মিয়ানমারের চরমপন্থি সশস্ত্র সংগঠন আরসার আগের নাম ছিল আল ইয়াকিন বা ইসলামি সংগঠন। রোহিঙ্গা মুসলমানদের নিয়ে কাজ করাই ছিল তাদের উদ্দেশ্য। ২০১৩ সালের দিকে সংগঠনের নাম পাল্টে রাখা হয় আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মি বা আরসা, যদিও দলের একাংশ এখনো আল ইয়াকিন নামেই পুরোনো সংগঠনকে আকড়ে ধরে আছে। আতাউল্লাহ আবু আম্মার জুনুনি সেসময়ে হন স্যালভেশন আর্মির (আরসা) কমান্ডার ইন চিফ। এই আতাউল্লাহর জন্ম সৌদি আরবে, তার বাবা-মা আরাকান থেকে গিয়ে সৌদি আরবে স্থায়ী হন। কিন্তু জন্ম সৌদি আরবে হলেও আতাউল্লাহ পরে পাকিস্তানের করাচিতে এসে বসবাস করতেন।
রোহিঙ্গাদের অধিকার আদায় করতে ঠিক কবে মিয়ানমারে তিনি ফিরে আসেন, তা জানা যায় না। তবে তা ২০১৩ সালের আগেই অর্থাৎ আল ইয়াকিন থেকে আরসার যাত্রা শুরুর আগেই হয়েছে, তা নিশ্চিত। সংগঠনটি সশস্ত্র হয়ে উঠেছে, তা প্রথম বোঝা যায় ২০১৫-১৬ সালের দিকে। লক্ষ্য ছিল, মিয়ানমারের মুসলিম অধ্যুষিত আরাকান প্রদেশ দখল। ২০১৭ সালের মাঝামাঝি মিয়ানমারের থানায় হামলা, পুলিশের অস্ত্র লুটের ঘটনার পর সংগঠনটির বিরুদ্ধে প্রথম মনোযোগ দেয় মিয়ানমার সেনাবাহিনী। তবে ওই বছরেই আগস্টে তার নির্দেশে রাখাইনে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর তল্লাশি চৌকিতে আরকান দখল ও অস্ত্র লুট করার জন্য আবার হামলা চালায় আরসা। এ ঘটনায় ভীষণ ক্ষুব্ধ সেনাবাহিনী আরসা নির্মূলের উদ্দেশে আরকান প্রদেশে হামলা শুরু করে। তখন উত্তপ্ত হয়ে পড়ে মিয়ানমারে মুসলমানদের গ্রামগুলোর পরিস্থিতি। ওই দেশের সেনাবাহিনী ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট রাখাইনে চড়াও হয়ে অভিযান ও রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতন, হামলা ও গণধর্ষণের ঘটনা শুরুর পর নিজ দেশ ছেড়ে বাংলাদেশে পালিয়ে আসে প্রায় ১০ লাখ রোহিঙ্গা। সম্পূর্ণ মানবিক কারণে তাদের তখন আশ্রয় দেয় বাংলাদেশ সরকার। আর বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে আরসার সদস্যদের সম্পর্কে তথ্য না থাকার সুযোগে এসব রোহিঙ্গার সঙ্গে আশ্রয়প্রার্থী হিসেবে বাংলাদেশে চলে আসে আরসার কিছু সদস্য আর সমর্থকও।
উদ্দেশ্য তাদের মিয়ানমার সেনাবাহিনীর সঙ্গে লড়াই করা হলেও অস্ত্র তৈরি ও সংগ্রহ, বাহিনীর জন্য সদস্য সংগ্রহ, সদস্যদের অস্ত্র প্রশিক্ষণ দেওয়া ইত্যাদি কাজে তারা তখন থেকেই গোপনে বাংলাদেশের পাহাড়ি নির্জন এলাকাগুলো ব্যবহার শুরু করে। একই সঙ্গে রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরগুলোতে নিজেদের প্রভাব বাড়াতে তারা সেগুলোতে আধিপত্য বিস্তার শুরু করে। রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবির সর্দার বা মাঝিদের করায়ত্ত করা বা ভয় দেখানো দিয়েই এর শুরু। একই সঙ্গে নিজেদের অর্থভাণ্ডার ঠিক রাখতে মিয়ানমারের সঙ্গে বাংলাদেশের অরক্ষিত সীমান্ত অঞ্চলকে রুট হিসেবে ব্যবহার করে এদেশে মাদক চোরাচালান আরও বাড়িয়ে দেয়।
শুরুতে আরসা সম্পর্কে অন্ধকারে থাকলেও দিনের পর দিন রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরগুলোতে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে পরস্পরের মধ্যে হামলা, গুলি, হত্যার ঘটনা বাড়তে থাকায় এবং বিপুল পরিমাণ মাদকসহ রোহিঙ্গা ও তাদের প্ররোচনায় স্থানীয়দের আটক বা গ্রেপ্তাদের মধ্য দিয়ে এই চরমপন্থি সংগঠন সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পেতে শুরু করে বাংলাদেশের বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। র্যাব, এপিবিএন আরসা দমনে কঠোর অভিযান চালাচ্ছে মাঝেমধ্যেই। তার পরও তাদের গোপন তথ্য প্রকাশ হয়ে পড়া এবং বেশির ভাগ রোহিঙ্গা সশস্ত্র যুদ্ধে জড়িত হতে না চাওয়ায় আরসার নেতাসহ সদস্যরা বরাবরই আছে উৎকণ্ঠায়। রোহিঙ্গাদের মধ্যে আরসা ছাড়াও আছে আরও কিছু সশস্ত্র গ্রুপ। তবে তারা পরস্পর যেন পরস্পরের শত্রু। আরাকানে যে বিদ্রোহী সশস্ত্র গ্রুপ আরাকানের স্বাধীনতার জন্য সশস্ত্র লড়াই করে যাচ্ছে, আরাকান আর্মি, ওদের সঙ্গেও এসব গ্রুপের শত্রুতা রয়েছে। আরাকান আর্মি সাধারণভাবে সব আরাকানির জন্যে স্বাধীন আরাকান চায়, কিন্তু আরসাকে ওরা চিহ্নিত করে মুসলিম সন্ত্রাসী গ্রুপ হিসেবে। সব মিলিয়ে অস্থির হয়ে উঠছে রোহিঙ্গা শিবির।
আরসার শীর্ষ নেতা অলি আকিজ দীর্ঘদিন মিয়ানমারে আত্মগোপনে থাকলেও গত ১৯ মে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ফিরেছেন। আরসার শীর্ষ কমান্ডার আতাউল্লাহ আবু আম্মার জুনুনি এবং সেকেন্ড-ইন-কমান্ড ওস্তাদ খালেদের নির্দেশে ক্যাম্পে আধিপত্য বিস্তারের নতুন পরিকল্পনা নিয়ে অপতৎপরতা চালাচ্ছেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সূত্রে জানা যায়, রোহিঙ্গাদের সশস্ত্র গ্রুপ আরসার প্রশিক্ষণ। অস্ত্র তৈরি, আত্মগোপন, মিটিংসহ নানা কর্মকাণ্ড সেখানে সংগঠিত হতো। গত রোববার মধ্যরাতে অভিযান চালিয়ে ক্যাম্প-৪-এ গোপন বৈঠক থেকে আকিজসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, একটি দেশীয় তৈরি এলজি, একটি ওয়ানশুটার গান, ১০ রাউন্ড কার্তুজ, দুই কেজি বিস্ফোরকদ্রব্য, তিনটি মোবাইল এবং নগদ ২ হাজার ৫০০ টাকা জব্দ করা হয়।
র্যাব-১৫-এর অধিনায়ক লে. কর্নেল এইচ এম সাজ্জাদ হোসেন বলেন, ‘আমরা এ পর্যন্ত ১১২ জনের ওপরে আরসার ভিন্ন পদবিধারী নেতা গ্রেপ্তার করেছি। গত রোববারের আরসার শীর্ষ নেতা আকিজসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করি। তাদের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
২০১৭ সালে সীমান্ত পার হয়ে ভারত হয়ে বাংলাদেশে এসে ক্যাম্প-৫-এ সপরিবারে বসবাস শুরু করেন মৌলভী আকিজ। পরে আরসার হয়ে কাজ শুরু করেন তিনি। এরপর ক্যাম্প-৫-এ আরসার প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পান। নেটওয়ার্ক গ্রুপে কাজ করতেন। ক্যাম্পের বিভিন্ন তথ্য আরসা কমান্ডারদের কাছে পৌঁছে দিতেন। এভাবে শীর্ষ নেতৃত্বে পৌঁছান। রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের পক্ষে কাজ করায় ওস্তাদ খালেদের নির্দেশে রোহিঙ্গা নেতা মাস্টার মহিবুল্লাহকে হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী ছিলেন আকিজ। তা ছাড়া মতাদর্শিক দ্বন্দ্বে ক্যাম্পে সেভেন মার্ডারে সরাসরি অংশ নেন। তাদের নেতা-কর্মী আটক হলে কিছুটা দুর্বল হয়ে যায় কিন্তু আবার সক্রিয় হয়ে ওঠে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বিশাল এই জনগোষ্ঠীতে আরসা, আল-ইয়াকিনসহ অন্তত ১৫টি বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন সক্রিয়। ২০১৭ সাল থেকে এখন পর্যন্ত ছয় বছরে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সংঘর্ষের ঘটনায় প্রায় ৩০০ জন নিহত হয়েছে। মামলা হয়েছে পাঁচ হাজারের অধিক। এসব মামলার বেশির ভাগই হয়েছে মাদক ও আগ্নেয়াস্ত্র রাখার অভিযোগে।
রোহিঙ্গা নেতা ড. জোবায়ের বলেন, আরসা রোহিঙ্গা ক্যাম্প দখল করে রাজত্ব কায়েম করার জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এ পর্যন্ত তাদের দুই শতাধিক নেতা-কর্মী আটক হয়েছেন। আটক করলেও তারা আরও শক্তিশালী হয়ে উঠবে, তার কারণ তাদের রোহিঙ্গা সরকার মদদ দিয়ে যাচ্ছে। প্রত্যাবাসন বন্ধ রাখার জন্য মিয়ানমার সরকার তাদের ব্যবহার করে যাচ্ছে, যে কারণে তারা এতটা শক্তিশালী।
গত রোববার রাতে উখিয়ার মধুরছড়া ৪ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে আরসার শীর্ষ নেতাদের গ্রেপ্তার করে। সে জায়গায় ভোরে ৪০-৪৫ জন আরসা সন্ত্রাসী পাহাড় থেকে সীমানার কাঁটাতারের বেড়া অতিক্রম করে ৪ নম্বর ক্যাম্পে আসে। ঘটনাস্থলে এসে ক্যাম্পে পাহারারত রোহিঙ্গা ইলিয়াছকে তারা গুলি করে ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে হাতে, পায়ে ও তলপেটে কুপিয়ে মারাত্মক জখম করে। এতে ইলিয়াস ঘটনাস্থলেই মারা যান।
১৪ এপিবিএনের অধিনায়ক মোহাম্মদ ইকবাল বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গেলে এপিবিএন সদস্যদেরও লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ করে সন্ত্রাসীরা।
তিনি আরও বলেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে নতুন করে সংগঠিত এবং নাশকতা করার চেষ্টা করছে আরসা। মূলত আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘবদ্ধ হয়ে হামলা চালায় আরসা সন্ত্রাসীরা। এতে তারা গুলি এবং কুপিয়ে তিন রোহিঙ্গাকে হত্যা করে। আর গুরুতর আহত হয় সাতজন। হতাহতরা আরএসও সদস্য বলে জানা গেছে।
রোহিঙ্গা গবেষক অধ্যাপক ড. রাহমান নাসির উদ্দিন দৈনিক বাংলাকে বলেছেন, রোহিঙ্গাদের অধিকার আদায় করতে আরসা ২০১৭ সালের ২৫ আগস্টের দিকে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর তল্লাশি চৌকিতে হামলা চালায়। কিন্তু এটার কারণে নির্যাতনের তীব্রতায় নিজ দেশ ছেড়ে বাংলাদেশে পালিয়ে আসে প্রায় ৮ লাখ রোহিঙ্গা। সে কারণে আরসা রোহিঙ্গাদের প্রতিনিধিত্ব হয়ে উঠতে পারে নাই। বিভিন্ন সময় রোহিঙ্গাদের সঙ্গে কথা বলে জানতে পারি, রোহিঙ্গাদের এ দুর্দশার জন্য আরসা দায়ী। রোহিঙ্গাদের সঙ্গে আরসার একটা বড় গ্রুপ বাংলাদেশে এসেছে। বাংলাদেশে ৩৪টি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে তাদের অবস্থান ধরে রাখার জন্য তারা বিভিন্ন ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে এবং যখন কেউ তাদের বিরুদ্ধে কথা বলার চেষ্টা করেছে তখন তারা তাদের দমন করেছে। এর মধ্যে একজন ছিলেন মুহিব উল্লাহ। মুহিব উল্লাহ যখন রোহিঙ্গাদের নেতা হয়ে ওঠে বিশ্বের কাছে পরিচিত হন এবং আন্তর্জাতিকভাবে রোহিঙ্গাদের জন্য আন্দোলন করেন তখন তাকে নেতা হিসেবে গ্রহণ করে রোহিঙ্গারা। বাংলাদেশ যখন প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরু করে তখন রোহিঙ্গাদের রাজি করানোর জন্য মুহিব উল্লাহ সোর্স ছিল। ধীরে ধীরে মুহিব উল্লাহ প্রধান পাঁচ রোহিঙ্গা নেতার একজন হয়ে ওঠেন। ২০১৯ সালের ২৫ আগস্ট ৩ থেকে ৫ লাখ রোহিঙ্গার মহাসমাবেশ করে তাক লাগিয়ে দেন এবং আনন্দে আত্মহারা করে দেন রোহিঙ্গা ইস্যুতে লেগে থাকা বিদেশি এনজিওগুলোকে। এসব কারণে আরাকান রোহিঙ্গা সোসাইটি ফর পিস অ্যান্ড হিউম্যান রাইটস ভেঙে দেওয়ার জন্য মুহিব উল্লাহকে হত্যা করা হয়। মিয়ানমার সেনাবাহিনীর শত্রু হচ্ছে আরাকান আর্মি। আরাকান আর্মির শত্রু হচ্ছে মিয়ানমার সেনাবাহিনী। আবার মিয়ানমারের শত্রুও আরসা। মিয়ানমার নৌবাহিনী ঘোষণা দিয়ে বলছে আরকান আর্মি ও আরসা মিলে বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে। যেহেতু মিয়ানমার আরাকানে আরকান আর্মি শক্তিশালী হয়ে উঠেছে। সে কারণে আরসা ও শক্তিশালী হয়ে উঠেছে।
দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীগুলোকে সতর্ক করে দিয়ে ড. রাহমান নাসির বলেন, দুই শতাধিক আরসার নেতা-কর্মী গ্রেপ্তার করাতেই আরসা দুর্বল হয়ে পড়েছে এমন যুক্তি হয়তো সঠিক নয়। এই চরমপন্থি দলে আরও অনেক সদস্য ও সমর্থক রয়েছে।
কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. রফিকুল ইসলাম দৈনিক বাংলাকে বলেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বিভিন্ন সন্ত্রাসী গ্রুপ তাদের আধিপত্য বিস্তার করার জন্য এসব সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করে থাকে। আগুন নাশকতা এসব মাঝেমধ্যে বিভিন্ন কারণে হয়ে থাকে। তবে কিছু কিছু ঘটনা আমরা সন্দেহ করি এগুলো নাশকতা। আমরা আরসা বলে কিছু পাইনি। তবে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সন্ত্রাসী গ্রুপ আছে। যারা উগ্রবাদী কর্মকাণ্ডে জড়াবে তাদের বিরুদ্ধে আমাদের সমন্বিত অভিযান অব্যাহত থাকবে।
রোহিঙ্গা ইয়ুথ অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিষ্ঠাতা খিন মং বলেন, রোহিঙ্গাদের অধিকারের জন্য লড়াই করার দাবি করেছিল আরসা। তখন তাদের বিশ্বাস করেছিল রোহিঙ্গারা। কিন্তু এখন সাধারণ রোহিঙ্গারাও মনে করে আরসা মিয়ানমারের এজেন্ট হিসেবে কাজ করছে। যারা প্রত্যাবাসনের কথা বলছেন তাদের হত্যা করা হচ্ছে। তাই আরসার ওপর তাদের আর বিশ্বাস নেই।
আমান সোনার ছেলে চলে গেলো। আমার চাঁদের মতন ছেলেকে ছেড়ে আমি কি করে থাকবো? সেই ছেলে নাই হয়ে গেছে। আমার একমাত্র ভাইটাও চলে গেলো। আমার মা টাকেও হারিয়ে ফেললাম। এভাবে কান্নাজড়িত কন্ঠে আর্তনাদ করছে দৌলতদিয়ায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাস নদীতে তলিয়ে যাওয়ার ঘটনায় নিহত একই পরিবারের তিন সদস্যের স্বজন ডাঃ ইসরাত জাহান রুবা।
বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) সকাল সাড়ে ১০ টায় রাজবাড়ী পৌর শহরের ৭ নম্বর ওয়ার্ড ভবানীপুর লাল মিয়া সড়কে নিহতের বাড়িতে গিয়ে স্বজনদের আহাজারি দেখা যায়।
একই পরিবারের নিহত তিনজনরা হলেন, রাজবাড়ী পৌরসভার ভবানীপুর ৮ নং ওয়ার্ড লালমিয়া সড়ক এলাকার মৃত মৃত ইসমাঈল হোসেন খানের স্ত্রী রেহেনা আক্তার (৬১), রেহেনা আক্তারের ছোট ছেলে আহনাফ তাহমিদ খান (২৫) ও রেহেনা আক্তারের নাতি রাজবাড়ী পৌরসভার ৫নং ওয়ার্ডের কেবিএম মুসাব্বির ও ডাঃ ইশরাত জাহান রুবার ছেলে তাজবীর (৭)। নিহত আহনাফ জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগ শিক্ষার্থী ছিলো।
নিহত আহনাফ এর বড় বোন ও নিহত তাজবীরের মা ডাঃ ইশরাত জাহান কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, আমি কেমনে করে বাঁচবো তোরে ছাড়া (তাজবীর), আমি কেনো আগের দিন আমার বাচ্চাটারে নিয়ে গেলাম না, তাহলে আমার বাচ্চাটা বেঁচে যেত। আমার ছোট ভাইটাও চলে গেলো।
তিনি বলেন, আমি ঢাকায় ছিলাম। আমার বাচ্চা আসতেছে এজন্য আমি বাসায় রান্না করছিলাম।
আমি কিছুই জানতাম না।সন্ধ্যায় আমাকে গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে ফোন দেওয়া হয়। এর কিছুক্ষণ পর আমার বন্ধু আমাকে ফোন দিয়ে জানায় আমার মা আর নেই। আমার ছোট ভাই ও আমার বাচ্চার সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না।পরে জানতে পারলাম আমার ছোট ভাই ও আমার একমাত্র সন্তানও মারা গিয়েছে। সন্তানের লাশ রাতে শনাক্ত করেছিলাম, আর ছোট ভাইয়ের লাশ আজ সকালে পেয়েছি। আমার মা এর লাশ রাতেই গোয়ালন্দ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পেয়েছিলাম।
তিনি সন্তান ও ভাইয়ের স্মৃতিচারণ করে বলেন, আমি ঈদের ছুটি শেষ করে যখন ঢাকা যায় তখন আমার ছেলে বলছিলো মা সাবধানে যেও। আমি তখন বললাম রাতে কার কাছে ঘুমাবা তুমি, সে বলল মামার কাছে ঘুমাবো। আমার ছেলের মামাও নেই....আমার ছেলেও নেই এখন। দুজন মিলে নাই হয়ে গেছে আমার জীবন থেকে। আমার এত ভালো ভাই আমার, আমাদের এত সুন্দর সংসার, আমরা দুই বোন ডাক্তার।
নিহত শিশু তাজবীরের চাচা আতাউল গণি মুক্তাদির বলেন, আমার ভাতিজারা ঢাকায় মিরপুরে থাকে। ওর বাবা মেরিন ইঞ্জিনিয়ার, বর্তমানে সে সুদানে রয়েছে। আমার ভাতিজার মা একজন চিকিৎসক। আনার তাজবীর ইংলিশ মিডিয়ামে প্লে শ্রেণীতে পড়ে। আমার ভাতিজা ঈদের ছুটিতে রাজবাড়ীতে এসেছিল দাদা বাড়ি ও নানা বাড়িতে ঈদ করতে। ঈদ শেষ করে গতকাল বিকেলে আমার ভাতিজা তার নানী, খালা ও মামার সাথে ঢাকায় ফিরছিলো। তাদের বাসটি দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নদীতে পড়ে যায়। এতে তাজবীরের খালা বেঁচে ফিরে আসলেও বাকিরা মারা গেছে। আমার ভাতিজা আমাদের বংশের প্রদীপ ছিলো। আমরা তাকে হারিয়ে ফেললাম।
মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস ২০২৬ উপলক্ষ্যে গোপালগঞ্জরে কোটালীপাড়া উপজলো প্রশাসনরে আয়োজনে বীর মুক্তযিোদ্ধা ও শহীদ মুক্তযিোদ্ধা পরবিাররে সদস্যদরে সংর্বধনা ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠতি হয়ছে।
বৃহস্পতবিার (২৬ র্মাচ) দুপুর ১২টায় কোটালীপাড়া শল্পিকলা একাডমেী প্রাঙ্গনে আয়োজতি এ অনুষ্ঠানে সভাপতত্বি করনে উপজলো নর্বিাহী অফসিার সাগুফতা হক।
অনুষ্ঠানরে শুরুতইে উপজলো নর্বিাহী অফসিার সাগুফতা হক প্রশাসনরে অন্যান্য র্কমর্কতাদরে নিয়ে উপস্থতি বীর মুক্তযিোদ্ধা ও শহীদ মুক্তযিোদ্ধা পরবিাররে সদস্যদরে ফুল দয়ে উষ্ণ অর্ভ্যথনা জানান।
উপজলো পল্লী উন্নয়ন অফসিার আবু তাহরে হলোলরে সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখনে কোটালীপাড়া থানার অফসিার ইনর্চাজ মো: রয়িাদ হোসনে, উপজলো বএিনপরি সভাপতি এস এম মহউিদ্দনি, সাধারণ সম্পাদক আবুল বশার দাড়য়িা, পৌর বএিনপরি সভাপতি ইউসুফ আলী দাড়য়িা এবং বীর মুক্তযিোদ্ধা আবুল কালাম আজাদ, জবদে আলী তালুকদার, আতয়িার রহমান মোল্লা, মোদাচ্ছরে হোসনে ঠাকুর, নরন্দ্রেনাথ বাড়ৈ আলাউদ্দনি তালুকদার ও শখে আব্দুল মান্নান।
আলোচনা সভায় মুক্তযিোদ্ধারা আবগেঘন কণ্ঠে তাদরে রণাঙ্গনরে স্মৃতচিারণ করনে। তারা বলনে, “১৯৭১ সালে জীবনরে ঝুঁকি নয়ি আমরা যে স্বাধীনতা ছনিয়ি এনছে, তা ছলি একটি র্মযাদার্পূণ, বষৈম্যহীন ও মানবকি রাষ্ট্র গঠনরে স্বপ্ন। আজ সইে স্বাধীনতার সুফল ভোগ করছে নতুন প্রজন্ম—এটাই আমাদরে সবচয়ে বড় র্অজন।”
আলোচনা সভা শষে উপজলো প্রশাসনরে উদ্যোগে ৩’শ ৫১ জন মুক্তযোদ্ধাকে উপহার সামগ্রী তুলে দওেয়া হয়।
নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার খোর্দ কাচুটিয়া এলাকায় নির্মানাধীন পাওয়ার গ্রিডে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। এ সময় নিরাপত্তা প্রহরীদের বেঁধে রেখে সেখান থেকে থেকে ১ কোটি ৯৩ লাখ টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে গেছে ডাকার দল।
বুধবার (২৫ মার্চ) রাত ৭টা থেকে গভীররাত পর্যন্ত গ্রিডে কর্মরত চারজন পাহাড়ারকে হাত-পা ও মুখ বেঁধে রেখে ওই মালামাল লুট করা হয় । খবর পেয়ে বৃহস্পতিবার সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেনদ পুলিশ।
পাওয়ার গ্রিডে কর্মরত প্রকৌশলী ও নিরাপত্তা কর্মীদের ভাষ্যমতে, গতকাল সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে মূল ফটকে শব্দ হলে পাহারাদার শফিকুল ইসলাম গেট খুলে দেন। এসময় ওত পেতে থাকা ৩৫-৪০ জনের একটি সশস্ত্র ডাকাত দল ভেতরে প্রবেশ করে। এরপর তারা সেখানে থাকা চারজন পাহারাদারকেও অস্ত্রের মুখে এক জায়গায় জড়ো করে।
ডাকাত দল পাহারাদারদের হাত, পা ও চোখ বেঁধে ফেলে এবং চিৎকার করলে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে জিম্মি করে রাখে। প্রায় ৪-৫ ঘণ্টা পর গ্রিড থেকে গাড়ি বের হয়ে যাওয়ার শব্দ পাওয়া যায়। দীর্ঘক্ষণ আর কোনো শব্দ না পেয়ে রাত আনুমানিক আড়াইটার দিকে পাহারাদার সোহাগ অনেক চেষ্টার পর তার বাবা শফিকুলের বাঁধন খুলে দিতে সক্ষম হন। পরবর্তীতে শফিকুল বাকিদের মুক্ত করেন।
দুষ্কৃতকারীরা তাদের একটি ঘরে আটকে রেখে বাইরে থেকে ছিটকিনি লাগিয়ে দিয়েছিল। পাহারাদাররা ঘরের পর্দার স্ট্যান্ড ব্যবহার করে কৌশলে ছিটকিনি খুলে রাত সাড়ে ৪টার দিকে বের হতে সক্ষম হন। এরপর তারা অন্যের ফোন ব্যবহার করে ৯৯৯-এ কল করেন এবং ঊর্ধ্বতন প্রকৌশলীদের বিষয়টি অবহিত করেন।
প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, গ্রিড থেকে ৩৬৮টি ব্যাটারি (মূল্য প্রায় ১ কোটি ১৩ লাখ টাকা) এবং ২ হাজার মিটার তামার তার (মূল্য প্রায় ৫৩ লাখ টাকা) সহ সর্বমোট ১ কোটি ৯২ লাখ ৬০ হাজার ২৮৯ টাকার মালামাল লুট হয়েছে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইফতে খায়ের আলম বলেন, খবর পেয়ে আমরা ঘটনা স্থল পরিদর্শন করেছি। ঘটনা উদঘাটনে ডিবি টিম কাজ শুরু করেছে। পিজিসিবির পক্ষ থেকে অজ্ঞাত ৩৫ থেকে ৪০জনকে আসাসী করে একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন। ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করছে পুলিশ।
মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে বরিশালে সর্বসাধারণের জন্য বাংলাদেশ নৌবাহিনীর আধুনিক যুদ্ধজাহাজ বানৌজা অদম্য প্রদর্শন করা হয়েছে। এ আয়োজন ঘিরে নগরবাসীর মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ ও আগ্রহ লক্ষ্য করা গেছে।
বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত নগরীর কীর্তনখোলা নদীর তীরে মুক্তিযোদ্ধা পার্ক সংলগ্ন বিআইডব্লিউটিএ ঘাটে যুদ্ধজাহাজটি দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়। নির্ধারিত চার ঘণ্টার মধ্যে হাজারো মানুষ জাহাজে প্রবেশ করে কাছ থেকে পরিদর্শনের সুযোগ পান।
দুপুরের পর থেকেই যুদ্ধজাহাজটি দেখতে বিভিন্ন বয়সী নারী, পুরুষ ও শিশুদের উপচে পড়া ভিড় দেখা যায়। পরিবার ও বন্ধুদের নিয়ে অনেকেই জাহাজ পরিদর্শনে আসেন। কাছ থেকে নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ দেখার সুযোগ পেয়ে দর্শনার্থীরা উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন।
কাশিপুর এলাকার বাসিন্দা আসলাম বলেন, যুদ্ধজাহাজ সাধারণ মানুষের দেখার সুযোগ খুব একটা পাওয়া যায় না। বিজয় দিবসের মতো গুরুত্বপূর্ণ দিনে এমন আয়োজন আমাদের জন্য গর্বের।
হাটখোলা এলাকার অভিভাবক নিজাম উদ্দিন বলেন, শিশুদের নৌবাহিনী সম্পর্কে ধারণা দেওয়া এবং দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করার জন্যই এখানে নিয়ে এসেছি। জাহাজটি ঘুরে দেখতে পেরে আমরা সবাই খুব আনন্দিত।
যুদ্ধজাহাজটির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কমান্ডার আরিফ হোসেন বলেন, বানৌজা অদম্য সমুদ্রে আন্তঃ ও বহিঃশত্রু মোকাবিলায় সক্ষম একটি আধুনিক যুদ্ধজাহাজ। দেশের সামুদ্রিক সম্পদ ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় এটি নিয়মিত দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। সাধারণ জনগণকে নৌবাহিনীর সক্ষমতা ও কার্যক্রম সম্পর্কে জানাতেই বিজয় দিবসে এই প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছে।
প্রদর্শনী চলাকালে জাহাজে দায়িত্বপ্রাপ্ত নৌসদস্যরা দর্শনার্থীদের জাহাজের বিভিন্ন অংশ, সরঞ্জাম ও কার্যক্রম সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা দেন, যা সাধারণ মানুষের মধ্যে নৌবাহিনী সম্পর্কে আগ্রহ ও সচেতনতা বৃদ্ধি করে।
জানা গেছে, বানৌজা অদম্য বাংলাদেশ নৌবাহিনীর একটি ২৬ পিসিএস শ্রেণির অত্যাধুনিক যুদ্ধজাহাজ। এটি খুলনা শিপইয়ার্ডে নির্মিত হয়ে ২৩ ডিসেম্বর ২০১৩ সালে নৌবাহিনীতে সংযুক্ত হয়। জাহাজটির দৈর্ঘ্য ৫০.৪০ মিটার এবং প্রস্থ ৭.৫ মিটার। এর গতি ঘণ্টায় প্রায় ২১ নটিক্যাল মাইল।
নৌবাহিনীতে সংযুক্ত হওয়ার পর থেকে জাহাজটি দেশের সমুদ্রসীমা রক্ষায় নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। পাশাপাশি চোরাচালান প্রতিরোধ, মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান এবং জাটকা প্রতিরোধসহ বিভিন্ন অভিযানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস ২০২৬ উপলক্ষে কুমিল্লার মুরাদনগরে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানে সংবর্ধনা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ সময় ধর্মমন্ত্রীর পক্ষ থেকে মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য ৫ লক্ষ টাকার আর্থিক অনুদান প্রদান করা হয়। বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) সকাল ১১টায় উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে নবনির্মিত উপজেলা পরিষদ হলরুমে এ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এ.বি.এম. সারোয়ার রাব্বীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের ধর্মমন্ত্রী ও স্থানীয় সংসদ সদস্য কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, মুক্তিযোদ্ধাদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতা জাতির শ্রেষ্ঠ সম্পদ। তাঁদের যথাযথ সম্মান ও মর্যাদা নিশ্চিত করা সবার দায়িত্ব।
উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা বরুণ চন্দ্র দে’র সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাকিব হাছান খাঁন, মুরাদনগর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এ কে এম কামরুজ্জামান, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা পাভেল খান পাপ্পু, মুরাদনগর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন চৌধুরী, বাঙ্গরা বাজার থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) আনোয়ার হোসেন, মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার হারুনুর রশিদসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও তাঁদের পরিবারের সদস্যরা।
অনুষ্ঠানে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে রজনীগন্ধা ফুল দিয়ে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের বরণ করে নেওয়া হয়। পরে তাঁদের মাঝে সম্মাননা স্মারক ও পুরস্কার বিতরণ করা হয়। পাশাপাশি অসহায় ও নিম্নবিত্ত মুক্তিযোদ্ধাদের সহায়তায় ধর্মমন্ত্রীর পক্ষ থেকে ৫ লক্ষ টাকার আর্থিক অনুদান প্রদান করা হয়।
চৈত্র মাসের শুক্লপক্ষের অষ্টমী তিথি উপলক্ষে বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলার রাজেশ্বর গ্রামে অনুষ্ঠিত হলো ঐতিহ্যবাহী গঙ্গাস্নান উৎসব। প্রায় ৯৫ বছর ধরে কুলু বংশের নিজস্ব জমিতে চলে আসা এ আয়োজন স্থানীয়দের কাছে সম্প্রীতি ও ঐতিহ্যের এক অনন্য প্রতীক।
প্রতিবছরের মতো এবারও সকাল থেকেই বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ গঙ্গাস্নান দেখতে ও অংশ নিতে রাজেশ্বর গ্রামে ভিড় জমায়। একসময় এই উৎসবে বহু দূর-দূরান্ত থেকে হাজারো মানুষের সমাগম ঘটলেও বর্তমানে সে তুলনায় উপস্থিতি অনেকটা কমেছে বলে জানান স্থানীয়রা।
উৎসবকে ঘিরে আগে মাটির পুতুলসহ বিভিন্ন গ্রামীণ সামগ্রীর দোকান বসতো, যা ছিল শিশু-কিশোরদের জন্য বিশেষ আকর্ষণ। তবে সময়ের পরিবর্তনে সেই চিত্রও অনেকটাই ফিকে হয়ে এসেছে।
পুষ্প রানী কুলু বলেন, “এই গঙ্গাস্নান আমাদের পূর্বপুরুষদের আমল থেকে চলে আসছে। ছোটবেলা থেকে দেখে আসছি এই আয়োজন। আগে অনেক বেশি লোকসমাগম হতো, মেলা জমজমাট থাকতো। এখন সেই পরিবেশ কিছুটা কমে গেছে, তবুও আমরা ঐতিহ্য ধরে রাখার চেষ্টা করছি।"
পূজারী দুলাল চক্রবর্তী বলেন, “এটি শুধু একটি ধর্মীয় আচার নয়, বরং মানুষের মধ্যে ভ্রাতৃত্ববোধ ও সম্প্রীতির একটি মিলনমেলা। দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ এখানে আসেন, একসঙ্গে প্রার্থনা করেন। এই আয়োজন আমাদের সংস্কৃতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।"
আয়োজক ও স্থানীয়দের ভাষ্য, পূর্বপুরুষদের আমল থেকে চলে আসা এই গঙ্গাস্নান শুধু ধর্মীয় আচার নয়, বরং এটি গ্রামীণ ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও পারস্পরিক সম্প্রীতির বন্ধনকে আরও দৃঢ় করে। তারা আশা করছেন, যথাযথ উদ্যোগ নিলে ভবিষ্যতে আবারও আগের মতো উৎসবের জৌলুস ফিরে আসবে।
পিরোজপুরে যথাযথ মর্যাদায় ৫৬তম মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদযাপিত হয়েছে। এ উপলক্ষে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা ও আলোচনা সভায় বক্তারা একটি শোষণমুক্ত, গণতান্ত্রিক ও ন্যায়বিচারভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।
বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) দুপুরে পিরোজপুর জেলা প্রশাসক আবু সাঈদের সভাপতিত্বে শহীদ ওমর ফারুক মিলনায়তনে এই অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পিরোজপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মাসুদ সাঈদী। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জেলা পুলিশ সুপার মোঃ মনজুর আহমেদ সিদ্দিকী,জেলা পরিষদ প্রশাসক আলমগীর হোসেন এবং বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ পিরোজপুর জেলা ইউনিট কমান্ডের আহবায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা আহমেদ শহীদুল হক।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাসুদ সাঈদী বলেন, "আজ আমরা যে স্বাধীন পরিচয় নিয়ে কথা বলছি, তার সবটুকুই বীর মুক্তিযোদ্ধাদের অবদান। আপনারা লাল-সবুজের পতাকা উপহার দিয়েছিলেন বলেই আমরা আজ আত্মপরিচয় খুঁজে পেয়েছি"। তিনি আরও উল্লেখ করেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার আহ্বানে সাড়া দিয়ে বীর মুক্তিযোদ্ধারা যেভাবে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন, সেই একই চেতনা ধারণ করে বর্তমান প্রজন্ম জুলাই বিপ্লবের মাধ্যমে ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসান ঘটিয়েছে।
সভায় বক্তারা বলেন, বিগত ১৭ বছরের শাসন আমলে দেশের গণতান্ত্রিক পরিবেশকে ধ্বংস করে দিয়েছিল। ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে দেশ আজ যে নতুন পরিবেশ ফিরে পেয়েছে তা কাজে লাগিয়ে একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়াই এখনকার মূল লক্ষ্য।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপির সদস্য সচিব সাইদুল ইসলাম কিসমত,জেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি মোঃ জহিরুল হক,বীর মুক্তিযোদ্ধা সোলায়মান মল্লিক (বীরপ্রতীক),বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ পিরোজপুর জেলা ইউনিট কমান্ডের সদস্য সচিব বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রাজ্জাক মুনান,বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সালাম বাতেন,বীর মুক্তিযোদ্ধা গাজী নুরুজ্জামান বাবুল এর গর্বিত সন্তান গাজী কামরুজ্জামান শুভ্রসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
অনুষ্ঠানের শুরুতে বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের সদস্যদের ফুলেল শুভেচ্ছা ও শেষে শহীদ পরিবারকে সম্মাননা প্রদান করা হয়।
তীব্র সেচ পানির সংকটে পড়েছে সাতক্ষীরার তালা উপজেলার কৃষক। চলতি মৌসুম বৃষ্টিপাত না হওয়া হুমকির মুখে ইরি-বোরো চাষাবাদ। একদিকে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে গেছে অন্যদিকে ডিজেল সংকটে বিপাকে কৃষক।
ইরি-বোরো চাষী ইবাদুল সরদার বলেন, ‘আমার সেচ পাম্পে পানি ওঠছে না। ভূপৃষ্ঠ থেকে মাটির ১৫ হাত নিচে পাম্প বসিয়ে সেচের পানি উত্তলোন করছি।
মনজুরুল গোল্দার বলেন,"পানির স্তর কুড়ি হাত নিচে নেমে গেছে। কোন কোন বিলে ৩০ থেকে ৪০ হাত নিচে নেমেছে। ফলে অতিরিক্ত ডিজেল ব্যবহার করে প্রয়োজনীয় পানি ওঠছে না।’
জব্বার শেখ বলেন, বৃষ্টি না হওয়া ধানের রোগ বালাই বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিশেষ করে ধান খাটো হওয়া,মরা শীষের পরিমাণ বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে বিঘা প্রতি উৎপাদন কমে আসে। সেই সাথে ছত্রাক জনিত রোগ ব্লাষ্ট লাগার সম্ভাবনা দেখা দেয়।
মোসলেম খা বলেন, ফিলিং স্টেশনে ডিজেল পাওয়া যাচ্ছে না। ৯ বিঘা জমিতে ধান চাষাবাদ করেছি। ধানের শীষ বের হচ্ছে। মৌসুম শেষ করতে আমার ২০ থেকে ৩০ কেজি ডিজেল লাগবে।
নাম প্রকাশ না করা শর্তে তালা সদর অবস্থিত মের্সার মিলিনিয়াম উইরেকা ফিলিং ষ্টেশনের কর্মচারী বলেন,"জেলায় সীমিত পরিসরে ডিজেল সরবরাহ করা হচ্ছে।"
তবে খোলা বাজারে লিটার প্রতি ২০ -৩০ টাকা বেশি দামে ডিজেল পাওয়া যাচ্ছে। তালা উপজেলা কৃষি কর্রকর্তা হাজিরা খাতুন বলেন,"চলতি মৌসুমি ২০ হাজার ৫ শত হেক্টর জমিতে ইরি-বোরো আবাদ করা হয়েছে। প্রান্তিক কৃষকের এই সংকট নিরসনে প্রয়োজনী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
বগুড়ার সারিয়াকান্দিতে দুর্বৃত্তের ছুরিকাঘাতে শয়ন (২৪) নামে স্বেচ্ছাসেবক দলের এক কর্মী নিহত হয়েছেন। বুধবার (২৫ মার্চ) রাত ৮টার দিকে উপজেলার ভেলাবাড়ী ইউনিয়নের বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পরে রাত ৯টার দিকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত শয়ন ওই ইউনিয়নের জোড়গাছা গ্রামের মৃত টিপু মণ্ডলের ছেলে। তিনি স্থানীয় হাটে ব্যবসা করতেন এবং উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের একজন কর্মী ছিলেন।
জানাযায়, রাতে শয়ন জোড়গাছা পূর্বপাড়ার টগরের স-মিল এলাকায় যান। সেখানে কে বা কারা তাকে ছুরিকাঘাত করে। স্থানীয়রা খবর পেয়ে তাকে শজিমেক হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের চাচা ও ভেলাবাড়ী ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান লুৎফর হায়দার রুমিন বলেন, আমি বগুড়া শহরে থাকি। ফোনে খবর পেয়ে হাসপাতালে এসে দেখি শয়নকে মর্গে নেওয়া হয়েছে। হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে আমরা এখনও কিছু জানি না। তবে এখানে এসে জানতে পেরেছি, তাকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়েছে। তার সঙ্গে কারো কোনো দ্বন্দ্ব ছিল এমন তথ্যও আমাদের জানা নেই।
শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির এটিএসআই লালন হোসেন জানান, শয়নের বুকের নিচে ছুরিকাঘাতের চিহ্ন রয়েছে।
সারিয়াকান্দি থানার তদন্ত পরিদর্শক নুর আলম বলেন, জোড়গাছা এলাকায় ছুরিকাঘাতে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং ঘটনার কারণ উদ্ঘাটনে কাজ করছে।
মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবেস-তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খাঁন চৌধুরী উপস্থিতিতে ও নান্দাইল উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে যথাযোগ্য মর্যাদায় দিনব্যাপী নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দিবসটি উদযাপন করা হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) সকাল ৯ টায় জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও পবিত্র কোরআন ও গীতা পাঠের মধ্য দিয়ে দিবসের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়।
পরে চন্ডীপাশা সরকারি হাই স্কুল খেলার মাঠে পুলিশ, আনসার, ফায়ার সার্ভিস, বিভিন্ন স্কুল ও কলেজের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে বর্ণাঢ্য কুচকাওয়াজ ও প্যারেড অনুষ্ঠিত হয়। কুচকাওয়াজে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্রছাত্রীরা শৃঙ্খলাবদ্ধভাবে অংশগ্রহণ করে এবং মনোমুগ্ধকর ডিসপ্লে প্রদর্শন করে, যা উপস্থিত দর্শকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে।
উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী জনাব ইয়াসের খান চৌধুরী, এমপি। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন নান্দাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাতেমা জান্নাত, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (গৌরিপুর সার্কেল) দেবাশীষ কর্মকার, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ, সাংবাদিক ও সুধীজন।
দুপুর ১২টায় নান্দাইল উপজেলা পরিষদ হলরুমে বীর মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের পরিবারের সদস্যদের সংবর্ধনা প্রদান করা হয় এবং পরে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনা সভায় বক্তারা মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের আত্মত্যাগ গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন এবং নতুন প্রজন্মের মাঝে স্বাধীনতার চেতনা ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানান।
দিনব্যাপী আয়োজিত কর্মসূচিতে উপজেলার বিভিন্ন স্তরের মানুষ অংশগ্রহণ করেন। যথাযোগ্য মর্যাদা ও উৎসবমুখর পরিবেশে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদযাপনের মাধ্যমে নান্দাইলবাসী মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস ২০২৬ পঞ্চগড় জেলা কারাগারে বন্দী ও স্টাফ সবাই আনন্দঘন ও উৎসবমূখর পরিবেশে উদযাপন করেছে। বন্দীদের বিশেষ খাবারের অংশ হিসেবে সকাল শুরু হয়েছে সুস্বাদু পায়েস ও মুড়ি দিয়ে আর দুপুরে পোলাও, গরুর মাংস, খাসির মাংস, মুরগীর রোস্ট, ডাল, সালাদ, মিস্টি ও পান সুপারী ছিলো খাবারের ম্যেনুতে। রাতে মাছ, আলুর দম আর সাদা ভাত রাখা হয়েছে বলে জানান জেলার মো: আখেরুল ইসলাম।
জেলার আরও জানান শুধু বন্দী না স্টাফদেরও বিশেষ খাবারের আয়োজন করেছে কারা অধিদপ্তর, তাই তারাও আজ অনেক খুশি। স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষ্যে প্যারেড গ্রাউন্ড এ কুচকাওয়াজ এ অংশগ্রহণ করে জেলা কারাগারের একটি কন্টিনজেন্ট, ভালো প্যারেড করায় ধন্যবাদ দেন জেলা প্রশাসক।
সবমিলিয়ে চমৎকার পরিবেশে উৎসাহ ও উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে বন্দী ও স্টাফদের নিয়ে পঞ্চগড় জেলা কারাগারে উদযাপিত হয়েছে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস ২০২৬। সার্বিক ম্যানেজমেন্টে সন্তুষ্টি প্রকাশ করে জেলারকে ধন্যবাদ জানান জেলা ম্যাজিস্ট্রেট শুকরিয়া পারভীন ও অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এস এম ইমাম রাজী টুলু।
মেহেরপুর সদর উপজেলার রাজনগর গ্রামে অজ্ঞাত এক ব্যক্তির অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) দুপুরে উপজেলার রাজনগর গ্রামের ঘোড়ামারা পাড়ায় মরদেহটি পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেন।
খবর পেয়ে মেহেরপুর সদর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে।
মেহেরপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি হুমায়ুন কবির জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে কয়েকদিন আগেই ওই ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। মরদেহটি অর্ধগলিত অবস্থায় থাকায় এখনো তার পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।
স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে রাজশাহীতে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু বলেছেন, জাতির কাছে আজীবন ঘৃণিত হয়ে থাকবে স্বাধীনতার বিরোধিতাকারীরা। মন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতার বিরোধিতাকারীদের প্রতি মানুষের ঘৃণা বিশ্বজুড়ে হিটলারের প্রতি যে ঘৃণা রয়েছে, তার মতোই থাকবে।
বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) সকাল ৬টায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপের সময় তিনি এ কথা বলেন। এ সময় মন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতার বিরোধিতাকারীদের প্রতি মানুষের ঘৃণা বিশ্বজুড়ে হিটলারের প্রতি যে ঘৃণা রয়েছে, তার মতোই থাকবে।
বর্তমান সরকারের লক্ষ্য তুলে ধরে ভূমিমন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতার পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেছে। এখন দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করে গণতন্ত্রকে সুপ্রতিষ্ঠিত করার দিকে গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে এ স্বাধীনতাকে আরো উচ্চতায় নেয়ার চেষ্টা চলছে। একই সঙ্গে বেকার যুবকদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত দেশ গড়ার বিষয়টিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এর আগে, তিনি মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের স্মরণে স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা জানান।
স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে জেলা মুক্তিযোদ্ধা স্টেডিয়ামে বর্ণাঢ্য কুচকাওয়াজ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানও অনুষ্ঠিত হয়। সকাল সাড়ে ৮টায় জাতীয় সংগীতের সঙ্গে পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার বজলুর রশীদ। পরে বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে কুচকাওয়াজ শুরু হয়।
কুচকাওয়াজ শেষে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা অংশ নিয়ে ডিসপ্লে প্রদর্শন করে। পরে বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক, রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রশাসক, পুলিশ কমিশনার, ডিআইজিসহ বিভিন্ন দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে সকাল ৮টায় মহানগর বিএনপির কার্যালয়ে জাতীয় পতাকা উত্তোলন এবং বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে স্বাধীনতা দিবস পালন করা হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু। এছাড়া পবা-মোহনপুর আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শফিকুল হক মিলন, রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মাহফুজুর রহমান রিটন এবং জেলা পরিষদের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট এরশাদ আলী ঈশাসহ দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।