চট্টগ্রাম বন্দরে পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনালের (পিসিটি) অপারেশন কার্যক্রম শুরু হয়েছে। দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দরের ইতিহাসে এই প্রথম বিদেশি অপারেটরের অধীনে পিসিটির কার্যক্রম শুরু হলো। এ বন্দরে গতকাল সোমবার বিকালে ভিড়েছে বাণিজ্যিক জাহাজ এমভি মায়েরস্ক দাভাও। রেড সি গেটওয়ে টার্মিনালটি (আরএসজিটি) পরিচালনা করছে।
এ উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বন্দর চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল মোহাম্মদ সোহায়েলসহ বন্দর, আরএসজিটি বাংলাদেশের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এরউইন হেইজসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও বন্দর ব্যবহারকারী বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
২০২৩ সালের ডিসেম্বরে রেড সি গেটওয়ে টার্মিনাল ইন্টারন্যাশনালের সঙ্গে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের মধ্যে ২২ বছরের কনসেশন চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছিল। এরপর প্রথম বাণিজ্যিক জাহাজ ভিড়ল এ টার্মিনালের জেটিতে।
নিজস্ব ক্রেনযুক্ত ফিডার জাহাজটি মালয়েশিয়ার পোর্ট কেলাং থেকে আরএসজিটির চট্টগ্রাম টার্মিনালে প্রায় আটশ টিইইউস রপ্তানি পণ্য বোঝাই ও খালি কনটেইনার লোড-আনলোড করে ইন্দোনেশিয়ার বেলাওয়ান বন্দরে যাওয়ার কথা রয়েছে।
আরএসজিটি ২০০৬ সালে প্রতিষ্ঠিত, সৌদি আরবের শীর্ষস্থানীয় বন্দর উন্নয়নকারী এবং অপারেটর, যার ফ্ল্যাগশিপ টার্মিনাল জেদ্দা ইসলামিক পোর্টে অবস্থিত। যা সৌদি আরব এবং লোহিত সাগরের বৃহত্তম কনটেইনার টার্মিনাল। বছরে ৬ দশমিক ২ মিলিয়ন টিইইউস হ্যান্ডলিং করে থাকে।
৫৮০ মিটার দীর্ঘ ও ১০ মিটার ড্রাফটের পিসিটিতে একসঙ্গে তিনটি জাহাজ ভিড়তে পারবে। পিসিটি ও সাউথ কনটেইনার ইয়ার্ড মিলে ২ লাখ ৮ হাজার বর্গমিটার। পিসিটিতে কনটেইনার হ্যান্ডলিং ইক্যুইপমেন্ট ও প্রযুক্তিনির্ভর বন্দর ব্যবস্থাপনায় ১৭০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে চারটি উন্নত উচ্চক্ষমতার শিপ টু শোর (এসটিএস) ক্রেন, রাবার টায়ার গ্যান্ট্রি ক্রেন (আরটিজি) ও আধুনিক হ্যান্ডলিং ইক্যুইপমেন্ট সংগ্রহ করা হবে। যা টার্মিনালের বার্ষিক কনটেইনার হ্যান্ডলিং ক্ষমতা আড়াই লাখ টিইইউস থেকে ৬ লাখ টিইইউস পর্যন্ত বাড়াবে।
এরউইন হেইজ বলেন, আমরা ক্যাপ্টেন মায়ো মিন থান এবং মায়েরস্ক দাভাওকে আরএসজিটি-চট্টগ্রামে স্বাগত জানাতে পেরে গর্বিত এবং এই নতুন কনসেশন চুক্তির অধীনে প্রথম আনুষ্ঠানিক জাহাজ আগমনের গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক উদযাপন করছি। আমরা বাংলাদেশের অর্থনীতিতে এবং বৈশ্বিক লজিস্টিক চেইনে চট্টগ্রাম বন্দরের কেন্দ্রীয় ভূমিকা বাড়াতে অবদান রাখতে উন্মুখ। আমরা বাংলাদেশ সরকার, বন্দর কর্তৃপক্ষ, এনবিআর, কাস্টমস এবং আমাদের দীর্ঘসময়ের ব্যবসায়িক অংশীদার মায়েরস্ককে ধন্যবাদ ও আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাই। তারা আমাদের বাংলাদেশের শিপিং কমিউনিটি এবং বৈশ্বিক বন্দর শিল্পকে বিশ্বমানের সেবা দেওয়ার সুযোগ দিয়েছে।
রিয়ার অ্যাডমিরাল মোহাম্মদ সোহায়েল বলেন, আজ আমাদের জন্য অত্যন্ত আনন্দের দিন। চট্টগ্রাম বন্দরের জন্য ঐতিহাসিক দিন। চট্টগ্রাম বন্দরের বয়স ১৩৭ বছর। এ দীর্ঘ পথচলায় প্রথমবারের মতো একটি টার্মিনাল বিদেশি অপারেটর গ্লোবালি স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান রেড সি গেটওয়েকে পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছি। চট্টগ্রাম বন্দরের পক্ষ থেকে আগামী ২২ বছর টার্মিনালটি তারা অপারেট করবে।
রেড সি গেটওয়ে পিসিটিতে দেড় হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছে। রেভিনিউর একটি বড় অংশ শেয়ার করবে। সব ইক্যুইপমেন্ট তাদের নিজস্ব। ২২ বছর পর সব ইক্যুইপমেন্ট আমাদের বন্দরের হয়ে যাবে।
কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলায় হাঁস চুরির অভিযোগ তুলে এক যুবককে কৌশলে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় পুলিশ দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে। বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) ভোরে উপজেলার মালিগাঁও গ্রামে ঘটনাটি ঘটে। নিহত যুবকের নাম সাঈদ ভূইয়া (২৩)। তিনি একই গ্রামের বাসিন্দা এবং পেশায় রাজমিস্ত্রি ছিলেন।
জানা গেছে, মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে মালিগাঁও গ্রামের আব্দুর রাজ্জাক মিয়া সাঈদের বাবার কাছে অভিযোগ করেন, তার ছেলে রাজ্জাকের হাঁস চুরি করেছে। এ সময় সাঈদের বাবা আলাউদ্দিন ভূইয়া জানান, তার ছেলে দোষী হলে বাড়িতে ফিরলে তিনি বিচার করে হাঁসের ক্ষতিপূরণ দেবেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে রাজ্জাক মিয়া সেখান থেকে চলে যান।
পরবর্তীতে রাত আনুমানিক ১১টার দিকে রাজ্জাক মিয়া পরিবারের কাউকে না জানিয়ে কৌশলে সাঈদকে তার বাড়িতে ডেকে নেন। সেখানে রাজ্জাক মিয়া, তার ছেলে রাব্বি ও জাহিদ, ভাতিজা শাওনসহ আরও কয়েকজন মিলে হাঁস চুরির অপবাদ দিয়ে সাঈদকে মারধর করেন। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে গ্রামের আলমের মুদি দোকানের সামনে ফেলে রাখা হয়।
খবর পেয়ে রাত প্রায় ১২টার দিকে ঘটনাস্থলে পৌঁছে সাঈদের বাবা ছেলেকে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। পরে তাকে উদ্ধার করে প্রথমে মালিগাঁও স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং পরে গৌরীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ভোরে সাঈদের মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় নিহতের বাবা আলাউদ্দিন ভূইয়া দাউদকান্দি মডেল থানায় বাদী হয়ে হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
দাউদকান্দি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এম আব্দুল হালিম জানান, ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে মালিগাঁও গ্রামের মো. জসিম মিয়া (৩৫) ও মো. ওমর সানি (৩০) কে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
বাবার জানাজায় অংশ নিতে প্যারোলে মুক্তির আবেদন নামঞ্জুর হওয়ায় এক হাজতির বাবার মরদেহই আনা হয়েছে কারাগারে।
বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) সকালে কিশোরগঞ্জ জেলা কারাগারে এ হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটে। এমন দৃশ্য দেখে হতবাক হয়ে পড়েন উপস্থিত অনেকে।
কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলার পানাউল্লারচর এলাকার বাসিন্দা মিলন মিয়া (৪৫) বর্তমানে রাজনৈতিক মামলায় কারাগারে রয়েছেন। প্যারোলে মুক্তি না পাওয়ায় শেষ পর্যন্ত বাবার মরদেহ কারাগারে এনে তাকে শেষবারের মতো দেখার সুযোগ দেওয়া হয়। মিলন মিয়ার বাবা ফুল মিয়া (৭০) দীর্ঘদিন ধরে ক্যান্সারে আক্রান্ত ছিলেন। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে ভৈরবের একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
পরিবার ও আইনজীবী সূত্রে জানা যায়, বাবার জানাজায় অংশ নিতে মিলন মিয়ার প্যারোলে মুক্তির জন্য জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের দায়িত্বপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন করা হয়। তবে আবেদন নামঞ্জুর করে মরদেহ কারাগারে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
মিলন মিয়ার চাচা মতিউর রহমান বলেন, “কারাগারের ভেতরে বাবার মরদেহ দেখে মিলন বারবার লুটিয়ে পড়েছে। প্যারোলে মুক্তির অনেক চেষ্টা করেছি, কিন্তু ব্যর্থ হয়ে শেষ পর্যন্ত মরদেহ কারাগারে আনতে হয়েছে। জীবনে এমন ঘটনা আর দেখিনি।”
স্বজনরা জানান, সকাল ১০টার দিকে মরদেহবাহী অ্যাম্বুলেন্স জেলা কারাগারে পৌঁছায়। মিলনের এক চাচাকে ভেতরে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হলেও অন্য স্বজনরা পান সাধারণ সাক্ষাতের সুযোগ।
চাচাতো ভাই সালাম মিয়া বলেন, “৬০ কিলোমিটার দূর থেকে মরদেহ কারাগারে আনতে হয়েছে। এই সময় দাফন-কাফনে থাকার কথা ছিল, অথচ আমাদের ছুটতে হচ্ছে আদালত আর কারাগারে।”
আসামিপক্ষের আইনজীবী আবদুল মোমেন ভূইয়া তুহিন বলেন, “মিলন মিয়া কোনো মামলার এজাহারভুক্ত আসামি নন। তার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগও নেই। একটি মামলায় জামিন পাওয়ার পর আবার নতুন মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।”
এ বিষয়ে কিশোরগঞ্জ জেলা কারাগারের জেল সুপার রিতেশ চাকমা জানান, “জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কার্যালয় থেকে পাঠানো নির্দেশনা অনুযায়ী কারাগারের গেটে মরদেহ দেখার সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে।”
চট্টগ্রাম বোয়ালখালীতে একটি বসতঘর থেকে নগদ টাকাসহ স্বর্ণের গয়না চুরি হয়েছে। মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) উপজেলার শাকপুরা ইউনিয়নের ৪ নাম্বার ওয়ার্ডের মধ্যম শাকপুরা গ্রামের বৈদ্য বাড়িতে এ ঘটনা ঘটেছে।
এ ঘটনায় লাভলী বড়ুয়া বোয়ালখালী থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
তিনি বলেন, মঙ্গলবার সকাল ৯টার দিকে ঘরের দরজা তালাবদ্ধ করে সারোয়াতলীতে একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান গিয়েছিলাম। সেখান থেকে বিকেলে ডাক্তার দেখাতে নগরে যাই। রাত সাড়ে ১০টার দিকে বাড়ি ফিরে ঘরের তালা খুলে দেখি পেছনের দরজা খোলা। সমস্ত জিনিসপত্র এলোমেলো। ২টি আলমিরা লক ভেঙে নগদ ৩ লাখ টাকা ও ১৪ লাখ টাকা মূল্যমানের ৬ ভরি স্বর্ণের গয়না নিয়ে গেছে।
লাভলী বড়ুয়ার স্বামী শিমুল বিকাশ বড়ুয়া জানান, তিনি স্থানীয় ধম্মানন্দ বিহারের কোষাধ্যক্ষ। বিহারটি উন্নয়ন কাজের নগদ টাকা এবং তার চাকুরি থেকে পাওয়া মাসের বেতন আলমিরা ড্রায়ারে রেখেছিলেন।
বোয়ালখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহফুজুর রহমান বলেন, অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে HEAT-ATF এর একটি সাব প্রজেক্টের সহযোগিতায় মাৎস্য বিজ্ঞান অনুষদের ফিসারিজ টেকনোলজি বিভাগের আয়োজনে ‘রিসার্চ মেথোডোলজি, ননইনভেসিভ টেকনোলজি ফর সীফুড অ্যানালাইসিস অ্যান্ড সায়েন্টিফিক রাইটিং’ বিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।
২ ফেব্রুয়ারি (সোমবার) পবিপ্রবির ছাত্রশিক্ষক কেন্দ্রের কনফারেন্স কক্ষে সকাল ৯ টা ৩০ মিনিটে পবিপ্রবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. কাজী রফিকুল ইসলাম প্রধান অতিথি হিসেবে অনুষ্ঠানের শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেন।
উক্ত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ- উপাচার্য প্রফেসর ড. এস.এম. হেমায়েত জাহান, ট্রেজারার প্রফেসর মোঃ আব্দুল লতিফ, ওশানোগ্রাফি অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মোঃ মামুন অর রশিদ, ফিশারিজ অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মোঃ সাজেদুল হক।
প্রশিক্ষণ সমন্বয়কারী হিসেবে ছিলেন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ লোকমান আলী, প্রশিক্ষণ পরিচালক হিসেবে ছিলেন মাৎস্য বিজ্ঞান অনুষদের ফিসারিজ টেকনোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. মিজানুর রহমান, মাৎস্য বিজ্ঞান অনুষদের বিভিন্ন সেমিস্টারের শিক্ষার্থীরা কর্মশালায় অংশগ্রহণ করে।
প্রথম অধিবেশনে সকাল ১০.০০-১১.৩০ পর্যন্ত গবেষণা পদ্ধতি ও ফিসারিজ সাইন্স বিষয়ে বক্তব্য রাখেন অধ্যাপক ডঃ মোহাম্মদ লোকমান আলী। দ্বিতীয় অধিবেশনে দুপুর ১২.০০- ১.০০ পর্যন্ত সামুদ্রিক খাবার বিশ্লেষণের জন্য ননইনভেসিভ টেকনোলজি বিষয়ে বক্তব্য রাখেন অধ্যাপক ডঃ মোঃ মিজানুর রহমান।
তৃতীয় অধিবেশন দুপুর ২:০০-৩:৩০ টা পর্যন্ত দেশে এবং বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য কারিগরি ফেলোশিপ/বৃত্তি বিষয়ে সেশন পরিচালনা করেন প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আতিকুর রহমান ডিন, পোস্ট গ্রাজুয়েট স্টাডিজ (পিজিএস), পবিপ্রবি। চতুর্থ অধিবেশনে বিকাল ৩:৪০-বিকাল ৪:৩০ সাইন্টিফিক রাইটিং বিষয়ে সেশন নেয় অধ্যাপক ডঃ মোঃ মিজানুর রহমান।
পরবর্তীতে প্রশ্নোত্তর পর্ব ও অংশগ্রহণকারী দের সার্টিফিকেট প্রদান ও পবিপ্রবি উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. এসএম হেমায়েত জাহান এর সমাপনী বক্তব্যের মাধ্যমে বিকাল ৫ টায় অনুষ্ঠানটির সমাপ্ত হয়।
প্রশিক্ষণ পরিচালক ও মাৎস্য বিজ্ঞান অনুষদের ফিসারিজ টেকনোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. মিজানুর রহমান বলেন, "ইউজিসি ও বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে HEAT পরিচালিত একটি সাব-প্রজেক্টের আওতায় মাৎস্য বিজ্ঞান অনুষদের বিভিন্ন বর্ষের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে সীফুড অ্যানালাইসিস ও সায়েন্টিফিক রাইটিং বিষয়ক একটি কর্মশালার আয়োজন করা হয়েছে। এই কর্মশালার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা সীফুডের গুণগত মান বজায় রাখা, সীফুড উৎপাদনে ব্যবহৃত আধুনিক ও নতুন প্রযুক্তি সম্পর্কে গভীর জ্ঞান অর্জন করতে পারছে এবং বাস্তবভিত্তিক এক্সপেরিমেন্ট করার সুযোগ পাচ্ছে, যা ভবিষ্যতে তাদের গবেষণামুখী হতে উৎসাহিত করবে।"
তিনি আরও বলেন, "নিরাপদ সামুদ্রিক খাদ্য ভোক্তাদের কাছে দ্রুত ও কার্যকরভাবে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে বিশ্বে নতুনভাবে উদ্ভাবিত বিভিন্ন প্রযুক্তি সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের অবহিত করা হচ্ছে। এর মধ্যে বিশেষভাবে ‘ফ্লোরোসেন্স ফিঙ্গারপ্রিন্টিং’ প্রযুক্তি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে, যা খুব সহজে ও অল্প সময়ে সীফুডের নিরাপত্তা ও মান যাচাই করতে সহায়তা করে। পৃথিবীর সঙ্গে তাল মিলিয়ে আমাদের মৎস্য ও সামুদ্রিক খাদ্য খাতে নিরাপত্তা ও গুণগত মান নিশ্চিত করতে এসব আধুনিক প্রযুক্তি কীভাবে প্রয়োগ করা যায়, সে বিষয়ে শিক্ষার্থীদের ধারণা দেওয়া হয়েছে, যাতে তারা ভবিষ্যতে নতুন নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবনে ভূমিকা রাখতে পারে এবং বাংলাদেশের মাৎস্য ও মাৎস্যজাত পন্য উৎপাদন ব্যবস্থাকে আরও সমৃদ্ধ করতে সক্ষম হয়।
পবিপ্রবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. কাজী রফিকুল ইসলাম বলেন, "রিসার্চ ভ্যালিডেশন একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, কারণ যেকোনো গবেষণার ক্ষেত্রেই ত্রুটি থাকা উচিত নয়। তিনি আরও বলেন, ব্যাসিক রিসার্চের ক্ষেত্রে হয়তো ৫ থেকে ১০ শতাংশ ত্রুটি নেগলিজিবল হিসেবে বিবেচিত হতে পারে, তবে ভ্যালিডেশনের ক্ষেত্রে এই পার্থক্য স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়। এ সময় তিনি গবেষণা পদ্ধতি (রিসার্চ মেথডোলজি) অনুসরণে বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন এবং গবেষণা বিষয়ক এমন প্রশিক্ষণ কর্মসূচি আয়োজনের জন্য সংশ্লিষ্টদের ধন্যবাদ জানান। পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ ধরনের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম আরও আয়োজন করা হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।"
শিক্ষাজীবন শেষে নার্স ও মিডওয়াইফারিদের কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে ‘জব ফেয়ার‘ বা চাকরি মেলার আয়োজন করেছে সিরাজগঞ্জ নার্সিং ইনস্টিটিউট।
মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি ) সকাল ১১ টায় সিরাজগঞ্জে সদরে নার্সিং ইনস্টিটিউটের হল রুমে দাতা সংস্থা বিশ্বব্যাংকের অর্থায়ন অ্যাসেট প্রকল্পের আওতায় এ মেলার আয়োজন করে প্রতিষ্ঠানটি।
সিরাজগঞ্জ নার্সিং ইনস্টিটিউটের নার্সিং ইনস্ট্রাক্টর ইনচার্জ রেহানা খাতুনের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন সিরাজগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা: আকিকুর নাহার। এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন–ডেপুটি সিভিলে সার্জন রিয়াজুল ইসলাম ,নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক ( সমন্বয় ও প্রশিক্ষক) ফরিদা ইয়াসমিন ও এসেক্ট প্রজেক্টের, মেন্টর, কাওসার আলম। এছাড়াও এসময় নার্সিং ইনস্টিটিউটের শিক্ষক–শিক্ষার্থী ও মেলায় আসা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা–কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।
আলোচনা সভা অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি আকিকুর নাহার বলেন, ‘জব ফেয়ার‘ হলো এক ধরণের প্ল্যাটফর্ম। যেখানে সুনির্দিষ্ট কোনো জবের ক্ষেত্রে যারা নিয়োগ কর্তা, নিয়োগদাতা তাদের মধ্যে একটা প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা। এটা খুবই চমৎকার উদ্যোগ। এজন্য জব ফেয়ারকে অনেক সময় বলা হয় ক্যারিয়ার এক্সপোর্ট। কাজেই এই জব ফেয়ার খুবই চমৎকার একটা প্ল্যাটফর্ম, যা কাজের সুযোগ তৈরি করে।
সিরাজগঞ্জ নার্সিং ইনস্টিটিউটের নার্সিং ইনস্ট্রাক্টর ইনচার্জ রেহানা খাতুন বলেন, আমরা প্রথমবারের মতো এই উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। যেসব প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি, সবার থেকেই সাড়া পেয়েছি। জব ফেয়ারের স্টেকহোল্ডারদের কাছে আমরা স্টুডেন্টসদের সিভি দিয়েছি। প্রতিষ্ঠানগুলো চাকরিপ্রার্থী উপযুক্ত নার্স ও মিডওয়াইফারিদের বাচাই করে কর্মসংস্থানের সুযোগ দিতে পারবেন।
অনুষ্ঠানের শেষদিকে মেলায় স্টল দেয়া ও উপস্থিত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে সম্মাননা স্মারক হিসেবে ক্রেস্ট দেয়া হয়। সিরাজগঞ্জ নার্সিং ইনস্টিটিউট কর্তৃপক্ষ সিরাজগঞ্জে প্রথমবারের মতো আয়োজিত এ ‘জব ফেয়ারে‘ সিরাজগঞ্জ জেলায় অনেকগুলো প্রতিষ্ঠানকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিলো। যাদের মধ্যে ১০টি প্রতিষ্ঠান মেলায় স্টলও দিয়েছে।
নাটোরের সিংড়ায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে যৌথ বাহিনীর অভিযানে দেশীয় অস্ত্র ও দেশীয় অস্ত্র তৈরির কাচা মাল উদ্ধার করেছে পুলিশ ও বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ।
মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) রাত ১ টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলার বামিহাল বাজারে পুলিশ ও বাংলাদেশ সেনাবাহিনী একটি মোটরসাইকেল গ্যারেজে অস্ত্র তৈরির তথ্য পেয়ে অভিযান পরিচালনা করে। এতে আব্দুল্লাহ (২৯) নামে একজনকে আটক করা হয় ও মোটরসাইকেল গ্যারেজ থেকে একটি দেশি অস্ত্র ও দেশীয় অস্ত্র তৈরির মালামাল উদ্ধার করে। পরে তাকে সিংড়া থানায় হস্তান্তর করা হয়।
আটককৃত আব্দুল্লাহ ঈশ্বরদী উপজেলার রুপপুর গ্রামের বকুলের পুত্র। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সিংড়া থানার অফিসার ইনচার্জ ওসি আব্দুন নূর।
৯ম পে স্কেল বাস্তবায়নের দাবিতে পাবনার সাঁথিয়য় মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। পাবনার সাঁথিয়য় সরকারি কর্মচারী সমন্বয় পরিষদের উদ্যোগে চলমান কর্মসূচির অংশ হিসেবে নবম পে স্কেল বাস্তবায়নের দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি ও বিক্ষোভ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) উপজেলা পরিষদের সামনে সাঁথিয়া এবং উপজেলা সরকারি কর্মচারী সমন্বয় পরিষদের সভাপতি আমিনুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং সহ-সভাপতি জসিম উদ্দিন ও সাইফুল ইসলাম এর পরিচালনায় উক্ত কর্মসূচিতে বক্তব্য দেন, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এ কেএম শামসুল হক, বোয়ালমারী কামিল মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ডক্টর আব্দুল্লাহ, সহকারী অধ্যাপক জয়নাল আবেদীন রানা, সহকারী অধ্যাপক এম এ হাই, মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির আহবায়ক নাড়িয়াগোদাই উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল হান্নান, শালঘর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক শফিকুল ইসলাম রিপন,সাঁথিয়া সরকারি কর্মচারী সমন্বয় পরিষদের সাধারণ সম্পাদক আজমল হোসেন, সাংগঠনিক বজলুর রহমান, ইসমাইল হোসেন কিরণ, আনিসুর রহমান লিটন , ডাক্তার আব্দুল্লাহ আল হাদি, কেন্দ্রিয় কমিটির সদস্য ফার্মাসিস্ট রাসেল আহমেদ সোহাগ, প্রধান শিক্ষক নজরুল ইসলাম, আরিফা আঞ্জুমান আরা, প্রমুখ।
সমাবেশে বক্তারা আরো বলেন, ২১ জানুয়ারি কমিশন রিপোর্ট জমা দিলেও অর্থ উপদেষ্টা গেজেট প্রকাশ না করে কমিটি গঠনের মাধ্যমে কালক্ষেপণ করছেন। ৬ তারিখের আগে প্রজ্ঞাপন জারি না হলে ৬ তারিখের মহাসমাবেশে অংশগ্রহণের আহ্বান জানানো সমাবেশ থেকে।
এ সময় এমপিওভুক্ত বেসরকারি স্কুল কলেজ এবং মাদ্রাসার শিক্ষকরা এবং বিভিন্ন দপ্তরের কর্মচারী কর্মকর্তারা কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন।
পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার চাকামইয়া ইউনিয়নের উত্তর চাকামইয়া মানবিক সোসাইটির উদ্যোগে পবিত্র শবে বরাত উপলক্ষে গরিব ও অসহায় মানুষের মাঝে বিনামূল্যে গরুর গোস্ত বিতরণ করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১১টার দিকে ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের উত্তর চাকামইয়া মীরা বাড়ির সামনে এ কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়। এতে সোসাইটির পক্ষ থেকে একটি গরু জবাই করে স্থানীয় অসহায় দরিদ্র পরিবার ও মিয়া বাড়ি মসজিদে গোস্ত বিতরণ করা হয়।
কর্মসূচিতে সংগঠনের সভাপতি তানজিল মীর ও সাধারণ সম্পাদক নাঈম দফাদার ও সিনিয়র সহ সভাপতি মোসাঃ এমি এর নেতৃত্বে অন্যান্য সদস্যরা অংশ নেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন, সংগঠনের সাংগঠনিক সম্পাদক মহিববুল্লা, কোষাধ্যক্ষ কাওসার সিকদার, প্রচার সম্পাদক জাকারিয়া মীর, এলী, সহ সভাপতি নোমান, হারুন মীর, হাকিম মুসুল্লি, ইদ্রিস, মহসিন, কামাল মীর, তামিম মীরসহ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ ।
সংগঠনের নেতৃবৃন্দ জানান, সমাজের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোই সংগঠনের মূল উদ্দেশ্য। তারা বলেন, ভবিষ্যতেও এ ধরনের মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
স্থানীয়রা জানান, উত্তর চাকামইয়া মানবিক সোসাইটি নিয়মিতভাবে শীতার্তদের মাঝে কম্বল বিতরণ, রমজানে ইফতার ও ঈদ সামগ্রী বিতরণসহ বিভিন্ন সামাজিক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। মানবিক উদ্যোগের কারণে সংগঠনটির কার্যক্রম এলাকায় ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে।
বগুড়ার সারিয়াকান্দিতে বাঙ্গালী নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধে অভিযান পরিচালিত হয়েছে।
গত সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) আনুমানিক বিকাল ৪ ঘটিকায় সারিয়াকান্দি উপজেলাধীন সদর ইউনিয়নের পাইকপাড়া নামক স্থানে বাঙ্গালী নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করেছেন ভ্রাম্যমান আদালতের এক্সিকিউটিভ ম্যাজিসস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আতিকুর রহমান।
অভিযানকালে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনকারীরা পালিয়ে যায়। অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের কাজে ব্যবহৃত মেশিনটি অপসারণ করা হয়।
এছাড়াও বালু উত্তোলনের কাজে ব্যবহৃত পাইপ ভেঙে বিনষ্ট করা হয়। জনস্বার্থে অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে আশ্বস্ত করেছেন ঐ কর্মকর্তা।
চট্টগ্রামের হালদা নদীতে আরেকটি মৃত ডলফিন উদ্ধার করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) বেলা দুইটার দিকে হাটহাজারী উপজেলার উত্তর মাদার্শা ইউনিয়নের রামদাস মুন্সির হাট এলাকায় নদীতে মৃত অবস্থায় ভাসমান ডলফিনটি উদ্ধার করা হয়।
ওই এলাকার বাসিন্দা মো. আলমগীর মৃত ডলফিনটি উদ্ধার করেন। পরে তিনি নৌ পুলিশ ও মৎস্য বিভাগকে জানান।
এর আগে গত ১৬ ডিসেম্বর রামদাস মুন্সির হাট এলাকা থেকেই আরেকটি মৃত ডলফিন উদ্ধার হয়েছিল; আঘাতের কারণে যেটির মৃত্যু হয়েছিল বলে বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছিলেন।
এদিকে হাটহাজারী উপজেলার সিনিয়র মৎস্য অফিসার মো. শওকত আলী বলেন, নদীর মদুনাঘাটের দিক থেকে জোয়ারের সময় ডলফিনটি ভেসে এসেছিল। এটির দৈর্ঘ্য্ চার ফুট দুই ইঞ্চি এবং প্রস্ত এক ফুট। ওজন প্রায় ২৭ কেজি। বয়স আনুমানিক ২ বছর হতে পারে।
তিনি বলেন, তিন-চারদিন আগে ডলফিনটি মারা গেছে। জালে আটকা পড়ে অথবা শক্ত কিছুর সাথে আঘাতে মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে। শরীরে বড় কোন আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। তবে পঁচন ধরেছিল। পরে সেটি মাটি চাপা দেওয়া হয়েছে।
হালদা নদীর মদুনাঘাট অংশে কিছু ড্রেজার চলাচল করে জানিয়ে সিনিয়র মৎস্য অফিসার মো. শওকত আলী বলেন, গত বছর হালদায় চারটি মৃত ডলফিন পাওয়া গেছে। এই ডলফিনটি অপ্রাপ্ত বয়স্ক। স্বাভাবিক মৃত্যুর বয়স হয়নি।
হালদা নদীর গড়দুয়ারা, রামদাস মুন্সির হাট ও মাছুয়াঘোনা এলাকায় এখনো নিয়মিত ডলফিন দেখা যায়। কিন্তু নিয়মিতভাবে ডলফিনের মৃত্যু আশঙ্কাজনক। ডলফিন রক্ষায় সবার আরো সচতেন হওয়া উচিত।
হালদা নদীতে মারাত্নক দূষণ, ইঞ্জিত চালিত ড্রেজারের অবৈধ প্রবেশ, অবৈধ জাল এর ব্যবহারের কারণে ডলফিনের মৃত্যু বাড়ছে উল্লেখ করে বিষয়টি হালদা নদীর জীববৈচিত্রের জন্য হুমকি বলেও জানান তিনি।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের হালদা রিসার্চ ল্যাবরেটরির তথ্য অনুসারে, ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বর থেকে আজ পর্যন্ত হালদায় ৪৮টি ডলফিনের মরদেহ পাওয়া গেছে।
এর আগে গত বছরের ২৫ অগাস্ট হালদা নদীর কাটাখালী খাল থেকে একটি মৃত ডলফিন উদ্ধার করা হয়েছিল। তার আগে ২০২৫ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রামের রাউজার উপজেলার পশ্চিম গুজরা ইউনিয়নের কাগতিয়া খালে একটি মৃত ডলফিন পাওয়া গিয়েছিল। গত ৫ ফেব্রুয়ারি রাউজান উপজেলার বিনাজুরি ইউনিয়নের সিপাহিঘাট এলাকায় হালদা নদী থেকে আরেকটি মৃত ডলফিন উদ্ধার করা হয়।
২০২৪ সালেও হালদায় মোট চারটি মৃত ডলফিন পাওয়া গিয়েছিল। দক্ষিণ এশিয়ায় কার্প জাতীয় মাছের অন্যতম প্রাকৃতিক প্রজনন ক্ষেত্র হালদা নদী। এই নদী দেশের মিঠাপানির ডলফিনেরও অন্যতম প্রধান বিচরণ ক্ষেত্র। এক সময় কর্ণফুলী নদীতেও ডলফিনের আনাগোনা ছিল। তবে দূষণের কারণে এখন তা খুবই কমে গেছে।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রস্তুতি পর্যবেক্ষণে মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) মৌলভীবাজার জেলায় এক বিশেষ প্রস্তুতিমূলক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
উক্ত সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে অতিরিক্ত মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মামুনূর রশীদ নির্বাচনকালীন নিরাপত্তা নিশ্চিতকল্পে বাহিনীর দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, আধুনিক প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তিনির্ভর নিরাপত্তা কৌশলের বিস্তারিত রূপরেখা তুলে ধরেন। তিনি তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে, এই সমাবেশে অংশগ্রহণকারী সদস্যরা বিগত প্রায় দেড় বছর ধরে নিরবচ্ছিন্ন যাচাই-বাছাই ও আধুনিক প্রশিক্ষণ কারিকুলামের মধ্য দিয়ে নিজেদের যোগ্য হিসেবে প্রমাণ করেছেন। নির্বাচনী নিরাপত্তার কারিগরি দিক তুলে ধরে তিনি জানান, প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে মোট ১৩ জন সদস্য সুনির্দিষ্ট দায়িত্ব পালন করবেন এবং অধিক গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে ৩ জন ও সাধারণ কেন্দ্রগুলোতে ২ জন অস্ত্রধারী সদস্য নিয়োজিত থাকবেন। এছাড়া ভোটকেন্দ্রে যেকোনো তাৎক্ষণিক পরিস্থিতি মোকাবিলায় দ্রুত ব্যবস্থা নিতে দুইজন সদস্যকে বিশেষভাবে নির্বাচনী সুরক্ষা সফটওয়্যারে ‘End User’ বা প্রথম সাড়াদানকারী হিসেবে দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে।
সমাবেশে জানানো হয় যে, মৌলভীবাজার জেলার মোট ৫৫৪টি ভোটকেন্দ্রে ৭,২০২ জন আনসার ও ভিডিপি সদস্য সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বে নিয়োজিত থাকবেন এবং একটি সুসংগঠিত দল হিসেবে কাজ করার লক্ষ্যে তাদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। অতিরিক্ত মহাপরিচালক তাঁর ভাষণে প্রতিটি সদস্যকে সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব, রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা এবং সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়ে বলেন যে, একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিতে আনসার সদস্যদের শৃঙ্খলাবোধ ও আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল ভূমিকা অত্যন্ত অপরিহার্য। তিনি বিশেষভাবে সতর্ক করে দিয়ে বলেন যে, দায়িত্ব পালনের সময় কোনো ধরনের চাপ বা প্রলোভনের কাছে নতি স্বীকার না করে বাহিনীর নির্দেশনা যেন যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়। মূলত বাহিনীর এভিএমআইএস (AVMIS) সফটওয়্যারের মাধ্যমে সকল সদস্যের তথ্য ব্যবস্থাপনা এবং তরুণ শক্তিকে অগ্রাধিকার দিয়ে নির্বাচনকালীন নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে মানিকগঞ্জ জেলায় নিরাপত্তা জোরদার করেছে যৌথবাহিনী। নির্বাচনী পরিবেশ অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করতে এক বিশেষ অভিযানে অবৈধ অস্ত্র ও বিস্ফোরক উদ্ধার করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও পুলিশ।
আজ মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি ) দুপুরে মানিকগঞ্জ পুলিশ সুপার কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, সোমবার (২ ফেব্রুয়ারী ) রাত সাড়ে ১১টার দিকে প্রাপ্ত গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলার লেছড়াগঞ্জ বাজার এলাকায় ব্রীজের নিচে যৌথবাহিনী একটি সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে পাকিস্তানে প্রস্তুতকৃত একটি রিভলবার, পাঁচটি ককটেল বোমা, দেশীয় ধারালো অস্ত্র এবং একটি বৈদ্যুতিক সংযোগযুক্ত বোমা উদ্ধার করা হয়।
উদ্ধারকৃত বৈদ্যুতিক বোমাটি সেনাবাহিনীর বোম ডিসপোজাল টিম নিরাপদে ধ্বংস করে। অস্ত্র ও অন্যান্য আলামত পরবর্তী আইনি ব্যবস্থার জন্য পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। অভিযানে সেনাবাহিনীর ৫৪ জন সদস্য ও পুলিশের ২১ জন সদস্য অংশ নেন।
সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, যৌথবাহিনী সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব ও দক্ষতার সঙ্গে অভিযানটি সম্পন্ন করেছে এবং যে কোনো ধরনের নাশকতা প্রতিরোধে তারা সর্বদা প্রস্তুত রয়েছে।
অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং গণভোট আয়োজনের লক্ষ্যে যৌথবাহিনী সার্বক্ষণিক সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বলে জানানো হয়। নির্বাচন ঘিরে মানিকগঞ্জ জেলায় নিরাপত্তা ব্যবস্থাও আরও জোরদার করা হয়েছে।
রাজবাড়ী সদর উপজেলার খানখানাপু ইউনিয়নের মল্লিকপাড়া এলাকা থেকে মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) ভোরে ওয়ান শুটারগানসহ আকরামুজ্জামান সুমন (৪০) নামের একজনকে গ্রেফতার করেছে র্যাব। সে ওই এলাকার মৃত মোস্তফা মাস্টারের ছেলে।
র্যাব জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব-১০ সিপিসি-৩ ফরিদপুর ক্যাম্পের চৌকস আভিযানিক দল ৩ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার ভোর সোয়া ৪ টার দিকে রাজবাড়ী সদর খানখানাপুর মল্লিকপাড়া এলাকার একটি বসত বাড়ীতে অভিযান পরিচালনা করে হতে ১ টি দেশীয় ওয়ান শুটারগান’সহ একজন আসামী’কে গ্রেফতার করে।
গ্রেফতারকৃত আসামীর বিরুদ্ধে কুষ্টিয়া সদর থানায় ১ টি মামলা রয়েছে। উদ্ধারকৃত আলামত ও গ্রেফতারকৃত ব্যক্তির বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় মামলা রুজুর কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানায় র্যাব।
র্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন-১০ এর সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) সিনিঃ সহকারী পুলিশ সুপার তাপস কর্মকার জানান, এই অভিযান প্রমাণ করে যে, দেশের বিরুদ্ধে যেকোনো ষড়যন্ত্র প্রতিরোধে র্যাব সদা প্রস্তুত ও সচেষ্ট। জননিরাপত্তা ও রাষ্ট্রিয় স্বার্থে র্যাব ভবিষ্যতেও সর্বোচ্চ পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করবে। র্যাব-১০ এর এই সফল অভিযানে দেশের জনগণ আরও একবার আশ্বস্ত হয়েছে যে, দেশের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় নিরাপত্তা বাহিনী হিসেবে সক্রিয় ও দক্ষতার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে।