কক্সবাজারের উখিয়ায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পে লাগা আগুন নিয়ন্ত্রণে এসেছে। ফায়ার সার্ভিসের ৭টি ইউনিটের দেড় ঘণ্টার প্রচেষ্টায় আজ শনিবার দুপুর আড়াইটার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ৮ এপিবিএনের অধিনায়ক মো. আমির জাফর।
তিনি বলেন, ‘দুপুরে ১৩ নম্বর তানজিমারখোলা রোহিঙ্গা ক্যাম্পের কাঁঠালতলী বাজারে আকস্মিক আগুন লাগার ঘটনা ঘটে। মুহুর্তেই আগুন বাজারসহ ক্যাম্পের আশপাশে ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে এপিবিএন পুলিশ তাৎক্ষণিক উখিয়া ফায়ার সার্ভিস স্টেশনে অবহিত করেন। উখিয়া ফায়ার সার্ভিসের দু’টি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করেন। এরমধ্যে কক্সবাজার, রামু ও টেকনাফ ফায়ার সার্ভিস স্টেশনকে খবর দেওয়া হয়। বেলা আড়াইটার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। তবে আগুন লাগার কারণ এখনো অজানা।’
তিনি আরও জানান, আজ শনিবার দুপুর ১টার দিকে ক্যাম্পের ডি-৩ ব্লকের কাঁঠালতলী বাজারে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত। প্রাথমিকভাবে ২ শতাধিক রোহিঙ্গাদের ঘর ও এনজিও সংস্থার কেন্দ্র পুড়ে গেছে। হতাহতের কোন খবর এ পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।
গত ২৪ মে একই ক্যাম্পে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছিল। এতে হতাহতের ঘটনা না ঘটলেও ভস্মিভূত হয় প্রায় ৩ শতাধিক বসত ঘরসহ নানা স্থাপনা।
পাবনার ফরিদপুর উপজেলায় বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ দখল করে গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে দেওয়া ‘সাত দিনের’ আলটিমেটাম নয় মাসেও কার্যকর হয়নি। উচ্ছেদের চূড়ান্ত নোটিশ জারি করে কর্তৃপক্ষ নীরব হয়ে যাওয়ায় দখলদাররা আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠেছে। বর্তমানে বাঁধের ওপর সারিবদ্ধ পাকা ও আধাপাকা দোকানঘর নির্মাণ করে স্থায়ীভাবে ব্যবসা পরিচালনা করা হচ্ছে, যা বাঁধের স্থায়িত্ব ও জননিরাপত্তাকে চরম ঝুঁকিতে ফেলেছে।
পাউবোর ডেমরা পানি উন্নয়ন শাখা থেকে গত বছরের ২৯ মে একটি দাপ্তরিক নোটিশ (স্মারক নং- ডি/এসএই/১০২/১(৩) জারি করা হয়েছিল। ওই নোটিশে রাউত মিরধাপাড়া এলাকার ১৫ জন দখলদারকে সাত দিনের মধ্যে তাদের স্থাপনা সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। ১৯৭০ সালের ভূমি ও ইমারত (দখল পুনরুদ্ধার) অধ্যাদেশ অনুযায়ী জারিকৃত ওই নোটিশে বলা হয়েছিল, বাঁধের ওপর অবৈধ ঘরবাড়ির কারণে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। গতকাল সোমবার ফরিদপুর উপজেলার ওই এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, পাউবোর নির্দেশ অমান্য করে দখলদাররা আরও জাকিয়ে বসেছে। ছবিগুলোতে দেখা যায়, বাঁধের ওপর অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে পাকা দেওয়াল ও স্টিলের শাটল গেট লাগিয়ে সারিবদ্ধ দোকানঘর তৈরি করা হয়েছে। কোথাও কোথাও মুদি দোকান ও ফ্ল্যাক্সিলোডের দোকানের পাশাপাশি রাস্তার ওপরই রাখা হয়েছে বিপুল পরিমাণ কাঠ ও নির্মাণসামগ্রী।
মূল সড়কের একদম গাঘেঁষে এসব স্থাপনা গড়ে ওঠায় গুরুত্বপূর্ণ এই আঞ্চলিক সড়কটি অত্যন্ত সরু হয়ে গেছে। ফলে যানবাহন চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে এবং যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। অথচ নোটিশ অনুযায়ী, এসব স্থাপনা অনেক আগেই গুঁড়িয়ে দেওয়ার কথা ছিল।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, প্রশাসনের রহস্যজনক ঢিলেঢালা ভাবের কারণে উচ্ছেদ প্রক্রিয়া থমকে আছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন বাসিন্দা বলেন, ‘কর্তৃপক্ষ শুধু কাগজে-কলমে নোটিশ দিয়ে দায় সারে। দখলদাররা প্রভাবশালী হওয়ায় ৯ মাসেও কেউ তাদের স্পর্শ করার সাহস পায়নি।’
উচ্ছেদ অভিযান বিলম্বিত হওয়ার বিষয়ে জানতে পাবনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের সংশ্লিষ্ট দপ্তরে যোগাযোগ করা হলে কর্মকর্তারা জানান, উচ্ছেদ অভিযান প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। তবে কেন নয় মাসেও তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি, সে বিষয়ে তারা কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি।
সংশ্লিষ্ট মহলের দাবি, বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং সরকারি সম্পত্তি রক্ষায় কোনো প্রকার কালক্ষেপণ না করে দ্রুত উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা জরুরি।
মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের আওতাধীন তিনটি কালভার্ট নির্মাণ প্রকল্পের কাজ অসম্পূর্ণ রেখে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান উধাও হয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ফলে ভোগান্তিতে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। দ্রুত কাজ শেষ করার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস সূত্রে জানা গেছে, ধল্লা ইউনিয়নের ফোর্ডনগর মোল্লাপাড়া, জয়মন্টপ ইউনিয়নের নীলটেক বেপারীপাড়া এবং চান্দহর ইউনিয়নের রিফায়েতপুর চকে—এই তিনটি কালভার্ট নির্মাণের কাজ পায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আনিস এন্টারপ্রাইজ।
সরেজমিন দেখা গেছে, ধল্লা ইউনিয়নের ফোর্ডনগর মোল্লাপাড়ায় ১১ মিটার দীর্ঘ একটি কালভার্টের নির্মাণ ব্যয় ধরা হয় ৪০ লাখ ৫০ হাজার টাকা। ২০২৪ সালের ১৬ মে কাজ শুরু হয়ে একই বছরের ১৬ নভেম্বর শেষ হওয়ার কথা থাকলেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কেবল বেইজ ঢালাই করে কাজ বন্ধ করে দেয়।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রায় এক বছর আগে কাজ বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর আর কোনো অগ্রগতি হয়নি। ফলে চলাচলে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে এলাকাবাসীকে। গ্রামের বাসিন্দা ও দলিল লেখক আইয়ুব মোল্লা বলেন, ‘দ্রুত কালভার্টের কাজ শেষ না হলে আগামী বর্ষা মৌসুমে মানুষের ভোগান্তি চরমে পৌঁছাবে।’
জয়মন্টপ ইউনিয়নের নীলটেক বেপারীপাড়ায় ২৩ লাখ ৬৪ হাজার টাকা ব্যয়ে নির্মিত ৬ মিটার দীর্ঘ একটি কালভার্ট প্রায় এক বছর আগে সম্পন্ন হলেও দুই পাশের সংযোগস্থলে মাটি ভরাট না করায় সেটি ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে আছে। ফলে পূর্ব ও পশ্চিম পাশের গ্রামবাসী যাতায়াতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। স্থানীয়রা দ্রুত সংযোগ সড়ক ভরাটের দাবি জানিয়েছেন।
চান্দহর ইউনিয়নের রিফায়েতপুর চকে ডালিপাড়া–রিফায়েতপুর সড়কে ১১ মিটার দীর্ঘ আরেকটি কালভার্ট নির্মাণে ব্যয় ধরা হয় ৪০ লাখ ৫০ হাজার টাকা। প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হয়েছে এক বছর আগে। অভিযোগ রয়েছে, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যে প্রায় ২০ লাখ টাকার বিল উত্তোলন করেছে। অথচ কালভার্টের দুই পাশের সংযোগস্থলে মাটি ভরাট না করায় এটি কার্যত অচল হয়ে রয়েছে।
রিফায়েতপুর গ্রামের বাসিন্দা ও ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য কলিমুদ্দিন সিকদার অভিযোগ করে বলেন, ‘ঠিকাদার আমাদের কোনো গুরুত্ব দিচ্ছে না। দ্রুত কালভার্টের দুই পাশে মাটি ভরাট করে চলাচলের উপযোগী করার দাবি জানাচ্ছি।’
তিন কালভার্টের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আনিস এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী অভিযুক্ত আনিসুর রহমান বলেন, জনবল সংকটের কারণে কাজগুলো সাময়িকভাবে বন্ধ রয়েছে। আগামী সপ্তাহ থেকে পুরোদমে কাজ চলবে। আশা করি আগামী জুনের মধ্যে সম্পূর্ণ কাজ শেষ হবে।
সিংগাইর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. আহাদী হোসেন বলেন, ঠিকাদারকে বারবার তাগিদ দেওয়া হয়েছে। লিখিতভাবে কারণ দর্শানোর নোটিশও দেওয়া হয়েছে। কাজ সম্পনের আগেই বিল দাবি করা নিয়মবহির্ভূত। দ্রুত কাজ শেষ না করলে তার লাইসেন্স বাতিলের সুপারিশ করা হবে।
নেত্রকোনায় শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্মৃতিবিজড়িত তিলকখালি খালের খনন কাজের উদ্বোধন করা হয়েছে। নেত্রকোনা-২ (সদর-বারহাট্টা) আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক ডা. মো. আনোয়ারুল হক এই খনন কাজের উদ্বোধন করেন।
সদর উপজেলার মেদনি ইউনিয়নের কৃষ্ণাখালিতে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) ‘সারাদেশে পুকুর ও খাল উন্নয়ন (২য় সংশোধিত) প্রকল্পের’ আওতায় খালটি খনন করা হচ্ছে।
খালটি পুনঃখননের ফলে এলাকার কৃষিজমি সেচ সুবিধা পাবে এবং জলাবদ্ধতা দূর হবে।
উদ্বোধন শেষে বিশেষ মোনাজাত পরিচালনা করেন নেত্রকোনা জেলা জাতীয় ইমাম সমিতির সভাপতি মাওলানা মো. আলাউদ্দিন।
এ উপলক্ষে আলোচনায় সভা হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. মজিবুর রহমান খান। সঞ্চলনা করেন সাধারণ সম্পাদক তাজ উদ্দিন ফারাস সেন্টু। প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন সংসদ সদস্য মো. আনোয়ারুল হক।
উপস্থিত ছিলেন এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী ওয়াহিদুজ্জামান, জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি নুরুজ্জামান নুরু, সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুল হক, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম শফিকুল কাদের সুজা, নেত্রকোনা জেলা ছাত্রদলের সভাপতি অনীক মাহবুব চৌধুরী, জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক বজলুর রহমান পাঠান, মনিরুজ্জামান দুদু এবং পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক গাজী তোফায়েল হোসেন প্রমুখ।
এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী ওয়াহিদুজ্জামান জানান, ১ কোটি ৩৬ লাখ ৮৬ হাজার টাকা ব্যয়ে ৪ হাজার ২০ মিটার দৈর্ঘ্যের এই খালটি খনন করা হচ্ছে। আশা করা যাচ্ছে, চলতি বছরের মধ্যেই খনন কাজ সম্পন্ন হবে।
উপকূলীয় জনপদ বাগেরহাটের শরণখোলায় বিভিন্ন বাড়ির আঙিনায় লিচু গাছজুড়ে দেখা যাচ্ছে হলদে রঙের মুকুল। এতে প্রকৃতির সৌন্দর্য যেমন বেড়েছে, তেমনি ভালো ফলনের আশা করছেন চাষিরা।
স্থানীয়রা জানান, প্রতি বছরের মতো এ সময় লিচু গাছে মুকুল আসে। তবে আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবং ঝড়-বৃষ্টি না হলে এ বছরও ভালো ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে। ইতোমধ্যে মুকুলে ভরে ওঠেছে উপজেলার অনেক লিচু গাছ। মুকুলের মিষ্টি গন্ধে বাগানে মৌমাছির আনাগোনাও বেড়েছে।
উপজেলার কয়েকজন লিচু চাষি বলেন, ‘গাছে মুকুল ভালো এসেছে। এখন যদি আবহাওয়া ভালো থাকে এবং পোকামাকড়ের আক্রমণ কম হয়, তাহলে এ বছর লিচুর ফলন ভালো হওয়ার আশা করছি।’
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা দেবব্রত সরকার বলেন, ‘মুকুলের সময় গাছের বিশেষ যত্ন নেওয়া প্রয়োজন। প্রয়োজন অনুযায়ী সঠিক পরিচর্যা ও কীটনাশক ব্যবহারের মাধ্যমে ভালো ফলন পাওয়া সম্ভব।’
সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলায় বিয়ে বাড়ির আলোকসজ্জার বৈদ্যুতিক তারে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে সুজিত বর্মন (৭) নামে এক শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (৯ মার্চ) সকাল আনুমানিক ৭টার দিকে উপজেলার তাহিরপুর সদর ইউনিয়নের মধ্য তাহিরপুর গ্রামে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত সুজিত বর্মন ওই গ্রামের সত্যময় বর্মনের ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মধ্য তাহিরপুর গ্রামের অনিল বর্মনের বাড়িতে তার শ্যালিকা প্রিয়া বর্মনের বিয়ে উপলক্ষে গত রোববার (৮ মার্চ) রাতে গায়ে হলুদের অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে বাড়ির চারপাশে বৈদ্যুতিক আলোকসজ্জা করা হয়েছিল।
সোমবার (৯ মার্চ) সকালে বাড়ির আঙিনায় টানানো আলোকসজ্জার একটি বৈদ্যুতিক তারে অসাবধানতাবশত স্পর্শ করলে সুজিত বর্মন বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। এ সময় বিদ্যুতের শকে তার শরীরের কিছু অংশ পুড়ে যায় বলেও জানা গেছে।
এই মর্মান্তিক ঘটনায় বিয়ে বাড়িসহ পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। আনন্দের আয়োজন মুহূর্তেই পরিণত হয়েছে শোকে।
তাহিরপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) নাজমুল হক জানান, বিয়ে বাড়ির আলোকসজ্জার বৈদ্যুতিক তারে স্পৃষ্ট হয়ে শিশুটির মৃত্যুর ঘটনা প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
কুমিল্লা নগরীর ঠাকুরপাড়া কালীগাছতলা মন্দির থেকে উদ্ধার করা বোমা নিরাপদে নিষ্ক্রিয় করেছে বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট। গত রোববার (৮ মার্চ) রাত ১১টার দিকে লালমাই পাহাড় এলাকায় নিয়ন্ত্রিত বিস্ফোরণের মাধ্যমে বোমাটি ধ্বংস করা হয়।
পুলিশ জানায়, এর আগে গত শনিবার (৭ মার্চ) রাতে নগরীর বাগানবাড়ি এলাকায় দুর্বৃত্তরা তিনটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়। এতে মন্দিরের পূজারী কেশব চক্রবর্তীসহ তিনজন আহত হন। তবে বর্তমানে আহতরা আশঙ্কামুক্ত আছেন বলে জানা গেছে।
ঘটনার সময় দুর্বৃত্তরা একটি ব্যাগ ফেলে রেখে যায়। পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ব্যাগটি উদ্ধার করে কোতোয়ালি থানায় বিশেষ নিরাপত্তায় সংরক্ষণ করেন। গত রোববার (৮ মার্চ) সন্ধ্যায় ঢাকা থেকে আসা বোম্ব ডিসপোজাল টিম ব্যাগটি নিজেদের হেফাজতে নিয়ে লালমাই পাহাড়ে নিয়ে যায় এবং সেখানে নিয়ন্ত্রিত বিস্ফোরণের মাধ্যমে সেটি নিষ্ক্রিয় করে। বোম্ব ডিসপোজাল টিম জানিয়েছে, উদ্ধার করা বোমাটি শক্তিশালী ছিল।
এ ঘটনায় কুমিল্লার ঠাকুরপাড়া কালীগাছতলা মন্দির ও বাগানবাড়ি জামে মসজিদের সামনে মুসল্লিদের ওপর ককটেল নিক্ষেপে তিনজন আহত হওয়ার ঘটনায় মামলা করা হয়েছে।
গত রোববার (৮ মার্চ) রাতে মন্দিরের পুরোহিত কেশব চক্রবর্তী বাদী হয়ে পরিচয় না জানা ব্যক্তিদের আসামি করে মামলাটি করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি মো. তৌহিদুল আনোয়ার।
তিনি জানান, ঠাকুরপাড়া মন্দির থেকে উদ্ধার হওয়া ব্যাগে একটি ককটেল বোমা ছিল। ঢাকা থেকে আসা বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট সেটি লালমাই পাহাড়ের পুলিশের ফায়ারিং স্কোয়াড এলাকায় নিয়ে নিয়ন্ত্রিত বিস্ফোরণের মাধ্যমে নিষ্ক্রিয় করেছে।
ঝিনাইদহে একটি তেলের পাম্পে ভাঙচুর এবং তিনটি যাত্রীবাহী বাসে অগ্নিসংযোগের অভিযোগে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের জেলা শাখার সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ সাত নেতাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সোমবার (৯ মার্চ) দুপুরে ঝিনাইদহ সদর থানায় বাস মালিক পক্ষ এবং ক্ষতিগ্রস্ত ফিলিং স্টেশন কর্তৃপক্ষের দায়ের করা পৃথক দুটি মামলায় তাঁদের গ্রেফতার দেখানো হয়। জেলা পুলিশ সুপার মাহফুজ আফজাল এক প্রেসনোটের মাধ্যমে এই গ্রেফতারের তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে রয়েছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ঝিনাইদহ জেলা সভাপতি সাইদুর রহমান এবং সাধারণ সম্পাদক আশিকুর রহমান জীবন। এছাড়া এই তালিকায় আছেন সংগঠনের যুগ্ম আহ্বায়ক এজাজ হাসান অন্তর মাহমুদ, ‘দ্য রেড জুলাই’-এর আহ্বায়ক আবু হাসনাত তানাঈম এবং জেলা কমিটির সাবেক নেতা হুমায়ন কবির, তাশদিদ হাসান ও রাসেল। পুলিশের দাবি, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ, মোবাইল ট্র্যাকিং এবং উন্নত তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে নাশকতায় জড়িতদের শনাক্ত করার পর এই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।
পুরো ঘটনার প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, গত ৭ মার্চ ঝিনাইদহ শহরের কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল সংলগ্ন তাজ ফিলিং স্টেশনে তেল নেওয়াকে কেন্দ্র করে বিতণ্ডার জেরে পাম্পকর্মীদের পিটুনিতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কর্মী ফারদিন আহম্মেদ নীরব নিহত হন। এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনার পর আন্দোলনকারীরা বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। পুলিশের প্রেসনোটে উল্লেখ করা হয়েছে, ছাত্ররা প্রথমে আওয়ামী লীগ নেতা হারুন অর রশিদের মালিকানাধীন তাজ ফিলিং স্টেশনে হামলার চেষ্টা চালিয়ে ব্যর্থ হন। পরবর্তীতে তারা শহরের আরাপপুর এলাকার সৃজনী ফিলিং স্টেশনে ব্যাপক ভাঙচুর চালান এবং গভীর রাতে বাস টার্মিনালে থাকা রয়েল পরিবহন ও জে-লাইন পরিবহনের তিনটি বাসে আগুন ধরিয়ে দেন।
নীরব হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই ঝিনাইদহে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছিল। বাসে আগুনের ঘটনার প্রতিবাদে বাস শ্রমিকরা ঢাকা-খুলনা মহাসড়ক অবরোধ করলেও জড়িতদের গ্রেফতারের আশ্বাসে তারা অবরোধ তুলে নেয়। হত্যাকাণ্ডের মূল মামলার প্রধান আসামি ও আওয়ামী লীগ নেতা হারুন অর রশিদ বর্তমানে পলাতক থাকলেও তাঁর তিন কর্মচারীকে ইতিমধেই গ্রেফতার করেছে র্যাব ও পুলিশ।
ছাত্র আন্দোলনের বর্তমান পরিস্থিতির বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সংগঠনের সাবেক কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক তারেক রেজা। তিনি বলেন, প্রতিটি অপরাধেরই বিচার হওয়া উচিত, তবে একটি হত্যাকাণ্ডের প্রতিক্রিয়ায় সৃষ্ট পরিস্থিতির জন্য নির্বিচারে গণগ্রেফতার কাম্য নয়। তিনি দাবি করেন, গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে অনেকে নিরপরাধ থাকতে পারেন। অন্যদিকে, পলাতক পাম্প মালিক হারুন অর রশিদ ফোনে খুনের ঘটনার নিন্দা জানালেও তাঁর ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে হামলার বিষয়টি ঠিক হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন। বর্তমানে শহরে পরিস্থিতি শান্ত রাখতে এবং যেকোনো ধরণের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে অতিরিক্ত পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।
ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলায় স্কুল ও কলেজের শিক্ষার্থীদের মাঝে মাদকের কুফল ও সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে মাদক বিরোধী সচেতনতামূলক সভা ও র্যালি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (০৯ মার্চ) সকাল সাড়ে ১১টায় বোরহানউদ্দিন উপজেলা প্রশাসনের সভাকক্ষে এ সচেতনতামূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভা শেষে মাদক বিরোধী গনস্বাক্ষর ও র্যালি অনুষ্ঠিত হয়। র্যালিটি উপজেলা প্রশাসন চত্বর থেকে শুরু হয়ে কুতুবা মাধ্যমিক বিদ্যালয় এলাকা গুরে একই স্থানে এসে শেষ হয়। সচেতনতার বার্তা নিয়ে বের করা র্যালিতে ফেস্টুনের মাধ্যমে মাদককে 'না' বলার বিভিন্ন বার্তা লিখে আহ্বান জানানো হয়।
সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে স্কুল ও কলেজের শিক্ষার্থী ও যুবদের উদ্দেশ্যে মাদকের কুফলতা তুলে ধরে বক্তব্য দেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মনোরঞ্জন বর্মন।
তিনি বলেন, মাদকের নীল দংশন থেকে বাঁচতে হলে সবার প্রথমে নিজেকে সচেতন হতে হবে। আপনারা এখানে যারা উপস্থিত আছেন এখান থেকে যাওয়ার পর আপনারা মাদকের বিরুদ্ধে এম্বাসেডর হিসেবে কাজ করবেন, মাদকের কুফলতা সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের জানাবেন তাদের সচেতন করবেন। স্কুল কলেজ পাড়া মহল্লায় মাদকের বিরুদ্ধে জনসচেতনতামূলক প্রচার প্রচারনা বাড়াতে হবে। বোরহানউদ্দিন উপজেলা প্রশাসন মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতিতে রয়েছে। মাদক গ্রহীতা মাদক বিক্রেতা ও মাদকসেবীদের কোনো তথ্য থাকলে আপনারা আমাদের তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করবেন।
বোরহানউদ্দিন থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ মনিরুজ্জামান মাদকের ভয়াবহতা সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে আইনি বক্তব্য প্রদান করেন এছাড়া তার যোগদানের পর মাদক উদ্ধার ও আইনশৃংখলা পরিস্থিতির চিত্র তুলে ধরেন।
এই সময় উপস্থিত ছিলেন , হাফিজ ইব্রাহিম কলেজের অধ্যক্ষ জাকারিয়া আজম, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের উপপরিচালক রোকন উদ্দিন ভূঞা, উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা খবির হোসেন চৌধুরী, উপজেলা স্বাস্থ কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার, রিজওয়ানুল ইসলাম, বিভিন্ন যুব সংগনের প্রতিনিধি, হাফিজ ইব্রাহিম কলেজের শিক্ষার্থী, উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, স্থানীয় সামাজিক সংগঠন ও সাংবাদিকবৃন্দ।
সরকারের সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির অংশ হিসেবে বান্দরবানের লামা উপজেলায় পরীক্ষামূলকভাবে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বিতরণ কার্যক্রম শুরু হতে যাচ্ছে। আগামী ১০ মার্চ উপজেলার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডে এই পাইলট প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী অ্যাডভোকেট দীপেন দেওয়ান। এই কর্মসূচির মাধ্যমে প্রাথমিকভাবে ওই এলাকার ১ হাজার ৯৭টি হতদরিদ্র ও নিম্নবিত্ত পরিবার সরকারের সরাসরি আর্থিক ও খাদ্য সহায়তার আওতায় আসবে। বান্দরবান জেলা প্রশাসক শামীম আরা রিনি গত রোববার এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, দেশব্যাপী ১০টি জেলায় শুরু হওয়া এই পাইলট প্রকল্পের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হলো প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং নারীদের অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন। এই কার্ডের মাধ্যমে প্রতিটি পরিবার প্রতি মাসে দুই হাজার ৫০০ টাকা সরাসরি নগদ সহায়তা অথবা সমমূল্যের নিত্যপ্রয়োজনীয় টিসিবি পণ্য পাবেন। স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সহায়তার অর্থ সরাসরি পরিবারের নারী প্রধানের মোবাইল ওয়ালেট বা ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পাঠিয়ে দেওয়া হবে। বিশেষ করে ভূমিহীন, প্রতিবন্ধী, তৃতীয় লিঙ্গ, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী এবং প্রান্তিক কৃষকদের এই তালিকায় অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।
লামা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মঈন উদ্দিন জানিয়েছেন, ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডে জরিপের মাধ্যমে প্রাথমিকভাবে ১ হাজার ২৭৪টি পরিবারের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছিল। তবে চূড়ান্ত যাচাই-বাছাইয়ের সময় ১৩৮টি পরিবারের জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) না থাকায় তাদের বাদ দেওয়া হয়েছে। শেষ পর্যন্ত ১ হাজার ৯৭টি পরিবারকে যোগ্য হিসেবে বিবেচনা করে কেন্দ্রীয় কমিটির কাছে তালিকা পাঠানো হয়েছে এবং উদ্বোধনের দিন তাদের হাতে এই বিশেষ কার্ড তুলে দেওয়া হবে।
বান্দরবান-৩০০ আসনের সংসদ সদস্য সাচিং প্রু জেরী এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, পার্বত্য জেলার ১২টি জাতিগোষ্ঠীর আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে এই কর্মসূচি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে কেবলমাত্র স্বচ্ছতা ও প্রয়োজনের ভিত্তিতে এই তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। এর মাধ্যমে দুর্গম পাহাড়ের দরিদ্র পরিবারগুলো জীবনযাত্রার ব্যয় মেটাতে সক্ষম হবে। ১০ মার্চ থেকে শুরু হতে যাওয়া এই কার্যক্রম পর্যায়ক্রমে জেলার অন্যান্য এলাকাতেও সম্প্রসারিত করা হবে বলে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। সব মিলিয়ে ফ্যামিলি কার্ড চালুর এই সিদ্ধান্ত বান্দরবানের দুর্গম জনপদের মানুষের মুখে হাসি ফোটাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
নাটোরের লালপুর উপজেলার সন্তোষপুর গ্রামের মুর্শিদা খাতুনের জীবনে একসময় নেমে এসেছিল অনিশ্চয়তা আর অভাবের দিন। স্বামী নুরুল ইসলাম তখন বেকার। সংসার চালানোর দায় এসে পড়ে তার কাঁধে। সেলাই মেশিনে দর্জির কাজ করে কোনো রকমে সংসার চলত তার। কিন্তু দমে যাননি তিনি। অদম্য পরিশ্রম আর আত্মবিশ্বাসে ধীরে ধীরে বদলে দিয়েছেন নিজের ভাগ্য। আজ এই মুর্শিদায় এখন গ্রামের নারীদের জন্য অনুপ্রেরণার নাম।
২০১০ সালে উপজেলা যুব উন্নয়ন অফিস থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে মাত্র ১০ হাজার টাকা ঋণ পান মুর্শিদা। সেই টাকা দিয়ে একটি গাভী কিনে শুরু করেন গরু পালন। ছোট সেই উদ্যোগই সময়ের সঙ্গে বড় খামারে রূপ নেয়। বর্তমানে তার নিজস্ব খামার ‘গ্রামীণ এন্ড ডেইরি এগ্রো ফার্ম’ এ রয়েছে প্রায় ২০টি গরু। এসব গরুর বাজারমূল্য প্রায় ১৫ লাখ টাকা। খামার থেকে বছরে প্রায় ৪ লাখ টাকার আয় হচ্ছে বলে জানান তিনি।
সরেজমিনে জানা গেছে, নবম শ্রেণিতে পড়ার সময়ই বিয়ে হয় মুর্শিদার। অল্প বয়সেই সংসারের দায়িত্ব কাঁধে নিতে হয় তাকে। তবে প্রতিকূলতা তাকে থামাতে পারেনি। ধীরে ধীরে গরুর সংখ্যা বাড়িয়ে গড়ে তুলেছেন নিজের স্বপ্নের খামার।
খামারকে কেন্দ্র করে তিনি গড়ে তুলেছেন বহুমুখী উদ্যোগ। গরুর গোবর দিয়ে বায়োগ্যাস তৈরি করে পাশের কয়েকটি বাড়িতে গ্যাস সরবরাহ করছেন। সেই বায়োগ্যাস প্লান্ট থেকে উৎপন্ন জৈব সারও ব্যবহার হচ্ছে কৃষিকাজে। পাশাপাশি বাড়ির পাশের বড় পুকুরে করছেন মাছ চাষ এবং বাড়ির উঠানেই পালন করছেন হাঁস-মুরগি। তার এই উদ্যোগ এখন এলাকায় এক অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে।
গ্রামে এখন মুর্শিদার সাফল্যের গল্প অনেকের মুখে মুখে। তার খামার দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে অনেক নারী গরু পালন শুরু করেছেন। কেউ কেউ তার কাছ থেকেই পরামর্শ নিচ্ছেন।
একই গ্রামের জরিনা বেগমও তেমনই একজন। সংসারে বাড়তি আয়ের আশায় মুর্শিদা খাতুনের পরামর্শ নিয়ে তিনি গরু পালন শুরু করেছেন। জরিনা বেগম বলেন, মুর্শিদা আপার খামার দেখে সাহস পেয়েছি। আগে ভাবতাম গরু পালন করা আমার পক্ষে সম্ভব না, কিন্তু উনার পরামর্শে এখন আমিও শুরু করেছি।
আরেক নারী সমতাও মুর্শিদার অনুপ্রেরণায় গড়ে তুলেছেন নিজের খামার। বর্তমানে তার খামারে রয়েছে ৪টি গরু। সমতা বলেন, ‘মুর্শিদা আপা আমাদের অনেক সহযোগিতা করেন। তার কাছ থেকে পরামর্শ নিয়ে গরু পালন শুরু করেছি। এখন ধীরে ধীরে খামার বড় করার স্বপ্ন দেখছি।
এবিষয়ে মুর্শিদা খাতুন বলেন, যুব উন্নয়ন অফিস থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে ১০ হাজার টাকা ঋণ পাই। সেই টাকায় একটি গাভী কিনেছিলাম। পরে ধীরে ধীরে গরুর সংখ্যা বাড়াতে থাকি। এখন নিজের বহুমুখী খামার আছে, সংসারও ভালোভাবে চলছে।
লালপুর উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা আব্দুস সবুর বলেন, মুর্শিদা খাতুন আমাদের সফল নারী উদ্যোক্তাদের একজন। যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের প্রশিক্ষণ ও ক্ষুদ্র ঋণকে কাজে লাগিয়ে তিনি নিজের জীবন বদলে দিয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, গ্রামের অনেক নারী এখন মুর্শিদার পথ অনুসরণ করছেন। তার সাফল্য প্রমাণ করে, সুযোগ ও প্রশিক্ষণ পেলে নারীরাও অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হতে পারে। আন্তর্জাতিক নারী দিবসের প্রেক্ষাপটে মুর্শিদা খাতুনের এই সাফল্যের গল্প গ্রামীণ নারীদের জন্য হয়ে উঠেছে অনুপ্রেরণার প্রতীক।
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে বসতবাড়ি ও ফসলি জমি ঘেঁষে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে বালু উত্তোলনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। আর অবৈধভাবে এই বালু উত্তোলনে নেতৃত্ব দিচ্ছেন মো. শাকোয়াত আলী নামের এক বালু ব্যবসায়ী।
এ ঘটনায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন মো. সিদ্দিকুর রহমান ফুল মিয়া (৪৭) নামের এক ভুক্তভোগী। এতে কোনো প্রতিকার পাননি তিনি। উল্টো এখন হুমকিতে আছে তার পরিবার।
সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, উপজেলার হরিপুর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের (চর চরিতা বাড়ি) গুচ্ছগ্রাম থেকে আনুমানিক ১ হাজার ৫ শত গজ পশ্চিমে তিস্তার শাখা নদীতে বসানো হয়েছে ড্রেজার মেশিন।
গণমাধ্যমকর্মীদের উপস্থিতি টের পেয়ে মেশিন বন্ধ করে সরে যান লোকজন। বালু উত্তোলনের জায়গার চারপাশ ভেঙে যাচ্ছে। আশপাশে বসতবাড়ি এবং ভুট্টা, বাদামসহ বিভিন্ন ফসলি জমি দেখা গেছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রায় ১ মাস ধরে সেখান থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। বালু উত্তোলনের কারণে ফসলি জমি ভেঙে যাচ্ছে নদীতে। হুমকির মুখে পড়েছে বসতবাড়ি এবং ভুট্টা, বাদামসহ বিভিন্ন ফসলি জমি। এ ঘটনায় কেউ কথা বলতে রাজি হননি বালু ব্যবসায়ীদের ভয়ে।
জানতে চাইলে মো. সিদ্দিকুর রহমান ফুল মিয়া বলেন, ‘অভিযোগ দিয়েছি। এখন পর্যন্ত কোনো পদক্ষেপ নিতে দেখিনি কাউকে। উল্টো অভিযোগ করার কারণে বালু ব্যবসায়ীরা আমাকে হুমকি দিচ্ছেন। তারা বলছেন, জমি তো দূরের কথা, ঈদে বাড়ি আসলে আমার অবস্থা নাকি খারাপ করে দেবেন। এছাড়া নানা ভয়ভীতি দেখাচ্ছেন। এখন দেখছি বসতবাড়ি ও ফসলি জমির পাশাপাশি আমার জীবনটাও হুমকির মুখে।
এ বিষয়ে কথা বলতে ধুপনী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ মো. সেলিম রেজার সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে সাড়া না দেওয়ায় তার বক্তব্য জানা যায়নি।
সুন্দরগঞ্জ থানার ওসি মো. তাজুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি এমপি মহোদয় আমাকে জানিয়েছেন। এ নিয়ে ইউএনও স্যারের সঙ্গে কথা হয়েছে। এত দিনে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা। অভিযোগের কপিটা দেন বিষয়টি আমরা দেখছি।
ইউএনও ঈফফাত জাহান তুলি বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থলে যাওয়ার পরে বালু উত্তোলন বন্ধ হওয়ার কথা। সেখানে আরও বেড়েছে, এটা হওয়ার কথা নয়। বাদীকে হুমকির বিষয়ে ইউএনও বলেন, বাদীকে থানায় অভিযোগ দিতে বলেন। আমি ওসিকে বলে দিচ্ছি।
সমাধিতে শ্রদ্ধাঞ্জলী, গীতাপাঠ, স্মরণ সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, শিশুদের চিত্রাঙ্কণ প্রতিযোগিতা, আলোকসজ্জাসহ নানা আয়োজনে চিত্রশিল্পী সমীর মজুমদারের জন্মবার্ষিকী পালন করা হয়েছে। দুইটি পর্বে অনুষ্ঠানটি সাজানো হয়। রোববার (৮ মার্চ) সকালে প্রথম পর্ব ছিল নিজ বাড়ির আঙ্গিনার সমাধি চত্বরে। দ্বিতীয় পর্ব ছিল জেলা শিল্পকলা অ্যাকাডেমির হল রুমে। চিত্রশিল্পী সমীর মজুমদার স্মৃতি ও শিল্পচর্চ্চা পরিষদ এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
১৯৬৯ সালের ৬ মার্চ তিনি নড়াইল সদর উপজেলার আউড়িয়া ইউনিয়নের পঙ্কবিলা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। বাবা সুবোধ মজুমদার মাতা বিদ্যুৎ রানী মজুমদারের ঘর আলো করে আসা এই মানুষটি ছিলেন বিশ্বখ্যাত চিত্রশিল্পী এস,এম সুলতানের একনিষ্ঠ শিষ্য। তিনি ২০২৫ সালে ৩১ মে রাজধানীর একটি হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন।
বাল্য-শৈশব-কৈশোর কেটেছে বরেণ্য চিত্রশিল্পী এস.এম সুলতানের সান্নিধ্যে থেকে। চিত্রকলা বিদ্যা অর্জনসহ গুরুর বিভিন্ন কর্মকান্ডের আমৃত্যু সঙ্গী ছিলেন তিনি।
মৃত্যুর আগে তিনি তার নিজ বাড়ীতে ব্যতিক্রমী শিশুস্বর্গ প্রতিষ্ঠা করেন।
পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন জামদানি কারিগর ও শিল্পীরা শাড়ি তৈরি কাজে। উপজেলার বিভিন্ন এলাকার এখন শাড়ি তৈরির কাজ চলছে জামদানি শিল্পীদের ঘরে ঘরে কর্মযজ্ঞ। কেউ কাপড়ে সুতা তোলা, সুতা রং করা আবার কেউ শাড়ি বুনন ও নকশার কাজে সময় কাটছে। ঈদ ছাড়াও জামদানির কদর অন্যান্য কাপড়ের তুলনায় বেশি। ঈদ কাছাকাছি আসায় বেশি আয়ের আশায় বিভিন্ন জামদানি শিল্পীরা কেউ সুতা কাটছে, কেউ ব্যস্ত হাতে তাঁত টানছে, সুতা ভরছে, কেউবা সহযোগিতা করছে অন্যজনকে। নানা ডিজাইনের জামদানি শাড়ি তৈরি হচ্ছে। বাজারে এ শাড়ি ঢাকাই জামদানি নামে পরিচিত।
জানা যায়, সোনারগাঁয়ে প্রায় ৪টি ইউনিয়নের প্রায় চার সহস্রাধিক জামদানি তাঁত রয়েছে। এর মধ্যে মালিপাড়া, সাদিপুর, বাহ্মণবাওগাঁ, খেজুরতলা, তিলাব, বস্তল, কলতাপাড়া, কাহেনা, গনকবাড়ি, ওটমা, রাউৎগাঁও, নয়াপুর, কাজিপাড়া, চৌরাপাড়া, মুছারচর, শেকেরহাট, বাসাবো, উত্তর কাজিপাড়া, চেঙ্গাইন, খালপাড় চেঙ্গাইন, ভারগাঁও, কান্ধাপাড়া, ফিরিপাড়া, গণকবাড়ি, বাইশটেকি, আদমপুর, বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশনের কারুপল্লী এলাকায় উল্লেখযোগ্য। এখন ঈদকে সামনে রেখে এসব গ্রামের তাঁতি পরিবাররা সবাই জামদানি তৈরিতে ব্যস্ত। একটু ফিরে তাকানোর যেন সময় নেই তাঁতিদের। এখানকার জামদানি তাঁতিদের অধিকাংশ শিশু থেকে মধ্য বয়স্ক। তবে কম বয়সি তাঁতিরাই জামদানি শিল্পের সাথে বেশি জড়িত। জামদানিশিল্পীদের মধ্যে অর্ধেকের বেশি রয়েছে নারী। এ নারীদের হাতের নিখুঁত শৈল্পিকতায় তৈরি হয় জামদানি।
বাংলাদেশ বিশ্বে জামদানিশিল্পের একমাত্র দেশ হিসেবে ব্যাপক পরিচিতি। তবে জামদানিশিল্পের সোনালি দিন এখন আর নেই। সম্ভাবনা যতটুকু আছে তাও যেন হয়ে আসছে সংকুচিত। তবুও দিন দিন এ শিল্পে ধস নামতে শুরু করেছে। জামদানি উৎপাদনকারী শিল্পীরা হতাশাগ্রস্ত। তারা দাম পাচ্ছে না। জামদানিশিল্পীদের লাভের গুড় এখন খাচ্ছে পিঁপড়ায়। অধিকাংশ তাঁতিই মহাজনদের কাছে দেনার দায়ে বাধা। মহাজনদের দাদন গুণছে, পাচ্ছে শুধু মজুরি। সরাসরি তারা শাড়ি বাজারে নামাতে পারছে না। তাঁতিরা মহাজনদের কাছ থেকে সুতা নিয়ে যায়, তাদের দেওয়া নকশা অনুযায়ী শাড়ি তৈরি করে আনে। শাড়ি প্রতি মজুরি হিসেবে সপ্তাহের পর সপ্তাহ ধরে হাড়ভাঙা খাটুনির পর মজুরি পায় কম। ফলে শিল্পীরা উৎসাহ হারিয়ে ফেলেছে জামদানি তৈরিতে।
সূত্র জানায়, জামদানিই হচ্ছে বাংলার হারিয়ে যাওয়া মসলিনের বিকল্প প্রতিরূপ। অতীতের মসলিনের মতই, আজকের জামদানি শাড়ির শিল্প সৌন্দর্যের খ্যাতি বিশ্বজোড়া। কেবল দেশের বাজারেই নয় বিশ্ব বাজারেও জামদানির ব্যাপক চাহিদা গড়ে উঠেছে।
এদিকে আসন্ন ঈদকে সামনে রেখে সোনারগাঁয়ে বিভিন্ন এলাকায় জামদানিশিল্পী ও কারিগরদের বাড়িতে গেলে দেখা মেলে জামদানি তৈরির কাজের গতি। তারা এখন সবাই ব্যস্ত। কারিগরদের আয়ও বেড়েছে। ঈদকে সামনে রেখে জামদানি শাড়ির চাহিদা বেড়ে গেছে আগের তুলনায় অনেক বেশি। এ কারণে কারিগরদের রাতদিন কাজ করতে হচ্ছে। এসব শাড়ি বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ও ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অভিজাত দোকানে সরবরাহ করা হচ্ছে। কেউ সরাসরি কাপড় উৎপাদন করে, কেউ তাঁতি, কেউ সুতা বিক্রেতা, আবার কেউ কাপড় রপ্তানির কাজে জড়িত। তাঁতিরা সবাই যে যার কাজে ব্যস্ত। ঈদ উপলক্ষে বিপুল পরিমাণ বিক্রির লক্ষ্য নিয়ে পুরুষের পাশাপাশি নারীরাও শাড়ি বুনার কাজ করছেন।
জামদানি কারখানার মালিকরা জানান, আগে জামদানিশিল্পীরা শুধু শাড়ি তৈরিতেই সীমাবদ্ধ ছিলেন। তবে বর্তমানে জামদানিশিল্পে এসেছে নতুনত্ব। বর্তমানে শাড়ি তৈরির পাশাপাশি থ্রি-পিস, ওড়না, পাঞ্জাবি, পর্দার কাপড়ও তৈরি হচ্ছে। ঈদকে সামনে রেখে জামদানি শাড়ির চাহিদা বেড়ে গেছে আগের তুলনায় অনেক বেশি। এ ছাড়া ক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ী এবার আরও উন্নত এবং নতুন নতুন ডিজাইনের শাড়ি তৈরি করছেন এখানকার কারিগররা।
জামপুর ইউনিয়নের মালিপাড়া এলাকার জামদানি কারখানার মালিক শুক্কুর আলী জানান, নানা প্রতিকুলতার মাঝেও তাঁতিরা জামদানি উৎপাদন বন্ধ করেনি। তারা বিভিন্ন ডিজাইনের জামদানির ইঞ্চি পাইড়ে, করলা পাইড়, চালতা পাইড়, ইন্দুরা পাইড়, কচু পাইড়, বেলপাতা, কলকা, দুবলাডং এ ডিজাইনের জামদানি তৈরি করছে। এসব ডিজিইন বিভিন্ন দামে বিক্রি করে থাকে। তারা জানিয়েছেন এখানে ১,৮০০ টাকার নিচে কোনো জামদানি শাড়ি তৈরি হয় না। সর্বোচ্চ ৪৫ হাজার টাকা দামের শাড়িও এখানে তৈরি হয়। তবে এখন এ দামে অর্ডার পাওয়া যায় না। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে জামদানিশিল্প দেশের রপ্তানি খাতে বিশেষ অবদান রাখতে পারতেন।
বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশনের কারুপল্লীতে জামদানি কারিগর আবু তাহের বলেন, ‘এখন আর জামদানি কারিগররা ভালো নেই। সমস্যা জামদানি কারিগরগো। আমাগো যেই যেই সমস্যা আছে, সেই সমস্যাগুলাইন দূর কইরা সরকার সহযোগিতা করলে জামদানিশিল্প বাঁইচ্যা থাকব।’
জামদানি তাঁত মালিক ওয়াহিদুর রহমান বলেন, ‘পুঁজির অভাবে চাহিদা অনুযায়ী শাড়ি তৈরি করতে পারছে না। তবে পাইকারি ব্যবসায়ী ও ব্যক্তিগতভাবে সৌখিন ক্রেতাদের অর্ডার পাওয়ায় কারণে ব্যবসা টিকে রাখতে পারছেন। এ শিল্পের প্রসারের জন্য স্বল্প সুদে ঋণ প্রয়োজন।’
জামদানি কারিগর সুইটি ও আসাদুল ইসলাম জানান, একটি শাড়ি তৈরিতে এক সপ্তাহ থেকে দুই তিন মাস পর্যন্ত সময় লেগে যায়। সময় আর কাজের ওপর দাম নির্ভর করে। এ বস্ত্রের জমিন একাধিক রঙের হয়ে থাকে। জামদানি তাঁতিদের কোনো প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা নেই। তাদের রয়েছে বংশানুক্রমিক হাতে-কলমে অর্জিত জ্ঞান। এ শাড়ি যে কেউ তৈরি করতে পারে না। ভারতসহ পার্শ্ববর্তী দু-একটি দেশ বহুবার চেষ্টার পরও এ শিল্প রপ্ত করতে পরেনি। দিন দিন জামদানি শিল্পীদের সংখ্যা কমে যাচ্ছে। যারা মাথার ঘাম পায়ে ফেলে শাড়িগুলো তৈরি করে তাদের নিজের শরীরে কখনো জড়াতে পারে না এ জামদানি। আমরা স্বপ্ন দেখি একদিন এ শিল্প একদিন সমৃদ্ধ হবে।
সোনারগাঁ জামদানি তাঁতি সমিতির সভাপতি মো. সালাউদ্দিন বলেন, ‘বর্তমানে জামদানিশিল্পীদের খারাপ সময় যাচ্ছে। ভারতে জামদানি শাড়ি রপ্তানি করতাম। রাজনৈতিক কারণে বর্তমানের সম্ভব হচ্ছে না। জামদানিশিল্পে লাভের গুড় পিঁপড়ায় খাচ্ছে। সহজ-সরল নারী, অসচ্ছল ও নিরীহ প্রকৃত জামদানি তাঁতিদের আর্থিক দুর্বলতার সুযোগকে ষোল আনাই কাজে লাগাচ্ছেন এক শ্রেণির দাদন ব্যবসায়ী মহাজনরা। এ শিল্পকে সরকার ইইএফ ফান্ডের আওতায় আনতে পারলে দাদন ব্যবসায়ীদের দৌরাত্ম্য থাকবে না। সরকার জামদানিশিল্পে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা দিলে এ শিল্পটিকে বাঁচানো সম্ভব।’
সোনারগাঁ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসিফ আল জিনাত জানান, জামদানি সোনারগাঁয়ের ঐতিহ্য। মসলিনের পরেই তার অবস্থান। ঐতিহ্যবাহী জামদানিশিল্পকে টিকিয়ে রাখতে সহজ শর্তে ব্যাংক ঋণের ব্যবস্থা করার চেষ্টা করা হবে।