মিয়ানমারের চরমপন্থি সশস্ত্র সংগঠন আরসার আগের নাম ছিল আল ইয়াকিন বা ইসলামি সংগঠন। রোহিঙ্গা মুসলমানদের নিয়ে কাজ করাই ছিল তাদের উদ্দেশ্য। ২০১৩ সালের দিকে সংগঠনের নাম পাল্টে রাখা হয় আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মি বা আরসা, যদিও দলের একাংশ এখনো আল ইয়াকিন নামেই পুরোনো সংগঠনকে আকড়ে ধরে আছে। আতাউল্লাহ আবু আম্মার জুনুনি সেসময়ে হন স্যালভেশন আর্মির (আরসা) কমান্ডার ইন চিফ। এই আতাউল্লাহর জন্ম সৌদি আরবে, তার বাবা-মা আরাকান থেকে গিয়ে সৌদি আরবে স্থায়ী হন। কিন্তু জন্ম সৌদি আরবে হলেও আতাউল্লাহ পরে পাকিস্তানের করাচিতে এসে বসবাস করতেন।
রোহিঙ্গাদের অধিকার আদায় করতে ঠিক কবে মিয়ানমারে তিনি ফিরে আসেন, তা জানা যায় না। তবে তা ২০১৩ সালের আগেই অর্থাৎ আল ইয়াকিন থেকে আরসার যাত্রা শুরুর আগেই হয়েছে, তা নিশ্চিত। সংগঠনটি সশস্ত্র হয়ে উঠেছে, তা প্রথম বোঝা যায় ২০১৫-১৬ সালের দিকে। লক্ষ্য ছিল, মিয়ানমারের মুসলিম অধ্যুষিত আরাকান প্রদেশ দখল। ২০১৭ সালের মাঝামাঝি মিয়ানমারের থানায় হামলা, পুলিশের অস্ত্র লুটের ঘটনার পর সংগঠনটির বিরুদ্ধে প্রথম মনোযোগ দেয় মিয়ানমার সেনাবাহিনী। তবে ওই বছরেই আগস্টে তার নির্দেশে রাখাইনে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর তল্লাশি চৌকিতে আরকান দখল ও অস্ত্র লুট করার জন্য আবার হামলা চালায় আরসা। এ ঘটনায় ভীষণ ক্ষুব্ধ সেনাবাহিনী আরসা নির্মূলের উদ্দেশে আরকান প্রদেশে হামলা শুরু করে। তখন উত্তপ্ত হয়ে পড়ে মিয়ানমারে মুসলমানদের গ্রামগুলোর পরিস্থিতি। ওই দেশের সেনাবাহিনী ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট রাখাইনে চড়াও হয়ে অভিযান ও রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতন, হামলা ও গণধর্ষণের ঘটনা শুরুর পর নিজ দেশ ছেড়ে বাংলাদেশে পালিয়ে আসে প্রায় ১০ লাখ রোহিঙ্গা। সম্পূর্ণ মানবিক কারণে তাদের তখন আশ্রয় দেয় বাংলাদেশ সরকার। আর বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে আরসার সদস্যদের সম্পর্কে তথ্য না থাকার সুযোগে এসব রোহিঙ্গার সঙ্গে আশ্রয়প্রার্থী হিসেবে বাংলাদেশে চলে আসে আরসার কিছু সদস্য আর সমর্থকও।
উদ্দেশ্য তাদের মিয়ানমার সেনাবাহিনীর সঙ্গে লড়াই করা হলেও অস্ত্র তৈরি ও সংগ্রহ, বাহিনীর জন্য সদস্য সংগ্রহ, সদস্যদের অস্ত্র প্রশিক্ষণ দেওয়া ইত্যাদি কাজে তারা তখন থেকেই গোপনে বাংলাদেশের পাহাড়ি নির্জন এলাকাগুলো ব্যবহার শুরু করে। একই সঙ্গে রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরগুলোতে নিজেদের প্রভাব বাড়াতে তারা সেগুলোতে আধিপত্য বিস্তার শুরু করে। রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবির সর্দার বা মাঝিদের করায়ত্ত করা বা ভয় দেখানো দিয়েই এর শুরু। একই সঙ্গে নিজেদের অর্থভাণ্ডার ঠিক রাখতে মিয়ানমারের সঙ্গে বাংলাদেশের অরক্ষিত সীমান্ত অঞ্চলকে রুট হিসেবে ব্যবহার করে এদেশে মাদক চোরাচালান আরও বাড়িয়ে দেয়।
শুরুতে আরসা সম্পর্কে অন্ধকারে থাকলেও দিনের পর দিন রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরগুলোতে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে পরস্পরের মধ্যে হামলা, গুলি, হত্যার ঘটনা বাড়তে থাকায় এবং বিপুল পরিমাণ মাদকসহ রোহিঙ্গা ও তাদের প্ররোচনায় স্থানীয়দের আটক বা গ্রেপ্তাদের মধ্য দিয়ে এই চরমপন্থি সংগঠন সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পেতে শুরু করে বাংলাদেশের বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। র্যাব, এপিবিএন আরসা দমনে কঠোর অভিযান চালাচ্ছে মাঝেমধ্যেই। তার পরও তাদের গোপন তথ্য প্রকাশ হয়ে পড়া এবং বেশির ভাগ রোহিঙ্গা সশস্ত্র যুদ্ধে জড়িত হতে না চাওয়ায় আরসার নেতাসহ সদস্যরা বরাবরই আছে উৎকণ্ঠায়। রোহিঙ্গাদের মধ্যে আরসা ছাড়াও আছে আরও কিছু সশস্ত্র গ্রুপ। তবে তারা পরস্পর যেন পরস্পরের শত্রু। আরাকানে যে বিদ্রোহী সশস্ত্র গ্রুপ আরাকানের স্বাধীনতার জন্য সশস্ত্র লড়াই করে যাচ্ছে, আরাকান আর্মি, ওদের সঙ্গেও এসব গ্রুপের শত্রুতা রয়েছে। আরাকান আর্মি সাধারণভাবে সব আরাকানির জন্যে স্বাধীন আরাকান চায়, কিন্তু আরসাকে ওরা চিহ্নিত করে মুসলিম সন্ত্রাসী গ্রুপ হিসেবে। সব মিলিয়ে অস্থির হয়ে উঠছে রোহিঙ্গা শিবির।
আরসার শীর্ষ নেতা অলি আকিজ দীর্ঘদিন মিয়ানমারে আত্মগোপনে থাকলেও গত ১৯ মে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ফিরেছেন। আরসার শীর্ষ কমান্ডার আতাউল্লাহ আবু আম্মার জুনুনি এবং সেকেন্ড-ইন-কমান্ড ওস্তাদ খালেদের নির্দেশে ক্যাম্পে আধিপত্য বিস্তারের নতুন পরিকল্পনা নিয়ে অপতৎপরতা চালাচ্ছেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সূত্রে জানা যায়, রোহিঙ্গাদের সশস্ত্র গ্রুপ আরসার প্রশিক্ষণ। অস্ত্র তৈরি, আত্মগোপন, মিটিংসহ নানা কর্মকাণ্ড সেখানে সংগঠিত হতো। গত রোববার মধ্যরাতে অভিযান চালিয়ে ক্যাম্প-৪-এ গোপন বৈঠক থেকে আকিজসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, একটি দেশীয় তৈরি এলজি, একটি ওয়ানশুটার গান, ১০ রাউন্ড কার্তুজ, দুই কেজি বিস্ফোরকদ্রব্য, তিনটি মোবাইল এবং নগদ ২ হাজার ৫০০ টাকা জব্দ করা হয়।
র্যাব-১৫-এর অধিনায়ক লে. কর্নেল এইচ এম সাজ্জাদ হোসেন বলেন, ‘আমরা এ পর্যন্ত ১১২ জনের ওপরে আরসার ভিন্ন পদবিধারী নেতা গ্রেপ্তার করেছি। গত রোববারের আরসার শীর্ষ নেতা আকিজসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করি। তাদের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
২০১৭ সালে সীমান্ত পার হয়ে ভারত হয়ে বাংলাদেশে এসে ক্যাম্প-৫-এ সপরিবারে বসবাস শুরু করেন মৌলভী আকিজ। পরে আরসার হয়ে কাজ শুরু করেন তিনি। এরপর ক্যাম্প-৫-এ আরসার প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পান। নেটওয়ার্ক গ্রুপে কাজ করতেন। ক্যাম্পের বিভিন্ন তথ্য আরসা কমান্ডারদের কাছে পৌঁছে দিতেন। এভাবে শীর্ষ নেতৃত্বে পৌঁছান। রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের পক্ষে কাজ করায় ওস্তাদ খালেদের নির্দেশে রোহিঙ্গা নেতা মাস্টার মহিবুল্লাহকে হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী ছিলেন আকিজ। তা ছাড়া মতাদর্শিক দ্বন্দ্বে ক্যাম্পে সেভেন মার্ডারে সরাসরি অংশ নেন। তাদের নেতা-কর্মী আটক হলে কিছুটা দুর্বল হয়ে যায় কিন্তু আবার সক্রিয় হয়ে ওঠে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বিশাল এই জনগোষ্ঠীতে আরসা, আল-ইয়াকিনসহ অন্তত ১৫টি বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন সক্রিয়। ২০১৭ সাল থেকে এখন পর্যন্ত ছয় বছরে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সংঘর্ষের ঘটনায় প্রায় ৩০০ জন নিহত হয়েছে। মামলা হয়েছে পাঁচ হাজারের অধিক। এসব মামলার বেশির ভাগই হয়েছে মাদক ও আগ্নেয়াস্ত্র রাখার অভিযোগে।
রোহিঙ্গা নেতা ড. জোবায়ের বলেন, আরসা রোহিঙ্গা ক্যাম্প দখল করে রাজত্ব কায়েম করার জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এ পর্যন্ত তাদের দুই শতাধিক নেতা-কর্মী আটক হয়েছেন। আটক করলেও তারা আরও শক্তিশালী হয়ে উঠবে, তার কারণ তাদের রোহিঙ্গা সরকার মদদ দিয়ে যাচ্ছে। প্রত্যাবাসন বন্ধ রাখার জন্য মিয়ানমার সরকার তাদের ব্যবহার করে যাচ্ছে, যে কারণে তারা এতটা শক্তিশালী।
গত রোববার রাতে উখিয়ার মধুরছড়া ৪ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে আরসার শীর্ষ নেতাদের গ্রেপ্তার করে। সে জায়গায় ভোরে ৪০-৪৫ জন আরসা সন্ত্রাসী পাহাড় থেকে সীমানার কাঁটাতারের বেড়া অতিক্রম করে ৪ নম্বর ক্যাম্পে আসে। ঘটনাস্থলে এসে ক্যাম্পে পাহারারত রোহিঙ্গা ইলিয়াছকে তারা গুলি করে ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে হাতে, পায়ে ও তলপেটে কুপিয়ে মারাত্মক জখম করে। এতে ইলিয়াস ঘটনাস্থলেই মারা যান।
১৪ এপিবিএনের অধিনায়ক মোহাম্মদ ইকবাল বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গেলে এপিবিএন সদস্যদেরও লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ করে সন্ত্রাসীরা।
তিনি আরও বলেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে নতুন করে সংগঠিত এবং নাশকতা করার চেষ্টা করছে আরসা। মূলত আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘবদ্ধ হয়ে হামলা চালায় আরসা সন্ত্রাসীরা। এতে তারা গুলি এবং কুপিয়ে তিন রোহিঙ্গাকে হত্যা করে। আর গুরুতর আহত হয় সাতজন। হতাহতরা আরএসও সদস্য বলে জানা গেছে।
রোহিঙ্গা গবেষক অধ্যাপক ড. রাহমান নাসির উদ্দিন দৈনিক বাংলাকে বলেছেন, রোহিঙ্গাদের অধিকার আদায় করতে আরসা ২০১৭ সালের ২৫ আগস্টের দিকে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর তল্লাশি চৌকিতে হামলা চালায়। কিন্তু এটার কারণে নির্যাতনের তীব্রতায় নিজ দেশ ছেড়ে বাংলাদেশে পালিয়ে আসে প্রায় ৮ লাখ রোহিঙ্গা। সে কারণে আরসা রোহিঙ্গাদের প্রতিনিধিত্ব হয়ে উঠতে পারে নাই। বিভিন্ন সময় রোহিঙ্গাদের সঙ্গে কথা বলে জানতে পারি, রোহিঙ্গাদের এ দুর্দশার জন্য আরসা দায়ী। রোহিঙ্গাদের সঙ্গে আরসার একটা বড় গ্রুপ বাংলাদেশে এসেছে। বাংলাদেশে ৩৪টি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে তাদের অবস্থান ধরে রাখার জন্য তারা বিভিন্ন ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে এবং যখন কেউ তাদের বিরুদ্ধে কথা বলার চেষ্টা করেছে তখন তারা তাদের দমন করেছে। এর মধ্যে একজন ছিলেন মুহিব উল্লাহ। মুহিব উল্লাহ যখন রোহিঙ্গাদের নেতা হয়ে ওঠে বিশ্বের কাছে পরিচিত হন এবং আন্তর্জাতিকভাবে রোহিঙ্গাদের জন্য আন্দোলন করেন তখন তাকে নেতা হিসেবে গ্রহণ করে রোহিঙ্গারা। বাংলাদেশ যখন প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরু করে তখন রোহিঙ্গাদের রাজি করানোর জন্য মুহিব উল্লাহ সোর্স ছিল। ধীরে ধীরে মুহিব উল্লাহ প্রধান পাঁচ রোহিঙ্গা নেতার একজন হয়ে ওঠেন। ২০১৯ সালের ২৫ আগস্ট ৩ থেকে ৫ লাখ রোহিঙ্গার মহাসমাবেশ করে তাক লাগিয়ে দেন এবং আনন্দে আত্মহারা করে দেন রোহিঙ্গা ইস্যুতে লেগে থাকা বিদেশি এনজিওগুলোকে। এসব কারণে আরাকান রোহিঙ্গা সোসাইটি ফর পিস অ্যান্ড হিউম্যান রাইটস ভেঙে দেওয়ার জন্য মুহিব উল্লাহকে হত্যা করা হয়। মিয়ানমার সেনাবাহিনীর শত্রু হচ্ছে আরাকান আর্মি। আরাকান আর্মির শত্রু হচ্ছে মিয়ানমার সেনাবাহিনী। আবার মিয়ানমারের শত্রুও আরসা। মিয়ানমার নৌবাহিনী ঘোষণা দিয়ে বলছে আরকান আর্মি ও আরসা মিলে বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে। যেহেতু মিয়ানমার আরাকানে আরকান আর্মি শক্তিশালী হয়ে উঠেছে। সে কারণে আরসা ও শক্তিশালী হয়ে উঠেছে।
দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীগুলোকে সতর্ক করে দিয়ে ড. রাহমান নাসির বলেন, দুই শতাধিক আরসার নেতা-কর্মী গ্রেপ্তার করাতেই আরসা দুর্বল হয়ে পড়েছে এমন যুক্তি হয়তো সঠিক নয়। এই চরমপন্থি দলে আরও অনেক সদস্য ও সমর্থক রয়েছে।
কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. রফিকুল ইসলাম দৈনিক বাংলাকে বলেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বিভিন্ন সন্ত্রাসী গ্রুপ তাদের আধিপত্য বিস্তার করার জন্য এসব সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করে থাকে। আগুন নাশকতা এসব মাঝেমধ্যে বিভিন্ন কারণে হয়ে থাকে। তবে কিছু কিছু ঘটনা আমরা সন্দেহ করি এগুলো নাশকতা। আমরা আরসা বলে কিছু পাইনি। তবে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সন্ত্রাসী গ্রুপ আছে। যারা উগ্রবাদী কর্মকাণ্ডে জড়াবে তাদের বিরুদ্ধে আমাদের সমন্বিত অভিযান অব্যাহত থাকবে।
রোহিঙ্গা ইয়ুথ অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিষ্ঠাতা খিন মং বলেন, রোহিঙ্গাদের অধিকারের জন্য লড়াই করার দাবি করেছিল আরসা। তখন তাদের বিশ্বাস করেছিল রোহিঙ্গারা। কিন্তু এখন সাধারণ রোহিঙ্গারাও মনে করে আরসা মিয়ানমারের এজেন্ট হিসেবে কাজ করছে। যারা প্রত্যাবাসনের কথা বলছেন তাদের হত্যা করা হচ্ছে। তাই আরসার ওপর তাদের আর বিশ্বাস নেই।
কলেরা প্রতিরোধে আগামী শনিবার (২২ আগস্ট) থেকে শুরু হচ্ছে ‘প্রিভেন্টিভ ওরাল কলেরা ভ্যাকসিনেশন ক্যাম্পেইন-২০২৬’। আগামী ২২ আগস্ট থেকে ২১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রথম ডোজ এবং ২৬ সেপ্টেম্বর থেকে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত দ্বিতীয় ডোজ টিকা দেওয়া হবে।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) অডিটরিয়ামে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে এ ক্যাম্পেইনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন ডিএসসিসির প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম।
এ কর্মসূচির আওতায় সারাদেশের ঝুঁকিপূর্ণ ১৪টি উপজেলা ও থানায় টিকা দেওয়া হবে। সম্পূর্ণ সুরক্ষার জন্য ১৪ দিনের ব্যবধানে দুটি ডোজ গ্রহণ করতে হবে। এক বছর বা তার বেশি বয়সি সব নাগরিককে (গর্ভবতী নারী ছাড়া) বিনামূল্যে সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত এই টিকা খাওয়ানো হবে। এ কর্মসূচিতে সারা দেশে মোট ৫১ লাখ ৭৫ হাজার মানুষকে টিকার আওতায় আনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
ডিএসসিসির আওতাধীন লালবাগ, গেন্ডারিয়া, কদমতলী ও কামরাঙ্গীরচর থানার ১৭টি ওয়ার্ডের ১৯২টি কেন্দ্রে প্রায় ১১ লাখ ৭০ হাজার মানুষকে টিকা দেওয়া হবে। এছাড়া ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) শেরেবাংলা নগর, খিলক্ষেত ও তেজগাঁও এবং মুন্সীগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নির্দিষ্ট এলাকাতেও এ কর্মসূচি পরিচালিত হবে।
অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘পূর্বে কলেরায় গ্রাম উজাড় হয়ে যেত। বর্তমানে রোগটি নিয়ন্ত্রণে এলেও সাম্প্রতিক প্রাদুর্ভাবের কারণে আমাদের সতর্ক থাকতে হবে। জাতীয় সব টিকাদান কর্মসূচির মতো এ ক্যাম্পেইন সফল করতে সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা কামনা করছি।’
তিনি সাম্প্রতিক সময়ে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ভূমিকারও প্রশংসা করেন।
ডিএসসিসির প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম বলেন, ‘পুরান ঢাকাসহ ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় সফলভাবে ইপিআই কার্যক্রম বাস্তবায়নের অভিজ্ঞতা রয়েছে আমাদের। সেই অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে ১৭টি ওয়ার্ডে কলেরা টিকাদান ক্যাম্পেইন সফল করতে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’
প্রসঙ্গত, ভাইবরিও কলেরা জীবাণুর সংক্রমণে হওয়া কলেরা প্রতিরোধে মুখে খাওয়ার এই টিকা ব্যবহার করা হয়। টিকাটি রোগের তীব্রতা কমাতে সহায়তা করে এবং কয়েক বছর পর্যন্ত সুরক্ষা দিতে পারে। টিকাদানের পাশাপাশি নিরাপদ পানি পান ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব শেখ মোমেনা মনি, ডিএসসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. খয়বর রহমান, ইউনিসেফের ডেপুটি রিপ্রেজেন্টেটিভ পিটার জর্জ এল মাইস, ডব্লিউএইচওর প্রতিনিধি ডা. আহমেদ জামশীদ মোহামেদ, বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির মহাসচিব মো. হাবিবুর রহমান খান, আইসিডিডিআর,বির সিনিয়র সায়েন্টিস্ট ড. ফিরদৌসী কাদরী এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. মো. জাহিদ রায়হানসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।
গাজীপুর মহানগরের সদর এলাকার কাউলতিয়ায় চুরি, ছিনতাই, ডাকাতিসহ বিভিন্ন অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, জননিরাপত্তা জোরদার ও মাদক নির্মূলে কাউলতিয়া পুলিশ ক্যাম্প উদ্বোধন করা হয়েছে ।
ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের পাশে সদর মেট্রো থানাধীন মাস্টারবাড়ী বাস স্ট্যান্ড এলাকায় এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) সকালে নতুন ক্যাম্পটির শুভ উদ্বোধন করা হয়।
গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (জিএমপি) উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের সম্মানিত পুলিশ কমিশনার মো. ইসরায়েল হাওলাদার। তিনি ফিতা কেটে ক্যাম্পটির উদ্বোধন করেন।
পরে তিনি স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। তিনি স্থানীয়দের বিভিন্ন সমস্যা ও পরামর্শ গুরুত্ব সহকারে শোনেন এবং অপরাধ দমনে সর্বোচ্চ পেশাদারিত্বের সাথে কাজ করার আশ্বাস প্রদান করেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে পুলিশ কমিশনার বলেন, এলাকার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং মাদক ও ছিনতাইয়ের মতো সামাজিক ব্যাধি নির্মূলে পুলিশের পাশাপাশি স্থানীয় জনগণকেও ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে আসতে হবে।
তিনি আরো বলেন, গাজীপুর মহানগরীর সদর মেট্রো থানা থেকে এই এলাকা দূরবর্তী হওয়ায় অনেক সময় তাৎক্ষণিক পুলিশি সহায়তা পৌঁছাতে বিলম্ব হতো। এখন আশা করা যায় পুলিশ যে কোন ঘটনা ঘটার সাথে সাথে দ্রুত সময়ের মধ্যে ঘটনার ছেলে পৌঁছে ব্যবস্থা নিতে পারবে।
স্থানীয়রা জানান, ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক সংলগ্ন মহানগরীর সালনা থেকে রাজেন্দ্রপুর চৌরাস্তা পর্যন্ত এলাকাগুলোতে সাম্প্রতিক সময়ে ছিনতাই ও বিভিন্ন অপরাধমূলক তৎপরতা বৃদ্ধি পাওয়ায় স্থানীয়দের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল এ অঞ্চলে স্থায়ী পুলিশি নিরাপত্তা ব্যবস্থার।
স্থানীয়দের এই দাবি প্রেক্ষিতে গাজীপুর-২ আসনের সংষদ সদস্য এম. মঞ্জুরুল করিম রনি ও মহানগর পুলিশ কমিশনার ইসরায়েল হাওলাদারের আন্তরিক প্রচেষ্টায় এই ক্যাম্পটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। নতুন এই পুলিশ ক্যাম্পের মাধ্যমে সালনা, পোড়াবাড়ী, কাউলতিয়া, মাস্টারবাড়ী ও এর আশেপাশের এলাকায় অপরাধ দমনে পুলিশ আরও কার্যকর ভূমিকা পালন করতে পারবে বলে আশা করা হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, জিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেন। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন জোনের উপপুলিশ কমিশনারবৃন্দ, স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং সাংবাদিকবৃন্দ।
শিক্ষার আলো যেন কোনো শিক্ষার্থীর জীবন থেকে নিভে না যায়-এই মানবিক অঙ্গীকার থেকে নীলফামারীতে এক অসচ্ছল শিক্ষার্থীর পাশে দাঁড়িয়েছে জেলা প্রশাসন।
নীলফামারী সদর উপজেলার বাহালীপাড়ার শিক্ষার্থী ফেরদৌস ইসলাম পারিবারিক প্রতিকূলতা ও আর্থিক অসচ্ছলতার মধ্যেও অধ্যবসায়ের সঙ্গে পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছে। তার শিক্ষা কার্যক্রম অব্যাহত রাখা এবং বিদ্যালয়ে যাতায়াত সহজ করতে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে তাকে একটি সাইকেল প্রদান করা হয়েছে।
গত বুধবার (১৯ আগস্ট) জেলার জেলা প্রশাসক ও বিজ্ঞ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামান শিক্ষার্থী ফেরদৌস ইসলামের হাতে সাইকেলটি তুলে দেন।
জেলা প্রশাসক বলেন, একজন শিক্ষার্থীর স্বপ্ন পূরণের পথে সামান্য সহযোগিতাও অনেক বড় প্রেরণা হয়ে উঠতে পারে। আর্থিক কিংবা পারিবারিক প্রতিকূলতার কারণে কোনো শিক্ষার্থী যেন শিক্ষা থেকে ঝরে না পড়ে, সে বিষয়ে জেলা প্রশাসন সবসময় মানবিক ও ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে চায়।
জেলা প্রশাসনের এই উদ্যোগ শিক্ষার্থী ফেরদৌস ইসলামের শিক্ষাজীবনে নতুন প্রেরণা জোগাবে বলে আশা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে এমন সময়োপযোগী সহায়তা ভবিষ্যতে একটি শিক্ষিত, সম্ভাবনাময় ও মানবিক সমাজ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
কথা ছিল ১৬ তারিখে বিয়ে করবেন। বিয়ের কথা শুনে কিনেছিলেন জুতা, জামা, সঙ্গে নিয়েছিলেন প্রসাধনী সামগ্রী এবং জাতীয় পরিচয়পত্র। কিন্তু এই বিয়েই যে তার জীবনের কাল হবে তা জানতেন না মেরিনা বেগম। নওগাঁর ধামইরহাটে গৃহবধূকে হত্যার পর নৃশংসভাবে আগুনে পুড়িয়ে দেওয়ার ঘটনার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ছাড়া হত্যার কাজে ব্যবহৃত সামগ্রী উদ্ধার করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) দুপুরে নওগাঁ পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম এসব তথ্য জানান। এ ঘটনায় গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, ধামইরহাট এলাকার বাসিন্দা এবং সাবেক মেম্বার বাবুল হোসেন (৪৯) এবং একই এলাকার মোজাম্মেলের ছেলে তারেক রহমান (২১)।
সংবাদ সম্মেলনে নওগাঁর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অর্থ ও প্রশাসন) মনিরুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম) জয়ব্রত পাল, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) জিন্নাহ আল মামুন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (পত্নীতলা সার্কেল) শরিফুল ইসলামসহ পুলিশের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন, ‘গত পরশুদিন, অর্থাৎ ১৮ই আগস্ট সন্ধ্যায় আমি গোয়েন্দা শাখার (ডিএসবি) মাধ্যমে জানতে পারি একটা পোড়া লাশ ধামইরহাট থানার আমবাগানের মধ্যে পড়ে আছে। সাথে সাথে আমি অফিসার ইনচার্জ, ধামইরহাট থানাকে বড় টিম নিয়ে ঘটনাস্থলে পাঠাই। সঙ্গে অতিরিক্ত পুলিশ সুপারকেও (পত্নীতলা সার্কেল) ঘটনাস্থলে পাঠাই। তখন প্রচুর পরিমাণে বৃষ্টি হচ্ছিল এবং এই বৃষ্টির মধ্যেই তারা ঘটনাস্থলে যায়। অলৌকিকভাবেই হোক আর যাই হোক, যিনি মারা গেছেন, তারই সন্তান ওই একই সময়ে ধামইরহাট থানায় এসেছে তার মায়ের মিসিং জিডি করার জন্য। যিনি মিসিং জিডি করেছেন, তার সাথে যখন কথা বলে, তখন জানতে পারে যে তার মায়ের নাম মেরিনা বেগম। প্রচণ্ড বৃষ্টির মধ্যে থানা থেকে প্রায় ২৪-২৫ কিলোমিটার দূরে ঘটনাস্থলে আমাদের টিম পৌঁছায়। পুলিশ সেখানে যেয়ে দেখতে পায় যে একজন মধ্যবয়সি মহিলার আগুনে পোড়া মরদেহ। তার পাশে ছড়িয়ে আছে তার ব্যবহৃত জিনিস-বিশেষ করে প্রসাধনী সামগ্রী এবং পরিচয়পত্র।
পুলিশ সুপার বলেন, এরপরে যে ব্যক্তি থানায় ডায়েরি করতে এসেছিল, তিনিও পুলিশের গাড়ির পেছনে পেছনে বৃষ্টির মধ্যে মোটরসাইকেল নিয়ে আসছিলেন। এসে এই লাশ দেখে-বিশেষ করে এনআইডি কার্ডটা পড়েছিল, সেটা দেখে তিনি শনাক্ত করেন যে তার মা। তিন-চার দিন আগে বের হয়ে গিয়েছিলেন এবং এই লাশটা তার মায়ের। তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টা আমরা সিআইডি এবং পিবিআইকে অবহিত করি এবং বিষয়টা আমরা খুব গুরুত্বের সহকারে নিয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শরিফের নেতৃত্বে কাজ শুরু করি। আমরা তথ্যপ্রযুক্তি, স্থানীয় তদন্ত এবং ডাটা বিশ্লেষণ করি কয়েক ঘণ্টা। কয়েক ঘণ্টা ডাটা বিশ্লেষণ করে আমাদের কয়েক জনকে সন্দেহ হয়। এই সন্দেহের ভিত্তিতে আমি শরিফকে অভিযান পরিচালনা করার জন্য নির্দেশনা দেই। মধ্যরাতে প্রচণ্ড বৃষ্টির মধ্যে আমরা অভিযান পরিচালনা করে স্থানীয় সাবেক মেম্বার বাবুল হোসেনকে (৪৯) গ্রেপ্তার করি। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আমরা অপর আসামি তারেক রহমানকে (২১) গ্রেপ্তার করি। এই দুজনকে আমরা ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করি। ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদের এক মুহূর্তে তারা আমাদের কাছে হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা জানতে পেরেছি যে এই দুজন ছাড়াও আরও দুজন এই হত্যাকাণ্ডের সাথে ছিল। মেরিনা বেগমের ছেলে কাউসার আলী এবং তার স্বামী হাসেন আলী জীবিকা নির্বাহের জন্য কুমিল্লায় থাকেন। গত ১৪ আগস্ট মেরিনা বেগম বাসা থেকে বের হয়ে যান। বাসা থেকে বের হয়ে যাওয়ার পর থেকে তার মাকে না পাওয়ায় আবার কুমিল্লা থেকে দ্রুত বাড়ি চলে আসে।
পুলিশ বলেন, ‘ভিকটিম মেরিনা বেগমের সাথে সাবেক মেম্বার বাবুল হোসেনের একটা সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল দুধ কেনাবেচাকে কেন্দ্র করে। সম্পর্ক যখন খুব গভীর হয়ে যায়, তখন মেরিনা বেগম তাকে বিয়ের জন্য প্রচণ্ড চাপ দিচ্ছিল এবং বলে যে, ‘‘তুমি আমাকে বিয়ে না করলে আমি আত্মহত্যা করব।’’ তখন এই মেম্বার তাকে বলে যে ‘‘ঠিক আছে, আমি আগামী ১৬ তারিখে তোমাকে বিয়ে করব।’’ ওই মহিলা বিয়ে করার কথা মনে করে এই প্রসাধন সামগ্রী (কসমোটিকস, চিরুনি, এনআইডি কার্ড) নিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়ে আসে।
ওইদিন মেরিনা বেগম বাড়ি থেকে বের হয়ে যায়। আর এর মধ্যে আসামি বাবুল, তারেকসহ বাকি দুজনকে মেরিনাকে নেওয়ার জন্য শাহাপুর ইউনিয়নে পাঠায়। শাহাপুর থেকে মেরিনাকে অগ্রাদিগুণ বাজারে রাত আনুমানিক ১০টার সময় নিয়ে আসে। এরপরে তারা অগ্রাদিগুণ বাজার থেকে একত্র হয়ে ঘটনাস্থল মনিহারি টু তালপুকুরগামী পাকা রাস্তার মাঝামাঝি দাঁড়ায়। মোটরসাইকেল ও অটোরিকশা রেখে রাস্তা থেকে ৩০০ ফিট দক্ষিণের দিকে ভলকাডাঙ্গা নামে একটা বড় আমবাগানের ভেতরে তাকে অনেকটা জোর করে, ধাক্কাধাক্কি করে নিয়ে গিয়ে বেল্ট গলায় পেঁচিয়ে দুজন দুই দিকে টান দেয়। তারপর ভদ্রমহিলা পড়ে গেলে, তার মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তারা এটা টানতে থাকে। একপর্যায়ে তারা যখন মনে করে যে মারা গেছে, তখন আশেপাশের খরকুটো সংগ্রহ করে এবং বাবুল মেম্বার পেট্রোলগুলো গায়ে ছিটিয়ে দিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়। আগুন ধরিয়ে দেওয়ার পর তারা যার যার উদ্দেশে চলে যায়।’
এদিকে নওগাঁর মান্দা উপজেলায় ভগ্নিপতিকে দা দিয়ে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে ইসমাইল হোসেন নামে একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ ঘটনা নিয়ে পুলিশ সুপার বলেন, ‘মামুনুর রশিদ ইসমাইল হোসেনের আপন ভগ্নিপতি ছিলেন। তিনি যখন ফজরের নামাজ পড়ে আসছেন এই সময় ইসমাইল হোসেন ধারালো দা দিয়ে তার মাথায় কোপ দেয়। পরবর্তীতে মামুনুর রশিদ চিকিৎসা অবস্থায় গত ১৮ আগস্ট মৃত্যুবরণ করেন। এ ঘটনার পর থেকে ইসমাইল হোসেন পলাতক অবস্থায় ছিলেন। পরে অভিযান চালিয়ে মহাদেবপুর থানা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন বিএনপি নেত্রী মা ম্যা চিং। তাঁকে চেয়ারম্যান করে ১৫ সদস্যবিশিষ্ট বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদ পুনর্গঠন করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে উপসচিব মোঙ্গল চন্দ্র পাল স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।
পরিষদের অন্যান্য সদস্যরা হলেন, চনুমং, মং ক্যনু মারমা, লুসাই মং, মাওসেতুং তংচংগ্যা, দনওয়াই ম্রো, আগস্টিন ত্রিপুরা, অংজাই ইউচাক, রিয়াল দাও বম, আবদুল মাবুদ, মশিউর রহমান, মোহাম্মদ জসীম উদ্দীন, ক্যউ প্রু খিয়াং ও কাজী নিরুতাজ বেগম।
মা ম্যা চিং বান্দরবান জেলা বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে যুক্ত। রাজনৈতিক জীবনে তিনি জাতীয় সংসদের পঞ্চম ও ষষ্ঠ সংসদে সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
২০০১ থেকে ২০০৭সাল পর্যন্ত জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দ্বায়ীত্ব পালন করেছিলেন।
এ ছাড়া তিনি দীর্ঘ সময় বান্দরবান জেলা বিএনপির সভাপতির দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটিতেও উপজাতীয় বিষয়ক সম্পাদিকার দায়িত্ব পালন করেছেন বলে দলীয় সূত্রে জানা যায়।
এই নতুন চেয়ারম্যান ও সদস্যদের দায়িত্ব গ্রহণের মধ্য দিয়ে বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে বলে আশা করছেন স্থানীয়রা।
খুলনা সিটি করপোরেশনের ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের বাজেট আগামী ৩ সেপ্টেম্বর ঘোষণা করা হবে। গত বুধবার (১৯ আগস্ট) বিকালে নগর ভবনের শহীদ আলতাফ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত বাজেট ঘোষণা সংক্রান্ত বিশেষ সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন কেসিসি প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু।
২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেট এবং ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর মতামত গ্রহণের লক্ষ্যে এ সভার আয়োজন করা হয়। সিটি করপোরেশন পরিচালনায় সরকার কর্তৃক গঠিত কমিটির সদস্যবৃন্দ সভায় উপস্থিত ছিলেন।
বাজেট বিষয়ে কেসিসি প্রশাসক বলেন, আসন্ন বাজেট হবে বাস্তবভিত্তিক। গুরুত্বপূর্ণ ও ক্ষতিগ্রস্থ রাস্তার উন্নয়ন ও পুনর্বাসন প্রকল্প এবং ড্রেনেজ ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন প্রকল্পটি শেষ পর্যায়ে থাকায় বাজেটের আকার কিছুটা হ্রাস পেয়েছে উল্লেখ করে প্রশাসক বলেন, সরকারি প্রকল্প কমলেও গত অর্থবছরের তুলনায় চলতি অর্থবছরে নিজস্ব রাজস্ব আদায় বৃদ্ধি পেয়েছে। আসন্ন বাজেটে তিনি নারী উদ্যোক্তাদের পণ্য বিক্রয়ের জন্য সুব্যবস্থা গ্রহণের পরিকল্পনার বিষয় উপস্থাপন করে বলেন, সকলকে একটা চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে কাজ করতে হচ্ছে। সকল পরিস্থিতি মোকাবিলা করে উন্নয়নের ধারাবাহিকতা ধরে রাখা এবং খুলনাকে একটি সমৃদ্ধ নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে তিনি সকলের আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করেন।
সভা পরিচালনা করেন কেসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রাজিব আহমেদ এবং ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট ও ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটের ওপর তথ্য-উপাত্ত তুলে ধরেন বাজেট কাম একাউন্টস অফিসার মো. মনিরুজ্জামান।
কেসিসির প্রধান প্রকৌশলী মশিউজ্জামান খান, সচিব মো. রেজা রশীদ, প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা রহিমা সুলতানা বুশরা, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা মো. আনিসুর রহমান, প্রধান পরিকল্পনা কর্মকর্তা আবির উল জব্বার, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. শরীফ শাম্মিউল ইসলাম, এক্সিকিউটিভ ম্যাজিষ্ট্রেট আব্দুল্লাহ আল ইমরান, আর্কিটেক্ট রেজবিনা খানম, খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম এন্ড অপারেশনস) এম এম শামিমুজ্জামান, খুলনা ওয়াসার উপব্যবস্থাপনা পরিচালক (অর্থ ও প্রশাসন) ঝুমুর বালা, কেডিএর উপপরিচালক (বাজেট ও নিরীক্ষা) মো. মামুনুল আবেদীন, জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ইমরান হাসান, বিটিসিএল-এর ডিজিএম মো. বেনজুর রহমান, ফায়ার সার্ভিস এন্ড সিভিল ডিফেন্সের সিনিয়র স্টেশন অফিসার মো. জাকির হোসেন, বিআইডব্লিউটিএ’র সহকারী সমন্বয় কর্মকর্তা মো. মনিরুল ইসলামসহ য়ার্ডের ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, বিভিন্ন সরকারি সংস্থার প্রতিনিধিবৃন্দ সভায় উপস্থিত ছিলেন।
জামালপুরে দশ বছর পর আলোচিত চাচা-ভাতিজা হত্যা মামলায় সাতজনকে মৃত্যুদণ্ড ও অপর সাতজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করেছে আদালত। বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) দুপুরে জামালপুর জেলা জজ আদালতের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ নেজাম উদ্দীন এ রায় ঘোষণা করেন।
মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০১৬ সালে জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার আদারভিটা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ সমর্থিত চেয়ারম্যান প্রার্থী আলতাফুর রহমান আতা ও বিদ্রোহী প্রার্থী ইছাহাকের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়।
ওই ঘটনায় দায়ের করা মামলায় ইছাহাকের সমর্থক ও আদারভিটা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা মোস্তফাকে গ্রেপ্তার করতে ওই বছরের ১০ এপ্রিল গজারিয়া গ্রামে যায় পুলিশ। মোস্তফার বাড়ি চিনতে না পেরে পুলিশ রাস্তার পাশে থাকা প্রতিবেশী মহর আলী ও তার ভাতিজা স্বপন মিয়ার কাছে বাড়িটির অবস্থান জানতে চায়। তাদের দেখানো তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ মোস্তফাকে গ্রেপ্তার করে। পরে জামিনে মুক্ত হয়ে প্রতিশোধ নিতে মহর ও স্বপনকে হত্যার পরিকল্পনা করেন মোস্তফা। পরে ওই বছর ১৬ মে রাতে গান-বাজনার কথা বলে মহর আলী ও স্বপন মিয়াকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায় মোস্তফার সমর্থক সাখাওয়াত ও সোহেল।
সাদ্দামের কথিত প্রেমিকাকে তুলে আনার কথা বলে তাদের জোড়খালী ইউনিয়নের কুকুরমারী এলাকার ভানু ফকিরের পাট খেতে নেওয়া হয়। সেখানে মোস্তফার লোকজন মহর আলী ও তার ভাজিতা স্বপন মিয়াকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ও পরে জবাই করে হত্যা করে। ঘটনার তিন দিন পর পাট খেতে দুজনের ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত মহর আলী গজারিয়া এলাকার আব্দুস সালাম দফদারের ছেলে ও মির্জা আজম কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। ভাতিজা স্বপন মিয়া একই এলাকার জাহাঙ্গীর আলমের ছেলে এবং সানাইবান্দা ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসার দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। সম্পর্কে তারা আপন চাচা-ভাতিজা। এ ঘটনায় স্বপনের বাবা জাহাঙ্গীর আলম বাদী হয়ে ২২ জনকে আসামি করে মাদারগঞ্জ মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।
তদন্ত শেষে পুলিশ ১৪ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। মামলায় ১৮ জন সাক্ষীর সাক্ষের ভিত্তিতে আদালত এ রায় ঘোষণা করেন। রায়ে সাতজন আসামিকে মৃত্যুদণ্ড ও প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়। দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- সাখাওয়াত, সোহেল, আল আমিন, সাদ্দাম, উজ্জল, অন্তর ও ফয়জুর। এ ছাড়া চাঁন মিয়া, মো. জিয়ার, শাহ আলম, কাওসার, রিফাত, সুমন ও মোস্তফাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট দিদারুল ইসলাম জানান, পূর্ব শত্রুতার জেড়ে আসামিরা এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। আদালত ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করেছেন। রায়ে বাদীপক্ষ সন্তোষ প্রকাশ করেছে।
বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি) স্যাটেলাইট স্টেশন, পঞ্চগড় পরিদর্শন করেছেন স্থানভিত্তিক ধানের জাত ও প্রযুক্তি উদ্ভাবন এবং বিদ্যমান গবেষণাগার উন্নয়ন (এলএসটিডি) প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক ড. মো. আনোয়ার হোসেন। বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) তিনি স্টেশনের চলমান গবেষণা ও মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম পরিদর্শন করেন।
পরিদর্শনকালে প্রকল্প পরিচালক স্টেশনের বিভিন্ন কার্যক্রম ঘুরে দেখেন এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। এ সময় এলএসটিডি প্রকল্পের আওতায় পরিচালিত গবেষণা, প্রাযুক্তিক পরীক্ষণ, প্রযুক্তি যাচাই এবং কৃষক পর্যায়ে প্রযুক্তি সম্প্রসারণ কার্যক্রমের অগ্রগতি সম্পর্কে খোঁজখবর নেন তিনি।
পরে এলএসটিডি প্রকল্পের অর্থায়নে এবং ব্রি স্যাটেলাইট স্টেশন, পঞ্চগড়ের তত্ত্বাবধানে আয়োজিত ‘আধুনিক ধান উৎপাদন প্রযুক্তি’বিষয়ক কৃষক প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে অংশ নেন ড. মো. আনোয়ার হোসেন। এতে তিনি সভাপতিত্ব করেন। প্রশিক্ষণে প্রধান অতিথি ছিলেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, পঞ্চগড়ের উপপরিচালক ড. মো. আব্দুল মতিন। এ ছাড়া ব্রি স্যাটেলাইট স্টেশনের প্রধান ও বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো. মাসুদ রানাসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারী ও স্থানীয় কৃষকরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রশিক্ষণে কৃষকদের আধুনিক ধান উৎপাদন প্রযুক্তি, উন্নত জাতের ব্যবস্থাপনা, রোগবালাই নিয়ন্ত্রণ, সুষম সার প্রয়োগ এবং কৃষি যান্ত্রিকীকরণ বিষয়ে দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়। প্রকল্প পরিচালক কৃষকদের মাঠপর্যায়ের সমস্যা ও চাহিদাকে গুরুত্ব দিয়ে গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনার ওপর জোর দেন। একই সঙ্গে গবেষণালব্ধ প্রযুক্তি দ্রুত কৃষকের কাছে পৌঁছে দিতে সংশ্লিষ্টদের কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান।
প্রশিক্ষণ শেষে তিনি ব্রি স্যাটেলাইট স্টেশনের প্রযুক্তি গ্রাম ঘাটিয়াপাড়া পরিদর্শন করেন। সেখানে কৃষকদের সঙ্গে মতবিনিময়ের পাশাপাশি আমন-২০২৬ মৌসুমের বিভিন্ন ধানের জাতের প্রাযুক্তিক পরীক্ষণ ও মূল্যায়ন, কৃষি যন্ত্রপাতির পরীক্ষণ এবং চলমান গবেষণা প্লট ঘুরে দেখেন।
সংশ্লিষ্টরা জানান, পঞ্চগড়ের কৃষি-জলবায়ু ও কৃষকদের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে উপযোগী ধানের জাত ও উৎপাদন প্রযুক্তি উদ্ভাবন, যাচাই এবং কৃষক পর্যায়ে সম্প্রসারণে এলএসটিডি প্রকল্পের আওতায় গবেষণা চলছে। প্রকল্প পরিচালকের মাঠপর্যায়ের পরিদর্শন গবেষণাকে আরও কৃষকবান্ধব ও বাস্তবমুখী করবে বলে আশা করছেন তারা।
কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জে জমিসংক্রান্ত বিরোধের জেরে প্রতিবেশীকে হত্যা মামলায় ফাঁসিয়ে বিরোধপূর্ণ জমি দখলের উদ্দেশ্যে নিজের মাকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে এক নারীর বিরুদ্ধে।
ঘটনার সাড়ে তিন বছর পর হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।
অভিযুক্ত চাম্পা আক্তার (৪৮) সিন্দ্বীপ গ্রামের বাসিন্দা ফয়েজ উদ্দীনের স্ত্রী। তিনি ওই মামলার বাদী ছিলেন। বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) কিশোরগঞ্জ পিবিআই কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আব্দুল্লাহ আল মাসুদ এসব তথ্য জানান।
পিবিআই জানায়, ২০২৩ সালের ১৩ মার্চ রাতে করিমগঞ্জ উপজেলার সিন্দ্বীপ গ্রামের বাড়িতে ঘুমিয়ে ছিলেন ৬৫ বছর বয়সি হালিমা। পরদিন বাড়ি থেকে প্রায় ৩০০ গজ দূরের একটি পতিত জমি থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় তার মেয়ে চাম্পা বাদী হয়ে প্রতিবেশী বিল্লালসহ কয়েক জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন।
তদন্তে তথ্যপ্রযুক্তি, পারিপার্শ্বিক আলামত ও সাক্ষ্য-প্রমাণ বিশ্লেষণ করে চাম্পার ভূমিকা সন্দেহজনক বলে মনে হয় পিবিআইয়ের। পরে জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যাকাণ্ডে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেন বলে দাবি সংস্থাটির।
পিবিআইয়ের ভাষ্য, প্রতিশোধ নেওয়া এবং প্রতিবেশীদের হত্যা মামলায় ফাঁসিয়ে বিরোধপূর্ণ জমি দখলের উদ্দেশ্যেই পরিকল্পিতভাবে এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গত ১৮ আগস্ট চাম্পা আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। জবানবন্দি শেষে আদালত তাকে কারাগারে পাঠায়। হত্যাকাণ্ডে জড়িত অন্যদের বিরুদ্ধে প্রমাণ সংগ্রহে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে জানিয়েছে পিবিআই।
সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ পরিদর্শক আশরাফুল আলম, খায়রুল বাশার, নবী হোসেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
ফরিদপুর প্রেসক্লাবের প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকদের সঙ্গে নবাগত পুলিশ সুপারের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় জেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, মাদক, ছিনতাই, চুরি, যানজট ও কিশোর গ্যাংয়ের কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণসহ জননিরাপত্তা জোরদারে নানা বিষয়ে আলোচনা হয়।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) বেলা ১১টায় পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের হলরুমে জেলা পুলিশের আয়োজনে এ মতবিনিময় সভার সভাপতিত্ব করেন ফরিদপুরের নবাগত পুলিশ সুপার শাহরিয়ার মোহাম্মদ মিয়াজী।
সভায় ফরিদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফাতেমা ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আজমির হোসেন, ফরিদপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি কবিরুল ইসলাম সিদ্দিকী, সাধারণ সম্পাদক মাহবুব হোসেন পিয়াল, সিনিয়র সাংবাদিক পান্না বালা, জাহিদ রিপন, তমিজউদ্দিন তাজ, আশরাফুজ্জামান দুলাল, হাসানুজ্জামান, কামরুজ্জামান সোহেল সাজ্জাদ হোসেন রনি, আলিমুজ্জামান রনি, সঞ্জিব দাস, বিকে সিকদার সজল, কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান, ডিআইওয়ান মোশাররফ হোসেনসহ প্রেসক্লাবের অন্যান্য সদস্য এবং বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
মতবিনিময় সভায় সাংবাদিকরা জেলার বিভিন্ন এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও জনদুর্ভোগের নানা বিষয় তুলে ধরেন। বিশেষ করে মাদক, ছিনতাই, চুরি, কিশোর গ্যাংয়ের কর্মকাণ্ড, যানজট এবং রাতের বেলায় শহরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে তারা মতামত ও পরামর্শ দেন।
সাংবাদিকরা বলেন, ‘শহরের বিভিন্ন এলাকায় রাতের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা প্রয়োজন। পাশাপাশি সাধারণ মানুষ যাতে পুলিশিসেবা নিতে গিয়ে কোনো ধরনের হয়রানি বা বিড়ম্বনার শিকার না হন, সে বিষয়েও পুলিশের আরও আন্তরিক ভূমিকা প্রয়োজন।’
পুলিশ সুপার শাহরিয়ার মোহাম্মদ মিয়াজী সাংবাদিকদের বক্তব্য মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে পুলিশ ও গণমাধ্যমের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা ও সমন্বয় আরও জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
বগুড়ায় নিজ কন্যাকে ধর্ষণের দায়ে বাবা আব্দুল খালেক (৫১) নামের ব্যক্তিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টায় বগুড়া শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনাল এর বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) মো. মারুফ হোসেন এই রায় দেন। একই সাথে দুই লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আব্দুল খালেক শেরপুর উপজেলার বাগড়া বস্তি এলাকার বাসিন্দা। রায় ঘোষণার সময় তিনি আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
জানা যায়, ২০২০ সালের ২১ অক্টোবর ভোর সাড়ে ৪টার দিকে বাড়িতে অন্য কেউ না থাকার সুযোগে খালেক তার ৯ বছর বয়সি মেয়েকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন। বিষয়টি কাউকে জানালে মেয়েকে হত্যার হুমকিও দেওয়া হয় বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়। ওই ঘটনার পর শিশুটির আচরণে পরিবর্তন দেখা যায়। সে বাড়ির কাজ করা বন্ধ করে দেয়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে তার সৎ মা তাকে মারধর করতে থাকেন।
একপর্যায়ে শিশুটি সৎ মাকে বাবার বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগের কথা জানায়। তবে তিনি বিষয়টি বিশ্বাস না করে শিশুটির ওপর নির্যাতনের মাত্রা আরও বাড়িয়ে দেন। পরে নির্যাতন থেকে মুক্তি পেতে শিশুটি তার দুই সহপাঠীকে বিষয়টি জানায়। তাদের কাছ থেকে ঘটনা জানতে পেরে স্থানীয় বাসিন্দারা থানায় অভিযোগ করেন।
এরপর ভুক্তভোগীর মা (আসামির দ্বিতীয় স্ত্রী) ২০২০ সালের ৩১ অক্টোবর স্বামীর বিরুদ্ধে শেরপুর থানায় মামলা দায়ের করেন। দীর্ঘ শুনানির পর বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) বাবার মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণা করা হয়।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পিপি) অ্যাডভোকেট আলী আসগর বলেন, মামলার তদন্ত শেষে আদালতে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ায় সাক্ষ্য-প্রমাণ উপস্থাপন শেষে আদালত আসামি আব্দুল খালেককে মৃত্যুদণ্ড দেন। একই সঙ্গে তাকে ২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, আজকের এই রায় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।
‘বৃক্ষরোপণে সাজাই দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’- এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে মাগুরায় দশ দিনব্যাপী বৃক্ষরোপণ অভিযান, বৃক্ষমেলা ও ফল মেলা-২০২৬-এর উদ্বোধন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) সকালে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে এবং সামাজিক বনায়ন ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সহযোগিতায় কালেক্টরেট চত্বরে এ মেলার উদ্বোধন করা হয়।
এ উপলক্ষে কালেক্টরেট চত্বর থেকে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের করা হয়। র্যালিটি বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে মেলা প্রাঙ্গণে গিয়ে শেষ হয়।
পরে অনুষ্ঠিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সামাজিক বনায়ন জোনের সহকারী বন সংরক্ষক মোছা. জুমুয়া জামান সভাপতিত্ব করেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে ছিলেন জেলা প্রশাসক মোতাকাব্বীর আহমেদ। বিশেষ অতিথি ছিলেন পুলিশ সুপার মোল্লা আজাদ হোসেন, জেলা পরিষদ প্রশাসক আলী আহম্মেদ, সিভিল সার্জন ডা. শামীম কবির, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. তাজুল ইসলাম, মাগুরা প্রেসক্লাবের সভাপতি অধ্যাপক সাইদুর রহমানসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
মেলায় মোট ৩০টি স্টলে বিভিন্ন জাতের ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা প্রদর্শন করা হয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের দেশি-বিদেশি ফল প্রদর্শন ও বিক্রির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
মেলায় জেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের মাঝে বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা বিতরণ করা হয়।
আয়োজকরা জানান, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, বৃক্ষরোপণে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং ফলজ ও ঔষধি গাছের চাষে মানুষকে উৎসাহিত করতেই এ ধরনের মেলার আয়োজন করা হয়েছে।
রেলপথ মন্ত্রণালয় ও সড়ক পরিবহন এবং মহাসড়ক বিভাগের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব বলেছেন, শিক্ষার্থীদের মেধা ও মননশীলতার বিকাশে পড়াশোনার পাশাপাশি ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের চর্চা বাড়াতে হবে।
তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের শুধু ভালো ফলাফল অর্জন করলেই হবে না, তাদেরকে নৈতিক মূল্যবোধ, শৃঙ্খলা, দেশপ্রেম ও মানবিক গুণাবলিতে সমৃদ্ধ হতে হবে। এ জন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত পড়াশোনার পাশাপাশি ক্রীড়া, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড ও সৃজনশীল কার্যক্রমের সুযোগ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
বুধবার (১৯ আগস্ট) রাজধানীর নবীয়াবাদ ইসলামিয়া দাখিল মাদরাসার বার্ষিক মেধা তালিকা, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান-২০২৬-এর প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সময়ে শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশের পাশাপাশি তাদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ নিশ্চিত করাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। খেলাধুলা শিক্ষার্থীদের শৃঙ্খলাবোধ, নেতৃত্বের গুণাবলি ও পারস্পরিক সহযোগিতার মানসিকতা তৈরি করে। একইভাবে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড তাদের সৃজনশীলতা ও মননশীলতা বিকশিত করে।
তিনি বলেন, শিক্ষা জাতির ভবিষ্যৎ গঠনের অন্যতম প্রধান হাতিয়ার। আজকের শিক্ষার্থীরাই আগামী দিনের দেশ পরিচালনা করবে। তাই তাদেরকে আধুনিক ও যুগোপযোগী শিক্ষার পাশাপাশি নৈতিক ও মানবিক শিক্ষায় শিক্ষিত করে গড়ে তুলতে হবে। শিক্ষার্থীদের মধ্যে দেশ ও সমাজের প্রতি দায়িত্ববোধ সৃষ্টি করতে শিক্ষক ও অভিভাবকদেরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে।
অনুষ্ঠানে মাদরাসার শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে বার্ষিক পরীক্ষায় মেধা তালিকায় স্থান অর্জনকারী শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি বিভিন্ন ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের পুরস্কার ও সনদ দেওয়া হয়।
পুরস্কার বিতরণকালে প্রতিমন্ত্রী শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, প্রতিযোগিতায় পুরস্কার পাওয়া যেমন আনন্দের, তেমনি অংশগ্রহণ করাটাও গুরুত্বপূর্ণ। যারা এবার পুরস্কার পেয়েছে, তাদের আরও ভালো করার চেষ্টা করতে হবে। আর যারা পুরস্কার পায়নি, তাদের হতাশ না হয়ে আগামী দিনের জন্য আরও বেশি করে প্রস্তুতি নিতে হবে।
তিনি শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পড়াশোনা করার পাশাপাশি শিক্ষক ও অভিভাবকদের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়ার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে মাদক, সন্ত্রাস, অপরাধ ও বিভিন্ন ধরনের নেতিবাচক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে থেকে নিজেদের সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার পরামর্শ দেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, একটি আদর্শ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শুধু পরীক্ষায় ভালো ফলাফল অর্জনের জন্য কাজ করে না; বরং শিক্ষার্থীদের সৎ, যোগ্য, দায়িত্বশীল ও দেশপ্রেমিক নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলে। নবীয়াবাদ ইসলামিয়া দাখিল মাদরাসার এ ধরনের আয়োজন শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করার পাশাপাশি তাদের প্রতিভা বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
পরে প্রধান অতিথি মেধা তালিকায় স্থান অর্জনকারী এবং ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় বিজয়ী শিক্ষার্থীদের হাতে পুরস্কার ও সনদ তুলে দেন। অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের পরিবেশনায় বিভিন্ন সাংস্কৃতিক পরিবেশনাও অনুষ্ঠিত হয়।