মিয়ানমারের চরমপন্থি সশস্ত্র সংগঠন আরসার আগের নাম ছিল আল ইয়াকিন বা ইসলামি সংগঠন। রোহিঙ্গা মুসলমানদের নিয়ে কাজ করাই ছিল তাদের উদ্দেশ্য। ২০১৩ সালের দিকে সংগঠনের নাম পাল্টে রাখা হয় আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মি বা আরসা, যদিও দলের একাংশ এখনো আল ইয়াকিন নামেই পুরোনো সংগঠনকে আকড়ে ধরে আছে। আতাউল্লাহ আবু আম্মার জুনুনি সেসময়ে হন স্যালভেশন আর্মির (আরসা) কমান্ডার ইন চিফ। এই আতাউল্লাহর জন্ম সৌদি আরবে, তার বাবা-মা আরাকান থেকে গিয়ে সৌদি আরবে স্থায়ী হন। কিন্তু জন্ম সৌদি আরবে হলেও আতাউল্লাহ পরে পাকিস্তানের করাচিতে এসে বসবাস করতেন।
রোহিঙ্গাদের অধিকার আদায় করতে ঠিক কবে মিয়ানমারে তিনি ফিরে আসেন, তা জানা যায় না। তবে তা ২০১৩ সালের আগেই অর্থাৎ আল ইয়াকিন থেকে আরসার যাত্রা শুরুর আগেই হয়েছে, তা নিশ্চিত। সংগঠনটি সশস্ত্র হয়ে উঠেছে, তা প্রথম বোঝা যায় ২০১৫-১৬ সালের দিকে। লক্ষ্য ছিল, মিয়ানমারের মুসলিম অধ্যুষিত আরাকান প্রদেশ দখল। ২০১৭ সালের মাঝামাঝি মিয়ানমারের থানায় হামলা, পুলিশের অস্ত্র লুটের ঘটনার পর সংগঠনটির বিরুদ্ধে প্রথম মনোযোগ দেয় মিয়ানমার সেনাবাহিনী। তবে ওই বছরেই আগস্টে তার নির্দেশে রাখাইনে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর তল্লাশি চৌকিতে আরকান দখল ও অস্ত্র লুট করার জন্য আবার হামলা চালায় আরসা। এ ঘটনায় ভীষণ ক্ষুব্ধ সেনাবাহিনী আরসা নির্মূলের উদ্দেশে আরকান প্রদেশে হামলা শুরু করে। তখন উত্তপ্ত হয়ে পড়ে মিয়ানমারে মুসলমানদের গ্রামগুলোর পরিস্থিতি। ওই দেশের সেনাবাহিনী ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট রাখাইনে চড়াও হয়ে অভিযান ও রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতন, হামলা ও গণধর্ষণের ঘটনা শুরুর পর নিজ দেশ ছেড়ে বাংলাদেশে পালিয়ে আসে প্রায় ১০ লাখ রোহিঙ্গা। সম্পূর্ণ মানবিক কারণে তাদের তখন আশ্রয় দেয় বাংলাদেশ সরকার। আর বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে আরসার সদস্যদের সম্পর্কে তথ্য না থাকার সুযোগে এসব রোহিঙ্গার সঙ্গে আশ্রয়প্রার্থী হিসেবে বাংলাদেশে চলে আসে আরসার কিছু সদস্য আর সমর্থকও।
উদ্দেশ্য তাদের মিয়ানমার সেনাবাহিনীর সঙ্গে লড়াই করা হলেও অস্ত্র তৈরি ও সংগ্রহ, বাহিনীর জন্য সদস্য সংগ্রহ, সদস্যদের অস্ত্র প্রশিক্ষণ দেওয়া ইত্যাদি কাজে তারা তখন থেকেই গোপনে বাংলাদেশের পাহাড়ি নির্জন এলাকাগুলো ব্যবহার শুরু করে। একই সঙ্গে রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরগুলোতে নিজেদের প্রভাব বাড়াতে তারা সেগুলোতে আধিপত্য বিস্তার শুরু করে। রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবির সর্দার বা মাঝিদের করায়ত্ত করা বা ভয় দেখানো দিয়েই এর শুরু। একই সঙ্গে নিজেদের অর্থভাণ্ডার ঠিক রাখতে মিয়ানমারের সঙ্গে বাংলাদেশের অরক্ষিত সীমান্ত অঞ্চলকে রুট হিসেবে ব্যবহার করে এদেশে মাদক চোরাচালান আরও বাড়িয়ে দেয়।
শুরুতে আরসা সম্পর্কে অন্ধকারে থাকলেও দিনের পর দিন রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরগুলোতে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে পরস্পরের মধ্যে হামলা, গুলি, হত্যার ঘটনা বাড়তে থাকায় এবং বিপুল পরিমাণ মাদকসহ রোহিঙ্গা ও তাদের প্ররোচনায় স্থানীয়দের আটক বা গ্রেপ্তাদের মধ্য দিয়ে এই চরমপন্থি সংগঠন সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পেতে শুরু করে বাংলাদেশের বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। র্যাব, এপিবিএন আরসা দমনে কঠোর অভিযান চালাচ্ছে মাঝেমধ্যেই। তার পরও তাদের গোপন তথ্য প্রকাশ হয়ে পড়া এবং বেশির ভাগ রোহিঙ্গা সশস্ত্র যুদ্ধে জড়িত হতে না চাওয়ায় আরসার নেতাসহ সদস্যরা বরাবরই আছে উৎকণ্ঠায়। রোহিঙ্গাদের মধ্যে আরসা ছাড়াও আছে আরও কিছু সশস্ত্র গ্রুপ। তবে তারা পরস্পর যেন পরস্পরের শত্রু। আরাকানে যে বিদ্রোহী সশস্ত্র গ্রুপ আরাকানের স্বাধীনতার জন্য সশস্ত্র লড়াই করে যাচ্ছে, আরাকান আর্মি, ওদের সঙ্গেও এসব গ্রুপের শত্রুতা রয়েছে। আরাকান আর্মি সাধারণভাবে সব আরাকানির জন্যে স্বাধীন আরাকান চায়, কিন্তু আরসাকে ওরা চিহ্নিত করে মুসলিম সন্ত্রাসী গ্রুপ হিসেবে। সব মিলিয়ে অস্থির হয়ে উঠছে রোহিঙ্গা শিবির।
আরসার শীর্ষ নেতা অলি আকিজ দীর্ঘদিন মিয়ানমারে আত্মগোপনে থাকলেও গত ১৯ মে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ফিরেছেন। আরসার শীর্ষ কমান্ডার আতাউল্লাহ আবু আম্মার জুনুনি এবং সেকেন্ড-ইন-কমান্ড ওস্তাদ খালেদের নির্দেশে ক্যাম্পে আধিপত্য বিস্তারের নতুন পরিকল্পনা নিয়ে অপতৎপরতা চালাচ্ছেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সূত্রে জানা যায়, রোহিঙ্গাদের সশস্ত্র গ্রুপ আরসার প্রশিক্ষণ। অস্ত্র তৈরি, আত্মগোপন, মিটিংসহ নানা কর্মকাণ্ড সেখানে সংগঠিত হতো। গত রোববার মধ্যরাতে অভিযান চালিয়ে ক্যাম্প-৪-এ গোপন বৈঠক থেকে আকিজসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, একটি দেশীয় তৈরি এলজি, একটি ওয়ানশুটার গান, ১০ রাউন্ড কার্তুজ, দুই কেজি বিস্ফোরকদ্রব্য, তিনটি মোবাইল এবং নগদ ২ হাজার ৫০০ টাকা জব্দ করা হয়।
র্যাব-১৫-এর অধিনায়ক লে. কর্নেল এইচ এম সাজ্জাদ হোসেন বলেন, ‘আমরা এ পর্যন্ত ১১২ জনের ওপরে আরসার ভিন্ন পদবিধারী নেতা গ্রেপ্তার করেছি। গত রোববারের আরসার শীর্ষ নেতা আকিজসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করি। তাদের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
২০১৭ সালে সীমান্ত পার হয়ে ভারত হয়ে বাংলাদেশে এসে ক্যাম্প-৫-এ সপরিবারে বসবাস শুরু করেন মৌলভী আকিজ। পরে আরসার হয়ে কাজ শুরু করেন তিনি। এরপর ক্যাম্প-৫-এ আরসার প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পান। নেটওয়ার্ক গ্রুপে কাজ করতেন। ক্যাম্পের বিভিন্ন তথ্য আরসা কমান্ডারদের কাছে পৌঁছে দিতেন। এভাবে শীর্ষ নেতৃত্বে পৌঁছান। রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের পক্ষে কাজ করায় ওস্তাদ খালেদের নির্দেশে রোহিঙ্গা নেতা মাস্টার মহিবুল্লাহকে হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী ছিলেন আকিজ। তা ছাড়া মতাদর্শিক দ্বন্দ্বে ক্যাম্পে সেভেন মার্ডারে সরাসরি অংশ নেন। তাদের নেতা-কর্মী আটক হলে কিছুটা দুর্বল হয়ে যায় কিন্তু আবার সক্রিয় হয়ে ওঠে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বিশাল এই জনগোষ্ঠীতে আরসা, আল-ইয়াকিনসহ অন্তত ১৫টি বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন সক্রিয়। ২০১৭ সাল থেকে এখন পর্যন্ত ছয় বছরে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সংঘর্ষের ঘটনায় প্রায় ৩০০ জন নিহত হয়েছে। মামলা হয়েছে পাঁচ হাজারের অধিক। এসব মামলার বেশির ভাগই হয়েছে মাদক ও আগ্নেয়াস্ত্র রাখার অভিযোগে।
রোহিঙ্গা নেতা ড. জোবায়ের বলেন, আরসা রোহিঙ্গা ক্যাম্প দখল করে রাজত্ব কায়েম করার জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এ পর্যন্ত তাদের দুই শতাধিক নেতা-কর্মী আটক হয়েছেন। আটক করলেও তারা আরও শক্তিশালী হয়ে উঠবে, তার কারণ তাদের রোহিঙ্গা সরকার মদদ দিয়ে যাচ্ছে। প্রত্যাবাসন বন্ধ রাখার জন্য মিয়ানমার সরকার তাদের ব্যবহার করে যাচ্ছে, যে কারণে তারা এতটা শক্তিশালী।
গত রোববার রাতে উখিয়ার মধুরছড়া ৪ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে আরসার শীর্ষ নেতাদের গ্রেপ্তার করে। সে জায়গায় ভোরে ৪০-৪৫ জন আরসা সন্ত্রাসী পাহাড় থেকে সীমানার কাঁটাতারের বেড়া অতিক্রম করে ৪ নম্বর ক্যাম্পে আসে। ঘটনাস্থলে এসে ক্যাম্পে পাহারারত রোহিঙ্গা ইলিয়াছকে তারা গুলি করে ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে হাতে, পায়ে ও তলপেটে কুপিয়ে মারাত্মক জখম করে। এতে ইলিয়াস ঘটনাস্থলেই মারা যান।
১৪ এপিবিএনের অধিনায়ক মোহাম্মদ ইকবাল বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গেলে এপিবিএন সদস্যদেরও লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ করে সন্ত্রাসীরা।
তিনি আরও বলেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে নতুন করে সংগঠিত এবং নাশকতা করার চেষ্টা করছে আরসা। মূলত আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘবদ্ধ হয়ে হামলা চালায় আরসা সন্ত্রাসীরা। এতে তারা গুলি এবং কুপিয়ে তিন রোহিঙ্গাকে হত্যা করে। আর গুরুতর আহত হয় সাতজন। হতাহতরা আরএসও সদস্য বলে জানা গেছে।
রোহিঙ্গা গবেষক অধ্যাপক ড. রাহমান নাসির উদ্দিন দৈনিক বাংলাকে বলেছেন, রোহিঙ্গাদের অধিকার আদায় করতে আরসা ২০১৭ সালের ২৫ আগস্টের দিকে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর তল্লাশি চৌকিতে হামলা চালায়। কিন্তু এটার কারণে নির্যাতনের তীব্রতায় নিজ দেশ ছেড়ে বাংলাদেশে পালিয়ে আসে প্রায় ৮ লাখ রোহিঙ্গা। সে কারণে আরসা রোহিঙ্গাদের প্রতিনিধিত্ব হয়ে উঠতে পারে নাই। বিভিন্ন সময় রোহিঙ্গাদের সঙ্গে কথা বলে জানতে পারি, রোহিঙ্গাদের এ দুর্দশার জন্য আরসা দায়ী। রোহিঙ্গাদের সঙ্গে আরসার একটা বড় গ্রুপ বাংলাদেশে এসেছে। বাংলাদেশে ৩৪টি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে তাদের অবস্থান ধরে রাখার জন্য তারা বিভিন্ন ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে এবং যখন কেউ তাদের বিরুদ্ধে কথা বলার চেষ্টা করেছে তখন তারা তাদের দমন করেছে। এর মধ্যে একজন ছিলেন মুহিব উল্লাহ। মুহিব উল্লাহ যখন রোহিঙ্গাদের নেতা হয়ে ওঠে বিশ্বের কাছে পরিচিত হন এবং আন্তর্জাতিকভাবে রোহিঙ্গাদের জন্য আন্দোলন করেন তখন তাকে নেতা হিসেবে গ্রহণ করে রোহিঙ্গারা। বাংলাদেশ যখন প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরু করে তখন রোহিঙ্গাদের রাজি করানোর জন্য মুহিব উল্লাহ সোর্স ছিল। ধীরে ধীরে মুহিব উল্লাহ প্রধান পাঁচ রোহিঙ্গা নেতার একজন হয়ে ওঠেন। ২০১৯ সালের ২৫ আগস্ট ৩ থেকে ৫ লাখ রোহিঙ্গার মহাসমাবেশ করে তাক লাগিয়ে দেন এবং আনন্দে আত্মহারা করে দেন রোহিঙ্গা ইস্যুতে লেগে থাকা বিদেশি এনজিওগুলোকে। এসব কারণে আরাকান রোহিঙ্গা সোসাইটি ফর পিস অ্যান্ড হিউম্যান রাইটস ভেঙে দেওয়ার জন্য মুহিব উল্লাহকে হত্যা করা হয়। মিয়ানমার সেনাবাহিনীর শত্রু হচ্ছে আরাকান আর্মি। আরাকান আর্মির শত্রু হচ্ছে মিয়ানমার সেনাবাহিনী। আবার মিয়ানমারের শত্রুও আরসা। মিয়ানমার নৌবাহিনী ঘোষণা দিয়ে বলছে আরকান আর্মি ও আরসা মিলে বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে। যেহেতু মিয়ানমার আরাকানে আরকান আর্মি শক্তিশালী হয়ে উঠেছে। সে কারণে আরসা ও শক্তিশালী হয়ে উঠেছে।
দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীগুলোকে সতর্ক করে দিয়ে ড. রাহমান নাসির বলেন, দুই শতাধিক আরসার নেতা-কর্মী গ্রেপ্তার করাতেই আরসা দুর্বল হয়ে পড়েছে এমন যুক্তি হয়তো সঠিক নয়। এই চরমপন্থি দলে আরও অনেক সদস্য ও সমর্থক রয়েছে।
কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. রফিকুল ইসলাম দৈনিক বাংলাকে বলেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বিভিন্ন সন্ত্রাসী গ্রুপ তাদের আধিপত্য বিস্তার করার জন্য এসব সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করে থাকে। আগুন নাশকতা এসব মাঝেমধ্যে বিভিন্ন কারণে হয়ে থাকে। তবে কিছু কিছু ঘটনা আমরা সন্দেহ করি এগুলো নাশকতা। আমরা আরসা বলে কিছু পাইনি। তবে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সন্ত্রাসী গ্রুপ আছে। যারা উগ্রবাদী কর্মকাণ্ডে জড়াবে তাদের বিরুদ্ধে আমাদের সমন্বিত অভিযান অব্যাহত থাকবে।
রোহিঙ্গা ইয়ুথ অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিষ্ঠাতা খিন মং বলেন, রোহিঙ্গাদের অধিকারের জন্য লড়াই করার দাবি করেছিল আরসা। তখন তাদের বিশ্বাস করেছিল রোহিঙ্গারা। কিন্তু এখন সাধারণ রোহিঙ্গারাও মনে করে আরসা মিয়ানমারের এজেন্ট হিসেবে কাজ করছে। যারা প্রত্যাবাসনের কথা বলছেন তাদের হত্যা করা হচ্ছে। তাই আরসার ওপর তাদের আর বিশ্বাস নেই।
বাগেরহাটে নিষিদ্ধ সংগঠন উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি জুয়েল হাসান সাদ্দামের স্ত্রী ও শিশুপুত্রের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্রবার দুপুরে উপজেলার সাবেকডাঙ্গা গ্রাম থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় স্ত্রীর এবং মেঝে থেকে শিশুপুত্রের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ময়নাতদন্তের জন্য নিহতদের মরদেহ বাগেরহাট ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
নিহতেরা হলেন- ছাত্রলীগ নেতার স্ত্রী কানিজ সুবর্ণা স্বর্ণালী (২২) এবং শিশুপত্র নাজিম হোসেন। স্বর্ণালী জাতীয় পার্টির নেতা রুহুল আমিন হাওলাদারের মেয়ে। বছর পাঁচেক আগে ছাত্রলীগ নেতা সাদ্দামের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। নাজিম ছিল এই দম্পতির একমাত্র সন্তান। ছাত্রলীগ নেতা জুয়েল হাসান সাদ্দাম বর্তমানে বিভিন্ন মামলায় যশোর কারাগারে রয়েছেন।
স্বর্ণালীর ভাই শুভ জানান, দীর্ঘদিন ধরে স্বামী কারাবন্দি থাকায় হতাশাগ্রস্ত হয়ে স্বর্ণালী প্রথমে তার শিশুসন্তানকে হত্যা করেন এবং পরে আত্মহত্যা করেন বলে তাদের ধারণা।
শুভ আরও জানান, ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর গোপালগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার হন জুয়েল হাসান সাদ্দাম। স্বর্ণালী তার স্বামীকে খুব ভালোবাসতেন এবং তাকে কারাগার থেকে মুক্ত করার জন্য দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্নভাবে চেষ্টা করছিলেন। এ কারণে তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন এবং হতাশায় ভুগছিলেন। হতাশা থেকেই প্রথমে ৯ মাসের শিশুসন্তান বালতিতে থাকা পানিতে চুবিয়ে হত্যার পর আত্মহত্যা করেছেন।
শুভ জানান, সাদ্দামের বাড়িতে তার মা, বোন, স্ত্রী ও সন্তান একসঙ্গে বসবাস করতেন স্বর্ণালী।
স্বর্ণালীর বাবা রুহুল আমিন হাওলাদার বলেন, ‘আমার মেয়ে আত্মহত্যাই করেছে। আমরা কাউকে দোষ দিতে চাই না। ময়নাতদন্ত ছাড়া মেয়ে ও নাতনির মরদেহ নেওয়ার জন্য আমরা আবেদন করেছি। এখন প্রশাসন যে সিদ্ধান্ত নেয়।’
বাগেরহাটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. শামীম হোসেন বলেন, ‘খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ দুটি বাগেরহাট জেলা হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। আজ সকালে ময়নাতদন্ত হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘নিহতের পরিবার, শ্বশুর বাড়ির লোক ও স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী নিজের সন্তানকে হত্যার পরে ওই নারী আত্মহত্যা করেছেন। মূলত ময়নাতদন্তের পরে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। আইনগতব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
জুলাই আন্দোলনে সম্মুখ সারির যোদ্ধা শহীদ শরিফ ওসমান হাদির স্মরণে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) ‘এই সংসদ মনে করে রাজনৈতিক লড়াই নয় সাংস্কৃতিক লড়াই পারে আধিপত্যবাদ রুখতে’ শীর্ষক বিতর্ক অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে পক্ষ বিপক্ষ দল নানা তথ্য উপস্থাপনায় নিজ দলের পক্ষে যুক্তিতর্ক খণ্ডন করেন। শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) বিকাল ৩টার দিকে শিক্ষার্থীদের আয়োজনে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাদ্দাম হল-সংলগ্ন কেন্দ্রীয় ক্রিকেট মাঠে বিতর্কটি অনুষ্ঠিত হয়। বিতর্ক শেষে বিচারকরা উভয় দলকেই বিজয়ী হিসেবে পুরস্কার প্রদান করেন।
এ সময় উপস্থিত তানভীর মাহমুদ মণ্ডল বলেন, ‘শহীদ শরিফ ওসমান হাদী ভাই তার লড়াই আসলে কালচারাল লড়াই দিয়েই শুরু করেছিলেন। তিনি কালচারাল সেন্টার তৈরি করেছিলেন এবং সেখানে এমন কিছু মানুষ এমন কিছু সহযোদ্ধা রেখে গিয়েছেন যারা ভাইয়ের সেই কালচারাল লড়াইটা এখনো টিকিয়ে রেখেছেন এবং ইনশাআল্লাহ ভবিষ্যতেও টিকিয়ে রাখবেন। কালচারাল লড়াইয়ে ইস্টাব্লিশমেন্টের জন্য রাজনৈতিক বন্দোবস্তও দরকার।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের ইসলামিক যে কালচারা আছে সেগুলোকে কালচারাল ফ্যাসিস্টরা একঘরে করে রেখেছে এবং ইসলামিক কোনো বয়ান দিলেই সেটাকে মৌলবাদ ট্যাগিং দিচ্ছে। কালচারাল লড়াইয়ের সাথে সাথে রাজনৈতিক বন্দোবস্তটাও দরকার। তা ছাড়া শুধু কালচারাল লড়াই দিয়ে যুগের পর যুগ পার হলেও আমরা আমাদের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারব না।’
ফেনী সদর উপজেলার ছনুয়া ইউনিয়নে রাফা ফাউন্ডেশনের আয়োজনে ‘কৃতী শিক্ষার্থী সংবর্ধনা ও ক্যারিয়ার গাইডলাইন’ শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) বিকালে ছনুয়া মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে আয়োজিত এই সেমিনারে প্রায় ১৬০ জন শিক্ষার্থী, শিক্ষক এবং গণ্যমান্য ব্যক্তিরা অংশগ্রহণ করেন।
ফাউন্ডেশনের সভাপতি ড. সামসুদ্দিন ফরহাদের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক নুর হোসেনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপউপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মো. কামাল উদ্দিন। এ ছাড়া আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, কিশোরগঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপউপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. সফিকুল ইসলাম এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় রাজনীতি বিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক এ. জি. এম নিয়াজ উদ্দিন।
সেমিনারের উদ্দেশ্য ছিল, কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা প্রদান, পুরস্কার বিতরণ এবং অভিজ্ঞ রিসোর্স পারসনদের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের ক্যারিয়ার গাইডলাইন প্রদান করা।
চবি রাজনীতি বিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক এ.জি.এম নিয়াজ উদ্দিন বলেন, ‘আজকের এই অসাধারণ আয়োজনে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠান আমাকে অভিভূত করেছে। রাফা ফাউন্ডেশনের এমন উদ্যোগ অত্র অঞ্চলের শিক্ষায় যুগান্তকারী প্রভাব ফেলবে, এটি আমি বিশ্বাস করি।’
কিশোরগঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপউপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. সফিকুল ইসলাম তার বক্তব্যে বলেন, ‘শিক্ষা ছাড়া একটি জাতি কখনো এগিয়ে যেতে পারে না। জ্ঞান অর্জনের জন্য আমাদের পরিশ্রমী হতে হবে। বড় বড় মানুষ হতে হলে পরিশ্রমের কোনো বিকল্প নাই।’
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপউপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মো. কামাল উদ্দিন বলেন, ‘গ্রামকে ভালোবাসতে না পারলে প্রকৃত মানুষ হওয়া সম্ভব না। গ্রাম অঞ্চলের সুন্দর পরিবেশকে ইতিবাচকভাবে কাজে লাগাতে না পারলে আমরা পিছিয়ে পড়ব। রাফা ফাউন্ডেশন গ্রামে এ রকম একটি আয়োজন করেছে দেখে আমি খুবই খুশি হয়েছি। স্বপ্ন দেখার পাশাপাশি পরিশ্রমী হতে হবে, নিয়মিত পরিশ্রম করে যেতে হবে।’
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন, ছনুয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ইউসুফ আলমগীর, জামায়াতের আমীর মুহাম্মদ ইমরান এবং বিভিন্ন স্কুল ও মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষকরা।
চট্টগ্রাম নগরীর বায়েজিদ থানা এলাকায় আনিস নামক এক যুবককে নৃশংসভাবে হত্যার পর তার দেহ টুকরো টুকরো করে বিভিন্ন খালে ফেলে দেওয়ার একটি লোমহর্ষক ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে। গত বুধবার (২১ জানুয়ারি) নিহতের দুটি হাত ও একটি পা উদ্ধার করার পর শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) বিকালে অক্সিজেন এলাকার লোহারপুল সংলগ্ন খাল থেকে বিচ্ছিন্ন মাথাটি উদ্ধার করে পুলিশ।
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) বায়েজিদ জোনের সহকারী কমিশনার মারেফুল করিম এ প্রসঙ্গে জানান যে, দেহাংশগুলো শনাক্তের মাধ্যমে তদন্ত শুরু হয়েছে এবং শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) মাথা উদ্ধারের ফলে হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয়েছে। এই ঘটনায় জড়িত সন্দেহে সুফিয়া নামের এক নারীকে ইতিমধ্যে আটক করা হয়েছে এবং শনিবার (২৪ জানুয়ারি) সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে ঘটনার বিস্তারিত জানানো হবে।
তদন্ত ও স্থানীয় সূত্র অনুযায়ী, গত মঙ্গলবার রাতে সুফিয়া আনিসকে ডেকে নেওয়ার পর প্রথমে শিল-পাটা দিয়ে মাথায় আঘাত করেন এবং পরে দা দিয়ে ঘাড়ে কোপ দিয়ে তাঁকে হত্যা করেন। এরপর মরদেহটি পাঁচ টুকরো করে নগরীর বিভিন্ন খালে ফেলে দেওয়া হয়। নিহতের স্বজনদের দাবি, সুফিয়াকে দেওয়া প্রায় ২ লাখ ৮০ হাজার টাকা ফেরত চাওয়ার কারণেই আনিসকে প্রাণ দিতে হয়েছে।
অন্যদিকে, অভিযুক্ত সুফিয়ার পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে, আনিস অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ছবি ও ভিডিও দিয়ে তাঁকে ব্ল্যাকমেইল করছিলেন, যার ফলে ক্ষুব্ধ হয়ে সুফিয়া এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে থাকতে পারেন। নৃশংস এই ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে বর্তমানে পুলিশি তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
ঢাকা-সিলেট করিডর মহাসড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় নরসিংদীর রায়পুরায় বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমানের ম্যুরালটি অপসারণের পর পুনরায় নির্মাণেরকাজ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) দুপুর ১২টায় উপজেলার মাহমুদাবাদ এলাকায় এই পুনর্নির্মাণকাজের উদ্বোধন করেন রায়পুরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাসুদ রানা। মূলত মহাসড়ক প্রশস্তকরণের কাজ নির্বিঘ্ন করতে আগের স্থাপনাটি সাময়িকভাবে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল এবং বর্তমানে আগের নকশা অনুসরণ করেই নির্মাণকাজ শুরু করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর (সওজ) এবং প্রকল্পের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ম্যুরালটি অপসারণ করে। তবে এক্সকাভেটর দিয়ে ম্যুরালটি ভাঙার ভিডিও ও ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে জনমনে বিভ্রান্তি ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়। এই প্রেক্ষাপটে সওজ ও উপজেলা প্রশাসন নিশ্চিত করেছে যে, ‘বীরশ্রেষ্ঠ মতিউরনগর’ নামক এই স্থাপনাটি সাময়িকভাবে সরানো হয়েছে এবং এটি বীরশ্রেষ্ঠের প্রতি কোনো ধরনের অবহেলার বহিঃপ্রকাশ নয়। নতুন পরিকল্পনায় ম্যুরালটি আগের চেয়ে আরও বড় পরিসরে তৈরি করা হচ্ছে। আগে ম্যুরালটির আয়তন ১৬ ফুট বাই ১৬ ফুট থাকলেও এখন তা ৩০ ফুট বাই ৩০ ফুট করা হচ্ছে, যাতে দূর থেকেও এটি পথচারীদের দৃষ্টিগোচর হয়।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমানের স্মৃতির প্রতি যথাযথ শ্রদ্ধা প্রদর্শন করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাসুদ রানা বলেন, ‘আমরা চেয়েছিলাম বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমানের ম্যুরালটি রেখেই মহাসড়ক প্রশস্তকরণের কাজ চালিয়ে যেতে। কিন্তু এটি সড়কের মাঝখানে পড়ে যাওয়ায় সাময়িকভাবে অপসারণ করতে হয়। মহাসড়কের জন্য নির্ধারিত জায়গার পরই আগের চেয়ে বড় আকারে ম্যুরালটি নির্মিত হচ্ছে। আগামী ২৬ মার্চের আগেই নির্মাণকাজ শেষ করা হবে।’ নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই এই ম্যুরালটি পুনর্নির্মিত হয়ে দেশপ্রেমের নিদর্শন হিসেবে পুনরায় দৃশ্যমান হবে বলে আশা প্রকাশ করেছে স্থানীয় প্রশাসন।
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের বিশেষ উদ্যোগে শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) ঢাকা-ময়মনসিংহ সড়ক-সংলগ্ন আব্দুল্লাহপুর ফ্লাইওভারের নিচের অংশে একটি ব্যাপক পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে। নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে এই এলাকার সড়ক ও আশপাশের স্থান পরিষ্কার করার লক্ষ্যে সংস্থাটি এই পদক্ষেপ গ্রহণ করে। পরিচ্ছন্নতা কাজে সরাসরি অংশ নিয়ে কর্মী রফিকুল ইসলাম জানান, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রধান কার্যালয়ের নির্দেশনা অনুসরণ করে আজকে আমরা এখানে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা করছি। নিয়মিত পরিচ্ছন্নতার অভিযানের অংশ হিসেবে আজ ঢাকা ময়মনসিংহ সড়ক-সংলগ্ন আব্দুল্লাহপুর ফ্লাইওভারের নিচে অংশের সড়কে পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে।
কেবল রাজপথ নয়, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন তাদের আওতাধীন এলাকার পানি প্রবাহ সচল রাখতে বিভিন্ন খাল ও জলাধারেও নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। সংস্থাটির দেওয়া তথ্যানুযায়ী, ২৯টি খাল এবং একটি রেগুলেটিং পন্ডের সীমানা সুনির্দিষ্ট করার পাশাপাশি খালের বর্জ্য অপসারণে বর্তমানে ৩৬০ জন পরিচ্ছন্নতাকর্মী নিরলসভাবে কাজ করছেন। ইতোমধ্যে খালের পাড়ে ১ হাজার ৩০০টি সীমানা পিলার স্থাপন করা হয়েছে এবং পুরো ব্যবস্থাপনাকে প্রযুক্তিনির্ভর করতে জলাধারগুলোর জিআইএস ডাটাবেইজ ও হটস্পট ম্যাপ প্রস্তুত করা হয়েছে। এ ছাড়া আধুনিক নগর ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে ডিএনসিসির ৩০ জন কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে বিশেষ জিআইএস প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে।
শহরের জলাবদ্ধতা নিরসনে পাম্পিং স্টেশনগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধিতেও ব্যাপক গুরুত্ব দিচ্ছে ডিএনসিসি। বর্তমানে রামপুরা পাম্পিং স্টেশনে বিদ্যমান পাঁচটি পাম্পের পাশাপাশি নতুন একটি উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন পাম্প স্থাপন করা হয়েছে। অন্যদিকে কল্যাণপুর পাম্পিং স্টেশনে সচল পাঁচটি পাম্পের পাশাপাশি ১৬ কিউমেক ক্ষমতা সম্পন্ন একটি নতুন পাম্প হাউস নির্মাণেরকাজ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। ইতোমধ্যে কল্যাণপুর রিটেনশন পন্ড থেকে প্রায় ১.১২ লাখ ঘন মিটার স্লাজ ও মাটি অপসারণের মাধ্যমে জলাধারটির পানি ধারণ ক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হয়েছে। প্রধান পাম্পিং স্টেশনগুলোর পাশাপাশি মিরপুর ও আব্দুল্লাহপুরে অবস্থিত দুটি ছোট পাম্প স্টেশনকেও রক্ষণাবেক্ষণের মাধ্যমে জরুরি প্রয়োজনের জন্য সার্বক্ষণিক প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
'স্মৃতির টানে প্রিয় প্রাঙ্গণে, এসো মিলি প্রাণের বন্ধনে' - এই স্লোগানকে সামনে রেখে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) ১৯৯৬–৯৭ ব্যাচের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে তিন দিনব্যাপী বর্ণাঢ্য পুনর্মিলনী অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) সকাল ১১টায় বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে পুনর্মিলনীর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় এই মিলনমেলা। এরপর ক্যাম্পাসজুড়ে বের হয় বর্ণাঢ্য র্যালি। বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার থেকে শুরু হয়ে পরিচিত সড়ক ঘুরে র্যালিটি গিয়ে শেষ হয় হেলিপ্যাডে।
র্যালি শেষে অ্যালামনাই ও তাদের সন্তানদের নিয়ে শুরু হয় ক্রীড়া প্রতিযোগিতা। এরপর বিকেল ৪টায় একটি সেমিনার অনুষ্ঠিত হবে। সন্ধ্যায় পিঠা উৎসব, অ্যালামনাইদের অংশগ্রহণে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, র্যাফেল ড্র, আতশবাজি এবং আমন্ত্রিত অতিথিদের নিয়ে সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা এবং সবশেষে গালা ডিনারের মাধ্যমে সমাপ্ত হবে আজকের অনুষ্ঠান।
আজ শনিবার অ্যালামনাইরা তাদের নিজ নিজ হলগুলো ঘুরে স্মৃতিচারণ করবেন। এরপর সকাল ১১টায় ১৯৯৬-৯৭ ব্যাচের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে একটি উন্মুক্ত আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে।
পুনর্মিলনীর আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মো. বজলুর রহমান মোল্যা বলেন, আমাদের ব্যাচ ১৯৯৬-৯৭ সেশনের পুনর্মিলনী-২০২৬ অনুষ্ঠানে দূর-দূরান্ত থেকে বন্ধু ও তাদের পরিবার-পরিজনের উপস্থিতি বন্ধুত্বের দৃঢ়তা ও অঙ্গীকারের উজ্জ্বল প্রমাণ। এই পুনর্মিলনী অতীতের স্মৃতি, বর্তমানের আনন্দ এবং ভবিষ্যতের প্রত্যাশাকে একসূত্রে বেঁধেছে।
তিনি বলেন, রিইউনিয়ন-২০২৬ উপলক্ষে প্রকাশিত স্মারক 'সতীর্থ ৯৬-৯৭' স্মারক প্রকাশনাটি হোক এই পুনর্মিলনের স্থায়ী দলিল এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য মূল্যবান আর্কাইভ। প্রয়াত বন্ধুদের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করে তিনি তাদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
পুনর্মিলনীর আয়োজক কমিটির সদস্য সচিব এস. এম. মুসা তালুকদার চমক বলেন, রি-ইউনিয়ন কেবল মিলনমেলা নয়, এটি পারস্পরিক সহযোগিতা, স্মৃতি সংরক্ষণ এবং সম্মিলিত লক্ষ্য নির্ধারণের নাম। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত, প্রতিটি সম্পর্ক এবং প্রতিটি অভিজ্ঞতা আমাদের আজকের অবস্থানে পৌঁছাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। তাই এসব স্মৃতি লিপিবদ্ধ করে 'সতীর্থ ৯৬-৯৭' এ সংরক্ষণ করা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য মূল্যবান সম্পদ।
ডলারের বিনিময় হার বৃদ্ধি ও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতির প্রভাবে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পের ব্যয় পুনঃনির্ধারণ করা হলেও এতে বাংলাদেশ সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন (জিওবি) খাতে প্রায় ১৬৬ কোটি টাকা সাশ্রয় হয়েছে।
প্রকল্প সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের অধীন বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের বাস্তবায়নাধীন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পটি ২০১৬ সালের ৬ ডিসেম্বর একনেক সভায় অনুমোদিত হয়। সেসময় প্রকল্পটির মোট ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছিল ১ লাখ ১৩ হাজার ৯২ কোটি টাকা এবং মেয়াদ ধরা হয় ডিসেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত। তবে দীর্ঘমেয়াদি প্রকল্প বাস্তবায়নের বাস্তবতা বিবেচনায় প্রথম সংশোধিত উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনায় (ডিপিপি) প্রকল্পের মেয়াদ ২০২৮ সালের জুন পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে।
এ বিষয়ে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পের উর্ধ্বতন তথ্য কর্মকর্তা সৈকত আহমেদ এর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বর্তমানে উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) সংশোধনের কাজ চলমান রয়েছে।
সংশোধিত প্রস্তাব অনুযায়ী প্রকল্পটির মোট প্রাক্কলিত ব্যয় দাঁড়াচ্ছে ১ লাখ ৩৮ হাজার ৬৮৫ কোটি টাকা। যদিও সামগ্রিক ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে, তবে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো- জিওবি খাতে ব্যয় ১৬৬ কোটি টাকা কমেছে, ফলে জাতীয় বাজেটের ওপর সরকারের সরাসরি চাপ কিছুটা হ্রাস পেয়েছে।
প্রকল্প অনুমোদনের সময় প্রতি মার্কিন ডলার ৮০ টাকা ধরে ব্যয় হিসাব করা হয়েছিল। কিন্তু গত ৯ বছরে ডলারের বিনিময় হার বেড়ে প্রায় ১২২.৪০ টাকা হওয়ায় বৈদেশিক ঋণের অংশ টাকায় রূপান্তরিত হয়ে প্রকল্প ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে। এ বাস্তবতায় সংশোধিত ডিপিপিতে বিভিন্ন খাতে ব্যয় পুনর্বিন্যাস করা হয়েছে।
সংশোধিত প্রস্তাবে ৩৪টি খাতে ব্যয় বৃদ্ধি এবং ৪৯টি খাতে বরাদ্দ হ্রাস করা হয়েছে। জনবল ব্যয়, ভূমি অধিগ্রহণ ক্ষতিপূরণ, বিদ্যুৎ বিল ও পরামর্শক খাতে সাশ্রয়ের মাধ্যমে উল্লেখযোগ্য অর্থ সাশ্রয় সম্ভব হয়েছে। পাশাপাশি, প্রকল্প বাস্তবায়নের অভিজ্ঞতা থেকে উদ্ভূত প্রয়োজন মেটাতে ১০টি নতুন খাত সংযোজন করা হয়েছে।
দীর্ঘমেয়াদি পরিচালনা নিশ্চিত করতে অপারেশন ও রক্ষণাবেক্ষণ (O&M) সংক্রান্ত সেবা চুক্তি এবং খুচরা যন্ত্রাংশ সরবরাহ চুক্তির বিষয়েও আলোচনা চলমান রয়েছে। এছাড়া আন্তঃরাষ্ট্রীয় চুক্তির আওতায় রাশিয়ান ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিদেশি জনবলের আবাসন সুবিধা নিশ্চিত করতে গ্রিনসিটি আবাসিক এলাকার অসমাপ্ত ভবন সম্পন্ন এবং নতুন অধিগ্রহণকৃত প্রায় ৬.০৬ একর জমিতে প্রয়োজনীয় স্থাপনা নির্মাণের পরিকল্পনাও সংশোধিত প্রস্তাবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
কোভিড-১৯ মহামারী, রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধজনিত বৈশ্বিক পরিস্থিতি, সরবরাহ চেইনের সীমাবদ্ধতা এবং প্রকল্পের বাস্তব অগ্রগতি বিবেচনায় Joint Coordination Committee (JCC) ঋণচুক্তির মেয়াদ বাড়ানোর সুপারিশ করে। এর ফলে বিদ্যুৎকেন্দ্রের ইউনিট-২-এর প্রভিশনাল টেকওভার সময়সীমা ২০২৭ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে।
পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে জানা যায়, একই VVER-1200 প্রযুক্তি ব্যবহার করে হাঙ্গেরিতে দুই ইউনিটের পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে ব্যয় হয়েছে প্রায় ১৩.২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, মিশরে ৪ ইউনিটে ৩০ বিলিয়ন ডলার, তুরস্কে রাশিয়ার মালিকানাধীন ৪ ইউনিটে ২০ বিলিয়ন ডলার এবং বেলারুশে ২ ইউনিটে ১১ বিলিয়ন ডলার। এসব প্রকল্পের সঙ্গে তুলনা করলে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ ব্যয় আন্তর্জাতিকভাবে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে মনে করছে কমিশন।
অন্যদিকে, ভারতের কুদানকুলাম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে VVER-1000 প্রযুক্তির পঞ্চম ও ষষ্ঠ ইউনিটের ক্ষেত্রে শুধুমাত্র যন্ত্রপাতি সরবরাহেই ব্যয় হয়েছে প্রায় ৬.৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। ভারতের পারমাণবিক শক্তিতে পূর্ব অভিজ্ঞতা, প্রশিক্ষিত জনবল এবং বিদ্যমান অবকাঠামোর কারণে তুলনামূলক কম ব্যয়ে প্রকল্প বাস্তবায়ন সম্ভব হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
উল্লেখ্য, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ইউনিট-১-এর কমিশনিং কার্যক্রম বর্তমানে চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে, যা দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। বিদ্যুৎকেন্দ্রটির দুই ইউনিট চালু হলে জাতীয় গ্রিডে মোট ২,৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ যুক্ত হবে।
বিদ্যাদেবী সরস্বতীর চরণে পুষ্পাঞ্জলি নিবেদন, বাণী অর্চনা ও বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) রাজধানীসহ সারাদেশে উৎসবমুখর পরিবেশে সরস্বতী পূজা উদযাপিত হয়েছে। প্রতিবছর মাঘ মাসের শুক্ল পক্ষের পঞ্চমী তিথিতে শ্বেতশুভ্র কল্যাণময়ী এই দেবীর বন্দনা করা হয়, যা সনাতন ধর্মাবলম্বীদের কাছে ‘বসন্ত পঞ্চমী’ হিসেবে পরিচিত। জ্ঞান, বিদ্যা, সুর ও শক্তির আধার হিসেবে দেবী সরস্বতীর এই আরাধনাকে ঘিরে সারাদেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও মন্দিরগুলোতে ছিল উৎসবের আমেজ। ঢাক-ঢোল-কাঁসর, শঙ্খ আর উলুধ্বনিতে প্রতিটি পূজা মণ্ডপ মুখরিত হয়ে ওঠে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্যবাহী জগন্নাথ হল ছিল এই উৎসবের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র। সেখানে চারুকলা অনুষদের শিক্ষার্থীদের নির্মিত দৃষ্টিনন্দন বিশাল সব সরস্বতী প্রতিমা ভক্ত ও দর্শনার্থীদের বিশেষভাবে আকৃষ্ট করেছে। এবার জগন্নাথ হলের খেলার মাঠে ৭৬টিরও বেশি মণ্ডপে দেবী সরস্বতীর আরাধনা করা হয়। শুক্রবার সকাল ৭টার দিকে প্রতিমা স্থাপনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে পূজার কার্যক্রম শুরু হয় এবং পরবর্তীতে পুষ্পাঞ্জলি ও প্রসাদ বিতরণ করা হয়। জগন্নাথ হলের পাশাপাশি রোকেয়া হল, শামসুন্নাহার হল ও কবি সুফিয়া কামাল হলসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী হলগুলোতেও পৃথকভাবে পূজার আয়োজন ছিল। এই ধর্মীয় উৎসবে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের পাশাপাশি অন্য ধর্মের শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ অসাম্প্রদায়িক চেতনা ও সম্প্রীতির এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশাপাশি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়েও বড় পরিসরে পূজার আয়োজন করা হয়, যেখানে ২৩টি প্রতিমা স্থাপন করা হয়েছিল। রাজধানীর রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশন, সিদ্ধেশ্বরী মন্দির, বনানী পূজা মণ্ডপ এবং শাঁখারীবাজার ও তাঁতীবাজারের মণ্ডপগুলোতেও ছিল ভক্তদের উপচে পড়া ভিড়। জাতীয় প্রেস ক্লাবে সনাতন ধর্মাবলম্বী সাংবাদিকরা বাণী অর্চনার আয়োজন করেন। এছাড়া রাজধানীর বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছোট শিশুদের নিয়ে সরস্বতীর আরাধনায় মেতে ওঠেন শিক্ষক ও অভিভাবকরা। আজ সরকারি ছুটির দিন হওয়ায় অন্যান্য বছরের তুলনায় মণ্ডপগুলোতে ভক্ত ও দর্শনার্থীদের সমাগম ছিল চোখে পড়ার মতো, যা পুরো আয়োজনকে একটি সার্বজনীন রূপ দান করেছে।
গাজীপুরের টঙ্গীতে পৃথক দুইটি বস্তিতে অভিযান চালিয়ে মাদকদ্রব্য, দেশীয় অস্ত্র ও হাতবোমা সহ ৩৫ জনকে আটক করেছে যৌথবাহিনী। শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) ভোর চারটার দিকে যৌথবাহিনীর দুইটি দল টঙ্গীর এরশাদ নগর ও হাজী মাজার বস্তিতে এ অভিযান চালায়।
এসময় ৫শত গ্রাম হেরোইন, ৩শত ৪৭ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, ২টি দেশীয় অস্ত্র ও ৩টি হাতবোমা উদ্ধার করা হয়েছে।
অভিযান শেষে শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) সকালে সাড়ে আটটার দিকে টঙ্গীর হাজী মাজার বস্তিতে এক সংবাদ সম্মেলন এ তথ্য নিশ্চিত করেন গাজীপুর জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আবু বক্কর সিদ্দিক।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বিশৃঙ্খলা এড়াতে নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শুক্রবার ভোরে যৌথবাহিনীর পৃথক দুইটি অভিযানে টঙ্গীর এরশাদনগর ও হাজী মাজার বস্তি থেকে হেরোইন, ইয়াবা, দেশীয় অস্ত্র ও হাতবোমাসহ ৩৫ জনকে আটক করা হয়েছে।
আটককৃতদের টঙ্গী পূর্ব ও পশ্চিম থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। শুক্রবার দুপুরে মামলা শেষে আটককৃতদের গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে প্রেরণ করা হবে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের শিডিউল অনুযায়ি প্রচারনী সভা শুরু হয়েছে। প্রকাশ্যে নির্বাচনী সভায় শুরুর প্রথম দিনেই শেরপুরে বিএনপি প্রার্থীর জনসভায় মানুষের ঢল নামে। জন ভোগান্তি এড়াতে শেরপুর জেলা বিএনপি শহরের একপ্রান্তে শহীদ দারোগ আলী পৌর পার্কের এই জনসভায় দুপুর থেকেই বিভিন্ন এলাকা থেকে নেতাকর্মীরা মিছিল নিয়ে মাঠে চলে আসেন।
জেলা বিএনপির সভাপতি এড.সিরাজুল ইসলামের সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব এবিএম মামুনুর রশীদ পলাশের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন শেরপুর সদর আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সানসিলা জেবরিন প্রিয়াংকা। অন্যানের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সদর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আলহাজ্ব মোঃ হযরত আলী, শহর বিএনপির আহ্বায়ক এড.আব্দুল মান্নান পিপি, সদর উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব সাইফুল ইসলাম, জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আবু রায়হান রুপন ও কামরুল ইসলামসহ আরো অনেকে।
বিএনপি মনোনীত সারা দেশে বিএনপির সর্ব কনিষ্ঠ প্রার্থী ডাঃসানসিলা জেবরিন প্রিয়াংকা বলেন, আগামি ১২ ফেব্রুয়ারির অনুষ্ঠিতব্য সাধারণ নির্বাচনে আমি প্রিয়াংকা আপনাদের স্নেহ ধন্য বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছি। এই মনোনয়নের দেওয়ার মধ্য দিয়ে দল ও দলের চেয়ারম্যান, আগামির সুখি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্নে মুখিয়ে আছেন। তারক রহমান যে দায়িত্ব আমাকে দিয়েছেন তা মাথা পেতে নিয়েছি। কোন বক্তব্য দিতে আজ আসিনি। শাসক বা প্রশাসক নয়, সেবক হিসেবে থাকার প্রতিশ্রুতি দিতে আজ এই জনসমুদ্রে দাঁড়িয়ে তাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাচ্ছি, যারা আগামি ১২ তারিখ ভোটের মাধ্যমে তাদের সেবক নির্বাচিত করবেন। তিনি বলেন, জনাব তারেক রহমান নতুন বাংলাদেশ গড়তে নতুন পরিকল্পনা নিয়ে আগাচ্ছেন। ওই মহানায়কের পরিকল্পনার সাথে শেরপুরের জন্য আপনাদের মতামত নিয়ে একটি সুশৃংখল,সমতা ও ন্যায় ভিত্তিক অর্থনৈতিক মুক্তির একটি পরিকল্পনা আমরা আপনাদের সামনে উপস্থাপন করবো।
বক্তব্য নয়, পূর্বে অনেক ভুল থাকতে পারে তার জন্য ক্ষমা চাইতে দাঁড়িয়েছি। আমি প্রুতশ্রুতি দিচ্ছি নির্বাচিত হতে পারলে একটি শান্তির শেরপুর গড়ে তুলবো। কোন অপরাধি, চাঁদাবাজ, জুলুমকারিকে আশ্রয় প্রশ্রয় নয়। অপরাধি আমার দলের, মতের, পথের, স্বজন হলেও কোন ক্ষমা নয়। শত বাঁধার মুখে সত্য,সুন্দরটা ও নির্মোহটা বলে যাবো। তাতে কি হবে সেটা নিয়ে আমি বিন্দু মাত্র ভাববো না। আপনাদের সাথে নিয়েই অপরাধিদের প্রতিহত করা হবে ইনশাআল্লাহ।
আজ থেকে প্রচারণা শুরু হলো। আমি অনেক স্থানে যেতে পারবো আবার অনেক স্থানে যাওয় সম্ভব হবে না। আজ যারা এখানে এসেছেন তারা আমার হয়ে দলের হয়ে আমার আবেদন নিবেদন পৌছে দিবেন।
ইতিহাসের উপেক্ষিত সীমান্ত কন্যা শেরপুরের যাতে কোন জালেম, অত্যাচারি, দখলবাজ সৃষ্টি না হয়। কোন মজলুম যাতে না থাকে ও উন্নয়নে সমতার শেরপুর গড়তে চলুন আমরা সবাই এক হয়ে কাজ করি। যারা এখনও বিভ্রান্তিতে আছেন তাদের প্রতি অনুরোধ দল ও দেশকে ভালবেসে আসুন ধানের শীষের হয়ে কাজ করি।
প্রিয়াংকার বক্তব্যের সময় সারা মাঠে ধানের শীষে মুহুর্মুহু স্লোগানে মুখরিত যায়।
পানির অপর নাম জীবন হলেও কখনো কখনো পানিই আবার মানুষের বিপত্তির কারণ হয়ে ওঠে। মাগুরা সদরের পশু হাসপাতাল রোডে পৌরসভার পানি সরবরাহের পাইপ ছিদ্র হয়ে দিনের পর দিন অপচয় হচ্ছে পানি। নানা সমস্যায় ভুগতে হচ্ছে সাধারণ জনগণকে।
পৌর কর্তৃপক্ষের উদাসীনতায় দিন দিন বাড়ছে জনদুর্ভোগ।পশু হাসপাতাল রোডে বউবাজার নামে খ্যাত একটি বাজার রয়েছে। তাই সকাল থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত সড়কটি লোকে লোকারণ্য থাকে। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত সড়কটি পানিতে ভেসে যাওয়ায় চলাচলে ব্যাঘাত ঘটছে বলে জানান স্থানীয়রা। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বিষয়টি পৌর কর্তৃপক্ষকে জানালে পানির পাইপের ছিদ্র সাড়তে মিস্ত্রি পাঠানো হয়। পাইপ সারার মিস্ত্রি এসে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে ৫০০ টাকা নিয়ে আরো বেশি করে গর্ত খুঁড়ে লাল পতাকা টানিয়ে রেখে চলে যান। যাওয়ার সময় বলে যান আগামীকাল পানি যখন বন্ধ থাকে তখন এসে সেড়ে দিয়ে যাব। কিন্তু দুর্ভাগ্য দীর্ঘ ১৫ দিন কেটে গেলেও সেই আগামীকাল আর আসে না। ফলে সব সময় পানি পড়তে থাকা রাস্তাটি কর্দমাক্ত হয়ে যাওয়ায় জনগণের চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এ ব্যাপারে পৌর কর্তৃপক্ষের উদাসীনতাকে দায়ী করছেন এলাকাবাসী এবং স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।
এব্যাপারে ডিম ব্যবসায়ী মফিজ বলেন, ১৫-১৬ দিন আগে আমার দোকানের সামনে এভাবে গর্ত খুঁড়ে চলে গেছে।বলেছে কাল আসবে এখনো আসে নাই। এতে আমার দোকানের বেঁচাকেনা কমে গেছে লোকজন এসে দাঁড়াতে পারছে না।আমরা ঠিকমত চলাফেরা করতেও পারছি না। আমাদের ব্যবসার অনেক ক্ষতি হচ্ছে।
বাজার করতে আসা পথচারী বলেন, এটা আমাদের জন্য একটা মরণ ফাঁদ। আমরা কাঁদা পানি ভেঙ্গে চলতে পারছি না। তাছাড়া রাতে প্রায়ই বিদ্যুৎ থাকেনা এই সড়ক দিয়ে সব সময় লোকজন এবং যানবাহন চলাচল করে,ফলে অন্ধকারে যেকোন সময় একটা বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে। তাই আমরা কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি খুব দ্রুত যেন এর একটা সমাধান করা হয়।
পানি সরবরাহের পৌর শাখার হারুন অর রশিদ জানান, বিষয়টি আমরা জেনেছি। খুব শীঘ্রই এটা সমাধানের চেষ্টা করব।
ময়মনসিংহে সেনাবাহিনীর উদ্যোগে দরিদ্র মানুষের জন্য বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা ও কম্বল বিতরণ করা হয়েছে। শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) সকালে ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা উপজেলায় এসব সেবামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ১৯ পদাতিক ডিভিশন ও ঘটাইল অঞ্চল।
সেনাবাহিনীর সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের পক্ষ থেকে দেওয়া সংবাদ বিজ্ঞপ্তির সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) মুক্তাগাছার হাজী কাশেম আলী মহিলা ডিগ্রি কলেজ মাঠে চক্ষু চিকিৎসা সেবা পরিচালনা করা হয়। সকালে এ কার্যক্রম পরিদর্শন করেন ১৯ পদাতিক ডিভিশনের জেনারেল অফিসবার কমান্ডিং ও ঘাটাইল এরিয়ার এরিয়া কমান্ডার মেজর জেনারেল মোহা. হোসাইন আল মোরশেদ। পরে মুক্তাগাছার শারীরিক শিক্ষা কলেজ মাঠে দরিদ্রদের মধ্যে কম্বল বিতরণ করেন তিনি। সেনা প্রধানের দিকনির্দেশনায় এসব কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।
সেনাবাহিনীর উদ্যোগে পরিচালিত বিনামূল্যে চক্ষু সেবা কার্যক্রমে ২৫০ জন দরিদ্র মানুষকে চোখের চিকিৎিসা ও বিনামূল্যে চশমা প্রদান করা হয়। কম্বল বিতরণ করা হয় ৫০০ জন দরিদ্র মানুষের মধ্যে।
সেনাবাহিনীর এসব সেবা গ্রহন করা দরিদ্র মানুষেরা আনন্দ প্রকাশ করেন। প্রতি বছর সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে এসব সেবা গ্রহন করে মানুষ উপকৃত হয়।
এ সময় ৭৭ পদাতিক ডিভিশনের ব্রিগেড কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মালিক সামস উদ্দীন মুহাম্মদ মঈন, এসজিপি, এসপিপি, এএফডব্লিউসি, পিএসসিসহ ঘটাইল অঞ্চলের অন্যান্য সামরিক কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।