বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারি ২০২৬
১ মাঘ ১৪৩২

কলেজের পিওনের কোটি টাকার আলিশান বাড়ি 

আপডেটেড
১২ জুন, ২০২৪ ১০:১৪
নড়াইল প্রতিনিধি
প্রকাশিত
নড়াইল প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ১২ জুন, ২০২৪ ১০:১৪

নড়াইল সরকারি ভিক্টোরিয়া কলেজের ১০ হাজার ১৬১ টাকা বেতনের (মাস্টার রোল; অস্থায়ী) পিওন মোহাম্মদ উল্লাহ (৪০)। এক সময় ছিলেন বাসাবাড়িতে পেটেভাতে কাজ করা কর্মী। এখন তিনি অঢেল সম্পত্তির মালিক। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, সেটেলমেন্ট অফিসের দালালিকে পুঁজি করে দখল করেছেন ব্যক্তি নামীয় ও সরকারি খাসজমি। জমি দখল নিয়ে গতকাল তার বিরুদ্ধে বিক্ষোভও করেছেন ভুক্তভোগীরা।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, নড়াইল শহরের ভওয়াখালীতে ১০ শতক জমির ওপর তার ৩ তলা আলিশান বাড়ি রয়েছে মোহাম্মদ উল্লাহর। শহরের প্রাণকেন্দ্র রূপগঞ্জ বাজারসহ পৌরসভায় বিভিন্ন মৌজায় নামে-বেনামে অঢেল সম্পত্তির মালিক তিনি। হাল রেকর্ডে (আরএস) তার নামে রেকর্ড হয়েছে কুড়িগ্রাম মৌজার জাতীয় মহাসড়ক ও রূপগঞ্জ বাজারের সরকারি খাস খতিয়ানের জমিসহ ব্যক্তিনামীয় প্রায় ২ একর জমি। সেটেলমেন্ট অফিসের দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা, শহরের সন্ত্রাসী ও প্রভাবশালী ভূমি দস্যুদের নিয়ে গড়ে তুলেছেন দুর্নীতির বিশাল সিন্ডিকেট।

নড়াইল সেটেলমেন্ট অফিস সূত্রে জানা যায়, হাল (আরএস) রেকর্ডে ৪৬৫ ও ১৫৫নং খতিয়ানে সাবেক (এসএ) ২৪৮, ২৪৯ ও ২৪৭নং দাগসহ আর অন্তত ১৫টি দাগে ৩ একরের বেশি সরকারি ও ব্যক্তিনামীয় জমি ভওয়াখালী গ্রামের মোহাম্মদউল্লাহ ও কুড়িগ্রামের সন্তোষ কুমার আচার্য্যের কন্যা যুথিকা রানী মজুমদারসহ ভূমিদস্যুদের নামে রেকর্ড হয়েছে।

নড়াইল পৌর ভূমি অফিসের তহশিলদার (উপ-সহকারী ভূমি কমিশনার) মো. মোস্তাফিজুর রহমান মিলন বলেন, ‘আমরা সরকারি জমির হাল (আরএস) পর্চাসহ অন্যান্য তথ্যের জন্য সেটেলমেন্ট অফিসে চিঠি পাঠাচ্ছি। এখনো পর্চাসহ অন্যান্য তথ্য হাতে পায়নি।’

অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ প্রফেসর মুন্সী হাফিজুর রহমানের জমিও মোহাম্মদ উল্লাহর নামে রেকর্ড হয়ে এসেছে। প্রফেসর মুন্সী হাফিজুর রহমানের লন্ডন প্রবাসী ছেলে পলাশ সিদ্দিকী বলেন, ‘আমি প্রবাসে থাকি। আমার বাবার বয়স হয়েছে, তিনি বাসা-বাড়িতেই অবসর কাটান। প্রতিনিয়ত জমিজমার বিষয়ে অফিসে গিয়ে খোঁজখবর রাখা বাবার পক্ষে সম্ভব নয়। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে আমাদের নামীয় ৩০ শতক জমি মোহাম্মদ উল্লাহ তার নামে রেকর্ড করে নিয়েছেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘মোহাম্মদউল্লাহ সেটেলমেন্ট অফিসে দালালি করেন। সেই সুবাদে অফিসের কতিপয় দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তার সহযোগিতায় আমাদের মতোই স্বপন কুণ্ডুসহ আরও অনেকের জমি রেকর্ড করে নিয়েছেন।’

কলেজ সূত্রে জানা যায়, ১০ হাজার ১৬১ টাকা বেতনে নড়াইল সরকারি ভিক্টোরিয়া কলেজের শিক্ষক মিলনায়তনে অফিস সহায়কের কাজ করেন মোহাম্মদ উল্লাহ। নামপ্রকাশ না করার শর্তে কলেজের একাধিক স্টাফ জানান, অধ্যক্ষের সঙ্গে মোহাম্মদ উল্লাহর সুসম্পর্ক থাকায় তার কলেজে আসা লাগে না। অধ্যক্ষের ব্যক্তিগত কাজ আর মাসিক বেতন নেওয়া ছাড়া মোহাম্মদ উল্লাহ কলেজে আসেন না।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মোহাম্মদ উল্লাহর বাড়ি সদর উপজেলার আউড়িয়া গ্রামে। তার বাবা ইফসুফ মোল্যা নড়াইল সরকারি ভিক্টোরিয়া কলেজে পিওনের চাকরি করতেন। সেই সুবাদে মোহাম্মদ উল্লাহ ও তার ভাই নড়াইল সরকারি ভিক্টোরিয়া কলেজে চাকরি পান।

নড়াইল সরকারি ভিক্টোরিয়া কলেজের অধ্যক্ষ খান শাহাবুদ্দিনের কাছে মোহাম্মদ উল্লাহর কলেজে অনুপস্থিতি ও সুসম্পর্কের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ইতোমধ্যেই তাকে কয়েকবার সতর্ক করেছি। এখন সে নিয়মিত কলেজে আসে। আমার সঙ্গে তার কোনো সুসম্পর্ক নেই।’

সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার ভূমি দেবাশীষ অধিকারী বলেন, ‘সরকারি খাস খতিয়ানের জমি আমরা রেজিস্টারভুক্ত করে সংরক্ষণ করি। সরকারি খাস খতিয়ানের জমি রক্ষায় সর্বাত্মক চেষ্টা করব। এসব জমি আত্মসাতের কোনো সুযোগ নেই।’

নড়াইল সহকারী সেটেলমেন্ট কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) সেলিম হাসানের সঙ্গে মোবাইলে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, আমি রেকর্ড কার্যক্রম চলাকালীন সময়ে ছিলাম না। এখন শুধু বিতরণ চলছে। কেউ ক্ষতিগ্রস্ত হলে আইনের আওতায় সুযোগ থাকলে তিনি প্রতিকার পাবেন।

এসব অভিযোগের বিষয়ে মোহাম্মদ উল্লাহর সঙ্গে মোবাইলে কথা হলে তিনি বলেন, জমিসংক্রান্ত সব বৈধ কাগজপত্র তার কাছে রয়েছে।


রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে নিরাপদ কর্মস্থলের দাবিতে মানববন্ধন

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
রাজশাহী প্রতিনিধি

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) নিরাপদ কর্মপরিবেশের দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় অফিসার সমিতি। বুধবার (১৪ জানুয়ারি) সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত রাবির সিনেট ভবনের সামনে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, একটি মহল পরিকল্পিতভাবে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শান্তিপূর্ণ শিক্ষা ও প্রশাসনিক পরিবেশ অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্র চালিয়ে যাচ্ছে। তারা অভিযোগ করেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ও একাডেমিক কার্যক্রমে বিঘ্ন সৃষ্টির পাশাপাশি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ওপর ন্যাক্কারজনক হামলার ঘটনা ঘটছে। অফিস চলাকালীন সময় ও অফিস শেষে বাড়ি ফেরার পথে কর্মকর্তাদের ওপর হামলা, হয়রানি ও মানসিক নির্যাতনের ঘটনা দিন দিন বেড়েই চলেছে।

বক্তারা আরও বলেন, মব সৃষ্টি করে কর্মকর্তাদের শারীরিকভাবে আঘাত করা ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে কর্মস্থলকে অনিরাপদ করে তোলা হচ্ছে। এর ফলে শুধু কর্মকর্তা-কর্মচারীরাই নয়, পুরো বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বার্থ ও ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

তারা অভিযোগ করে বলেন, শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় দোষীদের বিরুদ্ধে সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হলেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। প্রশাসনের এই নীরবতাকে অফিসার সমিতি তীব্রভাবে নিন্দা ও প্রতিবাদ জানায়।

গত মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) তারিখে অনুষ্ঠিত জরুরি সভায় এ পরিস্থিতির প্রতিবাদে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়, যার অংশ হিসেবেই এই মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়।

মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় অফিসার সমিতির সভাপতি মো. আনোয়ারুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক রিয়াজ উদ্দিন, কোষাধ্যক্ষ আল-আমিন বিদ্যুৎ, প্রচার সম্পাদক আব্দুল মানিক এবং সদস্য রোকসানা বেগম টুকটুকি প্রমুখ।


সুনামগঞ্জে নিন্মতম মজুরি ও শ্রম আইন বাস্তবায়নসহ বিভিন্ন দাবিতে জেলা প্রশাসককে স্মারক লিপি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি

হোটেল ও রেস্তোরাঁ সেক্টরে সরকার ঘোষিত নিম্নতম মজুরির গেজেট অবিলম্বে বাস্তবায়ন, নিয়োগপত্র-পরিচয়পত্র প্রদানসহ ৮ ঘণ্টা শ্রমদিবস কার্যকরের দাবিতে বুধবার (১৪ জানুয়ারি) সকালে জেলা প্রশাসকের নিকট স্মারকলিপি প্রদান করেছে সুনামগঞ্জ জেলা হোটেল রেস্তোরাঁ সেক্টরে সরকার ঘোষিত নিন্মতম মজুরি ও শ্রম আইন বাস্তবায়ন সংগ্রাম পরিষদ সুনামগঞ্জ জেলা কমিটি। স্মারকলিপি গ্রহণ করেন সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক ড. মো. ইলিয়াস মিয়া।

স্মারক লিপি প্রদান কালে উপস্থিত ছিলেন সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক ফবলু মিয়া, যুগ্ম আহ্বায়ক সুরঞ্জিত দাস, টিটু দাস, সদস্য মতিউর রহমান, হুমায়ুন কবির প্রমুখ।

স্মারক লিপিতে উল্লেখ করা হয়, গত ৫ মে ২০২৫ খ্রি. হোটেল ও রেস্তোরাঁ সেক্টরে সরকার ঘোষিত নিন্মতম মজুরির চূড়ান্ত গেজেট ঘোষণা করা হয়। নিয়ম অনুযায়ী যে মাসে গেজেট ঘোষণা হয়, সেই মাস থেকেই ঘোষিত মজুরি কার্যকর করার কথা। অথচ ৯ মাস অতিবাহিত হলেও এখনও পর্যন্ত অধিকাংশ হোটেল ও রেস্তোরাঁ প্রতিষ্ঠানসমূহে ঘোষিত গেজেট বাস্তবায়ন করা হচ্ছে না। সরকার ঘোষিত গেজেট অনুযায়ী মজুরি পরিশোধ করা না হলে শ্রম অধ্যাদেশ-২০২৫ এর ২৮৯-ধারা অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট মালিককে ১ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড এবং ২০ হাজার হতে ৫০ হাজার টাকা জরিমানাসহ গেজেট অনুযায়ী শ্রমিকের সকল বকেয়া পাওনা পরিশোধ করার কথা বলা হয়েছে। সে মোতাবেক সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তর কার্যকর কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করছে না। যে কারণে শ্রমিদের মধ্যে চরম অসন্তোষ ও ক্ষোভ বিরাজমান।

উদ্ভুত পরিস্থিতিতে সরকারে সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জাননো হয়।


ফেনীতে মহাসড়কের পাশে ময়লার ভাগাড়, চলাচলে বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ফেনী প্রতিনিধি

ফেনী-নোয়াখালী জাতীয় মহাসড়কের পাশে দাগনভূঞা পৌরসভার ময়লার ভাগাড়। বর্জ্য নিষ্কাশন ব্যবস্থাপনা না থাকায় পৌর এলাকার সব ময়লা-আবর্জনা ফেলা হয় সেখানে। বিভিন্ন ধরনের পশুপাখি ময়লার স্তূপে বিচরণ ও ঘাটাঘাটি করতে দেখা যায়। পঁচা ময়লা-আবর্জনার তীব্র দুর্গন্ধ ও সেগুলো পোড়ানোর ধোঁয়ায় স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রয়েছেন জনসাধারণ।

স্থানটি পার হওয়ার সময় ভোগান্তি পোহাতে হয় পথচারী ও যানবাহন যাত্রীদের। এ সময় হাত দিয়ে নাক-মুখ বন্ধ করে রাখেন তারা। স্থানটি অতিক্রম করার সময় গাড়ির গতি বাড়িয়ে দেন চালকরা। এতে দুর্ঘটনা ঘটেছে কয়েকবার। বিষয়টি নিয়ে এলাকাবাসী ক্ষুব্ধ হলেও এখন পর্যন্ত কোনো প্রতিকার পাননি।

জানা যায়, গত তিন বছর ধরে দাগনভূঞা পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ড কৃষ্ণরামপুরের এই জায়গাটিতে প্রতিনিয়ত ময়লা-আবর্জনা ফেলা হচ্ছে। এতে স্থানটি এখন ময়লার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। ছড়িয়ে পড়া জীবাণুর কারণে স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেকে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। শ্বাসকষ্ট, অ্যাজমা, এলার্জিসহ বিভিন্ন রোগের ঝুঁকিতে রয়েছে জনসাধারণ। অবস্থা এতটাই বেগতিক যে, অনেকেই এলাকা ছাড়ার পরিকল্পনা করছেন। ময়লার দুর্গন্ধে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, যানবাহনের যাত্রী, অফিসগামী কর্মকর্তা-কর্মচারী ও স্থানীয় এলাকাবাসী মারাত্মক দুর্ভোগের সম্মুখীন হচ্ছেন। এ বিষয়ে প্রতিবাদ করতে গিয়ে একাধিকবার অপ্রীতিকর ঘটনাও ঘটেছে।

আবর্জনার কারণে স্বাস্থ্যঝুঁকিতে থাকা লোকজন বিভিন্ন সময়ে ততকালীন পৌর মেয়রের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েও কোনো ফল পাননি। যদিও পৌর কর্তৃপক্ষ দাবি করেছিলেন শিগগিরই এ সংকট কেটে যাবে।

পথচারী ও স্থানীয় এলাকাবাসী জানান, ময়লার স্তূপে সারাদিন মশা-মাছি ভনভন করে। পঁচা-আবর্জনা আর সেগুলো পোড়ানোর ধোঁয়ার তীব্র গন্ধে চলাচল করতে কষ্ট হয়। গাড়ি চালকরা স্তূপের পাশ দিয়ে দুর্গন্ধের কারণে দ্রুত গাড়ি চালিয়ে চলে যেতে হয়। এতে অনেক সময় দুর্ঘটনা ঘটে। ময়লা-আবর্জনা উন্মুক্ত স্থানে ফেলায় বাতাসের মাধ্যমে বিভিন্ন রোগ জীবাণু ছড়াচ্ছে। নাকে হাত দিয়ে চলতে হচ্ছে। এছাড়া ময়লার ভাগাড়ের কারণে নষ্ট হচ্ছে পরিবেশ।

দাগনভূঞা উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও পৌর প্রশাসক মো. শাহীদুল ইসলাম বলেন, রাস্তার পাশে যে ময়লাটা ফেলা হয় এটা আমরা অনেকটা বাধ্য হয়ে ফেলতে হয়। আমাদের এখানে একটি ডাম্পিং স্টেশন করার পরিকল্পনা আছে। সেটা নিয়ে আমরা কাজ করছি। আমরা কিছু জায়গা পেয়েছি। সেটা আমরা পরিদর্শন করেছি। অল্প সময়ে যদি আমরা ডাম্পিং স্টেশনের কাজ শুরু করতে পারি। তাহলে ময়লাগুলো সেখানে ফেলবো।

সড়কের পাশে বর্জ্য নিষ্কাশন বন্ধ করে জনসাধারণকে স্বাস্থ্যঝুঁকি থেকে রক্ষা ও সমস্যা সমাধানে সরকার দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন এমনটি প্রত্যাশা স্থানীয়দের।


মৌলভীবাজারে বিজিবির বড় সাফল্য

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কুলাউড়া (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি

মৌলভীবাজারে সীমান্ত সুরক্ষা, চোরাচালান ও মাদকদ্রব্য দমন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং দুর্যোগকালে উদ্ধার কার্যক্রমে নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপ তুলে ধরে সংবাদ সম্মেলন করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। বুধবার (১৪ জানুয়ারি) দুপুরে শ্রীমঙ্গল ব্যাটালিয়নের (৪৬ বিজিবি) ব্যবস্থাপনায় উত্তর-পূর্ব রিজিয়ন, সরাইলের উদ্যোগে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন শ্রীমঙ্গল সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার কর্নেল বি এম তৌহিদ হাসান।

তিনি জানান, সরাইল রিজিয়নের অধীন দায়িত্বপূর্ণ ১ হাজার ২০৪ কিলোমিটার সীমান্ত এলাকায় চারটি সেক্টরের আওতায় ১৩টি ইউনিট নিরলসভাবে কাজ করছে। গত ১ নভেম্বর ২০২৫ থেকে অদ্যাবধি পরিচালিত চোরাচালানবিরোধী অভিযানে ৭২ জন আসামিসহ ১৬৪ কোটি ১৯ লাখ ৫০ হাজার ৪৭২ টাকা মূল্যের চোরাচালানি মালামাল জব্দ করা হয়েছে। একই সময়ে ৫ কোটি ৪৭ লাখ ৩০ হাজার ২৯২ টাকা মূল্যের মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়।

এ ছাড়া অভিযানে ২টি বিদেশি পিস্তলসহ ৫টি আগ্নেয়াস্ত্র, ২টি ম্যাগাজিন, ২ রাউন্ড গোলাবারুদ ও ২৪টি ডেটোনেটর উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

কর্নেল তৌহিদ হাসান আরও বলেন, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সীমান্ত এলাকায় টহল জোরদার করার পাশাপাশি গোয়েন্দা নজরদারিও বাড়ানো হয়েছে- যাতে যেকোনো ধরনের অপরাধ ও নাশকতা প্রতিরোধ করা যায়। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন শ্রীমঙ্গল ব্যাটালিয়নের (৪৬ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সরকার আসিফ মাহমুদসহ বিজিবির উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।


বেনাপোলে মিথ্যা ঘোষণায় আমদানি করা ইলিশ মাছের চালান আটক

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বেনাপোল প্রতিনিধি

বেনাপোল স্থলবন্দরে মিথ্যা ঘোষণায় বিপুল পরিমাণ ভারতীয় ইলিশ মাছের জ্বালা আটক করেছে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। পণ্য চালান টিতে সাদা মাছের সাথে ঘোষণা বহির্ভূত প্রায় সাড়ে ৩ টন ইলিশ মাছ আমদানি করা হয়েছে। মিথ্যা ঘোষণায় আমদানি করা পণ্যের চালানের সাথে পরীক্ষণ সুপারেন্টেনডেন্ট এর জোকসাজেস থাকতে পারে বলে অভিযোগ করছেন ব্যবসায়ীরা পচনশীল পণ্য বিবেচনায় নিয়ে অন্যান্য মাছগুলি খালাসের ব্যবস্থা করা হলেও ইলিশ মাছ বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। গত মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) রাতে বেনাপোল কাস্টমস হাউসের ৩১ নম্বর কাঁচামালের শেডে গোপন তথ্যের ভিত্তিতে চালানটি আটক করা হয়। আমদানিকৃত দুটি ভারতীয় ট্রাক (WB25K-3029 ও WB11E-5027) থেকে পণ্য খালাসের সময় সন্দেহ দেখা দিলে বেনাপোল কাস্টমসের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে কায়িক পরীক্ষা চালানো হয়। কায়িক পরীক্ষায় ঘোষণাপত্রে ‘সুইট ফিস’ বোয়াল, ফলিও ও বাঘাইর মাছ উল্লেখ থাকলেও বাস্তবে ২২৫ প্যাকেজের মধ্যে ৫৪ প্যাকেজে পাওয়া যায় প্রায় সাড়ে ৩ টন ভারতীয় ইলিশ। যার বাজার মূল্য প্রায় ৩০ লাখ টাকা। ঘোষণার সঙ্গে পণ্যের এই স্পষ্ট অমিলের কারণে পুরো চালানটি তাৎক্ষণিকভাবে জব্দ করা হয়।

পণ্য চালানটির ভারতীয় রপ্তানিকারক ছিল মেসার্স আরজে ইন্টারন্যাশনাল আমদানিকারক বাংলাদশের সাতক্ষীরার মেসার্স জান্নাত এন্টারপ্রাইজ। উভয় পক্ষের সমন্বয়েই ঘোষণাপত্রে পণ্যের প্রকৃতি গোপন রেখে উচ্চমূল্যের ও নিয়ন্ত্রিত পণ্য কম শুল্কে খালাসের চেষ্টা করা হচ্ছিল বলে কাস্টমস সূত্রে জানা গেছে।

বেনাপোল কাস্টমস হাউসের কমিশনার মোহাম্মদ ফাইজুর রহমান বলেন, ঘোষণাপত্রের সঙ্গে পণ্যের প্রকৃত অবস্থার স্পষ্ট অমিল পাওয়া গেছে, যা শুল্ক আইনের গুরুতর লঙ্ঘন। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। আমদানিকারক, সি অ্যান্ড এফ এজেন্টসহ সংশ্লিষ্ট সবাই তদন্তের আওতায় রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, কাস্টমসের কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী যদি এই ধরনের অনিয়মে জড়িত থাকেন, তদন্তে তা প্রমাণিত হলে তাদের বিরুদ্ধেও আইন ও বিধি অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ বিষয়ে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না।


রাণীনগরের ২ সরকারি ডেইরি খামার প্রকল্প এখন পরিত্যক্ত

* সর্বহারা সদস্যদের পুনর্বাসনের ১ কোটি ৭৫ লাখ টাকার প্রকল্প
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নওগাঁ প্রতিনিধি

নওগাঁর রাণীনগর উপজেলায় চরমপন্থী (সর্বহারা) সদস্যদের পুনর্বাসনের লক্ষ্যে বাস্তবায়িত প্রায় ১ কোটি ৭৫ লাখ টাকার দুটি সরকারি ডেইরি খামার প্রকল্প বর্তমানে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। একসময় শতাধিক গরু ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জামে সমৃদ্ধ এই প্রকল্পগুলো এখন কার্যত ‘ভূতের বাড়ি’তে পরিণত হয়েছে।

জানা যায়, নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রাণীনগর উপজেলার কালিগ্রাম ইউনিয়নের রাতোয়াল গ্রামসংলগ্ন খানপুকুর–রাতোয়াল সড়কের পাশে বড়ইতলা নামক স্থানের খাস জমিতে প্রকল্প দুটি বাস্তবায়ন করা হয়।

২০২৪–২০২৫ অর্থবছরে জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে ও উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় স্বপ্ন চাষ কৃষি উন্নয়ন সমবায় সমিতি লি.-এর নামে ৭৫ লাখ টাকা এবং আশার আলো কৃষি উন্নয়ন সমবায় সমিতি লিমিটেড এর নামে ১ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়।

এই প্রকল্পগুলোর সদস্য ছিলেন উপজেলার চিহ্নিত চরমপন্থীরা, যারা খামারের লভ্যাংশের অংশীদার ছিলেন। প্রকল্প বাস্তবায়ন শেষে ২০২৪ সালের শুরুর দিকে শতাধিক গরু ক্রয়ের মাধ্যমে খামার দুটি আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করা হয়।

তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের আন্দোলনের পর প্রকল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রভাবশালী সদস্যরা রাতারাতি গরুসহ খামারের প্রায় সব সম্পদ লুট করে নিয়ে যান। এরপর থেকে খামার দুটি সম্পূর্ণভাবে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। বর্তমানে সেখানে ভবন ও কিছু অবকাঠামো ছাড়া আর কিছুই অবশিষ্ট নেই। সমিতির সব সদস্য পলাতক থাকায় খামার দেখভালের দায়িত্বেও কেউ নেই।

স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুর রহিম, জব্বার আলীসহ অনেকে জানান, খামার স্থাপনের পর প্রথমদিকে প্রকল্প দুটি ভালোভাবেই পরিচালিত হচ্ছিল। কিন্তু আন্দোলনের পর সবকিছু লুট হয়ে যাওয়ায় সরকারের কোটি টাকার সম্পদ কার্যত ধ্বংস হয়ে গেছে। নির্জন এলাকায় অবস্থিত হওয়ায় সন্ধ্যার পর পরিত্যক্ত এসব ভবনে মাদক সেবন ও মাদক কারবারীদের আসর বসছে। পাশাপাশি দুষ্কৃতিকারীরা এই স্থানকে আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করে আশপাশের এলাকায় নানা অপকর্ম চালাচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

এমন পরিস্থিতিতে স্থানীয়রা দ্রুত সরকারি উদ্যোগে প্রকল্প দুটি পুনরুদ্ধার করে নিরাপদ ও সঠিক ব্যবহারের আওতায় আনার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রাকিবুল হাসান বলেন, প্রকল্পটির বিষয়ে অবগত হয়েছি। উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।


গাকৃবিতে হাল্ট প্রাইজের গ্র্যান্ড ফিনালে অনুষ্ঠিত

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
গাকৃবি প্রতিনিধি

গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (গাকৃবি) জমকালো আয়োজনে অনুষ্ঠিত হলো বিশ্বের শিক্ষার্থীদের সর্ববৃহৎ সামাজিক উদ্যোক্তা তৈরির প্রতিযোগিতামূলক সংগঠন এবং বিশ্বজুড়ে শিক্ষার্থীদের নোবেল পুরস্কার নামে পরিচিত ‘হাল্ট প্রাইজ’ অন-ক্যাম্পাস ২০২৫-২৬ এর গ্র্যান্ড ফিনালে। গাকৃবিতে ৬ষ্ঠ বারের মতো অনুষ্ঠিত তরুণদের নেতৃত্বে উদ্ভাবন, উদ্যোক্তা উন্নয়ন এবং জাতিসংঘ ঘোষিত টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) এর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ সমাধান উদ্ভাবনই ছিল এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য। আইকিউএসি’র পরিচালনায় মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় গাকৃবির বেগম সুফিয়া কামাল অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত এই আয়োজনের প্রধান অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. জিকেএম মোস্তাফিজুর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রো-ভিসি প্রফেসর ড. এম. ময়নুল হক, ট্রেজারার প্রফেসর ড. মো. সফিউল ইসলাম আফ্রাদ এবং প্রক্টর প্রফেসর ড. মোহাম্মদ সাইফুল আলম। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আইকিউএসি এর পরিচালক প্রফেসর ড. নাসরীন আক্তার আইভী। এ সময় হাল্ট প্রাইজ ন্যাশনাল টিম থেকে উপস্থিত ছিলেন রুদ্রনীল মন্ডল। পুরো আয়োজনটি পরিচালনা করেন হাল্ট প্রাইজের গাকৃবি ডিরেক্টর সৃজন পণ্ডিত দিব্য, ডেপুটি ডিরেক্টর আমিনুল ইসলাম সিফাত এবং তাদের সংগঠক দল। ফ্রেশ অনন্যার সৌজন্যে মাসব্যাপী প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত পর্বে ছয়টি দল টিম এভেনলো, টিম কার্বোডিট, টিম ইকোফিনস, টিম রেস্কিউহারভেস্ট, টিম কর্নোভা ও টিম সেলুথিয়া তাদের উদ্ভাবনী ব্যবসায়িক ধারণা উপস্থাপন করে। বিচারকদের মূল্যায়নে টিম রেস্কিউহারভেস্ট চ্যাম্পিয়ন হয়।

অন্যদিকে টিম এভেনলো প্রথম রানার্সআপ এবং টিম কার্বোডিট দ্বিতীয় রানার্সআপ হওয়ার গৌরব অর্জন করে। পরে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন ভাইস-চ্যান্সেলর।

এ সময় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ভাইস-চ্যান্সেলর বলেন, ‘হাল্ট প্রাইজের এ আয়োজন আমাদের শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী শক্তি ও নেতৃত্বের প্রতিফলন। হাল্ট প্রাইজ তরুণদের সামাজিক সমস্যা সমাধানে এগিয়ে আসার সাহস দেয় যা অত্যন্ত প্রশংসনীয়।’


ইলিশ ও ক্রেতা সংকটে বড় স্টেশন মাছঘাট

* বেনাপোলে ভারতীয় ইলিশ মাছের চালান আটক * বর্তমানে ১ কেজি ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ৪ হাজার থেকে সাড়ে ৪ হাজার টাকায়
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
 দৈনিক বাংলা ডেস্ক 

চাঁদপুরে দেশের অন্যতম প্রধান ইলিশ অবতরণ কেন্দ্র বড় স্টেশন মাছঘাট সংকটের মুখে। গত বছরের জানুয়ারি মাস থেকে ইলিশের সরবরাহ ক্রমশ কমতে শুরু করে। এটি এখন প্রায় তলানিতে এসে ঠেকেছে। এমনকি ইলিশের ভরা মৌসুমেও কাঙ্ক্ষিত পরিমাণ ইলিশ ধরা পড়েনি এ অঞ্চলে। এদিকে গত মঙ্গলবার বেনাপোল স্থলবন্দরে মিথ্যা ঘোষণায় আমদানি করা বিপুল পরিমাণ ভারতীয় ইলিশ মাছের চালান আটক করেছে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ।

ওদিকে জেলেদের ভাষ্য অনুযায়ী, পদ্মা-মেঘনায় আগের মতো ইলিশের ঝাঁক দেখা যাচ্ছে না। এতে সরাসরি প্রভাব পড়েছে বড় স্টেশন মাছঘাটে। একদিকে যেমন ইলিশের সরবরাহ আশঙ্কাজনকভাবে কমেছে, অন্যদিকে তেমনি কয়েকগুণ বেড়েছে দাম। ফলে ক্রেতা সংকটে পড়েছেন আড়তদার ও ব্যবসায়ীরা।

বিশেষ করে বর্তমানে ইলিশের মৌসুম না থাকলেও বিগত বছরগুলোতে এ সময় বড়স্টেশন মাছঘাটে প্রতিদিন আনুমানিক ১৫০ থেকে ২০০ মণ ইলিশের সরবরাহ থাকত। কিন্তু এবার সেই চিত্র পুরোপুরি বদলে গেছে। বর্তমানে দৈনিক সরবরাহ ২০ মনেও পৌঁছাচ্ছে না, যা এ মাছঘাটের ইতিহাসে বিরল।

সরবরাহ কমে যাওয়ায় ইলিশের দামও সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে গেছে। বাজারে বর্তমানে ১ কেজি ওজনের একটি ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ৪ হাজার থেকে সাড়ে ৪ হাজার টাকায়। মাঝারি ও ছোট আকারের ইলিশও উচ্চমূল্যে বিক্রি হওয়ায় সাধারণ ভোক্তারা ইলিশ কেনা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন।

ইলিশ কিনতে আসা সুমন রহমান বলেন, ‘ইলিশ প্রিয় মাছ হলেও দামের কারণে এখন অপ্রিয় হয়ে উঠছে। বড় স্টেশন মাছঘাটে এসে ইলিশের দাম এতটাই বেশি যে পছন্দমতো বা প্রয়োজন অনুযায়ী কেনা সম্ভব হচ্ছে না। আগে যে দামে মাঝারি আকারের ইলিশ কেনা যেত, এখন সেই টাকায় ছোট মাছও পাওয়া যাচ্ছে না। ইলিশের দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে গেছে।

ইলিশ ব্যবসায়ী মনছুর আহমেন মাহিন বলেন, ‘ইলিশের দাম বেশি হওয়ায় বিক্রি কমছে, ফলে আড়তে লোকসান গুণতে হচ্ছে। এ ছাড়া নদীতে মাছ না থাকায় জেলেরা জাল ফেলেও কাঙ্ক্ষিত ইলিশ পাচ্ছেন না। ঘাটে ইলিশ কম আসায় মূলত দাম বেশি। এখনকার বাজারে ১ কেজি ওজনের ইলিশ ৪ হাজার থেকে সাড়ে ৪ হাজার টাকায় বিক্রি হয়। আর ১ কেজি ওজনের নিচের ইলিশ ৩ হাজার ৫০০ টাকা থেকে ৩ হাজার ৮০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়। আর ছোট সাইজের ইলিশ ২ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে।’

আরেক ব্যবসায়ী বিজয় সরকার বলেন, ‘আনসিজনে ইলিশের বিক্রি নেই বললেই চলে। মাছঘাটে ইলিশও কম দামও বেশি। যার কারণে ক্রেতারা ঘাটে আসলেও না কিনে চলে যায়। আমরা ব্যবসায়ীরা চাই ইলিশের সরবরাহ বাড়ুক, আর দামও যাতে নাগালের মধ্যে থাকে।’

ভারতে রপ্তানির খবরে দাম বৃদ্ধির বিষয়টিকে ‘সিন্ডিকেটের চক্রান্ত’ বলে অভিহিত করেছেন এ ক্রেতা। তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশে যে পরিমাণ ইলিশ ধরা পড়ে তাতে ভারতে রপ্তানিতে কোনো ধরনের প্রভাব পড়ার কথা না। এটা কোনো সিন্ডিকেটের চক্রান্ত হতে পারে। এর আগে ভারতে অনেক বেশি ইলিশ গেছে। তারপরও দাম কম ছিল, কিন্তু ইদানীং দাম অনেক বেশি।’

বেনাপোল প্রতিনিধি জানান: বেনাপোল স্থলবন্দরে মিথ্যা ঘোষণায় আমদানি করা বিপুল পরিমাণ ভারতীয় ইলিশের চালান আটক করেছে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ।

পণ্য চালানটিতে সাদা মাছের সঙ্গে ঘোষণা বহির্ভূত প্রায় সাড়ে ৩ টন ভারতীয় ইলিশ আমদানি করা হয়েছে। পচনশীল পণ্য বিবেচনায় নিয়ে অন্য মাছগুলো খালাসের ব্যবস্থা করা হলেও ইলিশ বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। গত মঙ্গলবার রাত ৯টার দিকে বেনাপোল কাস্টমস হাউসের ৩১ নম্বর কাঁচামালের শেডে গোপন তথ্যের ভিত্তিতে চালানটি আটক করে শুল্ক গোয়েন্দার সদস্যরা।

আমদানি করা দুটি ভারতীয় ট্রাক (WB25K-3029 ও WB11E-5027) থেকে পণ্য খালাসের সময় সন্দেহ দেখা দিলে বেনাপোল কাস্টমসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে কায়িক পরীক্ষা চালানো হয়। কায়িক পরীক্ষায় ঘোষণাপত্রে ‘সুইট ফিস’ বোয়াল, ফলিও ও বাঘাড় মাছ উল্লেখ থাকলেও বাস্তবে ২২৫ প্যাকেজের মধ্যে ৫৪ প্যাকেজে পাওয়া যায় প্রায় সাড়ে ৩ টন ভারতীয় ইলিশ। যার বাজার মূল্য প্রায় ৩০ লাখ টাকা। ঘোষণার সঙ্গে পণ্যের এই স্পষ্ট অমিলের কারণে পুরো চালানটি তাৎক্ষণিকভাবে জব্দ করা হয়।

পণ্য চালানটির ভারতীয় রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান মেসার্স আরজে ইন্টারন্যাশনাল। আর আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান হলো বাংলাদেশের সাতক্ষীরার মেসার্স জান্নাত এন্টারপ্রাইজ। উভয়পক্ষের সমন্বয়েই ঘোষণাপত্রে পণ্যের প্রকৃতি গোপন রেখে উচ্চমূল্যের ও নিয়ন্ত্রিত পণ্য কম শুল্কে খালাসের চেষ্টা করা হচ্ছিল বলে কাস্টমস সূত্রে জানা গেছে।

বেনাপোল কাস্টমস হাউসের কমিশনার মোহাম্মদ ফাইজুর রহমান বলেন, ‘ঘোষণাপত্রে উল্লিখিত পণ্যের সঙ্গে কায়িক পরীক্ষায় পাওয়া পণ্যের স্পষ্ট অমিল পাওয়া গেছে। এটি শুল্ক আইনের গুরুতর লঙ্ঘন। আমদানিকারক, রপ্তানিকারক ও সংশ্লিষ্ট সি অ্যান্ড এফ এজেন্টের ভূমিকা তদন্তাধীন রয়েছে এবং দোষ প্রমাণিত হলে আইনানুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


সারিয়াকান্দিতে কেশর আলুর বাম্পার ফলনে কৃষকের হাসি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
সারিয়াকান্দি (বগুড়া) প্রতিনিধি

বগুড়ার সারিয়াকান্দিতে কেশর আলুর বাম্পার ফলন হওয়ায় লাভবান হচ্ছেন প্রান্তিক কৃষকরা। ফলনের পাশাপাশি দাম ভালো পাওয়ায় প্রতি বিঘা জমিতে লাখ টাকার বেশি আয় হচ্ছে তাদের। আলুর পাশাপাশি বীজ বিক্রি করেও বাড়িতে আয় করছেন তারা।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, গত বছর এ উপজেলায় ৫ হেক্টর জমিতে কেশর আলুর আবাদ হয়েছিল। ফলন হয়েছিল হেক্টর প্রতি ২০ থেকে ২২ টন। এ বছর লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ৬ হেক্টর। কিন্তু লক্ষ্যমাত্রা পেড়িয়ে ৭ হেক্টর জমিতে কেশর আলুর আবাদ হয়েছে। সাধারণত সেপ্টেম্বর থেকে অক্টোবর মাস পর্যন্ত কেশর আলু জমিতে রোপণ করতে হয়। ডিসেম্বর মাস থেকে জানুয়ারি মাস পর্যন্ত ফসল সংগ্রহ করা যায়।

সরেজমিনে জানা গেছে, উপজেলার ফুলবাড়ি ইউনিয়নের ছাগলধরা, ভেলাবাড়ী ইউনিয়নের সোনাপুর (জোড়গাছা), বাঁশহাটা গ্রামসহ বাঙালি নদীর কিনারাযুক্ত জমিগুলোতে কেশর আলু চাষ বেশি হয়েছে। গত বছর ভালো লাভ পেয়ে এ বছর তারা অধিক জমিতে কেশর আলু চাষ করেছেন। এটি চাষ করতে সাধারণত খুবই কম খরচ হয় এবং রোপণের পর পরিচর্যাও কম করতে হয়। সাধারণত দু-একটি চাষ দিয়ে জমিতে কেশর আলুর বীজ বপন করতে হয়। তারপর আর কোনো পরিচর্যা না করলেও চলে। শুধু উত্তোলনের সময় জমি থেকে কেশর আলু উত্তোলন করতে হয়।

সব ফসলের চেয়ে কেশর আলুতে লাভ খুবই বেশি। প্রতি বিঘা জমিতে ৬০ মণের বেশি কেশর আলু পাওয়া যায়। সাধারণত প্রতি বিঘা জমিতে কেশর আলু চাষ করতে মাত্র ১৫ হাজার টাকা খরচ হয়। কেশর আলু চাষ করতে জমিতে কোনো পরিচর্যা নেই বললেই চলে। এ বছর প্রথমের দিকে সর্বোচ্চ ৮০ টাকা কেজি পর্যন্ত কেশর আলু বিক্রি হয়েছে। বর্তমানে ৪০-৩০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। কৃষকরা বলছেন, গত বছর তারা ৪০ হাজার টাকা মণ দরে কেসুর আলুর বীজ বিক্রি করেছেন। এতে তারা খুবই লাভবান হয়েছেন।

ছাগলধরা গ্রামের এক কৃষক জানান, গত বছর তিনি ১ বিঘা জমিতে আগামভাবে কেশর আলু চাষ করে ২ লাখ টাকার বেশি কেশর আলু বিক্রি করেছেন। এ বছর তিনি তা বাড়িয়ে ২ বিঘা জমিতে কেশর আলু আবাদ করেছেন। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় তার জমিতে আলুর বাম্পার ফলন হয়েছে।

সোনাপুর গ্রামের মোয়াজ্জেম হোসেন ও মোস্তা প্রামাণিক জানান, তারা দুই ভাইসহ এলাকার অনেকেই কেশর আলু চাষ করে আসছেন। এ বছর কেশর আলুর ফলন ভালো হলেও উঠাতে বিলম্ব হওয়ায় অধিকাংশ আলু ফেটে গেছে। এতে কম দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। ভালো আলু প্রতি কেজি ৪০ টাকা বিক্রি করতে পারলেও ফেটে যাওয়া আলু মাত্র ২০ টাকা কেজি বিক্রি করতে হচ্ছে।

সারিয়াকান্দি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ বলেন, ‘গত কয়েক বছর ধরেই কৃষকরা কেশর আলু চাষ করে লাভবান হচ্ছেন। কেশর আলু ভিটামিন সি, আঁশ, শর্করা, ক্যালসিয়াম ও ফসফরাস সমৃদ্ধ, যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়, হজমশক্তি উন্নত করে কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে, ওজন কমাতে সাহায্য করে, এবং এতে থাকা অ্যান্টি-ক্যান্সার উপাদান ক্যান্সারের ঝুঁকি কমাতে পারে। এটি মিষ্টি ও ঠাণ্ডা স্বাদের হওয়ায় কাঁচা বা রান্না করে খাওয়া যায় এবং ডায়াবেটিস রোগীর জন্যও উপকারী।


উচ্চচাপ বিশিষ্ট মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ অবৈধ লাইন উচ্ছেদে বাধা প্রদান

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

গত ১২ জানুয়ারি’২০২৬ তারিখে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় কর্তৃক নিয়োজিত বিজ্ঞ এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট -এর নেতৃত্বে তিতাস গ্যাস টি এন্ড ডি পিএলসি’র আওতাধীন ৫নং রোড, পলাশপুর (শনির আখড়া) এলাকায় অভিযান পরিচালনাকালে দেখা যায় যে, দনিয়া টিবিএস হতে ঢাকা শহরের সিটি সেন্ট্রাল ডিআরএস গামী উচ্চচাপ বিশিষ্ট ১৬"X১৫০ পিএসআইজি মেইন লাইন হতে অবৈধভাবে ২" লাইনের মাধ্যমে সংযোগ নিয়ে এলাকাবাসী অবৈধভাবে আবাসিক স্থাপনায় গ্যাস ব্যবহার করছে। উক্ত অবৈধ লাইনটি উচ্চচাপ বিশিষ্ট বিতরণ লাইন হতে গ্রহণ করায় যে কোনো মুহূর্তে বিস্ফোরণসহ জানমালের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিজ্ঞ এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট, পুলিশ, র‍্যাব ও তিতাস গ্যাসের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের নিয়ে এই বিশেষ অভিযানে অবৈধ বিতরণ লাইন উত্তোলনকালে কিছু উশৃঙ্খল লোকজন জড়ো হয়ে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়ে এবং অবৈধ লাইন উচ্ছেদ কার্যক্রমে বাধা প্রদান করে। এ সময় তারা উপস্থিত কয়েকজন কর্মকর্তা ও কর্মচারীর উপর হামলা করে শারীরিকভাবে লাঞ্চিত করাসহ তিতাস গ্যাস কোম্পানির একজন উর্ধ্বতন কর্মকর্তার মোবাইল ভাংচুর করাসহ মানিব্যাগ ছিনিয়ে নেয়। পরবর্তীতে উচ্চচাপ বিশিষ্ট মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ বিতরণ লাইন হতে অবৈধভাবে ব্যবহৃত লাইন উচ্ছেদ ব্যতিরেকে উক্ত স্থান ত্যাগ করতে বাধ্য হয়।

এমতাবস্থায়, জানমালের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে উক্ত উচ্চচাপ বিশিষ্ট ১৬"X ১৫০ পিএসআইজি বিতরণ লাইন হতে সংযোগকৃত ২" অবৈধ লাইন হতে গ্যাস সংযোগ না নেওয়ার জন্য ৫নং রোড, পলাশপুর (শনির আখড়া) এলাকাবাসীকে অনুরোধ করা হলো। উক্ত উচ্চচাপ বিশিষ্ট অবৈধ লাইন হতে গ্যাস সংযোগ গ্রহণের জন্য কোন দূর্ঘটনা/জানমালের ক্ষতি হলে তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ কোন দায় বহন করবে না। উক্ত উচ্চচাপ বিশিষ্ট মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ বিতরণ লাইনসহ অপরাপর সকল অবৈধ বিতরণ লাইন উচ্ছেদের ব্যাপারে তিতাস গ্যাস কোম্পানির সংশ্লিষ্ট এলাকার আপামর জনগন এবং ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার সহযোগিতা কামনা করা হলো।


মা-বাবাকে জীবন্ত কবর দেওয়ার চেষ্টা: দুই ছেলে গ্রেফতার

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলায় এক লোমহর্ষক ও অমানবিক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই পাষণ্ড সন্তান। জমি বিক্রির টাকা না দেওয়ায় জন্মদাতা মা ও বাবাকে মারধর করে বাড়ির উঠানে কবর খুঁড়ে জীবন্ত পুঁতে ফেলার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে তাদের বিরুদ্ধে। উপজেলার মহেশপুর ইউনিয়নের বিশ্বনাথপুর গ্রামে ঘটে যাওয়া এই ঘটনায় পুলিশ অভিযুক্ত দুই ছেলে রাসেল মোল্লা ও রানা মোল্লাকে গ্রেফতার করেছে। মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি ২০২৬) আদালতের মাধ্যমে তাদের জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।

ঘটনার বিবরণে জানা যায়, বিশ্বনাথপুর গ্রামের বাসিন্দা সত্তার মোল্লা ও আসমা বেগম দম্পতি দীর্ঘদিন ধরে তাদের বড় ছেলে রাসেল ও মেঝো ছেলে রানার দ্বারা মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনের শিকার হচ্ছিলেন। গত রবিবার (১১ জানুয়ারি) জমি বিক্রির টাকার ভাগ নিয়ে ছেলেদের সঙ্গে বাবা-মায়ের বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে দুই ভাই মিলে তাদের বৃদ্ধ মা-বাবাকে বেধড়ক মারধর শুরু করে। নির্যাতনের একপর্যায়ে তারা বাড়ির উঠানে কোদাল দিয়ে কবর খুঁড়তে শুরু করে এবং মা-বাবাকে সেখানে জীবন্ত মাটি চাপা দেওয়ার প্রস্তুতি নেয়।

জীবন বাঁচাতে সত্তার মোল্লা ও আসমা বেগম চিৎকার শুরু করলে আশপাশের প্রতিবেশীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। তাদের হস্তক্ষেপে ওই দম্পতি নিশ্চিত মৃত্যুর হাত থেকে রক্ষা পান। প্রতিবেশী আক্কাস ভূঁইয়া জানান, ছেলেদের কবর খোঁড়ার খবর পেয়ে তারা দ্রুত সেখানে যান এবং সত্যিই উঠানে গর্ত খোঁড়া অবস্থায় দেখতে পান। প্রতিবেশীদের ভাষ্যমতে, সম্পত্তির লোভে এই দুই ছেলে দীর্ঘদিন ধরেই তাদের বাবা-মায়ের ওপর অত্যাচার চালিয়ে আসছিল।

ভুক্তভোগী মা আসমা বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, যে সন্তানদের অনেক কষ্ট করে বড় করেছেন, আজ তারাই তাদের ভরণপোষণ দেয় না। তারা এখন সরকারের দেওয়া একটি ঘরে বসবাস করছেন। অথচ জমি বিক্রির সামান্য টাকার জন্য ছেলেরা তাদের মারধর করে জীবন্ত কবর দিতে চেয়েছিল। বাবা সত্তার মোল্লা জানান, ছেলেদের এই অমানবিক আচরণের বিচার চেয়ে তিনি আইনের আশ্রয় নিয়েছেন।

এ ঘটনায় সোমবার (১২ জানুয়ারি) দুপুরে সত্তার মোল্লা বাদী হয়ে কাশিয়ানী থানায় দুই ছেলের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ দ্রুত অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত রাসেল মোল্লা ও রানা মোল্লাকে গ্রেফতার করে। কাশিয়ানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, পিতা-মাতার ওপর এমন বর্বরোচিত হামলার অভিযোগে দুই আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং মঙ্গলবার দুপুরে তাদের আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।


গোপালগঞ্জে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে গৃহবধূকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ, ৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলায় এক গৃহবধূকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। গত শনিবার (১০ জানুয়ারি ২০২৬) সন্ধ্যা ৭টার দিকে উপজেলার ঘোনাপাড়া বাজার এলাকায় এই লোমহর্ষক ঘটনাটি ঘটে। নির্যাতনের শিকার ওই গৃহবধূ বাদী হয়ে গোপালগঞ্জ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্র্যাইব্যুনালে পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৪-৫ জনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেছেন।

মামলা ও আদালতের নির্দেশনার বিষয়ে জানা গেছে, গত সোমবার ট্রাইব্যুনালের বিচারক ভুক্তভোগীর অভিযোগটি আমলে নিয়ে কাশিয়ানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) মামলাটি নথিভুক্ত করার এবং দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন। বাদীর আইনজীবী অ্যাডভোকেট জাবের আলম মোল্লা মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। আদালতের আদেশের বিষয়ে কাশিয়ানী থানার ওসি মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান জানিয়েছেন, আদালতের আনুষ্ঠানিক আদেশ হাতে পাওয়ার পরপরই এ বিষয়ে পরবর্তী কঠোর আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী গৃহবধূ মহেশপুর ইউনিয়নের বালিয়াডাঙ্গা গ্রামের বাসিন্দা এবং এক সন্তানের জননী। ঘটনার দিন সন্ধ্যায় তিনি ইজিবাইকে করে তারাইল গ্রামে বোনের বাড়িতে যাচ্ছিলেন। পথে ঘোনাপাড়া বাজার এলাকায় পৌঁছালে অভিযুক্তরা তাকে আটক করে এবং মাথায় আগ্নেয়াস্ত্র ঠেকিয়ে জোরপূর্বক একটি ভবনের দ্বিতীয় তলায় নিয়ে যায়। সেখানে সন্ত্রাসীরা তাকে বিবস্ত্র করে হাতে মাদক ও অস্ত্র ধরিয়ে দিয়ে জোরপূর্বক আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও ধারণ করে। পরবর্তীতে সেই ছবি ও ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে অভিযুক্তরা তাকে পালাক্রমে ধর্ষণ করে।

মামলায় অভিযুক্ত আসামিরা হলেন উপজেলার খায়েরহাট গ্রামের খবির তালুকদারের ছেলে ওহিদুজ্জামান তালুকদার (৪৫), ঘোনাপাড়া গ্রামের মৃত শাজাহান মোল্লার ছেলে সান্টু মোল্লা (৪০), দুলু ফকিরের ছেলে অসিম ফকির (৩৫), মুন্নুর ছেলে ইমন (২৮) এবং জঙ্গলমুকুন্দপুর গ্রামের জাহাঙ্গীরের ছেলে কালু (২৬)। স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, অপরাধীদের গ্রেফতারে পুলিশের তৎপরতা শুরু হবে এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিতে পুলিশ প্রশাসন সচেষ্ট থাকবে।


এলপিজি সিলিন্ডারে সিন্ডিকেট, হাত ঘুরলেই বাড়ছে দাম

*অনেক দোকানেই ঝুলছে এলপি গ্যাস নেই লেখা নোটিস *দ্বিগুণ দামে গ্যাস কিনতে হচ্ছে ভোক্তাদের
আপডেটেড ১৪ জানুয়ারি, ২০২৬ ০২:০৬
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের বাজারে চাহিদার অর্ধেকও তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) মিলছে না। তীব্র সংকটের পাশাপাশি থামছে না দাম নিয়ে নৈরাজ্য। খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, ঋণপত্র (এলসি) খোলার জটিলতায় কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। আবার কয়েকটি কোম্পানি আমদানি বাড়াতে চাইলেও সময়মতো সরকারি অনুমতি না পাওয়ায় তৈরি হয়েছে নজিরবিহীন এই সংকট।
রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রেতাদের অনেক দোকানেই ঝুলছে-‘এলপি গ্যাস নেই’ লেখা নোটিস। গ্যাসের তীব্র সংকটের মধ্যেই বাজারে চলছে লাগামহীন দাম বাড়ানোর প্রবণতা। অনেক ক্ষেত্রে সরকারি নির্ধারিত দামের প্রায় দ্বিগুণ দামে বিভিন্ন সিন্ডিকেটের বেড়াজালে আটকে গ্যাস কিনতে হচ্ছে ভোক্তাদের। তাও সব জায়গায় মিলছে না।
ভোক্তাদের অভিযোগ, এক দোকান থেকে আরেক দোকানে ঘুরেও গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না। কেউ কেউ ফোন দিয়েও কোনো সাড়া পাচ্ছেন না। সরকারি দামে ১২ কেজির সিলিন্ডার ১ হাজার ৩০০ টাকা হলেও বাজারে এখন ২ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত দাম হাঁকা হচ্ছে। অথচ এই বাড়তি দাম নিয়ন্ত্রণে দেখার কেউ নেই।
অন্যদিকে বিক্রেতারা বলছেন, সিলিন্ডার থাকলেও সব বোতল খালি। তাই বাধ্য হয়েই দোকানে ‘গ্যাস নেই’ বোর্ড টানাতে হচ্ছে।
সংকটের প্রভাব পড়েছে শুধু বাসা-বাড়ির রান্নাবান্নায় নয়, এলপিজি বা অটোগ্যাসনির্ভর পরিবহন খাতেও। কোথাও অটোগ্যাস স্টেশন বন্ধ, আবার কোথাও দীর্ঘ যানজট তৈরি হয়েছে গ্যাস নেয়ার জন্য। অনেক চালক ঘণ্টার পর ঘণ্টা ঘুরেও গ্যাস পাচ্ছেন না।

অটোগ্যাস ব্যবহারকারীরা জানান, দাম বাড়ার পর থেকেই এই সংকট চলছে। কোনো স্টেশনে গেলে লাইন দিয়ে আটকে রাখা হচ্ছে, আবার অনেক জায়গায় জানিয়ে দেওয়া হচ্ছে-গ্যাস নেই, স্টেশন বন্ধ।
ব্যবসায়ী সমিতির তথ্যমতে, দেশে মাসিক এলপিজির চাহিদা এক লাখ ২০ হাজার থেকে দেড় লাখ টন। অথচ বর্তমানে সরবরাহ হচ্ছে চাহিদার মাত্র ৪০ শতাংশ। সাড়ে ৫ কোটি সিলিন্ডারের বিপরীতে মাসে রিফিল হচ্ছে মাত্র সোয়া কোটি। অন্যদিকে যানবাহনে যেখানে মাসিক চাহিদা প্রায় ১৫ হাজার মেট্রিক টন, সেখানে সরবরাহ মিলছে মাত্র ৪ থেকে ৫ হাজার মেট্রিক টন।
খাতসংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, বৈশ্বিক পরিস্থিতি, মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে জাহাজ সংকট, ঋণপত্র খোলার জটিলতায় একাধিক কোম্পানির উৎপাদন বন্ধ এবং আমদানি বাড়াতে আবেদন করেও সময়মতো জ্বালানি বিভাগের অনুমতি না পাওয়া-সব মিলিয়েই এই নজিরবিহীন সংকট তৈরি হয়েছে।
এলপিজি অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (লোয়াব) সহ-সভাপতি হুমায়ুন রশীদ বলেন, দেশে মোট ২৮টি লাইসেন্সপ্রাপ্ত এলপিজি কোম্পানি রয়েছে। এর মধ্যে নিয়মিত আমদানি করতে পারতো সাত থেকে আটটি কোম্পানি। বাকি ২০টির বেশি কোম্পানি বিভিন্ন জটিলতায় আমদানি করতে পারেনি। ফলে দীর্ঘদিন ধরেই এ খাতে একটি চ্যালেঞ্জ ছিল। তবে বাংলাদেশ ব্যাংক সহযোগিতা করলে সব কোম্পানি আমদানি করতে পারবে এবং তখন এলপিজিতে উদ্বৃত্ত তৈরি হবে।
তবে তীব্র এই সংকটের প্রেক্ষাপটে সরকারের নীতিগত কিছু সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন আমদানিকারকরা। তাদের আশা, এসব সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে আগামী সপ্তাহ থেকেই ধীরে ধীরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে পারে।
সবশেষ গত ৪ জানুয়ারি বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ৫৩ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৩০৬ টাকা নির্ধারণ করে। কিন্তু বাস্তবে সেই গ্যাসই এখন নগর থেকে গ্রাম-সবখানেই বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার টাকার ওপরে।
এলপিজি ব্যবসায়ীদের মতে, এই দামের পেছনে রয়েছে জটিল সরবরাহ ব্যবস্থা। সেফটেক এনার্জি সার্ভিসেস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী মোহাম্মদ লিয়াকত আলী বলেন, এলপিজি পুরোপুরি আমদানিনির্ভর একটি পণ্য। আমদানি হওয়ার পর ভোক্তার হাতে পৌঁছাতে এলপিজিকে দুই থেকে তিনটি ধাপ পার হতে হয়।
তিনি বলেন, কোথাও সিলিন্ডার সরাসরি ডিস্ট্রিবিউটরের কাছে যায়, কোথাও অপারেটরের মাধ্যমে ডিস্ট্রিবিউটর কিংবা ডিলারের কাছে পৌঁছায়, আবার কোনো ক্ষেত্রে অপারেটর সরাসরি শেষ ব্যবহারকারীর কাছেও সরবরাহ করে। ফলে একক কোনো পদ্ধতিতে এলপিজি ভোক্তার কাছে পৌঁছায় না।
ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের অভিযানের সমালোচনা করে লিয়াকত আলী বলেন, এলপিজি সরবরাহ নিশ্চিত করার দায়িত্ব সরকার ও অপারেটরদের। বাংলাদেশে প্রতি মাসে কত এলপিজি প্রয়োজন, সে বিষয়ে আগাম পরিকল্পনা থাকলে এই সংকট তৈরি হতো না। অপারেটরদের এলসি জটিলতা বা জাহাজ সংকটের সময় সরকার যদি আর্থিক সহায়তা কিংবা প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট অনুমোদনে সহযোগিতা করত, তাহলে সরবরাহে এই শূন্যতা তৈরি হতো না।
এলপি গ্যাস ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি লিমিটেডের সভাপতি মো. সেলিম খান বলেন, ভোক্তা অধিদপ্তরের অভিযান দেশের জনগণের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করছে, যা সংকট পরিস্থিতিকে আরও তীব্র করছে। এর প্রভাবে অনেক ব্যবসায়ী ব্যবসা বন্ধ করতে বাধ্য হচ্ছেন।
এলপিজি আমদানিকারকদের সংগঠন লোয়াব বলছে, সরকার যদি আমদানির প্রক্রিয়া সহজ করে এবং নীতিগত সহায়তা দেয়, তাহলে আগামী মাসেই সংকট কাটতে পারে।
সংগঠনটির সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হক বলেন, জানুয়ারিতে আমদানি করা গ্যাস ফেব্রুয়ারিতে এসে পৌঁছাবে। ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি থেকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে পারে। তবে নীতিগত সহায়তা না পেলে এই সংকটের দায় ব্যবসায়ীরা নিতে পারবে না।


banner close