নেত্রকোণার কলমাকান্দায় মসজিদের ইমাম মাওলানা আব্দুল বাতেনকে (৬০) তার শয়নকক্ষে প্রবেশ করে ছুরিকাঘাত করেছে দুর্বৃত্তরা। গতকাল রোববার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে বিশাউতি জামে মসজিদের বারান্দায় থাকা শয়নকক্ষে এই ঘটনা ঘটে।
মাওলানা আব্দুল বাতেন কলমাকান্দা উপজেলার রংছাতি ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী সন্যাসীপাড়ার বাসিন্দা মৃত বাশির পণ্ডিতের ছেলে। তিনি রংছাতি দাখিল মাদ্রাসার সহ-সুপার ও পার্শ্ববর্তী বিশাউতি বাইতুন নুর জামে মসজিদের ইমাম ছিলেন।
আজ সোমবার দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কলমাকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ লুৎফুল হক।
পুলিশ, স্থানীয় একাধিক বাসিন্দা ও নিহতের স্বজনরা জানান, মাওলানা আব্দুল বাতেন মাদ্রাসার সহ-সুপারের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি বিশাউতি বাইতুন নুর জামে মসজিদে পেশ ইমামের দায়িত্বেও ছিলেন। রাতে মসজিদের বারান্দায় থাকা ইমামের কক্ষে থাকতেন। রোববার দিবাগত রাত আনুমানিক আড়াইটার দিকে মসজিদের শয়নকক্ষে আব্দুল বাতেনকে দুর্বৃত্তরা ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায়। ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত হয়ে আব্দুল বাতেন মসজিদের পাশে একটি বাড়ির সামনে গিয়ে চিৎকার দেন। চিৎকার শুনে বাড়ির লোকজন ঘর থেকে বের হয়ে ইমাম আব্দুল বাতেনকে রক্তাক্ত অবস্থায় উঠানে পড়ে থাকতে দেখেন। তখন তিনি কথা বলতে পারছিলেন না। দ্রুত তাকে উদ্ধার করে কলমাকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে জরুরি বিভাগে কতর্ব্যরত চিকিৎসক তাৎক্ষণিক ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে (মমেক) রের্ফাড করেন।
সোমবার (১৭ জুন) সকালে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে (মমেক) নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক আব্দুল বাতেনকে মৃত ঘোষণা করেন।
কলমাকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক সৌরভ ঘোষ জানান, শেষ রাতের দিকে মাওলানা আ. বাতেনকে গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা হাসপাতালে নিয়ে আসেন। বুকের বাম পাশে ধারালো অস্ত্রে আঘাতে প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য দ্রুত ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রের্ফাড করা হয়।
এ বিষয়ে মাওলানা আব্দুল বাতেনের বড় ছেলে বদিউজ্জামান বদি বলেন, ‘আমরা খবর পেয়ে কলমাকান্দা হাসপাতালে যাই। সেখানকার দায়িত্বে থাকা ডাক্তার বাবার অবস্থা অবনতি দেখে তাৎক্ষণিক ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রের্ফাড করেন। পরে সোমবার সকালে ওখানে জরুরি বিভাগে পৌঁছা মাত্রই তিনি মারা যান। কে বা কারা এমন নির্মমভাবে আমার বাবাকে খুন করেছে জানি না। আমার বাবা তো কোনো অপরাধী ছিলেন না। কেন হত্যা করলো আমার বাবাকে। আমরা বাবা হত্যার ন্যায় বিচার চাই।’
কলমাকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ লুৎফুল হক বলেন, ‘কি কারণে কে বা কারা এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে তা এখনো পরিষ্কার নয়। তবে সব দিক বিবেচনায় নিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। সিআইডির ক্রাইমসিন ইউনিটকে খবর দেওয়া হয়েছে। তারা এসে ক্রাইমসিনটি ঘিরে রেখে সেটি সংরক্ষণ করবে। এতে আরও আলামত পাওয়া যেতে পারে। ঘটনার রহস্য উদঘাটনে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে। আশা করছি দ্রুত হত্যার রহস্য উদঘাটন করা সম্ভব হবে।’
তিনি আরও জানান, মরদেহ ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে রয়েছে। সেখান থেকে ময়না তদন্তের পর মরদেহ নিয়ে আসতে আরও হয়তো দুই-একদিন সময় লাগবে।
থানা পর্যায়ে স্টার্টআপ, বিজ্ঞান প্রকল্প এবং উদ্ভাবনী ধারণা প্রদর্শন কর্মসূচির উদ্বোধন অনুষ্ঠান শুক্রবার (১২ জুন) খুলনা বয়রাস্থ মেট্রো পুলিশ লাইন হাই স্কুলের অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন খুলনা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু।
প্রধান অতিথি বলেন, উদ্ভাবনী ধারণা প্রদর্শনী হলো ক্ষুদে বিজ্ঞানীদের মিলনমেলা। তথ্যপ্রযুক্তির উৎকর্ষ সাধনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নতুন ভাবনা শুরু করেছেন। আগামীর বাংলাদেশ গড়ার ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী তথ্যপ্রযুক্তির ওপর বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন। বিশেষ করে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পরে যে রক্তের সিঁড়ি বেয়ে বাংলাদেশের নতুন যাত্রা, সেই যাত্রার নেতৃত্ব দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
তিনি বলেন, নতুন পথে হাটবে বাংলাদেশ, বৈষম্যহনী বাংলাদেশে নতুন যাত্রা পরিবর্তনের হাওয়া বইছে। সেই পরিবর্তনের হাওয়ায় আমাদের সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে সন্তানদের আগামী বাংলাদেশ প্রস্তুত করা। গতকাল বাজেটে প্রধানমন্ত্রী শিক্ষাখাতকে অগ্রাধিকার দিয়ে এখাতে সর্বোচ্চ বরাদ্দ দিয়েছেন। তার মানে হচ্ছে শিক্ষার আলো সবার মাঝে জ¦ালাতে হবে এবং বিজ্ঞান মনোস্ক যারা তাদের উদ্ভাবনী শক্তি কাজে লাগাতে হবে। এই কার্যক্রমের মধ্যদিয়ে ক্ষুদে বিজ্ঞানীরা সামনে এগিয়ে যাবে। আগামীর বাংলাদেশে তরুণদের মেধাকে কাজে লাগাতে হবে।
তিনি আরও বলেন, খেলাধুলা বন্ধ থাকা ও শিক্ষা কার্যক্রম ব্যহতের কারণে সমাজে মাদকের প্রসার ঘটেছে। নতুন বাংলাদেশে নতুনভাবে সবকিছু শুরু করতে হবে। সন্তানদের লেখাপড়ায় ফিরিয়ে আনতে হবে।
মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা খুলনা অঞ্চলের পরিচালক প্রফেসর ড. মো: আনিস-আর-রেজা’র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ জাহিদুল হাসান এবং মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা খুলনা অঞ্চলের উপপরিচালক (কলেজ) ড. এস এম সাজজাদ হোসেন। অনুষ্ঠানে খানজাহান আলী থানা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মোসা. রুমানাই ইয়াসমিন বক্তৃতা করেন। খানজাহান আলী থানা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের সহযোগিতায় এ্যাডুকেশনাল এক্সিলেন্স সাপোর্ট স্কিম (ইইএসএস) এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
পরে সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্থ খুলনা সিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পরিদর্শন করেন।
দুপুরে কেসিসির প্রশাসক সোনাডাঙ্গা রেভারেন্ড পলস হাই স্কুলের অডিটোরিয়ামে কোতয়ালী থানা পর্যায়ে স্টার্টআপ, বিজ্ঞান প্রকল্প এবং উদ্ভাবনী ধারণা প্রদর্শন কর্মসূচির সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতা করেন ও বিজয়ীদের মাঝে সম্মাননা ক্রেস্ট ও সনদপত্র বিতরণ করেন। মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা খুলনা অঞ্চলের উপপরিচালক (কলেজ) ড. এস এম সাজজাদ হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা খুলনা অঞ্চলের পরিচালক প্রফেসর ড. মো: আনিস-আর-রেজা, কোতয়ালী থানা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ আব্দুল মোমিন প্রমুখ বক্তৃতা করেন।
সকালে তিনি বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ মহানগর কার্যালয়ে মৌসুমি ফল উৎসবে প্রধান অতিথির বক্তৃতা করেন। এসময় বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ মহানগর ইউনিটের আহবায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ মনিরুজ্জামান মনি, কমিটির সদস্য ও ওয়াকার্স ফোরামের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
নোয়াখালীর কবিরহাট সরকারি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোহাম্মদ মামুনুর রশীদ ও সহকারী অধ্যাপক নুরুল হক মিলনের মধ্যে মারামারির একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। যা নিয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
শুক্রবার (১২ জুন) সকালে তিন মিনিট পঞ্চান্ন সেকেন্ডের একটি ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি সামনে আসে। তবে কলেজ সূত্রে জানা যায়, গত ৯ এপ্রিল দুপুরে কবিরহাট সরকারি কলেজের শিক্ষক মিলনায়তনে এ ঘটনা ঘটে।
ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, শিক্ষক মিলনায়তনে অধ্যক্ষের জন্য নির্ধারিত চেয়ারে বসে আছেন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মামুনুর রশীদ। তার বাম পাশে সহকারী অধ্যাপক নুরুল হক মিলন এবং ডান পাশে শিক্ষক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক কামরুল ইসলাম বসেছিলেন। এ সময় পিয়ন আব্দুর রহিম তাদের পেছনে দাঁড়িয়ে ছিলেন।
একপর্যায়ে দুজনের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। পরে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নিজের আসন থেকে উঠে সহকারী অধ্যাপক মিলনের দিকে এগিয়ে গিয়ে তাকে থাপ্পড় দিয়ে দাঁত ফেলে দেওয়ার হুমকি দেয়। এরপর উভয়ের মধ্যে কিল-ঘুষি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরে শিক্ষক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক কামরুল ইসলাম এবং জীববিজ্ঞানের প্রভাষক ওসমান গনি এগিয়ে এসে তাদের নিবৃত করেন।
শিক্ষক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক কামরুল ইসলাম বলেন, গত মার্চের ২ তারিখে কলেজের শিক্ষক ডরমিটরির পানির ফিল্টার নষ্ট হয়ে যায়। বিষয়টি একাধিকবার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষকে অবহিত করা হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। পরে গত ৯ এপ্রিল ফিল্টারটি মেরামতের বিষয়টি পুনরায় উত্থাপন করলে অধ্যক্ষ ক্ষুব্ধ হয়ে সহকারী অধ্যাপক নুরুল হক মিলনকে উদ্দেশ করে আপত্তিকর মন্তব্য করেন।
এ সময় মিলন প্রতিবাদ জানালে অধ্যক্ষ নিজ আসন ছেড়ে তার দিকে তেড়ে প্রথমে তার গায়ে হাত তোলেন। একপর্যায়ে উভয়ের মধ্যে মারামারি ঘটনা ঘটে।
সহকারী অধ্যাপক নুরুল হক মিলন বলেন, শিক্ষক ডরমিটরির পানির ফিল্টার দীর্ঘদিন ধরে অচল থাকায় কয়েক দফা বিষয়টি অধ্যক্ষকে অবহিত করা হয়েছিল। কিন্তু কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। সর্বশেষ এ বিষয়ে কথা বলতে গেলে অধ্যক্ষ কলেজের মোটরের পানি পান করার পরামর্শ দেন। পরে চেয়ার থেকে উঠে এসে আমার ওপর হামলা চালান বলে তিনি অভিযোগ করেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষক জানান, ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে মামুনুর রশীদ বেপরোয়া আচরণ শুরু করে। কলেজের সকল আর্থিক কাজ তিনি একা করতে চান, কাউকেই বিশ্বাস করেননা। কলেজের ১৭-১৮জন মাস্টার রোলের কর্মচারিকে তাদের বেতন নিয়ে হয়রানি করে আসছে। শিক্ষকদের সাথে খারাপ ব্যবহার করে। মানুনুর রশীদ তার চেয়ার থেকে উঠে না আসলে কখনো মারামারির এ ঘটনা ঘটতনা। তিনিই প্রথম তার সহকর্মীর গায়ে হাত দেন। অধ্যক্ষের বিভিন্ন অনিয়ম নিয়ে গত ১১ মে কলেজের ১১জন শিক্ষক মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে (মাউশি) লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে গত ৯ জুন নোয়াখালী সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক মো.মনিরুল ইসলামের নেতৃত্বে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে কবিরহাট সরকারি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মামুনুর রশীদ বলেন, যে শিক্ষকের সঙ্গে আমার মারামারি হয়েছে, তিনি কি সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করেছেন? অভিযোগ না করলে আপনারা এত আগ্রহ দেখাচ্ছেন কেন? এতে তৃতীয় পক্ষ সুবিধা নিতে চাচ্ছে। এছাড়া কলেজের তহবিল সংকটের কারণে মাস্টাররোলভুক্ত কর্মচারীদের বেতন পরিশোধে সমস্যা হচ্ছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
চাঁপাইনবাবগঞ্জের পদ্মা নদীতে গোসল করতে নেমে পানিতে ডুবে দুই কন্যা শিশুর মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (১২ জুন) দুপুর ১২টার দিকে সদর উপজেলার চরবাগডাঙ্গা ইউনিয়নের বাখের আলী ঘাটসংলগ্ন পদ্মা নদীতে এ ঘটনা ঘটে।
সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একরামুল হোসাইন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
নিহত দুই শিশু হলো- বাখের আলী গ্রামের জহুরুল ইসলামের মেয়ে কারিমা (৮) এবং একই ইউনিয়নের চাকপাড়া গ্রামের কাজল আহাদের মেয়ে ইসরাত (৭)।
চরবাগডাঙ্গা ইউপির গ্রাম পুলিশ শ্রী কাজল চন্দ্র শীল ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দুপুর ১২টার দিকে কয়েকজন শিশুর সঙ্গে পদ্মা নদীতে গোসল করতে নেমে কারিমা ও ইসরাত নদীর গভীর পানিতে তলিয়ে যায়।
বিষয়টি দেখতে পেয়ে স্থানীয়রা দ্রুত উদ্ধার তৎপরতা শুরু করলেও তাদের খুঁজে পায়নি।
পরে ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেওয়া হলে তাদের ডুবুরি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে।ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল কয়েক ঘণ্টাব্যাপী অভিযান চালিয়ে দুপুর ২টা ৪০ মিনিটে কারিমার মরদেহ ও পরে বিকেল ৪টা ১০ মিনিটে ইসরাতের মরদেহও উদ্ধার করে।
মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলার গোপালপুর এলাকায় ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে অন্তত ২০ জন যাত্রী আহত হয়েছেন।
শুক্রবার (১২ জুন) সকালে মাদারীপুর থেকে ছেড়ে আসা একটি লোকাল বাসের সাথে বিপরীত দিক থেকে আসা ‘ইয়েস পরিবহন’-এর একটি বাসের এই দুর্ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষের তীব্রতায় উভয় বাসের সামনের অংশ দুমড়ে-মুচড়ে যায়।
দুর্ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে এসে আহতদের উদ্ধার করে কালকিনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান, যেখানে তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, আহতদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে এবং এর মধ্যে একজনের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক।
কালকিনি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জহিরুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার কারণে মহাসড়কে কিছু সময়ের জন্য যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটলেও পরবর্তীতে পুলিশের তৎপরতায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
সুন্দরবনের জয়মনির ঘোল কোস্ট গার্ড স্টেশন হারবারিয়ায় দুর্বৃত্তদের হামলা ও ভাঙচুর; আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় কোস্ট গার্ডের কার্যক্রম অব্যাহত, অপপ্রচারে কান না দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিকালে কোস্ট গার্ড মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, সুন্দরবনের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, বনদস্যু দমন, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণসহ উপকূলীয় অঞ্চলে আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব, সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে আসছে।
সুন্দরবনের বিভিন্ন এলাকায় চুরি, ডাকাতিসহ যেকোনো ধরনের নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড নিয়মিত টহল, গোয়েন্দা নজরদারি এবং অভিযান পরিচালনা করে থাকে।
বিশেষ করে সুন্দরবনের মোংলা থানাধীন জয়মনির ঘোল এলাকা দীর্ঘদিন ধরে বনদস্যু ও তাদের সহযোগীদের একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত হওয়ায় উক্ত এলাকায় কোস্ট গার্ড স্টেশন স্থাপন করা হয়েছে।
এর ফলে বনদস্যুদের কাছে রসদ, লজিস্টিক সহায়তা, অস্ত্র ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সরবরাহের পথ কার্যকরভাবে বাধাগ্রস্ত হওয়ায় তাদের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা ক্রমেই কঠিন হয়ে পড়েছে।
স্বাভাবিকভাবেই বনদস্যু ও তাদের সহযোগীরা উক্ত এলাকায় কোস্ট গার্ডের উপস্থিতি চায় না।
আজ বৃহস্পতিবার জয়মনির ঘোল এলাকায় অবস্থিত বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড স্টেশনে একদল দুর্বৃত্ত অতর্কিত হামলা ও ভাঙচুর চালায়।
এতে দায়িত্ব পালনরত কয়েকজন কোস্ট গার্ড সদস্য আহত হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কোস্ট গার্ড প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে এবং ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে যৌথ অভিযান পরিচালনা করছে। একইসঙ্গে ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত ও আইনের আওতায় আনতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
প্রাথমিকভাবে প্রাপ্ত তথ্য ও স্থানীয় পরিস্থিতি বিশ্লেষণে প্রতীয়মান হয় যে, কিছু স্বার্থান্বেষী মহল ও অসাধু চক্র নিজেদের অপকর্ম পরিচালনার সুবিধার্থে উক্ত স্থান থেকে কোস্ট গার্ডকে সরিয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে পরিকল্পিতভাবে হামলা, ভাঙচুর, অপপ্রচার এবং বিভ্রান্তিমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে।
মূলত সুন্দরবনে বনদস্যু দমন, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা এবং কোস্ট গার্ডের চলমান সফল কার্যক্রমকে বাধাগ্রস্ত করার উদ্দেশ্যেই এসব অপতৎপরতা পরিচালিত হচ্ছে বলে প্রতীয়মান হয়।
বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড স্পষ্টভাবে জানাতে চায় যে, কোনো ধরনের অপপ্রচার, বিভ্রান্তিমূলক প্রচারণা কিংবা কুচক্রী মহলের ষড়যন্ত্র বাহিনীর চলমান দায়িত্ব পালন ও অভিযানিক কার্যক্রমকে ব্যাহত করতে পারবে না।
এ বিষয়ে গণমাধ্যমকর্মী, স্থানীয় জনগণ এবং সংশ্লিষ্ট সকল মহলকে প্রকৃত তথ্য যাচাইপূর্বক দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের জন্য অনুরোধ জানানো যাচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে যে, সুন্দরবন ও উপকূলীয় অঞ্চলে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা, বনদস্যু দমন এবং জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে বাহিনীর চলমান কার্যক্রম কোনো ধরনের হামলা, ভয়ভীতি, অপপ্রচার বা ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে বাধাগ্রস্ত করা যাবে না।
সুন্দরবন ও উপকূলীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা, শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড অতীতের ন্যায় ভবিষ্যতেও বদ্ধপরিকর থাকবে।
উত্তরাঞ্চলের আমের রাজধানী হিসেবে পরিচিত নওগাঁ। দেশের বৃহত্তম আম উৎপাদনকারী এই জেলায় প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ আম উৎপাদিত হওয়ার পাশাপাশি বিদেশেও রপ্তানি হয়। রপ্তানিযোগ্য, নিরাপদ ও কীটনাশকমুক্ত আম উৎপাদনের জন্য চাষীরা দীর্ঘদিন ধরে ফ্রুট ব্যাগিং পদ্ধতি অনুসরণ করে আসছেন। তবে চলতি মৌসুমে ফ্রুট ব্যাগের তীব্র সংকট ও অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির কারণে বিপাকে পড়েছেন জেলার হাজারো আমচাষী। চাহিদা অনুযায়ী ব্যাগ না পাওয়ায় অনেকেই কাঙ্ক্ষিত পরিমাণ আমে ব্যাগিং করতে পারেননি। ফলে উন্নতমানের আম উৎপাদন ও অধিক লাভের সম্ভাবনা থেকে বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, নওগাঁ জেলায় বর্তমানে প্রায় ৩০ হাজার ৩১০ হেক্টর জমিতে আমের বাগান রয়েছে। এ বছর প্রায় ৪ লাখ ২২ হাজার টন আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। জেলার সাপাহার, পোরশা, নিয়ামতপুর ও পত্নীতলা উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে রয়েছে আমের বাগান, যা জেলার মোট আমচাষের প্রায় ৭০ শতাংশ। এসব এলাকায় আম্রপালি, গোপালভোগ, খিরসাপাত, হিমসাগর, বারি-৪, গৌড়মতি, ব্যানানা ম্যাংগোসহ প্রায় ১৬টি জাতের আম উৎপাদিত হচ্ছে।
প্রতিবছর এপ্রিল থেকে মে মাসের মধ্যভাগ পর্যন্ত আম্রপালি, ব্যানানা ম্যাংগো ও গৌড়মতি জাতের আমে ফ্রুট ব্যাগিং করা হয়। এই পদ্ধতিতে আমের গায়ে দাগ পড়ে না, পোকার আক্রমণ কমে যায় এবং কীটনাশকের ব্যবহারও হ্রাস পায়। ফলে আমের গুণগত মান বৃদ্ধি পায় এবং দেশীয় বাজারের পাশাপাশি বিদেশি বাজারেও চাহিদা তৈরি হয়। খোলা অবস্থার আম যেখানে প্রতি মণ সর্বোচ্চ চার হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়, সেখানে ফ্রুট ব্যাগিং করা আমের দাম প্রকারভেদে সাত থেকে আট হাজার টাকা পর্যন্ত পাওয়া যায়।
কিন্তু চলতি মৌসুমে পরিস্থিতি ভিন্ন। গত বছর যেখানে প্রতিটি ফ্রুট ব্যাগ ৩ টাকা ৭০ পয়সা থেকে ৩ টাকা ৮০ পয়সায় পাওয়া গেছে, সেখানে এ বছর সেই ব্যাগ কিনতে হয়েছে ৬ টাকা ২০ পয়সা পর্যন্ত দামে। তাও প্রয়োজন অনুযায়ী সরবরাহ পাওয়া যায়নি। এতে উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি অনেক চাষী পরিকল্পিত পরিমাণ আমে ব্যাগিং করতে ব্যর্থ হয়েছেন।
পোরশা উপজেলার বন্ধুপাড়া গ্রামের তরুণ কৃষি উদ্যোক্তা রায়হান আলম জানান, তার ২২০ বিঘা জমিতে আম্রপালি, গৌড়মতি ও বারি-৪সহ বিভিন্ন জাতের আমের বাগান রয়েছে। আন্তর্জাতিক মান অনুসরণ করে রপ্তানিযোগ্য ও নিরাপদ আম উৎপাদনের লক্ষ্যে তিনি ৬০ বিঘা জমির প্রায় ৫ লাখ আমে ফ্রুট ব্যাগিং করার পরিকল্পনা করেছিলেন। কিন্তু সময়মতো পর্যাপ্ত ব্যাগ না পাওয়ায় আম্রপালি, ব্যানানা ম্যাংগো ও বারি-৪ জাতের আমে ব্যাগিং করা সম্ভব হয়নি। শেষ পর্যন্ত তিনি গৌড়মতি জাতের প্রায় সাড়ে ৪ লাখ আমে ব্যাগিং করতে পেরেছেন। এজন্য তাকে প্রতিটি ব্যাগের জন্য আগের বছরের তুলনায় অনেক বেশি মূল্য পরিশোধ করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “ফ্রুট ব্যাগিং করা আমের বাজারমূল্য অনেক বেশি। কিন্তু ব্যাগের সংকটের কারণে এ বছর সেই অতিরিক্ত লাভ থেকে বঞ্চিত হতে হচ্ছে।
একই উপজেলার সাদেরডাঙ্গা গ্রামের আমচাষী বাবুল আক্তার বলেন, তার ১৬ বিঘা জমির আমবাগানের অর্ধেকই আম্রপালি জাতের। গত বছর ২০ হাজার আমে ব্যাগিং করে ভালো দাম পেয়েছিলেন। সেই অভিজ্ঞতা থেকে এ বছর ৫০ হাজার আমে ব্যাগিং করার পরিকল্পনা থাকলেও পর্যাপ্ত ব্যাগের অভাবে মাত্র ১০ হাজার গৌড়মতি আমে ব্যাগিং করতে পেরেছেন। তিনি জানান, গত বছর যে ব্যাগ ৩ টাকা ৮০ পয়সায় কিনেছিলেন, এবার সেই একই ব্যাগ কিনতে হয়েছে ৬ টাকা ২০ পয়সা দরে। তার মতে, ব্যাগিং না করতে পারায় পোকার আক্রমণও বেড়েছে, যা ফলের গুণগত মানকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।
চাষীদের মতে, গত কয়েক বছরে নতুন করে অনেক আমবাগান গড়ে উঠেছে। তিন থেকে চার বছর আগে রোপণ করা গাছগুলো এবার পূর্ণমাত্রায় ফল দিতে শুরু করায় ফ্রুট ব্যাগের চাহিদা হঠাৎ করেই বেড়ে গেছে। পাশাপাশি নিরাপদ ও রপ্তানিযোগ্য আম উৎপাদনে কৃষকদের আগ্রহ বৃদ্ধি পাওয়ায় ব্যাগের প্রয়োজনীয়তা আরও বেড়েছে। কিন্তু সরবরাহ ব্যবস্থা সেই চাহিদার সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে পারেনি।
অন্যদিকে, আমচাষীরা মনে করেন, নানা প্রশাসনিক ও কারিগরি জটিলতার কারণে তারা সরাসরি বিদেশে আম রপ্তানি করতে পারেন না। ফলে বাধ্য হয়ে মধ্যস্বত্বভোগী বা রপ্তানিকারকদের কাছে কম দামে আম বিক্রি করতে হয়। রপ্তানি প্রক্রিয়া আরও সহজ ও কৃষকবান্ধব করা হলে জেলার অর্থনীতি যেমন সমৃদ্ধ হবে, তেমনি কৃষকরাও ন্যায্য মূল্য পাবেন।
এ বিষয়ে নওগাঁ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোছা. হোমায়রা মণ্ডল বলেন, রপ্তানিযোগ্য আম উৎপাদনের ক্ষেত্রে ফ্রুট ব্যাগ একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উপকরণ। সাম্প্রতিক সময়ে উত্তম কৃষি চর্চা (গ্যাপ) অনুসরণ করে নিরাপদ আম উৎপাদনে কৃষকদের আগ্রহ বৃদ্ধি পাওয়ায় ফ্রুট ব্যাগের চাহিদা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। তবে মৌসুমের শেষ দিকে হঠাৎ চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলো প্রয়োজনীয় পরিমাণ ব্যাগ সরবরাহ করতে পারেনি। বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সংশ্লিষ্ট বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে এবং ভবিষ্যতে চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ নিশ্চিত করার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।
গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরে প্রোগ্রাম অন এগ্রিকালচারাল অ্যান্ড রুরাল ট্রান্সফরমেশন ফর নিউট্রিশন, এন্টারপ্রেনরশিপ অ্যান্ড রেসিলিয়েন্স ইন বাংলাদেশ (PARTNER) প্রকল্পের আওতায় কৃষক-কৃষাণীদের অংশগ্রহণে পার্টনার কংগ্রেস অনুষ্ঠিত হয়েছে।
গত মঙ্গলবার (৯ জুন) বেলা ১২টায় উপজেলা পরিষদের লাল শাপলা হলরুমে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উদ্যোগে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ দোলন চন্দ্র রায়ের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ফরিদপুর অঞ্চলের কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক কৃষিবিদ মোহাম্মদ খয়ের উদ্দিন মোল্লা।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন গোপালগঞ্জ খামারবাড়ি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ ড. মো. মামুনুর রহমান এবং ফরিদপুর ডিএই পার্টনার প্রকল্পের সিনিয়র মনিটরিং অফিসার কৃষিবিদ মো. হাফিজ হাসান।
কোটালীপাড়া উপজেলা অতিরিক্ত কৃষি অফিসার মুক্তা মন্ডলের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম, সাংবাদিক মনিরুজ্জামান শেখ জুয়েল, রনি আহমেদসহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকার কৃষক-কৃষাণীরা।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, কৃষিকে আরও আধুনিক, পুষ্টি-সংবেদনশীল ও জলবায়ু সহনশীল খাতে পরিণত করতে কৃষকদের দক্ষতা বৃদ্ধি, প্রযুক্তির ব্যবহার এবং উদ্যোক্তা তৈরির ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন ও পুষ্টিকর ফসল চাষ সম্প্রসারণের মাধ্যমে গ্রামীণ অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করার আহ্বান জানান তারা।
এ সময় অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী সফল কৃষক ও কৃষাণীরা তাদের অভিজ্ঞতা ও সাফল্যের গল্প তুলে ধরেন, যা উপস্থিত অন্যান্য কৃষকদের অনুপ্রাণিত করে।
অনুষ্ঠানের সাংস্কৃতিক পর্বে পূর্বপাড়া পার্টনার ফিল্ড স্কুলের সদস্যরা সংগীত পরিবেশন করেন। এতে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে আগত বিপুল সংখ্যক কৃষক-কৃষাণী অংশগ্রহণ করেন।
মধুমাস উপলক্ষে নীলফামারী জেলা কারাগারে প্রায় ৫০০ বন্দী, কারা কর্মকর্তা-কর্মচারী ও দর্শনার্থীদের মাঝে আম, লিচু ও কাঁঠাল বিতরণ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জেলা কারাগারে উৎসবমুখর পরিবেশে এ আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়।
কারা কর্তৃপক্ষ জানায়, মধুমাসের আনন্দ সবার সঙ্গে ভাগাভাগি করে নেওয়ার লক্ষ্যে জেলা কারাগারের জেল সুপার মো. জাবেদ মেহেদীর উদ্যোগে এই বিশেষ আয়োজন করা হয়। এতে বন্দীদের পাশাপাশি কর্মকর্তা-কর্মচারী ও কারাগারে আগত দর্শনার্থীদের মধ্যেও মৌসুমি ফল বিতরণ করা হয়।
অনুষ্ঠানে জেল সুপার মো. জাবেদ মেহেদী বলেন, “মধুমাস আমাদের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কারাগারে অবস্থানরত বন্দীরাও যেন এই মৌসুমের আনন্দ থেকে বঞ্চিত না হন, সেই চিন্তা থেকেই এ আয়োজন করা হয়েছে। মানবিক ও ইতিবাচক পরিবেশ গড়ে তুলতে এমন উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।”
ফল বিতরণ কার্যক্রমে কারা কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও অংশ নেন। এ সময় বন্দীদের মাঝে আনন্দঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। অনেক বন্দী কারা কর্তৃপক্ষের এমন মানবিক উদ্যোগকে স্বাগত জানান।
আম, লিচু ও কাঁঠালের স্বাদ ভাগাভাগি করে নেওয়ার মধ্য দিয়ে নীলফামারী জেলা কারাগারে দিনটি উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপিত হয়।
ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট ও ধোবাউড়া এবং শেরপুরের নালিতাবাড়ী সীমান্তে অবৈধ পুশ-ইন প্রতিরোধের লক্ষ্যে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।
সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার ও অনুপ্রবেশ ঠেকাতে বিজিবির পাশাপাশি এবার গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী (ভিডিপি) মোতায়েন করা হচ্ছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সীমান্ত সুরক্ষায় স্থানীয় প্রশাসন সীমান্তবর্তী সাধারণ জনগণ এবং সকল রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের সক্রিয় সহযোগিতা কামনা করেছে।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) দুপুরে ময়মনসিংহ ৩৯ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল নুরুল আজিম বায়োজিদ সংবাদমাধ্যমকে এই বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, পুশ-ইন রোধে ইতোমধ্যে সীমান্তের কিছু এলাকায় আনসার ও ভিডিপি সদস্যরা কাজ শুরু করেছেন এবং দ্রুতই আরও সদস্য মোতায়েন করা হবে। একই সাথে সীমান্তের নিয়মিত খোঁজখবর রাখতে তিনি স্থানীয় বাসিন্দা ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের প্রতি আহ্বান জানান।
এর আগে সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও অনুপ্রবেশ ঠেকাতে ধোবাউড়া উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে একটি গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোশারফ হোসাইনের সভাপতিত্বে আয়োজিত এই সভায় ধোবাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম, বিজিবির পাঁচজন ক্যাম্প প্রতিনিধি এবং বিএনপি ও গণ অধিকার পরিষদসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের স্থানীয় শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়, বিশাল সীমান্ত এলাকা পাহারায় কেবল বিজিবির একার পক্ষে অনুপ্রবেশ ঠেকানো কঠিন। তাই দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে বিজিবির পাশে দাঁড়াতে হবে।
স্থানীয় থানা পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসন যৌথভাবে সাধারণ মানুষকে সচেতন করার পাশাপাশি সীমান্ত পাহারায় ভিডিপি মোতায়েনের এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।
দেশে নতুন করে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৮ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তবে এ সময়ে নিশ্চিত হামে কারও মৃত্যু হয়নি। এ নিয়ে হাম ও হামের উপসর্গে মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৬৩৯।
বুধবার (১০ জুন) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দেওয়া এক বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়। এই হিসাব (মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে বুধবার সকাল ৮টা পর্যন্ত) সময়ের।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যানুযায়ী, হামে নিশ্চিত মৃত্যুর সংখ্যা ৯২। আর হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে ৫৪৭ জন।
হামের উপসর্গ নিয়ে ঢাকা বিভাগে ৬ জন, সিলেট ও বরিশালে একজন করে মারা গেছে।
এ ছাড়া নতুন করে ৯৪ নিশ্চিত হামের সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। এ পর্যন্ত নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়েছে ৯ হাজার ৯২৭ জন। আর ৯৪৫ শিশুর শরীরে হামের উপসর্গ পাওয়া গেছে। এতে করে মোট সন্দেহভাজন সংক্রমণের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮২ হাজার ২৯ জনে।
টাঙ্গাইল জেলা কারাগারে বন্দিদের মাঝে বিশ্বকাপ ফুটবলের আনন্দ ভাগাভাগির ব্যবস্থা করলেন টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক। ফুটবল বিশ্বকাপের আমেজ যখন উত্তর আমেরিকা মহাদেশ ছাড়িয়ে বিশ্বের সকল দেশে ছড়িয়ে পড়েছে তখন টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক শরিফা হক উদ্যোগ নিলেন জেলা কারাগারে বন্দিরাই কেন এই আনন্দ থেকে বঞ্চিত হবে।
ফিফা ফুটবল বিশ্বকাপ ২০২৬ উপলক্ষে টাঙ্গাইল জেলা কারাগারের ১৮টি ওয়ার্ডেই পর্যায়ক্রমে টিভির ব্যবস্থা করার মাধ্যমে কারাবন্দিদের জন্য খেলা দেখার ব্যবস্থা করলেন তিনি।
এ প্রসঙ্গে জেলা প্রশাসক জানান, তিনি নিয়মিত জেলা কারাগার পরিদর্শনে গেলে কারাবন্দিরা অনুরোধ করেন তাদের জন্য বিশ্বকাপ ফুটবল দেখার ব্যবস্থা করার। একজন স্বাভাবিক মানুষের মতোই কারাবন্দিরও অধিকার রয়েছে বিশ্বকাপ ফুটবলের আনন্দে শরীক হওয়ার। তাই এই ধারণা থেকেই এ উদ্যোগ নিয়েছি মর্মে জেলা প্রশাসক শরীফা হক জানান।
জেল সুপার বলেন, ‘জেলা কারাগারে বিশ্বকাপ ফুটবল দেখার জন্য টিভি স্থাপনের মাধ্যমে কারাবন্দিদের মাঝে আনন্দ ও শৃঙ্খলা বৃদ্ধি পেয়েছে।’
দৃষ্টিশক্তি মানুষের জীবনের সবচেয়ে বড় নিয়ামত। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয় হচ্ছে আমাদের চারপাশে এমন অনেক মানুষ আছেন যারা কেবল সঠিক চিকিৎসার অভাবে অন্ধত্ব বরণ করছেন। অর্থের অভাবে অনেকেই চিকিৎসকের কাছে যেতে পারেন না। সেই সকল সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়াতেই স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ভিশন স্প্রিংয়ের এই মহতী আয়োজন। সংস্থাটির এই সুযোগ গ্রহণ করার জন্য তিনি সকল পরিবহন শ্রমিকদের প্রতি আহ্বান জানান।
খুলনা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু বুধবার (১০ জুন) সকালে সোনাডাঙ্গা বাস টার্মিনালে আয়োজিত পরিবহন শ্রমিকদের বিনামূল্যে চক্ষু পরীক্ষা ও চশমা প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এ কথা বলেন। খুলনা জেলা বাস মালিক-মিনিবাস মালিক সমিতি ও খুলনা জেলা মটর শ্রমিক ইউনিয়নের সহযোগিতায় স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ভিশন স্প্রিং এ কর্মসূচির আয়োজন করে।
এই মহতী কাজে এগিয়ে আসায় তিনি আয়োজকদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানান এবং এই কর্মসূচি পরিবহন শ্রমিকদের খুবই উপকৃত করবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। প্রশাসক খুলনা সিটি করপোরেশনে কর্মরত চালকদের চক্ষু পরীক্ষায় সহযোগিতা প্রদানের জন্য সংস্থার সাথে সংশ্লিষ্টদের প্রতি অনুরোধ জানান।
সংস্থাটি চলতি সনের ডিসেম্বরের মধ্যে দেশের ৫০ হাজার পরিবহন শ্রমিকদের চক্ষু পরীক্ষার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। ইতোমধ্যে প্রায় ১২ হাজার পরিবহন শ্রমিকদের চক্ষু পরীক্ষা সম্পন্ন করেছে যাদের মধ্যে শতকরা ৮০ভাগ শ্রমিকদের চশমার প্রয়োজন হয়েছে। বাংলাদেশ ছাড়াও ভারত ও আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে কাজ করছে বলে সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়।
খুলনা জেলা বাস ও মিনিবাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. রবিউল করিমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সমিতির কার্যকরী সভাপতি মো. সাইফুল ইসলাম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইয়াসিন মোল্লা, সমাজসেবক শেখ আসাদুজ্জামান মুরাদ, শেখ হাফিজুর রহমান মনি, ভিশন স্প্রিংয়ের সহকারী ব্যবস্থাপক তাছমিয়া আকসি প্রমুখ বক্তৃতা করেন। স্বাগত বক্তৃতা করেন ভিশন স্প্রিংয়ের সিনিয়র ব্যবস্থাপক উম্মে সাউদা।
রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্পপ্রতিষ্ঠান কেরু অ্যান্ড কোম্পানি (বাংলাদেশ) লিমিটেডে পদোন্নতির মাধ্যমে পূরণযোগ্য পদে বছরের পর বছর চুক্তিভিত্তিক কর্মী নিয়োগ ও পুনর্নিয়োগের অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে ১৬তম গ্রেডভুক্ত গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে স্থায়ী কর্মচারীদের পদোন্নতি না দিয়ে একই ব্যক্তিদের বারবার চুক্তিভিত্তিক দায়িত্ব দেওয়ার ঘটনায় প্রতিষ্ঠানের ভেতরে-বাইরে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
সম্প্রতি কেরুর প্রশাসন বিভাগের একাধিক অফিস আদেশ এবং বিভিন্ন বিক্রয় অফিসে কর্মরত চুক্তিভিত্তিক কর্মীদের তালিকা সামনে আসার পর বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একাংশের দাবি, বিদ্যমান চাকরি বিধিমালা উপেক্ষা করে পদোন্নতির সুযোগ সংকুচিত করা হচ্ছে, ফলে দীর্ঘদিন ধরে কর্মরত স্থায়ী কর্মচারীরা বঞ্চনার শিকার হচ্ছেন।
প্রাপ্ত তথ্যে দেখা যায়, ঢাকা, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার বিক্রয় অফিসে বর্তমানে একাধিক ব্যক্তি ১৬তম গ্রেডভুক্ত পদে চুক্তিভিত্তিকভাবে দায়িত্ব পালন করছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন ঢাকা সেলস অফিসের বিক্রয় সহকারী মো. জহিরুল ইসলাম, মো. হাসান এবং স্টোর কিপার মো. রায়সুল ইসলাম রাহাত। এ ছাড়া চট্টগ্রাম সেলস অফিসের বিক্রয় সহকারী মো. তোফায়েল আহমেদ, কক্সবাজার সেলস অফিসের বিক্রয় সহকারী শেখ কাওসার ইসলাম এবং অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর ফিরোজ আহমেদও রয়েছেন।
অভিযোগকারীদের ভাষ্য, এসব পদ মূলত পদোন্নতির মাধ্যমে পূরণের কথা। দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালনকারী জুনিয়র কেরানি ও অন্যান্য স্থায়ী কর্মচারীদের মধ্য থেকে যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে পদোন্নতি দেওয়ার সুযোগ থাকলেও তা কার্যকর করা হচ্ছে না।
এদিকে কেরুর প্রশাসন বিভাগের জারি করা একটি অফিস আদেশ (সূত্র:কেরু/প্রশা/সংস্থা-৪/৩৩৮৫, তারিখ: ১৮ মে ২০২৬) অনুযায়ী চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার বিক্রয় অফিসের পাচ কর্মীকে ১ জুন থেকে ২৮ আগস্ট পর্যন্ত ৮৯ দিনের জন্য পুনরায় কাজ করার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। আদেশে উল্লেখ রয়েছে, তারা ‘কাজ নেই, মজুরি নেই’ ভিত্তিতে দায়িত্ব পালন করবেন।
এই তালিকায় রয়েছেন ১৬তম গ্রেডের বিক্রয় সহকারী মো. তোফায়েল আহমেদ, শেখ কাওসার ইসলাম, অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর ফিরোজ আহমেদ এবং ২০তম গ্রেডের দুই নিরাপত্তা প্রহরী মো. সাজেদুর রহমান (বকুল) ও মো. নাজমুল হাসান।
সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, ৮৯ দিন পরপর একই ব্যক্তিদের পুনর্নিয়োগের মাধ্যমে কার্যত স্থায়ীভাবে দায়িত্বে রাখা হচ্ছে। এতে একদিকে যেমন পদোন্নতির সুযোগ সংকুচিত হচ্ছে, অন্যদিকে নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।
তাদের মতে, বিক্রয় সহকারী ও স্টোর কিপারের মতো পদগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এসব পদে কর্মরত ব্যক্তিরা প্রতিদিন লাখ লাখ টাকার পণ্য সরবরাহ, নগদ অর্থ লেনদেন, হিসাব সংরক্ষণ এবং প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করেন। অথচ এসব দায়িত্ব এমন কর্মীদের হাতে রয়েছে, যাদের স্থায়ী চাকরির নিরাপত্তা, প্রভিডেন্ট ফান্ড বা গ্র্যাচুইটির মতো সুবিধা নেই।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন কর্মকর্তা ও কর্মচারী অভিযোগ করেন, ‘অতীতে রাজনৈতিক প্রভাব ও ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে কিছু নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। বর্তমানে সেই নিয়োগপ্রাপ্তদেরই ধারাবাহিকভাবে ৮৯ দিন পরপর পুনর্নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। ফলে দীর্ঘদিন ধরে প্রতিষ্ঠানে কর্মরত স্থায়ী কর্মচারীরা পদোন্নতির ন্যায্য সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।’
তারা অবিলম্বে কেরুর শূন্য পদগুলো বিদ্যমান চাকরি বিধিমালা ও পদোন্নতি নীতিমালা অনুযায়ী পূরণের দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে কেরু অ্যান্ড কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক রাব্বিক হাসান বলেন, ‘সব সেলস সেন্টারে এ ধরনের চুক্তিভিত্তিক কর্মী নেই। কয়েকটি অফিসে থাকতে পারে। এ বিষয়ে আমার কাছে এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ আসেনি। অভিযোগ পেলে বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
তবে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে যেখানে পদোন্নতির মাধ্যমে শূন্য পদ পূরণের সুযোগ রয়েছে, সেখানে কেন বছরের পর বছর চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ ও পুনর্নিয়োগ চলবে? আর এতে প্রকৃতপক্ষে কারা লাভবান হচ্ছেন, সেই উত্তর খুজছেন কেরুর কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।