শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬
৯ কার্তিক ১৪৩৩

এত গ্রেপ্তারের পরও কেন নির্মূল হচ্ছে না আরসা?

ছবি: সংগৃহীত
রহমত উল্লাহ, টেকনাফ (কক্সবাজার)
প্রকাশিত
রহমত উল্লাহ, টেকনাফ (কক্সবাজার)
প্রকাশিত : ১২ জুন, ২০২৪ ১৬:২৬

মিয়ানমারের চরমপন্থি সশস্ত্র সংগঠন আরসার আগের নাম ছিল আল ইয়াকিন বা ইসলামি সংগঠন। রোহিঙ্গা মুসলমানদের নিয়ে কাজ করাই ছিল তাদের উদ্দেশ্য। ২০১৩ সালের দিকে সংগঠনের নাম পাল্টে রাখা হয় আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মি বা আরসা, যদিও দলের একাংশ এখনো আল ইয়াকিন নামেই পুরোনো সংগঠনকে আকড়ে ধরে আছে। আতাউল্লাহ আবু আম্মার জুনুনি সেসময়ে হন স্যালভেশন আর্মির (আরসা) কমান্ডার ইন চিফ। এই আতাউল্লাহর জন্ম সৌদি আরবে, তার বাবা-মা আরাকান থেকে গিয়ে সৌদি আরবে স্থায়ী হন। কিন্তু জন্ম সৌদি আরবে হলেও আতাউল্লাহ পরে পাকিস্তানের করাচিতে এসে বসবাস করতেন।

রোহিঙ্গাদের অধিকার আদায় করতে ঠিক কবে মিয়ানমারে তিনি ফিরে আসেন, তা জানা যায় না। তবে তা ২০১৩ সালের আগেই অর্থাৎ আল ইয়াকিন থেকে আরসার যাত্রা শুরুর আগেই হয়েছে, তা নিশ্চিত। সংগঠনটি সশস্ত্র হয়ে উঠেছে, তা প্রথম বোঝা যায় ২০১৫-১৬ সালের দিকে। লক্ষ্য ছিল, মিয়ানমারের মুসলিম অধ্যুষিত আরাকান প্রদেশ দখল। ২০১৭ সালের মাঝামাঝি মিয়ানমারের থানায় হামলা, পুলিশের অস্ত্র লুটের ঘটনার পর সংগঠনটির বিরুদ্ধে প্রথম মনোযোগ দেয় মিয়ানমার সেনাবাহিনী। তবে ওই বছরেই আগস্টে তার নির্দেশে রাখাইনে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর তল্লাশি চৌকিতে আরকান দখল ও অস্ত্র লুট করার জন্য আবার হামলা চালায় আরসা। এ ঘটনায় ভীষণ ক্ষুব্ধ সেনাবাহিনী আরসা নির্মূলের উদ্দেশে আরকান প্রদেশে হামলা শুরু করে। তখন উত্তপ্ত হয়ে পড়ে মিয়ানমারে মুসলমানদের গ্রামগুলোর পরিস্থিতি। ওই দেশের সেনাবাহিনী ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট রাখাইনে চড়াও হয়ে অভিযান ও রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতন, হামলা ও গণধর্ষণের ঘটনা শুরুর পর নিজ দেশ ছেড়ে বাংলাদেশে পালিয়ে আসে প্রায় ১০ লাখ রোহিঙ্গা। সম্পূর্ণ মানবিক কারণে তাদের তখন আশ্রয় দেয় বাংলাদেশ সরকার। আর বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে আরসার সদস্যদের সম্পর্কে তথ্য না থাকার সুযোগে এসব রোহিঙ্গার সঙ্গে আশ্রয়প্রার্থী হিসেবে বাংলাদেশে চলে আসে আরসার কিছু সদস্য আর সমর্থকও।

উদ্দেশ্য তাদের মিয়ানমার সেনাবাহিনীর সঙ্গে লড়াই করা হলেও অস্ত্র তৈরি ও সংগ্রহ, বাহিনীর জন্য সদস্য সংগ্রহ, সদস্যদের অস্ত্র প্রশিক্ষণ দেওয়া ইত্যাদি কাজে তারা তখন থেকেই গোপনে বাংলাদেশের পাহাড়ি নির্জন এলাকাগুলো ব্যবহার শুরু করে। একই সঙ্গে রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরগুলোতে নিজেদের প্রভাব বাড়াতে তারা সেগুলোতে আধিপত্য বিস্তার শুরু করে। রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবির সর্দার বা মাঝিদের করায়ত্ত করা বা ভয় দেখানো দিয়েই এর শুরু। একই সঙ্গে নিজেদের অর্থভাণ্ডার ঠিক রাখতে মিয়ানমারের সঙ্গে বাংলাদেশের অরক্ষিত সীমান্ত অঞ্চলকে রুট হিসেবে ব্যবহার করে এদেশে মাদক চোরাচালান আরও বাড়িয়ে দেয়।

শুরুতে আরসা সম্পর্কে অন্ধকারে থাকলেও দিনের পর দিন রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরগুলোতে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে পরস্পরের মধ্যে হামলা, গুলি, হত্যার ঘটনা বাড়তে থাকায় এবং বিপুল পরিমাণ মাদকসহ রোহিঙ্গা ও তাদের প্ররোচনায় স্থানীয়দের আটক বা গ্রেপ্তাদের মধ্য দিয়ে এই চরমপন্থি সংগঠন সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পেতে শুরু করে বাংলাদেশের বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। র‌্যাব, এপিবিএন আরসা দমনে কঠোর অভিযান চালাচ্ছে মাঝেমধ্যেই। তার পরও তাদের গোপন তথ্য প্রকাশ হয়ে পড়া এবং বেশির ভাগ রোহিঙ্গা সশস্ত্র যুদ্ধে জড়িত হতে না চাওয়ায় আরসার নেতাসহ সদস্যরা বরাবরই আছে উৎকণ্ঠায়। রোহিঙ্গাদের মধ্যে আরসা ছাড়াও আছে আরও কিছু সশস্ত্র গ্রুপ। তবে তারা পরস্পর যেন পরস্পরের শত্রু। আরাকানে যে বিদ্রোহী সশস্ত্র গ্রুপ আরাকানের স্বাধীনতার জন্য সশস্ত্র লড়াই করে যাচ্ছে, আরাকান আর্মি, ওদের সঙ্গেও এসব গ্রুপের শত্রুতা রয়েছে। আরাকান আর্মি সাধারণভাবে সব আরাকানির জন্যে স্বাধীন আরাকান চায়, কিন্তু আরসাকে ওরা চিহ্নিত করে মুসলিম সন্ত্রাসী গ্রুপ হিসেবে। সব মিলিয়ে অস্থির হয়ে উঠছে রোহিঙ্গা শিবির।

আরসার শীর্ষ নেতা অলি আকিজ দীর্ঘদিন মিয়ানমারে আত্মগোপনে থাকলেও গত ১৯ মে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ফিরেছেন। আরসার শীর্ষ কমান্ডার আতাউল্লাহ আবু আম্মার জুনুনি এবং সেকেন্ড-ইন-কমান্ড ওস্তাদ খালেদের নির্দেশে ক্যাম্পে আধিপত্য বিস্তারের নতুন পরিকল্পনা নিয়ে অপতৎপরতা চালাচ্ছেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সূত্রে জানা যায়, রোহিঙ্গাদের সশস্ত্র গ্রুপ আরসার প্রশিক্ষণ। অস্ত্র তৈরি, আত্মগোপন, মিটিংসহ নানা কর্মকাণ্ড সেখানে সংগঠিত হতো। গত রোববার মধ্যরাতে অভিযান চালিয়ে ক্যাম্প-৪-এ গোপন বৈঠক থেকে আকিজসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, একটি দেশীয় তৈরি এলজি, একটি ওয়ানশুটার গান, ১০ রাউন্ড কার্তুজ, দুই কেজি বিস্ফোরকদ্রব্য, তিনটি মোবাইল এবং নগদ ২ হাজার ৫০০ টাকা জব্দ করা হয়।

র‌্যাব-১৫-এর অধিনায়ক লে. কর্নেল এইচ এম সাজ্জাদ হোসেন বলেন, ‘আমরা এ পর্যন্ত ১১২ জনের ওপরে আরসার ভিন্ন পদবিধারী নেতা গ্রেপ্তার করেছি। গত রোববারের আরসার শীর্ষ নেতা আকিজসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করি। তাদের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

২০১৭ সালে সীমান্ত পার হয়ে ভারত হয়ে বাংলাদেশে এসে ক্যাম্প-৫-এ সপরিবারে বসবাস শুরু করেন মৌলভী আকিজ। পরে আরসার হয়ে কাজ শুরু করেন তিনি। এরপর ক্যাম্প-৫-এ আরসার প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পান। নেটওয়ার্ক গ্রুপে কাজ করতেন। ক্যাম্পের বিভিন্ন তথ্য আরসা কমান্ডারদের কাছে পৌঁছে দিতেন। এভাবে শীর্ষ নেতৃত্বে পৌঁছান। রোহিঙ্গাদের প্রত‍্যাবাসনের পক্ষে কাজ করায় ওস্তাদ খালেদের নির্দেশে রোহিঙ্গা নেতা মাস্টার মহিবুল্লাহকে হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী ছিলেন আকিজ। তা ছাড়া মতাদর্শিক দ্বন্দ্বে ক্যাম্পে সেভেন মার্ডারে সরাসরি অংশ নেন। তাদের নেতা-কর্মী আটক হলে কিছুটা দুর্বল হয়ে যায় কিন্তু আবার সক্রিয় হয়ে ওঠে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বিশাল এই জনগোষ্ঠীতে আরসা, আল-ইয়াকিনসহ অন্তত ১৫টি বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন সক্রিয়। ২০১৭ সাল থেকে এখন পর্যন্ত ছয় বছরে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সংঘর্ষের ঘটনায় প্রায় ৩০০ জন নিহত হয়েছে। মামলা হয়েছে পাঁচ হাজারের অধিক। এসব মামলার বেশির ভাগই হয়েছে মাদক ও আগ্নেয়াস্ত্র রাখার অভিযোগে।

রোহিঙ্গা নেতা ড. জোবায়ের বলেন, আরসা রোহিঙ্গা ক্যাম্প দখল করে রাজত্ব কায়েম করার জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এ পর্যন্ত তাদের দুই শতাধিক নেতা-কর্মী আটক হয়েছেন। আটক করলেও তারা আরও শক্তিশালী হয়ে উঠবে, তার কারণ তাদের রোহিঙ্গা সরকার মদদ দিয়ে যাচ্ছে। প্রত্যাবাসন বন্ধ রাখার জন্য মিয়ানমার সরকার তাদের ব্যবহার করে যাচ্ছে, যে কারণে তারা এতটা শক্তিশালী।

গত রোববার রাতে উখিয়ার মধুরছড়া ৪ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে আরসার শীর্ষ নেতাদের গ্রেপ্তার করে। সে জায়গায় ভোরে ৪০-৪৫ জন আরসা সন্ত্রাসী পাহাড় থেকে সীমানার কাঁটাতারের বেড়া অতিক্রম করে ৪ নম্বর ক্যাম্পে আসে। ঘটনাস্থলে এসে ক্যাম্পে পাহারারত রোহিঙ্গা ইলিয়াছকে তারা গুলি করে ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে হাতে, পায়ে ও তলপেটে কুপিয়ে মারাত্মক জখম করে। এতে ইলিয়াস ঘটনাস্থলেই মারা যান।

১৪ এপিবিএনের অধিনায়ক মোহাম্মদ ইকবাল বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গেলে এপিবিএন সদস্যদেরও লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ করে সন্ত্রাসীরা।

তিনি আরও বলেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে নতুন করে সংগঠিত এবং নাশকতা করার চেষ্টা করছে আরসা। মূলত আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘবদ্ধ হয়ে হামলা চালায় আরসা সন্ত্রাসীরা। এতে তারা গুলি এবং কুপিয়ে তিন রোহিঙ্গাকে হত্যা করে। আর গুরুতর আহত হয় সাতজন। হতাহতরা আরএসও সদস্য বলে জানা গেছে।

রোহিঙ্গা গবেষক অধ্যাপক ড. রাহমান নাসির উদ্দিন দৈনিক বাংলাকে বলেছেন, রোহিঙ্গাদের অধিকার আদায় করতে আরসা ২০১৭ সালের ২৫ আগস্টের দিকে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর তল্লাশি চৌকিতে হামলা চালায়। কিন্তু এটার কারণে নির্যাতনের তীব্রতায় নিজ দেশ ছেড়ে বাংলাদেশে পালিয়ে আসে প্রায় ৮ লাখ রোহিঙ্গা। সে কারণে আরসা রোহিঙ্গাদের প্রতিনিধিত্ব হয়ে উঠতে পারে নাই। বিভিন্ন সময় রোহিঙ্গাদের সঙ্গে কথা বলে জানতে পারি, রোহিঙ্গাদের এ দুর্দশার জন্য আরসা দায়ী। রোহিঙ্গাদের সঙ্গে আরসার একটা বড় গ্রুপ বাংলাদেশে এসেছে। বাংলাদেশে ৩৪টি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে তাদের অবস্থান ধরে রাখার জন্য তারা বিভিন্ন ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে এবং যখন কেউ তাদের বিরুদ্ধে কথা বলার চেষ্টা করেছে তখন তারা তাদের দমন করেছে। এর মধ্যে একজন ছিলেন মুহিব উল্লাহ। মুহিব উল্লাহ যখন রোহিঙ্গাদের নেতা হয়ে ওঠে বিশ্বের কাছে পরিচিত হন এবং আন্তর্জাতিকভাবে রোহিঙ্গাদের জন্য আন্দোলন করেন তখন তাকে নেতা হিসেবে গ্রহণ করে রোহিঙ্গারা। বাংলাদেশ যখন প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরু করে তখন রোহিঙ্গাদের রাজি করানোর জন্য মুহিব উল্লাহ সোর্স ছিল। ধীরে ধীরে মুহিব উল্লাহ প্রধান পাঁচ রোহিঙ্গা নেতার একজন হয়ে ওঠেন। ২০১৯ সালের ২৫ আগস্ট ৩ থেকে ৫ লাখ রোহিঙ্গার মহাসমাবেশ করে তাক লাগিয়ে দেন এবং আনন্দে আত্মহারা করে দেন রোহিঙ্গা ইস্যুতে লেগে থাকা বিদেশি এনজিওগুলোকে। এসব কারণে আরাকান রোহিঙ্গা সোসাইটি ফর পিস অ্যান্ড হিউম্যান রাইটস ভেঙে দেওয়ার জন্য মুহিব উল্লাহকে হত্যা করা হয়। মিয়ানমার সেনাবাহিনীর শত্রু হচ্ছে আরাকান আর্মি। আরাকান আর্মির শত্রু হচ্ছে মিয়ানমার সেনাবাহিনী। আবার মিয়ানমারের শত্রুও আরসা। মিয়ানমার নৌবাহিনী ঘোষণা দিয়ে বলছে আরকান আর্মি ও আরসা মিলে বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে। যেহেতু মিয়ানমার আরাকানে আরকান আর্মি শক্তিশালী হয়ে উঠেছে। সে কারণে আরসা ও শক্তিশালী হয়ে উঠেছে।

দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীগুলোকে সতর্ক করে দিয়ে ড. রাহমান নাসির বলেন, দুই শতাধিক আরসার নেতা-কর্মী গ্রেপ্তার করাতেই আরসা দুর্বল হয়ে পড়েছে এমন যুক্তি হয়তো সঠিক নয়। এই চরমপন্থি দলে আরও অনেক সদস্য ও সমর্থক রয়েছে।

কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. রফিকুল ইসলাম দৈনিক বাংলাকে বলেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বিভিন্ন সন্ত্রাসী গ্রুপ তাদের আধিপত্য বিস্তার করার জন্য এসব সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করে থাকে। আগুন নাশকতা এসব মাঝেমধ্যে বিভিন্ন কারণে হয়ে থাকে। তবে কিছু কিছু ঘটনা আমরা সন্দেহ করি এগুলো নাশকতা। আমরা আরসা বলে কিছু পাইনি। তবে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সন্ত্রাসী গ্রুপ আছে। যারা উগ্রবাদী কর্মকাণ্ডে জড়াবে তাদের বিরুদ্ধে আমাদের সমন্বিত অভিযান অব্যাহত থাকবে।

রোহিঙ্গা ইয়ুথ অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিষ্ঠাতা খিন মং বলেন, রোহিঙ্গাদের অধিকারের জন্য লড়াই করার দাবি করেছিল আরসা। তখন তাদের বিশ্বাস করেছিল রোহিঙ্গারা। কিন্তু এখন সাধারণ রোহিঙ্গারাও মনে করে আরসা মিয়ানমারের এজেন্ট হিসেবে কাজ করছে। যারা প্রত্যাবাসনের কথা বলছেন তাদের হত্যা করা হচ্ছে। তাই আরসার ওপর তাদের আর বিশ্বাস নেই।

বিষয়:

ফরিদপুরে বীর মুক্তিযোদ্ধা ইমারত হোসেন চৌধুরীর স্মরণসভা অনুষ্ঠিত

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মাহবুব পিয়াল, ফরিদপুর

ফুলসুতি কমিউনিটি অব ফরিদপুরের উদ্যোগে বিশিষ্ট সমাজসেবক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা ইমারত হোসেন চৌধুরীর স্মরণসভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) বিকাল ৪টায় শহরের কোট পাড় ‘ল কেয়ার অ্যান্ড অ্যাসোসিয়েট’ কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়। পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা করা হয়। কোরআন তেলাওয়াত করেন মরহুম ইমারত হোসেন চৌধুরীর নাতি রাফিদ চৌধুরী।

স্মরণসভায় বক্তারা মরহুমের কর্মময় জীবনের ওপর আলোকপাত করে বলেন, ‘বীর মুক্তিযোদ্ধা ইমারত হোসেন চৌধুরী মহান স্বাধীনতা সংগ্রামে সম্মুখ সারিতে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। তিনি ১৯৭১ সালে ভারতে গিয়ে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন এবং জীবন বাজি রেখে যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেন। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি অত্যন্ত সদালাপী, হাসিমুখে কথা বলা ও বন্ধুসুলভ একজন মানুষ ছিলেন। ফুলসতি গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্ম নেওয়া এই কৃতী সন্তান আজীবন সমাজসেবায় নিজেকে নিয়োজিত রেখেছিলেন। তিনি অত্যন্ত ধার্মিক ছিলেন এবং শারীরিক অসুস্থতা সত্ত্বেও কখনো জামায়াতে নামাজ আদায় করা মিছ করতেন না।

অনুষ্ঠানে বীর মুক্তিযোদ্ধার স্মৃতিচারণ করে ফুলসুতি কমিউনিটি অব ফরিদপুরের প্রধান উপদেষ্টা বদিউজ্জামান ভাদু বলেন, ‘ইমারত হোসেন চৌধুরী কেবল একজন দেশপ্রেমিক যোদ্ধাই ছিলেন না, বরং তিনি ছিলেন সমাজ পরিবর্তনের একজন কারিগর। তার সততা এবং মানুষের প্রতি ভালোবাসা আমাদের চিরকাল অনুপ্রাণিত করবে।’

ফুলসুতি কমিউনিটির নেতারা ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন লেখক, গবেষক প্রবীণ সাংবাদিক প্রধান উপদেষ্টা বদিউজ্জামান চৌধিুরী ভাদু। এ সময় মফিজ ইমাম মিলন, দেলোয়ার হোসেন চৌধুরী সাবু, আ. স. ম. জাহাঙ্গীর হোসেন চৌধুরী টিটো, জি. এইচ লাভলু পাটোয়ারী, নিয়াজুল ইসলাম চৌধুরী, রুমন চৌধুরী, মোহাম্মদ ওয়াসিম, চৌধুরী সাজেদুস, মোহাম্মদ লিটু চৌধুরী এবং চৌধুরী মোহাম্মদ হাসানসহ আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন।

আলোচনা সভা শেষে বীর মুক্তিযোদ্ধা ইমারত হোসেন চৌধুরীর রুহের মাগফিরাত ও শান্তি কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করা হয়। দোয়া মাহফিলটি পরিচালনা করেন হাফেজ, মাওলানা তৈয়বুর রহমান।


চাঁদাবাজি নির্মূলে শিগগিরই নতুন আইন আসছে: আইজিপি

অপরাধীদের বিচারের মুখোমুখি করতেই নতুন আইনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে
ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
খুলনা ব্যুরো 

দেশ থেকে চাঁদাবাজির দৌরাত্ম্য স্থায়ীভাবে বন্ধ করতে দ্রুততম সময়ের মধ্যে নতুন একটি আইন প্রণয়ন করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির। প্রস্তাবিত আইনটি পাস হলে ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষের অভিযোগ ছাড়াই কেবল ডিজিটাল প্রমাণের ওপর ভিত্তি করে পুলিশ নিজেই বাদী হয়ে চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে সরাসরি আইনি ব্যবস্থা নিতে পারবে।

শনিবার খুলনা পুলিশ লাইন্সে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আয়োজিত এক বিশেষ সভায় আইজিপি এ তথ্য প্রকাশ করেন।

আইনের প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে আইজিপি বলেন, চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা সমাজে রাজনৈতিক বা অন্য কোনো আধিপত্য বজায় রেখে প্রভাব বিস্তার করে। তাদের ভীতি ও ক্ষমতার দাপটে সাধারণ মানুষ থানায় গিয়ে অভিযোগ দায়ের কিংবা আদালতে সাক্ষ্য দিতে সাহস পান না। এই বাস্তবতায় অপরাধীদের বিচারের মুখোমুখি করতেই নতুন আইনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আইনটি কার্যকর হলে পুলিশ স্বপ্রণোদিত হয়ে পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারবে এবং কোনো ঘটনার সুনির্দিষ্ট ডিজিটাল প্রমাণ মিললেই অভিযুক্তদের আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে।

দায়িত্ব পালনে পুলিশের সীমাবদ্ধতা ও চ্যালেঞ্জ তুলে ধরে তিনি বলেন, অনেক ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে আইন প্রয়োগ করতে গিয়ে পুলিশ যদি বল প্রয়োগ করে, তবে বলা হয় ‘পুলিশ ফ্যাসিস্ট’। আর যদি বল প্রয়োগ না করে, তখন বলা হয় ‘পুলিশ দুর্বল’। এর কোনো অপবাদই বাহিনীর জন্য কাম্য নয় উল্লেখ করে তিনি জানান, সবার সমন্বয়ে একটি পেশাদার ও কার্যকর পুলিশ বাহিনী গড়ে তোলার কাজ চলছে, যা ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা ও দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গঠনে ভূমিকা রাখবে।

বিগত দেড় দশকের শাসনব্যবস্থার সমালোচনা করে পুলিশপ্রধান দাবি করেন, বিগত ১৭ বছরে দেশে মাদককে অনেকটাই স্বাভাবিক বিষয় হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা হয়েছিল। তবে বর্তমান প্রশাসন অপরাধ নিয়ন্ত্রণে আপসহীন অবস্থান নিয়েছে এবং কিশোর গ্যাং, চাঁদাবাজি এবং মাদকের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করেছে।

এছাড়া কমিউনিটি পুলিশিং কার্যক্রমকে মাঠপর্যায়ে অর্থবহ করার সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে তিনি উল্লেখ করেন, অতীতে এই ব্যবস্থা মূলত ‘বুক প্র্যাকটিস’ হিসেবে কেবল কাগজেই সীমাবদ্ধ ছিল। তবে এবার স্বরাষ্ট্র ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সমন্বিত উদ্যোগে আইনি কাঠামোর ভেতরেই পুলিশের সহযোগী শাখা হিসেবে একে রূপ দেওয়া হচ্ছে, যাতে নাগরিক সেবার পরিধি আরও গতিশীল হয়।

উক্ত মতবিনিময় সভায় খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ জাহিদুল হাসান এবং খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি মো. রেজাউল করিমসহ জেলা ও মহানগর পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বিষয়:

গাজীপুরে পোশাক কারখানায়র গোডাউনে অগ্নিকাণ্ড, নিয়ন্ত্রণে ৮ ইউনিট

‘সুপ্রিম গার্মেন্টস’ নামের একটি পোশাক কারখানায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে
ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ২৪ অক্টোবর, ২০২৬ ১৩:০০
অনলাইন ডেস্ক

গাজীপুরের কাশিমপুরের শৈলডুবি এলাকায় অবস্থিত ‘সুপ্রিম গার্মেন্টস’ নামের একটি পোশাক কারখানায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ৮ ইউনিট।

শনিবার সকাল সোয়া ১০টার দিকে কারখানা ভবনে হঠাৎ এই আগুনের সূত্রপাত হয়।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে কাশিমপুর ফায়ার সার্ভিসের দায়িত্বরত কর্মকর্তা খায়রুল ইসলাম গণমাধ্যমকে জানান, অগ্নিকাণ্ডের খবর পাওয়ার পরপরই ফায়ার সার্ভিসের ইউনিটগুলো ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নেভানোর তৎপরতা শুরু করে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে আগুনের কারণ, সার্বিক ক্ষয়ক্ষতির আর্থিক পরিমাণ কিংবা কোনো ধরনের হতাহতের ঘটনা ঘটেছে কি না, তা জানা সম্ভব হয়নি।


মব সৃষ্টির অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে যা বললেন শিশুর বাবা

মেয়ের ওপর হওয়া নির্যাতনের সুষ্ঠু বিচার প্রার্থনা করে দেশবাসীর সহযোগিতা কামনা করেন
ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

গাজীপুরের টঙ্গীর আউচপাড়া এলাকার একটি আবাসিক মাদরাসায় ছয় বছর বয়সী এক শিশুকে যৌন নিপীড়ন এবং পরবর্তী সময়ে অভিযুক্ত শিক্ষককে মারধরের ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন শিশুটির বাবা শাহজালাল রুমি। শনিবার দিবাগত রাত আনুমানিক ৩টার দিকে গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তিনি প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষের আনা পাল্টা অভিযোগ অস্বীকার করেন এবং মেয়ের ওপর হওয়া নির্যাতনের সুষ্ঠু বিচার প্রার্থনা করে দেশবাসীর সহযোগিতা কামনা করেন।

মাদরাসায় বিশৃঙ্খলা বা দলবল নিয়ে চড়াও হওয়ার অভিযোগ খণ্ডন করে তিনি বলেন, ‘আমি আমার সন্তানের বিচার চাইতে মাদরাসায় গিয়েছিলাম, মব সৃষ্টি করতে নয়। প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ দাবি করছে, আমি নাকি মব সৃষ্টি করেছি এবং ফ্ল্যাট দখল করতে গিয়েছি। আমি কেন মব সৃষ্টি করব? যদি আমি মব সৃষ্টি করতাম, তাহলে সেখানে ২০০ লোক ছিল, তারা সবাই আমাকে মারল না কেন? আমি তো একজন বাবা হিসেবে আমার সন্তানের সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনার বিচার চাইতে গিয়েছিলাম।’

প্রতিষ্ঠানটিতে ভাঙচুরের অভিযোগ প্রসঙ্গে প্রকৃত অবস্থা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আমি স্বীকার করছি, সেখানে ছোট একটি কাচের গ্লাস ভেঙেছে। আমি বলেছি, এর ক্ষতিপূরণ দিয়ে দেব। তবে শিক্ষক আসার আগেই গ্লাসটি ভেঙেছিল। ওই সময়ের ভিডিও রেকর্ডও রয়েছে। আমি ইচ্ছাকৃতভাবে কিছু ভাঙতে চাইনি।’

মাদরাসা থেকে ১৭ লাখ টাকা চুরির যে অভিযোগ উঠেছে, তা সিসিটিভি ফুটেজের মাধ্যমে নিরপেক্ষ প্রমাণের দাবি জানিয়ে রুমি বলেন, ‘প্রতিষ্ঠানে সিসিটিভি ক্যামেরা রয়েছে। আমি কোথায় ১৭ লাখ টাকা নিয়ে গেছি, সেটি সিসিটিভি ফুটেজ দেখে যাচাই করা হোক। মাদরাসায় এত টাকা কিভাবে রাখা হয়, সেই বিষয়টিও পরিষ্কার হওয়া দরকার। আমার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ তোলা হচ্ছে, সেগুলোরও সুষ্ঠু তদন্ত হোক।’

ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের প্রতি নিজের মনোভাব স্পষ্ট করে তিনি উল্লেখ করেন, ‘আমি মাদরাসার বিরুদ্ধে নই, শিক্ষকদের বিরুদ্ধেও নই। আমি দ্বিনি শিক্ষার জন্য আমার মেয়েকে সেখানে পাঠিয়েছিলাম। কিন্তু যেখানে আমার সন্তান নিরাপদ থাকবে না, সেখানে এমন ঘটনা ঘটলে একজন বাবা হিসেবে আমি কী করব? আমি ইসলাম বা প্রকৃত আলেমদের বিরুদ্ধে কথা বলছি না। যারা ধর্মীয় পরিচয়কে ব্যবহার করে অপরাধ করে এবং সত্য আড়াল করার চেষ্টা করে, আমি তাদের বিরুদ্ধে কথা বলছি।’

অনাকাঙ্ক্ষিত এ ঘটনার পর পরিবারের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া মানসিক যন্ত্রণার বিবরণ দিয়ে রুমি বলেন, ‘এই ঘটনার পর আমি এক রাতও ঠিকমতো ঘুমাতে পারিনি। আমার দিন কিভাবে কাটছে, তা আল্লাহই ভালো জানেন। আমার জায়গায় অন্য কেউ থাকলে পরিস্থিতি আরো খারাপ হতে পারত। আমি একজন বাবা। আমার সন্তানের সঙ্গে এমন ঘটনা ঘটার কথা শোনার পর নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়েছিল।’

প্রতিষ্ঠানটির শীর্ষ কর্তাব্যক্তির অবহেলার অভিযোগ এনে তিনি আরও বলেন, ‘ঘটনার বিষয়ে আমি তিন দিন আগেই অধ্যক্ষকে অভিযোগ জানিয়েছিলাম। কিন্তু তিনি বারবার বলেছেন, তিনি কিছু জানেন না। আমি তার কক্ষের বাইরে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেছি। পরে তার সঙ্গে কথা বলতে গেলে এমন আচরণ করেছেন, যেন তিনি আমার সঙ্গে দেখা করতেই চান না। আমি জানতে চেয়েছি, অভিযোগ জানানোর পরও কেন কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি?’

বিষয়:

৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে বঙ্গোপসাগরের লঘুচাপ

আগামী ৬ থেকে ১২ ঘণ্টার মধ্যে এটি নিম্নচাপ এবং পরবর্তী ২৪ থেকে ৩৬ ঘণ্টার ব্যবধানে গভীর নিম্নচাপে পরিণত হতে পারে
ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

দক্ষিণ-পূর্ব ও সংলগ্ন পূর্ব-মধ্য বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপটি আরও ঘনীভূত হয়ে সুস্পষ্ট লঘুচাপে পরিণত হয়েছে। এটি ক্রমাগত শক্তি সঞ্চয় করে আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে একটি পূর্ণাঙ্গ শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে বলে সতর্কবার্তা দিয়েছে বেসরকারি আবহাওয়া গবেষণা সংস্থা বাংলাদেশ ওয়েদার অবজারভেশন টিম (বিডব্লিউওটি)।

শনিবার সংস্থাটির দেওয়া পূর্বাভাসে জানানো হয়, সিস্টেমটি আগামী তিন থেকে চার দিন ধারাবাহিকভাবে শক্তি বৃদ্ধি করতে পারে। এর ধারাবাহিকতায় আগামী ৬ থেকে ১২ ঘণ্টার মধ্যে এটি নিম্নচাপ এবং পরবর্তী ২৪ থেকে ৩৬ ঘণ্টার ব্যবধানে গভীর নিম্নচাপে পরিণত হতে পারে। এরপরের ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে এটি পূর্ণাঙ্গ ঘূর্ণিঝড়ের রূপ নেওয়ার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে।

বর্তমানে সুস্পষ্ট লঘুচাপের কেন্দ্রের ১০০ কিলোমিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে বাতাসের গড় সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৩৫ কিলোমিটার, যা দমকা বা ঝোড়ো হাওয়ার আকারে ৪৫ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর ফলে মধ্য বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকাগুলোতে সাগর ক্রমেই উত্তাল হতে শুরু করেছে।

পরিস্থিতি পর্যালোচনায় বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, দেশের সমুদ্রবন্দরগুলোতে এখনো আনুষ্ঠানিক সতর্কতা জারি না হলেও অচিরেই সংকেত আসার সম্ভাবনা রয়েছে। এ কারণে মাছ ধরার ট্রলার ও নৌকাগুলোকে উপকূল থেকে ১৫০ কিলোমিটারের বেশি দূরে অর্থাৎ গভীর সাগরে না যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত জেলেদের উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে নৌযান পরিচালনা করতে বলা হয়েছে।

বিডব্লিউওটির তথ্যমতে, সিস্টেমটি আগামী ২৪ থেকে ৩৬ ঘণ্টা দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব দিকে অগ্রসর হয়ে শক্তি সঞ্চয় করবে এবং পরবর্তীতে পশ্চিম দিকে বাঁক নেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। পশ্চিম-মধ্য ও সংলগ্ন দক্ষিণ-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে পৌঁছে এটি নিজের সর্বোচ্চ শক্তিমত্তা প্রদর্শন করতে পারে। তবে বর্তমান গতিপথ পর্যালোচনায় বাংলাদেশের উপকূলে সরাসরি কোনো আঘাত বা বড় ধরনের তাণ্ডবের ঝুঁকি দেখা যাচ্ছে না। ঘূর্ণিঝড়টি আগামী ২৮ অক্টোবরের দিকে ভারতের উত্তর অন্ধ্রপ্রদেশ কিংবা দক্ষিণ উড়িষ্যা উপকূল অতিক্রম করতে পারে।

সরাসরি আঘাত না হানলেও দূরবর্তী পরোক্ষ প্রভাবে ভারতের উপকূলে ভারী বৃষ্টিপাতের পাশাপাশি বাংলাদেশেও দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার শঙ্কা রয়েছে। এর অংশ হিসেবে আগামী ২৭ বা ২৮ অক্টোবর থেকে দেশের ওপর একটি বিস্তৃত ‘বৃষ্টি বলয়’ সক্রিয় হয়ে উঠতে পারে। এই বলয়ের কারণে ১ নভেম্বর পর্যন্ত দেশের সিংহভাগ এলাকায় বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে, যার মধ্যে বরিশাল, খুলনা, ঢাকা, ময়মনসিংহ, রাজশাহী ও রংপুর বিভাগে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ বেশি হতে পারে এবং চট্টগ্রাম ও সিলেটে তা তুলনামূলক কম থাকার আভাস রয়েছে।

বিষয়:

নাস্তা কম দেওয়াকে কেন্দ্র করে অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূকে মারধর, ৯ দিন পর মৃত্যু

টানা নয় দিন হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে অবশেষে হার মানেন তিনি
ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
চট্টগ্রাম ব্যুরো

চট্টগ্রামের পটিয়ায় বাবার বাড়ি থেকে নিয়ে আসা নাস্তার পরিমাণ কম হওয়াকে কেন্দ্র করে শ্বশুরবাড়ির লোকজনের মারধরে আহত সিফাতুন নুর (২২) নামের তিন মাসের এক অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে। টানা নয় দিন হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে অবশেষে হার মানেন তিনি।

শুক্রবার দুপুরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন ওই গৃহবধূ। এ ঘটনায় সিফাতুনের শাশুড়িসহ তিনজনের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন নিহতের পরিবারের সদস্যরা।

পারিবারিক সূত্র জানায়, চন্দনাইশ পৌরসভার বাসিন্দা মো. নুরের কন্যা সিফাতুনের সঙ্গে প্রায় পাঁচ মাস আগে পটিয়ার পূর্ব কুসুমপুরা গ্রামের দুবাইপ্রবাসী মো. তারেকের পারিবারিকভাবে বিয়ে সম্পন্ন হয়। স্বামী প্রবাসে থাকায় সিফাতুন শ্বশুরবাড়িতেই বসবাস করছিলেন। তবে বিয়ের পর থেকেই বিভিন্ন কারণে শ্বশুরবাড়ির লোকজনের মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনের শিকার হচ্ছিলেন তিনি।

স্বজনদের অভিযোগ, গত ১৪ অক্টোবর সন্ধ্যায় সিফাতুনের মা জুহিনুর আক্তার মেয়ের শ্বশুরবাড়িতে হাতে তৈরি খাবার নিয়ে যান। নাস্তার পরিমাণ আশানুরূপ না হওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে কটূক্তি শুরু করেন শ্বশুরবাড়ির লোকজন। একপর্যায়ে কথা-কাটাকাটির জেরে সিফাতুনের শাশুড়ি রিজিয়া বেগম তাঁর মাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন। এ সময় সিফাতুন মাকে রক্ষা করতে এগিয়ে এলে রাশেদা বেগম ও সুমি আক্তার নামের অপর দুই নারী তাঁর চুলের মুঠি ধরে মাটিতে ফেলে উপর্যুপরি মারধর করেন। পরে স্থানীয় বাসিন্দারা এসে তাঁদের উদ্ধার করেন।

ওই রাতেই সিফাতুনের শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক রূপ নিলে তাঁকে দ্রুত চমেক হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং সংকটাপন্ন অবস্থায় আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে দীর্ঘ নয় দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর শুক্রবার তাঁর মৃত্যু ঘটে। নিহতের বাবার দাবি, মারধরের ঘটনা গোপন করে দায় এড়াতে তাঁর মেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন বলে প্রচার চালিয়ে ঘটনাটি ভিন্ন খাতে নেওয়ার চেষ্টা করেছিল অভিযুক্ত পক্ষ।

এ বিষয়ে পটিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জিয়াউল হক জানান, মারধরের ঘটনায় আগেই একটি লিখিত অভিযোগ নথিভুক্ত হয়েছিল এবং চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে। ঘটনাটির প্রকৃত সত্যতা উদঘাটনে তদন্ত চলছে এবং দোষীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা হবে।

বিষয়:

ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে যাত্রীবাহী বাস খাদে পড়ে নিহত ৩, আহত ১৬

ক্সপ্রেসওয়ের ঢাকামুখী লেনে মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলার হাঁসাড়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে
ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ২৪ অক্টোবর, ২০২৬ ১০:৪১
অনলাইন ডেস্ক

ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ের মুন্সীগঞ্জ অংশে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি যাত্রীবাহী বাস সড়ক থেকে ছিটকে খাদে পড়ে অন্তত তিনজনের প্রাণহানি ঘটেছে। এ দুর্ঘটনায় বাসে থাকা আরও ১৬ জন যাত্রী আহত হয়েছেন।

শুক্রবার দিবাগত রাত আনুমানিক ৩টা ১৮ মিনিটের দিকে এক্সপ্রেসওয়ের ঢাকামুখী লেনে মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলার হাঁসাড়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতদের মধ্যে তাৎক্ষণিকভাবে একজনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তিনি চুয়াডাঙ্গা জেলার বাসিন্দা রুকুনুজ্জামান রঞ্জু (৫৫)। বাকি দুজনের নাম-পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। দুর্ঘটনাস্থল থেকে মরদেহগুলো উদ্ধার করে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার জন্য হাইওয়ে পুলিশের হেফাজতে হস্তান্তর করা হয়েছে।

দুর্ঘটনায় আহত ১৬ জনের মধ্যে রয়েছেন হৃদয়, শাহিন আক্তার, নূর ইসলাম, ইমরান, গিলবাড সরকার, তরিকুল ইসলাম, সাইফুল ইসলাম, মিরাজুল ইসলাম, রফিকুল ইসলাম, অনিফিন, সন্দীপন বসু, ইকরাম, রায়হান, হাসিব, তিশা ও বোরহান উদ্দিন। আহতরা প্রধানত চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর, ঝিনাইদহ, ঢাকা ও মাগুরা জেলার বাসিন্দা।

মুন্সীগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপসহকারী পরিচালক মুহাম্মদ সফিকুল ইসলাম জানান, চুয়াডাঙ্গা থেকে ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে আসা দর্শনা পরিবহনের একটি নৈশকোচ বেপরোয়া গতিতে একটি কাভার্ড ভ্যানকে ওভারটেক করার চেষ্টা করছিল। এ সময় চালক নিয়ন্ত্রণ হারালে বাসটি এক্সপ্রেসওয়ের রেলিং ভেঙে সার্ভিস লেন অতিক্রম করে পাশের পানিভর্তি খাদে আছড়ে পড়ে।

দুর্ঘটনার খবর পেয়ে শ্রীনগর ফায়ার স্টেশনের দুটি উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযান শুরু করে। উদ্ধারকারীরা আশঙ্কাজনক অবস্থায় ১১ জনকে উদ্ধার করে ফায়ার সার্ভিসের অ্যাম্বুলেন্সে স্থানীয় শ্রীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসার জন্য পাঠান এবং অপর পাঁচজনকে প্রাথমিক সেবা দেওয়া হয়।


ডেঙ্গু আক্রান্তে বেশি পুরুষ, মৃত্যুতে নারী   

* আরও প্রাণহানি তিনজনের,  মোট ৩৭১ * চিকিৎসা নিতে দেরি বাড়াতে পারে জটিলতা * গর্ভাবস্থায় ডেঙ্গুতে মা ও শিশুর ঝুঁকি বেশি * মৃত্যু কমাতে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ
ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আক্রান্ত ও মৃত্যুর পরিসংখ্যানে নারী-পুরুষের মধ্যে একটি উল্লেখযোগ্য পার্থক্য দেখা যাচ্ছে। হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের বড় অংশ পুরুষ হলেও মৃত্যুর হিসাবে নারীর সংখ্যা বেশি বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের লিঙ্গভিত্তিক তথ্য। বিশেষজ্ঞদের মতে, নারীদের অসুস্থতাকে গুরুত্ব না দেওয়া, চিকিৎসা নিতে বিলম্ব, আর্থিক সংকট এবং স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে সামাজিক বাধা এ পরিস্থিতির পেছনে ভূমিকা রাখতে পারে। গর্ভাবস্থায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হলে মা ও অনাগত শিশুর জন্যও বাড়তি জটিলতার আশঙ্কা থাকে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের মধ্যে পুরুষের হার ৬২ দশমিক ১ শতাংশ এবং নারীর হার ৩৭ দশমিক ৯ শতাংশ। অন্যদিকে, মৃতদের মধ্যে নারীর সংখ্যা পুরুষের তুলনায় বেশি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত প্রতিবেদনে বলা হয়, ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে আরও তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। আর নতুন করে ১ হাজার ২৯৯ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এ নিয়ে চলতি বছরে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৭১। আক্রান্ত ও মৃত্যুর এই চিত্র ডেঙ্গু প্রতিরোধের পাশাপাশি দ্রুত রোগ শনাক্ত এবং সময়মতো চিকিৎসা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরছে।

বয়সভেদে আক্রান্ত ও মৃত্যুর চিত্র: স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বয়সভিত্তিক তথ্য বিশ্লেষণে ২৬ থেকে ৫০ বছর বয়সিদের মধ্যে আক্রান্তের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য। এ বয়সসীমার বিভিন্ন শ্রেণির তথ্য যোগ করে আক্রান্তের সংখ্যা পাওয়া যায় ৫২ হাজার ৫৩১। তাদের মধ্যে পুরুষ ৩১ হাজার ৮২৭ জন এবং নারী ২০ হাজার ৭০৪ জন। একই বয়সসীমায় মৃত্যুর হিসাবেও নারীর সংখ্যা বেশি। প্রদত্ত তথ্য অনুযায়ী, এ বয়সি মৃতদের মধ্যে পুরুষ ৭৫ জন এবং নারী ৯৮ জন। অর্থাৎ, এই বয়সসীমায় নথিভুক্ত মৃত্যুর প্রায় ৫৬ দশমিক ৬ শতাংশ নারী।

চিকিৎসা নিতে দেরি বাড়াতে পারে জটিলতা: বিশিষ্ট রোগতত্ত্ববিদ অধ্যাপক ডা. মুশতাক হোসেনের মতে, ডেঙ্গুতে নারীদের মৃত্যুর পেছনে সামাজিক বৈষম্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। পরিবারের পুরুষ সদস্যদের তুলনায় অনেক নারী নিজেদের অসুস্থতাকে কম গুরুত্ব দেন। একই সঙ্গে পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকেও তারা সব সময় প্রয়োজনীয় যত্ন ও চিকিৎসার বিষয়ে যথেষ্ট গুরুত্ব পান না।

বিশেষ করে আর্থিকভাবে পিছিয়ে থাকা পরিবারের নারীদের ক্ষেত্রে চিকিৎসার খরচ, সংসারের দায়িত্ব এবং শিশুদের দেখাশোনার বিষয়টি চিকিৎসা নেওয়ার সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করতে পারে। ফলে জ্বর বা অসুস্থতার লক্ষণ দেখা দেওয়ার পরও তারা চিকিৎসকের কাছে যেতে দেরি করতে পারেন।

ডেঙ্গুতে রোগীর অবস্থা কখনো কখনো দ্রুত জটিল হয়ে উঠতে পারে। তাই জ্বর হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া এবং রোগের সতর্কসংকেত দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে যাওয়া জরুরি। চিকিৎসা নিতে দেরি হলে রোগীর প্রয়োজনীয় পর্যবেক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা শুরু করতেও বিলম্ব হতে পারে।

তবে নারীদের বেশি মৃত্যুর পেছনে চিকিৎসা নিতে দেরিই একমাত্র কারণ, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর মতো পর্যাপ্ত তথ্য নেই। এ বিষয়ে নির্ভরযোগ্য সিদ্ধান্তের জন্য লিঙ্গভিত্তিক মৃত্যুহার, রোগীর শারীরিক অবস্থা, হাসপাতালে পৌঁছানোর সময় এবং চিকিৎসার তথ্য বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন।

রাজধানীর মাতুয়াইলের মা ও শিশু ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ডা. তাহমিনা ডেইজি বলেন, গর্ভাবস্থায় ডেঙ্গু হলে মা ও শিশু উভয়েরই গুরুতর জটিলতার ঝুঁকি থাকতে পারে। এ সময় রোগীর শারীরিক অবস্থা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ এবং প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসা নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ।

ডেঙ্গুতে রক্তের অণুচক্রিকা কমে যাওয়া, রক্তক্ষরণ ও যকৃতের জটিলতার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। গর্ভাবস্থায় সংক্রমণ হলে মায়ের অবস্থার পাশাপাশি গর্ভের শিশুর সুস্থতার বিষয়টিও বিবেচনায় রাখতে হয়। কিছু ক্ষেত্রে গর্ভপাত, সময়ের আগে সন্তান জন্ম নেওয়া কিংবা নবজাতকের কম ওজনের ঝুঁকি বাড়তে পারে। তবে ডেঙ্গু আক্রান্ত সব গর্ভবতী নারীর ক্ষেত্রে এসব জটিলতা দেখা দেয় না। রোগের তীব্রতা, মায়ের সামগ্রিক স্বাস্থ্য এবং সময়মতো উপযুক্ত চিকিৎসা পাওয়ার ওপর পরিস্থিতি নির্ভর করে।

চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ সেবন না করে জ্বর দেখা দিলে দ্রুত স্বাস্থ্যসেবা নেওয়া প্রয়োজন। গর্ভবতী নারীর ডেঙ্গু শনাক্ত হলে চিকিৎসকের নির্দেশনা অনুযায়ী মা ও শিশুর অবস্থা পর্যবেক্ষণ করতে হবে।

নারীদের পুষ্টির ঘাটতি ও রক্তস্বল্পতার বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে দেখার পরামর্শ দিয়েছেন ডা. তাহমিনা ডেইজি। তার মতে, নারীরা অনেক সময় সংসারের দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে নিজেদের অসুস্থতাকে উপেক্ষা করেন। পরিবার থেকেও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা না পেলে চিকিৎসা নেওয়া আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে।

তবে পুষ্টির ঘাটতি বা রক্তস্বল্পতাকে ডেঙ্গুতে নারীদের বেশি মৃত্যুর সরাসরি কারণ হিসেবে চিহ্নিত করার আগে নির্দিষ্ট গবেষণা ও রোগীর তথ্য প্রয়োজন। রোগীর বয়স, পূর্ববর্তী শারীরিক অবস্থা, ডেঙ্গুর তীব্রতা এবং চিকিৎসা পাওয়ার সময়সহ একাধিক বিষয় মৃত্যুঝুঁকিকে প্রভাবিত করতে পারে। এ কারণে ডেঙ্গু মোকাবিলায় নারীস্বাস্থ্যের বিশেষ প্রয়োজনগুলো বিবেচনায় রাখার পাশাপাশি সবার জন্য সমানভাবে মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করা জরুরি।

ডা. মুশতাক হোসেনের মতে, ডেঙ্গুতে মৃত্যু কমাতে দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর চিকিৎসাসেবা পাওয়ার সুযোগ বাড়াতে হবে। ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা ও সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর মধ্যে দ্রুত রোগ শনাক্ত, পরীক্ষা এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ।

চিকিৎসার ব্যয়ের পাশাপাশি পরিবারের শিশুদের দেখাশোনা ও দৈনন্দিন জীবনের দায়িত্ব অনেক সময় রোগীকে হাসপাতালে যেতে নিরুৎসাহিত করতে পারে। তাই স্বাস্থ্যসেবার ব্যয় কমানো, দরিদ্র পরিবারের জন্য সহায়তা এবং স্থানীয় পর্যায়ে সচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদার করা প্রয়োজন।

ডা. তাহমিনা ডেইজি মনে করেন, নারীদের ডেঙ্গু বিষয়ে সচেতন করতে পরিবারের পুরুষ সদস্যদেরও যুক্ত করা জরুরি। জ্বরকে অবহেলা না করা, প্রয়োজনীয় বিশ্রাম ও যত্ন নিশ্চিত করা এবং সময়মতো চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার বিষয়ে পরিবারকে সচেতন হতে হবে।

পাড়া-মহল্লায় প্রচার, স্বাস্থ্যকেন্দ্রে পরামর্শ এবং সহজবোধ্য তথ্যের মাধ্যমে ডেঙ্গুর লক্ষণ ও সতর্কসংকেত সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানো যেতে পারে। পাশাপাশি মশার প্রজননস্থল ধ্বংস, জমে থাকা পানি অপসারণ এবং পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার কার্যক্রমও নিয়মিত চালাতে হবে।

ডেঙ্গুতে আক্রান্তের সংখ্যা বেশি হওয়া এবং মৃত্যুর সংখ্যা বেশি হওয়ার মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। তাই শুধু আক্রান্তের হিসাব নয়, কারা বেশি জটিলতায় পড়ছেন, কারা দেরিতে চিকিৎসা পাচ্ছেন এবং কোন বাধাগুলো তাদের স্বাস্থ্যসেবার বাইরে রাখছে, সেসব বিষয়ও গুরুত্বের সঙ্গে বিশ্লেষণ করতে হবে।

নারীদের অসুস্থতাকে গুরুত্ব দেওয়া, আর্থিক ও সামাজিক বাধা কমানো এবং সময়মতো চিকিৎসা নিশ্চিত করা গেলে ডেঙ্গুজনিত জটিলতা মোকাবিলায় ইতিবাচক অগ্রগতি সম্ভব। একই সঙ্গে নির্ভুল ও হালনাগাদ পরিসংখ্যানের ভিত্তিতে কার্যকর স্বাস্থ্যনীতি গ্রহণ করতে হবে, যাতে নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সবাই প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পান।


শীতের আগাম সবজির সরবরাহ বাড়লেও দাম চড়া, ঊর্ধ্বমুখী মাছের বাজার

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক 

রাজধানীর বাজারে আসতে শুরু করেছে আগাম শীতকালীন সবজি। পাড়া-মহল্লার কাঁচাবাজার থেকে শুরু করে সড়কের পাশের ভ্যানেও মিলছে ফুলকপি, বাঁধাকপি, শিমসহ নানা ধরনের সবজি। তবে সরবরাহ বাড়তে শুরু করলেও অধিকাংশ সবজির দাম এখনো সাধারণ ক্রেতাদের নাগালের বাইরে। এর সঙ্গে মাছ ও ডিমের চড়া দাম এবং আদা-রসুনের মূল্যবৃদ্ধি সংসারের ব্যয় আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে। বিপরীতে টানা ছুটিতে ঢাকার বাইরে মানুষের যাতায়াত বাড়ায় চাহিদা কমেছে মুরগির, ফলে কিছুটা কমেছে এর দাম। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) রাজধানীর রামপুরা, মালিবাগ, কারওয়ান বাজার ও মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেট ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।

বাজারে প্রতি কেজি বেগুন বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ১১০ টাকায়। করলা, কাঁকরোল, বরবটি ও শসার দাম কেজিপ্রতি ৮০ থেকে ১০০ টাকা। টমেটো বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১২০ টাকা এবং শিম ১২০ থেকে ১৫০ টাকায়। পটোল ও ঢেঁড়সের কেজি ৬০ থেকে ৮০ টাকা, চিচিঙ্গা ৬০ থেকে ৭০, ঝিঙা ৭০ থেকে ৮০ এবং মুলা ৫০ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া প্রতি কেজি মিষ্টিকুমড়া ৪০ থেকে ৫০ টাকা, কচুরমুখী ৫০ থেকে ৬০ টাকা এবং কাঁচামরিচ মান ও বাজারভেদে ১০০ থেকে ১৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। প্রতিটি লাউয়ের দাম ৬০ থেকে ৭০ টাকা।

এদিকে বাজারে উঠতে শুরু করেছে আগাম জাতের ফুলকপি ও বাঁধাকপি। আকারে ছোট এসব সবজির প্রতিটি বিক্রি হচ্ছে ৩০ থেকে ৫০ টাকায়। আলুর দাম কেজিপ্রতি ২৫ থেকে ৩০ টাকায় স্থিতিশীল রয়েছে। তুলনামূলক কম দামে পাওয়া যাচ্ছে কাঁচা পেঁপে, যার কেজি ৩০ টাকা।

কারওয়ান বাজারের সবজি বিক্রেতা মো. শাহজাহান বলেন, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল থেকে আগাম জাতের বিভিন্ন সবজি বাজারে আসছে। মৌসুমের শুরুতে এসব সবজির দাম কিছুটা বেশি থাকে। এ সময় কৃষকেরাও তুলনামূলক ভালো দাম পান। শীতকালীন সবজির পূর্ণ মৌসুম শুরু হলে সরবরাহ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দাম কমে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সবজির বাজারে স্বস্তি না ফিরলেও মুরগির দামে সামান্য কমতি দেখা গেছে। গত সপ্তাহে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ১৮০ থেকে ১৯০ টাকায় বিক্রি হলেও গতকাল দাম ছিল ১৮০ টাকা। সোনালি মুরগির কেজি ৩৩০ থেকে ৩৪০ টাকা, যা আগের সপ্তাহে ছিল ৩৪০ থেকে ৩৫০ টাকা।

কারওয়ান বাজারের মুরগি বিক্রেতা মানিক জানান, সরবরাহ ও চাহিদার ওপর মুরগির দাম নির্ভর করে। টানা ছুটিতে অনেক মানুষ ঢাকা ছেড়ে যাওয়ায় এ সপ্তাহে বিক্রি কিছুটা কমেছে। চাহিদা কমার প্রভাব পড়েছে বাজারদরেও।

মুরগির দামে সামান্য স্বস্তি এলেও মাছের বাজারে তার প্রতিফলন নেই। বরং আগের সপ্তাহের তুলনায় বিভিন্ন ধরনের মাছের দাম কেজিপ্রতি ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।

বাজারে এক থেকে দেড় কেজি ওজনের রুই মাছ বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ৩৩০ থেকে ৩৬০ টাকায়। পাবদা মাছের দাম ৩৫০ থেকে ৩৮০ টাকা, ছোট কাঁচকি ৩৮০ থেকে ৪০০ টাকা এবং টেংরা ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা। চাষের কৈ বিক্রি হচ্ছে ২৫০ থেকে ২৮০ টাকায়। এ ছাড়া তেলাপিয়া মাছের কেজি ২২০ থেকে ২৪০ টাকা, চাষের পাঙাশ ২০০ থেকে ২৩০ টাকা এবং সরপুঁটি ২২০ থেকে ২৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মাছের এমন দামে সীমিত আয়ের পরিবারগুলোর খাদ্যব্যয় সামলানো কঠিন হয়ে পড়ছে।

ডিমের বাজারেও ক্রেতাদের স্বস্তি নেই। প্রতি হালি ফার্মের মুরগির ডিম কিনতে ৫০ থেকে ৫৫ টাকা গুনতে হচ্ছে। সে হিসাবে এক ডজন ডিমের দাম পড়ছে প্রায় ১৫০ টাকা।

অন্যদিকে রাজধানীর বাজারে বেড়েছে আদা ও রসুনের দাম। দেশি ও আমদানি করা—দুই ধরনের রসুনের দামই কেজিতে ১০ টাকা বেড়েছে। একই পরিমাণ বেড়েছে আমদানি করা আদার দামও। ফলে রান্নার প্রয়োজনীয় এসব পণ্য কিনতেও ক্রেতাদের বাড়তি অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে।

নিত্যপণ্যের উচ্চমূল্য নিয়ে অসন্তোষ জানিয়েছেন ক্রেতারা। কারওয়ান বাজারে কেনাকাটা করতে আসা সুমন হোসেন বলেন, শীতকালীন সবজির সরবরাহ বাড়তে শুরু করেছে। বাজারে বিভিন্ন ধরনের শাকসবজিও পাওয়া যাচ্ছে। কিন্তু দাম এখনো তুলনামূলক বেশি। প্রায় সব পণ্যের দাম চড়া থাকায় সংসারের খরচ সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।

তিনি বলেন, সবজির দাম কমলে সাধারণ ক্রেতারা কিছুটা স্বস্তি পেতেন।

বাজারের সামগ্রিক চিত্র বলছে, আগাম শীতকালীন সবজির সরবরাহ বাড়লেও তার সুফল এখনো পুরোপুরি পাচ্ছেন না ক্রেতারা। মুরগির দামে সামান্য কমতি থাকলেও মাছ, ডিম ও রান্নার প্রয়োজনীয় পণ্যের উচ্চমূল্য বাজারের ব্যয়বৃদ্ধি অব্যাহত রেখেছে। শীতকালীন সবজির সরবরাহ আরও বাড়লে দাম কমতে পারে—এমন প্রত্যাশা থাকলেও আপাতত নিত্যপণ্যের বাজারে স্বস্তির অপেক্ষায় থাকতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।


ফরিদপুরে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় মা ছেলে সহ ৬ জন নিহত, আহত ৯

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ফরিদপুর প্রতিনিধি

ঢাকা খুলনা মহাসড়কের ফরিদপুরের কানাইপুর তেঁতুলতলা এলাকায় বালু বোঝাই ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি অটোরিকশা ও প্রাইভেট কারের উপরে উল্টা পড়ে। এই ঘটনায় অটোরিকশা চালক ও অটোরিশার যাত্রী মা এবং ছেলের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া মধুখালীর আড়কান্দা নামক স্থানে বাস- অ্যাম্বুলেন্সের মুখোমুখি সংঘর্ষে ৩ অ্যাম্বুলেন্স যাত্রী নিহত হয়েছে। উভয় সড়ক দুর্ঘটনায় ৯ যাত্রী আহত হয়েছে। আহতদের উদ্ধার করে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) দুপুর তিনটার দিকে আধা ঘণ্টার ব্যবধানে পৃথক স্থানে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন, অটো রিকশা যাত্রী চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার পলাশ মিয়ার ছেলে শাওন (৭) ও তার স্ত্রী সুমি বেগম (৩২)। চালক অজ্ঞাত।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, একটি অটোরিকশা কানাইপুর থেকে ফরিদপুর শহরে যাওয়ার পথে কানাইপুরের তেতুলতলা পৌছালে বিপরিত দিক থেকে আসা বালু বোঝা ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের উপর উল্টে পড়ে। এসময় একটি প্রাইভেটকারও ট্রাকের নিচে চাপা পরে। এই ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত দুই যানবাহনের হতাহত যাত্রীদেরকে উদ্ধার করে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক অটো রিকশা যাত্রী মা ও ছেলেকে মৃত ঘোষণা করেন।

এদিকে প্রাইভেট কারের এক যাত্রী ও অটোরিকশার চালক বালুর ট্রাকের নিচে আটকা পড়লে ফায়ার সার্ভিসের ঘণ্টাব্যাপী চেষ্টায় তাদেরকে উদ্ধার করা হয়।

এই ঘটনায় প্রাইভেট কারের চার যাত্রী আহত হয়। ও অটোরিকশায় থাকা পাঁচজনের মধ্যে দুইজন নিহত হয়।

এসময় মহাসড়কের দুই পাশে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়।

ফরিদপুর ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার শ্রীবাস বাড়ৈ, ঘটনা সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে ধারণা করছি। দুর্ঘটনায় প্রাইভেট কারের পাশাপাশি একটি অটোরিকসহ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই ঘটনায় হাসপাতালে নেয়ার পরে মা ও ছেলের মৃত্যু হয়। এছাড়া আরো তিনজন আহত আছে তাদের হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।

এদিকে ফরিদপুরের মধুখালীতে যাত্রীবাহী বাস ও অ্যাম্বুলেন্সের মুখোমুখি সংঘর্ষে অ্যাম্বুলেন্সে থাকা তিন শিক্ষার্থী নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ৪ জন। তাদের উদ্ধার করে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) বিকেল ৩টার দিকে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের উপজেলার আরকান্দী এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

জানা যায়, সাতক্ষীরা থেকে ঢাকা গামী কিং ফিসার নামের যাত্রীবাহি বাসটি আড়কান্দি নামক স্থানে পৌঁছালে ফরিদপুর থেকে মাগুরাগামী অ্যাম্বুলেন্সটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই অ্যাম্বুলেন্সে থাকা তিন জন নিহত হয়। আহত হয় আরো ৪ জন।

আহতদের উদ্ধার করে মধুখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

মধুখালী ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার শামিম রেজা জানান, মাগুরা জেলা থেকে সকালে ফরিদপুরে একটি কর্মশালায় যোগ দিতে আসে ৭ শিক্ষার্থী। কর্মশালা শেষে অ্যাম্বুলেন্সে বাড়ি ফেরার পথে এ দুর্ঘটনা ঘটে। ওই শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের সাথে জড়িত ছিল।


দলীয় বা ব্যক্তি স্বার্থে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ব্যবহার করবে না সরকার: পানিসম্পদমন্ত্রী

লক্ষ্মীপুরে বাজুসের জেলা কমিটির শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

‘দলীয় বা ব্যক্তিগত স্বার্থে কোনোভাবেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সরকার ব্যবহার করবে না বলে জানিয়ে পানিসম্পদমন্ত্রী ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেছেন, দেশের ও জনগণের স্বার্থে এ বাহিনীকে কাজে লাগাতে হবে। নির্বাচিত সরকারের জন্য এটি একটি বড় দায়িত্ব। কারণ জনগণের কাছে সরকারের জবাবদিহিতা রয়েছে।’

শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সন্ধ্যায় লক্ষ্মীপুর টাউন হল মিলনায়তনে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বাজুস) লক্ষ্মীপুর জেলা কমিটির শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

শহীদউদ্দীন এ্যানি বলেন, ‘বিগত ১৭ বছর পুলিশ বিভাগ যেভাবে পরিচালিত হয়েছে, সেভাবেই চলেছে। এখন নির্বাচিত সরকার জনগণের স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পরিচালনা করবে। কোনও ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর স্বার্থে এ বাহিনীকে ব্যবহার করা যাবে না। জনগণের প্রতি সরকারের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।’

বিগত সরকারের সমালোচনা করে পানিসম্পদমন্ত্রী বলেন, ‘সেই সরকারের কোনও জবাবদিহিতা ছিল না। যখন যা ইচ্ছা, যেটা প্রয়োজন মনে হয়েছে, সেটাই করেছে। এতে স্বর্ণ ও অন্য ব্যবসায়ী কিংবা সাধারণ মানুষ কেউই প্রকৃতভাবে উপকৃত হয়নি। এ কারণে ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠায় আন্দোলন করতে হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘গণতন্ত্রের ভিত্তি যত শক্তিশালী হবে, ব্যবসা-বাণিজ্য ও ব্যবসায়ীদের অবস্থান তত বেশি সুদৃঢ় হবে। শুধু সরকার দেশপ্রেমিক হলে চলবে না, দেশের সবাইকে দেশপ্রেমিক ও দায়িত্বশীল হতে হবে। স্বর্ণ ব্যবসায়ীরা দেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি কর্মসংস্থান সৃষ্টিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন।’

ব্যবসা-বাণিজ্যের উন্নয়নে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, ‘দেশের প্রতিটি ব্যবসা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর নির্ভরশীল। তাই ব্যবসার পরিবেশ বজায় রাখতে আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখার বিষয়ে সবাইকে সতর্ক ও দায়িত্বশীল হতে হবে।’

বাজুসের কেন্দ্রীয় কমিটির প্রেসিডেন্ট এনামুল হক খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সঞ্চালনা করেন- বাজুস লক্ষ্মীপুর জেলা কমিটির চেয়ারম্যান সমীর কর্মকার।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- বাজুসের স্ট্যান্ডিং কমিটি অন ডিস্ট্রিক্ট মনিটরিংয়ের ভাইস প্রেসিডেন্ট আজাদ আহমেদ, বাজুস ইনস্টিটিউটের চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন, বাজুসের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ডা. দেওয়ান আমিনুল ইসলাম শাহীন এবং বাজুস নির্বাচন বোর্ডের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান মানিক।

এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন জেলা হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি শংকর মজুমদার, জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি স্বপন চন্দ্র নাথ, সাধারণ সম্পাদক শিমুল সাহাসহ বাজুসের নেতারা।


কালীগঞ্জে সড়কে ঝরল বিএনপি নেতা ও এসআইয়ের প্রাণ

ছীব: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কালীগঞ্জ (গাজীপুর) প্রতিনিধি

গাজীপুরের কালীগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুল ইসলাম (৪৮) নামের এক বিএনপি নেতা ও পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) মো. মিজানুর রহমান নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় পুলিশের আরও এক এসআই ও গাড়িচালক কনস্টেবল গুরুতর আহত হয়েছেন। তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। দুর্ঘটনার পর ঘাতক গাড়িটি পালিয়ে যায়। গাড়িটি শনাক্ত বা এর চালককে আটক করতে পারেনি পুলিশ।

শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) ভোররাতে কালীগঞ্জ পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডে শ্রমিক কলেজসংলগ্ন সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে। রফিক মোল্লা পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক এবং তুমলিয়ার মৃত ওয়াজ উদ্দিনের ছেলে। আহতরা হলেন এসআই জাবেদ ওমর ও পুলিশের গাড়িচালক কনস্টেবল মো. রাব্বি।

জানা যায়, তুমলিয়া এলাকার ওহিদ মোল্লা নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের একটি দল অভিযান চালায়। তাকে আটক করে থানায় ফেরার পথে শ্রমিক কলেজসংলগ্ন সড়কে পৌঁছায় দলটি। সেখানে অবস্থানরত স্থানীয় বিএনপি নেতা রফিক মোল্লার সঙ্গে এসআই মিজানুর রহমানসহ অন্য পুলিশ সদস্যরা কথা বলছিলেন।

এ সময় দ্রুতগতির একটি অজ্ঞাতনামা গাড়ি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা ব্যক্তিদের চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই বিএনপি নেতা রফিক মোল্লার মৃত্যু হয়। গুরুতর আহত হন পুলিশের তিন সদস্যের মধ্যে দুজন এসআই মিজানুর রহমান ও এসআই জাবেদ ওমর এবং গাড়িচালক কনস্টেবল রাব্বি। তাদের উদ্ধার করে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় এসআই মিজানুর রহমান মারা যান।

এদিকে, পুলিশের হাতে আটক হওয়া ওহিদ মোল্লা দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান বলে জানা গেছে। আহত অপর দুইজনের শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

কালীগঞ্জ থানার ওসি মো. জাকির হোসেন জানান, ঘাতক গাড়িটি শনাক্ত করা বা এর সঙ্গে জড়িত কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। মৃত্যুর ঘটনা ঘটায় এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।


দুর্নীতি-অনিয়ম দূর করতে শিক্ষকদের ভূমিকা জরুরি: এমপি মিলন

বিদ্যালয়ের শতবার্ষিকী উদযাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শফিকুল হক মিলন। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
রাজশাহী প্রতিনিধি

সমাজে ফাঁকি দেওয়া ও দুর্নীতির যে প্রবণতা তৈরি হয়েছে, তা থেকে জাতিকে মুক্ত করতে শিক্ষকদেরই প্রধান ভূমিকা পালন করতে হবে। আগামী প্রজন্মকে সঠিকভাবে শিক্ষিত করার দায়িত্ব শিক্ষকদের নিতে হবে বলে জানিয়েছেন এমপি মিলন। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) দুপুরে মোহনপুরের লালইচ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শতবার্ষিকী উদযাপন-২০২৬ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে পবা-মোহনপুরের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শফিকুল হক মিলন এসব কথা বলেন।

বর্তমান সরকারের শিক্ষা কার্যক্রমের কথা উল্লেখ করে এমপি মিলন বলেন, সরকার একটি চাহিদা ও জ্ঞানভিত্তিক কারিগরি শিক্ষা ব্যবস্থা চালু করেছে। শিক্ষার্থীদের বহুমুখী শিক্ষার ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, বাংলা ও ইংরেজির পাশাপাশি নিজস্ব ধর্মের চর্চাও জরুরি। ধর্মীয় অনুশাসন ছাড়া কোনো শিশু ভালোভাবে বেড়ে উঠতে পারে না, তাই মুসলমানদের পাশাপাশি অন্যান্য ধর্মের শিশুরাও যেন নিজ নিজ ধর্ম পালন করতে পারে সেই ব্যবস্থা থাকতে হবে। এছাড়া শিশুদের মেধা বিকাশে খেলাধুলা, গান-বাজনা ও কবিতা আবৃত্তির সুযোগ সৃষ্টির ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট টেনে এমপি বলেন, আমাদের দেশ ভৌগলিকভাবে সমৃদ্ধ এবং এর মাটিকে 'সোনা' বলা হলেও ঔপনিবেশিক শক্তিগুলো এই সম্পদকে লুট করে নিজেদের কাজে ব্যবহার করেছে। এই অবস্থা থেকে দেশকে সত্যিকারের ‘সোনার বাংলা’য় রূপান্তর করতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

এছাড়াও অনুষ্ঠানে প্রাক্তন শিক্ষার্থী ও আগত অতিথিদের হাতে ক্রেস তুলে দিয়ে সম্মানিত করা হয়। অনুষ্ঠানের জুম্মার নামাজ শেষে মধ্যাহ্নভোজ পর অনুষ্ঠিত হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

লালইচ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থীবৃন্দ আয়োজিত এবং শতবর্ষিকী উদযাপন কার্যনির্বাহী কমিটির আহ্বায়ক খলিলুর রহমান শেখের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সদস্য অধ্যাপক আব্দুস সামাদ, কেশরহাট পৌর বিএনপির সভাপতি আলাউদ্দিন আলো, সাধারণ সম্পাদক মশিউর রহমান, মোহনপুর উপজেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক কাজিম উদ্দিন সরকার ও আব্দুল কাদের মোল্লা, মোহনপুর উপজেলা কৃষক দলের সভাপতি গোলাম মোস্তফা বাবলু, মোহনপুর থানা অফিসার ইনচার্জ মিজানুর রহমান।


banner close