মিয়ানমারের চরমপন্থি সশস্ত্র সংগঠন আরসার আগের নাম ছিল আল ইয়াকিন বা ইসলামি সংগঠন। রোহিঙ্গা মুসলমানদের নিয়ে কাজ করাই ছিল তাদের উদ্দেশ্য। ২০১৩ সালের দিকে সংগঠনের নাম পাল্টে রাখা হয় আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মি বা আরসা, যদিও দলের একাংশ এখনো আল ইয়াকিন নামেই পুরোনো সংগঠনকে আকড়ে ধরে আছে। আতাউল্লাহ আবু আম্মার জুনুনি সেসময়ে হন স্যালভেশন আর্মির (আরসা) কমান্ডার ইন চিফ। এই আতাউল্লাহর জন্ম সৌদি আরবে, তার বাবা-মা আরাকান থেকে গিয়ে সৌদি আরবে স্থায়ী হন। কিন্তু জন্ম সৌদি আরবে হলেও আতাউল্লাহ পরে পাকিস্তানের করাচিতে এসে বসবাস করতেন।
রোহিঙ্গাদের অধিকার আদায় করতে ঠিক কবে মিয়ানমারে তিনি ফিরে আসেন, তা জানা যায় না। তবে তা ২০১৩ সালের আগেই অর্থাৎ আল ইয়াকিন থেকে আরসার যাত্রা শুরুর আগেই হয়েছে, তা নিশ্চিত। সংগঠনটি সশস্ত্র হয়ে উঠেছে, তা প্রথম বোঝা যায় ২০১৫-১৬ সালের দিকে। লক্ষ্য ছিল, মিয়ানমারের মুসলিম অধ্যুষিত আরাকান প্রদেশ দখল। ২০১৭ সালের মাঝামাঝি মিয়ানমারের থানায় হামলা, পুলিশের অস্ত্র লুটের ঘটনার পর সংগঠনটির বিরুদ্ধে প্রথম মনোযোগ দেয় মিয়ানমার সেনাবাহিনী। তবে ওই বছরেই আগস্টে তার নির্দেশে রাখাইনে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর তল্লাশি চৌকিতে আরকান দখল ও অস্ত্র লুট করার জন্য আবার হামলা চালায় আরসা। এ ঘটনায় ভীষণ ক্ষুব্ধ সেনাবাহিনী আরসা নির্মূলের উদ্দেশে আরকান প্রদেশে হামলা শুরু করে। তখন উত্তপ্ত হয়ে পড়ে মিয়ানমারে মুসলমানদের গ্রামগুলোর পরিস্থিতি। ওই দেশের সেনাবাহিনী ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট রাখাইনে চড়াও হয়ে অভিযান ও রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতন, হামলা ও গণধর্ষণের ঘটনা শুরুর পর নিজ দেশ ছেড়ে বাংলাদেশে পালিয়ে আসে প্রায় ১০ লাখ রোহিঙ্গা। সম্পূর্ণ মানবিক কারণে তাদের তখন আশ্রয় দেয় বাংলাদেশ সরকার। আর বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে আরসার সদস্যদের সম্পর্কে তথ্য না থাকার সুযোগে এসব রোহিঙ্গার সঙ্গে আশ্রয়প্রার্থী হিসেবে বাংলাদেশে চলে আসে আরসার কিছু সদস্য আর সমর্থকও।
উদ্দেশ্য তাদের মিয়ানমার সেনাবাহিনীর সঙ্গে লড়াই করা হলেও অস্ত্র তৈরি ও সংগ্রহ, বাহিনীর জন্য সদস্য সংগ্রহ, সদস্যদের অস্ত্র প্রশিক্ষণ দেওয়া ইত্যাদি কাজে তারা তখন থেকেই গোপনে বাংলাদেশের পাহাড়ি নির্জন এলাকাগুলো ব্যবহার শুরু করে। একই সঙ্গে রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরগুলোতে নিজেদের প্রভাব বাড়াতে তারা সেগুলোতে আধিপত্য বিস্তার শুরু করে। রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবির সর্দার বা মাঝিদের করায়ত্ত করা বা ভয় দেখানো দিয়েই এর শুরু। একই সঙ্গে নিজেদের অর্থভাণ্ডার ঠিক রাখতে মিয়ানমারের সঙ্গে বাংলাদেশের অরক্ষিত সীমান্ত অঞ্চলকে রুট হিসেবে ব্যবহার করে এদেশে মাদক চোরাচালান আরও বাড়িয়ে দেয়।
শুরুতে আরসা সম্পর্কে অন্ধকারে থাকলেও দিনের পর দিন রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরগুলোতে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে পরস্পরের মধ্যে হামলা, গুলি, হত্যার ঘটনা বাড়তে থাকায় এবং বিপুল পরিমাণ মাদকসহ রোহিঙ্গা ও তাদের প্ররোচনায় স্থানীয়দের আটক বা গ্রেপ্তাদের মধ্য দিয়ে এই চরমপন্থি সংগঠন সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পেতে শুরু করে বাংলাদেশের বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। র্যাব, এপিবিএন আরসা দমনে কঠোর অভিযান চালাচ্ছে মাঝেমধ্যেই। তার পরও তাদের গোপন তথ্য প্রকাশ হয়ে পড়া এবং বেশির ভাগ রোহিঙ্গা সশস্ত্র যুদ্ধে জড়িত হতে না চাওয়ায় আরসার নেতাসহ সদস্যরা বরাবরই আছে উৎকণ্ঠায়। রোহিঙ্গাদের মধ্যে আরসা ছাড়াও আছে আরও কিছু সশস্ত্র গ্রুপ। তবে তারা পরস্পর যেন পরস্পরের শত্রু। আরাকানে যে বিদ্রোহী সশস্ত্র গ্রুপ আরাকানের স্বাধীনতার জন্য সশস্ত্র লড়াই করে যাচ্ছে, আরাকান আর্মি, ওদের সঙ্গেও এসব গ্রুপের শত্রুতা রয়েছে। আরাকান আর্মি সাধারণভাবে সব আরাকানির জন্যে স্বাধীন আরাকান চায়, কিন্তু আরসাকে ওরা চিহ্নিত করে মুসলিম সন্ত্রাসী গ্রুপ হিসেবে। সব মিলিয়ে অস্থির হয়ে উঠছে রোহিঙ্গা শিবির।
আরসার শীর্ষ নেতা অলি আকিজ দীর্ঘদিন মিয়ানমারে আত্মগোপনে থাকলেও গত ১৯ মে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ফিরেছেন। আরসার শীর্ষ কমান্ডার আতাউল্লাহ আবু আম্মার জুনুনি এবং সেকেন্ড-ইন-কমান্ড ওস্তাদ খালেদের নির্দেশে ক্যাম্পে আধিপত্য বিস্তারের নতুন পরিকল্পনা নিয়ে অপতৎপরতা চালাচ্ছেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সূত্রে জানা যায়, রোহিঙ্গাদের সশস্ত্র গ্রুপ আরসার প্রশিক্ষণ। অস্ত্র তৈরি, আত্মগোপন, মিটিংসহ নানা কর্মকাণ্ড সেখানে সংগঠিত হতো। গত রোববার মধ্যরাতে অভিযান চালিয়ে ক্যাম্প-৪-এ গোপন বৈঠক থেকে আকিজসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, একটি দেশীয় তৈরি এলজি, একটি ওয়ানশুটার গান, ১০ রাউন্ড কার্তুজ, দুই কেজি বিস্ফোরকদ্রব্য, তিনটি মোবাইল এবং নগদ ২ হাজার ৫০০ টাকা জব্দ করা হয়।
র্যাব-১৫-এর অধিনায়ক লে. কর্নেল এইচ এম সাজ্জাদ হোসেন বলেন, ‘আমরা এ পর্যন্ত ১১২ জনের ওপরে আরসার ভিন্ন পদবিধারী নেতা গ্রেপ্তার করেছি। গত রোববারের আরসার শীর্ষ নেতা আকিজসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করি। তাদের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
২০১৭ সালে সীমান্ত পার হয়ে ভারত হয়ে বাংলাদেশে এসে ক্যাম্প-৫-এ সপরিবারে বসবাস শুরু করেন মৌলভী আকিজ। পরে আরসার হয়ে কাজ শুরু করেন তিনি। এরপর ক্যাম্প-৫-এ আরসার প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পান। নেটওয়ার্ক গ্রুপে কাজ করতেন। ক্যাম্পের বিভিন্ন তথ্য আরসা কমান্ডারদের কাছে পৌঁছে দিতেন। এভাবে শীর্ষ নেতৃত্বে পৌঁছান। রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের পক্ষে কাজ করায় ওস্তাদ খালেদের নির্দেশে রোহিঙ্গা নেতা মাস্টার মহিবুল্লাহকে হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী ছিলেন আকিজ। তা ছাড়া মতাদর্শিক দ্বন্দ্বে ক্যাম্পে সেভেন মার্ডারে সরাসরি অংশ নেন। তাদের নেতা-কর্মী আটক হলে কিছুটা দুর্বল হয়ে যায় কিন্তু আবার সক্রিয় হয়ে ওঠে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বিশাল এই জনগোষ্ঠীতে আরসা, আল-ইয়াকিনসহ অন্তত ১৫টি বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন সক্রিয়। ২০১৭ সাল থেকে এখন পর্যন্ত ছয় বছরে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সংঘর্ষের ঘটনায় প্রায় ৩০০ জন নিহত হয়েছে। মামলা হয়েছে পাঁচ হাজারের অধিক। এসব মামলার বেশির ভাগই হয়েছে মাদক ও আগ্নেয়াস্ত্র রাখার অভিযোগে।
রোহিঙ্গা নেতা ড. জোবায়ের বলেন, আরসা রোহিঙ্গা ক্যাম্প দখল করে রাজত্ব কায়েম করার জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এ পর্যন্ত তাদের দুই শতাধিক নেতা-কর্মী আটক হয়েছেন। আটক করলেও তারা আরও শক্তিশালী হয়ে উঠবে, তার কারণ তাদের রোহিঙ্গা সরকার মদদ দিয়ে যাচ্ছে। প্রত্যাবাসন বন্ধ রাখার জন্য মিয়ানমার সরকার তাদের ব্যবহার করে যাচ্ছে, যে কারণে তারা এতটা শক্তিশালী।
গত রোববার রাতে উখিয়ার মধুরছড়া ৪ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে আরসার শীর্ষ নেতাদের গ্রেপ্তার করে। সে জায়গায় ভোরে ৪০-৪৫ জন আরসা সন্ত্রাসী পাহাড় থেকে সীমানার কাঁটাতারের বেড়া অতিক্রম করে ৪ নম্বর ক্যাম্পে আসে। ঘটনাস্থলে এসে ক্যাম্পে পাহারারত রোহিঙ্গা ইলিয়াছকে তারা গুলি করে ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে হাতে, পায়ে ও তলপেটে কুপিয়ে মারাত্মক জখম করে। এতে ইলিয়াস ঘটনাস্থলেই মারা যান।
১৪ এপিবিএনের অধিনায়ক মোহাম্মদ ইকবাল বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গেলে এপিবিএন সদস্যদেরও লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ করে সন্ত্রাসীরা।
তিনি আরও বলেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে নতুন করে সংগঠিত এবং নাশকতা করার চেষ্টা করছে আরসা। মূলত আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘবদ্ধ হয়ে হামলা চালায় আরসা সন্ত্রাসীরা। এতে তারা গুলি এবং কুপিয়ে তিন রোহিঙ্গাকে হত্যা করে। আর গুরুতর আহত হয় সাতজন। হতাহতরা আরএসও সদস্য বলে জানা গেছে।
রোহিঙ্গা গবেষক অধ্যাপক ড. রাহমান নাসির উদ্দিন দৈনিক বাংলাকে বলেছেন, রোহিঙ্গাদের অধিকার আদায় করতে আরসা ২০১৭ সালের ২৫ আগস্টের দিকে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর তল্লাশি চৌকিতে হামলা চালায়। কিন্তু এটার কারণে নির্যাতনের তীব্রতায় নিজ দেশ ছেড়ে বাংলাদেশে পালিয়ে আসে প্রায় ৮ লাখ রোহিঙ্গা। সে কারণে আরসা রোহিঙ্গাদের প্রতিনিধিত্ব হয়ে উঠতে পারে নাই। বিভিন্ন সময় রোহিঙ্গাদের সঙ্গে কথা বলে জানতে পারি, রোহিঙ্গাদের এ দুর্দশার জন্য আরসা দায়ী। রোহিঙ্গাদের সঙ্গে আরসার একটা বড় গ্রুপ বাংলাদেশে এসেছে। বাংলাদেশে ৩৪টি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে তাদের অবস্থান ধরে রাখার জন্য তারা বিভিন্ন ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে এবং যখন কেউ তাদের বিরুদ্ধে কথা বলার চেষ্টা করেছে তখন তারা তাদের দমন করেছে। এর মধ্যে একজন ছিলেন মুহিব উল্লাহ। মুহিব উল্লাহ যখন রোহিঙ্গাদের নেতা হয়ে ওঠে বিশ্বের কাছে পরিচিত হন এবং আন্তর্জাতিকভাবে রোহিঙ্গাদের জন্য আন্দোলন করেন তখন তাকে নেতা হিসেবে গ্রহণ করে রোহিঙ্গারা। বাংলাদেশ যখন প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরু করে তখন রোহিঙ্গাদের রাজি করানোর জন্য মুহিব উল্লাহ সোর্স ছিল। ধীরে ধীরে মুহিব উল্লাহ প্রধান পাঁচ রোহিঙ্গা নেতার একজন হয়ে ওঠেন। ২০১৯ সালের ২৫ আগস্ট ৩ থেকে ৫ লাখ রোহিঙ্গার মহাসমাবেশ করে তাক লাগিয়ে দেন এবং আনন্দে আত্মহারা করে দেন রোহিঙ্গা ইস্যুতে লেগে থাকা বিদেশি এনজিওগুলোকে। এসব কারণে আরাকান রোহিঙ্গা সোসাইটি ফর পিস অ্যান্ড হিউম্যান রাইটস ভেঙে দেওয়ার জন্য মুহিব উল্লাহকে হত্যা করা হয়। মিয়ানমার সেনাবাহিনীর শত্রু হচ্ছে আরাকান আর্মি। আরাকান আর্মির শত্রু হচ্ছে মিয়ানমার সেনাবাহিনী। আবার মিয়ানমারের শত্রুও আরসা। মিয়ানমার নৌবাহিনী ঘোষণা দিয়ে বলছে আরকান আর্মি ও আরসা মিলে বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে। যেহেতু মিয়ানমার আরাকানে আরকান আর্মি শক্তিশালী হয়ে উঠেছে। সে কারণে আরসা ও শক্তিশালী হয়ে উঠেছে।
দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীগুলোকে সতর্ক করে দিয়ে ড. রাহমান নাসির বলেন, দুই শতাধিক আরসার নেতা-কর্মী গ্রেপ্তার করাতেই আরসা দুর্বল হয়ে পড়েছে এমন যুক্তি হয়তো সঠিক নয়। এই চরমপন্থি দলে আরও অনেক সদস্য ও সমর্থক রয়েছে।
কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. রফিকুল ইসলাম দৈনিক বাংলাকে বলেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বিভিন্ন সন্ত্রাসী গ্রুপ তাদের আধিপত্য বিস্তার করার জন্য এসব সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করে থাকে। আগুন নাশকতা এসব মাঝেমধ্যে বিভিন্ন কারণে হয়ে থাকে। তবে কিছু কিছু ঘটনা আমরা সন্দেহ করি এগুলো নাশকতা। আমরা আরসা বলে কিছু পাইনি। তবে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সন্ত্রাসী গ্রুপ আছে। যারা উগ্রবাদী কর্মকাণ্ডে জড়াবে তাদের বিরুদ্ধে আমাদের সমন্বিত অভিযান অব্যাহত থাকবে।
রোহিঙ্গা ইয়ুথ অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিষ্ঠাতা খিন মং বলেন, রোহিঙ্গাদের অধিকারের জন্য লড়াই করার দাবি করেছিল আরসা। তখন তাদের বিশ্বাস করেছিল রোহিঙ্গারা। কিন্তু এখন সাধারণ রোহিঙ্গারাও মনে করে আরসা মিয়ানমারের এজেন্ট হিসেবে কাজ করছে। যারা প্রত্যাবাসনের কথা বলছেন তাদের হত্যা করা হচ্ছে। তাই আরসার ওপর তাদের আর বিশ্বাস নেই।
সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়কমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেছেন, ‘দেশের অভ্যুদয়ের সঙ্গে যে নামটি জড়িত সেটি হচ্ছে মেজর জিয়াউর রহমান। দেশমাতৃকার টানে সাহসিকতার সঙ্গে চট্টগ্রামে প্রথম বিদ্রোহ করেছিলেন ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের একজন মেজর হিসেবে। জাতি যখন কোনো দিকনির্দেশনা পাচ্ছিলেন না, জাতি যখন হতাশাগ্রস্ত, তখন দায়িত্ব নিজ কাঁধে তুলে নিয়েছিলেন মেজর জিয়া।’
শুক্রবার (৩ জুলাই) দুপুরে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার পোমরায় শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের প্রথম সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন ও দোয়া শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সমাজকল্যাণ মন্ত্রী এসব কথা বলেন।
ডা. জাহিদ হোসেন বলেন, ‘ইতিহাস থেকে কেউ শিক্ষা নিতে চায় না। বিগত সময়ে ভুল ইতিহাস গেলানোর চেষ্টা করা হয়েছে। আমাদের বাচ্চাদেরকে এবং নতুন প্রজন্মকে ভুল ইতিহাস শেখানোর চেষ্টা করা হয়েছে। সেই শিক্ষাটা কি ২০২৪-এর ৫ আগস্ট হেলিকপ্টারে করে পালিয়ে যাওয়া? ইতিহাস তৈরি করা যায় না, ইতিহাস সৃষ্টি করা হয়। সেই ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান।’
এর আগে সমাজকল্যাণ মন্ত্রী শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের রাঙ্গুনিয়ার পোমরা জিয়ানগরস্থ প্রথম সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা জানান এবং বিশেষ মোনাজাতে অংশ নেন ও গাছের চারা রোপণ করেন। পরে তিনি রাঙ্গুনিয়া এতিম ও দুঃস্থ শিশুদের বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র পরিদর্শন করেন। প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে ৪৮তম ব্যাচের প্রশিক্ষণার্থীদের মধ্যে পোশাক ও শিক্ষা সামগ্রী বিতরণ করেন তিনি।
এ সময় ডা. জাহিদ হোসেন বলেন, ‘প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে যারা নিজেকে দুর্বল ভাবেন, তারা যাতে আর দুর্বল না ভাবেন, সেজন্য প্রশিক্ষণোত্তর এখানে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হবে। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের মতো বীরকে জাতি যাতে আজীবন শ্রদ্ধা জানাতে পারে, সম্মান জানাতে পারে, সেরকম একটি আবহ রাঙ্গুনিয়ার জিয়ানগরে করা হবে।’
চট্টগ্রাম বিভাগীয় সমাজসেবা কার্যালয়ের পরিচালক মোহাম্মদ শহীদুল ইসলামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম-৮ আসনের সংসদ সদস্য মো. এরশাদ উল্লাহ, রাঙ্গুনিয়া আসনের সংসদ সদস্য হুমাম কাদের চৌধুরী, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নাজমুল হাসান এবং এতিম ও দুঃস্থ শিশুদের বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের উপ-তত্ত্বাবধায়ক মো. ছানাউল্লাহ। অনুষ্ঠানে উপজেলা বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, ১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে নিহত হওয়ার পর প্রথমে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে রাঙ্গুনিয়ার পোমরায় দাফন করা হয়েছিল। পরে তার মরদেহ ঢাকায় নিয়ে গিয়ে চন্দ্রিমা উদ্যানে (বর্তমান জিয়া উদ্যান) সমাহিত করা হয়।
ফুটবল বিশ্বকাপের জয়-পরাজয় নিয়ে সমর্থকদের উচ্ছ্বাস যাতে প্রাণঘাতী সংঘর্ষে রূপ না নেয়, সে জন্য রাজধানীর বিভিন্ন পাড়া-মহল্লা ও জনসমাগমস্থলে, বড় স্ক্রিনে খেলা দেখার স্থানগুলোতে বিশেষ নজরদারি চালাবে থানা-পুলিশ ও ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। শুক্রবার (৩ জুলাই) বিকালে মিন্টো রোডে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান ডিবির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম।
রাজধানীর আদাবরে ব্রাজিলের খেলা দেখা ও জয় উদযাপনকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে বিএনপি নেতা মো. আবুল বাশার বাদশা হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের গ্রেপ্তার-পরবর্তী এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে বড় স্ক্রিনে খেলা দেখা হয়। এসব স্থান আমরা নজরদারিতে রাখছি। ডিএমপির সব থানাকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কোথায় কোথায় বড় স্ক্রিনে খেলা দেখানো হয়, সেসব আয়োজকদের সঙ্গে যোগাযোগ করে পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হবে। ডিবিও নজরদারি করবে, যাতে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা না ঘটে।’
নগরবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আনন্দটা যেন আনন্দের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে, কোনোভাবেই তা বিষাদে পরিণত না হয়। খেলায় হার-জিত থাকবে। সবাই পরস্পরের মতামত ও সমর্থনকে সম্মান করবেন এবং সহনশীল আচরণ করবেন।’
ডিবি জানায়, গত সোমবার (২৯ জুন) রাতে ফুটবল বিশ্বকাপে জাপানের বিপক্ষে ব্রাজিলের জয় উদযাপনকে কেন্দ্র করে আদাবরের নবোদয় হাউজিং এলাকায় স্থানীয় কয়েকজন কিশোর ঢোল ও বাঁশি বাজিয়ে আনন্দ করছিলেন। এ সময় হাবিব নামে এক ব্যক্তি নিরব নামে এক যুবককে মারধর করেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে গত বুধবার রাতে ইউনিট বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. আবুল বাশার বাদশাকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়।
এ ঘটনায় সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগে গত বৃহস্পতিবার ময়মনসিংহ থেকে নিরব, রিপন, মজনু ও মিজানুর রহমানকে গ্রেপ্তার করে ডিবির তেজগাঁও বিভাগ।
অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘গ্রেপ্তার চারজনের মধ্যে রিপন সরাসরি ছুরিকাঘাত করেছে। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরিটিও উদ্ধার করা হয়েছে।’
তিনি আরও জানান, হামলায় আহত ইউনিট বিএনপির সভাপতি গুরুতর আহত অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
মাদারীপুরের ডাসার উপজেলা পূর্ব মাইজপাড়া দারুল উলুম কওমিয়া মাদ্রাসার কোমলমতি এতিম শিক্ষার্থীদের সাথে নিয়ে রেলী ও কেক কেটে এনটিভি'র ২৪ তম বছরে পদার্পণ অনুষ্ঠান উদ্বোধন করলেন কালকিনি-মাদারীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য আনিসুর রহমান তালুকদার খোকন।
শুক্রবার (৩ জুলাই) জুমআ'র নামাজ শেষে এনিটিভি'র মাদারীপুর জেলা করসপনডেন্ট সিনিয়র সাংবাদিক এম, আর মুর্তজার আয়োজনে ও দৈনিক বাংলা প্রতিনিধি মোঃ ফায়েজুল কবীরের সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি হিসাবে এসময় উপস্থিত থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এর উদ্বোধনকালে তিনি বলেন, অবাধ- নিরপেক্ষ, স্বাধীন ও বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার কোনো বিকল্প নেই, নিরপেক্ষ ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন গণতন্ত্রের রক্ষাকবচ। বিএনপি যতবার দেশের রাষ্ট্র ক্ষমতায় এসেছে সাংবাদিকরা ততবার তাদের সংবাদ পরিবেশনের ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ স্বাধীনতা ভোগ করেছে এবং বর্তমানে তা আরো সুসংহত হয়েছে।
অনুষ্ঠানে উক্ত মাদ্রাসার তত্বাবধায়ক মোঃ এনায়েত খান, প্রিন্সিপাল মোঃ মনিরুজ্জামান, জেলা যুবদলের আহবায়ক ফারুক বেপারী ছাড়াও সাংবাদিকদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মোঃ মহসিন তালুকদার (এশিয়ান টিভি) মোঃ ফরিদ উদ্দিন মুপ্তি (বাংলাভিশন), এসএম রাসেল (আলোকিত প্রতিদিন), সাংবাদিক সোহাগ কাজী, লিখন মাহমুদ, মোঃ রেজা প্রমুখ।
এমপি খোকন তালুকদার বর্তমান সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কর্তৃক গৃহীত গণমাধ্যমগুলোর স্বাধীনতা, বাক স্বাধীনতা, সাংবাদিকদের সুরক্ষা ও উন্নয়নে কাজ করার কথা উল্লেখ করেন। তিনি এনটিভি'র মাদারীপুর প্রতিনিধি সহ উপস্থিত অন্যান্য সাংবাদিকদের বর্তমান সরকারের গৃহীত বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মসূচীগুলো মাদারীপুরবাসি সহ দেশের সবার সামনে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে তুলে ধরার আহবান জানান।
পরে তিনি মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে বর্তমান সরকারের গৃহিত ৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচীর আওতায় সবাইকে সাথে একটি মেহগনি গাছের চারা রোপণ করেন।
একদিকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লোডশেডিং, অন্যদিকে মিটারের রিডিংয়ের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ বিদ্যুৎ বিল। দুই দিকের এই চাপে দিশেহারা গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলার প্রায় ৭৩ হাজার পল্লী বিদ্যুৎ গ্রাহকেরা। মোবাইল ব্যাংকিং বিকাশে বিল দেওয়ার পরও বিদ্যুৎ বিলের কাগজে বিল দেখানো হচ্ছে। জুন মাসের বিদ্যুৎ বিল হাতে পাওয়ার পর উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে অসংখ্য গ্রাহক এসকল অভিযোগ নিয়ে ছুটছেন পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে।
অভিযোগ উঠেছে, অনেক গ্রাহকের বিলে প্রকৃত ইউনিটের চেয়ে বেশি ইউনিট দেখিয়ে বিল তৈরি করা হয়েছে। পাশাপাশি বকেয়া আদায়ের নামে অনিয়ম ও নগদ টাকা আত্মসাতের অভিযোগও উঠেছে কিছু কর্মীর বিরুদ্ধে।
জানা গেছে, কোটালীপাড়া পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির দুটি সাবস্টেশন ও ১০টি ফিডারের আওতায় প্রায় ৭৩ হাজার গ্রাহক বিদ্যুৎ সেবা পাচ্ছেন। তবে জুন মাসে অধিকাংশ গ্রাহকের বিদ্যুৎ বিল অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
অনেকের দাবি, গত মাসের তুলনায় দুই থেকে চার গুণ পর্যন্ত বেশি বিল এসেছে। আবার অনেক ক্ষেত্রে বিলের কাগজে উল্লেখ করা মিটার রিডিংয়ের সঙ্গে বাস্তব রিডিংয়ের কোনো মিল পাওয়া যাচ্ছে না।
কোটালীপাড়া পৌরসভার বাগান উত্তরপাড়ার বাসিন্দা দিলিপ বাড়ৈ জানান, ১২ মার্চ থেকে ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত ২৯০ ইউনিটে বিল করা হয় ২ হাজার ২২০ টাকা। পরবর্তী মাসে ৫৫০ ইউনিটের জন্য বিল হয় ৫ হাজার ১৮১ টাকা। আর ১৬ মে থেকে ১৫ জুন পর্যন্ত ৮৮৫ ইউনিটে বিল করা হয়েছে ১২ হাজার ১৫৯ টাকা। মিটারে সমস্যা না কোথায় সমস্যা কিছুই বুঝতে পারছি না। মাত্র দুই মাসের ব্যবধানে বিল বেড়েছে প্রায় ১০ হাজার টাকা। একদিকে লোডশেডিংয়ের কারনে ঠিকমত বিদ্যুৎ পাচ্ছি না। অন্যদিকে প্রকৃত ব্যবহারের তুলনায় অস্বাভাবিক বিল করে সাধারণ মানুষের ওপর বাড়তি আর্থিক চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে।
কান্দি ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান উত্তম কুমার বাড়ৈ বলেন, মে-জুন মাসের বিলে ১০ জুন পর্যন্ত মিটারের রিডিং দেখানো হয়েছে ৬ হাজার ৭৯৫ ইউনিট। অথচ ২৪ জুন বিল হাতে পাওয়ার পর মিটারে তিনি দেখতে পান রিডিং ৬ হাজার ৭৫৫ ইউনিট। অর্থাৎ বিলে মিটারের বর্তমান অবস্থার চেয়েও বেশি ইউনিট দেখানো হয়েছে। বিষয়টি জানালে পল্লী বিদ্যুৎ অফিস অভিযোগ নিয়ে যেতে বলে।
কোটালীপাড়া পল্লী বিদ্যুতের জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) মফিজুল ইসলাম বলেন, জুন মাসের বিল নিয়ে বেশ কিছু অভিযোগ পাওয়া গেছে। মিটার রিডিংয়ের কিছু অসঙ্গতি পাওয়া গেছে। লোকবল সংকটের কারণে কিছু ক্ষেত্রে মিটারের কাছে না গিয়ে অনুমাননির্ভর রিডিং করা হয়ে থাকতে পারে।
লোডশেডিং প্রসঙ্গে তিনি জানান, কোটালীপাড়ায় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে প্রায় ১৮ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ প্রয়োজন হলেও ন্যাশনাল লোড ডিসপ্যাচ সেন্টার (এনএলডিসি) থেকে পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ৮ থেকে ১২ মেগাওয়াট। ফলে চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ সরবরাহ সম্ভব হচ্ছে না এবং বাধ্য হয়েই লোডশেডিং করতে হচ্ছে।
বাংলাদেশের ফুটবল উন্মাদনা নতুন করে আবারও আলোচনার জন্ম দিয়েছে। মানিকগঞ্জে এক ফুটবল ভক্তের ‘সমর্থক ট্রান্সফার’-এর ঘটনা এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক ভাইরাল। দীর্ঘদিনের একনিষ্ঠ ব্রাজিল সমর্থক সজিব আহম্মেদ আনুষ্ঠানিকভাবে নিজের দল ত্যাগ করে আর্জেন্টিনার সমর্থক হিসেবে যোগ দিয়েছেন। এই বিশেষ মুহূর্তটিকে স্মরণীয় করে রাখতে এবং আগের দলের প্রতি ‘পাপমোচন’ ও নতুন দলের প্রতি পূর্ণ আনুগত্য প্রকাশ করতে তিনি রীতিমতো দুধ দিয়ে গোসল করেছেন।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) রাত ১০টার দিকে মানিকগঞ্জের বেতিলা-মিতরা ইউনিয়নে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটে। স্থানীয়রা জানান, সজিব অনেক দিন ধরেই ব্রাজিলের সমর্থন করে আসলেও আর্জেন্টিনা দলের সাম্প্রতিক সাফল্য এবং ২০২২ সালে কাতার বিশ্বকাপে তাদের বিশ্বজয়ী পারফরম্যান্সে মুগ্ধ হয়ে মনে মনে দলবদলের চিন্তা করছিলেন। অবশেষে স্থানীয় আর্জেন্টিনা সমর্থকদের উপস্থিতিতে তিনি একটি ছোটখাটো অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই ঘোষণা দেন। অনুষ্ঠানের শুরুতে তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে শপথবাক্য পাঠ করানো হয়।
শপথ নেওয়ার পর বালতি ভর্তি দুধ দিয়ে গোসল সম্পন্ন করেন সজিব। এরপর তিনি ব্রাজিলের জার্সি শরীর থেকে খুলে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী আর্জেন্টিনার আকাশী-সাদা জার্সি পরিধান করেন। সজিব আহম্মেদ তাঁর প্রতিক্রিয়ায় বলেন, “অনেক চিন্তা-ভাবনা করে আজ থেকে আমি আর্জেন্টিনার সমর্থক হিসেবে নতুন যাত্রা শুরু করলাম। ২০২২ সালে তারা বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ায় আমার এই সিদ্ধান্ত আরও দৃঢ় হয়েছে। এখন থেকে লিওনেল মেসির দলের জন্য আমার প্রাণ থাকবে।”
সজিবের এই অভিনব ‘দলবদল’ মানিকগঞ্জ এলাকায় ফুটবলপ্রেমীদের মাঝে হাসাহাসি ও আলোচনার ঝড় তুলেছে। আর্জেন্টিনা সমর্থকরা তাকে ফুল দিয়ে বরণ করে নিলেও ব্রাজিল ভক্তরা বিষয়টিকে মজার ছলে ‘বছরের সেরা ফুটবল ট্রান্সফার’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। ফুটবল নিয়ে এদেশের মানুষের আবেগ ও ভালোবাসা মাঝে মাঝে এমন নাটকীয় মোড় নেয়, যা বিশ্বজুড়ে বিরল।
হাসি-খুশি শৈশবের বদলে জন্মের পর থেকেই হাসপাতালের বিছানায় ২১ মাস বয়সী হেনজা এলনাজের নিত্যসঙ্গী। মাত্র চার মাস বয়সে তীব্র শ্বাসকষ্ট নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর চিকিৎসকদের পরীক্ষায় ধরা পড়ে, সে ‘ডাইলেটেড কার্ডিওমায়োপ্যাথি (ডিসিএম)’ নামের অত্যন্ত জটিল ও বিরল হৃদরোগে আক্রান্ত।
হেনজা সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার দ্বাবাড়ীয়া গ্রামের বাসিন্দা মো. আল্লামা ইকবাল তুসার ও আনিকা বিনতে রহমান উপমা দম্পতির একমাত্র কন্যা।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, রোগ শনাক্ত হওয়ার পর অবস্থার অবনতি হলে হেনজাকে ঢাকার ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। দীর্ঘদিন আইসিইউতে চিকিৎসা দেওয়ার পরও উন্নতি না হওয়ায় চিকিৎসকরা তাকে ভারতে নেওয়ার পরামর্শ দেন। স্বজনদের সহযোগিতা এবং ঋণ নিয়ে প্রায় ২৫ লাখ টাকা ব্যয়ে ভারতের বেঙ্গালুরুতে বিশ্বখ্যাত হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. দেবী শেঠী ও শিশু হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. শাশিরাজের তত্ত্বাবধানে হেনজার চিকিৎসা করানো হয়। পরিবারের দাবি, চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী হেনজা যে ধরনের বিরল হৃদরোগে আক্রান্ত, এ পর্যন্ত বিশ্বে মাত্র তিনজন শিশুর শরীরে এমন রোগ শনাক্ত হয়েছে।
বর্তমানে ঢাকার একটি হাসপাতালে তার চিকিৎসা চলমান রয়েছে। প্রতি মাসে ওষুধ, পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও চিকিৎসা বাবদ ব্যয় হচ্ছে প্রায় ৬০ থেকে ৭০ হাজার টাকা। অথচ হেনজার বাবা একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে মাসে মাত্র ২০ হাজার টাকা বেতনে চাকরি করেন। সীমিত আয়ে চিকিৎসার ব্যয় বহন করতে গিয়ে পরিবার এখন চরম আর্থিক সংকটে পড়েছে। চিকিৎসার জন্য নেওয়া ঋণের বোঝাও দিন দিন বাড়ছে।
চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী, হেনজাকে দ্রুত আবারও ভারতে নিয়ে বিশেষায়িত চিকিৎসা ও জেনেটিক পরীক্ষা করানো প্রয়োজন। তবে দীর্ঘমেয়াদি এই চিকিৎসায় ভবিষ্যতে প্রায় এক থেকে দুই কোটি টাকারও বেশি ব্যয় হতে পারে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।
অসহায় মা আনিকা বিনতে রহমান উপমা বলেন, আমার মেয়েটি প্রতিদিন জীবনের সঙ্গে যুদ্ধ করছে। একজন মা হিসেবে সন্তানের কষ্ট দেখা ছাড়া আমার আর কিছুই করার নেই। সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, মানবিক সংগঠন এবং সরকারের কাছে আমার মেয়ের জীবন বাঁচাতে সহযোগিতা চাই।
হেনজার বাবা আল্লামা ইকবাল তুসার বলেন, আমি প্রতিদিন আমার মেয়ের শ্বাসকষ্ট দেখে ভেঙে পড়ি। সবকি
ছু শেষ করে দিয়েছি চিকিৎসার জন্য। এখন আর কিছুই বাকি নেই। টাকার অভাবে ওর চিকিৎসা থেমে যাচ্ছে এটা আমাদের জন্য মৃত্যুর চেয়েও কষ্টের। কেউ যদি আমার মেয়েকে বাঁচাতে এগিয়ে আসতেন। তাহলে আমার মেয়ের জীবন বাঁচতে পারে।
একটি ছোট্ট হৃদয়ের এই লড়াই এখন শুধুই একটি পরিবারের নয়, এটি মানবতার লড়াই। সময়মতো সহায়তা পেলে হয়তো আবারও বাঁচার সুযোগ পেতে পারে ছোট্ট হেনজা।
জীবনের শেষ প্রান্তে এসে মানুষ সবচেয়ে বেশি আশ্রয় খোঁজেন নিজের সন্তান-স্বজনের কাছে। কিন্তু টাঙ্গাইলের এক শতবর্ষী বৃদ্ধের ভাগ্যে জুটেছে তার উল্টো চিত্র। যে মানুষটি সারাজীবন পরিশ্রম করে সন্তানদের বড় করেছেন, বয়সের ভারে ন্যুব্জ হয়েছেন, চোখের দৃষ্টিশক্তি প্রায় হারিয়েই ফেলেছেন, শেষ পর্যন্ত তাকেই ফেলে রাখা হলো রাস্তার পাশে। অসহায় সেই বৃদ্ধের পাশে দাঁড়ালেন টাঙ্গাইল সদর আসনের সংসদ সদস্য ও মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।
গত বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সন্ধ্যায় টাঙ্গাইল সদর উপজেলার বৈল্লা বাজারের সেতুর পাশে কান্নারত অবস্থায় উদ্ধার হন বৃদ্ধ মফিজ উদ্দিন।
স্থানীয়দের ভাষ্য, প্রায় দৃষ্টিশক্তিহীন এই বৃদ্ধ গত কয়েক বছর ধরেই একা চলাফেরা করতে পারেন না। বয়সের ভার ও শারীরিক দুর্বলতায় দৈনন্দিন জীবনযাপনের প্রতিটি ক্ষেত্রেই তাকে অন্যের সহায়তার ওপর নির্ভর করতে হয়।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এনায়েতপুর গ্রামের বাসিন্দা মফিজ উদ্দিন তিন ছেলে ও তিন মেয়ের জনক। প্রায় আট বছর আগে স্ত্রী মারা যাওয়ার পর থেকেই তার জীবন হয়ে ওঠে নিঃসঙ্গ। এক ছেলে মারা গেছেন, বড় ছেলে পক্ষাঘাতগ্রস্ত, আর ছোট ছেলে আলাদা সংসার করেন। জীবনের শেষ সম্বলটুকুও মাত্র ১০০ টাকার বিনিময়ে দুই ছেলের নামে লিখে দিয়েছিলেন তিনি। এরপর থেকেই পরিবারে তার অবস্থান ক্রমেই অনিশ্চিত হয়ে পড়ে।
এলাকাবাসী জানান, তিনি পক্ষাঘাতগ্রস্ত বড় ছেলে শামসুলের বাড়িতেই বসবাস করতেন। ছেলের স্ত্রী মারা যাওয়ার পর সেখানে নাতনি ও তার স্বামী থাকতেন। কিন্তু তারা বৃদ্ধ দাদার দেখাশোনা করতে চাননি। একপর্যায়ে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তাকে বাড়ি থেকে প্রায় তিন কিলোমিটার দূরে নিয়ে গিয়ে রাস্তার পাশে ফেলে রেখে চলে যান। দীর্ঘ সময় সেখানে বসে কান্না করছিলেন তিনি। পরে স্থানীয়রা এগিয়ে এসে তার পরিচয় শনাক্ত করেন।
ততক্ষণে খবরটি পৌঁছে যায় প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর কাছে। বিষয়টি জানার পর তিনি তাৎক্ষণিকভাবে টাঙ্গাইল সদর থানার ওসি গোলাম মুক্তার আশরাফ উদ্দিনকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। প্রতিমন্ত্রীর নির্দেশনায় পুলিশ রাতেই ঘটনাস্থলে গিয়ে বৃদ্ধকে উদ্ধার করে নিরাপদে তার ছোট মেয়ে রিনা বেগমের জিম্মায় পৌঁছে দেয়। একই সঙ্গে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিষয়ে আইনগত পদক্ষেপ শুরু করে পুলিশ। ইতিমধ্যে নাতনিকে থানা হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
শুধু উদ্ধারেই থেমে থাকেননি প্রতিমন্ত্রী। বৃদ্ধের চিকিৎসা, খাবার, বাসস্থান এবং প্রয়োজনীয় সব ব্যয়ভার ব্যক্তিগতভাবে বহনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। দ্রুত বৃদ্ধভাতার ব্যবস্থা করার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনে তার থাকার জন্য আলাদা কক্ষ ভাড়া নেওয়া এবং সেই খরচও নিয়মিত বহন করবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী।
প্রথমদিকে বাবার দায়িত্ব নিতে অনাগ্রহ প্রকাশ করলেও প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলার পর ছোট মেয়ে রিনা বেগম বাবার দেখাশোনার দায়িত্ব নিতে সম্মত হন।
এবিষয়ে রিনা বেগম বলেন, পাশের বাড়ির লোকজনের মাধ্যমে জানতে পারি আমার বাবাকে রাস্তার পাশে ফেলে রেখে যাওয়া হয়েছে। বাবাকে ওই অবস্থায় দেখে খুব কষ্ট পেয়েছি। প্রতিমন্ত্রী আমার সঙ্গে কথা বলেছেন এবং সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন। এখন থেকে বাবার দায়িত্ব আমিই পালন করব।
টাঙ্গাইল সদর থানার ওসি গোলাম মুক্তার আশরাফ উদ্দিন বলেন, প্রতিমন্ত্রীর নির্দেশ পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে। তিনি বর্তমানে তার ছোট মেয়ের হেফাজতে রয়েছেন। নাতনিকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তবে তার স্বামী পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পালিয়ে যান।
এ বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, ‘একজন অসহায় বৃদ্ধকে এভাবে রাস্তায় ফেলে রেখে যাওয়ার ঘটনা অত্যন্ত অমানবিক ও হৃদয়বিদারক। বাবা-মা আমাদের সবচেয়ে বড় আশীর্বাদ। তাদের অবহেলা করার কোনো সুযোগ নেই। যতদিন প্রয়োজন, এই বৃদ্ধের চিকিৎসা, থাকা-খাওয়া ও প্রয়োজনীয় সহযোগিতার দায়িত্ব আমি নেব। একই সঙ্গে যারা তাকে এভাবে পরিত্যাগ করেছে, তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। সমাজের প্রতিটি মানুষকে অসহায় প্রবীণদের পাশে দাঁড়াতে হবে।’
স্বাধীনতার ৫৫ বছর পেরিয়ে গেলেও পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলার বাসিন্দা বুলবুলি রানী ঘোষ (৬৯) এখনো পাননি বীরাঙ্গনার রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি। স্বীকৃতি না পাওয়ায় জীবনের শেষ প্রান্তে এসেও তিনি বঞ্চিত রয়েছেন সরকারি ভাতা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা থেকে। দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন দপ্তরে আবেদন করেও কোনো ফল না পাওয়ায় তিনি এখন ন্যায্য স্বীকৃতির আশায় দিন গুনছেন।
বুলবুলি রানী ঘোষ জানান, ১৯৭১ সালের ১৪ মে তিনি পাবনার ফরিদপুর উপজেলার ডেমরা কুণ্ডুপাড়া গ্রামে বাবার বাড়িতে অবস্থান করছিলেন। সে সময় পাকহানাদার বাহিনীর সদস্যরা তাকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে পাশের একটি বাগানে নিয়ে নির্যাতন ও ধর্ষণ করে। তখন তার বয়স ছিল মাত্র ১৫ বছর।
স্বাধীনতার পর সামাজিক লজ্জা ও সম্মানের ভয়ে পরিবার বিষয়টি গোপন রেখে তার বিয়ে দেয়। কিন্তু কিছুদিন পর ঘটনাটি জানাজানি হলে স্বামী তাকে পরিত্যাগ করেন। এরপর আর তার সংসার হয়নি। পরবর্তীতে তার বাবা অমূল্য ঘোষ পরিবার নিয়ে ভাঙ্গুড়া উপজেলার অষ্টমণিষা গ্রামে বসবাস শুরু করেন। বাবার মৃত্যুর পর নিঃসন্তান ও অসহায় বুলবুলি এখন ভাই সুশান্ত ঘোষের আশ্রয়ে জীবনযাপন করছেন।
বুলবুলি রানী ঘোষের অভিযোগ, বার্ধক্যজনিত নানা রোগে ভুগলেও আর্থিক সংকটের কারণে নিয়মিত চিকিৎসা করাতে পারছেন না। এমনকি ঠিকমতো খাবার ও ওষুধও জোটে না। জীবনের শেষ সময়ে তিনি রাষ্ট্রের কাছে শুধু একজন বীরাঙ্গনা হিসেবে স্বীকৃতি চান।
তিনি বলেন, ‘অনেকের দ্বারে দ্বারে ঘুরেছি। আবেদন করেছি, অপেক্ষা করেছি। কিন্তু আজও বীরাঙ্গনার স্বীকৃতি পাইনি। এখন আমি ক্লান্ত। আমি বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের পুত্র, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে আমার ন্যায্য স্বীকৃতি ও সহায়তা কামনা করছি।’
তিনি আরও জানান, কয়েক বছর আগে অষ্টমণিষা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সুলতানা জাহান বকুলের পরামর্শে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেছিলেন। এরপর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও আর কোনো অগ্রগতির খবর পাননি।
অষ্টমণিষা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সুলতানা জাহান বকুল জানান, প্রায় দুই বছর আগে বুলবুলি রানী ঘোষের আবেদনের পর ফরিদপুর উপজেলার মুক্তিযোদ্ধারা তাকে বীরাঙ্গনার স্বীকৃতি দেওয়ার পক্ষে সুপারিশ করেন। সেই ভিত্তিতে তিনিও ইতিবাচক সুপারিশ করে আবেদনটি সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠিয়েছেন।
ভাঙ্গুড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরিফুজ্জামান বলেন, ‘বুলবুলি রানী ঘোষের আবেদনের বিষয়টি আমি শুনেছি। তবে আবেদনটি আগের কর্মকর্তার সময়ে করা হয়েছিল। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই-বাচাইয়ের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের করা হবে।’
বিশ্বকাপ ফুটবল উপলক্ষে ফরিদপুর শহরের কমলাপুর বটতলায় অবস্থিত শিশু শিক্ষার অন্যতম প্রতিষ্টান পাঠশালা কিন্ডারগার্টেন স্কুলের উদ্যোগে এক বর্ণাঢ্য প্রদর্শনী ফুটবল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শিক্ষার্থীদের ফুটবলের প্রতি আগ্রহ বৃদ্ধি এবং খেলাধুলার মাধ্যমে শারীরিক ও মানসিক বিকাশে উৎসাহিত করতেই এ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়।
রোমাঞ্চকর এ ম্যাচে ব্রাজিল দল ২-১ গোলের ব্যবধানে আর্জেন্টিনা দলকে পরাজিত করে শিরোপা জয় করে। ব্রাজিলের হয়ে সাদ একটি গোল করেন। আর্জেন্টিনার পক্ষে শামীম একটি গোল শোধ দেন। অপর গোলটি আত্মঘাতী হওয়ায় ব্রাজিল জয় নিশ্চিত করে।
প্রতিষ্ঠানটির প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ রোকনউদ্দিন রুমনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ফরিদপুর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মাহবুব হোসেন পিয়াল।
এ সময় বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন রিফাত আহমেদ, রাসু চৌধুরী, রিনা বিশ্বাস, মো. খালিদ হাসান তুহিন, সালমা খানম, ইয়ারুন নাহার রুনা, পিংকি আসমা, শিল্পী লামিয়া ও হোসনেয়ারা প্রমুখ। এছাড়া শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত থেকে খেলা উপভোগ করেন।
খেলা শেষে আর্জেন্টিনা দলের খেলোয়াড় শামীম ‘ম্যান অব দ্য ম্যাচ’ নির্বাচিত হন। পরে প্রধান অতিথি মাহবুব হোসেন পিয়াল বিজয়ী ও রানারআপ দলের খেলোয়াড়দের হাতে ট্রফি ও পুরস্কার তুলে দেন।
ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার গৌরীনাথপুর বাজার এখন দেশের অন্যতম বৃহৎ ড্রাগন ফলের পাইকারি বিপণনকেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। ‘ড্রাগনের রাজধানী’ হিসেবে পরিচিত এ বাজারে মৌসুমজুড়ে প্রতিদিন সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত চলে জমজমাট বেচাকেনা। জেলার পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা কৃষকদের উৎপাদিত ড্রাগন ফল বিক্রি হয় এই বাজারে। বর্তমানে প্রতিদিন কয়েক কোটি টাকার ফল বিক্রি হচ্ছে। স্থানীয়ভাবে বড় বাজার গড়ে ওঠায় ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন কৃষক।
সরেজমিনে গৌরীনাথপুর বাজারে গিয়ে দেখা যায়, বাজারজুড়ে সারি সারি আড়তে লাল, গোলাপি ও হলুদ রঙের ড্রাগন ফলের স্তূপ। ভোর থেকেই কৃষকেরা ভ্যান, পিকআপ ও ট্রাকযোগে ফল নিয়ে আসছেন। আড়তগুলোতে চলছে বাছাই, ওজন ও প্যাকেটজাত করার ব্যস্ততা। এরপর দেশের বিভিন্ন জেলায় ট্রাকযোগে পাঠানো হচ্ছে এসব ফল।
ব্যবসায়ীরা জানান, বর্তমানে বাজারে প্রায় ১০০টি আড়তে প্রতিদিন কোটি কোটি টাকার ড্রাগন ফল কেনাবেচা হচ্ছে। এখান থেকে ঢাকাসহ চট্টগ্রাম, খুলনা, রাজশাহী, সিলেট, বরিশাল, রংপুরসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ফল সরবরাহ করা হয়।
স্থানীয় কৃষক আব্দুল হক বলেন, আগে ড্রাগন ফল বিক্রির জন্য দূরের বাজারে যেতে হতো। এখন গৌরীনাথপুরেই বড় বাজার হওয়ায় পরিবহন খরচ কমেছে এবং ন্যায্যমূল্যও পাচ্ছি।
আরেক কৃষক রবিউল ইসলাম বলেন, ড্রাগন চাষে খরচ তুলনামূলক কম, লাভও ভালো। বাজারে ক্রেতার অভাব নেই। তাই প্রতিবছরই বাগানের পরিধি বাড়াচ্ছি।
আড়তদার সাইদুর রহমান বলেন, মৌসুমের সময় প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ ড্রাগন ফল বাজারে আসে। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে পাইকাররা এখানে এসে সরাসরি ফল কিনে নিয়ে যান। কৃষকও ভালো দাম পান, আমরাও ব্যবসা করতে পারছি।
পাইকারি ব্যবসায়ী আব্দুর রহিম বলেন, গৌরীনাথপুরের ড্রাগনের মান ভালো হওয়ায় দেশের বাজারে এর চাহিদা অনেক বেশি। প্রতিদিন কয়েকটি ট্রাক ভর্তি ফল বিভিন্ন জেলায় পাঠানো হচ্ছে।
মহেশপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ইয়াসমিন সুলতানা বলেন, ড্রাগন ফলের নিরাপদ উৎপাদন নিশ্চিত করতে কৃষকদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও কারিগরি পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। কোনো ধরনের ক্ষতিকর রাসায়নিকের অপব্যবহার যেন না হয়, সে বিষয়ে আমরা সার্বক্ষণিক নজরদারি করছি। পাশাপাশি গৌরীনাথপুর বাজারের সুষ্ঠু বিপণন ব্যবস্থাপনা এবং কৃষকদের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতেও কৃষি বিভাগ কাজ করে যাচ্ছে।
চারিদিকে থইথই জলরাশি, আর তার বুক চিরে সুদূরপ্রসারী দৃষ্টিনন্দন অল-ওয়েদার রোড। বর্ষায় রূপকথার মতো সুন্দর আর শুকনো মৌসুমে ফসলের সবুজ গালিচায় মোড়ানো জেলা কিশোরগঞ্জের তিন হাওর উপজেলা ইটনা, মিঠামইন ও অষ্টগ্রাম। কিন্তু এই অপরূপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের আড়ালে লুকিয়ে আছে এক নির্মম অর্থনৈতিক বাস্তবতা।
এখানকার প্রায় শতভাগ মানুষের প্রধান জীবিকা কৃষি ও মৎস্য। এই একমুখী অর্থনীতির কারণে বছরের পর বছর প্রকৃতির খামখেয়ালিপনার কাছে জিম্মি হয়ে আছে লাখো মানুষের ভাগ্য। অতিবৃষ্টি, খরা, অকাল বন্যা, হঠাৎ শিলাবৃষ্টি কিংবা পোকার আক্রমণে ফসল নষ্ট হলে এখানকার মানুষের ঘুরে দাঁড়ানোর আর কোনো বিকল্প পথ থাকে না। এই ভংগুর অর্থনৈতিক বৃত্ত ভাঙতে এবং টেকসই উন্নয়নের জন্য হাওরাঞ্চলে এখন এক নতুন শিল্পবিপ্লবের সময় এসেছে। আর সেই বিপ্লবের পথ দেখাতে পারে গাজীপুর ও নরসিংদীর সফল অর্থনৈতিক মডেল।
ইতিহাস থেকে জানা যায়, একসময় নরসিংদী ও গাজীপুর অঞ্চলের বহু মানুষ জীবিকার তাগিদে কিশোরগঞ্জের হাওরে কৃষিশ্রমিক হিসেবে আসতেন। কিন্তু গত কয়েক দশকে বস্ত্রশিল্প, তৈরি পোশাক খাত এবং বিভিন্ন মাঝারি ও ভারী শিল্পের প্রসারে সেখানে অর্থনৈতিক চিত্র পুরোপুরি বদলে গেছে। শিল্পায়নের ফলে সেখানকার বেকারত্ব দূর হয়েছে এবং মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত হয়েছে। অথচ এখন উল্টো চিত্র দেখা যাচ্ছে হাওরে।
আজ এ অঞ্চলের হাজার হাজার বেকার যুবক কাজের সন্ধানে গাজীপুর, নরসিংদী কিংবা নারায়ণগঞ্জের শিল্পকারখানাগুলোতে পাড়ি জমাচ্ছেন। এই বাস্তবতাই প্রমাণ করে একটি অঞ্চলের স্থায়ী অর্থনৈতিক মুক্তি ও দুর্যোগকালীন নিরাপত্তার জন্য শুধু কৃষির ওপর নির্ভর করে থাকা ঝুঁকিপূর্ণ। কৃষির পাশাপাশি বিকল্প কর্মসংস্থান ও শিল্পায়নই হতে পারে একমাত্র রক্ষা কবচ।
অতীতে যোগাযোগ ব্যবস্থার অভাবে হাওরে শিল্পকারখানার কথা চিন্তা করাও ছিল আকাশকুসুম কল্পনা। তবে বর্তমানে দৃষ্টিনন্দন অল-ওয়েদার রোড সেই স্থবিরতা অনেকটাই দূর করেছে।
ভৌগোলিক কারণে এই যোগাযোগ ব্যবস্থার রূপ দুই ঋতুতে দুই রকম; শুকনো মৌসুমে অল-ওয়েদার রোডের কল্যাণে সড়ক যোগাযোগের পাশাপাশি বর্ষাকালে চারপাশ পানিতে ভেসে গেলে অভ্যন্তরীণ যাতায়াতে দ্রুতগামী নৌযোগাযোগের ব্যবস্থা রয়েছে। তবে এই যোগাযোগ ব্যবস্থায় স্থায়ী ও যুগান্তকারী রূপান্তর ঘটতে যাচ্ছে অষ্টগ্রাম-চাতলপাড় সংলগ্ন নদীতে নির্মাণাধীন নতুন সেতুর মাধ্যমে। দ্রুত এই সেতুর কাজ পুরোপুরি সম্পন্ন হলে বর্ষা বা শুকনো মৌসুমের সীমাবদ্ধতা আর থাকবে না। অষ্টগ্রাম থেকে চাতলপাড় হয়ে সরাসরি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিশ্বরোড লিঙ্ক ধরে সারা বছরই দেশের যেকোনো প্রান্তে দ্রুততম সময়ে সড়ক পথে পণ্য ও যাত্রী পরিবহন করা সম্ভব হবে। সড়ক ও নৌপথের এই অভূতপূর্ব মেলবন্ধনকে কাজে লাগিয়েই মূলত হাওর অঞ্চলকে একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ ‘অর্থনৈতিক হাব’ হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব। ফলে ইটনা-মিঠামইন-অষ্টগ্রাম এমন একটি বাণিজ্যিক কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হবে যেখানে কৃষি, শিল্প, বাণিজ্য এবং আধুনিক পর্যটনের এক অভূতপূর্ব সমন্বয় ঘটবে। এর ফলে এক বিশাল বহুমুখী সাপ্লাই চেইন নেটওয়ার্ক তৈরি হবে, যা পুরো অঞ্চলের চেহারাই বদলে দেবে।
বিনিয়োগ ও শিল্পকারখানা স্থাপনের জন্য কিশোরগঞ্জের এই হাওর অঞ্চল বর্তমানে অন্যতম আদর্শ একটি স্থান। কারণ, দেশের অন্যান্য শিল্পাঞ্চলের তুলনায় এখানে শিল্প স্থাপনের জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণে জমি রয়েছে, যা অত্যন্ত সাশ্রয়ী ও সস্তায় লিজ বা কেনা সম্ভব। এর চেয়েও বড় সুবিধা হলো এখানকার বিশাল ও কর্মক্ষম শ্রমশক্তি। হাওরে পর্যাপ্ত পরিমাণে কঠোর পরিশ্রমী শ্রমিক রয়েছেন, যাদের খুব সহজেই এবং তুলনামূলক কম মজুরিতে কারখানার কাজে যুক্ত করা সম্ভব। এই সাশ্রয়ী জমি ও সস্তা শ্রমের মেলবন্ধন যেকোনো বড় শিল্পোদ্যোক্তার জন্য উৎপাদন খরচ কমিয়ে আনার এক দারুণ সুযোগ তৈরি করবে।
এই অনুকূল পরিবেশকে কাজে লাগিয়ে হাওর অঞ্চলে একটি রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা বা ইপিজেড স্থাপন করা এখন সময়ের দাবি। সেখানে তৈরি পোশাক শিল্প বা হালকা প্রকৌশল শিল্প গড়ে উঠলে স্থানীয় যুবসমাজের কর্মসংস্থান হবে, বিশেষ করে নারীদের অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন ঘটবে। পাশাপাশি, হাওরের উদ্বৃত্ত ধান ও দেশীয় মাছের সঠিক বাণিজ্যিক ব্যবহারের জন্য মেগা কোল্ড স্টোরেজ চেইন, আধুনিক অটো রাইস মিল এবং মাছ প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানা স্থাপন করাও জরুরি। আধুনিক হিমাগার থাকলে জেলেরা মাছ ধরার পর তা নষ্ট হওয়ার ভয়ে কম দামে বেচতে বাধ্য হবেন না। এছাড়া ধানের কুঁড়া থেকে ভোজ্য তেল উৎপাদনের মতো উপজাত শিল্প এবং অষ্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী পনিরকে কেন্দ্র করে আধুনিক ডেইরি প্রসেসিং প্ল্যান্ট স্থাপন করা গেলে তা আন্তর্জাতিক বাজারেও জায়গা করে নিতে পারবে।
‘ঝড়ের দিনে মামার দেশে আম কুড়াতে সুখ, পাকা জামের মধুর রসে রঙিন করি মুখ’ কবিতার লাইন দুটির সাথে আগেকার দিনের মিল থাকলেও বর্তমান সমাজের ছেলেমেয়েদের সাথে এর মিল খুঁজে পাওয়া খুবই কঠিন। আগেকার দিনে গ্রীষ্মের ছুটি কাটাতে ছেলে মেয়েরা ছুটে যেত মামার বাড়িতে। সেখানে যেয়ে নানা রকম মৌসুমী ফল গাছে উঠে নিজ হাতে পেরে খাওয়ার একটা মজাই ছিল অন্যরকম। বর্তমানে আধুনিকতার সাথে তাল মিলিয়ে দালান কোঠা তৈরি করাতে যেমন কমে যাচ্ছে বিভিন্ন ধরনের ফলের গাছ তেমনি ব্যস্ততার কারণে ছেলেমেয়েরাও এখন আর আগের দিনের মতো পাকা আম ও জামের রসে মুখ রঙিন করতে পারে না।
তাইতো হাতের কাছেই যখন যে ফলটা পাওয়া যায় সেটা অধিক মূল্যে কিনে খেতে হয়। এখন চলছে মধুমাস,বাজারে নানা রকম ফলের সমাহার।
লিচু শেষ হতেই বাজারে আসতে শুরু করে আম, জাম, কাঁঠাল, লটকনসহ নানা রকম মৌসুম ফল। আর দেশি আম শেষ হতে না হতেই মাগুরা সদরের বিভিন্ন এলাকার হাটে- বাজারে, এখন মৌসুমী ফল কাঠলিচু বা আশফল আসতে শুরু করেছে। এই ফল ক্রেতাদের কাছে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। বাদামি রঙের খোসায় জড়ানো সুস্বাদু ও পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ এই দেশীয় ফল কিনতে প্রতিদিনই ভিড় করছেন নানা বয়সের মানুষ।
মৌসুমের শুরুতে সরবরাহ কম থাকলেও বর্তমানে বাজারে আশফলের উপস্থিতি বেড়েছে। ফলে বেচাকেনাও জমে উঠেছে।
বাজার ঘুরে দেখা যায়, স্থানীয় ফল ব্যবসায়ীরা ঝুড়িতে সাজিয়ে ও খাচায় ঝুলিয়ে আঁশফল বিক্রি করছেন। ক্রেতাদের ভাষ্যমতে, আশফলের মিষ্টি স্বাদ সুগন্ধ এবং তুলনামূলক কম দামের কারণে এটি পরিবারের সবার পছন্দের তালিকায় রয়েছে।
স্থানীয় বিক্রেতারা জানান, প্রতিদিনই ভালো বিক্রি হচ্ছে এই ফল। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ক্রেতাদের আনাগোনা লেগেই থাকে এমনকি রাতেও বিক্রি হয়। স্থানীয় বাগান থেকে আশায় তাজা আশফল সহজেই পাওয়া যায়।
ষাটোর্ধ্ব ফল বিক্রেতা মনি কুমার জানান, ৩০ বছর ধরে আমি ফল ব্যবসার সাথে জড়িত। আগের তুলনায় আঁশফলের কদর অনেকটাই বেড়ে গেছে। আমরা ছোটবেলায় কোনদিন এই ফল খাইনি। এগুলো ছিল পাখির খাবার। এইসব গাছ বনে জঙ্গলে এমনিতেই জন্মাতো। আমরা সারাদিন নানা রকমের ফল খেয়েই দিন কাটাতাম। কিন্তু এই আশফল যে খেতে হয় সেটা বুঝতাম না। আজকাল শহরে তো পড়ে থাক গ্রামেই তেমন ফলের গাছ দেখা যায় না। মাঝেমধ্যে বাড়ির আশেপাশে আর রাস্তার পাশে দুই একটা আশফলের গাছ দেখা যায়। কিন্তু ছোট ছেলে মেয়েরা সেগুলোকে পাকতে দেয় না তার আগেই পেরে খেয়ে ফেলে। এখন এই ফল ছোটো থেকে বুড়ো সবাই পছন্দ করে।
ক্রেতা আশিকুর রহমান বলেন, আগের তুলনায় আশপাশের চাহিদা এখন অনেক বেশি। স্কুলগামী ছেলে মেয়েরা আসা যাওয়ার পথেই আশফল দেখলেই কিনতে চায়। আমরা আগে ছোট ছোট আটি দশ বিশ টাকা করে কিনতাম, কিন্তু বর্তমানে ১৫০ থেকে ২০০ টাকা করে কেজি কিনতে হচ্ছে। লিচুর পরেই সুস্বাদু রসালো এই ফলটি ছেলেমেয়েরা অনেক পছন্দ করে। এই ফলের গাছ যেখানে সেখানেই জন্মায়। কোন যত্ন করা লাগেনা। পাখিরা মুখে করে বীজ নিয়ে যাওয়ার সময় যেখানে পড়ে সেখানেই এই গাছের জন্ম হয়।
তবে বাণিজ্যিকভাবে এই ফলের চাষ করা গেলে আরো ভালো হতো। মাগুরা জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে শিক্ষার্থীদের এবং সাধারণ মানুষের মাঝে বিভিন্ন ধরনের গাছের চারা বিতরণ করা হয়, আমার মনে হয় সেইসব গাছের সাথে একটি করে আঁশফলের চারা লাগানোর প্রতি উৎসাহিত করলে আরো ভালো হয়।
কৃষিবিদদের মতে, আশফল বা কাঠ লিচু একটি পুষ্টিকর মৌসুমি ফল। এটি দোআঁশ বা বেলে-দোআঁশ মাটিতে ভালো জন্মে। এই গাছের কোন পরিচর্যা করা লাগেনা। এটা যেখানে সেখানে জন্মানোর কারণে সাধারণত মানুষ কষ্ট করে রোপণ করতে চায় না। তবে নিয়মিত এই গাছের সেচ, জৈব সার এবং আগাছা দমন করলে ফলন আরো বৃদ্ধি পায়।
ফলটিতে ভিটামিন ‘সি’, খাদ্য আঁশ এবং বিভিন্ন অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকায় এটি অনেক স্বাস্থ্যকর একটি ফল। এর মানসম্মত চারা রোপণ করে রোগ ও পোকা নিয়মিত দমন করতে পারলে বাণিজ্যিকভাবে আশফল বেশ লাভজনক হতে পারে। আঁশফল একটি সম্ভাবনাময় দেশীয় ফল, যার বাণিজ্যিকভাবে সম্প্রসারণ করতে পারলে কৃষকের আয় বৃদ্ধি ও দেশীয় ফলের বৈচিত্র রক্ষায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।
‘কত জায়গায় ঘুরলাম আমি, তোমার দেখা পেলাম না, কেন যে দৃষ্টি দিলেনা দয়াল...’ গানটি গাইতে গাইতে হঠাৎ থেমে যান কাজল মিত্র। কয়েক মুহূর্ত নীরব থাকেন। তারপর মৃদু হেসে বলেন, ‘এই গানটা আমার নিজের লেখা, নিজের সুর করা।’ কথাগুলো বলার সময় তার মুখে হাসি থাকলেও কণ্ঠে ধরা পড়ে দীর্ঘদিনের এক না-পাওয়ার বেদনা।
জন্মের পর থেকেই তিনি দৃষ্টিহীন। পৃথিবীর রং, প্রিয়জনের মুখ কিংবা ভোরের প্রথম সূর্য-কোনোটিই কোনোদিন দেখা হয়নি তার। তবু অন্ধকারের কাছে হার মানেননি। বরং সুরকেই করেছেন জীবনের আলো। সেই আলোয় গত ৫৫ বছর ধরে গান গেয়ে শুধু নিজের জীবনই নয়, সংসারও টেনে নিয়ে চলেছেন চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলার পশ্চিম শাকপুরা গ্রামের কাজল মিত্র।
১৯৫৯ সালে জন্ম নেওয়া কাজল মিত্র ছিলেন পাঁচ বোনের একমাত্র ভাই। জন্মের পরই পরিবার বুঝতে পারে, ছেলে চোখে দেখতে পায় না। চোখের আলো ফেরাতে দেশ-বিদেশে চিকিৎসাও করানো হয়েছিল। কিন্তু সব চেষ্টা ব্যর্থ হয়। চোখে আলো না ফিরলেও নিভে যায়নি তার স্বপ্ন।
দৃষ্টিহীন হওয়ায় কোনোদিন বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে বসা হয়নি। বইয়ের অক্ষর চেনা হয়নি, খাতায় লেখা হয়নি নিজের নাম। কিন্তু জীবন তাকে শিখিয়েছে অন্য এক ভাষা—সংগীতের ভাষা।
মাত্র ১১ বা ১২ বছর বয়সে বাড়ির ঘাটের পাশে একটি আমগাছের নিচে বসে চাটগাঁইয়া ভাষার একটি গান গাইছিল ছোট্ট কাজল।
‘দইনুর বিল্যুত উড়েরে ঝাকে ঝাকে তোতা,আঁর মনত পরিগেয়্যি ছুডো হাইল্লা কথা...’
ঠিক তখনই পথ দিয়ে যাচ্ছিলেন সংগীতশিল্পী লক্ষ্মীপদ আচার্য্য। শিশুটির কণ্ঠ শুনে থমকে দাঁড়ান তিনি। পরে কাজলের বাবার সঙ্গে কথা বলে গানের তালিমের ব্যবস্থা করে দেন। সেই একটি ঘটনাই বদলে দেয় কাজল মিত্রের জীবনের পথ।
এরপর একে একে কয়েকজন গুরুর কাছে সংগীত শিক্ষা নেন তিনি। ধীরে ধীরে গানই হয়ে ওঠে তার পরিচয়, পেশা আর বেঁচে থাকার শক্তি। রবীন্দ্রসংগীত, নজরুলগীতি, লালন, আধুনিক, দেশাত্মবোধক, ভক্তিমূলক কিংবা চট্টগ্রামের আঞ্চলিক গান-সব ধরনের গানই সমান দক্ষতায় পরিবেশন করেন তিনি।
শুধু অন্যের গান নয়, নিজের অনুভূতি থেকেও লিখেছেন কয়েকটি গান, দিয়েছেন সুর। কিন্তু জীবনের দীর্ঘ পথচলায় কিছু স্বপ্ন এখনো অপূর্ণ। একটি ভালো মানের হারমোনিয়াম কেনা এবং নিজের গানের একটি অ্যালবাম প্রকাশের ইচ্ছা আজও পূরণ হয়নি।
বয়সের ভারে শরীরও আর আগের মতো সাড়া দেয় না। ডায়াবেটিস, কিডনি জটিলতা ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে প্রতিদিন লড়াই করতে হয়। তবু সুযোগ পেলেই পুরোনো হারমোনিয়ামটি সামনে নিয়ে বসেন। কারণ, গানই তার বেঁচে থাকার শক্তি।
সংসারে এক ছেলে ও দুই মেয়ে। মেয়েদের বিয়ে দিয়েছেন। ছেলে একটি দোকানে চাকরি করেন। সীমিত আয়ের এই পরিবারে এখনও কাজল মিত্রের গানের আয় গুরুত্বপূর্ণ ভরসা।
কাজল মিত্র বলেন, ‘চোখে আলো পাইনি, কিন্তু গান আমাকে মানুষের ভালোবাসা দিয়েছে। যতদিন কণ্ঠে সুর থাকবে, ততদিন গান গেয়েই বাঁচতে চাই।’
চোখে আলো না থাকলেও সুরের আলোয় নিজের জীবনকে আলোকিত করেছেন কাজল মিত্র। আর সেই সুরই আজও ছুঁয়ে যায় মানুষের হৃদয়।