সোমবার, ১৮ মে ২০২৬
৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

ঘূর্ণিঝড় ‘রেমাল’ মোকাবিলায় জেলায় জেলায় প্রস্তুতি

মোংলায় ঘূর্ণিঝড় নিয়ে সচেতন করতে কোস্টগার্ডের মাইকিং। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড
২৬ মে, ২০২৪ ০৫:১৯
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত : ২৬ মে, ২০২৪ ০৫:১৮

বঙ্গোবসাগরে থাকা গভীর নিম্নচাপটি ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেওয়ায় তা ‘রেমালে’ পরিণত হয়েছে। আজ রোববার মধ্যরাতে এটি আঘাত হানার আশঙ্কা করছেন আবহাওয়াবিদরা। এ জন্য দেশের ছয় জেলাকে ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলার জন্য বিশেষভাবে প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দিয়েছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. মহিববুর রহমান। এ ঘূর্ণিঝড় নিয়ে এ পর্যন্ত প্রাপ্ত পূর্বাভাস ও ভূমি অতিক্রমের সম্ভাব্য এলাকার ভিত্তিতে এ নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জেলাগুলো হলো সাতক্ষীরা, বাগেরহাট, খুলনা, বরগুনা, পটুয়াখালী ও ভোলা।

গতকাল ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় প্রস্তুতি সভায় প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘গত ১৫ বছরে ঘূর্ণিঝড়সহ সব দুর্যোগে তার নিবিড় পর্যবেক্ষণ ও নির্দেশনায় আমরা যথাসময়ে প্রস্তুতি নিয়ে মানুষের দুর্দশা লাঘব এবং জীবন ও সম্পদের ক্ষতি কমাতে সক্ষম হয়েছি। এ ঘূর্ণিঝড়টিও যাতে একই ধারাবাহিকতায় সফলভাবে মোকাবিলা করতে পারি তার জন্য আমরা প্রস্তুত রয়েছি।’

প্রতিমন্ত্রী মুহিববুর রহমান বলেন, ‘আমরা ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোর জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারদের সঙ্গে কথা বলে স্থানীয় প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য নির্দেশনা দিয়েছি। উপকূলবর্তী সব জেলাকে ঘূর্ণিঝড়ের জন্য প্রস্তুতি নিতে বলা হয়েছে। এ পর্যন্ত প্রাপ্ত পূর্বাভাস ও সম্ভাব্য ভূমি অতিক্রম এলাকার ভিত্তিতে সাতক্ষীরা, বাগেরহাট, খুলনা, বরগুনা, পটুয়াখালী, ভোলা জেলাসমূহকে অধিকতর প্রস্তুত থাকার জন্য বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘এক সপ্তাহ ধরে এই ঝড়টির বিষয়ে আমরা খোঁজখবর রাখছি। বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করে নিয়মিতভাবে পূর্বাভাস দিচ্ছে এবং আগাম কার্যাবলি (অ্যান্টিসিপেটরি অ্যাকশন) ও সাড়া প্রদানে সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত দিয়ে সহযোগিতা করছে। আমরা ভারতে অবস্থিত আঞ্চলিক বিশেষায়িত আবহওয়া কেন্দ্রের সঙ্গেও নিয়মিত যোগাযোগ রাখছি। এর পাশাপাশি বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য আন্তর্জাতিক পূর্বাভাস মডেল নিয়মিত পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে সময়োপযোগী কার্যক্রম গ্রহণ করছি।’

সভায় প্রতিমন্ত্রী বলেন, এই ঘূর্ণিঝড়টি মোকাবিলায় সার্বক্ষণিক তথ্য বিনিময়ের লক্ষ্যে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের এনডিআরসিসি ২৪ ঘণ্টা খোলা রয়েছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর মানবিক সহায়তা ও ত্রাণ কার্যক্রম প্রেরণ শুরু করেছে। ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচির (সিপিপি) ৭৮ হাজার স্বেচ্ছাসেবক কয়েক দিন যাবৎ মাঠে আগাম সতর্কবার্তা প্রচারসহ আশ্রয়কেন্দ্র পরিদর্শন ও প্রস্তুতের কাজ করছে। মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্বে অ্যান্টিসিপেটরি অ্যাকশন টেকনিক্যাল ওয়ার্কিং গ্রুপ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ, বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ ও সাইক্লোন আর্লি অ্যাকশন প্রটোকল অনুসরণ করে প্রতিষ্ঠানভিত্তিক আগাম কার্যক্রম শুরু করেছে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ঘূর্ণিঝড়ের গতি-প্রকৃতি এবং আবহাওয়া অধিদপ্তর কর্তৃক বিপদ সংকেত জারি করা মাত্র মানুষকে আশ্রয়কেন্দ্রে আনা হবে। দুর্যোগবিষয়ক স্থায়ী আদেশাবলি অনুযায়ী স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানসমূহ এবং বিভিন্ন পর্যায়ের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটিগুলো কার্যকর হয়েছে।

ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতির অংশ হিসেবে সভায় কয়েকটি বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সেগুলো হলো আগাম সতর্কতার বিজ্ঞপ্তি প্রচার ও জনগণকে সচেতন করা, আগাম মানবিক কার্যাবলি গ্রহণ করা, মাঠ প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় ও বিভিন্ন পর্যায়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটিসমূহের সভা অনুষ্ঠান, সব পর্যায়ে নিয়ন্ত্রণকক্ষ খোলা, আশ্রয়কেন্দ্রগুলো প্রস্তুত করা, আশ্রয়কেন্দ্রে শুকনা খাবার, শিশু খাদ্য এবং গো-খাদ্যের ব্যবস্থা করা, জনগণকে আশ্রয়কেন্দ্রে আনার বিষয়ে প্রস্তুতি গ্রহণ। দুর্যোগ তথ্য পাওয়ার জন্য টোল ফ্রি ১০৯০ ব্যবহারের কথা বলা হয় সভায়। দৈনিক বাংলার বিভিন্ন জেলা প্রতিনিধিদের পাঠানোর সংবাদের ভিত্তিতে ‘রেমাল’ নিয়ে বিভিন্ন জেলার প্রস্তুতির সম্পর্কে জানা গেছে নানা তথ্য।

পিরোজপুর: বঙ্গোপসাগরে সৃষ্টি হতে যাওয়া ঘূর্ণিঝড় ‘রেমাল’ এর জন্য পিরোজপুরে প্রস্তুত করা হয়েছে ৫৬১ টি ঘূর্ণিঝড়ের আশ্রয়কেন্দ্র। যার মধ্যে ২৯৫ টি সাইক্লোন শেল্টার এবং ২৬৬ টি বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং এই আশ্রয়কেন্দ্রে ২ লাখ ৮০ হাজার ৫০০ জন মানুষ আশ্রয় নিতে পারবে।

শনিবার বিকেলে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের শহীদ আব্দুর রাজ্জাক সাইফ-মিজান সভাকক্ষে জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহেদুর রহমান এ তথ্য দেন।

সভায় জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহেদুর রহমান আরও জানান, ঘূর্নিঝড় রেমাল মোকাবিলায় একটি জেলা প্রশাসন থেকে একটি কন্টোলরুমসহ প্রতিটি উপজেলায় একটি টিম করা হয়েছে, ৬৫ টি মেডিকেল টিম প্রস্তুত রয়েছে, ২ লাখ ৬৩ হাজার পানি বিশুদ্ধ করণ ট্যাবলেজ মজুত রাখা হয়েছে, ঝড়ের ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য প্রাথমিক পর্যায়ে ১৩৫০ হাজার প্যাকেট শুকনা খাবার, ৬১১ মে. ট. চাল ও নগদ ৬ লক্ষ ১০ হাজার টাকা প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এছাড়াও দুর্যোগ পরিবর্তিতে ক্ষতিগ্রস্তদের ঘর মেরামতের জন্য ৯৭ বান্ডিল টিন রয়েছে। এ ছাড়া ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় রেডক্রিসেন্টের ২৫০ জন স্বেচ্ছাসেবক ও সিপিপি ২৪২০ জন সদস্য প্রস্তুত রয়েছে। রেমালের প্রভাবে পিরোজপুরের নদীসমূহে স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে বেশি পানি দেখা গেছে এবং জেলার কয়েক স্থানে হালাকা বৃষ্টি পড়েছে।

বরগুনা: বরগুনায় ঘূর্ণিঝড় রেমালের প্রভাবে গোমট আবহাওয়া বিরাজসহ নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এতে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন নদী তীরের বাসিন্দারা। শনিবার জেলার পায়রা, বলেশ্বর ও বিষখালী নদীর পানি স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় অন্তত তিন ফুট বেড়েছে বলে জানান নদী তীরের বাসিন্দারা। বরগুনা সদর উপজেলার বড়ইতলা এলাকায় গেলে দেখা যায়, পানিতে এখানকার বেড়িবাঁধের বাহিরের নিম্নাঞ্চল তলিয়ে গেছে। এখানে আশ্রয়কেন্দ্রের স্বল্পতা রয়েছে। তাই যা আছে তাতে সকলের স্থান সংকুলান হয় না। বরগুনার জেলা প্রশাসক মোহা. রফিকুল ইসলাম বলেন, দুপুরে জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা হয়েছে। সভার মাধ্যমে আমরা ঘূর্ণিঝড় মোকাবেলায় সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছি। এদিকে বরগুনার পানি উন্নয়ন বোর্ড জেলার বিভিন্ন স্থানে এক কিলোমিটার বেড়িবাঁধ ঝুঁকিপূর্ণ রয়েছে বলে জানিয়েছেন এবং এসব বাঁধ ভেঙ্গে গেলে তা তাৎক্ষণিকভাবে মেরামতের জন্য ৮০০ জিও ব্যাগ প্রস্তুত রাখা হয়েছে বলে জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় জানানো হয়েছে। জেলায় ঘূর্ণিঝড় ‘রেমাল’ মোকাবিলায় বরগুনায় ৬৭৩টি আশ্রয়কেন্দ্রসহ প্রায় ১০ হাজার স্বেচ্ছাসেবক প্রস্তুত রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ও জেলা মোহা. রফিকুল ইসলাম। শনিবার দুপুরে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির জরুরি প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়। দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় জেলা প্রশাসনসহ সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসক মোহা. রফিকুল ইসলাম জানান, ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। বরগুনায় ৩টি মুজিব কেল্লা, ৬৭৩টি আশ্রয়কেন্দ্রসহ প্রায় ১০ হাজার স্বেচ্ছাসেবক প্রস্তুত রাখা হয়েছে। যারা ঘূর্ণিঝড় পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সময়ে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করবেন। এ ছাড়া ৪২২ মেট্রিক টন খাদ্যশস্য, ৩৭ লাখ নগদ অর্থ প্রস্তুত রয়েছে। তিনি আরও জানান, ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকার জন্য জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ১০ টি কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে ৪২ টি মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে। দুর্যোগ প্রস্তুতি সভায় জেলা এনজিও ফোরামের সভাপতি মোতালেব মৃধা, প্রেসক্লাবের সভাপতি অ্যাডভোকেট মোস্তফা কাদের, রেডক্রিসেন্ট, দুর্যোগ প্রস্তুতি কর্মসূচি (সিপিপি), বিভিন্ন সরকারি, বেসরকারি সংস্থা ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত থেকে তাদের প্রস্তুতির বিষয় তুলে ধরেন।

মোংলা: ‘রেমাল’ প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়ে রোববার সন্ধ্যায় সুন্দরবন উপকূলে আঘাত হানবে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। মোংলা আবাহওয়া অফিসের ইনচার্জ মো. হারুন অর রশিদ জানান, এটি বর্তমান যেই অবস্থান দেখাচ্ছে তাতে ঘূর্ণিঝড়ের কেন্দ্রটি বাংলাদেশের ওপর দিয়েই অতিক্রম করার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে সুন্দরবন এলাকা এবং বরিশালের পটুয়াখালী, বরগুনা, ও ভোলা জেলায় রেমাল এর আঘাত হানার সম্ভাবনা বেশি রয়েছে।

এদিকে ঘূর্ণিঝড় রেমালের প্রভাবে সাগর উত্তাল থাকায় এরই মধ্যে মোংলা সমুদ্র বন্দরকে ৭ নম্বর সতর্ক সংকেত জারি করেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। ঘূর্ণিঝড় রেমালের প্রভাবে সব রকম সতর্কমূলক প্রস্তুতি নিয়েছে মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ। কোস্ট গার্ড, নৌ বাহিনী ও উপজেলা প্রশাসনের সমন্বয়ে শনিবার দুপুরে মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের সভাকক্ষে জরুরি বৈঠক করা হয়েছে।

বন্দর কর্তৃপক্ষের হারবার মাস্টার কমান্ডার সাইফুর রহমান বলেন, মোংলা বন্দরে এই মুহূর্তে সিমেন্টের কাঁচামাল ক্লিংকার, সার, পাথর ও গ্যাসবাহী ছয়টি জাহাজ অবস্থান করেছে। সেগুলোকে নিরাপদে নোঙ্গর করতে বলা হয়েছে। এদিকে ঘূর্ণিঝড় ‘রেমাল’ মোকাবিলায় সব রকম প্রস্ততি নিয়েছে উপজেলা প্রশাসনও। উপজেলা নির্বাহী অফিসার নিশাত তামান্না বলেন, ১০৩ টি আশ্রয়কেন্দ্রসহ ১৩২০জন স্বেচ্ছাসেবক প্রস্তুত রাখা হয়েছে। আবহাওয়া অফিস থেকে ঘূর্ণিঝড়ের সংকেত বাড়ানোর সঙ্গে সঙ্গেই আমাদের কার্যক্রমের গতি বাড়ানো হবে। কন্ট্রোল রুমও খোলা হয়েছে।

এদিকে মোংলা উপকূলে সচেতনতামূলক মাইকিং করেছে কোস্ট গার্ডের সদস্যরা। শনিবার সকাল থেকে ঘণ্টাব্যাপী মোংলার পশুর বিভিন্ন স্থানে এ প্রচার মাইকিং করা হয়।

মোংলা কোস্ট গার্ড পশ্চিম জোনের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট মো. মুনতাসীর ইবনে মহসীন জানান, সকাল থেকে সুন্দরবন লাঘোয়া মোংলা উপকূলের ঝুঁকিপূর্ণ বিভিন্ন এলাকায় প্রচার মাইকিং করেন কোস্ট গার্ড সদস্যরা।

বাগেরহাট: ঘূর্ণিঝড় রেমাল ধেয়ে আসার খবরে উপকূলীয় জেলা বাগেরহাটের নদী তীরবর্তী এলাকায় বসবাস করা মানুষের মাঝে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। এরই মধ্যে শনিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে শুরু হয়েছে বৃষ্টিপাত। তবে সকাল থেকে আকাশ কখনো রোদ আবার কখনো মেঘাচ্ছন্ন হচ্ছে। নদীতে থাকা মাছ ধরা ট্রলার গুলো উপকূলের ছোট ছোট খালে আশ্রয় নিয়েছে। কোস্টগার্ডের পক্ষ থেকে চালানো হচ্ছে জনসচেতনামূলক প্রচার-প্রচারণা। এরই মধ্যে রেমাল মোকাবেলায় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সকল ধরনের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে।

বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক মো. খালিদ হোসেন বলেন, ঘূর্ণিঝড় রেমাল মোকাবেলায় বাগেরহাটে ৩৫৯টি আশ্রয় কেন্দ্রে ও ৩ হাজার ৫শ ৫ জন স্বেচ্ছাসেবক প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এ ছাড়া ৬৪৩ মেট্রিকটন চাল ও ৫লক্ষ ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। জেলার ৯টি উপজেলার সকল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের সতর্ক থাকতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের সকল কর্মকর্তাদের ছুটি বাতিলের পাশাপাশি উপকূলের ঝুঁকিপূর্ণ বেরিবাধ এলাকায় গুলো নজরদারিতে রাখা হয়েছে।

পটুয়াখালী: জেলায় রেমাল মোকা‌বেলায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির প্রস্তু‌তি মূলক জরুরী সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার সকাল সাড়ে ১০টায় জেলা প্রশাসকের দরবার হলে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক নুর কুতুবুল আলম। সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান হাফিজুর রহমান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক যাদব সরকার। জেলা সিভিল সার্জন ডা. এসএম কবির হাসান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার যোবায়ের আহাম্মেদ।

গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. হারুন অর রশিদ, কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. নজরুল ইসলাম, পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফুর রহমান, পটুয়াখালী প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া রিদয়, সিপিপি, রেড ক্রিসেন্টসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

জেলা প্রশাসক জানান দুর্যোগ মোকাবিলায় জেলায় ৭০৩ টি সাইক্লোন শেল্টার ৩৫টি মুজিব কিল্লা, ৭৩০ মেট্রিক টন চাল, ১০ লক্ষ টাকার শিশু খাদ‌্য, ১০ লাখ টাকার গোখাদ‌্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এ ছাড় শুকনা খাবার র‌য়ে‌ছে ১৫০০ প‌্যা‌কেট। নগদ টাকা র‌য়ে‌ছে ২৪ লাখ ৭ হাজার টাকা ৫০০ টাকা।

এ সময় মানুষকে সচেতন ও দুর্যোগে উদ্ধার কাজ পরিচালনার জন্য রেডক্রিসেন্ট ও সিপিপির ৯ হাজার স্বেচ্ছাসেবককে প্রস্তুত থাকাসহ বিদ্যুৎ বিভাগ সড়ক বিভাগ ফায়ার সার্ভিসকে দিকনির্দেশনা প্রদান করেন জেলা প্রশাসক।

জেলায় মোট ৭৬টি মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে পর্যাপ্ত পরিমাণ স্যালাইন, ঔষধ ও পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট সংরক্ষিত রয়েছে। জেলায় ১৩০০ কিলোমিটার বেড়িবাঁধের মধ্যে ১০ কিলোমিটার ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। দুর্যোগের সময় কোথাও ভাঙন দেখা দিলে তা মেরামতের জন্য ১৬ হাজার জিও ব্যাগ রয়েছে বলে জানিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।

এদিকে জেলায় ৮৭ হাজার হেক্টর জমিতে রয়েছে মুগ ডাল এবং ২০ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো ধান রয়েছে বলে জানিয়েছে কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তর। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রফিউদ্দিন মোহাম্মদ যোবায়ের বলেন গুজোব মোকাবেলার জন্যে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে।

এদিকে কলাপাড়া উপকূলীয় অঞ্চলের জনগন, মৎস্যজীবি ও নৌযান সমূহকে ক্ষয়ক্ষতি থেকে রক্ষার জন্য জনসচেতনতা মূলক কার্যক্রম শুরু করেছে নিজামপুর কোষ্টগার্ড। শনিবার সকাল নয়টায় মৎস্য বন্দর আলীপুর- মহিপুরে মাইকিং ও লিফলেট বিতরন করে কোস্ট গার্ডের সদস্যরা। এসময় তারা খাপড়াভাঙ্গা নদীতে অবস্থানরত ট্রলার সমূহে থাকা জেলেদের ঘূর্নিঝড়ের সময় করনীয় সম্পর্কে দিক নির্দেশনা দেন।

ঝালকাঠি: জেলায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার বেলা ১১টায় জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ও জেলা প্রশাসক ফারাহ্ গুল নিঝুম। এ সভায় পুলিশ সুপার, স্বাস্থ্য, কৃষি, খাদ্য, শিক্ষা, দপ্তরের প্রধানগন এবং বিদ্যুৎ, ফায়ার সার্ভিস, পানি উন্নয়ন বোর্ড, সড়ক বিভাগ, রেডক্রিসেন্টসহ জেলা পর্যায়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা যোগ দেন।

সভায় জেলা প্রশাসক ফারাহ্ গুল নিঝুম বলেন, ঘূর্ণিঝড় ‘রেমাল’ মোকাবিলায় সর্বাত্মক প্রস্তুতি নেওয়া শুরু হয়েছে। এই কয় দিন সংশ্লিষ্ট সব পর্যায়ের কর্মকর্তাদের স্টেশন ত্যাগ না করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ঘূর্ণিঝড় ‘রেমাল’ মোকাবিলায় নির্ধারিত সাইক্লোন শেল্টারসহ আশ্রয়কেন্দ্রের জন্য সহ জেলার সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ব্যবহার উপযোগী করা হয়েছে।


রূপগঞ্জে ঝামেলা এড়াতে খামারে ভিড়

আপডেটেড ১৭ মে, ২০২৬ ২০:৩০
রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি

রূপগঞ্জে কোরবানির পশুর চাহিদা রয়েছে ১৫ হাজারের মত। এর বিপরীতে বিভিন্ন খামারে মজুত রয়েছে ২৫ হাজার পশু। ঈদুল আজহা যতই ঘনিয়ে আসছে ততই ব্যস্ততা বাড়ছে খামারিদের। বাজারমূল্য ঠিক থাকলে লাভের মুখ দেখার আশা তাদের। আর পছন্দ ও সাধ্যের মধ্যে পশু বেছে নিতে আগেভাগেই খামারে প্রান্তিক চাষিদের বাড়িতে ভিড় করছেন ক্রেতারা।

হাটে দালালের চক্কর, ঝুক্কি-ঝামেলা থেকে বাঁচতে ক্রেতারা খামারে ও কৃষকের বাড়িতে বেশি ভিড় করছেন। খামারগুলো পারিবারিকভাবে পরিদর্শন, কোরবানি পর্যন্ত গরু রাখা, গরু আহত হলে ক্ষতিপূরণ, মারা গেলে সমুদয় টাকা ফেরতসহ নানা সুবিধা দিয়ে কোরবানির পশু বিক্রি করছেন। ফলে ক্রেতাদের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।

কোরবানির ঈদের আর কয়েক দিন বাকি থাকলেও আগেভাগেই পছন্দের গরু বেছে নিতে রাজধানী ঢাকার মালিবাগ থেকে রূপগঞ্জের একটি খামারে এসেছেন মো. শামিম খান। কোরবানির হাটের ঝক্কি এড়াতে খামার থেকেই গরু কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। দেলোয়ার মিয়া নামে আরেক জন ক্রেতা বলেন, আগেভাগে গরু কিনে রাখছি। এতে শেষ সময়ে দরদামের ঝামেলা নেই। ঈদের আগে দিন খামারি বাসায় গরু পাঠিয়ে দেবে।

এরকম সুবিধা দিয়ে রূপগঞ্জের কৃষক ও খামারিরা গরু-ছাগল বিক্রি করছেন। নিচে ৬০ হাজার টাকা থেকে সর্বোচ্চ ২ লাখ টাকা দামের গরু রয়েছে।

কামাল, জুয়েল, শাহালমরা জানান, ৩ থেকে ৬ মাস আগে বিভিন্ন হাটবাজার থেকে গরু ও ছাগল কিনে লালন-পালন করে হৃষ্টপুষ্ট করে গড়ে তুলেছি প্রাকৃতিক উপায়ে। ১৫ বছর ধরে এ ব্যবসা করছি। গরুকে কোনো ক্ষতিকারক ইনজেকশন বা হরমোন দেয়া হয় না। নিয়মিত যত্ন, পুষ্টিকর খাবার এবং গোসলের মাধ্যমে গরুগুলোকে সুস্থ ও নাদুস-নুদুস করে তোলেছি|

সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক খুদের ভাত, আলু সিদ্ধ, মসুর, খেসারি ডাল, চোকর, বুটের খোসা, ভুট্টা, গম ইত্যাদি খাবার খেয়ে হৃষ্টপিষ্ট করা হয়েছে।

জুয়েল মিয়া নামের খামারি বলেন, গোখাদ্যের বাড়তি দাম দুশ্চিন্তায় ফেলেছে। তারপরও ভালো লাভের আশা রয়েছে। গরুর লালনপালনেও খরচ বেড়েছে।

আওলাদ হোসেন, মোমেন মিয়া বলেন, পরিশ্রমী ও পরিচ্ছন্ন খামার থেকে প্রতি বছর কোরবানির গরু কিনে থাকি। এবারও কিনে খামারে রেখেছি। খামার থেকে ইসলাম, শাওন, জয়নাল, আমিনুলসহ অনেকেই কোরবানির গরুর বুকিং দিয়েছেন। বিভিন্ন এলাকার ক্রেতারাও গরু কিনেছেন এখানে থেকে।

উপজেলার প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তা ডা. সজল কুমার দাস জানান, রূপগঞ্জের ডেইরি ফার্মগুলো মূলত কোরবানিকে টার্গেট করে গরু লালন-পালন করে থাকে। বাণিজ্যিকভাবে ফার্মগুলো গড়ে উঠেছে। প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রাণীসম্পদ বিভাগ দিয়ে থাকে।

কোরবানির পশুর হাটে জরুরি সেবা দিতে পশু চিকিৎসক দল দায়িত্ব পালন করার পাশাপাশি বর্জ্য ব্যবস্থাপনায়ও কাজ করবে বলে জানিয়েছে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর।


বেলকুচিতে পরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় বাড়ছে দুর্ভোগ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি

ঘরের আঙিনাজুড়ে কালচে পানি। পানির ওপর ভাসছে ময়লা-আবর্জনা। বাতাসে তীব্র দুর্গন্ধ। সন্ধ্যা নামলেই বাড়ে মশার উপদ্রব। এমন পরিবেশেই বছরের পর বছর বসবাস করছেন সিরাজগঞ্জের বেলকুচি উপজেলার শেরনগর মধ্যপাড়ার কয়েক হাজার মানুষ।

স্থানীয়দের অভিযোগ, আশপাশের কয়েকটি প্রসেস মিল এবং গার্মেন্টসের পানি, অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও জলাবদ্ধতার কারণে তাদের এই দুর্ভোগ। বৃষ্টি হলেই পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে।

গত শনিবার বিকালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, শেরনগর মধ্যপাড়ার বিভিন্ন বাড়ির সামনে ও সরু সড়কে জমে আছে ময়লা মিশ্রিত পানি। কোথাও ড্রেনের পানি উপচে উঠছে। কোথাও আবার স্থির হয়ে থাকা পানিতে জন্ম নিয়েছে মশা। দুর্গন্ধে কয়েক মিনিটের বেশি দাঁড়িয়ে থাকাও কষ্টকর হয়ে পড়ে।

এই এলাকার বাসিন্দা ৬৫ বছর বয়সি আব্দুল হালিম মন্ডল। একসময় তাঁতশ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন। এখন বয়সের ভারে অনেকটাই কর্মহীন। ১৫ সদস্যের পরিবার নিয়ে তার বসবাস এই এলাকায়। ঘরের সামনে জমে থাকা নোংরা পানির দিকে তাকিয়ে তিনি বলেন, ‘আমাদের কষ্টের কথা বলে শেষ করা যাবে না। টিউবওয়েলের পানিতেও গন্ধ। বৃষ্টি হলেই ঘরের ভেতরে পানি উঠে যায়। এই এলাকার কথা শুনে অনেকে আত্মীয়তা করতে চায় না। ছেলে-মেয়ের বিয়ের সম্বন্ধ এলে লোকজন এসে না বসেই চলে যায়।’

তিনি জানান, মশার উপদ্রবে তার স্ত্রী দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ। ১৫-১৬ বছর ধরে এই ভোগান্তি। রাতে ঠিকমতো ঘুমাতে পারি না। পৌরসভা থেকে একবার মশা মারার ওষুধ ছিটিয়েছিল। কিন্তু মশা কমেনি, বরং আরও বেড়েছে মনে হয়।

শুধু আব্দুল হালিম নন, শেরনগর মধ্যপাড়া ও আশপাশের প্রায় ৫০০ থেকে ৭০০ পরিবারের অন্তত পাঁচ হাজার মানুষ একই দুর্ভোগে আছেন।

স্থানীয় নারী আলেয়া বেগম প্রতিবেদককে বলেন, ‘বৃষ্টি হলে ঘরে থাকা যায় না, পানি উঠে যায়। অনেক সময় আত্মীয়ের বাড়িতে গিয়ে থাকতে হয়। আমরা গরিব মানুষ, কোথায় যাব? সামনে ঈদ, আবার বৃষ্টি হলে ঘরে ঈদ করা কঠিন হবে।’

এলাকাটিতে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও দুটি মসজিদ রয়েছে। জলাবদ্ধতার প্রভাব পড়ছে শিশুদের জীবনেও।

শিক্ষার্থী রাহাত বলেন, ‘বৃষ্টি হলে ১০-১৫ দিন স্কুলে যেতে পারি না। খেলাধুলাও করা যায় না। আমরা চাই এই সমস্যার একটা সমাধান হোক।’

মোছা. হাশমত আরা নামের আরেক বাসিন্দা বলেন, ‘বৃষ্টি হলে কোমর পানি হয়। রান্নাবান্না করা যায় না। আমার স্বামী নাইট গার্ডের চাকরি করে। অন্য কোথাও গিয়ে থাকার সামর্থ্য আমাদের নেই।’

স্থানীয় মুদি দোকানদার শমসের আলী বলেন, ‘পানির গন্ধে দোকানে বসা কষ্ট হয়ে পড়ে। এভাবে কতদিন চলবে বুঝতে পারছি না।’

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক ব্যক্তি বলেন, ‘মুকন্দগাঁতী, চন্দনগাঁতী, কামারপাড়া ও শেরনগরের বিভিন্ন এলাকার ড্রেনের পানি এসে এই এলাকায় জমা হয়। পাশাপাশি কয়েকটি প্রসেস মিলের বর্জ্যপানিও এখানে এসে পড়ছে।’=

তিনি বলেন, ‘সঠিকভাবে ড্রেনেজ ব্যবস্থা করে পানি বের করার ব্যবস্থা করলে হাজার হাজার মানুষের ভোগান্তি কমবে।’

তিনি অভিযোগ করেন, মাসখানেক আগে পৌরসভার উদ্যোগে লাখ লাখ টাকা খরচ করে এলাকায় একটি নালা খনন করা হলেও তাতে কাঙ্ক্ষিত সুফল মেলেনি।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বছরের পর বছর ধরে সমস্যাটি চললেও স্থায়ী সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ দেখা যায়নি। ফলে জলাবদ্ধতা, দুর্গন্ধ ও মশার যন্ত্রণা নিয়েই দিন কাটছে শেরনগরের মানুষের।

বেলকুচি পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী মনিরুজ্জামান তালুকদার বলেন, ‘পানি নিষ্কাশনের জন্য পৌরসভার রাজস্ব তহবিল থেকে খাল খননের জন্য এক কিলোমিটার কাজ শুরু করা হয়েছে। তিনশ মিটার খাল খনন শেষ হয়েছে। কিছু জটিলতার কারণে বাকি কাজ শুরু করা যাচ্ছে না। জটিলতা শেষ হলে সাতশ মিটার খাল খনন পর্যায়ক্রমে শেষ করা হবে। পানি নিষ্কাশনের জন্য মার্স্টার ড্রেন করার পরিকল্পনা রয়েছে। এক কিলোমিটার খাল খননে কত টাকা বাজেট হয়েছে জানতে চাইলে বলেন, ‘১৫-১৮ লাখ টাকার মতো হবে। তবে তিনি অফিসিয়ালি টাকার পরিমাণ সুনির্দিষ্ট করে জানাতে পারেননি।

বেলকুচি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌরসভার প্রশাসক আফরিন জাহান জানান, বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে। এটার অংশ হিসেবে শেরনগর খাল/নালা খনন/সংস্কারের উদ্যোগ নেয়াসহ নানাবিধ কার্যক্রমের পরিকল্পনা ও তার আংশিক বাস্তবায়ন ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। বর্তমান পৌর প্রশাসক কর্তৃক কয়েকবার সরেজমিনে শেরনগর এলাকা পরিদর্শন করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, প্রসেস মিলের বর্জ্য পানি বন্ধে পৌরসভা নিয়মিত মনিটরিংসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে পরামর্শ চালিয়ে যাচ্ছে। ঈদের পূর্বে ড্রেন পরিষ্কারসহ রুটিন কাজ চলবে। এ ছাড়া পানি নিষ্কাশনের জন্য জরুরি প্রয়োজনে পাম্পের মাধ্যমে করা হবে। বেলকুচি পৌরসভা এলাকায় মাস্টার ড্রেন না থাকায় পানি জমে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। এমপি মহোদয়ের সাথে পরামর্শক্রমে শেরনগর ব্রিজ থেকে ক্ষিদ্রমাটিয়া স্লুইসগেট পর্যন্ত একটি মাস্টার ড্রেন প্রকল্প খুব দ্রুত বাস্তবায়নের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, যা প্রক্রিয়াধীন আছে।


১০ বছরেও হয়নি উন্নয়ন, জলাবদ্ধতায় দুর্ভোগ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
আদমদিঘী (বগুড়া) প্রতিনিধি

বগুড়ার সান্তাহার পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের নতুন বাজার এলাকায় দীর্ঘ প্রায় ১০ বছর ধরে চরম জলাবদ্ধতা ও অবকাঠামোগত সমস্যায় ভুগছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এলাকাটিতে প্রায় প্রায় ৫০০ মানুষের বসবাস হলেও স্থানীয়দের অভিযোগ, বিগত এক দশকে জনগণের দুর্ভোগ সমাধানে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেয়নি জনো প্রতিনিধিরা। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, সামান্য বৃষ্টি হলেই নতুন বাজার এলাকার রাস্তাঘাট ও বসত বাড়ির আশ পাশে পানি জমে যায়। দীর্ঘদিন ধরে ড্রেনেজ ব্যবস্থা অকার্যকর থাকায় পানি নিষ্কাশনের কোনো পথ নেই। এতে সাধারণ মানুষের চলাচল ব্যাহত হচ্ছে, পাশাপাশি বাড়ছে মশার উপদ্রব ও পানিবাহিত রোগের আশঙ্কা।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, নির্বাচন এলেই জনো প্রতিনিধিরা নানা উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দেন। কিন্তু ভোট শেষ হলেই আর খোঁজ থাকে না সাধারণ মানুষের দুর্ভোগের। স্থানীয়দের দাবি, গত ১০ বছরে কোনো কমিশনারই এলাকাটির স্থায়ী সমস্যা সমাধানে দৃশ্যমান কোনো কাজ করেননি।

সম্প্রতি এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে সান্তাহার পৌরসভায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হলেও এখনো পর্যন্ত কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে জানান ভুক্তভোগীরা। অভিযোগপত্রে দ্রুত ড্রেন পরিষ্কার, নতুন ড্রেন নির্মাণ ও জলাবদ্ধতা নিরসনে জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানাই।স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন,

আমরা নিয়মিত কর দেই,ভোট দেই। কিন্তু আমাদের কষ্ট দেখার কেউ নেই। শিশু, বৃদ্ধ ও রোগীদের সবচেয়ে বেশি ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী। তাদের দাবি, অবিলম্বে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে ভবিষ্যতে পৌরসভা ঘেরাও কর্মসূচিতে যেতে বাধ্য হবেন তারা।

এই বিষয় এ সান্তাহার পৌরসভার ইঞ্জিনিয়ার আবু রায়হান জানান, তিনি এ বিষয়ে অবগত আছেন। বলেন, অর্থ বছর শেষ হয়ে গেছে। নতুন অর্থ বছরে ড্রেনের জন্য আবেদন করে দ্রুত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করব।


ইউনূস সরকার ওসমান হাদির রক্তের সঙ্গে বেইমানি করেছে: মাসুমা হাদি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বরিশাল ব্যুরো

শহীদ শরীফ ওসমান হাদির বোন মাসুমা হাদি বলেছেন, বর্তমান সরকার শহীদ ওসমান হাদির রক্তের ওপর ভর করে ক্ষমতায় এসেছে। আর ইউনূস সরকার ওসমান হাদির রক্তের সঙ্গে বেইমানি করেছে গেছে। আপনারাও (বিএনপি সরকার) যদি মনে করেন ভারতের তাঁবেদারি করে পাঁচ বছর ক্ষমতায় টিকে থাকবেন, তাহলে জনগণ তা মেনে নেবে না।

রোববার (১৭ মে) বেলা ১১টার দিকে বরিশাল নগরীর সদর রোডের টাউন হলের সামনে আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।

ভারতের সংখ্যালঘু মুসলিম নিধন, সীমান্তে হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদ এবং শহীদ শরীফ ওসমান হাদির হত্যাকারীদের বিচারের দাবিতে ‘বরিশালের সর্বস্তরের শিক্ষার্থীদের’ ব্যানারে এ সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।

মাসুমা হাদি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রথমে লন্ডন থেকে বাংলাদেশে এসে ওসমান হাদির কবর জিয়ারত করেছেন। কিন্তু আমরা দেখলাম, তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে গেলেও ওসমান হাদির কবর জিয়ারত করেননি। এই প্রশ্ন শুধু আমার না, পুরো বাংলাদেশের।

তিনি বলেন, ওসমান হাদির খুনিদের বিচার না হওয়া মানে বাংলাদেশ হেরে যাবে, জুলাইয়ের বিজয় হেরে যাবে। জুলাই সনদ নিয়ে এখন যে টালবাহানা চলছে, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না করা মানে ওসমান হাদির রক্তের সঙ্গে বেইমানি করা। জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ও ওসমান হাদি হত্যার বিচার না করে বিভিন্ন ইস্যু তৈরি করে মানুষকে ভুলিয়ে রাখা সম্ভব নয়।

মাসুমা হাদি বলেন, আমরা এখন শুধু বিচার চাইতে আসিনি। দেশের ১৭ কোটি মানুষকে সঙ্গে নিয়ে ওসমান হাদির বিচার আদায় করে নেব। ওসমান হাদি কারও একার না, কোনো দলেরও না। ওসমান হাদি মানেই বাংলাদেশ।

তিনি আরও বলেন, ওসমান হাদি শিখিয়ে গেছে কীভাবে স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে অস্ত্র ছাড়া আন্দোলন করতে হয়, কীভাবে দাবি আদায় করে নিতে হয় এবং কীভাবে ইনসাফের পক্ষে থাকতে হয়। আমরা কাউকে ভয় পাই না।

নিজের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কার কথাও তুলে ধরেন মাসুমা হাদি। তিনি বলেন, আজ সকালে আমার হোয়াটসঅ্যাপে কেউ একজন আমাকে এই প্রোগ্রামে যোগ না দিতে বলেছে। আমাকেও গুলি করে হত্যা করা হতে পারে, যাতে ওসমান হাদির বিচারের দাবিতে কেউ আওয়াজ না তোলে।

মাসুমা হাদি বলেন, আমি ওসমান হাদিকে আঙুল ধরে হাঁটতে শিখিয়েছি। আমাকে ভয় দেখিয়ে লাভ নেই। আমি মরে গেলেও আপনারা ওসমান হাদির বিচার আদায় করে ছাড়বেন।

সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিলে বরিশালের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। এ সময় সমাবেশস্থল ও আশপাশে পুলিশ সদস্যদের উপস্থিতি দেখা যায়।


বাসাইলে কৃষকদের নিয়ে ‘পার্টনার কংগ্রেস’ অনুষ্ঠিত

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মাসুদ রানা, বাসাইল (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি

টাঙ্গাইলের বাসাইলে কৃষিকাজে উৎপাদন বৃদ্ধিতে কৃষকদের নিয়ে দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালা ‘পার্টনার কংগ্রেস’ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

রবিবার (১৭ মে) সকালে উপজেলা পরিষদ হলরুমে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উদ্যোগে এ কংগ্রেসের আয়োজন করা হয়।

“প্রোগ্রাম অন এগ্রিকালচারাল অ্যান্ড রুরাল ট্রান্সফরমেশন ফর নিউট্রিশন, এন্টারপ্রেনারশিপ অ্যান্ড রেজিলিয়েন্স ইন বাংলাদেশ (পার্টনার)” প্রকল্পের আওতায় আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন টাঙ্গাইল খামারবাড়ি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো: আশেক পারভেজ।

অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোহাম্মদ নেয়ামত উল্ল্যা। স্বাগত বক্তব্য রাখেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শাহজাহান আলী।

উপজেলা পাট উন্নয়ন কর্মকর্তা সবুজ মিয়ার সঞ্চালনায় আরও বক্তব্য রাখেন উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. হীরা মিয়া, বাসাইল থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আলমগীর কবির, উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মামুন আল জাহাঙ্গীর, উপজেলা মহিলা দলের সভাপতি রাশেদা সুলতানা রুবি, কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মারিয়া জান্নাত প্রমুখ।

এসময় হাবলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান খোরশেদ আলম, কাশিল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রমজান আলীসহ উপজেলার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার কৃষক, খামারি, কৃষি উদ্যোক্তারা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, ‘পার্টনার’ প্রকল্পের মাধ্যমে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং গ্রামীণ উদ্যোক্তা তৈরির মাধ্যমে দেশের সামগ্রিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে।


র‍্যাবের অভিযানে অস্ত্র, ককটেল ও কার্তুজসহ গ্রেফতার ১

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
সৈকত মোঃ সোহাগ, খুলনা ব্যুরো 

মাগুরা সদর উপজেলার রাউতড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে ২টি দেশীয় ওয়ান শুটারগান, ৪টি ককটেল, ২টি শর্টগানের সীসা কার্তুজ এবং ৪টি হাসুয়াসহ এক অবৈধ অস্ত্রধারীকে গ্রেফতার করেছে র‍্যাব-৬, সিপিসি-২, ঝিনাইদহ।

র‍্যাব জানায়, নিয়মিত মামলার আসামি, সাজাপ্রাপ্ত ও ওয়ারেন্টভুক্ত অপরাধী গ্রেফতার, অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী ও মাদক কারবারিদের আইনের আওতায় আনতে র‍্যাব ফোর্সেস ধারাবাহিক অভিযান পরিচালনা করে আসছে। এরই অংশ হিসেবে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‍্যাব-৬, সিপিসি-২, ঝিনাইদহ ক্যাম্পের একটি আভিযানিক দল মাগুরা সদর থানাধীন রাউতড়া গ্রামস্থ গীরিদারি আশ্রমের সামনে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে।

অভিযানে অবৈধ অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী মোঃ নাইম (৩৫) কে গ্রেফতার করা হয়। তিনি মাগুরা সদর উপজেলার রাউতড়া গ্রামের সুলতান বিশ্বাসের ছেলে।

র‍্যাবের দাবি, গ্রেফতারকৃতের কাছ থেকে ২টি দেশীয় ওয়ান শুটারগান, ৪টি ককটেল, ২টি শর্টগানের সীসা কার্তুজ এবং ৪টি হাসুয়া উদ্ধার করা হয়েছে।

উদ্ধারকৃত আগ্নেয়াস্ত্র, গুলি, ককটেল ও অন্যান্য আলামত উপস্থিত সাক্ষীদের সামনে বিধি মোতাবেক জব্দ করা হয়।

পরবর্তীতে গ্রেফতার আসামি ও জব্দকৃত আলামত মাগুরা সদর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় অস্ত্র ও বিস্ফোরক আইনে নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে জানিয়েছে র‍্যাব।

র‍্যাব-৬, সিপিসি-২, ঝিনাইদহের কোম্পানি কমান্ডার স্কোয়াড্রন লিডার ইমামীম মুবীন সরকার সুমন বলেন, “অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার, মাদকবিরোধী অভিযান এবং চাঞ্চল্যকর অপরাধে জড়িতদের গ্রেফতারে র‍্যাবের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।


পিতৃস্নেহে প্রতিবন্ধীদের বুকে টেনে নিলেন মাদারীপুর সদরের এমপি জাহান্দার আলী মিয়া

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মোঃ ফায়েজুল কবীর, মাদারীপুর প্রতিনিধি 

মাদারীপুর শহরের তরমুগুরিয়া এলাকায় প্রসিসেস প্রতিবন্ধী স্কুল পরিদর্শনে গিয়ে প্রতিবন্ধীদের পরম স্নেহে নিজের কাছে ও বুকে টেনে নিয়ে আদর করলেন সদর-২ আসনের এমপি জাহান্দার আলী মিয়া।

আজ রবিবার (১৭ ই মে) দুপুরে স্কুল চলাকালীন সময়ে তিনি উক্ত স্কুলটি পরিদর্শনে গেলে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক পলি খানম সহ অন্যান্য ৩২ জন শিক্ষক ও স্কুলের ৩৯০ জন ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে অধিকাংশই তাকে উষ্ণ সংবর্ধনা জানান। এসময় তিনি স্কুলের বিভিন্ন ক্লাসে গিয়ে প্রতিবন্ধীদের পাঠদান কার্যক্রম, কবিতা আবৃত্তি, নৃত্য ও সঙ্গীত পরিবেশন উপভোগ করেন। তবে তিনি স্কুলটির ভগ্নদশা, ক্লাসরুম সংকট, সংকুচিত জায়গা, টিনের ঘরে পাঠদান, শিক্ষক- শিক্ষিকাদের অফিসরুম সহ একটি তিনতলা বিশিষ্ট ভবনের অসমাপ্ত আংশিক কাজ দেখে দুঃখ ও উদ্বেগ প্রকাশ করে মাদারীপুর জেলা প্রশাসক, শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী সহ সংশ্লিষ্টদের নজরে নিয়ে তা আশু সমাধানের ব্যাপারে স্কুল কর্তৃপক্ষকে আশ্বাস দেন।

এসময় তিনি বলেন, প্রতিবন্ধীদের প্রতি রয়েছে আমাদের মানবিক দায়বদ্ধতা, তারা আমাদের কারো না কারো সন্তান, তারা আমাদের বোঝা নয়- তারা সমাজের অবিচ্ছেদ্য অংশ, তাদের ব্যাপারে আমাদের সরকার ও আমরা অত্যন্ত স্নেহশীল, তাদেরও মধ্যে রয়েছে অনেক প্রতিভা। সেই প্রতিভাকে ফুটিয়ে তুলতে হলে সবার আগে দরকার সঠিক পরিচর্যা এবং এজন্য সবাইকে উদার হতে হবে, তাদের সাহায্যে হাত বাড়িয়ে দিতে হবে।


মাগুরায় দুইদিন ব্যাপী জি আই পণ্য স্বীকৃত হাজরাপুরী লিচু মেলার উদ্বোধন 

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
শিউলি আফরোজ সাথী, মাগুরা প্রতিনিধি

মাগুরায় দুইদিন ব্যাপী জি আই পণ্য স্বীকৃত হাজরাপুরী লিচু'র মেলা উদ্বোধন করেছেন প্রধান অতিথি হিসেবে সংস্কৃতি মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী এমপি।

শনিবার বিকেলে মাগুরা সদর উপজেলার হাজরাপুর ইউনিয়ন পরিষদ সংলগ্ন লিচু বাগানে এ মেলার উদ্বোধন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে মাগুরা জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মাহমুদের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন মাগুরা-১ আসনের সংসদ সদস্য মনোয়ার হোসেন খান, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য এ্যাড.নেওয়াজ হালিমা আরলী, পুলিশ সুপার মোল্লা আজাদ হোসেন, জেলা পরিষদ প্রশাসক আলি আহম্মেদ, সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মোহাম্মদ আল মারুফ, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক তাজুল ইসলাম ও সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেহেরুন্নাহার। বক্তব্য রাখেন নারী উদ্যোক্তা জেনিস ফারজানা তানিয়া, লিচু চাষী জহুরুল ইসলাম পিয়াল ও মনিরুজ্জামান।

মেলায় বক্তারা বলেন, হাজরাপুরী লিচু সারা বাংলাদেশ বিখ্যাত। হাজরাপুরী লিচু আজ মাগুরার চাহিদা মিটিয়ে সারাদেশে যাচ্ছে। ইতি মধ্যে হাজরাপুরী লিচু জিআই পণ্য হিসাবে স্বীকৃতি পেয়েছে। আমাদের এই গৌরব ধরে রাখতে হবে। লিচু মৌসুমে লিচু চাষীদের লিচু সংগ্রহ করতে সহযোগিতা করতে হবে। লিচু চাষিরা দাবি করে বলেন, মাগুরার লিচু জি আই পণ্য স্বীকৃতি পাওয়ায় আমরা খুবই খুশি। এজন্য লিচু সংরক্ষণের জন্য লিচুর কোল্ড স্টোরেজ করতে হবে। প্রত্যেক লিচু চাষীকে কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে স্প্রে মেশিন প্রদান করতে হবে।

সংস্কৃতি মন্ত্রী এ্যাড. নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, হাজরাপুরি লিচুর অনেক কদর রয়েছে। মাগুরার হাজরাপুরী লিচু জি আই পণ্য স্বীকৃতি পাওয়ায় এ বছর জেলায় একশত কোটি টাকার লিচু বিক্রি হবে। এজন্য আমরা খুব গর্বিত। আমাদের এই গৌরব ধরে রাখতে হবে। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে লিচুর অনেক ভূমিকা রয়েছে। এ লিচু সংরক্ষণ, লিচু চাষীদের যথাযথ প্রশিক্ষণ প্রদানের মাধ্যমে দক্ষ করে গড়ে তুলতে হবে।

মাগুরা জেলা প্রশাসন দুদিন ব্যাপী মেলার আয়োজন করে। এ মেলায় ১৮ টি স্টল অংশ নিয়েছে। রবিবার এ মেলার সমাপনী হবে।


কুমিল্লায় র‍্যাবের অভিযানে ৯১৩৫ পিস ইয়াবাসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
তরিকুল ইসলাম তরুন, কুমিল্লা প্রতিনিধি

কুমিল্লা নগরীর কোতয়ালী মডেল থানাধীন গাজীপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৯১৩৫ পিস ইয়াবাসহ এক মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)-১১, সিপিসি-২।

রোববার (১৭ মে) র‌্যাব-১১, সিপিসি-২ কুমিল্লার অধিনায়কের কার্যালয় থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত শুক্রবার (১৬ মে) রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‌্যাব-১১, সিপিসি-২ এর একটি বিশেষ আভিযানিক দল কুমিল্লা জেলার কোতয়ালী মডেল থানাধীন গাজীপুর এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় মোঃ রাকিব হোসেন (২০) নামে এক মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি গাজীপুর এলাকার নূর আলমের ছেলে।

অভিযানকালে গ্রেপ্তারকৃত আসামির হেফাজত থেকে ৯১৩৫ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।

র‌্যাব জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, গ্রেপ্তারকৃত রাকিব দীর্ঘদিন ধরে সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে ইয়াবা সংগ্রহ করে কুমিল্লাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পাইকারি ও খুচরা মূল্যে বিক্রি করে আসছিলেন।

র‌্যাব-১১ আরও জানায়, মাদকবিরোধী ধারাবাহিক অভিযানের অংশ হিসেবে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে এবং মাদকের মতো সামাজিক ব্যাধির বিরুদ্ধে তাদের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

এ ঘটনায় গ্রেপ্তারকৃত আসামির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।


কৃষকের বাড়িতে ডাকাতি করতে গিয়ে আটক ৩

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মো. আজিজুল হাকিম, মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি

মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার বালিয়াবিল এলাকায় কৃষকের বাড়িতে ডাকাতির সময় সক্রিয় ডাকাত দলের তিন সদস্যকে আটক করেছে এলাকাবাসী।

শনিবার দিবাগত রাতে সদর উপজেলার পুটাইল ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বালিয়াবিল এলাকার কৃষক চাঁন মিয়ার বাড়িতে ডাকাতির সময় স্থানীয়রা তাদের হাতেনাতে আটক করে। তবে কৌশলে ডাকাত দলের মূল হোতা সজীব মিয়া পালিয়ে যায়।

আটককৃতরা হলেন সদর উপজেলার পুটাইল ইউনিয়নের উত্তর পুটাইল এলাকার কিসমত আলী, মুসা মিয়া ও আল আমিন হোসেন।

ভুক্তভোগী ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, শনিবার গভীর রাতে একটি সংঘবদ্ধ ডাকাত দল কৃষক চাঁন মিয়ার বাড়িতে প্রবেশ করে। পরে দেশীয় অস্ত্রের মুখে পরিবারের সদস্যদের জিম্মি করে ৬০ হাজার টাকা দাবি করে ডাকাতরা।

একপর্যায়ে কৌশলে ঘরের বাইরে বের হয়ে চিৎকার শুরু করেন বাড়ির মালিক চাঁন মিয়া। তার চিৎকারে প্রতিবেশী ও আশপাশের লোকজন ঘটনাস্থলে এসে বাড়িটি ঘিরে ফেলে। এসময় ডাকাত দলের তিন সদস্যকে আটক করে গণপিটুনি দেয় স্থানীয়রা। পরে পুলিশে খবর দেওয়া হলে ঘটনাস্থল থেকে তাদের আটক করে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ।

এ বিষয়ে মানিকগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ ইকরাম হোসেন জানান, খবর পেয়ে আহত অবস্থায় তিন ডাকাত সদস্যকে আটক করেছে থানা পুলিশ। এ ঘটনায় বাড়ির মালিক কৃষক চাঁন মিয়া বাদী হয়ে থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।

তিনি আরও জানান, আটককৃতদের বিরুদ্ধে এর আগেও বালিয়াবিল এলাকায় ডাকাতির অভিযোগ রয়েছে।


বরিশালে হামে আরও এক শিশুর মৃত্যু, মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৩২

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বরিশাল প্রতিনিধি

বরিশালে হামের উপসর্গে আক্রান্ত হয়ে আরও এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এতে বিভাগে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩২ জনে। এর মধ্যে শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে মারা গেছেন ২২ জন।

রোববার (১৭ মে) সকালে হাসপাতাল পরিচালকের কার্যালয় এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

সবশেষ মারা যাওয়া শিশুটি পটুয়াখালী সদরের বড় বিঘাই এলাকার বাসিন্দা মো. কাওসার হোসেনের সাত মাস বয়সী মেয়ে নুসাইবা। শনিবার দিবাগত রাতে শেবাচিম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

হাসপাতাল সূত্র জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৪২ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। একই সময়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন ৬২ জন। বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন ১৯৬ জন রোগী। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত শেবাচিম হাসপাতালে হাম ও উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন ২ হাজার ১৯৫ জন।

হামের প্রকোপ বাড়তে থাকায় শেবাচিম হাসপাতালে তিনটি কক্ষে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। রোগীর চাপ সামাল দিতে নতুন করে আরও একটি হাম ওয়ার্ড চালু করা হয়েছে। একই সঙ্গে বরিশাল জেনারেল হাসপাতালেও বাড়ছে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা।

বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয়ের তথ্যমতে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত বিভাগে হাম উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৫ হাজার ৬৭৫ জন। তাদের মধ্যে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৫ হাজার ৬১৫ জন।

বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য কার্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ডা. মো. লোকমান হাকিম জানান, মার্চ মাস থেকে বিভাগে হামের প্রাদুর্ভাব ভয়াবহ আকার ধারণ করে। তবে ইতোমধ্যে শিশুদের টিকাদান কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।


কোটালীপাড়ায় শিক্ষকের স্থায়ী বদলীর দাবীতে অভিভাবকদের মানববন্ধন ও বিক্ষোভ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কোটালীপাড়া (গোপালগঞ্জ) প্রতিনিধি

গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ার ৬ নং ঘাঘরকান্দা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বিতর্কিত সহকারি শিক্ষক তপতী বাড়ৈর স্থায়ী বদলীসহ শাস্তির দাবীতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে শিক্ষার্থী অভিভাবকেরা।

রবিবার (১৭ মে) সকাল সাড়ে ১০টা থেকে ঘণ্টাব্যাপী বিদ্যালয়ের সামনের সড়কে এই মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। বিক্ষোভে শতাধিক অভিভাবক অংশ নেন।

উপজেলা শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, সহকারি শিক্ষক তপতী বাড়ৈর বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম, স্বেচ্ছাচারিতা, ক্লাস ফাঁকি, শিক্ষার্থীদের প্রতি অমানবিক আচরণসহ শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগ এনে এলাকাবাসী লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন। একপর্যায়ে তপতী বাড়ৈর স্থায়ী বদলীর দাবী এনে অভিভাবকেরা দুইদিন শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে আসা বন্ধ করে দেন।

এ ঘটনার পর উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নির্দেশনা মোতাবেক উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা তপতী বাড়ৈকে মৌখিকভাবে অন্য বিদ্যালয়ে ডেপুটেশনে স্থানান্তর করেন। তদন্ত কমিটি অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার তপতী বাড়ৈকে শাস্তিস্বরূপ লঘুদণ্ড প্রদান ও স্থায়ী বদলীর সুপারিশ করেন।

পরবর্তীতে তপতী বাড়ৈ মৌখিক ডেপুটেশন বাতিলের দাবীতে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। এ কারণে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন শিক্ষার্থী অভিভাবকেরা।

অভিভাবক শাহানাজ বেগম বলেন, “আমার দুটি সন্তান এখানে লেখাপড়া করে। আমাদের সন্তানদের ভালোর জন্য চরিত্রহীন, অদক্ষ, বেয়াদপ ও মামলাবাজ শিক্ষক তপতী বাড়ৈর স্থায়ী বদলীর জন্য দীর্ঘদিন ধরে আমরা আন্দোলন করে আসছি। শিক্ষা অফিসের তদন্তে এসব অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার পরও তপতী বাড়ৈর স্থায়ী বদলী না হওয়ায় আমরা আন্দোলনে নেমেছি।”

অভিভাবক বোরহান খান বলেন, “আমরা বহুবার তার বিরুদ্ধে অভিযোগ দিয়েছি। কিন্তু কোনো সমাধান হয়নি। তিনি উল্টো ভয়ভীতি দেখান। শুনেছি তার একাধিক বিয়ে রয়েছে। এক শিক্ষা অফিসারকে ফাঁসিয়ে ২০ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। তার কারণে এখানে ভালো কোনো শিক্ষক থাকতে পারেন না। অনেক সহ্য করেছি, আর না। আমরা তার স্থায়ী বদলী চাই। কর্তৃপক্ষ যদি ৩ দিনের ভিতরে স্থায়ী বদলী না করে তাহলে আমরা আমাদের সন্তানদের এখানে পড়াবো না।”

বিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক সভাপতি হোসেন মোল্লা বলেন, “যেখানে বিদ্যালয়ের কোনো শিক্ষার্থী ও অভিভাবকই চান না তিনি এখানে থাকুন, সেখানে তার স্থায়ী অপসারণের জন্য অভিভাবকেরা আন্দোলন করছেন। অন্যদিকে তিনি ডিপিইও, টিইওসহ অনেকের নামে মামলা করছেন এই স্কুলে থাকার জন্য। এর আগে অভিভাবকদের অভিযোগ ও আন্দোলনের সংবাদ প্রকাশ করায় এক সাংবাদিক, এই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করেন অদক্ষ শিক্ষক তপতী বাড়ৈ। তপতী বাড়ৈর এত অপশক্তির উৎস কোথায়, আমরা তা জানতে চাই? তপতী বাড়ৈ শিক্ষক নামের কলঙ্ক।”

উপজেলা শিক্ষা অফিসার শেখর রঞ্জন ভক্ত বলেন, “তপতী বাড়ৈর বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলায় স্থায়ী বদলীর জন্য জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার ৩টি শূন্য বিদ্যালয়ের তালিকা চেয়েছিল। অনেক আগেই তালিকা দেওয়া হয়েছে। কেন স্থায়ী বদলী হচ্ছে না, সেটা জেলা অফিসের বিষয়।”

এ ব্যাপারে জানার জন্য জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারকে কয়েকবার মোবাইলে কল করেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।


ডুমুরিয়ায় উদ্ধার হওয়া বন্য ঘুঘু অবমুক্ত করলেন সহকারী কমিশনার অমিত কুমার বিশ্বাস

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা

পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছেন ডুমুরিয়া উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) অমিত কুমার বিশ্বাস। অবৈধভাবে খাঁচায় বন্দি করে রাখা একটি বন্য ঘুঘু পাখি উদ্ধার করে উন্মুক্ত আকাশে অবমুক্ত করেছেন তিনি।

রবিবার (১৭ মে) দুপুরে উপজেলা ভূমি অফিস প্রাঙ্গণে পাখিটি অবমুক্ত করা হয়। ডুমুরিয়া উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সহকারী কমিশনার (ভূমি) অমিত কুমার বিশ্বাসের নির্দেশনায় গুটুদিয়া এলাকায় বন বিভাগের একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে স্থানীয় এক শিকারির কাছ থেকে বন্য ঘুঘু পাখিটি উদ্ধার করা হয়। পরে পাখিটিকে নিরাপদে উপজেলা ভূমি অফিসে নিয়ে আসা হয়।

পাখি অবমুক্তকালে সহকারী কমিশনার (ভূমি) অমিত কুমার বিশ্বাস বলেন, “বন্যপ্রাণী আমাদের প্রকৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। এদের খাঁচায় বন্দি রাখা শুধু আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ নয়, এটি পরিবেশের ভারসাম্যের জন্যও হুমকি। বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা আইন অমান্য করে যারা পাখি শিকার বা ক্রয়-বিক্রয় করবে, তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।”

তিনি আরও বলেন, প্রকৃতির সৌন্দর্য ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় সবাইকে সচেতন হতে হবে। কোনো এলাকায় পাখি শিকার বা বন্যপ্রাণী পাচারের খবর পেলে দ্রুত প্রশাসনকে জানানোর আহ্বান জানান তিনি।

পাখি অবমুক্তকরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ডুমুরিয়া উপজেলা বন বিভাগের কর্মকর্তা মোঃ লিয়াকত আলী খান, ডুমুরিয়া প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শেখ মাহতাব হোসেন, সাংবাদিক এস রফিক, আব্দুল লতিফ মোড়লসহ ভূমি অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এবং স্থানীয় পরিবেশবাদী সংগঠনের প্রতিনিধিরা।

প্রশাসনের এই মানবিক ও পরিবেশবান্ধব উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল। তাদের মতে, এমন কার্যক্রম পাখি শিকার ও বন্যপ্রাণী পাচার রোধে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।


banner close