সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬
৭ বৈশাখ ১৪৩৩

এত গ্রেপ্তারের পরও কেন নির্মূল হচ্ছে না আরসা?

ছবি: সংগৃহীত
রহমত উল্লাহ, টেকনাফ (কক্সবাজার)
প্রকাশিত
রহমত উল্লাহ, টেকনাফ (কক্সবাজার)
প্রকাশিত : ১২ জুন, ২০২৪ ১৬:২৬

মিয়ানমারের চরমপন্থি সশস্ত্র সংগঠন আরসার আগের নাম ছিল আল ইয়াকিন বা ইসলামি সংগঠন। রোহিঙ্গা মুসলমানদের নিয়ে কাজ করাই ছিল তাদের উদ্দেশ্য। ২০১৩ সালের দিকে সংগঠনের নাম পাল্টে রাখা হয় আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মি বা আরসা, যদিও দলের একাংশ এখনো আল ইয়াকিন নামেই পুরোনো সংগঠনকে আকড়ে ধরে আছে। আতাউল্লাহ আবু আম্মার জুনুনি সেসময়ে হন স্যালভেশন আর্মির (আরসা) কমান্ডার ইন চিফ। এই আতাউল্লাহর জন্ম সৌদি আরবে, তার বাবা-মা আরাকান থেকে গিয়ে সৌদি আরবে স্থায়ী হন। কিন্তু জন্ম সৌদি আরবে হলেও আতাউল্লাহ পরে পাকিস্তানের করাচিতে এসে বসবাস করতেন।

রোহিঙ্গাদের অধিকার আদায় করতে ঠিক কবে মিয়ানমারে তিনি ফিরে আসেন, তা জানা যায় না। তবে তা ২০১৩ সালের আগেই অর্থাৎ আল ইয়াকিন থেকে আরসার যাত্রা শুরুর আগেই হয়েছে, তা নিশ্চিত। সংগঠনটি সশস্ত্র হয়ে উঠেছে, তা প্রথম বোঝা যায় ২০১৫-১৬ সালের দিকে। লক্ষ্য ছিল, মিয়ানমারের মুসলিম অধ্যুষিত আরাকান প্রদেশ দখল। ২০১৭ সালের মাঝামাঝি মিয়ানমারের থানায় হামলা, পুলিশের অস্ত্র লুটের ঘটনার পর সংগঠনটির বিরুদ্ধে প্রথম মনোযোগ দেয় মিয়ানমার সেনাবাহিনী। তবে ওই বছরেই আগস্টে তার নির্দেশে রাখাইনে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর তল্লাশি চৌকিতে আরকান দখল ও অস্ত্র লুট করার জন্য আবার হামলা চালায় আরসা। এ ঘটনায় ভীষণ ক্ষুব্ধ সেনাবাহিনী আরসা নির্মূলের উদ্দেশে আরকান প্রদেশে হামলা শুরু করে। তখন উত্তপ্ত হয়ে পড়ে মিয়ানমারে মুসলমানদের গ্রামগুলোর পরিস্থিতি। ওই দেশের সেনাবাহিনী ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট রাখাইনে চড়াও হয়ে অভিযান ও রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতন, হামলা ও গণধর্ষণের ঘটনা শুরুর পর নিজ দেশ ছেড়ে বাংলাদেশে পালিয়ে আসে প্রায় ১০ লাখ রোহিঙ্গা। সম্পূর্ণ মানবিক কারণে তাদের তখন আশ্রয় দেয় বাংলাদেশ সরকার। আর বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে আরসার সদস্যদের সম্পর্কে তথ্য না থাকার সুযোগে এসব রোহিঙ্গার সঙ্গে আশ্রয়প্রার্থী হিসেবে বাংলাদেশে চলে আসে আরসার কিছু সদস্য আর সমর্থকও।

উদ্দেশ্য তাদের মিয়ানমার সেনাবাহিনীর সঙ্গে লড়াই করা হলেও অস্ত্র তৈরি ও সংগ্রহ, বাহিনীর জন্য সদস্য সংগ্রহ, সদস্যদের অস্ত্র প্রশিক্ষণ দেওয়া ইত্যাদি কাজে তারা তখন থেকেই গোপনে বাংলাদেশের পাহাড়ি নির্জন এলাকাগুলো ব্যবহার শুরু করে। একই সঙ্গে রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরগুলোতে নিজেদের প্রভাব বাড়াতে তারা সেগুলোতে আধিপত্য বিস্তার শুরু করে। রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবির সর্দার বা মাঝিদের করায়ত্ত করা বা ভয় দেখানো দিয়েই এর শুরু। একই সঙ্গে নিজেদের অর্থভাণ্ডার ঠিক রাখতে মিয়ানমারের সঙ্গে বাংলাদেশের অরক্ষিত সীমান্ত অঞ্চলকে রুট হিসেবে ব্যবহার করে এদেশে মাদক চোরাচালান আরও বাড়িয়ে দেয়।

শুরুতে আরসা সম্পর্কে অন্ধকারে থাকলেও দিনের পর দিন রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরগুলোতে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে পরস্পরের মধ্যে হামলা, গুলি, হত্যার ঘটনা বাড়তে থাকায় এবং বিপুল পরিমাণ মাদকসহ রোহিঙ্গা ও তাদের প্ররোচনায় স্থানীয়দের আটক বা গ্রেপ্তাদের মধ্য দিয়ে এই চরমপন্থি সংগঠন সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পেতে শুরু করে বাংলাদেশের বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। র‌্যাব, এপিবিএন আরসা দমনে কঠোর অভিযান চালাচ্ছে মাঝেমধ্যেই। তার পরও তাদের গোপন তথ্য প্রকাশ হয়ে পড়া এবং বেশির ভাগ রোহিঙ্গা সশস্ত্র যুদ্ধে জড়িত হতে না চাওয়ায় আরসার নেতাসহ সদস্যরা বরাবরই আছে উৎকণ্ঠায়। রোহিঙ্গাদের মধ্যে আরসা ছাড়াও আছে আরও কিছু সশস্ত্র গ্রুপ। তবে তারা পরস্পর যেন পরস্পরের শত্রু। আরাকানে যে বিদ্রোহী সশস্ত্র গ্রুপ আরাকানের স্বাধীনতার জন্য সশস্ত্র লড়াই করে যাচ্ছে, আরাকান আর্মি, ওদের সঙ্গেও এসব গ্রুপের শত্রুতা রয়েছে। আরাকান আর্মি সাধারণভাবে সব আরাকানির জন্যে স্বাধীন আরাকান চায়, কিন্তু আরসাকে ওরা চিহ্নিত করে মুসলিম সন্ত্রাসী গ্রুপ হিসেবে। সব মিলিয়ে অস্থির হয়ে উঠছে রোহিঙ্গা শিবির।

আরসার শীর্ষ নেতা অলি আকিজ দীর্ঘদিন মিয়ানমারে আত্মগোপনে থাকলেও গত ১৯ মে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ফিরেছেন। আরসার শীর্ষ কমান্ডার আতাউল্লাহ আবু আম্মার জুনুনি এবং সেকেন্ড-ইন-কমান্ড ওস্তাদ খালেদের নির্দেশে ক্যাম্পে আধিপত্য বিস্তারের নতুন পরিকল্পনা নিয়ে অপতৎপরতা চালাচ্ছেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সূত্রে জানা যায়, রোহিঙ্গাদের সশস্ত্র গ্রুপ আরসার প্রশিক্ষণ। অস্ত্র তৈরি, আত্মগোপন, মিটিংসহ নানা কর্মকাণ্ড সেখানে সংগঠিত হতো। গত রোববার মধ্যরাতে অভিযান চালিয়ে ক্যাম্প-৪-এ গোপন বৈঠক থেকে আকিজসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, একটি দেশীয় তৈরি এলজি, একটি ওয়ানশুটার গান, ১০ রাউন্ড কার্তুজ, দুই কেজি বিস্ফোরকদ্রব্য, তিনটি মোবাইল এবং নগদ ২ হাজার ৫০০ টাকা জব্দ করা হয়।

র‌্যাব-১৫-এর অধিনায়ক লে. কর্নেল এইচ এম সাজ্জাদ হোসেন বলেন, ‘আমরা এ পর্যন্ত ১১২ জনের ওপরে আরসার ভিন্ন পদবিধারী নেতা গ্রেপ্তার করেছি। গত রোববারের আরসার শীর্ষ নেতা আকিজসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করি। তাদের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

২০১৭ সালে সীমান্ত পার হয়ে ভারত হয়ে বাংলাদেশে এসে ক্যাম্প-৫-এ সপরিবারে বসবাস শুরু করেন মৌলভী আকিজ। পরে আরসার হয়ে কাজ শুরু করেন তিনি। এরপর ক্যাম্প-৫-এ আরসার প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পান। নেটওয়ার্ক গ্রুপে কাজ করতেন। ক্যাম্পের বিভিন্ন তথ্য আরসা কমান্ডারদের কাছে পৌঁছে দিতেন। এভাবে শীর্ষ নেতৃত্বে পৌঁছান। রোহিঙ্গাদের প্রত‍্যাবাসনের পক্ষে কাজ করায় ওস্তাদ খালেদের নির্দেশে রোহিঙ্গা নেতা মাস্টার মহিবুল্লাহকে হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী ছিলেন আকিজ। তা ছাড়া মতাদর্শিক দ্বন্দ্বে ক্যাম্পে সেভেন মার্ডারে সরাসরি অংশ নেন। তাদের নেতা-কর্মী আটক হলে কিছুটা দুর্বল হয়ে যায় কিন্তু আবার সক্রিয় হয়ে ওঠে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বিশাল এই জনগোষ্ঠীতে আরসা, আল-ইয়াকিনসহ অন্তত ১৫টি বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন সক্রিয়। ২০১৭ সাল থেকে এখন পর্যন্ত ছয় বছরে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সংঘর্ষের ঘটনায় প্রায় ৩০০ জন নিহত হয়েছে। মামলা হয়েছে পাঁচ হাজারের অধিক। এসব মামলার বেশির ভাগই হয়েছে মাদক ও আগ্নেয়াস্ত্র রাখার অভিযোগে।

রোহিঙ্গা নেতা ড. জোবায়ের বলেন, আরসা রোহিঙ্গা ক্যাম্প দখল করে রাজত্ব কায়েম করার জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এ পর্যন্ত তাদের দুই শতাধিক নেতা-কর্মী আটক হয়েছেন। আটক করলেও তারা আরও শক্তিশালী হয়ে উঠবে, তার কারণ তাদের রোহিঙ্গা সরকার মদদ দিয়ে যাচ্ছে। প্রত্যাবাসন বন্ধ রাখার জন্য মিয়ানমার সরকার তাদের ব্যবহার করে যাচ্ছে, যে কারণে তারা এতটা শক্তিশালী।

গত রোববার রাতে উখিয়ার মধুরছড়া ৪ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে আরসার শীর্ষ নেতাদের গ্রেপ্তার করে। সে জায়গায় ভোরে ৪০-৪৫ জন আরসা সন্ত্রাসী পাহাড় থেকে সীমানার কাঁটাতারের বেড়া অতিক্রম করে ৪ নম্বর ক্যাম্পে আসে। ঘটনাস্থলে এসে ক্যাম্পে পাহারারত রোহিঙ্গা ইলিয়াছকে তারা গুলি করে ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে হাতে, পায়ে ও তলপেটে কুপিয়ে মারাত্মক জখম করে। এতে ইলিয়াস ঘটনাস্থলেই মারা যান।

১৪ এপিবিএনের অধিনায়ক মোহাম্মদ ইকবাল বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গেলে এপিবিএন সদস্যদেরও লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ করে সন্ত্রাসীরা।

তিনি আরও বলেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে নতুন করে সংগঠিত এবং নাশকতা করার চেষ্টা করছে আরসা। মূলত আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘবদ্ধ হয়ে হামলা চালায় আরসা সন্ত্রাসীরা। এতে তারা গুলি এবং কুপিয়ে তিন রোহিঙ্গাকে হত্যা করে। আর গুরুতর আহত হয় সাতজন। হতাহতরা আরএসও সদস্য বলে জানা গেছে।

রোহিঙ্গা গবেষক অধ্যাপক ড. রাহমান নাসির উদ্দিন দৈনিক বাংলাকে বলেছেন, রোহিঙ্গাদের অধিকার আদায় করতে আরসা ২০১৭ সালের ২৫ আগস্টের দিকে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর তল্লাশি চৌকিতে হামলা চালায়। কিন্তু এটার কারণে নির্যাতনের তীব্রতায় নিজ দেশ ছেড়ে বাংলাদেশে পালিয়ে আসে প্রায় ৮ লাখ রোহিঙ্গা। সে কারণে আরসা রোহিঙ্গাদের প্রতিনিধিত্ব হয়ে উঠতে পারে নাই। বিভিন্ন সময় রোহিঙ্গাদের সঙ্গে কথা বলে জানতে পারি, রোহিঙ্গাদের এ দুর্দশার জন্য আরসা দায়ী। রোহিঙ্গাদের সঙ্গে আরসার একটা বড় গ্রুপ বাংলাদেশে এসেছে। বাংলাদেশে ৩৪টি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে তাদের অবস্থান ধরে রাখার জন্য তারা বিভিন্ন ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে এবং যখন কেউ তাদের বিরুদ্ধে কথা বলার চেষ্টা করেছে তখন তারা তাদের দমন করেছে। এর মধ্যে একজন ছিলেন মুহিব উল্লাহ। মুহিব উল্লাহ যখন রোহিঙ্গাদের নেতা হয়ে ওঠে বিশ্বের কাছে পরিচিত হন এবং আন্তর্জাতিকভাবে রোহিঙ্গাদের জন্য আন্দোলন করেন তখন তাকে নেতা হিসেবে গ্রহণ করে রোহিঙ্গারা। বাংলাদেশ যখন প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরু করে তখন রোহিঙ্গাদের রাজি করানোর জন্য মুহিব উল্লাহ সোর্স ছিল। ধীরে ধীরে মুহিব উল্লাহ প্রধান পাঁচ রোহিঙ্গা নেতার একজন হয়ে ওঠেন। ২০১৯ সালের ২৫ আগস্ট ৩ থেকে ৫ লাখ রোহিঙ্গার মহাসমাবেশ করে তাক লাগিয়ে দেন এবং আনন্দে আত্মহারা করে দেন রোহিঙ্গা ইস্যুতে লেগে থাকা বিদেশি এনজিওগুলোকে। এসব কারণে আরাকান রোহিঙ্গা সোসাইটি ফর পিস অ্যান্ড হিউম্যান রাইটস ভেঙে দেওয়ার জন্য মুহিব উল্লাহকে হত্যা করা হয়। মিয়ানমার সেনাবাহিনীর শত্রু হচ্ছে আরাকান আর্মি। আরাকান আর্মির শত্রু হচ্ছে মিয়ানমার সেনাবাহিনী। আবার মিয়ানমারের শত্রুও আরসা। মিয়ানমার নৌবাহিনী ঘোষণা দিয়ে বলছে আরকান আর্মি ও আরসা মিলে বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে। যেহেতু মিয়ানমার আরাকানে আরকান আর্মি শক্তিশালী হয়ে উঠেছে। সে কারণে আরসা ও শক্তিশালী হয়ে উঠেছে।

দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীগুলোকে সতর্ক করে দিয়ে ড. রাহমান নাসির বলেন, দুই শতাধিক আরসার নেতা-কর্মী গ্রেপ্তার করাতেই আরসা দুর্বল হয়ে পড়েছে এমন যুক্তি হয়তো সঠিক নয়। এই চরমপন্থি দলে আরও অনেক সদস্য ও সমর্থক রয়েছে।

কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. রফিকুল ইসলাম দৈনিক বাংলাকে বলেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বিভিন্ন সন্ত্রাসী গ্রুপ তাদের আধিপত্য বিস্তার করার জন্য এসব সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করে থাকে। আগুন নাশকতা এসব মাঝেমধ্যে বিভিন্ন কারণে হয়ে থাকে। তবে কিছু কিছু ঘটনা আমরা সন্দেহ করি এগুলো নাশকতা। আমরা আরসা বলে কিছু পাইনি। তবে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সন্ত্রাসী গ্রুপ আছে। যারা উগ্রবাদী কর্মকাণ্ডে জড়াবে তাদের বিরুদ্ধে আমাদের সমন্বিত অভিযান অব্যাহত থাকবে।

রোহিঙ্গা ইয়ুথ অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিষ্ঠাতা খিন মং বলেন, রোহিঙ্গাদের অধিকারের জন্য লড়াই করার দাবি করেছিল আরসা। তখন তাদের বিশ্বাস করেছিল রোহিঙ্গারা। কিন্তু এখন সাধারণ রোহিঙ্গারাও মনে করে আরসা মিয়ানমারের এজেন্ট হিসেবে কাজ করছে। যারা প্রত্যাবাসনের কথা বলছেন তাদের হত্যা করা হচ্ছে। তাই আরসার ওপর তাদের আর বিশ্বাস নেই।

বিষয়:

দুই দশক পর আজ পৈতৃক ভিটায় যাচ্ছেন তারেক রহমান

# উদ্বোধন করবেন ই-বেইল বন্ডসহ একগুচ্ছ প্রকল্প
ফাইল ফটো
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা

প্রায় দুই দশক পর আজ সোমবার পৈতৃক ভিটায় যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ২০০৬ সালের পর নিজ জেলায় প্রধানমন্ত্রী হয়ে ফিরছেন তিনি। সকালে সড়কপথে বগুড়ায় পৌঁছাবেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর এই সফরে একগুচ্ছ উন্নয়ন প্রকল্পের ঘোষণার পাশাপাশি সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে বিচার বিভাগের ডিজিটাইজেশন বা ‘ই-বেইল বন্ড’ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন।
সফরসূচি অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সোমবার সকালে বগুড়া সার্কিট হাউসে যাত্রাবিরতির পর সরাসরি আদালত প্রাঙ্গণে উপস্থিত হবেন।
সেখানে তিনি আইনজীবীদের জন্য নবনির্মিত আধুনিক বার ভবন উদ্বোধন করবেন। এরপর জেলা ও দায়রা জজ আদালতের কনফারেন্স রুমে দেশের প্রথম ‘ই-বেইল বন্ড’ (ইলেকট্রনিক জামিননামা) ব্যবস্থাপনা কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করবেন। বগুড়া থেকেই এই ডিজিটাল জামিন প্রক্রিয়া পর্যায়ক্রমে সারাদেশে ছড়িয়ে দেওয়া হবে বলে জানা গেছে।
সফরকালে বগুড়াকে দেশের ১৩তম সিটি করপোরেশনে হিসেবে ঘোষণা করবেন। এছাড়াও আরও বেশ কিছু রাষ্ট্রীয় কর্মসূচি থাকবে।
জানা গেছে, ৬৬ বছর ধরে অশীতিপর বৃদ্ধ আবদুস সাত্তার শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের পৈতৃক ভিটা দেখাশোনা করেন। জীবদ্দশায় প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান আর সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে কখনও কিশোর, আবার কখনও তরুণ তারেক রহমানকে দেখেছেন তিনি। এবার সেই তারেক রহমানকে দেখবেন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে।
৮০ বছরের এক জীবনে একই পরিবারের তিন সদস্যকে রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে দেখার আনন্দ, ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন হয়ে পড়েছে, বৃদ্ধ আব্দুস সাত্তারের। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী এখানে আসবেন, খুব আনন্দ লাগছে। দেশ যাতে ভালো চলুক, এটাই চাওয়া থাকবে।
এর আগে, ২০০৬ সালে মা খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন পৈতৃক ভিটা বগুড়া গাবতলী উপজেলার বাগবাড়ি গিয়েছিলেন, তারেক রহমান। সেই পৈতৃক ভিটায় ২০ বছর পর ফিরছেন, প্রধানমন্ত্রী হয়ে।
এদিকে, প্রধানমন্ত্রীর আসার খবরে গাবতলীর মানুষের মনজুড়ে যেন ঈদের খুশি। স্থানীয়রা একজন বলেন, একনজর প্রধানমন্ত্রীকে দেখতে পাবো, এটাই সবচেয়ে বড় পাওয়া। আর কোনো পাওয়ার কিছু নেই।
তবে প্রধানমন্ত্রীর কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে চাওয়ার কিছু না থাকলেও; অনেকের প্রত্যাশা, গত দুই দশক বঞ্চিত থাকা এলাকাকে নিয়ে যাবেন, দেশের উন্নয়নের মূল স্রোতে।
‘ই-বেইল বন্ড’ প্রসঙ্গে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সনাতন পদ্ধতিতে সময়ের অপচয়ের পাশাপাশি অনেক ক্ষেত্রে জামিন জালিয়াতি ও দালাল চক্রের দৌরাত্ম্য দেখা যায়। ‘ই-বেইল বন্ড’ চালু হলে এ অবস্থার আমূল পরিবর্তন আসবে।
বগুড়া জেলা কারাগারের ভারপ্রাপ্ত জেলার মো. নুরুল মুবীন বলেন, ডিজিটাল পদ্ধতিতে জামিননামা যাচাই ও কার্যকর হওয়ার ফলে বন্দিদের স্বজনদের ভোগান্তি অনেকাংশে কমে আসবে। একই সঙ্গে জামিন জালিয়াতি ঠেকানো এবং অসাধু চক্রের প্রভাব কমানো সম্ভব হবে।
এদিকে, প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে কেন্দ্র করে বগুড়ার আদালত চত্বরে সাজ সাজ রব পড়ে গেছে। বগুড়া জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) আব্দুল বাসেদ জানান, মাত্র ৩০ মিনিটের মূল অনুষ্ঠান হলেও প্রধানমন্ত্রীর এই সফরকে স্মরণীয় করে রাখতে আইনজীবীদের মধ্যে ব্যাপক উদ্দীপনা বিরাজ করছে। সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতের পাশাপাশি সব প্রস্তুতি এরই মধ্যে সম্পন্ন হয়েছে।


ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নতুন কূপে খনন শুরু, দিনে মিলবে ১৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার তিতাস গ্যাস ফিল্ডে দেশের প্রথম গভীর অনুসন্ধান কূপ তিতাস-৩১ এর খনন কাজ শুরু হয়েছে। খনন শেষে এই কূপ থেকে প্রতিদিন ১৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস পাওয়ার আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। রোববার দুপুরে সদর উপজেলার বুধল এলাকায় কূপটির খনন কাজের উদ্বোধন করেন পেট্রোবাংলার পরিচালক (অর্থ) একেএম. মিজানুর রহমান।

জানা গেছে, বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ডস কোম্পানি লিমিটেড (বিজিএফসিএল) পরিচালিত তিতাস গ্যাস ফিল্ডের উৎপাদনে থাকা ২২টি কূপ থেকে বর্তমানে প্রতিদিন প্রায় ৩২৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে জাতীয় গ্রিডে। তবে দীর্ঘ সময় ধরে গ্যাস উত্তোলনের ফলে মজুত এবং চাপ কমেছে দেশের সবচেয়ে প্রাচীন এই গ্যাস ফিল্ডের সবকটি কূপে। এতে করে কমেছে উৎপাদন। এ অবস্থায় গ্যাসের নতুন উৎস খুঁজতে ‘থ্রিডি সাইসমিক জরিপ প্রকল্প’ নেয় বিজিএফসিএল। এর প্রেক্ষিতে তিতাস ও বাখরাবাদ ফিল্ডে খনন করা হচ্ছে দুইটি গভীর অনুসন্ধান কূপ। ৫ হাজার ৬০০ মিটার গভীরতায় তিতাসের নতুন কূপটি খননে সময় লাগবে প্রায় ৭ মাস। খনন কাজ করছে চীনা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সিসিডিসি। খনন শেষে কূপটি থেকে প্রতিদিন উত্তোলন করা হবে প্রায় ১৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস।

বিজিএফসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আব্দুল জলিল প্রামাণিক জানান, তিতাসসহ বিজিএফসিএল পরিচালিত অন্যান্য ফিল্ডগুলো থেকে গ্যাসের উৎপাদন বাড়াতে নতুন কূপ খনন ও পুরনো কূপের ওয়ার্কওভার প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। তিতাস ও বাখরাবাদ ফিল্ডে দুইটি গভীর অনুসন্ধান কূপ সফলভাবে খনন করতে পারলে এই জ্বালানি খাতের জন্য মাইলফলক হবে। জ্বালানি সংকট অনেকটাই কেটে যাবে।

পেট্রোবাংলার পরিচালক (অর্থ) একেএম. মিজানুর রহমান বলেন, দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতে চলতি বছরের মধ্যে ৫০টি কূপ খননের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ প্রেক্ষাপটে দেশীয় জ্বালানির উৎস অনুসন্ধান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ অবস্থায় তিতাসের এই গভীর অনুসন্ধান কূপ খননের উদ্দেশ্য সফল হলে জ্বালানি সংকট অনেকটাই কেটে যাবে।

খনন কাজের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ডস কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আব্দুল জলিল প্রামাণিক, কোম্পানি সচিব মোজাহার আলী, প্রকল্প পরিচালক মো. মাহমুদুল নবাব, খনন ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের পরিচালক লাইলিনজেন্টসহ বিজিএফসিএলের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, প্রকল্পটি সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে দেশের জ্বালানি খাতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে।


নন্দীগ্রামে অজ্ঞাত নারীর মরদেহ উদ্ধার

ছবি: সগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নন্দীগ্রাম (বগুড়া) প্রতিনিধি

বগুড়ার নন্দীগ্রামে নাম-পরিচয় না জানা এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। রোববার সকালে বগুড়া-নাটোর মহাসড়কের নন্দীগ্রাম উপজেলার কাথম বেড়াগাড়ি এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কুন্দারহাট হাইওয়ে থানার এএসআই গণেশ চন্দ্র রায়।

স্থানীয়রা বলেন, ‘সকালের ঘুম থেকে ওঠে মহাসড়কে গিয়ে ছিন্নভিন্ন ওই লাশ দেখতে পাই। একজন বৃদ্ধ পাগলী এই রাস্তায় চলাচল করত। আমরা ধারণা করছি সেই হবে। মনে হয় রাতের কোনো একসময় গাড়ির চাপায় সে নিহত হয়েছে। দীর্ঘক্ষণ মহাসড়কে মরদেহটি পড়ে থাকায় একাধিক গাড়ির চাপায় দেহটি ছিন্নভিন্ন হয়ে গেছে।’

এ বিষয়ে এএসআই গণেশ চন্দ্র রায় বলেন, ‘খবর পেয়ে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়েছে। মরদেহ উদ্ধারের সময় তার দেহ ছিন্ন-বিচ্ছিন্ন ছিল। ফলে চেহারা দেখে পরিচয় শনাক্ত করা যাচ্ছে না। মরদেহ বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।’


নবীনগরে সাংবাদিকদের অবরুদ্ধের ঘটনায় ভূমি কর্মকর্তা স্ট্যান্ড রিলিজ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নবীনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে ভূমি অফিসে সাংবাদিকদের অবরুদ্ধ করে রাখার ঘটনায় উপজেলা সদর ভূমি অফিসের সহকারী নায়েব শামসুদ্দোহাকে ‘স্ট্যান্ড রিলিজ’ করা হয়েছে। রোববার সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জেলার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মাহমুদা আক্তার।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক জানান, গত শনিবার তাকে শাস্তিমূলক বদলি হিসেবে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলার গোয়ালনগরে স্ট্যান্ড রিলিজ করা হয়েছে।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার দুপুরে সদর ভূমি অফিসে জমির খারিজ সংক্রান্ত ঘুষ চাওয়ার অভিযোগের বিষয়ে তথ্য জানতে যান স্থানীয় তিন সাংবাদিক—বাংলা টিভির প্রতিনিধি পিয়াল হাসান রিয়াজ, গ্রীন টিভির প্রতিনিধি মমিনুল হক রুবেল এবং ‘বাংলাদেশের আলো’ পত্রিকার প্রতিনিধি মো. অলিউল্লাহ।

অভিযোগ রয়েছে, এ সময় কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে সহকারী ভূমি কর্মকর্তা (নায়েব) শামসুদ্দোহা ও অফিস সহায়ক হাবিবুর রহমান ওই তিন সাংবাদিককে অফিস কক্ষে তালাবদ্ধ করে বাইরে চলে যান। এতে সাংবাদিকদের পাশাপাশি সেবা নিতে আসা অন্য ব্যক্তিরাও প্রায় এক ঘণ্টা অবরুদ্ধ থাকেন।

পরে নবীনগরের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদুল হাসানের হস্তক্ষেপে অবরুদ্ধ ব্যক্তিরা মুক্ত হন।


প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে শ্রেষ্ঠ উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তার রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি গ্রহণ ডা. তানসিভ জুবায়ের নাদিমের

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ফরিদপুর প্রতিনিধি

ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা তানসিভ জুবায়ের নাদিম ‘শ্রেষ্ঠ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা’ হিসেবে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি ও পুরস্কার লাভ করেছেন।

মাঠপর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবায় অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে শ্রেষ্ঠ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা বিভাগে কর্মরত জরুরি সেবা ক্যাটাগরিতে তানসিভ জুবায়েরসহ ছয় চিকিৎসককে এই সম্মাননা প্রদান করা হয়।

শনিবার (১৮ এপ্রিল) বেলা ১১টার দিকে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় আয়োজিত এক বিশেষ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এই পুরস্কার তুলে দেন।

তানসিভ জুবায়ের (৩৫) ফরিদপুর শহরের ঝিলটুলী মহল্লার বাসিন্দা। তিনি ২০১৪ সালে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস পাস করেন। এরপর ৩৫তম বিসিএস (স্বাস্থ্য) উত্তীর্ণ হয়ে ২০১৭ সালের ২ মে সালে সরকারি চাকরিতে যোগ দেন। তিনি বিবাহিত এবং দুই কন্যা সন্তানের জনক।

তানসিভ জুবায়ের ২০২৪ সালের ২৮ অক্টোবর থেকে তিনি ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা হিসেবে ভাঙ্গা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতালে কর্মরত রয়েছেন।

তিনি ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যোগ দেওয়ার পর অর্থাৎ ২০২৪ সাল থেকে ২০২৫ সালে এক বছরের ব্যবধানে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বহির্বিভাগে রোগী বেড়েছে ১২ শতাংশ, অন্তঃবিভাগে ৫৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। পাশাপাশি জরুরি বিভাগে রোগীর সংখ্যা বেড়েছে ১৩৫ ভাগ এবং নরমাল ডেলিভারির সংখ্যা বেড়েছে ৭৩ শতাংশ।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর এটিই প্রথম আনুষ্ঠানিক বৈঠক। মূলত মাঠপর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবাকে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া, স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের কার্যক্রমকে আরও যুগোপযোগী করা এবং সরকারের বিশেষ নির্দেশনাগুলো সরাসরি পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যেই এই সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

সম্মেলনে জরুরি সেবা ও মাঠপর্যায়ের স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নসহ বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে মনোনীত ৬ জন চিকিৎসককে শ্রেষ্ঠত্বের ক্রেস্ট প্রদান করেন প্রধানমন্ত্রী।

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুলের সভাপতিত্বে সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত। এ ছাড়া স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব মোহাম্মদ কামরুজ্জামান চৌধুরী, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাতচন্দ্র বিশ্বাসসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।

তানসিভ জুবায়ের নাদিম প্রতিক্রীয়া জানিয়ে দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘যেকোনো সম্মাননা কাজের গতি বাড়িয়ে দেয়। আসলে আমি বিশেষ কিছু করেছি তা বলা যাবে না। তবে সীমিত সাধ্যের সর্বোচ্চ ব্যবহারের চেষ্টা করছি মাত্র। তবে এখানেই থেমে গেলে হবে না, আমাকে আরও এগিয়ে যেতে হবে।’


ছয় বিভাগে কালবৈশাখীর পূর্বাভাস, নদীবন্দরে সতর্ক সংকেত

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের ছয় বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় কালবৈশাখী ও বজ্রসহ বৃষ্টির সতর্কবার্তা দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। শনিবার (১৮ এপ্রিল) আবহাওয়া অধিদপ্তরের বিশেষ সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, রাজশাহী, রংপুর, দিনাজপুর, পাবনা, বগুড়া, টাঙ্গাইল এবং কুষ্টিয়া অঞ্চলের ওপর দিয়ে পশ্চিম বা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৬০-৮০ কিলোমিটার বেগে বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টিসহ অস্থায়ীভাবে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এসব এলাকার নদী বন্দরগুলোকে ২ নম্বর হুঁশিয়ারি সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

এছাড়া ঢাকা, ফরিদপুর, মাদারীপুর, ময়মনসিংহ এবং সিলেট অঞ্চলসমূহের ওপর দিয়ে পশ্চিম বা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টিসহ অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এসব এলাকার নদী বন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

আবহাওয়াবিদ তরিফুল নেওয়াজ কবির শনিবার রাতে বলেন, ‘যদি কালবৈশেখী ঝড় হয় এবং তার তীব্রতা বেশি থাকে, তাহলে এসব অঞ্চলে ক্ষয়ক্ষতি হবে স্বাভাবিকভাবেই। এছাড়া ভারী বর্ষণ কিংবা শিলাবৃষ্টি হলেও নানারকম ক্ষতি হতে পারে।’

আবহাওয়া অধিদপ্তরের গতকাল শনিবার রাতের নিয়মিত বুলেটিনে বলা হয়েছে, এদিন সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় রংপুর ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা ও চট্টগ্রাম বিভাগের দুয়েক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।

সেই সাথে কোথাও কোথাও বিক্ষিপ্তভাবে শিলাবৃষ্টি হতে পারে। এছাড়া দেশের অন্যত্র অস্থায়ীভাবে আংশিক মেখলা আকাশসহ আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর বলছে, রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগে দিনের তাপমাত্রা ১ থেকে ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস কমতে পারে এবং দেশের অন্যত্র তা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। এছাড়া, রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগে রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে এবং দেশের অন্যত্র তা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

গেল ২৪ ঘণ্টায় দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল রাজশাহী ও রাঙামাটিতে ৩৬ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আর, সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল রাঙামাটিতে ২১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ সময়ে দেশের সর্বোচ্চ ২৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে কিশোরগঞ্জের নিকলীতে; এছাড়া দেশের কোথাও উল্লেখযোগ্য বৃষ্টিপাত হয়নি।


সুনামগঞ্জে বজ্রপাতে ৫ জনের মৃত্যু

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি

সুনামগঞ্জের চার উপজেলায় আকস্মিক বজ্রপাতে পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার দুপুরে কালবৈশাখী ঝড়ের সময় পৃথক স্থানে এই ঘটনা ঘটে।

ধর্মপাশায় বজ্রপাতে নিহত হয়েছেন হবিবুর রহমান (২২) ও রহমত উল্লাহ (১৩) নামে দুই জন। শনিবার দুপুরে পৃথক স্থানে পৃথক বজ্রপাতে তারা নিহত হয়। হবিবুর উপজেলার পাইকুরাটি ইউনিয়নের বড়ইহাটি গ্রামের ফজলু রহমানের ছেলে এবং বাদশাগঞ্জ ডিগ্রি কলেজের ডিগ্রি ২য় বর্ষের শিক্ষার্থী। রহমত উল্লাহ জয়শ্রী ইউনিয়নের সরস্বতিপুর গ্রামের জয়নাল হকের ছেলে।

অন্যদিকে তাহিরপুর উপজেলার সদর ইউনিয়নের গাজীপুর গ্রামের আবু বকরের ছেলে আবুল কালাম ওরফে কালা মিয়া (২৮) জামলাবাজ গ্রামে একটি হাঁসের খামারের সামনে বজ্রপাতে নিহত হন। তিনি ওই খামারে শ্রমিক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এ ঘটনায় নূর মোহাম্মদ (২৪) নামে আরও একজন গুরুতর আহত হয়েছেন।

জামালগঞ্জ সদর ইউনিয়নের চাঁনপুর (গজারিয়া হাটি) গ্রামে বজ্রপাতে নুরুজ্জামান নামে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পাগনার হাওরে কাজ করার সময় হঠাৎ বজ্রপাতে নুরুজ্জামান ও তার চাচাতো ভাই গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে দ্রুত জামালগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক নুরুজ্জামানকে মৃত ঘোষণা করেন।

দিরাই উপজেলার চরনাচর ইউনিয়নের পেরুয়া গ্রামের একজন বজ্রপাতে নিহত হয়েছেন। ওই ব্যক্তির নাম লিটন মিয়া। তিনিও হাওরে ধান কাটার সময় বজ্রপাতে শিকার হন।
ওই পাঁচজনের মৃত্যুর বিষয়টি স্থানীয় উপজেলা প্রশাসন নিশ্চিত করেছেন।


পাকুন্দিয়ায় ফুটবল খেলা নিয়ে সংঘর্ষ, ওসিসহ আহত ২০

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০

কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে দুই গ্রামের মধ্যে টানা দুদিনব্যাপী সংঘর্ষ হয়েছে। এতে থানার ওসিসহ অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। উপজেলার টনা লক্ষ্মীয়া ও হাপানিয়া গ্রামের মধ্যে শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) শুরু হওয়া সংঘর্ষ চলে শনিবার (১৮ এপ্রিল) বিকাল পর্যন্ত।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) বিকেলে পাকুন্দিয়া পৌর সদরের টান লক্ষ্মীয়া ও হাপানিয়া গ্রামের মধ্যে লক্ষ্মীয়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ফুটবল খেলার আয়োজন করা হয়। খেলায় দুই পক্ষের খেলোয়াড় ও সমর্থকদের মধ্যে প্রথমে বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে তা সহিংসতায় রূপ নেয়। সংঘর্ষ চলে রাত পর্যন্ত। এতে বেশ কয়েকজন আহত হন। আজ শনিবার দুপুর থেকে আবারও সংঘর্ষ শুরু হয়ে চলে বিকাল পর্যন্ত।

সংঘর্ষে উভয়পক্ষ ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও লাঠিসোটা নিয়ে একে অপরের ওপর হামলা চালায় এবং বেশ কয়েকটি বাড়িঘর ভাঙচুর করা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গেলে পুলিশের সঙ্গেও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এ সময় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ (ওসি) উভয়পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হন।

পরে অতিরিক্ত পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। বর্তমানে এলাকাজুড়ে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।

পাকুন্দিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম আরিফুর রহমান বলেন, এ ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

পাকুন্দিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রূপম দাস বলেন, খেলাকে কেন্দ্র করে দুই গ্রামের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। এতে থানার ওসি ও একাধিক পুলিশসহ বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি এখনো উত্তপ্ত। এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।


ভোলায় ঘরে ঢুকে প্রবাসীর স্ত্রীকে হত্যা, গুরুতর আহত শিশু পুত্র

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ভোলা প্রতিনিধি

ভোলা সদর উপজেলায় নিজ বসতঘরে ঢুকে নাছিমা বেগম (৩৫) নামে এক প্রবাসীর স্ত্রীকে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় তার ৭ বছর বয়সী শিশু পুত্র আবির গুরুতর আহত হয়েছে।

‎শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) দিনগত মধ্যরাতে উপজেলার শিবপুর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের শরীফ সর্দার বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। নিহত নাছিমা বেগম প্রবাসী আল আমিনের স্ত্রী।

‎পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জীবিকার তাগিদে কয়েক বছর ধরে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থান করছেন নাছিমা বেগমের স্বামী আল আমিন। স্বামী প্রবাসে থাকায় ছোট ছেলে আবিরকে নিয়ে নির্মাণাধীন বসতঘরে একাই বসবাস করছিলেন তিনি।

‎ঘটনার রাতে মা ও ছেলে ঘুমিয়ে থাকা অবস্থায় দুর্বৃত্তরা ঘরে প্রবেশ করে। পরে তাদের ওপর ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলা চালানো হয়। এতে ঘটনাস্থলেই নাছিমা বেগম নিহত হন এবং তার ছেলে আবির গুরুতর আহত হয়।

‎শনিবার সকাল প্রায় ৭টার দিকে ঘরের ভিতরে কোনো সাড়া-শব্দ না পেয়ে প্রতিবেশীরা ভেতরে ঢুকে নাছিমা বেগমের মরদেহ ও আহত শিশুটিকে দেখতে পান। পরে স্থানীয়রা আবিরকে উদ্ধার করে ভোলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন।

‎ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ভোলা সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ মনিরুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ভোলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

‎তিনি আরও জানান, প্রাথমিকভাবে এটি একটি হত্যাকাণ্ড বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে কে বা কারা এই ঘটনা ঘটিয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ঘটনার পেছনের কারণ উদঘাটনে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

‎এ ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে। দ্রুত অপরাধীদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।


সাংগ্রাই জলউৎসবে শেষ হল বর্ণিল বর্ষবরণের আয়োজন

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
রাঙামাটি প্রতিনিধি

রাঙামাটিতে মারমা সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী সাংগ্রাই জলউৎসবের মধ্য দিয়ে শেষ হলো এবারের বর্ষবরণের আয়োজন। উৎসব ঘিরে পুরো শহরে বয়ে যায় আনন্দের জোয়ার, যেখানে পাহাড়ি-বাঙালি মিলিত হয়ে অংশ নেন এক বর্ণিল আয়োজনে। রাঙামাটির চিংহ্লামং মারী স্টেডিয়ামে কড়া গোধূলির রোদ রাঙিয়ে দিয়েছে পাহাড়ের ভাঁজ। আর সেই রাঙা দিনে উৎসবের রঙে মেতেছে পার্বত্য চট্টগ্রাম। মারমা সম্প্রদায়ের বর্ষবরণ উৎসব ‘সাংগ্রাই’ উপলক্ষে পুরো রাঙামাটি শহরজুড়ে বয়ে যায় আনন্দের জোয়ার।

সাংগ্রাইয়ের সবচেয়ে আকর্ষণীয় অংশ হলো ‘জলকেলি’ বা পানি খেলা। মারমা সম্প্রদায়ের বিশ্বাস, এই মৈত্রী পানি দিয়ে ধুয়ে-মুছে যাবে গত বছরের সব। মঞ্চে মারমা সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী নাচ-গান পরিবেশন করা হয়। পাশাপাশি রঙিন পোশাকে সেজে তরুণ-তরুণীরা একে অপরকে পানি ছিটিয়ে আনন্দ উপভোগ করেন। এ ছাড়া শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে বয়োজ্যেষ্ঠরাও এই উৎসবে অংশগ্রহণ করেন, যা পাহাড়ে বসবাসরত পাহাড়ি-বাঙালি সব সম্প্রদায়ের মাঝে সম্প্রীতির বার্তা ছড়িয়ে দেয়। গতকাল শুক্রবারের এই উৎসবের আয়োজকরা বলছেন, উৎসবের মাধ্যমে সবার মধ্যে সম্প্রীতির সেতুবন্ধন তৈরি করা। তারা মনে করেন, জলকেলি বা সাংগ্রাই কেবল মারমা সম্প্রদায়ের নিজস্ব সংস্কৃতি নয়, বরং এটি পাহাড় ও সমতলের মানুষের মধ্যে মৈতী ও একতা বাড়ানোর একটি শক্তিশালী মাধ্যম।

সাংগ্রাইয়ের সবচেয়ে আকর্ষণীয় অংশ ‘জলকেলি’ বা পানি খেলা। শিশু থেকে বয়োজ্যেষ্ঠ—সব বয়সি মানুষের অংশগ্রহণে উৎসবটি পরিণত হয় এক মহামিলনমেলায়। আয়োজকদের মতে, সাংগ্রাই শুধু মারমা সম্প্রদায়ের উৎসব নয়, এটি পাহাড় ও সমতলের মানুষের মধ্যে সম্প্রীতি ও বন্ধনের এক শক্তিশালী মাধ্যম।

এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান এমপি বলেন, ‘পার্বত্যাঞ্চলের সুষম উন্নয়নে সরকার কাজ করে যাচ্ছে।’ তিনি বলেন, ‘পার্বত্য চট্টগ্রামের ১৩টি জনগোষ্ঠীর ঐতিহ্য, কৃষ্টি ও সংস্কৃতি সংরক্ষণ করা জরুরি। কিছু জনগোষ্ঠী অস্তিত্ব সংকটে রয়েছে, তাদের সংস্কৃতি টিকিয়ে রাখতে মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেবে।’

অনুষ্ঠানে গেস্ট অব অনার হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন এমপি। তিনি বলেন, ‘ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল সংস্কৃতিকে ধারণ ও সম্মান করার মধ্যেই রয়েছে বাংলাদেশের প্রকৃত শক্তি। এই উৎসব এখন সকল সম্প্রদায়ের মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে, যা দেশের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের প্রতিচ্ছবি।’

মাসসর জলউৎসব উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক পাইচিং মং মারমা বলেন, ‘পুরোনো বছরের সব দুঃখ-গ্লানি ধুয়ে-মুছে নতুন বছরকে স্বাগত জানানোর মধ্য দিয়ে সকলের মাঝে সেতুবন্ধন তৈরি করাই এই জলউৎসবের মূল উদ্দেশ্য।’


দখল আর অযত্নে বিলীনের পথে ফেনী-বিলোনিয়া রেলপথ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ফেনী প্রতিনিধি  

দীর্ঘ ২৯ বছর ধরে বন্ধ থাকা ফেনী-বিলোনিয়া রেলপথটি এখন কেবলই স্মৃতি। এক সময়ের কর্মচঞ্চল এই রেললাইনটি রক্ষণাবেক্ষণের অভাব, ভূ-সম্পত্তি দখল এবং কর্তৃপক্ষের উদাসীনতায় অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে। অথচ এই পথটি পুনরায় চালু হলে বাংলাদেশ-ভারত দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য এবং স্থানীয় যোগাযোগ ব্যবস্থায় এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হতে পারে।

জানা যায়, ​ফেনী জেলার পিছিয়ে পড়া উত্তরাঞ্চলের জনগোষ্ঠির জেলা সদরের সাথে যাতায়াতের পাশাপাশি ত্রিপুরার বিলোনিয়া হয়ে বাংলাদেশের বিলোনিয়া দিয়ে ফেনী থেকে আসামের সাথে যোগাযোগ স্থাপনের জন্য আসাম বেঙ্গল রেলওয়ে কোম্পানি ১৯২৭ সালের ১৭ ডিসেম্বর এক সরকারি আদেশের মাধ্যমে ফেনী থেকে বিলোনিয়া পর্যন্ত ২৮ কি.মি. রেলপথ স্থাপনের জন্য ২৫ গ্রামের ২৭৭ একর জমি অধিগ্রহণ করে। ১৯২৯ সালে ফেনী-বিলোনিয়া রেল লাইনের যোগাযোগ শুরু হয়। এ রেলপথে বন্ধুয়া দৌলতপুর, আনন্দপুর, পীরবক্স মুন্সির হাট, নতুন মুন্সির হাট, ফুলগাজী, চিথলিয়া, পরশুরাম ও বিলোনীয়াসহ ৮টি রেল স্টেশন স্থাপন করা হয়।

একসময় এই রেলপথটি ছিল এ এলাকার শিক্ষা-দীক্ষা, ব্যবসা-বাণিজ্যসহ অর্থনৈতিক উন্নয়নের একমাত্র মাধ্যম। স্বাধীনতার পর এ রেলপথের পাশে ধীরে ধীরে গড়ে ওঠে সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা। কমতে থাকে এ রেলপথে যাত্রী ও আয়। লোকসানী প্রতিষ্ঠানে পরিণত হওয়ার অজুহাতে ১৯৯৭ সালের ১৭ আগস্ট রেল কর্তৃপক্ষ ফেনী-বিলোনীয়া রেলপথটি আনুষ্ঠানিকভাবে বন্ধ করে দেয়। এরপর থেকে রেলপথ ও সব স্টেশন পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে।

​সরেজমিনে দেখা যায়, রেললাইনের ওপর গড়ে উঠেছে স্থায়ী ঘরবাড়ি, দোকানপাট ও বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। রেলের মূল্যবান স্লিপার, পাথর এবং লোহার পাত চুরি হয়ে গেছে অনেক আগেই। বন্দুয়া, দৌলতপুর, চিথলিয়া, ফুলগাজী ও পরশুরাম স্টেশনগুলোর ভবন এখন লতাপাতায় ঢাকা। কোনো কোনো স্টেশনের ইটও খুলে নিয়ে গেছে স্থানীয়রা। দীর্ঘদিন ধরে অযত্নে অবহেলায় পড়ে থাকায় সবগুলো স্টেশানের বেহাল দশা। বন্ধ এ রেলপথের বিভিন্ন স্টেশনগুলোর অবকাঠামো এখন ধবংসের পথে। এসব স্টেশনে বসছে মাদকের বেচাকেনা আর বখাটেদের নিয়মিত আড্ডা। স্টেশনগুলো দখলে নিয়েছে ভাসমান শ্রমিকরা।

স্থানীয় ফুলগাজী উপজেলার মুন্সীর হাটের বাসিন্দা ফরিদ আহমেদ বলেন, রেলের বিশাল ভূ-সম্পত্তির অধিকাংশ ইতোমধ্যে প্রভাবশালীরা দখল করে নানা ধরণের স্থাপনা নির্মাণ করেছে। এ রেলপথের দুপাশে বহু গাছ কেটে নিয়েছে দুর্বৃত্তরা। সব মিলিয়ে ফেনী-বিলোনীয় রেলপথের কোটি কোটি টাকার সম্পদ এখন মাটির সাথে মিশে যাচ্ছে।

বিভিন্ন সময়ে চুরি হওয়া বেশ কিছু রেললাইন উদ্ধারও করা হয়। এসব ঘটনায় লাকসাম জিআরপি থানাসহ আশাপাশের কয়েকটি থানায় মামলা হয়েছে অন্তত ৮টি।

চালু অবস্থায় এই রেলপথ রক্ষণাবেক্ষণের জন্য গ্যাংওয়ে ও গ্যাং খালাসী থাকলেও রেলপথটি বন্ধ হওয়ার কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বিভিন্ন স্থানে বদলী করা হয়।

​ফেনী-বিলোনিয়া রেলপথটি শুধু স্থানীয়দের যাতায়াতের মাধ্যম নয়, এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক রুট হতে পারে। ভারতের ত্রিপুরা রাজ্য সরকার তাদের অংশের বিলোনিয়া পর্যন্ত ব্রডগেজ রেললাইন সম্প্রসারণ করেছে। বাংলাদেশের এই ২৮ কিলোমিটার অংশ সংস্কার ও পুনরায় চালু করা হলে বিলোনিয়া স্থলবন্দরের কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে।

চট্টগ্রাম বন্দরের মালামাল সরাসরি উত্তর-পূর্ব ভারতে পৌঁছানো সম্ভব হবে। ফেনীর উত্তরাঞ্চলের (ফুলগাজী-পরশুরাম) মানুষের কর্মসংস্থান ও যাতায়াতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে।

​বিভিন্ন সূত্র জানায়, বিগত বছরগুলোতে এই রেলপথটি পুনরায় চালুর বিষয়ে একাধিকবার সমীক্ষা (Survey) চালানো হয়েছে। এমনকি বাংলাদেশ ও ভারতের যৌথ উদ্যোগে এই লাইনটি সংস্কারের পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছিল। তবে মাঠপর্যায়ে দৃশ্যমান কোনো কাজ এখনো শুরু হয়নি।

স্থানীয় পরশুরাম উপজেলার বাসিন্দা আবু ইউসুফ মিন্টু ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমরা বছরের পর বছর শুধু আশার কথা শুনি। সরকার যদি দ্রুত এই রেলপথটি উদ্ধার না করে, তবে অদূর ভবিষ্যতে মানচিত্র থেকে ফেনী-বিলোনিয়া রেললাইনের নাম মুছে যাবে।

​ফেনী রেলওয়ে সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানান, রেলের জমি উদ্ধারে উচ্ছেদ অভিযান একটি চলমান প্রক্রিয়া, তবে এই রুটটি পুনরায় চালু করার বিষয়টি সম্পূর্ণ নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে।

বিশিষ্ট গণমাধ্যমকর্মী ইমরান ইমন বলেন, বন্ধ রেলপথটি পুনরায় চালু হলে এ অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থায় উন্নয়নের পাশাপাশি বিলোনীয়া স্থলবন্দর দিয়ে পণ্য আনা-নেওয়ায় বাংলাদেশ-ভারত দুদেশের আর্থসামাজিক ব্যবস্থার প্রসার ঘটবে।

​সীমান্তবর্তী এই অবহেলিত জনপদের মানুষের দাবি—রাজনৈতিক সদিচ্ছা আর সঠিক পরিকল্পনার মাধ্যমে আবারও যেন ‘ঝকঝক’ শব্দে কেঁপে ওঠে ফেনী-বিলোনিয়া রেলপথ।

বাংলাদেশ রেলওয়ে ফেনীর উর্ধ্বতন উপ-সহকারী প্রকৌশলী (পূর্ত) সুজন ভট্টাচার্য্য বলেন, ফেনী-বিলোনিয়া রেল লাইনটি ১৯৯৭ সালে বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। এটা চালু হয়েছিল ১৯২৯ সালে। এটির দৈর্ঘ্য প্রায় সাতাশ কিলোমিটার। এ লাইনটিতে তখন ৮-৯ টি স্টেশন চালু ছিল। বর্তমানে লাইনটি বন্ধ আছে। যেহেতু এখানে একটি বৃহৎ স্থলবন্দর আছে পণ্য আনা-নেয়ার ব্যাপারে সাধারণ জনগণ অবশ্যই উপকৃত হতে পারে। এটি চালু প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের বিষয়। এটা অবশ্যই জনগণের চাওয়া পাওয়ার ওপর নির্ভর করবে। এটা সরকারি একটা বিষয়, সরকারের উদ্যোগের বিষয়। জনগণ যদি চায় তাহলে এটা আবার পুনরায় চালু হতে পারে। এ ব্যাপারে প্রশাসনিক সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত।

ফেনী-১ আসনের সংসদ সদস্য মুন্সী রফিকুল আলম মজনু বলেন, ফেনী-বিলোনিয়া রেললাইনটি অনেক পুরোনো একটি লাইন। দীর্ঘদিন আগে এটি বন্ধ হয়ে গেছে। এবার নির্বাচনের সময় আমরা মানুষকে বলেছি যে এই লাইনটা আমরা চালু করতে চাই। আমরা এ লাইনটি চালু করার জন্য কাজ করবো। কিন্তু ইতোমধ্যে এলাকার কিছু মানুষ বলছেন যে এটি চালু না করে বরং অন্য উন্নয়ন কাজ করতে। কারণ তারা বলছে যে রেললাইন করলে নাকি এটা লোকসান প্রজেক্ট। তারপরও আমরা যেহেতু প্রতিশ্রুতি দিয়েছি আমরা এখনো আছি। রেললাইনতো করবো মানুষের জন্য। মানুষ যদি মনে করে এটার প্রয়োজন আছে তাহলে করবো। যদি মনে করে এটার এখন প্রয়োজন নাই পরে তাহলে পরে করবো আগে অন্য উন্নয়ন কাজগুলো করবো।


দৌলত‌দিয়ার পদ্মায় জেলের জালে ৯১ হাজারের দুই কাতল

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
রাজবাড়ী প্রতিনিধি

রাজবাড়ী দৌলত‌দিয়ার পদ্মা নদীতে দুই জেলের জালে সাড়ে ২৮ কেজি ও ১৮ কেজি ওজনের দুটি কাতল মাছ ধরা পড়েছে। শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) সকালে দৌলত‌দিয়া মৎস্য আড়তে রেজাউল মন্ড‌ল ও আনু খা’র আড়ত থেকে মৎস্য ব্যবসায়ী সম্রাট শাহজাহান শেখ বিশাল আকৃ‌তির কাতল মাছ দুইটি কিনে নেন।

শাহজাহান জানান, শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) রাতে জেলে এরশাদ হলদার ও জীবন হলদার তাদের সহযোগীদের নদীতে ইঞ্জিন চালিত ট্রলার নিয়ে পদ্মা ও যমুনা নদীর মোহনায় পৃথক স্থানে জাল ফেলেন। পরে ভোরের দিকে জাল টেনে তুলতেই দেখেন তাদের দুই জনের জালে এক‌টি করে বড় দুটি বিশাল আকৃ‌তির কাতল ধরা পড়ে। পরে মাছ‌ দুটি বিক্রির জন্য সকালে মৎস্য আড়তে আনলে উন্মুক্ত নিলামে উঠলে সাড়ে ২৮ কে‌জি ওজনের কাতল‌টি ২ হাজার ২০০ টাকা কে‌জি দরে ‌মোট ৬২ হাজার ৭০০ ও ১৮ কে‌জির কাতল‌টি ১ হাজার ৬০০ টাকা কেজি দরে ২৮ হাজার ৮০০ সহ মোট ৯১ হাজার ৫০০ টাকায় কিনে নেন।

তিনি আরও জানান, মাছ দুটি বিক্রির জন্য দেশের বিভিন্নস্থানে অনলাইনে যোগাযোগ করছি। কিছু লাভ পেলেই বিক্রি করে দিবো।


ঝিনাইদহে গ্রাম আদালত বিষয়ক সমন্বয় সভা 

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ঝিনাইদহ প্রতিনিধি

গ্রাম আদালত ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর ও জনমুখী করতে স্থানীয় পর্যায়ে প্রচার-প্রচারণা জোরদারের লক্ষ্যে ঝিনাইদহে এক সমন্বয় সভা হয়েছে। বাংলাদেশে গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ (৩য় পর্যায়) প্রকল্পের উদ্যোগে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এ সভা হয়।

স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক রথীন্দ্র নাথ রায়’র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সুবীর কুমার দাশ, স্থানীয় সরকারের সহকারী পরিচালক আমিনুল ইসলাম, জেলা তথ্য কর্মকর্তা আব্দুর রউফ, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মুন্সী ফিরোজা সুলতানা, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের উপপরিচালক বিলকিস আফরোজ প্রমুখ। এ সময় প্রকল্পের জেলা ম্যানেজার রহিদুল ইসলাম, উপজেলা সমন্বয়কারী এবং প্রোগ্রাম ও ফিন্যান্স সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।

সভায় ঝিনাইদহ জেলার ৬৭টি ইউনিয়নে ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত গ্রাম আদালতে মামলা গ্রহণ ও নিষ্পত্তির অগ্রগতি তুলে ধরা হয় এবং তা নিয়ে বিশদ আলোচনা করা হয়।

সভায় অংশগ্রহণকারীরা নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের আউটরিচ কার্যক্রমের সঙ্গে গ্রাম আদালত বিষয়ক প্রচার-প্রচারণা অন্তর্ভুক্ত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং এ লক্ষ্যে একটি সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেন।


banner close