মিয়ানমারের চরমপন্থি সশস্ত্র সংগঠন আরসার আগের নাম ছিল আল ইয়াকিন বা ইসলামি সংগঠন। রোহিঙ্গা মুসলমানদের নিয়ে কাজ করাই ছিল তাদের উদ্দেশ্য। ২০১৩ সালের দিকে সংগঠনের নাম পাল্টে রাখা হয় আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মি বা আরসা, যদিও দলের একাংশ এখনো আল ইয়াকিন নামেই পুরোনো সংগঠনকে আকড়ে ধরে আছে। আতাউল্লাহ আবু আম্মার জুনুনি সেসময়ে হন স্যালভেশন আর্মির (আরসা) কমান্ডার ইন চিফ। এই আতাউল্লাহর জন্ম সৌদি আরবে, তার বাবা-মা আরাকান থেকে গিয়ে সৌদি আরবে স্থায়ী হন। কিন্তু জন্ম সৌদি আরবে হলেও আতাউল্লাহ পরে পাকিস্তানের করাচিতে এসে বসবাস করতেন।
রোহিঙ্গাদের অধিকার আদায় করতে ঠিক কবে মিয়ানমারে তিনি ফিরে আসেন, তা জানা যায় না। তবে তা ২০১৩ সালের আগেই অর্থাৎ আল ইয়াকিন থেকে আরসার যাত্রা শুরুর আগেই হয়েছে, তা নিশ্চিত। সংগঠনটি সশস্ত্র হয়ে উঠেছে, তা প্রথম বোঝা যায় ২০১৫-১৬ সালের দিকে। লক্ষ্য ছিল, মিয়ানমারের মুসলিম অধ্যুষিত আরাকান প্রদেশ দখল। ২০১৭ সালের মাঝামাঝি মিয়ানমারের থানায় হামলা, পুলিশের অস্ত্র লুটের ঘটনার পর সংগঠনটির বিরুদ্ধে প্রথম মনোযোগ দেয় মিয়ানমার সেনাবাহিনী। তবে ওই বছরেই আগস্টে তার নির্দেশে রাখাইনে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর তল্লাশি চৌকিতে আরকান দখল ও অস্ত্র লুট করার জন্য আবার হামলা চালায় আরসা। এ ঘটনায় ভীষণ ক্ষুব্ধ সেনাবাহিনী আরসা নির্মূলের উদ্দেশে আরকান প্রদেশে হামলা শুরু করে। তখন উত্তপ্ত হয়ে পড়ে মিয়ানমারে মুসলমানদের গ্রামগুলোর পরিস্থিতি। ওই দেশের সেনাবাহিনী ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট রাখাইনে চড়াও হয়ে অভিযান ও রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতন, হামলা ও গণধর্ষণের ঘটনা শুরুর পর নিজ দেশ ছেড়ে বাংলাদেশে পালিয়ে আসে প্রায় ১০ লাখ রোহিঙ্গা। সম্পূর্ণ মানবিক কারণে তাদের তখন আশ্রয় দেয় বাংলাদেশ সরকার। আর বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে আরসার সদস্যদের সম্পর্কে তথ্য না থাকার সুযোগে এসব রোহিঙ্গার সঙ্গে আশ্রয়প্রার্থী হিসেবে বাংলাদেশে চলে আসে আরসার কিছু সদস্য আর সমর্থকও।
উদ্দেশ্য তাদের মিয়ানমার সেনাবাহিনীর সঙ্গে লড়াই করা হলেও অস্ত্র তৈরি ও সংগ্রহ, বাহিনীর জন্য সদস্য সংগ্রহ, সদস্যদের অস্ত্র প্রশিক্ষণ দেওয়া ইত্যাদি কাজে তারা তখন থেকেই গোপনে বাংলাদেশের পাহাড়ি নির্জন এলাকাগুলো ব্যবহার শুরু করে। একই সঙ্গে রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরগুলোতে নিজেদের প্রভাব বাড়াতে তারা সেগুলোতে আধিপত্য বিস্তার শুরু করে। রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবির সর্দার বা মাঝিদের করায়ত্ত করা বা ভয় দেখানো দিয়েই এর শুরু। একই সঙ্গে নিজেদের অর্থভাণ্ডার ঠিক রাখতে মিয়ানমারের সঙ্গে বাংলাদেশের অরক্ষিত সীমান্ত অঞ্চলকে রুট হিসেবে ব্যবহার করে এদেশে মাদক চোরাচালান আরও বাড়িয়ে দেয়।
শুরুতে আরসা সম্পর্কে অন্ধকারে থাকলেও দিনের পর দিন রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরগুলোতে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে পরস্পরের মধ্যে হামলা, গুলি, হত্যার ঘটনা বাড়তে থাকায় এবং বিপুল পরিমাণ মাদকসহ রোহিঙ্গা ও তাদের প্ররোচনায় স্থানীয়দের আটক বা গ্রেপ্তাদের মধ্য দিয়ে এই চরমপন্থি সংগঠন সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পেতে শুরু করে বাংলাদেশের বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। র্যাব, এপিবিএন আরসা দমনে কঠোর অভিযান চালাচ্ছে মাঝেমধ্যেই। তার পরও তাদের গোপন তথ্য প্রকাশ হয়ে পড়া এবং বেশির ভাগ রোহিঙ্গা সশস্ত্র যুদ্ধে জড়িত হতে না চাওয়ায় আরসার নেতাসহ সদস্যরা বরাবরই আছে উৎকণ্ঠায়। রোহিঙ্গাদের মধ্যে আরসা ছাড়াও আছে আরও কিছু সশস্ত্র গ্রুপ। তবে তারা পরস্পর যেন পরস্পরের শত্রু। আরাকানে যে বিদ্রোহী সশস্ত্র গ্রুপ আরাকানের স্বাধীনতার জন্য সশস্ত্র লড়াই করে যাচ্ছে, আরাকান আর্মি, ওদের সঙ্গেও এসব গ্রুপের শত্রুতা রয়েছে। আরাকান আর্মি সাধারণভাবে সব আরাকানির জন্যে স্বাধীন আরাকান চায়, কিন্তু আরসাকে ওরা চিহ্নিত করে মুসলিম সন্ত্রাসী গ্রুপ হিসেবে। সব মিলিয়ে অস্থির হয়ে উঠছে রোহিঙ্গা শিবির।
আরসার শীর্ষ নেতা অলি আকিজ দীর্ঘদিন মিয়ানমারে আত্মগোপনে থাকলেও গত ১৯ মে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ফিরেছেন। আরসার শীর্ষ কমান্ডার আতাউল্লাহ আবু আম্মার জুনুনি এবং সেকেন্ড-ইন-কমান্ড ওস্তাদ খালেদের নির্দেশে ক্যাম্পে আধিপত্য বিস্তারের নতুন পরিকল্পনা নিয়ে অপতৎপরতা চালাচ্ছেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সূত্রে জানা যায়, রোহিঙ্গাদের সশস্ত্র গ্রুপ আরসার প্রশিক্ষণ। অস্ত্র তৈরি, আত্মগোপন, মিটিংসহ নানা কর্মকাণ্ড সেখানে সংগঠিত হতো। গত রোববার মধ্যরাতে অভিযান চালিয়ে ক্যাম্প-৪-এ গোপন বৈঠক থেকে আকিজসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, একটি দেশীয় তৈরি এলজি, একটি ওয়ানশুটার গান, ১০ রাউন্ড কার্তুজ, দুই কেজি বিস্ফোরকদ্রব্য, তিনটি মোবাইল এবং নগদ ২ হাজার ৫০০ টাকা জব্দ করা হয়।
র্যাব-১৫-এর অধিনায়ক লে. কর্নেল এইচ এম সাজ্জাদ হোসেন বলেন, ‘আমরা এ পর্যন্ত ১১২ জনের ওপরে আরসার ভিন্ন পদবিধারী নেতা গ্রেপ্তার করেছি। গত রোববারের আরসার শীর্ষ নেতা আকিজসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করি। তাদের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
২০১৭ সালে সীমান্ত পার হয়ে ভারত হয়ে বাংলাদেশে এসে ক্যাম্প-৫-এ সপরিবারে বসবাস শুরু করেন মৌলভী আকিজ। পরে আরসার হয়ে কাজ শুরু করেন তিনি। এরপর ক্যাম্প-৫-এ আরসার প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পান। নেটওয়ার্ক গ্রুপে কাজ করতেন। ক্যাম্পের বিভিন্ন তথ্য আরসা কমান্ডারদের কাছে পৌঁছে দিতেন। এভাবে শীর্ষ নেতৃত্বে পৌঁছান। রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের পক্ষে কাজ করায় ওস্তাদ খালেদের নির্দেশে রোহিঙ্গা নেতা মাস্টার মহিবুল্লাহকে হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী ছিলেন আকিজ। তা ছাড়া মতাদর্শিক দ্বন্দ্বে ক্যাম্পে সেভেন মার্ডারে সরাসরি অংশ নেন। তাদের নেতা-কর্মী আটক হলে কিছুটা দুর্বল হয়ে যায় কিন্তু আবার সক্রিয় হয়ে ওঠে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বিশাল এই জনগোষ্ঠীতে আরসা, আল-ইয়াকিনসহ অন্তত ১৫টি বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন সক্রিয়। ২০১৭ সাল থেকে এখন পর্যন্ত ছয় বছরে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সংঘর্ষের ঘটনায় প্রায় ৩০০ জন নিহত হয়েছে। মামলা হয়েছে পাঁচ হাজারের অধিক। এসব মামলার বেশির ভাগই হয়েছে মাদক ও আগ্নেয়াস্ত্র রাখার অভিযোগে।
রোহিঙ্গা নেতা ড. জোবায়ের বলেন, আরসা রোহিঙ্গা ক্যাম্প দখল করে রাজত্ব কায়েম করার জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এ পর্যন্ত তাদের দুই শতাধিক নেতা-কর্মী আটক হয়েছেন। আটক করলেও তারা আরও শক্তিশালী হয়ে উঠবে, তার কারণ তাদের রোহিঙ্গা সরকার মদদ দিয়ে যাচ্ছে। প্রত্যাবাসন বন্ধ রাখার জন্য মিয়ানমার সরকার তাদের ব্যবহার করে যাচ্ছে, যে কারণে তারা এতটা শক্তিশালী।
গত রোববার রাতে উখিয়ার মধুরছড়া ৪ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে আরসার শীর্ষ নেতাদের গ্রেপ্তার করে। সে জায়গায় ভোরে ৪০-৪৫ জন আরসা সন্ত্রাসী পাহাড় থেকে সীমানার কাঁটাতারের বেড়া অতিক্রম করে ৪ নম্বর ক্যাম্পে আসে। ঘটনাস্থলে এসে ক্যাম্পে পাহারারত রোহিঙ্গা ইলিয়াছকে তারা গুলি করে ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে হাতে, পায়ে ও তলপেটে কুপিয়ে মারাত্মক জখম করে। এতে ইলিয়াস ঘটনাস্থলেই মারা যান।
১৪ এপিবিএনের অধিনায়ক মোহাম্মদ ইকবাল বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গেলে এপিবিএন সদস্যদেরও লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ করে সন্ত্রাসীরা।
তিনি আরও বলেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে নতুন করে সংগঠিত এবং নাশকতা করার চেষ্টা করছে আরসা। মূলত আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘবদ্ধ হয়ে হামলা চালায় আরসা সন্ত্রাসীরা। এতে তারা গুলি এবং কুপিয়ে তিন রোহিঙ্গাকে হত্যা করে। আর গুরুতর আহত হয় সাতজন। হতাহতরা আরএসও সদস্য বলে জানা গেছে।
রোহিঙ্গা গবেষক অধ্যাপক ড. রাহমান নাসির উদ্দিন দৈনিক বাংলাকে বলেছেন, রোহিঙ্গাদের অধিকার আদায় করতে আরসা ২০১৭ সালের ২৫ আগস্টের দিকে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর তল্লাশি চৌকিতে হামলা চালায়। কিন্তু এটার কারণে নির্যাতনের তীব্রতায় নিজ দেশ ছেড়ে বাংলাদেশে পালিয়ে আসে প্রায় ৮ লাখ রোহিঙ্গা। সে কারণে আরসা রোহিঙ্গাদের প্রতিনিধিত্ব হয়ে উঠতে পারে নাই। বিভিন্ন সময় রোহিঙ্গাদের সঙ্গে কথা বলে জানতে পারি, রোহিঙ্গাদের এ দুর্দশার জন্য আরসা দায়ী। রোহিঙ্গাদের সঙ্গে আরসার একটা বড় গ্রুপ বাংলাদেশে এসেছে। বাংলাদেশে ৩৪টি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে তাদের অবস্থান ধরে রাখার জন্য তারা বিভিন্ন ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে এবং যখন কেউ তাদের বিরুদ্ধে কথা বলার চেষ্টা করেছে তখন তারা তাদের দমন করেছে। এর মধ্যে একজন ছিলেন মুহিব উল্লাহ। মুহিব উল্লাহ যখন রোহিঙ্গাদের নেতা হয়ে ওঠে বিশ্বের কাছে পরিচিত হন এবং আন্তর্জাতিকভাবে রোহিঙ্গাদের জন্য আন্দোলন করেন তখন তাকে নেতা হিসেবে গ্রহণ করে রোহিঙ্গারা। বাংলাদেশ যখন প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরু করে তখন রোহিঙ্গাদের রাজি করানোর জন্য মুহিব উল্লাহ সোর্স ছিল। ধীরে ধীরে মুহিব উল্লাহ প্রধান পাঁচ রোহিঙ্গা নেতার একজন হয়ে ওঠেন। ২০১৯ সালের ২৫ আগস্ট ৩ থেকে ৫ লাখ রোহিঙ্গার মহাসমাবেশ করে তাক লাগিয়ে দেন এবং আনন্দে আত্মহারা করে দেন রোহিঙ্গা ইস্যুতে লেগে থাকা বিদেশি এনজিওগুলোকে। এসব কারণে আরাকান রোহিঙ্গা সোসাইটি ফর পিস অ্যান্ড হিউম্যান রাইটস ভেঙে দেওয়ার জন্য মুহিব উল্লাহকে হত্যা করা হয়। মিয়ানমার সেনাবাহিনীর শত্রু হচ্ছে আরাকান আর্মি। আরাকান আর্মির শত্রু হচ্ছে মিয়ানমার সেনাবাহিনী। আবার মিয়ানমারের শত্রুও আরসা। মিয়ানমার নৌবাহিনী ঘোষণা দিয়ে বলছে আরকান আর্মি ও আরসা মিলে বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে। যেহেতু মিয়ানমার আরাকানে আরকান আর্মি শক্তিশালী হয়ে উঠেছে। সে কারণে আরসা ও শক্তিশালী হয়ে উঠেছে।
দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীগুলোকে সতর্ক করে দিয়ে ড. রাহমান নাসির বলেন, দুই শতাধিক আরসার নেতা-কর্মী গ্রেপ্তার করাতেই আরসা দুর্বল হয়ে পড়েছে এমন যুক্তি হয়তো সঠিক নয়। এই চরমপন্থি দলে আরও অনেক সদস্য ও সমর্থক রয়েছে।
কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. রফিকুল ইসলাম দৈনিক বাংলাকে বলেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বিভিন্ন সন্ত্রাসী গ্রুপ তাদের আধিপত্য বিস্তার করার জন্য এসব সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করে থাকে। আগুন নাশকতা এসব মাঝেমধ্যে বিভিন্ন কারণে হয়ে থাকে। তবে কিছু কিছু ঘটনা আমরা সন্দেহ করি এগুলো নাশকতা। আমরা আরসা বলে কিছু পাইনি। তবে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সন্ত্রাসী গ্রুপ আছে। যারা উগ্রবাদী কর্মকাণ্ডে জড়াবে তাদের বিরুদ্ধে আমাদের সমন্বিত অভিযান অব্যাহত থাকবে।
রোহিঙ্গা ইয়ুথ অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিষ্ঠাতা খিন মং বলেন, রোহিঙ্গাদের অধিকারের জন্য লড়াই করার দাবি করেছিল আরসা। তখন তাদের বিশ্বাস করেছিল রোহিঙ্গারা। কিন্তু এখন সাধারণ রোহিঙ্গারাও মনে করে আরসা মিয়ানমারের এজেন্ট হিসেবে কাজ করছে। যারা প্রত্যাবাসনের কথা বলছেন তাদের হত্যা করা হচ্ছে। তাই আরসার ওপর তাদের আর বিশ্বাস নেই।
পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে HEAT-ATF এর একটি সাব প্রজেক্টের সহযোগিতায় মাৎস্য বিজ্ঞান অনুষদের ফিসারিজ টেকনোলজি বিভাগের আয়োজনে ‘রিসার্চ মেথোডোলজি, ননইনভেসিভ টেকনোলজি ফর সীফুড অ্যানালাইসিস অ্যান্ড সায়েন্টিফিক রাইটিং’ বিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।
২ ফেব্রুয়ারি (সোমবার) পবিপ্রবির ছাত্রশিক্ষক কেন্দ্রের কনফারেন্স কক্ষে সকাল ৯ টা ৩০ মিনিটে পবিপ্রবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. কাজী রফিকুল ইসলাম প্রধান অতিথি হিসেবে অনুষ্ঠানের শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেন।
উক্ত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ- উপাচার্য প্রফেসর ড. এস.এম. হেমায়েত জাহান, ট্রেজারার প্রফেসর মোঃ আব্দুল লতিফ, ওশানোগ্রাফি অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মোঃ মামুন অর রশিদ, ফিশারিজ অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মোঃ সাজেদুল হক।
প্রশিক্ষণ সমন্বয়কারী হিসেবে ছিলেন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ লোকমান আলী, প্রশিক্ষণ পরিচালক হিসেবে ছিলেন মাৎস্য বিজ্ঞান অনুষদের ফিসারিজ টেকনোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. মিজানুর রহমান, মাৎস্য বিজ্ঞান অনুষদের বিভিন্ন সেমিস্টারের শিক্ষার্থীরা কর্মশালায় অংশগ্রহণ করে।
প্রথম অধিবেশনে সকাল ১০.০০-১১.৩০ পর্যন্ত গবেষণা পদ্ধতি ও ফিসারিজ সাইন্স বিষয়ে বক্তব্য রাখেন অধ্যাপক ডঃ মোহাম্মদ লোকমান আলী। দ্বিতীয় অধিবেশনে দুপুর ১২.০০- ১.০০ পর্যন্ত সামুদ্রিক খাবার বিশ্লেষণের জন্য ননইনভেসিভ টেকনোলজি বিষয়ে বক্তব্য রাখেন অধ্যাপক ডঃ মোঃ মিজানুর রহমান।
তৃতীয় অধিবেশন দুপুর ২:০০-৩:৩০ টা পর্যন্ত দেশে এবং বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য কারিগরি ফেলোশিপ/বৃত্তি বিষয়ে সেশন পরিচালনা করেন প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আতিকুর রহমান ডিন, পোস্ট গ্রাজুয়েট স্টাডিজ (পিজিএস), পবিপ্রবি। চতুর্থ অধিবেশনে বিকাল ৩:৪০-বিকাল ৪:৩০ সাইন্টিফিক রাইটিং বিষয়ে সেশন নেয় অধ্যাপক ডঃ মোঃ মিজানুর রহমান।
পরবর্তীতে প্রশ্নোত্তর পর্ব ও অংশগ্রহণকারী দের সার্টিফিকেট প্রদান ও পবিপ্রবি উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. এসএম হেমায়েত জাহান এর সমাপনী বক্তব্যের মাধ্যমে বিকাল ৫ টায় অনুষ্ঠানটির সমাপ্ত হয়।
প্রশিক্ষণ পরিচালক ও মাৎস্য বিজ্ঞান অনুষদের ফিসারিজ টেকনোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. মিজানুর রহমান বলেন, "ইউজিসি ও বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে HEAT পরিচালিত একটি সাব-প্রজেক্টের আওতায় মাৎস্য বিজ্ঞান অনুষদের বিভিন্ন বর্ষের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে সীফুড অ্যানালাইসিস ও সায়েন্টিফিক রাইটিং বিষয়ক একটি কর্মশালার আয়োজন করা হয়েছে। এই কর্মশালার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা সীফুডের গুণগত মান বজায় রাখা, সীফুড উৎপাদনে ব্যবহৃত আধুনিক ও নতুন প্রযুক্তি সম্পর্কে গভীর জ্ঞান অর্জন করতে পারছে এবং বাস্তবভিত্তিক এক্সপেরিমেন্ট করার সুযোগ পাচ্ছে, যা ভবিষ্যতে তাদের গবেষণামুখী হতে উৎসাহিত করবে।"
তিনি আরও বলেন, "নিরাপদ সামুদ্রিক খাদ্য ভোক্তাদের কাছে দ্রুত ও কার্যকরভাবে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে বিশ্বে নতুনভাবে উদ্ভাবিত বিভিন্ন প্রযুক্তি সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের অবহিত করা হচ্ছে। এর মধ্যে বিশেষভাবে ‘ফ্লোরোসেন্স ফিঙ্গারপ্রিন্টিং’ প্রযুক্তি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে, যা খুব সহজে ও অল্প সময়ে সীফুডের নিরাপত্তা ও মান যাচাই করতে সহায়তা করে। পৃথিবীর সঙ্গে তাল মিলিয়ে আমাদের মৎস্য ও সামুদ্রিক খাদ্য খাতে নিরাপত্তা ও গুণগত মান নিশ্চিত করতে এসব আধুনিক প্রযুক্তি কীভাবে প্রয়োগ করা যায়, সে বিষয়ে শিক্ষার্থীদের ধারণা দেওয়া হয়েছে, যাতে তারা ভবিষ্যতে নতুন নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবনে ভূমিকা রাখতে পারে এবং বাংলাদেশের মাৎস্য ও মাৎস্যজাত পন্য উৎপাদন ব্যবস্থাকে আরও সমৃদ্ধ করতে সক্ষম হয়।
পবিপ্রবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. কাজী রফিকুল ইসলাম বলেন, "রিসার্চ ভ্যালিডেশন একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, কারণ যেকোনো গবেষণার ক্ষেত্রেই ত্রুটি থাকা উচিত নয়। তিনি আরও বলেন, ব্যাসিক রিসার্চের ক্ষেত্রে হয়তো ৫ থেকে ১০ শতাংশ ত্রুটি নেগলিজিবল হিসেবে বিবেচিত হতে পারে, তবে ভ্যালিডেশনের ক্ষেত্রে এই পার্থক্য স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়। এ সময় তিনি গবেষণা পদ্ধতি (রিসার্চ মেথডোলজি) অনুসরণে বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন এবং গবেষণা বিষয়ক এমন প্রশিক্ষণ কর্মসূচি আয়োজনের জন্য সংশ্লিষ্টদের ধন্যবাদ জানান। পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ ধরনের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম আরও আয়োজন করা হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।"
শিক্ষাজীবন শেষে নার্স ও মিডওয়াইফারিদের কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে ‘জব ফেয়ার‘ বা চাকরি মেলার আয়োজন করেছে সিরাজগঞ্জ নার্সিং ইনস্টিটিউট।
মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি ) সকাল ১১ টায় সিরাজগঞ্জে সদরে নার্সিং ইনস্টিটিউটের হল রুমে দাতা সংস্থা বিশ্বব্যাংকের অর্থায়ন অ্যাসেট প্রকল্পের আওতায় এ মেলার আয়োজন করে প্রতিষ্ঠানটি।
সিরাজগঞ্জ নার্সিং ইনস্টিটিউটের নার্সিং ইনস্ট্রাক্টর ইনচার্জ রেহানা খাতুনের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন সিরাজগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা: আকিকুর নাহার। এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন–ডেপুটি সিভিলে সার্জন রিয়াজুল ইসলাম ,নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক ( সমন্বয় ও প্রশিক্ষক) ফরিদা ইয়াসমিন ও এসেক্ট প্রজেক্টের, মেন্টর, কাওসার আলম। এছাড়াও এসময় নার্সিং ইনস্টিটিউটের শিক্ষক–শিক্ষার্থী ও মেলায় আসা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা–কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।
আলোচনা সভা অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি আকিকুর নাহার বলেন, ‘জব ফেয়ার‘ হলো এক ধরণের প্ল্যাটফর্ম। যেখানে সুনির্দিষ্ট কোনো জবের ক্ষেত্রে যারা নিয়োগ কর্তা, নিয়োগদাতা তাদের মধ্যে একটা প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা। এটা খুবই চমৎকার উদ্যোগ। এজন্য জব ফেয়ারকে অনেক সময় বলা হয় ক্যারিয়ার এক্সপোর্ট। কাজেই এই জব ফেয়ার খুবই চমৎকার একটা প্ল্যাটফর্ম, যা কাজের সুযোগ তৈরি করে।
সিরাজগঞ্জ নার্সিং ইনস্টিটিউটের নার্সিং ইনস্ট্রাক্টর ইনচার্জ রেহানা খাতুন বলেন, আমরা প্রথমবারের মতো এই উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। যেসব প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি, সবার থেকেই সাড়া পেয়েছি। জব ফেয়ারের স্টেকহোল্ডারদের কাছে আমরা স্টুডেন্টসদের সিভি দিয়েছি। প্রতিষ্ঠানগুলো চাকরিপ্রার্থী উপযুক্ত নার্স ও মিডওয়াইফারিদের বাচাই করে কর্মসংস্থানের সুযোগ দিতে পারবেন।
অনুষ্ঠানের শেষদিকে মেলায় স্টল দেয়া ও উপস্থিত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে সম্মাননা স্মারক হিসেবে ক্রেস্ট দেয়া হয়। সিরাজগঞ্জ নার্সিং ইনস্টিটিউট কর্তৃপক্ষ সিরাজগঞ্জে প্রথমবারের মতো আয়োজিত এ ‘জব ফেয়ারে‘ সিরাজগঞ্জ জেলায় অনেকগুলো প্রতিষ্ঠানকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিলো। যাদের মধ্যে ১০টি প্রতিষ্ঠান মেলায় স্টলও দিয়েছে।
নাটোরের সিংড়ায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে যৌথ বাহিনীর অভিযানে দেশীয় অস্ত্র ও দেশীয় অস্ত্র তৈরির কাচা মাল উদ্ধার করেছে পুলিশ ও বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ।
মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) রাত ১ টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলার বামিহাল বাজারে পুলিশ ও বাংলাদেশ সেনাবাহিনী একটি মোটরসাইকেল গ্যারেজে অস্ত্র তৈরির তথ্য পেয়ে অভিযান পরিচালনা করে। এতে আব্দুল্লাহ (২৯) নামে একজনকে আটক করা হয় ও মোটরসাইকেল গ্যারেজ থেকে একটি দেশি অস্ত্র ও দেশীয় অস্ত্র তৈরির মালামাল উদ্ধার করে। পরে তাকে সিংড়া থানায় হস্তান্তর করা হয়।
আটককৃত আব্দুল্লাহ ঈশ্বরদী উপজেলার রুপপুর গ্রামের বকুলের পুত্র। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সিংড়া থানার অফিসার ইনচার্জ ওসি আব্দুন নূর।
৯ম পে স্কেল বাস্তবায়নের দাবিতে পাবনার সাঁথিয়য় মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। পাবনার সাঁথিয়য় সরকারি কর্মচারী সমন্বয় পরিষদের উদ্যোগে চলমান কর্মসূচির অংশ হিসেবে নবম পে স্কেল বাস্তবায়নের দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি ও বিক্ষোভ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) উপজেলা পরিষদের সামনে সাঁথিয়া এবং উপজেলা সরকারি কর্মচারী সমন্বয় পরিষদের সভাপতি আমিনুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং সহ-সভাপতি জসিম উদ্দিন ও সাইফুল ইসলাম এর পরিচালনায় উক্ত কর্মসূচিতে বক্তব্য দেন, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এ কেএম শামসুল হক, বোয়ালমারী কামিল মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ডক্টর আব্দুল্লাহ, সহকারী অধ্যাপক জয়নাল আবেদীন রানা, সহকারী অধ্যাপক এম এ হাই, মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির আহবায়ক নাড়িয়াগোদাই উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল হান্নান, শালঘর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক শফিকুল ইসলাম রিপন,সাঁথিয়া সরকারি কর্মচারী সমন্বয় পরিষদের সাধারণ সম্পাদক আজমল হোসেন, সাংগঠনিক বজলুর রহমান, ইসমাইল হোসেন কিরণ, আনিসুর রহমান লিটন , ডাক্তার আব্দুল্লাহ আল হাদি, কেন্দ্রিয় কমিটির সদস্য ফার্মাসিস্ট রাসেল আহমেদ সোহাগ, প্রধান শিক্ষক নজরুল ইসলাম, আরিফা আঞ্জুমান আরা, প্রমুখ।
সমাবেশে বক্তারা আরো বলেন, ২১ জানুয়ারি কমিশন রিপোর্ট জমা দিলেও অর্থ উপদেষ্টা গেজেট প্রকাশ না করে কমিটি গঠনের মাধ্যমে কালক্ষেপণ করছেন। ৬ তারিখের আগে প্রজ্ঞাপন জারি না হলে ৬ তারিখের মহাসমাবেশে অংশগ্রহণের আহ্বান জানানো সমাবেশ থেকে।
এ সময় এমপিওভুক্ত বেসরকারি স্কুল কলেজ এবং মাদ্রাসার শিক্ষকরা এবং বিভিন্ন দপ্তরের কর্মচারী কর্মকর্তারা কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন।
পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার চাকামইয়া ইউনিয়নের উত্তর চাকামইয়া মানবিক সোসাইটির উদ্যোগে পবিত্র শবে বরাত উপলক্ষে গরিব ও অসহায় মানুষের মাঝে বিনামূল্যে গরুর গোস্ত বিতরণ করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১১টার দিকে ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের উত্তর চাকামইয়া মীরা বাড়ির সামনে এ কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়। এতে সোসাইটির পক্ষ থেকে একটি গরু জবাই করে স্থানীয় অসহায় দরিদ্র পরিবার ও মিয়া বাড়ি মসজিদে গোস্ত বিতরণ করা হয়।
কর্মসূচিতে সংগঠনের সভাপতি তানজিল মীর ও সাধারণ সম্পাদক নাঈম দফাদার ও সিনিয়র সহ সভাপতি মোসাঃ এমি এর নেতৃত্বে অন্যান্য সদস্যরা অংশ নেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন, সংগঠনের সাংগঠনিক সম্পাদক মহিববুল্লা, কোষাধ্যক্ষ কাওসার সিকদার, প্রচার সম্পাদক জাকারিয়া মীর, এলী, সহ সভাপতি নোমান, হারুন মীর, হাকিম মুসুল্লি, ইদ্রিস, মহসিন, কামাল মীর, তামিম মীরসহ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ ।
সংগঠনের নেতৃবৃন্দ জানান, সমাজের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোই সংগঠনের মূল উদ্দেশ্য। তারা বলেন, ভবিষ্যতেও এ ধরনের মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
স্থানীয়রা জানান, উত্তর চাকামইয়া মানবিক সোসাইটি নিয়মিতভাবে শীতার্তদের মাঝে কম্বল বিতরণ, রমজানে ইফতার ও ঈদ সামগ্রী বিতরণসহ বিভিন্ন সামাজিক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। মানবিক উদ্যোগের কারণে সংগঠনটির কার্যক্রম এলাকায় ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে।
বগুড়ার সারিয়াকান্দিতে বাঙ্গালী নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধে অভিযান পরিচালিত হয়েছে।
গত সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) আনুমানিক বিকাল ৪ ঘটিকায় সারিয়াকান্দি উপজেলাধীন সদর ইউনিয়নের পাইকপাড়া নামক স্থানে বাঙ্গালী নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করেছেন ভ্রাম্যমান আদালতের এক্সিকিউটিভ ম্যাজিসস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আতিকুর রহমান।
অভিযানকালে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনকারীরা পালিয়ে যায়। অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের কাজে ব্যবহৃত মেশিনটি অপসারণ করা হয়।
এছাড়াও বালু উত্তোলনের কাজে ব্যবহৃত পাইপ ভেঙে বিনষ্ট করা হয়। জনস্বার্থে অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে আশ্বস্ত করেছেন ঐ কর্মকর্তা।
চট্টগ্রামের হালদা নদীতে আরেকটি মৃত ডলফিন উদ্ধার করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) বেলা দুইটার দিকে হাটহাজারী উপজেলার উত্তর মাদার্শা ইউনিয়নের রামদাস মুন্সির হাট এলাকায় নদীতে মৃত অবস্থায় ভাসমান ডলফিনটি উদ্ধার করা হয়।
ওই এলাকার বাসিন্দা মো. আলমগীর মৃত ডলফিনটি উদ্ধার করেন। পরে তিনি নৌ পুলিশ ও মৎস্য বিভাগকে জানান।
এর আগে গত ১৬ ডিসেম্বর রামদাস মুন্সির হাট এলাকা থেকেই আরেকটি মৃত ডলফিন উদ্ধার হয়েছিল; আঘাতের কারণে যেটির মৃত্যু হয়েছিল বলে বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছিলেন।
এদিকে হাটহাজারী উপজেলার সিনিয়র মৎস্য অফিসার মো. শওকত আলী বলেন, নদীর মদুনাঘাটের দিক থেকে জোয়ারের সময় ডলফিনটি ভেসে এসেছিল। এটির দৈর্ঘ্য্ চার ফুট দুই ইঞ্চি এবং প্রস্ত এক ফুট। ওজন প্রায় ২৭ কেজি। বয়স আনুমানিক ২ বছর হতে পারে।
তিনি বলেন, তিন-চারদিন আগে ডলফিনটি মারা গেছে। জালে আটকা পড়ে অথবা শক্ত কিছুর সাথে আঘাতে মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে। শরীরে বড় কোন আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। তবে পঁচন ধরেছিল। পরে সেটি মাটি চাপা দেওয়া হয়েছে।
হালদা নদীর মদুনাঘাট অংশে কিছু ড্রেজার চলাচল করে জানিয়ে সিনিয়র মৎস্য অফিসার মো. শওকত আলী বলেন, গত বছর হালদায় চারটি মৃত ডলফিন পাওয়া গেছে। এই ডলফিনটি অপ্রাপ্ত বয়স্ক। স্বাভাবিক মৃত্যুর বয়স হয়নি।
হালদা নদীর গড়দুয়ারা, রামদাস মুন্সির হাট ও মাছুয়াঘোনা এলাকায় এখনো নিয়মিত ডলফিন দেখা যায়। কিন্তু নিয়মিতভাবে ডলফিনের মৃত্যু আশঙ্কাজনক। ডলফিন রক্ষায় সবার আরো সচতেন হওয়া উচিত।
হালদা নদীতে মারাত্নক দূষণ, ইঞ্জিত চালিত ড্রেজারের অবৈধ প্রবেশ, অবৈধ জাল এর ব্যবহারের কারণে ডলফিনের মৃত্যু বাড়ছে উল্লেখ করে বিষয়টি হালদা নদীর জীববৈচিত্রের জন্য হুমকি বলেও জানান তিনি।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের হালদা রিসার্চ ল্যাবরেটরির তথ্য অনুসারে, ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বর থেকে আজ পর্যন্ত হালদায় ৪৮টি ডলফিনের মরদেহ পাওয়া গেছে।
এর আগে গত বছরের ২৫ অগাস্ট হালদা নদীর কাটাখালী খাল থেকে একটি মৃত ডলফিন উদ্ধার করা হয়েছিল। তার আগে ২০২৫ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রামের রাউজার উপজেলার পশ্চিম গুজরা ইউনিয়নের কাগতিয়া খালে একটি মৃত ডলফিন পাওয়া গিয়েছিল। গত ৫ ফেব্রুয়ারি রাউজান উপজেলার বিনাজুরি ইউনিয়নের সিপাহিঘাট এলাকায় হালদা নদী থেকে আরেকটি মৃত ডলফিন উদ্ধার করা হয়।
২০২৪ সালেও হালদায় মোট চারটি মৃত ডলফিন পাওয়া গিয়েছিল। দক্ষিণ এশিয়ায় কার্প জাতীয় মাছের অন্যতম প্রাকৃতিক প্রজনন ক্ষেত্র হালদা নদী। এই নদী দেশের মিঠাপানির ডলফিনেরও অন্যতম প্রধান বিচরণ ক্ষেত্র। এক সময় কর্ণফুলী নদীতেও ডলফিনের আনাগোনা ছিল। তবে দূষণের কারণে এখন তা খুবই কমে গেছে।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রস্তুতি পর্যবেক্ষণে মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) মৌলভীবাজার জেলায় এক বিশেষ প্রস্তুতিমূলক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
উক্ত সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে অতিরিক্ত মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মামুনূর রশীদ নির্বাচনকালীন নিরাপত্তা নিশ্চিতকল্পে বাহিনীর দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, আধুনিক প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তিনির্ভর নিরাপত্তা কৌশলের বিস্তারিত রূপরেখা তুলে ধরেন। তিনি তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে, এই সমাবেশে অংশগ্রহণকারী সদস্যরা বিগত প্রায় দেড় বছর ধরে নিরবচ্ছিন্ন যাচাই-বাছাই ও আধুনিক প্রশিক্ষণ কারিকুলামের মধ্য দিয়ে নিজেদের যোগ্য হিসেবে প্রমাণ করেছেন। নির্বাচনী নিরাপত্তার কারিগরি দিক তুলে ধরে তিনি জানান, প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে মোট ১৩ জন সদস্য সুনির্দিষ্ট দায়িত্ব পালন করবেন এবং অধিক গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে ৩ জন ও সাধারণ কেন্দ্রগুলোতে ২ জন অস্ত্রধারী সদস্য নিয়োজিত থাকবেন। এছাড়া ভোটকেন্দ্রে যেকোনো তাৎক্ষণিক পরিস্থিতি মোকাবিলায় দ্রুত ব্যবস্থা নিতে দুইজন সদস্যকে বিশেষভাবে নির্বাচনী সুরক্ষা সফটওয়্যারে ‘End User’ বা প্রথম সাড়াদানকারী হিসেবে দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে।
সমাবেশে জানানো হয় যে, মৌলভীবাজার জেলার মোট ৫৫৪টি ভোটকেন্দ্রে ৭,২০২ জন আনসার ও ভিডিপি সদস্য সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বে নিয়োজিত থাকবেন এবং একটি সুসংগঠিত দল হিসেবে কাজ করার লক্ষ্যে তাদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। অতিরিক্ত মহাপরিচালক তাঁর ভাষণে প্রতিটি সদস্যকে সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব, রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা এবং সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়ে বলেন যে, একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিতে আনসার সদস্যদের শৃঙ্খলাবোধ ও আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল ভূমিকা অত্যন্ত অপরিহার্য। তিনি বিশেষভাবে সতর্ক করে দিয়ে বলেন যে, দায়িত্ব পালনের সময় কোনো ধরনের চাপ বা প্রলোভনের কাছে নতি স্বীকার না করে বাহিনীর নির্দেশনা যেন যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়। মূলত বাহিনীর এভিএমআইএস (AVMIS) সফটওয়্যারের মাধ্যমে সকল সদস্যের তথ্য ব্যবস্থাপনা এবং তরুণ শক্তিকে অগ্রাধিকার দিয়ে নির্বাচনকালীন নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে মানিকগঞ্জ জেলায় নিরাপত্তা জোরদার করেছে যৌথবাহিনী। নির্বাচনী পরিবেশ অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করতে এক বিশেষ অভিযানে অবৈধ অস্ত্র ও বিস্ফোরক উদ্ধার করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও পুলিশ।
আজ মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি ) দুপুরে মানিকগঞ্জ পুলিশ সুপার কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, সোমবার (২ ফেব্রুয়ারী ) রাত সাড়ে ১১টার দিকে প্রাপ্ত গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলার লেছড়াগঞ্জ বাজার এলাকায় ব্রীজের নিচে যৌথবাহিনী একটি সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে পাকিস্তানে প্রস্তুতকৃত একটি রিভলবার, পাঁচটি ককটেল বোমা, দেশীয় ধারালো অস্ত্র এবং একটি বৈদ্যুতিক সংযোগযুক্ত বোমা উদ্ধার করা হয়।
উদ্ধারকৃত বৈদ্যুতিক বোমাটি সেনাবাহিনীর বোম ডিসপোজাল টিম নিরাপদে ধ্বংস করে। অস্ত্র ও অন্যান্য আলামত পরবর্তী আইনি ব্যবস্থার জন্য পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। অভিযানে সেনাবাহিনীর ৫৪ জন সদস্য ও পুলিশের ২১ জন সদস্য অংশ নেন।
সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, যৌথবাহিনী সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব ও দক্ষতার সঙ্গে অভিযানটি সম্পন্ন করেছে এবং যে কোনো ধরনের নাশকতা প্রতিরোধে তারা সর্বদা প্রস্তুত রয়েছে।
অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং গণভোট আয়োজনের লক্ষ্যে যৌথবাহিনী সার্বক্ষণিক সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বলে জানানো হয়। নির্বাচন ঘিরে মানিকগঞ্জ জেলায় নিরাপত্তা ব্যবস্থাও আরও জোরদার করা হয়েছে।
রাজবাড়ী সদর উপজেলার খানখানাপু ইউনিয়নের মল্লিকপাড়া এলাকা থেকে মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) ভোরে ওয়ান শুটারগানসহ আকরামুজ্জামান সুমন (৪০) নামের একজনকে গ্রেফতার করেছে র্যাব। সে ওই এলাকার মৃত মোস্তফা মাস্টারের ছেলে।
র্যাব জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব-১০ সিপিসি-৩ ফরিদপুর ক্যাম্পের চৌকস আভিযানিক দল ৩ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার ভোর সোয়া ৪ টার দিকে রাজবাড়ী সদর খানখানাপুর মল্লিকপাড়া এলাকার একটি বসত বাড়ীতে অভিযান পরিচালনা করে হতে ১ টি দেশীয় ওয়ান শুটারগান’সহ একজন আসামী’কে গ্রেফতার করে।
গ্রেফতারকৃত আসামীর বিরুদ্ধে কুষ্টিয়া সদর থানায় ১ টি মামলা রয়েছে। উদ্ধারকৃত আলামত ও গ্রেফতারকৃত ব্যক্তির বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় মামলা রুজুর কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানায় র্যাব।
র্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন-১০ এর সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) সিনিঃ সহকারী পুলিশ সুপার তাপস কর্মকার জানান, এই অভিযান প্রমাণ করে যে, দেশের বিরুদ্ধে যেকোনো ষড়যন্ত্র প্রতিরোধে র্যাব সদা প্রস্তুত ও সচেষ্ট। জননিরাপত্তা ও রাষ্ট্রিয় স্বার্থে র্যাব ভবিষ্যতেও সর্বোচ্চ পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করবে। র্যাব-১০ এর এই সফল অভিযানে দেশের জনগণ আরও একবার আশ্বস্ত হয়েছে যে, দেশের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় নিরাপত্তা বাহিনী হিসেবে সক্রিয় ও দক্ষতার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে।
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ৩ নং ফেরিঘাটে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে পদ্মা নদীতে মোঃ রেজাউল শিকদার (৩৫) নামে এক ব্যাক্তি নিখোঁজ হয়েছে। নিখোঁজ ব্যাক্তি বাহিরচর শাহাদাৎ মেম্বার পাড়া এলাকার বাসিন্দা মৃত মহিউদ্দিন শিকদারের ছেলে।
মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) বিকেল সাড়ে তিনটায় ৩ নম্বর ফেরিঘাট হতে নদীতে পড়ে নিখোঁজ হন তিনি। নিখোঁজ ব্যাক্তির সন্ধানে সন্ধ্যা ৬টার দিকে ডুবুরি দল উদ্ধার কাজ চলমান রেখেছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা প্রত্যক্ষদর্শী রিয়াজুল শেখ নামে একজন জানান, নিখোঁজ রেজাউল ফেরির একজন যাত্রীর সাথে পন্টুনে ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে নদীতে লাফ দিলে যাত্রীও সাথে সাথে নদীতে লাফ দেয়। স্থানীয়রা এক পর্যায়ে যাত্রীকে উঠাতে সক্ষম হলেও নিখোঁজ রেজাউল সাঁতরে পাড়ে উঠতে গিয়ে তলিয়ে যায়। স্থানীয়রা পরে ফায়ার সার্ভিস স্টেশনে ফোন দেয়। খবর পেয়ে গোয়ালন্দ ঘাট থানা পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা ঘটনাস্থলে আসে। পরে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা মানিকগঞ্জে ডুবুরি দলকে খবর দিলে তারা এসে উদ্ধার কাজ শুরু করে।
নিহতের বড় ভাই মোঃ হারুন শিকদার বলেন, জমি সংক্রান্ত বিরোধের কারণে হয়ত আমার ভাইকে নদীতে ফেলে দেয়া হয়েছে। ভাইকে খুঁজে পাওয়ার পর আমরা আইনগত ব্যবস্থা নিবো।
এ ব্যাপারে গোয়ালন্দ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের স্টেশনের লিডার মোঃ আব্দুল বাছেদ জানান, খবর পেয়ে গোয়ালন্দ ঘাট থানা পুলিশ ও আমরা ঘটনাস্থলে এসে মানিকগঞ্জ ডুবুরি দলকে খবর দিলে তারা সন্ধ্যা ৬ টার দিকে এসে উদ্ধার কাজ শুরু করে। রাত সাড়ে ৭টা পর্যন্ত উদ্ধার কাজ চলমান থাকলেও মরদেহ খুঁজে পাওয়া যায়নি। রাতে উদ্ধার কাজ চলবে কিনা এ বিষয়ে উদ্ধর্তন কতৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।
পাবনার ভাঙ্গুড়ায় সরকারি নীতিমালার তোয়াক্কা না করে ফসলি জমির মাটি বিক্রি করার অভিযোগে তিন ব্যক্তিকে কারাদণ্ড ও এক ব্যক্তিকে অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মিজানুর রহমান আদালত পরিচালনা করে এই রায় দেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত কয়েকদিন ধরে উপজেলার দিলপাশার ইউনিয়নের মাগুরা গ্রামে ফসলী জমি কেটে মাটি বিক্রি করছেন স্থানীয় বাসিন্দা সুজন খান (২৮) নাইমুল ইসলাম (২৪), মিজানুর রহমান (৪৩) ও ইকবাল হোসেন (৩২)নামে চার ব্যক্তি। এক পর্যায়ে ফসলি জমি নষ্ট করায় এবং আশেপাশের জমি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ার আশঙ্কায় এলাকার অন্যান্য জমির মালিকরা মাটি কাটতে বাধা দিলেও তোয়াক্কা করেনি এই চার ব্যক্তি।
এতে উপজেলা সহকারী কমিশনারের (ভূমি) কাছে অভিযোগ করলে এই ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করা হয়। ভ্রাম্যমান আদালতে সুজনকে পঞ্চাশ হাজার টাকা জরিমানা এবং অন্যদেরকে ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়। গত কয়েক দিনে এই চার ব্যক্তি লক্ষাধিক টাকার মাটি বিক্রি করেছেন বলে জানা যায়।
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মিজানুর রহমান বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন ২০১০ এর ১৫(১) ধারায় এসব ব্যক্তিদের কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়। ফসলি জমি রক্ষায় এই অভিযান অব্যাহত থাকবে।
শহীদ ওসমান হাদি হত্যা মামলার তদন্তে রাষ্ট্রীয় অবহেলা ও অসহযোগিতার অভিযোগ তুলে জাতিসংঘের সরাসরি তত্ত্বাবধানে আন্তর্জাতিক তদন্তের জোরালো দাবি জানিয়েছে ইনকিলাব মঞ্চ। বুধবার (৩ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই দাবি উত্থাপন করা হয়।
সংগঠনের সদস্য সচিব আবদুল্লাহ আল জাবের এ বিষয়ে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে জাতিসংঘে আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠানোর জন্য অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের প্রতি বিশেষ আহ্বান জানান। সংবাদ সম্মেলনে জাবের তদন্তের ধীরগতি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘শহীদ ওসমান হাদি হত্যা মামলাকে সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের মতো বারবার শুনানির তারিখ পেছানো হচ্ছে। আমরা স্পষ্টভাবে জানতে চাই– আর কত দিনে এই মামলার তদন্ত শেষ হবে?’ তিনি আরও অভিযোগ করেন যে মামলার বাদী হওয়া সত্ত্বেও তাকে কোনো অগ্রগতির তথ্য প্রদান করা হচ্ছে না এবং গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন রাখাসহ স্বাক্ষর জাল হওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে। ওসমান হাদিকে গুলির ৫৩ দিন অতিবাহিত হলেও প্রকৃত খুনিদের শনাক্ত না হওয়ায় তিনি অভিযোগ করেন যে তদন্তের নামে অপরাধীদের আড়াল করার চেষ্টা চলছে এবং এমতাবস্থায় লেবাননের রফিক হারিরি হত্যার নজির অনুসরণ করে আন্তর্জাতিক তদন্তই একমাত্র সমাধান।
প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাতের বিষয়ে ব্যর্থতা প্রকাশ করে আবদুল্লাহ আল জাবের বলেন, ‘গত চার দিন ধরে সব ধরনের চেষ্টা করেও ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে দেখা করা সম্ভব হয়নি। তিনি যদি সত্যিই জনগণের সরকার হন, তাহলে শহীদ ওসমান হাদির পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে এত প্রতিবন্ধকতা কেন?’ আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন যে কেবল সিসি ক্যামেরায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত সম্ভব নয়, বরং ঝুঁকিপূর্ণ ৪৫ হাজার কেন্দ্রের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে বডি ক্যামেরার আওতায় আনতে হবে এবং পেশিশক্তির ব্যবহার বন্ধ করতে হবে। সংবাদ সম্মেলনে তিনি রাজনৈতিক দলগুলোর পররাষ্ট্রনীতি ও প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত অস্পষ্ট অবস্থানের সমালোচনা করেন এবং হুঁশিয়ারি দেন যে হাদি হত্যার বিচার ও সুষ্ঠু নির্বাচন ব্যাহত হওয়ার দায়ভার নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী দলগুলোকেই বহন করতে হবে।