বঙ্গোবসাগরে থাকা গভীর নিম্নচাপটি ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেওয়ায় তা ‘রেমালে’ পরিণত হয়েছে। আজ রোববার মধ্যরাতে এটি আঘাত হানার আশঙ্কা করছেন আবহাওয়াবিদরা। এ জন্য দেশের ছয় জেলাকে ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলার জন্য বিশেষভাবে প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দিয়েছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. মহিববুর রহমান। এ ঘূর্ণিঝড় নিয়ে এ পর্যন্ত প্রাপ্ত পূর্বাভাস ও ভূমি অতিক্রমের সম্ভাব্য এলাকার ভিত্তিতে এ নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জেলাগুলো হলো সাতক্ষীরা, বাগেরহাট, খুলনা, বরগুনা, পটুয়াখালী ও ভোলা।
গতকাল ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় প্রস্তুতি সভায় প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘গত ১৫ বছরে ঘূর্ণিঝড়সহ সব দুর্যোগে তার নিবিড় পর্যবেক্ষণ ও নির্দেশনায় আমরা যথাসময়ে প্রস্তুতি নিয়ে মানুষের দুর্দশা লাঘব এবং জীবন ও সম্পদের ক্ষতি কমাতে সক্ষম হয়েছি। এ ঘূর্ণিঝড়টিও যাতে একই ধারাবাহিকতায় সফলভাবে মোকাবিলা করতে পারি তার জন্য আমরা প্রস্তুত রয়েছি।’
প্রতিমন্ত্রী মুহিববুর রহমান বলেন, ‘আমরা ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোর জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারদের সঙ্গে কথা বলে স্থানীয় প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য নির্দেশনা দিয়েছি। উপকূলবর্তী সব জেলাকে ঘূর্ণিঝড়ের জন্য প্রস্তুতি নিতে বলা হয়েছে। এ পর্যন্ত প্রাপ্ত পূর্বাভাস ও সম্ভাব্য ভূমি অতিক্রম এলাকার ভিত্তিতে সাতক্ষীরা, বাগেরহাট, খুলনা, বরগুনা, পটুয়াখালী, ভোলা জেলাসমূহকে অধিকতর প্রস্তুত থাকার জন্য বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘এক সপ্তাহ ধরে এই ঝড়টির বিষয়ে আমরা খোঁজখবর রাখছি। বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করে নিয়মিতভাবে পূর্বাভাস দিচ্ছে এবং আগাম কার্যাবলি (অ্যান্টিসিপেটরি অ্যাকশন) ও সাড়া প্রদানে সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত দিয়ে সহযোগিতা করছে। আমরা ভারতে অবস্থিত আঞ্চলিক বিশেষায়িত আবহওয়া কেন্দ্রের সঙ্গেও নিয়মিত যোগাযোগ রাখছি। এর পাশাপাশি বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য আন্তর্জাতিক পূর্বাভাস মডেল নিয়মিত পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে সময়োপযোগী কার্যক্রম গ্রহণ করছি।’
সভায় প্রতিমন্ত্রী বলেন, এই ঘূর্ণিঝড়টি মোকাবিলায় সার্বক্ষণিক তথ্য বিনিময়ের লক্ষ্যে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের এনডিআরসিসি ২৪ ঘণ্টা খোলা রয়েছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর মানবিক সহায়তা ও ত্রাণ কার্যক্রম প্রেরণ শুরু করেছে। ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচির (সিপিপি) ৭৮ হাজার স্বেচ্ছাসেবক কয়েক দিন যাবৎ মাঠে আগাম সতর্কবার্তা প্রচারসহ আশ্রয়কেন্দ্র পরিদর্শন ও প্রস্তুতের কাজ করছে। মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্বে অ্যান্টিসিপেটরি অ্যাকশন টেকনিক্যাল ওয়ার্কিং গ্রুপ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ, বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ ও সাইক্লোন আর্লি অ্যাকশন প্রটোকল অনুসরণ করে প্রতিষ্ঠানভিত্তিক আগাম কার্যক্রম শুরু করেছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ঘূর্ণিঝড়ের গতি-প্রকৃতি এবং আবহাওয়া অধিদপ্তর কর্তৃক বিপদ সংকেত জারি করা মাত্র মানুষকে আশ্রয়কেন্দ্রে আনা হবে। দুর্যোগবিষয়ক স্থায়ী আদেশাবলি অনুযায়ী স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানসমূহ এবং বিভিন্ন পর্যায়ের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটিগুলো কার্যকর হয়েছে।
ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতির অংশ হিসেবে সভায় কয়েকটি বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সেগুলো হলো আগাম সতর্কতার বিজ্ঞপ্তি প্রচার ও জনগণকে সচেতন করা, আগাম মানবিক কার্যাবলি গ্রহণ করা, মাঠ প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় ও বিভিন্ন পর্যায়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটিসমূহের সভা অনুষ্ঠান, সব পর্যায়ে নিয়ন্ত্রণকক্ষ খোলা, আশ্রয়কেন্দ্রগুলো প্রস্তুত করা, আশ্রয়কেন্দ্রে শুকনা খাবার, শিশু খাদ্য এবং গো-খাদ্যের ব্যবস্থা করা, জনগণকে আশ্রয়কেন্দ্রে আনার বিষয়ে প্রস্তুতি গ্রহণ। দুর্যোগ তথ্য পাওয়ার জন্য টোল ফ্রি ১০৯০ ব্যবহারের কথা বলা হয় সভায়। দৈনিক বাংলার বিভিন্ন জেলা প্রতিনিধিদের পাঠানোর সংবাদের ভিত্তিতে ‘রেমাল’ নিয়ে বিভিন্ন জেলার প্রস্তুতির সম্পর্কে জানা গেছে নানা তথ্য।
পিরোজপুর: বঙ্গোপসাগরে সৃষ্টি হতে যাওয়া ঘূর্ণিঝড় ‘রেমাল’ এর জন্য পিরোজপুরে প্রস্তুত করা হয়েছে ৫৬১ টি ঘূর্ণিঝড়ের আশ্রয়কেন্দ্র। যার মধ্যে ২৯৫ টি সাইক্লোন শেল্টার এবং ২৬৬ টি বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং এই আশ্রয়কেন্দ্রে ২ লাখ ৮০ হাজার ৫০০ জন মানুষ আশ্রয় নিতে পারবে।
শনিবার বিকেলে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের শহীদ আব্দুর রাজ্জাক সাইফ-মিজান সভাকক্ষে জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহেদুর রহমান এ তথ্য দেন।
সভায় জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহেদুর রহমান আরও জানান, ঘূর্নিঝড় রেমাল মোকাবিলায় একটি জেলা প্রশাসন থেকে একটি কন্টোলরুমসহ প্রতিটি উপজেলায় একটি টিম করা হয়েছে, ৬৫ টি মেডিকেল টিম প্রস্তুত রয়েছে, ২ লাখ ৬৩ হাজার পানি বিশুদ্ধ করণ ট্যাবলেজ মজুত রাখা হয়েছে, ঝড়ের ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য প্রাথমিক পর্যায়ে ১৩৫০ হাজার প্যাকেট শুকনা খাবার, ৬১১ মে. ট. চাল ও নগদ ৬ লক্ষ ১০ হাজার টাকা প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এছাড়াও দুর্যোগ পরিবর্তিতে ক্ষতিগ্রস্তদের ঘর মেরামতের জন্য ৯৭ বান্ডিল টিন রয়েছে। এ ছাড়া ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় রেডক্রিসেন্টের ২৫০ জন স্বেচ্ছাসেবক ও সিপিপি ২৪২০ জন সদস্য প্রস্তুত রয়েছে। রেমালের প্রভাবে পিরোজপুরের নদীসমূহে স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে বেশি পানি দেখা গেছে এবং জেলার কয়েক স্থানে হালাকা বৃষ্টি পড়েছে।
বরগুনা: বরগুনায় ঘূর্ণিঝড় রেমালের প্রভাবে গোমট আবহাওয়া বিরাজসহ নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এতে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন নদী তীরের বাসিন্দারা। শনিবার জেলার পায়রা, বলেশ্বর ও বিষখালী নদীর পানি স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় অন্তত তিন ফুট বেড়েছে বলে জানান নদী তীরের বাসিন্দারা। বরগুনা সদর উপজেলার বড়ইতলা এলাকায় গেলে দেখা যায়, পানিতে এখানকার বেড়িবাঁধের বাহিরের নিম্নাঞ্চল তলিয়ে গেছে। এখানে আশ্রয়কেন্দ্রের স্বল্পতা রয়েছে। তাই যা আছে তাতে সকলের স্থান সংকুলান হয় না। বরগুনার জেলা প্রশাসক মোহা. রফিকুল ইসলাম বলেন, দুপুরে জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা হয়েছে। সভার মাধ্যমে আমরা ঘূর্ণিঝড় মোকাবেলায় সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছি। এদিকে বরগুনার পানি উন্নয়ন বোর্ড জেলার বিভিন্ন স্থানে এক কিলোমিটার বেড়িবাঁধ ঝুঁকিপূর্ণ রয়েছে বলে জানিয়েছেন এবং এসব বাঁধ ভেঙ্গে গেলে তা তাৎক্ষণিকভাবে মেরামতের জন্য ৮০০ জিও ব্যাগ প্রস্তুত রাখা হয়েছে বলে জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় জানানো হয়েছে। জেলায় ঘূর্ণিঝড় ‘রেমাল’ মোকাবিলায় বরগুনায় ৬৭৩টি আশ্রয়কেন্দ্রসহ প্রায় ১০ হাজার স্বেচ্ছাসেবক প্রস্তুত রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ও জেলা মোহা. রফিকুল ইসলাম। শনিবার দুপুরে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির জরুরি প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়। দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় জেলা প্রশাসনসহ সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসক মোহা. রফিকুল ইসলাম জানান, ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। বরগুনায় ৩টি মুজিব কেল্লা, ৬৭৩টি আশ্রয়কেন্দ্রসহ প্রায় ১০ হাজার স্বেচ্ছাসেবক প্রস্তুত রাখা হয়েছে। যারা ঘূর্ণিঝড় পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সময়ে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করবেন। এ ছাড়া ৪২২ মেট্রিক টন খাদ্যশস্য, ৩৭ লাখ নগদ অর্থ প্রস্তুত রয়েছে। তিনি আরও জানান, ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকার জন্য জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ১০ টি কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে ৪২ টি মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে। দুর্যোগ প্রস্তুতি সভায় জেলা এনজিও ফোরামের সভাপতি মোতালেব মৃধা, প্রেসক্লাবের সভাপতি অ্যাডভোকেট মোস্তফা কাদের, রেডক্রিসেন্ট, দুর্যোগ প্রস্তুতি কর্মসূচি (সিপিপি), বিভিন্ন সরকারি, বেসরকারি সংস্থা ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত থেকে তাদের প্রস্তুতির বিষয় তুলে ধরেন।
মোংলা: ‘রেমাল’ প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়ে রোববার সন্ধ্যায় সুন্দরবন উপকূলে আঘাত হানবে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। মোংলা আবাহওয়া অফিসের ইনচার্জ মো. হারুন অর রশিদ জানান, এটি বর্তমান যেই অবস্থান দেখাচ্ছে তাতে ঘূর্ণিঝড়ের কেন্দ্রটি বাংলাদেশের ওপর দিয়েই অতিক্রম করার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে সুন্দরবন এলাকা এবং বরিশালের পটুয়াখালী, বরগুনা, ও ভোলা জেলায় রেমাল এর আঘাত হানার সম্ভাবনা বেশি রয়েছে।
এদিকে ঘূর্ণিঝড় রেমালের প্রভাবে সাগর উত্তাল থাকায় এরই মধ্যে মোংলা সমুদ্র বন্দরকে ৭ নম্বর সতর্ক সংকেত জারি করেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। ঘূর্ণিঝড় রেমালের প্রভাবে সব রকম সতর্কমূলক প্রস্তুতি নিয়েছে মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ। কোস্ট গার্ড, নৌ বাহিনী ও উপজেলা প্রশাসনের সমন্বয়ে শনিবার দুপুরে মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের সভাকক্ষে জরুরি বৈঠক করা হয়েছে।
বন্দর কর্তৃপক্ষের হারবার মাস্টার কমান্ডার সাইফুর রহমান বলেন, মোংলা বন্দরে এই মুহূর্তে সিমেন্টের কাঁচামাল ক্লিংকার, সার, পাথর ও গ্যাসবাহী ছয়টি জাহাজ অবস্থান করেছে। সেগুলোকে নিরাপদে নোঙ্গর করতে বলা হয়েছে। এদিকে ঘূর্ণিঝড় ‘রেমাল’ মোকাবিলায় সব রকম প্রস্ততি নিয়েছে উপজেলা প্রশাসনও। উপজেলা নির্বাহী অফিসার নিশাত তামান্না বলেন, ১০৩ টি আশ্রয়কেন্দ্রসহ ১৩২০জন স্বেচ্ছাসেবক প্রস্তুত রাখা হয়েছে। আবহাওয়া অফিস থেকে ঘূর্ণিঝড়ের সংকেত বাড়ানোর সঙ্গে সঙ্গেই আমাদের কার্যক্রমের গতি বাড়ানো হবে। কন্ট্রোল রুমও খোলা হয়েছে।
এদিকে মোংলা উপকূলে সচেতনতামূলক মাইকিং করেছে কোস্ট গার্ডের সদস্যরা। শনিবার সকাল থেকে ঘণ্টাব্যাপী মোংলার পশুর বিভিন্ন স্থানে এ প্রচার মাইকিং করা হয়।
মোংলা কোস্ট গার্ড পশ্চিম জোনের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট মো. মুনতাসীর ইবনে মহসীন জানান, সকাল থেকে সুন্দরবন লাঘোয়া মোংলা উপকূলের ঝুঁকিপূর্ণ বিভিন্ন এলাকায় প্রচার মাইকিং করেন কোস্ট গার্ড সদস্যরা।
বাগেরহাট: ঘূর্ণিঝড় রেমাল ধেয়ে আসার খবরে উপকূলীয় জেলা বাগেরহাটের নদী তীরবর্তী এলাকায় বসবাস করা মানুষের মাঝে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। এরই মধ্যে শনিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে শুরু হয়েছে বৃষ্টিপাত। তবে সকাল থেকে আকাশ কখনো রোদ আবার কখনো মেঘাচ্ছন্ন হচ্ছে। নদীতে থাকা মাছ ধরা ট্রলার গুলো উপকূলের ছোট ছোট খালে আশ্রয় নিয়েছে। কোস্টগার্ডের পক্ষ থেকে চালানো হচ্ছে জনসচেতনামূলক প্রচার-প্রচারণা। এরই মধ্যে রেমাল মোকাবেলায় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সকল ধরনের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে।
বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক মো. খালিদ হোসেন বলেন, ঘূর্ণিঝড় রেমাল মোকাবেলায় বাগেরহাটে ৩৫৯টি আশ্রয় কেন্দ্রে ও ৩ হাজার ৫শ ৫ জন স্বেচ্ছাসেবক প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এ ছাড়া ৬৪৩ মেট্রিকটন চাল ও ৫লক্ষ ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। জেলার ৯টি উপজেলার সকল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের সতর্ক থাকতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের সকল কর্মকর্তাদের ছুটি বাতিলের পাশাপাশি উপকূলের ঝুঁকিপূর্ণ বেরিবাধ এলাকায় গুলো নজরদারিতে রাখা হয়েছে।
পটুয়াখালী: জেলায় রেমাল মোকাবেলায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির প্রস্তুতি মূলক জরুরী সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার সকাল সাড়ে ১০টায় জেলা প্রশাসকের দরবার হলে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক নুর কুতুবুল আলম। সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান হাফিজুর রহমান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক যাদব সরকার। জেলা সিভিল সার্জন ডা. এসএম কবির হাসান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার যোবায়ের আহাম্মেদ।
গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. হারুন অর রশিদ, কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. নজরুল ইসলাম, পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফুর রহমান, পটুয়াখালী প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া রিদয়, সিপিপি, রেড ক্রিসেন্টসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
জেলা প্রশাসক জানান দুর্যোগ মোকাবিলায় জেলায় ৭০৩ টি সাইক্লোন শেল্টার ৩৫টি মুজিব কিল্লা, ৭৩০ মেট্রিক টন চাল, ১০ লক্ষ টাকার শিশু খাদ্য, ১০ লাখ টাকার গোখাদ্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এ ছাড় শুকনা খাবার রয়েছে ১৫০০ প্যাকেট। নগদ টাকা রয়েছে ২৪ লাখ ৭ হাজার টাকা ৫০০ টাকা।
এ সময় মানুষকে সচেতন ও দুর্যোগে উদ্ধার কাজ পরিচালনার জন্য রেডক্রিসেন্ট ও সিপিপির ৯ হাজার স্বেচ্ছাসেবককে প্রস্তুত থাকাসহ বিদ্যুৎ বিভাগ সড়ক বিভাগ ফায়ার সার্ভিসকে দিকনির্দেশনা প্রদান করেন জেলা প্রশাসক।
জেলায় মোট ৭৬টি মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে পর্যাপ্ত পরিমাণ স্যালাইন, ঔষধ ও পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট সংরক্ষিত রয়েছে। জেলায় ১৩০০ কিলোমিটার বেড়িবাঁধের মধ্যে ১০ কিলোমিটার ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। দুর্যোগের সময় কোথাও ভাঙন দেখা দিলে তা মেরামতের জন্য ১৬ হাজার জিও ব্যাগ রয়েছে বলে জানিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।
এদিকে জেলায় ৮৭ হাজার হেক্টর জমিতে রয়েছে মুগ ডাল এবং ২০ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো ধান রয়েছে বলে জানিয়েছে কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তর। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রফিউদ্দিন মোহাম্মদ যোবায়ের বলেন গুজোব মোকাবেলার জন্যে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে।
এদিকে কলাপাড়া উপকূলীয় অঞ্চলের জনগন, মৎস্যজীবি ও নৌযান সমূহকে ক্ষয়ক্ষতি থেকে রক্ষার জন্য জনসচেতনতা মূলক কার্যক্রম শুরু করেছে নিজামপুর কোষ্টগার্ড। শনিবার সকাল নয়টায় মৎস্য বন্দর আলীপুর- মহিপুরে মাইকিং ও লিফলেট বিতরন করে কোস্ট গার্ডের সদস্যরা। এসময় তারা খাপড়াভাঙ্গা নদীতে অবস্থানরত ট্রলার সমূহে থাকা জেলেদের ঘূর্নিঝড়ের সময় করনীয় সম্পর্কে দিক নির্দেশনা দেন।
ঝালকাঠি: জেলায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার বেলা ১১টায় জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ও জেলা প্রশাসক ফারাহ্ গুল নিঝুম। এ সভায় পুলিশ সুপার, স্বাস্থ্য, কৃষি, খাদ্য, শিক্ষা, দপ্তরের প্রধানগন এবং বিদ্যুৎ, ফায়ার সার্ভিস, পানি উন্নয়ন বোর্ড, সড়ক বিভাগ, রেডক্রিসেন্টসহ জেলা পর্যায়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা যোগ দেন।
সভায় জেলা প্রশাসক ফারাহ্ গুল নিঝুম বলেন, ঘূর্ণিঝড় ‘রেমাল’ মোকাবিলায় সর্বাত্মক প্রস্তুতি নেওয়া শুরু হয়েছে। এই কয় দিন সংশ্লিষ্ট সব পর্যায়ের কর্মকর্তাদের স্টেশন ত্যাগ না করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ঘূর্ণিঝড় ‘রেমাল’ মোকাবিলায় নির্ধারিত সাইক্লোন শেল্টারসহ আশ্রয়কেন্দ্রের জন্য সহ জেলার সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ব্যবহার উপযোগী করা হয়েছে।
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরীফ ওসমান হাদির হত্যাকারীদের বিচারের দাবীতে টঙ্গীতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) সকালে ঘোড়াশাল কালীগঞ্জ আঞ্চলিক সড়কের টিএন্ডটি বাজার এলাকায় টঙ্গী পূর্ব থানার সর্বস্থরের জনগনের ব্যানারে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
এসময় উপস্থিত ছিলেন গাজীপুর মহানগর এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব আসাদুজ্জামান দিপু, টঙ্গী পূর্ব থানা জামায়াতে ইসলামের আমির নজরুল ইসলাম, আইন বিষয়ক সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম, ৪৬ নং ওয়ার্ডের সভাপতি আবু ইউসুফ, ৪৭ নং ওয়ার্ড জামায়াতে ইসলামীর সহ সেক্রেটারি ইমরান হোসেন, এনসিপি নেতা তুষার, আশিক, আরিফ হাওলাদারসহ বিভিন্ন ওয়ার্ডের নেতাকর্মী ও এলাকাবাসী।
এসময় বক্তারা বলেন শহীদ শরীফ ওসমান হাদীর হত্যাকারীদের গ্রেফতার করতে না পারা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সরকারের ব্যর্থতা। অবিলম্বে হাদীর হত্যাকারীদের দেশে ফিরিয়ে এনে দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তি নিশ্চিত করা না গেলে জাতি এই সরকারকে কখনোই ক্ষমা করবে না।
শহীদ শরীফ ওসমান হাদি শুধু একজন ব্যক্তি নন তিনি একটি আদর্শের প্রতিক। হাদির আত্মত্যাগ বীর বাঙ্গালি কখনো মুছে যেতে দেবে না।
ক্ষুদ্রঋণ ব্যাংক অধ্যাদেশ ২০২৫ নিয়ে সম্প্রতি বিভিন্ন গণমাধ্যমে যে বিতর্ক ও প্রশ্ন উঠেছে, তার জবাবে অবস্থান স্পষ্ট করেছে ক্ষুদ্রঋণ প্রদানকারী সংগঠনগুলোর জাতীয় নেটওয়ার্ক—ক্রেডিট অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ফোরাম (সিডিএফ)। সংগঠনটি বলছে, প্রস্তাবিত ক্ষুদ্রঋণ ব্যাংক অধ্যাদেশ ক্ষুদ্রঋণবান্ধব নয় কিংবা এটি মুনাফাভিত্তিক উদ্যোগ—এ ধরনের আশঙ্কার সঙ্গে অধ্যাদেশের মূল দর্শনের কোনো সামঞ্জস্য নেই। বরং এই আইন পাস হলে ক্ষুদ্রঋণ খাতের কাঠামো আরও শক্তিশালী ও টেকসই হবে।
সিডিএফ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তাদের এই অবস্থান স্পষ্ট করে বলেছে-ক্ষুদ্রঋণ ব্যাংক অধ্যাদেশ ইতিবাচক ও দৃষ্টান্তমূলক পদক্ষেপ।
সিডিএফের মতে, প্রস্তাবিত ক্ষুদ্রঋণ ব্যাংক একটি সামাজিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচালিত হবে—এ বিষয়টি অধ্যাদেশের খসড়াতেই স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে। খসড়ার ৯ নম্বর ধারায় বলা হয়েছে, ব্যাংকটি সামাজিক ব্যবসার নীতিতে পরিচালিত হবে এবং বিনিয়োগকারীরা তাদের বিনিয়োগের অতিরিক্ত কোনো লভ্যাংশ নিতে পারবেন না। ফলে এটিকে মুনাফাভিত্তিক বা ব্যক্তিমালিকানার উদ্যোগ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।
গণমাধ্যমে প্রকাশিত বিভিন্ন বক্তব্যে ক্ষুদ্রঋণ ব্যাংক নিয়ে যেসব প্রশ্ন উঠেছে, তার মধ্যে অন্যতম হলো—ব্যাংক হলে ক্ষুদ্রঋণের মূল উদ্দেশ্য থেকে সরে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হবে কি না। এ বিষয়ে সিডিএফ বলছে, প্রস্তাবিত ব্যাংকের লক্ষ্য মুনাফা নয়; বরং দারিদ্র্য নিরসন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং ক্ষুদ্র উদ্যোগ ও কুটির শিল্পের বিকাশে সহায়তা করা। ব্যাংকটির কার্যক্রম হবে বহুমাত্রিক—এর আওতায় ঋণ কার্যক্রমের পাশাপাশি ইনস্যুরেন্স সেবা, রেমিট্যান্স, দেশি-বিদেশি অনুদান ও ঋণ গ্রহণের সুযোগ থাকবে। পাশাপাশি কৃষি খাতেও ঋণের পরিধি বাড়ানো সম্ভব হবে।
আরেকটি বড় বিতর্কের জায়গা হলো—এনজিও ও ব্যাংকের দ্বৈত নিয়ন্ত্রণ। এ প্রসঙ্গে সিডিএফের বক্তব্য, ক্ষুদ্রঋণ ব্যাংক আইন কার্যকর হলেও কোনো এনজিওকে বাধ্যতামূলকভাবে ব্যাংকে রূপান্তর করা হবে না। কোনো সংস্থা চাইলে সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে তাদের কার্যক্রম ব্যাংকের আওতায় আনতে পারবে। তবে যে অংশ ব্যাংকে রূপান্তরিত হবে, তা সম্পূর্ণ আলাদা কাঠামো ও ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত হবে এবং তার নিয়ন্ত্রণ থাকবে বাংলাদেশ ব্যাংকের হাতে। অন্যদিকে এনজিও অংশের নিয়ন্ত্রণ থাকবে মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটির (এমআরএ) অধীনে। ফলে একই কাঠামোয় দ্বৈত নিয়ন্ত্রণের প্রশ্নই ওঠে না।
জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার রেলওয়ে সড়ক এলাকার একটি গোডাউনে অবৈধ যৌন উত্তেজক সিরাপ ও বিএসটিআই অনুমোদনবিহীন এবং মেয়াদোত্তীর্ণ ভেজাল খাদ্যসামগ্রী জব্দ করেছে ২০ বিজিবির জয়পুরহাট ব্যাটালিয়নের সদস্যরা। শুক্রবার দুপুরে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জয়পুরহাট ব্যাটালিয়নের (২০ বিজিবি) একটি বিশেষ টহলদল পাঁচবিবি সদর উপজেলার জামে মসজিদ সংলগ্ন রেলওয়ে সড়ক মার্কেট এলাকায় অভিযান চালায়। অভিযানে একটি গোডাউন তল্লাশি করে সীমান্ত পথে ভারতে পাচারের উদ্দেশ্যে মজুত রাখা বিপুল পরিমাণ অবৈধ যৌন উত্তেজক সিরাপ ও ভেজাল খাদ্যসামগ্রী উদ্ধার করা হয়। এসবের আনুমানিক বাজার মূল্য প্রায় ২৬ লাখ ৮৭ হাজার ৪৮৫ টাকা।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, অভিযানে জেনসি, টাচ, জেট টেন, রেইনবো, একে এল ওয়ান, হিট ফ্রুট, এইচ গ্রেফ, আর আগুন, সিকরসহ বিভিন্ন ব্র্যান্ডের কয়েক হাজার বোতল যৌন উত্তেজক সিরাপ জব্দ করা হয়। পাশাপাশি বিএসটিআই অনুমোদনবিহীন ললিপপ, জেল জুস, স্যালাইন, কৃত্রিম ফ্লেভার, ড্রিংকস, জেলো জুস ও বিভিন্ন প্রকার চিপস উদ্ধার করা হয়। অভিযানকালে গোডাউন স্বত্বাধিকারী নাজমুল হোসেন সরকার বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
জয়পুরহাট (২০ বিজিবি) ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ লতিফুল বারী জানান, মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির অংশ হিসেবে সীমান্ত এলাকায় এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে সীমান্ত নিরাপত্তা ও সামাজিক শৃঙ্খলা রক্ষায় স্থানীয় জনগণের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলার মেঘনা নদীবেষ্টিত দুর্গম চরাঞ্চলে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও সন্ত্রাসীদের আস্তানা নিয়ন্ত্রণে বিশেষ অভিযান চালিয়েছে সেনাবাহিনী ও পুলিশের যৌথ বাহিনী।
শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) বিকেলে অভিযান শেষে উদ্ধারকৃত অস্ত্রশস্ত্র ও গ্রেপ্তারদের নিয়ে খালিয়ারচর জাহানারা বেগম উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা তথ্য জানান ৪৫ এমএলআরএস রেজিমেন্টের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল জুবায়ের।
এর আগে, ভোর থেকে শুরু হওয়া এই অভিযানে কালাপাহাড়িয়া ইউনিয়ন থেকে পুলিশের খোয়া যাওয়া একটি আগ্নেয়াস্ত্র, বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ ও দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র উদ্ধার করা হয়। একই সঙ্গে পাঁচজন চিহ্নিত সন্ত্রাসীকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে পরিচালিত এই অভিযানে কালাপাহাড়িয়া ইউনিয়নের খালিয়ারচর, মধ্যারচর ও কদমিরচরসহ একাধিক এলাকা ঘিরে ফেলা হয়। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে যৌথ বাহিনীর সদস্যরা বিভিন্ন দলে বিভক্ত হয়ে সন্দেহভাজন সন্ত্রাসীদের বাড়িতে তল্লাশি চালান।
অভিযানে উদ্ধার করা অস্ত্র ও সরঞ্জামের মধ্যে রয়েছে— পুলিশের খোয়া যাওয়া একটি পিস্তল ও ম্যাগাজিন, ১০ রাউন্ড গুলি, পাঁচটি শটগানের কার্তুজ, আটটি ককটেল, ৩৮৮টি রামদা, সাতটি চাপাতি, একটি বড় ছোরা, ছয়টি ছোট ছোরা, ১৩টি দা, দুটি কুড়াল, ছয়টি হকিস্টিক, টেটা, ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত বড় টর্চলাইট, একটি ইলেকট্রিক শক দেওয়ার যন্ত্র এবং নগদ ১০ লাখ ১৫ হাজার ৮০০ টাকা।
গ্রেপ্তারকৃত পাঁচজন হলেন— মোহাম্মদ স্বপন, পারভেজ, মতিন, জাকির ও রিংকু মিয়া।
অভিযান শেষে উদ্ধারকৃত অস্ত্রশস্ত্র ও গ্রেপ্তারদের নিয়ে খালিয়ারচর জাহানারা বেগম উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সেখানে ৪৫ এমএলআরএস রেজিমেন্টের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল জুবায়ের বলেন,
“সন্ত্রাসের জনপদ হিসেবে পরিচিত কালাপাহাড়িয়া ইউনিয়নে নির্বাচনকে সামনে রেখে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও সন্ত্রাসীদের আস্তানার নিয়ন্ত্রণ নিতে এই বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।”
তিনি আরও জানান, অভিযানে সেনাবাহিনীর ১৪০ জন সদস্য এবং স্থানীয় থানা পুলিশের ১০ জন সদস্য অংশ নেন। নির্বাচনকালীন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।
কিশোরগঞ্জ শহরের একটি আবাসিক হোটেলে ছয়জন ধারণক্ষমতার লিফটে ১০ জন ওঠায় লিফট বিকল হয়ে নিচে নেমে যায়। এতে বরসহ ১০ জন বরযাত্রী লিফটের ভেতরে আটকা পড়েন। পরে প্রায় এক ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে ভবনের দেয়াল ভেঙে তাঁদের উদ্ধার করে ফায়ার সার্ভিস।
শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) বিকেলে জেলা শহরের স্টেশন রোড এলাকার খান টাওয়ারে অবস্থিত হোটেল শেরাটনে এই ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার বিকাল পৌনে ৩টার দিকে হোটেলটির চারতলা থেকে দোতলায় নামতে ছয়জন ধারণক্ষমতার লিফটে বরসহ ১০ জন ওঠেন।
অতিরিক্ত ওজনের কারণে লিফটটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিচে নেমে যায় এবং প্রান্তসীমায় গিয়ে থেমে পড়ে। এতে লিফটের ভেতরে থাকা সবাই আটকা পড়েন। এ সময় তাঁদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
লিফটটি আধুনিক প্রযুক্তিসম্পন্ন হওয়ায় সেটি ছিঁড়ে পড়েনি। লিফটের ভেতরে থাকা যাত্রীরা ইন্টারকমের মাধ্যমে হোটেল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পরে হোটেল কর্তৃপক্ষ ফায়ার সার্ভিসকে খবর দিলে তারা ঘটনাস্থলে এসে উদ্ধার তৎপরতা শুরু করে।
ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা প্রথমে লিফটটি ওপরে তোলার চেষ্টা করেন। এতে ব্যর্থ হলে নিচতলার লিফটসংলগ্ন দেয়াল ভেঙে একে একে ১০ জনকে উদ্ধার করা হয়। বিকাল পৌনে ৪টার দিকে উদ্ধারকাজ শেষ হয়। এ সময় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন, আতিকুর রহমান (৪০), মিনহাজ ইবনে ফারুক (৩০), জোনায়েদ তারেক (৩৫), মোনতাছির (২৫), ইয়াহিয়া তানভীর (২০), এমদাদ (৪০), হুমায়ুন কবির (৩০), রাইছুস সালেহীন (৩৫), রেজওয়ানুল হক (৩৯) ও জারিফ (৩২)।
তাঁদের মধ্যে বর হলেন জোনায়েদ তারেক। তাঁরা সবাই চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার তেকোটা গ্রামের বাসিন্দা।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বরপক্ষের লোকজন দূরের হওয়ায় বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) দুপুরে তাঁরা কিশোরগঞ্জ শহরের হোটেল শেরাটনে অবস্থান নেন। শুক্রবার জুমার নামাজের পর শহরের পুরানথানায় অবস্থিত ঐতিহাসিক শহীদী মসজিদে বিয়ে সম্পন্ন হয়।
পরে মধ্যাহ্নভোজের জন্য হোটেল থেকে বের হওয়ার সময় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
কিশোরগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের লিডার আমিনুর রহমান বলেন, খবর পেয়ে আমরা দ্রুত ঘটনাস্থলে যাই। লিফটে আটকে পড়া ১০ জনকেই জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।
হোটেল শেরাটনের চেয়ারম্যান জিয়া উদ্দিন খান বলেন, লিফটে কোনো যান্ত্রিক ত্রুটি ছিল না। ধারণক্ষমতার দ্বিগুণ মানুষ ওঠায় এ পরিস্থিতি তৈরি হয়। লিফটটি আধুনিক হওয়ায় ধীরে নিচে নেমে গিয়ে থেমে পড়ে। ফায়ার সার্ভিস দক্ষতার সঙ্গে উদ্ধারকাজ সম্পন্ন করেছে।
ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার দাউদকান্দিতে যাত্রীদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডার জেরে বেপরোয়া গতিতে বাস চালাতে গিয়ে ভয়াবহ দুর্ঘটনার ঘটনা ঘটেছে। যাত্রীবাহী একটি বাস অটোরিকশা ও মোটরসাইকেলকে চাপা দিয়ে উল্টে গিয়ে অগ্নিকাণ্ডে নারী ও শিশুসহ চারজন নিহত হয়েছেন। এতে আহত হয়েছেন অন্তত ৩০ জন।
শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে দাউদকান্দি উপজেলার জিংলাতলি ইউনিয়নের বানিয়াপাড়া এলাকায় চট্টগ্রামগামী লেনে সিডিএম পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস এ দুর্ঘটনায় পড়ে। ত্রিমুখী সংঘর্ষের পর বাসটি সড়কে উল্টে গিয়ে আগুন ধরে যায়।
দাউদকান্দি হাইওয়ে থানা পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা যায়, নিহতদের মধ্যে দুইজন শিশু, একজন নারী ও একজন পুরুষ রয়েছেন।
নিহতরা হলেন—
শিশু হোসাইন (১৬ মাস), নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার মাঝেরচর গ্রামের সুমন মিয়ার ছেলে। তিনি পরিবারের সঙ্গে বাসের যাত্রী ছিলেন।
মোটরসাইকেল আরোহী মো. শামীম হোসেন (৩৮) ও তার ছেলে নাদিফ হোসেন (৭)। তারা দাউদকান্দি উপজেলার পেন্নই গ্রামের বাসিন্দা এবং জুমার নামাজ আদায়ের জন্য পাশের বানিয়াপাড়া দরবার শরীফের মসজিদে যাচ্ছিলেন।
বাসে নিহত নারী যাত্রীর পরিচয় এখনো শনাক্ত করা যায়নি।
নিহত শিশুর মা শাপলা বেগম জানান, দুর্ঘটনার সময় হোসাইন তার কোলে ছিল। বাসটি উল্টে গেলে শিশুটি গাড়ির নিচে চাপা পড়ে। পরে বাসে আগুন ধরে গেলে চোখের সামনেই সন্তানকে পুড়ে মারা যেতে দেখেন তিনি। এ ঘটনার পর জ্ঞান হারান শাপলা বেগম। জ্ঞান ফেরার পর বারবার সন্তানের নাম ধরে চিৎকার করতে থাকেন।
এদিকে ঘটনাস্থলেই নিহত হন শামীম হোসেন ও তার ছেলে নাদিফ। তাদের মৃত্যুসংবাদ শুনে থানায় এসে শামীমের ভাই রিয়াজ উদ্দিন জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ জানায়, বাসটি বিভিন্ন স্থানে দাঁড়িয়ে যাত্রী তুলছিল। এতে যাত্রীরা বিরক্ত হয়ে চালককে না দাঁড়ানোর অনুরোধ করেন। এ নিয়ে বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে চালক বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালাতে শুরু করেন। এরপর অটোরিকশা ও মোটরসাইকেলকে চাপা দিয়ে বাসটি উল্টে যায় এবং অগ্নিকাণ্ড ঘটে।
দাউদকান্দি ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের স্টেশন অফিসার মো. এরশাদ জানান, আগুন নিয়ন্ত্রণের পর বাসের ভেতর থেকে চারজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। আহতদের উদ্ধার করে দাউদকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ কুমিল্লা ও ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
দাউদকান্দি হাইওয়ে থানার এসআই সন্দ্বীপ সাহা জানান, অতিরিক্ত গতি ও হার্ড ব্রেকের কারণে বাসটি উল্টে সড়কের সঙ্গে ঘর্ষণে আগুন লাগতে পারে।
ওসি ইকবাল বাহার বলেন, ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং যান চলাচল স্বাভাবিক করা হয়েছে। ঘাতক বাসচালককে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
দুর্ঘটনার পর বানিয়াপাড়া থেকে গৌরিপুর পর্যন্ত প্রায় পাঁচ কিলোমিটার এলাকায় দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।
কুষ্টিয়ায় পৃথক অভিযানে বিপুল পরিমাণ অবৈধ ও ভারতীয় পাতার বিড়ি উদ্ধার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (৪৭ বিজিবি)।
আজ শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) ও গতকাল বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) জেলার সীমান্ত ও বাইপাস এলাকায় এই অভিযানগুলো পরিচালিত হয়। উদ্ধারকৃত মালামালের মোট বাজার মূল্য ধরা হয়েছে ৩ লাখ ১৯ হাজার ৯০০ টাকা।
শুক্রবার দুপুরে বিজিবির দেওয়া এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয় , শুক্রবার সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়ন সদরের একটি চৌকস টহল দল ত্রিমোহনী বাইপাস এলাকায় বিশেষ অভিযান চালায়। অভিযানে পরিত্যক্ত অবস্থায় ৪,২০৬ প্যাকেট অবৈধ নকল বিড়ি উদ্ধার করা হয়। যার আনুমানিক সিজার মূল্য ২ লাখ ২৮ হাজার ৮০০ টাকা।
এর আগে, গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা ৪০ মিনিটের দিকে দৌলতপুর উপজেলা চরচিলমারী বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় অপর একটি অভিযান চালানো হয়। সীমান্ত পিলার ১৫৭/৩-এস হতে প্রায় ১ কিলোমিটার বাংলাদেশের অভ্যন্তরে বাংলাবাজার মাঠপাড়া এলাকায় এই অভিযানে ১,৬৬০ প্যাকেট ভারতীয় পাতার বিড়ি উদ্ধার করে বিজিবি। উদ্ধারকৃত এই বিড়ির মূল্য প্রায় ৯১ হাজার ১০০ টাকা।
এবিষয়ে বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়, উদ্ধারকৃত বিড়িগুলো সংশ্লিষ্ট কাস্টমস অফিসে জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়ন (৪৭ বিজিবি) এর অধিনায়ক জানিয়েছেন, সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি মাদক ও সকল প্রকার চোরাচালান রোধে বিজিবি জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছে। জনস্বার্থে এবং দেশের অর্থনীতি রক্ষায় বিজিবির এই ধরনের কঠোর ও কার্যকর অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
গাইবান্ধায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় পরীক্ষা কেন্দ্রে ইলেকট্রনিক ডিভাইসসহ অসাদুপায় অবলম্বনের অভিযোগে ৪৯ জন পরীক্ষার্থীকে আটক করা হয়েছে।
শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) দুপুর ৩ তিনটা থেকে বিকেল ৪ টা ৩০ মিনিটের দেড় ঘণ্টার পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে জেলার বিভিন্ন পরীক্ষা কেন্দ্র থেকে তাদের আটক করে দায়িত্বপ্রাপ্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও প্রশাসনের পরীক্ষা সংশ্লিষ্টরা। আটক ব্যক্তিদের কাছ থেকে মোবাইল ফোন, ব্লুটুথ ডিভাইসসহ ইলেকট্রনিক সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে।
গাইবান্ধার পরীক্ষা সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সারাদেশের ৬১ জেলার সাথে গাইবান্ধাতেও ৪৩ টি পরীক্ষা কেন্দ্রে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। বেলা ৩ টায় শুরু হওয়া পরীক্ষা চলে বিকেল সাড়ে ৪ টা পর্যন্ত। এসময় ৪৩ টি কেন্দ্রের মধ্যে ২৪ টি পরীক্ষা কেন্দ্র থেকে নারীসহ ৪৯ জনকে আটক করে সংশ্লিষ্টরা। ২৪ টি কেন্দ্রের মধ্যে সব থেকে সংখ্যাক ১১ জন পরীক্ষার্থীকে আটক হয় গাইবান্ধা সদর উপজেলার "কুপতলা আব্দুল কাইয়ূম হাইস্কুল" কেন্দ্র থেকে।
এসব বিষয় মোবাইল ফোনে নিশ্চিত করেছেন গাইবান্ধা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার লক্ষণ কুমার দাশ। তিনি বলেন শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় ইলেকট্রনিকস ডিভাইস ব্যবহার করে পরীক্ষা দেওয়ার সময় জেলার ২৪ টি পরীক্ষা কেন্দ্র থেকে ৪৯ জন পরীক্ষার্থীকে আটক করেছে সংশ্লিষ্টরা। এসময় তাদের কাছে থেকে ইলেকট্রনিকস ডিভাইস ও ব্লুটুথ ইয়ার ডিভাইস পাওয়া গেছে। তাদের মধ্যে নারী পরীক্ষার্থীও রয়েছে।
এসময় এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, আটককৃতদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলার প্রস্তুতি চলছে।
এদিকে, এই পরীক্ষা ঘিরে গতকাল বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) গাইবান্ধার জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান মোল্লা স্বাক্ষরিত এক আদেশে পরীক্ষা কেন্দ্রের চারদিকে ২০০ গজের মধ্যে ১৪৪ ধারা জারি করেন।
আদেশ অনুযায়ী পরীক্ষার দিন পরীক্ষা শুরুর ৩ ঘণ্টা আগে থেকে পরীক্ষা শেষের ২ ঘণ্টা পর পর্যন্ত অর্থাৎ এদিন দুপুর ১ টা থেকে বিকেল ৫ টা পর্যন্ত প্রতিটি পরীক্ষা কেন্দ্রের চারদিকে ২০০ গজের মধ্যে যেকোনো ধরনের সভা-সমাবেশ, বেআইনি জমায়েত, মিছিল, প্রচারণা এবং বাদ্যযন্ত্র ব্যবহার সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ থাকবে বলে আদেশ হয়। এছাড়া, পরীক্ষা চলাকালে কেন্দ্রগুলোর আশপাশে অননুমোদিত ব্যক্তির প্রবেশও নিষিদ্ধ করা হয়।
উল্লেখ্য, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ–২০২৫ এর লিখিত পরীক্ষাটি প্রথমে গত ২ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। তবে বিএনপির সাবেক চেয়ারপার্সন ও বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে সরকার ঘোষিত জাতীয় শোক দিবসের আওতায় পড়ায় ওই দিনের পরীক্ষা স্থগিত করা হয়। পরবর্তীতে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর পরীক্ষার নতুন তারিখ হিসেবে ৯ জানুয়ারি নির্ধারণ করে।
এরপর অধিদপ্তরের আরেকটি আদেশে পরীক্ষা কেন্দ্র ও তারিখ অপরিবর্তিত রেখে পূর্বনির্ধারিত সকাল ১০টার পরিবর্তে পরীক্ষার সময় দুপুর ৩টা থেকে ৪টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়।
প্রসঙ্গত: সর্বশেষ ২০২৩ সালের ৮ ডিসেম্বর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় গাইবান্ধায় ইলেকট্রনিক ডিভাইস ও মোবাইল ব্যবহারের মাধ্যমে জালিয়াতির অভিযোগে ৩৩ জন ওই নিয়োগ পরিক্ষার পরিক্ষার্থী এবং বহিরাগত ৫ জন সহ মোট ৩৮ জনকে আটক করে র্যাব। একই সাথে এদিন কেন্দ্র থেকেই বহিষ্কার করা হয় ৩৬ জন পরিক্ষার্থীকে।
এদিন র্যাব-১৩ গাইবান্ধার ক্যাম্পে সংবাদ সম্মেলন করে গণমাধ্যমকর্মীদের জানিয়েছিলো, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে জেলার বিভিন্ন কেন্দ্রে থেকে শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় অসাদুপায় অবলম্বনকারী ৩২ জন পরীক্ষার্থীসহ এই চক্রের হোতা মারুফ, মুন্না, সোহেল, নজরুল ও সোহাগসহ মোট ৩৮ জনকে আটক করা হয়। পরে তাদের কাছ থেকে ২২ টি মাস্টার কার্ড, ১৯ টি ব্লুটুথ ডিভাইস, ১৬ টি মোবাইল, স্ট্যাম্প ও ব্যাংক চেক উদ্ধার করা হয়।
র্যাব জানিয়েছিলো চক্রের ওই ৫ সদস্যের মধ্যে সোহেল নামে এক সদস্য ডিভাইস সংগ্রহ ও বিতরণ করেন, নজরুল পরীক্ষার্থী সংগ্রহ করতেন এবং মারুফ ও মুন্না বাহির থেকে প্রশ্নপত্র সমাধান করে পরীক্ষার্থীদের কাছে সরবরাহ করেন।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক সংগ্রাম, ব্যক্তিত্ব এবং তাঁর সঙ্গে কাটানো দীর্ঘদিনের অম্লান স্মৃতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল। আজ শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) এক ফেসবুক পোস্টে তিনি নিজেকে খালেদা জিয়ার দীর্ঘদিনের ‘ভক্ত’ হিসেবে পরিচয় দেন। পোস্টের সাথে তিনি একটি আবেগঘন ছবিও যুক্ত করেছেন, যেখানে তাঁকে খালেদা জিয়ার কফিনে মোড়ানো জাতীয় পতাকা ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের হাতে তুলে দিতে দেখা যাচ্ছে।
স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে আসিফ নজরুল আশির দশকের শেষদিকের কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, ১৯৮৮-৮৯ সালের দিকে সাংবাদিক হিসেবে ধানমণ্ডির বিএনপি কার্যালয়ে তিনি খালেদা জিয়ার সাক্ষাৎকার নিতে গিয়েছিলেন। সেই সময়কার একটি ঘটনার বর্ণনা দিয়ে তিনি লেখেন, সাক্ষাৎকারের এক পর্যায়ে তিনি খালেদা জিয়াকে একটি বেশ কঠিন প্রশ্ন করেছিলেন। এতে উপস্থিত জ্যেষ্ঠ নেতা সাইফুর রহমান ক্ষুব্ধ হলেও খালেদা জিয়া অত্যন্ত ধৈর্য ও সৌজন্যের পরিচয় দিয়েছিলেন এবং হাসিমুখে উত্তর দিয়েছিলেন। এরপরও বিভিন্ন সময়ে ‘সাপ্তাহিক বিচিত্রা’র জন্য তিনি বেশ কয়েকবার ম্যাডামের একান্ত সাক্ষাৎকার নিয়েছেন।
আইন উপদেষ্টা তাঁর পোস্টে আরও উল্লেখ করেন যে, ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর খালেদা জিয়ার ওপর যে অবর্ণনীয় নির্যাতন ও মিথ্যা মামলা চাপিয়ে দেওয়া হয়েছিল, তা সত্ত্বেও তিনি অসীম সাহসিকতায় দেশপ্রেমে অটল ছিলেন। আসিফ নজরুল দাবি করেন, শেখ হাসিনার ফ্যাসিস্ট আমলের ১৫ বছরেও তিনি কখনো খালেদা জিয়ার প্রতি শ্রদ্ধা ও সমর্থন প্রকাশে পিছুপা হননি। এমনকি বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল আলমগীর ছাড়া আর কাউকেই ওই দুঃসময়ে ম্যাডামের পক্ষে এতোটা সোচ্চার হতে দেখেননি বলে তিনি মন্তব্য করেন।
সবশেষে খালেদা জিয়ার শেষ বিদায় বেলার কথা উল্লেখ করে আসিফ নজরুল কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি লেখেন, জীবনের শেষ বিদায়ের দিনে সারাটা সময় তিনি খালেদা জিয়ার পরিবারের পাশে থাকার সুযোগ পেয়েছেন। দেশের জন্য আজীবন ত্যাগ স্বীকার করা এই মহীয়সী নেত্রীর কফিন জড়িয়ে রাখা জাতীয় পতাকাটি তাঁর সন্তানের হাতে তুলে দিতে পেরে তিনি নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে করছেন এবং আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করেছেন।
২৫০ শয্যা বিশিষ্ট ফেনী জেনারেল হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটারের লেবার ওয়ার্ডে দুই বছর ধরে রান্নাবান্না চলছে। প্রতিদিন এখানে গর্ভবতী নারীদের নরমাল ডেলিভারি, সিজারিয়ান অপারেশন হলেও কিছু সিনিয়র স্টাফ নার্স থিয়েটারের কক্ষ রান্নাঘর ও শয়নকক্ষ হিসেবে ব্যবহার করছেন।
জানা গেছে, এসব অনিয়মের মধ্যে জড়িত নার্সরা হলেন নার্সিং সুপারভাইজার নূর জাহান, কল্পনা রানী, হ্যাপী রানী সূত্রধর, সীমা কর্মকার, রত্না বসাক, রানী বালা ও দেলোয়ারা বেগম প্রমুখ। তারা নিয়মিতভাবে হাসপাতালে রান্নার মত অনিয়মের সঙ্গে জড়িত।
সম্প্রতি অপারেশন থিয়েটারে রান্নাবান্নার একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ওই ভিডিওতে দেখা যায়, হাসপাতালের সিনিয়র নার্সদের দুজন অপারেশন থিয়েটারের কক্ষে শীতের পিঠা তৈরি করছেন। অন্যরাও অবাধে আসা-যাওয়া করছেন। ঠিক পাশের কক্ষে চলছে সিজারিয়ান অপারেশন। সেখানেও রোগীর স্বজনদের অবাধ চলাফেরা করতে দেখা যায়।
অভিযোগ রয়েছে, স্বাস্থ্যঝুঁকির এই চরম অবস্থা সম্পর্কে লেবার ওয়ার্ডে কর্মরত চিকিৎসকরা অবগত। বিভিন্ন সময়ে এখান থেকে রান্না করে চিকিৎসকরা ব্যক্তিগত আয়োজনে খাবার পরিবেশন করে থাকেন।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, এমন অনিয়ম রোগ-জীবাণু সংক্রমণের ঝুঁকি বহু গুণ বাড়ায় এবং চিকিৎসা শৃঙ্খলার চরমভাবে লঙ্ঘন হয়।
রহিম উল্লাহ নামে এক রোগীর আত্মীয় বলেন, “হাসপাতালের লেবার ওয়ার্ডে যেখানে নারীদের সিজার অপারেশন হয়, সেখানেই রান্নাবান্না করেন নার্সরা। এটা ভাবতেই শরীর শিউরে ওঠে। এমন জঘন্য কাজে যারা সম্পৃক্ত, তদন্ত করে তাদের সবার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।
রোগীর আর এক স্বজন সালাহ উদ্দিন বলেন, “আমার বোনের প্রসব বেদনা উঠলে তাকে ফেনী জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে এসেছি। এখানে এসে শুনছি নার্সরা না কি অপারেশন থিয়েটারে রান্না করেন। এটা কেমন কথা! তাও দুই বছর ধরে এটা চলে আসছে। এটা মারাত্মক?
নাম প্রকাশ না করার শর্তে আরেক রোগীর স্বজন বলেন, “সাংবাদিকরা এ ব্যাপারে সংবাদ সংগ্রহ করছেন জেনে নূর জাহান নামে একজন নার্স খুব দম্ভ করে বলেছেন, ‘খাইছি-আরও খামু, কনে কিয়া কইরবো দেখা যাবে’। অভিযুক্ত নার্সদের সঙ্গে কথা বলতে চাইলে তারা এ বিষয়ে কথা বলতে রাজি হননি।
হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. রোকন উদ দৌলা বলেন, “ওটির ভেতর রান্নাবান্না! এটা অসম্ভব ব্যাপার। ওটির ভেতরে কীভাবে রান্নাবান্না করে? সংক্রমণের অনেক বিষয় আছে এখানে। অবশ্যই এ ব্যাপারে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেব।”
হাসপাতালে জুনিয়র কনসালটেন্ট (অর্থো সার্জারি) ডা. মো. জামাল উদ্দিন বলেন, “এ বিষয়টি আমরা অবশ্যই গুরুত্বসহকারে দেখব এবং অবশ্যই ব্যবস্থা নেব। এমন স্পর্শকাতর জায়গায় রান্না করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
এ বিষয়ে হাসপাতালের তত্বাবধায়ক ডা. সাইফুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি আমি অবগত হয়েছি। এটা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি আরো বলেন, বিষয়টিতে আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছি। এ ব্যাপারে একটি তদন্ত কমিটি গঠিত হয়েছে। তদন্ত কমিটির সুপারিশের আলোকে বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেব।
ফেনীর সিভিল সার্জন মোহাম্মদ রুবাইয়াত বিন করিম বলেন, “অপারেশন থিয়েটারে রান্নাবান্না করার কোনো সুযোগ নেই। এতে মারাত্মক সংক্রমণের ঝুঁকি রয়েছে। আমরা অবশ্যই খোঁজ-খবর নেব।
নাগরিক সেবা আরও সহজ, সমন্বিত ও জনবান্ধব করার লক্ষ্যে মাঠপর্যায়ের উদ্যোক্তাদের দক্ষতা বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে আজ শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) কুমিল্লার সার্কিট হাউজ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘নাগরিক সেবা বাংলাদেশ’ বিষয়ক ওরিয়েন্টেশন ও উদ্যোক্তাদের জন্য দক্ষতা বৃদ্ধিমূলক কর্মশালা।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব।
প্রধান অতিথির বক্তৃতায় ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব বলেন, নাগরিক সেবা বাংলাদেশ সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ ও সময়োপযোগী সংস্কারমূলক উদ্যোগ, যার মূল লক্ষ্য হলো সরকারি সেবায় নাগরিকদের প্রবেশাধিকার সহজ করা, দীর্ঘদিনের ভোগান্তি কমানো এবং এক ছাদের নিচে সমন্বিত সেবা নিশ্চিত করা। তিনি বলেন, সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সেবাগুলোকে বিচ্ছিন্নভাবে নয়, বরং একটি সমন্বিত কাঠামোর আওতায় এক জায়গা থেকেই সেবা প্রদানের ব্যবস্থা করা হয়েছে, যা সেবার মান ও দক্ষতা উভয়ই বৃদ্ধি করবে। তিনি আরও বলেন, নাগরিক সেবা কেন্দ্রগুলো স্থানীয় পর্যায়ে সরকারের সেবাদানের বিশ্বাসযোগ্য প্রতিফলন হবে।
উল্লেখ্য, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের আয়োজনে এবং কুমিল্লা জেলা প্রশাসন ও এসপায়ার টু ইনোভেট (এটুআই)-এর সহযোগিতায় আয়োজিত এই কর্মশালায় কুমিল্লা ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার ইউনিয়ন, পৌরসভা, উপজেলা ও জেলা পরিষদ ডিজিটাল সেন্টারের নির্বাচিত ১০০ জন উদ্যোক্তা অংশগ্রহণ করেন।
কুমিল্লা জেলা প্রশাসক মোঃ রেজা হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই কর্মশালায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সিনিয়র সিস্টেম অ্যানালিস্ট মোঃ নবীর উদ্দীন এবং এসপায়ার টু ইনোভেট (এটুআই)-এর হেড অব প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্ট আব্দুল্লাহ আল ফাহিম। উক্ত কর্মশালায় স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন কুমিল্লার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) আলী রাজিব মাহমুদ মিঠুন এবং সঞ্চালনা করেন সহকারী কমিশনার মোঃ সালমান ফার্সি।
নাটোরের বাগাতিপাড়ায় নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল ব্যবহার করে দেশি ও অতিথি পাখি শিকারের একটি সংঘবদ্ধ চক্র সক্রিয় রয়েছে বলে জানা গেছে। রাতের আঁধারে পরিচালিত এই অবৈধ পাখি শিকার কার্যক্রমে জীববৈচিত্র্য মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে। সচেতন মহল এসব পাখি শিকারিদের বিরুদ্ধে প্রশাসনের কাছে দ্রুত অভিযান ও নিয়মিত নজরদারির দাবি জানিয়েছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, উপজেলার পাঁকা ইউনিয়নের শালইপাড়া ধোপার বিল এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই এই অবৈধ পাখি শিকার চলমান রয়েছে। শুক্রবার সকালে সরেজমিনে গিয়ে এর প্রমাণ পাওয়া যায়। দেখা যায়, বিলের দুই প্রান্তে লাঠির সঙ্গে কারেন্ট জাল টানটান করে পেতে রাখা হয়েছে। উড়ে যাওয়ার সময় পাখিগুলো এসব জালে আটকে পড়ছে। পরে শিকারিরা সেগুলো সংগ্রহ করে বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করছে।
এ সময় পাঁকা ইউনিয়নের ধোপার বিল এলাকায় কৃষক সাখওয়াত হোসেনের জমিতে পাতা কারেন্ট জালে ২টি পেঁচা, ১টি শালিক ও ১টি বাবুই পাখি আটকে থাকতে দেখা যায়। এর মধ্যে ১টি পেঁচা ও ১টি বাবুই পাখি মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। জীবিত ১টি শালিক ও ১টি পেঁচার শরীরে জাল পেঁচানো অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। খবর পেয়ে স্থানীয় দুজন সাংবাদিক কৃষকদের সহায়তায় জালে আটকানো পাখিগুলো উদ্ধার করেন। পরে জীবিত ১টি শালিক ও ১টি পেঁচাকে নিরাপদ পরিবেশে অবমুক্ত করা হয়।
জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ফেডারেশন (বিবিসিএফ)-এর কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও ‘সবুজ বাংলা’র সাধারণ সম্পাদক ফজলে রাব্বি বলেন, কারেন্ট জাল দিয়ে পাখি শিকার একটি মারাত্মক অপরাধ এবং এটি পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের জন্য ভয়াবহ হুমকি। দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলাউদ্দিন বলেন, পাখি শিকার সম্পূর্ণ বেআইনি ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে দ্রুত সমন্বয় সভা করে অভিযান পরিচালনা করা হবে।
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান জানিয়েছেন, দায়িত্ব পালন শেষে যেকোনো ধরনের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে বা কাঠগড়ায় দাঁড়াতে তাঁর কোনো দ্বিধা নেই। আজ শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) সকালে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে (কেআইবি) আয়োজিত পরিবেশ সংস্কার বিষয়ক এক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। উপদেষ্টা উল্লেখ করেন, বিগত ৫৪ বছরের জঞ্জাল মাত্র দেড় বছরের সরকারের পক্ষে পুরোপুরি পরিষ্কার করা সম্ভব না হলেও, অন্তর্বর্তী সরকার তাদের সর্বোচ্চ সক্ষমতা দিয়ে কাজ করেছে।
নিজের দপ্তরের সংস্কার কার্যক্রম তুলে ধরে তিনি জানান, পলিথিন নিষিদ্ধের পুরোনো আইনটি বর্তমান সরকার কঠোরভাবে বাস্তবায়িত করেছে। এছাড়া সেন্টমার্টিন দ্বীপ রক্ষায় নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের ফলে সেখানে প্রাণবৈচিত্র্য ফিরতে শুরু করেছে। যদিও এসব ইতিবাচক উদ্যোগে পরিবেশবাদীদের প্রত্যাশিত সমর্থন পাওয়া যায়নি বলে তিনি আক্ষেপ প্রকাশ করেন।
নদী ও খাল দূষণ রোধে সরকারের বিশেষ তৎপরতার কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, ৭৫০টি দূষণকারী শিল্প প্রতিষ্ঠান শনাক্ত করা হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। বায়ুদূষণ রোধে গৃহীত বর্তমান পরিকল্পনাগুলো আগামী তিন বছর বজায় রাখা গেলে দূষণের মাত্রা উল্লেখযোগ্য হারে কমে আসবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
কারওয়ান বাজারের পান্থকুঞ্জ পার্কে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের র্যাম্প স্থাপন প্রসঙ্গে রিজওয়ানা হাসান স্পষ্ট করেন যে, র্যাম্প তৈরির সিদ্ধান্ত ছিল বিগত সরকারের, আর বর্তমান সরকার তা বন্ধের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। যদিও আদালত এই কাজে স্থগিতাদেশ দিয়েছে, তবে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় জানিয়েছে যে প্রকল্পটি পুরোপুরি বাতিল করলে বড় ধরনের অর্থনৈতিক ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে।
এ কারণে বিষয়টি চূড়ান্তভাবে বন্ধ করা কিছুটা জটিল হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।