মিয়ানমার সীমান্ত থেকে সেন্ট মার্টিন দ্বীপে যাতায়াতকারী নৌযান লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণের কারণে ৭ দিন বন্ধ থাকার পর বিজিবি ও কোস্টগার্ডের নিরাপত্তায় শুরু হয়েছে ট্রলার চলাচল। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে ২৫০ যাত্রী নিয়ে অন্তত ১০টি ট্রলার টেকনাফের মুন্ডারডেইল ঘাটে ভেড়ে। তবে সাগর উত্তাল ঝুঁকি নিয়ে এসব ট্রলার থেকে লোকজনকে সরাসরি কূলে ওঠানো সম্ভব হচ্ছিল না। পরে কূল থেকে কয়েকটি ডিঙি নৌকা উপকূলের কিছু দূরে সাগরে অবস্থানকারী ট্রলারগুলোর কাছে পাঠানো হয়।
আজ বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৩টায় মেরিন ড্রাইভ সড়ক-সংলগ্ন টেকনাফ উপজেলার সাবরাং ইউনিয়নের মুন্ডারডেইল এলাকার সাগর উপকূলের পয়েন্ট দিয়ে সেন্ট মার্টিন থেকে ট্রলারযোগে এসব মানুষ ফিরেছেন বলে জানান।
টেকনাফের ইউএনও মো. আদনান চৌধুরী বলেন, দুপুর ১টার দিকে সেন্ট মার্টিন দ্বীপের জেটি ঘাট থেকে ৩টি ট্রলারযোগে বিজিবি ও কোস্টগার্ড সদস্যদের নিরাপত্তায় তিন শতাধিক মানুষ টেকনাফের উদ্দেশে রওনা দেয়। বিকেল ৩টার দিকে ট্রলারগুলো টেকনাফের মুন্ডারডেইল সাগর উপকূলে পৌঁছে। কিন্তু সাগরের প্রতিকূল পরিস্থিতির কারণে পণ্যবাহী ট্রলার যাওয়া সম্ভব হয়নি।
সেন্ট মার্টিন ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান খোরশেদ আলম জানান, গত ৭ দিন দ্বীপে আসা-যাওয়া বন্ধ থাকায় দ্বীপের খাদ্য পণ্যসংকট দেখা দিয়েছে। এখন বিকল্পভাবে ট্রলার চলাচল শুরু হওয়ায় স্বস্তি মিলছে। যে ট্রলারগুলো গেছে ওইসব ট্রলার নিয়ে টেকনাফে থাকা মানুষ ফিরে আসবে।
টানা ৭ দিন বন্ধ থাকার পর বুধবার সন্ধ্যায় কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের এক জরুরি সভায় বৃহস্পতিবার থেকে যাত্রী আসা-যাওয়া এবং পণ্যবাহী ট্রলার চলাচল শুরুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।
এ নিয়ে ইউএনও আদনান জানান, বৃহস্পতিবার টেকনাফ-সেন্টমার্টিন নৌরুটের সাগরের বিকল্প পথে যাত্রী পারাপার শুরু হলেও পণ্যবাহী কোনো ট্রলার সেন্ট মার্টিনের উদ্দেশে টেকনাফ ছাড়েনি।
টেকনাফের নাফ নদীর সীমান্তের ওপারে মিয়ানমারের কাছে টানা দুই দিন ধরে দেখা মিলছে বড় ধরনের একটি জাহাজের। আর সেই জাহাজ ও মিয়ানমারের স্থলভাগে বুধবার রাত থেকে আজ বৃহস্পতিবার বিকেল পর্যন্ত চলেছে গোলাগুলি। এ সময় বিস্ফোরণের বিকট শব্দ ভেসে আসছে টেকনাফের সীমান্তবর্তী এলাকায়।
কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) ‘International Seminar on Mycology, Biotechnology and Sustainable Environment (ISMBSE)’-এর অংশ হিসেবে প্রজেক্ট পোস্টার প্রেজেন্টেশন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (১২ অক্টোবর) ফলিত বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি অনুষদ ভবনের বায়োটেকনোলজি অ্যান্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে এই প্রেজেন্টেশনের আয়োজন করা হয়। এতে বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থীরা তাদের নিজ নিজ গবেষণাভিত্তিক প্রজেক্টের মূল বিষয়বস্তু, উদ্দেশ্য ও প্রাপ্ত ফলাফল পোস্টারের মাধ্যমে তুলে ধরেন।
বায়োটেকনোলজি অ্যান্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. আবু হেনা মোস্তফা জামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. এমতাজ হোসেন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন বিভাগের অধ্যাপক ড. সুধাংশু কুমার বিশ্বাস।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. ইদ্রিস আলী, ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. আতিকুর রহমান এবং প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. আতিকুর রহমান। এ ছাড়াও অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বায়োটেকনোলজি অ্যান্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. রেজওয়ানুল ইসলাম।
সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপক (Keynote Speaker) হিসেবে বক্তব্য দেন চীনের বেইজিং ফরেস্ট্রি ইউনিভার্সিটির ‘স্কুল অব ইকোলজি অ্যান্ড নেচার কনজারভেশন’-এর অধ্যাপক ড. হে শুয়াংহুই (Dr. He Shuanghui)। রিসোর্স পারসন হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চাইনিজ একাডেমি অব সায়েন্সেসের (CAS) ‘ইনস্টিটিউট অব মাইক্রোবায়োলজি’র সহযোগী অধ্যাপক ড. লিউ শি-লিয়াং (Dr. Liu Shi-Liang)।
অনুষ্ঠানে চীনা আমন্ত্রিত গবেষকরা তাদের দীর্ঘ গবেষণার অভিজ্ঞতা তুলে ধরার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে যৌথ গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনায় আগ্রহ প্রকাশ করেন। এ সময় তারা চীনে উচ্চশিক্ষা গ্রহণে আগ্রহী শিক্ষার্থীদের সর্বোচ্চ সহযোগিতার আশ্বাস দেন, যা শিক্ষার্থীদের আন্তর্জাতিক পর্যায়ে গবেষণা ও উচ্চশিক্ষার সুযোগ অন্বেষণে অনুপ্রাণিত করবে।
আয়োজকরা জানান, এই প্রজেক্ট পোস্টার প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা একাডেমিক গবেষণাকর্ম উপস্থাপন ও বৈজ্ঞানিক উপস্থাপনার দক্ষতা প্রদর্শনের সুযোগ পেয়েছেন। মাইকোলজি, বায়োটেকনোলজি ও টেকসই পরিবেশবিষয়ক গবেষণায় শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ততা বৃদ্ধি, বৈশ্বিক গবেষণা নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ এবং বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে গবেষণাভিত্তিক শিক্ষার পরিবেশ জোরদারে এই আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
টাঙ্গাইলের মেধাবী শিক্ষার্থী আসিফ হত্যার ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্ত ও ন্যায়বিচারের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন তার পরিবারের সদস্য এবং কলেজের শিক্ষার্থীরা। সোমবার (১২ অক্টোবর) দুপুরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে এ কর্মসূচি পালন করেন তারা। পরে জেলা প্রশাসক বরাবর একটি স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।
পরিবারের সদস্যদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ১৪ আগস্ট আসিফ নিখোঁজ হওয়ার পরদিন ১৫ আগস্ট সকাল ৮টার দিকে টাঙ্গাইলের গাড়াইল আন্ডারপাসের পাশে তার মরদেহ পাওয়া যায়।
মানববন্ধন থেকে আসিফের মৃত্যুর ঘটনায় নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও আইনানুগ প্রক্রিয়ায় তদন্তের দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে প্রমাণের ভিত্তিতে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আইন অনুযায়ী শনাক্ত করে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তারা।
এ সময় বাবা, মা, বোন ও কলেজের শিক্ষার্থীরা বলেন, তদন্ত ও আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগে কোনো ব্যক্তি বা পক্ষকে অপরাধী হিসেবে গণ্য করা উচিত নয়। তারা আসিফের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটন এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান।
একসময় মনের গভীরে জমে থাকা ভালোবাসা, অভিমান, অপেক্ষা কিংবা না-বলা কথাগুলো প্রিয়জনের কাছে পৌঁছে দেওয়ার অন্যতম মাধ্যম ছিল চিঠি। ডাকপিয়নের হাতে আসা একটি খাম ঘিরে অপেক্ষার প্রহর গোনা, চিঠির পাতায় প্রিয় মানুষের হাতের লেখা ছুঁয়ে দেখার আনন্দ কিংবা বহুদিন পর পুরোনো চিঠি খুলে স্মৃতির জগতে হারিয়ে যাওয়া। সবই ছিল জীবনের এক অনন্য অনুভূতি। সময়ের পরিবর্তনে সেই চিরচেনা আবেগ অনেকটাই আড়ালে চলে গেছে। জায়গা করে নিয়েছে ফেসবুক, মেসেঞ্জার, হোয়াটসঅ্যাপ আর মুহূর্তেই বার্তা পাঠানোর নানা ডিজিটাল মাধ্যম। তবে প্রযুক্তির দ্রুতগতির পৃথিবীতেও চিঠির আবেদন যে ফুরিয়ে যায়নি, তারই প্রমাণ মিলেছে নওগাঁয় আয়োজিত ব্যতিক্রমী ‘চিঠি উৎসবে’।
চিঠির পাতায় লেখা সত্যিকারের অনুভূতি কখনো মুছে ফেলা যায় না, মানুষ ভুলে গেলেও শব্দগুলো হৃদয়ে নিজের জায়গা রেখে যায়। এমন আবেগঘন প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে সোমবার (১২ অক্টোবর) বেলা ১১টায় নওগাঁ সরকারি কলেজ চত্বরে দিনব্যাপী এ উৎসবের আয়োজন করে বাংলাদেশ ডাক বিভাগ।
হারিয়ে যেতে বসা চিঠি লেখার ঐতিহ্য নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা এবং ডাকসেবার প্রতি আগ্রহ বাড়ানোই ছিল এ আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য। উৎসবে কয়েক শ শিক্ষার্থী অংশ নিয়ে কাগজ-কলমে লিখেছেন প্রিয়জনের প্রতি মনের কথা, স্মৃতি আর ভালোবাসার বার্তা।
সকাল থেকেই নওগাঁ সরকারি কলেজ চত্বরে উৎসবকে ঘিরে তৈরি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ। তরুণ-তরুণীদের হাতে কাগজ, কলম ও খাম; কেউ লিখছেন মা-বাবার উদ্দেশে ভালোবাসার কথা, কেউ ভাই-বোনের জন্য স্নেহের বার্তা, আবার কেউ স্মরণ করছেন ফেলে আসা শৈশবের বন্ধু কিংবা প্রিয় কোনো মানুষকে। কারও লেখায় ছিল মনের গভীরে জমে থাকা অনুভূতি, কারও চিঠিতে ফুটে উঠেছে স্মৃতিমাখা দিনগুলোর কথা। ডিজিটাল যোগাযোগের অভ্যস্ত সময়ে কাগজের পাতায় নিজের হাতে অনুভূতি প্রকাশের সুযোগ পেয়ে উচ্ছ্বসিত হয়ে ওঠেন শিক্ষার্থীরা।
উৎসবের বিশেষ আকর্ষণ ছিল বিনামূল্যে চিঠি পাঠানোর সুযোগ। অংশগ্রহণকারীরা উৎসবস্থলে বসেই নিজেদের পছন্দের মানুষদের উদ্দেশে চিঠি লেখেন। এরপর সেই চিঠি খামে ভরে কলেজ চত্বরে স্থাপিত অস্থায়ী লাল ডাকবাক্সে জমা দেন। অনেকের কাছে এটি ছিল জীবনে প্রথম চিঠি লেখার অভিজ্ঞতা। আবার কেউ দীর্ঘ বিরতির পর ফিরে পান কাগজে কলম ছোঁয়ানোর পুরোনো স্মৃতি। চিঠির খাম, ডাকটিকিট ও ডাকবাক্সের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার মধ্য দিয়ে নতুন প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের কাছে ডাক বিভাগের ঐতিহ্যবাহী সেবাও যেন নতুন করে ধরা দেয়।
উৎসবের উদ্বোধন করেন ডাক বিভাগ রাজশাহী অঞ্চলের ডেপুটি পোস্টমাস্টার জেনারেল মো. রাকিব বিশ্বাস। এ সময় উপস্থিত ছিলেন নওগাঁ উপ ডাক বিভাগের পরিদর্শক মো. সানোয়ার হোসেন, নওগাঁ প্রধান ডাকঘরের পোস্টমাস্টার মু. হযরত আলী, বাংলাদেশ শাখা ডাকঘর কর্মচারী সমিতির যুগ্ম মহাসচিব মো. ইদ্রিস আলী শেখ, শহর পরিদর্শক মো. সাদ্দাম হোসেনসহ ডাক বিভাগের অন্যান্য কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
উৎসবে অংশ নিয়ে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করেন নওগাঁ সরকারি কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী জিয়ান শারমিন। তিনি বলেন, আমি কোনো দিন কাগজে-কলমে চিঠি লিখে কোথাও পাঠাইনি। এটিই প্রথম। আমরা তো সব সময় মেসেঞ্জারে বা ফোনে কথা বলি। কিন্তু আজ প্রথম নিজের হাতে একটি চিঠি লিখলাম। কাগজের পাতায় নিজের হাতে অনুভূতি লিখে পাঠানোর আনন্দ যে এত বেশি হতে পারে, তা আজ চিঠি না লিখলে বুঝতেই পারতাম না।
শিক্ষার্থী জিয়ান শারমিনের কথায় ফুটে ওঠে নতুন প্রজন্মের কাছে চিঠি লেখার অভিজ্ঞতার ভিন্ন এক আবেদন। তাৎক্ষণিক বার্তা আদান-প্রদানের অভ্যাসের বাইরে এসে নিজের হাতে শব্দ সাজানো, প্রিয় মানুষের কথা ভাবতে ভাবতে চিঠি লেখা এবং সেই চিঠি ডাকবাক্সে জমা দেওয়ার মধ্যে তিনি খুঁজে পেয়েছেন অন্য রকম আনন্দ।
গণিত বিভাগের অনার্স প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ফাহিম ফয়সাল বলেন, আমি সবশেষ ২০১১ সালে একটি চিঠি লিখেছিলাম। সেটি ছিল প্রথম। আর আজ জীবনে দ্বিতীয়বারের মতো কাগজে চিঠি লিখলাম। চিঠি লেখার সুযোগ পেয়ে এবং বিনামূল্যে চিঠি পাঠাতে পেরে খুব ভালো লেগেছে। ডাক বিভাগের এমন আয়োজনে আমরা খুশি।
দুই শিক্ষার্থীর অভিজ্ঞতা থেকে স্পষ্ট, চিঠি লেখার অভ্যাস কমে গেলেও হাতে লেখা বার্তার প্রতি মানুষের আবেগ এখনো অটুট। প্রযুক্তির পর্দায় কয়েকটি শব্দ লিখে পাঠানোর সঙ্গে কাগজে নিজের হাতের লেখা, অনুভূতি ও স্মৃতি জড়িয়ে দেওয়ার অভিজ্ঞতার রয়েছে আলাদা আবেদন। একটি চিঠি তাই কেবল কিছু শব্দের সমষ্টি নয়; কখনো তা ভালোবাসার প্রকাশ, কখনো দূরত্ব কমানোর সেতু, আবার কখনো ভবিষ্যতের জন্য রেখে যাওয়া এক টুকরো স্মৃতি।
ডাক বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, উৎসবে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে জমা নেওয়া চিঠিগুলো আয়োজন শেষে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে নির্দিষ্ট গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়া হবে। তাদের মতে, আধুনিক প্রযুক্তির কল্যাণে যোগাযোগের মাধ্যম দ্রুত ও সহজ হয়েছে। কিন্তু চিঠির গভীরতা, আন্তরিকতা এবং দীর্ঘদিন স্মৃতি হিসেবে সংরক্ষণ করে রাখার যে সুযোগ রয়েছে, তা অন্য মাধ্যমে একইভাবে পাওয়া কঠিন। নতুন প্রজন্মের মধ্যে চিঠি লেখার সুপ্ত অভ্যাস জাগিয়ে তোলা এবং ডাক বিভাগের বিভিন্ন সেবা সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতেই এ ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
দেশের সীমানা আলাদা, পরিচয়ের মাধ্যম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম। ফেসবুকে পরিচয় থেকে গড়ে ওঠা প্রেমের সম্পর্কের টানে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ থেকে বাংলাদেশের জয়পুরহাটের কালাইয়ে এসেছেন দুই সহোদর যুবক। তাদের এই আগমন ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে তৈরি হয়েছে কৌতূহল। এখন দুই পরিবারের সম্মতিতে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হওয়ার অপেক্ষা।
সোমবার (১২ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলার উদয়পুর ইউনিয়নের জমিনপুর গ্রামের সানোয়ার হোসেনের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে অবস্থান করছেন ভারতের দুই যুবক ফারুক চাপরাশি ও তার ভাই মুর্শিদ চাপরাশি। তাদের পাসপোর্ট ও ভিসার তথ্য অনুযায়ী, তারা ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বারুইপুর এলাকার বাসিন্দা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জমিনপুর গ্রামের সানোয়ার হোসেনের মেয়ে পূর্ণিমার সঙ্গে ফেসবুকে পরিচয় হয় ফারুক চাপরাশির। সেই পরিচয় একপর্যায়ে প্রেমের সম্পর্কে গড়ায়। পরে সম্পর্কটিকে বিয়েতে রূপ দেওয়ার উদ্দেশ্যে গত ৮ অক্টোবর ভারতের কলকাতা থেকে বেনাপোল স্থলবন্দর হয়ে বাংলাদেশে আসেন ফারুক ও তার ভাই মুর্শিদ। এরপর থেকে তারা পূর্ণিমার বাড়িতে অবস্থান করছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হওয়া সম্পর্ক যে দুই দেশের সীমান্ত পেরিয়ে বাস্তবের আঙিনায় পৌঁছাতে পারে, কালাইয়ের জমিনপুর গ্রামের এই ঘটনা তারই একটি উদাহরণ। দুই যুবকের আগমনের খবর ছড়িয়ে পড়লে তাদের দেখতে স্থানীয়দের মধ্যে আগ্রহ তৈরি হয়। তবে তাদের বিয়ে কবে এবং কীভাবে সম্পন্ন হবে, তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি।
পূর্ণিমার বাবা সানোয়ার হোসেন বলেন, এখন ছেলে-মেয়েরা মোবাইল ফোনে প্রেম-ভালোবাসা করে। ওই ছেলে ও তার বড় ভাই পাসপোর্ট-ভিসা নিয়ে গত বৃহস্পতিবার বেনাপোল হয়ে আমার বাড়িতে এসেছেন। আমরাও পাসপোর্ট-ভিসা করার ব্যবস্থা করেছি। ভিসা পেলে ভারতে গিয়ে তাদের পরিবারের সঙ্গে কথা বলে বিয়ের অনুষ্ঠানের তারিখ ঠিক করা হবে। তখন আপনাদেরও জানানো হবে।
এ বিষয়ে কালাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইদুল আলম বলেন, আপনার মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পারলাম। আমরা খোঁজখবর নিয়ে দেখছি।
নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলায় ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির আওতায় পরিবারগুলোর তথ্য সংগ্রহ শুরু হচ্ছে আগামী বুধবার থেকে। উপজেলার ৮৯ হাজার ৮১২টি পরিবারের তথ্য সংগ্রহের লক্ষ্যে ১২৭ জন তথ্য সংগ্রহকারী ও ১৩ জন সুপারভাইজার দায়িত্ব পালন করবেন। ইলেকট্রনিক ডিভাইস ট্যাবের মাধ্যমে উপজেলার সাতটি ইউনিয়ন ও দুটি পৌরসভায় এ কার্যক্রম পরিচালিত হবে।
সোমবার (১২ অক্টোবর) বেলা ২টায় উপজেলা পরিষদের সভাকক্ষে উপজেলা প্রশাসন ও সমাজসেবা কার্যালয়ের আয়োজনে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লায়লা জান্নাতুল ফেরদৌস। ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রমের তথ্য সংগ্রহ সম্পর্কে সাংবাদিকদের অবহিত করতে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে স্বাবলম্বী পরিবার গড়ার লক্ষ্যে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির তথ্য সংগ্রহ করা হবে। এ কাজে সাংবাদিকসহ সমাজের সব স্তরের মানুষের সহযোগিতা কামনা করা হয়েছে। একই সঙ্গে কর্মসূচি নিয়ে যেকোনো ধরনের অপপ্রচার ও গুজব রোধে সাংবাদিকদের দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখার অনুরোধ জানানো হয়।
এর আগে প্রজেক্টরের মাধ্যমে তথ্য অধিদপ্তরের (পিআইডি) সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলন সরাসরি সম্প্রচার করা হয়। সেখানে সমাজকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন দেশব্যাপী ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন এবং তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম শুরুর ঘোষণা দেন।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা রেজাউল করিম, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নীলিমা জাহান, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা ডালিয়া পারভিন, বনপাড়া পৌর বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ইকবাল হোসেন রাজু, বীর মুক্তিযোদ্ধা মোসলেম উদ্দিন ও বিএনপি নেত্রী মহুয়া নূর কচি। এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন বড়াল প্রেসক্লাবের সভাপতি অমর ডি কস্তা, বড়াইগ্রাম কেন্দ্রীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি মাহমুদুল হাসান মেমন, স্মার্ট প্রেসক্লাবের সভাপতি সাইফুর রহমান, উপজেলা মডেল প্রেসক্লাবের সভাপতি জাহিদ হাসান, ইউনিটি প্রেসক্লাবের সভাপতি মাহাবুব হোসেন এবং রিপোর্টার্স ক্লাবের সভাপতি হযরত আলী।
বরিশালের বাবুগঞ্জে পারিবারিক কলহের জেরে স্বামীর নির্যাতনের শিকার হয়ে ঐশী আক্তার (২৫) নামে এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় তাঁর স্বামী সোহেল খান (২৮) ও স্বামীর ছোট ভাই তানভীর খানকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে পুলিশ।
সোমবার (১২ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে বাবুগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঐশীর মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ উঠেছে, কয়েক দিন আগে স্বামীর মারধরের কারণে গুরুতর আহত হয়েছিলেন তিনি।
স্থানীয় সূত্র ও নিহতের পরিবারের দাবি, পারিবারিক বিরোধের জেরে ঘটনার চার দিন আগে সোহেল খান তার স্ত্রী ঐশীকে লোহার রড দিয়ে মাথায় আঘাত করেন। এ সময় তাকে মারধর করা হলে মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাত লাগে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
সোমবার (১২ অক্টোবর) সকালে ঐশীর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তিনি স্বামীর বাড়িতে অচেতন হয়ে পড়েন। পরে পরিবারের সদস্যরা তাকে বাবুগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
বাবুগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. এ কে মনিরুল ইসলাম জানান, মস্তিষ্কে প্রচুর রক্তক্ষরণের কারণে ঐশীর মৃত্যু হয়েছে। তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখমের চিহ্নও পাওয়া গেছে।
নিহত ঐশী আক্তার বাবুগঞ্জ উপজেলার দেহেরগতি ইউনিয়নের বাহেরচর সাধুকাঠী গ্রামের শাহে আলমের মেয়ে। তার স্বামী সোহেল খান একই উপজেলার কেদারপুর ইউনিয়নের ভূতেরদিয়া গ্রামের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা কাদের খানের ছেলে। পেশায় তিনি একজন রাজমিস্ত্রি।
বাবুগঞ্জ থানার ওসি মো. মিজানুর রহমান হাওলাদার জানান, ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে সোহেল খান ও তার ছোট ভাই তানভীর খানকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে।
ওসি আরও জানান, নিহতের চোখসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। প্রাথমিকভাবে পারিবারিক কলহের জেরে এ ঘটনা ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে তদন্ত প্রয়োজন।
এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্তের অগ্রগতির ভিত্তিতে মৃত্যুর বিষয়ে আরও বিস্তারিত তথ্য জানা যেতে পারে।
এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষায় কৃতিত্বপূর্ণ ফলাফল অর্জনকারী পুলিশ সদস্যদের সন্তানদের সংবর্ধনা ও মেধাবৃত্তি দিয়েছে রাজশাহী জেলা পুলিশ। সোমবার (১২ অক্টোবর) রাজশাহী পুলিশ লাইন্সের ড্রিলশেডে আয়োজিত অনুষ্ঠানে কৃতী শিক্ষার্থীদের হাতে সম্মাননা স্মারক, মেধাবৃত্তি ও শুভেচ্ছা উপহার তুলে দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন রাজশাহী রেঞ্জের ডেপুটি ইন্সপেক্টর জেনারেল (ডিআইজি) মো. আশিক সাঈদ পিপিএম। সভাপতিত্ব করেন রাজশাহী জেলার পুলিশ সুপার মো. মামুন অর রশিদ। এ সময় শিক্ষার্থীদের অভিভাবক ও পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডিআইজি মো. আশিক সাঈদ কৃতী শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, মেধা ও নৈতিকতার সমন্বয়ে নিজেদের যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। ভবিষ্যতে দেশ ও জাতির নেতৃত্ব দেওয়ার পাশাপাশি পরিবার ও বাংলাদেশ পুলিশের সুনাম বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি।
সভাপতির বক্তব্যে পুলিশ সুপার মো. মামুন অর রশিদ শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ সাফল্য কামনা করেন। মেধার বিকাশে জেলা পুলিশের সহযোগিতা অব্যাহত রাখার প্রত্যয়ও ব্যক্ত করেন তিনি।
সংবর্ধনাপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা এ স্বীকৃতিকে ভবিষ্যতে উচ্চশিক্ষা অর্জন ও লক্ষ্য পূরণে অনুপ্রেরণা হিসেবে উল্লেখ করে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে। অভিভাবকরাও শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করতে পুলিশের এ উদ্যোগের প্রশংসা করেন।
কিশোরগঞ্জের হাওর উপজেলা অষ্টগ্রামে শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষ্যে ৪৫টি পূজা মণ্ডপের প্রতিটির অনুকূলে ৬০০ কেজি করে চালের বরাদ্দপত্র (ডিও) পূজা কমিটির সভাপতিদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। সোমবার (১২ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে, উপজেলা সম্প্রসারিত প্রশাসনিক ভবন মিলনায়তনে এই চাল বিতরণ করা হয়।
এরআগে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাথী দাসের সভাপতিত্বে এ সভা হয়। এতে বক্তব্য দেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শাহ মোহাম্মদ মহিবুল্লাহ, থানার ওসি মোহাম্মদ রুকনুজ্জামান, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. মজনু মিয়া, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন মুকুল, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নিজামুল হক নজরুল, উপজেলা প্রেসক্লাব সভাপতি নজরুল ইসলাম সাগর, পূজা উদযাপন কমিটির আহবায়ক দেবেশ চন্দ্র দাস, সদস্য সচিব জীবন ময় শীল, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ অষ্টগ্রাম উপজেলার সাবেক সভাপতি সন্তোষ কুমার দেবনাথ, বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান কল্যাণ ট্রাস্টের সভাপতি সুলেখা দাস, সম্পাদক অসীম বনিক এবং বাংলাদেশ পূজা উদযাপন ফ্রন্টের সভাপতি কৃষ্ণ দাস ও সাধারণ সম্পাদক অজিত দত্ত প্রমুখ।
এ সময় স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, বিভিন্ন দপ্তরের সরকারি কর্মকর্তা, সাংবাদিক ও পূজা মণ্ডপের প্রতিনিধিগণ উপস্থিত ছিলেন।
সভায় জানানো হয়, চলতি বছর অষ্টগ্রাম উপজেলার মোট ৪৫টি পূজা মণ্ডপে শারদীয় দুর্গাপূজা উদযাপিত হবে। পূজা উপলক্ষে সার্বিক আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার এবং ভক্তদের নির্বিঘ্নে পূজা দর্শনের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।
কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদের দানবাক্সে জমা পড়া স্বর্ণালঙ্কার ও রৌপ্যালঙ্কারের ওজন নির্ধারণের কাজ শেষ হয়েছে। এতে পাওয়া গেছে ১ হাজার ৪৪ ভরি স্বর্ণালঙ্কার ও ১ হাজার ৮৮ ভরি রৌপ্যালঙ্কার। তবে বৈদেশিক মুদ্রার গণনা শেষ হতে রাত ৮টা পর্যন্ত সময় লাগতে পারে বলে জানিয়েছেন রূপালী ব্যাংকের এজিএম মোহাম্মদ আলী হারিছী।
সোমবার (১২ অক্টোবর) সকাল পৌনে ১০টা থেকে জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে এসব মূল্যবান সামগ্রীর ওজন নির্ধারণ, স্বর্ণের ক্যারেট যাচাই এবং বৈদেশিক মুদ্রা গণনার কাজ শুরু হয়। পরে বেলা সাড়ে ৫ টার দিকে স্বর্ণালঙ্কার ও রৌপ্যালঙ্কার ওজন নির্ধারণের বিষয়টি জানানো হয়।
দীর্ঘ ছয় বছর পর দানবাক্সে পাওয়া স্বর্ণ ও রুপার অলঙ্কার এবং বৈদেশিক মুদ্রার পরিমাণ নির্ধারণে এ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। ট্রেজারিতে সংরক্ষিত নয়টি মাঝারি আকারের প্লাস্টিকের কনটেইনার ও ছয়টি সিলগালা করা খাম খুলে এসব সামগ্রী গণনা ও পরিমাপ করা হয়।
পরে স্বর্ণ ও রুপার বাজারমূল্য নির্ধারণ করে নিলামে বিক্রি করা হবে। আর বৈদেশিক মুদ্রা বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ বিনিময় হার অনুযায়ী নগদায়ন করা হবে।
জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিন জানান, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে গঠিত নয় সদস্যের উপকমিটির তত্ত্বাবধানে এ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এতে জেলা প্রশাসনের তিনজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, পুলিশ, আনসার, ব্যাংক কর্মকর্তা ও স্বর্ণকারেরা সহযোগিতা করছেন। জেলা জুয়েলারি সমিতির ১০ জন সদস্য স্বর্ণ ও রুপার অলঙ্কারের ওজন নির্ধারণ ও পরিমাপের কাজ করছেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের প্রশাসক খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল, জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির অধ্যাপক মো. রমজান আলী, স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক (উপসচিব) জেবুন নাহার শাম্মী, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. ইশতিয়াক ইমন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) জেসমিন আক্তার, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. এরশাদুল আহমেদসহ জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ২০২০ সালের ১১ মার্চ পাগলা মসজিদের দানসিন্দুকে জমা পড়া ৪২০ ভরি স্বর্ণালঙ্কার ও ১৮৮ ভরি রুপার অলঙ্কার নিলামে বিক্রি করা হয়েছিল। এসব অলঙ্কার বিক্রি করে পাওয়া যায় ১ কোটি ১৫ লাখ ৪ হাজার ১১০ টাকা। সে সময় অলঙ্কারগুলো বিভিন্ন শ্রেণিতে ভাগ করে নিলামে তোলা হয়। এর মধ্যে ছিল বিদেশি ও দেশি স্বর্ণের অলঙ্কার, চাঁদ-তারকা এবং নাকফুল। রুপার অলঙ্কারও আলাদাভাবে বিক্রি করা হয়েছিল। এ ছাড়া দানসিন্দুকে পাওয়া বৈদেশিক মুদ্রা বিক্রি করে তখন ৭০ লাখ টাকা পাওয়া যায়।
সর্বশেষ চলতি বছরের ২৭ জুন পাগলা মসজিদের দানবাক্স খোলা হয়েছিল। ওই সময় পাওয়া যায় ১৫ কোটি ৯০ লাখ ৮০ হাজার টাকা। এরপর থেকে দানবাক্সে জমা হওয়া স্বর্ণ, রুপা ও বৈদেশিক মুদ্রার পরিমাণ নির্ধারণের কার্যক্রম শুরু হয়।
এদিকে, পাগলা মসজিদের নিজস্ব ওয়েবসাইট চালুর পর থেকে অনলাইনে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ৩৯ লাখ ৩২ হাজার ১০৬ টাকা অনুদান পাওয়া গেছে।
উল্লেখ্য, পাগলা মসজিদের দানবাক্সে দেশি-বিদেশি মুদ্রার পাশাপাশি স্বর্ণ ও রুপার অলঙ্কারও দান করেন ভক্ত ও দর্শনার্থীরা। নির্দিষ্ট সময় পরপর দানবাক্স খোলা হয় এবং সংগৃহীত অর্থ মসজিদের তহবিলে জমা রাখা হয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি আপত্তিকর ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার প্রেক্ষাপটে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ভোলা দক্ষিণ জেলা শাখার সেক্রেটারি মাওলানা আব্বাস উদ্দিনের যাবতীয় সাংগঠনিক পদ স্থগিত করেছে দলটির জেলা শাখা। একই সঙ্গে পুরো ঘটনা তদন্তের জন্য পাঁচ সদস্যের একটি বিশেষ তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। রবিবার ভোলা দক্ষিণ জেলা ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে এই সিদ্ধান্তের কথা নিশ্চিত করা হয়।
স্থানীয় সূত্র ও সামাজিক মাধ্যমের তথ্যমতে, একটি ভিডিও কলে এক নারীর সঙ্গে আপত্তিকর কথোপকথনের দৃশ্য নেটদুনিয়ায় ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। বিশেষ করে চরফ্যাশন উপজেলায় অভিযুক্ত নেতার পরিচালিত একটি কওমি মহিলা মাদরাসা থাকায় প্রতিষ্ঠানটির ভাবমূর্তি ও শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দেয়। তবে এ ঘটনার ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে ইসলামী যুব আন্দোলনের সাবেক এই সভাপতি দাবি করেন, ভিডিওতে থাকা নারী মূলত তাঁর নিজের স্ত্রী এবং এটি বেশ কয়েক মাস পুরোনো একটি ব্যক্তিগত দৃশ্য। তিনি অভিযোগ করেন, সম্প্রতি তাঁর ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি হারিয়ে গেলে একটি স্বার্থান্বেষী মহল রাজনৈতিকভাবে তাঁর চরিত্র হননের উদ্দেশ্যে অসদুপায় অবলম্বন করে ভিডিওটি প্রকাশ্যে এনেছে।
এ বিষয়ে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক উপাধ্যক্ষ মাওলানা মুহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম জানিয়েছেন, দলীয় শৃঙ্খলা ও নৈতিক আদর্শ রক্ষার প্রশ্নে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। ভোলা দক্ষিণ জেলা শাখার সভাপতি প্রফেসর কামাল উদ্দিনের নেতৃত্বে গঠিত পাঁচ সদস্যের তদন্ত দলের চূড়ান্ত প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে আব্বাস উদ্দিনের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত গৃহীত হবে এবং তদন্ত কার্যক্রম চলমান থাকা পর্যন্ত তাঁর ওপর আরোপিত পদ স্থগিতাদেশ বহাল থাকবে।
দীর্ঘ ছয় বছর পর কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদের দানবাক্সে পাওয়া স্বর্ণ, রুপা ও বৈদেশিক মুদ্রার ওজন নির্ধারণ ও গণনার কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
সোমবার (১২ অক্টোবর) সকাল পৌনে ১০টায় জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে এ কার্যক্রম শুরু হয়।
ট্রেজারিতে সংরক্ষিত নয়টি মাঝারি আকারের প্লাস্টিকের কনটেইনার ও ছয়টি সিলগালা করা খাম খুলে এসব মূল্যবান সামগ্রীর ওজন নির্ধারণ, স্বর্ণের ক্যারেট যাচাই এবং বৈদেশিক মুদ্রা দেশভিত্তিক আলাদা করা হচ্ছে।
পরে স্বর্ণ ও রুপার বাজারমূল্য নির্ধারণ করে নিলামে বিক্রি করা হবে। আর বৈদেশিক মুদ্রা বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ বিনিময় হার অনুযায়ী নগদায়ন করা হবে।
এ কার্যক্রমে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিন, জেলা পরিষদের প্রশাসক খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল, জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির অধ্যাপক মো. রমজান আলী, স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক (উপসচিব) জেবুন নাহার শাম্মী, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. ইশতিয়াক ইমন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) জেসমিন আক্তার, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. এরশাদুল আহমেদসহ জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা।
জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিন জানান, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে গঠিত নয় সদস্যের উপকমিটির তত্ত্বাবধানে এ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এতে জেলা প্রশাসনের তিনজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, পুলিশ, আনসার, ব্যাংক কর্মকর্তা ও স্বর্ণকারেরা সহযোগিতা করছেন। জেলা জুয়েলারি সমিতির ১০ জন সদস্য স্বর্ণ ও রুপার ওজন নির্ধারণ এবং পরিমাপের কাজ করছেন।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ২০২০ সালের ১১ই মার্চ পাগলা মসজিদের দানসিন্দুকে দান হিসেবে পাওয়া স্বর্ণালঙ্কার ও রুপা এক কোটি ১৫ লাখ ৪ হাজার ১১০ টাকায় নিলামে বিক্রি করা হয়েছিল। তখনকার নিলামে প্রায় ৩ বছর ধরে দানসিন্দুকে জমা হওয়া ৪২০ ভরি স্বর্ণালঙ্কার ও ১৮৮ ভরি রুপা এই টাকায় বিক্রি করা হয়। নিলামে পাগলা মসজিদের দানসিন্দুকে পাওয়া
অলঙ্কারগুলোকে ৫টি ক্যাটাগরিতে ভাগ করা হয়। এর মধ্যে ২১ ভরি ওজনের ২১ ও ২২ ক্যারেট মানের বিদেশি স্বর্ণ প্রতি ভরি ৩৯ হাজার চারশ’ টাকা, ৩১ ভরি দেশি স্বর্ণ প্রতি ভরি ৩৬ হাজার তিনশ’ টাকা, দেশি স্বর্ণের তৈরি ১৩১ ভরি ওজনের চাঁদ ও তারকা প্রতি ভরি ৪০ হাজার ৫শ’ টাকা এবং ২৩৭ ভরি ১০ আনা ওজনের নাকফুল প্রতি ভরি ১৭ হাজার ৬শ’ টাকায় বিক্রি হয়। এ ছাড়া ১৮৮ ভরি রুপার অলঙ্কার প্রতি ভরি ৪শ’ টাকা করে বিক্রি করা হয়। এ ছাড়া তখন পাগলা মসজিদের দানসিন্দুকে দান হিসেবে পাওয়া বৈদেশিক মুদ্রাগুলো বিক্রি করে ৭০ লাখ টাকা পাওয়া গিয়েছিল। দানসিন্দুকে পাওয়া টাকা রূপালী ব্যাংকে জমা করা হয়। এ ছাড়া স্বর্ণালঙ্কার কালেক্টরেটের ট্রেজারিতে রাখা হয়।
তখন স্বর্ণালঙ্কারগুলো বিভিন্ন শ্রেণিতে ভাগ করে নিলামে বিক্রি করা হয়েছিল। এর মধ্যে বিদেশি ও দেশি স্বর্ণের অলঙ্কারের পাশাপাশি চাঁদ-তারকা ও নাকফুল ছিল। রুপার অলঙ্কারও আলাদাভাবে বিক্রি করা হয়।
সর্বশেষ চলতি বছরের ২৭ জুন পাগলা মসজিদের দানবাক্স খোলা হয়েছিল। তখন ১৫ কোটি ৯০ লাখ ৮০ হাজার টাকা পাওয়া গিয়েছিল। এরপর থেকে দানবাক্স খোলা না হলেও এর আগে সংগৃহীত অর্থসহ মসজিদের তহবিলে বিপুল পরিমাণ টাকা জমা রয়েছে। এ ছাড়া মসজিদের নিজস্ব ওয়েবসাইট চালুর পর থেকে অনলাইনে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ৩৯ লাখ ৩২ হাজার ১০৬ টাকা অনুদান পাওয়া গেছে।
উল্লেখ্য, পাগলা মসজিদের দানবাক্সে দেশি-বিদেশি মুদ্রার পাশাপাশি স্বর্ণ ও রুপার অলঙ্কারও দান করেন ভক্ত ও দর্শনার্থীরা। নির্দিষ্ট সময় পরপর দানবাক্স খোলা হয় এবং সংগৃহীত অর্থ মসজিদের তহবিলে জমা রাখা হয়।
পিরোজপুর জেলার শ্রেষ্ঠ বিদ্যাপীঠ সরকারি স্বরূপকাঠী পাইলট মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শতবর্ষ আগামী ৯ই জানুয়ারি, শনিবার ২০২৭ বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত হবে। ঐতিহ্য, গৌরব ও শিক্ষার শতবর্ষের মাইলফলক স্পর্শ করতে যাচ্ছে এই বিদ্যালয়টি। ঐতিহাসিক এ অর্জনকে স্মরণীয় করে রাখতে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজন করা হবে বর্ণাঢ্য শতবর্ষ উদযাপন ও মহা-পুনর্মিলনী উৎসব।
শতবর্ষকে ঘিরে ইতিমধ্যে বিদ্যালয়ের প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক ও শুভানুধ্যায়ীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনা শুরু হয়েছে। শতবর্ষের ইতিহাস ও গৌরবময় স্মৃতি নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে আয়োজক কমিটি ব্যাপক প্রস্তুতি শুরু করেছে। কমিটির পক্ষ থেকে এ মহা-পুনর্মিলনী উৎসবে অংশগ্রহণের জন্য সকল প্রাক্তন-বর্তমান ছাত্র-ছাত্রীদের আগামী ৩০ নভেম্বর-এর মধ্যে রেজি: সম্পন্ন করার জন্য আহ্বান জানানো হয়েছে। আগ্রহীরা নিম্নোক্ত ঠিকানায় অথবা অনলাইনে নিবন্ধন করতে পারেন।
অনলাইন রেজি: htttps://registration.swarupkati-psa.org.
এ ছাড়াও যোগাযোগ করতে পারেন, মো. নাসির উদ্দিন সহকারী শিক্ষক, স্বরূপকাঠী পাইলট মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়। ০১৭১২৫৮৪৬৬৫, মো. ওয়ালী উল্লাহ, স্বরূপকাঠী পৌরসভার ফুজি ডিজিটাল স্টুডিও : ০১৮৯৩৫৭৫৯৫০, মো. গালিবুল আলম, মোহনা জেনারেল স্টোর : ০১৩১৭৩৬৭০৫৭, মো. জাকির হোসেন, এম এ টেলিকম : ০১৪০০১০০২০২, মো. রুহুল আমীন, স্বাধীন ডিজিটাল স্টুডিও : ০১৭২৪২১৪০২১, মো. আমিনুল ইসলাম তালুকদার, মীম ফটোস্ট্যাট, জগন্নাথকাঠি দক্ষিণপাড় বন্দর, ০১৭১৬৬৫৪৬০৬ ইত্যাদি ঠিকানা ও নম্বরে।
মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় মানুষের বসতবাড়ি এবং সরকারি খাল বালু দিয়ে ভরাট করে দখলের অভিযোগ উঠেছে সুপার বোর্ড মিলস লিমিটেড নামে এক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে। রোববার দুপুরে গজারিয়া উপজেলার হোসেন্দী ইউনিয়নের শিকিরগাঁও গ্রামের ভাঙা ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় সরেজমিনে দেখা যায়, ওই এলাকায় অন্তত ১০ ফুট উচ্চতায় বালু ভরাট করা হয়েছে, যা আশপাশের অনেক টিনশেড ঘরের চালের উচ্চতা পর্যন্ত ছুঁয়েছে। ভরাটকৃত জায়গার বালুমিশ্রিত পানি নিষ্কাশনের মাধ্যমে একটি সরকারি খালও প্রায় ভরাট হয়ে গেছে। এতে চরম বিপাকে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
ভুক্তভোগী হোসনে আরা জানান, ‘প্রভাবশালী একটি চক্র স্থানীয়দের ভয়ভীতি দেখিয়ে এই বালু ভরাটের কার্যক্রম পরিচালনা করছে। কয়েক দিনের একটানা বালু ভরাটে আমাদের বসতঘরের ভেতর বালু ঢুকে পড়েছে। আমরা এখন কোথায় যাব? প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ ও সহযোগিতা কামনা করছি।’
আরেক ভুক্তভোগী রহিমা বেগম বলেন, ‘মানুষের ঘরের চালের ওপর পর্যন্ত বালু উঠে গেছে। কোনো ধরনের মাপঝোক বা নিয়ম না মেনে এভাবে বালু ভরাট করা সম্পূর্ণ অনৈতিক। পরিস্থিতি এভাবে চলতে থাকলে আমরা এই এলাকায় বসবাস করতে পারব না।’
বয়োবৃদ্ধ সিরাজুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, ‘প্রতিষ্ঠানটি শুধু ব্যক্তি মালিকানাধীন জায়গাই দখল করছে না বরং সরকারি খালও দখল করেছে। বালু ভরাটের কারণে পানি খালে পড়ে খালটিও ভরে গেছে।’
স্থানীয় বাসিন্দা গাজীর বেপারী বলেন, ‘বালু ভরাটের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। এখন তারা আমাদের জমি মাপার কথা বলছে। অথচ বালু ফেলার আগেই জমিও সীমানা নির্ধারণ করা উচিত ছিল। এখন বালু ফেলে জমি মেপে কী লাভ? আমাদের দাবি, বাড়িঘরের ওপর থেকে এই বালু কোম্পানির মাধ্যমে সরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা করা হোক।’
এ বিষয়ে সুপার বোর্ড মিলস লিমিটেডের ব্যবস্থাপক (প্রশাসন) কামরুল হোসাইন দাবি করেন, ‘আমরা কোনো বালু ভরাট করছি না এবং খালও ভরাট করিনি। স্থানীয় লোকজন নিজেরাই তাদের জমি বালু দিয়ে ভরাট করে আমাদের কাছে বিক্রি করে।
এ বিষয়ে গজারিয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) জায়েদ হোছাইন বলেন, আমি দ্রুত এ বিষয়ে খোঁজখবর নিচ্ছি। ঘটনার সত্যতা পেলে আইনগত ও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’