পঞ্চগড় থেকে বাংলাবান্ধা সীমান্ত পর্যন্ত নতুন রেললাইন নির্মাণ করতে চায় সরকার। এ জন্য সম্ভাব্যতা সমীক্ষা ও বিশদ নকশাও তৈরি করা হয়েছে। নকশা অনুযায়ী এ পথের দৈর্ঘ্য প্রায় ৪৬ দশমিক ৬০ কিলোমিটার। সমীক্ষায় এটি নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকা।
এ বিষয়ে রেলপথমন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজন দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘প্রকল্পের ফিজিবিলিটি স্টাডি এবং ডিটেইলড ডিজাইন সবই হয়ে গেছে। এখন প্রক্রিয়া অনুযায়ী আমরা এটি পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে পাঠাব। পঞ্চগড় থেকে বাংলাবান্ধা রেলপথ নির্মাণের জন্য অনেকেই বিনিয়োগে আগ্রহী। তবে কাদের ফান্ডিং নেয়া হবে, সেটি ঠিক করবে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি)।’
রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, পঞ্চগড়কে বাংলাবান্ধা সীমান্তের সঙ্গে সংযোগকারী গুরুত্বপূর্ণ এ রেললাইন প্রকল্পে অর্থায়নের জন্য জার্মানির সঙ্গে আলোচনা করবে বাংলাদেশ।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর বাংলাদেশের তিন প্রতিবেশী দেশ ভারত, নেপাল ও ভুটানের সঙ্গে যোগাযোগের অন্যতম একটি প্রবেশদ্বার। এই তিন দেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য এ স্থলবন্দরটির গুরুত্ব বাড়ছে। সেই সঙ্গে বাড়ছে সরকারের রাজস্ব আয় বৃদ্ধির সম্ভাবনা। বর্তমানে সড়কপথে বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল ও ভুটানের মধ্যে পণ্য পরিবহনে স্থলবন্দরটি ব্যবহার হচ্ছে। কিন্তু রেলপথ না থাকায় ট্রেনে যাত্রী বা পণ্য পরিবহন হয় না এ বন্দর দিয়ে।
বাংলাদেশ রেলওয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পঞ্চগড় থেকে বাংলাবান্ধা পর্যন্ত রেললাইন প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে ভারত, নেপাল ও ভুটানের সঙ্গে ট্রেন যোগাযোগ তৈরির সুযোগ হতে পারে। এর মাধ্যমে রেলপথেও আঞ্চলিক যোগাযোগ বৃদ্ধি পাবে।
বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর থেকে নেপাল মাত্র ৬১ কিলোমিটার, ভুটান ৬৮ কিলোমিটার এবং চীন সীমান্ত ২০০ কিলোমিটারের কিছু বেশি। আর বাংলাবান্ধা থেকে মাত্র ৫ কিলোমিটার দূরে ভারতের শিলিগুড়ি শহর।
প্রকল্পটির সমীক্ষা প্রস্তাবে দেখা গেছে, পঞ্চগড় থেকে বাংলাবান্ধা পর্যন্ত মূল রেললাইন নির্মাণ করা হবে ৪৬ দশমিক ৬০ কিলোমিটার। তা ছাড়া লুপলাইন থাকবে ১৮ দশমিক ৫৮ কিলোমিটার। ৪টি নদীতে বড় সেতু হবে ৬টি এবং ছোট কালভার্ট নির্মাণ হবে ১২টি। নতুন এ রুটে ৫টি রেলস্টেশনও নির্মাণ করতে হবে। জগদল, ভজনপুর, তেঁতুলিয়া, তীরনইহাট ও বাংলাবান্ধায় নতুন এসব রেলস্টেশন হবে। স্টেশনগুলোতে কর্মীদের আবাসনের জন্য স্টাফ কোয়ার্টার, রেস্ট হাউস, কাস্টমস-ব্যাংক সুবিধা, রেলওয়ে পুলিশ, রেস্টুরেন্ট সুবিধা থাকবে। তা ছাড়া স্টেশনে কম্পিউটারাইজড সিগন্যালিং সিস্টেম থাকবে।
প্রকল্পের কাজের জন্য প্রায় ৫৮০ একর জমি প্রয়োজন হবে। এসব জমি অধিগ্রহণে ব্যয় হবে প্রায় সাড়ে ৫০০ কোটি টাকা।
প্রকল্প দপ্তর সূত্র জানায়, ২০২০ সালের জুনে পঞ্চগড় থেকে বাংলাবান্ধা পর্যন্ত নতুন রেললাইন নির্মাণের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা ও বিশদ নকশার কাজ শুরু করে বাংলাদেশ রেলওয়ে। সমীক্ষার কাজ শেষে ২০২২ সালের জুনে প্রতিবেদন জমা দেয়া হয়। এর আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১৫ সালের নভেম্বরে এই রেললাইন নির্মাণের জন্য রেলপথ মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দেন।
সম্ভাব্যতা সমীক্ষা প্রস্তাবে পঞ্চগড়-বাংলাবান্ধা রেললাইনটি ডুয়েল গেজ হিসেবে নকশা করা হয়েছে। তবে সম্প্রতি প্রকল্পের যাচাই কমিটির সভায় রেললাইনটি ডুয়েল গেজ নাকি ব্রডগেজ হবে, সেটি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এ বিষয়ে আগামী যাচাই কমিটির সভায় সিদ্ধান্ত হতে পারে।
পরিবহন বিশেষজ্ঞ ও বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. শামসুল হক দৈনিক বাংলাকে বলেন ‘যেহেতু এ রুটটি একটি আঞ্চলিক যোগাযোগ তৈরি করবে, সে কারণে আমাদের জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ হবে নতুন রেললাইনটি। তাই এ লাইনটি অবশ্যই ব্রডগেজ হওয়া উচিত।
তিনি বলেন, এখানে দুটি বিষয় থাকবে, একটি পণ্য পরিবহন, অন্যটি ট্যুরিজম। তবে ট্যুরিজমে আমরা খুব একটা লাভবান হব না। কিন্তু আমাদের বন্দর ব্যবহার করে কনটেইনারে পণ্য পরিবহনে আমরা লাভবান হতে পারি। সে বিষয়টি মাথায় রেখে ব্রডগেজ রেললাইন হওয়া উচিত। আর ডুয়েল গেজ হলে ভবিষ্যতে সেটি নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে। ব্রডগেজ হলে ট্রেন দ্রুত চলতে পারবে। মালামালও বেশি বহন করা যাবে।’
এই নতুন রেলরুট চালু হলে বাংলাদেশ-ভারতের ইন্টারসেকশন বা রেলরুটের সংখ্যা বাড়বে। ১৯৬৫ সালে বাংলাদেশ-ভারতের আটটি ইন্টারসেকশন বা রেলরুট বন্ধ হয়েছিল। বর্তমানে এর পাঁচটি আবার চালু হয়েছে। বাকি তিনটি এখনো বন্ধ আছে। দুই দেশের মধ্যে চালু থাকা পাঁচ রেলরুটগুলো হলো বেনাপোল-পেট্রাপোল, দর্শনা-গেদে, রোহনপুর-সিংহাবাদ, বিরল-রাধিকাপুর, চিলাহাটি-হলদিবাড়ী। বুড়িমারী-চেংরাবান্ধা, মোগলহাট-দ্বিতিলদহ এবং শাহবাজপুর-মহিশাসন রেল ইন্টারসেকশন বন্ধ আছে। পঞ্চগড়-বাংলাবান্ধা লাইন চালু হলে দুই দেশের মধ্যে মোট ইন্টারসেকশন দাঁড়াবে নয়টি।
বঙ্গোপসাগরে মালয়েশিয়াগামী ট্রলার থেকে উদ্ধার ৬৩ জনকে পাচারের অভিযোগে করা মামলায় ১৩ জনকে কারাগারে পাঠিয়েছেন কক্সবাজারের আদালত।
শনিবার (৩ অক্টোবর) মামলার তদন্ত কর্মকর্তা (আইও) ও টেকনাফ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ইহসানুল হাসান দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘আদালতে হাজির করা হলে তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন বিচারক।’
গত ৩০ সেপ্টেম্বর সেন্ট মার্টিন লাইটহাউস থেকে প্রায় ৮১ নটিক্যাল মাইল দূরে একটি বিকল কাঠের ট্রলার থেকে ৭৬ জনকে উদ্ধার করে নৌবাহিনী। তাদের মধ্যে পাচারের শিকার ও পাচারকারী চক্রের সন্দেহভাজন সদস্যরা ছিলেন।
উদ্ধার হওয়াদের মধ্যে প্রথমে ১১ জনকে পাচারকারী হিসেবে সন্দেহ করে নৌবাহিনী। পরে তদন্তের ভিত্তিতে পুলিশ ১৩ জনকে গ্রেপ্তার করে। এ ঘটনায় মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইন, ২০১২-এর অধীনে ১৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়।
মামলার নথি অনুযায়ী, উদ্ধার ৬৩ জনের মধ্যে চার নারীসহ ১৪ জন রোহিঙ্গা। বাকিরা বাংলাদেশের নাগরিক। গতকাল শুক্রবার রাতে তাদের সবাইকে পরিবারের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলেও জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ আরও জানায়, সাগরে নেওয়ার আগে ওই ৬৩ জনকে টেকনাফের বাহারছড়ার একটি দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় আটকে রাখা হয়েছিল। মালয়েশিয়ায় পাঠানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে পাচারকারীরা প্রত্যেকের কাছ থেকে আড়াই লাখ টাকা করে আদায় করে বলে অভিযোগ রয়েছে।
গত ৩০ সেপ্টেম্বর ওই ৭৬ জনকে নিয়ে ‘আল্লাহর দান’ নামের কাঠের ট্রলারটি বঙ্গোপসাগরে যান্ত্রিক সমস্যায় পড়ে। ইঞ্জিন ও পানিনিষ্কাশন পাম্পে ত্রুটি দেখা দেওয়ায় ট্রলারে পানি ঢুকতে শুরু করে।
এসময় ‘এফভি ক্রিস্টাল-১’ নামের একটি মাছ ধরার ট্রলার তাদের দেখে সাহায্য করতে এগিয়ে যায়। তবে আরোহীদের কয়েকজনের আচরণ সন্দেহজনক মনে হওয়ায় বিষয়টি বাংলাদেশ নৌবাহিনীকে জানায় এফভি ক্রিস্টাল-১ এর কর্মীরা।
খবর পেয়ে ওই এলাকায় টহলরত নৌবাহিনীর জাহাজ ‘বানৌজা খালিদ বিন ওয়ালিদ’ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। নৌবাহিনীর সদস্যরা দ্রুত পানি নিষ্কাশন করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। ট্রলারে থাকা ৭৬ জনকেই নিরাপদে উদ্ধার করা হয় এবং তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা, খাবার ও প্রয়োজনীয় মানবিক সহায়তা দেওয়া হয়।
তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী বলেছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপতথ্য ও অসত্য তথ্য একটি ‘অশুভ সংকেত’ হিসেবে দেখা দিয়েছে, যা প্রতিরোধে তরুণদের সচেতন ও দায়িত্বশীল ভূমিকা জরুরি।
শনিবার (৩ অক্টোবর) রাজধানীর নটরডেম কলেজে আয়োজিত ‘২য় ন্যাশনাল মিডিয়া কার্নিভাল ২০২৬’-এর সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের ছাত্রসমাজ সবসময়ই দেশ গঠনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে। সম্প্রতি ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার আন্দোলনেও তাদের ভূমিকা ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে।
তিনি বলেন, বর্তমান তথ্যপ্রবাহের যুগে সত্য ও মিথ্যার পার্থক্য নিরূপণ করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের মিডিয়া লিটারেসি ও দায়িত্বশীল যোগাযোগ দক্ষতা অর্জন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
নটরডেম কলেজে নিজের শিক্ষাজীবনের স্মৃতিচারণ করে ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, এই প্রতিষ্ঠানে আগেও তিনি বন্ধুদের সঙ্গে এসেছেন এবং সেই সময়ের নানা স্মৃতি এখনও তার মনে গেঁথে আছে। তিনি বলেন, ‘এই ক্যাম্পাসে এসে পুরোনো অনেক স্মৃতি ফিরে এসেছে।’
তিনি আশা করেন, এ ধরনের মিডিয়া কার্নিভাল ভবিষ্যতেও নিয়মিত আয়োজন করা হলে শিক্ষার্থীরা সৃজনশীলতা, বিশ্লেষণী দক্ষতা ও দায়িত্বশীল নাগরিকত্বের চর্চায় আরও এগিয়ে যাবে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় এসব বিষয়ে ধারবাহিকভাবে কাজ করছে।
প্রধানমন্ত্রী তরুণদের বিষয়ে অনেক আগ্রহী উল্লেখ করে ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, ভবিষ্যতেও এ জাতীয় আয়োজনে সরকারের সমর্থন থাকবে।0
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন- নটরডেম কলেজের অধ্যক্ষ ফাদার হেমন্ত পিউস রোজারিও, ফাদার অ্যান্টনি গোমেজ রোজারিও, নটরডেম মিডিয়া অ্যান্ড কমিউনিকেশন ক্লাবের মডারেটর শাপলা বনিক, ‘দ্য বাংলাদেশ ডায়লগ’-এর চেয়ারম্যান রুবায়েত মান্নান রাফি, এনসিসি ব্যাংকের ভাইস প্রেসিডেন্ট ও হেড অব ফাইন্যান্সিয়াল ডিভিশন আনিসুর রহমান মজুমদার, চায়না এডুকেশন বাংলাদেশের সিইও সাজ্জাদ হোসেন এবং ইউনিভার্সিটি অব স্কলার্সের ব্র্যান্ড অ্যান্ড কমিউনিকেশন বিভাগের সিমরান রহমান।
উল্লেখ্য, নটরডেম মিডিয়া অ্যান্ড কমিউনিকেশন ক্লাবের উদ্যোগে ২ ও ৩ অক্টোবর অনুষ্ঠিত এ কার্নিভালে দেশজুড়ে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করে। মিডিয়া কার্নিভাল শিক্ষার্থীদের মিডিয়া, যোগাযোগ, গবেষণা ও সৃজনশীলতার বিকাশে একটি প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করছে।
কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের জন্য ইউরেনিয়াম বা পারমাণবিক জ্বালানি রূপপুরে পৌঁছেছে। গত শুক্রবার (২ অক্টোবর) রাতে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর শনিবার (৩ অক্টোবর) সকালে তিনটি লরিতে করে সড়কপথে জ্বালানির চালানটি রূপপুরের উদ্দেশে নেওয়া হয়। শনিবার বেলা সাড়ে ১২টার দিকে পাবনার ঈশ্বরদীর দাশুড়িয়া মোড় হয়ে লরিগুলো রূপপুর প্রকল্পে পৌঁছায়। রূপপুর প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
সূত্র জানায়, শুক্রবার (২ অক্টোবর) রাত ১১টা ৪৪ মিনিটে ইউরেনিয়ামের চালানটি শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়। বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তারা চালানটি বুঝে নেন। পরে রাতেই সেনাবাহিনীর নিরাপত্তায় তা রূপপুরে নেওয়ার প্রস্তুতি শুরু হয়।
শনিবার (৩ অক্টোবর) সকাল সাতটার পর বিমানবন্দর থেকে ইউরেনিয়ামবাহী তিনটি লরি রূপপুর প্রকল্পের উদ্দেশে রওনা হয়। এ উপলক্ষে ঈশ্বরদী ও রূপপুর এলাকায় নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়। সেনাবাহিনী, এসআরবি, পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সড়কপথে কঠোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করেন।
গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম বলেন, জ্বালানিবাহী বিমানটি শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পরই রূপপুরে নেওয়ার সব প্রস্তুতি সম্পন্ন ছিল। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর নিরাপত্তায় ইউরেনিয়ামের চালানটি রূপপুরে পৌঁছেছে।
প্রকল্প সূত্র জানায়, আগামী নভেম্বর-ডিসেম্বরের মধ্যে নয়টি ফ্লাইটে রূপপুরের প্রথম ইউনিটের জন্য আরও ৪৮টি এবং দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য ১৬৩টি ইউরেনিয়াম অ্যাসেম্বলি দেশে আসবে। রাশিয়া থেকে কাজাখস্তান, তুর্কমেনিস্তান, পাকিস্তান, আফগানিস্তান ও ভারত হয়ে এসব চালান বাংলাদেশে আসবে।
এর আগে ২০২৩ সালে রূপপুরের প্রথম ইউনিটের জন্য যে জ্বালানি দেশে আনা হয়েছিল, তা চলতি বছরের মে মাসে প্রকল্পের পারমাণবিক চুল্লিতে স্থাপন করা হয়।
এদিকে, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে ১৬ মেগাপাসকেল (এমপিএ) উচ্চচাপে প্রেসার অপারেটেড রিলিফ ভালভের (পিআরওভি) পরীক্ষা সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. জায়েদুল হাসান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, প্রধান নিয়ন্ত্রণকক্ষ ও জরুরি নিয়ন্ত্রণকক্ষ-দুই জায়গা থেকেই পরীক্ষাটি পরিচালনা করা হয়। এতে কন্ট্রোল ভালভের কার্যকারিতা যাচাই করা হয়। ভালভের কার্যক্রম সন্তোষজনক পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট মেইন সেফটি ভালভের কার্যক্রম ও প্রতিক্রিয়াও পরীক্ষা করা হয়। এ সময় ভালভ খোলা ও বন্ধ হওয়ার কার্যক্রম, অ্যালার্ম এবং বিভিন্ন প্রক্রিয়াগত পরামিতি পর্যবেক্ষণ করা হয়।
ড. জায়েদুল হাসান বলেন, পিআরওভি পরীক্ষার সফল সমাপ্তি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের কমিশনিং প্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। কারণ, রিঅ্যাক্টরের প্রাইমারি সিস্টেমে নিরাপদ চাপ বজায় রাখার সঙ্গে এই ব্যবস্থা সরাসরি সম্পৃক্ত।
ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশাদুর রহমান আসাদ বলেন, ঈশ্বরদী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার প্রণব কুমারসহ সেনাবাহিনী, এসআরবি, পুলিশ ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে ইউরেনিয়ামবাহী গাড়িবহর রূপপুরে পৌঁছেছে।
প্রকল্প সূত্র জানায়, সেফটি ভালভে ১৬ এমপিএ উচ্চচাপের পরীক্ষা সফল হওয়ার পর পরবর্তী ধাপে প্রায় ১৮ এমপিএ চাপে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হবে। সেটি সফল হলে ফিশন রিঅ্যাকশন শুরু করার প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হবে। এরপর পাওয়ার স্টার্টআপের জন্য পুরো অক্টোবর মাস সময় লাগতে পারে।
পাওয়ার স্টার্টআপের পর জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের ধাপে যাবে কেন্দ্রটি। সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে আগামী নভেম্বর থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিট থেকে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা সম্ভব হবে বলে প্রকল্প সূত্র জানিয়েছে।
চট্টগ্রাম বন্দরে ২৩ বছর পড়ে থাকার পর অবশেষে ৯টি কনটেইনারে থাকা ১৫০ দশমিক ৮৯ মেট্রিক টন বিপজ্জনক কেমিক্যাল পরিবেশসম্মত উপায়ে ধ্বংসের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ২৫ দশমিক ৫৫ মেট্রিক টন সালফিউরিক অ্যাসিড, ৫০০ কেজি নাইট্রিক অ্যাসিড, ৯২ দশমিক ৫৪ মেট্রিক টন মিথানল এবং ৩২ দশমিক ৩০ মেট্রিক টন থিনার। ২০০৩ সাল থেকে বন্দরের শেডে পড়ে ছিল এগুলো।
শনিবার (৩ অক্টোবর) সকালে কেমিক্যাল ধ্বংস কমিটির সদস্যদের উপস্থিতিতে বন্দর থেকে এসব বিপজ্জনক কেমিক্যাল বিশেষ যানবাহনে করে নারায়ণগঞ্জের ওয়াটা কেমিক্যালস লিমিটেডের উদ্দেশে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।
চট্টগ্রাম বন্দরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ও কনটেইনার জট নিরসনে মেয়াদোত্তীর্ণ ও ব্যবহার-অনুপযোগী অ্যাসিডজাতীয় পণ্য ধ্বংসের এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন কাস্টমসের সহকারী কমিশনার রাসেল আহমেদ।
কেমিক্যাল ধ্বংস কমিটি জানায়, বাংলাদেশ জাতীয় কর্তৃপক্ষ, রাসায়নিক অস্ত্র কনভেনশনের (বিএনএসিডব্লিউসি) সুপারিশক্রমে এবং চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের গঠিত ধ্বংস কমিটির উদ্যোগে এসব বিপজ্জনক কেমিক্যাল নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার মুড়াপাড়ায় অবস্থিত ওয়াটা কেমিক্যালস লিমিটেডের মাধ্যমে পরিবেশবান্ধব ও নিয়মতান্ত্রিক পদ্ধতিতে ধ্বংসের উদ্যোগ নেয় সরকার।
এর আগে ২০২১ সালে বন্দরের ‘পি’ শেডে পড়ে থাকা ২০ বছরের পুরোনো ২৫ টন বিপজ্জনক রাসায়নিক পণ্য ধ্বংসের জন্য সুনামগঞ্জের ছাতকে লাফার্জহোলসিম সিমেন্ট কারখানায় পাঠানো হয়েছিল। সর্বশেষ গত ২৪ আগস্ট চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে আমদানি করা ৩৪ কনটেইনারে ৯৩৫ টন খেজুর, ৪০ কনটেইনারে ১ হাজার ২ টন মেয়াদোত্তীর্ণ সোডা অ্যাশসহ মোট ১২৬ কনটেইনার পণ্য ধ্বংস করে কাস্টম হাউস কর্তৃপক্ষ।
বাগেরহাটের রামপাল কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎকেন্দ্র ১৩২১ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করে নতুন রেকর্ড গড়েছে। কেন্দ্রটির দুই ইউনিট মিলিয়ে এই প্রথম সর্বোচ্চ ১৩২১ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে। উৎপাদিত এই বিদ্যুৎ সরাসরি জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হচ্ছে। শনিবার (৩ অক্টোবর) রামপাল তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রধান মানবসম্পদ কর্মকর্তা আনোয়ারুল আজিম এ তথ্য জানান।
আনোয়ারুল আজিম জানান, শনিবার (৩ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে প্রথম ইউনিট থেকে ৬৫৬ ও দ্বিতীয় ইউনিট থেকে ৬৬৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়। এসব বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হচ্ছে। সম্প্রতি যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে কেন্দ্রটির দ্বিতীয় ইউনিটে বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ ছিল। যান্ত্রিক ত্রুটি ঠিক হওয়ার পরে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ উৎপাদন অব্যাহত রয়েছে।
রামপাল তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ ও ভারতের যৌথ উদ্যোগে ২০১০ সালে কেন্দ্রটি নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। ২০১২ সালের ২৯ জানুয়ারি বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি) ও ভারতের ন্যাশনাল থার্মাল পাওয়ার করপোরেশনের (এনটিপিসি) মধ্যে চুক্তি সই হয়। চুক্তির আওতায় বাংলাদেশ-ইন্ডিয়া ফ্রেন্ডশিপ পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেড (বিআইএফপিসিএল) গঠন করা হয়।
প্রকল্পের আওতায় বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার রাজনগর ও গৌরম্ভা ইউনিয়নের সাপমারী-কৈগর্দ্দাশকাঠি মৌজায় ১ হাজার ৩৪ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়। প্রায় ১৬ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন মৈত্রী সুপার থার্মাল পাওয়ার প্রকল্পের নির্মাণকাজ শুরু হয়।
দীর্ঘ নির্মাণপ্রক্রিয়া শেষে ২০২২ সালের ২৩ ডিসেম্বর কেন্দ্রটির ৬৬০ মেগাওয়াট ক্ষমতার প্রথম ইউনিট উৎপাদনে যায়। পরের বছর ২৪ অক্টোবর পরীক্ষামূলকভাবে দ্বিতীয় ইউনিটের উৎপাদন শুরু হয়।
নওগাঁর ধামইরহাটে ছাগলে জমির করলা গাছ খাওয়াকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের ছুরিকাঘাতে কাশেম (৪২) নামে এক ব্যক্তি নিহতের ঘটনায় এজাহারনামীয় ৭ জনকে গ্রেপ্তার করেছে থানা-পুলিশ। এ সময় হত্যার কাজে ব্যবহৃত একটি চাকু উদ্ধার করা হয়েছে।
মামলার পরিপ্রেক্ষিতে শুক্রবার রাতেই জয়পুরহাট জেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে আসামিদের গ্রেপ্তার করা হয়। শনিবার বিকেলে তাদের গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, উপজেলার বড়শিবপুর (মাস্টারপাড়া) গ্রামের আব্দুল হাকিমের ছেলে রাকিবুল ইসলাম রনি (২৮), মৃত আব্দুল গফুরের দুই ছেলে আব্দুল হাকিম (৬০) ও কফিল উদ্দিন (৬৫), ফেরদৌস হোসেনের স্ত্রী আকলিমা বেগম (৩৫), মৃত ইসমাইল হোসেনের মেয়ে হামিদা বেগম (৩৮), আব্দুল হাকিমের স্ত্রী ফরিদা বেগম (৫০) এবং রাকিবুল ইসলাম রনির স্ত্রী জিয়াসমিন বেগম (২১)। তারা সকলেই একই পরিবারের মা-বাবা ও চাচা-চাচি এবং ছেলে ও ছেলের বউ।
এবং নিহত আবুল কাশেম ওই গ্রামের মৃত রাজ মাহমুদ মণ্ডলের ছেলে। আর আহতরা হলেন—নিহতের বড় ভাই মুক্তার আলী, ভাইয়ের স্ত্রী রেখা বেগম, বড় ভাই বদিউল ইসলাম এবং ছোট ভাই ইমরান আলী।
পুলিশ জানায়, শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৫টায় একই গ্রামের আব্দুল হাকিমের ছেলে মো. রাকিবুল ইসলাম রনির (৩৫) জমির করলা গাছ খেয়ে ফেলে একটি ছাগল। এ নিয়ে কৃষক আবুল কাশেম ও রনির পরিবারের কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে তা মারামারিতে সংঘর্ষে রূপ নেয়। মারামারির সময় অভিযুক্ত রনি ধারালো চাকু দিয়ে আবুল কাশেমকে উপর্যুপরি আঘাত করেন। এবং কাশেমসহ মোট পাঁচজন গুরুতর জখম হয়ে জয়পুরহাট সদর হাসপাতালে ভর্তি হন। সেখানে আহত আবুল কাশেম মৃত্যুবরণ করেন। তার স্ত্রী গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় বগুড়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি আছে। অপর জখমরা জয়পুরহাট সদর হাসপাতালে ভর্তি আছে। এই ঘটনায় নিহত কাশেমের ছেলে আবু সাঈদ হোসেন বাদী হয়ে ধামইরহাট থানায় একটি একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
এসপি তারিকুল ইসলাম বলেন, ‘ঘটনার খবর পাওয়া মাত্রই পুলিশ সেখানে যায় এবং পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে। পরে হত্যা মামলা দায়ের হলে মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ঘটনার রাতেই ৭ আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।’
প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে তাদের আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে বলে জানালেন ধামইরহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মিন্টু রহমান।
বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে দিনাজপুরের বিরামপুরে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার স্মরণে আয়োজিত স্মৃতি ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধন হয়েছে। শনিবার (৩ অক্টোবর) বিকেলে বিরামপুর পৌরসভা এলাকার বড় মাঠে টুর্নামেন্টের উদ্বোধন করেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন নারী ও শিশুবিষয়ক এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক বেলুন ও কবুতর উড়িয়ে টুর্নামেন্টের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। এ সময় মাঠে অতিথি, খেলোয়াড় ও বিপুলসংখ্যক দর্শকের উপস্থিতিতে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেন, এ ধরনের ক্রীড়া আয়োজনের মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায় থেকে জাতীয় পর্যায়ের ফুটবল খেলোয়াড় তৈরি হবে। তরুণ প্রজন্মকে খেলাধুলার সঙ্গে সম্পৃক্ত করে তাদের এগিয়ে নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
তিনি বলেন, আগামী প্রজন্মকে শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ রাখতে পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলায় উৎসাহিত করা প্রয়োজন। নিয়মিত খেলাধুলার চর্চা তরুণদের ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে যুক্ত রাখতে সহায়তা করবে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক বলেন, খেলাধুলার সঙ্গে যুক্ত থাকলে মানুষ উৎফুল্ল থাকে। তিনি নিজেও খেলোয়াড় ছিলেন উল্লেখ করে তরুণ খেলোয়াড়দের ভালোভাবে খেলাধুলা চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, খেলাধুলার মাধ্যমে তিনি আজকের অবস্থানে এসেছেন। তরুণ খেলোয়াড়রা নিষ্ঠার সঙ্গে খেললে ভবিষ্যতে নিজেদের যোগ্য জায়গায় পৌঁছাতে পারবেন।
দিনাজপুর জেলা প্রশাসক মো. রফিকুল ইসলাম, পুলিশ সুপার মো. জেদান আল মুসা, জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. মোফাজ্জল হোসেন দুলালসহ জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের বিভিন্ন নেতৃবৃন্দ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
টুর্নামেন্ট আয়োজনে হাকিমপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. ফেরদৌস রহমানের নেতৃত্বে ২১ সদস্যের একটি পরিচালনা কমিটি গঠন করা হয়েছে। দিনাজপুর-৬ নির্বাচনী এলাকার বিরামপুর, নবাবগঞ্জ, হাকিমপুর ও ঘোড়াঘাট উপজেলা থেকে মোট ২৬টি দল এ প্রতিযোগিতায় অংশ নিচ্ছে।
টুর্নামেন্টকে ঘিরে স্থানীয় ক্রীড়াপ্রেমীদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিপুলসংখ্যক দর্শকের উপস্থিতি ছিল। আয়োজকদের আশা, এ প্রতিযোগিতার মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ে ফুটবলের চর্চা বাড়ার পাশাপাশি নতুন প্রতিভাবান খেলোয়াড় উঠে আসবে।
এ বছর বাংলাদেশকে পেঁয়াজ আমদানি করতে হয়নি, আগামী বছরও পেঁয়াজ আমদানির প্রয়োজন হবে না বলে মন্তব্য করেছেন কৃষিমন্ত্রী হাজী আমিন উর রশিদ ইয়াসিন।
তিনি বলেন, ‘দুঃখজনক বিষয়, একসময় আমাদের পেঁয়াজ আমদানি করতে হতো। এ বছর আমরা পেঁয়াজ আমদানি করিনি। আগামী বছরও আমাদের পেঁয়াজ আমদানি করার কোনো প্রয়োজন হবে না। সবকিছু ঠিক থাকলে কৃষি হবে বাংলাদেশের বড় রপ্তানি পণ্য।’
শনিবার (৩ অক্টোবর) কুমিল্লা টাউন হল মাঠে শুরু হওয়া তিন দিনব্যাপী কারিগরি শিক্ষা ও উদ্ভাবনী মেলার দ্বিতীয় দিনে প্রধান অতিথির বক্তব্য কৃষিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
কৃষিমন্ত্রী বলেন, ‘এখনকার প্রজন্ম কৃষির প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠছে। বিষয়টি অত্যন্ত ইতিবাচক। লেখাপড়া শেষ করে বাণিজ্যিক কৃষিতে তরুণদের অংশগ্রহণ দেশের অর্থনীতির জন্য বড় আশাব্যঞ্জক ঘটনা।’
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কুমিল্লার জেলা প্রশাসক রোজি আক্তার। এ সময় সিসিএন শিক্ষা পরিবারের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. তারিকুল ইসলাম চৌধুরীসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।
সাভার, আশুলিয়া ও ধামরাইয়ের শিল্পাঞ্চলের বিভিন্ন কারখানা ও প্রতিষ্ঠান থেকে বৈদ্যুতিক মিটার চুরি করে বিকাশে টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে একটি সংঘবদ্ধ চক্রের বিরুদ্ধে। পুলিশের দাবি, মিটার চুরির পর চিরকুটে বিকাশ নম্বর রেখে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে দর-কষাকষি করে টাকা আদায় করত চক্রটি। টাকা পাওয়ার পর আবার মিটার ফেরত দেওয়া হতো।
একাধিক শিল্পপ্রতিষ্ঠান থেকে অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি নজরে নেয় শিল্প পুলিশ। পরে অভিযান চালিয়ে চক্রটির মূল হোতা সবুজ মিয়া ওরফে ‘মিটার সবুজ’ (২৫) ও তার সহযোগী মারুফ মোল্লাকে (৩৫) গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
শুক্রবার (২ অক্টোবর) রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আশুলিয়ার পলাশবাড়ী এলাকার ঘোড়াপীর মাজারসংলগ্ন মানিকগঞ্জ বুক হাউসের সামনে অভিযান চালায় শিল্প পুলিশের একটি দল। এ সময় মোটরসাইকেলে থাকা সবুজ ও মারুফকে থামার সংকেত দেওয়া হলে তারা পালানোর চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে মোটরসাইকেল থেকে পড়ে গেলে পুলিশ তাদের আটক করে।
এ সময় তাদের কাছ থেকে হেক্সিং ব্র্যান্ডের একটি পল্লী বিদ্যুতের মিটার, দুটি অ্যান্ড্রয়েড স্মার্টফোন ও একটি বাজাজ পালসার মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়।
শনিবার (৩ অক্টোবর) দুপুরে শিল্প পুলিশ-১-এর প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান শিল্প পুলিশ-১-এর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া।
গ্রেপ্তার সবুজ মিয়া সিরাজগঞ্জের চৌহালী থানার পাথরাইল গ্রামের কাইয়ুম আলীর ছেলে। অপর আসামি মারুফ মোল্লা একই উপজেলার রেহাই পুকুরিয়া গ্রামের লিটন মোল্লার ছেলে।
শিল্প পুলিশ জানায়, গত কয়েক মাস ধরে সাভার, আশুলিয়া ও ধামরাইয়ের বিভিন্ন কারখানা ও প্রতিষ্ঠানের বৈদ্যুতিক মিটার চুরি করে আসছিল চক্রটি। মিটার চুরির পর সেটি আশপাশের কোনো স্থানে লুকিয়ে রেখে পলিথিনে মোড়ানো চিরকুটে একটি বিকাশ নম্বর লিখে রেখে যেত তারা।
পরে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কর্তৃপক্ষ ওই নম্বরে যোগাযোগ করলে চক্রটির সদস্যরা মিটার ফেরতের বিনিময়ে টাকা দাবি করত। দর-কষাকষির মাধ্যমে বিকাশে টাকা নেওয়ার পর মিটার ফেরত দেওয়া হতো বলে পুলিশের দাবি।
শিল্প পুলিশ জানায়, গত ৫ আগস্ট রাত ২টা ২৪ মিনিটে ধামরাইয়ের ঢুলিভিটা এলাকায় দি একমি ল্যাবরেটরিজ লিমিটেডের ১ নম্বর গেটের সামনে থেকে একটি পল্লী বিদ্যুতের মিটার চুরি হয়। এ ঘটনায় ধামরাই থানায় মামলা হলে শিল্প পুলিশ-১ ছায়াতদন্ত শুরু করে। তথ্যপ্রযুক্তি ও সোর্সের মাধ্যমে চক্রটির সদস্যদের শনাক্তে কাজ শুরু করে পুলিশ।
পুলিশের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সবুজ মিয়া শিল্পাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকা থেকে ১৫০ থেকে ২০০টি মিটার এবং মারুফ মোল্লা ৬০ থেকে ৭০টি মিটার চুরির কথা স্বীকার করেছেন। তবে এসব তথ্য তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা হচ্ছে।
পুলিশ আরও জানায়, সবুজ মিয়ার বিরুদ্ধে সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুর ও কামারখন্দ, টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর ও মির্জাপুর থানায় চুরি, চাঁদাবাজি ও মাদকসহ ছয়টি মামলা রয়েছে। মারুফ মোল্লার বিরুদ্ধে আশুলিয়া, টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর ও মির্জাপুর, সিরাজগঞ্জের চৌহালী, বেলকুচি ও কামারখন্দ এবং মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া ও সিংগাইর থানায় চুরি, দস্যুতা, চাঁদাবাজি ও মাদকসহ ১০টি মামলা রয়েছে।
শিল্প পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার দুজনের দেওয়া তথ্য ও চুরির সঙ্গে তাদের সম্পৃক্ততার বিষয়গুলো তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে চক্রের অন্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, এমপি বলেছেন, ‘আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যেখানেই অনিয়ম দেখছে, সেখানেই ব্যবস্থা নিচ্ছে। কোনো অন্যায়কে বিএনপি সরকার ছাড় দেবে না। যে অন্যায় করবে, তার বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ শনিবার (৩ অক্টোবর) বেলা ১১টায় টাঙ্গাইল পুলিশ লাইন্স মাঠে জেলা পুলিশ টাঙ্গাইল আয়োজিত ১ম কমিউনিটি পুলিশ কাবাডি চ্যাম্পিয়নশিপ-২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা নিয়ে আমরা কাজ করছি। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি কীভাবে আরও উন্নত করা যায়, মাদককে কীভাবে সমাজ থেকে দূর করা যায় এসব বিষয়ে কাজ চলছে। সবাই যাতে লেখাপড়ার পাশাপাশি খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকে এবং কোনোভাবেই মাদকের সঙ্গে যুক্ত না হয়, সে জন্য খেলাধুলাসহ বিভিন্ন সচেতনতামূলক কর্মসূচি করা হচ্ছে।’
তিনি বলেন, ‘কমিউনিটি পুলিশিংয়ে ইতোমধ্যে কমিটি করা হয়েছে। সকলে মিলে সম্মিলিতভাবে পরিস্থিতির উন্নতি করতে চাই। অন্যায়ের বিরুদ্ধে সকলের অবস্থান থাকবে।’
এর আগে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, ‘সকলে সম্মিলিতভাবে কাজ করলে মাদক নির্মূল করা সম্ভব। সরকার মাদকের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ পদক্ষেপ নিয়েছে। মাদক সেবন করলে মানুষ হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে ফেলে।’
তিনি আরও বলেন, ‘মাদক আমাদের দেশে উৎপাদিত হয় না। পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে পরিকল্পিতভাবে এগুলো ঢুকিয়ে দিয়ে দেশের যুবসমাজকে ধ্বংস করার চেষ্টা করা হচ্ছে।’
রাজনৈতিক নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘মাদকের ব্যাপারে কোনো তদবির চলবে না। নিজ নিজ অবস্থান থেকে মানুষকে সচেতন করতে হবে এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে। পুলিশ বাহিনীও তাদের সদস্যদের ব্যাপারে সর্বোচ্চ পদক্ষেপ নেবে, যাতে কেউ মাদক-সম্পর্কিত কোনো কর্মকাণ্ডে জড়িত হতে না পারে।’
তিনি বলেন, ‘আমরাও আমাদের দিক থেকে খোঁজখবর নিচ্ছি। সামাজিকভাবে এটিকে আন্দোলন হিসেবে গড়ে তোলার চেষ্টা করছি। ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টার মাধ্যমে আমরা এটি গড়ে তুলতে সক্ষম হব।’
অনুষ্ঠানে টাঙ্গাইল পুলিশ সুপার মুহম্মদ শামসুল আলম সরকারের সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মো. সেলিম মিঞা, পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মো. রবিউল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. আদিবুল ইসলাম, ডিএসবির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কাজী শাহনেওয়াজ, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সদর সার্কেল এইচ. এম. মাহবুব রেজওয়ান সিদ্দিকী, সহকারী পুলিশ সুপার এবিএম সিদ্দিক, সরকারি পুলিশ সুপার নিজাম উদ্দিনসহ সদর, দেলদুয়ার, মির্জাপুর, গোপালপুর, বাসাইল ও ধনবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা।
এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব মাহমুদুল হক সানু, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক শফিকুর রহমান খান শফিক, সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আজগর আলী, সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক অ্যাডভোকেট আজিম উদ্দিন বিপ্লবসহ স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতারা।
খেলা পরিচালনা করেন প্রধান রেফারি আজগর আলী। সহকারী রেফারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন শওকত, মোস্তফা কামালসহ পাঁচজন।
কাবাডি প্রতিযোগিতা শেষে পুলিশ লাইনস্ আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে শিক্ষার্থীদের হাতে ক্রেস্ট তুলে দেন প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।
মুক্তিযোদ্ধাদের মৃতদেহ সমাহিত, সৎকার ও পরিবহনের তাৎক্ষণিক ব্যয় নির্বাহের জন্য ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট থেকে ৯ কোটি ৪৯ লাখ ৯৪ হাজার ৪০০ টাকা আর্থিক মঞ্জুরি দিয়েছে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়।
মন্ত্রণালয়ের বাজেট অধিশাখা থেকে গত ২৯ সেপ্টেম্বর জারি করা এক আদেশে এ অর্থ বরাদ্দের কথা জানানো হয়। বরাদ্দের অর্থ দেশের বিভিন্ন জেলার জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের অনুকূলে ছাড় দেওয়া হবে।
আদেশে বলা হয়েছে, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পরিচালন বাজেটের বিশেষ কার্যক্রমের আওতায় যুদ্ধাহত ও অন্যান্য মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানী ভাতা খাতের দাফন বাবদ অনুদান হিসেবে বরাদ্দকৃত ১৮ কোটি টাকা থেকে এই ৯ কোটি ৪৯ লাখ ৯৪ হাজার ৪০০ টাকা ব্যয় করা হবে।
সংশ্লিষ্ট জেলা ও উপজেলা প্রশাসন নিজ নিজ জেলা বা উপজেলা হিসাবরক্ষণ কার্যালয় থেকে বরাদ্দের অর্থ উত্তোলন করবে। এ জন্য সংশ্লিষ্ট হিসাবরক্ষণ কার্যালয়ে সারণি অনুযায়ী মোট বরাদ্দের অথরিটি পাঠাতে চিফ একাউন্টস অ্যান্ড ফিন্যান্স অফিসারকে অনুরোধ করা হয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের আদেশে বলা হয়েছে, ছাড়কৃত অর্থ চলতি অর্থবছরের বাজেটের নির্ধারিত দাফন বাবদ অনুদান খাতে সমন্বিত হবে।
জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা যথাযথ বিলের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট জেলা বা উপজেলা ট্রেজারি থেকে অর্থ উত্তোলন করবেন।
শর্ত অনুযায়ী, মুক্তিযোদ্ধার মৃতদেহ সৎকার, সমাহিত ও মৃতদেহ পরিবহন ব্যতীত অন্য কোনো উদ্দেশে এ অর্থ ব্যয় করা যাবে না।
অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে সরকারি আর্থিক বিধি-বিধান ও নিয়মাচার যথাযথভাবে অনুসরণ করতে হবে। কোনো অনিয়ম হলে সংশ্লিষ্ট বিতরণকারী কর্তৃপক্ষকে দায়ী থাকতে হবে।
এ ছাড়া ৩০ জুন ২০২৭ তারিখের পর কোনো অর্থ অব্যয়িত থাকলে, তা সরকারি কোষাগারের নির্ধারিত খাতে জমা দিয়ে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়কে অবহিত করতে হবে।
মন্ত্রণালয়ের আদেশে দেশের ৬৪ জেলার জেলা প্রশাসক ও সব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে আদেশটি প্রকাশের জন্য সিস্টেম এনালিস্টকেও অনুরোধ করা হয়েছে।
আদেশে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপসচিব (বাজেট) ডা. মু. আসাদুজ্জামান স্বাক্ষর করেন।
তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী আন্দালিব রহমান পার্থ বলেছেন, ‘বাংলাদেশ কোনো যুদ্ধ, নিরাপত্তা ইস্যু, ভূখণ্ড দখল বা শোষণের বিষয়ে আগ্রহী নয়। দেশের উন্নয়ন ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশই বাংলাদেশের প্রধান অগ্রাধিকার।’
শনিবার (৩ অক্টোবর) রাজধানীতে পঞ্চম বে অব বেঙ্গল কনভারসেশনে আয়োজিত এক সেশনে তিনি এসব কথা বলেন।
আন্দালিব রহমান পার্থ বলেন, ‘আমি অবাক হয়েছিলাম যে আপনারা যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান নিয়ে কথা বলছেন না। কারণ বর্তমান বৈশ্বিক সংকট শুধু চীনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। আমরা সবাই এখন বৈশ্বিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি নিরাপত্তার ভুক্তভোগী।’
তিনি বলেন, ‘বিশ্ব রাজনীতিতে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের সমস্যাটি সহজে শেষ হওয়ার নয়। এর মূল বিষয় হলো একে অপরকে ছাড়িয়ে যাওয়ার প্রতিযোগিতা এবং আমি চাই না তুমি ধনী হও-এমন একটি মানসিকতা।’
তিনি আরও বলেন, ‘১৯৮০ বা ১৯৯০-এর দশকে ভারত ও চীন প্রায় একই অবস্থানে ছিল। কিন্তু চীন কৃষি খাত থেকে উৎপাদনমুখী শিল্পে মনোযোগ দেয়, আর ভারত কৃষি থেকে সেবা খাতে চলে যায়। এর ফলে চীন অনেক বেশি এগিয়ে যায় এবং ভারত প্রতিযোগিতায় কিছুটা পিছিয়ে পড়ে।’
তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা বিশ্ব সম্প্রদায়ের একটি অংশ এবং আমরা স্থিতিশীলতা চাই, কারণ আমরা উন্নতি করতে চাই। আমেরিকা ও চীনের মতো দেশগুলো হয়তো ভূরাজনৈতিক দ্বন্দ্ব সামলাতে পারবে, কারণ তারা উৎপাদনের দিক থেকে অনেক এগিয়ে। কিন্তু আমরা ভোক্তাপর্যায়ে আছি।’
তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রতিদিনের চিন্তা হলো খাদ্য, শিক্ষা, চিকিৎসা ও সামাজিক নিরাপত্তা। যুদ্ধ বা অস্থিতিশীলতায় জড়ানোর মতো সময় আমাদের নেই। দিন শেষে আমরাই এসবের ভুক্তভোগী।’
বিশ্বের বিভিন্ন সংঘাতের প্রভাবে জ্বালানি সংকটের কথাও তুলে ধরেন তিনি। তার ভাষ্য, ‘যে যুদ্ধের সঙ্গে বাংলাদেশের কোনো সম্পর্ক নেই, সেই যুদ্ধের প্রভাবেও দেশকে বেশি দামে জ্বালানি কিনতে হচ্ছে।’
তিনি বলেন, ‘আমরা কোনো যুদ্ধে জড়াতে চাই না। আমরা চাই চীন, যুক্তরাষ্ট্রসহ পরাশক্তিগুলো আমাদের উন্নতি ও স্থিতিশীলতার জন্য সহযোগিতা করুক।’
বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্ম, ঐতিহ্য ও সাংস্কৃতিক শেকড়ের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘দেশের মানুষের সক্ষমতা রয়েছে এবং তারা কঠোর পরিশ্রম করতে প্রস্তুত। বাংলাদেশের প্রয়োজন স্থিতিশীলতা, যাতে মানুষ শান্তিতে কাজ করতে পারে এবং দেশের উন্নয়ন এগিয়ে নিতে পারে।’
‘নতুন করে গড়ে ওঠা এক বিশ্বে ক্ষমতা, প্রযুক্তি ও আস্থার পথচলা’ স্লোগানে রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে এ সম্মেলনের আয়োজন করেছে সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস)।
সিজিএস আয়োজিত বে অব বেঙ্গল কনভারসেশনে শতাধিক দেশের প্রায় ২০০ জন বক্তা, ৩০০ জন প্রতিনিধি এবং এক হাজারের বেশি অংশগ্রহণকারী অংশ নিয়েছেন। এতে সাবেক রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান, মন্ত্রী, কূটনীতিক, গবেষক, সাংবাদিক, ব্যবসায়ী, নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি, উদ্ভাবক ও তরুণ নেতৃত্ব অংশ নিয়েছেন। তিন দিনব্যাপী এ আন্তর্জাতিক সম্মেলন কাল ৫ অক্টোবর শেষ হবে।
জয়পুরহাটের আক্কেলপুরে বালু উত্তোলন ও মাদক কারবার নিয়ে বিরোধের জেরে বিএনপির এক নেতা ও তার স্ত্রীকে ছুরিকাঘাতের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত জিয়া পরিষদের এক নেতাও আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। গত শুক্রবার (২ অক্টোবর) রাত ৮টার পর রুকিন্দীপুর ইউনিয়নের চক রোয়াইড গ্রামের মোড়ের আজাদুলের দোকানের সামনে এ ঘটনা ঘটে।
আহত ব্যক্তিরা হলেন রুকিন্দীপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সহসভাপতি আলমগীর হোসেন আলম (৪৮), তার স্ত্রী মাহবুবা খাতুন (৪০) এবং অভিযুক্ত উপজেলা জিয়া পরিষদের নেতা আতিয়ার রহমান সুমন। তারা সবাই আক্কেলপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
আলমগীর হোসেনের অভিযোগ, প্রায় এক মাস ধরে আতিয়ার রহমানের ছত্রছায়ায় গ্রামের একটি ফসলি জমি থেকে বালু উত্তোলন করে ইটভাটায় বিক্রি করা হচ্ছিল। ট্রাক্টর চলাচলে গ্রামের রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় তিনি গ্রামবাসীর পক্ষে প্রতিবাদ করেন। এ নিয়ে বিরোধের জেরে আতিয়ার তাকে ও তার স্ত্রীকে ছুরিকাঘাত করেন।
তবে আতিয়ার রহমান এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তিনি বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িত নন। আলমগীর মাদক কারবারে জড়িত থাকায় প্রতিবাদ করায় তিনি হামলার শিকার হয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বালু উত্তোলন নিয়ে বিরোধের বিষয়ে গ্রামবাসী থানায় অভিযোগ করেছিলেন। পরে পুলিশ বালুবাহী ট্রাক্টর আটকে দিলেও আবার তা চলাচল শুরু করে। এ নিয়ে উপজেলা বিএনপি নেতাদের সঙ্গে আলোচনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। এর আগেই শুক্রবার (২ অক্টোবর) রাতে দুই পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটি ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
রুকিন্দীপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আমিনুর ইসলাম ছোয়াত বলেন, ‘বালু উত্তোলন নিয়ে দুই পক্ষের বিরোধ চলছিল। শনিবার (৩ অক্টোবর) তাদের নিয়ে বৈঠকের কথা ছিল।’
আক্কেলপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী হাসান মাসুদ বলেন, ‘ছুরিকাঘাতের ঘটনা শুনেছেন। তবে এ ঘটনায় এখনো কেউ অভিযোগ করেননি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’