বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬
২৩ আশ্বিন ১৪৩৩

কমলগঞ্জে টিলা ধসে চা শ্রমিকের মৃত্যু

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড
৩১ মে, ২০২৪ ১৪:৫৮
মৌলভীবাজার ও কমলগঞ্জ (শ্রীমঙ্গল) প্রতিনিধি
প্রকাশিত
মৌলভীবাজার ও কমলগঞ্জ (শ্রীমঙ্গল) প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ৩১ মে, ২০২৪ ১৪:৫৭

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার আদমপুর বনবিটের অধীন কালেঞ্জি খাসিয়া পুঞ্জি এলাকায় টিলা ধসে গীতা কাহার (৩০) নামে এক নারী চা শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে ঘটনাটি ঘটে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও তিন শ্রমিক।

স্থানীয়রা জানান, কমলগঞ্জ উপজেলার সীমান্তবর্তী মাধবপুর ইউনিয়নের পাত্রখোলা চা বাগানের নারীসহ কয়েকজন শ্রমিক পার্শ্ববর্তী আদমপুর বনবিট এলাকার কালেঞ্জি খাসিয়া পুঞ্জিতে কাজ করতে যান। এসময় একটি টিলার অংশ ধসে পড়লে মাটি চাপায় তার মৃত্যু হয়।

গীতা কাহার পাত্রখোলা চা বাগানের নতুন লাইনের মৃত শংকর কাহারের কন্যা। আহতদের পাত্রখোলা চা বাগান হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে বলে জানান স্থানীয় ইউপি সদস্য দেবাশীষ চক্রবর্তী শিপন।

আদমপুর ইউপি চেয়ারম্যান মো. আবদাল হোসেন ও মাধবপুর ইউপি চেয়ারম্যান মো. আসিদ আলী ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ‘তারা বনবিট এলাকায় খাসিয়া পুঞ্জিতে কাজে ছিল। বৃহস্পতিবার বিকেলে মরদেহ পরিবার সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।’

কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জয়নাল আবেদীন বলেন, ‘ঘটনার সংবাদ পেয়েছি। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মধ্যে সরকারিভাবে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হবে।’

বিষয়:

নির্বাচিত

পরিকল্পিত ও টেকসই নগরায়নের লক্ষ্যে গুরুত্বারোপ

চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনির সভাপতিত্বে বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) জাতীয় সংসদ ভবনের ক্যাবিনেট কক্ষে অনুষ্ঠিত হয়। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সরকারি প্রতিষ্ঠান কমিটির ৪র্থ বৈঠক কমিটির সভাপতি ও বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনির সভাপতিত্বে বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) জাতীয় সংসদ ভবনের ক্যাবিনেট কক্ষে অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৈঠকে কমিটির সদস্য ও হুইপ মিয়া নূরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু, হুইপ মো. আখতারুজ্জামান মিয়া, মোছা. তাহসিনা রুশদীর, খোন্দকার আবু আশফাক, মোহাম্মদ কয়ছর আহমেদ, বিশ্বাস জাহাঙ্গীর আলম, মুস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া এবং মোহাম্মদ কামাল হোসেন অংশগ্রহণ করেন।

বৈঠকে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)-এর সার্বিক কার্যক্রম, চলমান আবাসন ও অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প, আর্থিক ব্যবস্থাপনা ও নিরীক্ষা প্রতিবেদন পর্যালোচনা করা হয়।

বৈঠকে পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে জমি অধিগ্রহণে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের প্রাপ্য প্লট দ্রুত নিশ্চিত করার সুপারিশ করা হয়। পাশাপাশি অতীতে প্লট বরাদ্দে সংঘটিত অনিয়ম ও মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। নতুন ভূমিনির্ভর প্রকল্পের পরিবর্তে বহুতল অ্যাপার্টমেন্ট নির্মাণের মাধ্যমে আবাসন সুবিধা সম্প্রসারণের বিষয়েও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে বলা হয়।

রাজধানীতে অনুমোদিত নকশার ব্যত্যয় ঘটিয়ে ভবন নির্মাণ এবং আবাসিক এলাকায় অনুমোদনবহির্ভূত বাণিজ্যিক কার্যক্রম বন্ধে কঠোর পদক্ষেপের সুপারিশ করা হয়। রিয়েল এস্টেট ডেভেলপারদের মাধ্যমে গ্রাহক হয়রানি বন্ধে নিয়মিত নজরদারি ও মোবাইল কোর্ট পরিচালনার পাশাপাশি আইনের কঠোর প্রয়োগ নিশ্চিত করতে রাজউককে নির্দেশনা দেওয়া হয়।

পরিকল্পিত ও টেকসই নগরায়নের লক্ষ্যে সমন্বিত ইউটিলিটি ব‌্যবস্থা ও ভূগর্ভস্থ ক্যাবল ব্যবস্থা, নতুন বাণিজ্যিক ভবনে অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা, পর্যাপ্ত ওয়াশরুম ও নামাজের স্থান নিশ্চিতকরণ এবং ঢাকার লেক সংরক্ষণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। পাশাপাশি ঢাকা শহরে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থার সম্প্রসারণের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের সুপারিশ করা হয়।

বৈঠকে নিরীক্ষা কার্যক্রমে দীর্ঘসূত্রতায় উদ্বেগ প্রকাশ করে আধুনিক ডিজিটাল ব্যবস্থার মাধ্যমে নিরীক্ষা দ্রুত সম্পন্ন ও অডিট আপত্তি নিষ্পত্তির তাগিদ দেওয়া হয়।

বৈঠকে হিসাব মহা নিয়ন্ত্রক, রাজউক চেয়ারম্যান, সিএজি কার্যালয়, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়, রাজউক, জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


নির্বাচিত

মহাখালীতে দাঁড়িয়ে থাকা এসি বাসে আগুন

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) দুপুর ১টা ৩২ মিনিটের দিকে মহাখালী বাস টার্মিনালে দাঁড়িয়ে থাকা এসি বাসে আগুন। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর মহাখালী আন্তঃজেলা টার্মিনালে দাঁড়িয়ে থাকা একটি এসি বাসে আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রায় ৩০ মিনিটের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) দুপুর ১টা ৩২ মিনিটের দিকে মহাখালী বাস টার্মিনালে একটি এসি বাসে আগুন লাগার খবর পায় ফায়ার সার্ভিস।

ফায়ার সার্ভিসের নিয়ন্ত্রণ কক্ষের ডিউটি অফিসার লিমা খানম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, দুপুর ১টা ৩২ মিনিটে নিয়ন্ত্রণ কক্ষে ফোনে মহাখালী আন্তঃজেলা বাস টার্মিনালে একটি এসি বাসে আগুন লাগার খবর আসে। পরে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করে।

তিনি জানান, দুপুর ২টা ২ মিনিটে বাসটির আগুন সম্পূর্ণভাবে নির্বাপণ করা হয়।

প্রাথমিকভাবে আগুন লাগার কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানা যায়নি। এ ঘটনায় কোনো হতাহতের খবরও ফায়ার সার্ভিস পায়নি বলে জানান ডিউটি অফিসার।


নির্বাচিত

সততা ও নিরপেক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করুন: আইজিপি

আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকির বিপিএম। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ (আইজিপি), বাংলাদেশ মো. আলী হোসেন ফকির বিপিএম সততা, আন্তরিকতা ও নিরপেক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে আগামী দিনের টেকসই ও নিরাপদ বাংলাদেশ বিনির্মাণে অগ্রণী ভূমিকা পালনের জন্য নবীন পুলিশ কর্মকর্তাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের হল অব ইন্টেগ্রিটিতে বিভিন্ন ইউনিটে পদায়িত ৪৩তম বিসিএস (পুলিশ) ব্যাচের কর্মকর্তাদের (এএসপি) যোগদানপূর্ব দিকনির্দেশনামূলক ব্রিফিংয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ আহ্বান জানান।

অতিরিক্ত আইজি (প্রশাসন) এ কে এম আওলাদ হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত আইজি (অর্থ) মো. আকরাম হোসেন, অতিরিক্ত আইজি (এইচআরএম) খোন্দকার রফিকুল ইসলাম, অতিরিক্ত আইজি (ডেভেলপমেন্ট) সরদার নূরুল আমিন, অতিরিক্ত আইজি (লজিস্টিকস অ্যান্ড অ্যাসেট অ্যাকুইজিশন) মো. মুশফেকুর রহমান, অতিরিক্ত আইজি (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) মো. সায়েদুর রহমান, অতিরিক্ত আইজি (অডিট অ্যান্ড ইন্সপেকশন) ও নবগঠিত সাইবার পুলিশ ইউনিটের প্রধান মো. ইকবাল হোসেন এবং ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ডিআইজি (প্রশাসন) মো. হুমায়ুন কবীর।

৪৩তম বিসিএস (পুলিশ) ব্যাচে ৭২ জন কর্মকর্তা সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) হিসেবে বাংলাদেশ পুলিশে যোগ দিয়েছেন। তাদের মধ্যে ৬৬ জন পুরুষ ও ৬ জন নারী রয়েছেন।


নির্বাচিত

একদিনে ২৭ টেন্ডারের চুক্তি, পরদিন বিল; গণপূর্ত প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ

# ১০ অভিযোগের তদন্ত দাবি ১৪ ঠিকাদারের
ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ৮ অক্টোবর, ২০২৬ ২০:৫৬
কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি

কিশোরগঞ্জ গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অনিয়ম, ঘুষ-বাণিজ্য, স্বেচ্ছাচারিতা ও সরকারি অর্থ আত্মসাৎসহ অন্তত ১০ ধরনের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগের তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন জেলার ১৪ জন ঠিকাদার।

গত ২১ সেপ্টেম্বর গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলীর কাছে ১৪ জন ঠিকাদারের স্বাক্ষরে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়। একই ধরনের অভিযোগ দেওয়া হয়েছে কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসকের কাছেও।

অভিযোগে বলা হয়েছে, প্রায় তিন বছর ধরে নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার নানা অভিযোগ উঠেছে।

একদিনে ২৭ টেন্ডারের চুক্তি, পরদিন বিল:

ঠিকাদারদের অভিযোগ, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে এলটিএম (লিমিটেড টেন্ডারিং মেথড) পদ্ধতিতে কাজ দেওয়ার নির্দেশনা থাকলেও নির্বাহী প্রকৌশলী অন্তত ৩৫টি কাজ ওটিএম (ওপেন টেন্ডারিং মেথড) পদ্ধতিতে করেছেন। অভিযোগকারীদের দাবি, যেখানে প্রায় ৮০ শতাংশ কাজ এলটিএমে করার কথা, সেখানে অধিকাংশ কাজই ওটিএমে করা হচ্ছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, এসব টেন্ডারের বিজ্ঞপ্তি পত্রিকায় প্রকাশ না করে পছন্দের কয়েকজন ঠিকাদারের মধ্যে কাজ ভাগ করে দেওয়া হয়েছে। এলটিএমে যেখানে ৬০ থেকে ৭০ জন ঠিকাদার অংশ নেন, সেখানে ওটিএমে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা ৫ থেকে ৭ জনে নেমে আসে।

ঠিকাদারদের অভিযোগের সবচেয়ে গুরুতর একটি ঘটনা কিশোরগঞ্জ মডেল মসজিদের ২৭টি কাজ নিয়ে।

অভিযোগে বলা হয়েছে, গত ২১ জুন এসব কাজের জন্য ওটিএম টেন্ডার আহ্বান করা হয়। পরদিন ২২ জুনই চুক্তিপত্র সম্পন্ন করা হয়। এর পরদিন ২৩ জুন কাজের বিলের চেক দেওয়া হয়। ২৭টি কাজই পাঁচজন পছন্দের ঠিকাদারকে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগকারীদের দাবি, এভাবে টেন্ডার প্রক্রিয়া সীমিত করে দেওয়ায় প্রতিযোগিতা কমেছে এবং সরকার রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হয়েছে।

আগের অর্থবছরেও একই অভিযোগ:

২০২৫-২৬ অর্থবছরেও পিপিআর অনুসরণ না করে এলটিএমের পরিবর্তে ওটিএম পদ্ধতিতে কাজ ভাগ করে দেওয়ার অভিযোগ করেছেন ঠিকাদাররা। তাদের দাবি, নির্বাহী প্রকৌশলীর পছন্দের ঢাকা ও কিশোরগঞ্জের কয়েকজন ঠিকাদারকে এসব কাজ দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া ওই অর্থবছরে এপিপিভুক্ত কাজের বিল পরিশোধ না করে ভুয়া বিল-ভাউচারের মাধ্যমে টাকা উত্তোলনেরও অভিযোগ করা হয়েছে।

অভিযোগে আরও দাবি করা হয়েছে, এসব অনিয়মের মাধ্যমে অর্জিত অর্থ দিয়ে নির্বাহী প্রকৌশলী তার নিজ জেলা নাটোরে দুটি বাড়ি নির্মাণ করেছেন।

সরকারি বাসা সংস্কারেও অনিয়মের অভিযোগ:

কিশোরগঞ্জে যোগদানের পর সরকারি বাসা সংস্কারের ক্ষেত্রেও অনিয়মের অভিযোগ করেছেন ঠিকাদাররা।

তাদের দাবি, ঠিকাদারদের কাছ থেকে ৫ শতাংশ করে ‘সিকিউরিটি’ নেওয়া হয়েছে এবং এভাবে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে।

চলতি বছর ঈদুল আজহার আগে ঢাকার এক পরিচিত ঠিকাদারের নামে নয়টি চেকের মাধ্যমে প্রায় ৪৫ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগও করা হয়েছে।

মডেল মসজিদ, মিঠামইন শিল্পকলা একাডেমি, আইনজীবী ভবন ও বিভিন্ন থানা ভবনের কাজ পাইয়ে দেওয়া, অগ্রিম বিল পরিশোধ এবং মিঠামইন শিল্পকলার বাউন্ডারি ওয়াল ও পাইলিংয়ের অনুমোদন দেওয়ার ক্ষেত্রেও অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে।

অফিসে অনুপস্থিতি ও সরকারি গাড়ি ব্যবহারের অভিযোগ:

অভিযোগকারীদের দাবি, নির্বাহী প্রকৌশলী সপ্তাহে দুই থেকে তিন দিনের বেশি অফিস করেন না। তার সঙ্গে দেখা করতে গেলে প্রায়ই ‘ঢাকায় মিটিংয়ে আছেন’ বলে জানানো হয়।

সরকারি গাড়ি ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহারের অভিযোগও করা হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি সরকারি গাড়ি ব্যবহার করে ঢাকা ও নাটোরে যাতায়াত করেন। ২০২৫ সালের জুনের প্রথম সপ্তাহে বিদেশ ভ্রমণের জন্য ছুটি অনুমোদন না পেলেও তিনি ঢাকায় অবস্থান করেন এবং সেখানে তার ব্যক্তিগত ১০ তলা ভবন নির্মাণের কাজে সময় দেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।

কোয়ার্টার সংস্কার না করায় দখলের শঙ্কা:

সরকারি সম্পদ রক্ষায় ব্যর্থতার অভিযোগও রয়েছে নির্বাহী প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে। অভিযোগে বলা হয়েছে, কিশোরগঞ্জের পাট গবেষণা এলাকায় গণপূর্ত বিভাগের কোয়ার্টারে ছয়টি পরিবার বসবাস করত। বসবাসের উপযোগী রাখতে কোয়ার্টারটি সংস্কার করা প্রয়োজন হলেও তা করা হয়নি। ফলে কর্মচারীরা অন্যত্র চলে যেতে বাধ্য হয়েছেন। এতে কোয়ার্টারটি পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে এবং জায়গাটি বেদখল হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এসব অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন জানিয়েছেন ঠিকাদাররা।

অভিযোগগুলো মনগড়া ও ভিত্তিহীন দাবি নির্বাহী প্রকৌশলীর:

তবে তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন কিশোরগঞ্জ গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর। তার দাবি, সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। ঠিকাদারদের মধ্যে দু-একজন তাদের স্বার্থ হাসিলে ব্যর্থ হয়ে দীর্ঘদিন ধরে তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালিয়ে আসছেন। অভিযোগগুলোর বিষয়ে অধিদপ্তর থেকে আগেও তদন্ত হয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, ‘তদন্তে এসব অভিযোগের কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি।’

ঠিকাদারদের অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত হলে অভিযোগগুলোর সত্যতা ও টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অনিয়মের বিষয়টি স্পষ্ট হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।


নির্বাচিত

মধুমতি নদীর ভাঙনে বিপর্যস্ত ছাগলছিড়া, সেবা পেতে ১২ কিলোমিটার ঘুরতে হয়

# ভাঙন আর যোগাযোগ সংকটে ১৫ হাজার মানুষ
ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কার্ত্তিক দাস, নড়াইল

নড়াইল জেলার লোহাগড়া উপজেলার লোহাগড়া ইউনিয়ন। এই ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডে একটি মাত্র গ্রামের নাম ছাগলছিড়া। গ্রামটি জেলার পূর্বপাশের শেষ প্রান্তে অবস্থিত। গ্রামের সীমানায় যুক্ত হয়েছে গোপালগঞ্জ জেলার কাশিয়ানী উপজেলার ঐতিহ্যবাহী ভাটিয়াপাড়া বাজার এবং ফরিদপুর জেলার আলফাডাঙ্গা উপজেলার টগরবন্দ ইউনিয়নের কৃঞ্চপুর গ্রাম।

তিন জেলার সীমান্তে যুক্ত হয়েছে মধুমতি নদী। নদীর তীরে ছাগলছিড়া গ্রামের অবস্থান। এখানকার মানুষের জীবনযাত্রার মান একেবারেই অনুন্নত। প্রতি বছর মধুমতির ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় এখানকার মানুষ স্বপ্ন দেখা ভুলেই গেছে। আধুনিকতার জীবনযাপনের ছোঁয়া না পাওয়ায় চিন্তা-ভাবনায়ও সেকালের রয়ে গেছে।

গত মঙ্গলবার সরেজমিনে দেখা গেছে লোহাগড়া ইউনিয়ন পরিষদ ভবন ইউনিয়নের এক প্রান্তে অবস্থিত। ইউনিয়ন ভূমি অফিসও তাই। মধুমতি নদী ইউনিয়নের এই গ্রামটিকে মূল ইউনিয়ন থেকে বিচ্ছিন্ন করে রেখেছে। ইউনিয়নের খাজনাসহ বিভিন্ন ধরনের সেবাগ্রহণে এই গ্রামের মানুষকে সড়কপথে গোপালগঞ্জ জেলার ভাটিয়াপাড়া হয়ে ১২ কিলোমিটার পথ ঘুরতে হয়। আর নয়তো দেড় কিলোমিটার চওড়ার খরস্রোতা মধুমতি নদী পাড়ি দিয়ে পরিষদে আসতে হয়। দিন শেষে জনপ্রতি প্রায় তিন থেকে চারশ টাকা খরচ হয়।

গ্রামের মধ্য দিয়ে যে ইটের সোলিংয়ের রাস্তা বয়ে গেছে দেখে মনে হয় ব্রিটিশ আমলে এই রাস্তা করা। ভেঙেচুরে খানাখন্দে একাকার। বেশিরভাগ গ্রামীণ রাস্তা মধুমতিতে চলে গেছে। রাতের বেলায় রাস্তা দিয়ে হেটে যেতে চাইলে হোঁচট খেতে হয়। দুর্ভোগের কারণে গ্রামের ছেলেমেয়েরাও ঠিকমতো স্কুলে যেতে চায় না। প্রতিনিয়ত এমন জনদুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন লোহাগড়া ইউনিয়নের ছাগলছিড়া গ্রামে বসবাসকৃত প্রায় পনেরো হাজার মানুষ।

এলাকার মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এক সময়ে ৭০০ থেকে ৮০০ পরিবারের বাস ছিল এই গ্রামে। নদী ভাঙনের কারণে বেশিরভাগ পরিবার বসতবাড়ি হারিয়ে অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছে। ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে ১৪০টি পরিবার। জাতীয় কিংবা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের একমাত্র ভোটকেন্দ্র ছাগলছিড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবনটিও ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।

দুর্ভোগের হাত থেকে পরিত্রাণ পেতে গ্রামবাসী ভূমি অফিস ইউনিয়নের মধ্য স্থানে প্রতিষ্ঠা এবং মধুমতি ভাঙন প্রতিরোধে ভাঙনস্থলে সিসিব্লক ফেলে গ্রামবাসীকে রক্ষার্থে প্রধানমন্ত্রীর সদয় দৃষ্টি কামনা করেছেন। তাদের দাবি গ্রামের মানুষকে দুর্ভোগের হাত থেকে রক্ষা করতে একটি নির্দিষ্ট দিনে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে কর্মকর্তা এই গ্রামে এসে সব ধরনের সহযোগিতার দাবি জানিয়েছেন।

ছাগলছিড়া গ্রামের বয়েজেষ্ঠ মহিলা ফরিদা বেগম বলেন, ‘আমাদের খবর কেউ রাখে না। কেউ খোঁজও নেয় না আমরা বেঁচে আছি না মরে গেছি। নদীভাঙনের এই বিপদের দিনে প্রশাসনিক কর্মকর্তা কিংবা ভোটে নির্বাচিত কোনো জনপ্রতিনিধিও আমাদের দেখতে আসেনি। সাহায্য সহযোগিতা তো দূরে থাক ভাঙন প্রতিরোধে কোনো ব্যবস্থাও নেয়নি।’ তিনি বলেন, ‘আমাদের গ্রামে উন্নয়নের কোনো ছোঁয়া লাগেনি। এক নদীভাঙনেই সবাইকে সর্বশান্ত করে দিচ্ছে।’

ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের গ্রাম পুলিশ নয়ন মোল্যা বলেন, ‘বাপ-দাদার ভিটেমাটি সবই নদী গিলে খাচ্ছে। এবারও প্রায় তিনশ একর ফসলি জমি নদীতে চলে গেছে।’

তিনি বলেন, ’১২-১৪ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে ইউনিয়ন পরিষদে যেতে হয়। দিন শেষে কোনো কোনো দিন খালি হাতে বাড়ি ফিরতে হয়।’

বর্তমানে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের দায়িত্বে আছেন ৯ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলার মো. তাহাজ্জত হোসেন।

তিনি বলেন, ‘ইউনিয়নবাসীর জনদুর্ভোগের কথা উল্লেখ করে জেলা প্রশাসক বরাবরে আবেদন করেছি। আশা করছি জেলা প্রশাসক ইউনিয়নবাসীর জনদুর্ভোগের বিষয়টি অনুধাবন করবেন।’

লোহাগড়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসের সহকারী কর্মকর্তা মো. আব্দুস সালাম বলেন, ‘একটি ওয়ার্ডের বাসিন্দাদের সুবিধার জন্য অস্থায়ীভাবে নতুন করে কোনো অফিস চালু করবেন কি না তা বলতে পারি না।’

তিনি বলেন, ‘ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দারা চরম দুর্ভোগের মধ্যে বসবাস করছেন। অফিসটি ইউনিয়নের মধ্যবর্তী স্থানে হলে সকলের জন্য ভালো হয়। তবে বর্তমান সময়ে ভূমি কর পরিশোধ করতে ভূমি অফিসে আসা লাগে না। অনলাইনের মাধ্যমে ভূমি কর পরিশোধ করা যায়।’ তিনি বলেন, ‘এ ব্যাপারে ওই ওয়ার্ডের বাসিন্দারা এ ব্যাপারে সহযোগিতা চাইলে আমি একদিন ওই গ্রামে যেয়ে বিস্তারিত জানানোর চেষ্টা করব।’


নির্বাচিত

দুই দিনে দুই খুন, খুলনায় চরমপন্থি আতঙ্ক

* দুটি হত্যাকাণ্ডই টার্গেট কিলিং: এসপি  
ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
খুলনা ব্যুরো

একসময় চরমপন্থিদের রক্তাক্ত তৎপরতায় আতঙ্কের জনপদে পরিণত হয়েছিল দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল। সেই পুরোনো আতঙ্কই যেন নতুন করে ফিরে আসার শঙ্কা তৈরি হয়েছে খুলনায়। মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে পাশাপাশি দিঘলিয়া ও রূপসা উপজেলায় গুলি করে হত্যা করা হয়েছে দুজনকে। রোববার (৪ অক্টোবর) দিঘলিয়ায় পূর্ব বাংলার কমিউনিস্ট পার্টির (এমএল-জনযুদ্ধ) আঞ্চলিক নেতা নাসিমুল গণি করিম ওরফে নাসিম (৫৫) এবং সোমবার (৫ অক্টোবর) রূপসার দুর্জনীমহল গ্রামে বাস শ্রমিক আক্তার ঢালী (৫৮) নিহত হন। স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লেও পুলিশ বলছে, প্রাথমিকভাবে দুটি ঘটনাকেই ‘টার্গেট কিলিং’ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

রোববার (৪ অক্টোবর) বেলা পৌনে ১২টার দিকে ফরমাইশখানা এলাকায় নিজের বাড়ির সামনে একটি দোকানে চা পান করার সময় সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত হন নাসিম। হত্যার ৭২ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। স্থানীয়দের অভিযোগ, সিসিটিভি ফুটেজে ঘাতকদের চেহারা স্পষ্ট দেখা গেলেও তাদের পরিচয় শনাক্ত করা যায়নি। এতে পুলিশের তৎপরতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ক্ষুব্ধ ও আতঙ্কিত এলাকাবাসী।

সোমবার (৫ অক্টোবর) রাতে নাসিমের স্ত্রী মোসাম্মাৎ সেলিনা খাতুন বাদী হয়ে অজ্ঞাত ৭-৮ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা করেন।

খুলনা জেলা পুলিশ সুপার সরকার ওমর ফারুক বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ফরমাইশখানা এলাকায় ভৈরব নদকেন্দ্রিক জ্বালানি তেল পাচার চক্রের সঙ্গে ভাগবাটোয়ারা নিয়ে নাসিমের বিরোধ ছিল। স্থানীয় একটি গ্রুপের সঙ্গেও তার দ্বন্দ্ব ছিল। এ দুটি বিষয় সামনে রেখে তদন্ত চলছে। কয়েক দিন আগে ‘ঠাণ্ডা পীর’ নামে পরিচিত এক শীর্ষ চরমপন্থির ছেলের সঙ্গে নাসিমের বিরোধের বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ঘটনাস্থল থেকে ভিডিও ফুটেজসহ অন্যান্য আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে এবং হত্যাকারীদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

এর মধ্যেই সোমবার (৫ অক্টোবর) সন্ধ্যার পর রূপসার দুর্জনীমহল শহীদের মোড় এলাকায় ঢালী বাড়ির সামনে গুলিতে নিহত হন বাস শ্রমিক আক্তার ঢালী। মঙ্গলবার দুপুরে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। এ ঘটনায় প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত মামলা হয়নি।

পুলিশ সুপার বলেন, গত ১৫ আগস্ট আক্তারের বড় ছেলে জয় ঢালীকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। ওই হত্যা মামলার বাদী ছিলেন আক্তার। মামলায় একজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠায় পুলিশ। এরপর গত ২১ সেপ্টেম্বর রূপসা থানায় জিডি করেন আক্তার। সেখানে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য তাকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ করেন তিনি।

জিডিতে আক্তার উল্লেখ করেন, ১৮ সেপ্টেম্বর সেনের বাজারে কর্মরত অবস্থায় মুনজিল শেখ, মোরাদ শেখ, মাসুদ মোল্যা ও রোপা মোল্যাসহ কয়েকজন তাকে একপাশে ডেকে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য হুমকি দেয় এবং হত্যার ভয় দেখায়। জিডিতে তিনি আরও বলেন, তার ছেলের হত্যা মামলার আসামিরা উচ্চ আদালত থেকে জামিন নিয়ে এলাকায় এসে মামলা প্রত্যাহারের জন্য তাকে ও তার পরিবারকে চাপ দিচ্ছে এবং জানমালের ক্ষতির হুমকি দিচ্ছে। তিনি নিরাপত্তার জন্য আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন জানান।

এসপি বলেন, আপাতত এই হুমকির বিষয়টিকেই সামনে রেখে তদন্ত এগোচ্ছে। এটিও ‘টার্গেট কিলিং’ হিসেবে দেখা হচ্ছে। খুলনায় বেশির ভাগ হত্যাকাণ্ডই নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে লক্ষ্য করে হচ্ছে। ইতোমধ্যে একজন পেশাদার কিলারের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে; তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

নিহত আক্তারের ছোট ভাই দিনমজুর আতাউল ঢালী বলেন, তার ভাই রূপসার সেনের বাজারে বাসের কলারম্যান ছিলেন। তার কোনো শত্রু ছিল না। ভাইপো জয় হত্যা মামলার বাদী হওয়ার কারণেই তাকে প্রাণ দিতে হয়েছে বলে তারা মনে করছেন। ঘটনার সময় এলাকায় লোডশেডিং না থাকলেও গুলি করার সময় বাড়ির ভেতর ও বাইরের লাইট বন্ধ হয়ে যায়। অন্ধকারের মধ্যেই তাকে হত্যা করা হয়। এখন তারা চরম নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন।

পরপর দুই হত্যাকাণ্ডে রূপসা ও দিঘলিয়ার বাসিন্দাদের মধ্যে নতুন করে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের অনেকেই এটিকে নিষিদ্ধ চরমপন্থিদের নতুন করে উত্থানের ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন। তাদের ভাষ্য, একসময় রূপসা-দিঘলিয়ায় ‘লাল পতাকা’, বিপ্লবী কমিউনিস্ট পার্টি, নিউ বিপ্লবী কমিউনিস্ট পার্টি, পূর্ব বাংলার কমিউনিস্ট পার্টি (এমএল) ও পূর্ব বাংলার কমিউনিস্ট পার্টি (এমএল-জনযুদ্ধ)সহ বিভিন্ন চরমপন্থী সংগঠনের দৌরাত্ম্য ছিল। পারস্পরিক বিরোধে প্রায় প্রতিদিনই হত্যাকাণ্ড ঘটত। সেই পরিস্থিতি ফিরে আসার আশঙ্কায় সাধারণ মানুষের মধ্যে এখন আতঙ্ক ও ভীতি কাজ করছে।


নির্বাচিত

ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ, অক্টোবর-নভেম্বরে ডেঙ্গুর ভয়াবহ ঝুঁকির আভাস

মশার ওষুধ বা কীটনাশক ছিটিয়ে এডিস মশা নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমের ছবি।
আপডেটেড ৭ অক্টোবর, ২০২৬ ২২:৪৫
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতি মারাত্মক আকার ধারণ করায় জনমনে উদ্বেগ ক্রমেই বাড়ছে। হাসপাতালে রোগীর চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে কর্তৃপক্ষ। শয্যা না পেয়ে মেঝে, বারান্দা ও করিডোরে চিকিৎসা নিচ্ছেন অসংখ্য রোগী। এই পরিস্থিতির মধ্যে অক্টোবর ও নভেম্বর মাসে ডেঙ্গু সংক্রমণ আরও ভয়াবহ হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা।

কেবল মশার ওষুধ বা কীটনাশক ছিটিয়ে এডিস মশা নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয় উল্লেখ করে বিশেষজ্ঞরা প্রজননস্থল ধ্বংস, হটস্পটভিত্তিক লার্ভিসাইডিং এবং দেশব্যাপী একযোগে বিশেষ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা জোরদার করার ওপর তাগিদ দিয়েছেন।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের কীটতত্ত্ববিদ ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. কবিরুল বাশার জানান, বৃষ্টিপাত, তাপমাত্রা, আর্দ্রতা ও মশার ঘনত্ব বিবেচনায় অক্টোবরে ডেঙ্গু পরিস্থিতি অতি-ঝুঁকিপূর্ণ রূপ নিতে পারে। অন্যান্য বছর নভেম্বরে রোগী কমলেও এবার সেই সম্ভাবনা কম। তিনি বলেন, সিটি করপোরেশনগুলোর কাজের তাগিদ থাকলেও এডিস মশার মূল প্রজননস্থল লক্ষ্য করে সঠিক পদক্ষেপ নিতে না পারায় কাঙ্ক্ষিত ফল মিলছে না। তাই এডিস ইজিপ্টাই ও অ্যালবোপিকটাস মশার ডিম পাড়ার জায়গা ধ্বংস করে এবং স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত করে ওষুধ ছিটানো না গেলে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হবে।

পরিস্থিতি মোকাবেলায় ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন তাদের নিয়মিতভাবে বিভিন্ন অভিযান পরিচালনা করছে। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম জানান, ৭৫টি ওয়ার্ডে প্রতি শনিবার 'ক্লিনিং ডে' পালন, চিরুনি অভিযান এবং এডিস মশার ১২ দিনব্যাপী লার্ভা জরিপ ২০২৬ পরিচালনা করা হচ্ছে। অন্যদিকে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম মিল্টন জানান, প্রতি শনিবার বিশেষ মশক নিধন অভিযানের পাশাপাশি বাসাবাড়ি পরিষ্কার রাখার বিশেষ সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন পরিচালনা করা হচ্ছে।

এদিকে সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত জানান, পূর্ববর্তী আশঙ্কা ও বিগত বছরগুলোর তুলনায় এবার সবার সমন্বিত উদ্যোগে ডেঙ্গু আক্রান্তের হার কিছুটা নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তবে অক্টোবর ও নভেম্বরের বাড়তি ঝুঁকি এড়াতে মাঠপর্যায়ে মশক নিধন কার্যক্রমের পাশাপাশি সর্বস্তরের জনসচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।


নির্বাচিত

বদরখালীতে তিনজনের বিরুদ্ধে অস্ত্র মামলা, তদন্তের দাবিতে বিক্ষোভ

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
চকরিয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি

কক্সবাজারের নবগঠিত মাতামুহুরী উপজেলার বদরখালীতে আক্তার মাঝি, তানভীর ও রুকন উদ্দিন নামে তিন নিরীহ মানুষকে রাতের আঁধারে ধরে নিয়ে অস্ত্র দিয়ে ফাঁসানোর অভিযোগ উঠেছে কোস্ট গার্ডের বিরুদ্ধে। এ অভিযোগ তুলে বুধবার সকালে চকরিয়া আদালত চত্বর ও উপজেলা পরিষদ চত্বরে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেছেন তাদের পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা।

মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, রাতের আঁধারে বাড়ি ও আশপাশের এলাকা থেকে ওই তিনজনকে ধরে নিয়ে যাওয়ার পর তাদের বিরুদ্ধে অস্ত্রসংক্রান্ত মামলা দেওয়া হয়েছে। তাদের দাবি, তিনজনের মধ্যে রুকন উদ্দিন একজন ভ্যানচালক ও বুদ্ধি প্রতিবন্ধী, আক্তার আহমদও প্রতিবন্ধী এবং তানভীর বদরখালী ডিগ্রি কলেজের শিক্ষার্থী।

মানববন্ধনে রুকন উদ্দিনের তিন শিশুকন্যাও উপস্থিত ছিল। তারা তাদের বাবাকে নির্দোষ দাবি করে তার মুক্তির দাবি জানায়।

বদরখালী কৃষি উপনিবেশ সমিতির পরিচালক অধ্যাপক বিএম কায়সার বলেন, ‘এ ধরনের লোকজনকে অস্ত্র দিয়ে ফাঁসানো হলে পুরো বদরখালীবাসী লজ্জিত হয়।’ তিনি ঘটনার বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি জানান।

বদরখালী ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ও সমিতির পরিচালক জিয়া উদ্দিন এবং এমইউপি এছাম উদ্দিন বলেন, ‘একজন বুদ্ধি প্রতিবন্ধী রুকন উদ্দিন, প্রতিবন্ধী আক্তার আহমদ ও কলেজছাত্র তানভীরকে জড়িয়ে দেওয়া মামলা প্রত্যাহার করে তাদের মুক্তি দিতে হবে।’

এদিকে বদরখালী কৃষি উপনিবেশ সমিতির ২৪ শেয়ারভুক্ত সাতডালিয়া লটারি ঘোনা পরিচালনা কমিটির সভাপতি নাজেম উদ্দিন ও সম্পাদক মনজুর আলম তাদের সদস্যদের মুক্তির দাবি জানান। একই সঙ্গে তারা ভূমিদস্যু হিসেবে উল্লেখ করা ‘কালু বাহিনীর’ বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি করেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন ব্যক্তি প্রতিবাদ ও নিন্দা জানাচ্ছেন। সাবেক ছাত্রদল নেতা বুলবুল সিকদার এক ফেসবুক পোস্টে ঘটনাটিকে ‘মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্য প্রণোদিত’ দাবি করে এর সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।

বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, মহেশখালী কোস্ট গার্ডের একটি ইউনিট বদরখালী এলাকায় অভিযান চালিয়ে ওই তিনজনকে আটক করে এবং পরে তাদের বিরুদ্ধে অস্ত্রসংক্রান্ত মামলা দেওয়া হয়।

বিক্ষোভকারীরা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, আটক তিনজনের বিষয়ে সুষ্ঠু তদন্ত এবং অভিযোগ প্রমাণিত না হলে তাদের মুক্তির দাবি জানিয়েছেন।


নির্বাচিত

শ্রীমঙ্গলে ১৭৩ মণ্ডপে দুর্গাপূজা, নিরাপত্তায় পুলিশের বিশেষ নজর

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
শ্রীমঙ্গল (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলায় এবার ১৭৩টি মণ্ডপে শারদীয় দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। পূজা শান্তিপূর্ণ ও নির্বিঘ্নে উদযাপন নিশ্চিত করতে প্রতিটি মণ্ডপে সিসি ক্যামেরা স্থাপন, পর্যাপ্তসংখ্যক স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ এবং বিসর্জনস্থলে নিরাপত্তা জোরদারের ওপর গুরুত্ব দিয়েছে পুলিশ।

বুধবার সকালে শ্রীমঙ্গল থানার উদ্যোগে আয়োজিত দুর্গাপূজার আইনশৃঙ্খলাবিষয়ক মতবিনিময় সভায় এসব নির্দেশনা দেওয়া হয়। থানার হলরুমে অনুষ্ঠিত সভায় উপজেলার বিভিন্ন পূজামণ্ডপের কমিটির নেতারা অংশ নেন। এতে সভাপতিত্ব করেন থানার ওসি সরকার আব্দুল্লাহ আল মামুন। সভা সঞ্চালনা করেন উপপরিদর্শক (এসআই) বাবলু কুমার পাল।


সভায় পূজামণ্ডপগুলোর প্রস্তুতি, নিরাপত্তা ও সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়। প্রতিটি মণ্ডপে সিসি ক্যামেরা স্থাপন, পর্যাপ্তসংখ্যক স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা জোরদার, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ এবং বিসর্জনস্থলে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।


ওসি সরকার আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘পূজামণ্ডপগুলোতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সার্বক্ষণিক নজরদারি থাকবে। প্রতিটি মণ্ডপে প্রয়োজন অনুযায়ী পুলিশ ও আনসার সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। ভক্ত ও দর্শনার্থীরা যাতে নির্বিঘ্নে পূজা উদযাপন করতে পারেন, সে জন্য পুলিশ দায়িত্ব পালন করবে।’


তিনি আরও বলেন, ‘ধর্মীয় সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্য বজায় রেখে পূজা উদযাপনে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে হবে।’ কোনো মণ্ডপে সন্দেহজনক ব্যক্তি বা অস্বাভাবিক কর্মকাণ্ড দেখা গেলে দ্রুত পুলিশকে জানানোর জন্য তিনি মন্দির কমিটির নেতাদের প্রতি আহ্বান জানান।


সভায় সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টকারী কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়। পুলিশ, পূজা উদযাপন কমিটি, স্বেচ্ছাসেবক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সমন্বয়ের মাধ্যমে দায়িত্ব পালনের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়।


সভায় বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ মৌলভীবাজার জেলা শাখার সহসভাপতি অজয় কুমার দেব, শ্রীমঙ্গল উপজেলা শাখার ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক সুদীপ দাস রিংকু, শ্রীমঙ্গল প্রেসক্লাবের আহ্বায়ক সৈয়দ সালাউদ্দিন, উপজেলা প্রেসক্লাবের সম্পাদক বিকুল চক্রবর্তী, পৌর পূজা উদযাপন পরিষদের সম্পাদক বিশ্বনাথ দাস চৌধুরী ছোটন, শিক্ষক কল্যাণ দেব ও উপজেলা পূজা ফ্রন্টের সদস্য সচিব বসন্ত গোয়ালাসহ বিভিন্ন পূজামণ্ডপের কমিটির নেতারা উপস্থিত ছিলেন।


নির্বাচিত

রাউজানে ঝুঁকিতে শিক্ষার্থীদের পাঠদান

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
রাউজান (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি

দেওয়ালে ফাটল, ভাঙা পিলার, খসে পড়ছে পলেস্তারা। বাইরে থেকে দেখলে মনে হতে পারে পরিত্যক্ত কোনো ভবন। অথচ এই ভবনেই প্রতিদিন চলছে দুই শতাধিক শিক্ষার্থীর পাঠদান। চট্টগ্রামের রাউজানের ৪১নং সুলতানপুর প্রসন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চিত্র এটি।

১৮৯৮ সালে প্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয়টির বর্তমান ভবন নির্মাণ করা হয় ১৯৯২ সালে। এরপর পেরিয়ে গেছে প্রায় ৩৬ বছর। কিন্তু নতুন ভবন নির্মাণ হয়নি। দীর্ঘদিনের পুরোনো ভবনটি এখন বিভিন্ন স্থানে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়েছে। ভবনের দেওয়াল ও পিলারের এমন অবস্থায় শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। আটজন নারী শিক্ষকসহ দুই শতাধিক শিক্ষার্থী প্রতিদিন এই ভবনেই পাঠদান করছে।

বিদ্যালয়ে নেই মানসম্মত ওয়াশব্লক। পুরোনো ওয়াশব্লক ব্যবহার করেই শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের দৈনন্দিন প্রয়োজন সারতে হচ্ছে। পাশাপাশি রয়েছে বিশুদ্ধ পানির সংকট। বিদ্যালয়ের পরিবেশগত সমস্যাও রয়েছে। সামান্য বৃষ্টি হলেই প্রাঙ্গণের বিভিন্ন স্থানে পানি জমে যায়। এতে শিক্ষার্থীদের চলাচলে দুর্ভোগের পাশাপাশি ব্যাহত হয় স্বাভাবিক পাঠদান।

শিক্ষার্থী জয়ন্তী বিশ্বাস বলেন, ‘আমাদের বিদ্যালয়ের ভবন অনেক পুরোনো। দেওয়ালে ফাটল ও পিলারের ক্ষতি দেখে মাঝেমধ্যে ভয় লাগে। বৃষ্টি হলে বিদ্যালয়ের মাঠেও পানি জমে যায়। আমরা একটি নিরাপদ ও সুন্দর ভবনে ক্লাস করতে চাই। দ্রুত নতুন ভবন নির্মাণের ব্যবস্থা করার দাবি জানাই।’

প্রধান শিক্ষিকা শামীম আরা বেগম জানান, দীর্ঘদিনের পুরোনো হওয়ায় বিদ্যালয়ের ভবনটি বর্তমানে বেশ ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। ভবনের বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা দিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কয়েকটি পিলার। ফলে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা রয়েছে। একই সঙ্গে বিদ্যালয়ে মানসম্মত ওয়াশব্লক ও বিশুদ্ধ পানির সংকট রয়েছে। সামান্য বৃষ্টি হলেই বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে পানি জমে যায়। এসব সমস্যা দ্রুত সমাধানের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি।

সচেতন মহলের দাবি, বিদ্যালয়ের জরাজীর্ণ ভবনে পাঠদান চালিয়ে যাওয়া শিক্ষার্থীদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। তাই শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্রুত নতুন ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নিতে হবে। পাশাপাশি বিদ্যালয়ে মানসম্মত ওয়াশব্লক, বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা এবং জলাবদ্ধতা নিরসনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান তারা।

এ বিষয়ে রাউজান উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. নুরুন্নবী বলেন, ‘বিদ্যালয়ের সমস্যাগুলো আমাদের নজরে রয়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে।’


নির্বাচিত

কৃষি উদ্যোক্তাদের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে হবে

# হুইপ রকিবুল
ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
খুলনা ব্যুরো

বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের হুইপ রকিবুল ইসলাম বলেছেন, ‘খুলনা অঞ্চলের এবং দেশের উন্নয়নে কৃষি উদ্যোক্তাদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার সুযোগ রয়েছে। এটি একটি সম্ভাবনাময় খাত। সৃজনশীল কৃষি উদ্যোক্তারা মানসম্মত খাদ্যপণ্য উৎপাদন করে ভেজালমুক্ত খাদ্যপণ্যের বাজার সম্প্রসারণে অবদান রাখতে পারেন। আগামীতে উদ্যোক্তাদের জন্য কৃষিপণ্য একটি বৃহৎ খাতে পরিণত হবে।’

তিনি গতাকল বুধবার বিকালে কৃষি প্রণোদনা ও পুনর্বাসন কার্যক্রমের আওতায় কৃষি উদ্যোক্তাদের মধ্যে কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ উপকরণ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন।

জেলা প্রশাসন ও সিনিয়র কৃষি বিপণন কর্মকর্তার কার্যালয় আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক হুরে জান্নাত। এ সময় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) বিতান কুমার মণ্ডল, কৃষি সম্প্রসারণ দপ্তরের উপপরিচালক মো. নজরুল ইসলাম, জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. আব্দুল করিমসহ কৃষি উদ্যোক্তারা উপস্থিত ছিলেন।


নির্বাচিত

রূপগঞ্জের বিলে কচুরিপানা, ভরাটে ধ্বংস দেশি মাছের ‘আঁতুড়ঘর’

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ৭ অক্টোবর, ২০২৬ ২১:২২
রূপগঞ্জ প্রতিনিধি

কচুরিপানায় ঢাকা রূপগঞ্জের খাল বিল। পুকুরগুলোতে সারা বছর পানি থাকত, সেই পানিতে ঘুরে বেড়াত বোয়াল, আইড়, চিতল, রুই, কাতলাসহ দেশি নানা প্রজাতির মাছ। আবাসন কোম্পানি বালি ফেলে মাছের প্রজনন ক্ষেত্র খাল বিল পুকুরগুলো ভরাট করে ফেলেছে। রূপগঞ্জের মাছের সুখ্যাতি ছিল মেরাদিয়া, বনশ্রী, রামপুরা, মাদারটেক, বাসাবো, নন্দীপাড়া, ডেমড়া, স্টাফ কোয়ার্টারসহ রাজধানীর আশপাশের এলাকাগুলোতে।

সরেজমিনে উপজেলার নগরপাড়া বিলে গিয়ে দেখা যায়, গোটা বিল কচুরিপানায় ঢাকা। একসময় বিলটি ছিল দেশি মাছের গুরুত্বপূর্ণ প্রজননস্থল। রূপগঞ্জের মাছ ছড়িয়ে পড়ত বিস্তীর্ণ এলাকায়। একই সঙ্গে এটি ছিল জেলেদের জীবিকার অন্যতম উৎস। দখল ও ভরাটে সেই জলাধার হারিয়ে গেছে। নদী শুকালেও এসব বিলে পানি থাকত।

আগরপাড়ার বাসিন্দা ছমিরুন খাতুনের (৬৫) স্মৃতিতেও ভেসে আছে সেসব দিন। তিনি বলেন, ‘আশপাশের মানুষ বিলের পানি ব্যবহার করতেন।’ ছোটবেলায় তিনি দেখেছেন, সনাতন ধর্মাবলম্বীরা পানিতে এসে পূজা করতেন।

স্থানীয় আবুল হোসেন (৬৫) ও সঞ্জিবন সরকার (৬৬) বলেন, ‘খাল-বিলগুলোতে এখন বালু আর কচুরিপানার বিস্তার। পানির সেই গভীরতা নেই, নেই মাছের ঝাঁক ও জেলেদের ব্যস্ততা।’

বিলের ওপর বাঁধ দিয়ে চলাচলের পথ তৈরি করা হয়েছে। ফুরিয়েছে মাছ, ফুরিয়েছে আয়। একসময় জেলেরা মাছ ধরে জীবন-জীবিকা চালাতেন জানিয়ে ব্যবসায়ী জাহিদুর রহমান (৫৭) বলেন, ‘ভরাট আর দখলে দেশি প্রজাতির মাছও আর আগের মতো দেখা যায় না।’

মশুরী এলাকায় বসবাস করে কয়েকটি জেলে পরিবার। তাদের একজন মানিক সরকার (৫০)। একসময় মাছ ছিল তাদের আয়-রোজগারের বড় উৎস। তিনি বলেন, ‘নদীর পশ্চিম পাশে বালু ফেলে সব ভরাট করে ফেলেছে। এখন পানিও নেই, মাছও নেই, জেলেদের সেই আয়ও নেই।’

স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, একটি বিল হারিয়ে যাওয়ার অর্থ শুধু একটি জলাধার হারিয়ে যাওয়া নয়, এর সঙ্গে হারিয়েছে দেশি মাছের প্রজনন ও আবাসস্থল, জেলেদের জীবিকার একটি উৎস এবং এলাকার পুরোনো সামাজিক ও ধর্মীয় ঐতিহ্যের একটি অংশ। বিল ও জলাভূমি রক্ষা করা গেলে জীববৈচিত্র্যও ফিরিয়ে আনা সম্ভব বলে তারা মনে করেন।

এ বিষয়ে কথা হয় উপজেলার জ্যেষ্ঠ মৎস্য কর্মকর্তা ফিরোজ আহমেদ মৃধার সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘খাল-বিল ভরাট করে ফেললে তো মাছের প্রজনন ক্ষেত্র ধ্বংস হবেই। মাছের উৎপাদন কমে যাবে। জেলেদের আয় রোজগার কমে যাবে। মৎসজীবীরা বেকার হবে। জলাশয় রক্ষা করতে হবে। তা না হলে একসময় রূপগঞ্জ থেকে দেশি জাতের মাছ হারিয়েই যাবে।’


নির্বাচিত

রাজধানীতে ভেজাল ঔষধ তৈরির সরঞ্জামসহ গ্রেপ্তার ৩

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকা থেকে বিপুল পরিমাণ ভেজাল ও অনুমোদনহীন ঔষধ এবং ঔষধ তৈরির সরঞ্জামসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা ওয়ারী বিভাগ। গত মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ডিবি ওয়ারী বিভাগের একটি দল মোহাম্মদপুর থানাধীন ঢাকা উদ্যান রোডের ব্লক-সি-এর একটি ভবনের তৃতীয় তলার একটি ফ্ল্যাটে অভিযান চালিয়ে সেখান থেকে তাদের গ্রেপ্তার করে।

বুধবার (৭ অক্টোবর) ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া ও পাবলিক রিলেশন্স বিভাগ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়, গ্রেপ্তাররা হলো আব্দুল্লা আল-মামুন (৪২), মো. সাজু (৩৩) ও মো. সজীব (২৬)।

অভিযানে তাদের কাছ থেকে বিভিন্ন ধরণের সিরাপ, ক্যাপসুল, শ্যাম্পু, ফেসওয়াশ, হাইজিন ওয়াশ, সাবান, পাউডার, ট্যাবলেটসহ বিপুল পরিমাণ ভেজাল ঔষধ এবং বিভিন্ন ধরণের প্যাকেজিং সামগ্রী উদ্ধার করা হয়।

এছাড়া ঔষধ তৈরির কাজে ব্যবহৃত তিনটি সিলিন্ডার, একটি ফুয়েল লাগানোর মেশিন, দুইটি ক্যাপসুল ভরার মেশিন, ১০ কেজি ফুয়েল (পলিথিন), ছয়টি ক্যাপসুল ভরার যন্ত্রাংশ এবং দুইটি লেভেল লাগানোর সাঁচ জব্দ করা হয়েছে। উদ্ধার সামগ্রীর মধ্যে শিশুদের জন্য ব্যবহৃত কয়েকটি সিরাপ ও লিকুইড পণ্যও রয়েছে।


নির্বাচিত

banner close