ভারতে অবস্থিত আঞ্চলিক বিশেষায়িত আবহওয়া কেন্দ্রের সঙ্গেও নিয়মিত যোগাযোগ রাখছি। এর পাশাপাশি বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য আন্তর্জাতিক পূর্বাভাস মডেল নিয়মিত পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে সময়োপযোগী কার্যক্রম গ্রহণ করছি।’
সভায় প্রতিমন্ত্রী বলেন, এই ঘূর্ণিঝড়টি মোকাবিলায় সার্বক্ষণিক তথ্য বিনিময়ের লক্ষ্যে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের এনডিআরসিসি ২৪ ঘণ্টা খোলা রয়েছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর মানবিক সহায়তা ও ত্রাণ কার্যক্রম প্রেরণ শুরু করেছে। ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচির (সিপিপি) ৭৮ হাজার স্বেচ্ছাসেবক কয়েক দিন যাবৎ মাঠে আগাম সতর্কবার্তা প্রচারসহ আশ্রয়কেন্দ্র পরিদর্শন ও প্রস্তুতের কাজ করছে। মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্বে অ্যান্টিসিপেটরি অ্যাকশন টেকনিক্যাল ওয়ার্কিং গ্রুপ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ, বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ ও সাইক্লোন আর্লি অ্যাকশন প্রটোকল অনুসরণ করে প্রতিষ্ঠানভিত্তিক আগাম কার্যক্রম শুরু করেছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ঘূর্ণিঝড়ের গতি-প্রকৃতি এবং আবহাওয়া অধিদপ্তর কর্তৃক বিপদ সংকেত জারি করা মাত্র মানুষকে আশ্রয়কেন্দ্রে আনা হবে। দুর্যোগবিষয়ক স্থায়ী আদেশাবলি অনুযায়ী স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানসমূহ এবং বিভিন্ন পর্যায়ের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটিগুলো কার্যকর হয়েছে।
ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতির অংশ হিসেবে সভায় কয়েকটি বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সেগুলো হলো আগাম সতর্কতার বিজ্ঞপ্তি প্রচার ও জনগণকে সচেতন করা, আগাম মানবিক কার্যাবলি গ্রহণ করা, মাঠ প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় ও বিভিন্ন পর্যায়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটিসমূহের সভা অনুষ্ঠান, সব পর্যায়ে নিয়ন্ত্রণকক্ষ খোলা, আশ্রয়কেন্দ্রগুলো প্রস্তুত করা, আশ্রয়কেন্দ্রে শুকনা খাবার, শিশু খাদ্য এবং গো-খাদ্যের ব্যবস্থা করা, জনগণকে আশ্রয়কেন্দ্রে আনার বিষয়ে প্রস্তুতি গ্রহণ। দুর্যোগ তথ্য পাওয়ার জন্য টোল ফ্রি ১০৯০ ব্যবহারের কথা বলা হয় সভায়। দৈনিক বাংলার বিভিন্ন জেলা প্রতিনিধিদের পাঠানোর সংবাদের ভিত্তিতে ‘রেমাল’ নিয়ে বিভিন্ন জেলার প্রস্তুতির সম্পর্কে জানা গেছে নানা তথ্য।
পিরোজপুর: বঙ্গোপসাগরে সৃষ্টি হতে যাওয়া ঘূর্ণিঝড় ‘রেমাল’ এর জন্য পিরোজপুরে প্রস্তুত করা হয়েছে ৫৬১ টি ঘূর্ণিঝড়ের আশ্রয়কেন্দ্র। যার মধ্যে ২৯৫ টি সাইক্লোন শেল্টার এবং ২৬৬ টি বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং এই আশ্রয়কেন্দ্রে ২ লাখ ৮০ হাজার ৫০০ জন মানুষ আশ্রয় নিতে পারবে।
শনিবার বিকেলে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের শহীদ আব্দুর রাজ্জাক সাইফ-মিজান সভাকক্ষে জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহেদুর রহমান এ তথ্য দেন।
সভায় জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহেদুর রহমান আরও জানান, ঘূর্নিঝড় রেমাল মোকাবিলায় একটি জেলা প্রশাসন থেকে একটি কন্টোলরুমসহ প্রতিটি উপজেলায় একটি টিম করা হয়েছে, ৬৫ টি মেডিকেল টিম প্রস্তুত রয়েছে, ২ লাখ ৬৩ হাজার পানি বিশুদ্ধ করণ ট্যাবলেজ মজুত রাখা হয়েছে, ঝড়ের ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য প্রাথমিক পর্যায়ে ১৩৫০ হাজার প্যাকেট শুকনা খাবার, ৬১১ মে. ট. চাল ও নগদ ৬ লক্ষ ১০ হাজার টাকা প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এছাড়াও দুর্যোগ পরিবর্তিতে ক্ষতিগ্রস্তদের ঘর মেরামতের জন্য ৯৭ বান্ডিল টিন রয়েছে। এ ছাড়া ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় রেডক্রিসেন্টের ২৫০ জন স্বেচ্ছাসেবক ও সিপিপি ২৪২০ জন সদস্য প্রস্তুত রয়েছে। রেমালের প্রভাবে পিরোজপুরের নদীসমূহে স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে বেশি পানি দেখা গেছে এবং জেলার কয়েক স্থানে হালাকা বৃষ্টি পড়েছে।
বরগুনা: বরগুনায় ঘূর্ণিঝড় রেমালের প্রভাবে গোমট আবহাওয়া বিরাজসহ নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এতে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন নদী তীরের বাসিন্দারা। শনিবার জেলার পায়রা, বলেশ্বর ও বিষখালী নদীর পানি স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় অন্তত তিন ফুট বেড়েছে বলে জানান নদী তীরের বাসিন্দারা। বরগুনা সদর উপজেলার বড়ইতলা এলাকায় গেলে দেখা যায়, পানিতে এখানকার বেড়িবাঁধের বাহিরের নিম্নাঞ্চল তলিয়ে গেছে। এখানে আশ্রয়কেন্দ্রের স্বল্পতা রয়েছে। তাই যা আছে তাতে সকলের স্থান সংকুলান হয় না। বরগুনার জেলা প্রশাসক মোহা. রফিকুল ইসলাম বলেন, দুপুরে জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা হয়েছে। সভার মাধ্যমে আমরা ঘূর্ণিঝড় মোকাবেলায় সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছি। এদিকে বরগুনার পানি উন্নয়ন বোর্ড জেলার বিভিন্ন স্থানে এক কিলোমিটার বেড়িবাঁধ ঝুঁকিপূর্ণ রয়েছে বলে জানিয়েছেন এবং এসব বাঁধ ভেঙ্গে গেলে তা তাৎক্ষণিকভাবে মেরামতের জন্য ৮০০ জিও ব্যাগ প্রস্তুত রাখা হয়েছে বলে জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় জানানো হয়েছে। জেলায় ঘূর্ণিঝড় ‘রেমাল’ মোকাবিলায় বরগুনায় ৬৭৩টি আশ্রয়কেন্দ্রসহ প্রায় ১০ হাজার স্বেচ্ছাসেবক প্রস্তুত রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ও জেলা মোহা. রফিকুল ইসলাম। শনিবার দুপুরে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির জরুরি প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়। দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় জেলা প্রশাসনসহ সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসক মোহা. রফিকুল ইসলাম জানান, ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। বরগুনায় ৩টি মুজিব কেল্লা, ৬৭৩টি আশ্রয়কেন্দ্রসহ প্রায় ১০ হাজার স্বেচ্ছাসেবক প্রস্তুত রাখা হয়েছে। যারা ঘূর্ণিঝড় পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সময়ে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করবেন। এ ছাড়া ৪২২ মেট্রিক টন খাদ্যশস্য, ৩৭ লাখ নগদ অর্থ প্রস্তুত রয়েছে। তিনি আরও জানান, ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকার জন্য জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ১০ টি কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে ৪২ টি মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে। দুর্যোগ প্রস্তুতি সভায় জেলা এনজিও ফোরামের সভাপতি মোতালেব মৃধা, প্রেসক্লাবের সভাপতি অ্যাডভোকেট মোস্তফা কাদের, রেডক্রিসেন্ট, দুর্যোগ প্রস্তুতি কর্মসূচি (সিপিপি), বিভিন্ন সরকারি, বেসরকারি সংস্থা ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত থেকে তাদের প্রস্তুতির বিষয় তুলে ধরেন।
মোংলা: ‘রেমাল’ প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়ে রোববার সন্ধ্যায় সুন্দরবন উপকূলে আঘাত হানবে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। মোংলা আবাহওয়া অফিসের ইনচার্জ মো. হারুন অর রশিদ জানান, এটি বর্তমান যেই অবস্থান দেখাচ্ছে তাতে ঘূর্ণিঝড়ের কেন্দ্রটি বাংলাদেশের ওপর দিয়েই অতিক্রম করার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে সুন্দরবন এলাকা এবং বরিশালের পটুয়াখালী, বরগুনা, ও ভোলা জেলায় রেমাল এর আঘাত হানার সম্ভাবনা বেশি রয়েছে।
এদিকে ঘূর্ণিঝড় রেমালের প্রভাবে সাগর উত্তাল থাকায় এরই মধ্যে মোংলা সমুদ্র বন্দরকে ৭ নম্বর সতর্ক সংকেত জারি করেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। ঘূর্ণিঝড় রেমালের প্রভাবে সব রকম সতর্কমূলক প্রস্তুতি নিয়েছে মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ। কোস্ট গার্ড, নৌ বাহিনী ও উপজেলা প্রশাসনের সমন্বয়ে শনিবার দুপুরে মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের সভাকক্ষে জরুরি বৈঠক করা হয়েছে।
বন্দর কর্তৃপক্ষের হারবার মাস্টার কমান্ডার সাইফুর রহমান বলেন, মোংলা বন্দরে এই মুহূর্তে সিমেন্টের কাঁচামাল ক্লিংকার, সার, পাথর ও গ্যাসবাহী ছয়টি জাহাজ অবস্থান করেছে। সেগুলোকে নিরাপদে নোঙ্গর করতে বলা হয়েছে। এদিকে ঘূর্ণিঝড় ‘রেমাল’ মোকাবিলায় সব রকম প্রস্ততি নিয়েছে উপজেলা প্রশাসনও। উপজেলা নির্বাহী অফিসার নিশাত তামান্না বলেন, ১০৩ টি আশ্রয়কেন্দ্রসহ ১৩২০জন স্বেচ্ছাসেবক প্রস্তুত রাখা হয়েছে। আবহাওয়া অফিস থেকে ঘূর্ণিঝড়ের সংকেত বাড়ানোর সঙ্গে সঙ্গেই আমাদের কার্যক্রমের গতি বাড়ানো হবে। কন্ট্রোল রুমও খোলা হয়েছে।
এদিকে মোংলা উপকূলে সচেতনতামূলক মাইকিং করেছে কোস্ট গার্ডের সদস্যরা। শনিবার সকাল থেকে ঘণ্টাব্যাপী মোংলার পশুর বিভিন্ন স্থানে এ প্রচার মাইকিং করা হয়।
মোংলা কোস্ট গার্ড পশ্চিম জোনের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট মো. মুনতাসীর ইবনে মহসীন জানান, সকাল থেকে সুন্দরবন লাঘোয়া মোংলা উপকূলের ঝুঁকিপূর্ণ বিভিন্ন এলাকায় প্রচার মাইকিং করেন কোস্ট গার্ড সদস্যরা।
বাগেরহাট: ঘূর্ণিঝড় রেমাল ধেয়ে আসার খবরে উপকূলীয় জেলা বাগেরহাটের নদী তীরবর্তী এলাকায় বসবাস করা মানুষের মাঝে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। এরই মধ্যে শনিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে শুরু হয়েছে বৃষ্টিপাত। তবে সকাল থেকে আকাশ কখনো রোদ আবার কখনো মেঘাচ্ছন্ন হচ্ছে। নদীতে থাকা মাছ ধরা ট্রলার গুলো উপকূলের ছোট ছোট খালে আশ্রয় নিয়েছে। কোস্টগার্ডের পক্ষ থেকে চালানো হচ্ছে জনসচেতনামূলক প্রচার-প্রচারণা। এরই মধ্যে রেমাল মোকাবেলায় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সকল ধরনের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে।
বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক মো. খালিদ হোসেন বলেন, ঘূর্ণিঝড় রেমাল মোকাবেলায় বাগেরহাটে ৩৫৯টি আশ্রয় কেন্দ্রে ও ৩ হাজার ৫শ ৫ জন স্বেচ্ছাসেবক প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এ ছাড়া ৬৪৩ মেট্রিকটন চাল ও ৫লক্ষ ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। জেলার ৯টি উপজেলার সকল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের সতর্ক থাকতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের সকল কর্মকর্তাদের ছুটি বাতিলের পাশাপাশি উপকূলের ঝুঁকিপূর্ণ বেরিবাধ এলাকায় গুলো নজরদারিতে রাখা হয়েছে।
পটুয়াখালী: জেলায় রেমাল মোকাবেলায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির প্রস্তুতি মূলক জরুরী সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার সকাল সাড়ে ১০টায় জেলা প্রশাসকের দরবার হলে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক নুর কুতুবুল আলম। সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান হাফিজুর রহমান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক যাদব সরকার। জেলা সিভিল সার্জন ডা. এসএম কবির হাসান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার যোবায়ের আহাম্মেদ।
গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. হারুন অর রশিদ, কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. নজরুল ইসলাম, পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফুর রহমান, পটুয়াখালী প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া রিদয়, সিপিপি, রেড ক্রিসেন্টসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
জেলা প্রশাসক জানান দুর্যোগ মোকাবিলায় জেলায় ৭০৩ টি সাইক্লোন শেল্টার ৩৫টি মুজিব কিল্লা, ৭৩০ মেট্রিক টন চাল, ১০ লক্ষ টাকার শিশু খাদ্য, ১০ লাখ টাকার গোখাদ্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এ ছাড় শুকনা খাবার রয়েছে ১৫০০ প্যাকেট। নগদ টাকা রয়েছে ২৪ লাখ ৭ হাজার টাকা ৫০০ টাকা।
এ সময় মানুষকে সচেতন ও দুর্যোগে উদ্ধার কাজ পরিচালনার জন্য রেডক্রিসেন্ট ও সিপিপির ৯ হাজার স্বেচ্ছাসেবককে প্রস্তুত থাকাসহ বিদ্যুৎ বিভাগ সড়ক বিভাগ ফায়ার সার্ভিসকে দিকনির্দেশনা প্রদান করেন জেলা প্রশাসক।
জেলায় মোট ৭৬টি মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে পর্যাপ্ত পরিমাণ স্যালাইন, ঔষধ ও পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট সংরক্ষিত রয়েছে। জেলায় ১৩০০ কিলোমিটার বেড়িবাঁধের মধ্যে ১০ কিলোমিটার ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। দুর্যোগের সময় কোথাও ভাঙন দেখা দিলে তা মেরামতের জন্য ১৬ হাজার জিও ব্যাগ রয়েছে বলে জানিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।
এদিকে জেলায় ৮৭ হাজার হেক্টর জমিতে রয়েছে মুগ ডাল এবং ২০ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো ধান রয়েছে বলে জানিয়েছে কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তর। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রফিউদ্দিন মোহাম্মদ যোবায়ের বলেন গুজোব মোকাবেলার জন্যে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে।
এদিকে কলাপাড়া উপকূলীয় অঞ্চলের জনগন, মৎস্যজীবি ও নৌযান সমূহকে ক্ষয়ক্ষতি থেকে রক্ষার জন্য জনসচেতনতা মূলক কার্যক্রম শুরু করেছে নিজামপুর কোষ্টগার্ড। শনিবার সকাল নয়টায় মৎস্য বন্দর আলীপুর- মহিপুরে মাইকিং ও লিফলেট বিতরন করে কোস্ট গার্ডের সদস্যরা। এসময় তারা খাপড়াভাঙ্গা নদীতে অবস্থানরত ট্রলার সমূহে থাকা জেলেদের ঘূর্নিঝড়ের সময় করনীয় সম্পর্কে দিক নির্দেশনা দেন।
ঝালকাঠি: জেলায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার বেলা ১১টায় জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ও জেলা প্রশাসক ফারাহ্ গুল নিঝুম। এ সভায় পুলিশ সুপার, স্বাস্থ্য, কৃষি, খাদ্য, শিক্ষা, দপ্তরের প্রধানগন এবং বিদ্যুৎ, ফায়ার সার্ভিস, পানি উন্নয়ন বোর্ড, সড়ক বিভাগ, রেডক্রিসেন্টসহ জেলা পর্যায়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা যোগ দেন।
সভায় জেলা প্রশাসক ফারাহ্ গুল নিঝুম বলেন, ঘূর্ণিঝড় ‘রেমাল’ মোকাবিলায় সর্বাত্মক প্রস্তুতি নেওয়া শুরু হয়েছে। এই কয় দিন সংশ্লিষ্ট সব পর্যায়ের কর্মকর্তাদের স্টেশন ত্যাগ না করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ঘূর্ণিঝড় ‘রেমাল’ মোকাবিলায় নির্ধারিত সাইক্লোন শেল্টারসহ আশ্রয়কেন্দ্রের জন্য সহ জেলার সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ব্যবহার উপযোগী করা হয়েছে।
গাজীপুর সিটি করপোরেশনের কাশিমপুরের ধনঞ্জয়খালী এলাকায় তুরাগ নদের পাড়ঘেঁষা একটি নবনির্মিত সড়ক উদ্বোধনের আগেই ধসে পড়ার ঘটনায় কঠোর ব্যবস্থা নিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। সোমবার (২৩ মার্চ) দুপুরে দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শনকালে নির্মাণকাজে চরম গাফিলতি ও নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়ায় তিনি প্রকল্পের পরিচালক এবং সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীকে তাৎক্ষণিক বরখাস্তের নির্দেশ দেন।
বরখাস্তকৃত কর্মকর্তারা হলেন—সিটি করপোরেশনের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ও প্রকল্প পরিচালক এ কে এম হারুনুর রশীদ এবং প্রকৌশলী শামছুর রহমান। পরিদর্শন শেষে প্রতিমন্ত্রী নিজেই সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শওকত হোসেন সরকারের কাছে তাদের বরখাস্তের আনুষ্ঠানিক চিঠি হস্তান্তর করেন।
তুরাগ নদের পশ্চিম তীরে বিটুমিনাস কার্পেটিংয়ের মাধ্যমে বাস্তবায়িত এই সড়কটি গত ১৫ ফেব্রুয়ারি হঠাৎ করেই ধসে যায়, যা স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি করে। এই পরিপ্রেক্ষিতে প্রতিমন্ত্রী জানান যে জনগণের টাকায় নির্মিত উন্নয়নকাজে কোনো ধরনের অনিয়ম মেনে নেওয়া হবে না। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য পূর্বের কমিটি বিলুপ্ত করে সাত সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের নতুন তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং তাদের আগামী ১৫ দিনের মধ্যে বিস্তারিত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে যে সড়ক নির্মাণে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের পাশাপাশি প্রাকৃতিক দুর্যোগও এই ধসের একটি কারণ হতে পারে।
সিটি করপোরেশনের তথ্যমতে, এই সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পটি দুটি প্যাকেজের আওতায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ইউনাইটেড কমার্শিয়াল সেন্টার লিমিটেড (ইউসিসিএল) বাস্তবায়ন করছিল। প্রকল্প দুটির প্রাক্কলিত ব্যয়ের চেয়েও বেশি মূল্যে কার্যাদেশ দেওয়া হয়েছিল, যার মোট পরিমাণ ছিল প্রায় ২৫ কোটি টাকার উপরে। স্থানীয়দের অভিযোগ, শুরু থেকেই কাজের মান নিয়ে সন্দেহ থাকলেও যথাযথ তদারকির অভাবেই কোটি টাকার এই প্রকল্প উদ্বোধনের আগেই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বর্তমানে এলাকাবাসী স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং দ্রুত মানসম্মতভাবে সড়কটি পুনর্নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন।
ঈদের ছুটিতে রাজধানীর গুলশানে একটি বাড়ি দখলের অভিযোগে বির্তকের মুখে পড়া সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) আলী আহম্মেদ মাসুদকে অবশেষে বদলি করা হয়েছে। সোমবার (২৩ মার্চ) ডিএমপির ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মো. সরওয়ার স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশের মাধ্যমে তাকে ডিএমপির মানবসম্পদ বিভাগে সহকারী পুলিশ কমিশনার (ট্রেনিং) হিসেবে বদলির বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।
অভিযোগ রয়েছে যে, গত বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) গুলশান ১ নম্বর এলাকার ১২৭ নম্বর রোডের ১৫ নম্বর বাড়িতে পুলিশের উপস্থিতিতেই ভাঙচুর, লুটপাট ও দখলের ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী বাড়ির মালিকের দাবি অনুযায়ী, গুলশান জোনের এসি আলী আহম্মেদ মাসুদসহ বেশ কয়েকজন পুলিশ সদস্যের মদদেই এই অঘটন ঘটেছে এবং উল্টো ভুক্তভোগীদেরই নানাভাবে হয়রানির শিকার হতে হয়েছে।
বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পর জনমনে ব্যাপক সমালোচনা সৃষ্টি হলে ডিএমপি কর্তৃপক্ষ এই শাস্তিমূলক বদলির সিদ্ধান্ত নেয়। তবে আলী আহম্মেদ মাসুদকে বদলি করা হলেও এই ঘটনায় অভিযুক্ত অন্যান্য পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে, তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
ডিএমপি সূত্র জানিয়েছে, পুরো ঘটনাটি খতিয়ে দেখতে ইতিমধেই একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে এসি মাসুদসহ জড়িত অন্য সকল পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে কঠোর বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
বান্দরবানের রুমা উপজেলায় শুরু হতে যাচ্ছে মারমা সম্প্রদায়ের অন্যতম প্রধান সামাজিক ও ধর্মীয় উৎসব “মাহা সাংগ্রাইং পোয়ে’ । ১৩ এপ্রিল নতুন বছরকে স্বাগত জানিয়ে পুরনো বছরকে বিদায় দেয়ার মধ্য দিয়ে এক বর্ণাঢ্য রেলি আয়োজন করা হবে। ১৪ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া এ উৎসবকে কেন্দ্র করে ইতোমধ্যে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। প্রতি বছরের মতো এবারও উৎসবের প্রধান আকর্ষণ হিসেবে থাকছে ঐতিহ্যবাহী “মৈত্রী পানি বর্ষণ” অনুষ্ঠান।
একে অপরের ওপর পানি ছিটানোর মাধ্যমে আনন্দ ভাগাভাগি করা। পুরনো বছরকে বিদায় দিয়ে এবং নতুন বছরকে শুভভাবে বরণ করা যায়। এ কারণে বাংলা নববর্ষকে ঘিরে প্রায় সপ্তাহব্যাপী নানা আয়োজনের মাধ্যমে উৎসবটি উদযাপন করা হয়ে থাকে।
কেন্দ্রীয় উৎসব উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক উক্যসিং মারমা জানান, বিভিন্ন পাড়ার যুব-যুবতী রা তাদের নিজেদের মতো আলাদা আলাদা করে কর্মসূচি হাতে নেয়া হয়েছে। এ অবস্থায় পাড়ার যুবক-যুবতীদের সঙ্গে সমন্বয় সভা করে এ বছরের সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়েছে। মৈত্রী পানি বর্ষণ অনুষ্ঠান নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী—১৫ এপ্রিল: ছাইপো পাড়া, পান্তলা পাড়া ও বটতলী পাড়া।
১৬ এপ্রিল: ক্রাউদাং পাড়া ও রুমাচর পাড়া।
১৭ এপ্রিল: পলিকা পাড়া ও হাতিমাথা পাড়া।
১৮ এপ্রিল: বিকেল ৩টায় রুমা সদরের বালুচরে কেন্দ্রীয়ভাবে অনুষ্ঠিত হবে মাহা সাংগ্রাইং পোয়ে’র সমাপনী অনুষ্ঠান।
সোমবার (২৩ মার্চ) বেলা ১১ টায় (২৩ মার্চ) মারমা ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশন ভবনে কেন্দ্রীয় উৎসব উদযাপন কমিটির আয়োজিত যুবক যুবতীদের এক সমন্বয় সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
কেন্দ্রীয় উৎসব উদযাপন কমিটির আহবায়ক ওক্যসিং মারমা এতে সভাপতিত্ব করেন। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রমা প্রেসক্লাবের সভাপতি শৈহ্লাচিং মার্মা। আরো বক্তব্য দেন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী উক্যমং মারমা, মংমিন মেম্বার, পিপলু মার্মা, উতিংওয়াং মতি ও উসাইমং মার্মা।
সভা পরিচালনা করেন কেন্দ্রীয় উৎসব উদযাপন কমিটির সদস্য সচিব অংচোওয়াং মার্মা। সংশ্লিষ্টরা জানায়, এ সমাপনির দিনে সকল পাড়া থেকে যুবসমাজকে কেন্দ্রীয় মৈত্রী পানি বর্ষণ অনুষ্ঠানে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে।
প্রতিবছরের মতো এবারও উৎসবকে ঘিরে রুমা উপজেলায় উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। নানা বয়সের মানুষ, বিশেষ করে তরুণ-তরুণীরা দল বেঁধে অংশ নেবেন এই আনন্দঘন আয়োজনে। মূলত এ মৈত্রী পানি বর্ষণ উৎসব মারমা সম্প্রদায় হলেও অনুষ্ঠানটি আনন্দ উপভোগ্ ও অংশগ্রহণ করে সকল সম্প্রদায়ের। পরে সকল সম্প্রদায়ের মানুষের এক মিলন মেলায় পরিণত হয়ে থাকে।
তাই অনুষ্ঠানটির সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে উদযাপন করতে উপজেলা প্রশাসন, নিরাপত্তা বাহিনী ও আইন শৃঙ্খলা সহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও লোকজন সার্বিক সহযোগিতা প্রদানের জন্য আহ্বান জানিয়েছেন কমিটির সংশ্লিষ্টরা।
তীব্র জ্বালানি সংকটে স্থবির হয়ে পড়েছে গাইবান্ধা জেলার স্বাভাবিক জনজীবন এবং যান চলাচল। জেলার সাতটি উপজেলার মোট ১৭টি ফিলিং স্টেশনে পেট্রোল, অকটেন ও ডিজেলের সরবরাহ মারাত্মকভাবে কমে যাওয়ায় বর্তমানে সবকটি পাম্পই বন্ধ রয়েছে। সোমবার (২৩ মার্চ) দুপুরে গাইবান্ধা পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মশিউর রহমান উজ্জ্বল এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। জেলাজুড়ে প্রতিদিন প্রায় ৭ হাজার লিটার পেট্রোল, ৪ হাজার লিটার অকটেন এবং ৩২ হাজার লিটার ডিজেলের চাহিদা থাকলেও চাহিদার অর্ধেকেরও কম সরবরাহ আসার কারণে এই নজিরবিহীন সংকট তৈরি হয়েছে।
সংকট নিরসনে জেলা প্রশাসন ও পাম্প মালিকরা সোমবার দুপুর তিনটার দিকে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে একটি জরুরি বৈঠকে বসেছেন। সেখানে সংকটের মূল কারণ এবং দ্রুত সমাধানের পথ খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে। দীর্ঘ তিনদিন ধরে এস এ কাদির অ্যান্ড সন্স ও রহমান ফিলিং স্টেশনের মতো প্রধান পাম্পগুলো বন্ধ থাকায় সাধারণ মানুষ ও পরিবহন শ্রমিকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। পর্যাপ্ত তেল না থাকায় কোনো কোনো পাম্পে শুরুতে জনপ্রতি ১০০-২০০ টাকার সীমিত তেল বিক্রি করা হলেও বর্তমানে মজুদ শূন্য হয়ে পড়ায় সেগুলো পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
জ্বালানি তেলের এই আকালকে কেন্দ্র করে জেলাজুড়ে উত্তেজনা ও সহিংসতার ঘটনাও লক্ষ্য করা গেছে। শহরের দাড়িয়াপুর রোডে তেল না পেয়ে বিক্ষুব্ধ গ্রাহকদের হামলায় দুই পাম্প কর্মচারী আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। অনেক গ্রাহক অভিযোগ করেছেন যে পাম্পে তেল না থাকলেও খোলা বাজারে প্রতি লিটার জ্বালানি ২০০ থেকে ৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অন্যদিকে পাম্প মালিকদের দাবি, বাইরের জেলা থেকে মোটরসাইকেলের চাপ এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্কিত হয়ে তেল মজুদের প্রবণতা এই সংকটকে আরও ঘনীভূত করেছে।
ভুক্তভোগী চালক ও স্থানীয় বাসিন্দারা দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়েও তেল না পেয়ে চরম হতাশায় ভুগছেন। জেলাজুড়ে পরিবহন ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার উপক্রম হওয়ায় দ্রুত জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক করার দাবি জানিয়েছেন তারা। পাম্প মালিকরা স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত নতুন করে পাম্প চালু করা সম্ভব নয়, কারণ সীমিত সরবরাহ নিয়ে তেল বিক্রি করতে গেলে পুনরায় জনরোষ ও সংঘর্ষের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
ঈদুল ফিতরের টানা সাত দিনের লম্বা ছুটিতে পর্যটকদের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠেছে চায়ের রাজধানী হিসেবে পরিচিত মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল ও আশপাশের এলাকা। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা ভ্রমণপিপাসু মানুষের ভিড়ে জেলার প্রধান পর্যটন কেন্দ্রগুলো এখন উৎসবমুখর। দীর্ঘ মন্দা কাটিয়ে পর্যটন খাতের এই চাঙ্গাভাব স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মুখে হাসি ফুটিয়েছে।
শ্রীমঙ্গলের বিস্তৃত চা বাগান থেকে শুরু করে কমলগঞ্জের লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান এবং বড়লেখার মাধবকুণ্ড জলপ্রপাত সবখানেই এখন তিল ধারণের ঠাঁই নেই। বিশেষ করে লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান, বাইক্কা বিল, হাকালুকি হাওর এবং হামহাম জলপ্রপাতের মতো প্রাকৃতিক স্থানগুলোতে দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। পর্যটন ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, স্থানীয় বাসিন্দা ও দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা পর্যটকদের সম্মিলিত উপস্থিতিতে এবারের ঈদ মৌসুম গত কয়েক বছরের রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে।
চট্টগ্রাম থেকে আসা পর্যটক জহির রায়হান বলেন, "এখানকার চা বাগানের সবুজ আর শান্ত পরিবেশই আমাদের বারবার টেনে আনে।" তবে ভিড় নিয়ে কিছুটা ভিন্ন অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী আল আমিন। লাউয়াছড়া উদ্যানে আলাপকালে তিনি বলেন, "সোশ্যাল মিডিয়ায় দেখা জায়গার সঙ্গে বাস্তবের মিল থাকলেও, অতিরিক্ত ভিড় ও কিছু ক্ষেত্রে দুর্বল ব্যবস্থাপনা চোখে পড়েছে।"
অন্যদিকে, প্রথমবারের মতো মণিপুরী পল্লী ভ্রমণে আসা আলী হোসেন ও নাসরিন আক্তার দম্পতি মুগ্ধতা প্রকাশ করে বলেন, "মণিপুরী সংস্কৃতি ও জীবনযাত্রা আমাদের দারুণ লেগেছে। এটি সাধারণ পর্যটন কেন্দ্র থেকে সম্পূর্ণ আলাদা এবং আমরা সবখানে বেশ নিরাপদ বোধ করেছি।"
শ্রীমঙ্গলের ছোট রিসোর্টগুলো শতভাগ বুকিং থাকলেও বড় মানের হোটেল-রিসোর্টগুলোতে প্রায় ৭০ শতাংশ বুকিং রেকর্ড করা হয়েছে। টিলাগাঁও ইকো ভিলেজ-এর ব্যবস্থাপক মো. সোহেল আহমেদ জানান, দীর্ঘ মন্দার পর এই পর্যটক সমাগম তাদের জন্য বড় স্বস্তি নিয়ে এসেছে।
চামুং রেস্টুরেন্ট অ্যান্ড ইকো ক্যাফের স্বত্বাধিকারী তাপস দাশ বলেন, "পর্যটকরা শুধু প্রধান স্পট নয়, বরং আদিবাসী গ্রাম এবং ব্যক্তিগত রিসোর্টগুলোর প্রতিও বেশ আগ্রহী।" তবে পর্যটন উদ্যোক্তা সেলিম আহমেদের মতে, রমজানের শেষে পর্যটক ফিরতে শুরু করলেও বড় রিসোর্টগুলোতে প্রত্যাশা অনুযায়ী শতভাগ বুকিং হয়নি।
ঈদের ছুটিতে শ্রীমঙ্গল শহরে তীব্র যানজট পর্যটকদের কিছুটা ভোগান্তিতে ফেলেছে। এ ছাড়া অনেক পর্যটক জেলায় সরকারি ব্যবস্থাপনায় আরও বেশি পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলার দাবি জানিয়েছেন। তারা মনে করেন, সরকারি সুযোগ-সুবিধা বাড়লে পর্যটনের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় আরও উন্নতি ঘটবে।
পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জেলা পুলিশের পাশাপাশি পর্যটন পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। মৌলভীবাজারের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ বিল্লাল হোসেন জানিয়েছেন, ছুটির পুরো সময়জুড়ে পর্যটকদের নির্বিঘ্ন ভ্রমণ নিশ্চিত করতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
তেল সংকট, মূল্যবৃদ্ধি এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক চাপের বিষয়ে সতর্কবার্তা দিয়েছেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রী ও বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, সামনে সময় আরও কঠিন হতে পারে এবং বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাব দেশেও পড়ছে।
সোমবার সকালে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নে নেহা নদী পুনঃখনন কর্মসূচির উদ্বোধন শেষে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি উল্লেখ করেন, যুদ্ধের কারণে জ্বালানি সরবরাহে ঘাটতি তৈরি হয়েছে এবং এর প্রভাবে তেলের দামসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য বাড়তে পারে। তবে পরিস্থিতি মোকাবিলা করে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
তেল সংকট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘যুদ্ধ লেগেছে, সেকারণে তেলের সরবরাহ কম। কিন্তু পাম্প ভাঙচুর করা সমীচিন নয়। মবকে আমরা কঠোর হস্তে দমন করব। গায়ের জোরে আইনের বাইরে কোনো কাজ করতে দেব না।’
রাজনৈতিক বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘একটি দলের নেতারা এবার বেহেশতে নিতে পারল না. আমরা কাজ করে বেহেশতে যাব। ধর্মকে ব্যবহার করা যায়না। এ দেশের ৯০ ভাগ মানুষ ধার্মিক। ধর্ম নিয়ে ব্যবসা পছন্দ করেনা৷ আমরা কাজ করতে এসেছি। কাজ করে যাব।’
কৃষি খাতের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘গম ঝড়-বৃষ্টিতে পড়ে গেছে। আলু বৃষ্টিতে শুয়ে পড়েছে। আমাদের কৃষকের ভাগ্য এটাই। এসব সমস্যা আমরা বুঝি। নির্বাচনের আগে আমরা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম কৃষি ঋণ মওকুফের। আমরা করে দিয়েছি। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কৃষকদের সাহায্য হবে এমন কাজগুলো করছেন। ফ্যামিলি কার্ড দেয়া হয়েছে। সারা দেশে কয়েক কোটি মহিলাকে কার্ড দেয়া হবে। এটার মাধ্যমে তারা সহযোগিতা পাবে। আমাদের সব প্রজেক্ট গুলো সম্পন্ন করা হবে। গোটা দেশে ২০ হাজার খাল খনন করা হবে।’
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, জেলা প্রশাসক ইশরাত ফারজানা, পুলিশ সুপার বেলাল হোসেনসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা, বিএনপির নেতাকর্মী ও স্থানীয়রা।
পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জের পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে ভিড় জমানো পর্যটকদের সাথে সরাসরি কথা বলে তাদের অভিজ্ঞতা শুনলেন মৌলভীবাজার-৪ আসনের সংসদ সদস্য এবং কৃষি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি আলহাজ্ব মো. মুজিবুর রহমান চৌধুরী (হাজী মুজিব)।
গত রবিবার দিনব্যাপী তিনি দুই উপজেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন স্পট পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি দেশ-বিদেশ থেকে আগত পর্যটক, দর্শনার্থী ও দূরপাল্লার গাড়ি চালকদের সাথে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন এবং তাদের সার্বিক নিরাপত্তা ও সুযোগ-সুবিধার খোঁজখবর নেন।
ভ্রমণে আসা পর্যটকরা এমপির এমন স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে মুগ্ধতা প্রকাশ করেছেন। ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা থেকে আসা পর্যটক ইতি বড়ুয়া বলেন, ‘দেশের কোনো সংসদ সদস্যকে এভাবে সরাসরি পর্যটন স্পটে এসে দর্শনার্থীদের খোঁজ নিতে আগে কখনও দেখিনি। শ্রীমঙ্গলে এসে ভিন্ন এক অভিজ্ঞতা হলো। তিনি নিজে এসে আমাদের সাথে কথা বলেছেন, এটি আমাদের জন্য অনেক বড় পাওয়া।’
একই অনুভূতি প্রকাশ করেন কুমিল্লা থেকে আসা পর্যটক ইশরাত জাহান ইমা। তিনি বলেন, ‘আমরা প্রথমবারের মতো শ্রীমঙ্গল ভ্রমণে এসেছি। বধ্যভূমি পরিদর্শনের সময় হঠাৎ এমপি সাহেব আমাদের কাছে এসে কোনো সমস্যা হচ্ছে কি না জানতে চান। পরে আমরা পরিবারের সবাই তাঁর সাথে ছবি তুলেছি। এটি আমাদের ভ্রমণের অন্যতম একটি স্মরণীয় মুহূর্ত হয়ে থাকবে।’
ব্যতিক্রমী এই উদ্যোগ সম্পর্কে সংসদ সদস্য মো. মুজিবুর রহমান চৌধুরী (হাজী মুজিব) বলেন, ‘শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জ আমার নির্বাচনী এলাকার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন অঞ্চল। এখানে ঈদের ছুটিতে সারা দেশ থেকে অসংখ্য মানুষ বেড়াতে আসেন। এলাকাবাসীর পাশাপাশি আগত অতিথিদের খোঁজ নেওয়াও আমার দায়িত্বের অংশ বলে আমি মনে করি।’
তিনি আরও জানান, পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সর্বদা তৎপর রয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন স্থানে পর্যটকদের সহযোগিতায় স্থানীয় নেতা-কর্মীরা সুপেয় পানি বিতরণসহ অন্যান্য স্বেচ্ছাসেবামূলক কাজ করছেন।
টুরিস্ট পুলিশ শ্রীমঙ্গল জোনের এসআই বাসু কান্তি জানান, ঈদ উপলক্ষে পর্যটন স্পটগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা কয়েক গুণ জোরদার করা হয়েছে। পর্যটকরা যাতে নির্বিঘ্নে ও স্বাচ্ছন্দ্যে ভ্রমণ করতে পারেন, সেজন্য টুরিস্ট পুলিশ সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করছে।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, একজন জনপ্রতিনিধির এমন সরাসরি উপস্থিতি পর্যটকদের মধ্যে আস্থার সৃষ্টি করবে, যা দীর্ঘমেয়াদে এই অঞ্চলের পর্যটন শিল্পের বিকাশে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
দেশের আকাশে বসন্তের হালকা অস্থিরতা। মেঘ-রোদ্দুরের খেলায় কোথাও স্বস্তি, কোথাও আবার বৃষ্টির মৃদু পূর্বাভাস। বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, দেশের কয়েকটি অঞ্চলে দমকা হাওয়া ও বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
রোববার (২২ মার্চ) সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের দু-এক জায়গায় হঠাৎ দমকা হাওয়ার সঙ্গে বিদ্যুৎ চমকানোসহ বৃষ্টি কিংবা বজ্রসহ বৃষ্টির দেখা মিলতে পারে। তবে দেশের বাকি অংশে আকাশ আংশিক মেঘলা থাকলেও আবহাওয়া প্রধানত শুষ্কই থাকবে।
এই সময়টাতে দিনের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে, প্রায় ১ থেকে ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত। রাতের বাতাসেও উষ্ণতার হালকা ছোঁয়া থাকবে।
এদিকে সোমবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে নতুন করে রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের দু-এক জায়গায় একই ধরনের দমকা হাওয়া ও বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনার কথা বলা হয়েছে। অন্যত্র মেঘ-রোদের মিশেলে আবহাওয়া থাকবে শান্ত ও শুষ্ক।
সব মিলিয়ে, ঋতুর এই সন্ধিক্ষণে দেশের আবহাওয়ায় উষ্ণতার প্রবণতা কিছুটা বাড়লেও মাঝেমধ্যে বৃষ্টির স্পর্শ এনে দেবে স্বস্তির ক্ষণিক পরশ।
নাটোরের বড়াইগ্রামে বিয়ের আনন্দ মুহূর্তেই বিষাদে পরিণত হয়েছে। গায়েহলুদের দিন সকালে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন প্রকৌশলী জুলফিকার ইসলাম জিল্লু (২৯)। রোববার (২২ মার্চ) সকালে বড়াইগ্রাম উপজেলার গড়মাটি কলোনি এলাকায় নাটোর-পাবনা মহাসড়কে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত জুলফিকার পাবনার ঈশ্বরদীর দাশুড়িয়া নওদাপাড়া গ্রামের আনসারুল মুন্সির ছোট ছেলে। তার অকাল মৃত্যুতে বর ও কনে—উভয় পরিবারেই এখন চলছে শোকের মাতম।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, রোববার (২২ মার্চ) সকালে জুলফিকারের নিজের গায়েহলুদের অনুষ্ঠান হওয়ার কথা ছিল। অনুষ্ঠানের পায়েস রান্নার জন্য দুধ আনতে তিনি নিজেই গাড়ি চালিয়ে দাশুড়িয়া থেকে নাটোর যাচ্ছিলেন। পথে নাটোর হাইওয়ে গড়মাটি কলোনি রোডে তার ব্যক্তিগত গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশের একটি গাছের সঙ্গে ধাক্কা লাগে এবং পাশে দাঁড়িয়ে থাকা একটি ট্রাকের সঙ্গে সংঘর্ষে দুমড়েমুচড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজের শিক্ষার্থী অন্তরা খাতুনের সঙ্গে তার বিয়ের কথা ছিল এবং আগের দিনই কনের গায়েহলুদ সম্পন্ন হয়েছিল।
দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর কনের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায় এক হৃদয়বিদারক দৃশ্য। চণ্ডীপুর বড় ছয়ঘটি গ্রামে বিয়ের জন্য সাজানো প্যান্ডেল ডেকোরেটরের লোকজন ভেঙে নিয়ে যাচ্ছেন এবং বাড়িতে তালা ঝুলছে।
বনপাড়া হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম জানিয়েছেন, পরিবারের কোনো অভিযোগ না থাকায় ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। একটি আনন্দময় সামাজিক অনুষ্ঠান এভাবে শোকে পর্যবসিত হওয়ায় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
আওয়ামী লীগ সরকার ৩২ লাখ কোটি টাকা পাচার করেছে, যা দিয়ে দেশের সাতটি বাজেট করা যেত। এ কথা বলেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ বরগুনা -২ আসনের সংসদ সদস্য নূরুল ইসলাম মনি।
রোববার (২২ মার্চ) বেলা ১১টায় বরগুনার ক্রোক খাল ও শাখা খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এমন মন্তব্য করেন।
চীফ হুইপ বলেন, বরগুনায় একটি ইকোনমিক জোন স্থাপন করা গেলে এ অঞ্চলের আমূল পরিবর্তন সম্ভব। এতে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং স্থানীয় অর্থনীতি শক্তিশালী হবে।
তিনি আরও বলেন, বিএনপি সরকার দক্ষ জনগোষ্ঠী গড়ে তুলতে চায়, যাতে দেশের মানুষ বিদেশে কাজ করেও দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখতে পারে। দেশের সম্পদ বৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে প্রয়োজনীয় সব উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, বরগুনার সব খাল পর্যায়ক্রমে পুনঃখনন করা হবে। খাল খননের মাধ্যমে কৃষিতে নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে। কৃষকরা এখন এক ফসলি জমিতে তিন ফসল ফলাতে পারবে, যা কৃষি উৎপাদন বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
তিনি আরও বলেন, এ অঞ্চলের যুবসমাজকে এমনভাবে গড়ে তোলা হবে যাতে তারা স্বাবলম্বী হয়ে দেশের উন্নয়নে নেতৃত্ব দিতে পারে।
এসময়ে অন্যান্যের মধ্যে বরগুনা-১ আসেনর সংসদ সদস্য মুহাম্মদ মাহমুদুলুল হোসাইন অলি উল্লাহ, পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ আব্দুল হান্নান প্রধান, জেলা বিএনপির সদস্য সচিব এসএম হুমায়ুন হাসান শাহিন, বিএনপি নেতা রেজাউল করিম বাবুল হাওলাদার, কেএম সফিকুজ্জামান মাহফুজ প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
নৌ পরিবহন ও সেতু বিভাগের প্রতিমন্ত্রী রাজিব আহসান খাল দখলকারীদের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন। রোববার ঝালকাঠির রাজাপুরে ৪ কোটি ৬৫ লাখ টাকা ব্যয়ে ৩ দশমিক ৪১ কিলোমিটার দীর্ঘ তুলাতলা খাল খনন কাজের উদ্বোধনকালে তিনি এই মন্তব্য করেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, খাল দখলকারীদের কেবল শক্তি প্রয়োগ নয়, বরং সামাজিকভাবে বয়কট এবং জনসচেতনতার মাধ্যমেই মোকাবিলা করা সম্ভব। দেশের প্রতিটি খাল উদ্ধার করে মানুষের ব্যবহারোপযোগী করার মাধ্যমে পূর্বের জীবন-জীবিকার ধারা ফিরিয়ে আনতে সরকার ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে তিনি উল্লেখ করেন।
খাল খনন প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের অনিয়ম বরদাশত করা হবে না বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন রাজিব আহসান। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, খালের উপরিভাগ পরিষ্কার বা 'শেভ' নয়, বরং প্রকৃত খনন নিশ্চিত করতে হবে। কাজের স্বচ্ছতা বজায় রাখতে তিনি স্থানীয় জনগণকে তদারকির আহ্বান জানান। অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি ঝালকাঠি-১ আসনের সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম জামাল বলেন, খনন কাজ শেষে তা সঠিকভাবে হয়েছে কি না তা পরিমাপ করা হবে এবং কোনো অনিয়ম পাওয়া গেলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জেলা প্রশাসক মোমিন উদ্দিনের সভাপতিত্বে এই অনুষ্ঠানে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং এলজিইডির কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এলজিইডি সূত্র জানায়, এই প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে এলাকার পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নতির পাশাপাশি কৃষি কাজ ও নৌ-যাতায়াতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। খনন কাজ সম্পন্ন হলে স্থানীয় কৃষকরা সেচ সুবিধা পাওয়ার পাশাপাশি বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা থেকেও মুক্তি পাবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
নেত্রকোনার মদনে বাড়ির সীমানা নিয়ে বিরোধের জেরে দুই পক্ষের সংঘর্ষে মঞ্জু মিয়া নামের ৬৫ বছর বয়সী এক কৃষক নিহত হয়েছেন। রোববার (২২ মার্চ) দুপুরে উপজেলার মাঘান ইউনিয়নের নয়াপাড়া গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। নিহত মঞ্জু মিয়া ওই গ্রামের মৃত আলী হোসেনের ছেলে। দীর্ঘদিন ধরে প্রতিবেশী শান্তু মিয়ার সঙ্গে বাড়ির সীমানা নিয়ে তার বিরোধ চলছিল, যা রোববার দুপুরে দুই পক্ষের মধ্যে তীব্র তর্ক-বিতর্ক ও পরবর্তীতে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে রূপ নেয়।
সংঘর্ষের এক পর্যায়ে উভয় পক্ষ লাঠিসোঁটা নিয়ে একে অপরের ওপর হামলা চালালে মঞ্জু মিয়া গুরুতর আহত হয়ে ঘটনাস্থলেই লুটিয়ে পড়েন। স্বজনরা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে মদন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহতের ছেলে সালেক মিয়া অভিযোগ করেছেন যে, প্রতিবেশী আমীর হোসেনসহ বেশ কয়েকজন মিলে তার বাবার ওপর হামলা চালিয়েছে, যার ফলে হাসপাতালে নেওয়ার পথেই তার মৃত্যু হয়।
মদন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) দেবাংশু দে জানিয়েছেন, মরদেহের সুরতহাল সম্পন্ন করে ময়নাতদন্তের জন্য নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতালে পাঠানো হবে। এই ঘটনায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে পুলিশ প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। বর্তমানে এলাকায় এ নিয়ে উত্তেজনা বিরাজ করছে।
সুনামগঞ্জে ঈদের আনন্দে ঘুরতে যাওয়ার পথে মোটর সাইকেলের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাছের সাথে ধাক্কা লেগে একজন নিহত ও দুইজন আহত হয়েছেন। রোববার (২২ মার্চ) দুপুরে সুনামগঞ্জ- দিরাই সড়কের শান্তিগঞ্জ উপজেলার গাগলী এলাকায় এই হতাহতের ঘটনা ঘটে।
নিহতের নাম সাফিকুল ইসলাম (২৮), তিনি শান্তিগঞ্জ উপজেলার শিমুলবাক ইউনিয়ের মুক্তাখাই গ্রামের মৃত উকিল আলীর ছেলে।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সাফিকুল ইসলাম নামের তরুণ দুই বন্ধুকে নিয়ে শান্তিগঞ্জের নিজ গ্রাম থেকে মোটরসাইকেল করে তাহিরপুরের পর্যটন কেন্দ্র শিমুল বাগানে ঘুরতে যাওয়ার জন্য রওনা দিয়েছিল। পথে সুনামগঞ্জ-দিরাই সড়কের গাগলী এলাকায় এসে তাদের মোটরসাইকেল নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাছের সাথে ধাক্কা লাগে। মোটরসাইকেলের সামনের অংশ ভেঙে চুরমার হয়ে যায়। সফিকুলের হাড় ভেঙে গাছের ভেতরে ঢুকে যায়। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক সাফিকুল ইসলামকে মৃত ঘোষণা করেন। এবং তার সাথে থাকা দুই বন্ধুর মধ্যে সাইদুল ইসলামের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে সিলেটের এমএজি ওসমানী মেডিকেল হাসপাতালে প্রেরণ করা হয় এবং গুলজার আহমদকে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক আমজাদ হোসেন বললেন, মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় তিনজনের মধ্যে হাসপাতালে আসার আগেই একজনের মৃত্যু হয়েছে। একজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে সিলেটের এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। অন্য আরেকজনকে সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
শান্তিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ অলি উল্যাহ বলেন, ' গাগলী এলাকায় মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় একজন নিহত ও দুই জন আহত হওয়ার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। কোন অভিযোগ পাওয়া যায় নি।