বঙ্গোবসাগরে থাকা গভীর নিম্নচাপটি ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেওয়ায় তা ‘রেমালে’ পরিণত হয়েছে। আজ রোববার মধ্যরাতে এটি আঘাত হানার আশঙ্কা করছেন আবহাওয়াবিদরা। এ জন্য দেশের ছয় জেলাকে ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলার জন্য বিশেষভাবে প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দিয়েছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. মহিববুর রহমান। এ ঘূর্ণিঝড় নিয়ে এ পর্যন্ত প্রাপ্ত পূর্বাভাস ও ভূমি অতিক্রমের সম্ভাব্য এলাকার ভিত্তিতে এ নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জেলাগুলো হলো সাতক্ষীরা, বাগেরহাট, খুলনা, বরগুনা, পটুয়াখালী ও ভোলা।
গতকাল ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় প্রস্তুতি সভায় প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘গত ১৫ বছরে ঘূর্ণিঝড়সহ সব দুর্যোগে তার নিবিড় পর্যবেক্ষণ ও নির্দেশনায় আমরা যথাসময়ে প্রস্তুতি নিয়ে মানুষের দুর্দশা লাঘব এবং জীবন ও সম্পদের ক্ষতি কমাতে সক্ষম হয়েছি। এ ঘূর্ণিঝড়টিও যাতে একই ধারাবাহিকতায় সফলভাবে মোকাবিলা করতে পারি তার জন্য আমরা প্রস্তুত রয়েছি।’
প্রতিমন্ত্রী মুহিববুর রহমান বলেন, ‘আমরা ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোর জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারদের সঙ্গে কথা বলে স্থানীয় প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য নির্দেশনা দিয়েছি। উপকূলবর্তী সব জেলাকে ঘূর্ণিঝড়ের জন্য প্রস্তুতি নিতে বলা হয়েছে। এ পর্যন্ত প্রাপ্ত পূর্বাভাস ও সম্ভাব্য ভূমি অতিক্রম এলাকার ভিত্তিতে সাতক্ষীরা, বাগেরহাট, খুলনা, বরগুনা, পটুয়াখালী, ভোলা জেলাসমূহকে অধিকতর প্রস্তুত থাকার জন্য বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘এক সপ্তাহ ধরে এই ঝড়টির বিষয়ে আমরা খোঁজখবর রাখছি। বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করে নিয়মিতভাবে পূর্বাভাস দিচ্ছে এবং আগাম কার্যাবলি (অ্যান্টিসিপেটরি অ্যাকশন) ও সাড়া প্রদানে সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত দিয়ে সহযোগিতা করছে। আমরা ভারতে অবস্থিত আঞ্চলিক বিশেষায়িত আবহওয়া কেন্দ্রের সঙ্গেও নিয়মিত যোগাযোগ রাখছি। এর পাশাপাশি বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য আন্তর্জাতিক পূর্বাভাস মডেল নিয়মিত পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে সময়োপযোগী কার্যক্রম গ্রহণ করছি।’
সভায় প্রতিমন্ত্রী বলেন, এই ঘূর্ণিঝড়টি মোকাবিলায় সার্বক্ষণিক তথ্য বিনিময়ের লক্ষ্যে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের এনডিআরসিসি ২৪ ঘণ্টা খোলা রয়েছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর মানবিক সহায়তা ও ত্রাণ কার্যক্রম প্রেরণ শুরু করেছে। ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচির (সিপিপি) ৭৮ হাজার স্বেচ্ছাসেবক কয়েক দিন যাবৎ মাঠে আগাম সতর্কবার্তা প্রচারসহ আশ্রয়কেন্দ্র পরিদর্শন ও প্রস্তুতের কাজ করছে। মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্বে অ্যান্টিসিপেটরি অ্যাকশন টেকনিক্যাল ওয়ার্কিং গ্রুপ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ, বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ ও সাইক্লোন আর্লি অ্যাকশন প্রটোকল অনুসরণ করে প্রতিষ্ঠানভিত্তিক আগাম কার্যক্রম শুরু করেছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ঘূর্ণিঝড়ের গতি-প্রকৃতি এবং আবহাওয়া অধিদপ্তর কর্তৃক বিপদ সংকেত জারি করা মাত্র মানুষকে আশ্রয়কেন্দ্রে আনা হবে। দুর্যোগবিষয়ক স্থায়ী আদেশাবলি অনুযায়ী স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানসমূহ এবং বিভিন্ন পর্যায়ের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটিগুলো কার্যকর হয়েছে।
ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতির অংশ হিসেবে সভায় কয়েকটি বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সেগুলো হলো আগাম সতর্কতার বিজ্ঞপ্তি প্রচার ও জনগণকে সচেতন করা, আগাম মানবিক কার্যাবলি গ্রহণ করা, মাঠ প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় ও বিভিন্ন পর্যায়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটিসমূহের সভা অনুষ্ঠান, সব পর্যায়ে নিয়ন্ত্রণকক্ষ খোলা, আশ্রয়কেন্দ্রগুলো প্রস্তুত করা, আশ্রয়কেন্দ্রে শুকনা খাবার, শিশু খাদ্য এবং গো-খাদ্যের ব্যবস্থা করা, জনগণকে আশ্রয়কেন্দ্রে আনার বিষয়ে প্রস্তুতি গ্রহণ। দুর্যোগ তথ্য পাওয়ার জন্য টোল ফ্রি ১০৯০ ব্যবহারের কথা বলা হয় সভায়। দৈনিক বাংলার বিভিন্ন জেলা প্রতিনিধিদের পাঠানোর সংবাদের ভিত্তিতে ‘রেমাল’ নিয়ে বিভিন্ন জেলার প্রস্তুতির সম্পর্কে জানা গেছে নানা তথ্য।
পিরোজপুর: বঙ্গোপসাগরে সৃষ্টি হতে যাওয়া ঘূর্ণিঝড় ‘রেমাল’ এর জন্য পিরোজপুরে প্রস্তুত করা হয়েছে ৫৬১ টি ঘূর্ণিঝড়ের আশ্রয়কেন্দ্র। যার মধ্যে ২৯৫ টি সাইক্লোন শেল্টার এবং ২৬৬ টি বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং এই আশ্রয়কেন্দ্রে ২ লাখ ৮০ হাজার ৫০০ জন মানুষ আশ্রয় নিতে পারবে।
শনিবার বিকেলে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের শহীদ আব্দুর রাজ্জাক সাইফ-মিজান সভাকক্ষে জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহেদুর রহমান এ তথ্য দেন।
সভায় জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহেদুর রহমান আরও জানান, ঘূর্নিঝড় রেমাল মোকাবিলায় একটি জেলা প্রশাসন থেকে একটি কন্টোলরুমসহ প্রতিটি উপজেলায় একটি টিম করা হয়েছে, ৬৫ টি মেডিকেল টিম প্রস্তুত রয়েছে, ২ লাখ ৬৩ হাজার পানি বিশুদ্ধ করণ ট্যাবলেজ মজুত রাখা হয়েছে, ঝড়ের ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য প্রাথমিক পর্যায়ে ১৩৫০ হাজার প্যাকেট শুকনা খাবার, ৬১১ মে. ট. চাল ও নগদ ৬ লক্ষ ১০ হাজার টাকা প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এছাড়াও দুর্যোগ পরিবর্তিতে ক্ষতিগ্রস্তদের ঘর মেরামতের জন্য ৯৭ বান্ডিল টিন রয়েছে। এ ছাড়া ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় রেডক্রিসেন্টের ২৫০ জন স্বেচ্ছাসেবক ও সিপিপি ২৪২০ জন সদস্য প্রস্তুত রয়েছে। রেমালের প্রভাবে পিরোজপুরের নদীসমূহে স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে বেশি পানি দেখা গেছে এবং জেলার কয়েক স্থানে হালাকা বৃষ্টি পড়েছে।
বরগুনা: বরগুনায় ঘূর্ণিঝড় রেমালের প্রভাবে গোমট আবহাওয়া বিরাজসহ নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এতে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন নদী তীরের বাসিন্দারা। শনিবার জেলার পায়রা, বলেশ্বর ও বিষখালী নদীর পানি স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় অন্তত তিন ফুট বেড়েছে বলে জানান নদী তীরের বাসিন্দারা। বরগুনা সদর উপজেলার বড়ইতলা এলাকায় গেলে দেখা যায়, পানিতে এখানকার বেড়িবাঁধের বাহিরের নিম্নাঞ্চল তলিয়ে গেছে। এখানে আশ্রয়কেন্দ্রের স্বল্পতা রয়েছে। তাই যা আছে তাতে সকলের স্থান সংকুলান হয় না। বরগুনার জেলা প্রশাসক মোহা. রফিকুল ইসলাম বলেন, দুপুরে জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা হয়েছে। সভার মাধ্যমে আমরা ঘূর্ণিঝড় মোকাবেলায় সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছি। এদিকে বরগুনার পানি উন্নয়ন বোর্ড জেলার বিভিন্ন স্থানে এক কিলোমিটার বেড়িবাঁধ ঝুঁকিপূর্ণ রয়েছে বলে জানিয়েছেন এবং এসব বাঁধ ভেঙ্গে গেলে তা তাৎক্ষণিকভাবে মেরামতের জন্য ৮০০ জিও ব্যাগ প্রস্তুত রাখা হয়েছে বলে জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় জানানো হয়েছে। জেলায় ঘূর্ণিঝড় ‘রেমাল’ মোকাবিলায় বরগুনায় ৬৭৩টি আশ্রয়কেন্দ্রসহ প্রায় ১০ হাজার স্বেচ্ছাসেবক প্রস্তুত রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ও জেলা মোহা. রফিকুল ইসলাম। শনিবার দুপুরে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির জরুরি প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়। দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় জেলা প্রশাসনসহ সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসক মোহা. রফিকুল ইসলাম জানান, ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। বরগুনায় ৩টি মুজিব কেল্লা, ৬৭৩টি আশ্রয়কেন্দ্রসহ প্রায় ১০ হাজার স্বেচ্ছাসেবক প্রস্তুত রাখা হয়েছে। যারা ঘূর্ণিঝড় পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সময়ে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করবেন। এ ছাড়া ৪২২ মেট্রিক টন খাদ্যশস্য, ৩৭ লাখ নগদ অর্থ প্রস্তুত রয়েছে। তিনি আরও জানান, ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকার জন্য জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ১০ টি কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে ৪২ টি মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে। দুর্যোগ প্রস্তুতি সভায় জেলা এনজিও ফোরামের সভাপতি মোতালেব মৃধা, প্রেসক্লাবের সভাপতি অ্যাডভোকেট মোস্তফা কাদের, রেডক্রিসেন্ট, দুর্যোগ প্রস্তুতি কর্মসূচি (সিপিপি), বিভিন্ন সরকারি, বেসরকারি সংস্থা ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত থেকে তাদের প্রস্তুতির বিষয় তুলে ধরেন।
মোংলা: ‘রেমাল’ প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়ে রোববার সন্ধ্যায় সুন্দরবন উপকূলে আঘাত হানবে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। মোংলা আবাহওয়া অফিসের ইনচার্জ মো. হারুন অর রশিদ জানান, এটি বর্তমান যেই অবস্থান দেখাচ্ছে তাতে ঘূর্ণিঝড়ের কেন্দ্রটি বাংলাদেশের ওপর দিয়েই অতিক্রম করার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে সুন্দরবন এলাকা এবং বরিশালের পটুয়াখালী, বরগুনা, ও ভোলা জেলায় রেমাল এর আঘাত হানার সম্ভাবনা বেশি রয়েছে।
এদিকে ঘূর্ণিঝড় রেমালের প্রভাবে সাগর উত্তাল থাকায় এরই মধ্যে মোংলা সমুদ্র বন্দরকে ৭ নম্বর সতর্ক সংকেত জারি করেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। ঘূর্ণিঝড় রেমালের প্রভাবে সব রকম সতর্কমূলক প্রস্তুতি নিয়েছে মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ। কোস্ট গার্ড, নৌ বাহিনী ও উপজেলা প্রশাসনের সমন্বয়ে শনিবার দুপুরে মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের সভাকক্ষে জরুরি বৈঠক করা হয়েছে।
বন্দর কর্তৃপক্ষের হারবার মাস্টার কমান্ডার সাইফুর রহমান বলেন, মোংলা বন্দরে এই মুহূর্তে সিমেন্টের কাঁচামাল ক্লিংকার, সার, পাথর ও গ্যাসবাহী ছয়টি জাহাজ অবস্থান করেছে। সেগুলোকে নিরাপদে নোঙ্গর করতে বলা হয়েছে। এদিকে ঘূর্ণিঝড় ‘রেমাল’ মোকাবিলায় সব রকম প্রস্ততি নিয়েছে উপজেলা প্রশাসনও। উপজেলা নির্বাহী অফিসার নিশাত তামান্না বলেন, ১০৩ টি আশ্রয়কেন্দ্রসহ ১৩২০জন স্বেচ্ছাসেবক প্রস্তুত রাখা হয়েছে। আবহাওয়া অফিস থেকে ঘূর্ণিঝড়ের সংকেত বাড়ানোর সঙ্গে সঙ্গেই আমাদের কার্যক্রমের গতি বাড়ানো হবে। কন্ট্রোল রুমও খোলা হয়েছে।
এদিকে মোংলা উপকূলে সচেতনতামূলক মাইকিং করেছে কোস্ট গার্ডের সদস্যরা। শনিবার সকাল থেকে ঘণ্টাব্যাপী মোংলার পশুর বিভিন্ন স্থানে এ প্রচার মাইকিং করা হয়।
মোংলা কোস্ট গার্ড পশ্চিম জোনের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট মো. মুনতাসীর ইবনে মহসীন জানান, সকাল থেকে সুন্দরবন লাঘোয়া মোংলা উপকূলের ঝুঁকিপূর্ণ বিভিন্ন এলাকায় প্রচার মাইকিং করেন কোস্ট গার্ড সদস্যরা।
বাগেরহাট: ঘূর্ণিঝড় রেমাল ধেয়ে আসার খবরে উপকূলীয় জেলা বাগেরহাটের নদী তীরবর্তী এলাকায় বসবাস করা মানুষের মাঝে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। এরই মধ্যে শনিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে শুরু হয়েছে বৃষ্টিপাত। তবে সকাল থেকে আকাশ কখনো রোদ আবার কখনো মেঘাচ্ছন্ন হচ্ছে। নদীতে থাকা মাছ ধরা ট্রলার গুলো উপকূলের ছোট ছোট খালে আশ্রয় নিয়েছে। কোস্টগার্ডের পক্ষ থেকে চালানো হচ্ছে জনসচেতনামূলক প্রচার-প্রচারণা। এরই মধ্যে রেমাল মোকাবেলায় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সকল ধরনের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে।
বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক মো. খালিদ হোসেন বলেন, ঘূর্ণিঝড় রেমাল মোকাবেলায় বাগেরহাটে ৩৫৯টি আশ্রয় কেন্দ্রে ও ৩ হাজার ৫শ ৫ জন স্বেচ্ছাসেবক প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এ ছাড়া ৬৪৩ মেট্রিকটন চাল ও ৫লক্ষ ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। জেলার ৯টি উপজেলার সকল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের সতর্ক থাকতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের সকল কর্মকর্তাদের ছুটি বাতিলের পাশাপাশি উপকূলের ঝুঁকিপূর্ণ বেরিবাধ এলাকায় গুলো নজরদারিতে রাখা হয়েছে।
পটুয়াখালী: জেলায় রেমাল মোকাবেলায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির প্রস্তুতি মূলক জরুরী সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার সকাল সাড়ে ১০টায় জেলা প্রশাসকের দরবার হলে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক নুর কুতুবুল আলম। সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান হাফিজুর রহমান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক যাদব সরকার। জেলা সিভিল সার্জন ডা. এসএম কবির হাসান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার যোবায়ের আহাম্মেদ।
গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. হারুন অর রশিদ, কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. নজরুল ইসলাম, পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফুর রহমান, পটুয়াখালী প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া রিদয়, সিপিপি, রেড ক্রিসেন্টসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
জেলা প্রশাসক জানান দুর্যোগ মোকাবিলায় জেলায় ৭০৩ টি সাইক্লোন শেল্টার ৩৫টি মুজিব কিল্লা, ৭৩০ মেট্রিক টন চাল, ১০ লক্ষ টাকার শিশু খাদ্য, ১০ লাখ টাকার গোখাদ্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এ ছাড় শুকনা খাবার রয়েছে ১৫০০ প্যাকেট। নগদ টাকা রয়েছে ২৪ লাখ ৭ হাজার টাকা ৫০০ টাকা।
এ সময় মানুষকে সচেতন ও দুর্যোগে উদ্ধার কাজ পরিচালনার জন্য রেডক্রিসেন্ট ও সিপিপির ৯ হাজার স্বেচ্ছাসেবককে প্রস্তুত থাকাসহ বিদ্যুৎ বিভাগ সড়ক বিভাগ ফায়ার সার্ভিসকে দিকনির্দেশনা প্রদান করেন জেলা প্রশাসক।
জেলায় মোট ৭৬টি মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে পর্যাপ্ত পরিমাণ স্যালাইন, ঔষধ ও পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট সংরক্ষিত রয়েছে। জেলায় ১৩০০ কিলোমিটার বেড়িবাঁধের মধ্যে ১০ কিলোমিটার ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। দুর্যোগের সময় কোথাও ভাঙন দেখা দিলে তা মেরামতের জন্য ১৬ হাজার জিও ব্যাগ রয়েছে বলে জানিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।
এদিকে জেলায় ৮৭ হাজার হেক্টর জমিতে রয়েছে মুগ ডাল এবং ২০ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো ধান রয়েছে বলে জানিয়েছে কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তর। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রফিউদ্দিন মোহাম্মদ যোবায়ের বলেন গুজোব মোকাবেলার জন্যে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে।
এদিকে কলাপাড়া উপকূলীয় অঞ্চলের জনগন, মৎস্যজীবি ও নৌযান সমূহকে ক্ষয়ক্ষতি থেকে রক্ষার জন্য জনসচেতনতা মূলক কার্যক্রম শুরু করেছে নিজামপুর কোষ্টগার্ড। শনিবার সকাল নয়টায় মৎস্য বন্দর আলীপুর- মহিপুরে মাইকিং ও লিফলেট বিতরন করে কোস্ট গার্ডের সদস্যরা। এসময় তারা খাপড়াভাঙ্গা নদীতে অবস্থানরত ট্রলার সমূহে থাকা জেলেদের ঘূর্নিঝড়ের সময় করনীয় সম্পর্কে দিক নির্দেশনা দেন।
ঝালকাঠি: জেলায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার বেলা ১১টায় জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ও জেলা প্রশাসক ফারাহ্ গুল নিঝুম। এ সভায় পুলিশ সুপার, স্বাস্থ্য, কৃষি, খাদ্য, শিক্ষা, দপ্তরের প্রধানগন এবং বিদ্যুৎ, ফায়ার সার্ভিস, পানি উন্নয়ন বোর্ড, সড়ক বিভাগ, রেডক্রিসেন্টসহ জেলা পর্যায়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা যোগ দেন।
সভায় জেলা প্রশাসক ফারাহ্ গুল নিঝুম বলেন, ঘূর্ণিঝড় ‘রেমাল’ মোকাবিলায় সর্বাত্মক প্রস্তুতি নেওয়া শুরু হয়েছে। এই কয় দিন সংশ্লিষ্ট সব পর্যায়ের কর্মকর্তাদের স্টেশন ত্যাগ না করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ঘূর্ণিঝড় ‘রেমাল’ মোকাবিলায় নির্ধারিত সাইক্লোন শেল্টারসহ আশ্রয়কেন্দ্রের জন্য সহ জেলার সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ব্যবহার উপযোগী করা হয়েছে।
কুমিল্লায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একুশে পরিবহন নামের একটি যাত্রীবাহী বাস উল্টে গিয়ে অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে দুজনের অবস্থা গুরুতর বলে জানা গেছে।
বুধবার (১৮ মার্চ) রাত ১১টা ২০ মিনিটের দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার সৈয়দপুর এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
ময়নামতি হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল মমিন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সন্ধ্যার পর থেকেই কুমিল্লা অঞ্চলে ঝোড়ো হাওয়ার সঙ্গে টানা বৃষ্টি হচ্ছিল, এতে মহাসড়ক পিচ্ছিল হয়ে পড়ে। রাতে ঢাকা থেকে নোয়াখালীগামী একুশে এক্সপ্রেস নামের বাসটি সৈয়দপুর এলাকায় পৌঁছালে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়ক বিভাজকের ওপর উল্টে যায়। এতে চালক ও তার সহকারীসহ অন্তত ১০ জন আহত হন।
দুর্ঘটনার পরপরই মহাসড়কে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার এলাকায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কাজ শুরু করে এবং আহতদের উদ্ধার করে ময়নামতি ইস্টার্ন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
রাত সাড়ে ১২টার দিকে রেকার দিয়ে উল্টে যাওয়া বাসটি সরানো হয়। তবে কিছু যানবাহন উল্টোপথে চলাচল শুরু করায় যানজট আরও বেড়ে যায়। রাত ১২টা ৫০ মিনিট পর্যন্ত পুলিশ মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিল।
ওসি আব্দুল মমিন জানান, ফাঁকা সড়ক পেয়ে বাসটি দ্রুতগতিতে চলছিল। সৈয়দপুর এলাকায় এসে চালক নিয়ন্ত্রণ হারালে দুর্ঘটনাটি ঘটে। এতে কেউ নিহত হয়নি, তবে কয়েকজন আহত হয়েছেন। আহতদের হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে এবং এ ঘটনায় আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
সাম্প্রতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) সমাজকল্যাণ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনা বিশ্ববিদ্যালয়ে নিজ কক্ষে কর্মচারী খন্দকার ফজলুর রহমান কতৃক নির্মমভাবে হত্যার শিকার হন। এটা 'পরিকল্পিত হত্যা' ও সভাপতি দায়িত্ব থেকে সরাতে চেয়েছিল বিভাগের অন্যান্য শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা এমনটা দাবি করেছেন নিহত শিক্ষিকার পরিবার।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, নিহত শিক্ষিকা যখন সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন, তখনও তিনি চেয়ারে বসতে পারেননি। শিক্ষক শ্যাম সুন্দর সরকার দায়িত্বে না থাকলেও তিনি এবং শিক্ষিকা মমতা মোস্তারী মিলে রুনাকে প্রায় এক থেকে দেড় মাস দায়িত্ব গ্রহণ করতে দেননি।
এবং শিক্ষিকা নিহত হওয়ার আগ পর্যন্ত সভাপতি'র দায়িত্ব বুঝিয়ে দেননি সাবেক সভাপতি সহকারী অধ্যাপক শ্যাম সুন্দর সরকার। বিভাগের চেয়ারম্যান হিসেবে রুনাকে বিভাগের কাজে চরম অসহযোগিতা করা হয়েছে। যার ফলে রুনা সভাপতির দায়িত্ব থেকে সরে আসতে চেয়েছিলেন। বিভাগের অন্যান্য শিক্ষকরাও তাকে মনস্তাত্ত্বিকভাবে হ্যারেজ করে সভাপতির দায়িত্ব থেকে সরাতে চেয়েছিল।
পরবর্তীতে প্রশাসনের আদেশে রুনা চেয়ারে বসেন। সাধারণত পূর্ববর্তী চেয়ারম্যান সাবেক উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. শাহিনুর রহমান সকল ভাউচার ও কাগজপত্র শিক্ষক শ্যামকে হস্তান্তর করেন কিন্তু পরবর্তীতে শিক্ষক শ্যাম রুনাকে কোন ডকুমেন্টস হস্তান্তর করেনি। তৎকালীন প্রশাসন শ্যামের পক্ষ নিয়ে সাদিয়াকে কটু কথা বলে। তাদের বক্তব্য ছিল অনেকটা এমন "সে তোমাকে হিসাব দিচ্ছে না তাতে তোমার সমস্যা কী? সেটা শ্যাম বুঝবে। তুমি যেখান থেকে দায়িত্ব পেয়েছ সেখান থেকেই কাজ এগিয়ে নিয়ে যাও।"
এমতাবস্থায় নিহত শিক্ষিকা ব্যাংক থেকে বিগত ছয় বছরের স্টেটমেন্ট সংগ্রহ করেন। তিনি, প্রথম চেয়ারম্যান এবং দ্বিতীয় চেয়ারম্যানের আয়-ব্যয়ের সেই হিসাবকে দুই ভাগে ভাগ করেন। বিশেষ করে তিনি দ্বিতীয় চেয়ারম্যানের সময়ের হিসাবে অনেক গরমিল খুঁজে পান। পরবর্তীতে রুনা একাডেমিক কাউন্সিলের মিটিং ডেকে সকল ভাউচার দেখতে চান। কিন্তু তখন তাঁকে দম্ভের সাথে বলা হয়, "ভাউচার ইচ্ছে হলে দেব, না হলে দেব না; আপনি কী করবেন?" এই বলে দ্বিতীয় চেয়ারম্যান শ্যাম সরকার মিটিং থেকে বের হয়ে যান।
পরিবার সূত্রে আরও জানা যায়, দীর্ঘ ৮ বছর তাদের অসহযোগিতার কথা শুনছেন তারা। হাবিবুর রহমান বিভাগের যোগদানের পর ব্যাংক স্টেটমেন্ট ও নথিপত্রগুলো তাঁকে দেওয়ার জন্য রুনাকে কয়েকবার অনুরোধ করেন। প্রকৃতপক্ষে মমতা, শ্যাম এবং বিশ্বজিৎ এই তিনজনই চরম প্রতারক। শিক্ষিকা মমতা মোস্তারী যদি আমেরিকা না যেতেন তাহলে এই মামলায় তিনি দুই নম্বর আসামি হতেন। এসব হীন চক্রান্তের মূল হোতা ছিলেন মমতা। মমতা চলে যাওয়ার পরেই শ্যাম এবং বিশ্বজিৎ এসব বিষয়ে আরও তৎপর হয়ে ওঠেন। মাঝে নিহত শিক্ষিকা সভাপতি পদ থেকে পদত্যাগও করতে চেয়েছিলেন বলেও জানান তারা।
শ্যাম সুন্দরের এসব কর্মকাণ্ডের মূল সমর্থক ছিলেন মমতা। সহকারী রেজিস্ট্রার বিশ্বজিৎ সভাপতির সামনে সবসময় পায়ের ওপর পা তুলে বসে থাকতেন বলে জানা যায়। একজন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক এবং বিভাগের চেয়ারম্যান হওয়া সত্ত্বেও নূন্যতম সৌজন্যবোধ দেখাত না বিশ্বজিৎ এমনটাই জানিয়েছেন পরিবারের লোকজন এবং শিক্ষার্থীবৃন্দ।
এদিকে, সহকারী রেজিস্ট্রার বিশ্বজিৎ কুমার বিশ্বাসও বিভাগের দায়িত্ব নতুন সহকারী রেজিস্ট্রার মোজাম্মেল হককে বুঝিয়ে দিয়ে যায়নি। মোজাম্মেল বিভাগে আসার পরেও বিশ্বজিৎ তাঁর চেয়ার ছেড়ে দেননি এবং দায়িত্ব বুঝিয়ে দেননি।
নিহিত শিক্ষিকার পরিবার জানান, এই হত্যাকাণ্ডের সাথে অনেক কিছু নীলনকশা এক সাথে বাস্তবায়ন হয়েছে এবং এমন একজন ব্যক্তিকে দ্বারা হিট করা হয়েছে যার লাইফের কোন মূল্য নেই।
বাকি তিন আসামির গ্রেফতারের ব্যপারে তারা জানান, শিক্ষক শ্যাম সুন্দর ও হাবিবুর রহমান এবং সহকারী রেজিস্ট্রার বিশ্বজিৎ যদি দোষী না হয় তাহলে কেন পালাবে? তারা সরাসরি আত্মসমর্পণ করবে।
থানা সূত্রে মামলার অগ্রগতি বিষয়ে জানা গেছে, পলাতক আসামিদের বিদেশ গমনে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে এবং তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। দেশের সকল ইমিগ্রেশন পয়েন্টে নোটিশ পাঠানোর পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট থানাগুলোতেও বার্তা পাঠানো হয়েছে। যেকোনো সময় তাঁদের গ্রেপ্তার করা হতে পারে এবং আদালতে তোলার মাধ্যমে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া শুরু হবে।
আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ইমাম হোসাইন জানান, তাকে (প্রধান আসামি) সপ্তাহখানেক আগে রেফার করা হয়েছিল। সে এখন মোটামুটি সুস্থ অর্থাৎ বিপদ সীমার বাহিরে আছে। ঢাকা মেডিকেলে সার্জারি জন্য রেফার করা হয়েছে। এই সার্জারি হলে সে ভালোভাবে কথা বলতে পারবে বলে আশা করা যায়। তবে, ওনারা এখান থেকে নিয়ে যেতে গড়িমসি করছে।
এদিকে, প্রধান আসামির রিমান্ডের বিষয়ে পুলিশ জানায়, “আসামি এখনো পুরোপুরি সুস্থ হয়নি। মেডিকেল ছাড়পত্র পেলে আমরা পরবর্তী পদক্ষেপ নিতে পারব। অসুস্থ অবস্থায় রিমান্ডে নেওয়ার আইনগত এখতিয়ার আমাদের নেই, কারণ এটি মানবাধিকার লঙ্ঘন হবে।”
উল্লেখ্য, গত ৪ মার্চ বিকেলে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের থিওলজি অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ অনুষদ ভবনে সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতির কক্ষে সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনাকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় বিভাগের সাবেক কর্মচারী ফজলুর রহমানকে প্রধান আসামি করে চারজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন নিহতের স্বামী।
হত্যাকাণ্ডের পর গুরুতর আহত অবস্থায় ফজলুর রহমানকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং বর্তমানে তিনি পুলিশি পাহারায় চিকিৎসাধীন। এই ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে এবং মামলায় নাম আসায় দুই শিক্ষক ও এক কর্মকর্তাকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তার দেখানো হলেও অভিযুক্ত শিক্ষক ও কর্মকর্তা এখনো পলাতক রয়েছেন।
ঢাকা থেকে চিলাহাটিগামী নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেন ভয়াবহ দুর্ঘটনার কবলে পড়েছে। এতে ট্রেনের ৯টি বগি লাইনচ্যুত হয়েছে। এ কারনে ঢাকার সঙ্গে উত্তরবঙ্গের কয়েক জেলার রেল যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে। আহত হয়েছেন অর্ধশতাধিক যাত্রী। তবে দুর্ঘটনায় মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি। ট্রেনটি বগুড়ার সান্তাহার জংশন ছেড়ে যাওয়ার পরপরই বুধবার (১৮ মার্চ) দুপুর সোয়া ২টার দিকে লাইনচ্যুত হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেনটি বগুড়ার আদমদীঘি ও সান্তাহারের মাঝামাঝি এলাকায় লাইচ্যুত হয়। ওই স্থানে রেললাইনের মেরামত কাজ চলছিল। লাল পতাকা টানানো ছিল। তবে চালক খেয়াল না করায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনায় ট্রেনের ছাদে ও ভেতরে থাকা অর্ধশতাধিক যাত্রী আহত হয়েছেন। দুর্ঘটনার ফলে ঢাকার সঙ্গে উত্তরবঙ্গের রেল যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে। আহতদের স্থানীয় হাসপাতালসহ নওগাঁ জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ফায়ার সার্ভিস ও রেলওয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে উদ্ধার কাজ করছে।
সান্তাহার রেলওয়ে থানা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) মাহফুজুর রহমান বলেন, নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেনটি ঢাকা থেকে ছেড়ে এসে দুপুর ২টার দিকে সান্তাহার স্টেশনে বিরতি করে। সান্তাহার স্টেশন থেকে ছেড়ে যাওয়ার কিছু সময় পরেই ট্রেনটি লাইনচ্যুত হয়। এতে ট্রেনটির ৯টি বগি লাইনচ্যুত হয়েছে। এখন পর্যন্ত মৃত্যুর কোনো সংবাদ পাওয়া যায়নি। বগিগুলো উদ্ধারের জন্য কাজ চলছে। ঘটনাস্থলে সিঙ্গেল লাইন হওয়ায় উত্তরবঙ্গের ৫ জেলার সঙ্গে ঢাকার রেল যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে। লাইনচ্যুত বগি সরিয়ে নিতে ঈশ্বরদী জংশন থেকে ঘটনাস্থলের উদ্দেশে রওনা হয়েছে উদ্ধারকারী ট্রেন।
সান্তাহার রেলওয়ে স্টেশনের জুনিয়র ট্রাফিক ইন্সপেক্টর হাবিবুর রহমান বলেন, লাইনের কাজ চলছিল এবং সেখানে লাল পতাকা টাঙ্গানো ছিল কিন্তু ট্রেনের ইঞ্জিলে অতিরিক্ত যাত্রী থাকার কারনে লাল পতাকা দেখতে না পেয়ে ট্রেন চালক ট্রেন চালিয়ে যাওয়ার কারনে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
আদমদীঘি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতাউর রহমান জানান, ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেনটি আদমদীঘি ও সান্তাহারের মাঝামাঝি এলাকায় লাইনচ্যুত হয়।
বগুড়া রেলওয়ে স্টেশনের স্টেশর মাস্টার সাজেদুর রহমান সাজু জানান, ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হতে ১০ থেকে ১২ ঘণ্টার মতো সময় লাগতে পারে।
ঈদুল ফিতর উপলক্ষে রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ঘাটে ঘরেফেরা যাত্রীদের নির্বিঘ্নে যাতায়াত নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে আইনশৃঙ্খলাকারী বাহিনীসহ দৌলতদিয়া বাসস্ট্যান্ড ও ঘাট এলাকায় অভিযান পরিচালনা করেছে গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট
সাথী দাস। বুধবার (১৮ মার্চ) মাহেন্দ্র স্ট্যান্ডের দুই জন চালক ইউএনওকে যাত্রী ভেবে অতিরিক্ত ভাড়া দাবি করায় দুইজন মাহেন্দ্র চালককে ভ্রাম্যমাণ আদালতে জরিমানা করা হয়।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, দৌলতদিয়া ফেরিঘাট এলাকার মাহেন্দ্র স্ট্যান্ড, লঞ্চ ঘাট ফেরি ঘাট ও বাস টার্মিনালে দায়িত্ব পালনকালে বাসের দুজন যাত্রীর কাছ থেকে নির্ধারিত ভাড়ার অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়া হলে যাত্রীদের অতিরিক্ত টাকা ফেরত দেয়া হয় এবং মাহেন্দ্র স্ট্যান্ডে অতিরিক্ত ভাড়া দাবি করায় দুইজন মাহেন্দ্র চালককে জরিমানা করা হয়।
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাথী দাস জানান, যাত্রীদের থেকে অতিরিক্ত গৃহীত অর্থ ফেরত দেওয়া হয়েছে এবং মাহেন্দ্র স্ট্যান্ডে অতিরিক্ত ভাড়া চাওয়ার অভিযোগে দুইজন চালককে দণ্ডবিধি ১৮৬০ এর ১৮৮ ধারা অনুযায়ী ৫০০ টাকা করে মোট ১ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়। তিনি আরও জানান, যাত্রীদের যাত্রা নির্বিঘ্নে ও ঘাটে কোন ভোগান্তি ছাড়া যেন সবাই বাড়ি ফিরতে পারে সেজন্য উপজেলা প্রশাসন সর্বক্ষণ নজরদারি করবে এবং মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করবে।
কৃষকদের উৎপাদিত ফসলকে প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি থেকে সুরক্ষা দিতে ফসল ইন্সুরেন্স (বীমা) চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন, খাদ্য, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। তিনি বলেন, বন্যা বা প্রাকৃতিক দুর্যোগে ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হলে বীমার মাধ্যমে কৃষকদের ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে, যাতে তারা আর্থিকভাবে ক্ষতির সম্মুখীন না হন।
বুধবার (১৮ মার্চ) দুপুরে কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলার আমড়াতলী ইউনিয়নের শ্যামপুর উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় চাল বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানের আয়োজন করে উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়।
মন্ত্রী বলেন, নির্বাচনের আগে সরকার যে প্রতিশ্রুতিগুলো দিয়েছিল, তা বাস্তবায়নে ধারাবাহিকভাবে কাজ করা হচ্ছে। অনেকেই মনে করেছিলেন এসব প্রতিশ্রুতি কেবল কথার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে; কিন্তু বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই সেগুলো বাস্তবায়ন করছেন। তিনি বলেন, বিএনপি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের দল, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার দল। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রমাণ করে যাচ্ছেন, বিএনপি যা বলে; তা বাস্তবায়ন করে।
মন্ত্রী আরও বলেন, ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড এবং ইমাম-মুয়াজ্জিনদের সম্মানীসহ বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের উদ্যোগ ইতোমধ্যে নেওয়া হয়েছে। শুরুতে এসব উদ্যোগ নিয়ে অনেকে সমালোচনা করেছেন, কিন্তু বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল - বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর বাস্তবে তা কার্যকর করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, কৃষিই দেশের অর্থনীতির মূলভিত্তি। দেশের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মানুষ সরাসরি কৃষির সঙ্গে সম্পৃক্ত। তাই কৃষকের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। কৃষকদের জন্য বিভিন্ন সহায়তা কর্মসূচি বাস্তবায়নের পাশাপাশি ফসল বীমা চালু হলে প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতির ঝুঁকি অনেকটাই কমে আসবে।
তিনি আরও বলেন, কৃষকের আর্থিক সক্ষমতা বাড়াতে সরকার ইতোমধ্যে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। কৃষি খাতে প্রণোদনা, সহায়তা এবং ঋণ সুবিধা সহজীকরণের মাধ্যমে কৃষকদের পাশে দাঁড়ানো হচ্ছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের উদ্যোগ আরও সম্প্রসারণ করা হবে।
খাদ্য নিরাপত্তা প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, দেশে পর্যাপ্ত খাদ্য মজুদ রয়েছে এবং তা দিয়ে আগামী কয়েক মাসের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হবে। দেশের কোনো মানুষ খাদ্য সংকটে পড়বে না- এমন নিশ্চয়তা দিতে সরকার কাজ করছে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন কুমিল্লা জেলা প্রশাসক মু. রেজা হাসান ও জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক নিত্যানন্দ কুণ্ডু। আদর্শ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাতেমা তুজ জোহরার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে জেলা বিএনপির যুগ্ম- সাধারণ সম্পাদক নজরুল হক ভূইয়া স্বপন, আদর্শ সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম, সাধারন সম্পাদক শফিউল আলম রায়হান, মহানগর বিএনপি নেতা নিজাম উদ্দিন কায়সারসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠান শেষে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় চাল বিতরণ অনুষ্ঠানে আমড়াতলী ইউনিয়নের এক হাজার ৮৭৯ জন উপকারভোগীর মাঝে প্রত্যেককে ৩০ কেজি করে চাল বিতরণ করা হয়।
সৌদি আরবের আল খারিজ শহরে একটি শ্রমিক ক্যাম্পে ভয়াবহ মিসাইল হামলায় গুরুতর আহত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় প্রাণ হারিয়েছেন প্রবাসী বাংলাদেশি যুবক আব্দুল্লাহ আল মামুন (৩৫)। ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলার রসুলপুর ইউনিয়নের ভরভরা গ্রামের শহীদ সওদাগরের সন্তান মামুন গত মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) দিবাগত রাত সাড়ে ১১টার দিকে ডাক্তার সোলাইমান আল হাবিব হাসপাতালে লাইফ সাপোর্টে থাকা অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন এবং বুধবার (১৮ মার্চ) সকালে তাঁর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন নিহতের পিতা।
উল্লেখ্য, গত রোববার (৮ মার্চ) ইফতারের ঠিক পূর্ব মুহূর্তে আল তোয়াইক বলদিয়া কোম্পানির ক্যাম্পে সংঘটিত ওই ক্ষেপণাস্ত্র বিস্ফোরণে মামুনের শরীরের প্রায় ৭২ শতাংশ পুড়ে গিয়েছিল। এই একই মর্মান্তিক ঘটনায় ইতিপূর্বে কিশোরগঞ্জের বাচ্চু মিয়া ও টাঙ্গাইলের মোশাররফ হোসেন নিহত হন এবং মামুনসহ আরও কয়েকজন প্রবাসী বাংলাদেশি আহত হয়েছিলেন।
নিহতের মামাতো ভাই শাওন মড়ল শোক প্রকাশ করে জানান যে, "বিস্ফোরণে গুরুতর আহত হয়ে মামুন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন এবং পরে সেখানেই মারা যান।" বর্তমানে আব্দুল্লাহ আল মামুনের মরদেহ হাসপাতালের মর্গে সংরক্ষিত রয়েছে এবং তাঁর একটি পুত্র সন্তান রয়েছে বলে জানা গেছে।
এদিকে মামুনের অকাল মৃত্যুর সংবাদ ছড়িয়ে পড়লে তাঁর পরিবার ও এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে আসে এবং শোকার্ত স্বজনরা দ্রুততম সময়ের মধ্যে তাঁর মরদেহ স্বদেশে ফিরিয়ে আনার জন্য সরকারের নিকট আকুল আবেদন জানিয়েছেন।
বগুড়ার শেরপুরে চলন্ত মাইক্রোবাসে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় তিন শিশুসহ আরও ৯ যাত্রী দগ্ধ হয়েছেন।
বুধবার (১৮ মার্চ) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে বগুড়ার শেরপুর উপজেলার ভবানীপুর ইউনিয়নের ছোনকা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন, শিউলী বেগম (৪৮), তায়েবা খাতুন (৩৫) এবং মাইক্রোবাসের চালক রিন্টু (৪৭)। আহতরা হলেন, ফাতেমা (১০), শহিদুল (৪০), তৌছিব (৩০), তাসমিয়া (২০), হেলেনা (৬০), তারিকুল (৩৬), ফাতেমা (২), আরহাম (৭) ও হামিম (৩০)।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঈদের ছুটিতে বাড়ি ফেরা যাত্রীবোঝাই মাইক্রোবাসটি (ঢাকা মেট্রো চ-১৯-৩০৪১) উত্তরবঙ্গের দিকে যাচ্ছিল। পথিমধ্যে ছোনকা এলাকায় পৌঁছালে হঠাৎ গাড়ির গ্যাস সিলিন্ডারটি বিকট শব্দে বিস্ফোরিত হয়। মুহূর্তেই পুরো গাড়িতে আগুন ধরে যায়।
মহাসড়কের পাশে থাকা প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আগুনের তীব্রতা এত বেশি ছিল যে যাত্রীদের বের হওয়ার সুযোগ খুবই কম ছিল। চালক গাড়ির ভেতরেই দগ্ধ হয়ে মারা যান। খবর পেয়ে শেরপুর ফায়ার সার্ভিস দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
ফায়ার সার্ভিসের ওয়্যারহাউস ইন্সপেক্টর বখতিয়ার উদ্দিন বলেন, খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। ঘটনাস্থলেই একজনের মৃত্যু হয়। আহতদের উদ্ধার করে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
শেরপুর হাইওয়ে পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ রোকন উদ্দিন বলেন, হাসপাতালে নেওয়ার পর আরও দুইজনের মৃত্যু হয়। এতে মোট নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে তিনজন। দুর্ঘটনাকবলিত মাইক্রোবাসটি উদ্ধার করা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে নিহতদের মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
আধুনিকতায় ছোঁয়া লেগেছে প্রত্যন্ত গ্রামেও। হাতে মোবাইল নেই, এমন পরিবার খুব কমই আছে। ঈদ এলে প্রেমিক-প্রেমিকা, প্রিয়জন, বন্ধু-বান্ধব সবাই ঈদ কার্ডের শুভেচ্ছা বিনিময় করত। এখন মেসেঞ্জার, ফেসবুকে, টুইটারে, ইন্সটাগ্রামে, টেরিগ্রামসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় হচ্ছে।
এখন আর পাড়া-মহল্লার মোড়ে মোড়ে, অলিগলিতে বাহাড়ি ঈদ কার্ডের দোকান চোখে পড়ে না। কার্ড কেনার জন্য ছোট শিশুরাও আর বায় না ধরে না। স্কুল খরচের টাকা বাঁচিয়ে ঈদ কার্ড কেনার আনন্দ এখন স্মৃতির অতল গহীনে হারিয়ে গেছে।
মাইশা ইসলাম এ ব্যাপারে বলেন, ‘আগের মতো এত সময় কই, তা ছাড়া খুঁজে খুঁজে কার্ড বিতরণ করার দিন শেষ।’
ডিজিটাল যুগে কয়েক সেকেন্ডেই হাজারও মানুষের কাছে ‘কপি-পেস্ট’ করা শুভেচ্ছা পৌঁছে যায়।’ এক সময় ঈদ মানেই ছিল প্রিয়জনদের হাতে হাতে ঈদ কার্ড পৌঁছে দেওয়ার এক অদ্ভুত শিহরণ। আজ তথ্যপ্রযুক্তির কারণে সবকিছু বদলে গেছে, আধুনিকতার ছোঁয়ায় আমাদের উৎসবগুলো হয়ে ওঠেছে যান্ত্রিক।
আমাদের বাবা-মায়েদের কিশোর বা তরুণ বয়সে রোজা শুরুর পর থেকেই শুরু হতো ঈদ কার্ড সংগ্রহের তোড়জোড়। পাড়ার মোড়ে মোড়ে বসত ছোট ছোট কার্ডের দোকান। কেউ বেছে নিতেন প্রাকৃতিক দৃশ্যের কার্ড, কেউবা নিতেন গ্লিটার মাখানো ঝকঝকে কোনো নকশা। নিজের হাতে কার্ডের ভেতরে দু-এক লাইন শুভেচ্ছা বাণী লেখা আর নিচে নাম লিখে দেওয়া- সে এক অন্যরকম পাওয়া। প্রিয় বন্ধু বা আত্মীয়ের হাতে সরাসরি কার্ড পৌঁছে দেওয়ার মধ্যে যে আন্তরিকতা ছিল, তা আজকের হোয়াটসঅ্যাপ বার্তার নীল টিকে খুঁজে পাওয়া অসম্ভব।
তথ্যপ্রযুক্তির দ্রুত উন্নতি আমাদের জীবনকে সহজ করেছে সত্য; কিন্তু কেড়ে নিয়েছে অনেক প্রাণবন্ত ঐতিহ্য। এখন ঈদের শুভেচ্ছা মানেই একটি ফরোয়ার্ড করা মেসেজ, মেসেঞ্জারের ইমোজি কিংবা ফেসবুকে আপলোড করা একটি পোস্ট। ক্লিক করলেই শুভেচ্ছা পৌঁছে যাচ্ছে হাজার মাইল দূরে; কিন্তু সেই বার্তার পেছনে সময় দেওয়ার ধৈর্য কিংবা মনের টান আজ অনেকটা ম্লান। আমরা হয়তো সময় বাঁচাচ্ছি; কিন্তু অজান্তেই হারিয়ে ফেলছি সম্পর্কের সেই ‘ব্যক্তিগত পরশ’।
দুঃখজনক হলেও সত্যি, আধুনিকতার চাকচিক্যের নিচে চাপা পড়ে গেছে আমাদের পূর্বসূরিদের সেই মায়াভরা ঈদ কার্ডের প্রচলন। আমরা অনেক কিছু উন্নত করতে পারি; কিন্তু শৈশব বা কৈশোরের সেই স্মৃতিগুলোকে তো আর আধুনিক করা যায় না। কার্ডের ভাঁজে লেগে থাকা সেই ভালোবাসা আজ কেবলই অ্যালবামের কোণে ধুলো জমা এক দীর্ঘশ্বাস। মা-বাবার কাছে যখন সেই দিনগুলোর গল্প শুনি, তখন বোঝা যায় আমরা কতটা যান্ত্রিক এক বৃত্তে বন্দি হয়ে পড়েছি।
প্রযুক্তির অগ্রযাত্রাকে আমরা অস্বীকার করছি না, তবে ঐতিহ্যের এই মৃত্যু আমাদের কিছুটা রিক্ত করে দেয়। ডিজিটাল শুভেচ্ছা আসুক; কিন্তু হৃদয়ের মলাটে মোড়ানো সেই পুরোনো ঈদ কার্ডের আবেদন চিরকাল অমলিন থাকুক আমাদের স্মৃতির মণিকোঠায়। হয়তো একদিন আবার কোনো নতুন প্রজন্ম এই যান্ত্রিকতা থেকে মুক্তি পেতে ফিরে তাকাবে সেই ফেলে আসা রঙিন দিনগুলোর দিকে।
মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) রাত দুইটা। দক্ষিণ থেকে ধেয়ে আসা আকস্মিক ঝড় শুরু হয় ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার সাগর মোহনাঘেঁষা দশটি এলাকার ওপর দিয়ে। এতে ওইসব এলাকার অর্ধশত বাড়িঘর বিধ্বস্ত হয়েছে। সেই সাথে অসংখ্য গাছপালাও উপড়ে পড়েছে। চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো।
প্রতিদিনের মত ঢালচর ১ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মফিজ তার পরিবারের সদস্যদের নিয়ে মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) রাতের খাবার খেয়ে ঘুমিয়েছেন। সেহেরির সময়ের দুই ঘণ্টা আগেই দক্ষিণ থেকে ধেঁয়ে আসা তীব্র গতির বাতাসে তার বসতঘরের চালা উড়ে যায়। তিনি বলেন, ‘আজ থেকে তিন দিন পরেই ঈদ। ঈদের আগেই আমাদের মাথাগোঁজার ঠাই হারিয়ে ফেলেছি। ঝড় আমাদের ঈদ আনন্দ কেড়ে নিয়েছে। শুধু আমি না, আমার মত বহু পরিবার বসত ঘর হারিয়ে পথে বসেছে।’
একই ভাবে ঢালচরের কয়েকটি ওয়ার্ডের বাসিন্দা মো. হাসান, মো. ইব্রাহিম, মো. জসিম, আক্তার, মো. রিয়াজ, শাহিন হাওলাদার, মো. আনোয়ার ও মো.গিয়াস উদ্দিনের বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) রাত প্রায় ২ টার দিকে হঠাৎ করেই প্রবল বেগে ঝড় শুরু হয়। প্রথমে হালকা বাতাস থাকলেও কিছুক্ষণের মধ্যেই তা ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেয়। ঝড়ের সাথে গুড়ি গুড়ি শিলা বৃষ্টিও হয়। ঝড়ের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে, টিনের ছাউনি উড়ে যায় এবং কাঁচা ঘরবাড়ি মুহূর্তেই মাটির সঙ্গে মিশে যায়। অনেক পরিবার রাতের আঁধারেই নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ছুটোছুটি করতে থাকে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ঢালচর ইউনিয়নের বাসিন্দারা। তাদের বেশিরভাগই কাঁচা ঘরে বসবাস করায় ঝড়ের আঘাত সহ্য করতে পারেনি। অনেকের ঘরের আসবাবপত্র, খাদ্যসামগ্রী এবং প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে।
উপজেলা নির্বার্হী কর্মকর্তার কার্যালয়ের তথ্যমতে, চরফ্যাশন উপজেলার ঢালচর, কুকরি মুকরি, চর পাতিলা, চর নিজাম, চর ফারুকি, চর মানিকা, নজরুল নগরসহ বেশ কয়েকটি এলাকায় অর্ধশত বাড়িঘর ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। চর মানিকা ইউনিয়নের চর কচ্চপিয়া গ্রামের বাসিন্দা সেলিম বলেন, ‘আমি একজন ব্যবসায়ী। বাতাসের প্রবল চাপে চর কচ্চপিয়া বাজারের ঘরের চালা উড়ে যায়।’
ঢালচর ইউনিয়নে প্রশাসক ও ঢালচর বন কর্মকর্তা মুইনুল মুঠোফোনে জানান, হঠাৎ ঝড়ে প্রায় ঢালচরে ত্রিশটি ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব ক্ষতিগ্রস্তের বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনকে অবগত করা হয়েছে। চর মানিকা ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান মিনারা বেগম জানান, চর মানিকা ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় বিশটি ঘর বিধ্বস্ত হয়েছে।
চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) এমাদুল হোসেন জানান, ক্ষয়ক্ষতির সঠিক পরিমাণ নিরূপণের কাজ চলছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হবে।
ভোজ্য তেলের ক্রমবর্ধমান দাম ও সরবরাহ সংকটের কথা চিন্তা করে অনেক কৃষক এখন সূর্যমুখী চাষের দিকে ঝুঁকছেন। কম খরচে ভালো লাভ হওয়ায় উপকূলীয় অঞ্চলের অনেক কৃষকের কাছে সূর্যমুখী একটি সম্ভাবনাময় ফসল হিসেবে দেখা দিয়েছে।
বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে এ বছর আগের তুলনায় বেশি জমিতে সূর্যমুখী চাষ করা হয়েছে। মাঠজুড়ে হলুদ ফুলের সমারোহ শুধু প্রকৃতির সৌন্দর্যই বাড়াচ্ছে না, কৃষকদের মাঝেও সৃষ্টি করছে নতুন আশার আলো। উপজেলার দক্ষিণ তাফালবাড়ি গ্রামের কৃষক সুবাস মাঝি বলেন, ‘ভোজ্যতেলের বাড়তি দাম থাকার কারণে আমরা নিজেরাই তেল উৎপাদনের কথা ভাবছি। সূর্যমুখী চাষে খরচ কম এবং ফলনও ভালো হয়। তাই এবার এক বিঘা জমিতে সূর্যমুখী চাষ করেছি।’
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তারা দেবব্রত সরকার জানান, উপকূলীয় এলাকার মাটি ও আবহাওয়া সূর্যমুখী চাষের জন্য বেশ উপযোগী। সঠিক পরিচর্যা করলে প্রতি বিঘা জমিতে ভালো ফলন পাওয়া সম্ভব। পাশাপাশি কৃষকদের প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে যাতে তারা সূর্যমুখী চাষে আরও আগ্রহী হন।
কৃষি বিভাগের মতে, সূর্যমুখী বীজ থেকে উৎপাদিত তেল স্বাস্থ্যসম্মত এবং পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ। এ কারণে দেশে ভোজ্যতেলের চাহিদা মেটাতে সূর্যমুখী চাষ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পক্ষ থেকে রাজশাহী সিটি করপোরেশনের (রাসিক) পরিচ্ছন্ন কর্মীদের মাঝে ঈদ উপহার হিসেবে আর্থিক অনুদান বিতরণ করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) নগর ভবনের গ্রিন প্লাজায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে ১২৩৭ (১ হাজার ২ শত সাঁইত্রিশ) জন পরিচ্ছন্ন কর্মীদের মাঝে অনুদানের অর্থ তুলে দেন রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. মাহফুজুর রহমান রিটন। রাজশাহী সিটি করপোরেশনের ১ হাজার ২ শত ৩৭ জন পরিচ্ছন্ন কর্মীর প্রত্যেককে ৫ হাজার টাকা করে সর্বমোট ৬১ লাখ ৮৫ হাজার টাকার অনুদান প্রদান করা হয়। এবার প্রথমবারের মতো রাজশাহী সিটি করপোরেশনের (রাসিক) পরিচ্ছন্ন কর্মীরা প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক ঈদ উপহার পেলেন। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তার পরিবারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন রাসিক প্রশাসক। এছাড়া তিনি জুলাই গণঅভ্যুত্থানে রাজশাহীর শহীদ আলী রায়হান ও অন্যান্য শহীদ পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে রাসিক প্রশাসক মাহফুজুর রহমান রিটন বলেন, শহর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে যারা অক্লান্ত পরিশ্রম করেন, সেই পরিচ্ছন্ন কর্মীদের জন্য ঈদ উপহার হিসেবে আর্থিক অনুদান দিয়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যান ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আমি প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই। ইতঃপূর্বে কোনদিন এভাবে পরিচ্ছন্নকর্মীদের ঈদ উপহার প্রদান করা হয়নি। প্রধানমন্ত্রী আমাকে দায়িত্ব দিয়েছেন। আমি রাজশাহী সিটি করপোরেশনের খালি হাতে আসিনি। তার উপহার নিয়েই এসেছি।
তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী অনেক আশা করে আমাকে দায়িত্ব দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, রাজশাহীকে আরো সুন্দর ও উন্নত করতে হবে। আমি সেই লক্ষ্যে কাজ করে যাব ইনশাল্লাহ। রাসিক প্রশাসক বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি করতে কৃষষদের জন্য খাল খনন কর্মসূচি চালু করেছিলেন। এবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান খাল পুনঃখনন কর্মসূচির উদ্বোধন করেছেন। যা সারাদেশের কৃষকদের উপকার হবে।
তিনি আরও বলেন, হাতের আংগুলে ভোটের কালির দাগ শুকানোর পূর্বে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন শুরু করেছেন। পাইলট প্রকল্প হিসেবে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ শুরু করেছেন প্রধানমন্ত্রী। ইনশাল্লাহ আগামী ৫ বছরে ৫ কোটি মানুষকে ফ্যামিল কার্ড প্রদান করা হবে। তিনি ঈমাম, মোয়াজ্জিম, খাদেমদের সম্মানী ভাতা দিয়েছেন। যা ইতঃপূর্বে কেউ দেয়নি। প্রধানমন্ত্রী দেশের মানুষের কল্যাণে কাজ করছেন। তার জন্য সকলে দোয়া করবেন।
রাসিক প্রশাসক মাহফুজুর রহমান রিটন বলেন, সিটি করপোরেশন নাগরিক সেবার প্রতিষ্ঠান। আমরা অত্যন্ত আন্তরিকতার মাধ্যমে নাগরিকদের নাগরিক সেবা প্রদান করব। রাজশাহী মহানগরবাসী যা চায়, আমরা তা করব। নগরীর যেসব উন্নয়ন কাজ অসমাপ্ত রয়েছে, সেগুলো সমাপ্ত করব। আগামীতে রাজশাহীকে পরিচ্ছন্ন, সবুজ, সুন্দর, সুখী, আধুনিক ও তিলোত্তমা নগরী হিসেবে গড়ে তোলা হবে। একাজে আমি আপনাদের সকলের সহযোগিতা কামনা করছি। অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিম। স্বাগত বক্তব্য দেন রাসিকের প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা শেখ মো. মামুন। অনুষ্ঠান মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী মহানগর বিএনপির সভাপতি মামুন অর রশিদ, রাসিকের সচিব সোহেল রানা, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (ভারপ্রাপ্ত) আহমদ আল মঈন পরাগ প্রমুখ। প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে ঈদ উপহার পেয়ে খুঁশি ও উচ্ছ্বসিত রাজশাহী সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্ন কর্মীরা। পরিচ্ছন্ন কর্মী রাজিবুল ইসলাম বলেন, আমি দীর্ঘদিন রাজশাহী সিটি করপোরেশনে চাকরি করছি। চাকরিজীবনে কোনদিন এভাবে অনুদান পাইনি। অনুদান পেয়ে আমরা অনেক খুঁশি।
পরিচ্ছন্ন কর্মী মরিয়ম ও সুমাইয়া বলেন, ঈদে অনেক খরচ। কীভাবে ছেলে-মেয়ে নিয়ে ভালোভাবে ঈদ করব, এই নিয়ে চিন্তায় ছিলাম। তারপর যখন প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে ঈদ উপহার পেলাম তখন চিন্তা মুক্ত হলো। এবার ভালোভাবে ঈদ করতে পারব। আমরা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই। তিনি যেন এভাবেই আজীবন মানুষের কল্যাণে কাজ করে যেতে পারেন।
পরিচ্ছন্নকর্মী হারুনুর রশীদ বলেন, ঈদ উপহার পেয়ে আমরা অনেক আনন্দিত। এই অনুদান পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন কাজে আমাদের আরও উৎসাহ যোগাবে।
আন্তর্জাতিক ইঞ্জিনিয়ারিং অঙ্গনে অনন্য মাইলফলক স্পর্শ করেছে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাকৃবি)-এর শিক্ষার্থীরা। কৃষি ও বায়োসিস্টেম ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের বৈশ্বিক প্ল্যাটফর্ম ‘কৃষি ও জৈবব্যবস্থা প্রকৌশলের আন্তর্জাতিক কমিশন’ (সিআইজিআর) আয়োজিত প্রকৌশল শিক্ষার্থীদের নিয়ে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা ২০২৫-২৬-এ চারটি ভিন্ন ক্যাটাগরিতে জয়লাভ করেছে বাকৃবির চারটি পৃথক দল।
আমেরিকা, ব্রাজিল, ইন্দোনেশিয়া, ভারত, থাইল্যান্ড, ঘানা, নাইজেরিয়াসহ বিভিন্ন প্রান্তের স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে প্রতিযোগিতা করে বাকৃবি শিক্ষার্থীরা দুটি গোল্ড (প্রথম স্থান) এবং দুটি ব্রোঞ্জ (তৃতীয় স্থান) পদক লাভের গৌরব অর্জন করেছে।
প্রতিযোগিতার ফলাফলে দেখা যায়, ‘এনার্জি ইন অ্যাগ্রিকালচার’ (টেকনিক্যাল সেকশন-৪) ক্যাটাগরিতে কৃষিতে জ্বালানি ও শক্তি ব্যবহারের আধুনিকায়ন নিয়ে কাজ করে প্রথম স্থান (গোল্ড) অধিকার করে বাকৃবির একটি দল। দলের সদস্যরা হলেন- মো. আবু হোরায়রা আল রেজন, আমিনা আরিফ রিয়া এবং শোয়াইব আহমেদ সতেজ।
খামার ব্যবস্থাপনা ও কর্মপরিকল্পনা অপ্টিমাইজেশনের ওপর ভিত্তি করে আয়োজিত ‘সিস্টেম ম্যানেজমেন্ট’ (টেকনিক্যাল সেকশন-৫) বিভাগেও প্রথম স্থান অর্জন করেছে বাকৃবির আরও একটি দল। স্বর্ণপদক জয়ী এই দলের সদস্যরা হলেন- তানভীর হোসেন, খৈরম অনন্ত অনি এবং নুসরাত জাহান মুমু।
সাফল্যের এই ধারাবাহিকতায় ব্রোঞ্জ পদক জয়েও উজ্জ্বল ছিল বাকৃবির নাম। স্থাপত্য ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় প্রকৌশল সমাধানের লক্ষ্যে ‘স্ট্রাকচারস অ্যান্ড এনভায়রনমেন্ট’ (টেকনিক্যাল সেকশন-২) ক্যাটাগরিতে ব্রোঞ্জ পদক অর্জন করেছেন সাবিদুর রহমান শেজান এবং নুসরাত জাহান জুঁই।
এ ছাড়া ‘সিস্টেম ম্যানেজমেন্ট’ বিভাগে আরও একটি ব্রোঞ্জ পদক জয় করেছে এম. রাহাত মিয়া এবং খন্দকার জুনায়েদ আহমেদের দল।
আন্তর্জাতিক এই অর্জনের স্বীকৃতিস্বরূপ গোল্ড মেডেল জয়ী বাকৃবির দুটি দলের প্রত্যেকটি ৫০০ মার্কিন ডলার এবং ব্রোঞ্জ মেডেল জয়ী বাকি দুটি দলের প্রত্যেকটি ২০০ মার্কিন ডলার করে অর্থ পুরস্কার ও সনদপত্র লাভ করবে। আগামী ২০২৬ সালের জুন মাসে ইতালির তুরিনে অনুষ্ঠিতব্য ‘সিআইজিআর ওয়ার্ল্ড কংগ্রেস’-এ আনুষ্ঠানিকভাবে বিজয়ীদের হাতে এই সম্মাননা তুলে দেওয়া হবে।
পবিত্র ঈদ-উল-ফিতর উপলক্ষে মাদারীপুরে গরীব, অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের মাঝে ঈদ বস্ত্র বিতরণ করল বেসরকারি সামিজক সংগঠন ‘তারুণ্য পরিবার’। মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) সকালে মাদারীপুর বণিক সমিতির কার্যালয়ে ওই সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক সোহাগ হাসানের পরিচালনায় ও মানবাধিকার কর্মী অ্যাডভোকেট মশিউর রহমান পারভেজের সঞ্চালনা এ সময় প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্তিত থেকে বক্তব্য রাখেন বীর মুক্তিযোদ্ধা ডাক্তার গোলাম সরোয়ার, সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) এর জেলা শাখার সভাপতি এনায়েত নান্নু, বিশিষ্ট সাংবাদিক ও মানবাধিকার কর্মী শরীফ মো. ফায়েজুল কবীর, সমাজকর্মী রেজাউল ইসলাম রেজা প্রমুখ।
ওই অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, সমাজের সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের মুখে হাসি ফোটাতে এবং ঈদের আনন্দ সবার সাথে ভাগাভাগি করে নিতে বিশেষ করে সুবিধাবঞ্চিত এসব গরীব ও অসহায়দের মাঝে এরুপ মহৎ কাজ তথা ঈদ বস্ত্র বিতরণ নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবি রাখে।
এ সময় অর্ধশতাধিক শিশুদের মাঝে তাদের মায়েদের উপস্থিতিতে নতুন পোশাক বিতরণ করা হয়। পোশাক পেয়ে শিশুদের মুখে অনেক হাসি ফোটে। তারুণ্য পরিবারের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি সোহাগ হাসান সহ তাদের কর্মকর্তারা বলেন, সকলের ভালোবাসায় ভবিষ্যতেও এ ধরনের মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।