সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
২০ মাঘ ১৪৩২

ঘূর্ণিঝড় ‘রেমাল’ মোকাবিলায় জেলায় জেলায় প্রস্তুতি

মোংলায় ঘূর্ণিঝড় নিয়ে সচেতন করতে কোস্টগার্ডের মাইকিং। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড
২৬ মে, ২০২৪ ০৫:১৯
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত : ২৬ মে, ২০২৪ ০৫:১৮

বঙ্গোবসাগরে থাকা গভীর নিম্নচাপটি ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেওয়ায় তা ‘রেমালে’ পরিণত হয়েছে। আজ রোববার মধ্যরাতে এটি আঘাত হানার আশঙ্কা করছেন আবহাওয়াবিদরা। এ জন্য দেশের ছয় জেলাকে ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলার জন্য বিশেষভাবে প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দিয়েছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. মহিববুর রহমান। এ ঘূর্ণিঝড় নিয়ে এ পর্যন্ত প্রাপ্ত পূর্বাভাস ও ভূমি অতিক্রমের সম্ভাব্য এলাকার ভিত্তিতে এ নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জেলাগুলো হলো সাতক্ষীরা, বাগেরহাট, খুলনা, বরগুনা, পটুয়াখালী ও ভোলা।

গতকাল ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় প্রস্তুতি সভায় প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘গত ১৫ বছরে ঘূর্ণিঝড়সহ সব দুর্যোগে তার নিবিড় পর্যবেক্ষণ ও নির্দেশনায় আমরা যথাসময়ে প্রস্তুতি নিয়ে মানুষের দুর্দশা লাঘব এবং জীবন ও সম্পদের ক্ষতি কমাতে সক্ষম হয়েছি। এ ঘূর্ণিঝড়টিও যাতে একই ধারাবাহিকতায় সফলভাবে মোকাবিলা করতে পারি তার জন্য আমরা প্রস্তুত রয়েছি।’

প্রতিমন্ত্রী মুহিববুর রহমান বলেন, ‘আমরা ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোর জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারদের সঙ্গে কথা বলে স্থানীয় প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য নির্দেশনা দিয়েছি। উপকূলবর্তী সব জেলাকে ঘূর্ণিঝড়ের জন্য প্রস্তুতি নিতে বলা হয়েছে। এ পর্যন্ত প্রাপ্ত পূর্বাভাস ও সম্ভাব্য ভূমি অতিক্রম এলাকার ভিত্তিতে সাতক্ষীরা, বাগেরহাট, খুলনা, বরগুনা, পটুয়াখালী, ভোলা জেলাসমূহকে অধিকতর প্রস্তুত থাকার জন্য বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘এক সপ্তাহ ধরে এই ঝড়টির বিষয়ে আমরা খোঁজখবর রাখছি। বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করে নিয়মিতভাবে পূর্বাভাস দিচ্ছে এবং আগাম কার্যাবলি (অ্যান্টিসিপেটরি অ্যাকশন) ও সাড়া প্রদানে সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত দিয়ে সহযোগিতা করছে। আমরা ভারতে অবস্থিত আঞ্চলিক বিশেষায়িত আবহওয়া কেন্দ্রের সঙ্গেও নিয়মিত যোগাযোগ রাখছি। এর পাশাপাশি বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য আন্তর্জাতিক পূর্বাভাস মডেল নিয়মিত পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে সময়োপযোগী কার্যক্রম গ্রহণ করছি।’

সভায় প্রতিমন্ত্রী বলেন, এই ঘূর্ণিঝড়টি মোকাবিলায় সার্বক্ষণিক তথ্য বিনিময়ের লক্ষ্যে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের এনডিআরসিসি ২৪ ঘণ্টা খোলা রয়েছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর মানবিক সহায়তা ও ত্রাণ কার্যক্রম প্রেরণ শুরু করেছে। ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচির (সিপিপি) ৭৮ হাজার স্বেচ্ছাসেবক কয়েক দিন যাবৎ মাঠে আগাম সতর্কবার্তা প্রচারসহ আশ্রয়কেন্দ্র পরিদর্শন ও প্রস্তুতের কাজ করছে। মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্বে অ্যান্টিসিপেটরি অ্যাকশন টেকনিক্যাল ওয়ার্কিং গ্রুপ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ, বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ ও সাইক্লোন আর্লি অ্যাকশন প্রটোকল অনুসরণ করে প্রতিষ্ঠানভিত্তিক আগাম কার্যক্রম শুরু করেছে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ঘূর্ণিঝড়ের গতি-প্রকৃতি এবং আবহাওয়া অধিদপ্তর কর্তৃক বিপদ সংকেত জারি করা মাত্র মানুষকে আশ্রয়কেন্দ্রে আনা হবে। দুর্যোগবিষয়ক স্থায়ী আদেশাবলি অনুযায়ী স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানসমূহ এবং বিভিন্ন পর্যায়ের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটিগুলো কার্যকর হয়েছে।

ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতির অংশ হিসেবে সভায় কয়েকটি বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সেগুলো হলো আগাম সতর্কতার বিজ্ঞপ্তি প্রচার ও জনগণকে সচেতন করা, আগাম মানবিক কার্যাবলি গ্রহণ করা, মাঠ প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় ও বিভিন্ন পর্যায়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটিসমূহের সভা অনুষ্ঠান, সব পর্যায়ে নিয়ন্ত্রণকক্ষ খোলা, আশ্রয়কেন্দ্রগুলো প্রস্তুত করা, আশ্রয়কেন্দ্রে শুকনা খাবার, শিশু খাদ্য এবং গো-খাদ্যের ব্যবস্থা করা, জনগণকে আশ্রয়কেন্দ্রে আনার বিষয়ে প্রস্তুতি গ্রহণ। দুর্যোগ তথ্য পাওয়ার জন্য টোল ফ্রি ১০৯০ ব্যবহারের কথা বলা হয় সভায়। দৈনিক বাংলার বিভিন্ন জেলা প্রতিনিধিদের পাঠানোর সংবাদের ভিত্তিতে ‘রেমাল’ নিয়ে বিভিন্ন জেলার প্রস্তুতির সম্পর্কে জানা গেছে নানা তথ্য।

পিরোজপুর: বঙ্গোপসাগরে সৃষ্টি হতে যাওয়া ঘূর্ণিঝড় ‘রেমাল’ এর জন্য পিরোজপুরে প্রস্তুত করা হয়েছে ৫৬১ টি ঘূর্ণিঝড়ের আশ্রয়কেন্দ্র। যার মধ্যে ২৯৫ টি সাইক্লোন শেল্টার এবং ২৬৬ টি বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং এই আশ্রয়কেন্দ্রে ২ লাখ ৮০ হাজার ৫০০ জন মানুষ আশ্রয় নিতে পারবে।

শনিবার বিকেলে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের শহীদ আব্দুর রাজ্জাক সাইফ-মিজান সভাকক্ষে জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহেদুর রহমান এ তথ্য দেন।

সভায় জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহেদুর রহমান আরও জানান, ঘূর্নিঝড় রেমাল মোকাবিলায় একটি জেলা প্রশাসন থেকে একটি কন্টোলরুমসহ প্রতিটি উপজেলায় একটি টিম করা হয়েছে, ৬৫ টি মেডিকেল টিম প্রস্তুত রয়েছে, ২ লাখ ৬৩ হাজার পানি বিশুদ্ধ করণ ট্যাবলেজ মজুত রাখা হয়েছে, ঝড়ের ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য প্রাথমিক পর্যায়ে ১৩৫০ হাজার প্যাকেট শুকনা খাবার, ৬১১ মে. ট. চাল ও নগদ ৬ লক্ষ ১০ হাজার টাকা প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এছাড়াও দুর্যোগ পরিবর্তিতে ক্ষতিগ্রস্তদের ঘর মেরামতের জন্য ৯৭ বান্ডিল টিন রয়েছে। এ ছাড়া ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় রেডক্রিসেন্টের ২৫০ জন স্বেচ্ছাসেবক ও সিপিপি ২৪২০ জন সদস্য প্রস্তুত রয়েছে। রেমালের প্রভাবে পিরোজপুরের নদীসমূহে স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে বেশি পানি দেখা গেছে এবং জেলার কয়েক স্থানে হালাকা বৃষ্টি পড়েছে।

বরগুনা: বরগুনায় ঘূর্ণিঝড় রেমালের প্রভাবে গোমট আবহাওয়া বিরাজসহ নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এতে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন নদী তীরের বাসিন্দারা। শনিবার জেলার পায়রা, বলেশ্বর ও বিষখালী নদীর পানি স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় অন্তত তিন ফুট বেড়েছে বলে জানান নদী তীরের বাসিন্দারা। বরগুনা সদর উপজেলার বড়ইতলা এলাকায় গেলে দেখা যায়, পানিতে এখানকার বেড়িবাঁধের বাহিরের নিম্নাঞ্চল তলিয়ে গেছে। এখানে আশ্রয়কেন্দ্রের স্বল্পতা রয়েছে। তাই যা আছে তাতে সকলের স্থান সংকুলান হয় না। বরগুনার জেলা প্রশাসক মোহা. রফিকুল ইসলাম বলেন, দুপুরে জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা হয়েছে। সভার মাধ্যমে আমরা ঘূর্ণিঝড় মোকাবেলায় সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছি। এদিকে বরগুনার পানি উন্নয়ন বোর্ড জেলার বিভিন্ন স্থানে এক কিলোমিটার বেড়িবাঁধ ঝুঁকিপূর্ণ রয়েছে বলে জানিয়েছেন এবং এসব বাঁধ ভেঙ্গে গেলে তা তাৎক্ষণিকভাবে মেরামতের জন্য ৮০০ জিও ব্যাগ প্রস্তুত রাখা হয়েছে বলে জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় জানানো হয়েছে। জেলায় ঘূর্ণিঝড় ‘রেমাল’ মোকাবিলায় বরগুনায় ৬৭৩টি আশ্রয়কেন্দ্রসহ প্রায় ১০ হাজার স্বেচ্ছাসেবক প্রস্তুত রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ও জেলা মোহা. রফিকুল ইসলাম। শনিবার দুপুরে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির জরুরি প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়। দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় জেলা প্রশাসনসহ সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসক মোহা. রফিকুল ইসলাম জানান, ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। বরগুনায় ৩টি মুজিব কেল্লা, ৬৭৩টি আশ্রয়কেন্দ্রসহ প্রায় ১০ হাজার স্বেচ্ছাসেবক প্রস্তুত রাখা হয়েছে। যারা ঘূর্ণিঝড় পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সময়ে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করবেন। এ ছাড়া ৪২২ মেট্রিক টন খাদ্যশস্য, ৩৭ লাখ নগদ অর্থ প্রস্তুত রয়েছে। তিনি আরও জানান, ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকার জন্য জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ১০ টি কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে ৪২ টি মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে। দুর্যোগ প্রস্তুতি সভায় জেলা এনজিও ফোরামের সভাপতি মোতালেব মৃধা, প্রেসক্লাবের সভাপতি অ্যাডভোকেট মোস্তফা কাদের, রেডক্রিসেন্ট, দুর্যোগ প্রস্তুতি কর্মসূচি (সিপিপি), বিভিন্ন সরকারি, বেসরকারি সংস্থা ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত থেকে তাদের প্রস্তুতির বিষয় তুলে ধরেন।

মোংলা: ‘রেমাল’ প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়ে রোববার সন্ধ্যায় সুন্দরবন উপকূলে আঘাত হানবে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। মোংলা আবাহওয়া অফিসের ইনচার্জ মো. হারুন অর রশিদ জানান, এটি বর্তমান যেই অবস্থান দেখাচ্ছে তাতে ঘূর্ণিঝড়ের কেন্দ্রটি বাংলাদেশের ওপর দিয়েই অতিক্রম করার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে সুন্দরবন এলাকা এবং বরিশালের পটুয়াখালী, বরগুনা, ও ভোলা জেলায় রেমাল এর আঘাত হানার সম্ভাবনা বেশি রয়েছে।

এদিকে ঘূর্ণিঝড় রেমালের প্রভাবে সাগর উত্তাল থাকায় এরই মধ্যে মোংলা সমুদ্র বন্দরকে ৭ নম্বর সতর্ক সংকেত জারি করেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। ঘূর্ণিঝড় রেমালের প্রভাবে সব রকম সতর্কমূলক প্রস্তুতি নিয়েছে মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ। কোস্ট গার্ড, নৌ বাহিনী ও উপজেলা প্রশাসনের সমন্বয়ে শনিবার দুপুরে মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের সভাকক্ষে জরুরি বৈঠক করা হয়েছে।

বন্দর কর্তৃপক্ষের হারবার মাস্টার কমান্ডার সাইফুর রহমান বলেন, মোংলা বন্দরে এই মুহূর্তে সিমেন্টের কাঁচামাল ক্লিংকার, সার, পাথর ও গ্যাসবাহী ছয়টি জাহাজ অবস্থান করেছে। সেগুলোকে নিরাপদে নোঙ্গর করতে বলা হয়েছে। এদিকে ঘূর্ণিঝড় ‘রেমাল’ মোকাবিলায় সব রকম প্রস্ততি নিয়েছে উপজেলা প্রশাসনও। উপজেলা নির্বাহী অফিসার নিশাত তামান্না বলেন, ১০৩ টি আশ্রয়কেন্দ্রসহ ১৩২০জন স্বেচ্ছাসেবক প্রস্তুত রাখা হয়েছে। আবহাওয়া অফিস থেকে ঘূর্ণিঝড়ের সংকেত বাড়ানোর সঙ্গে সঙ্গেই আমাদের কার্যক্রমের গতি বাড়ানো হবে। কন্ট্রোল রুমও খোলা হয়েছে।

এদিকে মোংলা উপকূলে সচেতনতামূলক মাইকিং করেছে কোস্ট গার্ডের সদস্যরা। শনিবার সকাল থেকে ঘণ্টাব্যাপী মোংলার পশুর বিভিন্ন স্থানে এ প্রচার মাইকিং করা হয়।

মোংলা কোস্ট গার্ড পশ্চিম জোনের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট মো. মুনতাসীর ইবনে মহসীন জানান, সকাল থেকে সুন্দরবন লাঘোয়া মোংলা উপকূলের ঝুঁকিপূর্ণ বিভিন্ন এলাকায় প্রচার মাইকিং করেন কোস্ট গার্ড সদস্যরা।

বাগেরহাট: ঘূর্ণিঝড় রেমাল ধেয়ে আসার খবরে উপকূলীয় জেলা বাগেরহাটের নদী তীরবর্তী এলাকায় বসবাস করা মানুষের মাঝে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। এরই মধ্যে শনিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে শুরু হয়েছে বৃষ্টিপাত। তবে সকাল থেকে আকাশ কখনো রোদ আবার কখনো মেঘাচ্ছন্ন হচ্ছে। নদীতে থাকা মাছ ধরা ট্রলার গুলো উপকূলের ছোট ছোট খালে আশ্রয় নিয়েছে। কোস্টগার্ডের পক্ষ থেকে চালানো হচ্ছে জনসচেতনামূলক প্রচার-প্রচারণা। এরই মধ্যে রেমাল মোকাবেলায় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সকল ধরনের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে।

বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক মো. খালিদ হোসেন বলেন, ঘূর্ণিঝড় রেমাল মোকাবেলায় বাগেরহাটে ৩৫৯টি আশ্রয় কেন্দ্রে ও ৩ হাজার ৫শ ৫ জন স্বেচ্ছাসেবক প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এ ছাড়া ৬৪৩ মেট্রিকটন চাল ও ৫লক্ষ ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। জেলার ৯টি উপজেলার সকল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের সতর্ক থাকতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের সকল কর্মকর্তাদের ছুটি বাতিলের পাশাপাশি উপকূলের ঝুঁকিপূর্ণ বেরিবাধ এলাকায় গুলো নজরদারিতে রাখা হয়েছে।

পটুয়াখালী: জেলায় রেমাল মোকা‌বেলায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির প্রস্তু‌তি মূলক জরুরী সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার সকাল সাড়ে ১০টায় জেলা প্রশাসকের দরবার হলে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক নুর কুতুবুল আলম। সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান হাফিজুর রহমান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক যাদব সরকার। জেলা সিভিল সার্জন ডা. এসএম কবির হাসান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার যোবায়ের আহাম্মেদ।

গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. হারুন অর রশিদ, কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. নজরুল ইসলাম, পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফুর রহমান, পটুয়াখালী প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া রিদয়, সিপিপি, রেড ক্রিসেন্টসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

জেলা প্রশাসক জানান দুর্যোগ মোকাবিলায় জেলায় ৭০৩ টি সাইক্লোন শেল্টার ৩৫টি মুজিব কিল্লা, ৭৩০ মেট্রিক টন চাল, ১০ লক্ষ টাকার শিশু খাদ‌্য, ১০ লাখ টাকার গোখাদ‌্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এ ছাড় শুকনা খাবার র‌য়ে‌ছে ১৫০০ প‌্যা‌কেট। নগদ টাকা র‌য়ে‌ছে ২৪ লাখ ৭ হাজার টাকা ৫০০ টাকা।

এ সময় মানুষকে সচেতন ও দুর্যোগে উদ্ধার কাজ পরিচালনার জন্য রেডক্রিসেন্ট ও সিপিপির ৯ হাজার স্বেচ্ছাসেবককে প্রস্তুত থাকাসহ বিদ্যুৎ বিভাগ সড়ক বিভাগ ফায়ার সার্ভিসকে দিকনির্দেশনা প্রদান করেন জেলা প্রশাসক।

জেলায় মোট ৭৬টি মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে পর্যাপ্ত পরিমাণ স্যালাইন, ঔষধ ও পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট সংরক্ষিত রয়েছে। জেলায় ১৩০০ কিলোমিটার বেড়িবাঁধের মধ্যে ১০ কিলোমিটার ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। দুর্যোগের সময় কোথাও ভাঙন দেখা দিলে তা মেরামতের জন্য ১৬ হাজার জিও ব্যাগ রয়েছে বলে জানিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।

এদিকে জেলায় ৮৭ হাজার হেক্টর জমিতে রয়েছে মুগ ডাল এবং ২০ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো ধান রয়েছে বলে জানিয়েছে কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তর। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রফিউদ্দিন মোহাম্মদ যোবায়ের বলেন গুজোব মোকাবেলার জন্যে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে।

এদিকে কলাপাড়া উপকূলীয় অঞ্চলের জনগন, মৎস্যজীবি ও নৌযান সমূহকে ক্ষয়ক্ষতি থেকে রক্ষার জন্য জনসচেতনতা মূলক কার্যক্রম শুরু করেছে নিজামপুর কোষ্টগার্ড। শনিবার সকাল নয়টায় মৎস্য বন্দর আলীপুর- মহিপুরে মাইকিং ও লিফলেট বিতরন করে কোস্ট গার্ডের সদস্যরা। এসময় তারা খাপড়াভাঙ্গা নদীতে অবস্থানরত ট্রলার সমূহে থাকা জেলেদের ঘূর্নিঝড়ের সময় করনীয় সম্পর্কে দিক নির্দেশনা দেন।

ঝালকাঠি: জেলায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার বেলা ১১টায় জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ও জেলা প্রশাসক ফারাহ্ গুল নিঝুম। এ সভায় পুলিশ সুপার, স্বাস্থ্য, কৃষি, খাদ্য, শিক্ষা, দপ্তরের প্রধানগন এবং বিদ্যুৎ, ফায়ার সার্ভিস, পানি উন্নয়ন বোর্ড, সড়ক বিভাগ, রেডক্রিসেন্টসহ জেলা পর্যায়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা যোগ দেন।

সভায় জেলা প্রশাসক ফারাহ্ গুল নিঝুম বলেন, ঘূর্ণিঝড় ‘রেমাল’ মোকাবিলায় সর্বাত্মক প্রস্তুতি নেওয়া শুরু হয়েছে। এই কয় দিন সংশ্লিষ্ট সব পর্যায়ের কর্মকর্তাদের স্টেশন ত্যাগ না করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ঘূর্ণিঝড় ‘রেমাল’ মোকাবিলায় নির্ধারিত সাইক্লোন শেল্টারসহ আশ্রয়কেন্দ্রের জন্য সহ জেলার সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ব্যবহার উপযোগী করা হয়েছে।


১৮ কোটি লোকের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করা কঠিন: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম

দেশের ১৮ কোটি লোকের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করা কঠিন কাজ বলে মন্তব্য করে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেছেন, দেশের ১৮ কোটি মানুষের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করা অনেক কঠিন কাজ। তবে ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও উৎসবমুখর হবে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রস্তুতি বেশ ভালো।

রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) চট্টগ্রাম ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের লক্ষ্যে আয়োজিত আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি।

নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সহিংসতার বিষয়ে তিনি বলেন, যে সহিংসতার ঘটনা ঘটছে, সেগুলোর বেশিরভাগই নিজেদের দলের ভেতরে। কোনো অনুষ্ঠানে একজনকে দাওয়াত দিলে দুজন চলে আসে। তখন সিদ্ধান্তের অমিল হলে নিজেরাই লেগে যাচ্ছে। এজন্য জনসচেতনতা জরুরি।

প্রার্থীদের আচরণবিধি লঙ্ঘনের বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, প্রতিদিনই প্রার্থীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। দুয়েকটি আসনে ছোটখাটো লঙ্ঘন হচ্ছে না—তা নয়।

ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, নির্বাচনের সময় ইন্টারনেট খোলা থাকবে। কেউ বন্ধ করলে আমরা আইনগত ব্যবস্থা নেব। গুজব বা মিথ্যা সংবাদ ছড়ানো থেকে সবাইকে বিরত থাকতে হবে।

সাংবাদিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আগে সাংবাদিকরা স্বাধীনভাবে লিখতে বা প্রশ্ন করতে পারতেন না। এখন যেভাবে প্রশ্ন করতে পারছেন, তখন তা সম্ভব ছিল না। বর্তমান সরকার মত প্রকাশের স্বাধীনতা দিয়েছে। তবে মিথ্যা নয়, সত্য সংবাদ পরিবেশন করতে হবে।

নারীদের নিরাপত্তা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আপনারা এখানে যেভাবে নিরাপদ, নারীরাও ভোটকেন্দ্রে ঠিক সেভাবেই নিরাপদ থাকবেন।

এ সময় জঙ্গল সলিমপুরে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িত অনেককে আইনের আওতায় আনার কথাও জানান স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা।

তিনি আরও বলেন, চট্টগ্রামে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভালো রয়েছে। যেখানে যেরকম ব্যবস্থা নেওয়া দরকার সেখানে সেরকম নেওয়া হচ্ছে। কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে দেওয়া হবে না। সেনাবাহিনী, বিজিবি ও পুলিশ সমন্বিতভাবে কাজ করছে বলেও জানান তিনি।

এসময় উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীন ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা।


অপারেশন ডেভিল হান্ট ফেইজ-২ রাজধানীতে ১ দিনে গ্রেপ্তার ২৬

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীতে অপারেশন ‘ডেভিল হান্ট ফেইজ-২’ এর আওতায় গত একদিনে ২৬ জনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ।

গুলশান, সূত্রাপুর, মোহাম্মদপুর, খিলগাঁও, পল্টন, কলাবাগান, যাত্রাবাড়ী, কদমতলী ও হাতিরঝিল থানায় এই অভিযান চালানো হয়। এর মধ্যে গুলশান থানা একজন, সূত্রাপুর থানা চারজন, মোহাম্মদপুর থানা একজন, খিলগাঁও থানা তিনজন, পল্টন থানা পাঁচজন, কলাবাগান থানা একজন, যাত্রাবাড়ী সাতজন, কদমতলী থানা তিনজন ও হাতিরঝিল থানা একজনকে গ্রেপ্তার করেছে।

গুলশান থানার বিভিন্ন অপরাধপ্রবণ এলাকায় অপারেশন ডেভিল হান্ট এর অংশ হিসেবে দিনব্যাপী অভিযান পরিচালনা করে একজনকে গ্রেপ্তার করে। তার নাম মো. ইব্রাহিম।

অপরদিকে সূত্রাপুর থানার বিভিন্ন অপরাধপ্রবণ এলাকায় অপারেশন ডেভিল হান্ট এর অংশ হিসেবে দিনব্যাপী অভিযান পরিচালনা করে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরা হলো- রাব্বি হাসান, মাসুম ইফাদ, মুন শিকদার ও সাগর দে।

মোহাম্মদপুর থানা সূত্রে জানা যায়, বিভিন্ন অপরাধপ্রবণ এলাকায় অপারেশন ডেভিল হান্ট এর অংশ হিসেবে দিনব্যাপী অভিযান পরিচালনা করে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার নাম কবির হোসেন ওরফে হুমায়ুন কবির ওরফে হুমা।

খিলগাঁও থানা সূত্রে জানা যায়, বিভিন্ন অপরাধপ্রবণ এলাকায় অপারেশন ডেভিল হান্ট এর অংশ হিসেবে দিনব্যাপী অভিযানে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরা হলো- ফজলে রাব্বী, সাইদুল ইসলাম ও মাহতিন ইসলাম শাকিল।

পল্টন থানার বিভিন্ন অপরাধপ্রবণ এলাকায় অপারেশন ডেভিল হান্ট এর অংশ হিসেবে দিনব্যাপী অভিযানে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরা হলো- মো. বিল্লাল হোসেন, রকি মিয়া, ইয়াছিন মিয়া, মোহাম্মদ আলী ও ইসমাইল হোসেন।

কলাবাগান থানার বিভিন্ন অপরাধপ্রবণ এলাকায় অভিযান চালিয়ে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার নাম মো. সেলিম ওরফে রহিম।

যাত্রাবাড়ী থানার বিভিন্ন অপরাধপ্রবণ এলাকায় সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এআর হলো- গোলাম রাব্বী, নাসির খান ওরফে নাসির, সাজ্জাদ, মো. জালাল, হাসান আলী ওরফে আলম, রানা প্রধান ও রেনু বেগম।

কদমতলী থানার বিভিন্ন অপরাধপ্রবণ এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে তিনজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এরা হলো মো. অভি, মো. সালেহ আহাম্মেদ ফয়সাল ও মো. রনি।

এছাড়া হাতিরঝিল থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে পুলিশ একজনকে গ্রেপ্তার করে। তার নাম হাসিব। সবাইকে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।


বেড়া হাসপাতালের ২ দালালের জরিমানা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বেড়া (পাবনা) প্রতিনিধি

পাবনার বেড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাসেবায় বাধা সৃষ্টি ও রোগীদের হয়রানির অভিযোগে দুই ব্যক্তিকে অর্থদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নুরেন মায়িশা খান এই অভিযান পরিচালনা করেন।

আদালত সূত্রে জানা যায়, আটককৃত ব্যক্তিরা দীর্ঘদিন ধরে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসকদের নির্দিষ্ট কোম্পানির ওষুধ লিখতে চাপ প্রয়োগ করে আসছিলেন। এছাড়া তারা রোগী ও চিকিৎসকদের মাঝে ‘মিডলম্যান’ বা দালাল হিসেবে কাজ করে সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণে প্রত্যক্ষভাবে বিঘ্ন ঘটাচ্ছিলেন।

অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় অভিযুক্ত দুই ব্যক্তিকে বাংলাদেশ দণ্ডবিধি আইন, ১৮৬০ এর ২৯১ ধারায় মোট ১২ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নুরেন মায়িশা খান জানান, "অভিযুক্তদের পারিবারিক ও আর্থিক অবস্থা বিবেচনা করে জরিমানার পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়েছে। তারা ভবিষ্যতে এ ধরনের কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হবে না মর্মে দুইজন সাক্ষীর উপস্থিতিতে মুচলেকা প্রদান করেছেন। জনস্বার্থে এবং হাসপাতালের শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। তিনি আরও হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে, ভবিষ্যতে একই অপরাধের পুনরাবৃত্তি ঘটলে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এবং পর্যায়ক্রমে জনহয়রানিমূলক যেকোনো উপদ্রব বন্ধে উপজেলা প্রশাসন জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করবে।

অভিযান চলাকালীন বেড়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা তাহমিনা সুলতানা নিলা, এবং বেড়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নিতাই চন্দ্র সরকার উপস্থিত ছিলেন।


মাগুরায় বৈষম্যহীন ৯ম পে-স্কেল বাস্তবায়নের দাবিতে মানববন্ধন

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মাগুরা প্রতিনিধি

সারাদেশব্যাপী কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে বৈষম্যহীন ৯ম পে-স্কেল বাস্তবায়নের দাবিতে মাগুরায় মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন জেলা প্রশাসন, মাগুরার কর্মচারীরা।

সকালে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। কর্মসূচির আয়োজন করেন জেলা প্রশাসন, মাগুরার কর্মচারীরা।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, বর্তমান দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতির কারণে কর্মচারীরা পরিবার-পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। এই পরিস্থিতিতে অবিলম্বে বাজারমূল্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সর্বনিম্ন বেতন ৩৫ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ বেতন ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা নির্ধারণ করে বৈষম্যহীন ৯ম পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশ ও বাস্তবায়ন করতে হবে। তারা আরও দাবি জানান, ২০১৫ সালের পে-স্কেলের গেজেটে হরণকৃত তিনটি টাইম স্কেল ও সিলেকশন গ্রেড পুনর্বহাল, বেতন জ্যেষ্ঠতা রক্ষা, পেনশন প্রবর্তন এবং গ্রাচুইটির হার ৯০ শতাংশের পরিবর্তে ১০০ শতাংশ নির্ধারণ করতে হবে।

বক্তারা বলেন, পে-কমিশন যে প্রস্তাব সরকারে প্রেরণ করেছে, তা নির্বাচন পূর্বেই গেজেট আকারে প্রকাশ ও বাস্তবায়ন করতে হবে। অন্যথায় কর্মচারীরা আরও কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবেন।

মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন মো. সাকির আহমেদ, অমৃত কুমার বিশ্বাস, মো. শফিকুল ইসলাম, যুধিষ্ঠির বিশ্বাস, মো. মাসুম রেজা ও মো. নবীর হোসেন।

বক্তারা হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগেই ৯ম পে-স্কেলের গেজেট জারি না হলে সারাদেশব্যাপী কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।

মানববন্ধন চলাকালে জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অংশগ্রহণ করেন।


পাসপোর্ট অফিসে র‍্যাবের অভিযান, কিশোরগঞ্জে ২০ দালালের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি

কিশোরগঞ্জ আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস ও আশপাশের দোকানপাটে অভিযান চালিয়ে ২০ জন দালালকে আটক করেছে র‍্যাব। রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) সকালে আটককৃতদের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়। পরে র‍্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শাহ মোহাম্মদ জুবায়ের অভিযুক্তদের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড প্রদান করেন।

ভ্রাম্যমাণ আদালতের কার্যক্রম শেষে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, আটককৃতরা দোষ স্বীকার করায় এবং তাদের অপরাধের প্রকৃতি বিবেচনায় বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

এই কর্মকর্তা বলেন, অভিযান চলাকালে এমনও দেখা গেছে, দালালরা আমাদের সিভিল ফোর্সের সদস্যদের কাছেও অর্থ দাবি করেছে। এভাবেই তারা দীর্ঘদিন ধরে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিল। এই অভিযানের ফলে পাসপোর্ট অফিসে জনভোগান্তি অনেকাংশে কমবে বলে আমরা আশা করছি।

তিনি আরও জানান, অভিযুক্তদের মধ্যে সর্বোচ্চ এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং সর্বনিম্ন সাত দিনের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি পাসপোর্ট অফিসের কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীর সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, সে বিষয়ে তদন্ত চলমান রয়েছে। তদন্তে কারও সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে, তিনি যেই হোন না কেন আইনের আওতায় আনা হবে।

দীর্ঘদিন ধরে দালালদের তৎপরতা ও সম্ভাব্য যোগসাজশের বিষয়টি নজরদারিতে ছিল বলেও জানান তিনি। গতকাল রোববার থেকে দালালদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে এবং এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলেও জানান এই কর্মকর্তা।


নরসিংদীতে সাবেক ছাত্রলীগ নেতাকে হত্যার দায়ে গ্রেপ্তার-২

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নরসিংদী প্রতিনিধি

নরসিংদীর বেলাব উপজেলায় নিখোঁজের ৩ দিন পর ডোবা থেকে আজিমুল কাদের ভূঁইয়া (৪০) নামের এক সাবেক ছাত্রলীগ নেতার মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এ সময় তাদের কাছ থেকে মুরগি বিক্রির চোরাই নগদ ৪ লাখ টাকা এবং নিহতের ব্যবহৃত একটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে।

গত শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) রাত এ তথ্য জানান নরসিংদী জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ওসি মো. আবুল কায়েস আকন্দ। নিহত আজিমুল কাদের ভূঁইয়া ওই এলাকার মৃত মান্নান ভূঁইয়ার ছেলে। তিনি বেলাব উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও বাজনাব ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। পাশাপাশি তিনি একজন পোল্টি খামারের ব্যবসা করতেন।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, নেত্রকোনা জেলার মদন থানার ফতেপুর গ্রামের সাইফুল ইসলামের ছেলে প্রমন তালুকদার ওরফে প্রিমন (২১) এবং কিশোরগঞ্জ জেলার কটিয়াদি থানার কায়েস্থ পল্লী গ্রামের মৃত হেলাল উদ্দিনের ছেলে আবুল কালাম (৪৫)। গোয়েন্দা পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত মঙ্গলবার রাতে আজিমুল কাদের ভূঁইয়া নিজ এলাকার পোলট্রি খামার থেকে বের হওয়ার পর তিনি নিখোঁজ হন। এরপর থেকে তার কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছিল না। নিখোঁজের পরদিন ২৮ জানুয়ারি নিহতের ভাগিনা উমর ফারুক বাদী হয়ে বেলাব থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন।

গত বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) রাতে উপজেলার বাজনাব ইউনিয়নের বীর বাঘবের গ্রামের একটি ডোবা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে এ ঘটনার রহস্য উদঘাটনে তদন্তে নামে গোয়েন্দা পুলিশ। গত শুক্রবার দুপুরে ডিবির এসআই মোবারক হোসেনের নেতৃত্বে কিশোরগঞ্জ জেলার সদর থানার এলাকায় অভিযান চালিয়ে প্রমন তালুকদার ও আবুল কালামকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের হেফাজত থেকে চোরাই মুরগি বিক্রির নগদ ৪ লাখ টাকা ও নিহত আজিমুল কাদের ভূঁইয়ার ব্যবহৃত একটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে। উল্লেখ্য যে নিখোঁজের প্রায় ১৫ দিন আগে পোলট্রি খামারে গ্রেপ্তারকৃত দুই শ্রমিক নিয়োগ দিয়েছিলেন আজীমুল। আজীমুল নিখোঁজের পর থেকে প্রমন তালুকদার ও আবুল কালাম লাপাত্তা ছিল। পাশাপাশি খামারের সব মুরগিও উধাও হয়ে গিয়ে ছিল। নরসিংদী জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ওসি মো. আবুল কায়েস আকন্দ বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, খামারের মুরগি বিক্রি করে টাকা আত্মসাৎ করতেই আজীমুলকে হত্যা করা হয়েছে। আমরা দুজনকে গ্রেপ্তার করে বেলাব থানায় হস্তান্তর করেছি। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।


খুলনার বাজারে সবজিতে স্বস্তি, স্থিতিশীল মাছ, মুরগিতে বাড়তি দাম

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
খুলনা প্রতিনিধি

সপ্তাহের ব্যবধানে খুলনার বাজারে কমেছে সবজির দাম। মাছের বাজারও রয়েছে স্থিতিশীল। তবে গত সপ্তাহ থেকে বেড়েছে মুরগিরর দাম। রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) খুলনার নিউ মার্কেট বাজার, রূপসা বাজার ও মিস্ত্রিপাড়া বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।

সবজির বাজার ঘুরে দেখা যায়, পালংশাক ২০ টাকা, ফুলকপি ২৫-৩০ টাকা কেজি, লাউ ৩০ টাকা প্রতি পিস, কুমড়া ৪০ টাকা কেজি, ঢ্যাঁড়স ৪০-৫০ টাকা, টমেটো ৬০-৮০ টাকা কেজি, শিম ২০-৩০ টাকা কেজি, কাঁচামরিচ দাম কমে ৫০-৬০ টাকা কেজিতে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে পেঁয়াজ ৭০-৮০ টাকা দরে এবং রসুন ৭০-৮০ টাকা কেজি দরে এবং আলু ১৮-২৩ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

বাজারে ব্রয়লার মুরগি ১৭০-১৮০ টাকা কেজি দরে, সোনালি ২৩০ টাকা কেজি দরে ও লেয়ার ২২০-২৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। গরুর মাংস ৭৫০ টাকা কেজি দরে এবং খাসির মাংস ১১৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

মাছের বাজারে রুই আকারভেদে ২২০-২৫০ টাকা, ভেটকি মাছ আকারভেদে ৫০০-৬০০ টাকা কেজি, চিংড়ি ৫০০-৮০০ টাকা পর্যন্ত কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। তেলাপিয়া ১৩০-১৬০ টাকা, পাবদা ৩০০-৩৫০ টাকা দরে, পাঙাশ ১৬০-১৮০ টাকা, কাতল ২৪০-২৫০ টাকা কেজি এবং ছোট মাছ ৩০০-৪০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

বাজারের খুচরা সবজি ব্যবসায়ীরা বলছেন, বাজারে গত সপ্তাহ থেকে সবজির সরবরাহ বৃদ্ধি পাওয়াতে দাম কমেছে। কাঁচামরিচ, সিম, ফুলকপির দাম আবারো কমে গেছে। আলু, পেঁয়াজ ও রসুনের দামও কয়েক দফা কমেছে।

মুরগি ব্যবসায়ী সত্তার মিয়া বলেন, গত সপ্তাহ থেকে মুরগীর কেজিতে ১০-১৫ টাকা বেড়েছে। মুরগি বেশি দামে কিনতে হচ্ছে পাইকারি, এ জন্য বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। আমরা খুচরা বিক্রি করি সামান্য লাভে। আমাদের হাতে দাম নিয়ন্ত্রনের কোন বিষয় নেই।

নিউ মার্কেট বাজারে আসা লিপু শিকদার বলেন, বাজারে সবজি ও মাছের দাম অনেক কম রয়েছে। বাড়তি দাম না থাকায় অনেকটা স্বাভাবিক রয়েছে বাজার। কিন্তু মাংসের দাম কিছুটা বেড়েছে।

অন্য একজন ক্রেতা বেলাল হাওলাদার বলেন, বাজারে এ সপ্তাহে ২০-২৫ টাকায় অনেক সবজি পাওয়া যাচ্ছে। গত সপ্তাহে দাম কিছুটা বাড়তি পেয়েছি। বিশেষ করে শীতকালীন সবজির দাম অনেকটা কমেছে।

খুচরা বিক্রেতা কামাল বলেন, ৩০-৪০ টাকার মধ্যেই বেশিরভাগ সবজি পাওয়া যাচ্ছে। আগে অনেক সবজির দাম ৬০-৭০ টাকায় উঠেছিল। সরবরাহ বাড়ায় তখন দাম কমেছিল।

খুচরা সবজি বিক্রেতারা জানান, শীতকালীন সবজির সরবরাহ বেশি থাকায় দামে একটু কম। সামনে আর বেশি দাম কমার সম্ভাবনা কম বলেও তারা মনে করছেন।

গল্লামারি বাজারে আসা ক্রেতা মামুন হোসেন বলেন, গত সপ্তাহের চেয়ে এ সপ্তাহে সবজির দাম অনেকটা কম। এ সপ্তাহে আবার কেজিতে ৫-১০ টাকা কমেছে। তেবে, মুরগির দামও কিছুটা বেড়েছে।


ঠাকুরগাঁওয়ে প্রেস কাউন্সিলের প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬ উপলক্ষে ঠাকুরগাঁও জেলার প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকদের অংশগ্রহণে বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিলের উদ্যোগে গণমাধ্যমে অপসাংবাদিকতা প্রতিরোধ ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন বিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) ঠাকুরগাঁও সার্কিট হাউসের কনফারেন্স রুমে এ কর্মশালার আয়োজন করা হয়। কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক ইশরাত ফারজানা। বক্তব্যে বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিলের চেয়ারম্যান বিচারপতি এ কে এম আব্দুল হামিদ বলেন।

সংবাদপত্র ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা যেমন একটি মৌলিক অধিকার, তেমনি তা আইনের মধ্যেই চর্চা করতে হবে। অধিকার ও আইনের সঠিক প্রয়োগের মাধ্যমে দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা নিশ্চিত করা সম্ভব বলে তিনি মন্তব্য করেন।

কর্মশালায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রেস কাউন্সিলের সচিব আব্দুস সবুর এবং ঠাকুরগাঁও জেলার পুলিশ সুপার বেলাল হোসেন, তথ্য অফিসার শাহাজান মিয়া। কর্মশালায় ঠাকুরগাঁও জেলার বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা অংশগ্রহণ করেন। বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সাংবাদিকরা আরও সচেতন ও দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবেন।


বৈষম্যমুক্ত ৯ম পে-স্কেলের দাবিতে বাগেরহাটে কর্মবিরতি পালন

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাগেরহাট প্রতিনিধি

বৈষম্য মুক্ত নবম পে-স্কেল এর গেজেট ঘোষণার দাবিতে বাগেরহাটে কর্মবিরতি ও বিক্ষোভ করেছে বিচার বিভাগ ও জেলা প্রশাসনের কর্মচারীরা। রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৯টা থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত এ কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। আজ সোমবার ও কাল মঙ্গলবারও একই কর্মসূচি পালন করা হবে।

‎আন্দোলনকারীরা জানিয়েছেন, সরকারি কর্মচারীরা দীর্ঘদিন ধরে পে-স্কেল বাস্তবায়নের জন্য আন্দোলন করে আসছেন। এ লক্ষ্যে সরকার একটি কমিশন গঠন করে, যে কমিশনের রিপোর্ট সরকারের হাতে ইতোমধ্যে চলে এসেছে। কিন্তু গেজেট প্রকাশের গড়িমসির কারণে এবং সরকারের জ্বালানি উপদেষ্টা যখন বলেছেন, এই সরকার কমিশন বাস্তবায়ন করবে না, তখন ক্ষোভের আগুনে জ্বলে উঠেছেন সরকারি কর্মচারীরা।

‎এ কর্মবিরতির কারণে জনগণ ব্যাপক ভোগান্তির শিকার হন। এ বিষয়ে কর্মচারীরা বলছেন, তারা দীর্ঘদিন ধরে ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করেছেন। কিন্তু সরকার তাদের পেটের ক্ষুধা নিবারণের জন্য ন্যূনতম বেতনটুকু যদি না দেয়, তাহলে তারা কতদিন আর ধৈর্য ধারণ করবেন? তাই বাধ্য হয়ে রাস্তায় নেমেছেন বলে জানিয়েছেন।

‎সরকার দাবি বাস্তবায়ন করলে সাথে সাথে কাজে ফিরে যাবেন বলে তারা জানিয়েছেন। মৌলিক চাহিদা পূরণের ন্যূনতম বেতন দেওয়ার জন্য তারা সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

‎উল্লেখ্য, গত ৩০ জানুয়ারি ‘বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারী দাবি আদায় ঐক্য পরিষদের’ পক্ষ থেকে ১ থেকে ৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ৩ দিন দুই ঘণ্টা করে অবস্থান কর্মসূচি ঘোষণা করেন। এর মধ্যে দাবি আদায় না হলে ৬ ফেব্রুয়ারি প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনা অভিমুখী ভুখা মিছিল করার ঘোষণা দিয়েছে সংগঠনটি।

‎বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তৃতা করেন বিচার বিভাগ কর্মচারী অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি অমিত রায়, সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর হোসেন, দপ্তর সম্পাদক ইমতিয়াজ শাওন, প্রচার সম্পাদক মতিউর রহমান, মিজানুর রহমান মুকুল ও কর্মচারী দাবি আদায় ঐক্য পরিষদের সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক, সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ ফিরোজুল ইসলাম, ধর্মবিষয়ক সম্পাদক মারুফুর রহমান, হাবিবুর রহমান। এ সযয়ে বিভিন্ন পর্যায়ের সরকারি কর্মচারী এই বিক্ষোভ সমাবেশে যোগ দেয়।


কুষ্টিয়ায় অস্ত্র-গুলিসহ রাখি বাহিনির সদস্য আটক

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৌলতপুর (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি

কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-এর অভিযানে একটি বিদেশি পিস্তল, দেশীয় শুটার গান ও গুলিসহ পদ্মার চরের শীর্ষ সন্ত্রাসী রাখী বাহিনির এক সদস্যকে আটক করা হয়েছে।

আটক যুবকের নাম আজিজুল ইসলাম (৩০)। তিনি দৌলতপুর থানার ইসলামপুর গ্রামের তায়েজ উদ্দিনের ছেলে।

রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) ভোররাতে কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়ন (৪৭ বিজিবি)-এর অধীন বাগোয়ান বেস ক্যাম্পের একটি টহল দল এ অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় উপজেলার ফিলিপনগর ইউনিয়নের আবেদের ঘাট এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়।

বিজিবি সূত্র জানায়, সন্দেহভাজন হিসেবে আজিজুল ইসলামকে আটক করার পর তল্লাশি চালিয়ে তার কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন, দুই রাউন্ড গুলি এবং একটি দেশীয় শুটার গান উদ্ধার করা হয়। আটক আসামি ও উদ্ধারকৃত আগ্নেয়াস্ত্র আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য দৌলতপুর থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছে বিজিবি।

এ বিষয়ে কুষ্টিয়া ৪৭ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রাশেদ কামাল রনি জানান, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দৌলতপুরের সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। বর্তমানে তিন প্লাটুন বিজিবি অস্থায়ী ক্যাম্প স্থাপন করে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে। সীমান্ত দিয়ে অস্ত্র চোরাচালান রোধে বিজিবি নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

দৌলতপুর থানার ওসি আরিফুর রহমান বলেন, আটক যুবককে রাতেই থানা হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তবে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত মামলার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়নি।

উল্লেখ্য, গেল জানুয়ারি মাসে দৌলতপুরের বিভিন্ন এলাকায় বিজিবি, পুলিশ ও র‍্যাবের যৌথ অভিযানে মোট সাতটি আগ্নেয়াস্ত্র, ১৪ রাউন্ড গুলি, ১০টি ম্যাগাজিন ও একটি এয়ারগান উদ্ধার করা হয়। এর মধ্যে বিজিবি চারটি বিদেশি পিস্তল, আট রাউন্ড গুলি এবং আটটি ম্যাগাজিন উদ্ধার করেছে।


কালীগঞ্জে যুবকের লাশ উদ্ধার, হত্যাকাণ্ডের আশঙ্কা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কালীগঞ্জ (গাজীপুর) প্রতিনিধি

গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলায় ইলিয়াস (২৫) নামের এক যুবকের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টার দিকে উপজেলার বাহাদুরসাদী ইউনিয়নের কোরুইল্লার টেক ব্রিজ এলাকা থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়।

নিহত ইলিয়াস জামালপুর ইউনিয়নের ছৈলাদি এলাকার শরীফের ছেলে। তিনি পেশায় একজন দিনমজুর ছিলেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) সকালে বাহাদুরসাদী ইউনিয়নের দক্ষিণভাগ থেকে ছৈলাদি সড়কের কোরুইল্লার টেক ব্রিজের নিচে পানিতে একটি লাশ ভাসতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেন। পরে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে কালীগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে লাশটি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।

স্থানীয় সূত্র আরও জানায়, নিহত ইলিয়াস এলাকায় বখাটে যুবকদের সঙ্গে মেলামেশা করতেন এবং মাদক সেবনের অভিযোগ রয়েছে। গত শনিবার রাতে একই সড়কে দালান বাজারের এক তেল ব্যবসায়ী দুর্বৃত্তদের হামলার শিকার হন। দক্ষিণভাগ এলাকার নাসির কাজীর ছেলে হানিফ কাজী বাড়ি ফেরার পথে একদল দুর্বৃত্ত তার ওপর হামলা চালায়। ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি সেখান থেকে পালিয়ে প্রাণ রক্ষা করতে সক্ষম হন।

তবে ওই হামলার ঘটনায় দুর্বৃত্তদের দলে নিহত ইলিয়াস ছিলেন কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। স্থানীয়দের ধারণা, ইলিয়াসও হয়তো দুর্বৃত্তদের হাতে হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়ে থাকতে পারেন।

এ বিষয়ে কালীগঞ্জ থানার ওসি মো. জাকির হোসেন বলেন, ‘লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। সার্বিক বিষয় বিবেচনায় নিয়ে তদন্ত কার্যক্রম চলছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। দ্রুতই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করা সম্ভব হবে বলে আশা করছি।


নেত্রকোনায় পিডিবি খুঁটির টানার তারে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে অন্তঃসত্ত্বা গাভির মৃত্যু

আপডেটেড ১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ১৭:৩৭
নেত্রকোনা প্রতিনিধি

নেত্রকোনা সদর থানাদিন পৌরসভার ৮ নং ওয়ার্ডের থানার মোড় ব্রিজ সংলগ্ন নাগড়া এলাকায় বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি)-এর ত্রুটিপূর্ণ বৈদ্যুতিক খুঁটির টানার তারে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে একটি অন্তঃসত্ত্বা গাভির মৃত্যু হয়েছে। ঘটনাটি এলাকাজুড়ে চরম উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। নিহত গাভিটির মালিক পিন্টু চৌধুরী জানান, প্রতিদিনের ন্যায় গাভিটিকে ঘাস খাওয়ার জন্য ছেড়ে দেওয়া হয়।

গত শনিবার (৩১ জানুয়ারি) রাতে গাভিটি গোয়ালঘরে ফিরে না আসায়, পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেন। তবে দীর্ঘ সময় অনুসন্ধানের পরও গাভিটির কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। পরবর্তীতে আজ ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ইং তারিখ সকাল আনুমানিক ১১টার দিকে স্থানীয় কয়েকজন পথচারী থানার মোড় ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় একটি গাছের সঙ্গে বাঁধা পিডিবির বিদ্যুৎ খুঁটির টানার তারের সঙ্গে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট অবস্থায় গাভিটিকে মৃত দেখতে পান। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, টানার তারটি একটি গাছের সঙ্গে বাঁধা ছিল এবং সেখানে বিদ্যুৎ প্রবাহিত হচ্ছিল।

এ বিষয়ে পিডিবির একজন কর্মকর্তা জানান, বিদ্যুৎ খুঁটির পিলার থেকে লিকেজ হয়ে টানার তারে বিদ্যুৎ প্রবাহিত হচ্ছিল, যার ফলে এই দুর্ঘটনাটি ঘটে। গাভিটির মালিক আরও জানান, নিহত অন্তঃসত্ত্বা গাভিটির আনুমানিক বাজার মূল্য প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা। এতে তিনি মারাত্মক আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন। ঘটনাটি এলাকাবাসীর মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে।

স্থানীয়দের প্রশ্ন—পিডিবির এই ধরনের অবহেলার কারণে যদি কোনো মানুষ, বিশেষ করে কোনো শিশু প্রাণ হারাত, তবে এর দায়ভার কে নিত? সর্বমহল থেকে দাবি জানানো হয়েছে, পিডিবির সকল ত্রুটিপূর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ বৈদ্যুতিক তার দ্রুত সংস্কার করে জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত গাভির মালিককে যথাযথ ক্ষতিপূরণ দেওয়া হোক।


চট্টগ্রাম বন্দরে অচলাবস্থা, চলছে কর্মবিরতি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) পরিচালনার দায়িত্ব দুবাইভিত্তিক বিদেশি অপারেটর ‘ডিপি ওয়ার্ল্ড’-কে হস্তান্তরের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে দ্বিতীয় দিনের মতো উত্তাল রয়েছে বন্দর এলাকা। ‘বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ’-এর ডাকে আজ রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৮টা থেকে শুরু হওয়া ৮ ঘণ্টার এই কর্মবিরতির ফলে দেশের প্রধান এই সমুদ্রবন্দরের অপারেশনাল কার্যক্রমে নজিরবিহীন অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। জেটিগুলোতে কনটেইনার ও খোলা পণ্য ওঠানামা বন্ধ থাকার পাশাপাশি বন্দর থেকে পণ্য ডেলিভারি নেওয়ার কার্যক্রমও পুরোপুরি স্থবির হয়ে পড়েছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, ধর্মঘটের কারণে বন্দরের বিভিন্ন জেটিতে জাহাজ থেকে মালামাল খালাসের কাজ বন্ধ রেখেছেন শ্রমিকরা। বন্দরের ভেতরে পণ্য পরিবহনের জন্য নিয়োজিত কোনো কভার্ড ভ্যান, লরি কিংবা ট্রেলার প্রবেশ করতে পারছে না। জেটিগুলোতে কোনো শ্রমিকের দেখা মিলছে না, যার ফলে আমদানিকারক ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। বার্থ অপারেটরদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আজ কোনো জেটিতে কাজ করার জন্য শ্রমিক বুকিং দেওয়া সম্ভব হয়নি, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে জাতীয় সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর।

আন্দোলনের নেতৃত্বে থাকা বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক ও শ্রমিক দল নেতা হুমায়ুন কবির বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে বলেন, শ্রমিক-কর্মচারীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে এই কর্মবিরতি পালন করছেন। এনসিটির মতো একটি লাভজনক টার্মিনাল বিদেশিদের হাতে তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত দেশ ও শ্রমিকদের স্বার্থবিরোধী। তিনি জানান, সংগ্রাম পরিষদের ব্যানারে এই আন্দোলন অব্যাহত থাকবে এবং বিকেলে নতুন কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হতে পারে। তবে আইনি ব্যবস্থার প্রতি শ্রদ্ধা রেখে আজ কোনো ধরনের মিছিল বা প্রকাশ্য সমাবেশ করা হচ্ছে না বলে তিনি উল্লেখ করেন।

এদিকে, শ্রমিকদের এই অনড় অবস্থানের বিপরীতে কঠোর প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। প্রথম দিনের ধর্মঘটের প্রেক্ষাপটে আন্দোলনের সাথে যুক্ত চারজন কর্মকর্তাকে তাৎক্ষণিকভাবে বদলি করা হয়েছে। পাশাপাশি এই কর্মবিরতির ফলে সরকারের কী পরিমাণ রাজস্ব ক্ষতি হচ্ছে, তা নিরূপণে ছয় সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। বন্দর প্রশাসন স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে যে, আদালতের নির্দেশনা ও সরকারি সিদ্ধান্ত অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে পর্যায়ক্রমে আরও কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ (সিএমপি) কর্তৃপক্ষও বিশেষ সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নিয়েছে। শনিবার রাত ১২টা থেকে পরবর্তী এক মাসের জন্য বন্দর ও এর আশপাশের এলাকায় সব ধরনের সভা-সমাবেশ, মিছিল এবং জমায়েত নিষিদ্ধ করে গণবিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে। পুলিশের এই নিষেধাজ্ঞার কারণে আজ আন্দোলনকারীরা বন্দরে কাজের বিরতি দিলেও কোনো প্রকাশ্য মহড়া পরিচালনা করেনি। প্রশাসনের এমন মারমুখী অবস্থানে শ্রমিক মহলে চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে। বিকেলে সংগ্রাম পরিষদের পরবর্তী ঘোষণার ওপরই এখন নির্ভর করছে বন্দরের আগামীর কর্মচঞ্চলতা। মূলত এনসিটি লিজ ইস্যুকে কেন্দ্র করে সরকার ও শ্রমিকদের মধ্যকার এই সংঘাত বড় ধরনের অর্থনৈতিক ঝুঁকির ইঙ্গিত দিচ্ছে।


banner close