ঘূর্ণিঝড় রেমালের প্রভাবে সুন্দরবন উপকূলসহ মোংলায় ১০ নম্বর বিপদ সংকেত বহাল রয়েছে। এরই মধ্যে বৃষ্টিসহ দমকা বাতাস বইতে শুরু করেছে। ঘূর্ণিঝড় রিমালের কারণে জ্বলোচ্ছাসে পানি বেড়ে তলিয়ে গেছে পুরো সুন্দরবন এলাকা।
পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের করমজল বন্যপ্রাণী প্রজনন কেন্দ্র ও পর্যটন কেন্দ্রের মোঃ আজাদ কবির জানান, ঘূর্ণিঝড় রেমালের প্রভাবে স্বাভাবিকের চেয়ে ৪ ফুট পানি বেড়ে সুন্দরবন তলিয়ে গেছে। পানির চাপ আরও বাড়বে। তবে বণ্যপ্রাণীর কোন ক্ষয়ক্ষতির আশংকা নেই বলে জানান তিনি। আজাদ কবির বলেন, ঘূর্ণিঝড় রেমালের কারণে সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে পুরো সুন্দরবন বিভাগের কর্মকর্তা ও বনরক্ষীদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। বনবিভাগের ঝুঁকিপূর্ণ ক্যাম্পগুলোতে থাকা বনরক্ষীদের এরই মধ্যে নিরাপদে সরিয়ে আনা হয়েছে।
এদিকে ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে এরই মধ্যে মোংলা নদীতে যাত্রীবাহী ট্রলার চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বলে জানান পৌর মেয়র বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ আব্দুর রহমান। তিনি বলেন, ঝুঁকি এড়াতে যাত্রীবাহি নৌযান চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তবে জরুরি কাজ ও রোগিদের কথা চিন্তা করে মোংলা নদীতে ফেরি চালু রাখা হয়েছে। পৌর শহরের আশ্রয়কেন্দ্রে লোকজনকে আনার জন্য ব্যাপক তৎপরতা চালানো হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
মোংলা আবহাওয়া অফিসের ইনচার্জ হারন অর রশিদ জানান, এই রেমাল মোংলা সমুদ্র বন্দর থেকে ২৯ ৫কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থান করছে। এটি আজ সন্ধ্যা নাগাদ সুন্দরবন ও মোংলা উপকূল অতিক্রম করে পটুয়াখালীর খেপুপাড়ায় আছড়ে পড়ার কথা রয়েছে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জে বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা, ওষুধ বিতরণ, চশমা প্রদান ও ছানি রোগী বাছাই কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (১৮ জুলাই) সকালে সদর উপজেলার পৌর এলাকার নামো শংকর বাটী ডিগ্রি কলেজে বগুড়ার গাক চক্ষু হাসপাতালের উদ্যোগে এ চক্ষু ক্যাম্পের আয়োজন করা হয়।
চক্ষু ক্যাম্প উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় গ্রামীণ উন্নয়ন কর্ম (গাক) এর জ্যেষ্ঠ পরিচালক ড. মাহবুব আলমের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন, সদর উপজেলা ভূমি কর্মকর্তা ইকরামুল হক, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি সম্প্রসারণ অনুষদের শিক্ষক প্রফেসর ড মোস্তাফিজুর রহমান, গণ যোগাযোগ ও সাংবাদিক অনুষদের মশিহুর রহমানসহ অন্যান্যরা।
বক্তারা,গাক চক্ষু হাসপাতালের অসচ্ছল মানুষের দোরগোড়ায় চক্ষুসেবা পৌঁছে দেওয়ার এই ধরনের উদ্যোগের ভুয়সি প্রশংসা করেন। গাকে'র এ ধরনের কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে এমন প্রত্যাশার কথা জানান বক্তারা ।
চক্ষু ক্যাম্পে আগত বিভিন্ন বয়সী মানুষ বিনামূল্যে চক্ষু পরীক্ষা করান। আয়োজকরা জানান,'ক্যাম্পে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে নির্বাচিত ছানি রোগীদের বিনামূল্যে অস্ত্রোপচারের জন্য বগুড়ার বনানীতে অবস্থিত গাক চক্ষু হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, নির্বাচিত রোগীদের যাতায়াত, অস্ত্রোপচার, ওষুধ, চশমা এবং থাকা-খাওয়ার সব ব্যয় বহন করবে গাক চক্ষু হাসপাতাল। এ ছাড়া চক্ষু ক্যাম্পে সেবা গ্রহীতা রোগীদের প্রয়োজন অনুযায়ী বিনামূল্যে ওষুধ এবং চশমা বিতরণ করা হয়।'
চক্ষু ক্যাম্প বাস্তবায়নে সার্বিক সহযোগিতা করে নামো শংকর বাটী ডিগ্রি কলেজ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ।
কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলা বিএনপির সভাপতি জাহিদুল আলম জাহাঙ্গীর হত্যার ঘটনায় তিনজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১০ থেকে ১২ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা হয়েছে। গত শুক্রবার (১৭ জুলাই) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে নিহতের স্ত্রী তসলিমা আক্তার চৌধুরী বাদী হয়ে মিঠামইন থানায় মামলাটি করেন।
মামলার এজাহারে নাম উল্লেখ করা তিন আসামি হলেন বরগুনার বামনা উপজেলার চাকাতাসুনিয়া গ্রামের মৃত সুলতান মীরনের ছেলে মো. হেলাল (২৪), লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলার সুধামপুর গ্রামের নূর হোসেনের ছেলে মহিন উদ্দিন (৩২) এবং একই উপজেলার মধ্যপাড়া গ্রামের রহমত উল্লাহ খোকনের ছেলে মো. শাহিন আলম ওরফে শাকিল (২৭)।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার রাতে স্থানীয় লোকজন মো. হেলালকে আটক করেন। পরে অভিযান চালিয়ে একই রাতে মহিন উদ্দিন ও শাহিন আলম ওরফে শাকিলকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এজাহারে বাদী উল্লেখ করেন, গত বুধবার (১৫ জুলাই) রাত পৌনে ১০টার দিকে মিঠামইন উপজেলা সদরের বেড়িবাঁধ এলাকায় নিজ বাসভবনে প্রবেশের সময় আগে থেকে ওত পেতে থাকা একদল সন্ত্রাসী পরিকল্পিতভাবে তার স্বামীর ওপর ধারালো চাপাতি, কিরিচ, কুড়াল ও রামদাসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে অতর্কিত হামলা চালায়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন।
পরে তাকে উদ্ধার করে কিশোরগঞ্জের শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
মিঠামইন থানার ওসি মনোয়ার হোসেন বলেন, মামলার লিখিত অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে। গ্রেপ্তার তিন আসামি কারাগারে আছে। পাশাপাশি হত্যাকাণ্ডের মূল কারণ উদ্ঘাটন এবং জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এদিকে শুক্রবার (১৭ জুলাই) জুমার নামাজের পর স্থানীয় হেলিপ্যাড মাঠে জাহিদুল আলম জাহাঙ্গীরের জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। এতে জেলা বিএনপির সভাপতি ও পাট ও বস্ত্র প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও কিশোরগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মাজহারুল ইসলাম, কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমানসহ দলীয় নেতা-কর্মী এবং বিপুলসংখ্যক স্থানীয় মানুষ অংশ নেন।
জানাজা শেষে কাঠবাজার-সংলগ্ন পারিবারিক কবরস্থানে জাহিদুল আলম জাহাঙ্গীরকে দাফন করা হয়।
দীর্ঘ প্রতিক্ষার পর বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে শিক্ষা কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয়ের। শনিবার (১৮ জুলাই) বেলা সাড়ে ১১ টার দিকে শহরের বরুনকান্দি মোড় এলাকায় অবস্থিত বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্থায়ী ক্যাম্পাসে নামফলক উন্মোচনের মধ্য দিয়ে শিক্ষা কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন প্রধান অতিথি শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
এসময় মন্ত্রী বিশ্ববিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষ, আধুনিক ল্যাইব্রেরি এবং কম্পিউটার ল্যাব ঘুরে দেখেন।
ফলক উন্মোচন অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব আব্দুল খালেক, বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড.মামুন আহমেদ, ইউজিসির সদস্য অধ্যাপক ড.আব্দুল্লাহ আল মামুন, মাধ্যমিক উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক ড.খান মঈনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল,বিশ্ববিদ্যালয়ের উপচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ হাছানাত আলীসহ নওগাঁর ৬টি সংসদীয় আসনের সংসদ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
পরে দুপুর সোয়া ১২টার দিকে সদর উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে আয়োজিত সুধী সমাবেশ ও নবাগত শিক্ষার্থীদের বরণ অনুষ্ঠানে যোগ দেন প্রধান অতিথি।
কুপির তেল ফুরিয়ে গেলে নীলফামারী রেলওয়ে স্টেশনের ল্যাম্পপোস্টের আলোয় বসে পড়াশোনা করা সাত বছরের শিশু নিরবকে নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর তার পাশে দাঁড়িয়েছেন নীলফামারী জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামান।
গত শুক্রবার (১৭ জুলাই) বিকেলে জেলা প্রশাসক নীলফামারী রেলওয়ে স্টেশনের ২ নম্বর প্ল্যাটফর্মসংলগ্ন ছোট্ট ঘরে গিয়ে নিরব ও তার পরিবারের খোঁজখবর নেন। এ সময় তিনি পরিবারের হাতে খাদ্য সহায়তা তুলে দেন।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামান বলেন, ‘সংবাদটি আমার নজরে আসে। সেখানে দেখেছি, বাড়িতে বিদ্যুৎ না থাকায় নিরব প্রতিদিন সন্ধ্যা থেকে রাত পর্যন্ত স্টেশনের ল্যাম্পপোস্টের আলোয় পড়াশোনা করে। বড় হয়ে সে সেনাবাহিনীর কর্মকর্তা হওয়ার স্বপ্ন দেখে। তার সেই স্বপ্ন পূরণে আমরা পাশে দাঁড়িয়েছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘নিরব পড়াশোনার প্রতি অত্যন্ত আগ্রহী। তাই সরকারি শিশু সদনের মাধ্যমে তার পড়াশোনার দায়িত্ব নেওয়া হয়েছে। সে কিছুটা অসুস্থ, তাই তার চিকিৎসার ব্যবস্থাও করা হবে। এ ছাড়া পরিবারটি রেলওয়ের জমিতে বসবাস করছে। সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে তাদের জন্য সরকারি খাস জমির ব্যবস্থা করে স্থায়ী আবাসনের জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে নির্দেশ দিয়েছি ‘
জেলা প্রশাসকের এই উদ্যোগে স্বস্তি ও আনন্দ প্রকাশ করেন নিরবের মা রুপসানা বেগম। তিনি সন্তানের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের জন্য জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে সম্মতি জানান।
এ সময় সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোবাশ্বিরা আমাতুল্লাহ, জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. মনোয়ারুল ইসলাম, নীলফামারী সরকারি শিশু পরিবার (বালক)-এর উপতত্ত্বাবধায়ক শাহ মো. আল আমিন, নীলফামারী রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার মিঠুন রায়সহ জেলা প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
দেশের আটটি অঞ্চলের ওপর দিয়ে অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়ার পূর্বাভাস দিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর। এসব এলাকায় ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৬০ কিলোমিটার বেগে বাতাসের পাশাপাশি বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত প্রদর্শনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শনিবার (১৮ জুন) আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ ড. মুহাম্মদ আবুল কালাম মল্লিক স্বাক্ষরিত এক বিশেষ বুলেটিনে এই তথ্য জানানো হয়েছে। আবহাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, আজ সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার এবং সিলেট অঞ্চলের ওপর দিয়ে দক্ষিণ বা দক্ষিণ-পূর্ব দিক হতে ৪৫ হতে ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এসব এলাকার আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকার পাশাপাশি বজ্রসহ বৃষ্টিপাতের প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।
এদিকে, আবহাওয়ার অন্য এক পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে যে, পশ্চিমবঙ্গ ও সংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত সুস্পষ্ট লঘুচাপটি বর্তমানে দুর্বল হয়ে বিহার অঞ্চলে অবস্থান করছে। এটি আরও দুর্বল হয়ে মৌসুমি বায়ুর অক্ষের সাথে মিশে যেতে পারে। বর্তমানে মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলে সক্রিয় এবং দেশের অন্যত্র মোটামুটি সক্রিয় অবস্থায় রয়েছে। উত্তর বঙ্গোপসাগরে এটি বেশ প্রবল রূপ ধারণ করেছে।
এর প্রভাবে আগামীকাল রবিবার সকাল ৯টা পর্যন্ত রংপুর, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ স্থানে এবং দেশের অন্যান্য বিভাগের অনেক জায়গায় হালকা হতে মাঝারি ধরণের বৃষ্টিপাত হতে পারে। বিশেষ করে রংপুর বিভাগের কিছু কিছু স্থানে ভারী হতে অতি ভারী বর্ষণের সতর্কতা দেওয়া হয়েছে। এই সময়ে সারাদেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রায় বড় কোনো পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই বলে আবহাওয়া অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে।
উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর এলাকায় বায়ুচাপের আধিক্যের ফলে উপকূলীয় অঞ্চল ও সমুদ্র বন্দরগুলোতে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার সৃষ্টি হয়েছে। এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে দেশের সকল সমুদ্র বন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত প্রদর্শনের নির্দেশ দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। শনিবার (১৮ জুলাই) এক বিশেষ সতর্কবার্তায় এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের পক্ষ হতে জানানো হয়েছে যে, বায়ুচাপের তারতম্যের প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগর, তৎসংলগ্ন বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকা এবং সমুদ্র বন্দরসমূহের ওপর দিয়ে শক্তিশালী ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরকে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত (পুনঃ ৩ নম্বর) বহাল রাখতে বলা হয়েছে।
দুর্যোগপূর্ণ এই আবহাওয়ার প্রেক্ষাপটে সাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারসমূহকে জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিতে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি অবস্থান করতে এবং অত্যন্ত সাবধানতার সাথে চলাচল করতে কঠোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বায়ুচাপের এই অস্থিতিশীলতা উপকূলীয় জনপদে কোনো ধরণের ক্ষয়ক্ষতি ঘটাতে পারে কি না, সে বিষয়েও নজরদারি রাখছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
জেলার কাপ্তাই লেকের পানির উচ্চতা বৃদ্ধি পাওয়ায় আজ শনিবার বাঁধের স্পিলওয়ের ১৬টি জলকপাট আংশিক খুলে পানি নিষ্কাশনের প্রস্তুতি নিয়েছে কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র কর্তৃপক্ষ।
উজান ও ভাটির পানি ব্যবস্থাপনা এবং সম্ভাব্য বন্যা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
গত বৃহস্পতিবার (১৭ জুলাই) রাতে কাপ্তাই কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক (তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী) মাহমুদ হাসান স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয় ।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) সন্ধ্যা ৭টায় কাপ্তাই লেকের পানির উচ্চতা ছিল ১০৩ দশমিক ৯১ ফুট এমএসএল। লেকের সর্বোচ্চ পানি ধারণক্ষমতা ১০৯ ফুট এমএসএল। সাম্প্রতিক ভারি বৃষ্টিপাতে ক্যাচমেন্ট এলাকায় পানির প্রবাহ বেড়ে যাওয়ায় লেকের পানি দ্রুত বাড়ছে।
এ পরিস্থিতিতে আগামী শনিবার (১৮ জুলাই) বেলা ১১টার পর যেকোনো সময় স্পিলওয়ের ১৬টি গেট ৬ ইঞ্চি করে খুলে পানি নিষ্কাশন শুরু করা হতে পারে। প্রাথমিকভাবে এতে প্রায় ৯ হাজার কিউসেক পানি কর্ণফুলী নদীতে প্রবাহিত হবে।
এ বিষয়ে কাপ্তাই পানি বিদ্যুৎকেন্দ্রের ব্যবস্থাপক (তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী) মাহমুদ হাসান গণমাধ্যমকে বলেন, ‘লেকের পানির উচ্চতা, উজান থেকে আসা পানির প্রবাহ (ইনফ্লো) এবং বৃষ্টিপাতের পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। পরিস্থিতির পরিবর্তনের ওপর ভিত্তি করে স্পিলওয়ে খোলার সময় এগিয়ে বা পিছিয়ে দেওয়া হতে পারে। একই সঙ্গে ইনফ্লো আরও বৃদ্ধি পেলে পর্যায়ক্রমে গেট আরও বেশি খুলে পানি নিষ্কাশনের পরিমাণ বাড়ানো হবে।’
তিনি আরও জানান, বর্তমানে কাপ্তাই পানি বিদ্যুৎকেন্দ্রের পাঁচটি ইউনিট চালু রয়েছে। এসব ইউনিটের মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদনের পাশাপাশি প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ৩২ হাজার কিউসেক পানি নিষ্কাশন করা হচ্ছে।
এদিকে স্পিলওয়ে খোলার সম্ভাব্য ঘোষণায় কর্ণফুলী নদীর তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। পরিস্থিতি অনুযায়ী পরবর্তী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছে বিউবো।
বান্দরবানের থানচি উপজেলার সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের অভিযোগে মিয়ানমারের দুই নারী নাগরিক ও তাদের এক বাংলাদেশি সহযোগীকে আটক করে থানচি থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, আটক তিনজনের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
শুক্রবার (১৬ জুলাই) এ ঘটনায় থানচি থানায় একটি মামলা দায়ের করে তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
আটককৃতরা হলেন- মিয়ানমারের মংডু এলাকার বাসিন্দা মা তুন যং ম্রো (২০), মা তুন ইয়াং ম্রো (২১) এবং তাদের সহযোগী বান্দরবানের থানচি উপজেলার সদর ইউনিয়নের ওয়াক চাক্কুপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মুয়ই ম্রো (৪৬)।
থানচি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কানন সরকার জানান, সীমান্ত এলাকা দিয়ে অবৈধ অনুপ্রবেশ ও এ সংক্রান্ত অপরাধ প্রতিরোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান অব্যাহত রয়েছে, আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
সীমান্তবর্তী বংকুপাড়া বিজিবি ক্যাম্পের সদস্যরা গত বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) মিয়ানমারের দুই নারী নাগরিক ও তাদের বাংলাদেশি এক সহযোগীকে আটক করেন। পরে তাদের পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে।
কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলা বিএনপির সভাপতি জাহেদুল আলম জাহাঙ্গীর হত্যা মামলার সঙ্গে জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তির আওতায় আনার আশ্বাস দিয়েছেন বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম।
শুক্রবার (১৭ জুলাই) বিকেলে মিঠামইন সদরের হেলিপ্যাড মাঠে জাহাঙ্গীরের জানাজা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
এর আগে জুমার নামাজের পর হেলিপ্যাড মাঠে জাহেদুল আলম জাহাঙ্গীরের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
শরীফুল আলম বলেন, “জাহাঙ্গীর দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত কর্মী ছিলেন। প্রায় ১৭ বছর আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ছিলেন। বাড়িঘর ছেড়ে কঠিন সময় পার করেও সুসময়ে এসে এভাবে হত্যাকাণ্ডের শিকার হবেন, তা কল্পনাও করা যায় না। তার এই অকাল মৃত্যু আমাদের গভীরভাবে শোকাহত করেছে।”
শরীফুল আলম আরও বলেন, এ হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং দলের উচ্চপর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। কারা ইন্দনদাতা সেটিও দেখছে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী। তিনি বলেন, ভাড়াটে খুনি এনে হত্যাকাণ্ড হাওরে বিরল ঘটনা। এর পিছনে যারাই জড়িত, তারা যতই শক্তিশালী হোক কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।
কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান বলেন, জাহাঙ্গীর দীর্ঘদিন ধরে দলের জন্য নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করেছেন এবং প্রতিটি আন্দোলন-সংগ্রামে সাহসিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন। তাকে গভীর ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে হত্যা করা হয়েছে। তিনি বলেন, হামলায় জড়িতদের গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশকে ধন্যবাদ জানাই। তবে শুধু হামলাকারীদের গ্রেপ্তার করলেই হবে না, হত্যার নেপথ্যে থাকা পরিকল্পনাকারী, অর্থদাতা ও মদদদাতাদেরও দ্রুত আইনের আওতায় আনতে হবে।
তিনি আরও বলেন, জাহাঙ্গীর শুধু রাজনৈতিক সহকর্মী ছিলেন না, দলের একজন নিবেদিতপ্রাণ সৈনিক ছিলেন। তার মৃত্যু বিএনপির জন্য বড় ক্ষতি। নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি।
জানাজায় কিশোরগঞ্জ-৬ আসনের সংসদ সদস্য ও বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম, কিশোরগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মাজহারুল ইসলাম, কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান, জেলা ও উপজেলা বিএনপি এবং বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীসহ বিপুলসংখ্যক স্থানীয় মানুষ অংশ নেন।
রাজধানীর ডেমরা পুলিশ লাইনস ভবন থেকে মো. সাইদুল ইসলাম (২১) নামে এক পুলিশ কনস্টেবলের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। শুক্রবার (১৭ জুলাই) সকালে সহপাঠীরা উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, পারিবারিক কলহ থেকে হতাশা এবং তারপর গলায় ফাঁস দিয়ে মৃত্যু হয়েছে তার।
নিহত সাইদুল ইসলাম ফেনী সদর উপজেলার লেমুয়া উত্তর চাঁদপুর গ্রামের মো. সাদেকের ছেলে। তার পুলিশ বিপি নম্বর: ০৭২৬২৬৬৪৬৫। তিনি ডেমরা পুলিশ লাইনের ২০ তলা ভবনের নবম তলার একটি কক্ষে থাকতেন। মাত্র ৯ মাস আগে তিনি পুলিশ কনস্টেবল পদে চাকরিতে যোগদান করেছিলেন।
তার চাচা মো. সোহাগ জানান, পারিবারিক কলহের জেরে সাইদুল কিছুদিন ধরে চরম বিষণ্ণতায় ভুগছিলেন। গত রাত আনুমানিক সাড়ে ১১টার দিকে ডেমরা পুলিশ লাইনের ওই ভবনের সপ্তম তলায় নিজের রুমে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে বিছানার চাদর পেঁচিয়ে ফাঁস দেন। পরে তাকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। তবে হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই তার মৃত্যু হয় বলে চিকিৎসকরা জানান।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. ফারুক চিকিৎসকের বরাত দিয়ে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢামেক হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। ঘটনাটি সংশ্লিষ্ট থানাকে অবহিত করা হয়েছে এবং পুলিশ এ বিষয়ে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নিচ্ছে। এদিকে মৃত্যুর পূর্বে নিজের ফেসবুকে এক পোস্টে সাইদুল লেখে গেছেন হতাশার কথা।
রাজধানীর কামরাঙ্গীরচরের কারবালার মোড় এলাকার আঁছওয়ালা ঘাটে জুতার কারখানায় লাগা আগুন নিয়ন্ত্রণে এসেছে। ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিটের প্রায় ৩৮ মিনিটের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। শুক্রবার (১৭ জুলাই) বিকেল ৩টা ১২ মিনিটে কারখানাটিতে আগুন লাগার খবর পায় ফায়ার সার্ভিস।
ফায়ার সার্ভিস সূত্র জানায়, বিকেল ৩টা ১২ মিনিটে জুতার কারখানায় আগুন লাগার সংবাদ পাওয়ার পরপরই হাজারীবাগ ফায়ার স্টেশনের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলের উদ্দেশে রওনা দেয়। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা বিকেল ৩টা ৩৫ মিনিটে ঘটনাস্থলে পৌঁছে দ্রুত আগুন নেভানোর কাজ শুরু করেন। পরবর্তীতে বিকেল ৩টা ৪৯ মিনিটে আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়েছেন তারা।
তাৎক্ষণিকভাবে আগুনের সূত্রপাত, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কিংবা হতাহতের কোনো তথ্য জানা যায়নি। এ বিষয়ে বিস্তারিত জানার জন্য ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে তদন্ত চলছে বলে জানানো হয়েছে।
কুমিল্লার পুলিশ সুপার (এসপি) আনিসুজ্জামান বলেছেন, "আমি নিজেও ছাত্রদল করেছি। আপনার বহু আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদল করে এসেছি। তবে রাজনৈতিক বক্তব্য নয়, তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে কথা বলতে হবে।"
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) কুমিল্লা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক আলোচনা সভায় এ মন্তব্য করেন তিনি।
সভায় কুমিল্লা মহানগর ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ফখরুল ইসলাম মিঠু অভিযোগ করে বলেন, কুমিল্লায় এসপি হিসেবে আনিসুজ্জামান দায়িত্ব নেওয়ার পর ‘ফ্যাসিস্টরা’ সক্রিয় হয়ে উঠেছে এবং তাদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।
এর জবাবে পুলিশ সুপার বলেন, এটি কোনো রাজনৈতিক মঞ্চ নয়। অভিযোগ করতে হলে তথ্য-প্রমাণসহ করতে হবে। ভিত্তিহীন মন্তব্য বা রাজনৈতিক বক্তব্য গ্রহণযোগ্য নয়।
নিজের ছাত্রজীবনের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, "ছাত্রদল আমি নিজেও করেছি। আপনার বহু আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদল করে এসেছি।"
পুলিশের বিরুদ্ধে ঢালাও অভিযোগ না তোলার আহ্বান জানিয়ে এসপি বলেন, "আমরা নিজের শত্রুকে কেন ধরতে যাব? যাকে আপনার পছন্দ হয় না, তাকেই ফ্যাসিস্ট বানিয়ে দেন। মামলায় কাকে গ্রেপ্তার করা হবে, তা আইন অনুযায়ী নির্ধারণ হবে। ওসি কাকে গ্রেপ্তার করবে, সেই নির্দেশ আপনারা দিতে পারেন না।"
তিনি আরও বলেন, একটি বাহিনী সম্পর্কে মন্তব্য করার আগে বাস্তবতা জানা জরুরি। "৫ আগস্টের পর এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, যখন কোথাও পুলিশ ছিল না। সেই নড়বড়ে অবস্থা থেকে পুলিশ আবার ঘুরে দাঁড়িয়েছে।"
পুলিশ সুপার বলেন, গত ১৭ বছরে দেশের বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানকে দুর্বল করে দেওয়া হয়েছে। বর্তমান সরকার মাত্র চার মাস আগে দায়িত্ব নিয়েছে। তাই সরকারকে কাজ করার জন্য যথেষ্ট সময় দেওয়া উচিত।
বিচারহীনতার অভিযোগ প্রসঙ্গে আনিসুজ্জামান বলেন, "বিচার হয় না—এ কথা মোটেই ঠিক নয়। বিভিন্ন আলোচিত মামলায় আদালত রায় দিয়েছেন, অনেকের মৃত্যুদণ্ড হয়েছে এবং অনেক মামলার বিচার প্রক্রিয়া এখনও চলমান। আমি নিজেও অনেক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছি এবং চার্জশিট দাখিল করেছি।"
তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আইন অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছে এবং ভবিষ্যতেও নিরপেক্ষভাবে আইন প্রয়োগ অব্যাহত থাকবে।
সোনার মূর্তি ও মূল্যবান পুরোনো মুদ্রা (কয়েন) পাইয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে মানুষের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে ঠাকুরগাঁও জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এ সময় তাদের কাছ থেকে ছয়টি সোনালি রঙের মূর্তি, পাঁচটি কয়েন ও একটি পিতলসদৃশ পুরোনো কলস জব্দ করা হয়েছে।
শুক্রবার (১৭ জুলাই) বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে ঠাকুরগাঁও পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মোহাম্মদ খোদাদাদ হোসেন।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন জেলার রানীশংকৈল উপজেলার লেহেম্বা ইউনিয়নের কোচল (কাঁঠালডাঙ্গী) গ্রামের বাসিন্দা মো. জাহাঙ্গীর আলম (৩৬) ও তার ফুফাতো বোন মোছা. সীমা বেগম (৩২)।
পুলিশ জানায়, বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) রাতে দিনাজপুরের কোতোয়ালি এলাকার বাসিন্দা মো. আব্দুল আজিম ডিবি পুলিশকে জানান, স্বর্ণের মূর্তি ও পুরোনো কয়েন বিক্রির কথা বলে একটি চক্র তার কাছ থেকে তিন লাখ টাকা নিয়েছে। ওই দিন বাকি টাকা পরিশোধের বিনিময়ে তাকে মূর্তি ও কয়েন দেওয়ার কথা ছিল।
এ তথ্যের ভিত্তিতে ডিবি পুলিশের একটি দল রানীশংকৈল উপজেলার কোচল গ্রামের একটি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে জাহাঙ্গীর আলম ও সীমা বেগমকে গ্রেপ্তার করে। পরে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বাড়ির বারান্দার পাশে মাটির নিচ থেকে ছয়টি সোনালি রঙের গোপাল ঠাকুরের মূর্তি, পাঁচটি সাদা রঙের কয়েন এবং প্রায় দেড় কেজি ওজনের একটি পিতলসদৃশ পুরোনো কলস উদ্ধার করা হয়। সেগুলো জব্দ করেছে পুলিশ।
সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ খোদাদাদ হোসেন বলেন, ‘প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, অভিযুক্তরা দীর্ঘদিন ধরে সোনার মূর্তি ও মূল্যবান পুরোনো মুদ্রা পাইয়ে দেওয়ার নামে সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জন করে প্রতারণা করে আসছিলেন।’ থানার নথি পর্যালোচনায় দেখা গেছে, সীমা বেগমের বিরুদ্ধে একই ধরনের প্রতারণার অভিযোগে আগেও একটি মামলা রয়েছে।
এ ঘটনায় গ্রেপ্তার দুজনের বিরুদ্ধে রানীশংকৈল থানায় মামলা হয়েছে। চক্রটির অন্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।