মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার আদমপুর বনবিটের অধীন কালেঞ্জি খাসিয়া পুঞ্জি এলাকায় টিলা ধসে গীতা কাহার (৩০) নামে এক নারী চা শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে ঘটনাটি ঘটে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও তিন শ্রমিক।
স্থানীয়রা জানান, কমলগঞ্জ উপজেলার সীমান্তবর্তী মাধবপুর ইউনিয়নের পাত্রখোলা চা বাগানের নারীসহ কয়েকজন শ্রমিক পার্শ্ববর্তী আদমপুর বনবিট এলাকার কালেঞ্জি খাসিয়া পুঞ্জিতে কাজ করতে যান। এসময় একটি টিলার অংশ ধসে পড়লে মাটি চাপায় তার মৃত্যু হয়।
গীতা কাহার পাত্রখোলা চা বাগানের নতুন লাইনের মৃত শংকর কাহারের কন্যা। আহতদের পাত্রখোলা চা বাগান হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে বলে জানান স্থানীয় ইউপি সদস্য দেবাশীষ চক্রবর্তী শিপন।
আদমপুর ইউপি চেয়ারম্যান মো. আবদাল হোসেন ও মাধবপুর ইউপি চেয়ারম্যান মো. আসিদ আলী ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ‘তারা বনবিট এলাকায় খাসিয়া পুঞ্জিতে কাজে ছিল। বৃহস্পতিবার বিকেলে মরদেহ পরিবার সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।’
কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জয়নাল আবেদীন বলেন, ‘ঘটনার সংবাদ পেয়েছি। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মধ্যে সরকারিভাবে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হবে।’
কিশোরগঞ্জের আড়াই লক্ষাধিক জনসংখ্যা অধ্যুষিত হাওর উপজেলা অষ্টগ্রামের সাধারণ মানুষের চিকিৎসার একমাত্র নির্ভরযোগ্য আশ্রয়স্থল ‘অষ্টগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স’। হাওরবাসীর দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৩ সালে হাসপাতালটিকে ৩১ শয্যা থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হলেও এখনও চলছে ৩১ শয্যার জনবল দিয়েই। তবে হাসপাতালে প্রতিদিন রোগী বাড়লেও সরকারি বরাদ্দ বাড়ছে না। বর্তমানে রোগীর চাপ বাড়ায় বরাদ্দ অপ্রতুল বলে মনে করছেন স্থানীয় সেবা প্রার্থী ও সংশ্লিষ্টরা।
হাসপাতালের পরিসংখ্যান পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, বর্তমানে চিকিৎসকের মোট পদের ৬৬ শতাংশই শূন্য। অনুমোদিত ৩৩টি পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন মাত্র ১১ জন চিকিৎসক। চিকিৎসকদের ১১টি কনসালটেন্ট পদের সবকটি এবং ১টি আবাসিক মেডিকেল অফিসার পদ শতভাগ শূন্য অবস্থায় রয়েছে। এছাড়া ১৯টি মেডিকেল অফিসার বা সহকারী সার্জন পদের মধ্যে ৭টি শূন্য এবং ১ জন অননুমোদিত অনুপস্থিত রয়েছেন। চিকিৎসকদের অনুপস্থিতি ও পদায়নের পর না থাকার অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে তীব্র আবাসন সংকটকে দায়ী করছেন সংশ্লিষ্টরা। আবাসন সুবিধার অভাব এবং দুর্গম হাওর এলাকার চ্যালেঞ্জিং পরিবেশের কারণে পদায়ন পেলেও চিকিৎসকরা দীর্ঘদিন এখানে অবস্থান করতে চান না।
এর ফলে হাসপাতালটিতে পূর্বে সিজারিয়ান ব্যবস্থা চালু করা হলেও দক্ষ সার্জনের অভাবে তা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। অথচ এখানে একটি অত্যাধুনিক অপারেশন থিয়েটার (ওটি) থাকা সত্ত্বেও সার্জনের অনুপস্থিতিতে দীর্ঘদিন অব্যবহৃত পড়ে থেকে মূল্যবান যন্ত্রপাতি ও চিকিৎসা সরঞ্জামগুলো নষ্ট হচ্ছে।
নার্সিং ও সেবিকা ক্ষেত্রেও রয়েছে তীব্র ঘাটতি। ৩০টি অনুমোদিত পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন ২১ জন (শূন্য ৩০%)। মিডওয়েফ বা ধাত্রীর ৪টি পদের ৩টিই (৭৫%) ফাঁকা থাকা সত্ত্বেও চিকিৎসক ও মাত্র ১ জন ধাত্রীর অদম্য সাহসী প্রচেষ্টায় মাতৃস্বাস্থ্য সেবায় আশাব্যঞ্জক সাফল্য এসেছে। ২০২৪ সালে হাসপাতালে ৯৩৫টি এবং ২০২৫ সালে ৮০৫টি সফল নরমাল ডেলিভারি সম্পন্ন হয়েছে, যা ২০২৬ সালের আগস্ট পর্যন্ত দাঁড়ায় ৫৪৮টিতে। তবে মধ্যরাতে কোনো জটিলতা দেখা দিলে বা সিজারিয়ান সেবার প্রয়োজন হলে দুর্গম পথ পাড়ি দিয়ে রোগীকে টারশিয়ারি হাসপাতালে পাঠানো ঝুঁকিপূর্ণ ও আবেগঘন পরিস্থিতির সৃষ্টি করে। অন্তর্বিভাগে মাত্র ১৩ জন নার্স দিয়ে তিন শিফটে সেবা চালু রাখায় নার্সদের কোনো সাপ্তাহিক ছুটি দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না এবং জরুরি বিভাগে ৬ জন পুরুষ নার্সকে টানা ২৪ ঘণ্টা দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে।
অন্যান্য জরুরি পরিষেবার ক্ষেত্রে ৯১ শতাংশ পদই ফাঁকা। কার্ডিওগ্রাফার (ইসিজি), অ্যাম্বুলেন্স ড্রাইভার, জুনিয়র মেকানিক, আয়া, বাবুর্চি, মালি, ওয়ার্ড বয়, ফার্মাসিস্ট এবং এক্স-রে টেকনিশিয়ান—এসব পদের কোনোটিতেই কোনো স্থায়ী কর্মী নেই (১০০% শূন্য)। বর্তমানে পরিচ্ছন্নতা কর্মী ও অফিস সহায়কের ঘাটতি মেটাতে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় মাত্র ৭ জন আউটসোর্সিং কর্মী এবং ডাক্তার-নার্সদের সমন্বয়ে জরুরি বিভাগ, ইসিজি, প্যাথলজি ও বহির্বিভাগের সেবা চালু রাখা হয়েছে।
এত সীমাবদ্ধতার পরও হাসপাতালে রোগীদের ভিড় আশানুরূপভাবে বেড়েছে। বহির্বিভাগে ২০১৭ সালে সেবাগ্রহীতার সংখ্যা ছিল ৪৮,৫৩৪ জন, যা ২০২৫ সালে বেড়ে দাঁড়ায় ১,২৪,০৩৭ জনে এবং ২০২৬ সালের আগস্ট পর্যন্ত তা ১,০৪, ৪০৬ জন অতিক্রম করেছে। জরুরি বিভাগেও ২০১৭ সালের ৫,৮৩০ জন রোগীর তুলনায় ২০২৫ সালে সেবা নিয়েছেন ১৩,২২৬ জন (২০২৬ সালের আগস্ট পর্যন্ত ১২,৪৭৩ জন)। ৫ জন পুরুষ, মহিলা, লেবার, শিশু ও কেবিন সহ প্রতিদিন গড়ে ৫০ জনের অধিক রোগী ভর্তি থাকায় ২০২৩ সাল থেকে শয্যা পূর্ণতার হার (বেড অকুপেন্সি রেট) ১০০% এর উপরে অবস্থান করছে, যা ২০২৫ সালেও ছিল ১০৪.৪২%।
প্রতিষ্ঠানটির সার্বিক স্বচ্ছতা ও সেবার মান বৃদ্ধির ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে রাজস্ব আয় ও বাজেট বরাদ্দেও। ২০২২ সালে স্বাস্থ্যসেবা খাত থেকে সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া ইউজার ফি-র পরিমাণ ছিল ২,২৫,৩৯৪ টাকা, যা ২০২৫ সালে ৫ গুণেরও বেশি বেড়ে দাঁড়ায় ১২,৭০,৮৮৯ টাকায় (মাসিক গড়ে প্রায় ১ থেকে দেড় লাখ টাকা) এবং ২০২৬ সালের আগস্ট পর্যন্ত জমা হয়েছে ১০,৮৫,৫৬৫ টাকা। পাশাপাশি ২০২৪-২৫ অর্থবছরে মোট ওষুধ বাজেট ছিল ৭৮,০৩,৫৩০ টাকা, যা বৃদ্ধি পেয়ে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ১,০৭,৪৪,২৩০ টাকা এবং চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ১,১৯,৩৭,৯৪০ টাকায় উন্নীত হয়েছে। তবে বহুগুণে বৃদ্ধি পাওয়া রোগীদের চাহিদার তুলনায় এ বাজেট বরাদ্দ এখনও বেশ সীমিত।
অষ্টগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শাহ মোহাম্মদ মহিবুল্লাহ বলেন, "রোগীর চাপ অনুযায়ী বাজেটের স্বল্পতা, চিকিৎসকদের আবাসন সমস্যা ও জনবল সংকটের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে অবহিত করেছি। পাশাপাশি স্থানীয় সংসদ সদস্যকেও জানানো হয়েছে।
কিশোরগঞ্জ সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ সাইদুর রহমান বলেন, "মূলত চিকিৎসকসহ স্বাস্থ্য খাতের জনবল নিয়োগের বিষয়টি সরাসরি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের এখতিয়ারভুক্ত। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে নিয়মিত অবহিত করে আসছি। তাছাড়া হাওরাঞ্চলে আবাসন সংকটসহ নানা প্রতিকূলতার কারণে চিকিৎসকরা পদায়ন পেলেও দীর্ঘদিন সেখানে অবস্থান করতে চান না, যা একটি বড় সমস্যা।"
তিনি আরও বলেন, পরিচ্ছন্নতাকর্মীর পদগুলো এখন মূলত আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে পূরণ করা হয়। সেখানে বর্তমানে কতজন আউটসোর্সিং কর্মী কর্মরত আছেন তা খতিয়ে দেখে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা হবে।
হোল্ডিং ট্যাক্স ও ট্রেড লাইসেন্সসহ বিভিন্ন নাগরিক সেবা আরও সহজ, স্বচ্ছ, আধুনিক এবং সম্পূর্ণ হয়রানিমুক্ত করার লক্ষ্যে একটি নতুন অটোমেশন সফটওয়্যার চালু করেছে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন। এর ফলে এখন থেকে নগরবাসীকে আর কষ্ট করে সরাসরি অফিসে আসতে হবে না, বরং ঘরে বসেই অনলাইনে ফি পরিশোধ করে সহজেই এসব সেবা গ্রহণ করা সম্ভব হবে।
বৃহস্পতিবার গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের নগর ভবনের কনফারেন্স রুমে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে এই আধুনিক অটোমেশন সফটওয়্যারটির আনুষ্ঠানিক ‘সফট লঞ্চ’ করেন গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মো. শওকত হোসেন সরকার। সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মিজ্ তানজিলা খানমের সভাপতিত্বে প্রধান প্রকৌশলী আব্দুল বারেক, অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী সুদীপ বসাক, প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা মুহাম্মদ সানিউল কাদের, প্রকল্প পরিচালক ও তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী লেহাজ উদ্দিনসহ অনুষ্ঠানে আইসিটি বিভাগ, এটুআই এবং সিটি কর্পোরেশনের বিভিন্ন স্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রশাসক মো. শওকত হোসেন সরকার বলেন, নাগরিকরা যাতে ট্যাক্স ও ট্রেড লাইসেন্সের সেবা ঘরে বসেই খুব সহজে পেতে পারেন, সে লক্ষ্যেই গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন ডিজিটাল ব্যবস্থাপনার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। শুধু রাজস্ব সেবা নয়, পর্যায়ক্রমে সিটি কর্পোরেশনের অন্যান্য নাগরিক সেবাকেও অনলাইনের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে। এতে নাগরিকদের মূল্যবান সময় ও অর্থের সাশ্রয় হবে এবং অপ্রয়োজনীয় ভোগান্তি অনেকাংশে কমে আসবে। ডিজিটাল এই সেবার বিষয়ে নগরবাসীকে ব্যাপকভাবে অবহিত করতে তিনি গণমাধ্যমের সহযোগিতাও কামনা করেন।
প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মিজ্ তানজিলা খানম বলেন, জনগণের দোরগোড়ায় ডিজিটাল সেবা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য বাস্তবায়নে সিটি কর্পোরেশন ধাপে ধাপে এগিয়ে যাচ্ছে। রাজস্ব আয় বৃদ্ধি করতে সঠিক হোল্ডিং ম্যাপিং, তথ্যভিত্তিক রাজস্ব ব্যবস্থাপনা এবং আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের হোল্ডিং ট্যাক্স, ট্রেড লাইসেন্স, বিভিন্ন নাগরিক সনদ, পানির বিল, ইজারার অর্থ এবং মার্কেট ভাড়াসহ বিভিন্ন নাগরিক সেবার ফি ও বিল অনলাইনে প্রদানের জন্য তিনটি অটোমেশন প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। এর ফলে সিটি কর্পোরেশনের রাজস্ব ব্যবস্থাপনায় জবাবদিহিতা ও তথ্যভিত্তিক কার্যক্রম আরও সুদৃঢ় হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করছেন।
এর ফলে নগরবাসী মোবাইল ব্যাংকিং, ডিজিটাল ওয়ালেট, অনলাইন ব্যাংকিং, ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ড কিংবা এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে যেকোনো স্থান থেকে খুব নিরাপদে তাদের প্রদেয় ফি বা বিল পরিশোধ করতে পারবেন। ইতোমধ্যে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের পানির বিল ‘একপে’ প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে অনলাইনে সংগ্রহের কার্যক্রম পাইলটিং আকারে সফলভাবে চালু রয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, নতুন এই অটোমেশন ব্যবস্থায় কেন্দ্রীয় ডিজিটাল ডাটাবেজ, অনলাইন পেমেন্ট, ডিজিটাল রসিদ, অনলাইন নোটিশ এবং ডাটা বিশ্লেষণের সুযোগ থাকায় রাজস্ব ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা আসার পাশাপাশি নাগরিকদের সরাসরি অফিসে এসে সেবা নেওয়ার দীর্ঘসূত্রিতাও বহুলাংশে হ্রাস পাবে।
গত ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশে হাম উপসর্গে পাঁচ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে সন্দেহ ও নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়েছেন এক হাজার ২৮৩ জন।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
এতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গে শনাক্ত রোগীর সংখ্যা এক হাজার ১৮৩ জন এবং গত ১৫ মার্চ থেকে ২৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মোট হামরোগীর সংখ্যা এক লক্ষ ৮৪ হাজার ৬৩২ জন।
গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামরোগীর সংখ্যা ১০০ জন, গত ১৫ মার্চ থেকে ২৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নিশ্চিত হামরোগীর সংখ্যা ২০ হাজার ৯৫১ জন।
গত ১৫ মার্চ থেকে ২৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত হাম উপসর্গে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এক লাখ ৬৩ হাজার ১৫৩ জন।
একই সময়ে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন এক লাখ ৫৬ হাজার ৭৪৪ জন।
গত ২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গে পাঁচ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং গত ১৫ মার্চ থেকে ২৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত হাম উপসর্গে মোট ৯৮০ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামে কারও মৃত্যু হয়নি এবং গত ১৫ মার্চ থেকে ২৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নিশ্চিত হামে ১০১ জনের মৃত্যু হয়েছে।
কারখানায় অনুমোদনহীন যৌন উত্তেজক ওষুধ, বেবি জেলসহ বিভিন্ন অননুমোদিত সামগ্রী তৈরির দায়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ফরিদপুর জেলা শাখার জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক মো. বায়েজিদ হোসেন শাহেদকে (৪০) ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। একই সঙ্গে তাঁকে ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়। দণ্ডাদেশ দেওয়ার পর রাতেই তাঁকে ফরিদপুর জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, গত মঙ্গলবার সন্ধ্যার দিকে ফরিদপুর শহরের গোয়ালচামট মোল্লা বাড়ি সড়ক এলাকায় শাহেদের মালিকানাধীন ‘মেসার্স জনতা ল্যাবরেটরিজ’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করা হয়। জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ইনসানা তানজীন ইকোর নেতৃত্বে এই অভিযান পরিচালিত হয়। তিনি জানান, কারখানাটিতে নিয়মবহির্ভূতভাবে ওষুধ উৎপাদন করায় ১৯৫৬ সালের অত্যাবশ্যকীয় পণ্য নিয়ন্ত্রণ আইনের ৬/১ ধারা লঙ্ঘনের অপরাধে প্রতিষ্ঠানটির মালিককে এই কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
ভ্রাম্যমাণ আদালতের কার্যবিবরণী থেকে জানা যায়, অভিযুক্ত এনসিপি নেতা শাহেদ ২০২২ সালের সেপ্টেম্বর মাস থেকে এই কারখানাটি পরিচালনা করে আসছিলেন। সেখানে কোনো প্রকার প্রাতিষ্ঠানিক মান নিয়ন্ত্রণ ও বৈধতা ছাড়াই শিশুদের জন্য বেবি জেল, প্রাপ্তবয়স্কদের ব্যবহারের জন্য বিভিন্ন যৌন উত্তেজক বড়ি ও সিরাপ এবং আয়ুর্বেদিক ওষুধ তৈরি করা হতো। অভিযান চলাকালে কারখানাটি থেকে বিপুল পরিমাণ অবৈধ ও মানহীন ওষুধ জব্দ করা হয়। এ ছাড়া কারখানাটিতে ওষুধ তৈরির জন্য মেয়াদোত্তীর্ণ কাঁচামাল মজুত রাখার প্রমাণও পান ভ্রাম্যমাণ আদালত।
দলীয় নেতার কারাদণ্ডের বিষয়ে ফরিদপুর জেলা এনসিপির সদস্যসচিব সাইফ হাসান খান জানিয়েছেন, কোনো ধরনের অনৈতিক বা বেআইনি কর্মকাণ্ডের সঙ্গে দলের আপস করার সুযোগ নেই। তিনি উল্লেখ করেন, দলীয় পদের কেউ অপরাধে জড়িয়ে পড়লে তাঁর বিরুদ্ধে সাংগঠনিক শৃঙ্খলাভঙ্গের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিষয়টি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকে আনুষ্ঠানিক প্রতিবেদন জানানো হবে বলেও জানান তিনি।
দেশে হাম পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। গত একদিনে সর্বোচ্চ ১১ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। নতুন করে হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে ১ হাজার ১৫৭ জনের শরীরে এবং নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত হয়েছে আরও ১১৩ জনের। এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) পর্যন্ত হাম ও হামের উপসর্গে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৭৬ জনে। এর মধ্যে নিশ্চিত হামে ১০১ জন এবং হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে ৯৭৫ জনের।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, একই সময়ে দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে মোট সন্দেহভাজন রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৮৩ হাজার ৪৪৯ জনে। আর পরীক্ষায় নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়েছেন ২০ হাজার ৮৫১ জন। হাম সন্দেহে এ পর্যন্ত হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ লাখ ৬২ হাজার ৪৮ জন; সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ১ লাখ ৫৫ হাজার ৬১২ জন।
প্রতিদিনই বাড়ছে মৃত্যুর সংখ্যা: স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিসংখ্যান বলছে, মার্চের মাঝামাঝি শুরু হওয়া এই প্রাদুর্ভাব ছয় মাস পেরিয়েও নিয়ন্ত্রণে আসেনি। বরং সেপ্টেম্বরেও প্রতিদিন শত শত নতুন রোগী শনাক্ত হচ্ছে এবং মৃত্যুর ঘটনাও অব্যাহত রয়েছে।
৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত হাম ও হামের উপসর্গে মৃত্যুর সংখ্যা ৯৯৯-এ পৌঁছেছিল। তখন পর্যন্ত সন্দেহভাজন রোগীর সংখ্যা ছিল ১ লাখ ৬৬ হাজারের বেশি এবং নিশ্চিত রোগী ছিল প্রায় ২০ হাজার। এরপর মাত্র দুই সপ্তাহের মধ্যে সম্মিলিত মৃত্যুর সংখ্যা আরও ৭৭ জন বেড়েছে।
মৃতদের বড় একটি অংশ শিশু। বিশেষজ্ঞদের মতে, হাম সব বয়সি মানুষকে আক্রান্ত করলেও ছোট শিশুরা গুরুতর অসুস্থতা ও মৃত্যুর সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকে। বিশেষ করে পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশু, অপুষ্টিতে ভোগা শিশু এবং ভিটামিন-এ ঘাটতিতে থাকা শিশুদের ঝুঁকি বেশি।
হামের সঙ্গে বাড়ছে জটিলতা: হামের সংক্রমণের পাশাপাশি নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া, কানের সংক্রমণ, চোখের জটিলতা এবং মস্তিষ্কে প্রদাহের মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। এসব জটিলতা অনেক ক্ষেত্রে শিশুর মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
ঢাকার সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালের চলতি বছরের রোগীর তথ্যেও শিশুদের ঝুঁকির চিত্র উঠে এসেছে। ২৩ আগস্ট পর্যন্ত ওই হাসপাতালে নথিভুক্ত ৫৭টি নিশ্চিত বা সন্দেহভাজন হাম-সংক্রান্ত মৃত্যুর মধ্যে ৪৯ জনের বয়স ছিল ১৫ মাসের নিচে। তাদের ৩১ জনের বয়স ছিল নয় মাসেরও কম। অর্থাৎ যে বয়সে বাংলাদেশে নিয়মিত হাম-রুবেলা টিকার প্রথম ডোজ দেওয়ার কথা, তার আগেই অনেক শিশু আক্রান্ত হয়েছে।
ওই ৫৭ মৃত্যুর মধ্যে ৪৭ জন কোনো হাম টিকা পায়নি এবং ৫০ জনের ক্ষেত্রে নিউমোনিয়া ছিল। তবে হাসপাতালটির তথ্য দিয়ে পুরো দেশের মৃত্যুর চিত্র নির্ধারণ করা যায় না বলে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকেরা সতর্ক করেছেন।
টিকাদানে ঘাটতিই বড় উদ্বেগ: জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্তমান পরিস্থিতির পেছনে কয়েক বছর ধরে টিকাদানে তৈরি হওয়া ঘাটতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। ২০১৯ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে হাম-রুবেলা টিকার প্রথম ডোজ নেওয়ার হার ৮৮ দশমিক ৬ শতাংশ থেকে ৮৬ শতাংশে এবং দ্বিতীয় ডোজ নেওয়ার হার ৮৯ শতাংশ থেকে ৮০ দশমিক ৭ শতাংশে নেমে যায়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, হাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে শিশুদের অন্তত ৯৫ শতাংশকে দুই ডোজ টিকার আওতায় আনা প্রয়োজন। টিকাদানের সামান্য ঘাটতিও কয়েক বছর পর বড় আকারের সংক্রমণের সুযোগ তৈরি করতে পারে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বিশ্লেষণেও বাংলাদেশের বর্তমান প্রাদুর্ভাবের সঙ্গে জনগোষ্ঠীর রোগ প্রতিরোধক্ষমতার ঘাটতির সম্পর্ক পাওয়া গেছে। আক্রান্তদের বড় অংশ টিকা না পাওয়া অথবা মাত্র এক ডোজ টিকা পাওয়া শিশু। এক থেকে ১৪ বছর বয়সি শিশুরাই মোট আক্রান্তের প্রায় ৯১ শতাংশ।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ ও ২০২৫ সালে টিকার সরবরাহে ঘাটতি, নিয়মিত টিকাদানে বিঘ্ন এবং ২০২০ সালের পর নিয়মিত দেশব্যাপী সম্পূরক হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচি না হওয়ায় ঝুঁকি বেড়েছে।
জরুরি টিকা কর্মসূচি, তবু বাদ পড়ছে শিশু: প্রাদুর্ভাবের পর সরকার জরুরি টিকাদান কর্মসূচি শুরু করে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় ৫ এপ্রিল থেকে এবং পরে ২০ এপ্রিল থেকে দেশব্যাপী এই কর্মসূচি চালু করা হয়। এর আওতায় প্রায় দুই কোটি শিশুকে টিকা দেওয়া হয়েছে।
তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু জাতীয় পর্যায়ে টিকাদানের সংখ্যা দিয়ে পরিস্থিতি বোঝা যাবে না। কোন এলাকায় কত শিশু টিকা পায়নি, কোন বয়সি শিশুরা ঝুঁকিতে রয়েছে এবং কারা এক ডোজ পেয়েছে কিন্তু দ্বিতীয় ডোজ পায়নি—এসব তথ্য আলাদাভাবে চিহ্নিত করা জরুরি।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ মুস্তাক হোসেন বলেন, জাতীয় গড় টিকাদানের হার দিয়ে সব এলাকার বাস্তব চিত্র বোঝা যায় না। কোনো কোনো এলাকায় টিকাদানের হার ৯৫ শতাংশের বেশি হলেও অন্য এলাকায় বিপুলসংখ্যক শিশু টিকার বাইরে থাকতে পারে। তাই বয়স, টিকাদানের ইতিহাস ও অবস্থানভিত্তিক তথ্য বিশ্লেষণ করে এসব শিশুকে শনাক্ত করার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।
মহামারিবিদ ও রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সাবেক পরিচালক অধ্যাপক মাহমুদুর রহমান বলেন, এত বেশি শিশু হাম আক্রান্ত ও মৃত্যুর ঘটনা বাংলাদেশে আগে দেখা যায়নি। তার মতে, রোগ প্রতিরোধক্ষমতার ঘাটতি পূরণ, টিকাদানের আওতা বাড়ানো এবং জনসচেতনতা জোরদার করা এখন জরুরি।
হাসপাতালেও বাড়ছে চাপ: হামের সঙ্গে একই সময়ে ডেঙ্গুর প্রকোপ থাকায় স্বাস্থ্যব্যবস্থার ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে। ঢাকার কয়েকটি হাসপাতালে হাম আক্রান্ত রোগীর অতিরিক্ত চাপ, শয্যা সংকট এবং শিশুদের চিকিৎসায় প্রয়োজনীয় কিছু সামগ্রীর ঘাটতির কথাও উঠে এসেছে।
চিকিৎসকদের মতে, হাম আক্রান্ত শিশুদের শুধু হাম নিয়েই চিকিৎসা করতে হয় না। নিউমোনিয়া, পানিশূন্যতা, অপুষ্টি ও অন্যান্য জটিলতা দেখা দিলে নিবিড় চিকিৎসার প্রয়োজন হয়। ফলে একসঙ্গে বিপুলসংখ্যক শিশু হাসপাতালে ভর্তি হলে চিকিৎসাব্যবস্থার ওপর চাপ বেড়ে যায়।
সামনে বড় চ্যালেঞ্জ: বিশেষজ্ঞদের বক্তব্যে একটি বিষয়ে মিল রয়েছে—শুধু একটি বড় টিকাদান কর্মসূচি দিয়ে পরিস্থিতি স্থায়ীভাবে নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন। নিয়মিত টিকাদান কার্যক্রম শক্তিশালী করা, বাদ পড়া শিশুদের খুঁজে বের করা, প্রত্যন্ত ও ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহ, দ্রুত রোগ শনাক্তকরণ এবং হাসপাতালের চিকিৎসা সক্ষমতা বাড়ানো প্রয়োজন।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি জাতীয় পর্যায়ে উচ্চ ঝুঁকির। বিভিন্ন এলাকায় সংক্রমণ অব্যাহত রয়েছে, বিপুলসংখ্যক শিশু এখনও সংক্রমণের ঝুঁকিতে রয়েছে এবং হাম-সদৃশ উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুও ঘটছে। দ্রুত নজরদারি জোরদার এবং টিকাদানের মাধ্যমে রোগ প্রতিরোধক্ষমতার ঘাটতি পূরণ না করলে সংক্রমণ আরও দীর্ঘায়িত হতে পারে।
হাম ও ডেঙ্গুর সংক্রমণের চাপ সামলাতে যখন ব্যস্ত জনস্বাস্থ্যব্যবস্থা, তখন নতুন করে চোখ রাঙাচ্ছে অ্যানথ্রাক্স। গত দুই মাসে দেশের পাঁচ জেলায় শতাধিক মানুষ এ প্রাণীবাহিত রোগে আক্রান্ত হয়েছেন। আক্রান্তদের অনেকেরই রুগ্ণ গরু-ছাগলের মাংস কাটাকাটি, ভাগাভাগি কিংবা নাড়াচাড়ার ইতিহাস রয়েছে। কোথাও একটি অসুস্থ গরু জবাই করে মাংস ভাগ করে দেওয়ার পর একই এলাকার একাধিক পরিবারের মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন।
সবচেয়ে বড় প্রাদুর্ভাবের তথ্য পাওয়া গেছে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে। ৯ সেপ্টেম্বর একটি রুগ্ন গরু জবাই করে তার মাংস প্রায় ১০০ ভাগ করে বিভিন্ন বাড়িতে দেওয়া হয়। এরপর ওই মাংস যেসব বাড়িতে যায়, সেসব পরিবারের সদস্যদের অনেকে অসুস্থ হয়ে পড়েন। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) পর্যন্ত সুন্দরগঞ্জ উপজেলা হাসপাতালে ৩১ জন রোগী চিকিৎসাধীন ছিলেন। উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ আশঙ্কা করছে, আক্রান্তের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
মেহেরপুরের গাংনীতে আগস্টে ৩৮ এবং সেপ্টেম্বরে ১৮ জনসহ ৫৬ জন আক্রান্ত হয়েছেন। কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে অন্তত ১৫ জন এবং রংপুরের পীরগাছায় অন্তত ৫০ জন আক্রান্ত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। দিনাজপুরের পার্বতীপুরেও অ্যানথ্রাক্স শনাক্ত হয়েছে।
স্বাস্থ্য ও প্রাণিসম্পদ বিভাগ এবং রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর) এসব সংক্রমণের তথ্য নিশ্চিত করেছে। সুন্দরগঞ্জের ঘটনাকে বড় প্রাদুর্ভাব হিসেবে দেখছে আইইডিসিআর। সংক্রমণের উৎস ও বিস্তার অনুসন্ধানে সেখানে দল পাঠানো হয়েছে।
মাংস ভাগ করেই ছড়াচ্ছে সংক্রমণ: সুন্দরগঞ্জের ঘটনা অ্যানথ্রাক্সের ঝুঁকির একটি স্পষ্ট চিত্র সামনে এনেছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা মো. কামরুল ইসলাম জানান, ৯ সেপ্টেম্বর একটি বড় আকারের রুগ্ন গরু জবাই করা হয়। পরে গরুটির মাংস প্রায় ১০০ ভাগ করে বিভিন্ন বাড়িতে দেওয়া হয়। এরপর এসব বাড়ির মানুষ অ্যানথ্রাক্সে আক্রান্ত হন।
প্রথমে সাতজন হাসপাতালে ভর্তি হন। পরে আরও ১৪ জন ভর্তি হন। আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে ৩১ জনে দাঁড়ায়। এর আগে আগস্টেও একই ধরনের ঘটনায় ছয়জন আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন।
মেহেরপুরের গাংনীতেও আক্রান্তদের সঙ্গে রুগ্ণ ছাগলের মাংস কাটাকাটি ও নাড়াচাড়ার যোগসূত্র পাওয়া গেছে। কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে আক্রান্তদের প্রত্যেকেরই রুগ্ন গরুর মাংসের সংস্পর্শে আসার ইতিহাস রয়েছে।
অর্থাৎ, রোগটি শুধু পশুর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকছে না; অসুস্থ পশু জবাই, মাংস ভাগাভাগি ও বাজারজাতকরণের মাধ্যমে মানুষের মধ্যেও দ্রুত পৌঁছে যাচ্ছে।
পীরগাছায় নমুনায় মিলেছে অ্যানথ্রাক্স: রংপুরের পীরগাছায় চারটি ইউনিয়নে অন্তত ৫০ জনকে অ্যানথ্রাক্সের চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে ৩০ জন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। জুলাই থেকে সেখানে ত্বকের সমস্যার রোগী আসতে শুরু করার পর এলাকায় গবাদিপশু মারা যাওয়ার তথ্য পাওয়া যায়।
আইইডিসিআরের প্রতিনিধি দল ১৩ ও ১৪ সেপ্টেম্বর অ্যানথ্রাক্সের উপসর্গ থাকা ১২ জনের নমুনা সংগ্রহ করে। পরীক্ষায় আটজনের অ্যানথ্রাক্স শনাক্ত হয়। ঘটনাস্থল থেকে অসুস্থ গরুর মাংসের নমুনা পরীক্ষাতেও অ্যানথ্রাক্স শনাক্ত হওয়ার তথ্য জানিয়েছে প্রাণিসম্পদ বিভাগ।
পীরগাছায় অ্যানথ্রাক্সের উপসর্গ নিয়ে দুজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেলেও রংপুরের সিভিল সার্জন শাহীন সুলতানা জানিয়েছেন, তাদের মৃত্যুর কারণ অ্যানথ্রাক্স নয়। তাদের হৃদ্রোগসহ অন্যান্য জটিলতা ছিল। তার ভাষ্য, পীরগাছার পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং পর্যাপ্ত অ্যান্টিবায়োটিক রয়েছে।
অ্যানথ্রাক্স কতটা ভয়ংকর: অ্যানথ্রাক্স ব্যাসিলাস অ্যানথ্রাসিস নামের স্পোর গঠনকারী ব্যাকটেরিয়ার কারণে হয়। মাটিতে এ জীবাণু দীর্ঘদিন থাকতে পারে। গরু, মহিষ, ছাগল ও ভেড়ার মতো তৃণভোজী প্রাণী দূষিত ঘাস বা খাবারের মাধ্যমে আক্রান্ত হতে পারে।
আক্রান্ত পশু জবাইয়ের সময় মাংস, রক্ত, পশম, হাড় বা অন্যান্য অংশের সংস্পর্শে মানুষ আক্রান্ত হতে পারে। কাঁচা বা অর্ধসেদ্ধ মাংস খেলেও সংক্রমণ হতে পারে। মানুষ থেকে মানুষে সাধারণত এ রোগ ছড়ায় না।
মানুষের শরীরে অ্যানথ্রাক্স প্রধানত ত্বকজনিত, পাকস্থলী ও অন্ত্রজনিত এবং শ্বাসজনিত—এই তিন ধরনের হয়ে থাকে। সবচেয়ে বেশি দেখা যায় ত্বকজনিত অ্যানথ্রাক্স। আক্রান্ত স্থানে প্রথমে ফোলা বা চুলকানি হয়, পরে ক্ষতটি কালো হয়ে যেতে পারে।
অন্যদিকে আক্রান্ত পশুর মাংস খেলে পাকস্থলী ও অন্ত্রজনিত অ্যানথ্রাক্স হতে পারে। এতে বমি, পেটব্যথা, জ্বর, রক্তমিশ্রিত পায়খানা ও রক্তবমির মতো গুরুতর উপসর্গ দেখা দিতে পারে। শ্বাসজনিত অ্যানথ্রাক্স বিরল হলেও অত্যন্ত গুরুতর এবং দ্রুত চিকিৎসা না হলে প্রাণঘাতী হতে পারে।
বাংলাদেশে বারবার ফিরছে রোগটি: বাংলাদেশে অ্যানথ্রাক্স নতুন কোনো রোগ নয়। ২০১০ সালের জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশের ১২টি জেলায় ১০৪টি গবাদিপশু ও ৬০৭ জন মানুষের অ্যানথ্রাক্স শনাক্ত হওয়ার তথ্য গবেষণায় উঠে এসেছে। আক্রান্ত মানুষদের সবাই ত্বকজনিত অ্যানথ্রাক্সে ভুগেছিলেন।
প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০০৮ সালে ৪৩৭টি এবং ২০০৯ সালে ৪৪৯টি অ্যানথ্রাক্স আক্রান্ত পশু শনাক্ত হয়েছিল। ২০১১ সালে বগুড়ার ধুনটে অ্যানথ্রাক্সে আক্রান্ত হয়ে একজনের মৃত্যু হয়। একই গ্রামের আরও ১৬ জন আক্রান্ত হন।
২০১৩ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত দেশের সাত জেলায় অ্যানথ্রাক্সের ২৬টি প্রাদুর্ভাব নিয়ে করা গবেষণায় ১ হাজার ২১০ জন আক্রান্ত হওয়ার তথ্য পাওয়া যায়।
জলবায়ু পরিবর্তনে বাড়ছে জুনোটিক রোগের ঝুঁকি: বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অ্যানথ্রাক্সের পাশাপাশি অন্যান্য প্রাণীবাহিত রোগের ঝুঁকিও বাড়ছে। জলবায়ু পরিবর্তন, তাপমাত্রা বৃদ্ধি, বন উজাড়, পরিবেশের ভারসাম্যহীনতা এবং মানুষের সঙ্গে প্রাণীর ঘনিষ্ঠতা বৃদ্ধির কারণে রোগজীবাণুর বিস্তারের নতুন সুযোগ তৈরি হচ্ছে।
বন্য প্রাণী ও বাদুড় মানুষের বসতির কাছাকাছি চলে আসায় নতুন রোগজীবাণুর সংস্পর্শে আসার ঝুঁকিও বাড়ছে। অ্যানথ্রাক্স ছাড়াও ব্রুসেলোসিস, সালমোনেলোসিস, ক্যাম্পাইলোব্যাক্টেরিওসিস ও লেপ্টোস্পাইরোসিসের মতো প্রাণীবাহিত রোগ রয়েছে।
এ পরিস্থিতিতে শুধু রোগী শনাক্ত ও চিকিৎসা করলেই হবে না; পশুর রোগ শনাক্তকরণ, টিকাদান, কসাইখানার স্বাস্থ্যবিধি, মাংসের বাজারে নজরদারি এবং পরিবেশগত ঝুঁকি—সবকিছুকে একই ব্যবস্থার আওতায় আনার প্রয়োজন রয়েছে।
‘ওয়ান হেলথ’ পদ্ধতিতে নজরদারি জরুরি: জনস্বাস্থ্যবিদ ডা. মুশতাক হোসেনের মতে, ‘ওয়ান হেলথ’ পদ্ধতির পরিকল্পনা থাকলেও মাঠপর্যায়ে এর কার্যকর বাস্তবায়নে আরও গুরুত্ব দিতে হবে। মানুষ, প্রাণী ও পরিবেশের স্বাস্থ্যকে আলাদা করে দেখলে প্রাণীবাহিত রোগ নিয়ন্ত্রণ কঠিন হয়ে পড়বে।
আইইডিসিআরের পরিচালক অধ্যাপক কাজী আহমেদ জাকী অ্যানথ্রাক্স প্রতিরোধে গবাদিপশুকে টিকার আওতায় আনার ওপর জোর দিয়েছেন। তাঁর মতে, আক্রান্ত পশু যেন কেউ জবাই বা বিক্রি করতে না পারে, সে বিষয়ে প্রশাসন ও প্রাণিসম্পদ বিভাগের নজরদারি বাড়াতে হবে।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, কোনো পশু হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে বা অস্বাভাবিকভাবে মারা গেলে তার মাংস বা চামড়া ব্যবহার করা যাবে না। আক্রান্ত পশুর মৃতদেহ নিরাপদভাবে ধ্বংস করতে হবে। একই সঙ্গে আক্রান্ত এলাকায় জীবাণুমুক্তকরণ ও প্রয়োজন অনুযায়ী পশুকে টিকা দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে।
সতর্কতার বিকল্প নেই: রুগ্ন পশু জবাই, বিক্রি কিংবা তার মাংস কাটাকাটি থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। কাঁচা মাংস ধরার সময় হাতে কাটা বা ক্ষত থাকলে সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ে। তাই প্রয়োজন হলে গ্লাভসসহ সুরক্ষাসামগ্রী ব্যবহার করতে হবে।
মাংস ভালোভাবে রান্না করে খেতে হবে এবং অর্ধসেদ্ধ মাংস এড়িয়ে চলতে হবে। গবাদিপশুকে নিয়মিত অ্যানথ্রাক্সের টিকা দেওয়ার ব্যবস্থাও করতে হবে।
সুন্দরগঞ্জে অ্যানথ্রাক্সের প্রাদুর্ভাবের উৎস ও বিস্তার অনুসন্ধানে আইইডিসিআরের দল কাজ করছে। প্রাণিসম্পদ বিভাগও আক্রান্ত ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় নমুনা পরীক্ষা ও টিকাদান চালাচ্ছে।
হাম ও ডেঙ্গুর মতো রোগের চাপের মধ্যেই পাঁচ জেলায় অ্যানথ্রাক্সের এই বিস্তার জনস্বাস্থ্যের জন্য নতুন সতর্কবার্তা। একটি রুগ্ন পশু জবাই থেকে যখন কয়েক ডজন মানুষ আক্রান্ত হতে পারেন, তখন প্রাণীর রোগ নিয়ন্ত্রণকে আর শুধু প্রাণিসম্পদ খাতের বিষয় হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। দ্রুত রোগ শনাক্তকরণ, পশুর শতভাগ টিকাদান, অসুস্থ পশু জবাই বন্ধ, নিরাপদ মৃতদেহ ব্যবস্থাপনা এবং মাংসের বাজারে স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করার পাশাপাশি মানুষ-প্রাণী-পরিবেশকে একই কাঠামোয় এনে সমন্বিত নজরদারিই হতে পারে এই ঝুঁকি মোকাবিলার প্রধান পথ।
মাদকবিরোধী অভিযানের পাশাপাশি অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের সংশোধনের উদ্যোগ নিয়েছেন চাঁদপুরের কচুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আজিজুল ইসলাম। একাধিকবার মাদক মামলায় জড়িয়ে জামিনে মুক্ত হয়ে আবারও একই কর্মকাণ্ডে ফেরার অভিযোগ থাকা দুই ব্যক্তিকে তিন দিনের তাবলিগ জামাতে পাঠিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) রাতে ওসি আজিজুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
জানা গেছে, কচুয়া উপজেলার আকানিয়া-নাছিরপুর গ্রামের শাহজালাল ও হেলালের বিরুদ্ধে একাধিক মাদকসংক্রান্ত মামলা রয়েছে। আইনগত প্রক্রিয়ায় জামিনে মুক্ত হওয়ার পর তারা আবারও মাদক ব্যবসায় জড়িয়ে পড়তেন বলে স্থানীয়দের অভিযোগ ছিল।
এ পরিস্থিতিতে শুধু মামলা ও আইনগত ব্যবস্থা নয়, তাদের জীবনধারায় পরিবর্তন আনার উদ্যোগ নেন ওসি আজিজুল ইসলাম। এলাকাবাসীর সহযোগিতায় দুজনকে থানায় ডেকে এনে নৈতিক ও ধর্মীয় শিক্ষার উদ্দেশ্যে তিন দিনের তাবলিগ জামাতে পাঠানো হয়।
তিন দিন পর মঙ্গলবার জোহরের নামাজ আদায় করে তারা থানায় ফিরে ওসির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এ সময় তারা নিজেদের ভুল স্বীকার করে ভবিষ্যতে মাদক থেকে দূরে থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
শাহজালাল ও হেলাল বলেন, ‘আমরা প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি, এখন থেকে নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করব, প্রতি মাসে তিন দিন তাবলিগে যাওয়ার চেষ্টা করব এবং ভবিষ্যতে মাদক ব্যবসা ও মাদক সেবনের সঙ্গে আর জড়িত হব না।’
ওসি মোহাম্মদ আজিজুল ইসলাম বলেন, ‘শুধু মামলা দিয়ে সব সময় মাদক নির্মূল সম্ভব নয়। তাদের নৈতিকভাবে পরিবর্তন করতে হবে। আমরা চাই, তারা সত্যিকারের ভালো মানুষ হয়ে সমাজে ফিরে আসুক।’
ওসির এ উদ্যোগে স্থানীয় সচেতন মহলে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। তাদের মতে, মাদকবিরোধী অভিযান ও আইনি ব্যবস্থার পাশাপাশি অপরাধে জড়িয়ে পড়া ব্যক্তিদের সংশোধনের সুযোগ দেওয়া হলে দীর্ঘমেয়াদে তাদের জীবনধারায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব হতে পারে।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৪৯তম সিন্ডিকেট সভায় র্যাগিং, শারীরিক হামলা ও স্বাক্ষর জালিয়াতির ঘটনায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ১৯ শিক্ষার্থীর ছাত্রত্ব এক বছরের জন্য স্থগিত করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। একই সঙ্গে তাদের আবাসিকতা বাতিল করে ভবিষ্যতে হলে থাকার সুযোগ না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
একই অভিযোগে আরও ৭৯ শিক্ষার্থীকে কঠোরভাবে সতর্ক করা হয়েছে সিন্ডিকেটে।
সিন্ডিকেট ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, বিভিন্ন বিভাগের মোট ৯৮ শিক্ষার্থীকে নানা মেয়াদে শাস্তি দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে র্যাগিংয়ের অভিযোগে ১৫ জন, লোকপ্রশাসন বিভাগের সভাপতির স্বাক্ষর জালিয়াতির অভিযোগে তিনজন এবং চারুকলা অনুষদের সিনিয়র শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগে একজনসহ মোট ১৯ শিক্ষার্থীর ছাত্রত্ব এক বছরের জন্য স্থগিত করা হয়েছে। একই সঙ্গে তাদের আবাসিকতা বাতিল করা হয়েছে। ভবিষ্যতে আবাসিকতার জন্য তাদের বিবেচনা না করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
এ ছাড়া র্যাগিংয়ের অভিযোগে বিভিন্ন বিভাগের ৭৯ শিক্ষার্থীকে কঠোরভাবে সতর্ক করা হয়েছে। ভবিষ্যতে তাদের বিরুদ্ধে র্যাগিংয়ে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে অধিকতর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সিদ্ধান্ত হয়েছে।সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের চিঠির মাধ্যমে শাস্তির বিষয়টি জানানো হবে।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ডিসিপ্লিনারি বোর্ডের সভা-২০২৬-এ উপস্থাপিত অভিযোগের তালিকা বিশ্লেষণ করে জানা গেছে, অভিযোগ উত্থাপিত হওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাংকিং অ্যান্ড ইন্স্যুরেন্স বিভাগের ৩১ জন, ইতিহাস বিভাগের ১৮ জন, লোকপ্রশাসন বিভাগের ১৫ জন, ভূতত্ত্ব ও খনিবিদ্যা বিভাগের ১৩ জন, অ্যাগ্রোনমি অ্যান্ড অ্যাগ্রিকালচার এক্সটেনশন বিভাগের সাতজন, চিকিৎসা মনোবিজ্ঞান বিভাগের চারজন, শারীরিক শিক্ষা ও ক্রীড়া বিজ্ঞান বিভাগের চারজন, চিত্রকলা, প্রাচ্যকলা ও ছাপচিত্র বিভাগের চারজন, অর্থনীতি বিভাগের দুজন এবং গ্রাফিক ডিজাইন, কারুশিল্প ও শিল্পকলার ইতিহাস বিভাগের একজন রয়েছেন। সব মিলিয়ে এসব বিভাগের ৯৮ শিক্ষার্থীকে শাস্তির আওতায় আনা হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবর রহমান বলেন, ‘র্যাগিংয়ের অভিযোগে ১৫ জন, চারুকলা অনুষদের সিনিয়র শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগে একজন এবং লোকপ্রশাসন বিভাগের সভাপতির স্বাক্ষর জালিয়াতির অভিযোগে তিনজনসহ মোট ১৯ জনকে এক বছরের জন্য শাস্তি দেওয়া হয়েছে। তাদের আবাসিকতা বাতিল করা হবে এবং পরবর্তীতে হলে আবাসিকতার সুযোগ পাবেন না।’
তিনি আরও বলেন, ‘র্যাগিংয়ের অভিযোগে ৭৯ জনকে কঠোর সতর্কতামূলক চিঠি দেওয়া হয়েছে। তাদের পরিবারকেও চিঠির মাধ্যমে বিষয়টি জানাবে কর্তৃপক্ষ।’#
নওগাঁর বদলগাছীতে আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত এক আসামিকে প্রথম দফায় গ্রেপ্তারের সুযোগ পেয়েও আটক করতে না পারার অভিযোগে উপপরিদর্শক (এসআই) অসিত কুমারকে পুলিশ লাইনে প্রত্যাহার (ক্লোজ) করা হয়েছে। দায়িত্ব পালনে শিথিলতা ও অসাবধানতার কারণেই তাঁর বিরুদ্ধে এ প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
গ্রেপ্তার হওয়া আসামি রাকিবুল হাসান বদলগাছী উপজেলার কোলা ইউনিয়নের আক্কেলপুর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি উপজেলা ছাত্রলীগের নিষিদ্ধ ঘোষিত কমিটির সহসভাপতি। একটি সিআর মামলায় (নম্বর ২২২/২৫) তাঁর বিরুদ্ধে আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি ছিল।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১০ সেপ্টেম্বর ভোরে আক্কেলপুর গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে রাকিবুল হাসানকে গ্রেপ্তার করে বদলগাছী থানা পুলিশ। অভিযানে নেতৃত্ব দেন এসআই অসিত কুমার। এর আগে উপজেলার ভান্ডারপুর বাজার এলাকায় তাঁকে গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান চালানো হয়। সেখানে পুলিশ তাঁকে আটক করার চেষ্টা করলেও তিনি মোটরসাইকেলে করে পালিয়ে যান। পরে গভীর রাতে দ্বিতীয় দফায় অভিযান চালিয়ে নিজ বাড়ি থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, প্রথম দফার অভিযানে রাকিবুলকে গ্রেপ্তারের সুযোগ পেয়েও তাঁকে পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল—এমন অভিযোগ পুলিশ প্রশাসনের কাছে পৌঁছায়। এমনকি তাঁকে ধরে টাকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগও ওঠে। তবে এ অভিযোগের পক্ষে কোনো স্বাধীন প্রমাণ বা আনুষ্ঠানিক তদন্তের ফলাফল প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।
এসআই অসিত কুমার বলেন, আদালতের পরোয়ানা থাকায় রাকিবুলকে গ্রেপ্তারের জন্য একাধিকবার অভিযান চালানো হয়। ভান্ডারপুর বাজারে প্রথম দফায় তাঁকে আটক করা সম্ভব হয়নি। পরে নিজ বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।
প্রথম দফায় তাঁকে ধরে টাকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অসিত কুমার বলেন, এমন একটি অভিযোগের কথা তিনি শুনেছেন। তবে কে বা কারা এ অভিযোগ করেছেন, সে বিষয়ে তিনি স্পষ্টভাবে জানেন না। আসামিকে গ্রেপ্তারের পরপরই তাঁকে পুলিশ লাইনে প্রত্যাহারের নির্দেশ দেওয়া হয় বলেও জানান তিনি।
গ্রেপ্তার হওয়া রাকিবুল হাসানের মা রেহেনা পারভিন বলেন, পুলিশ তাঁর ছেলেকে বাড়ি থেকেই গ্রেপ্তার করে নিয়ে গেছে। তবে ছেলেকে গ্রেপ্তারের ক্ষেত্রে কোনো লেনদেন বা পুলিশের অসদাচরণের বিষয়ে তিনি পুলিশ সুপারের কাছে কোনো অভিযোগ করেননি বলে দাবি করেন।
বদলগাছী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ রুহুল আমিন জানান, প্রথম অভিযানে আসামিকে পেয়েও ছেড়ে দেওয়া বা পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ দেওয়ার একটি অভিযোগ পুলিশ সুপারের কাছে পৌঁছেছিল। এরপর এসআই অসিত কুমারকে পুলিশ লাইনে প্রত্যাহারের নির্দেশ দেওয়া হয়।
তিনি বলেন, পরোয়ানাভুক্ত আসামিকে গ্রেপ্তারের জন্য প্রথম দফায় অভিযান পরিচালনা করা হয়েছিল। পরে দ্বিতীয় দফায় অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। তবে প্রথম অভিযানে দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে কী ধরনের শিথিলতা হয়েছিল, তা প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের বিষয়।
নওগাঁর পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন, স্থানীয় কোনো আলোচনা, গুঞ্জন বা অন্য কোনো কারণে এসআই অসিত কুমারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। অর্পিত দায়িত্ব পালনে অবহেলার কারণেই তাঁকে পুলিশ লাইনে প্রত্যাহার করা হয়েছে।
এসপি বলেন, প্রথমবার অভিযানের সময় আসামিকে গ্রেপ্তারের সুযোগ থাকলেও দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার অসাবধানতার কারণে তিনি পালিয়ে যান। কর্তব্য পালনে এমন শিথিলতা গ্রহণযোগ্য নয়। এ কারণেই এসআই অসিত কুমারকে পুলিশ লাইনে প্রত্যাহার করা হয়েছে।
তবে পরবর্তীতে ওই এসআইয়ের নেতৃত্বেই রাকিবুল হাসানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রাকিবুলের বিরুদ্ধে থাকা আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা অনুযায়ী তাঁকে আটক করে আইনগত প্রক্রিয়ায় নেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে প্রথম দফার অভিযানে আসামিকে আটক করতে না পারা এবং তাঁকে পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ দেওয়ার অভিযোগের প্রেক্ষিতে এসআই অসিত কুমারের বিরুদ্ধে নেওয়া প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিয়ে পুলিশের অভ্যন্তরীণভাবে বিষয়টি দেখা হচ্ছে।
খুলনা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেছেন, ডেঙ্গু সংক্রমণ প্রতিরোধে কেসিসি কর্তৃক নগরীতে বহুমুখী কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। ফলে সড়কসংলগ্ন বড় বড় ড্রেনগুলোতে মশার উপস্থিতি নেই বললেই চলে। এখন বাড়ি, অফিস, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ পরিবেশ পরিচ্ছন্ন করতে পারলে ডেঙ্গু জ্বরের প্রকোপ কমে আসবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তিনি বাড়ির অভ্যন্তরে বদ্ধ পানি, ডাবের খোসায়, টায়ারে, প্লাস্টিকের ভাঙা পাত্র ইত্যাদি স্থানে পানি জমে আছে কি না সেদিকে লক্ষ্য রাখার পাশাপাশি নিজ নিজ আঙিনা পরিচ্ছন্ন রাখতে সকলের প্রতি আহবান জানান।
কেসিসি প্রশাসক বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকালে ২৭নং ওয়ার্ড অফিসে স্বল্প আয়ের পরিবারের সদস্যদের মাঝে মশারি বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন। ওয়ার্ল্ডভিশন বাংলাদেশের সহযোগিতায় এ মশারি বিতরণ করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রশাসক ৩০০টি পরিবারের মাঝে মশারি বিতরণ করেন।
উল্লেখ্য, ওয়ার্ল্ডভিশন বাংলাদেশ তাদের খুলনা শহর এরিয়া ডেভেলপমেন্ট প্রকল্পের আওতায় নগরীতে নারীদের স্বাবলম্বী করতে ব্যবসা পরিচালনার জন্য আর্থিক সহায়তা প্রদান, মা ও শিশুদের মাঝে পুষ্টিকর খাবার বিতরণ, প্রতিবন্ধী শিশুদের সহায়তাসহ বিভিন্ন সেবামূলক কাজ বাস্তবায়ন করছে। সংস্থাটি এখন ডেঙ্গু সংক্রমণ প্রতিরোধে মশারি বিতরণ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে। গতকাল সংস্থাটির উদ্যোগে নগরীর ১৮নং ওয়ার্ডের খ্রিষ্টান পল্লী ও ঋষি পল্লীতে মশারি বিতরণ করা হয়েছে।
প্রশাসক জনহিতকর কাজে এগিয়ে আসার জন্য ওয়ার্ল্ডভিশনকে ধন্যবাদ জানান এবং প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত ৩ মাসের পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হলে পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা বিষয়ে জনগণকে সচেতন করার জন্য রাজনৈতিক নেতাদের প্রতি আহ্বান জানান। একই সাথে তিনি জ্বর অনুভূত হলে অবহেলা না করে মেডিকেল ক্যাম্পে এসে বিনামূল্যে চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণের জন্য সকলের প্রতি আহ্বান জানান।
কেসিসির প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা মো. আনিসুর রহমান, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. শরীফ শাম্মীউল ইসলাম, ওয়ার্ল্ডভিশন বাংলাদেশের এরিয়া প্রোগ্রাম ম্যানেজার সুরভী বিশ্বাস, সাবেক কাউন্সিলর মো. শমসের আলী মিন্টু ও মাজেদা খাতুন, সমাজসেবক মহিবুল্লাহ শামীম, মেশকাত আহমেদ, শীতলা বাড়ি মন্দির পরিচালনা কমিটির সভাপতি সুজিত সাহা ও সেক্রেটারি বিজয় ঘোষ, ওয়ার্ডের ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা অমিত কান্তি ঘোষসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
দুপুরে প্রশাসক নগরীর দৌলতপুরস্থ শহিদ জিয়া কলেজ অডিটরিয়ামে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে স্বল্প আয়ের পরিবারের সদস্যদের মাঝে মশারি বিতরণ করেন। ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং অসহায় ও নিম্নআয়ের মানুষের সুরায় শিশুশিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও মানবিক কল্যাণমূলক স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ‘হাসিমুখ ফাউন্ডেশনের’ উদ্যোগে এ মশারি বিতরণ করা হয়।
মশারি বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রশাসক বলেন, নগরীর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি মশক নিয়ন্ত্রণ ও ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্তদের প্রাথমিক চিকিৎসাসেবা প্রদানের লক্ষ্যে কেসিসি কর্তৃক নগরীর ৮টি রেড জোনে ৮টি ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে। একই সাথে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পৃথক ডেঙ্গু ইউনিট চালু করা হয়েছে। প্রয়োজনে মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উন্মুক্ত জায়গায় বৃহৎ পরিসরে মেডিকেল ক্যাম্প স্থাপনসহ ভ্রাম্যমাণ চিকিৎসা টিম গঠনেরও পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। শহরের প্রতিটি বাড়ি পরিচ্ছন্ন করার সামর্থ কেসিসির নেই উল্লেখ করে তিনি বাড়ি, অফিস, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ইত্যাদি নিজ নিজ উদ্যোগে পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য নগরবাসীর প্রতি আহ্বান জানান।
হাসিমুখ ফাউন্ডেশনের সভাপতি সৈয়দ নওসুদুজ্জামান পল্টুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শহীদ জিয়া মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ মো. তারিকুল ইসলাম। কেসিসির সাবেক কাউন্সিলর কবির হোসেন কবু মোল্লা, সমাজসেবক প্রকৌশলী শাহীর হোসেন জাম্বু, সৈয়দ মাইনুল ইসলাম, সৈয়দ এনামুল হাসান ডায়মন্ড, শেখ মোহাম্মদ কবির হোসেন টিটো, দারুল হুদা জামে মসজিদের পেশ ইমাম মুফতি মাওলানা আবুল কাশেম, ২নং ওয়ার্ডের নাগরিক ফোরামের সাধারণ সম্পাদক চমন আক্তার, ওয়ার্ডের ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শেখ মহিউদ্দিন হোসেন, সংগঠনের সদস্য বাদল ঢালী, মাহবুবুল হক, ইরাক আলী, তানভীর, লাভলু, মেজবাহসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষকরা, সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক সঞ্চিতা দে।
অনুষ্ঠানে প্রশাসক ১০০টি স্বল্প আয়ের পরিবারের সদস্যদের মাঝে মশারি বিতরণ করেন।
ফরিদপুর পৌরসভার মালিকানাধীন জমি উদ্ধার ও অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে অভিযান চালিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। গত মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে শহরের গোয়ালচামট হাজরাতলা এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযান সূত্রে জানা যায়, গোয়ালচামট এলাকার বাসিন্দা কবির চৌধুরী পৌরসভার প্রায় ০ দশমিক ২৫ (পয়েন্ট ২৫) শতাংশ জমি অবৈধভাবে দখল করে একটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে অভিযান চালিয়ে এস্কেভেটর দিয়ে ওই অবৈধ স্থাপনাটি ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয় এবং জমিটি পুনর্দখলে নেয় পৌরসভা।
উচ্ছেদ অভিযানে সরাসরি উপস্থিত ছিলেন ফরিদপুর পৌরসভার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হোসাইন মো. হাই জকি এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. শফিকুল ইসলাম।
এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন পৌরসভার সমাজ উন্নয়নবিষয়ক কর্মকর্তা সৈয়দ মোহাম্মদ আহাদুজ্জামান, বিদ্যুৎ বিভাগের উপসহকারী প্রকৌশলী মো. শরিফুল হাসান, সিভিল বিভাগের উপসহকারী প্রকৌশলী লাইজিং হোসেন রাজু, হিসাব রক্ষক কৃষ্ণ কুমার সাহা, লাইসেন্স পরিদর্শক রাশেদ বিন আহমেদ, কনজারভেন্সি পরিদর্শক বিকাশ দত্ত, প্রধান সহকারী ফরিদুল ইসলাম, উচ্চমান সহকারী রকিবুল হাসান রবিন, শার্ট লিপিকার অভিজিৎ সাহা অভি, সহকারী লাইসেন্স পরিদর্শক তাওহিদুজ্জামান, কম্পিউটার অপারেটর সালাহউদ্দি আহমেদ সুমন, বাজার পরিদর্শক কাউসার মোল্লাসহ স্থানীয় অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
অভিযানের পর পৌর কর্তৃপক্ষের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা স্পষ্ট বার্তা দিয়ে জানান, শহরের বিভিন্ন স্থানে পৌরসভার জায়গায় যেসব অবৈধ দখলদার রয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করা হয়েছে। পৌরসভার সরকারি সম্পত্তি দখলমুক্ত করতে আগামী দিনগুলোতেও এ ধরনের উচ্ছেদ অভিযান ধারাবাহিকভাবে অব্যাহত রাখা হবে।
জনপ্রশাসন ও খাদ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী এমপি বলেছেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সকাল থেকে রাত পর্যন্ত নিরলসভাবে দায়িত্ব পালন করছেন। তার প্রধান লক্ষ্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, মাদক প্রতিরোধ, শিক্ষাব্যবস্থার বৈষম্য দূর করা এবং একটি স্বচ্ছ, জবাবদিহিতামূলক ও দুর্নীতিমুক্ত রাষ্ট্র গড়ে তোলা। রাষ্ট্রীয় অপচয় বন্ধে তিনি নিজে মাত্র ১৯ জন সফরসঙ্গী নিয়ে বিদেশে গিয়ে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গঠনে আইসিটি মন্ত্রণালয়সহ অন্যান্য দপ্তরের মাধ্যমে সব ক্ষেত্রে ডিজিটালাইজেশন ও অটোমেশন চালু করা হচ্ছে।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ১০টার দিকে বগুড়া জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত জেলার আইনশৃঙ্খলা ও উন্নয়ন সমন্বয়সংক্রান্ত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, আমরা ক্ষমতা উপভোগ করতে কিংবা নিজেদের ভাগ্য বদল করতে আসিনি। এসেছি এ দেশের সাধারণ মানুষের ভাগ্য বদল করতে এবং তাদের রাষ্ট্রীয় সেবা নিশ্চিত করতে।
তিনি আরও বলেন, স্বৈরাচার হটিয়ে সংসদীয় গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনা এবং নারীশিক্ষার অগ্রগতিতে বেগম খালেদা জিয়া অবিস্মরণীয় ভূমিকা রেখেছেন। ২০০১ সাল থেকে তার অধীনে চাকরি করার সুবাদে দেখেছি শহীদ জিয়ার মতো তিনিও ছিলেন এক অনন্য স্বচ্ছ ও সৎ মানুষ। যিনি রাষ্ট্রের এক টাকা অপচয়ও সহ্য করতেন না।
প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের এই জন্মভূমি বগুড়াকে একটি মডেল জেলা এবং ইকোনমিক হাব হিসেবে গড়ে তুলতে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের বিকাশে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ করা হবে।
জেলা প্রশাসক মো. তৌফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, বগুড়া-৬ সদর আসনের সংসদ সদস্য মো. রেজাউল করিম বাদশা। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বগুড়া-৩ (আদমদীঘি-দুপচাঁচিয়া) আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল মহিত তালুকদার, বগুড়া-৭ (গাবতলী-শাজাহানপুর) আসনের সংসদ সদস্য মোরশেদ মিলটন, জেলা পুলিশ সুপার মীর্জা সায়েম মাহমুদ, জেলা পরিষদ প্রশাসক একেএম আহসানুল তৈয়ব জাকিরসহ বিভিন্ন সরকারি সপ্তরের কর্মকর্তারা।
ময়মনসিংহ কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের উদ্যোগে জাপানিজ ভাষা শিক্ষা কোর্সের (লেভেল–N5 ও N4) উদ্বোধন করা হয়েছে। তরুণদের জাপানিজ ভাষায় দক্ষ করে গড়ে তোলা এবং আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করার লক্ষ্যেই এ কোর্স চালু করা হয়েছে।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ময়মনসিংহ কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের হলরুমে আয়োজিত অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে জাপানিজ ভাষাশিক্ষা কোর্সের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে কোর্সটির উদ্বোধন করেন ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. রুকুনোজ্জামান রোকন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ময়মনসিংহ কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের অধ্যক্ষ প্রকৌ. মো. মাহতাব উদ্দিন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, বর্তমান সময়ে আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে দক্ষ জনশক্তির চাহিদা ক্রমেই বাড়ছে। বিশেষ করে জাপানের শ্রমবাজারে দক্ষ ও প্রশিক্ষিত কর্মীদের জন্য বিভিন্ন ক্ষেত্রে কর্মসংস্থানের সুযোগ রয়েছে। জাপানিজ ভাষায় প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জন করতে পারলে প্রশিক্ষণার্থীরা বিদেশে কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে নিজেদের আরও যোগ্য করে তুলতে পারবেন।
বক্তারা আরও বলেন, শুধু কারিগরি দক্ষতা অর্জনই নয়, সংশ্লিষ্ট দেশের ভাষা ও সংস্কৃতি সম্পর্কে জ্ঞান থাকাও আন্তর্জাতিক কর্মক্ষেত্রে সফলতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এ কারণে জাপানিজ ভাষাশিক্ষার এ উদ্যোগ প্রশিক্ষণার্থীদের দক্ষতা উন্নয়নের পাশাপাশি বৈদেশিক কর্মসংস্থানের প্রস্তুতিতেও সহায়ক ভূমিকা রাখবে।
অনুষ্ঠানে জাপানিজ ভাষাশিক্ষা কোর্সের বিভিন্ন পর্যায়, প্রশিক্ষণের বিষয়বস্তু, ভাষাগত দক্ষতা অর্জনের পদ্ধতি এবং (লেভেল–N5 ও N4) সম্পন্ন করার মাধ্যমে প্রশিক্ষণার্থীদের সম্ভাব্য কর্মসংস্থানের সুযোগ নিয়ে আলোচনা করা হয়।
আয়োজকরা জানান, জাপানিজ ভাষা শেখার মাধ্যমে প্রশিক্ষণার্থীদের আন্তর্জাতিক যোগাযোগ দক্ষতা বৃদ্ধি পাবে। পাশাপাশি জাপানে উচ্চশিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থানের সম্ভাব্য সুযোগ কাজে লাগানোর ক্ষেত্রে এ কোর্স গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
অনুষ্ঠানে প্রশিক্ষণার্থী, প্রশিক্ষক ও কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় প্রশিক্ষণার্থীদের মনোযোগের সঙ্গে ভাষাশিক্ষা গ্রহণ এবং অর্জিত দক্ষতাকে ভবিষ্যৎ কর্মজীবনে কাজে লাগানোর আহ্বান জানানো হয়।