শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬
২৭ আষাঢ় ১৪৩৩

এত গ্রেপ্তারের পরও কেন নির্মূল হচ্ছে না আরসা?

ছবি: সংগৃহীত
রহমত উল্লাহ, টেকনাফ (কক্সবাজার)
প্রকাশিত
রহমত উল্লাহ, টেকনাফ (কক্সবাজার)
প্রকাশিত : ১২ জুন, ২০২৪ ১৬:২৬

মিয়ানমারের চরমপন্থি সশস্ত্র সংগঠন আরসার আগের নাম ছিল আল ইয়াকিন বা ইসলামি সংগঠন। রোহিঙ্গা মুসলমানদের নিয়ে কাজ করাই ছিল তাদের উদ্দেশ্য। ২০১৩ সালের দিকে সংগঠনের নাম পাল্টে রাখা হয় আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মি বা আরসা, যদিও দলের একাংশ এখনো আল ইয়াকিন নামেই পুরোনো সংগঠনকে আকড়ে ধরে আছে। আতাউল্লাহ আবু আম্মার জুনুনি সেসময়ে হন স্যালভেশন আর্মির (আরসা) কমান্ডার ইন চিফ। এই আতাউল্লাহর জন্ম সৌদি আরবে, তার বাবা-মা আরাকান থেকে গিয়ে সৌদি আরবে স্থায়ী হন। কিন্তু জন্ম সৌদি আরবে হলেও আতাউল্লাহ পরে পাকিস্তানের করাচিতে এসে বসবাস করতেন।

রোহিঙ্গাদের অধিকার আদায় করতে ঠিক কবে মিয়ানমারে তিনি ফিরে আসেন, তা জানা যায় না। তবে তা ২০১৩ সালের আগেই অর্থাৎ আল ইয়াকিন থেকে আরসার যাত্রা শুরুর আগেই হয়েছে, তা নিশ্চিত। সংগঠনটি সশস্ত্র হয়ে উঠেছে, তা প্রথম বোঝা যায় ২০১৫-১৬ সালের দিকে। লক্ষ্য ছিল, মিয়ানমারের মুসলিম অধ্যুষিত আরাকান প্রদেশ দখল। ২০১৭ সালের মাঝামাঝি মিয়ানমারের থানায় হামলা, পুলিশের অস্ত্র লুটের ঘটনার পর সংগঠনটির বিরুদ্ধে প্রথম মনোযোগ দেয় মিয়ানমার সেনাবাহিনী। তবে ওই বছরেই আগস্টে তার নির্দেশে রাখাইনে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর তল্লাশি চৌকিতে আরকান দখল ও অস্ত্র লুট করার জন্য আবার হামলা চালায় আরসা। এ ঘটনায় ভীষণ ক্ষুব্ধ সেনাবাহিনী আরসা নির্মূলের উদ্দেশে আরকান প্রদেশে হামলা শুরু করে। তখন উত্তপ্ত হয়ে পড়ে মিয়ানমারে মুসলমানদের গ্রামগুলোর পরিস্থিতি। ওই দেশের সেনাবাহিনী ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট রাখাইনে চড়াও হয়ে অভিযান ও রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতন, হামলা ও গণধর্ষণের ঘটনা শুরুর পর নিজ দেশ ছেড়ে বাংলাদেশে পালিয়ে আসে প্রায় ১০ লাখ রোহিঙ্গা। সম্পূর্ণ মানবিক কারণে তাদের তখন আশ্রয় দেয় বাংলাদেশ সরকার। আর বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে আরসার সদস্যদের সম্পর্কে তথ্য না থাকার সুযোগে এসব রোহিঙ্গার সঙ্গে আশ্রয়প্রার্থী হিসেবে বাংলাদেশে চলে আসে আরসার কিছু সদস্য আর সমর্থকও।

উদ্দেশ্য তাদের মিয়ানমার সেনাবাহিনীর সঙ্গে লড়াই করা হলেও অস্ত্র তৈরি ও সংগ্রহ, বাহিনীর জন্য সদস্য সংগ্রহ, সদস্যদের অস্ত্র প্রশিক্ষণ দেওয়া ইত্যাদি কাজে তারা তখন থেকেই গোপনে বাংলাদেশের পাহাড়ি নির্জন এলাকাগুলো ব্যবহার শুরু করে। একই সঙ্গে রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরগুলোতে নিজেদের প্রভাব বাড়াতে তারা সেগুলোতে আধিপত্য বিস্তার শুরু করে। রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবির সর্দার বা মাঝিদের করায়ত্ত করা বা ভয় দেখানো দিয়েই এর শুরু। একই সঙ্গে নিজেদের অর্থভাণ্ডার ঠিক রাখতে মিয়ানমারের সঙ্গে বাংলাদেশের অরক্ষিত সীমান্ত অঞ্চলকে রুট হিসেবে ব্যবহার করে এদেশে মাদক চোরাচালান আরও বাড়িয়ে দেয়।

শুরুতে আরসা সম্পর্কে অন্ধকারে থাকলেও দিনের পর দিন রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরগুলোতে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে পরস্পরের মধ্যে হামলা, গুলি, হত্যার ঘটনা বাড়তে থাকায় এবং বিপুল পরিমাণ মাদকসহ রোহিঙ্গা ও তাদের প্ররোচনায় স্থানীয়দের আটক বা গ্রেপ্তাদের মধ্য দিয়ে এই চরমপন্থি সংগঠন সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পেতে শুরু করে বাংলাদেশের বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। র‌্যাব, এপিবিএন আরসা দমনে কঠোর অভিযান চালাচ্ছে মাঝেমধ্যেই। তার পরও তাদের গোপন তথ্য প্রকাশ হয়ে পড়া এবং বেশির ভাগ রোহিঙ্গা সশস্ত্র যুদ্ধে জড়িত হতে না চাওয়ায় আরসার নেতাসহ সদস্যরা বরাবরই আছে উৎকণ্ঠায়। রোহিঙ্গাদের মধ্যে আরসা ছাড়াও আছে আরও কিছু সশস্ত্র গ্রুপ। তবে তারা পরস্পর যেন পরস্পরের শত্রু। আরাকানে যে বিদ্রোহী সশস্ত্র গ্রুপ আরাকানের স্বাধীনতার জন্য সশস্ত্র লড়াই করে যাচ্ছে, আরাকান আর্মি, ওদের সঙ্গেও এসব গ্রুপের শত্রুতা রয়েছে। আরাকান আর্মি সাধারণভাবে সব আরাকানির জন্যে স্বাধীন আরাকান চায়, কিন্তু আরসাকে ওরা চিহ্নিত করে মুসলিম সন্ত্রাসী গ্রুপ হিসেবে। সব মিলিয়ে অস্থির হয়ে উঠছে রোহিঙ্গা শিবির।

আরসার শীর্ষ নেতা অলি আকিজ দীর্ঘদিন মিয়ানমারে আত্মগোপনে থাকলেও গত ১৯ মে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ফিরেছেন। আরসার শীর্ষ কমান্ডার আতাউল্লাহ আবু আম্মার জুনুনি এবং সেকেন্ড-ইন-কমান্ড ওস্তাদ খালেদের নির্দেশে ক্যাম্পে আধিপত্য বিস্তারের নতুন পরিকল্পনা নিয়ে অপতৎপরতা চালাচ্ছেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সূত্রে জানা যায়, রোহিঙ্গাদের সশস্ত্র গ্রুপ আরসার প্রশিক্ষণ। অস্ত্র তৈরি, আত্মগোপন, মিটিংসহ নানা কর্মকাণ্ড সেখানে সংগঠিত হতো। গত রোববার মধ্যরাতে অভিযান চালিয়ে ক্যাম্প-৪-এ গোপন বৈঠক থেকে আকিজসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, একটি দেশীয় তৈরি এলজি, একটি ওয়ানশুটার গান, ১০ রাউন্ড কার্তুজ, দুই কেজি বিস্ফোরকদ্রব্য, তিনটি মোবাইল এবং নগদ ২ হাজার ৫০০ টাকা জব্দ করা হয়।

র‌্যাব-১৫-এর অধিনায়ক লে. কর্নেল এইচ এম সাজ্জাদ হোসেন বলেন, ‘আমরা এ পর্যন্ত ১১২ জনের ওপরে আরসার ভিন্ন পদবিধারী নেতা গ্রেপ্তার করেছি। গত রোববারের আরসার শীর্ষ নেতা আকিজসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করি। তাদের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

২০১৭ সালে সীমান্ত পার হয়ে ভারত হয়ে বাংলাদেশে এসে ক্যাম্প-৫-এ সপরিবারে বসবাস শুরু করেন মৌলভী আকিজ। পরে আরসার হয়ে কাজ শুরু করেন তিনি। এরপর ক্যাম্প-৫-এ আরসার প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পান। নেটওয়ার্ক গ্রুপে কাজ করতেন। ক্যাম্পের বিভিন্ন তথ্য আরসা কমান্ডারদের কাছে পৌঁছে দিতেন। এভাবে শীর্ষ নেতৃত্বে পৌঁছান। রোহিঙ্গাদের প্রত‍্যাবাসনের পক্ষে কাজ করায় ওস্তাদ খালেদের নির্দেশে রোহিঙ্গা নেতা মাস্টার মহিবুল্লাহকে হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী ছিলেন আকিজ। তা ছাড়া মতাদর্শিক দ্বন্দ্বে ক্যাম্পে সেভেন মার্ডারে সরাসরি অংশ নেন। তাদের নেতা-কর্মী আটক হলে কিছুটা দুর্বল হয়ে যায় কিন্তু আবার সক্রিয় হয়ে ওঠে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বিশাল এই জনগোষ্ঠীতে আরসা, আল-ইয়াকিনসহ অন্তত ১৫টি বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন সক্রিয়। ২০১৭ সাল থেকে এখন পর্যন্ত ছয় বছরে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সংঘর্ষের ঘটনায় প্রায় ৩০০ জন নিহত হয়েছে। মামলা হয়েছে পাঁচ হাজারের অধিক। এসব মামলার বেশির ভাগই হয়েছে মাদক ও আগ্নেয়াস্ত্র রাখার অভিযোগে।

রোহিঙ্গা নেতা ড. জোবায়ের বলেন, আরসা রোহিঙ্গা ক্যাম্প দখল করে রাজত্ব কায়েম করার জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এ পর্যন্ত তাদের দুই শতাধিক নেতা-কর্মী আটক হয়েছেন। আটক করলেও তারা আরও শক্তিশালী হয়ে উঠবে, তার কারণ তাদের রোহিঙ্গা সরকার মদদ দিয়ে যাচ্ছে। প্রত্যাবাসন বন্ধ রাখার জন্য মিয়ানমার সরকার তাদের ব্যবহার করে যাচ্ছে, যে কারণে তারা এতটা শক্তিশালী।

গত রোববার রাতে উখিয়ার মধুরছড়া ৪ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে আরসার শীর্ষ নেতাদের গ্রেপ্তার করে। সে জায়গায় ভোরে ৪০-৪৫ জন আরসা সন্ত্রাসী পাহাড় থেকে সীমানার কাঁটাতারের বেড়া অতিক্রম করে ৪ নম্বর ক্যাম্পে আসে। ঘটনাস্থলে এসে ক্যাম্পে পাহারারত রোহিঙ্গা ইলিয়াছকে তারা গুলি করে ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে হাতে, পায়ে ও তলপেটে কুপিয়ে মারাত্মক জখম করে। এতে ইলিয়াস ঘটনাস্থলেই মারা যান।

১৪ এপিবিএনের অধিনায়ক মোহাম্মদ ইকবাল বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গেলে এপিবিএন সদস্যদেরও লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ করে সন্ত্রাসীরা।

তিনি আরও বলেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে নতুন করে সংগঠিত এবং নাশকতা করার চেষ্টা করছে আরসা। মূলত আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘবদ্ধ হয়ে হামলা চালায় আরসা সন্ত্রাসীরা। এতে তারা গুলি এবং কুপিয়ে তিন রোহিঙ্গাকে হত্যা করে। আর গুরুতর আহত হয় সাতজন। হতাহতরা আরএসও সদস্য বলে জানা গেছে।

রোহিঙ্গা গবেষক অধ্যাপক ড. রাহমান নাসির উদ্দিন দৈনিক বাংলাকে বলেছেন, রোহিঙ্গাদের অধিকার আদায় করতে আরসা ২০১৭ সালের ২৫ আগস্টের দিকে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর তল্লাশি চৌকিতে হামলা চালায়। কিন্তু এটার কারণে নির্যাতনের তীব্রতায় নিজ দেশ ছেড়ে বাংলাদেশে পালিয়ে আসে প্রায় ৮ লাখ রোহিঙ্গা। সে কারণে আরসা রোহিঙ্গাদের প্রতিনিধিত্ব হয়ে উঠতে পারে নাই। বিভিন্ন সময় রোহিঙ্গাদের সঙ্গে কথা বলে জানতে পারি, রোহিঙ্গাদের এ দুর্দশার জন্য আরসা দায়ী। রোহিঙ্গাদের সঙ্গে আরসার একটা বড় গ্রুপ বাংলাদেশে এসেছে। বাংলাদেশে ৩৪টি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে তাদের অবস্থান ধরে রাখার জন্য তারা বিভিন্ন ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে এবং যখন কেউ তাদের বিরুদ্ধে কথা বলার চেষ্টা করেছে তখন তারা তাদের দমন করেছে। এর মধ্যে একজন ছিলেন মুহিব উল্লাহ। মুহিব উল্লাহ যখন রোহিঙ্গাদের নেতা হয়ে ওঠে বিশ্বের কাছে পরিচিত হন এবং আন্তর্জাতিকভাবে রোহিঙ্গাদের জন্য আন্দোলন করেন তখন তাকে নেতা হিসেবে গ্রহণ করে রোহিঙ্গারা। বাংলাদেশ যখন প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরু করে তখন রোহিঙ্গাদের রাজি করানোর জন্য মুহিব উল্লাহ সোর্স ছিল। ধীরে ধীরে মুহিব উল্লাহ প্রধান পাঁচ রোহিঙ্গা নেতার একজন হয়ে ওঠেন। ২০১৯ সালের ২৫ আগস্ট ৩ থেকে ৫ লাখ রোহিঙ্গার মহাসমাবেশ করে তাক লাগিয়ে দেন এবং আনন্দে আত্মহারা করে দেন রোহিঙ্গা ইস্যুতে লেগে থাকা বিদেশি এনজিওগুলোকে। এসব কারণে আরাকান রোহিঙ্গা সোসাইটি ফর পিস অ্যান্ড হিউম্যান রাইটস ভেঙে দেওয়ার জন্য মুহিব উল্লাহকে হত্যা করা হয়। মিয়ানমার সেনাবাহিনীর শত্রু হচ্ছে আরাকান আর্মি। আরাকান আর্মির শত্রু হচ্ছে মিয়ানমার সেনাবাহিনী। আবার মিয়ানমারের শত্রুও আরসা। মিয়ানমার নৌবাহিনী ঘোষণা দিয়ে বলছে আরকান আর্মি ও আরসা মিলে বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে। যেহেতু মিয়ানমার আরাকানে আরকান আর্মি শক্তিশালী হয়ে উঠেছে। সে কারণে আরসা ও শক্তিশালী হয়ে উঠেছে।

দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীগুলোকে সতর্ক করে দিয়ে ড. রাহমান নাসির বলেন, দুই শতাধিক আরসার নেতা-কর্মী গ্রেপ্তার করাতেই আরসা দুর্বল হয়ে পড়েছে এমন যুক্তি হয়তো সঠিক নয়। এই চরমপন্থি দলে আরও অনেক সদস্য ও সমর্থক রয়েছে।

কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. রফিকুল ইসলাম দৈনিক বাংলাকে বলেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বিভিন্ন সন্ত্রাসী গ্রুপ তাদের আধিপত্য বিস্তার করার জন্য এসব সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করে থাকে। আগুন নাশকতা এসব মাঝেমধ্যে বিভিন্ন কারণে হয়ে থাকে। তবে কিছু কিছু ঘটনা আমরা সন্দেহ করি এগুলো নাশকতা। আমরা আরসা বলে কিছু পাইনি। তবে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সন্ত্রাসী গ্রুপ আছে। যারা উগ্রবাদী কর্মকাণ্ডে জড়াবে তাদের বিরুদ্ধে আমাদের সমন্বিত অভিযান অব্যাহত থাকবে।

রোহিঙ্গা ইয়ুথ অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিষ্ঠাতা খিন মং বলেন, রোহিঙ্গাদের অধিকারের জন্য লড়াই করার দাবি করেছিল আরসা। তখন তাদের বিশ্বাস করেছিল রোহিঙ্গারা। কিন্তু এখন সাধারণ রোহিঙ্গারাও মনে করে আরসা মিয়ানমারের এজেন্ট হিসেবে কাজ করছে। যারা প্রত্যাবাসনের কথা বলছেন তাদের হত্যা করা হচ্ছে। তাই আরসার ওপর তাদের আর বিশ্বাস নেই।

বিষয়:

সরিষাবাড়ীতে ব্রিজ নির্মাণের দুই বছর পর সংযোগ সড়ক, জনমনে স্বস্তি

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
সরিষাবাড়ী (জামালপুর) প্রতিনিধি

অবশেষে দুই পাশে সংযোগ সড়ক হলো জামালপুরের সরিষাবাড়ীর ঘুইঞ্চার চরের কোটি টাকার ব্রিজে। নির্মাণের ২ বছরেও রাস্তা না থাকায় ব্রিজটি কোনো কাজেই আসছিল না চরাঞ্চলের মানুষের। ফলে ব্রিজ হলেও দীর্ঘদিন ধরে চলাচলে পোহাতে হতো নানা দুর্ভোগ ও ভোগান্তি। বর্তমানে ব্রিজের দুইপাশে সংযোগ সড়ক হওয়ায় খুশি এ চরাঞ্চলের মানুষ।

জানা যায়, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের উদ্যোগে ‘গ্রামীণ রাস্তায় সেতু কালভার্ট নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় ২০২৩-২৪ অর্থবছরে উপজেলার আওনা ইউনিয়নের দুর্গম চরাঞ্চল ঘুইঞ্চার চরে যমুনা নদীর শাখা অংশের উপর ১ কোটি ১৪ লাখ টাকা ব্যয়ে ১৫ মিটার দৈর্ঘ্যের গার্ডার ব্রিজ নির্মাণ করা হয়। নির্মাণের ২ বছর হলেও দুই পাশে কোনো সংযোগ সড়ক না থাকার কারণে স্থানীয়দের কোনো কাজেই আসছিল না ব্রিজটি। ফলে চলাচলে নানা দুর্ভোগ ও ভোগান্তি পোহাতে হতো। বিশেষ করে কৃষিপণ্য সরবরাহ ও স্কুল কলেজগামী শিক্ষার্থীদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হতো। এ ছাড়া বন্যা মৌসুমে গামছা পড়ে নদী সাঁতরে পার হতে হতো বলে জানিয়েছে স্থানীয়রা।

বিষয়টি জানার পর স্থানীয় সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সভাপতি ফরিদুল কবির তালুকদার শামিম এমপির নির্দেশনায় উপজেলা নির্বাহী অফিসার আফরোজা আফসানা ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা শওকত জামিলের তত্ত্বাবধানে ব্রিজের দুই পাশে করা হয় ১ হাজার ৮০০ ফুট সংযোগ সড়ক। ফলে দীর্ঘদিনের চলাচলের চরম ভোগান্তি ও দুর্ভোগ থেকে রক্ষা পেল স্থানীয়রা।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার আফরোজা আফসানা বলেন, ‘বিষয়টি জানার পর সরেজমিনে তদন্ত করে এমপি মহোদয়ের সাথে কথা বলে রাস্তা করে দেওয়া হয়। এখন মানুষ ওই ব্রিজ দিয়ে চলাচল করতে পারে।’


৩৬ ঘণ্টায় নির্জনা হত্যার রহস্য উদ্ঘাটনের দাবি, গ্রেপ্তার মা

মায়ের স্বীকারোক্তি, পলাতক বাবার খোঁজে পুলিশ
ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
খুলনা ব্যুরো

খুলনা নগরীর চাঞ্চল্যকর আরফানা হোসেন নির্জনা হত্যাকাণ্ডের রহস্য ৩৬ ঘণ্টার মধ্যে উদঘাটন করেছে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ (কেএমপি)। শনিবার (১১ জুলাই) সকালে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের সদর দপ্তরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ জাহিদুল হাসান হত্যাকাণ্ডের বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন।

তিনি জানান, ঘটনার ৩৬ ঘণ্টার মধ্যেই পুলিশের একটি আভিযানিক দল নির্জনার মা আরিফা ইয়াসমিন সীমাকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়। নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে তিনি স্বীকার করেন যে, মেয়ের সাথে বিভিন্ন ছেলেদের প্রেমের সম্পর্ক থাকার কারণে পারিবারিক কলহের সৃষ্টি হয় এবং এই কলহকে কেন্দ্র করেই তাদের একমাত্র মেয়েকে হত্যা করা হয়।

মা এর জবানবন্দি থেকে জানা যায়, ঘটনার দিন বিকেলে পরিবারের সাথে নির্জনার বাকবিতণ্ডা হয়। এক পর্যায়ে মা তাকে কয়েকটি চড়-থাপ্পড় মারেন। ঘরের ভেতর শোরগোল শুনে বাবা আলীম হোসেন আকাশ সেখানে এসে তাদের চুপ করতে বলেন। কিন্তু মেয়ে শান্ত না হওয়ায় একটি কাঠের চলা দিয়ে তার মাথায় আঘাত করা হয়, যার ফলে ঘটনাস্থলেই নির্জনার মৃত্যু হয়। হত্যাকাণ্ডের পর বাবা ও মা মিলে মেয়ের লাশ একটি প্লাস্টিকের বস্তায় ভরে এবং ছেঁড়া লুঙ্গি দিয়ে পেঁচিয়ে বাবা মোটরসাইকেলে করে নিরালার প্রান্তিকা আবাসিক এলাকার একটি নিরিবিলি রাস্তায় ফেলে রেখে আসে।

মায়ের জবানবন্দি থেকে জানা যায়, পরিবারের ইচ্ছার বিরুদ্ধে তেরখাদা আজগড়া এলাকায় একটি ছেলের সাথে তার বিয়ে করায় তারা ক্ষুব্ধ ছিল। শ্বশুর বাড়িতে যাওয়ার জন্য ওই দিন সকালে মেয়েটি বাড়ি থেকে বের হয়। পরবর্তীতে তাকে বুঝিয়ে বাড়িতে ফিরে আনা হয়। বিকেলে এঘটনা ঘটে।

গত ৮ জুলাই রাতে ওই স্থান থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় নির্জনার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। সুরতহালকারী পুলিশ কর্মকর্তা এসআই লাভলী পাল জানান, নির্জনার মাথার ডান ও বাম পাশে আঘাতের গভীর ক্ষত ছিল এবং গলায় কালো দাগ পাওয়া গিয়েছিল। মরদেহ উদ্ধারের পর পুলিশ গত শুক্রবার সদর থানায় মামলা দায়ের করে। গত শুক্রবার মহানগর হাকিম ইব্রাহীম খলিল মুহিমের আদালতে নির্জনার মা আরিফা ইয়াসমিন সীমা দায় স্বীকার করে জবানবন্দি প্রদান করেন এবং এরপর তাকে জেলহাজতে পাঠানো হয়।

তদন্তকারী কর্মকর্তাদের ভাষ্যমতে, নিহতের বাবা মো. আলীম হোসেন আকাশ ঘটনার পর থেকেই পলাতক রয়েছেন এবং তাকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত আছে। এর আগে গত বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সংবাদ পেয়ে নির্জনার মা খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে গিয়ে মেয়ের লাশ শনাক্ত করেন। ওই সময় তিনি দাবি করেছিলেন, বাড়ি ছাড়ার আগে তার মেয়ে একটি চিঠি লিখেছিল, যাতে লেখা ছিল—‘আমার কোনো খোঁজখবর তোমরা নিও না’।

এদিকে, বাবা আলীম হোসেন আকাশ পলাতক থাকলেও ফেসবুকের মাধ্যমে তিনি বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াচ্ছেন। তিনি একটি স্ট্যাটাসের মাধ্যমে প্রমাণ করতে চেয়েছেন যে তার মেয়ে স্বেচ্ছায় ঘর থেকে চলে গিয়েছিল এবং এর সপক্ষে একটি চিঠিও প্রকাশ করেন। তবে পুলিশ জানায়, চিঠির সত্যতা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। যেদিন রাতে নির্জনার লাশ পাওয়া যায়, ঠিক সেই সময়েই তার বাবার ফেসবুক আইডি থেকে একটি স্ট্যাটাস দেওয়া হয়, যেখানে লেখা ছিল—‘নিশ্চয়ই আল্লাহর কোনো পরিকল্পনা আছে, সকল কষ্ট এবং দুঃখে আলহামদুলিল্লাহ’।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আলীম হোসেন আকাশের প্রোফাইল ঘেঁটে দেখা যায়, তিনি নিয়মিত টিকটকার হিসেবে সক্রিয় ছিলেন এবং স্ত্রী-সন্তানকে নিয়ে বিভিন্ন টিকটক ভিডিও তৈরি করে ইউটিউব চ্যানেলে আপলোড করতেন। তিনি নিজেকে কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার ও ব্যবসায়ী হিসেবে দাবি করলেও তার পেশার বিষয়টি এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ জাহিদুল হাসান জানান, প্রাথমিক তদন্তে তাদের ধারণা নির্জনার বাবা একজন মাদকাসক্ত। বর্তমানে পলাতক বাবাকে খুঁজে বের করতে পুলিশ বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালাচ্ছে।

এদিকে খুলনায় এমন চাঞ্চল্যকর ঘটনায় জনমনে তৈরি হয়েছে বিভিন্ন প্রশ্ন ও রহস্য। বিশেষ করে বাবা-মায়ের একমাত্র সন্তান হিসেবে কি করে তারা তাদের সন্তানকে হত্যা করতে পারে এমন প্রশ্ন করছেন অনেকে। খুলনায় এমন ঘটনা এই প্রথম বলেও মনে করছেন অনেকে।


পাহাড়ি ঢলে তলিয়ে গেছে ধারারগাঁও-মাইজবাড়ী সড়ক, দুর্ভোগে হাজারো মানুষ

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি

টানা কয়েকদিনের অবিরাম বর্ষণ এবং উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের পানিতে সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার ধারারগাঁও-মাইজবাড়ী সড়কের বিভিন্ন অংশ তলিয়ে গেছে। সড়কের একাধিক স্থানে ভাঙন, দেবে যাওয়া ও মাটি সরে যাওয়ার ঘটনায় এলাকার হাজারো মানুষ চরম দুর্ভোগ ও ভোগান্তির মধ্যে পড়েছেন। বিশেষ করে শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, কৃষক, শ্রমজীবী ও ব্যবসায়ীদের চলাচল ব্যাহত হচ্ছে।

জানা যায়, প্রায় দুই কিলোমিটার দীর্ঘ ধারারগাঁও-মাইজবাড়ী সড়কটি এলাকার মানুষের সুনামগঞ্জ শহরের সঙ্গে যোগাযোগের একমাত্র স্থলপথ। এর মধ্যে প্রায় আধা কিলোমিটার এখনো কাঁচা রয়েছে। সম্প্রতি ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের পানির চাপে সড়কের পাঁচটি স্থানে হাঁটু থেকে কোমরসমান পানি জমে গেছে। কোথাও কোথাও পাকা অংশ দেবে গেছে, আবার অনেক স্থানে ভাঙন ও খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, সড়কের বিভিন্ন অংশ পানিতে ডুবে থাকায় মানুষ পায়ে হেঁটে কাদা ও পানি মাড়িয়ে শহরমুখী হচ্ছেন। কেউ কেউ নৌকায় যাতায়াত করছেন। অনেক শিক্ষার্থী বিদ্যালয়ে যেতে পারছে না। সড়কের দুপাশের বাড়িঘরের বারান্দা পর্যন্ত পানি উঠে গেছে।

অবসরপ্রাপ্ত সার্জেন্ট মো. মুনায়েম বলেন, ‘এটি আমাদের এলাকার মানুষের একমাত্র সড়কপথ। বছরে প্রায় ১০ মাস আমরা এই রাস্তা ব্যবহার করি। কিন্তু কয়েকদিনের বৃষ্টিতেই সড়কের উপর হাঁটু থেকে কোমরসমান পানি উঠেছে। অনেক জায়গায় রাস্তা দেবে গেছে ও ভেঙে পড়েছে। ধোপাখালি খাল, নদী এবং আশপাশের বিল ভরাট হয়ে যাওয়ায় পানি দ্রুত নামতে পারছে না। খাল ও জলাধার খনন এবং সড়ক সংস্কার জরুরি।

ধারারগাঁও গ্রামের মরিয়ম বেগম বলেন, ‘রাস্তার উপর পানি থাকায় চলাচল করতে খুব কষ্ট হচ্ছে। বাচ্চারা স্কুলে যেতে পারছে না। চারদিকের পানি এসে ঘরের বারান্দা পর্যন্ত উঠেছে।’

স্থানীয় বাসিন্দা ইদ্রিস আলী বলেন, ‘ধোপাখালি খাল দিয়ে আসা পানি বিল-হাওরে জমে উপচে সড়কের উপর উঠছে। সড়কটি অনেক নিচু হয়ে গেছে। ভাঙনও রয়েছে। আমরা কার্যত পানিবন্দি অবস্থায় আছি।’

আবহাওয়া অধিদপ্তর ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের সাম্প্রতিক তথ্যানুযায়ী, উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় নিম্নাঞ্চলে জলাবদ্ধতা ও স্বল্পমেয়াদি বন্যার ঝুঁকি রয়েছে।

স্থানীয়দের দাবি, শুধু জরুরি সংস্কার নয়, ভবিষ্যতে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় সড়কটির উঁচু করে চলাচলের উপযোগী করে দিতে হবে।


মাগুরা প্রেসক্লাবের পৃষ্ঠপোষকতায় প্রীতি ফুটবল ম্যাচ অনুষ্ঠিত

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
 শিউলি আফরোজ সাথী, মাগুরা

ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে মাগুরা প্রেসক্লাবের পৃষ্ঠপোষকতায় শহরের নোমানী ময়দানে শুক্রবার (১০ জুলাই) বিকালে প্রেসক্লাব মার্কেটের উত্তর ও দক্ষিণ ফুটবল দলের এক প্রীতি ফুটবল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছে। খেলায় অংশগ্রহণ করেছেন প্রেসক্লাব মার্কেটের সকল দোকান মালিক ও কর্মচারীরা।

খেলার প্রথমার্ধে উভয় দল আক্রমণ পাল্টা আক্রমণ চালাতে থাকে। খেলার প্রথমার্ধের ১৬ মিনিটে উত্তর ফুটবল দলের চৌকস খেলোয়াড় হামিম একটি গোল করে দলকে এগিয়ে নিয়ে যায়। পরে একই দলের খেলোয়াড় জিতু পরপর দুটি গোল করে। গোলের পর দক্ষিণ ফুটবল দলের খেলোয়াড় বিপক্ষ দলের দিকে চরম আক্রমণ করতে থাকে। এই মুহূর্তে দক্ষিণ ফুটবল দলের খেলোয়াড় নাঈম পরপর দুই গোল করে দলকে আরও এগিয়ে নিয়ে যায়। খেলার দ্বিতীয়ার্ধে উভয় দল কোনো গোল করতে সক্ষম হয়নি। নির্ধারিত খেলার শেষে প্রেসক্লাব উত্তর ফুটবল দল ৩-২ গোলের ব্যবধানে বিজয়ী হয়।

খেলা শেষে মাগুরা প্রেসক্লাবের সভাপতি অধ্যাপক সাইদুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম শফিক বিজয়ী ও রানার্স আপ দলের হাতে ট্রফি তুলে দেন। এ সময় প্রেসক্লাব মার্কেটের সভাপতি মো. কবির হোসেন, মাগুরা প্রেসক্লাবের যুগ্ম সম্পাদক মাসুম বিল্লাহ কলিন্স, দপ্তর সম্পাদক শেখ ইলিয়াস মিথুন, ক্রীড়া সম্পাদক শাহিন আলম তুহিন, সিনিয়র সাংবাদিক ওয়ালিয়র রহমান, মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ, সঞ্জয় রায় চৌধুরী, আলিমুজ্জামান উজ্জ্বল, আবু সেলিম প্রমুখ।

খেলায় ধারাভাষ্য প্রদান করেন মাগুরা প্রেসক্লাবের সাংবাদিক মিনারুল ইসলাম জুয়েল।

খেলার আয়োজকরা বলেন, ‘শরীর সুস্থ ও কর্মক্ষম রাখতে এবং মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে খেলাধুলার কোনো বিকল্প নেই। খেলাধুলা মানসিক প্রবৃত্তিগুলোকে জাগ্রত করে। ব্যবসা বা অন্যান্য কাজের ফাঁকে একটু বিনোদনের প্রয়োজন আছে। যেকোনো কাজের পাশাপাশি খেলাধুলা বা বিনোদনের আয়োজন থাকলে কাজে উৎসাহ উদ্দীপনা দ্বিগুণ বেড়ে যায়। তা ছাড়া এ আয়োজনের মধ্য দিয়ে বিভিন্ন দোকান মালিক এবং কর্মচারীদের মধ্যে একটি হৃদ্রতার বন্ধন তৈরি হয়। তাই বিভিন্ন সময় খেলাধুলার আয়োজন করতে হবে। আগামীতে এ ধরনের আয়োজন অব্যাহত থাকবে।’

প্রেসক্লাবের এই আয়োজন স্থানীয় ব্যবসায়িকদের মধ্যে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।


ফরিদপুরে শিক্ষকদের সঙ্গে এমপি চৌধুরী নায়াব ইউসুফের মতবিনিময়

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মাহবুব পিয়াল, ফরিদপুর

ইসলামী ফাউন্ডেশন ফরিদপুর জেলা কার্যালয়ের উদ্যোগে পরিচালিত ‘দারুল আরকাম ইসলামী শিক্ষা পরিচালনা ও সুসংহতকরণ’ শীর্ষক প্রকল্প এবং নৈতিকতা ও ধর্মীয় মূল্যবোধ উন্নয়নে মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রম প্রকল্পের আওতায় শিক্ষকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার (১১ জুলাই) ফরিদপুর জেলা মডেল মসজিদ ও ইসলামী সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের মিলনায়তনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ফরিদপুর-৩ সদর আসনের সংসদ সদস্য চৌধুরী নায়াব ইউসুফ আহমেদ।

ইসলামী ফাউন্ডেশন ফরিদপুরের উপপরিচালক মোহাম্মদ ইয়াছিন মোল্যার সভাপতিত্বে এ সময় যশোর শিক্ষা বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান ও জাতীয় দৈনিকের সম্পাদক প্রফেসর এ বি এম সাত্তার, প্রবীণ শিক্ষাবিদ ও সমাজসেবক অধ্যাপক এম এ সামাদ, ময়েজ মঞ্জিল জামে মসজিদের ইমাম ও খতিব মাওলানা কবির আহমাদ, ফরিদপুর জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক তানভীর চৌধুরী রুবেল, ‘মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মিজানুর রহমান মিনান, শহর বিএনপির সাবেক সভাপতি মো. রেজাউল ইসলাম, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক হারুনর রশিদ সিদ্দিকীসহ ইসলামী ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তা, প্রকল্পসংশ্লিষ্ট শিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় দারুল আরকাম ইসলামী শিক্ষা পরিচালনা ও মসজিদভিত্তিক শিক্ষা কার্যক্রমের মানোন্নয়ন, শিক্ষকদের দায়িত্বশীলতা বৃদ্ধি, শিক্ষার্থীদের নৈতিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধ বিকাশ এবং আধুনিক ও কার্যকর শিক্ষাদান পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা করা হয়।

বক্তারা বলেন, ‘ধর্মীয় শিক্ষার পাশাপাশি নৈতিক শিক্ষা বিস্তারে শিক্ষকদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ ধরনের মতবিনিময় সভা শিক্ষা কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও ফলপ্রসূ করতে সহায়ক হবে।’

সভা শেষে এক বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করা হয়। দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন জেলা মডেল মসজিদ ও ইসলামী সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের খতিব হাফেজ মাওলানা মো. তবীরুর রহমান।


নিহত যুবক দুই বছর পর জীবিত উদ্ধার, সাজানো হত্যা মামলায় চার মাস জেল খাটলেন ঠিকাদার

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি

দুই বছর আগে অপহরণের পর হত্যা করে মরদেহ গুম করা হয়েছে এমন অভিযোগে করা মামলার ‘নিহত’ যুবককে জীবিত উদ্ধার করেছে পুলিশ। ঘটনাটি কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর উপজেলায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।

উদ্ধার হওয়া যুবকের নাম মোস্তফা কামাল (২৮)। তিনি শেরপুর জেলার বাসিন্দা। তবে দীর্ঘদিন ধরে কুলিয়ারচরে তার নানাবাড়িতে বসবাস করতেন।

জানা গেছে, প্রায় দুই বছর আগে মোস্তফা কামাল নিখোঁজ হন। পরে তার মা মনোয়ারা বেগম অভিযোগ করেন, ছেলেকে অপহরণের পর হত্যা করে মরদেহ গুম করা হয়েছে। এ অভিযোগে তিনি আদালতে একটি মামলা করেন। মামলায় বাজিতপুরের ঠিকাদার জামান মিয়াকে প্রধান আসামি করা হয়। অভিযোগ ছিল, মোস্তফা কামালের সঙ্গে তার কয়েক লাখ টাকার আর্থিক লেনদেন ছিল। ওই মামলায় জামান মিয়া প্রায় চার মাস কারাগারে ছিলেন।

তদন্তের একপর্যায়ে পুলিশের সন্দেহ হলে তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে গত ৯ জুলাই রাতে গাজীপুরের গাছা থানার ডেগেরচালা এলাকায় অভিযান চালিয়ে একটি বাসা থেকে মোস্তফা কামালকে জীবিত উদ্ধার করে। পুলিশ জানায়, তিনি সেখানে রাজমিস্ত্রির কাজ করছিলেন। এ সময় তিনি বিয়ে করে নতুন সংসারও গড়ে তুলেছেন।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) মঞ্জরুল হক বলেন, ‘মোস্তফা কামালের আত্মগোপনের বিষয়টি তার পরিবারের সদস্যরা জানতেন। তবে গত দুই বছরে তারা এ তথ্য পুলিশকে জানাননি।’ তিনি আরও বলেন, ‘মোবাইল কললিস্ট পর্যালোচনায় তার পরিবার ও স্বজনদের সাথে যোগাযোগের বিষয়টি নিশ্চিত হতে পেরেছেন’ তিনি।

ঠিকাদার জামান মিয়া বলেন, ‘আমি কোনো অপরাধ না করেও চার মাস জেল খেটেছি। আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করা হয়েছে। আমি সুষ্ঠু বিচার চাই।

এ বিষয় মোস্তফা কামালের পরিবারের সদস্যরা কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

কুলিয়ারচর থানার ওসি কাজী আরিফ উদ্দীন বলেন, ‘ঘটনাটি তদন্তাধীন। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’


মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে কাভার্ড ভ্যানে ডাকাতি, সয়াবিন তেলসহ গ্রেপ্তার ২

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি

ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ের মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগরে সার্ভিস রোডে ব্যারিকেড দিয়ে একটি কাভার্ড ভ্যান থামিয়ে চালক ও সহকারীকে জিম্মি করে সয়াবিন তেল লুটের ঘটনায় আন্তঃজেলা ডাকাত চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় লুণ্ঠিত ১১ হাজার ৭৪৪ লিটার সয়াবিন তেল, একটি কাভার্ড ভ্যান ও ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত একটি পিকআপ উদ্ধার করা হয়েছে।

শনিবার (১১ জুলাই) আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মুন্সীগঞ্জ পুলিশ সুপার মো. মেনহাজুল আলম জানান, গত শুক্রবার গভীল রাতে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ের মেঘনাঘাট থেকে যশোরের উদ্দেশে একটি কাভার্ড ভ্যানে ৬৬৫ কার্টনে ১১ হাজার ৯৭০ লিটার সয়াবিন তেল পাঠানো হচ্ছিল। তেলের বাজারমূল্য প্রায় ২৪ লাখ টাকা।
পথে ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ের শ্রীনগর উপজেলার উমপাড়া ওভারব্রিজের উত্তর পাশে সার্ভিস রোডে পৌঁছালে একটি মিনি পিকআপ দিয়ে কাভার্ড ভ্যানটির গতিরোধ করে ৭ থেকে ৮ সদস্যের একটি ডাকাত দল। তারা চালক আকিব হাসান জয় ও তার সহকারী নাহিদ হাসানকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে নিজেদের পিকআপে তুলে নেয়। পরে তাদের হাত, মুখ ও চোখ বেঁধে কেয়টখালী এলাকায় ফেলে রেখে তেলবোঝাই কাভার্ড ভ্যানটি নিয়ে পালিয়ে যায়।

এ ঘটনায় তেলের মালিকপক্ষের প্রতিনিধি মো. আফছার উদ্দিন শ্রীনগর থানায় মামলা করেন। এরপর জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ ও শ্রীনগর থানা পুলিশ যৌথভাবে তদন্ত শুরু করে।

তদন্তের একপর্যায়ে গাজীপুরের কালিয়াকৈর এলাকা থেকে আন্তঃজেলা ডাকাত দলের সদস্য আ. গনি মিয়া (২৮) ও অভি রহমানকে (২৮) গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে লুণ্ঠিত কাভার্ড ভ্যান, ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত একটি পিকআপ এবং ৯ কার্টন সয়াবিন তেল উদ্ধার করা হয়।

পরে আসামিদের তথ্যের ভিত্তিতে বগুড়ার শেরপুর উপজেলার বেলঘড়িয়া বাজারের একটি ভাড়া করা গোডাউনে অভিযান চালিয়ে আরও ৫৮৫ কার্টন এবং অপর একটি গোডাউন থেকে ৫৮ কার্টন তেল উদ্ধার করা হয়। সব মিলিয়ে ৬৫২ কার্টন বা ১১ হাজার ৭৪৪ লিটার সয়াবিন তেল উদ্ধার করেছে পুলিশ।

পুলিশের ভাষ্য, ডাকাত দলের সদস্যরা লুণ্ঠিত তেল রাখার উদ্দেশ্যে ঘটনার কয়েকদিন আগেই ওই গোডাউন ভাড়া নিয়েছিল।


প্রাণিসেবায় দক্ষতা বাড়াতে বাকৃবিতে পোষ্য ও পথপ্রাণী বিষয়ক প্রশিক্ষণ

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাকৃবি প্রতিনিধি

পোষ্য ও পথপ্রাণীর পরিচর্যা, নিরাপদ ব্যবস্থাপনা, প্রাথমিক চিকিৎসা ও পুষ্টি বিষয়ে সচেতনতা এবং দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) 'বেসিক ট্রেনিং সেশন অন পেট অ্যান্ড স্ট্রে অ্যানিম্যালস: হ্যান্ডলিং, মেডিসিন অ্যান্ড নিউট্রিশন' অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার (১১ জুলাই) বিশ্ববিদ্যালয়ের সৈয়দ নজরুল ইসলাম মিলনায়তন কক্ষে এ প্রশিক্ষণ সেশনের আয়োজন করেছে অ্যানিম্যাল সেভিয়ার্স অব বাংলাদেশ (এএসবি)।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্কুল অব ভেটেরিনারি সায়েন্স অ্যান্ড অ্যানিমেল হাজবেন্ড্রি এবং ভেটেরিনারি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. বাহানুর রহমান। সম্মানিত অতিথি হিসেবে আমন্ত্রিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল আলীম, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক ড. মাহবুবুল প্রতীক সিদ্দিকী। বিশেষ বক্তা হিসেবে আমন্ত্রিত ছিলেন এসকেএফ ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডের অ্যানিমেল হেলথ ডিভিশনের হেড অব মার্কেটিং এ.এন.এম. সেলিম হাসান। উপস্থিত ছিলেন ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা, শেরপুর এবং ভালুকা অঞ্চলের আঞ্চলিক বিক্রয় ব্যবস্থাপক (Regional Sales Manager) হিসেবে দায়িত্বরত জনাব সৈয়দ মাহফুজ আলী।

অনুষ্ঠানে স্বাগতম বক্তব্যে এএসবি এর সহ-সভাপতি ড. মো: আল ফারুক মিয়া বলেন, দীর্ঘ দুই বছর কাজ করার পর আমরা ১০১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি নিয়ে আমাদের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করেছি। আমাদের মূল লক্ষ্য হচ্ছে রাস্তায় অবহেলা ও দুর্ঘটনার শিকার হওয়া অসহায় পথপ্রাণীদের উদ্ধার করা এবং তাদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিশ্চিত করা।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক ড. মো. বাহানুর রহমান বলেন, এনিমেল সেভিয়ার্স অফ বাংলাদেশ-এর মতো একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মানবিক সংগঠনের অনুষ্ঠানে উপস্থিত হতে পেরে আমি অত্যন্ত আনন্দিত। আমাদের নিজেদের জীবন যেমন মূল্যবান, তেমনি এই পৃথিবীর প্রতিটি প্রাণীর জীবনই সমভাবে গুরুত্বপূর্ণ ও মূল্যবান। বিশেষ করে আমরা যারা ভেটেরিনারিয়ান, প্রাণীকে ভালোবাসা এবং তাদের নিরাময় নিশ্চিত করা আমাদের পেশাগত ও নৈতিক দায়িত্ব।


নওগাঁয় ৬ মাসে দুই কোটি টাকার মাদক উদ্ধার, গ্রেপ্তার ৭৩৩

পুলিশের টানা অভিযানে ৩৯৪টি মাদক মামলা
ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নওগাঁ প্রতিনিধি

নওগাঁয় গত ছয় মাসে মাদকবিরোধী অভিযানে প্রায় দুই কোটি টাকার মাদক উদ্ধারসহ ৭৩৩জনকে গ্রেপ্তার করে জেলা পুলিশ। এসব অভিযানে নিয়মিত মামলা, গ্রেপ্তার, মোবাইল কোর্ট, জরিমানা ও কারাদন্ডের মাধ্যমে মাদক ব্যবসায়ী ও সেবনকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। জানান দেওয়া হয়েছে মাদকের সাথে জড়িত থাকলে নেই কোনো ছাড়।

পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলামের সার্বিক দিকনির্দেশনায় জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ও ১১টি থানার পুলিশ সদস্যরা মাদকের বিরোধী এসব অভিযান চালিয়েছে।

জেলা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম নওগাঁয় এসপি হিসেবে যোগদানের পর থেকেই মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেন। এই জেলায় মাদক নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিভিন্ন জায়গায় চালানো হয়েছে গুরুত্বপূর্ণ অভিযান। উদ্ধার করা হয়েছে বিপুল পরিমাণ মাদক, গ্রেপ্তার করা হয়েছে বেশ কিছু মাদক সম্রাটকে। এর মধ্যে সফল ও প্রশংসিত অভযান চালানো হয়েছে মাদকের হটস্পট হিসেবে খ্যাত শহরের নুনিয়া পট্রিতে। কাজেই এসপির নির্দেশে সেখানে অভিযান চালানোয় স্থানীয়ভাবে হয়েছেন প্রশংসিত। তিনি মূলত যুব সমাজকে মাদকের হাত থেকে দূরে রাখতে মাদকের নিয়ন্ত্রণকে অগ্রাধিকার হিসেবে নিয়েছেন।

পুলিশ সূত্রে আরও জানা যায়, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত এই ৬মাসে মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়ে হেরোইন ৪৮৬গ্রাম, ফেন্সিডিল ৬২৮বোতল, ইয়াবা ৪হাজার ২৩৯পিচ, গাঁজা ২২৩কেজি ১৯গ্রাম ও গাছ ১৯কেজি, এ্যাম্পুল ইনজেকশনন ১হাজার ১৬পিচ, চোলাই মদ ৮হাজার ৭৮লিটার, উপকরণ ৩হাজার ২৯৬লিটার, বিদেশীমদ ৪লিটার এবং ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট ১৯হাজার ৬৪৪পিচ। যার মোট মূল্য ২কোটি ৫লাখ ৩৯হাজার ৮৪০টাকা।

এসব ঘটনায় ৩৯৪টি মামলায় এজাহার নামীয় ৬০৮জন আসামীর মধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে ৫২৬জনকে এবং ১৭২টি মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে ২০৭জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

রাণীনগর থানার অফিসার ইনচার্জ জাকারিয়া মন্ডল বলেন, এসপি স্যারের কড়া নির্দেশ মাদকের সাথে জড়িত কারো ছাড় নেই। সেই জন্য এই উপজেলায় বিভিন্ন অপরাধ নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি মাদক নিয়ন্ত্রণে রাখতে মাদক বিরোধী অভিযান অব্যাহত আছে।

একইভাবে এসপি স্যারের কড়া নির্দেশ আছে জানিয়ে সদর থানার অফিসার ইনচার্জ আসাদুজ্জামান বলেন, ইতিমধ্যে আমরা বেশ কিছু জায়গায় অভিযান চালিয়ে মাদক উদ্ধার ও ব্যবসায়ীদের গ্রেপ্তার করেছি। অন্যান্য অপরাধীদের গ্রেপ্তারের পাশাপাশি আমরা মাদক নিয়ন্ত্রণে কাজ করে যাচ্ছি। চালিয়ে যাচ্ছি মাদক বিরোধী অভিযান।

ডিবির অফিসার ইনচার্জ হাসিবুল্লাহ হাবিব বলেন, বিভিন্ন অপরাধের সাথে জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কাজ করতে হয়। তারপরও এসপি স্যারের নির্দেশে মাদক নিয়ন্ত্রণকে প্রাধান্য দিয়ে জেলায় মাদক বিরোধী অভিযান চালিয়ে ইতিমধ্যে বিপুল পরিমাণ মাদক উদ্ধারসহ বেশ কিছু মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। জেলায় মাদক নিয়ন্ত্রণে আমাদের এই অভিযান চলমান থাকবে।

নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন, নওগাঁ জেলায় মাদক নিয়ন্ত্রণে রাখতে আমরা কঠোর ও নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছি। মোট কথা এই জেলাকে মাদকমুক্ত ও নিরাপদ জনপদ হিসেবে গড়ে তুলতে জেলা পুলিশ সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। পাশাপাশি মাদক ব্যবসায়ীরা যেন পুনরায় সুযোগ নিতে না পারে এই জন্য আমাদের জেলা পুলিশ মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত রেখেছে। এছাড়া যুবসমাজকে মাদকের ছোবল থেকে দূরে রাখতে এর কুফল সম্পর্কে প্রতিনিয়ত সচেতনতামূলক মতবিনিময় সভা করা হচ্ছে।


ওরা আমাকে আত্মহত্যার পথে ঠেলে দিচ্ছে: সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষিকা 

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
সোহেল রানা, ঠাকুরগাঁও

বিবাহ বিচ্ছেদের পরেও সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে সাবেক স্বামীর দ্বারা হেওপতিপন্ন হচ্ছেন কলেজ শিক্ষিকা। মানসিকভাবে চরমভাবে বিপর্যস্ত করে তাকে আত্মহত্যার দিকে ঠেলে দেয়ার অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

শনিবার (১১ জুলাই) ঠাকুরগাঁওয়ের একটি রেস্টুরেন্টে পাল্টা সংবাদ সম্মেলন করে এমন অভিযোগে করেন পুরাতন ঠাকুরগাঁও টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিজনেস ম্যানেজমেন্ট কলেজের হিসাববিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক নারগিস খাতুন। এ সময় বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

গত ৮ জুলাই এই শিক্ষিকার বিরুদ্ধে বিয়ের তথ্য গোপন করা, অর্থ আত্মসাৎ, প্রতারণাসহ নানা অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেন তার সাবেক স্বামী হুমায়ুন কবির। সেই সংবাদ সম্মেলনের সমস্ত তথ্যকে ভুল ও বিভ্রান্তিকর বলে দাবি করেছেন এই শিক্ষিকা।

এরই প্রতিবাদে পাল্টা সংবাদ সম্মেলনে নারগিস খাতুন বলেন, বিবাহ বিচ্ছেদ হওয়ার পরেও হুমায়ুন কবির ও একটি কুচক্রী মহল জোগসাজস করে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ উত্থাপন করেছেন, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তিনি দাবি করেন, আমার বিয়ের বিষয়সহ কোন তথ্য কখনোই গোপন রাখা হয়নি। আইনগতভাবে বিবাহ বিচ্ছেদ হওয়ার পরেই তৃতীয় বিয়েতে আবদ্ধ হই।

অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ অস্বীকার করে শিক্ষিকা বলেন, যদি সত্যিই আমার বিরুদ্ধে এমন অভিযোগের সত্যতা থাকত, তাহলে এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হতো। হুমায়ুন কবির আইনের পথে শ্রদ্ধাশীল না হয়ে আমাকে সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করছে। আমাকে মানসিকভাবে নির্যাতন করছে।

এসি, ফ্রিজ ও অন্যান্য আসবাবপত্র আত্মসাতের অভিযোগ প্রসঙ্গে শিক্ষিকা বলেন, এসব সামগ্রী তিনি ২০২৩ সালে নিজ অর্থে ক্রয় করেছেন এবং প্রয়োজনে ক্রয়রসিদ ও ওয়ারেন্টি সংক্রান্ত কাগজপত্র উপস্থাপন করতে পারবেন। পাশাপাশি হুমায়ুন কবির অভিযোগ প্রমাণ করতে পারলে দাবি অনুযায়ী অর্থ ফেরত দিতেও প্রস্তুত বলে জানান তিনি।

শেষে তিনি এসব অভিযোগের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে আইন অনুযায়ী সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এবং গণমাধ্যমের সহযোগিতা কামনা করেন। এসব ঘটনায় আইনগত পদক্ষেপ নেয়ারও কথা বলেন এই শিক্ষিকা।

এ বিষয়ে জানতে শিক্ষিকার সাবেক স্বামী হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তাকে মুঠোফোনে পাওয়া যায়নি।


প্রধানমন্ত্রীর দক্ষিণবঙ্গে আগমন ঘিরে মাদারীপুরে ব্যাপক প্রস্তুতি

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মাদারীপুর প্রতিনিধি

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আসন্ন দক্ষিণবঙ্গে আগমনকে ঘিরে মাদারীপুরে ব্যাপক প্রস্তুতিসভা অনুষ্ঠিত হচ্ছো। গত শুক্রবার (৯ জুলাই) বিকেলে মাদারীপুরের কেন্দুয়া, মস্তফাপুর, ঘটমাঝি, ঝাউদি ও খোয়াজপুর এই ০৫ ইউনিয়নের বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মী-সমর্থক, সাধারণ ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গদের নিয়ে মস্তফাপুর চাতালে এই প্রস্তুতি সভার আয়োজন করা হয়।

এতে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন কালকিনি-মাদারীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটিসহ গণশিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক আনিসুর রহমান তালুকদার খোকন এমপি। এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপি নেতা ও জেলা বিএনপির সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মর্তুজা আলম ঢালী, বিএনপি নেতা লেলিন ভূইয়া, স্বেচ্ছাসেবক দল জেলা শাখার সেক্রেটারী এডভোকেট মাসুদ পারভেজ, যুবদল জেলা শাখার আহবায়ক ফারুক বেপারী, ছাত্রদল জেলা শাখার আহবায়ক কামরুল ইসলাম সহ অঙ্গসংগঠনের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ ও কর্মী সমর্থক।

এসময় প্রধান অতিথি এমপি আনিসুর রহমান প্রস্তুতি সভায় নেতা-কর্মী-সমর্থক ও ৫ টি ইউনিয়ন থেকে আগত গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ দেখে আন্তরিক কৃতজ্ঞতা, শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জ্ঞাপন করেন।

তিনি বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের দক্ষিণবঙ্গে আগমন আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তার আগমনে দক্ষিণবঙ্গবাসীর উন্নয়নের দুয়ার খুলে যাবে। তাই আমাদের দলে-দলে তার জনসভায় যোগদান করতে হবে, যাতে তিনি এই অঞ্চলের মানুষের গণজোয়ার দেখে অবহেলিত দক্ষিণবঙ্গবাসীর সড়ক ও অবকাঠামো উন্নয়নে তার উদারহস্ত প্রসার করে দেন। অনুষ্ঠান থেকে বক্তারা প্রধানমন্ত্রীর পথ নিরাপত্তায় ভূমিকা রাখাসহ ব্যাপক সংখ্যক জনসমাগমের আশ্বাস দেন।


চট্টগ্রাম বিভাগে বন্যায় ৩৯ জনের প্রাণহানি, নয় লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
অনলাইন ডেস্ক

টানা ভারী বর্ষণ, পাহাড়ি ঢল এবং ভূমিধসে চট্টগ্রাম বিভাগে ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় নেমে এসেছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে এ পর্যন্ত ৩৯ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং পাঁচটি জেলায় প্রায় ৯ লাখ ২৮ হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। কক্সবাজারেই সর্বোচ্চ ২৩ জনের প্রাণহানি ঘটেছে, যাদের মধ্যে ১৩ জনই রোহিঙ্গা শরণার্থী। এছাড়া চট্টগ্রাম জেলায় ৮ জন, বান্দরবানে ৬ জন এবং রাঙামাটিতে ২ জন প্রাণ হারিয়েছেন। বিস্তীর্ণ এলাকা এখনও পানির নিচে থাকায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা স্থবির হয়ে পড়েছে।

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের তথ্যমতে, জেলার ১৬টি উপজেলাসহ নগরীর বিভিন্ন স্থানে অন্তত ১ লাখ ৮৮ হাজার পরিবার চরম দুর্ভোগে পড়েছে। সাতকানিয়া ও বাঁশখালী উপজেলার পরিস্থিতি সবচেয়ে শোচনীয় আকার ধারণ করেছে, যেখানে প্রায় পাঁচ লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে আছেন। প্রবল স্রোতে ভেসে গিয়ে বাঁশখালীতে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। বহু এলাকায় বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন থাকা এবং মোবাইল নেটওয়ার্ক অকেজো হয়ে যাওয়ায় উদ্ধার তৎপরতা ব্যাহত হচ্ছে। চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের বেশ কিছু অংশ এখনও পানির নিচে থাকায় যান চলাচল অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। সাঙ্গু ও ডলু নদীর পানি উপচে সাতকানিয়ার বিপুল এলাকা প্লাবিত হয়েছে, যার ফলে সাধারণ মানুষের জন্য বিশুদ্ধ পানি ও খাদ্যসংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে।

দুর্যোগ মোকাবিলায় সরকার ইতিমধ্যে ৭০০ টন চাল ও ৬ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে এবং সেনাবাহিনী ও অন্যান্য সংস্থা উদ্ধার অভিযানে সক্রিয় রয়েছে। রাঙামাটির সাজেক উপত্যকায় আটকা পড়া ৪৬১ জন পর্যটককে সেনাবাহিনী সফলভাবে উদ্ধার করে নিরাপদে গন্তব্যে পাঠিয়েছে। এছাড়া নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে বান্দরবানের সকল পর্যটন কেন্দ্র ১৫ জুলাই পর্যন্ত বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের বিশেষ বুলেটিনে জানানো হয়েছে যে, সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে ১২ জুলাই পর্যন্ত ওই অঞ্চলে অতি ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে, যা পাহাড়ধসের ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। চট্টগ্রাম ও মোংলা সমুদ্র বন্দরে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেত বহাল রাখা হয়েছে।

চট্টগ্রামের বাইরেও সিলেট ও খুলনা বিভাগের কিছু এলাকায় বন্যা পরিস্থিতি উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে। হবিগঞ্জে খোয়াই নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধ ভেঙে অন্তত ৩০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন এবং বাগেরহাটের নিম্নাঞ্চলেও জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বন্যাকবলিত এলাকায় উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম আরও জোরদার করার জন্য বিশেষ নির্দেশনা প্রদান করেছেন। তাঁর কার্যালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, প্রধানমন্ত্রী সার্বক্ষণিকভাবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন এবং জেলা প্রশাসনের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করছেন। প্রতিকূল এই পরিস্থিতিতে দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়াতে রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনগুলোকেও এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে।


বৃষ্টি নিয়ে নতুন বার্তা দিল আবহাওয়া অধিদপ্তর

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

উত্তর বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট বায়ুচাপের তীব্র তারতম্য এবং সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে আগামী পাঁচ দিন সারা দেশে বৃষ্টিপাতের দাপট অব্যাহত থাকতে পারে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর। এই সময়ে দেশের প্রতিটি বিভাগেই দমকা হাওয়াসহ হালকা হতে মাঝারি এবং অনেক স্থানে মাঝারি ধরনের ভারী হতে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।

আবহাওয়াবিদ এ কে এম নাজমুল হকের দেওয়া পূর্বাভাস অনুযায়ী, শনিবার সকাল ৯টা হতে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ এলাকায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়া ও বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। একই সাথে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মাঝারি ধরনের ভারী হতে অতি ভারী বর্ষণের প্রবল আশঙ্কা রয়েছে। এই সময়ে দিন ও রাতের তাপমাত্রায় বড় কোনো পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই।

রবিবারও আবহাওয়ার এই ধারা অপরিবর্তিত থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আটটি বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় বজ্রসহ বৃষ্টিপাতের পাশাপাশি ভারী বর্ষণের সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে। সোমবারও দেশের অধিকাংশ এলাকায় বৃষ্টির দাপট বজায় থাকবে, তবে মঙ্গলবার হতে চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় বৃষ্টিপাতের পরিমাণ সামান্য কমে আসতে পারে। ওইদিন হতে দিনের তাপমাত্রা সামান্য বৃদ্ধির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

পরবর্তী দিনগুলোতে অর্থাৎ বুধবারের দিকে ঢাকা, রাজশাহী ও ময়মনসিংহসহ কয়েকটি বিভাগে বৃষ্টির প্রকোপ কিছুটা কমতে শুরু করলেও দেশের অনেক স্থানেই মাঝারি ধরনের বর্ষণ অব্যাহত থাকতে পারে। আবহাওয়া অধিদপ্তর আরও জানিয়েছে যে, আগামী পাঁচ দিন অতিবাহিত হওয়ার পর সারা দেশে বৃষ্টিপাতের বর্তমান প্রবণতা ধীরে ধীরে হ্রাস পেতে পারে। সাগরে বৈরী পরিস্থিতির কারণে সংশ্লিষ্ট সকলকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।


banner close