নেত্রকোণার কলমাকান্দায় মসজিদের ইমাম মাওলানা আব্দুল বাতেনকে (৬০) তার শয়নকক্ষে প্রবেশ করে ছুরিকাঘাত করেছে দুর্বৃত্তরা। গতকাল রোববার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে বিশাউতি জামে মসজিদের বারান্দায় থাকা শয়নকক্ষে এই ঘটনা ঘটে।
মাওলানা আব্দুল বাতেন কলমাকান্দা উপজেলার রংছাতি ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী সন্যাসীপাড়ার বাসিন্দা মৃত বাশির পণ্ডিতের ছেলে। তিনি রংছাতি দাখিল মাদ্রাসার সহ-সুপার ও পার্শ্ববর্তী বিশাউতি বাইতুন নুর জামে মসজিদের ইমাম ছিলেন।
আজ সোমবার দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কলমাকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ লুৎফুল হক।
পুলিশ, স্থানীয় একাধিক বাসিন্দা ও নিহতের স্বজনরা জানান, মাওলানা আব্দুল বাতেন মাদ্রাসার সহ-সুপারের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি বিশাউতি বাইতুন নুর জামে মসজিদে পেশ ইমামের দায়িত্বেও ছিলেন। রাতে মসজিদের বারান্দায় থাকা ইমামের কক্ষে থাকতেন। রোববার দিবাগত রাত আনুমানিক আড়াইটার দিকে মসজিদের শয়নকক্ষে আব্দুল বাতেনকে দুর্বৃত্তরা ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায়। ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত হয়ে আব্দুল বাতেন মসজিদের পাশে একটি বাড়ির সামনে গিয়ে চিৎকার দেন। চিৎকার শুনে বাড়ির লোকজন ঘর থেকে বের হয়ে ইমাম আব্দুল বাতেনকে রক্তাক্ত অবস্থায় উঠানে পড়ে থাকতে দেখেন। তখন তিনি কথা বলতে পারছিলেন না। দ্রুত তাকে উদ্ধার করে কলমাকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে জরুরি বিভাগে কতর্ব্যরত চিকিৎসক তাৎক্ষণিক ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে (মমেক) রের্ফাড করেন।
সোমবার (১৭ জুন) সকালে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে (মমেক) নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক আব্দুল বাতেনকে মৃত ঘোষণা করেন।
কলমাকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক সৌরভ ঘোষ জানান, শেষ রাতের দিকে মাওলানা আ. বাতেনকে গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা হাসপাতালে নিয়ে আসেন। বুকের বাম পাশে ধারালো অস্ত্রে আঘাতে প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য দ্রুত ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রের্ফাড করা হয়।
এ বিষয়ে মাওলানা আব্দুল বাতেনের বড় ছেলে বদিউজ্জামান বদি বলেন, ‘আমরা খবর পেয়ে কলমাকান্দা হাসপাতালে যাই। সেখানকার দায়িত্বে থাকা ডাক্তার বাবার অবস্থা অবনতি দেখে তাৎক্ষণিক ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রের্ফাড করেন। পরে সোমবার সকালে ওখানে জরুরি বিভাগে পৌঁছা মাত্রই তিনি মারা যান। কে বা কারা এমন নির্মমভাবে আমার বাবাকে খুন করেছে জানি না। আমার বাবা তো কোনো অপরাধী ছিলেন না। কেন হত্যা করলো আমার বাবাকে। আমরা বাবা হত্যার ন্যায় বিচার চাই।’
কলমাকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ লুৎফুল হক বলেন, ‘কি কারণে কে বা কারা এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে তা এখনো পরিষ্কার নয়। তবে সব দিক বিবেচনায় নিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। সিআইডির ক্রাইমসিন ইউনিটকে খবর দেওয়া হয়েছে। তারা এসে ক্রাইমসিনটি ঘিরে রেখে সেটি সংরক্ষণ করবে। এতে আরও আলামত পাওয়া যেতে পারে। ঘটনার রহস্য উদঘাটনে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে। আশা করছি দ্রুত হত্যার রহস্য উদঘাটন করা সম্ভব হবে।’
তিনি আরও জানান, মরদেহ ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে রয়েছে। সেখান থেকে ময়না তদন্তের পর মরদেহ নিয়ে আসতে আরও হয়তো দুই-একদিন সময় লাগবে।
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শন করেছেন জেলা সিভিল সার্জন ডা. এস এম মাসুদ। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) তিনি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বিভিন্ন বিভাগ ঘুরে দেখেন। পরিদর্শনকালে সিভিল সার্জন চিকিৎসাসেবার মান ও অবকাঠামোগত বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে খোঁজখবর নেন।
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বহির্বিভাগ (আউটডোর), পুরুষ ও মহিলা ওয়ার্ড, রান্নাঘরসহ হাসপাতালের বিভিন্ন স্থান পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি রোগী ও স্বজনদের সঙ্গে কথা বলেন এবং হাসপাতালের সার্বিক পরিবেশ ও চিকিৎসাসেবা সম্পর্কে খোঁজ নেন।
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বিভিন্ন সমস্যা সম্পর্কে অবহিত হয়ে তিনি সেগুলো সমাধানে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করার কথা জানান।
পরিদর্শন শেষে জেলা সিভিল সার্জন ডা. এস এম মাসুদ বলেন, “গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স আমরা নিয়মিত পরিদর্শন করি। আমার কাছে মনে হয়েছে, গোয়ালন্দের চিকিৎসাসেবা আগের তুলনায় অনেকটাই উন্নত হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার ঢাকা থেকে আমাদের অতিরিক্ত সহকারী পরিচালক এসেছিলেন। তিনিও হাসপাতালটি পরিদর্শন করে গেছেন।’
এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. মারুফ হাসান, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার মো. রোমেল হাসানসহ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. মারুফ হাসান সিভিল সার্জনের পরিদর্শনকে স্বাগত জানান। তিনি বলেন, এ ধরনের নিয়মিত ও তদারকি হাসপাতালের চিকিৎসাসেবার মান আরও উন্নত করতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।
তিনি জানান, গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সম্প্রতি কয়েকটি নতুন সেবা যুক্ত হয়েছে। বর্তমানে হাসপাতালে ২৪ ঘণ্টা ইসিজি সেবা চালু, রয়েছে। পাশাপাশি ডায়াবেটিস পরীক্ষাসহ এক্স-রে ছাড়া অন্যান্য প্রয়োজনীয় প্যাথলজি পরীক্ষা-নিরীক্ষার সুবিধা হাসপাতালেই পাওয়া যাচ্ছে।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের প্রত্যাশা, এসব সেবা চালুর ফলে স্থানীয় রোগীদের চিকিৎসা ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য বাইরে যাওয়ার প্রয়োজন কমবে এবং সরকারি স্বাস্থ্যসেবার পরিধি আরও বিস্তৃত হবে।
পরিদর্শনকালে হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা, রোগীদের সুযোগ-সুবিধা, পরিচ্ছন্নতা ও অবকাঠামোগত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন জেলা সিভিল সার্জন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর থেকে বাঞ্ছারামপুরের কড়ইকান্দি ফেরিঘাট পর্যন্ত প্রায় ৩৮ কিলোমিটার আঞ্চলিক মহাসড়ক। গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কে রয়েছে ১৩৫টি ঝুঁকিপূর্ণ বাঁক। কোথাও সড়ক সরু, কোথাও খানাখন্দ ও ভাঙাচোরা অংশ। অনেক স্থানে দুটি যানবাহন পাশাপাশি চলাচল করাও কঠিন। ফলে প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে এ পথে যাতায়াতকারী মানুষ ও যানবাহনকে।
নবীনগর, বাঞ্ছারামপুর, মুরাদনগর ও কসবা উপজেলার মানুষের একটি বড় অংশ এই সড়ক ব্যবহার করে কড়ইকান্দি ফেরিঘাটে পৌঁছান। এরপর মেঘনা নদী ফেরিতে পার হয়ে আড়াইহাজার হয়ে তারা ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ ও নরসিংদীর সঙ্গে যোগাযোগ করেন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, সড়কের সংকীর্ণতা, অসংখ্য বাঁক এবং ফেরিঘাটে অপেক্ষা—এই তিন কারণে তাদের যাতায়াতে দীর্ঘদিন ধরে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। বিশেষ করে জরুরি প্রয়োজনে ঢাকামুখী যাত্রায় নির্ধারিত সময়ে গন্তব্যে পৌঁছানো অনেক সময় সম্ভব হয় না।
দীর্ঘদিনের এই ভোগান্তি কমাতে ২০২৩ সালের ৪ এপ্রিল জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় প্রায় ১ হাজার ১৩৫ কোটি টাকা ব্যয়ে সড়ক উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়। প্রকল্পের আওতায় সড়কটি প্রশস্ত ও টেকসইভাবে পুনর্নির্মাণের পাশাপাশি বিদ্যমান ঝুঁকিপূর্ণ বাঁকগুলো সরলীকরণ করার কথা রয়েছে।
প্রকল্পের কাজ শেষ হলে নতুন অ্যালাইনমেন্ট ও বাঁক সরলীকরণের ফলে বর্তমানে প্রায় ৩৮ কিলোমিটার দীর্ঘ সড়কটি কমে প্রায় সাড়ে ৩২ থেকে ৩৩ কিলোমিটারে নেমে আসবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। এতে একদিকে পথের দূরত্ব কমবে, অন্যদিকে যাতায়াত আরও দ্রুত ও নিরাপদ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
তবে সড়ক উন্নয়নের পাশাপাশি এ অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের আরেকটি দাবি মেঘনা নদীর ওপর কড়ইকান্দি-বিশনন্দী সেতু নির্মাণ। প্রায় ৩ দশমিক ১৩ কিলোমিটার দীর্ঘ প্রস্তাবিত এই সেতু নির্মিত হলে ফেরিনির্ভরতা কমবে এবং ঢাকা ও আশপাশের জেলার সঙ্গে যোগাযোগ আরও সহজ হবে বলে মনে করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ইউনুস আলী বলেন, ‘ভুলতা-বাঞ্ছারামপুর-নবীনগর সড়কের প্রকল্পটি মোট পাঁচটি প্যাকেজে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এর মধ্যে চারটি প্যাকেজের কার্যাদেশ দেওয়া হয়েছে। আরেকটি প্যাকেজের কম্পারেটিভ স্টেটমেন্ট (সিএস) প্রস্তুত করে মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়েছে।’
এদিকে আড়াইহাজার-বিশনন্দী-বাঞ্ছারামপুর-নবীনগর সড়কের দুরবস্থার বিষয়টি জাতীয় সংসদেও তুলে ধরেছেন নবীনগর আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল মান্নান।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, শুধু সড়ক নির্মাণ বা সংস্কার নয়, প্রকল্পের কাজ দ্রুত শেষ করা, ভূমি অধিগ্রহণের জটিলতা নিরসন এবং মেঘনা নদীর ওপর প্রস্তাবিত কড়ইকান্দি-বিশনন্দী সেতু নির্মাণের উদ্যোগ—সবকিছুকেই সমান গুরুত্ব দিতে হবে। তাদের মতে, এসব কাজ বাস্তবায়িত হলে নবীনগরসহ আশপাশের কয়েকটি উপজেলার মানুষের দীর্ঘদিনের যোগাযোগ-দুর্ভোগ অনেকটাই কমবে।
৫০০ শয্যার বিপরীতে ভর্তি ৭৯৫ রোগী। চিকিৎসক নেই চক্ষু, অর্থোপেডিক, ফরেনসিক ও রেডিওলজি বিভাগে। ১২টি মর্গ ফ্রিজারের মধ্যে সচল মাত্র একটি, আর ৪০টি এসি কেবিনের অর্ধেকের এসিই নষ্ট। এমন নানা সংকটের মধ্যেই চলছে কিশোরগঞ্জের শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকালে হাসপাতাল আয়োজিত ‘মিট দ্য প্রেস’ অনুষ্ঠানে এসব তথ্য তুলে ধরেন ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ডা. মো. সাইফুল ইসলাম।
হাসপাতাল সূত্র জানায়, শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) ৫০০ শয্যার বিপরীতে ভর্তি ছিলেন ৭৯৫ জন রোগী। এর মধ্যে মেডিসিনে ২৭৬, শিশু বিভাগে ১৬১, সার্জারিতে ১১০, কার্ডিওলজি ও সিসিইউতে ৬৩, গাইনিতে ৬২, কেবিনে ৫২, অর্থো-সার্জারিতে ৪৯ এবং ইএনটিতে ২২ জন চিকিৎসাধীন ছিলেন।
পরিচালক বলেন, ‘রোগীর চাপ সামলানোর পাশাপাশি জনবল ও যন্ত্রপাতির ঘাটতিও বড় চ্যালেঞ্জ। অনুমোদিত ৭৪৫ পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন ৬৩৮ জন। শূন্য রয়েছে ১০৭টি পদ। শূন্যপদ পূরণে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরে চিঠি দেওয়া হয়েছে।
ডায়ালাইসিস ইউনিটেও রয়েছে তীব্র সংকট। ছয়টি মেশিন দিয়ে তিন শিফটে সেবা দেওয়া হচ্ছে, অথচ প্রায় ২০০ রোগী অপেক্ষমাণ। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের মতে, কার্যকর সেবা নিশ্চিত করতে অন্তত ২০টি ডায়ালাইসিস মেশিন প্রয়োজন।
মর্গের অবস্থাও নাজুক। ১২টি ফ্রিজারের মধ্যে ১১টি নষ্ট থাকায় অতিরিক্ত মরদেহ সংরক্ষণ করা যায় না। ফলে অনেক ক্ষেত্রে মরদেহ পচে যাওয়ায় ময়নাতদন্তে জটিলতা তৈরি হয় বলে জানায় কর্তৃপক্ষ।
এ ছাড়া ৪০টি এসি কেবিনের ২০টির এসি বিকল। রোগীরা ১ হাজার ১০০ টাকা ভাড়া দিয়েও প্রত্যাশিত সুবিধা পাচ্ছেন না।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আরও জানায়, জানুয়ারি থেকে ১৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ২৮৭ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। এ সময়ে ডেঙ্গুতে কোনো রোগীর মৃত্যু হয়নি। একই সময়ে হামে আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৪৩৯ জন, হামেও মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি।
অনুষ্ঠানে হাসপাতালটিকে অটোমেশনের আওতায় আনা, ক্যাথল্যাব, এমআরআইসহ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা যন্ত্রপাতি সরবরাহ, জনবল বৃদ্ধি, স্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প ও ভবনের ঊর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণের দাবি জানানো হয়।
অনুষ্ঠানে শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. মো. মজিবর রহমান, উপাধ্যক্ষ ডা. মো. একরাম আহসান জুয়েল, কিশোরগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ সাইদুর রহমান, জেলা ড্যাবের সাবেক সভাপতি ডা. মো. আতিকুল সারোয়ার, ড্যাব শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক ডা. মীর নুর উস সাদসহ অন্যরা বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠানে কিশোরগঞ্জ সেন্ট্রাল প্রেসক্লাবের সভাপতি আশরাফুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক মো. আল আমিনসহ প্রায় ৫০ জন সাংবাদিক উপস্থিত ছিলেন।
দেশব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে সাত দফা দাবি বাস্তবায়নের দাবিতে ফরিদপুরে বিক্ষোভ মিছিল, সমাবেশ ও মানববন্ধন করেছে জেলা দলিল লেখক সমিতি। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টায় জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে আসা দলিল লেখকদের অংশগ্রহণে বিক্ষোভ মিছিলটি শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে ফরিদপুর প্রেসক্লাবের সামনে গিয়ে শেষ হয়। এখানে মানববন্ধব ও সমাবেশে অনুষ্টিত হয়।
ফরিদপুর জেলা দলিল লেখক সমিতি সভাপতি লায়ন মো. সাইফুল ইসলাম এর সভাপতিত্বে ও সাংগঠনিক সম্পাদক এ.বি.এম মুস্তাফিজুর রহমান ওরফে ভিপি মোস্তফার সঞ্চালনায় মানববন্ধন ও সমাবেশে বক্তব্য দেন দলিল লেখক সমিতি ফরিদপুর জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম, মো. শাহাদাত হোসেন, গোলাম মহিউদ্দিন, ফরিদ হোসেন, আব্দুল কুদ্দুস, মোহাম্মদ জাকির হোসেন, ইলিয়াস খান ও আনিসুর রহমানসহ আরো অনেকে।
এ সময় বক্তারা বলেন, দেশের রাজস্ব আদায়ে দলিল লেখকদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকলেও তারা নানা সমস্যার মধ্যেও পেশাগত দায়িত্ব নিষ্টার সাথে পালন করে আসছেন । আধুনিকায়নের নামে দলিল লেখকদের পেশাচ্যুত না করে তাদের ন্যায্য দাবি বাস্তবায়নের আহ্বান জানান তারা।
দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে প্রতিটি দলিলের জন্য ন্যূনতম ৫ হাজার টাকা সম্মানী, লাইসেন্সপ্রাপ্ত দলিল লেখক ছাড়া অন্যদের দলিল মুসাবিদা ও রেজিস্ট্রেশনের সুযোগ বন্ধ করে দেয়া, সরকারি খরচে বসার ও নামাজের স্থান নির্মাণ এবং দলিল লেখক কাউন্সিল গঠন করা।
দাবি বাস্তবায়ন না হলে আরও কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দেন বক্তারা। আগামী ১০ অক্টোবর ফরিদপুরে বিভাগীয় সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে বলেও জানান তারা।
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে নাব্যতা সংকট ক্রমেই তীব্র হচ্ছে। নদীতে প্রয়োজনীয় গভীরতা না থাকায় দৌলতদিয়া প্রান্তে ফেরি চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। নাব্যতা সংকটসহ বিভিন্ন কারণে দৌলতদিয়ার ৭টি ফেরিঘাটের মধ্যে পাঁচটিই বর্তমানে বন্ধ রয়েছে। সচল রয়েছে মাত্র ৩ ও ৪ নম্বর ফেরিঘাট।
গুরুত্বপূর্ণ এ নৌরুটে একসঙ্গে একাধিক ফেরিঘাট বন্ধ থাকায় সীমিতসংখ্যক ঘাট দিয়ে যানবাহন পারাপার করতে হচ্ছে। এতে ঘাট এলাকায় বাড়ছে যানবাহনের চাপ। নদী পার হতে আসা যাত্রী ও চালকদেরও পোহাতে হচ্ছে নানা ধরনের দুর্ভোগ।
বিআইডব্লিউটিসি সূত্রে জানা গেছে, কাগজে-কলমে দৌলতদিয়া প্রান্তে ৭টি ফেরিঘাট থাকলেও বাস্তবে সচল ছিল মাত্র ৩টি। সচল ঘাটগুলো হলো ৩, ৪ ও ৭ নম্বর ফেরিঘাট। তবে বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) রাত থেকে ৭ নম্বর ফেরিঘাটে নাব্য সংকটে ফেরি ভিড়তে না পারায় বন্ধ রয়েছে। তবে দৌলতদিয়া প্রান্তের ৩ ও ৪ নম্বর ফেরিঘাট সচল রয়েছে। দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে বর্তমানে ছোট-বড় মিলে মোট ১০টি ফেরি চলাচল করছে।
নদী পার হতে আসা কয়েকজন চালক জানান, গত কয়েকদিন ধরে দৌলতদিয়া ফেরিঘাট এলাকায় তাদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। নদীতে পানি কমে যাওয়ায় ফেরিগুলো অনেক সময় স্বাভাবিকভাবে ঘাটে ভিড়তে পারছে না। এতে পারাপারে বাড়তি সময় লাগছে। একই সঙ্গে ঘাটের সংখ্যা কমে যাওয়ায় যানবাহনের চাপও বাড়ছে।
চালক ও যাত্রীদের অভিযোগ, দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুট দিয়ে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক মানুষ ও যানবাহন পারাপার হয়। গুরুত্বপূর্ণ এই নৌরুটে নাব্যতা সংকট দেখা দিলে এর প্রভাব সরাসরি পড়ে সাধারণ যাত্রী, পরিবহন শ্রমিক ও ব্যবসায়ীদের ওপর। তাই দ্রুত নদীর নাব্যতা ফিরিয়ে আনতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।
বিআইডব্লিউটিসি দৌলতদিয়া ঘাট শাখার সহকারী মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ সালাহ উদ্দিন বলেন, বর্তমানে ৩ ও ৪ নম্বর ঘাট সচল রয়েছে। বহরে থাকা ১৮টি ফেরির মধ্যে বর্তমানে ছোট-বড় ১২টি ফেরি চলাচল করছে। তিনি আরও বলেন, তীব্র স্রোতের কারণে গত শনিবার ভোর ৫টা থেকে ৭ নম্বর ফেরিঘাট বন্ধ রয়েছে।
কুষ্টিয়ার কুমারখালী পৌরসভার কুন্ডুপাড়া এলাকায় রাস্তা নির্মাণে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগে তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন কুমারখালী প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও একটি টেলিভিশনের কুমারখালী প্রতিনিধি এম এ উল্লাস। এতে তিনি গুরুতর আহত হয়েছেন। এসময় পুলিশ মারধর ঠেকানোর চেষ্টা করলে হামলাকারীরা সংখ্যায় বেশি থাকায় পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হয়।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুর সাড়ে বারোটার দিকে পৌরসভার কুন্ডুপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে কুমারখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ভুক্তভোগী সাংবাদিকের অভিযোগ, কুন্ডুপাড়ায় একটি সড়ক নির্মাণে নিম্নমানের ইট-বালু ও খোয়া ব্যবহার করা হচ্ছে,এমন অভিযোগের ভিত্তিতে তিনি ঘটনাস্থলে যান। সংবাদ সংগ্রহের একপর্যায়ে কুষ্টিয়া-৪ আসনের জামায়াত সমর্থিত সংসদ সদস্য আফজাল হোসেনের ভাই ও ভাতিজাদের নেতৃত্বে একদল লোক তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়।
এ বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের পাওয়া যায়নি।
এ ঘটনায় কুষ্টিয়ার কর্মরত সাংবাদিকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। কুষ্টিয়া প্রেসক্লাবের একাধিক সাংবাদিক বলেন, "একজন পেশাদার সাংবাদিকের ওপর এ ধরনের সন্ত্রাসী হামলা স্বাধীন সাংবাদিকতার ওপর আঘাত। শুধু ফেসবুকে নিন্দা নয়, হামলাকারীদের দ্রুত শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।"
কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জামাল উদ্দিন বলেন, ঘটনাটি শুনেছি। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক দম্পতির ১৩ বছর বয়সী ছেলে অপ্রতীম হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ক্লু পাওয়ার কথা জানিয়েছে পুলিশ। হত্যার রহস্য উদ্ঘাটনে সন্দেহভাজন কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তাঁদের মধ্যে তুহিন নামে এক যুবক পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন বলে একাধিক সূত্র জানিয়েছে।
কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান বলেন, অপ্রতীম হত্যাকাণ্ডে সন্দেহভাজন এক যুবককে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ কিছু সূত্র মিলেছে। তবে শিশুটিকে শুধু আইফোন ছিনিয়ে নেওয়ার জন্য হত্যা করা হয়েছে, নাকি এর পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তিনি বলেন, হত্যাকাণ্ডের তদন্তে পুলিশের একাধিক দল কাজ করছে। আটক যুবকের সম্পৃক্ততা এখনো নিশ্চিত নয়। তাঁর মোবাইল ফোনের তথ্য এবং ঘটনাস্থল ও আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ প্রযুক্তির সহায়তায় যাচাই করা হচ্ছে। এসব তথ্য বিশ্লেষণের পরই তাঁর ভূমিকা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে। আটক ব্যক্তি নির্দোষও হতে পারেন, আবার ঘটনার সঙ্গে জড়িতও থাকতে পারেন।
পুলিশ সুপার বলেন, তদন্তের স্বার্থে এ মুহূর্তে মূল হত্যাকারীদের পরিচয় প্রকাশ করা হচ্ছে না। নাম প্রকাশ করা হলে তারা আত্মগোপনে চলে যেতে পারেন। তদন্ত শেষ হলে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ এবং জড়িতদের বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হবে।
এদিকে একাধিক সূত্রের দাবি, তুহিন নামে ওই যুবকের হত্যাকাণ্ডে সম্পৃক্ততা থাকতে পারে। শুক্রবার বিকেল থেকে অপ্রতীমের সঙ্গে তাঁকে দেখা গেছে বলে জানা গেছে। বর্তমানে তিনি পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন।
এর আগে শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে কুমিল্লার কোটবাড়ির বাসা থেকে মায়ের আইফোন নিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তুলতে বের হয় অপ্রতীম। এরপর সে নিখোঁজ হয়। শনিবার দুপুরে কোটবাড়ি এলাকার দক্ষিণ মোড়ের দক্ষিণ পাশে একটি জঙ্গল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, অপ্রতীমের মাথায় গুরুতর আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তবে তার সঙ্গে থাকা মায়ের আইফোনটি এখনো পাওয়া যায়নি।
অপ্রতীম বর্ডারগার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। সে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগম ও কে এম ফিরোজ শাহরিয়ারের একমাত্র সন্তান।
অপ্রতীমের মরদেহ প্রথম দেখতে পান আবদুল কাদের জিলানী। তিনি জানান, বাঁশ কাটতে গিয়ে জঙ্গলের মধ্যে মরদেহটি দেখতে পান তাঁরা। প্রথমে দূর থেকে কাউকে ঘুমিয়ে থাকতে দেখেছিলেন বলে মনে হয়েছিল। পরে কাছে গিয়ে মাথায় জখমের চিহ্ন দেখতে পান। এরপর মামুন নামে একজনকে বিষয়টি জানালে তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি অপ্রতীমের বলে শনাক্ত করেন।
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক আবদুল হাকিম বলেন, ঘটনার পর পুলিশ, ডিবি ও স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়নসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন ইউনিটের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। তবে অপ্রতীমকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। তার সঙ্গে থাকা মায়ের আইফোনও উদ্ধার হয়নি।
হত্যাকাণ্ডের খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন স্থানীয় সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী। তিনি ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।
এখন পুলিশ মোবাইল ফোনের তথ্য, সিসিটিভি ফুটেজসহ বিভিন্ন আলামত বিশ্লেষণ করছে। এসব তথ্যের ভিত্তিতে অপ্রতীম হত্যার প্রকৃত কারণ এবং কারা এতে জড়িত, তা নিশ্চিত হওয়ার চেষ্টা চলছে।
সুনামগঞ্জে বাংলাদেশ দলিল লেখক সমিতির জেলা শাখার উদ্যোগে জেলা সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সমাবেশে নিবন্ধন অধিদপ্তরকে ভূমি মন্ত্রণালয়ের অধীনে ন্যস্ত করার উদ্যোগের প্রতিবাদ জানিয়ে প্রায় দুই লক্ষাধিক দলিল লেখকের পেশাগত অধিকার, কর্মসংস্থান ও জীবিকা সুরক্ষায় সরকারের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করা হয়েছে।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টায় আয়োজিত এ সমাবেশে জেলা ও বিভিন্ন উপজেলা দলিল লেখক সমিতির নেতৃবৃন্দ অংশ নেন। সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ দলিল লেখক সমিতি সুনামগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি প্রদীপ পাল নিতাই। সঞ্চালনা করেন জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক শাহাজুল ইসলাম।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা দলিল লেখক সমিতির সিনিয়র সহসভাপতি বজলুর রশিদ চৌধুরী। এছাড়া সহসভাপতি শেখল ইসলাম ও নেজামুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক এমদাদুল হুদা, অর্থ সম্পাদক শহীদ সবওয়াত চৌধুরী এবং দপ্তর সম্পাদক আবুল্লা মিয়াসহ জেলা ও উপজেলার সমিতির নেতৃবৃন্দ।
বিভিন্ন উপজেলা থেকে উপস্থিত নেতৃবৃন্দের মধ্যে ছিলেন ছাতক উপজেলা দলিল লেখক সমিতির সভাপতি কাজী আনোয়ার মিঠা, দোয়ারাবাজার উপজেলা সভাপতি আব্দুল হান্নান, জামালগঞ্জ উপজেলা সভাপতি মো. আলমগীর, জগন্নাথপুর উপজেলা সভাপতি বশির আহমদ, দিরাই উপজেলা প্রতিনিধি আবুল মতিন, বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা প্রতিনিধি সুরুজামান, সুনামগঞ্জ সদর উপজেলা দলিল লেখক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সাত্তারুল ইসলাম শায়েস্তা ও সদস্য সচিব নুরুল ইসলাম।
অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত করেন জেলা দলিল লেখক সমিতির ধর্মবিষয়ক সম্পাদক নূরুল ঈমান। পরে গীতা পাঠ করেন দীপক কুমার দে।
সমিতির সাধারণ সম্পাদক শাহাজুল ইসলাম বলেন, ২০২৫ সালের ২৪ ডিসেম্বও একটি দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদনের মাধ্যমে নিবন্ধন অধিদপ্তরকে ভূমি মন্ত্রণালয়ের অধীনে নেওয়ার উদ্যোগের বিষয়টি তারা জানতে পারেন। পরবর্তীতে ২০২৬ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর ভূমি মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির প্রথম বৈঠকে আইন মন্ত্রণালয়ের অধীন নিবন্ধন অধিদপ্তরকে ভূমি মন্ত্রণালয়ের অধীনে ন্যস্ত করার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণের সিদ্ধান্তের কথা জানতে পেরে দলিল লেখকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
সভাপতির বক্তব্যে প্রদীপ পাল নিতাই বলেন, ২০০৭ সালেও একই ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তখন দলিল লেখকরা আন্দোলনে নামেন এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বৈঠক করেন। প্রায় দুই লক্ষাধিক দলিল লেখকের কর্মসংস্থান হুমকির মুখে পড়ার আশঙ্কায় জনস্বার্থে হাইকোর্ট বিভাগে রিট মামলা করা হয়। তার ভাষ্য অনুযায়ী, রিট মামলাটির নম্বর ২৫১/২০০৮। ২০০৮ সালের ১৩ মার্চ শুনানি শেষে রিট নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত নিবন্ধন অধিদপ্তরকে ভূমি মন্ত্রণালয়ে স্থানান্তরের কার্যক্রম স্থগিত রাখার আদেশ দেওয়া হয়েছিল। দলিল লেখকরা দীর্ঘদিন ধরে জনগণকে নিবন্ধনসংক্রান্ত সেবা দিয়ে আসছেন। জনস্বার্থ ও দলিল লেখকদের কর্মসংস্থানের বিষয়টি বিবেচনা করে এ উদ্যোগ পুনর্বিবেচনার দাবি জানান তিনি।
তিনি আরো বলেন, নিবন্ধন বিভাগকে ভূমি মন্ত্রণালয়ের অধীনে ন্যস্ত না করার দাবিতে গত ১২ আগস্ট নিবন্ধন অধিদপ্তরের মহাপরিদর্শকের (আইজিআর) মাধ্যমে এবং সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে।
বান্দরবানের দুর্গম পাহাড়ে প্রযুক্তিনির্ভর সুপেয় পানিতে স্বস্তি ফিরেছে লক্ষাধিক মানুষের। এক কলস সুপেয় পানির জন্য কয়েক কিলো উঁচুনিচু পাহাড়িপথ পাড়ি দিতে হতো। সেখানে জেলা পরিষদ ও জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের বিভিন্ন প্রযুক্তিনির্ভর সুপেয় পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন প্রকল্পের মাধ্যমে এখন পাহাড়ের চূড়ায় বসবাসরতরা ঘরের কাছেই পাচ্ছেন নিরাপদ পানি।
একসময় পানি সংগ্রহ করা ছিল পাহাড়ের মানুষের জীবনের সবচেয়ে কঠিন সংগ্রামগুলোর একটি। পাহাড়ের চূড়ায় বসবাসকারী এসব পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর হাতের কাছে ছিল না নিরাপদ পানির কোনো উৎস। খাবার পানি, রান্না, গোসল কিংবা গৃহস্থালির নিত্যপ্রয়োজনীয় কাজে ব্যবহারের জন্য প্রতিদিন দুর্গম পাহাড়িপথ বেয়ে এক থেকে তিন কিলোমিটার পর্যন্ত পথ পাড়ি দিতে হতো তাদের। কোথাও কোথাও পানি সংগ্রহের জন্য পাহাড়ি ঢাল বেয়ে নামতে হতো হাজার ফুট নিচে। সেখানে ঝিরি, ঝরনা কিংবা পাহাড়ি ছড়ার অনিরাপদ পানিই ছিল এসব দুর্গম জনপদে বসবাসকারী পাহাড়ি-বাঙালি মানুষের একমাত্র ভরসা। প্রতিদিনের এই পানির সংগ্রাম ছিল তাদের জীবনের এক নির্মম বাস্তবতা। যেখানে এক কলস নিরাপদ পানির জন্যও লড়াই করতে হতো দুর্গম পাহাড়িপথ আর প্রকৃতির প্রতিকূলতার সঙ্গে।
আবার বর্ষাকালে পাহাড়ি ছড়ায় পানি থাকলেও তা থাকত মাটি, কাদা ও ময়লায় ভরা। আর শুষ্ক মৌসুম এলেই পানির সংকট হয়ে উঠত আরও ভয়াবহ। বিশেষ করে নারী ও শিশুদের দিনের বড় একটি অংশ ব্যয় হতো শুধু পানি সংগ্রহে। দুর্গম পাহাড়িপথ বেয়ে ভারী কলসি কাঁধে পানি বহন করতে গিয়ে শারীরিক কষ্টের পাশাপাশি নিতে হতো নানা ঝুঁকিও।
বছরের পর বছর ধরে চলা সেই দুর্ভোগের চিত্র এখন বদলাতে শুরু করেছে বান্দরবানের প্রত্যন্ত পাহাড়ি জনপদে।
জেলা পরিষদ ও জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের বিভিন্ন প্রযুক্তিনির্ভর সুপেয় পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন প্রকল্পের মাধ্যমে এখন পাহাড়ের চূড়ায় বসবাসরত মানুষও ঘরের কাছেই পাচ্ছেন নিরাপদ পানি। গভীর নলকূপ, গ্র্যাভিটি ফ্লো সিস্টেম (জিএফএস), রিংওয়েল, রেইন ওয়াটার হারভেস্টিংসহ বিভিন্ন প্রযুক্তির সমন্বয়ে দুর্গম এলাকায় গড়ে তোলা হয়েছে টেকসই পানি সরবরাহব্যবস্থা।
ফলে বান্দরবানের অন্তত ৫০টি প্রত্যন্ত পাহাড়ি পাড়ার লক্ষাধিক পিছিয়ে পড়া পাহাড়ি-বাঙালি জনগোষ্ঠীর জীবনে এসেছে স্বস্তি। দীর্ঘদিনের পানির কষ্ট ভুলে এখন তাদের মুখে ফুটেছে স্বস্তির হাসি।
সম্প্রতি সরেজমিনে বান্দরবান সদর উপজেলার কয়েকটি দুর্গম ইউনিয়নের পাহাড়ি এলাকা ঘুরে দেখা যায়, পাহাড়ের চূড়ায় বসবাসরত বিভিন্ন পাড়ার মানুষ এখন বাড়ির পাশেই স্থাপিত পানির কল থেকে সুপেয় পানি সংগ্রহের চিত্র। সেই পানি দিয়ে কেউ রান্নার কাজ সারছেন, কেউ গোসল করছেন, কাপড় ধুচ্ছেন কিংবা গৃহস্থালির অন্যান্য কাজে ব্যবহার করছেন। কোনো কোনো এলাকায় পানির সহজলভ্যতা বাড়ায় কৃষি ও সেচ কাজেও পানি ব্যবহারের সুযোগ তৈরি হয়েছে।
২০২৫-২৬ অর্থবছরের ‘বিভিন্ন প্রযুক্তির মাধ্যমে সুপেয় পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন প্রকল্পের’ আওতায় দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় গভীর নলকূপ, জিএফএস, রিংওয়েল ও রেইন ওয়াটার হারভেস্টিংসহ বিভিন্ন পানি সরবরাহব্যবস্থায় পাল্টে দিয়েছে কষ্ট ও সংকটের চিত্র।
স্থানীয়দের ভাষায়, এটি শুধু একটি পানি প্রকল্প নয়, এটি পাহাড়ের মানুষের দীর্ঘদিনের জীবনসংগ্রামে একটি বড় পরিবর্তনের সূচনা।
জেলা শহর থেকে প্রায় চার কিলোমিটার দূরে পাহাড়ি গ্রাম টিএনটি মারমাপাড়া। সেখানে গিয়ে দেখা যায়, প্রায় ৬০বছর বয়সি বৃদ্ধা মাচিং মারমা বাড়ির পাশের পানির কল থেকে গোসল ও কাপড় ধোয়া শেষে কলসিতে পানি নিয়ে ঘরে ফিরছেন। এক বছর আগেও এই দৃশ্য ছিল তার কাছে কল্পনার বাইরে।
তিনি বলেন, আগে খাবার পানি, গোসল কিংবা কাপড় ধোয়ার জন্য পাড়া থেকে প্রায় ৮০০ ফুট নিচে পাহাড়ি পথে যেতে হতো।’ এখন বাড়ির পাশেই পানি পাচ্ছেন তিনি।
বান্দরবান জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগ জানায়, পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয় বিএডিসি ও ডিপিএইচইর অর্থায়নে-‘স্যানিটেশন ব্যবস্থার উন্নয়ন ও নিরাপদ পানি সরবরাহ প্রকল্পের মাধ্যমে ৪৫ কোটি টাকা ব্যয়ে জেলা পরিষদ ও জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগের উদ্যোগে বিভিন্ন প্রযুক্তি মাধ্যমে সুপেয় পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন প্রকল্পে ২০২৪-২৫ ও ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বান্দরবানে ১২টি গ্র্যাভিটি ফ্লো সিস্টেম (জিএফএস) মেরামত, নতুন করে আরও ১০টি জিএফএস নির্মাণ, ৫৮৩টি রিংওয়েল নির্মাণ, ১৪০টি রেইন ওয়াটার হারভেস্টিং সিস্টেম স্থাপন, ৫০টি গভীর নলকূপ নির্মাণ, পাড়াভিত্তিক পানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে ৫০টি প্রোডাকশন টিউবওয়েল স্থাপন করা হয়েছে। এ ছাড়া স্যানিটেশন সুবিধা সম্প্রসারণে বিভিন্ন এলাকায় স্বাস্থ্যসম্মত ৩০টি টয়লেট নির্মাণ করা হয়েছে।
বান্দরবান জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপসহকারী প্রকৌশলী সাইদুল ইসলাম জানান, স্থানীয় লোকজনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে জেলার অন্তত ৫০টি পাড়ায় নিরাপদ পানির ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে।
বান্দরবান জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী অনুপম দে বলেন, ‘ভৌগোলিক ও প্রাকৃতিক বৈচিত্র্যের কারণে বান্দরবানের দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় সুপেয় পানি সরবরাহে একই ধরনের প্রযুক্তি সব জায়গায় ব্যবহার করা সম্ভব নয়। ভিন্ন ভিন্ন প্রযুক্তির ব্যবহার করতে হয়।’
ফলে সম্প্রতি, ৪৫ কোটি টাকা ব্যয়ে জেলার দুর্গম এলাকায় পুরোনো গ্র্যাভিটি ফ্লো সিস্টেম মেরামতের পাশাপাশি নতুন জিএফএস, রিংওয়েল, রেইন ওয়াটার হারভেস্টিং সিস্টেম, গভীর নলকূপ এবং পাড়াভিত্তিক পানি সরবরাহব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে।
জনবান্ধব জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ইসরাত জাহান কেয়ার কর্মকাল নরসিংদীতে মাত্র ৫ মাস। এই সময়ে জেলার নান্দনিক ও সৃজনশীল উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের জন্য গর্বিত নরসিংদীবাসী। এক কথায় সাহস, সততা এবং কর্মযোগ্যতা দিয়ে নরসিংদীর মানুষের মনের মণিকোঠায় জায়গা করে নিয়েছেন তিনি।
ইসরাত জাহান কেয়া তার স্বীয় কর্মপ্রতিভার বিচক্ষণ দিয়ে স্পর্শ করে চলেছেন প্রতিটি মানুষের মন। ইসরাত জাহান কেয়া মনে করেন, প্রতিটি মানুষ যদি তার স্বীয় কর্মকে সৃষ্টিশীলতা দিয়ে আন্তরিকতার সাথে সর্বোচ্চ নিপুণভাবে সম্পন্ন করেন তবে তা অবশ্যই প্রশংসিত হবে। এক প্রশ্নের উত্তরে ইসরাত জাহান কেয়া বলেন, ‘আমি অ্যাওয়ার্ড বা পুরস্কার প্রাপ্তির প্রত্যাশায় কোনো কাজ করি না। আমি আমার ওপর অর্পিত দায়িত্ব, নীতি এবং আদর্শের মধ্যে থেকে সর্বোচ্চ সৃজনশীলতা ও আন্তরিকতা দিয়ে করার চেষ্টা করি। এতে যদি কোনো প্রাপ্তি এসে যায় নিশ্চয়ই তা আমাকে প্রেরণা জোগায়।’
এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘বিশ্বখ্যাত অন্ধ লেখিকা হেলেন কেলার আমাদের মতো সুস্থ-স্বাভাবিক মানুষকে উদ্দেশ্য করে বলেছিলেন আমি অন্ধ, তোমরা যারা দেখতে পাও তাদের একটা কথা আমি বলে যেতে চাই, চোখ দুটোকে তোমরা এমনভাবে ব্যবহার করো যেন আগামীকালই তুমি অন্ধ হয়ে যাবে, আর দেখবে না। তোমার অপর সব ইন্দ্রিয়ের বেলায়ও এমন করেই ভাবতে শেখো।
সুরের আওয়াজ, পাখির গান, বাদ্যকারের বাজনা এমনভাবে শুনবে যেন কালই তুমি বধির হয়ে যাবে। প্রতিটি জিনিস এমনভাবে ছুঁয়ে দেখবে যেন সর্বশক্তি অবলুপ্ত হবে আগামীকালই। এভাবে নেবে ফুলের ঘ্রান, আর খাদ্যের স্বাদ, যেন আগামীকাল আর গন্ধ কিংবা স্বাদের অনুভূতি অবশিষ্ট থাকবে না। সব ইন্দ্রিয়ের সর্বোচ্চ ব্যবহার করো, প্রকৃতির সৌন্দর্য পুরোপুরি উপভোগ করো। হেলেন কেলারের এই উক্তিগুলোর মতোই যদি যেকোনো কাজে ইচ্ছে শক্তির সর্বোত্তম ব্যবহার করি, সর্বোচ্চ আন্তরিকতা দিয়ে স্বীয় কর্মকে সম্পন্ন করা যায় নিশ্চয়ই প্রশংসিত হবে।’
ইসরাত জাহান কেয়া ঢাকা জেলার কেরানীগঞ্জ উপজেলার শুভাঢ্যা গ্রামের এক সমভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহন করেন। তার পিতার নাম মো. মাহাবুব আলী। পারিবারিক ঐতিহ্যগত কারণেই ইসরাত জাহান কেয়া জাতীয়তাবাদী আদর্শিক চেতনায় বড় হয়েছেন। ফলে তার সকল কাজে জাতীয়তাবাদী আদর্শিক চেতনা লক্ষ্য করা যায়। ছোটবেলা থেকেই তিনি ছিলেন আত্মপ্রত্যয়ই ও স্বপ্নচারী নারী।
তিনি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি সাহিত্যে অনার্স মাস্টার্স ডিগ্রি লাভ করেন। ইসরাত জাহান কেয়া ২৮তম ব্যাচে বাংলাদেশ সিভিল সাভির্সের প্রসাশন ক্যাডারে যোগদান করেন। জেলা প্রশাসক নরসিংদী হিসেবে পদায়ন হওয়ার আগে তিনি শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপসচিব হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
তিনি চলতি এ বছরের ৭ এপ্রিল নরসিংদীর ২২তম জেলা প্রশাসক হিসেবে যোগদান করেন। এ জেলায় তিনি দ্বিতীয় নারী জেলা প্রশাসক। ইসরাত জাহান কেয়া নরসিংদীতে যোগদানের পর থেকে যে সমস্ত কাজে নরসিংদী জেলার নান্দনিক সৃজনশীল উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের জন্য এখানকার মানুষের মনের মণিকোঠায় স্থান করে নিয়েছেন।
জেলা প্রশাসক ইসরাত জাহান কেয়া মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রতি বুধবার গণশুনানি করেন।
ঠাকুরগাঁও জেলা ও উপজেলার স্কাউটার ইউনিট লিডার ও রোভারদের নিয়ে সেইফ ফ্রম হার্ম সার্টিফিকেশন কোর্সের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) ঠাকুরগাঁও প্রেস ক্লাবের আনিসুর হক বাবু মিলনায়তনে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে কোর্সের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ স্কাউটস, দিনাজপুর অঞ্চলের কমিশনার আখতারুজ্জামান।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ স্কাউটস, দিনাজপুর অঞ্চলের সহসভাপতি জালাল উদ্দিন, উপ-আঞ্চলিক কমিশনার আনজুমান আরা বেবি, উপ-আঞ্চলিক কমিশনার জাকিরুল হক চৌধুরী,রুহুল আমিন প্রকল্প পরিচালক কার্ব স্কাউটিং, বাংলাদেশ স্কাউটসের এআইএস বিভাগের উপপরিচালক আব্দুর রশিদ এবং বাংলাদেশ স্কাউটস, ইসরাত সুমাইয়া রিসোর্স পারসন, সেফ ফ্রম হার্ম, ঠাকুরগাঁও জেলা স্কাউটের সম্পাদক লুৎফর রহমান মিঠুসহ স্কাউটের ইউনিট লিডার ও রোভার সদস্যরা।
কোর্সে অংশগ্রহণকারীদের স্কাউটিং কার্যক্রমে নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা, শিশু ও তরুণদের সুরক্ষা এবং ক্ষতিকর আচরণ প্রতিরোধসহ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।
ডেঙ্গু সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ ও এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংসের লক্ষ্যে পিরোজপুরে সরকারি খাল দখলমুক্তকরণ ও বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করেছে জেলা প্রশাসন ও পৌরসভা। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) পিরোজপুর পৌরসভার ২ ও ৪ নম্বর ওয়ার্ডে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ‘ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান-২০২৬’ পরিচালনা করা হয়। অভিযানকালে পিরোজপুরের সব খাল পর্যায়ক্রমে অবৈধ দখলমুক্ত করার পাশাপাশি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম আরও জোরদার করার কথা জানান জেলা প্রশাসক আবু সাঈদ।
কর্মসূচিতে উপস্থিত থেকে জেলা প্রশাসক বলেন, "পর্যায়ক্রমে শহরের সব সরকারি খাল অবৈধ দখলমুক্ত করা হবে এবং সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী পরিচ্ছন্নতা অভিযান আরও বেগবান করা হবে। এ কার্যক্রমে আমি পিরোজপুরবাসীর আন্তরিক সহযোগিতা ও সব শ্রেণি-পেশার মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণ প্রত্যাশা করছি।"
খাল ভরাট ও অবৈধ দখলদারদের সতর্ক করে ডিসি আবু সাঈদ কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, "যারা অন্যায়ভাবে খাল ভরাট করেছেন, অবৈধ দখল করেছেন কিংবা খালের স্বাভাবিক পানি প্রবাহে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছেন, তারা নিজ উদ্যোগে ও স্বেচ্ছায় তা সরিয়ে নিন। অন্যথায় সরকারি আইন ও বিধি অনুযায়ী খালগুলো দখলমুক্ত করা হবে এবং প্রয়োজনবোধে অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।"
নাগরিক সচেতনতার ওপর জোর দিয়ে তিনি আরও বলেন, "ডেঙ্গুর প্রকোপ কমাতে সাধারণ মানুষের সচেতন হওয়া সবচেয়ে বেশি জরুরি। নিজ বসতবাড়ি ও চারপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখার পাশাপাশি জমে থাকা পানি সরিয়ে মশার প্রজননক্ষেত্র ধ্বংস করতে হবে। যারা অবৈধভাবে পরিবেশ দূষণ করছেন, তারা নিজ দায়িত্বে তা বন্ধ না করলে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"
অভিযানকালে স্থানীয় সরকার বিভাগের পিরোজপুরের উপ-পরিচালক ও পিরোজপুর পৌরসভার প্রশাসক মো. মাহমুদুর রহমান মামুন, পিরোজপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইফতেখারুল ইসলাম শামীমসহ জেলা, উপজেলা ও পৌর প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় জগবন্ধু মিষ্টির কারখানার চুলোর ধোঁয়ায় অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন প্রতিবেশী বল্লভ কর্মকারের পবিরবার। প্রায় ৪০ বছর ধরে এ কারখানাটির আগুনের তাপে এ্যাজমা ও চর্মসহ নানা রোগে ভুগছেন তারা। বিষয়টি ওই কারখানার মালিককে বেশ কয়েকবার অবহিত করলেও তিনি এর প্রতিকার করেননি। বর্তমানে প্রচুর পরিমাণে ধোঁয়ার কারণে ওই বসতঘরে বসবাস করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। এ ঘটনায় প্রতিকার চেয়ে জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে ঘুরেও সুরাহা পাননি তারা। সর্বশেষ গত ১৭ সেপ্টেম্বর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর একটি আবেদন করেছেন অংলকার জুয়েলার্সের মালিক বল্লভ কর্মকারের ছেলে সৌরভ কর্মকার।
বল্লভ কর্মকারের স্ত্রী কাকলী কর্মকার বলেন, পরিবেশ বজায় রাখতে ঘনবসতি এলাকায় কোন কারখানা থাকতে পারেনা। চিংগুড়িয়া আবাসিক এলাকায় তাদের মিস্টি তৈরির কারখানা ছিল। কযেক দিন আগে এক ব্যাক্তি আদালতে মামলা দায়ের করে। আদালতের নির্দেশনায় কারখানাটি বন্ধ করে দেয়। কারখানার মালিককে বলছি উচু পাইপ দিয়ে কালো ধোঁয়া উপরের দিকে দিয়ে দেন যাতে কারখানার ধোঁয়া ঘরে প্রবেশ না করে। তাছাড়া গ্যাসের সিলিন্ডার দিয়ে মিস্টি তৈরি করতে পারে।
কারখানাটিতে বিকাল ৫টা থেকে মিস্টি তৈরি করতে শুরু করে রাত ১টা পর্যন্ত চলে। ধোঁয়ায় ঘরের দেয়াল কালো হয়ে গেছে। জামা কাপর নস্ট হয়ে যায়। পরিধান করার উপায় থাকে না। এছাড়া টিনের চালের সানসেটে পাইপ না দেয়ায় বর্ষাকালে পানি চুইয়ে দেয়ালে পলেস্তারা ক্ষয়ে ক্ষয়ে পড়ছে। এসব বিষয় নিয়ে একাধিকবার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি নাজমুলের কাছে গিয়েছি তিনিও কোন সমাধান দিতে পারেনি। আমি উপজেলা প্রসাশনের কাছে জোর দাবি করছি। মানবিক দিক বিবেচনা করে মিস্টি তৈরির কারখানার ধোঁয়া থেকে বাচতে কার্যকরি প্রদক্ষেপ গ্রহন করে।
এ বিষয়ে জগবন্ধু মিষ্টান্ন ভাণ্ডারের স্বত্ত্বাধিকারী চঞ্চল সাহা বলেন, তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ মিথ্যা ও সামাজিক ভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য ষড়যন্ত্র করছে।
কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরিফুজ্জামান বলেন, মিষ্টির দোকানীকে নোটিশ করে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।