বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল ২০২৬
২৬ চৈত্র ১৪৩২

এত গ্রেপ্তারের পরও কেন নির্মূল হচ্ছে না আরসা?

ছবি: সংগৃহীত
রহমত উল্লাহ, টেকনাফ (কক্সবাজার)
প্রকাশিত
রহমত উল্লাহ, টেকনাফ (কক্সবাজার)
প্রকাশিত : ১২ জুন, ২০২৪ ১৬:২৬

মিয়ানমারের চরমপন্থি সশস্ত্র সংগঠন আরসার আগের নাম ছিল আল ইয়াকিন বা ইসলামি সংগঠন। রোহিঙ্গা মুসলমানদের নিয়ে কাজ করাই ছিল তাদের উদ্দেশ্য। ২০১৩ সালের দিকে সংগঠনের নাম পাল্টে রাখা হয় আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মি বা আরসা, যদিও দলের একাংশ এখনো আল ইয়াকিন নামেই পুরোনো সংগঠনকে আকড়ে ধরে আছে। আতাউল্লাহ আবু আম্মার জুনুনি সেসময়ে হন স্যালভেশন আর্মির (আরসা) কমান্ডার ইন চিফ। এই আতাউল্লাহর জন্ম সৌদি আরবে, তার বাবা-মা আরাকান থেকে গিয়ে সৌদি আরবে স্থায়ী হন। কিন্তু জন্ম সৌদি আরবে হলেও আতাউল্লাহ পরে পাকিস্তানের করাচিতে এসে বসবাস করতেন।

রোহিঙ্গাদের অধিকার আদায় করতে ঠিক কবে মিয়ানমারে তিনি ফিরে আসেন, তা জানা যায় না। তবে তা ২০১৩ সালের আগেই অর্থাৎ আল ইয়াকিন থেকে আরসার যাত্রা শুরুর আগেই হয়েছে, তা নিশ্চিত। সংগঠনটি সশস্ত্র হয়ে উঠেছে, তা প্রথম বোঝা যায় ২০১৫-১৬ সালের দিকে। লক্ষ্য ছিল, মিয়ানমারের মুসলিম অধ্যুষিত আরাকান প্রদেশ দখল। ২০১৭ সালের মাঝামাঝি মিয়ানমারের থানায় হামলা, পুলিশের অস্ত্র লুটের ঘটনার পর সংগঠনটির বিরুদ্ধে প্রথম মনোযোগ দেয় মিয়ানমার সেনাবাহিনী। তবে ওই বছরেই আগস্টে তার নির্দেশে রাখাইনে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর তল্লাশি চৌকিতে আরকান দখল ও অস্ত্র লুট করার জন্য আবার হামলা চালায় আরসা। এ ঘটনায় ভীষণ ক্ষুব্ধ সেনাবাহিনী আরসা নির্মূলের উদ্দেশে আরকান প্রদেশে হামলা শুরু করে। তখন উত্তপ্ত হয়ে পড়ে মিয়ানমারে মুসলমানদের গ্রামগুলোর পরিস্থিতি। ওই দেশের সেনাবাহিনী ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট রাখাইনে চড়াও হয়ে অভিযান ও রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতন, হামলা ও গণধর্ষণের ঘটনা শুরুর পর নিজ দেশ ছেড়ে বাংলাদেশে পালিয়ে আসে প্রায় ১০ লাখ রোহিঙ্গা। সম্পূর্ণ মানবিক কারণে তাদের তখন আশ্রয় দেয় বাংলাদেশ সরকার। আর বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে আরসার সদস্যদের সম্পর্কে তথ্য না থাকার সুযোগে এসব রোহিঙ্গার সঙ্গে আশ্রয়প্রার্থী হিসেবে বাংলাদেশে চলে আসে আরসার কিছু সদস্য আর সমর্থকও।

উদ্দেশ্য তাদের মিয়ানমার সেনাবাহিনীর সঙ্গে লড়াই করা হলেও অস্ত্র তৈরি ও সংগ্রহ, বাহিনীর জন্য সদস্য সংগ্রহ, সদস্যদের অস্ত্র প্রশিক্ষণ দেওয়া ইত্যাদি কাজে তারা তখন থেকেই গোপনে বাংলাদেশের পাহাড়ি নির্জন এলাকাগুলো ব্যবহার শুরু করে। একই সঙ্গে রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরগুলোতে নিজেদের প্রভাব বাড়াতে তারা সেগুলোতে আধিপত্য বিস্তার শুরু করে। রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবির সর্দার বা মাঝিদের করায়ত্ত করা বা ভয় দেখানো দিয়েই এর শুরু। একই সঙ্গে নিজেদের অর্থভাণ্ডার ঠিক রাখতে মিয়ানমারের সঙ্গে বাংলাদেশের অরক্ষিত সীমান্ত অঞ্চলকে রুট হিসেবে ব্যবহার করে এদেশে মাদক চোরাচালান আরও বাড়িয়ে দেয়।

শুরুতে আরসা সম্পর্কে অন্ধকারে থাকলেও দিনের পর দিন রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরগুলোতে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে পরস্পরের মধ্যে হামলা, গুলি, হত্যার ঘটনা বাড়তে থাকায় এবং বিপুল পরিমাণ মাদকসহ রোহিঙ্গা ও তাদের প্ররোচনায় স্থানীয়দের আটক বা গ্রেপ্তাদের মধ্য দিয়ে এই চরমপন্থি সংগঠন সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পেতে শুরু করে বাংলাদেশের বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। র‌্যাব, এপিবিএন আরসা দমনে কঠোর অভিযান চালাচ্ছে মাঝেমধ্যেই। তার পরও তাদের গোপন তথ্য প্রকাশ হয়ে পড়া এবং বেশির ভাগ রোহিঙ্গা সশস্ত্র যুদ্ধে জড়িত হতে না চাওয়ায় আরসার নেতাসহ সদস্যরা বরাবরই আছে উৎকণ্ঠায়। রোহিঙ্গাদের মধ্যে আরসা ছাড়াও আছে আরও কিছু সশস্ত্র গ্রুপ। তবে তারা পরস্পর যেন পরস্পরের শত্রু। আরাকানে যে বিদ্রোহী সশস্ত্র গ্রুপ আরাকানের স্বাধীনতার জন্য সশস্ত্র লড়াই করে যাচ্ছে, আরাকান আর্মি, ওদের সঙ্গেও এসব গ্রুপের শত্রুতা রয়েছে। আরাকান আর্মি সাধারণভাবে সব আরাকানির জন্যে স্বাধীন আরাকান চায়, কিন্তু আরসাকে ওরা চিহ্নিত করে মুসলিম সন্ত্রাসী গ্রুপ হিসেবে। সব মিলিয়ে অস্থির হয়ে উঠছে রোহিঙ্গা শিবির।

আরসার শীর্ষ নেতা অলি আকিজ দীর্ঘদিন মিয়ানমারে আত্মগোপনে থাকলেও গত ১৯ মে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ফিরেছেন। আরসার শীর্ষ কমান্ডার আতাউল্লাহ আবু আম্মার জুনুনি এবং সেকেন্ড-ইন-কমান্ড ওস্তাদ খালেদের নির্দেশে ক্যাম্পে আধিপত্য বিস্তারের নতুন পরিকল্পনা নিয়ে অপতৎপরতা চালাচ্ছেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সূত্রে জানা যায়, রোহিঙ্গাদের সশস্ত্র গ্রুপ আরসার প্রশিক্ষণ। অস্ত্র তৈরি, আত্মগোপন, মিটিংসহ নানা কর্মকাণ্ড সেখানে সংগঠিত হতো। গত রোববার মধ্যরাতে অভিযান চালিয়ে ক্যাম্প-৪-এ গোপন বৈঠক থেকে আকিজসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, একটি দেশীয় তৈরি এলজি, একটি ওয়ানশুটার গান, ১০ রাউন্ড কার্তুজ, দুই কেজি বিস্ফোরকদ্রব্য, তিনটি মোবাইল এবং নগদ ২ হাজার ৫০০ টাকা জব্দ করা হয়।

র‌্যাব-১৫-এর অধিনায়ক লে. কর্নেল এইচ এম সাজ্জাদ হোসেন বলেন, ‘আমরা এ পর্যন্ত ১১২ জনের ওপরে আরসার ভিন্ন পদবিধারী নেতা গ্রেপ্তার করেছি। গত রোববারের আরসার শীর্ষ নেতা আকিজসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করি। তাদের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

২০১৭ সালে সীমান্ত পার হয়ে ভারত হয়ে বাংলাদেশে এসে ক্যাম্প-৫-এ সপরিবারে বসবাস শুরু করেন মৌলভী আকিজ। পরে আরসার হয়ে কাজ শুরু করেন তিনি। এরপর ক্যাম্প-৫-এ আরসার প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পান। নেটওয়ার্ক গ্রুপে কাজ করতেন। ক্যাম্পের বিভিন্ন তথ্য আরসা কমান্ডারদের কাছে পৌঁছে দিতেন। এভাবে শীর্ষ নেতৃত্বে পৌঁছান। রোহিঙ্গাদের প্রত‍্যাবাসনের পক্ষে কাজ করায় ওস্তাদ খালেদের নির্দেশে রোহিঙ্গা নেতা মাস্টার মহিবুল্লাহকে হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী ছিলেন আকিজ। তা ছাড়া মতাদর্শিক দ্বন্দ্বে ক্যাম্পে সেভেন মার্ডারে সরাসরি অংশ নেন। তাদের নেতা-কর্মী আটক হলে কিছুটা দুর্বল হয়ে যায় কিন্তু আবার সক্রিয় হয়ে ওঠে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বিশাল এই জনগোষ্ঠীতে আরসা, আল-ইয়াকিনসহ অন্তত ১৫টি বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন সক্রিয়। ২০১৭ সাল থেকে এখন পর্যন্ত ছয় বছরে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সংঘর্ষের ঘটনায় প্রায় ৩০০ জন নিহত হয়েছে। মামলা হয়েছে পাঁচ হাজারের অধিক। এসব মামলার বেশির ভাগই হয়েছে মাদক ও আগ্নেয়াস্ত্র রাখার অভিযোগে।

রোহিঙ্গা নেতা ড. জোবায়ের বলেন, আরসা রোহিঙ্গা ক্যাম্প দখল করে রাজত্ব কায়েম করার জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এ পর্যন্ত তাদের দুই শতাধিক নেতা-কর্মী আটক হয়েছেন। আটক করলেও তারা আরও শক্তিশালী হয়ে উঠবে, তার কারণ তাদের রোহিঙ্গা সরকার মদদ দিয়ে যাচ্ছে। প্রত্যাবাসন বন্ধ রাখার জন্য মিয়ানমার সরকার তাদের ব্যবহার করে যাচ্ছে, যে কারণে তারা এতটা শক্তিশালী।

গত রোববার রাতে উখিয়ার মধুরছড়া ৪ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে আরসার শীর্ষ নেতাদের গ্রেপ্তার করে। সে জায়গায় ভোরে ৪০-৪৫ জন আরসা সন্ত্রাসী পাহাড় থেকে সীমানার কাঁটাতারের বেড়া অতিক্রম করে ৪ নম্বর ক্যাম্পে আসে। ঘটনাস্থলে এসে ক্যাম্পে পাহারারত রোহিঙ্গা ইলিয়াছকে তারা গুলি করে ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে হাতে, পায়ে ও তলপেটে কুপিয়ে মারাত্মক জখম করে। এতে ইলিয়াস ঘটনাস্থলেই মারা যান।

১৪ এপিবিএনের অধিনায়ক মোহাম্মদ ইকবাল বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গেলে এপিবিএন সদস্যদেরও লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ করে সন্ত্রাসীরা।

তিনি আরও বলেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে নতুন করে সংগঠিত এবং নাশকতা করার চেষ্টা করছে আরসা। মূলত আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘবদ্ধ হয়ে হামলা চালায় আরসা সন্ত্রাসীরা। এতে তারা গুলি এবং কুপিয়ে তিন রোহিঙ্গাকে হত্যা করে। আর গুরুতর আহত হয় সাতজন। হতাহতরা আরএসও সদস্য বলে জানা গেছে।

রোহিঙ্গা গবেষক অধ্যাপক ড. রাহমান নাসির উদ্দিন দৈনিক বাংলাকে বলেছেন, রোহিঙ্গাদের অধিকার আদায় করতে আরসা ২০১৭ সালের ২৫ আগস্টের দিকে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর তল্লাশি চৌকিতে হামলা চালায়। কিন্তু এটার কারণে নির্যাতনের তীব্রতায় নিজ দেশ ছেড়ে বাংলাদেশে পালিয়ে আসে প্রায় ৮ লাখ রোহিঙ্গা। সে কারণে আরসা রোহিঙ্গাদের প্রতিনিধিত্ব হয়ে উঠতে পারে নাই। বিভিন্ন সময় রোহিঙ্গাদের সঙ্গে কথা বলে জানতে পারি, রোহিঙ্গাদের এ দুর্দশার জন্য আরসা দায়ী। রোহিঙ্গাদের সঙ্গে আরসার একটা বড় গ্রুপ বাংলাদেশে এসেছে। বাংলাদেশে ৩৪টি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে তাদের অবস্থান ধরে রাখার জন্য তারা বিভিন্ন ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে এবং যখন কেউ তাদের বিরুদ্ধে কথা বলার চেষ্টা করেছে তখন তারা তাদের দমন করেছে। এর মধ্যে একজন ছিলেন মুহিব উল্লাহ। মুহিব উল্লাহ যখন রোহিঙ্গাদের নেতা হয়ে ওঠে বিশ্বের কাছে পরিচিত হন এবং আন্তর্জাতিকভাবে রোহিঙ্গাদের জন্য আন্দোলন করেন তখন তাকে নেতা হিসেবে গ্রহণ করে রোহিঙ্গারা। বাংলাদেশ যখন প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরু করে তখন রোহিঙ্গাদের রাজি করানোর জন্য মুহিব উল্লাহ সোর্স ছিল। ধীরে ধীরে মুহিব উল্লাহ প্রধান পাঁচ রোহিঙ্গা নেতার একজন হয়ে ওঠেন। ২০১৯ সালের ২৫ আগস্ট ৩ থেকে ৫ লাখ রোহিঙ্গার মহাসমাবেশ করে তাক লাগিয়ে দেন এবং আনন্দে আত্মহারা করে দেন রোহিঙ্গা ইস্যুতে লেগে থাকা বিদেশি এনজিওগুলোকে। এসব কারণে আরাকান রোহিঙ্গা সোসাইটি ফর পিস অ্যান্ড হিউম্যান রাইটস ভেঙে দেওয়ার জন্য মুহিব উল্লাহকে হত্যা করা হয়। মিয়ানমার সেনাবাহিনীর শত্রু হচ্ছে আরাকান আর্মি। আরাকান আর্মির শত্রু হচ্ছে মিয়ানমার সেনাবাহিনী। আবার মিয়ানমারের শত্রুও আরসা। মিয়ানমার নৌবাহিনী ঘোষণা দিয়ে বলছে আরকান আর্মি ও আরসা মিলে বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে। যেহেতু মিয়ানমার আরাকানে আরকান আর্মি শক্তিশালী হয়ে উঠেছে। সে কারণে আরসা ও শক্তিশালী হয়ে উঠেছে।

দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীগুলোকে সতর্ক করে দিয়ে ড. রাহমান নাসির বলেন, দুই শতাধিক আরসার নেতা-কর্মী গ্রেপ্তার করাতেই আরসা দুর্বল হয়ে পড়েছে এমন যুক্তি হয়তো সঠিক নয়। এই চরমপন্থি দলে আরও অনেক সদস্য ও সমর্থক রয়েছে।

কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. রফিকুল ইসলাম দৈনিক বাংলাকে বলেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বিভিন্ন সন্ত্রাসী গ্রুপ তাদের আধিপত্য বিস্তার করার জন্য এসব সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করে থাকে। আগুন নাশকতা এসব মাঝেমধ্যে বিভিন্ন কারণে হয়ে থাকে। তবে কিছু কিছু ঘটনা আমরা সন্দেহ করি এগুলো নাশকতা। আমরা আরসা বলে কিছু পাইনি। তবে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সন্ত্রাসী গ্রুপ আছে। যারা উগ্রবাদী কর্মকাণ্ডে জড়াবে তাদের বিরুদ্ধে আমাদের সমন্বিত অভিযান অব্যাহত থাকবে।

রোহিঙ্গা ইয়ুথ অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিষ্ঠাতা খিন মং বলেন, রোহিঙ্গাদের অধিকারের জন্য লড়াই করার দাবি করেছিল আরসা। তখন তাদের বিশ্বাস করেছিল রোহিঙ্গারা। কিন্তু এখন সাধারণ রোহিঙ্গারাও মনে করে আরসা মিয়ানমারের এজেন্ট হিসেবে কাজ করছে। যারা প্রত্যাবাসনের কথা বলছেন তাদের হত্যা করা হচ্ছে। তাই আরসার ওপর তাদের আর বিশ্বাস নেই।

বিষয়:

ফুটপাত দখলমুক্ত করতে শ্রীমঙ্গল পৌরসভার অভিযান

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
শ্রীমঙ্গল (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে নাগরিকদের নির্বিঘ্নে চলাচল ও শহরের সৌন্দর্য বাড়াতে ফুটপাতে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযান চালিয়েছে শ্রীমঙ্গল পৌরসভা। এতে পথচারীদের চলাচলে স্বস্তি ফিরে এসেছে।

বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) দুপুরে শ্রীমঙ্গল পৌরসভার উদ্যোগে এ উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়। পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী জহিরুল ইসলামের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও ফুটপাত থেকে অবৈধ দখলদারদের সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

অভিযান চলাকালে দেখা যায়, দীর্ঘদিন ধরে ফুটপাত দখল করে ভ্যানগাড়িতে পণ্য বিক্রি ও অস্থায়ী দোকান বসানোয় পথচারীদের চলাচলে মারাত্মক বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছিল। এতে যানজট ও জনদুর্ভোগ বাড়ছিল। অভিযানে এসব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে ফুটপাত দখলমুক্ত করা হয়।

শ্রীমঙ্গল পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী জহিরুল ইসলাম বলেন, 'পৌরসভার পক্ষ থেকে নিয়মিতভাবে ফুটপাত দখলমুক্ত রাখতে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। জনসাধারণ যেন নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারে, সে লক্ষ্যে আমরা কাজ করছি।'

তিনি আরও বলেন, “আমাদের সংসদ সদস্য ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশনায় ফুটপাত দখলমুক্ত রাখতে আমরা বদ্ধপরিকর। ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং কেউ যেন পুনরায় অবৈধভাবে ফুটপাত দখল করতে না পারে সে বিষয়ে কঠোর নজরদারি রাখা হবে।'

পৌরসভা সূত্রে জানা যায়, শহরের সৌন্দর্য রক্ষা ও নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করতে এ ধরনের অভিযান নিয়মিতভাবে পরিচালনা করা হবে।


মৌলভীবাজারে ৪ হাজার পিস ইয়াবাসহ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার, মোটরসাইকেল জব্দ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মৌলভীবাজার প্রতিনিধি

মৌলভীবাজারের বড়লেখায় পুলিশি অভিযানে বিপুল পরিমাণ ইয়াবাসহ মাহমুদ হাসান রাসেল (২৬) নামে এক মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

বুধবার (৮ এপ্রিল) রাতে বড়লেখা উত্তর চৌমহুনা এলাকায় চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশিকালে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃত রাসেল বড়লেখা থানার বিওসি কেছরীগুল মধ্য ডিমাই গ্রামের রিয়াজ উদ্দিনের ছেলে। বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) দুপুরে মৌলভীবাজার জেলা পুলিশ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

পুলিশ জানায়, গোপন সূত্রে খবর আসে যে তিন ব্যক্তি মোটরসাইকেল যোগে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা নিয়ে চান্দগ্রাম থেকে বড়লেখার দিকে আসছে। এই সংবাদের ভিত্তিতে বড়লেখা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মনিরুজ্জামান খানের নেতৃত্বে উত্তর চৌমহুনা এলাকায় বিশেষ চেকপোস্ট বসানো হয়।

অভিযান চলাকালীন একটি মোটরসাইকেলকে থামার সংকেত দিলে আরোহীরা পালানোর চেষ্টা করে। এসময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মোটরসাইকেলটি পড়ে গেলে পুলিশ সদস্যরা রাসেলকে দ্রুত আটক করতে সক্ষম হন। তবে তার সাথে থাকা অন্য দুই সহযোগী কৌশলে পালিয়ে যায়।

রাসেলের সাথে থাকা শপিং ব্যাগ তল্লাশি করে ২০টি প্যাকেটে মোড়ানো ৪ হাজার পিস গোলাপী রঙের ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। এছাড়া মাদক কেনাবেচায় ব্যবহৃত তার অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন এবং পরিবহনে ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি জব্দ করা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে রাসেল স্বীকার করেছে যে, সে এবং তার পলাতক সহযোগীরা দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত। তারা সিলেটের গোয়াইনঘাট সীমান্ত এলাকা থেকে ইয়াবা সংগ্রহ করে সিলেট অঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করে আসছিল।

বড়লেখা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মনিরুজ্জামান খান জানান, "আটককৃত রাসেল ও তার পলাতক দুই সহযোগীর বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।"


ভোলায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে যাত্রীবাহী বাস উল্টে খালে, হতাহতের ঘটনা ঘটেনি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ভোলা প্রতিনিধি

ভোলা-চরফ্যাশন আঞ্চলিক মহাসড়কে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সোহাগ পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস খালে উল্টে পড়েছে। তবে এতে বড় ধরনের কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

‎বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) সকাল আনুমানিক পৌনে ৯টার দিকে বোরহানউদ্দিন উপজেলার বড় মানিকা ইউনিয়নের কেরামতগঞ্জ বাজার সংলগ্ন এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

‎পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, সকালে চরফ্যাশন উপজেলা থেকে যাত্রী নিয়ে ‘ঢাকা মেট্রো-ব ১৫৮৭৭৮’ সিরিয়ালের সোহাগ পরিবহনের বাসটি চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে রওনা হয়। পথিমধ্যে কেরামতগঞ্জ বাজারের কাছাকাছি একটি মোড়ে পৌঁছালে চালক বাসটির নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন। মুহূর্তেই বাসটি উল্টে সড়কের পাশের খালে পড়ে যায়।

‎দুর্ঘটনার পরপরই ফায়ার সার্ভিসের কর্মী ও স্থানীয় লোকজন দ্রুত উদ্ধার কাজে নেমে পড়ে। তারা বাসটির সামনের ও পেছনের গ্লাস ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে যাত্রীদের বের করে আনেন। প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর যাত্রীরা অন্য যানবাহনে করে গন্তব্যে রওনা হন।

‎অন্যদিকে বাসের ভেতরে আটকে পড়া চালককে প্রায় আধাঘণ্টা চেষ্টার পর উদ্ধার করে বোরহানউদ্দিন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়। তিনি গুরুতর আহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

‎এ বিষয়ে বোরহানউদ্দিন থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে চালকের গাফিলতির কারণেই এ দুর্ঘটনা ঘটেছে। আহতদের মধ্যে কেউ গুরুতর না হলেও চালক গুরুতর আহত। অজ্ঞান থাকায় তার নাম-পরিচয় এখনও জানা যায়নি।


বরিশালে সড়ক দুর্ঘটনায় স্কুলছাত্রী নিহত, সহপাঠীদের বিক্ষোভ

আপডেটেড ৯ এপ্রিল, ২০২৬ ১৬:৩১
বরিশাল প্রতিনিধি

বরিশালে সড়ক দুর্ঘটনায় অষ্টম শ্রেণীর স্কুলছাত্রী চৈতি আক্তারের মৃত্যুর প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ করেছেন।

বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) দুপুর ১২টার দিকে বিএম কলেজ সড়কের শের-ই-বাংলা বালিকা বিদ্যালয়ের সামনে শিক্ষার্থীরা এক ঘণ্টার বেশি সময় সড়ক অবরোধ রাখেন। এতে সড়কে ব্যাপক যানজট সৃষ্টি হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার (৮ এপ্রিল) স্কুল ছুটি শেষে চৈতি স্কুলের সামনের রাস্তা পার হচ্ছিলেন। তখন একটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা তাকে চাপা দেয়। গুরুতর আহত অবস্থায় প্রথমে তাকে বরিশাল জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়, পরে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (শেবাচিম) ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাতে তার মৃত্যু হয়।

চৈতির মা জানিয়েছেন, আমার একমাত্র মেয়ে স্কুল থেকে ফিরছিল। স্কুলের সামনে রাস্তা পারাপারের সময় অটো তাকে চাপা দেয়। প্রথমে সদর হাসপাতালে নেওয়া হলেও চিকিৎসা দেওয়া হয়নি। পরে শেবাচিম হাসপাতালে নিয়ে গেলেও এক ঘন্টা ধরে চিকিৎসক কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেননি। তখনও সে বেঁচে ছিলেন। পরে এক নার্স স্যালাইন দেয়ার পর মৃত্যু হয়।

শিক্ষকরা অভিযোগ করেছেন, দূর্ঘটনার পর চৈতি কথা বলেছিল। যদি হাসপাতালে সঠিক চিকিৎসা দেওয়া হত, হয়ত সে বেঁচে থাকত। তবে চিকিৎসকদের অবহেলার কারণে তার মৃত্যু হয়েছে। স্কুলের সামনে স্প্রিড ব্রেকার না থাকাটাই মূল কারণ। সিটি কর্পোরেশনের কাছে ৬ মাস আগে স্প্রিড ব্রেকার স্থাপনের জন্য একাধিকবার অনুরোধ করা হলেও কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, স্কুলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা, দ্রুতগতির যানবাহন এবং প্রশাসনের অবহেলার সমন্বয় এই ট্রাজেডির মূল কারণ। ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা এড়াতে স্কুলের আশপাশে স্প্রিড ব্রেকার স্থাপন এবং নিয়মিত যানবাহন নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করতে হবে।

চৈতির মৃত্যুর খবর পেয়ে শিক্ষার্থীরা বৃহস্পতিবার দুপুরে বিক্ষোভ মিছিল শুরু করেন। তারা স্কুলের সামনে সড়ক অবরোধ করেন। প্রশাসনের আশ্বাসে শিক্ষার্থীরা পরে ক্লাসে ফিরে যান।

বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিরীন শিক্ষার্থীদের আশ্বস্ত করে বলেন, দোষী অটোরিকশা চালককে দ্রুত গ্রেপ্তার করে স্কুলের সামনে হাজির করা হবে।

বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আল মামুন উল ইসলাম জানিয়েছেন, পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকায় ময়নাতদন্ত ছাড়াই চৈতির মরদেহ হস্তান্তর করা হয়েছে।


ভোলায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে যাত্রীবাহী বাস উল্টে খালে

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ভোলা প্রতিনিধি

ভোলা-চরফ্যাশন আঞ্চলিক মহাসড়কে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সোহাগ পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস খালে উল্টে পড়েছে। তবে এতে বড় ধরনের কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

‎বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) সকাল আনুমানিক পৌনে ৯টার দিকে বোরহানউদ্দিন উপজেলার বড় মানিকা ইউনিয়নের কেরামতগঞ্জ বাজার সংলগ্ন এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

‎পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, সকালে চরফ্যাশন উপজেলা থেকে যাত্রী নিয়ে ‘ঢাকা মেট্রো-ব ১৫৮৭৭৮’ সিরিয়ালের সোহাগ পরিবহনের বাসটি চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে রওনা হয়। পথিমধ্যে কেরামতগঞ্জ বাজারের কাছাকাছি একটি মোড়ে পৌঁছালে চালক বাসটির নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন। মুহূর্তেই বাসটি উল্টে সড়কের পাশের খালে পড়ে যায়।

‎দুর্ঘটনার পরপরই ফায়ার সার্ভিসের কর্মী ও স্থানীয় লোকজন দ্রুত উদ্ধার কাজে নেমে পড়ে। তারা বাসটির সামনের ও পেছনের গ্লাস ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে যাত্রীদের বের করে আনেন। প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর যাত্রীরা অন্য যানবাহনে করে গন্তব্যে রওনা হন।

‎অন্যদিকে বাসের ভেতরে আটকে পড়া চালককে প্রায় আধাঘণ্টা চেষ্টার পর উদ্ধার করে বোরহানউদ্দিন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়। তিনি গুরুতর আহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

‎এ বিষয়ে বোরহানউদ্দিন থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে চালকের গাফিলতির কারণেই এ দুর্ঘটনা ঘটেছে। আহতদের মধ্যে কেউ গুরুতর না হলেও চালক গুরুতর আহত। অজ্ঞান থাকায় তার নাম-পরিচয় এখনও জানা যায়নি।


কুমেকে বারান্দায় চিকিৎসা: দেড় বছর তালাবদ্ধ ১০০ শয্যার শিশু হাসপাতাল

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কুমিল্লা প্রতিনিধি

জায়গা সংকুলান ও শয্যা সংকটে কার্যত হিমশিম খাচ্ছে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের (কুমেক) শিশু বিভাগ। হাম সংক্রমণ শুরু হওয়ার পর থেকে কুমিল্লা ও আশপাশের জেলা থেকে আসা শিশু রোগীর চাপ বেড়েছে কয়েকগুণ। সাধারণ ওয়ার্ডের পাশাপাশি তিনটি আইসোলেশন ইউনিট চালু করেও পরিস্থিতি সামাল দেওয়া যাচ্ছে না—বারান্দা ও মেঝেতেই চিকিৎসা নিতে বাধ্য হচ্ছে শিশুরা।

অন্যদিকে শিশুদের জন্য নির্মিত ১০০ শয্যার একটি আধুনিক হাসপাতাল ভবন দেড় বছরের বেশি সময় ধরে পড়ে আছে সম্পূর্ণ অব্যবহৃত অবস্থায়। দায়িত্ব গ্রহণ নিয়ে কুমেকের শিশু বিভাগ ও সিভিল সার্জন কার্যালয়ের টানাপোড়েনে জরুরি এই সময়েও চালু করা যায়নি হাসপাতালটি।

গত সোমবার (৬ এপ্রিল) সরেজমিনে কুমেকের শিশু বিভাগে গিয়ে দেখা যায়, নিচতলায় একটি ও দ্বিতীয় তলায় দুটি কক্ষ মিলিয়ে তিনটি আইসোলেশন ইউনিটে ভর্তি রয়েছে কুমিল্লা, নোয়াখালী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও চাঁদপুর থেকে আসা অন্তত ৩২ জন শিশু। শয্যা সংকটের কারণে অনেক শিশুকেই বারান্দায় চাটাই পেতে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে, কেউ কেউ মেঝেতেই বিছানা পেতে রয়েছে। স্বাস্থ্যবিধি অনুযায়ী দূরত্ব বজায় রাখার সুযোগ না থাকায় গাদাগাদি অবস্থায় ঝুঁকির মধ্যেই চলছে চিকিৎসা।

চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ থেকে আসা হামে আক্রান্ত ৬ মাস বয়সি শিশু আয়াতের মা ফারজানা আক্তার বলেন, ‘শিশুর অবস্থা গুরুতর হওয়ায় এখানে আনা হয়েছে। ভেন্টিলেশনে অক্সিজেন দেওয়া হচ্ছে; কিন্তু জায়গার খুব কষ্ট।’

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর থেকে আসা ৫ মাস বয়সি রাজুর বাবা সুখেন দাশ জানান, ডাক্তার কুমিল্লায় পাঠিয়েছে; কিন্তু এসে কোনো সিট পাইনি। বারান্দাতেই চিকিৎসা নিতে হচ্ছে।

কুমেক হাসপাতালের শিশু বিভাগের প্রধান ডা. মিয়া মনজুর আহমেদ বলেন, ‘৪০ শয্যার বিপরীতে সাধারণ সময়েই তিনগুণ রোগী থাকে, আর হাম সংক্রমণের পর চাপ বেড়েছে আরও দ্বিগুণ। বৃহত্তর কুমিল্লা ও নোয়াখালী অঞ্চলের রোগীরা ভালো চিকিৎসার আশায় এখানে ভিড় করছেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘পদুয়ার বাজার বেলতলীতে নির্মিত ১০০ শয্যার শিশু হাসপাতালটি চালু করা গেলে সংক্রমিত রোগীদের জন্য আলাদা আইসোলেশনসহ বিশেষায়িত চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হতো। এতে কুমেকের ওপর চাপও অনেকটা কমে যেত।’

এদিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশে পদুয়ার বাজার বেলতলীতে নির্মিত তিনতলা আধুনিক হাসপাতাল ভবনটি ঘুরে দেখা গেছে—পুরো অবকাঠামো প্রস্তুত থাকলেও নেই চিকিৎসক, নার্স, যন্ত্রপাতি বা আসবাবপত্র। প্রায় দুই বছর আগে নির্মাণকাজ শেষ হলেও পরিচালনার দায়িত্ব নিয়ে জটিলতায় হাসপাতালটি চালু করা যায়নি।

স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের সহকারী প্রকৌশলী সাইফুল ইসলাম জানান, ২০২০ সালে ৩৬ কোটি ৫৩ লাখ টাকা ব্যয়ে প্রকল্পের কাজ শুরু হয়ে ২০২৪ সালে শেষ হয়। দেড় বছর আগেই হস্তান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হলেও দায়িত্ব নির্ধারণ না হওয়ায় জনবল ও সরঞ্জাম বরাদ্দ হয়নি।

কুমিল্লার সিভিল সার্জন ডা. আলী নূর মোহাম্মদ বশির আহমেদ বলেন, ‘প্রথমে কুমেককে দায়িত্ব দেওয়া হলেও তারা নেয়নি। পরে আমাদের ওপর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। জনবল ও যন্ত্রপাতির জন্য মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে। দ্রুত ব্যবস্থা হলে হাসপাতালটি চালু করা সম্ভব হবে।’

স্থানীয়দের প্রশ্ন—যেখানে একদিকে শিশু রোগীরা বারান্দায় চিকিৎসা নিচ্ছে, সেখানে আধুনিক একটি হাসপাতাল ভবন কেন দেড় বছর ধরে বন্ধ পড়ে থাকবে? দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে চলমান সংক্রমণ পরিস্থিতিতে ভোগান্তি আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা।


রামগতিতে রাস্তার আরসিসি ঢালাইয়ে অনিয়মের অভিযোগ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
রামগতি-কমলনগর (লক্ষ্মীপুর) প্রতিনিধি

লক্ষ্মীপুরের রামগতি উপজেলার একটি রাস্তায় আরসিসি ঢালাইয়ে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে রাস্তা নির্মাণ কাজে বাঁধা দেন স্থানীয় বাজার ব্যবসায়ী ও এলাকাবাসী। বুধবার (৮এপ্রিল) দুপুর ১২ টার দিকে উপজেলার রামগতি বাজারে এ ঘটনা ঘটে।

জানা গেছে, লক্ষ্মীপুর সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের আওতায় উন্নয়ন সহায়তা ২০২৫-২৬ অর্থ বছরে রামগতি বাজারের উপর ১ হাজার ৮৩৯ স্কয়ার মিটার আরসিসি ঢালাই ও দেড় কিলোমিটার রাস্তা পাকা করার জন্য প্রায় ৪ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। কাজটি পান মেসার্স এম এস কনস্ট্রাকশন কোম্পানি নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। গত ৮ দিন আগে প্রথমে রামগতি বাজারের উপর আর সিসি ঢালাইয়ের কাজ শুরু করা হয়। এতে নানা অনিয়মের অভিযোগে তুমুল সমালোচনার মুখে পড়েন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি। আজ বুধবার স্থানীয় বাজার ব্যবসায়ী ও এলাকাবাসীর সাথে বাকবিতন্ডায় জড়ান ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকজন।

স্থানীয় বাজার ব্যবসায়ীরা জানান, আর সিসি ঢালাইয়ে রাস্তার কাজে নিম্নমানের পাথর, ইটের খোয়া ব্যবহার এবং পরিমাণে সিমেন্ট কম দেওয়া, সিলেকসন বালুর স্থলে বাংলা বালু দেওয়া ও বরাদ্দ অনুযায়ী রড না দেওয়া সহ নানা অভিযোগ করেন তারা। এ নিয়ে স্থানীয় এলাকাবাসীর সাথে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকজনের বাকবিতন্ডার ঘটনা ঘটে।

কাজটি দেখবালের দায়িত্বে থাকা মিন্টুর কাছে এসব অনিয়মের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি উত্তেজিত হয়ে বলেন, আপনারা সড়ক ও জনপথ বিভাগের অফিসে গিয়ে জানেন। আমি আপনাদেরকে কিছুই বলবোনা।

স্থানীয় বাজার ব্যবসায়ী গরীব হোসেন রাসেল ও সাখাওয়াত হোসেন ভুট্টু বলেন, শুরু থেকেই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান অনিয়ম করেছেন। তারা সরকার দলীয় লোক বলে ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে এ অনিয়ম করছে। আমরা কাজটি সঠিকভাবে হউক, তা চাই।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স এম এস কনস্ট্রাকশনের স্বত্বাধিকারী মোঃ আরজু বলেন, বিষয়টি আমি শুনেছি। আপনারা সাইট ম্যানেজার মিন্টুর সাথে কথা বলেন।

লক্ষ্মীপুর সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো.মেহদী হাসান বলেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখবেন তিনি।


পাবনায় তেলের বাজারে কারসাজি: জড়িতদের শাস্তির দাবিতে ক্যাবের মানববন্ধন

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
পাবনা প্রতিনিধি

অসাধু ব্যবসায়ীদের কারসাজিতে বাজার থেকে ভোজ্যতেল উধাও করে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির প্রতিবাদে ফুঁসে উঠেছে পাবনার সাধারণ মানুষ। দোষী ব্যবসায়ীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে জেলা শহরে মানববন্ধন করেছে কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)।

বুধবার (৮ এপ্রিল) বেলা ১১টায় পাবনা প্রেসক্লাবের সামনে আব্দুল হামিদ সড়কে ক্যাব পাবনা জেলা শাখার উদ্যোগে এ কর্মসূচি পালিত হয়। বৈরী আবহাওয়া উপেক্ষা করে ঘণ্টাব্যাপী অনুষ্ঠিত এই মানববন্ধনে অংশ নেন জেলার বিভিন্ন পেশাজীবী ও সচেতন নাগরিক।

মানববন্ধনে সভাপতির বক্তব্যে ক্যাব জেলা শাখার সভাপতি এবিএম ফজলুর রহমান বলেন, "অধিক মুনাফার লোভে একটি অসাধু ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট বাজার থেকে ভোজ্যতেল সরিয়ে ফেলেছে। সরকারের উচিত দ্রুত এই সিন্ডিকেটকে চিহ্নিত করে বাজার তদারকি জোরদার করা। তা না হলে সাধারণ ক্রেতারা ন্যায্যমূল্যে পণ্য পাওয়া থেকে বঞ্চিত হবে, যা চরম ভোক্তা অধিকার লঙ্ঘনের শামিল।

ক্যাব যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শফিক আল কামালের সঞ্চালনায় কর্মসূচিতে সংহতি প্রকাশ করে বক্তব্য দেন পাবনা প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক উৎপল মির্জা, রিপোর্টার্স ইউনিটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক কাজী মাহবুব মোর্শেদ বাবলা, এবং বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ জেলা শাখার সভাপতি অ্যাডভোকেট কামরুন্নাহার জলি।

বক্তারা অভিযোগ করেন, কৃত্রিম সংকটের মাধ্যমে ভোক্তাদের পকেট কাটা হচ্ছে। অবিলম্বে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোর বাজার মনিটরিং নিশ্চিত করার দাবি জানান তারা।

অন্যান্যের মধ্যে আরও বক্তব্য দেন পাবনা প্রেসক্লাবের অর্থ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক ইয়াদ আলী মৃধা পাভেল, দপ্তর সম্পাদক মনিরুজ্জামান শিপন, সুচিত্রা সেন স্মৃতি সংরক্ষণ পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ড. নরেশ মধু, পাবনা কলেজের শিক্ষক ড. আলমগীর হোসেন প্রমুখ। এ সময় বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিক ও স্থানীয় ব্যবসায়ীরা উপস্থিত ছিলেন।

সমাবেশ শেষে বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যদি দ্রুত বাজার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আসে এবং মজুদদারদের আইনের আওতায় না আনা হয়, তবে সাধারণ মানুষকে সাথে নিয়ে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।


লালমনিরহাট সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি নিহত

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
লালমনিরহাট প্রতিনিধি

লালমনিরহাটের পাটগ্রাম সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে আলী হোসেন (৪৯) নামে এক বাংলাদেশি নাগরিক নিহত হয়েছেন।

বুধবার (৮ এপ্রিল) ভোররাতে উপজেলার জোংড়া ইউনিয়নের ধবলগুড়ি ৮নং ওয়ার্ডের পানিয়ার টারি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আলী হোসেন লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার ধবলগুড়ি এলাকার বাসিন্দা।

বিজিবি সূত্রে জানা যায়, তিস্তা ব্যাটালিয়নের (৬১ বিজিবি) অধীন ধবলগুড়ি বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় সীমান্ত পিলার ৮৭৪/৫ এস সংলগ্ন শূন্য লাইন থেকে আনুমানিক ৫০০ গজ ভারতের অভ্যন্তরে সাতগ্রাম বিএসএফ ক্যাম্পের এলাকায় রাত ২টা ৫০ মিনিট ও ভোর ৪টা ৫০ মিনিটে পৃথকভাবে দুই দফায় গুলির শব্দ শোনা যায়। এ ঘটনার পর সকাল ৬টা ৩৫ মিনিটে বিজিবি ও বিএসএফের ব্যাটালিয়ন অধিনায়ক পর্যায়ে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ হয়।

বিএসএফের ভাষ্য অনুযায়ী, ৭ থেকে ৮ জন বাংলাদেশি ভারতীয় সীমান্তে তারকাটা বেড়া কাটার উদ্দেশ্যে গেলে বিএসএফ সদস্যরা প্রথমে সতর্কতামূলক গুলি ছোড়ে। এক পর্যায়ে চোরাকারবারীদের সঙ্গে বিএসএফ সদস্যদের ধস্তাধস্তি হয় এবং বিএসএফ গুলি ছুড়লে আলী হোসেন (৪৯) নামে এক বাংলাদেশি গুলিবিদ্ধ হন। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে বিএসএফ সদস্যরা নিজেদের হেফাজতে নিয়ে ভারতীয় হাসপাতালে পাঠালে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

৬১ বিজিবির তিস্তা ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফট্যানেন্ট কর্নেল সৈয়দ ফজলে মুনিম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ঘটনার বিস্তারিত যাচাই বাছাই ও তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম চলমান রয়েছে। পাশাপাশি উভয় দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে ব্যাটালিয়ন ও সেক্টর কমান্ডার পর্যায়ে স্পট মিটিংয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।


পিরোজপুরে বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস পালিত: আধুনিক ও বিজ্ঞানভিত্তিক স্বাস্থ্যসেবার ওপর গুরুত্বারোপ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
‎​পিরোজপুর প্রতিনিধি

‎​‘স্বাস্থ্য সেবায় বিজ্ঞান, সুরক্ষিত সকল প্রাণ’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে পিরোজপুরে যথাযোগ্য মর্যাদায় বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস ২০২৬ পালিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে মঙ্গলবার সকালে পিরোজপুর সিভিল সার্জন কার্যালয়ের উদ্যোগে এক বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

‎​সিভিল সার্জন কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সভায় সভাপতিত্ব করেন পিরোজপুর জেলা সিভিল সার্জন ডা. মো. মতিউর রহমান।

‎সভায় বক্তব্য রাখেন পিরোজপুর জেলা হাসপাতালের পরিচালক ডা. শিশির রঞ্জন অধিকারী এবং পিরোজপুর সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. নিজাম উদ্দিন।

‎​সিভিল সার্জন ডা. মতিউর রহমান তাঁর বক্তব্যে বলেন, "বর্তমান বিশ্বে অসংক্রামক ব্যাধি এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সৃষ্ট স্বাস্থ্য ঝুঁকি মোকাবিলায় বিজ্ঞানভিত্তিক সমন্বিত উদ্যোগের কোনো বিকল্প নেই। ২০২৬ সালের বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবসের মূল লক্ষ্য হলো স্বাস্থ্যসেবাকে আরও আধুনিক, স্মার্ট ও টেকসই করে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া।

‎​সভায় অসংক্রামক ব্যাধি প্রতিরোধ ও জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে আরও বক্তব্য রাখেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) এসআইএমও ডা. সাজিয়া নওশীন, ঝপিয়েগো (Jhpiego) এমসিজিএল প্রকল্পের ডিস্ট্রিক্ট টেকনিক্যাল অফিসার ডা. নুসরাত জাহান, সেভ দ্য চিলড্রেন বাংলাদেশ-এর প্রজেক্ট কো-অর্ডিনেটর (MCGL) মুহাম্মদ ফয়েজ কাউছার, ব্র্যাক (টিবি) বরিশাল বিভাগীয় ব্যবস্থাপক প্রদীপ কুমার তরফদার, ব্র্যাক (টিবি) পিরোজপুর জেলা ব্যবস্থাপক মো. আব্দুল হাই এবং ব্র্যাক স্বাস্থ্য প্রোগ্রামের এলাকা ব্যবস্থাপক সঞ্জয় মজুমদার।

‎​বক্তারা হৃদরোগ, ডায়াবেটিস ও ক্যান্সারের মতো ব্যাধি প্রতিরোধে জনসচেতনতার পাশাপাশি ‘ওয়ান হেলথ’ ধারণার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।আলোচনা সভার শুরুতে সিভিল সার্জনের নেতৃত্বে একটি বর্ণাঢ্য র‍্যালি বের করা হয়, যা শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য বিভাগের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা, চিকিৎসক ও সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্যকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।


নীলফামারীতে বাস-মিনিবাস-কোচ শ্রমিক ইউনিয়নের যাত্রা শুরু

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নীলফামারী প্রতিনিধি

নীলফামারী জেলা বাস, মিনিবাস ও কোচ পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়েছে। সংগঠনটির রেজিস্ট্রেশন নম্বর ৩৪৪৬। মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) জেলা শহরের কালিতলা বাস টার্মিনাল চত্বরে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে ইউনিয়নের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাড. মিজানুর রহমান চৌধুরী।

সংগঠনটির সভাপতি ও জেলা শ্রমিক দলের সভাপতি মো. নুর আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জেলা জজ আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (জিপি) আবু মো. সোয়েম।

জেলা শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক জামিয়ার রহমানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন জেলা শ্রমিক ইউনিয়নের প্রতিষ্ঠাতা সাবেক সভাপতি শাহাজান চৌধুরী, সিনিয়র সহসভাপতি মশিয়ার রহমান, মজনু মিয়া, পৌর বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক লুৎফুল আলম চৌধুরী শুভ, স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি মোর্শেদ আযম,যুবদলের সহ-সভাপতি শফিকুল ইসলাম মুকুল,শ্রমিকনেতা বজলার রহমান এবং জেলা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক আলিফ সিদ্দিকী প্রান্তর।

বক্তারা বলেন, দীর্ঘ ৪৮ বছর পর নীলফামারীতে শ্রমিক ইউনিয়নের উদ্বোধন হওয়ায় প্রশাসন, রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী ও সচেতন মহলের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানানো হয়। তারা আরও বলেন, দেশের উন্নয়নে যোগাযোগ ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তবে কিছু সিন্ডিকেটের কারণে এ খাতে প্রতিবন্ধকতা তৈরি হচ্ছে। এসব সিন্ডিকেট প্রতিরোধে ইউনিয়নের সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানান তারা।


নীলফামারী প্রেসক্লাবের সভাপতি দুজন, সাধারণ সম্পাদক মামুন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দৈনিক বাংলার নাসির 

আপডেটেড ৭ এপ্রিল, ২০২৬ ২০:১৪
নীলফামারী প্রতিনিধি

নীলফামারী প্রেসক্লাবের দ্বিবার্ষিক নির্বাচনে অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার(৬ এপ্রিল) প্রেসক্লাব মিলনায়তনে সকাল ১১টা থেকে বিকাল ৩টা পর্যন্ত ওই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ভোট গণনা শেষে রাত ৮টায় ফলাফল ঘোষণা করেন প্রেসক্লাবের নির্বাচন কমিশন।

এই নির্বাচনে জেলায় প্রথমবারের মতো সভাপতি পদে সমান ভোট পেয়ে হাসান রাব্বী প্রধান (আরটিভি) ও এ,বি,এম মনঞ্জুরুল আলম সিয়াম (মাছরাঙা টেলিভিশন) নির্বাচিত হয়েছেন। সভাপতি পদে সমান ভোটে জয়ী ওই দুই প্রার্থী পর্যায়েক্রমে এক বছর করে দায়িত্ব পালন করবেন। এছাড়া সাধারণ সম্পাদক পদে মিল্লাদুর রহমান মামুন (এটিএন নিউজ) নির্বাচিত হয়েছেন।

নির্বাচন শেষে রাতে প্রেসক্লাবের প্রধান উপদেষ্টা ও প্রধান নির্বাচন কমিশনার প্রবীন সাংবাদিক মো. সামসুল ইসলাম ওই ফলাফল ঘোষণা করেন।

অন্যান্য পদে নির্বাচিতরা হলেন, সহ-সভাপতি চারটি পদে ভুবন রায় নিখিল (বাসস), আনোয়ারুল আলম প্রধান (চ্যানেল আই), শীষ রহমান (ইত্তেফাক), মোস্তাফিজুর রহমান সবুজ (সাপ্তাহিক নীল চোখ), যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক পদে সর্বোচ্চ ভোট পায় নাসির উদ্দিন শাহ মিলন (দিনকাল), আব্দুর রশিদ শাহ (নিউজ ২৪), দপ্তর সম্পাদক পদে রাজীব চৌধুরী (এম আর চৌধুরী) রাজু (ডেইলী সান), অর্থ সম্পাদক পদে এম আবুল হোসেন শাহ (বানিজ্য প্রতিদিন), প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক পদে মো. নাঈম শাহ (কালের কণ্ঠ), ক্রীড়া সম্পাদক পদে মোশাররফ হোসেন (খোলা কাগজ) নির্বাচিত হয়েছেন।

নির্বাহী সদস্যের সাতটি পদে নির্বাচিতরা হলেন, মীর মাহমুদুল হাসান আস্তাক (প্রথম আলো), কাজী মাহবুবুল হক দোদুল (নীলকথা), বিএম খাজা নেওয়াজ (আমার বার্তা), সাদেকুর রহমান শাহ স্কলার (আজকের বিজনেস বাংলাদেশ), বাপ্পী রহমান (নিউ এইজ), মুসফিকুর রহমান সৈকত (ইনকিলাব), আলী সাদ্দাম (সিএন বাংলা)।

কার্যনির্বাহী পরিষদের ২১টি পদের মধ্যে সোমবার ১৯টি পদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। অপর দুটি পদের মধ্যে সাহিত্য, সংস্কৃতি ও পাঠাগার বিষয়ক সম্পাদক পদে আব্দুল বারী (বাংলাদেশ প্রতিদিন), তথ্যপ্রযুক্তি ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক পদে আরিফুল ইসলাম (আমাদের পত্রিকা) বিনা প্রতিদ্বন্দ্বীতায় নির্বাচিত হয়েছেন।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার মো. সামসুল ইসলাম এসব তথ্য নিশ্চিত করে জানান, প্রেসক্লাবের ৫২ জন সদস্যের মধ্যে ৪৯ জন সদস্য ভোট প্রদান করেছে। এরমধ্যে ৭টি ভোট বাতিল হয়েছে।


আটোয়ারীতে কয়েকটি গ্রামের টিউবওয়েলের আয়রন যুক্ত পানি ব্যবহারের অনুপোযোগী

আপডেটেড ৭ এপ্রিল, ২০২৬ ১৪:২২
পঞ্চগড় জেলা প্রতিনিধি

পঞ্চগড় আটোয়ারী উপজেলার ৬নং ধামোর ইউনিয়নের তিনটি ওয়ার্ডের গ্রামগুলোতে দীর্ঘ দিন থেকে আয়রন যুক্ত পানি ব্যবহার করছেন এইসব এলাকার বাসিন্দারা।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, আটোয়ারী পঞ্চগড়, সূত্রে জানা যায় পানিতে ০.৩ মিলিগ্রাম/লিটার পর্যন্ত আয়রন গ্রহণ যোগ্য। এর বেশি হলে স্বাস্থ্য ও পানির গুণমান ক্ষতিগ্রস্ত হয়। স্বল্প মাত্রায় আয়রন উপকারী অতিমাত্রায় আয়রন ক্ষতিকর দীর্ঘ মেয়াদে গ্রহণ স্বাস্থ্য পরীক্ষার প্রয়োজন আয়রনের মাত্রা বেশি হলে ফিল্টার বা পরিশোধন দরকার।

৬নং ধামোর ইউনিয়নের সংরক্ষিত মহিলা সদস্য শ্রী ময়না রানী জানান যে, ৭, ৮ ও ৯ তিনটি ওয়ার্ডে টিউবওয়েলের পানি আয়রন যুক্ত হওয়ায় অনেকে টিউবওয়েল থাকা স্বত্বেও পুকুর ও নলকূপে গোসল করেন, তিনি আরও জানায় এই তিনটি ওয়ার্ডে আমি দায়িত্বে রয়েছি, তাই নলকূপের বিষয় আমি অবগত আছি।

৭নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি সোরবত আলী জানান যে, গিরাগাঁও, পশ্চিম গিরাগাঁও, জামাদার পাড়া সহ কয়েকটি গ্রামের বাসিন্দারা, দীর্ঘ দিন থেকে আয়রন যুক্ত পানি ব্যবহার করে আসতেছে, আমার বাসায় টিউবওয়েল ৬০ লেয়ার তাই বাসায় আয়রন যুক্ত পানি বের হয়, এসব পানি ব্যবহার করে আমার পাঞ্জাবি ডিস কালার হয়ে গেছে।

জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর পঞ্চগড়, নির্বাহী প্রকৌশলী, মোঃ মিনহাজুর রহমান তিনি জানান যে, আমাদের যেসব টিউবওয়েল সরকারি ভাবে বিতরণ করা হয়, সেসব টিউবওয়েলের লেয়ার ১২০ এর উর্ধ্বে দেওয়া হয়, সেই সব টিউবওয়েল এর পানি আয়রন মুক্ত থাকে, আমাদের বাইরে যারা বাজার থেকে টিউবওয়েল ক্রয় করে, বাসায় স্হাপন করেন, তারা সাধারণত ৬০-৬৫-৭০ লেয়ার দিয়ে থাকেন, তাই তাদের টিউবওয়েলে আয়রন যুক্ত পানি বের হয়।


banner close