এমন নয় যে, অতীতে সিলেটে ভারী বৃষ্টিপাত হয়নি, মাঠ-ঘাট পানিতে ভরে যায়নি। তবে আগে বৃষ্টি হলেও পানি নেমে যেত দ্রুত, ফলে শহরে প্লাবন হতো না। আগের তুলনায় এখন শহরে বিশাল বিশাল দালান অট্টালিকা তৈরি হচ্ছে, গত ১৪ বছরে শহরে বন্যা ও জলাবদ্ধতা নিরসন এবং ড্রেনেজ ব্যবস্থা সংস্কারের নামে প্রায় ১১শ কোটি টাকা খরচ হয়েছে। কিন্তু সিলেটবাসী গত কয়েক বছরের মতো কখনও পাহাড়ি ঢল, কখনও ভারী বৃষ্টিতেই ডুবে যাচ্ছে। এ বছরও ডুবেছে। ক্ষোভ প্রকাশ করে কথাগুলো বলেন স্থানীয় বাসিন্দা আরমান হোসেন।
তার ক্ষোভের কারণ, সিলেট শহরজুড়ে গত ১৪ বছর ধরে ড্রেনেজ ব্যবস্থা সংস্কারের কাজ চলছে। বিপুল অর্থব্যয়ের পরও সেই পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থা কাজে লাগছে না। ভারী বৃষ্টি হলেই ডুবে যাচ্ছে এ শহর।
সিলেটে এ বছরের জলাবদ্ধতার চিত্র হচ্ছে, আগের সপ্তাহে ঘূর্ণিঝড় রেমাল আঘাত হানার পর এটি স্থল নিম্নচাপ হয়ে সিলেট এলাকার ওপর দিয়ে বাংলাদেশ অতিক্রম করে ভারতের আসাম চলে যায়, তখন পুরো সিলেট অঞ্চল ও আসামজুড়ে ব্যাপক বৃষ্টিপাত হয়। আসাম থেকে অপেক্ষাকৃত নিচু সিলেট ও আশপাশের জেলাগুলোতে সেই ঢলের পানি নেমে আসে। ফলে সিলেট, মৌলভীবাজার, সুনামগঞ্জের হাওর ও অন্য নিচু এলাকাগুলো তলিয়ে যায়। সেই পানি পড়ে সরে আসে আরও উজানে সিলেট শহরে। প্লাবিত হয় সিলেট শহর। তবে এই জলাবদ্ধতা কাটার আগেই গত রোববার থেকে সোমবার পর্যন্ত টানা ২৪ ঘণ্টার ভারী বৃষ্টিতে পুরোপুরি ডুবে যায় সিলেট মহানগর। বৃষ্টিতে তলিয়ে যায় নগরের শতাধিক এলাকা। পানি ঢুকে পড়ে বাসাবাড়ি ও দোকানপাটে। এমনকি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স কার্যালয়সহ অনেক গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায়ও পানি ঢুকে পড়ে।
সিলেট সিটি করপোরেশন সূত্রে জানা যায়, জলাবদ্ধতা নিরসনে গত ১৪ বছরে ১ হাজার ৭৮ কোটি টাকার কাজ করেছে সিটি করপোরেশন। এর বাইরে চলতি বছর তিনটি ড্রেন নির্মাণে খরচ হয় সাড়ে ৫ কোটি টাকা। পাশাপাশি আরও ৫৫ কোটি টাকার কাজ চলছে। সম্প্রতি ৩০০ কোটি টাকার আরও কয়েকটি প্রকল্প অনুমোদন হয়।
এ ছাড়া পানি উন্নয়ন বোর্ড সুরমা নদীর নগর অংশ খননে গত দেড় বছরে খরচ করছে ৫৫ কোটি টাকা।
এত টাকা ব্যয় করার পরও কেন ভারী বৃষ্টি হলেই তলিয়ে যাচ্ছে সিলেট নগর- এমন প্রশ্ন উঠেছে। প্রকল্পগুলোর স্বচ্ছতা আর পরিকল্পনা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
পরিবেশবাদী সংগঠন ভূমিসন্তান বাংলাদেশের প্রধান সমন্বয়ক আশরাফুল কবির এ জন্য দায়ী করছেন অপরিকল্পিত উন্নয়নকে। তিনি বলেন, জলাবদ্ধতা নিরসনে ব্যাপক কাজ করা হয়েছে। বছরের পর বছর নগরজুড়ে খোঁড়াখুঁড়ি করা হয়েছে। কিন্তু এসব হয়েছে অপরিকল্পিতভাবে। নগরের ছড়া খাল ও দিঘি ভরাট করে ফেলা হয়েছে। বড় বড় ড্রেন নির্মাণ করা হয়েছে। কিন্তু বৃষ্টির পানি সড়ক থেকে ড্রেনে নামার মতো যথেষ্ট জায়গা নেই। পানি নামার জন্য ড্রেনে কিছু গর্ত রাখা হলেও তা ময়লা-আবর্জনায় ভরাট হয়ে গেছে। এ কারণে বৃষ্টির পানি দ্রুত নামতে পারছে না।
সিলেট সিটি করপোরেশন বলছে, সুরমা নদী পানিতে ভরাট হয়ে যাওয়ায় নগরের বৃষ্টির পানি নামতে পারেনি। এ কারণে জলমগ্ন হয়ে পড়ে নগরী।
তবে তা মানতে নারাজ নগরের বাসিন্দারা। নগরের শিবগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা রিপন চৌধুরী বলেন, রোববার ও সোমবার সিলেটে যে পানি হয়েছে এটা বন্যা নয়, এটা জলাবদ্ধতা।
তিনি বলেন, নদী ভরাট হওয়ার কারণে পানি জমলে সকালের পানি দুপুরে কমে যায় কী করে। এই নদী দিয়েই তো পানি নেমেছে। আসলে ড্রেন ভরাট হয়ে যাওয়া, সড়কের পানি নামার রাস্তা না থাকার কারণে এমন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
সিলেট নগর ঘুরে দেখা যায়, নগরের উপশহর, তেরররন, যতরপুর, মেন্দিবাগ, জামতলা, তালতলা, শেখঘাট, কলাপাড়া মজুমদার পাড়া লালদীঘির পাড়, সোবহানী ঘাট, মির্জাজাঙ্গাল, কদমতলী, কালিঘাট, শেখঘাটসহ অনেক এলাকা পানির নিচে তলিয়ে গেছে। তবে মঙ্গলবার বেশিরভাগ এলাকা থেকে পানি নেমে যায়। যদিও উপশহর, তেররতন, তালতলাসহ কিছু এলাকায় এখনো পানি রয়েছে।
সিলেট সিটি করপোরেশন (সিসিক) সূত্রে জানা গেছে, সিলেট নগরে ছোট-বড় মিলিয়ে ১১টি ছড়া প্রবাহমান। এসব ছড়ার ১৬টি শাখা ছড়াও আছে। এসব ছড়া-খাল সুরমা নদীতে গিয়ে মিশেছে। ছড়া-খালগুলোর দৈর্ঘ্য প্রায় ১১০ কিলোমিটার। এর বাইরে নালা-নর্দমা আছে ৯৭০ কিলোমিটার। নালা-নর্দমায় প্রায় সাড়ে ৬শ কিলোমিটার পাকা ড্রেন আছে।
সিটি করপোরেশনের প্রকৌশল শাখা জানিয়েছে, ২০০৯ সালের পর থেকে ২০২৩ পর্যন্ত ছড়া খনন, ছড়ার পাড়ে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে রিটেনিং ওয়াল নির্মাণ, ইউটাইপ ড্রেন ও ওয়াকওয়ে নির্মাণ, নালা-নর্দমা প্রশস্তকরণসহ জলাবদ্ধতা নিরসন-সংক্রান্ত বিভিন্ন প্রকল্পে ১ হাজার ৭৮ কোটি টাকা ব্যয় করেছে সিটি করপোরেশন। চলতি বছর একই খাতে সাড়ে ৫ কোটি টাকা খরচ হয়েছে। এ ছাড়া বিভিন্ন ওয়ার্ডে আরও প্রায় ৫৫ কোটি টাকার কাজ চলছে।
এর বাইরে নগরে নতুনভাবে অন্তর্ভুক্ত ১৫টি ওয়ার্ডে জলাবদ্ধতা নিরসনে ৩০০ কোটি টাকার কয়েকটি প্রকল্প সম্প্রতি অনুমোদন হয়। টাকা বরাদ্দ পেলেই এ কাজ দ্রুততার সঙ্গে শুরু হবে।
এসব প্রকল্পের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে সুশাসনের জন্য নাগরিক-সুজন সিলেটের সভাপতি ফারুক মাহুমদ চৌধুরী বলেন, সঠিকভাবে প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে নগরবাসীকে এই দুর্ভোগ পোহাতে হতো। সরকার বরাদ্দ দিলেও প্রকল্প বাস্তবায়ন যথাযথভাবে হয়নি। এসব টাকায় কী কী কাজ হয়েছে তা নগরবাসীর কাছে প্রকাশ করা দরকার।
তবে বাস্তবায়িত প্রকল্পের অনেক সুফল মিলছে দাবি করে সিসিকের প্রধান প্রকৌশলী নূর আজিজুর রহমান বলেন, এখন আর আগের মতো জলাবদ্ধতা হয় না। তাছাড়া পানি জমলেও বৃষ্টি থামলে তা দ্রুত নেমে যায়।
রবি ও সোমবারের জলাবদ্ধতাকে ব্যতিক্রম উল্লেখ করে তিনি বলেন, এটি হয়েছে বন্যা ও অতিবৃষ্টির কারণে। বন্যায় সবগুলো ড্রেন ও ছড়া আবর্জনায় ভরাট হয়ে গেছে। নদীও পানিতে টুইটুম্বুর। তাই বৃষ্টির পানি জমে গেছে। আমরা ড্রেন ও ছড়া পরিচ্ছন্নতার কাজ শুরু করেছি। এক্ষেত্রে নগরব্সাীকেও সচেতন হতে হবে। ময়লা-আবর্জনা যেখানে-সেখানে না ফেলে নির্দিষ্ট স্থানে ফেলতে হবে, ড্রেনে কিছুতেই ময়লা-আবর্জনা ফেলা যাবে না।
তিনি আরও বলেন, জলাবদ্ধতা থেকে পুরোপুরি মুক্তি পেতে সুরমা নদী খনন ও শহররক্ষা বাঁধ নির্মাণ করা জরুরি। এ নিয়ে সিটি করপোরেশন কাজ করছে।
নীলফামারীর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামান বর্তমানে জেলার সাধারণ মানুষের কাছে এক অনন্য ও জনবান্ধব প্রশাসক হিসেবে ব্যাপক পরিচিতি ও জনপ্রিয়তা লাভ করেছেন। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই তিনি প্রথাগত আমলাতান্ত্রিক আচরণের বাইরে গিয়ে মাঠ পর্যায়ের কাজে সরাসরি অংশগ্রহণ করে জনআস্থার এক নতুন দৃষ্টান্ত তৈরি করেছেন। বিশেষ করে দরিদ্র ও অসহায় মানুষের দুঃখ-কষ্ট লাঘবে তাঁর সক্রিয় ভূমিকা এবং দ্রুত সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ জেলাজুড়ে প্রশংসিত হচ্ছে। তিনি কেবল দাপ্তরিক কাজে সীমাবদ্ধ না থেকে সরাসরি সাধারণ মানুষের দ্বারে দ্বারে পৌঁছে যাচ্ছেন, যা স্থানীয় প্রশাসনের প্রতি জনগণের বিশ্বাসকে আরও সুসংহত করেছে।
সাম্প্রতিক সময়ে তীব্র শীতের প্রকোপ বাড়লে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামান জেলার বিভিন্ন স্পর্শকাতর এলাকা যেমন—নীলফামারী ও সৈয়দপুর রেলওয়ে স্টেশন, রাস্তার ফুটপাত, বাস টার্মিনাল এবং প্রত্যন্ত তিস্তার চরাঞ্চলে শীতার্ত মানুষের মাঝে নিজ হাতে কম্বল বিতরণ করেছেন। মানবিক এই কার্যক্রমের পাশাপাশি তিনি নিয়মিত বিভিন্ন হাসপাতাল ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আকস্মিক পরিদর্শন করছেন এবং রাস্তাঘাটের উন্নয়নমূলক কাজের অগ্রগতি সরাসরি তদারকি করছেন। কোনো জরুরি অভিযোগ পাওয়া মাত্রই তিনি তাৎক্ষণিক নিষ্পত্তির ব্যবস্থা গ্রহণ করছেন, যা সাধারণ মানুষের হৃদয়ে তাঁর জন্য একটি বিশেষ জায়গা তৈরি করে দিয়েছে। স্থানীয়দের মতে, প্রশাসনের উচ্চপদে থেকেও মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামান যেভাবে সাধারণ মানুষের সাথে সরাসরি কথা বলেন এবং সমস্যা শুনে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন, তা অত্যন্ত বিরল।
শহরের একজন বয়স্ক নাগরিক তসলিম উদ্দিন বাবু জেলা প্রশাসকের এই কর্মতৎপরতায় সন্তোষ প্রকাশ করে জানিয়েছেন যে, বর্তমান জেলা প্রশাসক কেবল এসিবলয়িত অফিসে বসে থাকেন না, বরং তিনি সাধারণ মানুষের কাতারে এসে তাঁদের সুখ-দুঃখের ভাগীদার হন। বিভিন্ন সামাজিক উদ্যোগ, শিক্ষা সহায়তা এবং দুস্থ পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর মতো মানবিক কার্যক্রমে তাঁর সরব উপস্থিতি পুরো জেলার মানুষকে অনুপ্রাণিত করছে। প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি এমন অনন্য মানবিকতা প্রদর্শনের জন্য তিনি জেলাবাসীর কাছে ‘জনবান্ধব প্রশাসক’ উপাধিতে ভূষিত হয়েছেন। জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামান তাঁর কাজের দর্শন সম্পর্কে জানিয়েছেন যে, তিনি নিজেকে প্রশাসক হিসেবে নয় বরং মানুষের সেবক হিসেবেই দেখতে পছন্দ করেন এবং নীলফামারীর প্রতিটি মানুষের উন্নয়ন ও সমস্যা সমাধানই তাঁর দাপ্তরিক কাজের প্রধান অগ্রাধিকার। সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা, প্রশাসনের এই মানবিক ও সেবামূলক ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে নীলফামারী জেলা সারা দেশের জন্য একটি মডেল হিসেবে পরিচিতি পাবে।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার গায়েবানা জানাজা আজ বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) বগুড়ায় যথাযোগ্য মর্যাদা ও গভীর শ্রদ্ধার সাথে পালিত হয়েছে। বিকেলে ঢাকার মানিক মিয়া এভিনিউতে মূল জানাজা সম্পন্ন হওয়ার পরপরই বগুড়া শহরের ঐতিহাসিক আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠে এই গায়েবানা জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।
কোনো পূর্ব আনুষ্ঠানিক প্রচারণা ছাড়াই প্রিয় নেত্রীর শেষ বিদায়ে শামিল হতে বগুড়ার সর্বস্তরের মানুষ আলতাফুন্নেছা মাঠে ভিড় জমান। জানাজায় উপস্থিত হাজারো মানুষ গগনবিদারী স্লোগান আর কান্নায় ভেঙে পড়েন। মাঠ সংলগ্ন বাইতুল হাফিজ জামে মসজিদের ইমাম হাফেজ মাওলানা মো. আব্দুল আজিজ এই জানাজায় ইমামতি করেন, যেখানে হাজার হাজার মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে।
রাষ্ট্রীয় শোকের প্রতি সংহতি জানিয়ে এবং প্রিয় নেত্রীর প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) সকাল থেকেই বগুড়া শহর ছিল কার্যত অচল। শহরের প্রাণকেন্দ্র সাতমাথা থেকে শুরু করে বড়গোলা, নিউ মার্কেট ও রানার প্লাজা হকার্স মার্কেট এলাকা ঘুরে দেখা গেছে সম্পূর্ণ জনশূন্য চিত্র। ছোট-বড় দোকানপাট থেকে শুরু করে জেলা শহরের সমস্ত শপিং মল ও বিপণী বিতানগুলো ব্যবসায়ীরা নিজ উদ্যোগে বন্ধ রেখেছেন।
জানাজা শেষে বগুড়া জেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দ ও সাধারণ মানুষ বেগম খালেদা জিয়ার আত্মার মাগফেরাত কামনা করে মোনাজাত করেন। প্রিয় নেত্রীকে হারানোর শোক এখন বগুড়ার প্রতিটি ঘরে ঘরে বিরাজমান।
বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে শোকাহত গোটা দেশ। সেই শোকের ছায়া পড়েছে কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফের রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরগুলোতেও। বিশেষ করে ২০১৭ সালের ভয়াবহ রোহিঙ্গা সংকটের সময় তার মানবিক ভূমিকা ও ক্যাম্প সফরের স্মৃতি নতুন করে আবেগে ভাসাচ্ছে হাজারো আশ্রিত রোহিঙ্গাকে। বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) উখিয়া ও টেকনাফের বিভিন্ন রোহিঙ্গা ক্যাম্পের মসজিদে জোহরের নামাজের পর বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়। একাধিক ক্যাম্পে রোহিঙ্গা নেতাদের উদ্যোগে পৃথক দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়।
রোহিঙ্গা নেতারা জানান, চরম দুর্দিনে যখন বিশ্ব বিবেক অনেকটাই নীরব ছিল, তখন একজন প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেত্রী হিসেবে বেগম খালেদা জিয়া নিজে ক্যাম্পে এসে তাদের দুঃখ-কষ্টের কথা শুনেছিলেন। সেই মানবিক সফর আজও রোহিঙ্গাদের হৃদয়ে অমলিন হয়ে আছে।
উখিয়ার বালুখালী ক্যাম্পের রোহিঙ্গা নেতা নূর মোহাম্মদ বলেন, ‘আমরা তখন জীবন বাঁচিয়ে পালিয়ে এসেছিলাম, কোন আশার আলো ছিল না। সেই সময় বেগম খালেদা জিয়া নিজে আমাদের দেখতে এসেছিলেন। একজন বড় নেত্রী হয়েও আমাদের কষ্টকে নিজের কষ্ট মনে করেছিলেন- এটা আমরা কখনো ভুলব না।’
টেকনাফের লেদা ক্যাম্পের রোহিঙ্গা নেতা ছৈয়দ আলম বলেন, ‘তিনি শুধু ত্রাণ দেননি, তিনি আমাদের মর্যাদা দিয়েছেন। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে আমাদের ন্যায্য অধিকারের কথা তুলে ধরেছিলেন। আজ তার মৃত্যুতে আমরা একজন মানবিক অভিভাবককে হারালাম।’
রোহিঙ্গা নারী নেত্রী আব্বাসী স্মৃতিচারণ করে বলেন, ‘বালুখালী ক্যাম্পে ত্রাণ বিতরণের সময় তিনি মোবারক নামের একটি শিশুকে কোলে নিয়েছিলেন। সেই দৃশ্য আজও আমাদের চোখে ভাসে। একজন মা যেমন সন্তানের কষ্ট বোঝেন, তিনিও তেমনভাবেই আমাদের কষ্ট বুঝেছিলেন।’
রোহিঙ্গা নেতারা স্মরণ করেন, ২০১৭ সালের ৩০ অক্টোবর বেগম খালেদা জিয়া উখিয়া ও টেকনাফের বিভিন্ন রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করেন। সে সময় তিনি রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের ওপর মিয়ানমার সেনাবাহিনীর নির্মম নির্যাতনের তীব্র নিন্দা জানান এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কার্যকর হস্তক্ষেপের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে নিরাপত্তা ও মর্যাদার সঙ্গে রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে প্রত্যাবাসনের দাবি তোলেন।
ওই সফরে রোহিঙ্গাদের জন্য মোট ৪৫ ট্রাক ত্রাণ নিয়ে আসা হয়। এর মধ্যে ছিল ১১০ টন চাল এবং ৫ হাজার শিশু ও ৫ হাজার সন্তানসম্ভবা নারীর জন্য বিশেষ খাবার। খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপির প্রতিনিধি দল সরাসরি ৯ ট্রাক ত্রাণ বিতরণ করে।
রোহিঙ্গা নেতা হাবিবুল্লাহ বলেন, ‘অনেক নেতা আমাদের নিয়ে কথা বলেন, কিন্তু হাতেগোনা কয়েকজন সত্যিই আমাদের পাশে দাঁড়ান। বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন তেমনই একজন। আমরা কৃতজ্ঞ হৃদয়ে তার জন্য দোয়া করছি।’
রোহিঙ্গাদের ভাষায়, বেগম খালেদা জিয়ার মানবিক সফর ও সাহসী অবস্থান শুধু একটি রাজনৈতিক ঘটনা নয়- এটি তাদের জীবনের এক অবিস্মরণীয় মানবিক স্মৃতি। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে তারা এই স্মৃতি বহন করবে। রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর পক্ষ থেকে তার রুহের মাগফিরাত কামনা করে দোয়া করা হয় এবং বলা হয়-আল্লাহ তায়ালা তাকে জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করুন।
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে কাঁচপুর সেতু থেকে মেঘনা সেতুর টোল পর্যন্ত প্রায় ১০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়েছে। মহাসড়কের মদনপুর এলাকায় একটি মালবাহী লরি বিকল হওয়ায় চট্টগ্রামগামী লেনে এ যানজটের সৃষ্টি হয়। গভীর রাতের বিকল হওয়া লরির যানজট বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) বিকেল ৩টা পর্যন্ত সড়কে যানজটের প্রভাব পড়ে। পরবর্তীতে মহাসড়কের চট্টগ্রামমুখী লেনে যানবাহনের ধীরগতি লক্ষ্য করা যায়। যানজট নিরসনে কাঁচপুর ও শিমরাইল হাইওয়ে পুলিশের চেষ্টা চালায়। যানজটের আটকা পড়ে চট্টগ্রামগামী লেনে চলাচলরত বিভিন্ন যানবাহনের যাত্রীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।
জানা যায়, মহাসড়কের মদনপুর এলাকায় গত মঙ্গলবার দিবাগত রাতে মালবাহী একটি লরি বিকল হয়। ওই সময়ে একটি লেনে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। বিকল হওয়া লরিটি বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) বেলা ১১টার দিকে সরিয়ে নেওয়া হলে যান চলাচল শুরু হয়। যান চলাচল শুরু হলেও গতি ছিল ধীর। ফলে এ যানজট বিকেল ৩টা পর্যন্ত গড়ায়।
আসাদুল ইসলাম নামের এক যাত্রী জানান, সিদ্ধিরগঞ্জের শিমরাইল থেকে বেলা সাড়ে ১১টায় কুমিল্লার উদ্দেশ্যে রওনা হয়ে দুপুর ২টার দিকে মদনপুর পর্যন্ত আসতে পেরেছেন। দুই ঘণ্টায় গন্তব্য পৌঁছানোর কথা থাকলেও ৫ ঘণ্টাও মনে হয় পারবেন না।
বাউশিয়া এলাকার কাপড় ব্যবসায়ী আব্দুল আহাদ জানান, ঢাকা থেকে রওনা হয়ে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে কাঁচপুর সেতুর ঢালুতে ছিলেন। দুপুর পর্যন্ত তিনি মদনপুর পৌঁছাতে পারেননি। তা ছাড়া মহাসড়কের রাস্তায় গাড়ির চাপ বেশি ছিল। যানজটে আটকা পড়ে তিনি বিরক্তিকর পরিস্থিতিতে পড়েছেন বলে জানিয়েছেন।
সায়দাবাদ থেকে ছেড়ে আসা হিমালয় পরিবহনের বাস চালক নুরুজ্জামান জানান, গভীর রাতে মহাসড়কে গাড়ি বিকল হওয়ায় যানবাহন চলাচলে বিঘ্ন ঘটে। পুলিশ বিকল হওয়া গাড়িটি সরিয়ে নিতে সময় নেওয়ার কারণে যানজট দীর্ঘ হয়।
কাভার্ড ভ্যানচালক মো. ইয়াসিন মিয়া জানান, রূপগঞ্জের রূপসী থেকে চট্টগ্রাম যাওয়ার উদ্দেশ্যে ছেড়ে এসে দীর্ঘ সময় যানজটে বসে থাকতে হয়েছে। যানজটে আটকে থাকায় নির্দিষ্ট সময়ে গন্তব্যে পৌঁছানো সম্ভব হবে না।
কাঁচপুর হাইওয়ে থানার ওসি আব্দুল কাদির জিলানী জানান, মদনপুর এলাকায় একটি লরি বিকল হয়ে যাওয়ার কারণে এ যানজট সৃষ্টি হয়। মহাসড়ক থেকে লরিটি দীর্ঘ সময়ের পর সরানোর কারণে দীর্ঘ হয় যানজট। লরি বিকলের কারণে অন্যান্য যানবাহন পারাপারের ধীরগতি হচ্ছিল। বেলা ১১টার দিকে লরি সরিয়ে নেওয়ার পর থেকে যান চলাচলে ধীরগতি হয়।
জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার উপর দিয়ে বহমান যমুনা, ঝিনাই ও সুবর্ণখালী নদীতে অবাদে চলছে বৈদ্যুতিক শক দিয়ে মাছ নিধন। পেশাদার, অপেশাদার জেলে ও নদীর তীরবর্তী বাস করা সাধারণ মানুষরাও সহজে বেশি মাছ শিকারের আশায় এই পদ্ধতি ব্যবহার করে মাছ শিকার করছেন। এতে করে দেশীয় মাছের উৎপাদন কমে যাওয়ার পাশাপাশি হুমকির মুখে পড়েছে নদীর জীববৈচিত্র্য।
একাধিক স্থানের স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, প্রতিদিন এই তিন নদীতে রাতের আঁধারে বৈদ্যুতিক শক দিয়ে মাছ ধরতে আগ্রহী জেলের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। রাত ১১টা থেকে ১টা পর্যন্ত এ পদ্ধতিতে জেলেরা নৌকায় ইজিবাইকে ব্যবহৃত বড় ব্যাটারি নিয়ে নেমে পড়েন নদীতে। নৌকায় থাকা ব্যাটারির সাথে একটি ইনভার্টার (ব্যাটারির বৈদ্যুতিক শক্তি কমবেশি করার যন্ত্র) যুক্ত করা হয়। সেই ইনভার্টার থেকে দুটি তার বের করে একটি পানিতে ফেলে দেওয়া হয় এবং অপর তারটি একটি লোহার রডের সাথে যুক্ত করা হয়। রডের মাথায় রাখা হয় মাছ ধরার জন্য বিশেষভাবে বানানো জালি।
বিদ্যুতায়িত ওই রড ও জালি যখন নদীর পানিতে ফেলা হয় তখন জালির ৫-৭ ফুট দূরত্বের মধ্যে থাকা মাছগুলো কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে ইলেক্ট্রিক শকের কারণে পানির উপরে ভেসে ওঠে। এ সময় ভেসে ওঠা মাছগুলো জালি দিয়ে নৌকায় তোলা হয়।
সাধারণ জেলেদের অভিযোগ, কিছু জেলে বৈদ্যুতিক শক দিয়ে মাছ ধরার কারণে উপজেলার যমুনা, সুবর্ণখালী ও ঝিনাই নদীতে জাল ফেলে আগের মতো মাছ পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে বাধ্য হয়েই অনেক জেলে এই পেশা ছেড়ে দিচ্ছে। আবার কেও কেও ইলেক্ট্রিক শক দিয়ে মাছ ধরছে। তবে বৈদ্যুতিক শকসহ অবৈধ পদ্ধতিতে মাছ শিকারিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানান তারা।
উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা দেবজানী ভৌমিক বলেন, ‘আমরা উপজেলার বিভিন্ন স্থানে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে অভিযান চালিয়েছি। চায়না জাল ও ইলেক্ট্রিক শক দিয়ে মাছ ধরার সরঞ্জাম পুড়িয়ে ফেলা হয়েছে।’
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নওগাঁ জেলা শাখার ২০৬ সদস্যবিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছে। ৬ মাসের জন্য অনুমোদিত কমিটিতে আরমান হোসেনকে আহ্বায়ক ও রাফি রেজওয়ানকে সদস্য সচিব করা হয়েছে। এ ছাড়া সাদনান সাকিবকে মুখ্য সংগঠক ও মেহেদী হাসানকে মুখপাত্র করা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সদ্য মুখ্য সংগঠকের পদ পাওয়া সাদনান সাকিব।
সন্ধ্যায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সভাপতি রিফাত রশিদ, মুখ্য সমন্বয়ক হাসিব আল ইসলাম ও সাংগঠনিক সম্পাদক মুঈনুল ইসলামের যৌথ স্বাক্ষরিত নোটিশে নওগাঁ জেলা শাখার ২০৬ সদস্য বিশিষ্ট এই আহ্বায়ক কমিটির অনুমোদন দেন।
এদিকে আলোচিত মুখ ফজলে রাব্বিকে কমিটির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়কের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। আর যুগ্ম আহ্বায়ক করা হয়েছে ৯ জনকে। সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব ১ জন ও যুগ্ম সদস্য সচিব ১৬ জন, সিনিয়র সংগঠক ১ জন ও সংগঠক ২৩ জন, সিনিয়র সহমুখপাত্র ১ জন ও সহকারী মুখপাত্র ১২ জনকে এবং সদস্যপদে ১৩৮ জনকে রাখা হয়েছে।
প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে মুখ্য সংগঠক সাদনান সাকিব ও আহ্বায়ক আরমান হোসেন বলেন, ‘আমরা খুবই আনন্দিত। কারণ গণঅভ্যুত্থানের পর এই প্রথম নওগাঁ জেলা শাখায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কমিটি দিয়েছে। আর আমরা যারা ছাত্র আন্দোলনে নেতৃত্বে ছিলাম তাদেরসহ অন্যান্য সহযোদ্ধা ভাইদের সাথে আলোচনা করে এই কমিটি গঠন করা হয়েছে। আমরা মনে করি এতে কারও দ্বিমত নেই।’
তারা আরও বলেন, ‘আমাদের এই সংগঠন সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক একটা প্ল্যাটফর্ম। আমরা আগে যেমন অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলেছি, আগামীতেও অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলব। কোনো রাজনৈতিক দলের অন্যায়ের কাছ মাথা নত করব না। সবসময় প্রতিবাদ অব্যাহত থাকবে।’
সাদনান সাকিব ও আরমান হোসেন বলেন, ‘আমাদের মূল উদ্দেশ্য হবে সাধারণ জনগণের হয়ে কথা বলা। অন্যায় ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে কথা বলা। সর্বোপরি একটা সুন্দর নওগাঁ গড়ে তোলা।’
নেত্রকোনায় শহীদ ক্যাডেট একাডেমির পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষা বৃত্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ কৃতি মেধাবী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা ও শুভেচ্ছা ক্লাস অনুষ্ঠিত হয়েছে। শহরের জেলা প্রেসক্লাব অডিটোরিয়ামে নেত্রকোনা শহীদ ক্যাডেট একাডেমির উদ্যোগে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে বৃত্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী মোট ১২২ জন শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন। এর মধ্যে সর্বোচ্চ নম্বর অর্জন করে প্রথম স্থান অধিকার করে শিক্ষার্থী সূর্য দত্ত। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- নেত্রকোনা জেলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল কিবরিয়া চৌধুরী হেলিম।
তিনি তার বক্তব্যে বলেন, শুধু মেধাবী হলেই চলবে না, শৃঙ্খলা ও নৈতিকতার চর্চার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মানবিক ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠতে হবে।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন- নেত্রকোনা শহীদ ক্যাডেট একাডেমির শিক্ষকরা আহসান উল্লাহ, শফিউল আলম খান, জহিরুল ইসলাম, মামুন সিরাজি ও মুক্তাদির, মান্নান। বক্তারা শিক্ষার্থীদের এই সাফল্যে অভিনন্দন জানিয়ে নিয়মিত অধ্যয়ন, শৃঙ্খলা ও নৈতিক শিক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানের শেষপর্বে কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা প্রদান করা হয় এবং তাদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করা হয়।
শারীরিক প্রতিবন্ধিত্ব নিয়ে সমাজের কেউ কেউ ভিক্ষাবৃত্তি কিংবা অনুরূপ পন্থা অবলম্বন করে জীবিকা নির্বাহ করে। তবে অদম্য ইচ্ছা শক্তি দিয়ে শুধু নিজেকে নয়, পরিবারের হাল ধরে স্বচ্ছলভাবে জীবিকা নির্বাহ করছেন শারীরিক প্রতিবন্ধী জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলার মো. আব্দুর রহিম।
একটি দুর্ঘটনার কারণে তার দুই পা সম্পূর্ণ অচল। নেই কোন নিজেদের সম্পত্তি কিন্তু শারীরিক সীমাবদ্ধতা তাকে জীবনের লক্ষ্য থেকে এক মুহূর্তের জন্যও পিছিয়ে দিতে পারেনি। বরং প্রতিদিনের সংগ্রামই তাকে আরও শক্তিশালী করে তুললেও এখন তিনি কিডনি সমস্যায় আক্রান্ত।
উপজেলার সামনে হোচিমিন পাইলট প্রিন্টিং হাউজে বসেই তিনি করে থাকেন ব্যানার, পোস্টার, লোগো, বিজনেস কার্ডসহ বিভিন্ন ডিজাইনের কাজ। আধুনিক সফটওয়্যারে দক্ষতা, সৃজনশীল চিন্তা ও নির্ভুল কাজে তিনি স্থানীয়ভাবে ইতোমধ্যেই পরিচিত একজন গ্রাফিক্স ডিজাইনার। গ্রাহকদের সঙ্গে তার আচরণ, সময়মতো কাজ সরবরাহ এবং কাজের মান সবকিছুর সমন্বয়ে তিনি হয়ে উঠেছেন সবার আস্থার জায়গা।
শরীরের দুই পা নিস্তেজ হলেও মনোবল তার অদম্য। প্রতিদিন ভোরে ঘুম থেকে উঠে শুরু করেন কর্মদিবসের প্রস্তুতি। হুইলচেয়ারের সাহায্যে তিনি চলাফেরা করেন। কর্মস্থলে আসেন সময় মতো কিন্তু বর্তমানে কিডনি সমস্যার থাকার কারণে ঠিকমত কর্মস্থলে আসতে পারছেন না।
প্রতিবেশী ও স্থানীয়রা জানান, আব্দুর রহিমের বাবার কোন সম্পত্তি নেই, দুর্ঘটনায় দুই পা হারিয়েছেন, এখন তার কিডনিতে সমস্যা। সহায়তা পেলে তিনি সুস্থ হয়ে বড় পরিসরে কাজ করতে পারবেন ও অন্যান্য প্রতিবন্ধীদের কর্মসংস্থানেও ভূমিকা রাখতে পারবেন।
জানা যায়, রহিমের বাবা মৃত ঘুতু মন্ডল ২০১২ সালে মারা যাওয়ার পর থেকেই সে সংসারের দায়িত্বভার কাঁধে নেন। নিজের কোন পৈত্রিক সম্পত্তিও নেই। নোটারির মাধ্যমে পাওয়া অন্যের চার শতক জায়গার উপরে তার মা, স্ত্রী, দুই মেয়ে ও এক ছেলে নিয়ে রহিমের বসবাস।
গত ২০০৫-২০১৫ সাল পর্যন্ত উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে কম্পিউটার অপারেটর অস্থায়ীভাবে চাকরি করতেন আব্দুর রহিম। দুই পা অচল হওয়ায় গ্রাফিক্স ডিজাইনের কাজ করলেও বর্তমানে আবার অসুস্থ হয়ে পড়ায় সংসারের চিন্তা নিয়ে তিনি দিন পার করছেন। তার পেছনে প্রতিমাসে ঔষধ ছাড়া ডাক্তার ভিজিট ও রিপোর্ট বাবদ গুনতে হয় ৬ হাজার টাকা।
প্রতিবন্ধী আব্দুর রহিম বলেন, দুই পা অচল হয়ে জীবনযুদ্ধে লড়াই করা আমার জন্য সহজ ছিল না। আমার কর্মস্থলে হোচিমিন ভাই ও পাইলট ভাইয়ের মতো মানুষ আছে। তারা শুধু হামাক বেতনই দেন না বরং নানা সময় নানাভাবে আর্থিক সহায়তা ও মানসিক সমর্থন দিয়ে পাশে দাঁড়িয়েছেন।
দোকানের স্বত্বাধিকারী পাইলট হোসেন বলেন, রহিম শুধু আমার কর্মী নয়, পরিবারের একজন সদস্য। অসুস্থতার মধ্যেও সে দায়িত্ব পালনে চেষ্টা করে। এটা আমাদের সত্যিই মন ছুঁয়ে যায়। আমরা সব সময় তাকে সম্মান করি ও পাশে থাকার চেষ্টা করি। সমাজের বিত্তবান মানুষরা যদি একটু সহযোগিতা করে, রহিমের মতো হাজারো রহিম আরও সাবলীল ভাবে এগিয়ে যেতে পারবে।
আক্কেলপুর উপজেলার সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. সাজেদুর রহমান বলেন, দুই পা অচল হওয়ার পরেও আব্দুর রহিমের জীবন সংগ্রাম সত্যিই প্রশংসনীয়। মানুষ ইচ্ছা ও চেষ্টা করলে কি না করতে পারে তার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত আব্দুর রহিম। বর্তমানে তিনি প্রতিবন্ধী ভাতা পাচ্ছেন।
আজ বুধবারের (৩১ ডিসেম্বর) সূর্যটি পশ্চিমাকাশে ‘ডুবে’ যাওয়ার মধ্য দিয়ে বিদায় হবে ২০২৫ সালের। শুরু হবে নতুন বছরের সূর্যোদয়ের প্রতীক্ষার পালা। ৩১ ডিসেম্বর রাতে ২০২৬ সালকে স্বাগত জানিয়ে পালন করা হবে থার্টিফার্স্ট নাইট।
তবে, বিগত বছর ছয়েকের মতো এবারও থার্টিফার্স্ট নাইট উদযাপন নিয়ে সৈকতের বেলাভূমি বা উন্মুক্ত কোনো স্থানে আয়োজন থাকছে না কক্সবাজারে। কিন্তু পর্যটনের স্বার্থে নিয়ম রক্ষায় তারকা হোটেল ওশান প্যারাডাইজ, বেস্ট ওয়েস্টার্ন হেরিটেজ, গ্রিন নেচার, সায়মন বিচ রিসোর্ট ও কক্স-টু-ডেসহ বেশ কিছু হোটেল নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় ইনডোর প্রোগ্রাম আয়োজন করছে। তবে নিয়মরক্ষায় হোটেলের অতিথি, বিদেশি পর্যটক এবং বিশেষ মেহমান বাদে এসব অনুষ্ঠানে অন্যদের শরিক হওয়ার কোনো উপায় থাকছে না।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোকের কারণে অনেকে অনুষ্ঠান সীমিত করার পরিকল্পনা নিয়েছে।
পর্যটন সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রতি বছর থার্টিফার্স্ট নাইট উদযাপন উপলক্ষে পর্যটন নগরী কক্সবাজার লোকে লোকারণ্য হয়ে ওঠে। বিগত দেড় দশক এমন চিত্রই দিয়েছে সৈকতের বেলাভূমি। এবারও থার্টিফার্স্ট এবং বছরের শেষ সূর্যাস্ত দেখতে কক্সবাজার সৈকত ও আশপাশের পর্যটন এলাকায় অতিথি ও স্থানীয় মিলিয়ে কয়েক লাখ পর্যটক-দর্শনার্থীর সমাগমের আশা পর্যটন সংশ্লিষ্টদের। তবে, কোনো আয়োজন না থাকায় এবারের থার্টিফার্স্ট নাইট বা নতুন বর্ষ বরণকেও ‘প্রাণহীন’ বলে উল্লেখ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
জেলা প্রশাসনের পর্যটন সেলের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আজিম খান জানান, বেশ কয়েকটি হোটেল নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় ইনডোর প্রোগ্রাম করার অনুমতি নিয়েছে।
ট্যুর অপারেটর ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব কক্সবাজার (টুয়াক) এবং কক্সবাজার ট্যুরিস্ট ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মুহাম্মদ রেজাউল করিম বলেন, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার কারণে থার্টিফার্স্ট নাইট উৎসবের আগেই বিজয় দিবস, বড়দিন ও শীতকালীন ছুটিকে উপলক্ষ করে কক্সবাজার পর্যটকে ভরে গেছে। পর্যটকরা সমানতালে প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিন, টেকনাফ, শাহপরীর দ্বীপ, ইনানী, হিমছড়ি, চকরিয়ার ডুলাহাজারা বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্ক, মহেশখালীর আদিনাথসহ পুরো জেলার পর্যটন স্পটে ভিড় জমাচ্ছেন। পর্যটক আকৃষ্ট করতে সাজানো রয়েছে সব স্থান। ইংরেজি নতুন বছরকে স্বাগত জানাতে কয়েক লাখ পর্যটকের মিলন ঘটতে পারে। সৈকত তীরের প্রায় ৫০০ হোটেল-মোটেল-গেস্ট হাউসে আগাম বুকিং আছে। এ ধারাবাহিকতা জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত থাকতে পারে বলে ধারণা সংশ্লিষ্টদের।
তারকা হোটেল ওশ্যান প্যারাডাইসের পরিচালক আবদুল কাদের মিশু বলেন, ‘কক্সবাজারে বিশ্বমানের পর্যটন বিকাশে আমরা শুরু থেকেই বাংলা নববর্ষ, থার্টিফার্স্ট নাইটসহ নানা দিবসকে পর্যটকদের কাছে উপভোগ্য করে তুলি। পর্যটক চাহিদার কারণে এবারও বলরুমে ইনহাউস গেস্টদের জন্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও ডিজে পার্টির আয়োজন থাকছে। নিরাপত্তার কারণে বহিরাগত প্রবেশ নিষিদ্ধ থাকবে। সাবেক প্রধানমন্ত্রীর বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে আয়োজন সীমিত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।’
বেস্ট ওয়েস্টার্ন হেরিটেজের বিপণন ও রিজারভেশন প্রধান শামীম হাসান রনি জানান, অতীতের মতো নিয়ম রক্ষায় তারকা শিল্পীদের নিয়ে অভ্যন্তরীণ অতিথিদের জন্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান থাকছে।
সেন্টমার্টিনের তরুণ ব্যবসায়ী আবদুল মালেক বলেন, ‘থার্টিফার্স্ট নাইট উদযাপনে অতীতে ৭-৮ হাজার পর্যটক দ্বীপে অবস্থান করতেন। তখন নতুন বছরকে বরণ ভালোই জমত। কিন্তু গত দুই বছরের মতো ধরাবাঁধা দুই হাজার পর্যটক আগমন করতে পারে। ফলে, নতুন বছর আমাদের জন্য বাড়তি কোনো বিনোদন আনছে না।’
কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এএনএম সাজেদুর রহমান জানান, থার্টিফার্স্ট নাইট ও বর্ষবরণকে কেন্দ্র করে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে কয়েক স্তরের নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ১০টি স্পটে তল্লাশি পোস্ট, সাতটি বিশেষ টিম, একাধিক মোবাইল ফোর্স নিয়ে বিশেষ নিরাপত্তা কার্যক্রম শুরু হয়েছে। নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিতে ১ জানুয়ারি পর্যন্ত এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
জেলা পুলিশের ফোকাল পয়েন্ট অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অলক বিশ্বাস বলেন, ‘রাষ্ট্রীয় নির্দেশনা অনুযায়ী থার্টিফার্স্ট নাইট উদযাপনে কোনো আতশবাজি, পটকা ফোটানো বা কোনো উন্মুক্ত স্থানে অনুষ্ঠানও করা যাবে না। পাশাপাশি রাত ১২টার পর উচ্চস্বরে মাইক কিংবা সাউন্ড বাজানো নিষেধ। এটা নিশ্চিত করতে পুলিশ তৎপর রয়েছে।’
ট্যুরিস্ট পুলিশ কক্সবাজার রিজিয়ন প্রধান অতিরিক্ত ডিআইজি আপেল মাহমুদ বলেন, ‘পর্যটক নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই আমাদের প্রধান কর্তব্য। অতীত সময়ের মতো বছরের শেষ সময় এবং থার্টিফার্স্ট নাইট উপলক্ষে বিপুল পর্যটক উপস্থিতি মাথায় রেখে বাড়তি নিরাপত্তা বলয়ের ছক এঁকে আমরা মাঠে রয়েছি।
এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান বলেন, ‘নতুন বছরকে স্বাগত জানাতে পর্যটকরা চাইলে গভীর রাত পর্যন্ত বিচে অবস্থান করতে পারবেন। এ সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালতের বেশ কয়েকটি টিম মাঠে থাকবে। বেশ কয়েকটি তারকা হোটেল নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় অভ্যন্তরীণ অতিথিদের জন্য অনুষ্ঠান করতে অনুমতি নিয়েছে।’
ঠাকুরগাঁওয়ের ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে অতিরিক্ত রোগী চিকিৎসাসেবা নিয়ে থাকে। শীতকালে এর সংখ্যা এখন আরও কয়েকগুণে বেড়েছে। এমন বাস্তবতায় চিকিৎসাসেবার মান উন্নয়নে ও দুর্ভোগ কমাতে সরকারি এই হাসপাতালে পেশেন্ট বেড প্রদান করেছে ঠাকুরগাঁও পৌরসভা। মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) দুপুরে জেলা প্রশাসক ইশরাত ফারজানা আনুষ্ঠানিকভাবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে শিশু ওয়ার্ডের জন্য এসব পেশেন্ট বেড হস্তান্তর করেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন ঠাকুরগাঁও পৌরসভার প্রশাসক সরদার মোস্তফা শাহিন, হাসপাতালের উপ-তত্ত্বাবধায়ক ডা. জয়ন্ত কুমার, পৌরসভার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রাকিবুজ্জামানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা।
পৌর কর্তৃপক্ষ জানায়, শিশু ওয়ার্ডের কয়েকটি বেড নষ্ট হয়ে যাওয়ায় শিশু রোগী ও তাদের স্বজনদের চিকিৎসা নিতে ভোগান্তির মুখে পড়তে হচ্ছিল। বিষয়টি নজরে আসার পর পৌরসভার উদ্যোগে শিশু রোগীদের জন্য মোট দশটি নতুন পেশেন্ট বেড সরবরাহ করা হয়।
এ প্রসঙ্গে জেলা প্রশাসক ইশরাত ফারজানা বলেন, ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে চাহিদার তুলনায় অনেক বেশি রোগী সেবা নিতে আসে। বিশেষ করে শীতকালে শিশু রোগীর সংখ্যা বেড়ে যায়। শিশুদের জন্য বেডের ব্যবস্থা করায় পৌর কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানাই।
নতুন পেশেন্ট বেড যুক্ত হওয়ায় শিশু ওয়ার্ডে চিকিৎসাসেবা আরও স্বাচ্ছন্দ্য হবে বলে আশা প্রকাশ করেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
বাগেরহাট ও রামপাল উপজেলায় তীব্র পানিসংকট, লবণাক্ততা বৃদ্ধি এবং সরকারি খাল ও খাস পুকুর দখলের ফলে কৃষি, পরিবেশ ও জনজীবন মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে অবিলম্বে সরকারি খাল ও খাস পুকুর অবমুক্ত করার দাবিতে বাগেরহাট প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) এক্টিভিস্টা বাগেরহাট ও রামপালের আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, বাগেরহাট জেলা একটি প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী জনপদ। প্রায় ১৪০০ শতকে হজরত খানজাহান আলী (র.) এই অঞ্চলে কৃষি ও জনজীবনের উন্নয়নে অসংখ্য খাল, দীঘি ও জলাধার খনন করেছিলেন। এসব জলব্যবস্থা একসময় কৃষি উৎপাদন ও সুপেয় পানির প্রধান উৎস ছিল। তবে বর্তমানে দখল, দূষণ ও অপরিকল্পিত ব্যবস্থাপনার কারণে অধিকাংশ খাল ও পুকুর অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে।
বাগেরহাট উপকূলীয় জেলা হওয়ায় বাগেরহাট ও রামপালে লবণাক্ততার মাত্রা দিন দিন বাড়ছে। সরকারি খাল ও পুকুর দখলের ফলে নদী ও ভূগর্ভস্থ পানিতে লবণাক্ততা বৃদ্ধি পাচ্ছে, সৃষ্টি হচ্ছে পানির তীব্র সংকট। এর ফলে বিস্তীর্ণ কৃষিজমি অনাবাদী হয়ে পড়ছে। শুধু রামপাল উপজেলাতেই প্রায় ২৭ হাজার ৬৪৪ হেক্টর জমি বর্তমানে অনাবাদী।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থাপিত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বাগেরহাট জেলায় মোট আবাদযোগ্য জমির পরিমাণ ১ লাখ ২২ হাজার ২৩১ হেক্টর। এর মধ্যে আবাদ হচ্ছে ১ লাখ ৪ হাজার ৪৭৩ হেক্টর জমিতে। পতিত জমির পরিমাণ ৮ হাজার ৭০৭ হেক্টর এবং সারাবছর পানির নিচে থাকে প্রায় ১৫ হাজার ৫৯২ হেক্টর জমি।
বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন বলেন, সরকারি পুকুর ও খাস পুকুর রাষ্ট্রের সম্পদ। এই সম্পদ রক্ষা করা আমাদের প্রধান দায়িত্ব। আমি ইতোমধ্যে জানতে পেরেছি কিছু অসাধু ব্যাক্তিরা এই খাল ও পুকুর দখল করে মাছ চাষ করছে। আমি এগুলো খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে দখলমুক্ত করব আর খাস পুকুগেুলো দখলমুক্ত করে নতুন প্রকল্প নিয়ে সংস্কার করে সুপেয় পানি নিশ্চিত করব।
কথা ছিল দেশে এসে বিয়ে করবে। কিন্তু সেই স্বপ্ন আর পূরণ হলো না। বিয়ের অনুষ্ঠানের মেহমান ঠিকই এসেছেন, তবে নেই শুধু বিয়ের বর–কনে। যে ছেলেটি দুলাভাতির সাজে, দুহাতে লাগেজ নিয়ে আনন্দঘন পরিবেশে বাড়ি ফেরার কথা ছিল- সে ফিরেছে নিথর দেহ হয়ে।
বন্ধুদের নিয়ে কত স্বপ্নের কথা বলেছিল- দেশে এসে বিয়ে করবে, সবাইকে নিয়ে আনন্দ করবে। কিন্তু সবকিছু থেমে গেল এক করুণ বাস্তবতায়। মরদেহবাহী গাড়ি যখন বাড়ির আঙিনায় ঢুকে পড়ল, তখন কান্নার ঢেউ ছড়িয়ে পড়ল চারদিকে। ছোট-বড় সবার চোখে নেমে এলো অশ্রুধারা।
ঘরের বড় ছেলে হিসেবে পরিবারের হাল ধরতেই তিনি প্রবাস জীবনে পাড়ি জমিয়েছিলেন। ভাই–বোন, মা ও পরিবারকে নিয়ে ছিল অনেক স্বপ্ন, ছিল ভবিষ্যতের পরিকল্পনা। কিন্তু নিয়তির নির্মম ছোঁয়ায় সেই সব স্বপ্ন এক মুহূর্তেই মিলিয়ে গেল- ভেঙে গেল একটি পরিবারের আশা-ভরসা।
মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) সকালে চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌছায় রিপনের মরদেহ। কফিন নামানোর সাথে সাথে স্বজনদের বুকফাটা কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ। ঘরের বড় ছেলে, পরিবারের ভরসা- হঠাৎই অনন্ত যাত্রায় পাড়ি জমালেন।
রিপন চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলার পোপাদিয়া ইউনিয়নের আকুবদণ্ডী গ্রামের শরীফপাড়ার সন্তান। জীবিকার তাগিদে প্রায় ১ বছর ৯ মাস আগে কাতারে গিয়েছিলেন। সেখানে একটি ক্লিনার কোম্পানিতে কাজ করতেন। দুই ভাই এক বোনের মধ্যে তিনিই ছিলেন বড়- তাই পরিবারের হাল ধরার দায়িত্বও ছিল তার কাঁধে।
গত ২৩ ডিসেম্বর কাতারের আল খোর এলাকায় রাস্তা পার হওয়ার সময় গাড়ির ধাক্কায় প্রাণ হারান তিনি। দুর্ঘটনার পর মরদেহ রাখা ছিল স্থানীয় হাসপাতালের মর্গে। নানা আইনি প্রক্রিয়া শেষে অবশেষে দেশে ফিরল তার নিথর দেহ।
রিপনের মৃত্যুতে গ্রামের প্রতিটি ঘরে নেমেছে শোকের ছায়া। ছেলে হারিয়ে বাকরুদ্ধ তার মা- পাশাপাশি প্রতিবেশীরাও শোকাহত।
এ গল্পটুকু যেন এক করুণ পুনরাবৃত্তি। কারণ রিপনের বাবা আবদুল গফুরও ২০০২ সালের ডিসেম্বর মাসে প্রবাসে সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গিয়েছিলেন। বাবার মৃত্যুর পর থেকেই বড় ছেলে হিসেবে পরিবারের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়েছিলেন রিপন। এবার সেই রিপনকেও হারাল পরিবার। জানাজার পর পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয় তাকে।
খালকে বেহাল না করার প্রতিজ্ঞা করলে পুনরুদ্ধার করে প্রকল্পের মাধ্যমে পরিকল্পনা করে উন্নয়ন সম্ভব বলে জানিয়েছেন সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া। মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) সার্কিট হাউজ মিলনায়তনে বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) আয়োজনে কামারখাল সহ সুনামগঞ্জ পৌরসভার খালসমূহ পুনরুদ্ধার ও সংরক্ষণে উচ্চ আদালতের নির্দেশনা বাস্তবায়নে করণীয় শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এই কথা বলেন। এ সময় আলোচনা সভায় উপস্থিত সকলেই খাল উদ্ধারে প্রশাসনকে সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
বেলার সিলেট বিভাগীয় সমন্বয়ক শাহ সাহেদার সঞ্চালনায় সংশ্লিষ্টদের পাশাপাশি আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন শিক্ষক, সাংবাদিক, এনজিও প্রতিনিধি, নারী প্রতিনিধি, বিশিষ্টজন সহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। আলোচনা শেষে খাল উদ্ধার ও সংরক্ষণে বক্তারা তাদের সুপারিশ তুলে ধরেন। উল্লেখযোগ্য সুপারিশগুলো হলো, ‘শুধু হুটহাট উচ্ছেদ নয়, উচ্ছেদের পর করণীয় ও বাস্তবায়নের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা গ্রহণ। সকল দখলদারদের শাস্তির আওতায় এনে নজির স্থাপন করা। সবকয়টি খালের সীমানা চিহ্নিত করা। পান্ডারখাল বন্ধ করার কারণে সুরমা নদীর পানির চাপ শহরের খালগুলোর ওপর দিয়ে যেত। তাই খালগুলোর উৎসমুখ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। সেগুলো খুলে দেওয়া। দখলকৃত জায়গায় নিম্নবিত্ত পরিবারগুলোকে খাস জমিতে স্থানান্তর করে পুনর্বাসন করা। পৌরসভা কর্তৃক স্থাপনা নির্মাণ অনুমতি দেওয়ার সময় আরও ভালোভাবে যাছাই করা কোথাও খালের জায়গায় কিছু করা হচ্ছে কি না, গুরুত্ব দিয়ে যাচাই করা। উচ্ছেদ করে দুপাশে ব্লক দিয়ে তীর সংরক্ষণ করে ওয়াকওয়ে নির্মাণের মাধ্যমে সৌন্দর্য্যবর্ধন করা সহ নানা সুপারিশ তুলে ধরা হয়।
সুজন সভাপতি নুরুল হক আফিন্দীর সভাপতিত্বে সভায় উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন, পৌর প্রশাসক ও ডিডিএলজি অসীম কুমার বণিক, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সৃজন সরকার, পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মোহাইমিনুল হক সহ অন্যান্যরা।
আলোচনা সভায় বেলার পক্ষ থেকে ৯টি দাবি উত্থাপিত হয়।
দাবিগুলো হলো, উত্তরা আরপিননগর থেকে জাওয়ার হওয়ার পর্যন্ত কামারখাল সীমানা পুননির্ধারণ ও পুনরুদ্ধার করা। অবৈধ দখলদারদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা করে অবিলম্বে উচ্ছেদ করা। খালের দুই তীর সংরক্ষণের জন্য ব্যবস্থা করা। জলাশয় সম্মুখে সংরক্ষণ ও দূষণমুক্ত রাখতে নির্দিষ্ট স্থানে ময়লা আবর্জনা ফেলার ব্যবস্থা করা। খালের ওপর থেকে গণ-শৌচাগার অপসারণ করা। পৌরসভার অভ্যন্তরে ধোপাখালি খাল, বলাইখালি খাল, তেঘরিয়া খাল, বড়পাড়া খাল ও পুকুর সহ অন্যান্য জলাশয় সংস্কার-সংরক্ষণ ও পুনরুদ্ধার করা। আদালতের নির্দেশনা বাস্তবায়ন করে পৌরসভার জন্য একটি মাস্টার প্ল্যান তৈরি করা।
জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া আরো বলেন, ৩ দিন বৃষ্টি হলে ডিসির বাড়িসহ পানি ওঠে। এই সমস্যা সবার সমস্যা তাই এই সমস্যা সমাধানে সবার উদ্যোগী হতে হবে। মাননীয় পরিবেশ উপদেষ্টাও সুনামগঞ্জে এসে ফসল রক্ষা বাঁধের পর সবচেয়ে গুরুত্ব দিয়েছেন ৫টি খালের ওপর। আমরা পৌর প্রশাসককে নিয়ে দ্রুতই একটি পরিকল্পনা গ্রহণ করব এবং যেখানে যেখানে যাওয়া প্রয়োজন আমরা যাব।