শনিবার, ৮ আগস্ট ২০২৬
২৩ শ্রাবণ ১৪৩৩

কমলগঞ্জে টিলা ধসে চা শ্রমিকের মৃত্যু

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড
৩১ মে, ২০২৪ ১৪:৫৮
মৌলভীবাজার ও কমলগঞ্জ (শ্রীমঙ্গল) প্রতিনিধি
প্রকাশিত
মৌলভীবাজার ও কমলগঞ্জ (শ্রীমঙ্গল) প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ৩১ মে, ২০২৪ ১৪:৫৭

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার আদমপুর বনবিটের অধীন কালেঞ্জি খাসিয়া পুঞ্জি এলাকায় টিলা ধসে গীতা কাহার (৩০) নামে এক নারী চা শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে ঘটনাটি ঘটে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও তিন শ্রমিক।

স্থানীয়রা জানান, কমলগঞ্জ উপজেলার সীমান্তবর্তী মাধবপুর ইউনিয়নের পাত্রখোলা চা বাগানের নারীসহ কয়েকজন শ্রমিক পার্শ্ববর্তী আদমপুর বনবিট এলাকার কালেঞ্জি খাসিয়া পুঞ্জিতে কাজ করতে যান। এসময় একটি টিলার অংশ ধসে পড়লে মাটি চাপায় তার মৃত্যু হয়।

গীতা কাহার পাত্রখোলা চা বাগানের নতুন লাইনের মৃত শংকর কাহারের কন্যা। আহতদের পাত্রখোলা চা বাগান হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে বলে জানান স্থানীয় ইউপি সদস্য দেবাশীষ চক্রবর্তী শিপন।

আদমপুর ইউপি চেয়ারম্যান মো. আবদাল হোসেন ও মাধবপুর ইউপি চেয়ারম্যান মো. আসিদ আলী ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ‘তারা বনবিট এলাকায় খাসিয়া পুঞ্জিতে কাজে ছিল। বৃহস্পতিবার বিকেলে মরদেহ পরিবার সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।’

কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জয়নাল আবেদীন বলেন, ‘ঘটনার সংবাদ পেয়েছি। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মধ্যে সরকারিভাবে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হবে।’

বিষয়:

নির্বাচিত

আমি থাকি বা না-থাকি, নিরাপদ সড়কের আন্দোলন যেন অব্যাহত থাকে: ইলিয়াস কাঞ্চন

চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন।
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

নিরাপদ সড়কের দাবিতে দীর্ঘ তিন দশকের বেশি সময় ধরে আন্দোলন করছেন চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন। ১৯৯৩ সালে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান তার প্রথম স্ত্রী জাহানারা কাঞ্চন। সেই পরিপ্রেক্ষিতে একই বছর তিনি গড়ে তোলেন ‘নিরাপদ সড়ক চাই’ (নিসচা) নামের একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। শুক্রবার (৭ আগস্ট) রাজধানীর বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালায় অনুষ্ঠিত হয় সংগঠনটির এক মহাসমাবেশ।

সেখানেই ‘বেদের মেয়ে জোসনা’খ্যাত নায়ক বলেন, ‘নিরাপদ সড়ক প্রতিষ্ঠার এই আন্দোলন এখন আর কোনো ব্যক্তি বা সংগঠনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এটি দেশের মানুষের আন্দোলনে পরিণত হয়েছে।’ সবাইকে আহ্বান জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘আমি থাকি বা না-থাকি, নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করার দাবিতে আন্দোলন যেন অব্যাহত থাকে।’

বক্তব্যের শুরুতেই নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের দীর্ঘ পথচলার কথা তুলে ধরে বলেন ইলিয়াস কাঞ্চন। তিনি বলেন, ‘৩১ বছর আগে আমার জীবনের গভীর শোক ও বেদনাকে শক্তিতে রূপান্তর করে এই আন্দোলন শুরু করেছিলাম। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই উদ্যোগ এখন দেশের লাখো মানুষের প্রত্যাশা ও অধিকারের দাবিতে পরিণত হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘নিরাপদ সড়ক প্রতিষ্ঠা কোনো একক ব্যক্তি বা একটি সংগঠনের দায়িত্ব নয়। সরকার, প্রশাসন, পরিবহন মালিক-শ্রমিক, চালক এবং সাধারণ মানুষ সবাইকে একসঙ্গে দায়িত্ব নিতে হবে। মানুষের জীবন রক্ষার এই লড়াইয়ে কেউ কারও প্রতিপক্ষ নয়, বরং সবাই একই লক্ষ্য অর্জনের সহযোদ্ধা।’বর্তমানে ব্রেন টিউমারের সঙ্গে লড়াই করছেন ইলিয়াস কাঞ্চন। মাঝে দীর্ঘ একবছরের বেশি সময় লন্ডনে চিকিৎসাধীন ছিলেন। সম্প্রতি চিকিৎসা বিরতিতে দেশে ফেরেন তিনি।

মহাসামবেশে নিজের শারীরিক অবস্থার কথাও তুলে ধরেন একসময়ের জনপ্রিয় এই চিত্রনায়ক। অসুস্থতার কারণে আগের মতো সক্রিয় থাকতে না পারার কথা জানিয়ে মহান আল্লাহর কাছে সুস্থতা কামনা করেন তিনি। একইসঙ্গে দেশের মানুষের নিরাপত্তা, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করেন। আবেগঘন বক্তব্যে উপস্থিত সবার উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘নিরাপদ সড়ক প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন আপনাদের হাতে তুলে দিয়ে যাচ্ছি, আমি না থাকলেও আপনারা এই দাবিকে বাঁচিয়ে রাখবেন এবং বাস্তবায়নের জন্য নিরলসভাবে কাজ করে যাবেন।’

নিসচা’র এই মহাসমাবেশে সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, সড়ক ও যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিবসহ বিভিন্ন পর্যায়ের অতিথি, সংগঠনের নেতাকর্মী ও সমর্থকেরা উপস্থিত ছিলেন।


নির্বাচিত

গণতন্ত্রের বিকাশে স্বাধীন সাংবাদিকতার বিকল্প নেই: তথ্যমন্ত্রী

তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন । ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, ‘গণতন্ত্রের বিকাশে স্বাধীন সাংবাদিকতার কোনো বিকল্প নেই। বর্তমান সময়ে গণমাধ্যমের ওপর সরকারের পক্ষ থেকে অতীতের মতো কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। সরকার বিশ্বাস করে, একটি টেকসই গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তুলতে স্বাধীন, দায়িত্বশীল ও বস্তুনিষ্ঠ গণমাধ্যমের ভূমিকা অপরিহার্য। শুক্রবার (৭ আগস্ট) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে টেলিভিশন এডিটরস কাউন্সিল আয়োজিত ‘টেকসই গণতন্ত্রে গণমাধ্যমের ভূমিকা’ শীর্ষক সেমিনারে তথ্যমন্ত্রী এ কথা বলেন।

জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, ‘গণমাধ্যমের ওপর সরকারের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে যে উদ্বেগ একসময় ছিল, বর্তমান বাস্তবতায় সেই পরিস্থিতি নেই। অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া বক্তারাও সরকারের বর্তমান অবস্থানকে ইতিবাচক হিসেবে মূল্যায়ন করেছেন। তিনি বলেন, আলোচকদের এই পর্যবেক্ষণ ও মতামত আমি সরকারপ্রধানের কাছেও পৌঁছে দেব।’

তিনি বলেন, ‘একটি স্বাধীন ও দায়িত্বশীল গণমাধ্যম যেমন টেকসই গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় সহায়ক, তেমনি গণতান্ত্রিক পরিবেশও শক্তিশালী গণমাধ্যম বিকাশের জন্য প্রয়োজনীয়। তাই এই দুই বিষয়কে পরস্পরের পরিপূরক হিসেবে দেখতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘সংবাদমাধ্যম কেবল একটি সামাজিক প্রতিষ্ঠান নয়, এটি একটি শিল্পও। ফলে এ খাতে বিনিয়োগ, পরিচালনা এবং মুনাফার বিষয়ও রয়েছে। তবে একই সঙ্গে গণমাধ্যমের রয়েছে জনস্বার্থ রক্ষা, জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা এবং রাষ্ট্র ও সমাজের প্রতি দায়িত্ব পালনের মতো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। তাই এই খাতকে এমন একটি প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর মধ্যে আনতে হবে, যেখানে মালিক, সাংবাদিক, বিজ্ঞাপনদাতা এবং সরকারের স্বার্থের মধ্যে ভারসাম্য বজায় থাকবে।’

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘গণমাধ্যমের ইকোসিস্টেম এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি জটিল। প্রচলিত সংবাদপত্র ও টেলিভিশনের পাশাপাশি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোও এখন এই ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, যা তথ্যপ্রবাহ ও সংবাদ পরিবেশনের ধরন বদলে দিচ্ছে। এই পরিবর্তিত বাস্তবতা বিবেচনায় রেখে নতুন প্রজন্মের গণমাধ্যম গড়ে তোলার সুযোগ কাজে লাগাতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘সরকার গণমাধ্যমকে নিয়ন্ত্রণ নয়, বরং কার্যকর নীতিমালার মাধ্যমে একটি সুস্থ ও টেকসই পরিবেশ নিশ্চিত করতে চায়। এমন পরিবেশ গড়ে তুলতে পারলে গণমাধ্যমে বিনিয়োগ বাড়বে, সাংবাদিকদের জন্য উন্নত বেতন-কাঠামো, কর্মপরিবেশ ও পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সহজ হবে।’

জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, ‘সাংবাদিকতা এমন একটি পেশা, যা রাষ্ট্র ও সমাজের অন্যতম ভিত্তি হিসেবে কাজ করে। তাই এ পেশার মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। তবে এর জন্য সরকার একা কাজ করতে পারবে না; গণমাধ্যমের মালিক, সাংবাদিক, বিজ্ঞাপনদাতা এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সমন্বিতভাবে এগিয়ে আসতে হবে।’

ডিজিটাল যুগের চ্যালেঞ্জ প্রসঙ্গে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমানে সবচেয়ে বড় লড়াই হচ্ছে সঠিক তথ্য ও অপতথ্যের মধ্যে। তাই বস্তুনিষ্ঠ, নির্ভুল ও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। একই সঙ্গে ভুয়া ও বিভ্রান্তিকর তথ্যের বিরুদ্ধে কার্যকর ভূমিকা পালন করাও সাংবাদিকতার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।’


নির্বাচিত

মেঘনা নদীতে সক্রিয় জ্বালানি তেল পাচারকারী চক্র

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

কিশোরগঞ্জের ভৈরব ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ অংশের মেঘনা নদীতে সরকারি পাইপলাইন ও তেলবাহী জাহাজ থেকে রাতের বেলা জ্বালানি তেল (কনডেনসেট) চুরি ও পাচারের অভিযোগ উঠেছে একটি চক্রের বিরুদ্ধে। দীর্ঘদিন ধরে চলা এ কর্মকাণ্ডে সরকার বিপুল রাজস্ব হারাচ্ছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, আশুগঞ্জ প্রান্তে কনডেনসেট হ্যান্ডলিং স্থাপনা থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে জাহাজে তেল লোডের সময় এবং জাহাজ নদীতে অবস্থানকালে সংঘবদ্ধ একটি চক্র বিভিন্ন কৌশলে কনডেনসেট সংগ্রহ করে পাচার করছে। চক্রটি নৌ পুলিশ, আশুগঞ্জ প্রশাসনের কতিপয় ব্যক্তি, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতা ও কিছু সাংবাদিককে মাসোহারা দিয়ে প্রতি মাসে অর্ধকোটি টাকার বেশি অপরিশোধিত জ্বালানি তেল পাচার করছে।

সাধারণত, পেট্রোবাংলার অধীনস্থ রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি লিমিটেডের (আরপিজিসিএল) আশুগঞ্জ কনডেনসেট হ্যান্ডলিং স্থাপনা থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে তেলবাহী জাহাজে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল লোড করা হয়। পরে এসব জাহাজ চট্টগ্রামে নিয়ে গিয়ে তেল পরিশোধন করা হয়। চোরচক্র গভীর রাতে স্টিলের নৌকার মাধ্যমে পাইপলাইন ও জাহাজ থেকে ড্রামভর্তি করে কনডেনসেট সংগ্রহ করে। পরে নদীপথে সেগুলো ভৈরব বাজারের বিভিন্ন ঘাট দিয়ে খালাস করে।

অভিযোগ রয়েছে, এসব অপরিশোধিত কনডেনসেট পরে ভৈরবসহ কিশোরগঞ্জ, কটিয়াদী, নেত্রকোনা, নরসিংদী ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করা হয়।

প্রতি সপ্তাহে আনুমানিক ৭৫ ড্রাম এবং মাসে ৩০০ ড্রাম কনডেনসেট চুরি ও পাচারের অভিযোগ রয়েছে খোরশেদ মিয়ার নেতৃত্বাধীন চক্রের বিরুদ্ধে। সে হিসাবে প্রতি মাসে প্রায় ৬০ হাজার লিটার কনডেনসেট পাচার করেন তিনি। খোলা বাজারে এর বিক্রিমূল্য প্রতি লিটার ১১০ টাকা হিসেবে প্রায় ৬৬ লাখ টাকা।

অভিযোগ রয়েছে, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে কয়েকজন প্রভাবশালী নেতার ছত্রচ্ছায়ায় সরকারি কনডেনসেট চুরি ও পাচার সিন্ডিকেট গড়ে তোলেন সোহরাফ হোসেন নামে এক ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা। ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পরিবর্তনের পর ওই সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রণ ভৈরবের পাশের রায়পুরা উপজেলার গৌরিপুর এলাকার খোরশেদ মিয়ার হাতে যায়। খোরশেদ মিয়ার নিয়ন্ত্রণাধীন চক্রে রুবেল মিয়া, আলামিন মিয়া ও নিয়ামত মিয়াসহ আরও কয়েকজন জড়িত রয়েছে।

অভিযুক্ত চক্রের সদস্য রুবেল মিয়া বলেন, ‘আমি ও আলামিন ভাই খোরশেদ ভাইয়ের অধীনে কাজ করি। খোরশেদ ভাইয়ের মাল আমরাই তদারক করি। নদী থেকে এনে বিভিন্ন তেলের ঘরে পৌঁছে দেই। ১১০ টাকা লিটার কনডেনসেট তেল আমরা বিক্রি করি। এটা অনেক ভারী তেল, খনির তেল। যারা আমাদের কাছ থেকে নেয়, তারা অন্য তেলের সঙ্গে মিশিয়ে বিক্রি করে। কিন্তু, মানুষ মনে করে এটা চুরি, আসলে চুরি না। জাহাজে ১৪টি হোস্ট পাইপ থাকে। তেল লোডের পর হোস্ট পাইপগুলো আমাদের লোকেরা টেনে তোলার সময় তেল আমরা নৌকায় ফিমা দিয়ে নিয়ে আসি। পরে ড্রামে লোড করি। সেটার জন্য জাহাজের কাউকে টাকা দিতে হয়না। খোরশেদ ভাইয়ের নৌকা দিয়ে জাহাজের বিভিন্ন কাজকর্ম করে দেই, এরজন্য জাহাজ থেকে বেতনও দেয়না। সবাই এইটারে অবৈধ বানাইয়া ফেলছে।’

অভিযুক্ত আলামিন মিয়ার বক্তব্য, ‘বৈধভাবে পে-অর্ডারের মাধ্যমে মেঘনা ডিপো থেকে তেল সংগ্রহ করে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে সরবরাহ করি আমরা। আমরা কোনো চোরাই তেল ব্যবসার সঙ্গে জড়িত নই। নিয়ম অনুযায়ী ডিপো থেকে খোরশেদ ভাইয়ের তেল সংগ্রহ করছি।’

তবে তেল পাচার চক্রের মূলহোতা হিসেবে অভিযুক্ত খোরশেদ মিয়ার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

ভৈরব পৌর যুবদলের সভাপতি মো. হানিফ মাহমুদ বলেন, ‘এই নির্বাচনের আগে খোরশেদ মিয়ার নেতৃত্বে তেল পাচার চক্রটি নৌকায় করে জগন্নাথপুরে তেল খালাস করতো। অবৈধ কার্যক্রমে আমরা যুবদলের নেতাকর্মী নিয়ে ধাওয়া দিলে তারা পালিয়ে যায়।’

স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, সরকারি জ্বালানি তেলের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা, নিরাপত্তাকর্মী এবং তেলবাহী জাহাজের দায়িত্বে থাকা লোকজনের যোগসাজশ ছাড়া পাইপলাইন ও জাহাজ থেকে নিয়মিত তেল পাচার সম্ভব নয়। তারা কিশোরগঞ্জ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসন, নৌ পুলিশ, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং গোয়েন্দা সংস্থার মাধ্যমে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। অভিযোগের সত্যতা মিললে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা এবং স্থায়ী নজরদারি ব্যবস্থা গড়ে তোলারও দাবি জানিয়েছেন তারা।

ভৈরব নৌ পুলিশের ইনচার্জ ইন্সপেক্টর মনিরুজ্জামান বলেন, ‘যদি সরকারি তেল চুরি হয়, কর্তৃপক্ষ অভিযোগ করলে আমরা সেটা দেখব। তেল কর্তৃপক্ষ মামলা করুক, নইলে স্কর্ট করার জন্য এসপি স্যারকে চিঠি দিলে এসপি স্যার আমাদেরকে নির্দেশনা দিলে আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।’

নৌ পুলিশ কিশোরগঞ্জ অঞ্চলের পুলিশ সুপার কে.এম আরিফুল হক বলেন, ‘নদীতে তেল পাচারের বিষয়টি আমার জানা নাই। জানলে তো আইনানুগ ব্যবস্থা নিতাম, যদি আমার এরিয়া বা এখতিয়ারের মধ্যে হয়।’

আশুগঞ্জ কনডেনসেট হ্যান্ডলিং স্থাপনার উপমহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) প্রকৌশলী এ.কে.এম রকিবুল ইসলাম মুঠোফোনে বলেন, ‘জাহাজের চাহিদা অনুযায়ী কনডেনসেট সরবরাহ করা হয় এবং পুরো প্রক্রিয়া ডিজিটাল সিস্টেমের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত ও গণনা করা হয়। পাইপলাইন থেকে তেল পাচারের সুযোগ নেই।’ তিনি আরও বলেন, ‘জাহাজ থেকে কেউ তেল চুরি করে থাকলে সেটি ভিন্ন বিষয়। বিগত সরকারের আমলে একটি চক্র হোস্ট পাইপ ছিদ্র করে কিছু কনডেনসেট সরিয়ে নিত। এটা কর্তৃপক্ষ অবগত হওয়ায় সিকিউরিটি জোরদার করে। ৪টি কোম্পানি এখান থেকে তাদের চাহিদা অনুযায়ী কনডেনসেট নেয়। তেলবাহী জাহাজের লোকজনের যোগসাজশে পাচার হতে পারে। সেটা সরকারি সম্পত্তি (কনডেনসেট) পাচার বলা যাবে না।’


নির্বাচিত

ছয়জনের সরাসরি সম্পৃক্ততার তথ্য পেয়েছে পিবিআই

কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী সোহাগী জাহান তনু । ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কুমিল্লা প্রতিনিধি

কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী সোহাগী জাহান তনু হত্যা মামলায় এক দশক পর তদন্তে বড় ধরনের অগ্রগতির খবর সামনে এসেছে। মামলার গুরুত্বপূর্ণ আলামতের ডিএনএ বিশ্লেষণে পাঁচজনের শুক্রাণু এবং এক ব্যক্তির রক্তের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। এ তথ্যের ভিত্তিতে ছয়জন সরাসরি সম্পৃক্ত থাকতে পারেন ধরে তদন্ত জোরদার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। শুক্রবার (৭ আগস্ট) মামলার বর্তমান তদন্ত কর্মকর্তা ও পিবিআই পরিদর্শক মো. তরিকুল ইসলাম এ তথ্য জানান।

তদন্ত সূত্রে জানা গেছে, আদালতের নির্দেশে ইতোমধ্যে চার সাবেক সেনাসদস্য ও এক বেসামরিক ব্যক্তির ডিএনএ নমুনা সংগ্রহের অনুমতি পাওয়া গেছে। পরে গত ১৭ জুলাই আরও দুজনের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহের নির্দেশ দেন আদালত। তারা হলেন কুমিল্লা রাজাপাড়ার ফয়সাল আহমেদ রাব্বি এবং সিরাজগঞ্জের কাজীপুরের বাসিন্দা সাবেক সেনাসদস্য জাহিদুল ইসলাম। তবে তদন্তের স্বার্থে ষষ্ঠ সন্দেহভাজনের পরিচয় এখনই প্রকাশ করা হয়নি।

ডিএনএ প্রতিবেদনের সূত্র ধরে গত এপ্রিলে সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার হাফিজুর রহমানকে গ্রেপ্তার করে পিবিআই। তদন্তে উঠে এসেছে, মামলার প্রধান দুই সন্দেহভাজন সাবেক সার্জেন্ট জাহিদুজ্জামান জাহিদ ও সাবেক সেনাসদস্য শাহীন আলম দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেছেন। ইতোমধ্যে জাহিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে এবং ইন্টারপোলের মাধ্যমে ‘রেড নোটিশ’ জারিরও নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

তদন্তকারীদের দাবি, অভিযুক্ত শাহীন আলম গত এপ্রিলে গোপনে কুয়েতে পালিয়ে যান। তার ব্যবহৃত দুটি মোবাইল ফোন নম্বর বর্তমানে বন্ধ রয়েছে। তবে প্রযুক্তিগত অনুসন্ধানে তার সর্বশেষ অবস্থান হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর পর্যন্ত শনাক্ত করেছে পিবিআই।

তনুর বাবা ইয়ার হোসেন অভিযোগ করে বলেন, শুরু থেকেই এ ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চলেছে। প্রথম ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে বিভ্রান্তিকর তথ্য দেওয়া চিকিৎসকের বিরুদ্ধে এখনও কোনো প্রশাসনিক বা আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

তিনি দাবি করেন, সার্জেন্ট জাহিদ ও তার স্ত্রীকে রিমান্ডে নিয়ে কঠোর জিজ্ঞাসাবাদ করলে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য উন্মোচিত হবে। কারণ, ঘটনার দিন তনু সার্জেন্ট জাহিদের বাসায় টিউশনি করতে গিয়েছিলেন এবং সেখান থেকে ফেরার পথেই হত্যাকাণ্ডের শিকার হন।

তনুর মা আনোয়ারা বেগম বলেন, ‘আমি জ্যান্ত লাশ হয়ে বেঁচে আছি। প্রায়ই অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে যেতে হয়। মৃত্যুর আগে কেবল আমার নিষ্পাপ মেয়ের হত্যাকারীদের বিচার এবং তাদের ফাঁসি দেখে যেতে চাই।’

মামলার বর্তমান তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই পরিদর্শক মো. তরিকুল ইসলাম বলেন, মামলার তদন্ত সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে পরিচালনা করা হচ্ছে। আদালতের নির্দেশে নতুন করে দুজনের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং দেশত্যাগী দুই সন্দেহভাজনের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড নোটিশ জারির প্রক্রিয়া চলছে। তদন্তের স্বার্থে এ মুহূর্তে সব তথ্য প্রকাশ করা সম্ভব নয়।

২০১৬ সালের ২০ মার্চ কুমিল্লা সেনানিবাসের একটি বাসায় টিউশনি করতে গিয়ে নিখোঁজ হন কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের ছাত্রী সোহাগী জাহান তনু। পরে ওই রাতেই সেনানিবাসের পাওয়ারহাউস এলাকার ঝোপ থেকে তার রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরদিন তনুর বাবা ইয়ার হোসেন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে কোতোয়ালি মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। ২০১৭ সালে সিআইডির ডিএনএ পরীক্ষায় তনুর পোশাকে তিনজন পুরুষের শুক্রাণু পাওয়ার কথা জানানো হলেও নতুন বিশ্লেষণে তা এখন পাঁচজনে দাঁড়িয়েছে।


নির্বাচিত

শেখ হাসিনাকে আইনমন্ত্রী, ডিসেম্বরে দেশে ফিরে আইনের মুখোমুখি হোন

আইন, বিচার ও সংসদবিষয়কমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
শৈলকূপা (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি

আইন, বিচার ও সংসদবিষয়কমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, শেখ হাসিনা বলেছেন তিনি ডিসেম্বরে দেশে ফিরবেন। আমিও বিশ্বাস করতে চাই তিনি দেশে ফিরে আইনের মুখোমুখি হবেন এবং বিচারিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাবেন। আইনের ক্ষমতা অনেক দীর্ঘ, আইন তার নিজস্ব গতিতেই চলবে। শুক্রবার (৭ আগস্ট) বেলা ১১টায় ঝিনাইদহের শৈলকূপা উপজেলা পরিষদ অডিটরিয়ামে ‘আগামীর শৈলকূপা’ শীর্ষক মতবিনিময় সভা এবং প্রয়াত বরেণ্য শিল্পী মুস্তাফা মনোয়ারের স্মরণ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেছেন।

শেখ হাসিনার প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী জানান, তার বিরুদ্ধে খুন, গুম ও গণহত্যার অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগের সত্যের মুখোমুখি হতে চাইলে শেখ হাসিনার দেশে ফিরে আইনি প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়া উচিত।

বিচার বিভাগ সম্পর্কে মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, তার স্বপ্ন এমন একটি বিচার বিভাগ, যেখানে একজন দরিদ্র ও অসহায় মানুষও সৃষ্টিকর্তার পর সবচেয়ে বেশি আস্থা রাখতে পারবেন। তবে সেই লক্ষ্য অর্জনে এখনো অনেক চ্যালেঞ্জ রয়েছে।

তিনি জানান, বিচার বিভাগ নিয়ে নানা ধরনের সমালোচনা রয়েছে। কেউ দুর্নীতির কথা বলেন, কেউ কাঠামোগত দুর্বলতার কথা বলেন। বিচার বিভাগের সবচেয়ে বড় সংকট মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন বিচারকের অভাব। বিচারকদের দায়িত্ব কেবল একটি পেশা হিসেবে কাজ করা নয়, বরং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা।

শেখ হাসিনার সাম্প্রতিক সময়ের বক্তব্য প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী বলেছেন, অনেকে ভিডিও কনফারেন্সের কথা বললেও সেটি ছিল একটি রেকর্ড করা অডিও বার্তা। এটি নিয়ে নানা আলোচনা থাকলেও তার দৃষ্টিতে শেখ হাসিনা একজন পলাতক ও দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি। একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন হত্যা ও সহিংসতার মামলাও রয়েছে।

তিনি আরও বলেছেন, শেখ হাসিনার দেশে ফেরা নিয়ে যারা আলোচনা করছেন, তাদের উচিত একবার ভেবে দেখা। এত অভিযোগের পরও তিনি জনগণের কাছে কোনো অনুশোচনা বা ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন কি না।

অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক মো. নোমান হোসেন, পুলিশ সুপার মিয়া মোহাম্মদ আশীষ বিন হাছান, শৈলকূপা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাহফুজুর রহমান, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন বাবর ফিরোজসহ জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী এবং সমাজের বিভিন্ন শ্রেণিপেশার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।


নির্বাচিত

নতুন সন্ধিক্ষণে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক

দ্য ডিপ্লোম্যাটের নিবন্ধ
ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কে নতুন করে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। নতুন এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে এই সম্পর্ক। বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সর্বশেষ সংবাদ সম্মেলনকে ঘিরে এই অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। বাংলাদেশের কূটনৈতিক সতর্ক বার্তার পরও নয়া দিল্লিতে শেখ হাসিনা ওই সংবাদ সম্মেলন করেন।

এ নিয়ে চারদিকে শোরগোল। খোদ ভারতীয় সাংবাদিকরাও বলছেন, এতে ভারত সরকারের সায় ছিল। তা না হলে রাজধানী নয়া দিল্লির মতো জায়গায় হাসিনা সংবাদ সম্মেলন করতে পারতেন না। এ ছাড়া ওই সংবাদ সম্মেলনে হাস্যরস, ক্রিকেটার সাকিব আল হাসানের উপস্থিতির ধরন নিয়ে প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। আগে থেকেই আলোচক প্যানেলে তার নাম ছিল। কয়েকদিন আগেই এ বিষয়ে বিজ্ঞপ্তি দেয়া হয়। অনলাইন পোস্টার বানানো হয়। কিন্তু আলোচনার নির্দিষ্ট সময়ে সাকিব আল হাসান ছিলেন খেলার মাঠে। সেখান থেকে তিনি অনলাইনে যুক্ত হন। এরপর তাকে গাড়ি চালিয়ে বাসায় ফিরতে দেখা যায়। তিনি বাসায় ফিরে ভিডিও মারফত দর্শন দেন। এতে তার দলের প্রতি আন্তরিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ভারতীয় অনেক সাংবাদিক। তবে শেখ হাসিনা ওইদিন সংবাদ সম্মেলনে যে বক্তব্য দিয়েছেন বা দেয়ার সুযোগ পেয়েছেন, তাতে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে বাংলাদেশের বিএনপি সরকার। নয়াদিল্লিতে এমন একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের সুযোগ দেয়ায় ভারত সরকারের প্রতি ‘তীব্র ক্ষোভ’ প্রকাশ করেছে ঢাকা।

বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক পুনর্গঠনের ক্ষেত্রে এই অনুষ্ঠানের সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে আগেই ভারতকে উদ্বেগের কথা জানানো হয়েছিল। এরপরও অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হওয়াকে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের প্রতি অবমাননা এবং ‘জুলাই বিপ্লবের শহীদদের প্রতি গুরুতর অপমান’ হিসেবে উল্লেখ করেছে ঢাকা। এসব কথা লিখে অনলাইন দ্য ডিপ্লোম্যাট একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।

তাতে বলা হয়, শেখ হাসিনার ওই অনলাইন বক্তব্যের আগের দিন অবশ্য ভারত অনুষ্ঠানটি থেকে নিজেদের দূরত্ব বজায় রাখে। নয়াদিল্লি জানায়, অনুষ্ঠান আয়োজনের সঙ্গে ভারতের কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না এবং ভারত এর অনুমোদনও দেয়নি। নয়াদিল্লির সাউথ এশিয়ার ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাবে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলনটির আয়োজন করা হয়। তবে ভারতের এই ব্যাখ্যাও ঢাকার ক্ষোভ প্রশমিত করতে পারেনি।

২০২৪ সালের গ্রীষ্মে আন্দোলন দমনে শেখ হাসিনা সরকারের অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগ রয়েছে। জাতিসংঘের বিভিন্ন প্রতিবেদনে ওই সময় ব্যাপক প্রাণহানির কথা উঠে আসে। শেষ পর্যন্ত ৫ আগস্ট ২০২৪ হাসিনা ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য হন এবং দেশ ছেড়ে ভারতে চলে যান।

এরপর থেকে ভারত হাসিনাকে আশ্রয় দেয়ায় বাংলাদেশে ক্ষোভ বাড়তে থাকে। বিশেষ করে ২০২৫ সালের নভেম্বরে বাংলাদেশের বিশেষ ট্রাইব্যুনাল মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় হাসিনা ও তার সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে মৃত্যুদণ্ড দেয়ার পর বিষয়টি আরও স্পর্শকাতর হয়ে ওঠে। ভারতে অবস্থান করেও হাসিনা বিভিন্ন রাজনৈতিক বক্তব্য ও গণমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দেয়ায় ঢাকা বারবার ভারতকে তার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড সীমিত করার অনুরোধ জানিয়েছে। একই সঙ্গে তাকে বিচারের মুখোমুখি করতে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর দাবিও জানানো হয়েছে। কিন্তু দিল্লি এখনো এসব অনুরোধে সাড়া দেয়নি।

ডিপ্লোম্যাট আরও লিখেছে, ভারতের জন্য হাসিনাকে জোর করে বাংলাদেশে পাঠানো বাস্তবসম্মত কোনো বিকল্প নয়। তবে তিনি যদি স্বেচ্ছায় দেশে ফেরেন, তাহলে তা বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের বর্তমান উত্তেজনা কিছুটা কমাতে পারে। এদিকে, হাসিনা দেশে ফিরলে তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভারত ইউরোপের কয়েকটি দেশের সঙ্গে পর্দার আড়ালে আলোচনা করছে- এমন জল্পনাও রয়েছে। তবে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।

হাসিনা ক্ষমতায় থাকাকালে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক ছিল বেশ উষ্ণ। তার পতনের পর সেই সম্পর্কে বড় ধরনের পরিবর্তন আসে। বিশেষ করে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার চীনের দিকে তুলনামূলকভাবে বেশি ঝুঁকে পড়ায় এবং ভারতের উদ্বেগের প্রতি যথেষ্ট সংবেদনশীল না হওয়ায় দিল্লির অস্বস্তি বাড়ে। এরপর ফেব্রুয়ারিতে বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর দুই দেশের সম্পর্ক নতুন করে স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়। এপ্রিলে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের নয়াদিল্লি সফরকেও দুই দেশের মধ্যে আস্থা পুনর্গঠনের উদ্যোগ হিসেবে দেখা হয়। তবে পাকিস্তান, চীন ও তুরস্কের সঙ্গে বিএনপি সরকারের ঘনিষ্ঠতা বাড়ায় ভারত এখনো সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

বাংলাদেশের সঙ্গে স্থিতিশীল সম্পর্ক ভারতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দুই দেশের মধ্যে প্রায় ৪ হাজার ১০০ কিলোমিটার সীমান্ত রয়েছে। ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে যোগাযোগ বৃদ্ধি এবং ওই অঞ্চলের বিদ্রোহ মোকাবিলায় ঢাকার সহযোগিতা দিল্লির জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এই বাস্তবতায় সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ভারত বাংলাদেশের প্রতি একাধিক ইতিবাচক উদ্যোগ নিয়েছে। ফেব্রুয়ারিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের শপথ অনুষ্ঠানে ভারতের পররাষ্ট্রসচিব বিক্রম মিশ্রি ও লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লাকে পাঠানো হয়। এপ্রিল ২০২৬ সালে বাংলাদেশে জ্বালানি সংকটের সময় ভারত ৪৫ হাজার টনের বেশি ডিজেল সরবরাহ করে। একই সময়ে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক পুনর্গঠনের লক্ষ্যে ঢাকায় নতুন দূত নিয়োগ করা হয়। দূত দিনেশ ত্রিবেদীর পদমর্যাদাও ক্যাবিনেট মন্ত্রীর সমান করা হয়েছে, যাতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তার সরাসরি যোগাযোগ সহজ হয়।

এ ছাড়া সেপ্টেম্বরে নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠেয় ব্রিকস সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে ভারত। তবে এখনো আমন্ত্রণ গ্রহণের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানায়নি ঢাকা। দুই দেশের সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তি। ১৯৯৬ সালে হাসিনা প্রথমবার প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সময় চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়। ৩০ বছর মেয়াদি এই চুক্তির মেয়াদ চলতি বছরের ডিসেম্বরে শেষ হচ্ছে। নতুন করে চুক্তি করার ক্ষেত্রে বর্তমানে গঙ্গায় পানির প্রবাহ, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব এবং উভয় দেশের প্রয়োজনীয়তার বিষয়গুলো বিবেচনায় নিতে হবে। দ্রুত চুক্তি নবায়ন হলে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ককে আরও স্থিতিশীল ভিত্তির ওপর দাঁড় করাতে সহায়ক হতে পারে।

একই সঙ্গে তিস্তা নদীর পানি বণ্টন নিয়েও নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার ও পশ্চিমবঙ্গে একই রাজনৈতিক দলের সরকার থাকায় দীর্ঘদিনের এই অমীমাংসিত ইস্যুতে সমঝোতার সুযোগ বেড়েছে। এর আগে পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপত্তির কারণে তিস্তা চুক্তি আটকে ছিল।

ভারতীয় সংসদের পররাষ্ট্রবিষয়ক কমিটির সাম্প্রতিক সুপারিশ বাস্তবায়নের বিষয়টিও নয়াদিল্লির বিবেচনায় নেয়া উচিত। জুলাইয়ে প্রকাশিত মন্তব্যে কমিটি উন্নয়ন সহযোগিতায় ভারতের তুলনামূলক সুবিধা কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশের আস্থা অর্জনের আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে অবকাঠামো, বন্দর সম্প্রসারণ ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতায় বাংলাদেশে চীনের ক্রমবর্ধমান উপস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে কমিটি।

সব মিলিয়ে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক নতুন করে একটি গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়েছে। দুই দেশের স্বার্থেই সম্পর্কের পুনর্গঠন জরুরি। তবে সেই পথে সবচেয়ে বড় বাধাগুলোর একটি হয়ে উঠেছে শেখ হাসিনার ভারত থেকে রাজনৈতিক ও গণমাধ্যমে সক্রিয় থাকা। তাই সম্পর্কের ক্ষতি আরও বাড়ার আগে নয়াদিল্লিকে হাসিনার সাম্প্রতিক অনলাইন বক্তব্যের কারণে সৃষ্ট উত্তেজনা সামাল দিতে হবে।


নির্বাচিত

দেশের মানুষ আ. লীগের রাজনীতি গ্রহণ করবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদ।
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের মানুষ কখনই আওয়ামী লীগের রাজনীতি গ্রহণ করবে না বলে দাবি করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, কিসের হাসিনা, তার চেহারা কী দেখা গেছে? মাঝেমধ্যে শুধু আওয়াজ-টাওয়াজ শোনা যায়। তারা চেষ্টা করছে, বাংলাদেশে কোনো অস্থিরতা সৃষ্টি করা যায় কিনা। বাংলাদেশের মানুষ কখনই তাদের এসব রাজনীতি গ্রহণ করবে না। শুক্রবার (৭ আগস্ট) দুপুরে কক্সবাজারে ৫০০ শয্যার মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নতুন ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনকালে তিনি এ কথা বলেন।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ফ্যাসিবাদী সরকারের সময় ইচ্ছেমতো প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা(ইসিএ) ঘোষণা করা হয়েছে। জরিপকার্য পরিচালনার মাধ্যমে ট্যুরিজমের বিকাশের জন্য তা পুনর্বিবেচনার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, প্রকৃতিকে সংরক্ষণ করে পর্যটনের উন্নয়নে সব ধরনের পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। শুধু উঁচু ইমারত নির্মাণই পর্যটন হতে পারে না। কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের সব এলাকাজুড়েই এসব কর্মকাণ্ড হতে হবে। বিশ্বব্যাপী কক্সবাজারের সৌন্দর্যকে ছড়িয়ে দিয়ে ভ্রমণপিপাসুদের আকৃষ্ট করতে হবে। শুধু অবকাঠামো নির্মাণের জন্য গুরুত্ব না দিয়ে, পরিবেশ সংরক্ষণ নিশ্চিত করেই পর্যটন সম্প্রসারণের চেষ্টা করুন।

তিনি আরও বলেন, কক্সবাজারকে ঘিরে উচ্চশিক্ষা ও সামুদ্রিক গবেষণার সুযোগ সম্প্রসারণের লক্ষ্যে একটি মেরিন ইউনিভার্সিটি প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা গ্রহণ নেওয়া হয়েছে। এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে সামুদ্রিক শিক্ষা, গবেষণা ও দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিতে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।

এর আগে কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (কউক) আবাসিক ফ্ল্যাট উন্নয়ন প্রকল্প-১-এর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে যোগ দেন সালাউদ্দিন আহমদ। এ সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সমুদ্রসম্পদ এবং সমুদ্রবন্দরকে যথাযথভাবে কাজে লাগাতে পারলে দেশ বিপুল পরিমাণ রাজস্ব আয় করতে সক্ষম হবে। ব্লু ইকোনমির সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে সরকার বিভিন্ন পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। মন্ত্রী জানান, কক্সবাজারের অপরিসীম পর্যটন সম্ভাবনাকে পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিতে বড় ধরনের অবদান রাখা সম্ভব।


নির্বাচিত

সড়ক দুর্ঘটনায় একদিনেই ১৯ জনের প্রাণহানি

* জীবনের তাগিদে গিয়ে বাসের চাপায় পিষ্ট ৯ শ্রমিকের স্বপ্ন * সিলেটে মাজার জিয়ারতের খুশি রূপ নিল শোকে, নিহত ৯ * নাতিকে বাঁচিয়ে প্রাণ গেল দম্পতির
ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

একই সূর্য উঠেছিল গতকালকের সকালটায়। কিন্তু সেই ভোরের আলো যে অনেকের জীবনের শেষ আলো হয়ে আসবে—তা কে জানত? ভোরের আলো ফোটার আগেই ঘর থেকে বেরিয়েছিলেন তারা। কেউ কৃষিজমিতে কাজের জন্য, কেউ দিনমজুরের কাজ খুঁজতে গিয়েছিলেন বগুড়ার এরুলিয়ার কামলার হাটে। উদ্দেশ্য ছিল দিনশেষে পরিবারের জন্য দুমুঠো খাবার জোগাড় করা। কিন্তু কয়েক মিনিটের ব্যবধানে সবকিছু বদলে যায়। শুক্রবার (৭ আগস্ট) ভোরে নিয়ন্ত্রণ হারানো শাহ ফতেহ আলী পরিবহনের বাসের নিচে চাপা পড়ে নিভে যায় ৯টি প্রাণ। আর সেই মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগ ও মর্গ এলাকায় নেমে আসে শোকের ছায়া।

এ ছাড়া সিলেট ও শেরপুরেও মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় ঝরল আরও ৯টি তাজা প্রাণ, আহত হলেন ৪০ জনেরও বেশি মানুষ। স্থান আর কারণ আলাদা হলেও স্বজনদের আর্তনাদ আর মৃত্যুর হাহাকার যেন একই সুতোয় বাঁধা।

বগুড়ায় কাজের খোঁজে বের হয়ে নিহত ৭: প্রতিদিনের মতো ভোরের আলো ফোটার আগেই ঘর থেকে বেরিয়েছিলেন গাইবান্ধা ও জয়পুরহাটের দিনমজুর আমিরুল, নূর আলম, বেলাল আর তাজমুলেরা। উদ্দেশ্য ছিল দিনশেষে পরিবারে দুবেলা ভাত তুলে দেওয়া। বগুড়া-নওগাঁ মহাসড়কের এরুলিয়া সিলকিবান্দা এলাকায় প্রতিদিন সকালে দিনমজুর ও কৃষি শ্রমিকদের হাট বসে। জনপ্রতি ২০ টাকা ভাড়ার ঘরে থাকা এই মানুষগুলো কাজের আশায় রাস্তার পাশেই জড়ো হয়েছিলেন।

ভোর সাড়ে পাঁচটার দিকে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা ‘শাহ ফতেহ আলী পরিবহন’-এর একটি নিয়ন্ত্রণহীন বাস সব এক লহমায় শেষ করে দিল। বিদ্যুতের খুঁটিতে ধাক্কা দিয়ে বাসটি সরাসরি পিষে দিল কাজের অপেক্ষায় থাকা সেই মানুষগুলোকে। ঘটনাস্থলেই মারা যান তিনজন, শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর মারা যান আরও চারজন। নিহতরা হলেন— তাজিমুল (৪৭), বেল্লাল হোসেন, আবু সাঈদ (৪৫), আনারুল (৫৫), আমিরুল (৪০), নূর আলম (৪৫) ও জমির মালিক নূর মোহাম্মদ (৭৬)।

নিহতদের মধ্যে ছিলেন জমির মালিক নূর মোহাম্মদ, তিনি ফজরের নামাজ পড়ে হাটে এসেছিলেন শ্রমিক নিতে।

হাসপাতালের জরুরি বিভাগে স্বামী আবু সাঈদ মণ্ডলের মরদেহের পাশে দাঁড়িয়ে বারবার জ্ঞান হারাচ্ছিলেন স্ত্রী রিনা বেগম। ৬ সদস্যের সংসারের একমাত্র উপার্জনক্ষম মানুষটিকে হারিয়ে রিনা বেগমের বিলাপ—আমাকে একা রেখে কোথায় চলে গেলে? নিহত আরেক শ্রমিক আমিরুল ছিলেন ভূমিহীন, এক শতক জমির ওপর ঘর তুলে থাকতেন। তার মৃত্যুতে পুরো পরিবার এখন চরম অনিশ্চয়তায়।

সিলেটে মাজার জিয়ারতের খুশি রূপ নিল শোকে, নিহত ৯: একই সকালে সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের ওসমানীনগরের কাশিকাপনে ঘটে আরেক ট্র্যাজেডি। সকাল সাড়ে ৭টার দিকে সিলেটমুখী ‘বেঙ্গল স্লিপার কোচ’ এবং ঢাকামুখী ‘ইউনিক পরিবহন’-এর বাসের মধ্যে বেপরোয়া গতিতে ওভারটেক করার সময় মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের তীব্রতায় ইউনিক পরিবহনের বাসটি সড়ক থেকে ছিটকে রাস্তার পাশের গভীর খাদে পড়ে দুমড়ে-মুচড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই ৭ জন এবং পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও ২ জনসহ ৯ জন প্রাণ হারান। নিহতরা হলেন, কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর থানার লক্ষ্মীপুর গ্রামের মৃত সাফিউদ্দিনের ছেলে হাজী সাইফুল ইসলাম (৫০), সিলেট নগরীর দক্ষিণ সুরমা থানার চণ্ডীপুল এলাকার জাহাঙ্গীরের মেয়ে, তিন বছর বয়সি শিশু ফাইজা, সিলেটের সোবহানীঘাট এলাকার উত্তম রায়ের ছেলে সপ্তম রায় প্রীতম (২২), কিশোরগঞ্জের ভৈরব থানার চণ্ডিবের গ্রামের বাবুল মিয়ার মেয়ে, বাউলশিল্পী পেহেলী ভৈরবী (১৭), ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর থানার বগডহর গ্রামের মৃত বারেক মিয়ার ছেলে আবুল হোসেন (৪৪), সিলেটের জৈন্তাপুর থানার উমনপুর গ্রামের রফিকুল ইসলামের ছেলে আরমান (১৯), কুমিল্লার বাঙ্গুরা বাজার থানার পীরকাশিমপুর গ্রামের আব্দুস সালামের ছেলে সানিয়াদ জাহাঙ্গীর সৌরভ (৩৯), ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানার শেরপুর গ্রামের সিরাজুল ইসলামের ছেলে মো. সাইফুল ইসলাম ইমন এবং কিশোরগঞ্জের নিকলী থানার ষাইধার (আটরামপুর) গ্রামের রঞ্জিত সূত্রধরের ছেলে রুবেল সূত্রধর (৩৭)।

এ ছাড়া দুই বাসের অন্তত ২৪ জন যাত্রী আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে ১৪ জন বর্তমানে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর থেকে পাঁচ বন্ধুর সঙ্গে হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করতে এসেছিলেন। জিয়ারত শেষে ফারুক ও সাইফুলসহ তিনজন বাসে ফিরছিলেন। হাসপাতালে চোখ মেলে ফারুক জানতে পারেন, তার প্রিয় বন্ধু সাইফুল আর নেই। স্তব্ধ চোখে ফারুক বলছিলেন, বাসে ঘুমিয়ে ছিলাম। হঠাৎ বিকট এক শব্দ। চোখ খুলে দেখি চারপাশে রক্ত আর হাহাকার।

বিকালে ফের দুর্ঘটনা: নাতিকে বাঁচিয়ে প্রাণ গেল দম্পতির

বগুড়ার এরুলিয়ার ক্ষত না শুকাতেই একই মহাসড়কের বিমানবন্দর এলাকায় বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে ঘটে আরেক দুর্ঘটনা। নওগাঁর দিকে মোটরসাইকেলে নাতিকে নিয়ে যাচ্ছিলেন স্বর্ণ ব্যবসায়ী বাবুল হাসান (৫০) ও তার স্ত্রী জেসমিন বিবি (৪৫)। হঠাৎ বিপরীত দিক থেকে আসা একটি অনিয়ন্ত্রিত প্রাইভেটকার তাদের সজোরে ধাক্কা দেয়। ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান বাবুল হাসান, আর হাসপাতালে নেওয়ার পর মারা যান স্ত্রী জেসমিন। ভাগ্যক্রমে তাদের ৭ বছর বয়সি নাতি জুলকার নাঈন বেঁচে গেলেও হাসপাতালের বিছানায় এখন অবুঝ চোখে স্বজনদের খুঁজছে।

মায়ের কোল থেকে ছিটকে গেল ১৭ মাসের শিশু

এর আগের রাতে শেরপুরের নকলায় অটোরিকশা ও ভটভটির মুখোমুখি সংঘর্ষে ঘটে এক হৃদয়বিদারক ঘটনা। অটোরিকশায় থাকা ১৭ মাসের শিশু মুজাহিদুল ইসলাম মায়ের কোল থেকে ছিটকে পড়ে মাথায় গুরুতর আঘাত পায়। হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

দুর্ঘটনার পর বগুড়ার এরুলিয়ায় স্পিডব্রেকার ও সতর্কতামূলক ট্রাফিক চিহ্নের দাবিতে স্থানীয়রা সড়ক অবরোধ করলে তাৎক্ষণিক স্পিডব্রেকার নির্মাণ শুরু করে প্রশাসন। সিলেটের হাইওয়ে পুলিশ জানিয়েছে, চালকদের বেপরোয়া গতি ও ওভারটেকিংয়ের প্রতিযোগিতাই সিলেটের দুর্ঘটনার প্রধান কারণ।

তদন্ত কমিটি গঠিত হবে, আর্থিক সহায়তার ঘোষণা আসবে, পরিসংখ্যানের খাতায় নতুন কিছু সংখ্যা যোগ হবে। কিন্তু যে সন্তানটি আজ এতিম হলো, যে মা-বাবা কোল খালি করলেন—সেই শূন্যতা কে পূরণ করবে? প্রতি সকালে রক্তে ভেজা রাজপথ যেন একটাই প্রশ্ন করে—আর কতকাল স্বজনদের আকুল আর্তনাদ দিয়ে শুরু হবে প্রতিটি ভোরের গল্প?


নির্বাচিত

৭৫ হাজার শিক্ষক-কর্মচারীকে একযোগে পাওনা দেবে সরকার

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

এমপিওভুক্ত ৭৫ হাজার শিক্ষক-কর্মচারীর অবসর ভাতা ও কল্যাণ ট্রাস্টের অর্থ পরিশোধ করতে যাচ্ছে সরকার। আগামী ১৫ আগস্ট দেশের ৬৪ জেলায় একযোগে এই অর্থ পরিশোধ করা হবে। এ জন্য এই খাতে দুই হাজার কোটি টাকা বিশেষ থোক বরাদ্দ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। তবে শিক্ষক-কর্মচারীদের শঙ্কা, একসঙ্গে পুরো টাকা তাদের এখনই নাও দেওয়া হতে পারে। বর্তমানে অবসর বোর্ড ও কল্যাণ ট্রাস্টে এক লাখ ১০ হাজার আবেদন অনিষ্পন্ন রয়েছে। এসব আবেদন নিষ্পত্তিতে প্রয়োজন ১০ হাজার ৩২৬ কোটি টাকা।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আগামী ১৫ আগস্ট আয়োজিত কেন্দ্রীয় অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রধান অতিথি হিসেবে এই কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন। এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে ২ হাজার কোটি টাকার বিশেষ থোক বরাদ্দ দিতে অর্থ মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। অবসর সুবিধা বোর্ড ও শিক্ষক-কর্মচারী কল্যাণ ট্রাস্ট– দুই প্রতিষ্ঠানের ইতিহাসে এটিই সবচেয়ে বড় এককালীন অর্থ বিতরণ কর্মসূচি।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব মো. আবদুল খালেক গণমাধ্যমক বলেন, ২০২২ সাল থেকে অবসর নেওয়া শিক্ষক-কর্মচারীদের কেউই অবসর সুবিধার টাকা পাননি। দীর্ঘদিন ধরে তারা মানবেতর জীবন কাটাচ্ছিলেন। তাদের দুর্ভোগ লাঘবে প্রধানমন্ত্রী বিশেষ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। আগামী ১৫ আগস্ট একযোগে ৭৫ হাজার শিক্ষক-কর্মচারীর পাওনা পরিশোধ করা হবে।

সচিব জানান, অর্থ মন্ত্রণালয়কে ২ হাজার কোটি টাকার বিশেষ বরাদ্দ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে অবসর সুবিধা বোর্ডের ৭৫ হাজার আবেদনের নিষ্পত্তি হবে। তাদের মধ্যে প্রায় ৪৪ হাজার ব্যক্তি কল্যাণ ট্রাস্টের অর্থও পাবেন।

সচিবের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রাথমিক হিসাবে একজন শিক্ষক-কর্মচারী গড়ে পাঁচ লাখ থেকে ছয় লাখ টাকা পাবেন। তবে চূড়ান্ত হিসাব এখনও চলছে। বিপুল সংখ্যক কর্মকর্তা দিন-রাত কাজ করছেন।

সচিব আরও বলেন, এবার প্রথমবারের মতো আইবাস প্লাস প্লাসের মাধ্যমে সরাসরি ব্যাংক হিসাবে অর্থ পাঠানো হবে। এ জন্য সবার জাতীয় পরিচয়পত্র সংগ্রহ করা হয়েছে। এতে দালালচক্র বা কোনো মধ্যস্বত্বভোগীর সুযোগ থাকবে না।

সরকার ৭৫ হাজার আবেদন নিষ্পত্তির উদ্যোগ নিলেও সংশ্লিষ্ট শিক্ষক-কর্মচারীরা বলছেন, আপাতত সরকারের লক্ষ্য মূলত শিক্ষকদের কাছ থেকে কেটে রাখা মূল অর্থ ফেরত দেওয়া; কিন্তু বিনিয়োগ থেকে প্রাপ্য মুনাফা বা প্রকৃত আর্থিক ক্ষতির বিষয়টি এখনো স্পষ্ট নয়।

জানা গেছে, শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন ও শিক্ষাসচিব মো. আবদুল খালেক গতকাল বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেন। এ সময় তারা পৃথক বেশ কয়েকটি প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর সামনে তুলে ধরেন। প্রস্তাবগুলোর মধ্যে ছিল, ধাপে ধাপে অবসর ও কল্যাণের টাকা পরিশোধ করা, অর্থ সংকটের কারণে আপাতত শিক্ষকদের কাছ থেকে কেটে রাখা মূল টাকা পরিশোধ করা, প্রথমে মূল

টাকা ও এক বছর পরে বাকি টাকা পরিশোধ করা। তবে প্রধানমন্ত্রী এতে সম্মত হননি। তিনি অবসর বোর্ড ও কল্যাণ ট্রাস্টে তীব্র অর্থ সংকটের কারণে আপাতত ২ হাজার কোটি টাকা থোক বরাদ্দের নির্দেশ দেন।

অবসর সুবিধা বোর্ডের সচিব অধ্যক্ষ মো. মোশাররফ হোসেন লিটন জানান, অবসর বোর্ডে বর্তমানে ৬৭ হাজারের বেশি আবেদন অনিষ্পন্ন রয়েছে। এসব আবেদন নিষ্পত্তিতে প্রয়োজন প্রায় ৭ হাজার ১৭৬ কোটি টাকা।

কল্যাণ ট্রাস্টের সচিব অধ্যক্ষ মো. ইউসুফ আলী বলেন, কল্যাণ সুবিধার জন্য প্রায় ৪৩ হাজার আবেদন জমা আছে। ২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে এই আবেদন জমা পড়েছে। তিনি জানান, শুধু কল্যাণ ট্রাস্টের ৪৩ হাজার আবেদন নিষ্পত্তি করতে প্রয়োজন ৩ হাজার ১৫০ কোটি টাকা। অথচ ট্রাস্টের হাতে আছে মাত্র ৬০০ কোটি টাকা।

অবসর ও কল্যাণ সুবিধার টাকার বড় একটি অংশ নেওয়া হয় শিক্ষক-কর্মচারীদের কাছ থেকেই। এ জন্য চাকরিকালীন তাদের মূল বেতনের ৬ শতাংশ টাকা মাসে কেটে রাখা হয়। কল্যাণ ট্রাস্টের জন্য কাটা হয় মূল বেতনের ৪ শতাংশ। এছাড়া সরকারের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রত্যেক শিক্ষার্থীর কাছ থেকে বছরে ১০০ টাকা (৭০ টাকা অবসরের জন্য ও ৩০ টাকা কল্যাণের জন্য) নেওয়া হচ্ছে। বাকি টাকা সরকার ও চাঁদা জমার সুদ থেকে সমন্বয় করে দেওয়া হয়।

অবসর সুবিধা বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, ৬ শতাংশ হারে টাকা কাটার মাধ্যমে প্রতি মাসে প্রায় ৭০ কোটি টাকা আদায় হয়। এফডিআরের লভ্যাংশ হয় প্রতি মাসে আরও ৩ কোটি টাকা। কিন্তু প্রতি মাসে গড়ে অবসর সুবিধার জন্য আবেদন জমা পড়ে ১ হাজার, যা নিষ্পত্তি করতে প্রতি মাসে দরকার ১১৫ কোটি টাকা। এর মানে হলো প্রতি মাসে ৪২ কোটি টাকা ঘাটতি থাকে; বছরে যা ৫০৪ কোটি টাকা।

বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতির মহাসচিব মো. জাকির হোসেন বলেন, লক্ষাধিক অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-কর্মচারী মানবেতর জীবনযাপন করছেন। কারও চিকিৎসার টাকা নেই, কারও সন্তানদের লেখাপড়ার খরচ চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। তিন বছরের বেশি সময় ধরে কেউ অবসর বা কল্যাণের টাকা পাননি। দ্রুত সব পাওনা পরিশোধ করতে হবে। শুধু মূল টাকা নয়, বিধিমালা অনুযায়ী প্রাপ্য পুরো অর্থ দিতে হবে। অন্যথায় শিক্ষক সমাজ তা মেনে নেবে না।


নির্বাচিত

সোশ্যাল মিডিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নিয়ে অপপ্রচার, সতর্ক থাকার আহ্বান পুলিশের

ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নিয়ে মিথ্যা, বানোয়াট, বিভ্রান্তিকর, উসকানিমূলক ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। এ বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে এ ধরনের অপপ্রচারের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে সংস্থাটি। শুক্রবার (৭ আগস্ট) পুলিশ সদর দপ্তরের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, পতিত ফ্যাসিবাদী শক্তি ও তাদের দেশি-বিদেশি দোসররা জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টা, পুলিশ বাহিনীর মনোবল ক্ষুণ্ন করা এবং সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট করার উদ্দেশ্যে এ ধরনের অপপ্রচার চালাচ্ছে বলে প্রতীয়মান হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, বর্তমানে বাংলাদেশ পুলিশ কার্যক্রম নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দলের কার্যক্রমের বিরুদ্ধে জোরালো আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করায় ও অপপ্রচারকারীদের কোনো অন্যায় তদবির আমলে না নেওয়ায় অসন্তুষ্ট মহল মনগড়া তথ্য সংবলিত এ ধরনের অপপ্রচারে লিপ্ত রয়েছে। অপপ্রচারকারীদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ফৌজদারি অপরাধে অভিযুক্ত থাকা, পুলিশসহ অন্যান্য সরকারি দপ্তরে বিভিন্ন অন্যায় তদবির করা ও অপপ্রচার না চালানোর শর্তে অর্থ দাবির তথ্য-প্রমাণ রয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত বিভ্রান্তিকর ও উসকানিমূলক কোনো বক্তব্য বিশ্বাস, শেয়ার বা প্রচার করা থেকে বিরত থাকার জন্য জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে পুলিশ সদর দপ্তর। একই সঙ্গে দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গুজব ও অপপ্রচার প্রতিরোধে সবাইকে সচেতন ভূমিকা পালনেরও অনুরোধ জানানো হয়েছে। ভবিষ্যতেও এমন অপপ্রচার চালালে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।

পুলিশ সদর দপ্তর বলছে, জনগণের সঙ্গে আস্থার সম্পর্ক তৈরির মাধ্যমে দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বর্তমানে বাংলাদেশ পুলিশ দৃঢ় মনোবল, পেশাদারিত্ব ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। কোনো অপপ্রচার যাতে পুলিশ বাহিনীর মনোবল ক্ষুণ্ন ও পেশাগত দায়িত্ব পালনে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে না পারে, সে লক্ষ্যে জনগণের সচেতনতা, সহযোগিতা এবং অপপ্রচারকারীদের বিরুদ্ধে সোচ্চার ভূমিকা একান্তভাবে কামনা করছে পুলিশ সদরদপ্তর।


নির্বাচিত

সাভারের ৩ ইউনিয়ন কেরানীগঞ্জে সংযুক্তির প্রস্তাবের প্রতিবাদে বিক্ষোভ

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সাভার উপজেলার তেঁতুলঝোড়া, ভাকুর্তা ও আমিনবাজার ইউনিয়নকে সাভার থেকে বিচ্ছিন্ন করে প্রস্তাবিত কেরানীগঞ্জ মডেল উপজেলার সঙ্গে সংযুক্তির প্রস্তাবের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল, প্রতিবাদ সমাবেশ ও ঢাকা আরিচা মহাসড়ক অবরোধ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

শুক্রবার (৭ আগস্ট) জুমার নামাজের পর হেমায়েতপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অনুষ্ঠিত এ কর্মসূচিতে তিন ইউনিয়নের কয়েক হাজার মানুষ অংশ নেন। এ সময় তারা ঢাকা মহাসড়ক অবরোধ করে রাখেন। এতে মহাসড়কের উভয় পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয় এবং প্রায় ৪৫ মিনিট যান চলাচল বন্ধ থাকে।

তেঁতুলঝোড়া ইউনিয়নবাসীর উদ্যোগে আয়োজিত কর্মসূচিতে তেঁতুলঝোড়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেতা হাজী জামাল উদ্দিন সরকারের নেতৃত্বে তিন ইউনিয়ন থেকে খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে বিক্ষোভকারীরা সমাবেশস্থলে জড়ো হন। পরে তারা ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন।

সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করেন, ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার কথা বলে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে একটি ফরমে স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছিল। পরে জানা যায়, সেই স্বাক্ষর ব্যবহার করে তেঁতুলঝোড়া, ভাকুর্তা ও আমিনবাজার ইউনিয়নকে সাভার উপজেলা থেকে বিচ্ছিন্ন করে কেরানীগঞ্জ উপজেলার সঙ্গে সংযুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। তারা এ ধরনের উদ্যোগের তীব্র প্রতিবাদ জানান।

তেঁতুলঝোড়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান হাজী জামাল উদ্দিন সরকার বলেন, ‘আমরা কোনোভাবেই সাভার থেকে বিচ্ছিন্ন হতে চাই না। নাগরিকসেবা, শিক্ষা, চিকিৎসা ও প্রশাসনিক সব কার্যক্রম সাভারকেন্দ্রিক। জনগণকে ভিন্ন উদ্দেশ্য গোপন রেখে স্বাক্ষর নেওয়া হয়ে থাকলে তা জনগণের সঙ্গে প্রতারণার শামিল। এই তিন ইউনিয়নকে কেরানীগঞ্জের সঙ্গে সংযুক্ত করার কোনো উদ্যোগই এলাকাবাসী মেনে নেবে না।’

সমাবেশে বক্তব্য রাখেন আলহাজ সিরাজুল ইসলাম সিরাজ, আব্দুর রহমান, অ্যাডভোকেট দীন ইসলাম, নয়ন সরকার, যুবদল নেতা শাওন সরকার এবং শামসুল হক। বক্তারা বলেন, ‘সাভারের ঐতিহ্য ও প্রশাসনিক কাঠামো অক্ষুণ্ন রাখতে তিন ইউনিয়নকে সাভারের অধীনেই রাখতে হবে। দাবি উপেক্ষা করা হলে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।’ তারা জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি প্রদান, গণস্বাক্ষর কর্মসূচি এবং ধারাবাহিক আন্দোলনের ঘোষণাও দেন।

সমাবেশে অংশ নেওয়া স্থানীয় বাসিন্দা শাহনাজ আক্তার বলেন, ‘সরকারি সুবিধা পাওয়ার কথা বলে মানুষকে ফরমে স্বাক্ষর করানো হয়েছিল। পরে যদি সেই স্বাক্ষর অন্য উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হয়ে থাকে, তাহলে তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।’

স্থানীয় বাসিন্দা খালেদ সাইফুল্লাহ বলেন, ‘জন্ম থেকে আমরা সাভারের বাসিন্দা। আমাদের জাতীয় পরিচয়পত্র, জমির কাগজপত্র এবং সব প্রশাসনিক কার্যক্রম সাভারকেন্দ্রিক। তাই সাভার থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার প্রশ্নই ওঠে না।’

এ বিষয়ে সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় সম্প্রতি ১০টি ইউনিয়ন নিয়ে একটি কেরানীগঞ্জ মডেল উপজেলা গঠনের প্রস্তাবের বিষয়ে মতামত চেয়েছে। প্রস্তাবিত তালিকায় কেরানীগঞ্জের সাতটি ইউনিয়নের পাশাপাশি সাভারের তেঁতুলঝোড়া, আমিনবাজার ও ভাকুর্তা ইউনিয়নের নাম রয়েছে। এ বিষয়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে এবং উপজেলা প্রশাসনও এর অনুলিপি পেয়েছে। তবে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। মন্ত্রণালয় কেবল মতামত আহ্বান করেছে।’

সাভার হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাওগাতুল আলম বলেন, ‘বিক্ষোভের কারণে কিছু সময়ের জন্য মহাসড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয়। পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে যান চলাচল স্বাভাবিক করে।’


নির্বাচিত

শেরপুর–গাজীরখামার–নালিতাবাড়ী সড়কে সংস্কারের অভাবে লাখো মানুষের দুর্ভোগ

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নালিতাবাড়ী (শেরপুর) প্রতিনিধি

শেরপুর সদর থেকে গাজীরখামার হয়ে নালিতাবাড়ী উপজেলার সংযোগ সড়কটির বেহাল অবস্থায় ভোগান্তিতে পড়েছেন লাখো মানুষ। প্রধান সড়কের তুলনায় প্রায় ১০ কিলোমিটার কম হওয়ায় সময় ও জ্বালানি সাশ্রয়ের জন্য প্রতিদিন হাজারো যানবাহন এই পথ ব্যবহার করলেও দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় সড়কটি এখন চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শেরপুর-নালিতাবাড়ী প্রধান সড়ক দিয়ে যেতে প্রায় ৩০ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করতে হয়। বিপরীতে শেখহাটি ও গাজীরখামার হয়ে দূরত্ব মাত্র ২০ কিলোমিটার। এ কারণে যাত্রীবাহী বাস, সিএনজিচালিত ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা, মোটরসাইকেল এবং পণ্যবাহী যানবাহনের বড় অংশ এই সড়ক ব্যবহার করে।

তবে সড়কের বিভিন্ন স্থানে পিচ উঠে বড় বড় গর্ত ও গভীর খানাখন্দ তৈরি হয়েছে। সামান্য বৃষ্টিতেই গর্তগুলো পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে। সাম্প্রতিক পাহাড়ি ঢল ও অতিবৃষ্টিতে সড়কের ক্ষতি বেড়েছে জ্যামিতিক হারে। ফলে ছোট-বড় দুর্ঘটনার পাশাপাশি গুনতে হচ্ছে বাড়তি ভাড়া।

স্থানীয় বাসিন্দা হাফিজুর রহমান বলেন, শেখহাটি বাজার, চৈতনখিলা বটতলা বাজার ও গাজীরখামার বাজার এলাকায় সড়কের অবস্থা সবচেয়ে খারাপ। অনেক জায়গায় কার্পেটিং উঠে ইট ও খোয়া বের হয়ে এসেছে।

পরিবহনচালক রহিম মিয়া ও জুয়েল মিয়ার ভাষ্য, আগে শেরপুর থেকে নালিতাবাড়ী যেতে ৩০ থেকে ৩৫ মিনিট লাগলেও এখন প্রায় এক ঘণ্টা বা তারও বেশি সময় লাগছে। প্রতিদিন যানবাহনের চাকা, সাসপেনশনসহ বিভিন্ন যন্ত্রাংশ নষ্ট হওয়ায় পরিচালনা ব্যয়ও বেড়ে গেছে।

স্থানীয় দোকানদার জুয়েল বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের দাবি জানানো হলেও কার্যকর উদ্যোগ দেখা যায়নি। দ্রুত সড়কটি সংস্কার না হলে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে।

এ বিষয়ে শেরপুর এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মো. খন্দকার মাহমুদুল আশরাফ বলেন, ‘রুরাল কানেক্টিভিটি ইমপ্রুভমেন্ট’ নামে একটি বড় প্রকল্প চালু হলে সড়কটি সেখানে অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি সরকারি অর্থায়নেও সড়কটির সংস্কারের জন্য প্রকল্প গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।’


নির্বাচিত

গৌরীপুর থেকে কনটেন্ট ক্রিয়েটর রিপন গ্রেপ্তার

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নেত্রকোনা প্রতিনিধি

নেত্রকোনা সদর উপজেলায় এক স্কুলছাত্রীকে (১৪) ধর্ষণের অভিযোগে করা মামলার প্রধান আসামি কনটেন্ট ক্রিয়েটর রিপন মিয়াকে (৩৩) গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব। শুক্রবার (৭ আগস্ট) সকালে ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার মহিষারন-অচিন্ত্যপুর এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। দুপুরে র‍্যাব-১৪ থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

ওই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‍্যাব-১৪ সদর কোম্পানির একটি দল অভিযান চালিয়ে পলাতক আসামি রিপন মিয়াকে গ্রেপ্তার করেছে। পরে তাকে নেত্রকোনা মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

মামলার এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, রিপন বিভিন্ন সময় ভিডিও তৈরির অজুহাতে ভুক্তভোগী ছাত্রীকে উত্ত্যক্ত করতেন। তিনি গত ৩০ জুলাই রাত ৮টার দিকে ছাত্রীটির বাড়িতে গিয়ে জরুরি কথা আছে বলে ডেকে মগড়া নদীর উত্তর পাড়ে নিয়ে যান এবং সেখানে ধর্ষণ করেন। ওই ঘটনা জানাজানি হলে গত সোমবার (৩ আগস্ট) রাতে স্থানীয় একটি বাজারে বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে সালিশ বসে। সেখানে রিপন মিয়াকে পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা ও গ্রামছাড়া করার সিদ্ধান্ত হয়। জরিমানার অর্থ পরিশোধ ও গ্রাম ছাড়তে তাকে এক সপ্তাহ সময় দেওয়া হয়। সালিশের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি আলোচনায় আসে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর বাবা বাদী হয়ে গত মঙ্গলবার রাতে নেত্রকোনা মডেল থানায় একটি মামলা করেন।

সালিশের কয়েকটি ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। ৩০ সেকেন্ডের একটি ভিডিওতে দেখা যায়, অভিযোগ স্বীকার করে উপস্থিত সবার কাছে ক্ষমা চাইছেন রিপন। একপর্যায়ে তিনি বলেন, ‘ভুল করলেও করছি, না করলেও করছি। আমি, আফনেরার লগে থাহন লাগবো...! ভুল তো মানুষ করেই, আমি একটা ভুল কইরাইলছি।’

এ বিষয়ে নেত্রকোনা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবুল খায়ের বলেন, ‘গ্রেপ্তারকৃত রিপন মিয়াকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।’

প্রসঙ্গত, রিপন মিয়ার বাড়ি নেত্রকোনা সদর উপজেলার একটি গ্রামে। পেশায় তিনি কাঠমিস্ত্রি। ২০১৬ সাল থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও তৈরি করে পরিচিতি পান। ২০১৯ সালে খোলা তার ফেসবুক পেজে বর্তমানে প্রায় ১৯ লাখ অনুসারী রয়েছে।


নির্বাচিত

banner close