মিয়ানমার সীমান্ত থেকে সেন্ট মার্টিন দ্বীপে যাতায়াতকারী নৌযান লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণের কারণে ৭ দিন বন্ধ থাকার পর বিজিবি ও কোস্টগার্ডের নিরাপত্তায় শুরু হয়েছে ট্রলার চলাচল। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে ২৫০ যাত্রী নিয়ে অন্তত ১০টি ট্রলার টেকনাফের মুন্ডারডেইল ঘাটে ভেড়ে। তবে সাগর উত্তাল ঝুঁকি নিয়ে এসব ট্রলার থেকে লোকজনকে সরাসরি কূলে ওঠানো সম্ভব হচ্ছিল না। পরে কূল থেকে কয়েকটি ডিঙি নৌকা উপকূলের কিছু দূরে সাগরে অবস্থানকারী ট্রলারগুলোর কাছে পাঠানো হয়।
আজ বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৩টায় মেরিন ড্রাইভ সড়ক-সংলগ্ন টেকনাফ উপজেলার সাবরাং ইউনিয়নের মুন্ডারডেইল এলাকার সাগর উপকূলের পয়েন্ট দিয়ে সেন্ট মার্টিন থেকে ট্রলারযোগে এসব মানুষ ফিরেছেন বলে জানান।
টেকনাফের ইউএনও মো. আদনান চৌধুরী বলেন, দুপুর ১টার দিকে সেন্ট মার্টিন দ্বীপের জেটি ঘাট থেকে ৩টি ট্রলারযোগে বিজিবি ও কোস্টগার্ড সদস্যদের নিরাপত্তায় তিন শতাধিক মানুষ টেকনাফের উদ্দেশে রওনা দেয়। বিকেল ৩টার দিকে ট্রলারগুলো টেকনাফের মুন্ডারডেইল সাগর উপকূলে পৌঁছে। কিন্তু সাগরের প্রতিকূল পরিস্থিতির কারণে পণ্যবাহী ট্রলার যাওয়া সম্ভব হয়নি।
সেন্ট মার্টিন ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান খোরশেদ আলম জানান, গত ৭ দিন দ্বীপে আসা-যাওয়া বন্ধ থাকায় দ্বীপের খাদ্য পণ্যসংকট দেখা দিয়েছে। এখন বিকল্পভাবে ট্রলার চলাচল শুরু হওয়ায় স্বস্তি মিলছে। যে ট্রলারগুলো গেছে ওইসব ট্রলার নিয়ে টেকনাফে থাকা মানুষ ফিরে আসবে।
টানা ৭ দিন বন্ধ থাকার পর বুধবার সন্ধ্যায় কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের এক জরুরি সভায় বৃহস্পতিবার থেকে যাত্রী আসা-যাওয়া এবং পণ্যবাহী ট্রলার চলাচল শুরুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।
এ নিয়ে ইউএনও আদনান জানান, বৃহস্পতিবার টেকনাফ-সেন্টমার্টিন নৌরুটের সাগরের বিকল্প পথে যাত্রী পারাপার শুরু হলেও পণ্যবাহী কোনো ট্রলার সেন্ট মার্টিনের উদ্দেশে টেকনাফ ছাড়েনি।
টেকনাফের নাফ নদীর সীমান্তের ওপারে মিয়ানমারের কাছে টানা দুই দিন ধরে দেখা মিলছে বড় ধরনের একটি জাহাজের। আর সেই জাহাজ ও মিয়ানমারের স্থলভাগে বুধবার রাত থেকে আজ বৃহস্পতিবার বিকেল পর্যন্ত চলেছে গোলাগুলি। এ সময় বিস্ফোরণের বিকট শব্দ ভেসে আসছে টেকনাফের সীমান্তবর্তী এলাকায়।
কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার গোপালনগর সিএন্ডবি বাজার বাইতুল সালাত জামে মসজিদের দীর্ঘ ৬০ বছরের খতিব মাওলানা মো. শামসুল হককে বিদায় সংবর্ধনা প্রদান করেছে মসজিদ কমিটি। শুক্রবার (২৪ জুলাই) জুমার নামাজ শেষে মসজিদ প্রাঙ্গণে মসজিদ কমিটির উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তার দীর্ঘদিনের দ্বীনি খেদমতের স্বীকৃতিস্বরূপ একটি সম্মাননা ক্রেস্ট ও নগদ ৫০ হাজার টাকা প্রদান করা হয়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ৩ নম্বর রসুলপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. শাহজাহান সরকার, ৩ নম্বর রসুলপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. হানিফ ভূঁইয়া, কামাল ব্রিকসের স্বত্বাধিকারী হাজী কামাল উদ্দিন, বায়তুল্লাহ ইলেক্ট্রনিক্সের স্বত্বাধিকারী এম. এ. ইউনুস মিয়া বাবুল, ৩ নম্বর রসুলপুর ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি কাজী হাসান আহমাদ, স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. বদিউল আলম বাদল, মসজিদ কমিটির সেক্রেটারি আবুল বাশারসহ বাজারের ব্যবসায়ী, মুসল্লি ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
বিদায়ী বক্তব্যে মাওলানা মো. শামসুল হক বলেন, ‘মহান আল্লাহর অশেষ রহমতে তিনি টানা ৬০ বছর এই মসজিদে খতিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করার সুযোগ পেয়েছেন। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত তিনি এলাকার মানুষ ও মসজিদের মুসল্লিদের জন্য দোয়া করে যাবেন।’ বিদায় সংবর্ধনার এমন আন্তরিক আয়োজন তাকে আবেগাপ্লুত করেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন এবং মসজিদ কমিটি, মুসল্লি ও এলাকাবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
মসজিদ কমিটির সেক্রেটারি আবুল বাশার বলেন, ‘মাওলানা শামসুল হকের ছয় দশকের দ্বীনি খেদমত এই মসজিদ ও এলাকার জন্য এক অনন্য দৃষ্টান্ত। তিনি শুধু একজন খতিব নন, বরং এলাকার ধর্মীয় ও নৈতিক পথপ্রদর্শক হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। তার অবদান এলাকাবাসী শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে।’
অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে দেশ, জাতি ও এলাকার সার্বিক কল্যাণ এবং মাওলানা মো. শামসুল হকের সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করে দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন বিশিষ্ট আলেমে দ্বীন মুফতি হোসাইন আহমাদ।
রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার নোহালী ইউনিয়নের তিস্তা নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মাঝে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জেসমিন আক্তার। গত বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করে তিনি পরিবারগুলোর খোঁজখবর নেন এবং তাদের হাতে সরকারি ত্রাণসামগ্রী তুলে দেন। একই সঙ্গে নদীভাঙনের ভয়াবহতা তুলে ধরে পানি উন্নয়ন বোর্ডকে জরুরি ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে সুপারিশ পাঠানো হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, নোহালী ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের চর নোহালী কাচারীপাড়া এলাকায় তিস্তার ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। নদীর পানি বিপৎসীমার ১৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হলেও পানি কমতে শুরু করার পর থেকেই ভাঙনের তীব্রতা বেড়েছে। গত কয়েক দিনে নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে অন্তত ৮টি বসতবাড়ি এবং শত বিঘা আবাদি জমি। অনেক পরিবার শেষ সম্বলটুকু রক্ষায় ঘরবাড়ি খুলে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিচ্ছেন।
ক্ষতিগ্রস্ত আলহাজ মোত্তালিব বলেন, চোখের সামনে আমার বসতবাড়ি নদীতে চলে গেল। এখন পরিবার নিয়ে কোথায় থাকব জানি না। সরকারের কাছে স্থায়ী সমাধান চাই। সুরুজ মিয়া বলেন, ত্রাণ পেয়েছি, কিন্তু ভাঙন বন্ধ না হলে আমাদের বাঁচার কোনো উপায় থাকবে না। আনোয়ার হোসেন বলেন, ঘরবাড়ি, জমিজমা সব নদীতে চলে গেছে। এখন আমরা মানবেতর জীবন কাটাচ্ছি।
এদিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জেসমিন আক্তারের পাঠানো প্রতিবেদনের ভিত্তিতে রংপুর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রুহুল আমিন ২৩ জুলাই বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রধান প্রকৌশলীর কাছে জরুরি চিঠি পাঠিয়েছেন। ওই চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, নোহালী ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের চর নোহালী কাচারীপাড়ায় ২২টি এবং ৭ ও ৮ নম্বর ওয়ার্ডে আরও ১৪টি পরিবারের ঘরবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। এছাড়া চর বাগডহরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভাঙনরত নদীতীর থেকে মাত্র ১০০ মিটার দূরে রয়েছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে বিদ্যালয়টিও নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
জ্বালানি তেলের সংকটের গুজব ছড়িয়ে পড়ার পর সাতক্ষীরার বিভিন্ন পেট্রোল পাম্পে গত বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) দিনভর মোটরসাইকেল ও অন্যান্য যানবাহনের দীর্ঘ সারি দেখা গেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন তথ্যের প্রভাবে অনেকেই প্রয়োজনের আগেই জ্বালানি সংগ্রহে পাম্পে ছুটে আসেন। এতে জেলার বেশির ভাগ পাম্পে অস্বাভাবিক ভিড় সৃষ্টি হয়।
শহরের বাইপাস, পুরাতন সাতক্ষীরা, খুলনা রোডসহ বিভিন্ন এলাকার পেট্রোল পাম্পে গিয়ে দেখা যায়, মোটরসাইকেল, ব্যক্তিগত গাড়ি ও অটোরিকশার চালকেরা দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে জ্বালানি নিচ্ছেন। অনেকেই আশঙ্কা প্রকাশ করেন, পরবর্তী সময়ে তেল পাওয়া না–ও যেতে পারে। তবে এমন আশঙ্কার পক্ষে কোনো সরকারি তথ্য পাওয়া যায়নি।
পরিস্থিতি বিবেচনায় সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসন ও জেলা তথ্য অফিস মাঠে নামে। জেলা তথ্য অফিসের উদ্যোগে শহরের বিভিন্ন এলাকায় মাইকিং করে জানানো হয়, যমুনা, পদ্মা ও মেঘনা পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, জ্বালানি তেলের কোনো সংকট নেই। জেলার সব পেট্রোল পাম্পে স্বাভাবিক নিয়মে সরবরাহ অব্যাহত রয়েছে। সাতক্ষীরা
জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষের প্রতি গুজবে কান না দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলা হয়, অপ্রয়োজনীয়ভাবে জ্বালানি কিনতে গিয়ে পাম্পে অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি না করে স্বাভাবিক প্রয়োজন অনুযায়ী জ্বালানি সংগ্রহ করতে।
প্রশাসনের এই বার্তার পর বিকেলের দিকে কয়েকটি পাম্পে চাপ কিছুটা কমতে শুরু করলেও অনেক স্থানে এখনও ভিড় লক্ষ্য করা যায়। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সঠিক তথ্য দ্রুত মানুষের কাছে পৌঁছালে পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়ে আসবে। উল্লেখ্য গুজবে কান না দেওয়ার জন্য গত বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক কাউসার আজিজ এর পক্ষ থেকে সাতক্ষীরার গণমাধ্যমকর্মীদের নিকট একটি প্রেস রিলিজ প্রেরণ করেন।
রাত যত গভীর হয়, ততই বাড়ে আহমদুল হকের উৎকণ্ঠা। বয়স সত্তর ছুঁইছুঁই। অন্য সময় এ বয়সে মানুষ বিশ্রাম খোঁজেন, কিন্তু তিনি রাতভর জেগে থাকেন পাহারায়। ঘুম নয়, হাতে থাকে টর্চলাইট। কান খোলা, চোখ খোলা। কারণ, যে কোনো মুহূর্তে পাহাড় থেকে নেমে আসতে পারে বন্য হাতির পাল।
চট্টগ্রামের বোয়ালখালীর শ্রীপুর-খরণদ্বীপ ইউনিয়নের মহৎবাড়ী এলাকার এই কৃষকের প্রায় এক লাখ টাকার শুকনা ধান রাখা আছে ঘরের সামনের উঠানে গোলাভরা ধান। সেই ধান রক্ষা করতেই প্রতিটি রাত কাটে উদ্বেগে।
ভোরের আলো ফোটার পরও স্বস্তি মেলে না। আহমদুল হক বলেন, ‘আজ ভোরেও আমার ঘরের সামনে দিয়ে হাতি চলে গেছে। প্রায় প্রতিদিনই নির্ঘুম রাত কাটাতে হচ্ছে।
শুধু আহমদুল হক নন, গত দুই মাস ধরে একই আতঙ্কে দিন কাটছে ফতেরখীল, জৈষ্ঠ্যপুরা ও আশপাশের কয়েকটি গ্রামের মানুষের। সন্ধ্যা নামলেই গ্রামজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে অজানা ভয়। আর ভোর হলে শোনা যায় নতুন কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর।
স্থানীয়দের ভাষ্য, এই সময়ের মধ্যে হাতির তাণ্ডবে অন্তত ৪৮০ শতক জমির ধানের বীজতলা নষ্ট হয়েছে। বহু কৃষকের বছরের পরিশ্রম মুহূর্তেই মাটিতে মিশে গেছে।
পল্লী চিকিৎসক লিটন বড়ুয়ার ধানের গোলা উল্টে দিয়ে ধান খেয়ে ও নষ্ট করেছে হাতির পাল। একইভাবে আরও অনেক কৃষকের ক্ষেত, ফসল ও সম্পদের ক্ষতি হয়েছে।
জৈষ্ঠ্যপুরা এলাকার সাবেক ইউপি সদস্য মো. জাহাঙ্গীর আলম জানান, সম্প্রতি গভীর রাতে হাতির দল তার বসতবাড়ির সীমানা প্রাচীর ভেঙে ভেতরে ঢুকে পড়ে। একই এলাকার জুনু মিয়ার ৪০ শতকের আখক্ষেত তছনছ করে দেয়।
চট্টগ্রাম দক্ষিণ বন বিভাগের পটিয়া রেঞ্জের বন কর্মকর্তা এমদাদুল হক বলেন, বোয়ালখালী এলাকায় জনবল ও সক্ষমতা সীমিত। কর্মকর্তা কম থাকায় সব জায়গায় সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালানো কঠিন হচ্ছে। তবে নিয়মিত বন্য হাতি তাড়ানোর কাজ করা হচ্ছে। জৈষ্ঠ্যপুরা ও আশপাশের এলাকা হাতির স্বাভাবিক বিচরণভূমি হওয়ায় পরিস্থিতি সামাল দিতে কিছুটা বেগ পেতে হচ্ছে।
চট্টগ্রাম দক্ষিণ বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা সোহেল রানা বলেন, লোকালয়ে হাতি প্রবেশের বিষয়টি তাদের জানা আছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় এলিফ্যান্ট রেসকিউ টিম কাজ করবে। হাতির আক্রমণে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিরা আবেদন করলে সরকারি নিয়ম অনুযায়ী ক্ষতিপূরণ পাওয়ার সুযোগ রয়েছে।
কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজের এইচএসসি পরীক্ষাকেন্দ্রে জলাবদ্ধতার কারণে সাত শিক্ষককে কক্সবাজার, সিলেট, বরগুনাসহ বিভিন্ন জেলায় বদলি করা হয়েছে। তারা সবাই ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষাকেন্দ্র ব্যবস্থাপনার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তাদেরকে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ওএসডি করে। এরপর বিভিন্ন কলেজে বদলি করে সংযুক্ত করে। এক সঙ্গে এতো শিক্ষকের বদলি এই কলেজে আর হয়নি।
গত বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সরকারি কলেজ-২ শাখার উপসচিব আ. কুদদুস স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়, আগামী ২৯ জুলাইয়ের মধ্যে সাত শিক্ষককে বর্তমান কর্মস্থল থেকে অবমুক্ত হতে হবে। কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজের উপাধ্যক্ষ এ কে এম জহিরুল আলমকে চৌদ্দগ্রামের চিওড়া সরকারি কলেজের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগে, গণিত বিভাগের অধ্যাপক আবদুল মালেককে কক্সবাজার সরকারি কলেজ, উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক কনক বড়ুয়াকে নোয়াখালীর হাতিয়া দ্বীপ সরকারি কলেজে, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ উল্লাহ মজুমদারকে লক্ষ্মীপুর সরকারি কলেজ, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক নূর মোহাম্মদ নূর উল্লাহকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর সরকারি কলেজ, হিসাববিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক আল-আমিনকে সিলেটের বিয়ানীবাজার সরকারি কলেজে ও ইংরেজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ মহসীনকে বরগুনা সরকারি কলেজে বদলি করা হয়।
এর মধ্যে উপাধ্যক্ষ এ কে এম জহিরুল আলম পরীক্ষা ব্যবস্থাপনায় ছিলেন না, তার ছেলে এইচএসসি পরীক্ষা দিচ্ছে। আবদুল মালেক কনিষ্ঠ অধ্যাপক, সিনিয়ররা দায়িত্ব না নেওয়ায় তাকে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা করা হয়। কনক বড়ুয়া পরীক্ষা কমিটির আহ্বায়ক। মোহাম্মদ মহসীন কলেজের শিক্ষক পরিষদের সম্পাদক।
গত শনিবার ১৮ জুলাই দুপুর দুইটায় কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী কলেজে যান। এই সময়ে তিনি কলেজে জলাবদ্ধতা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তবে শিক্ষকদের দাবি, এই কলেজে প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে পরীক্ষাকেন্দ্র আছে। সকালের বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা হয়। কিন্তু এই কেন্দ্রে কোনো পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিল না। পরীক্ষা যথাসময়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
গত ১৩ জুলাই সকালে অতিবৃষ্টির কারণে কলেজে জলাবদ্ধতা হয়। তখন কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপু ডিঙি নৌকা, ভ্যানগাড়ি এনে পরীক্ষার্থীদের বিবেক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের মাধ্যমে কলেজে পৌঁছান। কলেজের শিক্ষকরাও ছাত্রীদের এগিয়ে নেন কেন্দ্রে।
চট্টগ্রাম নগরের দীর্ঘদিনের অসহনীয় যানজটের অন্যতম কারণ হিসেবে বেসরকারি হাসপাতালগুলোর অপর্যাপ্ত পার্কিং ব্যবস্থাকে চিহ্নিত করেছে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ)। নগরের অধিকাংশ হাসপাতাল অনুমোদিত নকশা ও ইমারত নির্মাণ বিধিমালা অনুসরণ না করে পার্কিং সুবিধা ছাড়াই বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এর ফলে প্রতিদিন হাসপাতালগুলোর সামনে রোগী বহনকারী অ্যাম্বুলেন্স, ব্যক্তিগত গাড়ি, মাইক্রোবাস, সিএনজি অটোরিকশা ও অন্যান্য যানবাহন সড়কের ওপর দাঁড়িয়ে থাকে। এতে হাসপাতালসংলগ্ন সড়কগুলোতে সৃষ্টি হয় দীর্ঘ যানজট, যার ভোগান্তি পোহাতে হয় হাজারো নগরবাসীকে।
এ পরিস্থিতির অবসানে কঠোর অবস্থান নিয়েছে সিডিএ। সংস্থাটির চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেন স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, অবিলম্বে সব বেসরকারি হাসপাতালকে নিজস্ব স্থায়ী ও পর্যাপ্ত পার্কিং ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় কোনো ধরনের ছাড় না দিয়ে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তিনি এটিকে হাসপাতালগুলোর প্রতি ‘শেষ সতর্কবার্তা’ বলেও উল্লেখ করেছেন। গত সোমবার (২০ জুলাই) দুপুরে নগরের বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
এর আগে সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত সিডিএর একটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন দল নগরের রয়েল হাসপাতাল, মেডিকেল সেন্টার, সিএসসিআর হাসপাতালসহ বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতাল সরেজমিন পরিদর্শন করে। দলে উপস্থিত ছিলেন সিডিএর প্রধান প্রকৌশলী আহমেদ আনোয়ারুল নজরুল, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. সেলিম, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের প্রকল্প পরিচালক মাহফুজুর রহমান, অথরাইজড অফিসার-১ কাজী কাদের নেওয়াজ এবং অথরাইজড অফিসার-২ মো. তানজীব হোসেন।
পরিদর্শনে হাসপাতালগুলোর পার্কিং ব্যবস্থা, যানবাহন চলাচল, রোগী ও স্বজনদের গাড়ি রাখার স্থান এবং সড়কের ওপর যানবাহন দখলের চিত্র নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হয়। সিডিএর কর্মকর্তারা দেখতে পান, মেট্রোপলিটন হাসপাতালের পার্কিং ব্যবস্থা তুলনামূলকভাবে ভালো বলে অবহিত করা হয়েছে। অন্যদিকে সিএসসিআর হাসপাতাল, মেডিকেল সেন্টার ও রয়েল হাসপাতালের পার্কিং ব্যবস্থা অত্যন্ত অপ্রতুল। এসব হাসপাতালের সামনে নিয়মিত সড়কের ওপর গাড়ি দাঁড়িয়ে থাকায় যান চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। পরিদর্শন শেষে সংশ্লিষ্ট হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে অনুমোদিত নকশা অনুসারে দ্রুত পর্যাপ্ত পার্কিং সুবিধা গড়ে তোলার নির্দেশ দেওয়া হয়।
সিডিএ চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেন বলেন, ‘নগরের প্রায় সব বেসরকারি হাসপাতালই সিডিএর ইমারত নির্মাণ বিধিমালা লঙ্ঘন করে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। অনেক হাসপাতাল অনুমোদিত নকশা অনুযায়ী পার্কিং নির্মাণ না করেই রোগীসেবা ও বাণিজ্যিক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। তারা নিজেরাও জানে কোন কোন আইন ভঙ্গ করেছে। এখন আর এসব অনিয়ম মেনে নেওয়ার সুযোগ নেই।’
তিনি বলেন, ‘আমি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে স্পষ্ট করে বলতে চাই, অবিলম্বে নিজস্ব উদ্যোগে পর্যাপ্ত ও স্থায়ী পার্কিং ব্যবস্থা গড়ে তুলুন। নামমাত্র বা আংশিক পার্কিং ব্যবস্থা করে দায় এড়ানোর চেষ্টা করবেন না। এটি আইওয়াশ ছাড়া কিছুই নয়। ভবিষ্যতে এটি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হবে না।’
তিনি আরও বলেন, ‘আজ আমরা হাসপাতালগুলোকে সতর্ক করেছি। এটিই তাদের প্রতি শেষ সতর্কবার্তা। পরবর্তী পরিদর্শনে হাসপাতালের আকার, রোগীর সংখ্যা ও প্রয়োজন অনুযায়ী পর্যাপ্ত পার্কিং ব্যবস্থা দৃশ্যমান না হলে কোনো অজুহাত শোনা হবে না। সরাসরি কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
সিডিএ চেয়ারম্যান বলেন, ‘যানজট এখন শুধু একটি ট্রাফিক সমস্যা নয়; এটি নগরবাসীর দৈনন্দিন জীবন, চিকিৎসাসেবা, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং অর্থনীতির ওপরও বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। জরুরি রোগী বহনকারী অ্যাম্বুলেন্স পর্যন্ত হাসপাতালের সামনের যানজটে আটকে যাচ্ছে। অনেক রোগী সময়মতো হাসপাতালে পৌঁছাতে পারছেন না। এ ধরনের পরিস্থিতি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।’
তিনি জানান, নগরের যানজট নিরসনে সিডিএ, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন, চট্টগ্রাম ওয়াসা, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) এবং অন্যান্য সেবা সংস্থা যৌথভাবে কাজ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সব সংস্থা একসঙ্গে সমন্বিত পরিকল্পনার মাধ্যমে যানজট কমাতে কাজ করবে।
বেলায়েত হোসেন বলেন, ‘আমরা সবাই একমত হয়েছি যে, যেকোনো মূল্যে চট্টগ্রাম নগরের যানজট কমাতে হবে। নগরবাসীর দুর্ভোগ লাঘবের প্রশ্নে কাউকে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। নিয়মিত মনিটরিং চলবে। যারা আইন মানবে না, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
সংশ্লিষ্টরা জানান, চট্টগ্রামের বেশিরভাগ বেসরকারি হাসপাতাল ব্যস্ত সড়কের পাশে গড়ে উঠেছে। কিন্তু হাসপাতালগুলোর অনেকগুলোতেই রোগী ও দর্শনার্থীদের জন্য প্রয়োজনীয় পার্কিং ব্যবস্থা নেই। ফলে প্রতিদিন শত শত যানবাহন সড়কের ওপর দাঁড়িয়ে থাকে। বিশেষ করে পাঁচলাইশ, মেহেদীবাগ, জিইসি মোড়, প্রবর্তক মোড়, গোলপাহাড়, চকবাজার ও ওআর নিজাম রোড এলাকায় হাসপাতালকেন্দ্রিক যানজট এখন নিয়মিত চিত্রে পরিণত হয়েছে।
পাবনার ফরিদপুর উপজেলায় প্রায় ১ কোটি ৬ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত একটি গার্ডার ব্রিজ দীর্ঘদিন ধরে কোনো কাজে আসছে না শুধু সংযোগ সড়ক না থাকায়। ব্রিজ নির্মাণ করা হলেও দুই পাশে এপ্রোচ সড়ক ও গার্ডওয়ালের কাজ শেষ হয়নি। ফলে বাধ্য হয়ে স্থানীয় হাজারো মানুষ প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বাঁশের সাঁকো দিয়ে পারাপার হচ্ছেন।
উপজেলার বিএলবাড়ী ইউনিয়নের দেওভোগ-দহপাড়া গ্রামে দেখা যায়, ব্রিজটির পূর্ব পাশে দহপাড়া জামে মসজিদ এবং পশ্চিম পাশে দহপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। প্রতিদিন শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও মুসল্লিসহ হাজারো মানুষ এই পথ ব্যবহার করেন। তবে দৃষ্টিনন্দন এ ব্রিজটি দাঁড়িয়ে থাকলেও সংযোগ সড়ক না থাকায় প্রতিদিনের দুর্ভোগ সঙ্গী করেই চলাচল করতে হচ্ছে তাদের।
জানা গেছে, স্থানীয় সরকার বিভাগের আওতায় ১ কোটি ৬ লাখ ৩৮ হাজার ৯৫ টাকা ব্যয়ে ব্রিজটি নির্মাণ করা হয়। ২০২৩–২৪ অর্থবছরে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও নির্ধারিত সময়ে ঠিকাদার কাজ শেষ করতে পারেননি। পরে সময় বাড়িয়ে ২০২৬ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত সময়সীমা দেওয়া হলেও এখন পর্যন্ত এপ্রোচ সড়কের কাজ সম্পূর্ণ হয়নি।
দহপাড়া গ্রামের আব্দুল মান্নান প্রামাণিক আক্ষেপ করে বলেন, ‘এক বছরের বেশি সময় ধরে ব্রিজটি এভাবে পড়ে আছে। কোনো সংযোগ সড়ক নেই। আমাদের বাঁশের সাঁকো দিয়েই ঝুঁকি নিয়ে পার হতে হয়।
দহপাড়া জামে মসজিদের ইমাম মাওলানা নূর মোহাম্মদ বলেন, ‘প্রতিদিন কাদা ও ঝুঁকিপূর্ণ পথ পাড়ি দিয়ে মসজিদে আসতে হয়। বর্ষাকালে পা পিছলে পড়ে অনেকে আহত হন, কাপড় নষ্ট হয়। এত টাকা খরচ করে ব্রিজ বানিয়ে লাভটা কী হলো?’
দহপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আব্দুর রহমান বলেন, বাঁশের সাঁকো দিয়ে পার হতে তার খুব ভয় লাগে। অনেক সময় সাঁকো থেকে নিচে পড়ে বইখাতা ভিজে যায়, বাধ্য হয়ে তাকে বাড়ি ফিরে যেতে হয়।
শিক্ষক আব্দুল লতিফ বলেন, সরকারি অর্থ ব্যয়ে তৈরি হওয়া একটি স্থাপনা এভাবে অচল পড়ে থাকা সত্যি হতাশাজনক। তিনি দ্রুত সংযোগ সড়ক নির্মাণের জোর দাবি জানান।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বিষয়টি নিয়ে বারবার উপজেলা প্রশাসন ও পিআইও কার্যালয়ে যোগাযোগ করা হলেও কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখা যায়নি।
তবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের দাবি, কাজের বিলম্ব সাময়িক। ঠিকাদার তানভীর আহম্মেদ সাগর জানান, এলাকায় বালু সংকটের কারণে এতদিন কাজ বন্ধ রাখতে হয়েছিল। আগামী দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে অবশিষ্ট কাজ শেষ করার চেষ্টা চলছে।
ফরিদপুর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মানিকুজ্জামান বলেন, ‘ঠিকাদারকে সংযোগ সড়কের কাজ দ্রুত শেষ করার জন্য বারবার তাগিদ দেওয়া হচ্ছে। তিনি খুব শিগগিরই কাজ শেষ করার আশ্বাস দিয়েছেন।’
ফরিদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উম্মে ইমামা বানীন বলেন, ‘ঠিকাদারকে এপ্রোচ সড়কসহ সব অসম্পূর্ণ কাজ দ্রুত শেষ করার কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কাজ সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত তাঁর চূড়ান্ত বিল আটকে রাখা।
কুমিল্লার নবগঠিত বাঙ্গরা উপজেলার সাংবাদিকদের নিয়ে ‘বাঙ্গরা উপজেলা প্রেস ক্লাব’-এর নতুন কার্যকরী কমিটি গঠন করা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) বিকেলে বাঙ্গরা উমালোচন উচ্চ বিদ্যালয়ের হলরুমে আয়োজিত প্রেসক্লাবের এক সাধারণ সভায় সর্বসম্মতিক্রমে আগামী ২ বছরের জন্য ১৭ সদস্যবিশিষ্ট এ কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়।
সভায় সাংবাদিক জাহাঙ্গীর আলম ইমরুল সভাপতিত্ব করেন এবং অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন এম কে আই জাবেদ।
নবগঠিত ১৭ সদস্যের কমিটিতে সভাপতি পদে মো. জাহাঙ্গীর আলম ইমরুল, সাধারণ সম্পাদক পদে এম কে আই জাবেদ এবং সাজ্জাদ হোসেন শিমুল সাংঠনিক সম্পাদক হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন।
কমিটির অন্যান্য পদে দায়িত্বপ্রাপ্তরা হলেন, সহ-সভাপতি: হাফেজ মোঃ নজরুল ইসলাম, যুগ্ম সম্পাদক: আবুল বাশার, কোষাধ্যক্ষ: মো. ওবায়দুল্লাহ, দপ্তর সম্পাদক: আলমগীর হোসেন, প্রচার সম্পাদক: সাইফুল সরকার, সাহিত্য ও সংস্কৃতি সম্পাদক: মো. জুম্মান আলী, তথ্য ও প্রযুক্তি সম্পাদক: সাইদুজ্জামান ভূঁইয়া, সমাজকল্যাণ সম্পাদক: মো. বিল্লাল হোসেন, ক্রীড়া সম্পাদক: আশিক মিয়া, ধর্মবিষয়ক সম্পাদক: ফয়সাল আহমেদ। কার্যনির্বাহী সদস্য হলেন, আনোয়ার হোসেন, মো. সাখাওয়াত হোসেন, রনি আহমেদ এবং অলিউল্লাহ ভূঁইয়া।
এছাড়া কার্যনির্বাহী কমিটির পাশাপাশি প্রেস ক্লাবের সহযোগী সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন, আব্দুল আলীম, সুজন মুন্সী, রাশেদ মিয়া, শেখ এনামুল হক, ইকবাল হোসেন, শাওন ভূঁইয়া এবং মীর জাহিদ হাসান।
সাধারণ সভায় বক্তারা নতুন কমিটির সদস্যদের বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা চর্চার মাধ্যমে বাঙ্গরা উপজেলার উন্নয়ন ও স্থানীয় মানুষের অধিকার রক্ষায় বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।
ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনু, এমপি বলেছেন, বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার প্রদান করেছে। স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে সরকারের পূর্ণ সহযোগিতা থাকবে।
শুক্রবার (২৪ জুলাই) রাজশাহী ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশনে ২২ থেকে ২৪ জুলাই পর্যন্ত তিন দিনব্যাপী তিন থেকে আঠারো বছর বয়সী শিশু শিক্ষার্থীদের হৃদরোগ সনাক্তকরণ ও চিকিৎসা কার্যক্রমের সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন। চীনের ফুওয়াই ইউনান কার্ডিওভাসকুলার হাসপাতালের শিশু হৃদরোগ বিভাগ ও ঢাকা জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল এর যৌথ উদ্যোগে অনুষ্ঠানটি আয়োজন করে রাজশাহী ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন।
চীনের সাথে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক সম্পর্কের কথা স্মরণ করে ভূমিমন্ত্রী বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শহীদ জিয়াউর রহমান চিনের সাথে বন্ধুত্বের সূচনা করেছিলেন এবং বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফরের মাধ্যমে এই সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে।
অবকাঠামোগত উন্নয়নের কথা উল্লেখ করে প্রধান অতিথি বলেন, কোর্ট-নাটোর রোড থেকে হার্ট ফাউন্ডেশনে আসার সংযোগ সড়কটি প্রশস্ত করার জন্য একটি বিশেষ প্রকল্প গ্রহণ করা হবে। তিনি এ বিষয়ে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন ও আরডিএ-কে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশনা দেন।
এসময় তিনি চীনের অত্যাধুনিক চিকিৎসা প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে রাজশাহীতে বিশ্বমানের চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
রাজশাহী ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশনের সভাপতি মো. আব্দুল মান্নান এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন চীনের ফুওয়াই ইউনান কার্ডিওভাসকুলার হসপিটালের ডেপুটি ডাইরেক্টর ইনচার্জ ও বিশেষজ্ঞ দলের টিম লিডার লু-জিয়াং, বিভাগীয় কমিশনার ড. আ. ন. ম. বজলুর রশীদ, রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ (আরএমপি) কমিশনার মোহাম্মদ ফয়েজুল কবির, জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম, জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের বিভাগীয় প্রধান ও ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশনের আজীবন সদস্য প্রফেসর ডা. মো. আতাউল হক, ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতাল অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউটের চীফ কনসালটেন্ট ও ডাইরেক্টর প্রফেসর ডা. মো. রইছ উদ্দিন, ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশনের সহসভাপতি মো. হাসেন আলী ও মো. মাকসুদুল করিম সম্রাট। অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন চিকিৎসক, সমাজসেবক, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং গণমাধ্যমকর্মীরা।
নীলফামারীর সৈয়দপুর শহরের উপজেলা সড়কের বটগাছের নিচ থেকে ঘুমন্ত অবস্থায় উদ্ধারকৃত শিশুটির পরিচয় পাওয়া গেছে। পুলিশ প্রশাসনের সহযোগিতায় তাকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। শুক্রবার (২৪ জুলাই) সকাল ১০ টায় সৈয়দপুর থানা থেকে শিশুটিকে তার বাবা ও নানি এসে নিয়ে গেছে।
উদ্ধার শিশুটির নাম সুমাইয়া। বয়স চার বছর। তার বাবার নাম এরশাদ। পেশায় একজন ভিক্ষুক। তিনি বদরগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশনে বসবাস করেন। গ্রামের বাড়ি বদরগঞ্জ উপজেলার ৭ নং গোপীনাথপুর ইউনিয়নে। শিশুটির মা তাকে ছেড়ে পালিয়ে গেছে।
জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) রাতে দীর্ঘ সময় ধরে উপজেলা রোডে বটগাছের নিচে শিশুটিকে শুয়ে থাকতে দেখে এলাকাবাসী। তখন পাশেই উপজেলা প্রশাসনে খবর দিলে রাত ৮ টার দিকে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কর্মকর্তাসহ অন্যান্য কয়েকজন কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়।
তারা পুলিশ ও মিডিয়ার সামনে তাকে ঘুম থেকে ডেকে তোলে। জেগে উঠে অনেক অপরিচিত মানুষ দেখে একটু ভীত হলেও পরক্ষনেই স্বাভাবিক হয় শিশুটি। এসময় জিজ্ঞেস করলে সে নিজের নাম বাঘ বলে জানায়। মা নেই। গাড়িতে (ট্রেন) চড়ে এসেছে। বাবার নাম বা কোথায় থেকে আসছে তা বলতে পারছিল না। এমতাবস্থায় উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তার তত্বাবধানে শিশুটিকে রাখা হয়।
এরপর ফেসবুকসহ বিভিন্ন মিডিয়ায় প্রচার এবং প্রশাসনিক ভাবে যোগাযোগ করা হয়। এর প্রেক্ষিতে বদরগঞ্জের একজন অনলাইন এক্টিভেস্ট এর মাধ্যমে জানতে পেরে রাতেই শিশুটির বাবা চলে আসে সৈয়দপুরে। গতকাল শুক্রবার সকালে থানা চত্বরে সুমাইয়াকে তার বাবার কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। এসময় সৈয়দপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাব্বির হোসেন, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা নুর মোহাম্মদ, থানার অফিসার ইনচার্জ রেজাউল করিম রেজা প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মুহাম্মদ মাছুদের বিশেষ উদ্যোগ, আন্তরিকতা ও নেতৃত্বে উৎসবমুখর ও আবেগঘন পরিবেশে প্রাক্তন শিক্ষার্থী সম্মেলন ২০২৬ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (২৪ জুলাই) বিকেল ৪টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এ সম্মেলনে কুয়েটের বিভিন্ন ব্যাচের প্রায় ৬০০ জন প্রাক্তন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন।
প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করা, তাঁদের অভিজ্ঞতা ও দক্ষতাকে কুয়েটের ভবিষ্যৎ উন্নয়নে কাজে লাগানো এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের অগ্রযাত্রায় প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের আরও সম্পৃক্ত করার লক্ষ্যে ভাইস-চ্যান্সেলরের বিশেষ উদ্যোগে এ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। তাঁর এ উদ্যোগে দীর্ঘদিন পর কুয়েটের বিভিন্ন ব্যাচের প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা একত্রিত হওয়ার সুযোগ পান।
জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। এরপর পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত এবং অত্র বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রয়াত শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের রুহের মাগফিরাত, দেশ ও জাতির কল্যাণ এবং কুয়েটের সার্বিক উন্নতি, সমৃদ্ধি ও অগ্রগতি কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানের শুরুতে বক্তব্য প্রদান করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মুহাম্মদ মাছুদ। তিনি তাঁর বক্তব্যে দায়িত্ব গ্রহণের পর কুয়েটে গৃহীত বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড এবং গবেষণা ও একাডেমিক ক্ষেত্রে অর্জিত অগ্রগতির চিত্র তুলে ধরেন। একইসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনা এবং কুয়েটকে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে আরও এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্যে গৃহীত বিভিন্ন উদ্যোগের কথাও তিনি তুলে ধরেন।
ভাইস-চ্যান্সেলর বলেন, “প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শক্তি। তাঁদের মেধা, অভিজ্ঞতা, সাফল্য ও আন্তরিক সহযোগিতা বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রাকে আরও বেগবান করতে পারে। কুয়েটের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের পারস্পরিক যোগাযোগ ও সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের সামগ্রিক উন্নয়নে তাঁদের সম্পৃক্ততা বৃদ্ধি পাবে।”
সম্মেলনে অংশগ্রহণকারী প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা ভাইস-চ্যান্সেলরের বিশেষ উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং এ ধরনের সম্মেলনের আয়োজন করায় তাঁকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান। তাঁরা বলেন, ভাইস-চ্যান্সেলরের উদ্যোগে আয়োজিত এ সম্মেলন প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কুয়েটের সম্পর্ককে আরও গভীর ও প্রাণবন্ত করেছে। একইসঙ্গে তাঁরা কুয়েটের অগ্রযাত্রাকে আরও বেগবান করতে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ প্রদান করেন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নে সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা কুয়েটকে বিশ্বমানের শিক্ষা, গবেষণা ও শিক্ষার্থীবান্ধব প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে তাঁদের অভিজ্ঞতা, মেধা ও সামর্থ্য দিয়ে সর্বাত্মক সহযোগিতা অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। তাঁরা ভাইস-চ্যান্সেলরের নেতৃত্বে কুয়েটের শিক্ষা, গবেষণা, উদ্ভাবন ও অবকাঠামোগত উন্নয়নে চলমান উদ্যোগের প্রশংসা করেন এবং ভবিষ্যতেও বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নে পাশে থাকার আশ্বাস দেন।
দীর্ঘদিন পর সহপাঠী, বন্ধু ও শিক্ষকদের সঙ্গে মিলিত হয়ে প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা স্মৃতিচারণ, পারস্পরিক মতবিনিময় ও আনন্দ-উচ্ছ্বাসে অংশ নেন। ভাইস-চ্যান্সেলরের বিশেষ উদ্যোগে আয়োজিত এ সম্মেলন প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের মধ্যে পারস্পরিক বন্ধন আরও দৃঢ় করার পাশাপাশি তাঁদের সঙ্গে কুয়েটের সম্পর্ককে নতুন মাত্রায় উন্নীত করে।
ফরিদপুরে হিন্দু সম্প্রদায়ের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব উল্টো রথযাত্রা নানা ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান ও বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
এ উপলক্ষে শুক্রবার (২৪ জুলাই) দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। সকাল ৮টায় শ্রীধাম শ্রীঅঙ্গনের উদ্যোগে ব্রাহ্মণকান্দাস্থ শ্রীঅঙ্গন থেকে উল্টো রথযাত্রা শুরু হয়।উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে উৎসবের শুভ উদ্বোধন করেন এমপি চৌধুরী নায়াব ইউসুফ। উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে সংসদ সদস্য উপস্থিত দূর-দূরান্ত থেকে আগত পুণ্যার্থী ও ভক্তদের সাথে শুভেচ্ছা ও কুশল বিনিময় করেন।
শোভাযাত্রাটি শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে গোয়ালচামট শ্রীঅঙ্গনে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে ধর্মীয় আলোচনা, নাম সংকীর্তন এবং ভক্তদের মাঝে প্রসাদ বিতরণ করা হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে চৌধুরী নায়াব ইউসুফ বলেন, "ফরিদপুর সবসময়ই সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও সর্বজনীন ভাতৃত্ববোধের এক অনন্য মিলনমেলা।
এ ধরণের ধর্মীয় ও ঐতিহ্যবাহী উৎসব আমাদের পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও ঐক্যের বন্ধনকে আরও সুদৃঢ় করে। অনুষ্ঠানে বিএনপি দলীয় নেতৃবৃন্দসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, শ্রীঅঙ্গন পরিচালনা পর্ষদের নেতৃবৃন্দ এবং সর্বস্তরের ভক্তবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
কিশোরগঞ্জ শহরে সিমেন্টবোঝাই ট্রাকের চাপায় মোহাম্মদ তুহিন (১০) নামে এক স্কুলছাত্র নিহত হয়েছে। মর্মান্তিক এ দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থলে ছুটে যাওয়া পুলিশের টহলদলের সদস্যরা জানতে পারেন, নিহত শিশুটি ওই টহলদলে থাকা গাড়িচালক পুলিশ সদস্য শামসুল হকেরই ছেলে। শুক্রবার (২৪ জুলাই) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে কিশোরগঞ্জ শহরের জনতা স্কুল রোড এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত মোহাম্মদ তুহিন কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানার গাড়িচালক পুলিশ সদস্য শামসুল হকের ছেলে। সে গাইটাল জনতা স্কুলের চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী।
কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানার ডিউটি অফিসার তানিয়া নাজনীন জানান, সকালে থানায় একটি মোবাইল নম্বর থেকে ফোন করে জানানো হয়, জনতা স্কুল রোড এলাকায় একটি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে। সিমেন্টবোঝাই একটি ট্রাকের চাপায় এক স্কুলছাত্র নিহত হয়েছে। তবে নিহত শিশুটির পরিচয় তখনও জানা যায়নি। খবর পেয়ে থানার একটি টহলদল ঘটনাস্থলের উদ্দেশে রওনা দেয়। ওই টহলদলে ছিলেন গাড়িচালক পুলিশ সদস্য শামসুল হকও।
ঘটনাস্থলে পৌঁছে টহলদলের সদস্যরা দেখতে পান, ট্রাকের চাপায় নিহত স্কুলছাত্রটি আর কেউ নয়, টহলদলে থাকা গাড়িচালক পুলিশ সদস্য শামসুল হকেরই ছেলে তুহিন।
জানা গেছে, সকালে গাইটাল এলাকার বাসা থেকে সাইকেল নিয়ে জনতা স্কুল রোড এলাকায় ঘুরতে বের হয় তুহিন। এ সময় একটি সিমেন্টবোঝাই ট্রাক তাকে চাপা দিলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানার ওসি মো. আবুল কালাম ভূঞা জানান, নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে হাসপাতালের মর্গে নেওয়া হয়েছে। দুর্ঘটনায় জড়িত ট্রাকটি জব্দ করা হয়েছে। তবে ট্রাকের চালক পালিয়ে গেছেন। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।