সোমবার, ৯ মার্চ ২০২৬
২৫ ফাল্গুন ১৪৩২

ঘূর্ণিঝড় ‘রেমাল’ মোকাবিলায় জেলায় জেলায় প্রস্তুতি

মোংলায় ঘূর্ণিঝড় নিয়ে সচেতন করতে কোস্টগার্ডের মাইকিং। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড
২৬ মে, ২০২৪ ০৫:১৯
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত : ২৬ মে, ২০২৪ ০৫:১৮

বঙ্গোবসাগরে থাকা গভীর নিম্নচাপটি ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেওয়ায় তা ‘রেমালে’ পরিণত হয়েছে। আজ রোববার মধ্যরাতে এটি আঘাত হানার আশঙ্কা করছেন আবহাওয়াবিদরা। এ জন্য দেশের ছয় জেলাকে ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলার জন্য বিশেষভাবে প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দিয়েছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. মহিববুর রহমান। এ ঘূর্ণিঝড় নিয়ে এ পর্যন্ত প্রাপ্ত পূর্বাভাস ও ভূমি অতিক্রমের সম্ভাব্য এলাকার ভিত্তিতে এ নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জেলাগুলো হলো সাতক্ষীরা, বাগেরহাট, খুলনা, বরগুনা, পটুয়াখালী ও ভোলা।

গতকাল ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় প্রস্তুতি সভায় প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘গত ১৫ বছরে ঘূর্ণিঝড়সহ সব দুর্যোগে তার নিবিড় পর্যবেক্ষণ ও নির্দেশনায় আমরা যথাসময়ে প্রস্তুতি নিয়ে মানুষের দুর্দশা লাঘব এবং জীবন ও সম্পদের ক্ষতি কমাতে সক্ষম হয়েছি। এ ঘূর্ণিঝড়টিও যাতে একই ধারাবাহিকতায় সফলভাবে মোকাবিলা করতে পারি তার জন্য আমরা প্রস্তুত রয়েছি।’

প্রতিমন্ত্রী মুহিববুর রহমান বলেন, ‘আমরা ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোর জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারদের সঙ্গে কথা বলে স্থানীয় প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য নির্দেশনা দিয়েছি। উপকূলবর্তী সব জেলাকে ঘূর্ণিঝড়ের জন্য প্রস্তুতি নিতে বলা হয়েছে। এ পর্যন্ত প্রাপ্ত পূর্বাভাস ও সম্ভাব্য ভূমি অতিক্রম এলাকার ভিত্তিতে সাতক্ষীরা, বাগেরহাট, খুলনা, বরগুনা, পটুয়াখালী, ভোলা জেলাসমূহকে অধিকতর প্রস্তুত থাকার জন্য বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘এক সপ্তাহ ধরে এই ঝড়টির বিষয়ে আমরা খোঁজখবর রাখছি। বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করে নিয়মিতভাবে পূর্বাভাস দিচ্ছে এবং আগাম কার্যাবলি (অ্যান্টিসিপেটরি অ্যাকশন) ও সাড়া প্রদানে সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত দিয়ে সহযোগিতা করছে। আমরা ভারতে অবস্থিত আঞ্চলিক বিশেষায়িত আবহওয়া কেন্দ্রের সঙ্গেও নিয়মিত যোগাযোগ রাখছি। এর পাশাপাশি বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য আন্তর্জাতিক পূর্বাভাস মডেল নিয়মিত পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে সময়োপযোগী কার্যক্রম গ্রহণ করছি।’

সভায় প্রতিমন্ত্রী বলেন, এই ঘূর্ণিঝড়টি মোকাবিলায় সার্বক্ষণিক তথ্য বিনিময়ের লক্ষ্যে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের এনডিআরসিসি ২৪ ঘণ্টা খোলা রয়েছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর মানবিক সহায়তা ও ত্রাণ কার্যক্রম প্রেরণ শুরু করেছে। ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচির (সিপিপি) ৭৮ হাজার স্বেচ্ছাসেবক কয়েক দিন যাবৎ মাঠে আগাম সতর্কবার্তা প্রচারসহ আশ্রয়কেন্দ্র পরিদর্শন ও প্রস্তুতের কাজ করছে। মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্বে অ্যান্টিসিপেটরি অ্যাকশন টেকনিক্যাল ওয়ার্কিং গ্রুপ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ, বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ ও সাইক্লোন আর্লি অ্যাকশন প্রটোকল অনুসরণ করে প্রতিষ্ঠানভিত্তিক আগাম কার্যক্রম শুরু করেছে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ঘূর্ণিঝড়ের গতি-প্রকৃতি এবং আবহাওয়া অধিদপ্তর কর্তৃক বিপদ সংকেত জারি করা মাত্র মানুষকে আশ্রয়কেন্দ্রে আনা হবে। দুর্যোগবিষয়ক স্থায়ী আদেশাবলি অনুযায়ী স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানসমূহ এবং বিভিন্ন পর্যায়ের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটিগুলো কার্যকর হয়েছে।

ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতির অংশ হিসেবে সভায় কয়েকটি বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সেগুলো হলো আগাম সতর্কতার বিজ্ঞপ্তি প্রচার ও জনগণকে সচেতন করা, আগাম মানবিক কার্যাবলি গ্রহণ করা, মাঠ প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় ও বিভিন্ন পর্যায়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটিসমূহের সভা অনুষ্ঠান, সব পর্যায়ে নিয়ন্ত্রণকক্ষ খোলা, আশ্রয়কেন্দ্রগুলো প্রস্তুত করা, আশ্রয়কেন্দ্রে শুকনা খাবার, শিশু খাদ্য এবং গো-খাদ্যের ব্যবস্থা করা, জনগণকে আশ্রয়কেন্দ্রে আনার বিষয়ে প্রস্তুতি গ্রহণ। দুর্যোগ তথ্য পাওয়ার জন্য টোল ফ্রি ১০৯০ ব্যবহারের কথা বলা হয় সভায়। দৈনিক বাংলার বিভিন্ন জেলা প্রতিনিধিদের পাঠানোর সংবাদের ভিত্তিতে ‘রেমাল’ নিয়ে বিভিন্ন জেলার প্রস্তুতির সম্পর্কে জানা গেছে নানা তথ্য।

পিরোজপুর: বঙ্গোপসাগরে সৃষ্টি হতে যাওয়া ঘূর্ণিঝড় ‘রেমাল’ এর জন্য পিরোজপুরে প্রস্তুত করা হয়েছে ৫৬১ টি ঘূর্ণিঝড়ের আশ্রয়কেন্দ্র। যার মধ্যে ২৯৫ টি সাইক্লোন শেল্টার এবং ২৬৬ টি বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং এই আশ্রয়কেন্দ্রে ২ লাখ ৮০ হাজার ৫০০ জন মানুষ আশ্রয় নিতে পারবে।

শনিবার বিকেলে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের শহীদ আব্দুর রাজ্জাক সাইফ-মিজান সভাকক্ষে জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহেদুর রহমান এ তথ্য দেন।

সভায় জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহেদুর রহমান আরও জানান, ঘূর্নিঝড় রেমাল মোকাবিলায় একটি জেলা প্রশাসন থেকে একটি কন্টোলরুমসহ প্রতিটি উপজেলায় একটি টিম করা হয়েছে, ৬৫ টি মেডিকেল টিম প্রস্তুত রয়েছে, ২ লাখ ৬৩ হাজার পানি বিশুদ্ধ করণ ট্যাবলেজ মজুত রাখা হয়েছে, ঝড়ের ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য প্রাথমিক পর্যায়ে ১৩৫০ হাজার প্যাকেট শুকনা খাবার, ৬১১ মে. ট. চাল ও নগদ ৬ লক্ষ ১০ হাজার টাকা প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এছাড়াও দুর্যোগ পরিবর্তিতে ক্ষতিগ্রস্তদের ঘর মেরামতের জন্য ৯৭ বান্ডিল টিন রয়েছে। এ ছাড়া ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় রেডক্রিসেন্টের ২৫০ জন স্বেচ্ছাসেবক ও সিপিপি ২৪২০ জন সদস্য প্রস্তুত রয়েছে। রেমালের প্রভাবে পিরোজপুরের নদীসমূহে স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে বেশি পানি দেখা গেছে এবং জেলার কয়েক স্থানে হালাকা বৃষ্টি পড়েছে।

বরগুনা: বরগুনায় ঘূর্ণিঝড় রেমালের প্রভাবে গোমট আবহাওয়া বিরাজসহ নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এতে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন নদী তীরের বাসিন্দারা। শনিবার জেলার পায়রা, বলেশ্বর ও বিষখালী নদীর পানি স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় অন্তত তিন ফুট বেড়েছে বলে জানান নদী তীরের বাসিন্দারা। বরগুনা সদর উপজেলার বড়ইতলা এলাকায় গেলে দেখা যায়, পানিতে এখানকার বেড়িবাঁধের বাহিরের নিম্নাঞ্চল তলিয়ে গেছে। এখানে আশ্রয়কেন্দ্রের স্বল্পতা রয়েছে। তাই যা আছে তাতে সকলের স্থান সংকুলান হয় না। বরগুনার জেলা প্রশাসক মোহা. রফিকুল ইসলাম বলেন, দুপুরে জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা হয়েছে। সভার মাধ্যমে আমরা ঘূর্ণিঝড় মোকাবেলায় সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছি। এদিকে বরগুনার পানি উন্নয়ন বোর্ড জেলার বিভিন্ন স্থানে এক কিলোমিটার বেড়িবাঁধ ঝুঁকিপূর্ণ রয়েছে বলে জানিয়েছেন এবং এসব বাঁধ ভেঙ্গে গেলে তা তাৎক্ষণিকভাবে মেরামতের জন্য ৮০০ জিও ব্যাগ প্রস্তুত রাখা হয়েছে বলে জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় জানানো হয়েছে। জেলায় ঘূর্ণিঝড় ‘রেমাল’ মোকাবিলায় বরগুনায় ৬৭৩টি আশ্রয়কেন্দ্রসহ প্রায় ১০ হাজার স্বেচ্ছাসেবক প্রস্তুত রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ও জেলা মোহা. রফিকুল ইসলাম। শনিবার দুপুরে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির জরুরি প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়। দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় জেলা প্রশাসনসহ সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসক মোহা. রফিকুল ইসলাম জানান, ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। বরগুনায় ৩টি মুজিব কেল্লা, ৬৭৩টি আশ্রয়কেন্দ্রসহ প্রায় ১০ হাজার স্বেচ্ছাসেবক প্রস্তুত রাখা হয়েছে। যারা ঘূর্ণিঝড় পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সময়ে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করবেন। এ ছাড়া ৪২২ মেট্রিক টন খাদ্যশস্য, ৩৭ লাখ নগদ অর্থ প্রস্তুত রয়েছে। তিনি আরও জানান, ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকার জন্য জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ১০ টি কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে ৪২ টি মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে। দুর্যোগ প্রস্তুতি সভায় জেলা এনজিও ফোরামের সভাপতি মোতালেব মৃধা, প্রেসক্লাবের সভাপতি অ্যাডভোকেট মোস্তফা কাদের, রেডক্রিসেন্ট, দুর্যোগ প্রস্তুতি কর্মসূচি (সিপিপি), বিভিন্ন সরকারি, বেসরকারি সংস্থা ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত থেকে তাদের প্রস্তুতির বিষয় তুলে ধরেন।

মোংলা: ‘রেমাল’ প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়ে রোববার সন্ধ্যায় সুন্দরবন উপকূলে আঘাত হানবে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। মোংলা আবাহওয়া অফিসের ইনচার্জ মো. হারুন অর রশিদ জানান, এটি বর্তমান যেই অবস্থান দেখাচ্ছে তাতে ঘূর্ণিঝড়ের কেন্দ্রটি বাংলাদেশের ওপর দিয়েই অতিক্রম করার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে সুন্দরবন এলাকা এবং বরিশালের পটুয়াখালী, বরগুনা, ও ভোলা জেলায় রেমাল এর আঘাত হানার সম্ভাবনা বেশি রয়েছে।

এদিকে ঘূর্ণিঝড় রেমালের প্রভাবে সাগর উত্তাল থাকায় এরই মধ্যে মোংলা সমুদ্র বন্দরকে ৭ নম্বর সতর্ক সংকেত জারি করেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। ঘূর্ণিঝড় রেমালের প্রভাবে সব রকম সতর্কমূলক প্রস্তুতি নিয়েছে মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ। কোস্ট গার্ড, নৌ বাহিনী ও উপজেলা প্রশাসনের সমন্বয়ে শনিবার দুপুরে মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের সভাকক্ষে জরুরি বৈঠক করা হয়েছে।

বন্দর কর্তৃপক্ষের হারবার মাস্টার কমান্ডার সাইফুর রহমান বলেন, মোংলা বন্দরে এই মুহূর্তে সিমেন্টের কাঁচামাল ক্লিংকার, সার, পাথর ও গ্যাসবাহী ছয়টি জাহাজ অবস্থান করেছে। সেগুলোকে নিরাপদে নোঙ্গর করতে বলা হয়েছে। এদিকে ঘূর্ণিঝড় ‘রেমাল’ মোকাবিলায় সব রকম প্রস্ততি নিয়েছে উপজেলা প্রশাসনও। উপজেলা নির্বাহী অফিসার নিশাত তামান্না বলেন, ১০৩ টি আশ্রয়কেন্দ্রসহ ১৩২০জন স্বেচ্ছাসেবক প্রস্তুত রাখা হয়েছে। আবহাওয়া অফিস থেকে ঘূর্ণিঝড়ের সংকেত বাড়ানোর সঙ্গে সঙ্গেই আমাদের কার্যক্রমের গতি বাড়ানো হবে। কন্ট্রোল রুমও খোলা হয়েছে।

এদিকে মোংলা উপকূলে সচেতনতামূলক মাইকিং করেছে কোস্ট গার্ডের সদস্যরা। শনিবার সকাল থেকে ঘণ্টাব্যাপী মোংলার পশুর বিভিন্ন স্থানে এ প্রচার মাইকিং করা হয়।

মোংলা কোস্ট গার্ড পশ্চিম জোনের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট মো. মুনতাসীর ইবনে মহসীন জানান, সকাল থেকে সুন্দরবন লাঘোয়া মোংলা উপকূলের ঝুঁকিপূর্ণ বিভিন্ন এলাকায় প্রচার মাইকিং করেন কোস্ট গার্ড সদস্যরা।

বাগেরহাট: ঘূর্ণিঝড় রেমাল ধেয়ে আসার খবরে উপকূলীয় জেলা বাগেরহাটের নদী তীরবর্তী এলাকায় বসবাস করা মানুষের মাঝে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। এরই মধ্যে শনিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে শুরু হয়েছে বৃষ্টিপাত। তবে সকাল থেকে আকাশ কখনো রোদ আবার কখনো মেঘাচ্ছন্ন হচ্ছে। নদীতে থাকা মাছ ধরা ট্রলার গুলো উপকূলের ছোট ছোট খালে আশ্রয় নিয়েছে। কোস্টগার্ডের পক্ষ থেকে চালানো হচ্ছে জনসচেতনামূলক প্রচার-প্রচারণা। এরই মধ্যে রেমাল মোকাবেলায় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সকল ধরনের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে।

বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক মো. খালিদ হোসেন বলেন, ঘূর্ণিঝড় রেমাল মোকাবেলায় বাগেরহাটে ৩৫৯টি আশ্রয় কেন্দ্রে ও ৩ হাজার ৫শ ৫ জন স্বেচ্ছাসেবক প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এ ছাড়া ৬৪৩ মেট্রিকটন চাল ও ৫লক্ষ ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। জেলার ৯টি উপজেলার সকল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের সতর্ক থাকতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের সকল কর্মকর্তাদের ছুটি বাতিলের পাশাপাশি উপকূলের ঝুঁকিপূর্ণ বেরিবাধ এলাকায় গুলো নজরদারিতে রাখা হয়েছে।

পটুয়াখালী: জেলায় রেমাল মোকা‌বেলায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির প্রস্তু‌তি মূলক জরুরী সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার সকাল সাড়ে ১০টায় জেলা প্রশাসকের দরবার হলে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক নুর কুতুবুল আলম। সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান হাফিজুর রহমান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক যাদব সরকার। জেলা সিভিল সার্জন ডা. এসএম কবির হাসান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার যোবায়ের আহাম্মেদ।

গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. হারুন অর রশিদ, কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. নজরুল ইসলাম, পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফুর রহমান, পটুয়াখালী প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া রিদয়, সিপিপি, রেড ক্রিসেন্টসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

জেলা প্রশাসক জানান দুর্যোগ মোকাবিলায় জেলায় ৭০৩ টি সাইক্লোন শেল্টার ৩৫টি মুজিব কিল্লা, ৭৩০ মেট্রিক টন চাল, ১০ লক্ষ টাকার শিশু খাদ‌্য, ১০ লাখ টাকার গোখাদ‌্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এ ছাড় শুকনা খাবার র‌য়ে‌ছে ১৫০০ প‌্যা‌কেট। নগদ টাকা র‌য়ে‌ছে ২৪ লাখ ৭ হাজার টাকা ৫০০ টাকা।

এ সময় মানুষকে সচেতন ও দুর্যোগে উদ্ধার কাজ পরিচালনার জন্য রেডক্রিসেন্ট ও সিপিপির ৯ হাজার স্বেচ্ছাসেবককে প্রস্তুত থাকাসহ বিদ্যুৎ বিভাগ সড়ক বিভাগ ফায়ার সার্ভিসকে দিকনির্দেশনা প্রদান করেন জেলা প্রশাসক।

জেলায় মোট ৭৬টি মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে পর্যাপ্ত পরিমাণ স্যালাইন, ঔষধ ও পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট সংরক্ষিত রয়েছে। জেলায় ১৩০০ কিলোমিটার বেড়িবাঁধের মধ্যে ১০ কিলোমিটার ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। দুর্যোগের সময় কোথাও ভাঙন দেখা দিলে তা মেরামতের জন্য ১৬ হাজার জিও ব্যাগ রয়েছে বলে জানিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।

এদিকে জেলায় ৮৭ হাজার হেক্টর জমিতে রয়েছে মুগ ডাল এবং ২০ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো ধান রয়েছে বলে জানিয়েছে কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তর। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রফিউদ্দিন মোহাম্মদ যোবায়ের বলেন গুজোব মোকাবেলার জন্যে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে।

এদিকে কলাপাড়া উপকূলীয় অঞ্চলের জনগন, মৎস্যজীবি ও নৌযান সমূহকে ক্ষয়ক্ষতি থেকে রক্ষার জন্য জনসচেতনতা মূলক কার্যক্রম শুরু করেছে নিজামপুর কোষ্টগার্ড। শনিবার সকাল নয়টায় মৎস্য বন্দর আলীপুর- মহিপুরে মাইকিং ও লিফলেট বিতরন করে কোস্ট গার্ডের সদস্যরা। এসময় তারা খাপড়াভাঙ্গা নদীতে অবস্থানরত ট্রলার সমূহে থাকা জেলেদের ঘূর্নিঝড়ের সময় করনীয় সম্পর্কে দিক নির্দেশনা দেন।

ঝালকাঠি: জেলায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার বেলা ১১টায় জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ও জেলা প্রশাসক ফারাহ্ গুল নিঝুম। এ সভায় পুলিশ সুপার, স্বাস্থ্য, কৃষি, খাদ্য, শিক্ষা, দপ্তরের প্রধানগন এবং বিদ্যুৎ, ফায়ার সার্ভিস, পানি উন্নয়ন বোর্ড, সড়ক বিভাগ, রেডক্রিসেন্টসহ জেলা পর্যায়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা যোগ দেন।

সভায় জেলা প্রশাসক ফারাহ্ গুল নিঝুম বলেন, ঘূর্ণিঝড় ‘রেমাল’ মোকাবিলায় সর্বাত্মক প্রস্তুতি নেওয়া শুরু হয়েছে। এই কয় দিন সংশ্লিষ্ট সব পর্যায়ের কর্মকর্তাদের স্টেশন ত্যাগ না করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ঘূর্ণিঝড় ‘রেমাল’ মোকাবিলায় নির্ধারিত সাইক্লোন শেল্টারসহ আশ্রয়কেন্দ্রের জন্য সহ জেলার সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ব্যবহার উপযোগী করা হয়েছে।


গ্রামের নারীদের অনুপ্রেরণা মুর্শিদা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
লালপুর (নাটোর) প্রতিনিধি

নাটোরের লালপুর উপজেলার সন্তোষপুর গ্রামের মুর্শিদা খাতুনের জীবনে একসময় নেমে এসেছিল অনিশ্চয়তা আর অভাবের দিন। স্বামী নুরুল ইসলাম তখন বেকার। সংসার চালানোর দায় এসে পড়ে তার কাঁধে। সেলাই মেশিনে দর্জির কাজ করে কোনো রকমে সংসার চলত তার। কিন্তু দমে যাননি তিনি। অদম্য পরিশ্রম আর আত্মবিশ্বাসে ধীরে ধীরে বদলে দিয়েছেন নিজের ভাগ্য। আজ এই মুর্শিদায় এখন গ্রামের নারীদের জন্য অনুপ্রেরণার নাম।

২০১০ সালে উপজেলা যুব উন্নয়ন অফিস থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে মাত্র ১০ হাজার টাকা ঋণ পান মুর্শিদা। সেই টাকা দিয়ে একটি গাভী কিনে শুরু করেন গরু পালন। ছোট সেই উদ্যোগই সময়ের সঙ্গে বড় খামারে রূপ নেয়। বর্তমানে তার নিজস্ব খামার ‘গ্রামীণ এন্ড ডেইরি এগ্রো ফার্ম’ এ রয়েছে প্রায় ২০টি গরু। এসব গরুর বাজারমূল্য প্রায় ১৫ লাখ টাকা। খামার থেকে বছরে প্রায় ৪ লাখ টাকার আয় হচ্ছে বলে জানান তিনি।

সরেজমিনে জানা গেছে, নবম শ্রেণিতে পড়ার সময়ই বিয়ে হয় মুর্শিদার। অল্প বয়সেই সংসারের দায়িত্ব কাঁধে নিতে হয় তাকে। তবে প্রতিকূলতা তাকে থামাতে পারেনি। ধীরে ধীরে গরুর সংখ্যা বাড়িয়ে গড়ে তুলেছেন নিজের স্বপ্নের খামার।

খামারকে কেন্দ্র করে তিনি গড়ে তুলেছেন বহুমুখী উদ্যোগ। গরুর গোবর দিয়ে বায়োগ্যাস তৈরি করে পাশের কয়েকটি বাড়িতে গ্যাস সরবরাহ করছেন। সেই বায়োগ্যাস প্লান্ট থেকে উৎপন্ন জৈব সারও ব্যবহার হচ্ছে কৃষিকাজে। পাশাপাশি বাড়ির পাশের বড় পুকুরে করছেন মাছ চাষ এবং বাড়ির উঠানেই পালন করছেন হাঁস-মুরগি। তার এই উদ্যোগ এখন এলাকায় এক অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে।

গ্রামে এখন মুর্শিদার সাফল্যের গল্প অনেকের মুখে মুখে। তার খামার দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে অনেক নারী গরু পালন শুরু করেছেন। কেউ কেউ তার কাছ থেকেই পরামর্শ নিচ্ছেন।

একই গ্রামের জরিনা বেগমও তেমনই একজন। সংসারে বাড়তি আয়ের আশায় মুর্শিদা খাতুনের পরামর্শ নিয়ে তিনি গরু পালন শুরু করেছেন। জরিনা বেগম বলেন, মুর্শিদা আপার খামার দেখে সাহস পেয়েছি। আগে ভাবতাম গরু পালন করা আমার পক্ষে সম্ভব না, কিন্তু উনার পরামর্শে এখন আমিও শুরু করেছি।

আরেক নারী সমতাও মুর্শিদার অনুপ্রেরণায় গড়ে তুলেছেন নিজের খামার। বর্তমানে তার খামারে রয়েছে ৪টি গরু। সমতা বলেন, ‘মুর্শিদা আপা আমাদের অনেক সহযোগিতা করেন। তার কাছ থেকে পরামর্শ নিয়ে গরু পালন শুরু করেছি। এখন ধীরে ধীরে খামার বড় করার স্বপ্ন দেখছি।

এবিষয়ে মুর্শিদা খাতুন বলেন, যুব উন্নয়ন অফিস থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে ১০ হাজার টাকা ঋণ পাই। সেই টাকায় একটি গাভী কিনেছিলাম। পরে ধীরে ধীরে গরুর সংখ্যা বাড়াতে থাকি। এখন নিজের বহুমুখী খামার আছে, সংসারও ভালোভাবে চলছে।

লালপুর উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা আব্দুস সবুর বলেন, মুর্শিদা খাতুন আমাদের সফল নারী উদ্যোক্তাদের একজন। যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের প্রশিক্ষণ ও ক্ষুদ্র ঋণকে কাজে লাগিয়ে তিনি নিজের জীবন বদলে দিয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, গ্রামের অনেক নারী এখন মুর্শিদার পথ অনুসরণ করছেন। তার সাফল্য প্রমাণ করে, সুযোগ ও প্রশিক্ষণ পেলে নারীরাও অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হতে পারে। আন্তর্জাতিক নারী দিবসের প্রেক্ষাপটে মুর্শিদা খাতুনের এই সাফল্যের গল্প গ্রামীণ নারীদের জন্য হয়ে উঠেছে অনুপ্রেরণার প্রতীক।


সুন্দরগঞ্জে ফসলি জমি ঘেঁষে বালু উত্তোলনের অভিযোগ

সুন্দরগঞ্জে ফসলি জমি ঘেঁষে বালু উত্তোলনের অভিযোগ। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ৮ মার্চ, ২০২৬ ২২:১৬
সুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি   

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে বসতবাড়ি ও ফসলি জমি ঘেঁষে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে বালু উত্তোলনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। আর অবৈধভাবে এই বালু উত্তোলনে নেতৃত্ব দিচ্ছেন মো. শাকোয়াত আলী নামের এক বালু ব্যবসায়ী।

এ ঘটনায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন মো. সিদ্দিকুর রহমান ফুল মিয়া (৪৭) নামের এক ভুক্তভোগী। এতে কোনো প্রতিকার পাননি তিনি। উল্টো এখন হুমকিতে আছে তার পরিবার।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, উপজেলার হরিপুর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের (চর চরিতা বাড়ি) গুচ্ছগ্রাম থেকে আনুমানিক ১ হাজার ৫ শত গজ পশ্চিমে তিস্তার শাখা নদীতে বসানো হয়েছে ড্রেজার মেশিন।

গণমাধ্যমকর্মীদের উপস্থিতি টের পেয়ে মেশিন বন্ধ করে সরে যান লোকজন। বালু উত্তোলনের জায়গার চারপাশ ভেঙে যাচ্ছে। আশপাশে বসতবাড়ি এবং ভুট্টা, বাদামসহ বিভিন্ন ফসলি জমি দেখা গেছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রায় ১ মাস ধরে সেখান থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। বালু উত্তোলনের কারণে ফসলি জমি ভেঙে যাচ্ছে নদীতে। হুমকির মুখে পড়েছে বসতবাড়ি এবং ভুট্টা, বাদামসহ বিভিন্ন ফসলি জমি। এ ঘটনায় কেউ কথা বলতে রাজি হননি বালু ব্যবসায়ীদের ভয়ে।

জানতে চাইলে মো. সিদ্দিকুর রহমান ফুল মিয়া বলেন, ‘অভিযোগ দিয়েছি। এখন পর্যন্ত কোনো পদক্ষেপ নিতে দেখিনি কাউকে। উল্টো অভিযোগ করার কারণে বালু ব্যবসায়ীরা আমাকে হুমকি দিচ্ছেন। তারা বলছেন, জমি তো দূরের কথা, ঈদে বাড়ি আসলে আমার অবস্থা নাকি খারাপ করে দেবেন। এছাড়া নানা ভয়ভীতি দেখাচ্ছেন। এখন দেখছি বসতবাড়ি ও ফসলি জমির পাশাপাশি আমার জীবনটাও হুমকির মুখে।

এ বিষয়ে কথা বলতে ধুপনী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ মো. সেলিম রেজার সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে সাড়া না দেওয়ায় তার বক্তব্য জানা যায়নি।

সুন্দরগঞ্জ থানার ওসি মো. তাজুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি এমপি মহোদয় আমাকে জানিয়েছেন। এ নিয়ে ইউএনও স্যারের সঙ্গে কথা হয়েছে। এত দিনে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা। অভিযোগের কপিটা দেন বিষয়টি আমরা দেখছি।

ইউএনও ঈফফাত জাহান তুলি বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থলে যাওয়ার পরে বালু উত্তোলন বন্ধ হওয়ার কথা। সেখানে আরও বেড়েছে, এটা হওয়ার কথা নয়। বাদীকে হুমকির বিষয়ে ইউএনও বলেন, বাদীকে থানায় অভিযোগ দিতে বলেন। আমি ওসিকে বলে দিচ্ছি।


জন্মদিনে নানা আয়োজনে শিল্পী সমীর মজুমদারকে স্মরণ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নড়াইল প্রতিনিধি

সমাধিতে শ্রদ্ধাঞ্জলী, গীতাপাঠ, স্মরণ সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, শিশুদের চিত্রাঙ্কণ প্রতিযোগিতা, আলোকসজ্জাসহ নানা আয়োজনে চিত্রশিল্পী সমীর মজুমদারের জন্মবার্ষিকী পালন করা হয়েছে। দুইটি পর্বে অনুষ্ঠানটি সাজানো হয়। রোববার (৮ মার্চ) সকালে প্রথম পর্ব ছিল নিজ বাড়ির আঙ্গিনার সমাধি চত্বরে। দ্বিতীয় পর্ব ছিল জেলা শিল্পকলা অ্যাকাডেমির হল রুমে। চিত্রশিল্পী সমীর মজুমদার স্মৃতি ও শিল্পচর্চ্চা পরিষদ এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

১৯৬৯ সালের ৬ মার্চ তিনি নড়াইল সদর উপজেলার আউড়িয়া ইউনিয়নের পঙ্কবিলা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। বাবা সুবোধ মজুমদার মাতা বিদ্যুৎ রানী মজুমদারের ঘর আলো করে আসা এই মানুষটি ছিলেন বিশ্বখ্যাত চিত্রশিল্পী এস,এম সুলতানের একনিষ্ঠ শিষ্য। তিনি ২০২৫ সালে ৩১ মে রাজধানীর একটি হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন।

বাল্য-শৈশব-কৈশোর কেটেছে বরেণ্য চিত্রশিল্পী এস.এম সুলতানের সান্নিধ্যে থেকে। চিত্রকলা বিদ্যা অর্জনসহ গুরুর বিভিন্ন কর্মকান্ডের আমৃত্যু সঙ্গী ছিলেন তিনি।

মৃত্যুর আগে তিনি তার নিজ বাড়ীতে ব্যতিক্রমী শিশুস্বর্গ প্রতিষ্ঠা করেন।


সোনারগাঁয়ে জামদানি তৈরিতে ব্যস্ত কারিগর ও শিল্পীরা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
সোনারগাঁ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি  

পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন জামদানি কারিগর ও শিল্পীরা শাড়ি তৈরি কাজে। উপজেলার বিভিন্ন এলাকার এখন শাড়ি তৈরির কাজ চলছে জামদানি শিল্পীদের ঘরে ঘরে কর্মযজ্ঞ। কেউ কাপড়ে সুতা তোলা, সুতা রং করা আবার কেউ শাড়ি বুনন ও নকশার কাজে সময় কাটছে। ঈদ ছাড়াও জামদানির কদর অন্যান্য কাপড়ের তুলনায় বেশি। ঈদ কাছাকাছি আসায় বেশি আয়ের আশায় বিভিন্ন জামদানি শিল্পীরা কেউ সুতা কাটছে, কেউ ব্যস্ত হাতে তাঁত টানছে, সুতা ভরছে, কেউবা সহযোগিতা করছে অন্যজনকে। নানা ডিজাইনের জামদানি শাড়ি তৈরি হচ্ছে। বাজারে এ শাড়ি ঢাকাই জামদানি নামে পরিচিত।

জানা যায়, সোনারগাঁয়ে প্রায় ৪টি ইউনিয়নের প্রায় চার সহস্রাধিক জামদানি তাঁত রয়েছে। এর মধ্যে মালিপাড়া, সাদিপুর, বাহ্মণবাওগাঁ, খেজুরতলা, তিলাব, বস্তল, কলতাপাড়া, কাহেনা, গনকবাড়ি, ওটমা, রাউৎগাঁও, নয়াপুর, কাজিপাড়া, চৌরাপাড়া, মুছারচর, শেকেরহাট, বাসাবো, উত্তর কাজিপাড়া, চেঙ্গাইন, খালপাড় চেঙ্গাইন, ভারগাঁও, কান্ধাপাড়া, ফিরিপাড়া, গণকবাড়ি, বাইশটেকি, আদমপুর, বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশনের কারুপল্লী এলাকায় উল্লেখযোগ্য। এখন ঈদকে সামনে রেখে এসব গ্রামের তাঁতি পরিবাররা সবাই জামদানি তৈরিতে ব্যস্ত। একটু ফিরে তাকানোর যেন সময় নেই তাঁতিদের। এখানকার জামদানি তাঁতিদের অধিকাংশ শিশু থেকে মধ্য বয়স্ক। তবে কম বয়সি তাঁতিরাই জামদানি শিল্পের সাথে বেশি জড়িত। জামদানিশিল্পীদের মধ্যে অর্ধেকের বেশি রয়েছে নারী। এ নারীদের হাতের নিখুঁত শৈল্পিকতায় তৈরি হয় জামদানি।

বাংলাদেশ বিশ্বে জামদানিশিল্পের একমাত্র দেশ হিসেবে ব্যাপক পরিচিতি। তবে জামদানিশিল্পের সোনালি দিন এখন আর নেই। সম্ভাবনা যতটুকু আছে তাও যেন হয়ে আসছে সংকুচিত। তবুও দিন দিন এ শিল্পে ধস নামতে শুরু করেছে। জামদানি উৎপাদনকারী শিল্পীরা হতাশাগ্রস্ত। তারা দাম পাচ্ছে না। জামদানিশিল্পীদের লাভের গুড় এখন খাচ্ছে পিঁপড়ায়। অধিকাংশ তাঁতিই মহাজনদের কাছে দেনার দায়ে বাধা। মহাজনদের দাদন গুণছে, পাচ্ছে শুধু মজুরি। সরাসরি তারা শাড়ি বাজারে নামাতে পারছে না। তাঁতিরা মহাজনদের কাছ থেকে সুতা নিয়ে যায়, তাদের দেওয়া নকশা অনুযায়ী শাড়ি তৈরি করে আনে। শাড়ি প্রতি মজুরি হিসেবে সপ্তাহের পর সপ্তাহ ধরে হাড়ভাঙা খাটুনির পর মজুরি পায় কম। ফলে শিল্পীরা উৎসাহ হারিয়ে ফেলেছে জামদানি তৈরিতে।

সূত্র জানায়, জামদানিই হচ্ছে বাংলার হারিয়ে যাওয়া মসলিনের বিকল্প প্রতিরূপ। অতীতের মসলিনের মতই, আজকের জামদানি শাড়ির শিল্প সৌন্দর্যের খ্যাতি বিশ্বজোড়া। কেবল দেশের বাজারেই নয় বিশ্ব বাজারেও জামদানির ব্যাপক চাহিদা গড়ে উঠেছে।

এদিকে আসন্ন ঈদকে সামনে রেখে সোনারগাঁয়ে বিভিন্ন এলাকায় জামদানিশিল্পী ও কারিগরদের বাড়িতে গেলে দেখা মেলে জামদানি তৈরির কাজের গতি। তারা এখন সবাই ব্যস্ত। কারিগরদের আয়ও বেড়েছে। ঈদকে সামনে রেখে জামদানি শাড়ির চাহিদা বেড়ে গেছে আগের তুলনায় অনেক বেশি। এ কারণে কারিগরদের রাতদিন কাজ করতে হচ্ছে। এসব শাড়ি বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ও ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অভিজাত দোকানে সরবরাহ করা হচ্ছে। কেউ সরাসরি কাপড় উৎপাদন করে, কেউ তাঁতি, কেউ সুতা বিক্রেতা, আবার কেউ কাপড় রপ্তানির কাজে জড়িত। তাঁতিরা সবাই যে যার কাজে ব্যস্ত। ঈদ উপলক্ষে বিপুল পরিমাণ বিক্রির লক্ষ্য নিয়ে পুরুষের পাশাপাশি নারীরাও শাড়ি বুনার কাজ করছেন।

জামদানি কারখানার মালিকরা জানান, আগে জামদানিশিল্পীরা শুধু শাড়ি তৈরিতেই সীমাবদ্ধ ছিলেন। তবে বর্তমানে জামদানিশিল্পে এসেছে নতুনত্ব। বর্তমানে শাড়ি তৈরির পাশাপাশি থ্রি-পিস, ওড়না, পাঞ্জাবি, পর্দার কাপড়ও তৈরি হচ্ছে। ঈদকে সামনে রেখে জামদানি শাড়ির চাহিদা বেড়ে গেছে আগের তুলনায় অনেক বেশি। এ ছাড়া ক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ী এবার আরও উন্নত এবং নতুন নতুন ডিজাইনের শাড়ি তৈরি করছেন এখানকার কারিগররা।

জামপুর ইউনিয়নের মালিপাড়া এলাকার জামদানি কারখানার মালিক শুক্কুর আলী জানান, নানা প্রতিকুলতার মাঝেও তাঁতিরা জামদানি উৎপাদন বন্ধ করেনি। তারা বিভিন্ন ডিজাইনের জামদানির ইঞ্চি পাইড়ে, করলা পাইড়, চালতা পাইড়, ইন্দুরা পাইড়, কচু পাইড়, বেলপাতা, কলকা, দুবলাডং এ ডিজাইনের জামদানি তৈরি করছে। এসব ডিজিইন বিভিন্ন দামে বিক্রি করে থাকে। তারা জানিয়েছেন এখানে ১,৮০০ টাকার নিচে কোনো জামদানি শাড়ি তৈরি হয় না। সর্বোচ্চ ৪৫ হাজার টাকা দামের শাড়িও এখানে তৈরি হয়। তবে এখন এ দামে অর্ডার পাওয়া যায় না। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে জামদানিশিল্প দেশের রপ্তানি খাতে বিশেষ অবদান রাখতে পারতেন।

বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশনের কারুপল্লীতে জামদানি কারিগর আবু তাহের বলেন, ‘এখন আর জামদানি কারিগররা ভালো নেই। সমস্যা জামদানি কারিগরগো। আমাগো যেই যেই সমস্যা আছে, সেই সমস্যাগুলাইন দূর কইরা সরকার সহযোগিতা করলে জামদানিশিল্প বাঁইচ্যা থাকব।’

জামদানি তাঁত মালিক ওয়াহিদুর রহমান বলেন, ‘পুঁজির অভাবে চাহিদা অনুযায়ী শাড়ি তৈরি করতে পারছে না। তবে পাইকারি ব্যবসায়ী ও ব্যক্তিগতভাবে সৌখিন ক্রেতাদের অর্ডার পাওয়ায় কারণে ব্যবসা টিকে রাখতে পারছেন। এ শিল্পের প্রসারের জন্য স্বল্প সুদে ঋণ প্রয়োজন।’

জামদানি কারিগর সুইটি ও আসাদুল ইসলাম জানান, একটি শাড়ি তৈরিতে এক সপ্তাহ থেকে দুই তিন মাস পর্যন্ত সময় লেগে যায়। সময় আর কাজের ওপর দাম নির্ভর করে। এ বস্ত্রের জমিন একাধিক রঙের হয়ে থাকে। জামদানি তাঁতিদের কোনো প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা নেই। তাদের রয়েছে বংশানুক্রমিক হাতে-কলমে অর্জিত জ্ঞান। এ শাড়ি যে কেউ তৈরি করতে পারে না। ভারতসহ পার্শ্ববর্তী দু-একটি দেশ বহুবার চেষ্টার পরও এ শিল্প রপ্ত করতে পরেনি। দিন দিন জামদানি শিল্পীদের সংখ্যা কমে যাচ্ছে। যারা মাথার ঘাম পায়ে ফেলে শাড়িগুলো তৈরি করে তাদের নিজের শরীরে কখনো জড়াতে পারে না এ জামদানি। আমরা স্বপ্ন দেখি একদিন এ শিল্প একদিন সমৃদ্ধ হবে।

সোনারগাঁ জামদানি তাঁতি সমিতির সভাপতি মো. সালাউদ্দিন বলেন, ‘বর্তমানে জামদানিশিল্পীদের খারাপ সময় যাচ্ছে। ভারতে জামদানি শাড়ি রপ্তানি করতাম। রাজনৈতিক কারণে বর্তমানের সম্ভব হচ্ছে না। জামদানিশিল্পে লাভের গুড় পিঁপড়ায় খাচ্ছে। সহজ-সরল নারী, অসচ্ছল ও নিরীহ প্রকৃত জামদানি তাঁতিদের আর্থিক দুর্বলতার সুযোগকে ষোল আনাই কাজে লাগাচ্ছেন এক শ্রেণির দাদন ব্যবসায়ী মহাজনরা। এ শিল্পকে সরকার ইইএফ ফান্ডের আওতায় আনতে পারলে দাদন ব্যবসায়ীদের দৌরাত্ম্য থাকবে না। সরকার জামদানিশিল্পে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা দিলে এ শিল্পটিকে বাঁচানো সম্ভব।’

সোনারগাঁ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসিফ আল জিনাত জানান, জামদানি সোনারগাঁয়ের ঐতিহ্য। মসলিনের পরেই তার অবস্থান। ঐতিহ্যবাহী জামদানিশিল্পকে টিকিয়ে রাখতে সহজ শর্তে ব্যাংক ঋণের ব্যবস্থা করার চেষ্টা করা হবে।


মাধবপুর  ৪৫ হাজার পরিবার পেল সায়হামের ইফতার সামগ্রি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মাধবপুর (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি

পবিত্র রমজান মাস উপলক্ষে হবিগঞ্জ-৪ (মাধবপুর-চুনারুঘাট) আসনের সংসদ সদস্য এবং সায়হাম গ্রুপের চেয়ারম্যান সৈয়দ মো. ফয়সলের নির্দেশনায় মাধবপুর ও চুনারুঘাট উপজেলায় ইফতার সামগ্রী বিতরণ করা হচ্ছে। এবার রমজান মাসে প্রায় ৪৫ হাজার অসচ্ছল ও নিম্নআয়ের পরিবারের মাঝে ইফতার সামগ্রী পৌঁছে দেওয়া হয়।

রোববার (৮ মার্চ) সকালে মাধবপুর উপজেলার বাঘাসুরা ইউনিয়নে আনুষ্ঠানিকভাবে ইফতার সামগ্রী বিতরণ করা হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সায়হাম গ্রুপের পরিচালক সৈয়দ মো. সেলিম, মাধবপুর উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা কামাল বাবুল, বিএনপি নেতা সহিদ মেম্বার, গিয়াসউদ্দিন তালুকদার, আব্দাল আহমেদ, ছাত্রদল নেতা মারুফ আহমেদসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।

ইফতার সামগ্রী পেয়ে উপকারভোগীরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। বাঘাসুরা গ্রামের সুফিয়া বিবি নামে এক নারী বলেন, আমরা অনেকেই আছি যারা কষ্ট করে সংসার চালাই। রমজান মাসে ইফতারির জিনিস কেনাও কঠিন হয়ে যায়। কিন্তু এবার সংসদ সদস্য সৈয়দ মো. ফয়সল আমাদের হাতে ইফতার সামগ্রী পৌঁছে দিয়েছেন। এতে আমাদের অনেক উপকার হয়েছে। আমরা খুব খুশি।

সায়হাম গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী সৈয়দ ইশতিয়াক আহমেদ বলেন, মানুষের কল্যাণে কাজ করাই আমাদের মূল লক্ষ্য। আমরা চাই সমাজে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ ও কর্মসংস্থানের সুযোগ আরও বাড়ুক। মাদকমুক্ত, সুস্থ ও সৌহার্দপূর্ণ পরিবেশে সবাই যেন শান্তিতে বসবাস করতে পারে—এই লক্ষ্য নিয়েই আমরা কাজ করে যাচ্ছি।


টঙ্গীতে রিয়েল এস্টেট কার্যালয়ে গুলিবর্ষণ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
টঙ্গী (গাজীপুর) প্রতিনিধি

গাজীপুরের টঙ্গীর সাতাইশ এলাকায় ‘মায়ের দোয়া রিয়েল এস্টেট’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের কার্যালয়ে গুলিবর্ষণের ঘটনায় চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে। গত শনিবার (৭ মার্চ) রাত আটটার দিকে দুর্বৃত্তরা ওই প্রতিষ্ঠানের মালিকের খোঁজ জানতে চেয়ে নিরাপত্তাকর্মীকে জিজ্ঞাসাবাদ করে এবং যাওয়ার সময় তিন রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুঁড়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করে।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও অফিসের গেটে দায়িত্বরত নিরাপত্তাকর্মী নান্টু জানান, শনিবার (৭ মার্চ) রাতে দুইজন ব্যক্তি হঠাৎ অফিসের সামনে এসে তাকে ডেকে পাশের একটি অন্ধকার স্থানে নিয়ে যায়। সেখানে তারা প্রতিষ্ঠানের মালিক কামরুল ইসলাম সম্পর্কে বিভিন্ন আপত্তিকর ও সন্দেহজনক প্রশ্ন করতে থাকে।

নান্টু আরো বলেন, “তাদের কথাবার্তা ও আচরণ সন্দেহজনক মনে হওয়ায় আমি প্রতিবাদ করি। আমি বলি, একজন সম্মানিত ব্যক্তির নাম নিয়ে এভাবে কথা বলা ঠিক নয়। এতেই তারা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে এবং কোমর থেকে পিস্তল বের করে পরপর তিন রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়ে।”

গুলির শব্দ শুনে স্থানীয় লোকজন ও ব্যবসায়ীরা ছুটে এসে দুর্বৃত্তদের ধাওয়া দেয়। তবে ভিড়ের সুযোগ নিয়ে তারা দ্রুত এলাকা ত্যাগ করে। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় টঙ্গী পশ্চিম থানা পুলিশ।

ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে টঙ্গী পশ্চিম থানার ওসি আরিফুর রহমান বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। সেখান থেকে আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। ঠিক কী কারণে বা কারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে, তা উদ্ঘাটনে কাজ করছে পুলিশ।

ওসি আরও জানান, এ ঘটনায় তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে জড়িতদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।

এদিকে জনবহুল এলাকায় এমন গুলিবর্ষণের ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে উদ্বেগ বিরাজ করছে।


সংযোগ সড়ক না থাকায় অচল সেতু, ভোগান্তিতে ২০ গ্রামের মানুষ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি

বরগুনার আমতলী উপজেলার গুলিশাখালী খালের ওপর নির্মিত একটি গার্ডার সেতু সংযোগ সড়ক না থাকায় প্রায় দুই বছর ধরে অচল অবস্থায় পড়ে আছে। ফলে গুলিশাখালী, কুকুয়া ও চাওড়া ইউনিয়নের অন্তত ২০টি গ্রামের প্রায় ৪০ হাজার মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।

আমতলী উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, তিনটি ইউনিয়নের সংযোগস্থল আমড়াগাছিয়া বাজারের পশ্চিম পাশে গুলিশাখালী খালের ওপর ৬৬ মিটার দৈর্ঘ্য ও ৬ দশমিক ৭৭ মিটার প্রস্থের একটি গার্ডার সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। ২০২৩ সালে বরগুনা এলজিইডি কার্যালয় এ সেতু নির্মাণের জন্য দরপত্র আহ্বান করলে কাজটি পায় বরিশালের মেসার্স কহিনুর এন্টারপ্রাইজ অ্যান্ড ত্রিপুরা জেভি নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। একই বছরের ১৯ মে কার্যাদেশ পেয়ে সেতুর নির্মাণকাজ শুরু করে প্রতিষ্ঠানটি।

প্রকল্প অনুযায়ী ৬ কোটি ২২ লাখ ৫৮ হাজার ৩২৩ টাকা ব্যয়ে সেতুটি নির্মাণের চুক্তি করা হয়। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি নির্ধারিত সময়ের আগেই ২০২৪ সালের জুন মাসে মূল সেতুর নির্মাণকাজ সম্পন্ন করে। তবে বিপত্তি দেখা দেয় সংযোগ সড়ক নির্মাণ নিয়ে। সেতুর পশ্চিম পাশের ঢালের মাত্র পাঁচ ফুট দূরেই রয়েছে পূর্ব খেকুয়ানি গুচ্ছগ্রামের একটি কার্পেটিং সড়ক। সেতুর নির্ধারিত উচ্চতা অনুযায়ী সংযোগ সড়ক নির্মাণ করলে ওই সড়কটি বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ জটিলতার কারণে প্রায় ১১ মাস ধরে সেতুটি সংযোগ সড়ক ছাড়াই পড়ে আছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, সেতুর পশ্চিম পাশে সংযোগ সড়ক না থাকায় স্থানীয় গ্রামবাসী গাছ দিয়ে তৈরি একটি অস্থায়ী মই বানিয়ে পারাপার করছেন। সেই মই বেয়ে নারী, শিশু ও বৃদ্ধরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সেতু পার হচ্ছেন। ফলে প্রতিদিনই দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে স্থানীয়দের। এই সেতুর ওপর দিয়ে গুলিশাখালী ইউনিয়নের পূর্ব খেকুয়ানি, গুলিশাখালী, ডালাচারা, বাইবুনিয়া ও কলাগাছিয়া গ্রামের শত শত মানুষ আমতলী সদরসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে যাতায়াত করেন। একইভাবে চাওড়া ও কুকুয়া ইউনিয়নের মানুষও এই সেতু ব্যবহার করে গুলিশাখালী ইউনিয়নে যাতায়াত করেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সেতু নির্মাণের সময় খালের মাঝখানে যে পাইলিং করা হয়েছিল তা এখনো অপসারণ করা হয়নি। এতে খালের স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ ব্যাহত হচ্ছে এবং নৌযান চলাচলেও সমস্যা দেখা দিচ্ছে।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি মো. কাওছার মিয়া বলেন, নির্ধারিত সময়ের আগেই মূল সেতুর নির্মাণকাজ শেষ করা হয়েছে। সংযোগ সড়ক নির্মাণের জন্য আলাদা দরপত্র আহ্বান করা হবে। ডিজাইন পরিবর্তনের কারণে কাজ বিলম্বিত হচ্ছে।

বরগুনা জেলা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মেহেদী হাসান খান বলেন, জনভোগান্তির বিষয়টি আমরা জানি। আগের ঠিকাদারকে বাতিল করে নতুন করে ঠিকাদার নিয়োগের জন্য প্রস্তাব ঢাকা কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি চূড়ান্ত হলে দ্রুত সমস্যার সমাধান করা হবে।


বেড়ায় জ্বালানি তেলের দাম বেশি নেওয়ায় জরিমানা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
পাবনা প্রতিনিধি

পাবনার বেড়া উপজেলায় জ্বালানি তেলের বাজার নিয়ন্ত্রণে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালিত হয়েছে। রোববার (৮ মার্চ) উপজেলার নাকালিয়া বাজারে এই অভিযান চালানো হয়। সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে তেল বিক্রি করার অপরাধে নূর আলম নামের এক ব্যবসায়ীকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে জ্বালানি তেল বিক্রি করছেন—এমন সংবাদের ভিত্তিতে নাকালিয়া বাজারে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযান চলাকালীন নূর আলম নামের এক খুচরা বিক্রেতা প্রতি লিটার তেল ১৩০ টাকা দরে বিক্রি করছিলেন, যা সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে অনেক বেশি। পরে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯ এর ৪০ ধারায় তাকে ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

অভিযানটি পরিচালনা করেন বেড়া উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নুরেন মায়িশা খান।

অভিযান চলাকালীন প্রশাসনের উপস্থিতি টের পেয়ে বাজারের অন্যান্য জ্বালানি তেলের দোকানগুলো বন্ধ করে ব্যবসায়ীরা সটকে পড়েন। ফলে অন্য দোকানগুলোতে তাৎক্ষণিক অভিযান চালানো সম্ভব হয়নি। তবে ম্যাজিস্ট্রেট উপস্থিত জনসাধারণের সাথে কথা বলেন এবং জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান নিয়মিত অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেন।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নুরেন মায়িশা খান বলেন, "জ্বালানি তেলের বাজার স্থিতিশীল রাখতে এবং সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমাতে আমরা নিয়মিত কাজ করছি। কোনো অসাধু ব্যবসায়ীকে জনস্বার্থ বিঘ্নিত করতে দেওয়া হবে না। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে পর্যায়ক্রমে উপজেলার প্রতিটি বাজারে এ ধরনের অভিযান চালানো হবে। উপজেলা প্রশাসন সাধারণ মানুষের যেকোনো সমস্যায় সবসময় পাশে আছে।"


নন্দীগ্রামে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা, ফিলিং স্টেশন পরিদর্শন

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নন্দীগ্রাম (বগুড়া) প্রতিনিধি

বগুড়ার নন্দীগ্রামে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রোহান সরকার ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনাসহ ফিলিং স্টেশন পরিদর্শন করেছেন।

পবিত্র মাহে রমজান মাসে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য স্থিতিশীল রাখার লক্ষ্যে রবিবার (৮ মার্চ) দুপুরে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রোহান সরকার নন্দীগ্রাম উপজেলার কুন্দারহাটে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে নির্ধারিত মূল্যের অধিক দামে পণ্য বিক্রয় না করার বিষয়ে ব্যবসায়ীদের সতর্ক করে দেন। পরবর্তীতে নন্দীগ্রাম উপজেলার বুড়ইল ইউনিয়নের আইলপুনিয়ায় গ্রামে একটি বিস্কুট ও চানাচুর তৈরির কারখানায় নোংরা অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বিএসটিআই অনুমোদন ব্যতীত খাবার সামগ্রী উৎপাদন করায় সেখানে তিনি ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করে আইলপুনিয়া গ্রামের মৃত হারুনুর রশিদের স্ত্রী রেনুকা বেগম (৫০) কে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করেন।

এরপর জ্বালানী তেলের মজুদ, বিক্রয় ও ব্যবস্থাপনা মনিটরিংয়ের উদ্দেশ্যে নন্দীগ্রাম উপজেলার বিভিন্ন ফিলিং স্টেশন পরিদর্শন করেন তিনি। পরিদর্শনকালে জ্বালানী তেলের মজুদের হিসাব সঠিকভাবে সংরক্ষণ, গ্রাহকদের নিকট বিক্রয়ের রশিদ প্রদান করা, অতিরিক্ত দামে জ্বালানী তেল বিক্রয় না করা, বিক্রয়ের ক্ষেত্রে সরকার কর্তৃক নির্ধারিত সীমা বজায় রাখাসহ প্রযোজনীয় নির্দেশনা দেন। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনায় প্রসিকিউটর ছিলেন খাদ্য পরিদর্শক আবু মুসা সরকার। সেসময় সহযোগিতা করেন নন্দীগ্রাম থানা পুলিশ।

এতথ্য নিশ্চিত করেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রোহান সরকার। তিনি বলেন, প্রত্যেক ব্যবসায়ীর আইন মেনে ব্যবসা করতে হবে। অন্যথায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


ত্রিশালে যথাযোগ্য মর্যাদায় আন্তর্জাতিক নারী দিবস পালিত

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ত্রিশাল (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি

টেকসই উন্নয়নে নারী, সুরক্ষিত হবে পৃথিবী এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে ময়মনসিংহের ত্রিশালে বর্ণাঢ্য আয়োজনে আন্তর্জাতিক নারী দিবস ২০২৬ পালিত হয়েছে। পরিবেশ সংরক্ষণ ও জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় নারীর ভূমিকা জোরদার করার লক্ষ্যে রবিবার (৮ মার্চ) সকালে বিভিন্ন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

বিশ্ব ব্যাংক ও পিকেএসএফ-এর অর্থায়নে এবং বাসা ফাউন্ডেশনের বাস্তবায়নে ‘স্মার্ট’ প্রকল্পের আওতায় ইকো ইয়ুথ মডেল পরিবেশ ক্লাবের উদ্যোগে ত্রিশাল ফিশারী রোড এলাকায় একটি সচেতনতামূলক র‍্যালি বের করে। র‍্যালিটি এলাকার প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে পরিবেশ রক্ষায় নারীর অংশগ্রহণের গুরুত্ব তুলে ধরে।

র‍্যালি শেষে টেকসই উন্নয়নে নারীর নেতৃত্ব ও জলবায়ু চ্যালেঞ্জ নিয়ে একবিশেষ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। বাসা ফাউন্ডেশনের এজিএম মো: জাকির হোসেন বলেন পরিবার ও সমাজে প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবস্থাপনা এবং কৃষি উৎপাদনে নারীরাই মূল কারিগর। তাদের বাদ দিয়ে টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়।"স্মার্ট প্রকল্পের কর্মকর্তা মো: শহিদুল ইসলাম বাপ্পি নারী নেতৃত্বের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, "জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব নারীদের ওপর সরাসরি পড়ে। তাই পরিবেশ রক্ষা পরিকল্পনায় নারীদের অভিজ্ঞতা ও জ্ঞানকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।" স্মার্ট প্রকল্প ব্যবস্থাপক মো: সাথীল তালুকদার বলেন, পরিবেশ সুরক্ষা ও নারীর ক্ষমতায়ন একে অপরের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পৃক্ত। নারীদের অংশগ্রহণ ও নেতৃত্ব নিশ্চিত করা গেলে পরিবেশ রক্ষা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় আরও কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ সম্ভব হবে।

পরিশেষে, আলোচনা সভায় অংশগ্রহণকারীরা পরিবেশবান্ধব জীবনযাপন ও টেকসই কৃষিতে নারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ বাড়ানোর ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। দিবসের কর্মসূচিতে পরিবেশকর্মী ও বিপুল সংখ্যক নারী উদ্যোক্তা উপস্থিত ছিলেন।


জয়পুরহাটে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট, ভোগান্তিতে যানবাহন চালকরা

জ্বালানি নেই এজন্য বন্ধ রাখা হয়েছে ফিলিং স্টেশন। রোববার দুপুরে জয়পুরহাট তাজ ফিলিং স্টেশন থেকে তোলা। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা

জয়পুরহাট জেলায় বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। এতে করে অনেক পাম্পে তেল বিক্রি সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে গেছে বলে জানা গেছে। ফলে মোটরসাইকেলসহ অন্যান্য যানবাহনের চালকরা ও সাধারণ মানুষরা চরম ভোগান্তির মুখে পড়েছেন। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে দ্রুত তেল সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

সরেজমিনে দেখা যায়, রোববার (৮ মার্চ) সকাল থেকে জেলা সদর ও উপজেলার বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে পেট্রোল, অকটেন ও ডিজেলের সরবরাহ কমে যাওয়ায় বেশ কয়েকটি পাম্পে তেল শেষ হয়ে যায়। এতে তেল বিক্রি বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছে কর্তৃপক্ষ। আবার অনেক চালক তেল নিতে এসে না পেয়ে খালি হাতে ফিরে যাচ্ছেন।

মোটরসাইকেল চালক মো. রিয়াজ উদ্দিন বলেন, প্রতিদিন প্রায় ৫০ কিলোমিটার মোটরসাইকেল চালাতে হয়। তেল রিজার্ভে গেছে। তাই স্বাভাবিক ভাবেই অন্য দিনের মতো ২০০ টাকার অকটেন তুলতে গেলাম কিন্তু পাম্পে তেল নেই । নিশ্চিন্তা, বটতলী, জয়পুরহাট কোনো পাম্পে তেল নেই। আমার মোটরসাইকেল আর ২০ কিলোমিটারের মতো চলবে, তারপর বন্ধ হবে। তখন আমার কাজ ও বন্ধ করে ঘরে বসে থাকা ছাড়া আর কোন উপায় নেই।

আরেক মোটরসাইকেল চালক সাব্বির হোসেন বলেন, যদি পেট্রোল ও অকটেনের প্রায় পুরোটাই দেশে উৎপাদন হয় তাহলে পাম্পে তেল পাচ্ছি না কেন? যে পাম্পে যায় সেই পাম্পে বলে তেল নেই। এদিকে নিউজে দেখছি তেলের কোন সংকট নেই। মন্ত্রী সাহেবও বলছেন, তেলের কোন সংকট নেই।

ফিলিং স্টেশন সংশ্লিষ্টরা জানান, তেল সরবরাহ আজ বন্ধ থাকার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান অস্থিরতার কারণে সরবরাহে ব্যাঘাত ঘটতে পারে এমন আশঙ্কা থেকেই এই সংকট তৈরি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এদিকে তেলের সংকটের কারণে মোটরসাইকেলসহ অন্যান্য যানবাহনের চলাচল কমে গেছে। এতে করে কর্মজীবী মানুষ, যাত্রী ও পরিবহন সংশ্লিষ্টদের মধ্যে উদ্বেগ ও ভোগান্তি বাড়ছে।

তবে কিছু ফিলিং স্টেশন কর্তৃপক্ষ দাবি করছেন, তাদের কাছে তেল নেই বলেই বিক্রি বন্ধ রাখা হয়েছে। যদিও স্থানীয়দের একটি অংশের অভিযোগ, প্রকৃতপক্ষে পর্যাপ্ত তেল থাকা সত্ত্বেও আতঙ্ক সৃষ্টি হওয়ার কারণে কিছু পাম্প তেল বিক্রি বন্ধ রেখেছে।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।


কমলগঞ্জে নারী দিবস ও গণতান্ত্রিক মহিলা সমিতির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মৌলভীবাজার প্রতিনিধি

‘সমঅধিকার ও সমমর্যাদাসহ নারীমুক্তির আন্দোলনকে সমাজব্যবস্থার সামগ্রিক বৈপ্লবিক পরিবর্তনের লক্ষ্যে অগ্রসর করুন’—এই আহ্বানে মৌলভীবাজারে পালিত হয়েছে আন্তর্জাতিক নারী দিবস ও গণতান্ত্রিক মহিলা সমিতির ৩২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী।

রোববার (৮ মার্চ) সকাল সাড়ে ১১টায় কমলগঞ্জ উপজেলার শমসেরনগরস্থ চা-শ্রমিক সংঘের কার্যালয়ে গণতান্ত্রিক মহিলা সমিতি মৌলভীবাজার জেলা শাখার উদ্যোগে এই আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। ১১৬তম আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এই সভায় সভাপতিত্ব করেন নারী চা-শ্রমিক নেত্রী লক্ষীমনি বাক্তি।

আলোচনা সভায় বক্তারা বর্তমান সমাজে নারী শ্রমিকদের বঞ্চনার চিত্র তুলে ধরে বলেন, উৎপাদন ও অর্থনীতির প্রতিটি ক্ষেত্রে নারীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও তারা আজও ন্যায্য অধিকার ও সামাজিক মর্যাদা থেকে বঞ্চিত। বিশেষ করে চা-বাগান, গার্মেন্টস, নির্মাণ ও কৃষিখাতে নিয়োজিত নারী শ্রমিকরা কঠোর পরিশ্রমের বিনিময়ে সমমজুরি পাচ্ছেন না।

সভায় বক্তব্য রাখেন জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট, মৌলভীবাজার জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক রজত বিশ্বাস, বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘ, মৌলভীবাজার জেলা শাখার সভাপতি, মো. নুরুল মোহাইমীন, চা-শ্রমিক সংঘ, মৌলভীবাজার জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক হরিনারায় হাজারা।

এছাড়াও বক্তব্য দেন নারী নেত্রী স্বপ্না গোয়ালা, কাজলী হাজরা, শেফালী রেলী এবং চা-শ্রমিক নেতা সুভাষ গৌড় ও সমীরণ রবিদাসসহ আরও অনেকে।

বক্তারা দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, পরিবহন ও বাড়িভাড়া বৃদ্ধিতে সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস ওঠার বিষয়টি উল্লেখ করে বলেন, এর ফলে শ্রমজীবী নারীরা চরম জীবন সংকটে পড়েছেন। একইসাথে ক্রমবর্ধমান নারী নির্যাতন, ধর্ষণ ও পাচারের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে তারা কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা ও মজুরি বৈষম্য দূর করার দাবি জানান।

পরিশেষে, বক্তারা নারী-পুরুষের ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের মাধ্যমে একটি শোষণমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।


সিদ্ধিরগঞ্জে ছিনতাইকালে গণপিটুনিতে যুবক নিহত, পুড়িয়ে দেওয়া হলো মোটরসাইকেল

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি

নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে ছিনতাইয়ের চেষ্টার সময় গণপিটুনিতে এক অজ্ঞাতপরিচয় তরুণ (২৬) নিহত হয়েছেন। রোববার (৮ মার্চ) সকাল ৬টার দিকে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের জালকুড়ি কড়ইতলা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ সময় ছিনতাইকারীদের ব্যবহৃত একটি মোটরসাইকেলও আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দিয়েছে বিক্ষুব্ধ জনতা। তবে নিহত তরুণের সঙ্গে থাকা আরও দুই সহযোগী পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, একটি মোটরসাইকেলে করে তিনজন ছিনতাইকারী এসে এক পথচারীর গতিরোধ করে এবং তাঁর মূল্যবান জিনিসপত্র ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। ওই পথচারীর চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে ছিনতাইকারীদের ধরার চেষ্টা করে। এ সময় ছিনতাইকারী দলের দুজন দৌড়ে পালিয়ে যেতে পারলেও একজন জনতার হাতে ধরা পড়েন। উত্তেজিত জনতা তাঁকে গণধোলাই দিলে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। এরপর জনতা ছিনতাইকারীদের ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটিতে আগুন ধরিয়ে দেয়।

সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মহম্মদ আব্দুল বারিক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, খবর পাওয়ার পর পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। তবে পুলিশ পৌঁছানোর আগেই গণপিটুনিতে ওই যুবকের মৃত্যু হয়। নিহত তরুণের নাম-পরিচয় এখনও জানা যায়নি; তাঁর পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চালাচ্ছে পুলিশ। বর্তমানে পুলিশ ঘটনাস্থলে অবস্থান করছে এবং মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। পালিয়ে যাওয়া অন্য দুই ছিনতাইকারীকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান চালানো হবে বলেও তিনি জানান।


banner close