বঙ্গোবসাগরে থাকা গভীর নিম্নচাপটি ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেওয়ায় তা ‘রেমালে’ পরিণত হয়েছে। আজ রোববার মধ্যরাতে এটি আঘাত হানার আশঙ্কা করছেন আবহাওয়াবিদরা। এ জন্য দেশের ছয় জেলাকে ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলার জন্য বিশেষভাবে প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দিয়েছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. মহিববুর রহমান। এ ঘূর্ণিঝড় নিয়ে এ পর্যন্ত প্রাপ্ত পূর্বাভাস ও ভূমি অতিক্রমের সম্ভাব্য এলাকার ভিত্তিতে এ নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জেলাগুলো হলো সাতক্ষীরা, বাগেরহাট, খুলনা, বরগুনা, পটুয়াখালী ও ভোলা।
গতকাল ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় প্রস্তুতি সভায় প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘গত ১৫ বছরে ঘূর্ণিঝড়সহ সব দুর্যোগে তার নিবিড় পর্যবেক্ষণ ও নির্দেশনায় আমরা যথাসময়ে প্রস্তুতি নিয়ে মানুষের দুর্দশা লাঘব এবং জীবন ও সম্পদের ক্ষতি কমাতে সক্ষম হয়েছি। এ ঘূর্ণিঝড়টিও যাতে একই ধারাবাহিকতায় সফলভাবে মোকাবিলা করতে পারি তার জন্য আমরা প্রস্তুত রয়েছি।’
প্রতিমন্ত্রী মুহিববুর রহমান বলেন, ‘আমরা ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোর জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারদের সঙ্গে কথা বলে স্থানীয় প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য নির্দেশনা দিয়েছি। উপকূলবর্তী সব জেলাকে ঘূর্ণিঝড়ের জন্য প্রস্তুতি নিতে বলা হয়েছে। এ পর্যন্ত প্রাপ্ত পূর্বাভাস ও সম্ভাব্য ভূমি অতিক্রম এলাকার ভিত্তিতে সাতক্ষীরা, বাগেরহাট, খুলনা, বরগুনা, পটুয়াখালী, ভোলা জেলাসমূহকে অধিকতর প্রস্তুত থাকার জন্য বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘এক সপ্তাহ ধরে এই ঝড়টির বিষয়ে আমরা খোঁজখবর রাখছি। বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করে নিয়মিতভাবে পূর্বাভাস দিচ্ছে এবং আগাম কার্যাবলি (অ্যান্টিসিপেটরি অ্যাকশন) ও সাড়া প্রদানে সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত দিয়ে সহযোগিতা করছে। আমরা ভারতে অবস্থিত আঞ্চলিক বিশেষায়িত আবহওয়া কেন্দ্রের সঙ্গেও নিয়মিত যোগাযোগ রাখছি। এর পাশাপাশি বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য আন্তর্জাতিক পূর্বাভাস মডেল নিয়মিত পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে সময়োপযোগী কার্যক্রম গ্রহণ করছি।’
সভায় প্রতিমন্ত্রী বলেন, এই ঘূর্ণিঝড়টি মোকাবিলায় সার্বক্ষণিক তথ্য বিনিময়ের লক্ষ্যে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের এনডিআরসিসি ২৪ ঘণ্টা খোলা রয়েছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর মানবিক সহায়তা ও ত্রাণ কার্যক্রম প্রেরণ শুরু করেছে। ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচির (সিপিপি) ৭৮ হাজার স্বেচ্ছাসেবক কয়েক দিন যাবৎ মাঠে আগাম সতর্কবার্তা প্রচারসহ আশ্রয়কেন্দ্র পরিদর্শন ও প্রস্তুতের কাজ করছে। মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্বে অ্যান্টিসিপেটরি অ্যাকশন টেকনিক্যাল ওয়ার্কিং গ্রুপ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ, বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ ও সাইক্লোন আর্লি অ্যাকশন প্রটোকল অনুসরণ করে প্রতিষ্ঠানভিত্তিক আগাম কার্যক্রম শুরু করেছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ঘূর্ণিঝড়ের গতি-প্রকৃতি এবং আবহাওয়া অধিদপ্তর কর্তৃক বিপদ সংকেত জারি করা মাত্র মানুষকে আশ্রয়কেন্দ্রে আনা হবে। দুর্যোগবিষয়ক স্থায়ী আদেশাবলি অনুযায়ী স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানসমূহ এবং বিভিন্ন পর্যায়ের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটিগুলো কার্যকর হয়েছে।
ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতির অংশ হিসেবে সভায় কয়েকটি বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সেগুলো হলো আগাম সতর্কতার বিজ্ঞপ্তি প্রচার ও জনগণকে সচেতন করা, আগাম মানবিক কার্যাবলি গ্রহণ করা, মাঠ প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় ও বিভিন্ন পর্যায়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটিসমূহের সভা অনুষ্ঠান, সব পর্যায়ে নিয়ন্ত্রণকক্ষ খোলা, আশ্রয়কেন্দ্রগুলো প্রস্তুত করা, আশ্রয়কেন্দ্রে শুকনা খাবার, শিশু খাদ্য এবং গো-খাদ্যের ব্যবস্থা করা, জনগণকে আশ্রয়কেন্দ্রে আনার বিষয়ে প্রস্তুতি গ্রহণ। দুর্যোগ তথ্য পাওয়ার জন্য টোল ফ্রি ১০৯০ ব্যবহারের কথা বলা হয় সভায়। দৈনিক বাংলার বিভিন্ন জেলা প্রতিনিধিদের পাঠানোর সংবাদের ভিত্তিতে ‘রেমাল’ নিয়ে বিভিন্ন জেলার প্রস্তুতির সম্পর্কে জানা গেছে নানা তথ্য।
পিরোজপুর: বঙ্গোপসাগরে সৃষ্টি হতে যাওয়া ঘূর্ণিঝড় ‘রেমাল’ এর জন্য পিরোজপুরে প্রস্তুত করা হয়েছে ৫৬১ টি ঘূর্ণিঝড়ের আশ্রয়কেন্দ্র। যার মধ্যে ২৯৫ টি সাইক্লোন শেল্টার এবং ২৬৬ টি বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং এই আশ্রয়কেন্দ্রে ২ লাখ ৮০ হাজার ৫০০ জন মানুষ আশ্রয় নিতে পারবে।
শনিবার বিকেলে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের শহীদ আব্দুর রাজ্জাক সাইফ-মিজান সভাকক্ষে জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহেদুর রহমান এ তথ্য দেন।
সভায় জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহেদুর রহমান আরও জানান, ঘূর্নিঝড় রেমাল মোকাবিলায় একটি জেলা প্রশাসন থেকে একটি কন্টোলরুমসহ প্রতিটি উপজেলায় একটি টিম করা হয়েছে, ৬৫ টি মেডিকেল টিম প্রস্তুত রয়েছে, ২ লাখ ৬৩ হাজার পানি বিশুদ্ধ করণ ট্যাবলেজ মজুত রাখা হয়েছে, ঝড়ের ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য প্রাথমিক পর্যায়ে ১৩৫০ হাজার প্যাকেট শুকনা খাবার, ৬১১ মে. ট. চাল ও নগদ ৬ লক্ষ ১০ হাজার টাকা প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এছাড়াও দুর্যোগ পরিবর্তিতে ক্ষতিগ্রস্তদের ঘর মেরামতের জন্য ৯৭ বান্ডিল টিন রয়েছে। এ ছাড়া ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় রেডক্রিসেন্টের ২৫০ জন স্বেচ্ছাসেবক ও সিপিপি ২৪২০ জন সদস্য প্রস্তুত রয়েছে। রেমালের প্রভাবে পিরোজপুরের নদীসমূহে স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে বেশি পানি দেখা গেছে এবং জেলার কয়েক স্থানে হালাকা বৃষ্টি পড়েছে।
বরগুনা: বরগুনায় ঘূর্ণিঝড় রেমালের প্রভাবে গোমট আবহাওয়া বিরাজসহ নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এতে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন নদী তীরের বাসিন্দারা। শনিবার জেলার পায়রা, বলেশ্বর ও বিষখালী নদীর পানি স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় অন্তত তিন ফুট বেড়েছে বলে জানান নদী তীরের বাসিন্দারা। বরগুনা সদর উপজেলার বড়ইতলা এলাকায় গেলে দেখা যায়, পানিতে এখানকার বেড়িবাঁধের বাহিরের নিম্নাঞ্চল তলিয়ে গেছে। এখানে আশ্রয়কেন্দ্রের স্বল্পতা রয়েছে। তাই যা আছে তাতে সকলের স্থান সংকুলান হয় না। বরগুনার জেলা প্রশাসক মোহা. রফিকুল ইসলাম বলেন, দুপুরে জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা হয়েছে। সভার মাধ্যমে আমরা ঘূর্ণিঝড় মোকাবেলায় সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছি। এদিকে বরগুনার পানি উন্নয়ন বোর্ড জেলার বিভিন্ন স্থানে এক কিলোমিটার বেড়িবাঁধ ঝুঁকিপূর্ণ রয়েছে বলে জানিয়েছেন এবং এসব বাঁধ ভেঙ্গে গেলে তা তাৎক্ষণিকভাবে মেরামতের জন্য ৮০০ জিও ব্যাগ প্রস্তুত রাখা হয়েছে বলে জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় জানানো হয়েছে। জেলায় ঘূর্ণিঝড় ‘রেমাল’ মোকাবিলায় বরগুনায় ৬৭৩টি আশ্রয়কেন্দ্রসহ প্রায় ১০ হাজার স্বেচ্ছাসেবক প্রস্তুত রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ও জেলা মোহা. রফিকুল ইসলাম। শনিবার দুপুরে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির জরুরি প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়। দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় জেলা প্রশাসনসহ সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসক মোহা. রফিকুল ইসলাম জানান, ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। বরগুনায় ৩টি মুজিব কেল্লা, ৬৭৩টি আশ্রয়কেন্দ্রসহ প্রায় ১০ হাজার স্বেচ্ছাসেবক প্রস্তুত রাখা হয়েছে। যারা ঘূর্ণিঝড় পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সময়ে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করবেন। এ ছাড়া ৪২২ মেট্রিক টন খাদ্যশস্য, ৩৭ লাখ নগদ অর্থ প্রস্তুত রয়েছে। তিনি আরও জানান, ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকার জন্য জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ১০ টি কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে ৪২ টি মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে। দুর্যোগ প্রস্তুতি সভায় জেলা এনজিও ফোরামের সভাপতি মোতালেব মৃধা, প্রেসক্লাবের সভাপতি অ্যাডভোকেট মোস্তফা কাদের, রেডক্রিসেন্ট, দুর্যোগ প্রস্তুতি কর্মসূচি (সিপিপি), বিভিন্ন সরকারি, বেসরকারি সংস্থা ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত থেকে তাদের প্রস্তুতির বিষয় তুলে ধরেন।
মোংলা: ‘রেমাল’ প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়ে রোববার সন্ধ্যায় সুন্দরবন উপকূলে আঘাত হানবে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। মোংলা আবাহওয়া অফিসের ইনচার্জ মো. হারুন অর রশিদ জানান, এটি বর্তমান যেই অবস্থান দেখাচ্ছে তাতে ঘূর্ণিঝড়ের কেন্দ্রটি বাংলাদেশের ওপর দিয়েই অতিক্রম করার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে সুন্দরবন এলাকা এবং বরিশালের পটুয়াখালী, বরগুনা, ও ভোলা জেলায় রেমাল এর আঘাত হানার সম্ভাবনা বেশি রয়েছে।
এদিকে ঘূর্ণিঝড় রেমালের প্রভাবে সাগর উত্তাল থাকায় এরই মধ্যে মোংলা সমুদ্র বন্দরকে ৭ নম্বর সতর্ক সংকেত জারি করেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। ঘূর্ণিঝড় রেমালের প্রভাবে সব রকম সতর্কমূলক প্রস্তুতি নিয়েছে মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ। কোস্ট গার্ড, নৌ বাহিনী ও উপজেলা প্রশাসনের সমন্বয়ে শনিবার দুপুরে মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের সভাকক্ষে জরুরি বৈঠক করা হয়েছে।
বন্দর কর্তৃপক্ষের হারবার মাস্টার কমান্ডার সাইফুর রহমান বলেন, মোংলা বন্দরে এই মুহূর্তে সিমেন্টের কাঁচামাল ক্লিংকার, সার, পাথর ও গ্যাসবাহী ছয়টি জাহাজ অবস্থান করেছে। সেগুলোকে নিরাপদে নোঙ্গর করতে বলা হয়েছে। এদিকে ঘূর্ণিঝড় ‘রেমাল’ মোকাবিলায় সব রকম প্রস্ততি নিয়েছে উপজেলা প্রশাসনও। উপজেলা নির্বাহী অফিসার নিশাত তামান্না বলেন, ১০৩ টি আশ্রয়কেন্দ্রসহ ১৩২০জন স্বেচ্ছাসেবক প্রস্তুত রাখা হয়েছে। আবহাওয়া অফিস থেকে ঘূর্ণিঝড়ের সংকেত বাড়ানোর সঙ্গে সঙ্গেই আমাদের কার্যক্রমের গতি বাড়ানো হবে। কন্ট্রোল রুমও খোলা হয়েছে।
এদিকে মোংলা উপকূলে সচেতনতামূলক মাইকিং করেছে কোস্ট গার্ডের সদস্যরা। শনিবার সকাল থেকে ঘণ্টাব্যাপী মোংলার পশুর বিভিন্ন স্থানে এ প্রচার মাইকিং করা হয়।
মোংলা কোস্ট গার্ড পশ্চিম জোনের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট মো. মুনতাসীর ইবনে মহসীন জানান, সকাল থেকে সুন্দরবন লাঘোয়া মোংলা উপকূলের ঝুঁকিপূর্ণ বিভিন্ন এলাকায় প্রচার মাইকিং করেন কোস্ট গার্ড সদস্যরা।
বাগেরহাট: ঘূর্ণিঝড় রেমাল ধেয়ে আসার খবরে উপকূলীয় জেলা বাগেরহাটের নদী তীরবর্তী এলাকায় বসবাস করা মানুষের মাঝে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। এরই মধ্যে শনিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে শুরু হয়েছে বৃষ্টিপাত। তবে সকাল থেকে আকাশ কখনো রোদ আবার কখনো মেঘাচ্ছন্ন হচ্ছে। নদীতে থাকা মাছ ধরা ট্রলার গুলো উপকূলের ছোট ছোট খালে আশ্রয় নিয়েছে। কোস্টগার্ডের পক্ষ থেকে চালানো হচ্ছে জনসচেতনামূলক প্রচার-প্রচারণা। এরই মধ্যে রেমাল মোকাবেলায় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সকল ধরনের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে।
বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক মো. খালিদ হোসেন বলেন, ঘূর্ণিঝড় রেমাল মোকাবেলায় বাগেরহাটে ৩৫৯টি আশ্রয় কেন্দ্রে ও ৩ হাজার ৫শ ৫ জন স্বেচ্ছাসেবক প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এ ছাড়া ৬৪৩ মেট্রিকটন চাল ও ৫লক্ষ ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। জেলার ৯টি উপজেলার সকল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের সতর্ক থাকতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের সকল কর্মকর্তাদের ছুটি বাতিলের পাশাপাশি উপকূলের ঝুঁকিপূর্ণ বেরিবাধ এলাকায় গুলো নজরদারিতে রাখা হয়েছে।
পটুয়াখালী: জেলায় রেমাল মোকাবেলায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির প্রস্তুতি মূলক জরুরী সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার সকাল সাড়ে ১০টায় জেলা প্রশাসকের দরবার হলে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক নুর কুতুবুল আলম। সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান হাফিজুর রহমান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক যাদব সরকার। জেলা সিভিল সার্জন ডা. এসএম কবির হাসান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার যোবায়ের আহাম্মেদ।
গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. হারুন অর রশিদ, কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. নজরুল ইসলাম, পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফুর রহমান, পটুয়াখালী প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া রিদয়, সিপিপি, রেড ক্রিসেন্টসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
জেলা প্রশাসক জানান দুর্যোগ মোকাবিলায় জেলায় ৭০৩ টি সাইক্লোন শেল্টার ৩৫টি মুজিব কিল্লা, ৭৩০ মেট্রিক টন চাল, ১০ লক্ষ টাকার শিশু খাদ্য, ১০ লাখ টাকার গোখাদ্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এ ছাড় শুকনা খাবার রয়েছে ১৫০০ প্যাকেট। নগদ টাকা রয়েছে ২৪ লাখ ৭ হাজার টাকা ৫০০ টাকা।
এ সময় মানুষকে সচেতন ও দুর্যোগে উদ্ধার কাজ পরিচালনার জন্য রেডক্রিসেন্ট ও সিপিপির ৯ হাজার স্বেচ্ছাসেবককে প্রস্তুত থাকাসহ বিদ্যুৎ বিভাগ সড়ক বিভাগ ফায়ার সার্ভিসকে দিকনির্দেশনা প্রদান করেন জেলা প্রশাসক।
জেলায় মোট ৭৬টি মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে পর্যাপ্ত পরিমাণ স্যালাইন, ঔষধ ও পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট সংরক্ষিত রয়েছে। জেলায় ১৩০০ কিলোমিটার বেড়িবাঁধের মধ্যে ১০ কিলোমিটার ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। দুর্যোগের সময় কোথাও ভাঙন দেখা দিলে তা মেরামতের জন্য ১৬ হাজার জিও ব্যাগ রয়েছে বলে জানিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।
এদিকে জেলায় ৮৭ হাজার হেক্টর জমিতে রয়েছে মুগ ডাল এবং ২০ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো ধান রয়েছে বলে জানিয়েছে কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তর। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রফিউদ্দিন মোহাম্মদ যোবায়ের বলেন গুজোব মোকাবেলার জন্যে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে।
এদিকে কলাপাড়া উপকূলীয় অঞ্চলের জনগন, মৎস্যজীবি ও নৌযান সমূহকে ক্ষয়ক্ষতি থেকে রক্ষার জন্য জনসচেতনতা মূলক কার্যক্রম শুরু করেছে নিজামপুর কোষ্টগার্ড। শনিবার সকাল নয়টায় মৎস্য বন্দর আলীপুর- মহিপুরে মাইকিং ও লিফলেট বিতরন করে কোস্ট গার্ডের সদস্যরা। এসময় তারা খাপড়াভাঙ্গা নদীতে অবস্থানরত ট্রলার সমূহে থাকা জেলেদের ঘূর্নিঝড়ের সময় করনীয় সম্পর্কে দিক নির্দেশনা দেন।
ঝালকাঠি: জেলায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার বেলা ১১টায় জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ও জেলা প্রশাসক ফারাহ্ গুল নিঝুম। এ সভায় পুলিশ সুপার, স্বাস্থ্য, কৃষি, খাদ্য, শিক্ষা, দপ্তরের প্রধানগন এবং বিদ্যুৎ, ফায়ার সার্ভিস, পানি উন্নয়ন বোর্ড, সড়ক বিভাগ, রেডক্রিসেন্টসহ জেলা পর্যায়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা যোগ দেন।
সভায় জেলা প্রশাসক ফারাহ্ গুল নিঝুম বলেন, ঘূর্ণিঝড় ‘রেমাল’ মোকাবিলায় সর্বাত্মক প্রস্তুতি নেওয়া শুরু হয়েছে। এই কয় দিন সংশ্লিষ্ট সব পর্যায়ের কর্মকর্তাদের স্টেশন ত্যাগ না করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ঘূর্ণিঝড় ‘রেমাল’ মোকাবিলায় নির্ধারিত সাইক্লোন শেল্টারসহ আশ্রয়কেন্দ্রের জন্য সহ জেলার সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ব্যবহার উপযোগী করা হয়েছে।
তাপমাত্রা বৃদ্ধির পাশাপাশি সারাদেশে ঝড়-বৃষ্টির প্রবণতা বাড়ছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, চলতি সপ্তাহজুড়ে দেশের সব বিভাগেই ঝোড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি হতে পারে। বুধবার (১১ মার্চ) সকাল ৯টায় আগামী পাঁচ দিনের আবহাওয়ার পূর্বাভাস থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে ঝোড়ো হাওয়াসহ বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এর সঙ্গে দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে, তবে রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।
বৃষ্টির এই ধারা ১৩ মার্চ শুক্রবারও থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে ১৪ মার্চ থেকে সিলেটে বৃষ্টির মাত্রা আরও বাড়তে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
এদিকে আবহাওয়া অধিদপ্তর আরও জানিয়েছে, গত মঙ্গলবার দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল বান্দরবানে ৩৪ দশমিক ৩, আর ঢাকায় ছিল ৩২ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। অন্যদিকে বুধবার (১১ মার্চ) সকালে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল রাঙামাটিতে ১৭ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গত ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশের মধ্যে ৩ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে রংপুর জেলায়।
পাবনা শহর থেকে মাত্র কয়েক কিলোমিটার পশ্চিমে, প্রমত্তা পদ্মার কোলঘেঁষে অবস্থিত নিভৃত পল্লী হিমায়েতপুর। সবুজে ঘেরা শান্ত-স্নিগ্ধ এই জনপদেই মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে এক পুণ্যভূমি—শ্রী শ্রী ঠাকুর অনুকূল চন্দ্রের সৎসঙ্গ আশ্রম। কেবল সনাতন ধর্মাবলম্বীদের কাছেই নয়, বরং এর নান্দনিক স্থাপত্যশৈলী আর আধ্যাত্মিক আবহের কারণে এই আশ্রম এখন পর্যটকদের কাছে এক অনন্য আকর্ষণে পরিণত হয়েছে।
যুগপুরুষোত্তম ঠাকুর অনুকূল চন্দ্র ছিলেন একাধারে প্রখ্যাত চিকিৎসক, দূরদর্শী দার্শনিক এবং মানবধর্মের প্রচারক। তার স্মৃতিবিজড়িত এই আশ্রমে পা রাখলেই চোখে পড়ে আধুনিক ও ধ্রুপদী স্থাপত্যের এক অপূর্ব সমন্বয়। বিশেষ করে রাতের আলোয় যখন প্রধান মন্দিরটি বর্ণিল সাজে সজ্জিত হয়, তখন সেখানে এক অপার্থিব সৌন্দর্যের সৃষ্টি হয়। মন্দিরের গম্বুজ আর নিপুণ কারুকাজ করা দেওয়ালগুলো আধুনিক আলোকসজ্জার ছোঁয়ায় পর্যটকদের বিমোহিত করে।
প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে শত শত মানুষ যান্ত্রিক জীবনের ক্লান্তি মুছে ফেলতে ছুটে আসেন এই আশ্রমে। আশ্রমের বিশাল খোলা প্রাঙ্গণ আর সারি সারি গাছপালায় ঘেরা পরিবেশ দর্শনার্থীদের মনে অনাবিল শান্তি এনে দেয়। স্থানীয়দের মতে, গোধূলি লগ্নে যখন আকাশের নীলিমায় মন্দিরের চূড়াগুলো ফুটে ওঠে, তখন এক গভীর আধ্যাত্মিক পরিবেশ তৈরি হয়। দর্শনার্থীরা জানান, এটি কেবল একটি ধর্মীয় উপাসনালয় নয়, বরং অসাম্প্রদায়িক চেতনা ও সম্প্রীতির এক উজ্জ্বল উদাহরণ।
পাবনা জেলার অন্যতম প্রধান এই দর্শনীয় স্থানটি এখন স্থানীয় অর্থনীতির চাকা সচল রাখতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। সরেজমিনে দেখা গেছে, জেলা প্রশাসন ও স্থানীয়দের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় আশ্রম এলাকাটি অত্যন্ত সুশৃঙ্খল ও পরিচ্ছন্ন। এই উন্নত ব্যবস্থাপনাই পর্যটকদের বারবার এখানে আসার প্রেরণা জোগায়।
ইতিহাস আর ঐতিহ্যের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা এই আশ্রমটি পাবনার গৌরবে যোগ করেছে এক নতুন মাত্রা। আপনি যদি যান্ত্রিক জীবন থেকে কিছুটা সময় বিরতি নিয়ে আধ্যাত্মিক প্রশান্তি আর নান্দনিকতার খোঁজে বের হতে চান, তবে হিমায়েতপুরের এই সৎসঙ্গ আশ্রম হতে পারে আপনার পরবর্তী সেরা গন্তব্য।
রমজান ও আসন্ন ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলার বাখরাবাদ ও কুচাইতলী এলাকায় মসলার মিল ও রেস্টুরেন্টে অভিযান চালিয়েছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। অভিযানে নষ্ট ও পোকায় খাওয়া মরিচ ভালো মরিচের সঙ্গে মিশিয়ে গুঁড়া করার অভিযোগে দুই প্রতিষ্ঠানকে মোট ২ লাখ ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
বুধবার (১১ মার্চ) বেলা সাড়ে ১১টা থেকে দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযান চলাকালে দেখা যায়, ভালো মরিচের সঙ্গে অধিক পরিমাণ নষ্ট ও পোকায় খাওয়া মরিচ মিশিয়ে মসলা প্রস্তুত করা হচ্ছে। এ সময় হাতেনাতে ধরা পড়লে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন-২০০৯ অনুযায়ী ‘আল-আমিন ফুড গ্রেইন মসলার’ মিলকে ২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। একই সঙ্গে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে নোংরা ফ্লোরে মরিচ ও হলুদের গুঁড়া সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাত করার বিষয়টিও ধরা পড়ে।
এ ছাড়া বাসি খামি সংরক্ষণ ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার প্রস্তুতের দায়ে ‘বাখরাবাদ মাটির হাড়ি’ নামের একটি রেস্টুরেন্টকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
অভিযান পরিচালনা করেন কুমিল্লা জেলা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. কাউছার মিয়া। এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা মো. জুয়েল মিয়া, স্যাম্পল কালেক্টর মো. নাজমুস সাকিব এবং অফিস সহকারী ফরিদা ইয়াসমিন।
অভিযানে সার্বিক সহযোগিতা করে কুমিল্লা জেলা পুলিশের একটি দল। ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান নিয়মিতভাবে অব্যাহত থাকবে।
রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলায় তিস্তা নদীর বাঁধ সংস্কার ও শোভাবর্ধন প্রকল্পের কাজে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ ওঠেছে। প্রায় ১ কোটি ৩৮ লাখ ৫৩ হাজার টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়নাধীন এ প্রকল্পে মাটির পরিবর্তে বালু ব্যবহার, বাঁধের নিচ থেকে মাটি কেটে ভরাট, শ্যালো মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলন এবং নির্ধারিত প্রস্থ কমিয়ে দেওয়ার মতো নানা অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
গত ৫ মার্চ দৈনিক বাংলা পত্রিকায় ‘গঙ্গাচড়া তিস্তা বাঁধ সংস্কারে অনিয়মের অভিযোগ’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশের পর বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আসে। এর পরিপ্রেক্ষিতে রংপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য রায়হান সিরাজী ও গঙ্গাচড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জেসমিন আক্তার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এ সময় তারা বাঁধের বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখেন এবং স্থানীয়দের কাছ থেকে অনিয়ম সংক্রান্ত অভিযোগ শোনেন।
পরিদর্শনের সময় স্থানীয়ভাবে চেয়ারম্যান আশরাফ আলী, খতিবর আলী, ওহেদ আলী ও আজহারুল ইসলাম-এর নাম অনিয়মের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠে আসে।
জানা গেছে, চর ডেভেলপমেন্ট প্রকল্পের আওতায় জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (UNDP)-এর অর্থায়নে প্রায় সাড়ে ১৬ কিলোমিটার তিস্তা বাঁধে খালাখন্দ মেরামত ও ঘাস লাগানোর কাজ বাস্তবায়ন করছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আমিন অ্যান্ড কোং।
দরপত্র অনুযায়ী বাঁধ ভরাটের কাজে ৭০ শতাংশ মাটি ও ৩০ শতাংশ বালুর মিশ্রণ ব্যবহারের কথা থাকলেও স্থানীয়দের অভিযোগ, বাস্তবে অধিকাংশ স্থানে শুধুই বালু ব্যবহার করা হচ্ছে। এতে বাঁধের স্থায়িত্ব নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, কাজের শুরুতেই তিস্তা নদীতে শ্যালো মেশিন বসিয়ে মাটি উত্তোলন শুরু করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। পরে স্থানীয়দের অভিযোগের ভিত্তিতে গঙ্গাচড়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) অভিযান চালিয়ে নদী থেকে অবৈধভাবে মাটি তোলার দায়ে ঠিকাদারকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেন। স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, এস্কেভেটর মেশিন দিয়ে বাঁধের পাদদেশ থেকেই মাটি কেটে উপরে ভরাট করা হচ্ছে। এতে বাঁধের নিচে বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হয়েছে এবং বর্ষা মৌসুমে বাঁধ ধসে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
এ ছাড়া দরপত্রে বাঁধের প্রস্থ ১৪ ফুট রাখার কথা থাকলেও অনেক স্থানে তা ১০ ফুটে নামিয়ে আনা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে স্থানীয়দের চলাচলে ভোগান্তি বাড়ছে। কাজের স্থানে কোনো প্রকল্পের সাইনবোর্ড না থাকায় ব্যয়, সময়সীমা ও বাস্তবায়ন সংক্রান্ত তথ্য থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন সাধারণ মানুষ।
স্থানীয় বাসিন্দা নজরুল ইসলাম বলেন, ‘বাঁধের নিচ থেকেই মাটি কেটে উপরে দেওয়া হচ্ছে। এতে নিচে বড় বড় গর্ত হয়ে গেছে। শুধু বালু দিয়ে কাজ করলে বাঁধ কতদিন টিকবে তা নিয়ে আমরা দুশ্চিন্তায় আছি।’ আরেক বাসিন্দা আব্দুল কাদের বলেন, ‘দরপত্রে ১৪ ফুট রাস্তার কথা থাকলেও অনেক জায়গায় ১০ ফুট করা হয়েছে। এতে চলাচলে সমস্যা হচ্ছে এবং কাজের মান নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।’
স্থানীয় গৃহিণী রহিমা বেগম বলেন, ‘বর্ষায় পানি বাড়লে যদি বাঁধ ভেঙে যায় তাহলে আমাদের ঘরবাড়ি ডুবে যাবে। এখনই যদি ঠিকভাবে কাজ না হয়, পরে বড় বিপদ হবে।’
স্থানীয় কৃষক রফিকুল ইসলাম (৬৫) অভিযোগ করে বলেন, ‘আশরাফ চেয়ারম্যান, খতিবর আলী, ওহেদ আলী ও আজহারুল ইসলাম এরা সবাই এই কাজের সঙ্গে জড়িত। আশরাফ চেয়ারম্যান ও খতিবর আলীর নেতৃত্বেই বালু উত্তোলন করে বাঁধের কাজ করা হচ্ছে।’
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে স্থানীয় চেয়ারম্যান আশরাফ আলী অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘বাঁধের কাজে আমার কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা নেই। আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ তোলা হচ্ছে তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। প্রকল্পের কাজ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে করা হচ্ছে। এখানে আমার কোনো ভূমিকা নেই।’ এ বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জেসমিন আক্তার বলেন, ‘অভিযোগ পাওয়ার পর আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। পরিদর্শনের সময় স্থানীয়দের কাছ থেকে এ ধরনের অভিযোগের বিষয়টি জানতে পেরেছি। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে এবং অনিয়ম প্রমাণিত হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম বলেন, ‘চর ডেভেলপমেন্ট প্রকল্পের আওতায় গঙ্গাচড়া উপজেলায় প্রায় সাড়ে ১৬ কিলোমিটার তিস্তা বাঁধে খালাখন্দ মেরামত ও ঘাস লাগানোর কাজ চলছে। অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
এদিকে রংপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য রায়হান সিরাজী বলেন, ‘তিস্তা বাঁধ তীরবর্তী মানুষের জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তার সঙ্গে সরাসরি জড়িত। এখানে কোনো ধরনের অনিয়ম বা নিম্নমানের কাজ মেনে নেওয়া হবে না। অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং কাজ যেন মানসম্মতভাবে সম্পন্ন হয় সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’
স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলে আসন্ন বর্ষা মৌসুমে তিস্তা তীরবর্তী বেশ কয়েকটি জনপদ বড় ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।
যশোরের কেশবপুরে ২৫ মার্চ গণহত্যা দিবস ও ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস–২০২৬ যথাযথ মর্যাদায় উদযাপন উপলক্ষে এক প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার (১১ মার্চ) উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত এ সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেকসোনা খাতুন। সভার আয়োজন করে উপজেলা প্রশাসন, কেশবপুর।
সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইউএনও রেকসোনা খাতুন বলেন, ‘বাংলাদেশের ইতিহাসে ২৫ মার্চ ও ২৬ মার্চ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ দিন। ২৫ মার্চের কালরাতে শহীদদের স্মরণ এবং ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা দিবস যথাযোগ্য মর্যাদায় উদযাপনের মাধ্যমে নতুন প্রজন্মকে দেশের সঠিক ইতিহাস জানাতে হবে। এ জন্য সকল দপ্তর, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সামাজিক সংগঠনকে সমন্বয়ের মাধ্যমে কর্মসূচি সফলভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে কেশবপুর থানার তদন্ত ইনস্পেক্টর মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ এই দিবস দুটি পালনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্ক থাকবে। শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খল পরিবেশে কর্মসূচি পালনে সকলের সহযোগিতা প্রয়োজন।’
সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো. ফিরোজ হোসেন, উপজেলা মৎস্য অফিসার সজীব সাহা, কেশবপুর সরকারি পাইলট উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. আবু তালেব, কেশবপুর পৌর বিএনপির সভাপতি আব্দুস ছামাদ বিশ্বাস, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কেশবপুর উপজেলা শাখার আমির মাওলানা রিজাউল ইসলাম, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক প্রভাষক আব্দুর রাজ্জাক, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী উপজেলা শাখার সেক্রেটারি মাষ্টার রফিকুল ইসলাম, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শেখ শহিদুল ইসলাম শহিদ, কেশবপুর নিউজ ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মো. হারুনার রশীদ বুলবুল এবং কেশবপুর সরকারি ডিগ্রি কলেজের প্রভাষক মো. আব্দুল হান্নানসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি।
সভায় দিবস দুটি যথাযোগ্য মর্যাদায় পালনের লক্ষ্যে বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা করা হয়।
মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় রিপন মিয়া (২৯) নামের এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তার শরীরে ধারালো অস্ত্রের একাধিক আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। ঘটনাটি হত্যা বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ।
গত মঙ্গলবার (১০ মার্চ) রাতে উপজেলার টিলাগাঁও ইউনিয়নের চকসালন এলাকা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত রিপন মিয়া পৃথিমপাশা ইউনিয়নের আলীনগর গ্রামের হানু মিয়ার ছেলে।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কুলাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান মোল্যা। তিনি জানান, গত সোমবার (৯ মার্চ) রাত থেকে রিপন নিখোঁজ ছিলেন। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে তাকে খোঁজাখুঁজি করতে থাকেন।
একপর্যায়ে গত মঙ্গলবার (১০ মার্চ) রাত ৯টার দিকে চকসালন এলাকায় তার মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয়রা। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।
ওসি আরও জানান, রিপনের শরীরে ধারালো অস্ত্রের একাধিক আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, তাকে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে দিনে-দুপুরে এক গৃহবধূকে অপহরণ চেষ্টার চাঞ্চল্যকর ঘটনার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত আন্তজেলা অপরাধচক্রের তিন সদস্যকে সিলেট মহানগরীর বিভিন্ন এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অভিযানে অপহরণ চেষ্টায় ব্যবহৃত একটি সাদা রঙের প্রাইভেটকার (ঢাকা মেট্রো-ক-০৩-৯৪৯৪) উদ্ধার করা হয়।
গত ৮ মার্চ ভোরে কমলগঞ্জ ইউনিয়নের দক্ষিণ বালিগাঁও গ্রামের বাসিন্দা বাপ্পি এরিকের মেয়ে ও মো. মাসুদ পারভেজের স্ত্রী ফাতেমা পারভেজ নিশি (২৯) শ্রীমঙ্গল কর্মস্থলে যাওয়ার জন্য বটতলা বাজারে গাড়ির অপেক্ষায় ছিলেন। এ সময় একটি সাদা প্রাইভেটকার তাকে গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে অপহরণের চেষ্টা চালায়। ভুক্তভোগী নারী ধস্তাধস্তি করে অপহরণকারীদের হাত থেকে পালিয়ে জীবন রক্ষা করেন। এ ঘটনায় কমলগঞ্জ থানায় (মামলা নং–০৭, জিআর–১৯/২৬) নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করা হয়।
ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে মৌলভীবাজার জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) নোবেল চাকমা, পিপিএম এবং শ্রীমঙ্গল সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মো. ওয়াহিদুজ্জামান রাজু সরাসরি তদন্ত তদারকি করেন, তাদের নির্দেশনায় কমলগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুল আউয়াল এর নেতৃত্বে একটি টিম মাঠে নামে।
কমলগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুল আউয়াল এবং তদন্তকারী কর্মকর্তাদের অন্যতম পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) গোলাম মোস্তফা জানান, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ এবং তথ্যপ্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহারের মাধ্যমে আমরা আসামিদের অবস্থান শনাক্ত করি। গত ১০ মার্চ সিলেট মহানগরীর বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে ৩ জনকে গ্রপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়া উপজেলার শ্রীপুর (নাছিরাবাদ) গ্রামের মতছির আলীর ছেলে মো. জাকির মিয়া (২৬), মৌলভীবাজার সদর উপজেলার সৈয়ারপুর এলাকার আব্দুর রহমানের ছেলে মো. কাওছার আহমদ (৩৪) এবং সদর উপজেলার গুলবাগ (বেরিরচর) এলাকার নুর মিয়ার ছেলে জসিম মিয়া (৩৬)।
অভিযান সফল করার পর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নোবেল চাকমা জানান, ‘এটি একটি অত্যন্ত দুঃসাহসিক অপরাধ ছিল। গ্রেপ্তারকৃতরা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছে রমজানের ভোরে রাস্তা ফাঁকা পেয়ে তারা ওই নারীকে অপহরণ ও ধর্ষণের পরিকল্পনা করেছিল। তারা এই প্রাইভেটকারটি ব্যবহার করে সিলেট অঞ্চলের বিভিন্ন সস্তা হোটেলে অবস্থান করত এবং সুযোগ বুঝে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিল।’
শ্রীমঙ্গল সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মো. ওয়াহিদুজ্জামান রাজু বলেন, ‘আমাদের টিম অত্যন্ত পেশাদারত্বের সাথে সিসিটিভি ফুটেজ ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আসামিদের গ্রেপ্তার এবং সিলেট মহানগরীর সোবহানীঘাট এলাকার একটি কমিউনিটি সেন্টারের ভেতর থেকে গাড়িটি উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে। এই চক্রের বিরুদ্ধে আগেরও অনেক অপরাধের রেকর্ড রয়েছে।’
সিডিএমএস (CDMS) পর্যালোচনায় দেখা গেছে, গ্রেপ্তারকৃত জাকির, কাওছার ও জসিমের বিরুদ্ধে চুরি ও মাদক আইনে একাধিক মামলা রয়েছে। এ ছাড়া তাদের পলাতক সহযোগী জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে ডাকাতিসহ তিনটি মামলা রয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
কমলগঞ্জ থানার এসআই এবং তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মিঠু রায়, এসআই আমির উদ্দিন, এসআই রনি তালুকদার এবং এএসআই হামিদুর রহমানসহ পুলিশের একাধিক সদস্য এই সফল অভিযানে অংশ নেন। পলাতক আসামি জাহাঙ্গীরকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
নীলফামারীতে জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষায় ‘ট্যালেন্টপুল বৃত্তি’ অর্জনকারী ২৬৪ জন কৃতি শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা দিয়েছে জেলা পরিষদ। বুধবার (১১ মার্চ) দুপুরে জেলা পরিষদ হলরুমে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তাদের হাতে সম্মাননা ক্রেস্ট ও সনদ তুলে দেওয়া হয়।
জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাইদুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামান। বক্তারা বলেন, শিক্ষার্থীদের এই সাফল্য ভবিষ্যতে আরও বড় অর্জনের পথ দেখাবে। তাদের নিয়মিত পড়াশোনার পাশাপাশি নৈতিক মূল্যবোধ ও দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে গড়ে ওঠার আহ্বান জানানো হয়।
এ সময় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) জ্যোতি বিকাশ চন্দ্র, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. নাইম হাসান খান ও জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা হাফিজুর রহমানসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।
জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাইদুল ইসলাম জানান,জেলার বিভিন্ন উপজেলার জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষায় ট্যালেন্টপুলে উত্তীর্ণ ২৬৪ শিক্ষার্থীকে উৎসাহ ও প্রেরণা দিতে এই সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়েছে। ভবিষ্যতেও শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশে জেলা পরিষদের এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
ফেনী স্বেচ্ছাসেবী উদ্যোগের বিভিন্ন সেবামূলক কার্যক্রমের ফলে সমাজ ও জনজীবনে ইতিবাচক পরিবর্তনের ছোঁয়া লাগছে বলে মন্তব্য করেছেন অধ্যাপক তায়বুল হক। তিনি বিশ্বাস করেন, এই সংগঠনের প্রচেষ্টায় মানুষ পরনির্ভরশীলতা কাটিয়ে আত্মনির্ভরশীল হওয়ার স্বপ্ন দেখছে। বক্তৃতাকালে তিনি বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে বলেন, ভিক্ষার হাতকে কর্মের হাতে রুপান্তর করছে ফেনী স্বেচ্ছাসেবী উদ্যোগ।
গত মঙ্গলবার দুপুরে ফেনী শহরের ভাষা শহীদ সালাম কমিউনিটি সেন্টারে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। ফেনী স্বেচ্ছাসেবী উদ্যোগের উদ্যোগে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ফেনী সরকারি কলেজের সাবেক এই অধ্যক্ষ।
এদিনের আয়োজনে সাতাশটি অভাবী পরিবারের মাঝে ঢেউটিন, সেলাই মেশিন, হুইল চেয়ার ও নগদ অর্থসহ সর্বমোট দুই লাখ টাকার বিভিন্ন উপহার সামগ্রী বিতরণ করা হয়। বিশেষ এক মুহূর্তে প্রধান অতিথি এই সংগঠনের পক্ষ থেকে পঁচিশতম সেলাই মেশিনটি একজন সুবিধাভোগীর হাতে তুলে দেন।
সংগঠনের সভাপতি ফয়জুল হক বাপ্পীর সভাপতিত্বে ও সদস্য আসাদুজ্জামান দারার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন সাধারণ সম্পাদক নাসিম আনোয়ার জাকি। বিশেষ অতিথি হিসেবে মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন সদর উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাঃ সোহরাব আল হোসাইন তানভীর, ফেনী পৌরসভার সাবেক প্যানেল মেয়র ওমর ফারুক ভূঁইয়া বেলাল ও সংগঠনের উপদেষ্টা রোটারিয়ান জালাল উদ্দিন বাবলু।
অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে আরও বক্তব্য রাখেন সিনিয়র সাংবাদিক মুহাম্মদ আবু তাহের ভূঁইয়া, ফেনী ডেভলপমেন্ট কমিউনিটির সাধারণ সম্পাদক ও সাংস্কৃতিক সংগঠক শান্তি চৌধুরী এবং স্থানীয় ফেনীর সময় এর সম্পাদক মোহাম্মদ শাহাদাত হোসেন। এছাড়া অনুষ্ঠানে সংহতি প্রকাশ করে উপস্থিত ছিলেন লায়ন হাজী দ্বীন মোহাম্মদ, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠক ওসমান গনি রাসেল, দৈনিক ফেনীর সম্পাদক আরিফুল আমিন রিজভী এবং ডেফোডিল স্কুলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ফরিদ উদ্দিন আহম্মদ।
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় যৌথ বাহিনীর বিশেষ অভিযানে আরও বিপুল পরিমাণের অস্ত্র-গোলাবারুদ উদ্ধার এবং ২২ জনকে গ্রেপ্তারের কথা জানিয়েছে পুলিশ। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) নগরের খুলশীতে পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে ডিআইজি আহসান হাবীব পলাশ বলেছেন, জঙ্গল সলিমপুরে বিভিন্ন পাহাড়ি ও দুর্গম এলাকায় যৌথ বাহিনী তল্লাশি চালিয়ে একটি বিদেশি পিস্তল, একটি দেশীয় পিস্তল, একটি এলজি, ২৭টি পাইপগান, পিস্তলের ৩০টি ম্যাগাজিন, দেশীয় অস্ত্র তৈরির ৫৭টি পাইপ, ৬১টি কার্তুজ, বিভিন্ন আগ্নেয়াস্ত্রের ১ হাজার ১১৩টি গুলি, ১১টি ককটেল (বিস্ফোরক), পাইপগান তৈরির লেদ মেশিনসহ বিপুল পরিমাণ অস্ত্র তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। এ সময় ২২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এ ছাড়া অভিযানে ১৯টি সিসি ক্যামেরা, তিনটি ডিভিআর, একটি পাওয়ার বক্স এবং দুটি বাইনোকুলার উদ্ধার করা হয়েছে। এসব আলামত এলাকাটিতে নজরদারি রাখার জন্য ব্যবহৃত হতো বলে জানিয়ে পুলিশের এই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা। তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, এসব আলামত অপরাধীদের নজরদারি কার্যক্রমে ব্যবহৃত হতো।
ডিআইজি বলেন, জঙ্গল সলিমপুরে ওয়াচ টাওয়ার ব্যবহার করে অপরাধীরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর গমনাগমন পর্যবেক্ষণ করত। বিশেষ করে জঙ্গল সলিমপুরে আলীনগরের বিভিন্ন প্রবেশপথ ও পাহাড়ের চূড়ায় ওয়াচ টাওয়ারগুলো রয়েছে। অভিযানে সেসব ওয়াচ টাওয়ারগুলোর কার্যক্রম ভেঙে দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া বিভিন্ন পাহাড়ে অবস্থিত সন্ত্রাসীদের আস্তানা ও অস্ত্র তৈরির কারখানাসহ অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের নেটওয়ার্ক ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। এলাকাটিতে অপরাধীরা যাতে পুনরায় সংগঠিত হতে না পারে, সে জন্য দুটি অস্থায়ী ক্যাম্প স্থাপনের কথা জানান ডিআইজি।
তিনি বলেন, জঙ্গল সলিমপুরে এস এম পাইলট উচ্চবিদ্যালয়ে জেলা পুলিশ ও এপিবিএন (আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন) মিলে মোট ১৩০ জন সদস্য নিয়ে একটি ক্যাম্প, অন্য আরেকটি ক্যাম্প আলীনগর উচ্চবিদ্যালয়ে স্থাপন করা হয়েছে। এই ক্যাম্পটিতে র্যাব, আরআরএফ (রেঞ্জ রিজার্ভ ফোর্স) ও এপিবিএনের (আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন) ২৩০ জন সদস্য রয়েছে। পাশাপাশি জঙ্গল সলিমপুরের বিভিন্ন এলাকায় চেকপোস্ট ও পুলিশি টহল বৃদ্ধি করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, বিভাগীয় আইনশৃঙ্খলা কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরিচালিত এ অভিযানে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি), র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব), বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), এপিবিএন, আরআরএফসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মোট ৩ হাজার ১৮৩ জন সদস্য অংশগ্রহণ করেন। এ ছাড়া সাতজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অভিযান কার্যক্রমে দায়িত্ব পালন করেন। অভিযান পরিচালনায় তিনটি হেলিকপ্টার, ১৫টি এপিসি, র্যাব ও সিএমপির তিনটি ডগ স্কোয়াড এবং ১২টি ড্রোন ব্যবহার করা হয়। আধুনিক প্রযুক্তি ও বিশেষ কৌশল প্রয়োগের মাধ্যমে দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় যৌথ বাহিনীর সদস্যরা একযোগে চিরুনি অভিযান পরিচালনা করেন।
সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, র্যাব-৭-এর অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. হাফিজুর রহমান, চট্টগ্রাম রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি মো. নাজিমুল হক, অতিরিক্ত ডিআইজি নাজমুল হাসান, চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মাদ নাজির আহমেদ খাঁনসহ বিজিবির কর্মকর্তারা।
সাবেক সচিব মো. আমিনুল ইসলামকে ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালকের (এমডি) দায়িত্ব দিয়েছে সরকার।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় মঙ্গলবার (১০ মার্চ) এক প্রজ্ঞাপনে বলেছে, আমিনুল ইসলাম চুক্তিতে এক বছরের জন্য ঢাকা ওয়াসার এমডি পদে দায়িত্ব পালন করবেন।
এর আগে ঢাকা ওয়াসার এমডি আব্দুস সালাম গত রোববার (৮ মার্চ) পদত্যাগ করেন। এরপর সোমবার স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মুহা. মনিরুজ্জামানকে অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে ঢাকা ওয়াসার এমডির দায়িত্ব দেওয়া হয়। তার পরদিনই সেখানে আমিনুল ইসলামকে নিয়োগ দেওয়া হল।
বিসিএস-৮৫ ব্যাচের কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম এক সময় নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব ছিলেন। তবে মূলত তিনি কাজ করেছেন জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনে। তার আগে এক সময় কক্সবাজারের ডিসি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
যুগ্মসচিব থাকা অবস্থায় তিনি অবসরে গিয়েছিলেন। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে তাকে ভূতাপেক্ষ পদোন্নতি দেওয়া হয়।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন পড়া আমিনুল ইসলামের বাড়ি গাইবান্ধা সদর উপজেলার কুপতলায়। ২০০৫ সালে তাকে জাতীয় পর্যায়ে ‘শ্রেষ্ঠ কর্মকর্তা’ হিসেবে সম্মাননা দিয়েছিলেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া।
বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলায় সুন্দরবন থেকে লোকালয়ে এসে একটি অজগর সাপ দিনমজুর পরিবারের একটি ছাগল গিলে খেয়েছে। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) সকালে উপজেলার রসুলপুর গ্রামের বন-সংলগ্ন ভোলা নদীর চরে এ ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী যুবক ফোরকান হাওলাদার জানান, ওই গ্রামের দিনমজুর সোহরাব ফরাজীর একটি ছাগল প্রতিদিনের মতো ভোলা নদীর চরে ঘাস খেতে যায়। কিন্তু অনেক সময় পেরিয়ে গেলেও ছাগলটি বাড়িতে ফিরে না আসায় সোহরাব সেটি খুঁজতে বের হন। একপর্যায়ে পাশের একটি ঝোপের মধ্যে বিশাল আকৃতির একটি অজগর সাপ দেখতে পান। এরই মধ্যে সাপটি ছাগলটি আস্ত গিলে ফেলে।
খবর পেয়ে কমিউনিটি পেট্রোলিং গ্রুপের (সিপিজি) সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় সাপটি উদ্ধার করা হয়। এ সময় অজগরের পেটে ছাগল থাকার দৃশ্য দেখতে শত শত মানুষ ঘটনাস্থলে ভিড় করেন।
ক্ষতিগ্রস্ত সোহরাব ফরাজী জানান, সুন্দরবন থেকে আসা অজগরটি তার সখের ছাগলটি আস্ত গিলে খেয়েছে। এতে তিনি আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
সিপিজি সদস্য সগির সওদাগর জানান, ছাগল গিলে ফেলার পর সাপটি কিছুটা অসুস্থ হয়ে পড়েছে। বন বিভাগের মাধ্যমে সাপটিকে আবার সুন্দরবনে অবমুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানান, সাপটি সুস্থ হলে দ্রুতই তাকে বনে ছেড়ে দেওয়া হবে।
বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সম্মিলিত উদ্যোগ জোরদার করার লক্ষ্যে কুড়িগ্রামে একটি সচেনতা সভা হয়েছে। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) বেসরকারি সংস্থা অ্যাসোসিয়েশন ফর অলটারনেটিভ ডেভেলপমেন্ট আফাদ এর আয়োজনে তাদের নিজস্ব মিলনায়তনে এই সভা হয়।
কার্তিক চন্দ্র সেনের সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি জেলা মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তা জয়ন্তী রাণী, ফুলবাড়ি উপজেলার সদর ইউপি চেয়ারম্যান হারুন অর রশীদ, বেলগাছা ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান খোরশেদ আলম, শিফট্টার সোচ্চার ফোকাল রেশমা সুলতানা বক্তব্য দেন।
বক্তারা বাল্যবিবাহের ক্ষতিকর প্রভাব, সামাজিক, স্বাস্থ্যগত ও শিক্ষাগত নেতিবাচক দিক তুলে ধরেন। তারা বাল্য বিবাহ প্রতিরোধে পরিবার, সমাজ, ধর্মীয় নেতা, জনপ্রতিনিধি এবং প্রশাসনকে সম্মিলিত উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান। এছাড়া কিশোর-কিশোরীদের শিক্ষা অব্যাহত রাখা, অভিভাবকদের সচেতন করা এবং স্থানীয় পর্যায়ে সামাজিক নজরদারি জোরদার করার ওপরও জোর দেন।
সচেতনতা সভায় ইমাম, পুরোহিত, কাজি, ঘটক, ইউনিয়নের নারী-পুরুষ জনপ্রতিনিধি, কিশোরী, যুবক, অভিভাবক, শিক্ষকসহ গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।