ঘূর্ণিঝড় রেমালের প্রভাবে প্রায় ৮০টি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ভৌগলিক এলাকায় বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন ছিলেন প্রায় ৩ কোটি ৩ লাখ ৯ হাজার ৭০২ গ্রাহক। বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন এই গ্রাহকদের ৯৯ শতাংশকে ইতোমধ্যে পূনঃসংযোগ দেওয়া সম্ভব হয়েছে বলে জানিয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগ।
গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের (আরইবি) ৩ কোটি ২ হাজার গ্রাহকক, যা মোট বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন গ্রাহকের ৯৯ শতাংশ- ইতোমধ্যে পূনঃসংযোগ পেয়েছেন। অবশিষ্ট দুই লাখ ৮০ হাজার গ্রাহককে বিদ্যুৎ পূনঃসংযোগ দেওয়ার কাজ চলছে বলেও জানায় বিদ্যুৎ বিভাগ।
বিদ্যুৎ বিভাগ আরও জানায়, ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি (ওজোপাডিকো) শুক্রবার ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন সব গ্রাহককে পূনঃসংযোগ প্রদান সম্পন্ন করেছে। পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের বাকি ১ শতাংশ গ্রাহকের সার্ভিস ড্রপ ও আনুষঙ্গিক মালামাল প্রত্যন্ত অঞ্চলে বাড়ি বাড়ি গিয়ে কাজ করতে হচ্ছে। চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে যথাসম্ভব দ্রুততার সঙ্গে সংযোগের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রাথমিক তথ্যানুসারে পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের ১০৩ কোটি ৩৩ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ৮০টি সমিতির মধ্যে ৬০টি সমিতির শতভাগ গ্রাহককে সংযোগ দেওয়া সম্ভব হয়েছে। সমিতি, আরইবি ও ঠিকাদার জনবলসহ বর্তমানে প্রায় ১৭ হাজার জনবল মাঠে কাজ করছে।
বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কে নতুন করে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। নতুন এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে এই সম্পর্ক। বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সর্বশেষ সংবাদ সম্মেলনকে ঘিরে এই অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। বাংলাদেশের কূটনৈতিক সতর্ক বার্তার পরও নয়া দিল্লিতে শেখ হাসিনা ওই সংবাদ সম্মেলন করেন।
এ নিয়ে চারদিকে শোরগোল। খোদ ভারতীয় সাংবাদিকরাও বলছেন, এতে ভারত সরকারের সায় ছিল। তা না হলে রাজধানী নয়া দিল্লির মতো জায়গায় হাসিনা সংবাদ সম্মেলন করতে পারতেন না। এ ছাড়া ওই সংবাদ সম্মেলনে হাস্যরস, ক্রিকেটার সাকিব আল হাসানের উপস্থিতির ধরন নিয়ে প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। আগে থেকেই আলোচক প্যানেলে তার নাম ছিল। কয়েকদিন আগেই এ বিষয়ে বিজ্ঞপ্তি দেয়া হয়। অনলাইন পোস্টার বানানো হয়। কিন্তু আলোচনার নির্দিষ্ট সময়ে সাকিব আল হাসান ছিলেন খেলার মাঠে। সেখান থেকে তিনি অনলাইনে যুক্ত হন। এরপর তাকে গাড়ি চালিয়ে বাসায় ফিরতে দেখা যায়। তিনি বাসায় ফিরে ভিডিও মারফত দর্শন দেন। এতে তার দলের প্রতি আন্তরিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ভারতীয় অনেক সাংবাদিক। তবে শেখ হাসিনা ওইদিন সংবাদ সম্মেলনে যে বক্তব্য দিয়েছেন বা দেয়ার সুযোগ পেয়েছেন, তাতে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে বাংলাদেশের বিএনপি সরকার। নয়াদিল্লিতে এমন একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের সুযোগ দেয়ায় ভারত সরকারের প্রতি ‘তীব্র ক্ষোভ’ প্রকাশ করেছে ঢাকা।
বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক পুনর্গঠনের ক্ষেত্রে এই অনুষ্ঠানের সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে আগেই ভারতকে উদ্বেগের কথা জানানো হয়েছিল। এরপরও অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হওয়াকে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের প্রতি অবমাননা এবং ‘জুলাই বিপ্লবের শহীদদের প্রতি গুরুতর অপমান’ হিসেবে উল্লেখ করেছে ঢাকা। এসব কথা লিখে অনলাইন দ্য ডিপ্লোম্যাট একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।
তাতে বলা হয়, শেখ হাসিনার ওই অনলাইন বক্তব্যের আগের দিন অবশ্য ভারত অনুষ্ঠানটি থেকে নিজেদের দূরত্ব বজায় রাখে। নয়াদিল্লি জানায়, অনুষ্ঠান আয়োজনের সঙ্গে ভারতের কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না এবং ভারত এর অনুমোদনও দেয়নি। নয়াদিল্লির সাউথ এশিয়ার ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাবে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলনটির আয়োজন করা হয়। তবে ভারতের এই ব্যাখ্যাও ঢাকার ক্ষোভ প্রশমিত করতে পারেনি।
২০২৪ সালের গ্রীষ্মে আন্দোলন দমনে শেখ হাসিনা সরকারের অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগ রয়েছে। জাতিসংঘের বিভিন্ন প্রতিবেদনে ওই সময় ব্যাপক প্রাণহানির কথা উঠে আসে। শেষ পর্যন্ত ৫ আগস্ট ২০২৪ হাসিনা ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য হন এবং দেশ ছেড়ে ভারতে চলে যান।
এরপর থেকে ভারত হাসিনাকে আশ্রয় দেয়ায় বাংলাদেশে ক্ষোভ বাড়তে থাকে। বিশেষ করে ২০২৫ সালের নভেম্বরে বাংলাদেশের বিশেষ ট্রাইব্যুনাল মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় হাসিনা ও তার সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে মৃত্যুদণ্ড দেয়ার পর বিষয়টি আরও স্পর্শকাতর হয়ে ওঠে। ভারতে অবস্থান করেও হাসিনা বিভিন্ন রাজনৈতিক বক্তব্য ও গণমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দেয়ায় ঢাকা বারবার ভারতকে তার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড সীমিত করার অনুরোধ জানিয়েছে। একই সঙ্গে তাকে বিচারের মুখোমুখি করতে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর দাবিও জানানো হয়েছে। কিন্তু দিল্লি এখনো এসব অনুরোধে সাড়া দেয়নি।
ডিপ্লোম্যাট আরও লিখেছে, ভারতের জন্য হাসিনাকে জোর করে বাংলাদেশে পাঠানো বাস্তবসম্মত কোনো বিকল্প নয়। তবে তিনি যদি স্বেচ্ছায় দেশে ফেরেন, তাহলে তা বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের বর্তমান উত্তেজনা কিছুটা কমাতে পারে। এদিকে, হাসিনা দেশে ফিরলে তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভারত ইউরোপের কয়েকটি দেশের সঙ্গে পর্দার আড়ালে আলোচনা করছে- এমন জল্পনাও রয়েছে। তবে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।
হাসিনা ক্ষমতায় থাকাকালে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক ছিল বেশ উষ্ণ। তার পতনের পর সেই সম্পর্কে বড় ধরনের পরিবর্তন আসে। বিশেষ করে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার চীনের দিকে তুলনামূলকভাবে বেশি ঝুঁকে পড়ায় এবং ভারতের উদ্বেগের প্রতি যথেষ্ট সংবেদনশীল না হওয়ায় দিল্লির অস্বস্তি বাড়ে। এরপর ফেব্রুয়ারিতে বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর দুই দেশের সম্পর্ক নতুন করে স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়। এপ্রিলে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের নয়াদিল্লি সফরকেও দুই দেশের মধ্যে আস্থা পুনর্গঠনের উদ্যোগ হিসেবে দেখা হয়। তবে পাকিস্তান, চীন ও তুরস্কের সঙ্গে বিএনপি সরকারের ঘনিষ্ঠতা বাড়ায় ভারত এখনো সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
বাংলাদেশের সঙ্গে স্থিতিশীল সম্পর্ক ভারতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দুই দেশের মধ্যে প্রায় ৪ হাজার ১০০ কিলোমিটার সীমান্ত রয়েছে। ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে যোগাযোগ বৃদ্ধি এবং ওই অঞ্চলের বিদ্রোহ মোকাবিলায় ঢাকার সহযোগিতা দিল্লির জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এই বাস্তবতায় সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ভারত বাংলাদেশের প্রতি একাধিক ইতিবাচক উদ্যোগ নিয়েছে। ফেব্রুয়ারিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের শপথ অনুষ্ঠানে ভারতের পররাষ্ট্রসচিব বিক্রম মিশ্রি ও লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লাকে পাঠানো হয়। এপ্রিল ২০২৬ সালে বাংলাদেশে জ্বালানি সংকটের সময় ভারত ৪৫ হাজার টনের বেশি ডিজেল সরবরাহ করে। একই সময়ে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক পুনর্গঠনের লক্ষ্যে ঢাকায় নতুন দূত নিয়োগ করা হয়। দূত দিনেশ ত্রিবেদীর পদমর্যাদাও ক্যাবিনেট মন্ত্রীর সমান করা হয়েছে, যাতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তার সরাসরি যোগাযোগ সহজ হয়।
এ ছাড়া সেপ্টেম্বরে নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠেয় ব্রিকস সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে ভারত। তবে এখনো আমন্ত্রণ গ্রহণের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানায়নি ঢাকা। দুই দেশের সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তি। ১৯৯৬ সালে হাসিনা প্রথমবার প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সময় চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়। ৩০ বছর মেয়াদি এই চুক্তির মেয়াদ চলতি বছরের ডিসেম্বরে শেষ হচ্ছে। নতুন করে চুক্তি করার ক্ষেত্রে বর্তমানে গঙ্গায় পানির প্রবাহ, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব এবং উভয় দেশের প্রয়োজনীয়তার বিষয়গুলো বিবেচনায় নিতে হবে। দ্রুত চুক্তি নবায়ন হলে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ককে আরও স্থিতিশীল ভিত্তির ওপর দাঁড় করাতে সহায়ক হতে পারে।
একই সঙ্গে তিস্তা নদীর পানি বণ্টন নিয়েও নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার ও পশ্চিমবঙ্গে একই রাজনৈতিক দলের সরকার থাকায় দীর্ঘদিনের এই অমীমাংসিত ইস্যুতে সমঝোতার সুযোগ বেড়েছে। এর আগে পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপত্তির কারণে তিস্তা চুক্তি আটকে ছিল।
ভারতীয় সংসদের পররাষ্ট্রবিষয়ক কমিটির সাম্প্রতিক সুপারিশ বাস্তবায়নের বিষয়টিও নয়াদিল্লির বিবেচনায় নেয়া উচিত। জুলাইয়ে প্রকাশিত মন্তব্যে কমিটি উন্নয়ন সহযোগিতায় ভারতের তুলনামূলক সুবিধা কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশের আস্থা অর্জনের আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে অবকাঠামো, বন্দর সম্প্রসারণ ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতায় বাংলাদেশে চীনের ক্রমবর্ধমান উপস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে কমিটি।
সব মিলিয়ে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক নতুন করে একটি গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়েছে। দুই দেশের স্বার্থেই সম্পর্কের পুনর্গঠন জরুরি। তবে সেই পথে সবচেয়ে বড় বাধাগুলোর একটি হয়ে উঠেছে শেখ হাসিনার ভারত থেকে রাজনৈতিক ও গণমাধ্যমে সক্রিয় থাকা। তাই সম্পর্কের ক্ষতি আরও বাড়ার আগে নয়াদিল্লিকে হাসিনার সাম্প্রতিক অনলাইন বক্তব্যের কারণে সৃষ্ট উত্তেজনা সামাল দিতে হবে।
দেশের মানুষ কখনই আওয়ামী লীগের রাজনীতি গ্রহণ করবে না বলে দাবি করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, কিসের হাসিনা, তার চেহারা কী দেখা গেছে? মাঝেমধ্যে শুধু আওয়াজ-টাওয়াজ শোনা যায়। তারা চেষ্টা করছে, বাংলাদেশে কোনো অস্থিরতা সৃষ্টি করা যায় কিনা। বাংলাদেশের মানুষ কখনই তাদের এসব রাজনীতি গ্রহণ করবে না। শুক্রবার (৭ আগস্ট) দুপুরে কক্সবাজারে ৫০০ শয্যার মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নতুন ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনকালে তিনি এ কথা বলেন।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ফ্যাসিবাদী সরকারের সময় ইচ্ছেমতো প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা(ইসিএ) ঘোষণা করা হয়েছে। জরিপকার্য পরিচালনার মাধ্যমে ট্যুরিজমের বিকাশের জন্য তা পুনর্বিবেচনার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, প্রকৃতিকে সংরক্ষণ করে পর্যটনের উন্নয়নে সব ধরনের পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। শুধু উঁচু ইমারত নির্মাণই পর্যটন হতে পারে না। কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের সব এলাকাজুড়েই এসব কর্মকাণ্ড হতে হবে। বিশ্বব্যাপী কক্সবাজারের সৌন্দর্যকে ছড়িয়ে দিয়ে ভ্রমণপিপাসুদের আকৃষ্ট করতে হবে। শুধু অবকাঠামো নির্মাণের জন্য গুরুত্ব না দিয়ে, পরিবেশ সংরক্ষণ নিশ্চিত করেই পর্যটন সম্প্রসারণের চেষ্টা করুন।
তিনি আরও বলেন, কক্সবাজারকে ঘিরে উচ্চশিক্ষা ও সামুদ্রিক গবেষণার সুযোগ সম্প্রসারণের লক্ষ্যে একটি মেরিন ইউনিভার্সিটি প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা গ্রহণ নেওয়া হয়েছে। এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে সামুদ্রিক শিক্ষা, গবেষণা ও দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিতে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।
এর আগে কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (কউক) আবাসিক ফ্ল্যাট উন্নয়ন প্রকল্প-১-এর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে যোগ দেন সালাউদ্দিন আহমদ। এ সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সমুদ্রসম্পদ এবং সমুদ্রবন্দরকে যথাযথভাবে কাজে লাগাতে পারলে দেশ বিপুল পরিমাণ রাজস্ব আয় করতে সক্ষম হবে। ব্লু ইকোনমির সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে সরকার বিভিন্ন পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। মন্ত্রী জানান, কক্সবাজারের অপরিসীম পর্যটন সম্ভাবনাকে পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিতে বড় ধরনের অবদান রাখা সম্ভব।
একই সূর্য উঠেছিল গতকালকের সকালটায়। কিন্তু সেই ভোরের আলো যে অনেকের জীবনের শেষ আলো হয়ে আসবে—তা কে জানত? ভোরের আলো ফোটার আগেই ঘর থেকে বেরিয়েছিলেন তারা। কেউ কৃষিজমিতে কাজের জন্য, কেউ দিনমজুরের কাজ খুঁজতে গিয়েছিলেন বগুড়ার এরুলিয়ার কামলার হাটে। উদ্দেশ্য ছিল দিনশেষে পরিবারের জন্য দুমুঠো খাবার জোগাড় করা। কিন্তু কয়েক মিনিটের ব্যবধানে সবকিছু বদলে যায়। শুক্রবার (৭ আগস্ট) ভোরে নিয়ন্ত্রণ হারানো শাহ ফতেহ আলী পরিবহনের বাসের নিচে চাপা পড়ে নিভে যায় ৯টি প্রাণ। আর সেই মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগ ও মর্গ এলাকায় নেমে আসে শোকের ছায়া।
এ ছাড়া সিলেট ও শেরপুরেও মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় ঝরল আরও ৯টি তাজা প্রাণ, আহত হলেন ৪০ জনেরও বেশি মানুষ। স্থান আর কারণ আলাদা হলেও স্বজনদের আর্তনাদ আর মৃত্যুর হাহাকার যেন একই সুতোয় বাঁধা।
বগুড়ায় কাজের খোঁজে বের হয়ে নিহত ৭: প্রতিদিনের মতো ভোরের আলো ফোটার আগেই ঘর থেকে বেরিয়েছিলেন গাইবান্ধা ও জয়পুরহাটের দিনমজুর আমিরুল, নূর আলম, বেলাল আর তাজমুলেরা। উদ্দেশ্য ছিল দিনশেষে পরিবারে দুবেলা ভাত তুলে দেওয়া। বগুড়া-নওগাঁ মহাসড়কের এরুলিয়া সিলকিবান্দা এলাকায় প্রতিদিন সকালে দিনমজুর ও কৃষি শ্রমিকদের হাট বসে। জনপ্রতি ২০ টাকা ভাড়ার ঘরে থাকা এই মানুষগুলো কাজের আশায় রাস্তার পাশেই জড়ো হয়েছিলেন।
ভোর সাড়ে পাঁচটার দিকে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা ‘শাহ ফতেহ আলী পরিবহন’-এর একটি নিয়ন্ত্রণহীন বাস সব এক লহমায় শেষ করে দিল। বিদ্যুতের খুঁটিতে ধাক্কা দিয়ে বাসটি সরাসরি পিষে দিল কাজের অপেক্ষায় থাকা সেই মানুষগুলোকে। ঘটনাস্থলেই মারা যান তিনজন, শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর মারা যান আরও চারজন। নিহতরা হলেন— তাজিমুল (৪৭), বেল্লাল হোসেন, আবু সাঈদ (৪৫), আনারুল (৫৫), আমিরুল (৪০), নূর আলম (৪৫) ও জমির মালিক নূর মোহাম্মদ (৭৬)।
নিহতদের মধ্যে ছিলেন জমির মালিক নূর মোহাম্মদ, তিনি ফজরের নামাজ পড়ে হাটে এসেছিলেন শ্রমিক নিতে।
হাসপাতালের জরুরি বিভাগে স্বামী আবু সাঈদ মণ্ডলের মরদেহের পাশে দাঁড়িয়ে বারবার জ্ঞান হারাচ্ছিলেন স্ত্রী রিনা বেগম। ৬ সদস্যের সংসারের একমাত্র উপার্জনক্ষম মানুষটিকে হারিয়ে রিনা বেগমের বিলাপ—আমাকে একা রেখে কোথায় চলে গেলে? নিহত আরেক শ্রমিক আমিরুল ছিলেন ভূমিহীন, এক শতক জমির ওপর ঘর তুলে থাকতেন। তার মৃত্যুতে পুরো পরিবার এখন চরম অনিশ্চয়তায়।
সিলেটে মাজার জিয়ারতের খুশি রূপ নিল শোকে, নিহত ৯: একই সকালে সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের ওসমানীনগরের কাশিকাপনে ঘটে আরেক ট্র্যাজেডি। সকাল সাড়ে ৭টার দিকে সিলেটমুখী ‘বেঙ্গল স্লিপার কোচ’ এবং ঢাকামুখী ‘ইউনিক পরিবহন’-এর বাসের মধ্যে বেপরোয়া গতিতে ওভারটেক করার সময় মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের তীব্রতায় ইউনিক পরিবহনের বাসটি সড়ক থেকে ছিটকে রাস্তার পাশের গভীর খাদে পড়ে দুমড়ে-মুচড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই ৭ জন এবং পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও ২ জনসহ ৯ জন প্রাণ হারান। নিহতরা হলেন, কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর থানার লক্ষ্মীপুর গ্রামের মৃত সাফিউদ্দিনের ছেলে হাজী সাইফুল ইসলাম (৫০), সিলেট নগরীর দক্ষিণ সুরমা থানার চণ্ডীপুল এলাকার জাহাঙ্গীরের মেয়ে, তিন বছর বয়সি শিশু ফাইজা, সিলেটের সোবহানীঘাট এলাকার উত্তম রায়ের ছেলে সপ্তম রায় প্রীতম (২২), কিশোরগঞ্জের ভৈরব থানার চণ্ডিবের গ্রামের বাবুল মিয়ার মেয়ে, বাউলশিল্পী পেহেলী ভৈরবী (১৭), ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর থানার বগডহর গ্রামের মৃত বারেক মিয়ার ছেলে আবুল হোসেন (৪৪), সিলেটের জৈন্তাপুর থানার উমনপুর গ্রামের রফিকুল ইসলামের ছেলে আরমান (১৯), কুমিল্লার বাঙ্গুরা বাজার থানার পীরকাশিমপুর গ্রামের আব্দুস সালামের ছেলে সানিয়াদ জাহাঙ্গীর সৌরভ (৩৯), ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানার শেরপুর গ্রামের সিরাজুল ইসলামের ছেলে মো. সাইফুল ইসলাম ইমন এবং কিশোরগঞ্জের নিকলী থানার ষাইধার (আটরামপুর) গ্রামের রঞ্জিত সূত্রধরের ছেলে রুবেল সূত্রধর (৩৭)।
এ ছাড়া দুই বাসের অন্তত ২৪ জন যাত্রী আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে ১৪ জন বর্তমানে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর থেকে পাঁচ বন্ধুর সঙ্গে হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করতে এসেছিলেন। জিয়ারত শেষে ফারুক ও সাইফুলসহ তিনজন বাসে ফিরছিলেন। হাসপাতালে চোখ মেলে ফারুক জানতে পারেন, তার প্রিয় বন্ধু সাইফুল আর নেই। স্তব্ধ চোখে ফারুক বলছিলেন, বাসে ঘুমিয়ে ছিলাম। হঠাৎ বিকট এক শব্দ। চোখ খুলে দেখি চারপাশে রক্ত আর হাহাকার।
বিকালে ফের দুর্ঘটনা: নাতিকে বাঁচিয়ে প্রাণ গেল দম্পতির
বগুড়ার এরুলিয়ার ক্ষত না শুকাতেই একই মহাসড়কের বিমানবন্দর এলাকায় বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে ঘটে আরেক দুর্ঘটনা। নওগাঁর দিকে মোটরসাইকেলে নাতিকে নিয়ে যাচ্ছিলেন স্বর্ণ ব্যবসায়ী বাবুল হাসান (৫০) ও তার স্ত্রী জেসমিন বিবি (৪৫)। হঠাৎ বিপরীত দিক থেকে আসা একটি অনিয়ন্ত্রিত প্রাইভেটকার তাদের সজোরে ধাক্কা দেয়। ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান বাবুল হাসান, আর হাসপাতালে নেওয়ার পর মারা যান স্ত্রী জেসমিন। ভাগ্যক্রমে তাদের ৭ বছর বয়সি নাতি জুলকার নাঈন বেঁচে গেলেও হাসপাতালের বিছানায় এখন অবুঝ চোখে স্বজনদের খুঁজছে।
মায়ের কোল থেকে ছিটকে গেল ১৭ মাসের শিশু
এর আগের রাতে শেরপুরের নকলায় অটোরিকশা ও ভটভটির মুখোমুখি সংঘর্ষে ঘটে এক হৃদয়বিদারক ঘটনা। অটোরিকশায় থাকা ১৭ মাসের শিশু মুজাহিদুল ইসলাম মায়ের কোল থেকে ছিটকে পড়ে মাথায় গুরুতর আঘাত পায়। হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
দুর্ঘটনার পর বগুড়ার এরুলিয়ায় স্পিডব্রেকার ও সতর্কতামূলক ট্রাফিক চিহ্নের দাবিতে স্থানীয়রা সড়ক অবরোধ করলে তাৎক্ষণিক স্পিডব্রেকার নির্মাণ শুরু করে প্রশাসন। সিলেটের হাইওয়ে পুলিশ জানিয়েছে, চালকদের বেপরোয়া গতি ও ওভারটেকিংয়ের প্রতিযোগিতাই সিলেটের দুর্ঘটনার প্রধান কারণ।
তদন্ত কমিটি গঠিত হবে, আর্থিক সহায়তার ঘোষণা আসবে, পরিসংখ্যানের খাতায় নতুন কিছু সংখ্যা যোগ হবে। কিন্তু যে সন্তানটি আজ এতিম হলো, যে মা-বাবা কোল খালি করলেন—সেই শূন্যতা কে পূরণ করবে? প্রতি সকালে রক্তে ভেজা রাজপথ যেন একটাই প্রশ্ন করে—আর কতকাল স্বজনদের আকুল আর্তনাদ দিয়ে শুরু হবে প্রতিটি ভোরের গল্প?
এমপিওভুক্ত ৭৫ হাজার শিক্ষক-কর্মচারীর অবসর ভাতা ও কল্যাণ ট্রাস্টের অর্থ পরিশোধ করতে যাচ্ছে সরকার। আগামী ১৫ আগস্ট দেশের ৬৪ জেলায় একযোগে এই অর্থ পরিশোধ করা হবে। এ জন্য এই খাতে দুই হাজার কোটি টাকা বিশেষ থোক বরাদ্দ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। তবে শিক্ষক-কর্মচারীদের শঙ্কা, একসঙ্গে পুরো টাকা তাদের এখনই নাও দেওয়া হতে পারে। বর্তমানে অবসর বোর্ড ও কল্যাণ ট্রাস্টে এক লাখ ১০ হাজার আবেদন অনিষ্পন্ন রয়েছে। এসব আবেদন নিষ্পত্তিতে প্রয়োজন ১০ হাজার ৩২৬ কোটি টাকা।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আগামী ১৫ আগস্ট আয়োজিত কেন্দ্রীয় অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রধান অতিথি হিসেবে এই কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন। এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে ২ হাজার কোটি টাকার বিশেষ থোক বরাদ্দ দিতে অর্থ মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। অবসর সুবিধা বোর্ড ও শিক্ষক-কর্মচারী কল্যাণ ট্রাস্ট– দুই প্রতিষ্ঠানের ইতিহাসে এটিই সবচেয়ে বড় এককালীন অর্থ বিতরণ কর্মসূচি।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব মো. আবদুল খালেক গণমাধ্যমক বলেন, ২০২২ সাল থেকে অবসর নেওয়া শিক্ষক-কর্মচারীদের কেউই অবসর সুবিধার টাকা পাননি। দীর্ঘদিন ধরে তারা মানবেতর জীবন কাটাচ্ছিলেন। তাদের দুর্ভোগ লাঘবে প্রধানমন্ত্রী বিশেষ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। আগামী ১৫ আগস্ট একযোগে ৭৫ হাজার শিক্ষক-কর্মচারীর পাওনা পরিশোধ করা হবে।
সচিব জানান, অর্থ মন্ত্রণালয়কে ২ হাজার কোটি টাকার বিশেষ বরাদ্দ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে অবসর সুবিধা বোর্ডের ৭৫ হাজার আবেদনের নিষ্পত্তি হবে। তাদের মধ্যে প্রায় ৪৪ হাজার ব্যক্তি কল্যাণ ট্রাস্টের অর্থও পাবেন।
সচিবের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রাথমিক হিসাবে একজন শিক্ষক-কর্মচারী গড়ে পাঁচ লাখ থেকে ছয় লাখ টাকা পাবেন। তবে চূড়ান্ত হিসাব এখনও চলছে। বিপুল সংখ্যক কর্মকর্তা দিন-রাত কাজ করছেন।
সচিব আরও বলেন, এবার প্রথমবারের মতো আইবাস প্লাস প্লাসের মাধ্যমে সরাসরি ব্যাংক হিসাবে অর্থ পাঠানো হবে। এ জন্য সবার জাতীয় পরিচয়পত্র সংগ্রহ করা হয়েছে। এতে দালালচক্র বা কোনো মধ্যস্বত্বভোগীর সুযোগ থাকবে না।
সরকার ৭৫ হাজার আবেদন নিষ্পত্তির উদ্যোগ নিলেও সংশ্লিষ্ট শিক্ষক-কর্মচারীরা বলছেন, আপাতত সরকারের লক্ষ্য মূলত শিক্ষকদের কাছ থেকে কেটে রাখা মূল অর্থ ফেরত দেওয়া; কিন্তু বিনিয়োগ থেকে প্রাপ্য মুনাফা বা প্রকৃত আর্থিক ক্ষতির বিষয়টি এখনো স্পষ্ট নয়।
জানা গেছে, শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন ও শিক্ষাসচিব মো. আবদুল খালেক গতকাল বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেন। এ সময় তারা পৃথক বেশ কয়েকটি প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর সামনে তুলে ধরেন। প্রস্তাবগুলোর মধ্যে ছিল, ধাপে ধাপে অবসর ও কল্যাণের টাকা পরিশোধ করা, অর্থ সংকটের কারণে আপাতত শিক্ষকদের কাছ থেকে কেটে রাখা মূল টাকা পরিশোধ করা, প্রথমে মূল
টাকা ও এক বছর পরে বাকি টাকা পরিশোধ করা। তবে প্রধানমন্ত্রী এতে সম্মত হননি। তিনি অবসর বোর্ড ও কল্যাণ ট্রাস্টে তীব্র অর্থ সংকটের কারণে আপাতত ২ হাজার কোটি টাকা থোক বরাদ্দের নির্দেশ দেন।
অবসর সুবিধা বোর্ডের সচিব অধ্যক্ষ মো. মোশাররফ হোসেন লিটন জানান, অবসর বোর্ডে বর্তমানে ৬৭ হাজারের বেশি আবেদন অনিষ্পন্ন রয়েছে। এসব আবেদন নিষ্পত্তিতে প্রয়োজন প্রায় ৭ হাজার ১৭৬ কোটি টাকা।
কল্যাণ ট্রাস্টের সচিব অধ্যক্ষ মো. ইউসুফ আলী বলেন, কল্যাণ সুবিধার জন্য প্রায় ৪৩ হাজার আবেদন জমা আছে। ২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে এই আবেদন জমা পড়েছে। তিনি জানান, শুধু কল্যাণ ট্রাস্টের ৪৩ হাজার আবেদন নিষ্পত্তি করতে প্রয়োজন ৩ হাজার ১৫০ কোটি টাকা। অথচ ট্রাস্টের হাতে আছে মাত্র ৬০০ কোটি টাকা।
অবসর ও কল্যাণ সুবিধার টাকার বড় একটি অংশ নেওয়া হয় শিক্ষক-কর্মচারীদের কাছ থেকেই। এ জন্য চাকরিকালীন তাদের মূল বেতনের ৬ শতাংশ টাকা মাসে কেটে রাখা হয়। কল্যাণ ট্রাস্টের জন্য কাটা হয় মূল বেতনের ৪ শতাংশ। এছাড়া সরকারের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রত্যেক শিক্ষার্থীর কাছ থেকে বছরে ১০০ টাকা (৭০ টাকা অবসরের জন্য ও ৩০ টাকা কল্যাণের জন্য) নেওয়া হচ্ছে। বাকি টাকা সরকার ও চাঁদা জমার সুদ থেকে সমন্বয় করে দেওয়া হয়।
অবসর সুবিধা বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, ৬ শতাংশ হারে টাকা কাটার মাধ্যমে প্রতি মাসে প্রায় ৭০ কোটি টাকা আদায় হয়। এফডিআরের লভ্যাংশ হয় প্রতি মাসে আরও ৩ কোটি টাকা। কিন্তু প্রতি মাসে গড়ে অবসর সুবিধার জন্য আবেদন জমা পড়ে ১ হাজার, যা নিষ্পত্তি করতে প্রতি মাসে দরকার ১১৫ কোটি টাকা। এর মানে হলো প্রতি মাসে ৪২ কোটি টাকা ঘাটতি থাকে; বছরে যা ৫০৪ কোটি টাকা।
বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতির মহাসচিব মো. জাকির হোসেন বলেন, লক্ষাধিক অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-কর্মচারী মানবেতর জীবনযাপন করছেন। কারও চিকিৎসার টাকা নেই, কারও সন্তানদের লেখাপড়ার খরচ চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। তিন বছরের বেশি সময় ধরে কেউ অবসর বা কল্যাণের টাকা পাননি। দ্রুত সব পাওনা পরিশোধ করতে হবে। শুধু মূল টাকা নয়, বিধিমালা অনুযায়ী প্রাপ্য পুরো অর্থ দিতে হবে। অন্যথায় শিক্ষক সমাজ তা মেনে নেবে না।
ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নিয়ে মিথ্যা, বানোয়াট, বিভ্রান্তিকর, উসকানিমূলক ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। এ বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে এ ধরনের অপপ্রচারের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে সংস্থাটি। শুক্রবার (৭ আগস্ট) পুলিশ সদর দপ্তরের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, পতিত ফ্যাসিবাদী শক্তি ও তাদের দেশি-বিদেশি দোসররা জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টা, পুলিশ বাহিনীর মনোবল ক্ষুণ্ন করা এবং সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট করার উদ্দেশ্যে এ ধরনের অপপ্রচার চালাচ্ছে বলে প্রতীয়মান হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, বর্তমানে বাংলাদেশ পুলিশ কার্যক্রম নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দলের কার্যক্রমের বিরুদ্ধে জোরালো আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করায় ও অপপ্রচারকারীদের কোনো অন্যায় তদবির আমলে না নেওয়ায় অসন্তুষ্ট মহল মনগড়া তথ্য সংবলিত এ ধরনের অপপ্রচারে লিপ্ত রয়েছে। অপপ্রচারকারীদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ফৌজদারি অপরাধে অভিযুক্ত থাকা, পুলিশসহ অন্যান্য সরকারি দপ্তরে বিভিন্ন অন্যায় তদবির করা ও অপপ্রচার না চালানোর শর্তে অর্থ দাবির তথ্য-প্রমাণ রয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত বিভ্রান্তিকর ও উসকানিমূলক কোনো বক্তব্য বিশ্বাস, শেয়ার বা প্রচার করা থেকে বিরত থাকার জন্য জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে পুলিশ সদর দপ্তর। একই সঙ্গে দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গুজব ও অপপ্রচার প্রতিরোধে সবাইকে সচেতন ভূমিকা পালনেরও অনুরোধ জানানো হয়েছে। ভবিষ্যতেও এমন অপপ্রচার চালালে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
পুলিশ সদর দপ্তর বলছে, জনগণের সঙ্গে আস্থার সম্পর্ক তৈরির মাধ্যমে দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বর্তমানে বাংলাদেশ পুলিশ দৃঢ় মনোবল, পেশাদারিত্ব ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। কোনো অপপ্রচার যাতে পুলিশ বাহিনীর মনোবল ক্ষুণ্ন ও পেশাগত দায়িত্ব পালনে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে না পারে, সে লক্ষ্যে জনগণের সচেতনতা, সহযোগিতা এবং অপপ্রচারকারীদের বিরুদ্ধে সোচ্চার ভূমিকা একান্তভাবে কামনা করছে পুলিশ সদরদপ্তর।
সাভার উপজেলার তেঁতুলঝোড়া, ভাকুর্তা ও আমিনবাজার ইউনিয়নকে সাভার থেকে বিচ্ছিন্ন করে প্রস্তাবিত কেরানীগঞ্জ মডেল উপজেলার সঙ্গে সংযুক্তির প্রস্তাবের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল, প্রতিবাদ সমাবেশ ও ঢাকা আরিচা মহাসড়ক অবরোধ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
শুক্রবার (৭ আগস্ট) জুমার নামাজের পর হেমায়েতপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অনুষ্ঠিত এ কর্মসূচিতে তিন ইউনিয়নের কয়েক হাজার মানুষ অংশ নেন। এ সময় তারা ঢাকা মহাসড়ক অবরোধ করে রাখেন। এতে মহাসড়কের উভয় পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয় এবং প্রায় ৪৫ মিনিট যান চলাচল বন্ধ থাকে।
তেঁতুলঝোড়া ইউনিয়নবাসীর উদ্যোগে আয়োজিত কর্মসূচিতে তেঁতুলঝোড়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেতা হাজী জামাল উদ্দিন সরকারের নেতৃত্বে তিন ইউনিয়ন থেকে খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে বিক্ষোভকারীরা সমাবেশস্থলে জড়ো হন। পরে তারা ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন।
সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করেন, ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার কথা বলে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে একটি ফরমে স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছিল। পরে জানা যায়, সেই স্বাক্ষর ব্যবহার করে তেঁতুলঝোড়া, ভাকুর্তা ও আমিনবাজার ইউনিয়নকে সাভার উপজেলা থেকে বিচ্ছিন্ন করে কেরানীগঞ্জ উপজেলার সঙ্গে সংযুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। তারা এ ধরনের উদ্যোগের তীব্র প্রতিবাদ জানান।
তেঁতুলঝোড়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান হাজী জামাল উদ্দিন সরকার বলেন, ‘আমরা কোনোভাবেই সাভার থেকে বিচ্ছিন্ন হতে চাই না। নাগরিকসেবা, শিক্ষা, চিকিৎসা ও প্রশাসনিক সব কার্যক্রম সাভারকেন্দ্রিক। জনগণকে ভিন্ন উদ্দেশ্য গোপন রেখে স্বাক্ষর নেওয়া হয়ে থাকলে তা জনগণের সঙ্গে প্রতারণার শামিল। এই তিন ইউনিয়নকে কেরানীগঞ্জের সঙ্গে সংযুক্ত করার কোনো উদ্যোগই এলাকাবাসী মেনে নেবে না।’
সমাবেশে বক্তব্য রাখেন আলহাজ সিরাজুল ইসলাম সিরাজ, আব্দুর রহমান, অ্যাডভোকেট দীন ইসলাম, নয়ন সরকার, যুবদল নেতা শাওন সরকার এবং শামসুল হক। বক্তারা বলেন, ‘সাভারের ঐতিহ্য ও প্রশাসনিক কাঠামো অক্ষুণ্ন রাখতে তিন ইউনিয়নকে সাভারের অধীনেই রাখতে হবে। দাবি উপেক্ষা করা হলে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।’ তারা জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি প্রদান, গণস্বাক্ষর কর্মসূচি এবং ধারাবাহিক আন্দোলনের ঘোষণাও দেন।
সমাবেশে অংশ নেওয়া স্থানীয় বাসিন্দা শাহনাজ আক্তার বলেন, ‘সরকারি সুবিধা পাওয়ার কথা বলে মানুষকে ফরমে স্বাক্ষর করানো হয়েছিল। পরে যদি সেই স্বাক্ষর অন্য উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হয়ে থাকে, তাহলে তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।’
স্থানীয় বাসিন্দা খালেদ সাইফুল্লাহ বলেন, ‘জন্ম থেকে আমরা সাভারের বাসিন্দা। আমাদের জাতীয় পরিচয়পত্র, জমির কাগজপত্র এবং সব প্রশাসনিক কার্যক্রম সাভারকেন্দ্রিক। তাই সাভার থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার প্রশ্নই ওঠে না।’
এ বিষয়ে সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় সম্প্রতি ১০টি ইউনিয়ন নিয়ে একটি কেরানীগঞ্জ মডেল উপজেলা গঠনের প্রস্তাবের বিষয়ে মতামত চেয়েছে। প্রস্তাবিত তালিকায় কেরানীগঞ্জের সাতটি ইউনিয়নের পাশাপাশি সাভারের তেঁতুলঝোড়া, আমিনবাজার ও ভাকুর্তা ইউনিয়নের নাম রয়েছে। এ বিষয়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে এবং উপজেলা প্রশাসনও এর অনুলিপি পেয়েছে। তবে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। মন্ত্রণালয় কেবল মতামত আহ্বান করেছে।’
সাভার হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাওগাতুল আলম বলেন, ‘বিক্ষোভের কারণে কিছু সময়ের জন্য মহাসড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয়। পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে যান চলাচল স্বাভাবিক করে।’
শেরপুর সদর থেকে গাজীরখামার হয়ে নালিতাবাড়ী উপজেলার সংযোগ সড়কটির বেহাল অবস্থায় ভোগান্তিতে পড়েছেন লাখো মানুষ। প্রধান সড়কের তুলনায় প্রায় ১০ কিলোমিটার কম হওয়ায় সময় ও জ্বালানি সাশ্রয়ের জন্য প্রতিদিন হাজারো যানবাহন এই পথ ব্যবহার করলেও দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় সড়কটি এখন চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শেরপুর-নালিতাবাড়ী প্রধান সড়ক দিয়ে যেতে প্রায় ৩০ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করতে হয়। বিপরীতে শেখহাটি ও গাজীরখামার হয়ে দূরত্ব মাত্র ২০ কিলোমিটার। এ কারণে যাত্রীবাহী বাস, সিএনজিচালিত ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা, মোটরসাইকেল এবং পণ্যবাহী যানবাহনের বড় অংশ এই সড়ক ব্যবহার করে।
তবে সড়কের বিভিন্ন স্থানে পিচ উঠে বড় বড় গর্ত ও গভীর খানাখন্দ তৈরি হয়েছে। সামান্য বৃষ্টিতেই গর্তগুলো পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে। সাম্প্রতিক পাহাড়ি ঢল ও অতিবৃষ্টিতে সড়কের ক্ষতি বেড়েছে জ্যামিতিক হারে। ফলে ছোট-বড় দুর্ঘটনার পাশাপাশি গুনতে হচ্ছে বাড়তি ভাড়া।
স্থানীয় বাসিন্দা হাফিজুর রহমান বলেন, শেখহাটি বাজার, চৈতনখিলা বটতলা বাজার ও গাজীরখামার বাজার এলাকায় সড়কের অবস্থা সবচেয়ে খারাপ। অনেক জায়গায় কার্পেটিং উঠে ইট ও খোয়া বের হয়ে এসেছে।
পরিবহনচালক রহিম মিয়া ও জুয়েল মিয়ার ভাষ্য, আগে শেরপুর থেকে নালিতাবাড়ী যেতে ৩০ থেকে ৩৫ মিনিট লাগলেও এখন প্রায় এক ঘণ্টা বা তারও বেশি সময় লাগছে। প্রতিদিন যানবাহনের চাকা, সাসপেনশনসহ বিভিন্ন যন্ত্রাংশ নষ্ট হওয়ায় পরিচালনা ব্যয়ও বেড়ে গেছে।
স্থানীয় দোকানদার জুয়েল বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের দাবি জানানো হলেও কার্যকর উদ্যোগ দেখা যায়নি। দ্রুত সড়কটি সংস্কার না হলে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে।
এ বিষয়ে শেরপুর এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মো. খন্দকার মাহমুদুল আশরাফ বলেন, ‘রুরাল কানেক্টিভিটি ইমপ্রুভমেন্ট’ নামে একটি বড় প্রকল্প চালু হলে সড়কটি সেখানে অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি সরকারি অর্থায়নেও সড়কটির সংস্কারের জন্য প্রকল্প গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।’
নেত্রকোনা সদর উপজেলায় এক স্কুলছাত্রীকে (১৪) ধর্ষণের অভিযোগে করা মামলার প্রধান আসামি কনটেন্ট ক্রিয়েটর রিপন মিয়াকে (৩৩) গ্রেপ্তার করেছে র্যাব। শুক্রবার (৭ আগস্ট) সকালে ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার মহিষারন-অচিন্ত্যপুর এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। দুপুরে র্যাব-১৪ থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
ওই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব-১৪ সদর কোম্পানির একটি দল অভিযান চালিয়ে পলাতক আসামি রিপন মিয়াকে গ্রেপ্তার করেছে। পরে তাকে নেত্রকোনা মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
মামলার এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, রিপন বিভিন্ন সময় ভিডিও তৈরির অজুহাতে ভুক্তভোগী ছাত্রীকে উত্ত্যক্ত করতেন। তিনি গত ৩০ জুলাই রাত ৮টার দিকে ছাত্রীটির বাড়িতে গিয়ে জরুরি কথা আছে বলে ডেকে মগড়া নদীর উত্তর পাড়ে নিয়ে যান এবং সেখানে ধর্ষণ করেন। ওই ঘটনা জানাজানি হলে গত সোমবার (৩ আগস্ট) রাতে স্থানীয় একটি বাজারে বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে সালিশ বসে। সেখানে রিপন মিয়াকে পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা ও গ্রামছাড়া করার সিদ্ধান্ত হয়। জরিমানার অর্থ পরিশোধ ও গ্রাম ছাড়তে তাকে এক সপ্তাহ সময় দেওয়া হয়। সালিশের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি আলোচনায় আসে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর বাবা বাদী হয়ে গত মঙ্গলবার রাতে নেত্রকোনা মডেল থানায় একটি মামলা করেন।
সালিশের কয়েকটি ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। ৩০ সেকেন্ডের একটি ভিডিওতে দেখা যায়, অভিযোগ স্বীকার করে উপস্থিত সবার কাছে ক্ষমা চাইছেন রিপন। একপর্যায়ে তিনি বলেন, ‘ভুল করলেও করছি, না করলেও করছি। আমি, আফনেরার লগে থাহন লাগবো...! ভুল তো মানুষ করেই, আমি একটা ভুল কইরাইলছি।’
এ বিষয়ে নেত্রকোনা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবুল খায়ের বলেন, ‘গ্রেপ্তারকৃত রিপন মিয়াকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।’
প্রসঙ্গত, রিপন মিয়ার বাড়ি নেত্রকোনা সদর উপজেলার একটি গ্রামে। পেশায় তিনি কাঠমিস্ত্রি। ২০১৬ সাল থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও তৈরি করে পরিচিতি পান। ২০১৯ সালে খোলা তার ফেসবুক পেজে বর্তমানে প্রায় ১৯ লাখ অনুসারী রয়েছে।
টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলার ঢাকা–টাঙ্গাইল মহাসড়কের বাঐখোলা এলাকায় অসহায় এক পথশিশুকে উদ্ধার করেছে বাসাইল থানা পুলিশ। পরে আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে শিশুটিকে উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তার মাধ্যমে নিরাপদ হেফাজতে হস্তান্তর করা হয়েছে।
বাসাইল থানা পুলিশ জানায়, গত বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) রাত সাড়ে ১১টার দিকে বাসাইল থানাধীন ঢাকা–টাঙ্গাইল মহাসড়কের বাঐখোলা এলাকায় প্রায় ৯ বছর বয়সি এক পথশিশুকে একা ঘোরাফেরা করতে দেখে পুলিশের একটি টহল দল তাকে উদ্ধার করে। শিশুটি তার নাম মাসুদ বলে জানালেও তার বাবা-মা, আত্মীয়-স্বজন কিংবা কোনো পরিচিত ব্যক্তির নাম-ঠিকানা বা মোবাইল নম্বর জানাতে পারেনি।
পুলিশের সঙ্গে দীর্ঘ সময় কথা বলে শিশুটি জানায়, প্রায় পাঁচ-ছয় বছর আগে একটি সড়ক দুর্ঘটনার পর সাব্বির নামে এক ব্যক্তি তাকে নিজের বাড়িতে নিয়ে যান। সেখানে প্রায় দুই বছর থাকার পর তাকে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়। এরপর দীর্ঘদিন বিভিন্ন স্থানে ঘুরে বেড়ানোর পর ঢাকার আব্দুল্লাহপুর বা টঙ্গীর কোনো এক এলাকায় রাস্তার পাশের একটি খাবার হোটেলে তার আশ্রয় হয়।
শিশুটির ভাষ্য অনুযায়ী, মহিবুল্লাহ নামে ওই হোটেলের মালিক তাকে সপ্তাহে ২০০ টাকা বেতনে কাজ দেন। কিন্তু গত বৃহস্পতিবার বিকালে কাজ করার সময় তার হাত থেকে একটি কাঁচের প্লেট পড়ে ভেঙে গেলে ক্ষিপ্ত হয়ে হোটেল মালিক তাকে মারধর করেন এবং হোটেল থেকে বের করে দেন।
অসহায় মাসুদ পরে টঙ্গী বাসস্ট্যান্ড থেকে টাঙ্গাইলগামী একটি বাসে উঠে ২০০ টাকা ভাড়া দিয়ে বাসাইলের বাঐখোলা এলাকায় এসে নামে। রাত সাড়ে ১১টার দিকে মহাসড়কের পাশে একা দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে বাসাইল থানা পুলিশের টহল দল তাকে উদ্ধার করে নিরাপদ হেফাজতে নেয়।
পরে বিষয়টি বাসাইল উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তাকে অবহিত করা হয়। প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে শিশুটিকে সমাজসেবা বিভাগের নিরাপদ হেফাজতে হস্তান্তর করা হয়েছে।
এদিকে, শিশুটির প্রকৃত পরিবার বা স্বজনদের খুঁজে বের করতে তার ছবি ও তথ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশি বেশি শেয়ার করার জন্য সকলের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন বাসাইল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আলমগীর কবির।
কোমলমতি শিক্ষার্থীদের নিরাপদ পরিবেশে পাঠদান নিশ্চিত করতে মানবিক উদ্যোগ নিয়েছেন কেশবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেকসোনা খাতুন। ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকায় পাত্রপাড়া ও গোপসেনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য অস্থায়ী টিনশেড শ্রেণিকক্ষ নির্মাণে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করেছেন তিনি।
গত বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) উপজেলার পাত্রপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও গোপসেনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের হাতে চার বান করে টিন এবং টিনশেড নির্মাণের জন্য ১২ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা তুলে দেন ইউএনও।
জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয় দুটির ভবনের বিভিন্ন অংশ ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনের নজরে এলে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা। তার নির্দেশনায় অস্থায়ী টিনশেড ঘর নির্মাণ করে সেখানে পাঠদান চালিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেকসোনা খাতুন বলেন, ‘শিশুদের নিরাপত্তার সঙ্গে কোনো ধরনের আপস করা যায় না। ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে পাঠদান চালিয়ে যাওয়া অত্যন্ত ঝুঁকির বিষয়। তাই দ্রুত বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে টিনশেড ঘর নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হয়েছে। আমাদের লক্ষ্য, কোনো শিক্ষার্থীর পড়াশোনা যেন ব্যাহত না হয় এবং তারা নিরাপদ পরিবেশে শিক্ষা গ্রহণ করতে পারে। ভবিষ্যতেও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা ও উন্নয়নে উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।’
পাত্রপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আমির হোসেন বলেন, ‘আমাদের বিদ্যালয়ের ভবনটি দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে আমরা সবসময় উদ্বিগ্ন ছিলাম। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মহোদয় বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে দ্রুত টিন ও নগদ অর্থ সহায়তা দিয়েছেন। তার এই সময়োপযোগী ও মানবিক উদ্যোগের ফলে শিক্ষার্থীরা নিরাপদ পরিবেশে পাঠদান চালিয়ে যেতে পারবে। আমরা উপজেলা প্রশাসনের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।’
গোপসেনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকও উপজেলা প্রশাসনের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, ‘দ্রুত সহায়তা পাওয়ায় শিক্ষার্থীদের পাঠদান নির্বিঘ্নভাবে চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে।’
এ বিষয়ে পাত্রপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি আব্দুল জলিল বলেন, ‘বিদ্যালয়টি ঝুঁকিপূর্ণ, এই সহায়তা বিদ্যালয়ের জন্য খুব জরুরি ছিল।’
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে অটোরিকশা চালকের রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় হত্যার বিচারের দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছেন নিহতের স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দারা। মানববন্ধনে অটোরিকশা চালকের স্ত্রী, শ্বশুর ও শ্বশুরবাড়ির অন্য সদস্যদের বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ তোলেন নিহতের স্বজনরা।
শুক্রবার (৭ আগস্ট) দুপুরে উপজেলার কাঁচপুর ইউনিয়নের কাশিপুর এলাকায় অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে তারা অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) নিহত অটোরিকশা চালকের মা সেলিনা বেগম বাদী হয়ে সোনারগাঁ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দেন।
অভিযোগে তিনি দাবি করেন, পারিবারিক কলহের জেরে তার ছেলে আবু জুম্মান সজিবকে নির্যাতন করে হত্যার পর মরদেহ ঘরে ঝুলিয়ে রেখে আত্মহত্যা বলে প্রচারের চেষ্টা করা হয়। আবু জুম্মান সজিব প্রেমের সম্পর্কের পর আফসানাকে বিয়ে করেন। বিয়ের পর থেকেই তাদের মধ্যে দাম্পত্য কলহ চলছিল।
এ সময় স্ত্রী আফসানা, তার বাবা নুর হোসেন এবং পরিবারের অন্য সদস্যরা বিভিন্ন সময় আবু জুম্মান সজিবকে হুমকি দিতেন বলেও অভিযোগ করেছেন নিহতের মা। গত বুধবার (৫ আগস্ট) সন্ধ্যায় উপজেলার কাঁচপুর ইউনিয়নের কাশিপুর এলাকায় লিটন মিয়ার ভাড়াটিয়া বাসা থেকে আবু জুম্মান সজিবের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়।
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন নিহত অটো চালকের চাচা নজরুল ইসলাম, মা সেলিনা বেগম, এলাকাবাসী মো. শুভ আহমেদ, লিপি আকতার, মো. নাছির উদ্দিন।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া স্বজনরা অভিযোগ করেন, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। তারা বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে হত্যাকারীদের বিচারের দাবি জানান।
নিহতের মা সেলিনা বেগম বলেন, ‘আমার ছেলেকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে বলে আমার বিশ্বাস। এর সঙ্গে তার স্ত্রী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন জড়িত। আমি এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। প্রশাসনের কাছে আমার আবেদন, প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন করে দায়ীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করা হোক। আমি আমার ছেলের হত্যার বিচার চাই।’
মানববন্ধন শেষে এক বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয় । মিছিলটি কাঁচপুর ইউনিয়নের কাশিপুর এলাকার বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে।
পটুয়াখালীর কুয়াকাটাসংলগ্ন বঙ্গোপসাগরের গভীর সমুদ্রে জেলের জালে ধরা পড়েছে প্রায় ১ কেজি ৭০০ গ্রাম ওজনের একটি রূপচাঁদা মাছ। মাছটি প্রতি কেজি ২ হাজার ২৫০ টাকা দরে মোট ৩ হাজার ৮২৫ টাকায় বিক্রি হয়। গত বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) বিকালে মহিপুরে মনোয়ারা ফিশ গদিতে আনার পর মাছটি দেখতে ভিড় করেন জেলে, মাছ ব্যবসায়ী ও স্থানীয়রা। মাছটি এফবি জারিফ-১ নামের একটি মাছধরা ট্রলারে ধরা পড়ে।
মনোয়ারা ফিশের ম্যানেজার সগির বলেন, ‘এ ধরনের বড় আকারের রূপচাঁদা মাছ সচরাচর ধরা পড়ে না। মাছটির আকার ও গুণগত মান ভালো হওয়ায় বাজারে ভালো দাম পাওয়া গেছে।’
স্থানীয় মাছ ব্যবসায়ী সোহাগ বলেন, ‘গভীর সমুদ্রের বড় রূপচাঁদার চাহিদা সবসময়ই বেশি। মাছটির মান ভালো হওয়ায় কিনেছি। বাজার পরিস্থিতি অনুকূলে থাকলে আরও ভালো দাম পাওয়া যেত। মাছটি ঢাকায় পাঠানো হবে।’
ব্লু অ্যাকশন ফান্ডের অর্থায়নে পরিচালিত ডব্লিউসিএস (WCS) ও ওয়ার্ল্ডফিশের সমন্বয়ে বাস্তবায়িত ‘সুস্থ সাগর’ প্রকল্পের গবেষণা সহকারী মো. বখতিয়ার রহমান বলেন, ‘রূপচাঁদা উচ্চমূল্যের সামুদ্রিক মাছ। এ মাছ সাধারণত গভীর সমুদ্রে বিচরণ করে এবং সুস্থ সামুদ্রিক পরিবেশের একটি ইতিবাচক নির্দেশক হিসেবে বিবেচিত হয়। বড় আকারের রূপচাঁদা ধরা পড়া সাগরের জীববৈচিত্র্যের জন্য ইতিবাচক দিক। তবে এ মাছের টেকসই আহরণ নিশ্চিত করা জরুরি।’
উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা বলেন, ‘বঙ্গোপসাগরের রূপচাঁদা, একটি গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক মাছ। সঠিকভাবে মৎস্যসম্পদ ব্যবস্থাপনা ও সংরক্ষণ করা গেলে ভবিষ্যতে এ ধরনের মূল্যবান মাছের উৎপাদন আরও বাড়বে। এতে জেলেদের আর্থিক লাভও বাড়বে।’
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) আবাসিক ও অনাবাসিক নারী শিক্ষার্থীদের হল ২৪ ঘণ্টা খোলা রাখার দাবির প্রতি সংহতি প্রকাশ করেছেন ডাকসুর কার্যনির্বাহী সদস্য সর্ব মিত্র চাকমা।
শুক্রবার (৭ আগস্ট) দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি নারী শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলনকে ন্যায্য ও সমঅধিকারভিত্তিক উল্লেখ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের বৈষম্যমূলক নীতি ও প্রশাসনিক সীমাবদ্ধতার কড়া সমালোচনা করেন।
বিবৃতিতে সর্ব মিত্র চাকমা বলেন, মুক্তচিন্তা ও জ্ঞানচর্চার কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নিরাপত্তার অজুহাতে নারী শিক্ষার্থীদের চলাচল সীমিত করা অত্যন্ত হতাশাজনক এবং তা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রগতিশীল আদর্শের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। নিরাপত্তা নিশ্চিত করার অর্থ কোনো শিক্ষার্থীর মৌলিক স্বাধীনতা সংকুচিত করা নয়; বরং এমন এক পরিবেশ গড়ে তোলা উচিত যাতে ক্যাম্পাস ২৪ ঘণ্টা সবার জন্য নিরাপদ ও অবাধ যাতায়াতের উপযোগী থাকে। শিক্ষা ও গবেষণায় নারীদের অবদান অনস্বীকার্য উল্লেখ করে তিনি জানান, এই আন্দোলন কেবল নারী শিক্ষার্থীদের নয়, বরং সমগ্র বিশ্ববিদ্যালয় সম্প্রদায়ের অধিকার ও মর্যাদার প্রশ্ন।
শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলনের সমর্থনে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে কয়েকটি সুনির্দিষ্ট দাবি জানান সর্ব মিত্র চাকমা। যার মধ্যে রয়েছে নারী শিক্ষার্থীদের প্রতি বিদ্যমান বৈষম্যমূলক নীতি ও বিধিনিষেধের দ্রুত সংস্কার করা এবং বৈধ পরিচয়পত্রের ভিত্তিতে সব নারী শিক্ষার্থীর জন্য ২৪ ঘণ্টা ক্যাম্পাসে অবাধ যাতায়াত নিশ্চিত করা।
একই সঙ্গে নিরাপত্তার নামে শিক্ষার্থীদের অধিকার সীমিত না করে পর্যাপ্ত আলোকসজ্জা, সিসিটিভি নজরদারি ও জবাবদিহিমূলক প্রশাসনিক ব্যবস্থা গড়ে তোলার আহ্বান জানানো হয়। সার্বিকভাবে ঢাবিকে সব শিক্ষার্থীর জন্য একটি সমান, বৈষম্যহীন ও নিরাপদ শিক্ষাঙ্গনে পরিণত করতে প্রশাসনকে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার তাগিদ দেওয়া হয়।