বঙ্গোবসাগরে থাকা গভীর নিম্নচাপটি ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেওয়ায় তা ‘রেমালে’ পরিণত হয়েছে। আজ রোববার মধ্যরাতে এটি আঘাত হানার আশঙ্কা করছেন আবহাওয়াবিদরা। এ জন্য দেশের ছয় জেলাকে ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলার জন্য বিশেষভাবে প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দিয়েছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. মহিববুর রহমান। এ ঘূর্ণিঝড় নিয়ে এ পর্যন্ত প্রাপ্ত পূর্বাভাস ও ভূমি অতিক্রমের সম্ভাব্য এলাকার ভিত্তিতে এ নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জেলাগুলো হলো সাতক্ষীরা, বাগেরহাট, খুলনা, বরগুনা, পটুয়াখালী ও ভোলা।
গতকাল ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় প্রস্তুতি সভায় প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘গত ১৫ বছরে ঘূর্ণিঝড়সহ সব দুর্যোগে তার নিবিড় পর্যবেক্ষণ ও নির্দেশনায় আমরা যথাসময়ে প্রস্তুতি নিয়ে মানুষের দুর্দশা লাঘব এবং জীবন ও সম্পদের ক্ষতি কমাতে সক্ষম হয়েছি। এ ঘূর্ণিঝড়টিও যাতে একই ধারাবাহিকতায় সফলভাবে মোকাবিলা করতে পারি তার জন্য আমরা প্রস্তুত রয়েছি।’
প্রতিমন্ত্রী মুহিববুর রহমান বলেন, ‘আমরা ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোর জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারদের সঙ্গে কথা বলে স্থানীয় প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য নির্দেশনা দিয়েছি। উপকূলবর্তী সব জেলাকে ঘূর্ণিঝড়ের জন্য প্রস্তুতি নিতে বলা হয়েছে। এ পর্যন্ত প্রাপ্ত পূর্বাভাস ও সম্ভাব্য ভূমি অতিক্রম এলাকার ভিত্তিতে সাতক্ষীরা, বাগেরহাট, খুলনা, বরগুনা, পটুয়াখালী, ভোলা জেলাসমূহকে অধিকতর প্রস্তুত থাকার জন্য বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘এক সপ্তাহ ধরে এই ঝড়টির বিষয়ে আমরা খোঁজখবর রাখছি। বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করে নিয়মিতভাবে পূর্বাভাস দিচ্ছে এবং আগাম কার্যাবলি (অ্যান্টিসিপেটরি অ্যাকশন) ও সাড়া প্রদানে সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত দিয়ে সহযোগিতা করছে। আমরা ভারতে অবস্থিত আঞ্চলিক বিশেষায়িত আবহওয়া কেন্দ্রের সঙ্গেও নিয়মিত যোগাযোগ রাখছি। এর পাশাপাশি বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য আন্তর্জাতিক পূর্বাভাস মডেল নিয়মিত পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে সময়োপযোগী কার্যক্রম গ্রহণ করছি।’
সভায় প্রতিমন্ত্রী বলেন, এই ঘূর্ণিঝড়টি মোকাবিলায় সার্বক্ষণিক তথ্য বিনিময়ের লক্ষ্যে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের এনডিআরসিসি ২৪ ঘণ্টা খোলা রয়েছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর মানবিক সহায়তা ও ত্রাণ কার্যক্রম প্রেরণ শুরু করেছে। ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচির (সিপিপি) ৭৮ হাজার স্বেচ্ছাসেবক কয়েক দিন যাবৎ মাঠে আগাম সতর্কবার্তা প্রচারসহ আশ্রয়কেন্দ্র পরিদর্শন ও প্রস্তুতের কাজ করছে। মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্বে অ্যান্টিসিপেটরি অ্যাকশন টেকনিক্যাল ওয়ার্কিং গ্রুপ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ, বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ ও সাইক্লোন আর্লি অ্যাকশন প্রটোকল অনুসরণ করে প্রতিষ্ঠানভিত্তিক আগাম কার্যক্রম শুরু করেছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ঘূর্ণিঝড়ের গতি-প্রকৃতি এবং আবহাওয়া অধিদপ্তর কর্তৃক বিপদ সংকেত জারি করা মাত্র মানুষকে আশ্রয়কেন্দ্রে আনা হবে। দুর্যোগবিষয়ক স্থায়ী আদেশাবলি অনুযায়ী স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানসমূহ এবং বিভিন্ন পর্যায়ের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটিগুলো কার্যকর হয়েছে।
ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতির অংশ হিসেবে সভায় কয়েকটি বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সেগুলো হলো আগাম সতর্কতার বিজ্ঞপ্তি প্রচার ও জনগণকে সচেতন করা, আগাম মানবিক কার্যাবলি গ্রহণ করা, মাঠ প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় ও বিভিন্ন পর্যায়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটিসমূহের সভা অনুষ্ঠান, সব পর্যায়ে নিয়ন্ত্রণকক্ষ খোলা, আশ্রয়কেন্দ্রগুলো প্রস্তুত করা, আশ্রয়কেন্দ্রে শুকনা খাবার, শিশু খাদ্য এবং গো-খাদ্যের ব্যবস্থা করা, জনগণকে আশ্রয়কেন্দ্রে আনার বিষয়ে প্রস্তুতি গ্রহণ। দুর্যোগ তথ্য পাওয়ার জন্য টোল ফ্রি ১০৯০ ব্যবহারের কথা বলা হয় সভায়। দৈনিক বাংলার বিভিন্ন জেলা প্রতিনিধিদের পাঠানোর সংবাদের ভিত্তিতে ‘রেমাল’ নিয়ে বিভিন্ন জেলার প্রস্তুতির সম্পর্কে জানা গেছে নানা তথ্য।
পিরোজপুর: বঙ্গোপসাগরে সৃষ্টি হতে যাওয়া ঘূর্ণিঝড় ‘রেমাল’ এর জন্য পিরোজপুরে প্রস্তুত করা হয়েছে ৫৬১ টি ঘূর্ণিঝড়ের আশ্রয়কেন্দ্র। যার মধ্যে ২৯৫ টি সাইক্লোন শেল্টার এবং ২৬৬ টি বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং এই আশ্রয়কেন্দ্রে ২ লাখ ৮০ হাজার ৫০০ জন মানুষ আশ্রয় নিতে পারবে।
শনিবার বিকেলে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের শহীদ আব্দুর রাজ্জাক সাইফ-মিজান সভাকক্ষে জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহেদুর রহমান এ তথ্য দেন।
সভায় জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহেদুর রহমান আরও জানান, ঘূর্নিঝড় রেমাল মোকাবিলায় একটি জেলা প্রশাসন থেকে একটি কন্টোলরুমসহ প্রতিটি উপজেলায় একটি টিম করা হয়েছে, ৬৫ টি মেডিকেল টিম প্রস্তুত রয়েছে, ২ লাখ ৬৩ হাজার পানি বিশুদ্ধ করণ ট্যাবলেজ মজুত রাখা হয়েছে, ঝড়ের ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য প্রাথমিক পর্যায়ে ১৩৫০ হাজার প্যাকেট শুকনা খাবার, ৬১১ মে. ট. চাল ও নগদ ৬ লক্ষ ১০ হাজার টাকা প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এছাড়াও দুর্যোগ পরিবর্তিতে ক্ষতিগ্রস্তদের ঘর মেরামতের জন্য ৯৭ বান্ডিল টিন রয়েছে। এ ছাড়া ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় রেডক্রিসেন্টের ২৫০ জন স্বেচ্ছাসেবক ও সিপিপি ২৪২০ জন সদস্য প্রস্তুত রয়েছে। রেমালের প্রভাবে পিরোজপুরের নদীসমূহে স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে বেশি পানি দেখা গেছে এবং জেলার কয়েক স্থানে হালাকা বৃষ্টি পড়েছে।
বরগুনা: বরগুনায় ঘূর্ণিঝড় রেমালের প্রভাবে গোমট আবহাওয়া বিরাজসহ নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এতে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন নদী তীরের বাসিন্দারা। শনিবার জেলার পায়রা, বলেশ্বর ও বিষখালী নদীর পানি স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় অন্তত তিন ফুট বেড়েছে বলে জানান নদী তীরের বাসিন্দারা। বরগুনা সদর উপজেলার বড়ইতলা এলাকায় গেলে দেখা যায়, পানিতে এখানকার বেড়িবাঁধের বাহিরের নিম্নাঞ্চল তলিয়ে গেছে। এখানে আশ্রয়কেন্দ্রের স্বল্পতা রয়েছে। তাই যা আছে তাতে সকলের স্থান সংকুলান হয় না। বরগুনার জেলা প্রশাসক মোহা. রফিকুল ইসলাম বলেন, দুপুরে জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা হয়েছে। সভার মাধ্যমে আমরা ঘূর্ণিঝড় মোকাবেলায় সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছি। এদিকে বরগুনার পানি উন্নয়ন বোর্ড জেলার বিভিন্ন স্থানে এক কিলোমিটার বেড়িবাঁধ ঝুঁকিপূর্ণ রয়েছে বলে জানিয়েছেন এবং এসব বাঁধ ভেঙ্গে গেলে তা তাৎক্ষণিকভাবে মেরামতের জন্য ৮০০ জিও ব্যাগ প্রস্তুত রাখা হয়েছে বলে জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় জানানো হয়েছে। জেলায় ঘূর্ণিঝড় ‘রেমাল’ মোকাবিলায় বরগুনায় ৬৭৩টি আশ্রয়কেন্দ্রসহ প্রায় ১০ হাজার স্বেচ্ছাসেবক প্রস্তুত রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ও জেলা মোহা. রফিকুল ইসলাম। শনিবার দুপুরে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির জরুরি প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়। দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় জেলা প্রশাসনসহ সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসক মোহা. রফিকুল ইসলাম জানান, ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। বরগুনায় ৩টি মুজিব কেল্লা, ৬৭৩টি আশ্রয়কেন্দ্রসহ প্রায় ১০ হাজার স্বেচ্ছাসেবক প্রস্তুত রাখা হয়েছে। যারা ঘূর্ণিঝড় পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সময়ে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করবেন। এ ছাড়া ৪২২ মেট্রিক টন খাদ্যশস্য, ৩৭ লাখ নগদ অর্থ প্রস্তুত রয়েছে। তিনি আরও জানান, ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকার জন্য জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ১০ টি কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে ৪২ টি মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে। দুর্যোগ প্রস্তুতি সভায় জেলা এনজিও ফোরামের সভাপতি মোতালেব মৃধা, প্রেসক্লাবের সভাপতি অ্যাডভোকেট মোস্তফা কাদের, রেডক্রিসেন্ট, দুর্যোগ প্রস্তুতি কর্মসূচি (সিপিপি), বিভিন্ন সরকারি, বেসরকারি সংস্থা ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত থেকে তাদের প্রস্তুতির বিষয় তুলে ধরেন।
মোংলা: ‘রেমাল’ প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়ে রোববার সন্ধ্যায় সুন্দরবন উপকূলে আঘাত হানবে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। মোংলা আবাহওয়া অফিসের ইনচার্জ মো. হারুন অর রশিদ জানান, এটি বর্তমান যেই অবস্থান দেখাচ্ছে তাতে ঘূর্ণিঝড়ের কেন্দ্রটি বাংলাদেশের ওপর দিয়েই অতিক্রম করার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে সুন্দরবন এলাকা এবং বরিশালের পটুয়াখালী, বরগুনা, ও ভোলা জেলায় রেমাল এর আঘাত হানার সম্ভাবনা বেশি রয়েছে।
এদিকে ঘূর্ণিঝড় রেমালের প্রভাবে সাগর উত্তাল থাকায় এরই মধ্যে মোংলা সমুদ্র বন্দরকে ৭ নম্বর সতর্ক সংকেত জারি করেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। ঘূর্ণিঝড় রেমালের প্রভাবে সব রকম সতর্কমূলক প্রস্তুতি নিয়েছে মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ। কোস্ট গার্ড, নৌ বাহিনী ও উপজেলা প্রশাসনের সমন্বয়ে শনিবার দুপুরে মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের সভাকক্ষে জরুরি বৈঠক করা হয়েছে।
বন্দর কর্তৃপক্ষের হারবার মাস্টার কমান্ডার সাইফুর রহমান বলেন, মোংলা বন্দরে এই মুহূর্তে সিমেন্টের কাঁচামাল ক্লিংকার, সার, পাথর ও গ্যাসবাহী ছয়টি জাহাজ অবস্থান করেছে। সেগুলোকে নিরাপদে নোঙ্গর করতে বলা হয়েছে। এদিকে ঘূর্ণিঝড় ‘রেমাল’ মোকাবিলায় সব রকম প্রস্ততি নিয়েছে উপজেলা প্রশাসনও। উপজেলা নির্বাহী অফিসার নিশাত তামান্না বলেন, ১০৩ টি আশ্রয়কেন্দ্রসহ ১৩২০জন স্বেচ্ছাসেবক প্রস্তুত রাখা হয়েছে। আবহাওয়া অফিস থেকে ঘূর্ণিঝড়ের সংকেত বাড়ানোর সঙ্গে সঙ্গেই আমাদের কার্যক্রমের গতি বাড়ানো হবে। কন্ট্রোল রুমও খোলা হয়েছে।
এদিকে মোংলা উপকূলে সচেতনতামূলক মাইকিং করেছে কোস্ট গার্ডের সদস্যরা। শনিবার সকাল থেকে ঘণ্টাব্যাপী মোংলার পশুর বিভিন্ন স্থানে এ প্রচার মাইকিং করা হয়।
মোংলা কোস্ট গার্ড পশ্চিম জোনের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট মো. মুনতাসীর ইবনে মহসীন জানান, সকাল থেকে সুন্দরবন লাঘোয়া মোংলা উপকূলের ঝুঁকিপূর্ণ বিভিন্ন এলাকায় প্রচার মাইকিং করেন কোস্ট গার্ড সদস্যরা।
বাগেরহাট: ঘূর্ণিঝড় রেমাল ধেয়ে আসার খবরে উপকূলীয় জেলা বাগেরহাটের নদী তীরবর্তী এলাকায় বসবাস করা মানুষের মাঝে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। এরই মধ্যে শনিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে শুরু হয়েছে বৃষ্টিপাত। তবে সকাল থেকে আকাশ কখনো রোদ আবার কখনো মেঘাচ্ছন্ন হচ্ছে। নদীতে থাকা মাছ ধরা ট্রলার গুলো উপকূলের ছোট ছোট খালে আশ্রয় নিয়েছে। কোস্টগার্ডের পক্ষ থেকে চালানো হচ্ছে জনসচেতনামূলক প্রচার-প্রচারণা। এরই মধ্যে রেমাল মোকাবেলায় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সকল ধরনের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে।
বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক মো. খালিদ হোসেন বলেন, ঘূর্ণিঝড় রেমাল মোকাবেলায় বাগেরহাটে ৩৫৯টি আশ্রয় কেন্দ্রে ও ৩ হাজার ৫শ ৫ জন স্বেচ্ছাসেবক প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এ ছাড়া ৬৪৩ মেট্রিকটন চাল ও ৫লক্ষ ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। জেলার ৯টি উপজেলার সকল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের সতর্ক থাকতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের সকল কর্মকর্তাদের ছুটি বাতিলের পাশাপাশি উপকূলের ঝুঁকিপূর্ণ বেরিবাধ এলাকায় গুলো নজরদারিতে রাখা হয়েছে।
পটুয়াখালী: জেলায় রেমাল মোকাবেলায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির প্রস্তুতি মূলক জরুরী সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার সকাল সাড়ে ১০টায় জেলা প্রশাসকের দরবার হলে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক নুর কুতুবুল আলম। সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান হাফিজুর রহমান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক যাদব সরকার। জেলা সিভিল সার্জন ডা. এসএম কবির হাসান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার যোবায়ের আহাম্মেদ।
গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. হারুন অর রশিদ, কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. নজরুল ইসলাম, পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফুর রহমান, পটুয়াখালী প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া রিদয়, সিপিপি, রেড ক্রিসেন্টসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
জেলা প্রশাসক জানান দুর্যোগ মোকাবিলায় জেলায় ৭০৩ টি সাইক্লোন শেল্টার ৩৫টি মুজিব কিল্লা, ৭৩০ মেট্রিক টন চাল, ১০ লক্ষ টাকার শিশু খাদ্য, ১০ লাখ টাকার গোখাদ্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এ ছাড় শুকনা খাবার রয়েছে ১৫০০ প্যাকেট। নগদ টাকা রয়েছে ২৪ লাখ ৭ হাজার টাকা ৫০০ টাকা।
এ সময় মানুষকে সচেতন ও দুর্যোগে উদ্ধার কাজ পরিচালনার জন্য রেডক্রিসেন্ট ও সিপিপির ৯ হাজার স্বেচ্ছাসেবককে প্রস্তুত থাকাসহ বিদ্যুৎ বিভাগ সড়ক বিভাগ ফায়ার সার্ভিসকে দিকনির্দেশনা প্রদান করেন জেলা প্রশাসক।
জেলায় মোট ৭৬টি মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে পর্যাপ্ত পরিমাণ স্যালাইন, ঔষধ ও পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট সংরক্ষিত রয়েছে। জেলায় ১৩০০ কিলোমিটার বেড়িবাঁধের মধ্যে ১০ কিলোমিটার ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। দুর্যোগের সময় কোথাও ভাঙন দেখা দিলে তা মেরামতের জন্য ১৬ হাজার জিও ব্যাগ রয়েছে বলে জানিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।
এদিকে জেলায় ৮৭ হাজার হেক্টর জমিতে রয়েছে মুগ ডাল এবং ২০ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো ধান রয়েছে বলে জানিয়েছে কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তর। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রফিউদ্দিন মোহাম্মদ যোবায়ের বলেন গুজোব মোকাবেলার জন্যে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে।
এদিকে কলাপাড়া উপকূলীয় অঞ্চলের জনগন, মৎস্যজীবি ও নৌযান সমূহকে ক্ষয়ক্ষতি থেকে রক্ষার জন্য জনসচেতনতা মূলক কার্যক্রম শুরু করেছে নিজামপুর কোষ্টগার্ড। শনিবার সকাল নয়টায় মৎস্য বন্দর আলীপুর- মহিপুরে মাইকিং ও লিফলেট বিতরন করে কোস্ট গার্ডের সদস্যরা। এসময় তারা খাপড়াভাঙ্গা নদীতে অবস্থানরত ট্রলার সমূহে থাকা জেলেদের ঘূর্নিঝড়ের সময় করনীয় সম্পর্কে দিক নির্দেশনা দেন।
ঝালকাঠি: জেলায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার বেলা ১১টায় জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ও জেলা প্রশাসক ফারাহ্ গুল নিঝুম। এ সভায় পুলিশ সুপার, স্বাস্থ্য, কৃষি, খাদ্য, শিক্ষা, দপ্তরের প্রধানগন এবং বিদ্যুৎ, ফায়ার সার্ভিস, পানি উন্নয়ন বোর্ড, সড়ক বিভাগ, রেডক্রিসেন্টসহ জেলা পর্যায়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা যোগ দেন।
সভায় জেলা প্রশাসক ফারাহ্ গুল নিঝুম বলেন, ঘূর্ণিঝড় ‘রেমাল’ মোকাবিলায় সর্বাত্মক প্রস্তুতি নেওয়া শুরু হয়েছে। এই কয় দিন সংশ্লিষ্ট সব পর্যায়ের কর্মকর্তাদের স্টেশন ত্যাগ না করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ঘূর্ণিঝড় ‘রেমাল’ মোকাবিলায় নির্ধারিত সাইক্লোন শেল্টারসহ আশ্রয়কেন্দ্রের জন্য সহ জেলার সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ব্যবহার উপযোগী করা হয়েছে।
পথপ্রাণী ব্যবস্থাপনা, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং প্রাণী কল্যাণ নিশ্চিত করতে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) ও ফারি ফ্রেন্ডস ফাউন্ডেশনের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) ডিএনসিসি নগরভবনে এ সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। ডিএনসিসির পক্ষে সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেন ডিএনসিসির প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইমরুল কায়েস চৌধুরি এবং ফারি ফ্রেন্ডস ফাউন্ডেশনের পক্ষে স্বাক্ষর করেন সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারপার্সন তাসনিম সিনহা।
ডিএনসিসি আয়োজিত চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ডিএনসিসির প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইমরুল কায়েস চৌধুরী।
অনুষ্ঠানে ডিএনসিসি প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজ বলেন, ২০৫০ সালের মধ্যে পৃথিবীর প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ শহরে বসবাস করবে। শহর কেবল অবকাঠামো ও মানুষের সমষ্টি নয়; শহরের একটি নিজস্ব ইকোলজি রয়েছে, যেখানে কুকুর, বিড়ালসহ সব জীবন অন্তর্ভুক্ত। মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নগরায়নের মাধ্যমেই একটি ন্যায্য শহর গড়ে তোলা সম্ভব।
তিনি আরও বলেন, গ্লোবাল নর্থের অভিজ্ঞতা দিয়ে গ্লোবাল সাউথের বাস্তবতা বিচার করা যাবে না। শহর থেকে পথপ্রাণীদের সরিয়ে দেওয়া আমাদের উদ্দেশ্য নয়; সহাবস্থানই আমাদের লক্ষ্য। প্রাণী সুরক্ষাকে আমরা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছি।
অনুষ্ঠানে ডিএনসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ আসাদুজ্জামান বলেন, প্রাণী সুরক্ষায় ডিএনসিসি ১০ জন ভেটেরিনারি সার্জন নিয়োগের উদ্যোগ নিচ্ছে। পাশাপাশি পথপ্রাণী সুরক্ষায় জনসচেতনতা বৃদ্ধিও অত্যন্ত জরুরি।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে সব রকম নিয়োগ-নির্বাচনী বোর্ড বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়ে বিএনপিপন্থি শিক্ষকদের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক ও হট্টগোল হয়েছে বলে জানা গেছে। বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) ইউট্যাবের পক্ষ থেকে নিয়োগ বন্ধে উপাচার্য অধ্যাপক ড. নকীব মুহাম্মদ নসরুল্লাহ বরাবর চিঠি দেওয়া হয়েছে।
ইউট্যাবের সভাপতি অধ্যাপক ড. তোজাম্মেল হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. রশিদুজ্জামান স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়েছে, কেন্দ্রীয় নির্দেশনা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষার্থে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পূর্বে আর কোনো নতুন নিয়োগ নির্বাচনী বোর্ড না করার জন্য উপাচার্যকে অনুরোধ জানানো হয়। যদি এটি অমান্য করা হয় তাহলে ‘ইউট্যাব’-এর সাধারণ সভা আহ্বান করে পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করা হবে। এদিকে, এ সিদ্ধান্ত সর্বসম্মতিক্রমে হয়নি এবং একপাক্ষিক সিদ্ধান্ত বলে দাবি করেছে ইউট্যাবের অপরপক্ষ।
জানা যায়, গত মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) ইউট্যাবের সভা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠিত সভায় নির্বাচনের কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ে সব রকম নিয়োগ বোর্ড বন্ধের বিষয়টি উত্থাপন করা হয়। অপরপক্ষ নিয়োগ স্বাভাবিক প্রক্রিয়া দাবি করে এবং কী কারণে নিয়োগ বন্ধ হবে এমন প্রশ্ন করেন তারা। ফলে সভায় তর্ক-বিতর্ক ও হট্টগোলের সৃষ্টি হয়। এরপর একটি পক্ষ সিদ্ধান্ত ছাড়াই সভা শেষ করেন। তবে এই তর্কের সমাধান না করে সভা শেষে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, ইউট্যাবের সিদ্ধান্তের বিষয়ে কোনো ধরনের অভিমত দেননি অধ্যাপক ড. মোহা. নজিবুল হক, অধ্যাপক ড. মো. শাহিনুজ্জামান ও অধ্যাপক ড. মো. খায়রুল ইসলাম। তবে চিঠিতে উল্লেখ করা শিক্ষকদের সংখ্যা নিয়ে সঠিক হয়নি বলে দাবি করেছে অন্য পক্ষ।
ইবি ইউট্যাবের সভাপতি অধ্যাপক ড. তোজাম্মেল হোসেন বলেন, ‘দেশের সার্বিক বিষয় চিন্তা করে বিশ্ববিদ্যালয়ে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার স্বার্থে উপাচার্যকে ত্রয়োদশ নির্বাচনের পূর্বে নিয়োগ-নির্বাচনী বোর্ড বন্ধ রাখার অনুরোধ করেছি। তবে এটি অমান্য করলে সাধারণ সভা আহ্বান করে পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করব। তবে আমাদের এ সিদ্ধান্তে কারও আপত্তি থাকতেই পারে, আমরা কারও ওপর আমাদের সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিতে পারি না। কারো স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করতে পারি না।’
জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত শ্রেষ্ঠ প্রধান শিক্ষক ক্যাটাগরিতে বাছাই প্রতিযোগিতায় শিক্ষাগত যোগ্যতা, শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা, বিষয়ভিত্তিক দক্ষতা, নিয়মিত প্রশিক্ষণ গ্রহণ, সৃজনশীল প্রশ্ন প্রণয়ন, ডিজিটাল কনটেন্ট প্রস্তুত, মাল্টিমিডিয়ার কার্যকর ব্যবহার, গবেষণামূলক প্রকাশনা এবং পাঠ পর্যায়ে উপস্থাপন সক্ষমতার ভিত্তিতে এবার জয়পুরহাট জেলার শ্রেষ্ঠ প্রধান শিক্ষক নির্বাচিত হয়েছেন পিয়ারা ছাতিনালী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোছা. আফরোজা খানম চৌধুরী। বিদ্যালয়টি জেলার পাঁচবিবি উপজেলার আওলাই ইউনিয়ন পরিষদ ও ছাতিনালী বাজার সংলগ্ন এলাকায় অবস্থিত।
বুধবার (১৪ জানুয়ারি) জেলা প্রশাসক ও জেলা শিক্ষা অফিসারের স্বাক্ষরিত ফলাফলের মাধ্যমে এই অর্জন নিশ্চিত করা হয়। শিক্ষা ক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা, নিষ্ঠা ও পেশাগত দক্ষতার স্বীকৃতি হিসেবে এ সম্মাননা লাভ করেন আফরোজা খানম চৌধুরী। আগেও তিনি উপজেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ শ্রেণি শিক্ষক নির্বাচিত হয়েছিলেন।
উপজেলার আওলাই ইউনিয়নের ধলটিকর গ্রামের মরহুম মশিহর রহমান চৌধুরীর কন্যা আফরোজা খানম চৌধুরী। আফরোজা খানম চৌধুরী কৃতিত্বপূর্ণ এ অর্জনে বিদ্যালয়ের সকল শিক্ষক, ম্যানেজিং কমিটি, অভিভাবক ও এলাকার সুধীজন সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
পাঁচবিবি উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো. তোফাজ্জল হোসেন বলেন, শিক্ষাগত যোগ্যতা, শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা, বিষয়ভিত্তিক দক্ষতা, নিয়মিত প্রশিক্ষণ গ্রহণ, সৃজনশীল প্রশ্ন প্রণয়ন, ডিজিটাল কনটেন্ট প্রস্তুত, মাল্টিমিডিয়ার কার্যকর ব্যবহার, গবেষণামূলক প্রকাশনা এবং পাঠ পর্যায়ে উপস্থাপন সক্ষমতার ভিত্তিতেই তাকে জেলার শ্রেষ্ঠ প্রধান শিক্ষক নির্বাচন করা হয়েছে।
ময়মনসিংহের বাজারে সপ্তাহের ব্যবধানে সবজির দাম কেজিতে ৩০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। এতে ক্ষুব্ধ নিম্ন ও মধ্যম আয়ের ক্রেতারা। তারা বলছেন, বাজার মনিটরিং দুর্বল থাকায় বিক্রেতারা মনমতো দামে বিক্রি করতে পারছেন। বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) সকালে শহরতলীর ঐতিহ্যবাহী শম্ভুগঞ্জ বাজার ঘুরে এই চিত্র দেখা গেছে। ক্রেতা-বিক্রেতারা জানান, সবজির দাম কেজিতে ৩০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। মটরশুঁটি ৯০ টাকা থেকে বেড়ে ১২০, করলা ৫০ টাকা থেকে বেড়ে ৮০, শসা ৪০ টাকা থেকে বেড়ে ৭০, গোল বেগুন ৩০ টাকা থেকে বেড়ে ৫০, দেশি শিম ৩০ টাকা থেকে বেড়ে ৫০, টমেটো ৪০ টাকা থেকে বেড়ে ৫০, দেশি গাজর ৩০ টাকা থেকে বেড়ে ৪০ ও চিকন বেগুন ৩০ টাকা থেকে বেড়ে ৪০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া কাঁচামরিচ ১২০, কাঁচা পেঁপে ২৫, মিষ্টি কুমড়া ৩০ টাকা কেজিতে, কাঁচকলা ৩০ টাকা হালি, লেবু ২০ টাকা হালি ও লাউ ৫০ টাকা পিস হিসেবে বিক্রি হচ্ছে।
একই বাজারে রুই ৩২০-৪২০, কালবাউশ ৩০০-৩৭০, কাতলা ৩৪০-৪৪০ টাকা, শিং ৩৪০-৬৪০, টাকি ৪১০-৫৪০, সিলভার কার্প ২১০-২৮০, তেলাপিয়া ২০০-২৮০, মৃগেল ২৮০-৩৫০, পাঙাশ ১৭০-২০০, পাবদা ৪০০-৫৩০, ট্যাংরা ৫১০-৭৮০, শোল ৫৯০-৬৪০ ও কৈ ২৫০-৩৫০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।
স্থিতিশীল অবস্থায় ব্রয়লার মুরগি ১৭০, সোনালি কক মুরগি ২৯০, সাদা কক মুরগি ২৭০, খাসির মাংস এক হাজার ১৫০ ও গরুর মাংস ৭৫০ টাকা কেজিতে বিক্রি করা হচ্ছে।
সবজি কেনার সময় কথা হয় জহিরুল ইসলাম নামের একজন ক্রেতার সঙ্গে। তিনি বলেন, বাজারে শীতকালীন সবজির প্রচুর সরবরাহ রয়েছে। অথচ ইচ্ছামত দাম বাড়িয়ে বিক্রেতারা সবজি বিক্রি করছেন। ক্রেতারা বাধ্য হয়ে বিক্রেতাদের নির্ধারিত দামেই কিনছেন।
দিনমজুরি করে চার সদস্যের ভরণপোষণ করেন আফাজ মিয়া। তিনি বলেন, বিভিন্ন সবুজিসহ এক কেজি মটরশুঁটি কেনার ইচ্ছে ছিল। এসে দেখি কেজিতে ৩০ টাকা বাড়িয়ে মটরশুঁটি বিক্রি করা হচ্ছে। এমতাবস্থায় আধাঁকেজি মটরশুঁটি কিনেছি। অন্যান্য সবজিও চড়া দামে বিক্রি করা হচ্ছে।
দাম বাড়িয়ে বিক্রি করার কারণ সম্পর্কে জানতে চাইলে সবজি বিক্রেতা আব্দুল কাদির বলেন, প্রচণ্ড কুয়াশার কারণে অনেক কৃষকের ফলন নষ্ট হয়েছে। এছাড়া ভোরে প্রচণ্ড শীতের কারণে কিছুদিন ধরে বাজারে সবজি কম আসছে। বাজারে এর প্রভাব পড়ে সবজির দাম বেড়েছে।
জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ময়মনসিংহের সহকারী পরিচালক মো. আব্দুস ছালাম বলেন, যৌক্তিক কারণ ছাড়া কোনো পণ্যই ইচ্ছামত দামে বিক্রি করা যাবে না। বাজারে খোঁজখবর নেওয়া হবে। যৌক্তিক কারণ ছাড়া বাড়তি দামে বিক্রির প্রমাণ মিললে অসাধু বিক্রেতাদের জরিমানার আওতায় আনা হবে।
বিএনপির সাবেক চেয়ারপারসন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও আপসহীন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় কেশবপুর উপজেলার ৫নং মঙ্গলকোট ইউনিয়নে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত বুধবার (১৪ জানুয়ারি) বিকেলে মঙ্গলকোট মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে ইউনিয়ন বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত এ দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, বিএনপি মনোনীত কেশবপুর আসনের ধানের শীষের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী আবুল হোসেন আজাদ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে আবুল হোসেন আজাদ বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন দেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আপসহীন সংগ্রামী নেত্রী। তার ত্যাগ ও অবদান জাতি কোনো দিন ভুলবে না। আজ ফ্যাসিবাদী শাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলনে আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে রাজপথে নামতে হবে। জনগণের অধিকার ফিরিয়ে আনতে বিএনপির প্রতিটি নেতা-কর্মীকে সততা, নিষ্ঠা ও সাহসিকতার সঙ্গে কাজ করতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘কেশবপুরের মানুষ গণতন্ত্র ও ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে সব সময় অগ্রণী ভূমিকা রেখেছে। আগামী দিনে আন্দোলন সংগ্রামে কেশবপুরই হবে যশোর জেলার মডেল উপজেলা।’ বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- কেশবপুর পৌর বিএনপির সভাপতি ও সাবেক পৌর মেয়র আব্দুস ছামাদ বিশ্বাস, ৫নং মঙ্গলকোট ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি মাস্টার আব্দুল লতিফ, উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি ও সাবেক কাউন্সিলর মো. মশিউর রহমান, কেশবপুর সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. আলাউদ্দিন আলা। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ৫নং মঙ্গলকোট ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. মোস্তাক আহমেদ।
দোয়া মাহফিলে কেশবপুর উপজেলা ও পৌর বিএনপি, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। শেষে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত ও দেশবাসীর শান্তি কামনায় বিশেষ মোনাজাত করা হয়।
আপনারা যদি মনে করেন এখন তো প্রশাসন দুর্বল হয়েছে, আমরা যা ইচ্ছে তাই করব তাহলে আপনাদের ভুল হবে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে প্রশাসন অন্যান্যবারের তুলনায় এবার কঠোর অবস্থানে রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে আমরা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের দিকনির্দেশনা সম্পূর্ণভাবে প্রস্তুতি রয়েছি। বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) দুপুরে বেলকুচি উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে সরকারি কর্মকর্তা ও স্থানীয় গন্যমান্য বক্তিদের সাথে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য প্রদানকালে জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম এসব কথা বলেন।
তিনি আরও বলেন, ‘জনগনের সহযোগিতা ছাড়া কোনো কিছুই সফলভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব নয়। আপনারা আমাদের নির্বাচনের আগে যেভাবে সহযোগিতা করে আসছেন, এভাবেই সামনে দিনগুলোতে সহযোগিতা করবেন।’ আমিনুল ইসলাম আরও বলেন, ‘আপনারা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে নির্বাচনী আচরণ বিধি মেনে চললে আপনাদের জন্য ভালো। সেই সাথে আমরা যারা নির্বাচন বাস্তবায়নের জন্য কাজ করছি তাদের কাজেও সহজ হবে।’
এ সময় তিনি সিরাজগঞ্জ-৫ আসনসহ সকল আসনের অবাধ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত করতে সকলের সহযোগিতাও কামনা করেন।
সভায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট আফরিন জাহান, সহকারী কমিশনার (ভূমি) ইসরাত জাহান, থানা অফিসার ইনচার্জ শেখ ফরিদ, কৃষি কর্মকর্তা সুকান্তধর সামাজিক, রাজনৈতিক, মুক্তিযোদ্ধাসহ স্থানীয় প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক্স মিডিয়ায় কর্মরত সাংবাদিকরা বক্তব্য রাখেন।
পরিবারের উদাসীনতা ও দারিদ্র্যতা শারীরিক প্রতিবন্ধী করেছে সেলিম মিয়াকে, জন্মের পরেই অকেজো হয়ে পড়ে দুই পা, শারীরিক প্রতিবন্ধকতার কাছে হার মানেননি তিনি। মানুষের কাছে হাত না পেতে গড়ে তুলেছেন বাড়ির পাশে মুদি দোকান এই দোকানে বসে বিভিন্ন ধরনের পণ্য বিক্রি করে চলছে তার সংসার।
সেলিম মিয়া (২৮) তাহিরপুর উপজেলা সদর ইউনিয়ন পরিষদের রতনশ্রী গ্রামের মৃত আব্দুল মান্নানের ছেলে, মা-ভাইকে নিয়ে তার সংসার, প্রতিবন্ধকতার কারণে পড়াশোনা করতে পারেনি। তার মুদি দোকানের উপার্জনের চলছে মা ও ভাইকে নিয়ে ৩ জনের সংসার।
শারীরিক প্রতিবন্ধী সেলিম মিয়া বলেন, ‘প্রতিবন্ধী দেখে কারও কাছে হাত পেতে সহযোগিতা চাইতে আমার লজ্জা লাগে। তাই যতটুকু ছিল সবটুকু সামর্থ্য কাজে লাগিয়ে কিছু করার আগ্রহ থেকে এই ব্যবসায় নেমেছি প্রথমে অল্পটাকা দিয়ে শুরু করলেও আস্তে আস্তে আমার মুদি মালের দোকান বড় হচ্ছে এখন মোটামুটি দিনে ৫০০ টাকার মতো আমি আয় করতে পারি, আলহামদুলিল্লাহ বর্তমানে আয় কিছুটা কম হলেও ভালোই যাচ্ছে।’
তাহিরপুর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক তৌফিক শরীফ বলেন, ‘সেলিম সমাজের অন্য অক্ষম-প্রতিবন্ধীদের জন্য উদাহরণ। নিজেই উদ্যোক্তা হয়েছেন। বাড়ির পাশেই নিজে একটি মুদি দোকান পরিচালনা করছেন, তার এই বিষয়টি আমাদের ভালো লেগেছে, ৫-৬ বছর ধরে দেখছি সে মুদি দোকান দিয়েছে বিষয়টি আমাদের খুব ভালো লাগে। ৩ জনের সংসারের দায়িত্ব এখন তার কাঁধে। আল্লাহর রহমতে ও সকলের সহযোগিতায় এভাবেই তার জীবন চলে যাচ্ছে।’
সেলিমের প্রতিবেশী আহাদুল বলেন, ‘সেলিমের মুখটা মায়ায় ভরা। খুব ভালো ছেলে। মা-ভাইকে নিয়ে তার সংসার, এই মুদি দোকান দিয়ে তার সংসার চলে, সততার মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসা করে যাচ্ছে, আমাদের কোনো কিছু প্রয়োজন হলে বাজারে না গিয়ে তার দোকান থেকে কিনে আনি, এতে আমাদের সময় বাঁচে অনেক, তার দোকানে সব সময় ভালো জিনিস পাওয়া যায়। সেলিম একদিন অনেক বড় ব্যবসায়ী হবে এটা আমাদের প্রত্যাশা।’
তাহিরপুর সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জুনাব আলী বলেন, ‘প্রতিবন্ধীরা আমাদের সমাজের বোঝা নয়, তারাও আমাদের সম্পদ। মেধা, সামর্থ্য কাজে লাগিয়ে তারাও সাফল হতে পারে। সেটার উৎকৃষ্ট উদাহরণ সেলিম মিয়া। সে বর্তমানে প্রতিবন্ধী ভাতার সুবিধা পায়। তবে এতে যেহেতু সংসার পরিচালনা করা সম্ভব নয়, তাই সে বাড়ির পাশেই মুদি দোকান চালায়। সরকারি বিভিন্ন সহযোগিতা প্রদানে সেলিম মিয়ার মতো মানুষদের অগ্রাধিকার সবচেয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়ে থাকে।’
তাহিরপুর সমাজসেবা অফিসার মো. সাব্বির সারোয়ার বলেন, ‘ইসলামে ভিক্ষাবৃত্তিকে সবসময়ই নিরুৎসাহিত করে। এমনকি সরকারও ভিক্ষুকদের পুনর্বাসনে ব্যাপক কার্যক্রম পরিচালনা করছে। বর্তমানে আমরা দেখি কারও শারীরিক অক্ষমতা থাকলেই সেটাকে পুঁজি করে ভিক্ষাবৃত্তিতে নেমে যায়। কিন্তু এ ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম উদাহরণ সৃষ্টি করেছেন সেলিম মিয়া। সমাজসেবা অধিদপ্তর প্রতিবন্ধীদের ভাতা দেওয়ার পাশাপাশি তাদের আরও অনেক ক্ষেত্রে সহয়তা করে থাকে। দগ্ধ ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের পুনর্বাসন কার্যক্রমে আমরা তাদের ৫% সার্ভিস চার্জে ঋণ দিয়ে থাকি, ঋণ নিয়ে তারা যেকোনো আয়ের কাজে লাগাতে পারেন। সেলিম মিয়ার ব্যবসায়িক কার্যক্রমের আরও বড় করতে চাইলে আমাদের কাছে ঋণের আবেদন করতে পারেন। এ ছাড়া আমরা তার সঙ্গে এ বিষয়ে যোগাযোগ করব।’
লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার ২১ নম্বর টুমচর ইউনিয়নের রহমতখালী নদী। নাম শুনলে শান্ত জলধারার ছবি ভেসে ওঠে। কিন্তু এই নদী এখন এখানকার হাজারো মানুষের কাছে আতঙ্কের আরেক নাম। একটি সেতুর অভাবে নদীটি যেন প্রতিদিন গিলে খাচ্ছে মানুষের নিরাপত্তা, স্বপ্ন আর স্বাভাবিক জীবনযাত্রা।
ঘরবাড়ি, স্কুল, বাজার, কৃষিজমি কিংবা হাসপাতাল। সবকিছুর সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে প্রতিদিন স্থানীয় বাসিন্দাদের পার হতে হয় এই নদী। কিন্তু সে পারাপার কোনো স্বাভাবিক নৌযাত্রা নয়। জীবন হাতে নিয়ে মোটা রশি ধরে টানা নৌকায় নদী পাড়ি দেওয়া এখানে নিত্যদিনের বাস্তবতা।
টুমচর ইউনিয়নের ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের মানুষের জন্য এই খেয়াই একমাত্র চলাচলের পথ। নদীর দুই পাড়ে শক্ত করে বাঁধা মোটা রশি ধরে মাঝি নৌকাটি টেনে নিয়ে যান। মাঝি একা নন, যাত্রীদেরও রশি ধরে টানতে হয়। নারী, শিশু, বৃদ্ধ- সবার হাতেই একই রশি। সামান্য ভারসাম্যহীনতায় উল্টে যেতে পারে নৌকা, আর সেই সঙ্গে তলিয়ে যেতে পারে একটি বা একাধিক জীবন।
স্থানীয়রা জানান, এই নৌকায় ওঠার সময় বুকের ভেতর কেমন যেন ধকধক করে। কেউ মুখে কিছু না বললেও চোখে মুখে আতঙ্ক স্পষ্ট।
বর্ষা মৌসুম এলেই রহমতখালী নদী আরও ভয়ংকর রূপ নেয়। পানির উচ্চতা বাড়ে, স্রোত হয় প্রবল। রশি ভিজে পিচ্ছিল হয়ে যায়, অনেক সময় হাত পিছলে কেটে যায় চামড়া। স্থানীয়দের হাতের তালুতে জমে ওঠা কড়া আর ক্ষত যেন বছরের পর বছর ধরে সহ্য করা কষ্টের নীরব সাক্ষ্য বহন করে।
নদী পার হতে গিয়ে অনেকেই পড়ে যান পানিতে। কেউ কোনোমতে বেঁচে ফিরলেও, কেউ হারান বই-খাতা, বাজারের মাল কিংবা কৃষি উপকরণ।
এই ঝুঁকিপূর্ণ পারাপার সবচেয়ে বেশি ভোগাচ্ছে শিশু ও বয়স্কদের। দক্ষিণ কালীরচর তালপট্টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী মারিয়া আক্তার বলে, ‘নৌকায় উঠলেই খুব ভয় লাগে। মনে হয় এই বুঝি নৌকা উল্টে যাবে।’
নৌকায় বসে সে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে বইখাতা। যেন ওগুলোই তার সাহস। পড়াশোনার পথে প্রতিদিন এমন আতঙ্ক নিয়ে নদী পার হওয়াটাই এখানে শিশুদের স্বাভাবিক বাস্তবতা।
স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, গত ছয় মাসেই রশি টানা নৌকা উল্টে অন্তত পাঁচটি বড় দুর্ঘটনা ঘটেছে। এতে আহত হয়েছেন অন্তত ১০ জন। কোনো ঘটনায় শিক্ষার্থীদের বইখাতা নদীতে ভেসে গেছে, কোনো ঘটনায় কৃষকের সার ও বীজ তলিয়ে গেছে পানির নিচে। ক্ষতির হিসাব কেবল টাকায় নয়। ক্ষতি হচ্ছে মানুষের মনোবলে, ভবিষ্যতের সম্ভাবনায়।
সেতু না থাকায় সবচেয়ে বড় বিপদে পড়ছেন রোগীরা। রাতের বেলায় কেউ হঠাৎ অসুস্থ হলে হাসপাতালে নেওয়াই হয়ে ওঠে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। অন্ধকার, স্রোত আর ঝুঁকিপূর্ণ নৌকা- সব মিলিয়ে প্রতিটি মুহূর্ত তখন মৃত্যুভয়ের সঙ্গে লড়াই।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, বছরের পর বছর ধরে সেতু নির্মাণের আশ্বাস মিললেও বাস্তবে কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই। জনপ্রতিনিধিরা প্রতিশ্রুতি দিলেও কাজ শুরু না হওয়ায় হতাশা বাড়ছে মানুষের মধ্যে। এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) উপসহকারী প্রকৌশলী বেল্লাল হোসেন জানান, এলাকাটি ইতোমধ্যে জরিপ করা হয়েছে। আবাসন সেন্টার, তালপট্টি ও জলাইজ্জার খেয়া এলাকায় সেতু নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রকল্প অনুমোদন পেলে কাজ শুরু করা হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
এলাকাবাসীরা আরো বলেন, বর্ষা মৌসুমে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। নদীর পানি বাড়লে রশি পিচ্ছিল হয়ে যায়। হাত পিছলে কেটে যাওয়ার ঘটনা এখানে নিয়মিত। অনেকের হাতের তালুতে রশির ঘর্ষণে কড়া পড়ে গেছে।
তবে সেই অনুমোদনের অপেক্ষায় থেমে নেই টুমচরের মানুষের জীবন। প্রতিদিনই তারা রশি ধরে নদী পার হন, ভরসা বলতে কেবল দীর্ঘদিনের অভ্যাস আর ভাগ্যের ওপর নির্ভরতা। এক নদী, দুই পাড়, আর মাঝখানে অনিশ্চয়তায় ঝুলে থাকা মানুষের জীবন।
নওগাঁর পত্নীতলায় এক হৃদয়বিদারক ঘটনার মধ্যেও মানবিকতা ও দ্রুত পুলিশি তৎপরতায় প্রাণে বেঁচে গেছে ১৬ মাস বয়সী এক শিশু।
বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) দুপুর ১টার দিকে এক নারী পত্নীতলা থানায় এসে জানান, তিনি তার ১৬ মাস বয়সী কন্যা শিশু আঞ্জুমান আয়াতকে মাহমুদপুর ব্রিজ থেকে আত্রাই নদীতে নিক্ষেপ করেছেন। এ সময় তিনি নিজেকে গ্রেফতারের আবেদন জানান।
বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে অবগত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (পত্নীতলা সার্কেল) ও পত্নীতলা থানার অফিসার ইনচার্জ দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান। স্থানীয় জনগণের সহযোগিতায় আত্রাই নদীতে নিখোঁজ শিশুটির সন্ধানে অভিযান শুরু করা হয়।
এ সময় নদীর পাড়ে অবস্থানরত মাহমুদপুর গ্রামের মোঃ খমির শেখ (৬৫) নদীতে ডুবন্ত অবস্থায় শিশুটিকে উদ্ধার করে তীরে এনে প্রাথমিক শুশ্রূষা প্রদান করেন। পরবর্তীতে পুলিশ শিশুটিকে তার হেফাজত থেকে নিয়ে দ্রুত পত্নীতলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। বর্তমানে শিশুটি শঙ্কামুক্ত রয়েছে বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন।
ঘটনার সময় নওগাঁ জেলার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম পেশাগত কাজে পত্নীতলা থানার এলাকায় অবস্থান করছিলেন। ঘটনা জানার পর তিনি নিজেই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে শিশুটির চিকিৎসার খোঁজখবর নেন। এ সময় তিনি উদ্ধারকারী মোঃ খমির শেখকে ধন্যবাদ জানান এবং তার মানবিক উদ্যোগের জন্য আর্থিক পুরস্কার প্রদান করেন।
শিশুটির বাবা মেহেদী হাসান জানান, তার স্ত্রী দীর্ঘদিন ধরে মানসিক সমস্যায় ভুগছেন। এ কারণেই এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে বলে তিনি মনে করেন। তিনি তার স্ত্রীর যথাযথ মানসিক চিকিৎসা এবং সন্তানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আশ্বাস দেন। পাশাপাশি তিনি উদ্ধারকারী মোঃ খমির শেখ ও দ্রুত চিকিৎসা সেবায় সম্পৃক্ত সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
এদিকে৷ ঘটনাটি এলাকাজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে এবং একই সঙ্গে মানবিকতা ও দ্রুত প্রশাসনিক তৎপরতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে ডাকাতদের ব্যবহৃত একটি সিএনজি চালিত বেবিট্যাক্সিতে আগুন দিয়ে দুই ডাকাত সদস্যকে আটক করে গণধোলাইয়ের পর পুলিশে দিয়েছে স্থানীয় জনতা।
গত বুধবার (১৪ জানুয়ারি) রাত সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার পিরোজপুর ইউনিয়নের মৃধাকান্দী এলাকায় মহাসড়কে এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ গণধোলাইয়ের শিকার দুই ডাকাতকে সোনারগাঁ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়েছেন। গ্রেফতারকৃতরা হলেন রবিন মিয়া ও ওমর ফারুক ওরফে চাপাতি ফারুক। রবিন মিয়া উপজেলার কাজিরগাঁও গ্রামের জাকির হোসেনের ছেলে এবং ফারুক চেঙ্গাকান্দি এলাকার হেলাল মিয়ার ছেলে।
বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) দুপুরে তাদের বিরুদ্ধে ভুক্তভোগী মো. সারোয়ার হোসেন বাদি হয়ে থানায় ডাকাতির মামলা দায়েরের পর নারায়ণগঞ্জ আদালতে পাঠিয়েছে পুলিশ।
স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের বিভিন্ন যানবাহনে ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেই চলছে। গাড়ির দরজা ও জানালার কাচ ভেঙে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে সর্বস্ব লুট করে নিয়ে যায়। ডাকাতরা বিদেশ ফেরত প্রবাসীদের গাড়ি টার্গেট করে ডাকাতি ছিনতাই করে যাচ্ছে। এসব ঘটনায় পুলিশ নির্বিকার হয়ে পড়ে। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় গত এক সপ্তাহ ধরে মহাসড়কের ডাকাতি ও ছিনতাই প্রবণ এলাকায় সন্ধ্যার পর থেকে পাহাড়ার ব্যবস্থা করে পুলিশ।
গত বুধবার (১৪ জানুয়ারি) রাতে ডাকাতদলের তিন সদস্য (নারায়ণগঞ্জ-থ ১১-৫২২৩) নাম্বারের একটি সিএনজি বেবিট্যাক্সি দিয়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মৃধাকান্দী এলাকায় বিভিন্ন পথচারীদের কাছ থেকে টাকা-পয়সাসহ বিভিন্ন মালামাল লুট করে নিয়ে যাচ্ছিল। বিষয়টি টের পেয়ে তাদের ধাওয়া দিয়ে আটক করা হয়। পরে ডাকাতদের ব্যবহৃত সিএনজি চালিত সিএনজি বেবিট্যাক্সিতে আগুন ধরিয়ে দেয় বিক্ষুদ্ধ জনতা। খবর পেয়ে সোনারগাঁ ফায়ার সার্ভিসের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নেভায়।
পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে দুই ডাকাতকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। ডাকাতদের বিরুদ্ধে ভূক্তভোগী মো. সারোয়ার হোসেন বাদি হয়ে মামলা দায়ের করেন।
সোনারগাঁ থানার ওসি মুহিবুল্লাহ জানান, পুলিশ অভিযান চালিয়ে দুই ডাকাতকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। অন্যদের ধরতে অভিযান চলমান রয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের পর আদালতে পাঠানো হয়েছে।
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সীমান্ত সুরক্ষা, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার এবং অভ্যন্তরীন আইন শৃংখলা রক্ষায় বিজিবি গৃহীত বিভিন্ন কার্যক্রম নিয়ে যশোর ৪৯ বিজিবি বেনাপোল সদর দপ্তরে সাংবাদিক সম্মেলনের আয়োজন করেন।
বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে যশোর বিজিবির কমান্ডিং অফিসার লেঃ কর্ণেল সাইফুল্লাহ সিদ্দিকী বলেন, সীমান্ত সুরক্ষা আইনের কারনে যশোরের শার্শা এবং চৌগাছা থানা এলাকায় নির্বাচনী কার্যক্রম তদারকি আইন শৃংখলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করে যাচ্ছে বিজিবি। ইতিমধ্যে এই দুটি উপজেলার সবক'টি ভোট কেন্দ্র রেকি করা হয়েছে। নির্বাচনী এলাকার যশোর গোপালগঞ্জ এবং নড়াইল জেলার ১৬টি থানায় ১১টি অস্থায়ী বেজ ক্যাম্প স্থাপন করা হবে। বিজিবি মোবাইল এবং স্টাইকিং ফোর্স হিসাবে দায়িত্ব পালন করবে।
সীমান্তবর্তী শার্শা এবং চৌগাছা উপজেলায় বিজিবি এককভাবে দায়িত্ব পালন করবে। আগামী ২৯ জানুয়ারি থেকে ১লা ফেব্রুয়ারীর মধ্যে নির্বাচনী দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় ফোর্স মোতায়েন করা হবে। বর্তমানে বিজিবি সদস্যরা অপারেশন ডেভিল হান্ট-২ কার্যক্রমে সক্রিয়ভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
পাশাপাশি সীমান্তে টহল জোরদার করা হয়েছে যাতে অবৈধ অস্ত্র দেশে প্রবেশ করতে না পারে। এবং অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার কার্ক্রম জোরদার এবং জনসচেতনতামুলক সভার মাধ্যমে স্থানীয় জনসাধারণ কে সচেতন করার জন্য ইউনিয়ন পর্যায়ে সুশীল সমাজের সাথে মত বিনিময় করা হচ্ছে।
ফেনীতে ২০২৪ সালের ভয়াবহ বন্যায় মুছাপুর রেগুলেটর ধ্বসে পড়ার পর জোয়ার-ভাটার তীব্র প্রভাবে ছোট ফেনী নদীতে ব্যাপক ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। এতে শত শত বসতঘর ও ফসলি জমি হুমকির মুখে পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে নদীভাঙ্গন রোধ ও বসতঘর রক্ষায় জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণের দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) দুপুরে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে এই মানববন্ধনের আয়োজন করেন ভাঙ্গন কবলিত এলাকার বাসিন্দারা।
মানববন্ধনে সোনাগাজী উপজেলার চর মজলিশপুর ইউনিয়নের চর গোপালগাঁও, চান্দলা, কুঠিরহাট, জলদাপাড়া, মিয়াজী ঘাট, পুরাতন কাজিরহাট জামে মসজিদ সংলগ্ন এলাকাবাসি ও দাগনভূঞা উপজেলার জগতপুর গ্রামের নদীভাঙন কবলিত মানুষ এই কর্মসূচিতে অংশ নেন। পরে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে ভূমি মন্ত্রণালয়ে স্মারকলিপি প্রদান করেন।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, মুছাপুর রেগুলেটর ধ্বসে পড়ার পর থেকে ছোট ফেনী নদীতে জোয়ার–ভাটার চাপ বেড়ে গিয়ে নদীর তীর দ্রুত ভেঙে পড়ছে। ইতোমধ্যে বহু পরিবার তাদের ঘরবাড়ি হারিয়েছে, অনেকে আবার ভিটেমাটি হারানোর আশঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন। দ্রুত কার্যকর প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে সামনে আরও বড় মানবিক বিপর্যয় দেখা দেবে।
অবিলম্বে নদীভাঙ্গন রোধে টেকসই বাঁধ নির্মাণ, মুছাপুর রেগুলেটর সংস্কার এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসনের জন্য জেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেন স্থানীয়রা।
চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলায় গোপন তথ্যের ভিত্তিতে কুখ্যাত সন্ত্রাসী রিফাত (৩৫) নামে একজনকে আটক করেছে সেনাবাহিনী।
আজ বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) আনুমানিক ৫ টার সময় উপজেলার চরম্বা ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডস্থ তেলিবিলায় লোহাগাড়া আর্মি ক্যাম্প কমান্ডার ক্যাপ্টেন ওলিদ বিন মৌদের (২৬ ইবি) নেতৃত্বে সেনাবাহিনী ও লোহাগাড়া থানা পুলিশ কর্তৃক অবৈধ অস্ত্রধারী রিফাতকে তার নিজ বাড়ি থেকে যৌথ অভিযান পরিচালনা করে তাকে অস্ত্রসহ আটক করা হয়।
আরো জব্দ করা হয়, ২টি এলজি, ৭ টি কার্তুজ, ২ লিটার মদ, ৪টি রাম দা, ৬ টি চাকু, ১টি ড্রোন, ৮টি মোবাইল,৩ টি মেমরি কার্ড, ১টি রকেট প্যারাসুট,ফ্ লেয়ার সিগন্যাল গান, ১টি পেনড্রাইভ, ১টি মোটরসাইকে।
জানা গেছে, সেনাবাহিনীর দীর্ঘদিনের গোয়েন্দা নজরদারির পর গোপন তথ্যের ভিত্তিতে তাকে আটক করা হয়। সে চরম্বা সহ লোহাগাড়ার বিভিন্ন জায়গায় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের মূল হোতা ছিল বলেও জানা গেছে।
ক্যাম্প কমান্ডার ক্যাপ্টেন ওলিদ বিন মৌদের বলেন, উদ্ধারকৃত অস্ত্রসহ আসামিকে লোহাগাড়া থানায় হস্তান্তর করা হয়। উক্ত বিষয়ে আইনী ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
লোহাগাড়া থানার কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবদুল জলিল বলেন, তার বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মামলা হয়েছে। কালকে আদালতে পাঠানো হবে।