শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
২০ ভাদ্র ১৪৩৩

এত গ্রেপ্তারের পরও কেন নির্মূল হচ্ছে না আরসা?

ছবি: সংগৃহীত
রহমত উল্লাহ, টেকনাফ (কক্সবাজার)
প্রকাশিত
রহমত উল্লাহ, টেকনাফ (কক্সবাজার)
প্রকাশিত : ১২ জুন, ২০২৪ ১৬:২৬

মিয়ানমারের চরমপন্থি সশস্ত্র সংগঠন আরসার আগের নাম ছিল আল ইয়াকিন বা ইসলামি সংগঠন। রোহিঙ্গা মুসলমানদের নিয়ে কাজ করাই ছিল তাদের উদ্দেশ্য। ২০১৩ সালের দিকে সংগঠনের নাম পাল্টে রাখা হয় আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মি বা আরসা, যদিও দলের একাংশ এখনো আল ইয়াকিন নামেই পুরোনো সংগঠনকে আকড়ে ধরে আছে। আতাউল্লাহ আবু আম্মার জুনুনি সেসময়ে হন স্যালভেশন আর্মির (আরসা) কমান্ডার ইন চিফ। এই আতাউল্লাহর জন্ম সৌদি আরবে, তার বাবা-মা আরাকান থেকে গিয়ে সৌদি আরবে স্থায়ী হন। কিন্তু জন্ম সৌদি আরবে হলেও আতাউল্লাহ পরে পাকিস্তানের করাচিতে এসে বসবাস করতেন।

রোহিঙ্গাদের অধিকার আদায় করতে ঠিক কবে মিয়ানমারে তিনি ফিরে আসেন, তা জানা যায় না। তবে তা ২০১৩ সালের আগেই অর্থাৎ আল ইয়াকিন থেকে আরসার যাত্রা শুরুর আগেই হয়েছে, তা নিশ্চিত। সংগঠনটি সশস্ত্র হয়ে উঠেছে, তা প্রথম বোঝা যায় ২০১৫-১৬ সালের দিকে। লক্ষ্য ছিল, মিয়ানমারের মুসলিম অধ্যুষিত আরাকান প্রদেশ দখল। ২০১৭ সালের মাঝামাঝি মিয়ানমারের থানায় হামলা, পুলিশের অস্ত্র লুটের ঘটনার পর সংগঠনটির বিরুদ্ধে প্রথম মনোযোগ দেয় মিয়ানমার সেনাবাহিনী। তবে ওই বছরেই আগস্টে তার নির্দেশে রাখাইনে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর তল্লাশি চৌকিতে আরকান দখল ও অস্ত্র লুট করার জন্য আবার হামলা চালায় আরসা। এ ঘটনায় ভীষণ ক্ষুব্ধ সেনাবাহিনী আরসা নির্মূলের উদ্দেশে আরকান প্রদেশে হামলা শুরু করে। তখন উত্তপ্ত হয়ে পড়ে মিয়ানমারে মুসলমানদের গ্রামগুলোর পরিস্থিতি। ওই দেশের সেনাবাহিনী ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট রাখাইনে চড়াও হয়ে অভিযান ও রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতন, হামলা ও গণধর্ষণের ঘটনা শুরুর পর নিজ দেশ ছেড়ে বাংলাদেশে পালিয়ে আসে প্রায় ১০ লাখ রোহিঙ্গা। সম্পূর্ণ মানবিক কারণে তাদের তখন আশ্রয় দেয় বাংলাদেশ সরকার। আর বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে আরসার সদস্যদের সম্পর্কে তথ্য না থাকার সুযোগে এসব রোহিঙ্গার সঙ্গে আশ্রয়প্রার্থী হিসেবে বাংলাদেশে চলে আসে আরসার কিছু সদস্য আর সমর্থকও।

উদ্দেশ্য তাদের মিয়ানমার সেনাবাহিনীর সঙ্গে লড়াই করা হলেও অস্ত্র তৈরি ও সংগ্রহ, বাহিনীর জন্য সদস্য সংগ্রহ, সদস্যদের অস্ত্র প্রশিক্ষণ দেওয়া ইত্যাদি কাজে তারা তখন থেকেই গোপনে বাংলাদেশের পাহাড়ি নির্জন এলাকাগুলো ব্যবহার শুরু করে। একই সঙ্গে রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরগুলোতে নিজেদের প্রভাব বাড়াতে তারা সেগুলোতে আধিপত্য বিস্তার শুরু করে। রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবির সর্দার বা মাঝিদের করায়ত্ত করা বা ভয় দেখানো দিয়েই এর শুরু। একই সঙ্গে নিজেদের অর্থভাণ্ডার ঠিক রাখতে মিয়ানমারের সঙ্গে বাংলাদেশের অরক্ষিত সীমান্ত অঞ্চলকে রুট হিসেবে ব্যবহার করে এদেশে মাদক চোরাচালান আরও বাড়িয়ে দেয়।

শুরুতে আরসা সম্পর্কে অন্ধকারে থাকলেও দিনের পর দিন রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরগুলোতে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে পরস্পরের মধ্যে হামলা, গুলি, হত্যার ঘটনা বাড়তে থাকায় এবং বিপুল পরিমাণ মাদকসহ রোহিঙ্গা ও তাদের প্ররোচনায় স্থানীয়দের আটক বা গ্রেপ্তাদের মধ্য দিয়ে এই চরমপন্থি সংগঠন সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পেতে শুরু করে বাংলাদেশের বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। র‌্যাব, এপিবিএন আরসা দমনে কঠোর অভিযান চালাচ্ছে মাঝেমধ্যেই। তার পরও তাদের গোপন তথ্য প্রকাশ হয়ে পড়া এবং বেশির ভাগ রোহিঙ্গা সশস্ত্র যুদ্ধে জড়িত হতে না চাওয়ায় আরসার নেতাসহ সদস্যরা বরাবরই আছে উৎকণ্ঠায়। রোহিঙ্গাদের মধ্যে আরসা ছাড়াও আছে আরও কিছু সশস্ত্র গ্রুপ। তবে তারা পরস্পর যেন পরস্পরের শত্রু। আরাকানে যে বিদ্রোহী সশস্ত্র গ্রুপ আরাকানের স্বাধীনতার জন্য সশস্ত্র লড়াই করে যাচ্ছে, আরাকান আর্মি, ওদের সঙ্গেও এসব গ্রুপের শত্রুতা রয়েছে। আরাকান আর্মি সাধারণভাবে সব আরাকানির জন্যে স্বাধীন আরাকান চায়, কিন্তু আরসাকে ওরা চিহ্নিত করে মুসলিম সন্ত্রাসী গ্রুপ হিসেবে। সব মিলিয়ে অস্থির হয়ে উঠছে রোহিঙ্গা শিবির।

আরসার শীর্ষ নেতা অলি আকিজ দীর্ঘদিন মিয়ানমারে আত্মগোপনে থাকলেও গত ১৯ মে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ফিরেছেন। আরসার শীর্ষ কমান্ডার আতাউল্লাহ আবু আম্মার জুনুনি এবং সেকেন্ড-ইন-কমান্ড ওস্তাদ খালেদের নির্দেশে ক্যাম্পে আধিপত্য বিস্তারের নতুন পরিকল্পনা নিয়ে অপতৎপরতা চালাচ্ছেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সূত্রে জানা যায়, রোহিঙ্গাদের সশস্ত্র গ্রুপ আরসার প্রশিক্ষণ। অস্ত্র তৈরি, আত্মগোপন, মিটিংসহ নানা কর্মকাণ্ড সেখানে সংগঠিত হতো। গত রোববার মধ্যরাতে অভিযান চালিয়ে ক্যাম্প-৪-এ গোপন বৈঠক থেকে আকিজসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, একটি দেশীয় তৈরি এলজি, একটি ওয়ানশুটার গান, ১০ রাউন্ড কার্তুজ, দুই কেজি বিস্ফোরকদ্রব্য, তিনটি মোবাইল এবং নগদ ২ হাজার ৫০০ টাকা জব্দ করা হয়।

র‌্যাব-১৫-এর অধিনায়ক লে. কর্নেল এইচ এম সাজ্জাদ হোসেন বলেন, ‘আমরা এ পর্যন্ত ১১২ জনের ওপরে আরসার ভিন্ন পদবিধারী নেতা গ্রেপ্তার করেছি। গত রোববারের আরসার শীর্ষ নেতা আকিজসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করি। তাদের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

২০১৭ সালে সীমান্ত পার হয়ে ভারত হয়ে বাংলাদেশে এসে ক্যাম্প-৫-এ সপরিবারে বসবাস শুরু করেন মৌলভী আকিজ। পরে আরসার হয়ে কাজ শুরু করেন তিনি। এরপর ক্যাম্প-৫-এ আরসার প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পান। নেটওয়ার্ক গ্রুপে কাজ করতেন। ক্যাম্পের বিভিন্ন তথ্য আরসা কমান্ডারদের কাছে পৌঁছে দিতেন। এভাবে শীর্ষ নেতৃত্বে পৌঁছান। রোহিঙ্গাদের প্রত‍্যাবাসনের পক্ষে কাজ করায় ওস্তাদ খালেদের নির্দেশে রোহিঙ্গা নেতা মাস্টার মহিবুল্লাহকে হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী ছিলেন আকিজ। তা ছাড়া মতাদর্শিক দ্বন্দ্বে ক্যাম্পে সেভেন মার্ডারে সরাসরি অংশ নেন। তাদের নেতা-কর্মী আটক হলে কিছুটা দুর্বল হয়ে যায় কিন্তু আবার সক্রিয় হয়ে ওঠে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বিশাল এই জনগোষ্ঠীতে আরসা, আল-ইয়াকিনসহ অন্তত ১৫টি বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন সক্রিয়। ২০১৭ সাল থেকে এখন পর্যন্ত ছয় বছরে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সংঘর্ষের ঘটনায় প্রায় ৩০০ জন নিহত হয়েছে। মামলা হয়েছে পাঁচ হাজারের অধিক। এসব মামলার বেশির ভাগই হয়েছে মাদক ও আগ্নেয়াস্ত্র রাখার অভিযোগে।

রোহিঙ্গা নেতা ড. জোবায়ের বলেন, আরসা রোহিঙ্গা ক্যাম্প দখল করে রাজত্ব কায়েম করার জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এ পর্যন্ত তাদের দুই শতাধিক নেতা-কর্মী আটক হয়েছেন। আটক করলেও তারা আরও শক্তিশালী হয়ে উঠবে, তার কারণ তাদের রোহিঙ্গা সরকার মদদ দিয়ে যাচ্ছে। প্রত্যাবাসন বন্ধ রাখার জন্য মিয়ানমার সরকার তাদের ব্যবহার করে যাচ্ছে, যে কারণে তারা এতটা শক্তিশালী।

গত রোববার রাতে উখিয়ার মধুরছড়া ৪ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে আরসার শীর্ষ নেতাদের গ্রেপ্তার করে। সে জায়গায় ভোরে ৪০-৪৫ জন আরসা সন্ত্রাসী পাহাড় থেকে সীমানার কাঁটাতারের বেড়া অতিক্রম করে ৪ নম্বর ক্যাম্পে আসে। ঘটনাস্থলে এসে ক্যাম্পে পাহারারত রোহিঙ্গা ইলিয়াছকে তারা গুলি করে ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে হাতে, পায়ে ও তলপেটে কুপিয়ে মারাত্মক জখম করে। এতে ইলিয়াস ঘটনাস্থলেই মারা যান।

১৪ এপিবিএনের অধিনায়ক মোহাম্মদ ইকবাল বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গেলে এপিবিএন সদস্যদেরও লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ করে সন্ত্রাসীরা।

তিনি আরও বলেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে নতুন করে সংগঠিত এবং নাশকতা করার চেষ্টা করছে আরসা। মূলত আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘবদ্ধ হয়ে হামলা চালায় আরসা সন্ত্রাসীরা। এতে তারা গুলি এবং কুপিয়ে তিন রোহিঙ্গাকে হত্যা করে। আর গুরুতর আহত হয় সাতজন। হতাহতরা আরএসও সদস্য বলে জানা গেছে।

রোহিঙ্গা গবেষক অধ্যাপক ড. রাহমান নাসির উদ্দিন দৈনিক বাংলাকে বলেছেন, রোহিঙ্গাদের অধিকার আদায় করতে আরসা ২০১৭ সালের ২৫ আগস্টের দিকে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর তল্লাশি চৌকিতে হামলা চালায়। কিন্তু এটার কারণে নির্যাতনের তীব্রতায় নিজ দেশ ছেড়ে বাংলাদেশে পালিয়ে আসে প্রায় ৮ লাখ রোহিঙ্গা। সে কারণে আরসা রোহিঙ্গাদের প্রতিনিধিত্ব হয়ে উঠতে পারে নাই। বিভিন্ন সময় রোহিঙ্গাদের সঙ্গে কথা বলে জানতে পারি, রোহিঙ্গাদের এ দুর্দশার জন্য আরসা দায়ী। রোহিঙ্গাদের সঙ্গে আরসার একটা বড় গ্রুপ বাংলাদেশে এসেছে। বাংলাদেশে ৩৪টি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে তাদের অবস্থান ধরে রাখার জন্য তারা বিভিন্ন ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে এবং যখন কেউ তাদের বিরুদ্ধে কথা বলার চেষ্টা করেছে তখন তারা তাদের দমন করেছে। এর মধ্যে একজন ছিলেন মুহিব উল্লাহ। মুহিব উল্লাহ যখন রোহিঙ্গাদের নেতা হয়ে ওঠে বিশ্বের কাছে পরিচিত হন এবং আন্তর্জাতিকভাবে রোহিঙ্গাদের জন্য আন্দোলন করেন তখন তাকে নেতা হিসেবে গ্রহণ করে রোহিঙ্গারা। বাংলাদেশ যখন প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরু করে তখন রোহিঙ্গাদের রাজি করানোর জন্য মুহিব উল্লাহ সোর্স ছিল। ধীরে ধীরে মুহিব উল্লাহ প্রধান পাঁচ রোহিঙ্গা নেতার একজন হয়ে ওঠেন। ২০১৯ সালের ২৫ আগস্ট ৩ থেকে ৫ লাখ রোহিঙ্গার মহাসমাবেশ করে তাক লাগিয়ে দেন এবং আনন্দে আত্মহারা করে দেন রোহিঙ্গা ইস্যুতে লেগে থাকা বিদেশি এনজিওগুলোকে। এসব কারণে আরাকান রোহিঙ্গা সোসাইটি ফর পিস অ্যান্ড হিউম্যান রাইটস ভেঙে দেওয়ার জন্য মুহিব উল্লাহকে হত্যা করা হয়। মিয়ানমার সেনাবাহিনীর শত্রু হচ্ছে আরাকান আর্মি। আরাকান আর্মির শত্রু হচ্ছে মিয়ানমার সেনাবাহিনী। আবার মিয়ানমারের শত্রুও আরসা। মিয়ানমার নৌবাহিনী ঘোষণা দিয়ে বলছে আরকান আর্মি ও আরসা মিলে বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে। যেহেতু মিয়ানমার আরাকানে আরকান আর্মি শক্তিশালী হয়ে উঠেছে। সে কারণে আরসা ও শক্তিশালী হয়ে উঠেছে।

দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীগুলোকে সতর্ক করে দিয়ে ড. রাহমান নাসির বলেন, দুই শতাধিক আরসার নেতা-কর্মী গ্রেপ্তার করাতেই আরসা দুর্বল হয়ে পড়েছে এমন যুক্তি হয়তো সঠিক নয়। এই চরমপন্থি দলে আরও অনেক সদস্য ও সমর্থক রয়েছে।

কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. রফিকুল ইসলাম দৈনিক বাংলাকে বলেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বিভিন্ন সন্ত্রাসী গ্রুপ তাদের আধিপত্য বিস্তার করার জন্য এসব সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করে থাকে। আগুন নাশকতা এসব মাঝেমধ্যে বিভিন্ন কারণে হয়ে থাকে। তবে কিছু কিছু ঘটনা আমরা সন্দেহ করি এগুলো নাশকতা। আমরা আরসা বলে কিছু পাইনি। তবে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সন্ত্রাসী গ্রুপ আছে। যারা উগ্রবাদী কর্মকাণ্ডে জড়াবে তাদের বিরুদ্ধে আমাদের সমন্বিত অভিযান অব্যাহত থাকবে।

রোহিঙ্গা ইয়ুথ অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিষ্ঠাতা খিন মং বলেন, রোহিঙ্গাদের অধিকারের জন্য লড়াই করার দাবি করেছিল আরসা। তখন তাদের বিশ্বাস করেছিল রোহিঙ্গারা। কিন্তু এখন সাধারণ রোহিঙ্গারাও মনে করে আরসা মিয়ানমারের এজেন্ট হিসেবে কাজ করছে। যারা প্রত্যাবাসনের কথা বলছেন তাদের হত্যা করা হচ্ছে। তাই আরসার ওপর তাদের আর বিশ্বাস নেই।

বিষয়:

বরযাত্রীর গাড়ি আটকে ‘মিষ্টির টাকা’ দাবি, সংঘর্ষে বরসহ আহত অর্ধশতাধিক

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
রাকিবুল হাসান রোকেল - কিশোরগঞ্জ

কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জে বরযাত্রীর গাড়ি আটকে মিষ্টি খাওয়ার জন্য টাকা দাবি করাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে বরসহ অন্তত অর্ধশতাধিক আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

গতকাল শুক্রবার বিকেল পাঁচটার দিকে উপজেলার বারঘড়িয়া ইউনিয়নের গাবতলী বাজারে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নোয়াবাদ ইউনিয়নের ঝাউতলা এলাকায় কনের বাড়ির উদ্দেশে বরযাত্রী নিয়ে একটি গাড়ি যাচ্ছিল। গাবতলী বাজারে পৌঁছালে ধীতপুর বড়বাড়ি এলাকার কয়েকজন যুবক গাড়ি থামিয়ে মিষ্টির টাকা দাবি করেন বলে অভিযোগ ওঠে। এ নিয়ে বরপক্ষের সঙ্গে তাদের কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে উভয় পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।

সংঘর্ষের সময় ইট-পাটকেল ও ঢিল ছোড়াছুড়িতে বর মো. হানিফ, তার বাবা হবি মিয়াসহ অন্তত ৫০ জন আহত হন। স্থানীয় লোকজন তাদের উদ্ধার করে করিমগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। পরে দুজনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। তবে সংঘর্ষের কারণ নিয়ে দুই পক্ষের ভিন্ন বক্তব্য পাওয়া গেছে।

ধীতপুর বড়বাড়ি এলাকার মোহাম্মদ কাজল বলেন, বরযাত্রীর গাড়ির কারণে বাজারে যানজট সৃষ্টি হয়। পরে একটি অটোরিকশার চালকের সঙ্গে বরপক্ষের কথা-কাটাকাটি হলে তাদের লোকজন ঝগড়া থামাতে গেলে মারামারি বাধে। এতে তাদের পক্ষের ১৫/১৬ জন আহত হয়েছেন।

অন্যদিকে বরপক্ষের হেলাল উদ্দিন বলেন, কাজলের ভাই-ভাতিজারা বরযাত্রীর গাড়ি আটকে মিষ্টির টাকা দাবি করেছিলেন। এ নিয়েই প্রথমে বাগ্‌বিতণ্ডা, পরে সংঘর্ষ হয়। তাদের পক্ষের অন্তত ৩৫ জন আহত হয়েছেন।

করিমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সোহেব খান বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


দাম বাড়লেও কাটছেনা ভোজ্য তেলের সংকট

* ডিম-মুরগি ও মাছ-মাংস চড়া * সবজিতে মিললেও অন্য পণ্যে অস্বস্তি * হিসাব মেলাতে হিমশিম নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষের
ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

একদিকে বাজারে পণ্যের অভাব অন্যদিকে বাড়তি দাম। বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম লিটারে ৫ টাকা বাড়িয়ে ২০৪ টাকা নির্ধারণের পরও রাজধানীর খুচরা বাজারে সংকট কাটেনি। অনেক দোকানে এক লিটারের বোতল মিলছে না; কোথাও আবার পুরোনো দামের তেলও নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে বিক্রির অভিযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে ডিম, মুরগি, মাছ-মাংস, চিনি, আটা ও ময়দার চড়া দামে সংসারের হিসাব মেলাতে হিমশিম খাচ্ছেন নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষ।

শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর রামপুরা, বাড্ডা, সেগুনবাগিচা, শান্তিনগর, কারওয়ান বাজার, মিরপুর, মহাখালী, খিলক্ষেত ও আশপাশের বাজারের চিত্রে এমন অস্বস্তিই উঠে এসেছে। বাজারে সবজির কিছুটা সরবরাহ বাড়ায় কয়েকটি পণ্যের দাম কমলেও নিত্যপণ্যের সামগ্রিক চাপে সেই স্বস্তি যেন চাপা পড়ে গেছে।

দাম বাড়ল, তবু তেলের দেখা নেই: ভোজ্যতেলের বাজারই এখন সবচেয়ে বেশি আলোচনায়। আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবৃদ্ধি ও আমদানি ব্যয়ের কথা বিবেচনায় নিয়ে বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম লিটারে ১৯৯ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০৪ টাকা করা হয়েছে। খোলা সয়াবিন ও পাম তেলের দাম অবশ্য অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। কিন্তু নতুন দাম নির্ধারণের পরও সরবরাহ স্বাভাবিক হয়নি। রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে অধিকাংশ দোকানে এক লিটারের বোতলজাত তেল পাওয়া যাচ্ছে না। দুই ও পাঁচ লিটারের বোতল তুলনামূলকভাবে মিললেও ছোট বোতলের সংকট বেশি।

ব্যবসায়ীদের ভাষ্য, প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে চাহিদা অনুযায়ী তেল সরবরাহ করা হচ্ছে না। একাধিকবার অর্ডার দিয়েও অল্প পরিমাণ পণ্য পাওয়া যাচ্ছে। নতুন দামের তেল বাজারে পর্যাপ্ত না আসায় কোম্পানিগুলোও স্বাভাবিকভাবে অর্ডার নিচ্ছে না বলে অভিযোগ খুচরা ব্যবসায়ীদের।

ফলে ভোক্তার প্রশ্ন—দাম বাড়ানোর পর যদি পণ্যই না মেলে, তাহলে বাজার ব্যবস্থাপনায় সমস্যাটা কোথায়?

ডিম-মুরগিতে বাড়তি চাপ: নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের তুলনামূলক সাশ্রয়ী প্রোটিনের অন্যতম উৎস ডিম। কিন্তু এই পণ্যের দামও দীর্ঘদিন ধরে চড়া। রাজধানীর বাজারে প্রতি ডজন ডিম প্রায় ১৫০ টাকা, অর্থাৎ হালি ৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। কয়েক সপ্তাহ ধরেই এই দামে ডিম বিক্রির খবর পাওয়া যাচ্ছে।

মুরগির বাজারেও স্বস্তি নেই। ব্রয়লার মুরগি বাজারভেদে ১৮০ থেকে ২০০ টাকা কেজি পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। কোথাও ফের কেজিতে ২০০ টাকার ঘরে উঠেছে দাম। সোনালি মুরগির দাম ৩০০ থেকে ৩৪০ টাকা পর্যন্ত। ফলে কম দামে পরিবারের আমিষের চাহিদা মেটানোর সুযোগও সীমিত হয়ে পড়ছে।

মাছ-মাংসও নাগালের বাইরে: মাছের বাজারেও বড় ধরনের পরিবর্তন নেই। তেলাপিয়া ২২০-২৬০ টাকা, পাঙাশ ২৩০–২৫০ টাকা এবং রুই-কাতল ৩৫০–৪২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। চিংড়ির দাম আকার ও মানভেদে ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকা পর্যন্ত। ইলিশের দামও আকারভেদে ২ হাজার টাকার ওপরে উঠেছে।

মাংসের বাজারে গরুর মাংস ৭৫০–৮৫০ টাকা এবং খাসির মাংস ১ হাজার ১৫০–১ হাজার ৩০০ টাকা কেজি পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। ফলে সীমিত আয়ের মানুষের খাবারের তালিকা থেকে মাছ-মাংস বাদ পড়ার ঝুঁকি বাড়ছে।

সবজিতে কিছুটা স্বস্তি, পুরো বাজারে নয়: সবজির বাজারে অবশ্য কিছুটা স্বস্তির খবর আছে। সরবরাহ বাড়ায় পটল, ঢেঁড়স, চিচিঙ্গা, ঝিঙে, পেঁপে, শসাসহ কয়েকটি সবজির দাম কমেছে। পেঁপে ৩০–৪০ টাকা, পটল ও ঢেঁড়স ৫০–৬০ টাকা, শসা ৫০–৬০ টাকা, ঝিঙে ৭০–৮০ টাকা এবং করলা প্রায় ৭০–৮০ টাকা কেজি দরে পাওয়া যাচ্ছে।

তবে সবজির বাজার পুরোপুরি স্বস্তিদায়ক নয়। বেগুন ৮০–১২০ টাকা, টমেটো ১০০–১৫০ টাকা এবং শিম ১৮০–২০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। কাঁচামরিচও মানভেদে ৮০–১৬০ টাকা কেজি। অর্থাৎ কয়েকটি সবজির দাম কমলেও বাজারের বড় অংশে এখনো বাড়তি চাপ রয়েছে।

চিনি-আটা-ময়দাতেও অস্বস্তি: শুধু কাঁচাবাজার নয়, মুদি পণ্যের বাজারেও চাপ বাড়ছে। প্যাকেটজাত আটা প্রতি কেজি প্রায় ৬৫ টাকা, যা কয়েক সপ্তাহ আগের তুলনায় বেশি। খোলা ময়দা ৬৫–৭০ টাকা এবং প্যাকেটজাত ময়দা ৭০–৭৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

চিনির দামও বেড়েছে। খুচরা বাজারে প্রতি কেজি চিনি ১২০–১২৫ টাকা। ব্যবসায়ীদের ভাষ্য, পাইকারি পর্যায়ে দাম বাড়ার প্রভাব খুচরা বাজারে পড়ছে। কিছু বাজারে সরবরাহ কমার কথাও জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

ক্রেতার বাজেটেই সবচেয়ে বড় ধাক্কা: বাজারে এসে ক্রেতাদের অনেকেই বলেন, ‘আয় না বাড়লেও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের পেছনে ব্যয় বাড়ছে। চাল, ডাল, তেল, ডিম, সবজি—সব মিলিয়ে মাসের বাজেট ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে। মাছ-মাংসের দাম বাড়তি থাকায় অনেক পরিবার এসব পণ্য কেনার পরিমাণ কমিয়ে দিচ্ছে।’

অন্যদিকে খুচরা ব্যবসায়ীদের দাবি, পাইকারি বাজার থেকেই বেশি দামে পণ্য কিনতে হচ্ছে। এর সঙ্গে পরিবহন ও অন্যান্য খরচ যোগ হওয়ায় কম দামে বিক্রি করা সম্ভব হচ্ছে না। আবার দাম বেশি হওয়ায় ক্রেতারা কেনাকাটা কমিয়ে দেওয়ায় বিক্রেতাদেরও বিক্রি ও মুনাফা কমছে।

সংকটের মূল জায়গায় নজরদারি: বাজারের এই মিশ্র চিত্র বলছে, শুধু কোনো একটি পণ্যের দাম কমলেই স্বস্তি ফিরবে না। কোথাও সরবরাহ সংকট, কোথাও আমদানি ব্যয়, কোথাও পাইকারি-খুচরা দামের ব্যবধান—সব মিলিয়ে বাজারে এক ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে।

বিশেষ করে সয়াবিন তেলের ক্ষেত্রে দাম সমন্বয়ের পাশাপাশি সরবরাহ নিশ্চিত করা জরুরি। একই সঙ্গে পাইকারি থেকে খুচরা পর্যায়ে মূল্যতালিকা কার্যকর করা, অস্বাভাবিক মুনাফা ও কৃত্রিম সংকটের অভিযোগ তদন্ত করা এবং নিয়মিত বাজার তদারকি বাড়ানোর দাবি ক্রেতাদের। কারণ বাজারে এখন শুধু প্রশ্ন ‘দাম কত?’ নয়—আরও বড় প্রশ্ন, ‘দাম দিয়েও পণ্যটি পাওয়া যাবে তো?’


ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে হচ্ছে এক্সপ্রেসওয়ে

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম 

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে যানজট কমাতে রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থেকে চট্টগ্রাম সিটি গেট পর্যন্ত এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ করা হবে বলে জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সীতাকুণ্ড নাগরিক সমাজের একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে মন্ত্রীর মেহেদীবাগস্থ বাসভবনে সাক্ষাৎ ও মতবিনিময়কালে তিনি এ পরিকল্পনার কথা জানান।

সাক্ষাৎকালে সীতাকুণ্ড নাগরিক সমাজের নেতারা ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের যানজট নিরসনে বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে সীতাকুণ্ডের সমুদ্র উপকূলীয় বেড়িবাঁধের উপর মেরিন ড্রাইভ সড়ক নির্মাণের প্রস্তাব দেন। একই সঙ্গে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের বিশেষ করে সীতাকুণ্ড অংশে বড় দারোগারহাট থেকে ফৌজদারহাট পর্যন্ত এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণের দাবিও তুলে ধরেন তারা।

জবাবে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী সরকারের পক্ষ থেকে যাত্রাবাড়ী থেকে চট্টগ্রাম সিটি গেট পর্যন্ত এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন।

পরে সীতাকুণ্ড নাগরিক সমাজের নেতারা তাদের বিভিন্ন দাবি-দাওয়া সংবলিত একটি স্মারকলিপি মন্ত্রীর কাছে পেশ করেন। এতে চট্টগ্রাম ওয়াসার পানির লাইন সীতাকুণ্ড পর্যন্ত সম্প্রসারণসহ সীতাকুণ্ডের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা ও দাবির বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সহযোগিতা কামনা করা হয়।


কম্বোডিয়ার স্ক্যাম কম্পাউন্ড থেকে ফিরলেন ৩৮ বাংলাদেশি

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

কম্বোডিয়ার বিভিন্ন প্রতারণামূলক সাইবার স্ক্যাম কম্পাউন্ডে আটক থাকা ৩৮ বাংলাদেশি দেশে ফিরেছেন। গত বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে থাই এয়ারওয়েজের ‘টিজি-৩২১’ ফ্লাইটে তারা ঢাকায় পৌঁছান।

দেশে ফেরা এসব বাংলাদেশির মধ্যে পাঁচজন মানবপাচারকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া ও মামলা করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। তাদের অভিযোগ, কম্বোডিয়ায় অবস্থানরত সক্রিয় একটি বাংলাদেশি পাচারকারী চক্র দেশে ফেরার পথে তাদের ভয়ভীতি দেখিয়েছে, বিভিন্নভাবে চাপ প্রয়োগ করেছে এবং দেশে ফেরার প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করেছে।

ফেরত আসা ভুক্তভোগীরা জানান, চাকরির প্রলোভনসহ বিভিন্নভাবে তাদের কম্বোডিয়ায় নেওয়া হয়। সেখানে পৌঁছার পর তাদের বিভিন্ন সাইবার স্ক্যাম কম্পাউন্ডে জোরপূর্বক আটকে রাখা হতো। পরে অনৈতিক ও প্রতারণামূলক সাইবার কর্মকাণ্ডে যুক্ত হতে বাধ্য করা হতো। এতে রাজি না হলে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তারা।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, কম্বোডিয়ায় অবস্থানরত একশ্রেণির বাংলাদেশি পাচারকারী দেশে ফেরার উদ্যোগ নেওয়ার পর তাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করে। এমনকি দেশে ফেরার প্রক্রিয়া ঠেকাতে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও নানা ধরনের হুমকি দেওয়া হয়।

এ কারণে দেশে ফিরে তারা সংশ্লিষ্ট পাচারকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। পাঁচজন ভুক্তভোগী সরাসরি মামলা করার আগ্রহের কথাও জানিয়েছেন।

দেশে ফেরার পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি তাদের প্রয়োজনীয় মানসিক পুনর্বাসন ও আইনি সহায়তা দেওয়া হবে।

একই সঙ্গে ভুক্তভোগীদের অভিযোগ যাচাই করে মানবপাচার ও সাইবার প্রতারণার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করা হবে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ভুক্তভোগীদের বর্ণনায় কম্বোডিয়ায় বাংলাদেশিদের একটি অংশকে জোরপূর্বক সাইবার প্রতারণায় যুক্ত করার অভিযোগ সামনে এসেছে। তাদের দেশে ফেরার পথে পাচারকারীদের বাধা ও হুমকির অভিযোগ বিষয়টিকে আরও গুরুতর করে তুলেছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, শুধু ভুক্তভোগীদের উদ্ধার ও দেশে ফেরানোই নয়, তাদের কম্বোডিয়ায় পাচারের সঙ্গে জড়িত দেশি-বিদেশি চক্র শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা জরুরি।


দাপ্তরিক গতিশীলতা ও স্বচ্ছতা বৃদ্ধিতে বিএসএফআইসির প্রশিক্ষণ কর্মশালা

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

প্রশাসনিক দক্ষতা বৃদ্ধি, আইনগত বিষয়াদি সঠিক পরিচালন এবং সরকারি বিধিবিধান পালনে কর্মকর্তাদের সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশন (বিএসএফআইসি)-এর উদ্যোগে ‘মামলা পরিচালনা, বার্ষিক গোপনীয় অনুবেদন (এসিআর) লিখন, সরকারি কর্মচারী আচরণ বিধিমালা, সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা ২০১৮ (সংশোধিত) এবং অফিস ব্যবস্থাপনা’ শীর্ষক প্রশিক্ষণ কর্মশালার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে।

গত বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) বিএসএফআইসি-এর চিনিশিল্প ভবনের নবম তলায় আয়োজিত এই প্রশিক্ষণ কর্মশালাটি শুভ উদ্বোধন করেন অনুষ্ঠানের মুখ্য আলোচক ও বিএসএফআইসির সম্মানিত চেয়ারম্যান মো. শামছুজ্জামান সুরুজ।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএসএফআইসির চেয়ারম্যান মো. শামছুজ্জামান সুরুজ বলেন, ‘প্রশাসনিক কাজে গতিশীলতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে প্রতিটি সরকারি ও সংবিধিবদ্ধ সংস্থার কর্মকর্তাদের জন্য সার্ভিস রুলস, শৃঙ্খলা বিধি ও অফিস ব্যবস্থাপনাসংক্রান্ত জ্ঞান অত্যন্ত জরুরি। বিশেষ করে সঠিক নিয়মে মামলা পরিচালনা ও বার্ষিক গোপনীয় অনুবেদন (এসিআর) মূল্যায়ন প্রশাসনিক শৃঙ্খলা ও স্বচ্ছতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।’

তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই প্রশিক্ষণের মাধ্যমে অর্জিত জ্ঞান কর্মকর্তারা তাদের কর্মক্ষেত্রে যথাযথভাবে প্রয়োগ করতে সক্ষম হবেন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যুগ্মসচিব ও সংস্থার পরিচালক (ইক্ষু উন্নয়ন ও গবেষণা) ড. আব্দুল আলীম খান, যুগ্মসচিব ও সংস্থার পরিচালক (উৎপাদন ও প্রকৌশল) মোহাম্মদ সাঈদ-উর-রহমান, যুগ্মসচিব ও সংস্থার পরিচালক (অর্থ) তাহমিনা আক্তার, পরিচালক (বাণিজ্যিক) আজহারুল ইসলাম, সংস্থার সচিব মোহাম্মদ মুজিবুর রহমান এবং বিভিন্ন বিভাগীয় প্রধানসহ বিএসএফআইসির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত এই প্রশিক্ষণ কর্মশালায় বিএসএফআইসির মোট ৩০ জন কর্মকর্তা অংশগ্রহণ করেন। কর্মশালায় উপস্থিত বিশেষজ্ঞ প্রশিক্ষকরা প্রশিক্ষণার্থীদের সরকারি কর্মচারী আচরণ বিধিমালা, সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা ২০১৮ (সংশোধিত)-এর হালনাগাদ প্রয়োগ, সরকারি নথি ব্যবস্থাপনা ও কেস হ্যান্ডলিংয়ের নানা গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যবহারিক দিক তুলে ধরেন।


সড়কে নিহত উপজেলা আনসার-ভিডিপি কর্মকর্তার পরিবারের পাশে বাহিনীর ডিজি

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

চট্টগ্রামের মীরসরাইয়ে পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে গত ৫ জুলাই এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান মীরসরাই উপজেলা আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলাউদ্দিন। তার এই অকালমৃত্যুতে এক মানবিক উদ্যোগ নিয়ে পাশে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মহাপরিচালক (ডিজি) মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ। তৎকালীন সময়ে দাফন ও অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া বাবদ তাৎক্ষণিক ৭৫,০০০ টাকা দেওয়ার পর এবার তার ব্যাংকের ঋণের বোঝা শোধ করা হলো।

গত বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদরদপ্তরে বাহিনীর মহাপরিচালক মহোদয় বাহিনীর ওয়েলফেয়ার শাখার পক্ষ থেকে নিহত উপজেলা কর্মকর্তার স্ত্রী ফারজানা ইয়াসমিন পলির হাতে ২,৫৮,০৭৪ টাকার আর্থিক সহায়তার একটি চেক তুলে দেন। এই অর্থ দিয়ে প্রয়াত মোহাম্মদ আলাউদ্দিনের আনসার-ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংকের বকেয়া থাকা ঋণ পরিশোধ করা হবে।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন নিহতের বাবা ও বাহিনীর ওয়েলফেয়ার শাখার পরিচালক এনামুল খাঁন। মহাপরিচালক মহোদয় শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেন এবং তাদের আশ্বস্ত করে বলেন, ‘বিধি মোতাবেক প্রাপ্য সব সুবিধা দ্রুততম সময়ে নিশ্চিত করাসহ ভবিষ্যতেও বাহিনীর পক্ষ থেকে তাদের সবধরনের সহযোগিতা দেওয়া হবে।’


জনগণের কাছে নিরাপদ পানি পৌঁছানো সেবা নয়, সরকারের দায়িত্ব: অর্থমন্ত্রী

চট্টগ্রামে নিরাপদ পানি সরবরাহে নতুন পিপিপি মডেল চালুর লক্ষ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

জনগণের কাছে সুপেয় ও নিরাপদ পানি পৌঁছানো সরকারের সেবা নয়, দায়িত্ব উল্লেখ করে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, সরকারের একার পক্ষে সব সময় সব জনগণের পানির চাহিদা পূরণ করা কঠিন। তাই বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে এসব কাজে নিয়োজিত করা হয়।

তিনি বলেন, সরকার ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সহযোগিতামূলক মনোভাব গড়ে ওঠে, ফলে জনচাহিদা পূরণ ও উন্নয়নকাজ ত্বরান্বিত হয়।

শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রামের হোটেল রেডিসন ব্লুতে চট্টগ্রাম ওয়াসা, ম্যাক্স ফাউন্ডেশন ও ম্যাক্স সোশ্যাল এন্টারপ্রাইজের মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর (এমওইউ) অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, চট্টগ্রাম নগরীর সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর মধ্যে পানি সরবরাহ সেবার মান বাড়াতে একটি নতুন সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব (পিপিপি) মডেল প্রতিষ্ঠায় চট্টগ্রাম ওয়াসার সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করবে বেসরকারি সংস্থা ম্যাক্স ফাউন্ডেশন ও ম্যাক্স সোশ্যাল এন্টারপ্রাইজ।

এ লক্ষ্যে চট্টগ্রাম ওয়াসার পক্ষে ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী সেলিম মো. জানে আলম, ম্যাক্স ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ড. এটিএম তরিকুল ইসলাম, ম্যাক্স সোশ্যাল এন্টারপ্রাইজের এমডি ইয়ামিন ফারুক এক সমঝোতা স্মারকে সই করেন। এ উদ্যোগে আর্থিক ও কারিগরি সহায়তা প্রদান করছে নেদারল্যান্ডস দূতাবাস।

অনুষ্ঠানে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, চট্টগ্রামের খাল ও জলপথকে শুধু পানি নিষ্কাশনের কাজে নয়, পণ্য পরিবহনের পথ হিসেবেও ব্যবহারের পরিকল্পনা করছে সরকার। নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসন, ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন ও বিশুদ্ধ পানি সরবরাহের পাশাপাশি জলপথের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে নানা উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এ উদ্যোগকে পাইলট প্রকল্প হিসেবে নেওয়া হয়েছে। প্রকল্প বাস্তবায়নে সরকারি অর্থের পাশাপাশি বেসরকারি খাত ও এনজিওগুলোর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হচ্ছে।

অনুষ্ঠানে নেদারল্যান্ড দূতাবাসের ডেপুটি হেড অব মিশন এবং বাণিজ্য ও উন্নয়ন বিভাগের প্রধান ইয়ান ভ্যান ডার লিন্ডেন এবং ওয়াসাসহ সরকারি কয়েকটি সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানান, তিন বছর মেয়াদি সমঝোতা স্মারকের আওতায় তিনটি পক্ষ যৌথভাবে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন এলাকার জন্য উদ্ভাবনী পানি সরবরাহ মডেল অনুসন্ধান ও পরীক্ষা করবে। নগরীর ঘনবসতিপূর্ণ ৪০ ও ৪১ নম্বর ওয়ার্ডকে এ কাজের পাইলটিং এলাকা হিসেবে ধরা হয়েছে। এ দুটি ওয়ার্ড অর্থমন্ত্রীর সংসদীয় এলাকার অধিভুক্ত। এ দুই ওয়ার্ডে বর্তমানে ওয়াসার পানি সরবরাহের পরিমাণ চাহিদার ২০ থেকে ৩০ শতাংশ।


টাঙ্গাইলের চমচম বিদেশে রপ্তানির পদক্ষেপ নেওয়া হবে: প্রতিমন্ত্রী টুকু

ছীব: টাংগাইল-৫ আসনের সংসদ সদস্য ও মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

টাংগাইল-৫ আসনের সংসদ সদস্য ও মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু জানিয়েছেন, টাঙ্গাইলের শতবর্ষের ঐতিহ্যবাহী চমচমকে বিদেশে রপ্তানির পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে।

টুকু বলেন, টাঙ্গাইলের চমচম সারা বাংলাদেশ তথা বিশ্বের অনেক মানুষই কমবেশি চেনে। যেমন টাঙ্গাইলের শাড়ি বাংলাদেশের গর্ব ও ঐতিহ্য, তেমনি চমচমও আমাদের ঐতিহ্যের অংশ। এই পণ্যকে কীভাবে আরও এগিয়ে নেওয়া যায়, সেটি আমাদের দায়িত্ব ও কর্তব্যের মধ্যে পড়ে।

শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) বিকেলে টাঙ্গাইল শহরের শহীদ স্মৃতি পৌর উদ্যানে তিন দিনব্যাপী ‘মিষ্টি উৎসব-২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, আমাদের যে ঐতিহ্য রয়েছে, সেটিকে মানুষের মাঝে তুলে ধরার জন্যই এ আয়োজন। টাঙ্গাইলে যে ঐতিহ্য ও অর্জন রয়েছে, তা বাংলাদেশের মানুষের জন্যও গর্বের বিষয়। এই ঐতিহ্যকে ধারণ করে আগামী দিনে ঐতিহাসিক ও নিরাপদ টাঙ্গাইল গড়ে তুলতে চাই। এ ব্যাপারে সবার সার্বিক সহযোগিতা প্রয়োজন।

মিষ্টি উৎসবের উদ্দেশ্য তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এই ফেস্টিভ্যালের কয়েকটি উদ্দেশ্য রয়েছে। প্রথমত, টাঙ্গাইলের পণ্য মানুষের মাঝে তুলে ধরা এবং এগুলো নিয়ে মানুষকে অবহিত করা। একই সঙ্গে সারাদেশের মানুষের কাছে আমাদের ঐতিহ্যকে প্রতিষ্ঠিত করা।

তিনি বলেন, আমাদের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনের আগে গোপালপুরের একটি অনুষ্ঠানে টাঙ্গাইলের ঐতিহ্যবাহী শাড়ি ও চমচম নিয়ে কথা বলেছিলেন। তিনি আনারসের কথাও বলেছিলেন। টাঙ্গাইলের এই চমচমকে কীভাবে বিদেশে রপ্তানি করা যায়, সে ব্যাপারে আমরা পদক্ষেপ নেব।

চমচম শিল্পের প্রসার ঘটাতে পারলে একদিকে দেশের রপ্তানি আয় বাড়বে, অন্যদিকে এ শিল্পে মানুষের আগ্রহ ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধি পাবে বলে মন্তব্য করেন তিনি। এতে প্রান্তিক অর্থনীতির পাশাপাশি জাতীয় অর্থনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।

টাঙ্গাইলের তাঁতশিল্পের উন্নয়ন প্রসঙ্গে সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, টাঙ্গাইলের শাড়ির বিদেশে প্রচুর কদর রয়েছে। এই ঐতিহ্যকে ধরে রাখতে হলে তাঁতিদের জন্য ঋণের ব্যবস্থা করতে হবে। প্রান্তিক পর্যায়ে যারা শাড়ি তৈরি করেন, তাদের স্বল্প সুদে আর্থিক সহায়তা দিতে হবে।

তিনি আরও বলেন, ইতোমধ্যে আমি বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছি। যে তাঁতিরা এই কাজ করেন, তাদের সঙ্গে কথা বলে একটি তাঁতি সমাবেশ করব। এর মাধ্যমে তাঁতশিল্পকে কীভাবে আরও এগিয়ে নেওয়া যায়, সে বিষয়ে সার্বিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

টাঙ্গাইলের পর্যটন সম্ভাবনা ও শতবর্ষের মিষ্টি তৈরির ঐতিহ্য দেশ-বিদেশে তুলে ধরতে এবং স্থানীয় পণ্যের প্রসারে প্রথমবারের মতো ৪ থেকে ৬ সেপ্টেম্বর তিন দিনব্যাপী ‘সুইট ফেস্টিভ্যাল-২০২৬’ আয়োজন করা হয়েছে। জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এ উৎসবে জেলার ১২ উপজেলা থেকে ২৩টি স্টল অংশ নিয়েছে; এর মধ্যে ২০টি স্টলে ঐতিহ্যবাহী মিষ্টি এবং তিনটি স্টলে টাঙ্গাইলের তাঁতের শাড়ি প্রদর্শন করা হচ্ছে।

এর আগে বিকেলে ফিতা কেটে ও বেলুন উড়িয়ে ‘সুইট ফেস্টিভ্যাল-২০২৬’-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।

জেলা প্রশাসক শরীফা হক বলেন, টাঙ্গাইলের জিআই পণ্য শুধু টাঙ্গাইলের নয়, এগুলো বাংলাদেশের গর্ব’- এই বার্তা ছড়িয়ে দেওয়াই উৎসবের অন্যতম লক্ষ্য। এর মাধ্যমে স্থানীয় অর্থনীতি শক্তিশালী করার পাশাপাশি টাঙ্গাইলের পর্যটন সম্ভাবনাকেও এগিয়ে নেওয়া হবে।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক শরীফা হক, পুলিশ সুপার মুহম্মদ শামসুল আলম সরকার, জেলা বিএনপির সাবেক সদস্যসচিব মাহমুদুল হক সানু, বিভিন্ন উপজেলার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা।


কক্সবাজারে ২ হাজার আইফোনসহ ৬ চীনা নাগরিক গ্রেফতার

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

কক্সবাজারের রামুর মেরিন ড্রাইভসংলগ্ন কয়েকটি হোটেলে অভিযান চালিয়ে প্রায় ১ হাজার ৯৩৮টি আইফোন, ৪০টির মতো ল্যাপটপ, ডেস্কটপ কম্পিউটার ও বিভিন্ন আধুনিক ইলেকট্রনিক সরঞ্জামসহ ছয় চীনা নাগরিককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

পুলিশ ও গোয়েন্দা তথ্যানুযায়ী, গ্রেফতার ব্যক্তিরা আন্তর্জাতিক অনলাইন প্রতারণা চক্রের সদস্য, যারা স্টারলিংক প্রযুক্তি ব্যবহার করে অনলাইন শেয়ারবাজার, জুয়া ও ক্রিপ্টোকারেন্সি সংক্রান্ত নানা জালিয়াতিতে জড়িত ছিল।

পাসপোর্ট ব্লক ও ইমিগ্রেশন পয়েন্টগুলোতে কঠোর সতর্কতা জারি থাকায় তারা দেশত্যাগ করতে ব্যর্থ হয় এবং দীর্ঘদিন গোয়েন্দা নজরদারিতে থাকার পর পুলিশ তাদের আটক করে।

চীনা সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ ও সংশ্লিষ্ট দূতাবাসের ক্লিয়ারেন্স নিয়ে নিশ্চিত হওয়ার পর রামু থানায় সাইবার সুরক্ষা আইনে মামলা দায়ের করে গ্রেফতারকৃতদের আদালতে সোপর্দ করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

ঘটনা তদন্তে সিআইডিসহ একাধিক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা যুক্ত রয়েছে এবং জব্দকৃত ডিভাইসসমূহ পরীক্ষার পাশাপাশি চক্রটির সঙ্গে জড়িত অন্যান্যদের চিহ্নিত করার প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে।


তালের মৌসুমে জমজমাট গ্রামবাংলা, পিঠা-পায়েসে উৎসবের আমেজ

ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নন্দীগ্রাম (বগুড়া) প্রতিনিধি

৬ ঋতুর দেশ বাংলাদেশ। এই দেশে একেক ঋতুতে একেক রকম খাবারের ধুম পড়ে গ্রামগঞ্জের মানুষের। তা আবার প্রাচীণকাল থেকেই। এখন বঙ্গাব্দের ভাদ্র মাস শরৎকাল। এ সময় তালগাছ থেকে ধপধপ করে পাকা তাল পড়ছে। গাছ থেকে যখন পাকা তাল পড়ে তখন একরকম ধপধপ শব্দ হয়। যে শব্দ কানে আসলেই বুঝা যায় তালগাছ থেকে তাল পড়েছে।

প্রাচীণকাল থেকে ভাদ্র মাসের ১৩ তারিখে তেরা হিসেবে গণ্য করা হয়ে থাকে। তেরা উপলক্ষে পাকা তাল দিয়ে তালের পিঠা, তালের বড়া ও তালের পায়েসসহ নানা রকমের খাবার তৈরি করা করা হয়। প্রাচীণকালের এই তেরা উৎসব এখনো ধরে রেখেছে গ্রামগঞ্জের মানুষ। যাদের তালগাছ রয়েছে তারা ঘুম থেকে জেগে ভোরেই তালগাছ তলা থেকে তাল কুড়িয়ে নিয়ে আসে। আর যাদের তালগাছ নেই তারা হাট-বাজার থেকে তাল কিনে এনে সহজ পক্রিয়ায় তাল চিপে রস বের করে ছাঁকনি দিয়ে ছেঁকে গুড় অথবা চিনি, দুধ ও গরম মশলা দিয়ে পাতিলে তুলে জ্বাল করে নেয় রাঁধুনিরা। এরপর সুস্বাদু তালের পিঠা, তালের বড়া ও তালের পায়েসসহ নানা রকমের খাবার তৈরি করা হয়ে থাকে। তালের ২টি জাত রয়েছে। তা হচ্ছে গ্রাম্য ভাষায় মহিষা তাল ও দুধা তাল। মহিষা তাল দেখতে কালো রঙের বড় আর দুধা তাল দেখতে লালটে রঙের একটু ছোট।

নন্দীগ্রাম পুরাতন বাজারের তাল বিক্রেতা ফরিদ উদ্দিন জানান, আমি প্রতিদিন গ্রাম থেকে তাল কিনে এনে বাজারে বিক্রি করি। এতে কিছু টাকা আয় হয়। গাছপাকা ছোট তাল ১০-১৫ টাকা, মাঝারি তাল ২০-২৫ টাকা ও বড় তাল ৩০ টাকা দরে বিক্রি করছি। আর হয়তো কয়েকদিন বাজারে তাল বিক্রি করতে পারব। এরপর তালের সিজন শেষ হয়ে যাবে।

নন্দীগ্রাম থানা রোডের বাসিন্দা অসিম কুমার রায় জানান, নন্দীগ্রাম পুরাতন বাজার থেকে ৬০ টাকা দিয়ে ৩টি তাল কিনেছি। সেইসব তালের রস দিয়ে তালের পিঠা ও তালের বড়া তৈরি করে খেয়েছি। তালের পিঠা ও তালের বড়া খেতে খুব মজা লাগে। তেরা উপলক্ষেও বাসায় তালের পিঠা ও তালের বড়া তৈরি করা করা হবে। গৃহিণী সীমা রাণী জানান, তাল দিয়ে তালের পিঠা ও তালের বড়া তৈরি করে খেতে খুব ভালো লাগে। তাই প্রতিবছর আমি তালের পিঠা ও তালের বড়া তৈরি করে থাকি। তা বাসার সবাই খায়। এ ছাড়া স্বাস্থ্য রক্ষায় ও স্মৃতিশক্তি বাড়াতেও তাল বেশ উপকারী। তালে আছে ভিটামিন বি, তাই ভিটামিন বি-এর অভাবজনিত রোগ প্রতিরোধে তাল ভূমিকা রাখে। তাল ফল হিসেবে বড় হলেও বাজারমূল্য খুবই কম।


হাওরে পানির নিচ থেকে চলছে মাটি পাচার: ধ্বংসের মুখে অষ্টগ্রামের পরিবেশ ও কৃষি

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মো. নজরুল ইসলাম, হাওরাঞ্চল প্রতিনিধি (কিশোরগঞ্জ)

কিশোরগঞ্জের হাওর উপজেলা অষ্টগ্রামে বাঙ্গালপাড়া ইউনিয়নের বাঘাইয়া গোনার হাওরে বর্ষায় অথৈ জলরাশির আড়ালে সক্রিয় হয়ে উঠেছে একটি শক্তিশালী মাটি পাচারকারী চক্র। আইনের স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে বড় পন্টুনে বসানো এক্সকাভেটর (ভেকু) দিয়ে পানির তলদেশ থেকে অবিরত কাটা হচ্ছে উর্বর পলিমাটি।

সংগৃহীত এসব মাটি দ্রুত বড় বড় বাল্কহেডে বোঝাই করে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ইটভাটায় পাচার করা হচ্ছে। শুষ্ক মৌসুমে ট্রাক বা ট্রলার ব্যবহৃত হলেও বর্ষার এই সময়ে গভীর জলের সুযোগ নিয়ে নৌপথকে প্রধান মাধ্যম হিসেবে বেছে নিয়েছে এই চক্রটি।

​ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০১৩ (সংশোধিত ২০১৯)-এর ৫ ধারা অনুযায়ী জলাশয় বা কৃষি জমি থেকে মাটি কাটা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ এবং দণ্ডনীয় অপরাধ হওয়া সত্ত্বেও প্রতিদিন রমরমিয়ে চলছে এই অবৈধ বাণিজ্য।

​স্থানীয় কৃষকদের মতে, জমির উপরিভাগের এই উর্বর পলিই মূলত ফসলের প্রাণ। এ ধরনের নির্বিচারে মাটি উত্তোলনের ফলে ফসলি জমি গভীর গর্তে পরিণত হচ্ছে এবং চিরতরে হারাচ্ছে উর্বরতা, যা আসন্ন মৌসুমে খাদ্য উৎপাদন ও কৃষিকাজের জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

​অন্যদিকে, অনিয়ন্ত্রিত এই খননকাজের কারণে হাওরের প্রাকৃতিক ইকোসিস্টেম ও দেশীয় প্রজাতির মাছের প্রজননক্ষেত্র মারাত্মকভাবে বিপর্যস্ত হচ্ছে। হাওরের পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা এবং স্থানীয় কৃষক সমাজকে সুরক্ষার স্বার্থে এই বেপরোয়া মাটি পাচার অবিলম্বে বন্ধের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

​এ বিষয়ে অষ্টগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাথী দাস জানান, বর্ষার পানিতে অবৈধভাবে মাটি কাটার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা হচ্ছে এবং খুব শীঘ্রই নির্দিষ্ট পয়েন্টে অভিযান চালিয়ে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


নীলফামারীতে সাইবার সেলের তৎপরতায় উদ্ধার ৩০টি হারানো মোবাইল ফোন

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নীলফামারী প্রতিনিধি

নীলফামারীতে জেলা পুলিশের সাইবার সেলের প্রযুক্তিনির্ভর অনুসন্ধানে হারিয়ে যাওয়া ৩০টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে। পরে উদ্ধার করা এসব মোবাইল ফোন প্রকৃত মালিকদের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে জেলা পুলিশ।

গত বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) নীলফামারী পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে উদ্ধার করা মোবাইল ফোনগুলো মালিকদের হাতে তুলে দেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মোহসিন এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) এ বি এম ফয়জুল ইসলাম।

জেলা পুলিশ সূত্র জানায়, প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক পুলিশিং কার্যক্রম জোরদারের লক্ষ্যে গত ১৩ জুন পুলিশ সুপার মো. ফরহাদ হোসেন খাঁনের দিকনির্দেশনায় নীলফামারী জেলা পুলিশে সাইবার সেল প্রতিষ্ঠা করা হয়। এরপর থেকে সাইবার সেলের দক্ষ সদস্যরা বিভিন্ন থানায় করা সাধারণ ডায়েরির (জিডি) তথ্যের ভিত্তিতে হারানো মোবাইল ফোন উদ্ধারে কাজ করছেন। পাশাপাশি ডিজিটাল প্রতারণা ও সাইবার অপরাধ প্রতিরোধেও কার্যক্রম পরিচালনা করছে সেলটি।

পুলিশের দাবি, তথ্যপ্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার ও প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণের মাধ্যমে বিভিন্ন সময়ে হারিয়ে যাওয়া মোবাইল ফোনের অবস্থান শনাক্ত করে সেগুলো উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া ৩০টি ফোনের মধ্যে বিভিন্ন নামীদামি ব্র্যান্ডের হ্যান্ডসেট রয়েছে।

মোবাইল ফোন ফিরে পেয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন মালিকরা। তারা জানান, হারানো ফোন ফিরে পাওয়ার আশা অনেকটাই ছেড়ে দিয়েছিলেন। জেলা পুলিশের সাইবার সেলের তৎপরতায় ফোনগুলো ফিরে পেয়ে তারা সন্তোষ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

জেলা পুলিশ জানিয়েছে, সাধারণ মানুষের হারানো সম্পদ উদ্ধারের পাশাপাশি সাইবার অপরাধ নিয়ন্ত্রণে প্রযুক্তিনির্ভর পুলিশিং আরও জোরদার করা হবে। এ লক্ষ্যে সাইবার সেলের কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।


প্লাস্টিকের দাপটে হারিয়ে যাচ্ছে কেশবপুরের মৃৎশিল্প

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কেশবপুর (যশোর) প্রতিনিধি

যশোরের কেশবপুর একসময় গ্রামবাংলার ঘরে ঘরে মাটির হাঁড়ি, পাতিল, সরা, কলস, জগ, মগ ও থালা-বাসনের ছিল ব্যাপক ব্যবহার। রান্নাঘর থেকে শুরু করে গৃহস্থালির নানা কাজে মাটির তৈরি সামগ্রী ছিল মানুষের নিত্যদিনের সঙ্গী। সময়ের সঙ্গে আধুনিকতার ছোঁয়ায় সেই জায়গা দখল করেছে প্লাস্টিক, অ্যালুমিনিয়াম ও স্টিলের সামগ্রী। ফলে কেশবপুরে বংশপরম্পরায় চলে আসা ঐতিহ্যবাহী মৃৎশিল্প এখন টিকে থাকার কঠিন লড়াইয়ে।

তবু পুরোপুরি হারিয়ে যায়নি মাটির তৈরি পণ্যের কদর। কেশবপুরের স্থানীয় বাজারে এখনো ছোট-বড় প্রায় শতাধিক ধরনের মাটির সামগ্রীর বেচাকেনা হচ্ছে। হাঁড়ি, পাতিল, প্লেট, মগ, ফুলদানি, টব, জগ থেকে শুরু করে পয়সার ব্যাংক—বিভিন্ন পণ্য নিয়ে কোনো রকমে টিকে আছেন মৃৎশিল্পী ও ব্যবসায়ীরা।

স্থানীয় বাজারের প্রবীণ মৃৎশিল্পী ও ব্যবসায়ী ব্রু দাস পাল জানান, প্রায় ৮০ বছর ধরে তিনি এ পেশার সঙ্গে যুক্ত। তার দোকানে ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় ১০০ ধরনের মাটির তৈজসপত্র বিক্রি হচ্ছে। ১০ টাকার পয়সার ব্যাংক থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ২৫০ টাকা দামের বিশেষ পানি খাওয়ার জগও রয়েছে। দৈনন্দিন গৃহস্থালির কাজে ব্যবহৃত ঝিলে সরা তুলনামূলক বেশি বিক্রি হয়।

তিনি জানান, এসব মাটির সামগ্রীর বড় একটি অংশ যশোরের দায়তলা থেকে পাইকারি দরে আনা হয়। পাশাপাশি স্থানীয়ভাবেও কিছু পণ্য সংগ্রহ করা হয়। পরিবহন, দোকান পরিচালনা ও অন্যান্য খরচ বাদ দিয়ে দিনে গড়ে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা লাভ হয়। এই সামান্য আয় দিয়েই কোনো রকমে সংসার চালাতে হচ্ছে।

কাঁচামালের সংকটেও বিপাকে কারিগররা, মৃৎশিল্পের প্রধান কাঁচামাল মাটি। কিন্তু উপযুক্ত দোআঁশ ও এঁটেল মাটি এখন আগের মতো সহজে পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে দূর-দূরান্ত থেকে চড়া দামে মাটি কিনে আনতে হচ্ছে কারিগরদের। এতে উৎপাদন ব্যয় বাড়ছে, আর সেই সঙ্গে বাড়ছে মাটির তৈরি পণ্যের দাম।

অন্যদিকে বর্ষা মৌসুমেও রয়েছে বাড়তি সমস্যা। রোদ না থাকায় মাটির তৈরি পণ্য শুকানো কঠিন হয়ে পড়ে। এতে উৎপাদন ব্যাহত হয়। অথচ বর্ষাকালে মাটির তৈরি কিছু নির্দিষ্ট পাত্রের চাহিদা থাকে বেশি।

কেশবপুরে বর্তমানে আলতাপোল পালপাড়া ও ব্রহ্মকাটি—এই দুই গ্রামে বংশপরম্পরায় পাল ও কুমার সম্প্রদায়ের মানুষ মৃৎশিল্প ধরে রেখেছেন। কিন্তু পেশাটির আয় কমে যাওয়ায় নতুন প্রজন্মের অনেকেই এখন আর মৃৎশিল্পে আগ্রহী হচ্ছেন না। জীবিকার তাগিদে কেউ অন্য পেশায় যাচ্ছেন, কেউবা শহরমুখী হচ্ছেন। ফলে কারিগর সংকটও ধীরে ধীরে প্রকট হচ্ছে।

প্লাস্টিকের সঙ্গে অসম প্রতিযোগিতা পাশের দোকানদার রতন পাল বলেন, ‘প্লাস্টিকের সামগ্রী তুলনামূলক সস্তা, সহজে বহনযোগ্য এবং দীর্ঘস্থায়ী হওয়ায় সাধারণ মানুষ মাটির পাত্রের ব্যবহার কমিয়ে দিয়েছেন। ফলে মাটির পণ্যের বাজারও আগের মতো নেই।’

শখ ও পরিবেশ সচেতনতায় ফিরছে মাটির পণ্যতবে মাটির পণ্যের প্রতি মানুষের আগ্রহ একেবারে শেষ হয়ে যায়নি। ডুমুরিয়া থেকে কেশবপুর বাজারে মাটির সামগ্রী কিনতে আসা হাবিবুল্লাহ জানান, নিত্যব্যবহারের জন্য নয়, বরং পরিবেশবান্ধব ও নান্দনিক হওয়ায় তিনি মাটির তৈরি প্লেট ও মগ কিনছেন।

পরিবেশ সচেতনতা বৃদ্ধি এবং ঘর সাজানোর নান্দনিক প্রবণতার কারণে মাটির তৈরি ফুলদানি, টব, মগ, প্লেটসহ বিভিন্ন পণ্যের নতুন বাজার তৈরি হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। আধুনিক নকশা, মানসম্মত পণ্য ও বাজারজাতকরণে গুরুত্ব দেওয়া গেলে ঐতিহ্যবাহী এই শিল্পকে নতুন প্রজন্মের কাছেও জনপ্রিয় করা সম্ভব। যার কারণে পৃষ্ঠপোষকতা চান মৃৎশিল্পীরা।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আনোয়ার বলেন, ‘মৃৎশিল্প গ্রামবাংলার ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। আধুনিকতার চাপে এই শিল্প হারিয়ে যাওয়া কাম্য নয়। মৃৎশিল্পীদের সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে তাদের প্রয়োজনীয় সহায়তা, প্রশিক্ষণ ও সহজ শর্তে ঋণের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব মাটির পণ্যের বাজার সম্প্রসারণে সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে সমন্বিত উদ্যোগ দরকার।’

কেশবপুর নিউজ ক্লাবের সভাপতি মো. আশরাফুজ্জামান বলেন, ‘মৃৎশিল্প শুধু একটি পেশা নয়, এটি কেশবপুরের লোকজ ঐতিহ্যেরও অংশ। যুগের পরিবর্তনের সঙ্গে এই শিল্পকে আধুনিক বাজারের উপযোগী করে তুলতে হবে। কারিগরদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে ঋণ, কাঁচামালের সহজলভ্যতা এবং মাটির পণ্যের প্রচার ও বাজারজাতকরণে উদ্যোগ নেওয়া গেলে এই শিল্প আবারও ঘুরে দাঁড়াতে পারে। ঐতিহ্যবাহী এই শিল্প রক্ষায় সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সচেতন নাগরিকদের এগিয়ে আসা জরুরি।’

হারিয়ে যাওয়ার শঙ্কা সংশ্লিষ্টদের মতে, প্লাস্টিক ও অন্যান্য আধুনিক সামগ্রীর সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে মাটির পণ্যের বাজার ধরে রাখা কঠিন হলেও অসম্ভব নয়। পরিবেশবান্ধব পণ্য হিসেবে মাটির সামগ্রীর আলাদা গুরুত্ব রয়েছে। প্রয়োজন শুধু সময়োপযোগী নকশা, আধুনিক প্রশিক্ষণ, মানসম্মত উৎপাদন এবং বাজারজাতকরণের ব্যবস্থা।

মৃৎশিল্পীদের জন্য সহজ শর্তে ঋণ, আধুনিক কারিগরি প্রশিক্ষণ, উপযুক্ত কাঁচামালের সরবরাহ এবং স্থায়ী বাজার নিশ্চিত করা গেলে কেশবপুরের হারিয়ে যেতে বসা এই লোকশিল্প নতুন করে প্রাণ ফিরে পেতে পারে। অন্যথায় প্লাস্টিকের অব্যাহত দাপট আর পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে কয়েক প্রজন্ম ধরে চলে আসা কুমারদের এই পেশা একদিন শুধু স্মৃতির পাতাতেই ঠাঁই নিতে পারে।


banner close