শুক্রবার, ৫ জুন ২০২৬
২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

টাঙ্গাইলে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় ৪ জন নিহত

ছবি: দৈনিক বাংলা
টাঙ্গাইল প্রতিনিধি
প্রকাশিত
টাঙ্গাইল প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ১৪ জুন, ২০২৪ ১৫:২৯

টাঙ্গাইলে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাইভেটকারের চালকসহ চারজন নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অন্তত চারজন।

আজ শুক্রবার (১৪ জুন) ভোরে কালিহাতী উপজেলার বাগুটিয়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

জানা যায়, কালিহাতী উপজেলার বাগুটিয়া এলাকায় বঙ্গবন্ধু টেক্সটাইলের কলেজের সামনে ভোরে ট্রাক ও প্রাইভেটকারের সংঘর্ষে প্রাইভেট কারের চালকসহ তিনজন নিহত ও চারজন আহত হন।

নিহত ব্যক্তিদের এখনো কোনো পরিচয় পাওয়া যায়নি। তবে এক ব্যক্তি প্রাইভেটকারের চালক ছিলেন বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।

এ বিষয়ে অ্যালেঙ্গা হাইওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মীর মো. সাজেদুর রহমান বলেন, ‘মাঝ রাতের কোনো এক সময় কালিহাতী উপজেলার বাগুটিয়া এলাকায় একটি গরু বোঝাই ট্রাকের সঙ্গে একটি প্রাইভেটকারের সংঘর্ষ ঘটে। পরে ঘটনাস্থল থেকে গুরুতর অবস্থায় টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে ৭ জনকে নেওয়া হয়।’

এ সময় জরুরি বিভাগে কর্মরত চিকিৎসক ছয় জনের মধ্যে তিনজনকে মৃত ঘোষণা করেন। এখনো নিহত দুইজনের পরিচয় পাওয়া যায়নি বলেও জানান তিনি।

ঢাকা-টাঙ্গাইল বঙ্গবন্ধুসেতু মহাসড়কে কালিহাতী উপজেলার পৌলী নামক স্থানে সকাল ৮টার দিকে সিমেন্ট ভর্তি ট্রাকের সঙ্গে যাত্রীবাহী বাসের সংঘর্ষে একজন মারা যান।

এ ছাড়াও ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে মোটরসাইকেল নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে আইল্যান্ডের সঙ্গে ধাক্কা লেগে এক মোটরসাইকেল আরোহী নিহত হয়েছেন।


পদ্মায় ডুবে যাওয়া বাস উদ্ধার, ঘটেনি হতাহতের ঘটনা

ছবি- দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ৫ জুন, ২০২৬ ১৪:৪৯
মইনুল হক মৃধা, রাজবাড়ী প্রতিনিধি 

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ৭ নং ফেরিঘাট হতে আজ সকাল সারে ৯ টার দিকে এসবি পরিবহনের একটি বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেরির রেলিং ভেঙে নদীতে পরে ডুবে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। কুষ্টিয়া হতে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী বাসটির নম্বর ঢাকা মেট্রো-ট - ১৫-৫৬৪৯।

করবী অক্সফাম নামের একটি ছোট ফেরিতে ওঠার সময় ওই বাসটি থেকে সকল যাত্রীদের নামিয়ে দেয়া হয় বলে ঘাট সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

বাসটিতে থাকা সহকারী (হেলপার) সাকিব হোসেন (২৭) দুর্ঘটনার বিষয়টি বুঝতে পেরে লাফিয়ে ফেরির পন্টুনের উপর পড়ে যায়। এতে তিনি কিছুটা আহত হন। কিন্তু চালক ঝন্টু আলী (৪৭) বাসটি সহ নদীতে পড়ে যান। তবে তিনি বাসের জানালা দিয়ে বেরিয়ে সাঁতরে উপরে উঠতে সক্ষম হন। তাদের দুজনকে প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে ভর্তি করা হয়েছে।

প্রায় ২ ঘন্টা পর বেলা পৌনে ১২ টার দিকে উদ্ধারকারী জাহাজ হামজা বাসটিকে উপরে তুলতে সক্ষম হয়।

প্রত্যক্ষদর্শী শুভ সেন জানান, তিনি ফেরি ঘাট দিয়ে লুজ যাত্রীদের পারাপারে নিয়োজিত মারুফ বিল্ডার্সের ম্যানেজার। সকাল সাড়ে ৯ টার দিকে তিনি ৭ নং ঘাটের পন্টুনে দাড়িয়ে একজনের সাথে কথা বলছিলেন। এ সময় দেখতে পান এসবি পরিবহনের ওই বাসটি ফেরিতে ওঠার জন্য অ্যাপ্রোচ সড়কের দিকে আসছে। তবে সেখানে নিয়োজিত নৌ-পুলিশ ও অন্যান্যরা বাসটি হতে যাত্রীদের নেমে যেতে বলেন। যাত্রীরা নেমে যাওয়ার পর চালক বাসটি নিয়ে সোজা ফেরিতে উঠে যান। কিন্তু নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাসটি সোজা গিয়ে ফেরির রেম বা ডালায় গিয়ে আঘাত করে। এতে ডালার তার ছিড়ে গিয়ে বাসটি নদীতে পড়ে যায়।

দুর্ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী এবং ওই বাসের যাত্রী আব্দুস সালাম নিজের লোমহর্ষক অভিজ্ঞতার কথা বর্ণনা করে বলেন, "আমি ও আমার পরিবার সকাল ৭টার সময় কুষ্টিয়া থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে এস বি পরিবহনের এই বাসে চড়েছিলাম। যদিও বাসটি তার নির্ধারিত সময়ের চেয়ে প্রায় ২০ মিনিট দেরিতে ছেড়েছিল। দৌলতদিয়া ঘাটে পৌঁছানোর পর নিয়ম অনুযায়ী আমাদের সব যাত্রীদের বাস থেকে নামিয়ে দেওয়া হয়। তিনি আরও বলেন, আমি মনে করি মহান আল্লাহ্ পাক স্বয়ং পুলিশ পাঠিয়েছে যে আমাদের বাস থেকে নামিয়ে দিতে।

আমরা নামার ঠিক কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই চোখের সামনে বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পদ্মার পানিতে তলিয়ে যায়। আল্লাহর অশেষ রহমতে আমরা বেঁচে গেছি, কারণ ওই সময় বাসে চালক ছাড়া কোনো যাত্রী ছিলেন না।"

বাসটির সুপার ভাইজার আজমল হোসেন জানান, বাসটিতে মোট ৪০ জন টিকিট কাটলেও যাত্রী ওঠেন ৩৭ জন। তাদের নিয়েই ঢাকা যাচ্ছিলাম। তবে আল্লাহর অশেষ মেহেরবানিতে সকল যাত্রী নেমে যাওয়ায় বড় ধরনের প্রানহানির হাত থেকে আমরা বেঁচে যাই।

গোয়ালন্দ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন চালক ঝন্টু মিয়া বলেন, কুষ্টিয়ার মজমপুর গেট হতে সকাল সোয়া ৭ টার দিকে বাসটি ঢাকার উদ্দেশ্যে ছাড়ি। এর আগে বাসের ইন্জিন ও ব্রেক ঠিক আছে কিনা তা দেখে নিই। তারপরও ফেরিতে ওঠার আগে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নদীতে পড়ে যাই। এ সময় হেলপার আমাকে সতর্ক করে লাফিয়ে ফেরির পন্টুনে নেমে যায়। এ ছাড়া বাসের ভেতর আমি ছাড়া আর কোন লোক ছিল না। বাসটি পানিতে তলিয়ে গেলেও সৃষ্টিকর্তার দয়ায় আমি জানালা দিয়ে বের হয়ে উপরে ভেসে উঠতে সক্ষম হই। পরে স্হানীয়রা আমাকে টেনে তীরে তুলে। এরপর গোয়ালন্দ ঘাট থানা পুলিশ আমাদের দুজনকে গোয়ালন্দ উপজেলা হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করে।

এদিকে দূর্ঘটনার খবর পেয়ে রাজবাড়ীর জেলা প্রশাসক আফরোজা পারভীন ঘটনাস্হলে ছুটে আসেন। এ সময় গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাথী দাস, সহকারী কমিশনার ভূমি মোঃ মুনতাসির হাসান খান, গোয়ালন্দ ঘাট থানা অফিসার ইনচার্জ ওসি শফিকুল ইসলাম, দৌলতদিয়া নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির ওসি ত্রিনাথ সাহা, বিআইডব্লিউটিসি'র দৌলতদিয়া ঘাট ব্যবস্থাপক মোঃ সালাউদ্দিন সহ অন্যান্য কর্মকর্তারা সেখানে উপস্হিত ছিলেন।

জেলা প্রশাসক আফরোজা পারভীন জানান, প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে যাত্রীদের আগেই নামিয়ে দেয়ায় কোন হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। আমরা পরিবহন সংশ্লিষ্ট সহ সকল যাত্রীদের কাছে অনুরোধ করব এভাবেই ফেরিতে উঠা-নামার আগে বাস হতে সবাই নেমে যাবেন।

বেলা পৌনে ১২ টায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত উদ্ধারকারী জাহাজ 'হামজা' গোয়ালন্দ ফায়ার সার্ভিস ও ডুবুরিদের সহায়তায় ডুবে যাওয়া বাসটিকে টেনে উপরে তুলতে সক্ষম হয়। তবে এর ভেতরে কোন মানুষ ছিল না বলে দৌলতদিয়া নৌপুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ত্রিনাথ সাহা নিশ্চিত করেন।

উল্লেখ্য, গত ২৫ মার্চ দৌলতদিয়া ৩ নং ফেরি ঘাটে সৌহার্দ্য পরিবহনের একটি বাস ডুবিতে ২৬ জনের মৃত্যু হয়।


ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় মা-ছেলেসহ ৪ জনের প্রাণহানি

নিহতদের স্বজনদের আহাজারি। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মহাসড়কের পৃথক দুটি স্থানে সড়ক দুর্ঘটনায় মা, শিশুসন্তান ও চালকসহ মোট চারজন নিহত হয়েছেন। শুক্রবার সকালে কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়কের বিয়াল্লিশহর এলাকা এবং ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের বাড়িউড়া এলাকায় এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনাগুলো ঘটে। নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করে বর্তমানে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।

প্রথম দুর্ঘটনাটি ঘটে সদর উপজেলার রামরাইল ইউনিয়নের বিয়াল্লিশ্বর এলাকায়। কসবা উপজেলার বাহাদুরপুর গ্রামের কাউসার মিয়া তার স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে সরাইল বিশ্বরোডের দিকে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে একটি দ্রুতগামী মাছভর্তি পিকআপ ভ্যান অটোরিকশাটিকে পেছন থেকে সজোরে ধাক্কা দিলে চালকসহ একই পরিবারের চার সদস্য গুরুতর আহত হন। তাদের উদ্ধার করে জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে অটোরিকশা চালক মাহবুব, যাত্রী জোসনা বেগম ও তার পাঁচ বছরের ছেলে আশরাফুলের মৃত্যু হয়। আহত কাউসার মিয়া ও তার চার বছরের মেয়ে আদিবাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

অন্যদিকে, সকাল ৬টার দিকে সরাইল উপজেলার ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের বাড়িউড়া বাজার এলাকায় প্রাইভেটকার ও সিএনজি অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে আরও একজন নিহত হয়েছেন। নিহতের নাম মো. অলি মিয়া (৫৫), তিনি সরাইলের পানিশ্বর ইউনিয়নের বরইবাড়ি গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। সরাইল বিশ্বরোডগামী অটোরিকশাটিতে থাকা অলি মিয়া ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান।

খাঁটিহাতা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবু তাহের দেওয়ান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কাজ পরিচালনা করেছে। তবে ঘাতক পিকআপ ভ্যানটির চালক ও সহযোগী পালিয়ে যাওয়ায় তাদের আটক করা সম্ভব হয়নি। এই দুটি দুর্ঘটনায় সংশ্লিষ্ট এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।


ঈদযাত্রায় ১৩ দিনে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ২৮১ জন

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে গত ২১ মে থেকে ২ জুন পর্যন্ত ১৩ দিনে দেশে ২৯২টি সড়ক দুর্ঘটনায় ২৮১ জন নিহত এবং ৮৩৭ জন আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ৩৪ জন নারী ও ৪৮ জন শিশু রয়েছে। বৃহস্পতিবার (৪ জুন) এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে রোড সেফটি ফাউন্ডেশন।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, এ সময়ে ১৪১টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ১২৪ জন নিহত হয়েছেন, যা মোট প্রাণহানির ৪৪ দশমিক ১২ শতাংশ। এছাড়া দুর্ঘটনায় ৩৭ জন পথচারী এবং ৩৩ জন যানবাহনের চালক ও সহকারী প্রাণ হারিয়েছেন।

সড়ক দুর্ঘটনার পাশাপাশি ১৩টি নৌপথ দুর্ঘটনায় ৮ জন নিহত ও ১৫ জন আহত হয়েছেন। অন্যদিকে, ২২টি রেলপথ দুর্ঘটনায় ১৭ জন নিহত এবং ৯ জন আহত হয়েছেন।

নিহতদের মধ্যে মোটরসাইকেল চালক ও আরোহী ১২৪ জন, বাসযাত্রী ২১ জন, ট্রাক ও পণ্যবাহী যানবাহনের আরোহী ৩২ জন, প্রাইভেটকার ও অ্যাম্বুলেন্সের ১১ জন, থ্রি-হুইলার যাত্রী ৪৮ জন এবং স্থানীয় যানবাহনের ৮ জন রয়েছেন।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, বিভাগভিত্তিক হিসাবে সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি ঘটেছে ঢাকা বিভাগে। এ বিভাগে ৯৫টি দুর্ঘটনায় ১০১ জন নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে সবচেয়ে কম প্রাণহানি ঘটেছে সিলেট বিভাগে, যেখানে ৯টি দুর্ঘটনায় ৭ জন নিহত হয়েছেন। জেলাভিত্তিক হিসাবে ফরিদপুর জেলায় সবচেয়ে বেশি প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। সেখানে ১৯টি দুর্ঘটনায় ২৮ জন নিহত হয়েছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় উচ্চ প্রাণহারের বিষয়টি সড়ক নিরাপত্তা ব্যবস্থার জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে। ঈদকেন্দ্রিক যাতায়াতের সময় অতিরিক্ত গতি, ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেকিং এবং ট্রাফিক আইন অমান্য করাকে দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।


৩ হাজার টাকার জন্য মাকে হত্যা

লাশ মেঝেতে পুঁতে রাখল পাষণ্ড ছেলে
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নীলফামারী প্রতিনিধি

নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলায় ছাগল বিক্রির মাত্র ৩ হাজার টাকার কলহের জেরে মারুফা বেগম (৬০) নামে এক গর্ভধারিণী মাকে হত্যা করে ঘরের মেঝেতে পুঁতে রাখার রোমহর্ষক ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ও শোকের ছয়া নেমে এসেছে। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত নেশাগ্রস্ত বড় ছেলে জুয়েল মিয়া (৪০) পলাতক রয়েছে।

গত বুধবার (৩ জুন) মধ্যরাতে উপজেলার বড়ভিটা ইউনিয়নের উত্তর বড়ভিটা ময়দানপাড়া এলাকায় ঘরের মেঝে খুঁড়ে ওই বৃদ্ধার নিথর দেহ উদ্ধার করে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গত সোমবার থেকে মারুফা বেগম নিখোঁজ ছিলেন। বুধবার (৩ জুন) তার ছোট ছেলে লাবিনের স্ত্রী ঘর গোছানোর সময় বিছানার তোশকের নিচে রক্ত এবং মেঝেতে অস্বাভাবিক ফাটল দেখতে পান।

পরে পুলিশকে খবর দিলে মাটি খুঁড়ে লাশ উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, প্রায় ৩০-৩৬ ঘণ্টা আগে ওই বৃদ্ধাকে ভারি কোনো বস্তু দিয়ে কপালে ও চোখে আঘাত করে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় ছোট ছেলে লাবিন ইসলাম বাদী হয়ে বড় ভাইয়ের বিরুদ্ধে থানায় একটি হত্যা মামলা করেছেন।


বালুচরের সৌর বিদ্যুৎ, মেটাবে ঘাটতি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
পাবনা প্রতিনিধি

পদ্মার ভাঙা-গড়ার খেলায় যে ধু ধু বালুচর একসময় নিঝুম পড়ে থাকত, সেই চরাঞ্চলই আজ দেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানির অন্যতম প্রধান উৎসে পরিণত হয়েছে। পাবনার প্রত্যন্ত চরাঞ্চলের অন্ধকার ভেদ করে এখন জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হচ্ছে ১৬৪ দশমিক ৫৫ মেগাওয়াট পরিচ্ছন্ন ও সবুজ বিদ্যুৎ; যা গ্রামীণ অর্থনীতি ও অবকাঠামোতে এনে দেবে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন। পাশাপাশি চরাঞ্চলের মানুষের কর্মসংস্থান ও জাতীয় জ্বালানি নিরাপত্তায় এই গ্রিন এনার্জি প্রকল্প এক নতুন দিগন্তের সূচনা করেছে।

জানা গেছে, পাবনা সদর ও সুজানগর উপজেলায় পদ্মা নদীর তীরে গড়ে ওঠা দুটি বিশাল সৌর বিদ্যুৎ কেন্দ্র (সোলার পার্ক) থেকে জাতীয় গ্রিডে যোগ হচ্ছে ১৬৪ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ।

পাবনা সদর উপজেলার হেমায়েতপুর ইউনিয়নের চর ভবানীপুরে পদ্মা নদীর তীরবর্তী প্রায় ৪০০ একর জমির ওপর বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ডায়নামিক সান এনার্জি প্রাইভেট লিমিটেডের উদ্যোগে নির্মিত হয়েছে এই বৃহৎ সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র। এটি টেক্সটাইল খাতের শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান প্যারামাউন্ট টেক্সটাইল পিএলসির একটি সহযোগী প্রতিষ্ঠান।

কেন্দ্রটির উৎপাদন ক্ষমতা ১০০ মেগাওয়াট (এসি), যা সরাসরি জাতীয় গ্রিডে যোগ হচ্ছে। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করে নির্মিত এই সবুজ জ্বালানি অবকাঠামোতে রয়েছে ২ লাখ ৭৪ হাজারের বেশি সৌর মডিউল ও ৭৬০টি আধুনিক ইনভার্টার।

প্রকল্প কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের (এডিবি) ১২১ দশমিক ৫৫ মিলিয়ন ডলার অর্থায়নে নির্মিত এই কেন্দ্রটি পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শেষে ২০২৪ সালের ২৩ অক্টোবর থেকে বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু করে।

প্ল্যান্টটির পরিচালক জহুরুল ইসলাম জানান, বর্তমানে প্রতিদিন ধারাবাহিকভাবে ১০০ মেগাওয়াট সবুজ বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ হচ্ছে।

তিনি জানান, সম্পূর্ণ কার্বনমুক্ত ও পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির ওপর নির্ভরশীল এই কেন্দ্রটির বছরে প্রায় ১৯৩ দশমিক ৫ গিগাবাইট-আওয়ার পরিচ্ছন্ন বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা রয়েছে। এতে প্রতি বছর প্রায় ৯৩ হাজার ৬৫৪ টন কার্বন ডাই-অক্সাইড নির্গমন কমবে। যা বাংলাদেশের জলবায়ু লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।

অন্যদিকে, সুজানগর উপজেলার প্রত্যন্ত সাগরকান্দি চরে বাংলাদেশ-চীন যৌথ উদ্যোগে গড়ে ওঠা আরেকটি সৌর বিদ্যুৎ কেন্দ্র জাতীয় গ্রিডে ৬৪ দশমিক ৫৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করছে।

২০৫ একর জমিতে ১ লাখ ৪৭ হাজার সোলার মডিউল ও ১১টি আধুনিক ইনভার্টার নিয়ে গড়ে ওঠা এই কেন্দ্রটি ২০২৫ সালের ২৬ আগস্ট থেকে বাণিজ্যিকভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু করেছে।

দেশের নর্থ-ওয়েস্ট পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানি লিমিটেড (এনডব্লিইপিজিসিএল) ও চায়না ন্যাশনাল মেশিনারি ইমপোর্ট অ্যান্ড এক্সপোর্ট করপোরেশনের (সিএমসি) সমান অংশীদারত্বে গঠিত বাংলাদেশ-চায়না রিনিউঅ্যাবল এনার্জি কোম্পানি লিমিটেড ২০২০ সাল থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানে সৌর ও বায়ু বিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে।

প্রকল্প পরিচালক মো. তানবীর রহমান জানান, প্রতিষ্ঠানটি ইতোমধ্যে সিরাজগঞ্জের ৬৮ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প সফলভাবে বাস্তবায়ন করেছে। এর পাশাপাশি নতুন এই পাবনা ৬৪ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্রও চালু হয়েছে। এই কেন্দ্রের মাধ্যমে প্রত্যন্ত চরাঞ্চলের মানুষের আর্থ-সামাজিক জীবনযাত্রার মান দ্রুত বদলে যাচ্ছে। একসময়কার অনাবাদি চর এখন বিদ্যুৎ উৎপাদনের কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।

সরকার ২০৪১ সালের মধ্যে দেশের মোট উৎপাদিত বিদ্যুতের ৪০ শতাংশ নবায়নযোগ্য ও পরিচ্ছন্ন উৎস থেকে মেটানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। পাবনার এই দুটি সোলার পার্ক সেই লক্ষ্য অর্জনে এবং দেশের চলমান বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

এদিকে, চরাঞ্চলের মানুষের কর্মসংস্থান ও জাতীয় জ্বালানি নিরাপত্তায় এই গ্রিন এনার্জি প্রকল্প এক নতুন দিগন্তের সূচনা করেছে। পদ্মার ভাঙা-গড়ার খেলায় যে ধু ধু বালুচর একসময় নিঝুম পড়ে থাকত, সেই চরাঞ্চলই আজ দেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানির অন্যতম প্রধান উৎসে পরিণত হয়েছে।

বদলে যাওয়া চরাঞ্চল ও অবকাঠামো: সৌর বিদ্যুৎ কেন্দ্র দুটি চালু হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট এলাকার পুরো চিত্রই বদলে গেছে।

একসময় যেখানে সূর্যাস্তের পর জীবন থমকে যেত এবং কাঁচা রাস্তা ছাড়া চলাচলের কোনো উপায় ছিল না—আজ সেখানে পিচঢালা পাকা রাস্তা তৈরি হয়েছে। দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা চলছে ইঞ্জিনচালিত যানবাহন ও বাণিজ্যিক কার্যক্রম।

সোলার পার্ককে কেন্দ্র করে চরের জমির দামও আকাশচুম্বী হয়েছে। কয়েক বছর আগেও হেমায়েতপুর ইউনিয়নের প্রত্যন্ত চর ভবানীপুরে কলা ও সবজি চাষই ছিল মানুষের একমাত্র অর্থনৈতিক ভরসা।

গত সপ্তাহে এই এলাকার স্থানীয়রা জানান, কয়েক বছর আগেও যে জমি বিঘা প্রতি ২ থেকে ৩ লাখ টাকায় বিক্রি হতো, এখন তা বেড়ে ৭ থেকে ৮ লাখ এবং কোথাও কোথাও ১২ লাখ টাকারও বেশি হয়েছে। গ্রামের সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পই এর প্রধান কারণ।

এলাকায় দ্রুত কংক্রিটের বাড়ি ও স্থায়ী দোকানপাট গড়ে উঠছে। তবে কৃষিজমির পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ায় উদ্বেগও বাড়ছে।

স্থানীয় কৃষক মাসুদ মোল্লা বলেন, ‘বিদ্যুৎ প্রকল্পের জন্য আমার সাত বিঘা জমির মধ্যে পাঁচ বিঘা ছেড়ে দিতে হয়েছে।’

তিনি জানান, জমির জন্য উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ পেয়েছিলেন এবং সেই অর্থ দিয়ে ছেলেদের জন্য দোকান করেছেন। কিন্তু কৃষিকাজ ছেড়ে দেওয়ার পর এখন নিজেকে কর্মহীন ও সারাজীবনের পরিচয় থেকে বিচ্ছিন্ন মনে হয়।

আরেক প্রবীণ বাসিন্দা বারেক শেখ জানান, প্রকল্পের জন্য তার চার বিঘা জমিই অধিগ্রহণ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘গ্রামের শত শত কৃষকের জমি এই প্রকল্পে নেওয়া হয়েছে। এত বেশি আবাদি জমি সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য ব্যবহার হওয়ায় চাষাবাদের জায়গা কমে গেছে। জমির দামও অনেক বেড়ে গেছে।’

সুজানগর উপজেলার সাগরকান্দির বাসিন্দাদের পরিস্থিতি আরও জটিল। তাদের অনেকেই কয়েক দশক ধরে চরাঞ্চলের জমিতে চাষাবাদ করলেও এখনো কোনো ক্ষতিপূরণ পাননি।

তবে প্রকল্প কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, জমির বৈধ কাগজপত্র না থাকলে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার সুযোগ নেই। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্রটি সরকারি মালিকানাধীন জমির ওপর নির্মাণ করা হয়েছে।


কুমিল্লায় ১৩ গ্রামের ভূমি সংকটের সমাধান দাবিতে সড়ক অবরোধ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কুমিল্লা প্রতিনিধি

কুমিল্লা বিমানবন্দরসংলগ্ন ১৩ গ্রামের ভূমিসংক্রান্ত সমস্যার স্থায়ী সমাধানের দাবিতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড এলাকায় বৃহস্পতিবার (৪ জুন) বিক্ষোভ ও অবরোধ কর্মসূচি পালন করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। প্রায় আধা ঘণ্টা অবরোধের পর তারা মহাসড়ক ছেড়ে দেন এবং পাশে মানববন্ধন করেন।

বৃহস্পতিবার (৪ জুন) বেলা পৌনে ১১টার দিকে স্থানীয় বাসিন্দারা কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার পদুয়ার বাজার অংশে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। এ সময় মহাসড়কের উভয় পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। এতে যাত্রী ও পরিবহনচালকদের দুর্ভোগে পড়তে হয়।

মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচিতে এলাকাবাসী জানান, কুমিল্লা বিমানবন্দরসংলগ্ন ১৩ গ্রামের লক্ষাধিক মানুষ কয়েক দশক ধরে ভূমির মালিকানা, কর আদায় ও চলাচলের রাস্তা ব্যবহারের অধিকার নিয়ে জটিলতার মধ্যে রয়েছেন। তারা দ্রুত এ সংকটের স্থায়ী সমাধান চান।

মানববন্ধনে বিতরণ করা একটি লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ১৯৪২ সালে তৎকালীন ব্রিটিশ সরকার বিমানবন্দর নির্মাণের জন্য এলাকার ১৩ গ্রামের বাসিন্দাদের ঘরবাড়ি ছেড়ে যেতে নির্দেশ দেয়। এতে প্রায় ৪২৩ একর জমি ছাড়তে বাধ্য হন স্থানীয় লোকজন। তবে ১৯৪৬ সালে তৎকালীন ত্রিপুরা জেলার জেলা ম্যাজিস্ট্রেট নোটিশ দিয়ে বিমানবন্দরের রানওয়ের নির্দিষ্ট সীমার বাইরে নিজ নিজ জায়গায় পুনর্বাসন ও বসবাসের অনুমতি দেন। কিন্তু বিভিন্ন কারণে সে সময় ভূমির মালিকানাসংক্রান্ত বিষয়টির চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হয়নি।

বক্তব্যে আরও বলা হয়, ১৯৯৯ সালে বিমানবন্দর এলাকায় ইপিজেড স্থাপনের জন্য ১৪৫ দশমিক ৭৪ একর জমি হস্তান্তর করা হয়। পরে ২০০২ সালে স্থানীয় ব্যক্তিদের দাবি অনুযায়ী তাদের পৈতৃক ভিটা থেকে উচ্ছেদ করা হয় এবং প্রতিরক্ষা বিভাগ ওই ভূমি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেয়। বর্তমানে স্থানীয় ব্যক্তিদের চলাচলের রাস্তা ব্যবহার ও বাড়িঘরে প্রবেশের ক্ষেত্রেও নানা প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হতে হচ্ছে।

কর্মসূচি চলাকালে স্থানীয় বাসিন্দা মীর হোসেন বলেন, ‘আমাদের পূর্বপুরুষদের মালিকানাধীন জমি জোরপূর্বক দখল করে রাখা হয়েছে। পাশাপাশি স্থানীয় ব্যক্তিদের চলাচলের রাস্তাও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে সমস্যার সমাধান না হওয়ায় আমরা আন্দোলনে নামতে বাধ্য হয়েছি। আমাদের সমস্যা সমাধান না হলে সামনে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।’

আরেক বাসিন্দা মাহবুব মজুমদার বলেন, ‘ব্রিটিশ আমল থেকে এই জমি আমাদের মালিকানাধীন। তাহলে আমরা কেন অন্য কোনো কর্তৃপক্ষকে কর দেব? আমরা সমস্যার একটি স্থায়ী ও গ্রহণযোগ্য সমাধান চাই।’

আন্দোলনকারীরা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত ভূমিসংক্রান্ত বিরোধের স্থায়ী সমাধান নিশ্চিত না হলে ভবিষ্যতে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।’

মানববন্ধনে কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির নেতা এস এ বারী সেলিম, কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলা বিএনপির সভাপতি আখতার হোসেন, সাধারণ সম্পাদক ফারুক চৌধুরীসহ ১৩ গ্রামের কয়েকশ মানুষ অংশ নেন।

কুমিল্লা ময়নামতি হাইওয়ে থানার ওসি আবদুল মমিন বলেন, ‘ভূমিসংক্রান্ত সমস্যার সমাধানের দাবিতে একদল লোক মানববন্ধন করছিলেন। একপর্যায়ে তারা মহাসড়কে নেমে গেলে যান চলাচল ব্যাহত হয়। পরে হাইওয়ে পুলিশ ও সদর দক্ষিণ মডেল থানা–পুলিশ তাদের সরিয়ে দিলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।’

কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানার ওসি রকিবুল ইসলাম বলেন, ‘সকাল থেকে আন্দোলনকারীরা মানববন্ধন করছিলেন। একপর্যায়ে কেউ কেউ মহাসড়ক অবরোধের চেষ্টা করলে পুলিশ দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখে। এখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক।’


খুলনায় ডেঙ্গু প্রতিরোধে মতবিনিময়

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
খুলনা প্রতিনিধি

খুলনা মহানগরীর এলাকায় ডেঙ্গু পরিস্থিতি ও প্রতিরোধবিষয়ক সভা বৃহস্পতিবার (৪ জুন) সকালে নগর ভবনের শহীদ আলতাফ মিলনায়তনে হয়েছে। সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন কেসিসি প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু। বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি সংস্থার প্রতিনিধি ও কেসিসির ওয়ার্ড ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা সভায় উপস্থিত ছিলেন।

প্রশাসক ডেঙ্গু সংক্রমণ বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, ‘পরিচ্ছন্নতার বিকল্প নেই। ১ হাম-রুবেলা ক্যাম্পেইন এবং ঈদ পরবর্তী পরিচ্ছন্নতা কাজে সফলতার জন্য প্রধানমন্ত্রী ধন্যবান জানিয়েছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘ডেঙ্গু সংক্রমণ প্রতিরোধে সকল শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানসহ প্রত্যেকটি সেক্টরকে অন্তর্ভুক্ত করে জনসচেতনতা বৃদ্ধিমূলক কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে।’ এ লক্ষ্যে তিনি স্থানীয় পর্যায়ের ইমাম, শিক্ষক, রাজনৈতিক নেতাদের অন্তর্ভুক্ত করে কমিটি গঠনের জন্য ওয়ার্ডের ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের নির্দেশনা প্রদান করেন এবং নগরীতে পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করতে নগরবাসীর সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেন।

সভায় জানানো হয় মশার প্রজনন ধ্বংস করা এবং মশার কামড় থেকে নিজেকে সুরতি রাখা ডেঙ্গু প্রতিরোধের প্রধান উপায়। এডিস মশা সাধারণত দিনের বেলা কামড়ায়। তাই ব্যক্তিগত সচেতনতা ও পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার মাধ্যমেই ডেঙ্গু প্রতিরোধ সবচেয়ে কার্যকর বলে জানানো হয়। এ ছাড়া বাড়ির আশপাশে বা ছাদে পানি জমতে না দেওয়া, ফুলের টব ও এসির পানি জমার পাত্র পরিষ্কার রাখা, দিনে ঘুমানোর সময় মশারি ব্যবহার করা এবং শিশুদের হাফপ্যান্ট বা টি-শার্টের পরিবর্তে ফুলহাতা কাপড় পরানোর পরামর্শ দেওয়া হয়। ডেঙ্গু সন্দেহ হলে প্যারাসিটামল ছাড়া অন্য কোনো ব্যথানাশক না খাওয়া, প্রচুর পরিমাণে তরল খাবার গ্রহণ করা এবং পর্যাপ্ত বিশ্রাম নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

কেসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রাজিব আহমেদের সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথিরে বক্তব্য দেন স্বাস্থ্যের বিভাগীয় পরিচালক ডা. শেখ মোশাররফ হোসেন, সিভিল সার্জন ডা. মাহফুজা খানম, কেসিসির সচিব রেজা রশীদ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা প্রকৌশলী আনিসুর রহমান, এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল্লাহ আল ইমরান, প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোল্লা মারুফ রশীদ, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের পরিচালক মহিউদ্দিন মজুমদার, ইমাম পরিষদ-খুলনার সভাপতি গোলাম কিবরিয়া, জেলা ইমাম পরিষদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এ এফ এম নাজমুস সউদ, মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি প্রশান্ত কুমার কুন্ডু, খ্রিষ্টান ঐক্য ফ্রন্টের সভাপতি সুজানা জলি ও সোনাডাঙ্গা ব্যাপ্টিস্ট চার্চের সভাপতি ক্যালভিন সঞ্জয় দোবে। সভা পরিচালনা করেন কেসিসির প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. শরীফ শাম্মীউল ইসলাম।


স্ত্রীকে ছুরিকাঘাতে হত্যার পর মরদেহ হাসপাতালে নিয়ে গেলেন স্বামী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কক্সবাজার প্রতিনিধি 

কক্সবাজারের উখিয়ায় ছুরিকাঘাতে স্ত্রীকে হত্যার পর মরদেহ কাঁধে নিয়ে হাসপাতালে যান স্বামী। এ সময় জনতা স্বামীকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেন। বৃহস্পতিবার (৪ জুন) সকাল ৮টার দিকে উপজেলার হলদিয়াপালং ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের পাগলির বিল গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত নারীর নাম পারভীন আক্তার (২৮)। তিনি হলদিয়াপালং ইউনিয়নের পাতাবাড়ি এলাকার আবদুল গফুরের মেয়ে। কয়েক বছর আগে পারভীনের সঙ্গে পাগলির বিল এলাকার শামশুল আলমের ছেলে আবদুল আলমের বিয়ে হয়। পেশায় তিনি রাজমিস্ত্রি। পারিবারিক কলহের জেরে হত্যার ঘটনা ঘটেছে বলে পুলিশ ও এলাকাবাসী জানিয়েছেন। হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পুলিশ নিহত পারভীনের শাশুড়িকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছে।

নিহত পারভীনের ছোট বোন ইয়াসমিন আক্তার বলেন, ‘আমার বোনের স্বামী গভীর রাতে বাসায় ফিরে ঘুমিয়ে পড়েন। সকাল ৭টার দিকে ঘুম থেকে ওঠে খেতে বসেন। এ সময় স্বামী–স্ত্রীর মধ্যে কথা–কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে বোনকে ছুরিকাঘাত করেন স্বামী।’

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, স্ত্রী পারভীন আক্তারকে আঘাত করার পর আবদুল আলম রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে কাঁধে তুলে উখিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। ততক্ষণে পারভীন মারা যান। উপস্থিত লোকজন তখন আবদুল আলমকে আটক করে পুলিশে খবর দেন। পুলিশ হাসপাতাল থেকে আলমকে থানায় নিয়ে যায়।

পারভীনের সংসারে তিন পুত্রসন্তান আছে জানিয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য বোরহান উদ্দিন বলেন, ‘মূলত পারিবারিক কারণে স্বামী–স্ত্রীর মধ্যে কথা–কাটাকাটি হয়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে স্ত্রীকে ছুরিকাঘাত করেন স্বামী।’

উখিয়া থানার ওসি মুজিবুর রহমান বলেন, ‘পারভীন আক্তারের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আবদুল আলমের মাকে হেফাজতে আনা হয়েছে। মামলার প্রস্তুতি চলছে।’


ধর্ষকের ফাঁসির দাবিতে বিক্ষোভ, সর্বোচ্চ শাস্তির আশ্বাস হুইপ দুলুর

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নাটোর প্রতিনিধি

নাটোরে ৫ বছর বয়সি এক শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। লম্পট ধর্ষকের ফাঁসির দাবিতে বৃহস্পতিবার (৪ জুন) সকালে শহরের কানাইখালি এলাকায় ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে সর্বস্তরের জনগণ।

জানা গেছে, গত মঙ্গলবার (২ জুন) বিকেলে সদর উপজেলার মদনহাট গ্রামে ফুচকা বিক্রেতা শরিফুল ইসলাম ওই শিশুকে বাড়ি পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে ধর্ষণ করে। গত বুধবার রাতে বিষয়টি জানাজানি হলে গ্রামবাসী ধর্ষকের বাড়ি ঘেরাও করে তাকে একটি গাছের সাথে বেঁধে গণপিটুনি দেয়। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্ত শরিফুলকে আটক করে।

এদিকে বৃহস্পতিবার (৪ জুন) দুপুরে নাটোর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা থাকা শিশুটিকে দেখতে যান সরকার দলীয় হুইপ রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু। তিনি সাংবাদিকদের জানান, ধর্ষণের মতো জঘন্য অপরাধের বিরুদ্ধে সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে। তিনি দ্রুত বিচার সম্পন্ন করে আসামির সর্বোচ্চ শাস্তি (ফাঁসি) নিশ্চিত করার জোরালো আশ্বাস দেন।


গ্রিড প্রস্তুত তবু অন্ধকারে চরফ্যাশন: বিদ্যুৎ নিচ্ছে না ওজোপাডিকো ও পল্লী বিদ্যুৎ

আপডেটেড ৪ জুন, ২০২৬ ১৮:৪২
চরফ্যাশন (ভোলা) প্রতিনিধি

চরফ্যাশনে শত কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত আধুনিক বিদ্যুৎ উপকেন্দ্রটি (গ্রিড) পুরোপুরি প্রস্তুত হলেও আলোর মুখ দেখছেন না স্থানীয় মানুষ। বিদ্যুৎ বিতরণকারী দুই সংস্থা—ওজোপাডিকো ও পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সমন্বয়হীনতার কারণে ২৩০-৩৩ কেভি ক্ষমতাসম্পন্ন এই জিআইএস (গ্যাস ইনসুলেটেড সুইচগিয়ার) উপকেন্দ্রটি চালু করা যাচ্ছে না। ফলে তীব্র গরমে চরফ্যাশনজুড়ে বিদ্যুৎ সংকট ও লোডশেডিং আরও প্রকট হয়েছে।

এদিকে উপকেন্দ্র প্রস্তুত থাকার পরও বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে না পারার দায় নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ পিএলসি (পিজিসিবি)। উল্টো দ্রুত বিদ্যুৎ গ্রহণের জন্য বিতরণ সংস্থা দুটিকে কড়া ভাষায় চিঠি দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

পাওয়ার গ্রিডের বরিশাল অনুবিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আক্তারুজ্জামান পলাশ স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে জানানো হয়, ‘দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় ট্রান্সমিশন গ্রিড সম্প্রসারণ প্রকল্প’-এর আওতায় নির্মিত উপকেন্দ্রটি গত ২৩ মে সফলভাবে কমিশনিং সম্পন্ন করেছে। এটি বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য এখন সম্পূর্ণ প্রস্তুত।

চিঠিতে বলা হয়েছে, একাধিকবার তাগিদ দেওয়ার পরও সংশ্লিষ্ট বিতরণ সংস্থাগুলো লোড গ্রহণে গড়িমসি করছে। দ্রুততার সঙ্গে বিদ্যুৎ গ্রহণ না করলে চলতি গ্রীষ্ম মৌসুমে লোডশেডিংসংক্রান্ত কোনো দায় পাওয়ার গ্রিড কর্তৃপক্ষ বহন করবে না।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, নতুন এই উপকেন্দ্রটি চালু হলে চরফ্যাশন অঞ্চলের দীর্ঘদিনের লো-ভোল্টেজ (স্বল্প ভোল্টেজ) ও বিদ্যুৎ ঘাটতির স্থায়ী সমাধান হবে। তবে গ্রিড প্রস্তুতের পরও আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় বিদ্যুৎ না পাওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। প্রতিদিন ঘণ্টার পর ঘণ্টা লোডশেডিংয়ের কারণে ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও গৃহস্থালি জীবন স্থবির হয়ে পড়েছে।

চরফ্যাশন বাজারের একজন ব্যবসায়ী বলেন, ‘শুনলাম নতুন গ্রিড প্রস্তুত হয়ে পড়ে আছে, অথচ আমরা দিনের পর দিন বিদ্যুৎ ছাড়া ভুগছি। বিতরণ সংস্থাগুলোর অবহেলার কারণে যদি আমাদের কষ্ট পেতে হয়, তবে এত টাকা খরচ করে এই প্রকল্প করার মানে কী?’

গ্রিড থেকে বিদ্যুৎ গ্রহণ না করার বিষয়ে জানতে ওজোপাডিকো ভোলার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ইউসুফের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।

তবে ভোলা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) শাহ্ মো. রাজ্জাকুর রহমান বলেন, ‘পাওয়ার গ্রিডের চিঠি আমরা পেয়েছি। আমাদের কারিগরি দল কাজ করছে। আশা করছি দ্রুতই এই সমস্যা কেটে যাবে।’

স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা বলছেন, সরকারি বিপুল অর্থ ব্যয়ে নির্মিত একটি আধুনিক উপকেন্দ্র এভাবে ফেলে রাখা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। জনগণের ভোগান্তি কমাতে এবং ভোলার অর্থনৈতিক চাকা সচল রাখতে দ্রুত সব প্রশাসনিক ও কারিগরি জটিলতা নিরসন করে নতুন গ্রিড থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।


ডুমুরিয়ায় বিলুপ্তির পথে ‘বর্ষার দূত’ কদম

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
শেখ মাহতাব হোসেন, ডুমুরিয়া (খুলনা) 

ক্যালেন্ডারের পাতায় বর্ষা আসতে এখনো কিছুদিন বাকি থাকলেও খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার প্রকৃতিতে এখনই বইছে বর্ষার আগাম হাওয়া। জ্যৈষ্ঠের শেষভাগের তপ্ত রোদের মাঝে হঠাৎ মেঘের আনাগোনা আর হালকা বৃষ্টির ছোঁয়ায় ডুমুরিয়ার গ্রামগঞ্জে ফোটতে শুরু করেছে ‘বর্ষার দূত’ কদম।

সবুজ পাতার আড়ালে গোলকাকার এই ফুলের সুবাস ও সৌন্দর্য পথচারীদের মুগ্ধ করলেও, কালের বিবর্তনে এই অঞ্চল থেকে দ্রুত হারিয়ে যাচ্ছে ঐতিহ্যবাহী কদম গাছ।

উপজেলার খর্ণিয়া, চন্ডীপুর, শোভনা ও ভদ্রা নদীর তীরবর্তী বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে দেখা গেছে, বাড়ির আঙিনায়, পুকুর পাড়ে কিংবা রাস্তার ধারে দু-একটি গাছে থোকা থোকা কদম ফুল ফুটে রয়েছে। গ্রামীণ শিশুরা কদম ফুল নিয়ে খেলায় মেতে ওঠছে, আর তরুণ-তরুণীরা একে অপরকে কদম ফুল উপহার দিয়ে বরণ করে নিচ্ছে আগাম বর্ষাকে।

তবে স্থানীয় বয়োবৃদ্ধ ও পরিবেশবাদীদের কণ্ঠে আনন্দের চেয়ে আশঙ্কার সুরই বেশি। তারা জানান, এক দশক আগেও ডুমুরিয়ার মোড়ে মোড়ে, ফসলের ক্ষেতের আইলে কিংবা ঝোঁপঝাড়ে প্রচুর কদম গাছ দেখা যেত। বর্ষা এলে চারপাশ কদম ফুলের মিষ্টি সুবাসে মাতোয়ারা হয়ে থাকত। কিন্তু বর্তমানে নির্বিচারে গাছ কাটা এবং নতুন করে চারা রোপণ না করায় কদম গাছ এখন ডুমুরিয়ায় প্রায় বিরল হয়ে পড়েছে।

কদম গাছের বাণিজ্যিক মূল্য (কাঠের দাম) তুলনামূলক কম হওয়ায় সাধারণ মানুষ এই গাছ লাগাতে আগ্রহী হচ্ছে না। অনেক সময় দেখা যায়, ম্যাচ ফ্যাক্টরি বা স্থানীয় ইটভাটার জ্বালানি হিসেবে কদম গাছ সহজেই কেটে ফেলা হচ্ছে। এমনকি সরকারি বা বেসরকারি সামাজিক বনায়ন কর্মসূচিতেও কদম গাছের চারা বিতরণের কোনো উদ্যোগ চোখে পড়ে না।

এ ব্যাপারে ডুমুরিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নাজমুল হুদা বলেন, ‘কদম গাছ কেবল সৌন্দর্যের প্রতীক নয়, এটি আমাদের দেশীয় জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশের এক অপরিহার্য উপাদান। পরাগায়নের জন্য উপকারী বিভিন্ন পতঙ্গ ও দেশীয় পাখিদের চমৎকার আশ্রয় ও খাদ্যের উৎস এই কদম গাছ। বাণিজ্যিক চিন্তা বাদ দিয়ে প্রকৃতির স্বার্থেই কৃষকদের ফসলি জমির আইলে বা বাড়ির আশপাশের পতিত জায়গায় কদমের মতো ঐতিহ্যবাহী দেশীয় গাছ রোপণ করা উচিত। কৃষি বিভাগ থেকে আমরা কৃষকদের এই বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির কাজ করব।’

এ বিষয়ে ডুমুরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মিস সবিতা সরকার বলেন, ‘কদম ফুল আমাদের আবহমান বাংলার ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির এক অনন্য অংশ। গ্রামীণ পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের ভারসাম্য রক্ষায় এই গাছগুলোর গুরুত্ব অপরিসীম। ডুমুরিয়া অঞ্চল থেকে ঐতিহ্যবাহী কদম গাছ হারিয়ে যাওয়া সত্যি উদ্বেগের। পরিবেশ রক্ষা ও আমাদের প্রকৃতিকে চেনা রূপে ফিরিয়ে আনতে সরকারি বনায়ন কর্মসূচির পাশাপাশি ব্যক্তিপর্যায়েও ফলদ ও বনজ গাছের সাথে কদমের মতো দেশীয় গাছের চারা রোপণে আমরা সাধারণ মানুষকে উদ্বুদ্ধ করব।’

ডুমুরিয়ার সচেতন মহল মনে করছেন, আমাদের আবহমান বাংলার সংস্কৃতি ও প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষা করতে কদম গাছ টিকিয়ে রাখা জরুরি। তাই উপজেলার বিভিন্ন রাস্তার পাশে এবং বাড়ির পতিত জমিতে ফলদ ও বনজ গাছের পাশাপাশি অন্তত একটি করে কদম গাছের চারা রোপণ করার জন্য তারা বন বিভাগ ও স্থানীয় প্রশাসনের সম্মিলিত ও জোরদার ভূমিকা আশা করছেন।


প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের লাল টেলিফোনের তার চুরি, গ্রেপ্তার ২

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশ সচিবালয়ে অবস্থিত প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের লাল টেলিফোন সংযোগের তার চুরির ঘটনায় দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট। গ্রেপ্তারকৃতদের কাছ থেকে চুরি হওয়া তামার তারও উদ্ধার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৪ জুন) ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন সচিবালয়ের আউটসোর্সিং কর্মী রঞ্জন চন্দ্র এবং ভাঙারি ব্যবসায়ী রেজাকুল ইসলাম। পুলিশ জানিয়েছে, চুরি করা মোট ৮ কেজি ২০০ গ্রাম তামার তার প্রতি কেজি ৬০০ টাকা দরে ভাঙারির দোকানে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছিল।

সম্প্রতি সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের লাল টেলিফোন সংযোগের তার চুরির এই স্পর্শকাতর ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন গণমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন কোম্পানি লিমিটেড (বিটিসিএল) কর্তৃপক্ষ বাদী হয়ে শাহবাগ থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করে।

ঘটনার সংবেদনশীলতা বিবেচনা করে সিটিটিসির সিটি ইন্টেলিজেন্স অ্যানালাইসিস বিভাগ এই তদন্ত শুরু করে। তদন্তে প্রাপ্ত তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার (৪ জুন) দুপুরে রঞ্জন চন্দ্রকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে সে চুরির কথা স্বীকার করে। রঞ্জন চন্দ্র জানায়, গত ২২ মে সচিবালয়ের ৩ নম্বর ভবন থেকে ওই তার চুরি করে ১ জুন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একুশে হলের সামনের একটি ভাঙারি দোকানে তা বিক্রি করে দেন।

পরবর্তীতে রঞ্জনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ভাঙারি ব্যবসায়ী রেজাকুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর চকবাজার থানার হোসেনী দালান রোডের একটি ভাঙারির গুদাম থেকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের লাল টেলিফোন সংযোগের চুরি হওয়া তামার তার উদ্ধার করা হয়।

প্রাথমিক তদন্তের পর সিটিটিসি ধারণা করছে, সচিবালয়ের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সংযোগের তার চুরির সঙ্গে একটি সংঘবদ্ধ চক্র জড়িত এবং এই চক্রের মূল হোতাদের আইনের আওতায় আনতে পুলিশের তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।


কুমিল্লায় ভিক্ষুককে কুপিয়ে ১৬০ টাকা ছিনতাই, কিশোর গ্যাং প্রধান গ্রেপ্তার

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

কুমিল্লা নগরীর অশোকতলায় এক অসহায় ভিক্ষুককে কুপিয়ে আহত করে তার সর্বস্ব ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় অভিযুক্ত এক কিশোর গ্যাং লিডারকে আটক করা হয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা ও স্থানীয়দের সহায়তায় তাকে ধরে পুলিশে সোপর্দ করা হয়।

গত ৩১ মে রবিবার সন্ধ্যায় অশোকতলা এলাকায় ওত পেতে থাকা একটি কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা ওই ভিক্ষুকের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর আহত করে এবং তার সারাদিনের ভিক্ষা করা মাত্র ১৬০ টাকা ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায়। এই নির্মম ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও ক্ষোভের সৃষ্টি করে।

গণমাধ্যমে বিষয়টি প্রকাশিত হওয়ার পর তা কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপুর নজরে আসে। তিনি তাৎক্ষণিকভাবে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের অভিযুক্তদের শনাক্ত করার নির্দেশ দেন। পরবর্তীতে অশোকতলা জামে মসজিদের সিসিটিভি ফুটেজ এবং স্থানীয়দের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে কিশোর গ্যাং লিডার ‘টোকাই সামির’কে শনাক্ত ও আটক করা হয়।

গত বুধবার (৩ জুন) বিকেলে সিটি প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপু কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামানের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তৌহিদুল আনোয়ারের নির্দেশে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে আটককৃত সামিরকে নিজেদের হেফাজতে নেয়।

বৃহস্পতিবার (৪ জুন) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করে প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপু জানান যে, নগরীতে সন্ত্রাস, ছিনতাই ও কিশোর গ্যাংয়ের অপতৎপরতার বিরুদ্ধে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর নজরদারি অব্যাহত থাকবে।


banner close