বিমানের নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস হয়েছিল খোদ প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. যাহিদ হোসেনের কক্ষ থেকে। তিনি প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক প্রশাসন হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন। নিয়োগ পরীক্ষার আগে ওই কক্ষেই প্রশ্নগুলো ফটোকপি করা হয়। ফটোকপির দায়িত্বে ছিলেন এমডির দপ্তরের কর্মী জাহিদ হাসান। ফটোকপির ফাঁকে তিনি মোবাইল ফোনে প্রশ্নপত্রের একটি ছবি তুলে নেন। পরবর্তী সময়ে পরিকল্পনা অনুযায়ী সেই প্রশ্ন ফাঁস করা হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
তবে বিমানের এমডি মো. যাহিদ হোসেন দৈনিক বাংলার কাছে দাবি করেছেন, তার কক্ষ থেকে প্রশ্ন ফাঁস হওয়ার কথা ঠিক না।
মামলার তদন্ত ও আদালত সূত্র বলছে, বিমানের প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনায় যে ১০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয় তাদের মধ্যে ৯ জন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। প্রশ্ন ফাঁসের সঙ্গে নিজেদের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করে তারা ঊর্ধ্বতন একাধিক কর্মকর্তার নাম বলেছেন।
তবে বিষয়টি স্পর্শকাতর হওয়ার কারণে এ নিয়ে কেউ সরাসরি মন্তব্য করেননি।
ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের প্রধান ও অতিরিক্ত কমিশনার মোহাম্মদ হারুন অর রশিদ দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘আমরা ঘটনাটি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করছি। যারা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত, তাদের আইনের আওতায় আনার প্রক্রিয়া চলছে। আগামীকাল (বৃহস্পতিবার) তদন্তের অগ্রগতির বিষয়ে ব্রিফিং করা হবে।’
সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, প্রশ্ন ফাঁস চক্রের সঙ্গে জড়িত একাধিক ব্যক্তির মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়। পরে তা বিশ্লেষণ করে ফাঁস হওয়া প্রশ্নপত্র একাধিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে পাঠানোর প্রমাণ পেয়েছে তদন্ত সংস্থা ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। মামলার এজাহারেও বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, সেই প্রশ্নগুলো বিমানের মহাব্যবস্থাপক (নিরাপত্তা) তাইজ ইবনে আনোয়ারের ব্যক্তিগত ও দাপ্তরিক নম্বরের হোয়াটসঅ্যাপে ও এমএলএসএস জাকিরের কাছে পাঠানোর প্রমাণ পাওয়া গেছে। এ ছাড়া জাফি ও মাহাবুব আলী নামে দুই ব্যক্তির হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরেও ওই প্রশ্নপত্র পাঠানো হয়। মাহাবুব আলী এমডির গাড়িচালক হিসেবে কাজ করেন। বক্তব্য জানতে এমএলএসএস জাকির ও গাড়িচালক মাহাবুবের মোবাইল নম্বরে ফোন করলে দুজনের নম্বরই বন্ধ পাওয়া যায়। গোয়েন্দা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ঘটনার পর থেকেই তারা পলাতক। তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান চালানো হচ্ছে।
দাপ্তরিক ও ব্যক্তিগত দুই হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে ফাঁস হওয়া প্রশ্ন যাওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে বিমানের মহাব্যবস্থাপক (নিরাপত্তা) তাইজ ইবনে আনোয়ার দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘আমার মোবাইলে এমন কোনো প্রশ্ন আসেনি। প্রশ্নপত্র ফটোকপি করার সময় আমি ওই কক্ষে ছিলামও না।’
প্রশ্নপত্র প্রস্তুতে ছিল না পর্যাপ্ত নিরাপত্তা
বিমানের একটি সূত্র বলছে, বিমানের নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র তৈরি, ফটোকপি ও বিতরণের কোনো অংশেই পর্যাপ্ত নিরাপত্তাব্যবস্থা নেয়া হয়নি। বিমানের এমডি নিজ কক্ষে নিয়মিত বসলেও প্রশাসন বিভাগের পরিচালকের অতিরিক্ত দায়িত্ব পালনের কারণে প্রশাসন পরিচালকের কক্ষেও তিনি মাঝে মাঝে বসতেন। ওই কক্ষেই নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফটোকপি করা হয়। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সেখানেও নিরাপত্তাব্যবস্থায় ঘাটতি ছিল।
বিমানের নিয়োগ পরীক্ষার জন্য পাঁচ সদস্যের যে কমিটি করা হয় তার প্রধান ছিলেন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. যাহিদ হোসেন। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) মুহাম্মদ নিজাম উদ্দীন আহাম্মেদ, বাংলাদেশ এয়ারলাইনস ট্রেনিং সেন্টারের (বিএটিসি) অধ্যক্ষ এ বি এম নাজমুল হুদা, মহাব্যবস্থাপক (জিএসই) তাইজ ইবনে আনোয়ার, মহাব্যবস্থাপক আইটি (ভারপ্রাপ্ত) মো. আনোয়ারুল হক।
জানা গেছে, প্রশ্নপত্র তৈরির পর পরীক্ষায় ব্যবহারের জন্য ফটোকপি করার সময় কমিটির দুই সদস্য সেখানে ছিলেন না। তাদের পরিবর্তে অন্য দুজন কর্মকর্তাকে সেই কক্ষে প্রবেশ এবং অবস্থানের অনুমতি দেয়া হয়। এ ছাড়া কমিটির সদস্যসহ কর্মচারীদের কাউকেই দেহ তল্লাশি বা মোবাইল ফোন সঙ্গে নিয়ে সেখানে আছেন কি না তাও যাচাই করা হয়নি।
নিয়োগ কমিটির অন্যতম সদস্য মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) মুহাম্মদ নিজাম উদ্দীন আহাম্মেদ দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘আমাদের এখানে মুঠোফোন সঙ্গে নিয়ে আসা নিষেধ ছিল। এ কারণে নতুন করে চেক করা হয়নি। ফটোকপির সময় আমরা উপস্থিত ছিলাম। কিন্তু এর ফাঁকেই ফটোকপির দায়িত্বে থাকা জাহিদ হয়তো ছবি তুলতে পারে।’
কমিটির সদস্যদের উপস্থিতিতেই কীভাবে প্রশ্ন ফাঁস হলো জানতে চাইলে মুহাম্মদ নিজাম উদ্দীন আহাম্মেদ বলেন, ‘আমরাও বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করছি। তদন্তের পর বিস্তারিত বলা যাবে।’
কমিটির আরেক সদস্য এ বি এম নাজমুল হুদা এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। সদস্য মো. আনোয়ারুল হক দাবি করেন, তিনি কমিটির সদস্যই ছিলেন না।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে বিমানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. যাহিদ হোসেন দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘আমি পরিচালক প্রশাসনের অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করলেও কক্ষটিতে নিয়মিত বসি না। মাঝেমধ্যে দাপ্তরিক কাজে যেতে হয়। ফলে সরাসরি আমার কক্ষ থেকেই প্রশ্নটি ফাঁস হয়েছে তা ঠিক না।’
প্রশ্নপত্র প্রণয়নে যথাযথ নিরাপত্তাব্যবস্থার অভাব প্রসঙ্গে অতিরিক্ত সচিব পদমর্যাদার বিমানের এই শীর্ষ কর্মকর্তা বলেন, ‘সেখানে মহাব্যবস্থাপক (নিরাপত্তা) উপস্থিত ছিলেন। নিরাপত্তার বিষয়টি তার দেখার কথা।’ প্রশ্নপত্র ফটোকপি করার সময় মহাব্যবস্থাপক (নিরাপত্তা) উপস্থিত ছিলেন না জানালে এমডি বলেন, ‘তার তো থাকার কথা। এ বিষয়ে আমরাও একটি ইনকোয়ারি করছি। ইনকোয়ারির পর এ বিষয়ে বিস্তারিত বলা যাবে।’
তবে গোয়েন্দা সূত্র জানিয়েছে, প্রশ্ন ফাঁসে যারা সরাসরি জড়িত, তাদের পাশাপাশি তদারকির দায়িত্বে যারা ছিলেন তাদের দায়ও পর্যালোচনা করা হবে। এ ক্ষেত্রে কেউ দায় এড়াতে পারবেন না।
তদন্তে অসহযোগিতা বিমানের
এদিকে নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস হওয়ার ঘটনা তদন্তে অসহযোগিতা করার অভিযোগ উঠেছে খোদ বিমানের বিরুদ্ধে। তদন্তসংশ্লিষ্ট গোয়েন্দা কর্মকর্তারা বলছেন, তারা একাধিকবার তদন্তের বিষয়ে কথা বলার জন্য বিমানের এমডির সঙ্গে যোগাযোগ করলেও তিনি তাতে সাড়া দেননি। উল্টো তিনি পুলিশি তদন্ত বাধাগ্রস্ত করতে নানা জায়গায় তদবির করেছেন।
গোয়েন্দা পুলিশের দায়িত্বশীল একজন কর্মকর্তা বলেন, ‘আমরা তাকে পুরো প্রক্রিয়াটি জানানো এবং জানার জন্য গোয়েন্দা কার্যালয়ে আসার অনুরোধ করেছিলাম। কিন্তু তিনি কোনোভাবেই গোয়েন্দা কার্যালয়ে আসতে রাজি হননি।’
তবে বিমানের এমডি অসহযোগিতার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘আমরা নিয়মিত তদন্তসংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলছি। যাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে, সঙ্গে সঙ্গেই তাদের চাকরিচ্যুত করা হয়েছে।’
তদন্তসংশ্লিষ্ট একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনায় যাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে, আগেও একবার তারা নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস করেছিল বলে জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছেন। তার পরও ‘সুনাম ক্ষুণ্ন হবে’ মনে করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। ফাঁস হওয়া প্রশ্নে পরীক্ষা দিয়ে বর্তমানে অনেকেই বিমানের বিভিন্ন পদে চাকরি করছেন।
গত ২১ অক্টোবর বেলা ৩টায় বিমানের ১০ পদের বিপরীতে নিয়োগ পরীক্ষা হওয়ার কথা ছিল। পরীক্ষার আগেই প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগে প্রথমে দক্ষিণখান এলাকা থেকে বিমানের অফিস সহায়ক হারুনুর রশিদকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে এমটি অপারেটর মোহাম্মদ মাহফুজুল আলম ও এনামুল হককে গ্রেপ্তার করা হয়। একই দিন পৃথক অভিযানে দক্ষিণখানের মধুবাগ এলাকা থেকে এমটি অপারেটর জাহাঙ্গীর আলমকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর বিমানের প্রধান কার্যালয়ের সামনে থেকে গ্রেপ্তার করা হয় অফিস সহায়ক আওলাদ হোসেনকে।
গোয়েন্দা কর্মকর্তারা জানান, প্রথমে গ্রেপ্তার হওয়া পাঁচজনকে ৫৪ ধারায় আদালতে সোপর্দ করে ছয় দিনের রিমান্ডে নেয়া হয়। তাদের তথ্যের ভিত্তিতে দুই দিন পর প্রশ্ন ফাঁসের মূল হোতা জাহিদ হাসান ও সামজু ওরফে সোবহানকে গ্রেপ্তার করেন গোয়েন্দারা। ২৪ অক্টোবর ফরিদপুর থেকে গ্রেপ্তার করা হয় মাসুদকে। তাদেরও প্রথমে ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে তিন দিনের রিমান্ডে নেয় গোয়েন্দা পুলিশ। পরবর্তী সময়ে জাভেদসহ আরও দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার ১০ জনের মধ্যে ৯ জনই আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
বিমান ও গোয়েন্দা সূত্র জানিয়েছে, জাহিদ ও আওলাদ এমডির দপ্তরের অফিস সহায়ক হিসেবে কাজ করতেন। সোবহান ও জাভেদ পরিচালক প্রশাসনের দপ্তরের অফিস সহায়ক। বাকিরা এমটি অপারেটর (গাড়িচালক) হিসেবে কাজ করতেন। গ্রেপ্তার মাসুদ বিমানের মহাব্যবস্থাপক (নিরাপত্তা) তাইজ ইবনে আনোয়ারের গাড়ি চালান। জাহাঙ্গীর আলম আগে তাইজ ইবনে আনোয়ারের গাড়ি চালাতেন।
গোয়েন্দা সূত্র বলছে, বিমানের এমডির বর্তমান গাড়িচালক মাহবুব আলী এই চক্রের অন্যতম একজন হোতা। ঘটনার পর থেকেই তিনি আত্মগোপনে আছেন। তাকে গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান চালানো হচ্ছে।
দীর্ঘ ৬০ বছরের ঐতিহ্যবাহী ভোলা প্রেসক্লাবের নির্বাচন উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হয়েছে। এতে সভাপতি পদে ইন্ডিপেন্ডেন্ট টিভির ভোলা জেলা প্রতিনিধি নজরুল হক অনু এবং সাধারণ সম্পাদক পদে সময় টিভির অ্যাসোসিয়েট সিনিয়র রিপোর্টার ও দৈনিক সমকালের জেলা প্রতিনিধি নাসির উদ্দীন লিটন নির্বাচিত হয়েছেন।
শনিবার (১১ এপ্রিল) সকাল ১০টা থেকে শুরু হওয়া ভোটগ্রহণ শান্তিপূর্ণভাবে দুপুর ১টা পর্যন্ত চলে। পরে দুপুর ২টার দিকে ফলাফল ঘোষণা করেন নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান প্রফেসর মো. জামাল হোসেন।
নির্বাচনে মোট ৫টি পদে ১৬ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এর মধ্যে সভাপতি পদে ৩ জন, সহসভাপতি পদে ৩ জন, সাধারণ সম্পাদক পদে ৬ জন, যুগ্ম সম্পাদক পদে ২ জন এবং কোষাধ্যক্ষ পদে ২ জন প্রার্থী ছিলেন। মোট ৪৬ জন ভোটারের মধ্যে ৪৫ জন তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন।
অন্যান্য পদে নির্বাচিতরা হলেন—সহসভাপতি পদে দৈনিক মাতৃছায়ার প্রতিনিধি মো. সুলাইমান, যুগ্ম সম্পাদক পদে একাত্তর টিভির প্রতিনিধি মো. কামরুল ইসলাম এবং কোষাধ্যক্ষ পদে দৈনিক যায়যায়দিনের স্টাফ রিপোর্টার নুরে আলম ফয়জুল্লাহ। দপ্তর সম্পাদক পদে দেশ টিভির প্রতিনিধি ছোটন সাহা নির্বাচিত হয়েছেন। নির্বাহী সদস্য পদে দুইটির মধ্যে একটিতে মো. মোতাছিন বিল্লাহ বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন।
তবে নির্বাহী কমিটির ১১টি পদের মধ্যে ক্রীড়া, সংস্কৃতি ও পাঠাগার সম্পাদক পদে কোনো প্রার্থী মনোনয়নপত্র সংগ্রহ না করায় পদগুলো শূন্য রয়েছে। এছাড়া নির্বাহী সদস্য পদের একটি পদে মনোনয়ন জমা দিলেও পরে তা প্রত্যাহার করায় সেটিও শূন্য থাকে।
নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন ভোলা সরকারি কলেজের উপাধ্যক্ষ প্রফেসর মো. জামাল হোসেন। কো-চেয়ারম্যান ছিলেন কলেজ শিক্ষক সমিতির জেলা সভাপতি মো. এনামুল হক এবং জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক ইয়ারুল আলম লিটন। নির্বাচন কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট মো. ইউছুফ, জেলা আইনজীবী সমিতির সহ-সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ তোয়াহা, সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট মো. আরিফুর রহমান এবং সোনালী অতীত ক্লাবের সভাপতি খন্দকার আল আমিন।
নবনির্বাচিত সভাপতি নজরুল হক অনু ও সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দীন লিটন প্রতিক্রিয়ায় বলেন, দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর উৎসবমুখর পরিবেশে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং ভোটাররা তাদের মূল্যবান ভোট দিয়ে আমাদের নির্বাচিত করেছেন। তারা প্রবীণ ও নবীন সাংবাদিকদের সমন্বয়ে প্রেসক্লাব পরিচালনা এবং স্থানীয় সাংবাদিকদের উন্নয়নে কাজ করার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
অপরদিকে নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান প্রফেসর মো. জামাল হোসেন ফলাফল ঘোষণার পর সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, জেলা প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, সাংবাদিক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গের সহযোগিতায় একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজন সম্ভব হয়েছে।
চুয়াডাঙ্গাসহ সারাদেশে দীর্ঘদিনের সংস্কারহীন খাল ও জলাশয়গুলোর কারণে সৃষ্ট সেচ সংকট ও জলাবদ্ধতা নিরসনে কঠোর অবস্থান ঘোষণা করেছেন পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী (এ্যানি)। শনিবার (১১ এপ্রিল) দুপুরে চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার বেলগাছি ইউনিয়নে একটি গুরুত্বপূর্ণ খাল পুনঃখনন কর্মসূচির উদ্বোধনকালে তিনি এ হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। মন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন, যারা অবৈধভাবে খাল দখল করে জনজীবনে দুর্ভোগ সৃষ্টি করেছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। খাল খনন ও পুনরুদ্ধারে সরকার এখন 'জিরো টলারেন্স' নীতি অনুসরণ করবে।
এর আগে মন্ত্রী কোদাল দিয়ে মাটি কেটে আনুষ্ঠানিকভাবে ৭ কিলোমিটার দীর্ঘ এই খাল পুনঃখনন কাজের সূচনা করেন। ১ কোটি ৫১ লাখ ৩৬ হাজার টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়িত হতে যাওয়া এই খালের তলদেশের গড় প্রস্থ ৭ মিটার এবং গড় গভীরতা ১.৫ মিটার নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রকল্পটি সম্পন্ন হলে এলাকার প্রায় ৫,২০০ কৃষক সরাসরি সেচ সুবিধা পাবেন এবং জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তি পাবেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী বলেন, অতীতে অনেক খাল ভরাট ও লিজ দেওয়ার ফলে প্রাকৃতিক পানির প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়েছে। বাংলাদেশকে বাঁচাতে হলে এবং কৃষি উৎপাদন সচল রাখতে হলে খাল পুনরুদ্ধারের কোনো বিকল্প নেই। তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের খাল খনন কর্মসূচিকে একটি 'যুগান্তকারী উদ্যোগ' হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, বর্তমান সরকার সেই ধারাবাহিকতা বজায় রেখে দেশের উন্নয়ন ও কৃষি অর্থনীতিকে এগিয়ে নিতে কাজ করছে। কৃষিবান্ধব নীতির অংশ হিসেবে সরকার ইতোমধ্যে প্রায় ১,৫০০ কোটি টাকার কৃষিঋণ সুদসহ মওকুফ করেছে।
জলবায়ু পরিবর্তন ও পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে মন্ত্রী জানান, পরিবেশ রক্ষায় সরকার আগামী ৫ বছরে দেশে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের বিশাল পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। খননকৃত খালের দুই তীরে বনায়ন করার পাশাপাশি সেখানে মাছ ও হাঁস চাষের সুযোগ সৃষ্টি করা হবে। এছাড়া স্থানীয়দের কর্মসংস্থানের কথা চিন্তা করে খনন কাজে যন্ত্রের পাশাপাশি নারী ও পুরুষ শ্রমিকদের সম্পৃক্ত করা হবে। মন্ত্রী সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সতর্ক করে দিয়ে বলেন, খাল খনন কাজে কোনো ধরনের অনিয়ম বা দুর্নীতি সহ্য করা হবে না।
আলমডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী অফিসার পান্না আক্তারের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মাসুদ পারভেজ রাসেল, পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রধান প্রকৌশলী শাজাহান সিরাজ, জেলা প্রশাসক মিজ লুৎফন নাহার, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রুহুল কবীর খান, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. শরীফুজ্জামান শরীফ এবং জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।
হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী অবসরপ্রাপ্ত এমপিওভুক্ত বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের বর্ধিত হারে অবসর ভাতা ও কল্যাণ ভাতা দ্রুত প্রদানের দাবিতে বরিশালে মানববন্ধন বিক্ষোভ মিছিল ও সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (১১ এপ্রিল) সকাল ১০টায় নগরীর অশ্বিনী কুমার হল চত্বরে অবসরপ্রাপ্ত এমপিওভুক্ত বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারি কল্যাণ সমিতি স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসা বরিশাল জেলা কমিটি র উদ্যোগে আয়োজিত এসব কর্মসূচিতে জেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা অংশ নেন। অনুষ্ঠিত সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের জেলা সভাপতি অধ্যক্ষ (অব.) সুভাষ চন্দ্র পাল। পরে সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল নগরীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে বরিশাল সিটি কলেজ মিলনায়তনে গিয়ে শেষ হয়।
পরে সেখানে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন সংগঠনের জেলা সাধারণ সম্পাদক উপাধ্যক্ষ মো. আনোয়ারুল হক।
সংবাদ সম্মেলনে নেতৃবৃন্দ বলেন, দেশের মোট শিক্ষাব্যবস্থার প্রায় ৯৫ শতাংশ দায়িত্ব পালন করলেও বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীরা দীর্ঘদিন ধরে আর্থিক ও সামাজিক বৈষম্যের শিকার হয়ে আসছেন। কর্মজীবনের পর অবসরকালীন সময়ে এসে তাদের জীবন আরও দুর্বিষহ হয়ে পড়ছে।
তারা জানান, অবসর গ্রহণের পর ৪ থেকে ৫ বছর পর্যন্ত অবসর ভাতা ও কল্যাণ ভাতা না পাওয়ায় বহু শিক্ষক-কর্মচারী মানবেতর জীবনযাপন করছেন। চিকিৎসা ও খাদ্যের অভাবে অনেকের মৃত্যুর ঘটনাও ঘটছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক ও অমানবিক।
সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, এই সমস্যার সমাধানে তাদের একজন হিতাকাঙ্ক্ষী বিপ্লব কান্তি দাস ২০১৯ সালে মহামান্য হাইকোর্টে একটি রিট দায়ের করেন। এর প্রেক্ষিতে আদালত ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ তারিখে রায় প্রদান করেন। রায়ে বলা হয়, পূর্বের ৬ শতাংশের সঙ্গে অতিরিক্ত ৪ শতাংশসহ মোট ১০ শতাংশ কর্তনের ভিত্তিতে অবসরপ্রাপ্ত এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বর্ধিত হারে অবসর ভাতা ও কল্যাণ ভাতা অবসর গ্রহণের ছয় মাসের মধ্যে প্রদান করতে হবে।
কিন্তু দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও সেই রায় বাস্তবায়ন হয়নি বলে অভিযোগ করেন শিক্ষক নেতারা। তারা বলেন, হাইকোর্টের সুস্পষ্ট নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উদাসীনতায় হাজার হাজার শিক্ষক-কর্মচারী তাদের ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, গত ২২ ডিসেম্বর তারিখে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে শিক্ষা উপদেষ্টার বরাবরে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে। এছাড়া ৭ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে বরিশাল সফরকালে শিক্ষা মন্ত্রীর কাছে সরাসরি আবেদন জানানো হলে তিনি বিষয়টি গুরুত্বসহকারে বিবেচনার আশ্বাস দেন।
শিক্ষক নেতারা তাদের ৫ দফা দাবির মধ্যে উল্লেখ করেন, অবসর গ্রহণের ৬ মাসের মধ্যে অবসর ভাতা ও কল্যাণ ভাতা পরিশোধ।বিলম্ব হলে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জিপিএফের মতো আনুপাতিক হারে অতিরিক্ত আর্থিক সুবিধা প্রদান।সরকারি কর্মচারীদের ন্যায় উৎসব ভাতা, বৈশাখী ভাতা ও চিকিৎসা ভাতা প্রদান। অবসরপ্রাপ্তদের জন্য ন্যায়সংগত আর্থিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, আমরা জীবনের সেরা সময় শিক্ষার্থীদের জন্য উৎসর্গ করেছি। কিন্তু অবসরে এসে আমাদের মৌলিক চাহিদা পূরণ করাই কঠিন হয়ে পড়েছে। এটি শুধু আর্থিক নয়, এটি গভীর মানবিক সংকট।
সংগঠনের সভাপতি অধ্যক্ষ অব. সুভাষ চন্দ্র পাল বলেন, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের জীবনের শেষ সময়টুকু সম্মানের সঙ্গে কাটানোর অধিকার রয়েছে। হাইকোর্টের রায় বাস্তবায়ন হলে তাদের দুর্ভোগ অনেকটা লাঘব হবে।
সাধারণ সম্পাদক উপাধ্যক্ষ অব.আনোয়ারুল হক বলেন, আমরা সরকারের কাছে বিনীতভাবে অনুরোধ করছি দ্রুত কার্যকর ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ গ্রহণ করে এই দীর্ঘদিনের সমস্যা সমাধান করা হোক।
সংবাদ সম্মেলন শেষে নেতৃবৃন্দ হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, তাদের ৫ দফা দাবি দ্রুত বাস্তবায়ন না হলে আগামীতে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন,অধ্যক্ষ মো. মিজানুর রহমান সেলিম, অধ্যক্ষ আবুল কাশেম, আনিসুর রহমান, সাবেক ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ শাহে আলম, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. ফারুক বিন ওয়াহিদ, সহ-সভাপতি মো. শাহে আলম, অধ্যক্ষ আনিসুর রহমানসহ বিভিন্ন উপজেলা ও মহানগরের নেতৃবৃন্দ। এছাড়া কর্মচারীদের পক্ষ থেকে বক্তব্য দেন রফিকুল ইসলাম বাবুল, এবং উপস্থিত ছিলেন আমিনুর রহমান খোকন, হারুন-অর-রশিদসহ বিভিন্ন উপজেলার প্রতিনিধিরা।
কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলায় ধর্ম অবমাননার অভিযোগ ঘিরে এক ব্যক্তিকে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। উত্তেজিত জনতা তার আস্তানায় হামলা চালিয়ে তাকে বেধড়ক মারধর ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে। এ সময় সেখানে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটে।
আজ শনিবার বেলা আড়াইটার দিকে উপজেলার ফিলিপনগর ইউনিয়নের ফিলিপনগর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত ব্যক্তির নাম শামীম রেজা ওরফে জাহাঙ্গীর। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তিনি মৃত জেছের আলীর ছেলে। ঢাকায় পড়াশোনা শেষ করে একসময় শিক্ষকতা করতেন। পরে এলাকায় ফিরে এসে একটি আস্তানা স্থাপন করেন।
বিকেল পৌনে পাঁচটার দিকে গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসীম উদ্দীন। তিনি বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ওই ব্যক্তির একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে, তাতে ইসলাম ধর্ম নিয়ে আপত্তিকর বক্তব্য দেওয়া রয়েছে। তবে ভিডিওটি অনেক আগের হলেও সম্প্রতি নতুন করে ছড়িয়ে পড়ায় এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয় এবং মানুষ সেখানে হামলা চালায়। তিনি আরও জানান, পুলিশ তাকে উদ্ধার করলেও বিক্ষুব্ধ জনতার তুলনায় সদস্য সংখ্যা কম থাকায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা যায়নি এবং তাকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে।
পুলিশ সুপার আরও বলেন, ‘এলাকার পরিস্থিতি শান্ত আছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিপুলসংখ্যক সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। কারা কীভাবে ভিডিওটি নতুন করে সামনে নিয়ে এল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এলাকায় আমি নিজে যাচ্ছি। কয়েক মিনিটের মধ্যে পৌঁছে যাব।’
এর আগে ২০২১ সালের মে মাসে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতসহ বিভিন্ন অভিযোগে তার বিরুদ্ধে দৌলতপুর থানায় মামলা হয়। তখন পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠায়। দীর্ঘদিন কারাভোগের পর মুক্তি পেয়ে তিনি আবার একই ধরনের কর্মকাণ্ড শুরু করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, তিনি প্রকাশ্যে পবিত্র কোরআন সম্পর্কে অবমাননাকর মন্তব্য করেছেন, যা ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের অনুভূতিতে আঘাত করে। আজ সকাল থেকেই তার কর্মকাণ্ড ঘিরে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের আগেই ক্ষুব্ধ জনতা তার আস্তানায় হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে।
পিরোজপুর সদর উপজেলা পরিষদ চত্বরের অভ্যন্তরীণ পরিবেশ এবং সম্মুখ ভাগের প্রধান সড়ক সংলগ্ন এলাকাকে পরিচ্ছন্ন ও নান্দনিক রাখতে এক বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মামুনুর রশীদের বিশেষ উদ্যোগে ও সরাসরি তত্ত্বাবধানে দিনব্যাপী এই কর্মসূচি পালিত হয়।
উপজেলা পরিষদের মূল প্রশাসনিক ভবনের চারপাশ, কর্মকর্তাদের বাসভবন এলাকা এবং অফিসের সম্মুখস্থ বাগানে জমে থাকা দীর্ঘদিনের আগাছা ও ঝোপঝাড় পরিষ্কার করা হচ্ছে। একই সাথে পরিষদের অভ্যন্তরীণ ড্রেনগুলো পরিষ্কারের মাধ্যমে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা সচল করা হয়েছে। কেবল চত্বরের ভিতরেই নয়, পরিষদের প্রধান প্রবেশপথ এবং সীমানা প্রাচীরের বাহিরের অংশকেও এই অভিযানের আওতায় আনা হয়েছে। রাস্তার ধারের ময়লা-আবর্জনা ও ঝোপঝাড় অপসারণের ফলে পুরো এলাকায় এখন দৃষ্টিনন্দন পরিবেশ বিরাজ করছে।
তদারকিকালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মামুনুর রশীদ বলেন, “জনস্বাস্থ্যের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা একটি সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছি। এই পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রতি শনিবার উপজেলার প্রতিটি দপ্তর, ইউনিয়ন পরিষদ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বাণিজ্যিক কেন্দ্র এবং আবাসিক এলাকায় একযোগে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। আমাদের লক্ষ্য হলো এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করা এবং একটি পরিচ্ছন্ন উপজেলা গড়ে তোলা।”
তিনি আরও বলেন, “সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি এই লড়াইয়ে প্রতিটি নাগরিকের সক্রিয় অংশগ্রহণ অপরিহার্য। ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া থেকে বাঁচতে সচেতনতার কোনো বিকল্প নেই। আমি উপজেলার সকল শ্রেণি-পেশার মানুষকে বিনীত অনুরোধ জানাচ্ছি, আপনারা প্রতি শনিবার নিজ নিজ অফিস প্রাঙ্গণ, বাসভবন এবং আশেপাশের এলাকা পরিষ্কার রাখুন। কোথাও যেন পানি জমে না থাকে সেদিকে তীক্ষ্ণ নজর দিন।”
ইউএনও আরও উল্লেখ করেন যে, সরকারি অফিসে সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষ যাতে একটি স্বাস্থ্যকর ও মনোরম পরিবেশ পায়, তা নিশ্চিত করা প্রশাসনের দায়িত্ব। এই পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম নিয়মিত অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি জানান।
উপজেলা প্রশাসনের এই সময়োপযোগী উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন স্থানীয় সুশীল সমাজ ও সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। তাদের মতে, নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার ফলে চত্বরের সৌন্দর্য বৃদ্ধির পাশাপাশি মশার উপদ্রব হ্রাস পাবে এবং একটি আদর্শ কর্মপরিবেশ বজায় থাকবে।
ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈলে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তাকে (পিআইও) তার কার্যালয়ে ঢুকে মারধরের মামলায় গণঅধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি মামুনুর রশিদ মামুনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
শুক্রবার (১০ এপ্রিল) রাতে দিনাজপুরের সুইহারি ড্রাইভার পাড়া এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
মামলার বিবরণ ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) রাণীশংকৈল উপজেলা পরিষদে দাপ্তরিক কাজ করার সময় পিআইও নুরনবী সরকার ও তার দপ্তরের এক কর্মচারীর ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ওইদিন রাতেই পিআইও বাদী হয়ে মামুনুর রশিদ মামুনসহ ৫ জন এবং অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। মামলার পর ওই রাতেই জিয়াউর রহমান নামে এক আসামিকে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠায় পুলিশ।
পিআইও নুরুন্নবী সরকার অভিযোগ করেন, মামুন ও তার সহযোগীরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে অফিসে ঢুকে তার ওপর হামলা চালান এবং অফিস তছনছ করেন। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তে তিনি আইনি ব্যবস্থা নিয়েছেন।
এদিকে ঘটনার একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, ওইদিন পিআইওর কক্ষ থেকে বের হওয়ার সময় উপজেলা ছাত্রদলের একদল নেতাকর্মী ইউএনও অফিসের সিঁড়িতে মামুনকে পথরোধ করে হামলা চালায়। এ ঘটনায় রাণীশংকৈল উপজেলা অফিসার্স ক্লাব প্রতিবাদ বিবৃতি দিয়েছে। এছাড়াও সরকারি কর্মকর্তার ওপর হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসার সমিতি এবং ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তার কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ।
তবে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে ভিন্ন চিত্র। রাণীশংকৈল উপজেলা পিআইও নুরনবী সরকারের বিরুদ্ধে আগে থেকেই উচ্ছৃঙ্খল আচরণের অভিযোগ রয়েছে।
সম্প্রতি লেহেমবা ইউনিয়নের এক ইউপি সদস্যকে ‘পুঁতে ফেলার’ হুমকি দেওয়ার অডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়। সেবাগ্রহীতাদের হয়রানি ও অশ্লীল বাক্য ব্যবহারের প্রতিবাদে এলাকায় মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভাও অনুষ্ঠিত হয়েছে।
এ বিষয়ে গণঅধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় নেতা মামুনুর রশিদ মামুন এর আগে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খতিজা বেগমের কাছে অভিযোগ করেছিলেন। ইউএনও জানান, পিআইওর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য জেলা প্রশাসককে অবগত করা হয়েছিল। অভিযোগ রয়েছে, এরপরও ওই কর্মকর্তা সংযত হননি। সর্বশেষ মঙ্গলবার রাতে মামুনুর রশিদ পিআইওর কার্যালয়ে গিয়ে তাকে ‘শাসন’ করতে গেলে এই অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
রাণীশংকৈল থানার এই মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা রহমতুল্লাহ রনি গ্রেফতারের সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, দিনাজপুর কোতোয়ালী থানা পুলিশের সহযোগিতায় অভিযান চালিয়ে প্রধান আসামি মামুনুর রশিদ মামুনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
কক্সবাজারের উখিয়ার বালুখালী সীমান্তের শূন্যরেখায় স্থলমাইন বিস্ফোরণে এক রোহিঙ্গা যুবক গুরুতর আহত হয়েছেন। শুক্রবার দিকে উপজেলার পালংখালী ইউনিয়নের বালুখালী সীমান্তসংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
আহত যুবকের নাম মো. সাদেক (২৫)। তিনি উখিয়ার বালুখালী ১০ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের এফ-১৩ ব্লকের বশির আহমদের ছেলে।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) উখিয়া-৬৪ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. জহিরুল ইসলাম।
বিজিবি সূত্র জানায়, সাদেকসহ কয়েকজন নাফ নদের মিয়ানমার অংশে মাছ ধরতে গেলে হঠাৎ একটি বিস্ফোরণ ঘটে। এতে তিনি গুরুতর আহত হয়ে নদীর তীরে পড়ে যান। বিস্ফোরণে তার বাঁ পায়ের গোড়ালি বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে কুতুপালংয়ের এমএসএফ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে অবস্থার অবনতি হলে তাকে কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
এর আগে, গত ২৯ মার্চ একই সীমান্ত এলাকায় স্থলমাইন বিস্ফোরণে আব্দুল হাকিম (১৫) নামে এক রোহিঙ্গা কিশোর আহত হয়েছিল। তিনি ১৯ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাসিন্দা।
স্থানীয়দের আশঙ্কা, সীমান্তবর্তী মিয়ানমার অংশে স্থাপিত স্থলমাইনের কারণে এ ধরনের দুর্ঘটনা বেড়ে চলেছে, যা সীমান্ত এলাকার মানুষের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করছে।
দুই দিনের সফরে নিজ জেলা লালমনিরহাটে যাওয়ার পথে নীলফামারীর সৈয়দপুর বিমানবন্দরে গিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু। তাকে আনতে ইতোমধ্যেই ঢাকা থেকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্স রওনা হয়েছে।
শনিবার (১১ এপ্রিল) দুপুর ১২টা ৪০ মিনিটে বিষয়টি নিশ্চিত করেন সৈয়দপুর রাজনৈতিক জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুর গফুর সরকার।
তিনি বলেন, দুই দিনের সফরে লালমনিরহাট সফরে আজকে (শনিবার) সকালে ঢাকা থেকে বিমানযোগে এসে সৈয়দপুর বিমানবন্দরে নামেন আসাদুল হাবিব দুলু। তিনি রেস্টরুমে গিয়ে বসে নেতাকর্মীদের সঙ্গে আলোচনা করছিলেন। এ সময় হঠাৎ মাথা ঘুরে অস্বস্তি ও অসুস্থতা বোধ করেন মন্ত্রী। পরে তাকে দ্রুত সৈয়দপুর সেনানিবাসের সিএমএইচ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
গফুর সরকার আরও বলেন, পরে নেতাকর্মীদের পরামর্শে মন্ত্রীকে দুপুর ১২টা ১০ মিনিটের বিমানে ঢাকায় পাঠানোর প্রস্তুতি নেওয়া হয়। তবে তার শারীরিক অবস্থা ভালো না হওয়ায় বিমানে যেতে পারেননি। পরে তাকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে ঢাকায় নেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। ঢাকা থেকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্স রওনা হয়েছে সৈয়দপুর পৌঁছালে সেটিতে মন্ত্রীকে ঢাকায় নেওয়া হবে।
চট্টগ্রামের দুই নম্বর গেট এলাকার চিটাগং শপিং কমপ্লেক্সে আগুন লেগেছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের ৫টি ইউনিট কাজ করছে।
আজ (শনিবার) সকাল ৯টা ৪৫ মিনিটের দিকে আগুনের সূত্রপাত।
চট্টগ্রামের ফায়ার সার্ভিসের নিয়ন্ত্রণ কক্ষের অপারেটর বলেন, ৯টা ৪৫ মিনিটের দিকে আগুনে খবর আসে। এরপর ফায়ার সার্ভিসের ৫টি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে। বিস্তারিত পরে জানাতে পারবো।
স্থানীয়দের ধারণা, চিটাগং শপিং কমপ্লেক্সের দ্বিতীয় তলার গুদাম থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। তবে ফায়ার সার্ভিসের আগুনের সূত্রপাত নিয়ে কোনো তথ্য জানায়নি।
বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে পৃথক অভিযানে অ্যান্টি-পারসোনেল মাইন, ইম্প্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস (আইইডি) সহ বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক সরঞ্জাম উদ্ধার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। এ ঘটনায় সীমান্তবর্তী এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
শুক্রবার (১০ এপ্রিল) বিজিবির এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়। এর আগে ভোর পৌনে ৫টার দিকে সীমান্ত পিলার ৫৩ ও ৫৪-এর মধ্যবর্তী ছড়াপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে এসব সামগ্রী উদ্ধার করা হয়।
উদ্ধার বিস্ফোরক সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে—পাঁচটি অ্যান্টি-পারসোনেল মাইন, পাঁচটি আইইডি, একটি ডেটোনেটর, একটি সোলার প্যানেল, বিস্ফোরক তৈরির বিভিন্ন উপকরণ, একটি মোবাইল ফোন, একটি পাওয়ার ব্যাংক এবং কিছু সিভিল পোশাক।
বিজিবির এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ভোরে নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্ত সড়কের ছড়াপাড়া এলাকায় একটি বিশেষ টহল দল অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় বিজিবি সদস্যদের উপস্থিতি টের পেয়ে সন্দেহভাজনরা ব্যাগ ফেলে গহীন পাহাড়ে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে তল্লাশি চালিয়ে পরিত্যক্ত অবস্থায় এসব বিস্ফোরক উদ্ধার করা হয়।
অন্যদিকে গত বৃহস্পতিবার রাতে বাইশফাঁড়ী এলাকায় পৃথক আরেকটি অভিযানে সীমান্ত পিলার ৩৭/২-সংলগ্ন বাংলাদেশের অভ্যন্তরে একটি আমবাগানে মালিকানাবিহীন অবস্থায় দাহ্য পদার্থ উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে প্রায় ৩ কেজি দাহ্য পদার্থ, মেপোক্স, নাইলন কাপড় ও দাহ্য রাসায়নিক তরল।
কক্সবাজার ৩৪ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এস এম খায়রুল আলম জানান, উদ্ধার হওয়া মাইন ও আইইডি তাৎক্ষণিকভাবে বালুর বস্তা দিয়ে নিরাপদ করা হয়েছে এবং লাল পতাকা দিয়ে চিহ্নিত করা হয়েছে। জননিরাপত্তার স্বার্থে ঘটনাস্থলে সাময়িকভাবে যান চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে এবং অতিরিক্ত টহল জোরদার করা হয়েছে।
এদিকে ১১ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফয়জুল কবির বলেন, ‘উদ্ধার হওয়া বিস্ফোরক সামগ্রী পরীক্ষার জন্য চট্টগ্রামের বিশেষায়িত রাসায়নিক পরীক্ষাগারে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
নওগাঁয় কোচিং সেন্টারের সামনে থেকে তাহরিম তাওবা নামের পঞ্চম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে অপহরণের চেষ্টা চালিয়েছে দুর্বৃত্তরা। পরে ওই স্কুলছাত্রী পালিয়ে একটি বাড়িতে আশ্রয় নিলে অপহরণের হাত থেকে রক্ষা পায় সে। ঘটনার পর থেকে শিক্ষার্থীর পরিবার আতঙ্কে দিন পার করছে। ঘটনার পর গতকাল শুক্রবার শিক্ষার্থীটির পরিবার নওগাঁ সদর মডেল থানায় এজাহার দায়ের করেছে।
গত বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) শহরের কেডির মোড় এলাকার ‘পাঠশালা স্ট্যাডি কেয়ার একাডেমি’ নামের একটি কোচিং সেন্টারের সামনে থেকে তাহরিম তাওবাকে অপহরণ করে দুর্বৃত্তরা। তাহরিম তাওবা শহরের খাস-নওগাঁ এলাকার মোরশেদুল আলমের মেয়ে।
এবং শহরের পিটিআই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী।
থানায় এজাহার এবং ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) সকাল ৭টার দিকে শহরের কেডির মোড় এলাকার কোচিং সেন্টারে তাহরিম তাওবাকে রেখে আসে তার বাবা।
এরপর সকাল ৯টার দিকে মেয়েকে কোচিং থেকে নিতে আসলে মেয়ের খোঁজ পায়নি বাবা। এরপর কোচিংয়ের শিক্ষকদের জিজ্ঞেস করলে তারা জানায় আপনার মেয়ে কলম কেনার জন্য বাইরে গেছে, এরপর আর ফিরে আসেনি।
তাহরিম তাওবার বাবা মোরশেদুল আলম বলেন, ‘মেয়েকে কোচিংয়ে না পেয়ে অনেক খোঁজাখুঁজি করেছি। একপর্যায়ে একটি মোবাইল ফোন থেকে জানানো হয় তার মেয়ে শহরের দয়ালের মোড় এলাকার একটি বাসায় রয়েছে। পরে সেখান থেকে তাহরিম তাওবাকে বাসায় নিয়ে আসে তার বাবা। পরবর্তীতে জানতে পারেন একটি মাইক্রোবাসে ওই শিক্ষার্থীকে অপহরণ করেছিল দুর্বৃত্তরা।’
এ বিষয়ে শিক্ষার্থী তাহরিম তাওবা বলেন, ‘আমার কলমের কালি শেষ হয়ে যাওয়ায় কলম কিনতে বাইরে আসি। এরপর হঠাৎ করেই আমার সামনে একটি মাইক্রোবাস এসে দাঁড়ায় এবং মাইক্রো থেকে একটি লোক বের হয়ে আছে। খাটো করে মাথায় কিছুটা টাক ছিল। পেছন দিক থেকে কয়েকজন এসে আমার চোখে রুমাল দিয়ে গাড়িতে তুলে নেয়। পরে যখন আমার জ্ঞান ফিরে তখন দেখি পরিত্যক্ত একটি বাড়িতে আমাকে নেওয়া হয়েছে। ওখানে জানালা, দরজা কিছুই ছিল না। এ সময় ওই লোকটা ফোনে কথা বলতে বলতে বাসার সিঁড়ি দিয়ে উপরে ওঠে যাচ্ছিল। এ সুযোগে দৌড়ে পালিয়ে আসি। অনেক দৌড়ানোর পরে একটি বাড়ির গেট খোলা পেয়ে সেই বাড়িতে ঢ়োকে পড়ি। তাদের আমার বাবার ফোন নম্বর বললে তখন তারা আমার বাবাকে জানায়। এরপর বাবা ওখান থেকে আমাকে বাসায় নিয়ে আসে।’
ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে তাহরিম তাওবা দয়ালের মোড়ের যে বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছিলেন সে বাড়িটির মালিক মোহাম্মদ আখতারুজ্জামান বলেন, ‘বাসা থেকে আমার মেয়ে ফোন করে ঘটনার কথা বলে। এরপর বাড়ি ফিরে দেখি বেডরুমে আমার আম্মা এবং আমার স্ত্রী মেয়েটিকে বেডের ওপর ঘিরে রেখে বসে আছে। মেয়েটি আমাকে দেখে আরও ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে পড়ে। কিছুক্ষণ যাওয়ার পর মেয়েটি স্বাভাবিক হয়। তখন তার সঙ্গে কথা বলি। সে আমাদের বলে কয়েকজন মিলে তাকে কোচিং সেন্টারের সামনে থেকে কিডন্যাপ করে একটি মাইক্রোতে উঠিয়ে আনে। মেয়েটিকে তখন তার বাবার নাম জিজ্ঞেস করি সে বলে মোরশেদ। তখন তার কাছ থেকে তার বাবার ফোন নম্বর নিয়ে কল করি। এরপর তার বাবা এসে মেয়েটিকে আমাদের কাছ থেকে নিয়ে যায়।’
এ বিষয়ে নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন, এ বিষয়টি সম্পর্কে শুনেছি। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়েছিল। এ বিষয়ে তদন্ত চলমান রয়েছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার বালুচর ইউনিয়নের মোল্লাবাজার সেতুর নির্মাণকাজ দ্রুত শেষ করার দাবিতে মানববন্ধন ও স্মারকলিপি দিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। দীর্ঘদিনেও সেতুর কাজ শেষ না হওয়ায় এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে। শুক্রবার (১০ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার বালুচর ইউনিয়নের খাসমহল চৌরাস্তায় এ মানববন্ধন হয়।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, ধলেশ্বরী শাখা নদীর ওপর নির্মাণাধীন মোল্লাবাজার সেতুর কাজ ২০১৮ সালে শুরু হলেও প্রায় আট বছরেও তা শেষ হয়নি। একাধিকবার সময়সীমা বাড়ানো হলেও বাস্তবে কাজের অগ্রগতি অত্যন্ত ধীর। বর্তমানে প্রায় ৮০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হলেও মূল সেতুর গুরুত্বপূর্ণ অংশ এখনো বাকি রয়েছে। গত কয়েক মাস ধরে নির্মাণকাজ প্রায় বন্ধ রয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ৩৩ কোটি ২৭ লাখ টাকা ব্যয়ে ২৫২ মিটার দৈর্ঘ্যের সেতুটি নির্মাণের দায়িত্বপ্রাপ্ত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করতে ব্যর্থ হওয়ায় সম্প্রতি ওই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি বাতিল করা হয়েছে। তবে নতুন করে কাজ কবে শুরু হবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, ইটভাটার মালিকদের ফেরি চলাচল, প্রভাবশালীদের হস্তক্ষেপ, নকশাগত জটিলতা ও সমন্বয়হীনতার কারণে প্রকল্পটি বারবার বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। নদীর মাঝখানে কাজ শুরু করলেও ইটবাহী ট্রলার চলাচলের কারণে তা বন্ধ রাখতে হচ্ছে।
বক্তারা আরও বলেন, সেতুটি চালু হলে মুন্সিগঞ্জের চারটি উপজেলার মানুষের ঢাকায় যাতায়াত সহজ হবে। বর্তমানে বিকল্প সড়ক দিয়ে ঢাকায় যেতে প্রায় ৪২ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে হয় এবং সময় লাগে আড়াই থেকে তিন ঘণ্টা। অথচ সেতুটি চালু হলে মাত্র ৩০ মিনিটেই ঢাকায় পৌঁছানো সম্ভব হবে।
এদিকে সেতুর কাজ শেষ না হওয়ায় ঝুঁকি নিয়ে ট্রলার ও দেশীয় ফেরিতে নদী পারাপার করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। জনপ্রতি পাঁচ টাকা ও মোটরসাইকেল ২০ টাকা ভাড়ায় পারাপার করতে হচ্ছে। ফেরির জন্য ১৫ থেকে ২০ মিনিট অপেক্ষা করতে হচ্ছে বলেও জানান তারা।
মানববন্ধন থেকে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে স্মারকলিপি দেওয়া হয়। এ ছাড়া সিরাজদিখান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও কেরানীগঞ্জ এলজিইডি কর্মকর্তার কাছেও স্মারকলিপি দেওয়া হয়।
কর্মসূচিতে বক্তারা পাঁচ দফা দাবি তুলে ধরেন। দাবিগুলো হলো, আগামী ছয় মাসের মধ্যে সেতুর নির্মাণকাজ সম্পন্ন করা, সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহি নিশ্চিত করা, নতুন সময়সীমা নির্ধারণ ও প্রকাশ করা, কাজের গুণগত মান নিশ্চিতে মনিটরিং টিম গঠন এবং বিকল্প যাতায়াতব্যবস্থা নিরাপদ করা।
বক্তারা বলেন, সেতুটি চালু হলে যোগাযোগ, শিক্ষা ও স্থানীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। কিন্তু দীর্ঘসূত্রতার কারণে প্রকল্পটি ঝুলে থাকায় জনদুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। তাই দ্রুত সেতুর কাজ সম্পন্নে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন তারা।
মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন অবসরপ্রাপ্ত আইসিটি কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম, নটর ডেম বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জমির হোসেন, সমাজসেবক সাহাব উদ্দিন বাদল, বালুচর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাজি মো. আওলাদ হোসেন, সমাজসেবক আব্দুল মতিন, মো. মোশারফ হোসেন, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, রাজনৈতিক নেতারা, শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার সহস্রাধিক মানুষ।
ময়মনসিংহের ঐতিহ্যবাহী গৌরীপুর রেলওয়ে জংশন। ব্রিটিশ শাসনামলে ১৯১৭ সালে ব্রহ্মপুত্রের পূর্বপাড়ে এটি গড়ে তোলা হয়। বর্তমানে জনবল সংকট, জরাজীর্ণ অবকাঠামো নিয়ে শতাব্দী প্রাচীন স্টেশনটির ভগ্নদশা। স্থানীয়দের দাবি, আধুনিক সুযোগ-সুবিধা, ডিজিটাল প্রযুক্তি ও উন্নত অবকাঠামো দিয়ে এই পুরোনো স্টেশনটিকে অত্যাধুনিক করা হোক।
জানা গেছে, ব্যস্ততম এই জংশনে প্রতিদিন তিনটি আন্তনগর ট্রেন, দুটি কমিউটার, দুটি মেইল ও একটি লোকাল ট্রেন আসা-যাওয়া করে। জংশনে প্রতিদিন পাঁচ শতাধিক যাত্রী ট্রেনে ওঠানামা করে। তবে যাত্রীদের জন্য নেই কোনো বিশ্রামাগার। পুরো স্টেশনে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকে ময়লা-আবর্জনা। সামান্য বৃষ্টি হলেই ছাউনি দিয়ে গড়িয়ে পড়ে পানি। স্টেশনের একমাত্র ফুটওভারব্রিজটি বহুদিন ধরে জরাজীর্ণ ও ব্যবহারে অনুপযোগী হয়ে রয়েছে। ব্রিটিশ আমলে নির্মিত দালানকোঠা, যাত্রীছাউনি, প্ল্যাটফর্ম, স্লিপার ও বিভিন্ন অবকাঠামোর মেয়াদোত্তীর্ণ হয়ে গেছে অনেক বছর আগে। ওয়েটিং রুমসহ টয়লেটগুলোর পানির সাপ্লাই লাইন বহুদিন ধরে নষ্ট হয়ে আছে। রেলের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বারবার পরিদর্শন করে গেলেও অবকাঠামোর কাঙ্ক্ষিত সংস্কার হয়নি আজও।
ঢাকা থেকে নেত্রকোনা জেলার মোহনগঞ্জ পর্যন্ত হাওর এক্সপ্রেস ও মোহনগঞ্জ এক্সপ্রেস, চট্টগ্রাম থেকে জামালপুর পর্যন্ত বিজয় এক্সপ্রেস আন্তনগর ট্রেন, চট্টগ্রাম থেকে ময়মনসিংহ হয়ে যমুনা সেতুর পূর্ব পাড় পর্যন্ত নাসিরাবাদ নামে দুটি মেইল ট্রেন, ঢাকা থেকে জারিয়া-ঝাঞ্জাই পর্যন্ত বলাকা ও ঢাকা থেকে মোহনগঞ্জ পর্যন্ত মহুয়া কমিউটার ট্রেন গৌরীপুর জংশন হয়ে যাওয়া-আসা করে। এ ছাড়া ময়মনসিংহ থেকে জারিয়া পর্যন্ত একটি লোকাল ট্রেন এই জংশন হয়ে চারবার আপ-ডাউন করে। এত ব্যস্ত জংশন হওয়ার পরও এটির ভাগ্যে উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি।
গৌরীপুর পৌর শহরের নতুন বাজার মহল্লার নজরুল ইসলাম বলেন, ‘প্রতিদিন শত শত যাত্রী যাতায়াত করে এই স্টেশন হয়ে, অথচ বসার একটু জায়গা নেই, বৃষ্টিতে ছাউনি দিয়ে পানি পড়ে, যাত্রীরা চা-স্টলে বসে থাকেন ট্রেনের অপেক্ষায়। কেবল শুনি, স্টেশনের উন্নয়ন হবে, ৪০ বছর স্টেশনে কাটিয়ে দিলাম, কত সরকার এলো-গেল এই স্টেশনের উন্নয়ন আর হলো না।’
গৌরীপুর রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার সফিকুল ইসলাম বলেন, ‘স্টেশনের অবকাঠামো ব্রিটিশ আমলের। স্টেশনে আলাদা ৯টি দপ্তরে ৩৫ জনের স্থলে জনবল আছে ২৪ জন। লাইন ছয়টির স্থলে তিনটি সচল আছে। বিশেষ করে ট্রেনের সিগন্যাল ও লাইন পরিবর্তনের জন্য স্টেশনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে প্যানেল বোর্ডটি অনেক পুরোনো ও মেয়াদোত্তীর্ণ। এটি প্রায়ই কাজ করে না। সিগন্যালম্যান তিনজনের স্থলে আছে একজন, নিরাপত্তাকর্মী নয়জনের স্থলে পাঁচজন, পরিচ্ছন্নতাকর্মী ছয়জনের স্থলে আছে একজন।’ তিনি আরও বলেন, ‘স্টেশনের বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে সবকিছু অবহিত করা হয়েছে। তারা স্টেশনটি পরিদর্শনও করে গেছেন।’
গৌরীপুর রেলওয়ে জংশনের নিরাপত্তা বাহিনীর ইনচার্জ মো. মোরশেদ আলম বলেন, ‘জনবল সংকট থাকলেও আমরা ২৪ ঘণ্টা নিরাপত্তা সেবা দিয়ে যাচ্ছি। এ ক্ষেত্রে সবার অতিরিক্ত ডিউটি করতে হচ্ছে।’
ময়মনসিংহ রেলওয়ের সিনিয়র সহকারী নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নাজমুল ইসলাম বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে কিছু সংস্কারের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে চাহিদা পাঠিয়েছি। আশা করছি, শিগগিরই বরাদ্দ পাব।’ গৌরীপুরে অত্যাধুনিক রিমডেলিং স্টেশন দাবিকে সময়োপযোগী ও যৌক্তিক উল্লেখ করে এ ক্ষেত্রে সরকারের সদিচ্ছাকে অগ্রাধিকার দেন তিনি।