বঙ্গোবসাগরে থাকা গভীর নিম্নচাপটি ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেওয়ায় তা ‘রেমালে’ পরিণত হয়েছে। আজ রোববার মধ্যরাতে এটি আঘাত হানার আশঙ্কা করছেন আবহাওয়াবিদরা। এ জন্য দেশের ছয় জেলাকে ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলার জন্য বিশেষভাবে প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দিয়েছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. মহিববুর রহমান। এ ঘূর্ণিঝড় নিয়ে এ পর্যন্ত প্রাপ্ত পূর্বাভাস ও ভূমি অতিক্রমের সম্ভাব্য এলাকার ভিত্তিতে এ নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জেলাগুলো হলো সাতক্ষীরা, বাগেরহাট, খুলনা, বরগুনা, পটুয়াখালী ও ভোলা।
গতকাল ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় প্রস্তুতি সভায় প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘গত ১৫ বছরে ঘূর্ণিঝড়সহ সব দুর্যোগে তার নিবিড় পর্যবেক্ষণ ও নির্দেশনায় আমরা যথাসময়ে প্রস্তুতি নিয়ে মানুষের দুর্দশা লাঘব এবং জীবন ও সম্পদের ক্ষতি কমাতে সক্ষম হয়েছি। এ ঘূর্ণিঝড়টিও যাতে একই ধারাবাহিকতায় সফলভাবে মোকাবিলা করতে পারি তার জন্য আমরা প্রস্তুত রয়েছি।’
প্রতিমন্ত্রী মুহিববুর রহমান বলেন, ‘আমরা ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোর জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারদের সঙ্গে কথা বলে স্থানীয় প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য নির্দেশনা দিয়েছি। উপকূলবর্তী সব জেলাকে ঘূর্ণিঝড়ের জন্য প্রস্তুতি নিতে বলা হয়েছে। এ পর্যন্ত প্রাপ্ত পূর্বাভাস ও সম্ভাব্য ভূমি অতিক্রম এলাকার ভিত্তিতে সাতক্ষীরা, বাগেরহাট, খুলনা, বরগুনা, পটুয়াখালী, ভোলা জেলাসমূহকে অধিকতর প্রস্তুত থাকার জন্য বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘এক সপ্তাহ ধরে এই ঝড়টির বিষয়ে আমরা খোঁজখবর রাখছি। বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করে নিয়মিতভাবে পূর্বাভাস দিচ্ছে এবং আগাম কার্যাবলি (অ্যান্টিসিপেটরি অ্যাকশন) ও সাড়া প্রদানে সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত দিয়ে সহযোগিতা করছে। আমরা ভারতে অবস্থিত আঞ্চলিক বিশেষায়িত আবহওয়া কেন্দ্রের সঙ্গেও নিয়মিত যোগাযোগ রাখছি। এর পাশাপাশি বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য আন্তর্জাতিক পূর্বাভাস মডেল নিয়মিত পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে সময়োপযোগী কার্যক্রম গ্রহণ করছি।’
সভায় প্রতিমন্ত্রী বলেন, এই ঘূর্ণিঝড়টি মোকাবিলায় সার্বক্ষণিক তথ্য বিনিময়ের লক্ষ্যে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের এনডিআরসিসি ২৪ ঘণ্টা খোলা রয়েছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর মানবিক সহায়তা ও ত্রাণ কার্যক্রম প্রেরণ শুরু করেছে। ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচির (সিপিপি) ৭৮ হাজার স্বেচ্ছাসেবক কয়েক দিন যাবৎ মাঠে আগাম সতর্কবার্তা প্রচারসহ আশ্রয়কেন্দ্র পরিদর্শন ও প্রস্তুতের কাজ করছে। মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্বে অ্যান্টিসিপেটরি অ্যাকশন টেকনিক্যাল ওয়ার্কিং গ্রুপ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ, বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ ও সাইক্লোন আর্লি অ্যাকশন প্রটোকল অনুসরণ করে প্রতিষ্ঠানভিত্তিক আগাম কার্যক্রম শুরু করেছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ঘূর্ণিঝড়ের গতি-প্রকৃতি এবং আবহাওয়া অধিদপ্তর কর্তৃক বিপদ সংকেত জারি করা মাত্র মানুষকে আশ্রয়কেন্দ্রে আনা হবে। দুর্যোগবিষয়ক স্থায়ী আদেশাবলি অনুযায়ী স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানসমূহ এবং বিভিন্ন পর্যায়ের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটিগুলো কার্যকর হয়েছে।
ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতির অংশ হিসেবে সভায় কয়েকটি বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সেগুলো হলো আগাম সতর্কতার বিজ্ঞপ্তি প্রচার ও জনগণকে সচেতন করা, আগাম মানবিক কার্যাবলি গ্রহণ করা, মাঠ প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় ও বিভিন্ন পর্যায়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটিসমূহের সভা অনুষ্ঠান, সব পর্যায়ে নিয়ন্ত্রণকক্ষ খোলা, আশ্রয়কেন্দ্রগুলো প্রস্তুত করা, আশ্রয়কেন্দ্রে শুকনা খাবার, শিশু খাদ্য এবং গো-খাদ্যের ব্যবস্থা করা, জনগণকে আশ্রয়কেন্দ্রে আনার বিষয়ে প্রস্তুতি গ্রহণ। দুর্যোগ তথ্য পাওয়ার জন্য টোল ফ্রি ১০৯০ ব্যবহারের কথা বলা হয় সভায়। দৈনিক বাংলার বিভিন্ন জেলা প্রতিনিধিদের পাঠানোর সংবাদের ভিত্তিতে ‘রেমাল’ নিয়ে বিভিন্ন জেলার প্রস্তুতির সম্পর্কে জানা গেছে নানা তথ্য।
পিরোজপুর: বঙ্গোপসাগরে সৃষ্টি হতে যাওয়া ঘূর্ণিঝড় ‘রেমাল’ এর জন্য পিরোজপুরে প্রস্তুত করা হয়েছে ৫৬১ টি ঘূর্ণিঝড়ের আশ্রয়কেন্দ্র। যার মধ্যে ২৯৫ টি সাইক্লোন শেল্টার এবং ২৬৬ টি বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং এই আশ্রয়কেন্দ্রে ২ লাখ ৮০ হাজার ৫০০ জন মানুষ আশ্রয় নিতে পারবে।
শনিবার বিকেলে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের শহীদ আব্দুর রাজ্জাক সাইফ-মিজান সভাকক্ষে জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহেদুর রহমান এ তথ্য দেন।
সভায় জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহেদুর রহমান আরও জানান, ঘূর্নিঝড় রেমাল মোকাবিলায় একটি জেলা প্রশাসন থেকে একটি কন্টোলরুমসহ প্রতিটি উপজেলায় একটি টিম করা হয়েছে, ৬৫ টি মেডিকেল টিম প্রস্তুত রয়েছে, ২ লাখ ৬৩ হাজার পানি বিশুদ্ধ করণ ট্যাবলেজ মজুত রাখা হয়েছে, ঝড়ের ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য প্রাথমিক পর্যায়ে ১৩৫০ হাজার প্যাকেট শুকনা খাবার, ৬১১ মে. ট. চাল ও নগদ ৬ লক্ষ ১০ হাজার টাকা প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এছাড়াও দুর্যোগ পরিবর্তিতে ক্ষতিগ্রস্তদের ঘর মেরামতের জন্য ৯৭ বান্ডিল টিন রয়েছে। এ ছাড়া ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় রেডক্রিসেন্টের ২৫০ জন স্বেচ্ছাসেবক ও সিপিপি ২৪২০ জন সদস্য প্রস্তুত রয়েছে। রেমালের প্রভাবে পিরোজপুরের নদীসমূহে স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে বেশি পানি দেখা গেছে এবং জেলার কয়েক স্থানে হালাকা বৃষ্টি পড়েছে।
বরগুনা: বরগুনায় ঘূর্ণিঝড় রেমালের প্রভাবে গোমট আবহাওয়া বিরাজসহ নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এতে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন নদী তীরের বাসিন্দারা। শনিবার জেলার পায়রা, বলেশ্বর ও বিষখালী নদীর পানি স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় অন্তত তিন ফুট বেড়েছে বলে জানান নদী তীরের বাসিন্দারা। বরগুনা সদর উপজেলার বড়ইতলা এলাকায় গেলে দেখা যায়, পানিতে এখানকার বেড়িবাঁধের বাহিরের নিম্নাঞ্চল তলিয়ে গেছে। এখানে আশ্রয়কেন্দ্রের স্বল্পতা রয়েছে। তাই যা আছে তাতে সকলের স্থান সংকুলান হয় না। বরগুনার জেলা প্রশাসক মোহা. রফিকুল ইসলাম বলেন, দুপুরে জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা হয়েছে। সভার মাধ্যমে আমরা ঘূর্ণিঝড় মোকাবেলায় সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছি। এদিকে বরগুনার পানি উন্নয়ন বোর্ড জেলার বিভিন্ন স্থানে এক কিলোমিটার বেড়িবাঁধ ঝুঁকিপূর্ণ রয়েছে বলে জানিয়েছেন এবং এসব বাঁধ ভেঙ্গে গেলে তা তাৎক্ষণিকভাবে মেরামতের জন্য ৮০০ জিও ব্যাগ প্রস্তুত রাখা হয়েছে বলে জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় জানানো হয়েছে। জেলায় ঘূর্ণিঝড় ‘রেমাল’ মোকাবিলায় বরগুনায় ৬৭৩টি আশ্রয়কেন্দ্রসহ প্রায় ১০ হাজার স্বেচ্ছাসেবক প্রস্তুত রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ও জেলা মোহা. রফিকুল ইসলাম। শনিবার দুপুরে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির জরুরি প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়। দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় জেলা প্রশাসনসহ সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসক মোহা. রফিকুল ইসলাম জানান, ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। বরগুনায় ৩টি মুজিব কেল্লা, ৬৭৩টি আশ্রয়কেন্দ্রসহ প্রায় ১০ হাজার স্বেচ্ছাসেবক প্রস্তুত রাখা হয়েছে। যারা ঘূর্ণিঝড় পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সময়ে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করবেন। এ ছাড়া ৪২২ মেট্রিক টন খাদ্যশস্য, ৩৭ লাখ নগদ অর্থ প্রস্তুত রয়েছে। তিনি আরও জানান, ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকার জন্য জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ১০ টি কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে ৪২ টি মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে। দুর্যোগ প্রস্তুতি সভায় জেলা এনজিও ফোরামের সভাপতি মোতালেব মৃধা, প্রেসক্লাবের সভাপতি অ্যাডভোকেট মোস্তফা কাদের, রেডক্রিসেন্ট, দুর্যোগ প্রস্তুতি কর্মসূচি (সিপিপি), বিভিন্ন সরকারি, বেসরকারি সংস্থা ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত থেকে তাদের প্রস্তুতির বিষয় তুলে ধরেন।
মোংলা: ‘রেমাল’ প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়ে রোববার সন্ধ্যায় সুন্দরবন উপকূলে আঘাত হানবে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। মোংলা আবাহওয়া অফিসের ইনচার্জ মো. হারুন অর রশিদ জানান, এটি বর্তমান যেই অবস্থান দেখাচ্ছে তাতে ঘূর্ণিঝড়ের কেন্দ্রটি বাংলাদেশের ওপর দিয়েই অতিক্রম করার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে সুন্দরবন এলাকা এবং বরিশালের পটুয়াখালী, বরগুনা, ও ভোলা জেলায় রেমাল এর আঘাত হানার সম্ভাবনা বেশি রয়েছে।
এদিকে ঘূর্ণিঝড় রেমালের প্রভাবে সাগর উত্তাল থাকায় এরই মধ্যে মোংলা সমুদ্র বন্দরকে ৭ নম্বর সতর্ক সংকেত জারি করেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। ঘূর্ণিঝড় রেমালের প্রভাবে সব রকম সতর্কমূলক প্রস্তুতি নিয়েছে মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ। কোস্ট গার্ড, নৌ বাহিনী ও উপজেলা প্রশাসনের সমন্বয়ে শনিবার দুপুরে মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের সভাকক্ষে জরুরি বৈঠক করা হয়েছে।
বন্দর কর্তৃপক্ষের হারবার মাস্টার কমান্ডার সাইফুর রহমান বলেন, মোংলা বন্দরে এই মুহূর্তে সিমেন্টের কাঁচামাল ক্লিংকার, সার, পাথর ও গ্যাসবাহী ছয়টি জাহাজ অবস্থান করেছে। সেগুলোকে নিরাপদে নোঙ্গর করতে বলা হয়েছে। এদিকে ঘূর্ণিঝড় ‘রেমাল’ মোকাবিলায় সব রকম প্রস্ততি নিয়েছে উপজেলা প্রশাসনও। উপজেলা নির্বাহী অফিসার নিশাত তামান্না বলেন, ১০৩ টি আশ্রয়কেন্দ্রসহ ১৩২০জন স্বেচ্ছাসেবক প্রস্তুত রাখা হয়েছে। আবহাওয়া অফিস থেকে ঘূর্ণিঝড়ের সংকেত বাড়ানোর সঙ্গে সঙ্গেই আমাদের কার্যক্রমের গতি বাড়ানো হবে। কন্ট্রোল রুমও খোলা হয়েছে।
এদিকে মোংলা উপকূলে সচেতনতামূলক মাইকিং করেছে কোস্ট গার্ডের সদস্যরা। শনিবার সকাল থেকে ঘণ্টাব্যাপী মোংলার পশুর বিভিন্ন স্থানে এ প্রচার মাইকিং করা হয়।
মোংলা কোস্ট গার্ড পশ্চিম জোনের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট মো. মুনতাসীর ইবনে মহসীন জানান, সকাল থেকে সুন্দরবন লাঘোয়া মোংলা উপকূলের ঝুঁকিপূর্ণ বিভিন্ন এলাকায় প্রচার মাইকিং করেন কোস্ট গার্ড সদস্যরা।
বাগেরহাট: ঘূর্ণিঝড় রেমাল ধেয়ে আসার খবরে উপকূলীয় জেলা বাগেরহাটের নদী তীরবর্তী এলাকায় বসবাস করা মানুষের মাঝে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। এরই মধ্যে শনিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে শুরু হয়েছে বৃষ্টিপাত। তবে সকাল থেকে আকাশ কখনো রোদ আবার কখনো মেঘাচ্ছন্ন হচ্ছে। নদীতে থাকা মাছ ধরা ট্রলার গুলো উপকূলের ছোট ছোট খালে আশ্রয় নিয়েছে। কোস্টগার্ডের পক্ষ থেকে চালানো হচ্ছে জনসচেতনামূলক প্রচার-প্রচারণা। এরই মধ্যে রেমাল মোকাবেলায় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সকল ধরনের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে।
বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক মো. খালিদ হোসেন বলেন, ঘূর্ণিঝড় রেমাল মোকাবেলায় বাগেরহাটে ৩৫৯টি আশ্রয় কেন্দ্রে ও ৩ হাজার ৫শ ৫ জন স্বেচ্ছাসেবক প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এ ছাড়া ৬৪৩ মেট্রিকটন চাল ও ৫লক্ষ ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। জেলার ৯টি উপজেলার সকল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের সতর্ক থাকতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের সকল কর্মকর্তাদের ছুটি বাতিলের পাশাপাশি উপকূলের ঝুঁকিপূর্ণ বেরিবাধ এলাকায় গুলো নজরদারিতে রাখা হয়েছে।
পটুয়াখালী: জেলায় রেমাল মোকাবেলায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির প্রস্তুতি মূলক জরুরী সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার সকাল সাড়ে ১০টায় জেলা প্রশাসকের দরবার হলে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক নুর কুতুবুল আলম। সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান হাফিজুর রহমান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক যাদব সরকার। জেলা সিভিল সার্জন ডা. এসএম কবির হাসান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার যোবায়ের আহাম্মেদ।
গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. হারুন অর রশিদ, কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. নজরুল ইসলাম, পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফুর রহমান, পটুয়াখালী প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া রিদয়, সিপিপি, রেড ক্রিসেন্টসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
জেলা প্রশাসক জানান দুর্যোগ মোকাবিলায় জেলায় ৭০৩ টি সাইক্লোন শেল্টার ৩৫টি মুজিব কিল্লা, ৭৩০ মেট্রিক টন চাল, ১০ লক্ষ টাকার শিশু খাদ্য, ১০ লাখ টাকার গোখাদ্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এ ছাড় শুকনা খাবার রয়েছে ১৫০০ প্যাকেট। নগদ টাকা রয়েছে ২৪ লাখ ৭ হাজার টাকা ৫০০ টাকা।
এ সময় মানুষকে সচেতন ও দুর্যোগে উদ্ধার কাজ পরিচালনার জন্য রেডক্রিসেন্ট ও সিপিপির ৯ হাজার স্বেচ্ছাসেবককে প্রস্তুত থাকাসহ বিদ্যুৎ বিভাগ সড়ক বিভাগ ফায়ার সার্ভিসকে দিকনির্দেশনা প্রদান করেন জেলা প্রশাসক।
জেলায় মোট ৭৬টি মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে পর্যাপ্ত পরিমাণ স্যালাইন, ঔষধ ও পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট সংরক্ষিত রয়েছে। জেলায় ১৩০০ কিলোমিটার বেড়িবাঁধের মধ্যে ১০ কিলোমিটার ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। দুর্যোগের সময় কোথাও ভাঙন দেখা দিলে তা মেরামতের জন্য ১৬ হাজার জিও ব্যাগ রয়েছে বলে জানিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।
এদিকে জেলায় ৮৭ হাজার হেক্টর জমিতে রয়েছে মুগ ডাল এবং ২০ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো ধান রয়েছে বলে জানিয়েছে কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তর। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রফিউদ্দিন মোহাম্মদ যোবায়ের বলেন গুজোব মোকাবেলার জন্যে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে।
এদিকে কলাপাড়া উপকূলীয় অঞ্চলের জনগন, মৎস্যজীবি ও নৌযান সমূহকে ক্ষয়ক্ষতি থেকে রক্ষার জন্য জনসচেতনতা মূলক কার্যক্রম শুরু করেছে নিজামপুর কোষ্টগার্ড। শনিবার সকাল নয়টায় মৎস্য বন্দর আলীপুর- মহিপুরে মাইকিং ও লিফলেট বিতরন করে কোস্ট গার্ডের সদস্যরা। এসময় তারা খাপড়াভাঙ্গা নদীতে অবস্থানরত ট্রলার সমূহে থাকা জেলেদের ঘূর্নিঝড়ের সময় করনীয় সম্পর্কে দিক নির্দেশনা দেন।
ঝালকাঠি: জেলায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার বেলা ১১টায় জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ও জেলা প্রশাসক ফারাহ্ গুল নিঝুম। এ সভায় পুলিশ সুপার, স্বাস্থ্য, কৃষি, খাদ্য, শিক্ষা, দপ্তরের প্রধানগন এবং বিদ্যুৎ, ফায়ার সার্ভিস, পানি উন্নয়ন বোর্ড, সড়ক বিভাগ, রেডক্রিসেন্টসহ জেলা পর্যায়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা যোগ দেন।
সভায় জেলা প্রশাসক ফারাহ্ গুল নিঝুম বলেন, ঘূর্ণিঝড় ‘রেমাল’ মোকাবিলায় সর্বাত্মক প্রস্তুতি নেওয়া শুরু হয়েছে। এই কয় দিন সংশ্লিষ্ট সব পর্যায়ের কর্মকর্তাদের স্টেশন ত্যাগ না করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ঘূর্ণিঝড় ‘রেমাল’ মোকাবিলায় নির্ধারিত সাইক্লোন শেল্টারসহ আশ্রয়কেন্দ্রের জন্য সহ জেলার সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ব্যবহার উপযোগী করা হয়েছে।
জায়গা সংকুলান ও শয্যা সংকটে কার্যত হিমশিম খাচ্ছে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের (কুমেক) শিশু বিভাগ। হাম সংক্রমণ শুরু হওয়ার পর থেকে কুমিল্লা ও আশপাশের জেলা থেকে আসা শিশু রোগীর চাপ বেড়েছে কয়েকগুণ। সাধারণ ওয়ার্ডের পাশাপাশি তিনটি আইসোলেশন ইউনিট চালু করেও পরিস্থিতি সামাল দেওয়া যাচ্ছে না—বারান্দা ও মেঝেতেই চিকিৎসা নিতে বাধ্য হচ্ছে শিশুরা।
অন্যদিকে শিশুদের জন্য নির্মিত ১০০ শয্যার একটি আধুনিক হাসপাতাল ভবন দেড় বছরের বেশি সময় ধরে পড়ে আছে সম্পূর্ণ অব্যবহৃত অবস্থায়। দায়িত্ব গ্রহণ নিয়ে কুমেকের শিশু বিভাগ ও সিভিল সার্জন কার্যালয়ের টানাপোড়েনে জরুরি এই সময়েও চালু করা যায়নি হাসপাতালটি।
গত সোমবার (৬ এপ্রিল) সরেজমিনে কুমেকের শিশু বিভাগে গিয়ে দেখা যায়, নিচতলায় একটি ও দ্বিতীয় তলায় দুটি কক্ষ মিলিয়ে তিনটি আইসোলেশন ইউনিটে ভর্তি রয়েছে কুমিল্লা, নোয়াখালী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও চাঁদপুর থেকে আসা অন্তত ৩২ জন শিশু। শয্যা সংকটের কারণে অনেক শিশুকেই বারান্দায় চাটাই পেতে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে, কেউ কেউ মেঝেতেই বিছানা পেতে রয়েছে। স্বাস্থ্যবিধি অনুযায়ী দূরত্ব বজায় রাখার সুযোগ না থাকায় গাদাগাদি অবস্থায় ঝুঁকির মধ্যেই চলছে চিকিৎসা।
চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ থেকে আসা হামে আক্রান্ত ৬ মাস বয়সি শিশু আয়াতের মা ফারজানা আক্তার বলেন, ‘শিশুর অবস্থা গুরুতর হওয়ায় এখানে আনা হয়েছে। ভেন্টিলেশনে অক্সিজেন দেওয়া হচ্ছে; কিন্তু জায়গার খুব কষ্ট।’
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর থেকে আসা ৫ মাস বয়সি রাজুর বাবা সুখেন দাশ জানান, ডাক্তার কুমিল্লায় পাঠিয়েছে; কিন্তু এসে কোনো সিট পাইনি। বারান্দাতেই চিকিৎসা নিতে হচ্ছে।
কুমেক হাসপাতালের শিশু বিভাগের প্রধান ডা. মিয়া মনজুর আহমেদ বলেন, ‘৪০ শয্যার বিপরীতে সাধারণ সময়েই তিনগুণ রোগী থাকে, আর হাম সংক্রমণের পর চাপ বেড়েছে আরও দ্বিগুণ। বৃহত্তর কুমিল্লা ও নোয়াখালী অঞ্চলের রোগীরা ভালো চিকিৎসার আশায় এখানে ভিড় করছেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘পদুয়ার বাজার বেলতলীতে নির্মিত ১০০ শয্যার শিশু হাসপাতালটি চালু করা গেলে সংক্রমিত রোগীদের জন্য আলাদা আইসোলেশনসহ বিশেষায়িত চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হতো। এতে কুমেকের ওপর চাপও অনেকটা কমে যেত।’
এদিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশে পদুয়ার বাজার বেলতলীতে নির্মিত তিনতলা আধুনিক হাসপাতাল ভবনটি ঘুরে দেখা গেছে—পুরো অবকাঠামো প্রস্তুত থাকলেও নেই চিকিৎসক, নার্স, যন্ত্রপাতি বা আসবাবপত্র। প্রায় দুই বছর আগে নির্মাণকাজ শেষ হলেও পরিচালনার দায়িত্ব নিয়ে জটিলতায় হাসপাতালটি চালু করা যায়নি।
স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের সহকারী প্রকৌশলী সাইফুল ইসলাম জানান, ২০২০ সালে ৩৬ কোটি ৫৩ লাখ টাকা ব্যয়ে প্রকল্পের কাজ শুরু হয়ে ২০২৪ সালে শেষ হয়। দেড় বছর আগেই হস্তান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হলেও দায়িত্ব নির্ধারণ না হওয়ায় জনবল ও সরঞ্জাম বরাদ্দ হয়নি।
কুমিল্লার সিভিল সার্জন ডা. আলী নূর মোহাম্মদ বশির আহমেদ বলেন, ‘প্রথমে কুমেককে দায়িত্ব দেওয়া হলেও তারা নেয়নি। পরে আমাদের ওপর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। জনবল ও যন্ত্রপাতির জন্য মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে। দ্রুত ব্যবস্থা হলে হাসপাতালটি চালু করা সম্ভব হবে।’
স্থানীয়দের প্রশ্ন—যেখানে একদিকে শিশু রোগীরা বারান্দায় চিকিৎসা নিচ্ছে, সেখানে আধুনিক একটি হাসপাতাল ভবন কেন দেড় বছর ধরে বন্ধ পড়ে থাকবে? দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে চলমান সংক্রমণ পরিস্থিতিতে ভোগান্তি আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা।
লক্ষ্মীপুরের রামগতি উপজেলার একটি রাস্তায় আরসিসি ঢালাইয়ে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে রাস্তা নির্মাণ কাজে বাঁধা দেন স্থানীয় বাজার ব্যবসায়ী ও এলাকাবাসী। বুধবার (৮এপ্রিল) দুপুর ১২ টার দিকে উপজেলার রামগতি বাজারে এ ঘটনা ঘটে।
জানা গেছে, লক্ষ্মীপুর সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের আওতায় উন্নয়ন সহায়তা ২০২৫-২৬ অর্থ বছরে রামগতি বাজারের উপর ১ হাজার ৮৩৯ স্কয়ার মিটার আরসিসি ঢালাই ও দেড় কিলোমিটার রাস্তা পাকা করার জন্য প্রায় ৪ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। কাজটি পান মেসার্স এম এস কনস্ট্রাকশন কোম্পানি নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। গত ৮ দিন আগে প্রথমে রামগতি বাজারের উপর আর সিসি ঢালাইয়ের কাজ শুরু করা হয়। এতে নানা অনিয়মের অভিযোগে তুমুল সমালোচনার মুখে পড়েন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি। আজ বুধবার স্থানীয় বাজার ব্যবসায়ী ও এলাকাবাসীর সাথে বাকবিতন্ডায় জড়ান ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকজন।
স্থানীয় বাজার ব্যবসায়ীরা জানান, আর সিসি ঢালাইয়ে রাস্তার কাজে নিম্নমানের পাথর, ইটের খোয়া ব্যবহার এবং পরিমাণে সিমেন্ট কম দেওয়া, সিলেকসন বালুর স্থলে বাংলা বালু দেওয়া ও বরাদ্দ অনুযায়ী রড না দেওয়া সহ নানা অভিযোগ করেন তারা। এ নিয়ে স্থানীয় এলাকাবাসীর সাথে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকজনের বাকবিতন্ডার ঘটনা ঘটে।
কাজটি দেখবালের দায়িত্বে থাকা মিন্টুর কাছে এসব অনিয়মের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি উত্তেজিত হয়ে বলেন, আপনারা সড়ক ও জনপথ বিভাগের অফিসে গিয়ে জানেন। আমি আপনাদেরকে কিছুই বলবোনা।
স্থানীয় বাজার ব্যবসায়ী গরীব হোসেন রাসেল ও সাখাওয়াত হোসেন ভুট্টু বলেন, শুরু থেকেই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান অনিয়ম করেছেন। তারা সরকার দলীয় লোক বলে ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে এ অনিয়ম করছে। আমরা কাজটি সঠিকভাবে হউক, তা চাই।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স এম এস কনস্ট্রাকশনের স্বত্বাধিকারী মোঃ আরজু বলেন, বিষয়টি আমি শুনেছি। আপনারা সাইট ম্যানেজার মিন্টুর সাথে কথা বলেন।
লক্ষ্মীপুর সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো.মেহদী হাসান বলেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখবেন তিনি।
অসাধু ব্যবসায়ীদের কারসাজিতে বাজার থেকে ভোজ্যতেল উধাও করে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির প্রতিবাদে ফুঁসে উঠেছে পাবনার সাধারণ মানুষ। দোষী ব্যবসায়ীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে জেলা শহরে মানববন্ধন করেছে কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)।
বুধবার (৮ এপ্রিল) বেলা ১১টায় পাবনা প্রেসক্লাবের সামনে আব্দুল হামিদ সড়কে ক্যাব পাবনা জেলা শাখার উদ্যোগে এ কর্মসূচি পালিত হয়। বৈরী আবহাওয়া উপেক্ষা করে ঘণ্টাব্যাপী অনুষ্ঠিত এই মানববন্ধনে অংশ নেন জেলার বিভিন্ন পেশাজীবী ও সচেতন নাগরিক।
মানববন্ধনে সভাপতির বক্তব্যে ক্যাব জেলা শাখার সভাপতি এবিএম ফজলুর রহমান বলেন, "অধিক মুনাফার লোভে একটি অসাধু ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট বাজার থেকে ভোজ্যতেল সরিয়ে ফেলেছে। সরকারের উচিত দ্রুত এই সিন্ডিকেটকে চিহ্নিত করে বাজার তদারকি জোরদার করা। তা না হলে সাধারণ ক্রেতারা ন্যায্যমূল্যে পণ্য পাওয়া থেকে বঞ্চিত হবে, যা চরম ভোক্তা অধিকার লঙ্ঘনের শামিল।
ক্যাব যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শফিক আল কামালের সঞ্চালনায় কর্মসূচিতে সংহতি প্রকাশ করে বক্তব্য দেন পাবনা প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক উৎপল মির্জা, রিপোর্টার্স ইউনিটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক কাজী মাহবুব মোর্শেদ বাবলা, এবং বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ জেলা শাখার সভাপতি অ্যাডভোকেট কামরুন্নাহার জলি।
বক্তারা অভিযোগ করেন, কৃত্রিম সংকটের মাধ্যমে ভোক্তাদের পকেট কাটা হচ্ছে। অবিলম্বে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোর বাজার মনিটরিং নিশ্চিত করার দাবি জানান তারা।
অন্যান্যের মধ্যে আরও বক্তব্য দেন পাবনা প্রেসক্লাবের অর্থ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক ইয়াদ আলী মৃধা পাভেল, দপ্তর সম্পাদক মনিরুজ্জামান শিপন, সুচিত্রা সেন স্মৃতি সংরক্ষণ পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ড. নরেশ মধু, পাবনা কলেজের শিক্ষক ড. আলমগীর হোসেন প্রমুখ। এ সময় বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিক ও স্থানীয় ব্যবসায়ীরা উপস্থিত ছিলেন।
সমাবেশ শেষে বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যদি দ্রুত বাজার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আসে এবং মজুদদারদের আইনের আওতায় না আনা হয়, তবে সাধারণ মানুষকে সাথে নিয়ে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
লালমনিরহাটের পাটগ্রাম সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে আলী হোসেন (৪৯) নামে এক বাংলাদেশি নাগরিক নিহত হয়েছেন।
বুধবার (৮ এপ্রিল) ভোররাতে উপজেলার জোংড়া ইউনিয়নের ধবলগুড়ি ৮নং ওয়ার্ডের পানিয়ার টারি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আলী হোসেন লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার ধবলগুড়ি এলাকার বাসিন্দা।
বিজিবি সূত্রে জানা যায়, তিস্তা ব্যাটালিয়নের (৬১ বিজিবি) অধীন ধবলগুড়ি বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় সীমান্ত পিলার ৮৭৪/৫ এস সংলগ্ন শূন্য লাইন থেকে আনুমানিক ৫০০ গজ ভারতের অভ্যন্তরে সাতগ্রাম বিএসএফ ক্যাম্পের এলাকায় রাত ২টা ৫০ মিনিট ও ভোর ৪টা ৫০ মিনিটে পৃথকভাবে দুই দফায় গুলির শব্দ শোনা যায়। এ ঘটনার পর সকাল ৬টা ৩৫ মিনিটে বিজিবি ও বিএসএফের ব্যাটালিয়ন অধিনায়ক পর্যায়ে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ হয়।
বিএসএফের ভাষ্য অনুযায়ী, ৭ থেকে ৮ জন বাংলাদেশি ভারতীয় সীমান্তে তারকাটা বেড়া কাটার উদ্দেশ্যে গেলে বিএসএফ সদস্যরা প্রথমে সতর্কতামূলক গুলি ছোড়ে। এক পর্যায়ে চোরাকারবারীদের সঙ্গে বিএসএফ সদস্যদের ধস্তাধস্তি হয় এবং বিএসএফ গুলি ছুড়লে আলী হোসেন (৪৯) নামে এক বাংলাদেশি গুলিবিদ্ধ হন। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে বিএসএফ সদস্যরা নিজেদের হেফাজতে নিয়ে ভারতীয় হাসপাতালে পাঠালে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
৬১ বিজিবির তিস্তা ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফট্যানেন্ট কর্নেল সৈয়দ ফজলে মুনিম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ঘটনার বিস্তারিত যাচাই বাছাই ও তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম চলমান রয়েছে। পাশাপাশি উভয় দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে ব্যাটালিয়ন ও সেক্টর কমান্ডার পর্যায়ে স্পট মিটিংয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
‘স্বাস্থ্য সেবায় বিজ্ঞান, সুরক্ষিত সকল প্রাণ’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে পিরোজপুরে যথাযোগ্য মর্যাদায় বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস ২০২৬ পালিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে মঙ্গলবার সকালে পিরোজপুর সিভিল সার্জন কার্যালয়ের উদ্যোগে এক বর্ণাঢ্য র্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সিভিল সার্জন কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সভায় সভাপতিত্ব করেন পিরোজপুর জেলা সিভিল সার্জন ডা. মো. মতিউর রহমান।
সভায় বক্তব্য রাখেন পিরোজপুর জেলা হাসপাতালের পরিচালক ডা. শিশির রঞ্জন অধিকারী এবং পিরোজপুর সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. নিজাম উদ্দিন।
সিভিল সার্জন ডা. মতিউর রহমান তাঁর বক্তব্যে বলেন, "বর্তমান বিশ্বে অসংক্রামক ব্যাধি এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সৃষ্ট স্বাস্থ্য ঝুঁকি মোকাবিলায় বিজ্ঞানভিত্তিক সমন্বিত উদ্যোগের কোনো বিকল্প নেই। ২০২৬ সালের বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবসের মূল লক্ষ্য হলো স্বাস্থ্যসেবাকে আরও আধুনিক, স্মার্ট ও টেকসই করে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া।
সভায় অসংক্রামক ব্যাধি প্রতিরোধ ও জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে আরও বক্তব্য রাখেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) এসআইএমও ডা. সাজিয়া নওশীন, ঝপিয়েগো (Jhpiego) এমসিজিএল প্রকল্পের ডিস্ট্রিক্ট টেকনিক্যাল অফিসার ডা. নুসরাত জাহান, সেভ দ্য চিলড্রেন বাংলাদেশ-এর প্রজেক্ট কো-অর্ডিনেটর (MCGL) মুহাম্মদ ফয়েজ কাউছার, ব্র্যাক (টিবি) বরিশাল বিভাগীয় ব্যবস্থাপক প্রদীপ কুমার তরফদার, ব্র্যাক (টিবি) পিরোজপুর জেলা ব্যবস্থাপক মো. আব্দুল হাই এবং ব্র্যাক স্বাস্থ্য প্রোগ্রামের এলাকা ব্যবস্থাপক সঞ্জয় মজুমদার।
বক্তারা হৃদরোগ, ডায়াবেটিস ও ক্যান্সারের মতো ব্যাধি প্রতিরোধে জনসচেতনতার পাশাপাশি ‘ওয়ান হেলথ’ ধারণার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।আলোচনা সভার শুরুতে সিভিল সার্জনের নেতৃত্বে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের করা হয়, যা শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য বিভাগের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা, চিকিৎসক ও সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্যকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
নীলফামারী জেলা বাস, মিনিবাস ও কোচ পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়েছে। সংগঠনটির রেজিস্ট্রেশন নম্বর ৩৪৪৬। মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) জেলা শহরের কালিতলা বাস টার্মিনাল চত্বরে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে ইউনিয়নের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাড. মিজানুর রহমান চৌধুরী।
সংগঠনটির সভাপতি ও জেলা শ্রমিক দলের সভাপতি মো. নুর আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জেলা জজ আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (জিপি) আবু মো. সোয়েম।
জেলা শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক জামিয়ার রহমানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন জেলা শ্রমিক ইউনিয়নের প্রতিষ্ঠাতা সাবেক সভাপতি শাহাজান চৌধুরী, সিনিয়র সহসভাপতি মশিয়ার রহমান, মজনু মিয়া, পৌর বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক লুৎফুল আলম চৌধুরী শুভ, স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি মোর্শেদ আযম,যুবদলের সহ-সভাপতি শফিকুল ইসলাম মুকুল,শ্রমিকনেতা বজলার রহমান এবং জেলা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক আলিফ সিদ্দিকী প্রান্তর।
বক্তারা বলেন, দীর্ঘ ৪৮ বছর পর নীলফামারীতে শ্রমিক ইউনিয়নের উদ্বোধন হওয়ায় প্রশাসন, রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী ও সচেতন মহলের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানানো হয়। তারা আরও বলেন, দেশের উন্নয়নে যোগাযোগ ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তবে কিছু সিন্ডিকেটের কারণে এ খাতে প্রতিবন্ধকতা তৈরি হচ্ছে। এসব সিন্ডিকেট প্রতিরোধে ইউনিয়নের সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানান তারা।
নীলফামারী প্রেসক্লাবের দ্বিবার্ষিক নির্বাচনে অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার(৬ এপ্রিল) প্রেসক্লাব মিলনায়তনে সকাল ১১টা থেকে বিকাল ৩টা পর্যন্ত ওই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ভোট গণনা শেষে রাত ৮টায় ফলাফল ঘোষণা করেন প্রেসক্লাবের নির্বাচন কমিশন।
এই নির্বাচনে জেলায় প্রথমবারের মতো সভাপতি পদে সমান ভোট পেয়ে হাসান রাব্বী প্রধান (আরটিভি) ও এ,বি,এম মনঞ্জুরুল আলম সিয়াম (মাছরাঙা টেলিভিশন) নির্বাচিত হয়েছেন। সভাপতি পদে সমান ভোটে জয়ী ওই দুই প্রার্থী পর্যায়েক্রমে এক বছর করে দায়িত্ব পালন করবেন। এছাড়া সাধারণ সম্পাদক পদে মিল্লাদুর রহমান মামুন (এটিএন নিউজ) নির্বাচিত হয়েছেন।
নির্বাচন শেষে রাতে প্রেসক্লাবের প্রধান উপদেষ্টা ও প্রধান নির্বাচন কমিশনার প্রবীন সাংবাদিক মো. সামসুল ইসলাম ওই ফলাফল ঘোষণা করেন।
অন্যান্য পদে নির্বাচিতরা হলেন, সহ-সভাপতি চারটি পদে ভুবন রায় নিখিল (বাসস), আনোয়ারুল আলম প্রধান (চ্যানেল আই), শীষ রহমান (ইত্তেফাক), মোস্তাফিজুর রহমান সবুজ (সাপ্তাহিক নীল চোখ), যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক পদে সর্বোচ্চ ভোট পায় নাসির উদ্দিন শাহ মিলন (দিনকাল), আব্দুর রশিদ শাহ (নিউজ ২৪), দপ্তর সম্পাদক পদে রাজীব চৌধুরী (এম আর চৌধুরী) রাজু (ডেইলী সান), অর্থ সম্পাদক পদে এম আবুল হোসেন শাহ (বানিজ্য প্রতিদিন), প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক পদে মো. নাঈম শাহ (কালের কণ্ঠ), ক্রীড়া সম্পাদক পদে মোশাররফ হোসেন (খোলা কাগজ) নির্বাচিত হয়েছেন।
নির্বাহী সদস্যের সাতটি পদে নির্বাচিতরা হলেন, মীর মাহমুদুল হাসান আস্তাক (প্রথম আলো), কাজী মাহবুবুল হক দোদুল (নীলকথা), বিএম খাজা নেওয়াজ (আমার বার্তা), সাদেকুর রহমান শাহ স্কলার (আজকের বিজনেস বাংলাদেশ), বাপ্পী রহমান (নিউ এইজ), মুসফিকুর রহমান সৈকত (ইনকিলাব), আলী সাদ্দাম (সিএন বাংলা)।
কার্যনির্বাহী পরিষদের ২১টি পদের মধ্যে সোমবার ১৯টি পদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। অপর দুটি পদের মধ্যে সাহিত্য, সংস্কৃতি ও পাঠাগার বিষয়ক সম্পাদক পদে আব্দুল বারী (বাংলাদেশ প্রতিদিন), তথ্যপ্রযুক্তি ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক পদে আরিফুল ইসলাম (আমাদের পত্রিকা) বিনা প্রতিদ্বন্দ্বীতায় নির্বাচিত হয়েছেন।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার মো. সামসুল ইসলাম এসব তথ্য নিশ্চিত করে জানান, প্রেসক্লাবের ৫২ জন সদস্যের মধ্যে ৪৯ জন সদস্য ভোট প্রদান করেছে। এরমধ্যে ৭টি ভোট বাতিল হয়েছে।
পঞ্চগড় আটোয়ারী উপজেলার ৬নং ধামোর ইউনিয়নের তিনটি ওয়ার্ডের গ্রামগুলোতে দীর্ঘ দিন থেকে আয়রন যুক্ত পানি ব্যবহার করছেন এইসব এলাকার বাসিন্দারা।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, আটোয়ারী পঞ্চগড়, সূত্রে জানা যায় পানিতে ০.৩ মিলিগ্রাম/লিটার পর্যন্ত আয়রন গ্রহণ যোগ্য। এর বেশি হলে স্বাস্থ্য ও পানির গুণমান ক্ষতিগ্রস্ত হয়। স্বল্প মাত্রায় আয়রন উপকারী অতিমাত্রায় আয়রন ক্ষতিকর দীর্ঘ মেয়াদে গ্রহণ স্বাস্থ্য পরীক্ষার প্রয়োজন আয়রনের মাত্রা বেশি হলে ফিল্টার বা পরিশোধন দরকার।
৬নং ধামোর ইউনিয়নের সংরক্ষিত মহিলা সদস্য শ্রী ময়না রানী জানান যে, ৭, ৮ ও ৯ তিনটি ওয়ার্ডে টিউবওয়েলের পানি আয়রন যুক্ত হওয়ায় অনেকে টিউবওয়েল থাকা স্বত্বেও পুকুর ও নলকূপে গোসল করেন, তিনি আরও জানায় এই তিনটি ওয়ার্ডে আমি দায়িত্বে রয়েছি, তাই নলকূপের বিষয় আমি অবগত আছি।
৭নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি সোরবত আলী জানান যে, গিরাগাঁও, পশ্চিম গিরাগাঁও, জামাদার পাড়া সহ কয়েকটি গ্রামের বাসিন্দারা, দীর্ঘ দিন থেকে আয়রন যুক্ত পানি ব্যবহার করে আসতেছে, আমার বাসায় টিউবওয়েল ৬০ লেয়ার তাই বাসায় আয়রন যুক্ত পানি বের হয়, এসব পানি ব্যবহার করে আমার পাঞ্জাবি ডিস কালার হয়ে গেছে।
জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর পঞ্চগড়, নির্বাহী প্রকৌশলী, মোঃ মিনহাজুর রহমান তিনি জানান যে, আমাদের যেসব টিউবওয়েল সরকারি ভাবে বিতরণ করা হয়, সেসব টিউবওয়েলের লেয়ার ১২০ এর উর্ধ্বে দেওয়া হয়, সেই সব টিউবওয়েল এর পানি আয়রন মুক্ত থাকে, আমাদের বাইরে যারা বাজার থেকে টিউবওয়েল ক্রয় করে, বাসায় স্হাপন করেন, তারা সাধারণত ৬০-৬৫-৭০ লেয়ার দিয়ে থাকেন, তাই তাদের টিউবওয়েলে আয়রন যুক্ত পানি বের হয়।
স্বপ্নের ইউরোপে বিপজ্জনকভাবে অবৈধ পথে যাত্রায় ভূমধ্যসাগরে বাংলাদেশিদের মৃত্যুর মিছিল থামছেই না। দালালদের প্রলোভনে পড়ে অনেকেই লিবিয়া থেকে ছোট ও ঝুঁকিপূর্ণ নৌকায় গ্রিস বা ইতালির উদ্দেশে পাড়ি জমিয়ে সাগরেই হারাচ্ছে প্রাণ; ডুবছে তিলে তিলে গড়া স্বপ্নও। সবশেষ লিবিয়ার উপকূলে নৌকাডুবিতে অন্তত ৭০ জন অভিবাসী নিখোঁজ রয়েছেন। ইউরোপে যাওয়ার পথে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিতে গিয়ে এ দুর্ঘটনা ঘটে। তবে, বাংলাদেশিসহ ৩২ জন উদ্ধার করা হয়েছে। এক প্রতিবেদনে মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমস এ তথ্য জানায়।
উদ্ধার হওয়া জীবিতদের বরাতে জানা যায়, নৌকাটিতে অন্তত ১০০ জন যাত্রী
ছিলেন।
আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) ও জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা জানায়, শুক্রবার রাত থেকে শনিবার ভোরের মধ্যে লিবিয়ার তাজৌরা বন্দর থেকে যাত্রা শুরু করে ছোট আকারের ওই নৌকাটি। পথে বৈরী আবহাওয়া ও উত্তাল ঢেউয়ের মধ্যে নৌকায় পানি ঢুকতে শুরু করে এবং কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সেটি ডুবে যায়।
জার্মানভিত্তিক উদ্ধার সংস্থা সি ওয়াচ জানায়, তাদের একটি বিমান দুর্ঘটনাস্থলে গিয়ে উল্টে যাওয়া নৌকাটি দেখতে পায়। এসময় কয়েকজন যাত্রী নৌকার গায়ে আঁকড়ে ধরে ছিলেন, কেউ পানিতে ভাসছিলেন, আর কিছু মরদেহও দেখা যায়।
উদ্ধার কার্যক্রমে অংশ নেয় একটি ইতালীয় ও একটি লাইবেরিয়ান বাণিজ্যিক জাহাজ। পরে জীবিতদের ইতালির লাম্পেদুসা দ্বীপের কাছে নিয়ে যাওয়া হয়, যা ইউরোপে প্রবেশের একটি প্রধান প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত।
উদ্ধার হওয়া ৩২ জনই পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও মিসরের নাগরিক। তাদের সঙ্গে দুটি মরদেহও উদ্ধার করা হয়েছে।
জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থার এক মুখপাত্র জানান, ভূমধ্যসাগর পাড়ি দেয়ার জন্য নৌকাটি একেবারেই অনুপযুক্ত ছিল।
ধারণা করা হচ্ছে, নৌকাটিতে ১২০ জন পর্যন্ত যাত্রী থাকতে পারে। সংখ্যা নিশ্চিত হলে এটি হবে সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে ভয়াবহ অভিবাসী ট্র্যাজেডিগুলোর একটি।
এদিকে, ২০১৪ সাল থেকে এখন পর্যন্ত ভূমধ্যসাগরে ৩৩ হাজার ৪৫০ জনের বেশি অভিবাসী মারা গেছেন বা নিখোঁজ হয়েছেন বলে জানিয়েছে আইওএম। শুধু চলতি বছরেই মধ্য ভূমধ্যসাগরে অন্তত ৭২৫ জন নিখোঁজ হয়েছেন।
অভিবাসী উদ্ধার সংস্থাগুলো বলছে, নিরাপদ ও বৈধ প্রবেশের পথ না থাকায় মানুষ ঝুঁকিপূর্ণ পথে ইউরোপে যাওয়ার চেষ্টা করছে—যার মাশুল গুনতে হচ্ছে প্রাণ দিয়ে।
এর আগে গত শুক্রবার গ্রিস উপকূলে নৌকা ডুবে প্রাণ গেছে ১৮ থেকে ২০ বাংলাদেশির। এর মধ্যে সুনামগঞ্জের ১২ যুবক রয়েছেন। এরা হলেন- রাই উপজেলার তারাপাশা গ্রামের আবু সাঈদ সরদারের ছেলে নুরুজ্জামান সরদার ময়না, আব্দুল গণির ছেলে সাজিদুর রহমান, ইসলাম উদ্দিনের ছেলে শাহান মিয়া, রনারচর গ্রামের আব্দুল মালেকের ছেলে মুজিবুর রহমান, বাসুরি গ্রামের মো. সুহানুর রহমান ও মাটিয়াপুর গ্রামের তায়েফ মিয়া। জগন্নাথপুরের চিলাউড়া গ্রামের সোহানুর রহমান, টিয়ারগাঁওয়ের শায়েখ আহমেদ, চিলাউড়া কবিরপুরের মো. নাঈম, পাইলগাঁওয়ের আমিনুর রহমান, ইছগাঁওয়ের মোহাম্মদ আলী। দোয়ারাবাজার উপজেলার কবিরনগর গ্রামের ফয়েজ উদ্দিনের ছেলে ফাহিম আহমেদ মুন্না।
প্রাণ হারানো ব্যক্তিদের স্বজনরা বলেন, দালালরা ১২ লাখ টাকার চুক্তিতে বড় নৌকা দিয়ে ইতালি কিংবা গ্রিসে পাঠানোর কথা থাকলেও পরে ঝুঁকিপূর্ণ ছোট প্লাস্টিকের নৌকায় তাদের সাগরপথে ছেড়ে দেয়। ২ দিনের মধ্যে তারা গন্তব্যে পৌঁছে যাবে এমনটি বলা হলেও যাত্রাপথে ভুল রাস্তায় গিয়ে ৬ দিনেরও বেশি সময় সাগরে কাটানোর কারণে তারা খাবারের অভাব ও পানির পিপাসায় কাতর হয়ে মারা যায়।
বেসরকারি সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, এভাবেই লিবিয়া থেকে অবৈধভাবে ইউরোপে যাওয়ার পথে বছরে অন্তত ৫০০ বাংলাদেশি মারা যাচ্ছেন। তবে অনেকের মতে, প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি। যদিও সাগরে প্রাণহানি, লিবিয়ায় নিয়ে অপহরণ ও মুক্তিপণের জন্য আটক করে নির্যাতন ও হত্যার ঘটনায় দালাল ও মানব পাচারকারী চক্রের সদস্যদের বিরুদ্ধে মামলাও হচ্ছে। গত বছর সারা দেশে মানবপাচার প্রতিরোধ ও দমন আইনে বিচারাধীন ও তদন্তাধীন মামলা ছিল ৪ হাজার ৪৮০টি। কিন্তু এই বিপজ্জনক স্বপ্নযাত্রা থামছে না।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মোটা অঙ্কের নগদ টাকা আয়ের উৎস হওয়ায় এই অপরাধ নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা ও গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, গত শুক্রবার অবৈধভাবে লিবিয়া থেকে ইউরোপে যাওয়ার সময় গ্রিস উপকূলে ওই নৌকাডুবিতে ১৮-২০ জন বাংলাদেশি নিহত হওয়ার পাশাপাশি ২১ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। এর আগে ২০২৫ সালের ২৫ জানুয়ারি ভূমধ্যসাগরে নৌকাডুবির পর ২৩ জনের অর্ধগলিত মরদেহ ২৮ থেকে ৩১ জানুয়ারি লিবিয়ার পূর্ব উপকূলের সৈকতে ভেসে এসেছিল। পরিচয় শনাক্ত না করতে পারায় তাদের লিবিয়ায় দাফন করা হয়। মৃতদের অবয়ব ও পোশাকের ধরনে তাদের সবাইকে বাংলাদেশি মনে হয়েছে।
এদিকে, সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ ইলিয়াছ মিয়া বলেন, আমরা সুনামঞ্জের ৩টি উপজেলায় মোট ১২ জনের প্রাণহানির তথ্য জানতে পেরেছি।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিহতদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে পরিবারের খোঁজ নিচ্ছেন জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরকত উল্লাহ। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত জেলার জগন্নাথপুর ও দিরাই থানায় ৯ জন দালালকে আসামি করে মানবপাচার প্রতিরোধ ও দমন আইনে দুইটি মামলা করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, গত ৩০ মার্চ সোমবার রাতে দিরাই উপজেলার বাসুরি গ্রামের নিহত সুহানুর রহমানের বাবা ছালিকুর রহমান ৪ দালালের বিরুদ্ধে বাদী হয়ে দিরাই থানায় একটি মামলা করেন। এছাড়া গত মঙ্গলবার জেলার জগন্নাথপুর উপজেলার পাইলগাঁও ইউনিয়নের পাইলগাঁও গ্রামের নিহত আমিনুর রহমানের বাবা হাবিবুর রহমান বাদি হয়ে ৫ দালালের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করেন।
সূত্রমতে, গত বছরের (২০২৫) প্রথম ছয় মাসে সাগরপথে পাচার হওয়া অভিবাসীদের তালিকায় শীর্ষে ছিল বাংলাদেশ। বাংলাদেশির সংখ্যা ছিল ৯ হাজার ৭৩৫ জন। তালিকায় এরপর ছিল ইরিত্রিয়া, মিসর, পাকিস্তান, ইথিওপিয়া, সিরিয়া, সুদান, সোমালিয়া, গিনি ও আলজেরিয়ার অবস্থান।
ইউরোপীয় সীমান্তরক্ষী সংস্থা ও মাইগ্রেন্ট ইনফোর সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের প্রথম দুই মাসে ভূমধ্যসাগর হয়ে ৩ হাজার ৩৯৫ জন অবৈধ অভিবাসী ইউরোপে প্রবেশ করেছেন। এ দুই মাসে ভূমধ্যসাগরে প্রায় ৬৬০ জন অভিবাসীর মৃত্যু হয়েছে। ভূমধ্যসাগর রুট দিয়ে সবচেয়ে বেশি অভিবাসী যান ইতালি ও গ্রিসে। অবৈধ পথে ইউরোপে পাঠাতে সক্রিয় দালাল চক্র দেশে ছড়িয়ে রয়েছে। বড় কোনো ঘটনার পর দালাল চক্রের বিরুদ্ধে তৎপরতা দেখা যায়।
এর আগে ২০২৪ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি ভূমধ্যসাগরের তিউনিসিয়া উপকূলে নৌকাডুবিতে ৮ বাংলাদেশি নিহত হন। ২০২৩ সালের ১৩ মার্চে নৌকাডুবিতে নিখোঁজ হওয়া ৩০ জনের ভাগ্য এখনো অজানা। একই বছরের ৯ আগস্ট রাতে লিবিয়া থেকে ইতালি যাওয়ার পথে ভূমধ্যসাগরে নৌকাডুবিতে নিখোঁজ হন নরসিংদীর বেলাব উপজেলার ৯ তরুণ। এর আগে ২৪ জুন ইতালি যাওয়ার পথে ভূমধ্যসাগরে স্পিডবোট ডুবে নরসিংদীর এক তরুণ নিহত এবং নিখোঁজ হন ১৩ তরুণ। ২০২০, ২০২১ ও ২০২২ সালেও একাধিক নৌকাডুবিতে প্রাণহানি হয়। এর মধ্যে ২০২১ সালের জুনে লিবিয়া থেকে ইতালি যাওয়ার পথে বাংলাদেশ, মিসরসহ চারটি দেশের অন্তত ৪৩ জন অভিবাসনপ্রত্যাশী ভূমধ্যসাগরে ডুবে মারা যান। সাগরপথে এই মৃত্যুঝুঁকি নেওয়ার সংখ্যা যেমন বাড়ছে, তেমনি নৌকাডুবির ঘটনাও বাড়ছে বলে দাবি করেছে জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম)।
আর বেসরকারি সংস্থা ব্র্যাক বলেছে, প্রতিবছর লিবিয়া থেকে সাগরপথে ইউরোপ যাওয়ার এই রুটে অন্তত ৫০০ বাংলাদেশি মারা যান।
শুক্রবারের নৌকাডুবির পর আইওএম জানায়, ১০ দিনে কয়েকটি নৌকাডুবি হয়েছে। এসব ঘটনায় কয়েকশ অভিবাসনপ্রত্যাশী প্রাণহানি হয়ে থাকতে পারে বলে সংস্থাটির আশঙ্কা।
প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, গত পাঁচ বছরে অবৈধভাবে ইউরোপে যাওয়ার পথে প্রাণ হারানো ১৮৭ জন বাংলাদেশির মরদেহ সরকারি খরচে দেশে আনা হয়েছে। মৃত্যুঝুঁকি জেনেও অবৈধ পথে ইউরোপ যাত্রার চেষ্টাকারী বাংলাদেশিদের মধ্যে শরীয়তপুর, মাদারীপুর, ফরিদপুর, সিলেট, সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ, নোয়াখালী ও কুমিল্লা অঞ্চলের মানুষের সংখ্যা বেশি। এসব এলাকায় সক্রিয় দালাল চক্র উন্নত জীবনের লোভ দেখিয়ে মানুষকে প্রলুব্ধ করছে।
পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের মার্চ পর্যন্ত সারাদেশে মানবপাচার প্রতিরোধ ও দমন আইনে ৪ হাজার ৪৪৮টি মামলা হয়েছে। এর মধ্যে বিচারাধীন ৩ হাজার ৩৪টি মামলা এবং তদন্ত চলছে ১ হাজার ৪৪৬টির। এসব মামলায় ১৬ হাজার ৬৭৮ আসামি। ২০২৪ সালে মামলা ছিল ৪ হাজার ২৯১টি এবং আসামি ছিল ১৬ হাজার ৪৩২ জন।
ব্র্যাকের মাইগ্রেশন ও ইয়ুথ প্ল্যাটফর্মের সহযোগী পরিচালক শরিফুল হাসান বলেন, দেশের ৮-১০টি জেলা থেকে ভূমধ্যসাগর হয়ে মানবপাচারের ঘটনাগুলো ঘটছে। ঝুঁকি জেনেও এই এলাকার মানুষ এই পথ বেছে নিয়েছে। এ জন্য তাদের সচেতন করতে হবে। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সারা বছর তৎপর থাকতে হবে। কিন্তু যখন কোনো ঘটনা ঘটে, তখনই শুধু তারা তৎপর হয়। এ জন্য ঘটনাগুলো কমছে না।
মানবপাচারের বেশিরভাগ মামলার তদন্ত করছে সিআইডি। এ প্রসঙ্গে সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার মো. বদরুল আলম মোল্লা গণমাধ্যমকে বলেন, বর্তমানে সিআইডিতে মানবপাচারের ৯১টি মামলার তদন্ত চলছে। এর মধ্যে লিবিয়ায় নির্যাতন, হত্যাসহ বিভিন্ন ঘটনার মামলাও আছে। সম্প্রতি যে ঘটনাটি ঘটেছে, সে বিষয়েও তদন্ত শুরু হয়েছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বাংলাদেশ–মিয়ানমার সীমান্ত বাণিজ্যের অন্যতম প্রবেশদ্বার টেকনাফ স্থলবন্দর প্রায় এক বছর ধরে অচলাবস্থায় পড়ে আছে। মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা ও সীমান্ত নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম দীর্ঘদিন ধরে স্থবির হয়ে পড়ে। তবে পরিস্থিতি বিবেচনায় ফের এই বন্দর চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান সোমবার টেকনাফ স্থলবন্দর এলাকা পরিদর্শন করেন।
বেলা সাড়ে ১১টার দিকে টেকনাফ উপজেলার সদর ইউনিয়নের কেরুনতলী এলাকায় নাফ নদীর তীরবর্তী বন্দরে পৌঁছে তিনি সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও বন্দর সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বৈঠক করেন। এ সময় তিনি বন্দর এলাকার গুদাম, অবকাঠামো ও সামগ্রিক কার্যক্রম ঘুরে দেখেন।
পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের প্রতিমন্ত্রী জানান, স্থলবন্দর পুনরায় চালু করতে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম শুরু হয়েছে। ব্যবসায়ী, বিজিবি, কোস্টগার্ড, সিএন্ডএফ এজেন্ট, কাস্টমস ও এনবিআরসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জনগণের চাহিদা ও অর্থনৈতিক বাস্তবতা বিবেচনায় দ্রুত বন্দর সচল করার কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও মিয়ানমার সরকারের সমন্বয়ের মাধ্যমে সীমান্ত বাণিজ্য স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে।
তিনি আরও বলেন, রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ একটি বড় উদ্বেগের বিষয়। এ কারণে বন্দরকেন্দ্রিক কার্যক্রমে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে। পোর্ট অপারেটর ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে—কোনো অবস্থাতেই রোহিঙ্গাদের বন্দরসংক্রান্ত কাজে সম্পৃক্ত হতে দেওয়া যাবে না। এখানে কাজ করতে হলে অবশ্যই বাংলাদেশের বৈধ নাগরিক হতে হবে এবং স্থানীয় প্রশাসনের প্রত্যয়নপত্র বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। অনুপ্রবেশে কারও সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান (অতিরিক্ত সচিব) মুহাম্মদ মানজারুল মান্নান বলেন, বন্দর আনুষ্ঠানিকভাবে খোলা থাকলেও এতদিন নিরাপত্তাজনিত সীমাবদ্ধতা ছিল। বর্তমানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় জোরদার করে আবারও পণ্য আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম সচল করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বন্দরটি দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় অর্থনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে। গত অর্থবছরে প্রায় ৫০০ কোটি টাকার রাজস্ব হারিয়েছে সরকার। স্থানীয় বাজারে নিত্যপণ্যের সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে, কর্মহীন হয়ে পড়েছেন হাজার হাজার শ্রমিক। কাস্টমস সূত্রে জানা যায়, ২০২২-২৩ অর্থবছরে এ বন্দর থেকে প্রায় ৬৪০ কোটি টাকা এবং ২০২৩-২৪ অর্থবছরে প্রায় ৮০৪ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় হলেও ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তা নেমে আসে মাত্র ১৩০ কোটিতে।
টেকনাফ স্থলবন্দর সিঅ্যান্ডএফ অ্যাসোসিয়েশনের সহ-সভাপতি ওমর ফারুক বলেন, দ্রুত বন্দর চালুর বিষয়ে ইতিবাচক অগ্রগতি হয়েছে। এক বছরের লোকসান কাটিয়ে ওঠার আশায় ব্যবসায়ীরা অপেক্ষায় আছেন।
উল্লেখ্য, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে চলমান সংঘাত এবং আরাকান আর্মির নিয়ন্ত্রণের কারণে সীমান্ত এলাকায় অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। গত বছরের এপ্রিল মাসে পণ্যবাহী জাহাজ থেকে চাঁদা দাবির ঘটনায় বাণিজ্য কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়।
কিশোরগঞ্জের ভৈরবে ৯১টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ২ হাজার ৩শত শিক্ষার্থী নিয়মিত পাবে পুষ্টিকর বনরুটি, সিদ্ধ ডিম ও কলা। কোমলমতি শিক্ষার্থীদের পুষ্টিমান নিশ্চিত করতে ও ঝরেপড়া রোধে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে স্কুল ফিডিং কর্মসূচি আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে।
সোমবার (৬ এপ্রিল) উপজেলার বালিকা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে এই কর্মসূচির শুভ উদ্বোধন করা হয়। এই কর্মসূচির আওতায় ভৈরব উপজেলার মোট ৯১টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রায় ২ হাজার ৩০০ শিক্ষার্থীর মাঝে টিফিন হিসেবে নিয়মিত পুষ্টিকর বনরুটি, সিদ্ধ ডিম ও কলা বিতরণ করা হবে। সরকারের এই মহতী উদ্যোগের ফলে শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে উপস্থিতির হার উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাবে এবং শিশুদের দীর্ঘদিনের পুষ্টির অভাব দূর হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করছেন।
কর্মসূচির উদ্বোধন করেন ভৈরব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কে.এম. মামুনুর রশীদ। তিনি বলেন, একটি সুস্থ, সবল ও মেধাবী জাতি গঠনে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পুষ্টি নিশ্চিত করার কোনো বিকল্প নেই। অনেক সময় সঠিক পুষ্টির অভাবে শিশুরা পড়াশোনায় মনোযোগ হারিয়ে ফেলে। সরকারের এই স্কুল ফিডিং কর্মসূচি শুধু শিক্ষার্থীদের শারীরিক চাহিদাই পূরণ করবে না, বরং বিদ্যালয় থেকে ঝরেপড়া রোধে এটি একটি যুগান্তকারী ভূমিকা রাখবে। আমরা খাবারের মান নিয়ে কোনো আপস করব না।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা বিএনপি সভাপতি রফিকুল ইসলাম রফিক, উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার সানজিদা বেগম, ভৈরব বালিকা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক প্রণয় কুমার ও ভৈরব প্রেসক্লাবের সদস্য সচিব সোহেলুর রহমান।
উপজেলার কর্মসূচিটি বাস্তবায়নের দায়িত্ব পেয়েছেন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ফাস্ট এসএস এন্টারপ্রাইজ। প্রতিষ্ঠানটি সরকারি টেন্ডারের মাধ্যমে এই ফিডিং কর্মসূচি পরিচালনার দায়িত্ব পায়।
ফাস্ট এস এস এন্টারপ্রাইজের প্রতিনিধি আরিফুল হক সুজন বলেন, পর্যায়ক্রমে উপজেলার প্রতিটি নির্ধারিত বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কাছে এই পুষ্টিকর খাবার পৌঁছে দেওয়া হবে। খাবারের মান তদারকি করতে নিয়মিত মনিটরিং ব্যবস্থা চালু থাকবে বলেও প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে আশ্বস্ত করা হয়।
আধুনিক যুগে প্রযুক্তির ছোঁয়া লেগেছে। প্রযুক্তি ব্যাবহার করে উন্নয়ণ কর্মকাণ্ডও চলছে, এতে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশও নানা প্রযুক্তিতে এগিয়ে চলছে। অফিস আদালতসহ সর্বত্রই প্রযুক্তির ছড়াছড়ি। মাঠপর্যায়ের কাজেও প্রযুক্তির আচড় পড়েছে। এর সুবিধাভোগ করছে একদম প্রান্তিক জনগোষ্ঠী থেকে শুরু করে সব রকমের মানুষ। কিন্তু এতসব প্রযুক্তির মধ্যে একটা জিনিস ক্রমেই হারিয়ে যাচ্ছে- আর তা হলো কর্মসংস্থান। যেখানে প্রযুক্তি চলে আসে সেখানে অনেকগুলো মানুষের কাজ ওই প্রযুক্তি মানুষের চেয়ে অল্প সময়ে নিখুঁতভাবে করে ফেলতে পারে। এতে অনেকে যুগের সঙ্গে তাল মেলাতে না পেরে কাজ হারিয়ে ফেলছে আবার কেউ কেউ অন্য কাজে মনোনিবেশ করছে। তবে যারা কোনোকিছুই পারছে না আর একদম কাজ হারিয়ে ফেলছে।
আওলাদ হোসেন বলেন, আগে রাস্তা-ঘাটের কাজ, বেড়িবাঁধ, মাটিকাটাসহ এসব মানুষ মিলে করত কিন্তু এখন এক্সকেভেটর মেশিন আসার কারণে ওসব কাজ দ্রুততম সময়ে ও নিখুঁতভাবে করে ফেলে। ফলে শ্রমিকরা বেকার হচ্ছে। আক্তার হোসেন বলেন, আগে বোরো মৌসুমে ধান কাটার সময় নানা এলাকা থেকে মানুষ এসে ধান কাটত কিন্তু উন্নত প্রযুক্তি আসার কারণে মেশিনে ধান কাটা হচ্ছে। ওই মৌসুমে সেসব মানুষ কষ্টে দিনাতিপাত করছে।
বিএনপি নেতা শিল্পপতি কাজী মনিরুজ্জামান বলেন, সহজেই অনুমেয় যে আগামীতে যতবেশি প্রযুক্তি আসবে ততবেশি কর্মসংস্থান হারাবে মানুষ- মানুষের জায়গায় স্থান করে নিবে প্রযুক্তি তথা মেশিন। যারা উন্নত প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মেলাতে সক্ষম হবে তারাই প্রযুক্তির যুগে টিকে থাকতে পারবে। অফিসের ক্ষেত্রে দেখা যায় যে বর্তমানের নানা অফিসে এমন সব প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয় যাতে লোকবলের সংখ্যা কম থাকে। একেকটা কম্পিউটারাইজড প্রোগ্রাম অনেক মানুষের কাজ করে ফেলে। ফলস্বরূপ ওসব অফিসে কাজের সুযোগ কমে যাচ্ছে।
লন্ডনের ইকোনমিস্ট ইউনিটের (ইআইইউ) তথ্যানুযায়ী বাংলাদেশে শিক্ষিত বেকারের হার সবচেয়ে বেশি। প্রতি ১০০ জন স্নাতক ডিগ্রিধারীদের মধ্যে ৪৭ জনই বেকার। অর্থাৎ প্রতি দুজনে একজন বেকার। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্যমতে, দেশে কর্মক্ষম বেকারের সংখ্যা ২৭ লাখ আর আইএলও এর মতে, বেকারের সংখ্যা ৩ কোটি। এখনই যদি আমরা ডিজিটাল দুনিয়ার সাথে তাল মেলাতে না পারে তাহলে মানুষ পিছিয়ে পড়ছে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাইফুল ইসলাম জয় এ ব্যাপারে বলেন, প্রযুক্তির ব্যবহার না করলে চলে সেখানে মানুষেরই ব্যবহার করা, প্রতিনিয়ত কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি করা, ভোকেশনাল কোর্স চালু করা, যেসব শ্রমিক যেখানে কাজ করে সেখানে তাদের সংগঠন সৃষ্টি করার পরিবেশ করা যাতে তারা তাদের সুবিধা-অসুবিধা যথোপযুক্ত কর্তৃপক্ষকে অবগত করতে পারে, সর্বত্র লিঙ্গবৈষম্য দূর করে সমান হারে মজুরি, শিশুশ্রম হ্রাস, যারা নির্ধারিত কাজে পারদর্শী তাদের অগ্রাধিকার দেওয়া ও ভালো কাজ করলে পুরস্কৃত করা এবং একান্তই যারা কাজ বদল করে খাপ-খাওয়াতে পারেনি তাদের সরকার কর্তৃক আর্থিক সহায়তা ইত্যাদি।
রূপগঞ্জের বেকার কল্যাণ সংস্থার সভাপতি নজরুল ইসলাম ভুইয়া বলেন, প্রযুক্তিকে এড়িয়ে চলার সুযোগ নেই। একইভাবে সব অফিসে এমনভাবে প্রযুক্তি ব্যবহার করতে হবে যাতে মানুষের কাজের সুযোগ কমে না যায় বা একদিকে কমলে অন্যদিকে বাড়ানো যায়। প্রযুক্তি আসে সব উন্নত দেশের জন্য আর তাদের জনগণও খুব কম। ওসব দেশ কম মানুষ খাটিয়ে বেশি ফল পেতে চায়। কিন্তু আমাদের চিত্র তো উল্টো! আমাদের বিশাল জনসংখ্যা, কাজ কমে গেলে এতসব মানুষ বাঁচবে কীভাবে।
দেশজুড়ে আলোচনায় থাকা কনটেন্ট ক্রিয়েটর তাইজুল ইসলাম তাজুর হারিয়ে যাওয়া ফেসবুক পেজ আবারও ফিরে এসেছে। সোমবার (৬ এপ্রিল) সকালে ‘তাজু ২.০’ পেজে প্রকাশিত একটি ভিডিও বার্তার মাধ্যমে তিনি নিজেই বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
প্রায় ১০ মিনিটের ওই ভিডিওতে তাজু জানান, পেজটি হারানোর পর তিনি বড় ধরনের সমস্যার মধ্যে পড়েছিলেন। তবে পরবর্তীতে ফেসবুক কর্তৃপক্ষ সেটি পুনরুদ্ধার করে দেয়। এ সময় যারা পাশে ছিলেন এবং সহায়তা করেছেন, তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।
ভক্তদের উদ্দেশে তাজু বলেন, তিনি যাতে চরাঞ্চলের সাধারণ মানুষের জীবনসংগ্রামের গল্প তুলে ধরতে পারেন, সে জন্য সবার দোয়া ও সমর্থন কামনা করেন। একই সঙ্গে আগের মতো ভালোবাসা নিয়ে পাশে থাকার আহ্বান জানান।
উল্লেখ্য, রোববার দুপুরের পর হঠাৎ করেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে তার পেজটি উধাও হয়ে যায়। প্রায় ১১ লাখ অনুসারীর এই পেজ খুঁজে না পাওয়ায় অনুসারীদের মধ্যে উদ্বেগ ও প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।
সম্প্রতি স্বাধীনতা দিবসে সরকারি দামে জিলাপি বিক্রির একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর তাজু ব্যাপক পরিচিতি পান। তার সরল উপস্থাপনা, গ্রামীণ জীবনের বাস্তব চিত্র এবং স্বতঃস্ফূর্ত কথাবার্তা দ্রুতই দর্শকদের আকৃষ্ট করে।
ভাইরাল হওয়ার পর কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নে অবস্থিত তার বাড়িতে প্রতিদিনই ভিড় করছেন বিভিন্ন ইউটিউবার ও কনটেন্ট নির্মাতা। কেউ সাক্ষাৎকার নিতে, কেউ আবার ভিডিও ধারণ করতে সেখানে উপস্থিত হচ্ছেন। এতে তার ব্যক্তিগত ও পারিবারিক জীবনে কিছুটা চাপ তৈরি হয়েছে বলে স্থানীয়দের ভাষ্য।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, ভাইরাল হওয়ার আগে ‘তাজু ২.০’ পেজটির অনুসারী সংখ্যা ছিল প্রায় ৬ হাজার। মাত্র আট দিনের ব্যবধানে তা বেড়ে প্রায় ১১ লাখে পৌঁছে যায়।