ঈদের ছুটির প্রথম দিন সূর্য ওঠার আগেই যানবাহনের ঢল নামে দক্ষিণবঙ্গের প্রবেশদ্বার পদ্মা সেতুতে। দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়নি।
আজ শুক্রবার (১৪ জুন) ভোর থেকে দুপুর পর্যন্ত মুন্সীগঞ্জের মাওয়া প্রান্তে পদ্মা সেতুর উত্তর টোল প্লাজামুখী যানবাহনের ধীরগতি লক্ষ্য করা যায়। বঙ্গবন্ধু মহাসড়কের শ্রীনগর উপজেলার ছনবাড়ি এই অবস্থা দেখতে পাওয়া যায়।
মাওয়া ট্রাফিক পুলিশের পরিদর্শক জিয়াউল ইসলাম বলেন, ‘রাতে পদ্মা সেতু সংলগ্ন ওয়েট স্কেলে পণ্যবাহী ট্রাক আটকে রাখায় শুক্রবার ভোরে মহাসড়কে যানবাহনের জটলা দেখা দেয়। এতে প্রায় ছয় কিলোমিটার এলাকাজুড়ে যানবাহনের ধীর গতি ছিল।’
তিনি বলেন, ‘পদ্মা সেতুতে মোটরসাইকেলের জন্য আলাদা বুথসহ সাতটি বুথে নিরবচ্ছিন্ন টোল আদায় করা হচ্ছে। রাতের অপেক্ষমাণ পণ্যবাহী ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যানও এখন চলাচল শুরু করেছে। ফলে টোল আদায়ে হিমশিম খাচ্ছে কর্তৃপক্ষ।’
সেতু কর্তৃপক্ষ বলছে, স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে যানবাহনের চাপ বেড়ে যাওয়ায় পদ্মা সেতুর টোল প্লাজায় যানবাহনগুলোকে টোল দিতে অপেক্ষা করতে হচ্ছে কিছু সময়। সেতু এলাকায় যানবাহন এগুচ্ছে ধীরগতিতে।
মাগুড়াগামী বাসযাত্রী সোহেল রানা বলেন, ‘আমি ঢাকার একটি গার্মেন্টস ফ্যাক্টরিতে কাজ করি। প্রতিবছরের মত ঈদ ছুটির প্রথম দিনে বাড়ি যাচ্ছি। মহাসড়কে আসতে কোন অসুবিধা না হলেও পদ্মা সেতুর টোল প্লাজায় যানজটে পড়েছি।’
পদ্মা সেতু টোল প্লাজায় অপেক্ষমাণ যাত্রী পিরোজপুর জেলার বাসিন্দা আলী আহসান বলেন, ‘দেশে গিয়ে কোরবানির পশু কিনবো। বাড়িতে সবাই আমার অপেক্ষায় আছেন। তাই ঈদ ছুটির প্রথম দিনই বাড়ির দিকে রওনা হয়েছি। সেতু এলাকায় ৪০ মিনিট ধরে অপেক্ষা করছি।’
মোটরসাইকেল চালক ফয়সাল শাহপরাণ বলেন, ‘ভোরে মোটরসাইকেল নিয়ে ঢাকার মোহাম্মদপুর থেকে রওনা হয়েছি বাড়ির উদ্দেশ্যে। ভেবেছিলাম ভোরে সেতুর টোল প্লাজা ফাঁকা থাকবে। কিন্তু এখানে এসে কিছুটা ধীরগতিতে পড়েছি। তারপরও তেমন কষ্ট হচ্ছে না। সেতু পার হতে পারলেই আর বেশি সময় লাগবে না বাড়ি পৌঁছতে। এটা ভেবেই ভালো লাগছে।’
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার একটি ভোটকেন্দ্রে স্থাপিত সিসি ক্যামেরা চুরির ঘটনা ঘটেছে। উপজেলার কুশাখালি ইউনিয়নের দক্ষিণ ছিলাদী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে এই চুরির ঘটনা ঘটে। ওই কেন্দ্র থেকে দুটি সিসি ক্যামেরা খুলে নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা। নির্বাচনী কার্যক্রমের অংশ হিসেবে কেন্দ্রের নিরাপত্তা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এই ক্যামেরাগুলো স্থাপন করা হয়েছিল। বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) রাতে বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এই ঘটনায় ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা ও সুষ্ঠু নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ে স্থানীয় জনমনে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
ঘটনার বিবরণ দিয়ে বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোসাম্মদ মমতাজ বেগম জানান, গত ২৯ জানুয়ারি বৃহস্পতিবার বিকেলে নির্ধারিত সময়ে বিদ্যালয় ছুটি দিয়ে শিক্ষকরা বাড়িতে চলে যান। এরপর টানা তিন দিন বিদ্যালয় বন্ধ ছিল। সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) সকালে বিদ্যালয়ে ফিরে শিক্ষকরা দেখতে পান যে, নিচতলায় স্থাপিত তিনটি সিসি ক্যামেরার মধ্যে দুটি ক্যামেরা যথাস্থানে নেই। দুর্বৃত্তরা সুকৌশলে ক্যামেরা দুটি খুলে নিয়ে গেছে। বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে প্রশাসনকে অবহিত করা হয়েছে এবং বুধবার সদর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। প্রশাসনের কর্মকর্তারা ইতিমধ্যে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। লক্ষ্মীপুর জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট হাসিবুর রহমান হাসিব এই চুরির ঘটনাকে পরিকল্পিত নাশকতার অংশ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি মন্তব্য করেন যে, যারা নির্বাচনে কারচুপি করতে চায় কিংবা ভোটকেন্দ্রে গোলযোগ সৃষ্টির পরিকল্পনা করছে, এটি তাদেরই অপকর্ম হতে পারে। অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য সিসি ক্যামেরা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি মাধ্যম। যারা নির্বাচনের পরিবেশ নষ্ট করতে চায়, কেবল তারাই এমন অসৎ উদ্দেশ্যে ক্যামেরা সরিয়ে ফেলেছে বলে তিনি দাবি করেন।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। লক্ষ্মীপুর জেলা সহকারী রিটার্নিং অফিসার ও সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ক্যাথোয়াইপ্রু মারমা চুরির বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ইতিমধ্যে সদর থানায় এ সংক্রান্ত অভিযোগ করা হয়েছে এবং পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করছে। নির্বাচনের আগে ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা সুসংহত করতে এবং অপরাধীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে প্রশাসন তৎপর রয়েছে। ভোটারদের মাঝে আস্থা ফিরিয়ে আনতে এবং কেন্দ্রের নিরাপত্তা ব্যবস্থা পুনরায় জোরদার করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। মূলত নির্বাচনের ঠিক আগ মুহূর্তে এ ধরণের ঘটনা নির্বাচনী এলাকায় এক ধরণের রহস্য ও উত্তেজনার জন্ম দিয়েছে।
রাজধানীর পল্লবীতে একটি বাসা থেকে দুই শিশু ও এক দম্পতিসহ একই পরিবারের চারজনের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার দুপুরে মিরপুর ১১ নম্বর সেকশনের বি-ব্লকের ৩ নম্বর ওয়াপদা ভবন বিহারি ক্যাম্পের একটি কক্ষ থেকে তাদের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে পুরো এলাকায় শোক ও আতঙ্কের ছায়া নেমে আসে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করার পাশাপাশি ঘটনার পেছনের প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে কাজ শুরু করেছে।
নিহতরা হলেন মাসুম (৩০), তাঁর স্ত্রী সুমী (২৫) এবং তাঁদের দুই সন্তান ৪ বছর বয়সী মিনহাজ ও ২ বছরের আসহাব। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আজ সকাল ৮টা থেকে দুপুর ১২টার মধ্যে কোনো এক সময়ে এই মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। পল্লবী থানা পুলিশ খবর পাওয়ার পরপরই ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহগুলো হেফাজতে নেয়। আইনি প্রক্রিয়া শেষে নিহতদের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে।
পল্লবী থানার উপ-সহকারী পরিদর্শক (এএসআই) শাহীন আলম জানিয়েছেন, পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে চারজনের নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখে। ঘরটি ভেতর থেকে বন্ধ ছিল নাকি অন্য কোনোভাবে কেউ প্রবেশ করেছিল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পুলিশের প্রাথমিক সন্দেহ অনুযায়ী, এটি একটি করুণ আত্মহত্যার ঘটনা হতে পারে। ধারণা করা হচ্ছে, প্রথমে শিশুদের শ্বাসরোধ করে বা অন্য কোনোভাবে হত্যার পর স্বামী-স্ত্রী নিজেরা আত্মহননের পথ বেছে নিয়েছেন। তবে এটি কেবল প্রাথমিক অনুমান এবং ময়নাতদন্তের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন পাওয়ার পরেই মৃত্যুর সঠিক কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
এদিকে স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যে জানা যায়, এই পরিবারটির মধ্যে বেশ কিছুদিন ধরে পারিবারিক নানা বিষয়ে মনোমালিন্য চলছিল। দীর্ঘদিনের কলহের জের ধরেই এই ভয়াবহ পরিণতির দিকে তাঁরা ধাবিত হতে পারেন বলে অনেকের ধারণা। মিরপুর এলাকার বিহারি ক্যাম্পে বসবাসকারী এই পরিবারটির এমন আকস্মিক মৃত্যুতে প্রতিবেশীরা বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন। পুলিশ বর্তমানে নিহতের স্বজন ও প্রতিবেশীদের জিজ্ঞাসাবাদ করছে এবং ঘটনার পেছনে অন্য কোনো রহস্য বা তৃতীয় কারও সম্পৃক্ততা আছে কি না, তা নিবিড়ভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহগুলো পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে এবং এ ঘটনায় পল্লবী থানায় একটি অপমৃত্যু বা নিয়মিত মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
লক্ষ্মীপুরে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে অবৈধভাবে ছয়টি জাল সিল তৈরির ঘটনায় আটক প্রিন্টিং প্রেসের মালিক সোহেল রানা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। বুধবার বিকেলে লক্ষ্মীপুর জেলা আদালতের বিচারকের কাছে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় দেওয়া এই জবানবন্দিতে তিনি সিলগুলো তৈরির মূল নির্দেশদাতা হিসেবে স্থানীয় এক জামায়াত নেতার নাম প্রকাশ করেন। সোহেল রানা সদর উপজেলার টুমচর ইউনিয়নের বাসিন্দা এবং শহরের পুরোনো আদালত রোডে অবস্থিত ‘মারইয়াম প্রেস’-এর স্বত্বাধিকারী। পুলিশের অভিযানে তাঁর প্রেস থেকে উদ্ধার হওয়া সিলগুলো মূলত ভোটগ্রহণের সময় ব্যালটে ব্যবহারের জন্য তৈরি করা হয়েছিল বলে জানা গেছে।
পুলিশ ও আদালত সূত্রে জানা যায়, গত মঙ্গলবার বিকেলে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শহরের পুরোনো আদালত রোডের ওই প্রেসে অভিযান চালায় পুলিশ। সেখান থেকে ভোটে ব্যবহারের উপযোগী ছয়টি জাল সিল, একটি কম্পিউটার ও একটি মুঠোফোনসহ সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করা হয়। জবানবন্দিতে সোহেল রানা জানান, লক্ষ্মীপুর পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি সৌরভ হোসেন ওরফে শরীফের নির্দেশে তিনি এসব সিল তৈরি করেছেন। গত ৩০ জানুয়ারি হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে শরীফ এই সিলগুলো তৈরির কার্যাদেশ দেন এবং সেই অনুযায়ী সোহেল রানা সেগুলো প্রস্তুত করেন। বর্তমানে শরীফ আত্মগোপনে থাকলেও এ ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার অভিযোগে জামায়াতে ইসলামী তাঁকে দল থেকে বহিষ্কার করেছে।
জাল সিল উদ্ধারের এই ঘটনায় স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। লক্ষ্মীপুর-৩ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, প্রার্থীর পরিচয় শনাক্ত হওয়ার পর এটি স্পষ্ট যে এর পেছনে বড় ধরনের নির্বাচনী কারচুপির ষড়যন্ত্র বা ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং’-এর ছক ছিল। তিনি এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। অন্যদিকে, জেলা জামায়াতের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে, অভিযুক্ত নেতা ব্যক্তিগতভাবে ভোটারদের ‘ভোট দেওয়া’ শেখানোর জন্য বা মহড়া দেওয়ার উদ্দেশ্যে এই সিলগুলো বানিয়েছিলেন, যা ছিল একটি দায়িত্বহীন কাজ। জামায়াত শুরুতে এই ঘটনার সঙ্গে দলের সংশ্লিষ্টতা অস্বীকার করলেও পরবর্তীতে ঘটনার সত্যতা পাওয়ায় অভিযুক্ত নেতাকে বহিষ্কার করা হয়।
লক্ষ্মীপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওয়াহেদ পারভেজ জবানবন্দির বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন যে, সিল তৈরির পেছনের প্রকৃত উদ্দেশ্য উদ্ঘাটনে পুলিশি তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। ঘটনার পর থেকেই গ্রেপ্তার হওয়া সোহেল রানা ও পলাতক জামায়াত নেতা শরীফের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ বর্তমানে দুটি দিককে সামনে রেখে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে—প্রথমত, এই সিলগুলো ভোটারদের প্রশিক্ষণের আড়ালে কারচুপির উদ্দেশ্যে ব্যবহার করার পরিকল্পনা ছিল কি না এবং দ্বিতীয়ত, এই জালিয়াত চক্রের সঙ্গে আরও প্রভাবশালী কেউ জড়িত আছে কি না। জব্দ করা আলামতগুলো ফরেনসিক পর্যালোচনার জন্য পাঠানো হয়েছে এবং পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছে জেলা পুলিশ। মূলত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের আগে এই ধরণের জাল জালিয়াতির ঘটনা ভোটারদের মধ্যে এক ধরণের উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।
গাজীপুরের কালীগঞ্জে যুবক ইমন শেখ ওরফে ইলিয়াস শেখ (২৪) হত্যা মামলায় এক নারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। একই সঙ্গে আসামির দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি সুইচগিয়ার চাকু উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, গত ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখ সকাল আনুমানিক ৯টা ৫০ মিনিটে কালীগঞ্জ থানাধীন দক্ষিণবাগ এলাকার উত্তরপাড়া কুড়িলটেক ব্রিজ সংলগ্ন রাস্তার পশ্চিম পাশে জনৈক শামিম মিয়ার ধানক্ষেতে হাঁটু পানির মধ্যে থেকে নিহত ইমন শেখ ওরফে ইলিয়াস শেখের লাশ উদ্ধার করা হয়। নিহত ইমন শেখ কালীগঞ্জ উপজেলার ছৈলাদী গ্রামের শরীফ শেখ ও লাইলী বেগমের ছেলে।
এ ঘটনায় কালীগঞ্জ থানায় এফআইআর নং-০৩, তারিখ ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, পেনাল কোডের ৩০২/২০১/৩৪ ধারায় একটি হত্যা মামলা রুজু করা হয়। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মো. মাসুদ রানা শামীম তথ্যপ্রযুক্তি ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ঢাকার উত্তরা আব্দুল্লাহপুর এলাকা থেকে ঘটনার সঙ্গে জড়িত আসামি হানিফা কাজী (৫৫)কে গ্রেপ্তার করেন। তিনি কালীগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণবাগ এলাকার বাসিন্দা।
পরবর্তীতে আসামির দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে কালীগঞ্জ থানাধীন দোলন বাজারে তার দোকান থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি সুইচগিয়ার চাকু উদ্ধার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ শেষে গাজীপুর আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
কুষ্টিয়ার দৌলতপুর সীমান্তে বিজিবি ও জেলা প্রশাসনের যৌথ অভিযানে ভ্রাম্যমাণ আদালতে এক মাদক কারবারিকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অপর দিকে সিমান্তে পৃথক অভিযানে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় মদ ও নিষিদ্ধ ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়েছে। গত মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে দৌলতপুর আল্লার দরগাহ এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট প্রদীপ কুমার দাশের নেতৃত্বে পরিচালিত এ অভিযানে শফি (৩৫) নামের এক মাদক কারবারীকে আটক করা হয়। তল্লাশিতে তার কাছ থেকে ১৪ পুরিয়া গাঁজা উদ্ধার করা হয়।
ভ্রাম্যমাণ আদালত মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে দোষী সাব্যস্ত করে শফিকে দুই মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ২০০ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করেছেন। একই সঙ্গে উদ্ধারকৃত গাঁজা ঘটনাস্থলেই পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়েছে।
অপরদিকে বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) ভোর রাতে চিলমারী বিওপির টহল দল সীমান্তবর্তী মরারপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে মালিকবিহীন অবস্থায় ৭০ বোতল ভারতীয় মদ উদ্ধার করে, যার আনুমানিক বাজার মূল্য প্রায় ১ লাখ ৫ হাজার টাকা।
গত মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) রাতে চরচিলমারী বিওপির টহল দল ডিগ্রীরচর এলাকায় অভিযান চালিয়ে মালিকবিহীন অবস্থায় ৫০০ পিস ভারতীয় সিলডিনাফিল ট্যাবলেট উদ্ধার করে। উদ্ধারকৃত এসব ট্যাবলেটের আনুমানিক সিজার মূল্য প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা।
এ বিষয়ে কুষ্টিয়া ৪৭ বিজিবির অধিনায়ক রাশেদ কামাল রনি জানান, মালিকবিহীন অবস্থায় উদ্ধারকৃত মাদকদ্রব্য ব্যাটালিয়ন সিজার স্টোরে জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং আইনানুগ প্রক্রিয়া শেষে তা জনসম্মুখে ধ্বংস করা হবে। সীমান্ত এলাকায় মাদক ও চোরাচালান রোধে বিজিবির অভিযান জোরদার রয়েছে বলে তিনি জানান।
নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার চরাঞ্চল সায়দাবাদে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ২ গ্রুপের সংঘর্ষে এক কিশোর নিহত হয়েছে। বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) ভোরে এ গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। নিহত কিশোরের নাম মোস্তাকিম (১৪)। সে সায়দাবাদ গ্রামের মাসুদ মিয়ার ছেলে। এ ঘটনায় অন্তত ৫ জন গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। আহতদের মধ্যে রফিকুল ইসলাম (৩৪) নামে একজনের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, সায়দাবাদ এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে স্থানীয় হানিফ মাস্টার ও এরশাদ মিয়ার গ্রুপের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধ চলছিল। বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) ভোরে দুপক্ষ আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। গোলাগুলির মধ্যে পড়ে কিশোর মোস্তাকিম গুরুতর আহত হয়। পরে তাকে উদ্ধার করে রায়পুরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
নরসিংদীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) সুজন চন্দ্র সরকার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, আধিপত্য বিস্তারের জেরে সংঘর্ষে এক কিশোর নিহত হয়েছে। খবর পেয়ে পুলিশ, সেনাবাহিনী ও র্যাব দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে। তিনি আরও জানান, আহতদের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের ধরতে অভিযান শুরু হয়েছে। এলাকায় বর্তমানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।
মানবসেবা শুধু কর্তব্য নয়, মানুষের প্রতি ভালোবাসা ও মানবিকতার গভীরতম প্রকাশ। টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলা বিএনপির সম্মানিত সদস্য তারিকুল ইসলাম খাঁন তারেক দীর্ঘ ১২ বছর ধরে খোলা আকাশের নিচে বাঁশঝাড়ের পাশে মানবেতর জীবনযাপন করা চর-চতিলা ফারাজিপাড়ার নাসির উদ্দিনের জন্য নির্মাণ করে দিয়েছেন একটি “মানবিক ঘর”, যা এলাকায় প্রশংসা কুড়িয়েছে।
বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও এলাকাবাসীর উপস্থিতিতে দোচালা টিনের ঘরটি আনুষ্ঠানিকভাবে নাসির উদ্দিনের কাছে হস্তান্তর করেন তিনি। উপস্থিত ব্যক্তিরা বলেন, সমাজের সচেতন মানুষ এগিয়ে এলে অসহায়দের কষ্ট অনেকটাই লাঘব করা সম্ভব।
এর আগে “তীব্র শীতেও খোলা আকাশের নিচে ঘুমায় নাসির” শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হলে গোপালপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. জিল্লুর রহমান টিন ও আর্থিক সহায়তা দেন। পাশাপাশি প্রবাসী মো. শফিকুল ইসলাম চৌকি, মশারি, তোশক ও বালিশ উপহার দেন।
তারিকুল ইসলাম খাঁন তারেক বলেন, আমার কোন কিছু চাওয়া পাওয়ার নেই, মানবিক দিক বিবেচনা করে আমি নাসির ভাইকে ঘর নির্মাণ করে দিয়েছি আল্লাহর সন্তুষ্টিরঅর্জনের জন্য। মসজিদ, মাদরাসাসহ বিভিন্ন মানবিক কাজে সহযোগিতার পাশাপাশি নিজ উদ্যোগে বিভিন্নস্থানে টিউবওয়েল স্থাপন করে দিয়েছি।
স্থানীয়দের মতে, অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এই উদ্যোগ সমাজে মানবিকতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে এবং অন্যদেরও এমন কাজে উৎসাহিত করবে। তারা আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতেও সমাজের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জন্য এ ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।
কিছুটা মানসিক সমস্যায় আক্রান্ত দিনমজুর নাসির উদ্দিন নতুন ঘর পেয়ে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে গণমাধ্যমসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ জানান।
নওগাঁয় জুনায়েদ সাকী (৩৭) নামে এক রাজস্ব কর্মকর্তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) ভোর সাড়ে ৫টার দিকে ২৫০ শয্যা নওগাঁ জেনারেল হাসপাতালের সামনে থেকে বেওয়ারিশ হিসেবে মরদেহটি উদ্ধার করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
এর আগে মরদেহটি পিকআপ থেকে ফেলে দিয়ে দ্রুত সেখান থেকে সটকে পড়েন চালক ও তার সহযোগী (হেলপার)। নিহত জুনায়েদ বরিশাল জেলার পিরোজপুর এলাকার বাসিন্দা। তিনি ঢাকা রাজস্ব বোর্ডে সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত ছিলেন বলে নিশ্চিত করেছেন নওগাঁ কাস্টমসের সহকারী কমিশনার মো. রাশেদ।
জানা যায়, ঢাকা থেকে ট্রেন যোগে সান্তাহার রেলওয়ে জংশনে নেমে নওগাঁর মহাদেবপুরে স্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের উদ্দ্যেশ্যে আসছিলেন জুনায়েদ। তবে ভোরে ট্রেন থেকে নামার পর তিনি আর বাড়ি ফেরেননি। হলুদ রঙয়ের একটি পিকআপ ভোর সাড়ে ৫টায় তার ক্ষতবিক্ষত মরদেহ ২৫০ শয্যা নওগাঁ হাসপাতালের সামনে এসে ফেলে রেখে পালয়ে যায়। এরপর সেখানকার কর্মচারীরা তাকে অজ্ঞাত অবস্থ্যায় উদ্ধার করে জরুরী বিভাগে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক জুনায়েদকে মৃত ঘোষণা করেন।
নওগাঁ কাস্টমসের সহকারী কমিশনার মো. রাশেদ বলেন, সান্তাহার থেকে নওগাঁ আসার পথে তিনি সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেছেন বলে আমরা ধারণা করছি। বিষয়টি তার পরিবারের সদস্যদের জানালে তারাও হাসপাতালে এসেছিলো। থানা পুলিশ মৃত্যুর রহস্য উদঘাটনে কাজ করছে।
২৫০ শয্যা নওগাঁ জেনারেল হাসপাতালের জরুরী বিভাগে দায়িত্বরত চিকিৎসক ডা. রেহনুমা মুনমুন বলেন, মরদেহটি আমরা সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হিসেবে প্রাথমিকভাবে সনাক্ত করেছি। পরে থানা পুলিশ এবং নিহতের পরিবারের সদস্যদের বিষয়টি জানানো হয়।
ফেনীর মহিপাল কুরিয়ার সার্ভিস এস এ পরিবহনে বিজিবি-সেনাবাহিনী-পুলিশ যৌথ অভিযান পরিচালনা করে বিপুল পরিমান ভারতীয় চোরাচালানী মালামালসহ ২ জনকে আটক করেছে। জব্দকৃত মালামালের আনুমানিক মূল্য এক কোটি দুই লক্ষ পনের হাজার আটশত টাকা। এ সময় এস.এ পরিবহন কুরিয়ার সার্ভিস থেকে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় শাড়ি, থ্রী পিস, তেল, বডি স্প্রে, সাবান, টুথপেস্ট, ফেশওয়াশ, আতশবাজি জব্দ করে।
জিজ্ঞাসাবাদের জন্য কুরিয়ার সার্ভিসের ম্যানেজার আতিকুর রহমানকে বিজিবি ক্যাম্পে নিয়ে যায়। বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) সকালে ফেনী শহরের শহীদ শহীদুল্লা কায়সার সড়কের এস.এ পরিবহনে বিজিবি অভিযান পরিচালনা করেন।
অভিযানের সময় ফেনী ৪ বিজিবি অধিনায়ক লে: কর্নেল মোশারফ হোসেন, ফেনী জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট চয়ন বড়ুয়া, বিজিবি সহকারী পরিচালক নজরুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।
পরে উদ্ধারকৃত মালামাল জব্দ করে ফেনী জায়লকরস্থ বিজিবি হেডকোয়ার্টারে নিয়ে যায়।
ওখানে জব্দকৃত মালামাল সিজার লিস্ট করা হয় ।মালামাল ও আটক ব্যক্তিদের পরবর্তী আইনি কার্যক্রম গ্রহণের জন্য ফেনী সদর মডেল থানার সোপর্দ করা হয়েছে।
ফেনী ৪ বিজিবি অধিনায়ক লে: কর্নেল মোশারফ হোসেন বলেন, বিজিবি বর্তমানে নির্বাচন ডিউটিতে মোতায়েন থেকেও একই সাথে সীমান্তে নিরাপত্তা রক্ষা, মাদক পাচার ও চোরাচালান প্রতিরোধসহ অবৈধ অনুপ্রবেশ রোধে ফেনী ব্যাটালিয়ন (৪ বিজিবি) কর্তৃক আভিযানিক কর্মকান্ড ও গোয়েন্দা তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।
লক্ষ্মীপুরে ভোটের অবৈধ ৬টি সিল উদ্ধারের ঘটনায় স্থানীয় জামায়াতে ইসলামীর এক নেতাসহ দুজনের নামে মামলা করা হয়েছে এবং সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) হুমায়ুন কবির বাদী হয়ে মঙ্গলবার রাতে এ মামলাটি দায়ের করেন। মামলার প্রধান আসামি শহরের পুরোনো আদালত রোডের মারইয়াম প্রেসের স্বত্বাধিকারী ব্যবসায়ী সোহেল রানাকে (৪০) গতকাল বিকেলে অবৈধ সিল, একটি কম্পিউটার ও মুঠোফোনসহ গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মামলার অপর আসামি হলেন পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি সৌরভ হোসেন ওরফে শরীফ (৩৪), যার বিরুদ্ধে ওই সিলগুলো তৈরির অর্ডার দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে যে, সৌরভ হোসেন ছয়টি ভোটের সিল তৈরির জন্য ব্যবসায়ী সোহেল রানার দোকানে অর্ডার দেন এবং তদন্তকারী কর্মকর্তারা সৌরভের সঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর লক্ষ্মীপুর-৩ (সদর) আসনের প্রার্থীর একাধিক ছবির সম্পৃক্ততা খুঁজে পেয়েছেন। তবে বর্তমানে সৌরভ হোসেনের মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে এবং পুলিশ তাকে এখনো গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়নি। যদিও লক্ষ্মীপুর পৌর জামায়াতের সেক্রেটারি হারুন অর রশীদ দাবি করেছেন যে, ৪ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের সেক্রেটারি সৌরভ হোসেনকে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে আসামি করা হয়েছে।
এদিকে, এই ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে গত মঙ্গলবার রাত সাড়ে আটটার দিকে এক সংবাদ সম্মেলনে লক্ষ্মীপুর-৩ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেন, “সিলসহ সোহেল রানা নামে যাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তিনি জামায়াতের কর্মী বলে জানতে পেরেছি। হয়তো তাঁর পদ-পদবিও রয়েছে। একটি কম্পিউটারসহ ছয়টা সিল জব্দ করা হয়েছে। সিলগুলো যিনি বা যাঁরা বানিয়েছেন, নিশ্চয়ই এর পেছনে অনেক কলকবজা রয়েছে, একটা ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের হিসাব-নিকাশ রয়েছে।” তিনি এই জালিয়াতির নেপথ্যে থাকা ইন্ধনদাতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান এবং সিলের পাশাপাশি ব্যালট ছাপানোর কোনো পরিকল্পনা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান।
বিএনপির এই সংবাদ সম্মেলনের পরপরই লক্ষ্মীপুর প্রেসক্লাবে পাল্টা সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে জামায়াতে ইসলামী এবং সেখানে দলের প্রার্থী রেজাউল করিম বলেন, “ভোটের সিলসহ গ্রেপ্তার ব্যক্তির সঙ্গে জামায়াতকে জড়িয়ে বিএনপি মিথ্যাচার করছে।” তিনি আরও যোগ করেন, “যেকোনো ঘটনা ঘটার সঙ্গে সঙ্গেই জামায়াতে ইসলামীর বিরুদ্ধে অভিযোগ, অতীতের মতোই আরেকটি দলের মুদ্রাদোষে পরিণত হয়েছে। গ্রেপ্তার হওয়া সোহেল জামায়াতের কেউ নন। এ ঘটনার সঙ্গে যে বা যারা জড়িত রয়েছে, প্রশাসন তদন্ত করে বের করবে। এ রকম একটি ঘৃণিত ঘটনার আমরা তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।”
লক্ষ্মীপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওয়াহেদ পারভেজ জানিয়েছেন যে, গ্রেপ্তার হওয়া সোহেল রানা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছেন সৌরভ হোসেনের অর্ডার অনুযায়ী তিনি এসব সিল তৈরি করছিলেন। উদ্ধার হওয়া সিলগুলো ভোটারদের প্রশিক্ষণ বা মহড়া দেওয়ার জন্য নাকি নির্বাচনের দিন ভোট কারচুপির উদ্দেশ্যে তৈরি করা হয়েছিল, পুলিশ তা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখছে। সিল তৈরির প্রকৃত উদ্দেশ্য এবং এই ঘটনার সঙ্গে অন্য কোনো প্রভাবশালী মহলের সম্পৃক্ততা আছে কি না তা নিশ্চিতে পুলিশি তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলায় হাঁস চুরির অভিযোগ তুলে এক যুবককে কৌশলে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় পুলিশ দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে। বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) ভোরে উপজেলার মালিগাঁও গ্রামে ঘটনাটি ঘটে। নিহত যুবকের নাম সাঈদ ভূইয়া (২৩)। তিনি একই গ্রামের বাসিন্দা এবং পেশায় রাজমিস্ত্রি ছিলেন।
জানা গেছে, মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে মালিগাঁও গ্রামের আব্দুর রাজ্জাক মিয়া সাঈদের বাবার কাছে অভিযোগ করেন, তার ছেলে রাজ্জাকের হাঁস চুরি করেছে। এ সময় সাঈদের বাবা আলাউদ্দিন ভূইয়া জানান, তার ছেলে দোষী হলে বাড়িতে ফিরলে তিনি বিচার করে হাঁসের ক্ষতিপূরণ দেবেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে রাজ্জাক মিয়া সেখান থেকে চলে যান।
পরবর্তীতে রাত আনুমানিক ১১টার দিকে রাজ্জাক মিয়া পরিবারের কাউকে না জানিয়ে কৌশলে সাঈদকে তার বাড়িতে ডেকে নেন। সেখানে রাজ্জাক মিয়া, তার ছেলে রাব্বি ও জাহিদ, ভাতিজা শাওনসহ আরও কয়েকজন মিলে হাঁস চুরির অপবাদ দিয়ে সাঈদকে মারধর করেন। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে গ্রামের আলমের মুদি দোকানের সামনে ফেলে রাখা হয়।
খবর পেয়ে রাত প্রায় ১২টার দিকে ঘটনাস্থলে পৌঁছে সাঈদের বাবা ছেলেকে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। পরে তাকে উদ্ধার করে প্রথমে মালিগাঁও স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং পরে গৌরীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ভোরে সাঈদের মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় নিহতের বাবা আলাউদ্দিন ভূইয়া দাউদকান্দি মডেল থানায় বাদী হয়ে হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
দাউদকান্দি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এম আব্দুল হালিম জানান, ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে মালিগাঁও গ্রামের মো. জসিম মিয়া (৩৫) ও মো. ওমর সানি (৩০) কে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
বাবার জানাজায় অংশ নিতে প্যারোলে মুক্তির আবেদন নামঞ্জুর হওয়ায় এক হাজতির বাবার মরদেহই আনা হয়েছে কারাগারে।
বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) সকালে কিশোরগঞ্জ জেলা কারাগারে এ হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটে। এমন দৃশ্য দেখে হতবাক হয়ে পড়েন উপস্থিত অনেকে।
কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলার পানাউল্লারচর এলাকার বাসিন্দা মিলন মিয়া (৪৫) বর্তমানে রাজনৈতিক মামলায় কারাগারে রয়েছেন। প্যারোলে মুক্তি না পাওয়ায় শেষ পর্যন্ত বাবার মরদেহ কারাগারে এনে তাকে শেষবারের মতো দেখার সুযোগ দেওয়া হয়। মিলন মিয়ার বাবা ফুল মিয়া (৭০) দীর্ঘদিন ধরে ক্যান্সারে আক্রান্ত ছিলেন। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে ভৈরবের একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
পরিবার ও আইনজীবী সূত্রে জানা যায়, বাবার জানাজায় অংশ নিতে মিলন মিয়ার প্যারোলে মুক্তির জন্য জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের দায়িত্বপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন করা হয়। তবে আবেদন নামঞ্জুর করে মরদেহ কারাগারে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
মিলন মিয়ার চাচা মতিউর রহমান বলেন, “কারাগারের ভেতরে বাবার মরদেহ দেখে মিলন বারবার লুটিয়ে পড়েছে। প্যারোলে মুক্তির অনেক চেষ্টা করেছি, কিন্তু ব্যর্থ হয়ে শেষ পর্যন্ত মরদেহ কারাগারে আনতে হয়েছে। জীবনে এমন ঘটনা আর দেখিনি।”
স্বজনরা জানান, সকাল ১০টার দিকে মরদেহবাহী অ্যাম্বুলেন্স জেলা কারাগারে পৌঁছায়। মিলনের এক চাচাকে ভেতরে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হলেও অন্য স্বজনরা পান সাধারণ সাক্ষাতের সুযোগ।
চাচাতো ভাই সালাম মিয়া বলেন, “৬০ কিলোমিটার দূর থেকে মরদেহ কারাগারে আনতে হয়েছে। এই সময় দাফন-কাফনে থাকার কথা ছিল, অথচ আমাদের ছুটতে হচ্ছে আদালত আর কারাগারে।”
আসামিপক্ষের আইনজীবী আবদুল মোমেন ভূইয়া তুহিন বলেন, “মিলন মিয়া কোনো মামলার এজাহারভুক্ত আসামি নন। তার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগও নেই। একটি মামলায় জামিন পাওয়ার পর আবার নতুন মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।”
এ বিষয়ে কিশোরগঞ্জ জেলা কারাগারের জেল সুপার রিতেশ চাকমা জানান, “জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কার্যালয় থেকে পাঠানো নির্দেশনা অনুযায়ী কারাগারের গেটে মরদেহ দেখার সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে।”
চট্টগ্রাম বোয়ালখালীতে একটি বসতঘর থেকে নগদ টাকাসহ স্বর্ণের গয়না চুরি হয়েছে। মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) উপজেলার শাকপুরা ইউনিয়নের ৪ নাম্বার ওয়ার্ডের মধ্যম শাকপুরা গ্রামের বৈদ্য বাড়িতে এ ঘটনা ঘটেছে।
এ ঘটনায় লাভলী বড়ুয়া বোয়ালখালী থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
তিনি বলেন, মঙ্গলবার সকাল ৯টার দিকে ঘরের দরজা তালাবদ্ধ করে সারোয়াতলীতে একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান গিয়েছিলাম। সেখান থেকে বিকেলে ডাক্তার দেখাতে নগরে যাই। রাত সাড়ে ১০টার দিকে বাড়ি ফিরে ঘরের তালা খুলে দেখি পেছনের দরজা খোলা। সমস্ত জিনিসপত্র এলোমেলো। ২টি আলমিরা লক ভেঙে নগদ ৩ লাখ টাকা ও ১৪ লাখ টাকা মূল্যমানের ৬ ভরি স্বর্ণের গয়না নিয়ে গেছে।
লাভলী বড়ুয়ার স্বামী শিমুল বিকাশ বড়ুয়া জানান, তিনি স্থানীয় ধম্মানন্দ বিহারের কোষাধ্যক্ষ। বিহারটি উন্নয়ন কাজের নগদ টাকা এবং তার চাকুরি থেকে পাওয়া মাসের বেতন আলমিরা ড্রায়ারে রেখেছিলেন।
বোয়ালখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহফুজুর রহমান বলেন, অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।