পরিকল্পিত নগরায়ণ ও উন্নয়নের লক্ষ্যে ‘কক্সবাজার জেলার মহাপরিকল্পনা প্রণয়ন’ শীর্ষক এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ সোমবার সকালে টেকনাফ পৌরসভার বার্মিজ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মতবিনিময় সভাটি অনুষ্ঠিত হয়। সভার আয়োজন করে কক্সবাজার জেলা মহাপরিকল্পনা প্রণয়ন প্রকল্পের পরামর্শক প্রতিষ্ঠান এডহক সি.এস.সি।
প্রকল্পের ডেপুটি টিম লিডার খন্দকার নিয়াজ রহমানের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন টেকনাফ পৌরসভার প্যানেল মেয়র মুজিবুর রহমান।
খন্দকার নিয়াজ রহমান বলেন, কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের বাস্তবায়নাধীন মহাপরিকল্পনা প্রণয়নের এ প্রকল্পটির মাঠ পর্যায়ের কাজ গত বছর অক্টোবর মাস থেকে শুরু হয়েছে। আগামী বছর মার্চ-এপ্রিলের মধ্যে তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ ও জরিপের কাজ শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে। পরবর্তীতে ৩ থেকে ৪ মাস সময় নেওয়া হবে বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষের মতামত নিতে।
তিনি আরও জানান, প্রকল্পের মাধ্যমে কক্সবাজার জেলার উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের কৌশলগত পরিকল্পনা তৈরি করা হবে এবং কক্সবাজার-রামু ও টেকনাফের মহাপরিকল্পনা তৈরি হবে। নতুন করে প্রণয়ন করতে যাওয়া এ মহাপরিকল্পনায় সর্বস্তরের জনগণকে সম্পৃক্ত করে করা হচ্ছে। এতে আগামীতে কক্সবাজারের যে উন্নয়ন হবে তাতে আমূল পরিবর্তনের ছোঁয়া লাগবে।
কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (কউক) সূত্রে জানা যায়, কক্সবাজার জেলার মহাপরিকল্পনা প্রণয়ন বাস্তবায়নে প্রকল্পটির আওতায় কক্সবাজার জেলার নয়টি উপজেলা এবং সমুদ্র সৈকত এলাকাসহ মোট ৬৯০.৬৭ বর্গ কি.মি. এলাকার ডিটেইল্ড এরিয়া প্ল্যানের (উঅচ) আওতায় আসবে এবং সমগ্র কক্সবাজার জেলার ২৪৯১.৮৩ বর্গ কিলোমিটার এলাকার জন্য স্ট্রাকচার প্ল্যান প্রণয়ন করা হবে।
কউকের বাস্তবায়নাধীন মহাপরিকল্পনা প্রণয়ন প্রকল্পের এ মতবিনিময় সভায় টেকনাফ পৌরসভা ও উপজেলার সকল ইউপি চেয়ারম্যান, মেয়র, কাউন্সিলর এবং ইউপি সদস্যরাসহ বিভিন্ন শ্রেণীপেশার মানুষ অংশ নেন। মতবিনিময় সভায় ইউপি চেয়ারম্যান ও সদস্য, পৌর মেয়র ও কাউন্সিলাররা মতামত ব্যক্ত করেন।
‘কক্সবাজার জেলার মহাপরিকল্পনা প্রণয়ন’ শীর্ষক প্রকল্পের তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহের নিমিত্তে প্যারিস আরবান এন্ড রিজিওনাল অ্যাসেসমেন্ট’ বিষয়ে আলোচনা সভাটি অনুষ্ঠিত হয়।
'সামাজিক নিরাপত্তা ও উন্নয়নের অঙ্গীকার ' এই শ্লোগানে ঝিনাইদহে গ্রাম প্রতিরক্ষা দল (ভিডিপি) দিবস পালিত হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) সকালে জেলা আনসার ভিডিপি অফিস প্রাঙ্গণে বেলুন উড়িয়ে দিবসটির উব্দোধন করা হয়। পরে সেখান থেকে একটি বর্ণাঢ্য রালি বের করা হয়। র্যালীটি শহরের বিভিন্ন সড়ক ঘুরে একই স্থানে এসে শেষ হয়।
পরে আলোচনা সভায় আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী জেলা কমান্ড্যান্ট মিজানুর রহমান, সদর উপজেলা আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তা আমিন উদ্দিন, শৈলকুপা উপজেলা আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তা আব্দুল জলিল, মহেশপুরের সহিদুল ইসলাম, হরিণাকুন্ডুর হাসিবুল ইসলামসহ অন্যান্যরা বক্তব্য রাখেন। সেসময় বক্তারা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, আর্থসামাজিক উন্নয়ন, নির্বাচন ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় ভিডিপির ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে তৃণমূল পর্যায়ে জনসচেতনতা ও উন্নয়ন কার্যক্রমে সদস্যদের আরও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানান।
কুমিল্লা জেলার বুড়িচং উপজেলার রাজাপুর ইউনিয়নে চলতি মৌসুমে বাঁধাকপির ভালো ফলন হয়েছে। শীতের শুরু থেকেই আগাম চাষ করায় এখানকার কৃষকরা এবার বাম্পার ফলনের পাশাপাশি ভালো লাভের আশা করছেন। উর্বর মাটি ও অনুকূল আবহাওয়াই এই সাফল্যের প্রধান কারণ বলে মনে করছেন কৃষকরা।
এলাকায় বর্তমানে কৃষকরা নিড়ানি ও নিয়মিত পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন। যদিও কীটনাশকের দাম বৃদ্ধি এবং উৎপাদন খরচ বেশি হওয়ায় অনেক সময় লোকসানের ঝুঁকি থাকে, তবে এবার সেই শঙ্কা কাটিয়ে উঠতে পেরেছেন তারা। ভালো ফলন হওয়ায় লোকসান নয়, বরং লাভবান হবেন—এমন প্রত্যাশাই করছেন কৃষকরা।
বাম্পার ফলনের উদাহরণ হিসেবে রাজাপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ গ্রামের কৃষক ফজর আলীর ছেলে আক্কাসের কথা উল্লেখ করা যায়। তিনি চলতি মৌসুমে ৩৯ শতক জমিতে বাঁধাকপির চাষ করে আশানুরূপ ফলন পেয়েছেন। আক্কাসসহ একাধিক কৃষক জানান, ভালো ফলনের আশায় তারা দিনরাত মাঠে কাজ করছেন, যা ফলন বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
কৃষকরা জানান, বীজ, সার, সেচ ও শ্রমিকসহ চাষাবাদের খরচ তুলনামূলক বেশি হলেও বাজারে ন্যায্যমূল্য পেলে তা সহজেই পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব। কখনও কখনও কীটনাশকের উচ্চ মূল্য ও বাজারে দাম কম থাকলে লোকসানের আশঙ্কা তৈরি হয়। তবে এবার ফলন ভালো হওয়ায় সে ঝুঁকি কম।
আক্কাস জানান, তিনি প্রায় ৬০ হাজার টাকা খরচ করে ৩৯ শতক জমিতে বাঁধাকপি চাষ করেছেন এবং উৎপাদিত ফসল বিক্রি করে খরচের দ্বিগুণ লাভের আশা করছেন।
এ বিষয়ে বুড়িচং উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা বলেন, ‘শীতকালে বাঁধাকপির জন্য এ এলাকার মাটি ও আবহাওয়া খুবই উপযোগী। কৃষি অফিসের পরামর্শ মেনে আগাম চাষ করায় কৃষকরা ভালো ফলন পাচ্ছেন। এবার তারা ভালো লাভ করবেন বলে আমরা আশাবাদী।’
কুমিল্লার বিভিন্ন এলাকার কৃষকরাও বলছেন, চলতি মৌসুমে বাঁধাকপির ফলন ভালো হওয়ায় আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণ লাভের সম্ভাবনা রয়েছে।
ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরীফ ওসমান হাদির হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার করে বিচারের দাবিতে বরিশালে মার্চ ফর হাদি হয়েছে । সোমবার (৫ জানুয়ারি) বেলা বারোটার দিকে বরিশাল নগরীর সদর রোডস্থ টাউন হল থেকে ছাত্র জনতার ব্যানারে মার্চ ফর হাদি শুরু হয়।
পরে নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো প্রদক্ষিণ শেষে নথুল্লাবাদ কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকায় গিয়ে শেষ হয়। এর আগে নগরীর অশ্বিনী কুমার টাউন হলের সামনে অনুষ্ঠিত সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তারা, ভারতীয় আধিপত্যবাদ বিরোধী আন্দোলনের অগ্রসেনানী শহীদ ওসমান হাদির হত্যাকারীদের বিচারের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি করেন। তাদের এ দাবি দ্রুত পূরণ না হলে আরও কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।
বক্তারা বলেন, শহীদ ওসমান হাদি ছিলেন ভারতীয় আধিপত্যবাদ বিরোধী আন্দোলনের একজন অগ্রসেনানী। তাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হলেও এখন পর্যন্ত মূলহত্যাকারীদের গ্রেপ্তার ও বিচার নিশ্চিত করা হয়নি।
বক্তারা আরও বলেন, একাত্তরে যেমন মুক্তিযোদ্ধারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল, তেমনি জুলাই আন্দোলনের যোদ্ধা ওসমান হাদি হত্যার বিচার না হলে একই অবস্থা হবে। বক্তারা বর্তমান অন্তবর্তী সরকারের মেয়াদেই হাদি হত্যার বিচারের দাবি করেন। নতুবা তাদের এ ধরনের কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।
কক্সবাজারের ঈদগড় এলাকায় গোপন একটি অস্ত্র কারখানার সন্ধান পেয়ে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার করেছে পুলিশ।
আজ ৫ জানুয়ারি সোমবার ভোর রাতে ঈদগড় পানিশ্যাঘোনা পাহাড়ে একটি দুর্গম এলাকায় এই অভিযান পরিচালনা করা হয়।
পুলিশ সূত্র জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ঈদগড় পুলিশ ক্যাম্প ইনচার্জ খোরশেদ আলমের নেতৃত্বে পুলিশ বিশেষ অভিযান চালায়। অভিযানে দেশীয় অস্ত্র তৈরিতে ব্যবহৃত বিভিন্ন যন্ত্রাংশ, লোহাজাত সামগ্রী ও অন্যান্য সরঞ্জাম জব্দ করা হয়। তবে অভিযানের আগেই কারখানার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা পালিয়ে যায় বলে জানিয়েছে পুলিশ।
রামু থানা ইনচার্জ মনিরুল ইসলাম ভূঁইয়া
বলেন, “অপরাধ প্রতিরোধের অংশ হিসেবে বেশ কিছুদিন পরে রামু থানা পুলিশ অস্ত্র উদ্ধারের জন্য রামু থানার গর্জনিয়া ও ঈদগড় এলাকয় অভিযান পরিচালনা করে একটি অবৈধ অস্ত্র তৈরির কারখার সংবাদ পাই এবং বিপুল পরিমাণ অস্ত্র তৈরীর সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয় ।
সরঞ্জামগুলো পরীক্ষা করা হচ্ছে। জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”
নির্বাচনকে সামনে রেখে এসব অবৈধ অস্ত্র তৈরির কারখানায় সন্ধানে স্থানীয়দের মধ্যে এ ঘটনায় আতঙ্ক ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তারা অবৈধ অস্ত্র কারখানার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।
পুলিশ জানায়, এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
মানুষের জন্য মানুষ—এই মানবিক চেতনাকে ধারণ করে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মহাপরিচালক আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদের নির্দেশনায় রোববার (৪ জানুয়ারি) রাজধানীর পল্লবী এলাকার ষোল বিঘা বালুর মাঠ ময়দানে শীতার্ত ও দুস্থ মানুষের মাঝে ১,০০০টি কম্বল বিতরণ করা হয়েছে। তীব্র শীতে অসহায় মানুষের কষ্ট লাঘবের লক্ষ্যে আয়োজিত এ কর্মসূচি আনসার ও ভিডিপির মানবিক দায়বদ্ধতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর উপপরিচালক ও গণসংযোগ কর্মকর্তা মো: আশিকউজ্জামান স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ঢাকা মহানগর আনসারের পরিচালক জনাব আসাদুজ্জামান গনি বলেন, “বাংলাদেশ আনসার ও ভিডিপি কেবল আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা রক্ষায় নয়, মানবিক ও সামাজিক দায়বদ্ধতা পালনের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে। শীতার্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। এই শীত মৌসুমে অসহায় মানুষের কষ্ট কিছুটা হলেও লাঘব করাই এ কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য।”
আনসার–ভিডিপি সদর দপ্তর সূত্রে জানা যায়, মানবিক মূল্যবোধকে ধারণ করে বাহিনীর প্রতিটি স্তরের সদস্য-সদস্যা মাঠপর্যায়ে সক্রিয়ভাবে কাজ করছেন। শীতবস্ত্র বিতরণ কার্যক্রম যেন কেবল আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ না থাকে, বরং প্রকৃত অসহায় ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর কাছে কার্যকরভাবে সহায়তা পৌঁছায়—সে লক্ষ্যে স্বচ্ছতা, সমন্বয় ও দ্রুততার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
এই মানবিক উদ্যোগের ধারাবাহিকতায় বগুড়া, জামালপুর, ভোলা ও লালমনিরহাট জেলায় মোট ৬,০০০টি কম্বল বিতরণের কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। এর আওতায় ভিডিপি সদস্য-সদস্যা, তাদের পরিবারবর্গ এবং সংশ্লিষ্ট এলাকার অসহায় জনগোষ্ঠীকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। ইতোমধ্যে বগুড়া ও জামালপুর জেলায় কম্বল বিতরণ কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। সংকটময় সময়ে আনসার বাহিনীর এই উদ্যোগ স্থানীয় জনগণের কাছে ভালোবাসা ও মানবতার উষ্ণ স্পর্শ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
এছাড়াও, রাজধানীর কড়াইল বস্তিতে সংঘটিত ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত অসহায় বস্তিবাসীদের দুর্দশার সঙ্গে যখন শীতের প্রকোপ যুক্ত হয়, তখনও আনসার বাহিনী মানবিক সহায়তা নিয়ে তাদের পাশে দাঁড়ায়। এ উপলক্ষে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে ৯০০টি কম্বল বিতরণ করা হয়, যা সংকটকালে বাহিনীর দায়িত্বশীল ও মানবিক অবস্থানের স্পষ্ট প্রতিফলন।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানায়, শীতবস্ত্র বিতরণ কর্মসূচির আওতায় ভবিষ্যতেও অসহায় মানুষের জন্য সহায়তা কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রত্যন্ত এলাকা নির্বাচন, দ্রুত সহায়তা পৌঁছানো, উপযুক্ত উপকারভোগী বাছাই এবং সুষ্ঠু বণ্টনের মাধ্যমে আনসার ও ভিডিপির আর্তমানবতার সেবায় নিবেদিত কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
সমগ্র কার্যক্রমে সার্বিক তত্ত্বাবধান ও সহযোগিতায় ছিল ঢাকা মহানগর আনসার ও নগর প্রতিরক্ষা দল (টিডিপি)। অনুষ্ঠানে বাহিনীর বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা ও কর্মচারীগণ উপস্থিত থেকে শীতবস্ত্র বিতরণ কার্যক্রম বাস্তবায়নে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন।
বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএমইউ)তে স্বাস্থ্যসেবাখাতকে সাশ্রয়ী ও সুশৃঙ্খল করার লক্ষ্যে এবং রোগীদের স্বার্থ ও কল্যাণ নিশ্চিত করতে এশিয়া প্যাসেফিক ম্যানেজমেন্ট এ্যাকাউন্টিং এ্যাসোসিয়েশন (এপিএমএএ বা আপমা) এর বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক ওয়েবিনার্স অনুষ্ঠিত হয়েছে। রবিবার (৪ জানুয়ারি) বিএমইউ এর সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালের লেকচার হলে উক্ত এ্যাসোসিয়েশন ও সহ-আয়োজক বিএমইউ এর উদ্যোগে ব্যবস্থাপনা ও হিসাবরক্ষণের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে স্বাস্থ্যখাতে কর্পোরেট যোগাযোগ ও হিসাবরক্ষণে উদ্ভূত বিষয়সমূহ ও ডিজিটাল যুগে উদ্ভাবন, সততা ও জবাবদিহিতা থিম নিয়ে আয়োজিত এই ওয়েবিনার্স-এ স্বাস্থ্যখাতে হেলথ একাউন্টিং, হেলথ ইকোনোমিক্স এর গুরুত্ব তুলে ধরা হয়।
এশিয়া প্যাসিফিক ম্যানেজমেন্ট একাউন্টিং অ্যাসোসিয়েশন আয়োজিত ওয়েবিনারে বিশ্বের প্রায় ৫০টি দেশ এবং বাংলাদেশের ৪০টি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিসহ দুই শত পঞ্চাশ এর অধিক ম্যানেজমেন্ট এ্যাকাউন্টিংসহ সংশ্লিষ্ট বিষয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, বিশেষজ্ঞ, কর্মকর্তা ও প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।
আন্তর্জাতিক এই ওয়েবিনার্সের প্যানেল এক্সপার্ট বিএমইউর মাননীয় ভাইস-চ্যান্সেলর অধ্যাপক ডা. মোঃ শাহিনুল আলম ‘একাউন্টিং ফর হেলথ’ বিষয়ে বাংলাদেশ প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। ওয়েবিনারে এশিয়া প্যাসেফিক ম্যানেজমেন্ট এ্যাকাউন্টিং এ্যাসোসিয়েশন এর চেয়ার অফ দি বোর্ড ডিরেক্টরস ইমেরিটাস অধ্যাপক সুসুমু ইনো, ওয়েবিনারের চেয়ার, এ্যাসোসিয়েশনের ডিরেক্টর ও বাংলাদেশ চাপ্টার এর প্রধান সহযোগী অধ্যাপক ডা. ফারহানা বেগম, ওয়েবিনার কো-চেয়ার হিসেবে বিএমইউ এর সম্মানিত প্রো-ভাইস (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. মোঃ আবুল কালাম আজাদ, এপিএমএএ বা আপমা এর সদস্য বিএমইউ এর পরিচালক (অর্থ ও হিসাব ) জনাব খন্দকার শফিকুল হাসান রতন প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। আন্তর্জাতিক এই কনফারেন্সে পোস্টার প্রেজেনটেশন ইভেন্টে জুরি বোর্ডের দায়িত্ব পালন করেন বিএমইউ এর সম্মানিত প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (গবেষণা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. মোঃ মুজিবুর রহমান হাওলাদার, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. নাহরীন আখতার। দেশের প্রথম এই আন্তর্জাতিক ওয়েবিনারে স্বাগত বক্তব্য রাখেন এ্যাসোসিয়েশনের ডিরেক্টর ও বাংলাদেশ চাপ্টার এর প্রধান সহযোগী অধ্যাপক ডা. ফারহানা বেগম। ইন্টিগ্রিটি ইন করপোরেট কমিউনিকেশন সেশনে কী-নোট স্পিকার ছিলেন মালয়েশিয়ার ইমেরেটাস অধ্যাপক ড. নরমাহ ওমর, সিমএ এবং জাপানের অধ্যাপক ড. মাসুমি নাকাশিমা। এই সেশনে সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন থাইল্যান্ডের সহযোগী অধ্যাপক ড. ক্যানিটসরন টেরডপাওপং, সিএমএ (Dr. Kanitsorn Terdpaopong, CMA) ও বাংলাদেশের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মোসাদ্দেক আহমেদ চৌধুরী। একাউন্টিং ফর হেলথ সেশনে প্যানেলিস্ট এর দায়িত্ব পালন করেন বিএমইউর মাননীয় ভাইস-চ্যান্সেলর অধ্যাপক ডা. মোঃ শাহিনুল আলম ও যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অফ এসেক্স এর অধ্যাপক ড. শাহজাদ উদ্দিন। এই সেশনে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. সৈয়দ আব্দুল হামিদ। রিসার্চ এ্যাসিসট্যান্ট রাহিক ফারহান এর সঞ্চালানায় অনুষ্ঠিত এই আন্তর্জাতিক এই ওয়েবিনার্সে দেশ -বিদেশের বিশেষজ্ঞগণ প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ও বক্তব্য রাখেন।
ওয়েবিনারে বিএমইউর মাননীয় ভাইস-চ্যান্সেলর অধ্যাপক ডা. মোঃ শাহিনুল আলম তাঁর বক্তব্যে বাংলাদেশে স্বাস্থ্যখাতে বাজেট বরাদ্দ বৃদ্ধির দাবি জানান। একই সাথে স্বল্পমূল্যে যথাযথ স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে চিকিৎসাসেবা ও গবেষণার পাশাপাশি প্রত্যেকটা মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ ও হাসপাতালসহ স্বাস্থ্য সেবা প্রদানকারী প্রতিটা প্রতিষ্ঠানে হেলথ একাউন্টিং বিষয়ের গুরুত্ব অপরিহার্য হিসেবে উল্লেখ করেন। এই ওয়েবিনার জাতীয় পর্যায়ের স্বাস্থ্যনীতিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, রাজস্ব এবং ব্যয় পরিমাপ করা, রাজস্ব বরাদ্দ করা, অবচয় গণনা করা, হিসাবরক্ষণের প্রতিবেদন তৈরি করা, ক্ষতিপূরণ ট্র্যাক করা, বাজেট তৈরি করা, আর্থিক প্রতিবেদন পর্যবেক্ষণ করা ইত্যাদিতে একজন হিসাবরক্ষক বিরাট ভূমিকা পালন করেন। প্রতি বছর চিকিৎসা ব্যয় বহন করতে গিয়ে দেশের লাখ লাখ মানুষ দারিদ্র হচ্ছে। প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রসমূহে ম্যানেজমেন্ট এ্যাকাউন্টিং এর যথাযথ প্রয়োগ করতে পারলে দেশের মানুষকে এ থেকে অনেকটাই রক্ষা করা সম্ভব হবে।
অন্য বক্তারা বলেন, স্বাস্থ্যসেবা খাতে অর্থ ব্যয়কে জবাবদিহিতার আওতায় আনা প্রয়োজন। দেশের অনেক গরিব রোগীরা চিকিৎসা ব্যয় মেটাতে গিয়ে নিঃস্ব হচ্ছে। এই অবস্থা থেকে উত্তরণে ম্যানেজমেন্ট হেলথ একাউন্টিং বিশেষ ভূমিকা রাখতে পারে। স্বল্প ব্যয়ে রোগীদের যথাযথ চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা সময়েরই দাবি। যা পূরণে অবদান রাখবে আজকের এই ওয়েবিনার। একই সাথে স্বাস্থ্য বাজেটসহ সঠিক বাজেট প্রণয়ন, স্বাস্থ্য বাজেটের সদ্ব্যবহার, স্বাস্থ্যসেবা খাতের অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে দুর্নীতি প্রতিরোধ, অর্থ ব্যয়ের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করাসহ আর্থিক সেবাখাতকে গতিশীল করবে এই আন্তজার্তিক ওয়েবিনার্স।
সদ্য ঘোষিত ‘ট্রাভেল এজেন্সি নিবন্ধন ও নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশ-২০২৬’ কে ব্যবসা-বিরোধী ও ‘কালো অধ্যাদেশ’ আখ্যা দিয়ে তা বাতিলের জোর দাবি জানিয়েছেন এই খাতের শীর্ষ নেতা ও সাধারণ ব্যবসায়ীরা। রোববার (৪ জানুয়ারি) জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ব্যবসায়ীরা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, এই নতুন অধ্যাদেশ কার্যকর হলে দেশের প্রায় পাঁচ হাজার ট্রাভেল এজেন্সি বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হবে। আটাবের সাবেক সভাপতি মনজুর মোর্শেদ মাহবুব সংবাদ সম্মেলনে মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন এবং এই আইনের বিভিন্ন ধারা কীভাবে ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীদের ক্ষতিগ্রস্ত করবে তা তুলে ধরেন।
ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, গত বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) প্রকাশিত এই অধ্যাদেশের গেজেটে এমন কিছু বিধান রাখা হয়েছে যা সাধারণ এজেন্সিগুলোর কার্যক্রম কার্যত অচল করে দেবে। বিশেষ করে, অন্য কোনো এজেন্সি থেকে টিকিট কেনাবেচা নিষিদ্ধ করার ফলে প্রায় পাঁচ হাজার নন-আয়াটা সদস্য বিপাকে পড়বেন। কারণ, বাংলাদেশে নিবন্ধিত পাঁচ হাজার আটশো এজেন্সির মধ্যে মাত্র আটশোটি সরাসরি বিমান সংস্থার টিকিট ইস্যু করতে পারে। বাকিদের অন্য এজেন্সির ওপর নির্ভর করতে হয়। এই পথ বন্ধ হয়ে গেলে তারা বার্ষিক ৫০ লাখ টাকার বিক্রয় বিবরণী দেখাতে ব্যর্থ হবে এবং লাইসেন্স নবায়ন করতে পারবে না। এছাড়া অফলাইন এজেন্সির জন্য ১০ লাখ টাকা ব্যাংক গ্যারান্টি প্রদানের শর্তটিকেও একটি অসম্ভব দাবি হিসেবে বর্ণনা করেছেন তারা।
সংবাদ সম্মেলনে আটাব সদস্য কল্যাণ ঐক্যজোটের আহ্বায়ক মোহাম্মদ জালাল উদ্দিন টিপু রিক্রুটিং এজেন্সির সঙ্গে একই ঠিকানায় ব্যবসা পরিচালনার নিষেধাজ্ঞার বিরোধিতা করেন। তিনি জানান, একই অফিস ব্যবহারের ফলে অভিবাসী কর্মীদের সেবার খরচ কম থাকে; পৃথক অফিস বাধ্যতামূলক হলে বিদেশগামীদের ওপর খরচের বোঝা আরও বাড়বে। পাশাপাশি, শুনানি ছাড়া লাইসেন্স স্থগিত করার বিধান নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। ব্যবসায়ীদের মতে, আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়ে লাইসেন্স বাতিল বা স্থগিত করা হলে তা চরম হয়রানি ও আর্থিক ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াবে।
বঙ্গোপসাগর দিয়ে অবৈধভাবে মালয়েশিয়া যাওয়ার পথে নারী, শিশু ও পুরুষসহ ২৭৩ জনকে আটক করেছে বাংলাদেশ নৌবাহিনী। শনিবার (৩ জানুয়ারি) দিবাগত রাতে সেন্টমার্টিন দ্বীপ সংলগ্ন গভীর সমুদ্রে অভিযান চালিয়ে তাদের উদ্ধার করা হয়। আটককৃতদের মধ্যে বড় একটি অংশ মিয়ানমারের রোহিঙ্গা নাগরিক বলে জানা গেছে। নৌবাহিনীর পক্ষ থেকে রোববার (৪ জানুয়ারি) বিকেলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই অভিযানের বিস্তারিত তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
নৌবাহিনী সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বঙ্গোপসাগরে টহলরত জাহাজ ‘বানৌজা স্বাধীনতা’ সেন্টমার্টিন দ্বীপ থেকে প্রায় ৩০ মাইল দক্ষিণ-পশ্চিমে একটি কাঠের বোটের সন্দেহজনক গতিবিধি লক্ষ্য করে। নৌবাহিনীর জাহাজ থেকে বোটটিকে থামার সংকেত দেওয়া হলেও তারা পালানোর চেষ্টা করে। পরে ধাওয়া দিয়ে বোটটি আটক করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায় যে, একটি দালালচক্রের মাধ্যমে তারা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সমুদ্রপথে মালয়েশিয়া যাওয়ার চেষ্টা করছিল। অভিযানে বোটের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ১০ জন দালালকেও আটক করা হয়েছে।
উদ্ধার করা বোটটিতে জীবনরক্ষাকারী কোনো সরঞ্জাম বা পর্যাপ্ত খাদ্য ও পানীয় ছিল না। নৌবাহিনী জানিয়েছে, ন্যূনতম নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছাড়াই গভীর সমুদ্রে এমন যাত্রা বড় ধরনের মানবিক বিপর্যয়ের কারণ হতে পারতো। নৌবাহিনীর দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপের ফলে সম্ভাব্য সেই প্রাণহানি ঠেকানো সম্ভব হয়েছে। আটককৃত ব্যক্তি ও বোটটি পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য টেকনাফ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
বর্তমানে দেশে খাদ্যের মজুত পরিস্থিতি নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করে খাদ্য উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদার জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে খাদ্য সংকটের কোনো আশঙ্কা নেই। রোববার (৪ জানুয়ারি) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি উল্লেখ করেন, গত পাঁচ বছরের তুলনায় বর্তমানে সরকারি গুদামগুলোতে খাদ্যশস্যের মজুত সর্বোচ্চ পর্যায়ে রয়েছে। উপদেষ্টার দেওয়া তথ্যমতে, ২০২৬ সালের শুরুতেই সরকারি গুদামে ২০ লাখ ২৭ হাজার ৪২০ মেট্রিক টন খাদ্যশস্য জমা ছিল, যার বড় একটি অংশজুড়ে রয়েছে চাল ও গম।
দেশের গমের চাহিদা ও উৎপাদন প্রসঙ্গে আলী ইমাম মজুমদার জানান, প্রতি বছর দেশে গমের চাহিদা প্রায় ৭০ লাখ মেট্রিক টন হলেও অভ্যন্তরীণ উৎপাদন হয় মাত্র ১০ লাখ মেট্রিক টন। ফলে চাহিদার সিংহভাগ মেটাতে আমদানির ওপর নির্ভর করতে হয়। তবে চালের ক্ষেত্রে দেশীয় উৎপাদনই প্রধান উৎস এবং এরই মধ্যে কিছু চাল আমদানি করা হয়েছে ও আরও কিছু আমদানির প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। যদিও এই মুহূর্তে চাল আমদানির সুনির্দিষ্ট পরিমাণ বলা সম্ভব নয়, তবে বিগত বছরগুলোর তুলনায় এবার আমদানির প্রয়োজনীয়তা কম হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
ভারত ও বাংলাদেশের বর্তমান বাণিজ্যিক সম্পর্ক নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে খাদ্য উপদেষ্টা স্পষ্ট করেন যে, দুই দেশের অর্থনৈতিক লেনদেনে রাজনৈতিক পরিস্থিতির কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না। তিনি বলেন, ভারত থেকে চাল আমদানি এবং বাংলাদেশের পণ্য ক্রয়ের বিষয়টি বাজারব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল এবং এই বাণিজ্য কার্যক্রম বর্তমানে স্বাভাবিক গতিতেই চলছে। রাজনৈতিক বিষয়কে বাণিজ্যের সাথে গুলিয়ে ফেলা ঠিক হবে না বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
বাজারদর ও আসন্ন নির্বাচন প্রসঙ্গে উপদেষ্টা জানান, গত বছর প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে চালের দাম কিছুটা বাড়লেও সরকারের সময়োপযোগী প্রস্তুতির ফলে বর্তমানে তা সহনীয় পর্যায়ে রয়েছে। তিনি আশা করেন যে, পর্যাপ্ত মজুতের কারণে এই স্থিতিশীলতা বজায় থাকবে। এছাড়া সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি নিশ্চিত করেন যে, প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো ঘাটতি নেই এবং নির্দিষ্ট সময়ে নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করা হচ্ছে।
প্রশাসনিক কার্যক্রম আরও গতিশীল করতে তিন অতিরিক্ত সচিবকে সচিব পদে পদোন্নতি দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ তিনটি দপ্তরে পদায়ন করেছে সরকার। রোববার (৪ জানুয়ারি) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে পৃথক প্রজ্ঞাপন জারির মাধ্যমে এই নতুন নিয়োগ ও পদোন্নতির আদেশ নিশ্চিত করা হয়। সরকারের এই সিদ্ধান্ত অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে জানানো হয়েছে।
নতুন এই আদেশ অনুযায়ী, সমাজসেবা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক হিসেবে কর্মরত অতিরিক্ত সচিব মো. সাইদুর রহমান খানকে সচিব পদে পদোন্নতি প্রদান করে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালনরত অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ মিজানুর রহমান খানকে সচিব পদে উন্নীত করে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে।
এ ছাড়া তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. মোহাম্মদ আলতাফ-উল আলমকেও সচিব পদে পদোন্নতি দিয়েছে সরকার। তাকে বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস প্রশাসন একাডেমির রেক্টর হিসেবে নিয়োগ প্রদান করা হয়েছে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় কর্তৃক জারিকৃত এই প্রজ্ঞাপনগুলোর মাধ্যমে দেশের গুরুত্বপূর্ণ এই তিন প্রশাসনিক দপ্তরে নতুন নেতৃত্বের যাত্রা শুরু হলো।
সুন্দরবনের পূর্ব বনবিভাগের চাঁদপাই রেঞ্জের ঢাংমারী স্টেশন সংলগ্ন এলাকায় হরিণ শিকারিদের পাতা ফাঁদে আটকা পড়া একটি পূর্ণবয়স্ক পুরুষ বাঘকে সফলভাবে উদ্ধার করেছে বনবিভাগের একটি বিশেষ দল। রোববার দুপুর আড়াইটার দিকে বাঘটিকে ‘ট্রানকুইলাইজার গান’ ব্যবহার করে ইনজেকশন পুশ করার মাধ্যমে অচেতন করে ফাঁদ থেকে মুক্ত করা হয়। বনবিভাগ সূত্র জানায়, মোংলার শরকির খাল এলাকা থেকে প্রায় আধা কিলোমিটার গভীরে বাঘটি কয়েকদিন ধরে আটকে ছিল। শনিবার দুপুরের দিকে বাঘটি ফাঁদে পড়ার খবর প্রথম বনবিভাগের নজরে আসে এবং এরপর থেকেই নিবিড় উদ্ধার তৎপরতা শুরু হয়। উদ্ধারকৃত বাঘটি কেবল পূর্ণবয়স্কই নয় বরং এটি একটি পুরুষ বাঘ, যা দীর্ঘ চার-পাঁচ দিন ধরে ফাঁদে আটকে থাকায় শারীরিকভাবে বেশ দুর্বল হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে বাঘটির সামনের বাম পা শিকল সদৃশ ফাঁদে আটকে থাকায় সেখানে গভীর ক্ষতের সৃষ্টি হয়েছে বলে বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন।
উদ্ধারকাজটি সফল করতে ঢাকা থেকে ভেটেরিনারি সার্জনসহ একটি বিশেষ দল এবং খুলনা থেকে বন্যপ্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান। উদ্ধার অভিযান শেষে বাঘটিকে একটি মজবুত খাঁচায় বন্দি করে দ্রুত চিকিৎসার জন্য খুলনায় বনবিভাগের বন্যপ্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের রেসকিউ সেন্টারে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। সুন্দরবনের করমজল বন্যপ্রাণী প্রজনন কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আজাদ কবির জানিয়েছেন, বাঘটি দীর্ঘ সময় আটকে থেকে অসুস্থ হয়ে পড়ায় তাকে আপাতত প্রয়োজনীয় ওষুধ ও স্যালাইন দেওয়া হচ্ছে। খুলনার রেসকিউ সেন্টারে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখে বিশেষায়িত চিকিৎসা দেওয়ার পর বাঘটি পুরোপুরি সুস্থ হয়ে উঠলে তাকে পুনরায় বনে অবমুক্ত করা হবে কি না, সে বিষয়ে বনবিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ পরবর্তীতে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন। বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, শিকারিদের এমন অবৈধ তৎপরতা সুন্দরবনের বাঘ সংরক্ষণের ক্ষেত্রে বড় ধরনের হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার জাহানপুর গ্রামে বসবাস ৫০ বছর বয়সি মসুদা বেগমের। জন্ম থেকেই তিনি স্বাভাবিকভাবে দাঁড়িয়ে হাঁটতে পারেন না। শুধু হাঁটতে পারা নয়, সে একজন বাকপ্রতিবন্ধীও। দুটি হাত ও দুটি পা ভর করে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলাই তার জীবনের একমাত্র ভরসা। এইভাবেই প্রতিদিন তিনি লড়াই করে টিকে আছেন।
মসুদার জীবন যেন দুঃখ আর সংগ্রামের এক জীবন্ত প্রতিচ্ছবি। অন্যদের মতো সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে হাঁটা তার কল্পনার বাইরের বিষয়। গ্রামের আঁকাবাঁকা পথ ধরে তিনি যখন দুই হাত ও দুই পা মাটিতে ঠেকিয়ে সামনের দিকে এগোন, তখন অনেকেই বিস্মিত দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকেন, আবার কেউ কেউ চোখ ফিরিয়ে নেন। কিন্তু কারও দৃষ্টি তার জীবনের যন্ত্রণাকে লাঘব করতে পারেনি।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মসুদা জন্ম থেকেই শারীরিক প্রতিবন্ধী। সে পাঁচ বোন ও এক ভাইয়ের মধ্যে সবার বড়। বর্তমানে বাবা-মা কেউ বেঁচে নেই। একমাত্র ভাইয়ের কাছেই তার আশ্রয়। তার ভাই দিনমজুরি কাজ করেন। সংসার চালানোয় দায়, বোনের খরচ চালাতে হিমশিম খেতে হয় ভাইটির। কেউ দয়া করে কিছু দিলে তা দিয়েই কোনরকম দিন কাটাতে পারেন।
প্রতিবেশী মাওলানা শাহে আলম বলেন, ‘চিকিৎসার অভাবে তার শারীরিক অবস্থার উন্নতি হয়নি। মসুদা সরকারি কোন সহায়তাও পান না। স্থানীয়ভাবে একাধিকবার সহায়তার আশ্বাস মিললেও বাস্তবে তেমন কোনো কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যায়নি। সরকারি বা বেসরকারি সহায়তা পেলে হয়তো একটি হুইলচেয়ার বা অন্তত চলাচলের উপযোগী কোনো সহায়ক যন্ত্র পেতে পারতেন তিনি। কিন্তু দারিদ্র্য আর অবহেলার কারণে সে স্বপ্ন আজও অধরাই রয়ে গেছে।’
একই এলাকার ইউনুস বলেন, ‘মসুদা বেগম মায়ের গর্ভ থেকেই প্রতিবন্ধী। একজন ভাই আছে, তাও অসহায়। মানুষ কিছু সহযোগিতা করলে খরচ চলে। সে সরকারি কোন সহযোগিতা পায়না। তবে সরকার সহযোগিতা করলে কোন রকম চলতে পারবে।
মসুদা বেগমের ভাই বেল্লাল বলেন, ‘আমার পাঁচ বোন ও আমি সবার ছোট। প্রতিবন্ধী বোনটি সবার বড়। আমার বোন কোন ধরনের ভাতা পাচ্ছে না। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা কোন সহযোগিতা করেনি। আমি একা মানুষ কাজ করে নিজের সংসার চালাই, এবং বোনেরও খরচ চালাই। সরকারের কাছে সাহায্য চাই।’
উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মামুন হোসাইন বলেন, ‘বিষয়টি আপনার মাধ্যমে জানতে পারলাম। মসুদাকে সরকারি ভাতার আওতায় আনা হবে।’
ষাটের দশকে নারী শিক্ষা ছিল অনেক কঠিন। তেমনটা ছিল না পাঠ চুকানোর বিদ্যালয়। সহপাঠীরও ছিল অভাব। বিদ্যালয়ে সহপাঠী পাওয়া যেমন ছিল কষ্ট সাধ্য, তেমনি পাঠ চালিয়ে যাওয়াও ছিল আরো কঠিন। অভাব অনটন খাদ্য পোশাক পরিচ্ছদের মৌলিক মানবিক চাহিদা পূরণটাও ছিল অনেক পরিবারের পক্ষে সাধ্যের বাহিরে। এমন সময় নিজের পড়াশোনা চালিয়ে নিজেরদের জাতিগোষ্ঠীর মানুষদের শিক্ষা প্রদান করা আলো ছড়ানোর মধ্যে একজন হলো জাসিন্তা নকরেক। তার বাড়ি টাঙ্গাইলের মধুপুর গড়ে। শালবন এলাকার টেলকি মান্দি গ্রামের এই নারী ১৯৬৩ সালে জন্ম গ্রহন করে। তার বাবার নাম স্বর্গীয় মার্টিন হাদিমা। ঐ সময় শালবন ছিল ঘন অরণ্যেঘেরা। নানা বৃক্ষ রাজি লতা পাতা নানা জীবজন্তুর অভয়ারণ্য। হতো জুম চাষও। তার বেড়ে উঠা শৈশব কৈশোর জীবন যৌবনের সবটুকু সময় কেটেছে লাল মাটির এ গড় অঞ্চলে। গত বৃহস্পতিবার বিকেলে মধুপুর শহর থেকে ১০/১২ কিলোমিটার দূরে অরণখোলা ইউনিয়নের টেলকি গ্রামে গিয়ে তার সাথে কথা বলে জানা যায় জাসিন্তা নকরেকের আলো ছড়ানোর গল্প। ২০২৫ সালে তিনি উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে সমাজ সেবায় অসামান্য অবদান রাখায় নির্বাচিত হয়ে অর্জন করেছে শ্রেষ্ঠ জয়িতা সম্মাননা।
জাসিন্তা নকরেক তার গ্রাম থেকে বন পাড়ি দিয়ে পায়ে হেঁটে পড়তে আসতেন। বন পাড়ি দিতে ভয় হতো। কখনও সাথী পাওয়া যেত, কখনো পাওয়া যেত না এমন পরিস্থিতি নিত্যদিন আসতে হতো পড়তে। ঝড় বৃষ্টি উপেক্ষা করে ১৯৬৯ সালে ৫ম পাশ করে ষষ্ঠ শ্রেনী ভর্তি হন জলছত্র কর্পোস উচ্চ বিদ্যালয়ে। ঐ সময় তার মা অসুস্থ ও দেশে যুদ্ধ বাঁধার কারণে বিদ্যালয়ের যাতায়াত নিরাপদ না থাকায় পড়া বন্ধ হয়ে যায়। এ সময় তার বোনের কাছে ১৯৭২ সালে সেলাই শিখে কাজ করে সংসারের ভাইবোনদের দেখাশোনা শুরু করে। মায়ের অসুস্থতার কারণে দায়িত্ব পড়ে যায় তার উপর। এভাবে সংসারের কাজের পাশাপাশি ২৯৭৫ সালে আবার ভর্তি হয়ে অষ্টম পাশ করে নবাব গঞ্জের গোল্লা মিশন সেন্ট গালর্স হাইস্কুলে ভর্তি হয়ে এসএসসি পাশ করে। নিজ এলাকায় এসে কর্পোস খ্রীস্টি হাইস্কুলে এসে শিক্ষকতা শুরু করে। পরে মধুপুর কলেজ হয়ে ট্রান্সফার হয়ে চলে যায় টাঙ্গাইল কুমুদিনী কলেজে।
তিনি জানান, নিজেদের এলাকায় তেমন স্কুল না থাকায় ১৯৮৩ সালে প্রশিক্ষণ নিয়ে শুরু করে শিক্ষকতা। প্রথমে সাইনামারী ও পরে বেরিবাইদ মিশনারী স্কুলে। এভাবে গায়রা, টেলকি, গেৎচুয়া ও পরে আবার গায়রা মিশনারী স্কুলে এখন তিনি টেলকি মিশনারী স্কুলে শিক্ষকতা পেশায় রয়েছে। ৪৩ বছরের শিক্ষকতা জীবনে তিনি আলো ছড়িয়েছে বন এলাকায় নিজের জাতিগোষ্ঠীসহ স্থানীয়দের মাঝে। শুধু শিক্ষকতাই নয় সামাজিক সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে রেখেছে অবদান।
তিন মেয়ে স্বামী নিয়ে তার জীবন সংসার। তিন মেয়েকে করেছে উচ্চ শিক্ষিত। বড় মেয়ে ঢাকায় ব্যবসা করে। মেঝো মেয়ে ব্যুরো বাংলাদেশের প্রশাসন বিভাগে কর্মরত। ছোট মেয়ে জাপানে পড়াশোনা শেষ করে ঐ দেশেই চাকরি করছে।
এছাড়াও তিনি গারো সম্প্রদায়ের নারীদের বিভিন্ন সংগঠনের সাথে জড়িত রয়েছে। তাদের নিজেদের বিভিন্ন সামাজিক সাংস্কৃতিকসহ বিভিন্ন কর্মকান্ডে সক্রিয়ভাবে ভূমিকা রেখে যাচ্ছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছে।
জাসিনাতা নকরেক জানান, শালবনের পাশেই তার বেড়ে উঠা। এখানেই তার মায়ের বাড়ি। পাশেই তার দাদার বাড়ি। পাশের গ্রাম থেকে তাদের প্রথা অনুযায়ী জামাই এনেছে রাজাবাড়ি গ্রা থেকে। তিনি বলেন তার মায়ের সাথে মধুপুর বনে জুম চাষ করতে যেত। জুমের অনেক কথাই তার মনে পড়ে। জুমে ধান, দেওধান, কাউন, ভুটা, বরবটি, করল্লা, তিল, তুলা, শিমুল, কচুসহ বিভিন্ন ফসল চাষ হতো। এখন আর জুম চাষ নেই রয়েছে তার মনের স্মৃতিতে।
তিনি আরো জানান, মানুষ সৃষ্টি সেরা হিসেবে ভালো মানুষ হওয় দরকার। সৎ ও সহযোগিতা মূলক মনোভাব থাকা দরকার। যেন প্রত্যেকটা পরিবার আর্দশ পরিবার হিসেবে গড়ে উঠে। ধর্মীয় অনুশাসন মেনে আধ্যাত্মিক নৈতিকতা মূলক পরিবার সমাজ যেন গড়ে উঠে। এতে সুন্দর হবে গ্রাম। শহর দেশ যেন ভালো সুন্দর হয়। সব মানুষ যেন ভালো মানুষ হয়।
কারো ক্ষতির মনোভাব যেন না থাকে, পরামর্শ দিয়ে যেন সহযোগী হয়, সুশিক্ষিত হয়ে গড়ে উঠে আগামী প্রজন্ম এমনটাই প্রত্যাশার কথা জানান তিনি।
জাসিন্তা নকরেকের স্বামী শৈলেস দালবত জানান, তারা স্বামী স্ত্রী মিলে এখন বাড়ি সংসার করছে। তিনি কৃষি কাজ করে, তার স্ত্রী শিক্ষকতা করে। মেয়েরাও চাকরি ব্যবসা করে। সুখের সংসার। মানুষের বিপদ আপদে জাসিন্তা ছুটে যায়। এগিয়ে আসে সমাজের বিভিন্ন কাজে। তার এমন কাজ ও অর্জনে তিনি খুশি বলে জানান।