বুধবার, ২৭ মে ২০২৬
১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

ঘূর্ণিঝড় ‘রেমাল’ মোকাবিলায় জেলায় জেলায় প্রস্তুতি

মোংলায় ঘূর্ণিঝড় নিয়ে সচেতন করতে কোস্টগার্ডের মাইকিং। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড
২৬ মে, ২০২৪ ০৫:১৯
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত : ২৬ মে, ২০২৪ ০৫:১৮

বঙ্গোবসাগরে থাকা গভীর নিম্নচাপটি ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেওয়ায় তা ‘রেমালে’ পরিণত হয়েছে। আজ রোববার মধ্যরাতে এটি আঘাত হানার আশঙ্কা করছেন আবহাওয়াবিদরা। এ জন্য দেশের ছয় জেলাকে ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলার জন্য বিশেষভাবে প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দিয়েছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. মহিববুর রহমান। এ ঘূর্ণিঝড় নিয়ে এ পর্যন্ত প্রাপ্ত পূর্বাভাস ও ভূমি অতিক্রমের সম্ভাব্য এলাকার ভিত্তিতে এ নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জেলাগুলো হলো সাতক্ষীরা, বাগেরহাট, খুলনা, বরগুনা, পটুয়াখালী ও ভোলা।

গতকাল ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় প্রস্তুতি সভায় প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘গত ১৫ বছরে ঘূর্ণিঝড়সহ সব দুর্যোগে তার নিবিড় পর্যবেক্ষণ ও নির্দেশনায় আমরা যথাসময়ে প্রস্তুতি নিয়ে মানুষের দুর্দশা লাঘব এবং জীবন ও সম্পদের ক্ষতি কমাতে সক্ষম হয়েছি। এ ঘূর্ণিঝড়টিও যাতে একই ধারাবাহিকতায় সফলভাবে মোকাবিলা করতে পারি তার জন্য আমরা প্রস্তুত রয়েছি।’

প্রতিমন্ত্রী মুহিববুর রহমান বলেন, ‘আমরা ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোর জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারদের সঙ্গে কথা বলে স্থানীয় প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য নির্দেশনা দিয়েছি। উপকূলবর্তী সব জেলাকে ঘূর্ণিঝড়ের জন্য প্রস্তুতি নিতে বলা হয়েছে। এ পর্যন্ত প্রাপ্ত পূর্বাভাস ও সম্ভাব্য ভূমি অতিক্রম এলাকার ভিত্তিতে সাতক্ষীরা, বাগেরহাট, খুলনা, বরগুনা, পটুয়াখালী, ভোলা জেলাসমূহকে অধিকতর প্রস্তুত থাকার জন্য বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘এক সপ্তাহ ধরে এই ঝড়টির বিষয়ে আমরা খোঁজখবর রাখছি। বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করে নিয়মিতভাবে পূর্বাভাস দিচ্ছে এবং আগাম কার্যাবলি (অ্যান্টিসিপেটরি অ্যাকশন) ও সাড়া প্রদানে সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত দিয়ে সহযোগিতা করছে। আমরা ভারতে অবস্থিত আঞ্চলিক বিশেষায়িত আবহওয়া কেন্দ্রের সঙ্গেও নিয়মিত যোগাযোগ রাখছি। এর পাশাপাশি বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য আন্তর্জাতিক পূর্বাভাস মডেল নিয়মিত পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে সময়োপযোগী কার্যক্রম গ্রহণ করছি।’

সভায় প্রতিমন্ত্রী বলেন, এই ঘূর্ণিঝড়টি মোকাবিলায় সার্বক্ষণিক তথ্য বিনিময়ের লক্ষ্যে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের এনডিআরসিসি ২৪ ঘণ্টা খোলা রয়েছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর মানবিক সহায়তা ও ত্রাণ কার্যক্রম প্রেরণ শুরু করেছে। ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচির (সিপিপি) ৭৮ হাজার স্বেচ্ছাসেবক কয়েক দিন যাবৎ মাঠে আগাম সতর্কবার্তা প্রচারসহ আশ্রয়কেন্দ্র পরিদর্শন ও প্রস্তুতের কাজ করছে। মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্বে অ্যান্টিসিপেটরি অ্যাকশন টেকনিক্যাল ওয়ার্কিং গ্রুপ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ, বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ ও সাইক্লোন আর্লি অ্যাকশন প্রটোকল অনুসরণ করে প্রতিষ্ঠানভিত্তিক আগাম কার্যক্রম শুরু করেছে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ঘূর্ণিঝড়ের গতি-প্রকৃতি এবং আবহাওয়া অধিদপ্তর কর্তৃক বিপদ সংকেত জারি করা মাত্র মানুষকে আশ্রয়কেন্দ্রে আনা হবে। দুর্যোগবিষয়ক স্থায়ী আদেশাবলি অনুযায়ী স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানসমূহ এবং বিভিন্ন পর্যায়ের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটিগুলো কার্যকর হয়েছে।

ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতির অংশ হিসেবে সভায় কয়েকটি বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সেগুলো হলো আগাম সতর্কতার বিজ্ঞপ্তি প্রচার ও জনগণকে সচেতন করা, আগাম মানবিক কার্যাবলি গ্রহণ করা, মাঠ প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় ও বিভিন্ন পর্যায়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটিসমূহের সভা অনুষ্ঠান, সব পর্যায়ে নিয়ন্ত্রণকক্ষ খোলা, আশ্রয়কেন্দ্রগুলো প্রস্তুত করা, আশ্রয়কেন্দ্রে শুকনা খাবার, শিশু খাদ্য এবং গো-খাদ্যের ব্যবস্থা করা, জনগণকে আশ্রয়কেন্দ্রে আনার বিষয়ে প্রস্তুতি গ্রহণ। দুর্যোগ তথ্য পাওয়ার জন্য টোল ফ্রি ১০৯০ ব্যবহারের কথা বলা হয় সভায়। দৈনিক বাংলার বিভিন্ন জেলা প্রতিনিধিদের পাঠানোর সংবাদের ভিত্তিতে ‘রেমাল’ নিয়ে বিভিন্ন জেলার প্রস্তুতির সম্পর্কে জানা গেছে নানা তথ্য।

পিরোজপুর: বঙ্গোপসাগরে সৃষ্টি হতে যাওয়া ঘূর্ণিঝড় ‘রেমাল’ এর জন্য পিরোজপুরে প্রস্তুত করা হয়েছে ৫৬১ টি ঘূর্ণিঝড়ের আশ্রয়কেন্দ্র। যার মধ্যে ২৯৫ টি সাইক্লোন শেল্টার এবং ২৬৬ টি বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং এই আশ্রয়কেন্দ্রে ২ লাখ ৮০ হাজার ৫০০ জন মানুষ আশ্রয় নিতে পারবে।

শনিবার বিকেলে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের শহীদ আব্দুর রাজ্জাক সাইফ-মিজান সভাকক্ষে জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহেদুর রহমান এ তথ্য দেন।

সভায় জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহেদুর রহমান আরও জানান, ঘূর্নিঝড় রেমাল মোকাবিলায় একটি জেলা প্রশাসন থেকে একটি কন্টোলরুমসহ প্রতিটি উপজেলায় একটি টিম করা হয়েছে, ৬৫ টি মেডিকেল টিম প্রস্তুত রয়েছে, ২ লাখ ৬৩ হাজার পানি বিশুদ্ধ করণ ট্যাবলেজ মজুত রাখা হয়েছে, ঝড়ের ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য প্রাথমিক পর্যায়ে ১৩৫০ হাজার প্যাকেট শুকনা খাবার, ৬১১ মে. ট. চাল ও নগদ ৬ লক্ষ ১০ হাজার টাকা প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এছাড়াও দুর্যোগ পরিবর্তিতে ক্ষতিগ্রস্তদের ঘর মেরামতের জন্য ৯৭ বান্ডিল টিন রয়েছে। এ ছাড়া ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় রেডক্রিসেন্টের ২৫০ জন স্বেচ্ছাসেবক ও সিপিপি ২৪২০ জন সদস্য প্রস্তুত রয়েছে। রেমালের প্রভাবে পিরোজপুরের নদীসমূহে স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে বেশি পানি দেখা গেছে এবং জেলার কয়েক স্থানে হালাকা বৃষ্টি পড়েছে।

বরগুনা: বরগুনায় ঘূর্ণিঝড় রেমালের প্রভাবে গোমট আবহাওয়া বিরাজসহ নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এতে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন নদী তীরের বাসিন্দারা। শনিবার জেলার পায়রা, বলেশ্বর ও বিষখালী নদীর পানি স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় অন্তত তিন ফুট বেড়েছে বলে জানান নদী তীরের বাসিন্দারা। বরগুনা সদর উপজেলার বড়ইতলা এলাকায় গেলে দেখা যায়, পানিতে এখানকার বেড়িবাঁধের বাহিরের নিম্নাঞ্চল তলিয়ে গেছে। এখানে আশ্রয়কেন্দ্রের স্বল্পতা রয়েছে। তাই যা আছে তাতে সকলের স্থান সংকুলান হয় না। বরগুনার জেলা প্রশাসক মোহা. রফিকুল ইসলাম বলেন, দুপুরে জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা হয়েছে। সভার মাধ্যমে আমরা ঘূর্ণিঝড় মোকাবেলায় সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছি। এদিকে বরগুনার পানি উন্নয়ন বোর্ড জেলার বিভিন্ন স্থানে এক কিলোমিটার বেড়িবাঁধ ঝুঁকিপূর্ণ রয়েছে বলে জানিয়েছেন এবং এসব বাঁধ ভেঙ্গে গেলে তা তাৎক্ষণিকভাবে মেরামতের জন্য ৮০০ জিও ব্যাগ প্রস্তুত রাখা হয়েছে বলে জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় জানানো হয়েছে। জেলায় ঘূর্ণিঝড় ‘রেমাল’ মোকাবিলায় বরগুনায় ৬৭৩টি আশ্রয়কেন্দ্রসহ প্রায় ১০ হাজার স্বেচ্ছাসেবক প্রস্তুত রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ও জেলা মোহা. রফিকুল ইসলাম। শনিবার দুপুরে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির জরুরি প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়। দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় জেলা প্রশাসনসহ সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসক মোহা. রফিকুল ইসলাম জানান, ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। বরগুনায় ৩টি মুজিব কেল্লা, ৬৭৩টি আশ্রয়কেন্দ্রসহ প্রায় ১০ হাজার স্বেচ্ছাসেবক প্রস্তুত রাখা হয়েছে। যারা ঘূর্ণিঝড় পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সময়ে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করবেন। এ ছাড়া ৪২২ মেট্রিক টন খাদ্যশস্য, ৩৭ লাখ নগদ অর্থ প্রস্তুত রয়েছে। তিনি আরও জানান, ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকার জন্য জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ১০ টি কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে ৪২ টি মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে। দুর্যোগ প্রস্তুতি সভায় জেলা এনজিও ফোরামের সভাপতি মোতালেব মৃধা, প্রেসক্লাবের সভাপতি অ্যাডভোকেট মোস্তফা কাদের, রেডক্রিসেন্ট, দুর্যোগ প্রস্তুতি কর্মসূচি (সিপিপি), বিভিন্ন সরকারি, বেসরকারি সংস্থা ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত থেকে তাদের প্রস্তুতির বিষয় তুলে ধরেন।

মোংলা: ‘রেমাল’ প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়ে রোববার সন্ধ্যায় সুন্দরবন উপকূলে আঘাত হানবে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। মোংলা আবাহওয়া অফিসের ইনচার্জ মো. হারুন অর রশিদ জানান, এটি বর্তমান যেই অবস্থান দেখাচ্ছে তাতে ঘূর্ণিঝড়ের কেন্দ্রটি বাংলাদেশের ওপর দিয়েই অতিক্রম করার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে সুন্দরবন এলাকা এবং বরিশালের পটুয়াখালী, বরগুনা, ও ভোলা জেলায় রেমাল এর আঘাত হানার সম্ভাবনা বেশি রয়েছে।

এদিকে ঘূর্ণিঝড় রেমালের প্রভাবে সাগর উত্তাল থাকায় এরই মধ্যে মোংলা সমুদ্র বন্দরকে ৭ নম্বর সতর্ক সংকেত জারি করেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। ঘূর্ণিঝড় রেমালের প্রভাবে সব রকম সতর্কমূলক প্রস্তুতি নিয়েছে মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ। কোস্ট গার্ড, নৌ বাহিনী ও উপজেলা প্রশাসনের সমন্বয়ে শনিবার দুপুরে মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের সভাকক্ষে জরুরি বৈঠক করা হয়েছে।

বন্দর কর্তৃপক্ষের হারবার মাস্টার কমান্ডার সাইফুর রহমান বলেন, মোংলা বন্দরে এই মুহূর্তে সিমেন্টের কাঁচামাল ক্লিংকার, সার, পাথর ও গ্যাসবাহী ছয়টি জাহাজ অবস্থান করেছে। সেগুলোকে নিরাপদে নোঙ্গর করতে বলা হয়েছে। এদিকে ঘূর্ণিঝড় ‘রেমাল’ মোকাবিলায় সব রকম প্রস্ততি নিয়েছে উপজেলা প্রশাসনও। উপজেলা নির্বাহী অফিসার নিশাত তামান্না বলেন, ১০৩ টি আশ্রয়কেন্দ্রসহ ১৩২০জন স্বেচ্ছাসেবক প্রস্তুত রাখা হয়েছে। আবহাওয়া অফিস থেকে ঘূর্ণিঝড়ের সংকেত বাড়ানোর সঙ্গে সঙ্গেই আমাদের কার্যক্রমের গতি বাড়ানো হবে। কন্ট্রোল রুমও খোলা হয়েছে।

এদিকে মোংলা উপকূলে সচেতনতামূলক মাইকিং করেছে কোস্ট গার্ডের সদস্যরা। শনিবার সকাল থেকে ঘণ্টাব্যাপী মোংলার পশুর বিভিন্ন স্থানে এ প্রচার মাইকিং করা হয়।

মোংলা কোস্ট গার্ড পশ্চিম জোনের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট মো. মুনতাসীর ইবনে মহসীন জানান, সকাল থেকে সুন্দরবন লাঘোয়া মোংলা উপকূলের ঝুঁকিপূর্ণ বিভিন্ন এলাকায় প্রচার মাইকিং করেন কোস্ট গার্ড সদস্যরা।

বাগেরহাট: ঘূর্ণিঝড় রেমাল ধেয়ে আসার খবরে উপকূলীয় জেলা বাগেরহাটের নদী তীরবর্তী এলাকায় বসবাস করা মানুষের মাঝে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। এরই মধ্যে শনিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে শুরু হয়েছে বৃষ্টিপাত। তবে সকাল থেকে আকাশ কখনো রোদ আবার কখনো মেঘাচ্ছন্ন হচ্ছে। নদীতে থাকা মাছ ধরা ট্রলার গুলো উপকূলের ছোট ছোট খালে আশ্রয় নিয়েছে। কোস্টগার্ডের পক্ষ থেকে চালানো হচ্ছে জনসচেতনামূলক প্রচার-প্রচারণা। এরই মধ্যে রেমাল মোকাবেলায় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সকল ধরনের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে।

বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক মো. খালিদ হোসেন বলেন, ঘূর্ণিঝড় রেমাল মোকাবেলায় বাগেরহাটে ৩৫৯টি আশ্রয় কেন্দ্রে ও ৩ হাজার ৫শ ৫ জন স্বেচ্ছাসেবক প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এ ছাড়া ৬৪৩ মেট্রিকটন চাল ও ৫লক্ষ ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। জেলার ৯টি উপজেলার সকল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের সতর্ক থাকতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের সকল কর্মকর্তাদের ছুটি বাতিলের পাশাপাশি উপকূলের ঝুঁকিপূর্ণ বেরিবাধ এলাকায় গুলো নজরদারিতে রাখা হয়েছে।

পটুয়াখালী: জেলায় রেমাল মোকা‌বেলায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির প্রস্তু‌তি মূলক জরুরী সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার সকাল সাড়ে ১০টায় জেলা প্রশাসকের দরবার হলে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক নুর কুতুবুল আলম। সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান হাফিজুর রহমান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক যাদব সরকার। জেলা সিভিল সার্জন ডা. এসএম কবির হাসান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার যোবায়ের আহাম্মেদ।

গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. হারুন অর রশিদ, কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. নজরুল ইসলাম, পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফুর রহমান, পটুয়াখালী প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া রিদয়, সিপিপি, রেড ক্রিসেন্টসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

জেলা প্রশাসক জানান দুর্যোগ মোকাবিলায় জেলায় ৭০৩ টি সাইক্লোন শেল্টার ৩৫টি মুজিব কিল্লা, ৭৩০ মেট্রিক টন চাল, ১০ লক্ষ টাকার শিশু খাদ‌্য, ১০ লাখ টাকার গোখাদ‌্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এ ছাড় শুকনা খাবার র‌য়ে‌ছে ১৫০০ প‌্যা‌কেট। নগদ টাকা র‌য়ে‌ছে ২৪ লাখ ৭ হাজার টাকা ৫০০ টাকা।

এ সময় মানুষকে সচেতন ও দুর্যোগে উদ্ধার কাজ পরিচালনার জন্য রেডক্রিসেন্ট ও সিপিপির ৯ হাজার স্বেচ্ছাসেবককে প্রস্তুত থাকাসহ বিদ্যুৎ বিভাগ সড়ক বিভাগ ফায়ার সার্ভিসকে দিকনির্দেশনা প্রদান করেন জেলা প্রশাসক।

জেলায় মোট ৭৬টি মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে পর্যাপ্ত পরিমাণ স্যালাইন, ঔষধ ও পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট সংরক্ষিত রয়েছে। জেলায় ১৩০০ কিলোমিটার বেড়িবাঁধের মধ্যে ১০ কিলোমিটার ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। দুর্যোগের সময় কোথাও ভাঙন দেখা দিলে তা মেরামতের জন্য ১৬ হাজার জিও ব্যাগ রয়েছে বলে জানিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।

এদিকে জেলায় ৮৭ হাজার হেক্টর জমিতে রয়েছে মুগ ডাল এবং ২০ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো ধান রয়েছে বলে জানিয়েছে কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তর। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রফিউদ্দিন মোহাম্মদ যোবায়ের বলেন গুজোব মোকাবেলার জন্যে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে।

এদিকে কলাপাড়া উপকূলীয় অঞ্চলের জনগন, মৎস্যজীবি ও নৌযান সমূহকে ক্ষয়ক্ষতি থেকে রক্ষার জন্য জনসচেতনতা মূলক কার্যক্রম শুরু করেছে নিজামপুর কোষ্টগার্ড। শনিবার সকাল নয়টায় মৎস্য বন্দর আলীপুর- মহিপুরে মাইকিং ও লিফলেট বিতরন করে কোস্ট গার্ডের সদস্যরা। এসময় তারা খাপড়াভাঙ্গা নদীতে অবস্থানরত ট্রলার সমূহে থাকা জেলেদের ঘূর্নিঝড়ের সময় করনীয় সম্পর্কে দিক নির্দেশনা দেন।

ঝালকাঠি: জেলায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার বেলা ১১টায় জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ও জেলা প্রশাসক ফারাহ্ গুল নিঝুম। এ সভায় পুলিশ সুপার, স্বাস্থ্য, কৃষি, খাদ্য, শিক্ষা, দপ্তরের প্রধানগন এবং বিদ্যুৎ, ফায়ার সার্ভিস, পানি উন্নয়ন বোর্ড, সড়ক বিভাগ, রেডক্রিসেন্টসহ জেলা পর্যায়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা যোগ দেন।

সভায় জেলা প্রশাসক ফারাহ্ গুল নিঝুম বলেন, ঘূর্ণিঝড় ‘রেমাল’ মোকাবিলায় সর্বাত্মক প্রস্তুতি নেওয়া শুরু হয়েছে। এই কয় দিন সংশ্লিষ্ট সব পর্যায়ের কর্মকর্তাদের স্টেশন ত্যাগ না করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ঘূর্ণিঝড় ‘রেমাল’ মোকাবিলায় নির্ধারিত সাইক্লোন শেল্টারসহ আশ্রয়কেন্দ্রের জন্য সহ জেলার সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ব্যবহার উপযোগী করা হয়েছে।


ঈদ-উল-আযহায় জননিরাপত্তায় বিশেষ সতর্ক অবস্থানে র‍্যাব-৫

আপডেটেড ২৬ মে, ২০২৬ ২০:৫৫
আমিনুল ইসলাম বনি, রাজশাহী ব্যুরো

আসন্ন পবিত্র ঈদ-উল-আযহা উপলক্ষে ঘরমুখো মানুষের যাত্রা নিরাপদ করতে এবং ঈদ উৎসবকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে র‍্যাব-৫, রাজশাহী। রাজশাহী মহানগরীসহ দায়িত্বপূর্ণ পাঁচটি জেলায় (রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নাটোর, নওগাঁ এবং জয়পুরহাট) বিশেষ টহল ও চেকপোস্ট কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।

সোমবার (২৬ মে) বেলা ১১টায় সিটি হাটে এ বিষয়ে প্রেস ব্রিফিং করেন র‍্যাব-৫, রাজশাহীর অধিনায়ক লেঃ কর্নেল খন্দকার মোঃ মাহমুদুর রহমান, পিএসসি।

তিনি বলেন ঈদযাত্রায় ঘরমুখো মানুষ যেন ডাকাতি, চুরি, ছিনতাই, মলম পার্টি ও অজ্ঞান পার্টির কবলে না পড়েন, সেজন্য রেলস্টেশন, বাসস্ট্যান্ড এবং ঢাকা-রাজশাহী-চাঁপাইনবাবগঞ্জ মহাসড়ক এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা বাড়ানো হয়েছে। বিশেষ করে কাশিয়াডাঙ্গা মোড়, সিটি হাট মোড়, নওহাটা ব্রিজ এবং বেলপুকুর বাইপাস এলাকায় নিয়মিত চেকপোস্ট ও রোবাস্ট পেট্রোলিং পরিচালনা করছে র‍্যাব।

তিনি আরেও জানান সিটি হাটসহ দায়িত্বপূর্ণ এলাকার পশুর হাটগুলোতে ছিনতাই, জাল টাকা লেনদেন ও চাঁদাবাজি রোধে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। হাটে ক্রেতা-বিক্রেতাদের নিরাপত্তায় সাদা পোশাকে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে এবং জাল টাকা শনাক্ত করার মেশিন স্থাপন করা হয়েছে।

এছাড়াও বর্তমান গরম আবহাওয়া ও জনস্বাস্থ্যের কথা বিবেচনায় সিটি হাটে আগতদের জন্য র‍্যাব-৫ এর উদ্যোগে মেডিকেল ক্যাম্পেইন পরিচালিত হচ্ছে। এছাড়া পশুবাহী যানবাহনের নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করতে স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছে র‍্যাব।

অন্যদিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে গুজব ছড়ানো প্রতিরোধে র‍্যাবের বিশেষ টিম সার্বক্ষণিক নজরদারি করছে। গুজব শনাক্ত হলে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ব্রিফিংয়ে র‍্যাব-৫ এর অধিনায়ক বলেন, “শান্তি ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে আসন্ন ঈদ উদযাপনের লক্ষ্যে আমরা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছি। ঘরমুখো মানুষ যেন নিরাপদে ও নির্বিঘ্নে প্রিয়জনদের সাথে ঈদ উদযাপন করতে পারেন, সেই লক্ষ্যেই আমাদের এই নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, ঈদকেন্দ্রিক ছুটিতে সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা রক্ষায় র‍্যাব-৫ সার্বক্ষণিকভাবে প্রস্তুত রয়েছে। যেকোনো ধরনের সন্দেহজনক কার্যকলাপ সম্পর্কে নিকটস্থ র‍্যাব ক্যাম্প বা আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে দ্রুত তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করার জন্য তিনি সর্বসাধারণের প্রতি আহ্বান জানান।


সাত বছরের শিশুকে প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণচেষ্টা, অভিযুক্ত গ্রেপ্তার

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
রংপুর প্রতিনিধি

রংপুরের মাহিগঞ্জে সাত বছর বয়সী এক শিশুকে চিপস দেওয়ার কথা বলে পাটখেতে নিয়ে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে বদিয়ার জামান (৪৫) নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৬ মে) দুপুরে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ (আরএমপি) সদর দফতরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ।

মামলার বিবরণ অনুযায়ী, সোমবার রাতে নগরীর মাহিগঞ্জের কলাবাড়ি এলাকায় চিপস কিনে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে শিশুটিকে ডেকে নিয়ে পার্শ্ববর্তী একটি পাটখেতে নির্যাতনের চেষ্টা করেন অভিযুক্ত ব্যক্তি। স্থানীয়রা বিষয়টি টের পেয়ে এগিয়ে এলে বদিয়ার জামান দ্রুত পালিয়ে যান। এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার পর ভুক্তভোগী শিশুর অভিভাবক রাতেই মাহিগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ জানান যে, “মামলার পরপরই মাহিগঞ্জ থানা-পুলিশ ও ডিবির সমন্বয়ে একটি দল অভিযানে নামে।” পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তি এলাকা ছাড়লেও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় মিঠাপুকুর উপজেলার রাধাবল্লভপুর গ্রাম থেকে তাকে আটক করা সম্ভব হয়। গ্রেপ্তার বদিয়ার জামান পেশায় একজন শ্রমিক এবং তিনি অধিকাংশ সময় ঢাকায় থাকলেও মাঝে মাঝে রংপুরে যাতায়াত করেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ মতে, ওই ব্যক্তি এলাকায় লম্পট হিসেবে পরিচিত এবং তার একাধিক বিবাহের তথ্য পাওয়া গেছে। কমিশনার আরও উল্লেখ করেন যে, “গ্রেপ্তার আসামিকে আজ দুপুরে আদালতে পাঠানো হয়েছে।” ভুক্তভোগী পরিবার যাতে দ্রুত ন্যায়বিচার পায়, সেজন্য পুলিশ আদালতে অতি দ্রুত তদন্ত প্রতিবেদন পেশ করবে


শেষ মুহুর্তের বেচাকেনায় জমে উঠেছে ভৈরবের গরুর হাট

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ভৈরব (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি

শেষ মুহুর্তের বেচাকেনায় জমে উঠেছে কিশোরগঞ্জের ভৈরবের গরুর হাট। আর মাত্র একদিন পরই মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল আজহা। আল্লাহর তালার সন্তুষ্টির জন্য পছন্দের পশুটি কিনতে ভৈরবের পশুর হাটগুলিতে ভীঁড় করছেন ক্রেতরা।

মঙ্গলবার (২৬ মে) বিকালে ভৈরব শহরের সৈয়দ নজরুল ইসলাম সড়ক সেতু সংলগ্ন বৈশাখী মেলার মাঠে আয়োজিত সবচেয়ে বড় পশুর হাটে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ভৈরব শহরের বাসিন্দারা কোরবানির জন্য পশু কিনতে বাজারে ভীঁড় করছেন। তারা তাদের সাধ্যের মধ্য পছন্দের পশু কিনতে দরদাম করছেন। কেউ পছন্দের পশু কিনে বাজার থেকে বাসায় নিয়ে যাচ্ছেন৷ আবার কেউ পরিবারের স্বজনদের সাথে নিয়ে পশু কিনতে বৃষ্টি ভেজা কাঁদার মধ্যে ছুটছেন তারা।

এসময় কথা হয় স্থানীয় ভৈরব সরকারি মহিলা কলেজের প্রভাষক মো.শাহেদ আহমেদ বলেন, আমরা যারা শহরে বসবাস করে থাকি তারা তো ঈদের আগের দিনই কোরবানীর পশু কিনতে হয়। কারণ বেশি আগে কিনলে গরু রাখা ও লালন পালন করার মত পর্যাপ্ত জায়গা ও লোকজন না থাকায় দুর্ভোগ পোহাতে হয়। তাই আজকে হাটে এসেছি দেখছি দরদাম করছি যদি কথাবার্তায় গরুর দাম ঠিক হয়ে যায় তাহলে কিনে নিয়ে যাবো।

আরেক স্থানীয় বাসিন্দা আবু সুফিয়ান বলেন, কোরবানীর জন্য পশু কিনতে দামের কথা চিন্তা না করাই ভালো। কারণ আল্লাহতালাকে সন্তুষ্টির জন্য আমরা কোরবানী দিয়ে থাকি। তবে প্রত্যেকেই সামর্থ্য অনুযায়ী কোরবানী দিয়ে থাকেন। এবছর বাজার থেকে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা দিয়ে একটি ষাড় গরু কিনেছি।

কালীপুর এলাকার খামারী মাহবুব মিয়া বলেন, ভৈরবের গরু বাজারে শেষ মুহুর্তের ভালো বেচাকেনা হয়ে থাকে। আজকে বিকালের পর হাটে ভালো গরু বেচাকেনা হয়েছে। আমার খামারের ১০টি গরু বিক্রি করেছি। এখনো আরো গরু বিক্রির বাকী রয়েছে। আশা করছি কালকের মধ্যে সকল গরু বিক্রি হয়ে যাবে। তবে বৈরী আবহাওয়া থাকায় হাটে ক্রেতা ও বিক্রেতারা অনেক দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।


ঈদের ছুটিতে বাড়ি ফেরার পথে গৌরনদীতে বাসের ধাক্কায় একই পরিবারের ৩ জন নিহত

নিহত ফিরোজ মাহমুদ ও তাঁর স্ত্রী-কন্যা। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
গৌরনদী (বরিশাল) প্রতিনিধি

বরিশালের গৌরনদীতে ঈদের ছুটিতে পরিবারের সঙ্গে বাড়ি ফেরার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় একই পরিবারের তিনজন নিহত হয়েছে। মঙ্গলবার (২৬ মে) বেলা ১টার দিকে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের গৌরনদী উপজেলার বাটাজোর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত ব্যক্তিরা হলো উজিরপুর উপজেলার বাসিন্দা ফিরোজ মাহমুদ (৩৯) ও তাঁর স্ত্রী মনিরা বেগম এবং তাঁদের শিশুকন্যা জান্নাত আক্তার।

স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মোটরসাইকেলে করে স্ত্রী-সন্তানকে নিয়ে বাড়ির পথে যাচ্ছিলেন ফিরোজ মাহমুদ। বাটাজোর এলাকায় যানজটের কারণে মোটরসাইকেল থামিয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন। এ সময় হঠাৎ পেছন দিক থেকে দ্রুতগতির একটি যাত্রীবাহী বাস ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই নিহত হয় তিনজন।

দুর্ঘটনার পর ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী বাসটিতে ভাঙচুর চালায়। তবে চালক ও হেলপার পালিয়ে যান। এ সময় ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়, ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রীরা। গৌরনদী ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন কর্মকর্তা মো.

মিজানুর রহমান জানান, পেছন দিক থেকে ধাক্কা লাগায় ঘটনাস্থলেই তিনজনের মৃত্যু হয়। ভাঙচুরের খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

গৌরনদী হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মহসীন জানান, দুর্ঘটনাকবলিত বাসটি জব্দ করা হয়েছে এবং চালক ও হেলপারকে আটকের চেষ্টা চলছে।


ছদ্মবেশে দোকান ঘর থেকে ৫ বস্তা মাদকদ্রব্য গাঁজা উদ্ধার করলো র‍্যাব

আপডেটেড ২৬ মে, ২০২৬ ১৮:০৯
ভৈরব (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি

ছদ্দবেশে দোকান ঘর থেকে ৫ বস্তা মাদকদ্রব্য গাঁজা উদ্ধারসহ জাকির হোসেন (৩২) নামের এক মাদক কারবারিকে আটক করেছে ভৈরব র‍্যাব ক্যাম্প সদস্যরা। সে বাজিতপুর উপজেলার পিরোজপুর গ্রামের বাজেরগাও এলাকার বীরমুক্তিযোদ্ধা বদিউর রহমানের ছেলে।

মঙ্গলবার (২৬ মে) দুপুরে বাজিতপুর উপজেলার পিরোজপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে মাদকসহ কারবারিকে আটক করা হয়েছে।

র‍্যাব ক্যাম্প সুত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারে সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে সড়ক পথে মাদকের একটি বড় চালান আসছে। তারই সুত্র ধরে ভৈরব র‍্যাব ক্যাম্পের একটি আভিযানিক দল কিশোরগঞ্জ জেলার বাজিতপুর উপজেলার পিরোজপুর গ্রামের বাজেরগাও এলাকার জাকির হোসেন নামের এক কুখ্যাত মাদক কারবারির বসতবাড়িতে ছদ্দবেশে গোয়েন্দা নজরদারি চালায়। পরে মাদক কারবারির দোকান ঘরের ভিতরে খুঁড়খুটো দিয়ে ঢেকে রাখা অবস্থায় ৫ বস্তা (১১৬ কেজি) মাদকদ্রব্য গাঁজা উদ্ধার করা হয়। এসময় মাদক কারবারি জাকির হোসেনকে আটক করা হয়।

এবিষয়ে ভৈরব র‍্যাব ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার তপন সরকার জানান, কোরবানি ঈদকে সামনে রেখে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী গরুর হাটসহ বিভিন্ন দায়িত্বে ব্যস্ত থাকার সুযোগে সড়কপথে একটি চক্র সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে মাদকদ্রব্য সরবরাহ করছে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে খবর পেয়ে আমরা ছদ্দবেশ ধারণ করে গোয়েন্দা নজরদারিতে কুখ্যাত মাদক কারবারি জাকির হোসেনের দোকান ঘর থেকে ৫ বস্তায় ১১৬ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়। এই ঘটনায় কারবারিকে সংশ্লিষ্ট থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হবে তিনি জানান।


মীরসরাইয়ে মেশিনেই থেমে গেল রাসেলের জীবন, ফোটানো হলো না পরিবারের মুখে হাসি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মীরসরাই (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি

কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে কিছু টাকা জমানোর আশায় রাতভর কাজ করছিলেন ১৭ বছরের তরুণ মোহাম্মদ রাসেল। কিন্তু পরিবারের মুখে হাসি ফোটানোর সেই স্বপ্ন শেষ হয়ে গেল কারখানার মেশিনেই। চট্টগ্রামের মীরসরাই উপজেলায় ফিড মিলের সাইলোতে ঢুকে মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে তার।
মঙ্গলবার (২৬ মে) ভোর দেড়টার দিকে উপজেলার জোরারগঞ্জ ইউনিয়নের দক্ষিণ সোনাপাহাড় এলাকায় অবস্থিত নাহার এগ্রো ফিড মিলে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত রাসেল একই এলাকার মোহাম্মদ আলমগীরের একমাত্র ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ইলেকট্রিকের কাজের পাশাপাশি ঈদের আগে বাড়তি আয় করতে গত কয়েকদিন ধরে নাহার ফিড মিলে রাতের শিফটে কাজ করছিলেন রাসেল। সোমবার রাতেও কয়েকজন যুবকের সঙ্গে কারখানায় কাজ করছিলেন তিনি।
প্রত্যক্ষদর্শী মোহাম্মদ রাব্বি জানান, কাজ করার সময় হঠাৎ করে রাসেল ফিডমিলের ভুট্টা রাখার সাইলোতে তলিয়ে যায়। তিনি বলেন, ‘আমি তাকে টেনে তোলার চেষ্টা করেছি, কিন্তু পারিনি। পরে অন্যদের খবর দিলে সবাই মিলে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাই।’
পরে গুরুতর অবস্থায় রাসেলকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স মস্তাননগর হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নাহার এগ্রো ফিড মিলের ম্যানেজার মো. ফাহিম উদ্দিন বলেন, ‘রাতে কয়েকজন স্থানীয় শ্রমিক কাজ করছিল। এ সময় একজন মেশিনে আটকে যায়। পরে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।’
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান, মধ্যরাতে দুর্ঘটনায় আহত অবস্থায় এক যুবককে হাসপাতালে আনা হয়। পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, মেশিনের ভেতরে দম বন্ধ হয়ে তার মৃত্যু হয়েছে।


চলতি মাসের বেতনের দাবিতে সোনারগাঁয়ে পোশাক শ্রমিকদের মহাসড়ক অবরোধ, পুলিশের লাঠি চার্জ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
সোনারগাঁও (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি

বকেয়া বেতন ভাতার দাবিতে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে ঢাকা চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করে পোশাক শ্রমিকরা। এসময় তারা মহাসড়কের অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করে। এতে মহাসড়কে তীব্র যানজট দেখা দিয়েছে। ভোগান্তিতে পড়েছেন চালক ও যাত্রীরা।

মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলার মহাসড়কের পাশে টিপরদি এলাকায় চৈতি গার্মেন্টসের শ্রমিকরা এ অবরোধ করে। অবরোধে মহাসড়কের দুই পাশে যান চলাচল সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে যায়। এতে সোনারগাঁয়ের এক প্রান্তে মেঘনা টোলপ্লাজা ও অপর প্রান্তে কাঁচপুর পর্যন্ত প্রায় ১০ কিলোমিটার যানজট ছড়িয়ে পড়েছে। ফলে ভোগান্তিতে পড়েন ঈদ যাত্রায় ঘরমুখো মানুষ।

খবর পেয়ে সোনারগাঁ উপজেলা নির্বাহী অফিসার আসিফ আল জিনাত, সোনারগাঁ থানার ওসি মো. গোলাম সারোয়ার, পরিদর্শক তদন্ত জামালউদ্দিন ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে শ্রমিকদের মহাসড়ক থেকে বুঝিয়ে সরিয়ে দিতে চাইলে পুলিশ ও শ্রমিকদের মধ্যে শুরু হয় ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া। এসময় শ্রমিকরা পুলিশের ওপর ইট পাটকেল নিক্ষেপ করে। এক পর্যায়ে পুলিশ লাঠিচার্জ ও টিয়ারসেল নিক্ষেপ করে মহাসড়ক থেকে সরিয়ে দেয়। এদিকে শ্রমিকদের মহাসড়ক অবরোধের কারণে মহাসড়কের উভয় পাশে ১০ কিলোমিটার দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।

জানা যায়, উপজেলার টিপুরদী এলাকায় চৈতি কম্পোজিটের শ্রমিকরা বেতন-ভাতার দাবিতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভে নামে। এতে মহাসড়কের টিপুরদী থেকে মেঘনা টোলপ্লাজা ও অপরদিকে মদনপুর পর্যন্ত ১০ কিলোমিটার তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়। পরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থল পৌঁছে অবরোধকারীদের বুঝিয়ে মহা সড়ক থেকে সরানোর প্রচেষ্ঠা চালায়। তবে,বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা মহাসড়ক ছাড়তে অপরাগতা প্রকাশ করলে উত্তেজনা তৈরি হয়। বিষয়টি ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষে রূপ নেয়। একপর্যায়ে শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ টিয়ারগ্যাস রাবার বুলেট ছোড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালায়।

আন্দোলনরত শ্রমিকদের দাবি, এপ্রিল মাসের বকেয়াসহ চলতি মে মাসের বেতন ঈদের আগে পরিশোধ করতে হবে। তাদের ভাষ্য, কারখানা মালিকপক্ষ পুরো বেতন দিতে অপরাগতা প্রকাশ করায় ক্ষোভে আন্দোলন শুরু করেছেন। তবে এপ্রিল মাসের বেতন ও ঈদ বোনাস পরিশোধ করলেও মে মাসের বেতন পুরো না দিয়ে প্রত্যেক শ্রমিককে ৬ হাজার টাকা করে প্রদান করে। বাকি টাকা ঈদের পর দেবেন বলে জানিয়েছেন।
যানজটে বসে থাকা তিশা বাসের যাত্রী সাখাওয়াত হোসেন বলেন, দুপুরে মদনপুর এলাকায় পৌঁছতেই যানজটে আটকা পড়ি মোগরাপাড়া চৌরাস্তা এলাকায়। এখন গাড়ি একটুও সামনে এগোচ্ছে না।

ট্রাকচালক রজ্জব মিয়া বলেন, হঠাৎ এমন যানজট কেন হলো কিছুই বুঝতে পারছি না। সকালেও মহাসড়কে যানজট দেখিনি। চৈতি কম্পোজিটের জিএম মিজানুর রহমান বলেন, শ্রমিকরা অযুক্তিক দাবি করেছেন। তারপরও তাদের এপ্রিল মাসের বেতন ও ঈদ বোনাসের সাথে চলতি মাসের বেতন থেকে ৬ হাজার টাকা করে পরিশোধ করা হয়েছে। তারা চলতি মাস শেষ না হতেই পুরো মাসের বেতন চাচ্ছেন। তারপরও বিষয়টি আমরা বিবেচনা করবো।

কাচপুর হাইওয়ে থানার ওসি মো. শামীম শেখ বলেন, মঙ্গলবার দুপুর থেকে চৈতি গার্মেন্টসের শ্রমিকরা বেতন ও বোনাসের দাবিতে সড়ক অবরোধ করে আন্দোলন শুরু করে। এতে সড়কের একটি লেনে যানজটের সৃষ্টি হয়। সেই যানজট মেঘনা টোল প্লাজার দিকে গিয়ে ঠেকেছে। শ্রমিকদের বুঝিয়ে শুনিয়ে সড়ক থেকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছেন।

সোনারগাঁ থানার ওসি গোলাম সারোয়ার বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিতে দুই রাউন্ড টিয়ারগ্যাস ছোড়া হয়েছে। কোনো গুলি চালানো হয়নি। বর্তমানে গাড়ি চলাচল করছে।


প্রস্তুত শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দান, সকাল ৯টায় ১৯৯তম ঈদ জামাতে থাকছে বিশেষ ট্রেন

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
রাকিবুল হাসান রোকেল, কিশোরগঞ্জ

ঈদুল আজহার ১৯৯তম জামাত আয়োজনের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দানে। সকাল ৯টায় দেশের অন্যতম বৃহৎ এ ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হবে।

দূর-দূরান্ত থেকে আগত মুসল্লিদের সুবিধার্থে এবারও বিশেষ ট্রেনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। পাশাপাশি নেওয়া হয়েছে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা।

মঙ্গলবার (২৬ মে) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দানে প্রস্তুতি পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান কিশোরগঞ্জ-১ (সদর-হোসেনপুর) আসনের সংসদ সদস্য মাজহারুল ইসলাম, জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিন ও পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান।

সংসদ সদস্য মাজহারুল ইসলাম বলেন, ঈদুল ফিতরের মতো এবারও শোলাকিয়ার মুসল্লিরা নির্বিঘ্নে নামাজ আদায় করে নিরাপদে বাড়ি ফিরতে পারবেন। জেলা প্রশাসন প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আগত মুসল্লিদের থাকা-খাওয়াসহ প্রয়োজনীয় সুবিধা নিশ্চিত করা হয়েছে। তিনি সবার জন্য ঈদুল আজহার শুভেচ্ছাও জানান।

জেলা প্রশাসক ও শোলাকিয়া ঈদগাহ পরিচালনা কমিটির সভাপতি সোহানা নাসরিন বলেন, ঐতিহ্য অনুযায়ী এবারও সকাল ৯টায় জামাত শুরু হবে। এতে ইমামতি করবেন কিশোরগঞ্জ শহরের বড়বাজার জামে মসজিদের খতিব মাওলানা মুফতি আবুল খায়ের মো. ছাইফুল্লাহ।

তিনি জানান, মুসল্লিদের যাতায়াত সহজ করতে ভৈরব ও ময়মনসিংহ থেকে দুটি বিশেষ ট্রেন চালানো হবে। ভৈরব থেকে ট্রেনটি সকাল ৬টায় ছেড়ে কিশোরগঞ্জ পৌঁছাবে সকাল ৮টায়। অন্যদিকে ময়মনসিংহ থেকে ট্রেন ছাড়বে ভোর সাড়ে ৫টায় এবং কিশোরগঞ্জ পৌঁছাবে সকাল ৮টা ১০ মিনিটে। ঈদ জামাত শেষে দুপুর ১২টায় ট্রেন দুটি কিশোরগঞ্জ স্টেশন থেকে ফিরতি যাত্রা করবে।

জেলা প্রশাসক আরও বলেন, মুসল্লিদের অজুর জন্য মাঠসংলগ্ন পুকুর প্রস্তুত রাখা হয়েছে। জরুরি চিকিৎসাসেবার জন্য থাকবে মেডিকেল টিম ও অ্যাম্বুলেন্স। সুপেয় পানির ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। এ ছাড়া কিশোরগঞ্জ শহরের সরযূ বালা সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয় মাঠে সকাল ৮টায় নারীদের জন্য পৃথক ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হবে।

পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, দেশের বৃহত্তম ঈদ জামাতকে কেন্দ্র করে বহুস্তরীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পুরো ঈদগাহ ও আশপাশের এলাকাকে কয়েকটি সেক্টরে ভাগ করে নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়েছে। মাঠে পুলিশ, র‍্যাব, আনসার ও সাদা পোশাকের গোয়েন্দা সদস্যদের পাশাপাশি অ্যান্টি-টেররিজম ইউনিট (এটিইউ) দায়িত্ব পালন করবে। পুরো এলাকা থাকবে সিসিটিভি ক্যামেরা ও ড্রোন নজরদারির আওতায়।

তিনি বলেন, নিরাপত্তার স্বার্থে মুসল্লিদের শুধু জায়নামাজ সঙ্গে আনার অনুরোধ জানানো হচ্ছে। ছাতা, ব্যাগ, লাঠি বা কোনো ধরনের ধাতব বস্তু বহন না করার আহ্বান জানানো হয়েছে। তল্লাশি কার্যক্রম নির্বিঘ্ন করতে মুসল্লিদের নির্ধারিত সময়ের আগেই মাঠে উপস্থিত হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

১৮২৮ সালে যাত্রা শুরু করা শোলাকিয়া ঈদগাহ দেশের অন্যতম প্রাচীন ও বৃহত্তম ঈদ জামাতের স্থান হিসেবে পরিচিত। প্রতিবছর ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহায় লাখো মুসল্লির সমাগম ঘটে এই ঐতিহাসিক ঈদগাহে।


জঙ্গল সলিমপুরে যৌথ বাহিনীর ক্যাম্পে হামলার ঘটনায় মামলা, আসামি ৩ শতাধিক

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুরে যৌথ বাহিনীর ক্যাম্পে অতর্কিত হামলা ও নির্মাণাধীন একটি ক্যাম্প এক্সক্যাভেটর দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় মামলা দায়ের করেছে পুলিশ।
সোমবার {২৫ মে} রাতে সীতাকুণ্ড থানায় ৪৩ জনের নাম উল্লেখ করে এই মামলাটি করা হয়। সীতাকুণ্ড থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আলমগীর হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ফৌজদারহাট পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক সোহেল রানা বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেছেন।
মামলায় ঘটনাস্থল থেকে ইতিমধ্যে আটক হওয়া পাঁচজনসহ নামীয় ৪৩ জন এবং অজ্ঞাতনামা আরও দুই থেকে তিনশ জনকে আসামি করা হয়েছে। পুলিশের দাবি, উসকানি দিয়ে সরকারি সম্পত্তির বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি সাধন, পুলিশের সরকারি কাজে বাধা সৃষ্টি ও বিস্ফোরণ ঘটানোসহ সুনির্দিষ্ট বিভিন্ন ধারায় এই আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
এর আগে রোববার দিবাগত রাত ১টার দিকে জঙ্গল সলিমপুরের আলীনগর স্কুলে অবস্থিত যৌথ বাহিনীর একটি অস্থায়ী ক্যাম্পে একদল সন্ত্রাসী অতর্কিতভাবে গুলিবর্ষণ শুরু করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ও আত্মরক্ষার্থে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও পাল্টা গুলি চালালে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে চলা এই তীব্র গোলাগুলির মাঝেই সন্ত্রাসীরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একটি নির্মাণাধীন ক্যাম্প ভাঙচুর করে মাটির সাথে মিশিয়ে দেয়।
শুধু তাই নয়, যৌথ বাহিনীর যাতায়াত ও অভিযান ঠেকাতে সন্ত্রাসীরা সলিমপুরের মূল সড়কের বিভিন্ন অংশের রাস্তা কেটে চলাচলের সম্পূর্ণ অনুপযোগী করে তোলে। এই ঘটনার পর পুরো এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে এবং জড়িতদের গ্রেফতারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে।


ঈদযাত্রায় নিরাপত্তা নিশ্চিতে মহাসড়কে বিজিবির টহল

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি

পবিত্র ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে রাজধানী থেকে ঘরে ফেরা মানুষের যাত্রা নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক করতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। মঙ্গলবার সকাল থেকে মহাসড়কের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে বিজিবি নারায়ণগঞ্জ ব্যাটালিয়ন-৬২ এর সদস্যদের বিশেষ টহল কার্যক্রম শুরু হয়েছে। মূলত মহাসড়কে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড যেন না ঘটে, সে লক্ষ্যে সরকারের নির্দেশনায় এই বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

বিজিবি সূত্র জানিয়েছে, ঈদ ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে যানবাহনের পাশাপাশি যাত্রীদের চাপও বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিশেষ করে দেশের দক্ষিণ ও পূর্বাঞ্চলের মানুষ এই রুট ব্যবহার করে নিজ গন্তব্যে পৌঁছান। এমন জনবহুল সময়ে মহাসড়কে চুরি, ছিনতাই এবং ডাকাতির মতো অপরাধ সংঘটনের আশঙ্কা থাকে। যাত্রীদের এমন অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি থেকে সুরক্ষা দিতেই নারায়ণগঞ্জের মেঘনা টোল প্লাজা ও কাঁচপুর সেতুসহ আশপাশের গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় বিজিবির সশস্ত্র টহল জোরদার করা হয়েছে।

মাঠ পর্যায়ের এই কার্যক্রমে মেঘনা টোল প্লাজা এলাকায় নায়েব সুবেদার মো. আতাউর রহমানের নেতৃত্বে এবং কাঁচপুর সেতু এলাকায় হাবিলদার মো. আমিনুল ইসলামের নেতৃত্বে বিজিবি সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন। টহল দেওয়ার পাশাপাশি তারা যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং যানবাহনের স্বাভাবিক চলাচলে সহযোগিতার ওপর জোর দিচ্ছেন। ঈদযাত্রাকে নিরাপদ রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অন্যান্য ইউনিটের পাশাপাশি বিজিবির এই সক্রিয় অবস্থান সাধারণ যাত্রীদের মধ্যে স্বস্তি ও আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে।

নারায়ণগঞ্জ বিজিবি ব্যাটালিয়ন-৬২ এর অধিনায়ক মির্জা মোহাম্মদ আরাফাত এই টহল কার্যক্রমের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, ঈদযাত্রাকে নির্বিঘ্ন করতে মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে ৮ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। সাধারণ মানুষ যেন কোনো অপরাধের শিকার না হয়ে নিরাপদে পরিবারের কাছে পৌঁছাতে পারেন, সেজন্য বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আগামী দিনগুলোতে টহল ও নজরদারির পরিধি আরও বাড়ানো হবে বলেও তিনি নিশ্চিত করেছেন।

সামগ্রিকভাবে, ঈদযাত্রাকে আনন্দময় ও নিরাপদ রাখতে বিজিবির এই ভূমিকা অত্যন্ত কার্যকর হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। মহাসড়কের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় ও ট্রাফিক সিগন্যালে বিজিবি সদস্যদের এই নিয়মিত উপস্থিতি কেবল নিরাপত্তা বৃদ্ধি করবে না, বরং পরিবহন সংশ্লিষ্টদের আইন মানার ক্ষেত্রেও সজাগ রাখবে। সরকারের এই সমন্বিত প্রচেষ্টার ফলে এবার যাত্রীরা একটি সুন্দর ও নিরাপদ পরিবেশে ঈদ উদযাপনে বাড়ি ফিরতে পারবেন বলে আশা করা হচ্ছে।


কোরবানি হাটে মহিষের গুঁতোয় নিহত ২

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
জামালপুর প্রতিনিধি

জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জে কোরবানির পশুর হাটে মহিষের আক্রমণে দুজনের মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (২৫ মে) সন্ধ্যায় জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মজিবুর রহমানের মৃত্যু হয়।

গত রবিবার (২৪ মে) উপজেলার চর আমখাওয়া ইউনিয়নের সানন্দবাড়ী কোরবানির পশুর হাটে একটি মহিষের আক্রমণে রুহুল আমিন নামে একজন নিহত হন। একই ঘটনায় আরো কয়েকজন আহত হন।

নিহত মজিবুর রহমান সানন্দবাড়ী এলাকার চর মাদার গ্রামের মৃত নুর মোহাম্মদের ছেলে। অপরজন রুহুল আমিন রাজিবপুর উপজেলার জাউনিয়ার কড়াইডাঙ্গীপাড়া গ্রামের বাসিন্দা।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রবিবার স্থানীয় আকন্দপাড়া গ্রামের এক ব্যক্তি বিক্রির উদ্দেশ্যে কয়েকটি মহিষ নিয়ে সানন্দবাড়ী হাটে আসেন। হাটে আনার পর একটি মহিষ হঠাৎ উত্তেজিত হয়ে ওঠে এবং নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।

একপর্যায়ে মহিষটি হাটজুড়ে ছোটাছুটি শুরু করে এবং সামনে থাকা লোকজনকে আক্রমণ করতে থাকে। মহিষের আক্রমণ থেকে বাঁচতে হাটে থাকা মানুষজন আতঙ্কে দৌড়াদৌড়ি শুরু করেন।

এ সময় রুহুল আমিনসহ অন্তত ছয়জন আহত হন। গুরুতর আহত রুহুল আমিনকে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।

অপরদিকে আহত মজিবুর রহমানকে প্রথমে দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাকে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার সন্ধ্যায় তিনি মারা যান।

দেওয়ানগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ার হোসেন বলেন, হঠাৎ মহিষের আক্রমণে আহত মজিবুর রহমান চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত দুজনের মৃত্যু হয়েছে।

তিনি আরো জানান, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় কেউ অভিযোগ করেনি।


ট্রেনের ছাদ থেকে পড়ে যুবকের মৃত্যু

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ময়মনসিংহ প্রতিনিধি

ময়মনসিংহ নগরীর ঘুন্টি এলাকায় ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা জামালপুরগামী কমিউটার ট্রেনের ছাদ থেকে পড়ে অজ্ঞাত এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। এ সময় আরও আহত হয়েছেন দুই যুবক। আহতদের ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

ময়মনসিংহ জিআরপি থানার ওসি আখতারুজ্জামান জানান, মঙ্গলবার (২৬ মে) বেলা সাড়ে ১১টার সময় ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা ময়মনসিংহ হয়ে জামালপুরগামী কমিউটার ট্রেন যাওয়ার পথে ময়মনসিংহ নগরীর ঘুন্টি এলাকায় ট্রেনের ছাদে থাকা তিন যুবক নিচে পড়ে যান।

তিনি আরও জানান তাদের উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে অজ্ঞাত এক যুবককে কর্মরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। নিহত যুবকের নাম পরিচয় জানা যায়নি। বাকি আহত দুই জনকে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।


নারায়ণগঞ্জে ইয়াবাসহ ভারতীয় নাগরিক গ্রেপ্তার

আপডেটেড ২৬ মে, ২০২৬ ০২:০৬
নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি

নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে বিপুল পরিমাণ ইয়াবাসহ আব্দুল্লাহ হীল বাকি (২৩) নামে এক ভারতীয় নাগরিককে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব-১১। রোববার (২৫ মে) রাত সাড়ে ৮টার দিকে সিদ্ধিরগঞ্জের চিটাগাং রোড এলাকায় একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে তাকে আটক করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তি আন্তর্জাতিক মাদক চোরাচালান চক্রের একজন সক্রিয় সদস্য বলে র‍্যাব কর্মকর্তাদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে নিশ্চিত করেছেন।

র‍্যাব সূত্রে জানা গেছে, আটক আব্দুল্লাহ হীল বাকি ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের সেপাহিজালা জেলার বৈশকালা এলাকার আব্দুল কাশেমের ছেলে। তিনি বৈধ ভ্রমণ ভিসা নিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছিলেন। তবে ভ্রমণের আড়ালে তিনি দীর্ঘদিন ধরে সীমান্ত দিয়ে মাদক চোরাচালান ও সরবরাহের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলে গোয়েন্দা তথ্যে উঠে এসেছে।

জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, ওই ভারতীয় নাগরিক বাংলাদেশে এসে কুমিল্লার সীমান্তবর্তী এলাকায় অবস্থান করতেন এবং সেখান থেকে ইয়াবাসহ বিভিন্ন মাদকদ্রব্য সংগ্রহ করতেন। পরবর্তীতে বিশেষ কৌশলে এসব মাদক নারায়ণগঞ্জ, ঢাকাসহ এর আশেপাশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ ও বিক্রি করতেন তিনি। অভিযানের সময় তার কাছ থেকে ৭৬০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে, যা তিনি বিক্রির উদ্দেশ্যে ওই এলাকায় নিয়ে এসেছিলেন।

র‍্যাব-১১ এর অপারেশন অফিসার ক্যাপ্টেন রওনক এরফান খান এই অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তারা জানতে পারেন যে একজন আন্তর্জাতিক মাদক কারবারি ইয়াবার একটি বড় চালান নিয়ে চিটাগাং রোড এলাকায় অবস্থান করছেন। এই তথ্যের ভিত্তিতে দ্রুত অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানিয়েছে, ভ্রমণ ভিসার অপব্যবহার করে যারা এ ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হচ্ছে, তাদের শনাক্ত করতে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত আসামীকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে এবং এই চক্রের সাথে স্থানীয় আর কারা জড়িত আছে, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। এই ধরনের আন্তর্জাতিক মাদক চোরাচালান রুখতে র‍্যাবের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানানো হয়েছে।


banner close