কুমিল্লার ইলিয়টগঞ্জে গরুবোঝাই ট্রাক উল্টে দু’জন নিহত হয়েছেন। এ সময় আহত হয়েছেন আরও ৪ জন।
আজ বুধবার সকাল পৌনে ১০টার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের জেলার পুটিয়া ইউটার্নে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
হাইওয়ে পুলিশ জানায়, ঢাকা থেকে কুমিল্লা অভিমুখি গরুবোঝাই একটি ট্রাক মহাসড়কের পুটিয়া ইউটার্নে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে অপর একটি কাভার্ডভ্যানকে পেছন থেকে ধাক্কা দেয়। এতে গরুবোঝাইকৃত ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান সড়কের পাশে খাদে পড়ে যায়। এসময় গরু ব্যবসায়ী রাসেলসহ দুইজন নিহত হন। এ দুর্ঘটনায় আহত ৪ জনকে গৌরিপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়।
ইলিয়টগঞ্জ হাইওয়ে থানার ওসি মো. মনজুরুল আলম মোল্লা বলেন দৈনিক বাংলাকে বলেন, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে নিহতদের একজনের নাম জানা গেছে। কিন্তু অপরজনের পরিচয় পাওয়া যায়নি। দুর্ঘটনায় দুইটি গরু মারা যায় এবং অন্তত ৫টি গরুর পা ভেঙ্গে গেছে।
পুরো কক্সবাজার নিয়ে বিপদের মধ্যে আছি জানিয়ে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেছেন, এখানে একটি সংস্থা আছে। কক্সবাজার পর্যটন নগরীকে সুন্দরভাবে সাজানোর জন্য সরকার যতবার চেষ্টা করে ততবার তারা অন্যায়ভাবে উচ্চ আদালতে গিয়ে রিট করে নিষেধাজ্ঞা নিয়ে আসে। তাহলে এই সুন্দর নগরীর ডেভোলপমেন্ট আমরা করবো কীভাবে?
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) কক্সবাজারের উখিয়ার ৪ নম্বর বর্ধিত রোহিঙ্গা ক্যাম্পের সমন্বিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র পরিদর্শন শেষে এ কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী।
উখিয়ার রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র পরিদর্শনের কারণ জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে আমি এই প্রকল্পটি দেখতে এসেছি। একটি বৈঠকে আমরা প্রকল্পটির কথা জানিয়েছিলাম। তিনি সরেজমিনে দেখে আসতে বলেছেন। এখন পর্যন্ত আমার কাছে প্রকল্পটি কার্যকর ও যুক্তিসংগত মনে হচ্ছে। তবে কিছু বিষয় হয়তো সংযোজন-বিয়োজন করতে হবে। বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে বসে সেগুলো পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’
কক্সবাজার পৌরসভার বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্রকল্প প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘কক্সবাজার পৌরসভার একটি প্রকল্প আমি গতকাল পরিদর্শন করেছি। সেখানে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার কাজটি এখনো স্বয়ংক্রিয় নয়, ম্যানুয়ালি করা হচ্ছে। এটি স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে। আমাদের যে পদ্ধতি, সেখানে যন্ত্রপাতির মাধ্যমে প্রায় ৯০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হবে। বাকি কিছু কাজ বাইরে থেকে ম্যানুয়ালি করতে হতে পারে।’
কক্সবাজারে বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রকল্প বাস্তবায়নের সম্ভাবনাও বিশেষজ্ঞদের নিয়ে পর্যালোচনা করা হবে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে চীনের সিএমইসি নামে একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ইতোমধ্যে চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে জানিয়ে মীর শাহে আলম বলেন, সেখানে প্রতিদিন ৩ হাজার মেট্রিক টন বর্জ্য প্রক্রিয়াজাত করে প্রায় ৪৩ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হবে।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনেও চীনের উইমীম নামে একটি প্রতিষ্ঠান সম্ভাব্যতা যাচাই করছে। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনেও যুক্তরাজ্যের একটি প্রতিষ্ঠান বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের কাজ করবে। গাজীপুর সিটি করপোরেশনে ফিনল্যান্ডের একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হয়েছে।
দেশের সব বিদ্যুৎকেন্দ্রের সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ‘কোর কমিটি’ সভার রেকর্ড অব ডিসকাশনস অনুযায়ী এ নির্দেশনা দেওয়া হয়।
এ বিষয়ে গত ১৭ সেপ্টেম্বর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের নিরাপত্তা শাখা-২ থেকে সংশ্লিষ্টদের কাছে চিঠি পাঠানো হয়। পরে ওই নির্দেশনা বাস্তবায়নে ২৩ সেপ্টেম্বর ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) সদর দপ্তর থেকেও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছে চিঠি দেওয়া হয়েছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের চিঠিতে বলা হয়েছে, গত ২৬ আগস্ট অনুষ্ঠিত ‘কোর কমিটি’ সভার রেকর্ড অব ডিসকাশনস অনুযায়ী সারা দেশের সব বিদ্যুৎকেন্দ্রের সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশক্রমে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
এর ধারাবাহিকতায় ঢাকা মহানগর পুলিশ সদর দপ্তর থেকে পাঠানো চিঠিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওই নির্দেশনা অনুসারে কার্যক্রম গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্টদের অনুরোধ করা হয়।
ডিএমপির চিঠিতে বিষয়টি উল্লেখ করে বলা হয়েছে, কোর কমিটির সভার রেকর্ড অব ডিসকাশনস অনুযায়ী- সারা দেশের সব বিদ্যুৎকেন্দ্রের সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের চিঠির অনুলিপি মন্ত্রিপরিষদ সচিব, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সচিব, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট শাখা এবং সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাদের কাছেও পাঠানো হয়েছে।
দেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরও আটজনের মৃত্যু ও ১ হাজার ৪৩২ জনের হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার তথ্য দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। মারা যাওয়া আটজনের মধ্যে পাঁচজন খুলনায় এবং বাকি তিনজন ঢাকা বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। এ নিয়ে চলতি বছর ডেঙ্গুতে ২১৯ জনের মৃত্যু হলো। এর মধ্যে সেপ্টেম্বরে প্রাণ গেল ১২৩ জনের, যা মাসের হিসাবে চলতি বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বুলেটিনে বলা হয়, গত শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে ২৪ ঘণ্টায় এইডিস মশাবাহিত এ রোগে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকার হাসপাতালগুলোতে ১০৬ জন ভর্তি হয়েছেন, দক্ষিণ সিটিতে ভর্তি হন ১৭৬ জন। দুই সিটির বাইরে ঢাকা বিভাগের অন্যান্য হাসপাতালে ভর্তি হন ২৮০ জন।
অন্যান্য বিভাগের মধ্যে বরিশালে ২০৪ জন, চট্টগ্রামে ২০৯ জন, খুলনায় ২৪১ জন, ময়মনসিংহে ১১২, রাজশাহীতে ৫৭ ও রংপুরে ৫৩ জন ভর্তি হয়েছেন।
বুলেটিনের তথ্য অনুসারে, গেল ২৪ ঘণ্টায় ১ হাজার ৪২৯ জন ডেঙ্গুর চিকিৎসা নিয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন।
চলতি বছর ৭১ হাজার ৫৩৬ জন ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে ৬৬ হাজার ২৫৬ জন হাসপাতাল ছেড়ে গেছেন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি ও মৃত্যুর তথ্য রাখে ২০০০ সাল থেকে। এর মধ্যে ২০২৩ সালে এ রোগ নিয়ে সবচেয়ে বেশি ৩ লাখ ২১ হাজার ১৭৯ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়। ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে সবচেয়ে বেশি ১ হাজার ৭০৫ জনের মৃত্যুও হয় ওই বছর।
গত বছর ডেঙ্গুতে মৃত্যু হয় চার শতাধিক মানুষের, শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ছিল ১ লাখ ২ হাজারের মতো।
চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) নতুন উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে প্রত্যাখ্যান করে তার উদ্দেশে লাল কার্ড দেখিয়েছে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল থেকে নতুন উপাচার্যের বিরুদ্ধে এ কর্মসূচি পালন করেন তারা।
এদিকে সদ্য সাবেক উপাচার্য আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে টানা পঞ্চম দিনের মতো ক্লাস, পরীক্ষা বয়কট করার পাশাপাশি শাটডাউন কর্মসূচি পালন করেছেন চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। এছাড়া রাত থেকেই চুয়েটের প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে পাহারা দিচ্ছেন শিক্ষার্থীরা।
এদিকে সকালে আন্দোলনের নতুন কর্মসূচি হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ চত্বর ও একাডেমিক ভবনের দেওয়ালে প্রতিবাদী ও ব্যঙ্গাত্মক গ্রাফিতি আঁকেন শিক্ষার্থীরা। সকাল ১০টার দিকে শুরু হওয়া এসব গ্রাফিতিতে উপাচার্য পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার এবং অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে স্বপদে পুনর্বহালের দাবি তুলে ধরা হয়।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা বলছেন, নতুন উপাচার্য নজিরবিহীনভাবে অনলাইনে যোগদান করেছেন। এ ছাড়া উনি গণমাধ্যমে যে কথা বলেছেন, তা একদম অসামঞ্জস্য। তাই আমরা রেড কার্ড কর্মসূচির মাধ্যমে এর প্রতিবাদ জানাচ্ছি।
এদিকে একই দাবিতে পূর্ণ কর্মবিরতির ঘোষণা দিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মকর্তারা। এই শাটডাউন কর্মসূচির কারণে পুরোপুরি স্থবির হয়ে গেছে চুয়েটের কার্যক্রম।
কিউআর কোডের মাধ্যমে লেনদেন বাড়ানো গেলে বছরে প্রায় ২ লাখ কোটি টাকা অতিরিক্ত কর আদায় সম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান। তিনি বলেছেন, আমাদের ট্যাক্স কালেকশন খুব কম হয়। বর্তমানে দেশের ট্যাক্স-টু-জিডিপি অনুপাত ৭ শতাংশের কম, যা একসময় ১০ শতাংশ ছিল। কিউআর কোড সফলভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে বছরে প্রায় ২ লাখ কোটি টাকা অতিরিক্ত কর আদায় সম্ভব হতে পারে।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) আয়োজিত ‘মিট দ্য গভর্নর’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। বিশ্ববিদ্যালয়ের সৈয়দ নজরুল ইসলাম সম্মেলন কক্ষে বাংলাদেশ ব্যাংকের উদ্যোগে এবং ডাচ্-বাংলা ব্যাংক পিএলসির সহযোগিতায় এ অনুষ্ঠানটি আয়োজিত হয়।
ক্যাশলেস লেনদেন সম্প্রসারণ ও ‘বাংলা কিউআর’ সম্পর্কে সচেতনতা তৈরির কক্ষে দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে বাকৃবিতে প্রথম এমন আয়োজন।
কিউআর ব্যবহারে নোট ছাপানো ও ব্যবস্থাপনার খরচও কমবে বলে জানান গভর্নর। তিনি বলেন, বর্তমানে নোট ছাপানো ও ব্যবস্থাপনায় বছরে প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হয়। কিউআর কোড সিস্টেম দেশব্যাপী ইমপ্লিমেন্ট করতে পারলে এ ব্যয় অন্তত ১০ হাজার কোটি টাকা কমানো সম্ভব হতে পারে।
আমাদের ট্যাক্স জিডিপি আগামী ১ অক্টোবর থেকে কিউআর লেনদেনে মার্চেন্ট ডিসকাউন্ট রেট (এমডিআর) শূন্য করা হবে। ফলে কোনো গ্রাহক ১০০ টাকা দিলে মার্চেন্টও ১০০ টাকা পাবেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বাকৃবির ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য ও ছাত্রবিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. জি এম মুজিবর রহমান এবং ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. এহতেশামুল হক খান। এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং বাংলাদেশ ব্যাংক ও ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
ময়মনসিংহ নগরীর ব্যস্ততম সড়কগুলোর ফুটপাত দীর্ঘদিন ধরে নানা ধরনের দখলের কবলে থাকায় চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে সাধারণ পথচারীদের। নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, বাজার ও বাণিজ্যিক এলাকার ফুটপাতের বড় একটি অংশ হকার, ভ্রাম্যমাণ দোকান, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের পণ্যসামগ্রী ও অস্থায়ী স্থাপনার দখলে চলে যাওয়ায় পথচারীদের স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। ফুটপাত দখল হয়ে যাওয়ায় বাধ্য হয়ে অনেকেই মূল সড়ক দিয়ে হাঁটছেন। এতে যানজটের পাশাপাশি পথচারীদের দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বাড়ছে।
নগরবাসীর অভিযোগ, ফুটপাত মূলত পথচারীদের নিরাপদ চলাচলের জন্য নির্মিত হলেও বর্তমানে অনেক জায়গায় তা পথচারীদের ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। কোথাও ফুটপাতের ওপর দোকানের মালামাল রাখা হয়েছে, কোথাও বসেছে অস্থায়ী দোকান। আবার কোথাও হকাররা দীর্ঘ সময় ধরে ব্যবসা পরিচালনা করায় পথচারীদের জন্য নির্ধারিত জায়গা সংকুচিত হয়ে গেছে। ফলে অল্প জায়গার মধ্যে পথচারীদের চলাচল করতে হচ্ছে।
বিশেষ করে নগরীর ব্যস্ত এলাকাগুলোতে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত পথচারীদের চাপ থাকে। অফিসগামী মানুষ, শিক্ষার্থী, নারী, শিশু ও বয়স্ক ব্যক্তিরা প্রতিদিন এসব পথ ব্যবহার করেন। কিন্তু ফুটপাত দখল থাকায় তাদের অনেক সময় ব্যস্ত সড়কের পাশ দিয়ে হাঁটতে হয়। দ্রুতগতির যানবাহনের পাশাপাশি রিকশা, অটোরিকশা ও অন্যান্য যানবাহনের চলাচলের মধ্যে দিয়ে পথচারীদের চলাচল করতে গিয়ে প্রতিনিয়ত ঝুঁকির মুখে পড়তে হচ্ছে।
নগরবাসীর অনেকের ভাষ্য, শহরের বিভিন্ন স্থানে ফুটপাত নির্মাণ ও সংস্কার করা হলেও তা নিয়মিতভাবে দখল হয়ে যাওয়ায় এর সুফল পাচ্ছেন না সাধারণ মানুষ। একটি অংশ দখলমুক্ত করা হলে কিছুদিন পর আবার সেখানে দোকানপাট বা হকার বসে যাচ্ছে। এতে দখলমুক্ত করার কার্যক্রম অনেক সময় স্থায়ী ফল দিচ্ছে না।
সচেতন নাগরিকেরা মনে করেন, ফুটপাত দখলমুক্ত করার পাশাপাশি দখলদারিত্ব ঠেকাতে নিয়মিত তদারকি প্রয়োজন। শুধু অভিযান পরিচালনা করে ফুটপাত খালি করে দিলেই সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না। উচ্ছেদের পর যাতে আবার কেউ ফুটপাত দখল করে ব্যবসা পরিচালনা করতে না পারে, সে বিষয়ে সিটি কর্পোরেশনসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নিয়মিত নজরদারি করতে হবে।
নারী, শিশু ও বয়স্কদের ভোগান্তি বেশি :
ফুটপাত দখলের কারণে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়ছেন নারী, শিশু ও বয়স্করা। ফুটপাত দিয়ে নিরাপদে হাঁটার সুযোগ না থাকায় অনেককে যানবাহনের পাশ দিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। শিক্ষার্থীদেরও স্কুল-কলেজে যাতায়াতের সময় ব্যস্ত সড়ক ব্যবহার করতে হচ্ছে। এতে অভিভাবকদের মধ্যেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
নগরবাসীর দাবি, পথচারীদের নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে ফুটপাত দখলমুক্ত করা এখন সময়ের দাবি। নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে ফুটপাতের ওপর স্থায়ী বা অস্থায়ীভাবে গড়ে ওঠা অবৈধ দখল সরিয়ে দিয়ে পথচারীদের জন্য উন্মুক্ত করে দিতে হবে।
নগরবাসীর মতে, ফুটপাত দখলমুক্ত করা হলে শুধু পথচারীদের ভোগান্তিই কমবে না, নগরীর যান চলাচলেও ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। বর্তমানে ফুটপাত ব্যবহার করতে না পেরে অনেক পথচারী সড়কের ওপর দিয়ে হাঁটেন। এতে যানবাহন চলাচলের জায়গা সংকুচিত হয় এবং ব্যস্ত সময়ে যানজট আরও বাড়ে।
তাই পথচারীদের জন্য নির্ধারিত ফুটপাত উন্মুক্ত রাখা গেলে মানুষ ফুটপাত ব্যবহার করতে পারবেন এবং সড়কের ওপর পথচারীদের চাপও কমবে। ফলে নগরীর যান চলাচল আরও শৃঙ্খলিত করার ক্ষেত্রে এটি সহায়ক হতে পারে বলে মনে করছেন সচেতন নাগরিকেরা।
চলমান রয়েছে হকার উচ্ছেদ কার্যক্রম: সিটি কর্পোরেশন প্রশাসক
ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক রোকোনুজ্জামান রোকন বলেন, নগরীর ফুটপাত হকারদের দখলমুক্ত করার কার্যক্রম ইতোমধ্যে চলমান রয়েছে। নগরের বিভিন্ন এলাকায় পর্যায়ক্রমে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, ‘আমরা ইতোমধ্যে নগরের হকার দখলমুক্ত করার কাজ চালিয়ে যাচ্ছি। যেখানে হকার বসবে, সেখানে উচ্ছেদ অভিযান চলমান থাকবে।’
সিটি করপোরেশন প্রশাসকের এ বক্তব্যের পর নগরবাসী আশা করছেন, ফুটপাত দখলমুক্ত করার চলমান কার্যক্রম আরও জোরদার করা হবে এবং উচ্ছেদের পর যাতে পুনরায় ফুটপাত দখল না হয়, সে বিষয়েও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থায়ী সমাধান চান নগরবাসী: নগরবাসীর প্রত্যাশা, ময়মনসিংহ নগরীর সব ফুটপাত পর্যায়ক্রমে দখলমুক্ত করে পথচারীদের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে। একই সঙ্গে ফুটপাতের ওপর দোকানের পণ্য রাখা, অস্থায়ী স্থাপনা নির্মাণ কিংবা হকার বসানোর বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হবে।
সচেতন নাগরিকেরা বলছেন, একটি সুন্দর, পরিচ্ছন্ন ও আধুনিক নগরীর অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো পথচারীদের নিরাপদ চলাচলের ব্যবস্থা থাকা। তাই নগর উন্নয়নের পাশাপাশি পথচারীবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করাও জরুরি। ফুটপাত দখলমুক্ত রেখে তা নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ ও তদারকির আওতায় আনতে হবে।
নগরবাসীর একটাই প্রত্যাশা—ফুটপাত হবে পথচারীদের জন্য, দখলদারদের জন্য নয়। দ্রুত কার্যকর ও স্থায়ী উদ্যোগের মাধ্যমে ময়মনসিংহ নগরীর ফুটপাতগুলো দখলমুক্ত করে নারী, শিশু, শিক্ষার্থী, বয়স্কসহ সব শ্রেণিপেশার মানুষের জন্য নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন চলাচলের পরিবেশ নিশ্চিত করা হবে।
জমে থাকা পানি ও অপরিচ্ছন্ন পরিবেশই এডিস মশার প্রজননের সুযোগ তৈরি করে। তাই ডেঙ্গু প্রতিরোধে বাড়ি ও আশপাশ পরিষ্কার রাখার পাশাপাশি সম্ভাব্য প্রজননস্থল ধ্বংসে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম। তিনি বলেছেন, ‘রোগ প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধই গুরুত্বপূর্ণ। এ জন্য এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস ও জনসচেতনতা বাড়াতে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।’
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকালে পবা উপজেলার কাটাখালী পৌরসভা এলাকার রাজশাহীর জুটমিলে দেশব্যাপী জাতীয় ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান উপলক্ষে তিন মাসব্যাপী বিশেষ কর্মসূচির অংশ হিসেবে আয়োজিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে অংশ নিয়ে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন জেলা প্রশাসক। মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘পরিচ্ছন্নতা ইমানের অঙ্গ। তাই ডেঙ্গুর বিস্তার রোধে নিজেদের বাড়ি ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। বিশেষ করে জমে থাকা পানি অপসারণ ও মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যে তিন মাসব্যাপী ডেঙ্গু নিধন ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযানের সূচনা করেছেন, তারই ধারাবাহিকতায় প্রতি শনিবার জেলার ৯টি উপজেলায় ৭৮টি স্পটে একযোগে নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালিত হচ্ছে।
এ ছাড়া জেলার সরকারি কর্মকর্তা, উন্নয়ন সহযোগী, রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন, শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের সমন্বয়ে এসব কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘স্বাস্থ্যনীতির মূল শক্তি হলো প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধ উত্তম। আমরা চাই, রোগ হওয়ার আগেই তা প্রতিরোধ করা হোক। এ জন্য ডেঙ্গুসহ সব মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে।’
জেলা প্রশাসক আরও বলেন, ‘সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় পরিচ্ছন্ন পরিবেশ গড়ে তোলা সম্ভব।’
কর্মসূচিতে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহা. সবুর আলী, সিনিয়র সহকারী কমিশনার অভিজিত সরকার, সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও কাটাখালী পৌরসভার প্রশাসক মোহাম্মদ মেহেদী হাসান, নেজারত ডেপুটি কালেক্টর মো. আরিফ হোসেন, পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা সিরাজুম মুনীরাসহ কাটাখালী পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অংশ নেন।
দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনায় এবার আলোকসজ্জা সীমিত পরিসরে রাখার আহ্বান জানান বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘‘সনাতন ধর্মাবলম্বীরা যাতে নির্বিঘ্নে ও উৎসবমুখর পরিবেশে দুর্গোৎসব পালন করতে পারেন, সে জন্য সরকার সব ধরনের সহায়তা দেবে। অতীতে প্রতিটি মণ্ডপে ৫০০ কেজি করে চাল বরাদ্দ দেওয়া হতো, এবার তা বাড়িয়ে ৬০০ কেজি করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে যশোর জেলা প্রশাসকের সভাকক্ষে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত এ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী এ আহ্বান জানান।
তিনি আরও বলেন, ‘‘বিশেষ করে রাতের শেষভাগে বিচ্ছিন্ন কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা যেন না ঘটে, সে জন্য মণ্ডপ কমিটি ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে বিশেষ নজরদারির আহ্বান জানানো হয়েছে।’
সীমান্ত দিয়ে অবৈধ পারাপার, মাদক, অস্ত্র কিংবা পটকাবাজির অনুপ্রবেশ রোধে বিজিবিসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
দুর্গোৎসবের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আগামী ১ অক্টোবর থেকে মোটরসাইকেলসহ সব ধরনের যানবাহন বিশেষ তল্লাশির নির্দেশের কথাও জানান প্রতিমন্ত্রী।
জেলা প্রশাসক আশেক হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় আরও বক্তব্য রাখেন, জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি দীপংঙ্কর দাস রতন, সাধারণ সম্পাদক তপন ঘোষসহ জেলা ও উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ ও রাজনৈতিক, সামাজিক এবং প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা।
‘দখল-দূষণমুক্ত, প্রবহমান ও জীবন্ত নদী চাই’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বিশ্ব নদী দিবস ২০২৬ উপলক্ষে পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে। শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় দেবীগঞ্জ উপজেলা পরিষদ হলরুমে এ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা), দেবীগঞ্জ উপজেলা শাখার আয়োজনে এবং বাপা পঞ্চগড় জেলা শাখার সহযোগিতায় সভাটি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
দেবীগঞ্জ উপজেলা বাপার সাধারণ সম্পাদক নাজমুস শাকিব মুনের সঞ্চালনায় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন, দেবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইন্দ্রজিৎ সাহা।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দেবীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মুসা মিঞা, বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) পঞ্চগড় জেলা আঞ্চলিক শাখার সভাপতি এ. কে. এম. আনোয়ারুল ইসলাম খায়ের এবং সাধারণ সম্পাদক আজহারুল ইসলাম জুয়েল।
বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা), দেবীগঞ্জ উপজেলা শাখার সভাপতি হরিশ চন্দ্র রায়, দেবীগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন কবির রাজু, সিনিয়র সাংবাদিক শহিদুল ইসলাম শহীদসহ বাপার সদস্য ও স্থানীয় নেতারা।
দেবীগঞ্জ উপজেলা শাখার বাপার সভাপতি বলেন, ‘পঞ্চগড় জেলায় প্রায় ৫০-৫৩ টি নদী ছিল বর্তমানে ৩০ -৩২ নদী থাকলেও নদীতে তেমন পানি নাই।’
আয়োজকরা জানান, নদী দখল ও দূষণ রোধ, নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনা এবং নদী ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় জনসচেতনতা বাড়ানোই এ আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য।
আলোচনা সভায় স্থানীয় নদীগুলোর বর্তমান অবস্থা, দখল-দূষণের কারণ, নদী রক্ষায় প্রশাসন ও জনগণের ভূমিকা এবং ভবিষ্যৎকরণীয় বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে চা-বাগান এলাকার নারী ও কিশোরীদের মাসিক স্বাস্থ্য, পরিচ্ছন্নতা ও স্বাস্থ্য অধিকার বিষয়ে সচেতনতা তৈরিতে ভূমিকা রাখায় ১১ জন স্থানীয় নারী প্রশিক্ষককে (ট্রেইনার) সনদ ও সম্মাননা দেওয়া হয়েছে। শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) শহরের ভানুগাছ সড়কের মহসিন অডিটোরিয়ামের চতুর্থ তলার হলরুমে গিভ বাংলাদেশ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তাদের হাতে সনদ ও সম্মাননা তুলে দেওয়া হয়।
গিভ বাংলাদেশ ফাউন্ডেশনের ‘উঠান পেরিয়ে দুই পা ২.০’ কর্মসূচির আওতায় শ্রীমঙ্গলের চা-বাগান এলাকায় ১০৫টি উঠান বৈঠকের মাধ্যমে ১ হাজার ৫৮০ জন নারী ও কিশোরীর কাছে মাসিক স্বাস্থ্য, ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা এবং এ-সংক্রান্ত সামাজিক কুসংস্কার ও ভুল ধারণা নিয়ে সচেতনতামূলক বার্তা পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। কর্মসূচির আওতায় ১৭ জন পুরুষ কমিউনিটি সদস্য এবং কালিঘাট চা-বাগান উচ্চবিদ্যালয়ের ৫৮ জন ছাত্রীও অংশ নেয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা সিনথিয়া তাসনিম। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শামসুর নাহার পারভিন, আলোর দিশারীর প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি পরিতোষ তাঁতি এবং গিভ বাংলাদেশ ফাউন্ডেশনের সভাপতি আহমেদ ফাউমি। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন শারিফা সাম্মি ঐশি।
আয়োজকরা জানান, কর্মসূচির শুরুতে পরিচালিত জরিপে অংশ নেওয়া নারী চা-শ্রমিকদের ৯৩ শতাংশ মাসিকের সময় অস্বাস্থ্যকর ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি অনুসরণ করতেন। মাসিকজনিত বিভিন্ন সমস্যার কারণে তাদের কর্মদিবস হারানোর পাশাপাশি আর্থিক ক্ষতিরও মুখোমুখি হতে হতো।
গিভ বাংলাদেশ ফাউন্ডেশনের প্রোগ্রাম ম্যানেজার বর্ষা আহমেদ বলেন, ‘কালিঘাট চা-বাগানের নারীদের নিয়ে আমাদের এই উদ্যোগ বাংলাদেশের প্রান্তিক নারীদের মাসিক স্বাস্থ্য ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে চলমান কার্যক্রমের একটি অংশ।’
প্রধান অতিথি সিনথিয়া তাসনিম বলেন, ‘তারুণ্যনির্ভর গিভ বাংলাদেশ ফাউন্ডেশনের কাজটি সারাদেশে ছড়িয়ে দিতে পারলে একটি সুস্থ ও সচেতন নারী জনগোষ্ঠী গড়ে উঠবে।’ ভবিষ্যতে এ ধরনের উদ্যোগে স্থানীয় পর্যায়ের স্বাস্থ্যকর্মীদের মাধ্যমে সহায়তা দেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শামসুর নাহার পারভিন বলেন, ‘মাসিকসংক্রান্ত সমস্যার কারণে নারী চা-শ্রমিকরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। একই কারণে অনেক নারী শিক্ষার্থী বিদ্যালয় থেকে ঝরে পড়ে। তাই এ ধরনের উদ্যোগ দেশের সব বিদ্যালয় ও চা-বাগানে ছড়িয়ে দেওয়া প্রয়োজন।’
অনুষ্ঠানে রিজিক রেস্টুরেন্টের স্বত্বাধিকারী মাইনুল ইসলাম সানি, সরকারি কর্মকর্তা ও চা-বাগানের স্থানীয় প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। কর্মসূচিটির আর্থিক অংশীদার ছিল শ্রীমঙ্গলের রিজিক রেস্টুরেন্ট।
কৃষিনির্ভর মেহেরপুরের বাণিজ্যিক এলাকা খ্রেত গাংনী উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ বামন্দী-কাজীপুর সড়কটি দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। সড়কের বিভিন্ন স্থানে সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় গর্ত ও খানাখন্দ। কিছু স্থানের গর্তের গভিরতা এক থেকে দেড় ফিট পর্যন্ত হবে। সামান্য বৃষ্টি হলেই এসব গর্তে পানি জমে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। এতে প্রতিনিয়ত ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বছরের পর বছর ধরে সড়কটির এমন বেহাল দশা হলেও সংস্কারে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নিতে দেখা যাচ্ছে না সড়ক বিভাগকে। ফলে সময় গড়িয়ে যাওয়ার সাথে সাথে সড়কটি যেন এখন মরণফাঁদে পরিণত হচ্ছে। তবে উপজেলা প্রকৌশল দপ্তর বলছে, বরাদ্দ না থাকায় সংস্কারকাজ করতে বিলম্ব হচ্ছে তাদের।
স্থানীয়রা জানান, বামন্দী-কাজীপুর সড়কটি গাংনী উপজেলার অন্যতম ব্যস্ত সড়ক। এই সড়কটি দুটি জেলার মানুষের সংযোগ সড়ক হিসেবেও পরিচিত। এ পথে বাস, ট্রাক, নসিমন, অটোরিকশা, পাখিভ্যান ও মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন ধরনের যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় সড়কের অধিকাংশ জায়গায় বড় বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। বৃষ্টির সময় গর্তগুলো পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় কোথায় গর্ত আর কোথায় সমতল, তা বোঝা কঠিন হয়ে পড়ে। ফলে এসড়কটি একটি দুর্ঘটনার ফাঁদে রূপ নিয়েছে।
পথচারী গৃহবধূ শারমিন আক্তার বলেন, ‘এ সড়কটি দিয়ে আমাদের জেলা ও উপজেলা শহরে যাওয়া লাগে। এত গুরুত্বপূর্ণ একটি সড়কটি, অথচ এই সড়কে চলাচল করা যায় না। কেন কর্তৃপক্ষ উদ্যোগ নিচ্ছে না, সেটাও বুঝতে পারছি না। এই সড়ক দিয়ে চলাচলকারী যানবাহনের চালকরা সব সময় আতঙ্কে থাকেন কখন গাড়ি গর্তে পড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আমার এক চাচাতো বোনের বাচ্চা নিয়ে যাওয়ার সময় গাড়ি উল্টে তার হাত ভেঙে গেছে। একটু বৃষ্টি হলে সড়কটিতে পানিতে ডুবে যায়।’
পাখিভ্যানচালক টিটু হোসেন বলেন, ‘আমি ভ্যানে করে ইটসহ আড়তের মালামাল নিয়ে ভাড়ায় যায়। বর্তমানে এই রাস্তায় ভাড়া ধরতেও মন চায় না। পরিবারের মুখে একমুঠো ভাত তুলে দেওয়ার জন্য বাধ্য হয়ে এ রাস্তা দিয়ে চলাচল করতে হয়। অনেক সময় যা আয় হয়, গাড়ি নষ্ট হলে তার চেয়ে বেশি খরচ হয়। সড়কটি দ্রুত সংস্কার করা দরকার। আর কোনোমতে আটকে গেলে পাঁচজন মিলে ধাক্কা দেওয়া লাগে।’
নসিমনচালক আক্কাস আলী বলেন, ‘আমি প্রতিদিন চাউল লোড করে গাংনী যায়। গাংনী উপজেলায় এর চেয়ে খারাপ রাস্তা চোখে পড়ে না। আমাদের গাড়ি প্রায়ই নষ্ট হয়। মেরামত করতে বাড়তি খরচ গুণতে হয়। অনেক দুর্ঘটনাও দেখেছি। বড় কোনো দুর্ঘটনার আগেই সড়কটি সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।’
স্কুলশিক্ষক ফারুক আহমদ বলেন, ‘আমাদের বাচ্চাদের স্কুল-কলেজ যাওয়ার প্রধান সড়ক এটি। অথচ বতর্মান সময়ে এই সড়কটি দিয়ে চলাচল করা একদম অসম্ভব হয়ে পড়েছে। আমাদের অনেক শিক্ষার্থী এই সড়ক দিয়ে যাওয়ার সময় কাদা-পানি লেগে পোশাক নষ্টের পাশাপাশি শারীরিকভাবেও ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। তাই এটি দ্রুত সংস্কারের জন্য কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।’
বামন্দী পশুহাট ইজারাদার আব্দুল আওয়াল বিশ্বাস বলেন, ‘জেলার সবচেয়ে বড় পশুহাট বামন্দী। যেখান থেকে জেলার সবচেয়ে বেশি অর্থ সরকারি কোষাগারে যায়। অথচ সেই বাজারের সড়কটির এমন বেহাল দশা। ভাবতেই খারাপ লাগে। আমাদের দাবি সড়কটি যেন দ্রুত সংস্কার করা হয়।’
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের গাংনী উপজেলা প্রকৌশলী রোকনুজ্জামান বলেন, ‘বামন্দী-কাজীপুর সড়ক মেরামতের জন্য ঊর্ধ্বতনদের কাছে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ আসলেই দ্রুত কাজ শুরু করা হবে।’
মেহেরপুর-৭৪/২ (গাংনী) আসনের সংসদ সদস্য মো. নাজমুল হুদা বলেন, ‘সড়কটি অত্যন্ত বেহাল অবস্থায় রয়েছে। এই সড়কসহ উপজেলার অন্যান্য সড়কের বিষয়ে ঊর্ধ্বতনদের কাছে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেওয়া হয়েছে।’
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) বিশ্ব পর্যটন দিবস। এ উপলক্ষ্যে রয়েছে নানা আয়োজন। বিশ্ব পর্যটন দিবস উপলক্ষে সুন্দরবনকে ঘিরে খুলনায় নতুন করে জেগে উঠেছে পর্যটনের সম্ভাবনা। পর্যটকদের জন্য তৈরী হচ্ছে সুন্দরবনমুখী নৌযান, বাড়ছে ট্যুর অপারেটরদের ব্যস্ততা। তবে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে সুন্দরবনে পর্যটকের সংখ্যা আশংকাজনকহারে কমে যাওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন পর্যটন ব্যবসায়িরা।
বন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, মূলত অক্টোবর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত শীত মৌসুমে সুন্দরবনে পর্যটকরা আসে। সেইসময়ের সুন্দরবনের নদী এবং খালগুলো যথেষ্ট ঠান্ডা থাকে এবং আবহাওয়া অনুকূল থাকে। গত ৫ অর্থ বছরের সুন্দরবনে দেশি-বিদেশি পর্যটক বাড়লেও গত অর্থবছরে আশংকাজনক হারে কমে যায়।
এদিকে বিশ্ব পর্যটন দিবস উপলক্ষ্যে রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টায় ট্যুর অপারেটর অ্যাসোসিয়েশন অব সুন্দরবন (টোয়াস) খুলনার উদ্যোগে বিআইডব্লিউটিএ লঞ্চঘাট থেকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, শহীদ হাদিস পার্ক হয়ে শিববাড়ী মোড় পর্যন্ত বিশেষ রোড শোর আয়োজন করেছে।
সূত্র জানায়, ২০১৮-২০১৯ অর্থ বছরে সুন্দরবনে দেশি-বিদেশী পর্যটক এসেছিল ১ লাখ ৮৯ হাজার ৫৭০জন। যারমধ্যে দেশি পর্যটক ছিল ১ লাখ ৮৭ হাজার ৩০৯ জন এবং বিদেশি পর্যটক ২ হাজার ২৬১ জন। এতে রাজস্ব আয় হয় এক কোটি ৫১ লাখ ৭৪ হাজার ৩৯০ টাকা।
২০১৯-২০২০ অর্থ বছরে সুন্দরবনে এসেছে ১ লাখ ৭২ হাজার ৯৭৯ জন পর্যটক। যারমধ্যে দেশি পর্যটক ছিল ১ লাখ ৭০ হাজার ৬৩ জন এবং বিদেশি পর্যটক ২ হাজার ৩১৭ জন। এতে রাজস্ব আয় হয় এক কোটি ৮৭ লাখ ৬৫ হাজার ৮ টাকা।
২০২০-২০২১ অর্থ বছরে সুন্দরবনে এসেছে ১ লাখ ৪৬ হাজার ২১১ জন পর্যটক। যারমধ্যে দেশি পর্যটক ছিল ১ লাখ ৪৫ হাজার ৮৯১ জন এবং বিদেশি পর্যটক ৩২০ জন। এতে রাজস্ব আয় হয় এক কোটি ৫৭ লাখ ৫৪ হাজার ১৬৬ টাকা।
২০২১-২০২২ অর্থ বছরে সুন্দরবনে এসেছে ১ লাখ ৫৫ হাজার ৪৭৭ জন পর্যটক। যারমধ্যে দেশি পর্যটক ছিল ১ লাখ ৫৪ হাজার ৩৭৪ জন এবং বিদেশি পর্যটক ১ হাজার ১০৩ জন। এতে রাজস্ব আয় হয় ২ কোটি ২৪ লাখ ৮৩ হাজার ৫৮০ টাকা।
২০২১-২০২২ অর্থ বছরে সুন্দরবনে এসেছে ১ লাখ ৫৫ হাজার ৪৭৭ জন পর্যটক। যারমধ্যে দেশি পর্যটক ছিল ১ লাখ ৫৪ হাজার ৩৭৪ জন এবং বিদেশি পর্যটক ১ হাজার ১০৩ জন। এতে রাজস্ব আয় হয় ২ কোটি ২৪ লাখ ৮৩ হাজার ৫৮০ টাকা।
এছাড়া ২০২২-২০২৩ অর্থ বছরে সুন্দরবনে এসেছে ২ লাখ ১৬ হাজার ১৪৩ জন পর্যটক। যারমধ্যে দেশি পর্যটক ছিল ২ লাখ ১৪ হাজার এবং বিদেশি পর্যটক ২ হাজার ১৪৩ জন। এতে রাজস্ব আয় হয় ৩ কোটি ৯৪ লাখ ৩২ হাজার ৪৮০ টাকা।
তবে গত বছর (২০০২৪-২৫) পর্যটক এসেছে প্রায় ১ লাখ। তবে পর্যটক জাহাজে বনে গিয়েছেন মাত্র ৪০ হাজার পর্যটক।
ট্যুর অপারেটর অ্যাসোসিয়েশন অব সুন্দরবন (টোয়াস) খুলনার সিনিয়র সহ-সভাপতি মাজহারুল ইসলাম কচি বলেন, সুন্দরবন কেন্দ্রীক পর্যটনের সংখ্যা কমে যাচ্ছে। গত বছর ট্যুরিষ্ট জাহাজে করে মাত্র ৪০ হাজার পর্যটক সুন্দরবন ভ্রমনে গেছেন। আর ছোট ছোট জালি বোর্ডে করমজল স্পটে যাওয়া দর্শনার্থীদের সংখ্যাও কম। সব মিলিয়ে প্রায় ১ লাখের বেশী হবেনা।
তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, অক্টোবর মাসে পর্যটন মৌসুম শুরু হয়। কিন্তু এখনও আমরা কোন বুকিং পাইনি। এবছরও আশানুরুপ পর্যটক পাওয়া নিয়ে ব্যবসায়িরা দুঃশ্চিন্তায় রয়েছেন।
মাজহারুল ইসলাম কচির মতে পর্যটক কমে যাওয়ার পেছনে দুটি কারণ রয়েছে।
প্রথমত, সুন্দরবন কোল ঘেসে অবৈধভাবে গড়ে ওঠা রিসোর্ট। দ্বিতীয়ত, কক্সবাজারে নেশাজাত দ্রব্য অবাধে পাওয়া যায়, কাজেই যুবসমাজের বড় একটি অংশ সুন্দরবন বাদ দিয়ে কক্সবাজার ভ্রমণ করে।
সুন্দরবনে পর্যটক টানতে ২০ বছরের মহাপরিকল্পনা :
বিশ্বের একক বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবনের প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষা এবং দেশি ও বিদেশি পর্যটকদের আকর্ষণ বাড়ানোর লক্ষ্যে প্রস্তুত করা হয়েছে একটি ২০ বছর মেয়াদী সুন্দরবন ইকোট্যুরিজম মাস্টারপ্ল্যান (মহাপরিকল্পনা)। এটি গতানুগতিক অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের দিকে মনোযোগ না দিয়ে, বরং বনের প্রাকৃতিক পরিবেশকে অক্ষুন্ন রেখে কীভাবে টেকসই পর্যটন বাস্তবায়ন ও উন্নয়ন করা যায় তার একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ করা হয়েছে।
এই পুরো প্রক্রিয়াটির ডেপুটি চিফ অব পার্টি হিসেবে নেতৃত্ব দিয়েছেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফরেস্ট্রি অ্যান্ড উড টেকনোলজি ডিসিপ্লিনের অধ্যাপক ড. মো. ওয়াসিউল ইসলাম।
প্রফেসর ওয়াসিউল ইসলাম জানান, এই মহাপরিকল্পনা তৈরিতে প্রায় দুই বছর সময় লেগেছে। এই মহাপরিকল্পনাটি মূলত সুন্দরবনের পরিবেশ ও অর্থনীতির সমন্বয়ে একটি টেকনিক্যাল রোডম্যাপ। এটি বাস্তবায়ন হলে দেশীয় পর্যটন শিল্পের প্রবৃদ্ধি ঘটবে ও স্থানীয়দের অর্থনৈতিক ভিত মজবুত হবে এবং এর মাধ্যমে সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করবে।
বিদেশি পর্যটকদের কীভাবে আরও সুন্দরবনে আগ্রহী করে বেশি বৈদেশিক মুদ্রা দেশে আনা যায়, এ বিষয়েও এ প্রকল্পটি কাজ করেছে। দেশের মানুষ ট্যুর করলে টাকা দেশেই থাকে, কিন্তু বিদেশি পর্যটক দেশে এলে নতুন বৈদেশিক মুদ্রা অর্থনীতিতে যুক্ত হয়, যা অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও উন্নয়নের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
লোকজ সংস্কৃতি ও বাংলার মাটি, মানুষের গানকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে ফরিদপুরে ‘বেতাল সুরে মাটির গান লোক উৎসব-২০২৬’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) রাতে ফরিদপুরের অম্বিকাপুর পল্লীকবি জসীমউদ্দীনের বাড়ি সংলগ্ন কুমার নদীর তীরে-জসীম উদ্যানে এই লোক উৎসব অনুষ্ঠিত হয়।
বেতাল ও মাটির গানের আয়োজনে এবং অ্যাব্লুম ক্যাফেটেরিয়ার সার্বিক সহযোগিতায় অনুষ্ঠিত উৎসবে লোকসংগীতপ্রেমী দর্শকদের উপস্থিতিতে মেলার মাঠ হয়ে ওঠে প্রাণবন্ত।
এ অনুষ্টানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ফরিদপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক আফজাল হোসেন খান পলাশ।
অ্যাব্লুম ক্যাফেটেরিয়ারের সত্বাধিকারী ও বেতাল ও মাটির গানের সভাপতি মেহেদী হাসন সোহেলের সভাপতিত্বে এ সময় ফরিদপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সুস্মিতা সাহা, ফরিদপুর সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মেশকাতুল জান্নাত রাবেয়া, ফরিদপুর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মাহবুব হোসেন পিয়াল, সিনিয়র সাংবাদিক পান্না বালা সহ গণ্যমান্য।ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
মোহাম্মদ রফিকুল ইসলামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানের শুরুতে অতিথিদের স্বাগত জানিয়ে উত্তরীয় পরিয়ে বরণ করা হয়। পরে অনুষ্ঠানের ভাবনা ও বাংলার লোকসংস্কৃতির ঐতিহ্য নিয়ে আলোচনা করা হয়। এরপর শুরু হয় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। পল্লীগীতি, বেতাল গানের দল ও মাটির গানের বিভিন্ন পর্বে শিল্পীরা লোকজ সুরে গান পরিবেশন করেন। এতে বাংলার গ্রামীণ জীবন, মাটি ও মানুষের আবেগ-অনুভূতির নানা দিক ফুটে ওঠে।
উৎসবে গান পরিবেশন করেন প্রখ্যাত বাউল তোফাজ্জেল সরকার. বাউল মো:সাইফুজ্জামান রুপক, শারমিন বাউল, সুমনা বাউল, আর.এম. রনি, সোহেল রানা সবুজ শিকদার ও ফরিদপুর জেলা শিল্পকলা একাডেমির শিল্পীরা। তাদের পরিবেশনায় দর্শকরা মুগ্ধ হয়ে লোকগানের সঙ্গে আনন্দে মেতে ওঠেন।
অনুষ্ঠানে শিল্পী ও দর্শকদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য দেওয়ার পাশাপাশি লোকসংস্কৃতি সংরক্ষণ ও চর্চার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়। পরে সভাপতির বক্তব্য ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশের মধ্য দিয়ে ‘বেতাল সুরে মাটির গান লোক উৎসব-২০২৬’-এর সমাপ্তি ঘটে।