শনিবার, ২০ জুন ২০২৬
৬ আষাঢ় ১৪৩৩

নেত্রকোণায় দুর্বৃত্তদের ছুরিকাঘাতে ইমামের মৃত্যু

নেত্রকোণা প্রতিনিধি
প্রকাশিত
নেত্রকোণা প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ১৭ জুন, ২০২৪ ২১:২২

নেত্রকোণার কলমাকান্দায় মসজিদের ইমাম মাওলানা আব্দুল বাতেনকে (৬০) তার শয়নকক্ষে প্রবেশ করে ছুরিকাঘাত করেছে দুর্বৃত্তরা। গতকাল রোববার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে বিশাউতি জামে মসজিদের বারান্দায় থাকা শয়নকক্ষে এই ঘটনা ঘটে।

মাওলানা আব্দুল বাতেন কলমাকান্দা উপজেলার রংছাতি ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী সন্যাসীপাড়ার বাসিন্দা মৃত বাশির পণ্ডিতের ছেলে। তিনি রংছাতি দাখিল মাদ্রাসার সহ-সুপার ও পার্শ্ববর্তী বিশাউতি বাইতুন নুর জামে মসজিদের ইমাম ছিলেন।

আজ সোমবার দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কলমাকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ লুৎফুল হক।

পুলিশ, স্থানীয় একাধিক বাসিন্দা ও নিহতের স্বজনরা জানান, মাওলানা আব্দুল বাতেন মাদ্রাসার সহ-সুপারের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি বিশাউতি বাইতুন নুর জামে মসজিদে পেশ ইমামের দায়িত্বেও ছিলেন। রাতে মসজিদের বারান্দায় থাকা ইমামের কক্ষে থাকতেন। রোববার দিবাগত রাত আনুমানিক আড়াইটার দিকে মসজিদের শয়নকক্ষে আব্দুল বাতেনকে দুর্বৃত্তরা ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায়। ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত হয়ে আব্দুল বাতেন মসজিদের পাশে একটি বাড়ির সামনে গিয়ে চিৎকার দেন। চিৎকার শুনে বাড়ির লোকজন ঘর থেকে বের হয়ে ইমাম আব্দুল বাতেনকে রক্তাক্ত অবস্থায় উঠানে পড়ে থাকতে দেখেন। তখন তিনি কথা বলতে পারছিলেন না। দ্রুত তাকে উদ্ধার করে কলমাকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে জরুরি বিভাগে কতর্ব্যরত চিকিৎসক তাৎক্ষণিক ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে (মমেক) রের্ফাড করেন।

সোমবার (১৭ জুন) সকালে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে (মমেক) নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক আব্দুল বাতেনকে মৃত ঘোষণা করেন।

কলমাকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক সৌরভ ঘোষ জানান, শেষ রাতের দিকে মাওলানা আ. বাতেনকে গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা হাসপাতালে নিয়ে আসেন। বুকের বাম পাশে ধারালো অস্ত্রে আঘাতে প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য দ্রুত ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রের্ফাড করা হয়।

এ বিষয়ে মাওলানা আব্দুল বাতেনের বড় ছেলে বদিউজ্জামান বদি বলেন, ‘আমরা খবর পেয়ে কলমাকান্দা হাসপাতালে যাই। সেখানকার দায়িত্বে থাকা ডাক্তার বাবার অবস্থা অবনতি দেখে তাৎক্ষণিক ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রের্ফাড করেন। পরে সোমবার সকালে ওখানে জরুরি বিভাগে পৌঁছা মাত্রই তিনি মারা যান। কে বা কারা এমন নির্মমভাবে আমার বাবাকে খুন করেছে জানি না। আমার বাবা তো কোনো অপরাধী ছিলেন না। কেন হত্যা করলো আমার বাবাকে। আমরা বাবা হত্যার ন্যায় বিচার চাই।’

কলমাকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ লুৎফুল হক বলেন, ‘কি কারণে কে বা কারা এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে তা এখনো পরিষ্কার নয়। তবে সব দিক বিবেচনায় নিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। সিআইডির ক্রাইমসিন ইউনিটকে খবর দেওয়া হয়েছে। তারা এসে ক্রাইমসিনটি ঘিরে রেখে সেটি সংরক্ষণ করবে। এতে আরও আলামত পাওয়া যেতে পারে। ঘটনার রহস্য উদঘাটনে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে। আশা করছি দ্রুত হত্যার রহস্য উদঘাটন করা সম্ভব হবে।’

তিনি আরও জানান, মরদেহ ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে রয়েছে। সেখান থেকে ময়না তদন্তের পর মরদেহ নিয়ে আসতে আরও হয়তো দুই-একদিন সময় লাগবে।


নির্বাচিত

তরুণীকে হেটেলে ডেকে শ্লীলতাহানির চেষ্টায় এনসিপি নেতার বিরুদ্ধে জিডি

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

চট্টগ্রাম মহানগরে পদ ও চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে এক তরুণীকে হোটেলে ডেকে নিয়ে শ্লীলতাহানির চেষ্টা এবং হুমকির অভিযোগ উঠেছে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দুই কেন্দ্রীয় নেতার বিরুদ্ধে।

এই ঘটনায় ভুক্তভোগী তরুণী চকবাজার থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) দায়ের করেছেন এবং অভিযোগের প্রেক্ষিতে দলীয় পর্যায়েও একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

শুক্রবার (২০ জুন) নগরীর কাজীর দেউড়ির একটি রেস্তোরাঁয় সংবাদ সম্মেলন করে ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ জনসমক্ষে তুলে ধরেন ভুক্তভোগী ওই তরুণী। এর আগে গত বুধবার তিনি চকবাজার থানায় জিডিটি করেন, যেখানে এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্য সচিব ও চট্টগ্রাম বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম সুজা উদ্দীন এবং জাতীয় নারী শক্তির কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম মুখ্য সংগঠক সাদিয়া আফরিনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী তরুণী নিজেকে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের একজন সক্রিয় অংশগ্রহণকারী, এনসিপির কর্মী এবং চট্টগ্রাম মহানগর নারীশক্তির পদপ্রত্যাশী হিসেবে পরিচয় দেন।

তিনি অভিযোগ করেন বলেন, গত ১৪ জুন সন্ধ্যায় নগরের হোটেল দ্য পেনিনসুলায় এনসিপির কমিটি গঠনসংক্রান্ত জরুরি আলোচনার কথা বলে সাদিয়া আফরিনের আমন্ত্রণে তিনি হোটেলের ১৫ তলার রুফটপ বারে যান। সেখানে এস এম সুজা উদ্দীনসহ আরও কয়েকজন উপস্থিত ছিলেন। সেখানে প্রথমে তাকে রাজনৈতিক গুরুত্বপূর্ণ পদ ও আকর্ষণীয় চাকরির প্রলোভন দেখানো হয় এবং পরবর্তীতে ধূমপান ও মদপানে উৎসাহিত করাসহ বিভিন্ন ধরনের ড্রিংকস গ্রহণের প্রস্তাব দেওয়া হয়।

তিনি আরও জানান, একপর্যায়ে সাদিয়া আফরিন সেখান থেকে চলে গেলে এস এম সুজা উদ্দীন তাকে নিজের পাশে বসার জন্য বারবার অনুরোধ করেন এবং তাঁর সাথে অশালীন আচরণ ও শ্লীলতাহানির চেষ্টা করেন। তাঁর আচরণ, অঙ্গভঙ্গি ও দৃষ্টিভঙ্গি সম্পূর্ণ আপত্তিকর ও যৌন হয়রানিমূলক ছিল উল্লেখ করে ভুক্তভোগী বলেন, তিনি এই কুপ্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় তাকে ‘ডিল অর ডেথ’ বলে সরাসরি হুমকি দেওয়া হয়। পরবর্তীতে চরম নিরাপত্তাহীনতা ও মানসিক ট্রমার মধ্যে পড়ে তিনি পুলিশের দ্বারস্থ হন।

গুরুতর এই অভিযোগের বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত এস এম সুজা উদ্দীন ও সাদিয়া আফরিনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে হোটেল দ্য পেনিনসুলার একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, পুলিশ ঘটনাটি তদন্ত করতে অলরেডি হোটেলে গিয়ে সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করেছে এবং হোটেল কর্তৃপক্ষ তদন্তের স্বার্থে আইনপ্রয়োগকারী সংস্থাকে সব ধরনের সহযোগিতা প্রদান করছে।


নির্বাচিত

৩ মাসে যে কাজ হয়েছে, আওয়ামী লীগের ১৫ বছরেও তা হয়নি: মির্জা ফখরুল

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও জনগণের প্রত্যাশা পূরণে বর্তমান সরকার পরিকল্পিতভাবে কাজ করে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন এলাকায় যত রাস্তাঘাট ও সেতু রয়েছে, তার সব আগামী ৫ বছরের মধ্যে ইনশাআল্লাহ সম্পন্ন করা হবে। বর্তমান সরকারের তিন মাসে যে পরিমাণ কাজ হয়েছে, তা বিগত আওয়ামী লীগের ১৫ বছরেও হয়নি।

শনিবার (২০ জুন) বেলা ১১টায় মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার ভবেরচর গ্রামীণ বাজার উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় নবনির্মিত আধুনিক ভবনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মুন্সীগঞ্জ স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ সরকারের অর্থায়নে দেশব্যাপী গ্রামীণ বাজার উন্নয়ন প্রকল্পের অংশ হিসেবে ভবেরচর গ্রামীণ বাজারে ২০২৪ সালের ১ জুলাই এই নির্মাণকাজ শুরু হয়। প্রায় ২ কোটি ৩৫ লাখ ৮৬ হাজার ৪৮০ টাকা ব্যয়ে নির্মিত আধুনিক এই মার্কেট ভবনের কাজ সফলভাবে সম্পন্ন করেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান স্বপ্না কনস্ট্রাকশন লিমিটেড।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. কামরুজ্জামান রতন, সিলেট-২ আসনের সংসদ সদস্য তাহসিনা রুশদীর লুনা, প্রধান প্রকৌশলী মো. বেলাল হোসেন, জেলা প্রশাসক সৈয়দা নূরমহল আশরাফী, পুলিশ সুপার মেনহাজুল আলম এবং গজারিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উম্মে হাফছা নাদিয়াসহ স্থানীয় প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ভবেরচর আধুনিক ভবনের উদ্বোধন শেষে মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গজারিয়া উপজেলার ব্র্যাক অফিস থেকে ইমামপুর ইউনিয়ন পরিষদের সড়কের ২ হাজার মিটার পর্যন্ত পুনর্বাসন ও উন্নয়ন কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।

এছাড়া তিনি রসুলপুর বাজার এলাকায় ফুলদী নদীর ওপর একটি নতুন সেতু নির্মাণের প্রস্তাবিত স্থানটি সরেজমিনে পরিদর্শন করেন এবং কাজের অগ্রগতি নিয়ে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন।


নির্বাচিত

 ‘ব্রহ্মপুত্র পাড়ে ২০ হাজার মানুষের জীবন ঝুলে আছে নড়বড়ে সাঁকোয়’

* বর্ষায় সাঁকো ডুবে গেলে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে ৭ গ্রামের মানুষ * স্থায়ী সেতুর আকুতি ব্রহ্মপুত্র তীরের মানুষের
ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ২০ জুন, ২০২৬ ১৮:৩০
সোনারগাঁ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি

ব্রহ্মপুত্র নদের ওপর ঝুঁকিপূর্ণ একটি বাঁশের সাঁকো। আর এই সাঁকো দিয়েই প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হচ্ছেন ৭ গ্রামের ২০ হাজার মানুষ। আধুনিক যুগে এসেও একটি মাত্র সেতুর অভাবে ২০ গ্রামের বাসিন্দাদের ভরসা এখনো একটি সাঁকোই। প্রতিশ্রুতি এসেছে বহুবার, কিন্তু এ সাঁকোর জায়গায় সেতু আর হয়নি। তিন দশকের বেশি সময় ধরে ব্রহ্মপুত্র নদের ওপর একটি স্থায়ী সেতুর অপেক্ষায় নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার ৭ গ্রামের মানুষ।

সেতুর অভাবে বছরের পর বছর এ বাঁশের সাঁকো ব্যবহার করেই চলাচল করেছেন তারা। বর্ষা এলেই সেই সাঁকোও পানির নিচে ডুবে যায়। তখন নৌকাই হয়ে ওঠে একমাত্র ভরসা। চিকিৎসা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাওয়া-আসা, মাঠের ফসল আনা-নেওয়া ও বাজার-সদাই এসব কাজে চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন তারা। এতে তারা অসহায় হয়ে আছেন।

সোনারগাঁ উপজেলার সাদিপুর ইউনিয়নের গোলনগর এবং সনমান্দী ইউনিয়নের দৌলরদী গ্রামের মাঝ দিয়ে বয়ে গেছে ব্রহ্মপুত্র নদ। নদীর দুই তীরের মানুষের যোগাযোগের জন্য নেই কোনো পাকা সেতু। ফলে দৌলরদী, গোলনগর, কুমারচর, জোয়ারদী, মুছারচরসহ আশপাশের সাতটি গ্রামের প্রায় ২০ হাজার মানুষকে প্রতিদিন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

স্থানীয়দের উদ্যোগে প্রতি বছর শুষ্ক মৌসুমে চাঁদা তুলে বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করা হয়। কিন্তু বর্ষায় নদীর পানি বাড়লে সাঁকোটি ডুবে যায় বা ভেঙে পড়ে। তাই স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে কৃষক, শ্রমিক, ব্যবসায়ী, নারী, রোগী সবারই একমাত্র ভরসা নড়বড়ে এই সাঁকো। তখন তাদের চলাচল পুরোপুরি নির্ভর করে নৌকার ওপর। এদিকে এলাকাবাসী বলছে, এখানে সেতু না থাকায় এ সাত গ্রামের মানুষের সাথে কেউ বিয়ে সাদির সমন্ধ করতে চায় না। এতে বিপাকে পড়ে মানুষ।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বর্ষার পানিতে সাঁকোর বেশির ভাগ অংশ তলিয়ে গেছে। কোথাও কোথাও ভেঙেও পড়েছে। ফলে সাঁকো দিয়ে আর চলাচল করা সম্ভব হচ্ছে না। স্থানীয় লোকজন নৌকায় করে নদী পারাপার করছেন। স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষকে প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়েই যাতায়াত করতে হচ্ছে। সামান্য অসতর্কতায় দুর্ঘটনার আশঙ্কাও রয়েছে।

দৌলরদী গ্রামের বাসিন্দা মোহাম্মদ শাহ আলম বলেন, ছোটবেলা থেকে দেখে আসছি এই সাঁকো। এখন আমার বয়স ৫০ বছরের বেশি। কিন্তু এত দিনে একটি সেতুও হলো না। নির্বাচন এলেই সবাই প্রতিশ্রুতি দেন, পরে আর কোনো খোঁজ থাকে না।

কুমারচর এলাকার কলেজ ছাত্র সিফাত ও মহিউদ্দিন বলেন, প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়েই কলেজে যাতায়াত করতে হয়। কয়েক দিন আগে আমাদের এক সহপাঠী সাঁকো থেকে পড়ে আহত হয়েছে। এখন বর্ষার কারণে সাঁকো ডুবে যাওয়ায় নৌকায় চলাচল করতে হচ্ছে। ঝড়-বৃষ্টি হলে ক্লাসে যেতে পারি না। পরীক্ষার সময় এই দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায়।

স্থানীয় কৃষক সুরুজ আলী জানান, ধান, সবজি ও অন্যান্য কৃষিপণ্য বাজারে নিতে অতিরিক্ত সময় ও খরচ হয়। অনেক সময় মাথায় বা কাঁধে মাল বহন করে পার হতে গিয়ে দুর্ঘটনাও ঘটে।

গোলনগর গ্রামে ৬০ বছরের সোলায়মান মিয়া জানান, সাদিপুর ও সনমান্দি ইউনিয়নের এ জায়গা একটি সেতু না থাকায় আমরা এখন খুবই কষ্টে আছি। সবচেয়ে খারাপ বিষয় হলো সেতু না থাকায় আমাদের গ্রামসহ সাত গ্রামের মানুষের সাথে দুরের কেউ বিয়ে সাদির সমন্ধ করতে চায় না।

এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে সাঁকো পারাপারের সময় বহু মানুষ দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন। কেউ হাত-পা ভেঙেছেন, কেউ স্থায়ীভাবে পঙ্গুত্বও বরণ করেছেন। তবু বিকল্প কোনো ব্যবস্থা না থাকায় বাধ্য হয়েই ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে।

স্থানীয়দের মতে, ব্রহ্মপুত্র নদের ওপর একটি সেতু নির্মিত হলে শুধু যাতায়াতের দুর্ভোগই কমবে না; শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, কৃষি ও ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রেও নতুন সম্ভাবনার সৃষ্টি হবে। দুই ইউনিয়নের মানুষের সামাজিক ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেও গতি আসবে।

তবে এলাকাবাসীর দাবি, তিন যুগ ধরে যে সেতুর অপেক্ষা, সেই অপেক্ষা আর কত দীর্ঘ হবে? প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নদী পার হওয়া হাজারো মানুষের এখন একটাই দাবি-আর কোনো আশ্বাস নয়, দ্রুত একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণ করে দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের অবসান ঘটানো হোক।

সোনারগাঁ উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী আলমগীর হোসেন চৌধুরী বলেন, ব্রহ্মপুত্র নদের ওপর একটি সেতু নির্মাণের জন্য মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন পাওয়া গেলে দ্রুত প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে।


নির্বাচিত

পাঁচবিবিতে পানি প্রবাহের পথ বন্ধে জলাবদ্ধতা, বাড়ছে জনদুর্ভোগ

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
জয়পুরহাট প্রতিনিধি

জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার ধরঞ্জী ইউনিয়নের মধ্য বাগুয়ান গ্রামে পানি প্রবাহের পথ বন্ধ করার কারণে সামান্য বৃষ্টিতেই চলাচলের রাস্তায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। একারণে সামান্য বৃষ্টিতেই রাস্তায় হাঁটু পানি জমিয়ে গ্রামের শতাধিক মানুষের চলাচলে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে ।

স্থানীয়রা জানান, প্রতিবেশী জহুরুল ও খায়রুল নামে দুই ব্যক্তি পানি প্রবাহের রাস্তা বন্ধ করে বাড়ি নির্মাণ করার কারণে এই জলবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা রেশমা বেগম বলেন, সামান্য বৃষ্টি হলেই রাস্তাতে হাঁটু পানি জমে থাকে। ছোট বাচ্চারা স্কুলে যেতে পারে না। নোংড়া, ময়লা পানি দিয়ে যাতায়াত করার কারণে বিভিন্ন ধরনের পানি বাহিত রোগ দেখা দিয়েছে।

স্থানীয় আরেক বাসিন্দা মিজানুর রহমান বলেন, একবার ইউপি সদস্য ও গ্রামের গণ্যমান্য ব্যক্তিরা বসলেও কেউ জায়গা না দেওয়ায় ড্রেন নির্মাণ করা সম্ভব হয়নি।

এবিষয়ে জহুরুলের মা দেলোয়ারা বেগম বলেন, পানি যাওয়ার কারণে মাটি ধুয়ে যায়। এ কারণে পানি প্রবাহের পথ বন্ধ করা হয়েছে। মাটির নিচ দিয়ে পাইপ দিলেই পানি চলে যাবে।

স্থানীয় ইউপি সদস্য আমজাদ হোসেন বলেন, এই গ্রামের মানুষের চলাচলের জন্য বাঁধা থাকা স্বত্বেও রাস্তা করে দিয়েছি। তারা ড্রেন করার জায়গা দিলে বরাদ্দ সাপেক্ষে আবারও ড্রেন নির্মাণ করে দেওয়া হবে।


নির্বাচিত

টঙ্গীতে জাল টাকাসহ দুইজন গ্রেপ্তার

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
টঙ্গী (গাজীপুর) প্রতিনিধি 

গাজীপুরের টঙ্গীতে জাল টাকার নোটসহ দুই ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গত শুক্রবার (১৯ জুন) রাতে টঙ্গীর দক্ষিণ আরিচপুর এলাকার আশরাফ সেতু কমপ্লেক্সের সামনে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন, নেত্রকোনার কলমাকান্দা থানার শিবনগর গ্রামের মৃত সামাদ বেপারির ছেলে শাহিন আলম (৪৫) এবং টঙ্গী স্টেশন রোড এলাকার আক্কাস আলীর ছেলে ভাসমান সোহেল (২৪)।

পুলিশ জানায়, শুক্রবার (১৯ জুন) রাতে আশরাফ সেতুর সামনে জাল টাকা নিয়ে দুই ব্যক্তি অবস্থান করার সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে দুইজনকে আটক করে পুলিশ। পরে তাদের দেহ তল্লাশি করে ১০০, ৫০০ ও ১০০০ টাকার ৫১টি জাল নোট উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত জাল টাকার মূল্য ২০ হাজার ৩০০ টাকা।

আটককৃতদের মধ্যে শাহিন আলমের কাছ থেকে ৫০০ টাকার ২০টি ও ১০০০ টাকার ৮টি জাল নোট এবং সোহেলের কাছ থেকে ১০০ টাকার ২৩টি জাল নোট উদ্ধার করা হয়।

টঙ্গী পশ্চিম থানায় ওসি আরিফুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের শেষে শনিবার দুপুরে গ্রেফতারকৃতদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।


নির্বাচিত

অষ্টগ্রামে বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী শফিক হত্যা: মামলা দায়েরের ৮ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তার ২

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মো. নজরুল ইসলাম, অষ্টগ্রাম (কিশোরগঞ্জ)

কিশোরগঞ্জের হাওর উপজেলা অষ্টগ্রামে বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী যুবক শফিক মিয়া (৩১) হত্যাকান্ডের ঘটনায় দুই এজাহারভুক্ত আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শনিবার (২০ জুন) তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার, গোয়েন্দা তথ্য এবং গোপন সংবাদের ভিত্তিতে থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রুকনুজ্জামানের নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে মাত্র ৮ ঘণ্টার মধ্যে এজাহারভুক্ত এ দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, উপজেলার আবদুল্লাহপুর মুন্সিবাড়ির মৃত শের আলীর পুত্র হান্নান মিয়া (৪২) ও জামিরা বাড়ির ছিদ্দিকুর রহমানের পুত্র ফরহাদ (৩৫)। গ্রেপ্তারকৃতদের ইতিমধ্যে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

এর আগে, গত শুক্রবার (১৯ জুন) সকালে উপজেলার খয়েরপুর-আব্দুল্লাহপুর ইউনিয়নের নতুন বাজার এলাকার কালনী নদীর পাড় থেকে মুখমন্ডল থেঁতলানো অবস্থায় শফিক মিয়ার মরদেহ উদ্ধার করে লাশ ময়নাতদন্তের জন্য কিশোরগঞ্জ সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। এ ঘটনায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে ২০ জুন (২০২৬) অষ্টগ্রাম থানায় ৩০২/৩৭৯/৩৪ পেনাল কোডে একটি হত্যা মামলা (নং-১৩) দায়ের করা হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি শফিক মিয়ার সঙ্গে তার স্ত্রীর বিবাহবিচ্ছেদ হলে স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসার জন্য উদ্যোগ নিয়ে মোহরানা ও ভরন পোষণ বাবদ ৫০ হাজার টাকা নির্ধারন করা হয়। এই পরিস্থিতির মধ্যেই কালনী নদীর পাড়ে তার রহস্যজনক ও নৃশংস মৃত্যু এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।

এ বিষয়ে অষ্টগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ রোকনুজ্জামান বলেন, "ঘটনার পর থেকেই পুলিশ সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত ও অভিযান পরিচালনা করছে। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় দ্রুততম সময়ের মধ্যে দুই এজাহারভুক্ত আসামিকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে। হত্যাকান্ডের প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন এবং এর সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে আমাদের তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।"

চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকান্ডের পর দ্রুততম সময়ে দুই আসামি গ্রেপ্তার করায় স্থানীয়দের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে। তবে ঘটনার পেছনের সম্পূর্ণ রহস্য উদ্ঘাটন করে জড়িত সবার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।


নির্বাচিত

ভৈরবে ৬ মাসে ২শ ৩৯ কেজি গাঁজা জব্দ, গ্রেপ্তার ১৩৬

ফাইল ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ২০ জুন, ২০২৬ ১৭:৪১
 ভৈরব (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি

ট্রেনে বেড়েছে মাদক চোরাচালান। দেশের সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে একটি চক্র মাদকদ্রব্য সংগ্রহ করে রাজধানীসহ বিভিন্ন স্থানে ট্রেনের বগি ও ছাদে গোপনে মাদকপাচার করছে। এসব মাদক চোরাচালান রোধে তৎপর রেলওয়ে পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

কিশোরগঞ্জের ভৈরব রেলওয়ে জংশন স্টেশনে ৬ মাসে ২শ ৩৯ কেজি গাঁজা ও ১০ বোতল মদ জব্দ করাসহ ১৩৬ জন মাদককারবারিকে গ্রেপ্তার করেছে রেলওয়ে থানা পুলিশ।

জানা যায়, সিলেট থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী পারাবত এক্সপ্রেস ট্রেনসহ বিভিন্ন ট্রেনে বিশেষ অভিযান চালায় ভৈরব রেলওয়ে পুলিশ। এর মধ্যে রেলওয়ে পুলিশ এককভাবে ৯৬ কেজি গাজাঁ এবং র‌্যাবের সঙ্গে যৌথ অভিযানে ১শ ৫৩ কেজি গাজাঁ জব্দ করা হয়েছে। যার আনুমানিক মূল্য ৫০ লাখ টাকা।

এ ছাড়াও এসব মাদক উদ্ধারের ঘটনায় ১৩৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে বিভিন্ন অপরাধে ৭৮ জনকে ভ্র্যাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়েছে। তা ছাড়া ৫৮ জনের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দেওয়া হয়েছে।

ভৈরব রেলওয়ে থানার ওসি সাইদ আহমেদ জানান, এসব মাদক জব্দের ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে মাদক আইনে মামলা দায়ের করেছে।


নির্বাচিত

খুলনায়  বিদেশি পিস্তলসহ যুবক গ্রেপ্তার

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
খুলনা ব্যুরো

খুলনার রূপসা উপজেলায় বিদেশি পিস্তলসহ সুলতান মাহমুদ বাপ্পা (৩৬) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গত শুক্রবার (১৯ জুন) রাতে উপজেলার নৈহাটি ইউনিয়নের জয়পুর গ্রামে রফিকুল ইসলামের বাড়ির সামনে থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

বাপ্পা গোপালগঞ্জ জেলার বেতগ্রাম এলাকার শেখ হাফিজুর রহমানের ছেলে।

পুলিশ জানায়, রূপসা থানার এসআই মশিউর রহমান সরকারি পিকআপে বিশেষ অভিযান পরিচালনার সময় নৈহাটি গোডাউন মোড়ে অবস্থানকালে গোপন সূত্রে খবর পান যে, জয়পুর গ্রামে এক ব্যক্তি অবৈধ অস্ত্র নিয়ে অবস্থান করছে।

খবর পেয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আবদুর রাজ্জাক মীরসহ পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে যায়

সেখানে স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে আটক করা হয়। পরে উপস্থিত সাক্ষীদের সামনে তল্লাশি চালিয়ে তার পরিহিত ট্রাউজারের পেছনের কোমর থেকে একটি খালি ম্যাগাজিনসহ বাটযুক্ত বিদেশি ৭.৬৫ মি.মি. পিস্তল উদ্ধার করা হয়।

রূপসা থানার ওসি মোহাম্মদ আবদুর রাজ্জাক মীর বলেন, গ্রেপ্তারকৃত সুলতান মাহমুদ বাপ্পাকে খুলনা চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পাঠানো হবে। উদ্ধার হওয়া অস্ত্রের উৎস এবং এর সম্ভাব্য ব্যবহার সম্পর্কে তদন্ত চলছে।


নির্বাচিত

শিবচরে ট্রেনের ধাক্কায় প্রতিবন্ধী নারীর মৃত্যু

ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মাদারীপুর প্রতিনিধি

মাদারীপুরের শিবচরে ট্রেনের ধাক্কায় শুকরন বেগম (৭৫) নামে এক মানসিক প্রতিবন্ধী নারীর মৃত্যু হয়েছে।

শনিবার (২০ জুন) সকালে উপজেলার মাদবরেরচর ইউনিয়নের পাঁচ্চর তেলের পাম্প সংলগ্ন এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত শুকরন বেগম দত্তপাড়া ইউনিয়নের বাঁচামারা মোকশেদপুর এলাকার মোঃ মোকশেদ হাওলাদারের স্ত্রী।

মাদবরেরচর ইউনিয়ন মোল্লাবাজার সংলগ্ন রেল লাইনের পাশে এক নারীকে মৃত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয়রা। পরে তারা পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ এসে মরদেহটি উদ্ধার করে।

এর আগে শুক্রবার (১৯ জুন) দুপুর থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন বলে জানান পরিবারের লোকজন।

শিবচর থানার ওসি কামাল হোসেন বলেন, পুলিশ মরদেহটি উদ্ধার করেছে এবং এ ব্যাপারে রেল পুলিশ পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহন করবেন।


নির্বাচিত

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে ঠেলে পাঠানোর চেষ্টায় বিএসএফ

চৌকা সীমান্ত দিয়ে ২০ জনকে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা বিএসএফের। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ২০ জুন, ২০২৬ ১৭:১৩
চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি

চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার বিনোদপুর ইউনিয়নের চৌকা সীমান্তে ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা করা ২০ জন নারী, পুরুষ ও শিশুকে ফেরত নিয়েছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ।

শনিবার (২০ জুন) বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে দুই দফা পতাকা বৈঠকের পর তাদের ভারতের অভ্যন্তরে ফিরিয়ে নেওয়া হয়।

৫৯ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল তাজুল ইসলাম চৌধুরী জানান, সীমান্ত পিলার ১৭৭-এর ২-এস এবং ১৭৮-এর এস-৩ পিলারের কাছে কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ে দুই দফা পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকের পর বিএসএফ পুশইন করা ১১ জন নারী, ৫ জন পুরুষ ও ৪ জন শিশুকে ভারতের ভেতরে ফিরিয়ে নিয়ে যায়।

এর আগে শনিবার (২০ জুন) সকালে চৌকা সীমান্ত দিয়ে ওই ২০ জনকে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা করে বিএসএফ। পরে বিজিবির কঠোর অবস্থানের কারনে সেই চেষ্টা বার্থ হয়।


নির্বাচিত

চলতি বাজেট একটি জনবান্ধব বাজেট: দুলু

রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নাটোর প্রতিনিধি

চলতি বাজেটকে একটি জনবান্ধব বাজেট উল্লেখ করে সরকার দলীয় হুইপ ও নাটোর ২ আসনের সংসদ সদস্য রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু বলেছেন, দেশের তৃনমুল পর্যায়ের মানুষের জন্য যে বাজেট দরকার। ধান, চাল, তেল ও আটা থেকে শুরু করে মসলা পর্যন্ত সমস্ত ক্ষেত্রে কৃষক বান্ধব ও জনবান্ধব বাজেট পেশ করেছে সরকার। গত ৫০ বছরের ইতিহাসে এমন সুন্দর বাজেট হয়নি।

শনিবার (২০ জুন) নাটোর সদর উপজেলা পরিষদের হলরুমে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের আয়োজনে প্রান্তিক কৃষকদোর মাঝে সার, বীজ ও কীটনাশক বিতরণ অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।

এসময় তিনি আরও বলেন, কৃষক, শ্রমিক রিক্সা চালক থেকে শুরু করে সকল মানুষের জীবনযাত্রা অতিবাহিত করার জন্য যে বাজেট প্রয়োজন সেই বাজেট ঘোষনা করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন,জেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক মোস্তাফিজুর রহমান শাহীন, সাইফুল ইসলাম আফতাব সহ বিএনপির নেতৃবৃন্দ।


নির্বাচিত

পিরোজপুরে ‘মাদকের বিস্তার-আমাদের করণীয়’ শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
‎​‎এস এস আবু জাফর , পিরোজপুর প্রতিনিধি

মাদকের ভয়াবহ বিস্তার রোধ, এর কুফল সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং একটি সুস্থ-স্বচ্ছ যুবসমাজ গড়ার অঙ্গীকার নিয়ে পিরোজপুরে ‘মাদকের বিস্তার-আমাদের করণীয়’ শীর্ষক এক বিশেষ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (২০ জুন) সকাল ১০টায় পিরোজপুর সদর উপজেলা অডিটোরিয়ামে এই সভার আয়োজন করা হয়।

‎​পিরোজপুর প্রেসক্লাবের আয়োজনে এবং পিরোজপুর জেলা পরিষদের সহযোগিতায় অনুষ্ঠিত এই গুরুত্বপূর্ণ সভায় সভাপতিত্ব করেন পিরোজপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি এস. এম. রেজাউল ইসলাম শামিম।

‎​সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পিরোজপুরের জেলা প্রশাসক আবু সাঈদ। তিনি তার বক্তব্যে বলেন, "মাদকের বিস্তার রোধে প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপের পাশাপাশি একটি শক্তিশালী সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলা অপরিহার্য। প্রতিটি পাড়া-মহল্লায় মাদকের বিরুদ্ধে সচেতনতা গড়ে তুলতে হবে এবং মাদকের সাথে সম্পৃক্তদের সামাজিকভাবে বয়কট করতে হবে।" জেলা প্রশাসক মাদকের তালিকা তৈরি করে তা প্রকাশ্যে টানিয়ে দেওয়ার ঘোষণা দিয়ে বলেন, এতে সমাজের সর্বস্তরের মানুষ তাদের সম্পর্কে সচেতন হতে পারবে।

‎​তিনি আরও জানান, পিরোজপুরে একটি মাদক নিরাময় কেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনা জেলা প্রশাসনের রয়েছে এবং দ্রুতই এ বিষয়ে উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।

‎​অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পিরোজপুরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনজুর আহমেদ সিদ্দিকী, জেলা পরিষদ প্রশাসক অধ্যক্ষ আলমগীর হোসেন, সরকারি সোহরাওয়ার্দী কলেজের অধ্যক্ষ রফিকুল ইসলাম, সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ পান্না লাল রায়, জেলা বিএনপির সদস্য সচিব এস এম সাইদুল ইসলাম কিসমত এবং চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি গাজী ওয়াহিদুজ্জামান লাভলু।

‎​বক্তারা বলেন, মাদক এখন পরিবারের শান্তি বিনষ্ট করছে, বাবা-ছেলের সম্পর্ক ধ্বংস করছে এবং তরুণ প্রজন্মকে অকাল মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিচ্ছে। তাই মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করে প্রশাসন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, অভিভাবক এবং সামাজিক সংগঠনগুলোকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।

‎​এই আলোচনা সভায় বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানগণ, সাংবাদিকবৃন্দ, স্থানীয় সুধীজন এবং বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। অংশগ্রহণকারী প্রত্যেকেই পিরোজপুরকে মাদকমুক্ত জেলা হিসেবে গড়ে তুলতে নিজ নিজ অবস্থান থেকে কাজ করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

‎​অনুষ্ঠানটিতে মাদকবিরোধী লড়াইয়ে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে সর্বস্তরের মানুষকে সম্পৃক্ত করে একটি শক্তিশালী প্ল্যাটফর্ম তৈরির সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়, যা ভবিষ্যতে পিরোজপুরকে মাদকের ছোবল থেকে রক্ষায় কার্যকর ভূমিকা রাখবে।


নির্বাচিত

একুশে পদকপ্রাপ্ত বরেণ্য কবি আল মুজাহিদী মারা গেছেন

একুশে পদকপ্রাপ্ত বরেণ্য কবি বীর মুক্তিযোদ্ধা আল মুজাহিদী। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

একুশে পদকপ্রাপ্ত বরেণ্য কবি এবং মুক্তিযোদ্ধা আল মুজাহিদী মারা গেছেন। (ইন্না লিল্লাহি ওয়াইন্না ইলাইহি রাজিউন)। শুক্রবার (১৯ জুন) দুপুরে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৩ বছর।

প্রায় এক বছর আগে চিকুনগুনিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার পর থেকেই এই কবি শয্যাশায়ী ছিলেন। বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন সমস্যা ও হৃদরোগে তিনি দীর্ঘদিন ধরেই ভুগছিলেন।

কবিতা, উপন্যাস ও শিশুসাহিত্যে আল মুজাহিদীর অবদান অপরিসীম। ‘হেমলকের পেয়ালা’, ‘ধ্রুপদ ও টেরাকোটা’ এবং ‘যুদ্ধ নাস্তি’-র মতো কালজয়ী কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা তিনি। সাহিত্যে অসামান্য অবদানের জন্য তিনি একুশে পদকসহ দেশি-বিদেশি বহু সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন।


নির্বাচিত

banner close