সোমবার, ২৬ জানুয়ারি ২০২৬
১৩ মাঘ ১৪৩২

ঘূর্ণিঝড় ‘রেমাল’ মোকাবিলায় জেলায় জেলায় প্রস্তুতি

মোংলায় ঘূর্ণিঝড় নিয়ে সচেতন করতে কোস্টগার্ডের মাইকিং। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড
২৬ মে, ২০২৪ ০৫:১৯
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত : ২৬ মে, ২০২৪ ০৫:১৮

বঙ্গোবসাগরে থাকা গভীর নিম্নচাপটি ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেওয়ায় তা ‘রেমালে’ পরিণত হয়েছে। আজ রোববার মধ্যরাতে এটি আঘাত হানার আশঙ্কা করছেন আবহাওয়াবিদরা। এ জন্য দেশের ছয় জেলাকে ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলার জন্য বিশেষভাবে প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দিয়েছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. মহিববুর রহমান। এ ঘূর্ণিঝড় নিয়ে এ পর্যন্ত প্রাপ্ত পূর্বাভাস ও ভূমি অতিক্রমের সম্ভাব্য এলাকার ভিত্তিতে এ নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জেলাগুলো হলো সাতক্ষীরা, বাগেরহাট, খুলনা, বরগুনা, পটুয়াখালী ও ভোলা।

গতকাল ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় প্রস্তুতি সভায় প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘গত ১৫ বছরে ঘূর্ণিঝড়সহ সব দুর্যোগে তার নিবিড় পর্যবেক্ষণ ও নির্দেশনায় আমরা যথাসময়ে প্রস্তুতি নিয়ে মানুষের দুর্দশা লাঘব এবং জীবন ও সম্পদের ক্ষতি কমাতে সক্ষম হয়েছি। এ ঘূর্ণিঝড়টিও যাতে একই ধারাবাহিকতায় সফলভাবে মোকাবিলা করতে পারি তার জন্য আমরা প্রস্তুত রয়েছি।’

প্রতিমন্ত্রী মুহিববুর রহমান বলেন, ‘আমরা ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোর জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারদের সঙ্গে কথা বলে স্থানীয় প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য নির্দেশনা দিয়েছি। উপকূলবর্তী সব জেলাকে ঘূর্ণিঝড়ের জন্য প্রস্তুতি নিতে বলা হয়েছে। এ পর্যন্ত প্রাপ্ত পূর্বাভাস ও সম্ভাব্য ভূমি অতিক্রম এলাকার ভিত্তিতে সাতক্ষীরা, বাগেরহাট, খুলনা, বরগুনা, পটুয়াখালী, ভোলা জেলাসমূহকে অধিকতর প্রস্তুত থাকার জন্য বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘এক সপ্তাহ ধরে এই ঝড়টির বিষয়ে আমরা খোঁজখবর রাখছি। বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করে নিয়মিতভাবে পূর্বাভাস দিচ্ছে এবং আগাম কার্যাবলি (অ্যান্টিসিপেটরি অ্যাকশন) ও সাড়া প্রদানে সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত দিয়ে সহযোগিতা করছে। আমরা ভারতে অবস্থিত আঞ্চলিক বিশেষায়িত আবহওয়া কেন্দ্রের সঙ্গেও নিয়মিত যোগাযোগ রাখছি। এর পাশাপাশি বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য আন্তর্জাতিক পূর্বাভাস মডেল নিয়মিত পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে সময়োপযোগী কার্যক্রম গ্রহণ করছি।’

সভায় প্রতিমন্ত্রী বলেন, এই ঘূর্ণিঝড়টি মোকাবিলায় সার্বক্ষণিক তথ্য বিনিময়ের লক্ষ্যে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের এনডিআরসিসি ২৪ ঘণ্টা খোলা রয়েছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর মানবিক সহায়তা ও ত্রাণ কার্যক্রম প্রেরণ শুরু করেছে। ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচির (সিপিপি) ৭৮ হাজার স্বেচ্ছাসেবক কয়েক দিন যাবৎ মাঠে আগাম সতর্কবার্তা প্রচারসহ আশ্রয়কেন্দ্র পরিদর্শন ও প্রস্তুতের কাজ করছে। মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্বে অ্যান্টিসিপেটরি অ্যাকশন টেকনিক্যাল ওয়ার্কিং গ্রুপ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ, বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ ও সাইক্লোন আর্লি অ্যাকশন প্রটোকল অনুসরণ করে প্রতিষ্ঠানভিত্তিক আগাম কার্যক্রম শুরু করেছে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ঘূর্ণিঝড়ের গতি-প্রকৃতি এবং আবহাওয়া অধিদপ্তর কর্তৃক বিপদ সংকেত জারি করা মাত্র মানুষকে আশ্রয়কেন্দ্রে আনা হবে। দুর্যোগবিষয়ক স্থায়ী আদেশাবলি অনুযায়ী স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানসমূহ এবং বিভিন্ন পর্যায়ের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটিগুলো কার্যকর হয়েছে।

ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতির অংশ হিসেবে সভায় কয়েকটি বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সেগুলো হলো আগাম সতর্কতার বিজ্ঞপ্তি প্রচার ও জনগণকে সচেতন করা, আগাম মানবিক কার্যাবলি গ্রহণ করা, মাঠ প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় ও বিভিন্ন পর্যায়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটিসমূহের সভা অনুষ্ঠান, সব পর্যায়ে নিয়ন্ত্রণকক্ষ খোলা, আশ্রয়কেন্দ্রগুলো প্রস্তুত করা, আশ্রয়কেন্দ্রে শুকনা খাবার, শিশু খাদ্য এবং গো-খাদ্যের ব্যবস্থা করা, জনগণকে আশ্রয়কেন্দ্রে আনার বিষয়ে প্রস্তুতি গ্রহণ। দুর্যোগ তথ্য পাওয়ার জন্য টোল ফ্রি ১০৯০ ব্যবহারের কথা বলা হয় সভায়। দৈনিক বাংলার বিভিন্ন জেলা প্রতিনিধিদের পাঠানোর সংবাদের ভিত্তিতে ‘রেমাল’ নিয়ে বিভিন্ন জেলার প্রস্তুতির সম্পর্কে জানা গেছে নানা তথ্য।

পিরোজপুর: বঙ্গোপসাগরে সৃষ্টি হতে যাওয়া ঘূর্ণিঝড় ‘রেমাল’ এর জন্য পিরোজপুরে প্রস্তুত করা হয়েছে ৫৬১ টি ঘূর্ণিঝড়ের আশ্রয়কেন্দ্র। যার মধ্যে ২৯৫ টি সাইক্লোন শেল্টার এবং ২৬৬ টি বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং এই আশ্রয়কেন্দ্রে ২ লাখ ৮০ হাজার ৫০০ জন মানুষ আশ্রয় নিতে পারবে।

শনিবার বিকেলে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের শহীদ আব্দুর রাজ্জাক সাইফ-মিজান সভাকক্ষে জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহেদুর রহমান এ তথ্য দেন।

সভায় জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহেদুর রহমান আরও জানান, ঘূর্নিঝড় রেমাল মোকাবিলায় একটি জেলা প্রশাসন থেকে একটি কন্টোলরুমসহ প্রতিটি উপজেলায় একটি টিম করা হয়েছে, ৬৫ টি মেডিকেল টিম প্রস্তুত রয়েছে, ২ লাখ ৬৩ হাজার পানি বিশুদ্ধ করণ ট্যাবলেজ মজুত রাখা হয়েছে, ঝড়ের ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য প্রাথমিক পর্যায়ে ১৩৫০ হাজার প্যাকেট শুকনা খাবার, ৬১১ মে. ট. চাল ও নগদ ৬ লক্ষ ১০ হাজার টাকা প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এছাড়াও দুর্যোগ পরিবর্তিতে ক্ষতিগ্রস্তদের ঘর মেরামতের জন্য ৯৭ বান্ডিল টিন রয়েছে। এ ছাড়া ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় রেডক্রিসেন্টের ২৫০ জন স্বেচ্ছাসেবক ও সিপিপি ২৪২০ জন সদস্য প্রস্তুত রয়েছে। রেমালের প্রভাবে পিরোজপুরের নদীসমূহে স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে বেশি পানি দেখা গেছে এবং জেলার কয়েক স্থানে হালাকা বৃষ্টি পড়েছে।

বরগুনা: বরগুনায় ঘূর্ণিঝড় রেমালের প্রভাবে গোমট আবহাওয়া বিরাজসহ নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এতে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন নদী তীরের বাসিন্দারা। শনিবার জেলার পায়রা, বলেশ্বর ও বিষখালী নদীর পানি স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় অন্তত তিন ফুট বেড়েছে বলে জানান নদী তীরের বাসিন্দারা। বরগুনা সদর উপজেলার বড়ইতলা এলাকায় গেলে দেখা যায়, পানিতে এখানকার বেড়িবাঁধের বাহিরের নিম্নাঞ্চল তলিয়ে গেছে। এখানে আশ্রয়কেন্দ্রের স্বল্পতা রয়েছে। তাই যা আছে তাতে সকলের স্থান সংকুলান হয় না। বরগুনার জেলা প্রশাসক মোহা. রফিকুল ইসলাম বলেন, দুপুরে জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা হয়েছে। সভার মাধ্যমে আমরা ঘূর্ণিঝড় মোকাবেলায় সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছি। এদিকে বরগুনার পানি উন্নয়ন বোর্ড জেলার বিভিন্ন স্থানে এক কিলোমিটার বেড়িবাঁধ ঝুঁকিপূর্ণ রয়েছে বলে জানিয়েছেন এবং এসব বাঁধ ভেঙ্গে গেলে তা তাৎক্ষণিকভাবে মেরামতের জন্য ৮০০ জিও ব্যাগ প্রস্তুত রাখা হয়েছে বলে জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় জানানো হয়েছে। জেলায় ঘূর্ণিঝড় ‘রেমাল’ মোকাবিলায় বরগুনায় ৬৭৩টি আশ্রয়কেন্দ্রসহ প্রায় ১০ হাজার স্বেচ্ছাসেবক প্রস্তুত রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ও জেলা মোহা. রফিকুল ইসলাম। শনিবার দুপুরে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির জরুরি প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়। দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় জেলা প্রশাসনসহ সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসক মোহা. রফিকুল ইসলাম জানান, ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। বরগুনায় ৩টি মুজিব কেল্লা, ৬৭৩টি আশ্রয়কেন্দ্রসহ প্রায় ১০ হাজার স্বেচ্ছাসেবক প্রস্তুত রাখা হয়েছে। যারা ঘূর্ণিঝড় পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সময়ে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করবেন। এ ছাড়া ৪২২ মেট্রিক টন খাদ্যশস্য, ৩৭ লাখ নগদ অর্থ প্রস্তুত রয়েছে। তিনি আরও জানান, ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকার জন্য জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ১০ টি কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে ৪২ টি মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে। দুর্যোগ প্রস্তুতি সভায় জেলা এনজিও ফোরামের সভাপতি মোতালেব মৃধা, প্রেসক্লাবের সভাপতি অ্যাডভোকেট মোস্তফা কাদের, রেডক্রিসেন্ট, দুর্যোগ প্রস্তুতি কর্মসূচি (সিপিপি), বিভিন্ন সরকারি, বেসরকারি সংস্থা ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত থেকে তাদের প্রস্তুতির বিষয় তুলে ধরেন।

মোংলা: ‘রেমাল’ প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়ে রোববার সন্ধ্যায় সুন্দরবন উপকূলে আঘাত হানবে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। মোংলা আবাহওয়া অফিসের ইনচার্জ মো. হারুন অর রশিদ জানান, এটি বর্তমান যেই অবস্থান দেখাচ্ছে তাতে ঘূর্ণিঝড়ের কেন্দ্রটি বাংলাদেশের ওপর দিয়েই অতিক্রম করার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে সুন্দরবন এলাকা এবং বরিশালের পটুয়াখালী, বরগুনা, ও ভোলা জেলায় রেমাল এর আঘাত হানার সম্ভাবনা বেশি রয়েছে।

এদিকে ঘূর্ণিঝড় রেমালের প্রভাবে সাগর উত্তাল থাকায় এরই মধ্যে মোংলা সমুদ্র বন্দরকে ৭ নম্বর সতর্ক সংকেত জারি করেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। ঘূর্ণিঝড় রেমালের প্রভাবে সব রকম সতর্কমূলক প্রস্তুতি নিয়েছে মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ। কোস্ট গার্ড, নৌ বাহিনী ও উপজেলা প্রশাসনের সমন্বয়ে শনিবার দুপুরে মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের সভাকক্ষে জরুরি বৈঠক করা হয়েছে।

বন্দর কর্তৃপক্ষের হারবার মাস্টার কমান্ডার সাইফুর রহমান বলেন, মোংলা বন্দরে এই মুহূর্তে সিমেন্টের কাঁচামাল ক্লিংকার, সার, পাথর ও গ্যাসবাহী ছয়টি জাহাজ অবস্থান করেছে। সেগুলোকে নিরাপদে নোঙ্গর করতে বলা হয়েছে। এদিকে ঘূর্ণিঝড় ‘রেমাল’ মোকাবিলায় সব রকম প্রস্ততি নিয়েছে উপজেলা প্রশাসনও। উপজেলা নির্বাহী অফিসার নিশাত তামান্না বলেন, ১০৩ টি আশ্রয়কেন্দ্রসহ ১৩২০জন স্বেচ্ছাসেবক প্রস্তুত রাখা হয়েছে। আবহাওয়া অফিস থেকে ঘূর্ণিঝড়ের সংকেত বাড়ানোর সঙ্গে সঙ্গেই আমাদের কার্যক্রমের গতি বাড়ানো হবে। কন্ট্রোল রুমও খোলা হয়েছে।

এদিকে মোংলা উপকূলে সচেতনতামূলক মাইকিং করেছে কোস্ট গার্ডের সদস্যরা। শনিবার সকাল থেকে ঘণ্টাব্যাপী মোংলার পশুর বিভিন্ন স্থানে এ প্রচার মাইকিং করা হয়।

মোংলা কোস্ট গার্ড পশ্চিম জোনের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট মো. মুনতাসীর ইবনে মহসীন জানান, সকাল থেকে সুন্দরবন লাঘোয়া মোংলা উপকূলের ঝুঁকিপূর্ণ বিভিন্ন এলাকায় প্রচার মাইকিং করেন কোস্ট গার্ড সদস্যরা।

বাগেরহাট: ঘূর্ণিঝড় রেমাল ধেয়ে আসার খবরে উপকূলীয় জেলা বাগেরহাটের নদী তীরবর্তী এলাকায় বসবাস করা মানুষের মাঝে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। এরই মধ্যে শনিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে শুরু হয়েছে বৃষ্টিপাত। তবে সকাল থেকে আকাশ কখনো রোদ আবার কখনো মেঘাচ্ছন্ন হচ্ছে। নদীতে থাকা মাছ ধরা ট্রলার গুলো উপকূলের ছোট ছোট খালে আশ্রয় নিয়েছে। কোস্টগার্ডের পক্ষ থেকে চালানো হচ্ছে জনসচেতনামূলক প্রচার-প্রচারণা। এরই মধ্যে রেমাল মোকাবেলায় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সকল ধরনের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে।

বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক মো. খালিদ হোসেন বলেন, ঘূর্ণিঝড় রেমাল মোকাবেলায় বাগেরহাটে ৩৫৯টি আশ্রয় কেন্দ্রে ও ৩ হাজার ৫শ ৫ জন স্বেচ্ছাসেবক প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এ ছাড়া ৬৪৩ মেট্রিকটন চাল ও ৫লক্ষ ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। জেলার ৯টি উপজেলার সকল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের সতর্ক থাকতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের সকল কর্মকর্তাদের ছুটি বাতিলের পাশাপাশি উপকূলের ঝুঁকিপূর্ণ বেরিবাধ এলাকায় গুলো নজরদারিতে রাখা হয়েছে।

পটুয়াখালী: জেলায় রেমাল মোকা‌বেলায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির প্রস্তু‌তি মূলক জরুরী সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার সকাল সাড়ে ১০টায় জেলা প্রশাসকের দরবার হলে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক নুর কুতুবুল আলম। সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান হাফিজুর রহমান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক যাদব সরকার। জেলা সিভিল সার্জন ডা. এসএম কবির হাসান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার যোবায়ের আহাম্মেদ।

গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. হারুন অর রশিদ, কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. নজরুল ইসলাম, পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফুর রহমান, পটুয়াখালী প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া রিদয়, সিপিপি, রেড ক্রিসেন্টসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

জেলা প্রশাসক জানান দুর্যোগ মোকাবিলায় জেলায় ৭০৩ টি সাইক্লোন শেল্টার ৩৫টি মুজিব কিল্লা, ৭৩০ মেট্রিক টন চাল, ১০ লক্ষ টাকার শিশু খাদ‌্য, ১০ লাখ টাকার গোখাদ‌্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এ ছাড় শুকনা খাবার র‌য়ে‌ছে ১৫০০ প‌্যা‌কেট। নগদ টাকা র‌য়ে‌ছে ২৪ লাখ ৭ হাজার টাকা ৫০০ টাকা।

এ সময় মানুষকে সচেতন ও দুর্যোগে উদ্ধার কাজ পরিচালনার জন্য রেডক্রিসেন্ট ও সিপিপির ৯ হাজার স্বেচ্ছাসেবককে প্রস্তুত থাকাসহ বিদ্যুৎ বিভাগ সড়ক বিভাগ ফায়ার সার্ভিসকে দিকনির্দেশনা প্রদান করেন জেলা প্রশাসক।

জেলায় মোট ৭৬টি মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে পর্যাপ্ত পরিমাণ স্যালাইন, ঔষধ ও পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট সংরক্ষিত রয়েছে। জেলায় ১৩০০ কিলোমিটার বেড়িবাঁধের মধ্যে ১০ কিলোমিটার ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। দুর্যোগের সময় কোথাও ভাঙন দেখা দিলে তা মেরামতের জন্য ১৬ হাজার জিও ব্যাগ রয়েছে বলে জানিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।

এদিকে জেলায় ৮৭ হাজার হেক্টর জমিতে রয়েছে মুগ ডাল এবং ২০ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো ধান রয়েছে বলে জানিয়েছে কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তর। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রফিউদ্দিন মোহাম্মদ যোবায়ের বলেন গুজোব মোকাবেলার জন্যে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে।

এদিকে কলাপাড়া উপকূলীয় অঞ্চলের জনগন, মৎস্যজীবি ও নৌযান সমূহকে ক্ষয়ক্ষতি থেকে রক্ষার জন্য জনসচেতনতা মূলক কার্যক্রম শুরু করেছে নিজামপুর কোষ্টগার্ড। শনিবার সকাল নয়টায় মৎস্য বন্দর আলীপুর- মহিপুরে মাইকিং ও লিফলেট বিতরন করে কোস্ট গার্ডের সদস্যরা। এসময় তারা খাপড়াভাঙ্গা নদীতে অবস্থানরত ট্রলার সমূহে থাকা জেলেদের ঘূর্নিঝড়ের সময় করনীয় সম্পর্কে দিক নির্দেশনা দেন।

ঝালকাঠি: জেলায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার বেলা ১১টায় জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ও জেলা প্রশাসক ফারাহ্ গুল নিঝুম। এ সভায় পুলিশ সুপার, স্বাস্থ্য, কৃষি, খাদ্য, শিক্ষা, দপ্তরের প্রধানগন এবং বিদ্যুৎ, ফায়ার সার্ভিস, পানি উন্নয়ন বোর্ড, সড়ক বিভাগ, রেডক্রিসেন্টসহ জেলা পর্যায়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা যোগ দেন।

সভায় জেলা প্রশাসক ফারাহ্ গুল নিঝুম বলেন, ঘূর্ণিঝড় ‘রেমাল’ মোকাবিলায় সর্বাত্মক প্রস্তুতি নেওয়া শুরু হয়েছে। এই কয় দিন সংশ্লিষ্ট সব পর্যায়ের কর্মকর্তাদের স্টেশন ত্যাগ না করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ঘূর্ণিঝড় ‘রেমাল’ মোকাবিলায় নির্ধারিত সাইক্লোন শেল্টারসহ আশ্রয়কেন্দ্রের জন্য সহ জেলার সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ব্যবহার উপযোগী করা হয়েছে।


ঝালকাঠিতে স্বর্ণালংকারের জন্য বন্ধুর মাকে হত্যা, যুবক আটক

আপডেটেড ২৬ জানুয়ারি, ২০২৬ ২০:৫৭
নিজস্ব প্রতিবেদক

ঝালকাঠিতে নিলুফা ইয়াসমিন নামের পঞ্চাশোর্ধ এক বৃদ্ধাকে হত্যার অভিযোগে সজল খান নামের এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ। আটক সজল নিহত নিলুফার ছেলের বন্ধু। নিলুফার নাক ও কানে ব্যবহৃত স্বর্ণালংকার লুফে নিতেই তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে সজল পুলিশের কাছে শিকার করেছে।

গত রোববার রাতে সজলকে আটকের পরে তার কাছ থেকে নিহত নিলুফার নাক ও কানের স্বর্ণালংকার এবং নিলুফার ব্যাবহৃত একটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করেছে পুলিশ।

নিলুফা ইয়াসমিন খুনের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে আটক সজলের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে গত রোববার মধ্যরাতে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ করেছে স্থানীয়রা।

সোমবার সকালে ঝালকাঠি প্রেসক্লাবের সামনের সড়কে ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেন নিহতের পরিবার ও এলাকার নারী-পুরুষ।

উল্লেখ্য, গত ২০ জানুয়ারি সকাল ৬ টায় ঝালকাঠি পৌর খেয়াঘাট এলাকায় সুগন্ধা নদীর পাড় থেকে নিলুফা ইয়াসমিন নামের ঐ নারীর মরদেহ উদ্ধার করেছিল পুলিশ।

সুরতহাল প্রতিবেদনে নিহতের নাকে রক্তের দাগ পাওয়া যায়। কানের দুল ও নাক ফুল নেওয়ার জন্যই ওই নারীকে খুন করা হয়েছে বলে পুলিশ ও এলাকাবাসী প্রাথমিকভাবে ধারণা করে।


পতিত জমিতে কৃষকের গম চাষ, স্বপ্ন বুনছেন অন্যরাও

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

কুমিল্লায় রবি মৌসুমে একসময় ব্যাপকভাবে গমের আবাদ হলেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কৃষকরা ধীরে ধীরে এই শস্য চাষ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন। ফলে আগের মতো মাঠজুড়ে গমের সোনালি শীষ আর চোখে পড়ে না। তবে দেবিদ্বার উপজেলার খলিলপুর ইউনিয়নের জয়পুর গ্রামে আবার গম চাষের আশার আলো জ্বালিয়েছেন কৃষক ইসমাইল ফকির।

প্রতিবেশী পল্লী চিকিৎসক শওকত আলীর পরামর্শে বাড়ির পাশে দীর্ঘদিন পতিত থাকা জমিতে গম চাষ করে ইতোমধ্যে তিনি সফলতার মুখ দেখছেন। খবর পেয়ে এলাকা পরিদর্শন করে পল্লী চিকিৎসক শওকত আলী ও কৃষক ইসমাইল ফকিরের সঙ্গে কথা বলেন সাংবাদিকরা।

জানা যায়, শওকত আলী নিজেও তার অল্প জমিতে পরশ শিম, টমেটো, আলু, মিষ্টি কুমড়া, পেঁয়াজ, রসুন ও ধনেপাতা চাষ করে আসছেন। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই তিনি ইসমাইল ফকিরকে হারিয়ে যাওয়া গম চাষে উদ্বুদ্ধ করেন। পরামর্শ অনুযায়ী ইসমাইল ফকির গমের বীজ সংগ্রহ করে প্রায় ২৯ শতক জমিতে আবাদ করেন। বর্তমানে ক্ষেতের অবস্থা দেখে বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

কৃষক ইসমাইল ফকির জানান, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে আগামী মাসেই তিনি গম কাটতে পারবেন। তার এই সাফল্য দেখে গ্রামের আরও কয়েকজন কৃষক আগামী মৌসুমে গম আবাদে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। কেউ কেউ ধান চাষ বাদ দিয়ে গম আবাদ করার কথাও ভাবছেন বলে জানান তারা।

গ্রামবাসীরা বলেন, পল্লী চিকিৎসক শওকত আলীর পরামর্শ ও উৎসাহে জয়পুর গ্রামে নতুন করে গম চাষের প্রতি আগ্রহ তৈরি হয়েছে, যা কৃষিতে ইতিবাচক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

এ বিষয়ে জেলা কৃষি অফিসের এক কর্মকর্তা জানান, সরকার গম আবাদ বাড়াতে চায় এবং কৃষকদের নানাভাবে পরামর্শ ও প্রণোদনা দেওয়া হচ্ছে। কুমিল্লা অঞ্চলের মাটি গম চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। আগামী বছর গম আবাদ বাড়াতে চাষিদের বিভিন্ন পরামর্শ ও সহায়তা করব।


সায়দাবাদে সেনাবাহিনীর বিশেষ অভিযানে অস্ত্র ও মাদকসহ সংঘবদ্ধ চক্রের ৬ সদস্য গ্রেপ্তার

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর সায়েদাবাদ এলাকায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৪৬ স্বতন্ত্র পদাতিক ব্রিগেডের এক সফল অভিযানে বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য, আগ্নেয়াস্ত্র, গোলাবারুদ ও নগদ অর্থ উদ্ধার করা হয়েছে। সোমবার (২৬ জানুয়ারি) ভোরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল ও সংলগ্ন রেললাইন এলাকায় এই বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযান চলাকালীন কুখ্যাত মাদক ব্যবসায়ী ও সন্ত্রাসী ‘অটো সজল’ এবং তার সহযোগীদের আস্তানায় তল্লাশি চালিয়ে নারীসহ মোট ৬ জনকে আটক করা হয়েছে। যদিও মূল অভিযুক্ত ‘অটো সজল’ সেনাবাহিনীর উপস্থিতি টের পেয়ে কৌশলে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়, তবে তার সহযোগী রাজু, ফারুক, জাহিদ, সজীব ও জনিসহ পরিবারের সদস্যদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বর্তমানে পলাতক সজলকে গ্রেপ্তারে সেনাবাহিনীর অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

তল্লাশিকালে সংশ্লিষ্ট এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে ২টি ৭.৬৫ মিমি বিদেশি অটোমেটিক পিস্তল, ৮ রাউন্ড তাজা গুলি, ৫,১০৮ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, ২৭০ পুরিয়া হেরোইন এবং ১৩টি দেশীয় ধারালো অস্ত্র। এছাড়া নগদ ৮,২৬,৪৩০ টাকা, ৩টি ককটেল ও ককটেল তৈরির সরঞ্জামসহ ২০টি মোবাইল ফোন এবং ২ বোতল বিদেশি মদ জব্দ করা হয়। প্রাথমিক তদন্তের তথ্যানুযায়ী, ‘অটো সজল’-এর নেতৃত্বে এই সংঘবদ্ধ চক্রটি দীর্ঘকাল ধরে সায়েদাবাদ ও যাত্রাবাড়ী এলাকায় মাদক ব্যবসার পাশাপাশি অস্ত্রের মুখে সন্ত্রাসী কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিল। রাজধানীর বিভিন্ন প্রান্তে অবৈধ মাদকের জোগান দেওয়াও ছিল তাদের অন্যতম প্রধান কাজ।

সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, সম্পূর্ণ পেশাদারিত্ব ও সর্বোচ্চ সতর্কতার সঙ্গে পরিচালিত এই অভিযানে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। আটককৃত ব্যক্তিদের পাশাপাশি উদ্ধারকৃত মালামাল পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া বর্তমানে চলমান রয়েছে। দেশের সামগ্রিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং মাদক ও সন্ত্রাস নির্মূলে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ভবিষ্যতেও এ ধরনের সময়োপযোগী ও কার্যকর অভিযান অব্যাহত রাখার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে।


পূর্বাচল প্রেসক্লাবের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু: সভাপতি রাশেদুল, সম্পাদক রাসেল

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলায় জমকালো আয়োজনের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করেছে স্থানীয় সাংবাদিকদের নতুন সংগঠন ‘পূর্বাচল প্রেসক্লাব’। সোমবার (২৬ জানুয়ারি) দিনব্যাপী পূর্বাচল সি শেল পার্ক রিসর্টে অনুষ্ঠিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সংগঠনটির ৩৬ সদস্যবিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কার্যনির্বাহী কমিটি ঘোষণা করা হয়। এতে সময় টেলিভিশনের সাংবাদিক মো. রাশেদুল ইসলামকে সভাপতি এবং দেশ টেলিভিশনের সাংবাদিক রাসেল মাহমুদকে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নির্বাচিত করা হয়েছে।

নবগঠিত এই কমিটিতে সিনিয়র সহ-সভাপতি হিসেবে এমএস ডালিম এবং সহ-সভাপতি হিসেবে জাগো নিউজ২৪-এর নাজমুল হুদা ও ডেইলি অবজারভারের শাহেল মাহমুদ দায়িত্ব পেয়েছেন। এছাড়া সহ-সাধারণ সম্পাদক পদে একুশে টিভির রবিউল ইসলাম এবং সাংগঠনিক সম্পাদক পদে বৈশাখী টিভির আতাউর রহমান সানী নির্বাচিত হয়েছেন। কমিটির অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পদের মধ্যে সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে বাংলা টিভির সোহেল কিরন, এটিএন বাংলার রাজু আহমেদ ও সকালের সময়ের আনিছুর রহমান; অর্থ সম্পাদক স্বপন মিয়া এবং দপ্তর সম্পাদক হিসেবে বাংলাদেশের খবরের নূরে আলম ভুঁইয়া আকাশ দায়িত্ব পালন করবেন। এছাড়া সাহিত্য, সাংস্কৃতিক, সমাজকল্যাণ, প্রচার, ক্রীড়া ও আইনসহ বিভিন্ন সম্পাদকীয় পদে এবং কার্যনির্বাহী সদস্য হিসেবে মোট ৩৬ জন সাংবাদিককে নিয়ে এই পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হয়।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) সভাপতি ও দৈনিক মানবকণ্ঠের সম্পাদক শহিদুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন মানবকণ্ঠের সিইও সৌরভ হাসান সজীব, জনকণ্ঠের ডেপুটি চিফ রিপোর্টার ইসরাফিল ফরাজী, সময় টিভির জ্যেষ্ঠ বার্তাকক্ষ সম্পাদক তৌফিক মাহমুদ এবং এটিএন বাংলার অনলাইন ও ডিজিটাল নিউজ এডিটর আল-ইমরান। অনুষ্ঠানে পূর্বাচল প্রেসক্লাবের উপদেষ্টা হানিফ মোল্লা, রূপগঞ্জ প্রেসক্লাবের আহ্বায়ক সাত্তার আলী সোহেল ও উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি এম এ মোমেনসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমের বিশিষ্ট সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

আলোচনা সভায় বক্তারা আশা প্রকাশ করেন যে, পূর্বাচল প্রেসক্লাব স্থানীয় সাংবাদিকদের জন্য একটি পেশাদার, নিরপেক্ষ ও ঐক্যবদ্ধ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করবে। সত্যনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন, সাংবাদিকদের অধিকার রক্ষা এবং সামাজিক উন্নয়নে এই সংগঠন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। নবনির্বাচিত সভাপতি মো. রাশেদুল ইসলাম তাঁর বক্তব্যে সাংবাদিকদের ঐক্যের ওপর জোর দিয়ে পেশাদারিত্ব ও নৈতিকতার সঙ্গে সংবাদ পরিবেশনের অঙ্গীকার করেন। অন্যদিকে, সাধারণ সম্পাদক রাসেল মাহমুদ স্থানীয় জনস্বার্থ ও উন্নয়নমূলক বিষয়গুলো গণমাধ্যমে তুলে ধরার মাধ্যমে প্রেসক্লাবের দায়িত্বশীল ভূমিকা নিশ্চিত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

উৎসবমুখর এই আয়োজনে কালের কণ্ঠ, যমুনা টিভি, একাত্তর টিভি, জিটিভি ও বাংলাদেশ প্রতিদিনসহ বিভিন্ন জাতীয় গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা অংশগ্রহণ করেন। দিনব্যাপী নানা আনুষ্ঠানিকতা শেষে দোয়া ও মোনাজাতের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।


বরগুনার জামায়াত নেতার বক্তব্যের তীব্র নিন্দা, ঢাবিতে বিক্ষোভ

আপডেটেড ২৬ জানুয়ারি, ২০২৬ ০০:৪৯
বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক  

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নিয়ে বরগুনা জেলা জামায়াতের নেতার কুরুচিপূর্ণ মন্তব্যের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এই বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন শিক্ষার্থীরা। গতকাল রোববার সন্ধ্যায় রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে তারা সমাবশে করেন। সমাবেশে ডাকসুর গবেষণা ও প্রকাশনা সম্পাদক সানজিদা আহমেদ তন্নি, ডাকসু সদস্য হেমা চাকমা, কবি সুফিয়া কামাল হল সংসদের সহসাধারণ সম্পাদক শিমু আক্তার, জগন্নাথ হল সংসদের ভিপি পল্লব চন্দ্র বর্মনসহ বিভিন্ন হলের ছাত্র প্রতিনিধি ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

গত শনিবার রাতে বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার কাকচিড়া ইউনিয়নের কাটাখালী এলাকায় বরগুনা-২ আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী ডা. সুলতান আহমেদের নির্বাচনী জনসভায় বক্তব্য দেন শামীম আহসান।

তিনি বলেন, ‘আমরা দেখছি, ডাকসু নির্বাচনের পরে- যে ডাকসু মাদকের আড্ডাখানা ছিল, যে ডাকসু বেশ্যাখানা ছিল, সেটা ইসলামী ছাত্রশিবির পরিবর্তন করতে সক্ষম হয়েছে। তাই এই বাংলাদেশ থেকে সব ধরনের অন্যায়, সব ধরনের চাঁদাবাজ ও দুর্নীতি উৎখাত করতে জামায়াতে ইসলামী সক্ষম।’

সমাবেশে শিক্ষার্থীরা বলেন, জামায়াত নেতার এই বক্তব্য শুধু ডাকসু বা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে হেয় করেনি, বরং দেশের নারী সমাজের মর্যাদা ও সংগ্রামকে অস্বীকার করার শামিল।

সমাবেশে ডাকসুর বর্তমান ভিপি ও জিএসের নীরবতা নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করে তারা আরও বলেন, সাধারণ শিক্ষার্থীদের স্বার্থ ও মর্যাদার প্রশ্নে ডাকসু নেতৃত্ব বারবার নীরব ভূমিকা পালন করছে। জামায়াত নেতার এই মন্তব্যের পরও ডাকসুর পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ বা বিবৃতি না আসায় তারা তীব্র সমালোচনা করেন।

বিক্ষোভ থেকে শিক্ষার্থীরা শামীম আহসানকে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার আল্টিমেটাম দেন।

এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তরের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক রফিকুল ইসলাম স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ডাকসু ভবন সম্পর্কে বরগুনা জেলা জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মো. শামীম আহসানের একটি বক্তব্যের প্রতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকৃষ্ট হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এই অশ্লীল, কুরুচিপূর্ণ, অশালীন ও অর্বাচীন বক্তব্যের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছে।

এতে বলা হয়, তার এই বক্তব্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমর্যাদা, সুনাম, ঐতিহ্য ও সম্মানকে চরমভাবে ক্ষুণ্ন করেছে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ অবিলম্বে তার এই বক্তব্য প্রত্যাহারের আহ্বান জানাচ্ছে। এ ধরনের অর্বাচীন বক্তব্য দেওয়া থেকে বিরত থাকার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সকলের প্রতি অনুরোধ জানাচ্ছে।

উল্লেখ্য, এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কিরণপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শামীম আহসান। নির্বাচন কমিশন কর্তৃক প্রণীত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বিধি অনুযায়ী কোনো প্রার্থীর পক্ষে তিনি কোনো নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিতে পারেন না জানা সত্বেও তার এমন কর্মকাণ্ডের অভিযোগে নির্বাচন কমিশনকে অবহিত করা হয়। নির্বাচন কমিশন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিলে শামীম আহসান কারণ দর্শানোর লিখিত জবাব দেন এবং এসব কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার মুচলেকা দেওয়ার পরপরই তিনি ডাকসু নিয়ে কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য দেন।


রামপাল তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে পালালেন ৯ ভারতীয় কর্মকর্তা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাগেরহাটের রামপালে মৈত্রী সুপার তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রে কর্মরত ৯ জন ভারতীয় কর্মকর্তা কাউকে না জানিয়ে হঠাৎ বাংলাদেশ থেকে পালিয়ে গেছেন। তারা সবাই ভারতের ন্যাশনাল থার্মাল পাওয়ার করপোরেশন (এনটিপিসি) থেকে প্রেষণে রামপাল তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রে কর্মকর্তা ছিলেন। অনুমতি ছাড়াই গত শনিবার সকালে তারা কর্মস্থল ছেড়ে দেশে ফিরে যান।

রামপাল তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রের উপমহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) আনোয়ারুল আজিম বলেন, গত শনিবার সকালে নির্ধারিত সময়ে তাদের পাওয়া না যাওয়ায় তারা খোঁজখবর নেওয়া শুরু করেন। পরে জানতে পারেন, অনুমতি ছাড়াই ভারতীয় ওই কর্মকর্তারা চলে গেছেন। তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তারা নিরাপত্তা ঝুঁকির কথা জানান। যদিও বিদ্যুৎকেন্দ্রে চার স্তরের নিরাপত্তাব্যবস্থা আছে। এ ধরনের কোনো ঝুঁকি কখনোই ছিল না। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে এবং গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হচ্ছে।

দেশ ত্যাগ করা কর্মকর্তারা হলেন তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রের জেনারেল ম্যানেজার প্রতিম ভর্মন, বিশ্বজিৎ মণ্ডল ও এন সুরায়া প্রকাশ রায়; সহকারী জেনারেল ম্যানেজার কেশবা পালাকি ও পাপ্পু লাল মিনা; ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার সুরেয়া কান্ত মন্দেকার, সুরেন্দ্র লম্বা ও অনির্বাণ সাহা এবং সিএফও ইমানুয়েল পনরাজ দেবরাজ।

তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্র সূত্রে জানা গেছে, শনিবার সকালে নাশতার টেবিলে ওই কর্মকর্তাদের না পেয়ে খোঁজখবর নিতে শুরু করে কর্তৃপক্ষ। একপর্যায়ে জানা যায়, কাউকে না জানিয়ে তারা তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে চলে গেছেন। পরে প্রকল্প পরিচালক রামানাথ পুজারীকে বিষয়টি জানালে তিনি সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং নিরাপত্তাহীনতার অজুহাতে তারা বাংলাদেশ ছেড়েছেন বলে নিশ্চিত করেন।

তবে তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্র কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিদ্যুৎকেন্দ্রে সেনাবাহিনী, পুলিশ, আনসারসহ চার স্তরের নিরাপত্তাব্যবস্থা চালু আছে। এর আগে ওই কর্মকর্তারা নিরাপত্তা নিয়ে কখনও কোনো অভিযোগ বা উদ্বেগ প্রকাশ করেননি। এমন পরিস্থিতিতে হঠাৎ দেশ ত্যাগ করায় বিষয়টি রহস্যজনক বলে মনে করছেন তারা।


ছাত্রলীগ নেতা সাদ্দামের প্যারোলে মুক্তির আবেদনই করা হয়নি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাগেরহাট সদর উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি জুয়েল হাসান সাদ্দামের প্যারোলে মুক্তির আবেদন সংক্রান্ত সংবাদে ভিন্নমত প্রকাশ এবং ব্যাখ্যা দিয়েছে যশোর জেলা প্রশাসন।

রোববার জেলা প্রশাসকের মিডিয়া সেলের সহকারী কমিশনার আশীষ কুমার দাস স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই সংক্রান্ত বিষয়ে ব্যাখা দেওয়া হয়।

ব্যাখ্যায় বলা হয়, বন্দি জুয়েল হাসান সাদ্দামকে বাগেরহাট জেলা কারাগার থেকে গত বছরের ১৫ ডিসেম্বর যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে আনা হয়। তার স্ত্রী ও সন্তান মৃত্যুর ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে যশোরের জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কিংবা যশোর কেন্দ্রীয় কারাগার কর্তৃপক্ষ বরাবর প্যারোলে মুক্তির কোনো আবেদন করা হয়নি। কিন্তু বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে পরিবারের বক্তব্য থেকে জানা যায়, সময় স্বল্পতার কারণে তাদের পারিবারিক সিদ্ধান্তে প্যারোলে মুক্তির আবেদন না করে জেলগেটে মরদেহ দেখানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ফেসবুকের বিভিন্ন পোস্টে উল্লিখিত বন্দীর স্ত্রীকে লিখিত চিঠি, কারাগারে বন্দী অবস্থায় ছবি দেখা যাচ্ছে-যা যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নয় বলে ওই বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়। এ ছাড়া আবেদনের পরেও প্যারোলে মুক্তি দেওয়া হয়নি-এ ধরনের তথ্যও অসত্য। কারণ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, যশোর বরাবর প্যারোলে মুক্তি সংক্রান্ত কোনো আবেদনই করা হয়নি। বরং পরিবারের মৌখিক আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে কারা কর্তৃপক্ষ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে মানবিক দিক বিবেচনায় কারাফটকে লাশ দেখানোর ব্যবস্থা করে।

বাগেরহাট সদর উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি সাদ্দাম হোসেন জুয়েলের স্ত্রী ও নয় মাসের শিশুসন্তানের মৃত্যুতে তাদের লাশ দেখাতে নিয়ে যাওয়া হয় যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে। এই ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে কেউ কেউ দাবি করেছিলেন, সাদ্দামের প্যারোলে মুক্তি না মেলায় লাশ কারাগারে আনা হয় দেখানোর জন্য।

কারা কর্তৃপক্ষ জানায়, লাশবাহী অ্যাম্বুলেন্সের সঙ্গে সাদ্দামের পরিবারের ছয় সদস্যকে কারাফটকে আসতে দেওয়া হয়। স্ত্রী ও সন্তানকে শেষবারের মতো দেখতে মিনিট পাঁচেক সময় দেওয়া হয় সাদ্দামকে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী সরকারের পতনের পর গোপালগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার হন সাদ্দাম। বর্তমানে তিনি বিভিন্ন মামলায় যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি রয়েছেন।

উল্লেখ্য, গত শুক্রবার দুপুরে বাগেরহাট সদর উপজেলার সাবেকডাঙ্গা গ্রামের একটি বাড়ি থেকে সাদ্দামের স্ত্রী কানিজ সুবর্ণা স্বর্ণালীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। তার পাশেই নিথর অবস্থায় পড়েছিল স্বর্ণালীর নয় মাসের সন্তান নাজিম।


জামায়াত প্রার্থী আমির হামজার বিরুদ্ধে মামলা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ঝিনাইদহে আদালতে কুষ্টিয়া-৩ আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী মুফতি আমির হামজার বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করা হয়েছে। গতকাল রোববার দুপুরে সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলি আদালতে মামলাটি করেছেন বিএনপি নেতা অ্যাডভোকেট মো. আব্দুল আলিম। আদালত পিবিআইকে অভিযোগ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।

মামলার বিবরণে বাদী অভিযোগ করেছন প্রয়াত আরাফাত রহমান কোকোর নাম বিকৃত করে বিদ্রূপমূলক ও অবমাননাকর মন্তব্য করেছেন মুফতি আমির হামজা।

বাদী আরও অভিযোগ করেন, প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার কারাবাস নিয়েও মন্তব্য করেছেন আসামি আমির হামজা। তার মন্তব্যের ভিডিও ক্লিপ সমাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। আরাফাত রহমান কোকো একজন জাতীয় ব্যক্তিত্ব এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া একজন সম্মানিত নাগরিক ছিলেন। তাদের নাম, পরিচয় ও মর্যাদা বিকৃত করে জনসম্মুখে বক্তব্য দেওয়া স্পষ্টতই শাস্তিযোগ্য ফৌজদারি অপরাধ বলে বাদী মামলার বিবরণে উল্লেখ করেছেন।

বিকৃত কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য দেওয়ার মাধ্যমে খালেদা জিয়া ও তার ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর সম্মান, সুনাম ও মর্যাদা ক্ষুণ্ণ হয়েছে বলে দাবি করেছেন বাদী। আমির হামজার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানার আদেশ দেওয়ার জন্য আবেদন জানান মামলার বাদী আব্দুল আলিম।

শুনানি শেষে আদালত পিবিআইকে অভিযোগ তদন্তের নির্দেশ দেন। ঘটনাটি নিয়ে ইতোমধ্যে রাজনৈতিক মহলে তোলপাড় শুরু হয়েছে। আদালত সূত্র জানায়, মামলার পরবর্তী তারিখ আগামী ৬ এপ্রিল।


নওগাঁ আসছেন তারেক রহমান, এটিম মাঠে সমাবেশ চূড়ান্ত

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নওগাঁ প্রতিনিধি

আগামী ২৯ জানুয়ারি বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নওগাঁ আগমন উপলক্ষে সমাবেশের স্থান পরিদর্শন করেছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

রোববার (দুপুর ২টা) বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট সৈয়দ শাহিন শওকত নওগাঁ শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থান পরিদর্শন করেন। পরিদর্শন শেষে নওগাঁ শহরের ঐতিহ্যবাহী এটিম মাঠকে সমাবেশের জন্য চূড়ান্তভাবে নির্ধারণ করা হয়।

পরবর্তীতে নওগাঁ শহরের একটি হোটেলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সমাবেশের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেন অ্যাডভোকেট সৈয়দ শাহিন শওকত।সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, নির্বাচনী প্রচারণার অংশ হিসেবে আগামী ২৯ জানুয়ারি বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান রাজশাহী সফর করবেন। এরপর তিনি নওগাঁ এবং সবশেষে বগুড়া সফর করবেন। তার আগমনকে ঘিরে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিতসহ প্রয়োজনীয় সকল প্রস্তুতি গ্রহণ করা হবে।

তিনি আরও বলেন, এই সমাবেশে তিনি বিএনপির মনোনীত প্রার্থীদের জনগণের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেবেন এবং দেশের জনগণের কাছে বিএনপির রাজনৈতিক অঙ্গীকার ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরবেন। আমরা আশা করছি, নওগাঁর এই সমাবেশটি জনস্রোতে সফলভাবে সম্পন্ন হবে।

এসময় উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মামুনুর রহমান রিপন, সাংগঠনিক সম্পাদক নুরে আলম মিঠু ও শফিউল আজম রানা, নওগাঁ-১ আসনের প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান, নওগাঁ-২ আসনের প্রার্থী ডা. শামসুজ্জোহা খান, নওগাঁ-৩ আসনের প্রার্থী ফজলে হুদা বাবুল, নওগাঁ-৪ আসনের প্রার্থী ডা. ইকরামুর বারী টিপু, নওগাঁ-৫ আসনের প্রার্থী জাহিদুল ইসলাম ধলু, নওগাঁ-৬ আসনের প্রার্থী শেখ রেজাউল ইসলামসহ জয়পুরহাট জেলার বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।


কর্তৃত্ববাদী শাসনের অবসান হলেও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লড়াই শেষ হয়নি: সুজন সম্পাদক

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)-এর সম্পাদক ও প্রধান নির্বাহী ড. বদিউল আলম মজুমদার মন্তব্য করেছেন যে, জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে স্বৈরাচারী শাসনের অবসান ঘটলেও প্রকৃত গণতন্ত্র এখনো প্রতিষ্ঠিত হয়নি।

রবিবার (২৫ জানুয়ারি) সকালে সিলেটে আয়োজিত ‘গণ-অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা, রাষ্ট্র সংস্কার ও নির্বাচনী ইশতেহার’ শীর্ষক বিভাগীয় সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি উল্লেখ করেন যে, ‘ছাত্র-জনতার নেতৃত্বে সংঘটিত গণ-অভ্যুত্থানে কর্তৃত্ববাদী শাসনের অবসান ঘটলেও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লড়াই এখনো শেষ হয়নি।’ তিনি আরও গুরুত্বারোপ করেন যে, গণতান্ত্রিক উত্তরণে নির্বাচনের ভূমিকা থাকলেও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার ব্যতীত তা টেকসই হবে না। ড. মজুমদারের ভাষায়, ‘একটি সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনই গণতান্ত্রিক উত্তরণের পূর্বশর্ত হলেও তা এককভাবে যথেষ্ট নয়। গণতন্ত্রকে টেকসই ও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে হলে গভীর আইনি, প্রাতিষ্ঠানিক ও কাঠামোগত সংস্কার অপরিহার্য।’

গণ-অভ্যুত্থানের মূল লক্ষ্যগুলো স্মরণ করিয়ে দিয়ে সুজন সম্পাদক বলেন, ‘২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার নেতৃত্বে সংঘটিত গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে কর্তৃত্ববাদী শাসনের অবসান ঘটলেও এখনো গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লড়াই শেষ হয়নি। নির্বাচন ব্যবস্থার পরিশুদ্ধকরণ, মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিচার এবং রাষ্ট্র সংস্কারের মাধ্যমে একটি সাম্যভিত্তিক ও ন্যায়বিচারপূর্ণ সমাজ গড়ে তোলাই গণ-অভ্যুত্থানের মূল আকাঙ্ক্ষা।’ তিনি দেশের নির্বাচনী ও রাজনৈতিক ব্যবস্থায় বিদ্যমান কালো টাকা, দুর্বৃত্তায়ন এবং ক্ষমতার অতি-কেন্দ্রীকরণকে গণতন্ত্রের প্রধান অন্তরায় হিসেবে চিহ্নিত করেন। অতীতের নির্বাচনের অভিজ্ঞতার নিরিখে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ‘অতীতের অভিজ্ঞতায় প্রমাণিত হয়েছে যে, দলীয় সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়। এজন্য নির্বাচনকালীন নির্দলীয় সরকারের গুরুত্ব অপরিসীম।’

সংলাপে ড. বদিউল আলম মজুমদার রাজনৈতিক দলগুলোর নিজস্ব গণতন্ত্র চর্চা ও নির্বাচন কমিশনকে প্রকৃত অর্থেই স্বাধীন ও দায়বদ্ধ করার ওপর জোর দেন। একইসঙ্গে তিনি নাগরিক সমাজকে তোষামোদি পরিহার করে অতন্দ্র প্রহরীর ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান। সিলেট জেলা সুজনের সভাপতি শিরিন আক্তারের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত এই সংলাপে সিলেট বিভাগের বিভিন্ন জেলার সুজন নেতৃবৃন্দ অংশগ্রহণ করে সংস্কার ও নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিয়ে তাদের মতামত তুলে ধরেন।


নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে ঢাকা-১ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থীকে অর্থদণ্ড

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১ (দোহার-নবাবগঞ্জ) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী অ্যাডভোকেট অন্তরা সেলিমা হুদাকে নির্বাচনী আচরণবিধি ভঙ্গের দায়ে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। রবিবার (২৫ জানুয়ারি) দুপুরে দোহার উপজেলার কুসুমহাটি ইউনিয়নের কাচারিঘাট আউলিয়াবাদ এলাকায় গোপনে কম্বল বিতরণকালে তাকে এই দণ্ড প্রদান করা হয়।

স্থানীয় সূত্র ও ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা গেছে, হরিণ প্রতীকের এই প্রার্থী জনৈক ফারুক মোল্লার বাড়িতে লোক সমাগম ঘটিয়ে কম্বল বিতরণ করছিলেন, যার ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আসে।

খবর পেয়ে দোহার উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তাসফিক সিবগাত উল্লাহ দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে অভিযোগের সত্যতা পান। নির্বাচনী আচরণবিধিমালা ৪ (১) ধারা লঙ্ঘনের অপরাধে তিনি এই জরিমানা কার্যকর করেন। অভিযান শেষে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বলেন, ‘যিনি কম্বল বিতরণ করছেন তিনি এ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হরিণ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তিনি কম্বল বিতরণ করে আচরণবিধি লঙ্ঘন করেছেন। একই সঙ্গে তাকে সতর্ক করা হয়। নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী সব ধরনের অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে রয়েছে। আইন সব প্রার্থীর জন্য সমান। কোনো প্রার্থীর আচরণবিধি লঙ্ঘন করে প্রচারণা, কম্বল বিতরণ বা আর্থিক আদান প্রদানের যেকোনো তথ্য তাৎক্ষণিক ভ্রাম্যমাণ আদালতকে জানালে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নির্বাচনের স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এ ধরনের কঠোর নজরদারি অব্যাহত থাকবে।


বরগুনায় জেলা প্রশাসকের কক্ষে ঢুকে কর্মকর্তাকে আঘাত: হামলাকারী যুবক গ্রেপ্তার

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বরগুনায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে প্রবেশ করে জহিরুল ইসলাম নামে এক প্রশাসনিক কর্মকর্তাকে ধাতব যন্ত্র দিয়ে আঘাত করার অভিযোগে মো. ইব্রাহীম খলিল (৩০) নামের এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রবিবার (২৫ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বরগুনা জেলা প্রশাসকের অনুপস্থিতিতে তাঁর কক্ষে এই অতর্কিত হামলার ঘটনা ঘটে। জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, বরগুনা সদর উপজেলার বাঁশবুনিয়া এলাকার বাসিন্দা ইব্রাহীম খলিল প্রায় ১৪-১৫ ইঞ্চির একটি সেলাই রেঞ্জ নিয়ে জেলা প্রশাসকের ফাঁকা কক্ষে ঢুকে পড়েন। এ সময় জেলা প্রশাসকের সিএ মো. জহিরুল বিষয়টি লক্ষ করে সেখানে গেলে হামলার শিকার হন। আহত মো. জহিরুল ঘটনার বিবরণ দিয়ে বলেন, "আমি আমার কক্ষে কাজ করছিলাম। সেখান থেকে বের হয়ে দেখি কেউ একজন ডিসি স্যারের রুমে প্রবেশ করছেন। স্যার যেহেতু অফিসে নেই, এ কারণে স্যারের রুমে গিয়ে দেখি হামলাকারী ওই ছেলে ভেতরে আছেন। পরে কী কারণে রুমে ঢুকেছে জানতে চেয়ে তাকে রুম থেকে বের হতে বললে সে ক্ষিপ্ত হয়ে আমার ওপর হামলা চালায়। এ সময় তার সঙ্গে থাকা সেলাই রেঞ্জটি দিয়ে আঘাত করে আমাকে আহত করে।"

হামলার শব্দ শুনে অফিসের অন্য স্টাফরা এগিয়ে এসে হামলাকারীকে আটক করেন। ঘটনার সাক্ষী গোপনীয় শাখার অফিস সহায়ক মো. জুয়েল রানা জানান, "সকালে অফিসে এসে কাজ করছিলাম। পরে রুমের বাইরে আমিনুল নামে এক স্টাফের সঙ্গে কথা বলছিলাম। এ সময় এক ব্যক্তিকে যেতে দেখে জানতে চাই কী কারণে আসছেন। পরে সে আমাকে বলে ডিসি স্যারের সঙ্গে দেখা করতে এসেছি। এ সময় স্যার অফিসে নাই জানিয়ে তাকে আগামী কালকে আসতে বলি। এরপর সে চলে যাওয়ার কীছুক্ষণ পরেই হামলার শিকার জহিরুল স্যার আমাকে ডাকতে থাকেন। পরে দ্রুত দৌড়ে গিয়ে দেখি জহিরুল স্যারের ওপর হামলা করা হচ্ছে। পরে আমরা কয়েকজন মিলে ওই ব্যক্তিকে ধরে নিয়ে আমাদের রুমে নিয়ে আসি। পরে অফিসের কর্মকর্তাদের অবহিত করলে পুলিশ সদস্যরা এসে তাকে আটক করে নিয়ে যায়।"

বিষয়টি নিশ্চিত করে বরগুনার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) অনিমেষ বিশ্বাস জানান, "আজ সকাল আনুমানিক সাড়ে ১০টার সময় একজন ব্যক্তি আনুমানিক বয়স ৩০-৩৫ হবে সে হঠাৎ ডিসি স্যারের রুমে প্রবেশ করে। তার কাছে একটি অব্যবহৃত সেলাই রেঞ্জ পাওয়া গেছে। তবে কী কারণে এবং কী উদ্দেশ্যে আসছে বিষয়টি এখন তদন্তধীন আছে। আমরা তাকে পুলিশে সোপর্দ করেছি এবং আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য মামলার প্রস্তুতি চলছে।" কার্যালয়ের নিরাপত্তা প্রসঙ্গে তিনি আরও যোগ করেন, "আমাদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিচে ছিল। পুলিশ এবং আনসার সদস্যরা ছিল। অফিসে প্রতিদিনই বিভিন্ন মানুষ আসেন। এছাড়াও গণশুনানিতে অনেক মানুষ আসেন। এ কারণেই তাদের দৃষ্টি এড়িয়ে হয়তো ওই লোক ভিতরে চলে এসেছে। আমাদের আইনশৃঙ্খলার ব্যবস্থা আরও জোরদার করার প্রয়োজন এবং সে ধরনের ব্যবস্থা ইতোমধ্যে গ্রহণ করা হয়েছে। এ ছাড়াও নিরাপত্তার জন্য দুই তিন স্তরের ব্যবস্থা ঢেলে সাজানো হচ্ছে।" বরগুনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ আব্দুল আলীম জানিয়েছেন, অভিযুক্ত যুবককে বর্তমানে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে নেওয়া হয়েছে।


ঠাকুরগাঁওয়ে ৩.৪ মাত্রার মৃদু ভূমিকম্প অনুভূত

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের উত্তরাঞ্চলীয় জেলা ঠাকুরগাঁওয়ে আজ রবিবার সকালে মৃদু ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। ২৫ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখ সকাল ৮টা ৩৪ মিনিটের দিকে এই কম্পন অনুভূত হয়। দিনের শুরুতে আকস্মিক এই কম্পনে স্থানীয়দের মধ্যে কিছুটা চাঞ্চল্য সৃষ্টি হলেও এর মাত্রা মৃদু থাকায় বড় কোনো ভীতির সঞ্চার হয়নি।

আন্তর্জাতিক ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ সংস্থা ও অগ্ন্যুৎপাত বিষয়ক ওয়েবসাইট ভলকানো ডিসকভারির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল রিখটার স্কেলে ৩ দশমিক ৪। তাদের প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল ঠাকুরগাঁও জেলা সদর থেকে আনুমানিক ৩৩ কিলোমিটার পূর্ব দিকে। তবে এই ভূমিকম্পের গভীরতা বা ডেপথ সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য নিরূপণ করা সম্ভব হয়নি। বিশেষজ্ঞদের প্রাথমিক ধারণা অনুযায়ী, এটি একটি অগভীর বা স্যালো ডেপথের ভূমিকম্প ছিল।

সকালবেলার এই মৃদু প্রাকৃতিক দুর্যোগে এখন পর্যন্ত জেলার কোথাও কোনো ধরনের ক্ষয়ক্ষতি, ফাটল বা হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে। কম্পনটি খুব অল্প সময়ের জন্য স্থায়ী হওয়ায় এবং মাত্রা কম থাকায় অনেকেই হয়তো এটি অনুভব করতে পারেননি, তবে যারা অনুভব করেছেন তারা সামান্য দুলুনি টের পেয়েছেন বলে জানা গেছে।


banner close