সোমবার, ৮ জুন ২০২৬
২৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

এত গ্রেপ্তারের পরও কেন নির্মূল হচ্ছে না আরসা?

ছবি: সংগৃহীত
রহমত উল্লাহ, টেকনাফ (কক্সবাজার)
প্রকাশিত
রহমত উল্লাহ, টেকনাফ (কক্সবাজার)
প্রকাশিত : ১২ জুন, ২০২৪ ১৬:২৬

মিয়ানমারের চরমপন্থি সশস্ত্র সংগঠন আরসার আগের নাম ছিল আল ইয়াকিন বা ইসলামি সংগঠন। রোহিঙ্গা মুসলমানদের নিয়ে কাজ করাই ছিল তাদের উদ্দেশ্য। ২০১৩ সালের দিকে সংগঠনের নাম পাল্টে রাখা হয় আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মি বা আরসা, যদিও দলের একাংশ এখনো আল ইয়াকিন নামেই পুরোনো সংগঠনকে আকড়ে ধরে আছে। আতাউল্লাহ আবু আম্মার জুনুনি সেসময়ে হন স্যালভেশন আর্মির (আরসা) কমান্ডার ইন চিফ। এই আতাউল্লাহর জন্ম সৌদি আরবে, তার বাবা-মা আরাকান থেকে গিয়ে সৌদি আরবে স্থায়ী হন। কিন্তু জন্ম সৌদি আরবে হলেও আতাউল্লাহ পরে পাকিস্তানের করাচিতে এসে বসবাস করতেন।

রোহিঙ্গাদের অধিকার আদায় করতে ঠিক কবে মিয়ানমারে তিনি ফিরে আসেন, তা জানা যায় না। তবে তা ২০১৩ সালের আগেই অর্থাৎ আল ইয়াকিন থেকে আরসার যাত্রা শুরুর আগেই হয়েছে, তা নিশ্চিত। সংগঠনটি সশস্ত্র হয়ে উঠেছে, তা প্রথম বোঝা যায় ২০১৫-১৬ সালের দিকে। লক্ষ্য ছিল, মিয়ানমারের মুসলিম অধ্যুষিত আরাকান প্রদেশ দখল। ২০১৭ সালের মাঝামাঝি মিয়ানমারের থানায় হামলা, পুলিশের অস্ত্র লুটের ঘটনার পর সংগঠনটির বিরুদ্ধে প্রথম মনোযোগ দেয় মিয়ানমার সেনাবাহিনী। তবে ওই বছরেই আগস্টে তার নির্দেশে রাখাইনে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর তল্লাশি চৌকিতে আরকান দখল ও অস্ত্র লুট করার জন্য আবার হামলা চালায় আরসা। এ ঘটনায় ভীষণ ক্ষুব্ধ সেনাবাহিনী আরসা নির্মূলের উদ্দেশে আরকান প্রদেশে হামলা শুরু করে। তখন উত্তপ্ত হয়ে পড়ে মিয়ানমারে মুসলমানদের গ্রামগুলোর পরিস্থিতি। ওই দেশের সেনাবাহিনী ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট রাখাইনে চড়াও হয়ে অভিযান ও রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতন, হামলা ও গণধর্ষণের ঘটনা শুরুর পর নিজ দেশ ছেড়ে বাংলাদেশে পালিয়ে আসে প্রায় ১০ লাখ রোহিঙ্গা। সম্পূর্ণ মানবিক কারণে তাদের তখন আশ্রয় দেয় বাংলাদেশ সরকার। আর বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে আরসার সদস্যদের সম্পর্কে তথ্য না থাকার সুযোগে এসব রোহিঙ্গার সঙ্গে আশ্রয়প্রার্থী হিসেবে বাংলাদেশে চলে আসে আরসার কিছু সদস্য আর সমর্থকও।

উদ্দেশ্য তাদের মিয়ানমার সেনাবাহিনীর সঙ্গে লড়াই করা হলেও অস্ত্র তৈরি ও সংগ্রহ, বাহিনীর জন্য সদস্য সংগ্রহ, সদস্যদের অস্ত্র প্রশিক্ষণ দেওয়া ইত্যাদি কাজে তারা তখন থেকেই গোপনে বাংলাদেশের পাহাড়ি নির্জন এলাকাগুলো ব্যবহার শুরু করে। একই সঙ্গে রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরগুলোতে নিজেদের প্রভাব বাড়াতে তারা সেগুলোতে আধিপত্য বিস্তার শুরু করে। রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবির সর্দার বা মাঝিদের করায়ত্ত করা বা ভয় দেখানো দিয়েই এর শুরু। একই সঙ্গে নিজেদের অর্থভাণ্ডার ঠিক রাখতে মিয়ানমারের সঙ্গে বাংলাদেশের অরক্ষিত সীমান্ত অঞ্চলকে রুট হিসেবে ব্যবহার করে এদেশে মাদক চোরাচালান আরও বাড়িয়ে দেয়।

শুরুতে আরসা সম্পর্কে অন্ধকারে থাকলেও দিনের পর দিন রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরগুলোতে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে পরস্পরের মধ্যে হামলা, গুলি, হত্যার ঘটনা বাড়তে থাকায় এবং বিপুল পরিমাণ মাদকসহ রোহিঙ্গা ও তাদের প্ররোচনায় স্থানীয়দের আটক বা গ্রেপ্তাদের মধ্য দিয়ে এই চরমপন্থি সংগঠন সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পেতে শুরু করে বাংলাদেশের বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। র‌্যাব, এপিবিএন আরসা দমনে কঠোর অভিযান চালাচ্ছে মাঝেমধ্যেই। তার পরও তাদের গোপন তথ্য প্রকাশ হয়ে পড়া এবং বেশির ভাগ রোহিঙ্গা সশস্ত্র যুদ্ধে জড়িত হতে না চাওয়ায় আরসার নেতাসহ সদস্যরা বরাবরই আছে উৎকণ্ঠায়। রোহিঙ্গাদের মধ্যে আরসা ছাড়াও আছে আরও কিছু সশস্ত্র গ্রুপ। তবে তারা পরস্পর যেন পরস্পরের শত্রু। আরাকানে যে বিদ্রোহী সশস্ত্র গ্রুপ আরাকানের স্বাধীনতার জন্য সশস্ত্র লড়াই করে যাচ্ছে, আরাকান আর্মি, ওদের সঙ্গেও এসব গ্রুপের শত্রুতা রয়েছে। আরাকান আর্মি সাধারণভাবে সব আরাকানির জন্যে স্বাধীন আরাকান চায়, কিন্তু আরসাকে ওরা চিহ্নিত করে মুসলিম সন্ত্রাসী গ্রুপ হিসেবে। সব মিলিয়ে অস্থির হয়ে উঠছে রোহিঙ্গা শিবির।

আরসার শীর্ষ নেতা অলি আকিজ দীর্ঘদিন মিয়ানমারে আত্মগোপনে থাকলেও গত ১৯ মে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ফিরেছেন। আরসার শীর্ষ কমান্ডার আতাউল্লাহ আবু আম্মার জুনুনি এবং সেকেন্ড-ইন-কমান্ড ওস্তাদ খালেদের নির্দেশে ক্যাম্পে আধিপত্য বিস্তারের নতুন পরিকল্পনা নিয়ে অপতৎপরতা চালাচ্ছেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সূত্রে জানা যায়, রোহিঙ্গাদের সশস্ত্র গ্রুপ আরসার প্রশিক্ষণ। অস্ত্র তৈরি, আত্মগোপন, মিটিংসহ নানা কর্মকাণ্ড সেখানে সংগঠিত হতো। গত রোববার মধ্যরাতে অভিযান চালিয়ে ক্যাম্প-৪-এ গোপন বৈঠক থেকে আকিজসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, একটি দেশীয় তৈরি এলজি, একটি ওয়ানশুটার গান, ১০ রাউন্ড কার্তুজ, দুই কেজি বিস্ফোরকদ্রব্য, তিনটি মোবাইল এবং নগদ ২ হাজার ৫০০ টাকা জব্দ করা হয়।

র‌্যাব-১৫-এর অধিনায়ক লে. কর্নেল এইচ এম সাজ্জাদ হোসেন বলেন, ‘আমরা এ পর্যন্ত ১১২ জনের ওপরে আরসার ভিন্ন পদবিধারী নেতা গ্রেপ্তার করেছি। গত রোববারের আরসার শীর্ষ নেতা আকিজসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করি। তাদের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

২০১৭ সালে সীমান্ত পার হয়ে ভারত হয়ে বাংলাদেশে এসে ক্যাম্প-৫-এ সপরিবারে বসবাস শুরু করেন মৌলভী আকিজ। পরে আরসার হয়ে কাজ শুরু করেন তিনি। এরপর ক্যাম্প-৫-এ আরসার প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পান। নেটওয়ার্ক গ্রুপে কাজ করতেন। ক্যাম্পের বিভিন্ন তথ্য আরসা কমান্ডারদের কাছে পৌঁছে দিতেন। এভাবে শীর্ষ নেতৃত্বে পৌঁছান। রোহিঙ্গাদের প্রত‍্যাবাসনের পক্ষে কাজ করায় ওস্তাদ খালেদের নির্দেশে রোহিঙ্গা নেতা মাস্টার মহিবুল্লাহকে হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী ছিলেন আকিজ। তা ছাড়া মতাদর্শিক দ্বন্দ্বে ক্যাম্পে সেভেন মার্ডারে সরাসরি অংশ নেন। তাদের নেতা-কর্মী আটক হলে কিছুটা দুর্বল হয়ে যায় কিন্তু আবার সক্রিয় হয়ে ওঠে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বিশাল এই জনগোষ্ঠীতে আরসা, আল-ইয়াকিনসহ অন্তত ১৫টি বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন সক্রিয়। ২০১৭ সাল থেকে এখন পর্যন্ত ছয় বছরে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সংঘর্ষের ঘটনায় প্রায় ৩০০ জন নিহত হয়েছে। মামলা হয়েছে পাঁচ হাজারের অধিক। এসব মামলার বেশির ভাগই হয়েছে মাদক ও আগ্নেয়াস্ত্র রাখার অভিযোগে।

রোহিঙ্গা নেতা ড. জোবায়ের বলেন, আরসা রোহিঙ্গা ক্যাম্প দখল করে রাজত্ব কায়েম করার জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এ পর্যন্ত তাদের দুই শতাধিক নেতা-কর্মী আটক হয়েছেন। আটক করলেও তারা আরও শক্তিশালী হয়ে উঠবে, তার কারণ তাদের রোহিঙ্গা সরকার মদদ দিয়ে যাচ্ছে। প্রত্যাবাসন বন্ধ রাখার জন্য মিয়ানমার সরকার তাদের ব্যবহার করে যাচ্ছে, যে কারণে তারা এতটা শক্তিশালী।

গত রোববার রাতে উখিয়ার মধুরছড়া ৪ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে আরসার শীর্ষ নেতাদের গ্রেপ্তার করে। সে জায়গায় ভোরে ৪০-৪৫ জন আরসা সন্ত্রাসী পাহাড় থেকে সীমানার কাঁটাতারের বেড়া অতিক্রম করে ৪ নম্বর ক্যাম্পে আসে। ঘটনাস্থলে এসে ক্যাম্পে পাহারারত রোহিঙ্গা ইলিয়াছকে তারা গুলি করে ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে হাতে, পায়ে ও তলপেটে কুপিয়ে মারাত্মক জখম করে। এতে ইলিয়াস ঘটনাস্থলেই মারা যান।

১৪ এপিবিএনের অধিনায়ক মোহাম্মদ ইকবাল বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গেলে এপিবিএন সদস্যদেরও লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ করে সন্ত্রাসীরা।

তিনি আরও বলেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে নতুন করে সংগঠিত এবং নাশকতা করার চেষ্টা করছে আরসা। মূলত আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘবদ্ধ হয়ে হামলা চালায় আরসা সন্ত্রাসীরা। এতে তারা গুলি এবং কুপিয়ে তিন রোহিঙ্গাকে হত্যা করে। আর গুরুতর আহত হয় সাতজন। হতাহতরা আরএসও সদস্য বলে জানা গেছে।

রোহিঙ্গা গবেষক অধ্যাপক ড. রাহমান নাসির উদ্দিন দৈনিক বাংলাকে বলেছেন, রোহিঙ্গাদের অধিকার আদায় করতে আরসা ২০১৭ সালের ২৫ আগস্টের দিকে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর তল্লাশি চৌকিতে হামলা চালায়। কিন্তু এটার কারণে নির্যাতনের তীব্রতায় নিজ দেশ ছেড়ে বাংলাদেশে পালিয়ে আসে প্রায় ৮ লাখ রোহিঙ্গা। সে কারণে আরসা রোহিঙ্গাদের প্রতিনিধিত্ব হয়ে উঠতে পারে নাই। বিভিন্ন সময় রোহিঙ্গাদের সঙ্গে কথা বলে জানতে পারি, রোহিঙ্গাদের এ দুর্দশার জন্য আরসা দায়ী। রোহিঙ্গাদের সঙ্গে আরসার একটা বড় গ্রুপ বাংলাদেশে এসেছে। বাংলাদেশে ৩৪টি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে তাদের অবস্থান ধরে রাখার জন্য তারা বিভিন্ন ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে এবং যখন কেউ তাদের বিরুদ্ধে কথা বলার চেষ্টা করেছে তখন তারা তাদের দমন করেছে। এর মধ্যে একজন ছিলেন মুহিব উল্লাহ। মুহিব উল্লাহ যখন রোহিঙ্গাদের নেতা হয়ে ওঠে বিশ্বের কাছে পরিচিত হন এবং আন্তর্জাতিকভাবে রোহিঙ্গাদের জন্য আন্দোলন করেন তখন তাকে নেতা হিসেবে গ্রহণ করে রোহিঙ্গারা। বাংলাদেশ যখন প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরু করে তখন রোহিঙ্গাদের রাজি করানোর জন্য মুহিব উল্লাহ সোর্স ছিল। ধীরে ধীরে মুহিব উল্লাহ প্রধান পাঁচ রোহিঙ্গা নেতার একজন হয়ে ওঠেন। ২০১৯ সালের ২৫ আগস্ট ৩ থেকে ৫ লাখ রোহিঙ্গার মহাসমাবেশ করে তাক লাগিয়ে দেন এবং আনন্দে আত্মহারা করে দেন রোহিঙ্গা ইস্যুতে লেগে থাকা বিদেশি এনজিওগুলোকে। এসব কারণে আরাকান রোহিঙ্গা সোসাইটি ফর পিস অ্যান্ড হিউম্যান রাইটস ভেঙে দেওয়ার জন্য মুহিব উল্লাহকে হত্যা করা হয়। মিয়ানমার সেনাবাহিনীর শত্রু হচ্ছে আরাকান আর্মি। আরাকান আর্মির শত্রু হচ্ছে মিয়ানমার সেনাবাহিনী। আবার মিয়ানমারের শত্রুও আরসা। মিয়ানমার নৌবাহিনী ঘোষণা দিয়ে বলছে আরকান আর্মি ও আরসা মিলে বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে। যেহেতু মিয়ানমার আরাকানে আরকান আর্মি শক্তিশালী হয়ে উঠেছে। সে কারণে আরসা ও শক্তিশালী হয়ে উঠেছে।

দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীগুলোকে সতর্ক করে দিয়ে ড. রাহমান নাসির বলেন, দুই শতাধিক আরসার নেতা-কর্মী গ্রেপ্তার করাতেই আরসা দুর্বল হয়ে পড়েছে এমন যুক্তি হয়তো সঠিক নয়। এই চরমপন্থি দলে আরও অনেক সদস্য ও সমর্থক রয়েছে।

কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. রফিকুল ইসলাম দৈনিক বাংলাকে বলেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বিভিন্ন সন্ত্রাসী গ্রুপ তাদের আধিপত্য বিস্তার করার জন্য এসব সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করে থাকে। আগুন নাশকতা এসব মাঝেমধ্যে বিভিন্ন কারণে হয়ে থাকে। তবে কিছু কিছু ঘটনা আমরা সন্দেহ করি এগুলো নাশকতা। আমরা আরসা বলে কিছু পাইনি। তবে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সন্ত্রাসী গ্রুপ আছে। যারা উগ্রবাদী কর্মকাণ্ডে জড়াবে তাদের বিরুদ্ধে আমাদের সমন্বিত অভিযান অব্যাহত থাকবে।

রোহিঙ্গা ইয়ুথ অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিষ্ঠাতা খিন মং বলেন, রোহিঙ্গাদের অধিকারের জন্য লড়াই করার দাবি করেছিল আরসা। তখন তাদের বিশ্বাস করেছিল রোহিঙ্গারা। কিন্তু এখন সাধারণ রোহিঙ্গারাও মনে করে আরসা মিয়ানমারের এজেন্ট হিসেবে কাজ করছে। যারা প্রত্যাবাসনের কথা বলছেন তাদের হত্যা করা হচ্ছে। তাই আরসার ওপর তাদের আর বিশ্বাস নেই।

বিষয়:

খুলনায় বিশেষ অভিযানেও অধরা শীর্ষ সন্ত্রাসীরা

* চার দিনে আটক ১৮৪ অপরাধী * আগাম তথ্য ফাঁসের অভিযোগ * নাগরিক সমাজে উদ্বেগ
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
সৈকত মো. সোহাগ, খুলনা

খুলনায় সন্ত্রাস, চাঁদাবাজ, মাদক কারবারিসহ বিভিন্ন অপরাধীদের গ্রেপ্তারে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপি) নেতৃত্বে বিশেষ যৌথ অভিযান শুরু হয়েছে। গত চার দিনে অভিযানে ১৮৪ জন অপরাধী আটক হলেও শীর্ষ সন্ত্রাসীরা এখনো রয়েছে ধরাছোঁয়ার বাইরে। অভিযোগ ওঠেছে, বিশেষ অভিযানের আগাম খবর কোনোভাবে বাইরে চলে যাওয়ায় শীর্ষ সন্ত্রাসীরা আত্মগোপনে চলে গেছে। ফলে তালিকাভুক্ত মূল অপরাধীদের গ্রেপ্তার করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে। এদিকে মূল হোতারা গ্রেপ্তার না হওয়ায় খুলনার রাজনীতিবিদ ও নাগরিক নেতাদের মনে চরম উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

তালিকাবদ্ধ সন্ত্রাসীদের আত্মগোপন ও জনমনে প্রশ্ন: একাধিক সূত্রে জানা গেছে, যৌথবাহিনী কখন, কোথায়, কোন সময়ে অভিযান চালাবে তার আগাম তথ্য অপরাধীদের হাতে চলে যাচ্ছে। ফলে ব্যাপক ঢাকঢোল পিটিয়ে শুরু করা এই অভিযানের ফলাফল আশানুরূপ হচ্ছে না। সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ ও মাদক বিক্রেতারা বীরদর্পে তাদের অপরাধমূলক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।

কেএমপির সূত্র অনুযায়ী, গত ৩ জুন থেকে খুলনায় যৌথবাহিনীর বিশেষ অভিযান শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত ১৮৪ জন অপরাধী গ্রেপ্তার হয়েছে। এর মধ্যে প্রথম দিনে ২৪ ঘণ্টায় খুলনার বিভিন্ন স্থান থেকে ৬২ জন, দ্বিতীয় দিনে ৫৯ জন এবং তৃতীয় দিন শুক্রবার (৫ জুন) সন্ধ্যা থেকে শনিবার (৬ জুন) দুপুর পর্যন্ত ৬৩ জন গ্রেপ্তার হয়েছে। অভিযানকালে মদ, গাঁজা, ইয়াবার মতো মাদক কারবারি, ছিঁচকে চোরসহ ছোটখাটো অপরাধীরা ধরা পড়েছে। এ ছাড়া তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী ‘কসাই লিটন’ ও ‘আজম খান’ ধরা পড়লেও তারা কোনো বড় বাহিনীর প্রধান নন। এদের বাইরে কোনো বড় অপরাধী বা অস্ত্রধারী শীর্ষ সন্ত্রাসীদের বড় অংশ এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ঢাকঢোল পিটিয়ে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করায় অভিযানের আগাম খবর সন্ত্রাসীদের হাতে চলে যাচ্ছে। ফলে তাদের আত্মগোপনে চলে যাওয়া খুবই সহজ হচ্ছে। নগরীর ময়লাপোতা এলাকার বাসিন্দা হুমায়ুন কবীর বলেন, ‘গত তিন দিন ধরে সন্ধ্যার পর বিভিন্ন মোড়ে মোড়ে অভিযান চালাচ্ছেন যৌথ বাহিনীর সদস্যরা। অভিযানে বড় ধরনের সন্ত্রাসী আটক হওয়ার খবর আমরা পাইনি। নগরের বিভিন্ন অলিগলিতে প্রতিদিন মাদকের হাট বসে। অভিযান শুরু হলে তাদের দেখা যায় না। কিন্তু অভিযান শেষ করে যৌথ বাহিনী চলে যাওয়ার সাথে সাথে তারা পুনরায় আবারও পয়েন্টগুলোতে এসে মাদক বিক্রি করে।’ তিনি প্রশ্ন তোলেন, কীভাবে তারা অভিযানের আগাম খবর পায় এবং গ্রেপ্তার হয় না কেন?

একই চিত্র দেখা গেছে শেখপাড়া চামড়া পট্টিতেও। গত শুক্রবার সন্ধ্যায় সেখানে অভিযান চালায় পুলিশ। ওখানকার কয়েকজন বাসিন্দা জানান, তিন পুরিয়া গাঁজাসহ দু’জনকে আটক করা হয়েছে সেখান থেকে। কিন্তু যারা মূল সাপ্লাইয়ার এবং গডফাদার, তারা সবসময় অধরাই থেকে যায়। অভিযানের আগাম খবর পেয়ে মাদক কারবারিরা স্থান ত্যাগ করে অন্যত্র চলে যায় এবং রাত সাড়ে ৯টার কিছুক্ষণ পর ফিরে এসে তারা আবারও কার্যক্রম শুরু করে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সাবেক একজন চেম্বার পরিচালক ও ব্যবসায়ী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘বিশেষ অভিযানের মধ্যেও শহরে খুন-খারাবি হচ্ছে। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাঁদাবাজি অব্যাহত রয়েছে। বড় বড় অপরাধীরা অভিযানের আগাম খবর পেয়ে যাচ্ছে। সন্ত্রাসীদের আগাম খবর পাওয়া খুবই উদ্বেগের।’

পুলিশ প্রশাসন ও রাজনৈতিক নেতাদের বক্তব্য: সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে কেএমপি পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘খুলনার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে গত বুধবার থেকে পুলিশ, র‍্যাব ও এপিবিএনের সমন্বয়ে গঠিত যৌথ বাহিনী নগরীর বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে এ পর্যন্ত ১৮৪ জন সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তার করেছে। এদের মধ্যে সন্ত্রাসী লিটন, রিফাত, আজম খান, রাব্বিসহ আরও কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। খুলনায় শান্তিশৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার জন্য সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘অনেক সময় বাইরে থেকে সন্ত্রাসীরা এসে খুলনায় অপরাধমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে চলে যাচ্ছে। সেগুলো প্রতিহত করার জন্য শহরের প্রবেশদ্বারগুলোতে চেকপোস্ট বাড়ানো হয়েছে। এ ছাড়া আইনের ফাঁকফোকর দিয়ে অনেক সন্ত্রাসী কারাগার থেকে বের হচ্ছে, তাদের ওপরও কড়া নজরদারি রাখা হয়েছে। কোনো ধরনের অভিযোগ পাওয়া গেলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তবে খুলনা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু শহরের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, ‘প্রতিদিনই কোথাও না কোথাও থেকে গোলাগুলি, চাঁদাবাজি ও অপহরণের তথ্য আসে। খুলনা শহরটি এখন আতঙ্কের শহরে পরিণত হয়েছে। সন্ত্রাসীদের দমনে খুলনায় পুলিশের আরও বেশি তৎপর হওয়া প্রয়োজন।’

খুলনা নাগরিক সমাজের সদস্য সচিব বাবুল হাওলাদার তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘শীর্ষ সন্ত্রাসীদের তালিকা পুলিশের কাছে আছে। তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী গ্রেপ্তারের নামে পুলিশ এখন চুনোপুঁটিদের ধরছে, যেটা এক ধরনের আইওয়াশ ছাড়া কিছুই নয়। রাঘববোয়ালদের ধরা এবং অস্ত্রবাজদের কাছ থেকে অস্ত্র উদ্ধারের চেষ্টা ব্যর্থ হলে এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়।’

খুলনা মহানগর পুলিশের অপরাধ শাখার তথ্য বলছে, ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে গত মে মাস পর্যন্ত ২২ মাসে শুধু নগরের বিভিন্ন থানা এলাকায় ৮৮টি হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। এর মধ্যে ৩৪টি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে বিভিন্ন সন্ত্রাসী গোষ্ঠী সরাসরি জড়িত। এই প্রেক্ষাপটে থানাভিত্তিক সন্ত্রাসীদের নতুন তালিকা তৈরির কাজ শুরু হয়। মহানগরীর আটটি থানায় তৈরি করা এই নতুন তালিকায় বর্তমানে ১৮১ জন শীর্ষ সন্ত্রাসীর নাম রয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।


বিমানবন্দরের কার্গো এলাকায় আগুন, কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজ এলাকায় লাগা অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় রহস্যের আভাস পেয়েছেন তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। তারা জানিয়েছেন, সন্দেহজনক কিছু বিষয় নজরে আসায় শনিবার (৬ জুন) কুরিয়ার সার্ভিস ডিএইচএলের কর্মীসহ কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।

এর আগে গত শুক্রবার (৫ জুন) রাতে কার্গো ভিলেজের ৯ নম্বর গেটসংলগ্ন এলাকায় এই আগুন লাগে এবং কুরিয়ার সার্ভিসের বেশ কিছু মালপত্র পুড়ে যায়। যে কনটেইনারে আগুন লেগেছে, সেখানকার পণ্যগুলো রোববার (৭ জুন) নিলামে ওঠার কথা ছিল।

শাহজালাল বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাগীব সামাদ গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আগুনের ঘটনা তদন্তে এভসেক পরিচালককে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তারা এরই মধ্যে কাজ শুরু করেছে। তারা কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। তদন্তের প্রয়োজনে যখন যাকে প্রয়োজন তারা জিজ্ঞাসাবাদ করবে। কাল (রোববার) তাদের প্রাথমিক প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।’

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, এর আগেও ডিএইচএলের মালপত্র রাখার স্থানে আগুন লেগেছিল। পরপর দুই বার তাদের মালপত্র পুড়ে যাওয়ার বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে। সেই সঙ্গে বিমানবন্দরের অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, গত শুক্রবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে ঘটনাস্থলের কাছে ডিএইচএলের একজন কর্মী অবস্থান করছিলেন। তিনি সেখানে মশারি টাঙিয়ে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন। আগুন লাগার পরও প্রায় দেড় থেকে দুই মিনিট তিনি শান্তভাবে আগুনের দিকে তাকিয়ে ছিলেন। পরে ফোন করে বিষয়টি অন্যদের জানান, যা সন্দেহের সৃষ্টি করেছে।

এর আগে, গত বছরের ১৮ অক্টোবর দুপুর আড়াইটার দিকে শাহজালাল বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজ কমপ্লেক্সে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ১৩টি ফায়ার স্টেশনের ৩৭টি ইউনিট প্রায় সাড়ে ছয় ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। ওই সময় উড়োজাহাজ চলাচল বন্ধ থাকে। আগুন নেভাতে গিয়ে আহত হন আনসার বাহিনীর ২৫ সদস্যসহ মোট ৩৫ জন।


ইতালি-জার্মানিতে পাঠানোর নামে ২০ লাখ টাকা আত্মসাৎ, চক্রের মূলহোতাসহ গ্রেপ্তার ৩

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ইতালি ও জার্মানিসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে উচ্চ বেতনের চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে একটি মানবপাচারকারী চক্রের মূলহোতাসহ তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব-৪। এই চক্রটি এক ভুক্তভোগীর কাছ থেকেই কৌশলে ২০ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। শনিবার (৬ জুন) মিরপুরে র‍্যাব-৪ এর কার্যালয়ে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানিয়েছেন কোম্পানি কমান্ডার কে. এন. রায় নিয়তি।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন মো. এজাজুল হক রতন (৬৩), মোছা. নার্গিস বেগম (৪০) ও মো. বাদল (৫৫)।

র‍্যাব জানায়, গাজীপুরের বাসিন্দা ইমরান হোসেন নামের এক ব্যক্তি র‍্যাবের কাছে অভিযোগ করেন যে, তিনি মানবপাচারকারী চক্রের মাধ্যমে বড় ধরনের আর্থিক প্রতারণার শিকার হয়েছেন।

এ ঘটনায় তিনি ডিএমপির শাহ আলী থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। ওই মামলার পরিপ্রেক্ষিতে র‍্যাব-৪ এর একটি দল গত শুক্রবার (৫ জুন) রাজধানীর মিরপুর ও সাভারের আশুলিয়ায় অভিযান চালিয়ে ওই তিনজনকে গ্রেপ্তার করে।

র‍্যাবের কোম্পানি কমান্ডার কে. এন. রায় নিয়তি বলেন, ‘এই চক্রের কাছে টাকা দিয়ে প্রতারিত হয়েছেন এমন আরও কয়েকটি অভিযোগ আমাদের কাছে এসেছে। গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় পাঠানো হয়েছে।’


রোববার থেকে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। রোববার (৭ জুন) থেকে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হচ্ছে। সম্প্রতি এ তথ্য জানিয়েছে ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল)।

ডিএমটিসিএলের তথ্য মতে, রোববার (৭ জুন) থেকে মেট্রোরেলের চলাচলের সময় রাতের দিকে উভয় প্রান্তে ২০ মিনিট করে বাড়ানো হচ্ছে। ফলে মতিঝিল থেকে উত্তরার উদ্দেশ্যে শেষ ট্রেন রাত সাড়ে ১০টায় ছেড়ে যাবে, যা বর্তমানে রাত ১০টা ১০ মিনিটে ছাড়ে। একইভাবে উত্তরা থেকে মতিঝিলগামী সর্বশেষ ট্রেন ছাড়বে রাত ৯টা ৫০ মিনিটে, যেখানে বর্তমানে শেষ ট্রেন ছেড়ে যায় রাত ৯টা ৩০ মিনিটে।

মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষ জানায়, রাতের চলাচলের সময় বাড়ানোর আগে এ বিষয়ে গত এক মাস ধরে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালানো হয়েছে। এর অংশ হিসেবে রোববার (৭ জুন) থেকে বর্ধিত সময়সূচিতে যাত্রী পরিবহন শুরু হবে। তবে প্রাথমিকভাবে অতিরিক্ত ২০ মিনিটে মাত্র একটি করে ট্রিপ পরিচালনা করা হবে। অর্থাৎ একটি ট্রেন মতিঝিলের দিকে এবং আরেকটি ট্রেন উত্তরার দিকে চলাচল করবে। ফলে এ সময় এক ট্রেনের পর আরেক ট্রেনের মধ্যে ১০ মিনিটের বিরতি থাকবে।

ডিএমটিসিএলের পরিচালক (অপারেশন অ্যান্ড মেইনটেন্যান্স) নজরুল ইসলাম বলেন, ‘রাতে দুই দিক থেকেই মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ানোর সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। আশা করা হচ্ছে, রোববার (৭ জুন) থেকে রাতে উভয় দিক থেকে ২০ মিনিট বাড়তি চলাচল করবে।’


যত আইন, তত ফাঁকফোকর: সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন বলেছেন, ‘দেশে শিশু ও নারী সুরক্ষায় অসংখ্য আইন থাকলেও বাস্তবায়নের দুর্বলতা, দীর্ঘ বিচারপ্রক্রিয়া এবং সমন্বয়হীনতার কারণে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যাচ্ছে না। অনেক ক্ষেত্রে ‘যত আইন, তত ফাঁকফোকর’ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।’

শনিবার (৬ জুন) রাজধানীর শাহবাগে শহীদ আবু সাঈদ কনভেনশন সেন্টার মিলনায়তনে ‘বাংলাদেশে শিশু নির্যাতন ও করণীয়’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে তিনি এ সব কথা বলেছেন। ‘নিপীড়িত নারী ও শিশুদের আইনি ও স্বাস্থ্য সহায়তা সেল’ এই বৈঠকের আয়োজন করে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা যারা আইন পেশার সঙ্গে জড়িত, তারা জানি দেশে কত আইন রয়েছে। কিন্তু বিচারিক প্রক্রিয়ার বিভিন্ন ধাপ পেরোতে গিয়ে অনেক সময় মামলার কার্যকারিতা কমে যায়। আপিল পর্যায়ে যেতে যেতে অনেক মামলা দীর্ঘসূত্রতায় পড়ে। সমাজ ও অপরাধের ধরন পরিবর্তিত হলেও আইন ও বাস্তবায়ন ব্যবস্থাকে সেই গতিতে পরিবর্তন করা যায়নি।’

ফারজানা শারমীন বলেন, ‘শিশু নির্যাতন ও ধর্ষণের মতো অপরাধের দায় শুধু রাষ্ট্রের নয়, পরিবার ও সমাজেরও। একজন ধর্ষক জন্মগতভাবে অপরাধী হয়ে জন্মায় না; পরিবার, সামাজিক পরিবেশ এবং মূল্যবোধের সংকটের মধ্য দিয়ে তার অপরাধপ্রবণতা তৈরি হয়।’

শিশুদের ছোটবেলা থেকে গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে ফারজানা শারমীন আরও বলেন, ‘পাঁচ বছর বয়স পর্যন্ত একটি শিশুর মানসিক ভিত্তি তৈরি হয়। এই সময়ে পরিবার যে শিক্ষা ও মূল্যবোধ দেয়, সেটিই ভবিষ্যতে তার চরিত্র গঠনে প্রভাব ফেলে। সরকার অপরাধীর বিচার করতে পারে; কিন্তু সন্তানকে মানুষ করার দায়িত্ব পরিবারকেই নিতে হবে। সবাই নিজ নিজ জায়গা থেকে দায়িত্বশীল হলে তবেই শিশুদের জন্য নিরাপদ সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব হবে। শুধু সরকারের উদ্যোগে সমাজ পরিবর্তন সম্ভব নয়। প্রতিটি পরিবার, আবাসিক এলাকা, করপোরেট প্রতিষ্ঠান ও সামাজিক সংগঠনকে শিশু সুরক্ষা এবং সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখতে হবে।’

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘সরকার মানে শুধু মন্ত্রী বা প্রশাসন নয়, সরকার মানে আমরা সবাই। অপরাধ প্রতিরোধে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, গণমাধ্যম, নাগরিক সমাজ এবং রাষ্ট্রকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।’

সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী জানান, শিশু ও নারীদের সুরক্ষায় সরকারের বিভিন্ন কর্মসূচি থাকলেও সচেতনতার অভাবে অনেক মানুষ সেসব সেবার সুবিধা নিতে পারেন না। শিশু সহায়তা হেল্পলাইন ১০৯৮-এর কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এই সেবার মাধ্যমে শুধু অভিযোগ গ্রহণ নয়, কাউন্সেলিং ও মানসিক সহায়তাও দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু অনেক মানুষ এখনো এ বিষয়ে অবগত নন।’

তিনি আরও জানান, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় ও আইন মন্ত্রণালয় যৌথভাবে দেশব্যাপী একটি সামাজিক সচেতনতা কার্যক্রম শুরু করতে যাচ্ছে। এর মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছে সহজ ভাষায় আইন, আইনি সহায়তা এবং নাগরিক অধিকার সম্পর্কে তথ্য পৌঁছে দেওয়া হবে।

গোলটেবিল বৈঠক সঞ্চালনা করেন আইনি ও স্বাস্থ্য সহায়তা সেলের কেন্দ্রীয় সমন্বয়কারী অধ্যাপক ডা. মো. রফিকুল ইসলাম। আলোচনায় আরও অংশ নেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল, সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট নিপুণ রায় চৌধুরী, অধ্যাপক নাহরীন আই খান, ড. দিল রওশন জিন্নাত আরা নাজনীন, অধ্যাপক ফিরোজা বেগম, ডা. মো. নিজাম উদ্দিন, অধ্যাপক ডা. সাইফুন নাহার, জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি হেলাল হাফিজ, চলচ্চিত্র অভিনেতা আশরাফুদ্দীন আবেদ উজ্জ্বলসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ক্ষেত্রের প্রতিনিধি।


শোকজের সন্তোষজনক জবাব না পেলে আদ-দ্বীন হাসপাতালের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় কারণ দর্শানোর নোটিশের সন্তোষজনক জবাব না পেলে রাজধানীর মগবাজারের আদ-দ্বীন হাসপাতালের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।

শনিবার (৬ জুন) রাজধানীর মিন্টো রোডের নিজ বাসভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, এই ঘটনায় আদ-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের বিষয়ে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে এবং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে আগামীকাল রোববার (৭ জুন) বিকেলের মধ্যে এর জবাব দিতে বলা হয়েছে।

জনস্বার্থ ও মানুষের জীবনের নিরাপত্তার প্রশ্নে আইন অনুযায়ী শাস্তির বিধান নিশ্চিত করা হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, জবাব সন্তোষজনক না হলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী সর্বোচ্চ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। পাশাপাশি এই ঘটনায় একটি ফৌজদারি মামলা হয়েছে এবং তদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতেই পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্বাস্থ্যসেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে সরকার একটি বিশেষ অ্যাম্বুলেন্স সেবা চালু করছে জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, জনগণের দোরগোড়ায় জরুরি সেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে বিস্তারিত আলোচনা ও সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।

তিনি বলেন, সরকারের এই উদ্যোগ সফল হলে দেশে অ্যাম্বুলেন্সের ঘাটতি পূরণ হওয়ার পাশাপাশি বিশাল অঙ্কের বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হবে। মূলত তিন পর্যায়ে এই সেবা দেওয়ার মহাপরিকল্পনা করছে সরকার, যার মধ্যে গ্রাম থেকে উপজেলা, উপজেলা থেকে জেলা এবং জেলা থেকে রাজধানী পর্যন্ত রোগী পরিবহনের জন্য তিন ধরনের আলাদা ডিজাইনের অ্যাম্বুলেন্স থাকবে। এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে অত্যন্ত কম খরচে দেশের প্রান্তিক মানুষের কাছে আধুনিক সুবিধাসম্পন্ন জরুরি স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে।

দেশের ভৌগোলিক ও সড়ক যোগাযোগ পরিস্থিতি বিবেচনায় রেখে স্থানীয়ভাবে এই অ্যাম্বুলেন্সগুলোর ডিজাইন করা হবে এবং প্রাথমিকভাবে দেশের একটি উপজেলাকে মডেল হিসেবে ধরে এই প্রকল্পের কাজ শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত এই বিদ্যুৎচালিত অ্যাম্বুলেন্সগুলোতে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম, অক্সিজেন সাপোর্টসহ জরুরি সেবার সব আধুনিক সুবিধা যুক্ত থাকবে এবং এগুলো তৈরিতে কারিগরি ও ডিজাইন সহায়তার জন্য বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) কাজ করছে।

সংবাদ সম্মেলনের শেষাংশে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সারা দেশে সচেতনতামূলক র‍্যালি করার কথা উল্লেখ করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, রবীন্দ্র সরণি থেকে শুরু করে ঢাকা শহরসহ দেশের বিভিন্ন জেলা শহরে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও জনসচেতনতা বাড়াতে কাজ চলছে। ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে মানুষকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানোর পাশাপাশি আক্রান্তদের চিকিৎসায় প্রয়োজনীয় ওষুধ প্রস্তুত রয়েছে বলেও তিনি নিশ্চিত করেন।


‘বিশ্ব পরিবেশ দিবস’ উপলক্ষে ঢাকায় শব্দসচেতনতামূলক সমাবেশ অনুষ্ঠিত

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

পরিবেশ অধিদপ্তর কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন ‘শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত ও অংশীদারিত্বমূলক প্রকল্প’এর আওতায় ‘বিশ্ব পরিবেশ দিবস ২০২৬’ উদযাপন উপলক্ষে গুলশান-২ চত্ত্বরে শুক্রবার (০৫ জুন) সকাল ৯:৩০ টায় ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি), ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি), বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ), পরিবেশ অধিদপ্তর ও গুলশান সোসাইটির সমন্বয়ে শব্দসচেতনতামূলক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মোঃ লূৎফর রহমান এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি)’র প্রশাসক জনাব মোঃ শফিকুল ইসলাম খান উপস্থিত ছিলেন।

সমাবেশের প্রধান অতিথি ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি)’র প্রশাসক জনাব মোঃ শফিকুল ইসলাম খান বলেন, শব্দদূষণ নিয়ণ্ত্রণের জন্য আইন প্রয়োগের পাশাপাশি সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে। সবাইকে জানাতে হবে যে, এটি শুধুমাত্র একটি পরিবেশগত দূষণই নয় বরং এই শব্দদূষণ একটি নীরব ঘাতক। কাজেই এর সাথে সংশ্লিষ্ট সকলকে শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে এগিয়ে আসার জন্য তিনি আহবান জানান। এক্ষেত্রে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন আরও কার্যকর ভূমিকা পালন করবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

সমাবেশের সভাপতি পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মোঃ লূৎফর রহমান বলেন, শব্দদূষণ নিয়ণ্ত্রণের জন্য পরিবেশ অধিদপ্তর নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, পরিবেশ অধিদপ্তর ২০২০ সাল থেকে শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত ও অংশীদারিত্বমূলক প্রকল্প নামে একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। এই প্রকল্পের আওতায় শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে সারাদেশে অংশীজনদের (শিক্ষার্থী, পরিবহন চালক, ট্রাফিক পুলিশ, সরকারী কর্মকর্তা ও কর্মচারী, নির্মাণ শ্রমিক এবং বিভিন্ন পেশাজীবী) নিয়ে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে, সারাদেশে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হচ্ছে, সংশ্লিষ্টজনদের নিয়ে কর্মশালা আয়োজন করা হচ্ছে, শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য ঢাকা শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কের ডিভাইডারে শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে সচেতনতামূলক বার্তা সম্বলিত সাইনবোর্ড টানানো, পত্রিকায় বিজ্ঞাপন প্রকাশ, বিভিন্ন টিভি চ্যানেলে টিভিসি প্রচার এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারণাসহ ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ক্যাম্পেইন পরিচালনা করা হচ্ছে।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার(ট্রাফিক) মোঃ আনিছুর রহমান বলেন, শব্দদূষণ (নিয়ণ্ত্রণ) বিধিমালা, ২০২৫ এ ট্রাফিক পুলিশকে ক্ষমতা প্রদানের পর থেকে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের ট্রাফিক বিভাগ ব্যাপকভাবে শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণের জন্য কাজ করে যাচ্ছে এর সুফল নগরবাসী ধীরে ধীরে পেতে শুরু করবে।

তিনি আরও বলেন, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এলাকা একটি ঘোষিত নীরব এলাকা, আজকে থেকে বিমানবন্দর এলাকায় শব্দদূষণের বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার করা হবে এবং আমরা সেখানে হর্ন বাজাতে দিবনা।

বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এই সমাবেশে উপস্থিত বক্তারা পরিবেশের নানান দূষণ নিয়ন্ত্রণে সকলকে এগিয়ে আসার আহবান জানান। বিশেষ করে বলেন, শব্দদূষণ নগর জীবনের এক নতুন উপদ্রুপের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। শব্দদূষণের কারণে নগর জীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে বলেও বক্তারা মন্তব্য করেন। বক্তারা বিশ্ব পরিবেশ দিবসের এই আয়োজন থেকে শব্দদূষণমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে আরও বক্তব্য রাখেন, পরিবেশ অধিদপ্তর ঢাকা মহানগর এর পরিচালক এবং শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত ও অংশীদারিত্বমূলক প্রকল্প পরিচালক ফরিদ আহমদ এবং গুলশান, বনানী, বারিধারা, নিকেতন সোসাইটির নেতৃবৃন্দ এবং গ্রীণ ভয়েস ও গ্রীণ সেভার্সের প্রতিনিধিগণ।

উক্ত সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন, পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালকগণসহ সিনিয়র কর্মকর্তাবৃন্দ, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের কর্মকর্তাগণ, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের কর্মকর্তাবৃন্দ, বিআরটিএ এর কর্মকর্তাবৃন্দ, গুলশান, বনানী, বারিধারা এবং নিকেতন সোসাইটির প্রতিনিধিগণ, গ্রীণ সেভার্স এবং গ্রীণ ভয়েসের ভলান্টিয়ারগণ।

সমাবেশ শেষে গুলশান-২ চত্ত্বরের আশপাশের এলাকায় ক্যাম্পেইন পরিচালিত হয়। ব্যানার, ফেস্টুন, প্লেকার্ডে সুজ্জিত হয়ে উপস্থিত সবাই রাস্তার পাশে ফুটপাতে দাঁড়িয়ে এই পথ দিয়ে চলাচলকারী সকল গাড়ীর চালককে হর্ন না বাজানো থেকে বিরত থাকার জন্য আহবান জানান। একইসাথে ভলান্টিয়ারগণ গাড়ীতে স্টিকার সাটানো লিফলেট বিতরণ করেন।


মানবতাবিরোধী অপরাধে ইউনূস ও নূরজাহানের বিচার দাবিতে বিক্ষোভ

আপডেটেড ৬ জুন, ২০২৬ ১৯:৪৯
রংপুর ব্যুরো

হামে শিশু মৃত্যুর ঘটনায় সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস ও সাবেক স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নুরজাহান বেগমের বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ করেছে শ্রমিক অধিকার আন্দোলন ও নিপীড়ন বিরোধী নারী মঞ্চ। তারা হামের ঘটনায় জরুরি স্বাস্থ্য পরিস্থিতি ঘোষণা করে রোগ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে করা বাণিজ্যচুক্তি বাতিলের দাবিও জানিয়েছেন। শনিবার (৬ জুন) দুপুরে রংপুর প্রেসক্লাবের সামনে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

শ্রমিক অধিকার আন্দোলনের সভাপতি পলাশ কান্তি নাগের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য দেন- সংগঠনের সদস্য আব্দুল জব্বার সরকার, আমিন মোস্তাজির, নিপীড়ন বিরোধী নারী মঞ্চের পারভীন আখতার, সুলতানা আখতার রিতা সিদ্দিকীসহ অন্যরা।

সমাবেশে তারা বলেন, তৎকালীন ইউনূস সরকারের অবহেলা ও দায়িত্বহীনতার কারণে সময়মতো হামের টিকা না দেওয়ায় এখন পর্যন্ত ৬ শতাধিক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। ইউনূস ও নুরজাহান বেগম এই শিশুদের মৃত্যুর জন্য দায়ী। শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ১৪০০ মানুষকে হত্যার অভিযোগে যদি ফাঁসি হয় ওটা ছিল মানবতাবিরোধী অপরাধ। একই কাজ করেছে ড. ইউনূস ও সাবেক উপদেষ্টা নুরজাহান বেগম। ৬০০ শিশুকে হামের টিকার ব্যবস্থা না করে হত্যা করার জন্য মানবতাবিরোধী অপরাধে তাদের বিচার করতে হবে।

তারা স্বাস্থ্য পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য সরকারকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিদেশ থেকে টিকা আমদানি করে শিশুদের টিকা প্রদানের ব্যবস্থা করার দাবি জানায়। একই সঙ্গে সরকারি-বেসরকারি সব হাসপাতালে হামের চিকিৎসার জন্য বিশেষ ইউনিট চালু করার দাবিও করেন।

বক্তারা বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস ক্ষমতা হস্তান্তরের তিন দিন আগে দেশের স্বার্থ জলাঞ্জলি দিয়ে এখতিয়ার বহির্ভূতভাবে আমেরিকার সঙ্গে অধীনতামূলক গোলামির বাণিজ্যচুক্তি করেছে। এ বিষয়ে সংসদে সরকারি দল কিংবা বিরোধীদল কেউ কোনও কথা বলছে না। এই চুক্তি বাংলাদেশকে দীর্ঘ সময়ের জন্য আমেরিকার জালে বন্দি করার নামান্তর। দেশের অর্থনীতি, সামরিক ও ভূরাজনৈতিক নিরাপত্তাকে বিঘ্নিত করে কোনও স্বাধীন-সার্বভৌম রাষ্ট্রের এমন চুক্তির নজির নেই। সমাবেশে গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী নির্বাচনের মধ্য দিয়ে গঠিত বর্তমান সরকার মুখে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’র কথা বললেও কার্যত জনগণের স্বার্থের বিপরীতে অবস্থান নিয়ে দেশ পরিচালনা করছেন বলেও বিক্ষোভে অভিযোগ করেন তারা।


নওগাঁ সীমান্তে শিশুসহ ১৭ জন ফিরিয়ে নিল বিএসএফ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নওগাঁ প্রতিনিধি

নওগাঁর সাপাহার সীমান্ত এলাকায় নারী-পুরুষ এবং শিশুসহ ১৭ জনকে পুশইনের চেষ্টা শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হয়েছে। সীমান্তে বিজিবি কঠোর অবস্থানে থাকায় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) পুশইনের জন্য আনা সব ব্যক্তিকেই ফিরিয়ে নিয়েছে।

গত শুক্রবার (৫ জুন) রাত ১টার দিকে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) সদস্যরা তাদেরকে দেশে ফিরিয়ে নিয়ে যায়।

শনিবার (৬ জুন) সকালে বিষয়টি নওগাঁ ব্যাটালিয়ান ১৬ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম মাসুম নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে গত শুক্রবার (৫ জুন) সকাল সাড়ে সাতটায় সাপাহার উপজেলার হাঁপানিয়া সীমান্তের ২৩৮/এমপি সীমান্ত পিলার দিয়ে ১৭ জনকে পুশইনের চেষ্টা চালায় বিএসএফ। দীর্ঘ ১৯ ঘণ্টা যাবৎ এই চেষ্টা অব্যাহত রাখে দেশটির সীমান্তরক্ষী বাহিনী। ১৭ জনকে অনুপ্রবেশের চেষ্টা চালানোর সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থলে কড়া অবস্থান নেয় বিজিবি সদস্যরা। ফলে দিনভর শূন্যরেখা ও ভারতীয় সীমান্তের ভেতরে অবস্থান করলেও বাংলাদেশে প্রবেশ করতে পারেননি ওই ১৭ জন। তাদের বাংলাদেশি বলা হলেও বিএসএফের সঙ্গে বিজিবির পতাকা বৈঠকে কোনো প্রমাণাদি দেখাতে না পারায় তাদের ফেরত দেয়া হয়েছে। ১৭ জনের মধ্যে ৬ জন পুরুষ, ৬ জন নারী এবং পাঁচজন শিশু রয়েছে।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী কলমুডাঙ্গা গ্রামের ট্রাক্টর চালক মাহবুব আলম বলেন, ‘ওই ১৭ জনকে বিজিবি সদস্যরা পাহারা দিয়ে রেখেছিল। রাত ১১টার দিকে আমার ট্রাক্টরে ধান লোড দিচ্ছিলাম তখনও বিজিবি সদস্যরা সেখানে ছিল। এরপর বিএসএফ সদস্যরা তাদেরকে টেনে হিঁচড়ে ভারতে নিয়ে যায়। তারা বিএসএফ সদস্যদের সঙ্গে যেতে চাচ্ছিল না। নিয়ে যাওয়ার সময় তারা অনেক কান্নাকাটি করছিল। তাদের কান্নার শব্দ শুনে আমরা সামনে এগিয়ে গিয়েছিলাম। তখন বিএসএফ আমাদেরকে বাধা দিয়ে তাদেরকে নিয়ে চলে যায়।’

নওগাঁ ব্যাটালিয়ন ১৬ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম মাসুম বলেন, ‘খবর পাওয়ার পর ওই স্থানে বিজিবির টহল বৃদ্ধি করা হয়। মানবিক দিক বিবেচনা করে শুরুতে শূন্যরেখায় থাকতে দিলেও সন্ধ্যার পরে তাদেরকে নো-ম্যান্সল্যান্ডে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। রাত একটার দিকে বিএসএফ সদস্যরা সীমান্তের লাইট বন্ধ করে দেন। এরপর রাতের আঁধারে তারা পুশইনের চেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে ভারতে ফিরিয়ে নিয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। সীমান্তের ওই এলাকাতে বিজিবির টহল জোরদার রয়েছে।’


ডেঙ্গমুক্ত রাজশাহী মহানগরী গড়ে তুলতে আমাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে: রাসিক প্রশাসক

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
রাজশাহী ব্যুরো

ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে “ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনমূলক র‌্যালি-২০২৬” অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার (৬ জুন) বেলা ১১ টায় নগর ভবনের সামনে থেকে র‌্যালিটি শুরু হয়। এরপর মহানগরীর দড়িখরবোনা মোড়, কাদিরগঞ্জ হয়ে পুনরায় নগর ভবনে চত্বরে গিয়ে র‌্যালিটি শেষ হয়। র‌্যালিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের মাননীয় প্রশাসক মোঃ মাহফুজুর রহমান রিটন। র‌্যালি শেষে নগর ভবন চত্বরে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তব্য দেন রাসিক প্রশাসক।

এ সময় নগরবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে রাসিক প্রশাসক মাহফুজুর রহমান রিটন বলেন, ডেঙ্গু একটি মারাত্মক মশাবাহিত রোগ হলেও সচেতনতা ও সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমে এটি প্রতিরোধ করা সম্ভব। তাই আসুন, নিজেদের পরিবার ও প্রিয় নগরীকে সুরক্ষিত রাখতে সবাই মিলে ডেঙ্গু প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা পালন করি। ডেঙ্গু প্রতিরোধে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন আগাম প্রস্তুতি গ্রহণ করছে। ডেঙ্গমুক্ত রাজশাহী মহানগরী গড়ে তুলতে আমাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে। ডেঙ্গু প্রতিরোধে সিটি কর্পোরেশনের কার্যক্রমের পাশাপাশি নগরবাসীকেও নিজ আঙ্গিনা ও আশপাশ পরিষ্কার রাখতে হবে।

এ সময় জমে থাকা পানি অপসারণ এবং মশার প্রজননস্থল ধ্বংসে সকলকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান রাসিক প্রশাসক।

তিনি আরো বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অনুশাসন অনুযায়ী পরিচ্ছন্ন নগরী গড়ে তুলতে এবং নাগরিক সেবা সুনিশ্চিত করতে আমরা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি। ইতিপূর্বে হাম-রুবেলা মোকাবেলায় আমরা বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছিলাম। এবার ডেঙ্গু প্রতিরোধে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। বর্ষার আগে মশক নিধনে দুই সপ্তাহব্যাপী ফগার মেশিনে স্প্রে কার্যক্রম শুরু করা হবে।

র‌্যালিতে রাসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রেজাউল করিম, এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট নাজমুল আলম, প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা শেখ মো মামুন, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আহমদ আল মঈন, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. এএএম আঞ্জুমান আরা বেগম, প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা আবু সালেহ মো. নূর-ঈ-সাঈদ, রাসিকের ২৫ ও ২৮নং ওয়ার্ডের দায়িত্বপ্রাপ্ত কাউন্সিলর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, রাজশাহীর সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ আব্দুর রাজ্জাকসহ সিটি কর্পোরেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারী, সিডিসি‘র সদস্যবৃন্দ, ওয়ার্ড সচিব, স্বাস্থ্যকর্মীবৃন্দ ও রেড ক্রিসেন্ট ও বিডিক্লিনের স্বেচ্ছাসেবীবৃন্দ অংশগ্রহণ করে


ফেনীতে ডেঙ্গু বিষয়ক সচেতনতামূলক র‍্যালি ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ফেনী প্রতিনিধি

ফেনীতে জেলা প্রশাসন ও জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের আয়োজনে ডেঙ্গু বিষয়ক সচেতনতা মূলক র‍্যালি ও বিশেষ পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালিত হয়েছে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ফেনী জেলা প্রশাসক মনিরা হক।

শনিবার (০৬ জুন) সকাল সাড়ে ১১ টায় ফেনী ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল প্রাঙ্গণে এ কর্মসূচি পালিত হয়। কর্মসূচির শুরুতে হাসপাতালের প্রশাসনিক ভবন থেকে একটি র‍্যালি শুরু হয়ে সদর হাসপাতাল মোড়ে গিয়ে সচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে জনসাধারণের মাঝে লিফলেট বিতরণ করা হয় এবং পুনরায় হাসপাতালের প্রশাসনিক ভবনের নিচে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের শেষ হয়।

সিভিল সার্জন ও ফেনী ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা: রুবাইয়াত বিন করিম এর সভাপতিত্বে উক্ত কর্মসূচিতে অংশগ্রহন করেন জেলা পুলিশ সুপার মো: শফিকুল ইসলাম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো: আল আমিন সরকার, ড্যাবের সাধারণ সম্পাদক মোবারক হোসেন দুলাল ও ফেনী ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার (আরএমও) ডা: রুকনুজ্জামান সহ হাসপাতালের ডাক্তার, নার্স, জেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীগণ।

সিভিল সার্জন ডা. রুবাইয়াত বিন করিম বলেন, ডেঙ্গু থেকে বাঁচতে হলে আমাদের নিজেদের সচেতন হতে হবে। আমরা যদি আমাদের আশপাশ পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে পারি তাহলে ডেঙ্গু প্রতিরোধ সম্ভব। সুতরাং আমাদের সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ফেনী জেলা প্রশাসক মনিরা হক বলেন, করোনার মতো ডেঙ্গুর কোন ভ্যাকশিনেশন নেই। ফলে আমাদের ডেঙ্গু ঠেকাতে গেলে প্রতিরোধমূলক কার্যক্রমে যেতে হবে। আমাদের আশপাশে জমে থাকা পানি এডিস মশার জন্য সুইটেবল। আমাদের আশপাশে ময়লা-আবর্জনা পড়ে থাকে। তাই চারপাশের পানি নিষ্কাশন প্রণালি সচল এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। আমাদের পরিবারগুলোকেও সচেতন হতে হবে। সরকারি উদ্যোগে আমরা কাজ করছি। আমরা সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছি।


সোনারগাঁয়ে কাভার্ডভ্যান উল্টে চালক নিহত, আহত হেলপার

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
হাসান মাহমুদ রিপন, সোনারগাঁ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে সয়াবিন তেলবাহী একটি কাভার্ডভ্যানের চাকা ফেটে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশের খাদে পড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলে কাভার্ডভ্যান চালক বাবলু মিয়া (৫০) নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন হেলপার। স্থানীয়রা ওই হেলপারকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেছেন।
গতকাল শনিবার সকাল ৮ টার দিকে উপজেলার পিরোজপুর ইউনিয়নের নয়াগাঁও এলাকায় মহাসড়কের ঢাকামুখী লেনে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত বাবলু টাঙ্গাইল জেলার ধনবাড়ী থানার রামকৃষ্ণবাড়ী এলাকার মৃত সানোয়ার হোসেনের ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঢাকাগামী মায়ের দোয়া ট্রান্সপোর্ট নামে একটি কাভার্ডভ্যান (ঢাকা মেট্রো-উ ১১-৪২৮০) গতকাল শনিবার সকালে মহাসড়কের নয়াগাও এলাকা অতিক্রম করছিল। এসময় চলন্ত অবস্থায় হঠাৎ কাভার্ডভ্যানটির চাকা ফেটে যায়। এতে চালক গাড়ির নিয়ন্ত্রণ হারালে সড়কের পাশে থাকা পল্লী বিদ্যুতের খুঁটিতে সজোরে ধাক্কা দেয়। পরে কাভার্ডভ্যানটি উল্টে গেলে দুটি বিদ্যুতের খুঁটি ভেঙে পড়ে সড়কের পাশে খাদে পড়ে যায়। এসময় সাময়িকভাবে ওই এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। দুর্ঘটনায় চালক বাবলু মিয়া ঘটনাস্থলেই নিহত হন। গুরুতর আহত হন তাঁর সঙ্গে থাকা হেলপার। স্থানীয় লোকজন ও পুলিশ হেলপারকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়। দুর্ঘটনার পর কিছু সময় মহাসড়কে যান চলাচলে ধীরগতি সৃষ্টি হলেও পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
নিহতের ভাতিজা মো. শাকিল জানান, তার চাচা কাভার্ড ভ্যান চালাতেন। চট্টগ্রাম থেকে রূপচাঁদা ব্র্যান্ডের সয়াবিন তেল নিয়ে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দেন তিনি। পথে সোনারগাঁ এলাকায় পৌঁছালে গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে যায়। পরে পুলিশের মাধ্যমে দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে এসে তিনি জানতে পারেন তার চাচা ঘটনাস্থলেই মারা গেছেন।
কাঁচপুর হাইওয়ে থানার ওসি মো. শামীম শেখ বলেন, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে নিহত ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করে মর্গে পাঠানো হয়েছে। আহত হেলপারের পরিচয় এখনো জানা যায়নি। তিনি আরও বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে যাওয়ার কারণে এ দুর্ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।



জ্যৈষ্ঠপুরা পাহাড় থেকে হাত-পা বাঁধা অজ্ঞাত ব্যক্তির লাশ উদ্ধার

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মো.আবু নাঈম, বোয়ালখালী(চট্টগ্রাম)প্রতিনিধি

চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলার জ্যৈষ্ঠপুরা পাহাড় থেকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় এক অজ্ঞাত ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

শনিবার (৬ জুন) সকাল ১১টার দিকে উপজেলার শ্রীপুর-খরণদ্বীপ ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের জ্যৈষ্ঠপুরা পাহাড়ের অরিহুরার চর এলাকার একটি লিচু বাগানে লাশটি দেখতে পান স্থানীয়রা।

স্থানীয়রা জানান, সকালে পাহাড়ে যাওয়া লোকজন লাশটি দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেন। নিহত ব্যক্তির পরনে সাদা টিস্যু গেঞ্জির ওপর একটি হাফহাতা গেঞ্জি ও কুঁচে করা লুঙ্গি ছিল। লাশে পচন ধরেছে। তার হাত দুটো পিছমোড়া করে এবং পা দুটো বাঁধা ছিল।

বোয়ালখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহফুজুর রহমান বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। লাশ উদ্ধার করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নিহতের পরিচয় শনাক্তে কাজ করছে পুলিশ।


banner close