শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬
২ কার্তিক ১৪৩৩

এত গ্রেপ্তারের পরও কেন নির্মূল হচ্ছে না আরসা?

ছবি: সংগৃহীত
রহমত উল্লাহ, টেকনাফ (কক্সবাজার)
প্রকাশিত
রহমত উল্লাহ, টেকনাফ (কক্সবাজার)
প্রকাশিত : ১২ জুন, ২০২৪ ১৬:২৬

মিয়ানমারের চরমপন্থি সশস্ত্র সংগঠন আরসার আগের নাম ছিল আল ইয়াকিন বা ইসলামি সংগঠন। রোহিঙ্গা মুসলমানদের নিয়ে কাজ করাই ছিল তাদের উদ্দেশ্য। ২০১৩ সালের দিকে সংগঠনের নাম পাল্টে রাখা হয় আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মি বা আরসা, যদিও দলের একাংশ এখনো আল ইয়াকিন নামেই পুরোনো সংগঠনকে আকড়ে ধরে আছে। আতাউল্লাহ আবু আম্মার জুনুনি সেসময়ে হন স্যালভেশন আর্মির (আরসা) কমান্ডার ইন চিফ। এই আতাউল্লাহর জন্ম সৌদি আরবে, তার বাবা-মা আরাকান থেকে গিয়ে সৌদি আরবে স্থায়ী হন। কিন্তু জন্ম সৌদি আরবে হলেও আতাউল্লাহ পরে পাকিস্তানের করাচিতে এসে বসবাস করতেন।

রোহিঙ্গাদের অধিকার আদায় করতে ঠিক কবে মিয়ানমারে তিনি ফিরে আসেন, তা জানা যায় না। তবে তা ২০১৩ সালের আগেই অর্থাৎ আল ইয়াকিন থেকে আরসার যাত্রা শুরুর আগেই হয়েছে, তা নিশ্চিত। সংগঠনটি সশস্ত্র হয়ে উঠেছে, তা প্রথম বোঝা যায় ২০১৫-১৬ সালের দিকে। লক্ষ্য ছিল, মিয়ানমারের মুসলিম অধ্যুষিত আরাকান প্রদেশ দখল। ২০১৭ সালের মাঝামাঝি মিয়ানমারের থানায় হামলা, পুলিশের অস্ত্র লুটের ঘটনার পর সংগঠনটির বিরুদ্ধে প্রথম মনোযোগ দেয় মিয়ানমার সেনাবাহিনী। তবে ওই বছরেই আগস্টে তার নির্দেশে রাখাইনে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর তল্লাশি চৌকিতে আরকান দখল ও অস্ত্র লুট করার জন্য আবার হামলা চালায় আরসা। এ ঘটনায় ভীষণ ক্ষুব্ধ সেনাবাহিনী আরসা নির্মূলের উদ্দেশে আরকান প্রদেশে হামলা শুরু করে। তখন উত্তপ্ত হয়ে পড়ে মিয়ানমারে মুসলমানদের গ্রামগুলোর পরিস্থিতি। ওই দেশের সেনাবাহিনী ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট রাখাইনে চড়াও হয়ে অভিযান ও রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতন, হামলা ও গণধর্ষণের ঘটনা শুরুর পর নিজ দেশ ছেড়ে বাংলাদেশে পালিয়ে আসে প্রায় ১০ লাখ রোহিঙ্গা। সম্পূর্ণ মানবিক কারণে তাদের তখন আশ্রয় দেয় বাংলাদেশ সরকার। আর বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে আরসার সদস্যদের সম্পর্কে তথ্য না থাকার সুযোগে এসব রোহিঙ্গার সঙ্গে আশ্রয়প্রার্থী হিসেবে বাংলাদেশে চলে আসে আরসার কিছু সদস্য আর সমর্থকও।

উদ্দেশ্য তাদের মিয়ানমার সেনাবাহিনীর সঙ্গে লড়াই করা হলেও অস্ত্র তৈরি ও সংগ্রহ, বাহিনীর জন্য সদস্য সংগ্রহ, সদস্যদের অস্ত্র প্রশিক্ষণ দেওয়া ইত্যাদি কাজে তারা তখন থেকেই গোপনে বাংলাদেশের পাহাড়ি নির্জন এলাকাগুলো ব্যবহার শুরু করে। একই সঙ্গে রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরগুলোতে নিজেদের প্রভাব বাড়াতে তারা সেগুলোতে আধিপত্য বিস্তার শুরু করে। রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবির সর্দার বা মাঝিদের করায়ত্ত করা বা ভয় দেখানো দিয়েই এর শুরু। একই সঙ্গে নিজেদের অর্থভাণ্ডার ঠিক রাখতে মিয়ানমারের সঙ্গে বাংলাদেশের অরক্ষিত সীমান্ত অঞ্চলকে রুট হিসেবে ব্যবহার করে এদেশে মাদক চোরাচালান আরও বাড়িয়ে দেয়।

শুরুতে আরসা সম্পর্কে অন্ধকারে থাকলেও দিনের পর দিন রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরগুলোতে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে পরস্পরের মধ্যে হামলা, গুলি, হত্যার ঘটনা বাড়তে থাকায় এবং বিপুল পরিমাণ মাদকসহ রোহিঙ্গা ও তাদের প্ররোচনায় স্থানীয়দের আটক বা গ্রেপ্তাদের মধ্য দিয়ে এই চরমপন্থি সংগঠন সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পেতে শুরু করে বাংলাদেশের বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। র‌্যাব, এপিবিএন আরসা দমনে কঠোর অভিযান চালাচ্ছে মাঝেমধ্যেই। তার পরও তাদের গোপন তথ্য প্রকাশ হয়ে পড়া এবং বেশির ভাগ রোহিঙ্গা সশস্ত্র যুদ্ধে জড়িত হতে না চাওয়ায় আরসার নেতাসহ সদস্যরা বরাবরই আছে উৎকণ্ঠায়। রোহিঙ্গাদের মধ্যে আরসা ছাড়াও আছে আরও কিছু সশস্ত্র গ্রুপ। তবে তারা পরস্পর যেন পরস্পরের শত্রু। আরাকানে যে বিদ্রোহী সশস্ত্র গ্রুপ আরাকানের স্বাধীনতার জন্য সশস্ত্র লড়াই করে যাচ্ছে, আরাকান আর্মি, ওদের সঙ্গেও এসব গ্রুপের শত্রুতা রয়েছে। আরাকান আর্মি সাধারণভাবে সব আরাকানির জন্যে স্বাধীন আরাকান চায়, কিন্তু আরসাকে ওরা চিহ্নিত করে মুসলিম সন্ত্রাসী গ্রুপ হিসেবে। সব মিলিয়ে অস্থির হয়ে উঠছে রোহিঙ্গা শিবির।

আরসার শীর্ষ নেতা অলি আকিজ দীর্ঘদিন মিয়ানমারে আত্মগোপনে থাকলেও গত ১৯ মে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ফিরেছেন। আরসার শীর্ষ কমান্ডার আতাউল্লাহ আবু আম্মার জুনুনি এবং সেকেন্ড-ইন-কমান্ড ওস্তাদ খালেদের নির্দেশে ক্যাম্পে আধিপত্য বিস্তারের নতুন পরিকল্পনা নিয়ে অপতৎপরতা চালাচ্ছেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সূত্রে জানা যায়, রোহিঙ্গাদের সশস্ত্র গ্রুপ আরসার প্রশিক্ষণ। অস্ত্র তৈরি, আত্মগোপন, মিটিংসহ নানা কর্মকাণ্ড সেখানে সংগঠিত হতো। গত রোববার মধ্যরাতে অভিযান চালিয়ে ক্যাম্প-৪-এ গোপন বৈঠক থেকে আকিজসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, একটি দেশীয় তৈরি এলজি, একটি ওয়ানশুটার গান, ১০ রাউন্ড কার্তুজ, দুই কেজি বিস্ফোরকদ্রব্য, তিনটি মোবাইল এবং নগদ ২ হাজার ৫০০ টাকা জব্দ করা হয়।

র‌্যাব-১৫-এর অধিনায়ক লে. কর্নেল এইচ এম সাজ্জাদ হোসেন বলেন, ‘আমরা এ পর্যন্ত ১১২ জনের ওপরে আরসার ভিন্ন পদবিধারী নেতা গ্রেপ্তার করেছি। গত রোববারের আরসার শীর্ষ নেতা আকিজসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করি। তাদের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

২০১৭ সালে সীমান্ত পার হয়ে ভারত হয়ে বাংলাদেশে এসে ক্যাম্প-৫-এ সপরিবারে বসবাস শুরু করেন মৌলভী আকিজ। পরে আরসার হয়ে কাজ শুরু করেন তিনি। এরপর ক্যাম্প-৫-এ আরসার প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পান। নেটওয়ার্ক গ্রুপে কাজ করতেন। ক্যাম্পের বিভিন্ন তথ্য আরসা কমান্ডারদের কাছে পৌঁছে দিতেন। এভাবে শীর্ষ নেতৃত্বে পৌঁছান। রোহিঙ্গাদের প্রত‍্যাবাসনের পক্ষে কাজ করায় ওস্তাদ খালেদের নির্দেশে রোহিঙ্গা নেতা মাস্টার মহিবুল্লাহকে হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী ছিলেন আকিজ। তা ছাড়া মতাদর্শিক দ্বন্দ্বে ক্যাম্পে সেভেন মার্ডারে সরাসরি অংশ নেন। তাদের নেতা-কর্মী আটক হলে কিছুটা দুর্বল হয়ে যায় কিন্তু আবার সক্রিয় হয়ে ওঠে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বিশাল এই জনগোষ্ঠীতে আরসা, আল-ইয়াকিনসহ অন্তত ১৫টি বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন সক্রিয়। ২০১৭ সাল থেকে এখন পর্যন্ত ছয় বছরে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সংঘর্ষের ঘটনায় প্রায় ৩০০ জন নিহত হয়েছে। মামলা হয়েছে পাঁচ হাজারের অধিক। এসব মামলার বেশির ভাগই হয়েছে মাদক ও আগ্নেয়াস্ত্র রাখার অভিযোগে।

রোহিঙ্গা নেতা ড. জোবায়ের বলেন, আরসা রোহিঙ্গা ক্যাম্প দখল করে রাজত্ব কায়েম করার জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এ পর্যন্ত তাদের দুই শতাধিক নেতা-কর্মী আটক হয়েছেন। আটক করলেও তারা আরও শক্তিশালী হয়ে উঠবে, তার কারণ তাদের রোহিঙ্গা সরকার মদদ দিয়ে যাচ্ছে। প্রত্যাবাসন বন্ধ রাখার জন্য মিয়ানমার সরকার তাদের ব্যবহার করে যাচ্ছে, যে কারণে তারা এতটা শক্তিশালী।

গত রোববার রাতে উখিয়ার মধুরছড়া ৪ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে আরসার শীর্ষ নেতাদের গ্রেপ্তার করে। সে জায়গায় ভোরে ৪০-৪৫ জন আরসা সন্ত্রাসী পাহাড় থেকে সীমানার কাঁটাতারের বেড়া অতিক্রম করে ৪ নম্বর ক্যাম্পে আসে। ঘটনাস্থলে এসে ক্যাম্পে পাহারারত রোহিঙ্গা ইলিয়াছকে তারা গুলি করে ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে হাতে, পায়ে ও তলপেটে কুপিয়ে মারাত্মক জখম করে। এতে ইলিয়াস ঘটনাস্থলেই মারা যান।

১৪ এপিবিএনের অধিনায়ক মোহাম্মদ ইকবাল বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গেলে এপিবিএন সদস্যদেরও লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ করে সন্ত্রাসীরা।

তিনি আরও বলেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে নতুন করে সংগঠিত এবং নাশকতা করার চেষ্টা করছে আরসা। মূলত আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘবদ্ধ হয়ে হামলা চালায় আরসা সন্ত্রাসীরা। এতে তারা গুলি এবং কুপিয়ে তিন রোহিঙ্গাকে হত্যা করে। আর গুরুতর আহত হয় সাতজন। হতাহতরা আরএসও সদস্য বলে জানা গেছে।

রোহিঙ্গা গবেষক অধ্যাপক ড. রাহমান নাসির উদ্দিন দৈনিক বাংলাকে বলেছেন, রোহিঙ্গাদের অধিকার আদায় করতে আরসা ২০১৭ সালের ২৫ আগস্টের দিকে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর তল্লাশি চৌকিতে হামলা চালায়। কিন্তু এটার কারণে নির্যাতনের তীব্রতায় নিজ দেশ ছেড়ে বাংলাদেশে পালিয়ে আসে প্রায় ৮ লাখ রোহিঙ্গা। সে কারণে আরসা রোহিঙ্গাদের প্রতিনিধিত্ব হয়ে উঠতে পারে নাই। বিভিন্ন সময় রোহিঙ্গাদের সঙ্গে কথা বলে জানতে পারি, রোহিঙ্গাদের এ দুর্দশার জন্য আরসা দায়ী। রোহিঙ্গাদের সঙ্গে আরসার একটা বড় গ্রুপ বাংলাদেশে এসেছে। বাংলাদেশে ৩৪টি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে তাদের অবস্থান ধরে রাখার জন্য তারা বিভিন্ন ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে এবং যখন কেউ তাদের বিরুদ্ধে কথা বলার চেষ্টা করেছে তখন তারা তাদের দমন করেছে। এর মধ্যে একজন ছিলেন মুহিব উল্লাহ। মুহিব উল্লাহ যখন রোহিঙ্গাদের নেতা হয়ে ওঠে বিশ্বের কাছে পরিচিত হন এবং আন্তর্জাতিকভাবে রোহিঙ্গাদের জন্য আন্দোলন করেন তখন তাকে নেতা হিসেবে গ্রহণ করে রোহিঙ্গারা। বাংলাদেশ যখন প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরু করে তখন রোহিঙ্গাদের রাজি করানোর জন্য মুহিব উল্লাহ সোর্স ছিল। ধীরে ধীরে মুহিব উল্লাহ প্রধান পাঁচ রোহিঙ্গা নেতার একজন হয়ে ওঠেন। ২০১৯ সালের ২৫ আগস্ট ৩ থেকে ৫ লাখ রোহিঙ্গার মহাসমাবেশ করে তাক লাগিয়ে দেন এবং আনন্দে আত্মহারা করে দেন রোহিঙ্গা ইস্যুতে লেগে থাকা বিদেশি এনজিওগুলোকে। এসব কারণে আরাকান রোহিঙ্গা সোসাইটি ফর পিস অ্যান্ড হিউম্যান রাইটস ভেঙে দেওয়ার জন্য মুহিব উল্লাহকে হত্যা করা হয়। মিয়ানমার সেনাবাহিনীর শত্রু হচ্ছে আরাকান আর্মি। আরাকান আর্মির শত্রু হচ্ছে মিয়ানমার সেনাবাহিনী। আবার মিয়ানমারের শত্রুও আরসা। মিয়ানমার নৌবাহিনী ঘোষণা দিয়ে বলছে আরকান আর্মি ও আরসা মিলে বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে। যেহেতু মিয়ানমার আরাকানে আরকান আর্মি শক্তিশালী হয়ে উঠেছে। সে কারণে আরসা ও শক্তিশালী হয়ে উঠেছে।

দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীগুলোকে সতর্ক করে দিয়ে ড. রাহমান নাসির বলেন, দুই শতাধিক আরসার নেতা-কর্মী গ্রেপ্তার করাতেই আরসা দুর্বল হয়ে পড়েছে এমন যুক্তি হয়তো সঠিক নয়। এই চরমপন্থি দলে আরও অনেক সদস্য ও সমর্থক রয়েছে।

কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. রফিকুল ইসলাম দৈনিক বাংলাকে বলেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বিভিন্ন সন্ত্রাসী গ্রুপ তাদের আধিপত্য বিস্তার করার জন্য এসব সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করে থাকে। আগুন নাশকতা এসব মাঝেমধ্যে বিভিন্ন কারণে হয়ে থাকে। তবে কিছু কিছু ঘটনা আমরা সন্দেহ করি এগুলো নাশকতা। আমরা আরসা বলে কিছু পাইনি। তবে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সন্ত্রাসী গ্রুপ আছে। যারা উগ্রবাদী কর্মকাণ্ডে জড়াবে তাদের বিরুদ্ধে আমাদের সমন্বিত অভিযান অব্যাহত থাকবে।

রোহিঙ্গা ইয়ুথ অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিষ্ঠাতা খিন মং বলেন, রোহিঙ্গাদের অধিকারের জন্য লড়াই করার দাবি করেছিল আরসা। তখন তাদের বিশ্বাস করেছিল রোহিঙ্গারা। কিন্তু এখন সাধারণ রোহিঙ্গারাও মনে করে আরসা মিয়ানমারের এজেন্ট হিসেবে কাজ করছে। যারা প্রত্যাবাসনের কথা বলছেন তাদের হত্যা করা হচ্ছে। তাই আরসার ওপর তাদের আর বিশ্বাস নেই।

বিষয়:

নির্বাচিত

গাজীপুরে ওষুধ কারখানায় আগুন

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
 নিজস্ব প্রতিবেদক

গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলা সফিপুরে অবস্থিত ইবনে সিনা ফার্মাসিউটিক্যালসের কারখানায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। আগুন লাগার প্রায় এক ঘণ্টা পর তা নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয় ফায়ার সার্ভিসের ৬টি ইউনিট।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে কারখানাটির হারবাল সেকশনে আগুনের সূত্রপাত ঘটে।

কালিয়াকৈর ফায়ার সার্ভিস কর্মকর্তা ইফতেখার হোসেন রায়হান চৌধুরী জানান, আগুনের খবর পেয়ে কালিয়াকৈর ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট ঘটনাস্থলে কাজ শুরু করে। পরে আরো তিনটি ইউনিট যোগ দেয়।

ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, আগুণ লাগার খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কালিয়াকৈর ও কোনাবাড়ী ফায়ার স্টেশনের ৪টি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে।

পরিস্থিতি বিবেচনায় আগুন দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনতে গাজীপুর চৌরাস্তা ফায়ার স্টেশন থেকে আরও ২টি ইউনিট যুক্ত হয়। প্রায় এক ঘণ্টা পর অর্থাৎ সাড়ে ৫টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। তাৎক্ষণিকভাবে আগুন লাগার কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানা যায়নি।


নির্বাচিত

দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় প্রস্তুত থাকবে ‘মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্ম’

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
পিরোজপুর প্রতিনিধি

দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও অর্জিত গণতন্ত্র রক্ষায় ‘বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্ম’ দেশের প্রতিটি প্রান্তে প্রহরীর মতো প্রস্তুত থাকবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। শনিবার (১৭ অক্টোবর) পিরোজপুর মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত ‘বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্ম’ পিরোজপুর জেলা শাখার সাংগঠনিক মতবিনিময় সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন।

‎‎বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্ম পিরোজপুর জেলা শাখার আহ্বায়ক গাজী কামরুজ্জামান শুভ্রর সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক (বরিশাল বিভাগ) ইঞ্জিনিয়ার মো. জুয়েল খান।

‎‎প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইঞ্জিনিয়ার মো. জুয়েল খান বলেন, ‘জাতীয়তাবাদী আদর্শ ও মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরে সংগঠনকে সুদৃঢ় ভিত্তির ওপর দাঁড় করাতে দেশব্যাপী এই সাংগঠনিক সফর পরিচালনা করা হচ্ছে। দেশের যেকোনো সংকটে মুক্তিযুদ্ধের সন্তানেরা রাজপথে অতন্দ্র প্রহরীর ভূমিকা পালন করবে।’ তিনি আরও বলেন, বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রত্যক্ষ দিকনির্দেশনায় মুক্তিযুদ্ধের সন্তানদের পাশাপাশি দেশপ্রেমিক তরুণ সমাজকে একত্রিত করে আগামী দিনে একটি শক্তিশালী প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলা হবে।

বিশেষ বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পিরোজপুর জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা আহম্মেদ শহীদুল হক চান, পিরোজপুর জেলা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আ. সালাম বাতেন এবং ‎পিরোজপুর জেলা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দলের সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. সিদ্দিকুল আলম (পাশা)। ‎এছাড়াও সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় সদস্য গোলাম মুক্তাদির মুরাদ, খুলনা জেলা সাধারণ সম্পাদক এইচ এম খলিলুর রহমান, বরিশাল মহানগরের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আমানুজ্জামান খান এবং বরিশাল জেলা যুগ্ম আহ্বায়ক মো. নজরুল ইসলাম ভুট্টো।

‎সভায় বক্তারা জানান, আগামী মাসের প্রথম সপ্তাহে বরিশালে অনুষ্ঠিতব্য বিভাগীয় সমাবেশ সফল করতে পিরোজপুরের প্রতিটি উপজেলায় শিগগিরই কর্মী সভা সম্পন্ন করে নতুন নেতৃত্ব ও প্রস্তাবিত কমিটি গঠন করা হবে। অনুষ্ঠানটিতে স্থানীয় নেতাকর্মী ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী পরিবারের সদস্যরা বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনা নিয়ে অংশগ্রহণ করেন।


নির্বাচিত

খাগড়াছড়ির পানছড়ি সীমান্তে এসএমজি ও ১০০ রাউন্ড গুলি উদ্ধার

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি

খাগড়াছড়ির পানছড়ি সীমান্ত এলাকায় অভিযান চালিয়ে একটি সাবমেশিনগান (এসএমজি), ১০০ রাউন্ড গুলি ও দুটি বাটন মোবাইল ফোন উদ্ধার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) দিবাগত রাতে পানছড়ি ব্যাটালিয়ন (৩ বিজিবি)-এর অধীন বৌদ্ধমনিপাড়া বিওপির একটি নিয়মিত টহল দল কচুছড়িমুখ পাড়া এলাকায় এ অভিযান চালায়।

বিজিবি সূত্রে জানা যায়, বৌদ্ধমনিপাড়া বিওপির নায়েব সুবেদার মো. এমদাদুল হকের নেতৃত্বে টহল দলটি সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অবৈধ কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে দায়িত্ব পালন করছিল। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে আনুমানিক ১২০ থেকে ১৫০ গজ দূরে অন্ধকারাচ্ছন্ন স্থানে কয়েকজন সন্দেহভাজন ব্যক্তির উপস্থিতি দেখতে পায় টহল দল।

পরে কৌশলগতভাবে সামনে অগ্রসর হলে সীমান্তসংলগ্ন পাহাড় থেকে কাঁধে ব্যাগ নিয়ে ১০ থেকে ১২ জনের একটি দলকে সীমান্ত সড়কে নেমে আসতে দেখা যায়। বিজিবি সদস্যরা তাদের চ্যালেঞ্জ করে থামতে বললে সন্দেহভাজন ব্যক্তিরা দ্রুত পালানোর চেষ্টা করে। এ সময় টহল দল ধাওয়া করলে তারা সীমান্ত সড়ক থেকে আশপাশের ঘন পাহাড়ি জঙ্গলে পালিয়ে যায়।

পরে ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে পরিত্যক্ত অবস্থায় একটি ৭.৬২ মিলিমিটার এসএমজি, ১০০ রাউন্ড গুলি এবং দুটি বাটন মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।

উদ্ধার করা অস্ত্র ও গোলাবারুদ পানছড়ি থানায় হস্তান্তরের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে বিজিবি সূত্র জানিয়েছে।

পানছড়ি ব্যাটালিয়ন (৩ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ রবিউল ইসলাম জানান, সীমান্ত এলাকার শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা, দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং অবৈধ অনুপ্রবেশ ও চোরাচালান প্রতিরোধে বাহিনীর ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে। সীমান্তে অস্ত্র ও বিস্ফোরক পাচার প্রতিরোধে এ ধরনের অভিযান ও নজরদারি ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।


নির্বাচিত

কক্সবাজারে রিসোর্টে আগুনে জবি শিক্ষার্থীর মৃত্যু

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

কক্সবাজারের ইনানীতে রিসোর্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) রসায়ন বিভাগের ১৫তম ব্যাচের শিক্ষার্থী নাবিলার মৃত্যু হয়েছে। নাবিলার মৃত্যুর বিষয়টি তার মা নিশ্চিত করেছেন।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকালে মেরিন ড্রাইভ সড়কসংলগ্ন পাটোয়ারটেক সৈকত এলাকার টুপটুপ রিসোর্ট অ্যান্ড রেস্টুরেন্টে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের ২০তম ব্যাচের শিক্ষার্থী আব্দুল আহাদ সরকারের পরিবারের সদস্যদেরও মৃত্যু হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে আহাদ প্রথমে পরিবারের ছয় সদস্যের মৃত্যুর কথা জানান। পরে আরও একজনের মৃত্যুর কথা উল্লেখ করে মোট সাতজনের প্রাণহানির খবর দেন।

উল্লেখ্য, শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে কাঠের তৈরি রিসোর্টটিতে আগুন লাগে। ফায়ার সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১০ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

এ ছাড়া অগ্নিকাণ্ডে আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর মৃত্যুর খবরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।


নির্বাচিত

ডিসেম্বরে শেখ হাসিনার দেশে ফেরার গুঞ্জন হাস্যকর: বিমানমন্ত্রী

বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১৭ অক্টোবর, ২০২৬ ১৮:৩৮
নিজস্ব প্রতিবেদক

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেছেন, ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ডিসেম্বরে দেশে ফেরার গুঞ্জন অবান্তর ও হাস্যকর। তিনি বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের সুযোগ সৃষ্টি না হলে দেশের অস্তিত্ব সংকটে পড়ত এবং অতীতে বেগম খালেদা জিয়ার দেওয়া বক্তব্যই আজ বাস্তবে প্রমাণিত হয়েছে।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) দুপুরে জামালপুর জেলা পরিষদ মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবর্ধনা ও অনুদানের চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বিগত সরকারের সমালোচনা করে মন্ত্রী অভিযোগ করেন, বিগত শাসনামলে সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের জমি ও বাড়িঘর দখলের অধিকাংশ ঘটনা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরাই ঘটিয়েছে। অথচ এই সমস্ত অপকর্মের দায় অন্যের ওপর চাপিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশকে ‘জঙ্গি রাষ্ট্র’ হিসেবে তুলে ধরার চক্রান্ত করা হয়েছিল।

বর্তমান বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকট প্রসঙ্গে বিমানমন্ত্রী বলেন, তৎকালীন সরকারের কোনো ধরনের দূরদর্শী পরিকল্পনা কিংবা নতুন গ্যাস কূপ খননের প্রস্তুতি ছিল না। তাদের সেই নীতিহীনতার মাশুলই আজ পুরো দেশবাসীকে গুনতে হচ্ছে।

জেলা পরিষদ প্রশাসক সিরাজুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন স্থানীয় সংসদ সদস্য সুলতান মাহমুদ বাবু, মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল, ফরিদুল কবির শামীম তালুকদার এবং নিলুফার চৌধুরী মনি। আলোচনা সভা শেষে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় উপকারভোগীদের মাঝে অনুদানের চেক বিতরণ করা হয়।


নির্বাচিত

মাগুরায় ৭৫ অসহায় ব্যক্তিকে সাড়ে ৭ লাখ টাকা অনুদান প্রদান

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মাগুরা প্রতিনিধি

মাগুরায় প্রতিবন্ধী,অসহায় ও গৃহহীন ৭৫ জন ব্যক্তির মাঝে মোট ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকার অনুদানের চেক বিতরণ করেছে জাতীয় সমাজকল্যাণ পরিষদ। প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা করে এ অনুদান দেওয়া হয়। শনিবার (১৭ অক্টোবর) দুপুরে মাগুরা সদর উপজেলা পরিষদের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে উপকারভোগীদের হাতে অনুদানের চেক তুলে দেন মাগুরা-১ আসনের সংসদ সদস্য মনোয়ার হোসেন খান।

অনুষ্ঠানে মাগুরা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মেহেরুন্নাহার, জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন, মাগুরা জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আক্তার হোসেন, মাগুরা প্রেসক্লাবের সভাপতি অধ্যাপক সাইদুর রহমান, সদর থানা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক কুতুব উদ্দিন, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহিমসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

জাতীয় সমাজকল্যাণ পরিষদের এ অনুদানের মাধ্যমে অসহায়, প্রতিবন্ধী ও গৃহহীন ব্যক্তিরা আর্থিকভাবে কিছুটা স্বস্তি পাবেন বলে আশা করা হচ্ছে।


নির্বাচিত

খুবির এসডব্লিউই ডিসিপ্লিনের রজতজয়ন্তী ও অ্যালামনাই পুনর্মিলনী অনুষ্ঠিত

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
খুলনা ব্যুরো

বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সয়েল, ওয়াটার এন্ড এনভায়রনমেন্ট (এসডব্লিউই) ডিসিপ্লিনের রজতজয়ন্তী ও অ্যালামনাই পুনর্মিলনী অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) দিনব্যাপী এ আয়োজনে প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের মিলনমেলা, র‌্যালি, আলোচনা সভা, সম্মাননা প্রদান ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

কর্মসূচির শুরুতে বেলা ১১টায় দ্বিতীয় একাডেমিক ভবনের সামনে থেকে বর্ণাঢ্য র‌্যালি বের হয়। র‌্যালিটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে হাদি চত্বরে গিয়ে শেষ হয়। পরে অদম্য বাংলা প্রাঙ্গণে কেক কাটা হয়। দুপুর ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিক লিয়াকত আলী মিলনায়তনে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

এতে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. রেজাউল করিম। তিনি বলেন, একটি ডিসিপ্লিনের ২৫ বছরের পথচলা কেবল সময়ের হিসাব নয়; এটি অসংখ্য মানুষের শ্রম, মেধা, স্বপ্ন, ত্যাগ ও সাফল্যের সম্মিলিত ইতিহাস। এ আয়োজন শেকড়ের টানে ফিরে আসা, স্মৃতিচারণ এবং পারস্পরিক বন্ধন সুদৃঢ় করার এক অনন্য উপলক্ষ।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জীব বিজ্ঞান স্কুলের ডিন প্রফেসর ড. মো. গোলাম হোসেন এবং সয়েল, ওয়াটার এন্ড এনভায়রনমেন্ট অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন অব খুলনা ইউনিভার্সিটির (সাকু) সাবেক সভাপতি মো. হুমায়ুন কবির ও সভাপতি মো. সাফায়েত হোসেন। সংশ্লিষ্ট ডিসিপ্লিন প্রধান প্রফেসর ড. মোহাম্মদ জাবের হোসেনের সভাপতিত্বে স্বাগত বক্তব্য রাখেন সাকুর সহ-সভাপতি মো. হুমায়ুন কবির।

অনুষ্ঠানে সয়েল, ওয়াটার এন্ড এনভায়রনমেন্ট ডিসিপ্লিন প্রতিষ্ঠায় বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ প্রয়াত শিক্ষক প্রফেসর ড. মো. মিজানুর রহমান ভূঁইয়াকে আজীবন সম্মাননা প্রদান করা হয়। এছাড়া শিক্ষা, গবেষণা, খেলাধুলা ও কর্মজীবনে বিশেষ অবদানের জন্য প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের সম্মাননা দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ডিসিপ্লিনের সহযোগী অধ্যাপক নিপা অধিকারী ও সহকারী অধ্যাপক এস. এম. শাহরিয়ার জামান।

এ ছাড়া বাদ জুমা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে প্রয়াত শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় দোয়া অনুষ্ঠিত হয়। দুপুর ৩টায় শিশুদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা এবং বিকেলে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।


নির্বাচিত

নীলফামারীর ৮১২টি পূজামণ্ডপে এসআরবির বিশেষ নিরাপত্তা

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নীলফামারী প্রতিনিধি

শারদীয় দুর্গাপূজা নির্বিঘ্ন ও শান্তিপূর্ণভাবে উদযাপনে নীলফামারীর ৮১২টি মন্দির ও পূজামণ্ডপে বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন-১৩ (এসআরবি-১৩)। নাশকতা ও অপ্রীতিকর ঘটনা প্রতিরোধে বাড়ানো হয়েছে গোয়েন্দা নজরদারি ও টহল কার্যক্রম। শনিবার (১৭ অক্টোবর) বেলা ১১টায় নীলফামারী শহরের শ্রী শ্রী আনন্দময়ী কালীমাতা দুর্গাপূজা মন্দিরে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান রংপুরের এসআরবি-১৩-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মনজুর করিম।

তিনি জানান, পূজামণ্ডপের নিরাপত্তায় পর্যাপ্তসংখ্যক সদস্য মোতায়েন থাকবে। পাশাপাশি সাদাপোশাকে গোয়েন্দা নজরদারি ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব প্রতিরোধে সাইবার মনিটরিং কার্যক্রম চলবে আগামী ২২ অক্টোবর পর্যন্ত।

এ ছাড়া প্রতিমা বিসর্জনের দিন নেওয়া হবে অতিরিক্ত নিরাপত্তাব্যবস্থা। গুজব ও উসকানিমূলক তথ্য প্রচার থেকে বিরত থাকার পাশাপাশি সন্দেহজনক কোনো তথ্য পেলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানানোর আহ্বান জানিয়েছে এসআরবি-১৩।


নির্বাচিত

বন্ধুকে হত্যার পর নদীতে ফেলে গুম ৫ মাস পর কঙ্কাল উদ্ধার, গ্রেপ্তার ৪

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
রাকিবুল হাসান রোকেল, কিশোরগঞ্জ

কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরে পাঁচ মাস আগে নিখোঁজ হওয়া আরিফ মিয়া ওরফে সালমান (২১) নামের এক তরুণকে হত্যার অভিযোগে তার চার বন্ধুকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

পুলিশের ভাষ্য, ড্যান্ডি সেবনকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে সালমানকে বাঁশ দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। পরে মরদেহ নরসুন্দা নদীতে কচুরিপানার নিচে লুকিয়ে রাখা হয়। নিখোঁজের পাঁচ মাস পর গত শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) দুপুরে নদী থেকে তাঁর মাথার খুলি, বুকের পাঁজরসহ ৭৭টি হাড় উদ্ধার করা হয়েছে। শনিবার (১৭ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে জেলা পুলিশ কার্যালয়ের সম্মেলনকক্ষে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন পাকুন্দিয়া উপজেলার জাঙ্গালিয়া ইউনিয়নের বিশ্বনাথপুর গ্রামের গোলাপ মিয়ার দুই ছেলে সাকিব (১৮) ও মাফি (১৫), মৃত মোতালেবের ছেলে রফিক (৪০) এবং শামছুদ্দিনের ছেলে রমজান মিয়া (৩৫)।

পুলিশ সুপার জানান, গত ১৮ মে সন্ধ্যা ছয়টার দিকে সালমান বাড়ি থেকে ইলিমান বাজারের উদ্দেশে বের হন।

এরপর তিনি আর বাড়ি ফেরেননি।

পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাননি। পরদিন ১৯ মে হোসেনপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন তাঁর পরিবারের সদস্যরা।

জিডির সূত্র ধরে পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় তদন্ত শুরু করে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ। তদন্তের একপর্যায়ে সালমান ও তার ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের মুঠোফোনের কথোপকথন এবং চলাফেরার তথ্য বিশ্লেষণ করে পুলিশ।

এতে সালমানের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় তার বন্ধুদের সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়া যায় বলে জানান পুলিশ সুপার।

তিনি আরও জানান, ছেলের নিখোঁজ হওয়ার পাঁচ মাস পার হলেও কোনো সন্ধান না পেয়ে গত ১৬ অক্টোবর হোসেনপুর থানায় অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা করেন সালমানের বাবা ফজলুর রহমান।

মামলার পর ডিবির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. বাহার মিয়ার নেতৃত্বে একটি দল অভিযান চালিয়ে পাকুন্দিয়ার বিশ্বনাথপুর গ্রাম থেকে চারজনকে গ্রেপ্তার করে। তদন্তকারী কর্মকর্তা ছিলেন উপপরিদর্শক (এসআই) জাকির হোসেন।

পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা সালমানকে হত্যার পর মরদেহ গুম করার উদ্দেশে নরসুন্দা নদীর কচুরিপানার নিচে লুকিয়ে রাখার কথা স্বীকার করেছেন।

পুলিশ সুপার জানান, পাঁচজন মিলে ড্যান্ডি সেবন করার সময় তাদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি ও উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে সালমান বাঁশ দিয়ে মাফিকে আঘাত করেন। পরে বাঁশটি কেড়ে নিয়ে চারজন সালমানকে পিটিয়ে হত্যা করেন। এরপর তার মরদেহটি নদীর কচুরিপানার নিচে চাপা দিয়ে রাখা হয়।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গতকাল শুক্রবার দুপুরে হোসেনপুর উপজেলার শাহেদল ইউনিয়নের হাতিমের স্কুলের পাশের নরসুন্দা নদী থেকে কঙ্কালের বিভিন্ন অংশ উদ্ধার করে ডিবি পুলিশ। উদ্ধার করা আলামতের মধ্যে ছিল মাথার খুলি, বুকের পাঁজরসহ মোট ৭৭টি হাড় এবং একটি গেঞ্জি।

পুলিশ জানায়, ঘটনাস্থলে গিয়ে গেঞ্জি দেখে সালমানের মা সালমা কঙ্কালটি তার ছেলের বলে শনাক্ত করেন।

তবে পরিচয় নিশ্চিত করতে কঙ্কালটির সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির পর ময়নাতদন্ত ও ডিএনএ পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে।

এ ঘটনায় আর কেউ জড়িত আছেন কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানান পুলিশ সুপার। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের আদালতে পাঠানো হয়েছে। তাদের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করা হবে।

সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মুকিত সরকার, ডিবির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. বাহার মিয়াসহ পুলিশের অন্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


নির্বাচিত

চাঁদাবাজি, মাদক ও কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে: চিফ হুইপ

আজ বরগুনা জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১৭ অক্টোবর, ২০২৬ ১৫:৫১
অনলাইন ডেস্ক

জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ ও বরগুনা-২ আসনের সংসদ সদস্য নূরুল ইসলাম মনি বলেছেন, চাঁদাবাজি, ভূমিদস্যুতা, মাদক ও কিশোর গ্যাংয়ের মতো অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। কোনো অপরাধীকে রাজনৈতিক পরিচয়ে ছাড় দেওয়া যাবে না।

আজ বরগুনা জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও উন্নয়নবিষয়ক বিশেষ মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

চিফ হুইপ বলেন, সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সরকারি সেবার মানোন্নয়ন প্রশাসনের অন্যতম দায়িত্ব। জনগণ যেন হয়রানি ছাড়াই সরকারি সেবা পায়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আন্তরিকতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করতে হবে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসন, পুলিশ ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে পারস্পরিক সমন্বয়ের মাধ্যমে দায়িত্ব পালন করতে হবে।

তিনি বলেন, বরগুনার সার্বিক উন্নয়ন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, বরগুনাসহ উপকূলীয় অঞ্চলের যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং স্থানীয় অর্থনীতির সম্ভাবনা কাজে লাগানো সরকারের উন্নয়ন অগ্রাধিকারের অংশ। এ অঞ্চলের কৃষি, মৎস্য, পর্যটন ও অবকাঠামোগত উন্নয়নের সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে জনগণের জীবনমান উন্নয়নে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।

চিফ হুইপ উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, সরকারি বরাদ্দের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। উন্নয়ন কার্যক্রমের সুফল যেন প্রকৃত অর্থেই সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছায়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।

তিনি বলেন, জনগণের প্রত্যাশা পূরণে সরকারি কর্মকর্তাদের দায়িত্বশীলতা, সততা ও আন্তরিকতার বিকল্প নেই। বরগুনার সার্বিক উন্নয়ন এবং জনদুর্ভোগ লাঘবে সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরকে কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে।

বরগুনার জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট তাছলিমা আক্তারের সভাপতিত্বে সভায় স্থানীয় সংসদ সদস্য মো. ওলি উল্লাহ, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতিনিধি এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিগণ উপস্থিত ছিলেন। সূত্র: বাসস


নির্বাচিত

ইনানীর রিসোর্টে ভয়াবহ আগুন, প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে দশ

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কক্সবাজার প্রতিনিধি 

কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার ইনানী সমুদ্রসৈকতসংলগ্ন পাটোয়ারটেক এলাকায় কাঠের তৈরি একটি বিলাসবহুল অবকাশ যাপন কেন্দ্রে সংঘটিত ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়ে দশে দাঁড়িয়েছে। মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনায় প্রাণ হারানো সবাই পর্যটক বলে নিশ্চিত করা হয়েছে, যাদের মধ্যে পাঁচজন নারী ও একটি শিশুসহ ছয়জনের পরিচয় ইতিমধ্যে শনাক্ত করা গেছে।

গত শনিবার সকালে মেরিন ড্রাইভ সড়কসংলগ্ন ‘টুপটুপ’ নামের ওই রিসোর্টটিতে হঠাৎ করেই এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার পরপরই বেশ কয়েকজন গুরুতর দগ্ধ ও আহত অবস্থায় উদ্ধার হয়ে স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

পরিচয় নিশ্চিত হওয়া নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন রাজধানীর বনশ্রী এলাকার বাসিন্দা ইসরাত জাহান মালিহা ও মিলিতা মেহেজাবিন আলভী, খিলগাঁও এলাকার লায়লা জাহান নাবিলা ও নাফিসতা মীম, চুয়াডাঙ্গার ফারিহা কবির এবং পাঁচ বছর বয়সী শিশু ফায়িজান আহম্মেদ। কক্সবাজার সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা তাদের পরিচয় নিশ্চিত করেছেন।

এছাড়া অগ্নিকাণ্ডে দগ্ধ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকা ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের একজন চিকিৎসক শিহাব উদ্দীন এবং তাঁর স্ত্রী নাফিজা নেওয়াজ খানসহ মান্নান, মেহেরুন্নেসা, মাসুদ ও সামিদা।

স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনামতে, সকালের দিকে হঠাৎ করেই রিসোর্টটিতে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। পরবর্তীতে খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের ও পুলিশের সহায়তায় দীর্ঘ চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে এনে উদ্ধারকাজ পরিচালনা করেন।

কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান জানান যে, উদ্ধার অভিযানে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা দশটি মরদেহ উদ্ধার করেছেন এবং আহতদের দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে রিসোর্টের রান্নাঘরের চুল্লি থেকেই এই আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ ও নেপথ্য বিষয়গুলো খতিয়ে দেখার জন্য অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।


নির্বাচিত

ইনানীতে রিসোর্টে আগুনে নিহত বেড়ে ৭, নিখোঁজ অন্তত ৫

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কক্সবাজার প্রতিনিধি 

কক্সবাজারের উখিয়ায় মেরিন ড্রাইভ সংলগ্ন ইনানীর পাটুয়ারটেক সমুদ্রসৈকত এলাকায় ‘টুপটুপ’ নামের একটি রিসোর্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আরও পাঁচজন পর্যটক নিখোঁজ রয়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এছাড়া অগ্নিদগ্ধ দুজনকে উদ্ধার করে আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকালের দিকে আকস্মিকভাবে রিসোর্টটিতে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার তৎপরতা শুরু করে এবং সকাল ১০টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়। এরপরই ভস্মীভূত রিসোর্টের ভেতর শুরু হয় ব্যাপক তল্লাশি ও উদ্ধার অভিযান।

ফায়ার সার্ভিসের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা দোলন আচার্য ঘটনাস্থল থেকে সাতটি মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। ইনানী পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ রিমন ঘোষ জানান, নিহতরা সবাই পর্যটক বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে তাদের নাম-পরিচয় শনাক্ত করা যায়নি। উদ্ধারকর্মীরা জানিয়েছেন, জীবিত উদ্ধার হওয়া দুজনের শরীরের প্রায় ৩০ শতাংশ দগ্ধ হওয়ায় তাদের দ্রুত চিকিৎসার আওতায় আনা হয়েছে।

রিসোর্টে অবস্থানকারীদের সংখ্যা সম্পর্কে উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমান মজুমদার জানান, নথিপত্র অনুযায়ী সেখানে ২৭ জনের বুকিং ছিল, যার মধ্যে ঘটনার সময় ৯ জন বাইরে অবস্থান করছিলেন। উদ্ধার অভিযান শেষ না হওয়া পর্যন্ত হতাহতের সঠিক সংখ্যা নিশ্চিত করা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।

অগ্নিকাণ্ডে কাঠের ও অন্যান্য সামগ্রীতে নির্মিত রিসোর্টটি সম্পূর্ণ পুড়ে গিয়ে ব্যাপক ক্ষতিসাধন হয়েছে। ভেতরে আরও কেউ আটকা পড়ে আছেন কি না, তা খতিয়ে দেখছেন ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশের সদস্যরা। আগুনের সূত্রপাত ও অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যায়নি। এদিকে দুর্ঘটনার পরপরই রিসোর্ট পরিচালনার দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিরা এলাকা ছেড়ে পালিয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।


নির্বাচিত

কক্সবাজারের ইনানীতে রিসোর্টে আগুন, ৫ জনের মৃত্যু

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
অনলাইন ডেস্ক

কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার ইনানী সমুদ্রসৈকতে যাতায়াতের পথে পাটুয়ারটেক এলাকার একটি অবকাশ যাপন কেন্দ্রে আকস্মিক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় অন্তত পাঁচজনের প্রাণহানির মর্মান্তিক সংবাদ পাওয়া গেছে। এই অগ্নিকাণ্ডে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি আরও বহু মানুষ হতাহত হয়ে থাকতে পারেন বলে তীব্র আশঙ্কা প্রকাশ করা হচ্ছে।

আজ শনিবার সকাল সাড়ে সাতটার দিকে এই দুর্ঘটনাটি সংঘটিত হয়।

উখিয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার গণমাধ্যমকে পাঁচজন নিহত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান যে, দুর্ঘটনাস্থলে বর্তমানে উদ্ধার কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।

উখিয়া ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান যে, অগ্নিকাণ্ডের খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তাদের একটি পূর্ণাঙ্গ দল দুর্ঘটনাস্থলের উদ্দেশ্যে দ্রুত রওয়ানা হয়ে কাজ শুরু করে।

প্রাথমিক অবস্থায় আগুন লাগার সুনির্দিষ্ট কারণ বা সূত্রপাত কীভাবে হয়েছিল, সে বিষয়ে কোনো তথ্য জানা যায়নি। এছাড়া নিহত ব্যক্তিদের নাম-পরিচয় এবং সামগ্রিক আর্থিক ক্ষয়ক্ষতির সঠিক পরিমাণও তাৎক্ষণিকভাবে জানা সম্ভব হয়নি।

উদ্ধারকাজ সম্পূর্ণ হওয়ার পরই এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার বিষয়ে আরও বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানানো হয়েছে।


নির্বাচিত

banner close