সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬
৫ শ্রাবণ ১৪৩৩

কক্সবাজার ‘মহাপরিকল্পনা’ প্রণয়নে জনপ্রতিনিধিদের মতবিনিময় সভা

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড
১০ জুন, ২০২৪ ২১:৪৯
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত : ১০ জুন, ২০২৪ ২১:৪৫

পরিকল্পিত নগরায়ণ ও উন্নয়নের লক্ষ্যে ‘কক্সবাজার জেলার মহাপরিকল্পনা প্রণয়ন’ শীর্ষক এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

আজ সোমবার সকালে টেকনাফ পৌরসভার বার্মিজ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মতবিনিময় সভাটি অনুষ্ঠিত হয়। সভার আয়োজন করে কক্সবাজার জেলা মহাপরিকল্পনা প্রণয়ন প্রকল্পের পরামর্শক প্রতিষ্ঠান এডহক সি.এস.সি।

প্রকল্পের ডেপুটি টিম লিডার খন্দকার নিয়াজ রহমানের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন টেকনাফ পৌরসভার প্যানেল মেয়র মুজিবুর রহমান।

খন্দকার নিয়াজ রহমান বলেন, কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের বাস্তবায়নাধীন মহাপরিকল্পনা প্রণয়নের এ প্রকল্পটির মাঠ পর্যায়ের কাজ গত বছর অক্টোবর মাস থেকে শুরু হয়েছে। আগামী বছর মার্চ-এপ্রিলের মধ্যে তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ ও জরিপের কাজ শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে। পরবর্তীতে ৩ থেকে ৪ মাস সময় নেওয়া হবে বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষের মতামত নিতে।

তিনি আরও জানান, প্রকল্পের মাধ্যমে কক্সবাজার জেলার উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের কৌশলগত পরিকল্পনা তৈরি করা হবে এবং কক্সবাজার-রামু ও টেকনাফের মহাপরিকল্পনা তৈরি হবে। নতুন করে প্রণয়ন করতে যাওয়া এ মহাপরিকল্পনায় সর্বস্তরের জনগণকে সম্পৃক্ত করে করা হচ্ছে। এতে আগামীতে কক্সবাজারের যে উন্নয়ন হবে তাতে আমূল পরিবর্তনের ছোঁয়া লাগবে।

কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (কউক) সূত্রে জানা যায়, কক্সবাজার জেলার মহাপরিকল্পনা প্রণয়ন বাস্তবায়নে প্রকল্পটির আওতায় কক্সবাজার জেলার নয়টি উপজেলা এবং সমুদ্র সৈকত এলাকাসহ মোট ৬৯০.৬৭ বর্গ কি.মি. এলাকার ডিটেইল্ড এরিয়া প্ল্যানের (উঅচ) আওতায় আসবে এবং সমগ্র কক্সবাজার জেলার ২৪৯১.৮৩ বর্গ কিলোমিটার এলাকার জন্য স্ট্রাকচার প্ল্যান প্রণয়ন করা হবে।

কউকের বাস্তবায়নাধীন মহাপরিকল্পনা প্রণয়ন প্রকল্পের এ মতবিনিময় সভায় টেকনাফ পৌরসভা ও উপজেলার সকল ইউপি চেয়ারম্যান, মেয়র, কাউন্সিলর এবং ইউপি সদস্যরাসহ বিভিন্ন শ্রেণীপেশার মানুষ অংশ নেন। মতবিনিময় সভায় ইউপি চেয়ারম্যান ও সদস্য, পৌর মেয়র ও কাউন্সিলাররা মতামত ব্যক্ত করেন।

‘কক্সবাজার জেলার মহাপরিকল্পনা প্রণয়ন’ শীর্ষক প্রকল্পের তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহের নিমিত্তে প্যারিস আরবান এন্ড রিজিওনাল অ্যাসেসমেন্ট’ বিষয়ে আলোচনা সভাটি অনুষ্ঠিত হয়।


নির্বাচিত

নওগাঁয় গুঁড়িয়ে দেওয়া হলো ১৬ হাজার ৬১ বোতল ফেনসিডিল

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নওগাঁ প্রতিনিধি

নওগাঁয় বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য (ফেনসিডিল) ধ্বংস করেছে প্রশাসন। সোমবার (২০ জুলাই) দুপুরে নওগাঁ জেলা প্রশাসকের কার্যলায় চত্বরে রোলার দিয়ে এসব মাদক ধ্বংস করা হয়।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন নওগাঁ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ও ভারপ্রাপ্ত ম্যাজিস্ট্রেট (মালখানা) আরেফিন রহমান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ( প্রশাসন ও অর্থ) মনিরুল ইসলামসহ পুলিশের কর্মকর্তারা।

জানা যায়, গত ৬ বছরে জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে মাদককারবারিদের কাছে থেকে এসব মাদকদ্রব্য (ফেনসিডিল) মাদক জব্দ করা হয়েছিল। মামলার পর এসব মাদক মালখানায় রাখা হয়েছিল। পরবর্তীতে এসব ধ্বংস করা হয়। এ সময় জেলা ফায়ার সার্ভিসের টিম সহযোগিতা করে।

নওগাঁ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ও ভারপ্রাপ্ত ম্যাজিস্ট্রেট (মালখানা) আরেফিন রহমান বলেন, ‘২০১৫ সাল থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত (৬ বছর) ১৫১টি মামলায় এসব মাদকদ্রব্য জব্দ করা হয়েছিল। যার পরিমাণ ১৬ হাজার ৬১ পিস। পরে সকলের উপস্থিতিতে এসব ধ্বংস করা হয়।’


নির্বাচিত

কুমিল্লায় আরও এক শিশুর মৃত্যু, মোট প্রাণহানি ১৪

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মাহফুজ নান্টু, কুমিল্লা

জাতীয় হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন শেষ হলেও কুমিল্লায় হামের প্রকোপ পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি। প্রতিদিনই নতুন রোগী শনাক্ত হওয়ার পাশাপাশি বাড়ছে মৃত্যুর সংখ্যাও। গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছরে কুমিল্লায় হাম সন্দেহে ও পরীক্ষায় নিশ্চিত মিলিয়ে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৪ জনে।

মারা যাওয়া শিশুটির নাম রায়হান (১৮ মাস)। তার বাবার নাম ইমাম হোসেন। তাদের বাড়ি কুমিল্লার বরুড়া উপজেলায়। হামের উপসর্গ নিয়ে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের তথ্যানুযায়ী, নতুন করে ১৫ জন সন্দেহজনক হামরোগী শনাক্ত হয়েছেন। তাদের মধ্যে ১২ জনের শরীরে পরীক্ষার মাধ্যমে হাম নিশ্চিত হয়েছে। একই সময়ে ১৫ জন নতুন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এবং চিকিৎসা শেষে ১৮ জন হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন।

চলতি বছরের ১৯ জুলাই পর্যন্ত জেলায় মোট ৩ হাজার ১৯ জন সন্দেহজনক হামরোগী শনাক্ত হয়েছেন। এর মধ্যে পরীক্ষায় ৪৮২ জনের হাম নিশ্চিত হয়েছে। এ সময়ে হাম সন্দেহে ১৩ জন এবং পরীক্ষায় নিশ্চিত হামে একজনের মৃত্যু হয়েছে। ফলে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৪ জনে। একই সময়ে মোট ২ হাজার ৫৬৫ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে চিকিৎসা শেষে ২ হাজার ৫০২ জন হাসপাতাল ছেড়েছেন।

কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. মিয়া মনজুর আহমেদ এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘হামের উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।’ পাশাপাশি শিশুদের নির্ধারিত সময়ে টিকা নিশ্চিত করতে অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

এদিকে টিকাদান ক্যাম্পেইনের পরও কেন হাম ও হাম-সম্পর্কিত মৃত্যু পুরোপুরি কমছে না—এ বিষয়ে কুমিল্লার সিভিল সার্জন ডা. আলী নূর মোহাম্মদ বশীর আহমেদ বলেন, ‘যেসব শিশু মারা গেছে, তারা টিকা পেয়েছিল কি না, সেটি খতিয়ে দেখতে হবে। তবে আগের তুলনায় জেলায় হামে আক্রান্তের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এসেছে।’


নির্বাচিত

যশোরে পৃথক দুটি অভিযানে ৩ মাদক ব্যাবসায়ীকে মাদক সহ আটক করেছে র‍্যাব-৬

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা

যশোরের শার্শায় পৃথক দুইটি অভিযান চালিয়ে ২৬৯ বোতল উইনকেরেক্স এবং ৭৪৪ বোতল স্কাফসহ তিনজন মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করেছে র‍্যাব-৬।

গতকাল রবিবার (১৯ জুলাই) যশোর জেলার শার্শা থানাধীন গোবিনাথপুর বটতলা এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে অবৈধ মাদকদ্রব্য ২৬৯ বোতল উইনকেরেক্স এবং ৩০ বোতল স্কাফসহ দুইজন মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারকৃত আসামিরা হলেন যশোরের শার্শা থানাধীন বটতলা গ্রামের বাসিন্দা মোঃ কামাল হোসেনের ছেলে মোঃ বশির (২২) এবং মোঃ সানাউল্লাহ এর ছেলে মিনহাজ।এবং বিকালে যশোরের শার্শা থানাধীন টেংরালী বাউন্ডারিপাড়া এলাকায় অপর এক অভিযান পরিচালনা করে ৭৪৪ বোতল স্কাফসহ একজন মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারকৃত আসামি হলেন যশোরের শার্শা থানাধীন টেংরালিপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মোঃ হোসেন আলীর ছেলে আবু বক্কর (৩৬)। উদ্ধারকৃত মাদকদ্রব্য উপস্থিত সাক্ষীদের সম্মুখে বিধি মোতাবেক জব্দ করা হয়।

পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহনের নিমিত্তে যশোর জেলার শার্শা থানায় গ্রেফতারকৃত আসামিদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে নিয়মিত মামলা রুজু পূর্বক উদ্ধারকৃত আলামত ও আসামিদেরকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।


নির্বাচিত

খুলনায় ৪ দিনের বৃষ্টিতে মৎস্য ও কৃষি খাতে ক্ষতি ১৩০ কোটি ৫০ লাখ টাকা

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
খুলনা ব্যুরো

চার দিনের টানা ভারী বৃষ্টিপাতে খুলনা অঞ্চলের মৎস্য ও কৃষি খাতে আনুমানিক ১৩০ কোটি ৫০ লাখ টাকারও বেশি ক্ষতি হয়েছে। মৎস্য অধিদপ্তর এবং কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী এ তথ্য পাওয়া গেছে।

খুলনা বিভাগের মৎস্য অধিদপ্তরের পরিচালক মো. জাহাঙ্গীর আলম জানিয়েছেন, ভারী বৃষ্টিপাতে বিভাগের ১০টি জেলা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে; এর মধ্যে খুলনা, বাগেরহাট ও সাতক্ষীরায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে।

তিনি জানান, বিভাগে মোট ৪,৭৬৪টি পুকুর এবং ২,৮০৮টি দিঘি ও মাছের ঘের ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে; এর মধ্যে শুধুমাত্র মৎস্য খাতেই প্রায় ১২৬ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে এবং মোট ক্ষতির প্রায় ৭০ শতাংশই হয়েছে চিংড়ি চাষিদের।

তবে তিনি জানান, মোট ক্ষতির মধ্যে সাদা মাছ চাষিরা ৭৩ কোটি টাকার ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন। এ ছাড়া চিংড়ি খাতে ১৫ কোটি, মাছের পোনা খাতে ৯ কোটি এবং কাঁকড়া ও কুচিয়া খাতে ২৯ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।

দেশের অন্যতম প্রধান চিংড়ি চাষের কেন্দ্রস্থল ডুমুরিয়া এলাকাটি সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেখানে প্রায় ৬৫০টি মৎস্য ঘের ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় প্রায় ৮ কোটি ৬০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।

সূত্র জানায়, বাঁধ ও মাছ চাষের অবকাঠামোসহ বিভিন্ন স্থাপনার ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৬ কোটি টাকা বলে ধারণা করা হচ্ছে। অবিরাম বৃষ্টিপাত এবং নদীর পানির উচ্চতা বেড়ে যাওয়াকে এই ক্ষতির কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন খুলনা বিভাগের মৎস্য অধিদপ্তরের পরিচালক মো. জাহাঙ্গীর আলম।

পুরস্কারপ্রাপ্ত চিংড়ি চাষি মাহতাব হোসেন বলেন, ‘চিংড়ি চাষ মৌসুমের শুরুতেই এমন প্রবল বৃষ্টিপাতের কথা চাষিরা আগে ধারণা করতে পারেননি। আমরা সবেমাত্র চিংড়ির পোনা ছাড়তে শুরু করেছি এবং এই উৎপাদন প্রক্রিয়া আরও ৬ মাস চলবে। এই ক্ষতি পুষিয়ে উঠতে সময় লাগবে।’ তিনি বলেন, ‘পাশাপাশি তিনি সতর্ক করেন যে, আরও বৃষ্টিপাত হলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে।’

এদিকে, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (ডিএই) কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, খুলনা জেলায় ফসলের ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ১৪ কোটি ৫০ লাখ টাকা বলে ধারণা করা হচ্ছে।

খুলনা অঞ্চলের কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (ডিএই) অতিরিক্ত পরিচালক মো. রফিকুল ইসলাম জানান, এতে ৭,৭৩৬ জন কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন এবং প্রায় ১৮০.৩ হেক্টর ফসলি জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন তরমুজ চাষিরা। তাদের ক্ষতির পরিমাণ আনুমানিক ৬.৫ কোটি টাকা। অন্যদিকে, ধান ও সবজি চাষে ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করা হয়েছে প্রায় ৮ কোটি টাকা।

তিনি বলেন, ‘জমি থেকে দ্রুত পানি নেমে যাওয়ায় কৃষকরা খুব শীঘ্রই এই ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে পারবেন; পাশাপাশি কৃষকরা আমন ধানের বিশাল আকারের বীজতলা প্রস্তুত রেখেছিলেন এবং বিএডিসি-র ১০০ টন বীজও মজুত ছিল।’

তিনি বলেন, ‘আরও বৃষ্টিপাত হলে কৃষকদের হয়তো কোনো সমস্যার মুখে পড়তে হবে না; পাশাপাশি সরকারি সহায়তা তাদের ক্ষতি পুষিয়ে নিতেও সহায়তা করবে।’

তেলিগাটি মৌজার অন্তর্গত বিল ডাকাতিয়ার মৎস্য ঘেরের মালিক মমরোজ আলী জানান, বৃষ্টির পানি উপচে পড়ার কারণে বিল ডাকাতিয়ার মৎস্য চাষিরা ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন।

তিনি জানান, ৬৫ একর এলাকাজুড়ে বিস্তৃত তার তিনটি মৎস্য খামারের মধ্যে দুটিই তলিয়ে গেছে। অতিরিক্ত পানির তোড়ে ও ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে প্রায় সাড়ে ৩ কোটি টাকার মাছ ভেসে গেছে। সরকার যদি আমাদের প্রণোদনা দেয়, তবে আমরা এই ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে পারব।


নির্বাচিত

কালীগঞ্জে ‘আইশিন ফুডস’ কারখানার ৩ লাখ টাকা জরিমানা

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ২০ জুলাই, ২০২৬ ১৮:২৭
কালীগঞ্জ (গাজীপুর) প্রতিনিধি

গাজীপুরের কালীগঞ্জে অনুমোদনহীন জ্যামের ফিলিংস ব্যবহার, বিএসটিআই (BSTI) লাইসেন্স জালিয়াতি এবং পণ্যের মোড়কে বাংলা ভাষার পরিবর্তে চাইনিজ ভাষা ব্যবহারের দায়ে ‘আইশিন ফুডস কোম্পানি লিমিটেড’ নামের একটি খাদ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানকে ৩ লাখ টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। সোমবার (২০ জুলাই) বিকেলে উপজেলার নাগরী ইউনিয়নের নাগরভেলা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন কালীগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জাকিয়া সরোয়ার লিমা।

আদালত ও তদন্ত সূত্রে জানা গেছে, নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে পরিচালিত এই অভিযানে প্রতিষ্ঠানটিতে চরম অব্যবস্থাপনা এবং নিরাপদ খাদ্য আইনের একাধিক গুরুতর লঙ্ঘন ধরা পড়ে।

প্রতিষ্ঠানটির উৎপাদিত পাউরুটি বা ব্রেডের মেয়াদ দেওয়া হচ্ছিল ২০ দিন থেকে এক মাস পর্যন্ত। তবে এত দীর্ঘ সময় পাউরুটি কীভাবে ভালো থাকবে, সে বিষয়ে কোনো বৈধ ল্যাব রিপোর্ট তারা দেখাতে পারেনি। এ ছাড়া প্রতিষ্ঠানটি যে ধরনের ব্রেড উৎপাদনের জন্য লাইসেন্স নিয়েছিল, বাস্তবে তার মিল না রেখে সম্পূর্ণ ভিন্নভাবে পাউরুটি উৎপাদন করছিল। বিশেষ করে ব্রেডের ভেতরে একটি ‘জ্যাম ফিলিংস’ ব্যবহার করা হচ্ছিল, যার উপকরণের কোনো সঠিক ব্যাখ্যা বা বৈজ্ঞানিক তথ্যসংশ্লিষ্ট কেউ দিতে পারেননি। এই জ্যাম ব্যবহারের কোনো বিএসটিআই অনুমোদনও ছিল না।

কারখানায় ব্যবহৃত উপকরণের মোড়ক এবং সকল নির্দেশনা চাইনিজ ভাষায় লেখা ছিল, যা ‘নিরাপদ খাদ্য আইন ২০১৩’-এর স্পষ্ট পরিপন্থি। দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী পণ্যের মোড়কে বাংলা ভাষার ব্যবহার বাধ্যতামূলক। এ ছাড়া অভিযানের সময় কারখানাটির হালনাগাদ কোনো ট্রেড লাইসেন্সও পাওয়া যায়নি।

এসব অপরাধে প্রতিষ্ঠানটিকে ৩ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। প্রতিষ্ঠানের পক্ষে উপস্থিত ইন্টারপ্রিটেশনাল মো. রিফাত (২৪) জরিমানার টাকা পরিশোধ করেন।

অভিযানে প্রসিকিউটর হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের গাজীপুর জেলা কার্যালয়ের নিরাপদ খাদ্য অফিসার ফারজানা ইয়াসমিন সোনিয়া। আদালত পরিচালনায় সহযোগিতা করেন বেঞ্চ সহকারী মাহবুবুল ইসলাম।


নির্বাচিত

ফরিদপুরে ব্রেস্ট ক্যানসার রোধে কর্মশালা

ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ফরিদপুর প্রতিনিধি

ফরিদপুরে নারীদের স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সার্ভিক্যাল ও ব্রেস্ট ক্যানসার প্রতিরোধে সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে এক কর্মশালা হয়েছে। সোমবার (২০ জুলাই) শহরের একটি রেস্টুরেন্টে এ কর্মশালার আয়োজন করে ফাউন্ডেশন ফর উইমেন পসিবিলিটিজের সহযোগিতায় ফরিদপুরের নন্দিতা সুরক্ষা ।

এতে নারী, কিশোরী, কমিউনিটি সদস্য, স্বেচ্ছাসেবী এবং নারী অধিকারকর্মীরা অংশগ্রহণ করেন। কর্মশালায় সার্ভিক্যাল ও ব্রেস্ট ক্যানসার সম্পর্কে মৌলিক ধারণা, ঝুঁকির কারণ, সতর্কতামূলক লক্ষণ, প্রাথমিক শনাক্তকরণ, HPV টিকা, VIA স্ক্রিনিং এবং ব্রেস্ট পরীক্ষার গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা করা হয়।

সেশনটি পরিচালনা করেন ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালের গাইনি বিভাগের প্রধান ডা অধ্যাপক সুলতানা বেগম লিপি। তিনি অংশগ্রহণকারীদের উদ্দেশ্যে বলেন, সার্ভিক্যাল ক্যানসার অনেকাংশে প্রতিরোধযোগ্য এবং সময়মতো পরীক্ষা ও চিকিৎসা গ্রহণের মাধ্যমে ব্রেস্ট ক্যানসারের ঝুঁকি ও জটিলতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব। তিনি নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং সচেতন জীবনযাপনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

সমাপনী বক্তব্যে জেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর উপ-পরিচালক মাসউদা হোসেন নারীদের স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধিতে এ ধরনের উদ্যোগের প্রশংসা করেন।

নন্দিতা সুরক্ষার নির্বাহী পরিচালক তাহিয়াতুল জান্নাত রেমি বলেন, নারীদের স্বাস্থ্য, অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের সচেতনতামূলক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।


নির্বাচিত

কাপাসিয়ায় গাছের চারা ও সার বিতরণ

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কাপাসিয়া (গাজীপুর) প্রতিনিধি

গাজীপুরের কাপাসিয়ায় বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে লেবু, আম, সুপারিসহ বিভিন্ন জাতের প্রায় সাড়ে ৫ হাজার গাছের চারা বিতরণ করা হয়েছে। সোমবার (২০ জুলাই) দুপুরে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উদ্যোগে পরিষদ চত্বরে আনুষ্ঠানিকভাবে কৃষকদের মাঝে চারা বিতরণ কার্যক্রম উদ্বোধন করেন স্থানীয় সংসদ সদস্য মু. সালাহউদ্দিন আইউবী।

গাছের চারা ও সার সহায়তা প্রদান অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা কৃষি পুনর্বাসন বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হাফিজুল হক। কৃষকদের উদ্দেশ্য স্বাগত বক্তব্য দেন উপজেলা কৃষি পুনর্বাসন বাস্তবায়ন কমিটির সদস্য সচিব ও উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ আউলিয়া খাতুন।

কৃষি অফিস সূত্র জানায়, বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আওতায় কাপাসিয়া উপজেলার ৫৮২ জন কৃষকের মাঝে কৃষকপ্রতি ৫টি গাছের চারা, ২৫ কেজি জৈব সার এবং ৫টি করে বাঁশের খুঁটি বিতরণ করা হয়। এ ছাড়া ৯৭টি প্রতিষ্ঠানের মাঝে বিনামূল্যে প্রত্যেকটিতে ২০টি গাছের চারা, ১০০ কেজি জৈব সার এবং ২০টি বাঁশের খুঁটি দেওয়া হয়।


নির্বাচিত

খুবিতে দেশীয় মাছের পোনা অবমুক্ত

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
খুলনা ব্যুরো

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনসংলগ্ন পুকুরে মাছের পোনা অবমুক্ত করা হয়েছে। এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন খুলনা-১ আসনের সংসদ সদস্য আমীর এজাজ খান। পরে পর্যায়ক্রমে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন জলাশয়েও দেশীয় প্রজাতির মাছের পোনা অবমুক্ত করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি দেশীয় ক্ষুদ্র মাছের জিনগত বৈচিত্র্য সংরক্ষণ, টেকসই প্রজনন প্রযুক্তির উন্নয়ন এবং গবেষণাভিত্তিক মৎস্যসম্পদ ব্যবস্থাপনায় এ ধরনের প্রকল্পের গুরুত্ব তুলে ধরেন।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. রেজাউল করিম, উপউপাচার্য প্রফেসর ড. হারুনর রশীদ খান, ট্রেজারার প্রফেসর ড. নূরুন্নবী, রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) প্রফেসর ড. এস এম মাহবুবুর রহমান, এফএমআরটি ডিসিপ্লিনের প্রধান প্রফেসর ড. মোস্তাফিজুর রহমান, সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের মুখ্য গবেষক প্রফেসর ড. গোলাম সরোয়ার, খানজাহান আলী হলের প্রভোস্ট প্রফেসর ড. খসরুল আলম, খান বাহাদুর আহছানউল্লা হলের প্রভোস্ট প্রফেসর শরীফ মোহাম্মদ খানসহ ডিসিপ্লিনের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অর্থ ও হিসাব বিভাগের পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) আবু সালেহ পারভেজ ও এস্টেট শাখা প্রধান এস এম মোহাম্মদ আলী এবং বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী।


নির্বাচিত

সড়কে খানাখন্দ, কাদা-পানিতে চরম ভোগান্তি

রাস্তায় ধানগাছের চারা লাগিয়ে ও মানববন্ধন করে প্রতিবাদ জানালেও মিলছে না সমাধান
ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কার্ত্তিক দাস, নড়াইল

নড়াইল জেলার গ্রামীণ ও শহরঞ্চলের সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা এখন চরম বিপর্যয়ের মুখে। গত বর্ষা মৌসুম থেকে শুরু হওয়া দুর্ভোগ বর্তমানে ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। জেলার বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা খানাখন্দে ভরে গিয়ে যান চলাচলের একেবারেই অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী রাস্তায় ধানগাছের চারা রোপণ ও মানববন্ধন করে প্রতিবাদ জানালেও মিলছে না কোনো স্থায়ী সমাধান। পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দ না থাকায় কাজ শুরু করতে পারছে না সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

সরেজমিনে গিয়ে স্থানীয় নানা শ্রেণিপেশার মানুষের সঙ্গে কথা বলে সড়কগুলোর করুণ চিত্র ফুটে উঠেছে। বৃষ্টি হলেই রাস্তার গর্তগুলোতে পানি জমে কাদা-পানিতে একাকার হয়ে যায়। দিনদিন গর্তগুলো আরও বড় হয়ে ছোট-বড় দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। নড়াইল পৌর এলাকার প্রায় সবকটি ওয়ার্ডের ভেতরের রাস্তার পিচ ও ইটের খোয়া উঠে বড় বড় খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে, যেখানে হেঁটে চলাও এখন দায়। সন্ধ্যার পর নড়াইলের গ্রামীণ রাস্তায় গাড়ি চালানো যায় না। গর্তে পানি জমে থাকলে বোঝার উপায় থাকে না। দিনের বেলাতেও বড় ঝুঁকি নিয়ে গাড়ি চালাতে হয়।

ভ্যানচালক আলী মিয়ার কণ্ঠেও ঝরে পড়ে জীবন-জীবিকার উৎকণ্ঠা। তিনি বলেন, লোড ভ্যান নিয়ে গ্রামের রাস্তায় যাওয়ার সাহস পাই না। গরিব মানুষ, ভ্যান নষ্ট হলে পরিবার নিয়ে না খেয়ে মরতে হবে।

গোবরা বাজার থেকে অভয়নগর নোয়াপাড়া-শংকরপাশা সড়কে বড় বড় গর্তের কারণে বেশ আগেই এ রুটে পরিবহন চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। এছাড়া খাশিয়াল-জয়নগর থেকে নড়াগাতি থানা বা জরুরি চিকিৎসা সেবার জন্য পার্শ্ববর্তী গোপালগঞ্জ ও খুলনা জেলায় যাতায়াতের প্রধান পথটি এখন চলাচলের অনুপযোগী।

মুলিয়া বাজার থেকে বরেন্দা যাওয়ার রাস্তাও কাদা-পানিতে দুর্গম রূপ নিয়েছে। আর মাছিমদিয়া চৌরাস্তা থেকে ঢাকা-বেনাপোল মহাসড়কের উপরিভাগ সম্পূর্ণ উঠে গেছে। রতডাঙ্গা পালবাড়ি মোড় থেকে হবখালী ইউনিয়ন বাজার এবং চুনখোলা থেকে খড়ড়িয়া বাজার সর্বত্রই বড় বড় খানাখন্দ।

জোড়াতালির সংস্কার ও স্থানীয় ক্ষোভ: ভোগান্তি থেকে মুক্তি পেতে এলাকাবাসী রাস্তায় ধানগাছের চারা লাগিয়ে এবং বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করে অভিনব প্রতিবাদ জানিয়েছেন।

নড়াগাতি থানার খাশিয়াল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. বরকত হোসেন অভিযোগ করে বলেন, বিক্ষুব্ধ মানুষের প্রদিবাদের পর কর্তৃপক্ষ নামকাওয়াস্তে ইটের খোয়া ফেলে রোলার দিয়ে ডলন দিয়েছিল। কিন্তু যানবাহনের চাপে কয়েকদিনের মধ্যেই রাস্তা আবার আগের মতো ভাঙ্গাচোরা হয়ে গেছে।

সড়কের এই বেহাল দশা স্বীকার করে নিয়ে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগের (এলজিইডি) নড়াইল অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী সরদার ইকরামুল কবির জানান, কয়েকটি রাস্তা সড়ক ও জনপথ বিভাগের এবং কিছু তাদের অধীন।

তিনি বলেন, জরুরি ভিত্তিতে আপৎকালীন কিছু রাস্তা সংস্কারের চেষ্টা করা হয়েছে। তবে বড় আকারের স্থায়ী কাজের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ পাওয়া যায়নি। বরাদ্দ না পেলে পুরোদমে মেরামতের কাজ শুরু করা যাচ্ছে না।


নির্বাচিত

১৭ জেলায় বজ্রসহ বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানী ঢাকাসহ দেশের ১৭টি জেলার ওপর দিয়ে আজ দুপুরের মধ্যে ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৬০ কিলোমিটার বেগে শক্তিশালী ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়ার পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। একই সাথে এসব এলাকায় বজ্রসহ বৃষ্টিপাতের প্রবল সম্ভাবনা থাকায় সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের নদীবন্দরগুলোকে বিশেষ সতর্কবার্তা প্রদান করেছে সংস্থাটি। সোমবার ভোর ৫টা হতে দুপুর ১টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরসমূহের জন্য দেওয়া এক আবহাওয়া বুলেটিনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।


পূর্বাভাস অনুযায়ী, রংপুর, দিনাজপুর, রাজশাহী, পাবনা, বগুড়া, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, ঢাকা, ফরিদপুর, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, কুমিল্লা, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার এবং সিলেট অঞ্চলের ওপর দিয়ে পশ্চিম অথবা উত্তর-পশ্চিম দিক হতে ঘণ্টায় ৪৫ হতে ৬০ কিলোমিটার বেগে বৃষ্টি অথবা বজ্রবৃষ্টিসহ অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এই বিরূপ পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে এসব এলাকার নদীবন্দরসমূহকে ১ নম্বর সতর্কসংকেত প্রদর্শন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।


নির্বাচিত

খাগড়াছড়ির বন্যার্তদের পাশে শিক্ষার্থী স্বেচ্ছাসেবী দল

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সাম্প্রতিক আকস্মিক বন্যা ও টানা বর্ষণে খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গায় বন্যাদুর্গতদের জন্য ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রম পরিচালনায় স্বেচ্ছাসেবী দল পাঠিয়েছে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়। আজ (রবিবার) এ সংক্রান্ত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও পরিবেশ অধ্যয়ন (ডিএমইএস) বিভাগের ‘ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড ক্লাইমেট ফোরাম’ (ডিএমসিএফ)-এর শিক্ষার্থীদের নিয়ে গঠিত দলটির নেতৃত্ব দেন বিভাগের এক জ্যেষ্ঠ প্রভাষক।

উল্লেখ্য, ভারী বর্ষণে খাগড়াছড়ি জেলার মাটিরাঙ্গা উপজেলা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগে সেখানে ১৫০টিরও বেশি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ও স্থানীয় বাঙালি পরিবারের বসতঘর ও জীবিকার উৎস ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

স্বেচ্ছাসেবী দলটি গত শুক্রবার সকালে খাগড়াছড়ির গুইমারায় পৌঁছায়। পরে মাটিরাঙ্গা উপজেলার হরিধন মগপাড়া, তপ্ত মাস্টারপাড়া, কাঁচাকলা, রামদয়ালপাড়া, সাপমারা ও ওয়াছু পাড়া এলাকায় গিয়ে বন্যা ও টানা বর্ষণে সৃষ্ট ক্ষয়ক্ষতি পরিদর্শন করে। এসময় তারা দুর্গত ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ও বাঙালি পরিবারের মধ্যে মোট ৯০০ কেজি চাল, ৩০০ পাতা প্যারাসিটামল, ৯০০ প্যাকেট খাবার স্যালাইন, ১৫০ লিটার ভোজ্যতেল, ৩০০ কেজি পেঁয়াজ, ৭৫ কেজি লবণ, চিঁড়া, বিস্কুট, ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যবিধি-সংক্রান্ত সামগ্রী এবং পোশাক বিতরণ করে। প্রতিটি ত্রাণ প্যাকেজে ছিল ৫ কেজি চাল, ১ কেজি ডাল, ২৫০ গ্রাম চিঁড়া, দুই পাতা প্যারাসিটামল, ছয় প্যাকেট খাবার স্যালাইন, ১ লিটার সয়াবিন তেল, ২ কেজি পেঁয়াজ এবং ৫০০ গ্রাম লবণ।

গতকাল (শনিবার) ত্রাণসামগ্রীগুলো ট্রাকে করে হরিধন মগপাড়া, সাপমারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং ওয়াছু পাড়া- এই তিনটি বিতরণকেন্দ্রে নেওয়া হয় এবং সেখান থেকে ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে বিতরণ করা হয়। দুর্যোগে বসতবাড়ি হারানো পরিবারগুলোর মধ্যে ঢেউটিন ও গৃহনির্মাণ সামগ্রী বিতরণের পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্তদের ঘর নির্মাণেও সহায়তা করে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বেচ্ছাসেবী দল।


নির্বাচিত

সীতাকুণ্ডে বাস উল্টে একজনের প্রাণহানি, আহত ৬

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১৯ জুলাই, ২০২৬ ১৪:৫৯
চট্টগ্রাম প্রতিনিধি

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি যাত্রীবাহী বাস উল্টে গিয়ে এক যুবকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। রবিবার (১৯ জুলাই) সকাল ৯টার দিকে উপজেলার ছোট কুমিরা এলাকার ইলিয়াস ফিলিং স্টেশনের সামনে এই দুর্ঘটনা ঘটে। এতে বাসে থাকা অন্তত ছয়জন যাত্রী গুরুতর আহত হয়েছেন। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. আশেক এই সংবাদের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, ‘জোনাকি’ পরিবহনের একটি বাস নোয়াখালী যাওয়ার পথে আকস্মিক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মহাসড়কের ওপর উল্টে যায়। স্থানীয় বাসিন্দা ও কুমিরা ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে দুমড়ে-মুচড়ে যাওয়া বাসের ভেতর হতে আহতদের উদ্ধার করেন। উদ্ধারকৃতদের চমেক হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক আনুমানিক ৩০ বছর বয়সী এক অজ্ঞাত পরিচয় যুবককে মৃত ঘোষণা করেন।

দুর্ঘটনায় আহতরা হলেন— রওশন আক্তার, মহিউদ্দিন, মোহাম্মদ মান্নান, সোনিয়া আক্তার, অর্পিতা শাহ এবং আরিফ মো. ইউসুফ। তাঁদের হাসপাতালের ২ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি করে চিকিৎসা প্রদান করা হচ্ছে। এছাড়া আরও কয়েকজন যাত্রীকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। আহত যাত্রীদের ভাষ্যমতে, চলন্ত অবস্থায় চালক বাসের নিয়ন্ত্রণ হারালে এই ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। বর্তমানে দুর্ঘটনাগ্রস্ত বাসটি সরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে এবং নিহত যুবকের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা করছে পুলিশ।


নির্বাচিত

বিলুপ্তপ্রায় ‘রেংমিটচ্য’ ভাষাভাষী ৬ জনের মধ্যে একজনের মৃত্যু

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

বান্দরবানের বিলুপ্তপ্রায় রেংমিটচ্য ভাষা জানা ছয়জনের একজন মারা গেছেন। বর্তমানে এ ভাষায় কথা বলতে পারেন মাত্র পাঁচজন। তাদের মধ্যে ষাটোর্ধ্ব বয়সী দুজনও অসুস্থ বলে জানিয়েছেন ভাষাটির গবেষক আফসানা ফেরদৌস আশা।

মারা যাওয়া রেংমিটচ্যভাষী হলেন মাওয়াই ম্রো (৬৪)। তিনি বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার দুর্গম সাংপ্লং পাড়ার বাসিন্দা ছিলেন। তার অন্য দুই ভাই হলেন মাংপুং ম্রো (৭৪) ও রেংপুং ম্রো (৭০)। বর্তমানে এই দুই ভাইও অসুস্থ। তিনজনই আলাদা জায়গায় বসবাস করতেন।

বান্দরবানের আলীকদমের দুর্গম এলাকায় ম্রো জনগোষ্ঠীর একটি গোত্রের মাতৃভাষা রেংমিটচ্য। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আরও কিছু মানুষ এ ভাষা বুঝতে পারলেও সাবলীলভাবে কথা বলতে পারেন মাত্র পাঁচজন। তারা হলেন— আলীকদম সদর ইউনিয়নের ক্রাংসি পাড়ার বাসিন্দা মাংপুং ম্রো (৭৪), কুনরাও ম্রো (৬১), আরেক কুনরাও ম্রো (৭৪), নয়াপাড়া ইউনিয়নের মেনসিং পাড়ার বাসিন্দা থোয়াই লক ম্রো (৬০) এবং নাইক্ষ্যংছড়ি ইউনিয়নের ওয়াইবট পাড়ার বাসিন্দা রেংপুং ম্রো (৭০)। এর মধ্যে কুনরাও ম্রো নামে দুজনই নারী, বাকিরা পুরুষ। ভাষা বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, অবশিষ্ট বক্তারাও মারা গেলে পৃথিবী থেকে চিরতরে হারিয়ে যাবে রেংমিটচ্য ভাষা।

বর্তমানে আয়ারল্যান্ডের ট্রিনিটি কলেজ ডাবলিনে রেংমিটচ্য ভাষার তথ্যচিত্র (ডকুমেন্টেশন) নিয়ে পিএইচডি গবেষণা করছেন আফসানা ফেরদৌস আশা। তিনি জানান, আলীকদম উপজেলার তৈনখালের ক্রাংসি পাড়ার কয়েকজন ম্রো বাসিন্দা সম্প্রতি তাকে ফোন করে মাওয়াই ম্রোর মৃত্যুর খবর জানান।

তিনি আরও জানান, গত ৫ মে দুপুর ১২টার দিকে মাওয়াই ম্রো মারা যান। সে সময় মোবাইল নেটওয়ার্ক দুর্বল থাকায় তিনি বিষয়টি বিস্তারিত জানতে পারেননি।

গবেষণার কাজে গত বছর টানা সাত মাস আলীকদমে ছিলেন আফসানা ফেরদৌস আশা। সে সময় ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা ছয়জন রেংমিটচ্যভাষীকে নতুন করে খুঁজে বের করে তাদের ভাষার তথ্যচিত্র সংগ্রহ করেন তিনি।

তাদের সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে আফসানা ফেরদৌস আশা গণমাধ্যমকে বলেন, মাংওয়াই ম্রো অনেক দিন ধরে অসুস্থ ছিলেন। তার লিভারের সমস্যা ছিল। গত বছর টাইফয়েডও হয়েছিল। পেইন কিলার ঔষধ খেয়ে থাকতেন তিনি। অবশেষে মারা যাওয়ার খবর পেলাম। খবরটা পাওয়ার পর থেকে ছুটি কাটাই না। দিন-রাত কাজ করি। আরেকজন চলে গেলে মানতে কষ্ট হবে।

তিনি আরও বলেন, গত বছর মাংওয়াই ম্রোকে অনেক কষ্ট করে নাইক্ষ্যংছড়ি থেকে আলীকদমের তৈনখালের ক্রাংসি পাড়ায় নিয়ে এসেছিলাম। তিন ভাইকে এক জায়গায় জড়ো করেছিলাম। তারা খুব খুশি হয়েছিলেন। অনেক বছর পর আমার জন্য দেখা হয়েছে তাদের। মাংওয়াই ম্রো তখন তিন-চারদিন ছিলেন ক্রাংসি পাড়ায়। পরে নাইক্ষ্যংছড়িতে তার পাড়ায় পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করেছিলাম।

আফসানা জানান, রেংমিটচ্য ভাষা নিয়ে একটি বই প্রকাশের কাজও চলছে। তিনি বলেন, আমি যতটুকু পারি কাজ করে যাচ্ছি। রেংমিটচ্য ভাষা নিয়ে ১৫০০ শব্দের একটি বইয়ের ড্রাফট তৈরি হয়েছে। জীবিত যে কজন আছেন, তাদের সঙ্গে বসে আরেকবার সংশোধন করা বাকি আছে শুধু।

এর আগে, বিলুপ্তপ্রায় রেংমিটচ্য ভাষা সংরক্ষণের উদ্যোগ হিসেবে ওই ভাষার দৈনন্দিন কথোপকথন নিয়ে ‘মিটচ্য তখক’ নামে একটি বই প্রকাশ করেন ম্রো ভাষার লেখক ও গবেষক ইয়াংঙান ম্রো। রেংমিটচ্য ভাষার নিজস্ব লিপি না থাকায় বইটি ম্রো ও বাংলা ভাষায় প্রকাশ করা হয়। ২৮ পৃষ্ঠার বইটিতে তিন হাজারের বেশি শব্দ সংকলিত হয়েছে।

বইটি প্রকাশের সময় ইয়াংঙান ম্রো বলেছিলেন, সবার একটা আশঙ্কা, এই ভাষার ছয়জন মানুষ মারা গেলে চিরতরের জন্য বিলুপ্ত হয়ে যাবে রেংমিটচ্য ভাষাটি। এই ভাষায় কথা বলা ও চর্চা করা মানুষ আর কেউ থাকবে না। হয়ত চিরতরে হারিয়ে যাওয়ার আগে স্মৃতিস্মারক হিসেবে এই বইগুলো বেঁচে থাকবে।

তিনি আরও বলেন, বিভিন্ন সময় এই ভাষা নিয়ে কাজ করার সময় তাদের দৈনন্দিন জীবনের কথোপকথনগুলো সংগ্রহ করে রেখেছি। মূলত এই বইয়ে সেগুলোই তুলে ধরা হয়েছে।

তবে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট জানিয়েছে, বিপন্নপ্রায় এ ভাষার তথ্যচিত্র (ডকুমেন্টেশন) সংরক্ষণের মাধ্যমে ভাষাটিকে ভবিষ্যৎ গবেষণার জন্য টিকিয়ে রাখার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এছাড়া কয়েকজন গবেষকের ধারণা, রেংমিটচ্যভাষীরা মূলত একটি স্বতন্ত্র জনগোষ্ঠী। পরে ম্রো ভাষার সঙ্গে কিছুটা মিল থাকায় তারা ম্রোদের সঙ্গে মিশে তাদের পদবি গ্রহণ করেছেন।


নির্বাচিত

banner close