মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারি ২০২৬
১৪ মাঘ ১৪৩২

এত গ্রেপ্তারের পরও কেন নির্মূল হচ্ছে না আরসা?

ছবি: সংগৃহীত
রহমত উল্লাহ, টেকনাফ (কক্সবাজার)
প্রকাশিত
রহমত উল্লাহ, টেকনাফ (কক্সবাজার)
প্রকাশিত : ১২ জুন, ২০২৪ ১৬:২৬

মিয়ানমারের চরমপন্থি সশস্ত্র সংগঠন আরসার আগের নাম ছিল আল ইয়াকিন বা ইসলামি সংগঠন। রোহিঙ্গা মুসলমানদের নিয়ে কাজ করাই ছিল তাদের উদ্দেশ্য। ২০১৩ সালের দিকে সংগঠনের নাম পাল্টে রাখা হয় আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মি বা আরসা, যদিও দলের একাংশ এখনো আল ইয়াকিন নামেই পুরোনো সংগঠনকে আকড়ে ধরে আছে। আতাউল্লাহ আবু আম্মার জুনুনি সেসময়ে হন স্যালভেশন আর্মির (আরসা) কমান্ডার ইন চিফ। এই আতাউল্লাহর জন্ম সৌদি আরবে, তার বাবা-মা আরাকান থেকে গিয়ে সৌদি আরবে স্থায়ী হন। কিন্তু জন্ম সৌদি আরবে হলেও আতাউল্লাহ পরে পাকিস্তানের করাচিতে এসে বসবাস করতেন।

রোহিঙ্গাদের অধিকার আদায় করতে ঠিক কবে মিয়ানমারে তিনি ফিরে আসেন, তা জানা যায় না। তবে তা ২০১৩ সালের আগেই অর্থাৎ আল ইয়াকিন থেকে আরসার যাত্রা শুরুর আগেই হয়েছে, তা নিশ্চিত। সংগঠনটি সশস্ত্র হয়ে উঠেছে, তা প্রথম বোঝা যায় ২০১৫-১৬ সালের দিকে। লক্ষ্য ছিল, মিয়ানমারের মুসলিম অধ্যুষিত আরাকান প্রদেশ দখল। ২০১৭ সালের মাঝামাঝি মিয়ানমারের থানায় হামলা, পুলিশের অস্ত্র লুটের ঘটনার পর সংগঠনটির বিরুদ্ধে প্রথম মনোযোগ দেয় মিয়ানমার সেনাবাহিনী। তবে ওই বছরেই আগস্টে তার নির্দেশে রাখাইনে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর তল্লাশি চৌকিতে আরকান দখল ও অস্ত্র লুট করার জন্য আবার হামলা চালায় আরসা। এ ঘটনায় ভীষণ ক্ষুব্ধ সেনাবাহিনী আরসা নির্মূলের উদ্দেশে আরকান প্রদেশে হামলা শুরু করে। তখন উত্তপ্ত হয়ে পড়ে মিয়ানমারে মুসলমানদের গ্রামগুলোর পরিস্থিতি। ওই দেশের সেনাবাহিনী ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট রাখাইনে চড়াও হয়ে অভিযান ও রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতন, হামলা ও গণধর্ষণের ঘটনা শুরুর পর নিজ দেশ ছেড়ে বাংলাদেশে পালিয়ে আসে প্রায় ১০ লাখ রোহিঙ্গা। সম্পূর্ণ মানবিক কারণে তাদের তখন আশ্রয় দেয় বাংলাদেশ সরকার। আর বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে আরসার সদস্যদের সম্পর্কে তথ্য না থাকার সুযোগে এসব রোহিঙ্গার সঙ্গে আশ্রয়প্রার্থী হিসেবে বাংলাদেশে চলে আসে আরসার কিছু সদস্য আর সমর্থকও।

উদ্দেশ্য তাদের মিয়ানমার সেনাবাহিনীর সঙ্গে লড়াই করা হলেও অস্ত্র তৈরি ও সংগ্রহ, বাহিনীর জন্য সদস্য সংগ্রহ, সদস্যদের অস্ত্র প্রশিক্ষণ দেওয়া ইত্যাদি কাজে তারা তখন থেকেই গোপনে বাংলাদেশের পাহাড়ি নির্জন এলাকাগুলো ব্যবহার শুরু করে। একই সঙ্গে রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরগুলোতে নিজেদের প্রভাব বাড়াতে তারা সেগুলোতে আধিপত্য বিস্তার শুরু করে। রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবির সর্দার বা মাঝিদের করায়ত্ত করা বা ভয় দেখানো দিয়েই এর শুরু। একই সঙ্গে নিজেদের অর্থভাণ্ডার ঠিক রাখতে মিয়ানমারের সঙ্গে বাংলাদেশের অরক্ষিত সীমান্ত অঞ্চলকে রুট হিসেবে ব্যবহার করে এদেশে মাদক চোরাচালান আরও বাড়িয়ে দেয়।

শুরুতে আরসা সম্পর্কে অন্ধকারে থাকলেও দিনের পর দিন রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরগুলোতে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে পরস্পরের মধ্যে হামলা, গুলি, হত্যার ঘটনা বাড়তে থাকায় এবং বিপুল পরিমাণ মাদকসহ রোহিঙ্গা ও তাদের প্ররোচনায় স্থানীয়দের আটক বা গ্রেপ্তাদের মধ্য দিয়ে এই চরমপন্থি সংগঠন সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পেতে শুরু করে বাংলাদেশের বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। র‌্যাব, এপিবিএন আরসা দমনে কঠোর অভিযান চালাচ্ছে মাঝেমধ্যেই। তার পরও তাদের গোপন তথ্য প্রকাশ হয়ে পড়া এবং বেশির ভাগ রোহিঙ্গা সশস্ত্র যুদ্ধে জড়িত হতে না চাওয়ায় আরসার নেতাসহ সদস্যরা বরাবরই আছে উৎকণ্ঠায়। রোহিঙ্গাদের মধ্যে আরসা ছাড়াও আছে আরও কিছু সশস্ত্র গ্রুপ। তবে তারা পরস্পর যেন পরস্পরের শত্রু। আরাকানে যে বিদ্রোহী সশস্ত্র গ্রুপ আরাকানের স্বাধীনতার জন্য সশস্ত্র লড়াই করে যাচ্ছে, আরাকান আর্মি, ওদের সঙ্গেও এসব গ্রুপের শত্রুতা রয়েছে। আরাকান আর্মি সাধারণভাবে সব আরাকানির জন্যে স্বাধীন আরাকান চায়, কিন্তু আরসাকে ওরা চিহ্নিত করে মুসলিম সন্ত্রাসী গ্রুপ হিসেবে। সব মিলিয়ে অস্থির হয়ে উঠছে রোহিঙ্গা শিবির।

আরসার শীর্ষ নেতা অলি আকিজ দীর্ঘদিন মিয়ানমারে আত্মগোপনে থাকলেও গত ১৯ মে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ফিরেছেন। আরসার শীর্ষ কমান্ডার আতাউল্লাহ আবু আম্মার জুনুনি এবং সেকেন্ড-ইন-কমান্ড ওস্তাদ খালেদের নির্দেশে ক্যাম্পে আধিপত্য বিস্তারের নতুন পরিকল্পনা নিয়ে অপতৎপরতা চালাচ্ছেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সূত্রে জানা যায়, রোহিঙ্গাদের সশস্ত্র গ্রুপ আরসার প্রশিক্ষণ। অস্ত্র তৈরি, আত্মগোপন, মিটিংসহ নানা কর্মকাণ্ড সেখানে সংগঠিত হতো। গত রোববার মধ্যরাতে অভিযান চালিয়ে ক্যাম্প-৪-এ গোপন বৈঠক থেকে আকিজসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, একটি দেশীয় তৈরি এলজি, একটি ওয়ানশুটার গান, ১০ রাউন্ড কার্তুজ, দুই কেজি বিস্ফোরকদ্রব্য, তিনটি মোবাইল এবং নগদ ২ হাজার ৫০০ টাকা জব্দ করা হয়।

র‌্যাব-১৫-এর অধিনায়ক লে. কর্নেল এইচ এম সাজ্জাদ হোসেন বলেন, ‘আমরা এ পর্যন্ত ১১২ জনের ওপরে আরসার ভিন্ন পদবিধারী নেতা গ্রেপ্তার করেছি। গত রোববারের আরসার শীর্ষ নেতা আকিজসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করি। তাদের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

২০১৭ সালে সীমান্ত পার হয়ে ভারত হয়ে বাংলাদেশে এসে ক্যাম্প-৫-এ সপরিবারে বসবাস শুরু করেন মৌলভী আকিজ। পরে আরসার হয়ে কাজ শুরু করেন তিনি। এরপর ক্যাম্প-৫-এ আরসার প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পান। নেটওয়ার্ক গ্রুপে কাজ করতেন। ক্যাম্পের বিভিন্ন তথ্য আরসা কমান্ডারদের কাছে পৌঁছে দিতেন। এভাবে শীর্ষ নেতৃত্বে পৌঁছান। রোহিঙ্গাদের প্রত‍্যাবাসনের পক্ষে কাজ করায় ওস্তাদ খালেদের নির্দেশে রোহিঙ্গা নেতা মাস্টার মহিবুল্লাহকে হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী ছিলেন আকিজ। তা ছাড়া মতাদর্শিক দ্বন্দ্বে ক্যাম্পে সেভেন মার্ডারে সরাসরি অংশ নেন। তাদের নেতা-কর্মী আটক হলে কিছুটা দুর্বল হয়ে যায় কিন্তু আবার সক্রিয় হয়ে ওঠে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বিশাল এই জনগোষ্ঠীতে আরসা, আল-ইয়াকিনসহ অন্তত ১৫টি বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন সক্রিয়। ২০১৭ সাল থেকে এখন পর্যন্ত ছয় বছরে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সংঘর্ষের ঘটনায় প্রায় ৩০০ জন নিহত হয়েছে। মামলা হয়েছে পাঁচ হাজারের অধিক। এসব মামলার বেশির ভাগই হয়েছে মাদক ও আগ্নেয়াস্ত্র রাখার অভিযোগে।

রোহিঙ্গা নেতা ড. জোবায়ের বলেন, আরসা রোহিঙ্গা ক্যাম্প দখল করে রাজত্ব কায়েম করার জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এ পর্যন্ত তাদের দুই শতাধিক নেতা-কর্মী আটক হয়েছেন। আটক করলেও তারা আরও শক্তিশালী হয়ে উঠবে, তার কারণ তাদের রোহিঙ্গা সরকার মদদ দিয়ে যাচ্ছে। প্রত্যাবাসন বন্ধ রাখার জন্য মিয়ানমার সরকার তাদের ব্যবহার করে যাচ্ছে, যে কারণে তারা এতটা শক্তিশালী।

গত রোববার রাতে উখিয়ার মধুরছড়া ৪ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে আরসার শীর্ষ নেতাদের গ্রেপ্তার করে। সে জায়গায় ভোরে ৪০-৪৫ জন আরসা সন্ত্রাসী পাহাড় থেকে সীমানার কাঁটাতারের বেড়া অতিক্রম করে ৪ নম্বর ক্যাম্পে আসে। ঘটনাস্থলে এসে ক্যাম্পে পাহারারত রোহিঙ্গা ইলিয়াছকে তারা গুলি করে ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে হাতে, পায়ে ও তলপেটে কুপিয়ে মারাত্মক জখম করে। এতে ইলিয়াস ঘটনাস্থলেই মারা যান।

১৪ এপিবিএনের অধিনায়ক মোহাম্মদ ইকবাল বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গেলে এপিবিএন সদস্যদেরও লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ করে সন্ত্রাসীরা।

তিনি আরও বলেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে নতুন করে সংগঠিত এবং নাশকতা করার চেষ্টা করছে আরসা। মূলত আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘবদ্ধ হয়ে হামলা চালায় আরসা সন্ত্রাসীরা। এতে তারা গুলি এবং কুপিয়ে তিন রোহিঙ্গাকে হত্যা করে। আর গুরুতর আহত হয় সাতজন। হতাহতরা আরএসও সদস্য বলে জানা গেছে।

রোহিঙ্গা গবেষক অধ্যাপক ড. রাহমান নাসির উদ্দিন দৈনিক বাংলাকে বলেছেন, রোহিঙ্গাদের অধিকার আদায় করতে আরসা ২০১৭ সালের ২৫ আগস্টের দিকে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর তল্লাশি চৌকিতে হামলা চালায়। কিন্তু এটার কারণে নির্যাতনের তীব্রতায় নিজ দেশ ছেড়ে বাংলাদেশে পালিয়ে আসে প্রায় ৮ লাখ রোহিঙ্গা। সে কারণে আরসা রোহিঙ্গাদের প্রতিনিধিত্ব হয়ে উঠতে পারে নাই। বিভিন্ন সময় রোহিঙ্গাদের সঙ্গে কথা বলে জানতে পারি, রোহিঙ্গাদের এ দুর্দশার জন্য আরসা দায়ী। রোহিঙ্গাদের সঙ্গে আরসার একটা বড় গ্রুপ বাংলাদেশে এসেছে। বাংলাদেশে ৩৪টি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে তাদের অবস্থান ধরে রাখার জন্য তারা বিভিন্ন ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে এবং যখন কেউ তাদের বিরুদ্ধে কথা বলার চেষ্টা করেছে তখন তারা তাদের দমন করেছে। এর মধ্যে একজন ছিলেন মুহিব উল্লাহ। মুহিব উল্লাহ যখন রোহিঙ্গাদের নেতা হয়ে ওঠে বিশ্বের কাছে পরিচিত হন এবং আন্তর্জাতিকভাবে রোহিঙ্গাদের জন্য আন্দোলন করেন তখন তাকে নেতা হিসেবে গ্রহণ করে রোহিঙ্গারা। বাংলাদেশ যখন প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরু করে তখন রোহিঙ্গাদের রাজি করানোর জন্য মুহিব উল্লাহ সোর্স ছিল। ধীরে ধীরে মুহিব উল্লাহ প্রধান পাঁচ রোহিঙ্গা নেতার একজন হয়ে ওঠেন। ২০১৯ সালের ২৫ আগস্ট ৩ থেকে ৫ লাখ রোহিঙ্গার মহাসমাবেশ করে তাক লাগিয়ে দেন এবং আনন্দে আত্মহারা করে দেন রোহিঙ্গা ইস্যুতে লেগে থাকা বিদেশি এনজিওগুলোকে। এসব কারণে আরাকান রোহিঙ্গা সোসাইটি ফর পিস অ্যান্ড হিউম্যান রাইটস ভেঙে দেওয়ার জন্য মুহিব উল্লাহকে হত্যা করা হয়। মিয়ানমার সেনাবাহিনীর শত্রু হচ্ছে আরাকান আর্মি। আরাকান আর্মির শত্রু হচ্ছে মিয়ানমার সেনাবাহিনী। আবার মিয়ানমারের শত্রুও আরসা। মিয়ানমার নৌবাহিনী ঘোষণা দিয়ে বলছে আরকান আর্মি ও আরসা মিলে বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে। যেহেতু মিয়ানমার আরাকানে আরকান আর্মি শক্তিশালী হয়ে উঠেছে। সে কারণে আরসা ও শক্তিশালী হয়ে উঠেছে।

দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীগুলোকে সতর্ক করে দিয়ে ড. রাহমান নাসির বলেন, দুই শতাধিক আরসার নেতা-কর্মী গ্রেপ্তার করাতেই আরসা দুর্বল হয়ে পড়েছে এমন যুক্তি হয়তো সঠিক নয়। এই চরমপন্থি দলে আরও অনেক সদস্য ও সমর্থক রয়েছে।

কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. রফিকুল ইসলাম দৈনিক বাংলাকে বলেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বিভিন্ন সন্ত্রাসী গ্রুপ তাদের আধিপত্য বিস্তার করার জন্য এসব সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করে থাকে। আগুন নাশকতা এসব মাঝেমধ্যে বিভিন্ন কারণে হয়ে থাকে। তবে কিছু কিছু ঘটনা আমরা সন্দেহ করি এগুলো নাশকতা। আমরা আরসা বলে কিছু পাইনি। তবে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সন্ত্রাসী গ্রুপ আছে। যারা উগ্রবাদী কর্মকাণ্ডে জড়াবে তাদের বিরুদ্ধে আমাদের সমন্বিত অভিযান অব্যাহত থাকবে।

রোহিঙ্গা ইয়ুথ অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিষ্ঠাতা খিন মং বলেন, রোহিঙ্গাদের অধিকারের জন্য লড়াই করার দাবি করেছিল আরসা। তখন তাদের বিশ্বাস করেছিল রোহিঙ্গারা। কিন্তু এখন সাধারণ রোহিঙ্গারাও মনে করে আরসা মিয়ানমারের এজেন্ট হিসেবে কাজ করছে। যারা প্রত্যাবাসনের কথা বলছেন তাদের হত্যা করা হচ্ছে। তাই আরসার ওপর তাদের আর বিশ্বাস নেই।

বিষয়:

ঝালকাঠিতে স্বর্ণালংকারের জন্য বন্ধুর মাকে হত্যা, যুবক আটক

আপডেটেড ২৬ জানুয়ারি, ২০২৬ ২০:৫৭
নিজস্ব প্রতিবেদক

ঝালকাঠিতে নিলুফা ইয়াসমিন নামের পঞ্চাশোর্ধ এক বৃদ্ধাকে হত্যার অভিযোগে সজল খান নামের এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ। আটক সজল নিহত নিলুফার ছেলের বন্ধু। নিলুফার নাক ও কানে ব্যবহৃত স্বর্ণালংকার লুফে নিতেই তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে সজল পুলিশের কাছে শিকার করেছে।

গত রোববার রাতে সজলকে আটকের পরে তার কাছ থেকে নিহত নিলুফার নাক ও কানের স্বর্ণালংকার এবং নিলুফার ব্যাবহৃত একটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করেছে পুলিশ।

নিলুফা ইয়াসমিন খুনের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে আটক সজলের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে গত রোববার মধ্যরাতে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ করেছে স্থানীয়রা।

সোমবার সকালে ঝালকাঠি প্রেসক্লাবের সামনের সড়কে ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেন নিহতের পরিবার ও এলাকার নারী-পুরুষ।

উল্লেখ্য, গত ২০ জানুয়ারি সকাল ৬ টায় ঝালকাঠি পৌর খেয়াঘাট এলাকায় সুগন্ধা নদীর পাড় থেকে নিলুফা ইয়াসমিন নামের ঐ নারীর মরদেহ উদ্ধার করেছিল পুলিশ।

সুরতহাল প্রতিবেদনে নিহতের নাকে রক্তের দাগ পাওয়া যায়। কানের দুল ও নাক ফুল নেওয়ার জন্যই ওই নারীকে খুন করা হয়েছে বলে পুলিশ ও এলাকাবাসী প্রাথমিকভাবে ধারণা করে।


পতিত জমিতে কৃষকের গম চাষ, স্বপ্ন বুনছেন অন্যরাও

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

কুমিল্লায় রবি মৌসুমে একসময় ব্যাপকভাবে গমের আবাদ হলেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কৃষকরা ধীরে ধীরে এই শস্য চাষ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন। ফলে আগের মতো মাঠজুড়ে গমের সোনালি শীষ আর চোখে পড়ে না। তবে দেবিদ্বার উপজেলার খলিলপুর ইউনিয়নের জয়পুর গ্রামে আবার গম চাষের আশার আলো জ্বালিয়েছেন কৃষক ইসমাইল ফকির।

প্রতিবেশী পল্লী চিকিৎসক শওকত আলীর পরামর্শে বাড়ির পাশে দীর্ঘদিন পতিত থাকা জমিতে গম চাষ করে ইতোমধ্যে তিনি সফলতার মুখ দেখছেন। খবর পেয়ে এলাকা পরিদর্শন করে পল্লী চিকিৎসক শওকত আলী ও কৃষক ইসমাইল ফকিরের সঙ্গে কথা বলেন সাংবাদিকরা।

জানা যায়, শওকত আলী নিজেও তার অল্প জমিতে পরশ শিম, টমেটো, আলু, মিষ্টি কুমড়া, পেঁয়াজ, রসুন ও ধনেপাতা চাষ করে আসছেন। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই তিনি ইসমাইল ফকিরকে হারিয়ে যাওয়া গম চাষে উদ্বুদ্ধ করেন। পরামর্শ অনুযায়ী ইসমাইল ফকির গমের বীজ সংগ্রহ করে প্রায় ২৯ শতক জমিতে আবাদ করেন। বর্তমানে ক্ষেতের অবস্থা দেখে বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

কৃষক ইসমাইল ফকির জানান, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে আগামী মাসেই তিনি গম কাটতে পারবেন। তার এই সাফল্য দেখে গ্রামের আরও কয়েকজন কৃষক আগামী মৌসুমে গম আবাদে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। কেউ কেউ ধান চাষ বাদ দিয়ে গম আবাদ করার কথাও ভাবছেন বলে জানান তারা।

গ্রামবাসীরা বলেন, পল্লী চিকিৎসক শওকত আলীর পরামর্শ ও উৎসাহে জয়পুর গ্রামে নতুন করে গম চাষের প্রতি আগ্রহ তৈরি হয়েছে, যা কৃষিতে ইতিবাচক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

এ বিষয়ে জেলা কৃষি অফিসের এক কর্মকর্তা জানান, সরকার গম আবাদ বাড়াতে চায় এবং কৃষকদের নানাভাবে পরামর্শ ও প্রণোদনা দেওয়া হচ্ছে। কুমিল্লা অঞ্চলের মাটি গম চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। আগামী বছর গম আবাদ বাড়াতে চাষিদের বিভিন্ন পরামর্শ ও সহায়তা করব।


সায়দাবাদে সেনাবাহিনীর বিশেষ অভিযানে অস্ত্র ও মাদকসহ সংঘবদ্ধ চক্রের ৬ সদস্য গ্রেপ্তার

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর সায়েদাবাদ এলাকায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৪৬ স্বতন্ত্র পদাতিক ব্রিগেডের এক সফল অভিযানে বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য, আগ্নেয়াস্ত্র, গোলাবারুদ ও নগদ অর্থ উদ্ধার করা হয়েছে। সোমবার (২৬ জানুয়ারি) ভোরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল ও সংলগ্ন রেললাইন এলাকায় এই বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযান চলাকালীন কুখ্যাত মাদক ব্যবসায়ী ও সন্ত্রাসী ‘অটো সজল’ এবং তার সহযোগীদের আস্তানায় তল্লাশি চালিয়ে নারীসহ মোট ৬ জনকে আটক করা হয়েছে। যদিও মূল অভিযুক্ত ‘অটো সজল’ সেনাবাহিনীর উপস্থিতি টের পেয়ে কৌশলে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়, তবে তার সহযোগী রাজু, ফারুক, জাহিদ, সজীব ও জনিসহ পরিবারের সদস্যদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বর্তমানে পলাতক সজলকে গ্রেপ্তারে সেনাবাহিনীর অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

তল্লাশিকালে সংশ্লিষ্ট এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে ২টি ৭.৬৫ মিমি বিদেশি অটোমেটিক পিস্তল, ৮ রাউন্ড তাজা গুলি, ৫,১০৮ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, ২৭০ পুরিয়া হেরোইন এবং ১৩টি দেশীয় ধারালো অস্ত্র। এছাড়া নগদ ৮,২৬,৪৩০ টাকা, ৩টি ককটেল ও ককটেল তৈরির সরঞ্জামসহ ২০টি মোবাইল ফোন এবং ২ বোতল বিদেশি মদ জব্দ করা হয়। প্রাথমিক তদন্তের তথ্যানুযায়ী, ‘অটো সজল’-এর নেতৃত্বে এই সংঘবদ্ধ চক্রটি দীর্ঘকাল ধরে সায়েদাবাদ ও যাত্রাবাড়ী এলাকায় মাদক ব্যবসার পাশাপাশি অস্ত্রের মুখে সন্ত্রাসী কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিল। রাজধানীর বিভিন্ন প্রান্তে অবৈধ মাদকের জোগান দেওয়াও ছিল তাদের অন্যতম প্রধান কাজ।

সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, সম্পূর্ণ পেশাদারিত্ব ও সর্বোচ্চ সতর্কতার সঙ্গে পরিচালিত এই অভিযানে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। আটককৃত ব্যক্তিদের পাশাপাশি উদ্ধারকৃত মালামাল পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া বর্তমানে চলমান রয়েছে। দেশের সামগ্রিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং মাদক ও সন্ত্রাস নির্মূলে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ভবিষ্যতেও এ ধরনের সময়োপযোগী ও কার্যকর অভিযান অব্যাহত রাখার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে।


পূর্বাচল প্রেসক্লাবের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু: সভাপতি রাশেদুল, সম্পাদক রাসেল

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলায় জমকালো আয়োজনের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করেছে স্থানীয় সাংবাদিকদের নতুন সংগঠন ‘পূর্বাচল প্রেসক্লাব’। সোমবার (২৬ জানুয়ারি) দিনব্যাপী পূর্বাচল সি শেল পার্ক রিসর্টে অনুষ্ঠিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সংগঠনটির ৩৬ সদস্যবিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কার্যনির্বাহী কমিটি ঘোষণা করা হয়। এতে সময় টেলিভিশনের সাংবাদিক মো. রাশেদুল ইসলামকে সভাপতি এবং দেশ টেলিভিশনের সাংবাদিক রাসেল মাহমুদকে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নির্বাচিত করা হয়েছে।

নবগঠিত এই কমিটিতে সিনিয়র সহ-সভাপতি হিসেবে এমএস ডালিম এবং সহ-সভাপতি হিসেবে জাগো নিউজ২৪-এর নাজমুল হুদা ও ডেইলি অবজারভারের শাহেল মাহমুদ দায়িত্ব পেয়েছেন। এছাড়া সহ-সাধারণ সম্পাদক পদে একুশে টিভির রবিউল ইসলাম এবং সাংগঠনিক সম্পাদক পদে বৈশাখী টিভির আতাউর রহমান সানী নির্বাচিত হয়েছেন। কমিটির অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পদের মধ্যে সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে বাংলা টিভির সোহেল কিরন, এটিএন বাংলার রাজু আহমেদ ও সকালের সময়ের আনিছুর রহমান; অর্থ সম্পাদক স্বপন মিয়া এবং দপ্তর সম্পাদক হিসেবে বাংলাদেশের খবরের নূরে আলম ভুঁইয়া আকাশ দায়িত্ব পালন করবেন। এছাড়া সাহিত্য, সাংস্কৃতিক, সমাজকল্যাণ, প্রচার, ক্রীড়া ও আইনসহ বিভিন্ন সম্পাদকীয় পদে এবং কার্যনির্বাহী সদস্য হিসেবে মোট ৩৬ জন সাংবাদিককে নিয়ে এই পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হয়।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) সভাপতি ও দৈনিক মানবকণ্ঠের সম্পাদক শহিদুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন মানবকণ্ঠের সিইও সৌরভ হাসান সজীব, জনকণ্ঠের ডেপুটি চিফ রিপোর্টার ইসরাফিল ফরাজী, সময় টিভির জ্যেষ্ঠ বার্তাকক্ষ সম্পাদক তৌফিক মাহমুদ এবং এটিএন বাংলার অনলাইন ও ডিজিটাল নিউজ এডিটর আল-ইমরান। অনুষ্ঠানে পূর্বাচল প্রেসক্লাবের উপদেষ্টা হানিফ মোল্লা, রূপগঞ্জ প্রেসক্লাবের আহ্বায়ক সাত্তার আলী সোহেল ও উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি এম এ মোমেনসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমের বিশিষ্ট সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

আলোচনা সভায় বক্তারা আশা প্রকাশ করেন যে, পূর্বাচল প্রেসক্লাব স্থানীয় সাংবাদিকদের জন্য একটি পেশাদার, নিরপেক্ষ ও ঐক্যবদ্ধ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করবে। সত্যনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন, সাংবাদিকদের অধিকার রক্ষা এবং সামাজিক উন্নয়নে এই সংগঠন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। নবনির্বাচিত সভাপতি মো. রাশেদুল ইসলাম তাঁর বক্তব্যে সাংবাদিকদের ঐক্যের ওপর জোর দিয়ে পেশাদারিত্ব ও নৈতিকতার সঙ্গে সংবাদ পরিবেশনের অঙ্গীকার করেন। অন্যদিকে, সাধারণ সম্পাদক রাসেল মাহমুদ স্থানীয় জনস্বার্থ ও উন্নয়নমূলক বিষয়গুলো গণমাধ্যমে তুলে ধরার মাধ্যমে প্রেসক্লাবের দায়িত্বশীল ভূমিকা নিশ্চিত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

উৎসবমুখর এই আয়োজনে কালের কণ্ঠ, যমুনা টিভি, একাত্তর টিভি, জিটিভি ও বাংলাদেশ প্রতিদিনসহ বিভিন্ন জাতীয় গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা অংশগ্রহণ করেন। দিনব্যাপী নানা আনুষ্ঠানিকতা শেষে দোয়া ও মোনাজাতের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।


বরগুনার জামায়াত নেতার বক্তব্যের তীব্র নিন্দা, ঢাবিতে বিক্ষোভ

আপডেটেড ২৬ জানুয়ারি, ২০২৬ ০০:৪৯
বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক  

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নিয়ে বরগুনা জেলা জামায়াতের নেতার কুরুচিপূর্ণ মন্তব্যের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এই বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন শিক্ষার্থীরা। গতকাল রোববার সন্ধ্যায় রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে তারা সমাবশে করেন। সমাবেশে ডাকসুর গবেষণা ও প্রকাশনা সম্পাদক সানজিদা আহমেদ তন্নি, ডাকসু সদস্য হেমা চাকমা, কবি সুফিয়া কামাল হল সংসদের সহসাধারণ সম্পাদক শিমু আক্তার, জগন্নাথ হল সংসদের ভিপি পল্লব চন্দ্র বর্মনসহ বিভিন্ন হলের ছাত্র প্রতিনিধি ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

গত শনিবার রাতে বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার কাকচিড়া ইউনিয়নের কাটাখালী এলাকায় বরগুনা-২ আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী ডা. সুলতান আহমেদের নির্বাচনী জনসভায় বক্তব্য দেন শামীম আহসান।

তিনি বলেন, ‘আমরা দেখছি, ডাকসু নির্বাচনের পরে- যে ডাকসু মাদকের আড্ডাখানা ছিল, যে ডাকসু বেশ্যাখানা ছিল, সেটা ইসলামী ছাত্রশিবির পরিবর্তন করতে সক্ষম হয়েছে। তাই এই বাংলাদেশ থেকে সব ধরনের অন্যায়, সব ধরনের চাঁদাবাজ ও দুর্নীতি উৎখাত করতে জামায়াতে ইসলামী সক্ষম।’

সমাবেশে শিক্ষার্থীরা বলেন, জামায়াত নেতার এই বক্তব্য শুধু ডাকসু বা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে হেয় করেনি, বরং দেশের নারী সমাজের মর্যাদা ও সংগ্রামকে অস্বীকার করার শামিল।

সমাবেশে ডাকসুর বর্তমান ভিপি ও জিএসের নীরবতা নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করে তারা আরও বলেন, সাধারণ শিক্ষার্থীদের স্বার্থ ও মর্যাদার প্রশ্নে ডাকসু নেতৃত্ব বারবার নীরব ভূমিকা পালন করছে। জামায়াত নেতার এই মন্তব্যের পরও ডাকসুর পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ বা বিবৃতি না আসায় তারা তীব্র সমালোচনা করেন।

বিক্ষোভ থেকে শিক্ষার্থীরা শামীম আহসানকে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার আল্টিমেটাম দেন।

এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তরের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক রফিকুল ইসলাম স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ডাকসু ভবন সম্পর্কে বরগুনা জেলা জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মো. শামীম আহসানের একটি বক্তব্যের প্রতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকৃষ্ট হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এই অশ্লীল, কুরুচিপূর্ণ, অশালীন ও অর্বাচীন বক্তব্যের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছে।

এতে বলা হয়, তার এই বক্তব্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমর্যাদা, সুনাম, ঐতিহ্য ও সম্মানকে চরমভাবে ক্ষুণ্ন করেছে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ অবিলম্বে তার এই বক্তব্য প্রত্যাহারের আহ্বান জানাচ্ছে। এ ধরনের অর্বাচীন বক্তব্য দেওয়া থেকে বিরত থাকার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সকলের প্রতি অনুরোধ জানাচ্ছে।

উল্লেখ্য, এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কিরণপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শামীম আহসান। নির্বাচন কমিশন কর্তৃক প্রণীত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বিধি অনুযায়ী কোনো প্রার্থীর পক্ষে তিনি কোনো নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিতে পারেন না জানা সত্বেও তার এমন কর্মকাণ্ডের অভিযোগে নির্বাচন কমিশনকে অবহিত করা হয়। নির্বাচন কমিশন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিলে শামীম আহসান কারণ দর্শানোর লিখিত জবাব দেন এবং এসব কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার মুচলেকা দেওয়ার পরপরই তিনি ডাকসু নিয়ে কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য দেন।


রামপাল তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে পালালেন ৯ ভারতীয় কর্মকর্তা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাগেরহাটের রামপালে মৈত্রী সুপার তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রে কর্মরত ৯ জন ভারতীয় কর্মকর্তা কাউকে না জানিয়ে হঠাৎ বাংলাদেশ থেকে পালিয়ে গেছেন। তারা সবাই ভারতের ন্যাশনাল থার্মাল পাওয়ার করপোরেশন (এনটিপিসি) থেকে প্রেষণে রামপাল তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রে কর্মকর্তা ছিলেন। অনুমতি ছাড়াই গত শনিবার সকালে তারা কর্মস্থল ছেড়ে দেশে ফিরে যান।

রামপাল তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রের উপমহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) আনোয়ারুল আজিম বলেন, গত শনিবার সকালে নির্ধারিত সময়ে তাদের পাওয়া না যাওয়ায় তারা খোঁজখবর নেওয়া শুরু করেন। পরে জানতে পারেন, অনুমতি ছাড়াই ভারতীয় ওই কর্মকর্তারা চলে গেছেন। তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তারা নিরাপত্তা ঝুঁকির কথা জানান। যদিও বিদ্যুৎকেন্দ্রে চার স্তরের নিরাপত্তাব্যবস্থা আছে। এ ধরনের কোনো ঝুঁকি কখনোই ছিল না। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে এবং গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হচ্ছে।

দেশ ত্যাগ করা কর্মকর্তারা হলেন তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রের জেনারেল ম্যানেজার প্রতিম ভর্মন, বিশ্বজিৎ মণ্ডল ও এন সুরায়া প্রকাশ রায়; সহকারী জেনারেল ম্যানেজার কেশবা পালাকি ও পাপ্পু লাল মিনা; ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার সুরেয়া কান্ত মন্দেকার, সুরেন্দ্র লম্বা ও অনির্বাণ সাহা এবং সিএফও ইমানুয়েল পনরাজ দেবরাজ।

তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্র সূত্রে জানা গেছে, শনিবার সকালে নাশতার টেবিলে ওই কর্মকর্তাদের না পেয়ে খোঁজখবর নিতে শুরু করে কর্তৃপক্ষ। একপর্যায়ে জানা যায়, কাউকে না জানিয়ে তারা তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে চলে গেছেন। পরে প্রকল্প পরিচালক রামানাথ পুজারীকে বিষয়টি জানালে তিনি সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং নিরাপত্তাহীনতার অজুহাতে তারা বাংলাদেশ ছেড়েছেন বলে নিশ্চিত করেন।

তবে তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্র কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিদ্যুৎকেন্দ্রে সেনাবাহিনী, পুলিশ, আনসারসহ চার স্তরের নিরাপত্তাব্যবস্থা চালু আছে। এর আগে ওই কর্মকর্তারা নিরাপত্তা নিয়ে কখনও কোনো অভিযোগ বা উদ্বেগ প্রকাশ করেননি। এমন পরিস্থিতিতে হঠাৎ দেশ ত্যাগ করায় বিষয়টি রহস্যজনক বলে মনে করছেন তারা।


ছাত্রলীগ নেতা সাদ্দামের প্যারোলে মুক্তির আবেদনই করা হয়নি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাগেরহাট সদর উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি জুয়েল হাসান সাদ্দামের প্যারোলে মুক্তির আবেদন সংক্রান্ত সংবাদে ভিন্নমত প্রকাশ এবং ব্যাখ্যা দিয়েছে যশোর জেলা প্রশাসন।

রোববার জেলা প্রশাসকের মিডিয়া সেলের সহকারী কমিশনার আশীষ কুমার দাস স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই সংক্রান্ত বিষয়ে ব্যাখা দেওয়া হয়।

ব্যাখ্যায় বলা হয়, বন্দি জুয়েল হাসান সাদ্দামকে বাগেরহাট জেলা কারাগার থেকে গত বছরের ১৫ ডিসেম্বর যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে আনা হয়। তার স্ত্রী ও সন্তান মৃত্যুর ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে যশোরের জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কিংবা যশোর কেন্দ্রীয় কারাগার কর্তৃপক্ষ বরাবর প্যারোলে মুক্তির কোনো আবেদন করা হয়নি। কিন্তু বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে পরিবারের বক্তব্য থেকে জানা যায়, সময় স্বল্পতার কারণে তাদের পারিবারিক সিদ্ধান্তে প্যারোলে মুক্তির আবেদন না করে জেলগেটে মরদেহ দেখানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ফেসবুকের বিভিন্ন পোস্টে উল্লিখিত বন্দীর স্ত্রীকে লিখিত চিঠি, কারাগারে বন্দী অবস্থায় ছবি দেখা যাচ্ছে-যা যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নয় বলে ওই বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়। এ ছাড়া আবেদনের পরেও প্যারোলে মুক্তি দেওয়া হয়নি-এ ধরনের তথ্যও অসত্য। কারণ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, যশোর বরাবর প্যারোলে মুক্তি সংক্রান্ত কোনো আবেদনই করা হয়নি। বরং পরিবারের মৌখিক আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে কারা কর্তৃপক্ষ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে মানবিক দিক বিবেচনায় কারাফটকে লাশ দেখানোর ব্যবস্থা করে।

বাগেরহাট সদর উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি সাদ্দাম হোসেন জুয়েলের স্ত্রী ও নয় মাসের শিশুসন্তানের মৃত্যুতে তাদের লাশ দেখাতে নিয়ে যাওয়া হয় যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে। এই ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে কেউ কেউ দাবি করেছিলেন, সাদ্দামের প্যারোলে মুক্তি না মেলায় লাশ কারাগারে আনা হয় দেখানোর জন্য।

কারা কর্তৃপক্ষ জানায়, লাশবাহী অ্যাম্বুলেন্সের সঙ্গে সাদ্দামের পরিবারের ছয় সদস্যকে কারাফটকে আসতে দেওয়া হয়। স্ত্রী ও সন্তানকে শেষবারের মতো দেখতে মিনিট পাঁচেক সময় দেওয়া হয় সাদ্দামকে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী সরকারের পতনের পর গোপালগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার হন সাদ্দাম। বর্তমানে তিনি বিভিন্ন মামলায় যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি রয়েছেন।

উল্লেখ্য, গত শুক্রবার দুপুরে বাগেরহাট সদর উপজেলার সাবেকডাঙ্গা গ্রামের একটি বাড়ি থেকে সাদ্দামের স্ত্রী কানিজ সুবর্ণা স্বর্ণালীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। তার পাশেই নিথর অবস্থায় পড়েছিল স্বর্ণালীর নয় মাসের সন্তান নাজিম।


জামায়াত প্রার্থী আমির হামজার বিরুদ্ধে মামলা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ঝিনাইদহে আদালতে কুষ্টিয়া-৩ আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী মুফতি আমির হামজার বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করা হয়েছে। গতকাল রোববার দুপুরে সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলি আদালতে মামলাটি করেছেন বিএনপি নেতা অ্যাডভোকেট মো. আব্দুল আলিম। আদালত পিবিআইকে অভিযোগ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।

মামলার বিবরণে বাদী অভিযোগ করেছন প্রয়াত আরাফাত রহমান কোকোর নাম বিকৃত করে বিদ্রূপমূলক ও অবমাননাকর মন্তব্য করেছেন মুফতি আমির হামজা।

বাদী আরও অভিযোগ করেন, প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার কারাবাস নিয়েও মন্তব্য করেছেন আসামি আমির হামজা। তার মন্তব্যের ভিডিও ক্লিপ সমাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। আরাফাত রহমান কোকো একজন জাতীয় ব্যক্তিত্ব এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া একজন সম্মানিত নাগরিক ছিলেন। তাদের নাম, পরিচয় ও মর্যাদা বিকৃত করে জনসম্মুখে বক্তব্য দেওয়া স্পষ্টতই শাস্তিযোগ্য ফৌজদারি অপরাধ বলে বাদী মামলার বিবরণে উল্লেখ করেছেন।

বিকৃত কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য দেওয়ার মাধ্যমে খালেদা জিয়া ও তার ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর সম্মান, সুনাম ও মর্যাদা ক্ষুণ্ণ হয়েছে বলে দাবি করেছেন বাদী। আমির হামজার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানার আদেশ দেওয়ার জন্য আবেদন জানান মামলার বাদী আব্দুল আলিম।

শুনানি শেষে আদালত পিবিআইকে অভিযোগ তদন্তের নির্দেশ দেন। ঘটনাটি নিয়ে ইতোমধ্যে রাজনৈতিক মহলে তোলপাড় শুরু হয়েছে। আদালত সূত্র জানায়, মামলার পরবর্তী তারিখ আগামী ৬ এপ্রিল।


নওগাঁ আসছেন তারেক রহমান, এটিম মাঠে সমাবেশ চূড়ান্ত

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নওগাঁ প্রতিনিধি

আগামী ২৯ জানুয়ারি বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নওগাঁ আগমন উপলক্ষে সমাবেশের স্থান পরিদর্শন করেছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

রোববার (দুপুর ২টা) বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট সৈয়দ শাহিন শওকত নওগাঁ শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থান পরিদর্শন করেন। পরিদর্শন শেষে নওগাঁ শহরের ঐতিহ্যবাহী এটিম মাঠকে সমাবেশের জন্য চূড়ান্তভাবে নির্ধারণ করা হয়।

পরবর্তীতে নওগাঁ শহরের একটি হোটেলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সমাবেশের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেন অ্যাডভোকেট সৈয়দ শাহিন শওকত।সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, নির্বাচনী প্রচারণার অংশ হিসেবে আগামী ২৯ জানুয়ারি বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান রাজশাহী সফর করবেন। এরপর তিনি নওগাঁ এবং সবশেষে বগুড়া সফর করবেন। তার আগমনকে ঘিরে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিতসহ প্রয়োজনীয় সকল প্রস্তুতি গ্রহণ করা হবে।

তিনি আরও বলেন, এই সমাবেশে তিনি বিএনপির মনোনীত প্রার্থীদের জনগণের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেবেন এবং দেশের জনগণের কাছে বিএনপির রাজনৈতিক অঙ্গীকার ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরবেন। আমরা আশা করছি, নওগাঁর এই সমাবেশটি জনস্রোতে সফলভাবে সম্পন্ন হবে।

এসময় উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মামুনুর রহমান রিপন, সাংগঠনিক সম্পাদক নুরে আলম মিঠু ও শফিউল আজম রানা, নওগাঁ-১ আসনের প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান, নওগাঁ-২ আসনের প্রার্থী ডা. শামসুজ্জোহা খান, নওগাঁ-৩ আসনের প্রার্থী ফজলে হুদা বাবুল, নওগাঁ-৪ আসনের প্রার্থী ডা. ইকরামুর বারী টিপু, নওগাঁ-৫ আসনের প্রার্থী জাহিদুল ইসলাম ধলু, নওগাঁ-৬ আসনের প্রার্থী শেখ রেজাউল ইসলামসহ জয়পুরহাট জেলার বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।


কর্তৃত্ববাদী শাসনের অবসান হলেও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লড়াই শেষ হয়নি: সুজন সম্পাদক

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)-এর সম্পাদক ও প্রধান নির্বাহী ড. বদিউল আলম মজুমদার মন্তব্য করেছেন যে, জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে স্বৈরাচারী শাসনের অবসান ঘটলেও প্রকৃত গণতন্ত্র এখনো প্রতিষ্ঠিত হয়নি।

রবিবার (২৫ জানুয়ারি) সকালে সিলেটে আয়োজিত ‘গণ-অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা, রাষ্ট্র সংস্কার ও নির্বাচনী ইশতেহার’ শীর্ষক বিভাগীয় সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি উল্লেখ করেন যে, ‘ছাত্র-জনতার নেতৃত্বে সংঘটিত গণ-অভ্যুত্থানে কর্তৃত্ববাদী শাসনের অবসান ঘটলেও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লড়াই এখনো শেষ হয়নি।’ তিনি আরও গুরুত্বারোপ করেন যে, গণতান্ত্রিক উত্তরণে নির্বাচনের ভূমিকা থাকলেও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার ব্যতীত তা টেকসই হবে না। ড. মজুমদারের ভাষায়, ‘একটি সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনই গণতান্ত্রিক উত্তরণের পূর্বশর্ত হলেও তা এককভাবে যথেষ্ট নয়। গণতন্ত্রকে টেকসই ও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে হলে গভীর আইনি, প্রাতিষ্ঠানিক ও কাঠামোগত সংস্কার অপরিহার্য।’

গণ-অভ্যুত্থানের মূল লক্ষ্যগুলো স্মরণ করিয়ে দিয়ে সুজন সম্পাদক বলেন, ‘২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার নেতৃত্বে সংঘটিত গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে কর্তৃত্ববাদী শাসনের অবসান ঘটলেও এখনো গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লড়াই শেষ হয়নি। নির্বাচন ব্যবস্থার পরিশুদ্ধকরণ, মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিচার এবং রাষ্ট্র সংস্কারের মাধ্যমে একটি সাম্যভিত্তিক ও ন্যায়বিচারপূর্ণ সমাজ গড়ে তোলাই গণ-অভ্যুত্থানের মূল আকাঙ্ক্ষা।’ তিনি দেশের নির্বাচনী ও রাজনৈতিক ব্যবস্থায় বিদ্যমান কালো টাকা, দুর্বৃত্তায়ন এবং ক্ষমতার অতি-কেন্দ্রীকরণকে গণতন্ত্রের প্রধান অন্তরায় হিসেবে চিহ্নিত করেন। অতীতের নির্বাচনের অভিজ্ঞতার নিরিখে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ‘অতীতের অভিজ্ঞতায় প্রমাণিত হয়েছে যে, দলীয় সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়। এজন্য নির্বাচনকালীন নির্দলীয় সরকারের গুরুত্ব অপরিসীম।’

সংলাপে ড. বদিউল আলম মজুমদার রাজনৈতিক দলগুলোর নিজস্ব গণতন্ত্র চর্চা ও নির্বাচন কমিশনকে প্রকৃত অর্থেই স্বাধীন ও দায়বদ্ধ করার ওপর জোর দেন। একইসঙ্গে তিনি নাগরিক সমাজকে তোষামোদি পরিহার করে অতন্দ্র প্রহরীর ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান। সিলেট জেলা সুজনের সভাপতি শিরিন আক্তারের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত এই সংলাপে সিলেট বিভাগের বিভিন্ন জেলার সুজন নেতৃবৃন্দ অংশগ্রহণ করে সংস্কার ও নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিয়ে তাদের মতামত তুলে ধরেন।


নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে ঢাকা-১ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থীকে অর্থদণ্ড

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১ (দোহার-নবাবগঞ্জ) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী অ্যাডভোকেট অন্তরা সেলিমা হুদাকে নির্বাচনী আচরণবিধি ভঙ্গের দায়ে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। রবিবার (২৫ জানুয়ারি) দুপুরে দোহার উপজেলার কুসুমহাটি ইউনিয়নের কাচারিঘাট আউলিয়াবাদ এলাকায় গোপনে কম্বল বিতরণকালে তাকে এই দণ্ড প্রদান করা হয়।

স্থানীয় সূত্র ও ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা গেছে, হরিণ প্রতীকের এই প্রার্থী জনৈক ফারুক মোল্লার বাড়িতে লোক সমাগম ঘটিয়ে কম্বল বিতরণ করছিলেন, যার ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আসে।

খবর পেয়ে দোহার উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তাসফিক সিবগাত উল্লাহ দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে অভিযোগের সত্যতা পান। নির্বাচনী আচরণবিধিমালা ৪ (১) ধারা লঙ্ঘনের অপরাধে তিনি এই জরিমানা কার্যকর করেন। অভিযান শেষে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বলেন, ‘যিনি কম্বল বিতরণ করছেন তিনি এ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হরিণ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তিনি কম্বল বিতরণ করে আচরণবিধি লঙ্ঘন করেছেন। একই সঙ্গে তাকে সতর্ক করা হয়। নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী সব ধরনের অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে রয়েছে। আইন সব প্রার্থীর জন্য সমান। কোনো প্রার্থীর আচরণবিধি লঙ্ঘন করে প্রচারণা, কম্বল বিতরণ বা আর্থিক আদান প্রদানের যেকোনো তথ্য তাৎক্ষণিক ভ্রাম্যমাণ আদালতকে জানালে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নির্বাচনের স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এ ধরনের কঠোর নজরদারি অব্যাহত থাকবে।


বরগুনায় জেলা প্রশাসকের কক্ষে ঢুকে কর্মকর্তাকে আঘাত: হামলাকারী যুবক গ্রেপ্তার

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বরগুনায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে প্রবেশ করে জহিরুল ইসলাম নামে এক প্রশাসনিক কর্মকর্তাকে ধাতব যন্ত্র দিয়ে আঘাত করার অভিযোগে মো. ইব্রাহীম খলিল (৩০) নামের এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রবিবার (২৫ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বরগুনা জেলা প্রশাসকের অনুপস্থিতিতে তাঁর কক্ষে এই অতর্কিত হামলার ঘটনা ঘটে। জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, বরগুনা সদর উপজেলার বাঁশবুনিয়া এলাকার বাসিন্দা ইব্রাহীম খলিল প্রায় ১৪-১৫ ইঞ্চির একটি সেলাই রেঞ্জ নিয়ে জেলা প্রশাসকের ফাঁকা কক্ষে ঢুকে পড়েন। এ সময় জেলা প্রশাসকের সিএ মো. জহিরুল বিষয়টি লক্ষ করে সেখানে গেলে হামলার শিকার হন। আহত মো. জহিরুল ঘটনার বিবরণ দিয়ে বলেন, "আমি আমার কক্ষে কাজ করছিলাম। সেখান থেকে বের হয়ে দেখি কেউ একজন ডিসি স্যারের রুমে প্রবেশ করছেন। স্যার যেহেতু অফিসে নেই, এ কারণে স্যারের রুমে গিয়ে দেখি হামলাকারী ওই ছেলে ভেতরে আছেন। পরে কী কারণে রুমে ঢুকেছে জানতে চেয়ে তাকে রুম থেকে বের হতে বললে সে ক্ষিপ্ত হয়ে আমার ওপর হামলা চালায়। এ সময় তার সঙ্গে থাকা সেলাই রেঞ্জটি দিয়ে আঘাত করে আমাকে আহত করে।"

হামলার শব্দ শুনে অফিসের অন্য স্টাফরা এগিয়ে এসে হামলাকারীকে আটক করেন। ঘটনার সাক্ষী গোপনীয় শাখার অফিস সহায়ক মো. জুয়েল রানা জানান, "সকালে অফিসে এসে কাজ করছিলাম। পরে রুমের বাইরে আমিনুল নামে এক স্টাফের সঙ্গে কথা বলছিলাম। এ সময় এক ব্যক্তিকে যেতে দেখে জানতে চাই কী কারণে আসছেন। পরে সে আমাকে বলে ডিসি স্যারের সঙ্গে দেখা করতে এসেছি। এ সময় স্যার অফিসে নাই জানিয়ে তাকে আগামী কালকে আসতে বলি। এরপর সে চলে যাওয়ার কীছুক্ষণ পরেই হামলার শিকার জহিরুল স্যার আমাকে ডাকতে থাকেন। পরে দ্রুত দৌড়ে গিয়ে দেখি জহিরুল স্যারের ওপর হামলা করা হচ্ছে। পরে আমরা কয়েকজন মিলে ওই ব্যক্তিকে ধরে নিয়ে আমাদের রুমে নিয়ে আসি। পরে অফিসের কর্মকর্তাদের অবহিত করলে পুলিশ সদস্যরা এসে তাকে আটক করে নিয়ে যায়।"

বিষয়টি নিশ্চিত করে বরগুনার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) অনিমেষ বিশ্বাস জানান, "আজ সকাল আনুমানিক সাড়ে ১০টার সময় একজন ব্যক্তি আনুমানিক বয়স ৩০-৩৫ হবে সে হঠাৎ ডিসি স্যারের রুমে প্রবেশ করে। তার কাছে একটি অব্যবহৃত সেলাই রেঞ্জ পাওয়া গেছে। তবে কী কারণে এবং কী উদ্দেশ্যে আসছে বিষয়টি এখন তদন্তধীন আছে। আমরা তাকে পুলিশে সোপর্দ করেছি এবং আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য মামলার প্রস্তুতি চলছে।" কার্যালয়ের নিরাপত্তা প্রসঙ্গে তিনি আরও যোগ করেন, "আমাদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিচে ছিল। পুলিশ এবং আনসার সদস্যরা ছিল। অফিসে প্রতিদিনই বিভিন্ন মানুষ আসেন। এছাড়াও গণশুনানিতে অনেক মানুষ আসেন। এ কারণেই তাদের দৃষ্টি এড়িয়ে হয়তো ওই লোক ভিতরে চলে এসেছে। আমাদের আইনশৃঙ্খলার ব্যবস্থা আরও জোরদার করার প্রয়োজন এবং সে ধরনের ব্যবস্থা ইতোমধ্যে গ্রহণ করা হয়েছে। এ ছাড়াও নিরাপত্তার জন্য দুই তিন স্তরের ব্যবস্থা ঢেলে সাজানো হচ্ছে।" বরগুনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ আব্দুল আলীম জানিয়েছেন, অভিযুক্ত যুবককে বর্তমানে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে নেওয়া হয়েছে।


ঠাকুরগাঁওয়ে ৩.৪ মাত্রার মৃদু ভূমিকম্প অনুভূত

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের উত্তরাঞ্চলীয় জেলা ঠাকুরগাঁওয়ে আজ রবিবার সকালে মৃদু ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। ২৫ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখ সকাল ৮টা ৩৪ মিনিটের দিকে এই কম্পন অনুভূত হয়। দিনের শুরুতে আকস্মিক এই কম্পনে স্থানীয়দের মধ্যে কিছুটা চাঞ্চল্য সৃষ্টি হলেও এর মাত্রা মৃদু থাকায় বড় কোনো ভীতির সঞ্চার হয়নি।

আন্তর্জাতিক ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ সংস্থা ও অগ্ন্যুৎপাত বিষয়ক ওয়েবসাইট ভলকানো ডিসকভারির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল রিখটার স্কেলে ৩ দশমিক ৪। তাদের প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল ঠাকুরগাঁও জেলা সদর থেকে আনুমানিক ৩৩ কিলোমিটার পূর্ব দিকে। তবে এই ভূমিকম্পের গভীরতা বা ডেপথ সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য নিরূপণ করা সম্ভব হয়নি। বিশেষজ্ঞদের প্রাথমিক ধারণা অনুযায়ী, এটি একটি অগভীর বা স্যালো ডেপথের ভূমিকম্প ছিল।

সকালবেলার এই মৃদু প্রাকৃতিক দুর্যোগে এখন পর্যন্ত জেলার কোথাও কোনো ধরনের ক্ষয়ক্ষতি, ফাটল বা হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে। কম্পনটি খুব অল্প সময়ের জন্য স্থায়ী হওয়ায় এবং মাত্রা কম থাকায় অনেকেই হয়তো এটি অনুভব করতে পারেননি, তবে যারা অনুভব করেছেন তারা সামান্য দুলুনি টের পেয়েছেন বলে জানা গেছে।


banner close